সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

জাতিসংঘ

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের আইন কার্যকরের অনুমতি পেয়েছে ফ্লোরিডা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের আইন কার্যকরের পথে বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে। ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ১৪ ও ১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করার আইন কার্যকরের অনুমতি দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত দেয়। আদালতের মতে, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইনটি সাংবিধানিক পরীক্ষায় টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   ২০২৪ সালে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাষ্ট্রে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে এটিকে অন্যতম কঠোর আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সীরা নির্ধারিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। আর ১৪ ও ১৫ বছর বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে। তবে আইনটি সব ধরনের অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এতে মূলত এমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো অ্যালগরিদমের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত রাখতে পারে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে।   আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এটি সম্ভবত নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিচারকদের মতে, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থে আইনটি যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে না। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ আইনি পর্যালোচনার পরও আইনটি বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালত মনে করছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সব ধরনের আইনি বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।   ফ্লোরিডার আইনটির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি সংগঠন, কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন এবং নেটচয়েস। তাদের যুক্তি, এ ধরনের বিধিনিষেধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে। ২০২৫ সালে নিম্ন আদালতের একজন বিচারক আইনটি সম্ভবত অসাংবিধানিক বলে মত দিয়ে এর প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। পরে আপিল আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়। এবার আপিল আদালত নিম্ন আদালতের ওই আদেশ বাতিল করায় আইনটি কার্যকরের পথ খুলেছে।   আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আইনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব ধরনের ব্যবহার বন্ধ করে দিচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট বয়সীদের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ আইনে বয়সের ভিত্তিতে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবকের সম্মতি নিশ্চিত করতে হতে পারে। আইনটির আওতায় পড়া প্ল্যাটফর্মে আগে থেকেই থাকা অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বন্ধ করতে হবে।   নেটচয়েস আদালতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির আইনজীবী পল টাস্কে বলেছেন, অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা বজায় রাখতে তাঁরা আইনি বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করছেন। অন্যদিকে, ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের পর মামলাটি ফ্লোরিডার রাজধানী টালাহাসির ফেডারেল আদালতে ফিরে যাবে। সেখানে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলবে। ফলে আইনটির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগ এবং ইন্টারনেটে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এই মামলার পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের রায়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ২৩:১১
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় ইরান বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় ইরান, তবে হুমকি বা শক্তি প্রয়োগের মুখে কোনো সমঝোতা করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানের এই অবস্থান তুলে ধরেন।   পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু চাপ প্রয়োগ করে দেশটিকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্যে আলোচনার আগ্রহের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আস্থার সংকটও উঠে আসে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পেজেশকিয়ান এর আগে অভিযোগ করেছেন, আলোচনা চলার সময়ও ইরান হামলার শিকার হয়েছে। এ অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তেহরানের অবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে তাঁর দাবি।   এর আগে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলের কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আগ্রহ স্পষ্ট করতে হবে বলে তিনি জানান।   পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে সংলাপের সম্ভাবনা থাকলেও দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি বা সরাসরি আলোচনার ঘোষণা আসেনি। কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে উভয় পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১০:৩৩
জাতিসংঘে শামা ওবায়েদ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ

নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে চালু হওয়া ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’-এর কথা জাতিসংঘের মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।   ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন তিনি। বৈঠকটি আয়োজন করে ক্রোয়েশিয়া ও ইউএন উইমেন।   বৈঠকে শামা ওবায়েদ নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। দ্রুত তদন্ত ও বিচার, আইনি সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তার বিষয়গুলোও তার বক্তব্যে উঠে আসে।   নারীদের গণপরিবহনে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সম্প্রতি চালু হওয়া নারী-নির্দিষ্ট ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’-এর বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের জন্য গণপরিবহনকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করাই এই সেবার অন্যতম উদ্দেশ্য।   বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ১৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও বাস ডিপো থেকে পিঙ্ক বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করে। প্রথম পর্যায়ে ১৪টি বাস নিয়ে এই সেবা চালু করা হয়। বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, বাসগুলো ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, বগুড়া ও চট্টগ্রামের নির্ধারিত রুটে চলাচলের জন্য দেওয়া হয়।   এই সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বাস পরিচালনায় নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টরদের অংশগ্রহণ। উদ্যোগটির মাধ্যমে নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে।   জাতিসংঘের বৈঠকে শামা ওবায়েদ নারীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিষয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।তিনি বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন ‘ঢাকা ডায়ালগ’ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ, ঘটনার তদন্ত এবং তা মোকাবিলায় স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের। এ উদ্যোগের ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নতুন ধরনের ডিজিটাল হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে অনলাইন হয়রানি, মানহানি, পরিচয় জালিয়াতি এবং এআই-নির্ভর নিপীড়নের মতো বিষয় ছিল।   শামা ওবায়েদ সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার নারীদের সুরক্ষার বিষয়টিও জাতিসংঘের আলোচনায় তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন তিনি।   নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে আইন ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগের পাশাপাশি নিরাপদ গণপরিবহন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা মোকাবিলার বিষয়গুলো একই আলোচনায় তুলে ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বিভিন্ন উদ্যোগের চিত্র উপস্থাপন করেছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১২:১৬
গুতেরেস প্রধানমন্ত্রী
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সচিবালয় ভবনের ২৭ তলায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।   এ ছাড়া জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত অবদান নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।   বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বহুপক্ষীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিশ্বশান্তি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের কথা বলেন।   বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।   জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া বিশ্বনেতাদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজ ও অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৭:২৯
ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল পুনর্গঠনের জন্য ঋণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অনুদান চেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল পুনর্গঠনের জন্য ঋণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অনুদান চেয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গঠিত আন্তর্জাতিক ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এর কাছে জরুরি ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার সহায়তার আবেদন করেছে দেশটি। প্রাথমিক হিসাবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে নেপালের সম্পদ, আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার, আর পুনর্গঠনে প্রয়োজন হতে পারে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার।   বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জলবায়ু দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে ঋণের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অনুদানের মাধ্যমে সহায়তা করা প্রয়োজন।   আগস্টের শেষ দিকে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও পাহাড়ের একটি অংশ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি হয়। এতে নেপালে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, হাজারো মানুষ নিখোঁজ হন এবং সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রয়টার্সের সর্বশেষ হিসাবে দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।    নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির প্রাথমিক হিসাবে শুধু সম্পদ, আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি বা ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সামগ্রিক পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে—যা নেপালের অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান।   এই বিপুল ক্ষতির মধ্যে নেপালের অর্থ ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে জরুরি ২ কোটি ডলারের আবেদন করেছে। বর্তমানে একটি দেশের একক আবেদনের সর্বোচ্চ সীমাই ২ কোটি ডলার। ফলে নেপাল সর্বোচ্চ অনুমোদিত অর্থ চেয়েছে।   তবে ২ কোটি ডলার নেপালের সামগ্রিক ক্ষতির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। কার্বন ব্রিফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির এক শতাংশেরও কম। আর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য পুনর্গঠন ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধান আরও বড়।    নেপাল এই সহায়তাকে প্রচলিত অর্থে দাতব্য সাহায্য হিসেবে দেখতে চায় না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, এটি ‘ক্লাইমেট জাস্টিস’ বা জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। তার বক্তব্য, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০ দশমিক ১ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় মূল্য দেশটির মানুষকে দিতে হচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও জাতিসংঘে একই যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি সাম্প্রতিক বন্যাকে শুধু নেপালের স্থানীয় বিপর্যয় নয়, বরং বিশ্বের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্য, হিমবাহ দ্রুত সরে যাচ্ছে, পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল হচ্ছে এবং নদীর আচরণ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।   বন্যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়েও নতুন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এসেছে। বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল জানিয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন নেপালের সাম্প্রতিক হিমবাহ ধস ও ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে—এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। উষ্ণতা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন এবং পারমাফ্রস্ট দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো পাহাড়ি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে বলে তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   তবে নেপালের ২ কোটি ডলারের জরুরি আবেদন এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি। লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের বোর্ড নেপালের অনুরোধ পাওয়ার পর জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব সহায়তার উপায় খুঁজতে আলোচনা ও সমন্বয় চলছে।   এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নেপাল এর আগে আলাদা প্রস্তাবের ভিত্তিতে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলারের অর্থায়নের অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু আগস্টের ভয়াবহ বন্যার পর করা নতুন জরুরি ২ কোটি ডলারের আবেদনটি আলাদা, এবং সেটির সিদ্ধান্ত এখনো অপেক্ষমাণ।   এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্গঠনের জন্য নেপাল ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রায় ৯ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বন্যা পুনরুদ্ধার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   নেপালের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে হিমালয় অঞ্চলের জন্য একটি ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন। এতে নেপাল, ভারত ও চীনকে একসঙ্গে স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময়, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব রয়েছে।   বন্যাবিধ্বস্ত নেপালের সামনে এখন তাই শুধু ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নয়; বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই পুনর্গঠনের অর্থ কোথা থেকে আসবে। কাঠমান্ডুর অবস্থান হলো—জলবায়ু সংকট তৈরিতে যেসব দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ভূমিকা সামান্য, তাদের নতুন ঋণের বোঝায় না ফেলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের মাধ্যমে ক্ষতি সামাল দিতে সহায়তা করা উচিত।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৪:৫৫
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে ফিরতে চায় ইরান। ছবি: সংগৃহীত
মিডটার্ম নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায় ইরান, জাতিসংঘে বার্তা প্রেসিডেন্টের

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে ফিরতে চায় ইরান। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এনবিসি নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ কথা জানান। তিনি জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির সমঝোতায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।   পেজেশকিয়ান বলেন, বিষয়টি যেন নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচন পর্যন্ত গড়ায়, তা ইরান চায় না। তিনি জুনের সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতায় ফিরে আসুক, এটাই তেহরানের প্রত্যাশা। জুনে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির কাঠামো ছিল, তবে পরে সেটি ভেঙে যায়।   পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যের দুই দিন আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হবে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান নির্বাচনের ফলাফল দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছিল।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানান, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো ওই প্রস্তাবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়েছে।   আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটির শর্তগুলো মূলত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবে সম্মতি দিলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়টিও প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।   হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই প্রস্তাব এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে।   এদিকে পেজেশকিয়ান একই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের বিষয়ে দেশটি উন্মুক্ত রয়েছে বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার চেষ্টা করা ইরান সরকারের অবস্থান নয়। এর আগে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিল, যা তেহরান অস্বীকার করেছে।   তবে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এখনো কোনো নতুন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা নয়। তেহরান আগের সমঝোতায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাবটি গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও যুদ্ধের অবসান ও নতুন চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো হয়নি।   সূত্র: এনবিসি নিউজ

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৩:৫৭
গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি হামলার কারণে নতুন করে ধ্বংসযজ্ঞ ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের অধিবেশনে গাজায় পুনর্গঠনে ২৪০ কোটি ডলারের অনুদান প্রস্তাব

গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও আগের হামলায় আহতদের মৃত্যুর খবরের মধ্যেই উপত্যকাটির প্রাথমিক পুনর্গঠনে প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ৬৬টি প্রকল্পের এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। একই দিনে গাজাজুড়ে সাত ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।    বোর্ড অব পিসের গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ পরে জানান, প্রথম ধাপের প্রকল্পগুলো ছয় মাসে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪৫ কোটি ডলার। পানি, পয়োনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ রয়েছে পরিকল্পনায়। তবে ছয় মাসের সময়সীমা নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নয়; মাঠের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর কাজ শুরুর গতি নির্ভর করবে বলে তিনি জানান।    বুধবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছে আল মাওয়াসিতে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। মধ্য গাজার দেইর আল বালাহতে আরেকটি গাড়িতে হামলায় অন্তত দুজন এবং গাজা নগরীতে পৃথক হামলায় অন্তত একজন নিহত হন। আগের দিনগুলোতে ইসরায়েলি গুলিতে আহত এক নারী ও এক পুরুষও এদিন মারা যান। এই সাতজনের সবাই বুধবারের নতুন হামলায় নিহত হয়েছেন, এমনটি নয়। আল মাওয়াসির হামলায় হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ অর্থবিষয়ক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।    পুনর্গঠন শুরুর পথে নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন বড় বাধা হয়ে আছে। ম্লাদেনভের ভাষ্য অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগও প্রয়োজনের তুলনায় কম। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে, সেখানে পুনর্গঠনের কাজ এগোনো সম্ভব হবে।    বোর্ড অব পিসের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অর্থ শুধু প্রাথমিক কাজের জন্য। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে মধ্যমেয়াদে অবকাঠামো পুনর্গঠনে আরও বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। ফলে নিউইয়র্কে পরিকল্পনা ঘোষণার পরও গাজাবাসীর জন্য জরুরি প্রশ্ন রয়ে গেছে: নিরাপদে কাজ শুরু করার মতো পরিস্থিতি কবে তৈরি হবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৩:৩৯
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন খাতের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ডে’ সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা একটি কার্ডের আওতায় আনা হবে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছাতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব কার্ড সমন্বয় করেই ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।   ভাষণে তিনি জানান, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সরকার এটিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।   ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর ভাবনা নতুন নয়। এর আগে জাতীয় সংসদেও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার কার্ড পর্যায়ক্রমে একীভূত করার কথা বলেছিলেন। তবে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে কার্ডটি কবে চালু হবে, কারা পাবেন বা আবেদন প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।   একই ভাষণে উন্নত প্রযুক্তির সুযোগ সবার নাগালে আনার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফল কাজে লাগাতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালারও আহ্বান জানান তিনি।   সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ০:১৪
জাইমা রহমান
জাতিসংঘে জাইমা রহমানের পেশাগত যাত্রা, দায়িত্ব পেলেন ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ বা আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের মেয়ে।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত দলে জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার মূল কাজ হবে সভাপতির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো দেখা।   প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকাতেও ‘Ms. Zaima Rahman — Legal Officer — Bangladesh’ হিসেবে তার নাম রয়েছে। একই দলে বাংলাদেশ থেকে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন দায়িত্ব পেয়েছেন।   বাংলাদেশি কূটনীতিক আব্দুল আলিম ‘ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট, মাফিজুল ইসলাম ডিজিটাল উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানানো হয়।   জাইমা রহমান আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষায়ও তিনি উত্তীর্ণ হন।   জাইমা রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি। এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পেশাগত দায়িত্বে যুক্ত হলেন তিনি।   ড. খলিলুর রহমান গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার কার্যালয়ের প্রকাশিত টিমে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক বিষয়, মানবাধিকার, মানবিক সহায়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, সংস্কার, যোগাযোগ ও আইনি বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।   জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি নিজে জাতিসংঘের নিয়মিত কর্মী নন এবং সংস্থাটি থেকে নিয়মিত বেতন পান না। সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন ব্যয় সংশ্লিষ্ট দেশ, জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নির্বাহ হতে পারে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১১:৪৭
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলায় ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটিই তাঁর প্রথম ভাষণ। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যা বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৩টা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে এ সময়সূচি জানিয়েছেন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুও স্থান পাবে। বিশেষভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে।    রোহিঙ্গা সংকটও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ার কথা। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। জাতিসংঘের মঞ্চে এই সংকটের ব্যাপকতা এবং বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।    এর পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক প্রযুক্তিতে ন্যায়সংগত প্রবেশাধিকার এবং বর্তমান বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার মতো বিষয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।    জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশ এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে জলবায়ু ইস্যুকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাধারণ পরিষদে ভাষণের আগে আজ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে সেখানে।   একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন এবং নিউইয়র্কে পৌঁছে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে সরকারের একাধিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন।    সরকারের পক্ষ থেকে এবারের অংশগ্রহণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। কারণ, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ। তাঁর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা তুলে ধরবেন।   নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষ করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। 

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৬:৩২
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘে তারেক রহমানের পাঁচ দফা আহ্বান, জলবায়ু অর্থায়নে জোর

বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে ০.৫ শতাংশেরও কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।   বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি এরই মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান হয়েছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।   জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নেও বড় ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস আগে ঘোষিত বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   বাংলাদেশের নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য তাপমাত্রা কমানো। তিনি অন্তত এক ডিগ্রি তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে দুই ডিগ্রি লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।   বন্যা ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়াতে পদ্মা ও তিস্তা নদীকে ঘিরে ব্যারাজ বা জল নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান।   পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো উদ্যোগের পাশাপাশি জাতীয় কার্বন মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।   তবে এসব উদ্যোগ একা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ‘কমন বাট ডিফারেনশিয়েটেড রেসপনসিবিলিটিজ’ এবং নিজ নিজ সক্ষমতার ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনে সব দেশের দায় ও সক্ষমতা এক নয়—এই নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।   বক্তব্যে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সীমা ধরে রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার কথা বলেন।   তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে বেশি সুযোগ দিয়ে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু রূপান্তর নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। চতুর্থত, সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলেন। পঞ্চমত, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং নিয়মিতভাবে তাতে অর্থ পুনর্ভরণের আহ্বান জানান।   তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এমন অংশীদারত্ব প্রয়োজন, যা দেশকে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৬:৫৭
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলকে গোলান মালভূমি দেওয়ার বদলে নিউ জার্সি দিয়ে দিতে পারেন, ট্রাম্পকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক আলোচনায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, ইসরায়েলকে গোলান মালভূমি দেওয়ার বদলে নিউ জার্সি দিয়ে দিতে পারেন। গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করতে তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন। ২৩ সেপ্টেম্বরের ওই আলোচনায় তিনি একই সঙ্গে বলেন, গোলান মালভূমি কোনো প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে একজন আরেকজনকে তা দিয়ে দেবেন।    আল শারা বলেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তখন তিনি রসিকতা করে ট্রাম্পকে বলেন, যদি ইসরায়েলকে কোনো ভূখণ্ড দিতে এতটাই আগ্রহ থাকে, তাহলে নিউ জার্সি দেওয়া যেতে পারে। কারণ, তার ভাষায়, ট্রাম্প নিউ জার্সির মালিক হলেও গোলান মালভূমির মালিক নন।    আল শারা আরও বলেন, নিউ জার্সিতে ডেমোক্র্যাট ভোটার বেশি এবং তারা সাধারণত ট্রাম্পকে ভোট দেন না। তাই রসিকতার অংশ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েলকে নিউ জার্সি দিয়ে দিলে বিষয়টি হয়তো ভালোই হতো। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি ছিল কেবল একটি রসিকতা। গোলান মালভূমি নিয়ে তার মূল বক্তব্য ছিল ভিন্ন।   সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, গোলান মালভূমি সেখানকার মানুষের এবং কোনো সিরীয় বা মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই অন্য কারও কাছে ওই ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার অধিকার নেই। তার বক্তব্যে গোলান ইস্যুতে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান আবারও উঠে আসে।    গোলান মালভূমি ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল সেখানে নিজেদের আইন, বিচারিক এখতিয়ার ও প্রশাসন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদও পরবর্তী বিভিন্ন প্রস্তাবে গোলানকে দখলকৃত সিরীয় ভূখণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে।    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আলাদা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেন। হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক নথিতেও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদের ওই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    আল শারার মন্তব্যের সময় সিরিয়া ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়েও নিউইয়র্কে আলোচনা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনাও চলছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এসব যোগাযোগকে এখনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আল শারার নিউ জার্সি নিয়ে রসিকতা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও, তার বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল গোলান মালভূমির বিষয়ে সিরিয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১১:৫০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে নিহত নারী-শিশুদের ছবি দেখিয়ে গাজা নিয়ে প্রশ্ন ইরানের প্রেসিডেন্টের

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গাজা ও ইরানে নিহত বেসামরিক মানুষের ছবি তুলে ধরেছেন। বুধবারের ভাষণে তিনি গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ইরানের ওপর হামলার প্রসঙ্গও জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরেন।    পেজেশকিয়ানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জাতিসংঘের এবারের সাধারণ পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও মানবিক সংকট অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের কথা তুলে ধরে যুদ্ধ বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছেন।    ভাষণে পেজেশকিয়ান গাজার বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, হামলায় প্রাণহানির পাশাপাশি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষ গুরুতর সংকটে রয়েছে। গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা নিয়ে তিনি যে পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন, সেটি তাঁর বক্তব্যে দেওয়া হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে গাজার মানবিক পরিস্থিতির গুরুতর অবস্থা উঠে এসেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের ২২ সেপ্টেম্বরের ভাষণে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধের ফলে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পৌঁছাচ্ছে। তিনি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং মানবিক সহায়তা অবাধে প্রবেশের আহ্বান জানান।    পেজেশকিয়ান তাঁর ভাষণে ইরানের ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন। এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন স্কুলশিশু ছিল। এই সংখ্যা ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব।   জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের পেছনে আরও বড় একটি কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই তিনি নিউইয়র্কে এসেছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চলছে।    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগের খবরও এসেছে। ফলে পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘ সফর শুধু গাজা ইস্যু নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    গাজা নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থানও ভিন্ন। ইসরায়েল বলে আসছে, তাদের সামরিক অভিযান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং বেসামরিক প্রাণহানি কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে হামাসকে বেসামরিক এলাকায় সামরিক কার্যক্রম চালানোর জন্য দায়ী করে ইসরায়েলের যে অভিযোগ, তা হামাস অস্বীকার করে আসছে।   জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে গাজা, ইরান, ইউক্রেনসহ একাধিক যুদ্ধ ও মানবিক সংকট নিয়ে বিশ্বনেতাদের আলোচনা চলছে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য সেই আলোচনায় ইরানের অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে গাজায় বেসামরিক মানুষের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির সম্ভাবনাও নিউইয়র্কে চলমান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১০:৪৪
বারহাম সালিহ এবং তারেক রহমান।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: তারেক রহমান

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বারহাম সালিহের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক সময় বিকেলে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনএইচসিআর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নজরুল হক জানান, বৈঠকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের পাশাপাশি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।   বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।   রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য বড় মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে বলে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে। তাদের খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সহায়তা দিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কাজ করলেও তহবিল সংকটের কারণে রোহিঙ্গা সহায়তা কার্যক্রম ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।   রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হলো—ফেরত পাঠানোর আগে মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। মঙ্গলবারের বৈঠকেও নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের টেকসই সমাধানে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ।   রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে ইউএনএইচসিআর প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই আরও জোরদারের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৯:৫৭
খলিলুর রহমান
রোহিঙ্গা সংকট গুরুতর মানবিক বিপর্যয়, বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান খলিলুর রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটকে ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করে এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সহিংসতার পরিবর্তে আলোচনা, সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।   জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ চলাকালে রোহিঙ্গা সংকট আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।জাতিসংঘের সংবাদমাধ্যম ইউএন নিউজকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।   তাঁর ভাষায়, একটি জনগোষ্ঠী আক্রমণের শিকার হয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ধ্বংস হয়েছে এবং নিজেদের দেশ থেকেই তাদের বিতাড়িত হতে হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের টিকে থাকার সক্ষমতা এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষার কথাও উল্লেখ করেন।   রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, সহিংসতা কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারে না; বরং সমস্যাকে দীর্ঘায়িত করে পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এক জায়গায় এনে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই এ ধরনের সংকটের কার্যকর সমাধান খুঁজতে হবে।   রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের গত বছরের কক্সবাজার সফরের কথা স্মরণ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রমজানের এক সন্ধ্যায় এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী মহাসচিবের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁদের হাতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা প্ল্যাকার্ড ছিল।   বর্তমানে বাংলাদেশ কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে বলে বাংলাদেশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের ওপর মানবিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপও অব্যাহত রয়েছে।   জাতিসংঘের ২০২৫-২৬ যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী মিলিয়ে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। পরিকল্পনাটিতে জীবনরক্ষাকারী সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে কাজ করা এবং আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠক করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান। বৈঠকে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, মানবিক সংকট, আঞ্চলিক উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।   জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত মনোযোগ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বজায় রাখা এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে পারেন।   আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-আয়োজন হওয়ার কথাও জাতিসংঘের বিবৃতিতে রয়েছে। ফলে সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই সংকটটির দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের কেন্দ্রীয় বিষয়। এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা জোরদার এবং সংকটের মূল কারণ মোকাবিলার বিষয়টি সামনে আসছে।   রোহিঙ্গা সংকটের অভিজ্ঞতাকে নিজের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের বৃহত্তর লক্ষ্যটির সঙ্গেও যুক্ত করেছেন খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর এক বছরের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার, প্রয়োজনীয় সংস্কারে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি, সংস্থাটির আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো তাঁর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৬:২৯
জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী
জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী কারা, থাকছেন মন্ত্রী-রাজনীতিকসহ ৩৫ জন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল রয়েছে।   প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মন্ত্রীদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত রয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে থাকায় সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা।    রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম প্রতিনিধিদলে রয়েছেন। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও সফরে অংশ নিচ্ছেন।    তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পূর্ণ প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা নিয়ে কিছু অমিল দেখা যাচ্ছে। পররাষ্ট্রসচিবের সংবাদ সম্মেলনভিত্তিক একাধিক প্রতিবেদনে ৩৫ জন বলা হলেও অন্য একটি প্রকাশিত তালিকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের মিলিয়ে ৩৮ জনের কথা বলা হয়েছে। তাই সরকারি ব্রিফিংয়ের ৩৫ জনের সংখ্যাটিকেই এখানে মূল তথ্য হিসেবে ধরা হয়েছে।    প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় উঠে আসবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। 

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৬:৪৩
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার পর নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।   সদ্য সমাপ্ত ৮০তম অধিবেশনের বিদায়ী সভাপতি আন্নালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হলেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক। এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৯টায় এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে আগামী এক বছর বৈশ্বিক এই ফোরামে নিজের কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।   শপথ গ্রহণের পর আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় তিনি সভাপতিত্ব করবেন। বিগত চার দশক পর এটি বাংলাদেশের জন্য এক অভাবনীয় কূটনৈতিক অর্জন। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রয়াত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী।   দীর্ঘ সময় পর বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল ফোরামে বাংলাদেশের এই প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও দৃশ্যমানতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   গত ২ জুন অনুষ্ঠিত এক গোপন ব্যালট নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে পরাজিত করে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। চার দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. রহমান এমন এক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন বিশ্বব্যাপী সংঘাত, জলবায়ু সংকট, মানবাধিকার ইস্যু এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যের তীব্র প্রয়োজন।   আগামী এক বছর তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসনের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈশ্বিক এই ফোরামের নেতৃত্ব দেবেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৩:১৪
দক্ষিণ এশিয়ায় স ন্ত্রাসবাদের হুমকি বাড়ছে, বাংলাদেশে আস্তানা গড়তে চায় আ ল-কা য়েদা
দক্ষিণ এশিয়ায় স ন্ত্রাসবাদের হুমকি বাড়ছে, বাংলাদেশে আস্তানা গড়তে চায় আ ল-কা য়েদা

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন একিউআইএসের আঞ্চলিক কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।   দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের হুমকি আরও তীব্র হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আল-কায়েদা ও আইএসআইএলবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল।   জাতিসংঘের ৩৮তম পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট—একিউআইএস দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশেও সংগঠনটির উপস্থিতি ও কার্যক্রম গড়ে তোলার প্রচেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।   ১০ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের সামগ্রিক হুমকি মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকলেও সাহেল অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একিউআইএসের কার্যক্রম এখন আরও বিকেন্দ্রীভূত হচ্ছে। সংগঠনটি ছোট ছোট সেল এবং আর্থিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।   জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে চাপে থাকলেও তাদের আঞ্চলিক সহযোগী সংগঠনগুলো এখনো সক্রিয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এসব সংগঠনের কার্যক্রম, সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়ন এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।   প্রতিবেদনে একই সঙ্গে আইএসআইএলসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের বিস্তার, অর্থায়ন, বিদেশি যোদ্ধাদের চলাচল এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণ দল আল-কায়েদা, আইএসআইএল এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাসী হুমকি, অর্থায়ন, বিদেশি যোদ্ধাদের চলাচল এবং নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে এসব বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে তথ্য ও সুপারিশ দেয়।   তবে বাংলাদেশে একিউআইএসের ঘাঁটি রয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যে উদ্বেগ ও কার্যক্রম বিস্তারের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, সেটিকেই প্রতিবেদনের বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা নিরাপদ।   দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য বিস্তার এবং আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৫:১৩
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতিকে চান ট্রাম্প

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস কিংবা ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।   বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তাঁর উত্তরসূরি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। জাতিসংঘের পরবর্তী নেতৃত্ব বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইনফান্তিনোর পরিচিতি, বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং বৃহৎ একটি বৈশ্বিক সংস্থা পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে অভিন্ন লক্ষ্যে একত্র করার বিশেষ দক্ষতা ইনফান্তিনোর রয়েছে বলে মনে করেন ট্রাম্প।   ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ ও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোয় আয়োজিত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ঘিরে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।   তবে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ইনফান্তিনো আগ্রহী কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।   ট্রাম্পের বৈশ্বিক অংশীদারত্ববিষয়ক বিশেষ দূত পাওলো জাম্পাওলি সম্ভাব্য এই মনোনয়নের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে গঠিত ফিফা পরিচালনার অভিজ্ঞতা ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইনফান্তিনোকে সহায়তা করতে পারে।   তবে কোনো দেশের সমর্থন পেলেই জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়া যায় না। প্রার্থীকে প্রথমে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে হয়। পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের প্রত্যেকের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের পর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে মহাসচিব নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।   পরবর্তী মহাসচিব পদের জন্য ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি, কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তা ভার্জিনিয়া গাম্বা।   ভৌগোলিক আবর্তনের অলিখিত রীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মহাসচিব নির্বাচনের প্রত্যাশা রয়েছে। সর্বশেষ ওই অঞ্চল থেকে জাতিসংঘের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পেরুর হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েলার। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রার্থিতা তাই প্রচলিত আঞ্চলিক প্রত্যাশার বাইরে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।   এর মধ্যেই ফিফা সভাপতির দায়িত্ব ধরে রাখার পরিকল্পনা জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। ফিফার ৭৭তম কংগ্রেস ও সভাপতি নির্বাচন ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে জাতিসংঘের শীর্ষ পদ নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও আপাতত তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য ফিফার নেতৃত্বে আরও এক মেয়াদ থাকা।

প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ৪:৫৫
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
৭ বছর বয়সেই ২৫৫ পাউন্ড ওজন, বাবা-মায়ের অবহেলা ও চিকিৎসাবঞ্চনায় প্রাণ গেল এক শিশুর

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে চরম অবহেলা ও চিকিৎসাবঞ্চিত রেখে ৭ বছর বয়সী এক স্থূলকায় শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে তার বাবা-মাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ক্যাসপার নামের ওই শিশুটির মৃত্যুর সময় ওজন ছিল ২৫৫ পাউন্ড (প্রায় ১১৫ কেজি)। প্রসিকিউটরদের মতে, বাবা-মায়ের 'অভূতপূর্ব ও ভয়াবহ অবহেলার' কারণেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শিশুটির এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।   এই অমানবিক ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী ড্যামিয়েন ও'ব্রায়েন এবং তার স্ত্রী জেসিকা ও'ব্রায়েনকে (৪১) সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার, শিশু নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।   ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের (২০২৫ সালের) ৪ নভেম্বর। মিশিগানের ফ্লিন্ট টাউনশিপে ওই পরিবারের অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর বাড়ি থেকে জরুরি নম্বরে (৯১১) কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ক্যাসপারকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, 'ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি' বা হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিকতা থেকে হার্ট ফেইলিউরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, যার পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটক ছিল মাত্রাতিরিক্ত স্থূলতা।   মৃত্যুর সময় ৪ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ক্যাসপারের ওজন ছিল ২৫৫ পাউন্ড, যা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর নির্দেশিত ৭ বছর বয়সী শিশুদের স্বাভাবিক ওজনের (৫০ থেকে ৭৩ পাউন্ড) চেয়ে বহুগুণ বেশি।   জেনেসি কাউন্টির প্রসিকিউটর ডেভিড লেটন এই ঘটনাকে চরম নিষ্ঠুরতা হিসেবে উল্লেখ করে জানান, স্বাস্থ্যবীমা এবং বাবার ভালো আয় থাকা সত্ত্বেও ক্যাসপারকে জীবনে মাত্র একবার চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল এবং সে কখনো স্কুলেও যায়নি।   সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেদিন ক্যাসপার মারা যায়, সেদিন সকালেও ওই দম্পতি নিজেদের পোষা কুকুরের চিকিৎসার জন্য পশু চিকিৎসককে বাড়িতে ডেকেছিলেন। লেটন আরও জানান, সরকারি কোনো নথিতেই এই শিশুদের অস্তিত্ব ছিল না। বর্তমানে অভিযুক্ত দম্পতিকে জামিন ছাড়াই জেনেসি কাউন্টি জেলে আটক রাখা হয়েছে এবং আগামী ২ জুলাই তাদের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ১৬:৫৩
ছবি: সংগৃহীত
কিম কার্দাশিয়ানের মতো হতে গিয়ে মডেলের মৃত্যু, ভুয়া ডাক্তারের ৪ বছরের জেল

আমেরিকান মডেল ও তারকা কিম কার্দাশিয়ানের মতো নিখুঁত শারীরিক গড়ন পেতে অবৈধভাবে অস্ত্রোপচার (প্লাস্টিক সার্জারি) করাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্রিস্টিনা অ্যাশটেন গৌরকানি নামের এক ‘অনলি ফ্যানস’ মডেল। সেই মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে ভিভিয়ান আলেকজান্দ্রা গোমেজ (৫৩) নামের এক ভুয়া প্লাস্টিক সার্জনকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত। বুধবার (১৬ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও কাউন্টির একটি জুরি বোর্ড ভিভিয়ান গোমেজকে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা এবং লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। এরপর মঙ্গলবার আদালত তাকে ৪ বছরের কারাদণ্ডের চূড়ান্ত রায় শোনান। দণ্ডিত ভিভিয়ান এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করবেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি ‘জেলে গিয়ে নিজের শাস্তি ভোগ করতে চান’ বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।   তদন্তকারীরা জানান, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে একটি হোটেল রুমে ক্রিস্টিনাকে কোনো লাইসেন্স বা প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই সিলিকন ইনজেকশন পুশ করেছিলেন ভিভিয়ান। এই অবৈধ অস্ত্রোপচারের (যা প্লাস্টিক সার্জারির ভাষায় 'ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট' বা বিবিএল নামে পরিচিত) কিছুক্ষণের মধ্যেই ৪৪ বছর বয়সী মডেল ক্রিস্টিনা শ্বাসকষ্ট এবং ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মূলত কিম কার্দাশিয়ানের মতো কোমর ও শারীরিক গড়ন তৈরি করতেই তিনি এই কমদামী ও অবৈধ চিকিৎসার শরণাপন্ন হয়েছিলেন।   বিশেষজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জন ড. মাইকেল ওবেং এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, কম খরচে বা গোপনে করানো এই ধরনের শারীরিক পরিবর্তন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অবৈধভাবে শরীরে যে সিলিকন বা রাসায়নিক ইনজেকশন দেওয়া হয়, তা শরীরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ইনফেকশন বা চামড়া শক্ত হয়ে শরীর বিকৃত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি এই তরল সরাসরি রক্তে মিশে গিয়ে রক্তনালী বন্ধ করে দিতে পারে, যার ফলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে।   মডেল ক্রিস্টানার মৃত্যুর পর তার পরিবার ইন্টারনেটে তহবিল সংগ্রহের সময় সেই ভয়াবহ দিনের কথা স্মরণ করে লিখেছিল, "হঠাৎ একদিন এক আত্মীয়ের ফোন আসে, তিনি চিৎকার করে কাঁদছিলেন আর বলছিলেন—অ্যাশটেন মারা যাচ্ছে। ওই একটি ফোন কল আমাদের পুরো দুনিয়াটা ওলটপালট করে দিয়েছিল।"

প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১০:৪
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০