সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আমেরিকা

নিউইয়র্কে সাড়ে ৩৪ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি, রাজা-আলমের কারাদণ্ড
নিউইয়র্কে সাড়ে ৩৪ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি, রাজা-আলমের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসা পরিবহনের ভুয়া বিল জমা দিয়ে মেডিকেইড কর্মসূচি থেকে প্রায় ৩৪ লাখ ৩৪ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিনব জালিয়াতির ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দোষ স্বীকার করার পর ৪৫ বছর বয়সী রোহাইল রাজাকে ৬ থেকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড এবং তার স্ত্রী শর্মা আলমকে ছয় মাসের কারাদণ্ডসহ পাঁচ বছরের প্রবেশন দেওয়া হয়েছে।   নিউইয়র্ক স্টেটের কম্পট্রোলার থমাস পি. ডিনাপোলি এবং অরেঞ্জ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ডেভিড এম. হুভলার সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত এই দম্পতি নিউইয়র্কের নিউ উইন্ডসর এলাকার বাসিন্দা।   আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, রোহাইল রাজা 'ইউনিক ক্লাস লিমো ইনকরপোরেটেড' এবং শর্মা আলম 'এসএনআর লিমো ইনকরপোরেটেড' নামের দুটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন, যেখানে রাজাও ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। নিউইয়র্ক স্টেটের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অনুমোদন নিয়ে তারা মূলত মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য পরিবহনসেবা দিতেন।   কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি এমন অসংখ্য যাত্রার বিল জমা দিয়েছে, যেগুলো বাস্তবে ঘটেইনি। এছাড়া একই গাড়িতে একাধিক রোগীকে একসঙ্গে পরিবহন করলেও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা বিল দাবি করা হতো। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলারের কার্যালয়ের একজন ফরেনসিক নিরীক্ষক চিকিৎসাকেন্দ্রের নথিপত্রের সাথে তাদের জমা দেওয়া বিল মিলিয়ে দেখার পর বিশাল এই দুর্নীতির প্রমাণ পান।   চলতি বছরের ১৪ মে রাজা ও আলম আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নেন। সাজা ঘোষণার সময় তারা ইতোমধ্যে ৪ লাখ ডলার ফেরত দিয়েছেন এবং বাকি ৩০ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩০ ডলার অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠান দুটিকে বড় অঙ্কের চুরির দায়ে ৫ হাজার ডলার করে জরিমানাও করা হয়েছে।   অরেঞ্জ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ডেভিড হুভলার জানিয়েছেন, এটি তার দপ্তরের ইতিহাসে বিচার হওয়া সবচেয়ে বড় মেডিকেইড জালিয়াতির ঘটনা। সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অর্থ এভাবে আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৬:৫৭
যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিটি সেবায় অবদানের জন্য কংগ্রেসের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি সাহী চৌধুরী
যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিটি সেবায় অবদানের জন্য কংগ্রেসের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি সাহী চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো সিটি হলে প্রথম বাংলাদেশি কর্মী হিসেবে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়া সমাজসেবক সাহী চৌধুরী এবার মার্কিন কংগ্রেসে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেছেন। নিউইয়র্কের বাফেলো ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্কে জনসেবা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের জন্য কংগ্রেস সদস্য টিমোথি এম. কেনেডি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কংগ্রেশনাল রেকর্ডে তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সুপ্রভাত মিশিগানের ২২ অক্টোবরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় জনজীবনে সাহী চৌধুরীর ইতিবাচক ভূমিকার কথা কংগ্রেসের এই আনুষ্ঠানিক নথিতে তুলে ধরা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিত্ব ও কমিউনিটির প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি বর্তমানে এরি কাউন্টি কম্পট্রোলার অফিসে কর্মরত রয়েছেন।   দীর্ঘ কর্মজীবনে জনসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ সাহী চৌধুরী ইতোমধ্যেই অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পক্ষ থেকে পাওয়া 'লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' বা আজীবন সম্মাননা তার সফলতার অন্যতম বড় মাইলফলক। এছাড়াও তিনি নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ঘোষণাপত্র এবং নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির মেজরিটি লিডার ক্রিস্টাল পিপলস-স্টোকসের কাছ থেকে সম্মাননাসূচক সাইটেশন লাভ করেছেন। তরুণ সমাজকর্মী হিসেবে তিনি ২০২৩ সালে ‘থার্টি আন্ডার থার্টি চেঞ্জমেকার’ হিসেবে স্বীকৃতি পান।   সে সময় বাফেলো কমন কাউন্সিলের ফিলমোর ডিস্ট্রিক্টের কাউন্সিল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাহীকে তাদের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজ থেকেও বিশেষ অভিনন্দন জানানো হয়েছিল।   স্থানীয় ব্যবসা ও সামাজিক সংগঠনের উন্নয়নে সাহী চৌধুরীর সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালে বাফেলো শহরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত 'ঈদ ফেস্ট'-এর নেপথ্যে তার বড় ভূমিকা ছিল। ইউনাইটেড বাফেলো ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাফেলো কমন কাউন্সিলের কমিউনিটি লিয়াজোঁ হিসেবে ওই আয়োজনে তিনি স্থানীয় বাঙালি সংগীতশিল্পী, খাবার বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসেন।   বাংলাদেশের সিলেট শহরে পৈতৃক বাড়ি থাকা এই মেধাবী তরুণ বর্তমানে পরিবারের সাথে বাফেলোতেই বসবাস করছেন। নেতৃত্ব, অ্যাডভোকেসি এবং নিরলস জনসেবার মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশিসহ মূলধারার কমিউনিটিকে আরও ক্ষমতায়িত করতে তিনি তার এই চলমান প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৬:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা, বড় কারণ এআই ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা, বড় কারণ এআই ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএ প্রোগ্রামে পড়াশোনার আগ্রহ চরমভাবে হারাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন কাউন্সিলের (জিম্যাক) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শুরু হতে যাওয়া ২০২৮ ব্যাচের ফুল-টাইম এমবিএ প্রোগ্রামগুলোতে গত বছরের তুলনায় আবেদনের হার প্রায় ২৭ শতাংশ কমে গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের এই নিম্নমুখী চিত্রটি বৈশ্বিক প্রবণতাকেও ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী এমবিএ আবেদনের হার কমেছে ১৩ শতাংশ। তবে যেসব নামিদামি ও অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামে ভর্তির হার ৪০ শতাংশের নিচে, সেখানে আবেদন কমেছে মাত্র ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠানে সহজে ভর্তি হওয়া যায় (ভর্তির হার ৮৫ শতাংশের ওপরে), সেখানে আবেদনের হার ২১ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা এই ধসের পেছনে ভিসা নীতির পরিবর্তন ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মতো বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করলেও, জরিপে অংশ নেওয়া ৯০ শতাংশ বিজনেস প্রোগ্রামই মূলত অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফোরচুন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দার আশঙ্কা, কর্মী ছাঁটাই এবং চাকরির বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে তরুণরা এমবিএ করার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।   আগে অর্থনৈতিক সংকটের সময় মানুষ নিজেদের পেশাগত সম্ভাবনা বাড়াতে এমবিএ-র দিকে ঝুঁকলেও, এখন সেই ধারণা পাল্টেছে। জিম্যাকের করপোরেট রিক্রুটার্স সার্ভে বলছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়োগকর্তা এখন এন্ট্রি-লেভেলের বা প্রারম্ভিক পর্যায়ের কাজগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে প্রতিস্থাপন করছেন, যা নতুন প্রজন্মের (জেন-জি) মধ্যে চাকরি প্রাপ্তি নিয়ে ব্যাপক ভীতির সঞ্চার করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বা 'এম৭' বিজনেস স্কুলগুলোর (যেমন- হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, কলম্বিয়া, ওয়ারটন ইত্যাদি) ২০২৫ সালের স্নাতকদের প্রায় ৯০ শতাংশই চাকরি পেয়েছেন, যাদের মধ্যম বেস স্যালারি অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে এমবিএ করতে কখনো কখনো ৩ লাখ ডলারেরও বেশি টিউশন ফি গুনতে হয়, যা শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন তুলছে যে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা আসলেই কতটা যৌক্তিক।   জিম্যাকের প্রধান নির্বাহী জয় জোনস ফোরচুনকে জানান, জেন-জি প্রজন্ম এখন শুধু উচ্চ বেতনের চাকরি চায় না; তারা এমন একটি পেশা চায় যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল, নমনীয় এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক। তাই এমবিএ প্রোগ্রামগুলোকে এখন পুনরায় শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করতে হলে পড়াশোনার প্রকৃত আর্থিক ও পেশাগত মূল্য বা 'রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট' আগে থেকেই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৬:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে আইস-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ব্রুকলিন সেতু, পুলিশের হাতে আটক ডজনখানেক
যুক্তরাষ্ট্রে আইস-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ব্রুকলিন সেতু, পুলিশের হাতে আটক ডজনখানেক

নিউইয়র্কের বিখ্যাত ব্রুকলিন সেতুতে প্রকাশ্য দিবালোকে যান চলাচল অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর বিরোধীরা। বুধবার এই আকস্মিক অবরোধের জেরে ওই এলাকায় চরম যানজট ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং ডজনখানেকেরও বেশি আন্দোলনকারীকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেপ্তার করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, প্রায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন আন্দোলনকারীর একটি দল ব্রুকলিন সেতুর ওপর বাবু হয়ে বসে রাস্তা আটকে রেখেছেন। এ সময় তারা নিউইয়র্ক পুলিশ ও আইসের সমালোচনা করে "এনওয়াইপিডি, কেকেকে, আইস, এরা সবাই এক!" বলে স্লোগান দিতে থাকেন।   বিক্ষোভকারীদের পরনে থাকা শার্টে "আমার প্রতিবেশীকে দেখেছেন কি?" এবং "অবিলম্বে নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই"-এর মতো প্রতিবাদী বার্তা লেখা ছিল। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, আটকের সময় অন্তত একজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ সদস্যরা রীতিমতো পাঁজাকোলা করে ক্রুজারে তুলে নিয়ে যান, তবে অনেকেই স্বেচ্ছায় পুলিশের সাথে গাড়িতে ওঠেন।   বিক্ষোভকারীদের এই জমায়েতের মূল দাবি ছিল অস্কার বেলগাল নামের এক অবৈধ অভিবাসীর মুক্তি। ডোমিনিকান রিপাবলিক থেকে আসা এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘ অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ব্রঙ্কস এলাকায় আইস এজেন্টদের গুলিতে আহত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। তার আটকের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই মূলত ব্রুকলিন সেতুতে জড়ো হয়েছিলেন ওই অধিকারকর্মীরা, যা শেষ পর্যন্ত পুলিশের ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৫:৮
আইসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের আক্রমণ করতেন, এবার সেই আইসের হেফাজতে ম্যাগা ব্লগার
আইসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের আক্রমণ করতেন, এবার সেই আইসের হেফাজতে ম্যাগা ব্লগার

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) দেশজুড়ে তাদের ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে। সংস্থাটির বিতর্কিত গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে সমালোচনা থাকলেও অনেকেই এর কার্যক্রমে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে থাকেন। এমনই একজন কট্টর আইস-সমর্থক এবং 'ম্যাগা' (MAGA) ব্লগার স্যামুয়েল সে এবার নিজেই অভিবাসন আইনের কঠোরতার মুখে পড়েছেন।   ৩৯ বছর বয়সী স্যামুয়েলের জন্ম ঘানায়; পরবর্তীতে তিনি কানাডা এবং সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। গত ২১ অক্টোবর ওহাইওর কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভ্রমণের সময় আইস এজেন্টরা তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাকে বাটলার কাউন্টি জেলে বন্দি রাখা হয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হওয়ার (ডিপোর্টেশন) ঝুঁকিতে রয়েছেন।   নিজের ‘স্লো টু রাইট’ (SlowToWrite) নামের ব্লগের মাধ্যমে স্যামুয়েল নিজেকে একজন প্রো-লাইফ কর্মী, শিক্ষক এবং পাবলিক স্পিকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইসের বিভিন্ন অভিযানের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছিলেন, "আপনি যদি আমেরিকাকে ভালোবাসেন, তবে আপনার আইসকে সমর্থন করা উচিত।" আইসের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি এমনও দাবি করেছিলেন যে, যারা আইস-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ঈশ্বর তাদের সমর্থন করেন না এবং এসব আন্দোলনকারী 'শয়তানের দ্বারা প্রভাবিত'।   এর আগে আইসের এক অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হলে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিন্তু তখনও স্যামুয়েল আইস এজেন্টদের পক্ষ নিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে এটি আত্মরক্ষার অংশ ছিল।   তবে আইসের প্রতি এই একনিষ্ঠ সমর্থন স্যামুয়েলকে বিতাড়নের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বেআইনিভাবে থাকার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ডিএইচএস-এর তথ্যমতে, ২০২২ সালে স্যামুয়েল বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তার ভিসার মেয়াদ বেশ আগেই শেষ হয়ে যায়। স্যামুয়েলের মুক্তির জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে এবং তার স্ত্রী দাবি করেছেন যে এটি কেবল নথিপত্র সংক্রান্ত একটি ছোট ভুল। তবে ডিএইচএস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তার কোনো অভিবাসন আবেদন অপেক্ষমাণ নেই এবং তিনি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে রাজি হয়েছেন।   সংস্থাটি আরও জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত না হওয়া পর্যন্ত স্যামুয়েলকে আইসের হেফাজতেই থাকতে হবে। তবে তাকে কানাডা নাকি ঘানায় ফেরত পাঠানো হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ডিএইচএস মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা কাউকে আলাদাভাবে বিবেচনা করেন না।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ, সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর তালিকায় ফ্লোরিডা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ, সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর তালিকায় ফ্লোরিডা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ফ্লোরিডা এখন অন্যতম নিকৃষ্ট একটি অঙ্গরাজ্য। সম্প্রতি আর্থিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব (WalletHub)-এর পরিচালিত নতুন একটি গবেষণায় এই হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। কর্মসংস্থানের বাজার এবং অর্থনৈতিক প্রাণশক্তির ৩৪টি ভিন্ন ভিন্ন সূচকের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে তুলনা করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, চাকরির বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্লোরিডার অবস্থান তালিকার ৪৭ নম্বরে, অর্থাৎ এটি চাকরি খোঁজার জন্য চতুর্থ নিকৃষ্ট অঙ্গরাজ্য।   ওয়ালেটহাবের দেওয়া তথ্যমতে, অন্যান্য সূচকের পাশাপাশি শুধুমাত্র 'কর্মসংস্থান বৃদ্ধি' বা এমপ্লয়মেন্ট গ্রোথের দিক থেকে ফ্লোরিডার অবস্থা সবচেয়ে করুণ এবং ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে এর অবস্থান একেবারে তলানিতে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো জানান, চাকরির জন্য সেরা অঙ্গরাজ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা প্রদান করে, যা ভবিষ্যতের যেকোনো অর্থনৈতিক উত্থান-পতন সামলাতে সাহায্য করে।   এসব অঙ্গরাজ্যে চাকরি পাওয়া এবং তা টিকিয়ে রাখা তুলনামূলক সহজ হওয়ার পাশাপাশি নিয়োগকর্তারাও আকর্ষণীয় বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন। এই সমীক্ষায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার থেকে শুরু করে মানুষের বার্ষিক গড় আয় এবং কর্মস্থলে পৌঁছানোর গড় যাতায়াত সময় পর্যন্ত বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   জীবনবৃত্তান্ত আপডেট করা, রেফারেন্সের সাথে যোগাযোগ করা এবং ইন্টারভিউ দেওয়া—চাকরি খোঁজার পুরো প্রক্রিয়াটি এমনিতেই বেশ কঠিন। তবে এই কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্যেও কিছু অঙ্গরাজ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য দারুণ সম্ভাবনাময়। সমীক্ষা অনুযায়ী, চাকরির বাজারের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তিনটি অঙ্গরাজ্য হলো নেব্রাস্কা, নর্থ ডাকোটা এবং মিনেসোটা।   এর মধ্যে নেব্রাস্কা প্রথম স্থানে রয়েছে কারণ সেখানে বেকারত্বের হার দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন, প্রতি বছর সেখানে চাকরির সুযোগ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং একবার চাকরি পেলে তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:২৬
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির বাজারে ধস, কিনতে লাগবে ৮১ হাজার ডলারের বেশি অগ্রিম
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির বাজারে ধস, কিনতে লাগবে ৮১ হাজার ডলারের বেশি অগ্রিম

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন খাতে চরম মন্দা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাড়ি বিক্রির হার এতটাই কমেছে যে, তা ২০০৭-২০০৮ সালের 'গ্রেট রিসেশন' বা মহামন্দার সময়কার পরিস্থিতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। রিয়েল এস্টেট ডেটা ফার্ম অ্যাটম (Attom)-এর নতুন পদ্ধতিতে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে লস অ্যাঞ্জেলেস ডেইলি নিউজের বিজনেস কলামিস্ট জোনাথন ল্যান্সনার জানান, গত জুলাই মাস পর্যন্ত এই অঞ্চলে বাড়ি বিক্রির হার অবিশ্বাস্য রকম কম ছিল।   অন্যদিকে, যারা এই কঠিন বাজারেও বাড়ি কিনতে সক্ষম হচ্ছেন, তাদের প্রায় রেকর্ড পরিমাণ মূল্য গুনতে হচ্ছে। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে পুরনো বাড়ি এবং নতুন তৈরি হওয়া বাড়ি বা কন্ডো—উভয় ধরনের বিক্রির হিসাবই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জুলাই মাসে শেষ হওয়া পূর্ববর্তী ১২ মাসে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ছয়টি কাউন্টিতে বাড়ি বিক্রির হার ২০০৫ সাল থেকে রেকর্ড করা বার্ষিক গড়ের চেয়ে ৩৩ শতাংশ কম ছিল। ল্যান্সনারের মতে, বিগত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল বাড়ি বিক্রির দ্বিতীয় মন্থরতম ১২ মাস, যার চেয়ে খারাপ অবস্থা দেখা গিয়েছিল কেবল ২০২৬ সালের মে মাসে।   আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আবাসন খাতের সেই ভয়াবহ ধসের সময়কার সবচেয়ে খারাপ অবস্থার তুলনায় জুলাই মাসের বিক্রির গতি আরও ৩ শতাংশ ধীর ছিল। গত ২১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বাড়ি বিক্রি হওয়া ২৫টি মাসের মধ্যে ১৭টি মাসই ২০২৩ সালের পর রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মাস ছিল ২০০৭-২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময় এবং আরেকটি ছিল ২০২০ সালের মে মাসে, যখন মহামারির কারণে অর্থনীতি থমকে গিয়েছিল।   এই চরম মন্থরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বাড়ির আকাশছোঁয়া দাম ও উচ্চ মর্টগেজ রেট। স্থানীয় অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং চড়া মূল্যের কারণে সম্ভাব্য ক্রেতারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং অনেকেই বাড়ি কেনার বদলে ভাড়ায় থাকাকে অনেক বেশি সাশ্রয়ী মনে করছেন।   বিক্রিতে মন্দা থাকলেও জুলাই মাসে এই অঞ্চলের একটি বাড়ির মধ্যম বা মিডিয়ান মূল্য ছিল ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ডলার, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের চেয়ে মাত্র ২ শতাংশ কম এবং ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ। ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েল্টরসের তথ্য মতে, গত বসন্তে অরেঞ্জ কাউন্টির মাত্র ১৫ শতাংশ পরিবার বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখত।   লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোতে এই হার ছিল ১৭ শতাংশ, রিভারসাইডে ২৮ শতাংশ এবং সান বার্নার্ডিনোতে ৩৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের পর থেকে মূল্যবৃদ্ধির হার বছরে ২ শতাংশে নেমে এলেও, ক্রেতারা এখন এত চড়া দামে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করছেন।   বাড়ির মূল্যের পাশাপাশি মর্টগেজের মাসিক কিস্তিও ক্রেতাদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যম মূল্যের একটি বাড়ি কিনলে মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং ইন্স্যুরেন্সসহ সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫ হাজার ৭৬৫ ডলার, যা গত পাঁচ বছরের তুলনায় ৭২ শতাংশ বেশি। এর সাথে ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট হিসেবে প্রায় ৮১ হাজার ৫০০ ডলার অগ্রিম প্রয়োজন হয়।   এর বিপরীতে ভাড়ায় থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। জিলোর (Zillow) হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া ছিল প্রায় ২ হাজার ৮৬০ ডলার, যা বাড়ি কেনার মাসিক খরচের অর্ধেকেরও কম। এছাড়া ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাবে জুলাইয়ে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার ৬.৫ শতাংশ থাকলেও, অক্টোবরের মাঝামাঝি তা ৭.৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই সুদের হার বৃদ্ধিই ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা আরও প্রায় ৮ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে, যা এই ব্যয়বহুল বাজারকে সাধারণের জন্য আরও কঠিন করে তুলেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:১১
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আল-ফালাহ সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টার বাংলাদেশি কমিউনিটির জনপ্রিয় সুপার মার্কেট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

জর্জিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আল-ফালাহ সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আগামী শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, প্রতিষ্ঠানটির শেষ কার্যদিবস হবে বলে জানিয়েছেন এর মালিক তানবীর আহমেদ। দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর ধরে গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার পর ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি গ্রাহক, বাংলাদেশি কমিউনিটি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তানবীর আহমেদ বলেন, গ্রাহকদের আস্থা, ভালোবাসা ও সহযোগিতা অর্জন তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। এই দীর্ঘ পথচলায় গ্রাহকেরা কেবল ক্রেতা হিসেবেই থাকেননি, বরং বৃহত্তর পরিবারের অংশ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং স্মৃতি তাঁর কাছে সব সময় মূল্যবান হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি পাকিস্তানি, ভারতীয়, মধ্যপ্রাচ্যীয় ও আমেরিকানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গ্রাহক, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আল-ফালাহর মালিক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের বিশ্বস্ততা, ভালোবাসা ও সহযোগিতাই প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের পথচলাকে অর্থবহ করে তুলেছে। তাঁদের অবদান কখনো ভুলে যাবেন না বলেও জানান তিনি।   বিদায়বার্তায় নিজের এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আচরণ নিয়েও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তানবীর আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের সেবা, পণ্য, মূল্য কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ অথবা কোনো কর্মচারীর আচরণে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে বা হতাশ হয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। মানুষ হিসেবে ভুলত্রুটি থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রাহককে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারিত করা কিংবা তাঁর বিশ্বাসের অপব্যবহার করা কখনোই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল না। কোনো সীমাবদ্ধতা বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তিনি গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা ও সহানুভূতি কামনা করেছেন।   ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও গ্রাহকদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও ভালোবাসা স্মৃতিতে অমলিন থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘদিন পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তানবীর আহমেদ তাঁর পরিবারকে দোয়ায় রাখার অনুরোধ করেছেন।   বিদায়বার্তার শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহর কাছে সবার সুস্বাস্থ্য, সুখ, শান্তি, সম্মান ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে সবার ভবিষ্যৎ সুন্দর ও কল্যাণময় হোক—এ প্রার্থনা জানিয়ে নিজের বার্তা শেষ করেন।   আল-ফালাহ সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা গ্রাহক ও পরিচিতজনদের মধ্যে স্মৃতিকাতরতা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৩:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তি, প্রতিবাদী চিঠিতে সই করেননি ৪০ জন
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তি, প্রতিবাদী চিঠিতে সই করেননি ৪০ জন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ফেডারেল তদন্ত ঘিরে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে শুরু হওয়া এই অভিবাসন তদন্ত বন্ধের দাবিতে দলের শীর্ষ নেতারা একজোট হলেও, বেশ কয়েকজন হাউজ ডেমোক্র্যাট ওমরের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।   চলতি মাসের শুরুতে ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে তল্লাশি চালায় ফেডারেল এজেন্টরা। এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিচার বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বিরুদ্ধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ এনে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ১৭৫ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য। তবে ২১৪ সদস্যের ককাসের মধ্যে প্রায় ৪০ জন ডেমোক্র্যাট ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।   প্রমিলা জয়পালের নেতৃত্বে লেখা ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে পুনর্নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন ইলহান ওমর। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এ ধরনের তল্লাশি ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, যা মিনেসোটার নাগরিকদের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করার শামিল।   চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এমন কোনো তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্ল্যাঞ্চ নিজেও এর আগে এই নীতির কথা উল্লেখ করেছিলেন।   তবে প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি থেকে শুরু করে টম সুওজি, লরা গিলেন, জশ গটেইমার এবং মেরি গ্লুসেনক্যাম্প পেরেজের মতো নেতারা এই চিঠিতে সই করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকার জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের ঠিক আগে ওমরের মতো বিতর্কিত নেত্রীর সাথে নিজেদের জড়াতে চাইছেন না। বিশেষ করে ইসরায়েল এবং পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তার অতীতের স্পষ্টবাদী সমালোচনার কারণে রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশেই তারা এই দূরত্ব বজায় রাখছেন।   চিঠিতে স্বাক্ষর না করার অর্থ অবশ্য এই নয় যে ওই আইনপ্রণেতারা তদন্তকে সমর্থন করেন বা ওমরকে দোষী ভাবছেন। মূলত ইলহান ওমর বা তার প্রয়াত পিতা অভিবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্রে জন্মসাল ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। গত ১২ অক্টোবর তার ডিসির বাসভবনে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি ফোন ও নোটবুক জব্দ করে ফেডারেল এজেন্টরা।   অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওমর এই তদন্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।   এর আগে রিপাবলিকানদের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা ইলহান ওমরের পাশে শক্তভাবে দাঁড়ালেও, এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ২০২৩ সালে ইসরায়েল নিয়ে মন্তব্যের জেরে তাকে যখন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি থেকে অপসারণ করা হয়, তখন প্রতিটি ডেমোক্র্যাট সদস্য এর বিরোধিতা করেছিলেন।   এমনকি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর ওমরের করা মন্তব্যের জেরে রিপাবলিকানরা তাকে তিরস্কার করার যে চেষ্টা করেছিল, ডেমোক্র্যাটদের জোরালো বিরোধিতায় ২১৩-২১৪ ভোটে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে বর্তমান চিঠিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেমোক্র্যাট নেতার স্বাক্ষর না থাকাটা প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভোটারদের মন জয় করার তাগিদে রাজনৈতিকভাবে ওমরের প্রতি দলের শর্তহীন সমর্থন ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে।   এই বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য সুওজি, গিলেন, গটেইমার, পেলোসি এবং পেরেজের কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৩:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় করোনা মহামারীর সময় শিশুদের খাবার সরবরাহের তহবিল জালিয়াতির মামলায় সালিম সাঈদের ৪০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন প্রসিকিউটররা। ছবি: সংগৃহীত
২৫ কোটি ডলারের ত্রাণ জালিয়াতি, সালিম সাঈদের ৪০ বছরের কারাদণ্ড চাইছে মার্কিন সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে করোনা মহামারির সময় শিশুদের খাবার সরবরাহের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ২৫ কোটি ডলারের তহবিল জালিয়াতির মামলায় সালিম সাঈদের বিরুদ্ধে ৪০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছে ফেডারেল প্রসিকিউটররা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে তাঁর সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে মহামারিকালীন সরকারি তহবিল জালিয়াতির অন্যতম আলোচিত বিচারিক কার্যক্রম।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ৯-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালিম সাঈদকে এই জালিয়াতি চক্রের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে বিবেচনা করছেন প্রসিকিউটররা। আদালতে দাখিল করা সাজাসংক্রান্ত আবেদনে তাঁকে পুরো জালিয়াতি কার্যক্রমের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের যুক্তি, অপরাধের ব্যাপকতা এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁর দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হওয়া প্রয়োজন।   সালিম সাঈদ মিনিয়াপোলিসের সাফারি রেস্টুরেন্টের সাবেক সহমালিক। ২০২০ সালের এপ্রিলে তাঁর রেস্টুরেন্টটি ফিডিং আওয়ার ফিউচার কর্মসূচির আওতায় শিশুদের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হয়। করোনা মহামারির সময় শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার এই কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থায়ন করেছিল।   মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাঈদ ও তাঁর সহযোগীরা প্রকৃতপক্ষে যত খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি খাবার বিতরণের দাবি করে সরকারি অর্থ নেন। এ জন্য ভুয়া হাজিরা তালিকা, শিশুদের নাম ও বয়সসংবলিত নথি এবং অতিরঞ্জিত খাবার বিতরণের হিসাব ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, সাফারি রেস্টুরেন্টের মাধ্যমে সাঈদ প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুকে খাবার দেওয়ার দাবি করেছিলেন। কিন্তু তদন্তকারীদের নজরদারিতে রেস্টুরেন্টটিতে বাস্তবে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল দাবির তুলনায় অনেক কম। এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ ব্যক্তিগত সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ ছয় সপ্তাহের বিচার শেষে ফেডারেল জুরি সাঈদকে ২১টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল ওয়্যার ফ্রড, অর্থাৎ ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে জালিয়াতি, জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, সরকারি কর্মসূচিসংশ্লিষ্ট ঘুষ এবং মানি লন্ডারিং।   এই মামলায় ফিডিং আওয়ার ফিউচারের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক অ্যাইমি বকও দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৬ সালের মে মাসে তাঁকে ৫০০ মাস, অর্থাৎ ৪১ বছর ৮ মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটররা ৫০ বছরের সাজা চেয়েছিলেন।   ফিডিং আওয়ার ফিউচার মামলায় করোনা মহামারির সময় শিশুদের পুষ্টি কর্মসূচির অর্থ কীভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছিল, তা তদন্তে উঠে আসে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় মিনেসোটাজুড়ে ২৫০টির বেশি খাবার বিতরণকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়।   সালিম সাঈদের সাজা ঘোষণার শুনানিতে সভাপতিত্ব করার কথা বিচারক ন্যান্সি ব্রাসেলের। তবে প্রসিকিউটরদের ৪০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদনই চূড়ান্ত সাজা নয়। আদালত শুনানি ও প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে সাজা নির্ধারণ করবেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৩:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বরফঢাকা পাহাড়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী, মিলল শুধু ধসে পড়া তাঁবু
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বরফঢাকা পাহাড়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী, মিলল শুধু ধসে পড়া তাঁবু

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের আইস মাউন্টেনে হাইকিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন কলোরাডো মাউন্টেন কলেজের লিডভিল ক্যাম্পাসের দুই শিক্ষার্থী, ১৯ বছর বয়সী কাডেন মাতসুদা এবং ২০ বছর বয়সী জ্যাকসন ডনলন। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ক্যাম্পিংয়ের উদ্দেশ্যে রকি পর্বতমালার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতার এই পাহাড়ে গিয়েছিলেন তারা।   বন্ধুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়া খারাপ মনে হলে শনিবার কিংবা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে রবিবার তাদের ফিরে আসার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শনিবার দুপুর থেকেই ওই এলাকায় বৃষ্টিপাত রূপ নেয় ভারী তুষারপাতে, যা পর্বতের চারপাশের পরিস্থিতিকে মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয় এবং কোথাও কোথাও ২ ফুট পর্যন্ত বরফ জমে যায়।   নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে চ্যাফি কাউন্টির একাধিক উদ্ধারকারী দল, হেলিকপ্টার, ইনফ্রারেড ড্রোন এবং সন্ধানী কুকুর দিয়ে ব্যাপক তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার লেক অ্যানের কাছাকাছি এলাকায় উদ্ধারকারীরা একটি তাঁবু আবিষ্কার করেন, যা বরফের স্তূপের নিচে ধসে পড়েছিল।   শেরিফ কার্যালয় জানিয়েছে, তাঁবুর ভেতরে স্লিপিং ব্যাগ, স্টোভ এবং কিছু পোশাক পাওয়া গেলেও ওই দুই তরুণের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁবুর নিচে কোনো বরফ বা আশপাশে পায়ের ছাপ না থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, তুষারপাতের আগেই তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন।   সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়া আরও বৈরী হওয়ার পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার অভিযানের সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে শেরিফ অ্যান্ডি রোরিচ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, দুই তরুণই বেশ অভিজ্ঞ এবং তারা হয়তো কোথাও নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছেন।   কাডেন ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ারফাইটার এবং জ্যাকসন মাউন্টেন গাইড হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছেন। পর্বতারোহণের অভিজ্ঞতা থাকায় তারা এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবেন বলে পরিবার ও উদ্ধারকারীরা গভীরভাবে বিশ্বাস করছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৩:১৭
নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে প্রবাসীদের দক্ষতা ও সহায়তার লক্ষ্যে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে পালন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আজ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আয়োজন, চাকরি প্রস্তুতি থেকে অভিবাসন ও আইনি সচেতনতা সব একত্রে

নিউইয়র্কের কুইন্সে আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য বিশেষ আয়োজনের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। এতে চাকরি খোঁজা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, অনলাইনে চাকরির আবেদন, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য জানার সুযোগ থাকছে। আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, কুইন্স প্যালেসে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলার কথা রয়েছে।   কর্মসূচির প্রথম পর্বে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কার্যকর জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, উপযুক্ত চাকরি খুঁজে বের করা, অনলাইনে আবেদন করা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি। পাশাপাশি চাকরি খোঁজা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের প্রাথমিক ধারণাও তুলে ধরার কথা রয়েছে।   নতুন অভিবাসী, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবনে অগ্রসর হতে আগ্রহীদের জন্য এ আয়োজন বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা, অভিজ্ঞতার অভাব এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেকেরই কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। সে ক্ষেত্রে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি থেকে শুরু করে ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের কাজে আসতে পারে।   অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে অভিবাসনসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবা নিয়ে আলোচনা রাখার কথা রয়েছে। আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি প্রতারণা এড়িয়ে চলার বিষয়টিও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য অভিবাসন আইন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিসা, গ্রিন কার্ড কিংবা অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এ আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি কমিউনিটির অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন।   কর্মসূচিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা অভিবাসীদের সম্মাননা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   তবে অনুষ্ঠানে অংশ নিলেই চাকরি, আবাসন সহায়তা কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো আইনি সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত হবে, এমন নয়। ব্যক্তিগত অভিবাসন সমস্যার ক্ষেত্রে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া এবং সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি। আয়োজনে অংশ নেওয়ার আগে সময়সূচি, নিবন্ধন ও প্রবেশসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আয়োজকদের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৩:৫
ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে মাঠে নেমেছে ক্যারিবীয় কমিউনিটির একটি সংগঠন।
নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভোটের লড়াইয়ে নামছে নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নিউইয়র্কের কুইন্স ও ব্রঙ্কসে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে মাঠে নেমেছে ক্যারিবীয় কমিউনিটির একটি সংগঠন। ক্যারিবিয়ান ইকুয়ালিটি প্রজেক্ট ‘ম্যাশ-আপ দ্য ভোট’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন পাড়ায় ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছে। লক্ষ্য—স্থানীয় নির্বাচন ও নীতিনির্ধারণে কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানো।    প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবর কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা দিনের প্রচারের প্রস্তুতি নেন। তাঁরা বিভিন্ন দলের মধ্যে এলাকার ভিত্তিতে কাজ ভাগ করে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রচারের সময় ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার গুরুত্ব বোঝানো এবং তাঁদের উদ্বেগ শোনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।    সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ কিউ. আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক পাড়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হলেও স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণ কম দেখা যায়। এ কারণে নিয়মিত ভোট দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে তাঁরা প্রচার চালাচ্ছেন।    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনের আগে সংগঠনটি প্রায় তিন হাজার বাড়িতে এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় প্রায় পাঁচ হাজার বাড়িতে যোগাযোগ করেছিল বলে সংগঠনের সভাপতি জানান। এবার ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে একই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে।    এই উদ্যোগ অভিবাসী কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থানীয় নির্বাচন ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাসস্থান, জীবনযাত্রার ব্যয়, জননিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে নিজেদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। তবে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা, নিবন্ধনের অবস্থা এবং প্রযোজ্য নিয়ম প্রত্যেক ভোটারকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১২:৪৮
স্ট্রিমিং সার্ভিসের সাবস্ক্রিপশন ফি বেড়ে যাওয়ায় খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন মার্কিন গ্রাহকরা। ছবি: সংগৃহীত
দাম বাড়ায় স্ট্রিমিং থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন মার্কিনরা, খরচ কমাতে বাতিল হচ্ছে একের পর এক সাবস্ক্রিপশন

যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন স্ট্রিমিং সেবার সাবস্ক্রিপশন ফি বাড়তে থাকায় খরচ কমানোর দিকে ঝুঁকছেন অনেক গ্রাহক। নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাসসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত অর্থ খরচের চাপ সামলাতে কেউ সাবস্ক্রিপশন বাতিল করছেন, কেউ কম দামের বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজ বেছে নিচ্ছেন, আবার কেউ বিনা মূল্যের স্ট্রিমিং সেবায় চলে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জরিপেও বিনোদন খাতে বাড়তি ব্যয় নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে।   নিউ জার্সিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্ট্রিমিং সেবার বাড়তি খরচের কারণে গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশন ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে।   রিভিউজ ডটঅর্গের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, গত ১২ মাসে স্ট্রিমিং সেবার দাম বাড়ার কারণে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা কোনো একটি সেবার সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন অথবা কম খরচের প্যাকেজে পরিবর্তন করেছেন। একই জরিপে ৪৩ শতাংশ জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে অন্তত একটি স্ট্রিমিং সেবার সাবস্ক্রিপশন বাতিল করার সম্ভাবনা রয়েছে।   এক হাজার মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে আরও দেখা যায়, একজন মার্কিন গ্রাহক গড়ে প্রায় তিনটি পেইড স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করেন। ফলে একাধিক প্ল্যাটফর্মের মাসিক বিল একসঙ্গে যোগ হয়ে অনেক পরিবারের বিনোদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।   সাবস্ক্রিপশন বাতিল করলেও অনেক গ্রাহক স্থায়ীভাবে কোনো প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাচ্ছেন না। জরিপে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, আগে বাতিল করা কোনো স্ট্রিমিং সেবায় পরে আবার সাবস্ক্রাইব করেছেন। অন্যদিকে, ৪৮ শতাংশ বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো অনুষ্ঠান বা খেলা দেখার জন্য সাবস্ক্রিপশন নিয়ে পরে তা বাতিল করেছেন।   খরচ কমানোর আরেকটি উপায় হিসেবে বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজ জনপ্রিয় হচ্ছে। জরিপে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা গত এক বছরে বিজ্ঞাপনবিহীন পেইড প্যাকেজ থেকে কম দামের বিজ্ঞাপনযুক্ত প্যাকেজে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ৫৫ শতাংশ বলেছেন, বাড়তি সাবস্ক্রিপশনের খরচ বহন করা কঠিন হওয়ায় তাঁরা বিনা মূল্যের বিজ্ঞাপননির্ভর স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করেন।   ইউটিউবের বিনা মূল্যের ভিডিও, টিউবি, দ্য রোকু চ্যানেল ও প্লুটো টিভির মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এ ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রচলিত টিভি চ্যানেল দেখার জন্যও কেউ কেউ ওভার দ্য এয়ার অ্যান্টেনা ব্যবহার করছেন।   স্ট্রিমিং সেবার দাম নিয়ে অসন্তোষ নতুন নয়। ইউগভের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তাঁদের স্ট্রিমিং সাবস্ক্রিপশনে পরিবর্তন এনেছেন। যাঁরা অন্তত একটি সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ দামকে বাতিলের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   গ্রাহকদের এই প্রবণতা স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দর্শকেরা পছন্দের সিনেমা, সিরিজ ও খেলাধুলা দেখতে চান, অন্যদিকে একাধিক সেবার মাসিক খরচ তাঁদের বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে কোন প্ল্যাটফর্মে কতটা সময় কাটাচ্ছেন এবং কোন সাবস্ক্রিপশন থেকে বাস্তবে কতটা সুবিধা পাচ্ছেন, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকে।   বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকদের ধরে রাখতে স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলোকে মূল্য নির্ধারণ, প্যাকেজের সুবিধা এবং কনটেন্টের মানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। অন্যথায়, গ্রাহকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়াতে পারেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১২:৪৫
পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় শিশুদের ওপর নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগে এরিকা লিন সেয়ার ও ক্লিফোর্ড গেইল সেয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ায় ৩ শিশুকে হন্টেড বাড়িতে আটকে বছরের পর বছর নির্যাতন, দম্পতির বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে তিন শিশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং অবহেলার অভিযোগে এক দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা হয়েছে। জ্যাকসন কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তের পর এরিকা লিন সেয়ার, ৪৫, এবং তাঁর স্বামী ক্লিফোর্ড গেইল সেয়ার, ৪৬, ছয়টি করে অভিযোগের মুখে পড়েছেন। শিশুদের ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় শেরিফের ভাষায়, শিশুদের বসবাসের পরিবেশ ছিল ‘ভয়াবহ নির্যাতনের বাড়ি’। তদন্তকারীদের বরাতে জানা গেছে, শিশুদের অভিযোগ অনুযায়ী, বছরের পর বছর তাঁদের মারধর করা, শ্বাসরোধ করার চেষ্টা, খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত করা এবং টয়লেট ব্যবহারে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।   তদন্তে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, শাস্তি হিসেবে শিশুদের বিছানায় ব্যবহৃত বিড়ালের নোংরা লিটার ফেলে দেওয়া হতো এবং তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে কুকুরের মল লাগানো হতো। কখনো কখনো পাথরকুচি ছড়ানো রাস্তার ওপর খালি পায়ে দৌড়াতে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।   শিশুদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরের বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাঁদের মারধর করা হতো, এতে কারও কারও শরীরে রক্তপাতের মতো আঘাতের সৃষ্টি হয়। তাঁদের নোংরা মোজা মুখে দিতে বাধ্য করা এবং জোর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।   তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শিশু জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক একটি যন্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। এতে রক্তপাত হলেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। আরেক শিশুকে নির্যাতনের কথা শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানালে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   শিশুদের মৃত জৈবিক বাবা-মাকে নিয়েও কটূক্তি ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক শিশু আবেগাপ্লুত হয়ে জানায়, সে ওই বাড়িতে আর ফিরতে চায় না। অন্য এক শিশু বছরের পর বছর নির্যাতনের কথা তুলে ধরে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।   শেরিফের কার্যালয়ের অভিযোগ, ক্লিফোর্ড সেয়ার বারবার নির্যাতনের ঘটনা দেখেও তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেননি। বরং একটি ঘটনায় তিনি এক শিশুর হাত ধরে রেখেছিলেন, আর এরিকা ক্ষুর দিয়ে তার চুল কাটছিলেন। এতে শিশুটি আহত হয় বলে অভিযোগ।   জ্যাকসন কাউন্টির শেরিফ রস মেলিঙ্গারের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্তকারীরা শিশুদের শরীরে এমন কিছু দাগ পেয়েছেন, যা তাদের বর্ণিত নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিশুদের বক্তব্যের মধ্যেও মিল পাওয়া গেছে। তদন্তে একাধিক সাক্ষাৎকার, চিকিৎসা পরীক্ষা এবং ছবি সংগ্রহের তথ্য উঠে এসেছে।   মামলায় এরিকার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের কারণ হওয়া শিশু নির্যাতনের তিনটি এবং আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে এমন শিশু অবহেলার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্লিফোর্ডের বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের কারণ হওয়া শিশু অবহেলার তিনটি এবং আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে এমন শিশু অবহেলার তিনটি অভিযোগ রয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধেই মোট ছয়টি করে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুজনই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এরিকার প্রাথমিক শুনানির তারিখ ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্লিফোর্ডের শুনানিও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হওয়ার কথা রয়েছে।   তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১২:৩৩
হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন
হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন, নিউইয়র্কে পরিবার নিয়ে আনন্দের সুযোগ

নিউইয়র্কের কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে হ্যালোইন উপলক্ষে শিশু ও পরিবারের জন্য একাধিক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার, ২৮ অক্টোবর, স্থানীয় সময় বিকেল থেকে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে শিশুদের বিনোদন, সৃজনশীল কার্যক্রম এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এসব আয়োজন হতে পারে অবসর কাটানো ও কমিউনিটির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি সুযোগ।   লং আইল্যান্ড সিটির ১০-১৫, ৪৬তম রোডে রিনিউ কুইন্স ও ওয়েলস্প্রিং চার্চের উদ্যোগে ‘ফল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। এতে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলা, মুখে রং করা, সৃজনশীল কাজ, পুরস্কার এবং নাশতার ব্যবস্থা রাখার কথা রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের হ্যালোইনের পোশাক পরে আসতেও উৎসাহিত করা হয়েছে।   আয়োজকেরা অনুষ্ঠানটিকে শুধু শিশুদের বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং একই এলাকার পরিবারগুলোর মধ্যে পরিচিতি ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। কর্মসূচির দুটি নির্ধারিত পর্ব ছিল বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট। উভয় পর্বেই খেলা, মুখে রং করা, সৃজনশীল কার্যক্রম ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখার কথা জানানো হয়েছিল। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—সব অংশগ্রহণকারীর তথ্য দিতে বলা হয়েছিল।   একই দিনে লং আইল্যান্ড সিটির লা গার্ডিয়া কমিউনিটি কলেজ এলাকায় ‘হ্যালোইন অ্যান্ড দিয়া দে লস মুয়ের্তোস সেলিব্রেশন’ নামে আরেকটি পারিবারিক আয়োজনের ঘোষণাও দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। আয়োজনে শিশুদের মিষ্টি সংগ্রহ, মুখে রং করা, খেলাধুলা, পুরস্কার, সংগীত, বিনোদন, কুমড়ার সাজসজ্জা এবং পোশাক প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পীদের সরাসরি কুমড়ায় নকশা তৈরির প্রদর্শনীও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।   ‘দিয়া দে লস মুয়ের্তোস’ মেক্সিকোর একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করা হয়। হ্যালোইনের সঙ্গে এই আয়োজন যুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগও পান। বহুসাংস্কৃতিক নিউইয়র্কে এ ধরনের অনুষ্ঠান বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।   প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের জন্য শিশুদের নিরাপদ বিনোদন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলো স্থানীয় কমিউনিটির কার্যক্রমে অংশ নিলে আশপাশের সেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানার সুযোগ পেতে পারে। তবে শিশুদের নিয়ে কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে আয়োজকের নির্দেশনা, প্রবেশের শর্ত এবং অভিভাবকদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।   উৎসবগুলোর সময়সূচি ২৮ অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত ছিল। তাই প্রকাশের সময় পাঠকদের জানানো জরুরি যে এগুলো পূর্বঘোষিত কর্মসূচি; অনুষ্ঠান ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকলে আয়োজকদের কাছ থেকে উপস্থিতি, কার্যক্রম ও ফলাফল নিশ্চিত না করে সেগুলোকে সম্পন্ন ঘটনার বিবরণ হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়। একইভাবে, কোনো অনুষ্ঠান বিনা মূল্যে ছিল কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে বিনা মূল্যে অংশগ্রহণের দাবি করাও ঠিক হবে না।   নিউইয়র্কের স্থানীয় কমিউনিটি অনুষ্ঠানগুলো শুধু উৎসবের আনন্দই নয়, বরং পরিবারগুলোর মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলারও একটি মাধ্যম। শিশুদের আনন্দ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং প্রতিবেশীদের অংশগ্রহণ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন স্থানীয় জীবনযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১২:২৫
মূল্যস্ফীতি ও আবাসন ব্যয়ের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সীদের প্রায় অর্ধেকই থাকছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয়ের চাপের মধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় অর্ধেক তরুণ-তরুণী। ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ পারিবারিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে এই বয়সী ৪৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন। ২০১৯ সালে করোনা মহামারির আগে এ হার ছিল ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় বছরে হার বেড়েছে ১২ শতাংশ পয়েন্ট।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ১১অ্যালাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা তরুণদের স্বাধীনভাবে বসবাসের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া, বাড়ি কেনার উচ্চ সুদের হার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং জ্বালানির ব্যয় সামলাতে গিয়ে অনেক তরুণ পরিবার ছেড়ে আলাদা বাসায় উঠতে পারছেন না।   ফেডারেল রিজার্ভের জরিপ অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসকারী ৩০ বছরের কম বয়সীদের হার বেড়েছে ৬ শতাংশ পয়েন্ট। এর অর্থ, মহামারির পরও তরুণদের আবাসনসংকট পুরোপুরি কাটেনি। বরং বাড়তি ব্যয় ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে পরিবারের সঙ্গে থাকার প্রবণতা আরও বেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে বসবাস শুরু করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি আবাসন ব্যয়। অনেক শহরে বাসাভাড়া ও বাড়ি কেনার খরচ তরুণদের আয়ের তুলনায় বেশি। এর সঙ্গে মর্টগেজের উচ্চ সুদের হার যুক্ত হওয়ায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে চাকরি বা পড়াশোনা শেষ করার পরও অনেককে বাবা-মায়ের বাসায় থাকতে হচ্ছে।   শুধু আবাসন নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও তরুণদের বাজেটে চাপ তৈরি করছে। বাজারসদাই, গ্যাস ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আলাদা বাসায় থাকা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং সঞ্চয় গড়ে তোলা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে চাকরি পাওয়া ও ধরে রাখার অনিশ্চয়তা তরুণদের আর্থিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।   ফেডারেল রিজার্ভের ২০২৫ সালের জরিপে তরুণদের আর্থিক অবস্থার অবনতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, গত ১২ মাসে পরিবারের বাইরের কারও কাছ থেকে কোনো না কোনো খরচ মেটাতে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। এই সহায়তা দৈনন্দিন বিল, ফোনের খরচ কিংবা অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে কাজে লেগেছে।   তবে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসের অর্থ এই নয় যে সব তরুণই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। কেউ কেউ পড়াশোনা শেষ করা, ঋণ পরিশোধ কিংবা ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে পরিবারের সঙ্গে থাকছেন। কিন্তু বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় ও চাকরির বাজারের চাপ অনেকের জন্য এই ব্যবস্থাকে পছন্দের বদলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তে পরিণত করেছে।   বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ব্যয় ও তরুণদের আর্থিক স্বাধীনতার বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের বাসায় থাকা একসময় প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের স্বাভাবিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সময় লাগছে।   ফেডারেল রিজার্ভের জরিপের এই পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও প্রাসঙ্গিক। উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও স্বাধীনভাবে বসবাস শুরু করার পরিকল্পনা করা তরুণদের অনেকেই আবাসন ও দৈনন্দিন ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা এখন শুধু পারিবারিক পছন্দের বিষয় নয়, বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১২:২১
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছেন তাঁর বাবা-মা। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিককের তথ্য গোপন করছে বিচার বিভাগ, বাবা মায়ের ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে গত জানুয়ারিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছেন তাঁর বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, ছেলের মৃত্যুর তদন্ত সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না দিয়ে এবং ফেডারেল ভিকটিমস রাইটস আইনের অধীনে পরিবারের অধিকার ক্ষুণ্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাঁদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে।   মাইকেল ও সুসান প্রেত্তি ২৭ অক্টোবর মিনিয়াপোলিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁদের ছেলে অ্যালেক্স পেশায় একজন নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্স ছিলেন। ২৪ জানুয়ারি অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ও ফেডারেল অভিবাসন অভিযান ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তিনি গুলিতে নিহত হন। ঘটনার প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।   পরিবারের আইনজীবী স্টিভ শ্লাইখার জানান, অ্যালেক্সের মৃত্যুর তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে এবং কী ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবার স্পষ্ট তথ্য চায়। তাঁদের অভিযোগ, বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাচ্ছে না এবং তদন্তের পূর্ণ নথি রাজ্য পর্যায়ের তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে না।   চলতি বছরের জুলাইয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চকে পাঠানো এক চিঠিতে পরিবারের আইনজীবী অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগের কাছ থেকে তাঁরা তদন্তের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো হালনাগাদ তথ্য পাননি। চিঠিতে সরকারের আচরণকে নিষ্ঠুর ও বেআইনি বলে বর্ণনা করা হয়। পরিবারটির বক্তব্য, তদন্তের বিষয়ে যোগাযোগের অভাব তাঁদের শোক ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।   ফেডারেল ভিকটিমস রাইটস আইনে অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্তে প্রমাণ প্রকাশের দাবি পরিবারের   যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর প্রায় নয় মাস পরও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা-মা। তাঁদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাঁদের অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখছে। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ২৭ অক্টোবর মিনিয়াপোলিসে প্রকাশ্যে দাবি জানান মাইকেল ও সুসান প্রেত্তি।   ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেত্তি ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্স হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৪ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের মধ্যে তিনি গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।   পরিবারের আইনজীবী স্টিভ শ্লাইখারের মাধ্যমে জুলাই মাসে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, অ্যালেক্সের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে বিচার বিভাগের কাছ থেকে পরিবার উল্লেখযোগ্য কোনো হালনাগাদ তথ্য পায়নি। চিঠিতে সরকারের আচরণকে অগ্রহণযোগ্য ও বেআইনি বলে অভিযোগ করা হয়।   মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে অ্যালেক্সের বাবা-মা বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর থেকে তাঁরা সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাননি। তাঁদের অভিযোগ, বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁদের উপেক্ষা করেছেন, বিভ্রান্ত করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বদলে তাঁদের আড়াল করছেন।   অ্যালেক্সের মা সুসান প্রেত্তি অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে নিয়ে প্রশাসনের প্রাথমিক বক্তব্য তাঁর স্মৃতিকে কলঙ্কিত করেছে। ঘটনার পর তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম তাঁকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে গুলির আগে অ্যালেক্সের হাতে মোবাইল ফোন দেখা গেছে। গুলির ঠিক আগের মুহূর্তে তাঁকে অস্ত্র প্রদর্শন বা কর্মকর্তাদের আক্রমণ করতে দেখা গেছে, এমন কোনো ভিডিও প্রকাশিত হয়নি।   তদন্তের তথ্য নিয়ে ফেডারেল ও মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিরোধ চলছে। অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনে গুডের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ পাওয়ার জন্য মিনেসোটার কর্মকর্তারা মার্চ মাসে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাজ্য কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্বাধীন তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য তাদের হাতে নেই।   তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসাবাদের রেকর্ডিংসহ আরও কিছু উপাদান চেয়েছেন। ফেডারেল প্রসিকিউটররা প্রমাণ ভাগাভাগি বন্ধ করে দেওয়ার পর তদন্তে সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার সীমিত।   অ্যালেক্সের বাবা-মা জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুর খবর তাঁরা প্রথম জানতে পারেন একজন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকের কাছ থেকে। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার দিন ফেডারেল সরকারের কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অথচ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমে তাঁদের ছেলেকে নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন।   পরিবারের দাবি, তাঁরা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না। তাঁরা চান, তদন্তের সব প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ করা হোক, রাজ্য তদন্তকারীদের প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেওয়া হোক এবং আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ভিকটিমস রাইটস আইন অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কিছু অধিকার নিশ্চিত করে। এর মধ্যে রয়েছে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ পাওয়ার অধিকার, মামলার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য জানার সুযোগ এবং বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কিছু অধিকার। তবে অ্যালেক্সের পরিবারের অভিযোগের আইনি পরিণতি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্ত চলমান। তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে বিভাগটির বিস্তারিত জবাব তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং দায় নির্ধারণের দাবিতে পরিবারটি তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১২:২
বাঙালি পরিচয় নিয়ে নিউ ইয়র্কে ব্যতিক্রমী আয়োজন
বাঙালি পরিচয় নিয়ে নিউ ইয়র্কে ব্যতিক্রমী আয়োজন, ‘আপনাকে বাঙালি মনে হয় না’

নিউইয়র্কের কুইন্সে বাঙালি পরিচয়, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। ‘আলাপ—বাঙালি পরিচয় সিরিজ’-এর আওতায় বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজক বাঙালি মেন্টাল হেলথ মুভমেন্ট। অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে জ্যাকসন হাইটসের আপিচা কমিউনিটি হেলথ সেন্টার। প্রকাশিত অনুষ্ঠানতথ্য অনুযায়ী, এতে অংশগ্রহণ বিনা মূল্যে।   এবারের আলোচনার শিরোনাম ‘বাট ইউ ডোন্ট লুক বেঙ্গলি?’—বাংলা অর্থ, ‘আপনাকে তো বাঙালি মনে হয় না!’ পরিচয় ও সংস্কৃতি নিয়ে মানুষের প্রচলিত ধারণাকে সামনে রেখেই এই আলোচনার বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। কারও চেহারা, ভাষা, পোশাক, উচ্চারণ কিংবা সাংস্কৃতিক অভ্যাস দেখে তাঁর বাঙালি পরিচয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের ভাবনার সুযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল বিষয়।   বিদেশে বসবাসকারী অনেক বাঙালিকে একাধিক সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়। পরিবারে এক ধরনের ভাষা ও সংস্কৃতি, কর্মক্ষেত্রে অন্য ধরনের পরিবেশ এবং বৃহত্তর সমাজে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের সাংস্কৃতিক শিকড় ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে বহুসাংস্কৃতিক সমাজে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, ভুল ধারণা কিংবা অন্যের প্রত্যাশার সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার অমিল কখনো অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।   আয়োজকদের ‘আলাপ’ উদ্যোগটি বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সংযোগ নিয়ে কথোপকথনের সুযোগ তৈরির সঙ্গে যুক্ত। এ ধরনের আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে, অন্যের কথা শুনতে এবং পরিচয় ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি জানতে পারেন। তবে এই অনুষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা বা পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।   অনুষ্ঠানটি নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে আপিচা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিকানা ৮২-১১, ৩৭তম অ্যাভিনিউ, কুইন্স, নিউইয়র্ক। প্রকাশিত তালিকায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রবেশমূল্য উল্লেখ করা হয়নি। আগ্রহীদের অংশগ্রহণের আগে নিবন্ধন, আসনসংখ্যা এবং প্রবেশসংক্রান্ত শর্ত আয়োজকের প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।   প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের জন্য পরিচয় ও সংস্কৃতি শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক, আত্মপরিচয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের সাংস্কৃতিক বিকাশের সঙ্গেও সম্পর্কিত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে, ‘আপনাকে তো বাঙালি মনে হয় না’—এমন একটি সাধারণ মন্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে আলোচনা করার এই আয়োজন কমিউনিটির মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১১:৫৯
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর ব্রাজিলের ডানপন্থী নেতা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনে হারের পর ব্রাজিল ছাড়লেন ফ্লাভিও বলসোনারো, পরিবার নিয়ে পৌঁছালেন মায়ামিতে

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে পৌঁছেছেন ডানপন্থী নেতা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি সেখানে পৌঁছান। অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্তের মধ্যে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর দেশ ছাড়ার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা না দিয়ে তিনি ভোটের ফল বাতিলের দাবিও তুলেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার তাঁর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ফ্লাভিও তাঁর স্ত্রী ফার্নান্দা আন্তুনেস ফিগেইরা বলসোনারো এবং দুই মেয়ে ক্যারোলিনা ও লুইজাকে নিয়ে ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা একটি বেসরকারি উড়োজাহাজে ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলে যান। সেখান থেকে উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা হয়। বুধবার সকালে মায়ামির কাছে ওপা-লক্কা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণ করে।   ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েস ফ্লাভিওকে মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে তাঁর সাধারণ ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ফ্লাভিও সেই নির্দেশ পালন করেছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো অপরাধের কথা স্বীকার করেননি।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেছিলেন।   ফ্লাভিওর বাবা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোও ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হারের পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে জাইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় সাজা ভোগ করছেন।   এদিকে নির্বাচনে জয়ী লুলা ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ব্রাজিলে থেকেই ফ্লাভিওর উচিত ছিল নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়া। অন্যদিকে ফ্লাভিওর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে নিরাপদে আছেন।   ফ্লাভিওর দেশত্যাগ ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। নির্বাচনের ফল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত নিয়ে সামনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা এখন দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১১:২৭
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কম্বোডিয়ায় বিশ্বভ্রমণ স্থগিত করেছে মার্কিন ক্রুজ জাহাজ এমভি ওডিসি। ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ জ্বালানি তেলের ব্যয়ে ৩ বছরের বিশ্বভ্রমণ স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুস জাহাজ! অনিশ্চয়তায় ২০৩ যাত্রী

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার কম্বোডিয়ায় বিশ্বভ্রমণ স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবাসিক ক্রুজ জাহাজ এমভি ওডিসি। এর ফলে জাহাজটিকে দীর্ঘমেয়াদি ভাসমান বাসা হিসেবে ব্যবহার করা ২০৩ যাত্রীকে নেমে যেতে বলা হয়েছে। তিন বছর ধরে বিশ্বের সাত মহাদেশ ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রা শুরু করা জাহাজটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।   ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস পরিচালিত জাহাজটি ২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করে। এর বিশেষত্ব ছিল, যাত্রীরা জাহাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন। জাহাজটির কেবিনকে স্থায়ী বাসস্থানের বিকল্প হিসেবেও প্রচার করা হয়েছিল।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটির প্রতি কেবিনে মাসিক জ্বালানি ব্যয় আগে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার ছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার কিছু এলাকায় সেই ব্যয় বেড়ে আনুমানিক ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান।   ব্যয় কমাতে জাহাজের গতি কমানো এবং বন্দরে বেশি সময় অবস্থানের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এভাবে লোকসান নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না। জ্বালানির পুরো বাড়তি ব্যয় যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও বাস্তবসম্মত সমাধান নয় বলে তাদের বক্তব্য।   গত ২৩ অক্টোবর কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল বন্দরে পাঁচ দিনের সফরের জন্য পৌঁছায় ওডিসি। এরপর জাহাজটির ভিয়েতনামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বন্দরে অবস্থান করছে। যাত্রীদের জাহাজ থেকে নেমে যেতে বলা হয়েছে। তবে ১৫টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে অধিকাংশই মার্কিন নাগরিক। জাহাজটিতে আরও ১৫৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   জাহাজটির কিছু যাত্রী জানিয়েছেন, জ্বালানি খরচ ছাড়াও পরিচালনা ও সেবার মান নিয়ে তাঁদের অসন্তোষ ছিল। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।   ওডিসির বিশ্বভ্রমণসূচি ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। কিন্তু জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক সংকটের কারণে সেই পরিকল্পনা এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যাত্রী, ক্রু ও কর্মীদের সহায়তা এবং ব্যবসা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার দিকে তারা মনোযোগ দিচ্ছে।   জাহাজটিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য কেবিন কেনার দাম প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার থেকে শুরু হয়েছিল। ফলে যাত্রীদের কাছে এটি কেবল অবকাশযাত্রা নয়, বরং দীর্ঘদিনের বাসস্থানের পরিকল্পনাও ছিল। হঠাৎ যাত্রা স্থগিত হওয়ায় তাঁদের সামনে এখন অস্থায়ী আবাসন ও পরবর্তী ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১১:১৮
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০