সময়ের ব্যস্ততম অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ভালোবাসা দিবস হাসপাতালের বিছানায় কাটাচ্ছেন। তার মাথায় টিউমার ধরা পড়ার কারণে তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং আজ (১৫ ফেব্রুয়ারি) তার অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা। অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তানিয়ার ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচার হচ্ছে। অভিনেত্রী শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে অসুস্থতার বিষয়টি জানান। পোস্টে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় ফুলের তোড়া দিয়ে মুখ-মাথা ঢেকে বসেছেন তিনি। তানিয়া লিখেছেন, পরিবার থেকে ভালোবাসা দিবসের ফুল পেয়েছেন এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করছেন। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, চিকিৎসা ও বিশ্রামের সময় শুটিং বা কাজ সংক্রান্ত ফোন বা বার্তা না দেওয়ার জন্য। সুস্থ হয়ে ওঠার পর নিজেই তিনি সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
অভিনেতা তিনু করিম মারা (৪৬) গেছেন। বরিশালে গ্রামের বাড়িতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। গত ৮ নভেম্বর বরিশালে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিনেতা তিনু রকিম। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকলে ২৪ নভেম্বর ঢাকায় আনা হয়। এরপর ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। রাশেদ মামুন অপু চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, তিনু করিম পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি (বরিশাল) গেলো। ওর গলার দীর্ঘদিন নল দেয়া ছিল এজন্য কথা বলতে একটু সমস্যা হতো। এছাড়া সে সুস্থ ছিল। আজকে সকালে সে ভোট দিয়ে এসেছে। এর পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার স্ত্রী জানালো সে ভোট দিয়ে এসে অসুস্থ অনুভব করে, এরপর সকাল ৯টা ৫ মিনিটে মারা গেছে। দুই যুগ ধরে অভিনয়ে আছেন তিনু করিম। ২০০১ সালে ‘সাক্ষর’ নাটক দিয়ে তার টিভি নাটকে অভিষেক। আর ২০১০ সালে ‘অপেক্ষা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় নাম লেখান তিনি। এরপর ‘রাত জাগা ফুল’, ‘আলতা বানু’সহ অসংখ্য নাটক ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা। একটি মুঠোফোন অপারেটরের বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি পরিচিতি পান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীকাল। এ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিনোদন জগতের তারকাদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে আগ্রহ ও প্রত্যাশা। এবার নিজের প্রত্যাশার কথা জানালেন ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। নতুন সরকার ও দেশ নিয়ে তার ইচ্ছা এবং ভাবনার কথাও জানালেন তিনি। নারীদের নিরাপত্তা ও চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা চান বলেও জানান এ অভিনেত্রী। নির্বাচন প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, যে সরকারই আসুক, তাদের সাধুবাদ জানাই। আমার পক্ষ থেকে অগ্রিম শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। আমি একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা। সে জায়গা থেকে চাইব— সবাই যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারেন। নতুন সরকারের কাছে তার বিশেষ দুটি দাবির কথা উল্লেখ অপু বিশ্বাস বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার যেন নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে, সেটিই আমি চাই। সেই সঙ্গে দেশের বিনোদন ও চলচ্চিত্রশিল্পকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেখতে চাই। সিনেমার মানুষ হিসেবে এটি আমার প্রত্যাশা বলেও জানান এ অভিনেত্রী। উল্লেখ্য, অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস বেশ কিছু দিন সিনেমা থেকে দূরে ছিলেন। শুধু বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের প্রচারে নিয়মিত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি অভিনেত্রী একসঙ্গে দুটি নতুন সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন। এর পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন নিজের পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনাতেও। সর্বশেষ কামরুল হাসান ফুয়াদ পরিচালিত ‘দুর্বার’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন অপু বিশ্বাস। সেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন সজল। অন্যদিকে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত ‘সিক্রেট’ সিনেমায় আদর আজাদের বিপরীতে অভিনয় করছেন তিনি। সিনেমা দুটি চলতি বছরের ঈদ উৎসবে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী আবদুল কুদ্দুস বয়াতি ভোট ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছেন। সোমবার (৯ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, গানকে হারাম বলা দলটাও গানে গানে ভোট খুঁজছে। তবে পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বয়াতির মন্তব্যের পর সমর্থন ও প্রতিক্রিয়ার ধারা কমেন্ট সেকশনে ছড়িয়ে পড়েছে। কুদ্দুস বয়াতি দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়েও নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। কুদ্দুস বয়াতি বাংলাদেশের লোকসংগীত, গ্রামীণ ও বাউল গানের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। ১৯৯২ সালে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত প্রাথমিক শিক্ষার প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘এই দিন, দিন না আরো দিন আছে’ শিরোনামের গান গেয়ে পরিচিতি পান। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময়ে ব্র্যাকের ‘জাইনা চলেন, মাইনা চলেন’ প্রজেক্টে অংশ নেন। প্রকাশিত দুটি একক অ্যালবাম ছাড়াও অসংখ্য জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রে গান গেয়েছেন। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রাজীবপুর গ্রামে। বয়াতি ভোট ও নির্বাচনী সচেতনতার বিষয়ে সরব হয়ে সমাজে একটি প্রাসঙ্গিক বার্তা দিচ্ছেন, যা বর্তমানে দেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
আর মাত্র দুই দিন! এরপরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের বহুল প্রতিক্ষীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের এই শেষ মুহূর্তের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা গেল একঝাঁক জনপ্রিয় তারকাকে। বিশেষ করে ‘ম্যাডাম ফুলি’খ্যাত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়িকা শিমলার উপস্থিতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। শিল্পীদের এই দলটিতে শিমলা ছাড়াও ছিলেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী মনির খান, রবি চৌধুরী, জনপ্রিয় খল-অভিনেত্রী রীনা খান এবং অভিনেতা শাহেদ। তারা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথচারী, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ভোট চাওয়ার এক ফাঁকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শিমলা বলেন, "আমি শিমলা, আজ আপনাদের কাছে ধানের শীষের জন্য ভোট চাইতে এসেছি। আমি সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেছি, তাদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখে আমি অভিভূত। তারা এই প্রতীকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।" ১৯৯৯ সালে ‘ম্যাডাম ফুলি’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে রাজকীয় অভিষেক ঘটে শিমলার। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করে জয় করে নিয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জনসম্মুখে তাকে দেখা গেল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। শিমলার পাশাপাশি সংগীতশিল্পী মনির খান ও রবি চৌধুরীর উপস্থিতি নির্বাচনি আমেজকে আরও রঙিন করে তুলেছে। ভোটাররা প্রিয় তারকাদের কাছ থেকে লিফলেট পেয়ে যেমন আনন্দিত হয়েছেন, তেমনি নির্বাচনি মাঠেও এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা, প্রয়াত ব্যান্ডসংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু, সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ওয়ারফেজকে মনোনীত করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। একুশে পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তিরা হলেন— চলচ্চিত্রে ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক মো. আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (প্রয়াত), নৃত্যে অর্থি আহমেদ, নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ। এ ছাড়া সংগীত ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ওয়ারফেজকেও একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। একুশে পদকের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রক ব্যান্ড জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননার জন্য বিবেচিত হলো। নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের রক সংগীতকে মূলধারায় পরিচিত করে তুলতে ওয়ারফেজের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। একুশে পদক বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা। ভাষা আন্দোলনের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭৬ সাল থেকে ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, শিক্ষা, গবেষণা, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক প্রদান করা হচ্ছে। প্রতি বছর মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মনোনীতদের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হয়।
ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসের অন্যতম সফল ও বিতর্কিত সুপারন্যাচারাল ফিকশন ‘নাগিন’ এবার বড়পর্দায় মুক্তির অপেক্ষায়। বলিউড পাড়ায় জোরালো গুঞ্জন, একতা কাপুর তাঁর এই জনপ্রিয় ব্র্যান্ডটিকে বড় বাজেটের সিনেমার রূপ দিতে চলেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশন বা প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ভারতীয় টেলিভিশনের টিআরপি তালিকায় ‘নাগিন’ বছরের পর বছর শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। মৌনী রায়, আদা খান, সুরভি জ্যোতি, নিয়া শর্মা এবং সর্বশেষ তেজস্বী প্রকাশের মতো অভিনেত্রীরা এই সিরিজে অভিনয় করে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন। দর্শকদের এই বিপুল উন্মাদনাকেই এবার বাণিজ্যিক সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্যে রূপান্তর করতে চান একতা। সিনেমাটি নিয়ে সবচেয়ে বড় কৌতূহল এখন এর কাস্টিং নিয়ে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে: পুরোনো মুখ: মৌনী রায় বা তেজস্বী প্রকাশের মতো জনপ্রিয় কোনো নাগিনকে কি বড়পর্দায় ফেরানো হবে? নতুন চমক: নাকি বলিউডের কোনো প্রথম সারির নায়িকাকে এই অতিপ্রাকৃত চরিত্রে দেখা যাবে? যদিও প্রযোজনা সংস্থা থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। বড়পর্দার জন্য ‘নাগিন’-কে আরও আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অত্যাধুনিক ভিএফএক্স (VFX) এবং গ্রাফিক্সের কাজ করা হবে বলে জানা গেছে। টেলিভিশন নাটকের তুলনায় সিনেমার গল্প এবং নির্মাণশৈলী অনেক বেশি জমকালো ও রোমহর্ষক করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল ভক্ত তাঁদের প্রিয় চরিত্রকে বড়পর্দায় দেখতে মুখিয়ে আছেন, আবার অনেকের মতে টিভির গল্পের সিনেমা সংস্করণ কতটা সফল হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা শোবিজের কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন ও ধর্মীয় অনুশীলন নিয়েও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নিয়মিত ধর্মীয় আচার পালন করেন তিনি। গত বছর ওমরাহ পালন করতে মক্কায় গিয়ে ফিরে এসে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেন এই অভিনেত্রী। সে সময় তিনি জানান, ভবিষ্যতে সন্তানদের বড় করার দিকে মনোযোগ দিতে সিনেমা থেকে সরে দাঁড়াবেন। নিজের ঘোষণায় এখনো অটল রয়েছেন বর্ষা। বর্তমানে তাকে নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যাচ্ছে না। তবে মাঝে মাঝে ফটোশুট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। অবসর সময়ে তিনি বই পড়তে ভালোবাসেন, বিশেষ করে ধর্মীয় বই পড়ায় তার আগ্রহ বেশি। সম্প্রতি তেমনই একটি বই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন বর্ষা। সেখানে তিনি জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে আজহারীর লেখা ‘এক নজরে কুরআন’ বইটির কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন তিনি। ক্যাপশনে বর্ষা লেখেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বইটি পড়তে আগ্রহী ছিলেন। তিনটি কপি অর্ডার করেছিলেন, যার মধ্যে দুটি তার বোনদের জন্য। বইগুলো হাতে পেয়ে তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি আরও লেখেন, জীবনে অনেক কিছুই এখনো অজানা, তবে এই বইটি পড়ে তিনি অনেক নতুন বিষয় জানতে পারবেন বলে আশা করছেন। পাশাপাশি বইটি পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ড. মিজানুর রহমান আজহারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তার মঙ্গল কামনা করেন। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ‘খোঁজ: দ্য সার্চ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় বর্ষার। এতে অনন্ত জলিলের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা দম্পতি। তাদের সংসারে আরিজ ইবনে জলিল ও আবরার ইবনে জলিল নামে দুই পুত্রসন্তান রয়েছে।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি তাঁর মখমলি কণ্ঠে কোটি কোটি মানুষের বিরহ, ভালোবাসা আর আবেগকে সুর দিয়েছেন, সেই অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক সংগীত থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। অরিজিৎ তাঁর পোস্টে ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন: “নতুন বছরের শুভেচ্ছা। এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আমাকে যে অগাধ ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, এখন থেকে প্লেব্যাক কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ গ্রহণ করব না। এখানেই আমি ইতি টানছি। এটি ছিল একটি অসাধারণ যাত্রা।” অরিজিতের এই ঘোষণায় ভক্তদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হলেও তিনি পরবর্তীতে কিছু বিষয় পরিষ্কার করেছেন: শুধুই প্লেব্যাক থেকে অবসর: অরিজিৎ মূলত সিনেমার গানের (Playback) নিয়মিত কাজগুলো আর করবেন না বলে জানিয়েছেন। সংগীত সৃষ্টি চলবে: তিনি পুরোপুরি গান ছেড়ে দিচ্ছেন না। বরং স্বাধীনভাবে গান তৈরি করা (Indie Music) এবং নতুন কিছু শেখার প্রতি মনোযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। পুরোনো প্রতিশ্রুতি: তাঁর হাতে থাকা আগের কিছু অসম্পূর্ণ কাজ তিনি শেষ করবেন, তাই ২০২৬ সালেও তাঁর বেশ কিছু নতুন গান মুক্তি পেতে পারে। ৩৮ বছর বয়সী এই শিল্পী তাঁর ব্যক্তিগত এক্স (টুইটার) প্রোফাইলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি নতুন প্রতিভাদের সুযোগ করে দিতে চান এবং বাণিজ্যিক চাপের বাইরে থেকে ‘একজন ছোট শিল্পী’ হিসেবে নিজের মতো করে সংগীতচর্চা চালিয়ে যেতে চান। ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’ সিনেমার ‘তুম হি হো’ গান দিয়ে রাতারাতি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছানো অরিজিৎ একে একে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। এর মধ্যে রয়েছে: রোমান্টিক: চন্না মেরেয়া, কেশরিয়া, গেরুয়া, আগর তুম সাথ হো। বাংলা: বোঝেনা সে বোঝেনা, মন মাঝি রে, কি করে তোকে বলব।
বিশ্বের প্রভাবশালী চলচ্চিত্রবিষয়ক ওয়েবসাইট এশিয়ান মুভি পালস প্রকাশিত ‘২০২৫ সালে এশিয়ার সেরা ২০ সিনেমা’ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা। তালিকার ৫ নম্বরে রয়েছে মেহেদী হাসান পরিচালিত বালুর নগরীতে, ১৭ নম্বরে সৌমিত্র দস্তিদারের জুলাই ৩৬: রাষ্ট্র বনাম নাগরিক এবং ১৯ নম্বরে নুহাশ হুমায়ূনের অ্যানথোলজি ২ষ। ২০০৯ সাল থেকে এশীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার কাজ করে যাচ্ছে এশিয়ান মুভি পালস। চলচ্চিত্র সমালোচনা, আন্তর্জাতিক উৎসব কাভারেজ ও নির্মাতাদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এশিয়ার বৈচিত্র্যময় সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করানোই তাদের মূল লক্ষ্য। ২০১৯ সাল থেকে তারা নিয়মিতভাবে এশিয়ার সেরা সিনেমার তালিকা প্রকাশ করছে। শৈল্পিক গল্পবিন্যাস, অভিনব উপস্থাপন কৌশল, ভিন্নধর্মী জনরা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা এবং উৎসবকেন্দ্রিক আলোচনার ভিত্তিতেই এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়। প্রতিবেদনে সমকালীন এশীয় সিনেমা নিয়ে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলটির সিনেমা দিন দিন আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। একসময় যেসব দেশ সিনেমার দৌড়ে পিছিয়ে ছিল, তারা এখন শৈল্পিক ও সাহসী নির্মাণে এগিয়ে আসছে। ইতিহাস, স্মৃতি এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রশ্নগুলো নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরছে এসব সিনেমা—যা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলনামূলকভাবে বিরল। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরব ও তুরস্ক স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে বৈশ্বিক দর্শকের সংযোগ তৈরি করে নিজস্ব সিনেম্যাটিক ভাষাকে আরও পরিশীলিত করছে। অন্যদিকে, কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও ইরান এখনো এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী চলচ্চিত্রশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। এ বছরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইরানের সিনেমা ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট। জাফর পানাহি পরিচালিত এই ছবিটি গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ সম্মান স্বর্ণপাম জয় করে। কারাগারে নির্যাতিত এক ব্যক্তির প্রতিশোধের গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি ব্যাপক আন্তর্জাতিক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইরাকের ইরকালা: ড্রিমস অব গিলগামেশ—যেখানে নয় বছর বয়সী এক শিশুর বাবাকে খোঁজার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে দেশটির সমসাময়িক বাস্তবতা। তৃতীয় স্থানে আরেকটি ইরানি সিনেমা কাটিং থ্রো রকস এবং চতুর্থ স্থানে সৌদি আরবের রোড মুভি হিজরা। এই তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে আসা বাংলাদেশের বালুর নগরীতে নিয়ে এশিয়ান মুভি পালস লিখেছে, এটি একটি ছোট পরিসরের অথচ দুর্লভ আর্টহাউস রত্ন—যার ছন্দ মসৃণ, গতি শান্ত এবং আবহ গভীর। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এমা, যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ভিক্টোরিয়া চাকমা। বিড়ালের লিটার বক্সের জন্য শহরের নানা প্রান্ত থেকে স্কুটারে বালু সংগ্রহ করেন তিনি। একদিন সেই বালু খুঁজতে গিয়েই এমার জীবনে আসে অপ্রত্যাশিত মোড়—তিনি খুঁজে পান একটি কাটা আঙুল। গত বছর চেক প্রজাতন্ত্রের কার্লোভি ভেরি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় এবং সেখান থেকে এটি গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার অর্জন করে। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে সর্বশেষ গ্লাসগো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পেয়েছে ছবিটি। তালিকায় থাকা আরেকটি বাংলাদেশি সিনেমা জুলাই ৩৬: রাষ্ট্র বনাম নাগরিক সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধের দলিল—যা ইতিহাসকে পুনরুদ্ধার করে সাহসী কণ্ঠগুলোকে সামনে নিয়ে আসে। সৌমিত্র দস্তিদার পরিচালিত এই ছবিটি নির্মিত হয়েছে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কী ঘটেছিল, কীভাবে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ভবিষ্যৎ নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সংগ্রামে নেমেছিল—সেসব বাস্তব চিত্রই উঠে এসেছে এই সিনেমায়। নুহাশ হুমায়ূনের ২ষ নিয়ে এশিয়ান মুভি পালসের মন্তব্য, কয়েকটি অসাধারণ গল্পের মাধ্যমে ছবিটি দর্শককে মুগ্ধ করে। কিছু দুর্বলতা থাকলেও এটি একটি প্রশংসনীয় অ্যানথোলজি।” প্রতিবেদের একেবারে শেষাংশে এশিয়ান মুভি পালস স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে—এশিয়ার সিনেমার ভিড়ে বাংলাদেশের উত্থানকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নানা ঘরানা ও ফরম্যাটে আত্মবিশ্বাসী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি নির্মাতারা ধীরে ধীরে নিজেদের আলাদা সিনেম্যাটিক পরিচয় গড়ে তুলছেন।
শান্তিনগরের স্থায়ী বাসিন্দা ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া গত সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে একটি ‘ব্যঙ্গাত্মক’ (Satire) স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নাগরিক জীবনের ভোগান্তি ছাড়িয়ে তার আক্ষেপের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নিজের সংসদীয় আসন। শবনম ফারিয়া তার স্ট্যাটাসে লেখেন: “শান্তিনগরে ২৪/৭ জ্যাম এইটা নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নাই কিংবা আমার এলাকার কোনো এক মেয়ে জায়েদ খানের ছবি এমবুশ করা বালিশে ঘুমায় এইটা নিয়ে আমার কোনো কষ্ট নাই। আমার কষ্ট একটাই শান্তিনগর ঢাকা-৮ আসনে পড়ে। আর আমি সেই আসনের ভোটার!” ফারিয়ার এই স্ট্যাটাসে হাজার হাজার রিয়েকশন ও কমেন্ট পড়েছে। নেটিজেনরা ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী মারামারি ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে মজার সব রিপ্লাই দিয়েছেন: পপকর্ন থিওরি: এক অনুসারী লিখেছেন, “আপনি তো ভাগ্যবান! ফ্রি-তে এলাকায় মারামারি দেখতে পারবেন। নির্বাচনের আগে কিছু ভুট্টা কিনে রাখুন, পপকর্ন বানিয়ে এনজয় করবেন।” আব্বাস-নাসির ভাই প্রসঙ্গ: সাজ্জাদ হোসেন নামে একজন বর্তমান রাজনৈতিক দ্বৈরথকে ইঙ্গিত করে স্যাটায়ার করেছেন। শান্তিনগরে অশান্তি: একজন মন্তব্য করেন, “শান্তিনগরে আর শান্তি নাই।” যার জবাবে ফারিয়া পাল্টা প্রশ্ন করেন— “কবে ছিলো ভাই?” ঢাকা-৮ আসনটি (মতিঝিল-পল্টন-শান্তিনগর) বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম ‘হটসিট’। বর্তমান নির্বাচনী বাস্তবতায় এই আসনের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে যে ধরনের আক্রমণাত্মক প্রচার চালাচ্ছেন, ফারিয়ার পোস্টে মূলত সেই পরিস্থিতির দিকেই একটি ‘মৃদু খোঁচা’ বা রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ দেখছেন নেটিজেনরা।
ছোটপর্দার পরিচিত মুখ অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর এবং দুই অ্যাডভারটাইজং প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে সম্পদ ও দায়-দেনার হিসাব সরবরাহের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম। দুদকের এ কর্মকর্তা বলেন, আলফা আই স্টুডিও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং এসভিএফ-আলফা আই প্রোডাকশনের মালিক শাহরিয়ার করিম ভূঁইয়া, গ্রে অ্যাডভারটাইজিং বাংলাদেশ লিমিটেডের (বর্তমানে- ট্রান্সকম গ্রুপের অ্যাড ফার্ম ডট বার্থ) মালিক সৈয়দ গাউসুল আলম এবং ঊর্মিলা শ্রাবন্তী করকে কমিশনের নির্ধারিত ছক অনুযায়ী সম্পদ ও দায়-দেনার হিসাব সরবরাহের জন্য আদেশ জারিকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬ (১) অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেয়া হয়েছে। সংস্থাটি থেকে শিগগিরই নোটিশগুলো ইস্যু করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর কট্টর সমালোচনায় মেতেছেন অভিনেত্রী ও স্থপতি মেহের আফরোজ শাওন। সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার (ফারুকীর স্ত্রী) একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে তীক্ষ্ণ শব্দবাণে বিদ্ধ করেছেন এই নির্মাতা-উপদেষ্টাকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিশার শাড়ি পরা ওই ছবিটি শেয়ার করে শাওন তাঁর পোস্টে লিখেছেন: “ছবিটা খুব সুন্দর। লিটনের ফ্ল্যাটের রূপকার, উপদুষ্টু পরিচালক সাহেবের স্ত্রীর শাড়িটাও বেশ! এই ছবি বড় করে বাঁধিয়ে উপদুষ্টু মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে বানানো জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।” শাওনের এই মন্তব্যে মূলত দুটি বিষয় উঠে এসেছে: ১. উপদুষ্টু: উপদেষ্টা শব্দটিকে ব্যঙ্গ করে তিনি ‘উপদুষ্টু’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। ২. লিটনের ফ্ল্যাট: ২০০৪ সালে ফারুকী নির্মিত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ব্যাচেলর’-এর আলোচিত একটি কাল্পনিক স্থান ছিল ‘লিটনের ফ্ল্যাট’। কয়েক দশক পর সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে শাওন ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন বলে মনে করছেন অনেকে। সম্প্রতি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর তত্ত্বাবধানে সাবেক গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণের এই উদ্যোগের বিপরীতে তিশার সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুরনো ছবি প্রদর্শন করার দাবি তুলে শাওন মূলত ফারুকীর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন বা ‘দ্বিমুখী’ আচরণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই শাওনের অনুসারীরা সেখানে লাইক ও কমেন্টের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ শাওনের সাহসের প্রশংসা করলেও ফারুকী ভক্তরা একে ‘হিংসাত্মক’ ও ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ হিসেবে দেখছেন। শাওন ইদানীং অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচক হিসেবে ফেসবুকে বেশ সরব। অন্যদিকে, ফারুকী নির্মিত সর্বশেষ সিনেমা ‘৮৪০: ডেমোক্রেসি প্রাইভেট লিমিটেড’ রাজনৈতিক স্যাটায়ার হিসেবে প্রশংসিত হলেও তাঁর উপদেষ্টা হওয়া নিয়ে শুরু থেকেই একটি পক্ষ বিতর্ক চালিয়ে আসছে।
টলিউড অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বড় ধরনের আইনি ও সামাজিক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই বারাণসীতে মডেল রিতিকা গিরিকে বিয়ে করেছেন তিনি—এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের পবিত্র নগরী বারাণসীতে মডেল রিতিকা গিরির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হিরণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়: সাজসজ্জা: রিতিকা পরেছিলেন লাল বেনারসি এবং হিরণ সেজেছিলেন হলুদ রঙের পাঞ্জাবিতে। ফেসবুক পোস্ট: হিরণ নিজেই তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিয়ের ছবি পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু নেটিজেনদের নেতিবাচক মন্তব্যের ঝড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি সেই পোস্টটি ডিলিট করে দেন। হিরণের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘অবৈধ’ ও ‘অনৈতিক’ বলে দাবি করেছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন: “আমাদের এখনও আইনগত বিচ্ছেদ (ডিভোর্স) হয়নি। মামলার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। আমাকে বা আইনকে কোনো তোয়াক্কা না করেই তিনি এই কাজ করেছেন। এই বিয়ে কোনোভাবেই বৈধ নয়।” ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাঁদের কন্যা সন্তান। অনিন্দিতা জানান, গত এক বছর ধরে হিরণ তাঁর মেয়ের কোনো খোঁজখবর নেননি। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের খবর পাওয়ার পর থেকে মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং তাকে নিয়মিত মনোবিদের কাছে নিয়ে যেতে হচ্ছে। একজন জনপ্রতিনিধি এবং বিজেপি বিধায়ক হিসেবে হিরণের এমন ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি তাঁর রাজনৈতিক ইমেজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নারী অধিকার ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলা বিজেপির জন্য হিরণের এই ‘অবৈধ বিয়ে’র বিষয়টি বেশ অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আমেরিকা বাংলা । বিনোদন ডেস্ক: বউয়ের যন্ত্রণায় মোশাররফ করিমের নাজেহাল দশা? না কি পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গল্প? আসছে ঈদে দর্শকদের হাসির সাগরে ভাসাতে এক হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম ও গ্ল্যামারাস নীলাঞ্জনা নীলা। দম্পতির বাস্তব জীবনের টক-ঝাল-মিষ্টি সম্পর্কের এক অনন্য গল্প নিয়ে তারা ফিরছেন ‘বউ প্যারা দেয়’ নাটকে। সাইফ আহমেদের রচনা ও পরিচালনায় সম্প্রতি শেষ হয়েছে এই বিশেষ নাটকটির চিত্রধারণ। একটি সাধারণ সুখী দম্পতির জীবনে ঘটে যাওয়া হাস্যকর সব ঘটনা আর ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝির মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এর কাহিনী। তবে স্রেফ হাসি নয়, নাটকের শেষে রয়েছে পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসার এক গভীর বার্তা। নাটকটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত মোশাররফ করিম বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অনেক ছোট ছোট অম্ল-মধুর মুহূর্ত নিয়ে নাটকটি সাজানো হয়েছে। দর্শক যেমন এখানে হাসির রসদ পাবেন, তেমনি পাবেন চমৎকার একটি মেসেজ। সহশিল্পী নীলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীলা খুবই মনোযোগী একজন অভিনেত্রী, ওর সঙ্গে কাজ করে বরাবরই ভালো লাগে। অন্যদিকে কিংবদন্তি অভিনেতা মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আপ্লুত নীলাঞ্জনা নীলা। তিনি বলেন, মোশাররফ ভাই এতো বড় মাপের একজন অভিনেতা হয়েও সেটে সবসময় ভীষণ সাধারণ থাকেন। আমার মতো জুনিয়র শিল্পীকে তিনি যেভাবে সহযোগিতা করেন, তা সত্যিই শিক্ষণীয়। আশা করছি আমাদের এই জুটি দর্শকদের ভালো লাগবে। কমেডি ঘরানার এই নাটকটি আগামী ঈদে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারের কথা রয়েছে। প্রিয় তারকার নতুন এই ‘প্যারা’ দেখতে এখন থেকেই প্রহর গুনছেন ভক্তরা।
আমেরিকা বাংলা । বিনোদন ডেস্ক: দর্শকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দা কাঁপাতে ফিরছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গেম শো-এর বাংলাদেশি সংস্করণ ‘ফ্যামিলি ফিউড বাংলাদেশ’। আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে জনপ্রিয় এই শো-টির সিজন ২ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম সিজনের অভাবনীয় সাফল্যের পর এবারের সিজনটি আরও বেশি রোমাঞ্চকর এবং বড় পরিসরে সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জনপ্রিয় তারকা তাহসান খানের জাদুকরী সঞ্চালনায় এবং ওয়াহিদুল ইসলাম শুভ্রর নিপুণ পরিচালনায় এবারের সিজনে থাকছে আগের চেয়েও আকর্ষণীয় সব পুরস্কার। পারিবারিক বিনোদনের এই আয়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করতে প্রস্তুত টিম ‘ফ্যামিলি ফিউড’। শো নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাহসান খান বলেন, “এবারের সিজনটা সত্যিই বিশেষ। আমরা এবার দেশের সবকটি জেলার মানুষের ওপর সরাসরি সার্ভে চালিয়ে প্রশ্নগুলো তৈরি করেছি। উত্তরগুলো যেমন মজার, তেমনি বুদ্ধিদীপ্ত। প্রতিযোগীদের এবার আরও বেশি ভেবে-চিন্তে উত্তর দিতে হয়েছে, যা প্রতিটি এপিসোডকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।” কখন এবং কোথায় দেখবেন? আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে প্রতি সোমবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে এনটিভিতে প্রচারিত হবে ‘ফ্যামিলি ফিউড বাংলাদেশ’ সিজন ২। যারা সরাসরি দেখতে মিস করবেন, তাদের জন্য থাকছে পুনঃপ্রচারের ব্যবস্থা—প্রতি বুধবার দুপুর ১টায়। এছাড়া দর্শকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ‘বঙ্গ’ (Bongo) অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে যে কোনো সময় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শো-টি উপভোগ করা যাবে। পারিবারিক বন্ধন আর হাসিখুশির মিশেলে এই শো এবারও ভিউয়ের নতুন রেকর্ড গড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।