সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ বার্তায় এই অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জোরালো প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বিশ্ব সংস্থাটি। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তায় সকল রাজনৈতিক অংশীজনকে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের এই ইতিবাচক গতি ধরে রেখে জাতীয় সংহতি আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জাতিসংঘের এই বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সকল রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, জাতিসংঘ বাংলাদেশের এই নতুন যাত্রাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাবে। বিশ্ব রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জাতিসংঘের এমন সমর্থন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা নৃশংস আগ্রাসনে ফিলিস্তিনি শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি ধসে পড়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, গাজার মোট স্কুল ভবনের ৯০ শতাংশই হয় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে। ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, গাজার যে কয়টি স্কুল ভবন এখনো টিকে আছে, সেগুলোতে বর্তমানে ঘরবাড়ি হারানো হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালানো এখন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে গাজার শিশুরা অস্থায়ী তাবু কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করে যৎসামান্য শিক্ষা গ্রহণের চেষ্টা করছে। সংস্থাটি আরও জানায়, এই চরম মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেও তারা গাজার শিশুদের জন্য শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ ও অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার কারণে এই কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সংঘাতের দুই বছরে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ (১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলের এই পদ্ধতিগত হামলাকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ কার্যালয় এক বিশেষ বার্তা প্রদান করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই বার্তায় নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের সব অংশীজনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের এই বার্তায় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, নির্বাচনে নিরাপদ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে নারী, মেয়ে, প্রতিবন্ধী নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একটি সফল গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নারী প্রার্থী এবং ভোটারদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে— রাজনৈতিক নেত্রী, কর্মী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের লক্ষ্য করে সাইবার বুলিং, ডিপফেক, ছবি বিকৃতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির মতো ঘটনাগুলো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দল, নেতা ও তাদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নারীদের প্রতি কোনো প্রকার হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখানো যাবে না। নারী ভোটাররা যেন কোনো প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব। জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, তারা নারীদের নির্বাচনি অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ধারাবাহিকভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ দেশের নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং প্রতিটি ব্যক্তির অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্বশান্তি রক্ষা ও সংঘাত-পরবর্তী দেশ পুনর্গঠনে আবারও নেতৃত্বের সারিতে উঠে এলো বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘের অত্যন্ত প্রভাবশালী সংস্থা ‘শান্তি বিনির্মাণ কমিশন’ বা পিসবিল্ডিং কমিশন (পিবিসি)-এর সহ-সভাপতি হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে লাল-সবুজের এই দেশ। নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিশ্ববাসীর এই আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। পিবিসির ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এই শক্তিশালী ‘ব্যুরো’ গঠন করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে মরক্কো এবং বাংলাদেশের পাশাপাশি জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। মূলত সংঘাতময় পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা দেশগুলোতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাতিসংঘকে সরাসরি পরামর্শ দেওয়াই এই কমিশনের প্রধান কাজ। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে এই কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ এর অন্যতম একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। এর আগে ২০১২ ও ২০২২ সালে বাংলাদেশ এই কমিশনের ‘সভাপতি’ হিসেবে সফলভাবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ‘সহ-সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করেছে। ৩১টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিশনে সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের শীর্ষ সৈন্য ও অর্থ প্রদানকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে কাজ করেন। সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বরাবরই বিশ্বশান্তি ও মানবিক মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। পিবিসির এই নতুন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংঘাতময় দেশগুলোর পুনর্গঠন ও উন্নয়নে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই বিজয় প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে আমাদের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও শক্তিশালী হয়েছে। এটি কেবল একটি পদ নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের অসামান্য ত্যাগের এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি না হলেও, এটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যকারিতা ও কর্তৃত্বকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল একাডেমি অব ন্যাশনাল ইকোনমি অ্যান্ড পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহযোগী অধ্যাপক নিকোলাই গাপোনেনকো। রুশ সংবাদমাধ্যম তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাপোনেনকো সতর্ক করেছেন যে, এই বোর্ড গঠনের মাধ্যমে জাতিসংঘের একচেটিয়া ফোরাম হিসেবে ভূমিকা সীমিত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বী জোট গঠনের সম্ভাবনা, তাত্ক্ষণিক চুক্তির বিস্তার ও আন্তর্জাতিক আইনের দুর্বল হওয়া ঘটতে পারে। সংবাদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেশকে বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে বোর্ডটি সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করবে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মিসর, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই শান্তি পরিকল্পনায় সম্মতি হয়। গাপোনেনকো বোর্ড গঠনের তিনটি উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন: ট্রাম্পকে একজন দৃঢ় ও উদ্ভাবনী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা। জাতিসংঘকে সংস্কার বা নীতিগত পরিবর্তনে চাপ দেওয়া। সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে অনাকাঙ্ক্ষিত পক্ষগুলোকে বাদ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং মস্কো বর্তমানে বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, যদিও বোর্ড অব পিস জাতিসংঘকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না, তবুও এর আবির্ভাব বিশ্ব রাজনীতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তোলে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।