ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে ৮টি গ্রামের মানুষ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমিতে শনিবার সকালে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল আবু জাহের। বিকেলের দিকে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্বে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিমকে (১৫) অন্য একটি ইউনিয়নের কয়েকজন কিশোর মারধর করে। তামিম মানিকদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও অভিযুক্তরা পার্শ্ববর্তী হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল কবির প্রাণভয়ে গেট বন্ধ করে দেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা স্কুলের ভেতরে আটকা থাকেন। সংঘর্ষের সুযোগে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানিয়েছেন: অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপিতে নজিরবিহীন গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘একতরফা সিদ্ধান্ত’ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে গত দুই দিনে প্রায় ১৫০ জন নেতা-কর্মী দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই গণপদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। পদত্যাগকারীদের পক্ষে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতোয়ার হোসেন বাবুল। পদত্যাগকারীদের মধ্যে জেলার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন: সদর উপজেলা: সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম শেখ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজয় হাসান। মিরকাদিম পৌরসভা: সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বকুল ও মহিলা দলের সদস্য সচিব জিয়াসমিন আক্তার ময়না। জেলা ও অঙ্গ-সংগঠন: জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আলমগীর সামি, শহর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আশ্রাফুজ্জামান অভি এবং আধারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বকর মাদবরসহ আরও অনেকে। সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতারা দলের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেন: ১. একতরফা সিদ্ধান্ত: তৃণমূলের কোনো মতামত না নিয়ে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত। ২. বহিষ্কারের রাজনীতি: সম্প্রতি ছোটখাটো কারণে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অব্যাহতভাবে বহিষ্কার করা। ৩. অবমূল্যায়ন: রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড বা সুবিধাবাদীদের পদ-পদবি দেওয়া। আতোয়ার হোসেন বাবুল সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পদত্যাগের এই ঢেউ এখানেই থামবে না। সামনে আরও বড় গ্রুপ দল ছাড়তে পারে।”
ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের পাইলট মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় এক নারী ইউপি সদস্য ও বিএনপির নেত্রী ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলে জামায়াতের এক সমর্থক ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাইলট মোড় এলাকায় ভোটের প্রচারণায় গেলে বিষয়টি নিয়ে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কাহেদ নজরুল ইসলামের সঙ্গে যুবদল নেতা সবুজ মাদবরের বাকবিতণ্ডা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জড়ো হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। আহত ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে জামায়াতের ঝামেলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই কথা বলার সময় হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। আহত জপসা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ মাদবর বলেন, তারা লিফলেট বিতরণ করে পাইলট মোড়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জামায়াতের লোকজন এসে তাদের সঙ্গে ঝামেলা শুরু করে এবং একপর্যায়ে হামলা চালায়। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে আহত জামায়াত কর্মী মিজানুর রহমান বলেন, প্রচারণা শেষে তারা জামায়াত নেতা কাহেদ নজরুল ইসলামের দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিএনপির লোকজন এসে হুমকি দেয়। তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বাহার মিয়া বলেন, ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এখন মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে আইনজীবী ও মক্কেলদের সঙ্গে অপেশাদার ও অশোভন আচরণের অভিযোগে আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আইনজীবীরা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু। এতে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন মৃধাসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা এজলাসে নিয়মিতভাবে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে রুঢ় ও অবমাননাকর আচরণ করেন, যা বিচারিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এ সময় অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে, তবে বিচারপ্রক্রিয়ায় পারস্পরিক সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অপরিহার্য। আইনজীবীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ আদালত বর্জনের ঘোষণার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক মামলার শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আদালতের সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ ও বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনমানুষের আস্থা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা রক্ষায় দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা প্রয়োজন।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ওয়াশ রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে রায়হান কবির ইমন নামে এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযুক্ত ইমনকে শনাক্ত করেন হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের পরিচালকসহ ইমনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনের মুখে এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘শুক্রবার রাতে এক নারী চিকিৎসক ওয়াশ রুমে কলমসদৃশ ক্যামেরা দেখতে পান। এ সময় অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক ওই কলম ছিনিয়ে নিতে চাইলে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। পরে বিষয়টি আমাদের কাছে অভিযোগ করলে রোববার ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক আসলে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে পুলিশ এসে তাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আদিবুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানানোর পর অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুরে গুলি ও ককটেল ফাটিয়ে ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ২৪ লাখ টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মহানগরের বাসন থানা এলাকার আউটপাড়া এলাকা থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের ব্যবসা পরিচালনাকারী সাইফুল ইসলাম ব্যাংকের টাকা জমা দেয়ার জন্য চান্দনা চৌরাস্তার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় কাজিমউদ্দিন স্কুলের সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেল যোগে ৬ জন দুর্বৃত্ত সাইফুলের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে ও কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে ২৪ লাখ টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে জিএমপির বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, এজেন্ট পয়েন্টের ২৪ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে পথিমধ্যে দুষ্কৃতিকারীরা ককটেল ফাটিয়ে টাকা লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ঢাকা কলেজে স্নাতক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ‘স্কুলিং মডেল’-এর বিরোধিতা করে বের হওয়া একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের হল পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সোয়া ১১টার দিকে স্কুলিং মডেলের বিরোধিতা করে ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলে ‘স্কুলিংয়ের ঠিকানা, ঢাকা কলেজে হবে না’ এবং ‘তুমি কে আমি কে—ডিসিয়ান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলটি হল পাড়া ঘুরে দক্ষিণ হলের সামনে পৌঁছালে সেখানে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে কিছু সময়ের মধ্যেই তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কলেজের স্নাতক শিক্ষার্থী রাহুল আমিন বলেন, “হঠাৎ করে মধ্যরাতে ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থীরা অনার্স শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করে। তখন আমাদের পরীক্ষা চলছিল। পড়াশোনার মধ্যে এমন মিছিল বের করায় আমরা প্রতিবাদ জানাই।” অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী বলেন, “ঢাকা কলেজের অস্তিত্ব রক্ষা পাওয়ায় আমরা আনন্দ মিছিল বের করেছিলাম। কিন্তু অনার্সের ভাইয়েরা আমাদের মিছিলে বাধা দেন। কেন বাধা দেওয়া হয়েছে, তা আমরা বুঝতে পারিনি।” পরে হল প্রভোস্টদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কলেজ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
দেশে প্রথমবারের মতো দাঁত ও মুখগহ্বরের চিকিৎসায় ২৪ ঘণ্টার জরুরি বিভাগসহ পূর্ণাঙ্গ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল যাত্রা শুরু করেছে। ‘এডভান্সড ডেন্টাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল (এডিএম) হাসপাতাল’ নামের এ প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান রাজধানীর ধানমন্ডি ২ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর বাড়িতে। এই হাসপাতালে দুর্ঘটনা, হঠাৎ জটিলতা কিংবা জীবন ঝুঁকিপূর্ণ ‘ডেন্টাল’ ও ‘ম্যাক্সিলোফেসিয়াল’ সমস্যায় রোগীরা তাৎক্ষণিক ও মানসম্মত চিকিৎসা পাবেন। ডেন্টিস্ট্রির সব বিভাগের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি নির্ভুল রোগ নির্ণয়, জটিল অস্ত্রোপচার ও নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকছে। হাসপাতালটিতে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির মাধ্যমে মুখের ক্যান্সার, মুখমণ্ডলের ট্রমা, জন্মগত ত্রুটি এবং জটিল ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি করা হবে। জরুরি বিভাগের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে আন্তঃ ও বহির্বিভাগ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শয্যাসহ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধাও রাখা হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হাসপাতালটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহীনুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার এবং বিএমইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. শাহীনুল আলম বলেন, দাঁত ও মুখগহ্বরের চিকিৎসায় এ ধরনের হাই-টেক ডেন্টাল হাসপাতাল দেশের রোগীদের জন্য বড় আশীর্বাদ। তিনি ইনফেকশন (সংক্রমণ) নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, দাঁত মানুষের সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক ছাদের নিচে দাঁতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসায় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, এই হাসপাতালের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডেন্টিস্ট্রি আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন পরিচিতি পাবে। ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের পরিচালক খোবনয় আলেক্সজান্দ্রা আলেক্সান্দ্রাভোনা বলেন, এডিএম হাসপাতালের উন্নয়নে রাশিয়া ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে। উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানের আরও বক্তব্য দেন এডিএম হাসপাতালের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দীন চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ও সাপ্পোরো ডেন্টালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে হাসান মোল্লা (৪২) নামের এক বিএনপি নেতাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসান মোল্লা হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হাসান মোল্লা দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। ঢাকা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমানের একান্ত সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে হাসান মোল্লাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল