ইরান–এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে চলমান আলোচনায় উভয় পক্ষ ‘প্রাথমিক সমঝোতা’-র বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। বিষয়টিকে সম্ভাব্য অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করলে তবেই এটিকে প্রকৃত অগ্রগতি বলা যাবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভাইজ বলেছেন, “অন্তত যদি উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে কোন বিষয় থাকবে সেই বিষয়ে একমত হতে পারে, তবে সেটিই হবে ইতিবাচক পদক্ষেপ।” তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে আলোচনার ‘পরিধি’ ঠিক করা যতটা সহজ, মূল ‘বিষয়বস্তু’ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো ততটাই সময়সাপেক্ষ। তিনি ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, সেই চুক্তির মূল বিষয়গুলোতে আড়াই বছর সময় লেগেছিল। আলি ভাইজ জানিয়েছেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ইরান একটি সেন্ট্রিফিউজও চালু করেনি এবং এক গ্রাম ইউরেনিয়ামও সমৃদ্ধ করেনি। এতে কিছু ছাড় দেওয়াটা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে উভয় পক্ষ নিজেদের দাবিতে কতটা সংযম দেখাতে পারে তার ওপর। সীমিত ও অর্জনযোগ্য কোনো চুক্তি চাইলে সমঝোতা সম্ভব, তবে অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে আলোচনার বাস্তব অগ্রগতি ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্নায়ুযুদ্ধের চরম মুহূর্তে ইরান নিলো এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত! জেনেভায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাঝেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ আংশিক বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ খবর জানায়। তবে দু দেশের মধ্যে কথার লড়াই এখনো চলছে। তেহরানের উপর চাপ বাড়ানোর জন্য উপসাগরে একটি যুদ্ধ বাহিনী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সমস্যা সমাধানের জন্য তেহরানে ‘শাসক পরিবর্তন’ সবচেয়ে ভালো হতে পারে। জবাবে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মঙ্গলবার বলেছেন, তার সরকার উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। এমন আবহেই জেনেভায় শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক। ওমানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন ডনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে ছিলেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। জাতিসংঘে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল মনে করে, ইরান এমন এক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তথ্য: রয়টার্স।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা শিশু যৌন নিগ্রহের উপাদান (CSAM) ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার), মেটা এবং টিকটক-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্পেন সরকার। মঙ্গলবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ নিজেই এই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ তার ভেরিফাইড এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে জানান, এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা শিশুদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই গুরুতর অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে তিনি দেশটির প্রসিকিউটরদের তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের মূল বিষয়বস্তু: স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে এই প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে এবং কেন এআই-জেনারেটেড শিশু যৌন নিগ্রহের কন্টেন্ট রুখতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে: ১. প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম কি এ ধরনের কন্টেন্ট ছড়াতে সহায়তা করছে? ২. কন্টেন্ট মডারেশনে কোম্পানিগুলোর গাফিলতি ছিল কি না। ৩. শিশুদের সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না। প্রধানমন্ত্রী সানচেজের কড়া বার্তা: প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, “আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে শিশুদের হেনস্তা করা একটি জঘন্য অপরাধ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবশ্যই তাদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং এই ধরনের কন্টেন্ট নির্মূল করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।” প্রযুক্তি বিশ্বে তোলপাড়: এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে ভুয়া কিন্তু বাস্তবসম্মত আপত্তিকর ছবি তৈরি করার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্পেনের এই তদন্ত প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (DSA) অধীনে এই কোম্পানিগুলো বড় ধরনের জরিমানার সম্মুখীন হতে পারে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেটা, টিকটক বা এক্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই কোম্পানিগুলো দাবি করেছে যে, তারা এআই-জেনারেটেড ক্ষতিকর কন্টেন্ট শনাক্ত করতে উন্নত ফিল্টার ও মডারেশন টিম ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেনের এই তদন্ত বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
সিরিয়ার রোজ ডিটেনশন ক্যাম্পে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অনেক অস্ট্রেলীয় নাগরিক, যারা একসময় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ছেড়েছিলেন। তাদের দেশে ফেরার সব পথ কি তবে বন্ধ? সম্প্রতি এই ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। মঙ্গলবার তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সিরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার যে নাগরিকরা ইসলামিক স্টেটের দলে নাম লিখিয়েছিল, তাদের সিরিয়া থেকে দেশে ফেরানোর প্রশ্নই ওঠে না। সিরিয়ার রোজ ডিটেনশন ক্য়াম্পে বেশ কিছু অস্ট্রেলীয় পরিবার আছে। যাদের সঙ্গে আইএস-এর সরাসরি সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ। দেশে ফেরার জন্য় তারা আবেদন জানিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশ ছেড়ে যারা বিদেশের মাটিতে গিয়ে 'খিলাফত' গড়ার চেষ্টা করেছিল, তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতি মেলে না। ফলে কোনোভাবেই তাদের দেশে ফেরানো হবে না।
সৌদি আরবের সরকারি হিজরি ক্যালেন্ডার ‘উম্ম আল-কুরা’ অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আজ (মঙ্গলবার) চাঁদ দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে সংশয় বিরাজ করছে। এ নিয়ে এবারও সৌদি আরবের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত ঘোষণা ও বৈজ্ঞানিক হিসাবের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও খালি চোখে বা টেলিস্কোপ দিয়ে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। তবুও সৌদি আরব তাদের পূর্বনির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বুধবার থেকে রোজা শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলার অভিযোগ ওঠেছে। মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক সময় চাঁদ দেখা না গেলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ দাফতরিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান ও ঈদের ঘোষণা দিয়ে থাকেন। ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময়ও এই বিতর্ক prominence পেয়েছিল। কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন তখন উল্লেখ করেছিলেন, আরব উপদ্বীপে সেই রাতে চাঁদ দেখা সম্ভব নয় এবং কেউ যদি দেখেছে, তার প্রমাণ দাবি করেছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ছবি দেখাতে না পারলেও পরদিন ঈদের ঘোষণা দেন, যা বিশ্ব মুসলিম স্কলার ও বিজ্ঞানীদের সমালোচনার বিষয় হয়। ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা বিশেষজ্ঞ ও ‘নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ বলেন, সৌদি আরব প্রায়ই এমন সময় চাঁদ দেখার দাবি করে যা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। তার মতে, মাত্র কয়েকজনের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত দাবি ভিত্তি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও চাঁদ দেখা যায় না। যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর মুসলমানরা সাধারণত সৌদি আরবের ঘোষণা অনুসরণ করেন, কারণ তাদের নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটি নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় মুসলিম কমিটি এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিচ্ছেন। মুসলিমরা চন্দ্র বর্ষ অনুসরণ করে, তাই মাসগুলো সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিন হয়। সৌদি আরব আজ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে, যদিও বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবারের আগে চাঁদ দেখা সম্ভবতা কম।
লন্ডনভিত্তিক বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরামর্শক হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের নতুন সূচক প্রকাশ করেছে। আগের তুলনায় বাংলাদেশের পাসপোর্ট দুই ধাপ এগিয়ে ৯৩তম স্থানে অবস্থান করছে। এর আগে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৫তম। সর্বশেষ সূচকে সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, আর তৃতীয় স্থানে সুইডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সূচকটি নির্ধারণ করা হয় একটি দেশের নাগরিকরা কতগুলো দেশে ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যাতায়াত করতে পারেন তার ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে ৩৭টি দেশে এ সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের পাসপোর্ট শক্তিশালী অবস্থানে আছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ। পঞ্চম স্থানে যৌথভাবে নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা ও পর্তুগাল। ষষ্ঠ স্থানে আছে হাঙ্গেরি, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া, আর সপ্তম স্থানে অস্ট্রেলিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও যুক্তরাজ্য। এই সূচক বিশ্ব নাগরিকত্বের শক্তি ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগের প্রতিফলন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে এক ইসরায়েলি নারী পর্যটকসহ দুই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং এক পুরুষ পর্যটককে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন স্থানীয় আদালত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কোপ্পাল জেলার গঙ্গাবতী জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। ২০২৫ সালের মার্চে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত তিনজন হলেন—মল্লেশ ওরফে হান্দিমাল্লা, সাই ও শরণাপ্পা। আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ মার্চ রাতে হাম্পির অদূরে সানাপুরা এলাকায় তুঙ্গভদ্রা খালের পাশে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা এক ইসরায়েলি নারী পর্যটক, একজন নারী হোটেল পরিচালক এবং তাদের সঙ্গে থাকা তিন পুরুষ পর্যটকের কাছে টাকা দাবি করে। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিন পুরুষকে খালে ফেলে দেওয়া হয় এবং দুই নারীকে যৌন নির্যাতন করা হয়। খালে পড়ে যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেও উড়িষ্যার এক পর্যটক পানিতে ডুবে মারা যান। মামলার শুনানিতে আদালত এই অপরাধকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ হিসেবে উল্লেখ করেন। রায়ে বিচারক বলেন, পর্যটকদের ওপর এমন জঘন্য হামলা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য অপরাধ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চে এই ঘটনার পর ভারত জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। পরে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
ওমরাহ হজ পালন শেষে সৌদি আরবে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন: সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), তাদের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১২), দেড় বছরের কন্যা সুবহা আক্তার এবং একই গাড়ির চালক মো. জিলানী বাবর (৩০)। নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুতর আহত হয়ে জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত মিজান লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহীদ উল্যাহর ছেলে। নিহত মেহের আফরোজ স্থানীয় টিউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। নিহত গাড়িচালক জিলানী বাবর একই ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মিজান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি প্রবাসী ছিলেন এবং স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে ওমরাহ হজ পালন করছিলেন। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম জানিয়েছেন, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে নতুন ভূমি নিবন্ধন আইন অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়। আইনটি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করবে বলে জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি পক্ষ এই পদক্ষেপকে পশ্চিম তীরের “কার্যত দখল” বা ডি-ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)। নতুন আইনে কী থাকছে সরকারি সূত্র জানায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরর ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলে নতুন করে ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। পরিকল্পনাটি সমর্থন করেছেন ইসরায়েলের কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী। ইসরায়েলি সরকারের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হবে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন জমিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার একটি আইনি কৌশল হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের প্রতিক্রিয়া ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “এটি একটি বিপজ্জনক উস্কানি এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।” ফিলিস্তিনি নেতাদের মতে, এই পদক্ষেপ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে দুর্বল করবে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এ পদক্ষেপ দুই-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথকে আরও সংকুচিত করবে এবং অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম তীরে এই প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক দখল ঘোষণা না দিলেও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ইসরায়েল ধাপে ধাপে সেই দিকেই এগোচ্ছে। এদিকে জর্ডানসহ কয়েকটি আরব দেশ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
ইরানের বর্তমান ইসলামি সরকারের পতন এবং পরিবর্তনের দাবিতে গত শনিবার বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ পালিত হয়েছে। নির্বাসিত সাবেক শাহজাদা রেজা পাহলভির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোতে রাজপথে নেমে আসেন লাখো মানুষ। ‘গ্লোবাল ডে অফ অ্যাকশন’ বা বৈশ্বিক প্রতিবাদ দিবসের এই কর্মসূচিতে মিউনিখ, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং টরন্টোতে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল জার্মানির মিউনিখ, যেখানে আনুমানিক ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের সমাবেশে ভাষণ দেন রেজা পাহলভি। অন্যদিকে, কানাডার টরন্টোতে রেকর্ড সংখ্যক ৩ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়াও তেল আবিব, লিসবন, সিডনি এবং লন্ডনের মতো শহরগুলোতেও সরকারবিরোধী ছোট-বড় অসংখ্য বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিউনিখে দেওয়া ভাষণে রেজা পাহলভি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিবাজ, দমনমূলক এবং শিশুহত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দেশের অভ্যন্তরে আন্দোলনরত নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন: "দেশের ভেতরে সাহসী ও সংগ্রামী স্বদেশীদের প্রতি আমার প্রথম বার্তা হলো আপনারা একা নন। আজ এই লড়াইয়ে পুরো বিশ্ব আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি মুক্ত ইরানে তারা বিশ্বকে প্রমাণ করে দেবেন তারা কত বড় এবং মহান জাতি। লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তার কন্যা নুর পাহলভি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুনিদের সাথে যেন কোনো পরমাণু আলোচনা চালিয়ে যাওয়া না হয়। ইরান প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরানে সরকার পরিবর্তন হওয়া হবে "সবচেয়ে ভালো ঘটনা"। রেজা পাহলভি সম্পর্কে তিনি বলেন, পাহলভিকে বেশ অমায়িক মনে হলেও ইরানের অভ্যন্তরে তার নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসমর্থন কতটুকু, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ইরানের অভ্যন্তরে ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে ১০০টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নিয়েছে।
পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সম্পর্কের বরফ গলাতে এক নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিল চীন। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কানাডা এবং ব্রিটেনের সাধারণ নাগরিকরা কোনো ভিসা ছাড়াই চীনে প্রবেশ করতে পারবেন। এর ফলে ব্যবসায়িক কাজ, ভ্রমণ কিংবা স্বজনদের সাথে দেখা করতে এখন আর দীর্ঘ ভিসা প্রক্রিয়ার ঝামেলা পোহাতে হবে না। ৩০ দিনের বিশেষ সুবিধা: ব্রিটিশ ও কানাডিয়ান নাগরিকরা সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন। কার্যকারিতা: এই বিশেষ সুযোগটি আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। কূটনৈতিক চাল: 'ফাইভ আইজ' (Five Eyes) জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই এখন চীনের এই সুবিধার বাইরে রইল। অর্থনৈতিক লক্ষ্য: করোনা-পরবর্তী পর্যটন খাত চাঙ্গা করা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক উন্নত করাই বেইজিংয়ের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চীন একদিকে যেমন নিজেদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ রেখে অন্য পশ্চিমা শক্তিগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর কৌশলগত বার্তাও দিচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতিতে বেইজিংয়ের এই ‘ভিসা কূটনীতি’ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে চীন। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশ দুটির সাধারণ পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ দিন চীনে অবস্থান করতে পারবেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ব্যবসা, পর্যটন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সৌজন্য বিনিময় কর্মসূচি কিংবা ট্রানজিটের উদ্দেশ্যে এই ভিসামুক্ত সুবিধা প্রযোজ্য হবে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নীতি চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বেইজিংয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও কানাডার নেতাদের সঙ্গে চীনা কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে। এর আগে, গত ১৬ জানুয়ারি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর চীনা কর্মকর্তারা কানাডীয় নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনার কথা জানান। পরদিন, ১৭ জানুয়ারি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি তখনও আলোচনাধীন ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য এক মাসের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালুর এই সিদ্ধান্ত গত কয়েক বছর ধরে চলা দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে ঢাকার সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে ব্রিটিশ সরকার। যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর একজন মুখপাত্র সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানান, ব্রিটিশ সরকার আশা করে বাংলাদেশের নতুন প্রশাসন গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাজ্য সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করে, একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত ফলাফল আসা বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এর আগে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার দলকে অভিনন্দন জানায় যুক্তরাজ্য। একইসঙ্গে, একটি নতুন যাত্রায় পদার্পণ করায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছে দেশটি। মূলত উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে বাংলাদেশের পাশে থাকাই এখন লন্ডনের মূল লক্ষ্য।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও বর্তমানে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক গুরুত্বপূর্ণ সফর করছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো ওই অঞ্চলের ট্রাম্পপন্থী এবং রক্ষণশীল নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে (Munich Security Conference) অংশগ্রহণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও জার্মানি থেকে স্লোভাকিয়া এবং হাঙ্গেরি সফরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি তার স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা এবং ন্যাটোর (NATO) প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষা নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির মতো দেশগুলোর বর্তমান সরকারগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক আদর্শিক মিল থাকায়, এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু: ১. নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা: ইউক্রেন যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মার্কিন সহযোগিতা বৃদ্ধি। ২. জ্বালানি নিরাপত্তা: রাশিয়ার ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে মার্কিন এলএনজি (LNG) এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের প্রসার। ৩. রাজনৈতিক সংহতি: ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রতি সমর্থন জানানো নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক মিত্রতা আরও জোরালো করা। বিশ্লেষকদের মতে, মার্ক রুবিওর এই সফর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মূল ধারার দেশগুলোর তুলনায় পূর্ব ইউরোপের রক্ষণশীল দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিশেষ সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্লোভাক সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করবেন। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের সঙ্গে রুবিওর আসন্ন বৈঠকটি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। ওরবান দীর্ঘদিন ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ফলে বুদাপেস্টের এই বৈঠকে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পূর্ব ইউরোপে রুবিওর এটিই প্রথম বড় ধরনের কোনো সফর, যা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।
১২ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক নির্বাচন ও গণভোটের পর বাংলাদেশের আগামীর পথচলায় সংহতি প্রকাশ করল ইতালি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব পক্ষকে একীভূত হওয়ার বিশেষ বার্তা দিয়েছে দেশটি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এই শুভেচ্ছা জানায়। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন। নির্বাচনে বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে আন্তরিক শুভেচ্ছা। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থীতিশীলতার জন্য আমরা সকল রাজনৈতিক পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই। ইতালি সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে ফলপ্রসূ সংলাপ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ দিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে ভারতের প্রথম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম আন্ডারওয়াটার রোড-কাম-রেল টানেল। ১৮ হাজার ৬৬২ কোটি রুপি ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প কেবল যাতায়াত নয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতি ও কৌশলগত অবস্থানে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে। ঐতিহাসিক প্রকল্প: আসামের গোহপুর থেকে নুমালিগড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই টানেলের দৈর্ঘ্য হবে ১৫.৭৯ কিলোমিটার। এটিই হবে ভারতের প্রথম পানির নিচের সড়ক ও রেল চলাচলের সমন্বিত পথ। সময় ও দূরত্বের সাশ্রয়: বর্তমানে এই পথ পাড়ি দিতে প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় লাগে এবং ২৪০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। টানেলটি চালু হলে সময় এবং দূরত্ব উভয়ই নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। অর্থনৈতিক করিডোর: প্রকল্পটি ১১টি অর্থনৈতিক কেন্দ্র, ৮টি লজিস্টিক হাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও শিল্প এলাকাকে সরাসরি সংযুক্ত করবে। এর ফলে পরিবহন খরচ কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে। কৌশলগত গুরুত্ব: আসাম, অরুণাচল প্রদেশ এবং নাগাল্যান্ডের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাবে এই টানেল। ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন পদ্ধতিতে এটি বাস্তবায়িত হবে। মোদি সরকারের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
নাইজার স্টেটের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শনিবার ভোরে সশস্ত্ররা মোটরসাইকেলে করে তিনটি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ৩২ জনকে হত্যা করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলার সময় বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আগুন লাগানো হয়, যা এলাকায় ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। হামলার লক্ষ্য ছিল টুঙ্গা-মাকেরি, কঙ্কোসো ও পিসা গ্রাম, যেগুলো বেনিন সীমান্তের কাছে বরগু এলাকায় অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ‘ডাকাত’ বলা হয়। তারা নিয়মিত হামলা, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় যুক্ত। নাইজার স্টেট পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানিয়েছেন, টুঙ্গা-মাকেরিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং অনেক মানুষ অপহরণ করা হয়েছে। কঙ্কোসো গ্রামেও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি জানিয়েছেন, যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দেখা গেছে, ভোরের দিকে এলোপাতাড়ি গুলির শব্দে গ্রামের মানুষ ঘুম ভেঙে যায়। হামলাকারীরা পুলিশ স্টেশনেও আগুন দেয়। কঙ্কোসোর এক বাসিন্দা বলেন, শুধু গ্রামটিতেই অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, প্রায় ২০০টির বেশি মোটরসাইকেলে হামলাকারীরা একের পর এক গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে। টুঙ্গা-মাকেরির বাসিন্দা আওয়াল ইব্রাহিম জানান, স্থানীয় সময় রাত তিনটার দিকে তাঁদের গ্রামে হামলা হয়। হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে কয়েকজনকে হত্যা করে এবং দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে দেয়। আতঙ্কে বাসিন্দারা গ্রাম ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সম্প্রতি নাইজেরিয়াজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে একদিকে ইসলামপন্থী জঙ্গি দল, অন্যদিকে সশস্ত্র অপহরণকারী চক্রের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ অনিরাপদে ভুগছে। সরকারের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের কারাজীবনে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাওয়ালপিন্ডির কুখ্যাত আদিয়ালা জেল থেকে তাঁকে নবনির্মিত ইসলামাবাদ কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে পাকিস্তান সরকার। শুক্রবার ইসলামাবাদ পুলিশের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, নবনির্মিত এই ইসলামাবাদ কারাগারে উন্নত সকল চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। যেহেতু ইমরান খান ইসলামাবাদের একটি আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হয়েছেন, তাই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁকে এই নতুন কারাগারে নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন। তবে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরি সালমান সাফদার অ্যাডভোকেট কারাগারে তাঁর সাথে দেখা করার পর একটি সাত পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে ইমরান খানকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে গেছে—তিনি এখন মাত্র ১৫ শতাংশ দেখতে পাচ্ছেন। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জোরালো হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেল সরকার সুপ্রিম কোর্টকে আশ্বস্ত করেছে যে, ইমরান খানকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত টেলিফোনে যোগাযোগের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ইমরান খানকে অবিলম্বে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিতে পাকিস্তানের রাজনীতি এখন রাজপথে গড়িয়েছে। তেহরিকে তাহফুজ আয়িনি পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা জুমার নামাজের পর থেকে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন। মাহমুদ খান আচাকজাই, আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এবং ব্যারিস্টার গহর আলী খানের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এবং পিটিআইয়ের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা খাইবার পাখতুনখোয়া হাউসে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই স্থানেই বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও জেল স্থানান্তর ইস্যুটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবরটি পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী দলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির মৃত্যু নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের দাবি, নাভালনিকে একটি বিষাক্ত ব্যাঙের বিষ (dart frog toxin) প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। জার্মানিতে চলমান ২০২৬ সালের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে (Munich Security Conference) এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপার। পররাষ্ট্র সচিব কুপার সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে নাভালনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সরাসরি রুশ সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, "রাশিয়ার কারাগারে বন্দি থাকাকালীন নাভালনির ওপর এই মারাত্মক প্রাণঘাতী বিষ ব্যবহারের সামর্থ্য, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ—সবই একমাত্র রুশ সরকারের ছিল।" কী এই ‘ডার্ট ফ্রগ টক্সিন’? এটি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার এক ধরণের বিশেষ প্রজাতির রঙিন ব্যাঙের দেহ থেকে নির্গত অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ। এটি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে দ্রুত অকেজো করে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে দিতে সক্ষম। অতীতেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের বিরোধীদের ওপর বিরল এবং অত্যাধুনিক বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত অ্যালেক্সেই নাভালনি ২০২৪ সালের শুরুতে রাশিয়ার একটি দুর্গম মেরু অঞ্চলের কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা যান। সেই সময় ক্রেমলিন দাবি করেছিল যে, স্বাভাবিক কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে নাভালনির পরিবার এবং সমর্থকরা শুরু থেকেই একে ‘রাষ্ট্রীয় মদতে হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে আসছিলেন। মিউনিখ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের এই নতুন দাবি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পর রাশিয়ার ওপর নতুন করে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা এই তথ্যের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
উগ্রবাদ আর ঘৃণার বাজারে মানবিকতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা দীপক কুমার। উগ্রবাদী সংগঠনের হাত থেকে এক মুসলিম বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন ‘মোহাম্মদ দীপক’ নামে। এই একটি সাহসী পদক্ষেপ তাঁকে ভারতের ‘ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলেছে। ঘটনাটি গত ২৬ জানুয়ারির। উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বার শহরে ৬৮ বছর বয়সী ওয়াকিল আহমেদের ৩০ বছরের পুরোনো পোশাকের দোকানের নাম থেকে ‘বাবা’ শব্দটি বাদ দিতে চাপ দিচ্ছিল কট্টরপন্থী সংগঠন বজরং দলের কর্মীরা। তাদের দাবি ছিল, ‘বাবা’ শব্দটি কেবল হিন্দু মন্দিরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বৃদ্ধ আহমেদকে যখন একদল তরুণ মিলে নাজেহাল করছিল, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো হাজির হন পাশের জিমের মালিক দীপক কুমার। ভিডিওতে দেখা যায়, ৪২ বছর বয়সী দীপক উগ্রবাদীদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করছেন, “মুসলিমরা কি এ দেশের নাগরিক নন?” যখন বজরং দলের কর্মীরা তাঁর নাম জানতে চান, তখন তিনি নির্ভীক চিত্তে উত্তর দেন— “আমার নাম মোহাম্মদ দীপক।” হিন্দু ও মুসলিম নামের এই অদ্ভুত সংমিশ্রণের মাধ্যমে তিনি বার্তা দিতে চেয়েছিলেন যে ভারত সবার এবং এখানে প্রতিটি মানুষের মর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার রয়েছে। দীপকের এই সাহসিকতা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বের সাথে প্রচার হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁকে ‘ভারতের সত্যিকারের নায়ক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “দীপক ঘৃণার বাজারে ভালোবাসা ছড়াচ্ছেন। আমাদের এমন আরও অনেক দীপক প্রয়োজন যারা সংবিধানের পক্ষে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।” ইন্সটাগ্রামে তাঁর একটি ভিডিওতে ইতিমধ্যেই ৫০ লাখের বেশি মানুষ লাইক দিয়ে সংহতি জানিয়েছেন। তবে এই বীরত্বের মূল্যও দিতে হচ্ছে দীপককে। উগ্রপন্থীরা তাঁকে ‘ধর্মের প্রতি বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাঁর জমজমাট জিমটি এখন প্রায় সদস্যশূন্য, কারণ ভয়ে অনেকে সেখানে আসছেন না। পরিবারও রয়েছে প্রচণ্ড মানসিক চাপে। তবে এত হুমকির মুখেও দমে যাননি তিনি। দীপক বলেন, “আমরা যদি আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকি, তবে আমাদের সন্তানরাও কেবল নীরবতাই শিখবে। আমি আবারও প্রয়োজনে রুখে দাঁড়াব।” দীপকের আর্থিক সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতজুড়ে সাধারণ মানুষ তাঁর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে তাঁর জিমের সদস্যপদ কিনে তাঁকে সাহস জোগাচ্ছেন। দীপক কুমার আজ কেবল একজন জিম মালিক নন, তিনি হয়ে উঠেছেন বহুত্ববাদী ভারতের এক অবিনাশী কণ্ঠস্বর।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে। পেন্টাগন নির্দেশ দিয়েছে, বর্তমানে ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থানরত বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হবে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তি দ্বিগুণ হবে। এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরানের দিকে একটি ‘আরমাডা’ পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং তিনটি ডেস্ট্রয়ার। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায়, ওয়াশিংটন সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি পরমাণু চুক্তি মানতে না চায়, তবে পরিস্থিতি ‘ভয়ঙ্কর’ হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই হুমকি বাস্তবায়নের জন্যই জেরাল্ড আর ফোর্ডকে আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে পাঠানো হচ্ছে। গত জানুয়ারি মাসে জেরাল্ড আর ফোর্ড ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ধরার অভিযানে অংশ নিয়েছিল। ক্যারিবীয় অঞ্চলের দায়িত্ব শেষ হওয়া মাত্র এটি ইরানের বিপরীতে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। পারমাণবিক শক্তিচালিত এই রণতরি ৭৫টির বেশি যুদ্ধবিমান বহন করতে সক্ষম। এর সঙ্গে থাকবে গাইডেড-মিসাইল ক্রুজার নরম্যান্ডি এবং আরও কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যারিবীয় সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে জাহাজটির অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।