যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে আবারও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে The White House। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় হোয়াইট হাউস জানায়, “আমেরিকা আমেরিকান জনগণের জন্য—আইন পাশ কাটিয়ে প্রবেশ করতে চাওয়া লাখো মানুষের জন্য নয়।” একই পোস্টে দাবি করা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump “যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অভিবাসন ফাঁক” বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। পোস্টে আশ্রয় আবেদন ফরম I-589 Asylum Application এর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় ও বহিষ্কার স্থগিতের আবেদনপত্র হিসেবে পরিচিত। এই বার্তার মাধ্যমে আশ্রয় প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং অবৈধ প্রবেশ রোধে নতুন নীতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারীদের আবেদন প্রক্রিয়া এবং মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যদি আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া সীমিত করা হয়, তবে নির্যাতন বা সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষ বিপদে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থকরা এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাহী আদেশ ঘোষণা না হলেও, হোয়াইট হাউসের এই বার্তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো গ্রিনকার্ডধারীদের নথিপত্র পুনরায় যাচাই করা হতে পারে—এমন খবরে অভিবাসী সমাজে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএস সিটিজেনশিপ আন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস কিছু পুরোনো অনুমোদিত গ্রিনকার্ড ও স্থায়ী বসবাসের কেস পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ নিতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব আবেদনপত্রে ভুল তথ্য, জাল কাগজপত্র, প্রতারণা, পরিচয় গোপন করা কিংবা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির অভিযোগ রয়েছে, সেসব কেস নতুন করে খতিয়ে দেখা হতে পারে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ নিয়ম মেনে বৈধভাবে গ্রিনকার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি সব গ্রিনকার্ডধারীদের বিরুদ্ধে গণতদন্ত নয়। বরং যেসব কেসে আগে থেকেই প্রশ্ন রয়েছে বা অসঙ্গতির অভিযোগ আছে, মূলত সেগুলোই পুনরায় যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, যদি কেউ সঠিক তথ্য দিয়ে গ্রিনকার্ড পেয়ে থাকেন, নিয়মিত কর পরিশোধ করেন, গুরুতর অপরাধে জড়িত না থাকেন এবং আইন মেনে চলেন, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, জাল নথি ব্যবহার, ভুয়া বিবাহ দেখিয়ে সুবিধা নেওয়া, দীর্ঘ সময় ঠিকানা গোপন রাখা বা গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মতো ঘটনা থাকলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে সরকার গ্রিনকার্ড বাতিল বা আইনি পদক্ষেপও নিতে পারে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয়সহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটিতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনকার্ডধারী অনেকেই জানতে চাইছেন, পুরোনো ফাইল কি সত্যিই আবার খোলা হবে? বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি বাড়ানোর রাজনৈতিক আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সব পুরোনো গ্রিনকার্ডধারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক যাচাই অভিযান শুরুর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অতিরঞ্জিত খবর দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি সূত্রের তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গ্রিনকার্ডধারীদের জন্য পরামর্শ * সব গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ করুন * নিয়মিত কর পরিশোধ ও রেকর্ড রাখুন * ঠিকানা পরিবর্তন হলে দ্রুত আপডেট করুন * দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে আইনগত পরামর্শ নিন * কোনো সরকারি নোটিশ পেলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন অভিবাসী সমাজের অনেকে বলছেন, “আইন মেনে চললে ভয় নেই, তবে সচেতন থাকা জরুরি।”
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী গত আট দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। এ অবস্থায় স্থানীয় পুলিশ সর্বসাধারণের সহায়তা চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলেন জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তারা দুজনই সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে প্রায় দুই বছর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রে যান। পুলিশ জানায়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। লিমনকে সর্বশেষ ওই দিন সকাল ৯টার দিকে টেম্পা শহরের বাসায় দেখা যায়। অন্যদিকে বৃষ্টিকে সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেম্পা ক্যাম্পাসে সর্বশেষ দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা ল্যারি ম্যাককিনন জানান, পরিবারের সদস্যরা ১৭ এপ্রিল বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানান। এর আগে ২৪ ঘণ্টা ধরে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনরা। এরপর পুলিশ সম্ভাব্য সব উপায়ে খোঁজ চালিয়েও তাদের সন্ধান পায়নি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো অপরাধের আলামত মেলেনি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং গোয়েন্দারা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ের নিখোঁজ ব্যক্তিদের ডেটাবেসেও তাদের তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন। তবে পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত ছিল তাদের। লিমন জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এবং বৃষ্টি কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছেন। তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেউ তাদের সন্ধান পেলে ৮১৩-৯৭৪-২৬২৮ নম্বরে ফ্লোরিডা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়া সংকটকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড- এর সাম্প্রতিক শুনানি। এতে অংশ নিয়ে ভাড়াটিয়া অধিকারকর্মীরা শহরের সব ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত লিজের ওপর অবিলম্বে ভাড়া স্থগিত কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৪ লাখ ভাড়াটিয়া সরাসরি উপকৃত হবেন। শুনানিতে বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লকের নির্বাহী পরিচালক সুমাথি কুমার, চায়নাটাউন টেন্যান্ট ইউনিয়নের সংগঠক জুলি জু এবং হাউজিং কনজারভেশন কোঅর্ডিনেটরস-এর কমিউনিটি সংগঠক এলিসা মার্টিনেজ। তারা বলেন, বর্তমান সংকট শুধু ভাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভিবাসন অভিযানের চাপ, যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচন। ভাড়াটিয়া নেতাদের দাবি, এই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় ভাড়া স্থগিতই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে এ দাবির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। গত বসন্তে প্রায় ২০ হাজার ভাড়াটিয়া এতে স্বাক্ষর করেছেন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে এক মিলিয়নের বেশি ভোটার ভাড়া স্থগিতের প্রতিশ্রুতিদাতা প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৮ শতাংশ নিউইয়র্কবাসী এ দাবির পক্ষে। তাদের যুক্তি, বিদ্যমান তথ্য-উপাত্তও এই দাবিকে সমর্থন করে। রেন্ট বোর্ডের নিজস্ব প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর বাড়িওয়ালাদের মুনাফা ৬ শতাংশ বেড়েছে এবং গত তিন বছরে তাদের নিট পরিচালন আয় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ, অথচ ভাড়াটিয়াদের আয় তেমন বাড়েনি। একটি জরিপ অনুযায়ী, অর্ধেকের বেশি ভাড়াটিয়া দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং দুই-তৃতীয়াংশের কোনো জরুরি সঞ্চয় নেই। শুনানিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ভাড়া বৃদ্ধি বাড়িওয়ালাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে উৎসাহিত করছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় না করে ঋণ পরিশোধ বা নতুন সম্পত্তি কেনায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি শহরের মেরামত সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেক বাড়িওয়ালা তাতে আবেদন করেননি যা তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বর্তমানে নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়াদের আর্থিক চাপ চরমে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরের প্রায় ৫১.৬ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়ায় ব্যয় করছেন এবং প্রায় ২৮.৮ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি ভাড়ার পেছনে খরচ করছেন। বিশেষ করে ব্রঙ্কস এলাকায় কম আয়ের বিপরীতে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া ২০২৫ সালে শহরে উচ্ছেদের হার প্রায় ৯.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ভাড়াটিয়াদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন খরচ এখন মূল্যস্ফীতির অন্যতম প্রধান কারণ এবং অধিকাংশ পরিবারের মাসিক ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ। এই প্রেক্ষাপটে ভাড়াটিয়া নেতারা মনে করছেন, ভাড়া স্থগিত কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নও। তাদের দাবি, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের উচিত বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাতে নিউইয়র্কের লাখো ভাড়াটিয়া কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ নাগরিকের জন্য খুলে গেল কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার এক অভাবনীয় সুযোগ। কানাডার নাগরিকত্ব আইনে বড় ধরনের এক সংশোধনী আনার ফলে এখন থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বসবাস করছেন, তাদের অনেকেই আইনিভাবে কানাডীয় হিসেবে গণ্য হবেন। মূল ঘটনা কী? ২০০৯ সাল থেকে কানাডায় একটি নিয়ম প্রচলিত ছিল যে, দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া কোনো কানাডীয় নাগরিকের সন্তান যদি দেশের বাইরেই জন্ম নেয়, তবে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেত না। একে বলা হতো 'ফার্স্ট জেনারেশন লিমিট'। কিন্তু গত বছর ওন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট এই নিয়মটিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই নিয়মটি বৈষম্যমূলক। এরই প্রেক্ষিতে কানাডা সরকার 'বিল সি-৩' পাস করে, যা গত ডিসেম্বরে কার্যকর হতে শুরু করেছে। এই নতুন আইনের আওতায় যারা জন্মসূত্রে কানাডীয় কিন্তু দেশের বাইরে থাকার কারণে নাগরিকত্ব পাননি (যাদের 'লস্ট কানাডিয়ান্স' বলা হয়), তারা এবং তাদের উত্তরসূরিরা এখন নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। কেন এই আইন গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। কয়েক প্রজন্ম আগে যাদের পূর্বপুরুষরা কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছিলেন, তারা এখন সহজেই কানাডীয় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক আমেরিকান একটি 'প্ল্যান বি' বা বিকল্প নাগরিকত্ব হিসেবে কানাডার দিকে ঝুঁকছেন। আবেদন প্রক্রিয়া: ইতিমধ্যেই এই নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নথিপত্র সংগ্রহের হিড়িক পড়ে গেছে। আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা তার আগের কোনো প্রজন্মের সরাসরি রক্তসম্পর্কিত কেউ কানাডার নাগরিক ছিলেন। তবে এক্ষেত্রে আবেদনকারীর কানাডার সাথে একটি 'সুদৃঢ় সংযোগ' (Substantial Connection) থাকতে হবে, যার অর্থ হলো আবেদনকারীর অভিভাবককে কানাডায় নির্দিষ্ট সময় (প্রায় ৩ বছর) বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হতে পারে। ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে আসা আবেদনের হার আগের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। অনেকে কেবল পারিবারিক শেকড়ের টানে নয়, বরং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই কানাডীয় নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী হচ্ছেন।
মেট্রো আটলান্টা এবং উত্তর জর্জিয়া এই সপ্তাহান্তে উৎসব, লাইভ মিউজিক, খেলাধুলা এবং বিশেষ ইভেন্টে মুখর হয়ে উঠছে। ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই অঞ্চলে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে উপভোগ করার মতো অসংখ্য আয়োজন রয়েছে। প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য ২৫ এপ্রিল পন্স সিটি মার্কেটে বিশেষ ‘আর্থ ডে সেলিব্রেশন’ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থা অংশ নেবে। উৎসব প্রিয়দের জন্য রয়েছে ইনম্যান পার্ক ফেস্টিভ্যাল, জর্জিয়া স্ট্রবেরি ফেস্টিভ্যাল এবং ডানউডির লেমোনেড ডেস ফেস্টিভ্যাল। স্মিথ-গিলবার্ট গার্ডেনে থাকছে ‘আর্ট ব্লুমস’ বসন্ত উৎসব এবং চ্যাম্বলিতে বসবে বর্ণাঢ্য ব্লুমস চায়নাটাউন মার্কেট। এছাড়া জিওর্থি ফেয়ারগ্রাউন্ডসে লরেন্সভিল স্প্রিং ফেয়ার এবং হ্যাম্পটনের ইকো-পার্ক স্পিডওয়েতে জর্জিয়া স্টেট ফেয়ারের মতো বড় আয়োজনগুলো দর্শকদের বিনোদন দেবে। সংগীত ও বিনোদন জগতে আটলান্টা সিম্ফনি হলে পাচো ফ্লোরেসের পারফরম্যান্স এবং কব এনার্জি সেন্টারে অপেরা ‘টুরান্ডট’ মঞ্চস্থ হবে। চলচ্চিত্র অনুরাগীদের জন্য প্লাজা ও তারা থিয়েটারে চলছে ৫০তম আটলান্টা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। এছাড়া আলফারেটায় ‘ডাই লাফিং’ কমেডি শো এবং দ্য মাস্কুয়ারেডে বিশেষ ডিস্কো ড্যান্স পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। খেলাধুলা এবং অটোমোবাইল উৎসাহীদের জন্য ট্রুইস্ট পার্কে আটলান্টা ব্রেভসের হোমস্ট্যান্ড ইভেন্টগুলো বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। উত্তর জর্জিয়ার ফেয়ারমাউন্ট এবং ডসনভিলে অনুষ্ঠিত হবে বেশ কিছু কার ও জিপ শো। লেক ল্যানিয়ারে বোট শো এবং ডিকেচারে কার্টার্স কাপ সকার ইভেন্ট এই সপ্তাহান্তের বিনোদনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। সূত্র: ফক্স ৫ আটলান্ট
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এবং বিদেশে জন্মগ্রহণকারী শত শত ন্যাচারালাইজড নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের এক নজিরবিহীন ও জোরালো প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান' জানিয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) বর্তমানে প্রায় ৩৮৪ জন নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, নাগরিকত্ব অর্জনের পথে যেকোনো ধরনের অসততা বা তথ্য গোপনকে তারা কঠোরভাবে দমন করবে। যদিও এই পদক্ষেপ বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তবে প্রশাসন একে "আইনের শাসন" রক্ষার একটি অংশ হিসেবেই দাবি করছে। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্যানুযায়ী, এই সাঁড়াশি অভিযান মূলত তাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তথ্য জালিয়াতি করেছেন। বিশেষ করে যারা নাগরিকত্ব আবেদনের সময় নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড গোপন করেছেন, জাল কাগজপত্র দাখিল করেছেন কিংবা কেবল গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ভুয়া বৈবাহিক সম্পর্ক (Marriage Fraud) দেখিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এই ৩৮৪ জন নাগরিক কেবল "প্রথম তরঙ্গের" অংশ; ভবিষ্যতে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের একটি অংশ একে "হোয়াইট হাউসের নিজস্ব উদ্যোগ" হিসেবে বর্ণনা করলেও সরকারি মুখপাত্ররা বলছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয় বরং প্রচলিত ফেডারেল আইনের যথাযথ প্রয়োগ মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, চাইলেই প্রশাসন একক সিদ্ধান্তে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারে না। এর জন্য ফেডারেল আদালতে প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে আলাদাভাবে মামলা দায়ের করতে হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। বিচারক যদি সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হন যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিয়েছেন, তবেই তা বাতিল করার আদেশ দেওয়া সম্ভব। নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া ব্যক্তিকে তখন তার পূর্ববর্তী অভিবাসন স্ট্যাটাসে ফিরে যেতে হয়, যা তাকে সরাসরি নির্বাসনের (Deportation) ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। ২০২৬ সালের এই বিশেষ অভিযান বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, কারণ এর আগে বছরে গড়ে মাত্র গুটি কয়েক নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দেখা যেত। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে অনেকেই তাদের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখছেন। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও গণ-নির্বাসন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়াটি ভোটারদের কাছে একটি কঠোর বার্তা দেওয়ার রাজনৈতিক কৌশল। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, এ ধরনের গণ-মামলার প্রস্তুতি বৈধভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া লাখো মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকান সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যারা কোনো তথ্য গোপন না করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পেয়েছেন তাদের ভয়ের কারণ নেই, তবে নথিপত্রে কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে অবৈধভাবে সামরিক বিমানের ছবি তোলার অভিযোগে তিয়ানরুই লিয়াং (২১) নামে এক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার মার্কিন অ্যাটর্নি লেসলি এ উডস এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ আইজেনবার্গ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, লিয়াং গত ২৮ মার্চ ভ্যানকুভার থেকে একটি বৈধ বি১/বি২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। নেব্রাস্কার অফুট এয়ার ফোর্স বেসে যাওয়ার আগে তিনি সাউথ ডাকোটার এলসওয়ার্থ এয়ার ফোর্স বেসেও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নেব্রাস্কায় এফবিআই কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার পর লিয়াং সেখান থেকে গাড়ি চালিয়ে নিউ ইয়র্কে চলে যান, যেখান থেকে তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। গ্রেপ্তারের পর লিয়াংকে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত প্রথমে জামিন দিলেও নেব্রাস্কার প্রসিকিউটরদের আপিলের প্রেক্ষিতে ১০ এপ্রিল তাকে পুনরায় হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ইউএস মার্শালের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং বিচারিক কার্যক্রমের জন্য তাকে নেব্রাস্কায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অফুট এয়ার ফোর্স বেসটি মার্কিন কৌশলগত কমান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে পেন্টাগন। মার্কিন অ্যাটর্নি লেসলি উডস জানিয়েছেন, যারা সামরিক স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করবে, তাদের আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। অভিযুক্ত লিয়াং দোষী সাব্যস্ত হলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। তবে এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো গোয়েন্দা তৎপরতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এফবিআই-এর তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টির সায়োসেট এলাকায় একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা ফ্রান্সিসকো সানলেস এবং তার ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকগুলো বিস্ফোরক তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং সেগুলো এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে জননিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বোম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলেই সেগুলো ধ্বংস করে। তদন্তের সূত্রপাত হয় সায়োসেট হাই স্কুলের বাথরুমের দেয়ালে স্বস্তিকা চিহ্ন ও বিদ্বেষমূলক বার্তা পাওয়ার মধ্য দিয়ে। সেই ঘটনার সূত্র ধরে বুধবার দুপুরে প্যাট্রিসিয়া লেনের ওই বাড়িতে অভিযান চালায় আইউইটনেস নিউজ ও পুলিশ বাহিনী। ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা বাড়ির ভেতর থেকে বেশ কিছু বিপজ্জনক রাসায়নিক বাইরে বের করে আনছেন। কর্মকর্তাদের দাবি, সানলেস অর্থের বিনিময়ে একাধিকবার এসব নিষিদ্ধ রাসায়নিক সংগ্রহ করেছেন। আটককৃত বাবার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখা, অপরাধে সহায়তা, শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করা এবং বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, তার কিশোর ছেলের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখা, ভাঙচুর, গুরুতর হয়রানি এবং দেয়ালে ঘৃণামূলক বর্ণবাদী চিহ্ন আঁকার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের দুজনকে পৃথকভাবে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এই ঘটনার পর সায়োসেট হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্কুলে স্বস্তিকা ও বর্ণবাদী লেখা পাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং এ ধরনের বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রে এগারোজন শীর্ষ বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো গভীর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা। বিশেষ করে ৩৪ বছর বয়সী গবেষক অ্যামি এসক্রিজের মৃত্যুর বিষয়টি এই রহস্যের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। অ্যান্টি-গ্রাভিটি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণারত অ্যামিকে ২০২২ সালের জুনে অ্যালাবামার হান্টসভিলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মাথায় গুলির ক্ষত ছিল এবং সে সময় পুলিশ বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেয়। তবে দীর্ঘ চার বছর পর অ্যামির পাঠানো কিছু চাঞ্চল্যকর টেক্সট মেসেজ সামনে আসায় তৎকালীন পুলিশি তদন্ত ও সিদ্ধান্তের সত্যতা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ফ্রাঙ্ক মিলবার্নের কাছে মৃত্যুর মাসখানেক আগে পাঠানো বার্তায় অ্যামি লিখেছিলেন, যদি কখনো শোনা যায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বা ড্রাগ ওভারডোসে মারা গেছেন, তবে তা যেন কেউ বিশ্বাস না করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এমন কিছু ঘটলে তা নিশ্চিতভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু হবে না। এই বার্তাগুলো এখন বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক মৃত্যুর পেছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করছে। ফ্রাঙ্ক মিলবার্নের দাবি, অ্যামি এবং তার সহকর্মীরা যারা উন্নত জ্বালানি ও প্রপালশন নিয়ে কাজ করছিলেন, তাদের দীর্ঘ দিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। বিজ্ঞানীদের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে এবং তাদের মুখ বন্ধ রাখতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর অন্তর্ধান ও মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা চলছে।
ওয়াশিংটন, ২৩ এপ্রিল: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সিনেট। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিকল্পনা বৃহস্পতিবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, নতুন জনবল নিয়োগ, আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে বলে জানা গেছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এটিকে সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং মানব পাচার ঠেকাতে আইস ও বর্ডার প্যাট্রোলের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একাংশ এই বিলের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, বিপুল এই অর্থ আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রমে ব্যয় না করে অভিবাসন আদালত, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া এবং মানবিক সহায়তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে বিলটি পাস হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। কার্যকর হতে হলে বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে অনুমোদন পেতে হবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অন্যতম বড় বিতর্কের বিষয়। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এই বিল নিয়ে দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও বর্ণবাদী চিঠি শেয়ার করেছেন। রেডিও সঞ্চালক মাইকেল সেভেজের লেখা ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ভারত ও চীনের মতো দেশ থেকে মানুষ কেবল যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আসে। এর মাধ্যমে তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব আইনের অপব্যবহার করছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সেভেজ তার লেখায় ভারত ও চীনকে ‘নরক’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, অভিবাসীরা গর্ভাবস্থার নবম মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আসে এবং শিশু জন্ম দিয়ে মুহূর্তেই নাগরিকত্ব লাভ করে। পরবর্তীতে ওই শিশুর সূত্র ধরে তারা পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। ট্রাম্প এই পোস্টটি এমন সময়ে শেয়ার করলেন যার ঠিক একদিন আগেই তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে একটি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে তথ্যগতভাবে এই দাবিটি সঠিক নয়। মূলত কানাডা ও মেক্সিকোসহ বিশ্বের প্রায় তিন ডজনেরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান এখনও কার্যকর রয়েছে। ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক প্রচারণা এবং বর্ণবাদী মন্তব্য শেয়ার করার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনি সুবিধা নিতেই তিনি আবারও কঠোর অভিবাসন বিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মীরা এই ধরনের মন্তব্যকে ‘বিদ্বেষমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার আইন বৈধ বলে রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। মঙ্গলবার দেওয়া এ রায়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় উপাদান যুক্ত করার পক্ষে থাকা রক্ষণশীল মহলের বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। রায়ে বলা হয়েছে, টেক্সাসের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করে না। এই সংশোধনী ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং রাষ্ট্রকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত রাখে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিষয়টি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে গড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইতিমধ্যে আরকানসাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের আইন পাস হয়েছে, যেগুলো আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আলাবামা অঙ্গরাজ্যের গভর্নরও সম্প্রতি অনুরূপ একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এই রায়কে “টেক্সাস ও আমাদের নৈতিক মূল্যবোধের জন্য বড় বিজয়” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “দশ আদেশ আমাদের জাতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন তা থেকে শিক্ষা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।” অন্যদিকে, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু মাহালেরিস এই আইনকে “সাধারণ বুদ্ধির প্রতিফলন” এবং দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে আইনটির বিরোধিতা করা পরিবারগুলোর পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো, যার মধ্যে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নও রয়েছে, রায়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করে। তারা আরও বলেছে, সংবিধান পরিবারগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করে—তারা কখন, কীভাবে এবং আদৌ সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদেরই। এই রায় সেই অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর আগে একটি জেলা আদালত স্কুলগুলোতে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন স্থগিত করেছিল। তবে আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে। রায়ে আরও বলা হয়, এই আইন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কী বিশ্বাস করতে হবে বা কীভাবে উপাসনা করতে হবে—সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয় না। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো শিক্ষার্থীকে ‘দশ আদেশ’ আবৃত্তি করতে, তা বিশ্বাস করতে বা এর ঐশ্বরিক উৎস স্বীকার করতে বাধ্য করা হচ্ছে না। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে টেক্সাসে এই আইন কার্যকর হয়, যা দেশজুড়ে সরকারি স্কুলে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও কিছু স্কুল জেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল, তবুও নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই অনেক শ্রেণিকক্ষে এটি টাঙানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি নেয় আপিল আদালত। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে লুইজিয়ানার আইনের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়। লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সামাজিক মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের আইন সবসময়ই সংবিধানসম্মত ছিল, এবং আপিল আদালত সেটি নিশ্চিত করায় আমি কৃতজ্ঞ।” অন্যদিকে, আরকানসাসেও একই ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলেও সেখানে একটি ফেডারেল আদালত সম্প্রতি সেটি স্থগিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম প্রত্যাশীদের জন্য সময়টা এখন চরম চ্যালেঞ্জের। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কড়াকড়ির ফলে অ্যাসাইলাম আবেদনের অনুমোদনের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অনেক আবেদনকারীকে সরাসরি বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দ্রুততম সময়ে অ্যাসাইলাম মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আগে যেখানে একটি মামলার রায় আসতে বছরের পর বছর সময় লাগত, এখন কয়েক মাসের মধ্যেই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের ফলে অনেক আবেদনকারী পর্যাপ্ত প্রমাণাদি উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছরের মধ্যে আবেদন করার নিয়মটি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লেও অনুমোদনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ২.২ মিলিয়নের বেশি অ্যাসাইলাম আবেদন ঝুলে আছে এবং ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলার সংখ্যা ৩.৬ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আবেদনকারীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে বা দালালদের খপ্পরে পড়ে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করছেন। তদন্তে এই জালিয়াতি ধরা পড়লে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ হারানোর পাশাপাশি দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এবং ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। প্রতিটি আবেদন এখন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের অনেক আবেদনে ভুল ও মিথ্যা তথ্যের প্রমাণ মিলছে, যা ইমিগ্রেশন বিভাগের নজরে আসছে। মিথ্যা তথ্যের দায়ভার সম্পূর্ণ আবেদনকারীর। এর ফলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, বড় ধরনের আইনি ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।” আইনজীবীদের পরামর্শ হলো, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার সময় অবশ্যই সঠিক তথ্য ও পর্যাপ্ত প্রমাণাদি সাথে রাখতে হবে। জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া আবেদন করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজের ঘটনা দিন যত গড়াচ্ছে, ততই গভীর রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার, সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জামিল ও বৃষ্টি স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যাওয়ার মানুষ নন। জামিলের ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেন, “পাঁচ দিন হয়ে গেছে। আমরা চরম উৎকণ্ঠায় আছি। সে কাউকে কিছু না বলে চলে যাবে—এটা কল্পনাও করতে পারি না।” একইভাবে বৃষ্টির ভাই জাহেদ হাসান প্রান্ত বোনের নিরাপদ ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। নিখোঁজের দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু অস্বাভাবিক তথ্য। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জামিল তার বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হন, কিন্তু পাসপোর্ট রেখে যান। সকাল ১১টার দিকে তার ফোন সর্বশেষ বাসার আশপাশেই শনাক্ত হয়। অন্যদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিজ্ঞান ভবনে ছিলেন। তিনি ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার ও খাবারের বাক্স রেখে বের হন—সঙ্গে ছিল কেবল ফোন ও পার্স। বিকেল ৫টার দিকে তার ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ক্যাম্পাস এলাকায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে অপহরণের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারকে গণমাধ্যমে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। পরে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে মামলায় সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী কেউই অভিবাসন হেফাজতে নেই। এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবেদনশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনাও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিষয়টি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের ঘটনাকে সরাসরি কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা এখনই যৌক্তিক নয়। বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেও এগুলো ঘটতে পারে। তবুও একাধিক মিল—যেমন হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, পাসপোর্ট রেখে যাওয়া—তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর খোঁজে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন তদন্তে অগ্রগতি নেই এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পরিবার ও স্বজনদের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক নিখোঁজের ঘটনা নয় এবং দ্রুত উদ্ধারই এখন সবচেয়ে জরুরি। যে কেউ জামিল লিমন বা নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়ে তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট প্রাইমারি নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসী ও ভাড়াটিয়া সংগঠন সিএএএভি ভয়েস গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি সিনেট, স্টেট অ্যাসেম্বলি ও কংগ্রেস নির্বাচনের জন্য তিনজন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে। সমর্থনপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন—ইউন-লিন নিওউ (স্টেট সিনেট, ডিস্ট্রিক্ট ২৭), ইল্লাপা সাইরিটুপ্যাক (স্টেট অ্যাসেম্বলি, ডিস্ট্রিক্ট ৬৫) এবং ব্র্যাড ল্যান্ডার (কংগ্রেস, নিউইয়র্ক-১০)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমর্থন একটি বৃহত্তর “শ্রমজীবী জোট” গঠনের অংশ, যার লক্ষ্য ভাড়াবৃদ্ধি, উচ্ছেদ এবং কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। সংগঠনের চায়নাটাউন লিড অর্গানাইজার জুলি জু বলেন, বর্তমানে নিউইয়র্কের শ্রমজীবী ও অভিবাসী জনগোষ্ঠী একসঙ্গে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে—অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি। এই প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞ ও জনমুখী প্রতিনিধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রার্থীদের বাছাইয়ে তাদের ভাড়াটিয়া অধিকার রক্ষা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ এবং অভিবাসন সংক্রান্ত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা রিয়েল এস্টেট লবি ও অন্যান্য প্রভাবশালী গোষ্ঠী থেকে অনুদান না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। শহরের ৬২ শতাংশের বেশি মানুষ আয়ের তুলনায় বেশি ব্যয় বহন করছেন। বিশেষ করে ব্রুকলিন ও ম্যানহাটন-এ ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে। এর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে। খাদ্য, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। সিএএএভি ভয়েস তাদের পূর্বের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেছে। ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানি-র পক্ষে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। বিভিন্ন জোটের মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমজীবী ও অভিবাসী ভোটারকে সংগঠিত করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সংগঠনটি। এছাড়া ড্রাম বিটস ও নিউইয়র্ক কমিউনিটিস ফর চেঞ্জ-এর সঙ্গে যৌথভাবে শহরের অন্তত ১৩টি এলাকায় প্রচারণা চালানো হয়। বিভিন্ন ভাষায়—ম্যান্ডারিন, ক্যান্টনিজ, ফুজিয়ানিজ, তোইশানিজ, সিলেটি ও বাংলা—যোগাযোগের মাধ্যমে তারা তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাছে পৌঁছায়। সংগঠনটি জানিয়েছে, আসন্ন প্রাইমারি নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি নিউইয়র্কের শ্রমজীবী ও অভিবাসী মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
খোদ অপরাধ দমন ও প্রসিকিউশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা এক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই এবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (ডিএ) অফিসের সিনিয়র ইনভেস্টিগেটিভ অ্যানালিস্ট তৌহিদ দেওয়ানকে (২৮) সাবওয়ে ট্রেনে এক নারীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে কুইন্সের জংশন বুলেভার্ড স্টেশনে ৭ নম্বর ট্রেন থেকে নামার সময় ৪০ বছর বয়সী এক নারীকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে তৌহিদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই এনওয়াইপিডি ট্রানজিট ব্যুরো তাকে হেফাজতে নেয়। তৌহিদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্পর্শ করা, তৃতীয় ডিগ্রির যৌন নির্যাতন এবং দ্বিতীয় ডিগ্রির হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারে এমন আচরণেরও (acting in a manner injurious to a child) অভিযোগ আনা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে ঘটনার সময় আশেপাশে কোনো শিশু উপস্থিত ছিল। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগের অফিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর তৌহিদ দেওয়ানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, তৌহিদ ২০২২ সাল থেকে ডিএ অফিসে কর্মরত ছিলেন এবং অপরাধ দমন কৌশল ইউনিটের অংশ হিসেবে বড় বড় অপরাধীদের বিচারিক কাজে সহায়তা করে আসছিলেন। গত বছর একটি বড় ধরনের অস্ত্র পাচার মামলার তদন্তেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। গত বুধবার কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে তাকে হাজির করা হয়। ডিএ অফিসের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হয়ে নিজেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় নিউইয়র্কের প্রবাসী কমিউনিটি ও প্রশাসনের ভেতরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তির মতোই আবারও অবস্থান বদল করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই আগে যেমন স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, তেমনি এবারও একই ধারা অনুসরণ করে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে আবারও সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আলোচনা চলমান থাকায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হলেও হরমুজ প্রণালিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পাশাপাশি দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে তেহরান আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে প্রয়োজন হলে তবেই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রস্তুত থাকলেও ইরানের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা না আসায় শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণেই তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। যদিও এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি। তার মতে, নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়াই এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইজাদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সেনা মোতায়েন রাখতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ইরান প্রসঙ্গে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে থাকায় রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। এদিকে হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলে ইরানের ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং আলোচনার পথ খোলা থাকবে—এমন ধারণা থেকেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান আলোচনায় ফেরার আগ্রহ দেখালে নতুন করে বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা দুই দেশের অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলছে, তাই দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো নমনীয়তার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী জানিয়েছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার বাস্তব কোনো গুরুত্ব নেই। তার ভাষায়, ‘পরাজিত পক্ষ কখনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না’, এবং অবরোধ ও সামরিক হামলার মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, হুমকি বা চাপের মধ্যে তারা আলোচনায় বসবে না। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাপে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন—নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে না। অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নিষেধাজ্ঞা এবং হুমকিই প্রকৃত সংলাপের পথে প্রধান বাধা। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও কার্যক্রমের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ জব্দের ঘটনা। মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি জাহাজ আটক করার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আইআরজিসি দুটি বিদেশি জাহাজ জব্দ করে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, আলোচনার নামে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি নেই, এবং অতীতে এমন প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ইরান পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা নীতির এক বিশেষ পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, দেশটি বর্তমানে পারিবারিক (Family-based) এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক (Employment-based) অভিবাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট এবং বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই ক্যাটাগরিতে আবেদন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও গত জানুয়ারি মাস থেকে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা 'পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স' বেশি গ্রহণ করেন, সেই সব দেশের নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে মার্কিন প্রশাসন। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো এবং কেবল আর্থিকভাবে সচ্ছল ও দক্ষ ব্যক্তিদের অভিবাসন নিশ্চিত করা। নতুন এই নীতিমালার অন্যতম বিতর্কিত এবং আলোচিত দিক হলো 'স্পেশাল বন্ড' বা বিশেষ জামানত ব্যবস্থা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বা তার স্পনসরকে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) পর্যন্ত বিশেষ বন্ড জমা দিতে হতে পারে। এই অর্থটি মূলত একটি গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দ্রুত সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না। এই নিয়মটি বিশেষ করে সেই সব আবেদনকারীদের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে যাদের আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ রয়েছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের জন্য আমেরিকার স্বপ্ন পূরণ হওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে নীতিমালায় কড়াকড়ি আসলেও আবেদনের মূল ধাপগুলোতে কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। বর্তমান প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) থেকে পিটিশন অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। এরপর যাবতীয় নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসি-তে (NVC) পাঠানো হয়। সবশেষে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এনভিসি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্যাকলগের কারণে সাক্ষাৎকারের তারিখ পেতে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি ভেদে এই অপেক্ষার সময় কয়েক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত পেশার দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা থাকলেও, সাধারণ ইমিগ্রেশন এখন সম্পূর্ণভাবে নতুন বন্ড পলিসি এবং পাবলিক চার্জ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন সরকারের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে। তাই যারা নতুন করে আবেদন করার কথা ভাবছেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ হাজার ডলারের বন্ড প্রদানের মানসিক প্রস্তুতি এবং সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচনের মাধ্যমেই কেবল এই কঠিন বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হতে পারে।
সারা বিশ্বে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিলিয়ন ডলার ব্যয় করলেও খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে। আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন (ALA)-এর ২৭তম বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার প্রায় ৪৬ শতাংশ শিশু অত্যন্ত বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ শিশু এমন এলাকায় বসবাস করছে যেখানে বায়ুদূষণের মাত্রা সহনসীমার বাইরে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশটির প্রায় ৭০ লাখ শিশু এমন অঞ্চলে থাকে যেখানে বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান মাপকাঠিতেই বাতাস চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ফুসফুস বড়দের তুলনায় বেশি বাতাস গ্রহণ করায় তারা দ্রুত হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই ভয়াবহ দূষণের নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র দাবানলের ধোঁয়া এবং নতুন উপদ্রব হিসেবে বিশাল ‘ডেটা সেন্টার’গুলোকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে এক ভয়াবহ বৈষম্যের চিত্রও উঠে এসেছে; অশ্বেতাঙ্গ শিশুদের ক্ষেত্রে এই বায়ুদূষণের ঝুঁকি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় ২.৪২ গুণ বেশি। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলছেন, পরিবেশ সুরক্ষা আইন (EPA) শিথিল করার ফলেই শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি আজ গৌণ হয়ে পড়েছে। বিশ্বকে স্বাস্থ্য সচেতনতার পাঠ দিলেও আমেরিকার নিজের আকাশ এখন শিশুদের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ইউনাইটেড নেশনস ইয়ুথ অ্যান্ড স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউনিস্যাব)-এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তরুণ মাহিয়ান আরাফ সিয়াম। নতুন কমিটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সামিন মোহতাদি এবং জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রুবাইয়াত ই জান্নাত নেহা। সম্প্রতি বাছাই প্রক্রিয়া এবং ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে এ কমিটি চূড়ান্ত করা হয়। মাহিয়ান আরাফ সিয়াম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি-এ কম্পিউটার সায়েন্সে অধ্যয়নরত। তিনি ঢাকার ম্যাপেল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ও লেভেল সম্পন্ন করে ২০২৩ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ছাত্রজীবনের পাশাপাশি নেতৃত্ব উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন। নিজের প্রতিক্রিয়ায় সিয়াম বলেন, “সাত বছর আগে ইউনিস্যাবে একজন নতুন সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করি। সেই পথচলাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এখন আমার লক্ষ্য ইউনিস্যাবকে আরও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা।” তিনি আরও জানান, তার অন্যতম লক্ষ্য হলো ইউনিস্যাবকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করা এবং বাংলাদেশের যুব সমাজকে আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা। পাশাপাশি বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা সংগঠনটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পৃক্ততা বাড়াতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদায়ী কমিটির অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।