বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির ও তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করতে করতে তাদের পরিষদ কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান দৌড়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় অন্যরা সেখান থেকে সরে যান। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি নিয়ামতি ইউনিয়নে দুস্থ নারীদের জন্য সরকারের ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদে একটি দল পাঠানো হয়। তদন্তে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলাকালেই পরিষদ কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি নিজেও সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান। ঘটনার পর অভিযুক্তরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিলও করেন। পরে খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি জিয়াউল হক আকন বলেন, সাংবাদিক ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রসঙ্গত, চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির বরিশাল জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন সদস্য। এ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে। সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, বিএনপির স্থানীয় নেতাদের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী জড়িত ছিলেন। তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মিজান মিয়া বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগের খবর পেয়ে তিনি পরিষদে গিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি কীভাবে উত্তেজনায় রূপ নেয়, তা তিনি বুঝতে পারেননি। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ জানান, ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ দেখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার সোহেল রানা বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা–কড়াপুর ইউনিয়নের বৌসেরহাট বাজারে এক বিএনপিকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী। ঘটনা ঘটে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা দেলোয়ারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানা রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও তার ছোট ভাই কবির চৌধুরীর বিরোধ ছিল। তারা দাবি করেন, এ বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বানারীপাড়া উপজেলায় চাঁদা না দেয়ায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে দল। রোববার কেন্দ্রীয় যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান ডালিম। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক মল্লিক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, নীতি-আদর্শ এবং সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনার পটভূমিতে জানা গেছে, সম্প্রতি বানারীপাড়া বাইশারী বাজারে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বিভাস ঋষি-এর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেয়ে শুক্রবার রাতে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালায় ওই দুই নেতা। হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
ভোলার চরফ্যাসনে এক গৃহবধূর উপর রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চার দিন পর গত শুক্রবার রাতে ভিকটিম নিজেই লিখিত এজাহার দিয়ে তিনজনকে আসামি করেন। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। এ ঘটনার পর আসামিরা ভিকটিমকে হুমকি দিচ্ছে, ফলে চার সন্তান নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পুলিশের দাবি, অভিযোগের তদন্ত শেষ হলে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ঘটনা মঙ্গলবার রাতে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে ঘটে। ভিকটিম জানিয়েছে, স্বামী কর্মসূত্রে অন্য জেলায় থাকায় তিনি সন্তানদের নিয়ে একাই বাড়িতে ছিলেন। ওই রাতে ঘরে থাকা জমি কেনার ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। এরপর চার সন্তানকে অন্য কক্ষে আটকে রেখে গৃহবধূকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ভিকটিম পরে স্থানীয় স্বজনদের সাহায্যে চরফ্যাসন হাসাপাতালে ভর্তি হন। ভিকটিম বলেন, থানায় গিয়ে এজাহার দেওয়ার পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে এবং তদন্ত চলমান; পরে মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বরিশাল সদর-৫ ও বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেছেন, রেজাল্টের আগ পর্যন্ত নির্বাচন ভালো কি মন্দ হচ্ছে তা বলবো না। নির্বাচন ভালো ছিলো এ কথা রেজাল্টের আগে বা পরে বলার সুযোগ নেই। অনেক সময় দেখা যায় পরিবেশ ভালো কিন্তু ভিতরে অন্য কিছু। আবার অনেক সময় দেখা যায় নির্বাচন ভালো হয়েছে কিন্তু রেজাল্ট ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচনে এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য রেজাল্টের আগে আমি বলবো না ভোট ভালো হয়েছে কিংবা মন্দ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় বরিশাল নগরীর রুপাতলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম আরো বলেন, নির্বাচনে কারচুপির সম্ভবনা আছে। অবশ্যই কারচুটপ হতে পারে। তিনি বলেন বিগত দিনে যে নির্বাচন হয়েছে সেই থেকে এ আশঙ্কা । বিগত দিনের শঙ্কা কাটানোর জন্য একটি সুন্দর পরিবেশে ভালো নির্বাচন দরকার। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহান না দেওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ন মানুষ যতো ভালো নির্বাচনের কথা বলুক না কেন, প্রশাসন যত ভালো কথাই বলুকনা কেন, নির্বাচন ভালো হয়েছে একথা বলা যাবে না। দীর্ঘদিন ধরে ভোটাররা ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে আছে। তিনি বলেন, গত রাতে আমরা বিভিন্ন স্থানে অঘটন ঘটেছে। আমরা চাইনা বাংলাদেশের কোন স্থানে মারামারি, দখলদারী কিংবা কোন অঘটন ঘটুক। আমরা চাইনা জনগণ জনগন ভোট দেবে আর ভোটের পর রেজান্ট পাল্টে দেওয়া হবে। যাকে ভোট দেবে জনগণ যেনো তার ভোটের রেজাল্ট পায়। আমরা প্রশাসনসহ সংশ্লিদের কাছ থেকে এমনটা প্রত্যাশা করি। ফয়জুল করিম অভিযোগ করে বলেন, বরিশাল নগরীর মহিলা কলেজ কেন্দ্র থেকে তার এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্খিত ঘটনার খবর মিলছে যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। তিনি ভোটারদের ইসলামের পক্ষে হাতপাখায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
ভোলা-২ আসনের নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে টবগী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির সামনে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৭ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রচারণা দল ওই এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও স্লোগান দিচ্ছিল। এসময় স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. আইয়ুবের বাড়ির সামনে স্লোগান দিতে বাধা দিলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহত ২৭ জনের মধ্যে প্রধানত রয়েছেন: জামায়াত কর্মী: মো. ফয়জুল্লাহ, মো. ইমন, মো. শাহ আলম, মো. রাতুলসহ মোট ১২ জন। বিএনপি কর্মী: মো. আইয়ুব, শিমু আকতার, কহেনুর আক্তার, মো. শামীমসহ মোট ১৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিএনপির বক্তব্য: আহত বিএনপি কর্মী মো. আইয়ুব জানান, জামায়াত কর্মীরা জোর করে তাঁর বাড়িতে ঢুকতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরা হামলা ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। জামায়াতের বক্তব্য: ভোলা-২ আসনে জামায়াতের প্রধান নির্বাচন পরিচালক মাকছুদুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিএনপির কর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস