- প্রচ্ছদ
- লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল
তাঁর স্বামী অ্যালেক্স নিম্যান। শেষ পর্যন্ত ইতালিতে মাত্র ১১ হাজার ৫০০ ইউরো বা সে সময়ের হিসাবে ১৩ হাজার ১৫০ ডলারে একটি বাড়ি কিনে নতুন জীবন শুরু করেন তাঁরা। কয়েক দশক ধরে পরিত্যক্ত থাকা বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করতে আরও প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার ডলার খরচ করেন এই মার্কিন দম্পতি। এখন ইতালিতেই মেয়েকে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তাঁরা। ওয়াশিংটনে জন্ম নেওয়া ক্যাসান্দ্রার বয়স ৩৩ বছর, আর তাঁর স্বামী অ্যালেক্সের বয়স ৩৪। ২০২০ সালে তাঁদের মেয়ের জন্মের সময় তাঁরা চেক প্রজাতন্ত্রে ক্যাসান্দ্রার দাদার সঙ্গে থাকছিলেন। এর আগে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সময় দাদার বাড়িকে অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন তাঁরা। সন্তান জন্মের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন—বন্ধুদের কাছে এমন কথাই বলেছিলেন ক্যাসান্দ্রা। কিন্তু সন্তান জন্মের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলে বাড়ি কেনা এবং সন্তানের দেখাশোনার জন্য কতটা ব্যয় করতে হবে, তা হিসাব করে তাঁদের পরিকল্পনা বদলে যায়। ক্যাসান্দ্রার উপলব্ধি হয়, দেশে ফিরে গেলে জীবনযাপনের খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই ইউরোপেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। ক্যাসান্দ্রা বলেন, সন্তান হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন—এমনটাই ভেবেছিলেন। কিন্তু বাড়ি কেনা ও শিশুর যত্নের খরচ সম্পর্কে জানার পর সেই সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়িত হয়নি। ইতালির বিভিন্ন শহরে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মাত্র এক ইউরোতে বাড়ি বিক্রির উদ্যোগের খবর তাঁদের নজরে আসে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া শহর ও গ্রামগুলোতে নতুন বাসিন্দা আনা, পরিত্যক্ত বাড়ি সংস্কার করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এক ইউরোর বাড়ি কেনার বিজ্ঞাপন দেখলেই যে সত্যিকার অর্থে এত কম খরচে বাড়ির মালিক হওয়া যাবে, তা নয়। কোনো কোনো এলাকায় এক ইউরো কেবল প্রতীকী মূল্য। আবার কোথাও নিলামের মাধ্যমে দাম নির্ধারিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত কয়েক হাজার ইউরোতে পৌঁছাতে পারে। বাড়ি কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করার শর্তও থাকতে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে প্রকৃত ব্যয় কত হতে পারে, তা যাচাই করতে চেয়েছিলেন ক্যাসান্দ্রা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল বাড়ি কিনতে ২০ হাজার ইউরো বা সে সময়ের হিসাবে প্রায় ২৩ হাজার ৬২৭ ডলারের বেশি খরচ না করা। অনলাইনে বাড়ি খোঁজার পাশাপাশি নিজের চোখে সম্পত্তি দেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ইতালিতে বাড়ির সন্ধান ২০২১ সালে ইতালির আব্রুজ্জো ও তুসকানি অঞ্চলে বাড়ি দেখতে যান এই দম্পতি। সব মিলিয়ে ১৫টি বাড়ি ঘুরে দেখেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত আব্রুজ্জো অঞ্চলে দুই তলা, দুই শয়নকক্ষের একটি বাড়ি পছন্দ হয় তাঁদের। বাড়িটির আয়তন এক হাজার ৭৬ বর্গফুটের সামান্য কম। নিচতলার নিচে থাকা বেসমেন্টে আরেকটি শয়নকক্ষ এবং ওপরে একটি চিলেকোঠাও ছিল। বাড়ি সংস্কারে যে উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ হবে, তা শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁরা। তাই বাড়ি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বাড়ির টেরেস থেকে সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় কি না, সেটিও ছিল ক্যাসান্দ্রার কাছে অপরিহার্য শর্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বাড়ির সুবিধা-অসুবিধা এবং দাম তুলনা করতে তিনি তালিকা তৈরি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আব্রুজ্জো অঞ্চলকে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মনে হয়। তখন এলাকার জীবনযাত্রা সম্পর্কে তাঁর বিশেষ ধারণা ছিল না; মূল বিবেচনা ছিল ভালো দামে বাড়ি কেনা এবং টেরেস থেকে সুন্দর দৃশ্য পাওয়া। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাড়িটির কেনাকাটা সম্পন্ন করেন তাঁরা। পুরো অর্থ নগদে পরিশোধ করায় কোনো বাড়ি কেনার ঋণ নিতে হয়নি। কয়েক দশক ধরে খালি পড়ে থাকা বাড়িটি তখন বসবাসের উপযোগী ছিল না। দেয়াল নতুন করে মেরামত করা, বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ, জানালা-দরজা পরিবর্তন এবং রান্নাঘর ও বাথরুম পুরোপুরি সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। নিজেরাই করলেন বেশির ভাগ সংস্কার বাড়ির সংস্কার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে অ্যালেক্স নিজেই বেশির ভাগ কাজ করেন। তবে পানির সংযোগ ও পাইপলাইনের মতো কিছু কাজের জন্য পেশাদার কর্মী নিয়োগ করতে হয়। দম্পতির হিসাব অনুযায়ী, বাড়িটি সংস্কারে তাঁদের মোট ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার ইউরো খরচ হয়, যা প্রায় ১৪ হাজার ২০৭ থেকে ১৭ হাজার ৭৫৮ ডলারের সমান। সংস্কারের সময় টেরেসের আকার বাড়ানো হয়। নিচতলায় নতুন একটি বাথরুম তৈরি করা হয় এবং বেসমেন্টকে অতিথিদের থাকার উপযোগী করে সাজানো হয়। ২০২২ সালের শরৎকালে সংস্কারের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়। পরে ২০২৩ সালে বেসমেন্ট ও চিলেকোঠার কাজও নতুন করে করা হয়। বাড়ির অন্দরসজ্জায় প্রচলিত একটি নির্দিষ্ট ধরন অনুসরণ না করে নানা রকম নকশা ও রঙের সমন্বয় করেন ক্যাসান্দ্রা। পুরোনো আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী খুঁজতে বিভিন্ন ব্যবহৃত পণ্যের দোকান এবং খোলা বাজারে ঘুরেছেন তিনি। বাড়িতে প্রাকৃতিক উপকরণ, উষ্ণ ও শীতল রঙের মিশ্রণ এবং নানা রঙের ব্যবহারকে গুরুত্ব দেন। ক্যাসান্দ্রার মতে, বাড়িটি আকারে ছোট হওয়ায় তিনি একে প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করে তুলতে চেয়েছিলেন। ঘরের প্রতিটি জিনিসের পেছনে তাঁর নিজস্ব ভাবনা রয়েছে। কোনো জিনিস কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন, সেটির সঙ্গে স্মৃতি জড়িয়ে থাকুক—এমনটাই ছিল তাঁর ইচ্ছা। ঋণ নেই, তবে রয়েছে নিয়মিত খরচ বাড়ির জন্য কোনো বন্ধকী ঋণ না থাকায় দম্পতির আর্থিক চাপ অনেকটাই কমেছে। ক্যাসান্দ্রার মতে, আয় কমে গেলে বা অর্থের টান পড়লেও অন্তত বাড়ির ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। পরিবারের মাথা গোঁজার নিরাপদ জায়গা থাকায় তিনি আর্থিক স্বাধীনতা অনুভব করেন। তবে বাড়ির মালিক হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে বসবাসের জন্য আর কোনো খরচ নেই। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, ইন্টারনেটের জন্য মাসে ১২ ইউরো বা প্রায় ১৪ ডলার দিতে হয়। বছরে সম্পত্তি কর ৬১ ইউরো এবং আবর্জনা অপসারণের জন্য ২৮৬ ইউরো খরচ হয়। এ ছাড়া প্রতি দুই মাসে পানির বিল প্রায় ৯১ ইউরো এবং বিদ্যুতের বিল ২১৭ ইউরো। শীতকালে ঘর গরম রাখতে তাঁরা কাঠের গুঁড়া থেকে তৈরি জ্বালানির পেলেট ব্যবহার করেন। এ জন্য সপ্তাহে অতিরিক্ত প্রায় ৪২ ইউরো পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে, যা মাসে প্রায় ২০০ ডলারের সমান। ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার পর ক্যাসান্দ্রা প্রযুক্তি খাতের চাকরি ছেড়ে ভ্রমণবিষয়ক ব্লগ ও নিউজলেটারের জন্য কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন। পাশাপাশি অন্য একজন ভ্রমণবিষয়ক ব্লগারের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বও পালন করছেন। অ্যালেক্স আগে কসাই হিসেবে কাজ করতেন। এখন তাঁদের দ্বিতীয় বাড়িটি পরিচালনা করেন, যেটি পর্যটকদের কাছে স্বল্পমেয়াদে ভাড়া দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বাড়িও কিনেছেন তাঁরা ২০২৪ সালে ইতালিতে আরেকটি বাড়ি কেনেন এই দম্পতি। শহরের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত একতলা বাড়িটিতে দুটি শয়নকক্ষ ও একটি বাথরুম রয়েছে। বাড়িটির সঙ্গে নিজস্ব জমি ও ব্যক্তিগত বাগানও আছে। এর দাম ছিল ১৭ হাজার ইউরো, যা প্রায় ২০ হাজার ৮৩ ডলারের সমান। এই দ্বিতীয় বাড়িটি তাঁরা পর্যটকদের কাছে ভাড়া দেন। সেখানে প্রতি রাতের ভাড়া সর্বোচ্চ ৮৫ ইউরো বা প্রায় ১০১ ডলার হতে পারে। তবে দ্বিতীয় বাড়িটি থাকার জন্য ব্যবহার না করে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। কারণ, ক্যাসান্দ্রার কাছে শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকা বেশি পছন্দের। সেখান থেকে হেঁটেই দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যায়। এখনই ইতালি ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই তাঁদের। মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ার পর হয়তো অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাববেন। তবে সেটি অন্তত আগামী ১০ বছরের মধ্যে ঘটবে বলে মনে করেন না ক্যাসান্দ্রা। তিনি চান, মেয়ে স্থিতিশীল পরিবেশে বেড়ে উঠুক। দম্পতি সাধারণত বছরে একবার যুক্তরাষ্ট্রে যান। দেশটিকে তাঁরা নিজেদের বাড়ি হিসেবেই মনে করেন। কিন্তু প্রতিবার ফিরে গেলে আগের পরিচিত পরিবেশ যেন আরও অপরিচিত মনে হয় বলে জানান ক্যাসান্দ্রা। তাঁর শৈশবের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনকার অভিজ্ঞতা
অ্যাপলের নতুন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডুয়ো স্থায়িত্ব পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। জনপ্রিয় প্রযুক্তিবিষয়ক ইউটিউব চ্যানেল জেরিরিগএভরিথিংয়ের পরীক্ষায় ফোনটির ভাঁজ করার যন্ত্রাংশে ধুলা ঢুকে সমস্যা তৈরি করে। পরে ফোনটি বাঁকানোর পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভেতরের নমনীয় পর্দা। প্রথমে পর্দায় সবুজ রেখা দেখা দেয়, এরপর সেটি পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তবে পরীক্ষাটি ছিল স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতিতে পরিচালিত একটি পরীক্ষা। ইউটিউবার জ্যাক নেলসন, যিনি জেরিরিগএভরিথিং নামে পরিচিত, তাঁর পরীক্ষায় ফোনটির বাইরের অংশ, পর্দা, ধুলা প্রতিরোধক্ষমতা এবং কাঠামোগত দৃঢ়তা যাচাই করেন। শুরুতে বাইরের পর্দা তুলনামূলক ভালো অবস্থায় ছিল। তবে ভেতরের নমনীয় পর্দা নখের আঁচড়েও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি দেখায়। পরে ধুলা ও ময়লা দিয়ে পরীক্ষা চালানোর সময় ফোনটির ভাঁজ করার যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দেয়। অ্যাপল ফোনটিতে আইপি৬৮ মানের ধুলা ও পানি প্রতিরোধক্ষমতার কথা উল্লেখ করলেও পরীক্ষায় ধুলার কণা ভাঁজ করার কবজায় প্রবেশ করেছে বলে দেখা যায়। এর ফলে ফোনটি পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছিল না। ফোনের দুই অংশ বন্ধ রাখার জন্য থাকা চুম্বকও ভেতরে জমে থাকা ধুলার কারণে সেটিকে ঠিকভাবে বন্ধ করতে পারেনি বলে নেলসন জানান। এরপর ফোনটির কাঠামো কতটা চাপ সহ্য করতে পারে, তা দেখতে বাঁকানোর পরীক্ষা করা হয়। শুরুতে ফোনের ফ্রেম অক্ষত থাকলেও ভেতরের পর্দায় স্থায়ী সবুজ রেখা দেখা দেয়। দ্বিতীয়বার চাপ প্রয়োগের পর আরও রেখা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পর্দাটি স্পর্শে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। নেলসনের মতে, ফোনটির ভাঁজ করার যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত নড়াচড়া পর্দাটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে ধুলার কারণে কবজায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল, নাকি যন্ত্রাংশটির দৃঢ়তা যথেষ্ট ছিল না, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত ভেতরের পর্দা বদলাতে প্রায় এক হাজার ডলার খরচ হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন নেলসন। তবে এই পরিমাণকে অ্যাপলের নিশ্চিত মেরামত মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়; এটি পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা খরচ। প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষা ফোনটির স্বাভাবিক দৈনন্দিন ব্যবহারকে তুলে ধরে না। বরং অতিরিক্ত ধুলা ও অস্বাভাবিক চাপের মধ্যে এর সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। তাই পরীক্ষার ফল দিয়ে সব আইফোন ডুয়োর স্থায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে ভাঁজযোগ্য ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কবজা ও নমনীয় পর্দার যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
কোম্পানির নির্দেশ মেনে নিজের খরচে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এক কর্মী। রেডিটে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, দূর থেকে কাজ করা কর্মীদের দশ দিনের মধ্যে অফিসে উপস্থিত হতে বলেছিল প্রতিষ্ঠানটি। নির্দেশ মানতে তিনি বাড়তি খরচে বিমানের টিকিট কেনেন। কিন্তু ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই মানবসম্পদ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানানো হয়। ঘটনাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কর্মীর প্রায় এক মাস পর দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। হঠাৎ অফিসে ফেরার নির্দেশ আসায় তিনি ইমেইলে যাত্রার খরচ ও আগের পরিকল্পনার বিষয়টি জানান। তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মানবসম্পদ বিভাগ সতর্ক করে। এরপর তিনি টিকিট কেটে দেশে ফিরে অফিসে যোগ দেন। ওই কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুতির বৈঠকে কোম্পানি তাঁর বিরুদ্ধে নীতিমালা না মানার অভিযোগ তোলে এবং পুরোনো কিছু বিষয় সামনে আনে। তিনি প্রায় দশ সপ্তাহের বেতনের সমপরিমাণ চাকরিবিচ্ছেদকালীন অর্থ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। তবে তাঁর প্রশ্ন, চাকরি শেষ করার সিদ্ধান্ত দূরবর্তী বৈঠকে জানানো সম্ভব হলে তাঁকে কেন ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক যাত্রা করতে বলা হলো। প্রতিবেদনে কোম্পানির নাম, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরিচয় বা নিয়োগকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে চাকরিচ্যুতির কারণ ও সিদ্ধান্তের সময় সম্পর্কে কর্মীর দাবির বাইরে নিশ্চিত তথ্য নেই। রেডিটের সংশ্লিষ্ট পোস্টটি বর্তমানে প্ল্যাটফর্মের ফিল্টারে সরানো হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। তবে পোস্ট সরানোর কারণ সেখানে বিস্তারিত জানানো হয়নি, আর সেটি দিয়েও অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণ করা যায় না।
ব্রণ কমানোর আশায় মুখ ধোয়া ও ত্বকের পরিচর্যার পণ্য ব্যবহার বন্ধ করেছিলেন কানাডায় বসবাসরত তরুণী টিয়া জাখের। কয়েক সপ্তাহ পর তার মুখে জমে থাকা স্তর সবুজাভ দেখাতে শুরু করে। এটিকে ত্বক সেরে ওঠার অংশ বলে দাবি করলেও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, মুখ পরিষ্কার না রাখলে প্রদাহ, জ্বালাপোড়া ও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চিলির সংবাদমাধ্যম বায়োবায়োচিলের ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিয়া নিজের এই পদ্ধতির কথা টিকটকে জানিয়েছিলেন। তার আশা ছিল, মুখে জমে থাকা মৃত কোষের স্তর একসময় নিজে থেকেই খসে পড়বে এবং নিচে ব্রণমুক্ত ত্বক দেখা যাবে। টিয়া ওই অবস্থাকে ‘রিটেনশন হাইপারকেরাটোসিস’ বলে বর্ণনা করেন। তার দাবি, আগে নিয়মিত ত্বক খুঁটে বা ঘষে মৃত কোষ সরানোর অভ্যাস ছিল। তা বন্ধ করার পর কোষগুলো সাময়িকভাবে জমে যাচ্ছে। তবে এটি তার নিজের ব্যাখ্যা, প্রতিবেদনে চিকিৎসকের পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি। বায়োবায়োচিলেকে দেওয়া বক্তব্যে ইন্টেগ্রামেডিকার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হেক্টর ফুয়েনসালিদা বলেন, মুখ পরিষ্কার বন্ধ রাখলে উল্টো প্রদাহ, জ্বালাপোড়া ও নতুন ব্রণ দেখা দিতে পারে। মুখে একটি স্তর তৈরি হয়ে পরে স্বাভাবিকভাবে খসে পড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ত্বক গাঢ় ও পুরু হয়ে যাওয়াকেও সুস্থতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে জানান তিনি। চিকিৎসক আরও বলেন, এ ধরনের অভ্যাস সংক্রমণের কারণ হতে পারে। তবে টিয়ার মুখের সবুজাভ স্তরের কারণ সংক্রমণ কি না, তা নিশ্চিত রোগনির্ণয় হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ব্রণযুক্ত ত্বকের পরিচর্যায় আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি মৃদু ক্লেনজার দিয়ে আলতোভাবে দিনে সর্বোচ্চ দুবার এবং ঘাম হওয়ার পর মুখ ধোয়ার পরামর্শ দেয়। আঙুলের সাহায্যে ক্লেনজার লাগাতে এবং ত্বক ঘষাঘষি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। অতিরিক্তবার মুখ ধোয়াও ত্বকে জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে ব্রণ আরও খারাপ করতে পারে। সংস্থাটির নির্দেশনায় কুসুম গরম পানি ব্যবহার এবং নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুখ শুকানোর কথা বলা হয়েছে। ত্বকের সমস্যা বা পরিচর্যা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার সুপারিশও করেছে সংস্থাটি।
দুবাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগ মেঙ্গো ইঞ্জিন গড়ে তুলেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোর জয়নম জৈন। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার বয়স ১৪ বছর বলে উল্লেখ করা হয়। ছোট ব্যবসার বিপণন ও গ্রাহক যোগাযোগের কাজ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই উদ্যোগের অফিস বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায় বলে সেসব প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জয়নমের পরিবারের আদি নিবাস ভারতের পুনেতে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে যায় সে। ছোটবেলা থেকেই বাবার মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়নম জানিয়েছে, ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রথম ব্যবসায়িক বৈঠকে গিয়েছিল সে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শুরুর আগেই ছোট বোনের সঙ্গে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করত জয়নম। ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সাত বছর বয়সে শুরু করা সেই চ্যানেলে বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষার ভিডিও প্রকাশ করা হতো। প্রতিবেদনের হিসাবে, তিন মাসের মধ্যে চ্যানেলটি এক লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার পায়। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও প্রচলিত সময়সূচির বাইরে এগোনোর চেষ্টা করে জয়নম। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সে সে বিকল্প শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে খোঁজ শুরু করে। পরে জয়পুরের একটি স্কুলের সহায়তায় কেমব্রিজ আইজিসিএসই পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার সাক্ষাৎকারের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রায় ১০৫ দিনের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষে ১৩ বছর বয়সে দশম শ্রেণির সমমানের এই ধাপ সম্পন্ন করে সে। এরপর নিজের উদ্যোগে সময় দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেয় জয়নম। মেঙ্গো ইঞ্জিনকে ব্যবসার জন্য সহায়ক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছে সে। বিপণনের পরিকল্পনা, কনটেন্ট তৈরি, সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং গ্রাহকসেবার বিভিন্ন কাজ এক জায়গা থেকে পরিচালনায় সহায়তা করা এর লক্ষ্য। তবে উদ্যোগটি তখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জয়নমের বরাতে বলা হয়, প্রায় ১০০টি ব্যবসা সেবাটি ব্যবহারের অপেক্ষমাণ তালিকায় যোগ দিয়েছিল। এই সংখ্যা অর্থ পরিশোধকারী গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের আয় নির্দেশ করে না। প্রযুক্তি শেখার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের চেয়ে নিজে পরীক্ষা করার ওপর বেশি নির্ভর করেছে বলে জানিয়েছে জয়নম। এমিরেটস টোয়েন্টিফোর সেভেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বরাতে ইকোনমিক টাইমস লিখেছে, বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার, ইউটিউব দেখে শেখা এবং নতুন বিষয় নিয়ে কৌতূহল থেকেই তার শেখার বড় অংশ এসেছে।
সন্তান কোনো কারণে ভেঙে পড়লে বা আবেগ সামলাতে না পারলে অভিভাবকদের স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে তাকে বুঝিয়ে বলা। কী করা উচিত, কেন এমন আচরণ করা ঠিক নয় কিংবা কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে—এসব বোঝানোর চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু শিশু যখন তীব্র মানসিক চাপ বা আবেগের মধ্যে থাকে, তখন দীর্ঘ উপদেশ সব সময় কাজে আসে না। বরং সে সময় অভিভাবকের শান্ত উপস্থিতি, পাশে থাকা এবং ছোট ছোট কিছু আচরণ শিশুকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করতে পারে। শিশুদের বিকাশ নিয়ে কাজ করা একজন বিশেষজ্ঞের মতে, সন্তান বিপর্যস্ত হলে তার মস্তিষ্কের চিন্তা ও যুক্তিনির্ভর অংশের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। তখন আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া বেশি প্রাধান্য পায়। ফলে অভিভাবকের কথা শোনার বা যুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। এমন সময়ে শিশুকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার চেয়ে তাকে শান্ত পরিবেশ দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। শিশুদের নিয়ে কাজ করা ওই বিশেষজ্ঞ একজন প্রশিক্ষিত চাইল্ড লাইফ স্পেশালিস্ট ও থেরাপিস্ট। তিনি জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া এক হাজারের বেশি শিশু ও কিশোরকে সহায়তা করেছেন। নিজের অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা থেকেও তিনি দেখেছেন, শিশুরা যখন আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন তাদের চিন্তাশক্তির চেয়ে অনুভূতি বেশি প্রভাব বিস্তার করে। শিশুর বিকাশ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়াকে ‘কো-রেগুলেশন’ বা যৌথ আবেগ নিয়ন্ত্রণ বলে থাকেন। এর অর্থ হলো, শিশু যখন নিজের আবেগ সামলাতে হিমশিম খায়, তখন বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্কের শান্ত আচরণ থেকে সে স্থিরতা পেতে পারে। গবেষণাতেও শিশুদের মানসিক চাপ সামলানোর দক্ষতা গড়ে তুলতে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। শিশু কষ্টে থাকলে সে সব সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অভিভাবকের কথা অমান্য করে না। অনেক সময় তার মানসিক অবস্থা এমন থাকে যে ব্যাখ্যা, সমঝোতা বা সংশোধনের কথা গ্রহণ করার মতো পরিস্থিতিতে সে থাকে না। তখন প্রথম প্রয়োজন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির অনুভূতি ফিরে পাওয়া। অভিভাবক পাশে থাকলে শিশু বুঝতে পারে, কঠিন মুহূর্তে তাকে একা সামলাতে হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পাঁচটি সহজ আচরণ শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। প্রথমত, সন্তানের পাশে নীরবে বসুন। সন্তান মন খারাপ করে থাকলে তার পাশে বসে থাকা কিংবা সে নিজের ঘরে থাকলে দরজার বাইরে অবস্থান করাও তাকে নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারে। এতে সে বুঝতে পারে, প্রয়োজন হলে অভিভাবককে কাছে পাবে। তবে সন্তান যদি কিছুটা একা থাকতে চায়, সেই ইচ্ছাকেও সম্মান করা জরুরি। তাকে জোর করে কথা বলাতে হবে না। বরং কোথায় গেলে আপনাকে পাওয়া যাবে, তা জানিয়ে দিন। এতে তার মনে পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা নিশ্চয়তা তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, হাত বাড়িয়ে দিন বা কোমল স্পর্শের সুযোগ রাখুন। মন খারাপের সময় সব শিশু স্পর্শ পছন্দ করে না। তাই সন্তানের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সে স্বচ্ছন্দ বোধ করলে হাত ধরা, পিঠে আলতো করে হাত রাখা কিংবা নিজের হাত তার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া সহায়ক হতে পারে। সন্তান হাত ধরতে চাইলে ধরবে, না চাইলে তাকে চাপ দেওয়া যাবে না। তার ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখালে সে বুঝতে পারে, তার অনুভূতি ও পছন্দ অভিভাবকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয়ত, একসঙ্গে ধীরে শ্বাস নিন। সন্তানকে বারবার ‘শান্ত হও’ বা ‘গভীর শ্বাস নাও’ বলার বদলে অভিভাবক নিজেই ধীরে ও দৃশ্যমানভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস দেখাতে পারেন। চাইলে শ্বাস নেওয়ার শব্দও স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন। শিশু অনেক সময় অজান্তেই কাছের মানুষের শ্বাসের ছন্দ অনুসরণ করে। শান্ত পরিবেশে এভাবে কিছুক্ষণ থাকা তার শরীর ও মনকে স্থির হতে সাহায্য করতে পারে। চতুর্থত, শান্ত হতে সাহায্য করে এমন খেলনা বা উপকরণ কাছে রাখুন। অনেক শিশুর পছন্দের নরম খেলনা বা অন্য কোনো পরিচিত জিনিস থাকে, যা তাকে স্বস্তি দেয়। এমন কিছু শিশুর কাছে রেখে দেওয়া যেতে পারে, যাতে সে প্রস্তুত হলে নিজেই সেটি ব্যবহার করতে পারে। এ ছাড়া রঙিন কাগজের পাখা দিয়ে ধীরে শ্বাস ছাড়ার অনুশীলন কিংবা হাতে চেপে ধরা যায় এমন স্ট্রেস বল ব্যবহার শেখানো যেতে পারে। তবে এসব কৌশল শিশুর মন শান্ত থাকার সময় শেখানো ভালো। তাতে চাপের মুহূর্তে সেগুলো ব্যবহার করা তার জন্য সহজ হতে পারে। পঞ্চমত, পাশাপাশি থেকে কোনো কাজে যুক্ত হন। সব সময় কথা বলেই শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, এমন নয়। ছোট শিশুদের সঙ্গে বসে ছবি আঁকা, রং করা, ব্লক দিয়ে কিছু তৈরি করা কিংবা খেলনার সাহায্যে কোনো পরিস্থিতি অভিনয় করে দেখানো যেতে পারে। বড় শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ধাঁধা মেলানো, বই পড়ে শোনানো, কোনো অনুষ্ঠান দেখা কিংবা ভিডিও গেম খেলার মতো কাজও কাজে আসতে পারে। এতে শিশুকে নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করার জন্য চাপ দিতে হয় না, অথচ অভিভাবকের সঙ্গে তার সংযোগ বজায় থাকে। এই পাঁচটি আচরণের মূল কথা হলো, সন্তানের আবেগকে অস্বীকার না করে তাকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করা। তবে সব শিশু একইভাবে সাড়া দেয় না। কারও কাছে পাশে বসে থাকাই যথেষ্ট, আবার কেউ কিছুটা সময় ও ব্যক্তিগত পরিসর চাইতে পারে। তাই সন্তানের প্রয়োজন বুঝে আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের সহায়ক অভিজ্ঞতা শিশুদের নিজের আবেগ চিনতে, মানসিক চাপ সামলাতে এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শেখাতে পারে। অভিভাবক সব সময় সন্তানের পাশে থাকতে পারবেন না, কিন্তু শান্ত ও সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে তাকে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত সন্তান হয়তো অভিভাবকের বলা প্রতিটি কথা মনে রাখবে না। কিন্তু কঠিন সময়ে সে কতটা নিরাপদ, বোঝা হয়েছে এবং সমর্থন পেয়েছে—সেই অভিজ্ঞতা তার মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রায় ৮ লাখ পর্যটকের ভোটে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকা। বড় প্রমোদতরিতে সমুদ্রভ্রমণের জন্য কোন কোম্পানিগুলো যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ পেয়েছে, তা উঠে এসেছে বার্ষিক পাঠক জরিপে। বিশাল জাহাজের বিভাগে প্রথম স্থান দখল করেছে প্রিন্সেস ক্রুজেস। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট বড় জাহাজের বিভাগে শীর্ষে রয়েছে ভার্জিন ভয়েজেস। ২০২৬ সালের রিডার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসে বিভিন্ন আকারের জাহাজ পরিচালনাকারী ক্রুজ কোম্পানিগুলোকে মূল্যায়ন করেছেন পর্যটকেরা। এতে সবচেয়ে বড় জাহাজগুলোর জন্য আলাদা বিভাগ রাখা হয়। চার হাজারের বেশি যাত্রী বহন করতে পারে, এমন জাহাজকে ‘মেগাশিপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই বিভাগে প্রিন্সেস ক্রুজেস পেয়েছে ৯২ দশমিক ৩৫ স্কোর। প্রিন্সেস ক্রুজেসের বহরে নতুন যুক্ত হওয়া সান প্রিন্সেস ও স্টার প্রিন্সেস জাহাজ দুটি কোম্পানিটিকে এই বিভাগে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দিয়েছে। সান প্রিন্সেস যাত্রা শুরু করে ২০২৪ সালে, আর স্টার প্রিন্সেস চালু হয় ২০২৫ সালে। প্রতিটি জাহাজে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০ যাত্রী বহন করা সম্ভব। এগুলোই বর্তমানে কোম্পানিটির বহরের সবচেয়ে বড় জাহাজ। মেগাশিপ বিভাগের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ৮৬ দশমিক ৪৫ স্কোর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় নয়টি ক্রুজ জাহাজই এই কোম্পানি পরিচালনা করে। এর সবচেয়ে বড় জাহাজগুলোতে পূর্ণ ধারণক্ষমতায় সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬০০ যাত্রী থাকতে পারেন। জাহাজগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট। যাত্রীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে ওয়াটার পার্ক থেকে শুরু করে সরাসরি মঞ্চে পরিবেশিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এই বিভাগে তৃতীয় হয়েছে এমএসসি ক্রুজেস, যার স্কোর ৮৫ দশমিক ২৩। চতুর্থ স্থানে রয়েছে কার্নিভাল ক্রুজ লাইন, পেয়েছে ৮১ দশমিক ০৫। পঞ্চম স্থানে থাকা নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের স্কোর ৮০ দশমিক ৩০। এমএসসি ক্রুজেসের বড় জাহাজগুলোতে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ থেকে ৬ হাজার ৭০০ যাত্রী বহন করা যায়। কার্নিভালের বড় জাহাজগুলোতে সমুদ্রের ওপর রোলার কোস্টারের মতো আকর্ষণীয় বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের জাহাজগুলোতেও ওয়াটার পার্ক, গো-কার্ট রেসিং এবং ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি গেমিংয়ের মতো সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে বড় জাহাজের প্রতিযোগিতায় শুধু যাত্রী ধারণক্ষমতা নয়, ভ্রমণের সময় বিনোদনের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আকারে কিছুটা ছোট বড় জাহাজের বিভাগে ফলাফল আলাদা। আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার ৯৯৯ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম জাহাজগুলোকে এই বিভাগে রাখা হয়েছে। এখানে ভার্জিন ভয়েজেস ৯১ স্কোর নিয়ে প্রথম হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডিজনি ক্রুজ লাইন, যার স্কোর ৯০ দশমিক ৭৫। তৃতীয় হয়েছে হল্যান্ড আমেরিকা লাইন, পেয়েছে ৯০ দশমিক ৫৭। এই বিভাগের চতুর্থ স্থানে রয়েছে সেলিব্রিটি ক্রুজেস, যার স্কোর ৮৫ দশমিক ৭৪। পঞ্চম স্থানে থাকা প্রিন্সেস ক্রুজেস পেয়েছে ৮৪ দশমিক ২৭। অর্থাৎ, প্রিন্সেস ক্রুজেস মেগাশিপ বিভাগে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি বড় জাহাজের বিভাগেও শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে। দুটি বিভাগের শীর্ষ পাঁচের তালিকা একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, যাত্রীদের পছন্দ অনুযায়ী ক্রুজ কোম্পানিগুলোর অবস্থান জাহাজের আকারভেদে বদলে যাচ্ছে। মেগাশিপ বিভাগে প্রিন্সেস ক্রুজেস এগিয়ে থাকলেও তুলনামূলক ছোট বড় জাহাজে ভার্জিন ভয়েজেস প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ডিজনি ক্রুজ লাইন ও হল্যান্ড আমেরিকা লাইনও এই বিভাগে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মেগাশিপ বিভাগের সেরা পাঁচ ক্রুজ লাইন হলো: প্রিন্সেস ক্রুজেস (৯২.৩৫), রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল (৮৬.৪৫), এমএসসি ক্রুজেস (৮৫.২৩), কার্নিভাল ক্রুজ লাইন (৮১.০৫) এবং নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইন (৮০.৩০)। বড় জাহাজের বিভাগের সেরা পাঁচ ক্রুজ লাইন হলো: ভার্জিন ভয়েজেস (৯১.০০), ডিজনি ক্রুজ লাইন (৯০.৭৫), হল্যান্ড আমেরিকা লাইন (৯০.৫৭), সেলিব্রিটি ক্রুজেস (৮৫.৭৪) এবং প্রিন্সেস ক্রুজেস (৮৪.২৭)। এবারের বার্ষিক পুরস্কারে শুধু বিশাল ও বড় জাহাজ নয়, মাঝারি ও ছোট জাহাজ এবং নদীপথে চলাচলকারী ক্রুজ লাইনগুলোকেও মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের সমুদ্রভ্রমণ ও নদীভ্রমণের জন্য যাত্রীদের পছন্দ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রায় ৮ লাখ ভোটের এই জরিপে উঠে আসা ফলাফল পর্যটকদের ক্রুজ ভ্রমণের পছন্দ সম্পর্কে একটি চিত্র তুলে ধরেছে। তবে কোন ক্রুজ লাইন বেছে নেওয়া হবে, তা নির্ভর করতে পারে জাহাজের আকার, বিনোদনের সুযোগ এবং ভ্রমণকারীর ব্যক্তিগত চাহিদার ওপরও।
দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ ও নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেকেই নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি ভুলে যান। পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বিশ্রাম, পছন্দের কাজ বা নিজের মনের খোঁজ নেওয়ার জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ শরীর ও মনের সুস্থতা বজায় রাখতে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জন্য সময় বের করা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের একটি প্রয়োজনীয় অংশ। নিজের যত্ন বা সেলফ-কেয়ার মানে শুধু স্পা, দামি প্রসাধনী কিংবা ছুটি কাটানো নয়। প্রতিদিনের রুটিনে ছোট কিছু অভ্যাস যোগ করেও নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া সম্ভব। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুক্ষণ নিজের জন্য রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো—এসব অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য অনুসরণ করতে পারেন এমন ২০টি সহজ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো। ১. দিনের শুরুতে তৈরি করুন নিজের রুটিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়া না করে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। কয়েক মিনিট ধ্যান, ডায়েরি লেখা কিংবা হালকা স্ট্রেচিং দিয়ে দিন শুরু করতে পারেন। দিনের শুরুতে শান্ত ও সচেতন কিছু অভ্যাস আপনাকে কাজের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করতে পারে। ২. আরামদায়ক গোসলের সময় বের করুন সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে উষ্ণ পানিতে গোসল করতে পারেন। চাইলে গোসলের পরিবেশ আরামদায়ক করে তুলতে মৃদু আলো ও পছন্দের সুগন্ধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে সুগন্ধি তেল বা বাথ সল্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকের সংবেদনশীলতার বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি। ৩. মনোযোগ দিন বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ চর্চা বা মাইন্ডফুলনেসের মাধ্যমে বর্তমান মুহূর্তের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়। কয়েক মিনিট ধীরে শ্বাস নেওয়া, নীরবে বসে থাকা কিংবা মনোযোগ দিয়ে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। নিয়মিত অনুশীলন মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে। ৪. শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ম্যাসাজ করুন শরীরের পেশিতে টান বা অস্বস্তি অনুভব করলে উপযুক্ত ম্যাসাজ আরাম দিতে পারে। চাইলে প্রশিক্ষিত পেশাদারের সাহায্য নিতে পারেন অথবা বাড়িতে নিরাপদভাবে ম্যাসাজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ব্যথা, আঘাত বা শারীরিক অসুস্থতা থাকলে আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ৫. পুষ্টিকর খাবার খান সুস্থ থাকার জন্য খাবারের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণশস্য ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করুন। আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করলে ব্যস্ততার মধ্যেও সুষম খাবার খাওয়া সহজ হতে পারে। ৬. পর্যাপ্ত পানি পান করুন শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পানি প্রয়োজন। দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করুন এবং প্রয়োজনে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। সবার পানির চাহিদা এক নয়; আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর তা নির্ভর করতে পারে। ৭. প্রযুক্তি থেকে বিরতি নিন দীর্ঘ সময় ফোন, কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে চোখ ও মন ক্লান্ত হতে পারে। তাই দিনের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। এ সময় বই পড়া, হাঁটাহাঁটি কিংবা প্রযুক্তির বাইরে কোনো শখের কাজে মন দিতে পারেন। ৮. পছন্দের শরীরচর্চা বেছে নিন শারীরিক সক্রিয়তা শরীরের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও উপকারী। যোগব্যায়াম, নাচ, দ্রুত হাঁটা কিংবা অন্য কোনো পছন্দের ব্যায়াম বেছে নিতে পারেন। শুরুতেই কঠিন রুটিন অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই; নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সক্রিয় থাকাই গুরুত্বপূর্ণ। ৯. কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন প্রতিদিন এমন তিনটি বিষয় লিখে রাখুন, যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। সেগুলো বড় কোনো অর্জন হতে হবে না; প্রিয়জনের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো কিংবা দিনের একটি সুন্দর মুহূর্তও হতে পারে। এভাবে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার দিকে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। ১০. ঘুমকে গুরুত্ব দিন শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, ঘুমের আগে পর্দা ব্যবহার কমানো এবং শান্ত পরিবেশ তৈরি করা ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। ১১. প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ মানসিক সমর্থন এবং আপনজনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয়জনের খোঁজ নিন, একসঙ্গে সময় কাটান এবং নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিন। সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ। ১২. প্রয়োজন অনুযায়ী সীমারেখা নির্ধারণ করুন সব দায়িত্ব একা সামলানোর চেষ্টা করলে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তাই নিজের সময় ও সামর্থ্য বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। প্রয়োজন হলে বিনয়ের সঙ্গে কোনো অনুরোধে না বলুন। ব্যক্তিগত সময়ের সুরক্ষা এবং দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর সীমারেখা সহায়ক হতে পারে। ১৩. পছন্দের শখে সময় দিন ছবি আঁকা, বাগান করা, গান শেখা কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো কাজ আনন্দ ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করে। ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের পছন্দের কাজে সময় রাখুন। এসব কাজের জন্য বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রতিদিন অল্প সময় দিয়েও শুরু করা যায়। ১৪. ত্বকের যত্ন নিন ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ একটি পরিচর্যার রুটিন তৈরি করুন। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করা, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন লাগানো উপকারী হতে পারে। নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে ত্বকে মানানসই কি না, তা যাচাই করুন। ১৫. পছন্দের গান শুনুন গান অনেকের মন ভালো করতে কিংবা শান্ত হতে সাহায্য করে। কাজের ফাঁকে, হাঁটার সময় অথবা বিশ্রামের মুহূর্তে পছন্দের গান শুনতে পারেন। নিজের মেজাজ অনুযায়ী আলাদা প্লেলিস্ট তৈরি করলেও দৈনন্দিন রুটিন আরও আনন্দদায়ক হতে পারে। ১৬. নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন কোনো কাজে ব্যর্থ হলে কিংবা প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে নিজেকে অতিরিক্ত দোষারোপ করবেন না। মনে রাখুন, ভুল ও কঠিন সময় জীবনের স্বাভাবিক অংশ। একজন বন্ধুর প্রতি যে সহানুভূতি দেখাতেন, নিজের প্রতিও তেমন বোঝাপড়া ও সদয় আচরণ করার চেষ্টা করুন। ১৭. ঘর গুছিয়ে রাখুন অগোছালো পরিবেশে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পেতে সময় লাগে এবং অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প কিছু সময় ঘর বা কাজের জায়গা গুছিয়ে রাখুন। একসঙ্গে সবকিছু করার চেষ্টা না করে ছোট একটি অংশ দিয়ে শুরু করলেই যথেষ্ট। ১৮. প্রকৃতির কাছাকাছি থাকুন সুযোগ পেলে বাইরে কিছু সময় কাটান। পার্কে হাঁটা, গাছপালা দেখা কিংবা খোলা পরিবেশে বসে থাকা দৈনন্দিন একঘেয়েমি থেকে বিরতি দিতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার সুযোগ না থাকলেও কাছাকাছি কোনো সবুজ জায়গায় অল্প সময় কাটাতে পারেন। ১৯. সুগন্ধের মাধ্যমে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন কিছু সুগন্ধ অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে। ল্যাভেন্ডার, ইউক্যালিপটাস বা পেপারমিন্টের সুগন্ধযুক্ত পণ্য কেউ কেউ বিশ্রামের সময় ব্যবহার করেন। তবে এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয়; উপযুক্তভাবে পাতলা করে ব্যবহার করতে হয়। হাঁপানি, অ্যালার্জি বা সুগন্ধে সংবেদনশীলতা থাকলে সতর্ক থাকা জরুরি। ২০. প্রয়োজন হলে বিশ্রামের দিন নিন কখনো কখনো শরীর ও মনকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ থেকে বিরতি প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভব হলে ছুটি নিয়ে বিশ্রাম করুন, পছন্দের কাজ করুন কিংবা নিরিবিলি সময় কাটান। তবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা মন খারাপ দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করলে শুধু বিশ্রামের ওপর নির্ভর না করে পেশাদার সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য একসঙ্গে সব অভ্যাস শুরু করার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের জীবনযাপন, সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি অভ্যাস বেছে নিয়ে ধীরে ধীরে রুটিনে যুক্ত করুন। কারও জন্য নিয়মিত হাঁটা উপকারী হতে পারে, আবার অন্য কারও কাছে পর্যাপ্ত ঘুম বা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মূল বিষয় হলো, নিজের শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। প্রতিদিনের ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের জন্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। মনে রাখবেন, নিজের যত্ন নেওয়া স্বার্থপরতা নয়—এটি নিজের সুস্থতা ও ভালো থাকার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ।
থাইরয়েড ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর সঞ্চয়ের অর্থ খরচ করে পেঙ্গুইনের ছবি তুলতে অ্যান্টার্কটিকায় গিয়েছিলেন চীনের ওয়াং ইং। দেশে ফিরে পরীক্ষায় তাঁর টিউমারের আকার ছোট পাওয়া যায় বলে চীনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ভ্রমণ বা পেঙ্গুইনের ছবি তোলার কারণে ক্যানসার সেরেছে, এমন চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ এসব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াংয়ের বর্তমান বয়স ৬৭ বছর। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের একটি স্কুলে প্রশাসনিক পদে কাজ করতেন তিনি। ২০১৩ সালে অবসরের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁর থাইরয়েড ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা তাঁকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা পূরণের সিদ্ধান্ত নেন ওয়াং। ইউনান নেটের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, এক মাসের অ্যান্টার্কটিকা সফরে তিনি দেড় লাখ ইউয়ান ব্যয় করেন। প্রচণ্ড ঠান্ডা, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও জাহাজের দুলুনির কারণে সফরটি সহজ ছিল না। তবু বরফের প্রান্তরে অপেক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত পেঙ্গুইনের ছবি তুলতে পেরেছিলেন তিনি। একই বিবরণে বলা হয়, সফর শেষে পরীক্ষায় টিউমারের আকার কমতে দেখে চিকিৎসকেরা আপাতত অস্ত্রোপচার পিছিয়ে পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দেন। এই খবর তাঁকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করেছিল। তবে টিউমারের পরিবর্তনের কারণ নির্ধারণের মতো চিকিৎসার নথি বা গবেষণার ফল ওই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। বন্য প্রাণীর ছবি তোলার শখ পরবর্তী সময়ে ওয়াংয়ের জীবনের বড় অংশ হয়ে ওঠে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, তিনি এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রজাতির পাখির ছবি তুলেছেন। এই সংখ্যা তাঁর সামগ্রিক আলোকচিত্রচর্চার, অ্যান্টার্কটিকায় থাকা পেঙ্গুইনের প্রজাতির সংখ্যা নয়। তাঁর অ্যান্টার্কটিকা সফরও ছিল এক মাসের, কয়েক বছরের নয়। টিউমার ছোট হওয়া এবং ক্যানসার সম্পূর্ণ সেরে যাওয়া এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্যানসারের লক্ষণ আংশিক বা পুরোপুরি কমে যাওয়াকে রেমিশন বলা হয়। পুরোপুরি রেমিশনের পরও রোগ ফিরে আসতে পারে বলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। ফলে ওয়াংয়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ভ্রমণের মাধ্যমে ক্যানসার নিরাময়ের প্রমাণ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখার ভিত্তি নেই।
চাকরি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেতন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্বের ধরনও বিবেচনা করা যেতে পারে। কেউ বিশ্লেষণধর্মী কাজে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, কেউ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করেন। আবার কারও আগ্রহ সৃজনশীল কাজে। ব্যক্তিত্বের এসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে পেশা খুঁজলে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। মায়ার্স-ব্রিগস টাইপ ইন্ডিকেটর (এমবিটিআই) নামের বহুল পরিচিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মানুষকে ১৬টি ধরনে ভাগ করা হয়। চার জোড়া বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এই ধরনগুলো নির্ধারণ করা হয়—বহির্মুখিতা বা অন্তর্মুখিতা, বাস্তব তথ্যের প্রতি মনোযোগ বা অন্তর্দৃষ্টিনির্ভর চিন্তা, যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত বা অনুভূতিনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনামুখী মনোভাব বা পরিস্থিতি অনুযায়ী চলার প্রবণতা। রিজিউম জিনিয়াসের একটি গবেষণায় এমবিটিআইয়ের প্রতিটি ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই জনপ্রিয় পেশা চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জন্য পারসোনালিটি ডেটাবেজ ফোরামের প্রশ্নাবলির উত্তর বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোর মধ্যম বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যক্তিত্বের ধরন অনুযায়ী পেশার এই তালিকাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত নিজের পছন্দ, শক্তি ও কাজের ধরন নিয়ে ভাবার একটি উপায়। পেশা বেছে নেওয়ার সময় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা, চাকরির সুযোগ এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্যও গুরুত্বপূর্ণ। রিজিউম জিনিয়াসের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ ইভা চ্যানের মতে, নিজের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে একজন ব্যক্তি নিজের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিত্বের ধরন নিয়ে ভাবা আত্মপর্যালোচনা ও আত্মসচেতনতা বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী ১৬ পেশা ও বার্ষিক বেতন তালিকার শীর্ষে রয়েছে সার্জন পেশা। আইএসটিজে (ISTJ) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য এ পেশাকে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সার্জনদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ২ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ ডলার। এই পেশায় দীর্ঘ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা, মনোযোগ এবং প্রতিটি কাজে দায়িত্বশীল থাকা জরুরি। বিস্তারিত বিষয়ে সতর্ক থাকা ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রয়োজনও রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকিয়াট্রিস্ট। আইএনএফজে (INFJ) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য এ পেশার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তালিকায় এই পেশার মধ্যম বার্ষিক বেতন ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৮০ ডলার। অন্যের অনুভূতি ও আচরণ বোঝা, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং মানুষের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার দক্ষতা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে এয়ারলাইন ক্যাপ্টেন। ইএসটিজে (ESTJ) ব্যক্তিত্বের মানুষেরা সাধারণত নিয়ম মেনে কাজ করা, পরিকল্পনা ও সংগঠন বজায় রাখা এবং দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৯৮ হাজার ডলার। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইএনটিপি (INTP) ব্যক্তিত্বের জন্য পদার্থবিজ্ঞানী পেশাকে উপযুক্ত বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৬৬ হাজার ২৯০ ডলার। যুক্তিনির্ভর চিন্তা, জটিল সমস্যার সমাধান এবং নতুন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগ্রহ এ ধরনের কাজে সহায়ক। গবেষণাগারে দীর্ঘ সময় মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সুযোগও এ পেশার বৈশিষ্ট্য। ইএনএফপি (ENFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বিজ্ঞাপন পরিচালক পেশার কথা বলা হয়েছে। সৃজনশীলতা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, নতুন ধারণা তৈরি এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা এ পেশায় গুরুত্বপূর্ণ। তালিকায় বিজ্ঞাপন পরিচালকদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬০ ডলার। ইএনটিজে (ENTJ) ব্যক্তিত্বের জন্য প্রসিকিউটর বা সরকারি কৌঁসুলির পেশাকে মানানসই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫১ হাজার ১৬০ ডলার। যুক্তি সাজিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন, চাপের মধ্যে কাজ করা, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা এ কাজে প্রয়োজন। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক বা এইচআর ম্যানেজার পেশাটি ইএনএফজে (ENFJ) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ৩০ ডলার। কর্মীদের প্রয়োজন বোঝা, সহমর্মিতা, যোগাযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এ কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইএসটিপি (ESTP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বিক্রয় ব্যবস্থাপক বা সেলস ম্যানেজার পেশার কথা বলা হয়েছে। এখানে মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬০ ডলার। লক্ষ্য অর্জনের মানসিকতা, দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া, আত্মবিশ্বাস এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা এ পেশায় সহায়ক। আইএসএফজে (ISFJ) ব্যক্তিত্বের জন্য ফার্মাসিস্ট বা ওষুধ বিশেষজ্ঞ পেশাটি তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮০ ডলার। বিস্তারিত বিষয়ে সতর্কতা, নিয়ম মেনে কাজ করা এবং মানুষের সেবায় আগ্রহ এ পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইএসটিপি (ISTP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী পেশাকে উপযোগী বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮০ ডলার। দ্রুত সমস্যা শনাক্ত করা, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং চাপের মধ্যে শান্ত থেকে কাজ করার দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আইএনটিজে (INTJ) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ডেটা সায়েন্টিস্ট পেশার মিল তুলে ধরা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ১২ হাজার ৫৯০ ডলার। বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ, প্রবণতা শনাক্ত করা এবং তথ্যভিত্তিক সুপারিশ তৈরি করা এ কাজের মূল অংশ। প্রযুক্তি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে। আইএনএফপি (INFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য অ্যানিমেটর পেশার কথা বলা হয়েছে। তালিকায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৯৯ হাজার ৮০০ ডলার। সৃজনশীল চিন্তা, গল্প বলার দক্ষতা এবং নতুন ধরনের ধারণা তুলে ধরার সুযোগ এ পেশাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। যারা পর্দার আড়ালে থেকে নিজেদের কাজের মাধ্যমে দর্শকের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে চান, তাঁদের জন্য এটি মানানসই হতে পারে। ইএনটিপি (ENTP) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট বা অপরাধ-সম্পর্কিত মনোবিশ্লেষণ পেশাকে যুক্ত করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৯৪ হাজার ৩১০ ডলার। মানুষের আচরণ বোঝা, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ। ইএসএফপি (ESFP) ব্যক্তিত্বের জন্য মডেল পেশাটি তালিকায় রয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮৯ হাজার ৯৯০ ডলার। আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্বের প্রকাশ, মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারা এবং ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ থাকার মতো বৈশিষ্ট্য এ কাজে সহায়ক হতে পারে। ইএসএফজে (ESFJ) ব্যক্তিত্বের জন্য উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষকতার কথা বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮৩ হাজার ৯৮০ ডলার। পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রম সাজানো, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তালিকার শেষ অবস্থানে রয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনার পেশা, যা আইএসএফপি (ISFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য উপযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮০ হাজার ৬৯০ ডলার। সৃজনশীলতা, নিজস্ব নকশার মাধ্যমে ভাবনা প্রকাশ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ এ পেশার অন্যতম আকর্ষণ। সব মিলিয়ে, ব্যক্তিত্বের ধরন পেশা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সহায়ক সূত্র হতে পারে, তবে এটি কোনো নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী নয়। একই ব্যক্তিত্বের মানুষের আগ্রহ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা একেক রকম হতে পারে। তাই শুধু পরীক্ষার ফল বা বেতনের তালিকা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের প্রয়োজন, কাজের পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
আক্কেলদাঁত তোলার পর মুখ ও গলায় ফোলা দ্রুত বেড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কানাডার অন্টারিওর বাসিন্দা সারা ডিক। ৩১ বছর বয়সী এই নারী প্রথমে ফোলাকে স্বাভাবিক ভেবেছিলেন। কিন্তু গিলতে, মুখ খুলতে ও কথা বলতে কষ্ট হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ইমার্জেন্সি রুমে যান। সেখানে সংক্রমণ ও তীব্র প্রদাহের চিকিৎসা দেওয়া হয় তাঁকে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর আংশিক বের হওয়া একটি আক্কেলদাঁত তুলিয়েছিলেন সারা। পরদিন মুখের এক পাশ প্রচণ্ড ফুলে যায়। ডেন্টিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথার ওষুধ দেওয়া হয়। শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে যেতেও বলা হয়। পরে ফোলা গাল ও চোয়াল ছাড়িয়ে ঘাড় ও গলায় ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অবস্থা দেখে অনেকে দ্রুত চিকিৎসা নিতে বলেন। হাসপাতালে যাওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা ও সিটি স্ক্যান করা হয়। শিরায় ওষুধ ও তরল দেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হলে তিনি বাড়ি ফেরেন। দুই সন্তানের মা সারা জানান, এখন দৈনন্দিন কাজে ফিরলেও কিছুটা ব্যথা ও ফোলা রয়েছে। আক্কেলদাঁত তোলার পর কিছু ব্যথা ও ফোলা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, এটি সাধারণত একটি সহজ প্রক্রিয়া হলেও সংক্রমণসহ কিছু জটিলতা হতে পারে। ব্যথা ও ফোলা তীব্র হলে বা বাড়তে থাকলে এবং ব্যথার ওষুধে উপকার না হলে জরুরি ডেন্টাল পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্যথার সঙ্গে মুখে বাজে স্বাদ, জ্বর বা অসুস্থ লাগাও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার কারণ। আর মুখ বা গলার ফোলায় শ্বাসনালি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কিংবা গিলতে সমস্যা হলে বিষয়টি জরুরি চিকিৎসার পর্যায়ে পড়ে বলে এনএইচএস ইংল্যান্ডের নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে, বলিরেখা কমাতে এবং ত্বককে আরও উজ্জ্বল ও মসৃণ করতে রেটিনয়েড ব্যবহার করেন অনেকে। ভিটামিন এ-জাতীয় এই উপাদান ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং বয়সের ছাপ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে রেটিনয়েড সবার ত্বকে মানায় না। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব ও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ত্বকের যত্নে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা। ত্বকের বয়সের ছাপ কমানোর জন্য সানস্ক্রিন ও রেটিনয়েডকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সানস্ক্রিন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, রেটিনয়েড ত্বকের কোষের নবায়ন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং কোলাজেন ভেঙে যাওয়ার গতি কমাতে সহায়তা করে। কোলাজেন এমন একটি প্রোটিন, যা ত্বকের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিয়মিত রেটিনয়েড ব্যবহারের পরও সবার ত্বকে একই রকম ফল পাওয়া যায় না। কারও ত্বক সহজেই এর সঙ্গে মানিয়ে নেয়, আবার কারও ক্ষেত্রে সামান্য ব্যবহারেও অস্বস্তি দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন হলে জোর করে পণ্যটি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ত্বকের ধরন ও প্রতিক্রিয়া বুঝে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়া যেতে পারে। রেটিনয়েড কেন ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ রেটিনয়েড বলতে ভিটামিন এ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপাদানকে বোঝায়। এর মধ্যে রয়েছে রেটিনল, রেটিনাল, ট্রেটিনয়েন ও অ্যাডাপালিনের মতো উপাদান। এগুলোর শক্তি, কার্যকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম এক নয়। নিউইয়র্কের বোর্ড-সার্টিফায়েড চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হাইসেম এলডিকের মতে, রেটিনল ও রেটিনয়েডের বিভিন্ন ধরন ভিটামিন এ-সংশ্লিষ্ট হলেও ত্বকে সক্রিয় রূপে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় তাদের পার্থক্য রয়েছে। সাধারণভাবে, রেটিনাইল এস্টার তুলনামূলক মৃদু। এরপর রয়েছে রেটিনল ও রেটিনাল। এসব উপাদানের অনেক পণ্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ট্রেটিনয়েন বা রেটিনয়িক অ্যাসিড সাধারণত ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে পাওয়া যায়। অ্যাডাপালিনও পরিচিত একটি রেটিনয়েড, যা মূলত ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডোনা হার্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রেটিনয়েড ত্বকের কোষের নবায়ন বাড়াতে এবং কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি ব্রণ নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের কিছু দাগের দৃশ্যমানতা কমানো এবং অসম রং উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উপকারের পাশাপাশি এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। ব্যবহারের শুরুতে ত্বকে শুষ্কতা, চুলকানি, টানটান অনুভূতি, খোসা ওঠা ও সূর্যের আলোতে সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্রণ সাময়িকভাবে বেড়েও যেতে পারে। ত্বক নতুন উপাদানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় এমন পরিস্থিতিকে অনেক ক্ষেত্রে ‘পার্জিং’ বলা হয়। তবে তীব্র জ্বালাপোড়া বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। রেটিনয়েড ব্যবহারে অস্বস্তি কমানোর উপায় রেটিনয়েড ব্যবহার করতে চাইলে শুরু থেকেই প্রতিদিন লাগানোর প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমে সপ্তাহে দুই রাত ব্যবহার করে ত্বকের প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। ত্বক মানিয়ে নিলে ধীরে ধীরে ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানো যায়। তবে সবার ত্বক একই গতিতে মানিয়ে নেয় না। পুরো মুখের জন্য সাধারণত মটরদানার সমান পরিমাণ পণ্য যথেষ্ট। বেশি পরিমাণ ব্যবহার করলে ফল ভালো হবে, এমন নয়; বরং ত্বকে অস্বস্তি বাড়তে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে ‘স্যান্ডউইচ পদ্ধতি’ কিছুটা সহায়ক হতে পারে। এ পদ্ধতিতে প্রথমে মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগানো হয়। এরপর রেটিনয়েড ব্যবহার করে আবার ময়েশ্চারাইজার দেওয়া হয়। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য মিলতে পারে। অন্যদিকে, ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ‘শর্ট কন্ট্যাক্ট থেরাপি’ বিবেচনা করা যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে রাতে রেটিনয়েড ১৫ থেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলা হয়। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়। রেটিনয়েড ব্যবহারের শুরুতে স্যালিসিলিক অ্যাসিড, অন্যান্য অ্যাসিড বা এক্সফোলিয়েটিং মাস্কের মতো সক্রিয় উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার না করাই ভালো। একাধিক সক্রিয় উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বেড়ে যেতে পারে। রেটিনয়েড সাধারণত রাতে ব্যবহার করা হয়। দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। রেটিনয়েডের বিকল্প হতে পারে যেসব উপাদান অ্যাজেলাইক অ্যাসিড: রেটিনয়েড সহ্য না হলে অ্যাজেলাইক অ্যাসিড একটি বিকল্প হতে পারে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডোনা হার্টের মতে, এই উপাদান ত্বকের প্রদাহ, ব্রণ ও কালচে দাগ কমাতে সহায়তা করে। ব্রণ ও রোসেশিয়ার যত্নে তৈরি অনেক পণ্যেই এটি ব্যবহার করা হয়। পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী দিন বা রাতে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। বাকুচিওল: উদ্ভিদজাত এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের যত্নে রেটিনয়েডের বিকল্প হিসেবে পরিচিত। হার্টের মতে, বাকুচিওল কোলাজেনের কার্যক্রমে সহায়তা করতে, প্রদাহ কমাতে এবং ব্রণের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৯ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, সূক্ষ্ম বলিরেখা কমানো ও ত্বকের রং উন্নত করার ক্ষেত্রে বাকুচিওলের ফল রেটিনলের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে। গবেষণায় বাকুচিওল ব্যবহারে ত্বকের জ্বালাপোড়া তুলনামূলক কম দেখা যায়। তবে গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাজেলাইক অ্যাসিড ও বাকুচিওল ত্বকের কিছু সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করলেও এগুলো রেটিনয়েডের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। বিশেষ করে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর ভাঙন কমানোর ক্ষেত্রে রেটিনয়েডের মতো কার্যকারিতা এসব উপাদানের রয়েছে—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। কারা বেশি সতর্ক থাকবেন রোসেশিয়া, পেরিওরিফিশিয়াল ডার্মাটাইটিস বা একজিমার মতো ত্বকের সমস্যা থাকলে রেটিনয়েড ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কম শক্তিশালী পণ্য ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার পরও কারও ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূল উপাদানের পরিবর্তে পণ্যে থাকা প্রিজারভেটিভ বা অন্য উপাদান ত্বকে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। ত্বকে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে পণ্যটি ব্যবহার বন্ধ করে ত্বককে সুস্থ হওয়ার সময় দিতে হবে। পরে অন্য কোনো ফর্মুলা ব্যবহার করা উপযুক্ত হবে কি না, তা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় রেটিনয়েড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন অনেক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস। এ সময় ত্বকের যত্নে নতুন কোনো সক্রিয় উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবশেষে, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য রেটিনয়েডই একমাত্র উপায় নয়। তবে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের ত্বকের ধরন, সংবেদনশীলতা ও বিদ্যমান সমস্যা বিবেচনা করা জরুরি। কোনো উপাদান ব্যবহারে বারবার অস্বস্তি হলে জোর করে তা চালিয়ে না গিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ত্বকের উপযোগী পণ্য বেছে নেওয়াই ভালো।
বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার কমার পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি উচ্চ দাম, মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতার চাপও ভূমিকা রাখছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ বিপণন মৌসুমের হিসাবে চিনির ব্যবহার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমার চিত্র রয়েছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে চিনির ব্যবহার কমাকে শুধু মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে ইউএসডিএর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ২০২১-২২ মৌসুমে দেশে চিনির ব্যবহার ছিল ২৭ লাখ ৬৭ হাজার টন। অন্য প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য তা ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টনে নামার প্রাক্কলন উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুই অঙ্কের ব্যবধান প্রায় ৩৩ শতাংশ। শেষের অঙ্কটি পূর্বাভাস হিসেবে প্রকাশিত হওয়ায় একে চূড়ান্ত ভোগের হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। চিনির উচ্চমূল্য এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যবহার কমার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ে উদ্বেগ, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং কম চিনিযুক্ত পণ্যের প্রতি আগ্রহও পরিবর্তনের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে কোন কারণ কতটা প্রভাব ফেলেছে, তার পৃথক পরিমাপ এসব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের বোঝা বড়ই রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের ডায়াবেটিস অ্যাটলাস অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখের এই হিসাব নির্দিষ্ট বয়সসীমার মানুষের জন্য প্রাক্কলন, সব বয়সের রোগীর সরাসরি গণনা নয়। জাতীয় পর্যায়ে চিনির ব্যবহার এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দুটি আলাদা সূচক। চিনির ব্যবহার কমলেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বা রোগীর সংখ্যা একই হারে কমবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা এবং তামাক পরিহার টাইপ টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বা এর শুরু বিলম্বিত করতে সহায়তা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাবার ও পানীয়তে যোগ করা চিনি এবং মধু, সিরাপ ও ফলের রসে থাকা মুক্ত শর্করা দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শ দেয়। অতিরিক্ত উপকারের জন্য তা ৫ শতাংশের নিচে নামানোর কথাও বলা হয়েছে। তাই শুধু চায়ের চিনি কমানো নয়, মিষ্টি, কেক, বিস্কুট ও চিনিযুক্ত পানীয়সহ পুরো খাদ্যতালিকায় শর্করার পরিমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূত্র: sciencebee
চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজানো কিংবা চুল আরও ঘন করার আশায় অনেকেই দামি শ্যাম্পু, সিরাম, ভেষজ তেল ও বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট কিনছেন। এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি থাকলেও সবগুলোর কার্যকারিতার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পণ্য চুলকে নরম, চকচকে ও তুলনামূলক ঘন দেখাতে সাহায্য করলেও সেগুলো নতুন চুল গজায়—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। তাই চুলের যত্নে অর্থ ব্যয়ের আগে কোন পণ্য কী কাজে লাগে, তা জানা জরুরি। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ পেরি রোমানোস্কির মতে, বাজারে চুল গজানোর দাবি করা অনেক পণ্যের উপাদান চুলের ফলিকলে কার্যকর প্রভাব ফেলে কি না, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। চুলের গোড়া বা ফলিকল মাথার ত্বকের ভেতরে থাকে। কোনো উপাদানকে সেখানে পৌঁছে কার্যকর হতে হলে মাথার ত্বকে যথেষ্ট সময় থাকতে হবে, ত্বকের বাধা পেরোতে হবে এবং কার্যকর অবস্থায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। ফলে পণ্যের গায়ে আকর্ষণীয় উপাদানের নাম থাকলেই সেটি চুল গজাবে, এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল ঘন করার আশায় কেনার আগে পাঁচ ধরনের পণ্যের কার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। ১. চুল গজানোর দাবি করা শ্যাম্পু ক্যাফেইন, পেপটাইড ও বিভিন্ন বিশেষ উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু চুলের গোড়াকে সক্রিয় করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করার দাবি করে। কিন্তু এসব উপাদানের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। কিছু গবেষণার ফল প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, আবার কিছু গবেষণা পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ কেলি ডোবসের মতে, শ্যাম্পু মাথায় বেশিক্ষণ থাকে না। ব্যবহারের অল্প সময় পরই তা ধুয়ে ফেলা হয়। ফলে এর উপাদান দীর্ঘ সময় ধরে মাথার ত্বকে কাজ করার সুযোগ পায় না। তবে ভালো শ্যাম্পু মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে এবং চুলের তন্তু মজবুত করতে সাহায্য করতে পারে। এতে চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। কিন্তু শুধু শ্যাম্পু দিয়ে নতুন চুল গজানোর প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। ২. উচ্চমাত্রার বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট চুলের যত্নে বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ বেশ জনপ্রিয়। অনেক সাপ্লিমেন্টে দৈনিক ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন থাকে। অথচ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত প্রস্তাবিত দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ ৩০ মাইক্রোগ্রাম। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট চুল গজাতে উপকারী—এমন গবেষণালব্ধ প্রমাণ নেই। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজির তথ্য অনুযায়ী, বায়োটিনের ঘাটতিও বিরল। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহ সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত মাত্রার বায়োটিন ক্ষতিকর হতে পারে এবং কিছু পরীক্ষাগারের পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে কারও শরীরে বায়োটিনের ঘাটতি নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রা গ্রহণ করা যেতে পারে। ঘাটতি না জেনে বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজন নেই। ৩. ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেলকে চুল গজানোর কার্যকর উপায় হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু এসব তেল নতুন চুল গজায়—এমন নির্ভরযোগ্য ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। কেলি ডোবসের মতে, ক্যাস্টর অয়েল চুলকে নরম রাখতে এবং চুলের ঘর্ষণজনিত ক্ষতি ও ভাঙন কমাতে সাহায্য করতে পারে। বাতানা তেলও চুলের পরিচর্যায় কন্ডিশনিং উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে চুল দেখতে কিছুটা ঘন, চকচকে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল লাগতে পারে। তবে চুল ভেঙে যাওয়া কমা আর নতুন চুল গজানো এক বিষয় নয়। তাই শুধু এসব তেল ব্যবহার করে চুল পড়ার মূল কারণ দূর হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ৪. চালের পানি চাল ভেজানো বা রান্নার পর পাওয়া শ্বেতসারযুক্ত পানিকে চুল লম্বা ও ঘন করার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে নানা ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহর মতে, চালের পানি চুল গজাতে সাহায্য করে—এমন ভালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এটি চুলের পরিচর্যায় কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে প্রচার করা হলেও এর শ্বেতসার চুলে জমে শুষ্কতা তৈরি করতে পারে। একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো মাথার ত্বকের সমস্যা থাকলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। তাই বোতলজাত চালের পানির স্প্রে কেনার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা প্রয়োজন। ৫. প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার পুরুষদের বংশগতভাবে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ডিএইচটি নামের হরমোন। ফিনাস্টেরাইড নামের ওষুধ এই হরমোনের কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এ কারণে রেড ক্লোভার ও বারডকের মতো উদ্ভিজ্জ উপাদানযুক্ত পণ্যও একই কাজ করতে পারে বলে প্রচার করা হয়। তবে নিউইয়র্কের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সেজাল শাহের মতে, বারডক ডিএইচটি কমিয়ে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে—এমন অর্থবহ প্রমাণ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় খুবই সীমিত। তাই এসব ভেষজ উপাদানকে চুল পড়ার স্বতন্ত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। নারীদের চুল পড়ার ক্ষেত্রে ডিএইচটির ভূমিকা কতটা, তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোন পণ্যগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ধরনের বংশগত চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল অন্যতম গবেষণাসমর্থিত ওষুধবিহীন বিকল্প। একটি ৪৮ সপ্তাহের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল ব্যবহারকারীদের চুল পুনরায় গজানোর হার দুই শতাংশ ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি ছিল। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। খুশকিবিরোধী শ্যাম্পু মাথার ত্বকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রোজমেরি তেল নিয়েও একটি গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, যদিও গবেষণাটির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিছু সিরাম চুলের ঘনত্ব ও চেহারায় উন্নতি আনতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে। আবার ২০২২ সালে প্রকাশিত ৩০টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় ভিভিস্কাল ও নুট্রাফলের মতো কিছু সাপ্লিমেন্ট নিষ্ক্রিয় উপাদানের তুলনায় ভালো ফল দেখিয়েছে। তবে এসব গবেষণার অধিকাংশে সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন ছিল। চুল পড়ার কারণ না জেনে একের পর এক পণ্য কেনার পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। ভিটামিনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার মতো রোগের কারণে চুল পড়তে পারে। সঠিক রোগনির্ণয়ের পর চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এতে অকারণে অর্থ ব্যয় এড়ানো এবং সমস্যার উপযুক্ত সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
স্মার্টফোন ছাড়া কি সত্যিই স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব? গাড়ি চালানোর পথ খুঁজে বের করা, কনসার্টের টিকিট দেখানো কিংবা রেস্তোরাঁর খাবারের তালিকা দেখতে কিউআর কোড স্ক্যান করা—দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা এখন অনেকেরই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শিল্পী ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার কমানোর আন্দোলনকর্মী অগাস্ট ল্যামের অভিজ্ঞতা বলছে, স্মার্টফোন ছাড়াও জীবন চালানো সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, তাঁর মতে, এই পরিবর্তনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অবসর সময় এবং মানসিক স্বস্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ল্যাম তাঁর নতুন বই ইউ ডোন্ট নিড আ স্মার্টফোন: আ প্র্যাকটিক্যাল গাইড টু ডাউনগ্রেডিং ইওর ফোন অ্যান্ড আপগ্রেডিং ইওর লাইফ-এ স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ ফ্লিপ ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। বইটিতে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, স্মার্টফোনের সুবিধা ছাড়ার কিছু অসুবিধা থাকলেও এর বাইরে থাকার সুফল তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালে নিজের ২৭তম জন্মদিনের কিছুদিন পর স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন ল্যাম। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, ফোনে এত বেশি সময় ব্যয় করছেন যে শিল্পচর্চার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। নিজের ভাষায়, তিনি ফোন ব্যবহারে একধরনের আসক্তি অনুভব করছিলেন। এরপর ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা নেই—এমন একটি সাধারণ ফ্লিপ ফোন ব্যবহার শুরু করেন। স্মার্টফোন ছেড়ে দেওয়ার আগে ল্যামের আশঙ্কা ছিল, এতে পরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যাবে এবং নতুন বন্ধু তৈরি করাও কঠিন হবে। কারণ, অনলাইনে অনুষ্ঠান বা বিভিন্ন আয়োজনের খবর দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। কিন্তু বাস্তবে তিনি উল্টো অভিজ্ঞতা পান। তাঁর দাবি, স্মার্টফোন ছাড়ার পর নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় বেড়েছে, আর পুরোনো বন্ধুত্বগুলোও আরও দৃঢ় হয়েছে। ল্যামের মতে, অন্য মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোনে মনোযোগ না দিলে তাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে একা থাকার সময়ও ফোনের মাধ্যমে অন্যদের সামাজিক জীবনে ডুবে থাকার প্রবণতা কমে। এতে নিজের সময় ও সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হয়। বন্ধুত্ব রক্ষার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসে। আগে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছুটি কাটানো কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের খবর প্রকাশ করলে তিনি সেখান থেকেই তা জানতে পারতেন। স্মার্টফোন ছাড়ার পর বন্ধুদের তাঁকে ফোন করে বা সরাসরি দেখা করে খবর জানাতে হতো। গ্রুপ মেসেজ ব্যবহার করতে না পারায় যোগাযোগ আরও ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে বলে মনে করেন তিনি। নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হওয়ার বদলে ল্যাম সরাসরি পরবর্তী সপ্তাহে দেখা করার পরিকল্পনা করেন কিংবা নিজের কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। এতে পরিচয়ের পর যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টি অনলাইন অনুসরণের ওপর নির্ভর করে থাকে না। ফোন ছাড়ার পর অবসর সময়ও বেড়েছে স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ হলো দ্রুত কাজ শেষ করার সুবিধা। অনলাইনে বিল দেওয়া, মানচিত্র দেখে গন্তব্যে পৌঁছানো কিংবা ডিজিটাল টিকিট সংগ্রহ করা—এসব কাজ ফোনে সহজেই করা যায়। কিন্তু ল্যামের মতে, ফোনে অল্প অল্প করে বারবার সময় দেওয়ার অভ্যাসই দিনের বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। তিনি বলেন, কেউ যদি দিনে পাঁচ ঘণ্টা ফোনে বিভিন্ন কনটেন্ট দেখেন, তাহলে সেই অভ্যাস বন্ধ করলে পাঁচ ঘণ্টাই ফিরে পাওয়া সম্ভব। ফোনের বদলে ইউটিলিটি বিল দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা, ডাকঘরে যাওয়া কিংবা লাইব্রেরিতে গিয়ে বাসের টিকিট ছাপানোর মতো কাজ করতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তবে এসব কাজের মাধ্যমে বাইরে বের হওয়া, হাঁটাচলা করা এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও তৈরি হয়। ল্যামের অভিজ্ঞতায়, ফোনে বারবার খবর দেখা, বার্তা পড়া কিংবা বিজ্ঞপ্তি পরীক্ষা করার মতো ছোট ছোট কাজ একত্রে দিনের কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করাতে পারে। এসব অভ্যাস কমানোর পর ব্যস্ত সময়েও তাঁর প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা অবসর থাকে। ফোন ব্যবহারের সময় যে অস্থিরতা ও আতঙ্ক অনুভব করতেন, সেটিও অনেক কমেছে বলে জানান তিনি। মনোযোগ ও মানসিক স্বস্তির পরিবর্তন স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা কমলে নিজের স্মৃতিশক্তি ও দিকনির্দেশনা বোঝার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার কথাও বলেছেন ল্যাম। তাঁর মতে, আগে থেকেই মানুষের মধ্যে তথ্য মনে রাখা ও আশপাশের পরিবেশ বুঝে চলার স্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে। সবকিছুর জন্য ফোনের ওপর নির্ভর করলে সেই দক্ষতা ব্যবহারের সুযোগ কমে যায়। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি; সবার স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগ একইভাবে বদলাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের আরেকটি প্রভাব হলো, অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে মন সরাতে অনেকেই স্ক্রল করতে শুরু করেন। ল্যামের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে স্মার্টফোন ছাড়া থাকা এমন মনে হতে পারে, যেন প্রয়োজনীয় মোকাবিলা-কৌশল ছাড়াই আটকে পড়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি বিকল্প অভ্যাস গড়ে তোলেন—বন্ধুকে ফোন করা, বই পড়া, হাঁটতে যাওয়া কিংবা গান শোনা। এতে অস্বস্তিকর অনুভূতি এড়িয়ে না গিয়ে সেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়েছে বলে তাঁর অভিজ্ঞতা। ল্যামের পরামর্শ, স্মার্টফোন ছাড়া জীবন সম্ভব নয় বলে ধরে নেওয়ার আগে অন্তত এক মাস চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। তবে যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণের মতো চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে স্মার্টফোনের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য তিনি আলাদা একটি সাধারণ ফোনকে দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রধান ফোন হিসেবে রাখার এবং স্মার্টফোনটি শুধু চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের বিকল্পও তুলে ধরেছেন। স্মার্টফোন পুরোপুরি বাদ দেওয়া সবার জন্য বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। তবে অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি বন্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় সীমিত রাখা কিংবা কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। ল্যামের অভিজ্ঞতার মূল বার্তা হলো, ফোনের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের সময়, মনোযোগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জন্যও জায়গা রাখা জরুরি।
নিয়মিত কফি পান করা হঠাৎ বন্ধ রাখলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্কের গবেষকেরা ৬২ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। এতে দেখা গেছে, কফি পানকারীদের অন্ত্রের জীবাণু ও সেগুলোর তৈরি রাসায়নিক উপাদানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। কফি আবার পান শুরু করার পর মেজাজ, মানসিক চাপ এবং কিছু জ্ঞানীয় কার্যক্রমেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, কফির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল নাও হতে পারে। গবেষণাটি ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা কফি পান, অন্ত্রের জীবাণু, বিপাকপ্রক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমের মধ্যকার সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করেছেন। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, ফলাফলগুলোকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। কফি পান এবং স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেলেই একটি অন্যটির সরাসরি কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বয়স ছিল ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ৩১ জন নিয়মিত কফি পান করতেন না। অন্য ৩১ জন সাধারণত প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ কাপ কফি পান করতেন। প্রথমে দুই দলের অন্ত্রের জীবাণু, বিপাকজাত রাসায়নিক উপাদান, মেজাজ, মানসিক চাপ, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি মূল্যায়ন করা হয়। এরপর নিয়মিত কফি পানকারীদের টানা দুই সপ্তাহ কফি পান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এ সময় তাঁদের শারীরিক ও আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকেরা। দুই সপ্তাহ পর অংশগ্রহণকারীদের আবার কফি পান করতে দেওয়া হয়। তাঁদের এক দল ক্যাফেইনযুক্ত এবং অন্য দল ক্যাফেইনমুক্ত কফি পান করেন। এই পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা জানতেন না, তাঁদের কোন ধরনের কফি দেওয়া হচ্ছে। পুনরায় কফি পান করার এই পর্যায় চলে তিন সপ্তাহ। কফি বন্ধ করায় অন্ত্রে কী পরিবর্তন দেখা গেল গবেষণায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি পাওয়া যায় অন্ত্রের বিপাকজাত উপাদানে। এসব উপাদান হলো শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া এবং অন্ত্রের জীবাণুর কার্যক্রমের ফলে তৈরি বা পরিবর্তিত হওয়া ক্ষুদ্র রাসায়নিক পদার্থ। নিয়মিত কফি পানকারীদের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ কফি বন্ধ রাখার পর এসব উপাদানের কয়েকটির মাত্রা বদলে যায়। গবেষকেরা অন্ত্রের জীবাণুর গঠনেও পার্থক্য শনাক্ত করেন। নিয়মিত কফি পানকারীদের অন্ত্রে ক্রিপটোব্যাকটেরিয়াম কার্টাম এবং এগারথেলা গোত্রের কিছু জীবাণু তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। দুই সপ্তাহ কফি পান বন্ধ রাখার সময় ক্রিপটোব্যাকটেরিয়াম কার্টাম–এর উপস্থিতি কমে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। কফি পুনরায় পান শুরু করলে অন্ত্রের জীবাণুর গঠনে আবার পরিবর্তন আসে। ক্যাফেইনযুক্ত ও ক্যাফেইনমুক্ত—উভয় ধরনের কফির ক্ষেত্রেই কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া মানেই তা শরীরের জন্য উপকারী, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। জীবাণুর প্রভাব নির্ভর করে তার ধরন, কার্যক্রম এবং অন্ত্রের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর। গবেষকেরা জানিয়েছেন, কফির সঙ্গে সম্পর্কিত এসব পরিবর্তন কীভাবে হজম, প্রদাহ এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে, তা আরও বিশদভাবে বোঝা প্রয়োজন। ক্যাফেইনমুক্ত কফিতেও মিলেছে কিছু পরিবর্তন কফি পুনরায় পান করার পর দুই দলের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই নিজেদের অনুভূত মানসিক চাপ, বিষণ্নতার উপসর্গ এবং আবেগপ্রবণ আচরণের কিছু সূচকে উন্নতি দেখা যায়। যেহেতু ক্যাফেইনযুক্ত ও ক্যাফেইনমুক্ত—দুই ধরনের কফি পানকারীদের মধ্যেই এ পরিবর্তন পাওয়া গেছে, তাই এর পেছনে ক্যাফেইন ছাড়াও কফির অন্য উপাদান ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। দুই দলের মধ্যে শেখা ও স্মৃতিশক্তির পরীক্ষায়ও পার্থক্য দেখা যায়। ক্যাফেইনমুক্ত কফি পানকারীদের ক্ষেত্রে শেখা ও স্মৃতির কিছু সূচকে উন্নতি পাওয়া যায়, যা ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারীদের মধ্যে একইভাবে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ক্যাফেইনযুক্ত কফির সঙ্গে মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়া এবং উদ্বেগ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কফিতে ক্যাফেইন ছাড়াও পলিফেনলসহ নানা উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। এর মধ্যে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড উল্লেখযোগ্য। এসব যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অন্ত্রের জীবাণু এগুলোকে ভেঙে আরও কিছু সক্রিয় উপাদানে রূপান্তর করতে পারে। কফির দ্রবণীয় আঁশ ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদানও অন্ত্রের জীবাণুর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। ফলে কফির প্রভাব শুধু ক্যাফেইনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। গবেষকেরা কেন সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্কের অধ্যাপক জন ক্রায়ান বলেছেন, অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে কফি কীভাবে অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যকার যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে, তার সব প্রক্রিয়া এখনো পরিষ্কার নয়। গবেষণাটি এ বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এতে কেবল সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাই ফলাফল সব বয়সী মানুষ কিংবা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই রকম হবে, তা বলা যায় না। গবেষকেরা আরও বলেছেন, ব্যক্তিভেদে অন্ত্রের জীবাণুর গঠন এবং ক্যাফেইন প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা আলাদা হতে পারে। গবেষণার প্রধান বার্তা হলো, কফি পান ও শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে জটিল সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু কফি অন্ত্রের অসুস্থতা, বিষণ্নতা কিংবা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার চিকিৎসা—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এই গবেষণা সমর্থন করে না। কফি খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, ঘুম ও ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
দীর্ঘ ১৪ বছর ভেগান খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের পর গরুর মাংসের স্টেক খেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর লাভ সু। প্রথমে ভয় ও দ্বিধায় থাকলেও কয়েকবার চিবানোর পর কাঁদতে কাঁদতে জানান, খাবারটি তাঁর খুব ভালো লেগেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর এই অভিজ্ঞতার ভিডিও আলোচনায় এসেছে। বিনোদন ও অনলাইন সংস্কৃতিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডেক্সার্টোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে ভেগান খাদ্যাভ্যাস থেকে সরে আসেন লাভ সু। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে উদ্ভিদভিত্তিক খাবার ও জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছিলেন তিনি। ভিডিওতে মাংস মুখে তোলার আগে তাঁকে উদ্বিগ্ন দেখা যায়। কাঁটাচামচে স্টেকের টুকরো তুলতে গিয়ে হাতও কাঁপছিল। পাশে থাকা স্বামী তাঁকে সাহস জোগাচ্ছিলেন। এ সময় লাভ সু জানান, ভেগান হওয়ার কারণে মানুষের বিরূপ মন্তব্যের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রথম কয়েকটি কামড়ের পর তাঁর প্রতিক্রিয়া বদলে যায়। চোখে পানি নিয়ে মাংসের স্বাদের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, স্বাদ খারাপ লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন। খাওয়ার পর সেই ধারণা পাল্টে যায়। ডেক্সার্টোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাভ সু পরে জানিয়েছেন, আগের বছরগুলোতেও মাঝেমধ্যে ভেগান খাদ্যতালিকার বাইরের কিছু খাবার খেতে ইচ্ছা করত তাঁর। তবে দীর্ঘদিন সেই ইচ্ছা দমন করেছিলেন।খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে অনুসারীদের প্রতিক্রিয়াও ছিল ভিন্ন। কেউ তাঁকে অনুসরণ বন্ধ করার কথা জানিয়েছেন, আবার অনেকে তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করার পক্ষে মন্তব্য করেছেন।
ব্রণকে সাধারণত কৈশোরের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার পরও অনেকের মুখে ব্রণ দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও থেকে যায়, আবার কারও ত্বকে নতুন করে ব্রণ দেখা দেয়। মুখের পাশাপাশি বুক, কাঁধ ও পিঠেও হতে পারে এই সমস্যা। সঠিক চিকিৎসা না নিলে ব্রণ থেকে ত্বকে কালচে দাগ ও স্থায়ী ক্ষত তৈরি হতে পারে। ফিলিপাইনে বসবাসকারী বিপণনকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতা গিলিয়ান মেগান মন্টালবোর অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। কৈশোরে তাঁর কপাল ও নাকে অল্প কয়েকটি ব্রণ উঠত। তখন সমস্যা তেমন গুরুতর ছিল না। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পর ব্রণ আবার দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। গাল ও থুতনিতে ব্রণ হওয়ায় তিনি কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখের দিকে তাকাতেও অস্বস্তি বোধ করতেন। মন্টালবোর ভাষায়, এই সমস্যা তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রতি ইতিবাচক ধারণার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। প্রায় এক বছরের মধ্যে তাঁর ব্রণ অনেকটাই সেরে যায়। তবে ত্বকে থেকে যাওয়া দাগ নিয়ে তাঁকে আরও কিছুদিন ভুগতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ একটি পরিচিত সমস্যা। এ নিয়ে লজ্জা পাওয়া বা একা একা কষ্ট সহ্য করার প্রয়োজন নেই। ব্রণের ধরন ও কারণ বুঝে চিকিৎসা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও এথনিক স্কিন প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. ক্রিস্টাল আগুহ বলেন, ব্রণের কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসকদের যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ব্রণের সমস্যায় ভুগলে একা কষ্ট না পেয়ে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণের কারণ কী? ত্বকের ক্ষুদ্র রন্ধ্র তেল, মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ তৈরি হতে পারে। সাধারণ ছোট ব্রণ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে কমে যেতে পারে। কিন্তু বারবার ব্রণ উঠতে থাকলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা ত্বকের রং ও গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কৈশোরে সাধারণত কপাল, নাক ও গালে ব্রণ বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্রণ চোয়ালের রেখা ও থুতনির আশপাশে বেশি দেখা যেতে পারে। স্টেরয়েডজাতীয় কিছু ওষুধ ব্যবহারের কারণেও কারও কারও ব্রণ হতে পারে। ব্রণের পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পরিবেশ এবং খাদ্যাভ্যাসের মতো একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে কারণ এক নয়। মুখ ও শরীরের অন্য অংশে ব্রণ তৈরির প্রক্রিয়ায় মিল থাকলেও শরীরের ব্রণের ক্ষেত্রে ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা কখনো কখনো বেশি হতে পারে। ব্রণ দেখতে একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। কিছু ব্রণ ছোট, সাদা ও ব্যথাহীন দানার মতো দেখা যায়। আবার কিছু ব্রণ লাল, ফুলে থাকা ও ব্যথাযুক্ত হতে পারে। ত্বকের গভীরে তৈরি হওয়া বড় ও যন্ত্রণাদায়ক গুটিকে সিস্টিক ব্রণ বলা হয়। ব্রণের ধরন বুঝে চিকিৎসা নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রণের চিকিৎসায় কী কী উপায় রয়েছে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রণের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার তীব্রতা, কারণ এবং ত্বকের অবস্থার ওপর। হালকা ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড কিংবা অ্যাডাপালিনের মতো উপাদানযুক্ত ফেসওয়াশ বা ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এসব উপাদান ত্বকের রন্ধ্র পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্রণ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক বা ট্রেটিনয়েনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে। গুরুতর সিস্টিক ব্রণ কিংবা অন্য চিকিৎসায় কাজ না হলে আইসোট্রেটিনয়েনের মতো ওষুধ বিবেচনা করা হয়। তবে এসব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা রয়েছে। তাই নিজে থেকে ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। নারীদের হরমোনজনিত ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসাপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিংবা স্পাইরোনোল্যাকটোনের মতো ওষুধ দিতে পারেন। কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে, তা ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হয়। কখনো কখনো দ্রুত কোনো নির্দিষ্ট ব্রণের ফোলা ও প্রদাহ কমাতে চিকিৎসকেরা কর্টিসোন ইনজেকশন ব্যবহার করেন। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প নয়। ব্রণ থেকে বের হওয়া তরল শোষণ করতে হাইড্রোকলয়েডযুক্ত প্যাচও ব্যবহার করা হয়। এসব প্যাচ ব্রণ খোঁচানো থেকে বিরত থাকতেও সাহায্য করতে পারে। তবে সব ধরনের ব্রণের জন্য এগুলো উপযুক্ত নয়। ত্বকে দাগ বা অন্য সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্রণ খোঁচানো কেন ক্ষতিকর ব্রণ উঠলে অনেকেই তা নখ দিয়ে খুঁটতে বা চেপে বের করতে চান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফাইন ডার্মাটোলজির প্রতিষ্ঠাতা ডা. লরেন ফাইন বলেন, ব্রণ খোঁচানো বা চেপে ধরলে সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ত্বকের প্রদাহ আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন ব্রণ তৈরি হওয়া, কালচে দাগ পড়া এবং স্থায়ী ক্ষতের ঝুঁকিও বাড়ে। গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে প্রদাহের পর অতিরিক্ত রঞ্জক পদার্থ তৈরি হওয়ায় দাগ দূর হতে বেশি সময় লাগতে পারে। ব্রণ সেরে যাওয়ার পরও ত্বকে দাগ থেকে যেতে পারে। এ ধরনের দাগ কমাতে গ্লাইকোলিক অ্যাসিডযুক্ত কিছু ত্বক পরিচর্যার পণ্য সহায়ক হতে পারে। অ্যাডাপালিন ও রেটিনলযুক্ত পণ্যও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। তবে গভীর বা গুরুতর ক্ষতের জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ লেজারের মতো চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। চিকিৎসা শুরু করার পর ফল পেতে সময় লাগতে পারে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের শুরুতে কারও কারও ব্রণ সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনও দেখা যায়। তাই ত্বকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং সমস্যা বাড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের যত্নের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও জরুরি মন্টালবোর অভিজ্ঞতা দেখায়, ব্রণের প্রভাব শুধু ত্বকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর বাবা নিজেও ব্রণের সমস্যায় ভুগেছিলেন। তিনিই তাঁকে চিকিৎসকের কাছে যেতে এবং উপযুক্ত পণ্য খুঁজে নিতে উৎসাহিত করেন। কঠিন সময়ে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সমর্থনও তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল। মন্টালবো জানান, ব্রণের সমস্যা যখন সবচেয়ে বেশি ছিল, তখন ওই বন্ধু তাঁর সঙ্গে বিদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। একসময় বন্ধু তাঁকে জানান, তাঁর মুখের ব্রণ কখনো খেয়ালই করেননি। এই অভিজ্ঞতা মন্টালবোকে বুঝতে সাহায্য করে, অন্যের কাছে একজন মানুষের চেহারার চেয়ে তাঁর আচরণ ও ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা ত্বকে কালচে দাগ ও ক্ষত তৈরি করলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা, ধৈর্য এবং কাছের মানুষের সহযোগিতা এই সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে দেশে বীমা কোম্পানিতে চাকরি করতেন মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। কিন্তু জীবনের লক্ষ্য ছিল আরও বড় কিছু করার। সেই স্বপ্ন নিয়ে ২০০৮ সালে ডাইভারসিটি ভিসায় পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্কে এসে শুরু করেন রেস্টুরেন্টে থালাবাসন ধোয়ার কাজ। দীর্ঘ সংগ্রামের পর সেই খলিলুর রহমানই এখন নিউইয়র্কের পরিচিত বাংলাদেশি শেফ ও রেস্টুরেন্ট উদ্যোক্তা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত খলিল বিরিয়ানি হাউজের ব্যবসা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন শাখা চালু হয়েছে ব্রুকলিনে। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ব্রুকলিনের পিটকিন এভিনিউতে খলিল বিরিয়ানি হাউজের নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চলমান নিউইয়র্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে নতুন রেস্টুরেন্টটির যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও নতুন এই শাখা চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। নিউইয়র্ক সিটির রেস্টুরেন্ট নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ২৭৬৮ পিটকিন এভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০৮। তবে খলিলুর রহমানের আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথ সহজ ছিল না। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ভালো চাকরি করলেও যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাঁকে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়। প্রথমে একটি রেস্টুরেন্টে ডিশওয়াশার হিসেবে কাজ নেন। এরপর কখনো কিচেন হেলপার, কখনো বুচারের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এভাবে প্রায় ছয় বছর রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। সেই সময়ই নিজের একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে বীমা কোম্পানির চাকরি ভালোই ছিল। কিন্তু তিনি আরও বড় কিছু করতে চেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে রেস্টুরেন্টে কাজ করতে গিয়েই বুঝতে পারেন, নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হলে শুধু পরিশ্রম নয়, রান্না ও রেস্টুরেন্ট পরিচালনার বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাও প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য নিয়ে নিউইয়র্কের ইনস্টিটিউট অব কালিনারি এডুকেশনে ভর্তি হন তিনি। পড়াশোনার খরচ চালাতে নিতে হয় শিক্ষা ঋণ। প্রায় চার বছরের প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৮ সালে সার্টিফায়েড শেফ হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই নিজের ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন খলিলুর রহমান। ২০১৭ সালে ব্রঙ্কসে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করে খলিল বিরিয়ানি হাউজ। শুরুর সেই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি খাবারের বাজারে পরিচিত নাম হয়ে ওঠে। ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্রঙ্কসের বাইরে কুইন্সের জ্যামাইকা ও এলমহার্স্টেও কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কজুড়ে এর ছয়টি লোকেশনে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ব্রুকলিনে নতুন শাখা চালুর মাধ্যমে আরও একটি এলাকায় পৌঁছাল প্রতিষ্ঠানটি। খলিলের রেস্টুরেন্টগুলোর অন্যতম আকর্ষণ বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার। কাচ্চি বিরিয়ানি, বিফ তেহারি, চিকেন বিরিয়ানি, রোস্ট পোলাও, বিফ কারি, চিকেন টিক্কা, তান্দুরি চিকেনসহ বিভিন্ন ধরনের হালাল খাবার পরিবেশন করা হয় এখানে। পাশাপাশি রয়েছে মাছ, সবজি, কাবাব, সমুচা ও অন্যান্য দেশীয় খাবারের আয়োজন। বাংলাদেশি ক্রেতাদের পাশাপাশি ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছেও এসব খাবার পরিচিত করে তোলার চেষ্টা করছেন খলিলুর রহমান। তাঁর তৈরি বিশেষ একটি খাবারের নাম ‘বাইডেন বিরিয়ানি’। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় উপলক্ষে এই বিরিয়ানি তৈরি করেছিলেন তিনি। প্রচলিত বিরিয়ানির তুলনায় এতে মসলার ব্যবহার কম রাখা হয়, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের মানুষের কাছেও খাবারটি সহজে গ্রহণযোগ্য হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, খাবারের স্বাদ ও মসলার ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় তাঁর সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসে ‘পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার অর্জন করেন খলিলুর রহমান। আয়োজকদের প্রকাশিত বিজয়ীদের তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম শেফ হিসেবে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে। একই বছর কমিউনিটিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টস অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও পান তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসীদের কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রেখেছেন খলিলুর রহমান। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে তাঁর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ জনের বেশি বাঙালি অভিবাসীর কর্মসংস্থানের তথ্য উঠে আসে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিউইয়র্কের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশেও রান্নাবিষয়ক দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছেন খলিলুর রহমান। ২০২৪ সালে ঢাকার পল্টনে চালু করেন খলিল কালিনারি আর্টস সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটিতে তরুণদের পেশাদার রান্নার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এবং ১৭ জন কর্মী ছিলেন। রান্নাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী তরুণদের দক্ষ করে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এদিকে ব্রুকলিনে নতুন শাখা চালুর বিষয়ে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকা ও আশপাশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে। তাঁদের কাছে হালাল ও মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটির মানুষের মধ্যেও বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। খাবারের স্বাদ, গুণগত মান ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশে বীমা কোম্পানির চাকরি থেকে নিউইয়র্কের রেস্টুরেন্টে ডিশওয়াশারের কাজ, এরপর পেশাদার শেফ হয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা। খলিলুর রহমানের দীর্ঘ এই পথচলায় রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, প্রশিক্ষণ ও ধাপে ধাপে ব্যবসা সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা। ব্রঙ্কসের ছোট একটি রেস্টুরেন্ট দিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ এখন ব্রুকলিনেও পৌঁছেছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের বহুজাতিক খাদ্যসংস্কৃতিতে বাংলাদেশি বিরিয়ানি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চীনে মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়ে নিজের তারুণ্যদীপ্ত চেহারার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন ৪১ বছর বয়সী এক বাবা। তাঁর মেয়ের বয়স ২১ বছর। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে বাবা ও মেয়েকে একসঙ্গে দেখে অনেকেই তাঁদের ভাইবোন বলে ভুল করেন। আগস্টের শেষ দিকে চীনের গুয়াংডং প্রদেশের চাওঝৌ শহরে ধারণ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ওই বাবা নিজেই জানান, কীভাবে তিনি নিজের সুস্থতা ও তারুণ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন। চীনা সংবাদমাধ্যম হাইবাও নিউজের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচিত ওই ব্যক্তির পারিবারিক নাম ঝেং। তাঁর জন্ম ১৯৮৬ সালে এবং মেয়ের জন্ম ২০০৫ সালে। অর্থাৎ বাবা ও মেয়ের বয়সের ব্যবধান মাত্র ২০ বছর। অল্প বয়সে বাবা হওয়ার পাশাপাশি নিজের চেহারা ও শারীরিক গঠনের কারণেও তিনি সহজে অন্যদের নজরে পড়েন। গত ২৮ আগস্ট মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে লাল রঙের টি শার্ট ও কালো প্যান্ট পরে হাজির হন ঝেং। লম্বা গড়ন, তরুণদের মতো পোশাক এবং বয়সের তুলনায় কম বয়সী দেখানোর কারণে তাঁকে দেখে অনেকেই অবাক হন। বিয়ের অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দর্শকদের একটি বড় অংশও প্রথমে বুঝতে পারেননি, তরুণ দেখতে ওই ব্যক্তিই কনের বাবা। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা ঝেংয়ের কাছে নতুন নয়। তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে বাইরে বের হলে অপরিচিত মানুষেরা প্রায়ই তাঁদের ভাইবোন বলে মনে করেন। কখনো কখনো তাঁদের প্রেমিক-প্রেমিকাও মনে করা হয়। এমন ভুল বোঝাবুঝির সঙ্গে তিনি অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। এমনকি মেয়ের স্বামীও প্রথমবার শ্বশুরকে দেখে অবাক হয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঝেংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম পরিচয়ের সময় তাঁর জামাই ধারণা করতে পারেননি যে এত তরুণ দেখতে একজন মানুষ তাঁর হবু স্ত্রীর বাবা হতে পারেন। বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ৪১ বছর বয়সেও ঝেং এত তরুণ দেখান কীভাবে? তাঁর বিশেষ কোনো খাবার, ব্যায়াম কিংবা ত্বকের যত্নের পদ্ধতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়। এ বিষয়ে ঝেং যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা বেশ সাধারণ। তাঁর দাবি, তিনি নিজের মানসিক অবস্থাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন এবং খুব কমই রাগ করেন। দৈনন্দিন জীবনে অযথা উত্তেজনা বা মানসিক চাপ এড়িয়ে চলাকে তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস রয়েছে তাঁর। ঝেং জানান, তিনি দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারেন। নিজের বিশ্রাম ও ঘুমের অভ্যাসকে সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন তিনি। নিয়মিত শরীরচর্চাও তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। বিশেষ করে ব্যাডমিন্টন খেলতে পছন্দ করেন ঝেং। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন এই খেলায় অংশ নেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, নিয়মিত খেলাধুলা শরীরকে সচল ও ফিট রাখতে সহায়তা করে। তবে ঝেংয়ের এসব অভ্যাসই যে তাঁর চেহারা অপেক্ষাকৃত তরুণ দেখানোর একমাত্র কারণ, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। মানুষের চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ার ক্ষেত্রে বংশগত বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম এবং পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু একজন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থেকে তারুণ্য ধরে রাখার নির্দিষ্ট কোনো সূত্র নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রত্যেকের ঘুমের চাহিদা এক নয়। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। ফলে ঝেংয়ের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস সবার জন্য অনুসরণীয় কোনো নিয়ম নয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তাঁর চেহারা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার বাবা ও মেয়ের বয়সের তুলনামূলক কম ব্যবধান নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তাঁর নিয়মিত খেলাধুলা ও জীবনযাপনের অভ্যাস। ঘটনাটি নিয়ে গত ২৯ আগস্ট চীনের একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি স্থান পায়। ভিয়েতনামভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেস ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঝেংয়ের বয়স, মেয়ের বিয়ের ভিডিও এবং তাঁর জীবনযাপনের অভ্যাস তুলে ধরে। চীনের গুয়াংডং প্রদেশের এই বাবার গল্প শেষ পর্যন্ত একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের ভিডিও থেকেই আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হওয়া একজন বাবাকে প্রথম দেখায় অনেকে ভাই ভেবে ভুল করেছেন, আর সেই ঘটনাই তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত করে তুলেছে। ৪১ বছর বয়সী ঝেং অবশ্য নিজের তারুণ্য ধরে রাখার পেছনে কোনো বিশেষ কৌশলের কথা বলেননি। শান্ত থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলাকেই তিনি নিজের দৈনন্দিন অভ্যাস হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকলেও বয়সের তুলনায় তরুণ দেখানোর পেছনে ঠিক কোন বিষয়টি কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
পোষা কুকুর বা বিড়ালকে পাশে নিয়ে ঘুমানো অনেকের কাছেই স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে, রাতে পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে বা একই বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস ঘুমের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো মানুষের মধ্যে ঘুমের মান তুলনামূলকভাবে খারাপ এবং অনিদ্রার উপসর্গ বেশি দেখা যায়। তবে গবেষণাটি এমন অভ্যাসকে সরাসরি ঘুমের সমস্যার কারণ হিসেবে প্রমাণ করেনি। গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের অভ্যাস নিয়ে প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক জানিয়েছিলেন, রাতের অন্তত কিছু সময় তারা পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমান। গবেষণায় ‘পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো’ বলতে একই বিছানায় শোয়া বোঝানো হয়নি শুধু, একই ঘরে রাতের কিছু সময় ঘুমানোও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর গবেষকেরা পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো এবং না ঘুমানো ব্যক্তিদের ঘুমের অভ্যাস তুলনা করেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানো ব্যক্তিদের ঘুমের মান কম এবং অনিদ্রার উপসর্গ তুলনামূলক বেশি। বয়স, লিঙ্গসহ বিভিন্ন জনমিতিক পার্থক্য হিসাব করার পরও এই সম্পর্ক দেখা যায়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, প্রশ্নপত্রভিত্তিক এই গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর কারণেই ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়েছে। পোষা প্রাণীর ধরন বিবেচনা করলে গবেষণায় আরও একটি পার্থক্য পাওয়া যায়। কুকুরের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানোর ক্ষেত্রে ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গেলেও বিড়ালের ক্ষেত্রে একই ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর প্রভাব সব প্রাণীর ক্ষেত্রে একই হতে পারে না। প্রাণীর নড়াচড়া, শব্দ, আকার এবং রাতে মানুষের ঘুমের মধ্যে তাদের আচরণও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো অংশগ্রহণকারীদের ৯৩ শতাংশ মনে করেছিলেন, তাদের পোষা প্রাণী ঘুমের ওপর হয় ইতিবাচক নয়তো নিরপেক্ষ প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ যারা নিজেদের ঘুমের মান নিয়ে সমস্যায় ছিলেন, তাদের অনেকেই সেই সমস্যার সঙ্গে পোষা প্রাণীর উপস্থিতির কোনো সম্পর্ক দেখেননি। গবেষকদের মতে, এই বিষয়টি ইঙ্গিত দিতে পারে যে অনেক মানুষ রাতে পোষা প্রাণীর কারণে ঘুমের ওপর তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম ব্যাঘাত সম্পর্কে সচেতন নন। তবে এর অর্থ এই নয় যে পোষা প্রাণী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বরং দিনের বেলায় পোষা প্রাণী মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় বিভিন্নভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিতে পারে, দৈনন্দিন রুটিন ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং একাকিত্ব কমিয়ে সঙ্গ ও মানসিক স্বস্তি দিতে পারে। তাই পোষা প্রাণীর সামগ্রিক উপকারিতা এবং রাতে ঘুমের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, রাতে পোষা প্রাণী একই ঘরে থাকলে শব্দ, নড়াচড়া কিংবা শরীরের তাপমাত্রার মতো বিষয় ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি ঘুমাতে যাওয়ার পর বারবার জেগে ওঠেন বা গভীর ঘুমে যেতে সমস্যা হয়, তাহলে ঘরের পরিবেশের এসব বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীর উপস্থিতি মানসিক স্বস্তি দিলেও একই সময়ে তাদের ঘুমের ধারাবাহিকতায় সূক্ষ্ম ব্যাঘাত তৈরি হতে পারে। তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি ছিল জরিপভিত্তিক গবেষণা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। ফলে তাদের ঘুমের সমস্যা পোষা প্রাণীর কারণে হয়েছে কি না, তা সরাসরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের সঙ্গী, সন্তান বা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতেন কি না, সেই বিষয়টিও আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। গবেষণাটির ফল প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Scientific Reports-এ। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ছিল “Co-sleeping with pets, stress, and sleep in a nationally-representative sample of United States adults”। গবেষণার প্রধান লেখক ব্রায়ান এন. চিন ট্রিনিটি কলেজের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক। পরবর্তী সময়ে তিনি The Conversation-এ গবেষণার ফল ও এর তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন, যা পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম পুনঃপ্রকাশ করেছে। যারা পোষা প্রাণীকে সঙ্গে নিয়েই ঘুমাতে চান, তাদের জন্য গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ দিয়েছেন। ঘুমানোর জায়গাটি যেন মানুষ ও পোষা প্রাণী উভয়ের জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত হয়, তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। বিছানার চাদর ও অন্যান্য কাপড় নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিবর্তন করা এবং পোষা প্রাণীর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাতের রুটিন তৈরি করাও সহায়ক হতে পারে। তবে কোন অভ্যাস সবচেয়ে কার্যকর, তা নির্ধারণ করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে গবেষণাটি পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোকে নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং এটি দেখিয়েছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর অভ্যাসের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরও সতর্কভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে কারও নিয়মিত ঘুমে সমস্যা থাকলে এবং রাতে পোষা প্রাণী একই ঘরে থাকলে, ঘুমের পরিবেশ ও অভ্যাসের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ভবিষ্যতের গবেষণায় আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে কোন ধরনের মানুষ বা কোন ধরনের পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রে এই প্রভাব বেশি দেখা যায়, সেটিও স্পষ্ট হতে পারে। সূত্র: Scientific Reports, The Conversation
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।