সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিশ্ব রাজনীতি

ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে এআই-নির্মিত ভিডিও
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তবে রয়টার্সের যাচাইয়ে ভিডিওটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে নিশ্চিত হয়েছে এবং খার্গ দ্বীপে এমন হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  রোববার ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি পোস্ট করে ট্রাম্প লেখেন, “খার্গ দ্বীপ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে”। ভিডিওতে দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে ব্যাপক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরও সেখানে কোনো হামলার প্রমাণ মেলেনি।    ইরানের সরকারি ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্ড ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে বলেছেন, খার্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং তেল কার্যক্রম চালু আছে।  খার্গ দ্বীপ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ফলে সেখানে সত্যিকারের হামলা হলে ইরানের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।    ট্রাম্পের এই পোস্ট এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। এরপর ইরান জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন অবস্থানে হামলার কথা জানায়। জর্ডান কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে, আর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি অস্বীকার করেছে।    এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এআই-নির্মিত যুদ্ধের ভিডিও নতুন করে তথ্য বিভ্রান্তি ও যুদ্ধকালীন ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৫:৪২
শুভেন্দু অধিকারী
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আজাদি’ ও ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এইট বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্লোগানের বদলে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবি তোলা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারত একদিন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর পুনর্দখল করবে।  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের সঙ্গে ‘আজাদি’ এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’-এর মতো স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, এসব স্লোগান তাঁর কাছে অত্যন্ত পীড়াদায়ক। তাঁর প্রশ্ন, ভারত স্বাধীন হওয়ার পর আবার কীসের স্বাধীনতা চাওয়া হচ্ছে?   স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালি বিপ্লবীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, প্রফুল্ল চাকী, বিনয়-বাদল-দীনেশসহ বিভিন্ন বিপ্লবীর নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশপ্রেম ও জাতীয় প্রতীকের বিরোধিতাকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শুভেন্দু। ক্যাম্পাসের দেয়ালে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘রেড স্যালুট কিষেনজি’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এর সমালোচনা করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এসব দেয়াললিখন নিয়ে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।    পহেলগাঁও হামলা ও ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযানের সময় যারা প্রতিবাদ করেননি, তারা পরে শান্তির দাবিতে মিছিল করেছেন। একই সঙ্গে যাদবপুরে কথিত ‘হুমকির সংস্কৃতি’ বন্ধ করার ঘোষণা দেন তিনি।  ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবহারের অভিযোগ নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান শুভেন্দু। প্রয়োজন হলে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।   তবে শুভেন্দু অধিকারীর এসব অভিযোগ ও বক্তব্যের বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠন কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস    

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৫:৩৯
গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী

গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী কয়েকটি সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও শিন বেতের কার্যক্রমের কার্যত সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের ওই অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠীকে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দিচ্ছে। এর মধ্যে আর্টিলারি ও ড্রোন সহায়তা এবং অভিযানের সময় নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে হামাসকে মোকাবিলায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করার কথা স্বীকার করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, হামাসের বিরুদ্ধে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের স্বার্থের মিল রয়েছে।   তবে ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের বক্তব্যের বরাতে হারেৎজ জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিছু এলাকায় এসব সশস্ত্র সদস্যকে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি অবাধে চলাফেরা করতে এবং শক্তি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   এক ইসরায়েলি সেনার সাক্ষ্যের বরাতে প্রতিবেদনে একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বিরোধের সময় এক বন্দুকধারী অন্য এক ব্যক্তির পায়ে গুলি করেন। ওই সেনার দাবি, ঘটনাটি সেখানে শাস্তির একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল এবং ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান।   আরেক ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মিলিশিয়া সদস্য পিকআপ ট্রাকে করে আবাসিক এলাকায় ঢুকে গুলি চালানো, বাড়িঘরে লুটপাট এবং স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এসব অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।   হারেৎজের অনুসন্ধানে গাজার বেইত হানুন, শুজাইয়া, দেইর আল বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় অন্তত পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজার অন্যান্য এলাকায় পুনর্গঠন কার্যক্রম থমকে থাকলেও এসব ঘাঁটির কিছু সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি, কংক্রিটের প্রতিরক্ষা দেয়াল এবং মোবাইল আবাসন স্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পপুলার ফোর্সেস’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম স্ট্রাইক ফোর্স’ নামে পরিচিত কয়েকটি গোষ্ঠী ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিভাজনরেখার কাছে মোতায়েন রয়েছে। তারা হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান, নিষিদ্ধ পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।   হারেৎজের সঙ্গে কথা বলা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এসব গোষ্ঠীর নেতাদের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত নেতা হিসেবে দেখছেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক গ্যাং সদস্য, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কিংবা হামাসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাও তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন।   ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের দৃষ্টিতে এসব গোষ্ঠী নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে ইসরায়েলি সামরিক সুরক্ষা ও সহায়তা ছাড়া এসব গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সক্ষমতা সীমিত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে, হামাসবিরোধী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, এসব ইসরায়েল-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিলুপ্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   তবে নেতানিয়াহু ওই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে হামাসও জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকা অবস্থায় তারা অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি নয়। ফলে এসব স্থানীয় মিলিশিয়াকে ঘিরে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থান শান্তি আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ৭:৩০
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর নতুন করে কঠোর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে তেল ও অন্যান্য বাণিজ্যে যুক্ত চীন, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো নতুন মার্কিন পদক্ষেপের আওতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করতে বড় ধরনের সমন্বিত চাপ তৈরির পরিকল্পনা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।    এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের তেল বাণিজ্য। চীন ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় দেশটির ওপর মার্কিন চাপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহন ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চীনা প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।    বেসেন্ট এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী—সব দেশকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হতে পারে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসগুলোকে সংকুচিত করা এবং দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।    এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই কৌশলগত নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। চীনসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।    চীনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর জন্য চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়লে তা ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।    ভারতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বাড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরানকে লক্ষ্য করে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা তৃতীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ সংকুচিত করতে চাইছে। তবে চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতিকে একই নীতির আওতায় আনতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রকেও কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে।   ফলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক অভিযান এখন শুধু ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৭:৫২
সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের

ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দুই দেশ। সোমবার প্যারিসে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।   যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে হবে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা। ইরান ইস্যুতে দুই দেশ আরও উত্তেজনা এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   সৌদি আরব ও ফ্রান্স ইরানের পরমাণু কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তেহরানকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং নৌপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকিরও নিন্দা জানিয়েছে দুই দেশ।   বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে আগের স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা, নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিবহন এবং কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ কর কিংবা চলাচলে বাধা না থাকার আহ্বান জানিয়েছে।   ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চুক্তির ঘোষণা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় টেকসই যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি এবং বেসামরিক মানুষের কাছে দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তারা।   দুই দেশ ফিলিস্তিনি জনগণের ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রম ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স।   বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনে আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ সুগম করাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার পরিস্থিতিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। লেবাননের ক্ষেত্রে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং সব অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং লেবাননের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।   ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির ভূখণ্ডে হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি ও পূর্ণ সমর্থনের কথাও জানিয়েছে প্যারিস।   সুদানের ক্ষেত্রে সংকট দ্রুত সমাধান, বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। সিরিয়ার ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি সৌদি-সিরীয়-ফরাসি ব্যবসায়ী পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে স্বাগত জানানো হয়েছে।   রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি সৌদি আরব ও ফ্রান্স অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের পরিকল্পনাও করেছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। এবার দুই দেশ পারস্পরিক বিনিয়োগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।   প্রতিরক্ষা খাতেও নতুন সহযোগিতার ঘোষণা এসেছে। দুই দেশ অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণসহ ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও উদীয়মান প্রযুক্তিতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সৌদি আরবের আলউলা অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে যৌথ সহযোগিতা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।   এ ছাড়া ফ্রান্স রিয়াদ এক্সপো ২০৩০-এ অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুই দেশের নেতারা মনে করছেন, এই আয়োজন সৌদি আরব ও ফ্রান্সের সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।   বৈঠকের সময় প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি ও বিনোদন খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি-ফরাসি বিনিয়োগ গোলটেবিল বৈঠক থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ২২টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ঘোষণা এসেছে।   সব মিলিয়ে, সৌদি আরব ও ফ্রান্সের নতুন যৌথ উদ্যোগ শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইরান, হরমুজ প্রণালি, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার মতো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যুতেও দুই দেশ নিজেদের সমন্বয় আরও জোরদার করতে চাইছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৬:৪৫
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ছবি: সংগৃহীত
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশে

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।   মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে গত ৭ আগস্ট ২০২৬ মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।   চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় আরও দেশকে যুক্ত করার সুযোগ রাখার কথাও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে।   বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক দিন ধরে স্থানীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রোববার আরব নিউজকে শামা ওবায়েদ বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আলোচনা চলছে।”   এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সম্ভাব্য এই জোটে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন। সোমবার তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয় দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে সম্ভাব্য কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অবস্থান বিবেচনা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।   মক্কা চুক্তিতে থাকা তিন দেশই নিজেদের অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত। পাকিস্তানের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সক্রিয় সামরিক বাহিনী এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। সৌদি আরবের রয়েছে বড় অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো।   অন্যদিকে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং দেশটির রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও শক্তিশালী নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প। ফলে তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কও এ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী অক্টোবরে প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে সৌদি আরবের রিয়াদে যাওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।   সফর সামনে রেখে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ বিন আবদুলকরিম আল-খুরাইজিও চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা সফর করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, দুই পক্ষ বাংলাদেশ-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।   জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ। দেশটির সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার, যা জনবলের দিক থেকে এশিয়ার অন্যতম বড় সামরিক বাহিনী।   সব মিলিয়ে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সামনে প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদ সফরকে ঘিরে এ আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৭:৩১
গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু,ডোনাল্ড ট্রাম্প,ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হামাস রাজি, নেতানিয়াহু নারাজ - গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলে ট্রাম্পের জামাতা

গাজায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শান্তি পরিকল্পনাকে আবারও সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মিসরের কায়রোতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বিরল সরাসরি বৈঠকের একদিন পর জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পরও মূল বিরোধের সমাধান হয়নি।   কুশনারের এই সফরের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ১৫ দফা গাজা রোডম্যাপ বাস্তবায়নের পথ তৈরি করা। পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার বেসামরিক শাসন নতুন ব্যবস্থার হাতে তুলে দেওয়া এবং এর বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে। হামাস পরিকল্পনাটিতে সম্মতি জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কিন্তু কোন পদক্ষেপটি আগে বাস্তবায়িত হবে - সেটিই এখন সবচেয়ে বড় বাধা।   ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট - হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র হওয়ার আগে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে চান না প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে হামাস চায় ইসরায়েল প্রথমে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে স্পষ্ট ও কার্যকর প্রতিশ্রুতি দিক। এই দুই অবস্থানের ব্যবধানের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।    এর আগে কায়রোতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন জ্যারেড কুশনার। আলোচনায় মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরাও যুক্ত ছিলেন। হামাস নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির এমন সরাসরি আলোচনা এখনো বিরল ঘটনা - ফলে বৈঠকটিকে গাজা নিয়ে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ⁠   কুশনারের সঙ্গে হামাসের এটিই প্রথম পরিচিত সরাসরি যোগাযোগ নয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্টিভ উইটকফকে সঙ্গে নিয়ে হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি। তবে এবারের আলোচনা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো সামনে চলে এসেছে। ⁠   কায়রোর আলোচনা শেষে জেরুজালেমে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন কুশনার। বৈঠকটিকে ইসরায়েলি পক্ষ ‘গভীর ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইসরায়েলের পূর্ণ সম্মতি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও গাজা পরিকল্পনার মূল বাধা এখনো কাটেনি। ⁠   তবে বৈঠক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। গাজার নিরস্ত্রীকরণ এবং অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করতে দুটি পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে নেতানিয়াহু ও কুশনার একমত হয়েছেন। গাজার পুনর্গঠনের আগে অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ⁠   কুশনার জানিয়েছেন, হামাসের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক বক্তব্য পাওয়া গেলেও এখন কথার পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় ওয়াশিংটন। তার মতে, অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া এবং হামাসের ব্যবহৃত টানেল বন্ধের মতো দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হলে আগামী ৩০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে সেটি পুরোপুরি নির্ভর করছে পরিকল্পনার শর্ত বাস্তবায়নের ওপর। ⁠   অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধ করার কথা বলেছেন। এমন সময়ে এই মন্তব্য এসেছে, যখন তার দূত কুশনার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনায় এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন। ⁠   এই কূটনৈতিক তৎপরতায় মিসর, কাতার ও তুরস্কের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কায়রোর আলোচনায় তিন দেশের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্ত ছিলেন এবং হামাস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগের পথ তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। ফলে গাজা নিয়ে বর্তমান আলোচনা শুধু ওয়াশিংটন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই - পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ⁠   সবচেয়ে বড় বাধা এখনো একই জায়গায় - কে আগে পদক্ষেপ নেবে। হামাস ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চায়, আর নেতানিয়াহু চান আগে হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। কয়েক ঘণ্টার কুশনার-নেতানিয়াহু বৈঠকেও এই মৌলিক ব্যবধান দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে গাজা শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে দুই পক্ষের মধ্যে এই আস্থার সংকট কত দ্রুত কাটানো যায় তার ওপর। ⁠   তবে একটি বিষয় পরিষ্কার - যুক্তরাষ্ট্র এবার শুধু মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত সরাসরি হামাস নেতৃত্বের সঙ্গে বসছেন, পরদিনই আলোচনা করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। গাজার যুদ্ধ থামানো এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা তাই নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।   এখন নজর থাকবে দুটি বিষয়ে - হামাস বাস্তবে নিরস্ত্রীকরণের পথে পদক্ষেপ নেয় কি না এবং তার বিপরীতে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয় কি না। এই দুই প্রশ্নের সমাধান না হলে বৈঠক যতই বাড়ুক, গাজা নিয়ে স্থায়ী সমঝোতার পথ খোলা কঠিনই থেকে যাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৫:৩৬
সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয়: রিয়াদ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো সামরিক অক্ষ বা ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয় বলে জানিয়েছে রিয়াদ।   সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও টেকসই করা। চুক্তিটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয় বলে সৌদি পক্ষ জানিয়েছে।    গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।    চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবে।    এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং বড় প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী, আর পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা।    তবে তিন দেশই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। তুরস্কের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু ব্যাখ্যা চুক্তিটির প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।    চুক্তিটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামোকে অনেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে সৌদি আরবের বক্তব্য হলো, এর উদ্দেশ্য নতুন কোনো ‘সামরিক অক্ষ’ তৈরি করা নয়।    বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক সম্পর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি Strategic Mutual Defense Agreement স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে এক দেশের ওপর আগ্রাসনকে উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছিল। নতুন মক্কা চুক্তিতে তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় সেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন ত্রিপক্ষীয় কাঠামো পেয়েছে।    চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। তিন দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, সমন্বয়, প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।    অন্যদিকে, চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে ভারতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোও নজর রাখছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দিল্লি কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তবে এখনই এটিকে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। চুক্তির প্রকাশ্য ভাষ্য অনুযায়ী এটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাঠামো; আর সৌদি আরব স্পষ্টভাবেই বলছে, এর লক্ষ্য কোনো নতুন সামরিক অক্ষ তৈরি করা নয়।    অর্থাৎ, মক্কা থেকে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হলেও এর প্রকৃত কৌশলগত প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে চুক্তির অধীনে তারা কতটা যৌথ সামরিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৫:৫৯
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা ফের শুরু করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেবে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে এবং সেগুলোর ব্যবধান কমানো না গেলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে না।   রুবিও বলেন, “আগামী কয়েক সপ্তাহে আমরা দুই পক্ষকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে এনে এই যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। তবে আমরা এটাও বুঝি যে উভয় পক্ষেরই কিছু দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। সেই অবস্থানগুলোর ব্যবধান কিছুটা কমানো না গেলে চূড়ান্ত সমঝোতা সম্ভব হবে না।”   তার এ মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৪:২৪
মানচিত্র
আফ্রিকার ৬ দেশের অবস্থান ভুল দেখাল যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিব্রত পররাষ্ট্র দপ্তর

আফ্রিকার ছয়টি দেশের অবস্থান ভুল দেখিয়ে আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলনে উপস্থাপিত একটি মানচিত্র নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত এইডস ২০২৬ সম্মেলনে প্রদর্শিত মানচিত্রে চিহ্নিত প্রতিটি আফ্রিকান দেশের অবস্থানই ভুল ছিল। পরে পররাষ্ট্র দপ্তর ঘটনাটিকে “দুর্ভাগ্যজনক ভুল” বলে স্বীকার করে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।   সম্মেলনের এক অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক এইচআইভি/এইডস কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সহযোগিতা তুলে ধরতে মানচিত্রটি ব্যবহার করা হয়। সেখানে নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, উগান্ডা, ক্যামেরুন, মালাউই এবং কোট দিভোয়ারের অবস্থান দেখানো হলেও কোনো দেশের অবস্থানই সঠিক ছিল না। উপকূলীয় দেশ নাইজেরিয়াকে স্থলবেষ্টিত অঞ্চলে, মোজাম্বিককে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে এবং কোট দিভোয়ারকে মহাদেশের সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে দেখানো হয়।   ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপস্থাপনায় ব্যবহৃত মানচিত্রে এমন একটি ওয়াটারমার্ক ছিল, যা এটি ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল ব্যবহার করে তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।    বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, উপস্থাপনার ঠিক আগে একজন কর্মী তড়িঘড়ি করে স্লাইডে পরিবর্তন আনতে গিয়ে এই ভুলটি করেন। তিনি বলেন, “এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ভুল ছিল। এতে অংশগ্রহণকারী, বিশেষ করে আমাদের আফ্রিকান অংশীদারদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ও ভুল বার্তা গেছে, তার পূর্ণ দায় আমরা নিচ্ছি।”    পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, মানচিত্রের ভুলটি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক এইডস কর্মসূচি এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ (পিইপিএফএআর) কর্মসূচির মাধ্যমে বৈশ্বিক এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।    বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার দেশগুলোর সরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এমন মৌলিক ভৌগোলিক ভুল শুধু বিব্রতকরই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগে তথ্য যাচাই ও মাননিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এনেছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ২:৪৫
গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে একটি ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গাজায় অস্ত্র ছাড়বে হামাস? ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে একটি ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মাধ্যমে এই সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি একে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথে ‘স্মরণীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো সংশয় প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় হামাস এবং গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী ধাপে ধাপে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে। একই সঙ্গে তাদের টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হবে এবং গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে সরে যাবে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রায় ২০০ থেকে ৩৫০ দিনের ধাপভিত্তিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামাসের ভারী ও হালকা অস্ত্র, অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো এবং টানেল নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয় করার কথা রয়েছে। এরপর একটি নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গাজার শাসনভার গ্রহণ করবে।    এই উদ্যোগ সফল করতে মিসর, কাতার ও তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলে ট্রাম্প তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে গাজাকে আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হতে দেওয়া হবে না।  তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা হামাসের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দিহান। অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইসরায়েল যদি নিজস্ব প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে বা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।    ‘বোর্ড অব পিস’ ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক রূপান্তর তদারকি করা। তবে এই কাঠামোর বৈধতা, প্রতিনিধিত্ব এবং কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতা এবং কিছু পশ্চিমা দেশের অনাগ্রহ নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।    বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সমঝোতা বাস্তবে কার্যকর হয়, তাহলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর শুরু হওয়া দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে নিরস্ত্রীকরণ, নিরাপত্তা হস্তান্তর এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপরই পুরো পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ০:৩৪
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী
লোহিত সাগরে হুথিদের নতুন হুমকি, চাপে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী

 মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে বড় হুমকি তৈরি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী ঘোষণা দিয়েছে, তারা লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরবের বন্দরগুলোতে জাহাজ প্রবেশ বা সেখান থেকে পণ্য পরিবহন করতে দেবে না। এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   হুথিদের দাবি, সৌদি বন্দর লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক সংঘাতে চাপ বাড়াবে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৭ শতাংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি হুথিরা সত্যিই লোহিত সাগরে নৌ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাঁর ভাষায়, “হুথিদের বিরুদ্ধে আমরা আগেও ব্যবস্থা নিয়েছি, প্রয়োজনে আবারও নেব।”   হুথিরা দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা মোকাবিলা করে টিকে আছে। তাদের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্রের সক্ষমতা রয়েছে, যা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একই সময়ে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং লোহিত সাগরে সক্রিয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক বিমান মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হলে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করতে হতে পারে।   লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য এবং জ্বালানি এই পথেই পরিবহন হয়। অতীতে হুথিদের হামলার কারণে বিশ্বের বড় বড় শিপিং কোম্পানি এই রুট এড়িয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল করতে বাধ্য হয়েছিল। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময়—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।   অন্যদিকে, ইরানের ওপর চলমান অবরোধের কারণে হুথিদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়তে পারে।   তবুও হুথিদের এই নতুন হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির জন্যও এটি নতুন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ৫:৬
খলিল আল-হাইয়া
ফিলিস্তিনি হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া, হামাস অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয় ইঙ্গিতে কঠোর অবস্থান

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খলিল আল-হাইয়া-কে নির্বাচিত করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ ঘোষণা দেয়।   আল-হাইয়া দায়িত্ব নিচ্ছেন হামাসের সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে সিনওয়ার নিহত হন।   হামাসের গাজা শাখার সাবেক প্রধান এবং সংগঠনটির অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে পরিচিত খলিল আল-হাইয়া দীর্ঘদিন ধরেই কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যু এবং পরে সিনওয়ারের নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি সংগঠনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উঠে আসেন।   হামাসের নেতৃত্বের দৌড়ে সাবেক রাজনৈতিক প্রধান খালেদ মেশআল-এর নামও আলোচনায় ছিল। তবে আল-হাইয়াকে তুলনামূলকভাবে আরও কঠোর অবস্থানের নেতা হিসেবে দেখা হয়।   হামাসের নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হলেও ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে তা বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত গাজা, পশ্চিম তীর, ইসরায়েলের কারাগারে থাকা হামাস সদস্য এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী পরিষদ আল-হাইয়াকে সংগঠনের নেতৃত্বে নির্বাচিত করে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন হামাসের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। এর মাধ্যমে সংগঠনটি জানিয়ে দিল, তারা এখনই নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটতে প্রস্তুত নয় এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত হামাস, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি।   দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সংঘাতে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১২:৫৮
US President Donald Trump speaks
বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরেই ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, দুই দিনে তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর ইরানকে লক্ষ্য করে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের স্মরণেই ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে।   রোববার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আজ রাতে আবারও তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালিয়েছি। সম্ভবত তিনজন মহান দেশপ্রেমিকের সম্মানেই এই হামলা।”   এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, শনিবার ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইরানের একটি হামলায় একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের একটি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করার পর সেটির অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হলে ওই সেনাসদস্য নিহত হন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনা আহত হন।   এর মাত্র একদিন আগে জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ হন। পরে সেন্টকম জানায়, হামলার স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ের মানবদেহের কিছু অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।   পরপর দুই দিনে তিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তারা লড়াই করছিলেন, যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।”   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।   অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা একাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে। একই সময়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সিরিয়ায় শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।   বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক সমাধানের কোনো ইঙ্গিত এখনো না থাকায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ৩:৫০
ইরানের ক্ষে প ণা স্ত্র, ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানের আকাবা অভিমুখে ইরানের ক্ষে প ণা স্ত্র, নিজ ভূখণ্ডে প্রবেশের আ শ ঙ্কায় ইসরায়েল

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে জর্ডানের উপকূলীয় শহর আকাবা অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এর কিছু অংশ ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় আকাশসীমা বা ভূখণ্ডে প্রবেশের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।    এর আগে একাধিকবার জর্ডান জানিয়েছে, নিজেদের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, জর্ডানের আকাশসীমা বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।   আকাবা জর্ডানের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর এবং এটি ইসরায়েলের ইলাত শহরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক তৎপরতা দ্রুত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং জর্ডানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ৮:৫৫
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে শান্তির মধ্যস্থতাকারী হতে চায় ইরাক, সফলতা নির্ভর করছে এক কঠিন শর্তে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর এবার নতুন কূটনৈতিক ভূমিকায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে ইরাক। লক্ষ্য—সংঘাতের কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা।   Arab News-এর বিশ্লেষণধর্মী এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন এমন একটি আঞ্চলিক সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে ইরান এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশ নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে এক টেবিলে বসবে।   ইরান ইতোমধ্যে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বাইরের শক্তির পরিবর্তে অঞ্চলভুক্ত দেশগুলোর হাতেই থাকা উচিত। অন্যদিকে বাগদাদ এই উদ্যোগকে নিজেদের আঞ্চলিক কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছে।   তবে Arab News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ইরাক বিশ্লেষক লাহিব হিগেল বলেন, ইরাকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উপসাগরীয় দেশগুলোকে এই আস্থা দেওয়া যে, তাদের ভূখণ্ড আর কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে না। তার মতে, এই বিষয়টি অনেক দেশের জন্য “ডিল ব্রেকার” বা চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার কারণও হতে পারে।   নতুন প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে নিরাপত্তা সহযোগিতা থেকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।   সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে আল-জাইদি বলেন, “আমেরিকান সেনারা চলে যাবে, কিন্তু আমেরিকান কোম্পানিগুলো আসবে।” তার এই বক্তব্যকে ইরাকের নতুন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল। সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ একাধিক উপসাগরীয় দেশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। কিছু হামলার সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।   Arab News-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক জন কালাব্রেস বলেন, ইরান এই উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি নিজেদের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা হ্রাস এবং উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চায়। তবে শুধু আলোচনা নয়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা কমানো এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া এই উদ্যোগ সফল হবে না।   ইরাক অতীতেও সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সংলাপ আয়োজন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। কারণ এখন ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একাধিক সংকট একই সঙ্গে চলছে।   ইরাকের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং এতে বিদেশি বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। তবে যদি বাগদাদ নিজ ভূখণ্ডে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইরাক শান্তি প্রক্রিয়ার আয়োজক হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, প্রকৃত মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠতে পারবে না।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১১:১৫
US, Iran escalate strikes across Mideast
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পূর্ণমাত্রার সংঘাত, পাল্টাপাল্টি হামলায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। শনিবার উভয় পক্ষ অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা সপ্তম রাতের অভিযানে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।   অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দেশটির বাহিনী কুয়েতের আল-আদিরি সামরিক শিবির, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।   কুয়েত, জর্ডান ও কাতার জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বাহরাইনেও বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় বেশিরভাগ ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।   কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আগুন লাগে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের একাধিক ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। পানীয় জলের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।   এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলার পরিধি বেড়েছে। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, সেতু, বন্দর, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং চাবাহার বন্দরের একটি নজরদারি টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত পুনরায় শুরুর পর থেকে অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নতুন করে আরও ১৩ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।   সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল সীমিত করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলারের ওপরে উঠে গেছে এবং জাহাজ চলাচল তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।   জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে চীন ও পাকিস্তান উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।   মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখন আর শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নেই; জ্বালানি, বন্দর, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ২:৪৪
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও চীনের শীর্ষনেতা ওয়াং হুনিংয়ের
রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মধ্যেও উত্তর কোরিয়াকে পাশে রাখতে তৎপর চীন

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে চীন। এক মাসের ব্যবধানে দুই দেশের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ চীনের চতুর্থ সর্বোচ্চ নেতা ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম নীতিনির্ধারক ওয়াং হুনিং তিন দিনের সফরে পিয়ংইয়ং গিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি তিনি কিমের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ওনসান-কালমা উপকূলীয় পর্যটন প্রকল্পও পরিদর্শন করেন।   এই সফরকে কেবল সৌজন্য সফর হিসেবে দেখছেন না কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। বরং এটি বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে দুই দেশ রাজনৈতিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে।   সফরকালে ওয়াং হুনিং ওনসান-কালমা পর্যটন প্রকল্প ঘুরে দেখেন। প্রায় ২০ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই সমুদ্র উপকূলীয় রিসোর্টকে কিম জং উনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চীনা প্রতিনিধি দলকে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় এবং ওয়াং এটিকে উত্তর কোরিয়ার ‘জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন নীতির’ একটি উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করেন।   এই সফরের আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফর করেন। সেই সফরে দুই দেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়াং হুনিংয়ের সফরকে সেই সমঝোতা বাস্তবায়নের ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ইউক্রেন যুদ্ধের পর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পূর্ব এশিয়ায় নিজের ঐতিহ্যগত প্রভাব ধরে রাখতে এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই সক্রিয় হয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে অর্থনীতি ও পর্যটন খাত পুনরুজ্জীবিত করতে চীনের সহযোগিতাও উত্তর কোরিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের সফর, কিম জং উন–ওয়াং হুনিং বৈঠক এবং ওনসান-কালমা প্রকল্পে চীনা প্রতিনিধিদলের আগ্রহ—সব মিলিয়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে এবং বেইজিং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।   তথ্যসূত্র: রয়টার্স (১৫–১৭ জুলাই ২০২৬), কেসিএনএ।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১:৪৮
যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক দেয়ালচিত্র ইরানের রাজধানীর রাস্তায় একটি সাধারণ দৃশ্য
ইরানে ট্রাম্প পরিবারের কফিনের ছবি দিয়ে বিলবোর্ড, লেখা ‘রক্তের বদলে রক্ত’

ইরানের রাজধানী তেহরানের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা প্যালেস্টাইন স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে একটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বিলবোর্ডে ট্রাম্প, তার স্ত্রী ও সন্তানদের ছবির নিচে মার্কিন পতাকায় মোড়ানো কফিনের ছবি দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘রক্তের বদলে রক্ত’। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে বিলবোর্ডটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বিলবোর্ডটি তেহরানের প্যালেস্টাইন স্কয়ারে স্থাপন করা হয়েছে। এতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ট্রাম্পের সন্তানদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের নিচে মার্কিন পতাকায় মোড়ানো একাধিক কফিনের প্রতীকী ছবি দিয়ে প্রতিশোধের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।    এর আগে তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ারেও আরেকটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে খোলা কালো কফিনে শোয়ানো অবস্থায় দেখানো হয়। সেখানে ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় ‘We Kill Trump’ বা ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’ লেখা ছিল।    এসব বিলবোর্ড এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, যখন ইরানে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিও প্রকাশ্যে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।    তেহরানের প্যালেস্টাইন স্কয়ার ও এঙ্গেলাব স্কয়ারের বড় বড় দেয়ালচিত্র ও বিলবোর্ড দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী নানা প্রচারণায় এসব স্থান নিয়মিত ব্যবহার করা হয়।    অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, তার বা তার পরিবারের ওপর ইরানের পক্ষ থেকে কোনো হামলার চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ও বিধ্বংসী জবাব দেবে। সাম্প্রতিক বিলবোর্ডগুলো দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ১১:৩০
US President Donald Trump with Chinese President Xi Jinping
মার্কিন নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগে আবারও সরব ট্রাম্প, বেইজিংয়ের কড়া জবাব

২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেছিল—এমন অভিযোগ আবারও সামনে এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি এ-সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশের (ডিক্লাসিফাই) নির্দেশ দিয়েছেন। তবে চীন এসব অভিযোগকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” এবং “অপপ্রচার” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।   হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, চীন কোটি কোটি মার্কিন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করেছিল। তবে তিনি তার দাবির পক্ষে নতুন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া। চীন কখনো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।” তিনি ওয়াশিংটনকে ভিত্তিহীন অভিযোগ না তোলার আহ্বান জানান।   ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্রও একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার কোনো নীতি বা উদ্দেশ্য চীনের নেই।   ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চীনা সরকার চেয়েছিল তিনি নির্বাচনে হেরে যান, কারণ তার প্রশাসন বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল।   তবে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ তদন্তে বলা হয়েছিল, চীনসহ কোনো বিদেশি দেশ ভোটার তালিকা, ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা বা নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো কোনো কারিগরি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময় ট্রাম্প নতুন করে এই অভিযোগ তুললেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা চলছে। আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ওয়াশিংটন সফর নিয়েও আলোচনা চলছে। ফলে এই অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ৮:৩৪
Vice President JD Vance in Tel Aviv
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের পথে ঠেলে দিতে চেয়েছেন ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য সচেষ্ট ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।   জনপ্রিয় পডকাস্ট উপস্থাপক জো রোগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-নীতি পরিবর্তনের জন্য ইসরায়েল সরকারের কিছু ব্যক্তি মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তার দাবি, তারা চেয়েছিলেন সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হোক এবং কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হোক।    ভ্যান্স আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে ব্যক্তিগতভাবেও লক্ষ্য করে একটি “অত্যন্ত অর্থায়ন-সমৃদ্ধ বিদেশি প্রভাব প্রচারণা” চালানো হয়েছিল। তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি এখনো বিশ্বাস করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানো জরুরি। তবে তার মতে, সেই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় সবসময় সামরিক অভিযান নয়; কূটনৈতিক পথও গুরুত্বপূর্ণ।    ভ্যান্স যে সমঝোতার পক্ষে কথা বলেছেন, সেটি গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইরানের সঙ্গে সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচকদের দাবি, ওই সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিয়ে পর্যাপ্ত বিধিনিষেধ রাখা হয়নি।    ভ্যান্সের এই মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কোনো ভাইস প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে কূটনীতি নাকি সামরিক চাপ—এই প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ৮:২
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০