জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের করা ২২ হাজারের বেশি আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র যথাযথ না হওয়ায় এসব আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শনিবার (২০ জুন) এনআইডি শাখার কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২২৯ জন বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়েছেন। তদন্ত শেষে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। অন্যদিকে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তদন্ত শেষে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ২ হাজার ৯৭৮টি আবেদন। এছাড়া ১০ হাজার ১৪১ জনের তথ্য এখনো সার্ভারে আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ১৬ জনের তথ্য সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে। অনুমোদিত আবেদনগুলোর মধ্যে ২২ হাজার ১৮ জনের এনআইডি কার্ড মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সেগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদন বাতিল হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ১৪টি দেশের ২৪টি নিবন্ধন কেন্দ্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকাভুক্তি ও এনআইডি সেবা কার্যক্রম চলছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। দেশটি থেকে মোট ২৩ হাজার ৯৪০টি আবেদন এসেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে আবেদন জমা পড়েছে ১৭ হাজার ৩০টি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন এসেছে ১৬ হাজার ৮১২টি। এছাড়া ইতালি থেকে ৯ হাজার ৩৮টি, সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৩৫২টি, কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৫৭৩টি এবং কাতার থেকে ৫ হাজার ৪০৬টি আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। দেশটি থেকে মাত্র ১২৬ জন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য চারটি তথ্য ও নথি বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। এগুলো হলো অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা এনআইডিধারী তিন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এবং পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি। এসব নথি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা নিবন্ধন কেন্দ্রের নির্ধারিত ডেস্কে জমা দিতে হবে। এছাড়া কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত নথিপত্রও জমা দিতে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডি, মৃত্যু সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, বিবাহসংক্রান্ত নথি, নাগরিকত্ব সনদ, ইউটিলিটি বিল এবং বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র। তবে এসব অতিরিক্ত নথি বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারী বিদেশে থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া যাবে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানার এলাকায় তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এনআইডি কার্ড সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠানো হয়। প্রবাসীদের জন্য এনআইডি সেবা চালুর ফলে বিদেশে বসেই ভোটার নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আবেদনপত্রে ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ নথি বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে বিপুলসংখ্যক আবেদন বাতিল হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৪ শিশু। শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭০ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৮ জন। এ সময়ে নতুন করে ৯৭২ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৯৩ জন। অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৯৮২। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৯। এ পর্যন্ত মোট ৭৫ হাজার ১৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৩৯৬ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নয় বছর পার হলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত ৩৩টি শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এই জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার মধ্যে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অন্যতম। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় সহায়তা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে শরণার্থীদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে সীমিত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় তরুণদের বড় একটি অংশ বেকার সময় কাটাচ্ছে। এতে মানবপাচার, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন। শিবির এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধচক্রের সক্রিয়তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। খুন, অপহরণ, সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি মাঝে মাঝে জটিল হয়ে উঠছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং কম মজুরিতে শ্রম দিতে রাজি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি জনসংখ্যার চাপের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশগত প্রভাবও উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে। শরণার্থী বসতি স্থাপনের কারণে বনভূমি উজাড় এবং পাহাড় কাটার ঘটনা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকার কক্সবাজারের চাপ কমাতে বঙ্গোপসাগরের ভাসানচরে আবাসন প্রকল্প চালু করেছে। সেখানে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ স্থানান্তর করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভাসানচরে আবাসন, দুর্যোগ সুরক্ষা এবং জীবিকাভিত্তিক কিছু কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। এদিকে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জীবিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং যাচাইকৃত তালিকাও মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই মানবিক সংকট বহন করায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ এবং সমন্বিত কূটনৈতিক চাপ জরুরি। ততদিন পর্যন্ত মানবিক সহায়তা, পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি এই সংকট ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাসিন্দা তৈওয়েব আলী। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে স্ত্রী ও তিন কন্যার মুখে হাসি ফোটানোর আশা ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই প্রবাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুর সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো দেশে ফিরিয়ে আনা যায়নি তার মরদেহ। ফলে শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখতে এবং বাবাকে একনজর দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার স্ত্রী ও তিন কন্যা। নিহত তৈওয়েব আলী (৫৩) মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত হালিম মোল্যার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে নানা চেষ্টা করছিলেন তৈওয়েব আলী। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের শুরুতে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় করে সৌদি আরবে যান। বিদেশে যাওয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে হয়েছিল। সৌদি আরবে গিয়ে তিনি রড মিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই ঋণের প্রায় দুই লাখ টাকা এখনও পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকেরা তার লিভার ক্যান্সার শনাক্ত করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও এখনও মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, সৌদি আরবে অবস্থানরত পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি এবং দূর সম্পর্কের কিছু আত্মীয় মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ফলে মরদেহ দেশে পাঠানোর কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে। নিহতের স্ত্রী বিউটি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী অনেক কষ্ট করে বিদেশে গিয়েছিলেন। সংসারের জন্য কত স্বপ্ন ছিল তার। এখনও দুই লাখ টাকার বেশি ঋণ বাকি আছে। তিন মেয়েকে নিয়ে এখন কীভাবে চলব জানি না। সাতদিন হয়ে গেল, কিন্তু তার মরদেহ এখনও দেশে আসেনি। শেষবারের মতো স্বামীর মুখটা দেখতে চাই।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেশে থাকাকালে তৈওয়েব আলী কৃষিকাজের পাশাপাশি দিনমজুরি ও অন্যান্য শ্রমভিত্তিক কাজ করতেন। তার উপার্জনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো পরিবার। সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে গেলেও সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গ্রামের মানুষও দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, যদি তৈওয়েব আলী বৈধভাবে সৌদি আরবে গিয়ে থাকেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়, তাহলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিদেশে কর্মরত অনেক বাংলাদেশির মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যথাযথ নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় থাকলে সাধারণত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এদিকে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথভাবে দাফনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। তাদের একটাই প্রত্যাশা, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যেন স্ত্রী ও তিন কন্যা শেষবারের মতো তাদের প্রিয় মানুষটিকে দেখতে পারেন।
"গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, সে সমভাবেই সুবাস ছড়াবে"—উইলিয়াম শেকসপিয়রের এই বিখ্যাত দর্শন যেন সম্পূর্ণ মার খেয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলা বগুড়ায়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কাছে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম কেবল একটি পরিচয় নয়, বরং তা নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব প্রদর্শনের এক অন্যতম হাতিয়ার। নিজের, স্ত্রীর এবং দুই ছেলের নাম রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট স্থাপনায় খোদাই করার এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘদিনের নেশা এখন দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতার এই দৃশ্যমান প্রদর্শনী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বগুড়ার একজন প্রবীণ নাগরিক জানান, অনেকে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে সম্পদ দেখান, কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর ধারণা নিজের নাম সব জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়াই আভিজাত্য প্রকাশের একমাত্র উপায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর এই নামকরণের আগ্রাসন সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি ২০০১ সাল থেকে শুরু হওয়া দুই দশকেরও বেশি সময়ের এক পরিকল্পিত প্রয়াস। তিনি নিজের দান করা জমিতে 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই ধারার সূচনা করেন। পরবর্তীতে সেই ক্যাম্পাসের একটি ভবনের নাম দেওয়া হয় তাঁর স্ত্রী লাবনী আক্তারের নামে। শুধু তা-ই নয়, সংলগ্ন এলাকায় 'বেতগাড়ী মীরবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়', 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ', 'বেতগাড়ী মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' এবং 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম মাদ্রাসা ও এতিমখানা' প্রতিষ্ঠা করে সবখানেই পারিবারিক নামের সিলমোহর বসানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদ পাওয়ার পর তিনি নতুন উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠা করেন 'মোকামতলা মীর শাহে আলম-সাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয়' এবং সেখানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) আতিকুর রহমানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে নিজের বাণিজ্যিক তেলের ব্যবসার নামও তিনি রেখেছেন দুই ছেলের নামে 'মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন' এবং স্ত্রী ও কন্যার নামে 'মীর লাবনী-নুসরাত ফিলিং স্টেশন'। তবে প্রতিমন্ত্রীর এই আত্মপ্রচারণার চরম রূপ প্রকাশ পায় শিবগঞ্জ উপজেলার সীমানা পুনর্গঠনের মাধ্যমে গঠিত চারটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণে। প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি ‘মীরবাড়ী’র সাথে মিলিয়ে একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'বেতগাড়ী মীরবাড়ী ইউনিয়ন'। আর বাকি তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'সীমান্ত', 'দিগন্ত' এবং 'স্বর্ণগ্রাম'। আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামও মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। এই "অলৌকিক মিল" নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে প্রতিমন্ত্রী এক অদ্ভুত ভৌগোলিক তত্ত্ব দিয়ে দাবি করেন, উপজেলা সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় 'সীমান্ত' এবং দূরবর্তী হওয়ায় 'দিগন্ত' নাম রাখা হয়েছে, যার সাথে তাঁর সন্তানদের নামের মিল কেবলই কাকতালীয়। তবে নেপথ্যের সত্য হলো, নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানি বা স্থানীয় মতামতের তোয়াক্কা না করে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের ওপর ভিত্তি করেই এই নামকরণ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বগুড়ার জেলা প্রশাসক নিজেই গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস করে দিয়েছেন যে, তাঁর দপ্তরে যখন প্রস্তাবটি পৌঁছায়, তখন প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য বিকল্প কোনো নাম ছাড়াই কেবল একটি করেই নাম জমা দেওয়া হয়েছিল। মীর শাহে আলমের এই একচ্ছত্র প্রভাব কেবল নামকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মন্ত্রণালয়ের ভেতরেও তিনি এক অলিখিত একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছেন। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে রাজনীতি শুরু করা শাহে আলম ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দ্রুত তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলয়ে জায়গা করে নেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক চেক ডিজনার ও ফৌজদারি মামলা থেকে তিনি দ্রুত খালাস পান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ খোদ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁকে "সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী" হিসেবে ঘোষণা করেন। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেবল নামেমাত্র প্রধান, কিন্তু বদলি, পদোন্নতি ও লাভজনক প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সমস্ত সিদ্ধান্ত নেন শাহে আলম। এই চরম আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রতিমন্ত্রীর এই অসীম ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে রাতারাতি ভাগ্যবদল হয়েছে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র মীর শাকরুল আলম সীমান্তের। লন্ডন থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফেরার মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। এরপর নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক পদ এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি পদও পান। সবচেয়ে বড় অনিয়মটি ঘটেছে যখন দেখা যায়, সীমান্ত তাঁর বাবার নিজস্ব মন্ত্রণালয়ের অধীনেই ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে শিবগঞ্জ পৌরসভায় একটি আরসিসি রাস্তা নির্মাণের বড় কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন, যা গত ২৬ এপ্রিল প্রতিমন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করেন। প্রতিমন্ত্রীর এই পারিবারিক স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "এটি কেবল অশোভনই নয়, বরং স্বার্থের সংঘাত এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুবিধা নেওয়ার একটি প্রকাশ্য উৎসব, যা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নেওয়া শপথের সরাসরি লঙ্ঘন"।
জেনেভায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর নির্বাহী কমিটির (এক্সকম) ব্যুরোর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কাঠামোর চার সদস্যের নেতৃত্ব পরিষদে এবারই প্রথম জায়গা পেল বাংলাদেশ। জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান সর্বসম্মতিক্রমে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালে এক্সকম কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এই প্রথম বাংলাদেশ ব্যুরোর নেতৃত্বে নির্বাচিত হলো। প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসা বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই মানবিক দায়িত্বশীলতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেই বাংলাদেশের এই নেতৃত্বকে দেখা হচ্ছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপের সর্বসম্মত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশের নাম প্রস্তাব করা হয় এবং আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া তা সমর্থন করে। পরে এক্সকমের ১১০ সদস্য রাষ্ট্র রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানের মনোনয়ন অনুমোদন করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ উইংয়ের সাবেক মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নতুন এই দায়িত্ব বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং কক্সবাজারের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় নতুন অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে অংশীদারত্ব নবায়ন করে অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য জরুরি সহায়তা, সুরক্ষা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন মানবিক সেবা অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীরও সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নতুন তহবিলের আওতায় শুধু শরণার্থীরাই নয়, কক্সবাজারের প্রায় ৭০ হাজার স্থানীয় বাসিন্দাও উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংস্থাটি বলছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ কমাতেও এসব কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে। নতুন অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্যয় করা হবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে। এর আওতায় শরণার্থী শিবিরগুলোতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজি ব্যবহারের ফলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের প্রয়োজন কমে যায়। এতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি বন উজাড়ও কমানো সম্ভব হয়। একই সঙ্গে ধোঁয়াজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমে আসে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ফলে শুধু খাদ্য, আশ্রয় বা জরুরি সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন সক্ষমতা তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেন।” অন্যদিকে ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন এই দীর্ঘ মানবিক সংকটের সময়ে সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।” উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবির কক্সবাজারে অবস্থান করছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ২০২৫-২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) অনুযায়ী, চলতি বছরে শরণার্থীদের জরুরি চাহিদা পূরণে প্রায় ৭১ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত পুরো অর্থের সংস্থান হয়নি। এ অবস্থায় ইউএনএইচসিআর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতি ও ধারাবাহিক অর্থায়ন অপরিহার্য।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ হওয়া উচিত। কোনো শিক্ষক যদি তার অবস্থান ও প্রভাবের অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রতি অনৈতিক আচরণ করেন, তাহলে তা শুধু একজন শিক্ষার্থীর নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনের জন্য উদ্বেগের বিষয়। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদান-প্রদান হওয়া কিছু বার্তার কপি এবং অন্যান্য নথিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর দাবি, শুরুতে অভিযুক্ত শিক্ষক তার সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ রাখলেও পরে ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর ধরনের বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। এসব বার্তার কারণে তিনি মানসিকভাবে অস্বস্তিতে পড়েন এবং বিষয়টি সহপাঠী ও বিভাগীয় প্রতিনিধিদের জানান। লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, প্রথমদিকে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করতে দ্বিধায় ছিলেন। তবে পরবর্তীতে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তিনি চান, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন। এদিকে অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায় এবং এরপর থেকে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, মোবাইল ফোন হারানোর কথিত ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন একাডেমিক বিষয়ে যোগাযোগ এবং গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা হয়েছে। ফলে অ্যাকাউন্ট অপব্যবহারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে। ক্যাম্পাসে আলোচিত এই ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্তের ফলাফল এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার নজর।
স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া, যিনি জাহের আলভী নামে পরিচিত, তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন দুপুর দেড়টার দিকে আদালতে উপস্থিত হন জাহের আলভী। পরে শুনানি শুরু হলে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেন। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়াসহ একাধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান। জামিন আবেদনে জাহের আলভীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তিনি ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। আবেদনে বলা হয়, প্রেমের বিয়ে নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিহিংসাবশত মামলাটি করা হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। আসামিপক্ষের দাবি, মামলাটি দায়েরের সময় জাহের আলভী দেশে ছিলেন না। ঈদ উপলক্ষে নাটকের কাজের জন্য তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপালে অবস্থান করছিলেন। ফলে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে শুনানি শেষে আদালত এসব যুক্তি গ্রহণ না করে জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান তারা। পরে স্বজন ও বাড়ির মালিক মিলে দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয় এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার পরদিন রাতে ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ রাজধানীর সংশ্লিষ্ট থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাহের আলভী ছাড়াও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা চরম মানসিক চাপে ছিলেন এবং সেই পরিস্থিতির কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন জাহের আলভী ও তার পরিবার। তাদের দাবি, মামলায় আনা অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে। এদিকে ঘটনাটি নাট্যাঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের দিকে এখন সবার নজর রয়েছে। উল্লেখ্য, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতে এর কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে মারধর ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম শহিদ। ফেসবুক পোস্টে শহিদ দাবি করেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে তিনি ও তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান। খেলার প্রায় ৩০-৩১ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ভিপির পাশে বসেন। তিনি আরও জানান, খেলা দেখার প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি সেখানে আসেন। ওই সময় ভিপি একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে স্থান ত্যাগ করলে আম্মার তাকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার গেঞ্জির কলার ধরে টানাটানি করেন এবং সেখানে কেউ থাকতে পারবে না বলে জানান। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পোস্টে শহিদ আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভিপি ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। তখন তিনি ভবিষ্যতে রাকসুর কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অনাগ্রহের কথা জানান। পরে ভিপি তাকে অন্যত্র নিয়ে যান। এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী রাকসুর সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ নূন বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তবে মূল ঘটনা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তার ভাষ্য, তিনি স্ক্রিনের পাশে বক্সের একদম সামনে অবস্থান করছিলেন। সেখানে কী কথা হয়েছে বা কোনো গালাগালির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তিনি স্পষ্টভাবে শুনতে পাননি। পরে তিনি অভিযোগকারীর ফেসবুক পোস্টটি দেখেন বলে জানান। অন্যদিকে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি দাবি করেন, খেলা প্রদর্শনীতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, স্ক্রিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকায় দর্শকদের, বিশেষ করে নারী দর্শকদের খেলা দেখতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্য পাশে গিয়ে বসতে বলেন। তিনি আরও বলেন, তাকে কোনো ধরনের শারীরিকভাবে স্পর্শ করা হয়নি এবং অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার দাবি, ঘটনাটির সময় ওই শিক্ষার্থী অশালীন ভাষা ব্যবহার করে স্থান ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ও নিবেদিতপ্রাণ কোচ থাকার পরও বাংলাদেশ কেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি পদক জিততে পারছে না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমান। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত মতামত প্রকাশ করেছেন। জাইমা রহমান লিখেছেন, ফুটবল, ক্রিকেট, জুডো, অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন ক্রীড়া শাখায় বাংলাদেশের অসংখ্য জাতীয় ক্রীড়াবিদ বিকেএসপি থেকে উঠে এসেছেন। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি দেশের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, বিকেএসপিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিভার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আনন্দময় পরিবেশ এবং চারিত্রিক গুণাবলি তাকে মুগ্ধ করেছে। শিক্ষক, কোচ, চিকিৎসক দল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে তরুণ ক্রীড়াবিদদের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এত প্রতিভা ও দক্ষ প্রশিক্ষক থাকার পরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসার বিষয়টি তার মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাইমা রহমানের মতে, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রয়োজন। অল্প বয়স থেকেই বিভিন্ন পরিবেশে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলে তাদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো লিখেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত। তারা বিশ্বের সেরাদের বিরুদ্ধে নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করতে চায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পতাকা বহন করে সাফল্য বয়ে আনতে আগ্রহী। পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, স্পোর্টস সায়েন্স এবং পুনর্বাসন সহায়তা। একই সঙ্গে শিক্ষা ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে যেন একাডেমিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে একটি বেছে নিতে না হয়। বরং উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একাডেমিক মান বজায় রেখেও অ্যাথলেট-কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশেরও নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর মডেল তৈরি করা প্রয়োজন। পোস্টের শেষে বিকেএসপির শিক্ষক, কোচ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তাকে একজন গর্বিত বাংলাদেশি হওয়ার আরও একটি কারণ এনে দিয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি স্কুলের ছাত্রাবাসে আইফোন চুরির অপবাদে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত মেহেদী হাসান (১৪) ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্র ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। নিহতের পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা গেছে, সোনাপুর বাজার এলাকার রাঘবপুর গ্রামের জিয়া উদ্দিন ও শারমিন আক্তারের ছেলে মেহেদী হাসান একাডেমির ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করত। গত ১৪ জুন কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে গেলে মেহেদীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। একাডেমির আবাসিক শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফোন হারানো শিক্ষার্থীসহ ৯ জন সিনিয়র ছাত্র মেহেদীকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের নামে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সে গুরুতর আহত হয়ে মারা যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, মৃত্যুর ঘটনা আড়াল করতে অভিযুক্তরা মেহেদীর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়। পরে মেহেদীকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে মেহেদীকে মারধর করা হয়েছিল। তবে শুধুমাত্র মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এ জন্য লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ৮টার দিকে কয়েক শ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলের সামনে জড়ো হন। পরে রাত ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। আবাসিক শিক্ষক ইসমাইল হোসেন দাবি করেন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে প্রতিষ্ঠানের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর লাশ নিয়ে রামগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হয়। নিহত শিক্ষার্থীর চাচা জুয়েল রানা বলেন, ‘আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ভাতিজাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’ পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
বাংলাদেশে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জি জুন কিম। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বৈঠকে বিশেষভাবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাক্ষাৎকালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদনশিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতেও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বাংলাদেশে আরও বেশি দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানান এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে সামনে রেখে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি। জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বলেছেন, বাংলাদেশকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে জার্মানি ও ইউরোপ অত্যন্ত আগ্রহী। মঙ্গলবার জার্মান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান এবং এফএফওর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তারা সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। হার্টম্যান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এর মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জার্মানি ও ইউরোপ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়। জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে প্রতিনিধি দলটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আগ্রহও তুলে ধরে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সমর্থন অব্যাহত রাখতে জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। সফরকালে প্রতিনিধি দলটি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও বৈঠক করে। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। সফরের অংশ হিসেবে জার্মান কর্মকর্তারা কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত হন।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘অপ্রত্যাশিত ও দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঘটনার পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের উপ-হাইকমিশনার পবন বাধেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি দায়িত্বে সফরে থাকা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে এমন আচরণ দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের বিষয়। জানা গেছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহযোগিতা বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নিতে ড. জাহেদ উর রহমান দিল্লি পৌঁছান। বিমানবন্দরে নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় তার নাম বিশেষ পর্যবেক্ষণ তালিকায় আসায় তাকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি সফর অব্যাহত না রেখে বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রকাশ্যে এ ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন। ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অতীতের কিছু বক্তব্য ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে তাকে অতিরিক্ত সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বাংলাদেশ ও ভারত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত পরিস্থিতি, কথিত ‘পুশ-ইন’, অনিয়মিত অভিবাসন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে সংবেদনশীল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত টহল জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও সীমান্ত-সংক্রান্ত কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও মাঝে-মধ্যে উদ্ভূত এ ধরনের ঘটনা পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হয় এবং দুই দেশ পরবর্তী সময়ে কী বার্তা দেয়, সেদিকে নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।
দেশের মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে বেতন বিতরণে বিদ্যমান বিলম্ব ও প্রশাসনিক জটিলতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। তিনি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সময়মতো বেতন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষক আর্থিক সংকটে পড়ছেন। এর জবাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সমস্যাটি সমাধানে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে অনুমোদিত ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (মেমিস)’ প্রকল্পে স্বয়ংক্রিয় ইএফটি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে বেতন-ভাতা বিতরণে কাগজপত্রনির্ভর প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হওয়ায় প্রায়ই বিলম্ব ও জটিলতা দেখা দিত। পরবর্তীতে প্রকল্পটি সংশোধন করে ইএফটি ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। গত ৯ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে, যা বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ করেছে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের আটটি মাদ্রাসায়—প্রতি বিভাগে একটি করে—ইএফটি পদ্ধতিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো প্রচলিত ম্যানুয়াল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল থাকায় বেতন বিতরণে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ইএফটি ব্যবস্থা দেশব্যাপী চালু হলে মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বেতন-ভাতা পাবেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভোগান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনাও আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। প্রসঙ্গত, মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং আর্থিক বৈষম্যের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন অতীতে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অর্থ ছাড়, উৎসব ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধার দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বেতন প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তাই ইএফটি পদ্ধতি পুরোপুরি চালু হলে দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা সমাধানের পথে এগোবে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী, পাবনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ২২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুমিল্লায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা স্থান, জলাশয় ও উঁচু গাছের নিচে অবস্থান না করার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারত থেকে পুশ-ইনের চেষ্টার পর ছয় বাংলাদেশি নাগরিক তিন দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খাবার ও পানির ওপর নির্ভর করে টিকে আছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছয়জন ব্যক্তি শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের চারপাশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আটকে থাকা সুমি আক্তার (২৫) বলেন, “ভাই, আমগোর জীবন গেলে যাক, আমগোর বাচ্চা দুইডারে বাঁচাইন। এভাবে আর দুইটা দিন ফালায় রাখলে বাচ্চাগুলো মরে যাবে।” তিনি জানান, তিন দিন ধরে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করায় তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় তার বুকের দুধ প্রায় শুকিয়ে গেছে, ফলে ছোট শিশুকে ঠিকমতো দুধ খাওয়াতে পারছেন না। সীমান্তে দেখা যায়, সুমি আক্তারের বড় মেয়ে ফাতেমা খাতুন (৫) বাবার কোলে শুয়ে আছে। ছোট শিশু ফাহিমা খাতুন বারবার কান্না করছে। মা কখনো শিশুটিকে পানি খাওয়াচ্ছেন, আবার কখনো কোলে নিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। পুশ-ইনের চেষ্টার শিকার ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া এলাকার কংশেরকুল গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৩৫), তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার (২৫), তাঁদের দুই সন্তান ফাতেমা ও ফাহিমা খাতুন এবং একই গ্রামের সজীব মিয়া (২৬) ও হিমেল মিয়া। বিল্লাল হোসেন বলেন, “এক সপ্তাহ আগে দালালের মাধ্যমে কাজের আশায় ভারতে গিয়েছিলাম। পরে সেখানে আটক হই। গত রোববার ভোরে আমাদের কাঁটাতারের কাছে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিন দিন ধরে নো ম্যানস ল্যান্ডে বসে আছি। আমরা বাংলাদেশি।” স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, রোববার ভোরে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা এবং বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকেই তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। ঘটনার পর রোববার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। আটকে থাকা সজীব মিয়ার এলাকার গ্রাম পুলিশ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, সংবাদমাধ্যমে খবর দেখে তারা ব্যক্তিদের শনাক্ত করেছেন। তাদের কয়েকজন কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হয়েছে, তবে এখনো তাদের ফেরানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “পুশ-ইনের বিষয়টি নিয়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে তারা নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।”
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। লোহাগড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে। নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে নিজ গ্রামে চলে আসেন লিমন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যমতে, সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর থেকেই পারিবারিক অস্থিরতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী তাদের সন্তানকে নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান পরিচালনা এবং শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। ঘটনার দিন সকালেও তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার সময় সুমনা গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়। এরপর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর লিমন প্রতিদিনের মতো কাজে চলে যান বলে জানা গেছে। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার পর পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি স্বাভাবিক আত্মহত্যার ঘটনা নয়। লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গৃহবধূর এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আমেরিকার ডেস্ক: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মোহনা এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ৭ বাংলাদেশি জেলে এবং দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার বোট আটক করে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সোমবার (১৫ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব পাড়া ঘাট থেকে দুটি বোট নিয়ে মাছ ধরতে সমুদ্রে যান জেলেরা। মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলে এবং জেলেদের বোটসহ আটক করে নিয়ে যায়। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর প্রশাসন জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। প্রাথমিকভাবে ৭ জন জেলে আটকের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। শাহপরীরদ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান জানান, সীমান্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহপরীরদ্বীপ বিওপি এলাকা থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায়, মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া সংলগ্ন জলসীমায় এ ঘটনা ঘটে। আটক জেলেরা হলেন— ফয়সাল (২৬), জলিল (১৬), আজম (১২), হেলাল (১১), লালয়া (১৯), সৈয়দ আলম (২১) ও ফয়সাল (২২)। তারা সবাই শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা। আটক হওয়া দুটি মাছ ধরার বোটের মালিক স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাজ্জাক। এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার জেলেদের অভিযোগ, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের সীমান্ত অঞ্চলে মাছ ধরতে গিয়ে তারা প্রায়ই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বাধা, হয়রানি ও আটকের মুখে পড়েন। তারা আটক জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন। ঘটনার পর শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। আটক জেলেদের স্বজনরা তাদের দ্রুত মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রোববার রাত ১০টা) এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলাও দায়ের হয়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী চক্র ‘রায়হান গ্রুপ’-এর সদস্যরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পাঁচজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের কাছে শটগান ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাউজান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করে আসা রায়হান বাহিনীর সদস্যরা এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত। এই বাহিনীর নেতা রায়হান স্থানীয় সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরী-এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এমপি বলেছেন, অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানা অপকর্মে জড়ালেও তাদের কোনো প্রকৃত দলীয় পরিচয় নেই। তিনি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। গত শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরীকে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চট্টগ্রামের আরেক আলোচিত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অনুসারী রায়হান বাহিনীর সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলায় অংশ নেয়। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, পূর্ব রাউজানের মোহাম্মদ জাহেদ এবং মোহাম্মদ আবছার। ফুটেজ অনুযায়ী, প্রথমে ইলিয়াস ও দিদার গুলি চালায়, পরে অন্যরা কাছ থেকে আরও গুলি করে নিশ্চিতভাবে হত্যার ঘটনা ঘটায়। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রায়হান বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১২টি হত্যাসহ ২৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী দামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে রয়েছে ৫টি হত্যাসহ ১৮টি মামলা। অন্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রাউজানের পূর্ব সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এসব সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের পর তারা সেখানেই আশ্রয় নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাউজান ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত বেশির ভাগ সহিংস ঘটনার সঙ্গে পাহাড়কেন্দ্রিক এসব গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিহত মাকসুদুল হকের পরিবার জানিয়েছে, তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বলেন, “কারা, কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে। সিসিটিভিতে যাদের দেখা গেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হলে ঘটনার কারণ স্পষ্ট হবে।” এদিকে, এলাকাজুড়ে কর্ণফুলী নদীর বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব খতিয়ে দেখা জরুরি। রোববার বিকেলে বেতাগী ইউনিয়নের চম্পাতলী ঈদগাহ মাঠে মাকসুদুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিপুল মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জানাজার আগে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতারা বক্তব্যে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, অস্ত্র হাতে দেখা পাঁচজনই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।