- প্রচ্ছদ
- জাতীয়
জাতীয়
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তাঁকে ডেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রথম আলোর প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইশরাক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, সে বিষয়েও প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টির রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইশরাকের নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায়। পাশে থাকা একজনকে গুলি করার হুমকি দিতেও শোনা যায়। তবে হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কয়েকজনকে ধরতে দৌড়াতে এবং একজন তরুণকে লাথি দিতে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে। ঘটনার পর রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, তিনি মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ব্যাখ্যায় তিনি দাবি করেন, একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ইশরাকের দাবি, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। আত্মরক্ষার জন্য সেটি প্রদর্শন করায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয় এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। এসব তথ্য তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কর্মসূচির আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। পুলিশ পরে বিষয়টি জানতে পারে। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেন। অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে তিনি কেন এভাবে অভিযানে অংশ নিলেন, সে প্রশ্নও ওঠে। এই ঘটনার পরদিনই ইশরাককে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। তবে নির্দেশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং তাঁর পদত্যাগের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সূত্র: প্রথম আলো
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে ‘আমাদের জন্য বড় শিক্ষা’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শনিবার, ১৭ অক্টোবর বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বসবাসের দেশের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি। বিস্তারিত জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শামা ওবায়েদ জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে পাওয়া বার্তায় মক্কার একটি মসজিদের অভ্যন্তরে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘ব্যভিচারে’ জড়িত থাকার অভিযোগের কথা এসেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের নিজস্ব আইনি কাঠামো রয়েছে এবং সে অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, ‘সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।’ মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে শামা ওবায়েদ জানান, সৌদি আরব চিঠির জবাব দিলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। এর আগে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দুই ব্যক্তির বিচার বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তাঁরা আগাম আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাননি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পরিচয়, নাগরিকত্ব ও মামলার বিস্তারিত জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার, ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বিবৃতিতে মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগ উল্লেখ করা হলেও কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: সমকাল
প্রকৌশলী ও ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। ৩৪তম বিসিএসেও উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে সেই চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের পড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নায়লা শারাফ। সাত বছর ধরে নেত্রকোনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করছেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নায়লার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পরে বুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। এরপর জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার পদেও কাজ করেন। বিভিন্ন পেশায় কাজের অভিজ্ঞতার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। নায়লার কাছে এই সিদ্ধান্তের প্রধান বিবেচনা ছিল নিজের পছন্দ ও মানসিক তৃপ্তি। জাগো নিউজকে তিনি জানিয়েছেন, অর্থ বা খ্যাতির প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ নেই। সাধারণ জীবন এবং দিন শেষে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগকেই বেশি গুরুত্ব দেন। শিশুদের শেখানোর কাজটি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি নায়লা। পাঠ সহজ ও আনন্দময় করতে ছবি আঁকেন, শিক্ষা উপকরণ বানান এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন। বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরেও এসব প্রস্তুতির জন্য কাজ করেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সত্যবাদী ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠার বিষয়েও গুরুত্ব দেন। শৈশবে তিনি যে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন, প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাও যেন তেমন সুযোগ পায়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা। বুধবার, ১৪ অক্টোবর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের পেশা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নায়লা। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন এবং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো এবং সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে সরকারের পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলাও বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মাঠ তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান মাঠগুলো সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করার বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৭টি জেলায় মাঠ তৈরির জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জায়গায় নতুন মাঠ স্থাপন কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠ সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি খেলার মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের কথা রয়েছে। তবে কোন ইউনিয়নে কোথায় মাঠ তৈরি হবে, তা সংশ্লিষ্ট এলাকার জমির প্রাপ্যতা ও বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, মাঠগুলো শুধু নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর জন্য রাখা হবে না। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সাধারণ মানুষের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে এগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর খেলার মাঠের সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব মাঠে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাজধানীতে নতুন মাঠ তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান মাঠগুলো সংস্কার ও ব্যবহারযোগ্য করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু মাঠ নির্ধারণ করলেই চলবে না, সেগুলোতে নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে বড় ধরনের ক্রীড়া কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে দেশের প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এসব ক্রীড়া কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এর মাধ্যমে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থী এবং তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তা মাঠগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন এবং স্থানীয় ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যমান স্টেডিয়ামগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে নির্মিত ১২৫টি উপজেলা স্টেডিয়ামের অনেকগুলো জনবসতি থেকে দূরে হওয়ায় যথাযথভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ কারণে এসব স্টেডিয়াম সচল করা এবং খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে আগে তৈরি করা স্টেডিয়াম ও মাঠগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধারের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিদ্যমান মাঠগুলো সংরক্ষণ এবং সেগুলো খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রীড়া কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা এবং ক্রীড়া ক্লাবের কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ, বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েও আলোচনা হয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মাঠগুলোতে শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতিযোগিতা আয়োজন না করে সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মাঠ স্থাপনের পাশাপাশি পুরোনো মাঠ সংরক্ষণ, সংস্কার, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মাঠগুলো যাতে পরবর্তী সময়ে অবহেলিত বা দখল হয়ে না যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খাসজমি চিহ্নিতকরণ এবং মাঠ উন্নয়নের কাজে স্থানীয় সরকার বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুর ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমীন উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সামনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠগুলো প্রস্তুত করার কাজ রয়েছে। বিশেষ করে দুই মাসের মধ্যে এক হাজার মাঠ স্থাপনের লক্ষ্য পূরণে জমি নির্বাচন, বিদ্যমান মাঠের সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত এক হাজার মাঠের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত এটি সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা। একইভাবে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে পরিকল্পনার সুফল নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ে মাঠগুলো প্রস্তুত করা, সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। সূত্র: যমুনা টেলিভিশন
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে প্রচার চালানোর পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কর্মসূচিটি ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না কর্মসূচি। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি পরামর্শও দেবেন। এর মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও সহজলভ্য করার চেষ্টা করা হবে। বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা, মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। নতুন এই বছরব্যাপী কর্মসূচিতে সেই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা অবকাঠামো নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ঢাকায় এবং ১১টি ঢাকার বাইরে বসানো হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, ঢাকার বাইরে রেডিওথেরাপি সুবিধা বাড়ানো গেলে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে আসার চাপ কমবে। একই সঙ্গে রোগীরা নিজ নিজ এলাকায় তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও ব্রিফিংয়ে কথা বলেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু-পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সরকারের ঘোষিত পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি কার্যকর হলে আগামী এক বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ আরও সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন, সরবরাহব্যবস্থা এবং কত সংখ্যক পরিবার এর আওতায় আসবে, তা পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হবে। সূত্র : ইত্তেফাক
ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের বিরুদ্ধে তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে আসতেন কি না, তা জানতে চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন। সোমবার ৫ অক্টোবর ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, দুই দেশের সম্পর্কে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় এবং সে জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে শীর্ষ পর্যায়ের সফরের আগে আলোচনার মাধ্যমে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ বন্ধ করা উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশও নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেবে না। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের কাছেও একই আচরণ প্রত্যাশা করে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী কখনো সফরের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে উপযুক্ত সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি। নভেম্বরে সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এমন সফরের তথ্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকেই জানানো উচিত। সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চললেও হঠাৎ তারিখ নির্ধারণ করে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থান আগেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। গত ২২ আগস্ট তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। দুই পক্ষের প্রস্তুতি ও আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়ে সফর হতে পারে। ওই সময় শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও দুই দেশের চলমান আলোচনার অংশ বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সোমবার গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও একই অবস্থান তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। বর্তমান চুক্তি নবায়ন হবে, নাকি নতুন চুক্তি হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানাননি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করবে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়া আইআইএমএমের প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো উচ্চ পর্যায়ে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাদের অবস্থান এবং নতুন করে সীমান্তে মানুষের প্রবেশের কারণে দেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য পাওয়া বৈশ্বিক সহায়তা কমে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখা হোক। তাঁর মতে, এই সহায়তা অব্যাহত রাখা হলে রোহিঙ্গাদের মানবিক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে। বৈঠকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পড়ছে বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সীমান্ত দিয়ে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম ঠেকাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে আইআইএমএম প্রধানকে অবহিত করা হয়। আইআইএমএমের প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জানান, আইআইএমএমের দল বাংলাদেশে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছে এবং কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করেছে। কৌমুজিয়ান জানান, আইআইএমএমের দল কক্সবাজার ও অন্যান্য এলাকায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে ২০০ জনের বেশি ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এসব তথ্য ও প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সহিংসতা এবং বেসামরিক মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও তদন্ত ও নথিভুক্ত করা হচ্ছে। আইআইএমএম জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের অধীনে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল দায়িত্ব হলো ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে সংঘটিত গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ বিচারিক কার্যক্রমে ব্যবহারের উপযোগী নথি প্রস্তুত করা। আইআইএমএমের প্রধান হিসেবে নিকোলাস কৌমুজিয়ান ২০১৯ সালের ১ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরেও কৌমুজিয়ান রোহিঙ্গা সংকট ও জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন। সে সময় তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে শতাধিক রোহিঙ্গা কর্মী ও কমিউনিটি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ ও অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এদিকে, বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়াও আলোচনায় আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের পথ সহজ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান সংঘাত, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সীমান্তের অস্থিতিশীলতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে রয়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও বিচারিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ২ অক্টোবর সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি। বাংলাদেশ চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন ও স্বাক্ষরের আশা প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই চুক্তি নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুই দেশ চুক্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা আরও এগিয়ে নিয়েছে। সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ চেয়েছে। বিশেষ করে অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল, উচ্চমানের তৈরি পোশাক এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পণ্য সরবরাহব্যবস্থা, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেবা খাতেও সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় তুলে ধরা হয়। কর্মসংস্থানও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও বেশি দক্ষ ও আধাদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল বিস্তৃত। দুই পক্ষ সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সদস্যদের বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানিয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ জানিয়েছে যে দেশে একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়াও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটি প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ পারস্পরিকভাবে সম্মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার সুযোগ খুঁজে দেখার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এদিকে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সার্বিকভাবে, সাম্প্রতিক আলোচনায় বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে বিনিয়োগ নেওয়া নয়; বরং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিল্প, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ—একাধিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বাড়ানো। তবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এখনো চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়নি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ অংশ নেওয়ার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার, ৩ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করেন তিনি। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত নৈশভোজের। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর রাতে ম্যানহাটনের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে নৈশভোজটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে প্রকাশিত ইউএনবির প্রতিবেদনেও ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে তাঁর অংশ নেওয়ার কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছিল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।
বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট। সাইবার অপরাধ দমন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য যাচাই এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের তদন্ত আরও শক্তিশালী করতে এই ইউনিট গঠন করা হয়েছে। ১ অক্টোবর রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নতুন ইউনিটটির উদ্বোধন করেন। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে ইউনিটটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, সাইবার পুলিশ ইউনিটে মোট ৪ হাজার ৫৯২টি পদ থাকবে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এর কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। থানাপর্যায়েও সাইবার-সংক্রান্ত সেবা ও তদন্তের জন্য আলাদা সদস্য রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ইউনিটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য, উসকানিমূলক প্রচার এবং সম্ভাব্য সাইবার হুমকি শনাক্ত করার জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থা থাকবে। ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামোতে ‘তথ্য যাচাই ও পাল্টা বক্তব্য’ কার্যক্রমও রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে যাচাইহীন বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে তা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক তথ্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কোন ধরনের বিষয়কে তথ্য যাচাই বা পাল্টা বক্তব্যের আওতায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত মানদণ্ড এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সাইবার পুলিশ ইউনিট শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় চুরি, অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ, অর্থনৈতিক অপরাধ, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা, ভুয়া বার্তার মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য অপরাধ তদন্ত করবে। এ ছাড়া ডার্ক ওয়েব, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ক্ষতিকর সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ বিশ্লেষণের জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সাইবার অপরাধের ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণে একটি আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারও স্থাপন করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ, আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ, ডার্ক ওয়েব, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সময়ে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার মাধ্যমে সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করতেই এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ও বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কতটা বাড়াতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জনকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এআই যেন নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভা কমিয়ে দিতে পারে। তাই মানুষের সৃজনশীলতা ও নিজস্ব চিন্তার সক্ষমতা বজায় রেখে জনকল্যাণে এবং পরিমিত মাত্রায় এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানোপ্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা এবং নতুন উদ্ভাবনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। প্রযুক্তিকে শুধু ব্যবহার নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সাক্ষাৎকালে কুয়েটের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত শিক্ষার সুযোগ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনকে দেশের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এদিকে সাক্ষাৎকালে কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। রাষ্ট্রপতি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং কুয়েটের অধ্যাপকরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে একদিকে প্রযুক্তি ও এআই গবেষণাকে উৎসাহিত করার কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে এর ব্যবহারে মানুষের নিজস্ব চিন্তা, সৃজনশীলতা ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারি পর্যায়েও এআই ব্যবহারে সতর্কতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আগস্টে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়। বিশেষ করে সংবেদনশীল ও গোপনীয় সরকারি তথ্য অননুমোদিতভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের জন্য জাতীয় পর্যায়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে। জাতীয় এআই নীতি ২০২৬–২০৩০-এর খসড়ায় দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনভিত্তিক এআই ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সফরের আগের প্রকাশিত কর্মসূচিতে বিস্ট ফিলানথ্রোপি, ইউপিএস ফাউন্ডেশন, আইকেইএ ফাউন্ডেশন, ইনফোসিস ফাউন্ডেশন, বায়ের ফাউন্ডেশন ও নর্থওয়েল হেলথসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ২৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠান এবং ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণও রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, তার পিএইচডি গবেষণার বিষয় ঠিক করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ‘এমজিআই-এমএএ স্কলারশিপ ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নিজের উচ্চশিক্ষার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মিলন বলেন, মালয়েশিয়ায় থাকাকালে তিনি গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা হলে নিজের হায়ার স্টাডিজের গবেষণার বিষয়টি তাকে দেখান। শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তারেক রহমান বিষয়টি দেখে সেটিতে পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। মিলন বলেন, তার গবেষণার প্রাথমিক বিষয়টি ছিল উচ্চশিক্ষাকেন্দ্রিক। কিন্তু তারেক রহমান বিষয়টি দেখে ‘হায়ার’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেইনিং’, সংক্ষেপে টিভিইটি, যুক্ত করে দেন। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এটিকে তারেক রহমানের চিন্তাভাবনা ও দূরদর্শিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। নিজের বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, তিনি তখন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন এবং গবেষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় গবেষণার বিষয় নিয়ে তাদের আলোচনা হয়। এরপর বিষয়টি পরিবর্তনের পর তিনি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকে গবেষণাকে যুক্ত করেন বলে জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে শিক্ষার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যের এই অংশে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্বের কথা উঠে আসে। মিলন আরও বলেন, বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে যে ধরনের সংযোগ প্রয়োজন, তা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তার মতে, চীনসহ উন্নত দেশগুলোতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সেখানে প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান এবং অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতেই চাকরির সুযোগ তৈরি হয়। দেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা নিয়েও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা বিশ্বের অন্য দেশের মানুষের তুলনায় কম নয়। শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া লিংকেজ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। নিজের শিক্ষাজীবনের প্রসঙ্গ তুলে মিলন বলেন, তিনি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরে বিদেশে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং বিষয়ে এমবিএ করেন। সময় ও চাহিদার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্যই তিনি বিষয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। পরবর্তীতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে এমজিআই-এমএএ স্কলারশিপ ২০২৬ প্রদান করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের প্রস্তুতির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বর্তমানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। চলতি বছর তিনি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং শিক্ষা সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি কর্মসূচিতে বক্তব্য দিয়েছেন।
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে বাস মালিক, শ্রমিক ও পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মূলত জ্বালানি তেলের নতুন দামের কারণে বাস পরিচালন ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং সেই ব্যয় যাত্রীভাড়ার সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহমেদ খোকন জানিয়েছেন, মালিকপক্ষ তাদের প্রস্তাব বিআরটিএর কাছে তুলে ধরেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মালিকপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার বাসের ভাড়া বর্তমানে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা করার প্রস্তাব এসেছে। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবহন মালিকদের যুক্তি হচ্ছে, জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়লে বাসভাড়া কিলোমিটারে এক পয়সা বাড়ানোর একটি হিসাব তারা প্রস্তাব করেছেন। সেই হিসাবে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সরকারি ভাড়া নয়, বরং মালিকপক্ষের প্রস্তাব। সরকার রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা করা হয়েছে। নতুন মূল্য সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি। দেশের বিপুলসংখ্যক বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ডিজেলচালিত হওয়ায় লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন মালিকদের জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। মালিকপক্ষ বলছে, শুধু জ্বালানি নয়, পরিবহন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য ও সেবার ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এর আগে গত এপ্রিলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছিল। তখন আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসভাড়াও কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারিত হয়েছিল কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪৩ পয়সা। এদিকে নতুন সরকারি ভাড়া ঘোষণার আগেই কিছু পরিবহনে বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাজধানীর অধিকাংশ গণপরিবহন পুরোনো ভাড়ায় চললেও কিছু বাসে স্টপেজপ্রতি পাঁচ টাকা বেশি চাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে অনেক চালক ও পরিবহনকর্মী জানিয়েছেন, নতুন ভাড়ার তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আগের ভাড়াই নিচ্ছেন। পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের আগে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তারা দেয়নি। ফলে বিআরটিএ ও সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মালিকপক্ষের কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে চূড়ান্ত ভাড়া হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। এখন বিআরটিএর সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন যাত্রী ও পরিবহন মালিকরা। নতুন ভাড়া অনুমোদিত হলে কোন শ্রেণির বাসে কিলোমিটারপ্রতি কত টাকা দিতে হবে এবং সর্বনিম্ন ভাড়ায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—সেটিও সরকারি ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তির বরাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এ তথ্য জানিয়েছে। সাক্ষাৎকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষার্থীদের একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। এ কারণে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। এর একদিন আগেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসংস্থানমুখী পাঠ্যক্রম তৈরির কথা বলেন। প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছয় মাস ও এক বছর মেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স চালুর আহ্বানও জানান তিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। পাশাপাশি আসন্ন সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাক্ষাতে শহিদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ এবং পরিবারের সদস্য মাহফুজা জাফরিন আরিবা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শহিদ ও আহতদের পরিবারের জন্য সরকার যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তাঁরা। সাক্ষাতের একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের একটি রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়া। সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত ৮৪৫ জন জুলাই শহিদের নাম ওই স্মৃতিস্তম্ভে খচিত রয়েছে। মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিস্তম্ভটির রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতিকে উপহার দেন। রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। বঙ্গভবনের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, জাতি তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। রাষ্ট্রপতি শহিদ পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণ এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাইয়ের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করেন। মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বহুল আলোচিত শহিদদের একজন। পরবর্তী সময়ে জুলাই আন্দোলনের স্মরণে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও মুগ্ধসহ নিহতদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও মুগ্ধসহ আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছিল। রোববারের সাক্ষাতে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত তথ্যে সাক্ষাতের এসব বিষয় জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এনএসডিএ গভর্নিং বোর্ডের তৃতীয় সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। সভায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রশিক্ষণের মান বৃদ্ধি এবং সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনা হয়। তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চললেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কার্যকারিতা পাচ্ছে না। এ কারণে তরুণদের অর্জিত দক্ষতা দেশে ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ পরিস্থিতিতে এনএসডিএর গভর্নিং বোর্ডকে ছোট একটি কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে সমন্বিত কাঠামোয় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় এনএসডিএর প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যক্রমের পাশাপাশি খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মান, সনদ এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনতে কাজ করতে চায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিদ্যমান সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সম্ভাব্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে এই অতিরিক্ত বিনিয়োগ সক্রিয় করতে সহায়তা করবে। ফলে ৫ বিলিয়ন ডলার এখনই বিনিয়োগ হয়ে যাচ্ছে না, বরং এটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য অ্যামচ্যামের নির্ধারিত লক্ষ্য। গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে অ্যামচ্যামের নেতারা এই বিনিয়োগ লক্ষ্য তুলে ধরেন। বৈঠকে তারা বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আনার জন্য সরকারের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন বাধা দূর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অ্যামচ্যামের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্য কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। আগামী পাঁচ বছরে বিদ্যমান সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মার্কিন কোম্পানিগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে চায় সংগঠনটি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছে অ্যামচ্যাম। সংগঠনটি সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়া, একক জানালা ব্যবস্থা কার্যকর করা, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, ব্যবসা পরিচালনার নিয়ম মেনে চলার ব্যয় কমানো এবং মূলধন ও মুনাফা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার মতো সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে অ্যামচ্যাম। সংগঠনটির মতে, বিনিয়োগকারীরা বড় প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্থিতিশীল নীতি, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সরকারি সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেন। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানির বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রেও কাজ করছে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন এবং আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসা করা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত সরকারের কাছে তুলে ধরার বিষয়েও অ্যামচ্যাম কাজ করছে। সংগঠনটি মনে করে, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কার্যকর পরিবর্তন আনা গেলে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অ্যামচ্যাম আরও জানিয়েছিল, তাদের সদস্য কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে এরই মধ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রেখে নতুন মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আনতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংগঠনটি। সব মিলিয়ে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার বিষয়টি বর্তমানে একটি লক্ষ্য ও উদ্যোগ হিসেবে রয়েছে। অর্থাৎ এই অর্থ নিশ্চিতভাবে বিনিয়োগের ঘোষণা নয়; বরং অ্যামচ্যাম বিদ্যমান ও সম্ভাব্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সক্রিয় করতে সরকারের সহযোগিতায় কাজ করতে চায়।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখানোর ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর গত ২৪ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেসব শিক্ষার্থী ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির প্রয়োজনীয়তার মুখে পড়েন, তাঁদের সেই জটিলতা কমাতেই এই ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন বলে জানানো হয়েছে। ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা। তবে এই অর্থ শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ হিসেবে তুলে দেওয়া হবে না। টিউশন ফি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পেমেন্টের ক্ষেত্রে সরাসরি সহায়তা হিসেবে অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীকেই ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন এই ঋণ সুবিধা সেই আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বা ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসী ও বিদেশগামী বাংলাদেশিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণসেবা দিয়ে থাকে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (২২ আগস্ট) দূতাবাসের এক ফেসবুক পোস্টে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এই শুভেচ্ছা জানানো হয়। অভিনন্দন বার্তায় মার্কিন দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ পান ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৩টি ভোট পড়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথ পড়ান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলের মহাসচিবসহ দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক নেতার নতুন সাংবিধানিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। মার্কিন দূতাবাসের অভিনন্দন বার্তায় বিশেষভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘কালিমা তাইয়্যেবা’ স্থাপন করা হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হচ্ছে, জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লেখা স্থাপন করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে সংসদ ভবনের দৃশ্যমান অবয়বে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে এমন একটি সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া বিষয়টিকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সংসদ ভবন স্থাপত্যগত ও ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা। এ কারণে কে এই স্থাপনার অনুমোদন দিয়েছেন, কোথায় কালিমা তাইয়্যেবা স্থাপন করা হচ্ছে, এটি স্থায়ী নাকি সাময়িক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না, এসব বিষয়ে সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন। কালিমা তাইয়্যেবা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ঘোষণা। এর অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে কালিমা তাইয়্যেবা স্থাপনের বিষয়টি এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।