ব্যাংকের অর্থ দেশের জনগণের—এ কথা উল্লেখ করে মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই। এতে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে আলেম-ওলামা ও পেশাজীবীদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি মো. লোকমান হাকিম। মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, “আমরা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু তা হয়নি। দেশে একটি সাজানো ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নির্বাচন হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সারা দেশে হাতপাখার প্রার্থীদের ভোটে হারানো হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নরসিংদীতে কিশোরী হত্যাকাণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবকটি বেদীর সামনেই টেনে-হিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাত পৌনে ১২টার দিকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শহীদ মিনারে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। তিনি যখন পুষ্পস্তবক নিয়ে বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা রুমিন ফারহানাকে লক্ষ্য করে 'ভুয়া ভুয়া' স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাঁর হাতের পুষ্পস্তবকটি কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে রুমিন ফারহানা কর্মী-সমর্থকদের কড়া পাহারায় এলাকা ত্যাগ করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং বিক্ষোভকারীরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার দাবি করেন। ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি নিয়ম মেনেই প্রথমে ফুল দিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। এখন যদি তারা তৃণমূলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। দলের পদ ব্যবহার করে যারা এমন হিংস্রতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে হাই-কমান্ডের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, অন্যথায় সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।” ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অমর একুশের পবিত্র রাতে এমন রাজনৈতিক সংঘাত ও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধায় বিঘ্ন ঘটানোর ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে এক নজিরবিহীন পরাজয়ের সাক্ষী হলেন আম জনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তাঁর ‘প্রজাপতি’ প্রতীক নিয়ে তিনি মাত্র ১ হাজার ৪৪ ভোট পেয়েছেন, যার ফলে আইন অনুযায়ী তাঁর নির্বাচনি জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ঢাকা-১২ আসনের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৮টি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী কোদাল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই আসনে ভুল বা ত্রুটির কারণে বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৪৪টি। অর্থাৎ, আম জনতা দলের প্রার্থী মো. তারেক রহমান ওই আসনে মোট বাতিল হওয়া ভোটের অর্ধেকেরও কম ভোট পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় মোট কাস্ট হওয়া ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫ শতাংশ) পেতে ব্যর্থ হন, তবে তাঁর নির্বাচনি জামানত সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা হয়। ঢাকা-১২ আসনে প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় মো. তারেক রহমানকে এই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। জামানত ও বাজেয়াপ্ত হওয়ার নিয়ম: নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, প্রতিটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (বর্তমানে ২৫ হাজার টাকা) জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়। এটি মূলত একটি নির্বাচনি নিরাপত্তাজনিত আমানত। যদি কোনো প্রার্থী কাঙ্ক্ষিত জনসমর্থন (মোট ভোটের ১২.৫%) প্রমাণ করতে না পারেন, তবে ওই টাকা তিনি আর ফেরত পান না। নির্বাচন শেষে কমিশন এমন প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে এবং সেই অর্থ অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এবারের নির্বাচনেও মো. তারেক রহমানের মতো সারা দেশের আরও অনেক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ঢাকা-১২ আসনে বাতিল ভোটের চেয়েও কম ভোট পাওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল এবং নির্বাচন পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, ভোটের আগে সাধারণ মানুষের মাঝে যে স্বতঃস্ফূর্ত উদ্দীপনা দেখা গিয়েছিল, সরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলের সাথে তার কোনো যৌক্তিক মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মুফতি ফয়জুল করীম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি দেশ, ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে কাজ করছি। এখানে ব্যক্তিগতভাবে হারা-জিতকে আমি বড় করে দেখি না। আমি মনে করি, আদর্শিক লড়াইয়ে আমি সবসময়ই জয়ী। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, নির্বাচনের আগে জনগণের যে সমর্থন ও আগ্রহ আমি সচক্ষে দেখেছি, রেজাল্টে তার প্রতিফলন ঘটেনি। কেন এমন হলো, তার কারণ আমার জানা নেই।” নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের শায়েস্তাবাদের দায়িত্বশীল মঞ্জিল ফরাজি ভাইসহ অনেক নেতাকর্মীকে বিএনপির পরিচয় দিয়ে কিছু দুষ্কৃতিকারী মারধর করেছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপিকে মনে রাখতে হবে— মানুষ এই জুলুম ও অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতেই পরিবর্তন চেয়েছিল। এখন যদি বিজয়ী হয়ে আবারও সেই পুরোনো পথেই হাঁটা হয়, তবে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।” গণতন্ত্র ও সমর্থনের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ কাউকে পছন্দ করার কারণে বা সমর্থন দেওয়ার কারণে হামলার শিকার হয়, তবে নির্বাচনের নাটক করার কী দরকার? আপনারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলবেন আর বাস্তবে গুন্ডামি করবেন— এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুন্ডারা ক্ষিপ্ত হয়েছে কারণ তারা নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে জয়ী হতে পারেনি। এই মব সংস্কৃতি বা উশৃঙ্খলতা নতুন বাংলাদেশের জন্য অশুভ সংকেত।” মুফতি ফয়জুল করীম সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান এবং দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তাঁর এই বক্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাফল্য বা জয় মানেই কি কেবল ক্ষমতায় আসা? ঢাকা-৮ আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলমের কাছে বিষয়টি একটু ভিন্ন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর এই হেভিওয়েট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৬০৮ ভোট, কিন্তু তাতেই তিনি প্রকাশ করেছেন পরম সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মেঘনা আলম দাবি করেন, তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো অর্থ ব্যয় করেননি। তিনি লেখেন, ‘শূন্য টাকা খরচ করে, মিছিল বিলবোর্ড পোস্টার ছাড়া। আলহামদুলিল্লাহ।’ প্রচারের কোনো চাকচিক্য ছাড়াই যে ৬০৮ জন ভোটার তাঁকে নিজ তাগিদে ভোট দিয়েছেন, এই অর্জনকেই তিনি অনেক বড় মনে করছেন। নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শুক্রবার ভোররাত পৌনে ৪টায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এই ফলাফল ঘোষণা করেন। মির্জা আব্বাস তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মোট ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে, এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেফায়েত উল্লা ‘হাতপাখা’ মার্কায় পেয়েছেন ১ হাজার ৪৩৬ ভোট এবং গণ অধিকার পরিষদের মেঘনা আলম ‘ট্রাক’ প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৮ ভোট। উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৪ জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৮৪টি এবং বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭। প্রথাগত নির্বাচনের বিশাল ব্যয় ও প্রচারণার বিপরীতে মেঘনা আলমের এই ‘বিনা বিনিয়োগে’ প্রাপ্ত ভোট এখন রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত লগ্নে এসে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহার এবং জোট থেকে বের হয়ে আসার নেপথ্য কারণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ফয়জুল করীম দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলামের প্রতিফলন নেই। তিনি বলেন, “আমরা ইসলামের পক্ষে একটি আলাদা নির্বাচনি কাঠামোর দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু তাদের ইশতেহারে ইসলামের বিষয়টি অস্পষ্ট থাকায় আমরা জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তবে জোট ভাঙলেও আদর্শিক কারণে জামায়াতের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা তাকেই ভোট দেবেন বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বরিশাল সদর-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী মুয়াযম হোসাইন হেলাল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় তাকেই সমর্থন দিয়েছেন। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নির্বাচনে বড় ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’, জাল ভোট এবং কেন্দ্র দখলের পায়তারা চলছে। যতক্ষণ ফলাফল ঘোষণা না হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা শঙ্কা মুক্ত হতে পারছি না।” তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে যেন কেউ সাধারণ মানুষের ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিতে না পারে। সারাদেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, বরগুনায় তাদের এক নেতার ওপর হামলা হয়েছে এবং পটুয়াখালীতে আরেক নেতার পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এসব সহিংসতা বন্ধে তিনি প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন। ভোটের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ফয়জুল করীম বলেন, “বরিশালের মানুষ পরিবর্তন চায়। যারা চাঁদাবাজি, গুন্ডামি আর মাস্তানি বন্ধ করতে পারে, জনগণ তাদেরই বেছে নেবে। আমি নির্বাচিত হলে বরিশালকে সব ধরণের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার এবং একটি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ‘হাতপাখা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দীন আটক হওয়ার ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যাকে ‘অবিশ্বাস্য ও ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন এবং ওই এলাকায় জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, “আটকের পর ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমির তার ব্যাগে থাকা অর্থের সঠিক পরিমাণ বলতে পারেননি। এটি অত্যন্ত সন্দেহজনক। যদি জব্দ হওয়া টাকা সত্যিই তার ব্যবসার হতো, তবে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানতেন সেখানে কত টাকা আছে। সম্ভবত এই টাকা অন্য কোনো উৎস থেকে নির্বাচন প্রভাবিত করার জন্য তার হাতে এসেছে, যার ফলে তিনি তা গুনে দেখারও সময় পাননি।” জামায়াতের ‘গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন’ সংক্রান্ত যুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশের সব গার্মেন্টস বন্ধ রয়েছে। ব্যাংক এবং মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনও সম্পূর্ণভাবে অচল। এমন পরিস্থিতিতে কোনো মালিকের পক্ষেই নগদ টাকা বহন করে বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে এই স্যালারি দেওয়ার অজুহাতটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং হাস্যকর।” তারেক রহমান আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে বলেন, “আটকের পর তিনি কেন বারবার মুখ ঢেকে রাখছিলেন? এছাড়া তিনি প্রথমে নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। একজন শিক্ষকের পক্ষে দুটি ব্যাগে করে ৬০ লাখ টাকা বহন করা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।” নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এত বড় অংকের অবৈধ অর্থ উদ্ধারের ঘটনাকে নির্বাচনি স্বচ্ছতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন আমজনতার দলের এই নেতা। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর প্রার্থিতা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই অর্থ উদ্ধারের ঘটনা এবং এর পর আমজনতার দলের কঠোর অবস্থান উত্তরাঞ্চলের নির্বাচনি রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদম শেষ মুহূর্তে এসে বরগুনা-১ আসনে এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুধুমাত্র ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বলায় ঢলুয়া ইউনিয়নে এক কর্মীর পা লোহার শাবল দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এই অভিযোগ করেন। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা-১ আসনের আওতাধীন ৭নং ঢলুয়া ইউনিয়নে। স্থানীয় ও আহত ব্যক্তির ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার রাতে বিএনপির একটি উঠান সভা চলাকালে ওই ব্যক্তি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় উপস্থিত কর্মীরা তাকে থামিয়ে কোথায় ভোট দেবেন জিজ্ঞেস করলে তিনি ‘হাতপাখা’র কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলতাফ হোসেনের ছেলে আলামিনসহ বেশ কয়েকজন তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, আলামিন তার হাতে থাকা লোহার শাবল দিয়ে সজোরে আঘাত করলে ওই ব্যক্তির পা দুই জায়গায় ভেঙে যায় এবং হাড় ঝুলে পড়ে। আহত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে বরগুনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখা ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা অলিউল্লাহ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বিবৃতিতে বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা যখন একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের কথা বলছেন, তখন মাঠপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা এমন পৈশাচিক হামলা চালাচ্ছে। আমরা এই সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।” নির্বাচনের আগমুহূর্তে এমন সহিংসতা সাধারণ ভোটারদের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে এখনই কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ টাকা বিতরণের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চাঁদপুর এলাকায় লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে টাকা বিলানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন জাতীয় পার্টির দুই নেতা। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোমরাদহ ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলীর মালিকানাধীন একটি মিল চাটালের গোডাউন ঘরে গোপনে ভোটারদের জড়ো করে টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এনএম ইশফাকুল কবীর তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান চালান। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে উপস্থিত ভোটাররা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আটক হন জাতীয় পার্টির দুই নেতা। ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হলে ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন টাকা বিতরণের সত্যতা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরবর্তীতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ২৭ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে আশরাফ আলীকে ৫ হাজার টাকা এবং শাহিনকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এন এম ইশফাকুল কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেকোনো অভিযোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পীরগঞ্জের এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ প্রশংসিত হচ্ছে।
আসন্ন গণভোটে ‘না’ ব্যালটে সিল মারতে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। সোমবার মধ্যরাতে (রাত ১টার দিকে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক জরুরি ভিডিও বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘চরম সংকটকাল’ অভিহিত করে তিনি সংবিধান নিয়ে সুপরিকল্পিত প্রতারণা ও সামাজিক বন্ধন ছিঁড়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন। জিএম কাদের তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গণভোট নিয়ে আমার স্পষ্ট বার্তা—আপনাদের ‘না’ ভোট দিতে হবে। বিভ্রান্তিকর ৪টি বিবৃতির আড়ালে সংবিধানের ৩৮টি পরিবর্তন লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করি, এতে দেশে এক ভয়াবহ সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে।” তিনি দাবি করেন, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পূর্ব-নির্ধারিত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শহীদদের আত্মত্যাগের আবেগকে কাজে লাগিয়ে এই অস্বচ্ছ ও বেআইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে জাতীয় পার্টির সক্রিয় ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রথম থেকে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলাম। রংপুরে আমাদের মিরাজুল ও মানিকের মতো কর্মীরা শহীদ হয়েছে, শত শত নেতা-কর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরাও অঙ্গীকারাবদ্ধ, কিন্তু সংস্কার হতে হবে সংবিধানসম্মত ও স্বচ্ছ উপায়ে।” দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “আজ আমাদের মাতৃভূমি এক মৃত্যুপুরী। মন্দির-গির্জা ও মাজারে হামলা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, অথচ রাষ্ট্র নির্বিকার। কয়েক মাসে শত শত কারখানা বন্ধ হয়েছে, বাড়ছে বেকারত্ব। এমনকি নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে চলাফেরা আজ ‘শকুনের নখরে’ বন্দি।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রের’ পূর্বলক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। নির্বাচনী বার্তায় তিনি ভোটারদের লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “লাঙ্গল মানেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এবং ১৯৭১-এর চেতনার বিজয়। আজ দেশ ‘আমরা এবং তারা’—এই ভয়াবহ বিভাজনে বিভক্ত। আমাদের এই বিভাজন ভাঙতে হবে।” তিনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্ম ও জাতিসত্তার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ডাক দেন। অরাজকতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে লাঙ্গল প্রতীকের বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইসলামী শাসনতন্ত্র কি বাংলাদেশের সমৃদ্ধির নতুন পথ? চরমোনাই পীর এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ঐতিহাসিক ভাষণে দিয়েছেন বড় এক ঘোষণা। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু পয়েন্ট যা আপনার জানা প্রয়োজন: রাষ্ট্রীয় ভাষণে ঘোষণা: রোববার সন্ধ্যায় বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে প্রচারিত ভাষণে তিনি দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন। শরীয়া আইনের ব্যাখ্যা: তাঁর মতে, শরীয়া কেবল কিছু আইন নয়; বরং এটি মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জীবনবোধের এক সমন্বিত রূপ। নতুন মূলনীতি: প্রচলিত রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির পরিবর্তে ইসলামের শাশ্বত নীতিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রস্তাব করেছে তাঁর দল। সমৃদ্ধির আশা: তিনি বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলাম বাস্তবায়িত হলেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে এই নতুন রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আপনার ভাবনা কী? কমেন্টে আমাদের জানান।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় আজ এক ইতিহাস সৃষ্টিকারী ভাষণ দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এর চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে বিএনপি প্রতিষ্ঠার স্মৃতি চারণ করে তিনি দাবি করেছেন, দলটির আদর্শিক পতন হয়েছে এবং এখন তাদের রাজনৈতিক দাফনের সময় এসেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্নেল অলি বলেন, “জিয়াউর রহমান আর আমি মিলে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমি দীর্ঘদিন বিএনপির সাথে ছিলাম, কিন্তু যখনই বুঝতে পারলাম তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন, তখনই আমি দল ত্যাগ করি। বর্তমানে বিএনপির দেশ চালানোর কোনো সামর্থ্য নেই। তারা ক্ষমতায় যাওয়া মানেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বন্দর দখল আর ব্যাংক লুটপাটের মহোৎসব।” জোটের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের জবাবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ১১ দলীয় জোট কারও ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি বলেন, “যারা নিজেদের ধর্ম ঠিকমতো পালন করে না, তারাই অন্যের ধর্মে হস্তক্ষেপের মিথ্যা ভয় দেখাচ্ছে। আমরা নারী বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার খর্ব করব না।” আগামী ১২ তারিখ ‘ব্যালট বিপ্লবে’র মাধ্যমে দেশবিরোধী সব অশুভ শক্তির ‘ভাতের হোটেল’ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী আনোয়ারার উন্নয়নের নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আনোয়ারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে সুষম উন্নয়ন হয়নি। কলকারখানা থাকলেও স্থানীয় শিক্ষিত যুবকরা চাকরি পাচ্ছে না। আমরা জয়ী হলে এখানে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, যুবকদের জন্য আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং নারীদের জন্য আলাদা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব।” মাওলানা ইসমাঈল হক্কানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেকসহ নেজামে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, লেবার পার্টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা-উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আনোয়ারার এই বিশাল জনসভা এবং জনস্রোত প্রমাণ করছে যে, পরিবর্তনের হাওয়া এখন বন্দরনগরীর দক্ষিণাঞ্চলে প্রবলভাবে বইছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক নজিরবিহীন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি এই নির্বাচনে জামায়াতকে ভোট দেওয়াকে ‘হারাম’ বলে ফতোয়া দিয়েছেন এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. সরোয়ার আলমগীরকে অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফটিকছড়ির কাজীরহাট বড় মাদ্রাসায় বুখারী শরীফ খতম উপলক্ষে আয়োজিত এক মাহফিলে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। মাহফিলে ধানের শীষের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর আমিরের পাশেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তার বক্তব্যে বলেন, “মওদুদীর জামায়াতের সাথে যারা জোট করেছে, তারাও মওদুদী। আমার কাছে এটা সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়, এটা জামায়াতের বিরুদ্ধে জিহাদ। সমস্ত মুসলমানের জন্য জামায়াতকে নির্বাচনে ভোট দেওয়া হারাম, এটা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।” বিএনপি প্রার্থীর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করে হেফাজত আমির বলেন, “আমরা শুধু ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছি না, বরং তাকে সামনে রেখে জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি। যদি আমরা কঠোরভাবে তাদের ভোট থেকে বঞ্চিত করতে না পারি, তাহলে তারা বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের চরম ক্ষতি করবে।” অনুষ্ঠানে নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা হাবিবুর রহমান কাসেমীসহ স্থানীয় শীর্ষ আলেম-ওলামা, মাশায়েখ এবং মাদ্রাসার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। বুখারী শরীফ খতম শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে হেফাজত আমিরের এই ‘জিহাদ’ ঘোষণা ও ফতোয়া ফটিকছড়ি তথা সারা দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে বড় ধরণের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াত ইসলামের কথা বললেও দলটির মাঝে প্রকৃত ইসলামের অভাব রয়েছে এবং তাদের কথা ও কাজের কোনো মিল নেই। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশে একটি দল আছে যারা ইসলামের লেবাস পরে চলে, কিন্তু স্বার্থের জন্য তারা ভিনদেশের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। জামায়াত কখনোই প্রকৃত ইসলামী দল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেনি। তাদের নীতি ও আদর্শের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে।” আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর আরও জানান, তার দল কারো ওপর নির্ভরশীল নয়। জনগণের ওপর আস্থা রেখে তারা দেশের ২৭৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিগত সরকারগুলোর আমলের দুর্নীতি, অপশাসন এবং বিদেশে টাকা পাচারের মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হলে দেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা বা শরীয়া আইন কায়েম করা অপরিহার্য। ৯২ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে ইসলামী হুকুমত ছাড়া প্রকৃত শান্তি আসা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। নবীনগর উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা জসিমউদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও সহকারী মহাসচিব আহম্মদ আব্দুল্লাহ ইউসুফসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের তীব্র সমালোচনা করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু। ফ্যামিলি কার্ড বনাম নিরাপত্তা কার্ড: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে ব্যঙ্গ করে মঞ্জু বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে কি চাঁদাবাজি বন্ধ হবে? এটি কি নারীদের হয়রানি, গুম ও খুনের নিশ্চয়তা দিতে পারবে? সাধারণ মানুষ আজ ফ্যামিলি কার্ড চায় না, তারা চায় ‘নিরাপত্তা কার্ড’। মানুষ চায় রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে, ভয় ছাড়া ব্যবসা করতে এবং রাজপথে স্বাধীনভাবে চলতে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা দেওয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের দয়া বা করুণা হতে পারে না। বিগত ১৬ বছরের যাতনা ও আওয়ামী লীগের পতন: নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মঞ্জু বলেন, “১৬ বছর ধরে জেলে বন্দি সন্তানের অপেক্ষায় থেকে আমার মা চোখের জল ফেলতে ফেলতে বিদায় নিয়েছেন। আমরা দেখেছি কীভাবে শিকল পরা অবস্থায় সন্তানকে মায়ের জানাজায় আসতে হয়েছে। দাড়ি থাকার অপরাধে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে—বিশ্বজিৎ ও আবরার ফাহাদের সেই রক্ত আমরা ভুলিনি।” তিনি শেখ হাসিনার পতনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “অহংকার করে বলা হয়েছিল হাসিনা পালায় না, কিন্তু জনগণ দেখেছে ফ্যাসিবাদের আসল রূপ।” আগে বিচার, পরে নির্বাচন: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বিপ্লবের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। বহু শহীদের পরিচয় মেলেনি, বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি। এই অবস্থায় তাড়াহুড়া করে নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হতে পারে। আগে প্রয়োজন বিচারিক সংস্কার এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের সুনিশ্চিত গ্যারান্টি।” নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা: মঞ্জু স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চিরদিনের জন্য ফ্যাসিবাদ ও দলীয়করণকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সময় এসেছে একটি ‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার, যেখানে আইনের শাসন থাকবে এবং প্রশাসনের হাতে কোনো সাধারণ নাগরিক হয়রানির শিকার হবে না। উল্লেখ্য, মজিবুর রহমান মঞ্জু ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন এবং পরবর্তীতে সংস্কারপন্থী অবস্থানে থাকায় জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হন। বর্তমানে তিনি এবি পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জামায়াত-এবি পার্টি জোটের প্রার্থী হয়ে ফেনী-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর এই সাহসী ও স্পষ্টবাদী বক্তব্য এখন পুরো জেলার সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস