অপরাধ

হত্যার পর আটক ছোট ভাই
বোনকে হত্যার পর বোরকা পরে পালানোর সময় জনতার হাতে আটক ছোট ভাই

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বোনকে কুপিয়ে হত্যার পর বোরকা পরে পালানোর সময় ছোট ভাইকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এলাকাবাসী। সোমবার (২ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হালিশহর থানার ঈদগাহ বড় পুকুর দক্ষিণপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   নিহত সেনোয়ারা বেগম স্থানীয় বাসিন্দা সাবের আহমেদের স্ত্রী। হত্যার অভিযোগে আটক ছোট ভাইয়ের নাম জানে আলম। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা।   প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় সেনোয়ারার স্বামী ও ছেলে তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে ছিলেন। বাসায় একা থাকা অবস্থায় জানে আলম স্বর্ণালংকার নিতে গেলে বোন বাধা দেন। এ সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে জানে আলম বোরকা পরে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা সন্দেহজনক আচরণ দেখে ধাওয়া দিয়ে আটক করেন।   পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার সময় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনির চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।   নিহতের ছেলে সেকান্দার হোসেন বলেন, তারাবির নামাজ শেষে বাসায় ফিরে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন এবং দেখেন লোকজন তার মামাকে আটক করে রেখেছে।   হালিশহর থানা–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সুলতান মোহাম্মদ আহসান উদ্দিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জানে আলমকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৩, ২০২৬ 0
কিশোরী নাতনিকে অপহরণ
এবার নাতনিকে তুলে নিয়ে ‘ধর্ষণ’ করে হত্যা, উঠানে দাদির মরদেহ

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামে শনিবার গভীর রাতে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধা দাদিকে কুপিয়ে হত্যার পর কিশোরী নাতনিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে বাড়ির পাশের একটি সরিষাক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   নিহতরা হলেন ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নজিমুদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং তার ১৫ বছর বয়সী নাতনি জামিলা আক্তার। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাড়িতে হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। নাতনি জামিলা নিখোঁজ থাকায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী সরিষাক্ষেতে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা বাড়িতে হানা দিয়েছিল। দাদি বাধা দেওয়ায় তাকে নির্মমভাবে খুন করে নাতনিকে তুলে নিয়ে যায় এবং পাশবিক নির্যাতনের পর তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।   ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ধর্ষণের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি নরসিংদীতেও প্রায় একই কায়দায় এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল, যা দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা
মাহফিলের প্রধান অতিথি হওয়া নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত: বিএনপি কর্মী এরশাদ আলী নিহত

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় একটি ইসলামি জলসার প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ইউসুফপুর সিপাইপাড়া এলাকায় শুক্রবার রাতে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লাঠিপেটায় এরশাদ আলী (৬৫) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং মাহফিলের অতিথি নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নিল, যা পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।   নিহত এরশাদ আলী স্থানীয় ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর স্থানীয় মসজিদে আয়োজিত একটি সভায়। আসন্ন একটি ওয়াজ মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে এক পক্ষ জেলা বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের নাম প্রস্তাব করলে এরশাদ আলী ও তার সঙ্গীরা আবু সাঈদ চাঁদের নাম প্রস্তাব করেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সভাটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই পণ্ড হয়ে যায়।   এই বিরোধের রেশ ধরে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এরশাদ আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাইদুর রহমান, সুমন, সাব্বির ও আশাদুলসহ একদল যুবক লাঠি ও পেয়ারা গাছের ডাল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
হত্যা
ফরিদপুরে তুচ্ছ ঘটনায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা: দম্পতি আটক

ফরিদপুর শহরে বাড়ির সামনে কাপড় শুকানোর দড়ি টাঙানোকে কেন্দ্র করে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের গোয়ালচামট মোল্লাবাড়ী সড়কের বিহারি কলোনি এলাকায় প্রতিবেশী ভাড়াটিয়াদের হামলায় জুয়েল মোল্লা (৩৬) নামের ওই যুবক প্রাণ হারান। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দম্পতি সরফরাজ শেখ ও মনি বেগমকে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আটক করেছে পুলিশ।   স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে। প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদের বাড়ির ভাড়াটিয়া ভাঙারি ব্যবসায়ী সরফরাজের স্ত্রী মনি বেগম জুয়েলদের বাড়ির সামনে কাপড় শুকানোর দড়ি টাঙাতে যান। এতে বাধা দেওয়ায় উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সরফরাজ তার পরিবারের সদস্য ও কর্মচারীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে জুয়েলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই জুয়েলের মৃত্যু হয় এবং তার ছোট ভাই প্রবাসী সোহেল মোল্লা ও মা রোকেয়া বেগম গুরুতর আহত হন। আহত সোহেলকে বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   নিহতের বোন তিন্নি বেগমের অভিযোগ, তার ভাই কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। পাশের বাড়ির সরফরাজ, তার দুই ছেলে শাহরিয়ার ও সিফাতসহ তাদের দোকানের কর্মচারীরা এই নৃশংস হামলায় সরাসরি জড়িত। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানিয়েছেন, প্রধান দুই অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নকল টাকা উদ্ধারের নামে পৌনে ৪ কোটি টাকা লোপাট, গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান ‘নাটক’ বলে প্রমাণিত

গত বছরের ৮ নভেম্বর রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় একটি গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ নকল টাকা উদ্ধারের দাবি করা হয়েছিল। তবে পুলিশের বিশেষ তদন্তে দেখা গেছে, ওই অভিযানটি ছিল সাজানো নাটক; প্রকৃতপক্ষে ঐদিন সেখানে অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের সদস্যরা এক ব্যবসায়ীর নগদ পৌনে চার কোটি টাকা লুকিয়ে নিয়ে গেছে।   ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশের সোর্সের জবানবন্দি এবং বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি পুনরায় এবং অভ্যন্তরীণভাবে তদন্তে পেয়েছে যে, অভিযানের নামে টাকা লোপাটের বিষয়টি সত্য রয়েছে। তদন্তে পোস্টের হাতে আসা ভিডিও বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার এক সোর্স ঢাকায় পরিচিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে ওয়ারীর একটি বাসায় বিপুল টাকার খবর দেন। ৮ নভেম্বর রাতে ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার তারেক সেকান্দারের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের আভিযানিক টিম ওই বাসায় অভিযান চালায়। তল্লাশিতে একটি কক্ষে ৪–৫ কোটি টাকার মতো নগদ টাকা পাওয়া যায়।   তল্লাশি চালানোর পর ডিবি পুলিশ ওই টাকা কয়েকটি ব্যাগে ভরে নিচে পাঠায়। পরে গণমাধ্যম ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখানোর জন্য সেখানে ১০–১৫ লাখ টাকা এবং কিছু ব্যাগে জাল নোট রাখা হয় এবং অভিযানে আটক দুজনকে জাল টাকার সাথে জড়িত দেখানো হয়। পরে ওই তথ্য ভিত্তিতে পুলিশি মামলা দায়ের করা হয়।   পুলিশ সোর্স ও জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, অভিযান শেষের পর এএসআই সুম্ময় শর্মা সোর্সদের অর্থিক ‘মানি’ হিসেবে নগদ টাকা দেয় এবং ঘটনায় অংশগ্রহণকারী পুলিশের কিছু সদস্য টাকা ভাগের পেছনের পরিকল্পনাকে স্বীকার করেছে। পরে প্রকৃত মালিকের অভিযোগে এবং আলামতের ভিত্তিতে পুনঃতদন্ত শুরু হয়।   ডিবি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও নির্দোষ ব্যাখ্যা না পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে নতুন তদন্ত শুরু করেন।  সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল সিডিআর বিশ্লেষণে অপরাধীদের অবস্থান ও ঘটনাস্থলের তথ্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তের একটি পর্যায়ে ডিবি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-এর কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছিনতাই । প্রতীকী ছবি
ছিনতাইয়ের কবলে পড়ছে শিক্ষার্থী-নাগরিকরা, নিরাপত্তাহীনতায় উদ্বিগ্ন শহর

ময়মনসিংহে ছিনতাই ও হত্যার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন নিখোঁজ হন; দুদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে খুনিদের গ্রেপ্তারের জন্য আলটিমেটাম দেন।   ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ জেলায় ১১১টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অন্তত ২০টি ছিনতাই-সংশ্লিষ্ট। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি মাসে গড়ে এক হাজারেরও বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা, পুলিশের প্রতি অনাস্থা ও সামাজিক হয়রানির ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতে নারাজ।   শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, নগরীর শম্ভুগঞ্জ, মীরবাড়ি, কলেজ রোড, স্টেশন রোড, সানকিপাড়া, কাশর রোড, বাইপাস মোড়সহ অন্তত ২০টি এলাকা ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত। অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও নদী তীরের মতো জনবহুল ও নির্জন জায়গায় ছিনতাই হচ্ছে। গ্রেপ্তার ছিনতাইকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশই মাদকাসক্ত এবং জেল থেকে বের হয়ে আবারও অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে।   আইনজীবী ও নাগরিকরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রধান কারণ। সচেতন নাগরিকরা সুপারিশ করেছেন সিভিল পোশাকে সার্বক্ষণিক টহল, প্রতিটি মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং, ‘বিট পুলিশিং’, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জড়িতদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাজারীবাগে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা: ঘাতক সিয়াম গ্রেপ্তার, উদ্ধার রক্তমাখা ছুরি

রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে (১৪) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে তাকে জনতা ও পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি ও জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে।   নিহত বিন্তি রায়েরবাজার উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। গতকাল বুধবার রাতে নিজ বাসার সামনেই বখাটে সিয়ামের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারায় সে।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে ছোট ভাই নাবিলকে নিয়ে বাসার নিচে নামে বিন্তি। এর কিছুক্ষণ পরই চিৎকার ও হট্টগোল শুনে স্বজনরা নিচে গিয়ে বিন্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় শিকদার মেডিকেল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সোয়া ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে বিন্তি তার ওপর হামলাকারী হিসেবে সিয়ামের নাম বলে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।   নিহতের মা নাদিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে বিন্তিকে মুঠোফোনে এবং সরাসরি বিরক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "আমার নিস্পাপ মেয়েটাকে ওরা বাঁচতে দিল না। আমি সিয়ামের ফাঁসি চাই।"   ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, নিহতের কাঁধ ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। হাজারীবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই ঘাতককে ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে পৃথক দুই ধারায় মোট ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।  বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সূত্র অনুযায়ী, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে সম্রাটকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। অন্যদিকে, মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তাকে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।  বিচারক তাঁর আদেশে উল্লেখ করেছেন যে, এই দুই ধারার সাজা একটির পর একটি কার্যকর হবে, ফলে তাকে মোট ২০ বছর কারাভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর অর্জিত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সম্রাট পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এর আগে ২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিল দুদক। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই রায় প্রদান করা হলো।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
তাজুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘রাজসাক্ষী নাটক’ ও দুর্নীতির অভিযোগ: তাজুল ইসলামের বিদায়বেলায় তোলপাড়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিদায়ের দিনে প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরেই বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ দাবি করেছেন, চিফ প্রসিকিউটরের পদটিকে ‘টাকা কামানোর হাতিয়ার’ বানিয়েছিল তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই বিচার প্রক্রিয়ায় ‘রাজসাক্ষী নাটক’ এবং অর্থের বিনিময়ে আসামিদের ছাড় দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন।   প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের অভিযোগ অনুযায়ী, আশুলিয়ার আলোচিত লাশ পোড়ানো মামলার প্রধান আসামির স্ত্রীর কাছ থেকে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের কক্ষে ‘ভারী ব্যাগ’ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তিনি চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং পরবর্তীতে ওই আসামিকে রাজসাক্ষী করে মামলা থেকে অব্যাহতির পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী করা এবং রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামিদের ছাড় দেওয়ার পেছনেও বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সুলতান মাহমুদের মতে, ট্রাইব্যুনালের ৩-৪ জনের একটি অসাধু চক্র শুরু থেকেই এই ধরনের ‘সেটলিং বাণিজ্য’ পরিচালনা করে আসছিল।   এদিকে, এসব অভিযোগকে পুরোপুরি ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা হিংসা থেকে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল এবং আদালতের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। তার পাশে থাকা প্রসিকিউটর তামীম সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও পরে গণমাধ্যমের কাছে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রসিকিউশন টিমের এমন অভ্যন্তরীণ কাদা ছোড়াছুড়ি এবং দুর্নীতির অভিযোগ দেশজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
নৌকায় তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চারজনের যাবজ্জীবন

জোরপূর্বক নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে এক যুবতীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল।   দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শহিদুল ইসলাম, নিজাম, মনির হোসেন সেন্টু ও সাইফুল ইসলাম। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ২৫ বছর বয়সী ভুক্তভোগী যুবতী তার এক বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদ এলাকায় বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন আসামি তাকে জোরপূর্বক একটি নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে একটি বাড়ির কক্ষে আটকে রাখা হয়।   পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।   মামলার বিচার চলাকালে আটজন সাক্ষী বিভিন্ন সময়ে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমডি মাহবুব মোর্শেদ
বাসস এমডির দুর্নীতি অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত আজ মন্ত্রণালয়ের আদেশে জানানো হয়।   আদেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলো স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে পর্যালোচনা করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব।   কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন প্রধান তথ্য অফিসার (তথ্য অধিদপ্তর) এবং মহাপরিচালক (গণযোগাযোগ অধিদপ্তর)। এছাড়া একজন সিনিয়র সহকারী সচিব সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।   তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলোর বিষয়ে গভীরভাবে বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান সম্পন্ন করবে। মন্ত্রণালয় আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আগের সরকারের শুরু করা কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ কথা জানান।   শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রক্রিয়াটি চলমান এবং আগের মতোই সক্রিয় থাকবে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো নিয়েও নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।   জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ওপর জোর দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ এখন থেকে নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার আসায় পররাষ্ট্রনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে এবং সব রাষ্ট্রের সঙ্গে মেরুদণ্ড সোজা করে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে।   তিনি আরও বলেন, কোনো বিশেষ দেশের প্রতি নতজানু না হয়ে শক্ত অবস্থানে থেকে দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।   এ সময় বিদেশগামী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের ভিসা সমস্যা দ্রুত সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে গত বছরের নভেম্বরে দুই দেশের বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় দিল্লিকে চিঠি পাঠিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগেও দুই দফা কূটনৈতিক বার্তা পাঠানো হলেও ভারত থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। নতুন সরকার একই দাবি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
বরিশালে জমিজমার বিরোধে নিহত বিএনপি নেতা
বরিশালে জমিজমার বিরোধে নিহত বিএনপি নেতা

বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের বৌষেরহাট মাঝ গ্রামে দুর্বৃত্তরা দেলোয়ার হোসেন (৬০) নামে একজন বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দেলোয়ার হোসেন ওই গ্রামের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে এবং বাজারের ইজারাদার ছিলেন। রাতের বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মাঝ গ্রামে হামলার শিকার হন তিনি।   পুলিশ রাত ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দেলোয়ার হোসেনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।   স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, দেলোয়ার হোসেন দলীয় একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তার সঙ্গে একই এলাকার কিছু ব্যক্তির বিরোধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হতে পারে।   বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, হত্যাকারীদের সনাক্ত করা যায়নি এবং তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
টিউলিপ সিদ্দিক
দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ঢাকার একটি আদালত টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালতের আদেশ প্রদান করেন মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ।   দুদকের দাখিলকৃত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন। টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়াও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।   আদালত আগামী ৮ মার্চ আসামিদের গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। মামলাটি গুলশান এলাকার একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ ও লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছিল।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ওসমান হাদি
মানবতাবিরোধী অপরাধ: ট্রাইব্যুনালে শহীদ হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় করা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।   বুধবার সকালে প্রসিকিউশনের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।   শরীফ ওসমান হাদি এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ওই জবানবন্দি দিয়েছিলেন।   এরইমধ্যে মঙ্গলবার এই মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজন আসামির বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী এম এ রাজ্জাক সাক্ষ্য দেন, এর মধ্য দিয়েই মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।   মঙ্গলবার এই মামলায় প্রসিকিউশন লিখিতভাবে সূচনা বক্তব্য দেয়। তারা সেটি পাঠ করে শোনায়নি। সাধারণত সূচনা বক্তব্য চিফ প্রসিকিউটর বা তার পক্ষে পাঠ করে শোনানো হয়।   ওবায়দুল কাদের ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।   তবে এই মামলার সব আসামিই পলাতক রয়েছে।   উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে শরীফ ওসমান হাদি নির্বাচনী গণসংযোগ চালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ
চাদর মুড়ি দিয়ে জামায়াত আমিরের নির্বাচনি বুথে আগুন, ধরা পড়ল সিসি ফুটেজে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনি সহিংসতা ও নাশকতার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এই আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি নির্বাচনি বুথে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১৫ আসনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩ ও ৩ নম্বর রোড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত জামায়াতের এই নির্বাচনি বুথটিতে ভোর ৪টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভোর ৪টা ২৬ মিনিটের দিকে এক ব্যক্তি গায়ে চাদর মুড়িয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেখানে আসে। এরপর সে বুথের ভেতরে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।   আগুনে নির্বাচনি বুথটির আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। খবর পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং স্থানীয়দের মাঝে এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা বরাবরই একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন চেয়ে আসছি। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে এ ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা প্রমাণ করে একটি গোষ্ঠী নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে মরিয়া। জনগণকে সাথে নিয়ে এ ধরনের অপতৎপরতার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে।”   নির্বাচনের আগ মুহূর্তে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে এমন নাশকতার ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
সাংবাদিক শ্যামল দত্ত এবং মোজাম্মেল বাবুর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
সাংবাদিক শ্যামল দত্ত এবং মোজাম্মেল বাবুর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও তার পরিবার এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবুর নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।   ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ আজ, সোমবার ৯ জানুয়ারি, দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। শ্যামল দত্ত, তার স্ত্রী সঞ্চিতা দত্ত ও কন্যা সুষমা শশী দত্তের নামে থাকা মোট ১৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা রয়েছে। একইভাবে, মোজাম্মেল হক বাবু, তার স্ত্রী অপরাজিতা হক ও মেয়ে শাবাবা ইশায়াত হকের নামে থাকা ১১টি ব্যাংক হিসাবেও প্রায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা রয়েছে।   দুদকের পক্ষ থেকে সংস্থার উপ-পরিচালক বায়োজিদুর রহমান খান আদালতে জানিয়েছিলেন যে, উক্ত সাংবাদিকদের পরিবারের নামে থাকা সম্পদগুলো অর্জনের স্পষ্ট উৎস পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা গেছে, এসব সম্পদ বিভিন্নভাবে হস্তান্তর বা স্থানান্তরের মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অর্থপাচার এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে প্রমাণিত হয়েছে।   উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর শ্যামল দত্তকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে ভারত যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করেছিল। মোজাম্মেল হক বাবু সেই সময় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর সময় দুজনকেই আটক করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ঝিরি দিয়ে পাচার করা হচ্ছে গাছের গুঁড়ি
চবিতে ‘পুষ্পা স্টাইলে’ ঝিরি দিয়ে গাছ পাচারের চেষ্টা, জব্দ ৭৪টি গুঁড়ি

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট। তবে এবার তারা সড়কপথ নয়, বরং পাহাড়ি ঝিরির প্রবল স্রোতকে ব্যবহার করেছে গাছ পাচারের মাধ্যম হিসেবে। গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছন দিয়ে প্রবাহিত ঝিরিতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।   জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২২-২৩ সেশনের একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ভ্রমণে বের হন। বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন ঝিরির কাছে পৌঁছালে তারা পানির তীব্র গর্জনের সাথে বিপুল পরিমাণ গাছের গুঁড়ি ভেসে যেতে দেখেন। মুহূর্তেই শিক্ষার্থীরা সেই দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই সক্রিয় হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দফতরের সুপারভাইজার শাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহল টিম এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঝিরি ধরে বেশ কিছুদূর অনুসন্ধানের পর একের পর এক গাছের গুঁড়ি খুঁজে পাওয়া যায়। অভিযানে মোট ৭৪টি মূল্যবান গাছের গুঁড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।   নিরাপত্তা সুপারভাইজার শাহেদুল ইসলাম জানান, প্রশাসক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমান উল্লাহর নির্দেশনায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধারকৃত গাছগুলো যেন পুনরায় কেউ সরিয়ে নিতে না পারে, সেজন্য রাতেই ঘটনাস্থলে ৮ সদস্যের একটি বিশেষ নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী সংবাদমাধ্যমকে জানান, জব্দকৃত গাছগুলো মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে থেকে পাচার হয়ে আসছিল। বনবিভাগের যথাযথ অনুমতি ও মালিকানার প্রমাণ ছাড়া এই কাঠগুলো স্থানান্তর করা আইনত দণ্ডনীয়। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ সুনির্দিষ্ট ক্লিয়ারেন্স বা বৈধ মালিকানা দাবি না করে, তবে নিলাম কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে এই ৭৪টি গুঁড়ি দ্রুত নিলামে তোলা হবে।   উল্লেখ্য, গত বছরও প্রায় একই কায়দায় ঝিরি ব্যবহার করে গাছ পাচারের ঘটনা ঘটেছিল। বারবার এই ধরনের পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বনজ সম্পদ রক্ষায় ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর ও নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
এবার ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন ডিবির হারুন

গাজীপুরের পাতারটেকে ২০১৬ সালে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে সাতজনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদসহ পুলিশের ১০ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘ফরমাল চার্জ’ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।   তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: হারুন অর রশীদ: সাবেক ডিবি প্রধান (তৎকালীন গাজীপুরের এসপি)। একেএম শহিদুল হক: সাবেক আইজিপি। জাবেদ পাটোয়ারী: সাবেক আইজিপি। আসাদুজ্জামান মিয়া: ডিএমপির সাবেক কমিশনার। মনিরুল ইসলাম: সিটিটিসির তৎকালীন প্রধান।   ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের পাতারটেকে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে ‘জঙ্গি’ হিসেবে নিহতের দাবি করেছিল পুলিশ। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এই ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য বেরিয়ে আসে। অভিযোগকারীর বক্তব্য: নিহতদের মধ্যে ইবরাহীম নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর বাবা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন যে, তাঁর ছেলেকে গুম করার পর সাজানো নাটকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার দাবি: প্রসিকিউশন জানিয়েছে, দীর্ঘ তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে এটি কোনো জঙ্গিবিরোধী প্রকৃত অভিযান ছিল না, বরং পরিকল্পিতভাবে নিরস্ত্র ব্যক্তিদের ধরে এনে হত্যা করা হয়েছিল।   চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আজ তা আদালতে পেশ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করবেন।   এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি মামলা যেখানে পুলিশের একাধিক সাবেক আইজিপি এবং প্রভাবশালী কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। বিগত সরকারের আমলে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হওয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পথে এটিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

Unknown ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ বিমানের এমডি গ্রেফতার

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান,তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অন্য দুইজন হলেন বাসার আরও দুই গৃহকর্মী। সোমবার গ্রেফতারদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোমের মিয়া তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার জানান, আদালতে আজ গ্রেফতারদের জামিন বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন,১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে বীভৎসভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।এঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
গৃহকর্মী নির্যাতন: স্ত্রীসহ বিমানের এমডি কারাগারে

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের এক মামলায় গ্রেফতার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রীসহ চারজনকে করাগারে পাঠানো হয়েছে।   রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উত্তরায় নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন।   উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ বলেন, শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় বিমান বাংলাদেশের এমডিসহ চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।   পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাফিকুর রহমানের বাসায় ওই শিশু গৃহকর্মীর কাজ করে। ওই গৃহকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে মারধর করা হচ্ছিল। ওই শিশুর পরিবার থানায় মামলা করেছে। সেই মামলায় রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি এবং বাসার অন্য দুই গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আন্তর্জাতিক

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১, ২০২৬ 0