মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি না থাকলে বিশ্বের মানচিত্রে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না। মিত্র দেশটির প্রতি এমন অভাবনীয় দাবির পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও ‘দায়িত্বশীল’ হওয়ার কড়া পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন তুলেছে। উল্লেখ্য, ইসরায়েলের অনেক শীর্ষ নেতা শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সমঝোতার তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেন (G7) সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সম্মেলনে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েল থাকত না। আর আমি না থাকলেও ইসরায়েল থাকত না; কারণ ইসরায়েলের জন্য আমি যা করেছি, তা করতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট কখনো প্রস্তুত ছিলেন না।" বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, "নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননের বিষয়ে বিবিকে (নেতানিয়াহু) আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।" লেবানন ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযানের ধরন ও সময়কাল নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "লেবানন ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েল যে আচরণ করছে, তা আমার মোটেও ভালো লাগেনি। তাদের উচিত ছিল আরও দ্রুত এই লড়াইয়ের সমাপ্তি টানা।" সংঘাতটি অতিরিক্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে দেন যে, পরিস্থিতির এমন অবনতি ঘটতে থাকলে তা শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরিসরের সমঝোতা চুক্তির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গাভির। তিনি দাবি করেছেন, ওই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেন গাভির ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া প্রথম ইসরায়েলি শীর্ষ নেতাদের একজন। সোমবার নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চুক্তি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। আমরা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নই। এটি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।” লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা। তার ভাষায়, “হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার কম কোনো কিছুতেই আমরা সন্তুষ্ট হব না।” বেন গাভির আরও বলেন, ইসরায়েলি সেনারা যেসব এলাকা দখল করেছে এবং যেগুলোকে তিনি “সন্ত্রাসী অবকাঠামোমুক্ত” বলে উল্লেখ করেছেন, সেসব এলাকা থেকে কোনোভাবেই সেনা প্রত্যাহার করা উচিত নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পক্ষের কূটনৈতিক উদ্যোগের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ওই সমঝোতায় চলমান সংঘাত কমে আসবে এবং লেবাননসহ আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে বেন গাভিরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অংশ এই চুক্তিকে সমর্থন করছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিভক্ত মতামতকে আরও স্পষ্ট করছে, যেখানে একপক্ষ কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে এবং অন্যপক্ষ সামরিক অবস্থান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
লেবাননের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ওপর একদিনেই মুহুর্মুহু ১৭টি সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ফ্রন্টে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানের বহর লক্ষ্য করে এসব সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মূলত নাবাতিয়েহ, বিন্ত জাবিল, মাজদাল জাউন, সোর, কানতারা এবং মারজায়ুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সমাবেশ ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে এই তীব্র আক্রমণগুলো চালানো হয়। এর ফলে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থলভাগে সরাসরি আক্রমণের পাশাপাশি আকাশপথেও কড়া প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, জেজিন এবং সাইদা শহরের কাছাকাছি এলাকায় নজরদারি চালানো ইসরায়েলি ড্রোনের ওপর তারা সফলভাবে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া একটি ইসরায়েলি সামরিক ট্রাকেও সরাসরি এবং নির্ভুল আঘাত হানার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। একদিনের ব্যবধানে হিজবুল্লাহর এতগুলো সুপরিকল্পিত হামলা লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাতকে যেমন আরও ঘনীভূত করেছে, তেমনি গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এক নতুন সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেদের নতুন অধ্যায়ের সূচনা এবং প্রভাবশালী বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করার কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে শত্রুদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ওই বিশেষ বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী, আধুনিক এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে আলি আবদুল্লাহি বলেন, তাদের এই অবিচল প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সামরিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি ইরানকে একটি প্রভাবশালী ও অদম্য বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত করেছে। দেশের অকুতোভয় সামরিক বাহিনী সব সময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে এই কমান্ডার জানান, শত্রুর যেকোনো উসকানি বা আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও চূড়ান্ত জবাব দিতে তাদের সেনাদের 'ট্রিগারে আঙুল' প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে শত্রুর বুকে সরাসরি ও নিখুঁত আঘাত হানতে তারা বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ করবে না। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার এই আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তি রোববার স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তিতে সই করবেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আশাবাদের পর একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান বলছে, রোববার নয়, চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে। শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত, সহজ এবং নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি লিখেছেন, “আগামীকাল (আজ) চুক্তিটি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি সই হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।” এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, “আমরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন শান্তিচুক্তির আরও কাছাকাছি অবস্থানে আছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হতে পারে। এরপরই শান্তিচুক্তি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সই হবে। পাকিস্তান এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পরের সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হবে।” তবে চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, স্বাক্ষরের সঠিক সময় সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি আগামীকাল নয়, বরং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাক্ষর হতে পারে। এদিকে এমন এক সময় এই অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যখন শনিবার ভোরেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একাধিক ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কর্মকর্তারা গত শুক্রবার থেকে ধারাবাহিকভাবে চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আসছেন। যুদ্ধ শুরুর পর গত তিন মাসে এমন ইতিবাচক বার্তা আগে দেখা যায়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে।” পরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো সমঝোতা হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তিনি আরও জানান, চুক্তিটি দূরবর্তী বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হবে। আরাগচির এই বক্তব্যের আগে পশ্চিমা এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও পরোক্ষভাবে সেই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। চুক্তিতে ইরান বেশি সুবিধা পাচ্ছে বলে যে আলোচনা চলছে, তার জবাবে শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান যেসব শর্ত ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর হিসেবে ফাঁস করেছে, তার সঙ্গে লিখিতভাবে যেসব শর্তে সম্মতি হয়েছে, তার কোনো সম্পর্ক নেই।” যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তির ধারাগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হতে পারে। এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, তেহরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দেশটির জব্দ অর্থের একটি অংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক এই চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি সরাসরি অন্তর্ভুক্ত থাকছে না। এ বিষয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আলাদা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে এখনো পার্থক্য রয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা অন্যত্র স্থানান্তরে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করা হবে না এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রেও পাঠানো হবে না। বরং দেশের ভেতরেই সংরক্ষণ করে এর সমৃদ্ধতার মাত্রা কমিয়ে আনা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। সংঘাত শুরুর ৪০ দিন পর, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। পরে নতুন করে দ্বিতীয় দফা আলোচনার চেষ্টা চলতে থাকে। বর্তমানে যে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে, তা দুই দেশের কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে নয়; বরং ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হবে বলে জানা গেছে। সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা আগামী ৪ জুলাই শুরু হবে এবং ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে তাঁকে দাফন করা হবে। এদিকে সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনার মধ্যেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আরও কঠোর নিরাপত্তার আওতায় নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য কোনো মার্কিন অভিযানের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম জব্দ ঠেকাতে কিছু ভূগর্ভস্থ টানেল ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রবেশপথে বিস্ফোরক মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার সক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পর্যায়ে বলে ধারণা করা হয়।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কে-পি) প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক এক বিশেষ গোয়েন্দা অভিযানে আরও ২১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় মিরান শাহ এবং এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহতরা সবাই ভারত-পৃষ্ঠপোষিত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারেজ’ গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। নিহতদের মধ্যে খালিদ রেজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান নামে চার শীর্ষ সন্ত্রাসী কমান্ডার রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল। এই শীর্ষ কমান্ডাররা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিক হত্যাসহ অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। আইএসপিআর জানিয়েছে, নিখুঁত ও সুপরিকল্পিত এই ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৪৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রীয় অ্যাপেক্স কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ ভিশনের আওতায় এই কাউন্টার-টেররিজম অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই বড় সাফল্যের জন্য দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রশংসা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি জারদারি তার বিবৃতিতে বলেন, ভারত-পৃষ্ঠপোষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের নির্মূল করা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি বড় জয় এবং সমগ্র জাতি আমাদের সাহসী নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, এই অভিযানের আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার (১২ জুন) খাইবার পাখতুনখোয়ার পৃথক দুটি স্থানে বিস্ফোরণে এক শিশুসহ তিনজন নিহত হওয়ার পর ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে বাহিনী।
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতে চলমান গঠনমূলক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ওপর পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলা ও বোমা বর্ষণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই এই আকস্মিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কেটে গেল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প জানান, একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং এর চূড়ান্ত শর্তাবলীতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই নীতিগতভাবে সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ছাড়াও ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিসরসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশ পূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে। বহুপাক্ষিক এই সম্মতির ভিত্তিতেই সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কৌশলগত কারণে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ এখনই প্রত্যাহার করা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই চুক্তির চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত নৌ অবরোধটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর থাকবে। খুব শিগগিরই এই যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের বন্দরনগরী সিরিকে অবস্থিত বেসামরিক পানি সরবরাহ অবকাঠামোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলাকে ‘ইচ্ছাকৃত’ হিসেবে উল্লেখ করে একে একটি ‘পরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বার্তায় তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন। ইসমাইল বাঘাই তাঁর বিবৃতিতে জানান, মার্কিন এই হামলায় সিরিক এলাকার দুটি মূল জলাধার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের অন্তত ১০টি গ্রামের ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রতিদিনের সুপেয় পানির সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ঘটনাকে কোনোভাবেই যুদ্ধের সাধারণ বা আনুষঙ্গিক ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের এক চরম ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বেসামরিক মানুষের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য এমন মৌলিক অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই আক্রমণকে অত্যন্ত বর্বর বলে উল্লেখ করেছেন ইরানি মুখপাত্র। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছেন যে, এ ধরনের ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত জঘন্য হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পানীয় জলের মতো মানবিক বিষয়ে আঘাত হানার এই অভিযোগ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিরাজমান উত্তেজনায় নতুন করে ঘি ঢেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও এক অদ্ভুত ও তীব্র আক্রমণাত্মক পোস্ট দিয়েছেন। ইরানকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানকে উপহাস করতে গিয়ে নিজের পোস্টে ‘আল্লাহর প্রশংসা’ বা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন। বুধবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প মূলধারার গণমাধ্যম বা ‘ফেইক নিউজ মিডিয়া’র ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ নৌযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ও শক্তিশালী পদক্ষেপ। ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন যে, আমেরিকা না চাইলে কোনো কিছুই সেখান দিয়ে পার হতে পারবে না এবং এই অবরোধ একটি ইস্পাত কঠিন প্রাচীরের মতো কাজ করছে। এর ফলে ইরানের ব্যবসা-বাণিজ্য এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং তারা তাদের সামরিক বাহিনী বা অন্য কোনো বিল পরিশোধ করতে পারছে না। ইরান দ্রুত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে দাবি করে তিনি উপহাসের ছলে ‘আল্লাহর প্রশংসা’ শব্দগুচ্ছটি যুক্ত করেন। ইরানকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের মুখে এই ধরনের ধর্মীয় শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে দেওয়া এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পোস্টে তিনি একইভাবে ‘আল্লাহর প্রশংসা’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। বুধবার ভোরের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য খুব বেশি সময় নষ্ট করে ফেলেছে এবং এখন তাদের এর চড়া মূল্য দিতে হবে। সেই সাথে তিনি ইরানের সামরিক বাহিনীকে একটি সম্পূর্ণ এবং চরম বিশৃঙ্খলা হিসেবে বর্ণনা করেন। এদিকে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালির ওপরে আমেরিকার একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নতুন হামলার ঘোষণা দেন। ট্রাম্প জানান, সোমবার সন্ধ্যার ওই হামলায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলেও এর দুই পাইলটকে নিরাপদ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন এই হামলার জবাবে তেহরানও পাল্টা তীব্র পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে অন্তত চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে এখন এক চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
পাকিস্তান বা কাতার—মধ্যস্থতাকারী যে-ই হোক না কেন, সবার একটাই অভিন্ন বার্তা: 'শান্তিকে একটি সুযোগ দেওয়া উচিত।' বর্তমানে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থান করছে। চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে তারা সেখানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই সংঘাত নিয়ে বৃহত্তর উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। তারা ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে তাদের নিজেদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এ ধরনের হামলা সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করে, এই যুদ্ধে তাদের সম্পূর্ণ ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক টেনে আনা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা অত্যন্ত কঠিন। যেকোনো মুহূর্তে অবস্থা যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে। পূর্ববর্তী বিভিন্ন সংঘাতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কখনো কখনো চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক আগমুহূর্তে কোনো এক পক্ষ নিজেদের আধিপত্য প্রমাণের লক্ষ্যে পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তপ্ত করে তোলে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, কোনো এক পক্ষের আচমকা সামরিক বা গতিশীল অভিযান (কাইনেটিক অপারেশন) পুরো পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
শি জিনপিংয়ের দূরদর্শী সামরিক কৌশলের অধীনে চীন তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে এক অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, যা বর্তমান বিশ্ব নিরাপত্তার সমীকরণকে আমূল বদলে দিচ্ছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে চীনের কাছে যেখানে প্রায় ৩০০টি কার্যকর পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে অন্তত ৬০০-তে পৌঁছেছে। এই দ্রুতগতির বিস্তার প্রমাণ করে যে, বেইজিং কেবল তার আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে চায় না, বরং ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমকক্ষ একটি বৈশ্বিক পারমাণবিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের ওয়ারহেড সংখ্যা ১,৫০০-এ পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে এক নতুন এবং বিপজ্জনক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীনের এই পারমাণবিক আধুনিকীকরণের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো তাদের প্রযুক্তির বহুমুখিতা এবং গোপনীয়তা। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিগুলোতে শত শত নতুন ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) সাইলো বা ভূগর্ভস্থ নিক্ষেপণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, যেখান থেকে অত্যাধুনিক ডিএফ-৪১ (DF-41) ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব। একইসাথে চীন তাদের 'নিউক্লিয়ার ট্রায়াড' বা তিন স্তরীয় পারমাণবিক আক্রমণ ব্যবস্থা (স্থল, আকাশ ও সমুদ্র) সম্পূর্ণ করতে অত্যন্ত সক্রিয়। তারা যেমন সমুদ্রের তলদেশ থেকে পারমাণবিক হামলার জন্য অত্যাধুনিক সাবমেরিন তৈরি করছে, তেমনি আকাশে তাদের দূরপাল্লার বোমারু বিমানের বহরকেও ঢেলে সাজাচ্ছে। যদিও চীন দাবি করে আসছে যে তাদের এই পরমাণু নীতি কেবল "ন্যূনতম প্রতিরোধ"গড়ার জন্য এবং তারা কখনোই প্রথমে পারমাণবিক হামলা করবে না, তবুও তাদের ভাণ্ডারের এই বিশাল আকার ও আধুনিকায়ন আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে ওয়াশিংটনে চরম অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে চীনের এই পারমাণবিক উত্থান আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিবে |
গত ৫০ বছর ধরে ভারতের জাতীয়, রাজ্য এবং স্থানীয় প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছেন ৭৩ বছর বয়সী নবীজান মণ্ডল। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি দেখলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তার নাম নেই। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফল প্রকাশের তোড়জোড় যখন তুঙ্গে, তখন এই খবর তাকে দিশেহারা করে দিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ইসিআই ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে। নবীজান একা নন; পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। রাজ্যের ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে এটি প্রায় ১২ শতাংশ। এই ৯০ লাখের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারকে ‘অনুপস্থিত’ বা ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৩০ লাখ ভোটার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার আলজাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী-টার্গেট করেই মুসলিমদের এই ভোটাধিকার হরন করা হচ্ছে। নবীজানের স্বামী, তিন ছেলে, এক মেয়ে এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের নাম তালিকায় থাকলেও বাদ পড়েছেন শুধু তিনি। কারণটি হলো : দীর্ঘ বছর ধরে নবীজান ও তার পরিবার খেয়ালই করেনি যে, তার ভোটার কার্ডে ডাকনাম ‘নবীজান’ থাকলেও আধার কার্ড ও রেশন কার্ডের মতো অন্যান্য সরকারি নথিতে নাম রয়েছে ‘নবীরুল’। এছাড়াও নির্বাচনের আগে এত বিশাল সংখ্যক মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এছাড়া ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত জটিল, কারণ তাদের ভোটাধিকার প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছে, যাদের মামলা ট্রাইব্যুনালে ঝুলে আছে, তাদের এপ্রিলের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আদালত ইসিআই-কে নির্বাচনের আগে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের অনুমতি দিতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা নবীজান আল জাজিরাকে বলেন, ‘এবার আমার পরিবারের সবাই ভোট দেবে, শুধু আমি পারব না। আমি অত কিছু বুঝি না; নাম আলাদা হওয়ার কারণে যে আমার ভোট দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, সেটা জানতাম না।’ পরিকল্পিত পদক্ষেপ: ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় আড়াই কোটি মুসলিম বাস করেন, যা রাজ্যের মোট ১০ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশের পর ভারতেই এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ এমন এক রাজ্য যেখানে বিজেপি কখনো ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এই রাজ্য শাসন করছে, যারা টানা ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। ৭১ বছর বয়সী মমতা মোদির অন্যতম প্রধান সমালোচক হিসাবে পরিচিত। রাজ্যজুড়ে ভোটার বাতিলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মুসলিমরাই এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা বেশি এবং যারা নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলতে পারে, সেখানে গণহারে নাম কাটা গেছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে ৪ লাখ ৬০ হাজার, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মালদায় ২ লাখ ৪০ হাজার নাম বাতিল হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার গোবিন্দপুর, গোবরা ও বালকি গ্রামে এ ধরনের ডজনখানেক মুসলিম পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে আল জাজিরা। তারা জানান, সব নথিপত্র ঠিক থাকার পরেও অনেকের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বসবাসের প্রমাণ, বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন, নামের বানানে ভুল বা অভিবাসনের প্রমাণ নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন। ইসিআই-এর দাবি, ভুয়া বা মৃত ভোটার বাদ দিতে এবং বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের যুক্ত করতেই এই এসআইআর প্রক্রিয়া। তবে এই প্রক্রিয়াটি ব্যাপক বিতর্ক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে বিরোধী দল ও মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মোদির ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) যারা ভোট দেবে না-বিশেষ করে মুসলিমদের তাদের পরিকল্পিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে ইসিআই।
য়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলেও, কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার ক্ষেত্র প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে দুটি শহরকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার। আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান পরবর্তী ২০ বছর সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। অন্যদিকে, তেহরান পাঁচ বছরের একটি প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে এই সময়ের ব্যবধান কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। অবরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা স্পষ্ট সংকেত দিয়েছেন, এই কৌশলগত জলপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে সৃষ্ট একটি জটিলতা নিরসনেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আমেরিকানদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক স্থাপনায় ৪৫০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুঁতে রাখা হয়েছে। ইরানিদের মতে, এই ইউরেনিয়াম অপসারণ করে সেটিকে তিন শতাংশেরও কম পরিমাণে লঘু করা সম্ভব, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার উদ্বেগকে অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। এ সব বিষয়ে বর্তমানে আলোচনার জন্য দুটি সম্ভাব্য স্থান—ইসলামাবাদ ও ইস্তাম্বুলকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট স্থানের নাম নিশ্চিত করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে- বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধের কারণে চীনে যে জ্বালানি ও সম্পদের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে মস্কো প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ল্যাভরভ এই আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া নিঃসন্দেহে চীনের সম্পদের এই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম এবং যারা রাশিয়ার সঙ্গে ন্যায্য ও পারস্পরিক লাভজনক উপায়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের সবার জন্যই মস্কোর সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। মূলত ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে চীন বর্তমানে মার্কিন অবরোধের কারণে ব্যাপক সংকটে পড়েছে, আর এই সুযোগেই রাশিয়া তাদের জ্বালানি অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার প্রস্তাব দিল। সের্গেই ল্যাভরভ তার বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সব ধরনের প্রতিকূলতার মুখেও এই দুই দেশের সম্পর্ক অটল রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যকার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বিশ্বজুড়ে চলমান নানা অস্থিরতা মোকাবিলায় দুই দেশকে উচ্চমাত্রার সহনশীলতা ও শক্তি জোগাচ্ছে। ল্যাভরভের মতে, পশ্চিমের চাপ বা কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার কৌশলগত মৈত্রী ভাঙতে পারবে না, বরং এই ধরনের সংকটময় পরিস্থিতি দেশ দুটিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনী কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই অবরোধ চলাকালীন বেইজিং কোনোভাবেই ইরান থেকে তেল কিনতে পারবে না। চীন তাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশের জন্য তেহরানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা দেশটির শিল্প ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাবটি চীনের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে এবং এটি বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় উত্তেজনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি যে ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে, তা মোকাবিলায় রাশিয়া ও চীন একে অপরের প্রধান সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ল্যাভরভের বেইজিং সফর এবং পুতিন-শি জিনপিংয়ের মধ্যকার সমন্বিত অবস্থান মূলত পশ্চিমা শক্তিগুলোকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া যদি সফলভাবে চীনের জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে পারে, তবে বিশ্ববাজারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি এশিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রাশিয়ার এই নতুন সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চীন কতটা নির্ভর করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী বাণিজ্য ও রাজনৈতিক চাপের মুখে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতায় নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করেছেন। উপ-নির্বাচনে বড় জয় এবং বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতার কার্নির লিবারেল পার্টিতে যোগদানের ফলে তারা পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছে। এই জয়ের ফলে লিবারেল পার্টি এখন ১৭৩টি আসন নিয়ে হাউস অফ কমন্সে একক আধিপত্য বিস্তার করল যা কার্নিকে তার স্বাধীন নীতি বাস্তবায়নে এখন বাড়তি সাহস যোগাবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের পর ক্ষমতায় আসা সাবেক এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকার বর্তমানে ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কার্নি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি আমেরিকার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান বজায় রাখবেন তবে কোনোভাবেই নতি স্বীকার বা দাসত্ব মেনে নেবেন না যা সাধারণ কানাডীয়দের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকি ও শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে কানাডার জনগণের মধ্যে এখন এক প্রবল দেশপ্রেম ও অভূতপূর্ব ঐক্যের জোয়ার বইছে। এই ঐক্যের ফলে অনেক কানাডীয় এখন আমেরিকায় ভ্রমণ বর্জন করছেন এবং মার্কিন পণ্য কেনা থেকে বিরত থেকে নিজেদের স্বনির্ভরতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন যা রাজনৈতিকভাবে কার্নিকে সহায়তা করছে। যদিও ভিন্ন মতাদর্শের নেতাদের দলে টানায় কার্নি নিজ দলের ভেতর কিছু সমালোচনার মুখে পড়েছেন তবুও ট্রাম্পের হুমকি মোকাবিলায় তাকেই এখন কানাডার সেরা রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে কার্নি এখন কানাডার অর্থনীতিকে আমেরিকার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে একটি শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ইউরোপীয় রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম প্রধান মিত্র ভিক্টর অরবানের শোচনীয় পরাজয় হাঙ্গেরির দীর্ঘ ১৬ বছরের একচেটিয়া শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতিতে বিরোধী তিশা পার্টির নেতা পিটার মাগিয়ারের এই ঐতিহাসিক জয় কেবল হাঙ্গেরি নয়, বরং পুরো ইউরোপের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। অরবানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং রাশিয়ার প্রতি অতিনির্ভরতার অভিযোগকে পুঁজি করেই মাগিয়ার এই বিশাল জনসমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। ট্রাম্পের জাতীয়তাবাদী এবং পুতিনের ইউক্রেন বিরোধী প্রচারণার প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত অরবানের পতনকে অনেকেই জনতুষ্টিবাদী বা পপুলিস্ট রাজনীতির সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন। নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী মাগিয়ার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন যে, তার সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এবং রাশিয়ার ওপর থেকে জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আনবে। অরবান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠান ও প্রচারণা সংস্থাগুলোর তহবিল বন্ধ করার ঘোষণাও দিয়েছেন নতুন এই রাষ্ট্রপ্রধান। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে হাঙ্গেরির সাথে নতুন করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের বিশেষ রাজনৈতিক আন্দোলনের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বুদাপেস্ট এখন নতুন এক গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে, যা ওয়াশিংটন ও মস্কোর জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক ধাক্কা। মাগিয়ার স্পষ্ট করেছেন যে, হাঙ্গেরির করদাতাদের অর্থ আর কোনো রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারের কাজে ব্যবহার করা হবে না বরং তা দেশের জনকল্যাণেই ব্যয় করা হবে। সামনের দিনগুলোতে হাঙ্গেরির ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই হবে মাগিয়ার সরকারের জন্য সবচাইতে বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ।
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ক্রস হল থেকে জেফরি এপস্টাইন বিতর্ক নিয়ে এক অভাবনীয় ও সরাসরি বিবৃতি দিয়েছেন। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে দেওয়া এই ভাষণে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, তিনি এপস্টাইনের কোনো শিকার নন এবং এই কলঙ্কিত ধনকুবেরের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়নি। মেলানিয়া ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও বলেন যে, এপস্টাইনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল না এবং তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া সব মিথ্যা তথ্য এখনই বন্ধ হওয়া উচিত। ইরান যুদ্ধ নিয়ে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার মুখে রয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ফার্স্ট লেডির এমন বক্তব্য হোয়াইট হাউসকে নতুন এক রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, মেলানিয়া সম্ভবত এই বিতর্ক ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু তার এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিষয়টি হিতে বিপরীত হয়ে আবারও নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে। ভাষণে তিনি ২০০২ সালে এপস্টাইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার ইমেল বিনিময়ের বিষয়টিও তুচ্ছ ও নিছক একটি সাধারণ সৌজন্য বার্তা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে প্রতিটি নারীর প্রকাশ্যে নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং তাদের সাক্ষ্য স্থায়ীভাবে কংগ্রেসের নথিতে সংরক্ষণ করা উচিত যা এক বিশেষ বার্তা বহন করে। তবে এপস্টাইন কাণ্ডে বেঁচে ফেরা নারীদের একটি পক্ষ মেলানিয়ার এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে একে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা অভিযোগ করেন যে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও এপস্টাইন ফাইল স্বচ্ছতা আইন পুরোপুরি পালন করছে না এবং বিচার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা মেলানিয়াকে কংগ্রেসের সামনে সশরীরে হাজির হয়ে শপথের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়ার দাবি তুলেছেন যা ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসের সাথে বড় লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে যে তিনি মেলানিয়ার এই পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই অবগত ছিলেন। ইরান যুদ্ধের অস্থিরতা এবং এপস্টাইন কাণ্ডের এই নতুন মোড় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ভাবমূর্তিকে এক কঠিন ও অত্যন্ত জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের এই ছয় মিনিটের ভাষণ মার্কিন রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যার রেশ আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তুরস্কের জ্বালানি ইতিহাসে এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায় রচনার লক্ষ্যে সোমালিয়ার উপকূলে দেশটির প্রথম আন্তর্জাতিক গভীর সমুদ্র খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তুরস্কের অত্যাধুনিক ড্রিলিং জাহাজ ‘চাগরি বে’ গত বৃহস্পতিবার সোমালিয়ায় পৌঁছেছে যা দুই দেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তুর্কি জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী আলপারসলান বায়রাক্টার এই ঐতিহাসিক অভিযানের খবর নিশ্চিত করে জানান যে এটি তুরস্কের সীমানার বাইরে দেশটির প্রথম গভীর সমুদ্র খনন অভিযান। সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশু থেকে প্রায় ৩৭২ কিলোমিটার দূরে সাগরের নীল জলরাশির তলদেশে ‘কুরাদ-১’ নামক একটি বিশেষ কূপ খনন করার লক্ষ্য নিয়ে জাহাজটি কাজ শুরু করেছে। সোমালি ভাষায় কুরাদ শব্দের অর্থ হলো পরিবারের প্রথম সন্তান আর এই গভীর আবেগময় নামের মাধ্যমেই সোমালিয়ার এই প্রথম সমুদ্রপৃষ্ঠের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপের নামকরণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সাগরের তলদেশে প্রায় সাত হাজার ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে যা সফল হলে এটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় গভীরতম সমুদ্রপৃষ্ঠের খনিজ কূপ। তুরস্কের বিশেষ গবেষণা জাহাজ ওরুচ রেইস গত ২৩৪ দিন ধরে প্রায় ৪ হাজার ৪৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সিসমিক জরিপ চালিয়ে এই খনন এলাকাটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করেছে। সপ্তম প্রজন্মের এই আল্ট্রা ডিপ-সি ড্রিলিং জাহাজটির সাথে তিনটি সহায়ক জাহাজ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তুরস্কের শক্তিশালী নৌ-ইউনিট বর্তমানে গভীর সমুদ্রে নিরলস কাজ করছে। প্রায় ২৮৮ দিন ব্যাপী এই দীর্ঘ খনন অভিযানে প্রায় ৫০০ জন দক্ষ কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও নৌবাহিনীর বিশেষ কর্মী নিয়োজিত থাকবেন বলে তুর্কি জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। এই খনন কার্যক্রমের ফলে সোমালিয়া ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বেশি মজবুত হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গাজায় চলমান নির্মম সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয় ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সাজানো নৈতিক ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এবং জাইনবাদের পতনের ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়ে দিয়েছে। দশকজুড়ে ইসরায়েল নিজেকে নির্যাতিতদের আশ্রয়স্থল এবং মরুদ্যানে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে প্রচার করে আসলেও গাজার ধ্বংসস্তূপ সেই মিথকে আজ আক্ষরিক অর্থেই পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। প্রভাবশালী সাংবাদিক ক্রিস হেজেস বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে পশ্চিমারা ইসরায়েলকে জাতিগত নিধন ও দখলের অবাধ লাইসেন্স দিয়েছে, যা আজ এক চরম ও অপূরণীয় নৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। ইসরায়েলি সাংবাদিক গিডিয়ন লেভিও তার লেখনীতে স্বীকার করেছেন যে তাদের দেশ আজ পথ হারিয়েছে এবং এই দখলদারিত্ব কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয় বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ট্র্যাজেডি। গাজার প্রতিটি শিশুর প্রাণহানি এবং প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল ইসরায়েলি প্রচারযন্ত্রের সাজানো গল্পগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছে যা কোনো তুখোড় কূটনীতিক আর কোনোভাবেই সংস্কার করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়। জাতিসংঘের ‘লিস্ট অব শেম’ বা কলঙ্কিত তালিকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর তাদের অপরাধকে বিন্দুমাত্র আড়াল করছে না। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার তরুণ প্রজন্ম এখন তাদের স্মার্টফোনে সরাসরি যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখছে এবং তারা পূর্ববর্তী প্রজন্মের মতো কোনো প্রকার বংশগত অপরাধবোধ বা নৈতিক চাপ অনুভব করছে না। লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক এবং প্যারিস থেকে জাকার্তা—বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আজ ফিলিস্তিনের পক্ষে যে জনজোয়ার তৈরি হয়েছে তা মূলত একটি শোষক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআদালতের এক অমোঘ রায়। জাইনবাদ এতদিন পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর যে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল তা এখন শেষলগ্নে এসে পৌঁছেছে এবং ইহুদিবিদ্বেষের তকমা দিয়ে সত্যকে আড়াল করার পুরোনো দিনগুলো চিরতরে ফুরিয়ে গেছে। মার্কিন কংগ্রেসের মতো শক্তিশালী দুর্গগুলোতেও এখন ফিলিস্তিনের পক্ষে কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে যা কয়েক বছর আগে কল্পনা করাও অসম্ভব ছিল এবং এটি জাইনবাদের চরম পরাজয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যখন আনুষ্ঠানিকভাবে একে একটি সম্ভাব্য গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে তখন ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি এখন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। একটি রাষ্ট্র যখন তার নিজের হাতে গড়া মিথকে নিজেই ধ্বংস করে দেয় তখন ইতিহাসের পাতায় তার বিচার হয় অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে এবং ইসরায়েল এখন সেই চরম মুহূর্তেরই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। জাইনবাদ আজ এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে যেখানে সে নিজের হাতেই নিজের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায় আজ সেই ধ্বংসযজ্ঞের জীবন্ত ও এক নির্বাক সাক্ষী হয়ে আছে। ইতিহাসের এক ধৈর্যশীল হিসাবরক্ষক আজ তার খাতা খুলে বসেছে এবং সেখানে ইসরায়েলের প্রতিটি পদক্ষেপের চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে যা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির এক নতুন সমীকরণ নির্ধারণ করবে। জাইনবাদের পতন, গাজা যুদ্ধ ২০২৬, নেতানিয়াহু অপরাধ, ফিলিস্তিন সংহতি, আন্তর্জাতিক আদালত, বিশ্ব রাজনীতি, ইসরায়েল সংকট, জাইনবাদ বিতর্ক, গাজা গণহত্যা, মানবিক বিপর্যয় এই আর্টিকেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জাইনবাদের নৈতিক পতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিলের দাবিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে একটি উচ্চপর্যায়ের রিট পিটিশন দাখিল করেছেন দেশটির একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা গিলাদ কারিভ সোমবার এই আবেদনটি জমা দেন যেখানে তিনি আইনটিকে বর্ণবাদী এবং চরমপন্থী বলে অভিহিত করেছেন যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে। জিলাত ইনস্টিটিউট এবং রাব্বিস ফর হিউম্যান রাইটস নামক মানবাধিকার সংগঠনের সহযোগিতায় এই পিটিশনটি দাখিল করা হয়েছে যা বর্তমানে দেশটির বিচার বিভাগে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গিলাদ কারিভ জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থী ওতজমা ইহুদিত পার্টিকে এই জনতোষণমূলক ও জাতীয়তাবাদী প্রচারণার জন্য কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন এবং একে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি আরও উগ্র ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং আরিয়ে দেরির ধর্মীয় শাশ পার্টি অর্থের বিনিময়ে সব মূল্যবোধ বিক্রি করছে বলে তিনি কড়া মন্তব্য করেছেন। আবেদনকারী দাবি করেছেন যে এই আইনটি কার্যকর হলে তা কেবল আন্তর্জাতিক আইনেই নয় বরং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বা আইডিএফ এবং কারা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের জীবনকেও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সর্বোচ্চ বিচারিক কর্তৃপক্ষ এবং তারা যেকোনো আইন যদি দেশের মৌলিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তবে তা সরাসরি বাতিল করার অসীম ক্ষমতা রাখে যা এখন সময়ের দাবি। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মৃত্যুদণ্ড আইনটি আপাতত কার্যকর করা সম্ভব হবে না যা ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য এক সাময়িক স্বস্তি। এর আগে গত ৩১ মার্চ মানবাধিকার সংগঠন আদলাহ এবং আরব সংসদ সদস্যরাও এই আইনের বিরুদ্ধে পৃথক রিট দাখিল করেছিলেন যা নিয়ে আদালত সরকারকে তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই আইনটি মূলত সেইসব ফিলিস্তিনি বন্দিদের লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলিদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে এবং এতে অন্তত ১১৭ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন। বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে ৯ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন যাদের মধ্যে ৩৫০ জন শিশু এবং ৭৩ জন নারী চরম মানবেতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে। কারাগারে বন্দিদের ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন, অনাহার এবং চিকিৎসার অবহেলার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যা নিয়ে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। গিলাদ কারিভ আশা প্রকাশ করেছেন যে সরকারের আইনি উপদেষ্টারাও আদালতের কাছে এই আইনের বিপক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন যাতে মানবতার স্বার্থে এই কালাকানুনটি চিরতরে বাতিল করা সম্ভব হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে ইসরায়েলের ভেতরে এই আইনি লড়াই বেইজিং ও মস্কোর মতো পরাশক্তিদের নজর কেড়েছে যারা শুরু থেকেই এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। সব মিলিয়ে ইসরায়েলের এই নতুন আইন কেবল ফিলিস্তিনিদের নয় বরং দেশটির নিজস্ব বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকেও এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বন্ধে একটি কূটনৈতিক সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেছেন জাভেদ জারিফ। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জারিফের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কেবল প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বাড়াবে, কিন্তু কোনো পক্ষের জন্য টেকসই সমাধান আনবে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ বাণিজ্য চলাচল পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে একটি বিস্তৃত চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা ইস্যুগুলো সমাধানের প্রস্তাব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক তদারকি মেনে নিতে পারে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অনাগ্রাসন চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেছেন জারিফ। তার মতে, এতে কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই উন্নত হবে না, বরং পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে বড় শক্তিগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে জারিফ স্বীকার করেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এই প্রক্রিয়ার বড় বাধা। তাই চীন ও রাশিয়া-এর মতো দেশগুলো গ্যারান্টর হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, বর্তমান সংঘাত যতই তীব্র হোক একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির সুযোগ তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।