মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরান,ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছে। লেবানন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানী বৈরুতের একটি হোটেলে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি পক্ষ দাবি করেছে, ওই হামলায় তারা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর বিদেশি কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউনিট Quds Force–এর লেবানন শাখার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। সংঘাতের প্রভাব এখন ধীরে ধীরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। তেহরানে তেল সংরক্ষণাগার এলাকায় বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি Persian Gulf অঞ্চলের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমায় মিসাইল ও ড্রোনের উপস্থিতি শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। এদিকে কুয়েতে একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রতিহত করার সময় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: BBC।
ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার ও পরিশোধনাগার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান তেহরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায় বলে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে গত সপ্তাহে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার পর এই প্রথমবার তেহরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেল। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা তেহরানে ইরানের অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। এদিকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেএএনের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার ও রিফাইনারি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে। অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলার পর তেহরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরানের রিফাইনারিতে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের হাইফা রিফাইনারিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, ১৫০ জনের বেশি স্কুলছাত্রী এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি ইসরায়েলের একাধিক শহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে।
নরওয়ের রাজধানী অসলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকায় একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। বিস্ফোরণের কারণ কী এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত— এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নরওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। কিছু জায়গায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে অসলোতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার সঙ্গে এই আঞ্চলিক উত্তেজনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না— সে বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি অসলো পুলিশ।
পাকিস্তানে ২০২৩ সালের ৯ মে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের ৪৭ জন নেতা-কর্মীকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাওয়ালপিন্ডির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের বিচারক আমজাদ আলী শাহ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, দণ্ডিত নেতারা ওই সহিংসতার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতা ওমর আইয়ুব, জারতাজ গুল, মুরাদ সাইদ, শিবলি ফারাজ, শাহবাজ গিল এবং হাম্মাদ আজহারসহ আরও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন। এছাড়া কানওয়াল শোজাব, জুলফি বুখারি ও উসমান সাইদ বাসরাসহ অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতার নামও দণ্ডিতদের তালিকায় রয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, আসামিরা জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সের গেট, হামজা ক্যাম্প এবং আর্মি মিউজিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ২০২৩ সালের ৯ মে পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুরুতে ইমরান খান ও শাহ মাহমুদ কোরেশিসহ মোট ১১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে মামলার শুরু থেকেই পলাতক থাকা ৪৭ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় পৃথকভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে এই রায় দেওয়া হয়েছে।
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। দেশটির জুফায়র এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের কেশম এলাকায় একটি পানি সরবরাহ প্ল্যান্টে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ওই হামলার ফলে কেশম অঞ্চলের অন্তত ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এদিকে হামলার সময় বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক বার্তায় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যদিকে কাতার লক্ষ্য করে চালানো আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই হামলা প্রতিহত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের Dubai–এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ছোড়া মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় অনুযায়ী রোববার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর বরাতে জানা যায়, দুবাইয়ের বারশা এলাকায় একটি গাড়ির ওপর মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ে ওই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনার আগে Islamic Revolutionary Guard Corps দাবি করেছিল, দুবাইয়ের মারিনা এলাকায় অবস্থিত United States Central Command–এর একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরোধে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন সুপ্রিম লিডারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে যাচ্ছে Iran। দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর বরাতে জানা গেছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Fars News Agency জানিয়েছে যে, সুপ্রিম লিডার নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা Assembly of Experts (Iran) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। সংস্থাটির সদস্য হোসেন মোজাফারি বলেন, ঐশ্বরিক সহায়তা নিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ali Khamenei যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে খামেনির ছেলে Mojtaba Khamenei–এর নাম আলোচনায় এসেছে। তবে ইরান কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।
লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একটি বিশেষ কমান্ডো অভিযানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, নবী শিট (Nabi Sheet) এলাকায় অবতরণ করা ইসরায়েলি প্যারাট্রুপারদের তারা অ্যাম্বুশ বা অতর্কিত হামলার মাধ্যমে ঘিরে ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে ওই এলাকায় প্রচণ্ড লড়াইয়ের চিত্র দেখা গেলেও, কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন নবী শিট এলাকায় চারটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে এসে বিশেষ বাহিনী নামানোর চেষ্টা করে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের যোদ্ধারা আগে থেকেই ইসরায়েলি বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং সেনারা অবতরণ করা মাত্রই দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। কিছু অসমর্থিত সূত্র দাবি করছে, হিজবুল্লাহর হামলায় একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন প্যারাট্রুপারকে আটক বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এই অভিযানকে একটি "গোপন মিশন" হিসেবে বর্ণনা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দশক ধরে নিখোঁজ ইসরায়েলি নেভিগেটর রন আরাদ-এর দেহাবশেষ বা তথ্য সন্ধানে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছিল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই অভিযানের সময় এবং পরবর্তী বিমান হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে পুরো বেকা উপত্যকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে বড়সড় ধাক্কা খেল ওয়াশিংটন। ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকার শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’ (THAAD) পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শনিবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, যা পেন্টাগনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল এই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পালটা জবাব দিতে তেহরান যে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি শুরু করেছিল, তাতেই গুঁড়িয়ে যায় এই রাডার। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় ওয়াশিংটন দাবি করেছিল যে তারা ইরানের হামলা রুখে দিয়েছে, তবে সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মার্কিন গর্ব ‘থাড’-এর রাডারটি এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘থাড’ কেবল একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নয়, এটি আমেরিকার আকাশ নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি। এর বিশেষ ‘এন/টিপিওয়াই-২’ রাডার বহুদূর থেকে শত্রু মিসাইল শনাক্ত করতে পারে। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সিস্টেমটি ধ্বংস হওয়া মানে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার নজরদারির সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া। এক কথায়, এই অঞ্চলে মার্কিন সেনারা এখন কার্যত ‘অন্ধ’ হয়ে পড়েছে। ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিজের উপ-পরিচালক রায়ান ব্রবস্ট এই ঘটনাকে ইরানের ‘অন্যতম সফল সামরিক অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রশাসন এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে।
দখলকৃত ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে Iran। মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে এই নতুন হামলা চালানো হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর Israel–এর উত্তরাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নতুন হামলায় ইরান কতটি মিসাইল ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের হামলার তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The Times of Israel–এর বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার গভীর রাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে এই শোক প্রকাশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ক্রেমলিনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে পুতিন খামেনির মৃত্যুকে একটি "নৃশংস হত্যাকাণ্ড" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে কঠোর নিন্দা জানান। উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন তেহরানে বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। রুশ প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে খামেনিকে একজন 'অসামান্য রাষ্ট্রনায়ক' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, "রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।" খামেনির পাশাপাশি ওই হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের বিদেহী আত্মার প্রতিও সমবেদনা জানান পুতিন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুতিন স্পষ্ট জানান, সামরিক শক্তি দিয়ে কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংঘাত পরিহার করে কূটনৈতিক পথে ফেরার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে যাতে দ্রুত একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা যায়। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়ার এই অবস্থান ইরানের জনগণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যা বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এবার ইরাকের মসুল শহরের দক্ষিণে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (PMF)-এর একটি সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী বিমান হামলা চালানো হয়েছে। আজ শনিবার সংস্থাটির দুইজন নির্ভরযোগ্য সূত্র ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে (AFP) এই হামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পিএমএফ-এর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মসুল শহরের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত সাবেক এই আধাসামরিক জোটের ঘাঁটিতে আকস্মিক হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক আলামত এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তিনি একে 'সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও হামলার বিষয়ে পেন্টাগন বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস মূলত জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএল (ISIS) বিরোধী লড়াইয়ের জন্য গঠিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি শক্তিশালী জোট। পরবর্তীকালে একে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই জোটের মধ্যে বেশ কিছু শক্তিশালী উপদল রয়েছে, যাদেরকে ইরান সরাসরি সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় এই হামলা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক ঐতিহাসিক এবং সংকটময় মুহূর্তে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের লক্ষ্যে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী ও নীতি-নির্ধারক পর্ষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একটি জরুরি অধিবেশনে মিলিত হতে যাচ্ছে। পরিষদের অন্যতম সদস্য আয়াতুল্লাহ মোজাফারি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ডামাডোল ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি ইরানের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান নেতৃত্ব পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে কাকে বেছে নেবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৮৮ জন ধর্মীয় স্কলার ও বিশেষজ্ঞ সদস্য গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা নির্বাচন করবেন। পরিষদের এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষমতার উত্তরসূরি নিশ্চিত করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে চায়।
লন্ডনের রাজপথে উত্তাল জনস্রোত আর প্রতিবাদের মুখে দাঁড়িয়ে যুক্তরাজ্যের সাবেক লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন ব্রিটিশ সরকারকে এক চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ব্রিটেন যেন আবারও কোনো “অবৈধ যুদ্ধে” জড়িয়ে না পড়ে। লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে সমবেত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিবৃতিতে করবিন ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের স্মৃতি মনে করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও তাদের কথা কর্ণপাত করা হয়নি। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্বকে এক বিধ্বংসী পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। করবিন কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য অন্ধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে আসছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কেবল বিপর্যয়কর হস্তক্ষেপই ডেকে এনেছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা এখানে ভিন্ন কিছুর পক্ষে লড়াই করতে এসেছি—এমন এক পররাষ্ট্রনীতি যা হবে সহযোগিতা, সাম্য এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।" মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্যমতে, এদিন অন্তত ৫,০০০ মানুষ সেন্ট্রাল লন্ডনের রাস্তায় মিছিলে অংশ নেন। তাদের দাবি একটাই—ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে হবে।
ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের হামলায় অংশ না নিতে যুক্তরাজ্যকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত সাইয়েদ আলী মৌসাভি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্রিটেনের যেকোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না। সম্প্রতি ‘সানডে উইথ লরা কুইন্সবার্গ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মৌসাভি এই হুঁশিয়ারি দেন। সাক্ষাৎকারে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল— ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান যদি ইরানের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে, তবে সেগুলোকে ইরান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে কি না। এর জবাবে রাষ্ট্রদূত অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "নিজেদের রক্ষা করার ব্যাপারে আমাদের কোনো সংশয় নেই। আমরা আশা করি ব্রিটিশ সরকারসহ অন্যান্য পক্ষগুলো তাদের কর্মকাণ্ডের সংবেদনশীলতা বুঝতে পারবে এবং অত্যন্ত সতর্ক থাকবে।" সাক্ষাৎকারে মৌসাভি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্রিটেন এখন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আগ্রাসনে জড়ায়নি, যা একটি ইতিবাচক দিক। তিনি মন্তব্য করেন, ব্রিটিশ সরকার সম্ভবত ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং যেকোনো অবৈধ আগ্রাসনের পরিণতি সম্পর্কে তারা অবগত।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও রণংদেহী মূর্তিতে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে যে, তারা বাহরাইনের জুবায়ের এলাকায় অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে শক্তিশালী সলিড এবং লিকুইড ফুয়েলড (কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত) মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ইরানের এই আকস্মিক পদক্ষেপে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলাটি মূলত ইরানের কেশম (Qeshm) দ্বীপে অবস্থিত একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে (desalination plant) সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার সরাসরি প্রতিশোধ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানান, আমেরিকার ওই হামলায় ইরানের অন্তত ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, যা একটি মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। এদিকে, হামলার পরপরই বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে বিমান হামলার সাইরেন বাজার কথা নিশ্চিত করেছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি এই হামলা পরিস্থিতিকে সরাসরি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা গত রাতভর তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের ১৬টি বিমান ধ্বংস করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেহরাবাদ বিমানবন্দর সহ রাজধানীজুড়ে বড় আকারে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, কুদস ফোর্স বিমানবন্দরটি লেবাননের হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত। তবে এই দাবিগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষও এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। ইরান ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হয়েছে, ইসরাইলের ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিহত করার জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আরও কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের খারাপ আচরণের কারণে কিছু এলাকা ও গোষ্ঠী এখন সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিত মৃত্যুর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আগ্রাসনের মুখে তারা কখনও আত্মসমর্পণ করবেন না। সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার বিস্তারও আশঙ্কার কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
শুক্রবার ও শনিবার ইরান সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালায়। সৌদি আরবের আল-খার্জে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে আসা ছয়টি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ওপর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। শুক্রবার কাতারে ইরান থেকে ১০টি ড্রোন ছোড়া হয়, যার মধ্যে নয়টি ধ্বংস করা হয়েছে, একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনকে ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করেছে। আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং মার্কিন উপগ্রহ যোগাযোগ কেন্দ্র, রাডার ও সতর্কতা সিস্টেমে আঘাত করা হয়েছে। এই ঘটনায় কিছু ফ্লাইট স্থগিত ও আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। উত্তেজনাপূর্ণ এই হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন জনপ্রিয় ইরানি অভিনেত্রী এলনাজ নরোজি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানি পুলিশের হাতে নারী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। অভিনেত্রীর দাবি, ইরানে নারীদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এবং সেখানে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। জার্মান নাগরিকত্ব থাকায় এবং ভারতে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলনাজ নিজেকে কিছুটা নিরাপদ মনে করলেও, সাধারণ ইরানি নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তাকে অপরাধীদের মতো আচরণ সহ্য করতে হয়েছে। তার রেকর্ড রাখা থেকে শুরু করে ছবি তুলে রাখা—সবই ছিল এক ভীতিকর অভিজ্ঞতা। এলনাজের ভাষায়, "সেখানে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর রয়েছে এবং মহিলাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হয় না।" ইরানি সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু উদযাপন এবং শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলাকে অভিনেত্রী কোনো ঝুঁকি নয় বরং নিজের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করেন। নিজের আত্মীয়স্বজন ইরানে থাকলেও এবং নিজে সেখানে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি দমে যেতে রাজি নন। এলনাজ বিশ্বাস করেন, ঈশ্বর তাকে এমন এক অবস্থানে বসিয়েছেন যেখান থেকে তিনি নিপীড়িত নারীদের কণ্ঠস্বর হতে পারেন। তেহরানে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী বর্তমানে ভারতে ক্যারিয়ার গড়লেও নিজ জন্মভূমির নারীদের মুক্তির জন্য বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়াতে বদ্ধপরিকর। জেনে নিন এলনাজের পরিচয় এলনাজের জন্ম ইরানের তেহরানে। এরপর তিনি তার পরিবারের সাথে জার্মানিতে চলে যান। তারপর তিনি ভারতে ফিরে আসেন এবং একজন অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। তবে, এলনাজের অনেক আত্মীয় এখনও ইরানে থাকেন। তবে, এলনাজকে ইরানে যেতে দেওয়া হয় না। এলনাজ বলেন যে তিনি সেখানকার শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করেন, কিন্তু তাঁর দেশকে ভালোবাসেন।
শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন সামরিক অভিযানের ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল নয়াদিল্লি। ইরানি নৌযান 'আইআরআইএস লাভান'-কে ভারতের কোচি বন্দরে নোঙর করার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে মোদী সরকার। শনিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত বার্ষিক 'রাইসিনা ডায়ালগ' অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত বুধবার থেকে কেরালার কোচি বন্দরে অবস্থান করছে ইরানি এই নৌযানটি। একই দিনে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের অপর একটি ফ্রিগেট 'দেনা'-তে বিধ্বংসী হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যাতে অন্তত ৮৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়ের আবেদন জানানো হলে ভারত এই সিদ্ধান্ত নেয়। এস জয়শঙ্কর বলেন, "আইনি জটিলতা যাই থাক না কেন, আমরা স্রেফ মানবিকতার খাতিরে এই পদক্ষেপ নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি আমরা সঠিক কাজটিই করেছি।" তিনি আরও জানান, জাহাজগুলো এর আগে ভারতের নৌ মহড়ায় অংশ নিলেও বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তারা পরিস্থিতির ভুল দিকে আটকা পড়েছিল। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, ইরানি নৌবাহিনীকে নির্মূল করাই বর্তমানে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। এমন উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের এই 'মানবিক' অবস্থান বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত মাত্র এক সপ্তাহে জর্ডানের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান মোট ১১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে জর্ডান সশস্ত্র বাহিনী। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। জর্ডান সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান এই হামলায় ৬০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৯টি কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে জর্ডানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা মোকাবিলায় বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে। জর্ডান বিমান বাহিনী আকাশপথেই ১০৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া বাকি ১১টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন জর্ডানীয় আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আহতদের আঘাতের প্রকৃতি মূলত সামান্য, তবে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি থাকায় ইরান এই অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস