বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান–এর শপথ গ্রহণকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরঙ্কুশ নির্বাচনী জয়ের পর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের শুভেচ্ছা বার্তা দুই দেশের সম্পর্কের সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে অভিনন্দন জানানোয় বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে। খবর প্রকাশ করেছে দ্য ডন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠন করে দলটি নতুন বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদের অভিনন্দন বার্তা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা তৈরির কূটনৈতিক ইঙ্গিতও বহন করছে। জয়ের পরপরই অভিনন্দনের ঢল শপথের পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং নির্বাচনে বিএনপির ‘নির্ণায়ক বিজয়’-এর প্রশংসা করেন। প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ের বার্তায় বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পৃথক বার্তায় শাহবাজ শরিফ বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা বাড়াতে এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে তিনি তার ‘ভাই’ তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষা ব্যক্তিগত উষ্ণতা ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের সম্ভাবনা—দুটিকেই সামনে এনেছে। নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন, যখন দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাত পুনরুদ্ধার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর উত্তরসূরি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–র সন্তান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট অস্থিরতায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন—এই তিনটি বিষয় নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’-এর সাক্ষী হতে পেরে পাকিস্তান সম্মানিত। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য শুভকামনাও জানান তিনি। ঢাকা সফরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পায়। সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বার্তাগুলোতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, একাডেমিক বিনিময়, যুব উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সহযোগিতা শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে ভারত থেকেও তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে, যা নতুন সরকারের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের উষ্ণ বার্তা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা—এই সমীকরণই নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বড় পরীক্ষা হতে পারে। কূটনৈতিক মহলের মতে, শাহবাজ শরিফের ‘ভাই’ সম্বোধন শুধু সৌজন্যমূলক শব্দ নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও কৌশলগত যোগাযোগের ইঙ্গিত বহন করে। এখন দেখার বিষয়—এই কূটনৈতিক উষ্ণতা বাস্তবে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় কতটা প্রতিফলিত হয়।
অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮–এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হকের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত পৃথক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে ১০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন এবং রেহানা আসিফ আসাদ। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এদিকে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন তিনি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানাবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে। সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন হিসেবে তাকে সরকার গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। দলটি এককভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথ সুগম করে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হকের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত পৃথক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে, ১০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহানা আসিফ আসাদ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এদিকে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। এর আগে বুধবার সকাল ১১টায় নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে তারা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। এদিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গেজেটে বলা হয়, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি এবং তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে এবং প্রশাসনিক ও নীতিগত দায়িত্ব এখন নবগঠিত মন্ত্রিসভার ওপর বর্তাবে। প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নিয়োগ সংক্রান্ত পৃথক গেজেটেও রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য সদস্যরা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথ সুগম করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে অবস্থান নেয়।
ক্ষমতা হস্তান্তরের এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ! শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করেন। এর আগে সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান এবং পরে সংসদীয় দলের সভায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়। এই বিশেষ মুহূর্তে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
নতুন সরকার গঠনের পর দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে অফিস করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকেই সচিবালয়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সাজসজ্জা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ের ২ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিভিন্ন কক্ষ ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, সম্মেলন কক্ষ ও করিডোরে চলছে আসবাবপত্র বিন্যাস, নথিপত্র গোছানো এবং কারিগরি সরঞ্জাম পরীক্ষার কাজ। পাশাপাশি পুরো সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ফুলের টব ও বাগান সাজানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বুধবার সকাল ১০টায় তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ দপ্তরে প্রথম অফিস করবেন। দুপুর ১টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক এবং বিকেল ৪টায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও বুধবার থেকে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। অনেক মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রীদের বরণে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হবেন এবং চলমান প্রকল্প ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাথমিক ব্রিফিং নেবেন। অধিকাংশ মন্ত্রী গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলেও জানা গেছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেঙে দিয়ে মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই গেজেটে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। এই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে। এছাড়া তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়ে আলাদা একটি গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই গেজেটে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সচিব (পিএস), সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এবং প্রোটোকল অফিসার পদে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা: একান্ত সচিব-১ (PS-1): জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী। সহকারী একান্ত সচিব-১ (APS-1): সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলী। প্রোটোকল অফিসার-১: সিনিয়র সহকারী সচিব মো. উজ্জল হোসেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যতদিন এই পদ অলংকৃত করবেন অথবা এই কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন, ততদিন এই নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে।
নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে সরাসরি নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে সেটি জাতির সামনে উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এসব কথা বলেছেন তিনি। ইসলাম বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে, সরকার গঠনের প্রথম দিনেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। “এটা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাই নয়, এর মধ্য দিয়ে আইনি সংকট এবং জটিলতা তৈরি করেছে,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধান সংস্কার আদেশে সই করে গণভোটে অংশ নিলেও এখন বিএনপি যে ব্যাখ্যা দিচ্ছে সেটি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমানের বিএনপি সরকারে যোগদান নৈতিক নয় বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় চীনা প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার। তিনি বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৫১ বছরে দুই দেশ সর্বদা একে অপরকে সমানভাবে সম্মান ও গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। চীন সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারকে মসৃণভাবে শাসনব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্ণ সমর্থন জানায়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে লি কিয়াং বলেন, দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে এবং উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার মাধ্যমে সকল ক্ষেত্রে বিনিময় বৃদ্ধি করতে চীন প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মিলে দুই দেশের সম্পর্ককে একটি নতুন স্তরে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি, যাতে উভয় দেশের জনগণের জন্য আরও বড় সুফল বয়ে আনা সম্ভব হয়।
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিন বিকেলে নবগঠিত মন্ত্রিসভাকে নিয়ে বসবেন প্রথম বৈঠকে। আজ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারত, চীন, পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ ১৩টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল বিশ্বনেতাদের এক মিলনমেলা। দীর্ঘ সময় পর সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। নতুন সরকারের এই পথচলা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বইছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
এক দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে ও তার মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরে আসা এক বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের এই অভিষেককে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ। বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলেছে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সরব উপস্থিতি। শপথ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবালসহ নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। নতুন সরকারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের এই সমর্থনকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বিএনপির নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ান। তবে বিএনপি সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই শপথ নিয়েছেন; আইনি ও সাংবিধানিক অস্পষ্টতার কারণ দেখিয়ে তারা 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ'-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যেখানে তাদের প্রধান শরিক ও প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। অন্তর্বর্তী সরকারের সফল বিদায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটি দেশে ও বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বিশ্বনেতাদের এই উপস্থিতি নতুন সরকারের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক মাইলফলক। এখন সবার চোখ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই নতুন সরকারের দিকে—যারা এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দেশব্যাপী গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং ঘোষিত ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। রাজনৈতিক ও আইনি মহলে এই পদক্ষেপটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, কারণ এই গণভোটের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী অনেক সাংবিধানিক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হওয়ার কথা ছিল। দায়েরকৃত এই রিট আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারীর পক্ষ থেকে গণভোটের স্বচ্ছতা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই গণভোটে মোট ৬০.২৬ শতাংশ ভোট পড়েছিল এবং চার কোটি ৮০ লাখেরও বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ সূচক মত প্রদান করেছিলেন। এই বিপুল জনসমর্থনের দাবিকে এখন আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। আদালত সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানিয়েছেন, রিট আবেদনটির ওপর আগামী সপ্তাহে শুনানি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদি আদালত এই রিট গ্রহণ করেন, তবে তা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে নতুন এক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেখানে বড় রাজনৈতিক দলগুলো সংসদীয় শপথ এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত, সেখানে গণভোটের ফলাফল আদালত পর্যন্ত গড়ানো বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো দেশ। প্রথমবারের মতো খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত হলো প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। কিন্তু ইতিহাসের এই নতুন অধ্যায় ছাপিয়ে আলোচনায় এখন অতিথিদের চরম ভোগান্তি আর আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে আগত বিদেশি অতিথি ও রাজনৈতিক নেতাদের। অব্যবস্থাপনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, পিপাসার্ত অতিথিদের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাও ছিল না অনুষ্ঠানস্থলে। প্রতিনিধিদের তথ্যানুযায়ী, অনেক অতিথিই এই বিশৃঙ্খলায় সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সংসদে বিরোধী শক্তির নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এখন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। আজ মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিরোধীদলের এই নতুন কাঠামোর কথা জানানো হয়েছে। একনজরে নতুন দায়িত্বশীলরা: বিরোধীদলীয় নেতা: ডা. শফিকুর রহমান (আমির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী)। বিরোধীদলীয় উপনেতা: ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (নায়েবে আমির, জামায়াত)। বিরোধীদলীয় হুইপ: নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি - এনসিপি)। আজ দুপুর ১২টার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ গ্রহণ করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। যদিও বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া নিয়ে আগে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল, তবে জরুরি বৈঠকের পর দেশের স্বার্থে শপথ ও সংসদীয় দায়িত্ব পালনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত জোট।
তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল চারটার পর মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল–এর নেতারা উল্লেখযোগ্য। শেখ হাসিনা–এর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালন করে। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়। শপথ নেওয়া ২৫ জন সদস্য হলেন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান।
বাংলাদেশের রাজনীতির এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো আজ। রাজধানীসহ সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস পর, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিল বিএনপি। বঙ্গভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি আজ সরকার গঠন করছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাস পর নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হলো এই সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় থাকছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দলটির মিডিয়া সেল থেকে মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পূর্ণমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী — অর্থ সালাহউদ্দিন আহমদ — স্বরাষ্ট্র ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) — পররাষ্ট্র মো. আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট) — কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য ইকবাল হাসান মাহমুদ — বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন — মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ আব্দুল আওয়াল মিন্টু — পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ — ধর্ম বিষয়ক মিজানুর রহমান মিনু — ভূমি নিতাই রায় চৌধুরী — সংস্কৃতি খন্দকার আব্দুল মোকতাদির — বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট এ ছাড়া পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন— আরিফুল হক চৌধুরী — শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান জহির উদ্দিন স্বপন — তথ্য ও সম্প্রচার আফরোজা খানম রিতা — বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মো. শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি — পানি সম্পদ আসাদুল হাবিব বুলু — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মো. আসাদুজ্জামান — আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক জাকারিয়া তাহের — গৃহায়ণ ও গণপূর্ত দীপেন দেওয়ান — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আ ন ম এহসানুল হক মিলন — শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ফকির মাহবুব আনাম স্বপন — ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি শেখ রবিউল আলম — সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন— এম রশিদুল জামান মিল্লাত — বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত — বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মো. শরিফুল আলম — বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট শ্যামা ওবায়েদ — পররাষ্ট্র সুলতান সালাউদ্দিন টুকু — কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল — ভূমি ফরহাদ হোসেন আজাদ — পানি সম্পদ আমিনুল হক — যুব ও ক্রীড়া মীর হেলাল উদ্দীন — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান — সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন মো. আব্দুল বারী — জনপ্রশাসন মীর শাহে আলম — স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি — অর্থ; পরিকল্পনা ইশরাক হোসেন — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ফারজানা শারমিন — মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ শেখ ফরিদুল ইসলাম — পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মো. নুরুল হক নুর — শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ ইয়াসের খান চৌধুরী — তথ্য ও সম্প্রচার এম ইকবাল হোসেইন — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এম এ মুহিত — স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর — গৃহায়ণ ও গণপূর্ত ববি হাজ্জাজ — শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম — সংস্কৃতি নতুন সরকার শিগগিরই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে যোগ হলো এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী অধ্যায়। প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতার সব নিয়ম ভেঙে নিজের সেই চিরচেনা ‘বিপ্লবী জার্সি’ পরেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ সচিবালয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে যে সবুজ জার্সিটি পরে তিনি রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, সেই একই পোশাকে তাঁকে দেখা গেল সংসদ ভবনে। জার্সির পেছনে লেখা ছিল তাঁর নাম এবং ১০ নম্বর জার্সি নম্বর। মূলত আন্দোলনের স্মৃতি এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামের বার্তা পৌঁছে দিতেই তাঁর এই বিশেষ পোশাক নির্বাচন। উল্লেখ্য, এদিন বিএনপির সংসদ সদস্যরাও শপথ নিয়েছেন এবং তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে সবার মাঝে আলাদা করে নজর কেড়েছে হাসনাত আবদুল্লাহর এই সাধারণ অথচ শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রুমিন ফারহানা! সংসদে এবার আওয়ামী লীগ নেই, এটাকে কীভাবে দেখেন – সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত এমপি রুমিন ফারহানা বলেন, "এবার দেশের ৩০ শতাংশ মানুষের রিপ্রেজেন্টেশন (প্রতিনিধিত্ব) থাকবে না, এটা মাথায় রেখেই আমাদের সংসদে বসতে হবে"। এসময় তিনি আরও বলেন যে আগে সংসদে বিএনপি ছিল না, এখন আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলো নেই। উল্লেখ্য, আজ শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন রুমিন ফারহানা, সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি তিনি।
আজ সকালে সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা। বিকালে শপথ নিতে যাচ্ছেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। এবার নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিতে এখন পর্যন্ত যারা ডাক পেয়েছেন বলে জানা গেছে তাদের মধ্যে আছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। বিএনপি নেতাদের মধ্যে আরো ডাক পেয়েছেন- ইশরাক হোসেন, এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, আজিজুল বারি হেলাল। তারা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়া বিএনপি জোটে অংশ নিয়ে নির্বাচিত গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকি, (বিএনপি), গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ ডাক পেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
রাজনীতিতে বইছে নতুন হাওয়া! আজ দুপুর সোয়া একটায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নির্বাচিত ছয় নেতা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন তাদের এই শপথ পাঠ করান। তবে এই শপথগ্রহণ কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এনসিপির এই এমপিরা একইসাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জোটসঙ্গী হিসেবে এনসিপি অংশ নিয়েছিল এবং জামায়াত এমপিরাও এই সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেখানে এনসিপি ও জামায়াত সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকারে শামিল হয়েছে, সেখানে বিএনপির সংসদ সদস্যরা আজ এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কোনো আলোচনার জন্ম দেবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।