দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের স্বার্থে নবগঠিত সরকারকে প্রতিটি ক্ষেত্রে গঠনমূলক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদে জনগণের মৌলিক অধিকারের কথা বলে গণতন্ত্রকে আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে চায়। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার প্রাক্কালে দলীয় প্রতিনিধিদের আগামী দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, “দীর্ঘদিন এই দেশের মানুষ ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল। এবার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের রায় দিয়েছে। ভোটাররা যে পাহাড়সম প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন, তা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও ইমানি দায়িত্ব। আমরা জনগণের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।” আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সংসদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে একটি ‘নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করে জামায়াত আমির বলেন, “সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষ যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে, তবেই দেশের গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। আমরা দায়বদ্ধতার সাথে কাজ করলে যেকোনো জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।” জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র করার ওপর জোর দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হাজারো প্রাণ আর পঙ্গুত্বের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে আমরা বৃথা যেতে দেব না। যদি আমরা ‘জুলাই বিপ্লব’কে ভুলে যাই, তবে ফ্যাসিবাদ আবারো ফিরে আসার সুযোগ পাবে। ছাত্র-জনতা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজপথে রক্ত দিয়েছে, সংসদে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রশ্নে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না।” অনুষ্ঠানে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের এক বিশাল বহর উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, মো. সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মুফতি আমির হামজা এবং মাসুদ সাঈদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জামায়াতের সংসদীয় দলের নেতৃত্ব এবং সংসদে বিরোধী দলীয় ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভাবনীয় উত্থানে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমগুলোতে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জামায়াতের এই বিজয়কে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় ধরণের ‘হুমকি’ ও ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে অভিহিত করে ধারাবাহিক বিশ্লেষণ প্রচার করছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর দাবি, ভারতবিরোধী হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী এখন বাংলাদেশের সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জামায়াত ও তাদের নতুন মিত্র জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পাওয়ায় দিল্লির নিরাপত্তা সমীকরণ ও কৌশলগত হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে এই জোটের জয় ভারতকে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। ইন্ডিয়া টুডে তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জামায়াত ও এনসিপি সীমান্ত অঞ্চলে তাদের দখল মজবুত করেছে যা ভারতের 'সেভেন সিস্টার্স' বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইস্টার্ন কমান্ডের সাবেক জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানাপ্রতাপ কলিতা মনে করেন, গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী মানুষের ভারতবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়েই জামায়াত এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও নিউজ১৮-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে এটি জামায়াতের সবচেয়ে বড় উত্থান। ১৯৯১ সালে ১৮টি ও ২০০১ সালে ১৭টি আসন পেলেও এবার একলাফে তারা ৬৮টি আসন জিতেছে। প্রতিবেদনে সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও লালমনিরহাটের মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত জেলাগুলোতে জামায়াতের জয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অঞ্চলে ধর্মীয় মেরুকরণ ও পাকিস্তানঘনিষ্ঠ আদর্শ ভারতের জন্য ‘সিঁদুরে মেঘ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এএনআই এবং হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াত জোটের ৬৮টি আসনের মধ্যে ৫১টিই ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়। এটি ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। এমনকি ভারতের ডানপন্থি নিউজ পোর্টাল অপইন্ডিয়া দাবি করেছে, এই নির্বাচনে ভোটারদের মাঝে এক ধরণের তীব্র ভারতবিরোধী মনোভাব কাজ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় মিডিয়াগুলো নরেন্দ্র মোদি সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের আগামী দিনের ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে নয়াদিল্লিকে এখন এক নতুন ও কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন ও অনুকরণীয় নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত জামায়াত এমপিরা। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কোনো শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স ফ্রি) গাড়ি এবং সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনের প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। মূলত ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর সিলেটে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যে ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটি তারই বাস্তবায়ন। সেদিন তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, "আগামীতে আমাদের একজনও যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তবে তাঁরা কেউ রাষ্ট্রীয় প্লট নেবেন না এবং বিনা ট্যাক্সের গাড়িতে চড়বেন না।" এই ঘোষণাটি তখন দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। অ্যাডভোকেট শিশির মনির তাঁর পোস্টে আমিরে জামায়াতের সেই বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে আগামীর রাজনৈতিক গতিপথের একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে দেশের মানুষের জন্য প্রতিটি মানবিক ও জনকল্যাণমুখী কাজে তাঁরা সরকারের সহযোগী হয়ে কাজ করবেন। তবে সরকার যদি পুনরায় পুরোনো কায়দায় অনিয়ম বা দুর্নীতির পথে হাঁটে, তবে জামায়াত চুপ থাকবে না। তিনি আরও জানান, কোনো ভুলত্রুটি দেখলে তাঁরা প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে সরকারকে সংশোধনের পরামর্শ দেবেন। যদি তাতে কাজ না হয়, তবে অতীতে যেভাবে জীবন বাজি রেখে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন, আগামীতেও দেশ ও জনগণের স্বার্থে সেই আপসহীন অবস্থান বজায় রাখবেন। নবনির্বাচিত এমপিদের এমন নির্লোভ অবস্থান এবং দায়বদ্ধতা সাধারণ ভোটারদের মাঝে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিলাসবহুল সুবিধা বর্জনের এই সিদ্ধান্ত দেশের অন্যান্য রাজনীতিবিদদের জন্যও একটি বড় নৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করবে এবং স্বচ্ছ রাজনীতির পথ প্রশস্ত করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনে এক অভূতপূর্ব বিজয়ের মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বৃহত্তর সিলেটের প্রখ্যাত আলেম, শিক্ষক ও সমাজসেবক মুফতি মাওলানা আবুল হাসান। দীর্ঘকাল মসজিদের মিম্বর থেকে দ্বীনি দাওয়াত ও সমাজ সংস্কারের কাজে নিয়োজিত থাকার পর এবার তিনি রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়নকারী সর্বোচ্চ ফোরামে পা রাখলেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি এই বিশাল জয় অর্জন করেন। বিজয়ের পর দেওয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মুফতি মাওলানা আবুল হাসান মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি সিলেট-৫ আসনের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, তা অটুট রাখা আমার নৈতিক দায়িত্ব। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেও আমি যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, তার ঋণ শোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” তিনি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী এবং জোটের সকল নেতাকর্মীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সাথে তাঁর প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মামুনুর রশীদ মামুনের প্রতিও সৌজন্য ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। আগামীর পাঁচ বছর নিজেকে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। একনজরে মুফতি মাওলানা আবুল হাসানের বর্ণাঢ্য জীবন: ১৯৬৬ সালের ১৫ অক্টোবর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মাজরগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব। শৈশবে হিফজুল কোরআন সম্পন্ন করার পর তিনি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাওরায়ে হাদিস ও ফতওয়া বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের বিখ্যাত জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া থেকে ফতওয়া ও ইসলামি গবেষণায় বিশেষ প্রশিক্ষণ লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন মাদ্রাসায় মুফতি, মুহাদ্দিস ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় মুকাম মসজিদের খতিব হিসেবে দীর্ঘকাল দ্বীনি খেদমত করে আসছেন। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রদ্ধাভাজন ভাবমূর্তিই তাঁকে এই ঐতিহাসিক বিজয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এক বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা জানাল জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, তারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অংশ হচ্ছে না; বরং জাতীয় সংসদে একটি ‘শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল’ বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে তাঁর সাথে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক চাঞ্চল্যকর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। ডা. তাহের জানান, দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মূলত দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে নতুন সরকারকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে আদর্শিক বা কৌশলগত কোনো মতবিরোধ তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। তবে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের কল্যাণ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার যদি যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে এবং সংসদে তার প্রতিবাদ জানাতে দ্বিধা করবে না।” উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের পর দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সরাসরি সাক্ষাৎকে আগামীর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে জামায়াত আমীরের পাশে ছিলেন ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। সংসদে বিএনপি ও জামায়াতের এই নতুন ‘সরকার-বিরোধী দল’ সম্পর্ক বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি যখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন ও আধুনিক চর্চার সূচনা করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া ১১-দলীয় জোট এবার ঘোষণা করেছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বা শ্যাডো ক্যাবিনেট গঠনের। আজ রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ছায়া মন্ত্রিসভার গুরুত্ব ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি জানান, একটি পরিপক্ব গণতন্ত্রে শুধু ক্ষমতাসীন দলই দেশ চালায় না, বরং যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে তাদেরও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হয়। শিশির মনির বলেন, নির্বাচনে দুই প্রধান জোটের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান মাত্র ২.১৭ শতাংশ। এর অর্থ হলো, দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই আমরা এই ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করছি। এটি মূলত সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। ল’ মিনিস্ট্রি, ফাইন্যান্স, ফরেন অ্যাফেয়ার্স কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর বিপরীতে আমাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের ভালো কাজকে আমরা যেমন সাধুবাদ জানাব, তেমনি আইন লঙ্ঘন বা স্বেচ্ছাচারিতার ক্ষেত্রে সংসদে এবং সংসদের বাইরে কঠোর ও তাত্ত্বিক সমালোচনা নিয়ে হাজির হব। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচনের বৈধতা এবং যে জুলাই সনদের অধীনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। যদি নতুন সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক কাজ বা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর না করে, তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হবে। গুম-খুন বিরোধী অধ্যাদেশ কিংবা বিচার বিভাগীয় সচিবালয় পৃথকীকরণের মতো বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া মানে নিজেদের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা। এর আগে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করে বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই টিম একটি ‘ওয়াচডগ’ বা অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এত সুসংগঠিতভাবে সরকারকে পর্যবেক্ষণের ঘোষণা দিল। এই উদ্যোগটি একদিকে যেমন সরকারকে দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করবে, অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে স্বীকৃতি দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের ফলাফলের গভীরে থাকা এক জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার দিকে জাতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি নতুন সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে উত্থান ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপি জোট প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোট পেলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে দেশের একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি বর্তমান “ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট” পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, এই পদ্ধতিতে লক্ষ লক্ষ ভোটারের ইচ্ছার প্রতিফলন আসন সংখ্যায় যথাযথভাবে ঘটে না। বিশেষ করে ৫৩টি আসনে বিএনপির জয়ের ব্যবধান ছিল অত্যন্ত সামান্য—কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার মাত্র। আইনি লড়াই ও স্বচ্ছতার দাবি নির্বাচনী স্বচ্ছতা রক্ষায় জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সুনির্দিষ্ট যেসব আসনে ভোট গণনা বা অনিয়মের প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে তাঁর দল আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে ফলাফল পর্যালোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এটি কোনোভাবেই জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং জনগণের প্রতিটি ভোটের মর্যাদা রক্ষার একটি দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা। তিনি নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই অভিযোগগুলো যাচাই করার আহ্বান জানান। জুলাই সনদ ও গণভোটের ম্যান্ডেট গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় এটিকে পরিবর্তনের জন্য একটি ‘জাতীয় ম্যান্ডেট’ হিসেবে অভিহিত করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সরকার এই ম্যান্ডেটকে সম্মান করবে এবং সংস্কারকে কেবল স্লোগান হিসেবে না রেখে একটি ‘পবিত্র আমানত’ হিসেবে বিবেচনা করবে। নতুন সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের প্রমাণ করতে হবে যে আপনারা সংবিধানের নিয়ম মেনে দেশ পরিচালনা করবেন। আইনের শাসন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।” তিনি জয়ী দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো কর্মী আইন লঙ্ঘন করলে তাঁকে পক্ষপাতহীনভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শান্তি ও শৃঙ্খলার বার্তা ভোট পরবর্তী সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াত আমির। তিনি জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে সকলকে পরিপক্বতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধ প্রদর্শনের আহ্বান জানান। পরিশেষে, তিনি একটি সৎ, সংযমী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে সকলকে শান্ত থেকে কাজ করার অনুরোধ করেন।
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও দায়িত্বশীল বার্তা দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ৭৭টি আসনে জয়লাভের মাধ্যমে সংসদে নিজেদের শক্তি প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি করে 'শক্তিশালী বিরোধী দল' গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। জনগণের প্রতি আমিরের বিশেষ বার্তা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহ: ফলাফলের স্বীকৃতি: ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলকে সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: তিনি পরাজয়কে হাতাশা হিসেবে না দেখে একে ভবিষ্যতের ভিত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ৭৭টি আসন প্রাপ্তিকে তিনি আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। সংগ্রামী কর্মীদের সম্মান: কর্মীদের ত্যাগ ও অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও হয়রানি উপেক্ষা করে তাদের সাহসিকতাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে। সংসদে ভূমিকা: সংসদে একটি নীতিবান ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন ১১ দলীয় জোটের এই শীর্ষ নেতা। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: মানুষের আস্থা অর্জন এবং দেশের স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য নিবেদিত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এটি কেবল একটি ফলাফল নয়, বরং নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার নতুন শুরু।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে নতুন এক আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই। অন্তত ৩০টি সংসদীয় আসনে সুপরিকল্পিতভাবে ভোট কারচুপি এবং ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এই বিস্ফোরক দাবি করেন। জামায়াত নেতার দাবি অনুযায়ী, অনেক আসনে ফলাফল বিবরণী বা রেজাল্ট শিটে সরাসরি ঘষামাজা করা হয়েছে এবং পেশীশক্তি ব্যবহার করে প্রকৃত জনমতকে আড়াল করা হয়েছে। এই আসনগুলোতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃগণনার আবেদন জানিয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে, অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই সকল আসনের বিজয়ীদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পাঠ স্থগিত রাখারও জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ৩০টি আসনের তালিকায় রয়েছে— পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩ ও ৫, ঢাকা-৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৭-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, কারচুপি না হলে এই আসনগুলোতে জোটের প্রার্থীরা সুনিশ্চিতভাবে জয়ী হতেন। এদিকে ঢাকা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী ড. এম এ মান্নান এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন, ভোট গণনা শেষ হওয়ার অনেক আগেই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল পক্ষপাতমূলকভাবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ইশরাক হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে, যা নির্বাচনের সামগ্রিক স্বচ্ছতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা জনগণের পবিত্র আমানত রক্ষায় শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। যদিও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে কুষ্টিয়ায়। নির্বাচনের মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মো. আমির হামজা তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির পরাজিত প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এই হৃদ্যতাপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আমির হামজা নিজ হাতে জাকির হোসেন সরকারকে মিষ্টিমুখ করান, যা উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দুই নেতার এই কুশল বিনিময়ের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। সাক্ষাৎকালে দুই দলের নেতারাই কুষ্টিয়ার সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। আমির হামজা বলেন, “নির্বাচন ছিল একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যা এখন শেষ। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য কুষ্টিয়ার মানুষের কল্যাণ এবং আধুনিক জেলা হিসেবে একে গড়ে তোলা। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।” অন্যদিকে, বিএনপির পরাজিত প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার নবনির্বাচিত এমপিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে সবার আগে। কুষ্টিয়ার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমরা যেকোনো গঠনমূলক কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।” তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের এই ধারা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আমির হামজা ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার পান ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৯৯ ভোট। পরাজয় মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজাউদ্দীন জোয়ার্দার, কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকসহ জামায়াত ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক আপসহীন বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসী, কিন্তু এই শান্তিকে কেউ যেন তাদের ‘দুর্বলতা’ হিসেবে গণ্য না করে। বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোটের সমর্থক এবং বিএনপির মতের সাথে ভিন্নতা রাখা নিরীহ ভোটাররা যেভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন, আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জুলাই বিপ্লবের চেতনা মানুষের হৃদয়ে এখনো জীবিত। এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না—সেটা কোনো পক্ষ থেকেই হোক না কেন।” আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কড়া আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। জামায়াত আমির তাঁর দলের নবনির্বাচিত এমপি এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, “দেরি না করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান। হামলার প্রতিটি ঘটনার ছবি ও ভিডিওসহ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করুন। প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করে সত্যকে জাতির সামনে তুলে ধরুন এবং এসব প্রমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দিন।” নতুন সরকার গঠনের অপেক্ষায় থাকা বিএনপির প্রতি একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের ম্যান্ডেট কোনো যথেচ্ছ ব্যবহারের লাইসেন্স নয়, এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দলের কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আগামীর সরকারের প্রধান দায়িত্ব।” বক্তব্যের শেষে তিনি জুলাই সনদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, তারা আর কখনো ভয়-ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না। সংঘাতমুক্ত ও নিরাপদ এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক সহিংসতার খবর আসতে শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে, ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিজয়ী দলের একদল নেতাকর্মী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর চড়াও হচ্ছেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার চিত্র জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দলটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে দেশব্যাপী হওয়া এই সহিংসতার বাস্তব খতিয়ান তুলে ধরা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিত হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমেরিকা বাংলা পাঠকদের জন্য জামায়াতের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল: নির্বাচন শেষ হতে না হতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিহিংসার রাজনীতি। কুয়েট ভিসি থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থী, এমনকি রাজনৈতিক মিত্রদের ওপরও হামলার খবর আসছে। ১৩ ফেব্রয়ারি ২০২৬ তারিখে বিএনপির সহিংসতা ও হামলার একাংশ: ১. কুয়েট ভিসির ওপর ছাত্রদল কর্মীদের বর্বরোচিত হামলা। ২. দিনাজপুরে ছেলের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে (জামায়াতের পোলিং এজেন্ট) বাবাকে মারধর ও বাড়ি পোড়ানোর হুমকি। ৩. পঞ্চগড়ে বিএনপি কর্মীদের হাতে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর; অনেকে আহত। অভিযোগ এনসিপির সার্জিস আলমের। ৪. বাগেরহাট-৪ আসনে আল-আমিন নামের এক যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। ৫. ফেনীর ফুলগাজীতে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে জামায়াত নেতার দোকানে হামলা। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাটে জামায়াত কর্মীদের ৪ টি দোকান ভাংচুর করেছে স্থানীয় যুবদল নেতারা। এই ঘটনায় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের পর গণমাধ্যমে কথা বলছেন, ফেনী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন। ৬. নোয়াখালীর সেনবাগে জামায়াত নেতার ওপর ছাত্রদল কর্মীদের অতর্কিত হামলা। ৭. উখিয়ার করম মুহুরীপাড়ায় বিএনপি ক্যাডারদের হামলায় বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি। ৮. কুড়িগ্রামে ভোট নিয়ে তর্কের জেরে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে বিএনপি কর্মীরা। ৯. খুলনায় ঢাবি শিক্ষার্থীর বাড়িতে আগুন; মা-বোনকে পিটিয়ে আহত এবং শিক্ষার্থীকে জ-বা করে প্রাণনাশের হুমকি। ১০. পাটগ্রামে বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে বাড়িতে ঢুকে মালামাল লুটতরাজ। ১১. বরিশালে বাবার রাজনৈতিক (জামায়াত) পরিচয়ের জেরে ছেলের গাড়িতে ছাত্রদল কর্মীদের হামলা। ১২. চট্টগ্রামে সাবেক শিবির নেতার বাড়িতে বিএনপি নেতাদের হামলা ও ভাঙচুর। ১৩. চকরিয়ায় জামায়াত নেতার বাড়িতে বিএনপি ক্যাডারদের দফায় দফায় হামলা। ১৪. কুষ্টিয়ায় এনসিপি নেতার বাসভবনে বিএনপি কর্মীদের হামলা। ১৫. ফেনীতে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের পর জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে ব্যাপক হামলা। ১৬. সিরাজগঞ্জে জামায়াত আমিরের বাড়িতে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে অগ্নিসংযোগ। ১৭. সন্দ্বীপে জামায়াত নেতাদের বাড়িতে বিএনপি নেতাদের হামলা। ১৮. দিরাই পৌরশহরে জামায়াত নেতার ওপর শারীরিক আক্রমণ। ১৯. বাগেরহাটে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় ২০ জন আহত। ২০. গোপালগঞ্জে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা। ২১. বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় শিবির কর্মী আহত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর দেশের মানুষ যে প্রতিহিংসামুক্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির স্বপ্ন দেখেছিল, এই সহিংসতা সেই অগ্রযাত্রায় বড় বাধা। জামায়াতের এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর সাধারণ ভোটারদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—আগামীর বাংলাদেশ কি সত্যিই শান্তির পথে হাঁটবে, নাকি আবারও সেই পুরনো সংঘাতের বৃত্তেই বন্দি থাকবে? প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই বিশৃঙ্খলা আরও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, নেতা-কর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ভোটের ফলাফলে নজিরবিহীন কারচুপির প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠক থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন সারা দেশে জোটের নির্বাচনি এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অনেককে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৩ ও খুলনা-৫ আসনসহ বেশ কিছু স্থানে রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা ও কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এসব অন্যায়ের প্রতিকার না পেলে তারা নতুন করে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ১১ দলীয় জোট জানায়, ভোটের পর বিভিন্ন স্থানে ভিন্নমতের ভোটার ও নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার মতো ‘ফ্যাসিবাদী’ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এসব অপকর্ম অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, “দেশে পুরনো ধারার কালো অধ্যায়ের রাজনীতি আর চলবে না। আমরা একটি সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে এবং যেকোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে আপসহীন।” বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হয় যেন আরপিও (RPO) লঙ্ঘনকারী এবং ঋণখেলাপি অবস্থায় নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থীদের ফলাফল অবিলম্বে স্থগিত করা হয়। এছাড়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে আসা জনগণের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানায় জোট। নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপি’র আহ্বায়ক ও নবনির্বাচিত এমপি নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপি’র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা’র রাশেদ প্রধানসহ জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনায় নজিরবিহীন অনিয়ম, কারচুপি এবং ফলাফল পাল্টে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। শুক্রবার রাতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে দলের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "নির্বাচনে হার-জিত থাকা স্বাভাবিক এবং তা সবাই মেনে নেয়। কিন্তু যখন বড় ধরনের বৈষম্য ও অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়, তখন জনমনে প্রশ্ন ওঠা অনিবার্য।" তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে, যা চরম ফ্যাসিবাদী তৎপরতার শামিল। বিজয়ী দলের (বিএনপি) প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি জানান, সরকার গঠন করলে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তবে বর্তমানে যেভাবে ফেসিবাদীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা এবং ফলাফল জালিয়াতি করা হচ্ছে, তা ছাত্র-জনতার ২৪-এর আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর আসনে সেন্টার দখলসহ রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা করার পর্যাপ্ত নথিপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। দ্বৈতনীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।" জামায়াত আমির নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই অনিয়মের প্রতিকার না মিললে তারা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, কিন্তু ইনসাফ পাওয়া আমাদের নাগরিক অধিকার। নির্বাচন কমিশনকে ন্যায়ের পথে ফিরে আসতে হবে, অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির সব দায় তাদেরই নিতে হবে।"
ভোটের ফলাফল ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। আজ রাতে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান দলের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করবেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক: পর্যবেক্ষণ: নির্বাচনের ফলাফল তৈরি এবং ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে দলটি। রহস্যজনক পরাজয়: অনেক আসনে প্রার্থীদের ‘রহস্যজনক’ পরাজয় ও ফলাফলে গরমিলের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা: ভোটের মাঠে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। নির্দেশনা: বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মীদের বিচলিত না হয়ে কেন্দ্রীয় ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী জামায়াতের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হয়েছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে কিছু অভিযোগ করেছে জামায়াত ও এনসিপি। এরই ধারাবাহিকতায় সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে করা পোস্টে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে দলটি। পোস্টে বলা হয়, নির্বাচনের ফলাফল তৈরি ও ঘোষণার ধরন জামায়াতের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেক জায়গায় দলটির প্রার্থীরা অল্প ভোটের ব্যবধানে রহস্যজনকভাবে হেরে গেছেন। ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো মনে হয়েছে জামায়াতের। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে দাবি করেছে দলটি। সেই সাথে জোটের পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা ও ধৈর্য ধরার অনুরোধ করা হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। শফিকুর রহমান বলেন, “ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা আমাদের অগ্রাধিকার।” এছাড়া তিনি জানান, ক্ষমতায় গেলে ভারতের সঙ্গে সফর বিষয়ে কোনো দ্বিধা বা বাধা নেই। জামায়াতের আমির আরও বলেন, “বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান। এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কোনো ভেদাভেদ গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা কখনও ধর্মবিশ্বাসজনিত কারণে বৈষম্য করি না।” বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে ভোট হবে। দেশের মোট ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭,৪৮২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। মোট ২,০২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন; এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১,৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন (দলীয় ৬৩, স্বতন্ত্র ২০)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ২,৯৯ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ভোটার ১,২৩২ জন। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ আটকের ঘটনায় জেলায় চরম উত্তেজনা ও রাজনৈতিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে ঘটা এই ঘটনাকে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ এবং ‘নির্বাচন প্রভাবিত করার অপকৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মো. দেলাওয়ার হোসেন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এটি একটি সাজানো নাটক যা কেবল জামায়াতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্যই করা হয়েছে। দেলাওয়ার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ২২ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ নিয়ে কোনো তদন্ত নেই, বিভিন্ন জায়গায় অন্য দলের প্রার্থীরা টাকা বিলিয়ে ধরা পড়লেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ একজন প্রবীণ নেতা যখন তাঁর বৈধ ব্যবসায়িক অর্থ নিয়ে ফিরছিলেন, তখন সেটিকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন— কেন তাকে ঢাকা বিমানবন্দরে আটক করা হলো না? সৈয়দপুরে এসে এই ‘আটক নাটক’ প্রমাণ করে এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। এদিকে বেলাল উদ্দিন প্রধানের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত টাকা মূলত পোশাক শিল্পের বকেয়া আদায় এবং নতুন অর্ডারের অগ্রিম হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছিল। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে গার্মেন্টস ও বুটিক ব্যবসার লেনদেনের জন্যই তিনি ঢাকা গিয়েছিলেন। পরিবার দাবি করেছে, এর আগেও তিনি একইভাবে বড় অঙ্কের টাকা ব্যবসার প্রয়োজনে বহন করেছেন, কিন্তু কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এবার তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “একটি কুচক্রী মহল সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। ব্যবসায়িক লেনদেনকে অপরাধ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে সংগঠনের জয়যাত্রা থামানো যাবে না।” উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের সভাপতি সায়েদ আহাম্মদ সাইফি, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক রফিকুল আলম, সদস্য সচিব খলিলুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। নির্বাচনের চূড়ান্ত লগ্নে উত্তরাঞ্চলের এই হেভিওয়েট নেতার আটক হওয়ার ঘটনা এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— এটি কি আসলেও আইনি প্রক্রিয়া নাকি পর্দার আড়ালের কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় বড় ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটেছে। ধানের শীষের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে ছাত্রদলের এক প্রভাবশালী নেতাসহ ১৮ জন সক্রিয় নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যোগদান করেছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনি কার্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই যোগদান সম্পন্ন হয়। দলত্যাগকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন ধানগড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ও স্থানীয়ভাবে ‘জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত তরুণ নেতা ফারদিন হাসান মুজাহিদ। যোগদান অনুষ্ঠানে ফারদিন হাসান মুজাহিদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আদর্শিক পরিবর্তন এবং দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে আমি জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিয়েছি।” তাঁর সাথে যোগ দেওয়া অন্য নেতাকর্মীরাও একই সুরে আগামীর পথচলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে নবাগতদের বরণ করে নেন ধানগড়া ইউনিয়ন (দক্ষিণ শাখা) জামায়াতের সাবেক সভাপতি এস এম মমতাজ হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা মো. মোক্তাদির হোসেন এবং ইউনিয়ন জামায়াত নেতা মো. হায়দার আলীসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তাঁরা মনে করেন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই তরুণ ও সক্রিয় শক্তির সম্পৃক্ততা ‘দাঁড়িপাল্লা’র জয়যাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতার এমন আকস্মিক দলবদল ধানগড়া ইউনিয়নের ভোটের সমীকরণে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদিকে, এই দলবদল নিয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাইফুল্লাহ ইবনে সাঈদ সজল জানান, ফারদিন হাসান মুজাহিদ ছাত্রদলের একজন নেতা—এটি সত্য। তবে তাঁর জামায়াতে যোগদানের বিষয়টি এখনো তিনি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত নন। নির্বাচনের আগের রাতে এমন গণযোগদান স্থানীয় বিএনপির জন্য বড় এক সাংগঠনিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে ৭৪ লাখ নগদ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের সিসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেলাল উদ্দিন বর্তমানে হৃদরোগ বিভাগের সিসিইউ-১-এ চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ডা. আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন। উচ্চ রক্তচাপের কারণে তাঁর হার্টবিট অস্বাভাবিক রয়েছে এবং বর্তমানে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট: বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান বেলাল উদ্দিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা জব্দ করে। সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল আলম রেজা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল উদ্দিন প্রথমে ৫০ লাখ টাকার কথা বললেও গণনা শেষে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিবাদ: এই ঘটনাকে সুপরিকল্পিত ‘প্রহসন’ ও ‘মানসিক নির্যাতন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, বেলাল উদ্দিন একজন ব্যবসায়ী এবং কাস্টমসের নিয়ম মেনেই টাকা বহন করছিলেন। রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল দাবি করেন, ষাটোর্ধ্ব এই প্রবীণ নেতাকে আটকের পর যে ধরনের ব্যবহার ও মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে, তাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে আটক নেতার দাবিগুলো (গার্মেন্টস ব্যবসা সংক্রান্ত) বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে এমন বিপুল অর্থ উদ্ধারের ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকতে রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনি পরিবেশ চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ১৩টি নির্বাচনি বুথ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে জানান, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের জনপ্রিয়তা দেখে ভীত হয়ে একটি বিশেষ পক্ষ এই হামলা চালিয়েছে। তিনি সরাসরি প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে বলেন, “পেশীশক্তির রাজনীতি এখন শেষ হয়ে গিয়েছে। যারা দেশের আগামীর পলিসি ও পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের সাথে সুস্থ আলোচনায় বসতে ব্যর্থ, তারাই এখন নিচু স্তরের সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে।” জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের থামিয়ে দেওয়ার দিন শেষ। যারা ষড়যন্ত্র করছে তারা ভুলে যাচ্ছে—এই জাতি জুলাই বিপ্লব পেরিয়ে এসেছে। জনগণকে আর কোনোভাবেই দমানো সম্ভব নয়।” তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, ভয়-ভীতির এই সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের রায় পরিবর্তন করতে পারবে না। মানুষের হৃদয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ যেভাবে জায়গা করে নিয়েছে, আগামীকাল ভোটের মাধ্যমেই তার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটবে ইনশাআল্লাহ। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে রাজধানীর একটি হেভিওয়েট আসনে এমন নাশকতার ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি দাবি করছেন স্থানীয়রা।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।