বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নেওয়ার ঠিক একদিন পরই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। বুধবার (১৫ জুলাই) জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাথে দেখা করে দলটির সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেন তিনি। এই সময় সদ্যবিদায়ী শিবিরের অন্যান্য নেতারাও দলটির সহযোগী সদস্য ফরম সংগ্রহ করেন। জামায়াতে সাদিক কায়েমের যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন। এর আগে গত সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ঘোষণা দেন সাদিক কায়েম। সর্বশেষ তিনি এই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এদিকে জামায়াতে যোগদানের পরই সাদিক কায়েমের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে দলটির ভেতরে-বাইরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। জামায়াতের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত জুনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থী হিসেবে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। অবশ্য বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক জামায়াত নেতা জানিয়েছেন, দলের প্রার্থী হিসেবে তার নাম চূড়ান্ত হলেও তা এখনও অনানুষ্ঠানিক। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ তথা মজলিসে শূরার বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। তবে দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর দাবি, সাদিক কায়েমই যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন, তা এখন প্রায় নিশ্চিত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি বলেন, “দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটি বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সীমান্ত রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর পাশে দেশের মানুষও দাঁড়াবে।” আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নেত্রকোনা জেলা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সব নাগরিকের দায়িত্ব। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ইস্যুতে তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত বিল আনা হলেও শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদকের সম্পূর্ণ নির্মূল নিশ্চিত করতে হবে। তার ভাষায়, “মাদককে নিয়ন্ত্রণে রাখা নয়, সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। মাদক একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করছে।” তিনি আরও বলেন, সংসদে একজন সদস্য দাবি করেছেন যে দেশের বড় একটি মাদক চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা দিয়ে আসে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, জনস্বার্থে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে। তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংসদে কঠোর বিরোধিতা করা হবে। উন্নয়নের নামে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করার সুযোগ আর থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি নেত্রকোনার স্থানীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অর্থবছরের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ। সঞ্চালনা করেন জেলা প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল আজ ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ইরান সরকারের আমন্ত্রণে প্রতিনিধি দলটি দেশটির বিভিন্ন শোকানুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ডা. এস. এম. খালিদুজ্জামান, মো. নুরুল আমীন, ড. মো. কেরামত আলী, সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরকালে প্রতিনিধি দলটি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা, দাফন এবং শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবে। পাশাপাশি ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতেও তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সফরের মাধ্যমে ইরানের জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছে। ইরানের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠান ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হবে। পরে কোমে শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলি হুসাইনি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সংসদ সদস্যও ইরান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখনো ভিসা না পাওয়ায় তিনি বিমানের টিকিট কাটতে পারেননি। ফলে তার সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভিসা পাওয়ার পরই যাত্রার তারিখ ও ফ্লাইট নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে। এনসিপি সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। সফরটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছেন দলটির নেতারা। অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সংসদ সদস্যসহ চারজন নেতারও ইরান যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই সফরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ ও ইরানের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এনসিপির জন্যও ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের এই অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারে।
ঢাকা/নয়াদিল্লি: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “প্রতিটি বাধা এবং ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।” ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। প্রায় দুই বছর পর তিনি আবার দেশে ফেরার ইচ্ছার পাশাপাশি সম্ভাব্য সময়সীমার কথাও উল্লেখ করলেন। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্য তিনি দেশে ফিরতে চান না। তার ভাষায়, “এখানে প্রশ্নটা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার।” বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা, ভাই এবং পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। কিন্তু এত চক্রান্তের পরও আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশেই থেকেছি।” নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দাবি করেন, “এটা বিচার নয়। এটা অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত একটি ব্যবস্থার অংশমাত্র। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র করা হয়েছে।” দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়। এই দলকে বহুবার আঘাত করা হয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবার মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।” আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে কি না জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ চায় না।” তিনি বিএনপির সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগও নাকচ করেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের মতো বিএনপিও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। সেই বাংলাদেশে কখনও ধর্মীয় আগ্রাসন ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে না।”
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান। শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি জাহানারা ইমামকে অবমাননাকর ভাষায় উল্লেখ করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। জায়িদ হাসান রাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর পোস্টে একটি ফটোকার্ডে জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীর তথ্য তুলে ধরা হলেও ক্যাপশনে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন এবং অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়নে বিদেশি নকশা অনুসরণ করা হয়েছিল। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন মহল থেকে এর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অনেকেই এ মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে জায়িদ হাসানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সমালোচনার মুখে জায়িদ হাসান পরে আরেকটি পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো শহীদের মাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেননি; বরং জাহানারা ইমামের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। একই পোস্টে তিনি নিজের আগের বক্তব্যে অনড় থাকার কথাও জানান। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জায়িদ হাসানের বক্তব্যের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এ বিষয়ে রাকসু কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খানও এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাকসুর সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবি তোলেন। তাঁর মতে, দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। জাহানারা ইমাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গঠিত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর ছেলে শাফী ইমাম রুমী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে পরিবারের আত্মত্যাগ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি 'শহীদ জননী' হিসেবে পরিচিত। তাঁর লেখা একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা রাকসু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি ভারতের ত্রিপুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করছেন বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ওই কলেজটির অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ক্লাসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের একজন স্টাফ নার্স আজ শনিবার সকালে ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের ওই প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি কতদিন ধরে সেখানে শিক্ষকতা করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি ওই কর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে নাক-কান-গলা (ইএনটি) সম্পর্কিত একটি বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এবং তাঁর পেছনের ডিজিটাল বোর্ডে চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও আত্মগোপনে চলে যান। দেশে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না মিললেও, ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজের এই সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বর্তমানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'স্বাধীনতা পদক' লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কুমিল্লা-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। বক্তব্যে তিনি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সংসদকেন্দ্রিক গণতন্ত্র এবং দেশ গঠনে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক রাজনীতির চর্চা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। বক্তব্য শেষে সরকারি ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে স্বাগত জানান। সংসদের এমন দৃশ্য সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে দেশের কল্যাণে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য এবং তাৎক্ষণিক এই প্রতিক্রিয়াকে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশের একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। তবে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় যুবসমাজ এবং ‘জেন জি’ (জেনারেশন জেড) প্রজন্মের নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন সরকারগুলো বর্তমানে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। প্রবল জনসমর্থন ও পরিবর্তনের বড় ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্র পরিচালনার জটিলতা এখন তাদের সামনে দৃশ্যমান। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ এই নতুন সরকারগুলোর যাত্রাপথকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে। বিগত কয়েক বছরে এই তিন দেশেই তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় দেউলিয়া অবস্থা ও নিত্যপণ্যের চরম সংকটে গণ-বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পতন হয়। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিপ্লবে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে নেপালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সৃষ্ট ‘জেন জি’ বিপ্লবের জোয়ারে কে পি শর্মা অলির সরকারের পতন ঘটে। দেশগুলোর আইএমএফ নির্ভরতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যুবসমাজের জনসংখ্যাগত চাপ এবং রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ উসকে দিতে এই আন্দোলনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করেছিল। গণ-অভ্যুত্থানের পর এই তিন দেশের রাজনৈতিক গতিপথ ভিন্ন ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। নেপালে উগ্র পরিবর্তনের পথে হেঁটে সাবেক র্যাপার বালেণ শাহ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিএনপি নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এবং শ্রীলঙ্কায় মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী জোটের নেতা অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন সরকারগুলোকে ঘিরে জনমনে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হলেও অনভিজ্ঞতা ও ধীরগতির কারণে সেই আশাবাদ দ্রুতই ফিকে হতে শুরু করেছে। নেপালে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম মাসেই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’ মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ এই সংকটগুলোর পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং রেমিট্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এই দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে, যা নতুন সরকারগুলোর স্বস্তির সময়কে অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একধরনের আস্থার সংকট বিরাজ করছে। বাংলাদেশে গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও উত্তেজনা বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। নেপালের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর খামখেয়ালি আচরণ দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার নতুন এই সরকারগুলো যদি বৈশ্বিক ধাক্কা সামলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে দেশগুলোতে আবারও তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণ-বিক্ষোভের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছাড়ার পাশাপাশি রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল, তা নাকচ করেছেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের একা রেখে বিশ্রামে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়-কে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে মঙ্গলবার (৯ জুন) তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে তার অবসর সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এখনই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সিদ্ধান্তে নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সেই সময় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র আক্রান্ত এবং দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার। এমন একটা সময়ে আমি কীভাবে বলি, বিশ্রামে যাচ্ছি?” তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভবিষ্যৎ সাফল্য নিশ্চিত করার পরই তিনি অবসর বিবেচনা করবেন। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক দল এবং নেতৃত্ব নির্বাচন কাউন্সিল ও কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, দলটি বর্তমানে একটি “প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে একাধিক মামলায় শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে, দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরব।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি শিগগিরই ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির আদর্শিক কর্মী তৈরির ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে বিবেচিত এই সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্ব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহ-সভাপতি এ.বি.এম. ইজাজুল কবির রুয়েল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই চার নেতাকে সভাপতি পদে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) শরীফ প্রধান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ। তবে চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপির হাইকমান্ড নতুন ও যোগ্য নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দলীয় সূত্র আরও জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবার নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় আসছে। বিশেষ করে জুলাই মাসের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নেতৃত্ব নির্বাচনের আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। ছাত্রদলের অধীনে থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিশাল শিক্ষার্থী গোষ্ঠীকে মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাজীবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু)। যদিও ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা তীব্র হয়েছে। এখন নজর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকার সমন্বয় কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশনগুলোতে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইতোমধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে সম্ভাব্য ১২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে তরুণ নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে অংশ নেয় জামায়াত। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনে দলটি এককভাবেই অংশ নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন নেতারা। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, একসময় কেবল রুকনদের মনোনয়ন দেওয়া হলেও এখন সেই নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে। এবারের নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা করেছে দলটি। ২০২৪ সালের ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এই পরিকল্পনায়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ১০ মে বলেন, “পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে, তবে সিটি করপোরেশনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।” দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি সিটিতে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে দলের মহানগর আমির আবদুল জব্বারকে প্রার্থী করা হচ্ছে। গাজীপুরে প্রার্থী হচ্ছেন তুরস্কপ্রবাসী শিক্ষাবিদ ও ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা হাফিজুর রহমান। চট্টগ্রামে সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী এবং রংপুরে মহানগর আমির এ টি এম আজম খানকে প্রার্থী করা হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটিতেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমের নাম আলোচনায় রয়েছে। দক্ষিণ সিটিতে আবু সাদিক কায়েমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হলেও দলীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় তাঁর ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাবে এবং প্রার্থী হতে সাংগঠনিক কোনো বাধা থাকবে না। জামায়াত সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণে জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে প্রার্থী করার প্রস্তাব ছিল। তবে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে এ প্রস্তাবে আপত্তি ওঠে। এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তাঁর কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁকে সমর্থন দিলে রাজনৈতিক দায়ভার আমাদের ওপর আসতে পারে।” জামায়াত নেতাদের মতে, অতীতে চার–দলীয় জোটে থেকেও আলাদাভাবে নির্বাচন করে তুলনামূলক ভালো ফল পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এবার এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী তারা। নিজেদের জনসমর্থন বেড়েছে বলেও মনে করছেন নেতারা। এদিকে ১১–দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। পাশাপাশি শতাধিক উপজেলা ও পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে জোটগতভাবে নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জামায়াত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসও জোরদার করেছে। সারা দেশকে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রার্থী যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং গণসংযোগ শুরু হবে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। জামায়াত দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করছে না। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন সময়সীমার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য বলেছেন, ঈদের পর থেকে সারা বছর নির্বাচন চলতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে মাঠ গোছাতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত জোটগত সমঝোতা হবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের তফসিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি আগামী বুধবার (৬ মে) শপথ গ্রহণ করবেন। জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে দুপুর ১২টায় তাকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের পরে যাওয়ায় প্রথমে তার মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জন সংসদ সদস্য গত ৩ মে শপথ গ্রহণ করেছেন। ওই দিন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ১২ জন প্রার্থী শপথ নেন। নুসরাত তাবাসসুমের এই শপথে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জোটের আরও একজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। জামায়াত জোটের জন্য বরাদ্দকৃত ১৩টি আসনের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় মনিরা শারমিন নামের এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসিতে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকার পর তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। তবে ৪ মে আপিল শুনানির কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের একজন বিচারক অপারগতা প্রকাশ করায় ৫ মে অপর একটি বেঞ্চে শুনানির কথা রয়েছে। তীব্র আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে নুসরাত তাবাসসুমের শপথ নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। বুধবারের এই শপথমহলের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী আসনের শূন্যতা পূরণের প্রক্রিয়াটি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি দাবি করেন, ওবায়দুল কাদের প্রতি মাসে নিয়ম করে কক্সবাজার যেতেন এবং সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির কাছ থেকে বস্তা ভরে ইয়াবা নিয়ে আসতেন। অলি আহমদ বলেন, অনেকেই ওবায়দুল কাদেরের ঘনঘন কক্সবাজার সফরকে তাঁর ‘পরিশ্রম’ মনে করতেন, কিন্তু আসলে তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদক সংগ্রহ করা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওবায়দুল কাদের কেন রাজশাহী বা দিনাজপুরের মতো জেলায় না গিয়ে বারবার শুধু কক্সবাজারকেই বেছে নিতেন? এলডিপি সভাপতির মতে, দ্রুত বিত্তবান হওয়ার নেশায় তৎকালীন জনপ্রতিনিধিরাই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। বক্তব্যে বর্তমান সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন অলি আহমদ। তিনি দাবি করেন, সংসদের একটি বড় অংশই অশিক্ষিত এবং ব্যবসায়ীদের দখলে, যা দেশের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অন্তরায়। খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জনপ্রতিনিধিরা মুখে মাদক নির্মূলের কথা বললেও বাস্তবে তাঁরাই এই ব্যবসার প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
রাজধানী ঢাকায় বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ২৫ এপ্রিল (শনিবার) সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলটি জানিয়েছে, সমাবেশের মূল শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা জাতীয় সমাবেশ’। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের শীর্ষ নেতারাও এতে অংশ নেবেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন সামাজিক দাবি-দাওয়া এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সমাবেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই ১১ দলীয় জোট রাজধানীতে বড় ধরনের কর্মসূচি পালন করেছিল। জুলাইয়ের স্মৃতি ও শহীদদের সম্মান জানিয়ে আয়োজিত এই জাতীয় সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সমাবেশের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবক দল বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি খাতে চলমান সীমাহীন চুরি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, এই খাতের লুটপাট ও সিস্টেম লস মাত্র ১০ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন হবে না। তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিবৃতিতে সাইফুল হক বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে, যার ফলে ধানসহ গ্রামীণ উৎপাদনশীল খাতগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা সময়মতো তেল পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ডিজেলের তীব্র সংকটের কারণে অধিকাংশ জেলায় সেচযন্ত্র বন্ধ হয়ে গেছে, যা বোরো চাষকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডিজেল সংকটে হাওর অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন নামানো যাচ্ছে না, ফলে ধান কাটাও ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে টিএসপি ও ইউরিয়া সারের সংকট এবং চড়া দাম কৃষকদের নাজেহাল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সাইফুল হক সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল দাম বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ও আমদানিতে আরও তৎপর হওয়া জরুরি। বিশেষ করে সেচ কাজে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ির সুবিধা চেয়ে এক মজার ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের গাড়ি থাকলেও আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাতে হয়, যা অত্যন্ত লজ্জার।" জনগণের কাছে যাওয়ার সুবিধার্থে তিনি সরকারের কাছে গাড়ির দাবি জানান। হাসনাতের এই ‘আবদারের’ প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানান, সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না—এমন সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কোনো বিহিত করা যায় কি না, তা নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন। ঠিক এই মুহূর্তেই বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে হাসনাতের পক্ষ সমর্থন করে রসিকতার সুরে বলেন, "ছোটদের কখনো ‘না’ বলতে নেই, তাদের আবদারে ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়।" একই অধিবেশনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদ সদস্যদের জন্য প্রতিটি উপজেলা পরিষদে একটি করে ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দের সরকারি আদেশ জারির ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এই কক্ষগুলো তৈরি করা হচ্ছে যেখানে এটাচ বাথরুম ও আসবাবপত্র থাকবে। বসার জায়গা পেয়ে হাসনাত খুশি হলেও গাড়ির দাবি নিয়ে সংসদের এই প্রাণবন্ত আলোচনা এখন রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চিত হচ্ছে।
রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় দেড় মাসের শিশুসন্তানসহ কারাগারে পাঠানোর আদেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিন পেয়েছেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) রাতে এক বিশেষ শুনানির পর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে বিকেলে শিল্পীর ৪৬ দিনের সন্তানকে কোলে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে কান্নাকাটি ও হাজতখানায় যাওয়ার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। মানবিক দিক ও শিশুর স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তাঁর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী পুনরায় জামিনের আবেদন করলে আদালত ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন এক শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের নির্দেশদাতা ছিলেন এই নেত্রী। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আইনি জটিলতা কাটিয়ে বুধবার সকালে তিনি কারামুক্ত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এক দিনের ব্যবধানে একই মামলায় জেল হাজত এবং জামিন—আদালত পাড়ায় এই ঘটনাটি এখন টক অফ দ্য টাউন।
নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনের মাথায় ব্যাংক খাত থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, এমন তথ্য তুলে ধরে জাতীয় সংসদে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সরকার অতিমাত্রায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ আছে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। রুমিন ফারহানার সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এই ঋণের বড় অংশই মূলত বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দেনার ধারাবাহিকতা বা ‘ক্যারিওভার’। এটি বর্তমান সরকারের নতুন কোনো আর্থিক বোঝা নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলো স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা, যার প্রতিফলন আগামী বাজেটে দেখা যাবে।
সংরক্ষিত নারী আসনে জামালপুর জেলা থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেত্রী এবং সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মণি। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। নিলোফার চৌধুরী মণি বর্তমানে বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ প্রজন্ম দলের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এর আগে তিনি নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর এই মনোনয়নের খবরে জামালপুর জেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জেলা বিএনপির সহসভাপতি শামিম আহমেদ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিলোফার চৌধুরী মণির মতো একজন অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, নিলোফার চৌধুরী মণি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি একজন প্রথিতযশা টকশো ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ও এলএলবি করার পর ২০১১ সালে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলটির প্রেস উইং সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সোমবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্তভাবে ৩৬ জনকে মনোনীত করেছে। মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান পাপন। দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রায় এক হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও জমা পড়ে প্রায় ৯০০টি আবেদন। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সাক্ষাৎকারে প্রার্থীরা তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলনে ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ত্যাগী, যোগ্য ও দক্ষ নারী নেত্রীদের সমন্বয়ে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন বণ্টনে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি আসন পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।