আন্তর্জাতিক

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের ক্ষতিপূরণ জব্দকৃত ইরানি অর্থ থেকেই আদায় করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন জাহাজগুলোর মেরামত ও ক্ষতিপূরণের যাবতীয় ব্যয় মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ থাকা ইরানি অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ইরানের হামলায় জাহাজগুলোর "যে কোনো এবং সমস্ত ক্ষতির" অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এবং হেফাজতে থাকা ইরানি টাকা দিয়েই পরিশোধ করা হবে।   এই ক্ষতিপূরণের অর্থের সুনির্দিষ্ট উৎস সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিষ্কার করে কিছু না জানালেও, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে ইরানের কয়েকশ কোটি (বিলিয়ন) ডলারের সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ অবস্থায় রয়েছে।   এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির শর্তাবলী তেহরান সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলে জব্দ করা এসব সম্পদ ছাড় করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও হয়েছিল।   তবে বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সেই অর্থই ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিল ট্রাম্প প্রশাসন।   ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বিশাল হতে পারে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, "এই ক্ষতির পরিমাণ হয়তো অনেক বেশি হতে পারে, তবে তা সত্ত্বেও এমনটা করাই হবে সম্পূর্ণ ন্যায্য ও যৌক্তিক পদক্ষেপ।"

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৮:৪৩
সহকর্মীর গুলিতেই প্রাণ গেল দুই বিএসএফ সদস্যের
শত্রু নয়, সহকর্মীর গুলিতেই প্রাণ গেল দুই বিএসএফ সদস্যের, ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর বিএসএফ ক্যাম্পে সহকর্মীর গুলিতে দুই জওয়ান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও এক জওয়ান গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পের ১১৯ নম্বর এবং ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কয়েকজন জওয়ানের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।   জানা গেছে, রাজশাহীর ওপারে মালদহের বৈষ্ণবনগরে অবস্থিত ওই ক্যাম্পে জওয়ানরা বিশ্রামে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা ও ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান শিবম মিশ্র তার সহকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান।   এতে ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের দুই জওয়ান—৫১ বছর বয়সী অজয় কুমার সিং এবং ৩৭ বছর বয়সী আম্বদর সুরেশ দরগু প্রাণ হারান। এ ছাড়া বিকাশ ব্রম্ম (৪৪) নামের আরেক জওয়ান গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত দুই জওয়ানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।   অভিযুক্ত শিবম মিশ্রের বিরুদ্ধে আগেও এমন বেপরোয়া আচরণের রেকর্ড রয়েছে বলে জানা গেছে। বিএসএফ সূত্রে খবর, প্রায় এক বছর আগে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগে তিনি বাহিনীর নিজস্ব আইনে শাস্তি পেয়েছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে বাড়িতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, আর এর মাঝেই তিনি পুনরায় এই প্রাণঘাতী কাণ্ড ঘটালেন।   এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিবমকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। বিএসএফের মালদহ সেক্টরের ডিআইজি সুরেন্দ্র কুমার ঝা জানিয়েছেন, বাহিনীর নিজস্ব তদন্তের পাশাপাশি বৈষ্ণবনগর থানা পুলিশও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৬:৫৭
ইরানে স্কুলে মার্কিন হামলায় নিহত ১২০ শিশু
জুতা আর পোশাকই হলো শেষ পরিচয়, ইরানে স্কুলে মার্কিন হামলায় নিহত ১২০ শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান যুদ্ধের প্রথম দিকে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সন্দেহভাজন বিমান হামলায় ১২০ জন শিশুসহ অন্তত ১৫৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ধ্বংসযজ্ঞ ও স্বজন হারানোর ভয়াবহ চিত্র।   স্থানীয় প্রসিকিউটরের কার্যালয় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শনিবার সকালে রমজান মাস উপলক্ষে যখন শিক্ষার্থীরা কোরআন তেলাওয়াত করছিল, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়, যা এই সংঘাতের অন্যতম প্রাণঘাতী এবং বেসামরিক মানুষের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শাজারাহ তায়্যিবাহ প্রাইমারি স্কুলের ৩৩ বছর বয়সী শিক্ষিকা আমাইনেহ নাদেমি সেই ভয়াল দিনের স্মৃতিচারণ করে জানান, যুদ্ধ শুরুর পর স্কুল ছুটি ঘোষণার পরপরই সেখানে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন শ্রেণিকক্ষে তিনি তার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে আটকা পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই ছাদ ধসে পড়ে এবং চারদিকে রক্ত ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে।   ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্ধারকর্মী রেজা বেশারতি জানান, উদ্ধারের সময় কারও দেহই আস্ত পাওয়া যায়নি; ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া এসব মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের জুতা বা পোশাকের সাহায্য নিয়েছে।   এই হামলায় নিহত নয় বছর বয়সী সেতায়েশের মা মাসুমেহ মেহরান শেখাবাদি প্রতিদিন গোরস্থানে মেয়ের কবরের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মেয়েকে তার পরা ক্রিম রঙের মোজা দিয়ে শনাক্ত করতে হয়েছিল জানিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, "এই শিশুদের অপরাধ কী ছিল? তাদের কাছে তো কোনো অস্ত্র ছিল না, তাদের কাছে ছিল বই-খাতা, তারা কেবল শিখতে গিয়েছিল।"   মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের কারণে স্কুলটিকে ভুলবশত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক ঘাঁটির অংশ ভেবে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনী এই ঘটনার তদন্ত করছে এবং তারা কখনোই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে না।   তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, ইরানের সরকার এই ঘটনাকে মার্কিন আগ্রাসনের সবচেয়ে নির্মম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মহলে কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছে, যা দেশটিতে মার্কিন হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৬:৩৮
বন্ধু-স্বজনকে দুবাই ভ্রমণে আনলেই মিলবে ৩ হাজার দিরহামের বেশি সুবিধা
বন্ধু-স্বজনকে দুবাই ভ্রমণে আনলেই মিলবে ৩ হাজার দিরহামের বেশি সুবিধা,পর্যটক কমে যাওয়ায় নতুন কৌশল

পর্যটক সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিদেশি ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দুবাই। ‘Dubai Invite’ নামে চালু হওয়া কর্মসূচির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দারা যদি বিদেশে থাকা বন্ধু বা আত্মীয়দের দুবাই ভ্রমণে উৎসাহিত করে আনতে পারেন, তাহলে তারা ৩ হাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহামেরও বেশি মূল্যের বিশেষ সুবিধা পাবেন।   দুবাইয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমি অ্যান্ড ট্যুরিজম পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত বাসিন্দাদের জন্য হোটেলে থাকা, রেস্তোরাঁয় ছাড়, বিনোদনকেন্দ্রের টিকিটসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে।   সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পর্যটন খাতে দেখা দেওয়া বড় ধাক্কা। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের একটি বড় অংশ দুবাই সফর থেকে সরে দাঁড়ায়। এর প্রভাব পড়ে বিমান চলাচল, হোটেল ব্যবসা এবং পর্যটননির্ভর সেবাখাতে।   দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত বা সীমিত হওয়ায় যাত্রী সংখ্যাও কমে যায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে চলতে শুরু করে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স।   স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অনেক হোটেলে কক্ষ খালি পড়ে আছে এবং পর্যটননির্ভর কিছু প্রতিষ্ঠানের আয় ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরবও নির্ধারিত সময়ের আগেই দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারকাজে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে হোটেল ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়, অতিরিক্ত ফ্রি নাইটসহ বিভিন্ন অফার ঘোষণা করেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কর্মসূচি চালুর প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা উদ্যোগটির প্রতি বাসিন্দাদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   পর্যটন খাত দুবাইয়ের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ২০২৫ সালে শহরটি প্রায় ২ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটককে স্বাগত জানিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সেই ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৫:১৪
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
এআইয়ের কারণে চাকরি হারালে মাসে ১ হাজার ডলার সহায়তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের জন্য আশার আলো নিয়ে এসেছে 'এআই ডিভিডেন্ড' নামের ১২ মাস মেয়াদি একটি নতুন কর্মসূচি। এই উদ্যোগের আওতায় এআইয়ের কারণে কাজ হারানো কর্মীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আপাতত ২৫ থেকে ৫০ জন কর্মীকে নিয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ‘এআই কমন্স প্রজেক্ট’ এবং ‘হোয়াট উই উইল’ নামের দুটি অলাভজনক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, এআই যুগে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি তাদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা।   নিজেদের ধরনের প্রথম এই উদ্যোগটি যোগ্য প্রার্থীদের ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত মাসিক ১ হাজার ডলার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা উন্নয়নেও কাজ করবে। চাকরি হারানো এসব কর্মীকে নতুন করে দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং প্রোগ্রাম, এআই ট্রেনিং সার্টিফিকেশন, জব কোচিং এবং ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত করার মতো সহায়তা দেওয়া হবে।   এই আর্থিক সহায়তা পেতে আগ্রহীদের ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট ফর্মে নিজেদের পদবি এবং এআই কীভাবে তাদের কাজে প্রভাব ফেলেছে, তা বিস্তারিত জানাতে হবে। পাশাপাশি প্রাপ্ত অর্থ তারা কীভাবে কাজে লাগাবেন, সে বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণীও জমা দিতে হবে। এআই কমন্স প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা নিক সালাজারের মতে, সামাজিক নিরাপত্তার জালকে এআইয়ের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, যা বর্তমানে বেশ পিছিয়ে আছে। তিনি জানান, মানুষ এখনই কাজ হারাচ্ছে, তাই এই সমস্যা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে কেবল গবেষণা করার মতো সময় নেই।   ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্যদের অর্থ ও সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। শ্রমবাজারের পরিবর্তনের এই সময়ে এআই নীতিমালায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে কর্মসূচিটি চাকরি হারানো কর্মীদের বাস্তব তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করছে। অন্যদিকে, সান ডিয়েগোর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ শতাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে।   গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্ল্যারিক্যাল বা করণিক এবং কাস্টমার সার্ভিসের মতো চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও সেলফ-চেকআউট বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক টেলার ও ক্যাশিয়ার পদের চাহিদাও দ্রুত কমছে। গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকের মধ্যে ৫৯ শতাংশ কর্মীর নতুন করে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই শুধু চাকরি কেড়ে নিচ্ছে না, বরং কাজের ধরন পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে; তাই ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে এই পরিবর্তনগুলো বোঝা ও নতুন দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:৬
বাংলাদেশি মা-মেয়ে I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে সাগরে ডুবে প্রাণ গেল বাংলাদেশি মা-মেয়ের

যুক্তরাজ্যের এসেক্সে সমুদ্রসৈকতে জোয়ারের প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নারী ও তাঁর কিশোরী মেয়ে। গত বুধবার বিকেলে এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।   পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার বিকেলে ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ সাত বছর বয়সী এক শিশু জোয়ারের তোড়ে সাগরে ভেসে যেতে থাকে। এ সময় শিশুটিকে বাঁচাতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দেন মা সেলিনা রহমান এবং তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে। কিন্তু শিশুটিকে স্রোতের মুখ থেকে উদ্ধার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে গিয়ে একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের টানে তারা দুজনই সাগরের পানিতে তলিয়ে যান।   দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে কোস্টগার্ড, লাইফবোট, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি সেবার একাধিক দল। এসেক্স পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনার বিস্তারিত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী থেকে থাকলে অথবা কারও কাছে ঘটনার কোনো ছবি বা ভিডিও চিত্র সংরক্ষিত থাকলে তা দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৩:৫২
মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র I ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানে নজিরবিহীন হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে এলিট ট্রুপস, ফাইটার জেট ও সামরিক চিকিৎসকদের মোতায়েন করে পেন্টাগন যখন ব্যাপক সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘ভয়াবহ হামলার’ কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমি একটি ভয়াবহ হামলার কথা ভাবছি; এমন কিছু যা আগে কখনো হয়নি। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছি এবং আমরা এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।" তিনি আরও জানান, তিনি চাইলে ইসরায়েলও 'দুই মিনিটের মধ্যে' যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই অভিযানে যোগ দেবে।   তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই সম্ভাব্য হামলা চালানোর জন্য তাদের ‘অন্য কারও প্রয়োজন নেই’। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতে নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে শহরে এলে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।   ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের উপস্থিতি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে এবং এই অঞ্চলে ফাইটার স্কোয়াড্রনগুলোকে নতুন করে মোতায়েন করেছে। গত শুক্রবার জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।   পেন্টাগন নিহত ওই সেনাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে—তারা হলেন হাওয়াইয়ের ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জে. ফিহান, টেক্সাসের প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং নিউইয়র্কের আর্মি সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র‌্যাম্পারসাদ। সেনাসদস্যদের থাকার বাসস্থানে এই আঘাত হানা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই ঘাঁটিতে এটি ছিল ইরানের তিনটি পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি। সম্ভাব্য হতাহতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জার্মানির ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ১৫০ জন সামরিক চিকিৎসাকর্মীকে পাঠানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আহত সেনাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান হাসপাতাল।   পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী বি-১ দূরপাল্লার বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত ১২ দিন আগে ইরানের সঙ্গে পুনরায় লড়াই শুরু হওয়ার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বি-১ মিশন, যা সংঘাতের বড় ধরনের বৃদ্ধির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার মতো "যথেষ্ট কষ্ট ইরান এখনো পায়নি," তবে তেহরান "আলোচনা করতে চায়।" অন্যদিকে একটি আঞ্চলিক সূত্রের মতে, মধ্যস্থতাকারীদের জন্য ইরানের সাথে যোগাযোগ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার পক্ষে থাকা রাজনীতিক এবং যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাওয়া কট্টরপন্থীদের মধ্যে দেশটি এখন গভীরভাবে বিভক্ত। সূত্রটি জানায়, মূলত ইরানের ভেতরে দুটি পক্ষ ক্রমশ বিপরীত দিকে এগোচ্ছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো ভাঙন ধরেনি।   মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই আকস্মিক শক্তি বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ক্রমশ নির্ভুল ও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠা। জর্ডানের ঘাঁটিতে তিনটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আঘাত হানতে সক্ষম হয়, যা ওই অঞ্চলে মোতায়েনকৃত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনাকে তেহরানের ক্রমশ আধুনিক হতে থাকা অস্ত্রশস্ত্র থেকে রক্ষার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জকেই তুলে ধরে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৩:৩৯
রান্নাঘরে খাবার গ্রহণের জন্য হাঁড়ি-পাতিল হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বাস্তুচ্যুত শরনার্থীরা। ছবি:সংগৃহীত
ইরান-মার্কিন সংঘাতের প্রভাব হিসেবে ২০৩০ সালে খাদ্যহীন হবে ৫২ কোটি মানুষ, জাতিসংঘের সতর্কতা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা শুধু জ্বালানি সংকট নয়, বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বের প্রায় ৫২ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হতে পারেন।   মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ২০৩০ সালেও বিশ্বের ৫১ থেকে ৫২ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার শিকার থাকবেন।   উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর আগে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সর্বনিম্ন ৫০ কোটি ৩ লাখে নামিয়ে আনার পূর্বাভাস ছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করছে এই পরিসংখ্যান।   প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৭.৮ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৮.১ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ৮.৬ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ এবং ২০২২ সালের তুলনায় ৪ কোটি ৩০ লাখ কম মানুষ খাদ্যাভাবে ভুগেছে।   তবে এই উন্নতি বিশ্বের সব অঞ্চলে সমান নয়। আফ্রিকা এখনো সবচেয়ে সংকটাপন্ন অঞ্চল। সেখানে প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ মানুষ ক্ষুধার্ত, যা এশিয়ার ২৯ কোটি ২০ লাখের চেয়েও বেশি। আফ্রিকায় ক্ষুধার হার ২০.৩ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২০ শতাংশে নেমে এলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ক্ষুধার্ত মানুষের মোট সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সেখানেই।   ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ২১০ কোটি মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ২৫.৮ শতাংশ মাঝারি বা তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। যদিও ২০২৪ সালে এই হার ছিল ২৭.১ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ২৮.৭ শতাংশ, তথাপি এটি এখনো করোনা মহামারির আগের সময়ের চেয়ে বেশি।   আঞ্চলিক বৈষম্য স্পষ্ট। আফ্রিকার ৫৬.৬ শতাংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এশিয়ায় এই হার ২০.৩ শতাংশ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২২.৯ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ৮.৭ শতাংশ। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ও পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।   জাতিসংঘের সংস্থাগুলো আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনটি কেবল অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সম্ভাব্য ‘এল নিনো’র মতো বিধ্বংসী চরম আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরূপ প্রভাব এতে হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।   এই প্রতিবেদন বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যত বাড়বে, বিশ্বের খাদ্য সংকট তত গভীর হবে—সেটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে জাতিসংঘের এই বিশ্লেষণ।

সিদ্দিকুর রহমান প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৩:১৪
জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি | ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনকে মেহবুবা মুফতির সমর্থন

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দিল্লির জন্তরমন্তরে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আন্দোলনরত এই তরুণদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তিনি স্বয়ং আন্দোলনস্থলে হাজির হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তার মতে, এই আন্দোলন কেবল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লড়াই নয়, বরং দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা করারও এক গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম।   সেখানে উপস্থিত আন্দোলনকারী যুবকদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই কাশ্মীরি নেত্রী। প্রতিকূল আবহাওয়া ও কঠিন পরিস্থিতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে তরুণদের এই লড়াই অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুফতি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই অনমনীয় আন্দোলন ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে।   উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জোরালো দাবি জানিয়ে গত মাস থেকে সিজেপির নেতৃত্বে জন্তরমন্তরে এই প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা।   সূত্র: দ্য হিন্দু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১২:৫১
একটি ফ্ল্যাটের দামেই জার্মানির থুরিঙ্গিয়া অঙ্গরাজ্যে বিক্রি হচ্ছে ১৫টি বাড়িসহ আস্ত গ্রাম। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে মাত্র একটি ফ্ল্যাটের দামে বিক্রি হচ্ছে ১৫টি বাড়িসহ পুরো এক গ্রাম

জার্মানির থুরিঙ্গিয়া অঙ্গরাজ্যের কামসডর্ফ এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের সমপরিমাণ মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে ১৫টি বাড়িসহ পুরো একটি গ্রাম। সম্প্রতি প্রকাশিত ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সম্পত্তিটির বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ইউরো।   বিক্রির জন্য নির্ধারিত এই বিশাল সম্পত্তিতে ১০০ বর্গমিটার আয়তনের ১৫টি একতলা ভবনের পাশাপাশি ৩০০ বর্গমিটারের একটি বড় প্রাক্তন ক্যান্টিন ভবন রয়েছে। সম্পত্তিটির বর্তমান মালিক ফ্রানৎস এবারিশ কেবল জমি বিক্রি করতে চান না, বরং এমন একজন ক্রেতা খুঁজছেন যিনি জায়গাটিকে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবেন।   প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তদানীন্তন পূর্ব জার্মানির শিক্ষানবিশদের আবাসন ও পরবর্তীতে অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো এই গ্রামটি। দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর ২০১৪ সালে প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটি অনন্য আবাসিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এবারিশ সম্পত্তিটি কিনে নেন।   তবে বর্তমানে এই পুরো প্রকল্পটি একটি বড় প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। স্থানীয় জার্মান কর্তৃপক্ষের নিয়মানুসারে, দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত থাকার কারণে জায়গাটির পূর্বের আবাসিক মর্যাদা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে সেখানে নতুন করে কোনো স্থায়ী আবাসিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিশেষ অনুমোদন কিংবা সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রয়োজন পড়বে।   মূলত অর্থসংকটের কারণে স্বাস্থ্যগ্রাম, ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরির নিজস্ব পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে না পেরে এটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন এবারিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুকচ্ছলে ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ককেও এই প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১১:২৯
ইরানে হামলায় শক্তিশালী ‘বি-১’ লং-রেঞ্জ বোমারু বিমান ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে মার্কিন বাহিনীর শক্তিশালী ‘বি-১’ বোমারু বিমান হামলা, সংঘাত আরও বাড়ার তীব্র আশঙ্কা

ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একাধিক কৌশলগত ঘাটিতে প্রথমবারের মতো দূরপাল্লার বিধ্বংসী ‘বি-১’ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। নতুন করে সংঘাত ছড়ানোর ১২ দিনের মাথায় ওয়াশিংটনের এই ভারী বি-১ মিশন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।   মঙ্গলবার সংঘটিত এই বিশেষ অপারেশনে অংশ নেওয়া সুবিশাল ‘বি-১’ বিমানটি একযোগেই ২৪টি দুই হাজার পাউন্ড ওজনের মারাত্মক বোমা কিংবা ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা এই যুদ্ধবিমানটির অবস্থান ও গতিবিধি ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মগুলোতেও চিহ্নিত হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আইআরজিসির মিলিটারি অপারেশন সেন্টার, ড্রোন পার্কিং, এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গার, নৌ-ঘাঁটি এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নেটওয়ার্ককে মূল লক্ষ্য বানিয়ে এ হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল রুট হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তায় ইরানের তৈরি করা ঝুঁকি নস্যাৎ করতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি ওয়াশিংটনের।   সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চরম হুঁশিয়ারিতে জানান, হরমুজ প্রণালীতে তেহরান যদি কোনো হামলা চালায়, তবে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির মূল অবকাঠামোতে আরও বড় আঘাত হানা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হুঙ্কারের বিপরীতে কড়া জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরানও। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় পাল্টা হামলার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে তেহরান।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষ এখনো কোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১০:৫২
বিদেশি নাগরিকদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার ৭টি প্রধান আইনি পথ প্রকাশ করল যুক্তরাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার ৭টি আইনি পথ জানাল সরকার

বিদেশি নাগরিকরা কীভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে সাতটি প্রধান আইনি পথের তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক, বসবাসের ইতিহাস ও আইনি অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নির্ধারণ করা হয়।   যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব, ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং কিছু ঐতিহাসিক পরিস্থিতির আওতায় আবেদন।   সরকারের প্রকাশিত সাতটি প্রধান পথ হলো: প্রথমত, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে শুধু যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করলেই সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না; বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থা ও জন্মের সময়কার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।   দ্বিতীয়ত, ব্রিটিশ নাগরিকের স্বামী, স্ত্রী বা সিভিল পার্টনারের মাধ্যমে আবেদন। নির্ধারিত সময় যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাস এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।   তৃতীয়ত, আইরিশ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুযোগ। নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী কিছু আইরিশ নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন।   চতুর্থত, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ বিধান। যাদের কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেই, তারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেতে পারেন।   পঞ্চমত, আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এমন ব্যক্তিরা। যারা আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পুনরায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।   ষষ্ঠত, বিশেষ পরিস্থিতিতে আবেদন। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আইনের আওতায় কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।   সপ্তমত, চাগোসিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুযোগ। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট বংশধররা বিশেষ নিয়মের অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন।   এ ছাড়া সাধারণভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যে বৈধ বসবাসের নির্দিষ্ট সময় পূরণ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, ‘লাইফ ইন দ্য ইউকে’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ‘গুড ক্যারেক্টার’ বা ভালো নৈতিক অবস্থানের প্রমাণ দেওয়া।   তবে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর ভিসার ধরন, যুক্তরাজ্যে থাকার ইতিহাস, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। তাই আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত ও প্রমাণপত্র ভালোভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ৯:৫৪
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ছবি:সংগৃহীত
তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে এবং তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।   আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত এই জোট বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জোটটির সদস্যসংখ্যা সম্প্রসারিত হয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এর গুরুত্ব বেড়েছে।   বাংলাদেশ বর্তমানে ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য নয়। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও উন্নয়ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণকে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এদিকে ভারতে চলমান ছাত্র আন্দোলন এবং দেশটিতে থাকা বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় দেখতে চায়।   তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আশা করে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত তার জনগণের অবস্থান বিবেচনা করবে এবং চলমান সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ৯:৮
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ডোম অব দ্য রক (কুব্বাত আস-সাখরা)-এর সামনে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি পুলিশ সদস্যরা। ছবি:সংগৃহীত
আল-আকসা মসজিদ চত্বরে শত শত ইহুদির প্রবেশ, প্রার্থনা ঘিরে নতুন উত্তেজনা

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ চত্বরে বৃহস্পতিবার শত শত ইহুদি প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেছেন। ইহুদিদের উপবাস দিবস তিশা বা’ভ উপলক্ষে এই প্রবেশ ও প্রার্থনার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইসরায়েলি পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কয়েকশ ইহুদি আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং এমন কিছু স্থানেও প্রার্থনা করেন, যেখানে ইহুদি প্রার্থনার ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিধিনিষেধ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   তিশা বা’ভ ইহুদি ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ শোক দিবস। ইহুদি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে প্রাচীন ইহুদি ধর্মের প্রথম ও দ্বিতীয় টেম্পল ধ্বংস হয়েছিল। ইহুদিদের একটি অংশের দাবি, বর্তমানে আল-আকসা মসজিদ যে স্থানে অবস্থিত, সেটিই ঐতিহাসিক টেম্পল মাউন্টের স্থান। এ কারণে স্থানটি ইহুদি ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে আছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইহুদি উপাসকরা দলবদ্ধভাবে আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করছেন। তাদের কেউ কেউ ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করছেন। কয়েকজনকে ইসরায়েলের পতাকা বহন করতেও দেখা গেছে।   ঘটনাস্থলে ইসরায়েলের উগ্রডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির উপস্থিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রার্থনার সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।   বেন-গভির সেখানে উপস্থিত হয়ে বলেন, “আজ এখানে যা হচ্ছে তা দেখুন। ইহুদিরা এখানে প্রার্থনা করছে। তারা অনুভব করছে এটি তাদেরও জায়গা। এর আগে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।”   আল-আকসা মসজিদ চত্বর পরিচালনা ও সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রমের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, মুসলিমদের জন্য স্থানটি উপাসনার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর অমুসলিমদের সাধারণত সেখানে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও প্রার্থনা করার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইহুদি দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন পক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে উত্তেজনা বাড়ানোর কারণ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক নেতা সেখানে ইহুদিদের অধিকারের দাবি করে আসছেন।   আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের কাছে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত এই স্থাপনাটি ইহুদি, মুসলিম ও খ্রিস্টান—তিন ধর্মের অনুসারীদের কাছেই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ৫:৫৬
ছবি: দুই বছর পর ভাইবোনের আলিঙ্গন! Associated Press (AP)
দুই বছর পর সাত ভাইবোনের পুনর্মিলন, এরই মাঝে যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে বিচ্ছিন্ন ছিল একটি পরিবার। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে অবশেষে। বহু আইনি প্রক্রিয়া শেষে গাজা থেকে বের হয়ে বড় বোনের সঙ্গে ইসরায়েলে মিলিত হয়েছে সাত ভাইবোন। তবে এই পুনর্মিলনের আনন্দেও রয়ে গেছে গভীর বেদনা। কারণ এরই মধ্যে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন তাঁদের বাবা-মা ও এক ছোট ভাই।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী মাইস আল-ঘারাম যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস আগে গাজা ছেড়ে ইসরায়েলে চলে যান। এরপর ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে তাঁর সাত ভাইবোন সেখানে আটকা পড়ে। যুদ্ধ চলাকালে এক বিমান হামলায় প্রাণ হারান তাঁদের বাবা-মা এবং ছোট এক ভাই।   এরপর শুরু হয় ভাইবোনদের নিরাপদে বের করে আনার দীর্ঘ সংগ্রাম। আইনজীবীদের সহায়তায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে তারা গাজার কেরেম শালোম সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি পায়।   সীমান্তে ভাইবোনদের দেখেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মাইস। একে একে সবাইকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ, যুদ্ধের আতঙ্ক এবং স্বজন হারানোর শোক মিলেমিশে সেই মুহূর্তকে আরও আবেগঘন করে তোলে।   পরে পরিবারের সদস্যরা ইসরায়েলের নাজারেতে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে একত্র হন। বহুদিন পর তারা একই টেবিলে বসে খাবার খেলেও বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের অনুপস্থিতি পুরো পরিবারকে বারবার শোকাহত করে তোলে।   এপি জানায়, গাজা থেকে পরিবারের সদস্যদের বের করে আনার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত জটিল। যুদ্ধ, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং আইনি জটিলতার কারণে হাজারো পরিবার এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।   মাইস আল-ঘারামের পরিবারের এই পুনর্মিলন তাই শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার অসংখ্য বিচ্ছিন্ন পরিবারের বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। বহু প্রতীক্ষার পর সাত ভাইবোন আবার একসঙ্গে হলেও, বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারানোর শূন্যতা তাদের জীবনে চিরস্থায়ী হয়ে রইল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ২০:৫৫
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
বিশ্ববাণিজ্যের নতুন মানচিত্র আঁকছে চীন, মধ্য এশিয়ায় গড়ছে বিশাল স্থলবাণিজ্য নেটওয়ার্ক

বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামুদ্রিক বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোতে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে নিজেদের রপ্তানির বিকল্প পথ খুঁজছে বেইজিং। এরই অংশ হিসেবে গত এক বছরে মধ্য এশিয়ায় চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর ব্যাপক সম্প্রসারণ লক্ষ করা গেছে। চীনের প্রধান শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং তাজিকিস্তানের লজিস্টিক হাবগুলোকে যুক্ত করতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন রেল ও সড়কপথ চালু করা হয়েছে। মূলত ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য এবং মহাদেশীয় লজিস্টিক ব্যবস্থায় মধ্য এশিয়ার শক্তিশালী অবস্থানের কারণেই এই অঞ্চলের প্রতি চীনের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।   গত বছর প্রথমবারের মতো মধ্য এশিয়ার সব কটি দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। এ সময় তাদের বাণিজ্য ১২ শতাংশ বেড়ে ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। অঞ্চলটিতে চীনের রপ্তানি করা উচ্চমূল্যের পণ্যের পরিমাণ আমদানির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এদিকে, সামুদ্রিক শিপিংয়ের ঝুঁকি এড়াতে গত বছর চীন-ইউরোপ সরাসরি রুটে ২০ হাজারেরও বেশি মালবাহী ট্রেন চলাচল করেছে এবং চলতি বছরের প্রথমার্ধে এই হার ২০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে চীনের ১২৯টি শহরের সঙ্গে ইউরোপের ২৬টি দেশের ২৩৫টি শহরের সরাসরি রেলযোগাযোগ রয়েছে, যার একটি বড় অংশ মধ্য এশিয়ার ওপর দিয়ে যায়।   স্থলপথে রপ্তানি বহুমুখীকরণের এই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে গত বছরের এপ্রিল থেকে চীনের চংকিং এবং উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দের মধ্যে সরাসরি মালবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। মাসে দুবার ছেড়ে যাওয়া এসব ট্রেন কাজাখ সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৪,৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় মাত্র ১২ দিনে। এর ফলে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে মধ্য এশিয়ায় পণ্য পরিবহনের সময় ৩০ শতাংশ কমার পাশাপাশি বাণিজ্যে লাভজনকতাও বেড়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে চীন-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান রেলওয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বছরে প্রায় দেড় কোটি টন পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে। এটি পূর্ব এশিয়া থেকে দক্ষিণ ইউরোপের বাণিজ্য রুটকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার কমিয়ে আনবে এবং পণ্য ডেলিভারির সময় অন্তত এক সপ্তাহ সাশ্রয় করবে।   নতুন সিল্ক রোডের দক্ষিণাঞ্চলীয় ট্রানজিট রুট পুনরুজ্জীবিত করার কৌশলের সঙ্গেও এই সম্প্রসারণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যেখানে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কিংহাইয়ের জিনিং থেকে তুর্কমেনিস্তানের বলকান ভেলায়েতের উদ্দেশে একটি কন্টেইনার ট্রেন ছেড়ে গেছে। এছাড়া গত বছর চীনের ঝেংঝু থেকে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাত পর্যন্ত সরাসরি সড়কপথ উন্মুক্ত করা হয়েছে, যেখানে পণ্য পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র নয় দিন। এর পাশাপাশি চলতি বছর চীন ও তাজিকিস্তানের মধ্যেও কন্টেইনার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে।   চীনের এই বিপুল স্থলবাণিজ্যের চাহিদা মধ্য এশিয়ার কার্গো প্রবাহকে নতুন করে সাজাচ্ছে। একসময়কার বিচ্ছিন্ন এই অঞ্চলটি এখন ইউরেশিয়ার অন্যতম প্রধান আন্তঃমহাদেশীয় হাব বা কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই মেগা উদ্যোগ মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দারুণভাবে ত্বরান্বিত করবে। সবচেয়ে বড় কথা, এটি এই অঞ্চলের পাঁচটি প্রজাতন্ত্রকে স্বাধীন ও সমন্বিত পরিবহন নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করে বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৯:১২
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
এক আঘাতেই শত্রুর যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসে সক্ষম ‘আকিয়া’ টর্পেডো উন্মোচন করল তুরস্ক

শত্রুদেশের বিশাল ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজকে মাত্র এক আঘাতেই চিরতরে সাগরের অতল গহ্বরে তলিয়ে দিতে সক্ষম এক অত্যাধুনিক টর্পেডো তৈরি করেছে তুরস্ক। সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘আকিয়া’ নামের এই শক্তিশালী টর্পেডোটি সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে নিজেদের সামরিক শক্তির নতুন জানান দিল মধ্যপ্রাচ্যের এই শক্তিশালী দেশ।   বুধবার তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘এনসোশ্যাল’ (NSosyal)-এ এই যুগান্তকারী সফল পরীক্ষার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। লাইভ-ফায়ার বা তাজা গোলাগুলির এই পরীক্ষায় টর্পেডোটি সরাসরি আঘাত হেনে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত একটি আস্ত জাহাজকে নিমিষেই সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।   সামরিক বাহিনীর ‘দেনিজকুরদু-২ ২০২৬’ শীর্ষক বিশাল নৌ মহড়ার অংশ হিসেবে এই বিধ্বংসী পরীক্ষা চালানো হয়। তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় মিসাইল ও সমরাস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘রকেটসান’-এর নকশা ও প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক টর্পেডোটি ছোড়া হয়েছিল তুর্কি নৌবাহিনীর ‘টিসিজি সাকারিয়া’ সাবমেরিন থেকে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম এই বিধ্বংসী টর্পেডোর সফল পরীক্ষা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুরস্কের নৌবাহিনীর সামরিক সক্ষমতাকে এক লাফে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।   এই সফল উৎক্ষেপণের পর তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, লক্ষ্যবস্তুতে আকিয়া টর্পেডোর এই নিখুঁত ও ভয়াবহ আঘাত মূলত দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের অর্জিত প্রযুক্তিগত উৎকর্ষেরই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের তৈরি এমন ভয়ংকর সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, জলপথে যেকোনো শত্রুর আগ্রাসন রুখতে তুর্কি নৌবাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অপ্রতিরোধ্য ও ভয়ংকর।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৮:৩৯
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দিল্লি ছাড়িয়ে রাজ্যে রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে নিট-বিক্ষোভ, চরম বেকায়দায় মোদি সরকার

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট এবং লখনউয়ের মতো বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে প্রধান বিরোধী দলগুলো এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   রাজনৈতিক এই উত্তাপ চরম আকার ধারণ করে মঙ্গলবার। এদিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসার অপরাধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে আটক করে পুলিশ। নিট কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তারা। শীর্ষ নেতাদের আটকের এই ঘটনার পরই আন্দোলনের আঁচ রাজধানী ছাড়িয়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও রাজপথ শান্ত হয়নি। বরং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অন্তত ১৬টি মেট্রো স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মহারাষ্ট্রের বিশিষ্ট মারাঠা আন্দোলনকারী মনোজ জারাঙ্গে পাতিলও সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে এই ছাত্র আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি পাটনা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও সুরাটেও রাজপথে নেমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন হাজারো প্রতিবাদী মানুষ।   এদিকে, উত্তরপ্রদেশের লখনউতে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে দেশ। সেখানে বিজেপি এবং কংগ্রেস মুখোমুখি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রাইয়ের নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ পথ আটকালে কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় ধর্নায় বসেন, যার জেরে অজয় রাইসহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। এর পাল্টা হিসেবে রাজ্য বিজেপি প্রধান পঙ্কজ চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কাজ’-এর অভিযোগ তুলে পাল্টা মিছিল বের করেন বিজেপি কর্মীরা।   রাজপথের এই রাজনৈতিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে আইনি লড়াইয়েও। গত ২০ জুলাই সিজেপি-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশি পদক্ষেপের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো জমায়েত বেআইনি হলেও বলপ্রয়োগের আগে আইনি নিয়মকানুন মেনে চলা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৬:৩
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ২৭ লাখের বেশি মানুষের ৭০ শতাংশই মুসলিম বলে দাবি সবর ইনস্টিটিউটের। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনে নতুন বিতর্ক: বাদ পড়া ২৭ লাখের ৭০ শতাংশই মুসলিম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সবর ইনস্টিটিউট’-এর এক সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় থাকা এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ২৭ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে ৭০ দশমিক ১৭ শতাংশই মুসলিম। এছাড়া এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ৫১ শতাংশই নারী।   সম্প্রতি প্রকাশিত ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশের বেশি বাঙালি হওয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব ভোটারের বড় অংশকে তথাকথিত ‘যৌক্তিক অসংগতি’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, বিচারাধীন ২৭ লাখের বেশি ভোটারের বাইরে আরও প্রায় ৬৪ লাখ ভোটারের নাম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত বা দ্বৈত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এই তালিকার তথ্য নিয়েও বর্তমানে বিশ্লেষণ চলছে বলে জানিয়েছে সবর ইনস্টিটিউট।   পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বহু বৈধ ভোটারের নাম অত্যন্ত আপত্তিকর ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো দম্পতির ছয় বা তার বেশি সন্তান থাকলে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার মা–বাবার নামের বানানে সামান্য অমিল কিংবা মা–বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়ার মতো কারণেও অনেকের ভোটাধিকার স্থগিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় প্রথম ধাপে প্রায় ৬১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়। পরে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা প্রকাশের পর মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯১ লাখে পৌঁছায়। এর ফলে আগের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে যায়।   এদিকে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, তালিকা থেকে মূলত মৃত, স্থানান্তরিত কিংবা খুঁজে পাওয়া যায়নি—এমন ব্যক্তিদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবং হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। বর্তমানে বাদ পড়া এসব ভোটার কবে আবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং ভোটাধিকার ফিরে পাবেন, তা অনিশ্চিত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১১:৪৫
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারাবন্দী ব্রিটিশ নারী উদ্যোক্তা কেরি এনওয়াচুকু। ছবি: সংগৃহীত
দুবাইয়ে ১৯ হাজার পাউন্ড বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায় কারাবন্দী ব্রিটিশ নারী উদ্যোক্তা

বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারাবন্দী হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী উদ্যোক্তা কেরি এনওয়াচুকু। দুইজন বাড়িওয়ালার প্রায় ১৯ হাজার পাউন্ড বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাঁর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি ইউএই ত্যাগ করতে পারছেন না।   লন্ডনের বাসিন্দা কেরি সথবিজ-এর মার্কেটিং ডিরেক্টরের চাকরি ছেড়ে তাঁর ২৫ বছর বয়সী ছেলে জন-কে নিয়ে ২০২২ সালের আগস্টে একটি মার্কেটিং এজেন্সি খোলার উদ্দেশ্যে দুবাই যান। তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ হাজার পাউন্ডের বেশি বকেয়া বিল না পাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তিনি এই ভাড়া অনাদায়ে পড়েন।   ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিকারী আদালতের (আরডিসি) দুই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তিনি নিজের ব্যবসায়িক লাইসেন্সও নবায়ন করতে পারেননি। গত ২২ এপ্রিল একটি শপিং মল থেকে তাঁকে আটক করে বার দুবাই পুলিশ স্টেশনে দুই সপ্তাহ রাখা হয় এবং পরবর্তীতে আল আবির সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়।   কারাগারে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কেরি বলেন, শুরুতে তাঁর কোনো ম্যাট্রেস ছিল না এবং তাঁকে খুনের মামলার আসামি ও মাদক বিক্রেতাদের সাথে একই সেলে রাখা হয়েছিল। টয়লেটের মেঝেতে অন্যের প্রস্রাব এড়াতে তিনি ৩ পাউন্ড খরচ করে এক জোড়া স্লিপার কেনেন।   কেরির ছেলের বারবার আবেদনের পর মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৩,০০০ পাউন্ড পরিশোধের পর ১৫ মাসের কিস্তি চুক্তিতে তিনি সাময়িক মুক্তি পান। তবে তিন সপ্তাহ পর বিচারক সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুরো অর্থ পরিশোধের জন্য মাত্র ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেন। সেই সময়সীমা পার হওয়ায় তিনি এখন যেকোনো মুহূর্তে আবারও গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, ৪,০০০ পাউন্ড সংগ্রহ করতে পারলে বিচারক হয়তো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করতে পারেন, তবে তাও নিশ্চিত নয়।   যুক্তরাজ্যে তাঁর বন্ধু ও পরিবার দৈনন্দিন খরচ ও ভাড়ার কিস্তি মেটাতে একটি 'গোফান্ডমি' পেজ চালু করেছে। কিন্তু কেরি জানিয়েছেন, দুবাইয়ে গোফান্ডমি কোনো অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম নয় এবং এটি ব্যবহারের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো সাজা বা নতুন করে কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাজ্যের নিজ বাড়িতে ফেরার আকুল অপেক্ষায় থাকা কেরি দুবাইয়ের চাকচিক্যের পেছনের কঠোর ও বিপজ্জনক আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১১:৩০
ইতালির রোমে একদল যুবকের হাতে রাস্তায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিন। ছবি: সংগৃহীত
ইতালির রোমে প্রবাসী যুবকদের মারধরের শিকার কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিন

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিন ইতালির রোমে একদল যুবকের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে রোমের তরপিনাতারা এলাকার একটি রাস্তায় এই মারধরের ঘটনা ঘটে। বনি আমিন সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে ইতালি সফরে গিয়েছিলেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।   সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বনি আমিনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। বনি নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পিছু ধাওয়া করে। পরবর্তীতে একটি পার্ক করা গাড়ির সামনে তাঁকে মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। ঘটনার দৃশ্য ধারণ করা ভিডিওতে হামলাকারীদের স্পষ্টভাবে বাংলায় কথা বলতে ও গালিগালাজ করতে শোনা যায়।   ভিডিওর কথোপকথনে হামলাকারীরা বনি আমিনকে লক্ষ্য করে 'মৌলবাদী' বলে চিৎকার করছিল এবং আক্রমণ চালানোর জন্য পরস্পরকে প্ররোচিত করছিল। রোমে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার কথা জানা গেলেও হামলার মূল কারণ ও জড়িতদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ঘটনা চলাকালে বনি আমিন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।   বনি আমিনের জন্ম নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপে হলেও তিনি স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বাস করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে ভিডিও ধারণ করে নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করাই তাঁর মূল পরিচিতি। সামাজিক মাধ্যমে বিশাল অনুসারি থাকা এই ইউটিউবার ভ্রমণের পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করে থাকেন।   ইতালির মতো বিদেশি শহরে একজন বাংলাদেশি প্রবাসী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ওপর এমন শারীরিক সহিংসতার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর প্রবাসী কমিউনিটিতে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্ট হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১১:১৫
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০