ক্যাম্পাস

(ডাকসু)-এর শীর্ষ দুই নেতা সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন সাদিক-ফরহাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন চলছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর বর্তমান শীর্ষ দুই নেতা ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ এবার সরাসরি মেয়রের লড়াইয়ে নামতে পারেন।   সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং ছাত্রশিবিরের একজন শীর্ষ নেতার বক্তব্যে এই সম্ভাবনার বিষয়টি জোরালো হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানিয়েছেন, "সাদিক কায়েম এবং এস এম ফরহাদকে নিয়ে ইতোমধ্যেই দলের ভেতর ও জোটের পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সব ঠিক থাকলে সাদিক কায়েম ঢাকা উত্তর এবং এস এম ফরহাদ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে লড়তে পারেন।" যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে এই দুই তরুণ ছাত্রনেতার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন এক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।   ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন ঘিরে আরও কিছু হেভিওয়েট ও আলোচিত নাম সামনে আসছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর নাম আলোচনায় থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা তিনি সংসদের উচ্চকক্ষে (সিনেট) মনোনিবেশ করার সম্ভাবনাই বেশি।   অন্যদিকে, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে সরকার গঠনের পর দলটি ঢাকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে শক্তিশালী প্রার্থী দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন এই সিটি নির্বাচনে ঘটবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী)। ছবি: ফেসবুক ওয়াল থেকে
হত্যার হুমকি ঢাবি শিক্ষক মোনামীর, ফাঁস করলেন একাধিক স্ক্রিনশট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)-কে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সাথে তিনি তাঁকে দেওয়া অসংখ্য হুমকিমূলক কলের বেশ কিছু স্ক্রিনশটও জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন।   শেহরীন আমিন তাঁর পোস্টে দাবি করেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই তিনি অনবরত প্রাণনাশের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার এই পর্যায়ে তিনি নবনির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সরাসরি মেনশন করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "প্রিয় তারেক রহমান। এটি কি আপনাদের সেই প্রতিশ্রুত নারীবান্ধব এবং নিরাপদ বাংলাদেশ?"   হুমকির মুখে দমে না গিয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, "সব মুসলমানকেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। আর আমি সেই ৩১ জুলাই ২০২৪ থেকেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি।" তাঁর এই সাহসী কিন্তু শঙ্কিত বার্তাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সচেতন মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করে।   উল্লেখ্য, এর আগেও শেহরীন আমিন মোনামি তাঁর ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে পোস্ট করা এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে একজন নারী শিক্ষকের ওপর এমন মানসিক ও মৌখিক আক্রমণ নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।   বর্তমানে এই ঘটনার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাঁর নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
লাল গোল বৃত্তে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন
‘রাজাকারের বাচ্চাদের ব্রাশফায়ার দিতে হবে’ বলা ঢাবির সেই শিক্ষকের এবার ধানমন্ডি-৩২ এ শ্রদ্ধা, হট্টগোল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিতর্কিত অধ্যাপক এবং আওয়ামী লীগপন্থি নীল দলের নেতা আ ক ম জামাল উদ্দীন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চরম জনরোষের শিকার হয়েছেন। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ৪-৫ জনের একটি ছোট দল নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে গেলে সেখানে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উত্তেজিত জনতা তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।   খবর পেয়ে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন ও তাঁর সঙ্গীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমণ্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না।   উল্লেখ্য, অধ্যাপক জামাল উদ্দীন জুলাই আন্দোলনের সময় থেকেই নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও মন্তব্যের জন্য পরিচিত। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেওয়া এবং তাঁদের ওপর ‘ব্রাশফায়ার’ করার উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি ২০২৪ সালের ১২ জুলাই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটাবিরোধীদের ‘আনফ্রেন্ড’ করার ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন।   এর আগেও গত ১১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের তীব্র ধাওয়ার মুখে পড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান করে যে ১০০০ জন আওয়ামীপন্থি শিক্ষক বিবৃতি দিয়েছিলেন, সেখানেও তাঁর নাম থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। আজকের এই ঘটনাকে সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
জাতীয় ছাত্রশক্তি
সারাদেশে বিএনপির হামলার প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির সংবাদ সম্মেলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই দেশব্যাপী রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ তুলে বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি দাবি করেছে, নতুন সরকার গঠনের আগেই বিএনপি দেশে ‘নতুন ফ্যাসিবাদের’ রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে।   সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম বিএনপি জনগণের রায়কে সম্মান জানাবে। কিন্তু তারা রেশ কাটতে না কাটতেই ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা শুরু করেছে। বিএনপি কোথায় কোথায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টেশন আমরা করছি। খুব শীঘ্রই দেশের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে এসব অপকর্মের তথ্যচিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।”   সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়া হয়। ছাত্রশক্তি দাবি করে, গত দেড় বছরে দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে প্রায় আড়াইশো নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং নির্বাচনের পর সেই ধারা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদাস্সির বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিজয় মিছিলের পরিবর্তে দোয়া মাহফিলের নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে— ঢাকায় হচ্ছে মিলাদ আর রংপুরে-পঞ্চগড়ে তৃণমূল পর্যায়ে চলছে ঘরবাড়ি দখল ও আগুন দেওয়ার রাজনীতি। ৫ আগস্টের পর মানুষ যখন শোকরানা নামাজ পড়ছিল, তখনও তারা জমি দখলে ব্যস্ত ছিল।”   সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, রংপুর, পঞ্চগড়, হাতিয়া, বাগেরহাট ও বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ চালানো হলেও বিএনপির হাইকমান্ড সম্পূর্ণ নীরব। এমনকি গণমাধ্যম এই হামলাগুলোকে ‘সংঘর্ষ’ হিসেবে প্রচার করে অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রনেতারা।   তাহমিদ আল মুদাস্সির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা জুলাই বিপ্লবের পর নতুন কোনো দানব দেখতে চাই না। বিএনপি হামলা চালানোর পরও একটি বিশেষ গোষ্ঠী তাদের আড়াল করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যদি এভাবে নাগরিকদের ওপর রক্তক্ষয়ী হামলা চলতে থাকে, তবে ছাত্র-জনতা আবারো শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”   সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেশের আগামীর স্থিতিশীলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
'পুরোনো ফ্যাসিবাদকে নতুন কোনো রূপে মেনে নেওয়া হবে না'

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দেশব্যাপী শুরু হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমনের চেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা তা মেনে নেবে না।   এস এম ফরহাদ তাঁর পোস্টে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ যেভাবে ফ্যাসিবাদের পথ বেছে নিয়েছিল, বর্তমান বিএনপির আচরণেও সেই একই ছায়া দেখা যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬-এর এই নির্বাচনে ৫৪ শতাংশ ভোট এবং ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপি এখনই ভিন্নমতের ওপর চড়াও হতে শুরু করেছে।   ডাকসু জিএস অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেশের শতাধিক স্থানে ভিন্নমতের ভোটারদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি একজনকে হত্যার খবরও পাওয়া গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলো আড়াল করতে সুপরিকল্পিতভাবে সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।   বিএনপিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ফরহাদ বলেন, “আওয়ামী লীগ ১৫ বছর সময় নিয়েছিল ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে, আপনারা কি তার চেয়েও কম সময় নেবেন? স্বাগতম এই পথে!” তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জুলাই বিপ্লবের উত্তরসূরিরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত। “এবার আবু সাঈদরাও প্রস্তুত আছে। জীবন দেবে, কিন্তু পুরনো ফ্যাসিবাদের কোনো নতুন রূপ এই জমিনে মেনে নেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ,” বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   নির্বাচন পরবর্তী এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ডাকসু জিএসের এমন কড়া অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ ছাত্র-জনতার মাঝে আবারও প্রতিরোধের মানসিকতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
আবু সাদিক কায়েম
বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হতে দিবো না - সাদিক কায়েম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংঘাত এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।   আবু সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে দাবি করেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা নৃশংস হামলা পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিন্নমতের অনুসারী শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।   তিনি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও জয়ী রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমরা আশা করি, নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ তাঁদের নির্বাচনী ক্ষেত্রসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করবেন। ভিন্নমতের সবার জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।"   হামলা বন্ধে প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কড়া সমালোচনা করে ভিপি সাদিক আরও বলেন, "একের পর এক হামলা চলতে থাকা এবং সাধারণ নাগরিকদের রক্ত ঝরানোর ঘটনাপ্রবাহে প্রশাসন কেন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এভাবে যদি অরাজকতা চলতে থাকে, তবে আমরা সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলব।"   বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, "জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদ ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হতে দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।" নির্বাচনের পর উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে সাহস সঞ্চার করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ফারিয়া মতিন ইলা
‘রাজাকার আলবদর কিছুই রবে নারে’ গানে উড়াধুরা নাচের আয়োজন ঢাবি শিক্ষার্থীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের শোচনীয় পরাজয়ের পর এক ব্যতিক্রমী উদযাপনে মেতে উঠেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী এবং গত ডাকসু নির্বাচনে বামপন্থী প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ থেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ফারিয়া মতিন ইলা এই ‘বিজয় ও প্রতিবাদী’ নাচের আয়োজন করেছেন।   শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘যুদ্ধাপরাধীদের জোটকে না বলুন’ শিরোনামে একটি ব্যানার পোস্ট করে তিনি এই ঘোষণা দেন। ইলা তাঁর অনুসারীদের ‘রাজাকার আলবদর কিছুই রবে নারে’ শীর্ষক গানের তালে ‘উড়াধুরা’ নাচতে বিকেল চারটায় টিএসসিতে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।   কর্মসূচির রুট ম্যাপ তুলে ধরে তিনি জানান, একটি সুসজ্জিত পিকআপ ভ্যানে গান বাজিয়ে নাচতে নাচতে তারা টিএসসি থেকে যাত্রা শুরু করবেন। এরপর জগন্নাথ হল প্রদক্ষিণ করে ভিসি চত্বর, হল পাড়া এবং মধুর ক্যান্টিন হয়ে শাহবাগ ঘুরে পুনরায় টিএসসিতে ফিরে আসবেন।   নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী এই রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে ইলা জানান, দেশের মানুষ ঘৃণাভরে সাম্প্রদায়িক ও যুদ্ধাপরাধী সংশ্লিষ্ট শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এই সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের আয়োজন। যদিও নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচি শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় তিনি পুনরায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বন্ধুদের দ্রুত আসার অনুরোধ জানান।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার এই ভিন্নধর্মী আয়োজনটি ইতোমধ্যেই নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে রাজনৈতিক ট্রল হিসেবে অভিহিত করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
রাবি ছাত্রদল সেক্রেটারি গণভোটে ‘না’, ব্যালট ফেসবুকে শেয়ার

রাবি প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘না’ ভোট দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সেক্রেটারি সর্দার জহুরুল ইসলাম।   সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) তিনি পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনের ভোটার হিসেবে গণভোটে ‘না’ সিল মারে এবং তার ব্যালট ফেসবুকে শেয়ার করেন।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরদার জহুরুল ইসলাম বলেন, “ভোট দেওয়া তো স্বাধীনতা। যার যেটা ভালো লাগবে সে সেটায় ভোট দেবে। এখানে বাকস্বাধীনতা থাকতে হবে। আমার ‘না’ ভালো লাগছে, তাই ‘না’ দিয়েছি।”

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে বিসিবির ২ কোটি টাকার অনুদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের আধুনিকায়ন ও ক্রিকেট মাঠের অবকাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর পক্ষ থেকে ২ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।   এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, পিএইচডি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।   ডাকসু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র ও ক্রিকেট গ্রাউন্ডকে একটি আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্রীড়া কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
রাবিতে অ্যাডহক ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অ্যাডহক ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।   সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তিনটি সংগঠন জিয়া পরিষদ, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম এবং ইউট্যাব।   সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষের নিয়োগের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়াও এই স্বল্প সময়ে বিজ্ঞাপন ছাড়া এত অধিকসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।   এছাড়াও তারা, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অভিভাবক হিসেবে এই নিয়ম বহির্ভূত অবৈধ নিয়োগ বন্ধে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ হবে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে। নিয়োগের জন্য ওপেন সার্কুলার দেওয়া হবে, সবাই আবেদন করবেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পাবেন—এটাই আমাদের কাম্য। কিন্তু সেটি না হয়ে যদি রাতের আঁধারে নিয়োগ হয়, সেটি হবে জুলাই আন্দোলনে নিহত হওয়া প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর রক্তের সঙ্গে বেইমানির সামিল। বর্তমান প্রশাসন জুলাইয়ের ফসল এটা তাদের ভুললে চলবে না।'     জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, 'আমাদের শিক্ষার্থীরা জুলাই আন্দোলন করেছিল দেশ থেকে বৈষম্য দূর করার জন্য, কিন্তু রাবিতে সেই বৈষম্য রয়েই গেছে। সম্প্রতি রাবিতে অ্যাডহকে ডাক্তার ও কর্মকর্তা নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু যদি সার্কুলার দিয়ে এই নিয়োগ হতো, তাহলে যোগ্য প্রার্থীরা এখানে সুযোগ পেতেন। এই বৈষম্যের ফলে আজ আমরা ইউজিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি।'   এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দিন বলেন, নিয়োগ নিয়ে তারা অভিযোগ করতেই পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগে অনিয়ম করেছে এমন তথ্য-প্রমাণ নিয়ে তারা আমাদের কাছে আসুক। নিয়ম মেনেই আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। জনবল সংকট থাকায় কয়েকটি পদে আমরা অ্যাডহক নিয়োগ দিয়েছি। বর্তমান প্রশাসন মেধাবীদের বাছাই করে নিয়োগ দিয়েছে বলে জানান তিনি।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্পমুখী করতে রাবিতে প্রথম ‘ইনকিউবেশন হাব’ চালু

রাবি প্রতিনিধি: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে শিল্পমুখী করে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ‘ইনকিউবেশন হাব’। বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের মলিকুলার বায়োলজি অ্যান্ড প্রোটিন সায়েন্স ল্যাবরেটরি (MBPSL)-এর উদ্যোগে এই ইনকিউবেশন হাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।   আজ শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে ইনকিউবেশন হাবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব ও মলিকুলার বায়োলজি অ্যান্ড প্রোটিন সায়েন্স ল্যাবরেটরি ইনকিউবেশন হাবের মূখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা।   ইনকিউবেশন হাব নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের জন্য একটি সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এখানে নতুন ব্যবসায়িক ধারণাগুলো ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ পাবে এবং টেকসই প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে ইনকিউবেশন হাবের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।   উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে মার্কেটের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে এই ইনকিউবেশন হাব একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। রাবিতে প্রফেসর আবু রেজার নেতৃত্বে এই ল্যাবের যাত্রা শুরু হলো। আমরা আশা করছি, এই ল্যাব দেখে এক বছরের মধ্যে আরও অনেক ল্যাব তাদের কাজ শুরু করবে। ল্যাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।   ইনকিউবেশন হাবের মূখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগুলোকে শিল্পমুখী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হয় না, সেগুলো দেশেই উৎপাদন ও বাজারজাত করাই তাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাবে, তেমনি একটি কোম্পানি কীভাবে গড়ে তুলতে হয় সে সম্পর্কেও বাস্তব ধারণা লাভ করবে।   তিনি আরও বলেন, বায়োটেকনোলজির যেসব পণ্য বাংলাদেশের শত শত ল্যাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার প্রায় সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা। অথচ এসব পণ্য দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে ৮টি পণ্য তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব গবেষণাকে ইনকিউবেশন হাবে উন্নয়ন করা হবে। পরবর্তীতে কোম্পানিগুলো ফান্ডিং করলে সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা হবে।   তিনি জানান, গবেষণাগারগুলোকে টেকসই করার ক্ষেত্রে ইনকিউবেশন হাব একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও মূলত সার্টিফিকেটনির্ভর। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের মেধা কাজে লাগিয়ে দেশেই বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন সম্ভব।   তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনকিউবেশন হাবে উৎপাদিত পণ্যগুলো প্রথম পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগে বিনামূল্যে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার, আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন ও অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল হক, ইনকিউবেশন হাব'র সহযোগী গবেষক ড. খন্দকার মো. খালিদ-বিন-ফেরদৌস, ইনভেন্ট টেকনোলজি লিমিটেড-এর ব্যবস্থপণা পরিচালক মো. রেজাউল হালিম ও মহাব্যবস্থাপক শেখ মো. সেলিম আল-দিন সহ অন্যান্যরা।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
সহপাঠীর মৃত্যুর মামলা করতে গিয়ে গ্রেফতার বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র

রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান সহপাঠীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার মামলা করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে শিক্ষা জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৫ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে পুঠিয়া উপজেলার রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পোল্লাপুকুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে শান্ত ইসলাম নামের শিক্ষার্থী নিহত হন। আহতদের মধ্যে আরও দুজন মারা যান।   দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ও সাধারণ জনতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিক্ষার্থীরা লাশ সুরক্ষিত স্থানে স্থানান্তর করেন। সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।   বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে মামলার জন্য বেলপুকুর থানায় গেলে, হাসানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিশ্বাস করে, মানবিক ও ন্যায্য দৃষ্টিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করলে সমাধান সম্ভব।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়েছে, হাসানুর রহমানকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে শিক্ষা জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।   মোঃ গোলাম কিবরিয়া  রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি 

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত অতিথি ওশিক্ষার্থীরা
চবিতে অর্থনৈতিক বৈষম্যমুলকও নীতিগত সংকট নিয়ে সেমিনার

অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল জিডিপি বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এপ্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোই প্রকৃত উন্নয়নের শর্ত। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল জিডিপি বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এপ্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোই প্রকৃত উন্নয়নের শর্ত। অথচ বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও আয়, সম্পদওসুযোগের বৈষম্য ক্রমেই বেড়েছে। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সংকট, ন্যায়বিচারের দুর্বলতা, অর্থনীতিতে লিকেজ মডেলের বিস্তার এবং নীতিগত অকার্যকারিতার কারণে প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে প্রত্যাশিতভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগও বেসরকারি গবেষণাকারী সংস্থা পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টার (পিটিইআরসি) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলোচকরা। সেমিনার অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্তও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি মানে শুধু জিডিপি বাড়ানো নয় বরং সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণীর মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টিত হচ্ছে কিনা সেটিই মুখ্য বিষয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি গত কয়েক দশকে গড়ে৫-৬শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রত্যাশিত প্রভাব পড়েনি। আয়বৈষম্যের সূচক বর্তমানে প্রায় দশমিক ৫-এর কাছাকাছি,যা উচ্চ বৈষম্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত। দেশের১০ শতাংশ মানুষ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণে রাখছে,যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। তিনি আরো বলেন,খেলাপি ঋণ,অর্থ পাচার ওদুর্নীতির কারণে অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।এ অর্থ মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সম্পদ যা একটি প্রভাবশালী শ্রেণী আত্মসাৎ করছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলোকে একটি,মেঘাচ্ছন্ন অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে বহন করতে হবে। সমতা নয় বরং ন্যায়সংগত বণ্টন, সুশাসনও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব বলে আমি মনে করি।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন বলেন,উন্নয়ন মানে কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়।জিডিপির আকার বড় হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়,—এমন ধারণা থেকে বিশ্ব অনেকআগেই সরে এসেছে। উন্নয়ন চিন্তায় ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে। ইনক্লুসিভ গ্রোথ মূলত নীতিনির্ভর ধারণা,যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব গোষ্ঠীর মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টন হচ্ছে কিনা সেটি গুরুত্বপূর্ণ। অমর্ত্য সেনের ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষতাও সমবণ্টনের ভারসাম্য। এই ভারসাম্য আনতে প্রগ্রেসিভ ট্যাক্সেশন একটি কার্যকর নীতি হাতিয়ার। যার মাধ্যমে ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর নিয়ে দরিদ্রদের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।একর রাজস্বের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মানবসম্পদ উন্নয়ন,শিক্ষা, প্রশিক্ষণওস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ। একই সঙ্গে গ্রাম ওশহরের মধ্যে অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করা, অর্থনীতির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল এমপাওয়ারমেন্ট নিশ্চিত করাও ইনক্লুসিভও টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত।, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জিডিপি বৃদ্ধি হলেও যদি তার সুফল সমানভাবে বণ্টিত না হয়, তবে প্রবৃদ্ধি অসম হয়ে পড়ে। বাস্তবে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভূমি, শ্রম, পুঁজিও উদ্যোক্তার অবদান সমান নয়,কারো আয় বেশি আবার কারো কম। ফলে সবাই সমানভাবে প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে পারে না।’ পিটিইআরসির চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন,গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও বাস্তবতায় আয়, ভোগ ও সম্পদবৈষম্য বেড়েছে। বৈষম্যের সূচক দশমিক৫-এ পৌঁছানো তারই প্রমাণ।জাতীয় সম্পদের বড় অংশ সীমিত জনগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার মূল কারণ হলো অর্থনীতিতে লিকেজ বা নিঃসরণ মডেলের বিস্তার। রাষ্ট্রীয় সম্পদ অনৈতিকভাবে ব্যক্তি খাতে প্রবাহিত হয়ে বিদেশে পাচার হচ্ছে, ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কল্যাণে রূপ নিচ্ছে না। বাজেটও নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতার ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাজেট ট্রান্সপারেন্সি কম,বাজেটও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হার প্রত্যাশার নিচে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে না পৌঁছানোয় দারিদ্র্য হ্রাস কার্যকর হচ্ছে না।দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়লেও ধনীদের ক্ষেত্রে কর ছাড় অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব ওমুদ্রানীতির সমন্বয়হীনতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। সুশাসনের ঘাটতি, দুর্নীতিও দুর্বল তথ্য ব্যবস্থাপনাএ সংকটকে আরো গভীর করেছে।’ সমাপনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যানও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন,‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট নতুন বিষয় নয়, তবে নতুন রিসোর্স পারসন ওনতুন ভাবনা জানার জন্য এ সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। দেশে সমস্যার অভাব নেই,,নীতিগত সমাধানও আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এর মূল কারণ দুটি,এক. অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশের অভাব এবং ২. ন্যায়বিচারের দুর্বলতা। রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া বিচার নিশ্চিত করা যায় না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যখন সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়,তখন লিকেজ মডেল তৈরি হয় এবং বিচার ব্যবস্থা প্রভাবিত হয়।এ দুই জায়গায় সংস্কার ছাড়া নীতির সুফল আসবে না।’ সেমিনারের শেষে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে আলোচকরা বলেন, ‘বাংলাদেশে দেশীয়ও বিদেশী বিনিয়োগ কম আসার প্রধান কারণ নীতিগত অস্থিতিশীলতা, দুর্বল দেশীয় রেটিং,দক্ষ শ্রমশক্তির ঘাটতি এবং বাজার বৈচিত্র্যের অভাব। বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদিও স্থিতিশীল নীতি, দক্ষ মানবসম্পদ, আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বহুমুখী উৎপাদন কাঠামো জরুরি। গ্রামীণ অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাহিম শাহারিয়ারের উপস্থাপনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সাল, প্রভাষক কাজী মান্না ইয়াসমিন, ফারহানা ইয়াসমিন, মুবাসিরা চৌধুরী নাবিলা, যোগাযোগও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শহিদুল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকও শিক্ষার্থীরা। সেমিনারে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে অর্থনৈতিক গবেষণা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।এসব প্রস্তাবনার মধ্য থেকে তসলিমা জান্নাত,ওসমান ফারুকওসুমাইয়া তাবাসসুমের গবেষণা প্রস্তাবনাকে পুরস্কৃত করে পিটিইআরসি। পাশাপাশি গবেষণা প্রস্তাবনা উপস্থাপনকারী আরো পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সংস্থাটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
রাবিতে ফ্যাসিস্টগুলাকে সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে: সালাহউদ্দিন আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘গণভোট-২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ উত্তর অঞ্চলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬১ জন শিক্ষককে 'ফ্যাসিস্ট' আখ্যা দিয়ে তাদের নাম প্রকাশ করেন।   সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজনে গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।    সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাবি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), পুন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২১টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা। তার বক্তব্যের পরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। পরে তিনি কিছু কাগজ হাতে মঞ্চের সামনে এসে সঞ্চালনাকারী রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদের নিকট বক্তব্য দেওয়ার জন্য এক মিনিট সময় চেয়ে অনুরোধ জানান। তবে সঞ্চালক তার অনুরোধ ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অনুরোধ জানান এবং উপাচার্য তাকে কথা বলার অনুমতি দেন।    সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, 'এখানে এমনও মানুষ বসে আছে যারা জুলাইয়ে নীরব ছিল। এখানে এমনও মানুষ বসে আছে যারা আমাদের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন ন্যারেটিভ উৎপাদন করেছে। এর মধ্যে পুন্ড্র ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আছে।'   বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আম্মারকে উদ্দেশ্য করে 'অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে আম্মার' বললে প্রতিউত্তরে আম্মার বলেন, 'অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য্য তো তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টগুলাকে সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে ১৬১ জন শিক্ষকের নাম আছে। এটা আমাকে বলতে দিতে হবে। না হলে জুলাই আহত ও শহীদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যাইতে হবে।' এরপর তিনি মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষে একই মঞ্চে একটি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন।   সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই ১৬১ শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেন এবং জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে তাদের বিভিন্ন ভূমিকার অভিযোগ তুলেন। আম্মারের তালিকায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, কোষাধ্যক্ষ অবায়দুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, আইসিটি সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা, শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সরকারসহ আরও অনেকেই।   পরিশেষে তিনি, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সেই ১৬১ জন শিক্ষকের বিচারের কোনো সিদ্ধান্ত না আসলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন।     রাবি প্রতিনিধি: রাফাসান আলম  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
সর্বমিত্র চাকমা । ফাইল ছবি
নারী নেত্রীদের ‘ঝাড়ু মিছিল’ নিয়ে সর্বমিত্রের প্রতিক্রিয়া

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের একটি এক্স পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্ট ঘিরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও বামপন্থি সংগঠনগুলো প্রতিবাদ মিছিলে নারীদের হাতে ঝাড়ু থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। তার প্রশ্ন, ঝাড়ু শুধু নারী নেত্রীর হাতে কেন, পুরুষের হাতে কেন নয়? রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।   রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিজ আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন তিনি।   ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ছাত্রদল এবং বামদের নারী নেত্রীরা আজ ঝাড়ু মিছিল করেছেন। কর্মজীবী নারীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য অপ্রতিরোধ্য নারী জাতির প্রতি সরাসরি অসম্মান। নারী তার অধিকার নিয়ে বাঁচবে, লড়াই করবে। নারী কারো দাস হয়ে বাঁচবে না।   ডাকসুর এ নেতা আরও বলেন, গৃহস্থালির কাজ শুধু নারীর একার নয়, হাতে ঝাড়ু ধরা শুধু নারীর দায়িত্ব নয়। ঝাড়ু কেন স্রেফ নারী নেত্রীর হাতে থাকবে, পুরুষ নেতার হাতে নয় কেন নয়? যুগের পর যুগ চলে আসছে নারীর প্রতি এ বৈষম্য! নারীকে দাসে রূপান্তরিত করার এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বামেদের থেকে এটলিস্ট আমি এটা আশা করিনি।   এ ছাড়াও নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তিনি বলেন, দেখেন আমি সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র , আমি সমাজ পর্যবেক্ষণ করে আমার কথা বলি। আমার কথা পলিটিকালি না নেওয়ার অনুরোধ করছি।   ডাকসু সদস্য সর্বমিত্রের এ পোস্টে ১ ঘণ্টায় এক হাজারেরও বেশি ইতবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্য জমা পড়ে।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
ঢাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমাকে আইনি নোটিশ, মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ঢাকসু) পদত্যাগকৃত সদস্য সর্ব মিত্র চাকমার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশটি পাঠিয়েছেন কবি জসীম উদ্দীন হলের আবাসিক ছাত্র নূরুল গনী সগীরের আইনজীবী। তিনি আরবি বিভাগে ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নোটিশে বলা হয়েছে, নুরুল গণি সগীর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) মনোনীত হয়ে জসীম উদ্দীন হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি বাগছাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং বর্তমানে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আইনি নোটিশে দাবি করা হয়, নুরুল গণি সগীর ২০২৪ সালের জুলাই গণবিপ্লবে হল পাড়ায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন এবং একজন ক্লিন ইমেজের ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত। অথচ সম্প্রতি ঢাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর ও ফৌজদারি অভিযোগ এনেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নোটিশে সর্ব মিত্র চাকমার একটি ফেসবুক পোস্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়, ওই পোস্টের মাধ্যমে নুরুল গণি সগীরকে অর্থের বিনিময়ে দোকান বসানো ও শেল্টার দেওয়ার সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। আইনি নোটিশে প্রকৃত ঘটনার ব্যাখ্যায় বলা হয়, গত ২৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ৩৪ মিনিটে বড় ভাই–ছোট ভাইয়ের সম্পর্কের জায়গা থেকে কেবল মধ্যস্থতার উদ্দেশ্যেই নুরুল গণি সগীর একটি ফোনকল করেছিলেন। ওই কথোপকথনে কোনো ধরনের অর্থ দাবি, হুমকি, চাপ প্রয়োগ কিংবা অবৈধ সুবিধা গ্রহণের বিষয় ছিল না। ফোনকলের আগে বা পরেও তিনি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ একজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতার সম্মান, ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই অবিলম্বে এসব অভিযোগ প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় মানহানি ও প্রযোজ্য ফৌজদারি আইনে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আইনি নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

Unknown জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
নিহত শিক্ষার্থী জুবাইদা ইসলাম ইতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ওই এলাকার একটি আবাসিক বাসা থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   নিহত শিক্ষার্থীর নাম জুবাইদা ইসলাম ইতি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজে (আইবিএস) পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইতি মেহেরচণ্ডী এলাকার ওই বাসায় তার মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচণ্ডী এলাকার একটি আবাসিক বাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।   রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।   এ বিষয়ে সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস জানান, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতা থেকে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Unknown জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
মৃত পাখির ‘মমি’ তবুও যেন জীবিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে পাখি মেলা; ‘মমি’ হয়ে ফিরে এসেছে বিলুপ্তপ্রায় পাখিগুলো

রাফাসান আলম, রাবি প্রতিনিধি: যে পাখিগুলোকে আকাশে উড়তে দেখা যায় না, যাদের ডাক হারিয়ে গেছে প্রকৃতির শব্দভাণ্ডার থেকে, তাদেরই দেখা মিলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত ব্যতিক্রমী পাখি মেলায়। তবে জীবন্ত নয়, ‘মমি’ হয়ে। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত এসব পাখির মাধ্যমে বিলুপ্তি আর সংরক্ষণের মাঝের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এখানে। প্রাণহীন দেহে প্রাণের এই উপস্থিতিই মেলাটিকে করেছে আলাদা ও চিন্তাজাগানিয়া। কাছ থেকে, নির্ভয়ে পাখি দেখার সুযোগ পেয়েছেন দর্শনার্থীরা।   ‘পাখি দেখি, পাখি ভালোবাসি, পাখি রক্ষা করি’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনের পর পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বের করা হয় একটি র‌্যালি। মেলার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ড কনজারভেশন ক্লাব। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও বার্ডশাহী ও ভ্যালেন্টটেক লিমিটেড।   সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাদা-নীল কাপড়ে ঘেরা পরিপাটি একটি জায়গায় সাজানো হয়েছে কয়েকটি ছোট স্টল। স্টলে প্রদর্শিত ছবির মধ্যে আছে চোখাচোখি, পিজিওন, প্যারোট, নিশি বক, গুবড়ে শালিক, বামুন শালিকসহ নানা প্রজাতির পাখি।   পাশের আরেকটি স্টলে ছিল সংরক্ষিত পাখির প্রদর্শনী। মেলার সবচেয়ে প্রাণবন্ত অংশ ছিল স্কুলশিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন স্কুলের নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।   স্টলে প্রদর্শিত ছবির মধ্যে আছে কালোপিঠ গাংচিল, পালাসির গাংচিল, সাইবেরিয়ান শিলাফিদ্দা, নীল চটক, উইলসন্স স্টর্ম পেট্রল, লালঘাড় কাস্তেচোরা, ইউরেশিয়ান চামচঠুঁটি, বুটপা ঈগল, জল ময়ূর, ডাহুক, বামুন শালিকসহ নানা প্রজাতির পাখি। নামগুলো শুনেই অনেক দর্শনার্থী অবাক হচ্ছিলেন, কেউ কেউ মোবাইলে ছবি তুলে রাখছিলেন স্মৃতি হিসেবে। পাশের আরেকটি স্টলে ছিল সংরক্ষিত পাখির প্রদর্শনী। সারিবদ্ধভাবে সাজানো পানকৌড়ি, জলকাক, টিয়া, লক্ষ্মী পেঁচা, হুতোম পেঁচা, গরিয়াল মাছরাঙা, নিশি বক, পাতি কাক, কোয়েল, বালি হাঁস, কাঠবিড়ালিসহ বিভিন্ন প্রাণী। কাছ থেকে দেখে অনেকেই বুঝতে পারছিলেন, প্রকৃতিতে এদের হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কতটা বাস্তব।   বাবার সঙ্গে মেলায় ঘুরতে ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা শহিদ নজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাঈয়িবা আক্তার বলছিল, এখানে এসে খুব ভালো লেগেছে। অনেক নতুন পাখি দেখেছে, যেগুলো আগে কখনো দেখেনি। এমন আয়োজন আরও বেশি হলে ভালো হয় বলে মনে করে সে।   স্টলে দর্শনার্থীদের পাখি সম্পর্কে নানা তথ্য দিচ্ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা আশা। তিনি বলেন, মেলায় এমন অনেক দুর্লভ পাখি রয়েছে, যেগুলো সাধারণত সচরাচর দেখা যায় না। সাদা বক, স্কেলেটন, দুর্লভ হাঁস, পিজিয়নসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে। সকাল থেকেই স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় রয়েছে। তারা কীভাবে এসব পাখি সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং এর পেছনের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া কী- সে বিষয়ে দর্শনার্থীদের ধারণা দেওয়া হচ্ছে।   মেলায় ট্যাক্সিডার্মি বিষয়ে জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও আর্মফোর্স মেডিকেল কলেজের গেজেটেড ট্যাক্সিডার্মিস্ট মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণী মারা গিয়ে নষ্ট হয়ে যেতে দেখে তার মধ্যে সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই ট্যাক্সিডার্মি নিয়ে কাজ শুরু করেন।   তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে মূলত দুটি জায়গায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের পাখি মেলা আয়োজন করা হয়- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পাখি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা, তাদের পাখি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেওয়া এবং কীভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে পাখি সংরক্ষণ করা হয় তা তুলে ধরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে এই আয়োজন প্রতিবছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ড কনজারভেশন ক্লাবের আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. এ. এম. সালেহ রেজা বলেন, 'বাংলাদেশে এমন অনেক পাখি আছে যেগুলো সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। এসব পাখিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করে দিতে, পাখির প্রতি তাদের মমত্ববোধ তৈরি এবং পাখি সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন করতেই আমরা এই মেলার আয়োজন করেছি।'   তিনি আরো বলেন, 'প্রতি বছর শীতের শুরুতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পুকুর এবং নারকেলবাড়িয়া ক্যাম্পাসে প্রচুর পরিযায়ী পাখির সমাগম ঘটে। তাদের সংরক্ষণে আমাদের সচেতন হতে হবে। তাদেরকে যদি আমরা থাকার উপযুক্ত পরিবেশ না দিয়ে ঢিল ছুঁড়ে বিরক্ত করি তাহলে তারা আতঙ্কিত হয়ে অন্যত্র চলে যাবে। পাখিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের রক্ষায় তাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করা যাবে না।'  

Unknown জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
বিদেশিদের কাছে নিউমুরিং টার্মিনাল লিজের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম বন্দরের একমাত্র বিশ্বমানের কনটেইনার টার্মিনাল ‘নিউমুরিং টার্মিনাল’ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ফর সোভারেন্টি’। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে—সরকার আগামী রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নিউমুরিং টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড-এর কাছে কনসেশন চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তারা একে “দেশের স্বার্থবিরোধী” বলে আখ্যা দেন এবং সরকারকে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।   বক্তারা অভিযোগ করে বলেন— ১. অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে শুধু টার্মিনাল অপারেটর নয়, বরং ‘কনসেশনিয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ২. উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান না করে এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অস্বচ্ছ ও অনৈতিক। ৩. দেশীয় ব্যবস্থাপনায় নিউমুরিং টার্মিনাল থেকে প্রতি কনটেইনার (TEU) গড়ে প্রায় ১৬১ মার্কিন ডলার রাজস্ব পাওয়া গেলেও, কনসেশনে দিলে তা নেমে আনুমানিক ২২–২৫ ডলারে দাঁড়াতে পারে—এতে বছরে কয়েকশো মিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ৪. দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে গেলে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। ৫. মাত্র ১০ দিনের মধ্যে দ্রুত চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও যথাযথ যাচাই-বাছাই নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। ৬. I2U2 (India, Israel, UAE, USA) জোটের প্রেক্ষাপটে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতে বন্দর ব্যবস্থাপনায় বহুপাক্ষিক প্রভাব ও ভূরাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা। ৭. “বিদেশি অপারেটর দিয়েই সিঙ্গাপুর বা ভিয়েতনামের বন্দর চলে”—এমন প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর দাবি করে তারা বলেন, এসব দেশের মডেল বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।   সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নিউমুরিং টার্মিনালের লিজ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানান। দাবি না মানা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত, দপ্তর সদস্য সাইফুল ইসলাম, জুবায়েদুল ইসলাম শিহাব, জাবির বিন মাহবুব, আল আমিনসহ আরও

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: আমেরিকা বাংলা
সাত কলেজের প্রশ্নফাঁস রহস্য: ‘উত্তর দিতে বাধ্য নই’ বলে তদন্তে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করলেন কমিটির প্রধান!

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো অন্ধকারে। গত ২০ জানুয়ারি প্রশ্নফাঁসের অকাট্য তথ্য ও প্রমাণ প্রকাশ্যে এলেও, সেই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রেই ২২ জানুয়ারি পরীক্ষা গ্রহণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাব: প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর সাত কলেজ প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ঢাকা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নায়লা আক্তারকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে অন্য সদস্যরা হলেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দিল্লুর রহমান এবং প্রভাষক কোহিনুর আক্তার। তবে কমিটির গঠনের পর সাত দিন অতিবাহিত হলেও কোনো ধরণের প্রাথমিক প্রতিবেদন বা অগ্রগতির তথ্য জানানো হয়নি।   তদন্ত কমিটির প্রধানের বিতর্কিত বক্তব্য: তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান অধ্যাপক নায়লা আক্তার সংবাদকর্মীদের সাথে অত্যন্ত রূঢ় আচরণ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের তদন্ত সবেমাত্র শুরু হয়েছে। শুরু হওয়া অবস্থায় আপনাকে কোনো তথ্য দেব না। এটা আমাদের গোপনীয় ও নিজস্ব বিষয়। আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নই।” তদন্ত শেষ হতে কতদিন লাগবে— এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না জানিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের কাছেই তথ্যের উৎস দাবি করেন।   শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও প্রশাসনিক উদাসীনতা: ঢাকা কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশ্নফাঁসের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় প্রশাসনের এমন ঢিলেঢালা ভাব জঘন্য অপরাধীদের উৎসাহ দিচ্ছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার কয়েকদিন আগে প্রশ্ন সরবরাহ করে আসছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অপকর্ম চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় শিক্ষার্থীরা হতাশ। তারা অবিলম্বে এই জালিয়াতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।   সাত কলেজ প্রশাসনের অবস্থান: সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জানিয়েছেন, কমিটি কাজ করছে ঠিকই, তবে এখনো তাকে কোনো অগ্রগতি জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর আবেদন করলে তা বিবেচনা করা হবে।”   উল্লেখ্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত পরীক্ষার প্রশ্ন অর্থের বিনিময়ে ফাঁসের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তথ্য অনুযায়ী, একটি চক্র সুপরিকল্পিতভাবে পরীক্ষার তিন-চার দিন আগেই প্রশ্ন সরবরাহ করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই জালিয়াতি চক্রের শেকড় কতদূর, তা নিয়ে এখন জনমনে বড় ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিফাতুল ইসলাম
সাংবাদিককে হুমকি, চবি ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হল থেকে টেনে নিয়ে পাহাড়ে উঠিয়ে পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এবার কঠোর সাংগঠনিক চাপের মুখে পড়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিফাতুল ইসলাম। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।   চবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবু হাসনাত মো. রুকনুদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। শাখা সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান এই কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছেন।   কী ঘটেছিল সেই রাতে? অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ‘মাদকে অভিযুক্ত চবি ছাত্রদল কর্মী অবৈধভাবে থাকছেন হলে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন স্টার নিউজ টেলিভিশনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এম. মিজানুর রহমান। এই খবরের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে সিফাতুল ইসলাম নিজেকে ‘সালমান’ পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন। ফোনালাপে তিনি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন এবং ওই সাংবাদিককে হল থেকে টেনে বের করে নীরা পাহাড়ে নিয়ে বেদম মারধরের হুমকি দেন।   ইতিমধ্যেই ওই সাংবাদিকের সাথে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার কথোপকথনের কল রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এ ধরণের ‘মাস্তানি’ ও সাংবাদিক হেনস্তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের উর্ধ্বতন নেতৃত্ব এখন এই ঘটনায় কী ধরণের চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো প্রকাশ: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের খসড়া তালিকা

ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে।   কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে।   প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী—     •    রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন     •    জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী     •    প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান      •    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর     •    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি)     •    পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির     •    অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী)     •    শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান     •    আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান     •    তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন     •    পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান     •    বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির     •    শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু     •    নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ     •    শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান     •    পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু     •    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান     •    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান     •    সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি     •    স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন     •    যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি     •    ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন     •    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী     •    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু     •    কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু     •    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস     •    ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর     •    রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়     •    জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ     •    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী     •    পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান   কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

Top week

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের খসড়া তালিকা
রাজনীতি

প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো প্রকাশ: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের খসড়া তালিকা

নুরুল্লাহ সাইদ ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0