- প্রচ্ছদ
- বিনোদন
বিনোদন
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। পরিচালক রাজকুমার হিরানি জানিয়েছেন, সিনেমাটির গল্প ও স্ক্রিপ্ট এখনো লেখা হচ্ছে এবং এটি মূল ছবির প্রায় ২০ বছর পরের সময়কে কেন্দ্র করে তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন, মূল তিন চরিত্র র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুর চরিত্রে আমির খান, আর মাধবন ও শারমান যোশীকে নিয়েই গল্প এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘থ্রি ইডিয়টস’ পরিচালনা করেছিলেন রাজকুমার হিরানি। আমির খান, আর মাধবন ও শারমান যোশীর অভিনীত র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজু চরিত্র তিনটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সিনেমাটিতে শিক্ষাব্যবস্থা, ক্যারিয়ার, বন্ধুত্ব ও নিজের পছন্দের পথে এগিয়ে যাওয়ার মতো বিষয় উঠে এসেছিল। সিক্যুয়েল প্রসঙ্গে হিরানি জানিয়েছেন, নতুন সিনেমাটি কলেজজীবনের গল্প নিয়ে নয়। বরং দুই দশক পর চরিত্রগুলোর জীবন কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটিই হবে গল্পের মূল বিষয়। অর্থাৎ র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুকে এবার দেখা যাবে তাদের পেশাগত ও পারিবারিক জীবনের নতুন বাস্তবতায়। পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, গল্পটি শুরু থেকেই ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে লেখা হচ্ছিল না। অন্য একটি গল্প নিয়ে কাজ করার সময় হিরানি ও তাঁর লেখক সহযোগী অভিজাত জোশির মনে হয়, সেই গল্পটি ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর চরিত্রগুলোর জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে যেতে পারে। সেখান থেকেই সিক্যুয়েলের ধারণাটি তৈরি হয়। তবে সিনেমাটির কাজ এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। হিরানি জানিয়েছেন, স্ক্রিপ্ট পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটি নিয়ে এগোতে চান না। গল্পটি যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হলেই সিক্যুয়েলটি নির্মাণের দিকে যাওয়া হবে। এর আগে আমির খানও জানিয়েছিলেন, তিনি সিক্যুয়েলের প্রাথমিক গল্প শুনেছেন এবং সেটি তাঁর পছন্দ হয়েছে। তবে স্ক্রিপ্টে আরও কাজ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। হিরানি আরও জানিয়েছেন, ‘থ্রি ইডিয়টস ২’-এ নতুন কোনো ‘চতুর্থ ইডিয়ট’ যোগ করার পরিকল্পনা নেই। মূল তিন বন্ধুকেই কেন্দ্র করে গল্প এগোবে। ফলে দুই দশক পর র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুর জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটিই এখন সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহের মূল বিষয়।
পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্ত্রী জর্জিনা রদ্রিগেজের হাতে দেখা গেছে প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের বিরল একটি বার্কিন ব্যাগ। ৩ সেপ্টেম্বর ইতালির ভেনিসে যাওয়ার সময় তার হাতে ছিল হার্মেসের কুমিরের চামড়ায় তৈরি হিমালয়া বার্কিন ২৫। বিরল এই ব্যাগটি ঘিরে তার সাজসজ্জার পাশাপাশি এর বিপুল মূল্যও আলোচনায় এসেছে। ৩২ বছর বয়সী জর্জিনা এদিন বাদামি রঙের সাটিনের শার্ট ও সাদা ঢিলেঢালা জিনস পরেছিলেন। শার্টের কয়েকটি বোতাম খোলা ছিল, যার মধ্য দিয়ে তার পরনের লেসের অন্তর্বাসও দেখা যাচ্ছিল। পোশাকের সঙ্গে তিনি পরেছিলেন হালকা রঙের উঁচু হিলের জুতা ও কালো রোদচশমা। সাজ সম্পূর্ণ করতে ছিল তারকা আকৃতির গয়না, বড় গোলাপি সোনার ঘড়ি এবং হাতে সেই বিরল বার্কিন ব্যাগ। হার্মেসের হিমালয়া সিরিজের ব্যাগগুলো প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বিরল ও আকাঙ্ক্ষিত নকশার মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত। কুমিরের চামড়া ব্যবহার করে এগুলো তৈরি করা হয় এবং ব্যাগের স্বতন্ত্র ধূসর-সাদা রঙের ধাপ তৈরি করতে হাতে রং করা হয়। জর্জিনার হাতে থাকা হিমালয়া বার্কিন ২৫-এর পুনর্বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ লাখ ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই একই ধরনের ব্যাগের মালিক তারকা কিম কার্দাশিয়ানও। তার ব্যাগটিতে হীরাখচিত সোনার ধাতব অংশ রয়েছে, যার কারণে সেটির মূল্য আরও বেশি। কাইলি জেনারও একই ধরনের হিমালয়া কেলি ব্যাগ ব্যবহার করেন, যেটিতেও একই ধরনের বিশেষ অলংকরণ রয়েছে। হীরাখচিত হিমালয়া ব্যাগের মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জর্জিনার ভেনিস সফরের এই উপস্থিতি আসে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী রোনালদোর সঙ্গে বিয়ের পরপরই। গত ১১ আগস্ট পর্তুগালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে জর্জিনা ২৫০ ক্যারেটের চোপার্ড হীরা পরেছিলেন। তার বিয়ের গয়নার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ের গয়নার মধ্যে ছিল গার্ডেন অব কালাহারি নেকলেস। এই নেকলেসে ছিল ৫০ ক্যারেটের একটি উজ্জ্বল হীরা এবং আরও ১৪৬ ক্যারেটের ছোট ছোট পাথর। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত মেট গালায় একই নেকলেস পরেছিলেন মার্কিন সংগীতশিল্পী বিয়ন্সে। ওই অনুষ্ঠানেই অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জর্জিনাও। এ ছাড়া বিয়ের সাজে জর্জিনা ২৫ ক্যারেটের নাশপাতি আকৃতির একটি হীরা এবং ২৬ ক্যারেটের হৃদয় আকৃতির একটি পাথর কানের দুল হিসেবে পরেছিলেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর রোনালদো ও জর্জিনা পর্তুগালে একটি বেসামরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্তও জর্জিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তাদের দুজনের হাত পাশাপাশি রাখা অবস্থায় দেখা যায় এবং হাতে ছিল সোনার বিয়ের আংটি। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ের পরপরই ভেনিসে জর্জিনার এই উপস্থিতিতে আবারও তার পোশাক, গয়না ও বিলাসবহুল সামগ্রী আলোচনায় এসেছে।
‘সারভাইভার গ্রিস’ রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগী স্তাভরোস ফ্লোরোস শুটিংয়ের বিরতিতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারানোর পর অনুষ্ঠানটির প্রযোজকদের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের সাওনা দ্বীপের কাছে সমুদ্রে মাছ শিকার করার সময় একটি পর্যটকবাহী নৌকার পাখা তার শরীরে আঘাত করে। এতে তার বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে মামলায় দাবি করেছেন তিনি। দুর্ঘটনাটি ঘটে শুটিংয়ের বিরতির সময়। ফ্লোরোস তখন সমুদ্রে মাছ শিকার করছিলেন। তার দাবি, প্রতিযোগীদের মাছ শিকারে অভ্যস্ত করে তোলা হয়েছিল এবং যে এলাকায় তারা মাছ শিকার করতেন, সেখানে পর্যটকবাহী নৌকার চলাচল ছিল বেশি। তার অভিযোগ, এই ঝুঁকি সম্পর্কে প্রযোজকেরা জানতেন। এরপরও প্রতিযোগীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ফ্লোরোসের অভিযোগ, মাছ শিকারের জন্য ব্যবহৃত ওই সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা নৌকা, সুরক্ষিত এলাকা কিংবা পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্নের ব্যবস্থা ছিল না। তিনি আরও দাবি করেছেন, ওই জলসীমায় এর আগেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। এসব বিষয় জানা থাকা সত্ত্বেও প্রযোজকেরা প্রতিযোগীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি বলে তিনি মামলায় অভিযোগ করেছেন। দুর্ঘটনার সময় একটি পর্যটকবাহী নৌকার পাখা ফ্লোরোসের শরীরে আঘাত করে। তার মামলার নথি অনুযায়ী, এতে তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সমুদ্রে পড়ে যাওয়া পাটি পরে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি দাবি করেছেন। দুর্ঘটনার পর একটি পর্যটকবাহী নৌকায় থাকা এক অপরিচিত ব্যক্তি তার ক্ষতস্থানে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নেন। ফ্লোরোসের দাবি, ওই ব্যক্তি টুর্নিকেট প্রয়োগ না করলে তিনি বেঁচে থাকতে নাও পারতেন। দুর্ঘটনার পর ফ্লোরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে মিয়ামির একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়। দুর্ঘটনার পর মোট ৬১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। ফ্লোরোসের মামলায় আরও বলা হয়েছে, মাছ শিকারকে অনুষ্ঠানটির প্রতিযোগীদের জীবনের একটি অংশ হিসেবে রাখা হয়েছিল। সে কারণে প্রতিযোগীদের এমন উন্মুক্ত জলসীমায় যেতে হতো, যেখানে পর্যটকবাহী নৌযানের চলাচল ছিল। তার অভিযোগ, প্রতিযোগীদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল নির্ধারণ, নিরাপত্তা নৌকা রাখা কিংবা নৌযান চলাচলের বিষয়ে সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফ্লোরোসের দাবি, দুর্ঘটনার আগে ওই জলসীমায় নৌযানের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রযোজনা কর্তৃপক্ষের জানা ছিল। তারপরও তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। মামলায় তিনি এই নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং এর জন্য প্রযোজকদের দায়ী করেছেন। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আকুনমেদিয়া দুর্ঘটনার পর ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে নয়, বরং প্রতিযোগিতার বাইরে মাছ শিকার করার সময় ঘটেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পর্যটকবাহী নৌকা মাছ শিকাররত অবস্থায় ফ্লোরোসকে আঘাত করে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই আহত প্রতিযোগীকে সহায়তা করা এবং নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর অনুষ্ঠানটির চলতি মৌসুমের শুটিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ফ্লোরোস হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে থাকেন। গ্রিসে ফিরে আসার পরও তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার বিভিন্ন আপডেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সেখানে তাকে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে দেখা গেছে। ফ্লোরোস এখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। মামলায় তিনি দুর্ঘটনার কারণে নিজের পা হারানো, দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও করেছেন। তবে ফ্লোরোসের করা এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দুর্ঘটনার পর দ্রুত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের কথা উল্লেখ করেছে। ফলে মামলাটিতে প্রযোজকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার দায় নিয়ে ফ্লোরোসের অভিযোগগুলো এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই হবে।
বলিউডের ব্যস্ত শুটিং জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে এবার কৃষিকাজে মন দিয়েছেন অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান। নিজের কেনা নতুন খেতে নেমে ধান রোপণ ও মাটি খোঁড়ার কাজ করতে দেখা গেছে তাকে। ৩ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি প্রকাশের পর নতুন এই উদ্যোগ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একটি খামার কেনার খবর জানিয়েছিলেন বরুণ। সেই সময় তিনি জায়গাটিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেছিলেন। খামারে বসে চা-বিস্কুট খাওয়ার মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন তিনি। এর কয়েক সপ্তাহ পর এবার খামারে সরাসরি কৃষিকাজে নেমেছেন এই অভিনেতা। প্রকাশিত ছবিতে সাদা পোশাকে হাতে কৃষিকাজের সরঞ্জাম নিয়ে তাকে ধানখেতে কাজ করতে দেখা যায়। কোথাও মাটিতে নেমে চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কোথাও ধান রোপণে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ছবিগুলোর সঙ্গে বরুণ লিখেছেন, ‘খেতি শুরু’, অর্থাৎ চাষাবাদ শুরু। বরুণের এই নতুন ব্যস্ততা তার স্বাভাবিক চলচ্চিত্রজীবনের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রকৃতি ও খামারজীবনের প্রতি আগ্রহের এই দিকটি এবারই প্রথম এতটা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। বরুণ ধাওয়ানকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘হাই জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ সিনেমায়। এর আগে ‘বর্ডার ২’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিজের নতুন খামার ও সেখানে কৃষিকাজের ছবি দিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি আলোচনায় রয়েছেন এই অভিনেতা।
ভারতীয় র্যাপার ও গায়ক বাদশাহ এবং পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে নিজেদের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিবৃতিতে বাদশাহ ও ইশা বলেন, তারা দুজনেই নিজেদের আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে এই সময় তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানান তারা। সম্পর্ক নিয়ে আর কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন দুজন। ২০২১ সালে একটি পার্টিতে পারস্পরিক বন্ধুদের মাধ্যমে বাদশাহ ও ইশার পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তাদের। কয়েক বছর সম্পর্কের বিষয়টি আড়ালে রাখার পর চলতি বছরের মার্চে ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত আয়োজনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের খবরও শুরুতে প্রকাশ্যে আনেননি দুজন। পরে ইশার মা পুনম রিখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের কিছু ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি সামনে আসে। এরপর ইশা নিজেও ইনস্টাগ্রামের ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে বিয়ের কথা নিশ্চিত করেন। তবে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়। জুলাই থেকে দাম্পত্যে টানাপোড়েনের গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। যদিও তখন এ বিষয়ে বাদশাহ বা ইশার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৩১ আগস্ট দুজনের যৌথ বিবৃতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। বাদশাহর এটি দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে ২০১২ সালে জেসমিন মাসিহকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। ২০২০ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে বাদশাহ ও ইশা কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। বরং যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য না করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে অনুমান বা জল্পনা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছেন।
চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ৬০ বছর বয়সী এক কৃষক সাপের কামড়ের পর প্রাণ বাঁচাতে নিজের তর্জনী কেটে ফেলেছিলেন। স্থানীয়ভাবে ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ নামে পরিচিত একটি সাপ তাঁকে কামড়েছে মনে করে বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসকেরা জানান, এতটা চরম পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। ঘটনাটি ২০১৯ সালের অক্টোবরের, যা সে সময় চীনা সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। ঝেজিয়াংয়ের শাংইউ এলাকায় পাহাড়ি অঞ্চলে কাঠ কাটার সময় ওই কৃষকের আঙুলে সাপটি কামড় দেয়। সাপটিকে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সাপের কামড়ের পর আক্রান্ত ব্যক্তি মাত্র কয়েক পা হাঁটতেই মারা যেতে পারেন। সেই ভয় থেকেই বিষ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তিনি নিজেই ছুরি দিয়ে তর্জনীর একটি অংশ কেটে ফেলেন। এরপর হাত কাপড় দিয়ে বেঁধে তিনি প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের হাংঝোউ হাসপাতালে যান। তবে কেটে ফেলা আঙুলটি ঘটনাস্থলেই ফেলে আসায় সেটি পুনরায় জোড়া লাগানোর সুযোগও নষ্ট হয়ে যায়। হাসপাতালে পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা দেখতে পান, তাঁর রক্ত জমাট বাঁধার কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল এবং গুরুতর বিষক্রিয়ার লক্ষণও দেখা যায়নি। চিকিৎসকেরা জানান, স্থানীয়ভাবে ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ নামে পরিচিত সাপটি বিষধর হলেও এর বিষক্রিয়া নিয়ে প্রচলিত ধারণা বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ। সাপটির বৈজ্ঞানিক নাম। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে বলেন, সাপের কামড়ের পর নিজের শরীরের কোনো অংশ কেটে ফেলা, পোড়ানো বা শক্ত করে বেঁধে ফেলা নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। চীনের সাপের কামড় ব্যবস্থাপনা বিষয়ক চিকিৎসা নির্দেশিকাতেও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং আক্রান্ত অঙ্গ স্থির রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, সাপের কামড়ের পর আতঙ্কে নিজে কোনো অস্ত্রোপচার বা ঘরোয়া চিকিৎসা না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সাপটি বিষধর কি না নিশ্চিত না হলে সেটি নিজে শনাক্ত করার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ব্রিটিশ গায়ক ও সংগীত প্রযোজক হ্যারি ট্যাপ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ২০২৬ সালের জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে অনুসারীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।” ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পর হ্যারি ট্যাপ তার প্রতি ভালোবাসা, সমর্থন ও ইতিবাচক বার্তা পাঠানো মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এতটা সমর্থন পাবেন বলে তিনি আশা করেননি। তবে ইসলাম গ্রহণের পেছনের ব্যক্তিগত কারণ বা তার আধ্যাত্মিক যাত্রার বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করতে চান না এই সংগীতশিল্পী। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে হয়তো নিজের ইসলাম গ্রহণের গল্প বিস্তারিতভাবে শেয়ার করবেন। আপাতত বিষয়টি ব্যক্তিগত রাখতেই চান তিনি। তার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা আসে। হ্যারি ট্যাপের ইসলাম গ্রহণের খবরটি পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও আলোচনায় আসে। হ্যারি ট্যাপের পরিচিতি মূলত সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক হিসেবে। তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি তিনি নিজেই প্রকাশ্যে নিশ্চিত করায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের যাত্রা সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য তিনি এখনো প্রকাশ করেননি।
মিশিগানের মিস ইউএসএ ২০২৬ অ্যাম্বার উহলার মাত্র পাঁচ বছর আগেও প্রায় ৩০০ পাউন্ড ওজনের ছিলেন। তিন সন্তানের মা উহলারকে তখন এক চিকিৎসক সতর্ক করে বলেছিলেন, তিনি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন এবং এভাবে চলতে থাকলে অকালমৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। সেই সতর্কবার্তার পর জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে তিন বছরের বেশি সময় ধরে ডায়েট ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ১৭০ পাউন্ড ওজন কমিয়েছেন তিনি। এখন ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বয়স্ক প্রতিযোগী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন তিনি। পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উহলার জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বড় ধরনের সতর্কবার্তা পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক তাকে স্থূলতা ও প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকির কথা জানান এবং সন্তানদের হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত বেঁচে থাকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর কিছুদিন পর সন্তানদের সঙ্গে একটি ট্রাম্পোলিন পার্কে গিয়ে আরও একটি ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ফোমের একটি গর্তে লাফ দেওয়ার পর সেখান থেকে তিনি নিজে বের হতে পারছিলেন না। তিনজন শক্তিশালী ব্যক্তি তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ফায়ার ডিপার্টমেন্টকে ডাকতে হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। উহলার বলেন, ওই অভিজ্ঞতার পর তিনি বুঝতে পারেন, অতিরিক্ত ওজন নিয়ে জীবনযাপন যেমন কঠিন, তেমনি ওজন কমানোর পথও কঠিন। এরপর তিনি নিজের জন্য একটি লক্ষ্য ঠিক করেন - সুস্থ হয়ে একদিন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। তবে শুরুতে তার লক্ষ্য ছিল না ১৭০ পাউন্ড ওজন কমানো। বরং তিনি সুস্থ জীবনযাপন শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কঠোর ডায়েট ও ব্যায়ামের পর ২০২৪ সালে তিনি মিসেস ফ্লোরিডা ইউনিভার্স খেতাব জেতেন। পরে ফ্লোরিডার প্রতিনিধিত্ব করে মিসেস ইউনিভার্স ইউএসএ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মিসেস ইউনিভার্স খেতাবও অর্জন করেন। তবে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া। চলতি বছরের জুলাইয়ে একটি ওপেন কাস্টিং কলের মাধ্যমে তাকে মিস মিশিগান ইউএসএ ২০২৬ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২৭ আগস্ট মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার ৭৫তম আসরে মিশিগানের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। ৪১ বছর বয়সী উহলার এবার প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বয়স্ক অংশগ্রহণকারী। শুরুতে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, বিশের কোঠায় থাকা তরুণ প্রতিযোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি অনুভব করবেন। কিন্তু মিয়ামিতে এসে তার অভিজ্ঞতা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। উহলার জানান, অন্য প্রতিযোগীরা তাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করছেন। এমনকি তরুণ প্রতিযোগীরাও তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। ফলে নিজের বয়সকে এখন তিনি দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বয়সের সঙ্গে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ ওজন কমানোর যাত্রা তাকে আত্মবিশ্বাস, পরিপক্বতা ও প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক প্রস্তুতি দিয়েছে। তিনি মনে করেন, মিস ইউএসএ এখন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা নয়; একজন প্রতিযোগী সমাজ ও মানুষের জন্য কী নিয়ে আসতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। উহলারের কাছে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার স্বপ্ন পূরণ নয়। তার নিজের ভাষায়, এটি তার জীবনের নতুন অধ্যায়। যে নারী কয়েক বছর আগে নিজের স্বাস্থ্যের জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন, তিনিই এখন দেশের অন্যতম বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে চান।
হলিউডে পরিচিতি পাওয়ার বহু আগের কথা। অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন মার্ক রাফালো। বয়স তখন প্রায় ৩০, অভিনয়ে বড় সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই অভিনেতা একটি গ্যারেজকে বাসস্থানে রূপান্তর করে সেখানে থাকতেন। স্থায়ী আয় বা আর্থিক নিশ্চয়তা কোনোটিই ছিল না। এমন অবস্থায় তার মনে ভয় ছিল, স্ত্রী হয়তো একদিন তাকে ছেড়ে চলে যাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হয়েছিল ঠিক উল্টো। মার্ক রাফালোর প্রতিভার ওপর আস্থা রেখেছিলেন তার স্ত্রী সানরাইজ কইগনি। ২০০০ সালে তারা বিয়ে করেন। এরপর রাফালোর অভিনয়জীবন যখন ধীরে ধীরে গতি পেতে শুরু করেছে, তখনই তাদের জীবনে আসে আরও বড় এক পরীক্ষা। রাফালো জানতে পারেন, তার মস্তিষ্কে একটি টিউমার রয়েছে। রাফালো ২০২৪ সালে ‘স্মার্টলেস’ পডকাস্টে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে জানান, ৩৩ বছর বয়সে অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখার পর তিনি চিকিৎসকের কাছে যান। স্বপ্নে তিনি যেন নিশ্চিতভাবেই জানতে পেরেছিলেন, তার মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে। বাস্তবে অবশ্য তখন তার বড় কোনো উপসর্গ ছিল না, শুধু কানে সংক্রমণ হয়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে করা পরীক্ষায় বাম কানের পেছনে গলফ বলের মতো বড় একটি অংশ দেখা যায়। পরে পরীক্ষায় সেটি মস্তিষ্কের একটি নিরীহ টিউমার, অর্থাৎ ভেস্টিবুলার শোয়ানোমা হিসেবে শনাক্ত হয়। তখন রাফালোর স্ত্রী সানরাইজ তাদের প্রথম সন্তানকে জন্ম দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি প্রায় সাড়ে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্ত্রীকে বাড়তি দুশ্চিন্তায় ফেলতে চাননি রাফালো। তাই টিউমারের কথা সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানাননি। সন্তান জন্মের এক সপ্তাহ পর, চিকিৎসকের সঙ্গে পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে আলোচনার আগের রাতে স্ত্রীকে বিষয়টি জানান তিনি। খবরটি শুনে সানরাইজ প্রথমে ভেবেছিলেন রাফালো হয়তো মজা করছেন। পরে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরে তিনি কেঁদে ফেলেন। রাফালোর ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী তাকে বলেছিলেন, তিনি সবসময়ই ভাবতেন রাফালো হয়তো অল্প বয়সে মারা যাবেন। এরপর শুরু হয় অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি। টিউমারটি নিরীহ হলেও সেটি অপসারণের জন্য বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হয়। রাফালো পরে জানান, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছিলেন, মুখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এবং এক কানের শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি ছিল। অস্ত্রোপচারের পর আশঙ্কার একটি দিক সত্যি হয়। রাফালো বাম কানের শ্রবণশক্তি পুরোপুরি হারান। একই সঙ্গে মুখের বাম পাশে সাময়িক পক্ষাঘাত দেখা দেয়। এমনকি কিছু সময় তিনি চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারতেন না এবং কথা বলার সময় মুখের এক পাশ ঠিকভাবে নড়ত না। মুখের পক্ষাঘাত অবশ্য ধীরে ধীরে সেরে যায়। প্রায় এক বছর পর সেই সমস্যা অনেকটাই কেটে যায়। তবে বাম কানের শ্রবণশক্তি আর ফিরে আসেনি। দীর্ঘ পুনর্বাসনের কারণে অভিনয় থেকেও বেশ কিছু সময় দূরে থাকতে হয়েছিল তাকে। এই কঠিন সময়েও রাফালোর পাশে ছিলেন সানরাইজ। পরে এক সাক্ষাৎকারে রাফালো জানান, অসুস্থতার সময় তার স্ত্রী ছিলেন অসাধারণ একজন সঙ্গী এবং দুজন মিলে কঠিন সময়টি পার করেছেন। অসুস্থতা কাটিয়ে রাফালো আবার অভিনয়ে ফেরেন। এরপর তার ক্যারিয়ারে আসে বড় সাফল্য। ‘দ্য কিডস আর অল রাইট’, ‘ফক্সক্যাচার’ ও ‘স্পটলাইট’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি একাধিকবার অস্কারের মনোনয়ন পান। মার্ভেলের ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ সিরিজে ব্রুস ব্যানার বা হাল্ক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিতি পান। ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হলিউড ওয়াক অব ফেমে মার্ক রাফালোকে তারকা দিয়ে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী সানরাইজ কইগনি এবং সন্তানদেরও দেখা যায়। রাফালো ও সানরাইজের দাম্পত্য জীবনও দীর্ঘ হয়েছে। ২০০০ সালে বিয়ের পর তাদের তিন সন্তান, ছেলে কিন এবং দুই মেয়ে বেলা ও ওডেট। আর্থিক অনিশ্চয়তার সেই শুরুর দিন থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের টিউমারের কঠিন সময়, এরপর আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি, দীর্ঘ এই পথচলায় সানরাইজ ছিলেন রাফালোর পাশে। রাফালোর জীবনের এই অধ্যায় তাই শুধু একজন অভিনেতার অসুস্থতা কাটিয়ে ফিরে আসার গল্প নয়। বরং তার ক্যারিয়ার গড়ে ওঠার আগের অনিশ্চিত সময় থেকে শুরু করে জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত পর্যন্ত পাশে থাকা একজন জীবনসঙ্গীর গল্পও। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
হলিউডের অ্যাকশন তারকা জ্যাকি চ্যান বড় হয়েছেন সাধারণ এক পরিবারে। অন্তত তিনি দীর্ঘদিন তাই বিশ্বাস করতেন। কিন্তু ৪০-এর কোঠায় পৌঁছে বাবার কাছ থেকে জানতে পারেন, তার পরিবারের অতীত মোটেও সাধারণ ছিল না। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাবা চার্লস চ্যান একদিন ছেলেকে জানান, তার নিজের জীবনে রয়েছে এক গোপন অধ্যায়। চীনের গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি চিয়াং কাই-শেকের নেতৃত্বাধীন কুওমিনতাং সরকারের হয়ে গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করেছিলেন। কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় আসার পর তিনি হংকংয়ে পালিয়ে যান। শুধু বাবার অতীতই নয়, মায়ের জীবন নিয়েও বড় ধাক্কা পান জ্যাকি। তার মা লি-লি সাংহাইয়ে আফিম পাচার ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পারিবারিক ইতিহাসে উঠে এসেছে। প্রথম স্বামী জাপানি বোমা হামলায় নিহত হওয়ার পর তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে একাই জীবন চালিয়েছিলেন। পরে চার্লসের সঙ্গে তার পরিচয় হয় সাংহাইয়ে, যখন চার্লস তাকে আফিম পাচারের ঘটনায় আটক করেছিলেন বলে তথ্যচিত্রে বর্ণনা করা হয়েছে। আরও একটি বিস্ময় অপেক্ষা করছিল জ্যাকির জন্য। তিনি জানতে পারেন, ‘চ্যান’ তাদের প্রকৃত পারিবারিক পদবি নয়। তার বাবার আসল পদবি ছিল ফং। পারিবারিক নথি অনুযায়ী জ্যাকির চীনা নামও ফং শি-লং নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পারিবারিক রহস্য জানার পর জ্যাকি চ্যান বিষয়টি নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। মেবল চিয়াং পরিচালিত ২০০৩ সালের ‘ট্রেসেস অব আ ড্রাগন: জ্যাকি চ্যান অ্যান্ড হিজ লস্ট ফ্যামিলি’তে তার বাবা-মায়ের অতীত, চীনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরিবারের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ইতিহাস তুলে ধরা হয়। তথ্যচিত্র নির্মাণের সময় আরও জানা যায়, জ্যাকির বাবা-মায়ের আগের সংসারে তার আরও দুই ভাই ও দুই বোন ছিলেন। যুদ্ধ, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং দেশত্যাগের কারণে পরিবারটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বহু বছর পর পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টাও করা হয়। জ্যাকি পরে জানিয়েছেন, বাবার মুখে এসব কথা শোনার পর তিনি ভীষণভাবে বিস্মিত হয়েছিলেন। যে বাবা-মাকে তিনি সাধারণ মানুষ হিসেবেই চিনতেন, তাদের জীবনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল যুদ্ধ, গোয়েন্দা কার্যক্রম, পাচার, বিচ্ছেদ ও দেশত্যাগের এক জটিল ইতিহাস। জ্যাকি চ্যানের নিজের জীবনের মতোই তার পরিবারের অতীতও শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে এক অবিশ্বাস্য গল্প, যার অনেকটাই তিনি জীবনের চার দশক পার হওয়ার পর জানতে পেরেছিলেন।
বলিউডের পরিচালক ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান জানিয়েছেন, ইউটিউব থেকে এক বছরে তিনি যে পরিমাণ আয় করেছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কোনো এক বছরেও এত অর্থ উপার্জন করতে পারেননি। ২০২৪ সালে শুরু করা তাঁর রান্না ও লাইফস্টাইলভিত্তিক ভ্লগ এখন শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, বড় আয়ের উৎসও হয়ে উঠেছে। সোহা আলি খানের সঙ্গে এক সাম্প্রতিক আলাপচারিতায় ফারাহ তাঁর ইউটিউব যাত্রা ও আয়ের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, নতুন সিনেমার কাজ শুরু হতে সময় লাগবে বুঝতে পেরে দলের পরামর্শে ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেন। খাবার নিয়ে কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনা থেকেই পরে তাঁর দীর্ঘদিনের কুক দিলীপকে ভিডিওতে যুক্ত করেন। দিলীপকে যুক্ত করার পরই বদলে যায় চ্যানেলের চিত্র। ফারাহর সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিক কথাবার্তা, রসিকতা ও রান্নার ভিডিও দর্শকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকি দ্বিতীয় ভ্লগ প্রকাশের পরই ফারাহ ইউটিউবের সিলভার প্লে বাটন পান, যা ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ করার স্বীকৃতি। ফারাহ জানিয়েছেন, ইউটিউবের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো সৃজনশীল স্বাধীনতা। সিনেমা, টেলিভিশন বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মতো এখানে কোনো প্রডাকশন হাউস বা চ্যানেলকে কনটেন্টের ধরন কিংবা অতিথি বাছাই নিয়ে নির্দেশনা দিতে হয় না। নিজের চ্যানেলে নিজের পছন্দমতো কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন তিনি। এই স্বাধীনতার পাশাপাশি ইউটিউব তাঁকে আর্থিকভাবেও চমকে দিয়েছে। ফারাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ফিল্মে বহু সিনেমা পরিচালনা করেও ক্যারিয়ারের কোনো এক বছরে তিনি ইউটিউব থেকে পাওয়া এক বছরের আয়ের মতো অর্থ উপার্জন করেননি। ফারাহর এই ডিজিটাল সাফল্যের সঙ্গে তাঁর কুক দিলীপের জীবনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ফারাহ জানিয়েছেন, ইউটিউব থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি দিলীপের ঋণ পরিশোধে সহায়তা করেছেন এবং তাঁর সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করছেন। রান্নার ভিডিও, তারকাদের সঙ্গে আড্ডা এবং দিলীপের সঙ্গে মজার কথোপকথন মিলিয়ে ফারাহ খানের ইউটিউব চ্যানেল এখন তাঁর ফিল্ম ক্যারিয়ারের বাইরে আলাদা একটি পরিচয় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, বিনোদন জগতের পরিচিত মুখের জন্যও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নতুন ধরনের সৃজনশীলতা ও আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
হলিউড তারকা হেনরি ক্যাভিলের ভাতিজা থমাস ছোটবেলায় স্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের বলেছিল, তার চাচাই সুপারম্যান। কিন্তু বিষয়টি বিশ্বাস করেনি শিক্ষক ও সহপাঠীরা। বরং শিক্ষক তাকে মিথ্যা বলার জন্য বকাঝকা করেন। পরে থমাসের মা বিষয়টি নিশ্চিত করলে পুরো ঘটনা অন্য রূপ নেয়। ক্যাভিল নিজেই বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ঘটনাটি জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে ক্যাভিল সুপারম্যান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর। পরিবার নিয়ে স্কুলের একটি আলোচনায় থমাস গর্ব করে জানায়, তার চাচা সুপারম্যান। তবে স্কুলে গল্প বানিয়ে বলার জন্য থমাসের সুনাম থাকায় শিক্ষক তার কথা বিশ্বাস করেননি। তাকে মিথ্যা না বলার জন্য সতর্ক করা হয় এবং বিষয়টি তার মাকে জানানো হয়। স্কুল থেকে ছেলেকে নিতে গিয়ে থমাসের মা শিক্ষককে জানান, সে আসলে মিথ্যা বলছে না। তার চাচা সত্যিই হেনরি ক্যাভিল, যিনি পর্দায় সুপারম্যান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ক্যাভিলের বর্ণনা অনুযায়ী, এরপর থমাস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বুঝিয়ে দেয় যে সে শুরু থেকেই সত্য কথাই বলছিল। ঘটনাটি পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে ঘিরে বিভ্রান্তিও রয়েছে। ছবিটি ক্যাভিলের ভাতিজাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হলেও, ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি ২০১৩ সালের পারিবারিক একটি ছবি এবং সেটিকে পরে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ছড়ানো হয়েছে। হেনরি ক্যাভিল ২০১৩ সালে জে লেনোর অনুষ্ঠানেও ঘটনাটি বলেছিলেন এবং ২০১৮ সালে ‘লাইভ উইথ কেলি অ্যান্ড রায়ান’ অনুষ্ঠানে আবারও বিষয়টি তুলে ধরেন। ফলে গল্পটি নতুন কোনো ঘটনা নয়, বরং ক্যাভিলের নিজের বলা একটি পুরোনো পারিবারিক ঘটনা, যা সময়ের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার ভাইরাল হয়েছে।
হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিটের ১৮ বছর বয়সী মেয়ে ভিভিয়েন মারশেলিন জোলি-পিট তাঁর আইনি নাম থেকে বাবার পদবি ‘পিট’ বাদ দিতে আদালতে আবেদন করেছেন। জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে করা আবেদনে তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘ভিভিয়েন মারশেলিন জোলি’ করার অনুরোধ জানান। আবেদনে নাম পরিবর্তনের কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। ভিভিয়েন ২০২৬ সালের ১২ জুলাই ১৮ বছরে পা দেওয়ার আট দিন পর, ১৭ জুলাই নাম পরিবর্তনের আবেদন করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, নাম পরিবর্তনের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁর আবেদন লস অ্যাঞ্জেলেস ডেইলি জার্নালে নির্ধারিত কয়েকটি তারিখে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে শুনানি আগামী ২ নভেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে। ভিভিয়েনের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জোলি ও পিটের সন্তানদের কয়েকজনের নাম থেকে ‘পিট’ পদবি বাদ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁদের মেয়ে শিলোহ ২০২৪ সালে আইনিভাবে নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘শিলোহ জোলি’ করেছেন। অন্যদিকে বড় মেয়ে জাহারা এবং ছেলে ম্যাডক্সও নিজেদের নাম থেকে ‘পিট’ বাদ দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়েছেন। ভিভিয়েন এর আগেও জনসমক্ষে ‘জোলি’ নাম ব্যবহার করেছেন। ২০২৪ সালে ব্রডওয়ের ‘দ্য আউটসাইডার্স’ নাটকের প্রযোজনায় কাজ করার সময় তাঁকে প্রকাশিত তালিকায় ‘ভিভিয়েন জোলি’ নামে উল্লেখ করা হয়েছিল। নাটকটির প্রযোজনায় তিনি মায়ের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিট ২০১৪ সালে বিয়ে করেন এবং ২০১৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। তাঁদের ছয় সন্তান রয়েছে, যাদের মধ্যে ভিভিয়েন ও তাঁর যমজ ভাই নক্স সবচেয়ে ছোট।
কানাডার টরন্টোতে গথ ধারার স্ট্রিমার পিংচুর সঙ্গে বিশেষ ডেটের আয়োজন করতে ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গের পুরোটা ভাড়া নেওয়ার খবর আলোচনায় এসেছে জনপ্রিয় র্যাপার ড্রেককে ঘিরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশাল এই দুর্গে ডেটের সময় ড্রেক ও পিংচু ছাড়া সেখানে ছিলেন শুধু একজন খাবার পরিবেশনকারী, একজন পানীয় পরিবেশনকারী এবং নিরাপত্তাকর্মীরা। ঘটনার সূত্রপাত ড্রেকের সাম্প্রতিক ‘২০ বনাম ১’ নামের ডেটিং অনুষ্ঠান থেকে। ৮ আগস্ট কিক নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে ২০ জন নারীর সঙ্গে ড্রেকের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত তিনজনকে বেছে নেন তিনি। সেই তিনজনের একজন ছিলেন টেক্সাসের কনটেন্ট নির্মাতা ও স্ট্রিমার পিংচু, যার আসল নাম লিন লামার। অনুষ্ঠানে পিংচু ড্রেককে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে বললে তিনি হাসতে হাসতে সেই অনুরোধ পালন করেন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে ড্রেক গথ বা বিকল্প ফ্যাশনে আগ্রহী একজন নারীকে নিজের পছন্দের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এরপর পিংচুর সঙ্গে ড্রেকের ডেটের আয়োজনও হয়ে ওঠে বেশ ব্যতিক্রমী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রেক টরন্টোর ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ভাড়া নেন। সেখানে তারা দুজন নির্জনে সুশি খান। কাসা লোমা টরন্টোর অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনা। দুর্গটিতে প্রায় ৯৮টি কক্ষ রয়েছে এবং এর আয়তন প্রায় ২ লাখ বর্গফুট। বিশাল এই স্থাপনাটি বর্তমানে টরন্টোর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়। কাসা লোমার নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯১১ সালে এবং ১৯১৪ সালে এর নির্মাণ শেষ হয়। স্থাপনাটি মূলত স্যার হেনরি পেলাটের জন্য নির্মিত হয়েছিল। এর গথিক স্থাপত্য, বিশাল কক্ষ এবং দুর্গসদৃশ নকশার কারণে এটি টরন্টোর অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। ড্রেকের ওই ডেটিং অনুষ্ঠানে পিংচু তার মায়ের জন্য একটি বাড়ি চেয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ড্রেক এতে সম্মতি জানান। পরে পিংচু জানান, তাকে পছন্দের বাড়ির তালিকা খুঁজে পাঠাতে বলা হয়েছে এবং ড্রেক সেই বাড়ির মূল্য পরিশোধ করবেন। তবে ডেটিং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ড্রেক ও পিংচুর সম্পর্ক কোন দিকে এগিয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পিংচু জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের পর তাদের মধ্যে ভালো কিছু কথাবার্তা হয়েছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। কানাডার টরন্টোতে গথ ধারার স্ট্রিমার পিংচুর সঙ্গে বিশেষ ডেটের আয়োজন করতে ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গের পুরোটা ভাড়া নেওয়ার খবর আলোচনায় এসেছে জনপ্রিয় র্যাপার ড্রেককে ঘিরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশাল এই দুর্গে ডেটের সময় ড্রেক ও পিংচু ছাড়া সেখানে ছিলেন শুধু একজন খাবার পরিবেশনকারী, একজন পানীয় পরিবেশনকারী এবং নিরাপত্তাকর্মীরা। ঘটনার সূত্রপাত ড্রেকের সাম্প্রতিক ‘২০ বনাম ১’ নামের ডেটিং অনুষ্ঠান থেকে। ৮ আগস্ট কিক নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে ২০ জন নারীর সঙ্গে ড্রেকের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত তিনজনকে বেছে নেন তিনি। সেই তিনজনের একজন ছিলেন টেক্সাসের কনটেন্ট নির্মাতা ও স্ট্রিমার পিংচু, যার আসল নাম লিন লামার। অনুষ্ঠানে পিংচু ড্রেককে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে বললে তিনি হাসতে হাসতে সেই অনুরোধ পালন করেন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে ড্রেক গথ বা বিকল্প ফ্যাশনে আগ্রহী একজন নারীকে নিজের পছন্দের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এরপর পিংচুর সঙ্গে ড্রেকের ডেটের আয়োজনও হয়ে ওঠে বেশ ব্যতিক্রমী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রেক টরন্টোর ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ভাড়া নেন। সেখানে তারা দুজন নির্জনে সুশি খান। কাসা লোমা টরন্টোর অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনা। দুর্গটিতে প্রায় ৯৮টি কক্ষ রয়েছে এবং এর আয়তন প্রায় ২ লাখ বর্গফুট। বিশাল এই স্থাপনাটি বর্তমানে টরন্টোর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়। কাসা লোমার নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯১১ সালে এবং ১৯১৪ সালে এর নির্মাণ শেষ হয়। স্থাপনাটি মূলত স্যার হেনরি পেলাটের জন্য নির্মিত হয়েছিল। এর গথিক স্থাপত্য, বিশাল কক্ষ এবং দুর্গসদৃশ নকশার কারণে এটি টরন্টোর অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। ড্রেকের ওই ডেটিং অনুষ্ঠানে পিংচু তার মায়ের জন্য একটি বাড়ি চেয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ড্রেক এতে সম্মতি জানান। পরে পিংচু জানান, তাকে পছন্দের বাড়ির তালিকা খুঁজে পাঠাতে বলা হয়েছে এবং ড্রেক সেই বাড়ির মূল্য পরিশোধ করবেন। তবে ডেটিং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ড্রেক ও পিংচুর সম্পর্ক কোন দিকে এগিয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পিংচু জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের পর তাদের মধ্যে ভালো কিছু কথাবার্তা হয়েছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ার। ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’ টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর রোববার নিশ্চিত করেছেন তার প্রতিনিধি। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্যানেটিয়ারের প্রতিনিধি তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে তাকে এমন একজন প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে, যিনি ব্যক্তিগত জীবন থেকে পর্দা পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। পিপল ম্যাগাজিনও তার প্রতিনিধির বরাতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে মৃত্যুর স্থান, সময় বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। রয়টার্সও এবিসি নিউজের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। ১৯৮৯ সালের ২১ আগস্ট নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া হেইডেন প্যানেটিয়ারের বিনোদনজগতের যাত্রা শুরু হয়েছিল শৈশবেই। মাত্র ১১ মাস বয়সে বিজ্ঞাপনে প্রথম ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ শুরু করেন। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রিমেম্বার দ্য টাইটানস’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অল্প বয়সেই দর্শকের নজর কাড়েন প্যানেটিয়ার। তবে তার ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে ২০০৬ সালে এনবিসির জনপ্রিয় সিরিজ ‘হিরোস’-এ ক্লেয়ার বেনেট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এক চিয়ারলিডারের চরিত্র তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। পরবর্তী সময়ে ‘ন্যাশভিল’ সিরিজে জুলিয়েট বার্নস চরিত্রে অভিনয় তার ক্যারিয়ারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রচারিত সিরিজটিতে একজন কান্ট্রি মিউজিক তারকার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডেও মনোনয়ন পেয়েছিলেন প্যানেটিয়ার। বড় পর্দাতেও তার উপস্থিতি ছিল পরিচিত। ‘স্ক্রিম’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কিরবি রিড চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ‘আই লাভ ইউ, বেথ কুপার’সহ আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি অ্যানিমেশন ও ভিডিও গেমেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে, চলতি বছরের মে মাসে নিজের স্মৃতিকথা ‘দিস ইজ মি: আ রেকনিং’ প্রকাশ করেন প্যানেটিয়ার। সেখানে শৈশব থেকেই বিনোদনজগতে বেড়ে ওঠা, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। নিজের জীবনের কঠিন সময়গুলো নিয়েও অতীতে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন প্যানেটিয়ার। সন্তান জন্মের পর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন এবং মাদক ও অ্যালকোহল নির্ভরতার সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার কথা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে তার অতীতের এসব সমস্যার সঙ্গে বর্তমান মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ব্যক্তিগত জীবনে প্যানেটিয়ার এক কন্যাসন্তানের মা। সাবেক বাগদত্তা ও ইউক্রেনের সাবেক বিশ্ব হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ভ্লাদিমির ক্লিটসকোর সঙ্গে তার মেয়ে কায়ার জন্ম হয় ২০১৪ সালে। ২০২৩ সালে প্যানেটিয়ারের ছোট ভাই অভিনেতা জ্যানসেন প্যানেটিয়ার মাত্র ২৮ বছর বয়সে মারা যান। ভাইয়ের অকালমৃত্যুর পর সেই শোক তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি। হেইডেন প্যানেটিয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে তার দীর্ঘদিনের দর্শক ও বিনোদনজগতের সহকর্মীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হলেও শিশুশিল্পী থেকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিনেত্রী হয়ে ওঠার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘হিরোস’, ‘ন্যাশভিল’ ও ‘স্ক্রিম’-এর মতো জনপ্রিয় কাজের মাধ্যমে দর্শকদের স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
বিয়ের ছবি প্রকাশ করেছেন, কিন্তু কোনো ছবিতেই স্বামীর মুখ দেখাননি। এমন একটি ঘটনা সামাজিক যোগা যোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দাবি করা হচ্ছে, অন্য নারীরা স্বামীকে দেখে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন, এই আশঙ্কাতেই নববধূ তার স্বামীর চেহারা গোপন রেখেছেন। তবে ভাইরাল পোস্টটির এই ব্যাখ্যার পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি একই ধরনের একটি বহুল আলোচিত ঘটনা ঘটেছে ভারতের ইন্টারনেট তারকা ও গায়িকা ধিনচ্যাক পূজাকে ঘিরে। ‘সেলফি ম্যায়নে লে লি আজ’ গানের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া পূজা বিয়ের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলেও শুরুতে স্বামীর মুখ দেখাননি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। পূজা জৈন নামে পরিচিত এই গায়িকা পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, তিনি সত্যিই বিয়ে করেছেন এবং এটি কোনো মিউজিক ভিডিও বা প্রচারণার অংশ নয়। তার স্বামীর নাম ইয়াভান। অনলাইনে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং কিছুদিন সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে ঘরোয়া আয়োজনে তারা বিয়ে করেন। তবে স্বামীর মুখ লুকিয়ে রাখার কারণ হিসেবে অন্য নারীদের আগ্রহ বা ঈর্ষার কথা বলেননি পূজা। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগত রাখতেই তারা আপাতত স্বামীর চেহারা প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। স্বামী একজন গায়ক বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিয়ের ছবি প্রকাশের পর পূজার অনুসারীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার আকস্মিক বিয়ের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ স্বামীর পরিচয় জানতে আগ্রহ দেখান। তার জনপ্রিয় গানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন বিয়ের গান তৈরির অনুরোধও করেন অনেকে। ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সেলফি ম্যায়নে লে লি আজ’ গান ভাইরাল হওয়ার পর রাতারাতি আলোচনায় আসেন ধিনচ্যাক পূজা। পরে তিনি সালমান খান সঞ্চালিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ১১’-তেও অংশ নেন। এদিকে স্বামীর চেহারা লুকানোর সঙ্গে ‘অন্য নারীদের আগ্রহ’ ঠেকানোর যে ব্যাখ্যাটি বিভিন্ন পোস্টে ছড়ানো হচ্ছে, সেটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যাচাইযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত এই ঘটনায় স্বামীর পরিচয় আড়ালে রাখার কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথাই জানিয়েছেন নববধূ।
বলিউড তারকা হৃতিক রোশনের নামে সেলিব্রিটিদের ডেটিং অ্যাপ ‘রায়া’য় একটি কথিত প্রোফাইল সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী সাবা আজাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে থাকা হৃতিক কেন ডেটিং অ্যাপে, সেই প্রশ্ন থেকেই তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রোফাইলটি সত্যিই হৃতিকের কি না কিংবা সেটি বর্তমানে সক্রিয় কি না, তার কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেডিটে একজন ব্যবহারকারী হৃতিকের বলে দাবি করা রায়া প্রোফাইলের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। এরপরই সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং হৃতিক ও সাবার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। তবে শুধু একটি স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে হৃতিক এখন রায়া ব্যবহার করছেন বা নতুন সম্পর্কে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত হৃতিক বা সাবা কেউই বিচ্ছেদের কোনো ঘোষণা দেননি। কথিত রায়া প্রোফাইল নিয়েও তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি। বিষয়টিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে পুরোনো তথ্য। ২০২৪ সালেও হৃতিকের নামে রায়ায় একটি প্রোফাইল থাকার দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে সম্প্রতি সামনে আসা স্ক্রিনশটটি নতুন বা বর্তমানে সক্রিয় কোনো অ্যাকাউন্টের কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। হৃতিক ও সাবার সম্পর্কের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালে। ওই বছরের শুরুতে মুম্বাইয়ে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পারিবারিক আয়োজনে একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে নিজেদের সম্পর্ক কার্যত প্রকাশ্যেই রাখেন তারা। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে হৃতিকের ৫২তম জন্মদিনে সাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন। গত জুলাইয়েও হৃতিককে সাবা এবং তার দুই ছেলে হ্রেহান ও হৃদানকে সঙ্গে নিয়ে ছুটি কাটিয়ে ফেরার সময় বিমানবন্দরে দেখা যায়। অর্থাৎ কথিত ডেটিং প্রোফাইল নিয়ে নতুন গুঞ্জনের অল্প সময় আগেও তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। রায়া সাধারণ ডেটিং অ্যাপগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ব্যক্তিগত ও সদস্যপদনির্ভর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। বিনোদনজগতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে অ্যাপটি ব্যবহারের নজির রয়েছে। সদস্যদের গোপনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণে সেখানে থাকা কোনো ব্যক্তির প্রোফাইল সম্পর্কে বাইরে থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া কঠিন। ফলে হৃতিকের নামে ছড়িয়ে পড়া প্রোফাইলটি আসল কি না, সেটি পুরোনো নাকি বর্তমানে সক্রিয় এবং সাবা আজাদের সঙ্গে তার সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা কী, এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো নেই। হৃতিক বা সাবার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত তাদের বিচ্ছেদের খবরকে নিশ্চিত তথ্য নয়, গুঞ্জন হিসেবেই দেখতে হচ্ছে।
ইংল্যান্ডে নিজেদের বিয়ের দিন এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নবদম্পতি নিকি ও জেমস রোডনাইট। যে হলিউড তারকাকে হোটেলের বারে দেখে নিছক সৌজন্যবশত বিয়ের অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বর, কিছুক্ষণ পর সত্যিই সেই অনুষ্ঠানে হাজির হন ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ ও ‘জন উইক’ খ্যাত অভিনেতা কিয়ানু রিভস। ঘটনাটি ২০২২ সালের আগস্টের। নর্থ্যাম্পটনশায়ারের ফসলি হল হোটেল অ্যান্ড স্পায় বিয়ে করেন নিকি ও জেমস। একই হোটেলে তখন অবস্থান করছিলেন কিয়ানু রিভস। বিয়ের পর হোটেলের বারের কাছে তাকে দেখতে পান জেমস। আইটিভিকে জেমস জানান, তিনি রিভসের কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন এবং বলেন, সেদিনই তার বিয়ে হয়েছে। এরপর অভিনেতাকে তাদের উদযাপনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। রিভস তখন জানান, তিনি ও তার বন্ধু ডিনার করতে যাচ্ছেন, তবে পরে সময় হলে আসবেন। নবদম্পতি অবশ্য নিশ্চিত ছিলেন না, এত বড় একজন তারকা সত্যিই তাদের অনুষ্ঠানে ফিরে আসবেন কি না। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হোটেলের এক কর্মী নিকিকে জানান, বাইরে একজন ‘বিশেষ অতিথি’ তার সঙ্গে দেখা করতে চান। বাইরে গিয়ে নিকি দেখেন, সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন কিয়ানু রিভস। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অভিনেতাকে দেখে তিনি এতটাই অবাক হয়েছিলেন যে কী বলবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। রিভসকে পানীয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা নেননি। দীর্ঘ ফ্লাইট শেষে ক্লান্ত থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে দ্রুত চলে না গিয়ে নবদম্পতিকে অভিনন্দন জানান, অতিথিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। বিয়ের ফটোগ্রাফারও রিভসের সঙ্গে নবদম্পতির কয়েকটি ছবি ধারণ করেন। নিকির ভাষ্য অনুযায়ী, রিভস ছিলেন অত্যন্ত বন্ধুসুলভ ও আন্তরিক। তিনি শুধু নবদম্পতির সঙ্গেই নয়, অনুষ্ঠানে থাকা কয়েকজন অতিথির সঙ্গেও কথা বলেন এবং ছবি তুলতে সময় দেন। ঘটনার ছবি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিকি নিজেই সেই সময় বিয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে কিয়ানু রিভসকে নবদম্পতি ও অতিথিদের সঙ্গে দেখা যায়। ঘটনাটি দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে। রিভস তখন নর্থ্যাম্পটনশায়ারে একটি ডকুমেন্টারি প্রকল্পের কাজে ছিলেন। আইটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ব্রন জিপি ফর্মুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে একটি ডকুমেন্টারির কাজের কারণেই তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনাটি নতুন নয়, তবে সম্প্রতি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই সেটিকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে শেয়ার করছেন। বাস্তবে নিকি ও জেমসের বিয়েতে কিয়ানু রিভসের এই আকস্মিক উপস্থিতি ঘটেছিল ২০২২ সালের আগস্টে। নবদম্পতির জন্য সেটি ছিল এমন এক মুহূর্ত, যা তারা আগে থেকে পরিকল্পনাও করেননি। একটি সাধারণ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত চলচ্চিত্র তারকার বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া এবং অতিথিদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানোর সেই ঘটনাই চার বছর পরও নতুন করে মানুষের আগ্রহ কাড়ছে।
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট পর্তুগালের উপকূলীয় শহর কাসকাইসে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করেন রোনালদো। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ছবিতে দুজনের হাতের বিয়ের আংটি দেখা যায়। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন শুধু, ‘C❤️G’। পোস্টটি প্রকাশের পর দ্রুতই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিয়ের অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই অনেকটা গোপন রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী লিসবনের কাছের কাসকাইসে ছোট পরিসরে সিভিল সেরিমনির মাধ্যমে বিয়ে করেন রোনালদো ও জর্জিনা। অনুষ্ঠানে তাদের পাঁচ সন্তান এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্কের শুরু ২০১৬ সালে। মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে প্রথম পরিচয় হয় তাদের। সেখানে সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন জর্জিনা। অন্যদিকে রোনালদো তখন রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম বড় তারকা। পরের বছর তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার দ্য বেস্ট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হন তারা। এরপর থেকে রোনালদোর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের নিয়মিত সঙ্গী হয়ে ওঠেন জর্জিনা। একই বছর তাদের পরিবারও বড় হয়। ২০১৭ সালের জুনে সারোগেসির মাধ্যমে রোনালদোর যমজ সন্তান এভা মারিয়া ও মাতেওর জন্ম হয়। ওই বছরের নভেম্বরে রোনালদো ও জর্জিনার প্রথম সন্তান আলানা মার্টিনার জন্ম হয়। ২০২২ সালে আরও একবার যমজ সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন এই দম্পতি। তবে সন্তান জন্মের সময় তাদের ছেলে অ্যাঞ্জেল মারা যায়। বেঁচে যায় যমজ কন্যা বেলা এসমেরাল্ডা। সে সময় সন্তান হারানোর খবর নিজেরাই প্রকাশ করেছিলেন রোনালদো ও জর্জিনা। বর্তমানে পাঁচ সন্তানকে ঘিরে তাদের পরিবার। রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, যমজ এভা ও মাতেও, এবং রোনালদো ও জর্জিনার দুই মেয়ে আলানা ও বেলা তাদের সঙ্গে রয়েছে। বিয়ের ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজেদের বাগদানের খবর প্রকাশ করেছিলেন রোনালদো ও জর্জিনা। জর্জিনা তখন ইনস্টাগ্রামে বাগদানের আংটির ছবি দিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় লিখেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি রাজি। এই জীবনেও এবং আমার সব জীবনেই।’ ঠিক এক বছর পর ১১ আগস্টই বিয়ে করলেন তারা। ফুটবল ক্যারিয়ারে রোনালদো বিশ্বের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়দের একজন। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা এই পর্তুগিজ তারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের আল নাসরের হয়ে খেলছেন। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়েও দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ড গড়ে চলেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, একসঙ্গে পরিবার গড়ে তোলা এবং বাগদানের এক বছর পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হলেন রোনালদো ও জর্জিনা। বড় কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বদলে একটি ছবি, দুটি বিয়ের আংটি আর ‘C❤️G’ দিয়েই জীবনের নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানিয়েছেন রোনালদো।
হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট জানিয়েছেন, জীবনের এক কঠিন সময়ে পারিবারিক সংকটের কারণে মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে আত্মহত্যাকে তিনি সাময়িকভাবে ‘স্বস্তির পথ’ হিসেবে বুঝতে পেরেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ৬২ বছর বয়সী এই অভিনেতা নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পিট জানান, ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল যে আত্মহত্যার চিন্তার সঙ্গে নিজেকে পরিচিত মনে হচ্ছিল। তবে তাঁর বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা এবং আশাবাদী মানসিকতা তাঁকে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। পিটের এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্ত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও সন্তানদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। জোলির সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছেদ ২০১৬ সালে শুরু হলেও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। তাঁদের ছয় সন্তান রয়েছে। সন্তানদের সঙ্গে পিটের সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ দূরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের কয়েকজন সন্তান ইতোমধ্যে পিটের পদবি ব্যবহার করা বন্ধ করেছেন। শিলোর পদবি পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং জাহারা ও ম্যাডক্সের ক্ষেত্রেও এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে পিট তাঁর মায়ের মৃত্যুর প্রভাবের কথাও বলেন। তাঁর মা জেন পিট ২০২৫ সালের আগস্টে মারা যান। পারিবারিক দূরত্ব, মায়ের মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তন মিলিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলো তাঁর জন্য বেশ কঠিন ছিল বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। পিট আরও জানান, সাত বছর মদ্যপান থেকে দূরে থাকার পর তিনি আবার পান করা শুরু করেছেন। তবে এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক থাকার চেষ্টা করেন। অতীতে মদ্যপান থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাসের সহায়তা এবং অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপারের সমর্থনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। অ্যাঞ্জেলিনা জোলিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কথা বলেছেন। জুনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সন্তানরা তাঁকে জীবনের কঠিন সময় পার হতে সহায়তা করেছে এবং তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ভূমিকা রেখেছে। তবে পিটের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তিনি আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এমন দাবি করেননি। বরং তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আত্মহত্যাকে কেন কেউ স্বস্তির পথ মনে করতে পারে, সেই অনুভূতির কথা বলেছেন।
ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী দীপিকা কাকর কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহিমকে বিয়ে করার কারণেই তিনি ধর্মান্তরিত হন। তবে এই ধারণাকে নাকচ করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার সহশিল্পী জয়তী ভাটিয়া। ভারতীয় টেলিভিশন উপস্থাপক সিদ্ধার্থ কান্নানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়তী ভাটিয়া বলেন, ‘সসুরাল সিমর কা’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করার সময় দীপিকা ও শোয়েবের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার ভাষায়, দীপিকা যে কাজই করেন, মনপ্রাণ দিয়ে করেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি একই আন্তরিকতা দেখিয়েছিলেন। জয়তী জানান, একসময় তিনি নিজেই দীপিকাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, শোয়েবকে বিয়ে করার জন্যই কি তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। উত্তরে দীপিকা তাকে জানান, বিষয়টি মোটেও তা নয়। জয়তীর বক্তব্য অনুযায়ী, জীবনের এক কঠিন সময়ে দীপিকা আজমীর শরীফ দরগাহে গিয়েছিলেন। সেই সফরের সময় তিনি মানসিক শান্তি ও ভেতরের শক্তি অনুভব করেন। এরপরই ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। দীপিকার ভাষায়, এটি ছিল সম্পূর্ণ তার নিজের অনুভূতি ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যার সঙ্গে বিয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না। জয়তী আরও বলেন, যদি কোনো ধর্মের প্রার্থনা একজন মানুষকে মানসিক শক্তি দেয় এবং সেই বিশ্বাস থেকে তিনি নতুন জীবনদর্শন বেছে নেন, তবে সেটি তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দীপিকা স্বামীর ধর্মের কাছে নতিস্বীকার করেছেন— এমন সমালোচনারও জবাব দেন জয়তী। তিনি বলেন, দীপিকা ও শোয়েব সবসময় একে অপরকে সমানভাবে সমর্থন করেছেন। দীপিকা অসুস্থ হলে শোয়েব তার পাশে ছিলেন। আবার দীর্ঘদিন ধরে শোয়েবের পরিবারকেও সমর্থন দিয়ে আসছেন দীপিকা। ২০২৫ সালে দীপিকা কাকরের ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তিনি ও শোয়েব তাদের ভিডিও ব্লগের মাধ্যমে চিকিৎসা এবং সুস্থতার বিভিন্ন আপডেট ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। জয়তী আরও উল্লেখ করেন, তাদের ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘দীপিকা কি দুনিয়া’। তার মতে, এটি দেখায় যে দীপিকার নিজস্ব পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে সবসময় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও দর্শকদের কাছে তিনি এখনো ‘সিমর’ চরিত্রের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। উল্লেখ্য, দীপিকা কাকর ও শোয়েব ইব্রাহিম ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাদের রুহান নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। দীপিকার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে জয়তী ভাটিয়ার এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।