ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শাহী ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে আয়োজিত এ জামাতে অংশ নেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ফলে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। ভোর থেকেই সিলেট নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা ঈদগাহমুখী হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত শুরুর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ফুটপাত ও খোলা স্থানেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন অনেকে। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন শায়েখে পীর সাহেব বরুণা। জামাতের আগে বয়ান করেন বন্দরবাজার জামে মসজিদের খতিব হাফিজ মাওলানা কামাল উদ্দিন। বয়ানে ঈদের তাৎপর্য, ত্যাগের শিক্ষা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কল্যাণ, দেশবাসীর সুখ-শান্তি এবং সব ধরনের দুর্যোগ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। এ সময় অনেক মুসল্লিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সিলেট জেলায় মোট ২ হাজার ৯৫৮টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় হয় ৩৯৬টি জামাত। বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান জামাতে অংশ নেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয় ব্যাপক ব্যবস্থা। প্রায় ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল। প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ঈদের আনন্দ, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নতুন পোশাক ও উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পায় পুরো নগরী।
রাজধানীর মগবাজারে দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মো. রাব্বি (১৭) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতের দিকে মগবাজারের মধুবাগ মাদ্রাসা খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি মগবাজার আঞ্জুমান হাই স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং পঞ্চগড়ের ফুলতলা উপজেলার মো. ফারুক মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে মগবাজারের চেয়ারম্যান গলিতে বসবাস করতেন। প্রতিবেশী কাজী সিয়াম আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, ইফতারের পর রাব্বি তার দুই বন্ধু ও এক বান্ধবীর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় বখাটে উজ্জ্বলসহ ৫-৬ জন কিশোর তাদের ঘিরে ফেলে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা রাব্বির বুকে ছুরি মারে এবং পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাব্বিকে প্রথমে স্থানীয় কমিউনিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, রাব্বির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি আটক হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর—পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। কিন্তু সেই ঈদ ছিল না উৎসবের, ছিল আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ এসেছিল এক ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে। মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, ধরপাকড় ও দখলদারিত্বের মধ্যে মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে চলছিল প্রতিরোধ যুদ্ধ। এমন দমবন্ধ পরিস্থিতিতেই আসে ঈদ। যেখানে রমজান এলেই চট্টগ্রাম নিউমার্কেট ও রেয়াজুদ্দিন বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে একাত্তরে ছিল নিস্তব্ধতা। নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, অনেকেই ন্যূনতম আয়োজনেই ঈদ পার করেছেন। প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে—ঈদের দিনটিতে আনন্দের চেয়ে ভয়ই ছিল বেশি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ, লুটপাট ও গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ত প্রতিনিয়ত। তবুও মানুষের মনে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন। কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল–এর পরিবারও সেই বাস্তবতার বাইরে ছিল না। তাঁর ছেলে আবুল মোমেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ভয়, আশঙ্কা আর আশাবাদের মধ্যেই ঈদ এসেছিল। ঘরে ভালো খাবার হলেও কোনো উৎসব ছিল না।” মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক মাহফুজুর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ঈদ উদ্যাপনের কোনো পরিবেশই ছিল না। বরং নিরাপত্তার কারণে অনেককে বাড়ি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পরাধীন দেশে ঈদে উৎসব বর্জনের আহ্বান জানিয়ে প্রচারপত্রও বিতরণ করা হয়েছিল। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যা শহরটিকে পরিণত করেছিল মৃত্যুপুরীতে। বন্দর, হালিশহর, লালখান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয় বড় বড় হত্যাকাণ্ড। অনেক জায়গায় নালা ও ম্যানহোল থেকেও উদ্ধার করা হয় লাশ। ঈদের দিনও ছিল না নিরাপদ। পটিয়ার মনসা গ্রামে এক মায়ের কান্না আজও স্মৃতিতে জাগ্রত—যুদ্ধের কারণে মেয়েকে দেখতে না পারার বেদনা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। আবার কোথাও বাবাকে হারানো সন্তানের কান্না ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছিল। ইতিহাস গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, “ঈদের দিন নতুন কাপড় ছিল না, ছিল শুধু দুধের সেমাই আর ভয়ের মধ্যে কাটানো কিছু সময়।” সেদিনের ঈদ ছিল না কোলাকুলি বা আনন্দের—ছিল নীরবতা, আতঙ্ক আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তবুও মানুষের অন্তরে ছিল একটিই বিশ্বাস—স্বাধীনতা আসবে, অন্ধকার কেটে যাবে। আজকের স্বাধীন দেশে আনন্দমুখর ঈদ উদ্যাপনের পেছনে তাই লুকিয়ে আছে সেই ত্যাগ, বেদনা আর সংগ্রামের ইতিহাস।
আগামীকাল শনিবার মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। ৩০ দিন রোজার পর মুসলিমরা এদিন আনন্দ ও ধর্মীয় উৎসাহের সঙ্গে ঈদের নামাজ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দেশের কোথাও ১৪৪৭ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বৈঠকে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সভাপতিত্ব করেন। এই বছরের ঈদ উদযাপনে রাজধানীসহ সারাদেশে সকল ধর্মপ্রাণ মুসল্লির জন্য যথাযথ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল বা অন্য কোনো কারণে জামাত সেখানে সম্ভব না হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের প্রধান জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী প্রস্তুত থাকবেন। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদেও সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের মতো পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বেলা পৌনে ১১টায় শেষ হবে। প্রথম জামাতে সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় জামাতে পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন, চতুর্থ জামাতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং পঞ্চম জামাতে মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামতি করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—সকাল ৮টায় প্রথম ও ৯টায় দ্বিতীয় জামাত। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তিন লাখেরও বেশি মুসল্লি অংশ নেন। ঈদ উদযাপনের জন্য জাতীয় ও স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বেসরকারি সংস্থা সমূহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি মনিটরিং, ব্যারিকেড, পেট্রোলিং ও মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে সাথে সব সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কারাগার, শিশু ও বৃদ্ধ নিবাসসহ অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনও যথাযথভাবে ঈদ উদযাপন করবে। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে পার্ক, জাদুঘর ও দর্শনীয় স্থানে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সারাদেশে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন, আনন্দ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এই মুসলিম উৎসব উদযাপন হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম ওরফে হাসুকে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে ডিএমপি আদাবর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসুকে আজ আদাবর এলাকা থেকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বর্তমানে থানায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলার পাশাপাশি একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সূত্রে জানা যায়, হাসুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন তিনি। ২০০২ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। আদাবর ও শ্যামলী এলাকায় অর্ধশতাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট দখল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগও আদালতে বিবেচনাধীন রয়েছে।
গাজীপুরের নাওজোর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় বুধবার রাত ৯ টার দিকে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। ড্রেস ইন স্টাইল লিমিটেড নামের কারখানার নিচ তলায় শুরু হওয়া আগুন দ্রুত তিন তলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রহরী ও আশপাশের মানুষ আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। আগুনের খবর পেয়ে কোনাবাড়ী মর্ডান ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এবং গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আরও তিনটি ইউনিট সহ মোট আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, কারখানার ভেতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে গেছে। রাত ১:০৩ মিনিট পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ আশপাশের লোকজনকে সতর্ক থাকার জন্য এবং নিরাপদ দূরত্বে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ‘ড্রেস ইন স্টাইল লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কারখানার নিচতলায় প্রথমে আগুন লাগে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তিনতলা ভবনের বিভিন্ন অংশে। আগুন লাগার পর স্থানীয় লোকজন ও কারখানার প্রহরীরা প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কোনাবাড়ী মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এবং গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সর্বমোট পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। কারখানার নৈশপ্রহরী দীন ইসলাম জানান, বিকেলে কারখানা ছুটি হওয়ার পর তিনি রাত ৮টার দিকে দায়িত্ব নেন। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তিনি এগিয়ে যান এবং আগুন দেখতে পেয়ে অন্যদের খবর দেন। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টা ৩৪ মিনিট) আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত দুইজন। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রলারে করে আসা কয়েকজন যাত্রী ঢাকা-ইলিশা (ভোলা) রুটের একটি লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে জাকির সম্রাট-৩ নামের একটি লঞ্চ ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে ট্রলারটি দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত লঞ্চটি দ্রুত টার্মিনাল ত্যাগ করে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। আহতদের মধ্যে এক নারীকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি মানসিকভাবে ভীষণ আঘাতপ্রাপ্ত থাকায় এখনো বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত চলছে।
সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস–এর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। বুধবার অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়া মির্জা আব্বাসকে প্রথমে দেশে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে। দোয়া মাহফিলে অংশ নেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি মির্জা আব্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি যোগাযোগ না থাকলেও তিনি জানেন, এই প্রবীণ নেতা দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তামিম বলেন, মির্জা আব্বাস তার ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে—বিয়েতে—উপস্থিত ছিলেন, যা তার কাছে স্মরণীয়। সেই সূত্রে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হওয়াকে তিনি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। তিনি আরও জানান, আয়োজকদের কাছ থেকে জানা গেছে, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতির দিকে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবাই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন বলেও উল্লেখ করেন তামিম।
ঢাকার সাভারে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন একটি কুরিয়ার সার্ভিসের শ্রমিকরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় যানজট। শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও বোনাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের পাওনা পরিশোধ করেনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক শতাধিক শ্রমিক সড়কে নেমে অবরোধ করেন এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের দাবি জানান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের আশ্বাসের পর রাত প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে দাঁড়ান। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী জানান, শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমদানিকৃত জ্বালানি দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে আরও দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ ও ‘এলপিজি সেভেন’ নামের জাহাজ দুটি বর্তমানে খালাস কার্যক্রমে রয়েছে। এর মধ্যে ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ বুধবার এবং ‘এলপিজি সেভেন’ শুক্রবার (২০ মার্চ) মূল বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ গত ১৫ মার্চ বন্দরে পৌঁছে বর্তমানে ব্রাভো মুরিং এলাকায় অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি খালাস হয়েছে এবং ১৯ মার্চের মধ্যে পুরো খালাস শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘এলপিজি সেভেন’ গত ৮ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ২০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস করা হয়েছে। ২০ মার্চের মধ্যে জাহাজটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মোট ২৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজের মধ্যে অধিকাংশই কার্গো খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান ও ভারত থেকে আসা এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, অ্যাঙ্গোলা, থাইল্যান্ড ও ওমান থেকে আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম বলেন, জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন জাহাজগুলোর আগমনে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস
ঢাকা থেকে নোয়াখালীর হাতিয়া যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ‘এমবি সুগন্ধা’ নামক একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবোচরে উঠে গেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর মজু চৌধুরীর ঘাটের পূর্ব-দক্ষিণ দিকের ‘বগারচর’ নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে লঞ্চে থাকা নারী ও শিশুসহ ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও দীর্ঘ সময় ধরে ওই নির্জন চরে আটকা পড়ে আছেন। লঞ্চের যাত্রীরা জানান, ভোরে মেঘনা নদী অতিক্রম করার সময় হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়। ঝোড়ো বাতাসের কারণে মাস্টার নিয়ন্ত্রণ হারালে লঞ্চটি দ্রুত ডুবোচরে উঠে পলির সঙ্গে আটকে যায়। এতে আতঙ্কিত যাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করেন। দুপুরে নদীতে জোয়ার এলেও তা পর্যাপ্ত না হওয়ায় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত লঞ্চটি পুনরায় ভাসানো সম্ভব হয়নি। আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে হাতিয়া কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি হাতিয়া উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান বা লঞ্চটি নামানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হতেই শিল্পনগরী গাজীপুর থেকে গ্রামে ফিরতে শুরু করেছে শ্রমজীবী মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ১২টার পর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে এবার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ না থাকায় এবং যানজটহীন যাত্রায় সাধারণ মানুষের চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ দেখা গেছে। মহাসড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চার শতাধিক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের প্রায় ৯৫ শতাংশ কারখানায় বকেয়া বেতন এবং ৯১ শতাংশ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ার কারণে এবার মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ ধাপে ধাপে বাড়ছে, ফলে বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। মঙ্গলবার ৪৪৪টি কারখানা ছুটি হয়েছে এবং বুধবার আরও ১৪১৪টি কারখানা ছুটি হওয়ার কথা রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যানজট নিরসনে পেট্রোল টিম, মোবাইল টিম এবং সাদা পোশাকে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ধাপে ধাপে কারখানা ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কার্যকর হওয়ায় এবার ঘরমুখো মানুষের যাত্রা অনেক বেশি নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় সহপাঠীর ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে সেতু (১৪) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেতু কালকিনি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং ওই গ্রামের দুলাল ঘরামীর মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, সেতুর সহপাঠী কাইফ তার কিছু আপত্তিকর ছবি ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এই মানসিক চাপ সইতে না পেরে সেতু আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। অভিযুক্ত কাইফ দক্ষিণ কৃষ্ণনগর গ্রামের উজ্জলের ছেলে। নিহতের বাবা দুলাল ঘরামী জানান, কাইফ তার মেয়েকে ছবির ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে হেনস্তা করত। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি থানায় মামলা করতে গেলেও গড়িমসি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে বাহরাইনে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দর হয়ে তারা দেশে ফিরতে পারবেন। রোববার (১৫ মার্চ) মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দূতাবাসের সমন্বয়ে গালফ এয়ারের মাধ্যমে দাম্মাম থেকে ঢাকাগামী একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ফ্লাইটে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ফিরতে পারবেন। দূতাবাস জানিয়েছে, এই ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে আগ্রহীদের দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেওয়া গুগল ফরমের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। তবে চূড়ান্তভাবে আসন বরাদ্দের বিষয়টি গালফ এয়ার কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করবে। ভ্রমণের সম্ভাব্য তারিখ আগামী ২০ মার্চ বা এর কাছাকাছি সময় নির্ধারণ করা হতে পারে। প্রতিটি আসনের আনুমানিক ভাড়া ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ বাহরাইনি দিনার। এই ফ্লাইটে ভ্রমণকারীরা ২৩ কেজি ওজনের একটি ব্যাগেজ ও একটি হ্যান্ডব্যাগ বহনের সুযোগ পাবেন। বাহরাইন থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম পর্যন্ত বাসে যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় সৌদি ট্রানজিট ভিসার ব্যবস্থাও একই ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দূতাবাস জানায়, যাত্রীদের টিকিট নিশ্চিত হলে গালফ এয়ার কর্তৃপক্ষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এদিকে আগ্রহী বাংলাদেশিদের সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টার মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মো. রাকিব (২৭) জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্ট বিডি’র অভিনেতা ও পরিচালক রাকিব হাসান নন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় মো. রাকিব নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, নিহত ব্যক্তি ‘ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্ট বিডি’র প্রধান অভিনেতা ও পরিচালক রাকিব হাসান, যিনি ‘চান্দা ভাই’ নামে পরিচিত। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন রাকিব হাসানের ভাই খায়রুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফেইক নিউজে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। রাকিব ভাই আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ আছেন। এ ঘটনার পর রাকিব হাসান নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, এটি একটি ভুল খবর। কীভাবে এমন গুজব ছড়িয়েছে আমরা নিজেরাও জানি না। তিনি আরও বলেন, অনেকেই তাকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন, তবে পরিস্থিতি বুঝতে সময় লাগায় সবাইকে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিতে পারেননি। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি সুস্থ আছেন। এদিকে যাচাই–বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। এ ধরনের গুজব ছড়ানোর আগে তথ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে রাকিব হাসানের পরিবার।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হওয়া রাকিব (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১৫ মার্চ) রাত সোয়া ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে তাকে ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে সিহাব হোসেন নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে। তার বাড়ি খুলনায় বলে জানা গেছে। হাসপাতালে রাকিবকে নিয়ে আসা জিএম ইশান বলেন, রাতে কয়েকজন বন্ধু মিলে শহীদ মিনারের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে এগিয়ে গিয়ে তারা রাকিবকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। রাকিবের বন্ধু মো. রনি জানান, রাতে রাকিব কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে শহীদ মিনারের পাশে একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। এ সময় এক যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে তারা রাকিবকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার মাথায় গুলির আঘাত ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন একজনকে ধরে ফেলে এবং পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাকিব পুরান ঢাকার নিমতলী এলাকার বাসিন্দা। তিনি শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। তার বাবার নাম তরিকুল ইসলাম খোকন। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির বলেন, শহীদ মিনার এলাকায় রাকিব নামে এক যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ঘটনা ঘটেছে। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
রাজধানীর খিলক্ষেতে উন্নয়ন কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে খিলক্ষেতের খাঁপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরের পাশে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খাঁপাড়া এলাকায় মাটির নিচে থাকা বৈদ্যুতিক তার ক্রেনের সাহায্যে উপরে তোলার কাজ চলছিল। কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত মাটির নিচের তারটি পাশের একটি সচল বৈদ্যুতিক খুঁটির সংস্পর্শে আসে। এতে মুহূর্তের মধ্যে সেখানে কর্মরত পাঁচজন শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়-এ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দিন ২৫–৩০ জন নেতা-কর্মীর সঙ্গে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, পরে তারা ইউএনও ও কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দিন ইউএনওকে অভিযুক্ত করে বলেন, আপনি নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেবেন, আমরা তা মানব না।” ইউএনও রায়হানুল ইসলাম এই সময় জানান, “এই অফিস চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকে। অধ্যক্ষ যদি কিছু অবৈধ দেখতে পান, বোর্ডকে জানান। মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তার লোকজন পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান। আমি চেষ্টা করেছি কাগজপত্র ফিরিয়ে আনতে।” হরিপুর ইউএনও রায়হানুল ইসলাম বলেন, “উচ্ছৃঙ্খল আচরণের ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জামাল উদ্দিন দাবি করেছেন, ইউএনও নিয়োগ পরীক্ষার সময় পয়সা লেনদেন করেছেন, এবং এ বিষয়টি জানিয়ে তিনি সেখানে যান। তার দাবি, পরে কাগজপত্র অফিসে ফেরত রাখা হয়েছে।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সন্তান ও আলোচিত রাজনৈতিক আন্দোলনকর্মী শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি-এর জীবনী সম্প্রতি মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া-তে প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধে তার জীবন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শরীফ ওসমান বিন হাদি নামে জন্ম নেওয়া ওসমান হাদি ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঝালকাঠির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসা থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জন করেন এবং পরে উচ্চশিক্ষা নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শিক্ষকতা, লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন ও বক্তব্যের মাধ্যমে ওই সময় তিনি আলোচনায় আসেন। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি জুলাই মাসে শহীদদের অধিকার রক্ষা, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী অবস্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পরে ঢাকার বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্টের কাছে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩২ বছর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাবেয়া ইসলামকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর পর তাকে ঢাকায় কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশনে ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাবস্টেশনের জি-২ (G2) ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যাওয়ায় আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ট্রান্সফরমারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে জি-২ ট্রান্সফরমারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মদনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মোমেন সরকার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমারের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প হিসেবে সোনারগাঁও ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হলেও সেখানেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। ট্রায়াল দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর চেষ্টা করা হবে। এদিকে, বন্দর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার সঞ্জয় খান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণের পরই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস