সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্বাস্থ্য

পেট ফাঁপাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করার পর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ বছর বয়সী কেট পিং। ছবি: সংগৃহীত
সাধারণ পেট ফাঁপা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন, সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার

পেট ফাঁপাকে প্রথমে সাধারণ হজমের সমস্যা ভেবেছিলেন ৬৯ বছর বয়সী কেট পিং। কিন্তু প্রায় দুই মাসেও অস্বস্তি না কমায় চিকিৎসকের কাছে গেলে নার্স প্র্যাকটিশনার কোলনোস্কপির বদলে সিটি স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে পিংয়ের স্টেজ ৪ ওভারিয়ান ক্যানসার। ততক্ষণে রোগটি তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল।   পিংয়ের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি দুটি পারিবারিক ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি ছেলের ওপেন-হার্ট অস্ত্রোপচার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তার আগে থেকেই মানসিক চাপের সময় হজম ও অন্ত্রের নানা সমস্যা হতো। তাই পেট ফুলে যাওয়ার বিষয়টিকেও তিনি শুরুতে সেভাবেই দেখেছিলেন। ছেলের অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পরও যখন সমস্যা থেকে যায়, তখন তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।   চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় তার পেট এতটাই ফুলে ছিল যে নাভির আশপাশে স্পর্শ করলেও অস্বস্তি লাগত। পিং ধারণা করেছিলেন, তাকে সম্ভবত কোলনোস্কপি করতে বলা হবে। কিন্তু নার্স প্র্যাকটিশনারের সিটি স্ক্যানের সিদ্ধান্ত তাকে অবাক করে দেয়। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তিনি জানতে পারেন, তার ওভারিয়ান ক্যানসার অনেকটা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।   ক্যানসার বিশেষজ্ঞ প্রিমাল ঠাকারের কাছে চিকিৎসা শুরু করার পর পিং জানতে পারেন, ওভারিয়ান ক্যানসার অনেক সময় শুরুতেই শনাক্ত করা কঠিন। রোগটির এমন কোনো নির্দিষ্ট স্ক্রিনিং পরীক্ষা নেই, যা নিয়মিতভাবে সবার ক্ষেত্রে এটি শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি এর প্রাথমিক উপসর্গগুলোও অনেক সময় মেনোপজ বা তুলনামূলক কম গুরুতর শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট ফাঁপা, অল্প খাবারেই দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি এবং মলত্যাগ বা প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন ওভারিয়ান ক্যানসারের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হতে পারে। পেটের ভেতর তরল জমলেও পেট ফুলে যেতে পারে। পিংয়ের ক্ষেত্রে রোগটি অনেকটা অগ্রসর হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা প্রথমে কেমোথেরাপির মাধ্যমে টিউমার ছোট করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করা হয়।   চিকিৎসার সময় পিংকে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও সামলাতে হয়েছে। চুল পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বমিভাব ও ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভুগেছেন তিনি। প্রতি তিন সপ্তাহ পরপর কেমোথেরাপি নিতে হতো এবং প্রতিটি চিকিৎসা পর্বের পর প্রায় এক সপ্তাহ স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে দূরে থাকতে হতো। তবে প্রতিবার চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগের উন্নতির খবর তাকে মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।   ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিংয়ের অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে জরায়ু অপসারণের পাশাপাশি শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে ক্যানসারের উপস্থিতি খোঁজা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর প্রায় ছয় সপ্তাহ তিনি সুস্থ হওয়ার জন্য সময় নেন। এরপর শরীরে অবশিষ্ট ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার লক্ষ্যে আবার কেমোথেরাপি শুরু করেন।   এরপর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে তাকে কয়েক দফা ইমিউনোথেরাপিও দেওয়া হয়। চলতি বছরের বসন্তে তার শেষ ইনফিউশন সম্পন্ন হয়। নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন আর নেই, এই খবরকে পিং অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেছেন। তবে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে তিনি প্রতিদিন একটি কেমোথেরাপির ওষুধ সেবন করছেন।   পিংয়ের চিকিৎসার পুরো ঘটনাপ্রবাহে যে বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে, সেটি হলো তার সিটি স্ক্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া নার্স প্র্যাকটিশনারের ভূমিকা। কয়েক মাস চিকিৎসা চলার পর একদিন পিং তার স্বামীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করার ফোন ধরেন। ফোনের অপর প্রান্তের কণ্ঠটি তার পরিচিত মনে হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, এই ব্যক্তিই তার সিটি স্ক্যানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।   ওই নার্স প্র্যাকটিশনার পিংকে জানান, তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ওভারিয়ান ক্যানসারে মারা গিয়েছিলেন, কারণ রোগটি সময়মতো শনাক্ত হয়নি। পিংয়ের উপসর্গগুলো দেখে তাই তিনি ঝুঁকি না নিয়ে সিটি স্ক্যান করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঘটনাটি জানতে পেরে পিং তাকে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ওই সিদ্ধান্তই তার জীবন বাঁচিয়েছে।   বর্তমানে পিং নিজের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওভারিয়ান ক্যানসারের উপসর্গ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তার ছেলে এবং তিনি আবার নিজেদের দুটি রেস্তোরাঁর কাজে ফিরেছেন। সেখানে ক্যানসারের চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকে তার সঙ্গে কথা বলেন। পিং তাদের উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, স্টেজ ৪ ক্যানসারের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আশার জায়গা থাকে।   সূত্র: সিবিএস নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৩:১৬
স্থূলতা, ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কে আঘাত ও বিষণ্নতাকে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে নতুন গবেষণা
ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি আমেরিকানদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে! গবেষণায় নতুন তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়—এমন কারণগুলো ভিন্ন হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ ঝুঁকিগুলো সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় ভিন্ন। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সীমিত শিক্ষার সুযোগ, বিষণ্নতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং আগে মাথা বা মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস। গবেষণাটি গত ২৪ আগস্ট ‘আলঝেইমার্স অ্যান্ড ডিমেনশিয়া: দ্য জার্নাল অব দ্য আলঝেইমার্স অ্যাসোসিয়েশন’ জার্নালে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় যুক্ত নন, নিউইয়র্কের ক্লিনিক্যাল নিউরোসাইকোলজিস্ট মাইকা স্যাভিন নিউজউইককে বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কোনো শূন্যস্থানে তৈরি হয় না।” তাঁর মতে, গবেষণার ফলাফল ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে সম্ভাব্য কিছু কার্যকর ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে। তবে এসব ফলাফলকে কোনো জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্মগত বা জৈবিক পার্থক্যের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। স্যাভিন বলেন, “এখানে জাতিগত পরিচয় মূল কারণ নয়।” তাঁর মতে, আমেরিকান ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়গুলো সামাজিক, ঐতিহাসিক, পরিবেশগত, শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে অনেক ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। এসব পরিস্থিতি কয়েক দশক ধরে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে এমন বিভিন্ন ঝুঁকির সঙ্গে তাদের সংস্পর্শ তৈরি করেছে। ডিমেনশিয়া কোনো একক রোগ নয়। বিভিন্ন রোগের কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে ডিমেনশিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব রোগের অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কে অস্বাভাবিকভাবে কিছু প্রোটিন জমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এতে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডিমেনশিয়ার পরিচিত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে বয়স, বংশগত কারণ এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা। এর মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও বিষণ্নতা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার মতো জীবনযাপন-সংক্রান্ত বিষয়ও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষকদের আগের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের প্রায় ৪২ শতাংশ জীবনের কোনো এক পর্যায়ে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। এ রোগে প্রতি বছর এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বোস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা মধ্য ও বেশি বয়সী ৮০৮ জন আমেরিকান ইন্ডিয়ানকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করেন। ডিমেনশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ১০টি ঝুঁকির বিষয় নিয়ে তারা বিশ্লেষণ করেন। এসব ঝুঁকি এর আগে ল্যানসেট কমিশনের চিহ্নিত ডিমেনশিয়ার ১৪টি ঝুঁকির তালিকার অন্তর্ভুক্ত। ল্যানসেট কমিশনের চিহ্নিত ডিমেনশিয়ার ১৪টি ঝুঁকি হলো—সীমিত শিক্ষার সুযোগ, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, বিষণ্নতা, মাথা বা মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা, ডায়াবেটিস, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকা এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া। গবেষকরা দেখেছেন, আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ঝুঁকিগুলো হলো স্থূলতা, ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস এবং বিষণ্নতা। গবেষণায় অংশ নেওয়া আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের ৫০ শতাংশের মধ্যে স্থূলতা ছিল। ধূমপানের হার ছিল ৪২ শতাংশ, ডায়াবেটিস ৪০ শতাংশ, উচ্চ রক্তচাপ ৩৮ শতাংশ, আগে মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস ৩১ শতাংশ এবং বিষণ্নতা ১৭ শতাংশের মধ্যে দেখা গেছে। এসব ঝুঁকির কয়েকটির ক্ষেত্রে ল্যানসেট কমিশনের পর্যালোচনা করা সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় বড় ধরনের পার্থক্যও দেখা গেছে। উদাহরণ হিসেবে, আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যে বিষণ্নতার হার সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় ২ দশমিক ৪ গুণ বেশি ছিল। আগে মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস ছিল ২ দশমিক ৬ গুণ বেশি। আর উচ্চ রক্তচাপের হার ছিল ৪ দশমিক ২ গুণ বেশি। অন্যদিকে, ল্যানসেট কমিশনের গবেষণায় সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত কিছু ঝুঁকি—যেমন উচ্চ কোলেস্টেরল এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা—আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের এই গবেষণায় তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। স্যাভিন জানান, আমেরিকান ইন্ডিয়ান ও আলাস্কার আদিবাসী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে তাঁদের নিজস্ব গবেষণার ফলাফলের সঙ্গেও নতুন গবেষণার ফল পুরোপুরি ভিন্ন নয়। তিনি বলেন, “আমরা জ্ঞানীয় সক্ষমতা বা চিন্তা-স্মৃতির কার্যক্ষমতা কমার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের প্রবণতা দেখেছি। তবে আমাদের ব্যাখ্যা কখনোই এমন ছিল না যে আমেরিকান ইন্ডিয়ান পরিচয় নিজেই এসব পার্থক্যের কারণ।” স্যাভিনের মতে, জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয় আসলে একজন মানুষের আরও বিস্তৃত জীবন-অভিজ্ঞতার বিষয়গুলোকে তুলে ধরতে পারে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, শিক্ষার সুযোগ, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, ভাষা এবং অন্যান্য সামাজিক ও জৈবিক অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত। গবেষণার ফলাফলকে স্যাভিন আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ চিহ্নিত ঝুঁকিগুলোর বেশিরভাগই কোনো জনগোষ্ঠীর অপরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য নয়। বরং এগুলোর অনেকগুলো পরিবর্তন করা বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। বিষণ্নতা শনাক্ত করে তার চিকিৎসা করা যায়। সামাজিক যোগাযোগ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কও বাড়ানো সম্ভব। শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিষয়টি শুধু “কত বছর স্কুলে পড়েছে”—এভাবে দেখলে হবে না। বরং একজন মানুষ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কী ধরনের শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন এবং সেই শিক্ষার মান কেমন ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিক্ষার সুযোগ ও মানের পার্থক্য মানুষের পুরো জীবনজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে। স্যাভিন বলেন, “আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, বৈষম্য মানেই ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যাওয়া নয়।” তাঁর মতে, এ ধরনের গবেষণা মানুষকে এই প্রশ্ন থেকে দূরে সরিয়ে আনে যে কোনো একটি জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী জৈবিকভাবে ডিমেনশিয়ার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কি না। বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোন পরিবর্তনযোগ্য স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক পরিস্থিতি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে ভিন্ন ফল তৈরি করছে এবং কীভাবে সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা যায়। গবেষকদের মতে, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যেসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে আগেভাগে কাজ করাও ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৫:৩৫
নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত
নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত, বাঁচাতে তিনবার অস্ত্রোপচার

মাত্র ১১ দিনের এক নবজাতকের নখের নিচে দেখা দেওয়া ক্ষুদ্র সংক্রমণ শেষ পর্যন্ত তার মস্তিষ্কে থাকা মারাত্মক টিউমার শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপে অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে যায় শিশুটি।    স্কটল্যান্ডের মিডলোথিয়ানের পেনিকুইকের বাসিন্দা স্যাম শার্প ২০২০ সালে ছেলে জোয়ির জন্ম দেন। জন্মের মাত্র ১১ দিন পর জোয়ি ঠিকমতো দুধ খেতে পারছিল না, ওজন কমছিল এবং জন্ডিসও কমছিল না। এর পাশাপাশি তার শরীরে মাঝে মাঝে খিঁচুনির মতো স্প্যাজম দেখা দিতে শুরু করে।    হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চিকিৎসকদের নজরে আসে তার একটি নখের নিচে অতি ছোট একটি সংক্রমণের মতো চিহ্ন। সেটি পরীক্ষা করতে গিয়ে আল্ট্রাসাউন্ডে ধরা পড়ে মস্তিষ্কে একটি টিউমার। পরে নমুনা পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, এটি গ্লিওব্লাস্টোমা - মস্তিষ্কের একটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ক্যানসার।    চিকিৎসার সময় জোয়ির তিনবার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার এবং নয় দফা কেমোথেরাপি হয়। একপর্যায়ে দিনে ৩০টিরও বেশি খিঁচুনি হচ্ছিল এবং তাকে খাবারের জন্য ফিডিং টিউব ব্যবহার করতে হয়েছিল।    ২০২১ সালের ৪ আগস্ট চিকিৎসার শেষ দিকে স্ক্যানের ফলাফলে তার শরীরে রোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পরিবারকে জানানো হয়। বর্তমানে পাঁচ বছর বয়সী জোয়ি স্কুলে যাচ্ছে। তবে চিকিৎসার পর তার সেরিব্রাল পালসি হয়েছে, ডান হাতের ব্যবহার সীমিত এবং দীর্ঘ দূরত্ব চলাচলে হুইলচেয়ার ব্যবহার করে।    জোয়ির মা স্যাম এখন শিশুদের মস্তিষ্কের ক্যানসার নিয়ে আরও গবেষণায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আগামী বছর এডিনবার্গ ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছেন, যার মাধ্যমে স্কটিশ ব্রেইন টিউমার রিসার্চ সেন্টার অব এক্সেলেন্সের জন্য অর্থ সংগ্রহ করবেন।    এদিকে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস বলছে, মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ টিউমারের অবস্থান ও ধরনভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে নতুন বা বাড়তে থাকা মাথাব্যথা, খিঁচুনি, বমি বমি ভাব বা বমি, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব, স্মৃতি বা আচরণে পরিবর্তন, শরীরের এক পাশে দুর্বলতা এবং দৃষ্টি বা কথা বলার সমস্যা থাকতে পারে। এসব লক্ষণ থাকলেই যে মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে, তা নয়; তবে অস্বাভাবিক বা ক্রমশ বাড়তে থাকা উপসর্গ চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করা জরুরি।    সূত্র - The Independent

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৪:৪১
মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস
মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিন-এডিটেড) শূকরের কিডনি নিয়ে রেকর্ড ২৭১ দিন বেঁচে থাকার নতুন ইতিহাস গড়েছেন টিম অ্যান্ড্রুজ (৬৬) নামের এক ব্যক্তি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের এই প্রক্রিয়াটি ‘জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন’ (Xenotransplantation) নামে পরিচিত। নতুন এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অ্যান্ড্রুজের শরীরে এই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।   এর ফলে দীর্ঘ প্রায় নয় মাস তাকে কোনো ডায়ালাইসিস নিতে হয়নি। পরবর্তীতে কিডনিটির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে গত ২৩ অক্টোবর সেটি অপসারণ করে তাকে পুনরায় ডায়ালাইসিসে নেওয়া হয়। অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি সফলভাবে একজন মানব দাতার কিডনি গ্রহণ করেন।   ম্যাস জেনারেল ব্রিগহ্যামের ট্রান্সপ্লান্টেশন সায়েন্সেস সেন্টারের প্রধান ও গবেষণাপত্রের মূল লেখক ড. লিওনার্দো রিয়েলা জানান, টিম অ্যান্ড্রুজের এই ঘটনা কিডনি বিকল হওয়া রোগীদের জন্য একটি অভাবনীয় মাইলফলক। বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ১ লাখেরও বেশি মানুষ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগেরই কিডনি প্রয়োজন।   পর্যাপ্ত মানব অঙ্গের অভাবে প্রতি বছর অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। গবেষকদের মতে, মানব কিডনি পাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ডায়ালাইসিসের কষ্ট থেকে রোগীদের সাময়িকভাবে মুক্তি দিতে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন একটি যুগান্তকারী সমাধান হতে পারে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা গেলে এটি হয়তো স্থায়ী চিকিৎসায়ও পরিণত হতে পারে।   এর আগে অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টাগুলো খুব বেশি দিন সফল হয়নি। ২০২৪ সালে ম্যাস জেনারেল হাসপাতালেই শূকরের কিডনি গ্রহণকারী প্রথম রোগী ৫২ দিন বেঁচে থাকার পর মারা যান, তবে তার মৃত্যুর কারণ ট্রান্সপ্লান্ট-সংক্রান্ত ছিল না। এরপর গত বছর আলাবামার এক নারীর শরীরে শূকরের কিডনি ১৩০ দিন টিকে থাকার রেকর্ড গড়েছিল।   অ্যান্ড্রুজ এবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। চিকিৎসকরা এই অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য অ্যান্ড্রুজসহ গবেষণায় অংশ নেওয়া সাহসী রোগীদের 'প্রকৃত অগ্রদূত' হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ২৩:৩২
২০২৪ সালে লুপিতা ভাসকেজের ছেলে জেসির জন্মের পর সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। ছবি: সংগৃহীত
হাঁটবে কিনা ছিল অনিশ্চিত, বিরল রোগের সঙ্গে লড়াই করে পায়ে দাঁড়াল শিশু

২০২৪ সালে লুপিতা ভাসকেজের ছেলে জেসির জন্মের পর পরিবারে ছিল আনন্দের মুহূর্ত। গর্ভাবস্থাও স্বাভাবিক ছিল এবং জন্মের পর জেসিকে দেখতে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। কিন্তু জন্মের মাত্র এক সপ্তাহ পর একটি ফোনকল বদলে দেয় পরিবারের সেই আনন্দময় সময়। নবজাতকের নিয়মিত পরীক্ষার ফল জানিয়ে লুপিতাকে বলা হয়, তাঁর ছেলে স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি বা এসএমএ নামের একটি বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত।   জন্মের পর জেসির গোড়ালিতে যে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেটিকে অন্য অনেক অভিভাবকের মতো লুপিতাও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে ৯৮ শতাংশের বেশি নবজাতকের জন্মের পরপরই এই পরীক্ষা করা হয়। প্রতি বছর নবজাতকের এই পরীক্ষার মাধ্যমে ৭ হাজারের বেশি শিশুর গুরুতর কিন্তু চিকিৎসাযোগ্য বিভিন্ন রোগ শনাক্ত হয়। জেসির ক্ষেত্রেও রোগটি উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই পরীক্ষায় ধরা পড়ে।   ফোনে জেসির রোগের কথা জানার পর লুপিতা ও তাঁর পরিবার হতবাক হয়ে যান। তিনি জানান, ফোনকল পাওয়ার সময় এসএমএ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। পরে ইন্টারনেটে রোগটি সম্পর্কে খোঁজ করতে গিয়ে তাঁর ভয় আরও বেড়ে যায়। তিনি অনেক কেঁদেছেন এবং বুঝতে পারছিলেন না, কীভাবে তাঁর দেখতে সম্পূর্ণ সুস্থ শিশুর এমন একটি রোগ হতে পারে। এমনকি নিজের কোনো ভুলের কারণে সন্তান এই রোগ নিয়ে জন্মেছে কি না, সেই প্রশ্নও তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল।   এসএমএ এমন একটি বিরল জেনেটিক রোগ, যা পেশি নড়াচড়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা স্নায়ুকোষকে আক্রান্ত করে। এর ফলে ধীরে ধীরে পেশির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে এবং হাঁটা, গিলতে পারা ও শ্বাস নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও প্রভাবিত হতে পারে। জেসির ক্ষেত্রে প্রথম ধরনের এসএমএ শনাক্ত হয়, যা রোগটির সবচেয়ে গুরুতর সাধারণ ধরনগুলোর একটি। সাধারণত জীবনের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে এই ধরনের এসএমএর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।   রোগ শনাক্ত হওয়ার পর জেসিকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার আওতায় নেওয়া হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। মাত্র ১৬ দিন বয়সে জেসি প্রতিদিন খাওয়ার একটি ওষুধ নিতে শুরু করে। এই ওষুধ মোটর স্নায়ুকোষের কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে কাজ করে। রোগটি অগ্রসর হওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত এই চিকিৎসা শুরু করা হয়।   পরে জেসি একবারের জিন থেরাপিও পায়। এই চিকিৎসায় রোগটির জন্য দায়ী ত্রুটিপূর্ণ জিন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কাজ করা হয়। চিকিৎসকেরা অন্য শিশুদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসার ভালো ফল দেখলেও জেসির অগ্রগতি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছিল না। সে হামাগুড়ি দিচ্ছিল না, খুব বেশি নড়াচড়াও করছিল না এবং হাঁটার কোনো আগ্রহও দেখা যাচ্ছিল না। তখন জেসির স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ উচ্চমাত্রার স্পিনরাজা দেওয়ার পরামর্শ দেন।   স্পিনরাজা সরাসরি মেরুদণ্ডের তরলে দেওয়া হয়। এটি শরীরের বিকল্প এসএমএন২ জিনকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে, যা মোটর স্নায়ুকোষের কার্যকারিতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চমাত্রার এই চিকিৎসা নেওয়া জেসি টেক্সাসের প্রথম রোগী। আগের ১২ মিলিগ্রাম মাত্রার তুলনায় নতুন এই চিকিৎসায় ওষুধের ঘনত্ব বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে এক দশকের বেশি সময়ের ক্লিনিক্যাল তথ্যের পর নতুন এই মাত্রার অনুমোদন দেয়।   নতুন চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। স্পিনরাজা মেরুদণ্ডে দেওয়ার সময় জেসিকে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হতো। এত চিকিৎসা, রক্ত নেওয়া ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর লুপিতা এই প্রক্রিয়া নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন। তবু শেষ পর্যন্ত পরিবারটি চিকিৎসাটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। লুপিতা জানান, সিদ্ধান্তটি নেওয়ার পর তিনি খুশি যে তাঁরা ঝুঁকিটি নিয়েছিলেন।   এরপরই জেসির জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। প্রথম ডোজ নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সে নিজে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে এবং দেয়াল ধরে হাঁটতে থাকে। দুটি ডোজ নেওয়ার প্রায় এক মাস পর জেসি স্বাধীনভাবে হাঁটতে শুরু করে। যে পরিবার একসময় আশঙ্কা করেছিল, তাদের সন্তান হয়তো কখনো হাঁটতে পারবে না, তাদের সামনে হঠাৎই বদলে যায় সেই বাস্তবতা।   জেসির হাঁটতে পারার মুহূর্তটি পরিবারের জন্য ছিল গভীর আবেগের। লুপিতা জানান, সবাই কেঁদে ফেলেছিলেন। কারণ তাঁরা আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছিলেন যে হয়তো তাঁদের সন্তান কখনো হাঁটতে পারবে না। চিকিৎসার পর জেসির নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে হাঁটার দৃশ্য পরিবারের কাছে ছিল তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও আশঙ্কার পর পাওয়া বড় আনন্দের মুহূর্ত।   এরপরও জেসির অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। যদিও সে সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং ভারসাম্য ঠিক রাখার বিষয়টি এখনও অনুশীলন করছে, তবু লুপিতা তাঁর ছেলেকে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে দেখে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। তিনি বলেন, এসএমএ যেন জেসির পরিচয় হয়ে না ওঠে। তাঁর ছেলে নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে বেড়ে উঠছে এবং ফুটবল, সংগীত ও গাড়ি পছন্দ করে। সে একজন দুঃসাহসী শিশুও হয়ে উঠছে।   এখন দুই বছর বয়সী জেসি সেই শিশুটির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থায় রয়েছে, যার রোগ শনাক্ত হওয়ার ফোনকল একসময় পুরো পরিবারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। জন্মের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে পাওয়া সেই কঠিন খবরের পর চিকিৎসা, ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে তার পরিবার। একসময় যে শিশুর হাঁটতে পারা নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা, চিকিৎসার পর সেই জেসিই নিজের পায়ে হাঁটছে।   লুপিতা জানেন, অন্য অভিভাবকরাও এমন ফোনকল পেতে পারেন। তাঁদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ হলো, ইন্টারনেটে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তায় না গিয়ে সন্তানের দিকে মনোযোগ দেওয়া। তিনি প্রতিদিনকে একদিন করে মোকাবিলা করার এবং সহায়তা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। অন্য মায়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই তিনি নিজের পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন বলে জানান।   সূত্র: নিউজউইক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১২:৩৯
থাইল্যান্ডে কসমেটিক চিকিৎসার পর ব্রিটিশ-নাইজেরীয় ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো ‘টাইনি’ উবিরিবো মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত
গোপন অঙ্গ বড় করার ইনজেকশনে মৃত্যু, বিলাসী ইনফ্লুয়েন্সারের করুণ পরিণতি

বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিওর জন্য পরিচিত ব্রিটিশ-নাইজেরীয় ব্যবসায়ী ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো ‘টাইনি’ উবিরিবো থাইল্যান্ডে কসমেটিক চিকিৎসার পর মারা গেছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই ইনফ্লুয়েন্সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডেনিসি’ বা ‘ইগো’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখ।   ২০২৬ সালের মার্চে স্ত্রী ড্যানিয়েল সিম্বা অ্যালেনকে নিয়ে ব্যাংককে ছুটি কাটাচ্ছিলেন উবিরিবো। তারা একটি ম্যারিয়ট হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ছুটির সময় তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে গোপন অঙ্গ বড় করার কসমেটিক চিকিৎসা নেন। এ সময় তাঁর শরীরে ৪০ মিলিলিটার হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার ও লিডোকেন প্রয়োগ করা হয়।   চিকিৎসা শেষে হোটেলে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে ম্যাসাজ নিচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং দুবার অচেতন হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সুখুমভিত হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুরুতে তিনি সচেতন থাকলেও সিটি স্ক্যান করার আগেই আবার অচেতন হয়ে পড়েন।   পরে চিকিৎসকেরা তাঁর পালমোনারি এম্বোলিজম শনাক্ত করেন। অর্থাৎ ফুসফুসে রক্তপ্রবাহে প্রাণঘাতী বাধা তৈরি হয়েছিল। তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার পর ১০০ মিনিটেরও বেশি সময় সিপিআর চালানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ৬ মার্চ ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।   পরে যুক্তরাজ্যে করা ময়নাতদন্তে তাঁর ফুসফুসে এমন উপাদান পাওয়া যায়, যা ব্যবহৃত ফিলারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। করোনার জিন হারকিনের রায়ে বলা হয়, কসমেটিক চিকিৎসার ফলেই সৃষ্ট পালমোনারি এম্বোলিজম তাঁর মৃত্যুর কারণ।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের ফিলার চিকিৎসায় রক্তনালিতে বাধা, সংক্রমণ ও অন্যান্য গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে। অথচ এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ছয় থেকে নয় মাস স্থায়ী হয়।   মে মাসে লন্ডনে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। সোনালি রঙের বিলাসবহুল কফিনে তাঁকে সমাহিত করা হয়। শেষকৃত্যে তাঁর শৈশবের বন্ধু ও নাইজেরীয় সংগীতশিল্পী ডেভিডোও উপস্থিত ছিলেন। বিলাসী জীবনের জন্য পরিচিত এই ইনফ্লুয়েন্সারের এমন করুণ মৃত্যু নতুন করে কসমেটিক চিকিৎসার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১১:৬
দেরিতে অটিজম শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা, আচরণগত থেরাপি ও অন্যান্য সেবা পেতে দেরি হতে পারে
১ লাখ ৭১ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, অটিজম নিয়ে নারীদের ক্ষেত্রে মিলল চমকে দেওয়া তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে অটিজম শনাক্তের হার বাড়ছে। এর পেছনে নতুন করে বেশি মানুষ অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে, বিশেষ করে মেয়ে ও নারীদের মধ্যে অটিজম আরও ভালোভাবে শনাক্ত হওয়া বড় ভূমিকা রাখছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।   সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটি বড় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ১ লাখ ৭১ হাজার ১৩৪ জন রোগীর ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জামা নেটওয়ার্ক ওপেনে।   গবেষণায় দেখা যায়, ছেলে ও পুরুষদের মধ্যে নতুন অটিজম শনাক্তের হার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কমেছেও। বিপরীতে, ২০২০ সালের পর মেয়ে ও নারীদের মধ্যে অটিজম শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিশু, কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সের ক্ষেত্রেই একই প্রবণতা দেখা গেছে।   গবেষকদের মতে, অটিজম শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে নতুন রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া একমাত্র কারণ নয়। বরং মেয়েদের ও নারীদের মধ্যে আগে যে অটিজম শনাক্ত করা হতো না, এখন তা আরও ভালোভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এমন বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করেই অটিজম শনাক্তের পদ্ধতিগুলো তৈরি হওয়ায় অনেক মেয়ে ও নারী শনাক্তের বাইরে থেকে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, মেয়ে ও নারীদের অটিজম শনাক্ত হতে ছেলেদের তুলনায় গড়ে ৩ দশমিক ৪ বছর বেশি সময় লাগে। মেয়েদের ক্ষেত্রে রোগ শনাক্তের গড় বয়স ১৫ দশমিক ৭ বছর, যেখানে ছেলে ও পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ১২ দশমিক ৩ বছর।   গবেষকরা বলছেন, দেরিতে অটিজম শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা, আচরণগত থেরাপি ও অন্যান্য সেবা পেতে দেরি হতে পারে। ফলে একজন ব্যক্তি নিজের আচরণ ও প্রয়োজন বুঝতে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।   গবেষণার প্রধান লেখক এরিক মেসিয়াস বলেন, অটিজমের কোনো একক বৈশিষ্ট্য নেই। একজনের মধ্যে যে ধরনের লক্ষণ দেখা যায়, অন্যজনের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে অটিজমে থাকা অনেক নারী সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজেদের আচরণ সচেতনভাবে পরিবর্তন করেন, যাকে সামাজিকভাবে নিজেকে আড়াল করা বা ‘মাস্কিং’ বলা হয়।   এ ধরনের নারীরা অন্যদের সামাজিক আচরণ অনুকরণ করতে পারেন, আগে থেকেই কথোপকথন পরিকল্পনা করতে পারেন এবং নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। বাইরে থেকে তারা স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে চলছেন বলে মনে হলেও এই প্রক্রিয়াটি তাদের জন্য মানসিকভাবে বেশ ক্লান্তিকর হতে পারে।   গবেষকদের মতে, নারীদের ক্ষেত্রে অটিজমের লক্ষণ অনেক সময় অন্যভাবে প্রকাশ পায়। যেমন সামাজিক বা আচরণগত সমস্যার বদলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা কিংবা ভেতরের মানসিক চাপ বেশি চোখে পড়তে পারে। ফলে অটিজমের পরিবর্তে অন্য সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নারীদের মধ্যে অটিজমের পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে জয়েন্টে অতিরিক্ত নমনীয়তা, রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যা, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও ফাইব্রোমায়ালজিয়ার মতো সমস্যা রয়েছে।   গবেষক মেসিয়াস বলেন, এসব সমস্যার কোনো একটি বা একাধিক রোগ নির্ণয় হওয়া নারীদের ক্ষেত্রে অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে গবেষণাটি এসব শারীরিক সমস্যার সঙ্গে অটিজমের সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রমাণ করেনি।   গবেষণায় অটিজম শনাক্তের পরিভাষাতেও পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০১৩ সালে মানসিক রোগের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা থেকে অ্যাসপারগার ডিসঅর্ডার আলাদা শ্রেণি হিসেবে বাদ দেওয়ার পর এর ব্যবহার কমে এসেছে। এর পরিবর্তে চিকিৎসকেরা আরও বিস্তৃত অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার শব্দটি বেশি ব্যবহার করছেন।   গবেষণার লেখকেরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণ একটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। যদিও ওই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আওতায় ইলিনয়, মিসৌরি, ওকলাহোমা ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ৫০ লাখের বেশি রোগীর তথ্য ছিল, তাই ফলাফল পুরো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:৫৭
দুই চিকিৎসক ব্যারি মার্শাল ও রবিন ওয়ারেন, যাঁদের গবেষণায় আলসারের সঙ্গে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
আলসারের কারণ প্রমাণে নিজেই ব্যাকটেরিয়া পান করেছিলেন চিকিৎসক, পরবর্তীতে জিতলেন নোবেল পুরস্কার

দশকের পর দশক ধরে পেটের আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণকেই দায়ী করা হতো। চিকিৎসকদের ধারণা ছিল, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার এবং পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিডের কারণেই আলসার হয়। রোগীদের মূলত অ্যাসিড কমানোর ওষুধ দেওয়া হতো এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হতো। কিন্তু এরপরও অনেক রোগীর আলসারের যন্ত্রণাদায়ক উপসর্গগুলো বারবার ফিরে আসত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই প্রতিষ্ঠিত ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার দুজন চিকিৎসক। তাদের যুগান্তকারী এক আবিষ্কার পাল্টে দিয়েছিল পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা।   ১৯৭৯ সালের কথা। ডা. রবিন ওয়ারেন নামের এক চিকিৎসক পাকস্থলীতে প্রদাহ হওয়া রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করছিলেন। তখন তিনি একধরনের অদ্ভুত সর্পিলাকার ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। ওই সময়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, পাকস্থলীর চরম অ্যাসিডিক পরিবেশে কোনো ব্যাকটেরিয়াই টিকে থাকতে পারে না। কিন্তু ডা. ব্যারি মার্শাল নামের আরেক চিকিৎসক ডা. ওয়ারেনের এই পর্যবেক্ষণের মাঝে বিশেষ কিছু খুঁজে পান। তারা দুজন মিলে প্রশ্ন তোলেন, আলসারের পেছনে আসলেই এই ব্যাকটেরিয়া দায়ী কি না।   তবে তাদের এই তত্ত্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রবল সন্দেহের মুখে পড়ে। কেউই মানতে রাজি ছিলেন না যে আলসারের কারণ একটি ব্যাকটেরিয়া। এই পরিস্থিতি ডা. মার্শালকে এমন একটি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে, যা আজকের দিনের মানদণ্ডে নৈতিকভাবে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তিনি নিজেই সেই ব্যাকটেরিয়া মেশানো একটি তরল পান করে বসেন। পরবর্তীতে এই ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ করা হয় হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি। মূলত প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে তিনি নিজেকেই একটি পরীক্ষাগারে পরিণত করেছিলেন।   ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত তরল পানের কয়েকদিনের মধ্যেই ডা. মার্শাল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং মুখে দুর্গন্ধের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, তার পাকস্থলীতে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানে ওই ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। এরপর তিনি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেন এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। যদিও তার এই আত্মঘাতী পরীক্ষাটি একাই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি, তবে এটি এমন একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিল যা পরবর্তী গবেষণায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।   এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আলসারের চিকিৎসায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। শুধু পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানো এবং উপসর্গ ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকার বদলে চিকিৎসকরা এখন অ্যাসিড কমানোর ওষুধের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সরাসরি ব্যাকটেরিয়ার চিকিৎসা করতে পারেন। একসময় যে রোগটিকে দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার ফিরে আসা একটি যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা হিসেবে দেখা হতো, তা এখন পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য হয়ে উঠেছে।   এই আবিষ্কারের গুরুত্ব কেবল আলসারের চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তী গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্যাকটেরিয়ার দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তবে আক্রান্ত অনেক মানুষের শরীরে কখনোই আলসার বা ক্যান্সার দেখা দেয় না।   গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বেশ সাধারণ। একটি বড় পরিসরের পর্যালোচনায় অনুমান করা হয়েছে যে, ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এর উপস্থিতি ছিল ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০১১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কমে ৪৩ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবুও বিশ্বের প্রতি ১০ জনের মধ্যে অন্তত চারজন এই ব্যাকটেরিয়া বহন করেন।   এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চিকিৎসা ব্যবসার একটি বড় বাণিজ্যিক গল্পকেও পাল্টে দিয়েছিল। একসময় আলসারের চিকিৎসায় অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের ওষুধগুলোই ছিল প্রধান ভরসা। কিন্তু নতুন এই প্রমাণের ফলে চিকিৎসার মনোযোগ শুধু উপসর্গ ব্যবস্থাপনার বদলে মূল কারণটি নির্মূলের দিকে সরে যায়। এটি প্রমাণ করে যে, কীভাবে দীর্ঘদিনের বদ্ধমূল ধারণা রোগীদের চিকিৎসাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একইসঙ্গে সতর্ক পর্যবেক্ষণ, অধ্যবসায় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কীভাবে চিকিৎসকরা রোগীদের জন্য তাদের জ্ঞানকে নতুন করে লিখতে পারেন, এটি তার একটি বড় উদাহরণ।   এই অসামান্য আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে ডা. ব্যারি মার্শাল এবং ডা. রবিন ওয়ারেন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।   সূত্র: নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ ও পিয়ার-রিভিউড চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২২:৭
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা

ফ্যাশনে জনপ্রিয় ক্ল’ ক্লিপ গাড়ি দুর্ঘটনার সময় গুরুতর মাথা ও ঘাড়ের আঘাতের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে চিকিৎসকদের এক আলোচনায় বিষয়টি সামনে আসে। তাদের মতে, দুর্ঘটনার সময় মাথা জোরে সিটের হেডরেস্টে আঘাত করলে মাথার পেছনে লাগানো ক্ল’ ক্লিপের দাঁত বা শক্ত অংশ মাথার ত্বকে ঢুকে যেতে পারে।   জরুরি চিকিৎসক ডোরিয়ান ও’লিয়ারি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মাথা জোরে পেছনের দিকে ছিটকে গেলে ধাতব ক্ল’ ক্লিপ মাথা, ঘাড় ও মাথার ত্বরে গুরুতর আঘাত করতে পারে। এমনকি ক্লিপ মাথার ত্বকে আটকে গিয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং সেটি অপসারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।   একজন অবসরপ্রাপ্ত আইসিইউ নার্সও একই ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় ক্ল’ ক্লিপ মাথার খুলিতে ঢুকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। আর একজন ডেথ ইনভেস্টিগেটর জানিয়েছেন, গাড়ি চালানোর সময় তিনি নিজে কখনো ক্ল’ ক্লিপ পরেন না।   এই আশঙ্কার পেছনে বাস্তব ঘটনার উদাহরণও রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জিনা পানেসার একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তার গাড়ি উল্টে যাওয়ার সময় মাথায় থাকা চুলের ক্লিপটি মাথায় ঢুকে যায়। এতে তার মাথার খুলি, মুখ ও চোখের চারপাশে গুরুতর আঘাত লাগে।   অস্ট্রেলিয়াতেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনা সামনে এসেছে। ২২ বছর বয়সী ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার এল্লা কার্টার গাড়ি দুর্ঘটনায় প্লাস্টিকের ক্ল’ ক্লিপ পরা অবস্থায় গুরুতর কনকাশনে আক্রান্ত হন। তিনি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেন।   ক্ল’ ক্লিপ মূলত দ্রুত চুল বাঁধার সুবিধার জন্য ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় অনুষঙ্গ। ১৯৮০-এর দশক থেকেই এর ব্যবহার রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজার দশকের ফ্যাশনের জনপ্রিয়তার সঙ্গে এটি আবারও তরুণদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ফিরে এসেছে।   তবে চিকিৎসকদের সতর্কতা মূলত গাড়িতে ক্ল’ ক্লিপ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে। দুর্ঘটনার সময় মাথা ও হেডরেস্টের মাঝখানে শক্ত কোনো বস্তু থাকলে সেটি আঘাতের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই গাড়ি চালানো বা যাত্রার সময় এ ধরনের শক্ত ক্লিপের পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৩:১
১৯৯১ সালে কাগলিয়ারিতে এইচআইভি নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে রোসারিয়া ইয়ারদিনোকে চুমু দেন চিকিৎসক ফার্নান্দো আইউতি। ছবি: সংগৃহীত
চুম্বনে এইচআইভি ছড়ায় না, প্রমাণ করতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রান্ত নারীকে চুমু দেন চিকিৎসক

১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে ইতালির কাগলিয়ারিতে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে এমন এক দৃশ্যের জন্ম হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে এইচআইভি ও এইডস নিয়ে সামাজিক ভয় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। ইতালীয় রোগপ্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ ফার্নান্দো আইউতি এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ২৫ বছর বয়সী রোসারিয়া ইয়ারদিনোকে প্রকাশ্যে ঠোঁটে চুমু দেন।   ঘটনাটি ঘটে ১৯৯১ সালের ২ ডিসেম্বর কাগলিয়ারি মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এইডস বিষয়ক একটি সম্মেলনে। সে সময় এইচআইভি নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ভুল ধারণা ছিল। বিশেষ করে চুম্বন বা লালার মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে কি না, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ছিল। আইউতি ও ইয়ারদিনো সেই ভয় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতীকী বার্তা দিতে নিজেদের উদ্যোগেই এই চুম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।   আইউতি ছিলেন ইতালির এইচআইভি ও এইডস গবেষণা এবং জনসচেতনতার অন্যতম পরিচিত চিকিৎসক। সম্মেলনের সময় এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে ইয়ারদিনোর কাছে যান এবং তাকে আলিঙ্গন করে চুমু দেন। একজন ফটোসাংবাদিক সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী করেন। পরে ছবিটি ইতালির গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   ইয়ারদিনো তখন ২৫ বছর বয়সী ছিলেন এবং কয়েক বছর ধরে এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন। পরে তিনি জানান, সেই চুম্বনের সিদ্ধান্তটি তারা আগের রাতেই নিয়েছিলেন। কারণ শুধু কথা বলা বা বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় দূর করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, একটি প্রতীকী ঘটনা মানুষের কাছে বিষয়টি আরও সরাসরি পৌঁছে দিতে পারে।   সেই সময় এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের ঘিরে সামাজিক বৈষম্য ছিল ব্যাপক। অনেকে ভুলভাবে মনে করতেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করা, আলিঙ্গন করা কিংবা একই পরিবেশে থাকার মাধ্যমেও এইচআইভি ছড়াতে পারে। এমন ভুল ধারণার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নানা ধরনের বঞ্চনা ও দূরত্বের মুখোমুখি হতেন। ইয়ারদিনো পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তখন সামাজিক কলঙ্ক অনেক মানুষের জীবনে সংক্রমণের চেয়েও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।   আইউতি ও ইয়ারদিনোর সেই ছবি দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইতালি ছাড়াও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশিত হয়। একসময়ের বিতর্কিত সেই দৃশ্য পরে এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের প্রতি বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে সচেতনতার প্রতীকে পরিণত হয়।   তবে ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিকও রয়েছে। এইচআইভি সাধারণ চুম্বন, আলিঙ্গন বা দৈনন্দিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায় না। ভাইরাসটি মূলত নির্দিষ্ট ধরনের শারীরিক তরল, যেমন রক্ত, বীর্য, যোনি ও মলদ্বারের তরল এবং বুকের দুধের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। লালায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সাধারণ চুম্বনের মাধ্যমে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি নেই।   ১৯৯১ সালে এই বিষয়গুলো নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে আজকের মতো পরিষ্কার ধারণা ছিল না। ফলে আইউতির প্রকাশ্য চুম্বনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং মানুষের ভয় ও ভুল ধারণার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।   ইয়ারদিনো পরবর্তী সময়েও এইচআইভি সচেতনতা ও বৈষম্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। আইউতি ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৮৩ বছর বয়সে মারা যান। তার মৃত্যুর পর ইয়ারদিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্মরণ করে সেই ঐতিহাসিক চুম্বনের কথা উল্লেখ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সেই মুহূর্তকে তাদের দীর্ঘদিনের সচেতনতা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।   তিন দশকেরও বেশি সময় পরেও কাগলিয়ারির সেই ছবিটি এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের প্রতি বৈষম্য দূর করার আলোচনায় ফিরে আসে। কারণ ঘটনাটি শুধু একজন চিকিৎসকের একজন রোগীকে চুমু দেওয়ার ছবি ছিল না, বরং এমন এক সময়ে সামাজিক ভয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান ছিল, যখন এইচআইভি সম্পর্কে ভুল তথ্য মানুষের আচরণ ও সামাজিক সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করছিল।   সূত্র: এএনএসএ, কোরিয়েরে দেলা সেরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ২১:৪৩
সবুজ আলোতে মাইগ্রেনের ব্যথা কমার আশা
সবুজ আলোতে মাইগ্রেনের ব্যথা কমার আশা, নতুন গবেষণায় মিলছে সম্ভাবনার ইঙ্গিত

মাইগ্রেনে ভোগা মানুষের জন্য নতুন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে সবুজ আলোভিত্তিক থেরাপি। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ধরনের সবুজ আলো মাইগ্রেনের সময় মাথাব্যথা ও আলো-সংবেদনশীলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।    মাইগ্রেনের অন্যতম সাধারণ উপসর্গ হলো আলো সহ্য করতে না পারা, যাকে ফোটোফোবিয়া বলা হয়। উজ্জ্বল বা নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো অনেকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সবুজ আলোর ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।    এর পেছনে মস্তিষ্ক ও চোখের আলোক-সংবেদনশীল স্নায়ুপথের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। আগের গবেষণায় দেখা যায়, নীল, লাল ও অ্যাম্বার আলোর তুলনায় সবুজ আলো মাইগ্রেনের ব্যথাকে কম বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে তুলনামূলক কম প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।    ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় সংকীর্ণ-ব্যান্ডের সবুজ আলো ব্যবহার করে মাইগ্রেন রোগীদের কয়েক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ মাথাব্যথা ও আলো-সংবেদনশীলতা কমার কথা জানিয়েছেন।    আরও বড় একটি বাস্তবভিত্তিক পর্যবেক্ষণেও একই ধরনের সম্ভাবনা দেখা যায়। সেখানে ১৪২ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৯১ জনকে সবুজ আলোতে ভালো সাড়া দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নথিভুক্ত মাইগ্রেন আক্রমণের প্রায় ৫৭ শতাংশ ক্ষেত্রে মাথাব্যথা এবং প্রায় ৫৩ শতাংশ ক্ষেত্রে আলো-সংবেদনশীলতা কমার কথা জানানো হয়।    এদিকে ২০২৫ সালের একটি প্রাথমিক র‍্যান্ডমাইজড নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় ৬৯ জন মাইগ্রেন রোগীকে নিয়ে সবুজ আলোসহ বিভিন্ন নন-মেডিকেশন পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় সবুজ আলো ব্যবহার করা গ্রুপে ব্যথার তীব্রতা, মাইগ্রেনের প্রভাব এবং জীবনযাত্রার মানের কিছু সূচকে উন্নতি দেখা যায়। তবে গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের হওয়ায় আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।    সবচেয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু সবুজ রঙের আলো নয়, সাধারণ সাদা আলোর মধ্যেও আলোর বর্ণগত উপাদান পরিবর্তন করলে কী প্রভাব পড়ে, তা পরীক্ষা করা। ২০২৬ সালের এক গবেষণায় মাইগ্রেন চলাকালে বিভিন্ন ধরনের সাদা আলো ব্যবহার করে দেখা হয়, কোন বর্ণের আলো রোগীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সহনীয়।    তবে বিশেষজ্ঞদের জন্যও বিষয়টি এখনো গবেষণাধীন। সবুজ আলোকে মাইগ্রেনের নিশ্চিত চিকিৎসা বা প্রচলিত চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখার সময় এখনো আসেনি। কোন ধরনের আলো, কতটা উজ্জ্বলতা, কতক্ষণ ব্যবহার এবং কোন রোগীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপকার হবে—এসব বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার।    অর্থাৎ, মাইগ্রেনের চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি আলোভিত্তিক নন-মেডিকেশন পদ্ধতি ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় সহায়ক ব্যবস্থা হতে পারে—আর সবুজ আলো নিয়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া গবেষণাগুলো সেই সম্ভাবনাই সামনে আনছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৬:২২
আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত
কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় কোলনোস্কপির সময় অচেতন এক রোগীকে নিয়ে চিকিৎসকের কটূক্তি ও অপমানজনক মন্তব্য তার নিজের মোবাইল ফোনের অডিও রেকর্ডে ধরা পড়ে। ২০১৩ সালের এ ঘটনায় পরে মামলা হলে ২০১৫ সালে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির একটি জুরি ওই রোগীকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেন।   ১৮ এপ্রিল ২০১৩ সালে রেস্টনে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ওই রোগীর কোলনোস্কপি করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, রোগী আগে থেকেই জানতেন যে অ্যানেস্থেশিয়ার কারণে চিকিৎসার পর তিনি কিছু নির্দেশনা মনে রাখতে নাও পারেন। তাই চিকিৎসকের দেওয়া পরবর্তী নির্দেশনা রেকর্ড করার জন্য তিনি নিজের মোবাইল ফোনের রেকর্ডার চালু করেছিলেন।   কিন্তু অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার পর ফোনটি বন্ধ করার কথা তিনি ভুলে যান। ফোনটি তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের সঙ্গে অস্ত্রোপচার টেবিলের নিচে পড়ে ছিল এবং প্রায় ৫০ মিনিট ধরে পুরো প্রক্রিয়ার কথোপকথন রেকর্ড হতে থাকে।   পরে বাড়ি ফেরার পথে রেকর্ডটি শুনতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, অচেতন অবস্থায় তাকে নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে নানা অপমানজনক আলোচনা হয়েছে। অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট টিফানি ইনগ্রাম তার উদ্বেগ নিয়ে ঠাট্টা করেন এবং তাকে ঘুষি মারতে ইচ্ছা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন।   রেকর্ডে তার শরীরে থাকা একটি র‍্যাশ নিয়েও চিকিৎসককে কটূক্তি করতে শোনা যায়। তিনি রোগীর সিফিলিস বা যক্ষ্মা থাকতে পারে বলে রসিকতা করেন, যদিও ওই রোগগুলোর কোনোটিই রোগীর ছিল না।এখানেই শেষ নয়। চিকিৎসকের কথোপকথনে রোগীর মেডিকেল রেকর্ডে এমন একটি ভুয়া হেমোরয়েডসের রোগ নির্ণয় লেখার কথাও উঠে আসে, যার অস্তিত্ব রোগীর ছিল না।   ঘটনাটি জানার পর ওই রোগী মামলা করেন। আদালতের নথিতে তাকে শুধু ডি.বি. নামে উল্লেখ করা হয়। মামলায় চিকিৎসাগত অবহেলা ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়।   তিন দিনের বিচার শেষে ২০১৫ সালের জুনে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির জুরি রোগীকে মোট ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। এর মধ্যে মানহানির জন্য ১ লাখ ডলার, চিকিৎসাগত অবহেলার জন্য ২ লাখ ডলার এবং শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ২ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়।   মামলার পর চিকিৎসক টিফানি ইনগ্রাম ওই রেস্টন চিকিৎসাকেন্দ্রে আর কাজ করেননি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চিকিৎসা পেশায় রোগীর প্রতি সম্মান, গোপনীয়তা এবং পেশাগত আচরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।   রোগীর উদ্দেশ্য ছিল কেবল অ্যানেস্থেশিয়ার পর ভুলে যেতে পারেন এমন চিকিৎসা নির্দেশনা রেকর্ড করে রাখা। কিন্তু ফোনটি বন্ধ করতে ভুলে যাওয়ায় সেই রেকর্ডেই ধরা পড়ে এমন এক কথোপকথন, যা তিনি অচেতন না থাকলে হয়তো কখনোই শুনতে পেতেন না।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৯:৯
রোগীরা হাসপাতালে। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে, চলতি বছর আক্রান্ত ২ হাজার ৫৬৬

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা গত বছরের পুরো সময়ের ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।   রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল থেকে ২ হাজার ৫৫০টি হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আরও ১৬টি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৮টি হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে।   সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ বছরের মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার ৪০৭টি ঘটনা কোনো না কোনো প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে ২০২৬ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩২টি এবং ২০২৫ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩৭৫টি সংক্রমণ এসেছে।   মাত্র কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগকে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় টিকা না নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে সংক্রমণ আবারও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।   সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা নেওয়ার হার সামান্য কমে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে টিকা নেওয়া থেকে অব্যাহতির হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষ টিকা না নিলে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে দ্রুত অনেক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের সংক্রমণের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। মাত্র ১৬টি ঘটনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে শুধু বিদেশ থেকে আসা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কারণে সংক্রমণ হচ্ছে—এমন ব্যাখ্যা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে বোঝা যাচ্ছে না।   এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুল ও শিশুদের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই টিকাদানের মাধ্যমে সুরক্ষা বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।   চলতি বছরের ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা এবং ৪৮টি প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গিয়েছিল।   স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, সংক্রমণের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে ২০২৬ সালের সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয়; নতুন তথ্য যুক্ত হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৯:১৩
চুল পড়া রোধে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই নতুন আবিষ্কার বিশেষজ্ঞদের আশাবাদী করে তুলেছে। ছবি: সংগৃহীত
তীব্র চুল পড়ার সমস্যায় নতুন আশার আলো, পরিচিত একটি ওষুধেই মিলছে চুল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা

তীব্র চুল পড়ার রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য নতুন আশার খবর দিয়েছেন গবেষকেরা। বাতসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় আগে থেকেই ব্যবহৃত একটি ওষুধ গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা বা অ্যালোপেশিয়া রোগীদের চুল গজাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। তৃতীয় ধাপের দুটি বড় ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওষুধটির উচ্চমাত্রা গ্রহণকারী রোগীদের প্রায় ৫৪ থেকে ৫৫ শতাংশ ২৪ সপ্তাহের মধ্যে মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পেয়েছেন।   গবেষণায় ব্যবহৃত ওষুধটির নাম আপাডাসিটিনিব। এটি মুখে খাওয়ার একটি জ্যানাস কাইনেজ বা JAK ইনহিবিটর, যা শরীরের নির্দিষ্ট রোগপ্রতিরোধী সংকেত নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার ক্ষেত্রে রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা চুলের গোড়ায় আক্রমণ করে চুল পড়ার কারণ হতে পারে। নতুন গবেষণায় এই রোগপ্রতিরোধী প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করেই ওষুধটি ব্যবহার করা হয়েছে।   ‘জেএএমএ ডার্মাটোলজি’তে প্রকাশিত দুটি তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় ১২ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মোট ১ হাজার ৩৯৯ জন রোগী অংশ নেন। বিশ্বের ২৪৮টি গবেষণাকেন্দ্রে এসব পরীক্ষা পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার মাথার অন্তত অর্ধেক চুল পড়ে গিয়েছিল এবং গবেষণার শুরুতে গড়ে প্রায় ৮৪ শতাংশ মাথার চুল হারিয়েছিলেন তারা।   গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের প্রতিদিন ১৫ মিলিগ্রাম আপাডাসিটিনিব, ৩০ মিলিগ্রাম আপাডাসিটিনিব অথবা প্লাসিবো দেওয়া হয়। ২৪ সপ্তাহ পর দেখা যায়, কম মাত্রার ওষুধ গ্রহণকারীদের প্রায় ৪৫ শতাংশের মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে এসেছে। আর ৩০ মিলিগ্রাম মাত্রা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ৫৪ থেকে ৫৫ শতাংশ। বিপরীতে প্লাসিবো গ্রহণকারীদের মাত্র ১ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ একই মাত্রার চুল ফিরে পেয়েছেন।   চিকিৎসাবিজ্ঞানে মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়। গবেষণায় শুধু মাথার চুল নয়, ভ্রু ও চোখের পাতার চুলের ক্ষেত্রেও উন্নতি দেখা গেছে। কিছু রোগীর মাথার চুল পুরোপুরি ফিরে আসার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।   অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা সাধারণ বংশগত চুল পড়ার মতো নয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় রোগপ্রতিরোধী সমস্যা, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা ভুল করে চুলের গোড়াকে আক্রমণ করে। ফলে মাথায় ছোট ছোট ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়া থেকে শুরু করে পুরো মাথা, ভ্রু, চোখের পাতা কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশের চুলও পড়ে যেতে পারে। রোগটির ধরন ও তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।   আপাডাসিটিনিবের কার্যপ্রক্রিয়াও এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি JAK-1 নামের একটি প্রোটিনের কার্যক্রমে বাধা দেয়, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধী সংকেত পরিবহনে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ চুলের গোড়াকে বাইরে থেকে উদ্দীপিত করার বদলে ওষুধটি রোগটির পেছনে থাকা রোগপ্রতিরোধী প্রক্রিয়ার একটি অংশকে লক্ষ্য করে কাজ করে।   তবে গবেষণার ফল আশাব্যঞ্জক হলেও এটিকে সবার জন্য নিশ্চিত সমাধান হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ ২৪ সপ্তাহ পরও প্রায় অর্ধেক রোগী পরীক্ষায় নির্ধারিত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পাওয়ার মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেননি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ওষুধ ব্যবহারের পর চুলের এই পুনরুদ্ধার কতটা স্থায়ী হবে এবং ওষুধ বন্ধ করলে কী ঘটবে, সেটিও আরও গবেষণায় জানতে হবে।   ওষুধটির নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় ওপরের শ্বাসনালির সংক্রমণ, ব্রণ, রক্তে ক্রিয়েটিন ফসফোকাইনেজের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং নাক-গলার সংক্রমণের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ১৫ মিলিগ্রাম গ্রহণকারীদের ১ দশমিক ৬ শতাংশ, ৩০ মিলিগ্রাম গ্রহণকারীদের ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্লাসিবো গ্রহণকারীদের শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যে দেখা যায়। গবেষকেরা পরীক্ষায় নতুন কোনো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকির সংকেত পাননি বলে জানিয়েছেন।   তবে আপাডাসিটিনিব সাধারণ কোনো চুল পড়ার ওষুধ নয়। এটি একটি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক রোগপ্রতিরোধী ওষুধ এবং এর আগে থেকেই বিভিন্ন প্রদাহজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তালিকায় আপাডাসিটিনিবের অনুমোদিত বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে, তবে গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রে এর অনুমোদন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   অন্যদিকে, ইউরোপে পরিস্থিতি এগিয়েছে আরও এক ধাপ। গত ২৯ জুলাই ইউরোপীয় কমিশন ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় আপাডাসিটিনিবের অনুমোদন দিয়েছে। ইউরোপীয় অনুমোদনের ভিত্তি ছিল এই তৃতীয় ধাপের UP-AA গবেষণা কর্মসূচির ফলাফল।   অ্যালোপেশিয়ার চিকিৎসায় JAK ইনহিবিটর শ্রেণির ওষুধ ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অ্যালোপেশিয়ার জন্য বারিসিটিনিব, রিটলেসিটিনিব এবং ডিউরুক্সোলিটিনিবের মতো JAK-সম্পর্কিত ওষুধ অনুমোদিত রয়েছে। ফলে আপাডাসিটিনিবের নতুন ফলাফল এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে আরও একটি সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।   তবে JAK ইনহিবিটর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের FDA এই শ্রেণির কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে গুরুতর হৃদ্‌যন্ত্র-সংক্রান্ত ঘটনা, ক্যানসার, রক্ত জমাট বাঁধা এবং মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। আপাডাসিটিনিবের ক্ষেত্রেও এর রোগপ্রতিরোধী কার্যপ্রক্রিয়ার কারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণার ফল তাই গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আপাডাসিটিনিব গ্রহণের সুযোগ নেই। কার জন্য এই ওষুধ উপযুক্ত, কী মাত্রায় ব্যবহার করা হবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কতটা, তা রোগীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য ওষুধের ওপর নির্ভর করে।   সব মিলিয়ে, তীব্র অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় আপাডাসিটিনিবের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। ২৪ সপ্তাহেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর মাথার চুল ফিরে আসা এবং কিছু রোগীর সম্পূর্ণ চুল পুনরুদ্ধার চিকিৎসকদের আশাবাদী করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২৩:৩০
অস্ত্রোপচারের ঠিক আগে ছাড়ের প্রলোভনে পড়ে ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট (বিবিএল) করাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ব্রিটিশ নারী হেইলি ডাওয়েল। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কে ‘ডিসকাউন্টে’ বাট লিফট সার্জারি, অপারেশনের পরই ব্রিটিশ মায়ের মৃত্যু

মাত্র কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্ত। অস্ত্রোপচারের ঠিক আগে এক হাজার পাউন্ড ছাড়ে ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট বা বিবিএল করানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন ব্রিটিশ নারী হেইলি ডাওয়েল। স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাদের হাতে ছিল মাত্র পাঁচ মিনিট। সেই অস্ত্রোপচারের পর জটিলতায় ৩৮ বছর বয়সী তিন সন্তানের এই মায়ের মৃত্যু হয়। এখন তার মৃত্যু নিয়ে তদন্তে বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া রোগীদের যথাযথভাবে ঝুঁকি জানানোর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।   ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারের ইস্টলির বাসিন্দা হেইলি ২০২৩ সালের অক্টোবরে স্বামী নিল ডাওয়েলের সঙ্গে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যান। পরিকল্পনা ছিল টামি টাক ও লাইপোসাকশন করানোর। কিন্তু স্বামীর দাবি, অস্ত্রোপচারের অল্প সময় আগে চিকিৎসক তার নিতম্বের আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করে অতিরিক্তভাবে বিবিএল করানোর প্রস্তাব দেন।   সাম্প্রতিক ইনকোয়েস্টে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওই অতিরিক্ত অস্ত্রোপচারের জন্য এক হাজার পাউন্ড ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নিল ডাওয়েলের দাবি, স্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি এবং ঝুঁকিগুলোও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।   হেইলি ২০২৩ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের বিহিটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করান। পরদিন ৩ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর তিনি দুবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। তার মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাট এম্বোলিজমের সম্পর্ক পাওয়া যায়। এ অবস্থায় শরীরের চর্বির কণা রক্তপ্রবাহে ঢুকে ফুসফুসসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে।   বিবিএল এমন একটি কসমেটিক সার্জারি, যেখানে শরীরের অন্য অংশ থেকে লাইপোসাকশনের মাধ্যমে চর্বি সংগ্রহ করে নিতম্বে স্থানান্তর করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় চর্বি ভুল জায়গায় প্রবেশ করলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।   হেইলির স্বামী শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তার স্ত্রী যে তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, সবগুলোর বিষয়ে যথাযথ সম্মতি ছিল না। ২০২৪ সালে প্রাথমিক শুনানিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি তাদের পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি।   তার আরেকটি গুরুতর অভিযোগ ছিল অস্ত্রোপচারের সময়কাল নিয়ে। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারটি প্রায় ছয় ঘণ্টা চলার কথা থাকলেও তা শেষ হয় প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে। তিনি দাবি করেন, সার্জন অস্ত্রোপচারের মাঝপথে চলে যান এবং অ্যানেসথেটিস্টের ওপর দায়িত্ব রেখে যান।   নিল আরও অভিযোগ করেছিলেন, হেইলির মৃত্যুর পর তাকে একটি কনসেন্ট ফর্মে সই করতে বলা হয়েছিল। এসব অভিযোগের সবকটি আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। তবে হেইলির মৃত্যু ঘিরে চলমান তদন্তে রোগীর সম্মতি, তাকে দেওয়া তথ্য এবং অস্ত্রোপচারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।   হেইলির মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে ইনকোয়েস্ট পরিচালনা করছেন হ্যাম্পশায়ারের এরিয়া করোনার নিকোলাস ওয়াকার। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তুরস্কে চলমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ইনকোয়েস্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি তদন্ত করছে এবং নিল ডাওয়েল সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছেন।   করোনার তদন্তের পরিধি শুধু হেইলির মৃত্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিকেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঝুঁকি সম্পর্কে কতটা তথ্য পাচ্ছেন, সেটিও পর্যালোচনায় আনা হয়েছে।   ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৩ সালেই চিকিৎসা নিতে তুরস্কে যাওয়ার পর অন্তত ছয় ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। কম খরচে কসমেটিক সার্জারির জন্য তুরস্ক ব্রিটিশদের কাছে জনপ্রিয় হলেও একাধিক মৃত্যুর পর বিদেশে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।   হেইলি ডাওয়েলের ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন কেবল অস্ত্রোপচারের ফলাফল নয়। অস্ত্রোপচারের কয়েক মিনিট আগে নতুন একটি উচ্চঝুঁকির প্রক্রিয়া করানোর সিদ্ধান্ত একজন রোগী কতটা বুঝে এবং স্বাধীনভাবে নিতে পারেন, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে এই মৃত্যু।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১২:৪৬
নারীদের প্রজননক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা নিয়ে নতুন গবেষণা করছেন ড. হংমেই ওয়াং। ছবি: সংগৃহীত
বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা

নারীদের প্রজননক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা যায় কি না, তা নিয়ে নতুন গবেষণা করছেন চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত স্টেট কি ল্যাবরেটরি অব স্টেম সেল অ্যান্ড রিপ্রোডাকটিভ বায়োলজির অধ্যাপক ও পরিচালক ড. হংমেই ওয়াং। তার নেতৃত্বাধীন গবেষণা দল খতিয়ে দেখছে, বছরে প্রায় ১২ বার মাসিক হওয়ার পরিবর্তে যদি তিন মাসে একবার বা বছরে মাত্র চারবার মাসিক হয়, তাহলে ডিম্বাশয়ের ডিম্বাণু (এগ) আরও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে কি না। তবে গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি থেকে কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   ড. ওয়াংয়ের গবেষণার ধারণা এসেছে মানুষের বিবর্তন ও অতীত জীবনধারা বিশ্লেষণ থেকে। তার মতে, অতীতে নারীরা ঘন ঘন গর্ভধারণ ও দীর্ঘ সময় সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর কারণে সারা জীবনে গড়ে প্রায় ১০০ বার মাসিক হতো। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় একজন নারী সারা জীবনে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বার মাসিকের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। গবেষকদের ধারণা, এর ফলে ডিম্বাণু তুলনামূলক দ্রুত কমে যেতে পারে এবং সন্তান ধারণের সময়কালও কমে আসতে পারে।   স্পেনের সংবাদপত্র *এল পাইস*-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ওয়াং বলেন, ডিম্বস্ফোটন কমানো গেলে আরও বেশি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কারণ ডিম্বস্ফোটন বন্ধ হলে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের উৎপাদনও কমে যায়, যা নারীর হাড়, হৃদ্‌যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।   এ কারণে গবেষকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি নিরাপদ পদ্ধতি খুঁজে বের করা, যাতে নারীর প্রজননক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হলেও সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণার সঙ্গে চীনের বর্তমান জনসংখ্যাগত সংকটেরও সম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে জন্মহার কমে যাওয়া এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় সরকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো স্টেম সেল, প্রজনন চিকিৎসা এবং ডিম্বাণু সংরক্ষণ প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছে, যাতে মানুষ চাইলে তুলনামূলক বেশি বয়সেও সন্তান নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই গবেষণা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগে এটি কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি বা স্বাস্থ্য পরামর্শ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৫:৩৩
নতুন গবেষণা পর্যালোচনায় দীর্ঘায়ু ও প্রোটিন গ্রহণের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা

ক্যালোরি কমিয়ে কঠোর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ না করেও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যালোচনা। গবেষকদের দাবি, বিশেষ করে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, তাদের ক্ষেত্রে প্রোটিনের পরিমাণ কিছুটা কমানো একই ধরনের বিপাকীয় সুবিধা দিতে পারে, যা আগে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হতো।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫০টিরও বেশি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Cell Press Blue-এ। এতে দেখা গেছে, খাদ্যতালিকায় প্রোটিন কমানো হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া, কোষের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুষ্টি-সংকেত নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কোষের ক্ষতি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহও কমতে পারে।   গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফাইব্রোব্লাস্ট গ্রোথ ফ্যাক্টর-২১ (FGF21) নামের একটি বিপাকীয় হরমোন। খাদ্যে প্রোটিন কমে গেলে শরীরে এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, FGF21 শক্তি ব্যয় বাড়াতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে, প্রদাহ কমাতে এবং আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।   পর্যালোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রোটিনের তিনটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড মেথিওনিন, আইসোলিউসিন এবং ভ্যালিন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জৈবিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তাদের শরীরে এসব অ্যামিনো অ্যাসিডের অতিরিক্ত উপস্থিতি কোষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে প্রদাহ, কোষের ক্ষতি এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।   গবেষণার প্রধান লেখক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের গবেষক ডাডলি ল্যামিং বলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করা মানুষের জন্য পেশি গঠন ও পুনর্গঠনে প্রোটিনের উপকারিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অধিকাংশ মানুষ যেহেতু তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় জীবনযাপন করেন, তাই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন গ্রহণ করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   তবে গবেষকেরা এও স্পষ্ট করেছেন, এই গবেষণা নতুন কোনো ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা নয়; বরং পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোর একটি পর্যালোচনা। তাই এটি মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-ফলাফল সম্পর্ক প্রমাণ করে না। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মানবভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, এসব বিপাকীয় পরিবর্তন সত্যিই মানুষের আয়ু বাড়ায় কি না।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সবার জন্য একই মাত্রার প্রোটিন উপযুক্ত নয়। তাই এই ফলাফলকে কোনোভাবেই প্রোটিনের ঘাটতিযুক্ত খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ হিসেবে দেখা উচিত নয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তি, ক্রীড়াবিদ, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরীরচর্চার সময় খাদ্য থেকে পাওয়া অ্যামিনো অ্যাসিড পেশি গঠন ও মেরামতের কাজে ব্যবহৃত হয়। আবার বয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়সজনিত পেশি ক্ষয় রোধেও পর্যাপ্ত প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে।   গবেষকদের অভিমত, ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক খাদ্য নির্দেশিকায় সবার জন্য এক ধরনের প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক কার্যক্রম এবং জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ২১:৪৫
অ্যালকোহল ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’—ধারণাটি ভুল প্রমাণিত নতুন গবেষণায়

জার্নাল অব সাইকোফার্মাকোলজিসহ একাধিক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, অল্প মাত্রার অ্যালকোহলও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের জন্য অ্যালকোহলের কোনো নিরাপদ মাত্রা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।   দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, দিনে অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল পান হৃদ্‌স্বাস্থ্য বা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে নতুন গবেষণাগুলো বলছে, এই ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং অল্প মাত্রার অ্যালকোহলও দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   সম্প্রতি জার্নাল অব সাইকোফার্মাকোলজি–তে প্রকাশিত গবেষণা এবং এ–সংক্রান্ত একাধিক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, পরিকল্পনা এবং সমস্যা সমাধানের মতো জ্ঞানীয় দক্ষতাকে দুর্বল করতে পারে।   গবেষকদের মতে, অ্যালকোহল মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার ও হোয়াইট ম্যাটার—উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। গ্রে ম্যাটার চিন্তাভাবনা, বিচার-বিশ্লেষণ ও স্মৃতিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে, আর হোয়াইট ম্যাটার মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করে। নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণে এই দুই অংশের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালকোহল শুধু মস্তিষ্কের কোষেই প্রভাব ফেলে না; এটি ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করে, শরীরে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায় এবং ভিটামিন বি–১ (থায়ামিন)–এর ঘাটতি তৈরি করতে পারে। এসব পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, শেখার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায়ও দেখা গেছে, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ মস্তিষ্কের এমন স্নায়বিক সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিচার-বিশ্লেষণ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যালকোহল ছাড়ার পরও এসব পরিবর্তনের কিছু অংশ দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যেতে পারে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আগেই জানিয়েছে, স্বাস্থ্যের জন্য অ্যালকোহল গ্রহণের এমন কোনো মাত্রা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোও একই ধরনের বার্তা দিচ্ছে—বিশেষ করে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘পরিমিত পান’ও ঝুঁকিমুক্ত নয়।   তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, অল্প অ্যালকোহল গ্রহণ করলেই সবার স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি হবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যায় না। তবে গবেষণাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে, অ্যালকোহল যত কম গ্রহণ করা যায়, মস্তিষ্কের জন্য তত ভালো। বিশেষ করে যাদের পরিবারে ডিমেনশিয়া, স্ট্রোক বা অন্যান্য স্নায়বিক রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।   নতুন এসব গবেষণার ফলে একসময় প্রচলিত থাকা ‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’ ধারণাটি নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশিকায়ও এ বিষয়ে পরিবর্তন আসতে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২:৫৬
তীব্র ব্যায়ামের পর কিছু পুরুষের শরীরে সাময়িক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
ব্যায়ামের পর পুরুষাঙ্গ সাময়িকভাবে ছোট দেখাতে পারে, কেন হয় জানালেন বিশেষজ্ঞ

নিয়মিত শরীরচর্চা বা জিমে ভারী ওজন তোলার পর পেশি ফুলে ওঠা বা রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। তবে শরীরচর্চা শেষ করার পর অনেক পুরুষই তাদের যৌনাঙ্গে এক ধরনের সাময়িক আকৃতিগত সংকোচনের মুখোমুখি হন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় জিম পরবর্তী এই সাময়িক সংকোচন একেবারেই স্বাভাবিক হলেও, সঠিক ধারণার অভাবে অনেক পুরুষই এ নিয়ে মানসিক দুশ্চিন্তায় পড়েন।   যুক্তরাষ্ট্রের নান্দনিক নার্স প্র্যাকটিশনার ও লাশফুল এস্টেটিকসের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস বুস্তামান্তে সম্প্রতি এই বিষয়ের পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখা করেছেন। তার মতে, ব্যায়াম করার সময় প্রায় সব পুরুষের ক্ষেত্রেই কম-বেশি সাময়িক আকৃতি সংকোচনের ঘটনা ঘটে। কারও ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন খুবই সামান্য, আবার কারও ক্ষেত্রে শরীরের সাথে অঙ্গটি অতিরিক্ত গুটিয়ে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা হয়।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো স্থায়ী সমস্যা নয় এবং শারীরিক কোনো ক্ষতির কারণও নয়। ভারী ব্যায়াম, কার্ডিও বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের সময় মানুষের শরীর একটি বিশেষ জরুরি বা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থায় চলে যায়। এই সময়ে শরীরের প্রধান প্রধান পেশি, হ্রদযন্ত্র, ফুসফুস এবং ত্বকে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন পড়ে। ফলে শরীরের অসংবেদনশীল ও অতিরিক্ত অংশগুলো থেকে রক্ত সঞ্চালন সাময়িকভাবে কমে গিয়ে সচল পেশিগুলোতে রক্ত প্রবাহিত হয়।   ব্যায়াম শেষ করার পর যখন শরীর ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হতে শুরু করে এবং স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তখন রক্ত সঞ্চালন আবার সর্বত্র সুষমভাবে বণ্টন হয়। সাধারণত জিম শেষ করার কয়েক মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে শরীরের এই অংশটি আগের স্বাভাবিক শিথিল অবস্থায় ফিরে আসে। তবে ব্যায়ামের পর শরীর অতিরিক্ত পানিশূন্য থাকলে, শরীর ঠাণ্ডা পরিবেশের মুখোমুখি হলে কিংবা অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও ব্যায়াম পূর্ববর্তী উদ্দীপক পানীয় গ্রহণ করলে এই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা বাড়তি সময় লাগতে পারে।   ক্রিস বুস্তামান্তে সতর্ক করে বলেন, এই ঘটনার কোনো শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকলেও এটি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক পুরুষ বিষয়টি নিয়ে লজ্জিত বোধ করেন, জিমের ড্রেসিংরুমে অন্যদের সাথে নিজেদের তুলনা করেন এবং ভাবেন যে তাদের শরীরে কোনো বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। মূলত এই অনাবশ্যক দুশ্চিন্তা ও মানসিক উদ্বেগই শারীরিক সমস্যার চেয়ে বড় আকার ধারণ করে।   তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, সাধারণ সংকোচন স্বাভাবিক হলেও কিছু বিশেষ লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। যদি ব্যায়াম শেষ করার অনেক পরেও আকৃতি স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরে, নতুন করে কোনো ধরনের ব্যথা অনুভব হয়, শারীরিক অক্ষমতা বা অবশ ভাব দেখা দেয় কিংবা প্রস্রাবে কোনো জটিলতা তৈরি হয়, তবে বিলম্ব না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, জিমের আয়না বা পোশাক পরিবর্তনের ঘরের সাময়িক পরিবর্তন দেখে নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা বা যৌন স্বাস্থ্য বিচার করা মোটেও ঠিক নয়। সঠিক তথ্য জানা থাকলে অনাবশ্যক দুশ্চিন্তা থেকে সহজেই মুক্ত থাকা সম্ভব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ২২:১৫
মিসক্যারেজের পরও মিলল না জরুরি চিকিৎসা, গভর্নরের দপ্তরে ফোন করেও লাভ হয়নি
মিসক্যারেজের পরও মিলল না জরুরি চিকিৎসা, গভর্নরের দপ্তরে ফোন করেও লাভ হয়নি

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে কঠোর গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার কারণে গর্ভপাতের (মিসক্যারেজ) জটিলতায় আক্রান্ত এক নারী সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাণসংকটে পড়েছিলেন। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এমিলি ওয়ালডর্ফ গুরুতর জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও ভ্রূণের হৃদস্পন্দন চলমান থাকায় চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে গর্ভাশয় খালি করতে পারেননি। আরকানসাসের গর্ভপাত আইন ভঙ্গের আশঙ্কায় তাঁকে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয়, যা তাঁর জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা এমিলি ও তাঁর পরিবারকে জানান, জরায়ুর মুখ খুলে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছিল এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী দ্রুত গর্ভাশয় খালি করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অঙ্গরাজ্যের আইন এবং ফৌজদারি শাস্তির আশঙ্কায় হাসপাতাল সেই চিকিৎসা দিতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা গভর্নরের দপ্তরেও যোগাযোগ করেন, তবে সেখান থেকেও কোনো সমাধান মেলেনি।    পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পর এমিলিকে শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে করে কানসাসে নেওয়া হয়, যেখানে গর্ভপাত বৈধ। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন রক্ষার জন্য জরুরি চিকিৎসা দেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ জটিলতা বেড়ে যায়।    ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ডবস রায়ের পর আরকানসাসে প্রায় সব ধরনের গর্ভপাত নিষিদ্ধ হয়। কেবল মায়ের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে সীমিত ব্যতিক্রম রাখা হলেও, চিকিৎসকেরা বলছেন আইনের ভাষা স্পষ্ট না হওয়ায় অনেক হাসপাতাল ঝুঁকি এড়াতে জরুরি পরিস্থিতিতেও চিকিৎসা দিতে দ্বিধায় পড়ে। প্রোপাবলিকার অনুসন্ধানে আরকানসাসের একাধিক চিকিৎসক একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।    এমিলি ওয়ালডর্ফ বর্তমানে আরকানসাসের গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার বাদীদের একজন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, বর্তমান আইন জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে এবং রোগীদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে গভর্নর সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্সের কার্যালয় জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্য আদালতে বিদ্যমান গর্ভপাত আইনকে সমর্থন ও রক্ষায় অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ২:৩৪
বিরল লিভারের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সময় কিরান কুপারের ত্বক অস্বাভাবিকভাবে হলুদ হয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত
লিভার বিকল হয়ে উজ্জ্বল হলুদ রঙ ধারণ করল তরুণের শরীর, চেহারা নিয়ে বিড়ম্বনায় তরুণ

বিরল লিভারের রোগে আক্রান্ত হয়ে একসময় পুরো শরীর অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল হলুদ হয়ে গিয়েছিল যুক্তরাজ্যের ২৫ বছর বয়সী কিরান কুপারের। নিজের চেহারার পরিবর্তনে তিনি এতটাই অস্বস্তিতে ছিলেন যে মানুষের দৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতেও ভয় পেতেন। দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা এবং দ্বিতীয়বার লিভার প্রতিস্থাপনের পর এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের চেশায়ারের নর্থউইচের বাসিন্দা কিরান জন্মের পর থেকেই বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া নামের একটি বিরল লিভারের রোগে ভুগছেন। এ রোগে যকৃত থেকে পিত্ত বহনকারী নালিগুলো ঠিকভাবে তৈরি হয় না বা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পিত্ত স্বাভাবিকভাবে বের হতে না পেরে যকৃতে জমে থাকে এবং সময়ের সঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি করে।   মাত্র সাত সপ্তাহ বয়সে রোগটি নিয়ন্ত্রণে অস্ত্রোপচার করা হলেও সেটি সফল হয়নি। পরে ২০০২ সালে, মাত্র ১১ মাস বয়সে তার প্রথম লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। তবে ২০১৪ সালে, ১৩ বছর বয়সে, তার শরীরে আবার জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা পরে জানান, ভবিষ্যতে তাকে দ্বিতীয়বার লিভার প্রতিস্থাপন করতে হবে। ২০২৩ সালে তাকে প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়।   চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। শরীরে বিলিরুবিন নামে একটি রঞ্জক পদার্থ অস্বাভাবিকভাবে জমে যাওয়ায় ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে জন্ডিস বলা হয়। কিন্তু কিরানের ক্ষেত্রে সেই হলুদ রং এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে তার পুরো শরীর প্রায় উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ ধারণ করে।   কিরান বলেন, "হঠাৎ নিজেকে আয়নায় দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি যেন 'দ্য সিম্পসনস'-এর বার্ট সিম্পসনের মতো হয়ে গেছি। রাস্তায় বের হলে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে থাকত। এতে আমি খুব অস্বস্তি বোধ করতাম।" তার মা, ৫৪ বছর বয়সী কেরি কুপার বলেন, একদিন ছেলে অসুস্থ বোধ করছিল। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, কিরানের পুরো শরীর হলুদ হয়ে গেছে।   "আমার মনে হয়েছিল, আমি হয়তো আমার ছেলেকে হারাতে যাচ্ছি। প্রথমে তার শরীর হলুদ হয়েছিল, পরে সেই রং আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আমরা মজা করে বলতাম, সে বার্ট সিম্পসনের মতো দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ," বলেন কেরি। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে কিরানকে বার্মিংহামের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং একটি উপযুক্ত লিভারের অপেক্ষা করেন। এ সময় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) রাখা হয়।   অবশেষে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দ্বিতীয়বারের মতো লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। সফল অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে তার ত্বকের রং স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে অস্ত্রোপচারের পর তাকে আবার হাঁটা শিখতে হয়েছে। কিরান বলেন, "অস্ত্রোপচারের আগে ব্যথা খুব একটা ছিল না, কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর সময়টা ছিল ভয়াবহ। আমাকে আবার হাঁটা শিখতে হয়েছে। এখনও প্রতি ছয় সপ্তাহ পরপর হাসপাতালে যেতে হয় এবং সারা জীবন ওষুধ খেতে হবে।"   তিনি আরও বলেন, "আমি এখন অনেক ভালো অনুভব করছি। আমি বেঁচে আছি, এ জন্য কৃতজ্ঞ। আমার অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই, কারণ আমি যেন নরক থেকে ফিরে এসেছি।" বিশেষজ্ঞদের মতে, বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া একটি বিরল জন্মগত রোগ। যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার নবজাতকের মধ্যে একজন এ রোগে আক্রান্ত হয়। দীর্ঘদিন জন্ডিস থাকা, গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং ফ্যাকাশে রঙের মল এর প্রধান লক্ষণ। সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগটি যকৃত বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   এ রোগের স্থায়ী ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা নেই। তবে জন্মের প্রথম দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাসাই পদ্ধতির অস্ত্রোপচার করলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। যদি সেটি সফল না হয়, তাহলে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ২২:২৪
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০