- প্রচ্ছদ
- অপরাধ
অপরাধ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের তালাহাসিতে ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমকামিং ফুটবল ম্যাচ শেষে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া গুলির আতঙ্কে পালানোর সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী অ্যান্থনি রিভার্স তৃতীয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তালাহাসি পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার কিছু আগে ব্র্যাগ মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামের বাইরে পেরি ও মানাটি স্ট্রিটের কাছাকাছি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দল আরকানসাস-পাইন ব্লাফ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের আগে পরস্পর পরিচিত কয়েকজনের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষ হয়েছিল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই পরিস্থিতি গুলিবর্ষণ পর্যন্ত গড়ায়। তবে বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিরা হামলাকারীর প্রত্যক্ষ লক্ষ্য ছিলেন বলে আপাতত মনে হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল ম্যাচের সঙ্গে গুলিবর্ষণের সরাসরি কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত হয়নি। গুলিবিদ্ধ ১১ জনের মধ্যে ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাঁদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির দাদি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় আহত হন। ফলে সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল বলে রোববার জানানো হয়। রোববার অ্যান্থনি রিভার্স তৃতীয়কে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যাচেষ্টার ১১টি অভিযোগ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার আদালতে সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। স্টেট অ্যাটর্নি জ্যাক ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, মামলাটি প্রাপ্তবয়স্কদের আদালতে নেওয়ার উদ্যোগ নেবে প্রসিকিউশন। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তালাহাসি পুলিশের প্রধান লরেন্স রেভেল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ পর্যালোচনা করছেন। গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনার সময় স্টেডিয়ামের আশপাশে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে আহতদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে সমস্যা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কর্মকর্তারা আহতদের বহন করে জরুরি চিকিৎসাসেবার যানবাহনের কাছে নিয়ে যান। হোমকামিং উৎসবের পর এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা স্থানীয় কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে করোনাভাইরাস মহামারির সময় সরকারি ত্রাণ কর্মসূচি থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে। এপ্রিল ওয়াটসন নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে ১০টি ফেডারেল অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ সরকারি ঋণের অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করে তার একটি অংশ দিয়ে নিজের বাড়ি নির্মাণের খরচ মেটানো হয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসার পর মহামারিকালীন সরকারি সহায়তা তহবিলের অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়াটসন আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ফক্স ৪ ডালাস–ফোর্ট ওয়ার্থের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ওয়াটসন করোনাকালীন সরকারি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় একাধিক ঋণের আবেদন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের বেতন পরিশোধ এবং ব্যবসা সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিভিন্ন ঋণ ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওয়াটসন নিজের পরিচালিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণের আবেদন করেন এবং অর্থ পাওয়ার জন্য জাল নথি ব্যবহার করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ঋণের আবেদন সমর্থন করতে ওয়াটসন ভুয়া পেরোল সামারি এবং আইআরএসের নামে তৈরি জাল করসংক্রান্ত নথি জমা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নথিতে কর্মীদের বেতন ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পেরোল কোম্পানি ওই নথি তৈরি করেনি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০১৯ ও ২০২০ সালের বেতন বা আয়ের বিষয়ে আইআরএসে ব্যবসায়িক ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি পৃথক অর্থায়নের মাধ্যমে মোট ৬ লাখ ৮০ হাজার ৪৯২ ডলার সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কেবেজ ইনকরপোরেটেডের মাধ্যমে পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রামের আওতায় ২ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ ডলার, স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দুর্যোগকালীন ঋণ কর্মসূচি থেকে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ ডলার এবং জেপিমরগ্যান চেজের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৪ ডলার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক্সোটিক ব্লিস বিউটি এলএলসি, ব্রেইন ইভোলিউশন এলএলসি এবং সাউদার্ন হোম ভেঞ্চারস এলএলসিসহ তার পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব আবেদন করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, কথিত জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থের এক লাখ ১৪ হাজার ডলারের বেশি সিডার হিল এলাকায় একটি বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। এ ছাড়া একজন সহযোগীর কাছে ৪০ হাজার ডলার পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। সরকারি সহায়তার অর্থ প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়তে ব্যয় করা হয়েছিল কি না, তা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওয়াটসনের বিরুদ্ধে চারটি ওয়্যার ফ্রড, দুটি ব্যাংক ফ্রড এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থসম্পদ নিয়ে লেনদেনের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযোগের সংখ্যা ১০টি। গত ২৩ অক্টোবর তিনি আদালতে প্রাথমিক হাজিরা দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওয়্যার ফ্রডের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর, ব্যাংক ফ্রডের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ৩০ বছর এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এগুলো আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সাজা; প্রকৃত সাজা নির্ধারিত হবে মামলার বিচারিক ফলাফল ও প্রযোজ্য আইনি বিধানের ভিত্তিতে। এদিকে, কথিত জালিয়াতির অর্থে অর্জিত সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেল সরকার। কর্তৃপক্ষ সিডার হিলের বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কথিত জালিয়াতির অর্থের সমপরিমাণ অর্থ আদায়ের আবেদন করেছে। মহামারির সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করার জন্য চালু করা সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ মামলায় ওয়াটসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে তার কারাদণ্ডের পাশাপাশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হওয়ার পর সাত সপ্তাহ বন্দিজীবন কাটিয়েছেন ইউক্রেনীয় অভিবাসী ইরিনা গর্ব। মুক্তি পাওয়ার পর এবার তিনি সেই বন্দিশালায় পরিচিত হওয়া অন্য নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারও আইনি খরচ জোগাতে অর্থ দিচ্ছেন, কারও জামিনের অর্থ সংগ্রহে সাহায্য করছেন, আবার কাউকে আইনি সহায়তার পথ খুঁজে পেতে সহযোগিতা করছেন। নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যেও অন্যদের জন্য তাঁর এই উদ্যোগ মানবিকতার এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৯ বছর বয়সী ইরিনা গর্ব একজন আলোকচিত্রী ও ক্যাফেকর্মী। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সান ফ্রান্সিসকোতে বসবাস করছিলেন। চলতি বছরের ২২ জুলাই ওরেগনের পোর্টল্যান্ড থেকে ফিরে সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাদাপোশাকের অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে আটক করেন। বিমানবন্দরে তাঁর আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মকর্তারা তাঁকে মাটিতে চেপে ধরছেন এবং তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রিচমন্ড সিটি কাউন্সিলের সদস্য ডোরিয়া রবিনসন ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অভিবাসন কর্মকর্তাদের এমন অভিযান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে আটকের সময় কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছিল, ইরিনা ২০১০ সালে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু তাঁর ভিসার মেয়াদ ২০১১ সালের মে মাসে শেষ হয়ে যায়। বিভাগের দাবি, তিনি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং আটকের সময় পালানোর চেষ্টা ও বাধা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ইরিনা তাঁর শিক্ষার্থী হিসেবে বৈধ অবস্থান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছিলেন এবং রাশিয়ার ২০১৪ সালের আগ্রাসনের পর ইউক্রেনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য নিরাপদ নয় বলে যুক্তি দিয়েছিলেন। তাঁর অভিবাসন মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আটকের পর তাঁকে ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া সিটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। সেখানে প্রায় সাত সপ্তাহ কাটানোর পর ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ৮ হাজার ডলারের বন্ডে মুক্তি পান। মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, এটি তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন কি না, তা নির্ধারণে সামনে অভিবাসন আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। বন্দিজীবনে ইরিনার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন একই কেন্দ্রে আটক অন্য নারীরা। কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁরা তাঁর সঙ্গে খাবার ভাগ করে নিয়েছেন, মানসিক সঙ্গ দিয়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে সাহস জুগিয়েছেন। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে ইরিনা জানিয়েছেন, এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে যখন তিনি হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বন্দিশালার অন্য নারীরা তাঁকে ভেঙে পড়তে দেননি। মুক্তির পর সেই সহায়তার কথা ভুলে যাননি তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছেন, আটক অনেক নারীর কাছে ভালো আইনজীবী নিয়োগের অর্থ নেই, জামিনের টাকা নেই, এমনকি বাইরে থেকে খোঁজ নেওয়ার মতো পরিবার বা পরিচিতজনও নেই। তাই মুক্ত হওয়ার পর তিনি তাঁদের জন্য অর্থ পাঠাচ্ছেন, আইনি খরচ ও বন্ডের অর্থ সংগ্রহে সাহায্য করছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পাওয়ার পথ খুঁজছেন। তাঁর নিজের হিসাব অনুযায়ী, মুক্তির পর থেকে তিনি এ কাজে ৫ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন। ইরিনা বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা আঁকার মাধ্যমেও তুলে ধরেছেন। আটক নারীদের জীবন, বন্দিশালার পরিবেশ ও তাঁদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর আঁকা ছবি ‘ডোন্ট ফরগেট অ্যাবাউট আস’ বা ‘আমাদের ভুলে যাবেন না’ শিরোনামের একটি প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা মারিয়া শহরে স্কুলে যাওয়ার পথে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ২০ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিককে আটক করে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। পরে তিনি কবজিতে গুরুতর আঘাতসহ বিভিন্ন জখম নিয়ে স্কুলে পৌঁছালে কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাঁকে হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২১ অক্টোবর সকালে। তরুণটি সান্তা মারিয়া হাইস্কুলে যাচ্ছিলেন। তাঁর সীমিত মৌখিক যোগাযোগের সক্ষমতা রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংগঠনের বর্ণনা অনুযায়ী, ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে অন্য একজনের বর্ণনার সঙ্গে মিল রয়েছে বলে থামান। এরপর তাঁকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, আটক রাখা এবং তাঁর পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, আটক করার পর তরুণটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি নিজেই স্কুলে পৌঁছালে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর আঘাত দেখে অ্যাম্বুলেন্স ডাকে। তাঁর কবজি ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরে ক্ষত ও কালশিটে পড়ার কথা জানিয়েছেন তাঁর সাবেক বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁর কবজিতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়েছিল বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার বর্ণনা নিয়ে আইসিই ও স্থানীয় পক্ষগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। আইসিইর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কর্মকর্তারা সান্তা মারিয়ায় একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছিলেন। তাঁদের ধারণা হয়েছিল, আটক ব্যক্তিটি ওই লক্ষ্যবস্তুর বর্ণনার সঙ্গে মিলে যান। সংস্থাটির দাবি, ওই ব্যক্তি কর্মকর্তাদের নির্দেশ মানেননি এবং প্রতিরোধের ভঙ্গি নিয়েছিলেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আইসিই আরও দাবি করেছে, আটক ব্যক্তির হাড় ভাঙার অভিযোগ সঠিক নয় এবং তিনি কর্মকর্তাদের কাছে চিকিৎসা চাননি। অন্যদিকে, স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তরুণটি স্কুলে পৌঁছানোর পর তাঁর আঘাতের কারণে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও স্কুল জেলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ২৪তম কংগ্রেশনাল জেলার প্রতিনিধি সালুদ কারবাহাল ২৩ অক্টোবর এক বিবৃতিতে ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া নিরাপদ হওয়া উচিত এবং কোনো শিক্ষার্থীকে ভয় বা হয়রানির মধ্যে পড়তে হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টালাহাসিতে একটি ফুটবল ম্যাচের পর গুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়টি শিশু রয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমকামিং সপ্তাহান্তে ঘটে। এ সময় ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে এলাকায় বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল। টালাহাসি পুলিশের প্রধান লরেন্স রেভেল জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে একটি বিবাদের সূত্র পাওয়া গেছে। গুলিতে আহতদের মধ্যে অন্তত ১১ জনের শরীরে গুলির আঘাত লেগেছে। অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করার খবর জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ ঘটনার পেছনের কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং গুলির পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছিল। ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, গুলির ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে জানায়, ক্যাম্পাস নিজে নিরাপদ রয়েছে। তবে ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এ ধরনের ঘটনা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে আনে। খেলাধুলা, উৎসব কিংবা কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় স্থানীয় পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করা ঠিক হবে না। আহতদের সর্বশেষ অবস্থা এবং সন্দেহভাজনদের বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে তা যাচাই করে জানানো প্রয়োজন।
বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের কাছ থেকে কাগজে টিপসই নেওয়ার পর তাঁর ১৪ শতক ফসলি জমি তিন ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজিজুল হক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো প্রতারণা হয়নি বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ অক্টোবর উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী আজিজুল হকের পরিবারের অভিযোগ, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ তাঁকে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কয়েকটি কাগজে তাঁর টিপসই নেওয়া হয়। পরে তাঁর হাতে ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট মিলিয়ে মোট ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে থাকা ১৪ শতক জমি অন্যদের নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে। দলিলের নকল ও সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাঘলপুর মৌজার আরএস ২২১ নম্বর দাগে থাকা ১৪ শতক ফসলি জমি ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে গত ৪ অক্টোবর নিবন্ধন করা হয়। দলিলগ্রহীতা হিসেবে নাম রয়েছে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং তাঁর দুই ভাই শাহ আলম ও শাহাদাৎ হোসেনের। দলিল সম্পাদনের সময় আজিজুল হক অসুস্থ থাকায় উল্লাপাড়া পৌর শহরের ঝিকিড়া মহল্লার একটি বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আজিজুল হকের ছেলে ফারুক সরকারের অভিযোগ, তাঁর বাবা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং চোখেও দেখতে পান না। আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করানো হয়েছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফারুকের দাবি, বাবার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দলিল বাতিল এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁর বক্তব্য, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জমি নেওয়া হয়নি; বরং আজিজুল হকের হাতে নগদ ৭ লাখ টাকা দিয়ে তাঁরা তিন ভাই জমিটি কিনেছেন। তাঁর দাবি, জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ পদ্ধতি বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি এবং সরকারি বিধিবিধান মেনেই দলিল সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে জমির মূল্য পরিশোধ, বৃদ্ধের সম্মতি এবং দলিল সম্পাদনের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দলিল লেখক আব্দুল মতিন জানান, আবুল কালাম আজাদ জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে দলিল প্রস্তুত করতে বলেছিলেন। সেই অনুযায়ী কমিশনের মাধ্যমে একটি বাড়িতে দলিল সম্পাদন করা হয়। পরে ঘটনাটি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগের কথা জানতে পারেন বলে তিনি জানান। উল্লাপাড়ার সাব-রেজিস্ট্রার ফারহানা আজিজ জানান, আজিজুল হকের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে দলিল সম্পাদনের আবেদন করা হয়েছিল। আবেদন মঞ্জুরের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি সেখানে গিয়ে দলিল সম্পাদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। এ ঘটনায় দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে জবাব না দেওয়ায় তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, জমি হস্তান্তরের সময় আজিজুল হক প্রকৃতপক্ষে কী বুঝেছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় জমি বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছিলেন কি না এবং দাবিকৃত অর্থ তাঁকে দেওয়া হয়েছিল কি না। এসব বিষয়ে তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে। অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট নথি, অর্থ পরিশোধের প্রমাণ এবং দলিল সম্পাদনের পরিস্থিতি যাচাই করেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এক নারী স্কুল প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম কাইটলিন হিন্টজ। তিনি বন্ডুয়েল মিডল/হাই স্কুলের সহযোগী প্রধান প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৯ অক্টোবর সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে শাওয়ানো কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার উইসকনসিনের ‘স্পিক আপ, স্পিক আউট’ নামের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থায় একটি বেনামি তথ্য আসে। সেখানে স্কুলের একজন কর্মী ও এক শিক্ষার্থীর মধ্যে অনুপযুক্ত যোগাযোগের অভিযোগ করা হয়। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়। এরপর শাওয়ানো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দারা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। এসব তথ্য পর্যালোচনার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার মতো প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেছে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে ১৯ অক্টোবর হিন্টজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই তারা পুলিশকে বিষয়টি জানায় এবং তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মীদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেছে স্কুল জেলা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগে উল্লেখিত যোগাযোগ স্কুল জেলার ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে হয়নি। একইভাবে, অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাগুলো স্কুল জেলার সম্পত্তির ভেতরেও ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে। তবে এই তথ্যের অর্থ অভিযোগটি ভিত্তিহীন—এমন নয়; ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। সংবেদনশীলতার কথা উল্লেখ করে শাওয়ানো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, এ পর্যায়ে তারা আর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে না। সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। মামলাটি কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া এগোতে পারে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে হিন্টজের প্রাথমিক আদালতে হাজির হওয়ার কথা ওই সপ্তাহের পরবর্তী সময়ে বলা হয়েছিল। তবে এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত তাঁর আদালতে হাজিরা, আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ কিংবা মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের প্রকৃতি বা সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ দ্রুত জানানোর গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মীদের কোনো উদ্বেগজনক আচরণ চোখে পড়লে প্রশাসনকে জানাতে অথবা ‘স্পিক আপ, স্পিক আউট’ ব্যবস্থায় অভিযোগ করতে উৎসাহিত করেছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লং বিচে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটকের সময় এক মার্কিন নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয় মেয়র রেক্স রিচার্ডসন ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের তদন্ত চলাকালে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) নর্থ লং বিচে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম রিকার্ডো গনজালেস। তিনি শহরটির সাবেক কর্মী। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি বাড়িতে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১১। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গনজালেসকে হাতকড়া পরা অবস্থায় রাস্তার পাশে উপুড় করে চেপে রাখতে দেখা যায়। এ সময় তাঁকে সাহায্য চাইতে এবং নিজের হাত ভেঙে যাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। তাঁর স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কর্মকর্তারা তাঁকে টেজার দিয়ে বৈদ্যুতিক শকও দেন। তবে আঘাতের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাগত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, ঘটনার সময় গনজালেস একটি ই-বাইক চালাচ্ছিলেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে একটি চিহ্নবিহীন এসইউভিকে একমুখী সড়কে উল্টো দিক দিয়ে চলতে দেখা যায়। তবে ক্যামেরার অবস্থানের কারণে গাড়িটির সঙ্গে ই-বাইকের সংঘর্ষ হয়েছিল কি না, তা ওই ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লং বিচ পুলিশের ভাষ্য, গাড়ি ভাঙচুর এবং একজনের চিকিৎসাসহায়তার প্রয়োজন হওয়ার কথা জানিয়ে আইসিই স্থানীয় জরুরি সেবা চেয়েছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ কর্মকর্তারা গনজালেসকে হাতকড়া পরা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পান। তাঁকে কাছের একটি ফায়ার স্টেশনে নেওয়ার পর হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। পরে দমকল বিভাগের কর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিবাসন অভিযানটিতে অংশ নেয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করেনি। সোমবার মেয়র রিচার্ডসন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মহাপরিদর্শকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠান। কেন গনজালেসকে আটক করা হয়েছিল, তাঁর ক্ষেত্রে বর্ণগত পরিচয়ের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না এবং কেন তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, এসব প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি। তদন্তের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং প্রতিবেদন প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন মেয়র। কংগ্রেস সদস্য রবার্ট গার্সিয়াও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে আইসিই দাবি করেছে, সরকারি গাড়ির আয়না ভাঙার পর ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সংস্থাটি ই-বাইকে থাকা কাউকে গাড়ি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করেছেন। সরকারি গাড়ির ক্ষতিসাধনের ঘটনায় সম্ভাব্য অভিযোগ আনার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইসিই। এসব দাবি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
নিউইয়র্কে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডকে ঘিরে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অভিযানকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্ত বলে উল্লেখ করেছে। নিউইয়র্কের সংবাদমাধ্যম এবিসি সেভেন ও সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রুকলিনের বরো পার্ক এলাকায় একটি প্রাপ্তবয়স্কদের দিবাযত্নকেন্দ্রেও তদন্তকারীদের দেখা যায়। এফবিআই জানিয়েছে, নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে সংস্থাটি প্রাথমিক বিবৃতিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কর্মসূচিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা এমন কিছু সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখছেন, যাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, অবৈধ আর্থিক সুবিধা দেওয়া, অনিয়মিত বিল জমা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তবে তদন্তাধীন সব প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বরোপার্ক টোয়েন্টি ফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তটি একাধিক মাস ধরে চলেছে এবং সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগে ১০০টিরও বেশি সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে। অভিযানে এফবিআইয়ের পাশাপাশি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মেডিকেইড জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ ইউনিটসহ একাধিক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের মানুষসহ যোগ্য ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহনে সহায়তাকারী সরকারি কর্মসূচি। এই কর্মসূচির অর্থ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান সেবা না দিয়েও বিল জমা দিলে, ভুয়া তথ্য ব্যবহার করলে কিংবা রোগী বা গ্রাহকদের অবৈধ অর্থ দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করলে তা সম্ভাব্য জালিয়াতি হিসেবে তদন্তের আওতায় আসতে পারে। নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যসেবা খাতে মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের নজরদারি অবশ্য নতুন নয়। গত ২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ব্রুকলিনের একটি সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্নকেন্দ্র ও বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসার মালিক আহসান ইজাজ প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতির মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোতে প্রায় সাত বছর ধরে সেবা দেওয়া হয়নি—এমন দাবিতেও বিল জমা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। এটি বর্তমান অভিযানের সঙ্গে একই মামলা—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চলমান অভিযানে কতজনকে আটক করা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, কিংবা তল্লাশিতে কী কী নথি ও আলামত জব্দ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রকাশ্য প্রতিবেদনে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান থাকায় পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহরের কেন্দ্রস্থলে গুলিতে এক কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার, ১৮ অক্টোবর ভোরে কমার্স স্ট্রিট এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের একজনকে টাকোমা শহর থেকে এবং অন্য দুজনকে ইয়েলম শহর থেকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোর ২টা ২৩ মিনিটে কমার্স স্ট্রিটের ১১০০ নম্বর ব্লক এলাকায় গুলির শব্দ শোনার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক কিশোরকে দেখতে পান। তাঁর আঘাত ছিল প্রাণঘাতী। পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরটিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। তদন্তের জন্য গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও অপরাধস্থল বিশ্লেষণকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করেন। নিহত কিশোরের নাম, বয়স এবং পরিবারের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, সে বিষয়েও পুলিশ নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক। তাঁদের মধ্যে দুজনকে ইয়েলম শহর থেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের একজন পুরুষ ও একজন নারী। অপর ব্যক্তিকে টাকোমা শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁদের আদালতে হাজির করার কথা ছিল। তবে আদালতে হাজিরা সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কী কারণে কিশোরটির ওপর গুলি চালানো হয়েছিল এবং নিহতের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আগে থেকে কোনো পরিচয় বা বিরোধ ছিল কি না। তবে এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলটি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকোমা শাখার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। জনবহুল শহরকেন্দ্রের এ ঘটনায় আশপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার দৃশ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুলিশের তদন্তে সহায়তার জন্য ঘটনার সময় এলাকায় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ গুলির ঘটনা দেখে থাকলে, সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে থাকলে অথবা নিজের মুঠোফোনে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো দৃশ্য ধারণ করে থাকলে সেই তথ্য তদন্তকারীদের কাজে আসতে পারে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। এ হত্যাকাণ্ডে তিনজন গ্রেপ্তার হলেও কিশোরটির মৃত্যুর পেছনের কারণ, ঘটনার আগে কী ঘটেছিল এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশি তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে বিনা পরোয়ানায় বা যথেষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া আটক হওয়া মার্কিন নাগরিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইনড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ নামের বিলটি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ। এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন নিউ জার্সির প্রতিনিধি বনি ওয়াটসন কোলম্যান। বিলটির মূল লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা বা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বিনা পরোয়ানায় এবং যথাযথ আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রেপ্তার বা আটক করলে, সেই নাগরিক যেন আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করার জন্য নির্দিষ্ট আইনি পথ পান। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন; বিলটি উত্থাপিত হওয়ার পর প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তাই এটিকে ইতোমধ্যে কার্যকর আইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট অঙ্ক। প্রস্তাব অনুযায়ী, আদালতে কোনো নাগরিকের দাবি প্রমাণিত হলে তাঁকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আটকের প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ ডলার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তিসংগত আইনজীবীর ফি ও আদালতের খরচ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনামূলক বা ঘোষণামূলক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে। উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি প্রথম দিনের পর আরও পাঁচ দিন আটক থাকেন, তাহলে প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অঙ্ক হবে ১০ লাখ ডলার—আইনটি কার্যকর হওয়া এবং আদালতে দাবি প্রমাণিত হওয়ার শর্তে। প্রস্তাবিত আইনটি ২০ জানুয়ারি ২০২৫ বা তার পরের সময়ের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আইনটি পাস হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নাগরিকেরা অতীতের কিছু আটক-ঘটনার জন্যও মামলা করার সুযোগ পেতে পারেন। মামলা দায়েরের জন্য পাঁচ বছরের সময়সীমা রাখা হয়েছে। বিলটিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ধরনের মামলায় ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’ বা ‘অ্যাবসলিউট ইমিউনিটি’কে দায় এড়ানোর প্রতিরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে এসব মামলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার তার সার্বভৌম দায়মুক্তির সুরক্ষা ত্যাগ করবে। বিলটির পটভূমিতে রয়েছে অভিবাসন অভিযানের সময় মার্কিন নাগরিকদের ভুলভাবে আটক করার অভিযোগ। প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজের কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রোপাবলিকার একটি অনুসন্ধানে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর পর থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিক আটক হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। ওই তালিকায় শিশু এবং অভিবাসন অভিযান ভিডিও করার সময় আটক হওয়া ব্যক্তিদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া; এটি কোনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অবৈধ আটক প্রমাণিত ব্যক্তির সংখ্যা নয়। বিলটি শুধু ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে একটি নির্দিষ্ট অভিবাসন-সংক্রান্ত তহবিলের যেসব অর্থ এখনো বরাদ্দ বা ব্যয়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়নি, সেগুলো স্থায়ীভাবে বাতিল করার বিধানও রয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি একদিকে নাগরিকদের আইনি প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনছে, অন্যদিকে অভিবাসন প্রয়োগে ব্যবহৃত অর্থের বিষয়েও পরিবর্তনের প্রস্তাব করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টেসলার সেল্ফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তির ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এক চালক। শেষ পর্যন্ত তাঁর গাড়ির সঙ্গে পুলিশের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। গত ১৩ অক্টোবর রাতে ফেয়ারফিল্ড এলাকার কাছে ইন্টারস্টেট ৮০ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর চালকের অসতর্কতা এবং গাড়ির চালনা-সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা তখন মহাসড়কে এর আগে ঘটে যাওয়া আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার তদন্ত করছিলেন। এ কারণে সড়কের কয়েকটি লেন বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ির জরুরি বাতি জ্বলছিল এবং যানবাহনকে সতর্ক করতে ট্রাফিক কোন বসানো ছিল। এমন পরিস্থিতিতে টেসলাটি বন্ধ লেনের দিকে এগিয়ে এসে পুলিশের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। সিবিএস স্যাক্রামেন্টো ও এবিসি৭ সান ফ্রান্সিসকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেসলার চালক ২২ বছর বয়সী স্যাক্রামেন্টোর বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর তিনি পুলিশকে জানান, গাড়ি চালানোর সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গাড়ির চালনা-সহায়ক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার ঠিক মুহূর্তে গাড়িটির সেল্ফ-ড্রাইভিং ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পুরোপুরি একরকম তথ্য পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষে পুলিশের গাড়িতে থাকা দুই কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল চালকদের সতর্ক করেছে। তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তিকেই দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ বলা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও চালকের ভূমিকা বিবেচনা করেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি। টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামের প্রযুক্তি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নামের মধ্যে ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ থাকলেও এটি চালকবিহীন গাড়ি চালানোর নিশ্চয়তা দেয় না। চালককে রাস্তার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হয় এবং যেকোনো সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। অর্থাৎ, চালনা-সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও চালকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। মহাসড়কে আগের দুর্ঘটনার পর পুলিশ যখন তদন্ত ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত, তখন একই স্থানে আরেকটি সংঘর্ষের ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের সতর্কবার্তাও এখানে প্রাসঙ্গিক: গাড়িতে উন্নত প্রযুক্তি থাকলেও চালকের মনোযোগের বিকল্প নেই। সেল্ফ-ড্রাইভিংয়ের ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়া যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, ক্যালিফোর্নিয়ার এই দুর্ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে একটি কলেজের আবাসিক হলে মাদক দেওয়ার পর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় দুই তরুণের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিদের অভিযোগ, কোকেন বলে ফেন্টানিল নামের অত্যন্ত শক্তিশালী মাদক দেওয়ায় দুই তরুণী অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁদের একজন পরে মারা যান, অন্যজন প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ; নতুন অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয় ১৫ অক্টোবর। সরকারি অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রঙ্কস এলাকার ১৯ বছর বয়সী মোইসেস ফ্রেইরে এবং কুইন্স এলাকার ১৮ বছর বয়সী ব্রায়ান পেরাল্টা কাব্রেরার বিরুদ্ধে মাদক বিতরণের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফ্রেইরের বিরুদ্ধে অচেতন ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মাদক সরবরাহের অতিরিক্ত অভিযোগও রয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্রেইরে ওই দুই ছাত্রীর আবাসিক কক্ষে মাদক নিয়ে যান এবং সেটিকে কোকেন বলে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁদের অভিযোগ, বাস্তবে সেটি ছিল ফেন্টানিল। পদার্থটি গ্রহণ করার পর দুই তরুণী দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পরীক্ষায় তাঁদের শরীরে ফেন্টানিল পাওয়া যায়; কোকেন পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দুই তরুণী অচেতন হয়ে পড়ার পর ফ্রেইরে তাঁদের একজনের ওপর যৌন নির্যাতন চালান। ওই তরুণী আর জ্ঞান ফিরে পাননি এবং ২১ মার্চ তীব্র ফেন্টানিল বিষক্রিয়াজনিত জটিলতায় মারা যান। অন্য তরুণীকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর বাঁচানো সম্ভব হয়। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, কৌঁসুলিদের দাবি অনুযায়ী, ফ্রেইরে জরুরি সহায়তা চাইতে প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেন। এই সময় তিনি অচেতন দুই তরুণীর ছবি অন্যদের কাছে পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে গিয়ে প্রথমে জানান, তরুণীরা অতিরিক্ত মদ্যপান করেছিলেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের জরুরি চিকিৎসা দেন এবং হাসপাতালে পাঠান। এই ঘটনায় তৃতীয় ব্যক্তি হ্যারি রোসালেস পিনোর নামও মামলায় এসেছে। মাদক বিতরণের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে তিনি সেপ্টেম্বরে দোষ স্বীকার করেছেন বলে মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তাঁর সাজা নির্ধারণের প্রক্রিয়া আলাদা। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাদক বিতরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে ফ্রেইরে ও কাব্রেরার ন্যূনতম ২০ বছরের কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। ফ্রেইরের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মাদক বিতরণের অভিযোগে সর্বোচ্চ আরও ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের আদালতে জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া তখনো সম্পন্ন হয়নি। ঘটনাটি কলেজের আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং অজানা উৎসের মাদক গ্রহণের ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফেন্টানিল অত্যন্ত শক্তিশালী ওপিওয়েড; অল্প পরিমাণেও প্রাণঘাতী বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। এই মামলায় কর্তৃপক্ষের মূল অভিযোগ, মাদকটিকে অন্য পদার্থ বলে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যার পরিণতিতে একজন তরুণীর মৃত্যু হয় এবং আরেকজন গুরুতর বিপদে পড়েন।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে সাবেক সঙ্গীর হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন জেনিন কাজমি। তাঁর জীবনের এই মর্মান্তিক ঘটনা পারিবারিক সহিংসতা, নারীর নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি ভোরে গ্লাসগোর ডালমারনক এলাকায় সাবেক সঙ্গী ব্যারি শ্যাঙ্কলির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সম্পর্কের অবনতি এবং ব্যক্তিগত বিরোধের মধ্যে জেনিনের সঙ্গে শ্যাঙ্কলির সংঘাত তৈরি হয়। একপর্যায়ে শ্যাঙ্কলি তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি সিঁড়ির রেলিং টপকে নিচে পড়ে যান। এতে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসার পর জেনিন জানতে পারেন, এই আঘাতের কারণে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবেন না। তাঁকে হুইলচেয়ারের সাহায্যে চলাফেরা করতে হয়। আকস্মিক এই বিপর্যয় তাঁর দৈনন্দিন জীবন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গভীর পরিবর্তন নিয়ে আসে। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, জেনিনের প্রতি নির্যাতন শুধু ওই দিনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত শ্যাঙ্কলি তাঁর প্রতি ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণমূলক ও সহিংস আচরণ করেছিলেন। জেনিনের ফোন ব্যবহার, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়টিও আদালতে উঠে আসে। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, জেনিনের প্রতি নির্যাতন শুধু ওই দিনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত শ্যাঙ্কলি তাঁর প্রতি ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণমূলক ও সহিংস আচরণ করেছিলেন। জেনিনের ফোন ব্যবহার, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়টিও আদালতে উঠে আসে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পর্তুগালের লিসবনে ভ্রমণের সময়ও তাঁদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আদালতের নথিতে জেনিনকে ধাক্কা দেওয়া, তাঁর ফোন ভেঙে ফেলা এবং তাঁকে আঘাত করার মতো অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। পরবর্তী সময়েও তাঁদের মধ্যে নির্যাতনমূলক আচরণ অব্যাহত ছিল বলে বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেনিনের সাময়িক স্মৃতিভ্রংশ হয়েছিল। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, শ্যাঙ্কলি তাঁকে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন। পরে স্মৃতি ফিরে আসার পর জেনিন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁর বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। ২০২৪ সালের ২৮ জুন গ্লাসগোর উচ্চ আদালতের বিচারকমণ্ডলী শ্যাঙ্কলিকে সাবেক সঙ্গীর প্রতি ধারাবাহিক নির্যাতনমূলক আচরণসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। একই বছরের ২৫ জুলাই বিচারক তাঁকে ১৪ বছরের বর্ধিত সাজা দেন। এর মধ্যে ১৩ বছরের কারাদণ্ড এবং পরবর্তী এক বছরের বর্ধিত মেয়াদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। জেনিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাঁর কাছে যাওয়ার ওপরও অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। জেনিনের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা শুধু শারীরিক আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভয় দেখানো, সামাজিক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ, পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা এবং মানসিক চাপও নির্যাতনের অংশ হতে পারে। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্যাতনের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা, ভুক্তভোগীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া, দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেনিন কাজমির জীবনের এই ঘটনা তাই শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত দুর্ভোগের কাহিনি নয়; এটি সহিংস সম্পর্ক থেকে সুরক্ষা, অপরাধের বিচার এবং নির্যাতিত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মিডটাউন ম্যানহাটনের একটি পাতালরেল স্টেশনে গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর সন্দেহভাজনকে খুঁজছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। শনিবার, ১৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টা ২১ মিনিটে সপ্তম অ্যাভিনিউ ও পশ্চিম ৫৩তম স্ট্রিটের পাতালরেল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি ব্রডওয়ের কয়েকটি থিয়েটার ও কার্নেগি হলের কাছাকাছি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে গুলি চালানো হয়। সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি ট্রেনে গড়ায় এবং পরে আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে। তবে গুলিগুলো ঠিক ট্রেনের ভেতরে নাকি প্ল্যাটফর্মে ছোড়া হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রাথমিক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। গুলিতে আহত ব্যক্তির বুকে আঘাত লাগে। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানানোর কথা জানিয়েছিল পুলিশ। প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাঁর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে তাঁকে লাল রঙের ট্র্যাকস্যুট, কালো ভেস্ট ও কালো মুখোশ পরা অবস্থায় দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ঘটনাস্থল থেকে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যান এবং সপ্তম অ্যাভিনিউ ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে যান। ঘটনার পরপরই কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্তের কারণে নিউইয়র্কের গণপরিবহনেও বিঘ্ন ঘটে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি জানিয়েছিল, পুলিশি তদন্ত চলাকালে সি, ডি ও ই লাইনের ট্রেনগুলো সপ্তম অ্যাভিনিউ স্টেশন এড়িয়ে চলছিল। ই লাইনের কিছু ট্রেনকে বিকল্প পথে পরিচালনা করা হয় এবং এ, সি, ডি, ই ও এফ লাইনে বিলম্ব দেখা দেয়। পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে। কারও কাছে এ ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য থাকলে এনওয়াইপিডি ক্রাইম স্টপার্সের নম্বর ১-৮০০-৫৭৭-টিপস (৮৪৭৭)-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্প্যানিশ ভাষায় তথ্য দেওয়ার জন্যও আলাদা নম্বর রয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের আবু ফালাহ গ্রামে ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহের ঘটনা কাভার করতে গিয়ে মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হা মলার শিকার হয়েছেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের অভিজ্ঞ আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, হা মলায় তিনি গুরুতর আ হ ত হন। তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হা মলার সময় তাঁর পোশাকে সাংবাদিক পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ভিডিওতে দেখা যায়, হা মলাকারীরা তাঁকে মাটিতে ফেলে মা রধর করে এবং তাঁর ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। হেইডি লেভিনের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখোশধারী কয়েক ডজন ব্যক্তি তাঁদের ওপর হা মলা চালায়। তাঁকে মাটিতে ফেলে বারবার লাথি মারা হয়। হা মলায় তাঁর পাঁজরের একটি হাড় ও মেরুদণ্ডের চারটি কশেরুকা ভেঙে যায় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তিনি কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন সং ঘা তপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকতা ও আলোকচিত্রের কাজ করছেন। এ ঘটনায় ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি হা মলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি হা মলাকে নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে দায়ীদের গ্রে প্তা র, বিচার এবং কারাদণ্ডের আহ্বান জানান। ওয়াশিংটন পোস্ট কর্তৃপক্ষও হা মলার নিন্দা জানিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো তদন্তাধীন। ইসরায়েলি পুলিশ ও সামরিক কর্তৃপক্ষও তদন্তের কথা জানিয়েছে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে হা মলাকারীদের কাউকে গ্রে প্তা রের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষক ও তাঁদের সহায়তায় আসা ব্যক্তিদের ওপর হা মলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হা মলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে আর্থিক প্রতারণার একটি ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক সুমিত কুমার সিং। বয়স্ক ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতারণার আগের মামলায় ৭৮ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করার সময় কারাগারের ভেতর থেকে নিষিদ্ধ মুঠোফোন ব্যবহার করে নতুন একটি প্রতারণামূলক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৯৩ বছর বয়সী উত্তর ডাকোটার এক নারীর ৪৫ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত চেকের তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মামলায় সিং প্রতারণার উদ্দেশ্যে ডাকযোগে জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতারণাকারীরা ফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। কখনো তারা নিজেদের পেপ্যালের প্রতিনিধি, আবার কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা পরিচয় দিত। ভুক্তভোগীদের বলা হতো, পরিচয়পত্র তৈরি, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা হারানো অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রতিশ্রুতির আড়ালে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় উত্তর ডাকোটার ৯৩ বছর বয়সী এক নারীকে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি তাঁকে নতুন পরিচয়পত্র পেতে এবং অর্থ ফেরত পেতে সহায়তা করবেন। এই আশ্বাসে নারীটি ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ৪৫ হাজার ডলারের একটি ব্যক্তিগত চেক ডাকযোগে পাঠান। তবে সরকারি কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে দেওয়া ওই প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতারণার অংশ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে কারাগারে থাকা অবস্থায় পাঠানো বার্তা ও ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়ার রসিদ। অভিযোগের নথি অনুযায়ী, সিং নিষিদ্ধ মুঠোফোন ব্যবহার করে বাইরের সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট তিনি এক যোগাযোগকারীর কাছে ওই ৪৫ হাজার ডলারের চেকের ছবি পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরদিন আরেক ব্যক্তির কাছে অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ক্যাশ অ্যাপের তথ্য পাঠানোর কথাও নথিতে রয়েছে। এরপর ৬ আগস্ট টেক্সাসের এডিনবার্গ শহরে এক সহযোগী ওয়েলস ফার্গোর একটি ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবে চেকটি জমা দেন। একই দিন ব্যাংকের জমা রসিদের ছবিও সিং অন্য এক যোগাযোগকারীর কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। এসব ডিজিটাল যোগাযোগ ও লেনদেনের তথ্য তদন্তকারীদের কাছে প্রতারণার চক্রটির সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সিংয়ের আগের মামলাটি ছিল প্রবীণ আমেরিকানদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি বৃহত্তর প্রতারণার চক্র নিয়ে। ওই চক্রের সদস্যরা ভুয়া প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে মানুষের কম্পিউটারে প্রবেশাধিকার নিতেন এবং ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের হিসাবের পর্দায় অতিরিক্ত অর্থ ফেরত এসেছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো। পরে ভুল করে বেশি টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করে তাঁদের কাছে অর্থ ফেরত চাওয়া হতো। সিং ওই চক্রে অর্থ সংগ্রহের বাহক হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছিলেন। অন্য সদস্যরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তা স্থানান্তর করতেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, আগের মামলায় সিংকে ৭৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় অন্য কয়েকজন আসামিও কারাদণ্ড পান। ভুক্তভোগীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন, যাঁরা তাঁদের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ জানায়, সিং নতুন মামলায় ডাকযোগে প্রতারণার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর দাখিল করা সংশোধিত অভিযোগপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। আগের অভিযোগপত্রে তিনজন প্রবীণ ভুক্তভোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৃথক ডাকযোগে প্রতারণার অভিযোগ এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও ছিল। নতুন অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এগুলো সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শাস্তি; চূড়ান্ত শাস্তি নয়। বিচারক জর্জ সি. হ্যাঙ্কস জুনিয়র নতুন মামলায় সাজা ঘোষণার দিন ২১ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করেছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত নতুন মামলায় তাঁর সাজা ঘোষণা করা হয়নি। তিনি কারাগারেই রয়েছেন। এই ঘটনাটি দেখায়, প্রতারকেরা সরকারি কর্মকর্তা কিংবা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সেজে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিয়ে অথবা অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের পরামর্শ হলো, কেউ সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ চাইলে বা অর্থ ফেরত দেওয়ার আগে ফি দিতে বললে সরাসরি বিশ্বাস করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে নম্বর নিয়ে স্বাধীনভাবে যোগাযোগ করে পরিচয় যাচাই করতে হবে। প্রতারণার আশঙ্কা হলে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে চেকের অর্থ পরিশোধ বন্ধ করা সম্ভব কি না, তা জানতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার গেইনসভিলে এক নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লক্ষ্যা যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে আলাচুয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। গত ১৪ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম গেইনসভিলে তাঁর বাসস্থানের কাছে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল ব্যাটারির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গেইনসভিল সান। শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে যাদবের পরিচয় হয়েছিল। নারীটি বাসায় আসতে নিষেধ করলেও গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে তিনি সেখানে উপস্থিত হন। তাঁকে নেশাগ্রস্ত মনে হওয়ায় ওই অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঝুঁকির কথা ভেবে নারীটি তাঁকে ভেতরে ঢুকতে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় ঢোকার পর বারবার থামতে বলা সত্ত্বেও যাদব ওই নারীকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, নথিভুক্ত আঘাতের সঙ্গে অভিযোগকারীর বর্ণনার মিল রয়েছে। তদন্তের শুরুতে নারীটি অভিযুক্তের প্রকৃত নাম জানতেন না। তবে তিনি একটি নীল টেসলা চালাতেন বলে জানান। লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরার তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি নীল টেসলার চলাচল শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্রে যাদবের পরিচয় পাওয়া যায়। পরে ছবির সারি থেকে তাঁকে শনাক্ত করেন অভিযোগকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ পরিচালক সিনথিয়া রোলডান গেইনসভিল সানকে জানান, যাদব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ১৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সম্পত্তিতে তাঁর প্রবেশ তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে। যাদবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
চট্টগ্রামে স্বামীর আগের বিয়ের তথ্য জানার পর এক নারীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, দাম্পত্য কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস তদন্তের পর এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত স্বামীসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহত নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁর বয়স ২৮ বছর। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংস্থাটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, জান্নাতুল একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রায় তিন বছর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট সিগন্যাল এলাকার বাসায় থাকতেন। তদন্তকারীদের দাবি, রাজা মিয়া বিয়ের আগে নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর জান্নাতুল জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। এ তথ্য জানার পর তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিরোধের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজা মিয়া এবং পরিচিত মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রথমে দাম্পত্য বিরোধ মেটাতে তাঁরা কালুরঘাট সেতুর কাছে এক কবিরাজের কাছে যান। সেখানে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে তাতেও বিরোধ না মেটায় জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পিবিআইয়ের দাবি। ঘটনার দিন ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজা মিয়া ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই একটি সাম্পান নৌকা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন মুসলিম উদ্দিন, আরমান এবং রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুক্কুর আহমেদ। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালের দিকে যায়। পিবিআইয়ের দাবি, রাত আটটার দিকে নৌকার মধ্যে রাজা মিয়া ও জান্নাতুলের মধ্যে আবারও তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে রাজা মিয়া স্ত্রীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন। এরপর তাঁর মুখ চেপে ধরা হয় এবং আরমান রশি দিয়ে তাঁর গলায় চাপ দেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এতে জান্নাতুলের মৃত্যু হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে। তদন্তকারীদের আরও দাবি, হত্যার পর জান্নাতুলের হাত-পা বেঁধে মরদেহ একটি বস্তায় ভরা হয়। পরে কর্ণফুলী থানার কালারপোল এলাকার কাছে শিকলবাহা খালে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। ২ আগস্ট কর্ণফুলী থানার অধীন শিকলবাহা খালে বস্তাবন্দি মরদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করেন। ঘটনার পর রাজা মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এরপর জান্নাতুলের মা সায়েরা খাতুন কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রাথমিকভাবে সদরঘাট নৌ-পুলিশ মামলাটির তদন্ত করছিল। পরে ৬ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্র ব্যবহার করে পিবিআইয়ের একটি দল টেকনাফ থেকে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্কুর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা সাম্পান নৌকাটি জব্দ করা হয়। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মুসলিম উদ্দিন বুধবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত মামলার অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। পিবিআই জানিয়েছে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাজা মিয়া ও আরমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার পরিকল্পনা, প্রত্যেকের ভূমিকা এবং হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্ম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ এক নারী ও এক পুরুষকে আটক করা হয়। স্টেশনে মাদক বিক্রির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পরে আটক দুজনকে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্ম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ এক নারী ও এক পুরুষকে আটক করা হয়। স্টেশনে মাদক বিক্রির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পরে আটক দুজনকে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের কিছুক্ষণ পর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি ফাঁড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের কাছে রামদা, চাপাতি, ছুরি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ফাঁড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন টিএসআই নুরুল ইসলাম এবং অন্যজন কনস্টেবল আশিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে আহত কর্মকর্তার পদবিতে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বরাতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল ফাঁড়ি ঘিরে হামলা চালায়। ফাঁড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশের স্থাপনাতেও হামলার দৃশ্য ভিডিওতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ঢাকা রেলওয়ে থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিতে পারেনি। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়। ঢাকা রেলওয়ে থানায় পুলিশের ওপর হামলা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করার কথাও জানানো হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়িতে এ ধরনের হামলা সরকারি দায়িত্ব পালন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে। মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছে, তাদের পরিচয় কী এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকার ধানমন্ডিতে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর সূত্র ধরে মারধরের শিকার ব্যক্তি ও তাঁকে মারধরকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হাসপাতালের কাছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তিকে আরেক ব্যক্তি চড়-থাপ্পড় মারছেন এবং কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। মারধরের সময় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক তরুণীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদমাধ্যমকে ওই তরুণী জানান, ব্যক্তি তাঁর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়েছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরও তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরে তিনি আত্মীয় খালিদ হাসানকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, খালিদ হাসান (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান। অন্যদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ আল মাসুদ (৪৮) নামের মারধরের শিকার ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন বলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল হাই। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব। ঘটনাটি জনসমক্ষে হয়রানির অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারও বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ থাকলে সেটি যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি। একইভাবে অভিযোগের জবাবে মারধর বা অপমানজনক শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।