বিনোদন

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ মিমি চক্রবর্তী | ছবি: সংগৃহীত
মিথ্যে অপবাদ ও মানহানির অভিযোগ, অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার মামলা

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মানহানি, মিথ্যা অপবাদ এবং চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ আদালতে এই মামলা দায়ের করেছেন তনয় শাস্ত্রী নামের এক যুবক। মামলায় মিমির কাছ থেকে মোট ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   ঘটনার সূত্রপাত বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জের ‘যুবক সংঘ’ ক্লাবের একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। ওই অনুষ্ঠানে মূল তারকা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। তবে অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের ঝড় ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।   অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে মিমি চক্রবর্তী অভিযোগ করেছিলেন, তিনি ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এই অভিযোগটি তিনি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে মিমি সরাসরি বনগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করে। যদিও পরে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। একই ঘটনায় মিমি বনগাঁ মহকুমা আদালতেও গিয়ে নিজের গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করান।   অন্যদিকে, ক্লাবের সদস্যরা মিমির এই হেনস্তার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর মিমি অনুষ্ঠানমঞ্চে এসেছিলেন। এরপর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠান পরিচালনার নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে মাইক ও মঞ্চ ছাড়তে বলা হয়। আর এই সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।   পরবর্তীতে জেল থেকে বের হয়ে তনয় শাস্ত্রীও বনগাঁ থানায় মিমির বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ দায়ের করেন। এবার তিনি সরাসরি বনগাঁ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মানহানিসহ দুটি মামলা ঠুকে দিয়েছেন। আদালতে তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন বিশিষ্ট আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।   মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মিমি চক্রবর্তী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তনয়ের মানহানি করেছেন। পাশাপাশি মিমির বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগও তোলা হয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুষ্ঠানের জন্য মিমিকে যে অগ্রিম ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল, তা যেন তিনি দ্রুত ফেরত দেন। একই সাথে তার করা মিথ্যা অপবাদের কারণে মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। তবে এই আইনি নোটিশ ও মামলার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত মিমি চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ১০:২৫
আশরাফ হাকিমি ও নোরা ফাতেহি | ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল তারকা আশরাফ হাকিমির প্রেমে মজেছেন নোরা ফাতেহি, নেটপাড়ায় জোর গুঞ্জন

বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি ও মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। নোরা ফাতেহি এখন শুধু বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নন, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান বেশ শক্ত করেছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া ‘সির সির’ গানে তার নজরকাড়া উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ক্যারিয়ারের এই বড় সাফল্যের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও এখন বিনোদন জগতে চলছে জোর গুঞ্জন। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে-নোরা কি সত্যিই মরক্কোর ফুটবল তারকা আশরাফ হাকিমির সঙ্গে নতুন করে কোনো প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন?   এই আলোচিত প্রেমের গুঞ্জনের মূল সূত্রপাত হয়েছিল গত ২০২৫ সালে। সে সময় নোরা ফাতেহি মরক্কোতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপ অব নেশনস টুর্নামেন্টের একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিনোদনমাধ্যমে খবর ছড়ায় যে, তিনি নাকি কোনো এক ‘রহস্যময় ফুটবলারের’ খেলা দেখার জন্যই মাঠে ছুটে গিয়েছিলেন। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমর্থকদের এমন তুমুল আগ্রহ সবসময়ই দেখা যায়।   তখন প্রাথমিকভাবে ওই ফুটবলারের সুনির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেই ব্যক্তি আর কেউ নন, প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) ও মরক্কো জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি। পরবর্তীতে এই গুঞ্জনে নতুন মাত্রা যোগ করে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকস্মিক ঘটনা। ভক্তরা হঠাৎ লক্ষ করেন, হাকিমি নোরার একটি ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সরাসরি ‘লাইক’ দিয়েছেন। এর পর থেকেই নেটপাড়ায় তাদের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।   তবে সত্যিই কি তারা প্রেম করছেন—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত নোরা ফাতেহি কিংবা আশরাফ হাকিমি-দুজনের কেউই এই সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এমনকি তাদের একসাথে কোনো ছবি, যৌথ উপস্থিতি বা আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি, যা তাদের এই প্রেমের সম্পর্ককে নিশ্চিত করতে পারে। ফলে বর্তমানে পুরো বিষয়টি শুধুই গুঞ্জন ও প্রাথমিক জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   বিনোদনজগতে এই ধরনের গুঞ্জন অবশ্য একদম নতুন কিছু নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সাধারণ ‘লাইক’ বা কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই তারকাদের সম্পর্কের মুখরোচক খবর ছড়িয়ে পড়ে। তাই নির্ভরযোগ্য ও চাক্ষুষ প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের দাবি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এর আগে নোরা অতীতে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা গুজবের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে টি সিরিজের কর্ণধার ভূষণ কুমারের সঙ্গে তার নাম জড়ালে তিনি পরোক্ষভাবে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। এক টিকটক ভিডিওতে সেই গুঞ্জন নিয়ে আলোচনা হলে নোরা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মন্তব্য করেছিলেন, ‘ওয়াও’। তার সেই পুরোনো প্রতিক্রিয়া থেকে অনেকের ধারণা, ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত গুজব তিনি মোটেও গুরুত্ব দিতে চান না।   অন্য দিকে মরক্কোর তারকা ফুটবলার আশরাফ হাকিমি বিগত ২০২০ সালে অভিনেত্রী হিবা আবুককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। তাদের সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে ২০২৩ সালে এক জটিল পরিস্থিতিতে তাদের বৈবাহিক বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের সময় সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। পরে অবশ্য দুজনই সন্তানদের যৌথভাবে লালন-পালনের আইনি সিদ্ধান্ত নেন। বিচ্ছেদের পর হাকিমির সঙ্গে ডাচ-মরোক্কান সুপারমডেল ইমান হাম্মামের সম্পর্কের গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। তারা একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা দিলেও কেউই সেই সম্পর্কের সত্যতা স্বীকার করেননি। তবে সব মিলিয়ে নোরা ও হাকিমিকে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল যে শিগগিরই কমছে না, সেটি বলাই বাহুল্য।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ১০:১৩
অভিনেত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কোয়েল মল্লিক | ছবি: সংগৃহীত
এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কোয়েল মল্লিক ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন। গত বেশ কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে চলা তীব্র গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে সরাসরি ইমেইল মারফত তিনি নিজের চূড়ান্ত পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় পরাজয়ের পর দলটির ভেতরে যে চরম অভ্যন্তরীণ জটিলতা তৈরি হয়েছে, মূলত সেই পরিস্থিতির মাঝেই কোয়েল মল্লিক এই সিদ্ধান্ত নিলেন।   তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান টালমাটাল ও জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে দলটির রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগের এক দীর্ঘ ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে। কোয়েল মল্লিকের এই ইস্তফা দেওয়ার ঠিক আগেই তৃণমূলের প্রভাবশালী রাজ্যসভা সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক একে একে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের সেই পথ অনুসরণ করে এবার পশ্চিমবঙ্গের এই প্রথম সারির জনপ্রিয় অভিনেত্রীও নিজের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার এই আকস্মিক পদত্যাগের ফলে ভারতের রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট আসন সংখ্যা ১৩ জন থেকে এক ধাক্কায় কমে মাত্র ৯ জনে এসে দাঁড়িয়েছে।   রাজনৈতিক মহলের অভ্যন্তরীণ খবর অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের এই বড় ধরনের ভাঙন বা সংকট এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দলটির আরও কয়েকজন প্রভাবশালী রাজ্যসভা সদস্য পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতি ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর নাম যখন গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় দেখা গিয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলের ভেতরের অনেকেই বেশ অবাক হয়েছিলেন।   পরবর্তীতে গত এপ্রিল মাসে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লি গিয়ে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেন। সে সময় সক্রিয় রাজনীতিতে আসা এবং জনপ্রতিনিধি হওয়া প্রসঙ্গে কোয়েল মল্লিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মানুষের সেবা করা এবং দেশের সেবার মতো মহৎ দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যেই তিনি এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি সদস্যপদ থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ২:৫৪
বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ | ছবি: সংগৃহীত
জ্যাকলিনের মামলার শুনানি থেকে নিজেকে সরালেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি

২০০ কোটি রুপির একটি বিশাল অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) মামলায় বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনের শুনানি থেকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র। এদিন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি আংশিক কার্যদিবসের বেঞ্চে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। তবে শুনানির একদম শুরুতেই বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলিউড অভিনেত্রীর আইনজীবী এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ইডি) সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, বিষয়টি শুনানির জন্য অন্য একটি বেঞ্চে পাঠানো হবে।   শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এ প্রসঙ্গে বলেন, এখানে কিছুটা আইনি সমস্যা রয়েছে। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্য একটি বিষয়ে আমার ছেলে সরকারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হয়েছিল। তাই আইনি নৈতিকতার খাতিরে আগামী ২৫ জুন এমন একটি নতুন বেঞ্চের সামনে এই মামলাটি তালিকাভুক্ত করা হোক, যেখানে আমরা দুজনের (বিচারপতি মিশ্র ও বিচারপতি চন্দুরকর) কেউ সদস্য হিসেবে থাকব না। এর আগে গত ৩০ মে দিল্লির একটি বিশেষ ট্রায়াল কোর্ট ২০০ কোটির এই বহুল আলোচিত অর্থ পাচার মামলায় জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ, মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর এবং আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল।   দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের দায়ের করা অন্য একটি মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখর এবং আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে কঠোর মকোকা আইনসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয় ট্রায়াল কোর্ট। নিম্ন আদালতের এই কঠোর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। এর আগে জ্যাকলিনকে একাধিকবার তলব করার পর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তাদের দ্বিতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটে প্রথমবারের মতো এই অভিনেত্রীকে অর্থ পাচার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নামভুক্ত করে। ইডির দাবি, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ প্রতিনিয়ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং সুকেশের সহযোগী পিংকি ইরানির মাধ্যমে জ্যাকলিন তার কাছ থেকে বহু মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছেন।   প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুকেশ চন্দ্রশেখর জেলখানার ভেতর থেকেই একটি সুসংগঠিত অপরাধ চক্র পরিচালনা করছিল। সে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং আইন ও বিচার মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। ভুয়া ফোন কল, এনক্রিপ্টেড অ্যাপ্লিকেশন এবং জাল পরিচয়ের মাধ্যমে মূল অভিযোগকারী অদিতি সিং ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১২:১৪
ছবি: সংগৃহীত
২৯ বছর পর চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি আদালতের

নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় খলনায়ক ও চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে দীর্ঘ ২৯ বছর পর তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার করা একটি বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম গণমাধ্যমকে আদালতের এই আদেশ দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।   আদালত সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে তোলার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি মরদেহের নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং এই পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। পুলিশের এই আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি ও নির্দেশনা জারি করেন।   পুলিশের করা ওই আবেদনে বলা হয়, এই মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম আদালতে জানিয়েছেন যে তিনি সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে মামলাটি পরিচালনা করছেন। আবেদনে ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নীলা চৌধুরী, তাঁর স্বামী কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের ইস্কাটন প্লাজায় সালমান শাহর বাসায় গিয়েছিলেন। তখন সালমানের স্ত্রী সামিরা হক ও গৃহকর্মী আবুল তাঁদের জানান যে সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন, যার কারণে তাঁরা আবার গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে যান।   এর কিছু সময় পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে ফোনের মাধ্যমে জানানো হয় যে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে তাঁরা সালমান শাহকে শয়নকক্ষের খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তাঁকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে সালমান শাহকে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয় এবং ওই দিনই রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল।   পুলিশের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দীর্ঘ ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় এখন একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের স্বার্থে সালমান শাহর মরদেহ আবার কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যাওয়ার পর থেকেই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। অবশেষে গত ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে রমনা থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক ও আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২৩:৩৭
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
ট্রাইবেকায় প্রজেক্টর বিকল, দর্শকদের সঙ্গে গান গেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেন কেটি পেরি

ট্রাইবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের নতুন কনসার্ট মুভি ‘কেটি পেরি: দ্য লাইফটাইমস ট্যুর – লাইভ ফ্রম প্যারিস’-এর প্রিমিয়ারে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দারুণ দক্ষতায় সামলে নিয়েছেন জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি। গত সোমবার ছবিটির প্রদর্শনীর সময় হঠাৎ করেই প্রজেক্টরে ত্রুটি দেখা দেয় এবং লাইভ মিউজিক ডকুমেন্টারিতে তাঁর ‘ক্রাশ’ গানটি চলার মাঝখানেই পর্দা অন্ধকার হয়ে যায়। এতে উপস্থিত দর্শকরা কিছুটা বিরক্ত ও হতাশ হয়ে পড়েন।   তবে ৪১ বছর বয়সী এই গায়িকা মুহূর্তের মধ্যে আসন থেকে উঠে দাঁড়ান এবং উপস্থিত দর্শকদের গানটির বাকি অংশ গাইতে উৎসাহিত করেন। তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ততায় মুগ্ধ হয়ে দর্শকরাও তাঁর ‘১৪৩’ অ্যালবামের এই হিট গানটিতে গলা মেলান। সৌভাগ্যবশত কয়েক সেকেন্ড পরই প্রজেক্টরটি পুনরায় সচল হয় এবং কেটি পেরি তাঁর প্রেমিক জাস্টিন ট্রুডোকে নিয়ে বাকি প্রদর্শনী আনন্দের সাথে উপভোগ করেন।   ডকুমেন্টারিটি মূলত প্যারিসে অনুষ্ঠিত কেটি পেরির ‘লাইফটাইম’ ট্যুরের টানা দুই রাতের কনসার্ট নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে, যে ট্যুরে তিনি বিশ্বজুড়ে ৯১টি শো করেছেন। সোমবারের এই প্রিমিয়ারটি ছিল যুগল হিসেবে পেরি ও ট্রুডোর প্রথম রেড কার্পেট উপস্থিতি, যেখানে তাঁরা বেশ হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে পোজ দেন। অনুষ্ঠানস্থলের ভেতরেও তাঁদের চমৎকার রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো; পুরোটা সময় জুড়ে তাঁরা একে অপরের হাত ধরে ছিলেন এবং কনসার্ট ফিল্মের তালে তালে তাঁদের নাচতেও দেখা যায়।   সিনেমা প্রদর্শনীর পর সংগীত সাংবাদিক টমাস মিয়ারের সাথে একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন কেটি পেরি। সেখানে ৫৪ বছর বয়সী কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে তাঁকে ‘জীবনের ভালোবাসা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। পেরি জানান, প্রতিদিনের এই যাত্রায় ট্রুডো তাঁকে একজন ভালো মানুষ হতে এবং মাটির কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করছেন। নিজেকে ‘রংধনু ঘুড়ি’-এর সাথে তুলনা করে এই পপ তারকা বলেন, “মাঝে মাঝে আমার একটি নোঙরের প্রয়োজন হয়, আর সেই নোঙরটি পেয়ে আমি এখন নিজেকে পরিপূর্ণ অনুভব করি।”   উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে ইনস্টাগ্রামে নিজেদের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া এই যুগল খুব শিগগিরই তাঁদের প্রথম বার্ষিকী উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছেন। এর আগে হলিউড অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুমের সাথে সম্পর্কে ছিলেন কেটি পেরি, যেখানে তাঁদের ডেইজি নামের ৫ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের সাথে জাস্টিন ট্রুডোর ঘরে রয়েছে তিন সন্তান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১৬:৫৯
তরুণ নির্মাতা কেন পারসন্স | ছবি: সংগৃহীত
ইউটিউবের হরর গল্প দিয়ে মার্কিন বক্স অফিসে ২০ বছরের তরুণের বিশ্বরেকর্ড

মাত্র ২০ বছর বয়সে নিজের প্রথম চলচ্চিত্র দিয়ে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসের শীর্ষস্থান দখল করে ইতিহাস গড়েছেন তরুণ নির্মাতা কেন পারসন্স। তার পরিচালিত 'ব্যাকরুমস' নামের এই ভৌতিক ছবিটি প্রথম সপ্তাহান্তেই রেকর্ড পরিমাণ ৮ কোটি ১০ লাখ (৮১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ব্যবসা করে চলচ্চিত্র খাত বিশেষজ্ঞদের চমকে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি বিখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান 'এটুয়েন্টিফোর' (A24)-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড।   এর আগে ২০১১ সালে ২৭ বছর বয়সে 'ক্রনিকল' ছবি দিয়ে বক্স অফিসের শীর্ষে আসার রেকর্ড গড়েছিলেন নির্মাতা জশ ট্র্যাঙ্ক। পারসন্স তার চেয়েও সাত বছর কম বয়সে এই বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন। 'ব্যাকরুমস' ছবিটি মূলত পারসন্সের নিজেরই একটি জনপ্রিয় ইউটিউব সিরিজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ইন্টারনেটের কাল্পনিক হরর গল্প বা 'ক্রিপিপাস্তা' থেকে অনুপ্রাণিত। চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত এবং মানসিকভাবে নাড়া দেওয়ার মতো বৈপ্লবিক ভৌতিক ছবি।   তবে পারসন্সের এত কম বয়সে এমন বিশাল সাফল্য ইন্টারনেটে কিছু বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, এত কম বয়সে তার একার পক্ষে এই ছবি পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এই গুজবের জবাবে ছবির অভিনেতা মার্ক ডুপ্লাস বলেন, "শুটিং সেটে কেন শতভাগ নিয়ন্ত্রণে ছিল। তার চেয়ে তিনগুণ বেশি বয়সী অনেক পরিচালকের চেয়েও সে চমৎকারভাবে কাজটি করেছে।" নির্মাতা পারসন্স নিজেও রসিকতা করে এই গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন।   'ব্যাকরুমস'-এর এই অভাবনীয় সাফল্য স্বল্প বাজেটের ভৌতিক ছবির বাজারে নতুন জোয়ার এনেছে। এর ঠিক আগেই গত মে মাসে মুক্তি পাওয়া ২৬ বছর বয়সী নির্মাতা কারি বার্কারের কম বাজেটের ভৌতিক ছবি 'অবসেশন' চার সপ্তাহে ১০ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের ব্যবসা করে বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে।  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৩১, ২০২৬ ২০:৪৩
হলিউড অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন। ছবি: সংগৃহীত
সাফল্য ও আয়ের শীর্ষে থেকেও জীবনে ‘ঘাটতি’ অনুভব করেন হলিউড অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন

হলিউড অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন স্বীকার করেছেন, নিখুঁত ‘কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য’ বলে বাস্তবে কিছু নেই। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি, ব্যস্ত ক্যারিয়ার এবং কোটি ডলারের আয় থাকা সত্ত্বেও জীবনের কোনো না কোনো অংশে সবসময়ই ঘাটতি থেকে যায় বলে মনে করেন তিনি।   মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান “সিবিএস সানডে মর্নিং”-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।   স্কারলেট বলেন, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে পুরোপুরি ভারসাম্য রাখা সম্ভব নয়—এ বিষয়টি মেনে নেওয়াই আসলে প্রথম ধাপ। তার ভাষায়, “সব সময় জীবনের কোনো না কোনো জায়গায় একটা ঘাটতি থেকেই যায়। সবকিছু একসঙ্গে নিখুঁতভাবে করা সম্ভব না। তাই নিজের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হওয়া শিখেছি।”   মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিজেকেই সবকিছু ঠিকভাবে সামলানোর চাপ দিয়েছেন। তবে সময়ের সঙ্গে বুঝেছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই শতভাগ নিখুঁত হওয়া বাস্তবসম্মত নয়।   বর্তমানে স্কারলেট জোহানসন একদিকে যেমন অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত, অন্যদিকে পরিবার ও ব্যবসাও সামলাচ্ছেন। কৌতুক অভিনেতা কলিন জোস্টের সঙ্গে তার সংসার এবং দুই সন্তান রয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি নিজের ত্বক পরিচর্যা ব্র্যান্ডও চালু করেছেন তিনি।   ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্কারলেট জোহানসনের আয় ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। একই সঙ্গে চলতি বছরের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবেও তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।   তবে সাফল্য নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি আগের চেয়ে অনেক বদলে গেছে বলে জানান এই অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একবার একজন তাকে বলেছিলেন, “আপনি যদি একজন অভিভাবক হিসেবে ৭৫ শতাংশ সময়ও ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটাই অনেক বড় অর্জন।”   স্কারলেটের মতে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিখুঁত হওয়ার চেয়ে নিজের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করা এবং মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে, বিশেষ করে কর্মজীবন ও পরিবার একসঙ্গে সামলানো মানুষদের মধ্যে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২৩:৫২
ল্যাটিন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা | ছবি: সংগৃহীত
ফিরছেন শাকিরা: ২০২৬ বিশ্বকাপের থিম সং ‘দাই দাই’-এর টিজার প্রকাশ

দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছেন ল্যাটিন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং 'দাই দাই'-এর টিজার প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি। এবারের গানে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নাইজেরিয়ান মিউজিক সেনসেশন বার্না বয়। বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ধারণ করা ভিডিওটির একটি টিজার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন শাকিরা।   ভিডিওটিতে এবারের বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ—মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় পতাকার রঙে একদল নৃত্যশিল্পীকে পারফর্ম করতে দেখা যায়। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ভিডিওতে শাকিরার আগের গাওয়া গানগুলোর প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বলগুলো রাখা হয়েছে। জানা গেছে, নতুন এই ট্র্যাকে ল্যাটিন পপের ছন্দের সঙ্গে আফ্রো-বিটের এক অনন্য ফিউশন ঘটিয়েছেন শাকিরা ও বার্না বয়।   আগামী ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ থিম সংটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে জার্মানিতে 'হিপস ডোন্ট লাই', ২০১০-এ দক্ষিণ আফ্রিকায় কালজয়ী 'ওয়াকা ওয়াকা' এবং ২০১৪ সালে ব্রাজিলে 'লা লা লা' গেয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন শাকিরা। মাঝখানে বিরতি দিয়ে আবারও তাঁর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করেছে।   আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ, যা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। আসর শুরুর আগে শাকিরার এই গানটিকেই ধরা হচ্ছে বিশ্বকাপের মূল কাউন্টডাউন। ১৪ মে গানটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বকাপের বৈশ্বিক উন্মাদনা নতুন মাত্রা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৮, ২০২৬ ০:৫০
ছবি: সংগৃহীত।
যৌন হয়রানি অভিযোগে মামলা, বিপাকে বিশ্বখ্যাত ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট

বিশ্বখ্যাত ইউটিউবার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর জেমস স্টিফেন ডোনাল্ডসন, যিনি বিশ্বজুড়ে 'মিস্টার বিস্ট' নামে পরিচিত, তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক সাবেক কর্মী। লরেন মাভ্রোমাটিস নামে মিস্টার বিস্টের সাবেক এক ভিডিও এডিটর ও প্রযোজক এই অভিযোগ করেছেন। এপি নিউজ (AP News)-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মাভ্রোমাটিস দাবি করেছেন যে তার গর্ভাবস্থায় তাকে যথাযথ সহায়তা দেওয়া হয়নি এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা হয়েছে। লরেনের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন তাকে প্রতিকূল কর্মপরিবেশের মুখোমুখি হতে হয় এবং পরবর্তীতে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শুধু মাতৃত্বকালীন ছুটিই নয়, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশ নিয়ে তিনি আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। লরেন জানান, মিস্টার বিস্টের প্রোডাকশন হাউসে নারী কর্মীদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং যৌন হয়রানির মতো ঘটনাও ঘটেছিল। তার দাবি, তিনি এসব বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং তাকেই কোণঠাসা করা হয়েছিল। মিস্টার বিস্টের এই কোম্পানি 'বিস্ট ইনডাস্ট্রিজ' সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু আইনি ও নৈতিক বিতর্কের সম্মুখীন হচ্ছে। এর আগেও কোম্পানিটির কর্মপরিবেশ এবং লটারির মতো ভিডিওগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এখন পর্যন্ত মিস্টার বিস্ট বা তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লরেন মাভ্রোমাটিসের এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কোটি কোটি ভক্তের প্রিয় এই ইউটিউবারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৫:১
অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম
দেড় বছরের কঠোর প্রস্তুতি, ‘হক’ সিনেমার জন্য কুরআন তেলওয়াত শিখেছেন ইয়ামি গৌতম!

বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম পর্দায় বরাবরই নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে প্রমাণ করেছেন। তবে তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘হক’-এ শাজিয়া বানোর চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তিনি যে পরিশ্রম করেছেন, তা রীতিমতো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক সুপর্ণ বর্মা জানিয়েছেন, এই সিনেমার প্রস্তুতির জন্য ইয়ামি কেবল চিত্রনাট্য মুখস্থ করেননি, বরং দীর্ঘ চার মাস সময় নিয়ে পবিত্র কুরআন তেলওয়াত করা শিখেছেন। এমনকি কুরআনের আরবি উচ্চারণ ও তার অর্থ বোঝার জন্য তিনি নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পরিচালক আরও জানান, সত্তরের দশকের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই সিনেমার বিষয়বস্তু যেহেতু অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আইনি জটিলতা নির্ভর, তাই তারা কোনো ভুল তথ্য দিতে চাননি। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে চলে ইসলামি আইন বা শরিয়া আইনের ওপর গবেষণা। ইয়ামি গৌতম তার চরিত্রে নিখুঁত হওয়ার জন্য এই গবেষণার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন। সিনেমাটি মূলত শাজিয়া বানো নামের এক নারীর লড়াইয়ের গল্প। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রীকে খোরপোশ দিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় আইনি লড়াই। নিজের অধিকার বা ‘হক’ আদায়ের এই কাহিনীটি ভারতীয় মুসলিম ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মনিরপেক্ষ আইনের এক দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছে। পরিচালক সুপর্ণ বর্মার মতে, বর্তমান সময়ে তথ্যের বিকৃতি ও বিভ্রান্তি রোধ করতেই তারা দীর্ঘ সময় নিয়ে সঠিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে ‘হক’। বক্স অফিসেও সিনেমাটি প্রায় ৩০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। কোনো রকম চটকদার বিজ্ঞাপন ছাড়াই কেবল কাহিনীর গুণে সিনেমাটি তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১:৫৭
ছবি: সংগৃহীত।
পপ সম্রাটের পর্দা কাঁপানো প্রত্যাবর্তন

বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে যার নাম চিরভাস্বর, তিনি পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রুপালি পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার জীবনের ওপর নির্মিত বায়োপিক 'মাইকেল' (Michael)। তবে সিনেমাটি মুক্তির আগেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সম্প্রতি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট'-এ প্রকাশিত এক রিভিউতে সিনেমাটির নানা দিক উঠে এসেছে। সিনেমাটিতে মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাইপো জাফর জ্যাকসন। রিভিউ অনুযায়ী, পর্দার মাইকেল হিসেবে জাফর ছিলেন অনবদ্য। তার নাচ, হাঁটাচলা এবং কণ্ঠের জাদুতে দর্শক বারবার আসল মাইকেল জ্যাকসনকেই খুঁজে পাবেন। বিশেষ করে জ্যাকসনের আইকনিক কনসার্ট এবং মিউজিক ভিডিওগুলোর রি-ক্রিয়েশন দর্শকদের নস্টালজিক করে তুলবে। রিভিউতে বলা হয়েছে, পরিচালক অ্যান্টোনি ফুকা এই সিনেমায় জ্যাকসনের কালজয়ী সব গান এবং অসাধারণ সাফল্যের গল্পগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, মাইকেলের ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো এখানে অনেকটা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ বা আইনি জটিলতার বিষয়গুলো যেভাবে বিস্তারিত আসার কথা ছিল, সিনেমাটি সেখানে অনেকটাই রক্ষণশীল। মনে হতে পারে, এটি মাইকেলের ইমেজকে উজ্জ্বল করার একটি প্রয়াস। বিশাল ক্যানভাসে মাইকেলের শৈশব থেকে মহাতারকা হয়ে ওঠার গল্পটি দারুণভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। কস্টিউম থেকে শুরু করে কোরিওগ্রাফি—সবকিছুতেই ছিল নিখুঁত ছাপ। তবে গল্পের গাঁথুনিতে কিছুটা নাটকীয়তার অভাব অনুভব করতে পারেন সাধারণ দর্শকরা। সব মিলিয়ে, মাইকেল জ্যাকসন ভক্তদের জন্য এটি একটি বড় উপহার হতে যাচ্ছে। বিতর্ক ছাপিয়ে একজন শিল্পীর অসাধারণ শৈল্পিক যাত্রাই এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে।  

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৬:৩৬
পপ কুইন রিহানা
ফ্যাশনে নতুন চমক: মেয়ের জন্য ডিওরের 'ডিজাইনার ডায়াপার' বানালেন রিহানা!

পপ কুইন রিহানা সবসময়ই প্রথা ভাঙতে ভালোবাসেন। মাতৃত্বকালীন ফ্যাশনে বিপ্লব আনার পর এবার তিনি বিশ্বকে চমকে দিলেন তার সাত মাস বয়সী কন্যা রকি আইরিশকে নিয়ে। বিশ্ববিখ্যাত ফ্যাশন হাউস 'ডিওর'-এর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো শিশুর জন্য তৈরি করা হয়েছে কাস্টম 'হাউটে কুচার' ডায়াপার, যা পরে 'ডব্লিউ ম্যাগাজিন'-এর প্রচ্ছদে হাজির হয়েছে ছোট্ট রকি। সম্প্রতি প্রকাশিত ডব্লিউ ম্যাগাজিনের 'পপ ইস্যু'তে মা রিহানার কোলে দেখা গেছে রকিকে। সেখানে রকির পরনে ছিল ডিওরের লোগো সম্বলিত বিশেষভাবে তৈরি একটি ডায়াপার এবং মাথায় একটি মানানসই টুপি। ডিওরের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর জোনাথন অ্যান্ডারসন এই ডায়াপারটি ডিজাইন করেছেন। তিনি জানান, ডিওরের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো ডায়াপার তৈরির ঘটনা। জোনাথন বলেন, "রিহানা যখন কিছু চায়, সে আসলে সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে চিন্তা করে। সে প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করতে পছন্দ করে।"    উল্লেখ্য, রিহানা ও তার সঙ্গী এএসএপি রকি (A$AP Rocky)-এর তৃতীয় সন্তান রকি। এর আগে তাদের দুই ছেলে আরজেডএ (RZA) এবং রায়ট (Riot)-এর ক্ষেত্রেও রিহানার মাতৃত্বকালীন সাজপোশাক বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছিল। এবার মাত্র সাত মাস বয়সেই হাই-ফ্যাশন দুনিয়ায় অভিষেক হলো তার ছোট মেয়ের।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ছবিগুলো পোস্ট করে রিহানা লিখেছেন, "কভার গার্লস! মা'কে টেক্কা দিচ্ছে রকি!"ফ্যাশনবোদ্ধাদের মতে, রিহানা আবারও প্রমাণ করলেন যে মাতৃত্ব এবং উচ্চবিত্ত ফ্যাশনকে কীভাবে এক সুতোয় গেঁথে নতুন ট্রেন্ড তৈরি করা যায়।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১:১৪
ছবি: সংগৃহীত।
শাহরুখ খানের সঙ্গে আজমির শরিফ পরিদর্শন, সেই ‘ভয়ংকর’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন দেহরক্ষী

বলিউড বাদশা শাহরুখ খানকে এক নজর দেখার জন্য ভক্তদের পাগলামি নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই ভালোবাসাই যে কখনো প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, তা আবারও মনে করিয়ে দিলেন শাহরুখের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ইউসুফ ইব্রাহিম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ২০১১ সালে আজমির শরিফ দরগাহ পরিদর্শনে গিয়ে শাহরুখের সেই শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। ইউসুফ জানান, দিনটি ছিল শুক্রবার। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় এমনিতেই দরগাহ প্রাঙ্গণে ছিল উপচে পড়া ভিড়। তার ওপর শাহরুখ খানের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভক্তদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তা কর্মীদের। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই জটিল আকার ধারণ করে যে, পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। সেই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইউসুফ বলেন, "আমার পেশাগত জীবনে ওই একটি ঘটনাই ছিল যা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। ভিড়ের চাপে আমরা নিজেদের ইচ্ছেমতো হাঁটতে পর্যন্ত পারছিলাম না। মানুষ আমাদের ধাক্কা দিয়ে ভেতরে নিয়ে যাচ্ছিল, আবার ধাক্কা দিয়েই গাড়ির কাছে ফিরিয়ে এনেছিল।" তবে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতেও বিচলিত হননি শাহরুখ খান। দেহরক্ষী ইউসুফ জানান, কিং খান অত্যন্ত শান্ত ছিলেন এবং সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর ভরসা রেখেছিলেন। ভক্তদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাননি, যদিও লাঠিচার্জের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন। শাহরুখ খানের প্রতি মানুষের এই উন্মাদনা এবং তার বিনয়ী আচরণের গল্পটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন বেশ চর্চিত হচ্ছে। ভক্তদের ভালোবাসার যেমন সীমা নেই, তেমনি পর্দার পেছনের এই নায়কদের (দেহরক্ষী) চ্যালেঞ্জগুলোও যে কতটা কঠিন, ইউসুফের এই স্মৃতিচারণ যেন তারই প্রমাণ।  

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬ ০:২৮
ভারতীয় অভিনেত্রী নুসরত জাহান | ছবি: সংগৃহীত
রেশন দুর্নীতি ও গম পাচার মামলায় বিপাকে নুসরত জাহান; সিজিও কমপ্লেক্সে তলব

রেশন দুর্নীতি এবং বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গম পাচার মামলায় বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছেন টলিউড অভিনেত্রী ও বসিরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য নুসরত জাহান। এই দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়ায় নুসরতকে আগামীকাল সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার জন্য তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তবে সূত্র মারফত জানা গেছে, অভিনেত্রী কলকাতায় ইডির দপ্তরে না গিয়ে দিল্লির সদর দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, যখন বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি গম পাচারের অভিযোগ ওঠে, সেই সময় নুসরত জাহান বসিরহাটের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এই পাচারচক্রের আর্থিক লেনদেনের সাথে অভিনেত্রীর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। রেশন দুর্নীতির একটি বিশেষ সূত্র ধরেই তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।   ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী যশ দাশগুপ্তর সঙ্গে সময় কাটানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও এই স্পর্শকাতর মামলা নিয়ে নুসরত এখনও প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। এর আগেও বাণিজ্যিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন তিনি। বর্তমানে বিনোদন জগত থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও এই নতুন আইনি পদক্ষেপের ফলে আবারও নেটিজেনদের চর্চার কেন্দ্রে চলে এসেছেন এই তারকা-রাজনীতিবিদ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ২৩:৫০
অভিনেত্রী পূর্ণিমা | ফাইল ছবি
নিজের সৌন্দর্য নিয়ে ভক্তদের প্রশংসা বনাম বাস্তবতা: যা বললেন ঢাকাই সিনেমার ‘পরীর মতো’ পূর্ণিমা

ঢালিউডের চিরসবুজ অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দায় নিজের রাজত্ব ধরে রেখেছেন। রিয়াজ, মান্না, শাকিব খানের মতো শীর্ষ নায়কদের সঙ্গে অভিনয় করে তিনি পৌঁছে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ‘মনের মাঝে তুমি’ বা ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’—এর মতো কালজয়ী সিনেমার এই নায়িকা বর্তমানে ছোট ও বড় পর্দা এবং উপস্থাপনায় সমান জনপ্রিয়।   বিশেষ করে পূর্ণিমার রূপ ও সৌন্দর্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের উন্মাদনার শেষ নেই। তাকে ‘চিরযৌবনা’ বা ‘তিন প্রজন্মের নায়িকা’ হিসেবে অভিহিত করেন অনুরাগীরা। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভক্তদের এই অঢেল প্রশংসা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।   পূর্ণিমা জানান, ভক্তদের প্রশংসা তিনি বেশ উপভোগ করেন। তবে নিজেকে আগের মতোই অপরিবর্তিত ভাবার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, "মোটেও আমি একই জায়গায় নেই, আমার মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। এরপরও সবাই যেটা বলছে, এটা আসলে ব্লেসিং।" রূপের বিচারে নিজেকেই একমাত্র সেরা ভাবতে নারাজ এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী। তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, "ইন্ডাস্ট্রিতে আমার চেয়েও অনেক সুন্দরী এবং পরীর মতো দেখতে অনেকেই আছেন। তাই আমিই একমাত্র সুন্দরী নই।" ভক্তদের ভালোবাসা আর দোয়াই তাকে আজও পর্দায় টিকিয়ে রেখেছে বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ২১:৭
রুকাইয়া জাহান চমক | ছবি: সংগৃহীত
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অভিনেত্রী চমক; প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে কুষ্টিয়া থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা ও দিলরুবা খানের মতো সংস্কৃতি অঙ্গনের একঝাঁক তারকার সঙ্গে তিনিও গতকাল শুক্রবার দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন এই অভিনেত্রী।   সাক্ষাৎকার শেষে চমক গণমাধ্যমকে জানান, দেশ ও বিশেষ করে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি বলেন, “বিএনপির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) সঙ্গেও অনেক বিষয়ে কথা হয়েছে। কথা বলে আমার ইতিবাচক মনে হয়েছে এবং আমি মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী।” তবে দলীয় সিদ্ধান্ত যাই হোক, তা ইতিবাচকভাবে মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন এই রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন চমক। সেখানে তিনি সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন। বরিশালে জন্ম নেওয়া চমক ২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পরিচিতি পান। ২০২০ সাল থেকে ছোট পর্দায় অভিনয় শুরু করা চমকের ‘মহানগর’, ‘হায়দার’ ও ‘হাউস নং ৯৬’-এর মতো কাজগুলো দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ০:৭
মার্কিন গায়ক ও টিকটক সেনসেশন ডেভিড বার্ক
টেসলা গাড়িতে মিলল কিশোরীর মরদেহ: জনপ্রিয় মার্কিন গায়ক ডেভিড বার্ক গ্রেফতার

বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মার্কিন গায়ক ও টিকটক সেনসেশন 'D4vd' (ডেভিড বার্ক)-কে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী হত্যার দায়ে গ্রেফতার করেছে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ। দীর্ঘ সাত মাস তদন্তের পর বৃহস্পতিবার ২১ বছর বয়সী এই অল্টারনেটিভ-পপ তারকাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড হিলস এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি 'টেসলা মডেল ওয়াই' গাড়ি জব্দ করা হয়, যা গায়ক D4vd-এর নামে নিবন্ধিত ছিল। গাড়িটি ডাম্পিং ইয়ার্ডে নেওয়ার পর সেখান থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ালে পুলিশ তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে গাড়ির সামনের স্টোরেজ (Frunk) থেকে দুটি কালো ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। একটি ব্যাগে ১৪ বছর বয়সী সেলেস্তে রিভাস হার্নান্দেজের মাথা ও ধড় এবং অন্য একটি ব্যাগে তার বিচ্ছিন্ন হাত-পা পাওয়া যায়। নিহত সেলেস্তে ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লেক এলসিনোর থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে ডিভিডির (D4vd) সাথে তার সম্পর্ক ছিল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের একসাথে ছবিও দেখা গিয়েছিল। নিখোঁজের প্রায় এক বছর পর তার পচন ধরা খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার তদন্ত চললেও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কারো নাম প্রকাশ করেনি। তবে সম্প্রতি ডিভিডির পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতের সমন পাঠানো হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ডেভিড বার্ককে বিনা জামিনে জেলহাজতে রাখা হয়েছে। আগামী সোমবার তাকে আদালতে পেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হতে পারে। এদিকে ডিভিডির আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে গায়কের নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, "ডেভিড বার্ক সেলেস্তে রিভাসকে হত্যা করেননি এবং তার মৃত্যুর পেছনেও তিনি দায়ী নন। আমরা আদালতে ডেভিডের নির্দোষিতা প্রমাণ করব।" D4vd মূলত ২০২২ সালে টিকটকে তার 'রোমান্টিক হোমিসাইড' (Romantic Homicide) গানটির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান। তার এই আকস্মিক গ্রেফতার সংগীত জগতে এবং তার লক্ষ লক্ষ ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ২:২৬
কাশিশ মেথওয়ানি
গ্ল্যামার জগত মাতিয়ে এবার ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট হলেন 'মিস ইন্ডিয়া' কাশিশ

গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্য আর সামরিক জীবনের কঠিন শৃঙ্খলা— এই দুই বিপরীত মেরুকে এক সুতোয় বেঁধে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কাশিশ মেথওয়ানি। ২০২৩ সালে ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া’র মুকুট জয়ী এই সুন্দরী এখন আর কেবল র‍্যাম্পের মডেল নন, তিনি এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত লেফটেন্যান্ট। ভারতের পুণের সাবিত্রীবাই ফুলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কাশিশের স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শৈশব থেকেই তাঁর মনে ছিল দেশসেবার অদম্য বাসনা। ২০২৩ সালে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সাফল্যের শীর্ষবিন্দু ছোঁয়ার পর তিনি থেমে থাকেননি। নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে যোগ দেন কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেস (সিডিএস) পরীক্ষায়। সেখানেও সফলতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি, অর্জন করেন সর্বভারতীয় দ্বিতীয় র‍্যাঙ্ক। চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে টানা ১১ মাসের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর পাসিং আউট প্যারেডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন তিনি। কাশিশ প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা আর একাগ্রতা থাকলে একই অঙ্গে রূপ আর শৌর্যের মিলন ঘটানো সম্ভব। উল্লেখ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও কাশিশ পিছিয়ে নেই। ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়ে তিনি ‘ক্রিটিক্যাল কজ’ নামক একটি উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল রক্তদান ও অঙ্গদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। র‍্যাম্পের মোহময়ী জগত ছেড়ে দেশের সীমান্ত রক্ষার এই কঠিন পথ বেছে নেওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন এই নতুন সেনাসদস্য।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ২:৮
‘দম’ সিনেমার পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশের মাটিতে নিশো-চঞ্চল ম্যাজিক; যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৫৮ প্রেক্ষাগৃহে দাপট দেখাচ্ছে ‘দম’

দেশের সীমানা ছাড়িয়ে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে রেদওয়ান রনি পরিচালিত সিনেমা ‘দম’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে অভাবনীয় দর্শক সাড়া পাওয়ার পর দ্বিতীয় সপ্তাহে সিনেমাটির হলের সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মোট ৫৮টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে এই আলোচিত ছবি।   গত ১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৭টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ‘দম’। কিন্তু দর্শকের প্রবল চাহিদার মুখে ১৭ এপ্রিল থেকে হলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়েছে। একই দিনে কানাডার আরও ৮টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল জানান, ঈদুল ফিতরে বাংলাদেশে ‘বিগেস্ট ওপেনার’ হওয়ার পর বিদেশের মাটিতেও সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।   সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘দম’ সিনেমায় প্রথমবারের মতো পর্দা ভাগ করেছেন ছোট পর্দার দুই সুপারস্টার আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরী। কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি। সিনেমার প্রচারণায় বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করছেন নির্মাতা রেদওয়ান রনি। যৌথভাবে এই সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকীসহ একঝাঁক মেধাবী তরুণ লেখক।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ২১:২৫
মডেল রুবি রোজ ও মার্কিন পপ তারকা কেট পেরি
কেট পেরি’র বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার বিস্ফোরক অভিযোগ রুবি রোজের: তদন্তে অস্ট্রেলীয় পুলিশ

বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ তারকা কেট পেরি’র বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী ও মডেল রুবি রোজ। ২০১০ সালে মেলবোর্নের একটি নাইটক্লাবে ঘটা এক ঘটনার রেশ ধরে শুরু হয়েছে এই আইনি লড়াই। এরই মধ্যে অভিযোগটি তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে অস্ট্রেলীয় পুলিশ। কী ঘটেছিল সেদিন? অরেঞ্জ ইজ দ্য নিউ ব্ল্যাকখ্যাত অভিনেত্রী রুবি রোজ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানান, ২০১০ সালে মেলবোর্নের 'স্পাইস মার্কেট' নাইটক্লাবে কেট পেরি তাকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন। রুবি’র দাবি, ঘটনাটি এতোটাই কুরুচিপূর্ণ ছিল যে তিনি তৎক্ষণাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। প্রায় দুই দশক আগের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা এখন প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। পুলিশি তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ: ভিক্টোরিয়া পুলিশ সিএনএন-কে নিশ্চিত করেছে যে, মেলবোর্ন যৌন অপরাধ এবং শিশু নির্যাতন তদন্ত দল (SOCIT) রুবি রোজের আনা এই অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। রুবি রোজ জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে আপাতত বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে আর মন্তব্য করবেন না। কেট পেরি’র পাল্টা প্রতিক্রিয়া: কেট পেরি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে এই অভিযোগকে পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, "রুবি রোজ সামাজিক মাধ্যমে কেট পেরি’র বিরুদ্ধে যে কথাগুলো ছড়িয়েছেন তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং এগুলো বিপজ্জনক ও বেপরোয়া মিথ্যাচার।" কেট পেরি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রুবি’র এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করার ইতিহাস রয়েছে। কেন এতো দেরি? রুবি রোজ জানিয়েছেন, আগে তিনি ক্যারিয়ার এবং মার্কিন ভিসার প্রয়োজনে চুপ ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে শক্তিশালী বোধ করায় এবং নিজের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার পেতে মুখ খুলেছেন। এই ঘটনায় হলিউড ও অস্ট্রেলীয় বিনোদন জগতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৭:২৬
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0