নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করল বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটনে চাপ দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চের দুই পাশের বড় ডিজিটাল পর্দায় ভেসে ওঠে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতীকী ছবি। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে পৌঁছে যায় নির্ধারিত ভাতার অর্থ। মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নারীপ্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আজ তার বাস্তবায়ন শুরু হলো।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল সরকার গড়তে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার মর্যাদা দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পরে মঞ্চে উপস্থিত ১৭ জন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। এতে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন কার্ডপ্রাপ্ত নারী মঞ্চে উঠে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। জরিনা বেগম নামে একজন নারী বলেন, জীবনে কখনও ভাবেননি এমন একটি কার্ড হাতে পাবেন। এই অর্থ তার পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হওয়াকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রথম ধাপে ঢাকাসহ দেশের ১৪টি স্থানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর আওতায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ইতোমধ্যে ভাতার অর্থ পেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় তিনি কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। আগামী মাসের মধ্যে কৃষকদের হাতেও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অংশ হিসেবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ইতোমধ্যে সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী না করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করল বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটনে চাপ দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চের দুই পাশের বড় ডিজিটাল পর্দায় ভেসে ওঠে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতীকী ছবি। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে পৌঁছে যায় নির্ধারিত ভাতার অর্থ। মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নারীপ্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আজ তার বাস্তবায়ন শুরু হলো। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল সরকার গড়তে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার মর্যাদা দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পরে মঞ্চে উপস্থিত ১৭ জন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। এতে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন কার্ডপ্রাপ্ত নারী মঞ্চে উঠে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। জরিনা বেগম নামে একজন নারী বলেন, জীবনে কখনও ভাবেননি এমন একটি কার্ড হাতে পাবেন। এই অর্থ তার পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হওয়াকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রথম ধাপে ঢাকাসহ দেশের ১৪টি স্থানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর আওতায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ইতোমধ্যে ভাতার অর্থ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। আগামী মাসের মধ্যে কৃষকদের হাতেও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অংশ হিসেবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ইতোমধ্যে সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী না করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হলেন তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি। সোমবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজনানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনিই হতে যাচ্ছেন দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে খামেনি পরিবারের বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় বাবা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি। উল্লেখ্য, ওই হামলায় মোজতবা তাঁর মা, স্ত্রী ও এক বোনকেও হারিয়েছেন; কেবল বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। মোজতবা খামেনি ইরানের শাসনব্যবস্থার এক রহস্যময় অথচ অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতবা বেড়ে উঠেছেন ইসলামি বিপ্লবের উত্তাল সময়ে। তেহরানের এলিট আলাভি হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি দীর্ঘ সময় তেহরান ও কুমে ধর্মীয় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। যদিও ধর্মীয় পদমর্যাদায় তিনি এখনো ‘আয়াতুল্লাহ’ নন, তবুও গত কয়েক দশক ধরে সুপ্রিম লিডারের দপ্তরের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ‘গেটকিপার’ বা আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। বিশ্লেষকরা প্রায়ই তাঁর এই ভূমিকাকে প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির পুত্র আহমদ খোমেনির ক্ষমতার সাথে তুলনা করে থাকেন। মোজতবার ক্ষমতার অন্যতম প্রধান উৎস হলো ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সাথে তাঁর গভীর সখ্যতা। ইরান-ইরাক যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী মোজতবা দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। যদিও তিনি কখনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা সরাসরি জনসম্মুখে আসেননি, তবুও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দাবি করেছিল যে, আলী খামেনি তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা মোজতবার হাতে ন্যস্ত করেছিলেন। তবে মোজতবা খামেনির এই উত্তরণ ইরানের সংবিধানে থাকা কিছু প্রথাগত নিয়মের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতাকে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় আলেম হতে হয়, যেখানে মোজতবা একজন মধ্যম সারির আলেম। তদুপরি, রাজতন্ত্র উৎখাত করে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থায় বাবার পর ছেলের ক্ষমতা গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতি এবং ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলে শেষ পর্যন্ত মোজতবার হাতেই ন্যস্ত হলো ইরানের ভাগ্য। এখন দেখার বিষয়, এই কঠিন সময়ে নতুন প্রজন্মের এই নেতা কীভাবে ইরানকে পরিচালনা করেন।
নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অলটারনেটিভস (বাংলাদেশ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম) তাদের জাতীয় সংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করেছে। কমিটিতে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং সাবেক এনসিপি নেত্রী তাজনুভা জাবীন–সহ মোট ১৭ জন সদস্য রয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির লক্ষ্য তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নতুন রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ ঘটানো। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— আহমদ ইবনে আরিফ (অনি), ইমন সৈয়দ, ইমরান আহমেদ, জাহিন ফারুক আমিন, তানভীর চৌধুরী, দুর্জয় দাশ গুপ্ত, ফরহাদুল আলম সবুজ, মায়িদা তানহা বিদুষী, মুতাসিম বিল্লাহ, মনিরুজ্জামান, মো. রায়হানুর রহমান (রাবি), মোহাম্মাদ এরফানুল হক, সাজ্জাদ হোসেন শহীদুল্লাহ, শেখ ফরিদ এবং হাসান আলী। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে একটি আলোচনা সভার মাধ্যমে অলটারনেটিভস–এর কার্যক্রম শুরু হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের অংশগ্রহণ, নতুন রাজনৈতিক ভাবনার বিকাশ এবং জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে জাতীয় সংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশজুড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।