১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ঐতিহাসিক গণভোট নিয়ে অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট আব্দুন নূর তুষারের দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। তুষার দাবি করেছিলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটের সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৪১ লাখের এক বিশাল ফারাক রয়েছে। তবে এই তথ্যকে পুরোপুরি ‘ভুয়া’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রেস উইংয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই বিভ্রান্তি নিরসন করা হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার রাতে, যখন আব্দুন নূর তুষার তাঁর ব্যক্তিগত প্রোফাইলে দাবি করেন— গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ মিলিয়ে মোট ৩ কোটি ২৫ লাখ ভোট পড়েছে, অথচ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাকি চার কোটি ৪১ লাখ ভোট কোথায় গেল?” তাঁর এই পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং জনমনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তবে প্রেস উইং সরাসরি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, গণভোটে প্রকৃতপক্ষে ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি ভোট কাস্ট হয়েছে। এর মধ্যে ভোট প্রদানের পদ্ধতিগত ভুলের কারণে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আব্দুন নূর তুষারের দেওয়া পরিসংখ্যানটি সম্পূর্ণ ভুল এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি অপচেষ্টা মাত্র। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এ ধরণের স্পর্শকাতর বিষয়ে সঠিক তথ্য যাচাই না করে কোনো কিছু শেয়ার না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গুজব রুখতেই প্রেস উইং এই তাৎক্ষণিক ব্যাখা প্রদান করে।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নিজেদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল। সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ওপর কোনো ধরনের নির্দিষ্ট আক্রমণ বা দমনের ঘটনা তাদের নজরে আসেনি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডো। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে নানা আকুফো-আডো বলেন, "আমাদের পর্যবেক্ষক দলের কাছে এমন কোনো সরাসরি রিপোর্ট আসেনি যে, নির্বাচনের সময় কোনো সংখ্যালঘু গোষ্ঠী আক্রান্ত হয়েছে। তবে আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে সংখ্যালঘু ভোটারদের উপস্থিতির হার তুলনামূলক কম ছিল এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটাররা আমাদের কাছে কিছু বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়গুলো আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করব।" নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, "সামগ্রিকভাবে এই নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আমরা মনে করি এটি একটি গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য।" তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পর্যবেক্ষক দলটি তাদের পর্যবেক্ষণে দেখেছে যে, যদিও দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, তবুও অন্য প্রায় সব প্রার্থীর জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ, প্রার্থী নিবন্ধন এবং ফলাফল গণনার প্রক্রিয়া ছিল উন্মুক্ত ও অবাধ। প্রায় ২ হাজার প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করে তুলেছে বলে মনে করে কমনওয়েলথ। নানা আকুফো-আডো তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের এই ধারা ভবিষ্যতে দেশের স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ ও শিক্ষা অঙ্গনের অস্থিরতা নিয়ে এক নিবিড় বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন। তাঁর মতে, গত কিছুদিন ধরে দেশে একটি বিশেষ রাজনৈতিক হাইপ তৈরির চেষ্টা চলেছিল, যার নেপথ্যে ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ড. কামরুল হাসান মামুন দাবি করেন, দেশজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট মতাদর্শের উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনকে বিজয়ী করা। তিনি বলেন, “অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের ভিসি নিয়োগ দিয়ে ডাকসুসহ দেশের ছাত্র সংসদগুলোতে বিজয়ী করে একটি রাজনৈতিক হাইপ তৈরির চেষ্টা আমরা দেখেছি। এতে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে দেশ কি আফগানিস্তানের পথে যাচ্ছে কি না কিংবা দেশ মব (Mob) সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়বে কি না।” প্রশাসনের উচ্চপদে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনরায় নিয়োগদানকেও তিনি এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন। এছাড়াও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ‘বট বাহিনী’ বা কৃত্রিম প্রচারকদের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, “এই বট বাহিনীরা মূলত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, যারা মুক্তমত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করেছিল। শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ওপর বড় ধরনের আঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এমনকি ক্যাম্পাসে নারীদের পোশাক ও চলাফেরার ওপর একটি অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। দেশের সাধারণ মানুষ তাদের রায়ের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে আপাত রক্ষা করেছে।” নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক মামুন বিএনপির ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “এই নির্বাচনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হলো বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের দিকে ঝুঁকে পড়া। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের ওপর আস্থা রাখা এর একটি বড় প্রমাণ।” তবে বিশাল এই বিজয়ে দলটিকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “ভূমিধস বিজয় বাংলাদেশে এই প্রথম নয়। এর আগেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এমন জয় পেয়েছে। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আকাশে না উড়ে মাটির কাছাকাছি থাকা। দেশকে মাথায় রেখে কাজ করলেই কেবল দেশের এবং দলের মঙ্গল হবে। দেশ এক বিশাল ক্রান্তিকাল থেকে রক্ষা পেলেও আগামীর পথ চলায় সামান্য ভুল বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।”
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য মাহেন্দ্রক্ষণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে ঐতিহাসিক গণভোটকে সামনে রেখে দেশের তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি এক শক্তিশালী ও দিকনির্দেশনামূলক আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তরুণ কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাদের হাতে থাকা ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা কেবল অপরাধ দমন নয়, বরং এটি আইন, ন্যায় এবং গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। সাবেক সেনাপ্রধান তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদের দুঃসময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও তাদের কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে দেওয়া হয়নি। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, “প্রতিটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ হলো জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পক্ষাবলম্বন। এই দায়িত্ব সাহসিকতার সাথে পালন করলে সশস্ত্র বাহিনী আবারও জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হবে।” সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি চারটি বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন: প্রথমত, রাজনৈতিক চাপে যদি পুলিশ বা জনপ্রশাসন কোথাও দুর্বলতা দেখায়, তবে সেনা কর্মকর্তাদের অকুতোভয় হয়ে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা স্থানীয় প্রভাব উপেক্ষা করে কেবল প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। তৃতীয়ত, ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান কিংবা ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের মতো যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে নাগরিকরা বুঝতে পারে রাষ্ট্র তাদের পাশে আছে। চতুর্থত, বলপ্রয়োগের চেয়ে দৃশ্যমান উপস্থিতির মাধ্যমে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোকেই প্রকৃত দক্ষতার পরিচয় হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। আগামীকালকের এই দ্বিমুখী ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াকে ঘিরে দেশজুড়ে যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার মাঝে সাবেক সেনাপ্রধানের এই বার্তা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে এবং সাধারণ ভোটারদের মনে স্বস্তি ফেরাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দেখা দিয়েছে এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। ঢাকা-৯ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা এবং ঢাকা-১৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ—উভয়েই যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেখানকার ভোটার নন তারা। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ব্যালট পেপারে নিজের নামের পাশে বা নিজের প্রতীকে সিল মারার কোনো আইনি সুযোগ থাকছে না তাদের জন্য। ববি হাজ্জাজের ভোট ঢাকা-১৭ আসনে ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। এই আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক। তবে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ববি হাজ্জাজ এই এলাকার ভোটার না হওয়ায় তিনি এখানে ভোট দিতে পারবেন না। তাঁর নাম রয়েছে ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার তালিকায়। ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩ নম্বর কেন্দ্রে তাঁর ভোট দিতে হবে, যেখানে তাঁর ভোটার ক্রমিক নম্বর ৬৭৮২। ঢাকা-৯ আসনে লড়া তাসনিম জারার ভোট ঢাকা-১১-তে এদিকে ঢাকা-৯ (মুগদা, সবুজবাগ ও খিলগাঁও) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন তরুণ চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। প্রচারণার ময়দানে তিনি নিজেকে এলাকার ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে পরিচয় দিলেও দাপ্তরিক নথিতে দেখা যাচ্ছে তিনি আসলে ঢাকা-১১ আসনের নিবন্ধিত ভোটার। ইসির ওয়েবসাইট ও ভোটার স্লিপ অ্যাপস অনুযায়ী, তাঁর ভোটকেন্দ্র খিলগাঁও বি-জোন পূর্ব এলাকার প্রাইম স্কুল অ্যান্ড কলেজ (কেন্দ্র নম্বর ৮০)। বর্তমানে পরীবাগের বাসিন্দা হলেও আইন অনুযায়ী তাকে ঢাকা-১১ আসনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। ভোটারদের প্রতিক্রিয়া নিজেদের আসনে ভোটার না হওয়ায় এই দুই প্রার্থীর এমন পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ বলছেন, প্রার্থী যে আসনের প্রতিনিধি হতে চান, সেখানকার ভোটার হলে স্থানীয়দের সাথে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়। তবে দেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী ভোটার তালিকায় নাম আছে এমন যেকোনো আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, যদিও তাকে ভোট দিতে হয় নিজ এলাকাতেই। ১২ ফেব্রুয়ারির এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে এই দুই আলোচিত প্রার্থীর ভাগ্য কী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ—এমন মত প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্র কেবল জ্ঞানার্জনের পরিসর না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার মঞ্চে রূপ নিচ্ছে। স্বাধীনতার পর শিক্ষার লক্ষ্য ছিল যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক নাগরিক তৈরি করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধারাবাহিক নীতির অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষাব্যবস্থার ভিতকে দুর্বল করে দিচ্ছে। শিক্ষানীতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যক্রম পুনর্লিখন, ইতিহাসের নতুন ব্যাখ্যা কিংবা পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাতিল করার প্রবণতা শিক্ষাব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত পরীক্ষাগারে পরিণত করেছে। বিশেষ করে ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্য গুরুত্ব পেলে শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষকরা যদি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে না পারেন, তবে শ্রেণিকক্ষও মুক্তচিন্তার জায়গা হয়ে উঠতে পারে না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব থাকলেও, দলীয় রাজনীতির প্রভাব বাড়লে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর পড়ে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। কোন গবেষণা ‘সংবেদনশীল’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’—এ ধরনের অলিখিত সীমারেখা গবেষণার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। প্রশ্ন করার স্বাধীনতা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র না হয়ে কেবল ডিগ্রি প্রদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ও রাজনীতি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না, কারণ রাষ্ট্রকে শিক্ষানীতি নির্ধারণ করতে হয়। তবে সেই নীতির ভিত্তি হওয়া উচিত গবেষণা, সামাজিক বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ—দলীয় মতাদর্শ নয়। এজন্য পাঠ্যক্রম, গবেষণা ও শিক্ষক নিয়োগে একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সর্বদলীয় ঐকমত্যভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়নই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের প্রথম ধাপ হতে পারে। কারণ শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল ভিত্তি। সেখানে রাজনৈতিক স্বার্থ প্রাধান্য পেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সমাজে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘাতের পেছনেও শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তাই শিক্ষাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। নিশীথ সিংহ রায় কলকাতা (ভারত)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রণডঙ্কা বাজছে দেশজুড়ে। বিশেষ করে রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর আসন ঢাকা-৮ এখন সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই আসনে ভোটারদের সম্ভাব্য পছন্দ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার ও গবেষণা সংস্থা ‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এই জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, জনপ্রিয়তার দৌড়ে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা মির্জা আব্বাসকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিয়েছেন জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মোট ৫২১ জন উত্তরদাতার মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা-৮ আসনের ৪৮.৪ শতাংশ (২৫২ জন) ভোটার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৩২.১ শতাংশ (১৬৭ জন) ভোটারের সমর্থন। অর্থাৎ জনপ্রিয়তায় তরুণ এই প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছেন অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ। জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, নির্বাচনি এলাকার ৯.৮ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তারা ঠিক কাকে ভোট দেবেন। এছাড়া ৫.৮ শতাংশ উত্তরদাতা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তারা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে ইচ্ছুক নন। বাকি ৩.৫ শতাংশ ভোটার অন্যান্য ছোট দলের প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং ০.৬ শতাংশ ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে রাজী হননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই জরিপের ফলাফল ঢাকা-৮ আসনের রাজনৈতিক মেরুকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক সমর্থন এবং এনসিপি-জামায়াত জোটের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণাই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এই সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের প্রকৃত ব্যালটে এই জরিপের প্রতিফলন কতটুকু ঘটে।
বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে একটি গভীরভাবে প্রোথিত ধারণা তৈরি হয়েছে—শিক্ষাব্যবস্থা মূলত প্রশাসনের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে দল ক্ষমতায় আসে, শিক্ষা ব্যবস্থার দিশাও ঠিক হয় তাদের রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী। এর ফলে শিক্ষা কোনো সুদূরপ্রসারী জাতীয় পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠতে পারে না; বরং তা এক ধরনের দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত হয়। পূর্ববর্তী সরকারের গৃহীত নীতি ভালো না মন্দ—এই প্রশ্ন মুখ্য নয়, মুখ্য হয়ে ওঠে সেই নীতি বর্তমান শাসকের মতাদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা। অথচ শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়, কিংবা কোনো একক সরকারের কৃতিত্বও নয়। শিক্ষা হলো একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বারবার এই সত্য ভুলে যাই—বা ভুলিয়ে দেওয়া হয়। এর প্রধান কারণ, শিক্ষা সম্পর্কে একটি সুসংহত ও দীর্ঘস্থায়ী দৃষ্টিভঙ্গি এখনও আমাদের সমাজে গড়ে ওঠেনি। শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে না দেখে আমরা তাকে ভোগ্যপণ্যের কাতারে বসিয়ে দিয়েছি। ফলস্বরূপ সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে যে প্রবণতাগুলি দেখা যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষা আজ আর কেবল জ্ঞানার্জন ও মননচর্চার ক্ষেত্র নয়, ক্রমশ তা রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার একটি মঞ্চে রূপ নিচ্ছে। স্বাধীনতার পর ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক নাগরিক গড়ে তোলা। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই পাঠ্যক্রম, শিক্ষক-প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষার কাঠামো নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাব এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে আদর্শগত পরিবর্তন শিক্ষাব্যবস্থার ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে। সরকার বদলালেই পাঠ্যক্রম বদলানো, ইতিহাসের ব্যাখ্যা নতুন করে রচনা করা কিংবা পূর্বতন সিদ্ধান্ত বাতিল করার প্রবণতা শিক্ষাকে এক অনিশ্চিত পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্র করে তুলেছে। বিশেষত ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সবচেয়ে প্রকট। কোন বিষয় পড়ানো হবে আর কোনটি বাদ যাবে—এই সিদ্ধান্ত অনেক সময়ই একাডেমিক আলোচনার বদলে রাজনৈতিক স্বার্থের নিরিখে নেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়। শিক্ষার মেরুদণ্ড যদি হয় শিক্ষক, তবে সেই শিক্ষক সমাজও আজ রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দলীয় আনুগত্য যদি যোগ্যতা ও মেধাকে ছাপিয়ে যায়, তবে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই স্বাভাবিক। শিক্ষক যখন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন না, তখন শ্রেণিকক্ষ আর মুক্ত চিন্তার পরিসর হয়ে উঠতে পারে না। এতে শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। অথচ শিক্ষার গুরুত্ব এমন হওয়া উচিত ছিল যে সমাজের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় তার স্থান থাকবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষা ও শিক্ষক উভয়েই রাজনৈতিক আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে গর্ব করতে ভালোবাসি। কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ সমাজের সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখছে কিনা, সে প্রশ্ন খুব কমই তুলি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকে অনেক সময় গণতান্ত্রিক অধিকার বলে যুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কি আদৌ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র হওয়া উচিত? শিক্ষক আসেন শিক্ষা দিতে, শিক্ষার্থী আসে শিক্ষা গ্রহণ করতে—সেই পরিসর কীভাবে রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত হয়, তা নিয়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। অবশ্যই গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে ছাত্র রাজনীতির গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু যখন তা সরাসরি দলীয় রাজনীতির সম্প্রসারিত রূপ নেয়, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর—যার ফল আজ আমরা প্রত্যক্ষ করছি। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক চাপ অনেক সময় সূক্ষ্ম অথচ গভীরভাবে কাজ করে। কোন গবেষণা গ্রহণযোগ্য, কোন বিষয় সংবেদনশীল—এই অলিখিত নিয়ম গবেষণার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে। প্রশ্ন করার সাহস ও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র না হয়ে কেবল ডিগ্রি প্রদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকা উচিত, তবে তা কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় নয়—তা হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বার্থে গঠনমূলক ও স্বাধীন চিন্তার প্রকাশ। এ কথা সত্য যে শিক্ষা ও রাজনীতি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। রাষ্ট্রকে শিক্ষানীতি নির্ধারণ করতেই হয়। কিন্তু সেই নীতির ভিত্তি হওয়া উচিত গবেষণা, সামাজিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ—দলীয় মতাদর্শ নয়। শিক্ষা যদি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ময়দানে পরিণত হয়, তার মূল্য দিতে হবে গোটা জাতিকেই। আজ প্রয়োজন একটি স্পষ্ট সীমারেখা টানা—যেখানে রাজনীতি থাকবে নীতি নির্ধারণে, কিন্তু শিক্ষার অন্তঃসারকে নিয়ন্ত্রণ করবে না। পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ ও গবেষণার ক্ষেত্রে একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা করা সম্ভব নয়। সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষানীতি প্রণয়নই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রথম ধাপ। শিক্ষা হলো জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারখানা। সেখানে যদি রাজনৈতিক স্বার্থের ভারী যন্ত্র প্রবেশ করে, তবে সেই ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আজ চারদিকে যে অসহিষ্ণুতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভাজন চোখে পড়ছে, তার শিকড় অনেকাংশেই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতায় নিহিত। তাই এখনই সময়—শিক্ষাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখার। দেরি হলে তার মাশুল দিতে হবে আগামী প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। লেখক: নিশীথ সিংহ রায়
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক বিশেষ মিডিয়া ব্রিফিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ‘সবুজ টেকসই অর্থনীতি’র চালচিত্র ও প্রত্যাশা: প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল শীর্ষক এই ব্রিফিংয়ে সংস্থাটি জানায়, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হলে তা প্রকৃত অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হিসেবে গণ্য হবে না। সিপিডির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদিও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ, কিন্তু দলটির একটি বিশাল সমর্থক ও ভোটার গোষ্ঠী রয়েছে। নির্বাচনী তথ্য ও জরিপ অনুযায়ী, এই বিশাল ভোটব্যাংক নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’ বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। গবেষণা সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মতামত এবং অংশগ্রহণকে যদি পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়, তবে নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। একটি টেকসই ও স্থিতিশীল গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে এবং বিশ্বাসযোগ্য ফলাফল অর্জনে সব প্রধান রাজনৈতিক পক্ষ ও তাদের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য বলে মনে করে সিপিডি। সংস্থাটির মতে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যা-ই হোক না কেন, ভোটারদের একটি বড় অংশকে প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটানো কঠিন হয়ে পড়বে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকায় দলটির বিশাল এক ভোটব্যাংক কোন দিকে ঝুঁকবে, তা নিয়ে নতুন এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার গবেষণা সংস্থা ‘সোচ্চার’ (সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ)। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭.৯ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। প্রায় সমান তালে পিছু পিছু রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যাদের ভোট দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন ৩৭ শতাংশ ভোটার। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের সভাপতি ড. শিব্বির আহমেদ এবং ভয়েজ ফর রিফর্মের সম্পাদক ও বিডিজবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর। সংস্থাটি জানায়, রাজধানীর চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি এলাকা— ঢাকা-১১, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৫ এবং ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। মূলত যারা গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের বর্তমান মনোভাব বুঝতেই এই গবেষণা। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক প্রায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে বিএনপি ও জামায়াতের দিকে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের এক সময়ের কট্টর ভোটারদের মধ্যে ১০.৮ শতাংশ এখনো ঠিক করতে পারেননি তারা কাকে ভোট দেবেন। ৬.১ শতাংশ ভোটার তাদের মনোভাব প্রকাশ করতে রাজি হননি এবং ৫.৪ শতাংশ ভোটার কোনো ভোটই না দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ড. শিব্বির আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই জরিপের ফলাফল স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কাজ করছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা একটি দলের সমর্থকদের বড় অংশের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপের তথ্য যদি নির্বাচনের দিন বাস্তবে রূপ নেয়, তবে ঢাকা তথা পুরো বাংলাদেশের নির্বাচনি ফলাফলে এক অভাবনীয় মেরুকরণ দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত জোটের ভোটের ব্যবধান কমাতে বা বাড়াতে এই ‘ভাসমান’ আওয়ামী ভোট ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।
প্রয়াত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর অভিনয় জগত থেকে অনেকটা দূরে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমসাময়িক নানা বিষয়ে সবসময়ই সোচ্চার মেহের আফরোজ শাওন। তবে এবার এক বছরের পুরনো এক ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ তথ্যের জেরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত জুলকারনাইন সায়েরকে প্রকাশ্যে তিনটি কড়া প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শাওন গত এক বছরে তার ও তার পরিবারের ওপর দিয়ে যাওয়া দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জুলকারনাইন সায়েরের একটি পুরনো পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, ভারতে অনুষ্ঠিত এক ‘কল্পিত’ মিটিংয়ে শাওন উপস্থিত ছিলেন এবং তাকে সেখানে বড় কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শাওন তাঁর পোস্টে সরাসরি জুলকারনাইন সায়েরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনার সাথে আমার পরিচয় নেই, কেবল ২০১৫ সালে মেসেঞ্জারে সামান্য কিছু কথা হয়েছিল। কিন্তু এক বছর আগে আপনি আমার নাম জড়িয়ে যে উদ্ভট ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, তার কোনো প্রমাণ কি আজ পর্যন্ত পেয়েছেন?” এই মিথ্যা তথ্যের ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করে শাওন লেখেন, “আপনার ওই বানোয়াট তথ্যের কারণে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আমাকে যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়েছে এবং দীর্ঘ ২২টি ঘণ্টা আমার সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা ও প্রিয়জনদের যে অবর্ণনীয় মানসিক পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার জবাব কে দেবে?” জুলকারনাইন সায়েরের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাওন তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেন: ১. ওই বানোয়াট কাগজের কোনো প্রমাণ কি গত এক বছরে আপনি পেয়েছেন? ২. যদি পেয়ে থাকেন, তবে তা এখনও প্রকাশ করছেন না কেন? ৩. আর যদি প্রমাণ না পান এবং বুঝতে পারেন যে তথ্যটি ভুল ছিল, তবে সেটি স্বীকার করছেন না কেন? নাকি আপনার উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখিয়ে আমার মুখ বন্ধ করা? পোস্টের শেষে শাওন আশা প্রকাশ করেন যে, একজন আন্তর্জাতিক সংবাদকর্মী হিসেবে জুলকারনাইন সায়ের অন্তত সত্যটি স্বীকার করার সৎ সাহস দেখাবেন। তিনি প্রমাণের অভাব বা স্মৃতির বিভ্রান্তি এড়াতে সায়েরের সেই পুরনো পোস্টের একটি স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করে দেন। শাওনের এই সাহসী পোস্টটি ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিযোগিতামূলক আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে মানুষের মৌলিক চাহিদার ধারণা বদলেছে, তেমনি বদলেছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়; বরং নাগরিকদের ন্যূনতম দারিদ্র্য নিশ্চিত করা—যা বিশেষভাবে বেকারত্ব কার্যকরভাবে হ্রাস করার মাধ্যমে অর্জন সম্ভব। ১. দারিদ্র্য ও বেকারত্ব সরাসরি নাগরিকের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করাই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মূল উদ্দেশ্য। এই মৌলিক চাহিদাগুলো হলো— (১) বিশুদ্ধ বাতাসের নিশ্চয়তা (২) স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা (৩) সুষম ও পর্যাপ্ত খাদ্যের নিশ্চয়তা (৪) রুচিসম্মত ও পরিমিত পোশাকের নিশ্চয়তা (৫) সাশ্রয়ী সুচিকিৎসার নিশ্চয়তা (৬) নিরাপদ বাসস্থানের নিশ্চয়তা (৭) ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষার নিশ্চয়তা (৮) কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির নিশ্চয়তা (৯) মাদকমুক্ত জনগোষ্ঠী তৈরিতে সহায়তা করা এই মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের মূলনীতি হলো— “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সমন্বয়।” রাষ্ট্রকে প্রচলিত সীমাবদ্ধতার বাইরে এসে নীতিগত সংস্কার ও বাস্তবভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে গ্লোবাল প্রতিযোগিতায় অগ্রাগামী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। এই প্রবন্ধে একটি সামগ্রিক ধারণার পাশাপাশি কিছু বাস্তব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হলো—কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সংস্কার করা যেতে পারে। ২. ফ্রিল্যান্সারদের কাঠামোগত উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা বর্তমানে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বছরে প্রায় ১.৩–১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। এই আয়ের বড় অংশই ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্জিত। তবে উন্নত বহির্বিশ্বে এখনও বহু পেশাগত খাত রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের যুবসমাজ বৈদেশিক বাজারে পর্যাপ্তভাবে প্রবেশ করতে পারেনি—যার পেছনে রয়েছে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার ঘাটতি। ভবিষ্যতে এই খাত রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান উৎস হতে পারে। ২.১ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন (ক) কম মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ: (১ক) বিশেষ বিদ্যুৎ ট্যারিফ (২ক) লোডশেডিং-মুক্ত সংযোগ (৩ক) সৌরশক্তি ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (খ) নির্দিষ্ট কম দামে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট: (১খ) বিশেষ ফ্রিল্যান্সার ইন্টারনেট প্যাকেজ (হ্রাসকৃত, কর-মুক্ত/কর-ছাড়যুক্ত) (২খ) সহজ ব্যাংকিং ও বৈদেশিক আয়ের কাগজপত্র (৩খ) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সরকারি এবং বেসরকারি (JV) সহায়তা ২.২ নতুন সম্ভাবনাময় খাতসমূহ * শিক্ষা * স্বাস্থ্যসেবা * হিসাবরক্ষণ * ডিজিটাল মার্কেটিং * কারিগরি ও প্রকৌশল সেবা * অনুবাদ * কাস্টমার সাপোর্ট * ডেটা অ্যানালিটিক্স/ডেটা এন্ট্রি ও ব্যাক-অফিস সার্ভিস * গ্রাফিক্স/ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট ও ভিডিও এডিটিং * ই-কমার্স অপারেশনস * সাইবার সিকিউরিটি বেসিক সার্ভিস ও QA টেস্টিং এখানে সরকারের ভূমিকা নিয়ন্ত্রকের নয়; বরং হবে সহায়ক (Facilitator)। ৩. Trainer of Trainers (ToT): স্থানীয় প্রশিক্ষণ থেকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থান প্রতিটি জেলা সদরে Trainer of Trainers (ToT) কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে। কার্যপদ্ধতি: * আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ * কোর কারিকুলাম, মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেশন * দক্ষ কর্মী তৈরি— ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, কেয়ারগিভার, নার্সিং সহকারী, IT কর্মী, কনস্ট্রাকশন টেকনিশিয়ান, প্রজেক্ট অফিসার সার্টিফিকেশন ও মাননিয়ন্ত্রণ এই কর্মসূচির মূল শর্ত হওয়া উচিত। লক্ষ্য: * রেমিট্যান্স বৃদ্ধি * দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান * দারিদ্র্য হ্রাস * মানবসম্পদ রপ্তানি ৪. পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতা আজকের কর্মসংস্থান হচ্ছে— রিমোট নির্ভর, স্কিলভিত্তিক, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নির্ভর, গ্লোবাল বাজারভিত্তিক এবং AI নির্ভর। ডিগ্রির চেয়ে এখন স্কিল + সার্টিফিকেশন + আউটপুট গুরুত্বপূর্ণ। ৫. ভূমিপুত্র (Son of the Soil) নীতি দেশের সম্পদ ও কর্মসংস্থানে দেশের সন্তানদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা। Local first, Global ready নীতিতে আধুনিক সংস্করণ প্রয়োজন। ৬. সমন্বিত ভূমিপুত্র মডেল জাতীয় পর্যায়ে: * চাকরিতে কোটা * বিদেশি নিয়োগ সীমিত * Knowledge Transfer * Skill Database স্থানীয় পর্যায়ে: * স্থানীয় রেজিস্ট্রি * স্থানীয় নিয়োগ * প্রশিক্ষণ কেন্দ্র * উদ্যোক্তা সহায়তা ৭. গ্রামীণ SME শিল্পায়ন গৃহস্থালি পণ্য, কৃষি উপকরণ, পোশাক, হালকা শিল্প—স্থানীয় উৎপাদন। উপকারিতা: কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ। ৮. বিকেন্দ্রীকরণ ও কর সংস্কার গ্রামে কর ছাড়, শহরে নিয়ন্ত্রণমূলক করনীতি। ফলাফল: ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন। ৯. উপসংহার ফ্রিল্যান্সিং সহায়তা, ToT কর্মসূচি, ভূমিপুত্র নীতি, গ্রামীণ শিল্পায়ন ও বিকেন্দ্রীকরণ—এই পাঁচ স্তম্ভ বাস্তবায়িত হলে বেকারত্ব হ্রাস, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। এটি একটি জাতীয় উন্নয়ন দর্শন—যেখানে দেশের সন্তানই হবে উন্নয়নের মূল শক্তি। লেখক: প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ইমেইল: usaaisf@gmail.com ফোন: (303) 718-3144 (WhatsApp)
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।