আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এবং তার দাসদের ইতিহাস সংরক্ষণে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ফেডারেল কোর্ট। ফিলাডেলফিয়ায় ওয়াশিংটনের বাড়িতে দাসদের স্মরণে তৈরি স্থায়ী প্রদর্শনী এবং ভিডিও ইনস্টলেশন সরিয়ে ফেলার যে তোড়জোড় চলছিল, আদালত তাতে সরাসরি বাধা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিশেষ একজিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে আমেরিকার পাঠ্যক্রম ও সংস্কৃতি থেকে 'কলঙ্কিত ইতিহাস' সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূলত আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা জনকদের নেতিবাচক ভাবমূর্তি আড়াল করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে আদালতের বিচারক ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টাকে জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত রাজনৈতিক উপন্যাস '১৯৮৪'-এর সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে ইতিহাস বিকৃত করার চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। বিচারকের স্পষ্ট বার্তা—কোনো রাজনৈতিক নির্দেশে বাস্তব ইতিহাসকে মুছে ফেলা সম্ভব নয় এবং এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। এই রায়ের ফলে আমেরিকার দাসপ্রথার সেই নির্মম ইতিহাস জনসমক্ষে প্রদর্শিত হওয়ার অধিকার বজায় থাকল।
ওয়াশিংটন ডি.সি. — মধ্যপ্রাচ্যে আবারো ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। ইরানকে একটি কঠোর পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তিতে বাধ্য করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা সর্বোচ্চ চাপের নীতিকে চূড়ান্ত রূপ দিচ্ছে। একদিকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের পরোক্ষ আলোচনা, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে সামরিক উপস্থিতিকে নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক তৎপরতা ও ট্রাম্পের আল্টিমেটাম - প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে পেন্টাগন পারস্য উপসাগরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর সাথে যোগ দিতে পাঠিয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড-কে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা: হয় একটি ব্যাপকভিত্তিক চুক্তিতে আসা, না হয় "ভয়াবহ সামরিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়" মেনে নেওয়া। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন কেবল প্রদর্শনীর জন্য নয়; বরং ২০২৫ সালের জুন মাসের সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিধ্বংসী সংঘাতের পর ইরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় রাখতেই এই রণকৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। জেনেভা বৈঠক: কূটনীতির শেষ চেষ্টা? - মঙ্গলবার থেকে জেনেভায় শুরু হওয়া এই পরোক্ষ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি পৃথক বৈঠক করেছেন। আলোচনার অমীমাংসিত সূত্রগুলো : পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা: ওয়াশিংটন দাবি করছে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: ইসরায়েলের কড়া হুঁশিয়ারির মুখে ট্রাম্প প্রশাসন এবার ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও চুক্তির আওতায় আনার জেদ ধরেছে। নিষেধাজ্ঞা বনাম নিরাপত্তা: তেহরান তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির চাকা সচল করতে অবিলম্বে জ্বালানি ও ব্যাংকিং খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। ইরানের পাল্টা হুঙ্কার - মার্কিন চাপের মুখে তেহরানও তাদের সামরিক শক্তির জানান দিচ্ছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) হরমুজ প্রণালীতে ‘ইন্টেলিজেন্ট কন্ট্রোল’ নামক একটি বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ মহলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনোভাবেই আলোচনার টেবিলে তোলা হবে না এবং যেকোনো উস্কানির কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও অনিশ্চয়তা - ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং গত বছরের সামরিক সংঘাতের ফলে এই আলোচনাকে ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানে বিক্ষোভকারীদের প্রতি ওয়াশিংটনের খোলাখুলি সমর্থন এবং স্টারলিংক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট সচল রাখার বিষয়টি তেহরানকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন জেনেভার একটি বন্ধ দরজার বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। চুক্তি না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছে আফগানিস্তান। তালেবান শাসিত দেশটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ড কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তবে তেহরানকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানের ইঙ্গিতও দিয়েছে কাবুল। গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব তাঁর দেশের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “আফগানিস্তান বিশ্বের কোনো দেশের জন্যই হুমকি নয়। আমরা কোনো পক্ষকেই আমাদের দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ দেব না।” তিনি বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে আফগানিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করার জন্য কঠোর আহ্বান জানান। এদিকে, তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিবিসি পার্সিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরও জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না এবং আশা করি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সৃষ্ট এই সামরিক উত্তেজনা আলোচনার মাধ্যমেই মিটে যাবে। তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই হামলা চালায় এবং ইরান আমাদের কাছে কোনো ধরনের সহায়তা চায়, তবে আফগানরা তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।” জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রশংসা করে দাবি করেন যে, ইরান নিজেকে রক্ষা করতে পুরোপুরি সক্ষম। তিনি উদাহরণ হিসেবে ইসরায়েলের সাথে ইরানের গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই সংঘাতে ইরান বিজয়ী হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ঘোষণা আর অন্যদিকে প্রতিবেশীর প্রতি সংহতি প্রকাশের মাধ্যমে তালেবান সরকার ওয়াশিংটনকে এক ধরণের সতর্কবার্তা প্রদান করল। এখন দেখার বিষয়, কাবুলের এই প্রকাশ্য অবস্থান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে আন্তর্জাতিকভাবে স্মরণীয় করে রাখতে এক নজিরবিহীন উদ্যোগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতার বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার ভ্রাতৃত্ব ও কূটনীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। যদিও আমন্ত্রিত অতিথিদের চূড়ান্ত তালিকা এবং শপথের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এমন একটি জোরালো সংকেত আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিশাল জয় পেয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বিএনপি। একই সাথে দেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে জামায়াতে ইসলামী হতে যাচ্ছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল। এমন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি নতুন সরকারের জন্য এক বড় ধরণের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিতে যাচ্ছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসিন রেজাই এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি এবার কোনো কারণে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তাতে কোনো ধরনের ‘যুদ্ধবিরতি’র সুযোগ থাকবে না। রেজাই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “আলোচনার পথ বেছে নেওয়া সবার জন্যই মঙ্গলজনক। কিন্তু যদি আমেরিকা সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তবে ইরান এমন এক যুদ্ধে জড়াবে যেখানে শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো থামাথামি নেই।” তেহরান থেকে আসা এই কঠোর বার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এই উত্তজনা মূলত শুরু হয়েছে গত সপ্তাহে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত দুই দেশের পরোক্ষ আলোচনার পর থেকে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করলেও, ওয়াশিংটন এখন ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিকেও আলোচনার শর্ত হিসেবে যুক্ত করতে চাইছে। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মিসাইল ইস্যু নিয়ে তারা কোনো আপস করবে না। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অচলাবস্থা নিরসনে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম ‘এক্ষিওস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “হয় আমাদের সাথে একটি সম্মানজনক চুক্তি হতে হবে, অন্যথায় ইরানের জন্য খুব কঠিন কিছু অপেক্ষা করছে। আমাদের একটি বিশাল নৌবহর বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সম্ভবত আরও একটি বড় নৌবহর সেখানে পাঠাব।” বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের গোপন বৈঠক যদি ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্পের এই ‘টফ অ্যাকশন’ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। একদিকে মার্কিন রণতরীর মহড়া, অন্যদিকে ইরানের ‘যুদ্ধবিরতিহীন’ যুদ্ধের হুমকি—সব মিলিয়ে বিশ্ব এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কূটনীতির জয় হয় নাকি বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে পারস্য উপসাগর।
দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলতি সপ্তাহে বিতর্কিত স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নৌবাহিনীর জাহাজ মুখোমুখি অবস্থানে আসে, যা অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়মিত টহল পরিচালনার সময় চীনা নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি সামরিক বিমান দ্বারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের মুখে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র অনুযায়ী, উভয় পক্ষের জাহাজ এক পর্যায়ে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থান করছিল। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি” এবং এটি চীনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, দক্ষিণ চীন সাগর আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং সেখানে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা চীন নিজস্ব বলে দাবি করে, যদিও ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন অংশের ওপর দাবি জানিয়ে আসছে। এই জলপথ দিয়ে প্রতিবছর প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবাহিত হয়, যা একে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ জোরদার করবে। ইতোমধ্যে ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করেও বেইজিং কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান ইস্যু, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা এখন সরাসরি সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে এমন মুখোমুখি পরিস্থিতি ভুল বোঝাবুঝি বা দুর্ঘটনার মাধ্যমে বড় সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আঞ্চলিক কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলেছেন, উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামরিক সংযম জরুরি হয়ে উঠেছে। অন্যথায়, এই কৌশলগত জলপথ অচিরেই বৈশ্বিক শক্তি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
লাখ লাখ উটের জন্য আনুষ্ঠানিক পাসপোর্ট ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উটের পরিচয়, মালিকানা ও চলাচল সংক্রান্ত তথ্য একক ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা দেশের মূল্যবান প্রাণিসম্পদের ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করবে। সৌদি সরকারের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এই পাসপোর্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে উট পালন খাতের নজরদারি জোরদার করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সবুজ রঙের পাসপোর্ট দেখানো হয়েছে, যেখানে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও সোনালি রঙের উটের ছবি রয়েছে। সরকারি হিসাবে, ২০২৪ সালে সৌদি আরবে উটের সংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লাখ। এই খাত থেকে প্রতি বছর দেশটির অর্থনীতিতে দুই বিলিয়ন রিয়ালের বেশি অবদান আসে। বিশ্বজুড়ে উটের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন কোটি; এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ আরব বিশ্বে রয়েছে। উটের সংখ্যায় আরব দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সোমালিয়া, এরপর সুদান, মৌরিতানিয়া, সৌদি আরব ও ইয়েমেন। উট সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশটিতে নিয়মিত উটের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে সেরা উটকে পুরস্কৃত করা হয়। জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে উটের উপস্থিতি সৌদি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। উপসাগরীয় অঞ্চলে উটের ভূমিকার ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরোনো। বিশ শতকের শুরু পর্যন্ত মক্কা ও মদিনায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল উট। মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও দূরপ্রাচ্য থেকে আগত হাজিরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উটের কাফেলায় করেই পবিত্র নগরীগুলোতে পৌঁছাতেন। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় সৌদি আরবে পাওয়া পাথরে খোদাই করা উটের ভাস্কর্যগুলোর বয়স ৭ থেকে ৮ হাজার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এগুলো এমন এক সময়ের নিদর্শন, যখন উট এখনও গৃহপালিত হয়নি এবং আজকের মরুভূমির জায়গায় ছিল সবুজ তৃণভূমি ও হ্রদ। ইতিহাসবিদদের মতে, শুষ্ক মরুভূমিতে টিকে থাকার জন্য উট ছিল অপরিহার্য। ইসলাম-পূর্ব যুগের কবিতায় যেমন উটের উল্লেখ পাওয়া যায়, তেমনি ইসলামের ইতিহাসেও উটের গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উট ‘কাসওয়া’ ইসলামী ঐতিহ্যের একটি পরিচিত নাম। আধুনিক যুগে পরিবহনে উটের ব্যবহার কমে গেলেও সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে উটের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এখনো দৃঢ়। আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজ ও বর্তমান বাদশাহ সালমান উটপ্রেমের জন্য পরিচিত। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছেও উন্নত জাতের উট রয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরব উটকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্প গড়ে তুলছে। উটের দুধ, দুধের গুঁড়া, আইসক্রিম, লোম ও চামড়া থেকে তৈরি পোশাক ও পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় উট শিল্পকে তেলবহির্ভূত আয়ের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্তকে সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে—যেখানে অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি সৌদি আরব তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে।
পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির মাঝে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ৩৭ বছরের পুরোনো এক রীতি ভেঙেছেন। তিন যুগের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটির বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের বার্ষিক এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেননি তিনি। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন খামেনি। এমনকি কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও দেশটির বিমানবাহিনীর বার্ষিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিনি। বার্ষিক এই বৈঠক ১৯৭৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন দেশটির বিমানবাহিনীর একদল কর্মকর্তা পাহলভির রাজবংশ উৎখাতে রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছিলেন। খোমেনি ছিলেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং খামেনির পূর্বসূরি সর্বোচ্চ নেতা। পরবর্তী চার দশকে ইরানে ওই দিনটি বিশেষ প্রতীকী আয়োজনে পরিণত হয়। প্রতিবছর একই তারিখে (৮ ফেব্রুয়ারি) বিমানবাহিনীর সদস্য ও কমান্ডাররা দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর খামেনির পরিবর্তে সেনাবাহিনীর বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ কর্মকর্তা আবদোলরহিম মুসাভি খামেনির এই অনুপস্থিতি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খামেনির অনুপস্থিতিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার সম্ভাব্য হুমকি এড়িয়ে চলা অথবা জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেহরান বারবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও হামলা হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নেবে। তেহরান বলেছে, ‘‘এবার যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।’’ তেহরানের এই হুমকি কার্যত ২০২৫ সালের জুনের মাঝামাঝিতে সংঘটিত ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই সময় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ওয়াশিংটন। আর ইরান বলছে, তারা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করবে। এই অচলাবস্থার কারণে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার হুমকি দিয়েছে। আলোচনার পরিধি নিয়ে মতবিরোধ থাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং এতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলা চালানোর হুমকি বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রয়েছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত জানুয়ারির শেষ দিকে নিজেদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে আরব সাগরে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে বিবিসি বলেছে, এক ডজন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি এমকিউ-৯ রিপার যুদ্ধড্রোন এবং একাধিক এ-১০সি থান্ডারবোল্ট-২ স্থল আক্রমণ বিমান জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ এই গণমাধ্যম বলেছে, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক ভূমধ্যসাগর থেকে মিসরের সুয়েজ খাল পেরিয়ে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের ওপর একটি মার্কিন নৌবাহিনীর এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন সক্রিয় রয়েছে। এর আগে ওই অঞ্চলে ই-১১এ বিমান, পি-৮ পসেইডন এবং ই-৩জি সেন্ট্রি নজরদারি ও গোয়েন্দা বিমানের উপস্থিতির খবরও পাওয়া গেছে। সূত্র: এনডিটিভি।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কায়রোতে কয়েক দিন ধরে চলা পরোক্ষ আলোচনায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না যাওয়ায় ইসরাইল ও হামাস—উভয় পক্ষই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। এর ফলে গাজার ভেতরে ও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, জিম্মি ও বন্দি বিনিময় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের নিশ্চয়তা। তবে ইসরাইল গাজায় হামাসের সামরিক কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান বন্ধ করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ছাড়া কোনো চুক্তিতে সম্মত না হওয়ায় আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও মধ্যাঞ্চলে নতুন করে স্থল অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় একাধিক বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য ইসরাইলই দায়ী। সংগঠনটি বলেছে, তারা যে কোনো নতুন হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত এবং ইসরাইলি ভূখণ্ডে পাল্টা রকেট হামলার সক্ষমতা এখনও রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় রকেট সতর্কতা জোরদার করেছে ইসরাইল। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার নতুন করে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই দূরত্বে যে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির সময়কাল ও গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে মতপার্থক্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল কার্যত অচল, খাবার ও ওষুধের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার জনসংখ্যার বড় অংশ এখন দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে সহায়তা প্রবেশ সীমিত থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে পড়া শুধু গাজা নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। হিজবুল্লাহ, ইরান ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করছে। সব মিলিয়ে, গাজা যুদ্ধ আবারও একটি সংকটপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে সামনে আরও রক্তক্ষয়ী অধ্যায় অপেক্ষা করছে—এমন আশঙ্কাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান উদ্বেগ
ইউক্রেন যুদ্ধে পরিস্থিতি নতুন করে নাটকীয় রূপ নিয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক স্থল ও আকাশ অভিযান শুরু করায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে চাপের মুখে পড়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। গত ৭২ ঘণ্টায় দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক সীমান্তবর্তী এলাকায় রাশিয়ার সেনারা একযোগে ট্যাংক, আর্টিলারি ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে যুদ্ধের গতিপথ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোনেৎস্ক অঞ্চলের অন্তত তিনটি ফ্রন্টলাইনে রুশ বাহিনী একসঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে আভদিভকা ও চাসিভ ইয়ার এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে। এই অঞ্চলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা অবস্থান কয়েক মাস ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যা রাশিয়া এখন কৌশলগতভাবে কাজে লাগাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা একাধিক ইউক্রেনীয় সামরিক ঘাঁটি ও গোলাবারুদের ডিপো ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে নতুন করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কয়েকটি গ্রামকে ‘নিরাপদ এলাকা’ ঘোষণা করেছে মস্কো। তবে ইউক্রেন এই দাবিকে আংশিকভাবে অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে, কিছু এলাকায় কৌশলগত পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যা পিছু হটা নয়। এই নতুন আক্রমণের বড় কারণ হিসেবে ইউক্রেনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের সংকটকে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা দেরিতে পৌঁছানো এবং কিছু প্রতিশ্রুত অস্ত্র এখনও সরবরাহ না হওয়ায় ফ্রন্টলাইনে চাপ বাড়ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে বলেছেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বিলম্ব হলে তার মূল্য দিতে হয়।” অন্যদিকে রাশিয়া এই আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার আগে শক্ত অবস্থান তৈরি করাই মস্কোর লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া চায় ভবিষ্যৎ কোনো সমঝোতা হলে তা যেন তাদের দখলকৃত অঞ্চলকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিয়েই হয়। মানবিক পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। নতুন করে সংঘর্ষ বাড়ায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবায় মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে কয়েকটি শহরে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল না হলে বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। এই অবস্থায় ইউক্রেন যুদ্ধ আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। সামরিক সহায়তা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক চাপ—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে, আগামী মাসগুলোতে যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়। তবে বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয় স্পষ্ট, যুদ্ধ শেষ হওয়ার বদলে আরও গভীর ও জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
সিঙ্গাপুরে চুরির অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির আদালত। ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায়, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিক দোকান থেকে মূল্যবান পণ্য চুরি করার সময় নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়েন। পরবর্তী তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি বড় অঙ্কের জরিমানা প্রদান করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন খুচরা দোকানকে লক্ষ্য করে চুরি করতেন। তিনি পোশাক, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং প্রসাধনীসহ উচ্চমূল্যের পণ্য আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ আনা হয়। দোকান কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও উদ্ধারকৃত মালামালের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিচার চলাকালে আদালত উল্লেখ করে, সিঙ্গাপুরে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয় না। রায়ে বলা হয়, এ ধরনের অপরাধ শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতি করে না, বরং সমাজে আস্থার পরিবেশ নষ্ট করে। তাই অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সাজা শেষে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী, চুরি ও আর্থিক অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি তুলনামূলকভাবে কঠোর। জরিমানা, কারাদণ্ডের পাশাপাশি অভিবাসন সংক্রান্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়ে থাকে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও আইন প্রয়োগে কোনো ব্যতিক্রম করা হয় না। এই ঘটনায় প্রবাসী মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন ব্যক্তির অপরাধ পুরো প্রবাসী সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তারা বিদেশে বসবাসরত নাগরিকদের স্থানীয় আইন, সংস্কৃতি ও সামাজিক নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা বিদেশে বসবাসকারী কর্মী ও পর্যটকদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। উন্নত দেশগুলোতে নজরদারি ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আইন লঙ্ঘনের পরিণতি দ্রুত ও কঠোর হয়। সিঙ্গাপুরে এই রায় আবারও দেখিয়ে দিল, আইনের চোখে সবাই সমান এবং অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক - বিশ্ব তেলবাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ওপেক প্লাসের সাম্প্রতিক উৎপাদন নীতি নিয়ে। জোটভুক্ত দেশগুলো চলতি বছরের জন্য তেল উৎপাদন সংক্রান্ত যে অবস্থান নিয়েছে, তা বাজারে সরবরাহ ও দামের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। বিনিয়োগকারী ও আমদানিনির্ভর দেশগুলো এখন পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে। ওপেক প্লাসভুক্ত কয়েকটি দেশ স্বেচ্ছাসেবী উৎপাদন সীমা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্যদিকে কিছু দেশ উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ানোর পক্ষে মত দিচ্ছে। এই ভিন্ন অবস্থানের কারণে জোটের ভেতর সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তেল উৎপাদনের ওপর ঐকমত্য না হলে বাজারে সরবরাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে তেলের দামে ওঠানামা শুরু হয়েছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সরবরাহ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরগতির আশঙ্কা চাহিদা নিয়ে সংশয় তৈরি করছে। এই দুই বিপরীত চাপের মধ্যে ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্ত তেলবাজারের জন্য নির্ধারক হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে উচ্চ সুদের হার এবং শিল্প খাতে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব তেল ব্যবহারের ওপর পড়তে পারে। চীনসহ বড় ভোক্তা দেশগুলোর অর্থনৈতিক গতি কেমন থাকে, সেটিও বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে ওপেক প্লাস যদি উৎপাদন বাড়ানোর পথে যায়, তবে তেলের দাম আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে উৎপাদন সীমা কঠোরভাবে বজায় রাখা হলে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এতে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলবে। জ্বালানি ব্যয় বাড়লে পরিবহন, শিল্প ও ভোগ্যপণ্যের দামে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কূটনৈতিকভাবে ওপেক প্লাসের এই সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করে। জোটের ভেতরের ঐক্য ও নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব আর্থিক চাহিদা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা জোটের সমন্বয়কে কঠিন করে তুলছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেলবাজার একটি সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। ওপেক প্লাসের পরবর্তী বৈঠক ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই এখন সবার নজর। সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, বিশ্ব অর্থনীতি সামনে স্থিতিশীল জ্বালানি বাজার পাবে, নাকি নতুন করে অস্থিরতার মুখে পড়বে।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক - ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। যেগুলোর লিখিত উত্তর পাঠ করে শোনানো হয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। খবর এনডিটিভির।তাকে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ মুহূর্তে স্পর্শকাতর সম্পর্ক চলছে কিনা এবং পাকিস্তান এটির সুযোগ নিচ্ছে কিনা। যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। জবাবে কীর্তি বর্ধন বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক; এমনকি আমাদের সামাজিক বন্ধনও অভিন্ন। আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠক ও পারস্পরিক মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান কোনো সুযোগ নিচ্ছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশগুলোর থেকে স্বাধীন। এছাড়া বাংলাদেশের যেসব জায়গায় ভারতের জাতীয় স্বার্থ রয়েছে সেগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং স্বার্থগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাকে আরেকটি প্রশ্ন করা হয়— বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে (কথিত) প্রকাশ্যে হত্যার ব্যাপারে ভারত সরকার কোনো আলোচনা করেছে কিনা। জবাবে তিনি বলেন, ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকসহ সকল প্রাসঙ্গিক পরিবেশে উত্থাপন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি আলোচনা করেছেন। তাকে আলাদা অপর এক প্রশ্নে জিজ্ঞেস করা হয় ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোটের’ বিষয়টি ভারত সরকার আমলে নিয়েছে কিনা। কারণ এই দেশগুলোর সঙ্গেই ভারতের সবচেয়ে বেশি সীমানা রয়েছে। যদি এটি আমলে নেওয়া হয়েও থাকে তাহলে এ থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সরকার কী করছে? জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি সংক্রান্ত স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর এবং এগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। যার মধ্যে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও আছে। সবার আগে প্রতিবেশি’ এ নীতি অনুযায়ী ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সামরিক উত্তেজনার মাঝে ওমানের মাস্কাটে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে ইরানের পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা শেষ হয়েছে। এই আলোচনাকে একটি ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার এই নিবিড় বৈঠকে পারমাণবিক ইস্যুতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হলেও মার্কিন হামলার ক্রমবর্ধমান শঙ্কা দূর করতে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত এই পরোক্ষ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) প্রধান ব্র্যাড কুপার। ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আল বুসাইদি দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, “দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইরানের অবস্থান ও উদ্বেগ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক পরিবেশে শুরু হয়েছে এবং আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।” তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সংলাপ শুধুমাত্র পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং অন্য কোনো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো কথা হয়নি। আরাগচি আরও জানান, ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের জেরে গত আট মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে যে গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পারমাণবিক আলোচনা সফল হতে হলে অবশ্যই একটি শান্ত পরিবেশ এবং উত্তেজনা ও হুমকিমুক্ত অবস্থা প্রয়োজন। আলোচনার পরবর্তী ধাপ ও পদ্ধতি ওমানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজধানী থেকে আসা নির্দেশনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। বিশ্ব রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি জ্যারেড কুশনারের এই বৈঠকে উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন হয়তো নতুন কোনো কৌশলে ইরানের সাথে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে। তবে চূড়ান্ত সমাধান কতদূর, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর। সূত্র: আল জাজিরা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক - শ্রীলঙ্কায় অভিযান চালিয়ে দেশটির নৌবাহিনী গত মাসে আটক ৩০ জন ভারতীয় জেলেকে অপরাধী হিসেবে দণ্ডিত করেছে। ওই জেলেরা শিলিম্যান্নার উপকূলে শ্রীলঙ্কার জলসীমা অতিক্রম করে বেআইনি মাছধরা করার অভিযোগে ধরা পড়ে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালত বৃহৎ জরিমানা ও শাস্তি ঘোষণা করেছে। মধ্যে অধিকাংশ বিচারাধীন পর্যায়ে বিচারক কোন শাস্তি কার্যকর করবেন তা নির্ধারণ করেছেন। আদালতের রায় অনুযায়ী, মূল অভিযোগের তিনটি ধারায় তাদের মধ্যে বেশিরভাগকে এক বছরের স্থগিত করা কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে, যা শর্তসাপেক্ষে অন্তত এক দশক স্থগিত থাকবে। অপরদিকে, অন্তত ২৬ জনকে ২,৫০,০০০ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে, যা তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ জলসীমায় অনুপ্রবেশ ও বাণিজ্যিক মাছধরা সম্পর্কিত আইনের উল্লঙ্ঘনের জন্য আরোপিত হয়েছে। বাকি কয়েকজনের ক্ষেত্রে, পুনরায় গ্রেফতারের ইতিহাস থাকায় তাদের জন্য জরিমানার পরিমাণ আরও বেশি ধার্য করা হয়েছে। এই রায় কড়া আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের সমুদ্রসম্পদ রক্ষা ও জলসীমা আইন বাস্তবায়নের একটি সংকেত হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও ফিশারিজ কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়ম ভঙ্গ করে অনুপ্রবেশ ও অবৈধ মাছধরা সম্প্রতি বেড়ে গেছে, যার ফলে তরুণ জেলেরা অর্থনৈতিক চাপ ও জীবিকানির্বাহের জন্য সীমান্ত অতিক্রম করে থাকে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ঠেকাতে দেশটি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করছে এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যকলাপ পুনরায় রোধে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সাময়িক বা কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের স্থানীয় প্রশাসনগুলো এই ঘটনা সম্পর্কে পরস্পর তথ্য বিনিময় করেছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে একে অপরকে অবহিত করেছে। বিশেষ করে শিলিম্যান্নার উপকূলীয় কমিউনিটিগুলোতে এমন ঘটনা বারবার ঘটার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা আইন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমুদ্রসম্পদ রক্ষা, জলসীমা সুরক্ষা এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা—এসব ইস্যু নিয়েই ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও সমঝোতা প্রয়োজন হবে।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক - সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরে ট্রাম্প সরকারের কঠোর অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। স্কুল, অফিস, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে মানুষ 'জাতীয় শাটডাউন' কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এই আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। অভিবাসীদের পক্ষে জনসমর্থন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি এবং ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) বাহিনীর ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। মিনিয়াপোলিস, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় মানুষ নেমে আসে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ- অভিবাসীদের ওপর দমন-পীড়ন বাড়ছে, পরিবার বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এবং বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ‘জাতীয় শাটডাউন’ কর্মসূচি ৩০ জানুয়ারি বিক্ষোভকারীরা 'জাতীয় শাটডাউন দিবস' ঘোষণা করে। মানুষকে আহ্বান জানানো হয়— কাজ বন্ধ রাখা, স্কুল বন্ধ রাখা এবং কেনাকাটা বন্ধ রেখে অভিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে। শত শত সামাজিক, ছাত্র ও মানবাধিকার সংগঠন এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে। অনেক জায়গায় দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিক্ষোভকারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ও সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মিনেসোটা: উত্তেজনার কেন্দ্র মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়, যাকে সরকার 'বড় অভিবাসন অভিযান' বলছে। এই অভিযানে দুইজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন, যা জনরোষ আরও বাড়িয়ে দেয়। সরকার বলছে ঘটনাগুলো আত্মরক্ষার সময় ঘটেছে, কিন্তু নিহতদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠন এই দাবি মানতে নারাজ। অভিবাসনের বাইরেও ক্ষোভ এই বিক্ষোভ শুধু অভিবাসননীতি ঘিরে নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিগত বৈষম্য, সামাজিক অবিচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও মানুষের ক্ষোভ জমে উঠেছে। মিনেসোটার স্থানীয় প্রশাসন ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপকে 'স্থানীয় সমাজের ওপর আঘাত' বলে উল্লেখ করেছে এবং অভিবাসীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ এই গণবিক্ষোভ ট্রাম্প সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চাপে পরিণত হয়েছে। জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া, জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি এবং সামনে নির্বাচন— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের দাবি উপেক্ষা করলে এর রাজনৈতিক ফল ভোগ করতে হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনকে।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক - বিল গেটস, মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং দানশীল ব্যক্তিত্ব, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়িক বিভাগের (Justice Department) তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন। সম্প্রতি জানা গেছে, গেটসের কিছু ব্যবসায়িক লেনদেন এবং কর্মকাণ্ড নিয়ে আইন বিভাগ পর্যালোচনা করছে, যা তার ভবিষ্যতের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। গেটসের বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে, তা মূলত তার ব্যবসায়িক কার্যকলাপের ওপর মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। যদিও তদন্তের বিস্তারিত কিছুই এখনো জানানো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, তার কিছু পদক্ষেপে আইনগত সমস্যা থাকতে পারে। গেটস, যিনি বিশ্বের অন্যতম বড় দানশীল ব্যক্তি, তার দান এবং সামাজিক কাজ নিয়ে সাধারণত বেশ প্রশংসিত। কিন্তু এবার তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গেটসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে তার ব্যাপারে যে তদন্ত চলছে, তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এই ধরনের তদন্ত বিখ্যাত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির জন্য বড় ধরনের পরিণতি বয়ে আনতে পারে। এটা একেবারে নতুন কিছু নয়। গত কিছু মাসে এমন অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে, যারা ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে কিছু বিতর্কের মুখে পড়েছেন। গেটসের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক বড় বড় উদ্যোগ এবং দানশীল কাজের নজির রয়েছে। তবে আইন বিভাগের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য আসেনি, এবং গেটসও এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। ভবিষ্যতে তদন্তের ফলাফল যদি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনে, তাহলে সেটা শুধু গেটসের জন্য নয়, বরং পুরো ব্যবসায়ী বিশ্বের জন্যও বড় ধরনের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। এখন সবাই নজর রাখছে, কীভাবে এই তদন্ত শেষ হয় এবং গেটসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি কীভাবে প্রমাণিত হয়।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক : ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপীয় সরকার ও কোম্পানিগুলো প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং আর্থিক ব্যবস্থায় ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য নতুন উদ্যোগ শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হলেও এটি ধীরে ধীরে ট্রান্স-আটলান্টিক (আটলান্টিকের দুই পারে) সম্পর্কের সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিবেদনগুলো বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা (Strategic Autonomy) জোরদার করার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুসরণ করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি অবস্থানের ফলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়েছে। যদিও ইউরোপ এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে তার প্রধান বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে দেখে, তবুও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে "ঝুঁকি কমানো" (De-risking) প্রয়োজন বলে উল্লেখ করছেন। এই পার্স টুডে প্রতিবেদনে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণের পেছনের কারণগুলো তুলে ধরা হলো: ইউরোপের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা যায়, গত কয়েক দশক ধরে ইউরোপ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ন্যাটোর ওপর এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে মার্কিন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে এসেছে। তবে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও নীতিমালা—যার মধ্যে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রসঙ্গও রয়েছে, ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং তাদের বিকল্প অর্থনৈতিক অংশীদার খোঁজার দিকে ধাবিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার মার্কোসুর (Mercosur) জোটসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি অংশীদারের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের অর্থনৈতিক নির্ভরতা এখনো ব্যাপক, এবং তা কমাতে বহু বছর সময় লাগবে। নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে পরিবর্তন ইউরোপের কৌশলগত স্বাধীনতা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কিছু ইউরোপীয় দেশের নেতারা মনে করেন, এখন সময় এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি স্বাধীন সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করার। যদিও ২০০৯ সাল থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির ৪২.৭ ধারা যৌথ প্রতিরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করেছে, বাস্তবে ন্যাটো এবং মার্কিন সামরিক সহায়তার কারণে এই কাঠামোর গুরুত্ব অনেকটাই কমে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি কিছু ইউরোপীয় দেশকে এই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে—যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ইউরোপের নিরাপত্তায় কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি স্বাধীন সামরিক কমান্ড কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার পথে অগ্রযাত্রা মার্কিন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ইউরোপের নির্ভরতাও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য কিছু মার্কিন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সেগুলোর পরিবর্তে নিজস্ব (বৈদেশিক নয়) প্রযুক্তি ব্যবস্থার ব্যবহার বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও মার্কিন সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম ব্যবহারের পরিমাণ কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইইউর প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে—সংবেদনশীল প্রযুক্তি খাতে একটি দেশ বা একটি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জ্বালানি ও আর্থিক ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা জ্বালানি খাতেও ইউরোপ নিজের নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। যদিও ইউরোপে গ্যাস সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভূমিকা রয়েছে, ইউরোপীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন—রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যদি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়, তাহলে নতুন ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া ও কানাডাসহ নতুন জ্বালানি সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করা হয়েছে। আর্থিক খাতেও ইউরোপ বিকল্প পথ খুঁজছে। মার্কিন পেমেন্ট সিস্টেমের ওপর নির্ভরতা কমানোর উপায় নিয়ে কাজ চলছে এবং একটি স্বাধীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে "ডিজিটাল ইউরো" চালুর পরিকল্পনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, ইউরোপের সাম্প্রতিক কার্যক্রম দেখায় যে, এই মহাদেশ আমেরিকার সাথে তার সম্পর্কে একটি নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে চাইছে; একটি প্রক্রিয়া যা যদিও ওয়াশিংটনের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক ছিন্ন করার অর্থ নয়, তবে এটি বিশ্বব্যাপী সমীকরণে আরও স্বাধীনতা এবং বৃহত্তর ভূমিকা পালনের জন্য ইউরোপের প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিতে পারে।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক - ট্রাম্প আবারও নিজেকে শান্তির প্রেসিডেন্ট বলে দাবী করেছেন।তিনি ইরানের পারমাণবিক শক্তির বিরুদ্ধে তার দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলাকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য দাবি করেছেন যে এই হামলা ছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি সম্ভব হত না। নিজেকে শান্তির প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পারমাণবিক শক্তির বিরুদ্ধে তার দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন। ইরানের পারমাণবিক শক্তির উপর হামলাকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য তিনি দাবি করেছেন যে এই ছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি সম্ভব হত না। বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ট্রাম্প তার পরস্পরবিরোধী দাবির পুনরাবৃত্তি করে আরও বলেছেন: "আপনারা জানেন, তারা (ইরান) আমাদের সাথে আলোচনা করছে।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন: "আমরা যদি ইরানের পারমাণবিক শক্তি ধ্বংস না করতাম, তাহলে আমরা কখনই পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি অর্জন করতে পারতাম না।" তার দাবি অব্যাহত রেখে এবং হুমকির পুনরাবৃত্তি করে ট্রাম্প বলেন: “আমি শুনেছি যে ইরান একটি নতুন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করতে চায়। যদি তাই হয়, তাহলে আমরা আবারও সেনা পাঠাবো। তিনি আরও বলেন: আমরা আরও জানতে পেরেছি যে তারা দেশের অন্য অংশে একটি পারমাণবিক স্থাপনা স্থাপনের চেষ্টা করছে। আমি বলেছিলাম, ‘যদি তুমি তা করো, তাহলে আমরা তোমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করব।’” ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন হুমকিমূলক বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন তিনি বারবার কূটনীতির কথা বলেছেন এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার কথা বলেছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সত্যিই "শান্তির প্রেসিডেন্ট" কিনা তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তার দাবি বিশেষ করে ইরানের ক্ষেত্রে, একটি উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গাজা সংকট নিরসন ও লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। বুধবার মিশরের রাজধানী কায়রোতে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক ও মিশর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে এবং এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি গাজার বর্তমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সেখানকার পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। শান্তি প্রচেষ্টার পাশাপাশি তুরস্কের অন্যতম লক্ষ্য হলো লিবিয়ার ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা। দুই দেশই লিবিয়ায় স্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় একমত হয়েছে। বৈঠকে রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কও। এরদোয়ান উল্লেখ করেন, আফ্রিকা মহাদেশে মিশর বর্তমানে তুরস্কের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে থাকলেও, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক বাণিজ্য, পরিবহন, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এক সময়ের বৈরী দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই বৈঠক কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও নতুন এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হুমকির কড়া নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন সামরিক আগ্রাসন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করা লিখিত বক্তব্যে লাভরভ এসব কথা বলেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং চাপ কমাতে রাশিয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। রাশিয়ার শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার হুমকি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে। লাভরভ আরও সতর্ক করে বলেন, ‘বিদেশি প্ররোচনায় সৃষ্ট অস্থিরতা’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যদি ‘২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত আগ্রাসন’ আবারও পুনরাবৃত্তি করা হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এদিকে একই দিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ক্রেমলিনও জানায়, ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা কমাতে মস্কো তার কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ বা সংরক্ষণসংক্রান্ত বিষয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রস্তাব করে আসছে রাশিয়া, যাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ দূর করা যায় এবং উত্তেজনা হ্রাস পায়। পেসকভ বলেন, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন দেশের জন্য বিরক্তিকর বা উদ্বেগজনক বিষয়গুলো দূর করার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তিনি আরও জানান, রাশিয়া সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং সংঘাত উসকে দেওয়ার পরিবর্তে উত্তেজনা প্রশমনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।