বাংলাদেশ

আইসিইউতে হাতকড়া পরা ছবি নিয়ে ভাইরাল সেই আওয়ামী লীগ নেতা আর মারা গেছেন
আইসিইউতে হাতকড়া পরা ছবি নিয়ে ভাইরাল সেই আওয়ামী লীগ নেতা আর মারা গেছেন

একাধিক মামলায় গ্রেফতার হওয়া পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান খান (মনির খান) মারা গেছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   মনির খান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।   পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৪ জুন আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং দুই দিন পর লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার তার মৃত্যু হয়।   এর আগে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় জামিন মঞ্জুর হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তিনি হাসপাতাল থেকে আর সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেননি।   তার স্ত্রী সালমা জাহান জানান, সর্বশেষ ৩০ জুলাই তার বিরুদ্ধে থাকা শেষ মামলাতেও তিনি জামিন পান। এর আগে বাকি সাতটি মামলায়ও আদালত তাকে জামিন দেন। হাতকড়া পরা ছবি প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে পুলিশ তার হাত থেকে হাতকড়া খুলে দেয়।   স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মনির খান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টো রোড এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ছয়টি এবং পটুয়াখালী সদর থানায় দুটি, মোট আটটি মামলা ছিল। পরিবার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী সদর উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৪:১৪
কিস্তির টাকা নিয়ে ভয়ে গ্রাহকের গরু নিয়ে গেলেন এনজিও কর্মীরা
কিস্তির টাকা নিয়ে ভয়ে গ্রাহকের গরু নিয়ে গেলেন এনজিও কর্মীরা

ঠাকুরগাঁওয়ে ঋণের কিস্তি আদায়ের নামে এক গ্রাহকের বাড়ি থেকে গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ইএসডিওর কর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার কোনো কিস্তি বকেয়া ছিল না এবং ঋণ পরিশোধের জন্য আরও সাত মাস সময় ছিল। এরপরও পুরো টাকা একসঙ্গে পরিশোধের চাপ দিয়ে বাড়ি থেকে গরুটি নিয়ে যাওয়া হয়।   ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুলাই ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের রোড এলাকায়। স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী সুমন চন্দ্র রায় ইএসডিওর শান্তিনগর শাখা থেকে মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির আওতায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ নেওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন বলে দাবি করেছেন।   সুমনের ভাষ্য, ঘটনার দিন ইএসডিওর কয়েকজন মাঠকর্মী তার বাড়িতে গিয়ে বাকি ঋণের সব টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করতে বলেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুরো টাকা দিতে না পারায় তারা বাড়িতে থাকা একটি গরু নিয়ে যান।   সুমন চন্দ্র রায় বলেন, তার কোনো কিস্তি বকেয়া ছিল না। চুক্তি অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের জন্য আরও সাত মাস সময় থাকার কথা। গ্রামের বাড়ি ছেড়ে শহরের ভাড়া বাসায় ওঠার কারণে তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন এমন সন্দেহ তৈরি হলেও সংস্থাটির কাছে তার চেকসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে।   তিনি অভিযোগ করেন, এসবের পরও বাড়ি থেকে গরু নিয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘটনার ছয় দিন পরও গরুটি ইএসডিওর শান্তিনগর শাখার মাঠে রাখা ছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।   ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করার দাবি করে স্থানীয় মুদি দোকানি ছানোয়ার হোসেন বলেন, সুমনের এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তিনি পালিয়ে যাচ্ছিলেন না। তার অভিযোগ, স্থানীয়দের সামনেই টানাহেঁচড়া করে গরুটি নিয়ে যাওয়া হয়। কিস্তি বকেয়া না থাকার পরও এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।   ঘটনার পর স্থানীয় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিস্তি আদায় বা ঋণ পরিশোধে চাপ দেওয়ার নামে কোনো গ্রাহকের বাড়ি থেকে গবাদিপশু নিয়ে যাওয়ার এখতিয়ার একটি বেসরকারি সংস্থার রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।   অভিযোগের বিষয়ে ইএসডিওর দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠকর্মী ও শান্তিনগর শাখার ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   তবে শাখাটির এক কর্মচারী বলেন, সুমন অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিলেন এমন তথ্য পাওয়ার পর গরুটি অফিসে এনে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।   ইএসডিওর এরিয়া ম্যানেজার মিতালি ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, দুই পক্ষের কথা শুনলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি জানান, গ্রাহক অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে।   তবে ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়ায় গরু নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন, এটি সংস্থার অনুমোদিত কোনো পদ্ধতি কি না এবং গ্রাহকের কিস্তি সত্যিই বকেয়া ছিল কি না, এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত গরুটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২:৫১
টানা ৫ দিন অনশনের পর বিয়ে, তিন মাস পর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
টানা ৫ দিন অনশনের পর বিয়ে, তিন মাস পর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে প্রেমিকের বাড়িতে টানা পাঁচ দিন অনশনের পর সালিশের মাধ্যমে বিয়ে করা ১৯ বছর বয়সী মোনিয়া রহমান মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্বামীর বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মুন্নির পরিবার হত্যার অভিযোগ তুলেছে। তবে পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।    বুধবার সকালে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে মুন্নির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।   নিহত মোনিয়া রহমান মুন্নি ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া ভূঁইয়াবাড়ীর মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী একই গ্রামের লাল মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে জিহাদ ভূঁইয়া।   মুন্নির মা রিনা বেগমের অভিযোগ, তার মেয়েকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিয়ের আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জিহাদ মুন্নির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।   পরিবারের ভাষ্য, নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। এরপরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি তাদের।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের দাবিতে কয়েক মাস আগে জিহাদের বাড়িতে গিয়ে টানা পাঁচ দিন অনশন করেন মুন্নি। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় গ্রাম্য সালিশ বসে। গত ৩০ এপ্রিল ৯ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।    কিন্তু সংসার শুরুর তিন মাসের মধ্যেই মুন্নির মৃত্যু ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর জিহাদ ও তার মা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। তবে তাদের অবস্থান কিংবা অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   মুন্নির পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।   গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। পরিবারের অভিযোগও তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২:২০
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশের তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশের তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ

নয়াদিল্লিতে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।    গত ৫ আগস্ট জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে এ ধরনের সরাসরি ব্রিফিং বা সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।   ​পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা সংবাদ সম্মেলনের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ভারত সরকার এই অনুষ্ঠান আয়োজনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বা বাধা প্রদান করেনি।   ​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিনে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার এমন বাংলাদেশ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। একইসাথে এটি জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের প্রতি চরম অবমাননার শামিল।    জাতিসংঘ স্বীকৃত জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার নির্মম সত্যকে অস্বীকার করার এই ব্যর্থ অপচেষ্টাকে বাংলাদেশের জনগণ ইতোমধ্যে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।    ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের অন্ধকার দিনগুলোতে বাংলাদেশ আর কখনো ফিরে যাবে না বলে গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় দেশের মানুষ আজ সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞ।   ​বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সর্বদা সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে ভারতের সাথে একটি গঠনমূলক, সম্মানজনক ও অমায়িক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।    ২০১৩ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।   ​এমতাবস্থায়, ভারতের মাটিতে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অপরাধী শেখ হাসিনাকে এমন প্রকাশ্য গণমাধ্যম সংযোগের সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।    এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঢাকা ও নতুন দিল্লির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রযাত্রাকে গভীরভাবে ব্যাহত করছে বলে মনে করে বাংলাদেশ সরকার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৭:১০
মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়িতে আগুন
মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমা বিস্ফোরণ

মাগুরায় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের বাড়িতে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ৫ আগস্ট রাত পৌনে ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্বৃত্তরা বাড়িটি লক্ষ্য করে দুটি পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরণের ধাক্কায় বাড়ির কাচের জানালা ভেঙে যায় এবং সেখানে আগুনের সৃষ্টি হয়।   খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়। হামলায় কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   কারা এ হামলা চালিয়েছে এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।   ঘটনাটি ঘটার কয়েক ঘণ্টা আগে ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সাকিব আল হাসান। তবে ওই অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণের সঙ্গে বাড়িতে হামলার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কিছু বলেনি।   সাকিব ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাগুরা ১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি আর বাংলাদেশে ফেরেননি। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের আগে হামলার কারণ বা দায়ীদের পরিচয় নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৬:২১
জুলাই গণঅভ্যুত্থ্যান দিবস অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে হট্টগোল করে পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছবি : নিজস্ব প্রতিনিধি
দাওয়াত না পেয়ে পাবিপ্রবিতে জুলাইয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিল ছাত্রদল

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা জুলাই গণঅভ্যুত্থ্যান দিবস অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের বক্তব্য ছাড়াই দোয়ার মাধ্যমে দ্রুত প্রোগ্রাম শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।   বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।   জানা গেছে, পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থ্যান দিবস উপলক্ষ্যে ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ শুরু হয়। এরপর শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ৪ আগস্ট পাবনায় যুবলীগ-আওয়ামীলীগের গুলিতে শহীদ হওয়া শহীদ মাহবুব হাসান নিলয়ের পিতা আবুল কালাম আজাদ।   এরপর ৪ আগস্টে আরেক শহীদ জাহিদুল ইসলামের পিতাকে বক্তব্য রাখার জন্য মঞ্চে ডাকলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বাইরে থেকে মিছিল নিয়ে কনভেনশন সেন্টারে প্রবেশ করেন।   এরপর অনুষ্ঠানস্থলে দাঁড়িয়ে ‘জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো’, ‘পাবিপ্রবি ছাত্রদল জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘জুলাইয়ের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’, ‘দালালি আর করিস না পিঠের চামড়া থাকবেনা’, ‘আবু সাইদের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’ এবং ‘আহ্বায়ক ভুয়া, ভুয়া’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।   এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশিদুল হক এবং অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানের ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা শিক্ষকদের সাথে বাগ্‌বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়।   ঘটনার এক পর্যায়ে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন তাদেরকে থামার জন্য বললে ছাত্রদল কর্মী নিশানকে ঐ শিক্ষকের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। এরপর উপাচার্য মাইক নিয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের অনুষ্ঠানের পরে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে তারা উপাচার্যকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে চিৎকার করে ওঠেন।   পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া শুরু করলে ‘স্বাধীনতা হল’ মসজিদের ইমাম মুফতী শাখাওয়াত হোসেন দোয়া পরিচালনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন। সংবাদ সংগ্রহকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায়।   তবে ছাত্রদলের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই কর্মসূচিতে জুলাইয়ের ‘স্টেক হোল্ডারদের’ দাওয়াত না দেওয়া এবং অনুষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি রাখার কারণে তারা কর্মসূচির প্রতিবাদ করেছেন।   বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন একজন জুলাই যোদ্ধার চেতনার প্রতীক। প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে জুলাইকে কেন্দ্র করে কোনো আয়োজন আমরা মেনে নিতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ আগস্ট উপলক্ষে কর্মসূচি আয়োজন করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনার যেসব সমন্বয়ক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।’   বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন বলেন, ‘জুলাই স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের কাউকেই দাওয়াত দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনা জেলার সমন্বয়ক মঞ্জুরুল, সহ-সমন্বয়ক রুমেল এবং গুম হওয়া নিশান-কেউ আমন্ত্রণ পাননি। অথচ আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এ কারণেই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি।’   তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলোচনা সভার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রতিটি বিভাগেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো না হলে সাকিব, মাসুম কীভাবে অনুষ্ঠানে এল? এমনকি হল ফিস্ট উপলক্ষে রাতের খাবারের জন্যও আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ফোন করে দাওয়াত দিয়েছি।’   এম এস রহমান, পাবনা থেকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১২:৩৫
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রকাশিত খোলা চিঠিতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন মতিউর রহমান লিটু। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মতিউর রহমান লিটুর খোলা চিঠি।

নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সমন্বয়ক মতিউর রহমান লিটু, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তিনি দলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন নেতার সহযোগিতার স্মৃতিচারণ এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেছেন।   খোলা চিঠিতে মতিউর রহমান লিটু জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখার পর তারেক রহমানের নির্দেশে দলের কয়েকজন নেতা তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি আশিক ইসলাম, শামসুল আলম, মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, শিমুল বিশ্বাস সহ বিএনপির বিভিন্ন সিনিয়র নেতার সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।   চিঠিতে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতি তার ভালোবাসা শৈশব থেকেই। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দলটির সঙ্গে তার আবেগ ও আদর্শিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে কয়েকটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।   বিশেষ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোটের রায়’ গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।   চিঠিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল বিএনপিকে জুলাই আন্দোলনের বিপরীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তেরও আহ্বান জানান তিনি।   চিঠির শেষাংশে মতিউর রহমান লিটু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত। এ বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   নিচে Motiur Rahman Litu 'র লিখা #চিঠি দেয়া হলোঃ   মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খোলা চিঠি, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও একটি অনুরোধ; -মতিউর রহমান লিটু   সালাম নিবেন, আশাকরি আপনি ভালো আছেন। আজ কয়েকটি কথা বলার জন্য একটি খোলা চিঠি লিখছি। শহীদ জিয়াকে নিয়ে ১৭বছর আগে আনাড়ি হাতে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলাম, ইউটিউবে সেটা দেখে আপনি আপনার তৎকালীন মুখপাত্র আশিক ইসলামকে বলেছিলেন আমাকে সহযোগিতা করার জন্য।   হ্যা, তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, ম্যাডামের সাবেক এপিএস শামসুল আলম ভাই নিজের মতো করেই আমাকে গড়ে তুলেছেন। রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী আপন ভাইয়ের মতো করেই বিএনপিতে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এরপরে শতাধিক সিনিয়র নেতারা আমাকে সর্বদিক দিয়ে, সব সময় সহযোগিতা করেছেন। ম্যাডামের “Mother of democracy" উপাদি প্রাপ্তির পরে গুলশান অফিসে শিমুল বিশ্বাস ভাইয়ের দেয়া বৈঠকে সাবেক উপ রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহম্মেদ সাহেব বুকে জড়িয়ে অলমোস্ট কেঁদে দিয়েছিলেন।   গুলশান অফিসের দ্বিতীয় তলায় শিমুল ভাইয়ের সেই বৈঠকে প্রায় ৩০জনের মতো সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আমি একজন সাধারণ বাবার সন্তান হয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু কোনোদিন আশাকরিনি। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর দিন আমার বাবার চিৎকার দিয়ে কান্নার স্মৃতি থেকে বিএনপির প্রতি আমার মায়া, ভালোবাসা জন্ম হয়েছে। সেই থেকেই বিএনপি করি। বেড়ে ওঠার সাথে সাথে রক্ত মাংস মজ্জায় একটি মাত্র দল মিশে আছে সেটি হলো বিএনপি আর দেশনেত্রী বেগম জিয়ার স্মৃতি। তাই মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হয়তো ভুলতে পারবোনা এই দলের ভালোবাসা।   যদিও পরিবারের প্রায় সকল সদস্য বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপির জন্য অনেক রক্ত ঝরেছে, অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেসব কথা আজ বলতে চাইনা। আজ জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলতে চাই- আপনি শহীদ জিয়ার সন্তান, আপনার জন্য জীবন দিতেও কুন্ঠাবোধ করবোনা। সব সময় আপনার ভালো চাই এবং চাইবো।   হাসিনাকে হটানোর জন্য আমরা ১৬বছর আন্দোলন করেছি কিন্তু শেষের একমাসে নিষ্পাপ তরুণ ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসায় হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। যেই আন্দোলনটাকে আমরা জুলাই আন্দোলন হিসাবে চিনি, যেই আন্দোলনের জন্য দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জাতি মুক্তির স্বাধ গ্রহণ করেছে।   দেশের মানুষ আপনাকে ভালোবাসে- সেই ভালোবাসাটুকু যেন সারাজীবন টিকে থাকে, বিএনপি যেন দীর্ঘদিন বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে সেজন্য আপনাকে একটা বিশেষ অনুরোধ করতে চাই- কে কি পরামর্শ দিলো সেদিকে না তাকিয়ে এক বাক্যে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মেনে নেয়ার ঘোষণা দিন। এরপরে বিরোধীদলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বসুন, সংসদে যেহেতু দুই তৃতীয়াংশ আছে, দেশ চালানোর মতো করে সংবিধানকে সাজিয়ে নিন।   দেখবেন বর্তমান বিরোধীদল আপনাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করছে। কারণ, সবার কিন্তু একটাই লক্ষ্য হাসিনার মতো একটা খুনি যেন কোনোদিন ফিরতে না পারে! আর কিছুনা।   বিরোধীদলের জীবনে যে সাফল্য এখন আছে সেটা তাদের জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য, তারাও সেটা হারাতে চাইবেননা। জুলাই বিষয়ে দূরত্বটা মীমাংসিত হলে বাংলাদেশটা হতে পারে সৌহার্দপূর্ণ একটি দেশ। যেখানে আমরা সুখে শান্তিতে সবাই বসবাস করতে পারবো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনাকে যারা জুলাই এর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে তারা কোনোভাবেই বিএনপির ভালো চাইতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। আমার সন্দেহ তাঁরা হয়তো ভারতের উদ্দেশ্য কার্যকর করতে এমন খেলা খেলছে। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সেটাই এখন খুঁজে বের করা দরকার! আমার চিঠিটি আপনার দৃষ্টিগোচর হবে বলে আমি আশাকরি। ভুল বোঝেন, রাগ করেন আর অভিমান করেন যেভাবেই গ্রহণ করেন- “জুলাই সনদ ও গণভোট” নিয়ে অন্তত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটাকে একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।   এছাড়া জুলাই বিষয়ে একটা সমাধান হলে- তরুণ একটা প্রজন্ম তৈরী হয়েছে যারা  আপনার দূরদর্শিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে আরো বেশী সচল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। (উল্লেখ্যঃ আমার লেখা এই খোলা চিঠিতে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা কিংবা অন্যকোন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ইনফ্লুয়েন্স নেই! সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভিমত! তাই এই চিঠির জন্য আমার কোন শুভাকাংখীর ব্যাপারে ভুল ধারণা পোষণ করবেননা, অনুরোধ রইলো)

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ২১:২৯
জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর: সংকট, বিতর্ক ও বিভাজন
জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর: সংকট, বিতর্ক ও বিভাজন

স্মৃতির জুলাই থেকে বর্তমানের অচলাবস্থা!   আজ ৫ আগস্ট, ২০২৬। ঠিক দুই বছর আগে এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটেছিল এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন। রক্তক্ষয়ী রাজপথ, শতশত মানুষের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভের মুখে আওয়ামীলীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটেছিল। গোটা দেশ দেখেছিল এক নতুন ভোরের স্বপ্ন—যেখানে থাকার কথা ছিল বৈষম্যহীনতা, বাকস্বাধীনতা আর ইনসাফ।   কিন্তু দুই বছর পর আজ আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?   যে স্বপ্ন নিয়ে তরুণরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, সেই বাংলাদেশে আজ তৈরি হয়েছে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন, নতুন ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আর একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান কি তার মূল লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে, নাকি বাংলাদেশ আবার ঘুরেফিরে পুরোনো রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তেই আটকা পড়েছে?   ২০২৪-এর রাজপথ ও ক্ষমতার আকস্মিক পতন!   ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। একটি সাধারণ কোটা সংস্কার আন্দোলন হঠাৎ করেই রূপ নেয় এক নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানে। তৎকালীন সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন, গুলির ঘটনা এবং শত শত প্রাণহানি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া।   যার ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট দুপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ কোরে একপ্রকার আকস্মিকভাবেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সেই সাথে পতন হয় আওয়ামীলীগের ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থার। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের পতন দেখে গোটা দেশ। বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে শূন্যতা তৈরি হয়, আর সেই শূন্যতা পূরণে সামনে আসেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।   অন্তর্বর্তী সরকার, সংস্কারের ধীরগতি ও দুর্নীতির ছায়া!   বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল—প্রশাসনিক সংস্কার, অপরাধীদের বিচার এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা।   কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রাপথ সহজ থাকেনি। বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপণ্যের অনিয়ন্ত্রিত বাজার সাধারণ মানুষের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। শুধু তা-ই নয়, সংস্কারের নামে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নতুন করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠার স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ ড. ইউনুসের সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দেয়। গণমাধ্যমের খবরে উঠে আসে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের কথা। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—পরিবর্তনের স্বপ্ন কি তবে সুদূর পরাহত?   তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও ২০২৬-এর নির্বাচনী ঝড়!   রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অন্যতম প্রধান মাইলফলক ছিল দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে বিএনপি  চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরা। তার প্রত্যাবর্তন দলীয় কর্মীদের মধ্যে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা তৈরি করে এবং বিএনপির ক্ষমতা পুনর্দখলের পথকে সুগম করে।   পরবর্তীতে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নানা বিতর্কের পর আয়োজিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন। আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করে।   কিন্তু এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবার দেখা দেয় বিভাজন। নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আসন ভাগাভাগি, ইসি গঠন নিয়ে বিতর্ক এবং নির্বাচনকালীন সময়সূচি নিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য মিত্রদের মধ্যে তৈরি হয় তুমুল সংঘাত। নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হয়েছে, তা নিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মন্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়।   নতুন দল এনসিপির জন্ম, রাজনীতি ও জামায়াত-জোট বিতর্ক!   জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বাই-প্রোডাক্ট ছিল তরুণ ছাত্রনেতাদের দ্বারা গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল—ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি বা এনসিপি। গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বিকল্প রাজনীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তারা আত্মপ্রকাশ করেছিল।   তবে রাজনীতিতে পা দিয়েই দ্রুত বিতর্কের মুখে পড়ে এনসিপি। আদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট করার আগেই তারা নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে বাংলাদেশের বিতর্কিত রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা ও নির্বাচনী জোট গঠন করে।   এক সময়ের প্রগতিশীল ও বৈষম্যবিরোধী স্লোগান দেওয়া তরুণদের সাথে জামায়াতের এই জোটকে কেন্দ্র করে সুশীল সমাজ ও সাধারণ তরুণদের একাংশের মধ্যে গভীর হতাশা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। এনসিপি কি তার মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে—এই প্রশ্ন উঠে আসে রাজনীতির টেবিলে।   ক্ষমতায় বিএনপি: সাফল্য, ব্যর্থতা ও দুর্নীতির পুরোনো চক্র!   বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে তারা বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।   কিন্তু এরপরই সামনে দলটির জন্য নানা চ্যালেঞ্জ। প্রথম সারির প্রধান প্রধান গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ আমলের টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার বদলে কেবল হাতবদল হয়েছে।   বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপি নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতা নতুন সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলে। জনগণ আবারও দেখতে পায়—নেতৃত্ব বদলালেও ক্ষমতার চরিত্র অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।   দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার আকস্মিক প্রেস কনফারেন্স!   ঠিক এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই, আজ—৫ আগস্ট ২০২৬—অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে হঠাৎ করেই নতুন বোমা ফাটানোর মত অবস্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ দুই বছর পর নজিরবিহীনভাবে দিল্লী থেকে গত ৩ আগস্ট এক আকস্মিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।   সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২০২৪-এর অভ্যুত্থানকে 'পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র' এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের বৈধতা নিয়েও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবিলম্বে তার দলের রাজনীতি করার অধিকার ফেরানোর ব্যাপারেও জানান তিনি।   অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনেই নয়াদিল্লি থেকে সরাসরি তার জনসম্মুখে আসাকে ঢাকার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝড়ের জন্ম দিয়েছে। বিএনপি এবং এনসিপি উভয় দলই একে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।   বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে?   জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পার হয়ে গেল। শহীদের রক্তে ভেজা রাজপথ আমাদের এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু দুই বছর পর আজকের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে গভীর রাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক মন্দা, দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি আর নিত্যনতুন ক্ষমতার বিভাজন।   অভ্যুত্থানের চেতনা কি তবে রাজনীতির সমীকরণে হারিয়ে গেল? নাকি এই সংকট কাটিয়ে বাংলাদেশ আবার তার গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ফিরতে পারবে?    

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:২৫
বাংলাদেশ ছাড়ার দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে এফসিসি সাউথ এশিয়ার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
দেশত্যাগের এক বছর পর ‘হোমকামিং’ আয়োজন: ৫ আগস্ট দিল্লিতে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ ছাড়ার দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজনে “Sheikh Hasina’s Homecoming” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন বলে আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচিতে জানানো হয়েছে।   আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার পাশাপাশি বক্তব্য রাখবেন তাঁর ছেলে ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এছাড়া আলোচক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবায়দাহ আরিন, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এবং সংগঠনটির যুক্তরাষ্ট্র শাখার পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ার। পোস্টার অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।    শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।    তবে দিল্লির অনুষ্ঠানের শিরোনামে “হোমকামিং” বা “স্বদেশে প্রত্যাবর্তন” শব্দটি ব্যবহার করা হলেও, এর অর্থ শেখ হাসিনার তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসা নয়। এখন পর্যন্ত তাঁর প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট কোনো সরকারি সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।    এদিকে শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের গণমাধ্যমকে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা প্রকাশ না করার নির্দেশনার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।    অন্যদিকে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, নয়াদিল্লির এই অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়োজন। এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো মতামত বা বক্তব্যকেও তারা সরকারি অবস্থান হিসেবে সমর্থন করে না।    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশত্যাগের পর এটিই শেখ হাসিনার সবচেয়ে আলোচিত প্রকাশ্য ভার্চুয়াল উপস্থিতিগুলোর একটি। বিশেষ করে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাকিব আল হাসানসহ বিভিন্ন অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের ঘোষণায় অনুষ্ঠানটি নতুন করে রাজনৈতিক ও জনমনে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা জোরালো হলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে শুধু তাঁর ৫ আগস্টের ভার্চুয়াল বক্তব্য; বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি এখনো ঘোষিত পরিকল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৩:৩
জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে
জুলাই আন্দোলনের অংশীজনদের মতামত নিয়েই হবে সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই চেতনা ও ‘জুলাই সনদ’ ধারণ করেই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিটি।   মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটি এই বৈঠককে জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।   এ লক্ষ্যে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্য, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, শিক্ষক প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনের সদস্য, বিরোধী দলের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   কমিটির মতে, সংবিধান সংশোধন এমনভাবে সম্পন্ন করা হবে যাতে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের এই প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সময়োপযোগী সংবিধান রেখে যাওয়ার লক্ষ্যেও কাজ করবে কমিটি।   বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিভ রহমান, নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা ও মাহমুদুল হক রুবেলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।   এছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও কমিটির সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৬:৫৭
মন্ত্রিসভার বৈঠক
মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের আভাস: বাদ পড়তে পারেন ৩ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মসম্পাদন মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের আলোচনা জোরালো হয়েছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, কয়েকজন পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কার্যক্রম পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে পরিবর্তনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, ছয় মাস শেষে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও সম্প্রতি বলেছেন, কোনো মন্ত্রীর পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে মন্ত্রিসভায় রদবদল বা নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। তবে কখন সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাননি।    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পরিবর্তনের তালিকায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের নাম রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা আয়োজন এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্য সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অসন্তোষের কারণ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনায় রয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলও। দায়িত্ব পালনকালে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনকে ঘিরে তার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে মূল বিষয়ে থাকার পরামর্শ দেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।   একাধিক সূত্র আরও দাবি করেছে, তদবির ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণে আরেকজন প্রভাবশালী পূর্ণমন্ত্রীও পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবে তার নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের আভাস মিলছে। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও একটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম সেই দাবি নাকচ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া একটি মামলায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে আরেকজন প্রতিমন্ত্রীও সম্ভাব্য পরিবর্তনের তালিকায় রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য শূন্য পদগুলোতে নতুন মুখ আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিনের নাম বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   এছাড়া নতুন মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন সদস্য এবং সরকারের জোটসঙ্গী দলগুলোর প্রতিনিধিদেরও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্ধারিত সময় পর সরকারের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর।   উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তিকে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত শুধু এটুকুই বলা হয়েছে যে, কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হতে পারে; কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া বা নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৬:২৪
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া
পরকীয়ার অভিযোগে গ্রামবাসীর হাতে আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নে স্থানীয় কিছু লোক তাকে আটক করে সালিশে বসিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনার একটি ভিডিওও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   জানা গেছে, উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সালিশি বৈঠকে রিপন মিয়াকে উপস্থিত রাখা হয়। সেই বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বিবাহিত রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে পাশের গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার দাবি জানানো হয় বলেও প্রচার করা হচ্ছে।   তবে এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসন, পুলিশ কিংবা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগ ও সালিশের সিদ্ধান্তের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   পারিবারিকভাবে রিপন মিয়া বিবাহিত। তার স্ত্রী ছাড়াও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।   ২০১৬ সালে ফেসবুকে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন রিপন মিয়া। অল্প সময়ের মধ্যেই সহজ-সরল উপস্থাপনা ও ঘরোয়া ভিডিওর মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। বিশেষ করে ‘হাই, আই অ্যাম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’, এই সংলাপ দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং তাকে ভাইরাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।   এদিকে ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি-দাওয়া ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়লেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা আইনি অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৫:৩৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
১০ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। সফরকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।    সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে দুই দিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর সেখান থেকেই দেশে ফেরার কথা রয়েছে। পুরো সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হতে পারে বলে জানা গেছে।   এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এতে প্রায় চার দশক পর একই সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের একজন সরকারপ্রধান এবং একজন বাংলাদেশি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরসূচি, সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে প্রস্তুতি চলছে। তবে সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফরসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হতে পারে।    প্রায় দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো নিউইয়র্কে বড় পরিসরে একটি নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দলটির নেতারা ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল প্রস্তুতি সভা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর নিউইয়র্কে সমবেত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন তারেক রহমান। ওই সফরে বাণিজ্য, জনশক্তি, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগে আপাতত অন্য কোনো বিদেশ সফরের পরিকল্পনা নেই প্রধানমন্ত্রীর।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৫:২৬
ঢাকায় আসছেন মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার
ঢাকায় আসছেন মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার

যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার তিন দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকায় আসছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস।   মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সফরে অ্যাডমিরাল কোহলার একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।   অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই নৌবহর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে এ দায়িত্ব পালন করছেন।   মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই সফরের লক্ষ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পেশাগত সামরিক শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৩:২১
‘পিস্তল’ দেখিয়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি
‘পিস্তল’ দেখিয়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি, গ্রেপ্তারের পর দেখা গেল সেটি ‘লাইটার’

গাজীপুরের শ্রীপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পিস্তল প্রদর্শন করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে মো. ইমন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই পিস্তলসদৃশ বস্তু দেখিয়ে স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর এবং যৌতুক দাবির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।   সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর জেলা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ইমন শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের দয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি রিপন মিয়া ও শামীমা দম্পতির ছেলে।   পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ইমন তার টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি পিস্তল প্রদর্শনের ভিডিও প্রকাশ করেন। বিষয়টি গাজীপুর জেলা পুলিশের নজরে এলে সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়।   অভিযানের সময় ভিডিওতে প্রদর্শিত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। পরে পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, সেটি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়; বরং পিস্তল আকৃতির একটি লাইটার।   তদন্তে আরও জানা যায়, ইমন ওই লাইটারটি ব্যবহার করে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেন। এছাড়া একই বস্তু দেখিয়ে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়মিত ভয় দেখিয়ে যৌতুক দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   এ ঘটনায় ইমনের স্ত্রী মোছা. তাহমিনা (২২) বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।   শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, টিকটকে অস্ত্রসদৃশ লাইটার প্রদর্শন করে ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৩:৮
টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রবাসফেরত অসুস্থ স্বামীকে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসফেরত অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় প্রবাসফেরত এক অসুস্থ ব্যক্তিকে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় তাকে রেখে চলে যান স্ত্রী ও সন্তানরা। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় তিনি আশ্রয় পান স্বজনের বাড়িতে।   অভিযোগের শিকার জামাল উদ্দিন (৪৯) কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে জীবিকার প্রয়োজনে সৌদি আরবে যান এবং সেখানে প্রায় ১২ বছর কাজ করেন।   স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রবাসে থাকাকালে তিনি উপার্জিত অর্থ পরিবারের কাছে পাঠাতেন। কয়েক বছর আগে কিডনির জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা ও দেখভালের ক্ষেত্রে অবহেলার অভিযোগও ওঠে।   স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে রেখে চলে যান তার স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানরা। পরে রাতে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং পরে তার ভাতিজি ইসমতারার বাড়িতে তাকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।   স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোশাররফ জানান, খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে জামাল উদ্দিনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। অন্যদিকে জামাল উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী বলেন, তিনি আগে থেকেই ভাইকে শ্বশুরবাড়িতে না থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে।   তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার। তার দাবি, কয়েক মাস আগেই তিনি স্বামীকে তালাক দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক নেই। রাতের বেলায় জামাল উদ্দিন কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।   এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ১০:২৭
রাতের আঁধারে পাঁচটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে আলাদাভাবে হুমকির চিঠি রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: সংগৃহীত
চাঁদা না দেয়ায় চিঠি দিয়ে পাঁচ হিন্দু পরিবারকে হত্যার হুমকি

নাটোরের লালপুর উপজেলার বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় পাঁচটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে চাঁদা দাবি করে হুমকির চিঠি দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চিঠিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ না করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ চিঠিগুলো জব্দ করে তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে পাঁচটি পরিবারের বাড়িতে আলাদাভাবে হুমকির চিঠি রেখে যায়। চিঠিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিকাশে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে তা না মানলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।   হুমকির চিঠি পাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চিঠিগুলো জব্দ করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।   লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, চিঠিতে উল্লেখ করা মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   এদিকে, হুমকির এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।   পুলিশের ভাষ্য, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য বা জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১০:৪০
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চীনা চক্রের আস্তানায় ডিবির অভিযানে ৪ সদস্য গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
বসুন্ধরায় ভুয়া চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার আস্তানা: ৬ হাজার সক্রিয় সিমসহ বিদেশি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবৈধ ভিওআইপি, জিএসএম গেটওয়ে এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তি সরঞ্জাম, ছয় হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড, বিদেশি মদ ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।   গ্রেপ্তাররা হলেন—ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) এবং শে ই রান (৪২)।   ডিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ছয় হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড, ২০টি জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস, ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।   ডিবির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঝর্না চাকমা জিয়ানা পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর চতুর্থ ও পঞ্চম তলা কয়েকজন চীনা নাগরিকের কাছে সাবলেট দেন। সেখানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।   তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি সাধারণ মানুষকে চাকরির প্রলোভন, বিশেষ অফার কিংবা স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠাত। ওই বার্তায় থাকা লিংকে প্রবেশ করলেই ভুক্তভোগীরা প্রতারণার ফাঁদে পড়তেন এবং ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেত চক্রটি।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে প্রতারকরা বিশেষ প্রযুক্তিও ব্যবহার করত। একটি মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে বাহ্যিকভাবে একাধিক সিম স্লট সংযুক্ত করে একই সময়ে ১২টি সিম পরিচালনা করা হতো। এতে প্রতারণার অভিযোগ এলেও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত বলে জানিয়েছে ডিবি।   পুলিশ বলছে, জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস ও সিমকার্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে চক্রটির কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।   ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১০:৭
সিফাত। ছবি:সংগৃহীত
এইচএসসি পরীক্ষার আগেই এমআইটিতে ১০ কোটি টাকার স্কলারশিপ অর্জন চাঁদপুরের সিফাতের

এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগেই বিশ্বের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-তে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ এবং প্রায় ১০ কোটি টাকার স্কলারশিপ অর্জন করে নজির গড়েছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সিফাত। তার এই অর্জন শুধু চাঁদপুর নয়, গোটা বাংলাদেশের জন্যই গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।   চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসকারী সিফাতের গ্রামের বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নওগাঁ গ্রামে। তার বাবা মো. নাসির উদ্দিন মতলব রয়মনেনসা মহিলা কলেজের শিক্ষক এবং মা কামরুন নাহার হাজীগঞ্জ মডেল কলেজের শিক্ষক।   ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন ছিল সিফাতের। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি নিয়মিত অংশ নেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গণিত, প্রোগ্রামিং এবং ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে। ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফল হিসেবে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন তিনি।   এর আগে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন সিফাত। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত এবং এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   নিজের অনুভূতি জানিয়ে সিফাত বলেন, এমআইটিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা কখনোই ছিল না। তবে লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে তিনি নিয়মিত প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন। সেই অধ্যবসায়ই তাকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে।   বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এমআইটি প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অত্যন্ত সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি করে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পান। এবার সেই গৌরবের তালিকায় যুক্ত হলো চাঁদপুরের মেধাবী তরুণ সিফাতের নাম।   শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে সাফল্য, একাডেমিক কৃতিত্ব এবং ধারাবাহিক দক্ষতার সমন্বয়ই সিফাতকে এই অর্জনের পথে এগিয়ে দিয়েছে। তার সাফল্য দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৮:৫৭
শয়তানের ধোঁকায় পড়ে শুরু করেছিলাম
‘শয়তানের ধোঁকায় পড়ে শুরু করেছিলাম, দেখে ফেলায় শেষ করতে পারিনি’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা দুই বহিরাগত অতিথির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ আচরণের অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রশাসন ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে এবং ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে দুই ব্যক্তিকে তাদের আচরণ নিয়ে বক্তব্য দিতে এবং ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা বা এর সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ইব্রাহীম খলিলের রুমমেট ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অনয় চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, গত ২৭ জুলাই ওই দুই ব্যক্তি ইব্রাহীম খলিলের অতিথি হিসেবে কক্ষে অবস্থান করছিলেন। পরে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাওয়ার দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য ধারণ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তা ও ঘটনার সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরো ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে সমালোচনার মুখে ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ইব্রাহীম খলিল। তিনি বলেন, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসা পরিচিত দুজনকে মানবিক কারণে তার কক্ষে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগের সময় তিনি কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না এবং ঘটনার বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।   অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইব্রাহীম খলিল একটি অডিও কল রেকর্ড সরবরাহ করেন। সেখানে একজনকে বলতে শোনা যায়, তারা একটি অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছিলেন, তবে রুমমেট এসে পড়ায় তা সম্পন্ন হয়নি। অডিওটির সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইব্রাহীম খলিলের বরাদ্দকৃত সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান বলেন, এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কাছে ইতোমধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য এবং রুমমেটের বক্তব্য পর্যালোচনা করে হল সংসদ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।   এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড় এলাকায় একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে শহীদুল্লাহ হলের এজিএস নির্বাচিত হন ইব্রাহীম খলিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান নিশ্চিত করেছেন যে, ইব্রাহীম খলিল সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী।   বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৪:২৭
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ- অপরাধপ্রবণ শহর ঢাকা
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ- অপরাধপ্রবণ শহর ঢাকা

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ ও অপরাধপ্রবণ শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম নামবিও প্রকাশিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্ষের ক্রাইম ইনডেক্সে ঢাকার অপরাধ সূচক ৬২.২ এবং নিরাপত্তা সূচক ৩৭.৮। এ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান সবচেয়ে নিচে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধের দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৫৯তম। অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ বড় শহরগুলোর শীর্ষ ১৫ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী।   নামবিওর তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার বিচারে পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকটি বড় শহরের তুলনায়ও পিছিয়ে রয়েছে ঢাকা। শহরটিতে অপরাধ নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ, রাতে একা চলাচলের নিরাপত্তা এবং ছিনতাই, চুরি ও সহিংস অপরাধের আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, নামবিওর ক্রাইম ইনডেক্স কোনো সরকারি অপরাধ পরিসংখ্যান নয়। এটি বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় দেওয়া মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। ফলে এই সূচক জনমতের প্রতিফলন হলেও, এটি কোনো দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অপরাধের হিসাবকে প্রতিস্থাপন করে না।   তবুও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শহরের নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে নামবিওর এই সূচক ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের পরিবেশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও অনেকেই এ ধরনের সূচককে প্রাথমিক তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০