দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমদানিকৃত জ্বালানি দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে আরও দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ ও ‘এলপিজি সেভেন’ নামের জাহাজ দুটি বর্তমানে খালাস কার্যক্রমে রয়েছে। এর মধ্যে ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ বুধবার এবং ‘এলপিজি সেভেন’ শুক্রবার (২০ মার্চ) মূল বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ গত ১৫ মার্চ বন্দরে পৌঁছে বর্তমানে ব্রাভো মুরিং এলাকায় অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি খালাস হয়েছে এবং ১৯ মার্চের মধ্যে পুরো খালাস শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘এলপিজি সেভেন’ গত ৮ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ২০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস করা হয়েছে। ২০ মার্চের মধ্যে জাহাজটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মোট ২৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজের মধ্যে অধিকাংশই কার্গো খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান ও ভারত থেকে আসা এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, অ্যাঙ্গোলা, থাইল্যান্ড ও ওমান থেকে আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম বলেন, জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন জাহাজগুলোর আগমনে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে চট্টগ্রামের সাতজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী। চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী মিজানুর রহমান মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন–কে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আরিফ উর রহমান চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫–এর ২৬ (১) ও ২৬ (২) ধারায় আনা অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত সাত সাংবাদিক হলেন—দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সবুর শুভ, চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ মার্চ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এলে বাদী সাংবাদিক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলা ও ভাঙচুর এবং নারী আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলে ধরেন। এ বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে হামলার অভিযোগ জানিয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত সাংবাদিকেরা ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার বলেন, গণমাধ্যমে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় সাংবাদিকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। নারী আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছনার বিষয়েও সাংবাদিকেরা অবগত নন। বরং গত ৪ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকের সময় সংঘবদ্ধভাবে কিছু ব্যক্তি পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় রিদুয়ান সিদ্দিকী ও তাঁর সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে শারীরিক হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অন্যদিকে মামলার বাদী রিদুয়ান সিদ্দিকী বলেন, তিনি কাউকে হুমকি দেননি। বরং অভিযুক্ত এক সাংবাদিক তাঁর বিরুদ্ধে ফেসবুকে নেতিবাচক পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি রিদুয়ান সিদ্দিকী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে ছাত্রদলে যোগ দেন। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করেন চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। এদিকে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন। তারা দ্রুত মামলাটি প্রত্যাহার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা, সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কিছু নেতা–কর্মী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) ভোরে নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় উড়ালসড়কের নিচে কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা করেন। পরে এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৫৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে কয়েকজন ব্যক্তি স্লোগান দিচ্ছেন। সেখানে ‘আজকের এই দিনে, মুজিব তোমায় মনে পড়ে’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “ভিডিওটি আমরা দেখেছি। এতে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।” পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙামাটিতে National Citizen Party (NCP) জেলা কমিটির সাতজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে তাদের পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করে। পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব উজ্জল চাকমা, সংগঠনিক সম্পাদক দিবাকর চাকমা ও মিশন চাকমা, সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক ঊষাপ্রু মারমা, দপ্তর সম্পাদক প্রনয় বিকাশ চাকমা এবং সদস্য বিনয় চাকমা ও সুলেখা চাকমা। পদত্যাগপত্রে নেতারা জানান, আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে তারা দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় নীতি ও জোট রাজনীতি ঘিরে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। পদত্যাগকারীরা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটি তার স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে অন্য একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের জন্য সেই আদর্শে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব উজ্জল চাকমা পদত্যাগপত্রে লেখেন, তিনি অনেক আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। শুরুতে দলটিকে বহুত্ববাদে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক শক্তি মনে হলেও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে দলের স্বতন্ত্র অবস্থান দুর্বল হয়েছে বলে তার ধারণা। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে উজ্জল চাকমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। রাঙামাটি জেলা এনসিপির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা বলেন, কয়েকজন নেতার পদত্যাগের খবর তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত আবেদন পাওয়া যায়নি। সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি যাচাই–বাছাই করা হবে বলেও জানান তিনি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক, নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর একই কক্ষে অবস্থানকারী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বিভাগের ভেতর থেকে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে। দ্রুত তাদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আসমা সাদিয়া রুনা–কে মৃত ঘোষণা করেন বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইমাম হোসাইন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার চেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জটিল পরিস্থিতি হিসেবে তদন্ত করছে। তবে হত্যার কারণ বা ঘটনার পেছনের বিস্তারিত এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সহযোগিতা করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
চট্টগ্রাম নগরে এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর এবং হত্যার হুমকির অভিযোগে আহমেদ কবীর (৪৭) নামে এক কথিত সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে খুলশী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি নিজেকে ‘অর্থনীতি’ নামক একটি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরের লালখান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে দক্ষিণ খুলশী গরিবুল্লাহ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সিরাজকে (৪৫) একদল দুর্বৃত্ত বেআইনিভাবে ঘেরাও করে। এ সময় আসামিরা সিরাজের কাছে চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা করার বিনিময়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এমনকি সাত দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারি আহমেদ কবীরসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন—সৈয়দ মোহাম্মদ বাচ্চু (৪৩), মোহাম্মদ আবদুল মন্নান (৩৯) ও সৈয়দ মোহাম্মদ মাইনুল হক (৪০)। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চাঁদাবাজি ও মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কবীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মাসুদ কামাল জানান, গ্রেফতার কবীর নিজেকে সম্পাদক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নতুন বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণের আগে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ এখন চরম উত্তপ্ত। ভোট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে নগদ অর্থ বিতরণ এবং ঘর নির্মাণের প্রলোভন দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে উভয় পক্ষই। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জোট নেতা রেজাউল করিম সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিএনপি আচরণবিধি তোয়াক্কা না করে ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিলোচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তায় যুবদল কর্মীরা ভোট কিনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এছাড়া প্রশিক্ষণ ছাড়াই ১১ জন প্রিসাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পাল্টা অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি জানান, জামায়াতের নেতাকর্মীরা দিনের বেলায় শান্ত থাকলেও রাতের অন্ধকারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা বিলোচ্ছেন। এমনকি ভোট দিলে ঘর বানিয়ে দেওয়ার মতো অবাস্তব প্রলোভন দেখাচ্ছেন তারা। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় জনতা এ ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত একজনকে হাতেনাতে ধরে সতর্কও করে দিয়েছে। এদিকে স্থানীয় সূত্র এবং কয়েকজন ইউপি সদস্যের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকেই পুরো জেলায় টাকার ছড়াছড়ি চলছে। ভোটারদের মন জয়ে দুই পক্ষই পর্দার আড়ালে বড় অংকের অর্থ লেনদেন করছে বলে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে চাউর হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানিয়েছেন, "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগগুলো আমাদের নজরে এসেছে। যদিও এখনো কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবুও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে।" অন্যদিকে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থী রেজাউল করিমকে এরমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, পুনরায় বিধি ভঙ্গ করলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। লক্ষ্মীপুরের এই ‘ভোট যুদ্ধের’ শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে এখন ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট বিপ্লবের অপেক্ষায় পুরো দেশ।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর এলাকায় আয়োজিত অবরোধ কর্মসূচি থেকে আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক নেতা ইব্রাহিম খোকন। শ্রমিক নেতাদের প্রধান দাবিগুলো হলো: এনসিটি জেটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া বন্ধ করা। চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর দেওয়া বদলির আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার। হুমকি ও দমনের অভিযোগ: শ্রমিক দলনেতা ইব্রাহিম খোকন অভিযোগ করে বলেন, নৌ-উপদেষ্টা শ্রমিকদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের এমন দমন-পীড়নের প্রতিবাদেই তারা এই কঠোর পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রভাবিত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি: ইতিমধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে বন্দরের সিসিটি ও এনসিটিসহ সব টার্মিনালে পণ্য ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জাহাজ জেটিতে বসে থাকায় এবং রপ্তানি পণ্য আটকে পড়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিজিএমইএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর ফলে পোশাক খাতের শিপমেন্ট শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। পুলিশি বাধা এবং কর্তৃপক্ষের অনমনীয় অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৯ মাসের জন্য সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আজ শনিবার চলতি মৌসুমের শেষ দিনে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটকবাহী জাহাজগুলোই এ বছরের জন্য শেষ ট্রিপ সম্পন্ন করছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্ট মার্টিনের প্রবাল ও সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান রক্ষায় পর্যটন মৌসুমকে সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম ৩১ মার্চ পর্যন্ত থাকলেও এবার তা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি করা হয়েছে। নভেম্বর: শুধু দিনে ভ্রমণ (রাতযাপন নিষিদ্ধ ছিল)। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি: দৈনিক সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের অনুমতি ছিল। ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর: পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হঠাৎ করে মৌসুম ২ মাস কমিয়ে আনায় দ্বীপের প্রায় ১০ হাজার মানুষের জীবিকা এখন চরম হুমকির মুখে। হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের দাবি: সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান জানিয়েছেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ী এবার লাভের মুখ দেখেননি, বরং লোকসানে পড়েছেন। অনেক বিনিয়োগকারী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পর্যটন উন্মুক্ত রাখার দাবি জানালেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। স্থানীয়দের হাহাকার: দ্বীপের রিকশাচালক নুর আজিম বলেন, “রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছিলাম, কিন্তু দুই মাসে টাকা তুলতে পারিনি। কাল থেকে পর্যটক বন্ধ, এখন আবার মাছ ধরতে সমুদ্রে যেতে হবে।” কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন নিশ্চিত করেছেন যে, আজ বিকেলের পর আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছাড়বে না। এছাড়া দ্বীপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে: সৈকতে আলো জ্বালানো ও বারবিকিউ পার্টি। পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার। মোটরচালিত সি-বাইক বা মোটরসাইকেল চলাচল। চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন। তবে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ওপর কড়াকড়ি থাকায় আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার পর্যটন খাতের সামগ্রিক আয় অনেক কম হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে তিন বছর বয়সী এক শিশু। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, গর্তে পড়া শিশুটির নাম মিসবাহ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস। কূপের গভীরতা যাচাই এবং শিশুটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিস আসার আগে টর্চলাইট ও গাছের ডাল ব্যবহার করে শিশুটিকে উদ্ধার বা ধরে রাখার চেষ্টা চালান স্থানীয়রা। এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত নলকূপের গর্তে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ সময় ‘আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ’-এর একটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর সমর্থকদের মধ্যে এই বিরোধের সৃষ্টি হয়। রাত ১০টার দিকে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ শেষে একটি মিছিল আমবাগান রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কোকো স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। জামায়াতের দাবি: প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী অভিযোগ করেন যে, বিএনপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের মিছিলে পাথর নিক্ষেপ করেছে। এতে তাদের অন্তত ৭ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন। বিএনপির দাবি: নগর বিএনপির সাবেক নেতা এস কে খোদা তোতন অভিযোগ করেন, বহিরাগতরা এসে অতর্কিতে তাদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। কার্যালয়ের ভেতরে থাকা কর্মীরা কেবল আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে অফিস ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন। হামলার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আরাকান আর্মির ছোঁড়া গুলিতে বাংলাদেশি দুই কিশোর আহত হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জিমংখালী ও কাঞ্জর পাড়ার মাঝামাঝি নাফ নদী সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। আহত কিশোরা হলো- টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়ার শেখ কামালের ছেলে মো. সোহেল (১৬) এবং একই এলাকার মো. ইউনুসের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (১৭)। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র জানান, সকালে স্থানীয় কিশোর সোহেল ও ওবায়দুল্লাহ নাফ নদীর জিমংখালী ও কাঞ্জর পাড়ার মাঝামাঝি সীমান্তে যায়। এক পর্যায়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির ছোঁড়া গুলিতে ওই দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের মাথা, হাত ও পায়ে গুলি লেগেছে। তিনি বলেন, তবে আঘাতের ধরণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, গুলির আঘাত কোনো ভারী অস্ত্রের নয়। এর আগে ১৩ জানুয়ারি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্তে আরাকান আর্মির ছোঁড়ার গুলিতে সুমাইয়া হুজাইফা (১১) নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তার পরের দিন ওই এলাকায় মিয়ানমারের পোঁতা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবক পা হারান।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় পরিবর্তন এল। ঋণ খেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাতিল হওয়া বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পথটি ছিল বেশ কণ্টকাকীর্ণ: মনোনয়ন বাতিল: গত ১৮ জানুয়ারি ঋণ খেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে। ঋণ পুনঃতফসিল: এর আগে হাইকোর্ট তাঁর নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিলেও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত তা স্থগিত করেছিলেন। চেম্বার আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: গত ২২ জানুয়ারি ঋণ পুনঃতফসিল করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্টের আগের আদেশটি (নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত) বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। আজকের শুনানিতে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল যুক্তি দেখান যে, ঋণ পুনঃতফসিল হওয়ায় তিনি আর খেলাপি নন। আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন এবং তাঁকে নির্বাচনী প্রতীকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, শুনানিতে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী উপস্থিত থেকে বিরোধিতা করলেও আদালত তা আমলে নেননি। সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ফটিকছড়ির নির্বাচনী মাঠে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এতদিন এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে জামায়াত ও অন্যান্য প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, এখন ভোটের লড়াইয়ে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হলো।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতের বিরুদ্ধে জোটের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন ও শরিক দলের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, ১১ দলীয় ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামায়াত প্রার্থী মাঠে অনড় থাকা এবং এনসিপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘বয়কট’ স্লোগান দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। তারা জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বোয়ালখালী উপজেলায় এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এনসিপির বোয়ালখালী উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল আরিফকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এলাকায় রাজনৈতিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নেতাদের অভিযোগ, বোয়ালখালীতে ডা. আবু নাসেরের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবেই জোটের প্রার্থী জোবাইরুল আরিফের বিরুদ্ধে মিছিল করা হয়েছে এবং সেখানে ‘এনসিপি বয়কট’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং ‘জোটের ঐক্যের পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেন এনসিপি নেতারা। এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত সমঝোতায় এনসিপিকে চট্টগ্রাম-৮ সহ সারাদেশে ৩০টি আসন দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এনসিপি কেবল এই একটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জোটের অন্য শরিকরা সরে দাঁড়ালেও জামায়াত প্রার্থী এখনও অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তারা বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়েছে, জামায়াতের এ ধরণের কর্মকাণ্ড সেই শক্তির ক্ষতি করছে। আমরা জানতে চাই, চট্টগ্রাম-৮ আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না এবং জোটের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা হচ্ছে কি না। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সেলিম, বোয়ালখালী উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী আবরার হাবিব, ফয়সাল রায়হান এবং যুবশক্তি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির সংগঠক সাঈদ বিন ইব্রাহিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রাম: ১৬ বছর ধরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগানে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। একই সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়ে সারা দেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ইনশাআল্লাহ আজ আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে চট্টগ্রামবাসী দেশের গণতন্ত্র ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ আছি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির মহাসমাবেশে চসিক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শুধু একটি বন্দরনগরী নয়, এটি বীর প্রসবিনী ঐতিহাসিক জনপদ, যেখান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল। এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সূচনার ঘোষণা দেন। একই চট্টগ্রামের জনসমুদ্র থেকেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আপসহীন নেত্রীর উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়তে তারেক রহমানের সহযোগিতা কামনা করে মেয়র বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়তে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে বিশ্ববাণিজ্যের হাব এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব৷ তিনি জানান, আওয়ামী লীগের সময় মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমি মেয়র হওয়ার পর গত এক বছরে চট্টগ্রাম নগরীর চার লাখ পরিবারকে ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হয়েছে। যেসব পরিবার দীর্ঘ ১৬ বছরে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তাদের জন্য এই উদ্যোগ একটি ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ। তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি সবুজ খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২টি খেলার মাঠের কাজ শেষ হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বাকি মাঠগুলোও বাস্তবায়ন করা হবে।
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের নির্বাচনি মাঠে দেখা দিয়েছে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত রাজনৈতিক চিত্র। ছেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী, অথচ বাবা সক্রিয়ভাবে ভোট চাইছেন বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ইতোমধ্যে রামগঞ্জে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম এবারের নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে তার বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা রামগঞ্জ উপজেলার ৪নং ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা ইছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিমের সঙ্গে একাধিক পথসভায় অংশ নেন। এসব সভায় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা বলেন, রাজনীতি তার আদর্শ ও বিশ্বাসের জায়গা। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলেই তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে রয়েছেন। তবে বাবা হিসেবে তিনি ছেলের জন্য দোয়া করেন বলেও উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে এনসিপির প্রার্থী মাহবুব আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে, তবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি নন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সাধারণ মানুষের আলোচনায় বিষয়টি বেশ আলোড়ন তুলেছে। অনেককে বলতে শোনা গেছে, “ঘর না গুছিয়ে মাঠ গোছানো সম্ভব নয়।” এই ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক অবস্থান রামগঞ্জের নির্বাচনি রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘দুর্বৃত্তদের’ গুলিতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার টিপু চৌধুরী (৫০) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় প্রিটোরিয়ার কোয়ামথলাংগা এলাকায় তার নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত টিপু চৌধুরী মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের নিজামপুর তছি সরকার বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে। নিহতের চাচাতো ভাই লিটু চৌধুরী জানালেন, টিপু প্রায় ৩৫ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে টিপু তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসেছিলেন। হঠাৎ কিছু দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছোড়ে। এছাড়া, টিপুর আরও এক ভাই, আবু সায়েম চৌধুরী, ২০ বছর আগে একইভাবে গুলিতে নিহত হন। এ সময় প্রবাসী আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমি ছুটিতে দেশে রয়েছি। শুনে খুব খারাপ লাগছে। টিপু ভাইয়ের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে।” নিহতের মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় থানায় রয়েছে এবং দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস