- প্রচ্ছদ
- রাজনীতি
রাজনীতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক সুইস সুন্দরী ও মডেল বিয়াট্রিস কিউল। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে তাঁকে ধর্ষণ করেন ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে এই অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে হোয়াইট হাউস অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় কিউলের বয়স ছিল ২৪ বছর। তিনি সুইজারল্যান্ডে মডেলিংয়ের পাশাপাশি আর্থিক খাতে কাজ করতেন। ১৯৯৩ সালে ট্রাম্পের আয়োজিত একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিউইয়র্কে যান তিনি। সেখানেই ট্রাম্প ও পরবর্তী সময়ে যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কিউলের বর্ণনা অনুযায়ী, প্লাজা হোটেলে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমি তোমার যত্ন নেব।’ এরপর ট্রাম্পের একজন প্রতিনিধি তাঁকে হোটেলের ওপরের তলায় একটি কক্ষে নিয়ে যান। কিউলের অভিযোগ, সেখানে প্রবেশের পর ট্রাম্প তাঁকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেন। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তদন্ত প্রতিবেদনে কিউলের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর ট্রাম্প আবারও ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখতে বলে মন্তব্য করেন, ‘শো চলতেই হবে।’ কিউল জানান, এই অভিজ্ঞতার পর আতঙ্কিত অবস্থায় প্রতিযোগিতা শেষ করে সুইজারল্যান্ডে ফিরে যান তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন কিউল। তবে তখন তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিবাদ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন। নতুন সাক্ষাৎকারে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন। আগের ও বর্তমান বর্ণনার এই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নতুন প্রতিবেদনে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হলেও অভিযোগটি আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে ট্রাম্প ও জেফরি এপস্টাইনের সম্পর্ক এবং বিভিন্ন নারীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সদস্যদের দাবি, অন্তত পাঁচজন নারী এপস্টাইনের উপস্থিতিতে বা তাঁর ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। আরও কয়েকজন নারীকে ট্রাম্পের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত কোনো অভিযোগই সত্য নয়। হোয়াইট হাউস এটিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, জেফরি এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে এই প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত বা বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে, এমন নয়। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময় যৌন অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে লেখক ই. জিন ক্যারলের করা পৃথক দেওয়ানি মামলায় নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ট্রাম্পকে যৌন নির্যাতন ও মানহানির জন্য দায়ী করেন। তবে সেই দেওয়ানি রায় এবং বিয়াট্রিস কিউলের নতুন ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ পৃথক ঘটনা। ক্যারলের মামলার সিদ্ধান্ত দিয়ে কিউলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এপস্টাইন-সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত এবং পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে। কিউলের অভিযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। SOURCE মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তদন্ত প্রতিবেদন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; পিপল ম্যাগাজিন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; দ্য টেলিগ্রাফ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; দ্য ইনডিপেনডেন্টের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় র্যাপার নিকি মিনাজ। রোববার (২৫ অক্টোবর) মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হিউরনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেন তিনি। সেখানে নিকি মিনাজের সৌন্দর্য নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঞ্চে তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, ‘তাকে এর আগে কখনো এত সুন্দর লাগেনি।’ একই সমাবেশে নিকির শারীরিক সৌন্দর্য নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মিশিগানের ম্যাকমোরান প্লেস অ্যারেনায় এই নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স এবং গভর্নর প্রার্থী জন জেমসের পক্ষে প্রচার চালান ট্রাম্প। তাঁর সঙ্গে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে মিশিগানে পৌঁছান ৪৩ বছর বয়সী র্যাপার নিকি মিনাজ। সমাবেশে কয়েক হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে উঠে নিকি রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান এবং ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প প্রথমে ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের শারীরিক গঠন নিয়ে আগের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। এরপর নিকি মিনাজের দিকে ইঙ্গিত করে তাঁর শরীরের একটি অংশের সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করেন। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি নিকিকে দাঁড়াতে বলেন। নিকি উঠে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়লে সমাবেশস্থলে উল্লাস শুরু হয়। পরে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন নিকি তাঁর মন্তব্যে অপমানিত হননি। একই সঙ্গে তিনি জানান, নিকি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সমর্থন দিয়ে আসছেন। এরপর মঞ্চে উঠে নিকি মিনাজ সমর্থকদের নিয়ে ট্রাম্পের নামে স্লোগান দেন। রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স ও গভর্নর প্রার্থী জন জেমসের নামেও স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় পার করছে। তাই মিশিগানের ভোটারদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে হবে। ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করে নিকি বলেন, তাঁর ফিরে আসার পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বদলেছে এবং মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা আরও স্পষ্ট করেন নিকি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ানো তাঁর জন্য সম্মানের এবং তিনি ভবিষ্যতেও তাঁকে সমর্থন করে যাবেন। এমনকি ট্রাম্প আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁকেও সমর্থন দেবেন বলে জানান এই র্যাপার। নিকির বক্তব্য শেষ হলে ট্রাম্প আবার মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তাঁর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নিকিকে আগে কখনো এত সুন্দর দেখায়নি। একই সঙ্গে তাঁকে একজন বুদ্ধিমান ও বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে জন্ম নেওয়া নিকি মিনাজ শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কের কুইন্সে বেড়ে ওঠেন। সংগীতজগতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছেন। এর আগে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন আয়োজনেও তাঁকে দেখা গেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি আর্থিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি ও উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এই শিল্পী। মিশিগানের নির্বাচনী লড়াই এবার রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাঈদ। অন্যদিকে গভর্নর পদে জন জেমসের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জোসেলিন বেনসন। সমাবেশে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে আবদুল এল সাঈদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। এল সাঈদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে ভোটারদের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজের সরাসরি প্রচারে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে সমাবেশে প্রার্থীদের পক্ষে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মন্তব্যও সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে মিশিগানের সিনেট ও গভর্নর পদের ফলাফল কোন দলের পক্ষে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে। ১৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ছয় মিনিটের ভিডিওতে তিনি বলেন, নির্বাচনী লড়াইয়ে স্বতন্ত্রদেরও জায়গা পাওয়া উচিত। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভিডিওতে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিডিয়াইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাককনাহে মনে করেন, কংগ্রেসে স্বতন্ত্র প্রতিনিধিরা ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের ওপর স্থায়ী নজরদারি ও ভারসাম্য রক্ষার ভূমিকা রাখতে পারেন। তাঁর বক্তব্য, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শুধু প্রতিবাদের প্রতীক কিংবা অন্য প্রার্থীর ভোট কমানোর মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁদের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবেও গুরুত্ব দিতে হবে। ভিডিওতে কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীকে সমর্থন দেননি এই অভিনেতা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, নিজের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বদলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের সামনে থাকা বিকল্পগুলোর ওপর জোর দেন তিনি। দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজ এলাকার প্রার্থীদের সম্পর্কে জানার আহ্বানও জানান। ম্যাককনাহের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে একই দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ভোটারদের সব মত ও প্রত্যাশা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। স্বতন্ত্রদের ভোট দিলে তা নষ্ট হয়, এমন ধারণাকেও প্রশ্ন করেন তিনি। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার যোগ্য বিকল্প প্রার্থীদের বাস্তব সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তাঁর দলীয় বিভাজনের বাইরে যাওয়ার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন। সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে এমন আহ্বান ভোট ভাগ করে ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। সান অ্যান্টোনিও এক্সপ্রেস নিউজের প্রতিবেদনে এসব প্রতিক্রিয়ার কথা উঠে এসেছে। এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনার কথা জানিয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে টেক্সাসের গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন ম্যাককনাহে, যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে নামেননি। এবারের ভিডিওতেও ২০২৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি। ফলে তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আলোচনা এখনো জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।
ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারীদের জোর করে হিজাব খুলিয়ে চুল তল্লাশি, মারধর ও গ্যাস প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশকারী প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের বরাতে ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ ও ৮ অক্টোবরের এসব ঘটনায় কয়েকজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম সাফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর একজন ইসরায়েলি কারা কর্মকর্তা নারী বন্দিদের চুল পরীক্ষা করতে হিজাব খুলতে বাধ্য করেন। এরপর ১৭ জন নারীকে প্রায় তিন ঘণ্টা ১৩ নম্বর সেলে আটকে রেখে তাঁদের চুলের বেণি খুলতে বলা হয়। একই অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিবরণের কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফিলিস্তিন ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, ১৭ নারীকে আইসোলেশন সেলে রাখা হয়েছিল। তবে সাফার বিস্তারিত বিবরণে তাঁদের একটি সেলে একসঙ্গে আটকে রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে প্রত্যেককে পৃথকভাবে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের অভিযোগ, নারী বন্দিদের সেল ও গোসলের জায়গায় কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া বয়স্ক নারীসহ ১৫ জন বন্দি থাকা একটি কক্ষে পেপার স্প্রে ছোড়া হলে কয়েকজন বমি করেন। এসব ঘটনার মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সাফা। এর আগে ১৪ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছিল, দামন কারাগারে আটক দুই নারী আইনজীবীর কাছে তাঁদের সেলে বারবার অভিযান এবং ৭ অক্টোবর কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস নারী বন্দিদের সুরক্ষা, অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বাদের চিকিৎসা এবং আটক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পর্যালোচিত প্রতিবেদনগুলোতে এসব নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা স্থগিত রাখা, ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়িয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্ক এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিচালনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। একই সময়ে রাশিয়া মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে নিজেদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার একটি বড় প্যাকেজ স্থগিত রেখেছেন। তাঁর প্রশাসনের বক্তব্য, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য জ্বালানির দাম কমানো হলেও সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে দিতে পারে। ইউক্রেনের জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো সামরিক সহায়তা। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি অবশ্য বলেছেন, সরবরাহে বিলম্বের পেছনে ইউক্রেনকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার উদ্দেশ্য ছিল না। ইউক্রেনের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে শহর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করতে এসব ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। সামরিক সহায়তা সময়মতো না পৌঁছালে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ড্রোন পরিচালনা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইটভিত্তিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে সহায়তা সীমিত হওয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সামরিক সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে সম্পর্কের অবনতির মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, ২০ অক্টোবর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নরওয়ের অসলোতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা। যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী কয়েকজন আইনপ্রণেতা রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখা এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, রাশিয়ার ওপর চাপ কমে গেলে মস্কো যুদ্ধক্ষেত্রে আরও সুবিধা পেতে পারে। তবে ট্রাম্পের প্রশাসন কূটনৈতিক উদ্যোগ ও জ্বালানির দাম কমানোর বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কোনো কার্যকর সমঝোতা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সামরিক সহায়তা, নিষেধাজ্ঞা এবং দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আলোচনা আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরকারি অর্থের জালিয়াতি শনাক্ত করতে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। এই উদ্যোগের আওতায় সরকারি কর্মসূচিতে সন্দেহজনক জালিয়াতির তথ্য দিয়ে তদন্তে সহায়তা করা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার পেতে পারেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচিটির নাম ‘ফ্রড হুইসেলব্লোয়ার ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম’। বিচার বিভাগ এটি পরিচালনা করবে। fraud.gov ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনো জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া বা বড় ধরনের আইন প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তথ্যদাতা পুরস্কারের যোগ্য হতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি অর্থের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে শুধু অভিযোগ জমা দিলেই পুরস্কার পাওয়া যাবে না; তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। এই কর্মসূচি সরকারি অনুদান, সুবিধা ও অর্থায়ন ব্যবস্থায় জালিয়াতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এসেছে। তবে বাস্তবে কতটি মামলা এই কর্মসূচির আওতায় আসবে এবং কতজন পুরস্কার পাবেন, তা এখনো জানা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফজরের নামাজের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান। সোমবার ১৯ অক্টোবর দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনমন্ত্রী দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশ গড়তে সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ভালো নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার আশাবাদী। অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় ভালো নির্বাচন করতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার বিস্তারিত যথাসময়ে জানা যাবে বলে জানান তিনি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কাজ করলে প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের ঘনিষ্ঠ হলেও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। বিসিআইসির সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অনিয়মের কোনো খবর তাঁর জানা নেই। ডিলার নিয়োগ ও সার বরাদ্দে সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে দাবি করেন তিনি। একই দিন ঝিনাইদহে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন আসাদুজ্জামান। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। সভায় চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জনবলসংকট নিরসন ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অর্থের অপচয়, জালিয়াতি ও অনিয়ম ঠেকাতে দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তা এবং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে জালিয়াতি শনাক্ত করা, অর্থ ছাড়ের আগেই সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধ করা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। ভ্যান্স হোয়াইট হাউসের জালিয়াতি নির্মূলবিষয়ক টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জালিয়াতি প্রতিরোধের অঙ্গীকারে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতের সরকারি কর্মকর্তারা এতে সমর্থন জানিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। সরকারি সহায়তার অর্থ অপব্যবহার হলে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই জালিয়াতি প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা চালু হলে করদাতাদের অর্থ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সঠিক ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে সুবিধা হতে পারে। তবে উদ্যোগ ঘোষণার অর্থ এই নয় যে সব ধরনের জালিয়াতি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়েছে কিংবা ঘোষিত সাশ্রয়ের সব অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মসূচিটির বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নে তদন্ত, অর্থ পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে জালিয়াতি কমার পরিমাপযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মুসলিমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর জর্জিয়ার ডালটনে নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্টের পদ নিয়ে উপহাস করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, তাঁর রসিকতায় উপস্থিত শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল সীমিত। ডালটন মিউনিসিপ্যাল এয়ারপোর্টের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সংশয় হলে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই চলে। এতে নাম সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই সংখ্যার পক্ষে কোনো তথ্যসূত্র দেননি। এরপর ইরানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। বক্তব্যের একপর্যায়ে ‘মোহাম্মদ’ নামের কয়েকজনকে ওই পদ নিতে বলার ভঙ্গিও করেন তিনি। ‘মোহাম্মদ’ মুসলিমদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত একটি নাম। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি শ্রদ্ধা থেকে বহু মুসলিম পরিবার ছেলেসন্তানের এই নাম রাখে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে আসছেন মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, তাঁর ভাষা এসব জনগোষ্ঠীকে হেয় করে এবং নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে। তবে শুক্রবারের এই নির্দিষ্ট মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কোনো সংগঠনের পৃথক বিবৃতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ইমিগ্রেশন নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তে তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। একই তদন্তে তাঁর কয়েকজন আত্মীয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এক ডজনের বেশি গ্র্যান্ড জুরি সমন দেওয়া হয়েছে বলে তদন্ত সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। গত সোমবার, ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। মিনেসোটায় একটি গ্র্যান্ড জুরি তদন্তের জন্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণ পরিধি এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তা ও তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানিয়েছে, ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মামলা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। অনুসন্ধানের একটি অংশে তিনি কীভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন এবং তাঁর প্রয়াত বাবার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি তদন্তের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আদালতের অনুমোদিত সার্চ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা তল্লাশি চালিয়েছেন। সংস্থাটি আইসিইর অংশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ওমর শিশু থাকাকালে তাঁর বাবা পূরণ করেছিলেন, এমন ইমিগ্রেশন নথিও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ওমর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ভয়ভীতি দেখানোর প্রচেষ্টা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভিত্তিহীন অভিযোগের লক্ষ্য করেছেন। ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এই তল্লাশি হয়েছে। মিনেসোটার প্রতিনিধি ওমর ওই নির্বাচনে পুনর্নির্বাচন চাইছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত তদন্তে প্রকাশ্যে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনার ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তদন্ত বা ফোন জব্দ হওয়া অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরুর দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই ঘটনা আওয়ামী লীগের সহিংস রাজনৈতিক চরিত্র আবারও প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। সোমবার নিউইয়র্কের বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে কয়েকজনের উচ্চস্বরে স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওতে কয়েকজনকে তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে এখানে আসার কারণ জানতে চাইতে এবং ফিরে যেতে বলতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। আমার দেশের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিবৃতিতে নাহিদ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও আওয়ামী লীগের আচরণে পরিবর্তন আসেনি। অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য দলটির মধ্যে অনুশোচনার লক্ষণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশে ও বিদেশে সক্রিয় দলটির সহিংস কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক। নাহিদ আরও দাবি করেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড এবং বিগত সরকারের সময় গুম ও খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি গণহত্যা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারপ্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার আহ্বান জানান তিনি। বিবৃতিতে অধ্যাপক ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান নাহিদ। তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশের সংকটকালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে তাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। এদিকে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনার পর যে ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রাপ্য প্রটোকলে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও সরকার খতিয়ে দেখবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তবে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বা কোথায় তা শুরু হবে, প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশি নাগরিক হিসেবে ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে প্রতারণামূলক নিবন্ধন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করা। বিচার বিভাগের ৫ অক্টোবরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলাগুলোতে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা, ভোটার নিবন্ধন এবং নাগরিকত্বের তথ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই কেউ নিজের নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হলে বা ভোট দিলে সেটি ফেডারেল অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। তবে শুধু অভিযোগ আনা হয়েছে বলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন, এমনটি বলা যাচ্ছে না। প্রতিটি মামলায় আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সিদ্ধান্ত হবে অভিযুক্তরা সত্যিই আইন ভেঙেছেন কি না। এই ঘটনা ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের বিভিন্ন আসনে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধ এখন রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী ব্যবস্থায় নাগরিকত্ব যাচাই ও ভোটের নিরাপত্তার ওপর জোর দিচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যোগ্য ব্যক্তিদের ভোটাধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি নির্বাচনে অনিয়ম ঠেকানোও জরুরি। অন্যদিকে নির্বাচনী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহল দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের সময় যেন প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বিশেষ করে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে বৈধ ভোটারদের হয়রানি বা ভুলভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের মধ্যে শুধু নির্বাচনী অপরাধের মামলা নয়, বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার অভিযোগ এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলাও রয়েছে। ৫ অক্টোবর বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৪০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে একক সময়ে করা সবচেয়ে বড় এ ধরনের পদক্ষেপ বলে বিভাগটি জানিয়েছে। নির্বাচনের আগে এসব মামলা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে আরও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। রিপাবলিকানরা সাধারণত নির্বাচনী নিরাপত্তা ও ভোটার যাচাইকে গুরুত্ব দিচ্ছে, আর ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, কঠোর যাচাইয়ের নামে বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগ, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং নাগরিকত্ব যাচাই—এই তিনটি বিষয়ই আরও বেশি আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের উৎস ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুক্রবার, ২ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি এমপি-মন্ত্রী ও তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব নিয়মিত যাচাইয়ের আহ্বান জানান। এই প্রক্রিয়া তাঁকে দিয়ে শুরু করার কথাও বলেন। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসনাত পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদ ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে কয়েকটি হিসাব তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে এই দম্পতির সম্পদ ২০০৮ সালে ৬ কোটি ৩০ লাখ, ২০১৮ সালে ১২ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকা ছিল। এসব অঙ্ক হাসনাতের পোস্টে উল্লিখিত হিসাব। গুলশানে সম্পত্তি এবং সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আয়, উত্তরাধিকার ও বিনিয়োগ থেকে কতটা সম্পদ এসেছে, তার যাচাইযোগ্য ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবি জানান হাসনাত। সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র কারও হিসাব চাইতে পারে। তবে সরকারের সমালোচনার পর এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনস্বার্থে একইভাবে এমপি-মন্ত্রীদের হিসাবও যাচাইয়ের দাবি জানান।
ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে আলোচনায় থাকা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র দেন। সংসদ সচিবালয় সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করেছে। বিকেলে স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসনটি শূন্য হয়েছে এবং পদত্যাগ সেদিন থেকেই কার্যকর। শূন্য আসন পূরণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে জানানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে আসনটি পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে; একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে চিকিৎসা সরঞ্জামসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মিষ্টি আগে দাবি করেছিলেন, হামলা বা ভাঙচুরে তাঁর কোনো হাত নেই। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও ফৌজদারি তদন্ত পৃথক বিষয় বলেও তিনি জানান। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্পিকারের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মিষ্টি তখন পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেননি। তিনি তদন্ত হওয়ার কথা বলেন এবং দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই হবে বলে মন্তব্য করেন। পরে স্পিকারের বক্তব্য ও সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়।
রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করে রাশেদ খান লেখেন, ‘আমাদের জান্নাতি দাদু কখনোই ঢাকা শহরকে পরিকল্পিত নগরী হতে দিবে না।’ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর মূল সড়ক থেকে অটোরিকশা উচ্ছেদ, বস্তিবাসীদের স্থানান্তর এবং ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে জামায়াত আমির ও তার দল বাধা দিচ্ছে। রাশেদ খানের ভাষ্য, সরকারের ‘জনবান্ধব পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে এভাবে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে, মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা প্রয়োজন হলেও শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন তিনি। বুধবার সকালে মিরপুর-১৩ থেকে মিরপুর-১০ এলাকার হোপ মার্কেটের আশপাশে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও ফুটপাতে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন। জামায়াত আমির আরও বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উচ্ছেদের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাশেদ খানের ‘জান্নাতি দাদু’ মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। তবে মন্তব্যটি রাশেদ খানের নিজস্ব বক্তব্য; এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি মন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ বিষয়ে নিজেকে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’ বললেও তিনি জানিয়েছেন, সফরের মাস বা তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ত্রিবেদী জানান, সফরটি নিয়ে দুই দেশের মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তবে তাড়াহুড়োর চেয়ে যথাযথ প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। দুই সরকারপ্রধানের আলোচনার আগে কর্মকর্তাদের পর্যায়ে প্রস্তুতি এবং বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য ফল থাকার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে স্বীকার করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তবে তাঁর আশা, শীর্ষ পর্যায়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ পাওয়া যাবে। সম্ভাব্য আলোচনায় পানি ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলেও জানান তিনি। এগুলোকে অবশ্য চূড়ান্ত আলোচ্যসূচি হিসেবে ঘোষণা করেননি। দুই দেশের সম্পর্ককে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত করে ত্রিবেদী বলেন, ভালো শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনই মানুষের চাওয়া। এসব স্বার্থকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারতের কাজ করা প্রয়োজন।বাণিজ্য, খেলাধুলা, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সংগীতে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়লে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, নভেম্বরে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আয়োজন ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য মোদির আমন্ত্রণ রয়েছে। তবে নভেম্বরের সম্ভাবনার কথা সংবাদমাধ্যমে এলেও বুধবার ত্রিবেদী স্পষ্ট করেছেন, কোনো মাস বা তারিখ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নভেম্বরকে সফরের চূড়ান্ত সময় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এর আগেও আশাবাদ জানিয়েছিলেন ত্রিবেদী। গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে তাঁকে যথাযথ সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মোদি।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এক বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এনসিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দলটির জনসমর্থন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি তাকে নানা অবমাননাকর শব্দে আখ্যায়িত করেন। তবে এগুলো বক্তার ব্যক্তিগত মন্তব্য ও রাজনৈতিক কটাক্ষ; এগুলোকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতি থাকলেও তার আহ্বানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের কর্মীরাও মাঠে আসছেন না। এ সময় তিনি জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও নানা মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এনসিপি প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে অবস্থান নিতে পারে। পোস্টের শেষাংশে তিনি কয়েকটি স্লোগান ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সমন্বয়কদের সমালোচনা করেন। রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্যবহৃত এসব অভিযোগ ও কটাক্ষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দলের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে ভারসাম্যপূর্ণভাবে যুক্ত করা যেতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর কাছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমালোচনা করে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। কালবেলা ও দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশেদ ২০২৬ সালের ২৬ মে সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক হিসাবে পোস্টটি দেন। ফলে পাওয়া সূত্রে বক্তব্যটি মে মাসের; এটিকে নতুন বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের ভিত্তি পাওয়া যায়নি। পোস্টে রাশেদ দাবি করেন, এনসিপির সঙ্গে জোট গঠনের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একসময় তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ওই আলোচনা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। রাশেদের ভাষ্য, পরে সংবাদ সম্মেলনে তাকে নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন পাটওয়ারী। এর জবাবে তিনি এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জামায়াতের সঙ্গে দলটির সম্পর্ককে আক্রমণ করেন। নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদ ২০২২ সাল থেকেই বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল। নির্বাচনী অর্থায়নের প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাবে এনসিপি দলীয় নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছে ১২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। জামায়াতে ইসলামী দেখিয়েছে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। তবে দলগুলোর জমা দেওয়া ব্যয়ের হিসাব দিয়ে রাশেদের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণ বা খণ্ডন করা যায় না। পর্যালোচিত প্রতিবেদনে ১০০ কোটি টাকা লেনদেনের কোনো নথি বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে এনসিপি বা জামায়াতের সরাসরি প্রতিক্রিয়াও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখযোগ্য, প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে নয়।
বাংলাদেশ যেখানে ইতোমধ্যেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট, ব্যাংকিং খাতে আস্থার অভাব,এবং জ্বালানী ও বিদ্যুৎ ঘাটতিজনিত চ্যালেঞ্জে জর্জরিত , সেখানে ভারত তার প্রতিবেশী কূটনীতিতে আরেকটি বিতর্কিত অধ্যায় যোগ করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে নয়াদিল্লি তথাকথিত অবৈধ অভিবাসীদের—যাদের অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম—যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, পরিচয় যাচাই কিংবা কূটনৈতিক সমন্বয় ছাড়াই জোরপূর্বক বাংলাদেশে বহিষ্কার (“পুশ-ইন”) অভিযান শুরু করেছে। ভারতের এই কর্মকাণ্ড শুধু অমানবিক বা বেআইনি নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ।আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত চুক্তির (ICCPR) ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনগতভাবে বসবাসরত কাউকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বহিষ্কার করা যায় না। একই চুক্তির ১২(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কাউকে ইচ্ছামতো তার নিজ দেশে প্রবেশের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ভারতের প্রধান উদ্দেশ্য মূলত বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং এমন এক সময়ে আঞ্চলিক আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, যখন দিল্লির কাশ্মীর-কেন্দ্রিক কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। একবার ভেবে দেখুন—দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিমানে তুলে এনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সীমান্তে ফেলে দেওয়া হলে তাকে আর কী বলা যায়? বিশ্বের অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা বড় আন্তর্জাতিক সংবাদে পরিণত হতো: বিচার ছাড়াই গণহারে বহিষ্কার, আদালতে হাজির না করেই আটক, এবং গভীর রাতে শিশু, নারী এমনকি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (UNHCR) সুরক্ষায় থাকা রোহিঙ্গাদের সীমান্তে ফেলে যাওয়া।বিবিসির একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে আসামের বহু মুসলিম, যাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে এবং যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতে বসবাস করছেন, তাদেরও আটক করে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভারত থেকে ২০০-র বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে শতাধিক ভারতে UNHCR-এর নিবন্ধিত শরণার্থী ছিলেন।এই “পুশ-ইন” অভিযান কেবল কয়েকশত অসহায় মানুষকে কাঁটাতারের ওপারে ঠেলে দেওয়ার বিষয় নয়। এটি রাজনৈতিক বার্তা—হতাশা ও নিয়ন্ত্রণের বহিঃপ্রকাশ, যা বাস্তবে একধরনের সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার প্রতিফলন। ভারতীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী , যাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে তারা বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসী। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, গত ১৪ জুন থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে নয়জন বাংলাভাষী মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে “পুশ-ইন” করার চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দিলে তারা শূন্যরেখায় আটকে পড়েন। পরে ১৭ জুন রাত প্রায় ১১টা ৩০ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর মানবিক কারণে ৪ জনকে শূন্যরেখা থেকে ফিরিয়ে আনা হয় বলে জানিয়েছেন জামালপুরের ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান।আবার রাজস্থান, গুজরাট ও ত্রিপুরায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলিম—যাদের কারও কাছে বৈধ আধার কার্ড, ভোটার আইডি এবং বহু বছরের বসবাসের প্রমাণ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো পরিবারকে অভিযানের মাধ্যমে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেন তারা কোনো রাজনৈতিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত বস্তু। . ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর সবচেয়ে সামরিকীকৃত সীমান্তগুলোর একটি; যার মধ্যে প্রায় ৩,২০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। সাধারণভাবে ধারণা করা হয় যে এসব অবকাঠামো অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি যেন এখন একটি মানব পরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। ভারতের এই “পুশ-ইন” নীতি যেন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জাতিগত নিধনের এক অভিন্ন রূপ।মিয়ানমারের সামরিক সরকারের মতোই দিল্লিও হয়তো বিশ্বাস করছে যে “অবাঞ্ছিত” জনগোষ্ঠীকে প্রতিবেশী দেশে ঠেলে দিলে তাদের জনসংখ্যাগত ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সমাধান হবে। বাংলাদেশের উচিত এই সমস্যা সমাধানে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা। কেবল কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়ে দায় শেষ করা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সুসংগঠিত, জোরালো এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক উদ্যোগ। জাতিসংঘ, UNHCR এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফোরামগুলোকে এ বিষয়ে সম্পৃক্ত করা উচিত। পাশাপাশি, সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান, আগত প্রত্যেক ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক আইনগত পথ অনুসন্ধানও জরুরি। সবশেষে, যদি ভারত সত্যিই নিজেকে আঞ্চলিক নেতৃত্বের দাবিদার মনে করে, তাহলে তাকে প্রথমেই এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে হবে। ভয় এবং চাপের ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে না; তেমনি প্রতিবেশী নীতিও নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ বা মতাদর্শগত আতঙ্ক দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না। Writter: Nasrin Akter Mitu, Undergraduate Student Department of International Relations, Jahangirnagar University
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর ঘোষিত ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ নিয়ে সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হামিম এই কর্মসূচিতে কেউ যেন অর্থ না দেন, সেই আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসনাত ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তোলেন তিনি। এর আগে একই দিন হাসনাত আবদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’র ঘোষণা দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭ বছর ধরে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ ‘অনাহারী’ অবস্থায় রয়েছে এবং মানুষের দেওয়া ১ টাকাও কাউকে চাঁদাবাজির পথ থেকে দূরে রাখতে পারে। হাসনাত জানান, চাঁদাবাজির বিকল্প হিসেবে ‘পুনর্বাসন দানবক্স’ চালু করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর বাংলামোটরে একটি বিশেষ দানবক্স উন্মুক্ত করার কথা জানান তিনি। তিনি জনগণকে দান করার আহ্বান জানিয়ে এটিকে ‘জাতীয় পুনর্বাসন’ কার্যক্রম হিসেবে তুলে ধরেন। অন্যদিকে হামিম তার ফেসবুক পোস্টে কর্মসূচিটিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নতুন ধান্দা’ শুরু হয়েছে এবং তিনি অনুসারীদের এতে টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও বন্যার অনুদানের অর্থ নিয়ে অনিয়ম হয়েছিল। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব অভিযোগের পক্ষে হামিম তার পোস্টে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। হামিম তার পোস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর হাসনাতদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে বলেও দাবি করেন। পোশাক, মোবাইল ফোন, সাইকেল ও গাড়ির উদাহরণ দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এরপরও কেন তাদের অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজন হচ্ছে। এ পর্যায়ে হামিম আরও অভিযোগ করেন, দান সংগ্রহের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্জিত কথিত ‘কালো টাকা সাদা’ করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এটিও তার ব্যক্তিগত অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনে এর পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণের কথা উল্লেখ নেই। পোস্টের শেষ দিকে হামিম কর্মসূচিতে অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্কবার্তা দেন।অন্যদিকে হাসনাতের ঘোষণার ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল চাঁদাবাজির বিকল্প হিসেবে দান সংগ্রহ এবং সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করা। কর্মসূচিটি রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, হাসনাত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন এবং হামিম প্রকাশ্যে সেটির বিরোধিতা করেছেন। তবে হামিমের আর্থিক অনিয়ম, পূর্বের বন্যার অনুদান আত্মসাৎ কিংবা ‘কালো টাকা সাদা’ করার অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো স্বাধীন প্রমাণ এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি।
বিএনপির সঙ্গে নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, বিএনপির ‘ট্যাগ’ বহন করতে হচ্ছে না—এটিকে তিনি ‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন রুমিন ফারহানা। সেখানে লেখা ছিল, ‘আল্লাহর অশেষ রহমত যে আমাকে এই ট্যাগ অর্থাৎ বিএনপির ট্যাগ বহন করতে হচ্ছে না।’ পোস্টটির সঙ্গে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘আল্লাহর কসম।’ তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা নতুন মন্তব্যটির প্রেক্ষাপটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিকবিষয়ক দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থানের বিরোধ তৈরি হয়। ওই আসনটি বিএনপি জোটের শরিক জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে। একই সময়ে আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রুমিন ফারহানা। নির্বাচনী ফলাফলে তিনি জয়ী হন। নির্বাচনের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের নির্বাচনী লড়াই এবং দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়েও কথা বলেছিলেন। নির্বাচনের সময়ও তার সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। দ্য ডেইলি স্টারের নির্বাচনী প্রতিবেদনে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রুমিন ফারহানার বর্তমান মন্তব্যটি মূলত তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতার ওপর আলোকপাত করছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিএনপির সঙ্গে ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক কী হবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা জানাননি। এর আগে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পরও রুমিন ফারহানা বিভিন্ন বক্তব্যে দলটির রাজনীতি, নেতৃত্ব এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি তার এলাকার মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। একই সময়ে তিনি নিজের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ন্যায়সংগততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে তার বহিষ্কারের কারণ হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং নির্বাচনী সিদ্ধান্ত অমান্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তার দলীয় রাজনীতির অতীত ও বর্তমান অবস্থানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় রুমিন ফারহানার সর্বশেষ মন্তব্যও এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। তবে তার বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য বা ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তার পরবর্তী বক্তব্য এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। রুমিন ফারহানা বর্তমানে জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচিত স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পান। তার সর্বশেষ বক্তব্যে বিএনপির সঙ্গে নিজের বর্তমান দূরত্বকে তিনি যে ভাষায় তুলে ধরেছেন, সেটিই মূলত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।