বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিক্রম মিশ্রি। নতুন বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ায় ভারতের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। হাইকমিশন জানায়, পররাষ্ট্রসচিব দুই দেশের জনগণ-কেন্দ্রিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শফিকুর রহমানকে তার নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের প্রতি ভারত-এর দীর্ঘস্থায়ী সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। অপরদিকে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান গভীর সভ্যতাগত বন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সৌজন্য সাক্ষাৎকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ‘ক্লিন ঢাকা মহানগরী’ নামে বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এ কর্মসূচির আওতায় মহানগর উত্তরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। দলীয় সূত্র জানায়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ ও বাজারসংলগ্ন স্থান পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করা হবে। এতে দলীয় সকল স্তরের নেতা–কর্মী ও নগরবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার। রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মূল বালিকা শাখা সংলগ্ন বাইতুন নূর মসজিদ এলাকায় বুধবার সকাল ৬টায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং এই মুহূর্তে দলটিতে ফেরার সম্ভাবনাও নেই বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তবে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। রুমিন ফারহানা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। একটি বড় দলের জোয়ারের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে নির্বাচন করা সহজ নয় উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাকে পরাজিত করার জন্য নানা কৌশলে চেষ্টা করা হয়েছিল। বিএনপিতে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর দলটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তাই এই মুহূর্তে বিএনপিতে ফেরার সম্ভাবনা নেই। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে এবং সেখানেই ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। তিনি কোনো দলের ‘মেয়ে’ নন। আগে একটি দলের সমর্থক হিসেবে দেশ ও মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন, পরে মতের অমিল হওয়ায় সরে গেছেন। নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এসব এলাকার প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি সর্বাত্মকভাবে কাজ করবেন।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বিক্রম মিস্রি ডা. শফিকুর রহমানকে তার নতুন ভূমিকার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, জামায়াত আমির দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও কার্যকরী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই বৈঠকটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন কোনো মোড় নিতে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
আজ এক ঐতিহাসিক ও আবেগপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হলো দেশবাসী। বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর রাতে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি উপস্থিত হন। সেখানে স্ত্রী জোবায়দা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে সাথে নিয়ে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বিশেষ মোনাজাত করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, কবর জিয়ারত শেষে তিনি পরিবারের সদস্য ও উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। এর আগে বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথবাক্য পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও শপথ গ্রহণ করেছেন।
১৫ বছর বয়সে পিতৃহারা হওয়া, ওয়ান–ইলেভেনের সময় কারাবরণ ও নির্মম নির্যাতন, পঙ্গুত্বের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন—সব মিলিয়ে তারেক রহমানের জীবন যেন এক হার না মানা মহাকাব্য। বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হয়েও রাজনীতিতে তার পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ ও সংগ্রামে ভরা। রাজনীতিতে তারেক রহমানের পদার্পণ রাজকীয় হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ছিল রক্ত, ঘাম ও অশ্রুর ইতিহাস। শৈশব থেকেই তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন রাষ্ট্র পরিচালনার জটিলতা ও সংকট। তবে পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বগুড়া থেকে তৃণমূল রাজনীতির মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। ২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘তৃণমূল সম্মেলন’-এর মাধ্যমে দল পুনর্গঠনে তিনি নতুন প্রাণসঞ্চার করেন। ২০০৭ সালের ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার জীবনে নামে ভয়াবহ দুর্যোগ। কারাবরণকালে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা তাকে পঙ্গুত্বের কাছাকাছি নিয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গমন করলেও শুরু হয় দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন—যার স্থায়িত্ব দাঁড়ায় প্রায় ১৭ বছর। এই সময়ে তিনি হারান তার প্রিয় ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে—যা তার জীবনে গভীর শোকের ছাপ ফেলে। মামলা, দণ্ড, দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ঘেরাটোপে থেকেও তিনি রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। প্রবাসে থেকেও দল পরিচালনা, আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়নে তিনি ছিলেন সক্রিয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর। সেদিন রাজধানীর রাজপথে লাখো মানুষের বাঁধভাঙা ঢল প্রমাণ করে দেয়—তারেক রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি গণমানুষের আবেগ ও প্রত্যাশার প্রতীক। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নেমে আসে গভীর শোক। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তিনি হারান মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়াকে। ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি দল পুনর্গঠন, জোট সম্প্রসারণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় আত্মনিয়োগ করেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়। জনগণের বিপুল সমর্থনে বিএনপি জোট ২৯৭ আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান নির্বাচিত হন সংসদ নেতা এবং দায়িত্ব নেন বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। কৈশোরে পিতৃহারা, যৌবনে কারাবাস আর মধ্যবয়সে দীর্ঘ নির্বাসন—জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ছিল সংগ্রামের। অথচ সেই মানুষটির কাঁধেই আজ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। যার রাজনৈতিক জীবনের শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকে—আজ তার কাঁধেই সওয়ার বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া! বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস ও রুহুল কবির রিজভীসহ মোট ১০ জনকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৫ জন পেয়েছেন পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা এবং বাকি ৫ জন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা। আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হলেন- হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন এবং রেহানা আসিফ আসাদ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বাবা-মায়ের স্মৃতিতে আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী: জিয়া ও খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত করবেন তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘এই বিজয় বাংলাদেশের জনগণের আপনার নেতৃত্বের ওপর গভীর আস্থা এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে দেশ এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্নের প্রতিফলন।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মোদি বলেন, ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব অত্যন্ত গভীর। উন্নয়নের অগ্রাধিকারগুলোতে আমাদের দারুণ মিল রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’ তিনি কানেকটিভিটি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হতে পারে। অভিনন্দন বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি আপনাকে, ডা. জুবাইদা রহমান এবং আপনার কন্যা জাইমা রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ভারতে আপনাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ বার্তায় তিনি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে তাদের নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেছে। দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা দলটির এই মন্ত্রিসভা গঠনে যেমন নতুনত্বের ছাপ রয়েছে, তেমনি দলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ও জ্যেষ্ঠ নেতার নাম তালিকায় না থাকা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের পর এই পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে আসে, যেখানে অভিজ্ঞতার চেয়ে তারুণ্য ও নতুন সমীকরণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া নেতাদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির একঝাঁক হেভিওয়েট সদস্য। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত আমানউল্লাহ আমান এবং দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকেও নতুন এই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জ্যেষ্ঠ এই নেতাদের অধিকাংশই ইতিপূর্বে বিএনপি সরকারের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তবে এবার তাদের বাইরে রেখেই সরকার পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের মন্ত্রিসভা গঠনে 'পারফরম্যান্স' এবং 'ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব' তৈরির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী এর আগে মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা না পেলেও তালিকায় থাকা অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই দলের নীতিনির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই রদবদলকে অনেকে দলের সাংগঠনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখছেন। অভিজ্ঞ এই নেতাদের বাদ পড়া সরকারের ভেতর কোনো নতুন মেরুকরণ তৈরি করে কি না, কিংবা তাদের কোনো বিশেষ রাষ্ট্রীয় বা দলীয় উপদেষ্টা পদে দেখা যাবে কি না—তা এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থেকে উঠে আসা অন্তত ১৮ জন সাবেক ছাত্রনেতা এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এদের মধ্যে রয়েছে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সাবেক নেতা পাঁচজন, জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির থেকে ছয়জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পাঁচজন এবং গণসংহতি আন্দোলনের একজন নেতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে সাবেক আট কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন প্রথমবার জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন আমান উল্লাহ আমান (ঢাকা-২), একেএম ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫), শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী (লক্ষ্মীপুর-৩), আজিজুল বারী হেলাল (খুলনা-৪), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (টাঙ্গাইল-৫), আমিরুল ইসলাম খান আলিম (সিরাজগঞ্জ-৫), হাবিবুর রশিদ হাবিব (ঢাকা-৯) এবং রাজীব আহসান (বরিশাল-৪)। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সাবেক ছয় কেন্দ্রীয় সভাপতি এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাইফুল আলম খান মিলন (ঢাকা-১২), রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪), নুরুল ইসলাম বুলবুল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), শফিকুল ইসলাম মাসুদ (পটুয়াখালী-১), সালাহউদ্দিন আইয়ুবী (গাজীপুর-৪) এবং হাফেজ রাশেদুল ইসলাম (শেরপুর-১)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্যের মধ্যে পাঁচজনই ছাত্র রাজনীতির পটভূমি থেকে উঠে এসেছেন এবং প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১), আখতার হোসেন (রংপুর-৪), আবদুল হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬), হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা-৪) এবং আব্দুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ-৪)। এছাড়া গণসংহতি আন্দোলন-এর প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। তিনি ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্ত হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এসব নেতার সংসদে প্রবেশ দলীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিয়ে আইনপ্রণেতার ভূমিকায় আসা এই তরুণদের উপস্থিতি সংসদীয় বিতর্ক ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ভিন্নধর্মী প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপির অবস্থান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। আজ মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, জুলাই সনদ ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে 'গাদ্দারি' করার মাধ্যমেই বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে পরাজিত এই নেতার এমন মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সারজিস আলমের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে আজ সংসদ ভবনে বিএনপির নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগের একটি সিদ্ধান্ত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, তারা আজ 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ'-এর সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন না। হাতে সাদা ও নীল রঙের দুটি ফরম নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ যুক্তি দেখান যে, তারা কেউ এই পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হননি এবং বর্তমানে সংবিধানে এই পরিষদের কোনো আইনি ভিত্তি বা অস্তিত্ব নেই। বিএনপির এই আইনি অবস্থানকেই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন সারজিস আলম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে জামায়াত যখন দ্বৈত শপথ নিয়ে সংসদীয় ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে, তখন বিএনপির এই কৌশলী অবস্থান রাজপথের অন্যান্য শক্তির সাথে তাদের দূরত্ব তৈরি করছে। সারজিস আলমের এই সরাসরি আক্রমণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে সামনের দিনগুলোতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে থাকা দলগুলোর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ আরও বাড়তে পারে। বিএনপির এই 'সংবিধানিক অজুহাত' কি সত্যিই কোনো আইনি সংকট নাকি রাজনৈতিক কৌশল, তা নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয় মোড় নিয়ে অবশেষে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণ করলেন জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে তারা এই বিশেষ শপথ গ্রহণ করেন। বিএনপি যখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে, তখন রাজপথের দীর্ঘদিনের মিত্রকে ছাড়াই জামায়াত জোটের জনপ্রতিনিধিরা সংসদীয় কার্যক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন। আজকের এই শপথ গ্রহণের বিশেষত্ব ছিল এর দ্বৈত রূপ। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক দুটি শপথ বাক্য পাঠ করেন। যদিও এর আগে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ঘোষণা করেছিলেন যে, বিএনপি সংস্কার পরিষদে যোগ না দিলে জামায়াতও শপথ নেবে না, তবে জরুরি এক দলীয় বৈঠকের পর সেই অবস্থান থেকে সরে আসে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থাকতেই জামায়াত এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শপথ গ্রহণের এই ক্ষণটি দেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি সদস্যরা সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলেও জামায়াত জোটের সদস্যরা দুপুর ১২টার কিছু পরেই সিইসির উপস্থিতিতে নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব বুঝে নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই শপথ পাঠ করানোর মধ্য দিয়ে সংসদীয় ও সংবিধান সংস্কারের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল সংশ্লিষ্ট দলগুলো। এখন দেখার বিষয়, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিএনপি-জামায়াতের এই ভিন্ন অবস্থান আগামী দিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।
দেশের চলমান অস্থিরতা এবং জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার প্রতিবাদে আজ রাজধানীতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বেলা ৩টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে যখন নানা আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তেই রাজপথে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিতে যাচ্ছে দলটি। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন গণমাধ্যমকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর প্রক্রিয়া এবং এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনের দাবিতেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল সোমবারও একই স্থানে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোট বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় আজ আবারও রাজপথে নামছে দলটির নেতাকর্মীরা। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে বিএনপি-জামায়াতের সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বর্জনের ঘোষণা, অন্যদিকে শপথ গ্রহণ নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে এখন উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। বায়তুল মোকাররম এলাকায় আজকের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। জনমনে প্রশ্ন এখন একটাই, এই রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে কি সংসদীয় অচলাবস্থার কোনো সমাধান আসবে?
দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যরা সরকারি শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত দলটির সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য প্রচলিত আইন অনুযায়ী শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক থেকে বিশেষ কোটায় প্লট বরাদ্দের নিয়ম দীর্ঘদিনের। তবে বিগত কয়েক দশকে এই সুবিধাগুলোর অপব্যবহার এবং জনগণের অর্থের অপচয় নিয়ে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের সেবক হিসেবে বিলাসিতা ত্যাগ করাই তাদের দলের প্রধান লক্ষ্য। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপি একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করতে চায় যেখানে সংসদ সদস্যরা নিজেদের সুযোগ-সুবিধার চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন। উল্লেখ্য যে, বিএনপির এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অনুরূপ একটি কঠোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, তাদের দল থেকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় প্লট কিংবা শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা গ্রহণ করবেন না। প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তির পক্ষ থেকে এই অভিন্ন অবস্থান দেশের রাজনীতিতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এই 'ত্যাগের রাজনীতি' সংসদ সদস্যদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে বিজয়ী হওয়ার পর নেতাকর্মীদের প্রতি এক কঠোর ও আপসহীন সতর্কবার্তা দিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজে লিপ্ত হলে নিজের ভাই বা নিকটাত্মীয়কেও তিনি বিন্দুমাত্র ছাড় দেবেন না। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উত্তরার নিজ বাসভবনে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “আমার ভাইও যদি এমন কোনো অপরাধ করে যাতে দলের সামান্যতম ক্ষতি হয়, তবে আমি ভাই চিনব না; তাঁর সঙ্গে মুহূর্তেই সম্পর্ক ছিন্ন করব।” নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন: অপকর্ম ও অবৈধ ব্যবসা বন্ধ: তিনি সবাইকে অবৈধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে হালাল ও বৈধ ব্যবসা করার পরামর্শ দেন। তিনি সতর্ক করেন যে, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো অন্যায়ে জড়ায়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানা ও বিচার ব্যবস্থা: নবনির্বাচিত এই এমপি নেতাকর্মীদের থানায় অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগে সাধারণ মানুষ থানায় বিচার পেত না, কিন্তু এখন থেকে প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “এলাকাভিত্তিক সালিশ বা সামাজিক বিচার-আচার কমিয়ে দিন। আইনের মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হবে। পক্ষপাতমূলক বিচারের অভিযোগ উঠলে আমি কাউকেই রেহাই দেব না।” সরাসরি অভিযোগ জানানোর আহ্বান: সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা করেন যে, যদি তাঁর দলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা হয়রানির অভিযোগ থাকে, তবে যেন সরাসরি তাঁকে জানানো হয়। অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ পেলে তিনি নিজেই বাদী হয়ে দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। উন্নয়ন ও জনসেবা: নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “জনগণের সেবাই আমার মূল লক্ষ্য। এলাকার কোন কাজগুলো আগে করা প্রয়োজন, তা স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।” বিজয় পরবর্তী এই অনুষ্ঠানে এস এম জাহাঙ্গীরের এমন কঠোর ও নীতিবান অবস্থান স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এমন দায়িত্বশীল আচরণ দেশের সুস্থ রাজনৈতিক ধারাকে আরও মজবুত করবে।
দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের স্বার্থে নবগঠিত সরকারকে প্রতিটি ক্ষেত্রে গঠনমূলক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদে জনগণের মৌলিক অধিকারের কথা বলে গণতন্ত্রকে আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে চায়। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার প্রাক্কালে দলীয় প্রতিনিধিদের আগামী দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, “দীর্ঘদিন এই দেশের মানুষ ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল। এবার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের রায় দিয়েছে। ভোটাররা যে পাহাড়সম প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন, তা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও ইমানি দায়িত্ব। আমরা জনগণের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।” আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সংসদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে একটি ‘নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করে জামায়াত আমির বলেন, “সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষ যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে, তবেই দেশের গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। আমরা দায়বদ্ধতার সাথে কাজ করলে যেকোনো জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।” জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র করার ওপর জোর দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হাজারো প্রাণ আর পঙ্গুত্বের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে আমরা বৃথা যেতে দেব না। যদি আমরা ‘জুলাই বিপ্লব’কে ভুলে যাই, তবে ফ্যাসিবাদ আবারো ফিরে আসার সুযোগ পাবে। ছাত্র-জনতা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজপথে রক্ত দিয়েছে, সংসদে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রশ্নে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না।” অনুষ্ঠানে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের এক বিশাল বহর উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, মো. সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মুফতি আমির হামজা এবং মাসুদ সাঈদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জামায়াতের সংসদীয় দলের নেতৃত্ব এবং সংসদে বিরোধী দলীয় ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর এক দিনও সময় নষ্ট না করে নিজ নিজ এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ‘চাঁদাবাজি’র সংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করতে ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগ নিয়েছেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য। ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) এবং কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। গফরগাঁওয়ে মাইকিং ও কঠোর হুশিয়ারি: ময়মনসিংহ-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের পক্ষ থেকে পুরো উপজেলায় মাইকিং করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভয় দিয়ে বলা হয়েছে, কেউ যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করে, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। আক্তারুজ্জামান তাঁর ফেসবুক বার্তায় স্পষ্ট করেছেন, “বিশৃঙ্খলা ও অপরাধে জড়িতরা কোনোভাবেই দলের লোক হতে পারে না। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।” তিনি ‘দেশ আগে, দল পরে’ নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নাঙ্গলকোটে এমপির ‘অভিযোগ বাক্স’: এদিকে কুমিল্লা-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড রুখতে এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি নাঙ্গলকোট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপন করেছেন। এই বাক্সে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও যদি চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকে, তবে যে কেউ পরিচয় গোপন রেখে তা জমা দিতে পারবেন। বিশেষভাবে তৈরি করা এই স্টিলের বাক্সগুলোর চাবি থাকবে সরাসরি সংসদ সদস্যের হাতে। তিনি নিজেই সেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করবেন এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন। মোবাশ্বের আলম বলেন, “জনগণ আমাকে পাহারাদার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আমার দলের কেউ অপরাধ করলে আমি তার প্রতি আরও বেশি কঠোর হব। সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।” নতুন বাংলাদেশের এই বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা মনে করছেন, নেতাদের এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকলে দেশ থেকে অপরাজনীতি দূর করা সম্ভব হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও প্রক্রিয়া নিয়ে এবার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর দাবি, নির্বাচনে কারা কতটি আসন পাবে, তা জনগণের ভোটের ওপর নয় বরং আগে থেকেই একটি বিশেষ ছকে নির্ধারিত ছিল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কারামুক্ত ২৪ জন প্রবাস ফেরত বাংলাদেশিদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "জনগণ আমাদের ওপর অগাধ ভরসা রেখেছিল। একজন ৯০ বছরের বৃদ্ধা কথা বলতে পারেন না, তবুও সাভার থেকে আমাকে ভোট দিতে এসেছিলেন। একজন ক্যান্সারের রোগী জীবন বাজি রেখে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই সাধারণ মানুষের আবেগ আর পবিত্র ভোটগুলো তারা সুপরিকল্পিতভাবে চুরি করেছে।" তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যে ভোট চুরি হয়েছে, তার জন্য সংশ্লিষ্টদের জনগণের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। নির্বাচনে এনসিপির সাফল্যের কৃতিত্ব প্রবাসীদের দিয়ে তিনি বলেন, "এনসিপি ও ১১ দলীয় জোট যেসব আসনে জয়ী হয়েছে, তার পেছনে প্রবাসীদের ভোট ও সমর্থনের বড় অবদান রয়েছে। প্রবাসীরা যেমন গণঅভ্যুত্থানে এগিয়ে এসেছিলেন, তেমনি ব্যালটেও ‘শাপলা কলি’র পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাঁদের এই ঋন বাংলাদেশ কোনোদিন শোধ করতে পারবে না।" নতুন সরকার গঠন ও বিরোধী দলের সাথে বর্তমান সখ্যতাকে কটাক্ষ করে এনসিপি নেতা বলেন, "এখন আমরা নতুন এক ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ দেখতে পাচ্ছি। জনগণের কাছে যাওয়ার আগে তারা বিরোধী দলীয় নেতার বাসায় যাতায়াত নিয়ে ব্যস্ত। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া এই সখ্যতা ভিত্তিহীন।" আগামী দিনের মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, "নির্বাচনের নামে আপনারা অনেক চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজকে সংসদে ঢুকিয়েছেন। তাদের কোনোভাবেই মন্ত্রণালয় দেবেন না। আপনারা যে ভোট চুরি করেছেন তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন, এবার যেন সিনাচুরি করতে যাবেন না।" তিনি অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তিরা ইতোমধ্যেই যোগাযোগ, গৃহায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পাওয়ার জন্য লবিং শুরু করেছেন। সবশেষে, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সামাজিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষণা করেন যে, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এনসিপি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভাবনীয় উত্থানে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমগুলোতে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জামায়াতের এই বিজয়কে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় ধরণের ‘হুমকি’ ও ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে অভিহিত করে ধারাবাহিক বিশ্লেষণ প্রচার করছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর দাবি, ভারতবিরোধী হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী এখন বাংলাদেশের সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জামায়াত ও তাদের নতুন মিত্র জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পাওয়ায় দিল্লির নিরাপত্তা সমীকরণ ও কৌশলগত হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে এই জোটের জয় ভারতকে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। ইন্ডিয়া টুডে তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জামায়াত ও এনসিপি সীমান্ত অঞ্চলে তাদের দখল মজবুত করেছে যা ভারতের 'সেভেন সিস্টার্স' বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইস্টার্ন কমান্ডের সাবেক জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানাপ্রতাপ কলিতা মনে করেন, গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী মানুষের ভারতবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়েই জামায়াত এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও নিউজ১৮-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে এটি জামায়াতের সবচেয়ে বড় উত্থান। ১৯৯১ সালে ১৮টি ও ২০০১ সালে ১৭টি আসন পেলেও এবার একলাফে তারা ৬৮টি আসন জিতেছে। প্রতিবেদনে সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও লালমনিরহাটের মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত জেলাগুলোতে জামায়াতের জয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অঞ্চলে ধর্মীয় মেরুকরণ ও পাকিস্তানঘনিষ্ঠ আদর্শ ভারতের জন্য ‘সিঁদুরে মেঘ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এএনআই এবং হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াত জোটের ৬৮টি আসনের মধ্যে ৫১টিই ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়। এটি ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। এমনকি ভারতের ডানপন্থি নিউজ পোর্টাল অপইন্ডিয়া দাবি করেছে, এই নির্বাচনে ভোটারদের মাঝে এক ধরণের তীব্র ভারতবিরোধী মনোভাব কাজ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় মিডিয়াগুলো নরেন্দ্র মোদি সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের আগামী দিনের ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে নয়াদিল্লিকে এখন এক নতুন ও কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি, সূক্ষ্ম ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং নির্বাচন পরবর্তী দেশব্যাপী সহিংসতার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট। জোটের নেতাদের দাবি, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন মূলত একটি ‘ম্যানেজ ভোট’ ছিল, যেখানে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে জনগণের প্রকৃত রায় ছিনতাই করা হয়েছে। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, "সারাদিন একটি সন্দেহপূর্ণ ভোটের পরিবেশ বজায় রেখে সন্ধ্যার পর সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে টার্গেট করা প্রার্থীদের বিজয়ী হতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ডিপ স্টেট এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে নগ্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।" তিনি ঢাকা-১৩ আসনসহ সারা দেশের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গোটা জাতি আজ স্তম্ভিত। ম্যানিপুলেশন করে বিজয়ী হয়েও আপনারা জনগণের ওপর হামলে পড়েছেন। খুন, অগ্নিসংযোগ আর মা-বোনদের ওপর পাশবিক নির্যাতন আমাদের পুনরায় ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।" তিনি নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত অভিযোগগুলো টালবাহানা না করে অবিলম্বে নিষ্পত্তির আল্টিমেটাম দেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, "আমরা ভোট ডাকাতদের মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচন করেছি। সংসদে আজ যারা বসেছেন, তারা জনগণের রায় নিয়ে নয়, বরং ডাকাতি করে গেছেন। আমরা রাজপথ ছাড়ব না; ইঞ্চি ইঞ্চি করে এই জুলুমের হিসাব বুঝে নেওয়া হবে।" এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বর্তমান নির্বাচনকে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতোই কলঙ্কিত হিসেবে অভিহিত করেন। রাশেদ প্রধান বলেন, "লন্ডন থেকে এসে প্রশাসন ও সরকারকে ম্যানেজ করে এই 'ম্যানেজ ভোটের' আয়োজন করা হয়েছে।" অন্যদিকে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে বিএনপির বিশেষ আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের ফলেই এই ফলাফল তৈরি করা হয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বিএনপিকে ‘ভুল পথ’ ছেড়ে সঠিক ও গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে পুনরায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের মতো কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।