সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সেনাসদস্য
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সেনাসদস্যের ৫০ মাসের কারাদণ্ড, চাচাতো ভাইকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে ভারতীয় নাগরিক এক চাচাতো ভাইকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা, অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র আটকে রাখা এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় ভেঙ্কটেশ সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৩৮ বছর বয়সী সাত্তারু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক জন এ রস এ সাজা ঘোষণা করেন।    মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে ভুক্তভোগী ছিলেন সাত্তারুর চাচাতো ভাই, যিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তাঁকে সাত্তারুর বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ, বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজ এবং তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হতো বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সেন্ট লুইসে পৌঁছান। পরে তিনি মিসৌরির ও’ফ্যালন এলাকায় সাত্তারুর বাড়িতে বসবাস করেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে সংস্কারাধীন একটি বাড়িতে এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে অন্য একটি সংস্কারাধীন বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়।   এই সময় তাঁকে বাড়ির কাজকর্ম, বাইরে বিভিন্ন কাজে যাতায়াত এবং সাত্তারুর প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সাত্তারুর দোষ স্বীকারের চুক্তিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, কাজ করতে ব্যর্থ হলে তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে শাস্তি দেওয়া হতো।    মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে না দেওয়া, খাবার সীমিত করা, গোসল ও শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার মতো আচরণের শিকার হতে হয়। তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়।   আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্যাতনের কিছু ঘটনায় বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এতে ভুক্তভোগী গুরুতর শারীরিক আঘাত পান। সাত্তারু নিজে কিছু নির্যাতনে অংশ নেন। অন্য সময় তাঁর শ্যালক নিকিল পেনমাতসা ও শ্রবণ পেনুমেচা ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করেন বলে সাত্তারুর দোষ স্বীকারের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো ঘটনায় তাঁরা সাত্তারুর নির্দেশে এবং কোনো কোনো ঘটনায় নিজেদের উদ্যোগে নির্যাতন করেন।    সাত্তারুর বিরুদ্ধে আরেকটি ফৌজদারি অপরাধ ছিল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য হিসেবে ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের একটি কর্মসূচির আওতায় পরিচর্যাকারীর জন্য দেওয়া অর্থ বাড়াতে নিজের শারীরিক অক্ষমতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করেছিলেন বলে মার্কিন প্রসিকিউটররা জানান।   ওই কর্মসূচিতে যোগ্য সাবেক সেনাসদস্য ও সামরিক সদস্যদের পরিচর্যাকারীরা মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, সাত্তারুর দেওয়া মিথ্যা তথ্যের কারণে তাঁর পরিচর্যাকারী অতিরিক্ত ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার পেয়েছিলেন।   এ ঘটনায় সাত্তারুকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরকে ৭৪ হাজার ৬৩৪ ডলার বাজেয়াপ্ত অর্থ হিসেবে এবং ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরকে ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। ভুক্তভোগীকেও সমঝোতাভিত্তিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়।    গত ৮ অক্টোবর ঘোষিত রায়ে সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মিসৌরির অঙ্গরাজ্য আদালতে দ্বিতীয় মাত্রার পারিবারিক নির্যাতনের অপরাধে পাওয়া পাঁচ বছরের সাজা একই সময়ে কার্যকর হবে। ফলে দুই সাজা পরপর যোগ করে ভোগ করতে হবে না। ফেডারেল রায়ে আগের আটকাবস্থায় কাটানো সময়ের জন্যও সমন্বয়ের নির্দেশ রয়েছে।    মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এবং সেন্ট চার্লস কাউন্টি পুলিশ। মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ডায়ানা এডওয়ার্ডস।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রেখে শ্রম আদায় ও শারীরিক নির্যাতনের একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলার উদাহরণ। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তার অর্থের অপব্যবহারসংক্রান্ত অভিযোগও এতে উঠে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৮:১০
সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
গান্ধী-নেহরুর ওপর নির্ভরতা নয়, নিজেদের নেতা গড়ুন: আজমগড়ে ওয়াইসির আহ্বান

ভারতের উত্তর প্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)। এর অংশ হিসেবে ১১ অক্টোবর, রোববার, আজমগড়ে জনসভা করে দলটির প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেসের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন।    জনসভায় ওয়াইসির মূল বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্য দলের নেতাদের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের আর কোনো গান্ধী বা নেহরুর প্রয়োজন নেই, আমাদের নিজেদের নেতা প্রয়োজন।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংখ্যালঘু ভোটারদের দীর্ঘদিনের সমর্থন এবং সেই সমর্থনের বিনিময়ে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন সামনে আনেন।    আজমগড়কে সমাজবাদী পার্টির শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তির একটি হিসেবে দেখা হয়। এই এলাকায় দাঁড়িয়ে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, দলটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটের সমর্থন পেলেও তাদের অধিকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং উন্নয়নের প্রশ্নে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।   তিনি প্রশ্ন তোলেন, সমাজবাদী পার্টির শাসনামলে আজমগড়ের শিবলি ন্যাশনাল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়নি কেন। তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় শিক্ষা, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ও উঠে আসে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়াইসির বক্তব্যই প্রধান সূত্র; জনসভায় উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।    ওয়াইসি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুধু নির্বাচনের সময় ভোটার হিসেবে বিবেচনা না করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সুযোগ দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের মধ্য থেকে নেতা তৈরি করা এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো সম্ভব।   জনসভায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারকেও সমালোচনা করেন এআইএমআইএম প্রধান। তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বিভাজনের পরিবর্তে দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।   ওয়াইসি দাবি করেন, উত্তর প্রদেশ সরকারের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, দরিদ্র মানুষের সংখ্যার বিচারে আজমগড় রাজ্যের জেলাগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এই তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা।   তবে তাঁর উল্লেখ করা পরিসংখ্যানের মূল সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ছাড়া যোগী আদিত্যনাথ ও অখিলেশ যাদবকে পরস্পরের রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জ জানান ওয়াইসি। এটি ছিল তাঁর নির্বাচনী জনসভার রাজনৈতিক বক্তব্য; দুই নেতার পক্ষ থেকে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের কোনো নিশ্চিত তথ্য উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।    এআইএমআইএমকে নিয়ে উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর কিছু নেতা ও সমর্থক অভিযোগ করেন, নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এআইএমআইএম বিরোধী ভোট ভাগ করতে পারে এবং এর ফলে বিজেপি সুবিধা পেতে পারে।   আজমগড়ের জনসভায় ওয়াইসি এই অভিযোগের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিজেদের রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার অধিকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও রয়েছে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এআইএমআইএমের নির্বাচনী উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি উত্তর প্রদেশের বিরোধী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হিসেবে রয়েছে।   উত্তর প্রদেশের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে।   এআইএমআইএমের জন্য আজমগড়ের জনসভাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এলাকাটি সমাজবাদী পার্টির প্রভাবশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওয়াইসি সেখানে নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে প্রচলিত দলগুলোর প্রতিনিধিত্বের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।   ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআইএমআইএম উত্তর প্রদেশে আরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা, জোটের সিদ্ধান্ত এবং আসনভিত্তিক নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দলটির পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাবে না।    ওয়াইসির এই প্রচারের মূল বিষয় তিনটি—সংখ্যালঘুদের নিজস্ব রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি, শিক্ষা ও উন্নয়নের প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর জবাবদিহি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া। তাঁর বক্তব্য ঘিরে উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক বিতর্ক আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে নির্বাচনে এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা ভোটের ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৬:২৮
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের ইসলামি আলেম
ওমরাহ পালনে মক্কা যাওয়ার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের ইসলামি আলেম ও মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ মুফতি মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বাদরপুরী। পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় এ হামলার শিকার হন তিনি। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। পরে আহতদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।    ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম, সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। মুফতি নাসরুল্লাহ বাদরপুরী কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাদরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বয়স ছিল ৩৫ বছর।   তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। পরিবারের সদস্যদের বরাতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি ৪৫ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দা হয়ে মক্কায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের।    কিন্তু রিয়াদ বিমানবন্দরের টার্মিনাল এলাকায় অপেক্ষা করার সময়ই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শনিবার বিকেল প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হামলাটি হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের একটি অংশে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়।    পরিবারের বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, হামলার পর নাসরুল্লাহ তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তবে ফোনে তাঁর কণ্ঠ শোনা যায়নি। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার পর রোববার তাঁর মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা।   নাসরুল্লাহর মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর বড় সন্তানের বয়স সাত বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স দুই বছর বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এ ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মোহাম্মদ শহীদ আহমেদ। তিনি সৌদি আরবে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ওমরাহযাত্রী ও প্রবাসী কর্মী রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনকে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   হামলার পর রিয়াদে আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদের সহায়তায় বাংলাদেশ দূতাবাস কাজ শুরু করে। সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, অভিবাসন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীর সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের মধ্যে যাঁরা ওমরাহ পালনের জন্য জেদ্দায় যেতে চেয়েছিলেন, তাঁদের পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হয় বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে।    সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানায়, হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। পরে আহত এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলে মোট নিহতের সংখ্যা ১৩-তে পৌঁছায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তবে হামলার দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।    রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনা সৌদি আরবে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক যাত্রী, বিশেষ করে ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৬:৮
গুয়াতেমালায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মৃত
নিজের জানাজা নয়, শেষকৃত্যের সময় কফিনে নড়েচড়ে উঠল ১৫ বছরের কিশোরী, আট ঘণ্টা ধরে মৃত বলে ধরে নিয়েছিল পরিবার

গুয়াতেমালায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মৃত বলে ধরে নেওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর নিজের শেষকৃত্যের সময় কফিনের ভেতর নড়াচড়া করতে এবং উঠে বসতে দেখা গেছে। ঘটনাটি ঘটে দেশটির কিচে বিভাগের সাকাপুলাস এলাকার এল হোকোটে সম্প্রদায়ে। কিশোরীর নাম ইউলেইদি ইক্সকোটোয়াক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কফিনের ভেতর তাঁর নড়াচড়া এবং উপস্থিত স্বজনদের বিস্মিত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।    ঘটনাটি যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, তেমনি একজন মানুষকে মৃত বলে ধরে নেওয়ার আগে যথাযথ চিকিৎসা পরীক্ষা কতটা জরুরি, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।   ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শনিবার ভোরে ইউলেইদি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর বাবা আব্রাহাম ইক্সকোটোয়াক তাঁকে গাড়িতে করে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পথে কিশোরী অচেতন হয়ে পড়েন। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তখন মেয়ের শ্বাস-প্রশ্বাস ও কবজির নাড়ি অনুভব করতে পারেননি। সেই পরিস্থিতিতে তিনি মেয়েকে মৃত বলে ধরে নেন। তবে কোনো চিকিৎসক তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেননি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    পরিবারের সদস্যরা এরপর একটি কফিনের ব্যবস্থা করেন এবং বাড়িতে শেষকৃত্যের আয়োজন করেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা সেখানে জড়ো হয়ে শোক প্রকাশ করছিলেন। কিন্তু শোকের সেই পরিবেশ মুহূর্তেই বদলে যায়, যখন কিশোরীর মা লেসভিয়া রিওস কফিনের ভেতরে নড়াচড়া লক্ষ করেন।   মায়ের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি মেয়ের কাছে গিয়ে নড়াচড়া দেখতে পান। এরপর কফিনের ভেতর থেকে ইউলেইদি নড়েচড়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে উঠে বসেন। উপস্থিত স্বজনেরা তাঁকে সাহায্য করে কফিন থেকে বের করে আনেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।    কিশোরী নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ার আগের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অচেতন হওয়ার আগে বুকে বা হৃদ্‌যন্ত্রের স্থানে তীব্র ব্যথা অনুভব করেছিলেন। এরপর কী ঘটেছিল, তা তিনি স্পষ্টভাবে বলতে পারেননি। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর তিনি পরিবার ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে গুয়াতেমালার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন কিশোরী অচেতন হয়েছিলেন, কেন তাঁর বাবা নাড়ি ও শ্বাস-প্রশ্বাস অনুভব করতে পারেননি এবং পরে কীভাবে তাঁর জ্ঞান ফিরেছে—এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।    ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও সামনে এনেছে। কেউ অচেতন হয়ে পড়লে বা তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও নাড়ি বোঝা না গেলে অনুমানের ভিত্তিতে তাঁকে মৃত ধরে নেওয়া বিপজ্জনক। দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মীদের মাধ্যমে যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।   গুয়াতেমালার এই কিশোরীর ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত। পরিবারের কাছে এটি অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হলেও, এর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসাগত তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৫:২১
লিউকেমিয়া শনাক্তের পর দুই চিকিৎসক বোনের ভিডিও ভাইরাল
পরিবারে তৃতীয় ক্যানসারের আঘাত, লিউকেমিয়া শনাক্তের পর দুই চিকিৎসক বোনের ভিডিও ভাইরাল

ভারতের কেরালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৩৩ বছর বয়সী চিকিৎসক ডা. থারা কালারিক্কালের রক্তের ক্যানসার লিউকেমিয়া শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর ছোট বোন ডা. চিত্রা কালারিক্কালের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কঠিন রোগের খবর জানালেও দুই বোনের হাসিমুখ ও দৃঢ় মনোভাব অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ, মনোরমা অনলাইন ও মধ্যমমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার পর ডা. থারার লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়। পরিবারের সদস্যদের আগে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার অভিজ্ঞতা থাকলেও নতুন করে এই রোগের খবর তাঁদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   দুই বোনের ভিডিওতে ‘চেস্ট নম্বর ৩’ কথাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা পরিবারে তৃতীয় সদস্যের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। রোগের খবরটি তাঁরা যেভাবে স্বাভাবিক ও দৃঢ় ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।   ডা. থারা ও ডা. চিত্রার পরিবারের ক্যানসারের অভিজ্ঞতা বহুদিনের। তাঁদের নানি ও মা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে তাঁদের বড় বোন ডা. সূর্য কালারিক্কাল স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তবে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বর্তমানে ক্যানসারজয়ী হিসেবে পরিচিত।   পরিবারের এই অভিজ্ঞতার কারণে ক্যানসার চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ, রোগীর মানসিক চাপ এবং স্বজনদের উদ্বেগ সম্পর্কে তাঁদের প্রত্যক্ষ ধারণা রয়েছে। মায়ের চিকিৎসার সময় তাঁরা হাসপাতালে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। বড় বোনের চিকিৎসার সময়ও পরিবারের সদস্য হিসেবে পাশে ছিলেন।এবার ডা. থারার রোগ শনাক্ত হওয়ার পর সেই পুরোনো অভিজ্ঞতাগুলো আবার সামনে এসেছে। তবে দুই বোনের বক্তব্যে হতাশার পরিবর্তে রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।   মনোরমা অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষায় কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যাওয়ার পর ডা. থারার আরও পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার সূত্র ধরেই লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়।রোগের খবর প্রথমে তাঁদেরও উদ্বিগ্ন করেছিল। ডা. চিত্রা জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফলাফল আসার অপেক্ষার সময় উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে একের পর এক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাটা কঠিন ছিল।   প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁরা অস্থিমজ্জার পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। বিস্তারিত পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা।তবে ডা. থারার লিউকেমিয়ার নির্দিষ্ট ধরন, রোগের পর্যায় এবং চিকিৎসার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   ডা. চিত্রার বক্তব্যে উঠে এসেছে, ক্যানসার শনাক্ত হলে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। কিন্তু শুধু ভয় ও হতাশার মধ্যে আটকে না থেকে রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই গুরুত্বপূর্ণ।তাঁদের পরিবারে আগে ক্যানসারের অভিজ্ঞতা থাকায় রোগটির কঠিন দিকগুলো তাঁরা জানেন।   একই সঙ্গে তাঁরা মনে করেন, ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই জীবনের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। রোগের ধরন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসার সুযোগ থাকে।তাঁরা ক্যানসারকে তুচ্ছ করে দেখানোর চেষ্টা করছেন না। বরং রোগের গুরুত্ব স্বীকার করেই মানসিকভাবে শক্ত থাকা এবং চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের খবর সাধারণত উদ্বেগ ও শোকের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ডা. থারা ও ডা. চিত্রা তাঁদের ভিডিওতে হাসিমুখে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। এই ভিন্নধর্মী উপস্থাপন দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।   মনোরমা অনলাইনকে দেওয়া বক্তব্যে ডা. চিত্রা জানান, ভিডিওটি প্রকাশের একটি উদ্দেশ্য ছিল ক্যানসার নিয়ে মানুষের ভয় ও সামাজিক সংকোচ কমানো। অনেকেই ভয় বা অস্বস্তির কারণে রোগের কথা প্রকাশ করতে চান না। অথচ সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তাঁদের ভিডিও দেখার পর কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা জানিয়েছেন বলেও ডা. চিত্রা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাজে এসেছে—এমন প্রতিক্রিয়া পেয়ে তাঁরা আনন্দিত।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:৫
যুবরাজকে গোপন প্রাসাদে স্থানান্তরের গুঞ্জন নিয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ছবি: সংগৃহীত
হামলা ও তীব্র উত্তেজনার কারণে সৌদি যুবরাজকে বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বাঙ্কারযুক্ত কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত প্রাসাদগুলোর মধ্যে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত ও অন্তত ৩০০ জন আহত হওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যেই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে বিদেশি মিত্রদের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। তবে যুবরাজকে স্থানান্তরের বিষয়টি সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য উদ্ধৃত করে সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ৪১ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজকে বাঙ্কারযুক্ত একাধিক সুরক্ষিত প্রাসাদের মধ্যে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তাঁর চলাফেরা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বিশেষভাবে নির্বাচিত একটি দলও তাঁর সঙ্গে রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারের পর থেকে মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সেদিন তিনি একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   তবে যুবরাজ বর্তমানে ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, কোন কোন প্রাসাদে তাঁকে নেওয়া হয়েছে কিংবা এই বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা কত দিন চলবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে দ্য ইনডিপেনডেন্ট।   সৌদি আরবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। শনিবার (১০ অক্টোবর) সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০০ জন আহত হন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিমানবন্দরটিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক হামলা হয়েছে। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ দিনের মধ্যে চারবার বিমানবন্দরটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। সপ্তাহান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।   বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রিয়াদ বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রী পরিবহন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।   এদিকে হুতি বিদ্রোহীরা বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। গোষ্ঠীটির একজন মুখপাত্র সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আরও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।   সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হামলার গুরুত্ব বিবেচনায় দেশটির প্রতিক্রিয়াও সমানভাবে কঠোর হবে। তবে সৌদি সরকার পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি।   অন্যদিকে সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন হামলা প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা ধরে রাখা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব বিদেশি মিত্রদের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা চেয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে রিয়াদ।   গত মাসেই এই সহায়তার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কর্মকর্তাদের একজন জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক হামলায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সৌদি আরবের মক্কা চুক্তির মিত্ররাও দেশটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে মিত্রদেশগুলোর সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।   সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে দেশটির গৃহযুদ্ধে সামরিকভাবে অংশ নেয় সৌদি আরব।   ২০২২ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় বলে দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হুতিদের অভিযোগ, ইরান থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ সানার বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করার সময় সৌদি বাহিনী সেখানে হামলা চালিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।   ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের অন্যতম সশস্ত্র মিত্র হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আরব উপদ্বীপের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘাত আরও বাড়লে তা ইসরায়েলের স্বার্থেই কাজে আসবে।   এদিকে রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, শুধু সামরিক সমাধানের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে তেহরান সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।   সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ এবং যুবরাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের খবর এমন সময় সামনে এসেছে, যখন ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে।   তবে মোহাম্মদ বিন সালমানকে বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে স্থানান্তরের তথ্য এখনো সংবাদমাধ্যমের সূত্রভিত্তিক। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তনের খবর এবং সরকারের নিশ্চিত সিদ্ধান্তকে পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে।   সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৩:১০
কঠোর ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়

কঠোর ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি হারানোর ঝুঁকি এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ১২ অক্টোবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট দেশ থেকে শিক্ষার্থী নেওয়া কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।    যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের তথ্য নিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে। আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। পাকিস্তানি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে তা ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। নাইজেরিয়ার আবেদনকারীদের প্রত্যাহারের হার ছিল ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।    তবে আবেদন প্রত্যাহার ও ভিসা প্রত্যাখ্যান আলাদা বিষয়। ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়। অন্যদিকে আবেদন প্রত্যাহার হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। আবেদনকারী নিজে আবেদন তুলে নিতে পারেন, আবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তাব বা প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপ প্রত্যাহার করলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে বাংলাদেশিদের ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে, তাঁদের সবার ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়েছে।    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পনসর করার নতুন শর্ত। হোম অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন বা তার পরে করা বার্ষিক কমপ্লায়েন্স মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকতে হবে। আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশের নিচে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার অনুমতিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে সীমা অতিক্রম করলেই তাৎক্ষণিকভাবে সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয় না।    স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপট্যান্স ফর স্টাডিজ বা সিএএস প্রয়োজন হয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসার সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় সিএএস প্রত্যাহার করলে সেটি প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই ব্যবস্থার কারণে সম্ভাব্য প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কায় আগেই স্পনসরশিপ তুলে নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপ্লায়েন্স হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।    নতুন নিয়মে স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ৯৫ শতাংশকে সংশ্লিষ্ট কোর্সে ভর্তি হতে হবে। বর্তমানে কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হার ৮৫ শতাংশ। ২০২৭ সালের ১ জুন বা তার পরে করা মূল্যায়নে সেটি বেড়ে ৯০ শতাংশ হবে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর শুধু ভিসা আবেদন যাচাই নয়, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পড়াশোনা শেষ করার বিষয়েও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সতর্ক করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে বাংলাদেশসহ উল্লিখিত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের ওপর যুক্তরাজ্যজুড়ে সামগ্রিক ভর্তি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বিধিনিষেধগুলো মূলত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে তারা সরকারি শর্ত ভঙ্গের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে।    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়েও চাপ বাড়তে পারে। ইউনিভার্সিটি অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী ভ্যানেসা উইলসন সতর্ক করেছেন, এই চাপ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, চাকরি কমানো এবং কোর্স বা ক্যাম্পাস বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে হোম অফিস বলেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে ইতিবাচক অবদান রাখেন, তবে অভিবাসন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দায়িত্বশীলভাবে শিক্ষার্থী নিতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১১:৩০
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে আটকে থাকা ২০ হাজারের বেশি বন্দীর মুক্তিতে সহায়তা করেছেন ব্যবসায়ী ফিরোজ মার্চেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
ঋণ শোধে অক্ষম, এমন ২০ হাজারের বেশি বন্দীকে মুক্তিতে সহায়তা দুবাইয়ের ভারতীয় ব্যবসায়ীর

ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে আটকে থাকা ২০ হাজারের বেশি মানুষের মুক্তিতে সহায়তা করেছেন দুবাইভিত্তিক ভারতীয় ব্যবসায়ী ফিরোজ মার্চেন্ট। ২০০৮ সালে শুরু করা এই উদ্যোগে তিনি বন্দীদের বকেয়া অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি অনেকের দেশে ফেরার বিমানভাড়াও দিয়েছেন। খালিজ টাইমসের ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দুই দশক ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি।    ফিরোজ মার্চেন্ট স্বর্ণালংকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পিওর গোল্ড জুয়েলার্সের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর ‘ফরগটেন সোসাইটি’ উদ্যোগের লক্ষ্য আর্থিক সংকটে পড়া বন্দীদের সহায়তা করা। ২০২৪ সালে তাঁর কার্যালয়ের বিবৃতি উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইও জানিয়েছিল, বিভিন্ন জাতীয়তা ও ধর্মের ২০ হাজারের বেশি বন্দীর মুক্তিতে ভূমিকা রেখেছে এই উদ্যোগ।   খালিজ টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিরোজ জানান, ২০২৫ সালে ৫০টির বেশি দেশের ২ হাজার ৯৭২ জন বন্দীর মুক্তিতে সহায়তা করা হয়েছে। তাঁদের ঋণ পরিশোধে দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ দিরহাম। আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, আজমান ও রাস আল খাইমাহর কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা এই সহায়তা পেয়েছেন। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, অনেকের দেশে ফেরার বিমান টিকিটের খরচও তিনি বহন করেছেন।    এই কার্যক্রমের বড় অংশ পরিচালিত হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এবং খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়। ফিরোজের বক্তব্য, আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে দায় পরিশোধ করতে না পারা মানুষদের আবার পরিবারের কাছে ফেরার সুযোগ দেওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য।    কারামুক্তির পর বাড়ি ফেরার সহায়তার নির্দিষ্ট উদাহরণও রয়েছে। গালফ নিউজের ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুজাইরাহর একটি সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ৫০ জন অসচ্ছল ব্যক্তির বিমান টিকিটের খরচ দিয়েছিলেন ফিরোজ। পিওর গোল্ড জুয়েলার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের দেশে ফেরাতে ব্যয় হয়েছিল ৯০ হাজার দিরহাম।    সেই সময় ফুজাইরাহর সংশ্লিষ্ট সংশোধনাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ হামদান আল জেয়ুদি এই সহায়তাকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে বন্দীদের দেশে ফেরাতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের অংশীদারত্বের বিষয়টিও উঠে আসে।    বন্দীদের সহায়তার পাশাপাশি চিকিৎসার খরচ বহনেও অর্থ দিয়েছেন ফিরোজ। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুবাই চ্যারিটি অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে ১১ জন রোগীর ডায়ালাইসিস ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয়ে ১০ লাখ দিরহাম অনুদান দেন তিনি।    ফিরোজের কাছে এই কাজের সাফল্য মানুষের জীবনে তার ফলাফলে। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ঋণ পরিশোধের কারণে কেউ পরিবারের কাছে ফিরতে পারলে কিংবা আর্থিক সহায়তায় কারও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে সেটিই তাঁর জন্য যথেষ্ট।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১১:২১
রামপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে তরুণের বিরুদ্ধে হ ত্যার অভিযোগ
৪৯ বছর বয়সী মায়ের ২৫ বছরের স্বামীকে হ ত্যার অভিযোগ, নিউজিল্যান্ডফেরত ছেলে গ্রে প্তার

ভারতের উত্তর প্রদেশে মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে সৎ বাবাকে গু লি করে হ ত্যার অভিযোগ উঠেছে ২২ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মায়ের নতুন সংসার মেনে নিতে না পেরে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতের রামপুরে আসেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের গাড়ি সার্ভিস সেন্টারের সামনে ওই তরুণের সৎ বাবা নভজোত সিংকে গু লি করে হ ত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার অভিযুক্ত তরুণ এবং তাঁর এক আত্মীয়কে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রে প্তার হওয়া তরুণের নাম অবদীপ সিং। তিনি নিউজিল্যান্ডের একটি ডেইরি ফার্মে কাজ করেন। এ ঘটনায় গ্রে প্তার অপর ব্যক্তি রাজনদীপ সিং রামপুরের বাসিন্দা এবং অবদীপের আত্মীয়। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত নভজোত সিংয়ের বয়স ছিল ২৫ বছর। তাঁর স্ত্রী কমল কৌরের বয়স ৪৯ বছর। প্রথম স্ত্রীর মৃ ত্যুর পর প্রায় নয় মাস আগে বিধবা কমলকে বিয়ে করেন নভজোত। তাঁদের বসবাসের জায়গাও ছিল কাছাকাছি। তবে কমলের দুই ছেলে অবদীপ ও যোগনপ্রীত সিং মায়ের এই বিয়েতে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বাবা প্রায় তিন বছর আগে মারা যাওয়ার পর দুই ভাই নিউজিল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। নিহতের এক আত্মীয়ের দাবি, বিয়ের বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সমস্যা মেটাতে স্থানীয়ভাবে একটি পঞ্চায়েতও বসানো হয়। ওই আত্মীয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও দুই ভাই নভজোতকে হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সত্যতা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। নভজোত রামপুরের তাহ কালান গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কৃষক নিশান সিংয়ের একমাত্র ছেলে। তাঁর চাচা জগদীপ গিলের ভাষ্য অনুযায়ী, নভজোতের প্রথম স্ত্রী বিষাক্ত পদার্থ সেবনের পর মারা যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় নভজোতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তাঁকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি মুক্তি পান। পরে কুমহারিয়া কালান মোড়ে একটি গাড়ি সার্ভিস সেন্টার চালু করেন। শনিবার সন্ধ্যায় ওই সার্ভিস সেন্টারেই ছিলেন নভজোত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় একটি গাড়িতে করে কয়েকজন সেখানে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে তাঁরা নভজোতকে লক্ষ্য করে একাধিক গু লি ছোড়েন। এতে তাঁর বুকের কয়েকটি স্থানে গু লি লাগে। এরপর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সার্ভিস সেন্টারের সামনে লোকজন জড়ো হন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত নভজোতকে হাসপাতালে পাঠায়। তবে সেখানে নেওয়ার পরপরই তাঁর মৃ ত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ তাঁদের শান্ত করে। এরপর নভজোতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। রামপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুরাগ সিং জানিয়েছেন, অবদীপ ও রাজনদীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অবদীপ ঠিক কবে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেছেন, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। নভজোতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মিলক খানাম থানায় আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কমল কৌরের দুই ছেলে এবং তাঁদের কয়েকজন আত্মীয় রয়েছেন। তবে মামলায় নাম থাকা সবার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ ও প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৮:১১
অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক
অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে প্রার্থনার ভঙ্গিতে থাকা অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় নি হ ত হন পাকিস্তানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সামিয়া মালিক। এ ঘটনায় গাড়িচালক অ্যাশটন জ্যাকব ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজাটি স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছর গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাকে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৬ মে। অ্যাডিলেডের হিলক্রেস্ট এলাকার নর্থ ইস্ট রোডে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান ২০ বছর বয়সী সামিয়া। আদালতে উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে তিনি প্রায় চার মিনিট ধরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে ছিলেন। তার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি প্রার্থনা করছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি সড়কের ওপর অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের বাসিন্দা সামিয়া উন্নত ভবিষ্যতের আশায় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। নিজের পাশাপাশি পরিবারের জীবনেও পরিবর্তন আনার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু অল্প বয়সেই তার আকস্মিক মৃ ত্যুতে পাকিস্তানে থাকা স্বজনেরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েন। স্বজন হারানোর মানসিক কষ্টের পাশাপাশি তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং শেষকৃত্যের খরচ নিয়েও পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। আদালতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন অ্যাশটন ফ্রেন্ড। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর। তিনি নির্ধারিত গতিসীমার নিচে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মদ বা মাদক গ্রহণের প্রভাবে ছিলেন না। তবে সংঘর্ষের আগে গাড়ির পেছনের দৃশ্য দেখার আয়নায় তাকিয়ে ছিলেন তিনি। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সামিয়াকে দেখতে পেলে বা পরিস্থিতি বুঝতে পারলে দুর্ঘটনা এড়ানোর সুযোগ থাকতে পারত। ফ্রেন্ড আদালতে স্বীকার করেন, সামিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি গাড়ি থামাননি। তার দাবি, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, গাড়ির ধাক্কায় হয়তো একটি ক্যাঙ্গারু আঘাত পেয়েছে। পরদিন সংবাদমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর দেখার পর তিনি বুঝতে পারেন, সড়কে একজন মানুষকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। তবে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে না থামার বিষয়টি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে অসতর্কভাবে গাড়ি চালিয়ে একজনের মৃ ত্যু ঘটানো এবং দুর্ঘটনায় মৃ ত্যুর পর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি উভয় অভিযোগেই দোষ স্বীকার করেন। বিচারক অ্যান বার্নেট ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে আট মাসের আগে প্যারোলের সুযোগ না থাকার বিধান রাখা হয়। তবে সাজা কার্যকর না করে দুই বছরের জন্য ভালো আচরণের শর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ের জন্য তাকে ৫০০ ডলারের বন্ডে থাকতে হবে। একই সঙ্গে ১০ বছরের জন্য গাড়ি চালানোর অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারক ফ্রেন্ডের বয়স, অনুশোচনা, ভবিষ্যতে নিজেকে সংশোধনের সম্ভাবনা এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও নির্ধারিত শর্ত মেনে চললে আপাতত কারাগারে যেতে হবে না। এর আগে আদালতে সামিয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ফ্রেন্ড। নিজের কাজ এবং দুর্ঘটনার পর গাড়ি না থামানোর দায়ও তিনি স্বীকার করেন। এই ঘটনা একদিকে সামিয়ার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে সড়কে চালকের মনোযোগ ও দুর্ঘটনার পর দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব সামনে এনেছে। আদালতের রায়ে চালকের কারাদণ্ড স্থগিত হলেও সামিয়ার পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:১৬
ফ্রান্সের আউবাগনে লাকানাল স্কুল
স্কুলে শটগান নিয়ে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর গু লি, আহত প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে শটগান নিয়ে ঢুকে গু লি চালানোর অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। সোমবার, ১২ অক্টোবর সকালে মার্সেই শহরের কাছে আউবাগনে এলাকার লাকানাল স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও একজন নারী শিক্ষক আহত হয়েছেন। ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন শিক্ষার্থী ১২-গেজের একটি শটগান নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করেছিল। এরপর গু লির ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং স্কুলে কীভাবে সেটি নিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব হয়েছে, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দুই কর্মী—একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন নারী শিক্ষক—সকালে গু লিবিদ্ধ হয়েছেন। সন্দেহভাজন হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর নাম উঠে এসেছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি দেখতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনার পরও শিক্ষা সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সমাজে লাগামহীন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সহিংসতা মোকাবিলায় শুধু বক্তব্য নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেও সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। ঘটনার পর স্কুলের নিরাপত্তা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আহত দুই শিক্ষকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে, গু লির সময় স্কুলে কতজন শিক্ষার্থী বা কর্মী উপস্থিত ছিলেন, কিংবা অন্য কেউ ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, ফ্রান্সে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে আউবাগনের স্কুলে গু লির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাই দুটি ঘটনাকে সরাসরি যুক্ত করে দেখার সুযোগ নেই। আউবাগনে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি শহর, যা মার্সেইয়ের কাছাকাছি। সেখানকার লাকানাল স্কুলে এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। স্কুলে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নির্ধারণ করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীকে গ্রে প্তারের পর তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছেন। তার উদ্দেশ্য কী ছিল, ঘটনার আগে কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল কি না এবং অস্ত্রটি কীভাবে তার হাতে এসেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় দুই শিক্ষক আহত হয়েছেন এবং ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রে প্তার করা হয়েছে। তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য বা দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৫:৫৬
২৮ বছরের বিশ্বভ্রমণ শেষে ইংল্যান্ডে ফিরেছেন কার্ল বুশবি
২৮ বছর ধরে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ, ১১ বছর পর মায়ের কাছে ফিরতে ব্যাকুল ব্রিটিশ অভিযাত্রী

২৮ বছর ধরে হেঁটে চার মহাদেশের ২৯টি দেশ ঘুরেছেন তিনি। পাড়ি দিয়েছেন ৩০ হাজার মাইলেরও বেশি পথ। কখনো দুর্গম জঙ্গল, কখনো বরফে ঢাকা প্রণালি, আবার কখনো বিস্তীর্ণ সাগর পেরিয়ে এগিয়েছেন নিজের লক্ষ্যের দিকে। অবশেষে ইংল্যান্ডে ফিরেছেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্যারাট্রুপার কার্ল বুশবি। কিন্তু দীর্ঘ এই বিশ্বভ্রমণের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়টি এখনো বাকি। ১১ বছর ধরে মায়ের সঙ্গে দেখা হয়নি তাঁর। সেই মায়ের কাছে ফিরতে এখনো প্রায় ২৫০ মাইল পথ হাঁটতে হবে ৫৭ বছর বয়সী এই অভিযাত্রীকে। গত ৫ অক্টোবর ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে ইংল্যান্ডের ডোভারের কাছে শেকসপিয়ার সৈকতে পৌঁছান বুশবি। তিন দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা পানিতে থেকে এই কঠিন পথ পাড়ি দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ১৯৯৮ সালে শুরু করা বিশ্বভ্রমণের আরেকটি বড় বাধা অতিক্রম করেন। তবে নিজ শহর হালে পৌঁছে মায়ের সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত তাঁর অভিযান শেষ হচ্ছে না। বুশবির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ১ নভেম্বর, দক্ষিণ আমেরিকার চিলি থেকে। তখনই নিজের জন্য দুটি কঠোর নিয়ম ঠিক করেছিলেন তিনি। প্রথমত, যাত্রাপথ এগিয়ে নিতে বিমান, ট্রেন, নৌযান কিংবা গাড়ির মতো কোনো পরিবহন ব্যবহার করবেন না। দ্বিতীয়ত, বিশ্বভ্রমণ শেষ না করে নিজ শহর হালে ফিরবেন না। সেই প্রতিজ্ঞা নিয়েই বছরের পর বছর ধরে এগিয়ে গেছেন তিনি। দক্ষিণ আমেরিকার এক প্রান্ত থেকে শুরু করে উত্তর আমেরিকা পেরিয়ে তাঁর যাত্রা পৌঁছেছে এশিয়া ও ইউরোপে। পথে অতিক্রম করেছেন পানামা ও কলম্বিয়ার মধ্যবর্তী দুর্গম দারিয়েন গ্যাপ। ঘন জঙ্গল, প্রতিকূল ভূপ্রকৃতি এবং নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০০৬ সালে ফরাসি-আমেরিকান অভিযাত্রী দিমিত্রি কিফারের সঙ্গে বরফে ঢাকা বেরিং প্রণালিও পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন তিনি। এই প্রণালি আলাস্কা ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে কাস্পিয়ান সাগরের প্রায় ১৮৪ মাইল জলপথ সাঁতরে পার হওয়াও তাঁর অভিযানের উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ এই যাত্রায় একের পর এক দেশ ও ভৌগোলিক সীমা পেরিয়ে এগিয়েছেন বুশবি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরার পথটুকুও সহজ ছিল না। ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার আগে তিনি চ্যানেল টানেলের সার্ভিস টানেল দিয়ে পায়ে হেঁটে ইংল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিলেন। এই টানেলটি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে সংযুক্ত করেছে। তবে নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তাঁর সেই অনুরোধ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সাঁতার কেটেই ইংল্যান্ডে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পানিতে নামার পর শারীরিক কষ্টও কম পোহাতে হয়নি তাঁকে। বুশবি জানিয়েছেন, সাঁতার শুরুর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পেশিতে টান ধরতে শুরু করে। তখন নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবু মনোবল ধরে রেখে এগিয়ে যান। রাতে পানিতে ভেসে থাকার সময় আকাশের তারা তাঁকে ব্যথা থেকে মনোযোগ সরাতে সাহায্য করে। আলোদূষণ থেকে দূরে থাকায় রাতের আকাশের বিশাল দৃশ্য তাঁকে মুগ্ধ করেছিল বলেও জানান তিনি। প্রায় তিন দশকের এই বিশ্বভ্রমণে নানা কারণে বারবার থমকে যেতে হয়েছে বুশবিকে। বিভিন্ন দেশের ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তাঁর যাত্রায় বাধা তৈরি করেছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তা কমে যায়। পরে করোনাভাইরাস মহামারির বিধিনিষেধ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক অস্থিরতাও তাঁর পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে। যে অভিযান প্রায় ১২ বছরে শেষ করার আশা করেছিলেন, তা শেষ করতে লেগেছে প্রায় ২৮ বছর। অভিযানের শুরুতে বুশবির হাতে ছিল মাত্র ৫০০ ডলার। কোনো পৃষ্ঠপোষকও ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে বই বিক্রি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া, মানুষের অনুদান এবং করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে যাত্রার খরচ জুগিয়েছেন তিনি। একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানও গত ১৬ বছর ধরে তাঁকে সহায়তা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির বাইরে থাকার পর অবশেষে ইংল্যান্ডে ফিরে আসা বুশবির জন্য বড় অর্জন। তবে তাঁর লক্ষ্য শুধু বিশ্বভ্রমণ শেষ করা নয়, বরং ১১ বছর পর মায়ের সঙ্গে দেখা করা। সেই পুনর্মিলনের জন্য এখনো প্রায় ২৫০ মাইল হাঁটতে হবে তাঁকে। বুশবির গল্প তাই শুধু চার মহাদেশ পেরিয়ে দীর্ঘ পথচলার নয়; এটি প্রতিজ্ঞা ধরে রাখা, প্রতিকূলতার মুখে এগিয়ে যাওয়া এবং প্রিয়জনের কাছে ফিরে আসার অপেক্ষার গল্পও। বিশ্বভ্রমণের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে ব্যক্তিগত এক গন্তব্য—মায়ের কাছে ফেরা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৫:৪৪
সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে ব্যবহারযোগ্য মিঠাপানি
সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে বিশুদ্ধ করছে চীন, লক্ষ্য দৈনিক ৪৫ লাখ টন

সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে ব্যবহারযোগ্য মিঠাপানি তৈরির সক্ষমতা দৈনিক ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টনে পৌঁছেছে চীন। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা দৈনিক ৪৫ লাখ টনের বেশি করার লক্ষ্য নিয়েছে। উপকূলীয় শহর, দ্বীপাঞ্চল ও শিল্পকারখানায় পানির সরবরাহ বাড়াতে লবণমুক্তকরণ প্রকল্প সম্প্রসারণ করছে চীন।  চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের ৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দৈনিক ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টন মিঠাপানি তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এই পরিমাণ পানি প্রায় দেড় কোটি মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট। তবে এটি সরাসরি দেড় কোটি মানুষকে পানি সরবরাহ করার হিসাব নয়, উৎপাদনের পরিমাণ বোঝাতে দেওয়া একটি তুলনা।   সিজিটিএন আরও জানিয়েছে, দৈনিক ১০ লাখ টনের বেশি উৎপাদন সক্ষমতার নতুন প্রকল্প নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব কেন্দ্র চালু হলে সমুদ্রের পানি থেকে মিঠাপানি তৈরির সক্ষমতা আরও বাড়বে।  এই পরিসংখ্যানে উৎপাদন ও উৎপাদন সক্ষমতার পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। সিজিটিএনের জুনের একটি প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শিয়াং ওয়েনসির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, চীনে ১৬৭টি লবণমুক্তকরণ প্রকল্পের মোট সক্ষমতা দৈনিক ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টন। অর্থাৎ সংখ্যাটি কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা নির্দেশ করে। প্রতিদিন বাস্তবে কত পানি উৎপাদিত হচ্ছে, তার পৃথক হিসাব ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।    চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন, প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে লবণমুক্তকরণ শিল্পের উন্নয়নে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট সক্ষমতা দৈনিক ৪৫ লাখ টনের বেশি এবং নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত সক্ষমতা দৈনিক ১৫ লাখ টনের বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনায় শহরের পানির নিরাপত্তা, দ্বীপ ও জাহাজে পানি সরবরাহ, শিল্পখাতে ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব করা, জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।    সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার মাধ্যমে চীন উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচলিত পানির উৎসের পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা বাড়াতে চাইছে। এই উদ্যোগে নতুন কেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে পরিশোধিত পানি ব্যবহারের পরিসর বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।  সূত্র: CGTN  

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২:৪৭
সুদান ও মিশরের সীমান্তবর্তী একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলা
প্রতিবেশী দেশ সুদানে মিশরের ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত ৭২, বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা

সুদান ও মিশরের সীমান্তবর্তী একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সুদানের মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামলাটি হয়। পরদিন সংগঠনটি হতাহতের প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করে মিশরের বিমানবাহিনীকে দায়ী করে। তবে হামলাকারী পক্ষ ও নিহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশরও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।    সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, হামলার স্থানটি জাবাল আল উকাইদাতের স্বর্ণখনি এলাকা। সেখানে ছোট পরিসরে শ্রমিকেরা স্বর্ণ উত্তোলনের কাজ করেন। ইমার্জেন্সি লইয়ার্সের বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা বেসামরিক খনিশ্রমিক। সংগঠনটি জানিয়েছে, হতাহতের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ চলমান। ফলে ৭২ জন নিহত হওয়ার হিসাবটি চূড়ান্ত নয়। হামলার দায় নিয়ে সংগঠনটির অভিযোগও এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এএফপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। হামলায় ব্যবহৃত উড়োজাহাজের পরিচয়ও নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে স্কাই নিউজ। মিশরের বিমানবাহিনীকে দায়ী করার বিষয়টি তাই মানবাধিকার সংগঠনটির অভিযোগ হিসেবেই উঠে এসেছে।   হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক প্রথমে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল। সংগঠনটি একই সঙ্গে সতর্ক করেছিল, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। পরে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স ৭২ জন নিহত হওয়ার দাবি জানায়। দুই সংগঠনের হিসাবের এই পার্থক্যের মধ্যে মোট প্রাণহানির নিশ্চিত সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।  হামলা থেকে বেঁচে ফেরা খনিশ্রমিক আবদেল আজিজ ইউসুফ এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল প্রায় আটটার দিকে একটি যুদ্ধবিমান তাঁদের মাথার ওপর আসে। তাঁর বর্ণনায়, বিমানটি পাঁচ দফা হামলা চালায় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। আবার হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় তিনি ও অন্য শ্রমিকেরা পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যান।   আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শরাফ আলী জানিয়েছেন, হামলার সময় দুর্গম ওই এলাকায় হাজারো মানুষ কাজ করছিলেন। হামলার পর শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিকে ছুটে যান। কেউ আল আনসারি স্বর্ণবাজারে আশ্রয় নেন, আবার কেউ অন্য দিকে চলে যান। সবাই ছড়িয়ে পড়ায় কতজন নিহত হয়েছেন, তা সঠিকভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান। দুই প্রত্যক্ষদর্শীই পালিয়ে যাওয়ার সময় মাটিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলেও তাঁদের আশঙ্কা। তবে আটকে থাকা বা নিখোঁজ মানুষের নিশ্চিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থল শহরাঞ্চল থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো এবং পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করাও কঠিন।    হামলার স্থানটি কোন দেশের সীমানার মধ্যে পড়েছে, তা নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। ইমার্জেন্সি লইয়ার্সের দাবি, হামলা হয়েছে সুদানের ভূখণ্ডে। অন্যদিকে প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল মিশরের দিকে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, মিশরীয় কর্তৃপক্ষ খনিশ্রমিকদের ওই এলাকা ছেড়ে যেতে বারবার সতর্ক করেছিল। এই তথ্য হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে না। অঞ্চলটির সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। সম্পদসমৃদ্ধ হালায়েব ত্রিভুজের ওপর সুদান ও মিশর উভয় দেশই নিজেদের অধিকার দাবি করে। নীল নদের পূর্ব দিকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বর্ণ উত্তোলন ও বাণিজ্য হয়। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের দূরবর্তী অবস্থানের কারণে হামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।  এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনেও জাবাল আল উকাইদাতের খনি এলাকায় বিমান হামলায় ২৩ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর এসেছিল। তখনও মিশরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। মিশরের সেনাবাহিনী ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে নিজেদের ভূখণ্ডে অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছিল।   জুনের অভিযান সম্পর্কে মিশরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ২২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩৬ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। ওই এলাকায় অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলন ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে অভিযান চালানোর কথা বলা হয়। শনিবারের হামলা নিয়ে মিশরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় আগের অভিযানের সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্কও নিশ্চিত করা যায়নি।  সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দীর্ঘ সংঘাতে জীবিকা হারানো বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ স্বর্ণ উত্তোলনের কাজে যুক্ত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্তের খনিতে নতুন এই হামলা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আহতদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের সতর্কতা অনুযায়ী, গুরুতর আঘাত এবং চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা হতাহতের পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।    

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১:১৩
প্রবাসী শাহেদ আহম্মেদ
"জেদ্দায় পৌঁছে ফোন দিব", কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে রিয়াদে হামলায় নি হ ত শাহেদ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের প্রবাসী শাহেদ আহম্মেদ। শনিবার (১০ অক্টোবর) কর্মস্থলে ফেরার পথে বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন তিনি। রিয়াদে পৌঁছে স্ত্রী কাকলি বেগমকে জানিয়েছিলেন, জেদ্দায় পৌঁছানোর পর আবার ফোন করবেন। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। পরদিন পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পায়। রোববার (১১ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করে। তাঁদের একজন শাহেদ আহম্মেদ। অন্যজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের নাসরুল্লাহ বদরপুরি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তখন সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন।    পরিবারের বরাতে কালবেলা জানিয়েছে, রিয়াদে পৌঁছানোর পর শাহেদ স্ত্রীকে ফোন করে নিজের অবস্থানের কথা জানান। সেখান থেকে জেদ্দায় যেতে আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। জেদ্দায় পৌঁছে আবার যোগাযোগ করার কথা ছিল। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনেরা। শাহেদের স্বজন মাসুম রানা জানান, প্রায় এক মাস দেশে ছুটি কাটিয়ে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে ফিরে যাওয়ার এই যাত্রাপথেই হামলার শিকার হন শাহেদ। এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্ত্রী ও স্বজনেরা।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহেদের বয়স ৩২ বছর। তিনি মাদলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম মিঠু ও শাহেরা বেগমের ছেলে। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। প্রায় দুই বছর আগে শাহেদও সেখানে যান। তাঁর মা ওমরাহ পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। দেশে রয়েছেন স্ত্রী এবং দুই ছেলে কাউছার ও আব্দুল্লাহ। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ১১ ও ৬ বছর।   শাহেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর মাদলা গ্রামের বাড়িতে শোক নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা চান। শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি নিজেও খোঁজ রাখছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।  সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে শাহেদের কর্মস্থল সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়। তিনি সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি শেষে রিয়াদ হয়ে সেই কর্মস্থলেই ফিরছিলেন। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসাধারী।   প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জানিয়েছে, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। বিমানবন্দরে হামলার পর আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদেরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহত অন্য বাংলাদেশি নাসরুল্লাহ বদরপুরিও রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ সরকার বহন করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সৌদি কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।   হামলায় বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ০:৫৩
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় মার্কিন নাগরিক নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।    সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার জন্য প্রতিবেশী ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুতিরা আগের কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   এ ঘটনার পর সৌদি আরব তার মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহায়তার জন্য আরও জোরালো আহ্বান জানাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৯:৪৮
‘কাছেই ঘেঁষতে দেয় না, আবার বিক্রি!’ এফ-৩৫ নিয়ে ভারতীয় বিমানপ্রধানের রসিকতা
‘কাছেই ঘেঁষতে দেয় না, আবার বিক্রি!’ এফ-৩৫ নিয়ে ভারতীয় বিমানপ্রধানের রসিকতা

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের ‘এফ-৩৫’ স্টিল্থ যুদ্ধবিমান ভারতে এসে পৌঁছালেও সেগুলোর ধারেকাছেও কাউকে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না—সম্প্রতি এমনই এক রসাত্মক ও আক্ষেপের সুরে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং। রাজস্থানের যোধপুরে সদ্য সমাপ্ত আন্তর্জাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’-র সমাপনী দিনের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।   এই মহড়ায় অংশ নিতে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে অবতরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। মহড়ার শেষ দিনে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিমানবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ভারতীয় বিমানপ্রধান। সেখানে সাংবাদিকরা জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ভারতের কাছে বিক্রির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে কি না।   জবাবে পাশে থাকা মার্কিন কমান্ডারের দিকে তাকিয়ে হাস্যরসের সুরে এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং বলেন, মার্কিন বাহিনী তো ভারতীয়দের এই বিমানের ধারেকাছেও যেতে দেয় না, সেখানে বিক্রির প্রস্তাব তো অনেক দূরের কথা! তবে পরক্ষণেই নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, কথাটি নিছকই কৌতুকচ্ছলে বলা হয়েছে এবং এটিকে গুরুতরভাবে নেওয়ার কিছু নেই।   তিনি স্বীকার করেন যে, যেকোনো দেশই তাদের সংবেদনশীল ও গোপনীয় সামরিক প্রযুক্তির সুরক্ষার স্বার্থে এমন কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখে, এমনকি ভারতও নিজেদের সব প্রযুক্তি অন্যদের সাথে ভাগ করে নেয় না।   এ প্রসঙ্গে মার্কিন কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডার জানান, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি বা তথ্য কোন দেশের সাথে কতটুকু আদান-প্রদান করা যাবে, তা ওয়াশিংটনের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিরক্ষা নির্দেশিকা ও গাইডলাইনের ওপর নির্ভর করে।   বর্তমানে ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সেটি পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। এদিকে প্রতিবেশী চীনের হাতে থাকা জে-২০ ও জে-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য নতুন বিমান সংগ্রহের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   এই অন্তর্বর্তীকালীন ঘাটতি মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় বিমানপ্রধান জানিয়েছেন, রাশিয়া ইতিমধ্যে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের ‘সুখোই-৫৭’ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিলেও ভারত সরকার এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৭:৪
পূর্ব আফ্রিকার জিবুতির উপকূলে তিন শতাধিক অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে
জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১৩৯, নিখোঁজ বহু মানুষ, চলছে উদ্ধার তৎপরতা

পূর্ব আফ্রিকার জিবুতির উপকূলে তিন শতাধিক অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস রোববার এ খবর প্রকাশ করে। নৌকাটি ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবে যায়।   আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার জিবুতি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নৌকাটিতে অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় ৮০ জনের বেশি মানুষ বেঁচে গেছেন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জীবিতদের অধিকাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক। অন্তত ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।   উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের অনেককে পরিচয় শনাক্ত করা ছাড়াই সমাহিত করতে হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ সব মরদেহ শনাক্ত ও গণনা করা সম্ভব হয়নি।   আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোর এই পথটি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের ব্যবহৃত একটি বিপজ্জনক রুট। সংঘাত, দারিদ্র্য ও কাজের সন্ধানে বহু মানুষ এই পথে যাত্রা করেন। কিন্তু অনিরাপদ নৌযান, অতিরিক্ত যাত্রী, মানবপাচারকারী চক্র এবং সমুদ্রের ঝুঁকির কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।   আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সরকার ও দাতা সংস্থাগুলোর প্রতি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, বিপজ্জনক পথ ব্যবহার কমাতে অভিবাসীদের জন্য নিয়মিত ও নিরাপদ যাত্রার ব্যবস্থা প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৬:১৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল জ্বালানি সংগ্রহের একটি চুক্তি করেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল জ্বালানি সংগ্রহের একটি চুক্তি করেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য মোকাবিলা এবং সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে এ উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত, সরবরাহের পরিমাণ এবং অর্থ পরিশোধের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার এই ঘোষণা ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চাপের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রশ্ন তুলেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দেশটির জ্বালানি আয় সীমিত করার প্রচেষ্টা পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।   ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন ও উৎপাদন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। ভারী ট্রাক, কৃষিযন্ত্র, নির্মাণ সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ডিজেলের ব্যবহার রয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে পণ্য পরিবহন ও উৎপাদনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামেও পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগকে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে পারে।   তবে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার ঘোষণা দিলেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দাম দ্রুত কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ব্যয়, শোধনাগারের উৎপাদন, মজুত এবং আমদানির নিয়মসহ বিভিন্ন বিষয় জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে।   রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্ক   ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মস্কোর ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। রাশিয়ার জ্বালানি আয় কমানো এবং দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা সীমিত করা ছিল এসব ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।   এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার নতুন ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি বাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে নতুন সমন্বয়ের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। তবে ঘোষিত চুক্তিটি কী আইনি কাঠামোর আওতায় কার্যকর হবে এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার কোন বিধান প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেনের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন হতে পারে। একই সময়ে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আস্থা, ভূখণ্ড, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক ব্যবস্থার প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে জ্বালানি কেনার চুক্তি ও যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা একই সময়ে সামনে এলেও দুটির মধ্যে সরাসরি সমঝোতা হয়েছে—এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।   কী কী তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়?   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন; তবে প্রকাশিত তথ্য থেকে চুক্তির মোট মূল্য, ডিজেলের পরিমাণ, সরবরাহের সময়সূচি এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো এতে অংশ নেবে, তা নিশ্চিত করা যায় না।   এ ছাড়া রাশিয়া থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিষেধাজ্ঞা, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা এবং পরিবহনসংক্রান্ত শর্তও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ের আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিটির অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।   সামগ্রিকভাবে, রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা, ভোক্তাদের ব্যয় এবং ইউক্রেন যুদ্ধসংক্রান্ত নীতির সংযোগকে সামনে এনেছে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয় কি না এবং বাজারে এর প্রভাব কী হয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারি ঘোষণা ও বাস্তব সরবরাহের ওপর।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৫:২১
রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে সমুদ্রতলের ক্যাবল কাটার অভিযোগ, অচল হতে পারে বিশ্ব ইন্টারনেট
রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে সমুদ্রতলের ক্যাবল কাটার অভিযোগ, অচল হতে পারে বিশ্ব ইন্টারনেট

সমুদ্রের তলদেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ক্যাবল এবং জ্বালানি পাইপলাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এক ভয়ঙ্কর গোপন যুদ্ধে মেতেছে রাশিয়া ও চীন। এই নাশকতা যদি পুরোপুরি সফল হয়, তবে আধুনিক বিশ্ব মুহূর্তেই ইন্টারনেট ও জ্বালানি হারিয়ে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে বা অন্তত ১৮৫৮ সালের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।   আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক এলিজাবেথ ব্র-এর সদ্য প্রকাশিত বই ‘আন্ডারসি ওয়ার: দ্য ব্যাটল টু কন্ট্রোল দ্য ক্যাবলস অ্যান্ড পাইপলাইনস দ্যাট কানেক্ট আওয়ার ওয়ার্ল্ড’-এ এই ভীতিকর বাস্তবতা উঠে এসেছে।   ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর। রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে খনিজ সার বোঝাই করে বাল্টিক সাগরে প্রবেশ করে চীনা পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘ই পেং ৩’ (Yi Peng 3)। এর মাত্র দুই দিন পর জাহাজটি সুইডেন ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যকার সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবলের ওপর দিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই লাইনটি অচল হয়ে পড়ে।   ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ফিনল্যান্ড ও জার্মানির মধ্যকার একমাত্র যোগাযোগ ক্যাবলটির পাশ দিয়ে যায় জাহাজটি এবং সেটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইউরোপীয় তদন্তকারীরা দ্রুতই বুঝতে পারেন যে ক্যাবল দুটি কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সীমাবদ্ধতা ও চীনের অসহযোগিতার কারণে জাহাজটিকে আটকানো সম্ভব হয়নি।   নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের গোপন নাশকতাকে ‘হাইব্রিড অ্যাটাক’ বা ছায়াযুদ্ধ বলে অভিহিত করছেন, যা সরাসরি যুদ্ধ ও কূটনীতির মাঝামাঝি এক ধূসর অঞ্চলে (গ্রে-জোন) পরিচালিত হয়। কেবল সমুদ্রতলেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে এস্তোনিয়া, জার্মানি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র এবং বুলগেরিয়ার অস্ত্র কারখানায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।   গত ২০ আগস্ট কৃষ্ণসাগরে একটি গ্যাস প্ল্যাটফর্মের কাছে সন্দেহজনক রোবোটিক বোট ধ্বংস করতে রোমানিয়ার বিমান বাহিনী দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠায়। এছাড়া সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত পাঁচজনকে অভিযুক্ত করেছে এফবিআই। এমনকি গত আগস্টে জার্মানির বিমানবন্দরে থাকা বেসামরিক বিমানে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার জন্যও রাশিয়াকে দায়ী করা হয়।   এলিজাবেথ ব্র তার বইয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে সমুদ্রতলের প্রায় ২০ হাজার মাইল দীর্ঘ তেল-গ্যাস পাইপলাইন এবং ১০ লাখ মাইল দীর্ঘ ফাইবার অপটিক ক্যাবল আধুনিক বিশ্বকে সচল রেখেছে। প্রতিদিনের ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন, ইমেইল, জুম কল কিংবা ঘর গরম রাখার জ্বালানি—সবই নির্ভর করে এই ‘আন্ডারসি কিংডম’ বা সমুদ্রতলের সাম্রাজ্যের ওপর।   অথচ যেকোনো সাধারণ জাহাজ থেকে একটি ভারী নোঙর ফেলেই এই সংবেদনশীল অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। এর আগে ২০২৩ সালে তাইওয়ানের মাতসু দ্বীপের দুটি যোগাযোগ ক্যাবল কেটে দিয়েছিল চীনা কার্গো জাহাজ। ফলে মুহূর্তেই পুরো দ্বীপটি ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অচল হয়ে যায় ডিজিটাল লেনদেন এবং হাসপাতালগুলোকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়।   একইভাবে ফিনল্যান্ডের জলসীমায় গ্যাস পাইপলাইন ও ক্যাবল ধ্বংসে জড়িত ছিল ‘নিউনিউ পোলার বিয়ার’ নামের আরেকটি জাহাজ, এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনীয় নাশকতায় ধ্বংস হয় বিখ্যাত নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন।   সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সমুদ্রতলের এই ক্যাবল সুরক্ষার আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোটি ১৮৮৪ সালের প্যারিস কনভেনশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, কোনো জাহাজ ক্যাবল কাটলে তার বিচার বা তদন্তের দায়িত্ব কেবল ওই জাহাজটি যে দেশে নিবন্ধিত, সেই দেশের। ফলে অপরাধী জাহাজগুলো সহজেই দায়মুক্তি পেয়ে যায়।   এই ভয়াবহ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প বা অতিরিক্ত ক্যাবল (রিডান্ড্যান্সি) স্থাপনকেই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে মনে করেন লেখক, যা বর্তমানে বাল্টিক সাগর ও তাইওয়ানের আশপাশে করা হচ্ছে। তবে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রয়টার্স জানায়, নরওয়ে উপকূলে ন্যাটোর এক যৌথ অভিযানে রুশ সাবমেরিনের একটি গোপন মহড়া ভণ্ডুল করে দেওয়া হয়েছে।   রুশ সাবমেরিন যুদ্ধ পরিদপ্তরের (জিইউজিআই) তিনটি যান আর্কটিক অঞ্চলে কোনো চিহ্ন না রেখেই সমুদ্রতলের ডেটা ক্যাবল কাটার একটি নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছিল, যা দীর্ঘ এক মাস ধরে অনুসরণ করে ব্রিটিশ সাবমেরিন। বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রতলের এই নীরব যুদ্ধ হয়তো এখনো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধায়নি, কিন্তু যেদিন হঠাৎ বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, সেদিন বিশ্ববাসী ঠিকই এর ভয়াবহতা টের পাবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:৪২
তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ, অভিভাবকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ

তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ বছর পূর্ণ হয়নি এমন শিশুদের সেবা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এই নিয়ম জারি করা হয়েছে।   শনিবার (১০ অক্টোবর) তুরস্কের সরকারি গেজেটে নতুন বিধিমালাটি প্রকাশ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সাইবার সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট এই বিধিমালা জারি করেছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিজেদের প্ল্যাটফর্মে সেবা দিতে পারবে না।   নতুন নিয়মের আওতায় সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশু নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ করেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। তবে বয়স যাচাইয়ের নামে ব্যবহারকারীর অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না।   বিধিমালায় বলা হয়েছে, বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এমন প্রযুক্তি ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা ব্যবহারকারীর সম্পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ না করেই তাঁর বয়স নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারে। অর্থাৎ শুধু বয়স যাচাইয়ের জন্য প্রত্যেক ব্যবহারকারীর বিস্তারিত ব্যক্তিগত পরিচয় সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক নয়। একই সঙ্গে যাচাইয়ের পদ্ধতি যেন কোনো ব্যবহারকারীর প্রতি বৈষম্যমূলক না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   তবে ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি, এমন কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়নি। তাঁদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী আলাদা সেবা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব ব্যবহারকারীর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সেবা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের শারীরিক, মানসিক, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও আবেগগত বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম এবং ব্যবহারকারীদের সামনে কী ধরনের কনটেন্ট তুলে ধরা হচ্ছে, সে বিষয়ে শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।   নতুন বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতি, অ্যালগরিদমের কাঠামো এবং শিশুদের জন্য নির্ধারিত সেবার নীতিমালা পরিষ্কার ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। ব্যবহারকারী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন এসব ব্যবস্থা পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করতে পারে, সেই সুযোগ রাখতে হবে।   অভিভাবকদের জন্য সহজ ও ব্যবহারবান্ধব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সন্তানদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিরাপত্তা সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন অভিভাবকেরা। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিভাবকদের জন্য নির্দিষ্ট কোন কোন প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা উল্লেখ করা হয়নি।   বিধিমালার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা। শিশুদের বয়স যাচাইয়ের জন্য এমন পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ না করেও নির্ধারিত বয়সসীমা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে যাচাইয়ের ব্যবস্থাগুলো নির্ভরযোগ্য, পরীক্ষাযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিমূলক হতে হবে।   তুরস্কের পার্লামেন্ট চলতি বছরের এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংক্রান্ত নতুন আইন পাস করেছিল। সেই আইনের অধীনেই শনিবারের বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো পৃথক আইন নয়; বরং আগে পাস হওয়া আইনের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।   নতুন নিয়মের ফলে তুরস্কে সেবা প্রদানকারী সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বয়সভিত্তিক প্রবেশাধিকার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে বিধিমালা অমান্য করলে ঠিক কত টাকা জরিমানা কিংবা কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, সে বিষয়ে আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   একইভাবে বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশুর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলো বন্ধ কিংবা সীমিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কত দিন সময় পাবে, তা-ও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে সব বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।   তুরস্কের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হলো। নতুন ব্যবস্থায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সেবা বন্ধ রাখার পাশাপাশি বড় বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তবে এই নিয়ম শুধু তুরস্কের সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য দেশের শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর এর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা তৈরি হচ্ছে না। নতুন বিধিমালার বাস্তবায়ন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে তুরস্কে শিশুদের অনলাইন ব্যবহারে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা আরও স্পষ্ট হবে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১২:২২
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত

দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত

অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০