- প্রচ্ছদ
- বিশ্ব রাজনীতি
বিশ্ব রাজনীতি
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌতে দশেরা উৎসবের আগে রাবণের একটি পোস্টার ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পোস্টারটিতে রাবণের দশটি মাথায় বসানো হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কসহ বিভিন্ন দেশের পরিচিত রাজনীতিক ও ব্যক্তিত্বের ছবি। ‘সনাতন ভারতের বিরোধী রাবণ’ নামের এই পোস্টারটি প্রচার করেছে সনাতন রক্ষা সংগঠন। পোস্টারটিতে প্রতীকীভাবে এমন ব্যক্তিদের মুখচ্ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যাঁদের সংগঠনটি সনাতন ভারতের বিরোধী হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। এতে ভারতের রাজনীতিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির ছবিও স্থান পেয়েছে। পোস্টারে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের সাবেক বিধায়ক আতিক আহমেদ ও মুক্তার আনসারি, রাজনীতিক আজম খান, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এ ছাড়া রয়েছে ইলন মাস্ক, বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ভারতীয় আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, জর্জ সরোস ও ইলহান ওমরের ছবি। দশেরা বা ‘রাবণ দহন’ উৎসবকে কেন্দ্র করেই পোস্টারটি প্রচার করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, এ উৎসবে রাবণের প্রতিকৃতি পোড়ানোর মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়কে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। তবে এবার রাবণের দশ মাথায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক পরিচিত মুখের ছবি ব্যবহার করায় উৎসবটি ঘিরে রাজনৈতিক মাত্রাও যুক্ত হয়েছে। ভারতের একটি গণমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে লক্ষ্ণৌয়ের একটি স্থান থেকে সমাজবাদী পার্টির কর্মীদের এ ধরনের একটি পোস্টার সরিয়ে নিতে দেখা যায়। পোস্টারটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে এতে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নজর কেড়েছে। এ প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টির এক সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে অখিলেশ যাদবের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে বিজেপি উদ্বিগ্ন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই পোস্টারে অখিলেশের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি দেখা উচিত। তবে পোস্টারটিতে থাকা সব ব্যক্তির ছবি ব্যবহারের পেছনে সংগঠনটির নির্দিষ্ট যুক্তি কী, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে, পোস্টারটি ঘিরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। দশেরা উৎসবের মতো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি যুক্ত হওয়ায় লক্ষ্ণৌয়ের এই পোস্টার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ইলন মাস্কের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের ছবি একই পোস্টারে থাকায় বিষয়টি ভারতের বাইরেও আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন জাহাজটি চীনা সরকারের অনুমতি ছাড়াই তাদের দাবিকৃত জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বেইজিং। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে নৌবাহিনী পাঠানোর কথা জানিয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী। একই দিনে দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর অংশে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণাধীন দ্বীপপুঞ্জের কাছেও চীন ও তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের জাহাজ মুখোমুখি অবস্থানে যায়। পরপর দুটি ঘটনা এ অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চীনের সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড মঙ্গলবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস চার্লসটন স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা শোলের কাছের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। চীনের দাবি, ভোরের দিকে জাহাজটি তাদের সরকারের অনুমতি ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করে। বেইজিং এ ঘটনাকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। চীনা সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ চীনের সার্বভৌম অধিকার ও স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কার্যক্রম আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও ক্ষতিকর। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। জাহাজটির গতিবিধি অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য চীনা নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ওয়াশিংটন সাধারণত এ ধরনের নৌ-অভিযানকে ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন অপারেশনস’ বা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অভিযান হিসেবে উল্লেখ করে। আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলের অধিকার নিয়ে যেসব সামুদ্রিক দাবির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এমন অভিযানের পরিচিত তথ্য এক বছরেরও বেশি সময় আগের। ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন জাহাজটি ‘চীনা ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেনি’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় আইনসম্মতভাবে চলাচলের জন্য কোনো দেশের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। এ বক্তব্য চীনের দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তবে সংশ্লিষ্ট জলসীমার আইনগত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো অঞ্চল নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন। তবে ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামেরও এ অঞ্চলের বিভিন্ন অংশ নিয়ে দাবি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে বিরোধ বিশেষভাবে তীব্র হয়েছে। সাবিনা শোলও দুই দেশের বিরোধপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকাগুলোর একটি। গত মাসে একই এলাকার কাছে জ্বালানি সংগ্রহের কাজে থাকা ফিলিপাইনের একটি নৌযানের সঙ্গে চীনের কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজের সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছিল ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড। ফিলিপাইনের অভিযোগ ছিল, চীনা জাহাজটি তাদের নৌযানকে ধাক্কা দিয়েছিল। তবে ওই ঘটনার জন্য ফিলিপাইনকেই দায়ী করে চীন। সাবিনা শোল এবং পুরো স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিপাইনের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকায় এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কৌশলগত গুরুত্বও বেশি। এদিকে মঙ্গলবার দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর প্রান্তে প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানায়, চীনের কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণাধীন দ্বীপপুঞ্জের কাছে সীমাবদ্ধ জলসীমায় প্রবেশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাইওয়ানের ‘তাইচুং’ নামের একটি জাহাজ সেখানে পাঠানো হয়। জাহাজটি চীনা নৌযানকে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেয়। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় দুই পক্ষের জাহাজ থেকে পরস্পরের উদ্দেশে বার্তা প্রচার করা হয়। চীনা জাহাজ থেকে বলা হয়, ‘তথাকথিত রিপাবলিক অব চায়না বলে কিছু নেই।’ রিপাবলিক অব চায়না হলো তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নাম। এর জবাবে তাইওয়ানের জাহাজ থেকে বলা হয়, ‘রিপাবলিক অব চায়না, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশ।’ তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত ছিল। এ ঘটনা নিয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ তাইওয়ান ও হংকংয়ের মাঝামাঝি অবস্থিত। দ্বীপগুলোতে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্ব তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের। গত সপ্তাহে ওই এলাকার কাছে চীনের একটি মাছ ধরার নৌযানের বিরুদ্ধে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জলকামান ব্যবহার করার পর বেইজিং সতর্ক করে বলেছিল, এর পরিণতি তাইওয়ানকে ভোগ করতে হবে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে। অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজস্ব সরকার ও প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দ্বীপটির আশপাশে, এমনকি পূর্ব উপকূলেও চীনা কোস্ট গার্ডের তৎপরতা বাড়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার তাইপেতে অনুষ্ঠিত এক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস-নিযুক্ত একটি পর্যালোচনা কমিশনের চেয়ারম্যান তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে চীনা কোস্ট গার্ডের টহলকে ‘অত্যন্ত অস্থিতিশীলতাসৃষ্টিকারী’ বলে বর্ণনা করেন। একই অনুষ্ঠানে তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ বলেন, দ্বীপটির পূর্ব উপকূলের জলসীমার ওপর চীনের কোনো আইনগত দাবি নেই। দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজকে ঘিরে চীনের নজরদারি এবং প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীন-তাইওয়ানের মুখোমুখি অবস্থান—দুটি ঘটনাই এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সামুদ্রিক বিরোধকে আবার সামনে এনেছে। ভূখণ্ডগত দাবি, সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চুক্তির কারণে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। তবে এসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যু দ্ধ শুরু হলে ভারত পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াবে—এমন মন্তব্য করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতের রাজস্থান রাজ্য বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোর। প্রতিবেশী দেশ হওয়ার যুক্তি তুলে ধরে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তবে বক্তব্যটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনার মুখে পড়ে পরে তিনি দাবি করেন, তাঁর কথার একটি অংশ কেটে প্রচার করা হয়েছে এবং পুরো বক্তব্যের অর্থ ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মদন রাঠোর বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি বোঝা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যু দ্ধ শুরু হলে ভারত পাকিস্তানের পাশে থাকবে, কারণ দেশটি ভারতের প্রতিবেশী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় সামনে এলে দেশের মানুষের উচিত নিজেদের দেশের পাশে দাঁড়ানো। রাঠোরের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাঁর মন্তব্যের অর্থ ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের নেতারা। তাঁদের মতে, এমন বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপির পাকিস্তাননীতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র শামা মুহাম্মদ রাঠোরের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বক্তব্যটিকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, এমন মন্তব্যের পর রাজস্থান বিজেপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলটি কী ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে বিজেপির পাকিস্তান-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। কংগ্রেসের জাতীয় সমন্বয়ক সন্দীপ গুপ্তও এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যু দ্ধ হলে পাকিস্তানের পাশে থাকার কথা বলা বিজেপির পাকিস্তানপ্রীতিরই প্রকাশ। বিরোধী নেতাদের এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মন্তব্যটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়। তবে সমালোচনার মুখে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মদন রাঠোর। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ কেটে প্রচার করা হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ ও দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে কথা বলতে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান। তাঁর দাবি, বক্তব্যের শেষের অংশ বাদ দেওয়ায় কথার প্রকৃত অর্থ বদলে গেছে এবং পুরো বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। রাঠোরের বক্তব্যের মূল অংশে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ এলেও পরবর্তী ব্যাখ্যায় তিনি ভারতের প্রতি আনুগত্য ও দেশপ্রেমের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের কোন অংশ কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ইস্যুতে উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে অতীতেও একাধিক সামরিক সংঘাত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যু দ্ধের কাল্পনিক পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে কোনো রাজনৈতিক নেতার মন্তব্য সহজেই বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিজেপির মতো ক্ষমতাসীন দলের একজন রাজ্য সভাপতির বক্তব্য হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে রাঠোরের মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধীদের সমালোচনা এবং তাঁর নিজের ব্যাখ্যা—দুই দিকই আলোচনায় এসেছে। বিরোধী নেতারা তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেও রাঠোর বলছেন, তাঁর কথাকে প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে বক্তব্যটির প্রকৃত অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার নতুন প্রতিরক্ষা জাদুঘরে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর পাল্লার আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘হোয়াসং ২০’ প্রদর্শন করা হয়েছে। দেশটির নেতা কিম জং উন রোববার, ১১ অক্টোবর জাদুঘরের উদ্বোধনে অংশ নেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে ক্ষেপণাস্ত্রটি দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিমের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের কথা বলার মধ্যেই এই প্রদর্শন সামনে এল। কেসিএনএর তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স রেভল্যুশন মিউজিয়াম’ পরিদর্শনের সময় কিমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রি সল জু এবং মেয়ে জু এ ছিলেন। ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠার ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়। সেখানে কিমের শাসনামলে তৈরি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠিন জ্বালানিচালিত হোয়াসং ২০ এবং এর বহন ও উৎক্ষেপণযান জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথম প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে সামরিক কুচকাওয়াজে। ফলে এবারের ঘটনাটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম উন্মোচন নয়, আগে প্রদর্শিত অস্ত্রকে স্থায়ী জাদুঘরে তুলে ধরার আয়োজন। হোয়াসং ২০-এর সামনে থাকা প্রদর্শনী বোর্ডে একাধিক ওয়ারহেডের নকশা এবং পাল্লা বোঝাতে বিশ্বমানচিত্র দেখা গেছে। কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের মহাসচিব শিন জং উ রয়টার্সকে বলেন, মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছানোর পাল্লা দেখানো হয়েছে। তবে প্রদর্শনীতে দেখানো নকশা নিজে থেকে একাধিক ওয়ারহেডের কার্যক্ষমতা প্রমাণ করে না। জাদুঘরে হোয়াসং ২০ ছাড়াও তরল জ্বালানিচালিত হোয়াসং ১৭, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০০ মিলিমিটারের বড় মাল্টিপল রকেট লঞ্চার প্রদর্শিত হয়েছে বলে ইয়োনহাপ জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন, এই আয়োজনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া দেশের ভেতরে ও বাইরে প্রতিরক্ষা খাতের অর্জন তুলে ধরতে চাইছে। এদিকে সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, আসন্ন এশিয়া সফরে কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। নভেম্বরের মাঝামাঝি চীনে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন বা অ্যাপেক সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠক নিশ্চিত হয়েছে, এমন ঘোষণা আসেনি। পৃথক ঘটনায় উত্তর কোরিয়া সোমবার একটি কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীও দেশটির পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য দিয়েছে। এই পরীক্ষাকে জাদুঘরে প্রদর্শিত হোয়াসং ২০-এর পরীক্ষা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধে জেলেনস্কি একাধিক সুযোগ কাজে লাগাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর দুই নেতার মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। তাঁর মতে, এমন একজন নেতার প্রয়োজন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করে যু দ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, জেলেনস্কি বহুবার চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করেননি। ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কি চাইলে বহুবার যু দ্ধের সমাধান করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর দাবি, এ যু দ্ধ শুরু হওয়ারই কথা ছিল না। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে যু দ্ধ শুরুর সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে সংঘাতটি ঘটত না। জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়ে ট্রাম্পের এ বক্তব্য ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনার অন্যতম কঠোর উদাহরণ। তবে ইউক্রেনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা পরিকল্পনার কথা তিনি জানাননি। দেশটির নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি ইউক্রেনের নিজস্ব সাংবিধানিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিজেল চুক্তি ঘিরে নতুন বিরোধ শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করবে। তাঁর ঘোষণায় বলা হয়, প্রথম ধাপে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করা হবে। নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং এরপর আরও ১০ লাখ টন সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে আরও বড় পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের দাবি, বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার ওপর হা মলা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, খামারির পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ভোক্তারাও সমস্যায় পড়তে পারেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় ইউক্রেন হা মলা চালাতে পারলেও তেল পরিশোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে তিনি জেলেনস্কিকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা চালিয়েছে। চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হা মলা চালায় বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও চুক্তির শর্তের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে সব তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়। ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির শর্ত মেনে হা মলা বন্ধে সম্মত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই। ইউক্রেনের আপত্তি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার সমালোচনা করেছে ইউক্রেন। দেশটির অবস্থান, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ বাড়লে দেশটি আরও বেশি অর্থ পাবে, যা চলমান যু দ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে। ইউক্রেনের মতে, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো হলে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউক্রেনের যুক্তি, রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা দেশটির যু দ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করার একটি উপায়। অন্যদিকে, ট্রাম্প মনে করছেন এসব হা মলা ডিজেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়াতে পারে। দুই পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থানই নতুন বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। জ্বালানি অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ মার্গারিটা বালমাসেদার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় রাশিয়াকে বেশি সুবিধা দিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়া কম দামে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে রুশ তেল পরিশোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হা মলা অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার পক্ষে প্রতিশ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হতে পারে। ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্কে আগের টানাপোড়েন ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কে এর আগেও প্রকাশ্য বিরোধ দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে জেলেনস্কির তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আচরণের সমালোচনা করেন এবং সতর্ক করে বলেন, তিনি তৃতীয় বিশ্বযু দ্ধের ঝুঁকি নিয়ে খেলছেন। বৈঠকে পরিকল্পিত খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়। পরে দুই নেতার সম্পর্কে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দেখা গেলেও রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধের শর্ত এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা তুলে ধরেছিলেন। একই বছরের ডিসেম্বরে মার-আ-লাগোতে বৈঠকের পর দুই পক্ষই যু দ্ধের সমাধানের দিকে অগ্রগতির কথা বলেছিল। পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। ২০১৮ সালে হেলসিঙ্কিতে দুই নেতার বৈঠক এবং ২০২৫ সালে তাঁদের একাধিক যোগাযোগের পরও রাশিয়া-ইউক্রেন যু দ্ধ বন্ধে স্থায়ী সমাধান আসেনি। ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকও যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ হয়। ট্রাম্প এবারও যু দ্ধ অব্যাহত থাকার দায় জেলেনস্কির ওপর চাপিয়েছেন। তবে যু দ্ধ বন্ধের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কী ধরনের চুক্তি সম্ভব, কিংবা নতুন নেতৃত্ব এ ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনতে পারে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন নীতিতে কী পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভবিষ্যতে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে চুক্তির আওতায় রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ কতটা কার্যকর হবে এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যেই সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট দ্রুত সক্রিয় হওয়ার পথে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবর রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তি সই হয়েছিল চলতি বছরের ৭ আগস্ট। চুক্তির মূল বিষয় হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আ ক্র ম ণকে তিন দেশের ওপর আ ক্র ম ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে এর কিছুটা মিল রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকের পরও জোটটিকে পুরোপুরি কার্যকর সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করার মতো সব কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। বরং সদস্য দেশগুলো এখন সেই কাঠামো বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবরের বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঠিক কত সেনা, কী ধরনের সরঞ্জাম বা কোন কোন ইউনিট সৌদি আরবে পাঠানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন এই সচিবালয়ের মাধ্যমে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, প্রস্তুতি ও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ইয়েমেনের দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি। ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই আবার তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এর আশপাশের অঞ্চল নিয়ে দুই পক্ষের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে তাই আঞ্চলিক উদ্বেগও বাড়ছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী সম্প্রতি হুথিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্দখলের জন্য ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে অভিযান শুরু করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানিয়েছেন, অভিযানের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে এবং স্থলবাহিনীকে নিয়মিত বিমান সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে এবং মক্কা বন্দরের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে। ধুবাব বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকাতেও তাদের অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। তবে হুথিরা সরকারি বাহিনীর সব দাবির সঙ্গে একমত নয়। একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের তায়েজের দিকে হুথিদের অগ্রসর হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সামরিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। ইয়েমেনের লড়াইয়ের প্রভাব এখন সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা সৌদি শহর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হা ম লার কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু ছিল গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনা। ৫ অক্টোবরের মক্কা জোটের বৈঠকেও সৌদি শহর ও বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হা ম লার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষভাবে পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ঘিরে যেকোনো নিরাপত্তা হুমকিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছে তিন দেশ। জরুরি বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করার চেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের শহর এবং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় চলমান হা ম লার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছে। তুরস্ক ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার পথে এগিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্কের সহায়তার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন পরিচালনায় সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। পাকিস্তানও সৌদি আরবে আগে থেকেই সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। তবে মক্কা চুক্তির আওতায় এই সহায়তা ভবিষ্যতে কতটা বিস্তৃত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক বর্তমানে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা নজরদারি ও অন্যান্য সহায়তায় দুই দেশ যুক্ত থাকলেও ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি স্থল লড়াইয়ে সৌদি বাহিনীই প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এতে পাকিস্তান ও তুরস্ক কতদিন সরাসরি লড়াইয়ের বাইরে থাকতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অথচ ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা। কারণ ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, সৌদি আরবের শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের ওপর চাপ তত বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, মাত্র কয়েক মাস আগে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট এখন রাজনৈতিক ঘোষণা থেকে বাস্তব নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। তবে জোটটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, বাহিনী মোতায়েনের পরিধি এবং ইয়েমেনের চলমান সং ঘা ত কতটা বিস্তৃত হয় তার ওপর। আপাতত সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকি এই নতুন জোটের জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক সোনালি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়েছে। ২৩ ক্যারেট সোনায় মোড়ানো প্রায় ২ দশমিক ৬ মিটার বা ৮ দশমিক ৫ ফুট উঁচু এই ভাস্কর্যে ট্রাম্পকে ন গ্ন অবস্থায় একজন অপেক্ষাকৃত ছোট মানুষের কাঁধের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। ড্যানিশ শিল্পী ইয়েন্স গালশিওটের তৈরি ভাস্কর্যটির নাম ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’। শিল্পীর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি ক্ষমতা, বৈশ্বিক রাজনীতি, গণতন্ত্র ও জলবায়ু সংকট নিয়ে তার সমালোচনামূলক শিল্পকর্মগুলোর একটি। ভাস্কর্যের নিচে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, একজন মানুষ অন্য একজনের পিঠে বসে আছে এবং তার ভারে নিচের মানুষটি ডুবে যাচ্ছে। তাকে সাহায্য করার কথা বলা হলেও সেই ভারী ব্যক্তি তার পিঠ থেকে নামতে রাজি নন। বার্তাটির শেষে তাকে ‘দ্য কিং অব ইনজাস্টিস’ বা ‘অন্যায়ের রাজা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পী গালশিওট তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, ট্রাম্পকে তিনি নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখেন। ভাস্কর্যটির মাধ্যমে তিনি সেই রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার সমালোচনা তুলে ধরতে চেয়েছেন। ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পের সঙ্গে ক্ষমতার বিভিন্ন প্রতীকও ব্যবহার করা হয়েছে। শিল্পীর মূল নকশায় এক হাতে দাঁড়িপাল্লা এবং অন্যদিকে একটি গলফ ক্লাব দেখা যায়। পুরো উপস্থাপনাটি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষমতার ভার অন্য মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ নামটির মধ্যেও শিল্পীর রাজনৈতিক বক্তব্য রয়েছে। ভাস্কর্যটি ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিশ্বব্যবস্থার ওপর তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার উদ্দেশ্যে তৈরি। এতে ব্যঙ্গের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। শিল্পকর্মটির ধারণার সঙ্গে ড্যানিশ লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত গল্প ‘দ্য এম্পেরর’স নিউ ক্লোদস’-এরও সম্পর্ক রয়েছে। সেই গল্পে একজন শাসক নিজের পোশাক নিয়ে আত্মতুষ্টিতে থাকলেও বাস্তবে তিনি ন গ্ন ছিলেন। গালশিওটের ভাস্কর্যেও ট্রাম্পকে ন গ্ন অবস্থায় দেখিয়ে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক অহংকার নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রদর্শনের আগে ভাস্কর্যটি সোমবার কমলা রঙের কাপড়ে ঢাকা ছিল। পরে মঙ্গলবার সেটি উন্মুক্ত করা হয়। স্ট্রাসবুর্গে প্রদর্শনীটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থাকার কথা রয়েছে। এই ভাস্কর্য এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রদর্শিত হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনেও এটি প্রদর্শিত হয়েছিল। ২০২৬ সালে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন এবং ডেনমার্কের রেবিল্ড উৎসবেও শিল্পকর্মটির প্রদর্শনী হয়। ডেনমার্কের রেবিল্ড উৎসবটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডেনমার্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক উদযাপনের আয়োজন। একই বছর ডেনমার্কে ‘হ্যান্ডস অফ গ্রিনল্যান্ড’ নামের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ভাস্কর্যটি প্রদর্শিত হয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাস্কর্যটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেন ড্যানিশ ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পের ক্লাউসেন। তার উদ্যোগেই গালশিওটের এই শিল্পকর্মটি পার্লামেন্ট ভবনে প্রদর্শনের সুযোগ পায়। প্রদর্শনী ঘিরে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিল্পের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমালোচনা প্রকাশের বিষয়টি। আয়োজকদের মতে, ভাস্কর্যটি শুধু ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গ নয়; বরং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং জলবায়ু নীতি নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার একটি মাধ্যম। ভাস্কর্যটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রদর্শন শেষ হওয়ার পর তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কয়েক দিনের ইউরোপীয় প্রদর্শনীর পরও ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ আন্তর্জাতিক জলবায়ু রাজনীতি ও রাজনৈতিক শিল্পের আলোচনায় থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিশিগান সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এল-সাঈদের পক্ষে প্রচারে নামছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে এল-সাঈদের সঙ্গে একটি নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাটদের প্রচারে ওবামার অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ওবামার ডেট্রয়েট সফরটি এমন দিনে অনুষ্ঠিত হবে, যেদিন মিশিগানে আগাম সরাসরি ভোট গ্রহণ শুরু হবে। ফলে ভোটের শেষ পর্যায়ে সমর্থকদের কেন্দ্রে আনতে ডেমোক্র্যাটদের প্রচারে তার উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ডেট্রয়েটের কর্মসূচির নির্দিষ্ট স্থান ও সময় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আগস্টে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন এল-সাঈদ। ৪ আগস্টের সেই প্রাইমারি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত অল্প ব্যবধানে জয় পান তিনি। সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। এল-সাঈদের প্রাইমারি জয়ের পর তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওবামা। এবার নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ শেষ কয়েক সপ্তাহে সরাসরি মিশিগানে গিয়ে তার পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে যাচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। ওবামা সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের সমর্থনে আরও সক্রিয় হয়েছেন। এল-সাঈদের প্রচারে এর আগে যোগ দিয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। গত ২২ সেপ্টেম্বর ডেট্রয়েটে মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে এল-সাঈদের সঙ্গে অংশ নেন তিনি। সেখানে হ্যারিস প্রকাশ্যে এল-সাঈদের প্রতি সমর্থন জানান এবং মিশিগানের ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। মিশিগানের এই সিনেট নির্বাচনকে জাতীয় রাজনীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আসনটি উন্মুক্ত হয়েছে। ফলে দুই দলই আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে বা নিতে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, সেই সমীকরণেও মিশিগানের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এল-সাঈদ এর আগে ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবারের সিনেট নির্বাচনে প্রাইমারিতে তার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার একাধিক পরিচিত নেতা। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স মিশিগান থেকে সাবেক মার্কিন কংগ্রেসম্যান। ফলে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে দুই পরিচিত রাজনৈতিক মুখের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপেও মিশিগানের সিনেট লড়াইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা নির্বাচনের শেষ কয়েক সপ্তাহে দুই দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়িয়েছে। ওবামার ২৪ অক্টোবরের কর্মসূচিতে মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর প্রার্থী জসলিন বেনসনেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে ডেট্রয়েটের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে সাবেক প্রেসিডেন্টের উপস্থিতির মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের ভোটারদের সংগঠিত করার পাশাপাশি প্রাইমারির পর দলের বিভিন্ন অংশকে এল-সাঈদের পক্ষে একত্রিত করার চেষ্টা করবে। মিশিগানে আগাম ভোট শুরু হওয়ার দিনই ওবামার এই প্রচার কর্মসূচি হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারের শেষ অধ্যায়ে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন নজর থাকবে, ডেট্রয়েটে তার উপস্থিতি এল-সাঈদের প্রচারে কতটা গতি আনতে পারে এবং ৩ নভেম্বরের ভোটে মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনের ফল কোন দিকে যায়।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাবকে এখন বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। ‘লাতিনোবারোমেত্রো ২০২৬’ নামে পরিচালিত এক বৃহৎ জনমত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার প্রকাশিত জরিপের ফল অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে এই বার্ষিক জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে চীন। জরিপে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকার ৬৫ শতাংশ মানুষ চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ছয় বছর আগে এই হার ছিল ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে ইতিবাচক মনে করেন ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা, যা ২০২০ সালে ছিল ৬০ শতাংশ। কোস্টারিকা ও ডোমিনিকান রিপাবলিক ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া বাকি সব দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাব বেশি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। জরিপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক কম সক্রিয় উপস্থিতির পাশাপাশি চীনের সঙ্গে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ার বিষয়টি এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হতে পারে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের মতো অন্যান্য শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। লাতিনোবারোমেত্রোর পরিচালক মার্তা লাগোস বলেন, বিশেষ করে তুলনামূলক কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি করে চীন লাতিন আমেরিকার মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। তার ভাষায়, মানুষের ‘পকেটের শূন্যতা’ পূরণের মাধ্যমে চীন এ অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তবে সামগ্রিক আঞ্চলিক প্রভাবের মূল্যায়নে চীন এগিয়ে থাকলেও একক দেশ হিসেবে জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে এখনো যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা এগিয়ে। জরিপে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ। অবশ্য ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মত ছিল ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে দেশটির জনপ্রিয়তার সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাতিন আমেরিকান নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রভাব বিস্তারের ধারণা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই শতাব্দী ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকা ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে কেউ কেউ বর্তমান নীতিকে ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। জরিপের প্রতিবেদনে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে জানুয়ারির ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মাদুরোকে আটকের ঘটনাকে সমর্থন করেছেন। তবে মাত্র ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার জন্য ইতিবাচক হয়েছে। চিলিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান লাতিনোবারোমেত্রো এই জরিপ পরিচালনা করেছে। ৭ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার ১৭টি দেশে প্রায় ১৯ হাজার ২০০ মানুষের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। জরিপের ফলাফল বলছে, লাতিন আমেরিকায় চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে কোন শক্তি দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলে কতটা প্রভাব ধরে রাখতে পারবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবার আরও প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং বাণিজ্য ও শুল্কনীতি—একাধিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতির সমালোচনা করেছে নয়াদিল্লি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে ওয়াশিংটন যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতের ওপর প্রভাব ফেলা বাণিজ্যনীতিও নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সাধারণত পর্দার আড়ালে আলোচনা করত নয়াদিল্লি। কিন্তু কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ভারত এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্যগুলো আরও খোলাখুলিভাবে তুলে ধরছে। বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে বড় বিরোধ দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সমস্যা এখন বাণিজ্য। ২০২৫ সালে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারতের পক্ষে প্রায় ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল। জয়শঙ্কর বলেন, কোনো দেশ নিজের স্বার্থকে এমনভাবে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, যাতে অন্য দেশের মানুষের জীবন কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বিশেষ করে কৃষি খাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। ভারতের কৃষকদের সুরক্ষার জন্য দেশটি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিপণ্যের বাজারে নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। জয়শঙ্করের ভাষায়, আলোচনায় মোটামুটি একটি সমঝোতা তৈরি হয়েছে এবং চুক্তিটি সম্পন্ন হলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ তেল কেনা নিয়েও ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে ভারত সতর্ক করেছিল, রুশ তেল কেনার কারণে নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান নিয়ে ভারতের আপত্তি সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতেও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্য রয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, পাকিস্তান থেকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের যে হুমকির কথা ভারত বলে আসছে, সেটিকে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। ভারতের জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়েছে কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে নিজের ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। ভারত অবশ্য কাশ্মীরসহ এসব বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের নেতৃত্ব ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এ অবস্থায় ভারতের কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। মোদি সরকারের ওপরও বাড়ছে চাপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরেও মোদি সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ভারত বারবার নতি স্বীকার করছে—এমন অভিযোগ বিরোধীদের কাছ থেকে আসছে। এই পরিস্থিতিতে জয়শঙ্করের প্রকাশ্য বক্তব্যকে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন কয়েকজন বিশ্লেষক। তাদের মতে, নয়াদিল্লি এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি নিজেদের স্বার্থ ও মতপার্থক্যগুলোও প্রকাশ্যে তুলে ধরতে চাইছে। ভারতীয়দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বহু বছর ধরে বিদেশে দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের কাজের সুযোগকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হলেও এখন অভিবাসননীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। সম্পর্ক কি পুরোপুরি ভেঙে যাচ্ছে? তবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাচ্ছে—এমনটা বলছেন না বিশ্লেষকেরা। চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক চিয়েটিগ বাজপেয়ি মনে করেন, দুই দেশই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। তাঁর মতে, একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তান ও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বলছে, নয়াদিল্লি আগের তুলনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আনতে এখন বেশি প্রস্তুত।
সিরিয়ার দেইর এজ-জোর শহর যখন আই এ সের দখলের মুখে, তখন যুদ্ধের ঝুঁকি উপেক্ষা করে প্রায় ৩০ হাজার ঐতিহাসিক প্রত্নবস্তু সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান দেশটির প্রত্নতাত্ত্বিকরা। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে সেই দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পরিচালিত ওই অভিযানে দেইর এজ-জোর জাদুঘরের মূল্যবান সংগ্রহগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব নিদর্শনের মধ্যে মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত বহু গুরুত্বপূর্ণ বস্তু ছিল। গবেষণাটির লেখক ও প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক মামুন আবদুলকরিমের নেতৃত্বে ওই সময় সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সময়কালে সিরিয়ার বিভিন্ন জাদুঘর থেকে প্রায় ৩ লাখ প্রত্নবস্তু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ছিল দেইর এজ-জোর জাদুঘরের। দেইর এজ-জোর ছিল সিরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা। জাদুঘরটির অনেক নিদর্শন এসেছে হালাফ, দুরা-ইউরোপোস ও মারির মতো প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে। তবে শহরটি তখন ছিল ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে। জাদুঘরটি একটি সামরিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি পথ দিয়ে যুক্ত ছিল। ফলে প্রত্নবস্তু সরিয়ে নেওয়ার প্রতিটি ধাপেই ছিল বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি। গবেষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় এমন উদ্ধার অভিযান শুধু পরিবহন ও পরিকল্পনার বিষয় নয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, পরস্পরের ওপর আস্থা রাখা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানোর সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যাপক আবদুলকরিমের মতে, যুদ্ধের মধ্যে সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা করলে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে। দেইর এজ-জোরের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০১৪ সালের পর সিরিয়া ও ইরাকের বড় অংশে আই এ সের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হলে বহু জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা লুট ও ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়ে। ইরাকের মসুলে জাদুঘর লুট এবং নিনেভে ও আসিরীয় সভ্যতার বহু নিদর্শন ধ্বংসের ঘটনাও সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষকে জরুরি সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করতে বাধ্য করে। অধ্যাপক আবদুলকরিম বলেন, এসব প্রত্নবস্তু শুধু জাদুঘরের সংগ্রহ নয়। এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের মানব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের স্মৃতি। তাঁর ভাষায়, ৩০ হাজার নিদর্শন উদ্ধার করার অর্থ শুধু ৩০ হাজার বস্তু রক্ষা করা নয়; বরং যুদ্ধের কারণে মুছে যেতে বসা হাজার বছরের ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা। নতুন গবেষণাটি Museum Management and Curatorship সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে যুদ্ধ বা সংকটের আগেই জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষায় প্রস্তুতি, নথিপত্র, পেশাগত সক্ষমতা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। এবার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নাম নিজের নামে বদলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প একটি মানচিত্র শেয়ার করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। তাঁর প্রস্তাবিত নাম—‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’। ট্রাম্পের এই পোস্ট আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই। পোস্টে তিনি দাবি করেন, জলপথটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপর প্রশ্ন তোলেন, হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করা উচিত কি না। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে থাকা মানচিত্রে নতুন নামটি স্পষ্টভাবে দেখানো হয়। এর আগে আগস্টেও ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন। একই সময়ে তিনি জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। তবে হরমুজ প্রণালি কোনো একক দেশের মালিকানাধীন নয়। এটি ইরান ও ওমানের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব মূলত এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এই সরু জলপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে যায়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এক সপ্তাহান্তে মাত্র ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করে, যেখানে সংঘাতের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। কিছু জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে স্বয়ংক্রিয় অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখেও চলাচল করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগেরও চেষ্টা চলছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে তারা কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে ইরানি প্রতিনিধিরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামটি এখনো আন্তর্জাতিকভাবে হরমুজ প্রণালির সরকারি নাম হয়ে যায়নি। কোনো জলপথের নাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সরকারি ব্যবহারে পরিবর্তন আনা হলেও তা অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একই নাম ব্যবহার করতে বাধ্য করে না। হরমুজ প্রণালি বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত নামেই রয়েছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ইরানের প্রতি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তবে সরাসরি নাম পরিবর্তনের চেয়ে তাঁর পোস্টে মূলত জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও অব্যাহত রয়েছে। ফলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামটি এখনই হরমুজ প্রণালির আনুষ্ঠানিক নতুন নাম নয়; এটি ট্রাম্পের দেওয়া একটি প্রস্তাব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা নাম। তবে হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, জাহাজ চলাচলে বাধা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে তাঁর এই পোস্ট নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পরাজিত হবে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ইসরায়েলের সামনে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। নেতানিয়াহু তার ভাষণে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা কঠিন কাজ হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল তার জন্য সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তার ভাষ্য, হামলা না করলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠত। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। ইরানের বর্তমান সরকার নিয়েও কঠোর বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন সময়ের ব্যাপার। ইরানের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, একদিন তারা মুক্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের শক্তি ক্ষমতাসীনদের ওপর জয়ী হবে। তবে ইরানের সরকার কবে বা কীভাবে পরিবর্তিত হবে—এটি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক পূর্বাভাস, প্রতিষ্ঠিত কোনো ঘটনা নয়। ভাষণের একপর্যায়ে একটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট রিসিভার তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। ইরানের জনগণের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইরানি প্রতিনিধিদলের জন্য সেটি রেখে যাওয়ার কথাও বলেন। নেতানিয়াহু ইসরায়েলের চলমান সংঘাতকে একাধিক ফ্রন্টের যুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরেন। ইরান ছাড়াও হামাস, হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এসব লড়াইয়ে ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে। তবে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরুর সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বহু প্রতিনিধি প্রতিবাদ জানিয়ে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, কয়েক ডজন প্রতিনিধি তার বক্তব্যের শুরুতেই হল ত্যাগ করেন। নেতানিয়াহু তাদের সমালোচনা করে ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়েও ভাষণে নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। গাজায় গণহত্যার অভিযোগকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইসরায়েল হামাসকে লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করছে বলে দাবি করেন। অন্যদিকে গাজার বিপুল বেসামরিক প্রাণহানি ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের এবং তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না। জাতিসংঘের মঞ্চে নেতানিয়াহুর মূল বার্তা ছিল—ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান থেকে ইসরায়েল সরে আসবে না এবং শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ার লক্ষ্যেই অভিযান চালিয়ে যাবে। তবে তার ভাষণে ইরানের ভবিষ্যৎ, দেশটির সরকারের পতন এবং যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে দেওয়া বক্তব্যগুলো নেতানিয়াহুর নিজস্ব দাবি ও পূর্বাভাস। সূত্র: জাতিসংঘ, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ। ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন শি জিনপিং। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান, ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই নেতার আলোচনার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানের সফর উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান, সামরিক প্রদর্শনী এবং বিশেষ উড়োজাহাজ মহড়া। ফলে দুই নেতার বৈঠক কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নানা আনুষ্ঠানিক আয়োজনেরও কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে। এই সফরের আগে দুই নেতার বয়স ও শারীরিক সুস্থতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৭৩ বছর বয়সী শি জিনপিংকে ঘিরে সম্প্রতি স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের একটি নৈশভোজে তিনি উপস্থিত না থাকায় এবং পরে কয়েক দিন প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে গুরুতর অসুস্থতার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও শি অসুস্থ হওয়ার দাবি নাকচ করে এসব পোস্টকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করেছে। অন্যদিকে ৮০ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াল্টার রিডে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর ট্রাম্প নিজেকে ‘পুরোপুরি সুস্থ’ বলে দাবি করেছেন। তার বয়স নিয়ে যে ধরনের আলোচনা হচ্ছে, একই ধরনের যাচাই-বাছাই সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছিল। দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক যতটা কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই সামনে আসছে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার প্রশ্ন। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা নেতারা যখন বয়সের শেষ প্রান্তে পৌঁছাচ্ছেন, তখন তারা ভবিষ্যতে কখন নেতৃত্ব থেকে সরে যাবেন এবং তাদের পরবর্তী নেতৃত্ব কেমন হবে—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। আর এখানেই বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ বিশ্বের কিছু ক্ষমতাধর নেতা দীর্ঘ সময় ক্ষমতার শীর্ষে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন। ফলে তাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নয়, নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার হস্তান্তর এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। বিশ্বের প্রায় ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণের এই আয়োজনে আজকের সবচেয়ে আলোচিত বক্তাদের একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য—“আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ।” ট্রাম্প এমন এক সময়ে জাতিসংঘের মঞ্চে উঠছেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ প্রায় সাত মাসে গড়িয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে এবং জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বজায় রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করছে। গত বছরের জাতিসংঘ ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এবার তাঁর ভাষণের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যুদ্ধে জড়িত এবং সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট সমাধান এখনও সামনে আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজারও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ও তেল সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে নিউইয়র্কে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা শুধু যুদ্ধ থামানোর প্রশ্নেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের আজকের কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা। বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পথ এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এসব আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে এপি। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। তবে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের আলোচনার অভিজ্ঞতার কারণে তেহরানে নতুন সংলাপ নিয়ে অবিশ্বাস রয়েছে। ফলে একই সময়ে নিউইয়র্কে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি থাকলেও সরাসরি আলোচনায় বড় অগ্রগতি হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। শুধু ইরান নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশও এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এপি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামাজিক প্রভাব এবং এর জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাসনব্যবস্থা, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং জলবায়ুসহ একাধিক বৈশ্বিক বিষয় আলোচনায় রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থান বিশেষভাবে নজরে থাকবে। তাঁর প্রশাসন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা কমিয়েছে এবং ট্রাম্প অতীতে সংস্থাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বিশ্বব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বদলাতে হবে। ভাষণের পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচিও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য উদ্ধৃত করে এপি জানিয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও নিউইয়র্কের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাবে। এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘাত, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা—সবগুলো বিষয় একই সঙ্গে বিশ্বনেতাদের সামনে রয়েছে। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তবে রয়টার্সের যাচাইয়ে ভিডিওটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে নিশ্চিত হয়েছে এবং খার্গ দ্বীপে এমন হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রোববার ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি পোস্ট করে ট্রাম্প লেখেন, “খার্গ দ্বীপ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে”। ভিডিওতে দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে ব্যাপক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরও সেখানে কোনো হামলার প্রমাণ মেলেনি। ইরানের সরকারি ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্ড ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে বলেছেন, খার্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং তেল কার্যক্রম চালু আছে। খার্গ দ্বীপ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ফলে সেখানে সত্যিকারের হামলা হলে ইরানের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ট্রাম্পের এই পোস্ট এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। এরপর ইরান জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন অবস্থানে হামলার কথা জানায়। জর্ডান কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে, আর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এআই-নির্মিত যুদ্ধের ভিডিও নতুন করে তথ্য বিভ্রান্তি ও যুদ্ধকালীন ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আজাদি’ ও ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এইট বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্লোগানের বদলে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবি তোলা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারত একদিন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর পুনর্দখল করবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের সঙ্গে ‘আজাদি’ এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’-এর মতো স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, এসব স্লোগান তাঁর কাছে অত্যন্ত পীড়াদায়ক। তাঁর প্রশ্ন, ভারত স্বাধীন হওয়ার পর আবার কীসের স্বাধীনতা চাওয়া হচ্ছে? স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালি বিপ্লবীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, প্রফুল্ল চাকী, বিনয়-বাদল-দীনেশসহ বিভিন্ন বিপ্লবীর নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশপ্রেম ও জাতীয় প্রতীকের বিরোধিতাকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শুভেন্দু। ক্যাম্পাসের দেয়ালে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘রেড স্যালুট কিষেনজি’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এর সমালোচনা করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এসব দেয়াললিখন নিয়ে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। পহেলগাঁও হামলা ও ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযানের সময় যারা প্রতিবাদ করেননি, তারা পরে শান্তির দাবিতে মিছিল করেছেন। একই সঙ্গে যাদবপুরে কথিত ‘হুমকির সংস্কৃতি’ বন্ধ করার ঘোষণা দেন তিনি। ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবহারের অভিযোগ নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান শুভেন্দু। প্রয়োজন হলে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তবে শুভেন্দু অধিকারীর এসব অভিযোগ ও বক্তব্যের বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠন কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী কয়েকটি সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও শিন বেতের কার্যক্রমের কার্যত সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের ওই অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠীকে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দিচ্ছে। এর মধ্যে আর্টিলারি ও ড্রোন সহায়তা এবং অভিযানের সময় নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে হামাসকে মোকাবিলায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করার কথা স্বীকার করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, হামাসের বিরুদ্ধে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের স্বার্থের মিল রয়েছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের বক্তব্যের বরাতে হারেৎজ জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিছু এলাকায় এসব সশস্ত্র সদস্যকে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি অবাধে চলাফেরা করতে এবং শক্তি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এক ইসরায়েলি সেনার সাক্ষ্যের বরাতে প্রতিবেদনে একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বিরোধের সময় এক বন্দুকধারী অন্য এক ব্যক্তির পায়ে গুলি করেন। ওই সেনার দাবি, ঘটনাটি সেখানে শাস্তির একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল এবং ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান। আরেক ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মিলিশিয়া সদস্য পিকআপ ট্রাকে করে আবাসিক এলাকায় ঢুকে গুলি চালানো, বাড়িঘরে লুটপাট এবং স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এসব অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। হারেৎজের অনুসন্ধানে গাজার বেইত হানুন, শুজাইয়া, দেইর আল বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় অন্তত পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজার অন্যান্য এলাকায় পুনর্গঠন কার্যক্রম থমকে থাকলেও এসব ঘাঁটির কিছু সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি, কংক্রিটের প্রতিরক্ষা দেয়াল এবং মোবাইল আবাসন স্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পপুলার ফোর্সেস’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম স্ট্রাইক ফোর্স’ নামে পরিচিত কয়েকটি গোষ্ঠী ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিভাজনরেখার কাছে মোতায়েন রয়েছে। তারা হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান, নিষিদ্ধ পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। হারেৎজের সঙ্গে কথা বলা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এসব গোষ্ঠীর নেতাদের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত নেতা হিসেবে দেখছেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক গ্যাং সদস্য, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কিংবা হামাসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাও তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন। ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের দৃষ্টিতে এসব গোষ্ঠী নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে ইসরায়েলি সামরিক সুরক্ষা ও সহায়তা ছাড়া এসব গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সক্ষমতা সীমিত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, হামাসবিরোধী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, এসব ইসরায়েল-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিলুপ্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু ওই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে হামাসও জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকা অবস্থায় তারা অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি নয়। ফলে এসব স্থানীয় মিলিশিয়াকে ঘিরে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থান শান্তি আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর নতুন করে কঠোর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে তেল ও অন্যান্য বাণিজ্যে যুক্ত চীন, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো নতুন মার্কিন পদক্ষেপের আওতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করতে বড় ধরনের সমন্বিত চাপ তৈরির পরিকল্পনা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের তেল বাণিজ্য। চীন ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় দেশটির ওপর মার্কিন চাপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহন ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চীনা প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বেসেন্ট এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী—সব দেশকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হতে পারে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসগুলোকে সংকুচিত করা এবং দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই কৌশলগত নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। চীনসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। চীনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর জন্য চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়লে তা ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরানকে লক্ষ্য করে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা তৃতীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ সংকুচিত করতে চাইছে। তবে চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতিকে একই নীতির আওতায় আনতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রকেও কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক অভিযান এখন শুধু ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দুই দেশ। সোমবার প্যারিসে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে হবে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা। ইরান ইস্যুতে দুই দেশ আরও উত্তেজনা এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স ইরানের পরমাণু কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তেহরানকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং নৌপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকিরও নিন্দা জানিয়েছে দুই দেশ। বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে আগের স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা, নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিবহন এবং কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ কর কিংবা চলাচলে বাধা না থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চুক্তির ঘোষণা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় টেকসই যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি এবং বেসামরিক মানুষের কাছে দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তারা। দুই দেশ ফিলিস্তিনি জনগণের ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রম ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনে আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ সুগম করাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার পরিস্থিতিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। লেবাননের ক্ষেত্রে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং সব অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং লেবাননের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির ভূখণ্ডে হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি ও পূর্ণ সমর্থনের কথাও জানিয়েছে প্যারিস। সুদানের ক্ষেত্রে সংকট দ্রুত সমাধান, বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। সিরিয়ার ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি সৌদি-সিরীয়-ফরাসি ব্যবসায়ী পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি সৌদি আরব ও ফ্রান্স অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের পরিকল্পনাও করেছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। এবার দুই দেশ পারস্পরিক বিনিয়োগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতেও নতুন সহযোগিতার ঘোষণা এসেছে। দুই দেশ অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণসহ ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও উদীয়মান প্রযুক্তিতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সৌদি আরবের আলউলা অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে যৌথ সহযোগিতা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া ফ্রান্স রিয়াদ এক্সপো ২০৩০-এ অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুই দেশের নেতারা মনে করছেন, এই আয়োজন সৌদি আরব ও ফ্রান্সের সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে। বৈঠকের সময় প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি ও বিনোদন খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি-ফরাসি বিনিয়োগ গোলটেবিল বৈঠক থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ২২টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ঘোষণা এসেছে। সব মিলিয়ে, সৌদি আরব ও ফ্রান্সের নতুন যৌথ উদ্যোগ শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইরান, হরমুজ প্রণালি, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার মতো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যুতেও দুই দেশ নিজেদের সমন্বয় আরও জোরদার করতে চাইছে।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে গত ৭ আগস্ট ২০২৬ মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় আরও দেশকে যুক্ত করার সুযোগ রাখার কথাও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে। বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক দিন ধরে স্থানীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রোববার আরব নিউজকে শামা ওবায়েদ বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আলোচনা চলছে।” এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সম্ভাব্য এই জোটে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন। সোমবার তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয় দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে সম্ভাব্য কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অবস্থান বিবেচনা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। মক্কা চুক্তিতে থাকা তিন দেশই নিজেদের অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত। পাকিস্তানের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সক্রিয় সামরিক বাহিনী এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। সৌদি আরবের রয়েছে বড় অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। অন্যদিকে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং দেশটির রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও শক্তিশালী নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প। ফলে তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কও এ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী অক্টোবরে প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে সৌদি আরবের রিয়াদে যাওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সফর সামনে রেখে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ বিন আবদুলকরিম আল-খুরাইজিও চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা সফর করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, দুই পক্ষ বাংলাদেশ-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ। দেশটির সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার, যা জনবলের দিক থেকে এশিয়ার অন্যতম বড় সামরিক বাহিনী। সব মিলিয়ে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সামনে প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদ সফরকে ঘিরে এ আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।