ছাত্র রাজনীতি

ছবি: সংগৃহীত
মসজিদে ঢুকে নামাজরত ছাত্রশিবির নেতাকে পিটিয়ে জখম

পবিত্র রমজান মাসে ইবাদতের স্থান মসজিদের ভেতরে ঢুকে এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতার ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় সন্দ্বীপে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জমির মাঝির মসজিদে তারাবির নামাজ চলাকালীন এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত জিহাদ (২০) বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে।   প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জিহাদ যখন মসজিদে তারাবির নামাজে মগ্ন ছিলেন, ঠিক তখন জাসিব, নিরব ও নাঈমসহ একদল সশস্ত্র যুবক মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ইবাদতরত অবস্থায় জিহাদকে সবার সামনে থেকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে মসজিদের আঙিনায় বের করে আনে। সেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক স্লোগান দিয়ে লাঠি ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করা হয়। উপস্থিত সাধারণ মুসল্লিরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র থাকায় তারা পিছু হটতে বাধ্য হন।   আহত জিহাদের সহকর্মীদের অভিযোগ, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করা এবং দীর্ঘদিনের দলীয় আদর্শগত বিরোধের জেরে এই হামলাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে। হামলার পর জিহাদকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।   পবিত্র মাসে এবং মসজিদের ভেতরে এমন পৈশাচিক হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল এই ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।   এই বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ঘটনাটি শোনার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়েছে। আমরা পুরো পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, পবিত্রতার অবমাননা ও রক্তপাতের ঘটনায় কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ছাত্রদল সভাপতি-সম্পাদকের

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রসমাজের প্রাণপ্রিয় সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। গত সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এই কুশল বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।   জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ছাত্রদল পরিবারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন। এ সময় তাঁরা প্রিয় নেতার সাথে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা করেন।   শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ বলেন, “দেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের সুদৃঢ় ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের আপসহীন নেতৃত্ব আমাদের জন্য ধ্রুবতারার মতো। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে তাঁর দিকনির্দেশনা এই জাতিকে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”   নেতৃবৃন্দ আরও জানান, শহীদ জিয়ার আদর্শিক উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের প্রতিটি আহ্বান বাস্তবায়নে ছাত্রদল রাজপথে সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করবে। সাক্ষাৎ শেষে তাঁরা মহান আল্লাহর দরবারে তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সফল রাষ্ট্রনায়কত্ব কামনায় বিশেষ দোয়া করেন।   নির্বাচন পরবর্তী এই সৌজন্য সাক্ষাৎ তৃণমূল পর্যায়ের ছাত্রনেতা ও কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই শক্তিশালী নেতৃত্ব আগামী দিনে দেশের শিক্ষাঙ্গন ও জাতীয় রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছাত্রদল সভাপতি
জামায়াত-শিবির নিয়ে এবার বিস্ফোরক পোস্ট ছাত্রদল সভাপতির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘গোপন’ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি দলটির রাজনৈতিক কৌশলকে ‘ইহুদি স্টাইল’ এবং ‘মোনাফেকি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া হুশিয়ারি দেন।   রাকিবুল ইসলাম রাকিব তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশে আর কোনো গুপ্ত বা গোপন রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না। জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরের প্রতিটি ইউনিটের কমিটি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। আমরা যাচাই করে দেখতে চাই—নিজেদের ‘ভিন্ন গ্রহের ফেরেশতা’ দাবি করা এই সংগঠনের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর ব্যক্তিগত বা সামাজিক কোনো সমস্যা আছে কি না।”   ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন যে, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক ব্যক্তিগত সমস্যায় পড়লে ছাত্রশিবির সুপরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মব’ তৈরি করে এবং শীর্ষ নেতাদের নামে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেয়। তাঁর দাবি, শিবির সরাসরি সামনে না এসে তাদের ‘বি-টিম’ ও ‘সি-টিম’ ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিএনপিকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে।   রাকিব আরও লেখেন, “বিএনপির নেতাকর্মীদের সব দায়ভার দলকে নিতে হলেও, জামায়াত-শিবির তাদের কর্মীদের পরিচয় যুগের পর যুগ গোপন রাখে। এর ফলে তাদের কর্মীরা ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিভিন্ন অপরাধে জড়ালেও দল হিসেবে তাদের কোনো দায় নিতে হয় না। এই ধরনের ইহুদি স্টাইলের ও প্রতারণামূলক রাজনীতির কারণেই দেশের আলেম সমাজ তাদের ‘মুনাফেক’ বলে আখ্যায়িত করে।”   দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ‘গুপ্ত’ রাজনীতির অবসান ঘটানোর শপথ নিয়ে রাকিব বলেন, লক্ষ লক্ষ কর্মীকে আড়ালে রেখে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করার এই অপকৌশল আর সহ্য করা হবে না। অচিরেই এই বিষয়ের একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক সুরাহা করা হবে বলেও তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন। ছাত্রদল সভাপতির এই পোস্টটি ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
জামায়াত সেক্রেটারির বক্তব্য দিয়ে ঢাবি ছাত্রদল নেতার ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে একটি বানোয়াট বক্তব্য সম্বলিত ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের স্যার এ এফ রহমান হলের আহ্বায়ক ফেরদৌস সিদ্দিক সায়মন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে এই ফটোকার্ডটি শেয়ার করার পর জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।   ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়েছিল যে, এটি গত ২ ফেব্রুয়ারি দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘কালের কণ্ঠ’-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কালের কণ্ঠের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। মূলত একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে পত্রিকাটির লোগো ব্যবহার করে এই জাল কার্ডটি তৈরি করেছে।   অনুসন্ধানে এই জালিয়াতির বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে: প্রথমত, কার্ডটির ফন্ট স্টাইল, সাইজ এবং ডিজাইনের সাথে কালের কণ্ঠের আসল ফটোকার্ডের কোনো মিল নেই। দ্বিতীয়ত, কার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। এটি মূলত ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর একটি সমাবেশের পুরনো ছবি, যা এডিট করে নতুন করে প্রচার করা হয়েছে। সবশেষে, মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে যে বক্তব্যটি সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনো অস্তিত্ব দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে পাওয়া যায়নি।   রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ির এই সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমে এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়ানোকে ‘সাইবার অপরাধ’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করে নেবেন। ছাত্রদল নেতার শেয়ার করা এই ফটোকার্ডটি একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।   সতর্কতা: যেকোনো সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করতে মূল ধারার গণমাধ্যমের ভেরিফায়েড পেজ বা ওয়েবসাইট যাচাই করুন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
ছাত্রশিবির
ইনকিলাব মঞ্চের উপর হামলা ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ: ছাত্রশিবির

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল সংলগ্ন এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসঙ্গে অবিলম্বে এই দমন-পীড়ন বন্ধ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা না হলে ছাত্র-জনতা পুনরায় রাজপথে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।   শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই হামলার কঠোর প্রতিবাদ জানান। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ভূমিকাকে পুরোনো ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন।   শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, “ছাত্র-জনতা যে ফ্যাসিবাদকে রক্ত দিয়ে বিদায় করেছে, পুলিশ আজ পুনরায় রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে প্রমাণ করেছে যে তারা এখনো সেই প্রেতাত্মাদের সেবাদাস হিসেবেই রয়ে গেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিচালিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ছোড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”   বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, “শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ৫৬ দিন পার হলেও মামলার কোনো যৌক্তিক অগ্রগতি নেই। পাঁচবার শুনানি পেছানো হয়েছে, যা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক আচরণকে স্পষ্ট করে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যদি বিচারপ্রার্থী পরিবারগুলোকে রাজপথে মার খেতে হয়, তবে সরকারের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংগত।”   উল্লেখ্য, জাতিসংঘের অধীনে হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ডাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। ছাত্রশিবির এই হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে। তারা আরও প্রশ্ন তোলেন যে, এই বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার পেছনে কোনো দেশি-বিদেশি আধিপত্যবাদী চক্রের ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0