আন্তর্জাতিক

ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৫০ কোটি ডলারের সামরিক হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করার ঘোষণার পরপরই নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫টি সিহক মেরিটাইম হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারের এই চুক্তির আওতায় অত্যাধুনিক এই সামরিক যানগুলো নিউজিল্যান্ডের হাতে তুলে দেওয়া হবে। শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিউজিল্যান্ড সরকারের কাছে এমএইচ-৬০আর (MH-60R) মাল্টি-মিশন হেলিকপ্টার এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির এই প্রস্তাবিত বৈদেশিক চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্র দেশগুলোকে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর জন্য ক্রমাগত তাগিদ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, চীনের দ্রুত সামরিক উত্থানের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা সামরিক বাহিনী এবং তাদের অংশীদারদের সমর্থনে পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র নিউজিল্যান্ড।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিক্রয় চুক্তি নিউজিল্যান্ডের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধ-হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বহুগুণে বাড়াবে এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই বর্ধিত সক্ষমতা মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে ব্যবহৃত হবে।   লকহিড মার্টিনের সিকোরস্কি ইউনিটের তৈরি এই সিহক হেলিকপ্টারগুলো ক্রয়ের সিদ্ধান্তটি মূলত নিউজিল্যান্ডের বর্তমান মধ্য-ডানপন্থি সরকারের ২০২৫ সালের একটি সামরিক মহাপরিকল্পনার অংশ। এই পরিকল্পনার অধীনে আগামী চার বছরে সামরিক ব্যয় ৯০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার (৫০০ কোটি মার্কিন ডলার) বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী আট বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে গত মাসেই ১৫৮ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার নতুন প্রতিরক্ষা তহবিল হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে ওয়েলিংটন।   শনিবার অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে একটি বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। সেখান থেকে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৩০ বছর ধরে নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের মারাত্মক ঘাটতি ছিল। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি আর আগের মতো শান্ত নেই, বরং এটি এখন কৌশলগত দিক থেকে অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এমন বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করার এই সরকারি সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৬, ২০২৬ ১৫:৪৭
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
কাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, হবেও না—জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করার পর, এর কড়া জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। ‘জবাব দেওয়ার অধিকার’ (রাইট অব রিপ্লাই) প্রয়োগ করে পাকিস্তানি কূটনীতিক গুল কায়সার সারওয়ানি বিশ্বমঞ্চে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং ভবিষ্যতেও কখনো হবে না।   জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারওয়ানি বলেন, ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, যা আজও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় গুরুত্বের সঙ্গে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের মিথ্যা বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে বদলে দেওয়া ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়।   এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন সংকট আজও সমানে প্রাসঙ্গিক এবং এর দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। তার এই বক্তব্যের পরই মূলত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে বাগযুদ্ধ শুরু হয়।   রাষ্ট্রদূত আসিম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ সংক্রান্ত ২০টিরও বেশি চিঠি বা যোগাযোগ নজরে আনা হয়েছে। এমনকি ওই বছরের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদ এই ইস্যুতে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে, যা প্রমাণ করে সাত দশক পেরিয়ে গেলেও কাশ্মীর বিরোধ এখনো আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তির স্বার্থে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা ও কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের ভিত্তিতে এই বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তির দাবি জানায় ইসলামাবাদ।   কাশ্মীর ছাড়াও ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন আসিম আহমেদ। গাজায় চলমান রক্তপাত বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বস্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে (আল-কুদস আল-শরিফ) রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি অবিচল সমর্থন জানায় পাকিস্তান।   পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা এবং নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের একক সম্প্রসারণ ও ‘ভেটো’ ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই পাকিস্তানি দূত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২:৫৫
ছবি: আল জাজিরা
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর। শনিবার সেখানে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে তরুণদের নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সমাবেশ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য সরকারকে আগামী সাত দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে তীব্র ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।   শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীদের এই অভিনব প্রতিবাদ ঘিরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। সেখানে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল বলে জানা গেছে।   সমাবেশে আসা আন্দোলনকারীদের অনেকের মুখেই ছিল ককরোচ বা তেলাপোকার মাস্ক, যা অনুষ্ঠানস্থল থেকেই সবার মাঝে বিতরণ করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা ক্ষমতাসীন বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। সিজেপি প্রধানের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্মীরা কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে কেবল দেশ, মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর আম্বেদকরের নামে স্লোগান দেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধানের কপি এবং ফুল দেখা যায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি হাতে নিয়ে সরাসরি এই সমাবেশে যোগ দেন অভিজিৎ দিপক।   তরুণদের এই আন্দোলনে সংহতি জানাতে যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়েছিলেন লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজাসহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। যুবসমাজের এমন সৃজনশীল ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন সোনম ওয়াংচুক। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তৃতায় অভিজিৎ দিপক বলেন, এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রাম।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানোর পর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক ও পোস্ট মুছে ফেলার মতো কাজ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গ্রেপ্তার-আতঙ্কে তার মা কেঁদেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারাবাসের ভয়ে অনেকেই বিক্রি হয়ে গেলেও দেশের ছাত্র ও যুবসমাজ বিক্রি হয়নি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি অসুস্থ বোধ করলে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।   সমাবেশ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আলটিমেটাম ঘোষণা করে বলেন, হয় ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করুন, না হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে বরখাস্ত করুন। তিনি জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর সময় এসেছে এবং আজ থেকেই সেই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হলো। নিট (এনইইটি), সিবিএসই, সিইউইটি ও এসএসসিসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তরুণদের দ্বারা পরিচালিত একটি অনলাইন আন্দোলন থেকেই মূলত এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গড়ে উঠেছে।   এদিকে, সমাবেশ চলাকালীন সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬ জনকে সতর্কতামূলক হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ। সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে নিশ্চিত করেছে দিল্লি পুলিশ। নাগরিকদের যাচাই না করা তথ্য বিশ্বাস না করে কেবল অফিশিয়াল বার্তার ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২:৩৬
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরানের ড্রোন ও মিসাইল কোথায় লুকানো আছে, সব তথ্য জানা আছে—ট্রাম্পের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের ড্রোন কারখানাগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অবগত এবং এর বেশিরভাগ স্থাপনা ইতোমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) এনবিসি নিউজের সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন। ড্রোনের পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সিংহভাগও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে ইরানের বর্তমান সমরাস্ত্রের মজুত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তেহরানের হাতে এখনও কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে।   ট্রাম্পের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরানের পূর্ববর্তী সামরিক সক্ষমতার মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ বর্তমানে টিকে আছে। এই অবশিষ্ট অস্ত্রকেও তিনি পরিমাণে ‘অনেক’ বলে স্বীকার করলেও, আগের বিশাল মজুতের তুলনায় তা একেবারেই নগণ্য বলে মন্তব্য করেছেন।   সামরিক সক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঝুলে থাকা শান্তি চুক্তি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্বের মূল কারণ হিসেবে তিনি ইরানের নেতৃত্বের ‘অহংকার’কে দায়ী করেছেন।   ট্রাম্পের মতে, ইরানি নেতৃত্ব কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়লেও তারা বর্তমান পরিস্থিতি সহজে মেনে নিতে পারছে না। বাধ্য হয়ে তাদের এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে, যা তারা আগে কখনও কল্পনাও করেনি। তবে অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের চুক্তিতে আসতেই হবে বলে তিনি মনে করেন।   এতকিছুর পরও কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী ট্রাম্প। এর আগে বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা না দিলেও, চলতি সপ্তাহান্তেই একটি বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২:১৬
তুষার কুমার এবং তার মা পারভীন রানী । সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাজ্যে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা-ছেলে, একই সময়ে দুজনই মেয়র

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ভারতের হরিয়ানার একটি পরিবার। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা পারভীন রানী এবং তার ছেলে তুষার কুমার একই সময়ে পৃথক দুই কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বিরল নজির স্থাপন করেছেন। রোববার (২৪ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই এ তথ্য জানিয়েছে।   ২০১৩ সালে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতক থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমায় পরিবারটি। সম্প্রতি ২৩ বছর বয়সী তুষার কুমার এবং তার মা পারভীন রানী মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় পরিবারজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তুষার যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।   তুষার কুমার এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর এক সপ্তাহ পর তার মা পারভীন রানী হার্টসমেয়ার বরো কাউন্সিলের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   তুষারের বাবা সুনীল দাহিয়া টেলিফোনে পিটিআইকে জানান, গত ১৩ মে তুষার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০ মে তার স্ত্রী পারভীন রানী মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   ব্যবসায়ী সুনীল দাহিয়া বলেন, “২০১৩ সালে যখন আমি, আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান যুক্তরাজ্যে আসি, তখন আমাদের সামনে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিল না। তুষারের বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। আজ একই সময়ে এক পরিবারের মা ও ছেলের মেয়র হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”   তিনি আরও বলেন, তুষার ও তার মা সবসময় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। লন্ডনে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাত্র ২০ বছর বয়সে তুষার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।   এই অর্জনের পরও পরিবারটি তাদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছে। হরিয়ানার রোহতকে এখনও তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য সেখানে বসবাস করেন। তারা প্রতি বছরই ভারতে যান।   তুষার কুমারের মতে, জনপ্রতিনিধি হওয়া কিংবা সমাজসেবায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে নির্দিষ্ট বয়সের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।   লেবার পার্টির এই তরুণ নেতা ২০২৩ সালে এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলে যোগ দেন। পরে ২০২৫ সালে ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২৯, ২০২৬ ২২:৬
ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাস গড়লেন জাকিয়া, প্রথম আফগান নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন জাকিয়া আহমাদ, যিনি পরিচিত মহলে 'রিভার' নামেও সমাদৃত। প্রথম আফগান নারী হিসেবে তিনি এই অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে নেপালের খুম্বু অঞ্চলের থেম গ্রামের দুই নেপালি গাইড দাওয়া তেনজিং শেরপা এবং ফুরবা গ্যালজেন শেরপাকে সাথে নিয়ে ৮,৮৪৮ মিটার উঁচু এই পর্বতচূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করেন তিনি। পাকিস্তানের সরকারি পর্বতারোহণ সংস্থা 'আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান' বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   পেশায় মানবাধিকার কর্মী ও বর্তমান জীবনে একজন শরণার্থী জাকিয়ার পথচলা মোটেই সহজ ছিল না। আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্ষমতা পুনর্দখলের পর প্রাণ বাঁচাতে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তার এই সফল এভারেস্ট আরোহণ আফগানিস্তানের জন্য এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশের নারী পর্বতারোহীদের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। জাকিয়ার এই অর্জনকে বিশ্বজুড়ে নারী, শরণার্থী এবং বাস্তুচ্যুত সম্প্রদায়ের মানুষের অদম্য সাহসিকতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তার সমর্থকেরা।   চরম উচ্চতা এবং পদে পদে মৃত্যুঝুঁকি ও বিপজ্জনক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও হিমালয় পর্বতমালার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত মাউন্ট এভারেস্ট প্রতি বছর সারা বিশ্বের পর্বতারোহীদের আকর্ষণ করে। এদিকে, জাকিয়া আহমাদের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার একই দিনে এভারেস্ট জয় করেছেন পাকিস্তানি পর্বতারোহী সালমান আতিকও। আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান জানিয়েছে, বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট মানাসলু জয়ের ঠিক এক বছর পূর্তিতে তিনি এই নতুন সাফল্য পেলেন। ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট করার হায়দরি সালমানের এই অদম্য সংকল্প ও সাহসিকতাকে পাকিস্তানের তরুণ অভিযাত্রীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২:৩৮
ছবি: সংগৃহীত
নেপাল রুটে এভারেস্ট জয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড, এক দিনেই চূড়ায় ২৭৪ আরোহী

মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আরোহণের নতুন বিশ্বরেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত বুধবার নেপাল রুট (দক্ষিণ দিক) ব্যবহার করে এক দিনেই রেকর্ডসংখ্যক ২৭৪ জন পর্বতারোহী বিশ্বের সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গের চূড়ায় পা রেখেছেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২২ মে এক দিনে সর্বোচ্চ ২২৩ জন আরোহী নেপাল দিয়ে এভারেস্ট জয় করেছিলেন।   নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা খিমলাল গৌতম জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বুধবার ভোর ৩টা থেকে টানা ১১ ঘণ্টা আরোহীরা চূড়ায় ওঠার অভিযান চালান। চীন এবার তাদের তিব্বত রুটটি বিদেশি আরোহীদের জন্য বন্ধ রাখায় নেপাল রুটে আরোহীদের এই উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। চলতি বসন্তকালীন মৌসুমে নেপাল সরকার রেকর্ড রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৫০০ জন বিদেশি আরোহীকে এভারেস্টের অনুমতিপত্র বা পারমিট দিয়েছে।   পারমিট ফি বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হাজার ডলার হলেও এভারেস্টে আরোহীদের সংখ্যা রেকর্ড ছুঁয়েছে। অধিকাংশ আরোহীর সাথে অন্তত একজন নেপালি গাইড থাকায় ৮,০০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত বিপজ্জনক ‘ডেথ জোন’-এ পর্বতারোহীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা এই ভিড় নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এক্সপিডিশন আয়োজকেরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাথে থাকলে এটি বড় কোনো সমস্যা নয়।   এবারের এভারেস্ট অভিযানে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ব্যক্তিগত রেকর্ডও তৈরি হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী কিংবদন্তি নেপালি গাইড কামি রিতা শেরপা ৩২ বারের মতো এভারেস্ট জয় করে নিজের বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন। এছাড়া ‘মাউন্টেন কুইন’ খ্যাত লাকপা শেরপা ১১ বার এবং দুই পা হারানো রুশ নাগরিক রুস্তম নাবিইভ কৃত্রিম পা ছাড়াই শুধু হাতের জোরে এভারেস্ট চূড়ায় চড়েছেন।   তবে অর্জনের আনন্দের পাশাপাশি এবারের মৌসুমে বেশ কয়েকজন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় মারা যাওয়া নেপালের অনগ্রসর হিন্দু দলিত সম্প্রদায়ের প্রথম আরোহী ৩৫ বছর বয়সী বিজয় ঘিমেরে এবং তুষারপাতে পা পিছলে খাদে পড়ে যাওয়া ২১ বছর বয়সী নেপালি গাইড ফুরা গ্যালজেন শেরপা অন্যতম।  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২:৩৮
ছবি: সংগৃহীত
৫ বছরে ১৫০০% প্রবৃদ্ধি, বিশ্বের প্রায় সব দেশের জিডিপিকে ছাড়াল এনভিডিয়া

শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এনভিডিয়ার বর্তমান উত্থানটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নজির সৃষ্টি করেছে। মাত্র পাঁচ বছর আগেও যে প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্চমানের গেমিং গ্রাফিক্স কার্ড নির্মাতা হিসেবে চেনা হতো, আজ তারা বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা জেনারেটিভ এআই-এর মূল কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ৫ বছরে প্রায় ১,৫০০% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এনভিডিয়া তার বাজারমূল্যে যুক্ত করেছে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বর্তমানে কোম্পানির আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে।   বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের মধ্যে অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য ৪.৭৬ ট্রিলিয়ন, অ্যাপলের ৪.৩৫ ট্রিলিয়ন, মাইক্রোসফটের ২.৯৯ ট্রিলিয়ন এবং অ্যামাজনের বাজারমূল্য ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। কোনো কোম্পানির বাজারমূল্য এবং দেশের জিডিপি এক বিষয় না হলেও, এই তুলনাটি স্পষ্ট করে যে এনভিডিয়া কতটা দানবীয় আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে এনভিডিয়া কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৩০.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং চীন (১৯.৬ ট্রিলিয়ন ডলার) বাদে পৃথিবীর যেকোনো একক দেশের বার্ষিক জিডিপির চেয়েও বেশি মূল্যবান। এটি জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভারত ও ফ্রান্সের জিডিপিকে অনায়াসে ছাড়িয়ে গেছে। সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্পদ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে এনভিডিয়া, যা রূপার চেয়েও বেশি।   জেনারেটিভ এআই বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM), রোবোটিক্স ও স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ডাটা সেন্টার পরিচালনায় এনভিডিয়ার জিপিইউ (GPU) অপরিহার্য হয়ে ওঠায় এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি এসেছে। গত অর্থ বছরে কোম্পানিটি প্রায় ২১৬ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব এবং ৯৬.৬ বিলিয়ন ডলার ফ্রি ক্যাশ ফ্লো (FCF) তৈরি করেছে। ওয়াল স্ট্রিটের ধারণা, আগামী দুই বছরে কোম্পানিটি ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফ্রি ক্যাশ ফ্লো উৎপাদন করবে, যা কর্পোরেট ইতিহাসে বিরল। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মার্কিন সরকারের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের মতো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এআই বাজারে পূর্ণ প্রবেশাধিকার না পেয়েও এনভিডিয়া এই উচ্চতায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে যোগ দিয়েছেন এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং, যা বিনিয়োগকারীরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।   অভাবনীয় এই সাফল্যের মাঝেও বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু ঝুঁকি থেকে যায়। এনভিডিয়ার বর্তমান মূল্যায়ন ধরে রাখতে হলে তাদের আগামী বহু বছর এআই বাজারে একক আধিপত্য বজায় রাখতে হবে। তবে বর্তমানে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং অ্যালফাবেটের মতো ক্লাউড জায়ান্টরা তাদের নিজস্ব কাস্টম এআই চিপ তৈরি করছে, যা এনভিডিয়াকে প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর বাজারের চড়াই-উতরাইয়ের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা দ্রুত সম্প্রসারণের পর সাধারণত কিছুটা ঠাণ্ডা বা ঝিমিয়ে পড়ে। একটি গেমিং চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র আধ দশকে ৫.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এআই টাইটানে পরিণত হওয়া আধুনিক পুঁজি বাজারের ইতিহাসে অন্যতম সেরা কর্পোরেট রূপান্তর হিসেবে লেখা থাকবে।  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৬ ২১:৪২
ছবি: সংগৃহীত
অন-অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ অর্ধেকে নামিয়ে আনল থাইল্যান্ড

বিশ্বের ৯৩টি দেশের পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ কাটছাঁট করে অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। এতদিন এই সুবিধার আওতায় দেশটির বিমানবন্দরে নেমেই ৬০ দিনের ভিসা পাওয়া যেত, যা এখন কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে।   থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকায়েও সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ নিয়ে অনেক বিদেশি পর্যটক থাইল্যান্ডে এসে সেটির অপব্যবহার করছেন। মূলত এই অবৈধ অপব্যবহার রোধ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার ভিসার মেয়াদ ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিনে নামিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছে।   থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অন-অ্যারাইভাল ভিসার পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসার নিয়মকানুনও আরও কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে, যাতে দেশে প্রবেশকারী ব্যক্তিরা প্রকৃত উদ্দেশ্যেই থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন কি না তা নিশ্চিত করা যায়।   বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের অবকাশযাপনের জন্য থাইল্যান্ড অন্যতম প্রধান ও আকাঙ্ক্ষিত একটি গন্তব্য। তবে সম্প্রতি ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের আগমন কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ মে পর্যন্ত দেশটিতে মোট ১ কোটি ১৪ লাখ বিদেশি পর্যটক এসেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ২৩:২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি কেনা নয়, ভাড়াতেই স্বস্তি, যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণ করছে চীনের তরুণরা

চীনে একসময় একটা কথা খুব প্রচলিত ছিল নিজের বাড়ি না থাকলে জীবনে পুরোপুরি স্থির হওয়া যায় না। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে চাকরি, বিয়ে কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে বাড়ির মালিক হওয়ার বিষয়টা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।   এখন চীনের অনেক তরুণই বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া বাসায় থাকাকে বেশি স্বস্তিদায়ক মনে করছেন। তাদের যুক্তি, অনিশ্চিত অর্থনীতির এই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা কাঁধে নেওয়ার চেয়ে স্বাধীনভাবে থাকা ভালো।   সংবাদমাধ্যম রয়টার্স সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনের আবাসন বাজার এখনো বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নতুন বাড়ি বিক্রি নেমে এসেছে ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ২০২১ সালে যেখানে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের বেশি, সেখানে এখন তা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।   বেইজিংয়ের ৩৬ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার কাই ইয়োচেংও আপাতত বাড়ি কেনার চিন্তা বাদ দিয়েছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, আগে মনে হতো নিজের একটা ফ্ল্যাট থাকতেই হবে। কিন্তু এখন হিসাব-নিকাশ করলে ভাড়ায় থাকাই তার কাছে বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয়।   চীনের বড় শহরগুলোতে এই মানসিক পরিবর্তন এখন বেশ চোখে পড়ছে। আগে তরুণদের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি কেনার চাপ থাকলেও এখন অনেকে সেটাকে জরুরি মনে করছেন না। কেউ ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছেন, কেউ আয় স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ ইচ্ছা করেই দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ঝুঁকি এড়িয়ে চলছেন।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিষয়টি অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের নগরজীবনের মতো হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরেই বড় শহরগুলোর তরুণদের বড় একটি অংশ ভাড়া বাসায় থাকেন। উচ্চ বাড়িমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ঋণের চাপের কারণে সেখানে বাড়ি কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন চীনের তরুণদের মধ্যেও একই ধরনের বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।   চীনের আবাসন খাত একসময় দেশটির অর্থনীতির অন্যতম বড় শক্তি ছিল। নির্মাণ কোম্পানিগুলো ব্যাপক হারে ঋণ নিয়ে নতুন নতুন প্রকল্প তৈরি করেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক এলাকায় চাহিদার চেয়ে বেশি ফ্ল্যাট তৈরি হয়। পরে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্বল অর্থনীতির কারণে পুরো খাত ধাক্কা খেতে শুরু করে।   বিশ্বজুড়ে আলোচিত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এভারগ্রাণ্ডের আর্থিক সংকট সেই সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসে। পরে কান্ট্রি গার্ডেনের মতো আরও কয়েকটি বড় কোম্পানিও চাপে পড়ে। অনেক ক্রেতা সময়মতো ফ্ল্যাট বুঝে পাননি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আস্থার সংকট তৈরি হয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক তরুণ এখন বড় শহর ছেড়ে ছোট শহরে চলে যাচ্ছেন। কেউ কম খরচে জীবনযাপন করতে চাইছেন, আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বড় বিনিয়োগ এড়িয়ে চলছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের নতুন প্রজন্ম এখন আগের তুলনায় জীবনকে অন্যভাবে দেখছে। তাদের কাছে শুধু সম্পত্তি নয়, মানসিক স্বস্তি, স্বাধীনতা এবং আর্থিক নমনীয়তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   একসময় যে দেশে নিজের বাড়িকে সফল জীবনের প্রধান প্রতীক মনে করা হতো, সেই দেশেই এখন অনেক তরুণ বলছেন “এই মুহূর্তে ভাড়াতেই ভালো আছি।”

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৭, ২০২৬ ২৩:২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২৭ মে

সৌদি আরবে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সেই অনুযায়ী আগামী ২৭ মে (বুধবার) দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদ্‌যাপিত হবে। রোববার (১৭ মে) রাতে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছে। এর আগের দিন ২৬ মে (মঙ্গলবার) পবিত্র হজ বা আরাফাহর দিন পালিত হবে।   সৌদি আরবের পাশাপাশি ওমান, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষও আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপনের ঘোষণা দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় এই দেশগুলোতে সোমবার (১৮ মে) থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে।   সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঈদ উদ্‌যাপনের পরদিন বাংলাদেশে ঈদ উদ্‌যাপিত হয়ে থাকে। সেই হিসেবে, আগামী ১৮ মে বাংলাদেশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৭, ২০২৬ ০:৫
ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করলো বিশ্বের বৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া

বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের তারিখ ঘোষণা করেছে। রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যার দিকে দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তারিখ ঘোষণা করে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র জিলহজ মাস আগামী ১৮ মে (সোমবার) থেকে শুরু হবে এবং সেই হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৭ মে (বুধবার) দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।   ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনতারার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাজধানী জাকার্তায় আয়োজিত চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে দেশটির ধর্মমন্ত্রী নাসারুদ্দিন উমর এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের ৮৮টি ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চালানো চাঁদ দেখার ফলাফল এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত গণনার ওপর ভিত্তি করে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন চাঁদের অবস্থান ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের (MABIMS) যৌথ ধর্মীয় মানদণ্ড (চাঁদের উচ্চতা কমপক্ষে ৩ ডিগ্রি এবং কৌণিক দূরত্ব ৬.৪ ডিগ্রি) অতিক্রম করায় ১৮ মে-কে ১ জিলহজ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দেশটির অন্যতম বৃহৎ ও প্রভাবশালী ধর্মীয় সংগঠন ‘মুহাম্মাদিয়াহ’ও একই তারিখে ঈদ উদযাপনের কথা জানিয়েছে। সংগঠনটি ‘সিঙ্গেল গ্লোবাল হিজরি ক্যালেন্ডার’ (KHGT) এবং গ্লোবাল ক্যালেন্ডার প্যারামিটার (PKG) ব্যবহার করে অনেক আগেই জানিয়েছিল যে, ২৬ মে (মঙ্গলবার) পবিত্র আরাফাত দিবস এবং ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের হিজরি মাসের হিসাব একীভূত করার লক্ষ্যে এই বৈশ্বিক চাঁদ দৃশ্যমানতার নীতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোনো নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমানার ওপর নির্ভর করে না।   জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশটির শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, বিভিন্ন ইসলামিক সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশজুড়ে পাওয়া চাক্ষুষ চাঁদ দেখার রিপোর্টের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গাণিতিক হিসাব মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার এই আগাম ঘোষণার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতেও ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৬, ২০২৬ ২১:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
৩০০০ বছরের পুরোনো গুপ্তধনে ‘ভিনগ্রহের’ ধাতুর সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

স্পেনের একটি জাদুঘরে ৬০ বছর ধরে সংরক্ষিত থাকা ৩,০০০ বছরের পুরোনো ব্রোঞ্জ যুগের গুপ্তধনে এক অদ্ভুত রহস্যের সমাধান করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকেরা নিশ্চিত করেছেন যে, ইউরোপের অন্যতম ধনী এই স্বর্ণভাণ্ডারে থাকা দুটি জং ধরা বস্তু আসলে কোনো সাধারণ ধাতু দিয়ে তৈরি নয়, বরং আকাশ থেকে পড়া উল্কাপিণ্ড (মেটিওরাইট) গলিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। স্পেনের ‘ন্যাশনাল আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়াম’-এর সংরক্ষণ বিভাগের প্রাক্তন প্রধান সালভাদর রোভিরো-লরেন্সের নেতৃত্বে একদল গবেষক রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই মহাজাগতিক উৎসটি নিশ্চিত করেছেন। ‘ত্রাবাজোস দে প্রিহিস্তোরিয়া’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা অনুযায়ী, এই প্রত্নবস্তু দুটি ইবেরিয়ান উপদ্বীপে পাওয়া উল্কাপিণ্ডের লোহার তৈরি প্রথম কোনো নিদর্শন।   ১৯৬৩ সালের ১ ডিসেম্বর স্পেনের অ্যালিক্যান্টের ভিলেনা শহরের কাছে জোসে মারিয়া সোলার নামের এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ভিত্তিস্থাপন খননের সময় এই ঐতিহাসিক ‘ট্রেজার অব ভিলেনা’ বা ভিলেনার গুপ্তধন আবিষ্কার করেন। এই ভাণ্ডারে বাটি, ব্রেসলেট, বোতল এবং বিভিন্ন অলঙ্কারসহ মোট ৬৬টি বস্তু ছিল, যার সম্মিলিত ওজন প্রায় ১০ কেজি সোনা। কিন্তু এই চকচকে সোনার ভিড়ে থাকা একটি ব্রেসলেট এবং একটি ফাঁপা গোলকাকৃতি টুপি বিজ্ঞানীদের ধাঁধায় ফেলে দেয়; কারণ এগুলো লোহা দিয়ে তৈরি ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক সময়রেখা অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে খনিজ লোহা গলানোর প্রযুক্তি বা লৌহ যুগ শুরু হওয়ার প্রায় ৪০০ বছর আগেই (খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ১২০০ অব্দে) এই গুপ্তধন মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল।   দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই রহস্যের কোনো কুলকিনারা না মিললেও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অবশেষে জানা গেল এর মহাজাগতিক ইতিহাস। বিজ্ঞানীরা জানান, মহাকাশ থেকে আসা উল্কাপিণ্ডের লোহার একটি নিজস্ব রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য থাকে, যেখানে পৃথিবীর ভূত্বকের লোহার তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে ‘নিকেল’ এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। মাদ্রিদের ‘ইনস্টিটিউট অব হিস্ট্রি’-র গবেষকেরা ভর স্পেকট্রোমেট্রি (Mass Spectrometry) প্রযুক্তির সাহায্যে বস্তু দুটির নিকেলের মাত্রা পরিমাপ করেন। হাজার বছরের ক্ষয় সত্ত্বেও প্রাপ্ত ফলাফল জোরালোভাবে প্রমাণ করে যে, এই লোহা পৃথিবী থেকে নয়, বরং মহাকাশের কোনো গ্রহাণুর অংশ থেকে এসেছে।   এই আবিষ্কারের ফলে স্পেনের ভিলেনার এই গুপ্তধন এখন ব্রোঞ্জ যুগের সেই বিরল প্রত্নবস্তুগুলোর তালিকায় নাম লেখাল, যা মহাজাগতিক লোহা দিয়ে তৈরি হয়েছিল। এর আগে মিশরের বিখ্যাত ফারাও তুতেনখামেনের সমাধি থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ছুরিও (খ্রিস্টপূর্ব ১৩২৩ অব্দ) উল্কাপিণ্ডের লোহা দিয়ে তৈরি বলে প্রমাণিত হয়েছিল। গবেষকদের মতে, তৎকালীন প্রাচীন ধাতুকর্মীরা হয়তো জানতেন না যে এই পাথরটি আকাশ থেকে পড়েছে, তবে তারা এর ব্যতিক্রমী শক্ত ভাব এবং মসৃণতা দেখে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। এই অনন্য গবেষণা প্রমাণ করে যে, মানুষ ভূগর্ভ থেকে লোহা তুলতে শেখার বহু শতাব্দী আগেই মহাকাশের লোহাকে পিটিয়ে নিজেদের অলঙ্কার বানিয়েছিল।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৬, ২০২৬ ২১:৯
অধ্যাপক ড. শেখ আসিফ এস. মিজান। ছবি: সংগৃহীত
কোনো জুলুমই থামাতে পারেনি তাঁর স্বপ্ন: বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের দূত ড. আসিফ মিজান

ঢাকা - স্টাফ রিপোর্টার: সোমালিয়ার মোগাদিশুর বিখ্যাত 'দারু সালাম ইউনিভার্সিটি' (ডিএসইউ)-র উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. শেখ আসিফ এস. মিজান। আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রশাসনের এই সর্বোচ্চ চূড়ায় লাল-সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্বকারী অধ্যাপক মিজানের এই শীর্ষ অবস্থান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মেধা ও নেতৃত্বের এক অনন্য গৌরবগাথা। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি বিদেশের মাটিতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য যে, ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে তিনি সাফল্যের সাথে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তব্য দক্ষতা ও সুনামের সাথেই পালনে করে চলছেন।   গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষাজীবন ও পাণ্ডিত্য ড. মিজানের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের ভিত্তি গড়ে উঠেছে তাঁর অসামান্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞা ও দক্ষতার ওপর। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সরকার ও রাজনীতি' বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। দেশ-বিদেশের উচ্চশিক্ষা ইন্সটিটিউট থেকে তিনি অর্জন করেছেন তিনটি স্নাতকোত্তর (MSS, MACPM ও MIR&D) এবং 'সুশাসন ও মানবাধিকার' বিষয়ের ওপর পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তাঁর শিক্ষকতা জীবনে তিনি সুশাসন, মানবাধিকার ও অপরাধবিজ্ঞানের (Criminology) মতো জটিল বিষয়ে পাঠদান ও গবেষণামূলক অবদান রেখে চলেছেন।   সংগ্রাম ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা অধ্যাপক মিজানের এই বর্ণিল সাফল্যগাথা স্রেফ এক দিনে আসেনি, এর পেছনে রয়েছে এক কঠিন রাজনৈতিক ত্যাগ ও লড়াইয়ের ইতিহাস। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। এর জের ধরে ২০০০ সালে তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করা হয় এবং পরবর্তীতে একের পর এক মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার হয়ে, চরম নিপীড়নের মুখে ২০১৯ সালে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।   বিশ্বমঞ্চে পদচারণা ও সমাজসেবা রাজনৈতিক নির্বাসনে গিয়েও দমে যাননি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাংতা গ্রামের এই কৃতি সন্তান। প্রয়াত শিক্ষাবিদ মৌলভি জোবায়েদ আলী ও নূরজাহান বেগমের সুযোগ্য পুত্র ড. মিজান বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মেধার পরিচয় দিতে শুরু করেন। ডিএসইউ-এর উপাচার্য হওয়ার আগে তিনি সোমালিয়ার সিটি ইউনিভার্সিটি অব মোগাদিশু এবং বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যথাক্রমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং সরকার ও রাজনীতি বিভগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সোমালিয়ার আলফা ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ব্যুরোতেও অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি একজন সমাজসেবক হিসেবে তিনি 'রোটারি ক্লাব অব ঢাকা স্কলারস'-এর প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম-সম্পাদকের ভূমিকাও পালন করছেন।   মানবতা ও তরুণদের প্রতি বার্তা নিজের এই দীর্ঘ অভিযাত্রাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক পরম বিজয় উল্লেখ করে অধ্যাপক মিজান বলেন, "স্বৈরাচার যেখানে আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করতে চেয়েছিল, সৃষ্টিকর্তা সেখানে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছেন।" দেশ-বিদেশের তরুণ সমাজ ও বিশ্বজুড়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তায় তিনি আহ্বান জানান, কোনো জুলুম, নির্বাসন বা কঠিন পরিস্থিতি যেন কারও স্বপ্নের সীমানা কেড়ে নিতে না পারে। আত্মবিশ্বাস ও মেধাকে শাণিত রেখে সবাইকে মানবকল্যাণে উৎসর্গীকৃত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।   এশিয়া ও আফ্রিকার সহকর্মী এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরার এই মহৎ মিশন কেবল শুরু।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৬, ২০২৬ ১:১
ছবি: সংগৃহীত
মস্তিষ্কের জীবন্ত কোষে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম আধুনিক ডেটা সেন্টার

কল্পবিজ্ঞানের মুভিগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় ল্যাবরেটরির কাঁচের জারে রাখা আছে মানুষের জীবন্ত মস্তিষ্ক, আর তার সঙ্গে সহস্র তার জুড়ে দিয়ে চালানো হচ্ছে শক্তিশালী কোনো সুপারকম্পিউটার। এতদিন এসব দৃশ্যকে নিছক পরিচালকের বুনো কল্পনা ভেবে যারা উড়িয়ে দিতেন, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক চমকপ্রদ বাস্তবতা।    প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য এই সন্ধিক্ষণে বিশাল সব ডেটা সেন্টারে সারি সারি সিলিকন চিপের জায়গা দখল করতে যাচ্ছে জীবন্ত কোষ তথা মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন। আধুনিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এই প্রথম সিলিকন চিপ নয়, বরং সম্পূর্ণ জৈবিক উপাদানের সমন্বয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম জীবন্ত ডেটা সেন্টার।   বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর জয়জয়কারের ফলে ডেটা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা এখন আকাশচুম্বী। তবে এই কেন্দ্রগুলোর প্রাণভোমরা আধুনিক সিলিকন চিপের আকাশচুম্বী দাম এবং এগুলো চালাতে প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ এখন বিশ্বজুড়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।    এই বিশাল বিদ্যুৎ খরচ ও চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিজ্ঞানীরা এক জাদুকরী ও টেকসই সমাধানের সন্ধান পেয়েছেন, যা হলো জৈবিক কম্পিউটার। সিলিকন চিপের বদলে মস্তিষ্কের নিউরন ব্যবহার করার ফলে বিদ্যুৎ খরচ যেমন অবিশ্বাস্যভাবে হ্রাস পাবে, তেমনি কম্পিউটিং সক্ষমতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।   এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের নেতৃত্বে রয়েছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ কোম্পানি ‘কোর্টিক্যাল ল্যাবস’। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন দিয়ে তৈরি দুটি জৈবিক ডেটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে গোটা প্রযুক্তি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কোর্টিক্যাল ল্যাবস এর আগেও তাদের ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি নিউরনের সাহায্যে ক্লাসিক ভিডিও গেম ‘পং’ খেলিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল।   এমনকি চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে তারা বিশ্বকে দেখিয়েছে যে, তাদের ফ্ল্যাগশিপ জৈবিক কম্পিউটার ‘সিএল১’ মাত্র এক সপ্তাহের অনুশীলনে বর্তমান বিশ্বের অত্যন্ত জটিল ও জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ডুম’ (Doom) দারুণভাবে আয়ত্ত করে ফেলেছে।   জীবন্ত কোষের এই ডেটা সেন্টার প্রযুক্তির বিবর্তনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এটি কেবল একটি সাশ্রয়ী সমাধানই নয়, বরং তথ্যের প্রক্রিয়াকরণে মানুষের জৈবিক কাঠামোর অবিশ্বাস্য ক্ষমতার সফল প্রয়োগ। সিলিকন যুগের পর এবার মানুষের নিউরনের এই অভাবনীয় যাত্রা কম্পিউটিং জগতের ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: মে ১৩, ২০২৬ ১৫:২৭
ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ঝুঁকিতে শিশুর মানসিক বিকাশ

আধুনিক জীবনের প্রতিটি মোড়ে এখন শৈশবের এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। রাস্তাঘাট, রেস্তোরাঁ কিংবা ঘরের ড্রয়িংরুম—সবখানেই শিশুদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে স্মার্টফোনের উজ্জ্বল স্ক্রিন। চোখের পলক না ফেলে দীর্ঘক্ষণ শর্ট ভিডিও কিংবা রিল স্ক্রল করে যাওয়া এখনকার শিশুদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।   অনেক সময় ব্যস্ত অভিভাবকরা শিশুকে শান্ত রাখতে কিংবা নিজের কাজে মনোযোগ দিতে অবলীলায় তাদের হাতে এই প্রযুক্তি তুলে দিচ্ছেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি নিরীহ মনে হলেও, এর আড়ালে শিশুদের মানসিক ও ভাষাগত বিকাশে কতটা গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার একদল গবেষক তাদের এক গবেষণায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশব এবং বয়ঃসন্ধির শুরুতে যারা নিয়মিত ও দীর্ঘ সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তাদের শব্দভান্ডার এবং পড়ার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   সোশ্যাল মিডিয়ার ছোট ভিডিও বা ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় শিশুরা নতুন নতুন শব্দ শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এর ফলে তারা সাধারণ শব্দ চিনতে এবং সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে গিয়ে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের ডিজিটাল আসক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে কঠোর আইনি তৎপরতা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের আরও অনেক দেশ এখন শিশুদের সুরক্ষায় একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে।   ঠিক এমন এক সময়ে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার এই গবেষণাটি জনসমক্ষে এলো, যা শিশুদের হাতে প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আইন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশে অভিভাবকদের সচেতনতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: মে ১৩, ২০২৬ ১৫:১৩
ভারতীয় রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট ফাতিমা তাহিলিয়া | ছবি: সংগৃহীত
কেরালা বিধানসভায় ইতিহাস; প্রথম মুসলিম নারী সদস্য নির্বাচিত হলেন ফাতিমা

ভারতের কেরালার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তরুণ আইনজীবী ফাতিমা তাহিলিয়া। বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পেরাম্ব্রা আসনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন তিনি। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম মুসলিম নারী প্রতিনিধি হিসেবে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) হয়ে কেরালা রাজ্য আইনসভায় প্রবেশ করার গৌরব অর্জন করেছেন।   নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ফাতিমা তাহিলিয়া মোট ৮১ হাজার ৪২৯টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং কেরালার বাম গণতান্ত্রিক জোটের (এলডিএফ) অন্যতম শীর্ষ নেতা টি.পি. রামকৃষ্ণনকে ৫ হাজার ৮৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। রামকৃষ্ণনের এই পরাজয়কে বাম শিবিরের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   পেরাম্ব্রা আসনের এই ফলাফলকে ওই অঞ্চলের ভোটারদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির এক বড় ধরনের রূপান্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একই আসনে বাম জোটের রামকৃষ্ণন ২২ হাজারেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে এবারের নির্বাচনে রামকৃষ্ণনকে হারিয়ে ফাতিমা তাহিলিয়ার এই জয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   canউদ্যোগী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ আইনজীবী তাহিলিয়ার এই জয় কেবল একটি আসনের সাধারণ ফলাফল নয়, বরং এটি মুসলিম নারীদের সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। অতীতে আইইউএমএল-এর পক্ষ থেকে নারীদের নির্বাচনে খুব একটা মনোনয়ন দেওয়া হতো না। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের আগে দলটির মনোনীত পূর্ববর্তী দুই নারী প্রার্থীই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।   আইইউএমএল-এর পক্ষ থেকে প্রথম মুসলিম নারী বিধায়ক (MLA) নির্বাচিত হয়ে ফাতিমা তাহিলিয়া কেরালা রাজ্যে দলটির জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করলেন। পেরাম্ব্রার ভোটারদের রায় এবং এই তরুণ নেত্রীর ঐতিহাসিক বিজয় কেরালা বিধানসভার ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৪, ২০২৬ ২১:২৫
নির্বাচনী ফলাফলের পর সমর্থকদের অভিনন্দন বার্তা গ্রহণ করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে ‘পদ্ম’ ফুটেছে, জনশক্তির জয়: মোদি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৪ মে) প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতায় বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ইঙ্গিত মিলতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।   বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি জনগণের শক্তির জয় এবং সুশাসনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।” তিনি রাজ্যের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।   মোদি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ বিজেপিকে যে জনদেশ দিয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমাদের দল কাজ করবে। এমন একটি সরকার গঠন করা হবে, যা সমাজের সব স্তরের মানুষের উন্নয়ন, সুযোগ এবং আত্মমর্যাদা নিশ্চিত করবে।” নির্বাচনের সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস-কে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে দলটি।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ফলাফল উপলক্ষে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিজয় উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৪, ২০২৬ ০:১৫
থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
ভোট গণনা: তামিলনাড়ুতে এগিয়ে থালাপতি বিজয়ের দল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়।  তামিলনাড়ু প্রাথমিক ভোট গণনায় বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)। সকাল থেকে ক্ষমতাসীন ডিএমকে এবং বিজয়ের টিভিকে-র মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা পাল্টে যেতে শুরু করেছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিজয়ের টিভিকে এগিয়ে রয়েছে ১০৪ আসনে।  অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতাসীন ডিএমকে এগিয়ে রয়েছে ৫০ আসনে। আর ৭৭ আসনে এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এডিএমকে জোট। নির্বাচন পরবর্তী বুথফেরত জরিপে অধিকাংশ সংস্থা ডিএমকে-এর জয়ের সম্ভাবনার কথা বলেছিল। তবে জেভিসি এক্সিট পোলসহ বেশ কিছু জরিপে এনডিএ জোট এবং বিজয় থালাপতির দলের জয়ের কথা উঠে আসে। অন্যদিকে একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে রয়েছে ১৭৫ আসনে। অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ১১৫ আসনে।  এছাড়া আসামে বিজেপি জোট ৯৩ আসনে এবং কংগ্রেস জোট ২৫ আসনে এগিয়ে রয়েছে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ৪, ২০২৬ ১:৫১
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতির কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ | ছবি: সংগৃহীত
ডলার সংকটে চীনা ইউয়ানে তেল বিক্রির হুঁশিয়ারি আরব আমিরাতের

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট ডলার সংকট মোকাবিলায় এবার চীনা মুদ্রায় তেল বিক্রির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই পদক্ষেপটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন যে এশীয় ও উপসাগরীয় মিত্ররা জরুরি ভিত্তিতে 'কারেন্সি সোয়াপ লাইন' বা দ্রুত ডলার বিনিময়ের সুযোগ চেয়েছে।   ইরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে এই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এবং ডলারের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমিরাতের কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি ডলারের সরবরাহ পুনরুদ্ধার না করা হয়, তবে তেল লেনদেনের জন্য তারা ইউয়ানসহ অন্যান্য বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাত এখনই ডলার ত্যাগ না করলেও এই হুঁশিয়ারিটি মূলত বর্তমান সংকটকালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার একটি চাপ সৃষ্টি করার কৌশল।   চীন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে ইউয়ানের প্রভাব বাড়াতে চেষ্টা করছে, তাই আমিরাতের এমন অবস্থান বেইজিংয়ের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদি আংশিকভাবেও ইউয়ানে তেল বিক্রি শুরু হয়, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলারের আধিপত্য কমানোর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।   বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ১৯৯০-এর দশকের পর উপসাগরীয় দেশগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় মুদ্রা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ২২:৪৯
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ফ্রান্সকে ৬৬০ মিলিয়ন পাউন্ড দিচ্ছে ব্রিটেন

ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ফ্রান্সের সঙ্গে নতুন তিন বছরের এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ব্রিটেন। বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ফরাসি সরকারকে সর্বোচ্চ ৬৬০ মিলিয়ন পাউন্ড দেবে লন্ডন। মূলত যৌথ নজরদারি, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করাই এই বিশাল অংকের অর্থায়নের প্রধান লক্ষ্য।   চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে উত্তর ফ্রান্সের সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে। এর অধীনে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গোয়েন্দা এবং সামরিক কর্মকর্তা মোতায়েন করা হবে। বাকি ১৬০ মিলিয়ন পাউন্ড কেবলমাত্র তখনই প্রদান করা হবে, যদি নতুন পদক্ষেপগুলো অবৈধ পারাপার ঠেকাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়।   ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এর ফলে মানবপাচার চক্র দমনে পুলিশি সক্ষমতা ও তথ্য বিনিময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানান, এই সমঝোতার ফলে ফরাসি উপকূলে নজরদারি কার্যক্রম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত জনবল ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪১ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ইংল্যান্ডে পৌঁছেছে। তবে বর্তমান কিয়ার স্টারমারের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ৪২ হাজারের বেশি অবৈধ পারাপারের চেষ্টা সফলভাবে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সরকার। নতুন এই চুক্তিটি ২০২৩ সালে হওয়া আগের চুক্তির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১:৯
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা, নীতি অপরিবর্তিত থাকার স্পষ্টীকরণ

শাহারিয়া নয়ন মে ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0