ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদে মার্কিন কনস্যুলেট সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করা হচ্ছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এই সড়কটির উদ্বোধন করা হবে। মূলত আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবেই এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভন্ত রেড্ডি উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভন্ত রেড্ডি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সর্বপ্রথম এই সড়কটির নাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবিষয়ক বিরোধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতসহ নানাবিধ বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে পরিকল্পনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় রাজ্য সরকার পুনরায় এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের পথে হেঁটেছে। তেলেঙ্গানা সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হায়দরাবাদ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই রাজ্যের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অভাবনীয় ভূমিকা রেখেছে। শহরটির আন্তর্জাতিক বিনিয়োগবান্ধব ভাবমূর্তি আরও জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে তেলেঙ্গানাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ভবিষ্যতে গুগল এবং মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নামেও কয়েকটি সড়কের নামকরণের বিবেচনা করছে সরকার। তবে এমন একটি নামকরণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তেলেঙ্গানা বিজেপির সভাপতি রামচন্দর রাও কংগ্রেস শাসিত রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডি এবং শীর্ষ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বলেন, একদিকে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করছেন যে ভারত ট্রাম্পের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে, অন্যদিকে রেভন্ত রেড্ডি ঘটা করে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ উদ্বোধন করছেন। ট্রাম্পের কাছে আসলে কে আত্মসমর্পণ করেছে, তা কংগ্রেসকে স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন এই শীর্ষ বিজেপি নেতা। তবে সকল রাজনৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে রাজ্য সরকার এই উদ্যোগকে নিছকই অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক কূটনীতির অংশ হিসেবে দাবি করছে।
রাতের আঁধারে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি বড় তেল শোধনাগার এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে আগুন ধরে গেছে। এই হামলার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, মধ্য মস্কো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গ্যাজপ্রম নেফ্ট পরিচালিত একটি তেল শোধনাগারে অন্তত একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। তাঁর মতে, ইউক্রেন রাতারাতি রুশ রাজধানীর দিকে প্রায় ৬০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায় ড্রোনটি ওই শোধনাগারে আঘাত হানার সাথে সাথেই সেটি বিশাল অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হচ্ছে। তিনি এই হামলাকে ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত আক্রমণ এবং দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের একটি 'ন্যায্য জবাব' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, "মস্কো অঞ্চল আজ ইউক্রেনের দূরপাল্লার সক্ষমতার আঁচ টের পেয়েছে।" মেয়র সোবিয়ানিন জানান, এই ড্রোন হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে এই ঘটনার ফলে ওই তেল শোধনাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, পুরো মস্কোর প্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সরবরাহ করে এই শোধনাগারটি। পরবর্তীতে জরুরি সেবার কর্মকর্তারা জানান, গ্যাজপ্রম নেফ্ট স্থাপনার আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে হামলার পর ওই এলাকায় যান চলাচল সীমিত করে দেন পরিবহন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, ক্রাসনোদার অঞ্চলের স্থানীয় ক্রাইসিস রেসপন্স সেন্টার জানিয়েছে যে, একটি ড্রোনের আছড়ে পড়ার ফলে পোলতাভস্কায়া তেল ডিপোতে আগুন ধরে যায়। এই ডিপোটি মূলত ওই অঞ্চলের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। প্রায় সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর সেখানকার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ১৪টি অঞ্চল এবং সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের নিক্ষেপ করা অন্তত ১৭২টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। চলতি বসন্তকাল থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোর ওপর তাদের আক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম থেকে ক্রেমলিন যেন কোনো অতিরিক্ত মুনাফা বা সুবিধা নিতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এই কৌশল বেছে নিয়েছে কিয়েভ। অব্যাহত এই ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার পেট্রোলিয়াম উৎপাদনের বড় অংশের জন্য দায়ী স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন হয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, নয়তো উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। রাশিয়ান শোধনাগারগুলোতে হামলার পাশাপাশি ইউক্রেন সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্রাকগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
মাসের পর মাস বিমান হামলা, সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং ইরানের বন্দরগুলো কার্যত অচল করে দেওয়া নৌ অবরোধের পর যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার ফলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থা বহাল থাকছে। চুক্তির ফলে ওয়াশিংটন ইরানে সরকার পরিবর্তন বা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্তও তেহরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করে আসছিলেন। উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে পেতে রাখা মাইন অপসারণ, কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি এবং ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪১ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ওই ইউরেনিয়াম হস্তান্তর না হলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা হবে। যুদ্ধ ও বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ অর্থকে ‘ক্ষতিপূরণ’ বলতে রাজি নয়। তারা এটিকে ‘আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল’ হিসেবে উল্লেখ করছে। চুক্তির অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় করা হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির অধিকার ফিরে পাবে তেহরান। অন্যদিকে এই চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ লুকাচ্ছে না ইসরায়েল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা দেশটি চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার ব্যক্তিগত আলোচনায় এই সমঝোতাকে ‘গভীর হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া চুক্তির বিস্তারিত তথ্য বা খসড়া ইসরায়েলকে দেখতে দেয়নি ওয়াশিংটন। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই চুক্তির শর্তাবলি দেখতে চেয়ে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দেশের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তার মতো এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের এমন গোপনীয়তা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চূড়ান্ত হওয়া এই সমঝোতা স্মারকটিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং এর বিনিময়ে ইরান হরমোজ প্রণালি উন্মুক্ত করার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী ৬০ দিন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলবে এবং দেশটির ওপর থেকে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করা হবে। এই চুক্তির খবর সামনে আসতেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ইউরোপীয় নেতারা এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং ইরানও যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দিয়েছে। তবে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G-7) সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, "বিবির (নেতানিয়াহু) সাথে আমার চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে, তবে লেবাননের বিষয়ে তাকে এখন আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।" ট্রাম্প ইসরায়েলি বাহিনীর অতিমাত্রায় বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের এই যুদ্ধ অতিরিক্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং এতে অসংখ্য নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। কাউকে খুঁজতে গিয়ে প্রতিবার পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি কড়া মন্তব্য করেন। এমনকি এর আগে এক ফোনালাপে লেবাননে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বলেও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। যেহেতু ইসরায়েল এই আলোচনায় অংশ নেয়নি এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি, তাই তারা এটি মেনে চলতে বাধ্য নয়। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান কোনোভাবেই বন্ধ হবে না বলেও তিনি হুমকি দিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েলের এমন অনমনীয় অবস্থান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সদ্য অর্জিত শান্তি চুক্তিকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি চুক্তির মাধ্যমে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই চুক্তির তোয়াক্কা না করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল তাদের সামরিক হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি এমন একটি হামলায় চারজনের প্রাণহানির পর এবার তেল আবিবকে অত্যন্ত কড়া জবাব দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড 'খাতাম আল-আনবিয়া' ইসরায়েলের এই অব্যাহত আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে, "জায়োনিস্ট শাসকগোষ্ঠীর শিশু হত্যাকারী সেনাবাহিনী যদি দক্ষিণ লেবাননে তাদের এই আগ্রাসী ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে তাদের জন্য ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর ও চরম পরিণতি অপেক্ষা করছে।" বিবৃতিতে আরও গুরুতর একটি অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধ অবসানের ওই চুক্তি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েল লেবাননে অন্তত "৮৪ বার" যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া সমঝোতা চুক্তিকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছে তেহরান।
তাইওয়ানের বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট গত মাসে সরকারের প্রস্তাবিত ৪০ বিলিয়ন ডলারের সম্পূরক প্রতিরক্ষা বাজেটের মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ অনুমোদন করেছে। তবে এরপরও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ থেকে ‘হাল ছাড়বেন না’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। মঙ্গলবার নিউ তাইপেইতে একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনকালে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাইওয়ান সরকার তাদের সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে ড্রোনের পাশাপাশি অন্যান্য 'অ্যাসিমেট্রিক' (asymmetric) বা অসম সমরকৌশল ও যুদ্ধাস্ত্রের ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু পার্লামেন্ট কেবল যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে বাজেট অনুমোদন দিয়েছে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ও মিসাইল খাতের তহবিল বাতিল করে দিয়েছে। মূলত, স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করা চীনকে প্রতিহত করতেই এসব নিজস্ব প্রযুক্তির অস্ত্রের ওপর জোর দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট লাই। বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় ধরনের এই কাটছাঁট প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জানান, এই পরিস্থিতিতে তারা কোনোভাবেই হার মানবেন না। সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো যেন নির্বিঘ্নে এগিয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আলাদা বিশেষ আইন প্রস্তাব করা হবে। এছাড়াও, সম্পূরক বাজেট ও বার্ষিক সরকারি বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মিত্র দেশগুলোকে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। সেই আহ্বানের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই প্রেসিডেন্ট লাই ২০৩০ সালের মধ্যে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ব্যয় বর্তমান জিডিপির ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চাইছেন। আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই পথে যুক্তরাষ্ট্রই তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিত্র এবং প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। "দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির" কথা মাথায় রেখে প্রেসিডেন্ট লাই জানান, তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই তাদের যুদ্ধপ্রশিক্ষণ আরও উন্নত করতে হবে এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। চলতি মাসেই তাইপেইতে নিযুক্ত শীর্ষ এক মার্কিন কূটনীতিক পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, চীনের সাথে সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা খাতে "আরও বুদ্ধিমানের মতো ব্যয়" করতে হবে। এক্ষেত্রে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি। এর পাশাপাশি মঙ্গলবার তাইপেইর আশেপাশের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ রাডার স্টেশনগুলোও পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট লাই, যেগুলো মূলত চীনা সেনাবাহিনীর গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক ও তীক্ষ্ণ নজর রাখে। তিনি বলেন, "আমি দেখেছি আমাদের সামরিক বাহিনীর সদস্যেরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছেন, উত্তর তাইওয়ানের জলসীমায় সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করছেন এবং জরুরি গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছেন। তাদের এই কাজ আমাদের সার্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সবচেয়ে দ্রুত ও নির্ভুল সহায়তা প্রদান করে থাকে।"
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিষয়টি সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র নিজেরই সামলানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অতিমাত্রায় সাধারণ বা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে উল্লেখ করে ট্রাম্প এই পরামর্শ দেন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েল যদি সাধারণ মানুষকে হত্যা না করে এই সংকট মোকাবিলা করতে না পারে, তবে সিরিয়ারই এই দায়িত্ব নেওয়া উচিত। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G-7) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প বলেন, সিরিয়ার নতুন নেতা দেশ পরিচালনায় একটি অসাধারণ কাজ করছেন। ট্রাম্পের মতে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েল যদি সবাইকে হত্যা না করে নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সিরিয়াই এই কাজটি করবে এবং আল-শারা নিজেই তা করে দেখানোর সক্ষমতা রাখেন। সাবেক বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার ক্ষমতায় আসা সাবেক এই বিদ্রোহী যোদ্ধাকে বেশ শক্ত প্রকৃতির নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আহমেদ আল-শারা কোনো ‘বয় স্কাউট’ বা অনভিজ্ঞ ব্যক্তি নন, বরং হিজবুল্লাহর সাথে ডিল করার ক্ষেত্রে তিনি বেশ পটু ও দক্ষ। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সিরিয়ার এই নতুন নেতা হিজবুল্লাহকে মোটেও পছন্দ করেন না। ফলে হিজবুল্লাহ দমনে ইসরায়েলের বিকল্প হিসেবে সিরিয়াই সবচেয়ে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরান যদি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে, তবে দেশটির ওপর ‘নরক নেমে আসবে’ বলে চরম ও দ্ব্যর্থহীন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G-7) শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি ওয়াশিংটনের এযাবৎকালের অন্যতম কঠোর সতর্কবার্তা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে তারা যদি এই অবস্থান থেকে এক চুল পরিমাণও সরে আসে, তবে তাদের এমন ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে যা অতীতে কখনো ঘটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কঠোর ভাষায় জানান, তেহরান যদি কোনোভাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সামান্যতম চেষ্টাও চালায়, তবে তাদের ‘অকল্পনীয় ও অবিশ্বাস্য কঠিন ফলাফল’ ভোগ করতে হবে। "ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, তবে তারা এই অবস্থান থেকে সরে এলে তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।" কাতার ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশের উপস্থিতিতে হওয়া আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, ইরান আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেও মার্কিন প্রশাসন তাদের এই মৌখিক আশ্বাসে সম্পূর্ণ নির্ভর করছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও তীক্ষ্ণ নজরদারি বজায় রাখছে। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭-এর মঞ্চ থেকে দেওয়া ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দিতে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে একটুও দ্বিধা করবে না। এছাড়া, কাতারের আমিরের সাথে এদিনের বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইরানের সাথে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল জানিয়েছেন, হরমোজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ কার্যক্রমে অংশ নিতে তার দেশ ইচ্ছুক। তবে সেখানে যেকোনো ধরনের নৌযান বা সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের ক্ষেত্রে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষের পূর্বসম্মতি থাকতে হবে। জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম 'এন-টিভি'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভাদেফুল এ কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানির মাইনসুইপার (মাইন অপসারণকারী) জাহাজ 'ফুলদা' এবং সরবরাহকারী জাহাজ 'মোসেল'কে ইতোমধ্যে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে এই দুটি নৌযান হরমোজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা তুলে ধরে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে, উভয় পক্ষই এ ধরনের একটি অভিযান চাইছে। যদি কোনো একটি পক্ষ, বিশেষ করে ইরান এতে রাজি না থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের ওপর গুলি চালায়, তবে আমরা এমন পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারি না। নিশ্চিতভাবেই সেটি কোনো আদর্শ পরিস্থিতি হবে না।" মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে নিজেদের বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক সংঘাত এড়াতেই বার্লিন এই কৌশলগত ও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে কানাডায় বাড়ি বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত বসন্তকালে দেশটির আবাসন খাতে যে চাঙ্গা ভাব দেখা যায়, এবার শুরুর দিকে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও মে মাসে তা অনেকটাই পুষিয়ে নিয়েছে। তবে বিক্রি বাড়লেও বাড়ির দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) কানাডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরইএ) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। সিআরইএ-এর উপাত্ত অনুযায়ী, গত মে মাসে বাড়ি বিক্রির হার এপ্রিল মাসের তুলনায় ৫.৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে মৌসুমী সমন্বয় ছাড়া বার্ষিকভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার বাড়ি বিক্রি ৫.১ শতাংশ কম হয়েছে। এদিকে মূল্যসূচকের দিকে তাকালে দেখা যায়, অ্যাসোসিয়েশনের 'হোম প্রাইস ইনডেক্স' বা বাড়ির মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় মাত্র ০.১ শতাংশ কমেছে। তবে বার্ষিকভিত্তিতে এই দাম কমার হার বেশ দৃশ্যমান, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.১ শতাংশ কম। সিআরইএ-এর চেয়ারম্যান গ্যারি ভাওরা এক বিবৃতিতে জানান, "চলতি বছর কানাডার বহু অঞ্চলের আবহাওয়ার মতোই দেশটির আবাসন খাতের বসন্তকালীন বাজারও যেন প্রায় এক মাস পিছিয়ে শুরু হয়েছে। তবে মে মাসের এই ইতিবাচক পরিসংখ্যান পরিষ্কারভাবে জানান দিচ্ছে যে, বাজারে এখন পুরোদমে গতি ফিরছে।" প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসে বাজারে নতুন তালিকাভুক্ত হওয়া বাড়ির (নিউ লিস্টিং) পরিমাণ এপ্রিলের তুলনায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নতুন তালিকাভুক্ত বাড়ির বিপরীতে বিক্রির অনুপাত (সেলস-টু-নিউ লিস্টিং রেশিও) এপ্রিলের ৪৬.২ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ৪৯.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অবশ্য এই হার দেশটির দীর্ঘমেয়াদী গড় অনুপাত ৫৪.৮ শতাংশের চেয়ে এখনো কিছুটা নিচেই রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এই যুদ্ধ 'অতিরিক্ত দীর্ঘ' হয়েছে এবং এর ফলে অসংখ্য বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। মঙ্গলবার ফ্রান্সে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, "ইসরায়েল অনেক দিন ধরেই হিজবুল্লাহর সাথে লড়ছে এবং এতে বহু মানুষ মারা গেছে।" এত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, "কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ওই ভবনগুলোতে এমন অনেক মানুষ থাকেন, যাদের সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নন।" তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইসরায়েল যদি বাকি সাধারণ মানুষকে হত্যা না করে তাদের অভিযান পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই লড়াইয়ে তাদের বদলে সিরিয়ার এগিয়ে আসা উচিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, লেবাননে হিজবুল্লাহর মোকাবিলা করার জন্য তিনি ইসরায়েলকে সিরিয়ার হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এড়িয়ে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে দামেস্ক আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে। সিরিয়ার বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর দেশটির নতুন প্রশাসন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আহমেদ আল-শারা। সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং আরও কয়েকজনের সহায়তায় সিরিয়ার নেতৃত্ব দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে 'অসাধারণ কাজ' করছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, "তিনি হয়তো নিষ্কলঙ্ক কোনো সাধু ব্যক্তি (স্কাউট বয়) নন, তবে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অসাধারণ কাজ করেছেন এবং তিনি খুবই দক্ষ।" ট্রাম্পের এই মন্তব্য সিরিয়ার নেতৃত্বের প্রতি ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান আস্থারই ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, প্রতিবেশী লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রভাব খর্ব করার ক্ষেত্রে দামেস্ককে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে পরিবর্তনেরও স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফর এবং কলকাতার রেড রোডে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চরম বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন রাজ্যটির শীর্ষ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রেড রোডে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে চলে যান।" তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গসহ পুরো ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার মূল অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। কলকাতার রেড রোডের এই বিশেষ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। যোগ দিবসের এই বৃহৎ প্রস্তুতি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে রেড রোড টানা সাত দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। গত রবিবার রাত ১০টা থেকে আগামী ২১ জুন (রবিবার) পর্যন্ত এই রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল স্থগিত থাকবে এবং ইতিমধ্যে সেখানে মঞ্চ তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে এই ভিভিআইপি কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জবাব দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসলে সব রাস্তাই বন্ধ থাকে, তিনি যেখানেই যাবেন সেখানেই বন্ধ হবে। যেখানে যান চলাচল তুলনামূলক কম (রেড রোড), সেখানেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অন্য কোনো রাস্তায় করলে আরও বেশি সমস্যা হতো। তবে মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ঈদের নামাজের জন্য রেড রোড ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আসে। বিষয়টি উঠতেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত উগ্র মনোভাব ব্যক্ত করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "ওনারা কোন হরি-দাস-পাল যে তাদের জন্য রাস্তা আটকাতে হবে? প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়—এটা ঠিকই আছে। প্রধানমন্ত্রী বছরে একবারই আসছেন।" বিজেপির এই প্রবীণ নেতা আরও যোগ করে বলেন, "১০৭ বছর ধরে তো (নামাজ) চলেছে, এখন একবার বন্ধ করে দেওয়াতে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? যান বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যান, সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবে না। এখানে এসব আর চলবে না। সরকার পাল্টে গেছে। এগুলো বন্ধ করার জন্যই লোকে সরকার পাল্টেছে। আর এগুলো বন্ধ হবেই।" পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের পর এই ধরনের ধর্মীয় আচার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়ে তার দেওয়া এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য সমাপ্ত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলের বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি নির্বাচন সংক্রান্ত আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দায়ের করেছেন তিনি। তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, ভোট গণনার সময় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি করা হয়েছে। আর এই কারণেই আদালতের মাধ্যমে পুরো বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় তার সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা, আইনজীবী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আদালত চত্বরে পৌঁছে তিনি নিয়ম অনুযায়ী শপথ কমিশনের কার্যালয়ে যান এবং পিটিশন দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচনেও ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনি ফলাফলে তৃণমূল নেত্রীর পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই দলের পক্ষ থেকে ভোট গণনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আপত্তি তোলা হতে থাকে। অবশেষে আইনি পথ বেছে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফলকে আদালতের এজলাসে চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি। এদিকে একই দিনে কলকাতা হাইকোর্টে পশ্চিমবঙ্গের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলার শুনানি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার দ্বিতীয় দফার শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মামলাটি দায়ের করেন। তার মূল দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধানসভার প্রচলিত নিয়মাবলী ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে বিধানসভার অধ্যক্ষের (স্পিকার) এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে এবং আদালত যেন এই সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে। আদালতে মামলার শুনানিতে তৃণমূলের প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জোরালো সওয়াল করে প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কোন নিয়মের ওপর ভিত্তি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি নিয়ম মেনে করা হয়নি এবং আদালতের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে জানান, স্পিকারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং এতে আদালতের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, গত শুনানিতে আদালত এই বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়নি। যার ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসেবেই তার স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে মঙ্গলবারের এই দ্বৈত শুনানিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী দলনেতার পদের বৈধতা সংক্রান্ত মামলার শুনানি একই দিনে হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল।
যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'অফকোয়াল' (Ofqual) আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক ত্রুটির কারণে কেমব্রিজ ইংলিশকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৬২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থী ভুল ফলাফল পেয়েছিলেন। এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেমব্রিজ ইংলিশ কর্তৃপক্ষ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষাগুলোতে এই বিপর্যয় ঘটে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৭ লাখ আইইএলটিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের নজরে এই ত্রুটি ধরা পড়েনি। ভুল চিহ্নিত হওয়ার পরপরই আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ (যার যৌথ মালিকানায় রয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি আইইএলটিএস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট) দ্রুত অফকোয়ালকে বিষয়টি অবহিত করে। এই ভুল ফলাফলের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। কেমব্রিজ ইংলিশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের দায়ভার গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফলাফল সংশোধন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন প্রযুক্তিগত সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে ৬০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি ব্যয় করেছে। ত্রুটি সংশোধনের পর দেখা যায়, প্রায় ২০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থীর সংশোধিত স্কোর আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ত্রুটির শিকার হওয়া পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১০৮টি ছিল যুক্তরাজ্যের ভিসা সংক্রান্ত পরীক্ষা। আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে মাত্র ৪টি ক্ষেত্রে ভুল ফলাফলের কারণে পরীক্ষার্থীদের ভিসার যোগ্যতা প্রভাবিত হয়েছিল; তবে পরবর্তীতে ওই পরীক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। অফকোয়ালের নির্বাহী পরিচালক (ডেলিভারি) অ্যামান্ডা সোয়ান এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, "যারা এই পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা এই ফলাফলগুলো মূল্যায়ন কাজে ব্যবহার করেছেন, তারা দীর্ঘ মেয়াদে এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের এই বড় অঙ্কের জরিমানা মূলত সেই ব্যর্থতারই কঠোর প্রতিফলন।" এদিকে, আইইএলটিএস-এর একজন মুখপাত্র এই অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি জানান, সমস্যাটি চিহ্নিত হওয়ার পরপরই তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল সংশোধন ও পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরীক্ষার্থীকে অর্থ ফেরত (রিফান্ড) অথবা পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কোনো প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ত্রুটি না ঘটে, সেজন্য প্রতিষ্ঠানটি তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বলে আশ্বস্ত করেছে।
ভারতে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা 'নিট' (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অনিয়মের প্রতিবাদে দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে 'কাকরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই জেন-জি (Gen Z) আন্দোলনটি এখন অনলাইন থেকে সরাসরি রাজপথের বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। গত মে মাসে পরীক্ষা বাতিলের পর লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সাধারণ রসিকতা থেকে এই অভিনব ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্য। তিনি এক শুনানিতে বেকার তরুণদের 'তেলাপোকা' বা কাকরোচের সাথে তুলনা করেছিলেন। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বোস্টনে অধ্যয়নরত ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, "সব তেলাপোকা যদি এক হয়ে যায়, তবে কী হবে?" এই ডাকটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয় এবং লাখ লাখ তরুণ এই শব্দটিকে তাদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়ে গত ১৬ মে 'কাকরোচ জনতা পার্টি' গঠনের ঘোষণা দেয়। আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে গত ৬ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরে সরাসরি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে দলটির প্রথম প্রকাশ্য সমাবেশে যোগ দেন। তীব্র গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। নয়াদিল্লির পর পুনে, জয়পুর, অমৃতসর, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো প্রধান প্রধান শিক্ষানগরীগুলোতে এই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। জয়পুরের একটি সমাবেশে দিপকের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটলেও তরুণরা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই আন্দোলনের মুখপাত্র ও সাংবাদিক সৌরভ দাস জানিয়েছেন, মূল ধারার গণমাধ্যম বা 'গোদি মিডিয়া' এই ছাত্র আন্দোলনকে এড়িয়ে চললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জোরে তারা দেশের কোটি কোটি তরুণের কাছে পৌঁছে গেছেন। মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে সিজেপির ইনস্টাগ্রাম পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে এবং তাদের বিভিন্ন রিল বা ভিডিও ৪০০ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। এই সমাবেশে তরুণরা ক্ষমতাসীন বিজেপির "হিন্দু-মুসলিম" বিভাজনের রাজনীতি এবং সরকারের একপেশে নীতিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে স্লোগান দিচ্ছে। পদ্ধতিগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে পুনে শহরের সমাবেশ থেকে সিজেপি একটি 'পরীক্ষা ইশতেহার' বা এক্সাম ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেছে। এতে তারা দাবি করেছে যে, যেকোনো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও প্রস্তুতির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০,০০০ রুপি প্রদান করতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনা এবং বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া সরকারি চুক্তির স্বাধীন অডিট করার দাবিও জানানো হয়েছে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপিদের মাধ্যমে এই দাবিগুলো সংসদের তোলার পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য আন্দোলন, যা সাধারণত রাজনীতিবিমুখ তরুণ সমাজকে নিজেদের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হতে শিখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তরুণদের উন্নয়নের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলেও, দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ও প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছেন। বিরোধী দল কংগ্রেস এই আন্দোলন থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও, সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকে ঘিরে একটি বড় সামাজিক ও নৈতিক পরিবর্তনের আশা দেখছেন।
বিশ্বের দুই শীর্ষ সামরিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জন্য সোমবার (১৫ জুন) ছিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার দিন। এদিন সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ঘটনায় দেশ দুটি তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী কৌশলগত বোমারু বিমান হারিয়েছে। যদিও দেশ দুটির এই দুর্ঘটনার মধ্যে কোনো পারস্পরিক যোগসূত্র নেই, তবে একই দিনে পরাশক্তিদ্বয়ের এমন অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় আন্তর্জাতিক সামরিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস থেকে একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানটি ভূপাতিত হয়। আছড়ে পড়ার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বিমানে থাকা আটজন আরোহীর কেউই প্রাণে বাঁচতে পারেননি। অন্যদিকে, ঠিক একই দিনে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত ইরকুতস্ক এলাকায় রুশ বাহিনীর একটি টু-২২এম৩ কৌশলগত বোমারু বিমান আকাশ থেকে বিধ্বস্ত হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইট ছিল। তবে মার্কিন দুর্ঘটনার মতো এখানে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। বিমানটিতে থাকা চার সদস্যের ক্রু দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে নিরাপদে ইজেক্ট করতে বা প্যারাসুটের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। রুশ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়াকেই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। মস্কো আরও নিশ্চিত করেছে যে, উড্ডয়নরত অবস্থায় বিধ্বস্ত হওয়া ওই বিমানটিতে কোনো ধরনের যুদ্ধাস্ত্র ছিল না। সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিকোণ থেকে, একই দিনে বিশ্বের প্রধান দুই সামরিক শক্তির এমন কৌশলগত বোমারু বিমান হারানো অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে এমন ঘটনা সম্পূর্ণ কাকতালীয় হলেও, এটি বিশ্বজুড়ে সামরিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধ এবং প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোর উদ্দেশ্যে ভারতে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ 'টেলিগ্রাম' আগামী সোমবার পর্যন্ত ব্লক বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে প্ল্যাটফর্মটিতে ইতিমধ্যে পোস্ট করা মেসেজগুলো এডিট বা সংশোধন করার সুবিধাটি নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) আইনের একটি কঠোর ধারার অধীনে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা দেশের "সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা" রক্ষায় সরকারকে যেকোনো অনলাইন সাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার ক্ষমতা দেয়। গত মাসে দেশটির মেডিকেল কলেজে ভর্তির মূল প্রবেশিকা পরীক্ষা 'ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট' (NEET) বা নিট পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছিল যে, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। এই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি এই প্রতিবাদের জেরে 'কাকরোচ জনতা পার্টি' নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ও ব্যাপ্ত যুব আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। আন্দোলনকারীরা দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির পর আগামী রবিবার (২১ জুন, ২০২৬) নিট-এর নতুন পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেছে সরকার। ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ২১ জুনের নিট পুনরুৎক্ষাপণ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতারক চক্র যাতে সংগঠিতভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে জালিয়াতি করতে না পারে, সেজন্যই মূলত টেলিগ্রামের ওপর এই জরুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভারতে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ প্রধান মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হলেও, ডাউনলোডের দিক থেকে ভারতই এখন টেলিগ্রামের সবচেয়ে বড় বাজার। সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই পদক্ষেপ প্রশ্ন ফাঁস থামাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, কারণ জালিয়াতি চক্রগুলো এখন কেবল অন্য অ্যাপে স্থানান্তরিত হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভারতের ১৫ কোটিরও বেশি সাধারণ টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীকে শাস্তি দিচ্ছে, কিন্তু যারা মূলত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করেছে, সেই ভেতরের অপরাধীদের কিছুই করতে পারছে না। অন্যদিকে, মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করেছেন যে, অবাধ বাকস্বাধীনতা হরণ ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করতেই এই ধরনের কঠোর আইন ব্যবহার করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা আইন মেনেই এবং জনস্বার্থেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার আরও জানায়, অ্যাপটি ব্লক করার ফলে লাখ লাখ সাধারণ মানুষের সাময়িক যে ভোগান্তি হচ্ছে তার জন্য তারা দুঃখিত। তবে প্ল্যাটফর্ম থেকে জালিয়াতি সম্পর্কিত কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়ার পূর্ববর্তী চেষ্টাগুলো সফল না হওয়ায়, বাধ্য হয়েই 'সর্বশেষ উপায়' হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
ভারতে মুসলিম নারীদের অনলাইনে হেনস্তা ও মানহানি করার জন্য জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-কে নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি বিকৃত করে অশ্লীল ও আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসবাসরত কাশ্মীরি মডেল সামরিন আইয়ুবের সাথে ঘটা একটি ঘটনা এর অন্যতম বড় প্রমাণ। গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ছবিগুলো এআই দিয়ে জুড়ে দিয়ে একটি ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হয়, যেখানে মিথ্যা দাবি করা হয় যে তিনি দেহব্যবসায় জড়িত। ভিডিওটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে স্বয়ং সামরিনও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন ভিত্তিক 'সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট' (সিএসওএইচ)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত এক্স (টুইটার), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ২৯৭টি পাবলিক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা ১,৩২৬টি এআই-জেনারেটেড ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা এসব আপত্তিকর কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে, যার ইন্টারঅ্যাকশন বা ভিউ প্রায় ৬৭ লাখ ছাড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো কারিগরি দক্ষতা ছাড়াই যে কেউ বিনামূল্যে এবং খুব দ্রুত যেকোনো মানুষের ছবিকে বিকৃত করে বাস্তবসম্মত আপত্তিকর ছবি বা ডিপফেক তৈরি করতে পারছে। মুম্বাই ভিত্তিক রাতি (RATI) ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত অনলাইন হেল্পলাইন 'মেরি ট্রাস্টলাইন'-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনেও এই উদ্বেগের সত্যতা মিলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এআই অপব্যবহারের শিকার হিসেবে গণমাধ্যমে সাধারণত তারকা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম বেশি আসলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে সাধারণ নারীরাও এর বড় শিকার হচ্ছেন। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই হেল্পলাইনটি ৪৮২টিরও বেশি মামলা পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ মামলাই ছিল ডিজিটালি বিকৃত বা এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট সংক্রান্ত। লোকলজ্জা, ভয় এবং ট্রমার কারণে ভুক্তভোগী নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই নির্যাতনের কথা নিজের পরিবারকেও জানাতে পারেন না। মিউনিখের লুডউইগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটির মিডিয়া অ্যানথ্রোপলজিস্ট সাহানা উদুপা এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে 'রাজনীতির পর্নোলাইজেশন' বা নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। উগ্রপন্থী কিছু ডিজিটাল গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুক, মিম এবং আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে এই ধরনের হয়রানিকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কেবল নারীবিদ্বেষ নয়, বরং এর পেছনে গভীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে নারীদের পরিবারের সম্মান হিসেবে দেখা হয়, তাই মুসলিম নারীদের এভাবে টার্গেট করার মাধ্যমে পুরো সম্প্রদায়কে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে ভারতে 'সুল্লি ডিলস' এবং 'বুল্লি বাই' নামক অ্যাপের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি আপলোড করে ভুয়া 'অনলাইন নিলাম'-এর আয়োজন করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনৈতিক নেতা আতিফ রশিদ অবশ্য এই ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি ভালো ও মন্দ উভয় কাজেই ব্যবহার হতে পারে এবং এর অপব্যবহার রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে পূর্বের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বিজেপি সব ধর্মের নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে ভারতের বর্তমান আইনি কাঠামো এআই-প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের সাথে তাল মেলাতে পারছে না বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং আইনজীবী অপর গুপ্তা জানান, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই ধারা অনুযায়ী সম্মতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করা অপরাধ। কিন্তু ছবি বা শরীর যদি সম্পূর্ণ এআই বা কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়, তবে এই ধারাটি প্রয়োগ করা জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া মেটা বা গুগলের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জটিল রিপোর্টিং সিস্টেমের কারণে সাধারণ নারীরা সহজে এসব ডিপফেক বা আপত্তিকর কনটেন্ট ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা তাদের জীবন ও ক্যারিয়ারকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার আমলে জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া নিজের ছেলের খোঁজে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিংবদন্তি মানবাধিকার কর্মী লিদিয়া 'তাতি' আলমেইদা মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তার এই প্রয়াণে আর্জেন্টিনা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলমেইদা ছিলেন দেশটির বিখ্যাত অধিকার রক্ষা সংগঠন 'মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো'-র সভাপতি। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত চলা দেশটির রক্তক্ষয়ী একনায়কতন্ত্রের সময় নিখোঁজ হওয়া সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এই মায়েরা ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের সামনের চত্বরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতীকী পদযাত্রা করে আসছিলেন। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে আর্জেন্টিনার সামরিক অভ্যুত্থানের ঠিক নয় মাস আগে আলমেইদার ছেলে আলেহান্দ্রোকে কমিউনিস্ট-বিরোধী আধাসামরিক বাহিনী অপহরণ করে। এরপর থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে আলমেইদা তার সন্তানের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সত্য উন্মোচনের জন্য অবিরাম সন্ধান চালিয়ে যান। আলেহান্দ্রোকে আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে এই দীর্ঘ পথচলায় আলমেইদা হয়ে উঠেছিলেন এক অনুকরণীয় নৈতিক শক্তির প্রতীক এবং ন্যায়বিচারের দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের এক অন্যতম বাতিঘর। তিনি জীবনের শেষ বছর পর্যন্ত একনায়কতন্ত্রের বর্বরতার বিচার দাবির পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনে প্রকাশ্যে সক্রিয় ভূমিকা রেখে গেছেন। আলমেইদার পরিবার জানিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে বুয়েনস আইরেসের একটি হাসপাতালে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো জানিয়েছে, গত কয়েক দিন আগে অসুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার এই মানবিক কাজ চালিয়ে গেছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক আবেগঘন শ্রদ্ধাবার্তায় বলা হয়, "আমাদের এটি শেখানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ যে ভালোবাসার অপর নামই হলো প্রতিরোধ করা। আমরা কেবল সেই লড়াইয়েই হেরে যাই যা আমরা ছেড়ে দিই এবং ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো শক্তি পৃথিবীতে আর নেই।" লিদিয়া স্তেলা মার্সিডিজ মি উরাঙ্গা নামের এই সাহসী নারী ১৯৩০ সালের ২৮ জুন বুয়েনস আইরেসে জন্মগ্রহণ করেন। স্বামী হোর্হে আলমেইদার সাথে সংসারে তাদের তিনটি সন্তান ছিল। সমাজকর্মী বা আন্দোলনের কর্মী হওয়ার আগে তিনি মূলত একজন শিক্ষক ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজের পরিবার লালন-পালনেই ব্যস্ত ছিলেন। আলমেইদার বাবা ছিলেন একজন সামরিক ক্যাভালরি অফিসার। ফলে ১৯৭৫ সালে যখন আলেহান্দ্রো নিখোঁজ হন, তখন তার প্রথম সহজাত তাগিদ ছিল সহায়তার জন্য সামরিক জানাশোনা লোকদের কাছে যাওয়া। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তিনি স্বৈরাচারের ভয়াবহ নৃশংসতার সত্য জানতে পারেন এবং নিজের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের খোঁজে থাকা অন্যান্য মায়েদের সাথে পরিচিত হন, তখন তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় আলেহান্দ্রো বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন এবং একই সাথে তিনি একটি মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী গেরিলা দল 'পিপলস রেভল্যুশনারি আর্মি'-র সদস্য ছিলেন। তিনি একাধারে একজন কবিও ছিলেন। ২০০৮ সালে আলমেইদা তার ছেলের একটি ডায়েরি থেকে খুঁজে পাওয়া কবিতার সংকলন বই আকারে প্রকাশ করেছিলেন, যা তিনি ছেলের অপহরণের পর উদ্ধার করেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ১৯৮০-এর দশকে মূল সংগঠনটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর ২০২৪ সালে আলমেইদা 'মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো ফাউন্ডিং লাইন'-এর সভাপতি নির্বাচিত হন। আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কির্চনারসহ দেশটির বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই মহান নেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে এমন একজন অক্লান্ত যোদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করেছেন যিনি জীবনকে সম্মানিত করে গেছেন।
ইতালীয় ব্যাংক ইউনিক্রেডিটের পক্ষ থেকে জার্মানির কমার্সব্যাংক কিনে নেওয়ার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে জার্মান সরকার। মঙ্গলবার জার্মানির অর্থ সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ইউনিক্রেডিটের দেওয়া প্রস্তাবিত মূল্য অত্যন্ত কম এবং তাদের শেয়ার কেনার আগ্রাসী পদ্ধতি নিয়ে বার্লিনের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। কমার্সব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য দুই ব্যাংকের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা লড়াইয়ের পর অবশেষে জার্মানি এই চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল। এর ফলে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাংক স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমর্থন পেল। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর থেকে জার্মানির সরকারের কাছে কমার্সব্যাংকের প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে। শুরু থেকেই জার্মান সরকার ইউনিক্রেডিটের এই একীভূতকরণের বা জোরপূর্বক ব্যাংক ক্রয়ের প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। জার্মানির অর্থ সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইউনিক্রেডিটের এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তারা কমার্সব্যাংকের বর্তমান শেয়ার বাজারের মূল্যের ওপর উপযুক্ত বা আকর্ষণীয় কোনো প্রিমিয়াম বা বাড়তি মূল্য দেওয়ার প্রস্তাব করেনি। জার্মান সরকারের এই ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা তাদের কমার্সব্যাংকের সুপারভাইজরি বোর্ডে একাধিক আসন নিশ্চিত করে, যা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। অর্থ সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, তারা কমার্সব্যাংকের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখার পক্ষেই সম্পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। জার্মানির মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা 'মিতেলস্ট্যান্ড' কোম্পানিগুলোর অর্থায়নে এবং দেশটির প্রধান আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কমার্সব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই মধ্যে কমার্সব্যাংকের কর্মীদের একটি পরিষদের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগের ভিত্তিতে ফ্রাঙ্কফুর্টের সরকারি আইনজীবীরা বাজার কারসাজির একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন। ইউনিক্রেডিট কর্তৃক বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে কমার্সব্যাংকের শেয়ার কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত রোববার এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। ইউনিক্রেডিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা এই তদন্তের বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছে। আইনি জটিলতার এই পরিস্থিতির মধ্যে ইউনিক্রেডিট এবং কমার্সব্যাংকের শেয়ারের মূল্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর কমার্সব্যাংকের শেয়ারের দাম ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে কমার্সব্যাংকের শেয়ার ৩৬.৫৩ ইউরোতে লেনদেন হচ্ছে, অন্যদিকে ইউনিক্রেডিটের শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৬.৯৭ ইউরোতে। ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাব অনুযায়ী, কমার্সব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ইউনিক্রেডিটের ০.৪৮৫টি নতুন শেয়ার দেওয়ার কথা, যা হিসাব করলে কমার্সব্যাংকের প্রতি শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৩৭.৩৩ ইউরো। শেয়ারের এই ওঠানামার কারণে ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাবটি বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশ অনাকর্ষণীয় হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক আলোচনা, বিতর্ক ও সমঝোতার পর অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি “মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট” কার্যকর হতে শুরু করেছে। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে ইউরোপজুড়ে এই নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন শুরু হয়, যার মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের মতে, নতুন এই চুক্তির লক্ষ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করা। বিশেষ করে ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর ইউরোপজুড়ে যে রাজনৈতিক চাপ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটেই এই সংস্কার কার্যকর করা হচ্ছে। নতুন নীতির আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাহ্যিক সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে তাদের পরিচয়, জাতীয়তা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই করা হবে। নীতিগতভাবে সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা কম বলে বিবেচিত হবে, তাদের আবেদন সীমান্ত পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা আশ্রয় প্রক্রিয়া কমে আসবে বলে আশা করছে ইইউ কর্তৃপক্ষ। ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টার মতো সীমান্তবর্তী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অভিবাসন চাপের মুখে ছিল। নতুন চুক্তির আওতায় অন্যান্য সদস্য দেশকে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ, আর্থিক সহায়তা অথবা প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে হবে। এই ব্যবস্থাকে “সংহতি প্রক্রিয়া” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ইউরোড্যাক ডাটাবেজ আরও উন্নত করা হয়েছে। এখানে আঙুলের ছাপ, মুখাবয়বের ছবি এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে একজন ব্যক্তি একাধিক দেশে একাধিকবার আশ্রয় আবেদন করতে না পারেন এবং প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়। নতুন ব্যবস্থার প্রথম দিনেই ইউরোড্যাক সিস্টেমে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়, যা কয়েকটি সদস্য দেশের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলে। ইউরোপীয় কমিশন বিষয়টিকে প্রাথমিক প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নতুন নীতির কিছু দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে অনেক আশ্রয়প্রার্থী যথাযথ আইনি সহায়তা বা ন্যায্য শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্কার ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত করবে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতে এটিকে অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।