সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিনোদন

মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ।
ভেপিংয়ের কারণে আমার কণ্ঠস্বর বদলে গেছে, আর কখনও আগের অবস্থায় ফেরাতে পারব না: সেলেনা

নিকোটিনযুক্ত ভেপ ব্যবহারের কারণে নিজের কণ্ঠস্বর বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ। ১৮ অক্টোবর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া ভিডিওতে তিনি বলেন, আগে অনেক বেশি ভেপ ব্যবহার করতেন। এখন অভ্যাসটি ছেড়ে দিয়েছেন, তবে নিকোটিনের আসক্তি কাটিয়ে ওঠা তাঁর জন্য কঠিন হয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভক্তদের ভেপ ব্যবহার শুরু না করার আহ্বানও জানান তিনি।    ৩৪ বছর বয়সী সেলেনা ভিডিওতে নিজের কণ্ঠস্বর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, ভেপ ব্যবহারের পর কণ্ঠের পরিবর্তন এসেছে এবং এই অভ্যাস গড়ে তোলার কোনো সার্থকতা নেই। তবে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন স্থায়ী কি না, সে বিষয়ে কোনো চিকিৎসকের মূল্যায়ন ওই বক্তব্যের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি হিসেবেই উঠে এসেছে।  ভেপ ছেড়ে দিতে পারায় স্বস্তির কথাও জানিয়েছেন সেলেনা। তিনি আশা করছেন, এই সিদ্ধান্ত ধরে রাখতে পারবেন। একই ধরনের আসক্তির সঙ্গে লড়াই করা মানুষদেরও চেষ্টা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন তিনি। এর আগেও নিজের কণ্ঠস্বর নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন এই শিল্পী। গত ডিসেম্বরে এক ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি জানিয়েছিলেন, কখনো কখনো তাঁর গলার ভেতরে ফুলে যাওয়ার সমস্যা হয়।    ভেপিং ও কণ্ঠস্বরের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণায় কিছু ক্ষতিকর প্রভাবের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালে দ্য ল্যারিঙ্গোস্কোপ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দৈনিক ইলেকট্রনিক সিগারেট ব্যবহারকারী তরুণদের মধ্যে কণ্ঠস্বর ও কাশিসংক্রান্ত উপসর্গ বেশি পাওয়া যায়। তাঁদের স্বরতন্ত্রীর নড়াচড়াতেও সূক্ষ্ম পরিবর্তন শনাক্ত করেন গবেষকেরা। তবে গবেষণাটিতে এসব ফলাফলকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি দিয়ে সেলেনার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণ বা স্থায়িত্ব নির্ধারণ করা যায় না।    যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসি জানিয়েছে, অধিকাংশ ভেপে আসক্তি সৃষ্টিকারী নিকোটিন থাকে। এসব যন্ত্র থেকে তৈরি অ্যারোসলেও ক্ষতিকর বা সম্ভাব্য ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে। ভেপিংয়ের তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব পুরোপুরি বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। সেলেনার বক্তব্যে মূলত এই অভ্যাস ছাড়ার ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং অন্যদের তা শুরু করা থেকে বিরত রাখার বার্তাই উঠে এসেছে।   

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১:২৩
সঙ্গিনী আজা ইয়াদাকে বছরে আড়াই লাখ ডলার দেওয়ার দাবি  ইয়াহদান ইয়াদা
ঘরে থেকে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য  সঙ্গিনীকে বছরে আড়াই লাখ ডলার দেন ইনফ্লুয়েন্সার  ইয়াহদান

ঘরে থেকে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য সঙ্গিনী আজা ইয়াদাকে বছরে আড়াই লাখ ডলার দেওয়ার দাবি করেছেন উদ্যোক্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিত্ব ইয়াহদান ইয়াদা। প্রতিবার গর্ভধারণের জন্য আরও দেড় লাখ ডলার এবং সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তবে এসব অর্থ পরিশোধের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   কেনিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বরের প্রতিবেদনে ইয়াহদানের এই দাবি তুলে ধরা হয়। সেখানে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তান লালনপালন ও ঘরের দায়িত্ব পালনের জন্য দেওয়া অর্থসহ মোট বার্ষিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ডলার। পঞ্চম সন্তান আসার অপেক্ষায় থাকার সময় এই হিসাবের কথা বলেছিলেন তিনি। ফলে এটি সাম্প্রতিক কোনো নতুন ঘোষণার বিবরণ নয়।  ইয়াহদানের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অর্থ দেওয়ার উদ্দেশ্য মাতৃত্ব ও সন্তান লালনের শ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া। গর্ভধারণের শারীরিক চাপ, রাত জেগে শিশুর যত্ন এবং পরিবারের জন্য সময় দেওয়ার বিষয়গুলোকে তিনি আর্থিক সহায়তার যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।   এর আগেও একই ধরনের দাবি করেছিলেন ইয়াহদান। ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত অ্যামেয়াও ডেবরাহর প্রতিবেদনে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়, আজাকে দেওয়া বার্ষিক আড়াই লাখ ডলার থেকে সংসারের বিল দিতে হয় না। ওই অর্থ তিনি নিজের ইচ্ছায় সঞ্চয়, বিনিয়োগ বা ব্যয় করতে পারেন বলে দাবি করেন ইয়াহদান। গৃহকর্মী ও রান্নার সহায়তার ব্যবস্থা রাখার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।  তবে আজাকে কেবল ঘরে থাকা মা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়েও ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। একই প্রতিবেদনে তাঁর নিজের লেখার বরাতে বলা হয়, তিনি মাতৃত্বের পাশাপাশি ব্যবসাও পরিচালনা করেন। সন্তান লালন ও উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব বলে মনে করেন আজা।    বার্ষিক ভাতা, গর্ভধারণের জন্য অর্থ এবং সন্তানপ্রতি সহায়তা মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলারের যে হিসাব প্রচারিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ বা লেনদেনের নথি প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নেই। তাই অর্থের অঙ্কগুলো ইয়াহদানের ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই বিবেচ্য।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১:৩৫
মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফকে লক্ষ করে হঠাৎ গুলি, আহত ড্রাইভার

ভারতের মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর খবর পাওয়া গেছে। রোববার, ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যার এ ঘটনায় অভিনেতা অক্ষত আছেন বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।    মহারাষ্ট্র টাইমসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইগারের গাড়িতে গুলি চালানো হয়। এতে গাড়িচালক ও এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য ওই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।    কারা গুলি চালিয়েছে কিংবা এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১০:৫৪
মায়ের সাথে শৈশবে চাটনি ও টিফিন বিক্রি করতেন অভিনেত্রী সোনালি কুলকার্নি।
সংসার চালাতে চাটনি বিক্রি করতেন মা মেয়ে, এখন ৬০ কোটি টাকার মালিক

সংসারের খরচ মেটাতে চাটনি বিক্রি করতেন মা, তৈরি করতেন টিফিন। বাড়িতে চালাতেন শিশুদের দেখাশোনার কেন্দ্রও। আর এসব কাজে মায়ের সহকারী ছিলেন আজকের পরিচিত অভিনেত্রী সোনালি কুলকার্নি। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শৈশবের সেই দিনগুলোর পাশাপাশি নিজের উপার্জন ও অর্থ ব্যবস্থাপনা শেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।   ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘মিশন কাশ্মীর’ ও ‘সিংহাম’-এর মতো ছবির এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর বেড়ে ওঠা অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে। পরিবারের আয় এমন ছিল না যে আয়কর দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত। সংসার চালাতে মাকে একাধিক কাজ করতে হতো। ছোটবেলায় সোনালিও সেসব কাজে হাত লাগাতেন।    অভিনয়ে উপার্জন বাড়ার পর করসংক্রান্ত একটি অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনা বদলে দেয়। সোনালি জানান, একবার আয়কর বিভাগের নোটিশ পাওয়ার পর তাঁকে জরিমানা দিতে হয়েছিল। সেই জরিমানার চেক লেখার সময় তিনি কেঁদেছিলেন। এত অর্থ উপার্জন করবেন, তা আগে কখনো কল্পনা করেননি।   তবে ওই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পারেন, উপার্জনের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও করব্যবস্থা সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন। এরপর নিজের অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আরও সচেতন হন তিনি।   সোনালি জানিয়েছেন, এখন তিনি ভেবেচিন্তে বিনিয়োগ করেন। নিজের ও স্বামী নচিকেতের অর্থও আলাদাভাবে পরিচালনা করেন। দুজনের আয় একসঙ্গে মেশান না।    সোনালির সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে অঙ্ক উল্লেখ করা হলেও তাঁর ৬০ কোটি টাকার সম্পদ থাকার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য হিসাব পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি মূলত পরিবারের আর্থিক সংগ্রাম এবং নিজের উপার্জন সামলাতে শেখার কথাই বলেছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১০:১২
এক বছর আগের ভুয়া ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি
‘এক বছর আগেই ভিডিওটি দেখেছি’, আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনি জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও এক বছর আগেই তাঁর নজরে এসেছিল। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি দুই তারকার বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের একাংশের মাতামাতি এবং সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী। গতকাল রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন পরীমনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওটি নতুন কোনো ঘটনা নয়; অনেক আগের একটি ভুয়া ক্লিপ। তবে মূলধারার একটি প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেলের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেটি আবার ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের পক্ষ থেকে পেজ হ্যাক হওয়ার দাবি জানানো হয় এবং দুঃখপ্রকাশ করা হয়। তবে চ্যানেলটির এই প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নন পরীমনি। তাঁর প্রশ্ন, এত বড় একটি গণমাধ্যমের পেজে কীভাবে টানা ১১ ঘণ্টা ধরে ভিডিওটি ছিল এবং এত সময়েও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পেজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি। লাইভে পরীমনি বলেন, এত বড় ও শক্তিশালী একটি গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটার পর শুধু পেজ হ্যাক হওয়ার কথা বলেই দায় এড়ানো যায় না। তাঁর মতে, ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যে কেউ নিজের পেজ হ্যাক হওয়ার দাবি করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আচরণেও হতাশা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, অনেকে ভিডিওটি ভুয়া বুঝতে পেরে এড়িয়ে গেলেও কিছু মানুষ সেটিকে আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত করেছেন। এমনকি ধর্মীয় কিংবা সাধারণ বিষয় নিয়ে করা অপ্রাসঙ্গিক পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও ভিডিওটির লিংক খোঁজা ও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কটূক্তিকারীদের উদ্দেশে ব্যঙ্গ করে পরীমনি বলেন, ভিডিওটি তিনি এক বছর আগেই দেখেছেন। অন্যরা যখন এটি নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করছিল, তখন তাঁর ইচ্ছা হয়েছিল নিজেই একটি খোলামেলা ফটোশুট করে ফেলতে। তাঁর এই মন্তব্যে ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে চলা আলোচনা ও মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘ লাইভের পর পরীমনি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেন। পরদিন সকালে সংক্ষিপ্ত এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ওপস সরি, ডিলেট করে দিয়েছি। শুভ সকাল।’ উল্লেখ্য, পরীমনি সম্প্রতি নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন ওয়েব চলচ্চিত্র ‘সেপারেশন’-এর কাজ শেষ করেছেন। এতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:২০
ইতালির বিতোন্তো শহরে ভুল করে ফেলে দেওয়া দশ লাখ ইউরো পুরস্কারের একটি লটারির টিকিট দুই দিনের অনুসন্ধানে উদ্ধার
হেরেছেন ভেবে ডাস্টবিনে ফেললেন ১৪ কোটি টাকার লটারির টিকিট, ৬ টন আবর্জনা ঘেঁটে উদ্ধার

ইতালির বিতোন্তো শহরে ভুল করে ফেলে দেওয়া দশ লাখ ইউরো পুরস্কারের একটি লটারির টিকিট দুই দিনের অনুসন্ধানে উদ্ধার করেছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। প্রায় ছয় টন আবর্জনার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় টিকিটটি পাওয়া যায়। গত ৪ আগস্ট ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসাকে ঘটনাটি জানান স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এসএএনবির প্রশাসক রবার্তো নিকোলা তোসকানো।  ঘটনার শুরু একটি দোকানের লটারি পরীক্ষার মেশিনে দেখানো বার্তা থেকে। টিকিটটি স্ক্যান করার পর ‘নন-পেয়েবল’ বা ‘এখানে পরিশোধযোগ্য নয়’ বার্তা দেখে ক্রেতা মনে করেছিলেন, কোনো পুরস্কার জেতেননি। এরপর টিকিটটি দোকানের আবর্জনার পাত্রে ফেলে চলে যান।   আসলে বার্তাটির অর্থ ছিল ভিন্ন। ওই দোকান থেকে ছোট অঙ্কের পুরস্কার পরিশোধ করা গেলেও দশ লাখ ইউরোর মতো বড় পুরস্কারের অর্থ দেওয়া সম্ভব ছিল না। সে কারণেই মেশিনে বার্তাটি দেখানো হয়েছিল।  বাড়িতে ফেরার পর পরিবারের এক সদস্য জানান, নিয়মিত যে নম্বরগুলো দিয়ে তাঁরা লটারি খেলেন, সেগুলোই বিজয়ী হয়েছে। ভুল বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দোকানে ছুটে যান। কিন্তু ততক্ষণে বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ি এসে আবর্জনা নিয়ে চলে গেছে।   পরে এসএএনবির সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবারটি। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা সংশ্লিষ্ট গাড়িটি শনাক্ত করে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার আগে আলাদা রাখেন। এরপর শুরু হয় হারানো টিকিটের অনুসন্ধান। দুই দিন খোঁজার পর ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এক কর্মী টিকিটটি পান। ছেঁড়া একটি ব্যাগের ভেতরে অন্য নষ্ট টিকিটগুলোর সঙ্গে থাকলেও বিজয়ী টিকিটটি অক্ষত ছিল বলে জানান তোসকানো।    পুরস্কারজয়ীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ইউরোনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিকিট উদ্ধারে বাড়তি যে ব্যয় হয়েছে, তা বহনের বিষয়ে আগেই সম্মতি দিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুসন্ধানের খরচ তাঁর কাছ থেকেই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটি।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১০:৫৬
পাকিস্তানের সাবেক অভিনেত্রী জারনিশ খান
স্বপ্নে মহানবী (সা.)-কে দেখার পর অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি: অভিনেত্রী জারনিশ খান

পাকিস্তানের সাবেক অভিনেত্রী জারনিশ খান জানিয়েছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে স্বপ্নে দেখার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁকে অভিনয় ছেড়ে ধর্মীয় জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। ২০২৩ সালে স্বামীর সঙ্গে ওমরাহ সফরের সময় তাঁর জীবনে এই পরিবর্তনের সূচনা হয়। পরে এক সাক্ষাৎকারে বিনোদনজগৎ থেকে সরে যাওয়ার কারণ তুলে ধরেন তিনি।   ডন উর্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জারনিশ বলেছিলেন, অভিনয়ে সাফল্য পাওয়ার পরও তাঁর মনে এক ধরনের অপূর্ণতা কাজ করত। খ্যাতি ও অর্জনের মধ্যেও জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন জাগত। সেই সময় স্বামীর সঙ্গে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করেন তিনি। জারনিশের ভাষ্য, পবিত্র স্থানে অন্যদের ইবাদত ও কান্না দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আল্লাহর কাছে কীভাবে ক্ষমা চাইবেন, তা নিয়ে ভাবতে থাকেন। এই সময়ের একটি স্বপ্নের অভিজ্ঞতা তাঁর সিদ্ধান্তে গভীর প্রভাব ফেলে বলে জানান তিনি।    ডায়ালগ পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিরাজের ঘটনা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন জারনিশ। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, স্বপ্নে তিনি মহানবী (সা.)-কে দেখেন এবং ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে নির্দেশনা পান। ঘুম ভাঙার পর কয়েক ঘণ্টা কেঁদেছিলেন বলে জানান এই সাবেক অভিনেত্রী। স্বপ্নের এই বিবরণ তাঁর নিজের বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভাষ্য।  এরপর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ছবি ও রিলস সরিয়ে দেন জারনিশ। তিনি জানান, বিনোদনজগতে আর কাজ না করার সিদ্ধান্ত তখনই নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।   অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার পর হিজাব পরা শুরু করেন এবং ধর্মীয় অনুশীলনকে জীবনের অগ্রাধিকার দেন জারনিশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তনটি শুধু পোশাকে সীমাবদ্ধ ছিল না, নিজের জীবনযাপন ও ভবিষ্যতের পথ নিয়েও নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।   

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ২:৫৩
নির্মাতা মেহেদী হাসান (রাজু) পরিচালিত ‘ক্ষত’ প্রচারিত হবে এনটিভিতে। ছবি: সংগৃহীত
এনটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে নির্মাতা মেহেদী হাসান রাজুর ‘ক্ষত’

চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনে নিজের নির্মাণশৈলী তুলে ধরতে কাজ করছেন নির্মাতা মেহেদী হাসান (রাজু)। পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। এবার তাঁর পরিচালিত কাজ ‘ক্ষত’ প্রচারিত হতে যাচ্ছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিতে। আগামী ১৫ অক্টোবর রাত ৯টা ৩০ মিনিটে দর্শকেরা কাজটি দেখতে পারবেন।   নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গল্পকে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন মেহেদী হাসান রাজু। তাঁর কাজের ক্ষেত্রে পরিচালনা, চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনা—এই তিনটি দিকই গুরুত্বপূর্ণ। গল্পের দৃশ্যায়ন থেকে শুরু করে দৃশ্যগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সম্পাদনার মাধ্যমে গল্পের আবহ ফুটিয়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এই নির্মাতা। একটি নির্মাণে শুধু গল্প বলাই নয়, সেই গল্প কীভাবে দৃশ্যের মাধ্যমে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। চিত্রগ্রহণের মাধ্যমে গল্পের দৃশ্যগত রূপ তৈরি এবং সম্পাদনার মাধ্যমে দৃশ্যগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজটি নির্মাণপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেহেদী হাসান রাজু পরিচালনার পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রেও কাজ করায় নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর আগে তাঁর পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে ‘নরপিশাচ’, ‘বাঘের ডেরা’ ও ‘কথার গল্পকথা’। বিভিন্ন নামের এসব কাজের মধ্য দিয়ে নির্মাতা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। নতুন কাজ ‘ক্ষত’ প্রচারের মধ্য দিয়ে সেই যাত্রায় যুক্ত হচ্ছে আরেকটি নির্মাণ। তবে কাজটির গল্প, অভিনয়শিল্পী কিংবা নির্মাণের অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নির্মাতা হিসেবে মেহেদী হাসান রাজুর লক্ষ্য নিজস্ব গল্প বলার ধরন তৈরি করা এবং দর্শকদের কাছে মানসম্মত কাজ পৌঁছে দেওয়া। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের কাজে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে চলচ্চিত্র নির্মাণের আগ্রহ রয়েছে তাঁর। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার এবং সৃজনশীল সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতেও আগ্রহী তিনি। ‘ক্ষত’ প্রচার উপলক্ষে দর্শকদের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন নির্মাতা। আগামী ১৫ অক্টোবর রাত ৯টা ৩০ মিনিটে এনটিভিতে কাজটি দেখার জন্য দর্শকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। নির্মাতার জন্য একটি নতুন কাজ প্রচারিত হওয়া দর্শকদের সামনে নিজের কাজ তুলে ধরার সুযোগ। ‘ক্ষত’ সেই সুযোগের মধ্য দিয়ে কতটা সাড়া পায়, তা জানা যাবে প্রচারের পর। আপাতত নির্ধারিত সময়েই কাজটি এনটিভির পর্দায় দেখার অপেক্ষা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৭:৫
প্রাক্তন স্ত্রী জেনিফার মেয়ারের নতুন বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন অভিনেতা টোবি ম্যাগুয়ার। ছবি: সংগৃহীত
নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে দিলেন ‘স্পাইডার ম্যান’ অভিনেতা টোবি

প্রাক্তন স্ত্রী জেনিফার মেয়ারের নতুন বিয়েতে আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন ‘স্পাইডার ম্যান’খ্যাত হলিউড অভিনেতা টোবি ম্যাগুয়ার। শনিবার, ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের লানাই দ্বীপে ফোর সিজনস রিসোর্টে সংগীত ব্যবসার নির্বাহী জিওফ্রি ওগুনলেসিকে বিয়ে করেন এই অলংকার ডিজাইনার। টোবি ও জেনিফারের আইনি বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই এই অনুষ্ঠান হলো।    পিপল ম্যাগাজিনের হাতে আসা বিয়ের ছবির বরাতে ইউএস উইকলি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি নবদম্পতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন টোবি। প্রকাশিত ছবিতে নবদম্পতির পাশে তাঁকে কাগজ হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। জেনিফারের পরনে ছিল সাদা বিয়ের পোশাক, আর ওগুনলেসি পরেছিলেন কালো টাক্সেডো।    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলিউড ও ব্যবসাজগতের কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাঁদের মধ্যে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, কেট হাডসন, কোর্টনি কক্স, র‍্যাচেল জো, জেফ বেজোস ও তাঁর স্ত্রী লরেন সানচেজ বেজোসের নাম জানিয়েছে এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি।    টোবি ও জেনিফার ২০০৭ সালে বিয়ে করেন। নয় বছরের দাম্পত্যের পর ২০১৬ সালে তাঁরা আলাদা হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর জেনিফার ২০২০ সালে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। তবে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের আইনি অবসান হয় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে। ফলে আলাদা থাকার শুরু এবং বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার মধ্যে প্রায় এক দশকের ব্যবধান ছিল।    এই সাবেক দম্পতির দুই সন্তান রুবি ও ওটিস। আলাদা হওয়ার পরও সন্তানদের বড় করার দায়িত্বে দুজনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় ছিল। ইউএস উইকলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বাবা দিবসের এক পোস্টেও সন্তানদের বাবা হিসেবে টোবির প্রশংসা করেছিলেন জেনিফার।    জেনিফারের নতুন স্বামী জিওফ্রি ওগুনলেসি দ্য ওগুনলেসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। তিনি নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী ও বিনিয়োগ ব্যাংকার আদেবায়ো ওগুনলেসির ছেলে। জেনিফার ও জিওফ্রি ২০২৩ সালের নভেম্বরে একটি অনুষ্ঠানের লালগালিচায় একসঙ্গে উপস্থিত হন। ২০২৪ সালের আগস্টে তাঁদের বাগদান হয়। চলতি বছর তাঁদের একটি মেয়েসন্তানও জন্মেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১০:২৯
প্রিয়াঙ্কার নজরে গ্রামের ইংরেজি শিক্ষিকা যশোদা
স্বামীর বকুনির মধ্যেও ইংরেজি শেখানোর ভিডিও, গ্রামের যশোদার প্রশংসায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি গ্রামের কৃষিজমিতে কাজ করার ফাঁকে ইংরেজি শেখানোর ভিডিও তৈরি করেছিলেন যশোদা লোধি। ভিডিও ধারণের সময় স্বামীর বকুনিও শুনতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই ভিডিওই শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলিউড ও হলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের কাছে। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভিডিওটি শেয়ার করেন প্রিয়াঙ্কা। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসেন গ্রামের এই ইংরেজি শিক্ষিকা।   বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে যশোদার এই অভিজ্ঞতার খবর প্রকাশিত হয়। উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বী জেলার বাসিন্দা যশোদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইংলিশ উইথ দেহাতি ম্যাডাম’ নামে পরিচিত। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় ইংরেজি শেখানোর ভিডিও তৈরি করেন তিনি।   বিশেষ করে যারা ইংরেজিতে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভাষাটি ভালোভাবে শেখার সুযোগ পাননি, তাঁদের জন্য সহজ ও ব্যবহারিক ইংরেজির পাঠ তুলে ধরেন যশোদা। তাঁর ভিডিওতে জটিল ব্যাকরণের পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত পরিস্থিতি এবং সাধারণ কথাবার্তার মাধ্যমে ইংরেজি শেখানোর চেষ্টা দেখা যায়।   সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে যশোদা জানান, আগের দিন তিনি কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কাজের ফাঁকে সেখানেই একটি ইংরেজি শেখানোর ভিডিও রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভিডিও ধারণের সময় তাঁর স্বামী তাঁকে বকাঝকা করেন বলে জানান তিনি। এরপরও ভিডিওটি সম্পূর্ণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন যশোদা।   ভিডিও প্রকাশের পর সেটি যে এত দূর পৌঁছে যাবে, তা কল্পনাও করেননি তিনি। জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে যশোদার ভিডিওটি শেয়ার করেন। বিষয়টি জানার পর আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়েন যশোদা। পরে অনুসারীদের উদ্দেশে প্রকাশ করা আরেকটি ভিডিওতে পুরো অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিয়াঙ্কা তাঁর ভিডিও শেয়ার করেছেন—এটি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যশোদা। একজন গ্রামের সাধারণ নারী হিসেবে নিজের ছোট একটি প্রচেষ্টা যে এত দূর পৌঁছাতে পারে, তা তিনি আগে কখনো ভাবেননি। তাঁর কাছে বিষয়টি শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর স্বীকৃতি নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার একটি বড় প্রাপ্তি।   যশোদার জীবনযাত্রা অন্য অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কনটেন্ট নির্মাতার চেয়ে আলাদা। তিনি কোনো বড় শহরের নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেননি। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর নিজের আগ্রহ ও চেষ্টায় ইংরেজি শেখেন তিনি। একসময় সেই শেখার অভিজ্ঞতাই অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   প্রথম দিকে সাধারণ ইংরেজি শব্দ, দৈনন্দিন কথোপকথন এবং সহজ বাক্য ব্যবহারের ভিডিও তৈরি করতেন যশোদা। ধীরে ধীরে ইংরেজিতে কথা বলার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বিষয়টিও তাঁর কনটেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। নিজের পরিচিত গ্রামীণ পরিবেশ থেকেই তিনি এসব ভিডিও তৈরি করতে থাকেন।   তাঁর ভিডিওর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহজ উপস্থাপনা। ইংরেজি শেখানোর জন্য কঠিন শব্দ বা জটিল ব্যাকরণ ব্যবহারের পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি। বাড়ির কাজ, কৃষিজমিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কিংবা সাধারণ মানুষের কথাবার্তা থেকে উদাহরণ নিয়ে ইংরেজি বোঝানোর চেষ্টা করেন।   এই পদ্ধতির কারণে বিশেষ করে হিন্দিভাষী এবং গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে তাঁর ভিডিও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা ইংরেজি বলতে চান, কিন্তু ভুল হওয়ার ভয়ে কথা বলতে সাহস পান না, তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করেন যশোদা।   প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ভিডিও শেয়ার করার পর তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোদার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা ৫ লাখ ৮৩ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউটিউবেও তাঁর অনুসারী চার লাখের বেশি। আলোচিত ভিডিওটি এরই মধ্যে তিন কোটি ৪০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে এবং ১৮ লাখের বেশি লাইক সংগ্রহ করেছে।   যশোদার কাজ শুধু প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নজরেই আসেনি। অভিনেত্রী মৃণাল ঠাকুর এবং অভিনেতা অভয় দেওল ও আর মাধবনও এর আগে তাঁর উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়ায় নিজের কাজের প্রতি আরও উৎসাহ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন যশোদা।   তবে যশোদার এই পথচলা শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণ পরিবেশ থেকে। নিজে ইংরেজি শেখার পর তিনি উপলব্ধি করেন, তাঁর মতো আরও অনেক মানুষ ভাষাটি শিখতে আগ্রহী। কিন্তু অনেকের কাছে ব্যয়বহুল কোর্স কিংবা প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজভাবে শেখানোর উদ্যোগ নেন তিনি।   ইংরেজি শেখানোর পাশাপাশি তাঁর নিজের জীবনযাত্রাও ভিডিওতে উঠে আসে। কখনো বাড়িতে, কখনো কৃষিজমিতে, আবার কখনো দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে ইংরেজিতে কথা বলেন তিনি। এই স্বাভাবিক উপস্থাপনাই তাঁকে অন্য অনেক কনটেন্ট নির্মাতার থেকে আলাদা করেছে।   স্বামীর বকুনি খাওয়ার ঘটনাটি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে একটি ভিডিওর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁদের ব্যক্তিগত বা দাম্পত্য সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। যশোদা নিজেই ঘটনাটি তুলে ধরেছেন তাঁর কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা বোঝাতে।   প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার স্বীকৃতি পাওয়ার পর যশোদার গল্প নতুন করে সামনে এনেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামূলক কনটেন্টের সম্ভাবনা। নিজের শেখা জ্ঞান অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে বড় প্রতিষ্ঠান কিংবা অত্যাধুনিক স্টুডিও সব সময় অপরিহার্য নয়। সাধারণ পরিবেশ থেকেও নিয়মিত শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি করে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব—যশোদার অভিজ্ঞতা তার একটি উদাহরণ।   কৃষিজমিতে কাজের ফাঁকে তৈরি করা একটি সাধারণ ভিডিও থেকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিনেত্রীর নজরে আসা পর্যন্ত যশোদা লোধির এই যাত্রা এখন আলোচনার বিষয়। নিজের চেষ্টায় ইংরেজি শেখা গ্রামের এই নারী আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের কাছে ইংরেজি শেখাচ্ছেন। আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি তাঁর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাকে নতুন করে পরিচিতি এনে দিয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৫:৩৯
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। ছবি: সংগৃহীত
রোবট খনি, বিষাক্ত রাসায়নিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে ইমেইল লিখছে কেন! প্রশ্ন পাকিস্তানি অভিনেত্রীর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি বক্তব্য শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন করেছেন, রোবটকে কেন খনি, তেলক্ষেত্র, বিষাক্ত রাসায়নিকের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কিংবা সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক পরিষ্কারে আরও বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে না, অথচ তারা ইমেইল লেখা ও পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো কাজ করছে।   সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যে মূলত প্রযুক্তি উন্নয়নের বর্তমান দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মানুষের জন্য বিপজ্জনক ও কঠিন কাজগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ করার পরিবর্তে কেন এমন সব কাজ স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে, যেগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং আগে থেকেই মানুষ সহজে করতে পারছে।   তবে বক্তব্যটি সানাম সাঈদের নিজের লেখা কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কথাগুলো শেয়ার করেছেন। ফলে এটিকে তার সরাসরি উদ্ধৃতি বা নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের বদলে, প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে একটি মতামতের সঙ্গে তার একাত্মতা বা আগ্রহের প্রকাশ হিসেবেই দেখা নিরাপদ।   সানামের শেয়ার করা এই প্রশ্নটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইমেইল লেখা, নথির খসড়া তৈরি, প্রেজেন্টেশন বানানো, ছবি তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন অফিসকেন্দ্রিক কাজে এআই টুলের ব্যবহার এখন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ফলে এআই মানুষের সৃজনশীল ও প্রশাসনিক কাজ প্রতিস্থাপন করবে কি না, সেই আলোচনা বিশ্বজুড়েই চলছে।   তবে বাস্তবতা হলো, রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই খনি ও তেল-গ্যাস খাতের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি রিও টিন্টো পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন খনিতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাক, ড্রিল ও চালকবিহীন ভারী ট্রেন ব্যবহার করছে। তাদের গুদাই-দারি খনিতে রোবোটিক নমুনা পরীক্ষাগারও রয়েছে এবং অনেক যন্ত্রপাতি দূর থেকে পরিচালনা করা হয়। এর উদ্দেশ্য কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রেখে নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়ানো।   তেল ও গ্যাস খাতেও রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল বা দূরনিয়ন্ত্রিত রোবট দীর্ঘদিন ধরে গভীর সমুদ্রের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। শেল জানিয়েছে, তাদের গভীর সমুদ্রের কার্যক্রমে সাবসি সিস্টেম ও রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি অফশোর তেল ট্যাংক পরিদর্শনেও রোবট ব্যবহার করেছে, যাতে মানুষের সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ার প্রয়োজন কমে।   সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলাতেও এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রকল্প রয়েছে। দ্য ওশান ক্লিনআপ নামের সংস্থা জাহাজে বসানো এআইচালিত ক্যামেরার মাধ্যমে সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক শনাক্ত ও মানচিত্র তৈরি করছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে প্লাস্টিক জমার এলাকা আরও দ্রুত শনাক্ত করার উদ্যোগ নেয়। তাদের ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির কিছু সংস্করণ নদী থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্লাস্টিক সংগ্রহ করতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।   এ কারণে সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যটি প্রযুক্তির বর্তমান ব্যবহার নিয়ে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্ন তুলে ধরলেও, রোবট ঝুঁকিপূর্ণ বা পরিবেশগত কাজে একেবারেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং এসব ক্ষেত্রে রোবট ও এআইয়ের ব্যবহার ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে জেনারেটিভ এআইয়ের দ্রুত বিস্তার এবং অফিসকেন্দ্রিক কাজে এর ব্যাপক উপস্থিতি সেই প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকারের প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে এনেছে।   সানাম সাঈদ পাকিস্তানের পরিচিত অভিনেত্রী, যিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সমসাময়িক বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া বা বিভিন্ন বক্তব্য শেয়ার করতেও তাকে দেখা যায়। এবার এআই ও রোবট প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তার শেয়ার করা পোস্টও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৯:২০
কেফিয়েহ পোশাকে ফিলিস্তিনি শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা বেলার
কান উৎসবে ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ কাপড়ের পোশাকে মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদ

কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফ্যাশনের মাধ্যমে নিজের ফিলিস্তিনি শিকড়কে সামনে এনেছিলেন সুপারমডেল বেলা হাদিদ। ২০২৪ সালের ২৩ মে ফ্রান্সের কানে তাকে লাল ও সাদা কেফিয়েহ দিয়ে তৈরি একটি ভিনটেজ পোশাকে দেখা যায়। ফিলিস্তিনি পরিচয় ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত কেফিয়েহর এই ব্যবহার তার পোশাকটিকে কেবল একটি ফ্যাশন মুহূর্তে সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের দৃশ্যমান প্রকাশে পরিণত করেছিল।   ভোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলা হাদিদের পরা পোশাকটি ডিজাইনার মাইকেল অ্যান্ড হুশির তৈরি। পোশাকটির নকশা করা হয়েছিল ২০০১ সালে। লাল ও সাদা কেফিয়েহ দিয়ে তৈরি পোশাকটিতে ছিল সরু স্ট্র্যাপ এবং অসমান হেমলাইন। বহু বছর আগের এই ডিজাইন বেলা হাদিদের মাধ্যমে আবারও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আলোচনায় উঠে আসে।   দ্য গার্ডিয়ানও সে সময় জানায়, কান চলচ্চিত্র উৎসব চলাকালে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বেলাকে লাল ও সাদা কেফিয়েহ দিয়ে তৈরি পোশাক পরে হাঁটতে দেখা যায়। পরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ফ্যাশন সাময়িকীগুলো তার এই উপস্থিতিকে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি এবং নিজের পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করে।   কেফিয়েহ মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঐতিহ্যবাহী মাথার কাপড় হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কালো সাদা এবং লাল সাদা নকশার কেফিয়েহ বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি ও সংহতির সঙ্গে পরিচিত। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত কান উৎসবে কেফিয়েহ দিয়ে তৈরি পোশাকে বেলা হাদিদের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক নজর কাড়ে।   বেলা হাদিদের বাবা মোহাম্মদ হাদিদ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। বেলাও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে নিজের ফিলিস্তিনি পারিবারিক শিকড়ের কথা বলেছেন। ভোগ তার ২০২৪ সালের এই পোশাককে সেই ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে। কানের মতো বিশ্বব্যাপী প্রচার পাওয়া আয়োজনে এমন একটি পোশাক পরার কারণে মুহূর্তটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংবাদে ছড়িয়ে পড়ে।   পোশাকটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর ভিনটেজ পরিচয়। নতুন করে তৈরি কোনো পোশাকের পরিবর্তে দুই দশকেরও বেশি পুরোনো মাইকেল অ্যান্ড হুশি ডিজাইন বেছে নিয়েছিলেন বেলা। ২০২৪ সালের কান উৎসবে তিনি আরও কয়েকটি আর্কাইভাল ও ভিনটেজ ডিজাইনের পোশাক পরেছিলেন। তবে কেফিয়েহ পোশাকটি তার ফিলিস্তিনি পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় সবচেয়ে আলোচিত লুকগুলোর একটি হয়ে ওঠে।   কান চলচ্চিত্র উৎসব বহু বছর ধরেই শুধু সিনেমা নয়, আন্তর্জাতিক ফ্যাশনেরও অন্যতম বড় মঞ্চ। তারকাদের পোশাক প্রায়ই সামাজিক, সাংস্কৃতিক কিংবা ব্যক্তিগত বার্তা বহন করে। বেলা হাদিদের ২০২৪ সালের কেফিয়েহ পোশাক সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, যেখানে ভিনটেজ ফ্যাশনের সঙ্গে মিলেছিল তার ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের দৃশ্যমান প্রকাশ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৭:২০
৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন
৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন, জানুন

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে প্রায় ৯০ কোটি রুপির ঋণ এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে শূন্য ব্যালান্স নিয়ে কঠিন আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। নিজের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের পর অভিনয় ও টেলিভিশনের কাজে মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠেন তিনি। গত ৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলিউডের এই অভিনেতার আর্থিক বিপর্যয় ও ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।    অমিতাভ ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অমিতাভ বচ্চন করপোরেশন লিমিটেড, সংক্ষেপে এবিসিএল। প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি বিনোদনসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবসায় যুক্ত হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কোম্পানির আর্থিক সমস্যার প্রভাব তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ঋণ তিনি শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করেন।    সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে পুরোনো সাক্ষাৎকারে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, পাওনাদারেরা নিয়মিত বাড়িতে আসতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানির বিভিন্ন চুক্তিতে ব্যক্তিগত জামিনদার হওয়ায় ঋণ পরিশোধের দায়ও তাঁর ওপর আসে। ব্যাংকে অর্থ না থাকা এবং কাজের সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।    সংকট কাটাতে তিনি আবার নিজের মূল পেশা অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দেন। কাজ চাইতে যান চলচ্চিত্র নির্মাতা যশ চোপড়ার কাছে। এরপর ‘মোহাব্বতে’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। পুরোনো অভিজ্ঞতা স্মরণ করে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, এই ছবির কাজ তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে।    চলচ্চিত্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে টেলিভিশন। ২০০০ সালে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র সঞ্চালনা শুরু করেন অমিতাভ। একই বছরে মুক্তি পায় ‘মোহাব্বতে’। এই দুই কাজের পর তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন গতি আসে। পরবর্তী সময়ে অভিনয়, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও বিজ্ঞাপনের কাজের মাধ্যমে আর্থিক অবস্থান পুনর্গঠন করেন তিনি।    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬-এ বচ্চন পরিবারের সম্পদের আনুমানিক মূল্য চার হাজার কোটি রুপি উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঙ্ক সম্পদের মূল্যায়ন, ব্যাংকে থাকা নগদ অর্থের হিসাব নয়। প্রায় ৯০ কোটি রুপির ঋণের পুরোনো অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান আনুমানিক সম্পদের হিসাব মিলিয়ে তাঁর দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র তুলে ধরেছে প্রতিবেদনটি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৪:৪৬
ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিংরৌলি জেলায় জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার নিধি তিওয়ারির মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
জনপ্রিয় টিকটকার নিধির মৃত্যু, শেষ ফোনালাপের এক তরুণের তথ্য যাচাই করছে পুলিশ

ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিংরৌলি জেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার নিধি তিওয়ারির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মোরওয়া এলাকার বাড়িতে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসকেরা ৩০ বছর বয়সী নিধিকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে করলেও মৃত্যুর কারণ তদন্ত করছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেসবুকে নিধির প্রায় ৯ লাখ এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৭ লাখ অনুসারী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন।   পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে নিধি অন্য রাজ্যে বসবাসকারী এক তরুণের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। সিংরৌলির পুলিশ সুপার শিয়াজ কে এম জানিয়েছেন, পরিবারের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ওই কথোপকথনের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১১:৭
মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬ খেতাব জয়ের পর শৈশবের শহর আবুধাবিতে ফিরেছেন কাজিয়াহ লিজ মেজো। ছবি: সংগৃহীত
বন্ধু ও শিক্ষকদের ওয়াদা রাখতেই মুকুট নিয়ে আবুধাবিতে ফিরলেন মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬

মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬ খেতাব জয়ের পর শৈশবের শহর আবুধাবিতে ফিরেছেন কাজিয়াহ লিজ মেজো। ভারতের জয়পুরে গত ২৩ আগস্ট মুকুট জেতার পর বন্ধু ও শিক্ষকদের কাছে দেওয়া কথা রেখেই তাঁর এই সফর।    ১৯ বছর বয়সী কাজিয়াহ আবুধাবিতেই বড় হয়েছেন। মুকুট জয়ের পর গালফ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বন্ধু, স্কুল ও শিক্ষকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুকুট নিয়ে সেখানে ফিরবেন।    ফেরার পর মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহনশীলতা ও সহাবস্থানবিষয়ক মন্ত্রী শেখ নাহিয়ান বিন মুবারক আল নাহিয়ানের সঙ্গে দেখা করেছেন এই আইন শিক্ষার্থী। সাক্ষাতের ভিডিওতে তাঁকে মুকুট ও প্রতিযোগিতার পরিচয়ফিতা পরা অবস্থায় দেখা যায়।    ভারতের কেরালার সঙ্গে পারিবারিক শিকড় থাকা কাজিয়াহ বলেছেন, আবুধাবিতে নানা দেশের মানুষের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁকে ভিন্ন সংস্কৃতি বুঝতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে নিজের সম্পর্কও ধরে রাখতে পেরেছেন তিনি।    মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া খেতাব জয়ের সুবাদে এবার আন্তর্জাতিক মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন কাজিয়াহ। তাঁর আবুধাবি সফরটি তাই নতুন প্রতিযোগিতায় নামার আগে বেড়ে ওঠার শহরে ফিরে যাওয়ারও একটি মুহূর্ত।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১০:১৫
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হা ম লা ও ভা ঙ চু রের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাদিয়া আয়মান
অশি ক্ষি ত, চাঁ দা বা জ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে, ক্ষুব্ধ সাদিয়া আয়মান

ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হা ম লা ও ভা ঙ চু রের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘটনাটিকে মেনে নেওয়ার মতো নয় বলে মন্তব্য করেন।   সাদিয়া তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে যা ঘটেছে, তা সত্যিই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং মানা যায় না!’ তিনি আরও লেখেন, ‘এত অশি ক্ষি ত, চাঁ দা বা জ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে যে ওরা ভালো কিছু জীবনে দেখেনি আর দেখলেও সেটা হজম করতে পারে না।’   শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টুডিওতে হা ম লা ও ভা ঙ চু র হয় বলে অভিযোগ করেছেন সালমান মুক্তাদির। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টুডিওর ভা ঙ চু রের ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।   স্টুডিওতে থাকা একজনের অভিযোগ, হা ম লা কা রীরা ভেতরে ঢুকে মালামাল নিয়ে যায় এবং যা নিতে পারেনি, তা ভে ঙে ফেলে। ঘটনার সময় তাঁরা দুজন সেখানে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হা ম লা কা রীদের লক্ষ্য সালমানের স্টুডিও ছিল না। জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে হা ম লা টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে হা ম লার কারণ সম্পর্কে সাদিয়ার মন্তব্যকে তদন্তে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   সূত্র: চ্যানেল ২৪

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৮:০
লিপস্টিক পরীক্ষার সময় চু মু র দাগে ভরে গিয়েছিল রিচার্ড র‍্যামসির মুখ
লিপস্টিকের মান পরীক্ষায় চু মু র দাগে ভরে যায় লোকটির মুখ, তার একমাত্র কাজই ছিল চু মু খাওয়া

মুখজুড়ে লিপস্টিকের চু মু র দাগ নিয়ে রিচার্ড র‍্যামসির একটি পুরোনো ছবি আজও নজর কাড়ে। ১৯৬০ সালে তোলা ছবিটির মানুষটি একটি কসমেটিকস কোম্পানির কর্মী ছিলেন। তবে তাঁর মুখে দাগ ফেলার উদ্দেশ্য লিপস্টিক কতক্ষণ টিকে থাকে, তা দেখা ছিল না। ছবিটির সংরক্ষিত বিবরণ অনুযায়ী, পরীক্ষাটি ছিল লিপস্টিকে ব্যবহৃত রঙের উপাদান ক্ষ তি কর কি না, তা দেখানোর জন্য।   ছবিটি তুলেছিলেন লাইফ সাময়িকীর আলোকচিত্রী ইয়েল জোয়েল। লাইফের সংগ্রহে র‍্যামসিকে কসমেটিকস কোম্পানির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। একই বিবরণে বলা হয়েছে, লিপস্টিকের রঙের উপাদান নি রা প দ কি না, সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবেই তাঁর মুখে চু মু র দাগ পড়েছিল।   ছবিটি ঘিরে প্রচলিত বর্ণনায় র‍্যামসিকে কখনো ‘পেশাদার লিপস্টিক পরীক্ষক’ বলা হয়, আবার কখনো দাবি করা হয়, তাঁর মুখে দাগ দেখে লিপস্টিকের স্থায়িত্ব মাপা হতো। লাইফের ছবির বিবরণে এসব দাবির সমর্থন নেই। তাঁর নিয়মিত কাজই ছিল এভাবে লিপস্টিক পরীক্ষা করা, এমন তথ্যও সেখানে দেওয়া হয়নি।   দেখতে মজার এই ছবিটির সঙ্গে তাই একটি পার্থক্য মনে রাখা জরুরি: ছবিটি একটি কসমেটিকস পরীক্ষার দৃশ্য তুলে ধরে, কিন্তু চু মু র দাগ কতক্ষণ থাকে, সে পরীক্ষা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করে না।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৮:৫৯
অস্ট্রেলিয়ার চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘মাস্টার’
অস্ট্রেলিয়ার পর্দায় বাংলাদেশের ‘মাস্টার’, এবার হাইকমিশনের পোস্টেও প্রশংসা

বাংলাদেশের গল্প ও চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক যাত্রা তুলে ধরে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘মাস্টার’ নিয়ে পোস্ট করেছে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন। শুক্রবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিটির সিডনি ও মেলবোর্নের দুই গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের কথা তুলে ধরে হাইকমিশন লিখেছে—“Bangladeshi voices. Australian screens”, অর্থাৎ ‘বাংলাদেশের কণ্ঠ, অস্ট্রেলিয়ার পর্দায়’।   পোস্টে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন জানায়, সুমিতের ‘মাস্টার’ সম্প্রতি সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দর্শকদের কাছে জানতে চেয়েছে—চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মানুষ বাংলাদেশের কোন বিষয়টি জানুক, সেটি তারা দেখতে চান?   অস্ট্রেলিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল তথ্যেও ‘মাস্টার’-এর প্রদর্শনী নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২৬ মিনিটের বাংলা ভাষার ছবিটি ৭৩তম সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার করে। উৎসব কর্তৃপক্ষ ছবিটিকে বাংলাদেশের ছোট একটি শহরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সংঘাত নিয়ে নির্মিত রাজনৈতিক ড্রামা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়।   সিডনির পর আগস্টে ছবিটি জায়গা করে নেয় মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। সেখানে এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগে ছবিটি প্রদর্শিত হয় এবং এটি ছিল ছবিটির ভিক্টোরিয়ান প্রিমিয়ার। মেলবোর্ন উৎসবের বর্ণনায় ‘মাস্টার’-কে একজন আদর্শবাদী গ্রামীণ শিক্ষক রাজনীতিতে প্রবেশের পর ক্ষমতা, প্রভাব ও দুর্নীতির চাপে কীভাবে বদলে যান—সেই গল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহির। তিনি একজন শিক্ষক, যিনি স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হন। কিন্তু রাজনীতিতে প্রবেশের পর ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক প্রভাবশালী, স্থানীয় সন্ত্রাসী, পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন চাপের মুখোমুখি হতে থাকেন। জাহির চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবুসহ অন্যরা।   অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর আগেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বড় স্বীকৃতি পেয়েছে ‘মাস্টার’। চলতি বছরের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জেতে ছবিটি। রটারডাম উৎসবের অফিসিয়াল তথ্যেও ২০২৬ সালের বিজয়ী হিসেবে ‘মাস্টার’-এর নাম রয়েছে।   সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটির নির্বাচনের সময় সুমিত বলেছিলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতির গভীরে থাকা একটি ছোট গল্প আন্তর্জাতিক দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারা তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকা হোক কিংবা বড় আন্তর্জাতিক শহর—ক্ষমতার প্রভাব, নৈতিকতা ধরে রাখার সংগ্রাম এবং এর মানবিক মূল্য সর্বজনীন বিষয়।   অস্ট্রেলিয়ার এসবিএস বাংলাও সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সময় সুমিত ও ‘মাস্টার’ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় রাজনীতির মধ্য দিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা, ক্ষমতা, প্রভাব ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো ছবিটিতে উঠে আসার কথা বলা হয়।   এবার অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে ছবিটির আন্তর্জাতিক যাত্রা তুলে ধরায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে হাইকমিশনের ‘বাংলাদেশের কণ্ঠ, অস্ট্রেলিয়ার পর্দায়’ বার্তাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিচিতি বাড়ানোর দিকটিও সামনে এনেছে।   সূত্র: অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন, বাংলাদেশ; সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডাম; এসবিএস অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৮:১২
মুম্বাইয়ে আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবের আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় সাজে নজর কেড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে টিফানি ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আম্বানিদের গণেশোৎসবের আয়োজনে ট্রাম্পকন্যা টিফানি, ভারতীয় লেহেঙ্গায় নজর কাড়লেন

মুম্বাইয়ে আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবের আয়োজনে অংশ নিয়ে ভারতীয় সাজে নজর কেড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে টিফানি ট্রাম্প। ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি স্বামী মাইকেল বুলোসের সঙ্গে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের জন্য টিফানি পরেছিলেন প্যাস্টেল পিস্তাচিও-সবুজ রঙের লেহেঙ্গা, সঙ্গে ছিল গোলাপি ওড়না ও ঐতিহ্যবাহী গয়না।   টিফানির লেহেঙ্গাটি ডিজাইন করেছেন ভারতীয় ফ্যাশন ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রা। পোশাকের স্কার্টে ছিল সাদা ও রুপালি ফুলের কারুকাজ, মুক্তার কাজ এবং সূক্ষ্ম নকশা। এর সঙ্গে থাকা ছোট ব্লাউজেও ছিল মুক্তা, ক্রিস্টাল ও সূচিকর্মের অলংকরণ। গোলাপি ওড়নাটি সবুজ পোশাকের সঙ্গে আলাদা রঙের সমন্বয় তৈরি করে।   পোশাকের সঙ্গে টিফানি বেছে নেন ঐতিহ্যবাহী পোলকি গয়না। তার পরনে ছিল ভারী নেকলেস, ঝাড়বাতির মতো দুল ও মাঙ্গটিকা। হাতে ছিল অলংকৃত চুড়ি এবং সাজের সঙ্গে মানানসই ছোট ধাতব ব্যাগ। পুরো সাজে ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফ্যাশনের সমন্বয় দেখা যায়।   অনুষ্ঠানে টিফানির সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী মাইকেল বুলোস। তিনিও ভারতীয় পোশাকে হাজির হন। মাইকেলের পরনে ছিল কমলা-সাফরন রঙের নকশা করা শেরওয়ানি, যা টিফানির উৎসবের সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।   টিফানি পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভারত সফরের ছবি প্রকাশ করেন। ছবির ক্যারোসেলের সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘India, with love’। এসব ছবিতে তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায়। তার মা মারলা ম্যাপলসও এই ভারত সফরে ছিলেন।   আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবের এই আয়োজনে বলিউডের একাধিক তারকাও উপস্থিত ছিলেন। টিফানির সঙ্গে অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের ছবিও প্রকাশ্যে আসে। মুম্বাইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় অনুষ্ঠিত আয়োজনে সালমান খান, রণবীর সিং, ক্যাটরিনা কাইফ, ভিকি কৌশল, কারিনা কাপুর, সাইফ আলী খানসহ আরও অনেক তারকা অংশ নেন।   এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসেও স্বামী মাইকেল বুলোসকে সঙ্গে নিয়ে ভারত সফর করেছিলেন টিফানি। সেই সফরে তারা দিল্লির অক্ষরধাম, আগ্রার তাজমহল ও রাজস্থানের জয়সালমের ঘুরে দেখেন। কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার ভারত সফরে এসে এবার তিনি আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবে অংশ নিলেন।   টিফানির এবারের ভারতীয় সাজ প্রকাশের পর তা নিয়ে ফ্যাশন ও বিনোদনভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্যাস্টেল রঙের লেহেঙ্গা, গোলাপি ওড়না এবং ঐতিহ্যবাহী পোলকি গয়নার সমন্বয়টি তার এবারের উপস্থিতির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ০:৫২
ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবুর বিলাসবহুল বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেমস বন্ড তারকা পিয়ার্স ব্রসনান। ছবি: সংগৃহীত
আগুন-ভূমিকম্পের ভয়, ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি ছাড়ছেন হলিউড অভিনেতা পিয়ার্স ব্রসনান

হলিউড অভিনেতা ও সাবেক ‘জেমস বন্ড’ তারকা পিয়ার্স ব্রসনান ২৬ বছর পর ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবুতে থাকা তার বিলাসবহুল বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সমুদ্রতীরবর্তী সম্পত্তি থেকে সরে যাওয়ার পেছনে রয়েছে দাবানল ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি। পাশাপাশি বিশাল বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের উচ্চ ব্যয়ও ব্রসনানের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।   ৭৩ বছর বয়সী ব্রসনান ও তার স্ত্রী কিলি শেই স্মিথ ২০০০ সালে মালিবুর ব্রড বিচ এলাকায় দুটি পাশের সম্পত্তি কিনেছিলেন। পরে সেখানে তারা বিশাল আবাসিক কম্পাউন্ড তৈরি করেন। প্রায় ২৬ বছর ধরে এই বাড়িই ছিল তাদের অন্যতম প্রধান আবাসস্থল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় বসবাসের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ বেড়েছে।   ব্রসনান জানিয়েছেন, তাদের বাড়িটি অতীতে কয়েকবার দাবানলের কাছাকাছি পড়লেও আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছে। তার ভাষায়, কয়েকবার আগুন থেকে বেঁচে যাওয়ার পর এখন মনে হচ্ছে সেখান থেকে সরে যাওয়ার সময় এসেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সমুদ্রের কাছে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বসবাস করাও তাদের মধ্যে এক ধরনের ভয় তৈরি করে।   দাবানলের আশঙ্কা ব্রসনানের জন্য নতুন নয়। ২০১৫ সালে তার মালিবুর বাড়ির গ্যারেজে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আগুন গ্যারেজের পাশাপাশি ওপরের একটি শোবার ঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই ঘটনায় ব্রসনান ও তার পরিবারের কেউ আহত হননি।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালিবু ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ দাবানলের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে ব্রসনানের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার বর্তমান সিদ্ধান্তে দাবানলের পাশাপাশি ভূমিকম্পের আশঙ্কাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   তবে শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, বাড়িটি ধরে রাখার খরচও ব্রসনানের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠেছে। অভিনেতা জানিয়েছেন, মালিবুর বিশাল বাড়িটির মর্টগেজ ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে ক্যারিয়ারের কিছু সময়ে তাকে এমন কাজও নিতে হয়েছে, যেগুলোর প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল না। অর্থের প্রয়োজন মেটাতে পছন্দের বাইরে গিয়ে কাজ করার বিষয়টি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।   ব্রসনানের মালিবুর সম্পত্তিটির নাম ‘অর্কিড হাউস’। বাড়িটির নকশায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাব রয়েছে এবং এটি নির্মাণে এক দশকেরও বেশি সময় লেগেছিল। প্রায় ১২ হাজার ৫০০ বর্গফুটের মূল বাড়িতে সিনেমা দেখার কক্ষ, জিম, শিল্পচর্চার জায়গা, সংগীতের জন্য কক্ষ, স্পা ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার ওয়াইন সেলারসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।   ব্রসনান দম্পতি এর আগেও এই সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। বাড়িটি একসময় মাসে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারে ভাড়ার জন্যও দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এবার তারা মালিবুর বাড়ি ছেড়ে হাওয়াইয়ের কাউয়াই দ্বীপে থাকা তাদের অন্য বাড়িতে আরও বেশি সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছেন।   মালিবুর প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও ব্রসনান এখন মনে করছেন, আগুন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং বাড়িটির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। ফলে ২৬ বছর পর প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের এই বিলাসবহুল বাড়ি থেকে তার সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।   সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৯:৩৭
বাগদত্তা মাইকেল পোলানস্কির সঙ্গে প্রথম সন্তানের আগমন
মা হলেন লেডি গাগা, বাগদত্তা মাইকেল পোলানস্কির সঙ্গে প্রথম সন্তানের আগমন

দীর্ঘদিনের মা হওয়ার স্বপ্ন এবার পূরণ হলো মার্কিন পপ তারকা লেডি গাগার। ৪০ বছর বয়সী এই গায়িকা ও তার বাগদত্তা প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাইকেল পোলানস্কি তাদের প্রথম সন্তানকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম। তবে সন্তানের নাম, লিঙ্গ বা জন্মের সঠিক তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।    সম্প্রতি উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় পোলানস্কির সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায় গাগাকে। এ সময় তার বুকে নবজাতককে জড়িয়ে রাখতে দেখা যায়। এটিই মা হওয়ার পর গাগার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি বলে জানিয়েছে পেজ সিক্স।    মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষার কথা গাগা বহু বছর ধরেই প্রকাশ্যে বলে আসছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্টিফেন কোলবার্টের অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, মা হওয়াই তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা এবং মাতৃত্বকে তিনি নিজের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে দেখতে চান।    ২০২৫ সালের মার্চে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও গাগা জানিয়েছিলেন, মা হওয়ার বিষয়ে তিনি খুবই আগ্রহী। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সন্তানদের নিজেদের পরিচয় ও পছন্দ নিজেরাই আবিষ্কার করার সুযোগ দিতে চান বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।    গাগা ও পোলানস্কির সম্পর্ক শুরু হয় ২০২০ সালে। ২০২৪ সালের মার্চে তাদের বাগদান হয়, যদিও বিষয়টি পরে প্রকাশ্যে আসে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত জীবন অনেকটাই আড়ালে রাখা এই দম্পতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কম জনসমক্ষে এসেছেন।    এবার সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তব হলো। সংগীত ও অভিনয়ের ব্যস্ত ক্যারিয়ারের পাশাপাশি জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন লেডি গাগা, এবার একজন মা হিসেবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৪:২
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০