সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাংলাদেশ

প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান ছাত্রদলের তাহসিনের
প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান ছাত্রদলের তাহসিনের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে স্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করেছেন এ আর তাহসিন জাহান। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং তাদের শিক্ষার অধিকার রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।    তাহসিন জাহান নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপউদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস অ্যাওয়ার্ড সাধারণত নিজ নিজ বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে সর্বোচ্চ একাডেমিক ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়।    নিজের পোস্টে তাহসিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের স্নাতকজীবনের শুরু থেকেই তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ পরিশ্রম ও পড়াশোনার পর নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। একসময় যে পুরস্কার অর্জনের জন্য তিনি এতটা পরিশ্রম করেছেন, সেটি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করা তাঁর জন্য সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না বলেও জানান তিনি।    তবে পুরস্কারের মর্যাদার চেয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন বলে জানান তাহসিন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সেই প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতি গ্রহণ করে নিজের অর্জন উদযাপন করতে চাননি।    তাহসিন নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি মবের আক্রমণের শিকার হন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও নিজ বিভাগের ভেতরে হুমকির মুখে পড়েন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নেওয়া এবং স্নাতক থিসিস জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে একপর্যায়ে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেননি বলেও দাবি করেন।    তবে ওই সময় তাঁর বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান তাহসিন। তাঁদের সহযোগিতায় নিরাপদ স্থান থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে তিনি স্নাতক সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। নিজের অর্জনের পেছনে এসব শিক্ষকের অবদানের কথা স্বীকার করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন তিনি।    একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাহসিন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁর মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন শেষ করার সুযোগ পাননি। তিনি দাবি করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এখনো তাঁর মতো সুযোগ পাননি। এই সংখ্যা তাঁর নিজের বক্তব্যের দাবি, এর স্বাধীন কোনো যাচাই বা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।    তাহসিন আরও প্রশ্ন তুলেছেন, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো শিক্ষার্থী এখনো কেন শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছেন না। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার অধিকার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং কোনো শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় তার শিক্ষা গ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে না।    তাঁকে সহযোগিতা করা শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই ডিনস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তাহসিন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি পুরস্কারটির মর্যাদা খাটো করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার অধিকার ও ভবিষ্যৎ হারানো সহপাঠীদের প্রতি সংহতি জানানোর একটি অবস্থান।    ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে এটি তাঁর একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি, অন্যদিকে পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তাঁর উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ০:৩৩
ডাকসু সংগ্রহশালায় গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি সাঁটিয়ে ছাত্র ফেডারেশনের প্রতিবাদ
ডাকসুর সংগ্রহশালায় ‘গো লাম আযমকে জু তাপে টার ছবি’ টানিয়ে প্রতিবাদ জানাল ছাত্র ফেডারেশন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন। এর অংশ হিসেবে সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবির জন্য নির্ধারিত স্থানে যু দ্ধাপ রাধী গো লাম আযমকে জু তাপে টার একটি ছবি সাঁটিয়ে দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সোমবার বেলা ৩টার দিকে ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী ছবিটি সাঁটান। এ বিষয়ে অর্ক বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডাকসু কারও বাপের না। ইতিহাসকে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন কেউ মেনে নেবে না।” ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাগুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে মু ক্তিযু দ্ধের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাদের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক বয়ানকে প্রাধান্য দিয়ে সংগ্রহশালা সাজানো উচিত নয়। জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সংগ্রহশালায় প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে গো লাম আযমকে জু তাপে টার ছবিটি সাঁটানো হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৮:১৭
ভোটে হারলেও প্রতিশ্রুতি রাখলেন আরিফ, প্রথম ধাপে দিলেন ৭২৫টি গাছ
নির্বাচনে হেরেও রাখলেন প্রতিশ্রুতি, রাবিতে ৭২৫টি গাছ দিলেন আরিফ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে যত ভোট পাবেন, ততটি গাছ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ আলভী। নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাননি তিনি। নিজের উপার্জনের অর্থে প্রথম ধাপে ৭২৫টি গাছ দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন এই শিক্ষার্থী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে আয়োজিত এক কর্মসূচির মাধ্যমে ১১ প্রজাতির এসব গাছ বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে কিছু গাছ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। অধিকাংশ গাছ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে সেগুলো যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করা যায়। এ বিষয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “রাকসু নির্বাচনের আগে আরিফ আলভী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যত ভোট পাবেন, জিতুন বা হারুন, ততগুলো গাছ ক্যাম্পাসে দেবেন। তাঁর এমন পরিবেশবান্ধব ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগকে আমরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।” রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম সুলতানা ঐশি বলেন, “প্রতিটি ভোটের বিনিময়ে একটি করে গাছ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখানে একাধিক গাছ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আমার একটি গাছ ভালো লেগেছে, তাই একটি নিয়েছি।” জানতে চাইলে আরিফ আলভী বলেন, “রাকসু নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। আমি ১ হাজার ৭২৫ ভোট পেয়েছিলাম। তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, জিতি বা হারি, যত ভোট পাব, ততগুলো গাছ দেব। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ১১ প্রজাতির ৭২৫টি গাছ দিয়েছি। এগুলো নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে দেশের ৬৪ জেলায় ১ হাজার ৭২৫টি করে গাছ দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:৩০
ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাঁধনের বার্তা, ‘দলকানা না হয়ে পরিবারের কথা ভাবুন’

ইতালির ভেনিসে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগের পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। দেশে ফিরে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয়, জুলাই আন্দোলনে নিজের অবস্থান, পরিবারের সদস্যদের হয়রানি এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের টিমের আচরণ নিয়েও কথা বলেছেন।   বাঁধনের অভিযোগ, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ব্যক্তিরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তার দাবি, তারা তার দিকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়েছিলেন। একপর্যায়ে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয় এবং কানের কাছেও আঘাত করা হয় বলে জানান তিনি।   বাঁধন আরও বলেন, তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। হামলাকারীরা নিজেদের ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ পরিচয় দিয়ে তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাগুলোর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশ করা হচ্ছিল বলেও তিনি জানান।   নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট কথা বলেন বাঁধন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নিজের সেই ভূমিকা নিয়ে তিনি গর্বিত। তার অভিযোগ, ওই আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণেই ইতালিতে তাকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে।   তবে নিজের ওপর হামলার চেয়েও ভাই, ভাবি ও ছোট শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণ তাকে বেশি ক্ষুব্ধ করেছে বলে জানান বাঁধন। ঘটনার সময় তার ভাইয়ের পরিবারও তার সঙ্গে ছিল। ছোট শিশুটিকে ঘিরে হামলাকারীদের আচরণকে তিনি অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।   ঘটনার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও দৃঢ় অবস্থান জানান বাঁধন। তিনি ইতালির পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন এবং আট বাংলাদেশি নাগরিকের নাম উল্লেখ করেছেন। ইতালির পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং ঘটনাস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে।   বাঁধন জানান, ঘটনার পর বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট তাকে সহযোগিতা করেছে। স্থানীয় পুলিশও তাকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেয় বলে তিনি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কনস্যুলেট কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত শুনেছেন এবং ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।   ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের টিমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেছেন বাঁধন। দেশে ফিরে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তার টিমের পক্ষ থেকেও তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। বরং তাকে টিম থেকে দূরে রাখার এবং পরবর্তী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসরে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে তার সহশিল্পীদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করেন।   বাঁধন আরও জানান, ইতালিতে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সহায়তা দিয়েছে এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষও তাকে নিরাপদ স্থানে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় বলে তিনি জানিয়েছেন।   অন্যদিকে, বাংলাদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ইতালির স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। ইতালির পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সূত্র: প্রথম আলো, নিউজ২৪

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:১৭
নিথর হয়ে পড়ে ছিল ৯ মাসের শিশু
নিথর হয়ে পড়ে ছিল ৯ মাসের শিশু, পিআইসিইউতে মেলেনি কোনো ডাক্তার! ফেসবুক লাইভে স্বজনের আহাজারি

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজন। রোববার গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে আসিফ হাসান নামের এক যুবক দাবি করেন, হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি, অথচ শিশুটির চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।    কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে রাজধানীর বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে গত ১ সেপ্টেম্বর ভর্তি করা হয়। আসিফ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন শিশুটির রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেছে। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা জানানো হয় এবং কয়েক দিন এভাবেই চিকিৎসা চলতে থাকে।    আসিফের দাবি, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে তাদের জানানো হয়, পরদিন শিশুটিকে রিলিজ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু পরে বিকেলে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়, শিশুটির লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন। এরপর তারা শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে দেখতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জোর করে ভেতরে গিয়ে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন চিকিৎসককে খুঁজেও পাওয়া যায়নি।    এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার রাত ১২টার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন আসিফ। লাইভে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, শিশুটির চিকিৎসার নামে ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। তবে বিলের বিস্তারিত খাত, শিশুটির চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।    আসিফ আরও অভিযোগ করেন, তার ফেসবুক লাইভের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আসেন এবং তাকে শাসাতে থাকেন। পরে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে বলে জানান তিনি। তবে তার দাবি, পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য কালবেলার প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রয়োজন।    কালবেলার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা ডা. আতিকুর রহমানের অধীনে চলছিল বলে আসিফ জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ওই চিকিৎসকের বিস্তারিত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। একইভাবে শিশুটির চিকিৎসার নথি, হাসপাতালের বিল এবং মৃত্যুর মেডিকেল কারণ সম্পর্কেও কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে আসেনি।    ঘটনাটি সামনে আসার পর মূল প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না এবং হাসপাতালের বিলের সঙ্গে দেওয়া চিকিৎসাসেবার যথাযথ সামঞ্জস্য ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে চিকিৎসার নথি, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে চিকিৎসায় অবহেলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিষয়টি মূলত স্বজনের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ০:২০
পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির পর অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ২০ দিনের শিশু তানিশা। ছবি: সংগৃহীত
পদ্মায় নৌকাডুবির ৮০ মিনিট পর জীবিত উদ্ধার ২০ দিনের শিশু!

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির পর প্রবল স্রোতে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট ভেসে থেকেও প্রাণে বেঁচে গেছে মাত্র ২০ দিনের শিশু তানিশা। শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাছে নৌকাডুবির পর শিশুটি মায়ের হাত থেকে ছিটকে পানিতে তলিয়ে গেলেও পরে তাকে আবার উদ্ধার করেন মা। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করে।    শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে আলীমনগর ঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে জহুরপুরটেক গ্রামের দিকে যাচ্ছিল একটি নৌকা। পদ্মার মাঝনদীতে প্রবল স্রোত ও বাতাসের মধ্যে নৌকাটি ডুবে যায়। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা পানিতে পড়ে গেলে সবাই নিজেদের মতো করে বাঁচার চেষ্টা শুরু করেন। কেউ নৌকার কাঠের পাটাতন, কেউ বস্তা, বৈঠা কিংবা ভাসমান অন্য জিনিস আঁকড়ে ধরে স্রোতের মধ্যে টিকে থাকার চেষ্টা করেন।    নৌকাডুবির সময় তানিশাকে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন তার মা তানিয়া খাতুন। কিন্তু স্রোতের তীব্রতায় একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের হাত থেকে ছুটে যায় এবং পানিতে তলিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তানিয়া আবার শিশুটিকে খুঁজে পান। এরপর তিনি দুই পা দিয়ে তানিশাকে আঁকড়ে ধরে পানির ওপর রাখার চেষ্টা করেন। শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখাই তখন পরিবারের সদস্যদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।    তানিশার নানা মো. ইব্রাহিমও নাতনিকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাঁতার জানা ইব্রাহিম স্রোতের মধ্যে এক হাত উঁচু করে তানিশাকে ধরে রাখেন। অন্যদিকে পরিবারের ও নৌকার যাত্রীরা পাটাতন, বস্তা, বৈঠা ও অন্যান্য ভাসমান জিনিসের সাহায্যে নিজেদের ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। এভাবে দীর্ঘ সময় তারা পদ্মার স্রোতের সঙ্গে ভেসে যেতে থাকেন।    প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর তারা ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চলে যান। পরে তাদের দেখতে পেয়ে বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামেন। তারা তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশিকে নদী থেকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে যান। উদ্ধার হওয়ার সময় দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকার কারণে শিশুটিকে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে সুস্থ বলে জানান।    নৌকাডুবির পর মো. ওয়াসিম নামে ২৩ বছরের এক যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে মো. মোস্তফা নামে ৬০ বছরের আরেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার সন্ধানে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।    চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ৫৩ বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, বিএসএফের সদস্যরা মোট ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং তিনজন শিশু ছিলেন। পরে তাদের দেশে ফেরাতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ হয়। রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে ফরিদপুর বিওপি ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।    উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মো. রাসেল, মো. ইব্রাহিম, মো. সওদাগর, মো. ইব্রাহিম, সখিনা, নিলুফা, তানিয়া, তার ২০ দিনের শিশু তানিশা, সানাউল্লাহ ও আল আমিন। তারা সবাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর বকরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। দেশে ফেরার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, নৌকাডুবির পর বিএসএফের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেন। পরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। উদ্ধার হওয়া সবাই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন বলে তিনি জানান।    তানিশার মা তানিয়া খাতুন ও নানা ইব্রাহিমের ভূমিকার কারণে শিশুটিকে দীর্ঘ সময় স্রোতের মধ্যে ভাসিয়ে রাখা সম্ভব হয় বলে উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে মায়ের হাত থেকে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পরও শিশুটিকে আবার খুঁজে পাওয়া এবং পরে নানার হাতে তুলে ধরে রাখা ছিল পুরো ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি।    পদ্মার প্রবল স্রোতে নৌকাডুবির পর দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার ঘটনা পরিবারটির জন্য ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত ২০ দিনের তানিশাসহ ১০ জন জীবিত ফিরে এসেছেন। তবে একই ঘটনায় ৬০ বছরের মোস্তফা এখনো নিখোঁজ থাকায় স্বজনদের উদ্বেগ কাটেনি। তার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।  সূত্র : আর টিভি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১১:৮
ভারী বৃষ্টিতে নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন তারেক রহমান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, ওই দিন নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। এ সময় জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সাইডলাইন মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।  রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, এবারের সফরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা, দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিউইয়র্ক সফরকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বৈঠক হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বেশ কয়েকটি সাইডলাইন মিটিংয়ের আয়োজন থাকবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে।  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া ও সেখানে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনে বিভিন্ন বৈঠক হবে। তবে এ ধরনের বৈঠকের অনেক সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত দুই নেতার বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে যাওয়ার পর কার কার সঙ্গে বৈঠক করবেন, তা চূড়ান্ত হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।  এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে থাকবে। হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে সাইডলাইনে বিশেষ বৈঠকের আয়োজনের উদ্যোগ রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশনকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার বড় সুযোগ হবে এই সফর।  জাতিসংঘের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। তবে কোন কোন নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে এবং সেগুলোর নির্দিষ্ট সময়সূচি কবে চূড়ান্ত হবে, তা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৮:৪৫
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অর্থ রয়েছে সুইস ব্যাংকেও

সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুবাই, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৬ জন জেলা প্রশাসক বা ডিসি পদায়নে দুই থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানের আওতায় আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি তার বাবা এবং সাবেক দুই সহকারীকেও রাখা হয়েছে। তানজীর আহমেদ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আসিফ মাহমুদের প্রভাব ছিল কি না, অভিযোগ অনুযায়ী কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, অনুসন্ধানে সেসব বিষয় যাচাই করা হবে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার খবর প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি, সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করার কথা রয়েছে।   এ ছাড়া ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি, বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য এবং সরকারি কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুদকের অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগ ওঠা আর তা প্রমাণিত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ পাচার, বিদেশে সম্পদ ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করবে দুদকের অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৮:২
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
এমপির লাগে না, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যানেরও লাগবে না শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হচ্ছে। এ কারণে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোনো একটিতেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।   তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।   তবে প্রার্থিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াও আইন নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয় নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করে। ফলে কোনো পদে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালায় থাকা অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   ব্রিফিংয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে।   তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কুল-কলেজের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালাতেও বিধান রয়েছে। ওই নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একই সময়ে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।   তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সেটি এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইনগত মতামতের জন্য বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো যেতে পারে। তখন আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।   শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মীর শাহে আলম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও সংবিধানে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি।   প্রতিমন্ত্রীর যুক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও একজন ব্যক্তি স্বশিক্ষিত হতে পারেন এবং সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একজন সমাজসেবকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার মতো জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   তিনি বলেন, সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।   এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে না এবং এতে দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীক থাকবে না। সরকার চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।   স্থানীয় সরকার বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, মীর শাহে আলম বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।   সূত্র: ইত্তেফাক, স্থানীয় সরকার বিভাগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৬:১৫
ঢাবি শিক্ষার্থীদের ‘এতিম-মিসকিন’ দেখিয়ে ফান্ড এনেছে ডাকসু
ঢাবি শিক্ষার্থীদের ‘এতিম-মিসকিন’ দেখিয়ে ফান্ড এনেছে ডাকসু: হামিম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বিভিন্ন উন্নয়নকাজে বিদেশি জাকাতের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামীম। তাঁর অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘এতিম-মিসকিন’ হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশ থেকে জাকাতের অর্থ সংগ্রহ করে এসব কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি; বিষয়টিকে সন্দেহ ও প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন।   ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামীম ডাকসুর অর্থের উৎস ও উন্নয়নকাজের হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। তাঁর প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে যেখানে ডাকসু ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে, সেখানে কীভাবে এক বছরে ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করার দাবি করা হচ্ছে।   ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বরাদ্দের বাইরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পন্সরের সহযোগিতায় এসব কাজ করা হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানান, শুরুতে ২৫ লাখ এবং পরে আরও ১০ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া যায়। এরপর স্পন্সর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।    হামীমের অভিযোগ, ডাকসুর উন্নয়নকাজের অর্থের উৎস নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে স্বচ্ছ হিসাব থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ডাকসু ভবনে ফ্যানের পরিবর্তে এসি স্থাপন, পাঠাগার উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদে বিভিন্ন কাজসহ অন্যান্য উদ্যোগে অর্থ এসেছে কোথা থেকে, সেটি স্পষ্ট করা উচিত। এসব কাজে বিভিন্ন কোম্পানির করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ড অথবা বিদেশি জাকাতের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।   হামীম আরও দাবি করেন, গত রমজানে ইফতার আয়োজনের সময় এক তুর্কি নাগরিককে এনে নগদ অর্থ দেওয়ার ঘটনাও তাঁর সন্দেহের কারণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই অর্থ জাকাতের অর্থ ছিল। একই ধরনের অর্থের উৎস ডাকসুর অন্যান্য উন্নয়নকাজেও রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।   এদিকে গত এক বছরে ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে আবাসিক হলের রিডিংরুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিভিন্ন হলে কম্পিউটার ল্যাব, কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি, ছাত্রীদের জন্য জিমনেসিয়াম, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও আন্তর্জাতিক চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে। ডাকসুর পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগের অর্থায়নে স্পন্সর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।    ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায়। সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির মেয়াদ ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা। দায়িত্বের এক বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ডাকসুর কার্যক্রম, অর্থের উৎস ও ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।    ডাকসুর পক্ষ থেকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে, মেয়াদ শেষে পুরো বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। ফলে হামীমের তোলা অর্থের উৎসের প্রশ্নের পাশাপাশি স্পন্সর, অনুদান ও অন্যান্য সহযোগিতার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সেই হিসাব প্রকাশ করা হলে বিতর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।   সূত্র: যুগান্তর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৩:৪০
মেয়ের পোষা ছাগল হারানোকে জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা বললেন আসিফ নজরুল
মেয়ের পোষা ছাগল হারানোকে জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা বললেন আসিফ নজরুল

ছোট মেয়ের পোষা ছাগল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে নিজের জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।   আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে থাকার সময় সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ের একাকিত্ব কাটাতে একটি ছাগল কিনে দেওয়া হয়েছিল। ধীরে ধীরে ছাগলটির সঙ্গে শিশুটির গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রতিদিন মেয়ের স্কুলে যাওয়া ও ফেরার সঙ্গে ছাগলটিরও যেন অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। স্কুল থেকে ফিরে মেয়েটি ছাগলটির সঙ্গে খেলত। এমনকি নিজের মুঠোফোনের ওয়ালপেপারেও ছাগলটির সঙ্গে তোলা ছবি রেখেছিল সে।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে সরকারি বাসভবন থেকে ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বলে জানান আসিফ নজরুল। তার ভাষ্য, কাঁদতে কাঁদতে একপর্যায়ে মেয়েটি বমি করে এবং প্রায় দেড় দিন কোনো খাবার খেতে পারেনি।   ছাগলটি পরে জবাই করে খেয়ে ফেলা হয়েছিল বলে জানতে পারলেও বিষয়টি এখনো মেয়েকে জানানো হয়নি। আসিফ নজরুল জানান, শিশুটিকে বলা হয়েছে দরজা খোলা থাকায় ছাগলটি পালিয়ে গেছে। সত্যটি জানলে সে আরও বেশি ভেঙে পড়তে পারে বলে পরিবারটি বিষয়টি গোপন রেখেছে।   ছাগলটি কীভাবে জবাই করা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও আসিফ নজরুল অনুষ্ঠানে বিস্তারিত জানান। তার দাবি, প্রথমে ভোঁতা বঁটি দিয়ে ছাগলটি কাটার চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি। পরে কারওয়ান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে ছাগলটি জবাই করা হয়।   ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ ছিল বলে যে আলোচনা রয়েছে, তা নাকচ করে আসিফ নজরুল বলেন, ছাগলটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি, বরং মজা করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও তিনি বলেন, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার শেষ দিন পর্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল উধাও হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ সময় পর টকশোতে অংশ নিয়ে ঘটনাটির পেছনের বিষয় এবং মেয়ের ওপর এর প্রভাবের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ২:৫০
বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য
কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপন, বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপনের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার আলোক হেলথ কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোরের অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসক দল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করে।   অস্ত্রোপচারটির বিশেষত্ব হলো, ক্যানসারে আক্রান্ত অংশ অপসারণ করেও রোগীর পুরো বাহু ও কনুইয়ের কার্যকারিতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের অঙ্গ সংরক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাকে লিম্ব স্যালভেজ বলা হয়। এতে ক্যানসারের কারণে অঙ্গচ্ছেদ না করে আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম ইমপ্লান্ট বা প্রস্থেসিস ব্যবহার করা হয়।   চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ক্যানসার আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণভাবে অপসারণের পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ু নিরাপদ রাখা। অস্ত্রোপচারে ভাস্কুলার সার্জন ডা. এস এম পারভেজ আহমেদ সোহেল সংবেদনশীল রক্তনালি ও স্নায়ুগুলো সংরক্ষণে কাজ করেন। আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর রোগীর শারীরিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি বিশেষ প্রস্থেসিস সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।   এই চিকিৎসা পদ্ধতির লক্ষ্য শুধু ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ নয়, সম্ভব হলে রোগীর আক্রান্ত অঙ্গের কার্যক্ষমতাও ধরে রাখা। হাড় ও নরম টিস্যুর ক্যানসারের ক্ষেত্রে লিম্ব স্যালভেজ সার্জারি বর্তমানে অঙ্গচ্ছেদ এড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের পেশাগত প্রোফাইলেও অর্থো অনকোলজি এবং লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির বিশেষায়িত কাজের উল্লেখ রয়েছে।    সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দলের দাবি অনুযায়ী, এর আগে ২০১৯ সালে একই বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ উরুর হাড় প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারও করেছিল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের রয়্যাল অর্থোপেডিক হসপিটাল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের এই অভিজ্ঞতা জটিল অর্থোপেডিক অনকোলজি চিকিৎসায় দেশে সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।   চিকিৎসকদের এই সাফল্য দেশে জটিল হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় অঙ্গচ্ছেদ এড়িয়ে আধুনিক লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়া রোগীদের জন্য দেশে তুলনামূলক কম খরচে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দেওয়ার পথও আরও শক্তিশালী হতে পারে। সূত্র: সাইন্স বী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১:৩০
চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম, কমবে পোশাক খাতের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়
চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম, কমবে পোশাক খাতের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের স্পিনার বা সুতাকল মালিকদের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়সীমা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে আগামী নভেম্বরে চট্টগ্রামে চালু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম। ‘অ্যামেরিবংলা ইউএস কটন ওয়্যারহাউস’ নামের এই গুদামটি ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইজারা নেওয়া একটি জায়গায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।   প্রাথমিকভাবে এখানে ৮০ থেকে ১০০ টন তুলা মজুত থাকবে এবং পরবর্তীতে এটি আনোয়ারা ফ্রি ট্রেড জোনের স্থায়ী স্থাপনায় স্থানান্তরিত হবে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   দেশের ব্যবসায়ী নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক এবং বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে প্রায় ৩০-৪০ দিন সময় লাগে। গুদামটি চালু হলে দেশে বসেই কাঁচামাল পাওয়ার কারণে এই দীর্ঘ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।   তবে তিনি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য তুলার দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল জানান, স্পিনাররা দ্রুত তুলা পাওয়ার পাশাপাশি এই মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধাও পেতে পারে, যা দেশের পুরো পোশাক খাতের জন্যই ইতিবাচক।   অ্যামেরিবংলা করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আসওয়ার রহমান জানিয়েছেন, ২০৪৫ সালের মধ্যে দুই দেশের বর্তমান ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যকে ১০ গুণ বাড়িয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে।   এই লক্ষ্যে মার্কিন কাঁচা তুলা নিলামের জন্য তারা ‘কটনপোর্ট’ নামের একটি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসও চালু করেছেন। আগামী ৮ অক্টোবর ম্যানহাটনে তাদের ‘অল আমেরিকান কটন সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই প্রত্যয়িত তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে ১০ থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক হ্রাসের সুবিধা পাবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২০:৫০
৩ মাস ধরে ধর্ষণের শিকার, মাদরাসাছাত্রের কল,
৩ মাস ধরে ধর্ষণের শিকার, মাদরাসাছাত্রের কল, "মা আমাকে নিয়ে যাও"

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে প্রায় তিন মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল আমিনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে এবং মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে।   স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাতে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রায় পাঁচ বছর আগে মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান। প্রায় তিন বছর আগে সেখানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আল আমিন।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা এলাকার ১০ বছর বয়সী ওই ছাত্র নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়ে আবাসিকভাবে থাকতে শুরু করে। পরিবারের অভিযোগ, এরপর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করেন শিক্ষক আল আমিন।   পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর শিশুটির পেটে ব্যথা এবং পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত পড়াসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থতার কথা জানালে তার মা তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান।   বাড়িতে যাওয়ার পর এক সকালে শিশুটির নানা আজিজুর রহমান টয়লেটে রক্ত দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি শিশুটির মাকে জানান। তবে ভয় ও আতঙ্কে শিশুটি প্রথমে নির্যাতনের কথা পরিবারের কাছে প্রকাশ করেনি।   পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক আল আমিন ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে।   অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।  সূত্র: বার্তা বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৯:৪১
চট্টগ্রামের খুলশী-জালালাবাদে যৌথ অভিযানে আটক বিদেশি নাগরিকরা
চট্টগ্রামে গোপন আস্তানায় অভিযান, চীনা-পাকিস্তানিসহ ৬৩ বিদেশি আটক

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে চীনা ও পাকিস্তানিসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। অভিযানে ৭০টি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস বিশ্লেষণ করে আটক ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন ও অনলাইন কার্যক্রমের তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, ভবনটিতে কেন অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ বা জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রম চলার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। জব্দ করা ডিভাইস ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কথিত জুয়া কার্যক্রমের সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব ও অনলাইন মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত শেষে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:৫৩
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দে ৩৫-৪০ কোটি টাকার কাজের দাবি ডাকসুর
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ লাখ টাকার বাজেট, ৩৫-৪০ কোটি টাকার কাজের দাবি ডাকসুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে ছাত্রশিবির সমর্থিত সাদিক কায়েম ও এসএম ফরহাদ নেতৃত্বাধীন ডাকসুর মেয়াদ। এক বছরের দায়িত্ব পালনের পর তাদের কার্যক্রম, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে শুরু হয়েছে মূল্যায়ন। ডাকসু নেতাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে সীমিত অর্থ বরাদ্দ পেলেও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পন্সরের সহযোগিতায় তারা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করেছেন। তাদের হিসাবে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া ৩৫ লাখ টাকার তুলনায় এই কাজের পরিমাণ প্রায় ১০০ গুণ বেশি। নির্বাচনের ফলাফল: ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচিতরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন ১৪ সেপ্টেম্বর। আবাসন ও অবকাঠামো: দায়িত্ব নেওয়ার পর আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, প্রযুক্তি ও ক্যারিয়ার খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় ডাকসু। আবাসিক হলের রিডিংরুমে এসি স্থাপন, কম্পিউটার ল্যাব, কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি, ছাত্রীদের জিমনেসিয়াম এবং বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বড় প্রকল্প: ডাকসুর দাবি, পাঁচটি হল নির্মাণে ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার প্রকল্পে সম্মতি আদায় এবং চীনের সহযোগিতায় ১ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট নতুন ছাত্রী হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আবাসিক হলে প্রায় ৬ কোটি টাকার এসি স্থাপনের কাজও চলছে। বিভিন্ন খাতে ব্যয়: কেন্দ্রীয় মাঠের উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে ৩ কোটি এবং মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। ছাত্রীদের জিমনেসিয়ামের উন্নয়নে ৬৫ লাখ এবং হলগুলোর কম্পিউটার ও অন্যান্য ল্যাব স্থাপনে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথাও বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবহন: শিক্ষার্থীদের পরিবহনব্যবস্থা উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে বলে দাবি ডাকসুর। নতুন রুট চালুর পাশাপাশি কুমিল্লা পর্যন্ত বাসসেবা চালুর কথাও জানিয়েছে তারা। মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি এবং তুরস্কের সহযোগিতায় আরও প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী সেবা: ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্প, একাধিক মেডিকেল ক্যাম্পে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, হলগুলোতে ছারপোকা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৭০-এর বেশি শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার দাবি করেছে ডাকসু। ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়ন: বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কোর্সে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। চীনের ৩১টির বেশি প্রতিষ্ঠানে জব ফেয়ারের মাধ্যমে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সাতটি আন্তর্জাতিক জার্নালে বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্যোগ: কলাভবনে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, ছাত্রীদের কমনরুমে এসি, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি সংস্কার, প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীকে হিজাব এবং ছাত্রী হলগুলোতে ১০ হাজারের বেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করেছে ডাকসু। শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া: ডাকসুর কর্মকাণ্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কার, হলের সিটের ব্যবস্থা, মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়ন ও ছাত্রীদের জিমনেসিয়ামের মতো উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে হলের খাবার, আবাসন ও পরিবহনসহ কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তারা। সমালোচনাও আছে: ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ই-লাইব্রেরি চালু, লিফট সংস্কার, জব ফেয়ার, বিজনেস কেস কম্পিটিশন, সেমিনার এবং ক্লাসরুম সংকট সমাধানের মতো বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও পরিবহন, কমনরুম ও জলাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন: ডাকসুর কার্যক্রমের পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকার কথা বলা হলেও কয়েকজন নেতাকে পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের দলীয় প্রচারে দেখা গেছে। ১৯৭১-সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ভিপির দাবি: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া অর্থের তুলনায় তারা প্রায় ১০০ গুণ বেশি কাজ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে ২৫ লাখ এবং পরে আরও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৩৫ লাখ টাকার বিপরীতে ডাকসু প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করেছে বলে তাদের হিসাব। দায়িত্ব শেষের হিসাব: ডাকসু নেতারা জানিয়েছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে পুরো বছরের কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। সেখানে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, ইশতেহারের বাইরে কী কী কাজ করা হয়েছে এবং পুরো বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হবে। জিএসের বক্তব্য: ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, আগের ডাকসুগুলোর মতো রাজনৈতিক আধিপত্যের কেন্দ্র না বানিয়ে বর্তমান ডাকসুকে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ছাত্র সংসদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন মত ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ডাকসুকে কোনো দলের কার্যালয়ে পরিণত না করার কথাও জানান তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:৩১
রাশিয়ায় ইলেকট্রনিক শ্রমিকের কাজের আশায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত নান্দাইলের আল মামুন
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, যুদ্ধে প্রাণ হারালেন মামুন

ময়মনসিংহের নান্দাইলের আল মামুন রাশিয়ায় ইলেকট্রনিক শ্রমিকের কাজের আশায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। ৮ সেপ্টেম্বর সকালে রাশিয়ায় থাকা এক সহকর্মীর ফোনে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান। পরিবারের দাবি, চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় নেওয়ার পর মামুনকে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল। আল মামুন নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ২৪ থেকে ৩০ বছর বলা হয়েছে। তিনি দেশে ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লাম্বিংয়ের কাজ করতেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও পাঁচ মাস বয়সী এক মেয়েকে রেখে চলতি বছরের ৭ মে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি।  পরিবারের ভাষ্য, ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক শ্রমিক হিসেবে কাজের জন্য মামুন রাশিয়ায় যান। এ জন্য তাঁর পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এই টাকা জোগাড় করতে ব্যাংকঋণের পাশাপাশি চড়া সুদে ধার করতে হয়েছিল পরিবারকে।  পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় যাওয়ার পর মামুন ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে কাজ না দিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁদের সামরিক পোশাক পরিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।  পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো জানিয়েছে, রাশিয়ায় যাওয়ার পর মামুনদের কাছ থেকে রুশ ভাষায় একটি চুক্তিতে সই নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনেরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, বাংলাদেশিদের যুদ্ধে পাঠানো হবে না। পরে পরিবারটি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে।  সহকর্মীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় মামুনের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী আহত হয়েছেন বলে পরিবারের কাছে খবর এসেছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, মামুনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তাঁর ছবি বা ভিডিও এখনো পরিবারের হাতে আসেনি।  মামুনের মৃত্যুর খবরে স্ত্রী মহিমা আক্তার ও মা রোকেয়া আক্তার ভেঙে পড়েছেন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি। স্বজনদের প্রধান দাবি, মামুনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা এবং তাঁকে রাশিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত জানিয়েছেন, মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার মৌখিকভাবে জানিয়েছে। পরিবারকে লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের প্রবাসী কল্যাণ শাখার মাধ্যমে বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:১৭
ইউরোপে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেও ইউরোপে বেড়েছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন

ইউরোপে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিরা প্রায় ২০ হাজার আশ্রয় আবেদন করেছেন। এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আবেদন করা নাগরিকত্বের তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম বা ইইউএএ ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মধ্যবর্ষের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউ প্লাসভুক্ত দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম। করোনা মহামারির সময় বাদ দিলে ২০১৯ সালের পর বছরের প্রথম ছয় মাসে এটিই সর্বনিম্ন আবেদন।   আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির নাগরিকরা প্রায় ৩৯ হাজার আবেদন করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে ভেনেজুয়েলা, প্রায় ৩৩ হাজার আবেদন নিয়ে। বাংলাদেশিদের আবেদন প্রায় ২০ হাজার, যা দেশটিকে তৃতীয় অবস্থানে রেখেছে। ইইউএএ জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশিদের আবেদন প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে।   বাংলাদেশিদের আবেদনের বড় অংশই প্রথমবারের আবেদন। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পুনরায় করা আবেদন মোট আবেদনের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ আগের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর একই ব্যক্তির পুনরায় আবেদন এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ নয়।   বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের গন্তব্য হিসেবেও ইতালি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর রয়েছে গ্রিস ও ফ্রান্স। ইইউএএ জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের আবেদন, সীমান্তে শনাক্ত হওয়ার প্রবণতা এবং ইউরোপে অভিবাসনের সামগ্রিক চিত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।   তবে বাংলাদেশিদের আবেদন বাড়লেও অনুমোদনের হার খুবই কম। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার হার ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি আবেদনের মধ্যে গড়ে মাত্র কয়েকটি আবেদনেই শরণার্থী মর্যাদা বা অন্য কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।   এদিকে ইউরোপের নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আওতায় এসেছে। ১২ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপদ উৎসদেশের প্রথম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের হার ২০ শতাংশ বা তার কম, তাদের আবেদন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দ্রুত যাচাইয়ের আওতায় আনার বিধানও কার্যকর হয়েছে।   ইইউএএ জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এই দুই মানদণ্ডই প্রাসঙ্গিক। ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদন দ্রুততর প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হতে পারে। তবে এর অর্থ আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা নয়। প্রতিটি আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সুরক্ষার প্রয়োজন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার নিয়ম রয়েছে।   ইউরোপে সামগ্রিক আশ্রয় আবেদন কমার পেছনে সিরিয়ার পরিস্থিতির পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটির নাগরিকদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসীদের উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় সামগ্রিক প্রবাহেও পরিবর্তন এসেছে।   ইইউএএ-এর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রথম ধাপের নিষ্পত্তি হওয়া আশ্রয় আবেদনের মধ্যে ৩১ শতাংশে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা জুনের শেষে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।   বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নিয়মের প্রভাব আগামী মাসগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে নিরাপদ উৎসদেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং কম অনুমোদনের হারের কারণে দ্রুততর আশ্রয় প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় নতুন আবেদনকারীদের জন্য সিদ্ধান্ত পাওয়ার সময় ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে কারও আবেদন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২:৬
ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দিল্লির আমন্ত্রণেও সাড়া দিচ্ছে না বাংলাদেশ
দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারের বাইরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।   তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। ফলে এবারের সম্মেলনে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি আর থাকছে না।   আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকায় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত।   তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবে না বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।   এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানা আলোচনা চলছিল। ভারতের পক্ষ থেকেও একাধিকবার জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।   হুমায়ুন কবির আরও জানান, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন। তবে সেটি হবে দ্বিপক্ষীয় সফর, ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য নয়।   এর মধ্য দিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তার অবসান হলো।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৬:১৩
৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের করা রিট খারিজ করেছেন হাইকোর্ট
ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, হাইকোর্টের রায়

বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবিকৃত ওই কর পরিশোধ করতে হবে। রোববার বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। এর আগে গত ১১ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা করসংক্রান্ত মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ওই নির্দেশ দেন। আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাত করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের আয়কর পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী, দ্বিতীয় মূল্যায়নের বিরুদ্ধে আপিল ও রিভিউ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে রিভিউ আবেদন করলে আপিল করা হবে না—এমন অঙ্গীকার করতে হয়। গ্রামীণ কল্যাণ এ ক্ষেত্রে আপিল না করে রিভিউ আবেদন করে। পরে সেই রিভিউ আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। এরপর রিভিউ খারিজের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে হাইকোর্টে দুটি রিট করা হয়। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিভিউ আবেদন খারিজের আদেশ বাতিল করে রায় দেন এবং গ্রামীণ কল্যাণকে আপিল করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। সর্বশেষ হাইকোর্ট এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন। তবে আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৫:৫২
‘ধান নিয়ে গবেষণা না করে কবিতা লিখলে এদেশে বুদ্ধিজীবী হতাম’, আক্ষেপ আবেদ চৌধুরীর
‘ধান নিয়ে গবেষণা না করে কবিতা লিখলে এদেশে বুদ্ধিজীবী হতাম’, আক্ষেপ আবেদ চৌধুরীর

২০১৭ সালে সিলেটটুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত জিনবিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তিনি ধানের নতুন জাত আবিষ্কার করেন, কিন্তু সমাজ তাকে বুদ্ধিজীবী বলে না; অথচ ধান নিয়ে কবিতা লিখলে ঠিকই বুদ্ধিজীবী হতেন।   দেশীয় ধানের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং যুগান্তকারী বিজ্ঞান সাধনার পরও সমাজে বিজ্ঞানীদের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়ার বিষয়টি তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।   দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন ও কৃষির জিনতাত্ত্বিক গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন ড. চৌধুরী। তার নিরলস গবেষণার ফলেই কৃষিখাতে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা এবং সংরক্ষিত হচ্ছে দেশীয় ধানের বিলুপ্তপ্রায় অসংখ্য জাত।   কিন্তু সমাজব্যবস্থায় বিজ্ঞানচর্চাকে বুদ্ধিবৃত্তিক মাপকাঠিতে না মাপার যে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি, তা নিয়ে ২০১৭ সালের ওই সাক্ষাৎকারে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।   তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বলতে সাধারণত সাহিত্য, দর্শন বা রাজনীতিকেই বোঝানো হয়, যেখানে ল্যাবরেটরি বা মাঠপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক সাধনা প্রায়শই নিছক কারিগরি কাজ হিসেবে উপেক্ষিত থাকে।   একবার চারা রোপণ করে পাঁচবার ফসল পাওয়ার 'পঞ্চব্রীহি' ধানের মতো যুগান্তকারী উদ্ভাবন কেবল কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি প্রকৃতির রহস্য উদ্ঘাটনের এক অসামান্য সৃজনশীল কাজ।   বছর কয়েক আগে করা ড. আবেদ চৌধুরীর সেই মন্তব্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একটি আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে সাহিত্য ও দর্শনের পাশাপাশি বিজ্ঞানীদেরও তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়া অপরিহার্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২০:৫
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০