রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেও সাধারণ মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর উত্তরার ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশ আয়োজিত ঢাকা সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক স্লোগান ও রাষ্ট্রীয় প্রতীকের পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগে বক্তব্য শেষ করা হতো “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে, বর্তমানে “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” ব্যবহৃত হচ্ছে। তার মতে, শুধু রাজনৈতিক প্রতীক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন ও সামাজিক সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সমাজে নারী ও শিশু সুরক্ষার বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি সুশীল সমাজ ও নারী অধিকারকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে অনেকেই নীরব থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিভাগীয় নেতারা।
নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অলটারনেটিভস (বাংলাদেশ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম) তাদের জাতীয় সংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করেছে। কমিটিতে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং সাবেক এনসিপি নেত্রী তাজনুভা জাবীন–সহ মোট ১৭ জন সদস্য রয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির লক্ষ্য তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নতুন রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ ঘটানো। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— আহমদ ইবনে আরিফ (অনি), ইমন সৈয়দ, ইমরান আহমেদ, জাহিন ফারুক আমিন, তানভীর চৌধুরী, দুর্জয় দাশ গুপ্ত, ফরহাদুল আলম সবুজ, মায়িদা তানহা বিদুষী, মুতাসিম বিল্লাহ, মনিরুজ্জামান, মো. রায়হানুর রহমান (রাবি), মোহাম্মাদ এরফানুল হক, সাজ্জাদ হোসেন শহীদুল্লাহ, শেখ ফরিদ এবং হাসান আলী। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে একটি আলোচনা সভার মাধ্যমে অলটারনেটিভস–এর কার্যক্রম শুরু হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের অংশগ্রহণ, নতুন রাজনৈতিক ভাবনার বিকাশ এবং জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে জাতীয় সংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশজুড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের দলীয়করণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার গতি ব্যাহত হচ্ছে। তাই তিনি দ্রুত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জোর দাবি জানান এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে জনকল্যাণে নিয়োজিত করা যায়। ইফতার মাহফিলে ব্রিটিশ, কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার এবং ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, স্পেন ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এনসিপি নেতাদের মধ্যে সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসনাত আব্দুল্লাহ এক শিশুকে নিয়ে ভিডিও ধারণ করছেন। সেখানে তিনি মির্জা আব্বাসকে ‘চাঁদাবাজ’ বলে উল্লেখ করেন এবং পরবর্তীতে শিশুটিকেও একই কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিএনপির এক সিনিয়র নেতাকে নিয়ে তাঁকে আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা যায় এবং সেখানে একটি শিশুর উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ভিডিওটি নির্বাচনকালীন সময়ে ধারণ করা হয়েছিল এবং এটি একটি ‘ক্লোজড গ্রুপে’ সীমাবদ্ধ ছিল। তবে পরবর্তীতে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ভিডিওটির জন্য তিনি নিঃশর্তভাবে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছেন এবং এ ধরনের কাজ করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক শালীনতা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে সেই বিষয়ে তিনি সচেতন থাকার অঙ্গীকারও করেন। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ-উত্তর রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ, ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য নষ্ট করার সংস্কৃতিকে তাঁরা সমর্থন করেন না। সুস্থ, সহনশীল ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চাই সবার প্রত্যাশা। সবশেষে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য আবারও দুঃখ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা।
সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে তারাবির নামাজের পর মাজার এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এনসিপির নেতা সারজিস আলম একের পর এক স্লোগান দিচ্ছেন এবং সেখানে উপস্থিত অনেকেই তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে সাড়া দিচ্ছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে মাজার প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়াকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে সিলেট জেলা এনসিপির সদস্য-সচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, তারাবির নামাজ শেষে মাজার এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক তরুণ জড়ো হন। তাঁদের দেখে উপস্থিত অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং পরে সারজিস আলমও তাতে কণ্ঠ মিলান। তিনি দাবি করেন, এতে মাজারের পবিত্রতা বা মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। একটি মহল বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে সিলেট জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উপদপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দরগাহ মসজিদের পবিত্র প্রাঙ্গণে পরিকল্পিতভাবে স্লোগান দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় নয়। এ ছাড়া নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম মন্তব্য করেন, সুলতানুল বাঙাল হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের সময় অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল দলীয় স্লোগান দিয়ে মাজার এলাকার আদব নষ্ট করেনি। ঘটনাটি ঘিরে সিলেটসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলতে থাকলেও এনসিপির পক্ষ থেকে এটিকে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমজনতার দলের মহাসচিব তারেক রহমানের বাবা আব্দুল লতিফ আর নেই। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তারেক রহমান নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বাবার মৃত্যুর খবর জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ইফতারের আগ মুহূর্তে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। তিনি লেখেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”
ঢাকা অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। তবে আসিফ মাহমুদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তার দাবি, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির এসব অভিযোগ স্রেফ অপপ্রচার, যা কখনোই প্রমাণিত হবে না। বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব জনসমক্ষে তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এমন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজ আসিফ মাহমুদের পরিবারের ৪ সদস্যের মোট ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। যারা সরকার পরিবর্তনের পর ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশে থেকে আইনি বিধি মেনে সব হিসাব দিচ্ছেন, তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে আসিফের বিরুদ্ধে যে ধরনের মিডিয়া ট্রায়াল ও অপপ্রচার চলছে, তা দিনশেষে কেবল অভিযোগ হিসেবেই টিকে থাকবে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এসবের কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না।
শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানি নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেট (মাঝারি রণতরী) ডুবির ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে দেশটির নৌবাহিনী। বুধবার শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ দেশটির পার্লামেন্টে এক বিবৃতিতে জানান, ‘আইরিস দেনা’ নামক ওই ইরানি যুদ্ধজাহাজটিতে মোট ১৮০ জন নাবিক ছিলেন। জাহাজটি থেকে বিপদসংকেত পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে যারা আহত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসার জন্য দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে জাহাজটি ঠিক কী কারণে ডুবতে শুরু করেছিল, সে বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেরাথ কেবল জানিয়েছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি নৌবাহিনীর এই ফ্রিগেটটি শ্রীলঙ্কার গল উপকূলে অবস্থানকালে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হয় এবং জরুরি সংকেত পাঠায়। বাকি নাবিকদের অবস্থা ও জাহাজটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৯টায় আকস্মিকভাবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপস্থিত হন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সরকারি সময় অনুযায়ী অফিস খোলার কথা সকাল ৯টায়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সেখানে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি দেখা যায়নি। অফিস তালাবদ্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী অফিসের বারান্দায় বসেই সেবা নিতে আসা মানুষের অভিযোগ শোনেন। প্রায় আধঘণ্টা তিনি সেখানে অবস্থান করে সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন। উপস্থিত এক ব্যক্তি জানান, অনলাইনে মিউটেশনের আবেদন গ্রহণ হওয়ার পর পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অফিসে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন অফিস বন্ধ। নির্ধারিত সময়ে সেবা না পেয়ে তিনি ভোগান্তিতে পড়েন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অফিস সময় শুরু হওয়ার পরও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের গাফিলতির বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগকে তিনি দুঃখজনক উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। নাগরিকদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের হঠাৎ পরিদর্শন চলবে, যাতে দেশের বিভিন্ন স্থানের ভূমি অফিসে সেবা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসগুলোকে ঘিরে যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে যেন সময়মতো ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা যায় এবং এ ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
দৈনিক নয়াদিগন্ত–এর কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া সম্মানি পরিশোধের দাবিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমিরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রায় চার বছর ধরে তিনি পত্রিকাটিতে নিয়মিত উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। অন্যান্য পত্রিকার তুলনায় অনেক কম সম্মানিতে—সহানুভূতির জায়গা থেকে—তিনি লেখালেখি চালিয়ে গেছেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তার প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে তিনি প্রায় ২০০টি উপসম্পাদকীয় লিখেছেন, যার মোট শব্দসংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা একজন লেখক হিসেবে এই পরিমাণ শ্রমের যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। গোলাম মাওলা রনি বলেন, “একসময় হয়তো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে বলে জানা যায়। তারপরও কেন বকেয়া পরিশোধ হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।” বিষয়টির সমাধানে তিনি জামায়াত আমিরের নৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে দৈনিক নয়াদিগন্তের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা ও নৈতিকতার সংকট চলছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সময়টি অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যার মতো ঘটনাগুলো বিশ্বকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএসটি) মিলনায়তনে অধ্যাপক শাহিদা রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ইরানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিনা কারণে একটি দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানা, একটি রাষ্ট্রের প্রধান বা মতাদর্শিক নেতাকে হত্যা করা এবং প্রেসিডেন্টকে বন্দি করার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে বিশ্ব আজ কতটা নৈতিকতাহীন হয়ে পড়েছে। আমরা যারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবিকতায় বিশ্বাসী, তারা এখন চরম কষ্টে আছি। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৭-১৮ বছরে দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তি সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। তিনি অভিযোগ করেন, সুশাসন ও আইনের শাসনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মৃত অধ্যাপক শাহিদা রফিকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় টেনে তোলা এবং রাষ্ট্রকে সত্যিকারের জনকল্যাণমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক হিসেবে গড়ে তোলাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। শাহিদা রফিকের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তার প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাতিল করতে আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২ মার্চ) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। সেই রায়কে অকার্যকর করতে আদালতকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, বিচার বিভাগকে দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে এর পরিণতি ভালো হবে না। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো এবং তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসূচি যথেষ্ট নয়; চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়া দলের মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী–ও বক্তব্য দেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।” ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গঠিত অন্তর্বর্তী পরিষদের পক্ষ থেকে প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তা প্রদান করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান ও বর্তমান অন্তর্বর্তী পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেই এই বার্তায় পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহসেনি-ইজেই তার প্রথম বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি লক্ষ্য করে বলেন, মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে লালিত মহান মুজাহিদিনদের ইস্পাতকঠিন ইচ্ছাশক্তিকে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কখনোই স্তব্ধ করা যাবে না। উল্লেখ্য, গতকাল ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর থেকে দেশটির সংসদ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা জনসম্মুখের আড়ালে ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারাও এই হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। এই থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই অন্তর্বর্তী পরিষদের পক্ষ থেকে এমন হুঙ্কার এল। ইরানের সংবিধানের ১১১ ধারা অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার তদারকি করবে এই অন্তর্বর্তী পরিষদ। বর্তমানে দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরির সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষ কমিটি সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পরিষদ কীভাবে উত্তরসূরি নির্বাচন করে এবং বহিঃশক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, তা-ই এখন বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কথোপকথনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি জানান, অনুষ্ঠানে তিনি সকল গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের, ইফতার পরিবেশনকারী কর্মী এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সঙ্গে মুসাফাহ করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে তিনি নিজের জন্য দোয়া চেয়েছিলেন এবং আমির তাকে ‘দোয়া ও দাওয়াহ দুইটাই’ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার সময় নাসীরুদ্দীন জানান, বাসার বুয়া প্রতিদিন ফ্যামিলি কার্ড চাইছে, যা নির্বাচনে জেতার একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি ইতিমধ্যেই শুরু করেছেন এবং খুব শিগগিরই সারা দেশে চালু হবে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মঈন খানের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি জানতে পেরেছিলেন, তিনি ভালো আছেন এবং বাসায় আসার আমন্ত্রণ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনকে তিনি শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য স্মরণ করান। এছাড়া, তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে বাসায় ইফতারের জন্য দাওয়াত দেন। ইফতার শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায় নেওয়ার সময় আব্বাস তাকে ‘দুষ্টুমি করবা না’ বলে সতর্ক করেন। নাসীরুদ্দীন জবাবে উল্লেখ করেন, ছোট ভাইয়ের সিট এভাবে কেড়ে না দিয়েও ছেড়ে দেয়া যেত।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রথমবার সিলেট সফরে এসে সরকারি প্রটোকলের গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সিলেটই তার নিজ শহর। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় তাকে আনতে জেলা প্রশাসনের একটি সরকারি প্রটোকল গাড়ি ও একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তবে অপেক্ষমাণ সরকারি গাড়িটি দেখে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এটা কি সরকারি গাড়ি? আমি ১২ তারিখের পরে চড়ব। আপনারা এসেছেন, আমি কৃতজ্ঞ। তবে আমি ক্ষমতার প্রদর্শন করতে চাই না। ইনশাআল্লাহ, সংসদ অধিবেশন শুরু হলে তখন ব্যবহার করব।” এরপর তিনি প্রটোকলের গাড়ি ফিরিয়ে দেন। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সিলেটে দিনটি ছিল তার ব্যস্ততায় ভরা। তিনি মোট তিনটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জুমার নামাজের আগে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’-এর সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। পরে নগরীর কুদরতউল্লাহ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নতুন মন্ত্রিসভা সম্পর্কে তিনি বলেন, “সরকারি দলের কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কাঁচা কথাবার্তা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং অপরাধকে উসকে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ কীভাবে ভালো পথে এগোবে?” রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাই না। বড় পরিসরে আলোচনা হয়নি। দেশের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” বিকেলে তিনি সুবিদ বাজারে সিলেট প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সেখানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। এরপর সন্ধ্যা ৫টা ২৫ মিনিটে প্রেসক্লাব থেকে রওনা হয়ে আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং ইফতার করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে আসা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা বৃদ্ধি, বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয় খুলতে উদ্যোগ, একাধিক সাবেক সংসদ সদস্যের জামিন এবং বিদেশে অবস্থানরত কিছু নেতার দেশে ফেরার খবরে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও কার্যালয় খুলতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। জুলাই বিপ্লবের দেড় বছর পর আওয়ামী লীগের এই নড়াচড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এর পেছনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নীরব সমর্থন রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনপূর্ব ‘বোঝাপড়ার’ অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগ আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিকে জামায়াতে ইসলামী সরকারের ‘ছাড় দেওয়ার মানসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখনো নিষিদ্ধ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। তার সঙ্গে মন্ত্রী-এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীদের বড় অংশ দেশ ছাড়েন। কেউ গ্রেপ্তার হন, বাকিরা আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে ছাত্র-জনতার দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়। ওই সময় সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও আওয়ামী লীগের যেকোনো পুনরুত্থান চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনের পরদিনই পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খোলা হয়। এরপর দেশের অর্ধশতাধিক স্থানে কার্যালয় খুলে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো, মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার খবর পাওয়া যায়। এমনকি শহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেখ হাসিনার নামে শ্রদ্ধা নিবেদনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, কিছু স্থানে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ও বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, কোথাও কোথাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এ সময়ের মধ্যেই একের পর এক সাবেক এমপি ও জেলা-উপজেলার নেতাদের জামিন পাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। গত সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আইভী রহমান এবং কক্সবাজারের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদিসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা জামিন পেয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোট প্রত্যাশায় বিভিন্ন প্রার্থী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন অনেক জায়গায় বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্যে ভোট চাইতেও দেখা যায়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে-পরে দুই দলের মধ্যে গোপন সমঝোতার গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। এদিকে, বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের বিজয়ও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রমে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। সরকারকে দ্রুত দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইন অনুযায়ীই সবকিছু বিবেচিত হবে এবং আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ অবস্থান বহাল থাকবে। তবে দলের ভেতর থেকেও বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য আসায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সমঝোতা থাকতে পারে। সব মিলিয়ে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা দেশের রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যা সামনের দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল একে অপরের শত্রু নয়, বরং পরস্পরের সহায়ক। দেশের উন্নয়নে সরকার কোনো ভুল করলে বিরোধী দল তা তুলে ধরবে, আর সরকার সেই ভুল সংশোধন করবে—এভাবেই গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে। তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা না থাকলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, যা আমরা কেউই কামনা করি না। শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দি ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, বাংলাদেশ (এফইএবি)’ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রমজানের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, প্রকৌশলীরা দেশের মেধাবী জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা যদি সততা ও আল্লাহভীতির সঙ্গে কাজ করেন, তবে ঘুষ ও দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে। দেশ গঠনে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফোরামের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহসভাপতি প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান শাহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. মু. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, এফইএবির কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল আমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, দি ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, বাংলাদেশ প্রকৌশলীদের দক্ষ ও সৎ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে তারা জাতির কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন। হামলার সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান মেইন রোডে, বিট অফিসের বিপরীতে অবস্থিত ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন ঢাকা উদ্যান দক্ষিণ ইউনিট বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ইউনিট সভাপতি ইউসুফ আলী বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এতে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বসির উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুল হক টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক পারভেজসহ ছাত্রদল কর্মী আরিফ, নয়ন ও মিরাজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা অতর্কিতভাবে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এ সময় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয় এবং দলীয় শীর্ষ নেতাদের ছবি নষ্ট করা হয়। এতে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ভাঙচুরের পর অভিযুক্তরা আরও লোকজন নিয়ে বিজয় মিছিল করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিকেলে হঠাৎ ৫০–৬০ জনের একটি দল এসে কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং পরে মিছিল বের করে। অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বসির উল্লাহ বলেন, ঘটনার সময় তিনি তেজগাঁও এলাকায় একটি ইফতার মাহফিলে ছিলেন। তাঁর নাম ব্যবহার করে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলেও জানান। এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারা একটি এজাহার পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যাংকের অর্থ দেশের জনগণের—এ কথা উল্লেখ করে মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই। এতে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে আলেম-ওলামা ও পেশাজীবীদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি মো. লোকমান হাকিম। মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, “আমরা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু তা হয়নি। দেশে একটি সাজানো ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নির্বাচন হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সারা দেশে হাতপাখার প্রার্থীদের ভোটে হারানো হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নরসিংদীতে কিশোরী হত্যাকাণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘৫২, ৭১, ৯০ ও ২৪-এর চেতনাকে ধারণ করে আমরা জাতি গঠনের পথে এগিয়ে যাবো। দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রাম ও রক্তপাতের মধ্য দিয়ে আমরা একটি রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছি।’ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে বেসরকারি সংস্থা ইএসডিও আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সরকারের বয়স মাত্র ১৫ দিন হলেও ইতোমধ্যে লক্ষ্য অর্জনের পথে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় তাঁর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার আলোকে ঠাকুরগাঁও মেডিক্যাল কলেজ বাস্তবায়নে একটি টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ইপিজেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়নের পথে যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম চলছে। গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা কখনো হার মানিনি, মানবো না। মহান আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন, যেন আমরা দেশকে হিংসামুক্ত ও কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারি।’ ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উজ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের সংসদ সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস