সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

নিরাপত্তা হুমকিতে সুইডেনে ছয় মাসের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ
নিরাপত্তা হুমকিতে সুইডেনে ছয় মাসের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশি ভ্রমণকারী ও প্রবাসীদের যে নথি সঙ্গে রাখতে হবে

ইউরোপের দেশ সুইডেনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও ছয় মাসের জন্য বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১১ মে পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সুইডেনের বিচার মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সরকারের দাবি, জনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর গুরুতর হুমকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইডিশ সরকার জানিয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের পর ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে শেনজেন অঞ্চলে হাইব্রিড হামলা, বিদেশি রাষ্ট্রসমর্থিত তৎপরতা এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অবাধ চলাচল সুইডেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।   সুইডেনের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশ সীমান্ত অতিক্রমকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই এবং নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত করার সুযোগ পাবে। কর্তৃপক্ষের মতে, সম্ভাব্য অপরাধ, নাশকতা কিংবা বিদেশি শক্তির ক্ষতিকর তৎপরতা প্রতিরোধে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   সুইডেন শেনজেন অঞ্চলের সদস্য হওয়ায় সাধারণ পরিস্থিতিতে অন্য শেনজেন দেশ থেকে প্রবেশের সময় নিয়মিত পাসপোর্ট পরীক্ষা করা হয় না। তবে নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী সদস্যদেশগুলো সাময়িকভাবে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করতে পারে। সুইডেন ২০১৫ সাল থেকেই বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। আগের ছয় মাসের মেয়াদ ১১ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকায় নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় সড়ক, রেলপথ, সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দরে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হতে পারে। বিশেষ করে ডেনমার্ক, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড থেকে সুইডেনে প্রবেশকারী যাত্রীদের যাচাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোথায়, কখন এবং কীভাবে পরীক্ষা চালানো হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে সুইডিশ পুলিশ কর্তৃপক্ষ। এর অর্থ সব সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া কিংবা প্রত্যেক যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে দীর্ঘ পরীক্ষার মুখোমুখি করা নয়।   সুইডিশ পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের ভ্রমণের সময় বৈধ পাসপোর্ট, প্রযোজ্য ভিসা এবং বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত নথি সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশি নাগরিকসহ অন্য দেশের যাঁরা সুইডেনে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা বসবাস করছেন, তাঁদের জন্যও পরিচয় ও বৈধ অবস্থানের প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে। শেনজেনভুক্ত অন্য দেশে বৈধভাবে অবস্থান করলেও সুইডেনে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হতে পারে।   এদিকে শুধু সুইডেন নয়, ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক ও নরওয়ের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোও বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকির কারণে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু রেখেছে। সুইডিশ সরকার জানিয়েছে, নতুন ছয় মাসের সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।   সংবাদসূত্র: সুইডেনের বিচার মন্ত্রণালয় , আরব নিউজ।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
পেটে ব্যথার কথা ভেবে হাসপাতালে গিয়ে জানলেন কোলন ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে
পেটে ব্যথার কথা ভেবে হাসপাতালে গিয়ে জানলেন কোলন ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ৪০ বছর বয়সী হেলেন ওয়ার্থিংটন গত বছর ২৭ আগস্ট রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় হঠাৎ তার পেটে অস্বস্তি বোধ করেন। সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ভেবে তিনি প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু সকালে ব্যথা কিছুটা বাড়লে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেয়ে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।   এমনকি হাসপাতালে যাওয়ার পর সাধারণ একটা ব্যথার জন্য চিকিৎসকদের মূল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য তিনি অনুতপ্তও হচ্ছিলেন! কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর যা জানালেন, তাতে হেলেনের আকাশ ভেঙে পড়ে। তিনি জানতে পারেন যে তিনি শুধু কোলন ক্যান্সারেই (বাওয়েল ক্যান্সার) আক্রান্ত নন, বরং ক্যান্সারটি ইতোমধ্যে তার লিভার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।   সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়টি ছিল, এই চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে হেলেন ক্লান্তি ছাড়া অন্য কোনো শারীরিক লক্ষণই অনুভব করেননি। এই খবর পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং শুরু হয় কেমোথেরাপি। তবে হেলেনের ক্যান্সারে 'BRAF V600E' মিউটেশন থাকায় এটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। ইতোমধ্যে তিনি ২৭টি কেমোথেরাপি সেশন শেষ করেছেন।   কিন্তু ক্যান্সারের কাছে হার মানতে নারাজ এই সাহসী মা। ১২ বছর বয়সী মেয়ে মলির মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন এক অসম লড়াই।   কেমোথেরাপির পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ব্যায়াম করে শরীর ও মনকে শক্ত রাখছেন হেলেন। 'ক্লিনিক্যাল অনকোলজি সোসাইটি অব অস্ট্রেলিয়া'-এর মতে, ক্যান্সারের রোগীদের চিকিৎসায় সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি বা ৭৫ মিনিট ভারী অ্যারোবিক ব্যায়াম করা উচিত। এতে চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে।   হেলেন জানান, ক্যান্সারের চিকিৎসায় তার কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও ব্যায়ামের মাধ্যমে শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখার বিষয়টি তার আত্মবিশ্বাস অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১৩:১৮
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
সোমালিয়ায় প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বৃদ্ধি অবৈধ ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের নির্দেশ

পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদের ক্ষমতার মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেওয়া এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক মেয়াদ গত ১৫ মে শেষ হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বৈধ সুযোগ নেই। একই সঙ্গে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই রায়ের ফলে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক সংকট নতুন মোড় নিয়েছে।   বার্তা সংস্থা এএফপি ও আরব নিউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ ২০২২ সালে চার বছরের মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সেই হিসাবে চলতি বছরের মে মাসে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত মার্চে সোমালিয়ার পার্লামেন্ট সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করে। সংশোধিত বিধানের ভিত্তিতে সরকার অতিরিক্ত এক বছর ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা দেয়। এ সময়কে নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য বিশেষ ট্রানজিশন পিরিয়ড বা অন্তর্বর্তীকালীন সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।   তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আঞ্চলিক নেতারা শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের মেয়াদ বাড়ানো জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছে। বিরোধীদের অনেকেই সংবিধান সংশোধনের সংসদীয় ভোট বর্জন করেছিলেন। এই বিরোধের জেরে রাজধানী মোগাদিশু এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারপন্থী ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।   সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ বৃহস্পতিবারের রায়ে বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়ানো হলেও সেটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হতে পারে না। সংশোধনীতে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের জন্য নতুন মেয়াদ প্রযোজ্য হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ২০১২ সালের সংবিধান অনুযায়ী তাঁদের চার বছরের মেয়াদই কার্যকর থাকবে। আদালতের হিসাবে, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ ও সরকারের মেয়াদ গত ১৪ এপ্রিল এবং প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ১৫ মে শেষ হয়েছে।   সোমালিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট শরিফ শেখ আহমেদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের গ্রহণযোগ্য কাঠামো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সময়ে সরকার কেবল নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে রায়ের আগেই বিচার বিভাগের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট মোহামুদ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বাশে ইউসুফ আহমেদকে বরখাস্ত করে তাঁর স্থলে ইব্রাহিম ইদলে সুলেইমানকে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দাবি, বিচার বিভাগের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট পৃথক বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তও অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের অভিযোগ, চলমান সাংবিধানিক মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   এর আগে সোমালিয়ার নির্বাচন কমিশন ২০২৭ সালের ১৫ এপ্রিল পার্লামেন্ট এবং ১৫ মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশনার পর সেই সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আঞ্চলিক বিরোধ ও আল-শাবাবের সহিংসতার মুখে থাকা সোমালিয়ায় এই সাংবিধানিক সংকট আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী পক্ষগুলো কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।   সূত্র: এএফপি

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১২:৮
হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নামার প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা, জাপানে মার্কিন মেরিন সেনার মৃ ত্যু
হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নামার প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা, জাপানে মার্কিন মেরিন সেনার মৃ ত্যু

জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত মেরিন কর্পস ক্যাম্প শোয়াবে (Camp Schwab) প্রশিক্ষণ চলাকালে ল্যান্স কর্পোরাল ডেভিন জে. হার্নান্দেজ (২৫) নামের এক মার্কিন মেরিন সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের থার্ড মেরিন ডিভিশন।   মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা হার্নান্দেজ মূলত নর্থ ক্যারোলিনার ক্যাম্প লেজেউনে অবস্থিত দ্বিতীয় মেরিন ডিভিশনের কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত আগস্ট মাস থেকে ইউনিট ডিপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে তার ব্যাটালিয়ন ওকিনাওয়ায় অবস্থান করছিল।   সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টার বা অসপ্রে এয়ারক্রাফট থেকে দ্রুত দড়ি বেয়ে নিচে নামার কৌশল বা ‘ফাস্ট-রোপ’ প্রশিক্ষণের সময় গুরুতর আহত হন হার্নান্দেজ। দ্রুত তাকে ক্যাম্প ফস্টারের মার্কিন নৌ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে ঠিক কীভাবে তিনি আহত হয়েছিলেন এবং আঘাতের ধরন কেমন ছিল, সে সম্পর্কে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন থার্ড মেরিন ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাইল এলিসন। তিনি হার্নান্দেজের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমর্থন জোগানো এবং মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পেছনের কারণ গভীরভাবে তদন্ত করে দেখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১১:১২
যুক্তরাজ্যের হিথ্রো ও বার্মিংহাম বিমানবন্দরে বোমা হামলার হুমকির পর সতর্কতা জারি। ছবি: সংগৃহীত
হিথ্রো ও বার্মিংহামে বোমা হামলার ভুয়া হুমকি, ইউরোপজুড়ে ফ্লাইট বিপর্যয়

যুক্তরাজ্যের ব্যস্ততম হিথ্রো ও বার্মিংহাম বিমানবন্দরে বোমা হামলার হুমকি ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোরে পাওয়া হুমকিগুলো পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে। তবে একই দিনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অন্তত ১৫টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট বোমা আতঙ্কের কারণে জরুরি অবতরণ, গতিপথ পরিবর্তন কিংবা বিশেষ নিরাপত্তা তল্লাশির মুখে পড়েছে। কিছু বিমানকে সামরিক যুদ্ধবিমানের পাহারায় অবতরণ করানো হয়েছে। ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিমানে বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে লন্ডনের হিথ্রো এবং বার্মিংহাম বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে হুমকিগুলো বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে সিদ্ধান্ত নেয়। বার্মিংহাম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছিল। তবে উভয় বিমানবন্দরে স্বাভাবিক ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   এদিকে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে ইতালির রোমগামী এয়ার লিঙ্গাসের একটি যাত্রীবাহী বিমান বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলের এভরু সামরিক বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে। বিমানটিতে ১৫১ যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। পরে সামরিক বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বিমানটিতে তল্লাশি চালায়।   একই দিনে লন্ডনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর থেকে বুলগেরিয়ার সোফিয়াগামী রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইট হুমকির কারণে গতিপথ পরিবর্তন করে প্লোভদিভ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কোপেনহেগেন ও মাদ্রিদ থেকে সোফিয়াগামী আরও দুটি রায়ানএয়ার ফ্লাইটেও বোমা থাকার হুমকি দেওয়া হয়। অন্যদিকে ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি থেকে রোমগামী ফিনএয়ারের একটি বিমানকে ইতালীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে নিরাপদে অবতরণ করায়। মিলান, ওয়ারশ, ভিয়েনা ও প্রাগগামী বিভিন্ন ফ্লাইটেও একই ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।   এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইউরোপের অন্তত সাতটি ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে লন্ডনের হিথ্রো থেকে পোল্যান্ডের ওয়ারশগামী লট পোলিশ এয়ারলাইনসের একটি বিমানকে ওয়ারশ-মডলিন বিমানবন্দরে নামানো হয়। বিমানটিতে ১৮১ জন আরোহী ছিলেন। হুমকির পর বিমানবন্দরটি সাময়িক বন্ধ রাখা হলেও তল্লাশিতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। ম্যানচেস্টার থেকে স্পেনের মুরসিয়াগামী একটি রায়ানএয়ার ফ্লাইটেও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। সেখানেও তল্লাশি শেষে হুমকিটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ।   যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার জানিয়েছেন, এসব হুমকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তৃপক্ষও বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে। তবে একের পর এক হুমকির ঘটনা একই ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। এসব ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১০:৫৮
ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পকে সমর্থন এল-সায়েদের, চান অ স্ত্র বিক্রিও বন্ধ হোক
ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পকে সমর্থন এল-সায়েদের, চান অ স্ত্র বিক্রিও বন্ধ হোক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন মিশিগানের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। বুধবার এনপিআর-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমি মনে করি এই নীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট সঠিক অবস্থানে আছেন।"   তবে এল-সায়েদ শুধু বিনামূল্যে সহায়তা বন্ধেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না; তিনি ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের মার্কিন অস্ত্র বিক্রিও পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "যেসব অস্ত্র গণহত্যা ও বর্ণবাদের মতো জঘন্য কাজে ব্যবহৃত হয়, আমরা চাই ইসরায়েলের কাছে সেই অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হোক।"   গত মঙ্গলবার মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েন এল-সায়েদ। নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করাই ছিল তার প্রচারণার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। নিজের বিজয় ভাষণেও তিনি এ বিষয়ের পুনরুল্লেখ করেছেন।   এছাড়া তিনি মিশর, সৌদি আরব, জর্ডান এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতেও মার্কিন সামরিক সহায়তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, মার্কিন করদাতাদের অর্থ বিদেশের বদলে দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নেই ব্যয় হওয়া উচিত।   এর আগে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে কয়েক মাস আগেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি চুক্তি হয়েছে। 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, নেতানিয়াহু নিজেই প্রথম এই সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।   নেতানিয়াহুও এর আগে জানিয়েছিলেন যে, ইসরায়েলকে স্বাবলম্বী করতে এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান মজবুত করতে আগামী এক দশকের মধ্যে মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চান তিনি। তবে সামরিক সহায়তা বন্ধ হলেও ইসরায়েল চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে পারবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগের মতোই অটুট থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ট্রাম্প।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১০:২৩
ইরানের তেল পরিবনে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় দম্পতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের তেল পরিবনে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় দম্পতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় এক ব্যবসায়ী দম্পতি ও তাঁদের সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৪ নভেম্বর) মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ভুয়া জাহাজ নিবন্ধন ও সনদপত্রের মাধ্যমে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলতে সহায়তা করছিল ওই চক্র।   নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা দম্পতি হলেন ভারতের চণ্ডীগড়ের ব্যবসায়ী সুনীল কুমার শর্মা ও তাঁর স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহীদ। তাঁদের পাশাপাশি আরও দুই ভারতীয় নাগরিক এবং সংশ্লিষ্ট নয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের দাবি, এই দম্পতি একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন, যার মাধ্যমে ইরানের তেল পরিবহনে নিয়োজিত বিভিন্ন জাহাজকে ভুয়া পরিচয় ও প্রয়োজনীয় সনদ সরবরাহ করা হতো।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, শর্মা ও তাঁর স্ত্রী গায়ানা, এসওয়াতিনি, লাওসসহ বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে জাহাজ নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। অথচ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের কাছ থেকে তাঁদের এমন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন ছিল না। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁরা জাহাজের নিবন্ধন, নাবিকদের প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে এসওয়াতিনি মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল শিপ রেজিস্ট্রি নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন শর্মা। এসওয়াতিনি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন থাকার দাবি প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করলেও সেটি ইরানের তেল পরিবহনকারী জাহাজগুলোকে নিবন্ধনসংক্রান্ত সেবা দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই নেটওয়ার্কের সহায়তা পাওয়া কিছু জাহাজ ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে কাজ করছিল। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এমন জাহাজগুলোকে সাধারণত শ্যাডো ফ্লিট বলা হয়। এসব জাহাজের প্রকৃত মালিকানা, পরিচয় কিংবা কার্যক্রম আড়াল করতে ভুয়া নিবন্ধন ও সনদপত্র ব্যবহার করা হতে পারে।   নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা অন্য দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন অশ্বনী কুমার ধীমান ও ইশবিন্দর সিং। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা শর্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভুয়া জাহাজ নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   একই দিনে তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের কয়েকটি এয়ারলাইনসকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।   মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য ইরানের তেল বিক্রি থেকে আয় সীমিত করা এবং সেই অর্থ সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহারের সুযোগ কমানো।   নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন সম্পদ জব্দ থাকবে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণভাবে তাঁদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করলে বিদেশি ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও মার্কিন বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারে।   ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শুধু ইরানি প্রতিষ্ঠান নয়, দেশটির তেল পরিবহনে সহায়তাকারী বিদেশি ব্যবসায়ী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে যুক্তরাষ্ট্র।   রয়টার্সের প্রতিবেদন এবং মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ঘোষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে ভারতীয় দম্পতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের নিজস্ব বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৯:৪০
স্পেন থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হলো ১৬ আশ্রয়প্রার্থী, তালিকায় বাংলাদেশিও
স্পেন থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হলো ১৬ আশ্রয়প্রার্থী, তালিকায় বাংলাদেশিও

স্পেনের ছিটমহল সিউটা (Ceuta) থেকে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও এশিয়ার এক ডজনেরও বেশি অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠিয়েছে স্পেন সরকার। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অভিবাসীদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পর মরক্কো তাদের গ্রহণে সম্মতি জানালে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।   মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, ফেরত পাঠানো ওই ১৬ জন ব্যক্তির মধ্যে সেনেগাল, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ক্যামেরুন এবং বাংলাদেশের নাগরিকরা রয়েছেন। গত জুলাই মাসে সিউটায় নজিরবিহীন গণ-অনুপ্রবেশের পর এ ধরনের বিতাড়ন বা ফেরত পাঠানোর ঘটনা এটাই প্রথম।   স্পেনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। অ্যামনেস্টির গবেষক ভার্জিনিয়া আলভারেজ স্পেনের বামপন্থী সরকারের এই আচরণকে 'ভণ্ডামি' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিবাসীদের প্রতি মরক্কোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অতীত ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও স্পেন তাদের সেখানে ফেরত পাঠিয়ে চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।   তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চোখে মরক্কো একটি 'নিরাপদ দেশ' এবং সমস্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা মেনেই এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।   উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে স্পেনের সিউটা সীমান্তে প্রবেশ করেছিল। ইউরোপের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থল সীমান্ত হলো এই সিউটা ও মেলিলা। অনুপ্রবেশকারীদের বেশিরভাগই কয়েক দিনের মধ্যে ফিরে গেলেও এখনও স্পেনের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৮ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন, যাদের আশ্রয়ের আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।   আগামী ২৯ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই সিউটা সংকট সমাধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দেশের সাধারণ জনগণের প্রবল চাপের মুখে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৮:৩৫
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক  ক্ষে পণাস্ত্র লঞ্চার বিক্রিতে রাজি রাশিয়া
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষে পণাস্ত্র লঞ্চার বিক্রিতে রাজি রাশিয়া, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

সামরিক ও কৌশলগত দিক দিয়ে সম্পর্ক আরও মজবুত করছে রাশিয়া ও ইরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি)-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (লঞ্চার) বিক্রিতে সম্মতি জানিয়েছে রাশিয়া।   'এপিইউ-এল' মডেলের এই লঞ্চারগুলো মূলত রাশিয়ার তৈরি এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায় এবং এর মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। রুশ প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের নথিতে ক্রেতা হিসেবে সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ না করে সাংকেতিক নাম ‘কে-১০’ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই সমরাস্ত্র ইতোমধ্যে তেহরানের হাতে পৌঁছেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এই অত্যাধুনিক রুশ প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। জানা গেছে, প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আকাশে ওড়ার সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করে যেকোনো চলমান লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধেও রুশ বাহিনী সাফল্যের সঙ্গে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।   শুধু লঞ্চারই নয়, 'সি৪৩০এল' নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন রুশ প্রকৌশলীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তাজনিত হুমকি তৈরি করতে পারে।   এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরানের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক 'শাহেদ' ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। এর প্রতিদান হিসেবেই মূলত এখন ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে পুতিন প্রশাসন। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তেহরানের সঙ্গে সামরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংঘাতে এখনই সরাসরি জড়াতে চায় না।   বরং যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে একটি কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৭:৫৫
বিরল প্রজাতির ভেবে উদ্ধার
বিরল প্রজাতির ভেবে উদ্ধার, ফের আলোচনায় শরীরে তরকারির ঝোল মাখানো গাঙচিল

যুক্তরাজ্যে উজ্জ্বল কমলা রঙের অদ্ভুত এক পাখি উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী হাসপাতালে নেওয়ার পর সামনে আসে বিস্ময়কর তথ্য। প্রথমে পাখিটিকে বিরল কোনো প্রজাতির বলে মনে করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, সেটি আসলে সাধারণ একটি সিগাল বা সামুদ্রিক গাঙচিল। তরকারি কিংবা হলুদের মসলায় পুরো শরীর মাখামাখি হয়ে যাওয়ায় পাখিটির পালক উজ্জ্বল কমলা রং ধারণ করেছিল। ২০১৯ সালের জুলাই মাসের এই ঘটনা সম্প্রতি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের বাকিংহামশায়ারের এ৪১ মহাসড়কের পাশে অস্বাভাবিক রঙের পাখিটিকে দেখতে পান কয়েকজন পথচারী। পাখিটি ঠিকমতো উড়তে পারছিল না। তাঁরা সেটিকে উদ্ধার করে টিগিউইঙ্কলস ওয়াইল্ডলাইফ হাসপাতালে নিয়ে যান। অদ্ভুত রঙের পাখি আনার খবর পেয়ে হাসপাতালের কর্মীরাও প্রথমে বুঝতে পারেননি, তাঁদের সামনে কী ধরনের প্রাণী আসতে যাচ্ছে।   হাসপাতালে পরীক্ষা করার পর জানা যায়, পাখিটি আসলে হেরিং গাল প্রজাতির একটি সাধারণ সামুদ্রিক পাখি। তার পালকের প্রায় প্রতিটি অংশে তরকারির মসলা বা হলুদজাতীয় উপাদান লেগে ছিল। এর ফলে পালকগুলো স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল এবং পাখিটির উড়তে সমস্যা হচ্ছিল। তবে কীভাবে কিংবা কোথায় পাখিটি মসলায় মাখামাখি হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেননি চিকিৎসকেরা।   টিগিউইঙ্কলস ওয়াইল্ডলাইফ হাসপাতাল ২০১৯ সালের ১ জুলাই নিজেদের ফেসবুক পেজে ঘটনাটি প্রকাশ করে। কর্তৃপক্ষ জানায়, পাখিটির শরীর থেকে তীব্র মসলার গন্ধ বের হচ্ছিল। তবে অস্বাভাবিক রং ও গন্ধ ছাড়া তার শারীরিক অবস্থায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।   এরপর হাসপাতালের কর্মীরা পাখিটিকে ভালোভাবে গোসল করানোর উদ্যোগ নেন। প্রথমে পাখিটি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং গোসলের সময় কর্মীদের শরীরেও মসলামিশ্রিত পানি ছিটিয়ে দেয়। পরে ধীরে ধীরে তার শরীর থেকে মসলা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়। গোসল শেষে পাখিটির স্বাভাবিক সাদা ও ধূসর রঙের পালক আবার দৃশ্যমান হয়। হাসপাতালের কর্মীরা ভারতীয় উপমহাদেশের জনপ্রিয় ভিন্দালু তরকারির নাম অনুসারে পাখিটির নাম রাখেন ‘ভিনি’।   ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছিল, পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠেছে এবং শিগগিরই প্রকৃতিতে ফিরে যাওয়ার উপযোগী হবে। পরবর্তী একটি প্রতিবেদনে সেটিকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।   অবাক করার মতো বিষয় হলো, যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম ছিল না। এর আগে ২০১৬ সালে ওয়েলসের একটি খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের বাইরে ফেলে রাখা চিকেন টিক্কা মসলার পাত্রে পড়ে আরেকটি সিগাল কমলা রঙের হয়ে গিয়েছিল। সে সময়ও উদ্ধারকারীরা পাখিটিকে হাসপাতালে নিয়ে পরিষ্কার করেন। চিকিৎসার পর পাখিটির স্বাভাবিক রং ফিরে আসে, যদিও কিছুদিন তার শরীরে তরকারির গন্ধ ছিল।   সংবাদসূত্র: টিগিউইঙ্কলস ওয়াইল্ডলাইফ হাসপাতাল

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৭:৪৭
২৩ বছরের বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রোনালদোর অবসর
২৩ বছরের বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রোনালদোর অবসর

পর্তুগালের জার্সি গায়ে দীর্ঘ ২৩ বছরের এক ঐতিহাসিক ও বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি।   ২০০৩ সালের আগস্টে শুরু হওয়া এই সুদীর্ঘ যাত্রায় তিনি পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড ৬টি বিশ্বকাপ খেলেছেন, দলকে একটি স্বপ্নের ইউরো শিরোপা উপহার দিয়েছেন এবং পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।   ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা তার বিদায়ী বার্তায় জানান, পর্তুগিজ জনগণের কাছে জাতীয় দলের ৭ নম্বর আইকনিক জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে এই জার্সি গায়ে জড়িয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তের স্টেডিয়ামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।   তবে কিংবদন্তি এই ফুটবলারের বিদায়বেলাটি খুব একটা সুখকর হয়নি। মূলত পর্তুগাল জাতীয় দলের বর্তমান কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই অভিমানে দল থেকে সরে দাঁড়ানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন রোনালদো। গত ২৪ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশনস লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়টিই হয়ে রইল পর্তুগালের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ।   ওই ম্যাচের পর জেসুস তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন এবং পরবর্তী ম্যাচেও তাকে মূল একাদশে খেলানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানালে রোনালদো দলের ট্রেনিং ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান। জেসুস পরবর্তীতে রোনালদোর ফিরে আসার পথ খোলা রয়েছে বলে জানালেও, সিআরসেভেন আর জাতীয় দলে না ফেরার সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন।   রোনালদোর এই অবসরের ঘোষণায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অপরিসীম শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে। তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে আখ্যা দিয়ে ফেডারেশন জানিয়েছে, ভক্তদের উপস্থিতিতে তাকে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিদায় জানাতে শিগগিরই একটি বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।   আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়লেও লিওনেল মেসির মতোই রোনালদো আপাতত ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাবেন। ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের হয়ে চলতি মৌসুম শেষেই তিনি তার বর্ণাঢ্য ক্লাব ক্যারিয়ারেরও ইতি টানবেন। বর্তমানে ক্যারিয়ারের ১ হাজার গোলের অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করার দৌড়ে থাকা রোনালদোর ঝুলিতে মোট ৯৮৫টি গোল রয়েছে, যার মধ্যে রেকর্ড ১৪৬টি গোল তিনি করেছেন পর্তুগালের হয়ে ২৩৪টি ম্যাচ খেলে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৭:১৩
বোমাতঙ্কে ইউরোপে একাধিক ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ
বোমাতঙ্কে ইউরোপে একাধিক ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ, আতঙ্কে হাজারো যাত্রী

বোমাতঙ্কের জেরে গত বৃহস্পতিবার ইউরোপের আকাশপথে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। একের পর এক ফ্লাইটে বোমার হুমকি আসায় একাধিক ফ্লাইট তাদের নির্ধারিত গন্তব্যের বদলে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। ইউরোপজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।   ফিনিশ ব্রডকাস্টার 'উলে' (Yle) জানিয়েছে, ফিনায়ারের হেলসিংকি থেকে রোমগামী ফ্লাইট ১৭৬১-তে বোমার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে ইতালির রাজধানীতে নিরাপদে অবতরণের পর তল্লাশি চালিয়ে বিমানটিতে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বুলগেরিয়ার সোফিয়াগামী রায়ানএয়ারের তিনটি ফ্লাইটও একই কারণে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়।   ডেনমার্কের কোপেনহেগেন এবং স্পেনের মাদ্রিদ থেকে আসা দুটি ফ্লাইট নিরাপদে সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবে লন্ডনের স্ট্যানস্টেড থেকে আসা তৃতীয় ফ্লাইটটিকে ঘুরিয়ে বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর প্লোভডিভের বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।   এর পাশাপাশি, আয়ারল্যান্ড থেকে ইতালির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আরও একটি ফ্লাইট বোমাতঙ্কের কারণে ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের ইভরেক্সের একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, ওই ফ্লাইটের ১৫১ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু নিরাপদে রয়েছেন এবং সামরিক বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বিমানটিতে তল্লাশি চালিয়েছে।   ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যার লিঙ্গাসের ডাবলিন-রোম ফ্লাইটটি প্যারিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই গতিপথ পরিবর্তন করে ইভরেক্সের দিকে ঘুরে যায়।   ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, চলতি সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় ফ্লাইটে এমন ভুয়া বোমার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ফ্লাইটগুলোর গতিপথ পরিবর্তন, তল্লাশি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইতালীয় বিমান বাহিনীর পাহারায় অবতরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এলওটি (LOT), স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্স, উইজ এয়ার এবং রায়ানএয়ারের মতো প্রথম সারির এয়ারলাইন্সগুলোও এসব হুমকির শিকার হয়েছে।   এর ঠিক এক দিন আগেই বুলগেরিয়াগামী অপর একটি বিমান আকাশে থাকা অবস্থায় বোমার হুমকি পাওয়ার পর হাঙ্গেরিতে অবতরণ করানো হয়েছিল। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও, ইউরোপজুড়ে ড্রোন অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য রহস্যময় নাশকতার সতর্কতার মাঝে এমন ভুয়া বোমাতঙ্ক জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন এক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:৪৫
কানাডায় বাড়ির কাছে হাঁটতে গিয়ে ভাল্লুকের হা মলায় মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃ ত্যু
কানাডায় বাড়ির কাছে হাঁটতে গিয়ে ভাল্লুকের হা মলায় মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃ ত্যু

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বাড়ির কাছেই একটি পরিচিত ট্রেইলে হাঁটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া মা ও মেয়ের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বন বিভাগের ধারণা, মা ও মেয়ে দুজনেই গ্রিজলি ভাল্লুকের মর্মান্তিক হামলার শিকার হয়েছেন। নিহতরা হলেন— ৪৮ বছর বয়সী আর্ট থেরাপিস্ট জেনিফার ব্যালকারাস এবং তার ২০ বছর বয়সী মেয়ে সেলাহ রিড।   ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বেলা কুলা এলাকায় নিজেদের বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বের ‘স্নুকা ওয়েস্ট ট্রেইল’-এ গত শনিবার সাধারণ নৈমিত্তিক হাঁটার উদ্দেশে বেরিয়ে তারা নিখোঁজ হন। চার সন্তানের জননী জেনিফার তার নির্ধারিত একটি অনলাইন মিটিংয়ে উপস্থিত না হলে তার ভাই ম্যাট ব্যালকারাস প্রথম শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।   নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সোমবার জেনিফারের এবং ঠিক পরদিন মঙ্গলবার তার মেয়ে সেলাহ রিডের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া কনজারভেশন অফিসার সার্ভিসের কর্মকর্তা জেফ টায়ার জানান, ঘটনাস্থলের আলামত দেখে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে সেখানে গ্রিজলি ভাল্লুকের সম্পৃক্ততা ছিল।   তবে হামলায় একাধিক ভাল্লুক জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। ওই ভাল্লুকটিকে শনাক্ত ও ধরার চেষ্টা চলছে এবং মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   এমন অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জেনিফারের আরেক ভাই জশ জানান, মা ও মেয়ে দুজন সবসময় বন্ধুর মতো একসঙ্গেই থাকতেন। তারা শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতি উপভোগ করতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাই পাহাড়ি ওই পথটি তাদের কাছে মোটেও অপরিচিত ছিল না।   জীবনের নতুন অধ্যায় ও ক্যারিয়ার শুরু করতে জেনিফার সম্প্রতি ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় ২৬৮ মাইল দূরের এই বেলা কুলা অঞ্চলে চলে এসেছিলেন। হঠাৎ তাদের এমন মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। জেনিফারের বেঁচে থাকা অপর তিন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পাশে দাঁড়াতে এবং অপ্রত্যাশিত খরচ মেটাতে এরই মধ্যে বন্ধুদের উদ্যোগে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) তহবিল গঠন করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, বেলা কুলা এলাকায় ভাল্লুকের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এক বছরেরও কম সময় আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে একই এলাকায় দুটি শাবকসহ একটি ভাল্লুকের হামলায় ১১ জন আহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সেই আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মা ও মেয়ের এমন করুণ মৃত্যু স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে ভীতি তৈরি করেছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:২৮
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন ভিসা, সুযোগ পাবে বাংলাদেশিরাও! আবেদন শুরু ১২ নভেম্বর থেকে
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন ভিসা, সুযোগ পাবে বাংলাদেশিরাও! আবেদন শুরু ১২ নভেম্বর থেকে

অস্ট্রেলিয়ায় পেশাগত প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের জন্য সাবক্লাস ৪০৭ ট্রেনিং ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসছে। আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ভিসা মঞ্জুরের সময় আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। ফলে দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশিদের এই ভিসার আবেদন করতে হলে নতুন শর্ত বিবেচনায় নিতে হবে।   সাবক্লাস ৪০৭ অস্ট্রেলিয়ার আগে থেকেই চালু থাকা একটি অস্থায়ী ট্রেনিং ভিসা। এর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা নির্দিষ্ট পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাগত লাইসেন্স অর্জন কিংবা কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধরন ও অনুমোদনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে এটি সাধারণ চাকরি খোঁজার বা স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসা নয়। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ভিসার আওতায় মূলত তিন ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, কোনো পেশায় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স অর্জনের প্রশিক্ষণ। দ্বিতীয়ত, নিজের বর্তমান পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ। তৃতীয়ত, বিদেশি যোগ্যতা অর্জন, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ কিংবা পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিশেষ কর্মসূচি।   নতুন নিয়মে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে আবেদনকারীর অবস্থানসংক্রান্ত শর্ত। ১২ নভেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থান করে সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার আবেদন জমা দিলে তা বৈধ আবেদন হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। অনলাইন ইমিঅ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হলেও অবস্থানসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করলে আবেদন অবৈধ গণ্য হতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করার পর অন্য কোনো বৈধ ভিসায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। সাবক্লাস ৪০৭ ভিসা মঞ্জুরের সময় আবেদনকারীকে আবার অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করতে হবে। বিদেশ থেকে করা আবেদনের ভিত্তিতে ব্রিজিং ভিসাও পাওয়া যাবে না।   বাংলাদেশি নাগরিকেরা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করলে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে শুধু প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগ্রহ থাকলেই চলবে না। অস্ট্রেলিয়ায় অনুমোদিত স্পনসর, নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় মনোনয়ন থাকতে হবে। সাধারণত আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হওয়া, সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা এবং স্বাস্থ্য ও চরিত্রসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করা জরুরি। সাধারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্পনসরশিপ ও প্রশিক্ষণ মনোনয়ন অনুমোদনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা স্পনসর হলে কিছু ক্ষেত্রে মনোনয়নসংক্রান্ত ছাড় থাকতে পারে। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সম্পর্কও যাচাই করা হয়।   সরবরাহ করা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার মূল আবেদন ফি ৫৩৫ অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে শুরু। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার কারণে মোট খরচ বাড়তে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ফি ও শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন। এই ভিসা নিয়ে প্রতারণার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শুধু চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রেনিং ভিসার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। অনুমোদিত স্পনসর, বৈধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর ভিসা পাওয়া নির্ভর করে। বিশেষ করে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আবেদনকারীদের দেশ ছাড়ার আগে বর্তমান ভিসার মেয়াদ ও নতুন আবেদনসংক্রান্ত শর্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা জরুরি।   তবে ১২ নভেম্বরের আগে বৈধভাবে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে নতুন অবস্থানসংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর হবে না। সেসব আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে। নতুন আইনে নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য ব্যতিক্রম রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ট্রেনিং ভিসাকে দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার সীমিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশিসহ বিদেশি আবেদনকারীদের স্পনসরশিপ, প্রশিক্ষণের অনুমোদন এবং অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থানের শর্ত নিশ্চিত করেই আবেদন করতে হবে।   তথ্যসূত্র: অস্ট্রেলিয়ার Department of Home Affairs এবং Federal Register of Legislation-এ প্রকাশিত Migration Amendment (Training Visas—Application Requirements) Regulations 2026।   #Australia #AustraliaVisa #AustralianVisa #Subclass407 #TrainingVisa #AustraliaTrainingVisa #VisaUpdate #AustralianImmigration #BangladeshiApplicants #WorkplaceTraining #SkillDevelopment #ImmigrationNews

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২:১৮
লন্ডনে গণেশ উৎসবের পর লেকে প্রতিমা বিসর্জ্জন, আবর্জনায় ক্ষুব্ধ  সিটি অব লন্ডন কর্পোরেশন
লন্ডনে গণেশ উৎসবের পর লেকে প্রতিমা বিসর্জ্জন, আবর্জনায় ক্ষুব্ধ  সিটি অব লন্ডন কর্পোরেশন

যুক্তরাজ্যের উত্তর-পূর্ব লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানস্টেড ফ্ল্যাটসে গণেশ চতুর্থী উৎসবের পর জলাশয়ে সাতটি প্রতিমা ও বিপুল পরিমাণ আবর্জনা ফেলে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিটি অব লন্ডন করপোরেশন। গত সেপ্টেম্বরে ১০ দিনব্যাপী উৎসব চলাকালে অনুমতি ছাড়া জমায়েত, উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফোটানো এবং পরিবেশ দূষণের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগামী বছর থেকে কঠোর নজরদারি ও আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মাই লন্ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ানস্টেড ফ্ল্যাটসের আলেকজান্দ্রা লেক ও জুবিলি পন্ড এলাকায় উৎসব শেষে সাতটি প্রতিমা পাওয়া যায়। পাশাপাশি জলাশয় ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে থাকা আবর্জনা নিয়ে অভিযোগ জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, উৎসবকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের জমায়েত এবং আতশবাজির শব্দে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। ওয়ানস্টেড ফ্ল্যাটস লন্ডনের ঐতিহাসিক ইপিং ফরেস্টের অংশ। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের কারণে এই বনাঞ্চলের বিশেষ সংরক্ষণগত গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এখানে জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন এবং আবর্জনা ফেলে রাখার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জলাশয়ের পানি ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   ইপিং ফরেস্ট অ্যান্ড কমন্স কমিটির চেয়ারম্যান ডেপুটি ক্যারোলিন হেইনস জানিয়েছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড ব্যয় হচ্ছে। বিপুল এই ব্যয় কর্তৃপক্ষের বাজেটের ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে এই অর্থ শুধু গণেশ চতুর্থী উৎসবের পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ নয়, বনাঞ্চলের সামগ্রিক আবর্জনা অপসারণের বার্ষিক ব্যয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর উৎসবকেন্দ্রিক অননুমোদিত জমায়েতের পরিধি বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব আয়োজনের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় আইন প্রয়োগেও জটিলতা দেখা দিচ্ছে। আয়োজকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে না পারায় অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।   এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সিটি অব লন্ডন করপোরেশন। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই প্রাকৃতিক এলাকায় অননুমোদিত জমায়েত, উচ্চ শব্দে আতশবাজি, অসামাজিক আচরণ এবং পরিবেশের ক্ষতি প্রতিরোধ করা।   ঘটনাটি ঘিরে ধর্মীয় উৎসব পালনের পাশাপাশি জনপরিসরের নিয়ম মেনে চলা এবং সংরক্ষিত প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কর্তৃপক্ষ এখন আগামী বছরের উৎসবের আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।    

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১:৩৯
প্রবাসী বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

কুয়েতে স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশ এবং বারবার অনুরোধের পরও তা সরিয়ে না নেওয়ায় বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত তাঁকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাতে বুধবার (৪ নভেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। আদালতের শুনানিতে উঠে এসেছে, স্ত্রীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ গড়ায় হত্যাকাণ্ডে।   মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশির বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই কয়েকটি ব্যক্তিগত ছবি তোলেন ওই বন্ধু। পরে ছবিগুলো ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ছবি প্রকাশের পর ওই নারীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য আসতে শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখা দেয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি জানান, তিনি বন্ধুকে একাধিকবার ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বন্ধু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেন। এমনকি আগের ছবিগুলো সরিয়ে না নিয়ে আরও ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এতে তাঁদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ওই বাংলাদেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি ছুরি নিয়ে কর্মস্থলের একটি স্থানের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। বন্ধু সেখানে রয়েছেন নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর বের হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। পরে বন্ধু বাইরে বেরিয়ে এলে তাঁর ওপর হামলা চালান তিনি। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আঘাতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।   আদালতের শুনানিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন অভিযুক্ত বাংলাদেশি। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে আগে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু স্ত্রীর ছবি প্রকাশ এবং সেগুলো সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনায় তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই বিরোধ থেকেই প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কুয়েতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরব টাইমস জানিয়েছে, বিচারক নাসের আল বদরের নেতৃত্বাধীন আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। তদন্তের পর দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছিলেন।   মামলার তথ্যপ্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তি বিবেচনায় আদালত হত্যাকাণ্ডটিকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে রায় দেন। পরে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ও নিহত ব্যক্তির পরিচয়, হত্যাকাণ্ডের নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: গালফ নিউজ, আরব টাইমস, দ্য ডেইলি স্টার   স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন বন্ধু। বারবার অনুরোধের পরও ছবি মুছে না ফেলায় তৈরি হয় বিরোধ। শেষ পর্যন্ত সেই বন্ধুকেই ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। এবার কুয়েতের আদালত তাঁকে দিলেন মৃত্যুদণ্ড। #Kuwait #BangladeshiExpat #DeathSentence #KuwaitNews #CrimeNews #BangladeshNews #Facebook #MiddleEastNews

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২৩:৩৪
পাকিস্তানের ২৪ বছর বয়সী মেধাবী তরুণী লাইবা ইজাজ
হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্নই হলো কাল, প্রতারিত হয়ে সত্য জানার পর ২৪ বছরের লাইবার রহস্যজনক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন পাকিস্তানের ২৪ বছর বয়সী মেধাবী তরুণী লাইবা ইজাজ। সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় এক ব্যক্তির হাতে বিপুল অর্থ তুলে দিয়েছিল তাঁর পরিবার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কাগজপত্র, স্কলারশিপের চিঠি থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট পর্যন্ত সবই ছিল জাল। প্রতারণার বিষয়টি জানার মাত্র তিন দিন পর গত ৯ অক্টোবর ইসলামাবাদে নিজ বাড়ির কাছে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় লাইবাকে।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ঘটনার বিস্তারিত। লাইবা ইসলামাবাদের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে গোল্ড মেডেল অর্জন করেছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি স্কুলে বিজ্ঞান পড়াতেন এবং শিশুদের প্রাইভেট টিউশন দিতেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা।   লাইবার বাবা মুহাম্মদ ইজাজ ইসলামাবাদে একটি দুগ্ধজাত পণ্যের দোকান পরিচালনা করেন। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে তিনি নিজের জমি ও পরিবারের গয়না বিক্রি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মুহাম্মদ নোমান নামের এক ব্যক্তি হার্ভার্ডে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে কয়েক ধাপে অর্থ নেন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বাবদ ২২ লাখ পাকিস্তানি রুপি এবং পরে ব্যাংক স্টেটমেন্ট তৈরির কথা বলে ৭২ লাখ রুপি দাবি করেন তিনি।   নোমান নিজেকে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি পরিচয়পত্রও দেখান। এরপর লাইবার পরিবারের হাতে হার্ভার্ডের ভর্তির চিঠি, স্কলারশিপের কাগজ, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ডকুমেন্ট এবং বোস্টনগামী বিমানের টিকিট তুলে দেন।   অক্টোবরের শুরুতে নোমানের আচরণে সন্দেহ হলে পরিবারটি কাগজপত্র যাচাই করে। একজন ট্রাভেল এজেন্ট ও আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, সব নথিই জাল। ৬ অক্টোবর প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন লাইবা।   এর তিন দিন পর, ৯ অক্টোবর, বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ময়নাতদন্তের তথ্য আত্মহত্যার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করলেও পরিবার তা মানতে নারাজ। লাইবার বাবা অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর পেছনে নোমানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।   এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। ১১ অক্টোবর নোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ২০ অক্টোবর পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, সহযোগীরা তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনারও তদন্ত চলছে।   পরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি লাইবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা ৫০ লাখের বেশি পাকিস্তানি রুপি পরিবারের হাতে তুলে দেন।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কোনো এজেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না।   লাইবার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের ঘটনা নয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে প্রতারণার ঝুঁকিও সামনে এনেছে। মেয়েকে হারিয়ে বাবা মুহাম্মদ ইজাজ এখনো বিচার ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:৫৬
যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ৮৮ স্কুলে সাইবার হামলা
যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ৮৮ স্কুলে সাইবার হামলা, ডার্ক ওয়েবে ৩ লাখ ২০ হাজার ফাইল

যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ৮৮টি স্কুলকে প্রভাবিত করা বড় ধরনের সাইবার হামলায় চুরি হওয়া প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ফাইল ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিলের স্কুলসংক্রান্ত সার্ভারে সাইবার হামলা চালানো হয়। কাউন্সিলের ‘ট্রেডিং উইথ স্কুলস’ আইটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী মোট ৮৮টি স্কুল এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর চুরি হওয়া বিপুলসংখ্যক ফাইল ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।   ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, ঠিক কোন কোন স্কুলের এবং কতজন ব্যক্তির তথ্য চুরি হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তথ্য ফাঁসের প্রকৃত পরিধি নির্ধারণে তদন্ত চলছে।কাউন্সিলের শিক্ষা ও দক্ষতাবিষয়ক পরিচালক ভিক ভার্মা বুধবার অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোনকল, সন্দেহজনক ইমেইল এবং অপ্রত্যাশিত মেসেজের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, অ্যাভন অ্যান্ড সমারসেট পুলিশ এবং রিজিওনাল অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। হামলায় কী ধরনের তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব কতটা বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা চলছে।   এদিকে তথ্য চুরির পর সম্ভাব্য প্রতারণা শনাক্ত করতে স্কুলগুলোর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট স্কুল ও পরিবারগুলোকে জানানো হবে।   যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার আগেই সতর্ক করেছিল, দেশটির সরকারি খাতের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এ ধরনের হামলায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   সর্বশেষ এই ঘটনায় প্রকাশিত ফাইলগুলোর মধ্যে ঠিক কী ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে, তা এখনো বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিল।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:১৬
ব্রিটিশ পাসপোর্ট
ব্রিটিশ পাসপোর্ট আবেদন ও নবায়নে পরিচয় নিশ্চিতের দুই বছরের শর্ত, যা জানা জরুরি

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ পাসপোর্টের নতুন আবেদন ও নির্দিষ্ট কিছু নবায়নের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে অন্তত দুই বছর ধরে পরিচিত একজন ব্যক্তির সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সরকারি পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই আবেদনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতে হবে এবং নির্ধারিত পেশাগত ও পরিচয়সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে এটি নতুন করে চালু হওয়া সর্বজনীন কোনো নিয়ম নয়। আগে থেকেই কার্যকর এই শর্ত সব ধরনের পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়।   যুক্তরাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইট গভ ডট ইউকে এবং হিজ ম্যাজেস্টিস পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট, প্রথমবার শিশুদের পাসপোর্ট, হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সাধারণত পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া ১১ বছর বা তার কম বয়সী শিশুর পাসপোর্ট নবায়ন এবং আগের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে এই যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।   পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তিকে ইংরেজিতে ‘কাউন্টারসিগনেটরি’ বা ‘রেফারি’ বলা হয়। তাঁর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। তাঁকে আবেদনকারীকে অন্তত দুই বছর ধরে বন্ধু, প্রতিবেশী বা সহকর্মী হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে চিনতে হবে। পাশাপাশি সমাজে গ্রহণযোগ্য অবস্থান থাকতে হবে এবং স্বীকৃত কোনো পেশায় কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত হতে হবে। শিক্ষক, সাংবাদিক, নার্স, প্রকৌশলী, আইনজীবী, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ব্যাংক কর্মকর্তা কিংবা সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার যোগ্য ব্যক্তিরা এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।   তবে আবেদনকারীর পরিবারের সদস্য, স্বামী বা স্ত্রী, প্রেমিক বা প্রেমিকা কিংবা একই ঠিকানায় বসবাসকারী কেউ পরিচয় নিশ্চিতকারী হতে পারবেন না। যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ ব্রিটিশ অথবা আইরিশ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং তাঁকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে হবে। দেশের বাইরে থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ, আইরিশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, যুক্তরাষ্ট্র বা কমনওয়েলথভুক্ত দেশের বৈধ পাসপোর্টধারী ব্যক্তির সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   অনলাইনে আবেদন করার সময় পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে আবেদনকারীকে নির্ধারিত ব্যক্তির নাম ও ইমেইল ঠিকানা দিতে হয়। এরপর পাসপোর্ট অফিস থেকে তাঁকে একটি ইমেইল পাঠানো হয়। সেখানে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদনকারীর জন্মতারিখ, ঠিকানা ও ছবি যাচাই করতে হয়। সাধারণত এই অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মিনিট লাগে। অন্যদিকে কাগজের ফরমে আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যক্তিকে ফরম ও ছবিতে স্বাক্ষর করতে হতে পারে।   তবে সাধারণভাবে মেয়াদ শেষ হওয়া প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ব্রিটিশ পাসপোর্ট নবায়নের জন্য নতুন করে কাউন্টারসিগনেটরি প্রয়োজন হয় না, যদি আগের পাসপোর্টের তথ্য ও ছবির সঙ্গে আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। নবায়নের জন্য পুরোনো পাসপোর্ট, নতুন ছবি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য নথি জমা দিতে হয়। পাসপোর্ট অফিসের যাচাইয়ে অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হলে আবেদনকারীকে তা জানানো হয়।   ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির ২০ জানুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত গবেষণা ব্রিফিংয়েও দুই বছর ধরে পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার শর্তের উল্লেখ রয়েছে। ফলে দুই বছরের শর্তকে ২০২৬ সালের নভেম্বরে নতুন করে চালু হওয়া নিয়ম হিসেবে উপস্থাপন করার ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এই সময়সীমার অর্থ হলো, পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তিকে আবেদনকারীর অন্তত দুই বছরের পরিচিত হতে হবে; পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে, এমন নয়।   যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকসহ সব আবেদনকারীর জন্য পাসপোর্টের ধরন অনুযায়ী নিয়মগুলো যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদন, শিশুদের পাসপোর্ট নবায়ন এবং হারানো পাসপোর্ট প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আগেই যোগ্য পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তি নির্বাচন করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এড়ানো সহজ হতে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:৩
জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে সামরিক প্রশিক্ষণ চলাকালে এক মার্কিন নৌ সেনার মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
জাপানে সামরিক প্রশিক্ষণের সময় মার্কিন নৌ সেনার মৃত্যু, তদন্ত শুরু

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে সামরিক প্রশিক্ষণ চলাকালে এক মার্কিন নৌ সেনার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প শোয়াবে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরের তৃতীয় মেরিন ডিভিশন এক বিবৃতিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কীভাবে ওই সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।   মার্কিন  সামরিক সংবাদপত্র স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ক্যাম্প শোয়াবে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে প্রশিক্ষণটি কী ধরনের ছিল, সেখানে অস্ত্র বা সামরিক যান ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি মেরিন কোর।   তৃতীয় মেরিন ডিভিশনের বিবৃতিতে নিহত সেনাসদস্যের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর খবর জানানোর অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর নিহতের পরিচয় প্রকাশ করা হবে। এ কারণে এখনো ওই সেনাসদস্যের নাম, বয়স, পদবি কিংবা তিনি কোন সামরিক ইউনিটে কর্মরত ছিলেন, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   তৃতীয় মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট টাইলার থমাস এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি ক্যাম্প শোয়াবেই ঘটেছে। তবে সেনাসদস্যটি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন, নাকি আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় অন্য কোনো সেনাসদস্য আহত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়নি।   জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাম্প শোয়াব অন্যতম। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলের নাগো শহরের কাছে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে মার্কিন মেরিন সেনারা নিয়মিত যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সামরিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। এখানে তৃতীয় মেরিন ডিভিশনের অধীন চতুর্থ মেরিন রেজিমেন্ট ও তৃতীয় রিকনেসান্স ব্যাটালিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রম রয়েছে।   তৃতীয় মেরিন ডিভিশনের প্রধান কার্যালয়ও ওকিনাওয়ার ক্যাম্প কোর্টনিতে অবস্থিত। এই ডিভিশন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলযুদ্ধ বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। বিশেষ করে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে এই বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।   জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় জাপানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ওকিনাওয়ায় অবস্থান করেন। অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়।   এদিকে সামরিক প্রশিক্ষণে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছেন। প্রশিক্ষণের সময় নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্তে তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। তবে তদন্তের অগ্রগতি কিংবা প্রাথমিক কোনো ফল এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১০:৩৭
ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতি বদলাবে না: মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পরও ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন কিংবা তেহরানের পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কের অবসান হবে বলে যারা আশা করছেন, তাঁরা মারাত্মক ভুল করছেন। একই সঙ্গে ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলা হলে আরও বড় পরিসরে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর খামেনির এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়। ইরানে ১৯৭৯ সালের মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছে। ইরান এই দিনটিকে মার্কিন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পালন করে থাকে।   বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর পরিবর্তনের ফলে ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের আচরণ বদলে যাবে বলে আশা করার সুযোগ নেই। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। তিনি মনে করেন, মার্কিন চাপের মুখে সামান্য ছাড় দিলেও ওয়াশিংটন আরও বেশি দাবি উত্থাপন করবে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করার পরিবর্তে প্রতিরোধের নীতি বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক আগ্রাসন চালালে সংঘাতের পরিধি আগের তুলনায় অনেক বড় হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের পদক্ষেপকে তিনি মার্কিন আধিপত্য মোকাবিলার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে অপ্রতিরোধ্য হিসেবে দেখার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।   চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধ শুরু হয়। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুদ্ধের সময় আহত হওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বুধবারের বক্তব্যটিও ভিডিও কিংবা সরাসরি ভাষণের পরিবর্তে লিখিত বিবৃতি হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ফলাফলকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের অসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন দেশটির অন্য কর্মকর্তারা। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কিংবা বিবেকের তাড়নায় মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের উচিত নির্বাচনের এই বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নতুন করে সামরিক সংঘাতের পথে না যাওয়া।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নিজের প্রশাসনের সামরিক অবস্থানের পক্ষেই যুক্তি দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের ফলে কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা এখনো অনিশ্চিত।   সূত্র: আল জাজিরা

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১০:২৬
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০