সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে
রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে

রাশিয়া ও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানির জেরে ভারত, চীনসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়াগত ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিলটির ওপর চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই আলোচিত বিলটি মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২১৪-২১১ ভোটে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়। এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটেও ৮৬-১১ ভোটে বিলটি বিপুল সমর্থন পেয়েছিল।   প্রস্তাবিত এই আইনে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব ‘ছায়া বহর’ বা গোপন জাহাজ নেটওয়ার্ক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবেন।   সম্ভাব্য এই শুল্কের আওতায় থাকা ১০টি দেশ হলো ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অপরিশোধিত তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনা করছে মস্কো।   আর তাই রাশিয়ার আয়ের প্রধান এই উৎসটি বন্ধ করতে জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে বিলটির বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা গ্রেগরি মিকস অভিযোগ করেছেন, এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে তা দ্রুতই প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৫:৫০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী খু ন, ধাওয়া করে মাথায় গু লি স্টকারের
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী খু ন, ধাওয়া করে মাথায় গু লি স্টকারের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে শালিনী ঠাকুর (৩৮) নামের এক নারীকে ধাওয়া করে গুলি করে হত্যার লোমহর্ষক ভিডিও প্রকাশ করেছে পুলিশ। গত ৮ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর হাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের একটি শপিং মলের বাইরে পানেরা ব্রেড রেস্তোরাঁর সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।   স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, শালিনী যখন কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন, তখন ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিত নামের এক যুবক তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে শালিনী মাটিতে পড়ে গেলে রোহিত খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘাতকের গাড়ি ধাওয়া করলে সে নিজেই গাড়ির ভেতর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে।   গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক রোহিত ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ডোরড্যাশে কাজ করত এবং শালিনীর কর্মস্থল থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়েই তাদের পরিচয় হয়েছিল। এরপর থেকেই সে শালিনীকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত জানুয়ারিতে শালিনী তার গাড়ির বনেট থেকে রোহিতের লুকিয়ে রাখা একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস (অ্যাপল এয়ারট্যাগ) উদ্ধার করেন। শুধু তাই নয়, রোহিত একবার শালিনীর গাড়ির চাকার বাতাস বের করে দিয়ে তাকে সাহায্য করার ছলে পিছু নিয়েছিল।   এমনকি সে গোপনে শালিনীর অ্যাপার্টমেন্টের চাবি বানিয়ে তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরেও প্রবেশ করেছিল। অতিষ্ঠ হয়ে শালিনী একাধিকবার রেস্ট্রেইনিং অর্ডার বা আইনি নিষেধাজ্ঞা নিলেও রোহিত তা তোয়াক্কা করেনি।   শালিনীর মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল তার মা কুমারী ঠাকুর। দুই বছর আগে স্বামী হারানোর পর শালিনীই ছিলেন তার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। ক্ষুব্ধ কুমারী অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন পুলিশের কাছে ছুটে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার পরও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তার মেয়েকে নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার মাত্র এক ঘণ্টা আগেও মেয়ের সাথে তার কথা হয়েছিল বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান তিনি।   এই হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) তথ্যমতে, ভারতীয় নাগরিক রোহিত ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল।   সে সময় তাকে বর্ডার প্যাট্রোল আটক করলেও পরে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে তাকে দেশে মুক্তভাবে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। ডিএইচএসের দাবি, ওই খুনিকে এভাবে ছেড়ে না দিলে এই ট্র্যাজেডি এড়ানো যেত। এদিকে, একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ব্যবহার করে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক পার হয়ে ডোরড্যাশে কাজ নিয়েছিল রোহিত। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পুলিশি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৫:২৩
তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার
তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

যুক্তরাজ্যের ৪৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মার্টিন কুরান্ট সবসময় সুন্দর ও নিখুঁত হাসির স্বপ্ন দেখতেন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়েই তার জীবনে নেমে এসেছে এক ভয়াবহ অন্ধকার। দাঁতের চিকিৎসার জন্য তুরস্কে গিয়ে অন্তত ৩৩ হাজার পাউন্ড বাঁচানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসার মাত্র তিন মাস পরই তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়।   সাইনাসের সংক্রমণ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রেন সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং কাটাতে হয় দীর্ঘ সময় হুইলচেয়ারে। এখন তাকে নতুন করে হাঁটা ও কথা বলা শিখতে হচ্ছে।   মার্টিনের দাঁতের মাড়িতে দীর্ঘদিনের রোগ ছিল, যার ফলে ১৫টি দাঁত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের এক ডেন্টিস্ট তাকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড খরচ হওয়ার কথা জানান। এরপর অনলাইনে খোঁজখবর নিয়ে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত 'লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক'-এর সাথে যোগাযোগ করেন, যারা মাত্র ৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডে এই চিকিৎসা দিতে রাজি হয়।   মার্টিনের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে শুধু মুখের ছবি দেখেই মাত্র ৪৭ মিনিটের মধ্যে ক্লিনিকটি তাকে একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা পাঠিয়ে দেয়। কোনো শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই ২০২৪ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে গিয়ে তিনি প্রথম ধাপের চিকিৎসা নেন।   চিকিৎসার আগে মার্টিন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে, তার একটি দাঁতের ওপর এক বছর ধরে পুঁজ বা ফোঁড়া (অ্যাবসেস) রয়েছে। তার আইনি অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্লিনিক থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে এটি কোনো সমস্যা নয়।   কিন্তু আগস্ট মাসের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার নাক দিয়ে তরল ঝরতে শুরু করে এবং মুখমণ্ডল আংশিক বেঁকে যায়। ৩১ আগস্ট মারাত্মক খিঁচুনি হওয়ার পর তিনি জ্ঞান হারান। হাসপাতালে এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায়, তার মাথার খুলির স্তরের মাঝে প্রাণঘাতী পুঁজ জমেছে। জরুরি ভিত্তিতে তার মস্তিষ্কে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয় এবং মাথার খুলির একাংশ সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলতে হয়। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, তিনি যে বেঁচে ফিরেছেন সেটাই বড় বিস্ময়।   মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেও মার্টিন এখন 'অ্যাফাসিয়া' নামক জটিল স্নায়বিক রোগে ভুগছেন, যার ফলে তার কথা বলা, লেখা ও বোঝার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিজের লাভজনক ব্যবসা বিক্রি করে দিয়ে এখন তিনি পুরোপুরি ভাতা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাজ্যে কোনো ডেন্টিস্ট এখন তার অসমাপ্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নিতেও রাজি হচ্ছেন না।   অন্যদিকে, তুরস্কের লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক চিকিৎসায় অবহেলার সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ক্লিনিকটির দাবি, তারা সব নিয়ম মেনেই চিকিৎসা করেছে এবং মার্টিনের বর্তমান অবস্থার জন্য তাদের চিকিৎসা কোনোভাবেই দায়ী নয়। ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া মার্টিন এখন অন্যদের সতর্ক করে বলছেন, "এমন ভুল কেউ করবেন না, আমি প্রায় মরেই গিয়েছিলাম।"

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:৫১
সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান
সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামাদির ওপর ইরান পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি আরব এবং কুয়েতে কর্মরত মার্কিন সেনাসদস্যদের পাঠানো নতুন কিছু ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান, বিধ্বস্ত ক্যাম্প, ফাঁপা হয়ে যাওয়া ভবন ও পুড়ে যাওয়া যানবাহনের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে।   এই ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া ২৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক আমেরিকান ই-৩ সেন্ট্রি গোয়েন্দা বিমান। সে সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে থাকা ১৬টি এধরনের বিমানের মধ্যে ছয়টিই ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল।   এছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং এবং ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন গ্রাউন্ড ট্রুপসদের ব্যবহৃত ট্রেইলার ও গাড়ি ধ্বংসের ছবিও সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, ক্যাম্প আরিফজানের কয়েক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত শুয়াইবা বন্দরেই যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সেনাসদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘাঁটিতে হওয়া এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা আমেরিকান জনগণের কাছে গোপন রাখা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পরিস্থিতি এমন যে তারা চোখ বন্ধ করে কেবল মার খাচ্ছেন। ওই সেনাসদস্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সেই দাবিও দৃঢ়ভাবে খণ্ডন করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে মাত্র কয়েকটি ইরানি হামলা মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেদ করতে পেরেছে।   হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা আসলে ঘাঁটিগুলোর কোনো প্রতিরক্ষাই দিতে পারছেন না, বরং চোখের সামনে কেবল সেগুলো ধ্বংস হতে দেখছেন। এই বিস্ফোরক তথ্যের বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।   হামলার এই ভয়াবহ ছবিগুলো এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যার মাত্র দুদিন আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের ওপর তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ইউএসএআইডি-এর তথ্য সম্বলিত ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সংঘাতে প্রায় ৬০টি বিমানসহ মোট সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের খরচ বাদ দিয়েই যুদ্ধের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৩:৫৮
মহিলার ছদ্মবেশে পালানোর সময় গ্রেপ্তার সিরিয়াল কি লার, ৮০  খু নের স্বীকারোক্তি
মহিলার ছদ্মবেশে পালানোর সময় গ্রেপ্তার সিরিয়াল কি লার, ৮০ খু নের স্বীকারোক্তি

ব্রাজিলের পারাইবা রাজ্যে এক নাটকীয় অভিযানের মধ্য দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে জোরলান আলভেস দা সিলভা (৩৩) নামের এক সন্দেহভাজন সিরিয়াল কিলার। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সে লম্বা কালো পরচুলা, ডোরাকাটা পোশাক, মেয়েদের স্যান্ডেল ও সানগ্লাস পরে নিখুঁতভাবে নারীর ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল।   এমনকি তার নখে নেলপলিশও লাগানো ছিল। তবে পুলিশের চোখে ধুলো দিতে ব্যর্থ হয় সে। পরচুলা টেনে খুলতেই ধরা পড়ে যায় তার আসল রূপ, সে সময় তার মুখে ছিল এক নির্লিপ্ত হাসি। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, গ্রেপ্তারের সময় তার কোলে দুই বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল, যার সাথে এই অপরাধীর সম্পর্ক কী তা এখনো তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।   স্থানীয় গণমাধ্যম 'রেকর্ড আর৭' এবং 'ও গ্লোবো'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে জোরলান তার জীবনে অন্তত ৮০ জনকে খুন করার রোমহর্ষক কথা স্বীকার করেছে। পুলিশের ধারণা, কেবল গত তিন মাসেই সে বিভিন্ন সংগঠিত অপরাধী চক্রের হয়ে অন্তত ১৫টি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে।   সিভিল পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ডগলাস গার্সিয়া জানিয়েছেন, মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রথম খুনটি করেছিল জোরলান। বিভিন্ন অপরাধে ৫ থেকে ৬ বছর জেল খাটার পর গত মে মাসের শেষের দিকেই সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিল। এর আগে তার সহযোগীদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি পুলিশ আটকালে সেবার এক সহযোগী গ্রেপ্তার হলেও জোরলান কোনোভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।   জোরলানের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন মামলাগুলোর মধ্যে গত ১ আগস্ট রিও টিন্টো এলাকায় দুই ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনাটি অন্যতম। গোয়েন্দা গার্সিয়া জানান, জোরলানের দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ নির্দিষ্ট স্থানে মাটি খুঁড়ে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।   তার ৮০টি খুনের দাবির সত্যতা নিয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। যদি এই দাবি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে জোরলান হবে ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বেশি খুন করা সিরিয়াল কিলার। এর ফলে সে ছাড়িয়ে যাবে পেড্রো রদ্রিগেস ফিলহো বা 'ব্রাজিলিয়ান ডেক্সটার'-কে, যে ৭১টি খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হলেও শতাধিক খুনের দাবি করেছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৩:২৫
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানি এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা অনুমোদন স্থগিত করল লাওস

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে। একই সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রম ভিসা বা এলএ-বি২ ভিসার অনুমোদনও বন্ধ থাকবে।   লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে। দেশটির সংবাদমাধ্যম লাওতিয়ান টাইমস ১৪ সেপ্টেম্বর ওই নির্দেশনার খবর প্রকাশ করে। নির্দেশনায় অবৈধভাবে প্রবেশ, মানব পাচার, অনুমোদনহীন শ্রম দালাল এবং বিদেশি কর্মী আনার পর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেই কেন এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই।   নতুন নিয়মের আওতায় কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা বা শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের লাওসে এনে কাজে নিয়োগের অনুমোদন নিতে পারবে না। বাংলাদেশিদের জন্য নতুন শ্রমিক আমদানি পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদনও স্থগিত থাকবে। তবে নির্দিষ্ট চুক্তির মেয়াদ থাকা সরকারের অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে।   নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশি কর্মী আমদানি বা নিয়োগ করলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের জন্য ২৫ লাখ লাও কিপ জরিমানা দিতে হবে। এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১১০ মার্কিন ডলার। অন্য কোনো শ্রম ইউনিটে পাঠানোর উদ্দেশ্যে অনুমোদন ছাড়া কর্মী আমদানি করলেও একই হারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে।   অন্য কোনো শ্রম ইউনিটের জন্য বরাদ্দ করা কর্মী অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার বা গ্রহণ করলেও জরিমানার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের জন্য ২০ লাখ লাও কিপ, অর্থাৎ প্রায় ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হতে পারে।   এদিকে, অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত কর্মস্থল থেকে অন্য কোনো কর্মস্থলে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর প্রতি ঘটনায় ১০ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ৪৪ মার্কিন ডলার জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি তাকে ৩০ দিনের মধ্যে লাওস ছাড়তে হতে পারে। দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাতায়াত ব্যয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী পক্ষকে বহন করতে হবে।   একই ধরনের লঙ্ঘন পুনরায় ঘটলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল এবং কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।   বর্তমানে লাওসে কতজন বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন, সে বিষয়ে দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। কোন কোন খাত এই স্থগিতাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, সেটিও নির্দেশনায় আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে লাওতিয়ান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, লাওসে কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে কাজ করা কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।   বাংলাদেশ থেকে চলতি বছর লাওসে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া কর্মীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৩০০ বাংলাদেশি লাওসে চাকরির জন্য যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছেন। এই সংখ্যা চলতি বছরে লাওসে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র পাওয়া কর্মীদের হিসাব; এটি দেশটিতে বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশির মোট সংখ্যা নয়।   নতুন নির্দেশনার ফলে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা সময়ে নতুন করে লাওসে চাকরিতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসার অনুমোদন পাওয়া যাবে না। তবে সরকারের অনুমোদিত নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো স্থগিতাদেশের বাইরে থাকায় সেগুলোর ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হবে।   সূত্র: লাওতিয়ান টাইমস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৩:২
ব্রাজিলের ৫৩ বছর বয়সী সুয়েলি প্রায় নয় বছর ধরে নিজের সঞ্চয়ের টাকা একটি বইয়ের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
বইয়ের ভেতর ৯ বছর ধরে সঞ্চয়, পোকায় খেয়ে ফেলল ১ হাজার ৭৬০ ডলার

ব্রাজিলের ৫৩ বছর বয়সী সুয়েলি প্রায় নয় বছর ধরে নিজের সঞ্চয়ের টাকা একটি বইয়ের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে জমিয়ে রাখা সেই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল। বাড়ির সংস্কার ও জরুরি প্রয়োজনে টাকা ব্যবহারের সময় বইটি খুলতেই দেখা যায়, পোকামাকড়ের আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে টাকার বড় একটি অংশ।   ঘটনাটি ২০২৪ সালে ব্রাজিলের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বালানসো জেরাল’ এর প্রতিবেদনে উঠে আসে। সুয়েলি স্বামীর মৃত্যুর পর পাওয়া পেনশনের একটি অংশ নিয়মিত আলাদা করে রাখতেন। ব্যাংকে টাকা রাখার বিষয়ে এক পরিচিতের খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সঞ্চয়ের অর্থ ঘরেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুয়েলি ১০০ ও ২০০ রিয়ালের নোটগুলো বইয়ের ভেতর রেখে সেটি একটি ব্যাগে ঢুকিয়ে আলমারিতে সংরক্ষণ করতেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও এই সঞ্চয়ের কথা জানতেন না। প্রায় নয় বছর ধরে এভাবেই টাকা জমিয়েছিলেন তিনি।   গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নোটগুলো ভালো অবস্থায় ছিল বলে জানান সুয়েলি। পরে বাড়ির কিছু খরচ মেটানো এবং বহুদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সংস্কারের কাজ শুরু করতে টাকা বের করতে যান তিনি। তখনই দেখতে পান, বইয়ের ভেতরে রাখা নোটগুলো পোকায় কেটে দিয়েছে।   কিছু নোটের বড় অংশে অসংখ্য ছিদ্র হয়ে যায়, কিছু নোটের অর্ধেকের বেশি অংশ নষ্ট হয়ে যায় এবং কয়েকটি নোটের অংশ পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়। বইয়ের পাতাও পোকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। প্রতিবেদনে পোকাগুলোকে মূলত ‘ট্রাসা’ বা কাগজখেকো পোকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   টাকা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সুয়েলির ছেলে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারটি নষ্ট হয়ে যাওয়া নোটগুলো ব্যাংকে নিয়ে যায়, যাতে সেগুলোর কোনো অংশের মূল্য উদ্ধার করা সম্ভব কি না তা জানা যায়।   এরপর প্রায় ১ হাজার ৬০০ রিয়াল মূল্যের ক্ষতিগ্রস্ত নোট পরীক্ষা করার জন্য ব্রাজিলের সেন্ট্রাল ব্যাংকে পাঠানো হয়। ওই অর্থের কতটা ফেরত পাওয়া যাবে, তা পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করছে।   ব্রাজিলের সেন্ট্রাল ব্যাংকের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত নোটের মূল্য পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে ব্যাংকের মাধ্যমে নোটটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো যায়। নোটের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী সেটির মূল্য থাকতে পারে, আবার সম্পূর্ণ মূল্যহীনও হতে পারে। বিশেষ করে কোনো নোটের মূল অংশের অর্ধেকের বেশি অবশিষ্ট থাকলে সেটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ ও বিনিময়ের আওতায় আসতে পারে।    সেন্ট্রাল ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পোকা, উইপোকা বা রাসায়নিকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নোটও পরীক্ষার আওতায় আসতে পারে। কোনো নোটের মূল্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে সেটি সরাসরি ফেলে না দিয়ে ব্যাংকে জমা দিয়ে মূল্যায়নের জন্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।    সুয়েলির ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, দীর্ঘদিন নগদ অর্থ ঘরে রাখলে শুধু চুরি বা আগুনের ঝুঁকিই নয়, আর্দ্রতা ও পোকামাকড়ের কারণেও সঞ্চয় নষ্ট হতে পারে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কাগজ বা নগদ অর্থ ঘরে সংরক্ষণ করতে হলে উপযুক্ত সুরক্ষিত ও শুষ্ক জায়গা ব্যবহার করা জরুরি।   সুয়েলির ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে জমিয়ে রাখা অর্থ যখন প্রয়োজন হলো, তখনই সামনে আসে অপ্রত্যাশিত ক্ষতি। শেষ পর্যন্ত নষ্ট হওয়া নোটগুলোর কতটা মূল্য ফিরে পাওয়া যাবে, সেটি নির্ধারণ করবে সেন্ট্রাল ব্যাংকের পরীক্ষা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১২:৪
সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার পর তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে গিয়ে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী সৌরভ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে মিসাইল আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে প্রাণ গেল বাংলাদেশির

সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার পর দ্রুত ভবনের ছাদ থেকে নিচে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে সৌরভ ইসলাম নামে ২৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দিন জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়।    নিহত সৌরভ ইসলাম নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলাম ও রেনু বেগমের একমাত্র ছেলে। তিনি জেদ্দায় আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি জেদ্দায় ছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এক বছর আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি।    পরিবারের ভাষ্য, মঙ্গলবার ভোরে সৌরভ যে আবাসিক ভবনে থাকতেন, তার ছাদে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জেদ্দায় সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা আসে। মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন তিনি। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার পায়ে তার বা রশি পেঁচিয়ে গেলে তিনি পড়ে যান বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।    পরে সকালে একই বাসায় থাকা অন্যরা সৌরভকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    ঘটনার দিন বিকেলে সৌদি আরবে থাকা সৌরভের এক সহকর্মী ফোন করে তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর জানান। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর নরসিংদীর রায়পুরার মুছাপুর গ্রামের বাড়িতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। বুধবার সকালে স্বজন ও স্থানীয়রা সৌরভের বাড়িতে জড়ো হন।    সৌরভের মা রেনু বেগম ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার এবং নিজের হাতে দাফন করার সুযোগ চেয়েছেন। বাবা আমির ইসলামও ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।    রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। নিহতের স্বজনেরা যোগাযোগ করলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।    সৌরভের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে যে সতর্কবার্তাটি ছিল, সেটিও ওই দিনের আঞ্চলিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জেদ্দা, মক্কা ও তাইফসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করে। এসব সতর্কতা অল্প সময়ের মধ্যেই তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ইয়েমেন থেকে আগের দিন চালানো ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন আহত হয়েছেন।    তবে জেদ্দার সতর্কবার্তার সময় সেখানে সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল কি না, তা সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি হলেও ওই এলাকাগুলোতে কোনো প্রজেক্টাইল আঘাত করেছিল কি না সে বিষয়ে তখন কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে সৌরভ ঠিক কোন সতর্কবার্তা দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন এবং সেটি তার মৃত্যুর সঙ্গে কীভাবে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে পরিবারের বর্ণনাই এখন পর্যন্ত প্রধান তথ্য।    সৌদি আরবে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই জেদ্দার মতো বড় শহরেও এমন সতর্কতা জারি হওয়ায় সেখানে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌরভ ইসলামের মৃত্যু সেই আতঙ্কের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। পরিবারের এখন প্রধান দাবি, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১১:৪৫
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন ও চিকিৎসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন তার দুই ছেলে। ছবি: সংগৃহীত
ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে ছেলেদের অভিযোগ, সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিরোধের দাবি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসা ও জীবনযাপন নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছেন তার দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলেইমান খান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ইমরান খানের পুরোনো বিরোধের কারণে তাদের বাবার সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, কারাগারে চিকিৎসা ও যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করে ইমরান খানকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং পাকিস্তান সরকার অভিযোগগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।   কাসিম ও সুলেইমান জানান, তাদের বাবা ২০২৩ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। ইমরান খান বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। দুই ছেলে বলেন, তারা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বাবার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি। যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তানে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টাও তারা করছেন, কিন্তু তাদের ভিসা এখনো দেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।   সুলেইমানের অভিযোগ, ইমরান খানকে প্রায় ৬ ফুট বাই ৮ ফুট আয়তনের একটি কক্ষে একাকী রাখা হয়েছে এবং তার সঙ্গে মানবিক যোগাযোগও সীমিত। কয়েক মাস ধরে তাকে নতুন বই দেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। পরিবারের সদস্য কিংবা নিরপেক্ষ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান খানের চোখের সমস্যার দীর্ঘ সময় যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় অংশ নষ্ট হয়েছে।   ইমরান খানের চোখের চিকিৎসা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত চিকিৎসককে যুক্ত করার কথা জানিয়েছিল। একই আদেশে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ এবং ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও ছিল।   তবে আদালতের ওই নির্দেশের পর ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় বেসরকারি হাসপাতালে রাখা হয়নি। তাকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে কারাগারে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এর আগে সুপ্রিম কোর্টের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদনও করেছিল এবং ইমরান খানের চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালেই করা যেতে পারে বলে যুক্তি দিয়েছিল।   ইমরান খানের দুই ছেলে তাদের বাবার অবস্থার জন্য বিশেষভাবে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে দায়ী করেছেন। সুলেইমানের দাবি, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় মুনিরকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। মুনির ২০২২ সালে সেনাপ্রধান হওয়ার পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও কঠোর হয়েছে বলেও তার ছেলেরা দাবি করেন। তবে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার এই অভিযোগ তাদের বক্তব্যের অংশ এবং এর পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।   ইমরান খানের কারাবাসের পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ইমরান খানের দীর্ঘমেয়াদি আটক নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন তুলেছে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকও তার একাকী কারাবাস ও আটক পরিস্থিতি মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এসব মন্তব্যও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মূল্যায়ন; ইমরান খানকে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করার অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ হিসেবে এগুলোকে উপস্থাপন করা যায় না।   অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ইমরান খানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, নিষ্ঠুরতা কিংবা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে তৈরি খাবার, বাদাম, বোতলজাত পানি, ব্যায়ামের সরঞ্জাম, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে বলেও সরকার জানিয়েছে। সরকার আরও বলেছে, তাকে শাস্তিমূলকভাবে একাকী বন্দি রাখা হয়নি।   ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগের বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে আদালতে এসেছে। আগস্টে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ছেলেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে তার পরিবার ও রাজনৈতিক দল অভিযোগ করে আসছে, বাস্তবে যোগাযোগের সুযোগ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য ভিন্ন।   ইমরান খানের দুই ছেলে জানিয়েছেন, তারা পাকিস্তানের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হতে চান না এবং বাবার রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্ব নেওয়ারও আগ্রহ নেই। তাদের মূল উদ্বেগ বাবার স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করা। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরে ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন।   ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাই দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তার ছেলেরা কারাগারের পরিবেশ, চিকিৎসা এবং যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এবং এর পেছনে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত বিরোধ কাজ করছে বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে ইমরান খানকে প্রয়োজনীয় খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত বিরোধের অভিযোগটি বর্তমানে ইমরান খানের ছেলেদের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে; আদালত বা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১০:৪৪
সংযুক্ত আরব আমিরাতে রেসিডেন্স ও কাজের ভিসা বাতিল হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির রেসিডেন্স ও কাজের ভিসা বাতিল হওয়ায় দেশে ফিরে আসা অনেক প্রবাসী আর ইউএইতে ফিরতে পারছেন না। এতে চাকরি, ব্যবসা ও পরিবারের সঙ্গে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সূত্রে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ৪ হাজার ৮০০ জনে পৌঁছানোর কথা জানা গেলেও, ইউএই কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।    ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশ ছুটিতে বা পারিবারিক কারণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা ইমেইল, মোবাইল মেসেজ অথবা ইউএইতে থাকা স্পনসরের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাদের ভিসা বাতিল হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, বাতিলের নোটিশে এর নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।    এমনই একজন আবুল কালাম আজাদ। প্রায় ২৭ বছর ইউএইতে থাকার পর তিনি গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন। ২৪ জুলাই ইমেইলের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তার দাবি, ওই বার্তায় ভিসা বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ ছিল না। তিনি ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ভুক্তভোগী প্রবাসীদের একটি কর্মসূচিতেও অংশ নেন।    ভুক্তভোগীদের মধ্যে শুধু শ্রমিক নন, ইউএইতে ব্যবসা ও দোকান পরিচালনাকারী এবং দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের পরিবার ও ব্যবসা ইউএইতেই রয়েছে। ভিসা বাতিল হওয়ায় তারা দেশে আটকে পড়েছেন এবং নিজেদের কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না।    বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে ইউএইর কাছে তুলেছে এবং বাতিল হওয়া ভিসাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগীদের একটি অংশ সরকারকে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও দিয়েছে।    এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ৬২৬ জন বলা হয়েছিল। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তখন জানিয়েছিলেন, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ঘটছে না এবং পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপালসহ অন্য দেশের নাগরিকরাও এ ধরনের ভিসা বাতিলের মুখে পড়েছেন। তখন ৪১৭ জনের তথ্য ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে ভিসা নবায়নের জন্য পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছিল।    পরবর্তীতে আগস্টের শুরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ৯৮৫ জন ভুক্তভোগীর তথ্য যাচাই করে ইউএই সরকারের কাছে পাঠায়। তাদের ভিসা বাতিলের কারণ, পুনর্বহালের প্রক্রিয়া এবং ইউএইতে থাকা ব্যবসা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য সম্পদের বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।    ভিসা বাতিলের কারণ নিয়ে এখনো সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধি ইউএইতে ভিসা ও কাগজপত্রের যাচাই আরও কঠোর হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভিসা নবায়নে দেরি, কাগজপত্রের সমস্যা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব কারণই যে ভিসা বাতিলের সরাসরি কারণ, তা তিনি দাবি করেননি।    ভুক্তভোগী প্রবাসীরা সরকারকে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে তাদের আগের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মাসে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা এবং ইউএইতে ফেরা সম্ভব না হলে বিকল্প দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছেন তারা।    বাংলাদেশের জন্য ইউএই দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। ১৯৭৬ সালে দেশটিতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান শুরু হওয়ার পর গত কয়েক দশকে সেখানে বড় একটি বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। ফলে ভিসা বাতিলের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চাকরি ও ব্যবসার ওপর নয়, তাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রবাসী অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১০:৯
১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে
জাপানে প্রথমবার লাখ ছাড়াল ১০০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা, ৮৮ শতাংশ নারী

দীর্ঘায়ুর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটিতে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা টানা ৫৬ বছর ধরে বাড়ছে। এবার এই সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮ হাজার। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শতবর্ষীদের বড় অংশই নারী। মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনের মধ্যে নারী ৯৪ হাজার ২৯৮ জন, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৭৯ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উয়েনো এই পরিসংখ্যানের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় সক্রিয় ও সুস্থ জীবনযাপন করছেন—এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘায়ুর দিক থেকে জাপান বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। ২০২৪ সালে দেশটির মানুষের গড় আয়ু ছিল ৮৪ বছর। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গড় আয়ু ছিল ৭৯ বছর। গবেষকদের মতে, জাপানিদের দীর্ঘ জীবনের পেছনে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ভূমিকা রয়েছে। জাপানি সমাজে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রমের সংস্কৃতি থাকলেও অনেক মানুষ ‘ইকিগাই’ দর্শন অনুসরণ করেন। এই দর্শনে জীবনের অর্থ, উদ্দেশ্য ও আনন্দ খুঁজে নিয়ে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষদের কয়েকজনও বর্তমানে জাপানে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে কিয়োটোর ১১৪ বছর বয়সী নারী ফুয়ো কিশিমোতো এবং কুমামোতোর ১১২ বছর বয়সী পুরুষ হিকারু কাতো উল্লেখযোগ্য। তবে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও জাপানের জনসংখ্যাগত বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটির জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ায় মোট জনসংখ্যা ক্রমেই কমছে। প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটিতে একই সঙ্গে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে বয়স্কদের পরিচর্যা ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যয় বাড়ছে, পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকটও তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষ ও সাধারণ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়িয়েছে। তবে বিদেশিবিরোধী মনোভাবের মধ্যে সরকার ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত কিছু নিয়মকানুন আরও কঠোর করার উদ্যোগও নিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৭:২১
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভ চলাকালে এক নারীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ
এ ল জি বি টি কিউ+ কর্মীদের ধরপাকড়, তুরস্কে কয়েক ডজন গ্রে প্তার

তুরস্কে এ ল জি বি টি কিউ+ অধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনার বিরুদ্ধে সরকারের সাম্প্রতিক অভিযানের মধ্যে কয়েক ডজন মানুষকে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলের প্রধান আদালতের বাইরে বিক্ষোভে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদেরও আটক করা হয়। সপ্তাহান্তে স ম কা মী দের কয়েকটি বারে এবং অধিকারকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একদল এ ল জি বি টি কিউ+ কর্মীকে গ্রে প্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবারের বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে সেখানে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন। তুরস্ক সরকার এ ল জি বি টি কিউ+ সম্প্রদায়ের সদস্য ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালাচ্ছে, সেটিকে ‘মাই ফ্যামিলি ইজ সেফ’ বা ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। সরকারের ভাষ্য, পরিবার ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম দীর্ঘজীবী হোক’ বলে স্লোগান দেন এবং আটক অধিকারকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ‘এ ল জি বি টি কিউ হওয়া কোনো অ প রা ধ নয়’ লেখা একটি ব্যানার মেলে ধরলে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রে প্তার করে। এক বিক্ষোভকারী এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখন যা দেখছি, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’ অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, তুরস্কে এ ল জি বি টি কিউ+ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরও বিস্তৃত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে অধিকার সংগঠনের কার্যালয়ে অভিযান, ওয়েবসাইট বন্ধ এবং গ্রে প্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক পোস্টে বলা হয়েছে, তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এ ল জি বি টি কিউ+, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের কয়েক ডজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ বা সীমিত করেছে। তুরস্কে স ম কা মী সম্পর্ক আইনত অ প রা ধ নয়। তবে দেশটিতে এ ল জি বি টি কিউ+ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বিরূপ মনোভাবের অভিযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অতীতে এ ল জি বি টি কিউ+ মানুষদের ‘বি কৃ ত’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং তাঁদের দেশের জন্মহার কমে যাওয়ার জন্য দায়ী করেছেন। তুরস্কে সাম্প্রতিক গ্রে প্তার ও অভিযানের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার মাইকেল ও'ফ্লাহার্টি। তিনি বলেন, তুরস্কজুড়ে এ ল জি বি টি আই অধিকারভিত্তিক নাগরিক সংগঠন এবং মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক গ্রে প্তার, অভিযান এবং ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধের খবর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। ও'ফ্লাহার্টির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্কের বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৫টি প্রদেশে ১৬২ ব্যক্তি, ৯টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কয়েকটি প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের সমন্বয়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৬:৪৯
লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা
লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা

ইউরোপে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনার পারদ আরও একধাপ বেড়েছে। লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান। গত মঙ্গলবার লিথুয়ানিয়ার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রথমবারের মতো তাদের আকাশসীমায় কোনো ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা এটি।   দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের প্রধান ভিলমান্টাস ভিটকাসকাস জানিয়েছেন, ড্রোনটি সম্ভবত রুশ মিত্র বেলারুশ থেকে প্রবেশ করেছিল এবং ভূপাতিত করার আগে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে লিথুয়ানিয়ার আকাশে ওড়ে। ড্রোনটিতে বিস্ফোরক ছিল এবং তা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস। সম্প্রতি জার্মানি, ডেনমার্ক ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য ন্যাটো মিত্ররাও রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশ ও নাশকতার অভিযোগ করে আসছে।   এর পাশাপাশি, ডেনমার্ক অভিযোগ করেছে যে বাল্টিক সাগরে তাদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার যখন রুটিন নজরদারি চালাচ্ছিল, তখন সেটিকে লক্ষ্য করে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে ‘ফ্লেয়ার’ বা সতর্কতামূলক গোলা ছোড়া হয়। ডেনিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।   তবে ডেনমার্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির বারবিন পাল্টা দাবি করেছেন যে ডেনিশ হেলিকপ্টারটি রুশ যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক আচরণ করছিল। এই দুই ঘটনা প্রসঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বৃহত্তর আগ্রাসন ও উসকানিরই অংশ।   এদিকে, ইউক্রেনেও রুশ ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মস্কো তাদের জ্বালানি ও লজিস্টিক খাতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর জবাবে কিয়েভও পশ্চিম রাশিয়ার সিজরান শহরের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।   ক্রেমলিন ট্রাম্পের জ্বালানি অবকাঠামোতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘ভালো ধারণা’ বলে উল্লেখ করলেও জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণেই বিশ্বজুড়ে গ্যাস ও ডিজেলের সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ২০:৪
৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে বোমা হামলার হু মকি, তদন্তে বাংলাদেশে থাকা ক্রেতার তথ্য
৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে বোমা হামলার হু মকি, তদন্তে বাংলাদেশে থাকা ক্রেতার তথ্য

ভারতের গুজরাটে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি পাঠানোর তদন্ত করতে গিয়ে ৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্টের একটি বিশাল নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৭টি জিমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ডের তালিকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজনের সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা এক ক্রেতার যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে গুজরাট পুলিশ।     গুজরাট পুলিশের সাইবার তদন্ত শুরু হয় ১০ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাজ্য সরকারের একটি দপ্তরে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়। ওই বার্তায় গুজরাটের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও হুমকির আওতায় আনা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে হুমকিটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করা হয়।   হুমকির ই-মেইলের ডিজিটাল সূত্র অনুসরণ করে তদন্তকারীরা বিহারের ভাগলপুরে পৌঁছান। সেখানে রোশন কুমার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি যে তথ্য দেন, তার ভিত্তিতে ঝাড়খণ্ডের দেওঘর থেকে গুলশন কুমার সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গুলশন দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড তৈরি করে অন্যদের কাছে সরবরাহ করছিলেন।   তদন্তে উদ্ধার হওয়া ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৭টি জিমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ডই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অ্যাকাউন্ট সরকারি অফিস, স্কুল, কলেজ ও আদালতে হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানোসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধে ব্যবহারের জন্য তৈরি ও সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে উদ্ধার হওয়া সব অ্যাকাউন্ট বাস্তবে বোমা হামলার হুমকিতে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।   এই তদন্তে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে গুজরাট পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন বাংলাদেশে থাকা একজন ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। ওই ব্যক্তি জিমেইল অ্যাকাউন্টের কয়েকটি চালান কিনেছিলেন এবং ভুয়া হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠাতে সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এসব লেনদেনের কিছু অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হয়ে থাকতে পারে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।   তবে বাংলাদেশে থাকা ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তার নাগরিকত্বও প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে বাংলাদেশ সরকার বা বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনাটিকে আপাতত ভারতের পুলিশের তদন্তে উঠে আসা সম্ভাব্য আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   তদন্তকারীদের আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, এত বিপুলসংখ্যক জিমেইল অ্যাকাউন্ট কীভাবে তৈরি ও পরিচালনা করা সম্ভব হলো। গুজরাট পুলিশের সাইবার অপরাধ কর্মকর্তা বিবেক ভেদার মতে, উদ্ধার হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর প্রতিটিতেই দুই ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু ছিল। এত বড় পরিসরে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে গিয়ে কীভাবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটিও এখন তদন্তের অংশ।   এই ঘটনায় গুগলকেও তদন্তের আওতায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে গুজরাট পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে চান, কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালিত হলো এবং গুগলের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হলো। পুলিশ গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা করতে চায়।   গুগলের পক্ষ থেকে রয়টার্সের প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে গুজরাট পুলিশ জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক ই-মেইল অ্যাকাউন্টের উৎস, ব্যবহার এবং সম্ভাব্য অন্যান্য সাইবার অপরাধের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৯:৫
সৌদি-আমিরাতি দ্বন্দ্বের সুযোগে শক্তিশালী হুতিরা, হু মকিতে তেল সরবরাহ
সৌদি-আমিরাতি দ্বন্দ্বের সুযোগে শক্তিশালী হুতিরা, হু মকিতে তেল সরবরাহ

বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি ইয়েমেন ও সৌদি আরবে তাদের একের পর এক হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়েই এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে।   গত সপ্তাহে হুতিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'বাব আল-মান্দেব' প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের বিশাল 'ইস্ট-ওয়েস্ট' তেল পাইপলাইনে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবেও তাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে পাইপলাইনটির কার্যক্রম কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরবের এই সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে; গত মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম লাফিয়ে ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে।     জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে একটি দুর্বল যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) সমর্থিত হুতি-বিরোধী গোষ্ঠীগুলোও এই শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করেছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বরে এই মিত্রদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএই-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর জন্য আসা অস্ত্রের ওপর সৌদি বাহিনী বোমা হামলা চালালে আবুধাবি এই সংঘাত থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ায়, যার ফলে হুতি-বিরোধী জোট ভেঙে পড়ে।   এই অন্তর্দ্বন্দ্ব জোটের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়, কারণ ইউএই-সমর্থিত বাহিনীর হাতেই ছিল বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত 'পেরিম দ্বীপ'-এর নিয়ন্ত্রণ। ফলে গত সপ্তাহান্তে হুতিদের আকস্মিক হামলায় দ্বীপটি এবং ইয়েমেন উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর পতন ঘটে। এখন ২০ মাইল চওড়া এই প্রণালী দিয়ে পার হতে যাওয়া যেকোনো সৌদি জাহাজের জন্যই হুতিরা বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।   এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে এই জলপথটিই সৌদির প্রধান রপ্তানি রুটে পরিণত হয়েছিল। এখন সৌদির সামনে কেবল সুয়েজ খালের পথ খোলা আছে, যা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর যাত্রায় আরও কয়েক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দেবে।   মিত্রদের এই বিভাজনের কারণে হুতিদের মোকাবিলার পুরো চাপ এখন সৌদি আরবের ওপর এসে পড়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে রিয়াদের ধীরগতির প্রতিক্রিয়া ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ইরানের দিক থেকে চাপের মুখে থাকা সৌদি আরব হুতিদের হামলার বিরুদ্ধে ইয়েমেন থেকে আসা বিমান হামলার অনুরোধে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছে।   একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন সামরিক সহায়তার জন্য গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন করে কোনো হামলায় জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। লোহিত সাগরের প্রধান বন্দর থেকে গত মাসে সৌদির তেল রপ্তানি প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ার পর, এবার তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আরও বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ৭৪৫ মাইল দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর, ইয়ানবু বন্দরে এখন সৌদির কাছে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের রপ্তানিযোগ্য তেল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৮:৩৩
মাত্র ৮ মিনিটে পাসপোর্ট নবায়ন, দুবাই বিমানবন্দরের দ্রুত সেবায় মুগ্ধ যাত্রী
মাত্র ৮ মিনিটে পাসপোর্ট নবায়ন, দুবাই বিমানবন্দরের দ্রুত সেবায় মুগ্ধ যাত্রী

ভ্রমণের আগমুহূর্তে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানতে পারলে যে কারও মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার কথা। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক নাগরিকের ক্ষেত্রে ঘটল সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে মাত্র আট মিনিটে নিজের পাসপোর্ট নবায়ন করে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন তিনি। আমিরাতি কর্তৃপক্ষের এমন অভাবনীয় ও দ্রুতগতির সেবার একটি ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।     ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে ওই ব্যক্তি জানান, পরিকল্পিত ভ্রমণের মাত্র এক দিন আগে তিনি খেয়াল করেন তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক মাস বাকি। অথচ তার গন্তব্যের নিয়মানুযায়ী, ভ্রমণের তারিখের পর অন্তত ছয় মাস পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।   এই অবস্থায় দ্রুততম সমাধানের খোঁজে তাকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাসপোর্ট নবায়ন সেবা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি ভেবেছিলেন এতে অন্তত ১০ মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র আট মিনিটেই সম্পন্ন হয়ে যায়! ভিডিওতে তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, "আমাকে বলা হয়েছিল দুবাই বিমানবন্দরের চেয়ে দ্রুত আর কিছু নেই এবং এতে ১০ মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু আমি অবাক হয়ে দেখলাম, ১০ মিনিটও নয়, বরং আট মিনিটেই কাজ শেষ।"   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট সেবার সাথে এর তুলনা করে নানা মন্তব্য করছেন। একজন নাইজেরিয়ান ব্যবহারকারী আক্ষেপ করে লেখেন, তাদের দেশের কাস্টমসে ১০০ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়াতে হয় এবং চরম ভোগান্তির পর কর্মকর্তাদের বকশিশও দিতে হয়।   আরেকজন মার্কিন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে ডাকঘরের মাধ্যমে আবেদন ও ছবি জমা দিয়ে দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট পেতেও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগে। অন্যদিকে, আরেক ব্যবহারকারীর মতে, যেহেতু সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্ট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী, তাই তাদের নাগরিকদের জন্য এমন বিশ্বমানের সেবা থাকাটাই স্বাভাবিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৭:৩২
ইরানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে চমকপ্রদ সাফল্য, টিকাদানে বিশ্বসেরা ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় তৃতীয় I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে চমকপ্রদ সাফল্য, টিকাদানে বিশ্বসেরা ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় তৃতীয়

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবায় নিজেদের অভাবনীয় সক্ষমতার এক নতুন চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে ইরান। দেশটির মেডিকেল কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ রাইসজাদেহ জানিয়েছেন, সফল টিকাদান কর্মসূচির দিক থেকে ইরান বর্তমানে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে।   একই সঙ্গে বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণের আধুনিক চিকিৎসাতেও দেশটির অবস্থান এখন বিশ্বে তৃতীয়। ইয়ং জার্নালিস্টস ক্লাবের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে ইরানের স্বাস্থ্য খাতের এই চমকপ্রদ সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করেছে।   স্বাস্থ্য খাতে ইরানের এই অভাবনীয় অগ্রগতির পেছনের অন্যতম কারণ হলো তাদের শক্তিশালী চিকিৎসক কাঠামো। মোহাম্মদ রাইসজাদেহ জানান, বর্তমানে দেশটিতে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি চিকিৎসক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে জনসংখ্যার অনুপাতে ইরানে প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের গড় সংখ্যা যেখানে ১৬ জন, সেখানে প্রাপ্যতার দিক থেকে বৈশ্বিক গড়ের চেয়েও বেশ এগিয়ে রয়েছে দেশটি।   টিকাদান ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জটিল অস্ত্রোপচারেও বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে ইরান। দেশটির মেডিকেল কাউন্সিলের প্রধান দাবি করেন, লিভার ও কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও তারা বর্তমানে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।   এছাড়া ককলিয়ার ইমপ্লান্ট বা শ্রবণযন্ত্র প্রতিস্থাপন, হৃদ্‌যন্ত্রের জটিল অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল সার্জারির ক্ষেত্রেও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর কাতারে জায়গা করে নিয়েছে ইরান। রাইসজাদেহের মতে, চিকিৎসা খাতের এই ধারাবাহিক অর্জনগুলো মূলত ইরানের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, দক্ষ চিকিৎসক ও শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থারই এক অনন্য প্রতিফলন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:৩৮
বই পড়লেই মিলবে টাকা, নাগরিকদের পাঠাভ্যাস বাড়াতে সিঙ্গাপুরের অভিনব উদ্যোগ
বই পড়লেই মিলবে টাকা, নাগরিকদের পাঠাভ্যাস বাড়াতে সিঙ্গাপুরের অভিনব উদ্যোগ

ডিজিটাল দুনিয়ার ‘ব্রেইন রট’ বা মনোযোগ কমে যাওয়ার সমস্যা দূর করে নাগরিকদের মধ্যে বই পড়ার সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। ‘রিডএসজি’ (ReadSG) নামক পাঁচ বছর মেয়াদি এই নতুন জাতীয় কর্মসূচির আওতায়, দিনে অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়লেই দেশের নাগরিকদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে।   ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ড (NLB)-এর চালু করা এই ক্যাম্পেইনের অধীনে আগ্রহীরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের পড়ার সময় ট্র্যাক করে ভার্চুয়াল রিওয়ার্ড বা কয়েন জিততে পারবেন। জানা গেছে, প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়ার বিনিময়ে ২০টি ভার্চুয়াল কয়েন পাওয়া যাবে এবং ১০০০ কয়েন জমলে তা নগদ এক ডলারে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।   ক্যাম্পেইনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রতিদিন তিনটি এমআরটি (MRT) স্টেশন পার হওয়ার সময়টুকু, বাসের জন্য অপেক্ষার প্রহর কিংবা সকালের কফি পানের ফাঁকে ব্যয় করা মাত্র ১৫ মিনিট সময়ই একটি শক্তিশালী পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট।   ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা ট্যাম এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে জানান, শর্ট-ফর্ম কনটেন্ট মানুষকে দ্রুত তথ্য দিলেও দীর্ঘক্ষণ ধরে বই পড়ার অভ্যাস মনোযোগ, কল্পনাশক্তি এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে শাণিত করে। দিন দিন জটিল হয়ে ওঠা বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নাগরিকদের আরও বেশি কৌতূহলী, চিন্তাশীল ও দূরদর্শী হিসেবে গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।   তাছাড়া নতুন পাঠকদের আকৃষ্ট করতে এই কার্যক্রমে বিভিন্ন মজার ‘ফ্লেভার অব রিডিং’ বা রিডিং প্রোফাইল যুক্ত করা হয়েছে— যেমন ‘কুইহ লাপিস’, ‘কুলফি’, ‘আং কু কুইহ’ এবং ‘তাং ইউয়ান’, যা অংশগ্রহণকারীদের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের গবেষক লোহ চিন ই-এর মতে, পড়ার অভ্যাসটিকে ‘গ্যামিফাই’ বা আনন্দদায়ক করে তোলার কৌশলটিই সিঙ্গাপুরের এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় শক্তি।   তিনি জানান, অনেকেই হয়তো স্ক্রিনে দ্রুত কিছু পড়ে নেন, কিন্তু গভীরভাবে পড়ার প্রতি যে নিবেদন, তা বর্তমানে অনেকটাই কমে গেছে; আর সেই গভীর মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে ১৫ মিনিটের এই লক্ষ্যমাত্রা একটি অত্যন্ত কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উপায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৩:১৭
সৌদি আরবের জেদ্দায় আগামী ৮ থেকে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ষষ্ঠ হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনী। ছবি: সংগৃহীত
হজযাত্রীদের চিকিৎসাসহ আধুনিক প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবন উন্মোচনে জেদ্দায় ষষ্ঠ হজ সম্মেলন

সৌদি আরবের জেদ্দায় আগামী ৮ থেকে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ষষ্ঠ হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনী। বাদশাহ সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে হজযাত্রীদের সেবা আরও উন্নত করতে চিকিৎসা, পরিবহন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরা হবে। সম্মেলনে সরকারি, বেসরকারি ও অলাভজনক খাতের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ৫২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা অংশ নেবেন।   সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স কর্মসূচির সহযোগিতায় সম্মেলনটির আয়োজন করছে। হজসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষকে একই প্ল্যাটফর্মে আনা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা এবং হজযাত্রীদের জন্য দেওয়া সেবার মান উন্নত করাই আয়োজনটির অন্যতম লক্ষ্য।   সম্মেলনে গবেষক, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকেরা হজসেবা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি হজযাত্রীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট খাতে দেশটির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। বিভিন্ন দেশের হজবিষয়ক দপ্তর ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরাও মক্কা ও মদিনার সেবাব্যবস্থার অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।   আয়োজনে তিনটি প্রধান ধারায় হজসেবা নিয়ে আলোচনা হবে। অবকাঠামো ও পরিচালনাসেবা বিষয়ক ধারায় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো ও স্থাপনা পরিচালনা, আবাসন ও আতিথেয়তা এবং খাবার সরবরাহের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে। হজের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে এসব খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।   ক্ষমতায়ন ও সমন্বয় বিষয়ক ধারায় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, চিকিৎসাসেবা, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সেবা ও উদ্ভাবনী সমাধান কীভাবে হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে পারে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মতবিনিময় করবেন।   তৃতীয় ধারায় থাকবে টেকসই উন্নয়ন। এতে অলাভজনক খাত, উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে। গবেষক, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরবেন।   সম্মেলনের পাশাপাশি একটি বিশেষায়িত প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে। এতে ১৫০টির বেশি দেশের হজসেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতারা অংশ নেবেন। তারা হজযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সেবা ও সমাধান তুলে ধরার পাশাপাশি নিজেদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।   প্রদর্শনীতে বিমান চলাচল, পরিবহন, আতিথেয়তা, চিকিৎসাসেবা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জনবল, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা উন্নয়ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। হজবিষয়ক দপ্তর, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।   সম্মেলন ও প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে বিশেষায়িত ফোরাম, প্যানেল আলোচনা, গোলটেবিল বৈঠক, কর্মশালা এবং ব্যবসায়িক বৈঠকের আয়োজন থাকবে। এসব আয়োজনে নতুন উদ্যোগ ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি হজসেবা খাতে বিভিন্ন উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরা হবে।   আয়োজকদের লক্ষ্য, হজসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে এক জায়গায় এনে হজযাত্রীদের জন্য আরও উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করার পথ তৈরি করা।   গতবারের হজ সম্মেলনে ১৫০টির বেশি দেশের ২৭০টি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। ওই আয়োজনে দর্শনার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজারের বেশি ছিল। এছাড়া ১৩৪টি বিশেষায়িত অধিবেশন ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি অংশগ্রহণ করেন।   হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় সম্মেলনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে। সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সময়সূচিও অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রকাশ করা হবে।   সূত্র: আরব নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১২:১৬
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের পেনজ্যান্সে বাড়ি গুছাতে গিয়ে বিস্কুটের পুরোনো টিনে সোনার মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন এক বিধবা। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি গুছাতে গিয়ে স্বামীর লুকানো ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের সোনার মুদ্রা খুঁজে পেলেন বিধবা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের পেনজ্যান্সে বাড়ি গুছাতে গিয়ে বিস্কুটের পুরোনো একটি টিনে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সোনার মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন এক বিধবা। প্রায় ৫০ বছর ধরে টিনটির ভেতর সেগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন তাঁর প্রয়াত স্বামী। অবিশ্বাস্য এই সঞ্চয়ের কথা স্ত্রী নিজেও জানতেন না।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ির একটি শেড পরিষ্কার করার সময় ভারী টিনটি পাওয়া যায়। সেটি খুলে প্রথমে কিছু রুপার মুদ্রা দেখা গেলেও পরে নিচের দিকে খুঁজে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা। মুদ্রাগুলো আলাদা প্যাকেটে রাখা ছিল। সঙ্গে ছিল সেগুলো কেনার সময়ের কাগজপত্র এবং একটি পুরোনো পকেট মানি গাইড।   টিনটিতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ৪১টি গোল্ড ক্রুগেরান্ড এবং ২১টি ব্রিটিশ গোল্ড সোভারেইন। এর মধ্যে অধিকাংশ মুদ্রাই ১৯৭৫ সালে তৈরি করা হয়েছিল। তখন অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং শেয়ারবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই সোনাকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখতেন।   নিলামকারী ডেভিড লে জানান, ওই ব্যক্তি ১৯৭৫ সালে প্রতিটি মুদ্রার জন্য প্রায় ৭০ থেকে ৮০ পাউন্ড করে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ কয়েক হাজার পাউন্ড খরচ করে তিনি সোনা কিনেছিলেন। এরপর মুদ্রাগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ করেন যে প্রায় পাঁচ দশক ধরে সেগুলোর কথা কাউকে জানাননি।   নিলাম শেষে শুধু ৪১টি গোল্ড ক্রুগেরান্ড থেকেই পাওয়া গেছে ১ লাখ পাউন্ড। আর ২১টি ব্রিটিশ গোল্ড সোভারেইন বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার পাউন্ডে। সব মিলিয়ে সোনার মুদ্রাগুলোর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি।   নিলামকারী ডেভিড লে বলেন, মুদ্রাগুলো আবিষ্কারের বিষয়টি ছিল তাদের জন্যও বিস্ময়কর। তাঁর মতে, স্বামী যখন সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তখনকার তুলনায় বর্তমানে এর মূল্য অনেক বেড়েছে। মুদ্রাগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় নিজ নিজ প্যাকেটের মধ্যেই পাওয়া গেছে।   ১৯৭০-এর দশকে ব্যাংকের ওপর অনাস্থা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় কিছু মানুষ নগদ অর্থ বা মূল্যবান সম্পদ ঘরে রেখে দিতেন। তবে একটি সাধারণ বিস্কুটের টিনে এত বড় অঙ্কের সোনা প্রায় ৫০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা ঘটনাটিকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।   বাড়ি ছোট করার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে স্ত্রী যখন পুরোনো জিনিসপত্র গুছাচ্ছিলেন, তখনই প্রকাশ্যে আসে স্বামীর সেই গোপন বিনিয়োগ। কয়েক হাজার পাউন্ডের সেই সিদ্ধান্ত পাঁচ দশক পর পরিবারের জন্য পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পদে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১০:৫০
‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের পর বদলি হলেন বুশরা বানো। ছবি: সংগৃহীত
‘ইনশাআল্লাহ’, 'জাজাকাল্লাহ' বলায় বিতর্ক, ভারতে নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি

পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানোকে বদলি করা হয়েছে একটি ভিডিওকে ঘিরে বিতর্কের কয়েক দিনের মধ্যেই। ২০২১ ব্যাচের এই আইপিএস কর্মকর্তাকে খড়্গপুরের পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রকাশিত ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের পর একটি সংগঠনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বদলিটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    ১৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই ভিডিওতে বুশরা বানো মূলত নিজের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হওয়ার গল্প তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন। সেখানে তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোচিং একাডেমির সহায়তার কথা বলেন। নিজের বক্তব্যের শুরুতে তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করেন।    ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ করে। সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্যে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত। তারা প্রশ্ন তোলে, ভিডিওতে ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দে মাতরম’-এর মতো জাতীয় সম্ভাষণ ব্যবহার না করে কেন ইসলামী অভিবাদন ও ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।    অভিযোগের পরই বুশরা বানোর বদলির ঘটনা সামনে আসে। ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়। একই প্রশাসনিক আদেশে পার্থ ঘোষকে খড়্গপুরের নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং শুভেন্দু মণ্ডলকে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।    তবে বুশরা বানোর বদলির কারণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ওই অভিযোগকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হয়নি। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবান্নের পক্ষ থেকে বদলিটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি বিতর্ক এবং বদলির সময়ের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও সেটিকে সরকারি সিদ্ধান্তের নিশ্চিত কারণ হিসেবে বলা যাচ্ছে না।    বুশরা বানোর কর্মজীবনের পথও বেশ উল্লেখযোগ্য। উত্তরপ্রদেশের কনৌজে জন্ম নেওয়া এই কর্মকর্তা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পিএইচডি করেন। পরে সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। এরপর ভারতে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।    ২০১৮ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় ২৭৭তম স্থান অর্জন করে তিনি ভারতীয় রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিসে নির্বাচিত হন। তবে সে সময় দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কারণে ওই চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। পরের বছর আবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৩৪তম স্থান অর্জন করেন এবং ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে নির্বাচিত হন। পরে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে যোগ দিয়ে হুগলি গ্রামীণ এলাকায় সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। চলতি বছরের জুনে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান এবং খড়্গপুরে দায়িত্ব নেন।    বুশরা বানোর বদলিকে ঘিরে এখন মূল বিতর্ক হচ্ছে একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বা জনসমক্ষে বক্তব্যে ধর্মীয় অভিব্যক্তি ব্যবহারের সীমা নিয়ে। অভিযোগকারী সংগঠনটি এটিকে সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মীয় সম্ভাষণ ব্যবহারের কারণে একজন কর্মকর্তার প্রশাসনিক বদলির সঙ্গে বিষয়টির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বদলির সঙ্গে অভিযোগের সরাসরি সম্পর্কের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ৯:৪৯
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০