সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্বাস্থ্য

তিন বছর কাজের শর্তে মিলবে শিক্ষাঋণ পরিশোধের সুযোগ
নার্সদের জন্য ৫০ হাজার ডলারের সহায়তা, তিন বছর কাজের শর্তে মিলবে শিক্ষাঋণ পরিশোধের সুযোগ

আমেরিকায় নার্সিং পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং বয়স্কদের পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে কর্মীসংকট কমানোর লক্ষ্যে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্রের ঘোষণায় জানানো হয়, ‘নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।    কর্মসূচিটির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলো মিলে মোট ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিল বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ১০ কোটি ডলার এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর অংশ অন্তত ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, দেশজুড়ে চার হাজারের বেশি নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির আওতায় সহায়তা করা।    সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যোগ্য অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষাঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত ১০ হাজার ডলারের প্রণোদনা পেতে পারেন। তবে এটি সবার জন্য নিশ্চিত ৫০ হাজার ডলারের নগদ অনুদান নয়। কারও ক্ষেত্রে শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তা প্রযোজ্য হবে, আবার কারও ক্ষেত্রে স্নাতক হওয়ার সময় ও ঋণের অবস্থা অনুযায়ী প্রণোদনা নির্ধারিত হবে।   অর্থ একবারে হাতে দেওয়ার পরিবর্তে কর্মসূচির শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে তিন বছর ধরে প্রতি তিন মাস অন্তর অর্থ প্রদান করা হবে। অংশগ্রহণকারীকে নির্ধারিত কর্মস্থলে কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং অন্যান্য যোগ্যতা বজায় রাখতে হবে।   এই কর্মসূচিতে মূলত নিবন্ধিত নার্স এবং লাইসেন্সধারী ব্যবহারিক বা বৃত্তিমূলক নার্সদের জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এসব পদের প্রচলিত নাম যথাক্রমে নিবন্ধিত নার্স এবং এলপিএন বা এলভিএন। আবেদনকারীদের সাধারণত— ১.যোগ্য নার্সিং হোমে চাকরি পেতে হবে। ২.সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। ৩.শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তার জন্য যোগ্য শিক্ষাঋণ থাকতে হবে, অথবা ঋণ না থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী গত দুই বছরের মধ্যে স্নাতক হতে হবে। ৪.যোগ্য প্রতিষ্ঠানে তিন বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে। অর্থ পাওয়ার সময় সক্রিয় নার্সিং লাইসেন্স এবং কর্মসূচির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   নার্সিং শিক্ষার্থীরা লাইসেন্স ও চাকরি পাওয়ার আগেই আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তবে অর্থ পাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, যোগ্য চাকরি এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   এই কর্মসূচিতে সব নার্সিং হোমের চাকরি যোগ্য হিসেবে গণ্য হবে না। গ্রামীণ এলাকার নার্সিং হোম এবং যেখানে নার্স নিয়োগে বেশি সমস্যা রয়েছে, সেসব এলাকার যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কিছু অঙ্গরাজ্যের নার্সিং হোম পরিদর্শক পদও কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে।   সরকার জানিয়েছে, ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি এই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেলেই আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হবে না; প্রতিষ্ঠানটি কর্মসূচির তালিকায় আছে কি না এবং আবেদনকারী নিজে সব শর্ত পূরণ করছেন কি না, তা যাচাই করা জরুরি।    আবেদনের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট https://nursesfornursinghomes.cms.gov/ ব্যবহার করতে হবে। সেখানে নিজের যোগ্যতা যাচাই, আবেদনকারীর হিসাব খোলা, যোগ্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ খোঁজা এবং আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।আবেদন করার আগে নার্সিং লাইসেন্স, চাকরির তথ্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষাঋণের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন। কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলে অর্থ চাইলে সতর্ক থাকুন। সরকারি কর্মসূচির শর্ত ও আবেদনপদ্ধতি সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই যাচাই করুন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৩:৪
ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তে নতুন রক্ত পরীক্ষার গবেষণা
ফুসফুসের ক্যানসার ফিরে আসার সংকেত মিলতে পারে স্ক্যানে ধরা পড়ার ১৬ মাস আগেই

ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পর রোগটি আবার ফিরে আসার সংকেত স্ক্যানে ধরা পড়ার অনেক আগেই শনাক্ত করতে পারে বিশেষ ধরনের রক্ত পরীক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন হেলথের গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে ক্যানসার কোষের জিনগত উপাদান খুঁজে দেখার এই পদ্ধতি কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত স্ক্যান বা রোগের লক্ষণ প্রকাশের গড়ে প্রায় ১৬ মাস আগেই ক্যানসার ফিরে আসার সংকেত দিতে পারে। তবে পরীক্ষাটি এখনো নিয়মিত চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি যাচাই করা হয়নি।   গবেষণায় মূলত ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর রোগটি আবার ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ণয়ের বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়েছে। যাঁদের আগে কখনো ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়েনি, তাঁদের মধ্যে প্রথমবার রোগ শনাক্ত করার জন্য এই পরীক্ষা ব্যবহারের বিষয়টি গবেষণার লক্ষ্য ছিল না। গবেষকেরা রক্তের নমুনায় ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট ডিএনএ খুঁজে দেখেছেন। এ ধরনের পরীক্ষাকে বলা হয় ‘লিকুইড বায়োপসি’। এতে শরীর থেকে টিস্যু সংগ্রহের পরিবর্তে রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। গবেষণায় টিউমারের নিজস্ব জিনগত বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে পুরো জিনোম বিশ্লেষণের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রক্তে ছড়িয়ে থাকা টিউমারের ডিএনএ শনাক্ত করে ক্যানসার আবার ফিরে আসার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হয়েছে। গবেষক দলের সদস্য ও নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোনের চিকিৎসক মাতিজা স্নুডারেল জানান, তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ের ফুসফুসের ক্যানসার—বিশেষ করে স্টেজ আইএ ফুসফুসের অ্যাডেনোকারসিনোমা—অস্ত্রোপচারের পরও ফিরে আসার আণবিক সংকেত রক্ত পরীক্ষায় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। প্রচলিত স্ক্যানে রোগটি দৃশ্যমান হওয়ার আগেই অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এই সংকেত পাওয়া গেছে। গবেষণায় ৪২ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। পরীক্ষাটি ক্যানসার ফিরে আসার পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ সংবেদনশীলতা এবং ৮৩ শতাংশ নির্দিষ্টতা দেখিয়েছে। অর্থাৎ, পরবর্তী সময়ে যাঁদের ক্যানসার ফিরে এসেছিল, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশের ক্ষেত্রে পরীক্ষাটি ইতিবাচক সংকেত দিতে পেরেছে। আর যাঁদের রোগ ফিরে আসেনি, তাঁদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে পরীক্ষাটির নির্দিষ্টতা ছিল ৮৩ শতাংশ। যেসব রোগীর রক্ত পরীক্ষায় ক্যানসারের সংকেত পাওয়া গিয়েছিল এবং পরে রোগ ফিরে আসা নিশ্চিত হয়েছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে স্ক্যান বা চিকিৎসাগত লক্ষণে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার আগে গড়ে ১৬ দশমিক ৭ মাস সময় পাওয়া গেছে। ফুসফুসের নন-স্মল সেল ক্যানসারের ক্ষেত্রে চিকিৎসার পরও রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্ত হয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয় না। প্রচলিত চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারের পর রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণে নিয়মিত ইমেজিং বা স্ক্যান ব্যবহার করা হয়। নতুন রক্ত পরীক্ষা এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য দিতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। পরীক্ষায় রক্তে টিউমারের ডিএনএ পাওয়া গেলে তা শরীরে ক্যানসারের অবশিষ্ট কোষ থাকার বা রোগ ফিরে আসার সম্ভাব্য সংকেত হতে পারে। অন্যদিকে, পরীক্ষায় এমন ডিএনএ না পাওয়া গেলে তা দীর্ঘমেয়াদি রোগমুক্ত অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে নেতিবাচক ফলাফল মানেই শরীরে ক্যানসার নেই—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। রক্তে টিউমারের ডিএনএর পরিমাণ খুব কম হলে তা পরীক্ষায় ধরা না-ও পড়তে পারে। তাই ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মূল্যায়ন এবং প্রচলিত পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। স্নুডারেলের মতে, এ ধরনের পরীক্ষা অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের পর্যবেক্ষণে একটি কম আক্রমণাত্মক অতিরিক্ত পদ্ধতি হিসেবে কাজে আসতে পারে। যাঁদের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে আরও ঘন ঘন স্ক্যান বা অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না, তা নির্ধারণে চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। আবার যাঁদের ঝুঁকি তুলনামূলক কম, তাঁদের অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা এড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে গবেষক সতর্ক করেছেন, নিয়মিত চিকিৎসায় এই পরীক্ষা ব্যবহারের আগে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন। বর্তমান গবেষণাটি ছিল আগের রোগীর তথ্য ও নমুনা বিশ্লেষণভিত্তিক; এতে অংশ নিয়েছেন মাত্র ৪২ জন। তাই এই ফলাফলকে এখনই সব রোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে চিকিৎসা পরিবর্তন করলে রোগীর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল সত্যিই উন্নত হয় কি না, সেটিও আরও গবেষণায় নিশ্চিত করতে হবে। ফুসফুসের ক্যানসার গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অ্যান্টোয়ানেট জে. ওজনিয়াক গবেষণাটিকে আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, স্ক্যান বা রোগের লক্ষণ প্রকাশের ১৬ মাসেরও বেশি আগে ক্যানসার ফিরে আসার পূর্বাভাস পাওয়া গেলে অস্ত্রোপচারের পর কার অতিরিক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে, তা নির্ধারণে চিকিৎসকেরা বাড়তি তথ্য পাবেন। তবে তিনি জোর দিয়েছেন, নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার পর্যবেক্ষণ চালু করার আগে আরও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। গবেষকদের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো আরও বেশি রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যৎমুখী গবেষণার মাধ্যমে ফলাফল যাচাই করা। পাশাপাশি কত সময় পরপর রক্তের নমুনা নেওয়া উচিত এবং স্ক্যান ও অন্যান্য চিকিৎসাগত তথ্যের সঙ্গে পরীক্ষার ফল কীভাবে মিলিয়ে দেখা হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হবে। গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে ফুসফুসের ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি আগেভাগে বুঝতে এবং রোগীভেদে চিকিৎসা পরিকল্পনা সাজাতে সহায়তা করতে পারে। তবে আপাতত এটি সম্ভাবনাময় গবেষণাপদ্ধতি—প্রচলিত স্ক্যান বা চিকিৎসকের নির্ধারিত ফলোআপের বিকল্প নয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৮:৪৬
চোখের বিরল রোগের চিকিৎসায় ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট
চোখের বিরল রোগে নতুন আশার আলো, চালের দানার সমান যন্ত্রে সুরক্ষিত থাকতে পারে দৃষ্টি

চোখের বিরল রোগে দৃষ্টিশক্তি হারানোর গতি কমাতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে চালের দানার সমান একটি ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে এই যন্ত্রের পরীক্ষা ও প্রয়োগের মাধ্যমে এমন রোগীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যাঁরা ধীরে ধীরে চোখের কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন। তবে এই চিকিৎসায় ইতিমধ্যে হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টি ফিরে আসে না। এর মূল লক্ষ্য রোগের অগ্রগতি ধীর করা এবং যতটা সম্ভব অবশিষ্ট দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা।   ম্যাকুলার টেলাঞ্জিয়েকটেশিয়া বা ম্যাকটেল (MacTel) নামের বিরল চোখের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই চিকিৎসা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রোগটি চোখের রেটিনার কেন্দ্রীয় অংশ ম্যাকুলাকে প্রভাবিত করে। ম্যাকুলা মানুষের সূক্ষ্ম ও স্পষ্ট দৃষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ চিনতে পারা, বই পড়া, টেলিভিশন দেখা কিংবা ছোট অক্ষরের লেখা বোঝার মতো কাজের ক্ষেত্রে এই অংশের ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ম্যাকটেলে আক্রান্ত হিদার হ্যারিস-কেডি নিজের চোখের দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন অনুভব করেছেন। তাঁর ভাষায়, একটি চোখ বন্ধ করলে অন্য চোখ দিয়ে কারও মুখ স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন না। তখন সামনে থাকা মানুষের চুল ও চারপাশের দেয়াল দেখা গেলেও মুখটি আর পরিষ্কার বোঝা যায় না। বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রোগের সঙ্গে বসবাস করছেন হিদার। প্রথমে তাঁর ডান চোখে সমস্যা দেখা দেয়। পরে বাম চোখেও একই ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। দৃষ্টিশক্তি কতটা কমেছে, তা বোঝার জন্য তাঁকে প্রায়ই একটি চোখ ঢেকে পরীক্ষা করতে হতো। প্রতিদিনের এই অনিশ্চয়তা তাঁর জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছিল। রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডিন এলিয়টের মতে, ম্যাকটেল সাধারণত প্রথম দিকে ঝাপসা দৃষ্টি এবং চোখের কেন্দ্রের আশপাশে ছোট ছোট দৃষ্টিহীন অংশ তৈরি করে। রোগটি বাড়তে থাকলে মানুষের সূক্ষ্মভাবে দেখার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে পড়া, টেলিভিশন দেখা এবং পরিচিত মানুষের মুখ শনাক্ত করার মতো দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। এলিয়ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস আই অ্যান্ড ইয়ার প্রতিষ্ঠানের রেটিনা বিভাগের সাবেক পরিচালক। রোগটি বিরল হওয়ায় এ ধরনের রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে আগে এই রোগের অগ্রগতি ধীর করার জন্য অনুমোদিত কোনো চিকিৎসা ছিল না। গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে অনেক রোগীর পক্ষে বই পড়া কিংবা টেলিভিশন দেখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত।   হিদারকে দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় বিবর্ধক কাচ বা ম্যাগনিফাইং গ্লাস রাখতে হতো। বাক্সের গায়ে লেখা নির্দেশনা কিংবা ছোট অক্ষরের তথ্য পড়তে এগুলো ব্যবহার করতেন তিনি। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে। একসময় হয়তো আর দেখতে পারবেন না, গাড়ি চালাতে পারবেন না—এমন আশঙ্কা তাঁকে তাড়া করত। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু তাঁর নিজের জীবন নয়, স্বামীর জীবনও বদলে যেত। দৈনন্দিন কাজে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ভয়ও ছিল তাঁর। এই পরিস্থিতিতে হিদারের জন্য আশার কারণ হয়ে আসে এনসেলটো (ENCELTO) নামের ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট। চালের একটি দানার সমান আকারের এই যন্ত্র অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের ভেতরে বসানো হয়। এর বিশেষ কোষগুলো এমন একটি প্রোটিন তৈরি ও সরবরাহ করে, যা রেটিনার আলোকসংবেদনশীল কোষগুলোকে সুরক্ষা দিতে এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সাহায্য করে। রেটিনার এই কোষগুলোকে ফটোরিসেপ্টর বলা হয়। এগুলো আলো গ্রহণ করে দৃষ্টিসংক্রান্ত সংকেত তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ম্যাকটেলের কারণে এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমতে থাকে। এনসেলটো থেকে নির্গত সিলিয়ারি নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর বা সিএনটিএফ নামের প্রোটিন এই কোষগুলোর ক্ষয় কমানোর উদ্দেশ্যে কাজ করে। ইমপ্লান্টটির কার্যকারিতা যাচাই করতে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, যন্ত্রটি ম্যাকুলার আলোকসংবেদনশীল কোষের ক্ষয় উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করতে পারে। এই ফলাফল চিকিৎসাটির অনুমোদনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। রেটিনা বিশেষজ্ঞ এলিয়ট এই প্রযুক্তিকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো বিস্ময়কর বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ক্ষুদ্র একটি যন্ত্র চোখের ভেতরে বসিয়ে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ করার ধারণাটি একসময় কল্পনাতীত মনে হতো। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) প্রাপ্তবয়স্কদের ইডিওপ্যাথিক ম্যাকটেল টাইপ-২ চিকিৎসায় এনসেলটোর অনুমোদন দেয়। এটি রোগটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত প্রথম চিকিৎসা। হিদার হ্যারিস-কেডি বোস্টনের ম্যাস আই অ্যান্ড ইয়ারে এই ইমপ্লান্ট গ্রহণকারী প্রথম রোগী হন। তবে এই চিকিৎসার খরচ বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এলিয়টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইমপ্লান্টটির দাম প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তাঁর মতে, চিকিৎসাটির উদ্দেশ্য রোগীর দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা। তবে চিকিৎসার কার্যকারিতা নিয়ে আশাবাদ থাকলেও এটি হারানো দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো পদ্ধতি নয়। রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার উপযোগিতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। হিদার হ্যারিস-কেডির জন্য এই চিকিৎসা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তাঁর চোখে কিছুটা দৃষ্টিশক্তি তখনো অবশিষ্ট ছিল। ইমপ্লান্ট পাওয়ার পর তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, অন্তত রোগটির অগ্রগতি থামানোর সুযোগ পাওয়া গেছে। ম্যাকটেলের মতো বিরল রেটিনার রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য এই চিকিৎসা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদিও সবার ক্ষেত্রে ফলাফল এক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই, তবু রোগের কারণে দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ হারানোর প্রক্রিয়া ধীর করতে পারা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। বিশেষ করে যাঁরা এখনো আংশিক দৃষ্টিশক্তি ধরে রেখেছেন, তাঁদের জন্য রোগের অগ্রগতি কমানোর এই সুযোগ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৫:১৭
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে গর্ভবতী নারীদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়ছে
পেনসিলভানিয়ায় গর্ভবতীদের মধ্যে বাড়ছে হাম, সংক্রমণ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে নবজাতক

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে গর্ভবতী নারীদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়ছে। এর প্রভাবে কিছু শিশু জন্মের সময়ই হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এনবিসি নিউজকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে অঙ্গরাজ্যটিতে অন্তত ৬৬ জন গর্ভবতী নারী হামে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অন্তত ছয়টি শিশু জন্মের সময়ই এ ভাইরাসে সংক্রমিত ছিল। তাদের মধ্যে অন্তত দুজন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা নিয়েছে।   অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ আক্রান্ত নবজাতকের মোট সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে চিকিৎসকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় হামের সংক্রমণ মা ও অনাগত শিশুর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হামকে সাধারণত শিশুদের জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি ওঠার রোগ হিসেবে দেখা হলেও গর্ভাবস্থায় এর পরিণতি আরও জটিল হতে পারে। গর্ভবতী নারী আক্রান্ত হলে প্লাসেন্টার মাধ্যমে ভাইরাস ভ্রূণের শরীরে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে সন্তান জন্মের কাছাকাছি সময়ে সংক্রমণ হলে নবজাতকের জীবনের প্রথম কয়েক দিনেই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।   গর্ভাবস্থায় হামের সংক্রমণের সঙ্গে গর্ভপাত, সময়ের আগে সন্তান জন্ম, শিশুর কম ওজন এবং নিউমোনিয়ার মতো জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে। নবজাতকের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় সংক্রমণ গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। পেনসিলভানিয়ার ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির এক বাবা এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, গত আগস্টে তাঁর স্ত্রী হামে আক্রান্ত হন। এর প্রায় এক মাস পর নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসব শুরু হয়। জন্মের পরপরই তাঁদের শিশুর মৃত্যু হয়। তবে এই নির্দিষ্ট মৃত্যুর সঙ্গে হামের সংক্রমণের সম্পর্ক কীভাবে চিকিৎসকেরা নির্ধারণ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   গর্ভাবস্থায় হামে আক্রান্ত হলে শিশুর দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকিও থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সাবঅ্যাকিউট স্ক্লেরোজিং প্যানএনসেফালাইটিস (এসএসপিই), মস্তিষ্কের একটি বিরল ও প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী রোগ। হামের সংক্রমণের কয়েক বছর পরও এ রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ফলে জন্মের সময় সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। পেনসিলভানিয়া স্বাস্থ্য বিভাগের ১৯ অক্টোবরের সতর্কবার্তায় চিকিৎসকদের গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়। অঙ্গরাজ্যটিতে ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ৪২টির বেশি কাউন্টিতে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬০-এ পৌঁছেছে বলে সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে। এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ চিকিৎসকদের জন্য গর্ভাবস্থায় হাম শনাক্ত, সংক্রমণের পর করণীয় এবং নবজাতকের চিকিৎসা বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।   গর্ভাবস্থায় হামের টিকা দেওয়া যায় না। এমএমআর টিকায় দুর্বল করা জীবিত ভাইরাস থাকায় গর্ভবতীদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয় না। তবে সন্তান জন্মের পর যাঁদের হামের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নেই, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা নিতে পারেন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এমএমআর টিকা নেওয়া নিরাপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণের আগেই হামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া মা ও শিশুকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এমএমআর টিকার দুটি ডোজ নেওয়া থাকলে হামের বিরুদ্ধে সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।   কোনো গর্ভবতী নারী হামে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। সরাসরি হাসপাতালে যাওয়ার আগে ফোন করে বিষয়টি জানাতে হবে, যাতে অন্য রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়। যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সংস্পর্শে আসার ছয় দিনের মধ্যে ইমিউন গ্লোবিউলিন দেওয়া হলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা বা রোগের তীব্রতা কমানো সম্ভব হতে পারে। নবজাতক নিয়মিত হামের টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়সে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাদের সুরক্ষার জন্য পরিবারের সদস্য ও পরিচর্যাকারীদের টিকা নেওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শিশুর চারপাশের মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সংক্রমণ থেকে তাকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় হামের সংক্রমণ শুধু মায়ের অসুস্থতার বিষয় নয়, জন্মের পর শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের ওপরও এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ০:৫৩
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসে চীনের সাংহাইয়ে থাকা কৃত্রিম কিডনিতে সফলভাবে রোবটিক অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা চালিয়েছেন এক চিকিৎসক। ছবি: সংগৃহীত
৭৫০০ কিলোমিটার দূরে বসে রোবটের মাধ্যমে চীনের রোগীর অস্ত্রোপচার করলেন অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসক

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে চীনের সাংহাইয়ে থাকা একটি কৃত্রিম কিডনিতে সফলভাবে অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা চালিয়েছেন একজন চিকিৎসক। অত্যাধুনিক রোবটিক প্রযুক্তির সাহায্যে তিনি দূর থেকে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম কিডনিতে কাটাছেঁড়া ও সেলাই সম্পন্ন করেন। এই পরীক্ষায় কোনো মানুষের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়নি। তবে সফল পরীক্ষাটি ভবিষ্যতে দূরবর্তী এলাকার রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   এই পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিক্যাল সার্জন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রুবান থানিগাসালাম। তিনি সিডনির ক্রিস ও’ব্রায়েন লাইফহাউস হাসপাতালের একটি বিশেষ কনসোলে বসে সাংহাইয়ে স্থাপিত টোমাই নামের সার্জিক্যাল রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন। চিকিৎসক সিডনিতে থাকলেও রোবটের যান্ত্রিক হাতগুলো চীনে রাখা কৃত্রিম কিডনির ওপর কাজ করছিল। অত্যাধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসকের হাতের নির্দেশ রোবটের কাছে পৌঁছে যায় এবং সেই অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের কাজ সম্পন্ন হয়।   চিকিৎসক রুবান থানিগাসালাম জানান, অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশাল দেশে অনেক শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চ প্রশিক্ষিত রোবটিক সার্জনের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের অস্ত্রোপচারের জন্য অনেক রোগীকে দূরের বড় শহরে যেতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচ বাড়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোকেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। নতুন এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বড় শহরে বসেই দূরবর্তী হাসপাতালের রোগীদের অস্ত্রোপচার করতে পারবেন। ফলে রোগীদের নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে আসতে পারে।   পরীক্ষাটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও রোবটের কার্যক্রম সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। চিকিৎসক জানান, অস্ত্রোপচারের জন্য ফাইভজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশ পাঠানো এবং রোবটের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সময়ের ব্যবধান যত কম হয়, তত ভালো। এই সময়ের ব্যবধানকে প্রযুক্তিগত ভাষায় লেটেন্সি বলা হয়। চিকিৎসকের মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে এই ব্যবধান ৫০ মিলিসেকেন্ডের নিচে থাকা ভালো। তবে সিডনি ও সাংহাইয়ের মধ্যে পরিচালিত পরীক্ষায় লেটেন্সি ছিল প্রায় ১৫০ মিলিসেকেন্ড।   প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি সময়ের ব্যবধান থাকলেও পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার দূরে রোবট পরিচালনার সময় কাজের গতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা অনুভূত হয়নি। অস্ত্রোপচারের আগে যোগাযোগব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য বিকল্প সংযোগও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রত্যাশার চেয়ে ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে পরীক্ষামূলক পরিবেশে সফল হওয়া এবং বাস্তব রোগীর ওপর নিরাপদে অস্ত্রোপচার করার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।   রোবটিক সার্জারি সাধারণ অস্ত্রোপচার থেকে কিছুটা আলাদা। এ পদ্ধতিতে চিকিৎসক সরাসরি হাতে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র ব্যবহার না করে একটি বিশেষ কনসোল থেকে রোবটের যান্ত্রিক হাত নিয়ন্ত্রণ করেন। রোবটের সঙ্গে যুক্ত ক্যামেরা অস্ত্রোপচারের স্থানটির বিস্তারিত ছবি চিকিৎসকের সামনে তুলে ধরে। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী যন্ত্রগুলো নির্দিষ্ট স্থানে কাজ করে। দূরবর্তী রোবটিক সার্জারিতে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয় উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ, নির্ভরযোগ্য তথ্য আদানপ্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা।   বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে দূর থেকে রোবটিক অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা ও বাস্তব চিকিৎসা পরিচালিত হয়েছে। রুবান থানিগাসালাম জানান, টোমাই রোবটিক সিস্টেম ব্যবহার করে আগে জিব্রাল্টারে থাকা একজন রোগীর প্রোস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচার লন্ডন থেকে পরিচালনার নজির রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশেও দূরবর্তী অস্ত্রোপচারে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে সাংহাইয়ের রোবট নিয়ন্ত্রণের সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি দেশটির চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন একটি অগ্রগতি। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার হাসপাতালগুলোতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সেবা চালুর সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।   অবশ্য নতুন প্রযুক্তিটি অস্ট্রেলিয়ার হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা হিসেবে চালু করতে এখনো বেশ কিছু অনুমোদন প্রয়োজন। চিকিৎসক জানান, রোবট ব্যবহারের অনুমোদন থাকলেও হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পর্যালোচনা, চিকিৎসাসংক্রান্ত আইনি অনুমোদন এবং ইন্স্যুরেন্সের বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি রোগীর পাশে আরেকটি চিকিৎসক দল উপস্থিত থাকতে হবে, যাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় বাস্তব রোগীর ওপর এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দূরবর্তী রোবটিক সার্জারি সফলভাবে চালু করা গেলে চিকিৎসাসেবায় ভৌগোলিক দূরত্বের বাধা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দক্ষ সার্জনের অভাব রয়েছে, সেখানকার রোগীরা বড় শহরের বিশেষজ্ঞদের সেবা পেতে পারেন। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা অন্য হাসপাতালের সার্জনদের দূর থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিতে পারবেন। তবে প্রযুক্তির নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত না করে এটি ব্যাপকভাবে চালু করা সম্ভব নয়। সিডনি থেকে সাংহাইয়ে পরিচালিত পরীক্ষাটি সেই সম্ভাবনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৩:০
ফ্লোরিডার অ্যাডভেন্টহেলথ সেলিব্রেশনের গ্লোবাল রোবটিকস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. বিপুল প্যাটেল
ফ্লোরিডায় রোবটের সাহায্যে ৩৫ মাইল দূরের হাসপাতালে রোগীর সার্জারি করলেন চিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন এক মাইলফলক তৈরি হয়েছে। রোগীর কাছাকাছি না থেকেও প্রায় ৩৫ মাইল দূরের একটি হাসপাতাল থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করে সফলভাবে অস্ত্রোপচার করেছেন একজন চিকিৎসক। রোববার (২৫ অক্টোবর) ফ্লোরিডার দুটি হাসপাতালের মধ্যে এই বিশেষ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পৃথক হাসপাতালে অবস্থান করে এ ধরনের রোবটিক টেলিসার্জারির ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করেন ফ্লোরিডার অ্যাডভেন্টহেলথ সেলিব্রেশনের গ্লোবাল রোবটিকস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. বিপুল প্যাটেল। রোগী ছিলেন ৬৬ বছর বয়সী মার্ক নামের এক ব্যক্তি, যিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত। তিনি মিনিওলা শহরের অ্যাডভেন্টহেলথ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অন্যদিকে চিকিৎসক প্যাটেল অবস্থান করছিলেন প্রায় ৩৫ মাইল দূরে সেলিব্রেশনের আরেকটি হাসপাতালে।   বিশেষ রোবটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর থেকেই অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করেন ডা. প্যাটেল। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে রোবটিক সিস্টেম। এভাবে রোগীর প্রোস্টেট গ্রন্থি অপসারণ করা হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় রোগীকে একা রাখা হয়নি। মিনিওলার অপারেশন থিয়েটারে উপস্থিত ছিলেন আরেক অভিজ্ঞ সার্জন ডা. মার্সিও মোশকোভাসসহ একটি মেডিকেল টিম। জরুরি পরিস্থিতিতে সরাসরি অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতিও ছিল তাঁদের।   সোমবার (২৬ অক্টোবর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অস্ত্রোপচারের পর রোগী ভালো আছেন। এই বিশেষ অস্ত্রোপচারে ব্যবহার করা হয়েছে মাইক্রোপোর্ট মেডবটের তৈরি টুমাই রোবটিক সার্জিক্যাল সিস্টেম। প্রযুক্তিটির মাধ্যমে একজন সার্জন অন্য জায়গা থেকে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে এটি নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ত্রোপচার করে না। পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন চিকিৎসক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারটি মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এফডিএর অনুমোদিত একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণার অংশ। গবেষণায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে, দূর থেকে রোবটের সাহায্যে অস্ত্রোপচার কতটা নিরাপদ ও কার্যকর হতে পারে। তবে গবেষণা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার অর্থ এই নয় যে এফডিএ প্রযুক্তিটিকে সাধারণ চিকিৎসায় ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। ডা. বিপুল প্যাটেল ইতিমধ্যে ২১ হাজারের বেশি রোবটিক প্রোস্টেট অস্ত্রোপচার করেছেন। এর আগে তাঁর নেতৃত্বাধীন গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে আফ্রিকার অ্যাঙ্গোলায় প্রায় সাত হাজার মাইল দূরের রোগীদের ওপর ১০টি পরীক্ষামূলক রোবটিক অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এবার একই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের দুটি হাসপাতালের মধ্যে ব্যবহার করা হলো।   ডা. প্যাটেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ অনেকাংশে নির্ভর করেছে রোগী কোথায় বসবাস করেন তার ওপর। নতুন এই গবেষণা ভবিষ্যতে দূরবর্তী এলাকার মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।   গবেষকেরা বিশেষ করে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, যন্ত্রপাতির ত্রুটি, সাইবার নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় চিকিৎসকদের দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা পরীক্ষা করছেন। এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের জন্য বিশেষজ্ঞ সার্জনের সেবা পাওয়া সহজ হতে পারে। যদিও প্রযুক্তিটি নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১:১৪
নার্সিংহোমে চাকরি
নার্সিংহোমে চাকরিতে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ, নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে নার্সিংহোমে কর্মীসংকট মোকাবিলা এবং বয়স্কদের সেবার মান উন্নত করতে ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন উদ্যোগ চালু করেছে দেশটির ফেডারেল সরকার। ‘নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ নামের এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য নার্সরা শিক্ষাঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনা পেতে পারেন। ২৩ অক্টোবর কর্মসূচিটি ঘোষণা করা হয় এবং ২৬ অক্টোবর থেকে আবেদন শুরুর কথা জানানো হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্রের উদ্যোগটি মূলত গ্রামীণ এলাকা ও যেখানে নার্সের ঘাটতি বেশি, সেসব অঞ্চলের যোগ্য নার্সিংহোমে কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, দেশজুড়ে চার হাজারের বেশি নার্স ও নার্সিং পেশায় আগ্রহী কর্মী এই উদ্যোগের আওতায় সহায়তা পাবেন।   কর্মসূচিতে নিবন্ধিত নার্স এবং লাইসেন্সধারী ব্যবহারিক বা ভোকেশনাল নার্সরা নির্দিষ্ট শর্তে অংশ নিতে পারবেন। যোগ্য হতে হলে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমে কাজ করতে হবে, সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৩০ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং তিন বছরের চাকরির অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তা পেতে নির্ধারিত যোগ্যতার ঋণ থাকতে হবে। যাঁদের যোগ্য শিক্ষাঋণ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক দুই বছরের মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করার শর্তে নির্দিষ্ট প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।   এ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলারের সহায়তা পাওয়া সম্ভব হলেও প্রত্যেক আবেদনকারী এই পরিমাণ পাবেন না। সহায়তার অঙ্ক নির্ভর করবে আবেদনকারীর যোগ্যতা, শিক্ষাঋণ, চাকরি এবং অন্যান্য শর্তের ওপর। অর্থ সাধারণত নির্ধারিত সময় অন্তর দেওয়া হবে এবং কর্মসূচির শর্ত বজায় রাখতে হবে। ফলে আবেদন করার আগে যোগ্যতা, তিন বছরের চাকরির বাধ্যবাধকতা এবং অর্থ পাওয়ার নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির যাঁরা ইতিমধ্যে নার্স হিসেবে কাজ করছেন, নার্সিং পড়ছেন কিংবা স্বাস্থ্যসেবা খাতে পেশা গড়তে চান, তাঁদের জন্য এ খবরটি প্রাসঙ্গিক। তবে শুধু নার্সিংহোমে চাকরির আগ্রহ থাকলেই আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত নয়; প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, যোগ্য কর্মস্থল ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। শিক্ষার্থী বা এখনো যোগ্য কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া ব্যক্তিরাও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারেন, তবে অর্থ পেতে হলে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।   আবেদন ও যোগ্যতার বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মসূচির ওয়েবসাইটে যেতে হবে: https://nursesfornursinghomes.cms.gov/। সেখানে যোগ্যতা যাচাই, আবেদন শুরু এবং উপযুক্ত নার্সিংহোমের চাকরির তথ্য দেখার সুযোগ রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করুন এবং কোনো অননুমোদিত ব্যক্তিকে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।   এই উদ্যোগ একদিকে নার্সিং পেশায় কর্মীদের আর্থিক সহায়তার সুযোগ তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যায় কর্মীসংকট কমানোর লক্ষ্য রাখে। তবে সহায়তা পেতে হলে কর্মসূচির সব শর্ত পূরণ এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চাকরিতে থাকার অঙ্গীকার গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:৫৫
দীর্ঘ পাঁচ বছর ভেগান ডায়েট অনুসরণ করার পর শারীরিক শক্তি কমে যাওয়ায় পুনরায় মাংস খাওয়া শুরু করেছেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ অভিযাত্রী বেয়ার গ্রিলস। ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ বছর ভেগান ডায়েটে সুস্থ হয়ে শক্তি হারান, মাংস খেয়েই নিজেকে সুস্থ রাখতে পারছেন বেয়ার গ্রিলস

দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রাণিজ খাবার বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ উদ্ভিদনির্ভর বা ভেগান ডায়েট অনুসরণ করেছিলেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ অভিযাত্রী বেয়ার গ্রিলস। কিন্তু এই খাদ্যাভ্যাসের কারণে নিজের শারীরিক শক্তি অনেকটাই কমে গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। পরে সেই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে আবার মাংস খাওয়া শুরু করেন। বিশেষ করে প্রাণীর কলিজা, হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির মতো খাবার খাদ্যতালিকায় যুক্ত করার পর নিজের শারীরিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন ৫২ বছর বয়সী এই অভিযাত্রী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পর তাঁর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’-এর মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া বেয়ার গ্রিলস গত ১৭ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, পাঁচ বছর ভেগান ডায়েট অনুসরণের সময় তাঁর শারীরিক শক্তি কমে গিয়েছিল। পরে প্রাণীর বিভিন্ন অঙ্গের মাংস খাওয়া শুরু করে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠেছেন বলে মনে করেন তিনি। গ্রিলসের দাবি, ৫২ বছর বয়সে নিজেকে দশ বছর আগের তুলনায় আরও বেশি শক্তিশালী, সুস্থ ও ফিট মনে হচ্ছে। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেছেন, এখনো তাঁর বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা রয়েছে এবং তিনি পুরোপুরি সমস্যামুক্ত নন।   বেয়ার গ্রিলসের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের গল্প অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালের দিকে তিনি সম্পূর্ণ উদ্ভিদনির্ভর খাবার ছেড়ে আবার প্রাণিজ খাবার খাওয়া শুরু করেন। এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করেই ভেগান ডায়েট বেছে নিয়েছিলেন তিনি। বাবার অকালমৃত্যুও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন এই খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের পর নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের শারীরিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিশেষ করে বড় ছেলে জেসির শারীরিক সমস্যার অভিজ্ঞতা তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছিল বলে আগের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন গ্রিলস।   বর্তমানে তাঁর খাদ্যতালিকায় গরুর মাংসের পাশাপাশি প্রাণীর কলিজা, হৃদ্‌যন্ত্র এবং কিডনির মতো খাবার রয়েছে। এসব খাবারে প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি১২ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। গ্রিলসের বিশ্বাস, প্রাণিজ খাবার পুনরায় গ্রহণ করার ফলে তাঁর শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বেড়েছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভেগান ডায়েটই শক্তি কমে যাওয়ার কারণ ছিল, এমন সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কারণ শারীরিক দুর্বলতার পেছনে খাদ্যাভ্যাস ছাড়াও ঘুম, ব্যায়াম, বয়স, পুষ্টির ঘাটতি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ গরিমা গোয়েলের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, কোনো খাবার উদ্ভিদ থেকে এসেছে নাকি প্রাণী থেকে এসেছে, শুধু সেই পরিচয়ের ওপর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নির্ভর করে না। বরং খাবারের পরিমাণ, গুণগত মান এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণীর কলিজায় প্রচুর ভিটামিন বি১২, আয়রন, ভিটামিন এ ও ফোলেট পাওয়া যায়। অন্যদিকে হৃদ্‌যন্ত্রের মাংসে প্রোটিন, আয়রন ও বিভিন্ন বি ভিটামিন থাকে। এসব পুষ্টি উপাদান রক্তকণিকা তৈরি, শরীরে অক্সিজেন পরিবহন এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।   তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করেছেন, বেয়ার গ্রিলসের অভিজ্ঞতা থেকে সব ভেগান খাবার গ্রহণকারী ব্যক্তি দুর্বল হয়ে পড়বেন, এমন ধারণা করা ঠিক নয়। সঠিকভাবে পরিকল্পিত উদ্ভিদনির্ভর খাদ্যাভ্যাস থেকেও শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি ও প্রোটিন পাওয়া সম্ভব। সয়াবিন, টোফু, ডাল, ছোলা, বিভিন্ন ধরনের বিনস, বাদাম এবং বীজে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং বিশ্রামের মাধ্যমে পেশির শক্তি বজায় রাখা সম্ভব। তবে সম্পূর্ণ ভেগান ডায়েটে বিশেষ করে ভিটামিন বি১২-এর নির্ভরযোগ্য উৎস নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএসের নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, পরিকল্পিত ও সুষম ভেগান ডায়েটের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব। তবে ভিটামিন বি১২, আয়রন, ক্যালসিয়াম, আয়োডিন ও ভিটামিন ডির মতো উপাদানের ঘাটতি এড়াতে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে প্রাণীর কলিজা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ারও স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। এতে ভিটামিন এ অনেক বেশি থাকায় নিয়মিত অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এনএইচএস সাধারণভাবে সপ্তাহে একবারের বেশি কলিজা বা কলিজা দিয়ে তৈরি খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেয়।   পুষ্টিবিদদের মতে, কোনো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন দুর্বলতা, ক্লান্তি কিংবা পেশির শক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে শুধু খাবারের ধরন বদলে ফেলা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা এবং পুষ্টির ঘাটতি মূল্যায়ন করা উচিত। বেয়ার গ্রিলসের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় ইতিবাচক ফল এনে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করলেও সবার ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। শরীরের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১০:১৭
পুরুষদের জন্য হরমোনবিহীন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি তৈরিতে গবেষণা
হরমোন ছাড়াই পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের নতুন পদ্ধতি, মানবদেহে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা

হরমোন ছাড়াই পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের নতুন পদ্ধতি তৈরির গবেষণায় এগোচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। এমন একটি পরীক্ষামূলক বড়ি তৈরি করা হচ্ছে, যা সেবনের প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে। গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বড়িটি ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত গর্ভধারণ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। এরপর ওষুধের প্রভাব কমে গেলে পুরুষের প্রজননক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার কথা। তবে বড়িটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের শরীরে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়ার আগে এটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইল কর্নেল মেডিসিনের দুই ফার্মাকোলজি গবেষক ড. জোখেন বাক ও ড. লনি লেভিন এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের গবেষণার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট চার বছরের জন্য ৮২ লাখ ডলারের অনুদান দিয়েছে। এই অর্থ দিয়ে ওষুধটির নিরাপত্তা, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং মানুষের শরীরে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে। গবেষকদের লক্ষ্য, পুরুষদের জন্য এমন একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি তৈরি করা, যা প্রতিদিন ওষুধ সেবন না করেও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যাবে। প্রচলিত অনেক পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু নতুন এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শুক্রাণুর চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে এটি কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হলে পরিবার পরিকল্পনায় পুরুষদের অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে কনডম ও ভ্যাসেকটমি। ভ্যাসেকটমি একটি অস্ত্রোপচারভিত্তিক পদ্ধতি। অন্যদিকে, নারীদের জন্য হরমোনভিত্তিক বড়িসহ বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। এসব পদ্ধতির কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ফলে জন্মনিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব শুধু নারীদের ওপর নির্ভরশীল না রেখে নারী-পুরুষের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার জন্য নতুন বিকল্প তৈরির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এই গবেষণার বিশেষ দিক হলো, পরীক্ষাধীন বড়িটি হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করে কাজ করার পরিবর্তে শুক্রাণুর চলাচলের সঙ্গে যুক্ত একটি এনজাইমের কার্যক্রম সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে। এনজাইমটি শুক্রাণুর স্বাভাবিক চলাচল ও নিষেকের উপযোগী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষকদের মতে, এই এনজাইমের কার্যক্রম বন্ধ করা গেলে শুক্রাণু স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে গিয়ে ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পারবে না। ওষুধের প্রভাব কমে গেলে এনজাইমের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হওয়ার কথা। এ কারণে নতুন পদ্ধতিটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের পরিবর্তে সাময়িক ও প্রয়োজনভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা তৈরি করছে।   এই পদ্ধতির কেন্দ্রে রয়েছে ‘সলিউবল অ্যাডেনাইলাইল সাইক্লেজ’ বা এসএসি নামের একটি এনজাইম। শুক্রাণুর চলাচল নিয়ন্ত্রণে এই এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষকদের তৈরি ওষুধটি এনজাইমটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার চেষ্টা করবে। ফলে বীর্যপাতের পর শুক্রাণু নারীর প্রজননতন্ত্রের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা হারাতে পারে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় এসএসি এনজাইমের কার্যক্রম বন্ধ করে শুক্রাণুর চলাচল বাধাগ্রস্ত করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই পরীক্ষায় সাময়িকভাবে গর্ভধারণও প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল। তবে প্রাণীর শরীরে পাওয়া ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও একই হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নতুন বড়িটি মানুষের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ কি না, তা জানতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। গবেষকদের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ওষুধটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ওয়েইল কর্নেল মেডিসিনের গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে সুস্থ পুরুষদের নিয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এতে অংশগ্রহণকারীদের একাংশকে পরীক্ষাধীন ওষুধ এবং অন্য অংশকে দেখতে একই রকম নিষ্ক্রিয় ওষুধ দেওয়া হতে পারে। এরপর তাঁদের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি শুক্রাণুর চলাচলে কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে এবং সেই পরিবর্তন সাময়িক কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হবে। এ ধরনের ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার মান অত্যন্ত কঠোর হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ওষুধটি সাধারণত সুস্থ পুরুষেরা ব্যবহার করবেন। তাই শুক্রাণুর চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি শরীরের অন্য অঙ্গের ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব পড়ে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসএসি প্রোটিন শরীরের অন্যান্য টিস্যুতেও পাওয়া যায়। ফলে এনজাইমটির কার্যক্রম আটকে দিলে চোখসহ অন্য অঙ্গের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওষুধটি পুরুষের শরীরে কাজ করার পর বীর্যের সঙ্গে নারীর প্রজননতন্ত্রে প্রবেশ করা শুক্রাণুর চলাচলও কার্যকরভাবে বন্ধ রাখতে পারবে কি না। ওষুধের প্রভাব নির্ধারিত সময়ের আগেই কমে গেলে বা শুক্রাণু আবার চলাচল শুরু করলে গর্ভধারণের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। তাই বড়িটি কত দ্রুত কাজ শুরু করে, কতক্ষণ কার্যকর থাকে এবং এর প্রভাব কতটা নির্ভরযোগ্য—এসব প্রশ্নের উত্তর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় পাওয়া জরুরি। গবেষকদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মানুষের শরীরে প্রাথমিক পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে এটি একটি লক্ষ্য, নিশ্চিত সময়সীমা নয়। প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলেও বৃহত্তর পরিসরে ওষুধটির কার্যকারিতা যাচাই করতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে। তাই কবে এটি বাজারে আসবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, হরমোন ছাড়াই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি তৈরির এই গবেষণা পরিবার পরিকল্পনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এখনো এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের শরীরে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার পরই বোঝা যাবে, ভবিষ্যতে এটি প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কার্যকর বিকল্প হতে পারবে কি না।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ৫:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ভয় বাড়াচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ভয় বাড়াচ্ছে, চলতি বছরেই তৃতীয় মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ নতুন করে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) ২০২৬ সালে হাম-সম্পর্কিত তৃতীয় মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই সময়ে দেশজুড়ে নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ হাজার ৪১০-এ পৌঁছেছে। এই সংখ্যা ২০২৫ সালে পুরো বছরে নথিভুক্ত সংক্রমণের মোট সংখ্যার সমান।   পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যটিতে হাম-সম্পর্কিত পাঁচটি মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল; মৃত সবাই টিকা না নেওয়া ব্যক্তি বলে রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাজ্যটিতে ১ হাজার ২৮৬টি সংক্রমণের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। তবে রাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের মৃত্যুর হিসাবে পার্থক্য রয়েছে, কারণ মৃত্যুর তথ্য গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে।   প্রতিবেশী নিউইয়র্কেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ১৬২টি সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যটিতে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ফেডারেল সহায়তা চাওয়ার কথা জানানো হয়।   হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। শিশুদের পাশাপাশি টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্করাও ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। তবে দুই ডোজ এমএমআর টিকা হাম প্রতিরোধে প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের টিকার নথি যাচাই করা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক লক্ষণ থাকলে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে ফোন করে নির্দেশনা নেওয়া ভালো।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা টিকাদান বাড়ানো এবং ভুল তথ্য মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য অনুসরণ করাও জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৬:১১
ভিটামিন ডি ও কোষের বার্ধক্য নিয়ে গবেষণা
বার্ধক্যের গতি কমাতে পারে ভিটামিন ডি, হার্ভার্ডের গবেষণায় উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রতিদিন ভিটামিন ডি গ্রহণে শরীরের কোষে বার্ধক্যজনিত একটি পরিবর্তনের গতি কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত চার বছরব্যাপী এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি₃ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের শ্বেত রক্তকণিকার টেলোমিয়ার প্লাসিবো বা নিষ্ক্রিয় বড়ি গ্রহণকারীদের তুলনায় কম ছোট হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল জৈবিক বার্ধক্যের একটি প্রক্রিয়া ধীর করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে মানুষের সামগ্রিক বার্ধক্য থেমে যাবে কিংবা আয়ু নিশ্চিতভাবে বেড়ে যাবে।   ২০২৫ সালে দ্য আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩ নিয়ে পরিচালিত বৃহৎ ‘ভাইটাল’ (VITAL) গবেষণার একটি অংশ। এতে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী এক হাজারের বেশি নারী-পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল, দীর্ঘ সময় ধরে ভিটামিন ডি বা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণ করলে কোষের জিনগত উপাদানের প্রান্তে থাকা টেলোমিয়ারের ক্ষয় কমে কি না, তা পরীক্ষা করা।   গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একাংশ প্রতিদিন ২ হাজার আন্তর্জাতিক একক (আইইউ) ভিটামিন ডি₃ গ্রহণ করেন। অন্যদের দেওয়া হয় প্লাসিবো—দেখতে ওষুধের মতো হলেও যার মধ্যে পরীক্ষাধীন কার্যকর উপাদান থাকে না। গবেষণার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের রক্তের শ্বেত রক্তকণিকার টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্য শুরুতে, দুই বছর পর এবং চার বছর পর পরিমাপ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫৪ জনকে নিয়ে এই উপগবেষণা শুরু হলেও বিশ্লেষণে ১ হাজার ৩১ জনের পরিমাপযোগ্য তথ্য ব্যবহার করা হয়।   চার বছর পর দেখা যায়, প্লাসিবো গ্রহণকারীদের তুলনায় ভিটামিন ডি₃ গ্রহণকারীদের টেলোমিয়ার ক্ষয় গড়ে ১৪০ বেস পেয়ার কম হয়েছে। বেস পেয়ার হলো ডিএনএর গঠন তৈরির মৌলিক একক। সংখ্যাটি পরিমিত হলেও গবেষণায় পাওয়া পার্থক্যটি পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, টেলোমিয়ারের এই পার্থক্য আগের গবেষণার ভিত্তিতে জৈবিক বার্ধক্যের প্রায় তিন বছরের সমতুল্য হতে পারে। তবে এটিকে সরাসরি তিন বছর বেশি বেঁচে থাকা বা শরীরের বয়স তিন বছর কমে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   টেলোমিয়ার কী এবং বার্ধক্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ—সেটিও এই গবেষণার মূল বিষয়। মানুষের প্রতিটি ক্রোমোজোমের দুই প্রান্তে টেলোমিয়ার থাকে। জুতার ফিতার মাথায় থাকা ছোট প্লাস্টিকের আবরণের সঙ্গে এর তুলনা করা যায়। ওই আবরণ যেমন ফিতার প্রান্তকে ছিঁড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে, তেমনি টেলোমিয়ার ক্রোমোজোমের জিনগত উপাদানকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। কোষ বিভাজনের সময় সাধারণত টেলোমিয়ার ধীরে ধীরে ছোট হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই পরিবর্তন জমতে থাকে। টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়া কোষের বার্ধক্য এবং বিভিন্ন বয়সজনিত রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আগের গবেষণায় দেখা গেছে। তবে বার্ধক্য একটি জটিল প্রক্রিয়া; এর পেছনে শুধু টেলোমিয়ারের পরিবর্তন নয়, আরও অনেক জৈবিক ও জীবনযাপনসংক্রান্ত বিষয় কাজ করে। তাই টেলোমিয়ারের ক্ষয় কমানোকে বার্ধক্যের সব লক্ষণ ঠেকানোর সমান বলা যায় না।   গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রভাবও পরীক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু চার বছর পর ওমেগা-৩ গ্রহণকারীদের টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট গবেষণায় কোষের টেলোমিয়ার ক্ষয় কমানোর ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি₃-এর প্রভাব দেখা গেলেও ওমেগা-৩-এর ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায়নি।   গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক জোঅ্যান ম্যানসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শরীরের প্রদাহ টেলোমিয়ার ছোট হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। ভিটামিন ডি প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ আবার হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন বয়সজনিত অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই গবেষণা ভিটামিন ডি গ্রহণের মাধ্যমে এসব রোগ প্রতিরোধ করা যায়—এমন সিদ্ধান্ত দেয়নি। গবেষণার ফল মূলত টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্যে পরিবর্তন নিয়ে, রোগ প্রতিরোধ বা মানুষের আয়ু বাড়ানোর সরাসরি পরীক্ষা নয়।   ভিটামিন ডি কতটা প্রয়োজন, তা নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব মেডিসিনের সুপারিশ অনুযায়ী, ৭০ বছর পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক ৬০০ আইইউ এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ৮০০ আইইউ ভিটামিন ডি প্রয়োজন। গবেষণায় ব্যবহৃত ২ হাজার আইইউ মাত্রা এই সাধারণ সুপারিশের চেয়ে বেশি। ফলে গবেষণায় ব্যবহৃত মাত্রাকেই সবার জন্য দৈনিক গ্রহণের আদর্শ মাত্রা ধরে নেওয়া উচিত নয়।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন পেশাগত চিকিৎসা সংগঠন সাধারণভাবে সবার রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা পরীক্ষা করা কিংবা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেয় না। কারও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি আছে কি না, তা তার খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, বয়স এবং অন্যান্য ঝুঁকির ওপর নির্ভর করতে পারে। যাঁদের শরীরে পুষ্টি শোষণে সমস্যা রয়েছে, যাঁরা হাড়ের সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন অথবা যাঁদের খাদ্যতালিকায় উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   খাবার থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। স্যামন, সার্ডিন ও টুনার মতো চর্বিযুক্ত মাছ এবং কিছু বুনো মাশরুম এর উৎস। কিছু দেশে দুধজাত খাবার, সিরিয়াল ও কমলার রসেও ভিটামিন ডি যোগ করা হয়। তাই প্যাকেটজাত খাবারের পুষ্টিগুণের তথ্য দেখে নেওয়া সহায়ক হতে পারে। সূর্যের আলোতেও ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, যদিও এর পরিমাণ নির্ভর করে সময়, ঋতু, ত্বকের ধরন ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর। অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলেই যে বেশি উপকার হবে, এমন নয়। খুব বেশি মাত্রায় ভিটামিন ডি নিলে রক্ত বা প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং বাইরে সক্রিয় থাকা সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   সব মিলিয়ে, চার বছরের গবেষণাটি ভিটামিন ডি₃ এবং কোষের বার্ধক্যসংক্রান্ত একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দিয়েছে। তবে ফলাফলকে নিশ্চিতভাবে বার্ধক্য ঠেকানোর উপায় হিসেবে দেখার আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন। আপাতত ভিটামিন ডি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত চাহিদা, প্রয়োজনীয় মাত্রা এবং চিকিৎসকের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:৫০
তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের উদ্বেগ
বয়স্কদের মধ্যে কোলন ক্যানসার কমলেও তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

aযুক্তরাষ্ট্রে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এই রোগের হার বাড়ছে। একসময় বয়স্কদের রোগ হিসেবে বেশি পরিচিত থাকলেও এখন তুলনামূলক কম বয়সীদের মধ্যেও কোলন ও মলদ্বারের ক্যানসার শনাক্ত হচ্ছে। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আনুমানিক ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫০ জন আক্রান্ত হতে পারেন এবং ৫৫ হাজার ২৩০ জনের মৃত্যু হতে পারে। দেশটিতে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ এই রোগ।   কোলোরেক্টাল ক্যানসার বলতে বৃহদান্ত্রের অংশ কোলন এবং মলদ্বারে হওয়া ক্যানসারকে বোঝায়। এই রোগ সাধারণত পরিপাকতন্ত্রের নিচের অংশে শুরু হয়। কোলন বা মলদ্বারের ভেতরে কখনো কখনো অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি ঘটে, যাকে পলিপ বলা হয়। সব পলিপ ক্যানসারে পরিণত হয় না। তবে কিছু পলিপ সময়ের সঙ্গে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। নিয়মিত পরীক্ষা করালে এগুলো ক্যানসারে পরিণত হওয়ার আগেই শনাক্ত করে অপসারণ করা সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোলোরেক্টাল ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা করলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে। প্রিসমা হেলথ ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনা স্কুল অব মেডিসিনের কোলোরেক্টাল সার্জন ডা. সেড্রেক ম্যাকফ্যাডেন বলেছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে কোলোরেক্টাল ক্যানসার। রোগটির প্রবণতা বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বয়সভিত্তিক আক্রান্তের হার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০০০ সালে দেশটিতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্তের হার ছিল ৩০৪ দশমিক ৭। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৫৪ দশমিক ২-এ, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক। বিপরীতে, ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে একই সময়ে আক্রান্তের হার প্রতি এক লাখে ৬ দশমিক ১ থেকে বেড়ে ১১ দশমিক ১ হয়েছে। অর্থাৎ, এই বয়সী জনগোষ্ঠীতে আক্রান্তের হার প্রায় ১ দশমিক ৮ গুণ বেড়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে তরুণদের মধ্যে বয়স্কদের চেয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। বরং বয়সভিত্তিক হারে তরুণদের মধ্যে রোগটি বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যখন বয়স্কদের মধ্যে আক্রান্তের হার কমেছে।   কেন তরুণদের মধ্যে এই রোগ বাড়ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ডা. ম্যাকফ্যাডেনের মতে, সম্ভাব্য পরিবেশগত কারণ নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা চলছে। খাবারের ধরন, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে ব্যবহৃত রাসায়নিক, খাবার সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করার পদ্ধতি এবং মাইক্রোপ্লাস্টিকের মতো উপাদান অন্ত্রের স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব বিষয়কে কোলোরেক্টাল ক্যানসার বৃদ্ধির নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ঝুঁকির প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৫ বছর বয়স থেকে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের স্ক্রিনিং শুরু করার সুপারিশ রয়েছে। ৪৫ থেকে ৭৫ বছর বয়সীদের নিয়মিত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ৭৬ থেকে ৮৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বাস্থ্য, আগের পরীক্ষার ফলাফল ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। স্ক্রিনিংয়ের জন্য কয়েক ধরনের পরীক্ষা রয়েছে। মলের নমুনা পরীক্ষা করে ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণ খোঁজা যায়। ফ্লেক্সিবল সিগময়ডোস্কোপির মাধ্যমে মলদ্বার ও কোলনের নিচের অংশ পরীক্ষা করা হয়। আর কোলনোস্কোপিতে একটি বিশেষ নমনীয় যন্ত্র দিয়ে কোলনের ভেতরের অংশ দেখা হয়। এই পরীক্ষায় পলিপ শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়ায় তা অপসারণ করা সম্ভব।   তবে সবার জন্য ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করা উপযুক্ত নয়। যাঁদের অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ রয়েছে, যেমন ক্রোনস ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস, তাঁদের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। একইভাবে নিজের বা পরিবারের কারও কোলোরেক্টাল ক্যানসার কিংবা পলিপের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আগেই স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। ফ্যামিলিয়াল অ্যাডেনোম্যাটাস পলিপোসিস (এফএপি) ও লিঞ্চ সিনড্রোমের মতো বংশগত সমস্যাও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কখন পরীক্ষা শুরু করতে হবে, তা ব্যক্তির ঝুঁকি ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। কোলোরেক্টাল ক্যানসারের কয়েকটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে— মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন। মলের সঙ্গে বা মলের গায়ে র ক্ত দেখা যাওয়া। দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য। মলত্যাগের পরও পেট পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি বলে মনে হওয়া। পেটে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, মোচড় বা অস্বস্তি। কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া। র ক্তে আয়রনের মাত্রা কমে যাওয়া বা র ক্তস্বল্পতা। এসব লক্ষণ থাকলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। অন্যান্য রোগেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে লক্ষণগুলো স্থায়ী হলে বা বারবার দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে মলের সঙ্গে র ক্ত গেলে কিংবা অকারণে ওজন কমতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। ডা. ম্যাকফ্যাডেন সতর্ক করে বলেছেন, রোগটি দেরিতে শনাক্ত হলে ক্যানসার ফুসফুস বা যকৃতের মতো শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে যায়। তাই শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর না করে বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা হলো, কোলোরেক্টাল ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো, ঝুঁকির লক্ষণ চেনা এবং সময়মতো পরীক্ষা করানো জরুরি। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসারে পরিণত হওয়ার আগেই পলিপ শনাক্ত ও অপসারণ করা সম্ভব। তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের হার বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই সচেতনতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৩:৫৬
ক্যানসারের নতুন এমআরএনএ টিকায় আশার আলো
ক্যানসারের নতুন এমআরএনএ টিকায় আশার আলো, রোগ ফেরার ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ

ত্বকের মারাত্মক ক্যানসার মেলানোমার চিকিৎসায় বড় অগ্রগতির খবর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা। রোগীর শরীরের ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি নতুন এমআরএনএ টিকা ব্যবহারে অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্কের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বড় পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই ফল পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত গবেষণার বিস্তারিত ফলাফলে ক্যানসারের ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা দেখা গেছে। তবে পরীক্ষামূলক এই টিকা এখনো সাধারণ রোগীদের ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পায়নি।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন টিকাটির নাম ইন্টিসমেরান অটোজিন। এটি এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি, যে প্রযুক্তি করোনাভাইরাসের টিকা তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে প্রচলিত টিকার সঙ্গে এর গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। প্রতিটি রোগীর ক্যানসার কোষের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে আলাদাভাবে এই টিকা তৈরি করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে ক্যানসার কোষ আবার তৈরি হলে তা শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে।   গবেষণার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ১৩৭ জন মেলানোমা রোগী। তাঁদের প্রত্যেকের শরীর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার অপসারণ করা হয়েছিল। এরপর সবাইকে প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি ওষুধ কিট্রুডা দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের একটি দল অতিরিক্তভাবে নতুন এমআরএনএ টিকা পান, অন্য দলকে দেওয়া হয় প্লাসিবো। প্রায় দুই বছর পর্যবেক্ষণের পর দেখা যায়, টিকা পাওয়া রোগীদের ৮২ দশমিক ২ শতাংশের ক্যানসার ফিরে আসেনি। অন্যদিকে শুধু প্রচলিত চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭০ শতাংশ।   গবেষণার বিস্তারিত ফল অনুযায়ী, নতুন টিকা ও কিট্রুডা একসঙ্গে ব্যবহারে ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর আপেক্ষিক ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে শরীরের দূরবর্তী অঙ্গে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৩৮ শতাংশ। তবে এর অর্থ এই নয় যে টিকা গ্রহণকারী প্রত্যেক রোগীর ক্যানসার সেরে গেছে কিংবা তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। গবেষণায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোগ ফিরে আসা এবং মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি পরিমাপ করা হয়েছে। রোগীদের সামগ্রিক আয়ু কতটা বাড়বে, তা জানতে আরও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।   নতুন এই চিকিৎসাপদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা টিকা তৈরি করা। প্রথমে অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা টিউমারের নমুনা থেকে জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করেন গবেষকেরা। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে এমন এমআরএনএ টিকা তৈরি করা হয়, যা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষের বিশেষ প্রোটিন চিনতে সহায়তা করে। গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের সর্বোচ্চ নয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ডোজের মধ্যে তিন সপ্তাহের ব্যবধান রাখা হয়। মডার্নার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, টিউমারের জিনগত বিশ্লেষণ থেকে টিকা তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ছয় সপ্তাহ বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অবস্থিত এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের চিকিৎসক ও গবেষক ড. হুসেইন তাওবি এই ফলাফলকে ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। গবেষণায় সরাসরি যুক্ত নন এমন বিশেষজ্ঞরাও ব্যক্তিভিত্তিক টিকার সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির লম্বার্ডি কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টারের উপপরিচালক ড. মাইকেল অ্যাটকিনস মনে করেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় কাজে আসতে পারে। তবে অন্য ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ফল পাওয়া যাবে কি না, তা পৃথক গবেষণায় নিশ্চিত করতে হবে।   গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬২ বছর বয়সী টনি হাউটের অভিজ্ঞতাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। কানে দীর্ঘদিন ধরে একটি ক্ষত থেকে মাঝেমধ্যে রক্তপাত হচ্ছিল তাঁর। পরে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মেলানোমা শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় দেখা যায়, ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ২০২৪ সালে তিনি এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের পরীক্ষামূলক চিকিৎসায় অংশ নেন। সর্বশেষ পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ক্যানসারের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে একজন রোগীর এই ফলাফল দিয়ে সবার ক্ষেত্রে চিকিৎসাটির কার্যকারিতা নির্ধারণ করা যায় না।   নতুন টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। সাধারণ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথা, ক্লান্তি এবং শরীরের অন্যান্য সাময়িক অস্বস্তি। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় গুরুতর চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার নতুন টিকা ও কিট্রুডা পাওয়া দলে ছিল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু কিট্রুডা পাওয়া দলে এই হার ছিল ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে চিকিৎসার সম্ভাব্য উপকারের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।   এর আগে দ্বিতীয় ধাপের গবেষণায় পাঁচ বছরের পর্যবেক্ষণে নতুন টিকার সঙ্গে কিট্রুডা ব্যবহারে ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯ শতাংশ কমার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে সেটি ছিল তুলনামূলক ছোট গবেষণা। নতুন তৃতীয় ধাপের বড় পরীক্ষায় ঝুঁকি কমার হার পাওয়া গেছে ৪২ শতাংশ। দুটি ফল আলাদা গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ সময়ের ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় এগুলোকে একই ফল হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। সর্বশেষ গবেষণার বিস্তারিত ফল ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিকেল অনকোলজির সম্মেলনে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মডার্না ও মার্ক জানিয়েছে, তারা নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ এখনো এই টিকা অনুমোদন করেনি। ফলে এটি বর্তমানে সাধারণ রোগীদের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে না। টিকাটির সম্ভাব্য দামও প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠান দুটি। প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদাভাবে উৎপাদনের প্রয়োজন হওয়ায় ভবিষ্যতে এর খরচ ও সহজলভ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।   মেলানোমা ত্বকের ক্যানসারের একটি গুরুতর ধরন, যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে ফুসফুস, কিডনি, অগ্ন্যাশয়সহ আরও কয়েক ধরনের ক্যানসারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে নতুন ফলাফলকে সব ধরনের ক্যানসারের প্রতিষেধক আবিষ্কার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গবেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে আরও পরীক্ষা ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া সফল হলে ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ টিকা ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৩:১৬
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ থাবা, ঝুঁকিতে শিশুরা! মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২১৪ জন

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে, দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর মোট সংখ্যা ১ হাজার ২১৪-তে পৌঁছেছে। একই দিনে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সাতজনের সন্দেহভাজন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সিলেটে এ সাতজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু এক বিষয় নয়—স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী এই সংখ্যাগুলো আলাদা করে দেখতে হবে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে হাম ও হামের মতো উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের বড় অংশ শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য হাম গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রোগটি নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।   হামের বিস্তার ঠেকাতে টিকাদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে কোনো শিশু আগে টিকা না পেয়ে থাকলে বা নির্ধারিত ডোজ অসম্পূর্ণ থাকলে তার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, টিকাদানের বাইরে থেকে যাওয়া শিশুদের শনাক্ত করা, প্রত্যন্ত এলাকায় টিকা পৌঁছে দেওয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।   শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অসুস্থ শিশুকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভব হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের জানানো সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। অভিভাবকদের নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।   দেশের চলমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে টিকার ঘাটতি, অসম্পূর্ণ টিকাদান এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করার সীমাবদ্ধতা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   হামের কারণে মৃত্যুর এই সংখ্যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সতর্কবার্তা। তবে প্রকাশিত মোট সংখ্যার মধ্যে সন্দেহভাজন মৃত্যুও রয়েছে; সব মৃত্যুকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১২:৫
মেলানোমার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার টিকা
ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে নতুন টিকার সাফল্য, রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা কমেছে ৪২ শতাংশ

প্রাণঘাতী ত্বকের ক্যানসার মেলানোমার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছে ব্যক্তিভিত্তিক একটি পরীক্ষামূলক টিকা। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্ক যৌথভাবে তৈরি এই টিকা ব্যবহারে ক্যানসার ফিরে আসা বা রোগীর মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় পর্যায়ের клиনিক্যাল পরীক্ষায় প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে টিকাটি ব্যবহার করে এ ফল পাওয়া গেছে। তবে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সামগ্রিক আয়ু কতটা বাড়ে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।   টিকাটির নাম ইনটিসমেরান অটোজিন। এটি মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। এ প্রযুক্তিতে প্রত্যেক রোগীর টিকা তাঁর ক্যানসার টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে আলাদাভাবে প্রস্তুত করা হয়। ফলে একই টিকা সবার জন্য একইভাবে তৈরি না করে, রোগীর টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট পরিবর্তন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মডার্না ও মার্ক ২২ অক্টোবর পরীক্ষার বিস্তারিত ফল প্রকাশ করে। এর আগে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছিল, পরীক্ষায় টিকাটি নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ করেছে। নতুন ফলাফলে দেখা গেছে, প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে ইনটিসমেরান ব্যবহার করলে শুধু ইমিউনোথেরাপি গ্রহণকারীদের তুলনায় ক্যানসার ফিরে আসা বা যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ক্যানসার শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৩৮ শতাংশ। গবেষণায় মোট ১ হাজার ১৩৭ জন রোগী অংশ নেন। তাঁদের সবার মেলানোমা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছিল। এরপর একদল রোগী ইনটিসমেরান ও পেমব্রোলিজুমাব নামের ইমিউনোথেরাপির ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করেন। অন্য দলটি পেমব্রোলিজুমাবের সঙ্গে প্লাসিবো বা ওষুধবিহীন বিকল্প চিকিৎসা পায়। পেমব্রোলিজুমাব মার্কের তৈরি কিট্রুডা নামের ওষুধের মূল উপাদান। পরীক্ষায় দুই বছর পর টিকা ও ইমিউনোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ৮২ দশমিক ২ শতাংশের ক্যানসার ফিরে আসেনি। অন্যদিকে শুধু ইমিউনোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ, দুই চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। তবে ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমার অর্থ এই নয় যে টিকা নেওয়া প্রত্যেক রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ বেড়ে গেছে। এটি দুই চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে রোগ ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকির তুলনামূলক হ্রাস। ব্যক্তিভেদে চিকিৎসার ফল আলাদা হতে পারে। গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, টিকাটি ব্যবহারের পর ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকিও কমেছে। তবে রোগীর সামগ্রিক আয়ু বাড়ানোর ক্ষেত্রে টিকাটির প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরও সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও, এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।   এই টিকাটির বিশেষত্ব হলো, এটি রোগীর শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে সাহায্য করার জন্য তৈরি। প্রথমে রোগীর টিউমারের টিস্যু নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সেই টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন চিহ্নিত করে টিকা প্রস্তুত করা হয়। টিকার মাধ্যমে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়, যাতে সেটি ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এ ক্ষেত্রে এমআরএনএ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোভিড-১৯-এর কয়েকটি বহুল ব্যবহৃত টিকা তৈরিতেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ক্যানসারের এই টিকার উদ্দেশ্য সংক্রমণ প্রতিরোধ করা নয়; বরং আগে থেকেই ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় সহায়তা করা, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমানো। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ল্যাঙ্গোন হেলথের পার্লমাটার ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল গবেষণাবিষয়ক সহযোগী পরিচালক ও পরীক্ষাটির অন্যতম প্রধান গবেষক জেনিস মেনার্ট এই চিকিৎসাকে প্রথম সারির নতুন প্রযুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, রোগীর ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিকিৎসা তৈরির ধারণাটি অত্যন্ত সৃজনশীল বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি। ক্যানসার চিকিৎসা ও গবেষণায় কাজ করা পার্কার ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কারেন নাডসনও ফলাফলকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, পরীক্ষার ফলাফল সুপরিকল্পিত ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার আরও প্রমাণ দিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) নতুন ধরনের এই ক্যানসার টিকার অনুমোদন কীভাবে এবং কত দ্রুত বিবেচনা করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। টিকাটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্লান্তি, কাঁপুনি এবং ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথার কথা জানানো হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব প্রতিক্রিয়া আগের পরীক্ষাগুলোতে দেখা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন কোনো বড় নিরাপত্তা-সংকেত পাওয়া যায়নি বলে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে। মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্তেফান ব্যানসেল বলেছেন, নতুন ফলাফল এমআরএনএ প্রযুক্তির সম্ভাবনার ওপর তাঁদের আস্থা আরও জোরদার করেছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে ক্যানসার চিকিৎসার ধরন বদলে দিতে পারে এই প্রযুক্তি। মেলানোমা ত্বকের ক্যানসারের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ধরনগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রে এ রোগের নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণের পরও অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসার আবার ফিরে আসতে পারে। নতুন টিকাটি মূলত এমন রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাঁদের টিউমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কিন্তু রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি রয়ে গেছে। এদিকে মেলানোমার বাইরে ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়, স্তন এবং মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে এমআরএনএভিত্তিক টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে একটি ক্যানসারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলেই অন্য সব ক্যানসারের চিকিৎসায় একই সাফল্য আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের জন্য তৈরি আরেকটি এমআরএনএ টিকার পরীক্ষায় বেঁচে থাকার সময় বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলে চলতি মাসে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। মডার্না ও মার্ক নতুন টিকাটির অনুমোদনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। অনুমোদন পেলে এটি ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যক্তিভিত্তিক পদ্ধতির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে পারে। তবে এখনই একে সব ধরনের ক্যানসারের নিরাময় বা নিশ্চিত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আরও গবেষণা, দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়নই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে চিকিৎসাটি কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ৫:৩৪
উলাইলে অবস্থিত আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল
নাকের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে আর ফিরল না ১১ বছরের শিশু, সাভারের হাসপাতালে ভাঙচুর

সাভারে নাকের পলিপ ও টনসিলের সমস্যার অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উলাইলে অবস্থিত আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির নাম আব্রাহাম। সে মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আলীমের ছেলে।   পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন না করেই চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শিশুটির মা কোনা আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, কয়েক দিন আগে নাকের পলিপ ও টনসিলের সমস্যার জন্য তাঁরা চিকিৎসক ডা. মো. সুমন হোসেনের কাছে যান। চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়ে ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার কথা বলেছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসিজি করা হলেও চিকিৎসক না থাকায় ইকোকার্ডিওগ্রাম করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁরা শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।   পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে তৎপরতা দেখা যায়। তাঁদের জানানো হয়, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া প্রয়োজন। পরে দুপুরের দিকে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।   এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। শিশুটির মৃত্যুর পর স্বজনেরা বেসরকারি হাসপাতালটিতে ভাঙচুর করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে।   এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, শিশুটিকে সেখানে নেওয়ার সময় তার হৃদ্‌স্পন্দনসহ জীবনের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে বাহ্যিক কাটাছেঁড়ার চিহ্ন পাওয়া যায়নি; তবে নাক ও মুখে রক্তের চিহ্ন ছিল। অ্যানেস্থেশিয়ার পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হয়েছিল বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে শুনেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই ছাড়া নিশ্চিত বলা যায় না।   ঘটনাটি শিশুদের অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং জরুরি চিকিৎসা প্রস্তুতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১০:১৭
গবাদিপশুতে ছড়ানো শামোন্ডা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ
গবাদিপশুতে ছড়ানো শামোন্ডা ভাইরাস প্রথমবার মানুষের শরীরে, ফ্রান্সে রোগীর মৃ ত্যু

ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালে অক্টোবরে মা রা যান। বৃহস্পতিবার ফরাসি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের জন্য এই ভাইরাসের কারণে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করা হয়নি। তবে রোগীর অসুস্থতা ও সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে তদন্ত চলছে।   শামোন্ডা ভাইরাস মূলত গবাদিপশুকে আক্রান্ত করে। বিশেষ করে গরুর মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত পোকামাকড়ের কা মড়ের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। এত দিন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণের কোনো নথিভুক্ত ঘটনা পাওয়া যায়নি। ফলে ফ্রান্সে এই রোগীর শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়াকে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফরাসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তি আগে থেকেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে লিয়ঁ শহরের হসপিস সিভিলস দ্য লিয়ঁ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অক্টোবরে তাঁর মৃ ত্যু হয়। রোগীর মস্তিষ্কে যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, তার সঙ্গে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণের সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনাকে চিকিৎসকেরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তবে এই সম্পর্ক নিশ্চিত করতে ক্লিনিক্যাল, পরীক্ষাগারভিত্তিক ও মহামারিবিষয়ক তদন্ত চলছে। অর্থাৎ, ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হলেও রোগীর অসুস্থতার সব পর্যায়ে এর ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, রোগীটি দেশটির পূর্বাঞ্চলে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। ২০২৬ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। তবে ঠিক কোথায় এবং কীভাবে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কয়েক দশক ধরে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণীর মধ্যে শামোন্ডা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি নাইজেরিয়ায় প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরপর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও জাপানে প্রাণীর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে এর সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে ইউরোপের একাধিক দেশেও ভাইরাসটির বিস্তার শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপে ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায় এর উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের অধীন জার্সি দ্বীপেও গরুর শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপে প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য, বিস্তার এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শামোন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হঠাৎ জ্বর, পাতলা পায়খানা, পেটের অস্বস্তি, অবসাদ এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত গরুর প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে গর্ভপাত বা ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটির আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রাণিস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। গরু ছাড়াও ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া ও আলপাকার মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তবে প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটির বিস্তার এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি এক বিষয় নয়। এ দুটি ক্ষেত্রে আলাদা করে গবেষণা ও নজরদারি প্রয়োজন। শামোন্ডা ভাইরাস আরএনএ ভাইরাসের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি সিমবু শ্রেণিগোষ্ঠীর অর্থোবুনিয়াভাইরাস। জিনগতভাবে এটি শ্মালেনবার্গ ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে একই গোষ্ঠীর ভাইরাস হওয়া মানেই তাদের সংক্রমণপদ্ধতি বা মানুষের ওপর প্রভাব অভিন্ন—এমন নয়। এখন পর্যন্ত শামোন্ডা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা সহজলভ্য নেই। প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ কীভাবে ছড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির ওপর এর প্রভাব কতটা, তা বোঝার জন্য গবেষণা চলছে। একই সঙ্গে মানুষের ক্ষেত্রে শনাক্ত হওয়া প্রথম ঘটনাটির কারণ ও তাৎপর্য নির্ধারণের চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হলেও তা থেকে ব্যাপক জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বর্তমান মূল্যায়নেও সাধারণ জনগণের জন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়নি। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আগে থেকেই কম ছিল এবং তাঁর মস্তিষ্কে জটিলতা দেখা দিয়েছিল বলে ঘটনাটি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রাণীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি ভাইরাস মানুষের শরীরে শনাক্ত হওয়ায় এর সংক্রমণক্ষমতা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চলমান তদন্তের ফলই নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে, ঘটনাটি কতটা ব্যতিক্রমী এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য কী ধরনের নজরদারি প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৫:৩৫
নিয়মিত হাঁটাচলার সঙ্গে মস্তিষ্কের কিছু দক্ষতার ইতিবাচক সম্পর্ক পেয়েছেন গবেষকেরা
প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ হাজার পা হাঁটলেই মস্তিষ্কের কিছু দক্ষতায় মিলতে পারে উন্নতি

প্রতিদিন বেশি হাঁটলে মস্তিষ্কের মনোযোগ ধরে রাখা, অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি এড়ানো এবং তাৎক্ষণিক তৃপ্তির বদলে অপেক্ষা করার ক্ষমতার সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বেলর কলেজ অব মেডিসিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটার প্রচলিত লক্ষ্য পূরণ না করলেও বেশি হাঁটাচলার সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক দক্ষতার ভালো পারফরম্যান্সের সম্পর্ক রয়েছে।   হাঁটাচলার উপকারিতা নিয়ে আগেও বহু গবেষণা হয়েছে। সাধারণভাবে হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির সুস্থতা বজায় রাখা এবং অকালমৃত্যু, স্ট্রোক ও বিষণ্নতার ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৩০০ থেকে ৭ হাজার পা হাঁটার উপকারিতার কথা উঠে এসেছে। তবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার সঙ্গে হাঁটার সম্পর্ক কতটা, তা বোঝার চেষ্টা করেছেন নতুন গবেষণার বিজ্ঞানীরা। গবেষণাটিতে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া হাঁটার হিসাবের ওপর নির্ভর না করে ফিটবিট যন্ত্রের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা ১৮ থেকে ৯৩ বছর বয়সী ৩ হাজার ৯৩ জনের তথ্য পর্যালোচনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৫৮ বছর। দৈনিক হাঁটার পরিমাণের ভিত্তিতে তাঁদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়। সবচেয়ে কম সক্রিয় দলটির সদস্যরা প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ১০৮ পা হাঁটতেন। মাঝারি সক্রিয় দলটির দৈনিক গড় ছিল ৮ হাজার ৮৭৫ পা। আর সবচেয়ে সক্রিয় দলটি প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ১৬১ পা হাঁটত। এরপর চারটি পরীক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষাগুলোতে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা, তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পিছিয়ে দেওয়া, আবেগের সংকেত শনাক্ত করা এবং মনোযোগ নষ্ট করতে পারে এমন বিষয় উপেক্ষা করার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, মাঝারি ও বেশি সক্রিয়—দুই দলের সদস্যরা দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা, বিভ্রান্তি উপেক্ষা করা এবং তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পিছিয়ে দেওয়ার পরীক্ষায় সবচেয়ে কম সক্রিয় দলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি হাঁটা দলটি সব পরীক্ষায় সেরা ফল করেনি। দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা এবং তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সক্রিয় দল এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে, বিভ্রান্তি উপেক্ষা করার পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো ফল করে মাঝারি সক্রিয় দলটি। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতিদিন মাঝারি গতিতে অতিরিক্ত ১ হাজার পা হাঁটার সঙ্গে তিনটি মানসিক দক্ষতার পরীক্ষায় ভালো ফলের সম্পর্ক রয়েছে। এই পরিমাণ হাঁটতে আনুমানিক নয় মিনিট সময় লাগে। অর্থাৎ, প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে—এমন ধারণার বাইরে গিয়েও নিয়মিত হাঁটাচলার সঙ্গে মস্তিষ্কের কিছু দক্ষতার ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে গবেষণাটি হাঁটাচলার উপকারিতা সম্পর্কে একটি সম্পর্ক তুলে ধরেছে, সরাসরি কারণ প্রমাণ করেনি। গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের রক্তচাপের তথ্যও বিশ্লেষণ করেন। তাঁদের ব্যবহৃত ফিটবিট যন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রক্তচাপ ও মানসিক দক্ষতার সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, সিস্টোলিক রক্তচাপ—অর্থাৎ হৃদ্‌যন্ত্র থেকে রক্ত বের হওয়ার সময় ধমনিতে তৈরি হওয়া চাপের পরিমাপ—বেশি হলে তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পিছিয়ে দেওয়া ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষায় তুলনামূলকভাবে সামান্য খারাপ ফলের সম্পর্ক ছিল। তবে রক্তচাপের সঙ্গে অন্য মানসিক দক্ষতাগুলোর উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। গবেষকদের ধারণা, শারীরিক সক্রিয়তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতার মধ্যকার সম্পর্কের একটি ছোট অংশ, প্রায় ৫ শতাংশ, রক্তচাপ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় সবাই কোনো না কোনো পর্যায়ে কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁদের স্বাস্থ্যবিমা ছিল। তাঁদের প্রায় ৭৫ শতাংশ ছিলেন শ্বেতাঙ্গ এবং ৬৮ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী। ফলে এই ফলাফল অন্য জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারীদের মানসিক দক্ষতা মাত্র একবার মূল্যায়ন করা হয়েছিল। তাই নিয়মিত হাঁটাচলা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সক্ষমতার অবনতি ঠেকাতে পারে কি না, তা এই গবেষণা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এমনও হতে পারে, যাঁদের মানসিক দক্ষতা তুলনামূলক ভালো, তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই বেশি সক্রিয় থাকেন। গবেষণাটির লেখক ড. ওলাওলুওয়া ওকুসাগা বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সায়েন্সঅ্যালার্টকে বলেন, “আমাদের গবেষণার ফল দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সক্রিয়তা ও পরবর্তী সময়ের মানসিক কর্মক্ষমতার মধ্যে সম্পর্কের পক্ষে প্রমাণ দেয়, তবে শারীরিক সক্রিয়তাই যে ভালো মানসিক কর্মক্ষমতার কারণ, তা প্রমাণ করে না।” চারটি পরীক্ষার মধ্যে আবেগের সংকেত শনাক্ত করার পরীক্ষায় হাঁটার পরিমাণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, এই দক্ষতার সঙ্গে মস্তিষ্কের ভিন্ন অংশ জড়িত থাকতে পারে। আবার পরীক্ষাটি মানুষের দক্ষতার পার্থক্য শনাক্ত করার জন্য যথেষ্ট সংবেদনশীল না-ও হতে পারে। সব মিলিয়ে গবেষণাটি বলছে, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং মস্তিষ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। তবে হাঁটার নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য সবার জন্য সমান উপকারী কি না, কিংবা এটি সরাসরি মানসিক সক্ষমতা বাড়ায় কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৫:২৩
ডা. জিয়াউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি এবং নেফ্রোলজিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন
আমেরিকার টপ ডাক্তার জিয়াউদ্দিনের সিলেটের ২০০ শয্যার কিডনি হাসপাতাল, অসচ্ছলদের ফ্রি চিকিৎসা

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় সিলেটে গড়ে উঠেছে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। অসচ্ছল রোগীদের স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটির নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০০ শয্যার একটি অলাভজনক বিশেষায়িত হাসপাতাল।    ফিলাডেলফিয়ায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিজ অঞ্চলের কিডনি রোগীদের জন্য চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছেন ডা. জিয়াউদ্দিন। কিডনি ফাউন্ডেশন সিলেটের বিবরণে তাঁকে এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার সঙ্গে প্রয়াত জাহিন আহমেদ এবং কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আবদুস সালামও যুক্ত ছিলেন।  এই উদ্যোগের শুরু অবশ্য নতুন হাসপাতাল চালুরও কয়েক বছর আগে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সিলেটের উপশহরে অস্থায়ী ডায়ালাইসিস কেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা শুরু হয়। সেখানে ভর্তুকি দিয়ে রোগীদের ডায়ালাইসিস করানো হতো। পরে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।    সিলেটের তেমুখী ও বাদাঘাট বাইপাসসংলগ্ন নাজিরেরগাঁওয়ে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বে হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। ভবন নির্মাণে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে অনুদান ব্যবহার করা হয়।  হাসপাতালের প্রকাশিত কার্যক্রমের বিবরণে বলা হয়েছে, সেখানে ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিনে সেবা দেওয়া হচ্ছে। মোট ডায়ালাইসিস সেশনের ৫৫ শতাংশের বেশি বিনামূল্যে অথবা ভর্তুকিমূল্যে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে কিডনি রোগের চিকিৎসা, পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবার ব্যবস্থা রয়েছে।    ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি নেওয়া ডা. জিয়াউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি এবং নেফ্রোলজিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন। টেম্পল হেলথের চিকিৎসক পরিচিতিতে তাঁর বিশেষায়িত ক্ষেত্র হিসেবে নেফ্রোলজি উল্লেখ রয়েছে। তাঁর চিকিৎসাসেবার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে ডায়ালাইসিস, নিয়ন্ত্রণে না আসা উচ্চ রক্তচাপ এবং সংকটাপন্ন রোগীর কিডনি চিকিৎসা।  ২০২৬ সালে ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিনের ‘টপ ডক্টরস’ তালিকাতেও জায়গা পেয়েছেন তিনি। টেম্পল হেলথের ২১ এপ্রিল প্রকাশিত ঘোষণায় নেফ্রোলজি বিভাগে তাঁর নাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সিলেটের হাসপাতাল উদ্যোগে যুক্ত থেকে দেশের রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছেন এই প্রবাসী চিকিৎসক।   

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১:৪৮
প্রোস্টেটের এমআরআই ছবিতে গ্রন্থির আকার বৃদ্ধি
প্রোস্টেট ক্যানসারের ওষুধ প্রতিরোধের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

প্রোস্টেট ক্যানসারের কিছু ধরন কেন চিকিৎসায় সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ একটি আণবিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, আরএনএর বিশেষ একটি ধরন ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য এবং ওষুধের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। এই অণুর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে চিকিৎসায় প্রতিরোধী হয়ে ওঠা কিছু ক্যানসার কোষকে আবারও নির্দিষ্ট ওষুধের প্রতি সংবেদনশীল করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অবস্থিত ফ্রেড হাচ ক্যানসার সেন্টারের গবেষকেরা এ গবেষণা পরিচালনা করেছেন। ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটিতে ট্রান্সফার আরএনএ বা টিআরএনএ নামের একটি অণুর ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই অণু প্রোস্টেট ক্যানসার কোষের ধরন পরিবর্তন এবং চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণাটির অন্যতম লেখক এবং ফ্রেড হাচ ক্যানসার সেন্টারের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু হসিয়েহের মতে, প্রোস্টেট ক্যানসার কেন ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তা বোঝার জন্য আরও অনেক কিছু জানার বাকি রয়েছে। তবে নতুন গবেষণাটি চিকিৎসার জন্য একটি সম্ভাবনাময় লক্ষ্য চিহ্নিত করেছে। নির্দিষ্ট ধরনের টিআরএনএ আক্রমণাত্মক প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্ভাব্য চিহ্ন হিসেবেও কাজে লাগতে পারে বলে তিনি মনে করেন। প্রোস্টেট হলো পুরুষের প্রজননতন্ত্রের একটি গ্রন্থি। এই গ্রন্থিতে ক্যানসার হলে তাকে প্রোস্টেট ক্যানসার বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এটি। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে প্রতি আটজন পুরুষের মধ্যে প্রায় একজনের এই রোগ শনাক্ত হতে পারে। মানবদেহের কোষে জিনগত তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রোটিন তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় আরএনএর একাধিক ধরন কাজ করে। মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ ডিএনএ থেকে পাওয়া নির্দেশনা বহন করে। অন্যদিকে, টিআরএনএ প্রোটিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড কোষের প্রোটিন তৈরির স্থানে পৌঁছে দেয়। ফলে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে টিআরএনএ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্যানসার কোষে এই প্রক্রিয়া বদলে যেতে পারে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, টিআরএনএর নির্দিষ্ট একটি ধরন কমে গেলে প্রোস্টেট ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হতে পারে। এর ফলে কোষগুলো এমন অবস্থায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে প্রচলিত কিছু চিকিৎসা আর আগের মতো কার্যকর থাকে না। গবেষণায় বিশেষভাবে টিআরএনএ১-আর্জিনিন (ইউসিইউ) নামের একটি নির্দিষ্ট অণুকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, প্রোস্টেট ক্যানসার কোষ যখন তাদের আগের বৈশিষ্ট্য থেকে সরে গিয়ে আরও চিকিৎসা-প্রতিরোধী অবস্থায় যায়, তখন এই টিআরএনএর মাত্রা কমে যেতে পারে। পরীক্ষাগারে এর মাত্রা পরিবর্তন করে ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য এবং চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাও প্রভাবিত করা গেছে। প্রোস্টেট ক্যানসারের অনেক চিকিৎসা অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টর নামের একটি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। এই প্রোটিন পুরুষের যৌন হরমোনের সংকেত গ্রহণ করে এবং ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু কিছু ক্যানসার কোষ সময়ের সঙ্গে এমন বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, যাতে তারা এই প্রোটিনের ওপর আগের মতো নির্ভরশীল থাকে না। তখন অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে দেওয়া চিকিৎসার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। নতুন গবেষণার ফল বলছে, নির্দিষ্ট টিআরএনএর মাত্রা পুনরুদ্ধার করলে কিছু ক্যানসার কোষকে আবার অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে দেওয়া চিকিৎসার প্রতি সংবেদনশীল করা সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ, ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে ওষুধের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, টিআরএনএর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কোন কোন প্রোটিন ভূমিকা রাখে, সেটিও অনুসন্ধান করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা টিএআরডিবিপি এবং জেডএসসিএএন২৯ নামের দুটি প্রোটিনকে চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো নির্দিষ্ট টিআরএনএর উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরির পথ খুলতে পারে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও ইউরোলজির অধ্যাপক ড্যানিয়েল পেট্রিলাকের মতে, গবেষণায় চিহ্নিত এই আণবিক বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতে ক্যানসারের একটি আক্রমণাত্মক ধরনকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া প্রোস্টেট ক্যানসার বা মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসারকে হরমোনের কার্যক্রম দমনকারী চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে চিকিৎসা-প্রতিরোধী অবস্থা তৈরি হয়। তখন অন্যান্য হরমোনভিত্তিক চিকিৎসা, কেমোথেরাপি এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করেও রোগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ক্যানসার এসব চিকিৎসার বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তবে নতুন গবেষণাকে এখনই রোগীদের জন্য প্রস্তুত চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। টিআরএনএর মাত্রা বাড়ানো বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করতে হবে। এরপর রোগীদের ওপর পরীক্ষা করে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করা প্রয়োজন। গবেষক হসিয়েহও বলেছেন, এ সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে রোগীদের ওপর আরও গবেষণা এবং উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরি জরুরি। সব মিলিয়ে, নতুন গবেষণাটি প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ভবিষ্যতে এই আণবিক প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরি করা গেলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত ওষুধের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তব চিকিৎসায় রূপ নিতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৮:২২
বিজ্ঞানী স্যামুয়েল আচিলেফু ও তাঁর গবেষক দল
অস্ত্রোপচারের সময় ক্যানসার কোষ দেখতে সহায়ক, আশ্চর্যজনক চশমা উদ্ভাবন করেন নাইজেরীয় চিকিৎসক

অস্ত্রোপচারের সময় টিউমারের টিস্যু আলাদা করে দেখতে সার্জনদের সহায়তার জন্য বিশেষ চশমা তৈরি করেছেন নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী স্যামুয়েল আচিলেফু ও তাঁর গবেষক দল। ‘মেডিক্যাল ভিশন গগলস’ নামের প্রযুক্তিটি বিশেষ রঞ্জক পদার্থের ফ্লুরোসেন্ট সংকেত শনাক্ত করে অস্ত্রোপচারের স্থানের ওপর দৃশ্যমান ছবি দেখায়। এর লক্ষ্য, খালি চোখে বোঝা কঠিন এমন টিউমারের অংশ শনাক্তে চিকিৎসককে বাড়তি সহায়তা দেওয়া।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রযুক্তির প্রাথমিক উন্নয়ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সাইটম্যান ক্যানসার সেন্টারে প্রথমবার অস্ত্রোপচারে এর একটি প্রাথমিক সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে এটি একেবারে নতুন উদ্ভাবন নয়; এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলছে।  আচিলেফু বর্তমানে ডালাসের ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টারের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। সেখানে তাঁর দল বহনযোগ্য ইমেজিং যন্ত্র ও অস্ত্রোপচারে টিউমার শনাক্তের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।    এই পদ্ধতিতে রোগীর শরীরে একটি ফ্লুরোসেন্ট কনট্রাস্ট এজেন্ট দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট আলো পড়লে সংশ্লিষ্ট টিস্যু থেকে যে সংকেত আসে, চশমার ক্যামেরা তা শনাক্ত করে। প্রসেসর সেই সংকেতকে দৃশ্যমান ছবিতে রূপান্তর করে সার্জনের দেখার জায়গায় তুলে ধরে। এতে অস্ত্রোপচারের স্থান ও চিহ্নিত টিস্যুর ছবি একই সঙ্গে দেখা সম্ভব হয়। ক্যানসার অস্ত্রোপচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো টিউমারের সীমানা এবং অপসারণের পর অবশিষ্ট অংশ শনাক্ত করা। চশমাটি সেই সিদ্ধান্তে সহায়তার জন্য তৈরি। তবে এটি সব ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করার যন্ত্র নয়, আর কোনো সংকেত না দেখালেই শরীরে ক্যানসার নেই, এমন সিদ্ধান্তও দেওয়া যায় না।    যন্ত্রটি সাশ্রয়ী করতেও কাজ করছেন গবেষকেরা। ইউটি সাউথওয়েস্টার্নে ২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি সংস্করণে দুই হাজার ডলারের বৈজ্ঞানিক ক্যামেরার পরিবর্তে ৫০ ডলারের কম দামের রাস্পবেরি পাই ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এটি শুধু ক্যামেরার দাম, পুরো চশমা বা চিকিৎসাপদ্ধতির মোট খরচ নয়।   গবেষণায় প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা দেখা গেলেও ব্যাপক চিকিৎসা ব্যবহারের জন্য উন্নয়ন চলমান। ওই বিবরণে গবেষণাগারের যন্ত্রকে চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তর এবং এফডিএর অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৩:৩৫
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০