চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দরে এবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর এলাকায় আয়োজিত অবরোধ কর্মসূচি থেকে আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক নেতা ইব্রাহিম খোকন।   শ্রমিক নেতাদের প্রধান দাবিগুলো হলো: এনসিটি জেটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া বন্ধ করা। চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর দেওয়া বদলির আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার।   হুমকি ও দমনের অভিযোগ: শ্রমিক দলনেতা ইব্রাহিম খোকন অভিযোগ করে বলেন, নৌ-উপদেষ্টা শ্রমিকদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের এমন দমন-পীড়নের প্রতিবাদেই তারা এই কঠোর পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।   প্রভাবিত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি: ইতিমধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে বন্দরের সিসিটি ও এনসিটিসহ সব টার্মিনালে পণ্য ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জাহাজ জেটিতে বসে থাকায় এবং রপ্তানি পণ্য আটকে পড়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিজিএমইএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর ফলে পোশাক খাতের শিপমেন্ট শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।   পুলিশি বাধা এবং কর্তৃপক্ষের অনমনীয় অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে রোববার

৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৯ মাসের জন্য সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আজ শনিবার চলতি মৌসুমের শেষ দিনে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটকবাহী জাহাজগুলোই এ বছরের জন্য শেষ ট্রিপ সম্পন্ন করছে।   পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্ট মার্টিনের প্রবাল ও সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান রক্ষায় পর্যটন মৌসুমকে সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম ৩১ মার্চ পর্যন্ত থাকলেও এবার তা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি করা হয়েছে। নভেম্বর: শুধু দিনে ভ্রমণ (রাতযাপন নিষিদ্ধ ছিল)। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি: দৈনিক সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের অনুমতি ছিল। ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর: পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।   হঠাৎ করে মৌসুম ২ মাস কমিয়ে আনায় দ্বীপের প্রায় ১০ হাজার মানুষের জীবিকা এখন চরম হুমকির মুখে। হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের দাবি: সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান জানিয়েছেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ী এবার লাভের মুখ দেখেননি, বরং লোকসানে পড়েছেন। অনেক বিনিয়োগকারী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পর্যটন উন্মুক্ত রাখার দাবি জানালেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। স্থানীয়দের হাহাকার: দ্বীপের রিকশাচালক নুর আজিম বলেন, “রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছিলাম, কিন্তু দুই মাসে টাকা তুলতে পারিনি। কাল থেকে পর্যটক বন্ধ, এখন আবার মাছ ধরতে সমুদ্রে যেতে হবে।”   কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন নিশ্চিত করেছেন যে, আজ বিকেলের পর আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছাড়বে না। এছাড়া দ্বীপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে: সৈকতে আলো জ্বালানো ও বারবিকিউ পার্টি। পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার। মোটরচালিত সি-বাইক বা মোটরসাইকেল চলাচল।   চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন। তবে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ওপর কড়াকড়ি থাকায় আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার পর্যটন খাতের সামগ্রিক আয় অনেক কম হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

মোহাইমিনুল ইসলাম জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে নলকূপের গর্তে পড়ে গেল শিশু, চলছে উদ্ধার অভিযান

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে তিন বছর বয়সী এক শিশু। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, গর্তে পড়া শিশুটির নাম মিসবাহ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস। কূপের গভীরতা যাচাই এবং শিশুটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।     এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিস আসার আগে টর্চলাইট ও গাছের ডাল ব্যবহার করে শিশুটিকে উদ্ধার বা ধরে রাখার চেষ্টা চালান স্থানীয়রা।   এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত নলকূপের গর্তে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, কার্যালয় ভাঙচুর

চট্টগ্রাম-১০ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ সময় ‘আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ’-এর একটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।   স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর সমর্থকদের মধ্যে এই বিরোধের সৃষ্টি হয়। রাত ১০টার দিকে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ শেষে একটি মিছিল আমবাগান রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কোকো স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।   জামায়াতের দাবি: প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী অভিযোগ করেন যে, বিএনপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের মিছিলে পাথর নিক্ষেপ করেছে। এতে তাদের অন্তত ৭ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন। বিএনপির দাবি: নগর বিএনপির সাবেক নেতা এস কে খোদা তোতন অভিযোগ করেন, বহিরাগতরা এসে অতর্কিতে তাদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। কার্যালয়ের ভেতরে থাকা কর্মীরা কেবল আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।   খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে অফিস ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন। হামলার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মোহাইমিনুল ইসলাম জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
টেকনাফ সীমান্তে আরাকান আর্মির গুলি, বাংলাদেশি দুই কিশোর আহত

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আরাকান আর্মির ছোঁড়া গুলিতে বাংলাদেশি দুই কিশোর আহত হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।     মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জিমংখালী ও কাঞ্জর পাড়ার মাঝামাঝি নাফ নদী সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।    আহত কিশোরা হলো- টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়ার শেখ কামালের ছেলে মো. সোহেল (১৬) এবং একই এলাকার মো. ইউনুসের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (১৭)।   স্থানীয়দের বরাত দিয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র জানান, সকালে স্থানীয় কিশোর সোহেল ও ওবায়দুল্লাহ নাফ নদীর জিমংখালী ও কাঞ্জর পাড়ার মাঝামাঝি সীমান্তে যায়। এক পর্যায়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির ছোঁড়া গুলিতে ওই দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের মাথা, হাত ও পায়ে গুলি লেগেছে।    তিনি বলেন, তবে আঘাতের ধরণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, গুলির আঘাত কোনো ভারী অস্ত্রের নয়।   এর আগে ১৩ জানুয়ারি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্তে আরাকান আর্মির ছোঁড়ার গুলিতে সুমাইয়া হুজাইফা (১১) নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তার পরের দিন ওই এলাকায় মিয়ানমারের পোঁতা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবক পা হারান।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম-২ আসনে হাইকোর্টের রায়ে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির সারোয়ার

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় পরিবর্তন এল। ঋণ খেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাতিল হওয়া বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।   সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পথটি ছিল বেশ কণ্টকাকীর্ণ: মনোনয়ন বাতিল: গত ১৮ জানুয়ারি ঋণ খেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে। ঋণ পুনঃতফসিল: এর আগে হাইকোর্ট তাঁর নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিলেও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত তা স্থগিত করেছিলেন। চেম্বার আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: গত ২২ জানুয়ারি ঋণ পুনঃতফসিল করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্টের আগের আদেশটি (নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত) বহাল রাখেন চেম্বার আদালত।   আজকের শুনানিতে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল যুক্তি দেখান যে, ঋণ পুনঃতফসিল হওয়ায় তিনি আর খেলাপি নন। আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন এবং তাঁকে নির্বাচনী প্রতীকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, শুনানিতে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী উপস্থিত থেকে বিরোধিতা করলেও আদালত তা আমলে নেননি।   সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ফটিকছড়ির নির্বাচনী মাঠে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এতদিন এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে জামায়াত ও অন্যান্য প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, এখন ভোটের লড়াইয়ে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হলো।

মোহাইমিনুল ইসলাম জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
এনসিপিকে ‘বয়কট’ স্লোগান, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ

চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতের বিরুদ্ধে জোটের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন ও শরিক দলের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, ১১ দলীয় ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামায়াত প্রার্থী মাঠে অনড় থাকা এবং এনসিপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘বয়কট’ স্লোগান দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। তারা জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে।   রোববার (২৫ জানুয়ারি) বোয়ালখালী উপজেলায় এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এনসিপির বোয়ালখালী উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল আরিফকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এলাকায় রাজনৈতিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।   নেতাদের অভিযোগ, বোয়ালখালীতে ডা. আবু নাসেরের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবেই জোটের প্রার্থী জোবাইরুল আরিফের বিরুদ্ধে মিছিল করা হয়েছে এবং সেখানে ‘এনসিপি বয়কট’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং ‘জোটের ঐক্যের পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেন এনসিপি নেতারা।   এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত সমঝোতায় এনসিপিকে চট্টগ্রাম-৮ সহ সারাদেশে ৩০টি আসন দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এনসিপি কেবল এই একটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জোটের অন্য শরিকরা সরে দাঁড়ালেও জামায়াত প্রার্থী এখনও অনড় অবস্থানে রয়েছেন।   তারা বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়েছে, জামায়াতের এ ধরণের কর্মকাণ্ড সেই শক্তির ক্ষতি করছে। আমরা জানতে চাই, চট্টগ্রাম-৮ আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না এবং জোটের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা হচ্ছে কি না।   সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সেলিম, বোয়ালখালী উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী আবরার হাবিব, ফয়সাল রায়হান এবং যুবশক্তি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির সংগঠক সাঈদ বিন ইব্রাহিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
তারেক রহমানের নেতৃত্বে চট্টগ্রামবাসী গণতন্ত্র ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ: মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম:  ১৬ বছর ধরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগানে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। একই সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়ে সারা দেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ইনশাআল্লাহ আজ আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে চট্টগ্রামবাসী দেশের গণতন্ত্র ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ আছি।    রোববার (২৫ জানুয়ারি) পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির মহাসমাবেশে চসিক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন।   তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শুধু একটি বন্দরনগরী নয়, এটি বীর প্রসবিনী ঐতিহাসিক জনপদ, যেখান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল। এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের  মুক্তিযুদ্ধের সূচনার ঘোষণা দেন। একই চট্টগ্রামের জনসমুদ্র থেকেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আপসহীন নেত্রীর উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।   চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়তে তারেক রহমানের সহযোগিতা কামনা করে মেয়র বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়তে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে বিশ্ববাণিজ্যের হাব এটাই আমাদের প্রত্যাশা।   এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব৷    তিনি জানান, আওয়ামী লীগের সময় মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমি মেয়র হওয়ার পর গত এক বছরে চট্টগ্রাম নগরীর চার লাখ পরিবারকে ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হয়েছে। যেসব পরিবার দীর্ঘ ১৬ বছরে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তাদের জন্য এই উদ্যোগ একটি ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।   তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি সবুজ খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   ইতোমধ্যে ১২টি খেলার মাঠের কাজ শেষ হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বাকি মাঠগুলোও বাস্তবায়ন করা হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছেলে শাপলা কলির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইছেন ধানের শীষে

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের নির্বাচনি মাঠে দেখা দিয়েছে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত রাজনৈতিক চিত্র। ছেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী, অথচ বাবা সক্রিয়ভাবে ভোট চাইছেন বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ইতোমধ্যে রামগঞ্জে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।   জানা গেছে, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম এবারের নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে তার বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা রামগঞ্জ উপজেলার ৪নং ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।   শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা ইছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিমের সঙ্গে একাধিক পথসভায় অংশ নেন। এসব সভায় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন।   এ বিষয়ে আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা বলেন, রাজনীতি তার আদর্শ ও বিশ্বাসের জায়গা। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলেই তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে রয়েছেন। তবে বাবা হিসেবে তিনি ছেলের জন্য দোয়া করেন বলেও উল্লেখ করেন।   এ প্রসঙ্গে এনসিপির প্রার্থী মাহবুব আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে, তবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি নন।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সাধারণ মানুষের আলোচনায় বিষয়টি বেশ আলোড়ন তুলেছে। অনেককে বলতে শোনা গেছে, “ঘর না গুছিয়ে মাঠ গোছানো সম্ভব নয়।”   এই ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক অবস্থান রামগঞ্জের নির্বাচনি রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত মিরসরাইয়ের টিপু চৌধুরী, দেশে আনার প্রস্তুতি

দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘দুর্বৃত্তদের’ গুলিতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার টিপু চৌধুরী (৫০) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় প্রিটোরিয়ার কোয়ামথলাংগা এলাকায় তার নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।   নিহত টিপু চৌধুরী মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের নিজামপুর তছি সরকার বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে। নিহতের চাচাতো ভাই লিটু চৌধুরী জানালেন, টিপু প্রায় ৩৫ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছিলেন।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে টিপু তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসেছিলেন। হঠাৎ কিছু দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছোড়ে। এছাড়া, টিপুর আরও এক ভাই, আবু সায়েম চৌধুরী, ২০ বছর আগে একইভাবে গুলিতে নিহত হন।   এ সময় প্রবাসী আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমি ছুটিতে দেশে রয়েছি। শুনে খুব খারাপ লাগছে। টিপু ভাইয়ের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে।”   নিহতের মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় থানায় রয়েছে এবং দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

শাহারিয়া নয়ন জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Top week

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0

Voting poll

আপনি কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান?