স্বাস্থ্য

বিভিন্ন ধরনের খাবার । ফাইল ছবি: সংগৃহীত
ইফতারে খালি পেটে যে ৩ খাবার খেলেই হতে পারে বিপদ

দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে খালি পেটে খাওয়া কিছু খাবার শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক খাবার বেছে নেওয়া না হলে তা পেটে অ্যাসিডিটি, ব্যথা এবং হজমজনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।   সাইট্রাস ফল ও ঠান্ডা শরবত: কমলালেবু, মুসুম্বি বা তাদের তৈরি ঠান্ডা জুস খালি পেটে খেলে পেটে ভার অনুভূত হয় এবং অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ে। এছাড়া ফ্রুক্টোজ হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং ঠান্ডা শরবত সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়ায়।   চা ও কফি: ভারী খাবারের সঙ্গে চা-কফি খাওয়া পুষ্টিবিদরা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন। দীর্ঘ সময় খালি পেটে খাওয়া ও তার পর চা-কফি গ্রহণ করলে অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত করে এবং অগ্ন্যাশয় ও যকৃতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।   তৈলাক্ত খাবার: ভাজাপোড়া, ছোলা বা মুড়ি খালি পেটে খেলে গ্যাস, মাথাব্যথা, অবসাদ এবং আলসারের সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের খাবার অন্ত্রের সমস্যা ও পেটের মেদ বৃদ্ধি করতে পারে। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ইফতারে সুষম খাবার, সবজি, খেজুর, দই এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার নির্বাচন করা উচিত। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে সতর্ক থাকা এবং পেটের জন্য উপযোগী খাবার বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভোলায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য লিগ্যাল নোটিশ

দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোলায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।   গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে এই নোটিশ পাঠানো হয়। এর আগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে সরকারের কাছে আবেদন করলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি আইনি পথ বেছে নিয়েছেন।   নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ভোলা একটি নদী ও সাগরবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন জনপদ। এখানকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে ভোলায় কোনো জটিল রোগ বা জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে রোগীদের ৪-৫ ঘণ্টা নদীপথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল বা ঢাকা যেতে হয়। যাতায়াতের এই দীর্ঘ সময়ে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে পথেই বহু রোগীর মৃত্যু হয় কিংবা অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও ভোলার স্বাস্থ্য খাতে তেমন কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। বিদ্যমান জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো জনবল সংকট ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে প্রায় অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।   অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া তাঁর নোটিশে দেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) এবং ৩২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ভোলার বিশাল জনগোষ্ঠীকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা রাষ্ট্রের নীতিগত অঙ্গীকারের পরিপন্থী। তাই মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং চিকিৎসাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ভোলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন এখন সময়ের দাবি।   তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই লিগ্যাল নোটিশের প্রেক্ষিতে যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তবে তিনি ভোলার আপামর জনগণের স্বার্থ রক্ষায় উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করবেন।   নতুন বাংলাদেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ভোলার মতো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের এই ন্যায়সঙ্গত দাবিটি এখন সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত এই দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
সেহরিতে জেগে ওঠার পন্থা
সেহরিতে ওঠা সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অভ্যাস

রমজান মাসে সেহরি রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেহরির খাবার শরীরকে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও পানি সরবরাহ করে। তবে অনিয়মিত ঘুম, রাত জাগা ও ক্লান্তির কারণে অনেকেই সময়মতো সেহরি খেতে উঠতে পারেন না।   পুষ্টিবিদরা ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কিছু সহজ অভ্যাস নিয়মিত সেহরিতে ওঠাকে সহজ করতে পারে। ঘুমানোর সময় আগে নেওয়া, ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, একাধিক অ্যালার্ম ব্যবহার করা এবং পরিবারের সহযোগিতা নেওয়া কার্যকর। এছাড়া রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে হালকা খাবার খাওয়া, সেহরির খাবার আগেভাগে প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং দিনের অতিরিক্ত ঘুম এড়িয়ে চলাও সহায়ক।   মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা ও ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করাও জরুরি। সেহরি বাদ দিলে সারাদিন দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকরভাবে রোজা পালনের জন্য সেহরিতে সময়মতো ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইফতারের পর মাথাব্যথা কেন হয়? জানুন ঝুঁকি ও প্রতিরোধের উপায়

রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় বা তার পর অনেকেই মাথাব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। সাধারণত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পানিশূন্যতা এবং হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা আট ঘণ্টা বা তার বেশি সময় উপবাসে থাকলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, যা মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি যাঁরা নিয়মিত চা বা কফি পান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে রোজার সময় হঠাৎ ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ হলে মাথাব্যথার প্রবণতা বেড়ে যায়। পানিশূন্যতা এবং মানসিক চাপও এ সমস্যাকে তীব্র করে তুলতে পারে।   উপবাসজনিত মাথাব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি তীব্রতার হয় এবং কপালজুড়ে অনুভূত হয়। এটি সাধারণ মাইগ্রেনের মতো দপদপে ব্যথা সৃষ্টি না করলেও, যাঁদের মাইগ্রেনের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা এই ব্যথাকে উসকে দিতে পারে। খাবার গ্রহণের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই এই সমস্যা কমে যায়।   চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ইফতারের পর মাথাব্যথা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, সেহরিতে সুষম খাবার গ্রহণ, ধীরে ধীরে ক্যাফেইন কমানো, নিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সেহরি বাদ না দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা, কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়।   তবে মাথাব্যথার সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, তীব্র বমি, কথা জড়িয়ে যাওয়া, জ্বর, শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   প্রতিবেদকঃ সিদ্দিকুর রহমান

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল
নরসিংদীতে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনে নজর দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নরসিংদী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল শপথ গ্রহণের পরপরই নরসিংদীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন।   মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দপ্তরে বসার প্রথম দিনেই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছেন।   নিজের নির্বাচনী এলাকায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা দীর্ঘদিনের স্থানীয় জনগণের দাবি বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নরসিংদীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে এবং দুটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হবে। এছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায়ও যেখানে মেডিকেল কলেজের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোতেও স্থাপনের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।   স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী ছাড়াও ঠাকুরগাঁও, শেরপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সীগঞ্জ—মোট সাত জেলায় নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য আবেদন এসেছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সীগঞ্জে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি জেলাগুলোর প্রক্রিয়া এখনো চলমান।   স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় কোনো জেলায় মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেওয়ার আগে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেছেন, নরসিংদীর জন্য আবেদনটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে করেননি, বরং অন্যান্য জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এসেছে।   বর্তমানে দেশে ৩৭টি সরকারি এবং ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। সরকারি কলেজগুলোর অনুমোদিত ৬,৪৪৬টি পদে প্রায় ২,৭০০টি শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে অধ্যাপক পদে শূন্যতার হার ৬৪.৬৫ শতাংশ, যা চিকিৎসা শিক্ষার মান ও শিক্ষক সংকটের বড় ইঙ্গিত। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রশিদ-এ-মাহবুব বলেন, শিক্ষক সংকট সমাধান না করলে নতুন কলেজ থেকে দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হবে না, যা ভবিষ্যতের রোগীদের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।   ২০১৮ সালের পর নির্মিত কিছু মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও হাসপাতালের সম্পূর্ণ সংযুক্তি নেই, শিক্ষক সংকট রয়েছে। এগুলোর মান উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও পর্যাপ্ত অগ্রগতি দেখা যায়নি।   এছাড়া, মুন্সীগঞ্জে একটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন শেষ হলে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রে, গত বছরের ৯ নভেম্বর জুরাইনে অবস্থিত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মেডিকেল কলেজকে ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   সংক্ষেপে বলা যায়, নতুন কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ থাকলেও শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ছাড়া অনুমোদন দেওয়া হবে না। সরকারের লক্ষ্য শিক্ষার মান বজায় রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
চিকিৎসাসেবা পৌঁছাবে মানুষের দুয়ারে, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসাসেবা পৌঁছাবে মানুষের দুয়ারে, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যখাতকে দুর্নীতিমুক্ত ও সেবাকেন্দ্রিক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।   এ খাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।     মন্ত্রী আরও বলেন, চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য ও সর্বজনীন করতে সরকার কাজ করছে। তাঁর ভাষ্য, মানুষ যেন চিকিৎসকের পেছনে ঘুরে না বেড়ায়; বরং চিকিৎসাসেবাই মানুষের কাছে পৌঁছে যায়—এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাঁদের উদ্দেশ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতে নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।   নরসিংদীতে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ যেসব স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান এখনো চালু হয়নি, সেগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসিংদীতে দুটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।   পরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন কিংবা যারা ভোট দেননি—সব নাগরিকের প্রতিই সরকারের সমান দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।   এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, সিভিল সার্জন সৈয়দ মো. আমিরুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. কলিমুল্লাহ, নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
স্লিপ ব্যাংকিং ।  ছবি: সংগৃহীত
ঘুম ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখা সম্ভব? বিজ্ঞান বলছে

সপ্তাহব্যাপী হাড়ভাঙা কাজের পর অনেকেই সপ্তাহান্তে একটু বেশি ঘুমান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কি আমরা ভবিষ্যতের ব্যস্ত সময়ে আগে থেকে বেশি ঘুমিয়ে শরীরে শক্তির সঞ্চয় বা ‘রিজার্ভ’ তৈরি করতে পারি? গবেষকরা বলছেন, এটি সম্ভব, এবং এ প্রক্রিয়াকেই বলা হচ্ছে ‘স্লিপ ব্যাংকিং’।   স্লিপ ব্যাংকিং হলো আগেভাগে ব্যস্ত সময় (যেমন পরীক্ষা, নাইট শিফট বা দীর্ঘ ভ্রমণ) আসার এক বা দুই সপ্তাহ আগে থেকে প্রতি রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১-৩ ঘণ্টা বেশি ঘুমানো। এটি ঠিক তেমনি, যেমন আমরা ব্যাংকে টাকা জমা রাখি, যাতে প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়।   গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আগেভাগে বেশি ঘুমিয়েছেন, তাদের ঘুমের ঘাটতির সময় কর্মক্ষমতা ও মনোযোগ অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো থাকে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়াল্টার রিড আর্মি ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ’-এর একটি গবেষণায় সেনাদের কয়েকদিন ১০ ঘণ্টা করে ঘুমানো হয়।   পরে তাদের ঘুম সীমিত করার পর দেখা যায়, যারা আগেভাগে বেশি ঘুমিয়েছিলেন তারা চাপের মধ্যে অন্যদের তুলনায় কার্যক্ষম ছিলেন। এছাড়া চিকিৎসক ও খেলোয়াড়দের ওপর করা গবেষণাতেও একই ফল পাওয়া গেছে।   গবেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত ঘুমের সময় মস্তিষ্ক ‘নিউরোনাল বর্জ্য’ পরিষ্কার করে এবং ‘গ্লাইকোজেন’ শক্তি সঞ্চয় করে। ফলে পরবর্তীতে ঘুমের অভাব থাকলেও মস্তিষ্ক সেই সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে সচল থাকতে পারে।   স্লিপ ব্যাংকিংয়ের জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন:   অতিরিক্ত ঘুমানো: ব্যস্ত সময় শুরু হওয়ার ১-২ সপ্তাহ আগে প্রতিদিন ৩০-৬০ মিনিট বেশি ঘুমানো।   সকালে দেরি করে ওঠা: রাতের ঘুম ঠিক রাখার সহজ উপায়।   দিবানিদ্রা বা পাওয়ার ন্যাপ: দিনের বেলায় ৪৫ মিনিটের কম ন্যাপ কার্যকর।   তবে সব গবেষক স্লিপ ব্যাংকিং ধারণায় একমত নন। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক এলিজাবেথ ক্লারম্যান বলেন, ঘুম অনেকটা ক্রেডিট কার্ডের মতো, পিগি ব্যাংকের মতো নয়। আপনি চাইলে ঘুমের ‘ঋণ’ বা ঘাটতি পূরণ করতে পারেন, কিন্তু অতিরিক্ত ‘সঞ্চয়’ করা কঠিন।   গবেষকরা সতর্ক করছেন, স্লিপ ব্যাংকিং সাময়িকভাবে কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে নয়। সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ৭-৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নেওয়াই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
সংগৃহীত
ফোন স্ক্রলিংয়ের নেশা থেকে মুক্তির উপায়

স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন সবকিছুই এক ডিভাইসের ভেতরে। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে এক নীরব আসক্তি, অকারণে ফোন স্ক্রলিং।প্রয়োজন না থাকলেও বারবার মোবাইল ফোন হাতে নেওয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ভিডিও বা পোস্ট দেখা, সময়ের হিসাব না থাকা এই অভ্যাস এখন অনেকের জীবনযাপনের অংশ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে মনোযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের ওপর। মোবাইল ফোন স্ক্রলিংয়ের নেশা মূলত মস্তিষ্কের ডোপামিনের সঙ্গে জড়িত। নতুন নোটিফিকেশন, লাইক বা ভিডিও মস্তিষ্কে ক্ষণিকের আনন্দ তৈরি করে। সেই আনন্দ বারবার পাওয়ার আশায় মানুষ অজান্তেই ফোনের দিকে হাত বাড়ায়। ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বাস্তব জীবনের ছোট আনন্দগুলো আর ততটা আকর্ষণীয় মনে হয় না। ফলে কাজের ফাঁকে, পড়ার সময়, এমনকি পরিবারের সঙ্গে বসেও ফোন স্ক্রলিং চলতেই থাকে। এই অভ্যাস থেকে মুক্তির প্রথম ধাপ হলো নিজের সমস্যাটি স্বীকার করা। অনেকেই বলেন, ‘আমি তো সময় পেলেই ফোন দেখি’—কিন্তু সময় পাওয়ার বদলে ফোন দেখতেই মূলত সময় তৈরি হয়ে যায়।   দিনে কতক্ষণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন, কোন অ্যাপে সবচেয়ে বেশি সময় যাচ্ছে এই হিসাব রাখা খুব জরুরি। এজন্য স্ক্রিন টাইম বা ডিজিটাল ওয়েলবিইং ফিচার ব্যবহার করে নিজের অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হওয়া যেতে পারে।   মোবাইল ফোন স্ক্রলিং কমানোর একটি কার্যকর উপায় হলো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা। সারাদিন এলোমেলোভাবে ফোন ব্যবহারের বদলে ঠিক করে নেওয়া যেতে পারে দিনে কখন সোশ্যাল মিডিয়া দেখবেন, কতক্ষণ দেখবেন।   ঘুমানোর আগে অন্তত এক ঘণ্টা ফোন ব্যবহার না করার অভ্যাস গড়ে তুললে ঘুমের মানও ভালো হয়, মনও শান্ত থাকে।   নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিলে বারবার ফোন ধরার প্রবণতা কমে যায়। ফোনকে সব সময় চোখের সামনে না রেখে ব্যাগে বা অন্য ঘরে রেখে কাজ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। ছোট এই পরিবর্তনগুলোই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   মোবাইল ফোন স্ক্রলিংয়ের জায়গায় বিকল্প অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। অবসর সময়ে বই পড়া, গান শোনা, হাঁটতে বের হওয়া, ডায়েরি লেখা বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার মতো অভ্যাস মনকে ধীরে ধীরে ফোন থেকে দূরে সরিয়ে আনে। শুরুতে ফোনের প্রতি টান থাকলেও ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের এই কাজগুলোই আনন্দের উৎস হয়ে উঠতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের সঙ্গে ধৈর্য রাখা। হঠাৎ করে মোবাইল ফোন ব্যবহার একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়, আবার সেটি প্রয়োজনও নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত নিয়ন্ত্রণ। মোবাইল ফোন যেন আমাদের ব্যবহার করে না, বরং আমরা যেন ফোন ব্যবহার করি—এই বোধ তৈরি করাই আসল মুক্তি।   ফোন স্ক্রলিংয়ের নেশা থেকে মুক্তি মানে প্রযুক্তিকে অস্বীকার করা নয়, বরং সচেতনভাবে ব্যবহার করা। সময়, মনোযোগ ও মানসিক শান্তি—এই তিনটি জিনিস ফেরত পেতেই আমাদের ফোনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
ঔষধ
২৯৫ টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম বেঁধে দেবে সরকার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. মো. সায়েদুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ২৯৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় দিক হলো, এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ওষুধের দাম সরকার নিজেই ঠিক করে দেবে। অর্থাৎ, কোম্পানিগুলো এখন থেকে আর নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে পারবে না।   দাম নির্ধারণের এই প্রক্রিয়াটি পরবর্তী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। যারা বর্তমানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছেন, তাদের দাম কমিয়ে আনতে হবে। ডা. সায়েদুর রহমানের মতে, এই ২৯৫টি ওষুধ দেশের প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের সাধারণ সব রোগব্যাধি নিরাময়ের জন্য যথেষ্ট। ফলে এই মূল্য নিয়ন্ত্রণ সরাসরি দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   শুধু অত্যাবশ্যকীয় ওষুধই নয়, তালিকার বাইরে থাকা আরও প্রায় ১,১০০ ওষুধের ক্ষেত্রেও কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। সেগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি দাম বেঁধে না দিলেও একটি ‘মূল্য পরিধি’ বা রেঞ্জ ঠিক করে দেওয়া হবে। কোনো ওষুধের গড় মূল্য যদি ১৫ টাকা হয়, তবে তার সঙ্গে যোগ-বিয়োগ ১৫ শতাংশ রেঞ্জ রাখা হবে। সরকারের এই নতুন মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা দ্রুতই গেজেট আকারে প্রকাশ পাবে। এর ফলে দেশের ওষুধের বাজারে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আন্তর্জাতিক

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১, ২০২৬ 0