ক্যাম্পাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলন–২০২৬
স্মরণকালের প্রথম রাকসু, সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলন

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)-এ স্মরণকালে প্রথমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলন–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ সম্মেলন শুরু হয় এবং ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে শেষ হয়।   সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাকসু ও সিনেট প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজ নিজ হল ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। আলোচনায় আবাসিক সিট সংকট, হলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ইন্টারনেট সংযোগ, খাবারের মানোন্নয়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।   ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা এবং সমাধান নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব। তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সমস্যাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান দাবি করেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ব্যবস্থাপনা, প্রভোস্ট কাউন্সিলের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ইসমত আরা বেগম বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, 'প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়কের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিন মাস পরপর দায়িত্ব পরিবর্তন হওয়ায় কোনো বিষয় পুরোপুরি অনুধাবন করার আগেই দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বা বড় কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।'   হল সংসদের প্রতিনিধিদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ভিপি-জিএসরা যখন বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে হল সংসদের সভাপতির কাছে গেলে তাদের প্রভোস্ট কাউন্সিলে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অতীতে বিভিন্ন প্রশাসন ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে হল পরিচালনা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো হলে বিপুল পরিমাণ তহবিল, ধরা যাক ১০০ কোটি টাকা থাকার কথা বলা হলেও, সবসময় তার আশানুরূপ উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি।'   শিক্ষার্থীদের অবকাঠামোগত দাবি প্রসঙ্গে ইসমত আরা বেগম বলেন, 'অনেক শিক্ষার্থী নামাজ রুম ও লাইব্রেরি রুমের আকার ছোট হওয়া এবং জায়গা সংকুলানের অভিযোগ করেন। কিন্তু যেহেতু এগুলো নির্দিষ্ট স্থাপনার কাঠামোর মধ্যে অবস্থিত, তাই সরাসরি সম্প্রসারণ সবসময় সম্ভব নয়। তবে বিকল্প চিন্তার সুযোগ রয়েছে। বড় কক্ষকে ভাগ করে একাধিক ব্যবহারোপযোগী কক্ষ বা চেম্বার তৈরি করা যেতে পারে।'   সম্মেলনের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, 'রাকসু নির্বাচন ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ হয়েছে । রাকসুর উদ্দেশ্যে হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্বে তৈরি করা। রাকসুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তারা তাদের ন্যায্য অধিকারে আদায় করতে পারবে এবং নানা দাবি দাওয়া দিতে পারবে।  আজকের অনুষ্ঠানে রাকসু আমাদের যে গিফট দিয়েছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছবি ও জুলাই আন্দোলনের দৃশ্য দেওয়া আছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।   সম্মেলনে রাকসু'র সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘রাকসু, সিনেট হল সংসদ এর এইরকম সম্মেলন আগে হয়েছে কিনা জানিনা। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম এইরকম একটা সম্মেলন দেখতে। তবে এই সম্মেলনটা আমি নির্বাচনের এক মাস পরই করতে চেয়েছিলাম কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি৷ আমাদের কাজগুলো একটু দেরিতে হলেও হচ্ছে এজন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত৷'   তিনি আরও বলেন, 'আমরা ভাবি আমরা অনেক কিছু করে ফেলবো, কিন্তু সবার যদি সহযোগিতাপূর্ণ অবস্থান না থাকে তাহলে কোনোকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। এখানে প্রভোস্ট কাউন্সিল এর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এসেছে, আমি বলবো প্রভোস্ট কাউন্সিল ও প্রভোস্টদের তাদের সুন্দরভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত। আমি প্রভোস্টদের বলবো আপনাদের কাছে যে বাজেট আছে সেগুলো প্রকাশ করে দেন, এটা সবারই জানা দরকার।'   উপাচার্য বলেন, 'আমি এই কথাটা দ্বিতীয়বার শুনতে চাইনা যে রাকসুর সাথে হল সংসদের নেতৃবৃন্দের দূরত্ব তৈরি হয়ে আছে। এটা কোনো এক্সকিউজ ই হয়নে যে রাকসুর সময় হচ্ছে না হল সংসদ এর নেতৃবৃন্দের সাথে বসার। সকল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আহ্বান থাকবে মিলেমিশে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।'   উল্লেখ্য, রাকসু গঠনের প্রায় চার মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো রাকসু, সিনেট ও হল প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এমন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সংশ্লিষ্টরা এটিকে অংশগ্রহণমূলক ছাত্র নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সংলাপের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

তাবাস্সুম মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ফেসবুক কমেন্টের মন্তব্য নিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার ও ছাত্র অধিকার নেতার বাকবিতন্ডা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফেসবুকে একটি কমেন্টকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ঘটে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে রাকসু সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।   ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ তার নেতাদের সঙ্গে কার্যালয়ে এসে এই বিষয়টি নিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। মারুফ অভিযোগ করেছেন, কমেন্টে আম্মার প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, আম্মার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে নানা গালি দিয়ে নৈতিক স্খলনের প্রকাশ করেছেন। তারা রাকসুর সভাপতি ড. সলেহ হাসান নকিবের কাছে বিষয়টি জানাতে যাচ্ছেন।   সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছেন, ‘একটি কমেন্টকে টেনে যে বিষয়গুলো তৈরি হয়েছে, তা অনেকটা টাচ-করবিনা পলিটিক্সের মতো হয়ে গেছে। তারা মিডিয়া অ্যাটেনশনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছে।’   ঘটনার পূর্বপ্রেক্ষিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ রাকসু সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘রাকসু ফরজ কাজ বাদ দিয়ে নফল কাজে বেশি মনোযোগী। হবেই না বা কেন?’ এ পোস্টের কমেন্টে সালাহউদ্দিন আম্মার লিখেন, “চুলকানি শুরু মলমের নাম নুরু।”

তাবাস্সুম মার্চ ২, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
খামেনির শাহাদাত ও মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনে শিবিরের প্রতিবাদ

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাত এবং দেশটিতে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।   রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় ও আপসহীন কণ্ঠস্বর। তিনি আজীবন মজলুম মানুষের পক্ষে সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।   তারা বলেন, ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য তিনি ছিলেন এক দৃঢ় আশ্রয়স্থল। সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি তাকে হত্যার মাধ্যমে মূলত ন্যায়ের কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে চেয়েছে। তবে মাতৃভূমি রক্ষার সংগ্রামে শাহাদাত বরণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন—সত্যের সৈনিকরা কখনো মাথা নত করে না।   বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন, এই পরিকল্পিত আগ্রাসন তারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। শনিবার থেকে শুরু হওয়া আকস্মিক মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে তারা জানান, এসব হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সর্বোচ্চ নেতার পরিবারের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন।   বিশেষ করে, দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিরীহ শিশুশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ছে। এই নৃশংস হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন তারা।   নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে আমেরিকা ও ইসরাইল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে আধিপত্যবাদী আগ্রাসন চালাচ্ছে, তা বিশ্বশান্তিকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। ফিলিস্তিনে দীর্ঘদিনের নির্যাতন এবং ইরানের ওপর এই নগ্ন হামলা একই সূত্রে গাঁথা। আয়াতুল্লাহ খামেনি সবসময় এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁকে শহীদ করে জায়নবাদীরা মুসলিম উম্মাহর প্রতিরোধ ভাঙতে চাইলেও, এই রক্ত থেকেই নতুন করে অসংখ্য প্রতিবাদী কণ্ঠ জন্ম নেবে। তাই এই দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।   তারা আরও বলেন, শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক মানুষের হত্যা বিশ্বকে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্বশান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। একই সঙ্গে ইরানে চলমান নৃশংসতা ও বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।   বিবৃতির শেষাংশে নেতৃবৃন্দ এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং শহীদ খামেনিসহ সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
শাবিপ্রবিতে ছাত্রী হল সংলগ্ন টিলায় আগুন, ৬ নিরাপত্তাকর্মী আহত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাতেমা তুজ জাহরা হলের পাশের টিলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে এবং আগুন নেভাতে গিয়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। নিরাপত্তা শাখার সুপারভাইজার আজিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল প্রায় আড়াইটার দিকে ছাত্রী হলসংলগ্ন টিলায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে হলের নিরাপত্তাকর্মী, মালি ও ইলেক্ট্রিশিয়ানরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলে সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চূড়ান্তভাবে আগুন নেভায়।   শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হলসংলগ্ন টিলার প্রায় ২০০ শতক এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের তীব্র ধোঁয়া হলে প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নেন। এ সময় প্রশাসনের বিলম্বিত উপস্থিতি ও ফায়ার সার্ভিসের দেরিতে আসা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   টিম লিডার প্রীতম দাস জানান, টিলার পাশে আকাশমনি গাছের শুকনো পাতা জমে থাকায় সেখানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ বিড়ি বা সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ ফেলে যাওয়ায় আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তিনি আরও জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পানি ছিটানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।   আহত ছয়জনের মধ্যে গুরুতর আহত হলেন হলের ইলেক্ট্রিশিয়ান আজিজুল হক এবং গার্ডেনার রাকিব হোসাইন। ধোঁয়া শ্বাসনালিতে প্রবেশ করায় আজিজুল হক শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং বর্তমানে অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন। রাকিব হোসাইনও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। অন্য আহতরা হলেন নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জন দাস, লিমন দাস, সুমন আহমদ এবং ইলেক্ট্রিশিয়ান সেলিম মিয়া। তাঁদের কারও পা ছিটে গেছে, কারও হাত কেটে গেছে।   নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযোগ, হলে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ থাকায় সেগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। আজিজুর রহমান বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন, এতে অনেকেই আহত হয়েছেন। আমরা তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহনের দাবি জানাই। পাশাপাশি তাদের উৎসাহ দিতে সম্মানী বা পুরস্কারের ব্যবস্থা করা উচিত।”   ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমের কাছে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানো কর্মীদের পুরস্কৃত করা, তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ ও একটি জরুরি হটলাইন চালু করা।   এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গেও প্রশাসনের সহমত রয়েছে। তবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হল কর্তৃপক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো না হলে তা জানা সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষই বিস্তারিত বলতে পারবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫ (অষ্টম শ্রেণি) এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—দুই ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে।   বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।   অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।   শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও ২০২৬ সাল উল্লেখ করে ফলাফল জানতে পারবে। এছাড়া মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর ও সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে।   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাংলা (১০১), ইংরেজি (১০৭), গণিত (১০৯), বিজ্ঞান (১২৭) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০) বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাগুলো গত বছরের ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি গ্রহণ করা হয়।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
রাবিতে ইফতার মাহফিলের আয়োজন

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিসিডিসি) গ্যালারিতে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।   অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন মিশন। প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস, যা মানুষের কর্মজীবন ও জাতির উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মানুষের মানবসম্পদে রূপান্তর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।   বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, প্রেসক্লাবের আয়োজনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং রমজানের শিক্ষা নিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। প্রেসক্লাব সভাপতি মনির হোসেন মাহিন বলেন, রমজান মাস সততা, সংযম ও ন্যায়ের পথে অগ্রসর হওয়ার শিক্ষা দেয়, যা সারাবছর অনুসরণীয়।   অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন, রেজিস্ট্রার ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক আখতার হোসেন মজুমদার, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, রাকসু নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।   রাবি প্রতিনিধি: রাফসান আলম

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
শামীম হোসেন। ফাইল ছবি
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর আলোচিত ভিপি প্রার্থী শামীম হোসেন নিয়োগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আলোচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী (স্বতন্ত্র) শামীম হোসেন বেসরকারি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেছেন।   মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শামীম হোসেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কথা রেখেছি, শিক্ষকই হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ।’   শামীম হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। নির্বাচনে তিনি ৩ হাজার ৮৮৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। তবে ভোটের প্রচার-প্রচারণায় ব্যতিক্রমী বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতির কারণে সে সময় তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
‘ছোটভাই আর্গুমেন্ট বেশি করতেছো’ বলে ছাত্রনেতাকে পুলিশের মারধর

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ‘আর্গুমেন্ট’ করার অজুহাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতের এই ঘটনায় এক সংবাদকর্মীও পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।   যৌক্তিক প্রশ্নেই ক্ষিপ্ত পুলিশ: প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযানের সময় ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ নাঈম উদ্দিন পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন তোলেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। এ সময় ‘ছোটভাই আর্গুমেন্ট বেশি করতেছো’ বলে নাঈমকে এলোপাথাড়ি লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ডিসি মাসুদের সামনেই এই ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ সদস্যরা নাঈমের মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেয়।   হাসপাতালে সাংবাদিক: একই অভিযানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর আহত হয়েছেন ‘বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর’-এর মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট তোফায়েল আহমেদ (২৫)। আহত তোফায়েল জানান, তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং ৪-৫ জন কনস্টেবল মিলে তাঁকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। বর্তমানে তিনি ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।   ছাত্রনেতাদের প্রতিবাদ ও প্রশাসন নীরব: এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সভাপতি শিমুল কুম্ভকার ও ডাকসু সদস্য তাজিনুর রহমানসহ অনেকে এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তারা বলেন, “পুলিশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিচার করার অধিকার রাখে না। প্রশ্ন তোলায় গায়ে হাত দেওয়া ফৌজদারি অপরাধের শামিল।”   এদিকে, গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই ‘রহস্যজনক নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায়ে প্রক্টরিয়াল টিমের সমালোচনা করেছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মাদকমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, অভিযানের নামে নিরপরাধ নাগরিক ও সাংবাদিকদের ওপর এমন আক্রমণ নতুন বাংলাদেশের আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছাত্রশিবির
মসজিদে ঢুকে নামাজরত ছাত্রশিবির নেতাকে টেনে বের করে পিটিয়ে জখম

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নে পবিত্র তারাবির নামাজ চলাকালীন মসজিদের ভেতর থেকে এক ছাত্রশিবির নেতাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জমির মাঝির মসজিদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত যুবকের নাম জিহাদ (২০), যিনি বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত বলে জানা গেছে।   প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় জিহাদ মসজিদের ভেতরে ইবাদতে মগ্ন ছিলেন। এ সময় জাসিব, নিরব ও নাঈমসহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ মসজিদে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে যায়। মসজিদের আঙিনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক স্লোগান দিয়ে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে তাদের হুমকি দেয়, ফলে প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষ পিছু হটতে বাধ্য হন।   আহত জিহাদের সহকর্মীদের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে কাজ করা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিরোধের জেরে এই হামলাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে ইবাদতগাহের ভেতরে ঢুকে এমন হামলায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।   সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়েদ নূর জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধী যেই হোক তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
ছাত্রশিবিরের বর্ণাঢ্য র‍্যালি
পবিত্র মাহে রমাদানকে স্বাগত জানিয়ে রংপুর ছাত্রশিবিরের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

পবিত্র মাহে রমাদানকে স্বাগত জানিয়ে এবং দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও সামাজিক অশ্লীলতা বন্ধের দাবিতে রংপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রংপুর মহানগর শাখা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নগরীর লালবাগ থেকে শাপলা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এই কর্মসূচি পালিত হয়। র‍্যালিতে ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন, যেখানে রমাদানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জোর দাবি জানানো হয়।   র‍্যালি-পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও কল্যাণের মাস। তবে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। এই অশুভ সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। পাশাপাশি রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় মাসব্যাপী সব ধরনের অশ্লীলতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।   রংপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর সেক্রেটারি সাজ্জাদ হোসেনসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, রমজান যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে মানুষের প্রকৃত কল্যাণে ভরপুর হয়, সেই লক্ষ্যে ছাত্রশিবির সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাবে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এই বর্ণাঢ্য র‍্যালির সমাপ্তি ঘটে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
টানা ৩৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে কলেজ, ক্লাস শুরু ২৯ মার্চ
টানা ৩৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে কলেজ, ক্লাস শুরু ২৯ মার্চ

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি শুরু হয়েছে। এই টানা ছুটি শেষে আগামী ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, রমজান, ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ একত্রে সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৬ দিন কলেজ বন্ধ থাকবে। এরপর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক দিনের সরকারি ছুটি রয়েছে। পরবর্তী দুই দিন (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বিরতি আরও দীর্ঘ হবে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা ২৯ মার্চ, রোববার থেকে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরবে।   অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোকেশনাল স্কুল ও কলেজ, ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, বিএমটি কলেজ এবং অন্যান্য কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হবে ৮ মার্চ থেকে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানও পুনরায় শুরু হবে ২৯ মার্চ।   এ ছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৪ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১০ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।   বছরের শেষ দিকে শীতকালীন অবকাশ হিসেবে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ দিনের ছুটি থাকবে।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
(ডাকসু)-এর শীর্ষ দুই নেতা সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন সাদিক-ফরহাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন চলছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর বর্তমান শীর্ষ দুই নেতা ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ এবার সরাসরি মেয়রের লড়াইয়ে নামতে পারেন।   সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং ছাত্রশিবিরের একজন শীর্ষ নেতার বক্তব্যে এই সম্ভাবনার বিষয়টি জোরালো হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানিয়েছেন, "সাদিক কায়েম এবং এস এম ফরহাদকে নিয়ে ইতোমধ্যেই দলের ভেতর ও জোটের পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সব ঠিক থাকলে সাদিক কায়েম ঢাকা উত্তর এবং এস এম ফরহাদ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে লড়তে পারেন।" যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে এই দুই তরুণ ছাত্রনেতার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন এক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।   ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন ঘিরে আরও কিছু হেভিওয়েট ও আলোচিত নাম সামনে আসছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর নাম আলোচনায় থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা তিনি সংসদের উচ্চকক্ষে (সিনেট) মনোনিবেশ করার সম্ভাবনাই বেশি।   অন্যদিকে, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে সরকার গঠনের পর দলটি ঢাকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে শক্তিশালী প্রার্থী দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন এই সিটি নির্বাচনে ঘটবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী)। ছবি: ফেসবুক ওয়াল থেকে
হত্যার হুমকি ঢাবি শিক্ষক মোনামীর, ফাঁস করলেন একাধিক স্ক্রিনশট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)-কে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সাথে তিনি তাঁকে দেওয়া অসংখ্য হুমকিমূলক কলের বেশ কিছু স্ক্রিনশটও জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন।   শেহরীন আমিন তাঁর পোস্টে দাবি করেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই তিনি অনবরত প্রাণনাশের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার এই পর্যায়ে তিনি নবনির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সরাসরি মেনশন করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "প্রিয় তারেক রহমান। এটি কি আপনাদের সেই প্রতিশ্রুত নারীবান্ধব এবং নিরাপদ বাংলাদেশ?"   হুমকির মুখে দমে না গিয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, "সব মুসলমানকেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। আর আমি সেই ৩১ জুলাই ২০২৪ থেকেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি।" তাঁর এই সাহসী কিন্তু শঙ্কিত বার্তাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সচেতন মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করে।   উল্লেখ্য, এর আগেও শেহরীন আমিন মোনামি তাঁর ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে পোস্ট করা এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে একজন নারী শিক্ষকের ওপর এমন মানসিক ও মৌখিক আক্রমণ নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।   বর্তমানে এই ঘটনার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাঁর নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
লাল গোল বৃত্তে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন
‘রাজাকারের বাচ্চাদের ব্রাশফায়ার দিতে হবে’ বলা ঢাবির সেই শিক্ষকের এবার ধানমন্ডি-৩২ এ শ্রদ্ধা, হট্টগোল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিতর্কিত অধ্যাপক এবং আওয়ামী লীগপন্থি নীল দলের নেতা আ ক ম জামাল উদ্দীন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চরম জনরোষের শিকার হয়েছেন। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ৪-৫ জনের একটি ছোট দল নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে গেলে সেখানে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উত্তেজিত জনতা তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।   খবর পেয়ে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন ও তাঁর সঙ্গীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমণ্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না।   উল্লেখ্য, অধ্যাপক জামাল উদ্দীন জুলাই আন্দোলনের সময় থেকেই নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও মন্তব্যের জন্য পরিচিত। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেওয়া এবং তাঁদের ওপর ‘ব্রাশফায়ার’ করার উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি ২০২৪ সালের ১২ জুলাই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটাবিরোধীদের ‘আনফ্রেন্ড’ করার ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন।   এর আগেও গত ১১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের তীব্র ধাওয়ার মুখে পড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান করে যে ১০০০ জন আওয়ামীপন্থি শিক্ষক বিবৃতি দিয়েছিলেন, সেখানেও তাঁর নাম থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। আজকের এই ঘটনাকে সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
জাতীয় ছাত্রশক্তি
সারাদেশে বিএনপির হামলার প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির সংবাদ সম্মেলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই দেশব্যাপী রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ তুলে বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি দাবি করেছে, নতুন সরকার গঠনের আগেই বিএনপি দেশে ‘নতুন ফ্যাসিবাদের’ রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে।   সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম বিএনপি জনগণের রায়কে সম্মান জানাবে। কিন্তু তারা রেশ কাটতে না কাটতেই ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা শুরু করেছে। বিএনপি কোথায় কোথায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টেশন আমরা করছি। খুব শীঘ্রই দেশের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে এসব অপকর্মের তথ্যচিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।”   সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়া হয়। ছাত্রশক্তি দাবি করে, গত দেড় বছরে দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে প্রায় আড়াইশো নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং নির্বাচনের পর সেই ধারা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদাস্সির বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিজয় মিছিলের পরিবর্তে দোয়া মাহফিলের নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে— ঢাকায় হচ্ছে মিলাদ আর রংপুরে-পঞ্চগড়ে তৃণমূল পর্যায়ে চলছে ঘরবাড়ি দখল ও আগুন দেওয়ার রাজনীতি। ৫ আগস্টের পর মানুষ যখন শোকরানা নামাজ পড়ছিল, তখনও তারা জমি দখলে ব্যস্ত ছিল।”   সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, রংপুর, পঞ্চগড়, হাতিয়া, বাগেরহাট ও বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ চালানো হলেও বিএনপির হাইকমান্ড সম্পূর্ণ নীরব। এমনকি গণমাধ্যম এই হামলাগুলোকে ‘সংঘর্ষ’ হিসেবে প্রচার করে অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রনেতারা।   তাহমিদ আল মুদাস্সির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা জুলাই বিপ্লবের পর নতুন কোনো দানব দেখতে চাই না। বিএনপি হামলা চালানোর পরও একটি বিশেষ গোষ্ঠী তাদের আড়াল করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যদি এভাবে নাগরিকদের ওপর রক্তক্ষয়ী হামলা চলতে থাকে, তবে ছাত্র-জনতা আবারো শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”   সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেশের আগামীর স্থিতিশীলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
'পুরোনো ফ্যাসিবাদকে নতুন কোনো রূপে মেনে নেওয়া হবে না'

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দেশব্যাপী শুরু হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমনের চেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা তা মেনে নেবে না।   এস এম ফরহাদ তাঁর পোস্টে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ যেভাবে ফ্যাসিবাদের পথ বেছে নিয়েছিল, বর্তমান বিএনপির আচরণেও সেই একই ছায়া দেখা যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬-এর এই নির্বাচনে ৫৪ শতাংশ ভোট এবং ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপি এখনই ভিন্নমতের ওপর চড়াও হতে শুরু করেছে।   ডাকসু জিএস অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেশের শতাধিক স্থানে ভিন্নমতের ভোটারদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি একজনকে হত্যার খবরও পাওয়া গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলো আড়াল করতে সুপরিকল্পিতভাবে সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।   বিএনপিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ফরহাদ বলেন, “আওয়ামী লীগ ১৫ বছর সময় নিয়েছিল ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে, আপনারা কি তার চেয়েও কম সময় নেবেন? স্বাগতম এই পথে!” তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জুলাই বিপ্লবের উত্তরসূরিরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত। “এবার আবু সাঈদরাও প্রস্তুত আছে। জীবন দেবে, কিন্তু পুরনো ফ্যাসিবাদের কোনো নতুন রূপ এই জমিনে মেনে নেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ,” বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   নির্বাচন পরবর্তী এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ডাকসু জিএসের এমন কড়া অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ ছাত্র-জনতার মাঝে আবারও প্রতিরোধের মানসিকতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
আবু সাদিক কায়েম
বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হতে দিবো না - সাদিক কায়েম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংঘাত এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।   আবু সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে দাবি করেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা নৃশংস হামলা পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিন্নমতের অনুসারী শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।   তিনি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও জয়ী রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমরা আশা করি, নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ তাঁদের নির্বাচনী ক্ষেত্রসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করবেন। ভিন্নমতের সবার জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।"   হামলা বন্ধে প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কড়া সমালোচনা করে ভিপি সাদিক আরও বলেন, "একের পর এক হামলা চলতে থাকা এবং সাধারণ নাগরিকদের রক্ত ঝরানোর ঘটনাপ্রবাহে প্রশাসন কেন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এভাবে যদি অরাজকতা চলতে থাকে, তবে আমরা সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলব।"   বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, "জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদ ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হতে দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।" নির্বাচনের পর উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে সাহস সঞ্চার করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ফারিয়া মতিন ইলা
‘রাজাকার আলবদর কিছুই রবে নারে’ গানে উড়াধুরা নাচের আয়োজন ঢাবি শিক্ষার্থীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের শোচনীয় পরাজয়ের পর এক ব্যতিক্রমী উদযাপনে মেতে উঠেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী এবং গত ডাকসু নির্বাচনে বামপন্থী প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ থেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ফারিয়া মতিন ইলা এই ‘বিজয় ও প্রতিবাদী’ নাচের আয়োজন করেছেন।   শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘যুদ্ধাপরাধীদের জোটকে না বলুন’ শিরোনামে একটি ব্যানার পোস্ট করে তিনি এই ঘোষণা দেন। ইলা তাঁর অনুসারীদের ‘রাজাকার আলবদর কিছুই রবে নারে’ শীর্ষক গানের তালে ‘উড়াধুরা’ নাচতে বিকেল চারটায় টিএসসিতে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।   কর্মসূচির রুট ম্যাপ তুলে ধরে তিনি জানান, একটি সুসজ্জিত পিকআপ ভ্যানে গান বাজিয়ে নাচতে নাচতে তারা টিএসসি থেকে যাত্রা শুরু করবেন। এরপর জগন্নাথ হল প্রদক্ষিণ করে ভিসি চত্বর, হল পাড়া এবং মধুর ক্যান্টিন হয়ে শাহবাগ ঘুরে পুনরায় টিএসসিতে ফিরে আসবেন।   নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী এই রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে ইলা জানান, দেশের মানুষ ঘৃণাভরে সাম্প্রদায়িক ও যুদ্ধাপরাধী সংশ্লিষ্ট শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এই সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের আয়োজন। যদিও নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচি শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় তিনি পুনরায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বন্ধুদের দ্রুত আসার অনুরোধ জানান।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার এই ভিন্নধর্মী আয়োজনটি ইতোমধ্যেই নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে রাজনৈতিক ট্রল হিসেবে অভিহিত করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
রাবি ছাত্রদল সেক্রেটারি গণভোটে ‘না’, ব্যালট ফেসবুকে শেয়ার

রাবি প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘না’ ভোট দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সেক্রেটারি সর্দার জহুরুল ইসলাম।   সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) তিনি পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনের ভোটার হিসেবে গণভোটে ‘না’ সিল মারে এবং তার ব্যালট ফেসবুকে শেয়ার করেন।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরদার জহুরুল ইসলাম বলেন, “ভোট দেওয়া তো স্বাধীনতা। যার যেটা ভালো লাগবে সে সেটায় ভোট দেবে। এখানে বাকস্বাধীনতা থাকতে হবে। আমার ‘না’ ভালো লাগছে, তাই ‘না’ দিয়েছি।”

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে বিসিবির ২ কোটি টাকার অনুদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের আধুনিকায়ন ও ক্রিকেট মাঠের অবকাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর পক্ষ থেকে ২ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।   এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, পিএইচডি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।   ডাকসু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র ও ক্রিকেট গ্রাউন্ডকে একটি আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্রীড়া কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
রাবিতে অ্যাডহক ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অ্যাডহক ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।   সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তিনটি সংগঠন জিয়া পরিষদ, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম এবং ইউট্যাব।   সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষের নিয়োগের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়াও এই স্বল্প সময়ে বিজ্ঞাপন ছাড়া এত অধিকসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।   এছাড়াও তারা, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অভিভাবক হিসেবে এই নিয়ম বহির্ভূত অবৈধ নিয়োগ বন্ধে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ হবে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে। নিয়োগের জন্য ওপেন সার্কুলার দেওয়া হবে, সবাই আবেদন করবেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পাবেন—এটাই আমাদের কাম্য। কিন্তু সেটি না হয়ে যদি রাতের আঁধারে নিয়োগ হয়, সেটি হবে জুলাই আন্দোলনে নিহত হওয়া প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর রক্তের সঙ্গে বেইমানির সামিল। বর্তমান প্রশাসন জুলাইয়ের ফসল এটা তাদের ভুললে চলবে না।'     জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, 'আমাদের শিক্ষার্থীরা জুলাই আন্দোলন করেছিল দেশ থেকে বৈষম্য দূর করার জন্য, কিন্তু রাবিতে সেই বৈষম্য রয়েই গেছে। সম্প্রতি রাবিতে অ্যাডহকে ডাক্তার ও কর্মকর্তা নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু যদি সার্কুলার দিয়ে এই নিয়োগ হতো, তাহলে যোগ্য প্রার্থীরা এখানে সুযোগ পেতেন। এই বৈষম্যের ফলে আজ আমরা ইউজিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি।'   এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দিন বলেন, নিয়োগ নিয়ে তারা অভিযোগ করতেই পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগে অনিয়ম করেছে এমন তথ্য-প্রমাণ নিয়ে তারা আমাদের কাছে আসুক। নিয়ম মেনেই আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। জনবল সংকট থাকায় কয়েকটি পদে আমরা অ্যাডহক নিয়োগ দিয়েছি। বর্তমান প্রশাসন মেধাবীদের বাছাই করে নিয়োগ দিয়েছে বলে জানান তিনি।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আন্তর্জাতিক

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১, ২০২৬ 0