- প্রচ্ছদ
- আমেরিকা
আমেরিকা
স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এক ভারতীয় নাগরিককে অভিনব উপায়ে স্বর্ণ জালিয়াতির দায়ে ৩০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। ভেঙ্কটেশ্বর চাগামরেডি (৩৭) নামের ওই ব্যক্তি এক প্রবীণ ভিয়েতনাম যুদ্ধফেরত সেনাকে (ভেটেরান) ধোঁকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। টেক্সাসের সান আন্তোনিওর বাসিন্দা ভেঙ্কটেশ্বরকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৯৯,৪৯৬ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ জন ডি. রাসেল। সাজা ভোগের পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় বহিষ্কারের সম্মুখীন হতে হবে। মার্কিন অ্যাটর্নি ক্রিস্টোফার জে. নাসার জানান, এই প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে প্রবীণদের দুর্বলতার সুযোগ নিত। গত ২০২৫ সালের আগস্টে ভুক্তভোগী ওই প্রবীণ তার কম্পিউটারে সমস্যা দেখে মাইক্রোসফট সাপোর্টের একটি ভুয়া নম্বরে কল করেন। তখন তাকে বলা হয়, তার কম্পিউটারে অপরাধমূলক কার্যক্রম ধরা পড়েছে এবং বিষয়টি সরকারের কাছে রিপোর্ট করা হবে। পরবর্তীতে ভুয়া ফেডারেল অফিসার এবং ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তা সেজে ওই প্রবীণকে ভয় দেখানো হয় যে, তার পরিচয় চুরি করে অপরাধীরা গুরুতর ফেডারেল অপরাধ সংঘটিত করেছে। তাকে তার জমানো অর্থ রক্ষার্থে দ্রুত সেগুলো স্বর্ণে রূপান্তর করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং বলা হয়, একজন কর্মকর্তা সরাসরি তার বাড়িতে গিয়ে সেই স্বর্ণ সংগ্রহ করে নিরাপদ হেফাজতে রাখবেন। প্রতারকদের কথামতো ওই প্রবীণ স্বর্ণ কিনে তাদের প্রতিনিধির হাতে তুলেও দেন। কিন্তু কয়েকদিন পর তারা আবারও অর্থের দাবি করলে পরিবারের এক সদস্যের মাধ্যমে তিনি বুঝতে পারেন যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে তিনি ডেলাওয়্যার কাউন্টি শেরিফ অফিসের সাথে যোগাযোগ করে পুলিশকে বিস্তারিত জানান। পুলিশের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ভেঙ্কটেশ্বর যখন দ্বিতীয়বার ওই প্রবীণের বাড়ি থেকে স্বর্ণ আনতে যান, তখন তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার গাড়ি থেকে নগদ ৫০০ ডলার, একটি মোবাইল ফোন এবং ২৩ আউন্স স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি একাধিক অঙ্গরাজ্য ঘুরে একাধিক প্রবীণের কাছ থেকে একইভাবে স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিলেন। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে দেখা যায়, ভেঙ্কটেশ্বর টেক্সাস থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ক্যানসাস হয়ে ওকলাহোমা পর্যন্ত ভ্রমণ করেছিলেন শুধুমাত্র বয়স্কদের টার্গেট করে স্বর্ণ সংগ্রহের জন্য। হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ ও লোকেশন ডেটা থেকে তার অপরাধের প্রমাণ মেলে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রবীণদের লক্ষ্য করে এমন প্রতারণা দেশটিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন শত শত মামলায় অপরাধীরা এক মিলিয়নেরও বেশি আমেরিকানের কাছ থেকে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রবীণদের সুরক্ষায় মার্কিন প্রশাসন এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে আড়াই লাখ ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক হোমলেস নারী। ওয়েস্ট ৪৫ স্ট্রিটের 'বেন্টলি মিকার লাইটিং অ্যান্ড স্টেজিং' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানের মালিক বেন্টলি মিকার জানান, গত বৃহস্পতিবার এক নারী তার আড়াই লাখ ডলারের মার্সিডিজ-বেঞ্জ জি৬৩ গাড়ির আয়নায় একটি টি-শার্ট পেঁচিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা দ্রুত বিষয়টি টের পেয়ে তা প্রতিহত করতে সক্ষম হন, যার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। ম্যানহাটনের ওয়েস্ট সাইডে হোমলেসদের অবৈধ ক্যাম্প বা তাঁবু বসানোর প্রবণতা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বেন্টলি মিকার জানান, গত জুলাই থেকে তাদের অফিসের বাইরে হোমলেসদের আনাগোনা শুরু হলেও চলতি মাসে পরিস্থিতি বেশ ভয়ংকর ও আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। গাড়ি পোড়ানোর চেষ্টার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে লোহার রড নিয়ে ধাওয়া করার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া, কোম্পানির একটি ট্রাকের নিচে আরেক হোমলেস ত্রিপল টাঙিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন; চালক গাড়ি ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে তা টের পাওয়ায় অল্পের জন্য ওই ব্যক্তি চাকায় পিষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পান। গাড়ি পোড়ানোর ঘটনার পরপরই নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) এবং স্যানিটেশন বিভাগ দ্রুত ওই এলাকার অবৈধ ক্যাম্পগুলো উচ্ছেদ করে। তবে শুক্রবারই সেখান থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে আবারও নতুন করে তাঁবু খাটাতে দেখা যায় তাদের। নিউইয়র্ক সিটি হলের নিয়ম অনুযায়ী, উচ্ছেদের আগে হোমলেসদের টানা সাত দিন আশ্রয় ও অন্যান্য সেবার প্রস্তাব দিতে হয়, যা প্রশাসন ও স্থানীয়দের জন্য এক অন্তহীন ইঁদুর-বিড়াল খেলায় পরিণত হয়েছে। বেন্টলি মিকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে শতাধিক কর্মী কাজ করেন। কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব হলেও, শহরের রাস্তাগুলোকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। হোমলেস সমস্যার এমন আগ্রাসী রূপে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই আকর্ষণীয় চাকরির সুযোগ দিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। যারা অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতায় ভালো কাজের সন্ধান করছেন, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির অফিশিয়াল ক্যারিয়ার ওয়েবসাইট ‘জবসএনওয়াইসি’ (JobsNYC) পোর্টালে বেশ কিছু এন্ট্রি-লেভেল পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। কেবল ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং সাধারণ নির্দেশনা বুঝে কাজ করার সক্ষমতা থাকলেই এই পদগুলোর জন্য আবেদন করা যাবে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অব প্রোবেশন তাদের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার জন্য ছয়জন ‘কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের মূল কাজ হবে সাধারণ দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা এবং ফ্রন্ট ডেস্ক সামলানো। অন্যদিকে, ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসও একই পদে দুজন কর্মী খুঁজছে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মালামাল ওঠানো-নামানো ও গুদামজাত করা এবং ক্লায়েন্টদের কার্যক্রম তদারকিতে সহায়তা করা। এই পদের কর্মীদের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা অথবা মঙ্গলবার থেকে শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শিফটে কাজ করতে হবে। উভয় বিভাগের এই পদগুলোর জন্যই বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৯৭০ ডলার থেকে ৪৯ হাজার ৩০ ডলার পর্যন্ত। এছাড়াও, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) হিউম্যান রিসোর্সেস ডিভিশন তাদের প্রি-এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস ইউনিটের জন্য দুজন ‘কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নিয়োগ দিচ্ছে। এই পদে কর্মরতদের প্রধান দায়িত্ব হবে সম্ভাব্য চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা, নিয়োগ সংক্রান্ত ইভেন্টের ক্যালেন্ডার পরিচালনা করা এবং সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ করা। নির্বাচিত কর্মীদের সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার শিফটে কাজ করতে হবে।
নিউইয়র্কের সিরাকিউজে নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠানে ১১ দেশের ১২ জন নতুন মার্কিন নাগরিক হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর চার সদস্য। বৃহস্পতিবার জেমস এম. হ্যানলি ফেডারেল কোর্টহাউসে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের কয়েক বছরের নাগরিকত্বের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। নতুন নাগরিকদের একজন জোসেফ ইয়াওসন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে তাঁর আরেকটি স্বপ্ন জড়িয়ে ছিল, আর সেটি হলো মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া। সেই স্বপ্নও পূরণ করেছেন তিনি। “আমার স্বপ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া, আর আমি তা করতে পেরেছি,” বলেন ইয়াওসন। তবে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথটি তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ইয়াওসন জানান, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁর প্রায় তিন থেকে চার বছর সময় লেগেছে। “এটি খুব কঠিন একটি প্রক্রিয়া। এমন নয় যে শুধু উঠে দাঁড়ালেন আর পেয়ে গেলেন। এখানে পৌঁছাতে তিন থেকে চার বছর লেগেছে,” বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে মার্কিন দেউলিয়া আদালতের বিচারক প্যাট্রিক রাডেল সভাপতিত্ব করেন। এটি ছিল তাঁর পঞ্চম নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠান। নতুন নাগরিকদের স্বাগত জানিয়ে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বক্তব্যও তুলে ধরেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিভিন্ন দেশের মানুষের মার্কিন নাগরিক হওয়ার সুযোগের কথা বলা হয়। নাগরিকত্বের শপথ নেওয়ার মাধ্যমে নতুন নাগরিকদের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি অধ্যায় শেষ হয়েছে এবং শুরু হয়েছে জীবনের নতুন অধ্যায়। সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া এবং মার্কিন নাগরিক হওয়ার দুটি লক্ষ্যই পূরণ করেছেন ইয়াওসন। এখন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও ঠিক করা আছে। “যখন আমার সময় আসবে, আমি অবসর নিতে চাই। আমি আমেরিকা উপভোগ করতে চাই,” বলেন তিনি। সিএনওয়াই সেন্ট্রালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে ব্রাজিল, ঘানা, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও সিয়েরা লিওনসহ ১১টি দেশের নাগরিকরা মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে খুনি ভাড়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। ‘টিন্ডার’-এর মাধ্যমে পেশাদার খুনি ভাড়া করে নিজের সাবেক প্রেমিক এবং তার কিশোরী মেয়েকে হত্যার ছক কষার অভিযোগে জ্যাকলিন ডিওরিও নামের ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে অভিযুক্ত করেছে মার্কিন ফেডারেল প্রশাসন। পেশায় হেয়ারড্রেসার এই তরুণীর বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য সুবিধা ব্যবহার করে ভাড়ায় খুনের ষড়যন্ত্রের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন আদালতের তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকলিনের সাবেক প্রেমিক ম্যাথিউ ও’হ্যানলন ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার প্রায় এক মাস পর জ্যাকলিন টিন্ডারে এক ‘হিটম্যান’ বা ভাড়াটে খুনির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সাবেক প্রেমিক ও তার ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যার প্রস্তাব দেন। তবে জ্যাকলিন যাকে খুনি ভেবেছিলেন, তিনি আসলে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন গোপন সোর্স বা চর। গত ৩১ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের মধ্যে একাধিক বার্তা ও ফোন কলে এই জোড়া খুনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এমনকি জ্যাকলিন ওই গোপন সোর্সের সঙ্গে দেখা করে ১২ হাজার ডলারের চুক্তির অংশ হিসেবে অগ্রিম ৫০০ ডলার নগদ প্রদান করেন। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই ওই সোর্স স্থানীয় পুলিশকে সতর্ক করে দেন। এরপর গত এপ্রিলে গ্লুচেস্টার টাউনশিপ এলাকা থেকে জ্যাকলিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের স্পেশাল রেসপন্স টিম। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে লেবেলবিহীন কিছু সন্দেহভাজন পিল পাওয়া যায়। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এটিই জ্যাকলিনের প্রথম হত্যাচেষ্টা ছিল না। এর আগেও তিনি অন্য লোকদের ভাড়া করার চেষ্টা করেছিলেন, যারা তাকে খুনের ভুয়া ছবি দেখিয়ে প্রতারণা করেছিল। বর্তমানে জ্যাকলিন ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। যদিও তার আইনজীবীর দাবি, পুলিশ ফাঁদ পেতে সোর্সের মাধ্যমে তার মক্কেলকে ফাঁসিয়েছে। তবে আগামী দিনে আদালতে এই সুপরিকল্পিত খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জ্যাকলিনের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের চিত্র নিয়ে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২০ শতাংশই শৈশবে অন্য ধর্ম বা ধর্মহীন পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। পরবর্তীতে তারা ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। জরিপের আওতাভুক্ত ১৩টি দেশের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের এই হার যুক্তরাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। গবেষণার তথ্যমতে, নতুন ধর্মান্তরিত হওয়া এসব মুসলিমের ১৭ শতাংশ শৈশবে অন্য কোনো ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন, যাদের একটি বড় অংশই এসেছেন খ্রিষ্টান পরিবার থেকে। বাকি ৩ শতাংশের শৈশবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় ছিল না। জীবনের নানা পর্যায়ে ইসলামের একত্ববাদ, প্রার্থনার নিয়ম, আধ্যাত্মিকতা, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা ধীরে ধীরে এই ধর্মটি গ্রহণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের ইসলাম গ্রহণের যে দাবিটি প্রচলিত রয়েছে, পিউ রিসার্চ নির্দিষ্ট করে সেই বার্ষিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত না করলেও দীর্ঘমেয়াদে ধর্ম পরিবর্তনের এই বৃহৎ ও ধারাবাহিক চিত্রটি তুলে ধরেছে। তবে গবেষণায় এ-ও বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিকভাবে মুসলিম জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। ইসলাম গ্রহণের পাশাপাশি ধর্ম ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও সেখানে রয়েছে, যা অনেকটাই পরস্পরকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। বরং দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন, জন্মহার এবং জনসংখ্যার বয়স কাঠামো সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান মার্কিন মুসলিম সমাজের এক-পঞ্চমাংশই যে নতুন করে ইসলামের ছায়াতলে এসেছেন, তা সেখানকার মুসলিম কমিউনিটির একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবেই স্বীকৃতি পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিউইয়র্কের শৈশবের বাড়িটি আবারও হাতবদল হয়েছে। আট মাসের ব্যাপক সংস্কারকাজের পর জ্যামাইকা এস্টেটস এলাকায় অবস্থিত টিউডর-শৈলীর এই ঐতিহাসিক বাড়িটি সম্প্রতি ১.৯৩ মিলিয়ন বা ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ‘রি/ম্যাক্স এজ’-এর লিস্টিং এজেন্ট জো ঝু আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত বছর ডেভেলপার টমি লিন যখন জরাজীর্ণ অবস্থায় বাড়িটি কিনেছিলেন, তখন এর দাম ছিল ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। এরপর তিনি পাঁচ লাখ ডলারের বেশি খরচ করে আট মাস ধরে বাড়িটির পুরো ভোল পালটে ফেলেন। সংস্কারের পর বাড়িটির দাম হাঁকা হয়েছিল ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। শেষ পর্যন্ত ক্রেতারা এর খুব কাছাকাছি দামেই বাড়িটি কিনে নেন। জো ঝু জানান, বাড়িটির সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে থাকায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। অনেকেই কেবল একটি সুন্দর বাড়ির চেয়ে এর ঐতিহাসিক মূল্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ১৯৪০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ফ্রেড ট্রাম্প এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। ট্রাম্পের বয়স যখন চার বছর, তখন তাদের পরিবার জ্যামাইকা এস্টেটসের অন্য একটি বড় বাড়িতে চলে যায়। তবে ৮৫-১৫ ওয়্যারহ্যাম প্লেসের এই বাড়িটি দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকার পর টমি লিনের হাতে নতুন জীবন পেয়েছে। পুরোনো স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, ভাঙা পাইপলাইন আর ভবঘুরে বিড়ালের আড্ডাস্থল থেকে বাড়িটিতে এখন যুক্ত হয়েছে বিলাসবহুল কিচেন, আধুনিক বাথরুম এবং নজরকাড়া মেঝে। তবে এর বাইরের ঐতিহাসিক টিউডর-শৈলীটি অবিকৃত রাখা হয়েছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রথমবার হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পর বাড়িটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল এবং পরে এটি পর্যটকদের জন্য এয়ারবিএনবিতেও (Airbnb) ভাড়া দেওয়া হতো।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ৯/১১-এর স্মরণসভা চলাকালে সিটি হলের বাইরে উগ্র ডানপন্থী নেতা জেক ল্যাংয়ের ডাকা এক বিতর্কিত মিছিলে চরম বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার আয়োজিত ‘ক্রুসেডার মার্চ’ নামের এই চরমপন্থী ও ইসলামবিদ্বেষী কর্মসূচিতে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতির সৃষ্টি হয়, যার জেরে অন্তত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্যমতে, লোয়ার ম্যানহাটনের চার্চ স্ট্রিট এবং কোর্টল্যান্ড ওয়ের কাছে উগ্র ডানপন্থী ও এর বিরোধিতাকারী পাল্টা-প্রতিবাদকারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী এই ঘটনায় জড়ান। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি জেক ল্যাংয়ের কট্টর সমর্থক নাকি বিরোধী পক্ষের কেউ, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চরমপন্থীদের এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার জন্য ঢালাওভাবে ইসলাম ধর্মকে দায়ী করে। এ সময় তাদের হাতে ‘সব মুসলিমকে বিতাড়িত করো’ লেখা উসকানিমূলক প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এই ন্যক্কারজনক দৃশ্য ও বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা-বিক্ষোভ শুরু করেন বর্ণবাদবিরোধীরা। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন মিছিলে নাৎসিদের স্বস্তিকা চিহ্ন সংবলিত বাহুবন্ধনী পরা একদল নব্য-নাৎসি (neo-Nazis) গোষ্ঠীর উপস্থিতিও চোখে পড়ে। উসকানিমূলক এই জমায়েত এবং এর বিরুদ্ধে হওয়া তীব্র প্রতিবাদ নিউইয়র্কের রাস্তায় সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল কার্যালয় (এইচএইচএস-ওআইজি) ৯৩ মিলিয়ন ডলারের জেনেটিক টেস্ট জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক খাদের খান মোহাম্মদকে খুঁজছে। ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদের সম্ভাব্য অবস্থান ভারতের হায়দরাবাদ বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোহাম্মদ মেডিকেয়ারের কাছে জেনেটিক পরীক্ষার নামে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক ক্লেইম জমা দেওয়ার একটি পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। এসব পরীক্ষার অনেকগুলো অনুমোদিত চিকিৎসক অর্ডার করেননি এবং রোগীদের চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মোহাম্মদ চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য তাদের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে জেনেটিক টেস্টের ক্লেইম জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এইচএইচএস-ওআইজি। এসব চিকিৎসকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেয়ার রোগীদের কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত সম্পর্কও ছিল না। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ টেক্সাসের রিচার্ডসনে অবস্থিত আমেরিকান প্রিমিয়ার ল্যাবসের মালিক ছিলেন। তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার ক্লেইম জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মেডিকেয়ার অন্তত ৬৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু ২০২৩ সালের একটি ১০ দিনের সময়েই সন্দেহজনক এসব ক্লেইমের বিপরীতে মেডিকেয়ার প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার জব্দ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে হেলথ কেয়ার ফ্রডের অভিযোগে ফেডারেল ইনডাইটমেন্ট দাখিল করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ তখন জানিয়েছিল, জেনেটিক টেস্টের নামে এমন বিল জমা দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল না, যথাযথভাবে অর্ডার করা হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষাগুলো আদৌ সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। বর্তমানে এইচএইচএস-ওআইজির মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় মোহাম্মদের নাম রয়েছে। কর্তৃপক্ষ তার সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে ভারতের হায়দরাবাদের কথা উল্লেখ করেছে এবং তাকে শনাক্ত বা তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, অভিযোগ কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একদিনেই নিজের দুই ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত নারী প্রথমবার সান্তা ক্লারা কাউন্টি আদালতে হাজির হয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী অ্যানিলা বেবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সান হোসে এলাকায় অ্যান মেরি ম্যাথিউকে শ্বাসরোধ ও ছুরিকাঘাতে হত্যার মাত্র দেড় ঘণ্টার মাথায় মিলপিটাসে অঞ্জনা হরি নামের আরেক বান্ধবীকে গাড়িচাপা দিয়ে খুন করেন। ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা পূর্বপরিকল্পিত খুনের এই জোড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ৫০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। তদন্তকারীদের তথ্যমতে, গত ২৮ আগস্ট সান হোসের লিন্ডা ভিস্তা স্ট্রিটে ম্যাথিউয়ের বাড়িতে প্রথম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটররা জানান, অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়িতে হাজির হয়ে অ্যানিলা এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। পরবর্তীতে ম্যাথিউয়ের স্বামী তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পরপরই মিলপিটাসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের পার্কিং লটে অঞ্জনাকে ডেকে পাঠানো হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি গাড়ির সামনে আসতেই চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে তাকে চাপা দিয়ে হত্যা করেন। ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি নিয়ে পালানোর সময় রক্তমাখা পোশাক ও মুখমণ্ডলে আঘাতসহ অ্যানিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তে আরও জানা যায়, হামলার সময় ম্যাথিউয়ের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হলেও বাইরে অ্যানিলার স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিসা ম্যাককিউন জানিয়েছেন, দুটি হত্যাকাণ্ডই ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং নৃশংস। ফরেনসিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দুই খুনের যোগসূত্র নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো অভিযুক্ত ও নিহতরা প্রত্যেকেই মা ছিলেন এবং একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ঠিক কী কারণে অ্যানিলা নিজের কাছের বন্ধুদের এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন, তা নিয়ে নিহতদের পরিবার চরম বিভ্রান্তি ও শোকের মধ্যে রয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর অ্যানিলাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে এবং বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর অন্যতম অভিজাত ও ব্যয়বহুল এলাকা ‘সি ক্লিফ’-এ ৪০ লাখ ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল বাড়ি দখল করে নিয়েছে একদল অনুপ্রবেশকারী বা ‘স্কোয়াটার’। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে (২০২৫ সালের মে মাস থেকে) এই বাড়িতে অপরিচিত লোকজনের সন্দেহজনক আনাগোনা চলছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। গভীর রাতে অপরিচিতদের সুটকেস নিয়ে গাড়িতে ওঠা থেকে শুরু করে চুরি ও ভাঙচুরের মতো ঘটনায় অতিষ্ঠ প্রতিবেশীরা বাধ্য হয়ে ‘watch 250’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এই অবৈধ দখলের পেছনে রয়েছে ব্র্যানডন অ্যাডি এবং ডায়ানা পেং নামের দুই সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ভুয়া দলিল ও নোটারি জালিয়াতির মাধ্যমে তারা গত এক বছরে অন্তত সাতবার বাড়িটির মালিকানা নিজেদের মধ্যে হাতবদল করেছে। ব্র্যানডন অ্যাডির বিরুদ্ধে এর আগে ২০০৮ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার ত্রাণ তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। অন্যদিকে ডায়ানা পেং-ও পরিচয় চুরি ও জালিয়াতির দায়ে একাধিকবার সাজা খেটেছেন। এই প্রতারক চক্রটি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে বাড়িটির দখল নিয়ে সেটি কয়েক মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল। প্রকৃতপক্ষে বাড়িটির বৈধ মালিক ওয়েই ওয়াং নামের এক চীনা নাগরিক। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারায় ২০১৯ সাল থেকেই বাড়িটি ফাঁকা পড়ে ছিল। অবশেষে টানা অভিযোগ এবং পানির লাইন ভেঙে এলাকায় বড় ধরনের বন্যার পর সান ফ্রান্সিসকো সিটি অ্যাটর্নির কার্যালয় নড়েচড়ে বসেছে। সিটি অ্যাটর্নি ডেভিড চিউ জানিয়েছেন, ভুয়া দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি হাতিয়ে নিয়ে বিপুল অর্থ বানানোর এই অবৈধ চক্রের বিরুদ্ধে তারা এরই মধ্যে মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাড়িটির ৩ লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি সম্পত্তি কর বকেয়া থাকায় ট্যাক্স কালেক্টর এটি নিলামে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। নিলাম শুরু হতে পারে মাত্র ৫ লাখ ডলারে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার বর্তমান আইনের কারণে অনুপ্রবেশকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ করা পুলিশের জন্য বেশ কঠিন। ফলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার গ্যাঁড়াকলে পড়ে আপাতত চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই দিন পার করতে হচ্ছে অভিজাত সি ক্লিফ এলাকার বাসিন্দাদের।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য এবার প্রকাশ্যে এসেছে। চলতি বছরের জুন মাসে মেকানিকসভিলে চার শিশুসন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজেরাও আত্মহত্যা করেছিলেন এক মা ও নানি। সম্প্রতি প্রকাশিত টক্সিকোলজি বা বিষবিদ্যা রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য তারা মাত্রাতিরিক্ত অ্যালার্জির ওষুধ ব্যবহার করেছিলেন। নিহতরা ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী নানি অ্যামি স্টেডম্যান এবং তার ৪৪ বছর বয়সী মেয়ে সারাহ মায়ার্স। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১০ জুন তারা দুজনেই ‘ডাইফেনহাইড্রামিন’ নামক একটি অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যালার্জির ওষুধ প্রাণঘাতী মাত্রায় সেবন করে আত্মহত্যা করেন। তবে মৃত্যুর আগে এই মা ও মেয়ে মিলে সারাহ মায়ার্সের চার সন্তান—১৩ বছরের হার্পার, ১১ বছরের হাডসন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ শিশু গ্রেসলিন ও গ্যাভিন হারমনকেও একই ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় খাইয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ২৩ জুন পুলিশ তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে। মেকানিকসভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রধান বিল র্যাবিট জানিয়েছেন, তদন্তে প্রাপ্ত টক্সিকোলজি রিপোর্ট ঘটনাটির পেছনের ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিহত চার শিশুর শরীরে ‘মিট্রাজিনিন’ নামক একটি রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে, যা মূলত ক্র্যাটম (Kratom) নামক উদ্ভিদে পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, শিশুদের হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এই জোরালো ও বিষাক্ত ওষুধের মিশ্রণ প্রয়োগ করা হয়েছিল। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনাটি স্থানীয়দের গভীরভাবে শোকাহত করেছে এবং পারিবারিক কলহ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানা সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার সন্ধ্যায় লস অ্যাঞ্জেলেসের হিলটন ইউনিভার্সেল হোটেলে তিন দিনব্যাপী ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে চারজন সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ সেল কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রবাসীরা তাদের অভিযোগ ইমেইলের মাধ্যমে পাঠালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। দেশে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। বিনিয়োগের আগে তাদের প্রয়োজনীয় চেকলিস্ট দেওয়া হবে, যাতে প্রক্রিয়াটি সহজ হয় এবং অযথা সময় নষ্ট না হয়। প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। বিদেশে নতুন শ্রমবাজার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনে প্রবাসীরা যাতে প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ফোবানার নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও জোরদারে সংগঠনটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল কাজী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধনী আয়োজনে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। তিন দিনের এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশীয় খাবার, পোশাক ও বিভিন্ন পণ্যের স্টলসহ নানা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের হিলটন ইউনিভার্সেল হোটেলকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস এবং ২০১৩ সাল থেকে গ্রিন কার্ড থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভেঙ্কটা নরসামাম্বা ভাসামসেট্টিকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। নর্থ ক্যারোলিনায় নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেক-ইনের জন্য হাজির হওয়ার পর ১১ আগস্ট তাকে আটক করা হয়। তার মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি নিজেও একজন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। ভেঙ্কটা ভাসামসেট্টি নর্থ ক্যারোলিনার ওয়েক কাউন্টি পাবলিক স্কুল সিস্টেমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এবং তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা মার্কিন নাগরিক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ৬০ বছর বয়সী এবং কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আটকের পেছনে মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় সাত মাস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান। ভেঙ্কটা ২০২২ সালের জুলাইয়ে অসুস্থ বাবার দেখাশোনার জন্য ভারতে যান। পরে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ায় তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় আরও পিছিয়ে যায়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফেরার পর কর্তৃপক্ষ তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে গ্রিন কার্ডের রেসিডেন্সি পরিত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখায়। এ নিয়ে ভেঙ্কটার বিরুদ্ধে আগের একটি ডিপোর্টেশন মামলা চলছিল। তবে ১৯ মে ২০২৬ ইমিগ্রেশন জজ সরকারের সেই মামলা বাতিল করে দেন। আদালতের সিদ্ধান্তের পর তিনি আবার গ্রিন কার্ডের বৈধ স্ট্যাটাসে ছিলেন বলে তার আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপরও আইসিইর সঙ্গে তার নিয়মিত চেক-ইন নির্ধারিত ছিল। ১১ আগস্ট নির্ধারিত সাক্ষাতে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে শার্লটের আইসিই অফিসে গেলে তাকে আটক করা হয় এবং পরে জর্জিয়ার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। পরদিন কর্তৃপক্ষ নতুন করে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু করে। ভেঙ্কটার মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি টেক্সাস ও নিউ জার্সিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন এমপ্লয়মেন্ট-বেজড ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। মায়ের আটকের পর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মুক্তির দাবিতে “ফ্রি ভেঙ্কটা” নামে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। তার আইনজীবী দলও আটকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে জরুরি হ্যাবিয়াস করপাস পিটিশন দাখিল করেছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকার কারণে ভেঙ্কটার গ্রিন কার্ডের স্ট্যাটাস পরিত্যাগের অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকা একজন গ্রিন কার্ডধারীর স্থায়ী বসবাসের অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে ভেঙ্কটার পরিবার ও আইনজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ি, চাকরি ও পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি তার রেসিডেন্সি পরিত্যাগ করতে চাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের স্টার্লিং হাইটস সিটি হলে আগামী ১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ছয় দিনব্যাপী পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীরা কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সরাসরি সিটি হলে গিয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন। স্টার্লিং হাইটস সিটির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ সুবিধা শহরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি অন্য এলাকার বাসিন্দারাও নিতে পারবেন। পাসপোর্ট আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রসেসিং ফি পরিশোধের জন্য দুটি পৃথক চেক অথবা মানি অর্ডার সঙ্গে আনতে হবে। একটি পেমেন্ট দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নামে এবং অন্যটি স্টার্লিং হাইটস সিটির নামে। নগদ টাকা গ্রহণ করা হবে না। ওয়াক-ইন সেবার সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেবা দেওয়া হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে। আবেদনকারীদের পূরণ করা পাসপোর্ট অ্যাপ্লিকেশন সঙ্গে আনতে হবে, তবে আবেদনপত্রে আগে থেকে স্বাক্ষর করা যাবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং বর্তমান ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নথির তালিকা স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। স্টার্লিং হাইটস সিটির পাসপোর্ট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট বুকের জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফি ১৩০ ডলার। এর সঙ্গে সিটি কর্তৃপক্ষের পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফ্যাসিলিটি ফি ৩৫ ডলার এবং পাসপোর্ট ছবির জন্য ২০ ডলার দিতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপেডাইটেড সার্ভিস ও দ্রুত ডেলিভারির জন্য অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে। পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক অনুষ্ঠিত হবে স্টার্লিং হাইটস সিটি হলে, ৪০৫৫৫ ইউটিকা রোড, স্টার্লিং হাইটস, মিশিগান। বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা স্টার্লিং হাইটস সিটির পাসপোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে আবেদনকারীদের প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে ফি, সাক্ষাৎকারের স্থান এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীদের ভিসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ অধিকাংশ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি বর্তমানে ১৮৫ ডলার। এই ফি ফেরতযোগ্য নয়। তবে কাজের জন্য H, L, O, P ও R শ্রেণির মতো পিটিশনভিত্তিক কিছু ভিসার আবেদন ফি ২০৫ ডলার। E শ্রেণির ভিসায় ৩১৫ ডলার এবং মার্কিন নাগরিকের বাগদত্তা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য K শ্রেণির ভিসায় ২৬৫ ডলার ফি নির্ধারিত রয়েছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রেও আলাদা ফি প্রযোজ্য। অনুমোদিত I-130, I-600 বা I-800 পিটিশনের ভিত্তিতে পারিবারিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ৩২৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ফি ৩৪৫ ডলার এবং অন্যান্য কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ২০৫ ডলার নির্ধারিত রয়েছে। ভিসা আবেদন করার ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার কোথায় হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সাধারণত নিজেদের নাগরিকত্বের দেশ বা বসবাসের দেশে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। অন্য দেশে আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসই ভিসা প্রসেসিংয়ের নির্ধারিত স্থানগুলোর একটি। তবে ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবেদন ও সাক্ষাৎকারের পর কনস্যুলার অফিসার প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে ২০২৬ সালে কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ নিয়েও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পরীক্ষামূলক একটি কর্মসূচিতে নির্বাচিত কিছু পোস্টে যোগ্য B ভিসা আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার ফি দিয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই সুবিধা সব দূতাবাসে চালু নয় এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসার ধরন, বর্তমান ফি, সাক্ষাৎকারের নিয়ম এবং দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ফি পরিশোধের পর তা সাধারণত ফেরতযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীদের সতর্কতার সঙ্গে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মিডটার্ম কনভেনশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট না দিলে তাদের ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে। ১০ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের ডালাসে আমেরিকান এয়ারলাইন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত কনভেনশনের শেষ দিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনকে ঘিরে রিপাবলিকানদের ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ট্রাম্প সমর্থকদের হাত তুলে নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করতে বলেন। এরপর রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ভোট না দিলে কী হবে, তা তারা জানেন এবং ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে। রিপাবলিকান পার্টির এই নজিরবিহীন মিডটার্ম কনভেনশন ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ডালাসে অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বড় জাতীয় রাজনৈতিক কনভেনশন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরেই অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের এমন জাতীয় কনভেনশন আয়োজন তাই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের জনপ্রিয় সমর্থকগোষ্ঠীকে সক্রিয় করা এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য ভোটারদের উৎসাহিত করা। সমাপনী বক্তব্যে ট্রাম্প শুধু ভোটের আহ্বানেই থামেননি। অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি আবারও প্রতিশ্রুতি দেন, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের একটি চেক দেওয়া হবে। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে বা কীভাবে বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও নতুন প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বড় হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে সেই অর্থ সরাসরি আমেরিকানদের দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের হেলথ কেয়ার খরচ মেটাতে পারেন। পাশাপাশি ট্যাক্স কাট স্থায়ী করা এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোর প্রচেষ্টার কথাও বলেন তিনি। ডালাসের এই কনভেনশনকে ঘিরে রিপাবলিকানদের মূল লক্ষ্য ছিল নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনের আগে দলীয় সমর্থকদের আরও সক্রিয় করা। তবে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে পুরো নির্বাচনী কৌশল সাজানো নিয়ে দলের ভেতরেও কিছু উদ্বেগ রয়েছে। কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা মনে করছেন, ট্রাম্পের শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠীকে ভোটকেন্দ্রে আনতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বতন্ত্র ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা নির্বাচনী ফলাফলে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই রিপাবলিকানদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাই ডালাসের কনভেনশনে ট্রাম্পের বক্তব্যকে দলীয় ভোটারদের সংগঠিত করার পাশাপাশি নিজের প্রেসিডেন্সিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকে একটি গণভোটের রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বর। তবে দুর্ঘটনার কারণে বিয়ে পিছিয়ে না দিয়ে হাসপাতালের বিছানাতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন বর-কনে। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার বিকেলে। কাপরি ডিরামাস ফ্লোরিডার আলটামন্টে স্প্রিংসে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। বিয়ের ভেন্যুতে পৌঁছানোর মাত্র ১৫ মিনিট আগে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে তার গাড়ি থামানো ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি মিডিয়ান অতিক্রম করে তার গাড়িকে সামনাসামনি ধাক্কা দেয় বলে জানান কনের ভাই মরিস ম্যাথিস। দুর্ঘটনায় ডিরামাসের দুই হাত ও চোয়াল ভেঙে যায়। তার পাঁজরেও আঘাত লাগে এবং হাঁটুতে গুরুতর ক্ষত হয়। পরে তাকে অরল্যান্ডো রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে কনে টায়াসিয়া থমাস জানতে পারেন যে তার হবু স্বামী দুর্ঘটনায় পড়েছেন। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। চিকিৎসার পর ডিরামাসের অবস্থা স্থিতিশীল হলে তারা বিয়ে স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত নেন। সেদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা। ডিরামাসের দাদা বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। পরে তিনি দুজনকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং পরিবারের সদস্যরা করতালি ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান। কনে থমাস বলেন, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে আহত হবু স্বামীকে দেখে তিনি গভীরভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তার সবচেয়ে বড় ভয় ছিল ডিরামাসকে হারানো। অন্যদিকে ডিরামাস বলেন, দুর্ঘটনার পর তিনি এতটাই বিভ্রান্ত ছিলেন যে তখন কী ঘটছে, তা বুঝতেই পারছিলেন না। হাসপাতাল থেকে বুধবার বিকেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর তাদের সামনে এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জ। হানিমুনে যাওয়ার পরিবর্তে তাদের চিকিৎসা ব্যয়, আয় হারানোর ক্ষতি, দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া গাড়ি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে হচ্ছে। এসব ব্যয়ে সহায়তার জন্য কনের ভাই একটি GoFundMe তহবিল চালু করেছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার জমা পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও গৃহঋণের খরচ বাড়লেও কিছু কলেজ শহরে তরুণ স্নাতক ও নতুন পেশাজীবীদের জন্য তুলনামূলক কম খরচে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবাসনবিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েল্টর ডটকমের ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ২৩১টি আবাসন বাজারের মধ্যে ডেট্রয়েট, জ্যাকসন, পাইন ব্লাফ, ম্যাকম্ব ও পিওরিয়াকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী পাঁচ কলেজ শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রিয়েল্টর ডটকমের অর্থনীতিবিদেরা ২০২৫ সালে এসব এলাকার বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করেন। যেসব বাজারে ১৫টির কম বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল, সেগুলো বিশ্লেষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ থাকা ২৩১টি বাজারকে বাড়ির দামের ভিত্তিতে তুলনা করা হয়। তালিকায় দক্ষিণাঞ্চলের কলেজ শহরগুলোর অংশ প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলোর অংশ প্রায় ৩০ শতাংশ। পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলো প্রায় ২০ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহরগুলো প্রায় ১২ শতাংশ জায়গা দখল করেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক এলাকায় জমি ও নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলক কম। এসব এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধিও ধীর এবং আগে নির্মিত বাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয় আয়ের সঙ্গে বাড়ির দামের সামঞ্জস্য তুলনামূলক ভালো। তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিশিগানের ডেট্রয়েট। প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের এই শহরটি তালিকায় থাকা সবচেয়ে বড় আবাসন বাজার। ডেট্রয়েট বিশ্ববিদ্যালয় মার্সি শহরটির শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল ডেট্রয়েট। দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটের পর ২০১৩ সালে শহরটি দেউলিয়া ঘোষণা করে। এরপর ডাউনটাউন পুনর্গঠন, নতুন বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শহরটির পরিবর্তন শুরু হয়। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহত্তম মহানগর এলাকার মধ্যে এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিসিসিপির রাজধানী জ্যাকসন। ২০২৫ সালে শহরটির বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৬৫৪ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশের বেশি কম। জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি শহরের একমাত্র শীর্ষ পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়। সরকারি ও ব্যবসায়িক খাতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শহরটির সংস্কৃতি, সংগীত ও শিল্পচর্চাও বাসিন্দাদের আকর্ষণ করে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে আরকানসাসের পাইন ব্লাফ। আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইন ব্লাফ শাখাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই শহরের জনসংখ্যা ৪৫ হাজারেরও কম। ২০২৫ সালে সেখানে বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৯৮০ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ এবং তুলনামূলক কম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শহরটির বাড়ির দাম এখনো জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় কম। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের ম্যাকম্ব। পিওরিয়া থেকে প্রায় ৭৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ছোট এই শহরের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ওয়েস্টার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০২৫ সালে ম্যাকম্বে বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ৩ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭ হাজার ১২৫ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, সংগীত, খেলাধুলা এবং ছোট শহরের জীবনযাত্রা এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের পিওরিয়া। ব্র্যাডলি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শহরটিতে তরুণদের উপস্থিতি ও শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিবেশ রয়েছে। ক্যাফে, ছোট দোকান, সংগীতের আয়োজন এবং হাঁটার উপযোগী বিভিন্ন এলাকা শহরটিকে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচও এর অন্যতম সুবিধা। ২০২৫ সালে পিওরিয়ায় বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬২ ডলার। রিয়েল্টর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, পিওরিয়ায় স্থানীয় কলেজ এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের নিয়োগদাতাদের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্নাতক হওয়ার আগেই স্থানীয় কমিউনিটি ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। পড়াশোনা শেষে একই এলাকায় চাকরি নিয়ে থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আবাসন বাজারে বর্তমানে সাশ্রয়ী প্রাথমিক বাড়ির সরবরাহ কম। বাড়ির দাম ও গৃহঋণের সুদের খরচ অনেক তরুণের জন্য বাড়ি কেনাকে কঠিন করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামের কলেজ শহরগুলো তরুণ স্নাতক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের পরিবার, সাবেক শিক্ষার্থী এবং অবসরপ্রাপ্তদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাশ্রয়ী কলেজ শহরগুলোর সুবিধা শুধু কম দামের বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় চাকরির বাজার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং কমিউনিটি সুবিধা একসঙ্গে থাকায় এসব শহর নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বসবাসেরও সুযোগ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের গৃহঋণের গড় সুদহার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বৈশ্বিক বন্ডের সুদহার বাড়তে থাকায় দেশটির আবাসন খাতে ঋণের ব্যয়ও বেড়েছে। ফ্রেডি ম্যাকের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদহারের গৃহঋণের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ সুদহার ২০২৫ সালের জুনের শেষ সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৩০ বছরের গৃহঋণের হার ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের দীর্ঘমেয়াদি সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা সাধারণত গৃহঋণের সুদহারে প্রভাব ফেলে। উচ্চ সুদহারের প্রভাব ইতোমধ্যে আবাসন বাজারে দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রি জুলাইয়ের তুলনায় ২ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এক বছরের তুলনায় বিক্রি কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনের পর এটি সবচেয়ে কম বার্ষিক বিক্রির হার। তবে বাড়ির দাম কমেনি। আগস্টে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার ১০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এ নিয়ে টানা ৩৮ মাসে বাড়ির দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। একই সময়ে বিক্রির জন্য বাজারে থাকা বাড়ির সংখ্যা ১৬ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। NAR-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইউন বলেন, সাধারণত গৃহঋণের সুদহার ও বাড়ি বিক্রির মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক থাকে। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি রয়েছে। তাঁর মতে, উচ্চ সুদহারের মধ্যেও মজুরি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ায় বাড়ি কেনার চাহিদা কিছুটা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। আগস্টে মজুরি ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে এবং বছরের শুরু থেকে ৬ লাখ ৪৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বাজারে বাড়ির মজুত বাড়ায় ক্রেতাদের দর-কষাকষির সুযোগও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমান বিক্রির গতিতে বাজারে থাকা বাড়ির মজুত শেষ হতে ৪ দশমিক ৯ মাস লাগবে, যা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক বাজারে বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি গৃহঋণের সুদহারকে আরও চাপের মধ্যে রেখেছে। সামনে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তও আবাসন বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সুদহার আরও বাড়লে বাড়ি কেনার সক্ষমতা ও চাহিদার ওপর চাপ বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় কিশোর বয়সে যমজ বোনের সঙ্গে মিলে মাকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত তাসমিয়াহ হোয়াইটহেড কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ৩০ বছরের সাজা হলেও প্রায় ১২ বছর পর গত ৫ আগস্ট প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাসমিয়াহ ও তাঁর যমজ বোন জাসমিয়াহ হোয়াইটহেড ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি তাঁদের মা জারমেকা ‘নিকি’ হোয়াইটহেডকে হত্যা করেন। রকডেল কাউন্টির বাড়িতে ওই ঘটনার সময় মাকে ৫০ থেকে ৮০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। এ ঘটনার পর দুই বোনকে ‘টুইস্টেড টুইনস’ নামে ডাকা শুরু হয়। তাসমিয়াহর বয়স এখন ৩৩ বছর। তিনি ‘টাস’ নামে পরিচিত। জর্জিয়ার সংশোধন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে তিনি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করে সমঝোতার ভিত্তিতে সাজা পান। সমঝোতার আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলা স্বেচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নামিয়ে আনা হয়। তাঁকে ওই অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর সঙ্গে অপরাধের সময় ছুরি রাখার জন্য আরও পাঁচ বছর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য আরও পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাঁর সাজা দাঁড়ায় ৩০ বছর। তাসমিয়াহ কারাগারে যাওয়ার আগে বিচারপূর্ব আটকসহ মোট ১৬ বছর সাজা ভোগ করেছেন। ২০১৭ সাল থেকেই তিনি প্যারোলের জন্য যোগ্য ছিলেন। তবে প্যারোল বোর্ড তাঁর মুক্তির অনুমোদন দেওয়ার আগে আরও প্রায় নয় বছর কারাগারে থাকতে হয়। ২০১০ সালের ওই ঘটনার সময় যমজ দুই বোনের বয়স ছিল কিশোরী। তাঁদের মা কিছুদিন আগে তাঁদের আবার নিজের সঙ্গে থাকতে দিয়েছিলেন। এর আগে দুই বোনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁরা অন্য জায়গায় ছিলেন বলে তদন্তে জানা যায়। ঘটনার দিন স্কুলে যেতে দেরি হওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে দুই বোনের ঝগড়া হয়। পরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। দুই বোনের দাবি ছিল, তাঁদের মা রান্নার পাত্র দিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর তাঁরা মাকে ধরে ফেলেন এবং মারামারি শুরু হয়। তাসমিয়াহ তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, প্রথমে তিনি একটি পাত্র দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। পরে রান্নাঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে মাকে আঘাত করেন। জাসমিয়াহর ভাষ্য অনুযায়ী, মারামারির সময় তাঁদের মা তাঁর বুকে কামড় দিয়েছিলেন। এরপর তাসমিয়াহ ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। মাকে গুরুতর আহত করার পর দুই বোন তাঁর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে গিয়ে পানিভর্তি বাথটাবে রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ধারণা করেছিল, বাথটাবে নেওয়ার সময়ও তাঁদের মা জীবিত ছিলেন। এরপর দুই বোন স্কুলে চলে যান। স্কুল থেকে ফিরে তাঁরা পুলিশকে ফোন করেন এবং প্রথমে নিজেদের নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। পুলিশও শুরুতে তাঁদের হত্যার শিকার হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তদন্তকারীরা পরে তাঁদের শরীরে থাকা কামড় ও আঁচড়ের চিহ্ন নিয়ে সন্দেহ করেন। দুই বোন এসব চিহ্ন লুকানোর চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে তদন্তকারীরা গাড়িতে একটি গোপন রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহার করেন। সেখানে দুই বোনকে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ এবং খুনের অস্ত্র না পাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় বলে তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার প্রায় চার মাস পর দুই বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তাঁরা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ২০১৪ সালে দুজনই সমঝোতার মাধ্যমে অভিযোগ স্বীকার করে সাজা নেন। তাসমিয়াহ মুক্তি পেলেও তাঁর যমজ বোন জাসমিয়াহ এখনো কারাগারে রয়েছেন। একই ধরনের সমঝোতায় সাজা পাওয়া জাসমিয়াহ ২০২৮ সালের মে মাসের আগে প্যারোলের জন্য যোগ্য হবেন না। তাসমিয়াহর মুক্তিতে তাঁদের দাদি লিন্ডা হোয়াইটহেড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, একজনকে ৩০ বছরের সাজা দিয়ে এত দ্রুত প্যারোলের সুযোগ দেওয়া হলে নিহত নিকি হোয়াইটহেডের ন্যায়বিচার কোথায়?
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।