অর্থনীতি

ড. অলিভার কুটজ জেটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর

জেটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ লিমিটেড ড. অলিভার কুটজকে নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে তিনি ঢাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।   ড. কুটজের তামাক শিল্পে দুই দশকেরও বেশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ২০০০ সালে রিমৎসমা/ইম্পেরিয়াল ব্র্যান্ডস-এ কর্মজীবন শুরু করেন এবং এশিয়া, ককেশাস, পূর্ব ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় একাধিক সিনিয়র কমার্শিয়াল ও জেনারেল ম্যানেজমেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।   তার নেতৃত্বের যাত্রায় তিনি তাইওয়ানে মার্কেটিং ডিরেক্টর, ককেশাস, ইউক্রেন ও রাশিয়ায় জেনারেল ম্যানেজার এবং আইটিজি ব্র্যান্ডস ইউএসএ-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ থেকে সেন্ট্রাল ও ইস্টার্ন ইউরোপ অঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার এবং সর্বশেষ যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া মার্কেটিংয়ে তাঁর পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে।   বাংলাদেশের বাজার প্রসঙ্গে ড. কুটজ বলেন, “বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বাজার। এখানে দায়িত্বশীলভাবে প্রবৃদ্ধির অনেক সুযোগ আছে। আমি আমাদের টিম ও অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করে ব্যবসার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে চাই। একই সঙ্গে নীতিমালা নিশ্চিত করে বাজারে জেটিআই-এর উপস্থিতির ধারাবাহিক উন্নয়নে অবদান রাখতে আমি উদ্‌গ্রীব।”

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ঐতিহাসিক শুল্ক চুক্তি চূড়ান্ত

দীর্ঘ দরকষাকষি আর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে চূড়ান্ত হলো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক 'অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড' (ART)। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক নীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। জেনে নিন এই চুক্তির ফলে আপনার ব্যবসা বা দেশের অর্থনীতিতে কী কী পরিবর্তন আসছে। পোশাক খাতে বিশাল জয়: যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা বা সুতা আমদানি করে তৈরি পোশাক রপ্তানি করলে মিলবে ১০০% শুল্কমুক্ত সুবিধা! বর্তমানে চালু হওয়া ১৯% বাড়তি শুল্ক গুণতে হবে না এই খাতে।   ২৫০০ পণ্যে শূন্য শুল্ক: ওষুধ, প্লাস্টিক, কাঠ এবং কৃষিপণ্যসহ আড়াই হাজার বাংলাদেশি পণ্য এখন সরাসরি শূন্য শুল্কে প্রবেশ করবে মার্কিন বাজারে।   স্বল্প শুল্কের সুফল: প্রাথমিক প্রস্তাবিত ২০% শুল্ক থেকে কমিয়ে তা ১৯%-এ নামিয়ে এনেছে বাংলাদেশ সরকার।   এক্সিট ক্লজ বা বাতিলের সুযোগ: অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সুযোগ না থাকলেও, বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধে চুক্তিতে থাকছে ‘চুক্তি বাতিলের’ বিশেষ ধারা।   ১০ বছরের দীর্ঘ সময়সীমা: মার্কিন পণ্যের জন্য শুল্ক কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পেয়েছে, যা দেশের স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেবে।   চুক্তির বিস্তারিত ও প্রভাব: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা কেবল টিকে থাকবে না, বরং বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানির উৎস পরিবর্তন করে মার্কিন তুলা ব্যবহার করলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা বিশাল অংকের শুল্ক সাশ্রয় করতে পারবেন।   এছাড়াও আইপিআর, ই-কমার্স এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিতে নতুন কোনো কঠোর শর্ত যোগ করা হয়নি, বরং বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলোকেই (ILO, WTO) পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিমা, তেল ও গ্যাস খাতে মার্কিন অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পথ আরও সুগম হলো।   বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর এবং ওয়াশিংটন দূতাবাসের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সম্পাদিত এই চুক্তিটি বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্যিক প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ঢাকার জলাশয় রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা
ঢাকার জলাশয় রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা

ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পানিদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় চার হাজার কোটি টাকারও বেশি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ অর্থায়ন অনুমোদন পায়।   বুধবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   কোন প্রকল্পে ব্যয় হবে অর্থ? ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো নদী, খাল ও অন্যান্য জলাশয়ের দূষণ কমানো, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা।   এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি প্রায় ৫ লাখ মানুষ উন্নত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আসবেন। দূষণপ্রবণ ও সেবাবঞ্চিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।   কেন এই প্রকল্প জরুরি? বিশ্বব্যাংকের মতে, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।   বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, ঢাকার জলাশয়গুলো কোটি মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সেগুলো মারাত্মকভাবে দূষিত হয়েছে। নতুন এই প্রকল্প নদী ও খালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করবে।   বর্তমান পরিস্থিতি কী? বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ পাইপযুক্ত স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। বাকি ৮০ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য সরাসরি নদী ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ে। এছাড়া শহরের অর্ধেকের বেশি খাল দখল, ভরাট বা দূষণের কারণে অস্তিত্ব হারিয়েছে।   দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানা ঢাকা ও আশপাশে অবস্থিত। সাত হাজারের বেশি কারখানা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত বর্জ্যপানি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও স্নায়বিক সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।   কীভাবে কাজ হবে? বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ওয়াটার স্পেশালিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার হর্ষ গোয়েল জানান, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। প্রথম ধাপে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ শুরু হবে।   এ প্রকল্পের আওতায়— নদীর পানির মান পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং চালু করা হবে সমন্বিত নদী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা নেওয়া হবে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন ও আধুনিকায়ন করা হবে পানি পুনর্ব্যবহার বাড়ানো হবে প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালিত হবে   উদ্দেশ্য হলো—কেউ যেন সরাসরি ড্রেন বা নদীতে বর্জ্য না ফেলে এবং নগরবাসীর জন্য একটি টেকসই ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে ওঠে।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
মাসিক ১৮১৮ টাকায় আকাশপথে কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ
মাসিক ১৮১৮ টাকায় আকাশপথে কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ

বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার কক্সবাজার ভ্রমণে আকর্ষণীয় একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। মাত্র ১,৮১৮ টাকা মাসিক কিস্তিতে দুই রাতের এই ভ্রমণ সুবিধা পাওয়া যাবে। অফারটি আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চালু থাকবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।   এই প্যাকেজটি নিতে হলে অন্তত দুইজনের জন্য বুকিং করতে হবে। প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত সুবিধার মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারে যাওয়া-আসার বিমান টিকিট (সব ধরনের ট্যাক্স ও সারচার্জসহ), হোটেলে থাকা, বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাতায়াত এবং সাহ্‌রি অথবা ইফতারের ব্যবস্থা।   ছয় মাসে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করা যাবে এবং এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো সার্ভিস চার্জ বা সুদ দিতে হবে না। দেশের শীর্ষ ২৪টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে গ্রাহকেরা এ প্যাকেজ কিনতে পারবেন।   ভ্রমণকারীরা কক্সবাজারের ১৫টি হোটেলের মধ্যে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী আবাসন বেছে নিতে পারবেন। নির্বাচিত হোটেলের ধরন ও রুমের মান অনুযায়ী প্যাকেজের মূল্য পরিবর্তিত হবে। তালিকাভুক্ত হোটেলের মধ্যে রয়েছে সি প্যালেস, উইনডি টেরেস, গ্রেস কক্স স্মার্ট হোটেল, হোটেল কল্লোল, নিসর্গ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ, বেস্ট ওয়েস্টার্ন বে হিল, কক্স টুডে, লং বিচ হোটেল, ওশান প্যারাডাইস, গ্রিন নেচার রিসোর্ট অ্যান্ড সুইট, সীগাল হোটেল, রামাদা, ডেরা রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা এবং সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা।   এ ছাড়া নভোএয়ারের ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার প্রোগ্রাম ‘স্মাইলস’-এর সদস্যরা ভ্রমণের মাধ্যমে পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ পয়েন্ট জমা হলে তারা বিনামূল্যে টিকিটসহ বিভিন্ন সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। অংশীদার বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকেও বিশেষ ছাড় পাওয়া যাবে। নভোএয়ারের ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের মাধ্যমে সহজেই স্মাইলস সদস্য হওয়া যায়।   বর্তমানে নভোএয়ার ঢাকা থেকে কক্সবাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীও এসময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্ত্র দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বিস্তারিত আসছে...

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
গৃহঋণের পুনঃতপশিলের জন্য নতুন নির্দেশনা
গৃহঋণের পুনঃতপশিলের জন্য নতুন নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের বিদ্যমান ঋণের মেয়াদকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে গৃহঋণ পুনঃতপশিল করতে পারবে। তবে সর্বশেষ কিস্তি গ্রাহকের ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে পরিশোধ করতে হবে। এর আগে এই সীমা ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতো। নতুন এই নির্দেশনা সব ব্যাংকে সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, সাধারণভাবে গৃহনির্মাণ ঋণের মেয়াদ দীর্ঘ হয়। ২০২২ সালে গৃহঋণের পুনঃতপশিল ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসারে, ১০০ কোটি টাকার কম ঋণের ক্ষেত্রে পুনঃতপশিলের পর সর্বোচ্চ ছয় বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো যেত। তবে এই নিয়মের কারণে অনেক সময় ঋণের শোধের সময় কমে যেতে পারতো এবং গ্রাহক সব সময় ঋণের মেয়াদ বাড়াতে পারতেন না। তাই নতুন নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়েছে।   নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুনঃতপশিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। প্রথম দফায়, অবশিষ্ট মেয়াদ অনুযায়ী ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সময় বাড়ানো যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ঋণের শেষ কিস্তি পরিশোধে ১০ বছর বাকি থাকে, তবে প্রথম দফায় আরও ৩ বছর বাড়ানো সম্ভব। দ্বিতীয় দফায় ২০ শতাংশ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় অবশিষ্ট মেয়াদ সমপরিমাণ বাড়ানো যাবে।   তবে কোনোভাবেই ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ মূল ঋণ মঞ্জুরির সময়ের চেয়ে বেশি হবে না। এছাড়া শেষ কিস্তির তারিখ কখনোই গ্রাহকের ৬৫ বছর বয়স অতিক্রম করবে না। অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুনঃতপশিল ঋণ অধিগ্রহণে পূর্ববর্তী পুনঃতপশিলের ক্রম অনুসরণ করতে হবে এবং গ্রাহকের থেকে একটি ঘোষণাপত্র নেওয়া আবশ্যক। পুনঃতপশিলের আগে মূল ঋণ মঞ্জুরির সব প্রযোজ্য শর্ত এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন পূর্ণ করতে হবে।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
বিকাশ-নগদ-রকেটে এক হাজারের বেশি লেনদেন করা যাবে না

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) এক হাজার টাকার বেশি লেনদেন করা যাবে না। একদিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে।   রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে।     এতে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও এনপিএসবি’র আওতাধীন আইবিএফটি’র মাধ্যমে পিটুপি লেনদেনের অপব্যবহার রোধে সোমবার (৯ ফেব্রুযারি) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুযারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (৯৬ ঘণ্টা) মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যক্তি হিসাবের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।   নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিকাশ, রকেট ও নগদসহ সব এমএফএস গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিবার লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা। এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে।   মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং ইউটিলিটি বিল-এর ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত লেনদেনের বিধান অপরিবর্তিত থাকবে। তবে এই ৯৬ ঘণ্টা অন্যান্য সব ধরনের এমএফএস লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।   বর্তমানে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ও মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষ্যে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার কর্তৃক নিজস্ব কুইক রেসপন্স সেল গঠন করতে হবে। এসময় সব ধরনের লেনদেন এমএফএস প্রোভাইডার কর্তৃক সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণ (ক্লোজ মনিটরিং) এর আওতায় আনা এবং সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট করতে হবে।   একইসঙ্গে আলোচ্য ৯৬ ঘণ্টায় পি-টু-পি ইন্টারনেট ব্যাংকিং (আইবিএফটি এর মাধ্যমে লেনদেন) সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং এমএফএস প্রোভাইডার ও ব্যাংকগুলো নির্বাচন কমিশন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আশিক চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী জানান, আজ রবিবার ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ওই চিঠি এসেছে। চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইজারা চুক্তি নিয়ে চলমান দর-কষাকষির (নেগোসিয়েশন) অগ্রগতির প্রশংসা করেছে এবং এটা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, এই নেগোসিয়েশন ভবিষ্যতে আরও এগোবে এবং সঠিক দিকেই যাবে। নেগোসিয়েশনের অগ্রগতি প্রশংসার পাশাপাশি ডিপি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, শেয়ার করা খসড়া কনসেশন চুক্তি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তবে তারা এটি আরও পুনর্মূল্যায়ন (রিভিউ) করার জন্য কিছু সময় চেয়েছে। আশিক চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ রয়েছে আর দুই কার্যদিবস। যেহেতু তারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) সময় চেয়েছে, সে কারণে বিষয়টি বর্তমান সরকারের আমল পেরিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গিয়ে নেগোসিয়েশনটি আবারও কন্টিনিউ হতে পারে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী বলেন, এই সরকারের সময়ে চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না, আমার মনে হয়, এটা নিশ্চয়তার মাত্রা বিবেচনায় বলা যায়। কারণ আর দুই কার্যদিবস আছে। এর মধ্যে ওনারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) ফেরত আসবে, তারপর আমরা আমাদের ক্যাবিনেটে নিয়ে এটাকে অনুমোদন করিয়ে স্বাক্ষর করব, সময়ের বিবেচনায় এই প্রক্রিয়াটা খুব কঠিন হবে। আশিক চৌধুরী জানান, নিউমুরিং টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়া নিয়ে ২০১৯ সালে কাজ শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে প্রকল্পটির চূড়ান্ত ধাপের দর-কষাকষি শুরু হয়েছিল।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ছবি: সংগৃহীত
১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
ফেব্রুয়ারির প্রথম ৪ দিনে প্রবাসী আয় ৫০ কোটি ডলার

চলতি মাসের প্রথম চার দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ছয় হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রবাস আয় এসেছে দুই হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।   বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে প্রবাস আয় এসেছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ।    অপরদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাস আয় এসেছে ১ হাজার ৯৯৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাস আয় এসেছিল ১ হাজার ৬৩৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।   অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈধ পথে ডলারের বিনিময় হার বাজারমুখী করা এবং প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার সুফল মিলছে অর্থনীতিতে।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক ক্রয় অভিযান

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বাজার থেকে ডলার ক্রয় অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৯ কোটি ৬৫ লাখ বা ১৯৬.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।     বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন ডলার ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিনিময় হার ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, এই ক্রয়ের ফলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮৬ মিলিয়ন বা ৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ডলার ক্রয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৫১৯.৫০ মিলিয়ন বা ৪৫১ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার।   এর আগে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ বা ১৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইভাবে গত রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬টি ব্যাংক থেকে আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ বা ২১৮.৫০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়, যার বিনিময় হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।   এছাড়া গত ২৯ জানুয়ারি পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ২০ জানুয়ারি দুই ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ক্ষেত্রেও একই বিনিময় হার বহাল ছিল।     বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখা, রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং ডলারের চাহিদা-জোগানের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়   মিত এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
দুই দিনের ব্যবধানে আরও ১৭ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

দুই দিনের ব্যবধানে দেশের ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ (১৭১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ক্রয় করা এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ডলার কেনার ক্ষেত্রে কাট-অফ হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এর আগে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ (২১৮.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এর ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৩৮৯.৫০ মিলিয়ন বা ৩৮ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।   একই দরে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ (৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২০ জানুয়ারি দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আজ আমরা ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছি। এর ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৩৮৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়াল ৪ হাজার ৩২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।  

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে নতুন পরিকল্পনা চীনের

বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী অবস্থান ও ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে চীন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতির কারণে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ডলারের মান চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যার দাম আউন্সপ্রতি সাড়ে ৫ হাজার ডলারেরও বেশি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব মুদ্রা রেনমিনবিকে বিকল্প বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখছে চীন।   বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সিএনএনের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান আদর্শিক সাময়িকী কিউশিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি রেনমিনবিকে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রায় রূপ দেয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন। বর্তমানে এই ভূমিকা পালন করছে মার্কিন ডলার, যা অধিকাংশ আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রধান মুদ্রা এবং বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত।   যদিও খুব শিগগিরই ডলারের অবস্থান বদলে যাবে- এমনটা কেউই আশা করছে না, তবে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ডলারের মূল্যে বড় ধরনের পতন সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। চিউশির প্রতিবেদন বলছে, শি জিনপিং সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছেন, চীনের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি “শক্তিশালী মুদ্রা” গড়ে তোলা, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হবে। এর পাশাপাশি একটি “ক্ষমতাশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক” থাকবে, যা বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বৈশ্বিক মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারবে।   ২০২৪ সালে ব্যক্তিগতভাবে দেয়া এই মন্তব্য এখন প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। অর্থাৎ চীন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার ফলও পাচ্ছে।   কেন এখন চীনের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ? এক দশকের বেশি সময় ধরে রেনমিনবিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে চীন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং তথাকথিত “ডি-ডলারাইজেশন” প্রবণতা চীনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। ট্রাম্পের ধারাবাহিক শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রার ওপর আস্থা কমিয়েছে। একই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা (জেরোম পাওয়েলের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর ট্রাম্পের কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন) মার্কিন মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।   গত বছর থেকেই বিনিয়োগকারীরা ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছেন। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ পর্যন্ত ইউরোর বড় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে ডলারের বিকল্প খুঁজতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে অনেক দেশ।   কেন রিজার্ভ মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রেটন উডস চুক্তির মাধ্যমে ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডলার বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে কম সুদে বিদেশ থেকে ঋণ নেয়া এবং অন্যান্য দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ডলারের পাশাপাশি ইউরো, রেনমিনবি, জাপানি ইয়েন, কানাডীয় ও অস্ট্রেলীয় ডলার, পাউন্ড স্টার্লিং এবং সুইস ফ্রাঁসহ আরও ৭টি মুদ্রাকে রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। চীন রেনমিনবির অবস্থান শক্তিশালী করে মার্কিন আর্থিক আধিপত্য থেকে নিজেকে সুরক্ষিত করতে চায়। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য ও অর্থায়নে নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির পরিকল্পনায় এগোচ্ছে বেইজিং।   রেনমিনবিকে শক্তিশালী করতে চীনের পদক্ষেপ চীন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার, বন্ড ও পণ্যের মতো আর্থিক খাতে প্রবেশাধিকার বাড়িয়েছে এবং সীমান্তপারের লেনদেন সহজ করেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক লেনদেনে রেনমিনবির ব্যবহার বেড়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে রেনমিনবির ব্যবহার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে।   গত গ্রীষ্মে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পান গংশেং বলেন, রেনমিনবি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অর্থ মুদ্রা এবং তৃতীয় বৃহত্তম পেমেন্ট মুদ্রা। তিনি ডলার আধিপত্যের পরিবর্তে “বহুমুখী মুদ্রা ব্যবস্থা” গড়ে তোলার আহ্বান জানান।   ডলারকে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে এই ব্যাপারে বেশ বিচলিত ট্রাম্পও। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে গঠিত ব্লক ‘ব্রিকস’ একটি নতুন রিজার্ভ মুদ্রা তৈরির ধারণা উত্থাপনের পর যুক্তরাষ্ট্রের মাথা ব্যথা বেড়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যদি কখনও এ ব্যাপারে এগিয়ে যায় তবে তিনি ১০০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবেন।   রেনমিনবি কি সত্যিই ডলার প্রতিস্থাপন করতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, নিকট ভবিষ্যতে ডলারের জায়গায় রেনমিনবি আসার সম্ভাবনা খুবই কম। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক রিজার্ভে ডলারের অংশ প্রায় ৫৭ শতাংশ, ইউরোর ২০ শতাংশ এবং রেনমিনবির মাত্র ২ শতাংশ। চীনও সরাসরি ডলারকে সরিয়ে দেয়ার কথা বলছে না, বরং নিজের মুদ্রার ভূমিকা বাড়াতে চায়।   তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চীনে অর্থ প্রবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাধা। পাশাপাশি রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি ধরে রাখতে চীন হয়তো রেনমিনবির মান তুলনামূলক কম রাখতেই আগ্রহী থাকবে।   ট্রিভিয়াম চায়নার বাজার গবেষণা প্রধান ডিনি ম্যাকমাহন বলেন, ‘ডলার বা ইউরোর মতো পর্যায়ে রেনমিনবির গ্রহণযোগ্যতা পৌঁছাবে- এমন বিশ্ব কল্পনা করা কঠিন। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় বেইজিং অন্তত কিছুটা জায়গা করে নেয়ার সুযোগ দেখছে।’

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.২৫ বিলিয়ন ডলারে

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) পদ্ধতি অনুসারে, বাংলাদেশের নিট রিজার্ভ বর্তমানে ২৮.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বাংলাদেশের

রপ্তানি বাজার সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ)সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারেশুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সচিবালয়ে রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য হওয়ায় এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে লাভবান হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী,গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেমোট ৪৮বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারেই প্রায় ২১বিলিয়ন ডলারের পণ্য পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে এভরিথিং বাট আর্মস সুবিধার আওতায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলেও এলডিসি থেকে উত্তরণের তিন বছর পর অর্থাৎ২০২৯ সালে এই সুবিধা শেষ হবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জিএসপি প্লাস কাঠামোর যোগ্য হতে পারে বলে মনে করা হলেও সেখানে তৈরি পোশাক খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কেননা জিএসপি প্লাস নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট পণ্য ইউরোপের মোট আমদানির ৯শতাংশ ছাড়ালে শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকে না, যেখানে বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট তৈরি পোশাক আমদানির প্রায় ১৬দশমিক৫ শতাংশই বাংলাদেশ থেকে যায়।   এই সুবিধা না থাকলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে গড়ে প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রধান রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তবে ভারতের সঙ্গে ইইউর সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয় বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন,তৈরি পোশাকখাতে সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। বাণিজ্য সচিব আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। জাপানের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।   এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে এক বৈঠকে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রপ্তানি বিশেষ করে তৈরি পোশাক যাতে ইউরোপীয় বাজারে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে পারে,সে জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। অধ্যাপক ইউনূস আরও উল্লেখ করেন যে, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের সাত হাজারের বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে এবং সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ৯ফেব্রুয়ারি. এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক বিষয়ে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাণিজ্য সচিব জানান, আগামী৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য তারিখ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পাল্টা শুল্কের হার২০শতাংশ থাকলেও তা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। চুক্তি সইয়ের উদ্দেশ্যে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ওবাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ঢাকা ছাড়বেন। তারা প্রথমে জাপান যাবেন এবং সেখানে চুক্তি সইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
নতুন অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বাড়াল ভারত

নতুন অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ৭৪ শতাংশ বাড়িয়েছে ভারত ।এর ফলে, দেশটির বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ হয়েছে৬০কোটি রুপি। ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেটের নথির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,ভারতের ২০২৭অর্থবছরে বাংলাদেশকে দেওয়া অনুদান সহায়তা৭৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।দেশে দেশে সময়-সময় ভারতবিরোধী মনোভাব দেখা গেলেও এই সহায়তা বাড়ানো হয়েছে।একই সঙ্গে ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য বরাদ্দ অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং কূটনৈতিক সংবেদনশীলতাই এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। সেই হিসাবে বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে দেওয়ার জন্য ৬০ কোটি রুপি বরাদ্দ রেখেছে ভারত সরকার। আগের অর্থবছরের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী এই অঙ্ক ছিল ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। উল্লেখ্য, ভারতের ২০২৬-এর বাজেট প্রস্তাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি অনুদানের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা পরে সংশোধিত হিসাবের সময় কমিয়ে আনা হয়। অন্যদিকে, ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য নতুন অর্থবছরে কোনো অনুদান দিচ্ছে না ভারত। এর আগে, ’২৪-২৫ অর্থবছরে চাবাহার বন্দরের জন্য ভারত৪০০ কোটি রুপি দিয়েছিল। পাশাপাশি, ’২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে আরও ৪০০ কোটি রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল। কিন্তু নতুন বাজেটে সেই বরাদ্দ পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। ইরানের কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্পে সহায়তা করলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা এবং ভারতের ওপর শুল্কসংক্রান্ত চাপ এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৭অর্থবছরে অনুদান বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানও। দেশটি সবচেয়ে বড় হারে,৫০ শতাংশ অনুদান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ’২৬ অর্থবছরের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী যেখানে আফগানিস্তান ১০০ কোটি রুপি পাচ্ছিল, সেখানে নতুন অর্থবছরে তারা পাবে১৫০ কোটি রুপি। ভারতের বিদেশি সহায়তা প্রাপকদের মধ্যে ভুটান বরাবরের মতোই সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে। দেশটির জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৯ কোটি রুপি অনুদান এবং ৫২০ কোটি রুপি ঋণ। গত অর্থবছরের তুলনায় ভুটানের জন্য বরাদ্দ ১৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, নেপাল, মালদ্বীপ ওমরিশাসের জন্য সহায়তা কমানো হয়েছে। এর মধ্যে মরিশাসের বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি কমেছে, প্রায়৩৩ শতাংশ। নতুন অর্থবছরে দেশটি পাবে ৫৫০ কোটি রুপি। মালদ্বীপও পাবে প্রায় একই পরিমাণ, তবে তাদের বরাদ্দ কমেছে ১২ শতাংশ।নেপালের জন্য বরাদ্দ চার শতাংশ কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ কোটি রুপি। যেসব দেশও অঞ্চলে ভারতের সহায়তা বেড়েছে, তার মধ্যে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির জন্য অনুদান৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ কোটি রুপি। সেশেলসের জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ২৭ শতাংশ, মোট ১৯কোটি রুপি। পাশাপাশি, আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য ভারত২২৫ কোটি রুপি, ইউরেশীয় দেশগুলোর জন্য ৩৮কোটি রুপি এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্য ১২০কোটি রুপি অনুদান বাড়িয়েছে।এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন সহযোগিতায় ভারতের সক্রিয় ভূমিকা আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত মিলছে। সব মিলিয়ে, নতুন অর্থবছরে বিদেশি সরকারগুলোকে অনুদানওঋণ হিসেবে মোট ৮ হাজার ৭৯২ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এটি,২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রস্তাবিত ১২হাজার১০৭ কোটি রুপির তুলনায়২৭ শতাংশ কম। নতুন অর্থবছরের এই মোট সহায়তার মধ্যে৬ হাজার ৯৯৭ কোটি রুপি আসবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এবং অতিরিক্ত১ হাজার ৭৯৪ কোটি রুপি দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে ভারতের বিদেশি সহায়তা কর্মসূচিতে কৌশলগতও আর্থিক পুনর্গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
পারমাণবিক বাংকারে স্বর্ণের পাহাড়, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মোড়

বিশ্ব অর্থনীতির প্রচলিত সমীকরণ বদলে দিয়ে ডিজিটাল মুদ্রার জগতের রাজা ‘টেদার’ (Tether) এখন ভৌত স্বর্ণের বাজারেও একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার গভীরে একটি উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন ভল্টে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১ থেকে ২ টন স্বর্ণ জমা করছে প্রতিষ্ঠানটি।   টেদার হোল্ডিংস-এর বর্তমান স্বর্ণভাণ্ডার অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভকেও ছাড়িয়ে গেছে: বর্তমান মজুত: প্রায় ১৪০ টন স্বর্ণ। বাজারমূল্য: প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক বছরের অগ্রগতি: গত এক বছরেই তারা ৭০ টনের বেশি স্বর্ণ কিনেছে। বাজার প্রভাব: গত বছর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি রেকর্ড ৫,২০০ ডলার ছাড়ানোর পেছনে টেদারের এই আগ্রাসী স্বর্ণ ক্রয়কে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।   টেদারের প্রধান নির্বাহী পাওলো আরদোইনো রসিকতা করে তাঁদের এই আন্ডারগ্রাউন্ড ভল্টকে ‘জেমস বন্ডের আস্তানা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। সুরক্ষা: শীতল যুদ্ধের সময়কার এই পারমাণবিক বাংকারটি স্টিলের পুরু দরজা এবং অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক নজরদারিতে ঢাকা। অভিজ্ঞতা: স্বর্ণ ব্যবস্থাপনার জন্য টেদার বিশ্ববিখ্যাত ব্যাংক এইচএসবিসি (HSBC)-র জ্যেষ্ঠ গোল্ড ট্রেডারদের নিয়োগ দিয়েছে।   পাওলো আরদোইনো জানান, মার্কিন ডলারের ওপর বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাস এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাই তাঁদের এই পথে ঠেলে দিয়েছে। টেদারের লক্ষ্য হলো: স্থায়িত্ব: ডিজিটাল মুদ্রার (USDT) বিপরীতে একটি শক্তিশালী ভৌত সম্পদের ব্যাকআপ রাখা। ডলারের বিকল্প: ভবিষ্যতে অনেক দেশ স্বর্ণ-নির্ভর মুদ্রা ব্যবস্থা (Gold Standard) চালু করলে টেদার যেন ‘বিশ্বের বিকল্প কেন্দ্রীয় ব্যাংক’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।   প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে একটি বেসরকারি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের হাতে এত বিশাল স্বর্ণ মজুত থাকা বিশ্ব অর্থনীতির প্রচলিত মেরুকরণকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টেদারের এই ‘গোল্ডেন ফোর্ট্রেস’ বা স্বর্ণের দুর্গ প্রমাণ করে যে, সরকারি ঋণের চেয়ে এখন ভৌত সম্পদের ওপর আস্থা বাড়ছে।

Unknown জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
দুইদিনের ব্যবধানে সোনার দাম কমলো ৮০ হাজার টাকা!

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে এক অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠলেও, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তা ৪,৮৯০ ডলারে নেমে আসে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে এই ৬৬০ ডলারের দরপতনকে আধুনিক অর্থনীতির ইতিহাসে অন্যতম বড় ‘মার্কেট ক্র্যাশ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।   বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত দুই দিনে দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছে। রেকর্ড মূল্য: গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশে স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। সর্বশেষ পতন: আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দাম অনুযায়ী, ভালো মানের (২২ ক্যারেট) এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। হিসাব: মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩০ হাজার ৩৮৩ টাকা কমেছে।   ১. ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী প্রধান হিসেবে কট্টরপন্থী কেভিন ওয়ার্শকে মনোনীত করার খবরে ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে, যা স্বর্ণের দাম কমিয়ে দিয়েছে। ২. মুনাফা তুলে নেওয়ার হিড়িক: স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বড় বিনিয়োগকারীরা তড়িঘড়ি করে তাদের হাতে থাকা স্বর্ণ বিক্রি করে মুনাফা (Profit Booking) তুলে নিতে শুরু করেছেন। ৩. ভূ-রাজনৈতিক সাময়িক শীতলতা: গ্রিনল্যান্ড বা মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে যুদ্ধের যে তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, কূটনৈতিক তৎপরতায় তা কিছুটা স্তিমিত হওয়ার আভাসে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কমেছে। বাজুস নির্ধারিত বর্তমান মূল্য তালিকা (৩১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর): স্বর্ণের মান প্রতি ভরির বর্তমান মূল্য (টাকায়) ২২ ক্যারেট ২,৫৫,৬১৭ টাকা ২১ ক্যারেট ২,৪৪,০১১ টাকা ১৮ ক্যারেট ২,০৯,১৩৬ টাকা সনাতন পদ্ধতি ১,৭১,৮৬৯ টাকা

Unknown জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
১৪ বছর পর পুনরায় বাংলাদেশ - পাকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হলো

১৪ বছর পর পুনরায়  পাকিস্তানও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৯ জানুয়ারি)রাত ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইট বিজি-৩৪১ করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ১১টায় করাচি পৌঁছালে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে অভূতপূর্ব সংবর্ধনা দেওয়া হয়।উদ্বোধনী ফ্লাইটে১৫০জন যাত্রী ভ্রমণ করেন। উদ্বোধনী ফ্লাইটকে বিদায় জানান বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ওপর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানায়,১৪ বছরের বিরতির পর সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়া দুই দেশের মধ্যে সংযোগ, যোগাযোগ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ওপর্যটন উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা-করাচি রুট চালু হওয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ বাড়বে, পর্যটন খাত বিকশিত হবে এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। তিনি জানান, ধাপে ধাপে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং ভাড়া কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ করা হবে। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানে গিয়ে দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও বৈচিত্র্যময় খাবার উপভোগ করবেন। পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড.মুহাম্মদ ইউনূস এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে সংযোগ জোরদার করাই ছিল নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান,গত বছরের আগস্টে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সময় উভয় দেশ দ্রুত সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে একমত হয়েছিল।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ৫০.৬ শতাংশ বেড়েছে

চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম ২৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৫০.৬ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে প্রবাসীরা ২ হাজার ৯৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।   গত বছর একই সময়ে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ১ হাজার ৯৫৫ মিলিয়ন ডলার।   চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৯ হাজার ২০৯ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ১৫ হাজার ৭৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
৪ কারণে সারাবিশ্বেই বাড়ছে স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের বাজারে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১৬ হাজার টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন এই দাম নির্ধারণ করে। ১. বাংলাদেশের বর্তমান বাজার দর (বাজুস নির্ধারিত): স্বর্ণের মান বর্তমান মূল্য (প্রতি ভরি) পরিবর্তনের পরিমাণ ২২ ক্যারেট (সেরা মান) ২,৮৬,০০১ টাকা + ১৬,২১৩ টাকা ২১ ক্যারেট ২,৭২,৯৯৬ টাকা + ১৫,৪৭৯ টাকা ১৮ ক্যারেট ২,৩৩,৯৮০ টাকা + ১৩,২৬৬ টাকা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১,৯৩,০৩৯ টাকা + ১০,৯৭০ টাকা ২. বিশ্ববাজারে স্বর্ণের রেকর্ড গড়ার ৪টি কারণ: আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিম্নোক্ত চারটি কারণে স্বর্ণের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে: ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের স্থায়িত্ব বিনিয়োগকারীদের ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ধাবিত করছে। ডলারের দুর্বলতা: মার্কিন ডলারের মান গত ৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় স্বর্ণের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ: চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের রিজার্ভে ব্যাপক পরিমাণ স্বর্ণ যোগ করছে। সুদের হার অপরিবর্তিত: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায় বিকল্প বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বেড়েছে। ৩. ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস: স্বর্ণের এই অগ্রযাত্রা এখানেই থামছে না। গোল্ডম্যান স্যাক্স এবং জেপি মরগানের মতো বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষের দিকে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬,০০০ থেকে ৬,৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। যদি আন্তর্জাতিক বাজারের এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি ৩ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

Unknown জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো প্রকাশ: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের খসড়া তালিকা

ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে।   কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে।   প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী—     •    রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন     •    জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী     •    প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান      •    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর     •    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি)     •    পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির     •    অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী)     •    শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান     •    আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান     •    তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন     •    পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান     •    বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির     •    শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু     •    নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ     •    শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান     •    পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু     •    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান     •    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান     •    সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি     •    স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন     •    যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি     •    ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন     •    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী     •    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু     •    কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু     •    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস     •    ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর     •    রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়     •    জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ     •    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী     •    পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান   কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

Top week

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের খসড়া তালিকা
রাজনীতি

প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো প্রকাশ: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের খসড়া তালিকা

নুরুল্লাহ সাইদ ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0