- প্রচ্ছদ
- বাংলাদেশ
বাংলাদেশ
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পনগরী জুবাইলে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলায় মো. সজিব নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃ ত্যু হয়েছে। রোববার, ৪ অক্টোবর হামলার সময় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্য ও সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জানা গেছে। নি হ ত সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে। জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জুবাইল শহরে কাজ করছিলেন সজিব। সৌদি আরবে কর্মরত আল আমিন নামে এক বাংলাদেশি সজিবের মৃ ত্যুর খবর তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন। একই এলাকায় কর্মরত আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী রোশন আলী সরকারও সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলাটি ঠিক কোথায় আঘাত হানে এবং এর লক্ষ্য কী ছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রবাসে ছিলেন সজিব। তাঁর আকস্মিক মৃ ত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শো কের ছায়া নেমে এসেছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক আহমেদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাগড়া গ্রামের এক প্রবাসীর সৌদি আরবে মৃ ত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন। এ বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সজিবের ম র দে হ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। স্বজনেরা ম র দে হ বাংলাদেশে এনে পারিবারিকভাবে দা ফ নের ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন সৌদি আরব ও প্রতিবেশী ইয়েমেনকে ঘিরে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষে প ণা স্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তবে জুবাইলে যে হামলায় সজিবের মৃ ত্যু হয়েছে, সেটি কারা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট হামলায় হ তা হ তের বিস্তারিত কিংবা সজিবের মৃ ত্যু নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার উৎস ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই সজিবের মৃ ত্যুর ঘটনা জানা যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের এখন প্রধান প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে সজিবের ম র দে হ দেশে ফিরিয়ে আনা। এ জন্য বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।
শৈশবের রান্নাঘরে রুটি বানানোর আবদার থেকে শুরু। কৈশোরে একসঙ্গে ১৫ জনের জন্য রান্না। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি, নিজের খাবারের ছবি ধরে রাখার জন্য একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ, পেশাদার শেফ হিসেবে পথচলা এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি খাবারকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগ। বাংলাদেশি তরুণী কুমকুম কালামের ‘Your Lil Cook’ এখন শুধু রান্নার একটি পেজ নয়, তার কাছে এটি দেশের খাবার, পারিবারিক স্মৃতি ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম। বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমকুম বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে থাকেন। নিজের ওয়েবসাইটে তিনি জানিয়েছেন, রান্নার প্রতি আগ্রহ শুরু হয়েছিল খুব ছোট বয়সেই। মাত্র চার বছর বয়সে পরিবারের সদস্যদের কাছে রুটি বানাতে সাহায্য করার আবদার করতেন তিনি। নয় বছর বয়সে নিজে প্রথম রান্না করেন ডিম ভুনা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘরের প্রতি সেই আগ্রহও বাড়তে থাকে। কৈশোরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে একসঙ্গে ১৫ জনের জন্য রান্না করার অভিজ্ঞতা হয়ে যায় কুমকুমের। মা, ফুফু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে যেমন শিখেছেন, তেমনি ইউটিউব দেখে নতুন নতুন রান্নাও চেষ্টা করতেন। ঈদের আগের রাতে রান্না করে পরদিন পরিবারের সদস্যদের পরিবেশন করার স্মৃতিও তার রান্নার প্রতি ভালোবাসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। স্কুল শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যান কুমকুম। সেখানে পড়াশোনা, কাজ এবং নিজের খরচ চালানোর ব্যস্ততার মধ্যেও রান্না থামেনি। বরং পরিবার ও দেশের বাইরে থাকার কারণে বাংলাদেশের খাবারের প্রতি টান আরও বাড়তে থাকে। বন্ধুদের জন্য প্রায়ই দেশি রান্না করতেন তিনি। তার রান্নার প্রতি আগ্রহ দেখে পরিচিতজনদের অনেকেই তাকে আদর করে ‘Little Cook’ নামে ডাকতেন। সেখান থেকেই আসে ‘Your Lil Cook’ নামটি। কুমকুমের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে নিজের রান্না করা খাবারের ছবি সংরক্ষণের জন্য অনেকটা হঠাৎ করেই একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ খোলেন তিনি। তখন নিয়মিত রেসিপি বা ভিডিও প্রকাশের পরিকল্পনাও ছিল না। যখন রান্না করতেন এবং সময় পেতেন, তখনই ছবি তুলে পোস্ট করতেন। ধীরে ধীরে সেই ছোট পেজে মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। কয়েকশ অনুসারী থেকে কয়েক হাজার, পরে লাখের ঘরে পৌঁছে যায় তার দর্শকসংখ্যা। বর্তমানে Your Lil Cook-এর নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে তাদের অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার, সহজ রান্নার পদ্ধতি এবং সংস্কৃতিনির্ভর কনটেন্টই প্ল্যাটফর্মটির প্রধান পরিচয়। কুমকুমের জীবনের আরেকটি বড় মোড় আসে করোনা মহামারির সময়। পড়াশোনা ও কাজের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হলে তিনি আরও বেশি সময় রান্নায় দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজের আগের পড়াশোনা ছেড়ে পেশাদারভাবে রান্না শেখার সিদ্ধান্ত নেন এবং মেলবোর্নে কমার্শিয়াল কুকিং ও কুলিনারি আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেফ হিসেবেও কাজ করেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনের একটি বড় শোক তার রান্নাকে নতুন অর্থ দেয়। মায়ের মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে কয়েক মাস কাটান কুমকুম। সে সময় তার মনে হয়, পরিবারের পুরোনো রান্না ও রেসিপিগুলো যদি পরবর্তী প্রজন্ম না শেখে, তাহলে একসময় সেগুলো হারিয়ে যেতে পারে। তখন পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কাছ থেকে আরও বেশি করে ঐতিহ্যবাহী রান্না শেখার উদ্যোগ নেন তিনি। মেলবোর্নে ফিরে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি খাবার নিয়ে নিজের কাজ আরও বিস্তৃত করেন। একসময় ‘Your Lil Cook’ নামে একটি বাংলাদেশি রেস্তোরাঁও চালু করেন। নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, রেস্তোরাঁর সাজসজ্জা থেকে শুরু করে মেনু, পরিবেশন ও রান্না সবকিছুর পরিকল্পনায় তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। প্রায় এক বছর রেস্তোরাঁটি পরিচালনার পর ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণে সেটি বন্ধ করে বিরতি নেন। তবে রান্নার সঙ্গে সম্পর্ক থামেনি। এরপর তিনি পূর্ণ সময়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটর, শেফ ও রেসিপি ডেভেলপার হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। ২০২৪ সালে শুরু করেন ‘Your Lil Cook Supper Club’। মেলবোর্নে আয়োজিত এই উদ্যোগে অতিথিদের জন্য ঘরোয়া পরিবেশে বিভিন্ন পদে সাজানো বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়। বর্তমান Your Lil Cook প্ল্যাটফর্মেও সেই সাপার ক্লাবের কার্যক্রম অব্যাহত থাকার তথ্য রয়েছে। তার ওয়েবসাইটে এখন খিচুড়ি, মাছ ভাজা, দুধ চিতই, পুলি পিঠা, বেগুন শুঁটকি, মগজ ভুনাসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি রান্নার রেসিপি প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘Bangladeshi Classics’, ‘Deshi Jhal Bideshe’ এবং ‘Dinner for Two’ এর মতো আলাদা সিরিজের মাধ্যমেও রান্নার কনটেন্ট তৈরি করছেন তিনি। কুমকুমের লক্ষ্য শুধু জনপ্রিয় রান্নার ভিডিও তৈরি করা নয়। নিজের পরিচিতিতে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশি খাবারের ঐতিহ্য ও আতিথেয়তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিত করে তুলতে চান। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম যেন পারিবারিক রেসিপি, পিঠা, উৎসবের খাবার এবং বাংলাদেশের নিজস্ব রান্নার ইতিহাসকে ধরে রাখে, সেটিও তার অন্যতম লক্ষ্য। একসময় পরিবারের রান্নাঘরে ১৫ জনের জন্য খাবার তৈরির যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত কুমকুম কালামের পেশাগত জীবনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে খাবারের ছবি রাখার জন্য শুরু করা ছোট্ট ‘Your Lil Cook’ এখন মেলবোর্ন থেকে বাংলাদেশের রান্না ও সংস্কৃতিকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করার একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃ ত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহর মৃ ত্যুদ ণ্ড চাইছে প্রসিকিউশন। হিলসবরো কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তর গত ৮ মে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেয়। মামলার বি চার এখনো শুরু হয়নি; মৃ ত্যুদ ণ্ডের কোনো রায়ও হয়নি। লিমন ও বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করছিলেন। ২৭ বছর বয়সী এই দুই শিক্ষার্থীকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা যায়। পরে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছে লিমনের মৃ ত দে হ এবং কাছাকাছি পানিতে বৃষ্টির মৃ ত দে হ পাওয়া যায়। তদ ন্তের পর লিমনের ক্যাম্পাসের বাইরের বাসার সাবেক সহবাসী, ২৬ বছর বয়সী আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে হ ত্যা র অ ভি যোগ আনা হয়। মে মাসে গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি অ ভি যোগে বি চার শুরুর অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ স্ত্র ব্যবহার করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুজনকে হ ত্যা করার দুটি অ ভি যোগ রয়েছে। প্রমাণ ন ষ্ট করা, মৃ ত দে হ অবৈধভাবে সরানো এবং মৃ ত্যুর তথ্য গোপনের অ ভি যোগও আনা হয়েছে। স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তরের দাবি, ফ্লোরিডার আইনে মৃ ত্যুদ ণ্ড চাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুতর পরিস্থিতি এ মামলায় রয়েছে। এগুলো প্রসিকিউশনের অবস্থান; আ দা লতে অ ভি যোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি। ১৮ মে আবুগারবিয়েহ আইনজীবীর মাধ্যমে অ ভি যোগ অস্বীকার করে লিখিত বক্তব্য দেন। প্রকাশিত আ দা লতসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, জু রি বি চার শুরুর তারিখ ৩ নভেম্বর ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে এ সূচি বদলাতে পারে। ফলে মে মাসের মৃ ত্যুদ ণ্ড চাওয়ার সিদ্ধান্ত বা ২০২৭ সালের বি চারসূচিকে নতুন কোনো রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এদিকে মে মাসেই লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা। ৮ মে সমাবর্তনে তাঁদের স্মরণে পোশাকসহ দুটি খালি চেয়ার রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষে ডিগ্রিগুলো গ্রহণ করেন মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিবিষয়ে এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গবেষণা করছিলেন। সূত্র: হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তর, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ও ডব্লিউইউএসএফ।
ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দেশটির ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে বিভিন্ন খাতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কোটায় বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্যও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতালির সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি কাজে নেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি ও পর্যটন খাতে মৌসুমি কাজের জন্য ৮৯ হাজার এবং স্বনিয়োজিত কাজের জন্য আরও ৬৫০ জনের সুযোগ থাকবে। কেয়ারগিভিং খাতেও থাকছে সুযোগ বাংলাদেশসহ বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ আগ্রহের একটি খাত হতে পারে পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং। ২০২৭ সালের অমৌসুমি কর্মী কোটার মধ্যে এই খাতে ১৪ হাজার পদ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও নেপালসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা নির্ধারিত কোটার আওতায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ফলে ইতালিতে কাজের জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিন বছরে প্রায় ৫ লাখ বিদেশি কর্মী নেবে ইতালি ইতালির এই কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনা শুধু ২০২৭ সালের জন্য নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৮—এই তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন এবং ২০২৮ সালেও একই সংখ্যক অর্থাৎ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবেদন করা যাবে না ইতালির এই কর্মী কোটার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চাকরিপ্রার্থী নিজে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না। ইতালিতে বৈধভাবে অবস্থানরত কোনো নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীর জন্য কাজের অনুমোদন বা ‘নুল্লা ওস্তা’র আবেদন করবেন। ‘নুল্লা ওস্তা’ অনুমোদিত হলে এরপর নিজ দেশে থাকা ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ চাকরিপ্রার্থীর জন্য প্রথম ধাপ হলো বৈধ নিয়োগকর্তা ও প্রকৃত চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা। কখন শুরু হবে প্রাক্-আবেদন ২০২৭ সালের কর্মী কোটার জন্য ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘পোর্তালে সার্ভিজি আলি’ প্ল্যাটফর্মে ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে আবেদনপত্রের প্রাক্-পূরণ বা প্রিকম্পাইলেশন শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। এই সময়ে নিয়োগকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন প্রস্তুত করতে পারবেন। এরপর নির্ধারিত ‘ক্লিক ডে’তে সংশ্লিষ্ট আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ২০২৭ সালের গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্লিক ডে’ খাতভেদে ২০২৭ সালের আবেদন শুরুর তারিখ আলাদা করা হয়েছে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কর্মীদের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এসব আবেদন গ্রহণ শুরু করার কথা রয়েছে। নির্ধারিত কোটায় আসন খালি থাকা সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দালালচক্র থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ ইতালিতে কাজের সুযোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই চাকরিপ্রার্থীদের বৈধ নিয়োগকর্তা ও নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তার পরিচয় ও বৈধতা এবং ‘নুল্লা ওস্তা’র সত্যতা যাচাই করা জরুরি। শুধু টাকা দিলেই ইতালিতে চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের তাই নির্ধারিত তারিখ, আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সরকারি তথ্য যাচাই করে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় সুযোগ থাকলেও ভিসা পাওয়ার আগে বৈধ চাকরি, নিয়োগকর্তার আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন—প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের প্রথম চার আসনের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত যাত্রীবাহী বিমান HY4 তৈরির গবেষণা দলে ছিলেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মেয়ে দেবযানী ঘোষ। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে বিমানটির প্রথম আনুষ্ঠানিক উড্ডয়ন হয়। জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টার ডিএলআরের নেতৃত্বে তৈরি এই উড়োজাহাজের বিদ্যুৎশক্তি ব্যবস্থাপনা ও পাওয়ার ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন দেবযানী। ডিএলআরের তথ্য অনুযায়ী, HY4 হলো বিশ্বের প্রথম চার আসনের যাত্রীবাহী বিমান, যা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারিভিত্তিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় চালিত। এর ফুয়েল সেল হাইড্রোজেনকে সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করে এবং সেই বিদ্যুৎ দিয়ে বৈদ্যুতিক মোটর চালানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রধান উপজাত হিসেবে তৈরি হয় পানি। উড্ডয়ন ও উচ্চতায় ওঠার সময় অতিরিক্ত শক্তি সরবরাহ করে বিমানের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। HY4 প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বে ছিল জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারের ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং থার্মোডাইনামিকস। প্রকল্পে আরও যুক্ত ছিল ইউনিভার্সিটি অব উলম, হাইড্রোজেনিকস, পিপিস্ট্রেল, এইচটু ফ্লাই এবং স্টুটগার্ট বিমানবন্দর। চারজন যাত্রী বহনের উপযোগী বিমানটির দুটি আলাদা ফিউজলাজ রয়েছে, প্রতিটিতে দুজন করে বসার ব্যবস্থা। এই আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দেবযানী ঘোষের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানির আরডাব্লিউটিএইচ আচেন ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব উলমের তথ্য অনুযায়ী, দেবযানী ২০১৬ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি কনভার্সন অ্যান্ড স্টোরেজে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র ছিল কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য নতুন ধরনের পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ও ডিসি থেকে এসি বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করা। দেবযানীর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি থেকে পাওয়া ডিসি বিদ্যুৎকে বিমানের বৈদ্যুতিক মোটরের উপযোগী এসি বিদ্যুতে রূপান্তরের প্রযুক্তি উন্নয়ন। এ জন্য সিলিকন কার্বাইডভিত্তিক পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ব্যবস্থার ওপর কাজ করেন তিনি। একই সঙ্গে ফুয়েল সেল, ব্যাটারি এবং বৈদ্যুতিক মোটরের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও তাঁর গবেষণার অংশ ছিল। প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেবযানী জানিয়েছিলেন, এমন একটি পাওয়ার ইলেকট্রনিকস আর্কিটেকচার তৈরির লক্ষ্য ছিল, যা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি ওজনে হালকা ও নির্ভরযোগ্য হবে। ব্যাটারি কখন চার্জ হবে, কখন ডিসচার্জ হবে এবং কখন ফুয়েল সেল থেকে কতটুকু শক্তি সরবরাহ করা হবে, সেসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ইন্টারফেস তৈরিতেও তিনি কাজ করেন। ইউনিভার্সিটি অব উলমের প্রকাশিত গবেষণাতেও দেবযানীর এই কাজের উল্লেখ রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি সহগবেষকদের সঙ্গে ফুয়েল সেল ও ব্যাটারিচালিত হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য নতুন এসি হাইব্রিড পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ধারণা নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। পরবর্তী গবেষণাতেও HY4 বিমানের শক্তি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিতে তাঁর অবদান দেখা যায়। বাংলাদেশে স্নাতক শেষ করার পর দেবযানী কিছু সময় চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। পরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি এই গবেষণাক্ষেত্রে যুক্ত হন। তবে HY4-কে সরাসরি “বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক বিমান” বলা প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক নয়। এর আগেও বৈদ্যুতিক ও ফুয়েল সেলচালিত পরীক্ষামূলক বিমান উড়েছে। ডিএলআর HY4-কে বিশ্বের প্রথম চার আসনের যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলে। বিশ্বের পরিবেশবান্ধব বিমান প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে চট্টগ্রামের দেবযানী ঘোষের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁর গবেষণা দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তি উন্নয়নেও বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণ রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কর্মরত চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হওয়াসহ আরও অন্তত দশজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ অন্তত আটজন নেতাকর্মী এই হামলায় সরাসরি অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৮টার দিকে পরিবহন মার্কেট থেকে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক ও লোহার পাইপের মতো দেশীয় বস্তাভর্তি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জিয়াউর রহমান হল গেটে আসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের লক্ষ্য ছিল হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা করা। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা অস্ত্র লুকিয়ে ফেলে। তবে অস্ত্রসহ তাদের উপস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রক্টরের সামনেই দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির ওপর চড়াও হয় তারা। একপর্যায়ে বিডিনিউজ প্রতিনিধিকেও বেধড়ক পেটানো হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে দেন। পরে খবর পেয়ে অন্যান্য সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হলে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। হামলায় আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায় এবং হামলাকারীরা সাংবাদিকদের পুঁতে ফেলারও হুমকি দেয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হয় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে আহসান হাবীবের বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উভয়েই ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেন। ছাত্রদলের এমন সশস্ত্র অবস্থানের সমালোচনা করে জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। মূলত এর জের ধরেই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হলের সামনে জড়ো হয়ে এই নারকীয় হামলা চালায় ছাত্রদলের ওই নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও এই হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান নিজেদের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি এবং তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ভয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে অবহিত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং মডেল-অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেমের দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটতে যাচ্ছে। রোববার রাতে নিজেদের ফেসবুক পেজে আলাদা পোস্টের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দুজনই। সংবাদমাধ্যমের কাছে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিতও করেছেন শেহতাজ। মূলত পারস্পরিক বোঝাপড়ায় বড় ধরনের পার্থক্যের কারণেই দীর্ঘ দশ বছরের পথচলার পর আলাদা হওয়ার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। প্রীতম ও শেহতাজ উভয়েই তাঁদের পোস্টে জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ চিন্তাভাবনা এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর, দুই পরিবারের পূর্ণ সম্মতি ও সমর্থন নিয়েই তাঁরা বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতিগুলোর প্রতি তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং একে অপরের প্রতি সর্বদা সম্মান ও শুভকামনা থাকবে বলেও জানিয়েছেন। পাশাপাশি, জীবনের এই কঠিন ও রূপান্তরকালীন সময়ে বন্ধু, সহকর্মী এবং গণমাধ্যমের কাছে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন এই জুটি। ২০১৭ সালে প্রীতমের জনপ্রিয় গান ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওতে কাজ করতে গিয়েই মূলত তাঁদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমে গড়ায় এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রেমের পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলের একটি হোটেলে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সুন্দর মুহূর্তগুলো ভক্তদের নজর কাড়লেও, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছিল। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো এবং আনুষ্ঠানিকভাবেই আলাদা পথে হাঁটার ঘোষণা দিলেন এই তারকা জুটি।
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার একটি মসজিদে টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায়ের চ্যালেঞ্জে বিজয়ী ৩২ জন শিশু-কিশোরকে পুরস্কার হিসেবে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে। শিশুদের মসজিদমুখী করতে এবং জামাতে নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করে পাঠাননগর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর কুতুব উল্যাহ ভূঁইয়া জামে মসজিদ কমিটি। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী শিশুদের হাতে এই আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুফতি শামসুদ্দোহা নূরী। সভাপতি নজরুল ইসলাম হেলালী জানান, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলা, মসজিদে নিয়মিত উপস্থিতিতে উৎসাহ দেওয়া এবং একটি মসজিদকেন্দ্রিক ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। পুরস্কার হিসেবে নতুন বাইসাইকেল পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত শিশু-কিশোররা। তারা জানিয়েছে, আগামী দিনেও তারা নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করবে এবং নিজেদের বন্ধুদেরও মসজিদে আসতে উৎসাহিত করবে। স্থানীয়রা মসজিদ কমিটির এই উদ্যোগকে ব্যাপকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের চমৎকার আয়োজন শিশুদের ধর্মীয় চর্চা, শৃঙ্খলাবোধ এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে মসজিদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এই উদ্যোগ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার, ৪ অক্টোবর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন প্রথম আলোকে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কিশোরের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন। কিশোরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে একটি প্রাইভেট কার চাপা দেয়। পরে পথচারী ও নির্মাণশ্রমিকেরা গাড়িটি তুলে তাঁকে উদ্ধার করেন। পুলিশ তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মেহেদীর বয়স ছিল ২৪ বছর। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভাই মুক্তাদির ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করেন। এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে ৪৪ বছর বয়সী আকাশ মারাকের নাম উল্লেখ করা হলেও আটক কিশোরের নাম ছিল না। দ্য ডেইলি স্টারের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির ডান পাশের চালকের আসনের দরজা দিয়ে তাকে বের হতে দেখা যায়। অন্য পাশের দরজা দিয়ে বের হন মধ্যবয়সী আরেক ব্যক্তি। পুলিশের আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে কিশোরের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর কিশোরকে আদালতে হাজির করে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক আরেফিন ইসলাম। আদালত তাকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে সময় তার পক্ষে জামিনের আবেদনও করা হয়। ওই দিনের শুনানির পর কিশোরের পক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন দাবি করেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। ডেইলি স্টারের হাতে পাওয়া আপসনামায় বলা হয়, দাফন ও আনুষ্ঠানিকতার জন্য এক লাখ টাকা এবং নিহতের বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে আপসনামায় কোনো তারিখ ছিল না। আপসনামায় দুর্ঘটনার সময় আকাশ মারাক গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং কিশোর যাত্রী ছিল বলে দাবি করা হয়। এই বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। আপসে মামলার বাদীর সম্মতির বিষয়ে জানতে ডেইলি স্টার সে সময় তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পায়। রোববারের শুনানিতে আদালত কিশোরকে জামিন দেননি। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এজাহারে নাম থাকা গাড়িচালক আকাশ মারাককে পুলিশ তখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। দুর্ঘটনার দায় এবং কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্তের তথ্য ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে।
চাকরির ভেরিফিকেশন নিয়ে উদ্বিগ্ন এক মুসলিম তরুণকে বিনা মূল্যে এক শতক জমি দিয়েছেন তাঁর এক হিন্দু প্রতিবেশী। জমি দানের পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশনের খরচও ওই ব্যক্তি নিজেই বহন করেছেন বলে সাব রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিনের একটি পোস্টের বিবরণে জানানো হয়েছে। মহিউদ্দিনের পোস্টের বিবরণ অনুযায়ী, ওই তরুণের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকায় চাকরি পাওয়ার পর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছিলেন তিনি। তরুণের উদ্বেগের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর পাশে দাঁড়ান প্রতিবেশী ওই হিন্দু ব্যক্তি। কোনো ধরনের বিনিময় ছাড়াই স্বপ্রণোদিত হয়ে তরুণকে এক শতক জমি দান করেন তিনি। জমিটি তরুণের নামে রেজিস্ট্রেশন করার ব্যয়ও বহন করেন দাতা। সরবরাহ করা বিবরণে মহিউদ্দিনকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পোস্টে প্রতিবেশীর এই সহযোগিতার ঘটনা তুলে ধরা হলেও জমিদাতা ও তরুণের নাম, ঘটনাস্থল কিংবা জমি রেজিস্ট্রেশনের তারিখ উল্লেখ নেই। বাবার নামে স্থাবর সম্পত্তি না থাকার কারণে চাকরির ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার বিষয়টি এখানে তরুণের আশঙ্কা হিসেবে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নিয়োগে জমির মালিকানা বাধ্যতামূলক ছিল কি না কিংবা এ বিষয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানিয়েছিল কি না, সরবরাহ করা বিবরণে তা বলা হয়নি। জমি দানের পর তরুণের ভেরিফিকেশন বা চাকরির চূড়ান্ত অবস্থাও জানা যায়নি। মহিউদ্দিনের পোস্টে বর্ণিত ঘটনাটির কেন্দ্রে রয়েছে একজন তরুণের উদ্বেগ জানতে পেরে প্রতিবেশীর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। ভিন্ন ধর্মের দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এই সহযোগিতার ঘটনা জমি দান ও তার নিবন্ধনের খরচ বহনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। সূত্র: পাবলিকিয়ান পরিবার
বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে জন্ম নেওয়া সোমা এস. সাঈদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কুইন্সের একাদশ জুডিশিয়াল ডিস্ট্রিক্ট থেকে তিনি নির্বাচিত হন। বর্তমানে নিউইয়র্কের আদালতের নথিতে তাঁকে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের সিভিল টার্মের বিচারপতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনসের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী সোমা সাঈদ পেয়েছেন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩১ ভোট। ওই নির্বাচনে কুইন্সের ভোটাররা সুপ্রিম কোর্টের পাঁচটি বিচারপতি পদে ভোট দেন। নির্বাচনের পর প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে তাঁর ভোটের সংখ্যা কম উল্লেখ করা হলেও সরকারি চূড়ান্ত ফলে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩১ ভোটই দেখানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে থেকেই বিচারক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সোমা সাঈদের। ২০২১ সালে তিনি কুইন্স কাউন্টি থেকে নিউইয়র্ক সিটি সিভিল কোর্টের বিচারক নির্বাচিত হন। এশিয়ান আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্কের পরিচিতিতে তাঁকে নিউইয়র্ক স্টেট ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নির্বাচিত বাংলাদেশি আমেরিকান বিচারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানহাটনের নিউইয়র্ক কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্টেও বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন সোমা। সেখানে আসামিদের প্রাথমিক হাজিরাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বর্তমানে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের সিভিল টার্মের পার্ট ৩১-এর দায়িত্বে রয়েছেন সোমা সাঈদ। আদালতের প্রকাশিত কার্যবিধিতেও তাঁর নাম ও দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে। সোমা সাঈদের জন্ম টাঙ্গাইল জেলায়। তাঁর বাবা আফতাব উদ্দিন সাঈদ বাংলাদেশে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর মাকে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠার শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও বিচারাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। নিউইয়র্কেই তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে। তিনি আইএস ২৩৮ ও জ্যামাইকা হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর সিটি কলেজ অব নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক এবং আলবেনি ল স্কুল থেকে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিচারক হওয়ার আগে আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। নিজের আইন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর পেশাগত জীবনে। আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন সোমা সাঈদ। তিনি কুইন্স কাউন্টি উইমেনস বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম নারী সভাপতি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে কুইন্সের প্রথম মুসলিম বিচারক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সোমা সাঈদ। নির্বাচনের পর প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে এ পদে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও পরিবেশন করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের নাম বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে মিল থাকলেও দুই দেশের আদালতব্যবস্থা এক নয়। নিউইয়র্কে স্টেট সুপ্রিম কোর্ট বিস্তৃত এখতিয়ারসম্পন্ন একটি বিচারিক আদালত, যেখানে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার হয়। নিউইয়র্ক স্টেটের সর্বোচ্চ আদালত হলো কোর্ট অব আপিলস। টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদের বিচারিক জীবনের এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি আমেরিকানদের সাফল্যের গল্পে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করেছে। সিভিল কোর্টের বিচারক থেকে নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়া তাঁর দীর্ঘ পেশাগত পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে সামনে এসেছে।
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে জমি ও চাকরিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়া এবং নিজের দান করা জমিতে প্রত্যাশিত টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা না করার অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দিয়েছেন দাতা সদস্য আজাদ আলী। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কার্যালয়ের দরজায় থাকা তালার ওপর নতুন তালা লাগানো এবং বিদ্যালয়ের মাঠ ও ভেতরের ফাঁকা জায়গায় কলাগাছের চারা লাগানোর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার, ৩ অক্টোবর, বিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলা ১১টার দিকে আজাদ আলী কয়েকজন লোক নিয়ে বিদ্যালয়ে যান। এরপর শিক্ষকদের কার্যালয়ের দরজায় আগে থেকে থাকা তালার ওপর আরেকটি তালা লাগানো হয়। পরে প্রধান প্রবেশপথ বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের মাঠের বিভিন্ন জায়গাতেও লাগানো হয় কলাগাছের চারা। আজাদ আলীর দাবি, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি চালুর উদ্যোগ নেওয়ার সময় সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি বিদ্যালয়ের জন্য জমি দেন। তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকে প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি দেওয়ার কথাও ছিল বলে দাবি তাঁর। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত সেখানে তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণে তিনি বিদ্যালয়ে তালা দেওয়া, প্রবেশপথ বন্ধ করা এবং মাঠে কলাগাছ লাগানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বিদ্যালয়টি ২০১৫ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি ওই পর্যায়ে পূর্ণ অনুমোদন পায়নি। পরে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব ব্যবস্থাপনা কমিটির রেজুলেশনে আজাদ আলীর নামেই উল্লেখ রয়েছে। ফলে জমি ও চাকরির বিরোধের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও এখন আলোচনায় এসেছে। তবে আজাদ আলীর অভিযোগ মানতে রাজি নয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার দাবি, আজাদ আলী শুরুতে কোনো শর্ত ছাড়াই বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেছিলেন। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দেওয়ার পর ওই জমিতে প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণের পর জমি প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রি করার সময় আজাদ আলী তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর চাকরির দাবি করেন। পরে বিষয়টি বিবেচনা করে ব্যবস্থাপনা কমিটি তাঁর পরিবারের সদস্যদের চাকরির বিষয়ে সম্মতি দেয়। তিনি জানান, টেকনিক্যাল বা কলেজ শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর প্রথম পুত্রবধূকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তিনি ২০২২ সালে মারা যান। এরপর আজাদ আলীর ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তাঁর নতুন পুত্রবধূকেও প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এ কারণে চাকরির বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আজাদ আলী বলছেন, তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁর পরিবারের সদস্যদের চাকরির বিষয়ে একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। জমি, প্রতিষ্ঠানের নাম ও চাকরিকে কেন্দ্র করে বিরোধ শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজাদ আলী ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য তিনি জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি—এমন অভিযোগও মামলায় তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। মামলা চলমান থাকায় জমি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিষয়। তবে এর মধ্যেই বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া এবং মাঠে কলাগাছ লাগানোর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। তারপরও সেখানে পাঠদান চলছিল। নতুন করে প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় বিদ্যালয়ে প্রবেশ এবং নলকূপের পানি ব্যবহারে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় এক দোকানি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। বিদ্যালয়টি ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও সেখানে পড়াশোনা করছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষার্থীরা ধাপে ধাপে ওপরের শ্রেণিতে উঠলে পরবর্তী শ্রেণির পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরেও এসেছে। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান জানিয়েছেন, বিরোধের পেছনে যে কারণই থাকুক, শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা যাবে না। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ফিরে গিয়ে বিদ্যালয়টি দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, প্রশাসন সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে বলেও জানান তিনি। জমি দান, প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন, টেকনিক্যাল কলেজ চালুর পরিকল্পনা এবং পরিবারের সদস্যদের চাকরিকে কেন্দ্র করে ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে তৈরি হওয়া বিরোধ এখন সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। একদিকে আজাদ আলীর অভিযোগ ও আদালতে চলমান মামলা, অন্যদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাল্টা বক্তব্য। দুই পক্ষের বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৯ কেজি ৩৪০ গ্রাম। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (৪ অক্টোবর) বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ওই দুই কর্মীকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিলেন। দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটটি বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় যেখানে অবস্থান করছিল, সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুই বিমানকর্মীর পরিহিত জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের বারগুলো পাওয়া যায়। অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনেও একই পরিমাণ স্বর্ণ এবং প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা আনুমানিক বাজারমূল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, এই চোরাচালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত, স্বর্ণ কোথা থেকে এসেছে এবং কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানে হেফাজতে নেওয়া দুই কর্মীর নাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সূত্র: যমুনা টেলিভিশন
সৌদি আরবের মদিনায় তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। আজ রোববার, ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঢাকার পূর্ণ সংহতির কথা জানানো হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথিদের দায়ী করলেও গোষ্ঠীটি তা অস্বীকার করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা গ্রহণযোগ্য নয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডেরও বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ। হামলাটি ঘটে গত মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ১ অক্টোবর জানায়, মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন আঘাত হেনেছে। জোটের দাবি, উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হামলায় হুথিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জোটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অকেজো হলেও মদিনার সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়নি। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। মসজিদে নববীতে সরাসরি হামলা হয়েছে, এমন কথা সৌদি জোটের বিবৃতিতে বলা হয়নি। অন্যদিকে হুথিদের একটি সামরিক সূত্র সৌদি জোটের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথি পরিচালিত সাবা বার্তা সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তারা মদিনার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। ফলে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। বাংলাদেশের আগে পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়েছে আজ; হামলা এবং এ বিষয়ে সৌদি জোটের অভিযোগ কয়েক দিন আগের। সূত্র: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি নিয়ে ইউএনবির প্রতিবেদন; সৌদি প্রেস এজেন্সি ও রয়টার্স।
চাঁদাবাজি, দখলচেষ্টা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে শনিবার (৩ অক্টোবর) যুগান্তর এ খবর জানিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারাও চলমান অভিযান জোরদারের কথা বলেছেন। এই অবস্থানের আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা মা ও শিশুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা। ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে পরদিন ভোরের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা হয়। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে এর স্থাপনার অংশ ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনার তদন্তে গ্রেপ্তার ও দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা - দুই প্রক্রিয়াই চলছে। রাড্ডার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ১ অক্টোবর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলবে; সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাড্ডার ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি এবং যুবদল ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট দুটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিগুলোতে সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডার ঘটনার সরাসরি সম্পর্কের কথা বলা হয়নি। তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতিতে শনিবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। lএ নিয়ে রাড্ডার ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৯ জন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীও রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া পৃথক বিষয়। স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদও বলেছেন, অপরাধের অভিযোগে কাউকে রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের কারণে ছাড় দেওয়া হবে না এবং নগরীতে অভিযান জোরদার করা হবে। একই সময়ে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার মামলার তদন্তও চলছে। এটি রাড্ডার ঘটনা থেকে পৃথক মামলা। ওই মামলায় তখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুটি মামলার গ্রেপ্তারের সংখ্যা একসঙ্গে হিসাব করা যাবে না। সূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো
বাংলাদেশের ৫৫ বছর বয়সী এক জেলের শরীরে জীবন্ত কুঁচে মাছ ঢুকে অন্ত্র ফুটো হয়ে যাওয়ার বিরল ঘটনা সামনে এসেছে। মাছ ধরার সময় পায়ুপথ দিয়ে মাছটি তাঁর শরীরে প্রবেশ করে এবং পরে বৃহদান্ত্রে ছিদ্র তৈরি করে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি অস্ত্রোপচার করে চিকিৎসকেরা প্রায় ৬৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ জীবন্ত মাছটি বের করেন। ঘটনাটি নিয়ে চিকিৎসকদের লেখা গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক শল্যচিকিৎসাবিষয়ক একটি চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, মাছ ধরার সময় ওই জেলের শরীরে জীবন্ত কুঁচে মাছটি প্রবেশ করে। পায়ুপথ দিয়ে মাছটি শরীরের ভেতরে চলে গেলেও শুরুতে তিনি বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। মাছটি নিজে থেকেই শরীর থেকে বের হয়ে আসবে বলে তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু কিছু সময় পর তাঁর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকে এবং শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে পেটের ভেতরে গুরুতর প্রদাহের লক্ষণ দেখতে পান। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর অন্ত্রে ছিদ্র হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, শরীরের ভেতরে প্রবেশ করা অস্বাভাবিক কোনো বস্তু অন্ত্রের দেয়ালে আঘাত করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁরা দ্রুত জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। কারণ অন্ত্রে ছিদ্র হলে পেটের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে পরিস্থিতি জীবনহানির কারণও হতে পারে। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি দৃশ্য দেখতে পান। রোগীর বৃহদান্ত্রের একটি অংশে প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার আকারের ছিদ্র তৈরি হয়েছিল। সেই ছিদ্রের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় জীবন্ত কুঁচে মাছটি। চিকিৎসকেরা মাছটি শরীর থেকে বের করে আনেন। গবেষণাপত্রে মাছটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ সেন্টিমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মাছটি শরীরে প্রবেশ করে অন্ত্র পর্যন্ত পৌঁছে সেখানে ছিদ্র তৈরি করায় ঘটনাটি চিকিৎসকদের কাছেও বিরল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। অন্ত্রে ছিদ্র তৈরি হওয়ায় রোগীর পেটের ভেতরে গুরুতর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে শুধু মাছটি বের করাই যথেষ্ট ছিল না। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অন্ত্রেরও চিকিৎসা করেন। একই সঙ্গে রোগীর মলত্যাগের পথ সাময়িকভাবে শরীরের বাইরের দিকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর মাধ্যমে অন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে সুস্থ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং আরও জটিলতা তৈরির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, জীবন্ত মাছ শরীরে প্রবেশ করে মানুষের অন্ত্র ফুটো করে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নথিতে এ ধরনের ঘটনা খুব কমই পাওয়া যায়। গবেষণাপত্রের লেখকেরা জানিয়েছেন, এর আগে বিদেশে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশের এই জেলের ঘটনাটিও চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। ঘটনাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল রোগীর কাছ থেকে শুরুতেই মাছ প্রবেশের তথ্য না পাওয়া। তিনি প্রথম দিকে চিকিৎসকদের কাছে বিষয়টি জানাতে পারেননি বা জানাননি। ফলে তাঁর তীব্র পেটব্যথার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা সহজ ছিল না। পরে অস্ত্রোপচারের সময় শরীরের ভেতরে জীবন্ত মাছটির অবস্থান স্পষ্ট হয়। এ ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনার ক্ষেত্রে রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া রোগ নির্ণয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে চিকিৎসকেরা উল্লেখ করেছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো অস্বাভাবিক দুর্ঘটনার পর তীব্র পেটব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া, জ্বর, বমি কিংবা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানোও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা গোপন করা হলে বা প্রয়োজনীয় তথ্য না জানানো হলে রোগের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং চিকিৎসাও বিলম্বিত হতে পারে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ওই জেলের ক্ষেত্রে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গুরুতর জটিলতা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জীবন্ত মাছটি বের করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অন্ত্রের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ঘটনাটি শুধু একটি অস্বাভাবিক দুর্ঘটনা নয়, জরুরি চিকিৎসায় রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস জানার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। সাধারণ পেটব্যথার মতো উপসর্গের পেছনেও কখনো এমন বিরল কারণ থাকতে পারে, যা প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণার বাইরে থাকতে পারে। বাংলাদেশের ওই জেলের ক্ষেত্রে মাছ ধরার সময় শরীরে প্রবেশ করা জীবন্ত কুঁচে মাছ শেষ পর্যন্ত অন্ত্রে ছিদ্র তৈরি করেছিল। দ্রুত অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান শনিবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা ৪৪ মিনিটে বিশেষ কার্গো বিমানে ইউরেনিয়াম চালানটি পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার সকাল প্রায় ৭টা ১৫ মিনিটে তিনটি লরিতে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পাবনার রূপপুরের উদ্দেশে চালানটি রওনা হয়। পরিবহনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞদের একটি দলও চালানের সঙ্গে ছিল। দুপুর প্রায় ১২টা ২৫ মিনিটে তিনটি ইউরেনিয়ামবাহী লরি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে। এটি রূপপুর প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি ইউরেনিয়াম চালান এবং প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃসংযোজনের জন্য আরও দুটি চালান আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব চালান ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। চালানটি এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় এর আগমন পিছিয়ে যায়। পরে নতুন ব্যবস্থায় এটি বাংলাদেশে পৌঁছায়। রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার সহায়তায় দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে এবং এর আনুমানিক ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। এদিকে প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি রিঅ্যাক্টর সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উচ্চচাপ ব্যবস্থার ১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সরকারি হিসাবে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ২৫০ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮২ হাজার ৭০০। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন আরও ১ হাজার ১৬৩ জন। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন। বছরের অন্য মাসগুলোর তুলনায় সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। চলতি বছরের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে এক লাফে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। এর ফলে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৮২ হাজার ৭৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৬ হাজার ৮৬২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলেও ডেঙ্গুর চাপ রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা ওই দিনের বিভাগভিত্তিক হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো আবহাওয়া। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ দীর্ঘায়িত হতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী অক্টোবরেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। বৃষ্টির পর মশার প্রজনন এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ফলে সেপ্টেম্বরের বৃষ্টির প্রভাব অক্টোবরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণে দেখা যেতে পারে। এডিস মশা শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক সমস্যা নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর বিস্তার ঘটেছে বলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তাই শুধু রাস্তা বা এলাকায় কীটনাশক ছিটানোর ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা, ফুলের টব, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য জায়গায় পানি জমতে না দেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসও পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি বছরের ২৫০ মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। এটি ২ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি হিসাবে পাওয়া সংখ্যা। তাই পরবর্তী স্বাস্থ্য বুলেটিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। এদিকে একই সময়ে বাংলাদেশে আরেকটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে হাম পরিস্থিতিও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে। রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরে হামের নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজারের বেশি এবং সন্দেহভাজন বা হামসদৃশ অসুস্থতায় চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ফলে একই সময়ে একাধিক রোগের চাপ সামলাতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। অক্টোবর বাংলাদেশের জন্য ডেঙ্গু মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সময় হয়ে উঠেছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সংক্রমণ ও গুরুতর জটিলতা কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাংলাদেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ডিজিটাল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার, ৩ অক্টোবর রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। কর্মসূচির বিষয় ছিল অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের সফটওয়্যার ব্যবহারের নিয়ম। আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজিটাল নিবন্ধন চালু হলে একজন ব্যক্তি আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা যাবে। একইভাবে তথ্য গোপন করে কেউ একাধিক বিয়ে করার চেষ্টা করলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে সেটিও শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিবাহের তথ্যকে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা। ফলে একজন ব্যক্তির পরিচয় ও বৈবাহিক অবস্থার তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ আরও সহজ হবে। আইনমন্ত্রী বলেছেন, কোনো ব্যক্তিকে আগে থেকেই বিবাহিত হিসেবে পাওয়া গেলে পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা সম্ভব হবে। এর ফলে অননুমোদিত বহুবিবাহ ও তথ্য গোপনের ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। বাল্যবিবাহ ঠেকানোর ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য যুক্ত হলে বয়স যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে। ফলে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। তবে পুরো দেশজুড়ে ব্যবস্থা চালুর আগে নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর আগে আইন ও বিচার বিভাগের প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নির্বাচিত এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। এর আগে সেপ্টেম্বরেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন তথ্যের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হলে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বাল্যবিবাহ এবং তথ্য গোপন করে অননুমোদিত বহুবিবাহের সুযোগ কমানো সম্ভব হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলেই বাল্যবিবাহ বা বহুবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো দেওয়া হয়নি। এটি মূলত তথ্য যাচাই, নিবন্ধন ও নজরদারি আরও কার্যকর করার একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক তথ্য সংযোগ, সব নিকাহ রেজিস্ট্রারের অংশগ্রহণ এবং আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর। সবকিছু ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বিয়ের তথ্য গোপন করা কঠিন হতে পারে এবং ভবিষ্যতে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থাও দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে বিয়ে নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতারণা ও কিছু ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কূটনীতিক ত্রিশিতা মওলা বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন নয়াদিল্লি সফরে থাকায় সাময়িকভাবে দূতাবাসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। ২ অক্টোবর প্রকাশিত ডেইলি সানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ত্রিশিতা মওলা ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কূটনীতিক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসাইনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএস১ দ্রুত শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিট হস্তান্তর করেন ত্রিশিতা। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডস কর্মসূচির আওতায় এসব কিট দেওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে কিটগুলো সরবরাহ করার কথা রয়েছে। কিট হস্তান্তরের পর ত্রিশিতার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডেঙ্গু ওয়ার্ড এবং রোগ নির্ণয় ল্যাবরেটরিও পরিদর্শন করে। সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবগত হন। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ত্রিশিতা মওলার নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে বিশেষায়িত পুলিশিং, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপির সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং কে-৯ ইউনিট পরিদর্শন করে। এসব ইউনিটের কার্যক্রম, সক্ষমতা ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিচিতি অনুযায়ী, ত্রিশিতা মওলা ২০০৮ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এর আগে বাংলাদেশে কনস্যুলার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কর্মজীবনে সুইজারল্যান্ড, উত্তর মেসিডোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও মন্টেনেগ্রোতেও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় মার্কিন দূতাবাসের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ত্রিশিতা। দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে বিভিন্ন দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা ত্রিশিতা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্নার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতি ও গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্রসেবায় যোগ দিয়ে বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্ব করছেন ত্রিশিতা মওলা। তার এই দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন কূটনীতিকের জন্য কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।
মাগুরা সদর উপজেলার সংকোচখালি গ্রামের চা বিক্রেতা বাবু মোল্যার নামে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখিয়ে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে বিলটি সংশোধন করা হয়। ঢাকা পোস্টের ২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধিত বিলে আগের তিন মাসের বকেয়াসহ মোট বিল নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৫ টাকা। বিলম্ব ফিসহ পরিশোধযোগ্য অর্থ দাঁড়িয়েছে ৭১২ টাকা। বাবু মোল্যা গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ভাষ্য, বাড়িতে সাধারণত মাসে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বিদ্যুৎ বিল আসে। এবার প্রায় ৩০ হাজার টাকার বিল দেখে তিনি চিন্তায় পড়েন। গত বুধবার অফিসে বিল পরিশোধ করতে গিয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান। তাঁরা যাচাই করে সংশোধিত বিল দেন। নতুন বিলে পরিশোধের শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৬ অক্টোবর। বাড়ির বিলের সঙ্গে দোকানের একটি মিটারের বকেয়া যুক্ত করা নিয়ে গ্রাহক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে বাবু দাবি করেন, তাঁর চায়ের দোকানে অন্য এক গ্রাহকের পুরোনো মিটার বসানো হয়েছিল। প্রায় সাত মাস ব্যবহারের পর ওই মিটারে ২৬ হাজার টাকা বকেয়া দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। দোকানের মিটার প্রায় চার মাস বন্ধ থাকলেও সেই বকেয়া তাঁর বাড়ির মিটারের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাবু আরও দাবি করেন, বকেয়া যুক্ত করার আগে তাঁকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চলতি দায়িত্বে থাকা জেনারেল ম্যানেজার এস এম শাহিন আহসান চ্যানেল আইকে বলেন, এই গ্রাহকের অন্য একটি মিটারে বকেয়া ছিল। কয়েকবার নোটিশ দেওয়ার পরও তা পরিশোধ না করায় বর্তমান মিটারের সঙ্গে পুরোনো বিল যুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার পুরো অঙ্কটি শুধু ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য ছিল না; এর সঙ্গে পুরোনো বকেয়া যুক্ত ছিল। তবে সংশোধিত আবাসিক বিল থেকে ওই অর্থ বাদ দেওয়ার পর দোকানের মিটারের বকেয়া কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তা স্পষ্ট করা হয়নি। সূত্র: মাছরাঙা টিভি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।