আমেরিকা

খেলা দেখতে গিয়ে দর্শকদের তুমুল ভুয়ো ধ্বনির মুখে পড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
খেলা দেখতে গিয়ে দর্শকদের তুমুল ভুয়ো ধ্বনির মুখে পড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বাস্কেটবল খেলা দেখতে গিয়ে গ্যালারির দর্শকদের তীব্র হট্টগোল ও ভুয়ো (boo) ধ্বনির মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার রাতে এনবিএ ফাইনালসের (NBA Finals) তৃতীয় ম্যাচের খেলা শুরুর আগে জাতীয় সংগীত চলার সময় এই ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম গথামিস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।   স্টেডিয়ামের ভেতরের ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বড় পর্দায় ট্রাম্পের মুখ ভেসে উঠতেই গ্যালারি জুড়ে দর্শকরা চিৎকার ও ভুয়ো ধ্বনি দিতে শুরু করেন। সেখানে অল্প কিছু সমর্থক ট্রাম্পের পক্ষে আওয়াজ তুললেও পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে ট্রাম্প বিরোধীদের ভুয়ো ধ্বনিই প্রধান হয়ে ওঠে। একই সময়ে ব্রায়ান্ট পার্কে আয়োজিত নিউইয়র্ক নিকসের অফিশিয়াল ওয়াচ পার্টিতেও দর্শকদের কাছ থেকে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ম্যাচ দেখতে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো মিডটাউন ম্যানহাটন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নিউ ইয়র্ক পুলিশ (NYPD) এবং সিক্রেট সার্ভিস দুপুরের পর থেকেই স্টেডিয়ামের চারপাশের বেশ কয়েকটি ব্লক বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং স্টেডিয়ামের বাইরে পূর্বনির্ধারিত একটি বড় ওয়াচ পার্টিও বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।   খেলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই শত শত মানুষ পশ্চিম ৩৪ নম্বর রাস্তায় ভিড় জমান। ট্রাম্পের গাড়িবহর যাওয়ার সময় অনেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন, আবার কিছু মানুষ ছবি তোলার জন্য ভিড় করেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা পর্যটক তানিয়া ওলসেন জানান, ট্রাম্পের আগমনের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি নিজের পারিবারিক ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রেখে এখানে অবস্থান নিয়েছেন।   ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম নিউইয়র্ক নিকস তাদের ঘরের মাঠে এনবিএ ফাইনালস ম্যাচ খেলছিল। সান আন্তোনিও স্পার্সের বিরুদ্ধে হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচের টিকিট আগেই সব বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পের আগমনে এই বাড়তি নিরাপত্তার কারণে কয়েকদিন ধরেই এলাকার চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা চরম যাতায়াত ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছিলেন।   সূত্র: গথামিস্ট  

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১:৪৮
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
এইচ-১বি ভিসায় ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি অবৈধ ঘোষণা

উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।   সোমবার (৮ জুন) ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বস্টনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন এই রায় দেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ফি আরোপ করা যায় না। এটি কার্যত একটি কর, আর এমন কর আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণ করে। এতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ব্যয় হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে বিদেশি প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগে এই ভিসার ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে।   এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়াসহ ২০টি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রেসিডেন্টের এমন ফি আরোপের আইনি ক্ষমতা নেই এবং এটি সংবিধানের পরিপন্থী।   আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, এটি কোনো কর নয়; বরং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী মনে হলে নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করার ক্ষমতার আওতায় একটি বৈধ আর্থিক ব্যবস্থা। তবে বিচারক সোরোকিন সেই যুক্তি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, অর্থের প্রকৃতি বিবেচনায় এটি স্পষ্টতই করের মতো, তাই কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তা আরোপ করা বৈধ নয়।   রায়ের পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় প্রেসিডেন্টের বিদেশিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে এবং ট্রাম্প সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করেছিলেন।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত আরও ২০ হাজার ভিসা বরাদ্দ রয়েছে। সাধারণত এসব ভিসার জন্য নিয়োগদাতাদের ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হয়।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে, ফলে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণেই অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়েছিল।   তবে সরকারি তথ্য বলছে, ফি কার্যকর হওয়ার পর খুব কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠান এটি পরিশোধ করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৮৫টি আবেদন থেকে এই ফি আদায় করা হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এত উচ্চ ফি আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত করছিল।   সূত্র: রয়টার্স

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ০:৪৭
আটলান্টায় বেটোপিয়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেডএইচবি সলিউশনের উদ্বোধন
আটলান্টায় বেটোপিয়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেডএইচবি সলিউশনের উদ্বোধন, আউটসোর্সিং ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তর আটলান্টার নরক্রসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে জেডএইচবি সলিউশনের নতুন অফিস। উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ “মিট অ্যান্ড গ্রিট” অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।   আয়োজক ও জেডএইচবি সলিউশনের পরিচালন তত্ত্বাবধায়ক জহিরুল হক ভূঁইয়া আমেরিকা বাংলার সম্পাদকীয় উপদেষ্টা নুরুল্লাহ সাইদকে জানান, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং সেবা প্রদানকারী বেটোপিয়া গ্রুপের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। মূলত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি সহায়তা, আউটসোর্সিং, সফটওয়্যার সাপোর্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা এই অফিসের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।   তিনি জানান, জেডএইচবি সলিউশনস প্রযুক্তি, বীমা ও রিয়েল এস্টেট খাতে সমন্বিত সেবা প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, আইটি সাপোর্ট, ম্যানেজড সার্ভিস, ক্লাউড সলিউশন, ডেভঅপস এবং সাইবার সিকিউরিটি সেবার পাশাপাশি ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেবে। এছাড়া জেডএইচবি এজেন্সির মাধ্যমে অটো, হোম ও ব্যবসায়িক বীমা সেবা এবং জেডএইচবি রিয়েলটির আওতায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিনিয়োগ পরামর্শ ও রিয়েল এস্টেট সেবাও প্রদান করা হবে।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেটোপিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনির হোসেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং খাতে বাংলাদেশিদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক বাজারে দিন দিন আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। তিনি জানান, বেটোপিয়া গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টদের জন্য প্রযুক্তি সহায়তা, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, কাস্টমার সার্ভিস, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স এবং বিভিন্ন আইটি-ভিত্তিক সেবা দিয়ে আসছে।   তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ZHB Solutions LLC-এর কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে দেশটির ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আধুনিক ও দ্রুত প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা সহায়তা, অনলাইন ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল উপস্থিতি বৃদ্ধি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, গ্রাহকসেবা ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাস্টম সল্যুশন নিয়ে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।   মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি তরুণদের সম্ভাবনা অনেক বড়। সঠিক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।   অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জর্জিয়া স্টেটের পাঁচবারের নির্বাচিত সিনেটর শেখ রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরেফিন বাবুল এবং জর্জিয়া বিএনপির সভাপতি নাহিদুল খান সাহেলসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা নতুন এই উদ্যোগকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   অনুষ্ঠানজুড়ে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ, আউটসোর্সিং খাতের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগও তৈরি হয়।   নরক্রসের হলকম্ব ব্রিজ রোডে অবস্থিত নতুন অফিসে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে। আয়োজকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নেও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২৩:৫০
ছবি: সংগৃহীত
মায়ামিতে আবাসন সহায়তায় ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, অগ্রাধিকার ভাড়া ও সাশ্রয়ী বাসস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি শহরে আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থানের সুযোগ বাড়াতে ২০২৬ অর্থবছরে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারেরও বেশি ফেডারেল তহবিল ব্যয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।   মায়ামি সিটির হাউজিং অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট বিভাগ সম্প্রতি তাদের প্রস্তাবিত বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা (ফিসকাল ইয়ার ২০২৬ অ্যানুয়াল অ্যাকশন প্ল্যান) প্রকাশ করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ (এইচইউডি) থেকে পাওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ, পুরোনো ঘরবাড়ি সংস্কার, প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের ডাউন পেমেন্ট সহায়তা, গৃহহীনদের জরুরি সহায়তা এবং এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে।   প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের আবাসন সহায়তা কর্মসূচির জন্য। ‘হাউজিং অপরচুনিটিজ ফর পারসনস উইথ এইডস’ (হোপওয়া) কর্মসূচির আওতায় নতুন অর্থবছরে ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে আগের বছরের অব্যবহৃত আরও প্রায় ২৫ লাখ ডলার যুক্ত হবে।   এই অর্থ মূলত ভাড়াভিত্তিক আবাসন সহায়তায় ব্যয় করা হবে। কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের সরাসরি ভাড়া পরিশোধ, আবাসন পরিদর্শন, স্বল্পমেয়াদি বন্ধক ও ইউটিলিটি বিল সহায়তা এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে সহায়তা দেওয়া হবে।   আবাসন নির্মাণ ও সংস্কারেও বড় বিনিয়োগ মায়ামির আবাসন পরিকল্পনার দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হচ্ছে ‘হোম’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির জন্য নতুন অর্থবছরে প্রায় ২৭ লাখ ৯১ হাজার ডলার বরাদ্দ এসেছে। পাশাপাশি আগের বছরের অব্যবহৃত তহবিল ও বিভিন্ন কর্মসূচির আয় মিলিয়ে আরও প্রায় ৬৫ লাখ ডলার যুক্ত হবে।   ফলে মোট প্রায় ৯০ লাখ ডলারের তহবিল সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ, বিদ্যমান বাড়িঘর সংস্কার এবং বাড়ি কিনতে আগ্রহী নাগরিকদের ডাউন পেমেন্ট সহায়তায় ব্যয় করা হবে।   মায়ামির বর্তমান আবাসন বাজারে বাড়ির মূল্য এবং বন্ধক ঋণের ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করা অনেক পরিবারের জন্য ডাউন পেমেন্ট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষের মতে, এই সহায়তা কর্মসূচি সেই চাপ কিছুটা কমাতে পারে।   তবে কোন এলাকায় নতুন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বা কোন ঠিকানায় সংস্কার কাজ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের নাম প্রকাশ করা হয়নি।   নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের জন্য বহুমুখী সহায়তা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক গ্র্যান্ট (সিডিবিজি) কর্মসূচির আওতায় নতুন অর্থবছরে প্রায় ৪৯ লাখ ডলার এবং আগের বছরের আরও ৩৭ লাখ ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।   এই অর্থের একটি বড় অংশ স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই কমিউনিটি গড়ে তোলার কাজে ব্যয় হবে। নতুন বরাদ্দের প্রায় ২৬ লাখ ডলার এবং আগের বছরের প্রায় ৩৬ লাখ ডলার একই খাতে ব্যবহার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া জনসেবামূলক কার্যক্রমের জন্য প্রায় ৭ লাখ ৪২ হাজার ডলার, আবাসন কর্মসূচির জন্য প্রায় ৬ লাখ ৪৩ হাজার ডলার এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৮৯ হাজার ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।   গৃহহীনদের জন্য জরুরি সহায়তা গৃহহীন ও আবাসন সংকটে থাকা মানুষের জন্য ‘ইমার্জেন্সি সল্যুশনস গ্র্যান্ট’ (ইএসজি) কর্মসূচির আওতায় মোট ৪ লাখ ৪১ হাজার ৭৫৭ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।   এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ডলার পথে বসবাসকারী মানুষের কাছে পৌঁছানোর কার্যক্রমে ব্যয় হবে। দ্রুত পুনর্বাসন এবং গৃহহীনতা প্রতিরোধ কর্মসূচির জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ডলার। প্রশাসনিক খাতে ব্যয় হবে ৩৩ হাজার ডলার।   এ কর্মসূচিতে আগের বছরের কোনো অব্যবহৃত অর্থ নতুন অর্থবছরে বহন করা হচ্ছে না।   সেকশন-৮ ভাড়া সহায়তা কর্মসূচিতেও অর্থ পরিকল্পনা অনুযায়ী, মায়ামি সিটি প্রায় ৬৭ লাখ ডলারের সেকশন-৮ হাউজিং চয়েস ভাউচার তহবিলও গ্রহণ করবে। এর মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ ডলার সরাসরি ভাড়া সহায়তায় এবং প্রায় ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ ডলার প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।   সেকশন-৮ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসন সহায়তা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা বেসরকারি মালিকানাধীন বাসায় ভর্তুকিযুক্ত ভাড়ায় বসবাসের সুযোগ পান।   স্থানীয় আবাসন সহায়তা পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন ফেডারেল ব্যয় পরিকল্পনার পাশাপাশি ২০২৫ থেকে ২০২৮ মেয়াদের স্থানীয় আবাসন সহায়তা পরিকল্পনাতেও সংশোধনী আনার প্রস্তাব দিয়েছে মায়ামি সিটি।   বিশেষ করে একক পরিবারের জরুরি সহায়তা কর্মসূচি এবং একক পরিবারের আবাসন সংস্কার কর্মসূচিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের বাড়ির মালিকদের ঘরবাড়ি মেরামত, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বসবাসযোগ্য পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা দেওয়া হয়।   তবে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   জনমত গ্রহণ শুরু নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৮ জুন থেকে পরিকল্পনাটি জনসাধারণের পর্যালোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।   আগামী ৯ জুলাই মায়ামি সিটি কমিশনের এক উন্মুক্ত শুনানিতে পরিকল্পনাটির ওপর ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কোকোনাট গ্রোভ এলাকার প্যান আমেরিকান ড্রাইভে অবস্থিত সিটি কমিশন ভবনে সকাল ৯টায় শুনানি শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি মায়ামি টিভি এবং কমকাস্ট চ্যানেল ৭৭-এ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।   এ ছাড়া আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত নাগরিকরা লিখিত মতামত জমা দিতে পারবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ামিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাসনের মূল্য এবং ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট তীব্র হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফেডারেল তহবিলের এই বরাদ্দ নিম্ন আয়ের পরিবার, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং আবাসন অনিশ্চয়তায় থাকা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পরিকল্পনার প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে অর্থ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এবং তা প্রয়োজনীয় জনগোষ্ঠীর কাছে কত দ্রুত পৌঁছায় তার ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২২:২১
ছবি: সংগৃহীত
২ লাখ ডলারের বাড়িতে ১৭ হাজার ডলারের কর, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের এক বাড়ির মালিক

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের রিভারডেল এলাকার বাসিন্দা তাতিয়ানা স্কোয়ার নিজের পরিবারের জন্য একটি নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। গত বছর তিন শয়নকক্ষ ও দুই বাথরুমের একটি সংস্কারকৃত বাড়ি কিনে তিনি ভেবেছিলেন, অবশেষে সন্তানদের জন্য স্থিতিশীল ও নিরাপদ একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে পেরেছেন। কিন্তু বাড়ি কেনার এক বছরের মধ্যেই সম্পত্তি করের বিশাল বিল সেই স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স শিকাগোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কুক কাউন্টি অ্যাসেসরস অফিস থেকে পাওয়া এক চিঠিতে জানতে পারেন, তার বাড়ির মূল্য পুনর্মূল্যায়নের পর বার্ষিক সম্পত্তি করের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৭ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। অথচ বাড়িটি তিনি কিনেছিলেন ২ লাখ ৭ হাজার ডলারে। তাতিয়ানা স্কোয়ার জানান, ফেব্রুয়ারিতে ডাকযোগে চিঠিটি পাওয়ার পর তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন। তার ভাষায়, করের কারণে মাসিক ব্যয় প্রায় ২ হাজার ডলার পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি কি কোনো লেকের ধারের বিলাসবহুল এলাকায় থাকি? নাকি নেপারভিলের মতো কোনো অভিজাত শহরে?” স্কোয়ার বলেন, তার পরিবারের মধ্যে দাদীর পর তিনিই প্রথম বাড়ির মালিক হয়েছেন। সন্তানদের শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটি শান্ত পরিবেশে বড় করে তোলার লক্ষ্যেই তিনি রিভারডেলে বাড়ি কিনেছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাকে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথাও ভাবতে হচ্ছে। “আমি কঠোর পরিশ্রম করে এই বাড়ি কিনেছি। আমার সন্তানরা এখানে সুখে আছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে হয়তো আমাদের চলে যেতে হবে,” বলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্কোয়ারের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট রোনাল্ড টুসাঁ। তিনি রিভারডেল এলাকার অন্তত ৪৫টি সম্পত্তির কর সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখেছেন, স্কোয়ারের বাড়ির করই সবচেয়ে বেশি। তার মতে, “রিভারডেলে কেউ বাড়ি কিনে মাসে ৪ হাজার ডলারের সমপরিমাণ মর্টগেজ ও কর পরিশোধের কথা কল্পনাও করে না।” তবে কুক কাউন্টি অ্যাসেসরস অফিস বলছে, এই ঘটনা বৃহত্তর একটি সমস্যার প্রতিফলন। তাদের মতে, উচ্চ করহার এবং দ্রুত বাড়তে থাকা সম্পত্তির মূল্যের কারণে অনেক গৃহমালিক একই ধরনের চাপের মুখে পড়ছেন। অফিসটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২ লাখ ডলারের একটি বাড়ির জন্য ১৩ হাজার থেকে ১৭ হাজার ডলার কর পরিশোধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আইন অনুযায়ী সম্পত্তির ন্যায্য বাজারমূল্য নির্ধারণ করা তাদের বাধ্যবাধকতা। কর্তৃপক্ষ জানায়, সংশ্লিষ্ট বাড়িটি দীর্ঘদিন খালি থাকার পর সংস্কার করা হয় এবং ২০২৪ সালে পুনরায় বিক্রি হয়। মূল্যায়নের সময় আশপাশের একই ধরনের সংস্কারকৃত বাড়ির বিক্রয়মূল্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ওই এলাকায় তুলনামূলক কয়েকটি বাড়ি ২ লাখ ১৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৪৪ হাজার ডলারের মধ্যে বিক্রি হয়েছে। অ্যাসেসরস অফিস আরও জানায়, স্কোয়ারের প্রতিবেশীদের অনেক সম্পত্তি এখনো পুরোনো মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর দিচ্ছে। পরবর্তী পুনর্মূল্যায়ন চক্রে তাদের করও বাড়তে পারে। তবে সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করলেও করহার নির্ধারণ করে না অ্যাসেসরস অফিস। করহার নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ করবর্ষে রিভারডেলের কার্যকর সম্পত্তি করহার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ, যা কুক কাউন্টি এবং পুরো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ। তুলনামূলকভাবে শিকাগো শহরে এই হার প্রায় ৬ শতাংশ। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গৃহমালিকদের জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন কর-ছাড় সুবিধা ব্যবহার করলে স্কোয়ারের কর বিল ১৭ হাজার ডলার থেকে কমে প্রায় ১৩ হাজার ডলারে নামতে পারে। তবে এটিও অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক বোঝা বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। রিভারডেলের করের একটি বড় অংশ স্থানীয় সরকারি সেবা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডিস্ট্রিক্ট ১৪৮ এবং থর্নটন টাউনশিপ হাই স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ২০৫। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠ ও গণিত দক্ষতার ফলাফল ইলিনয়ের গড় মানের নিচে রয়েছে। এ কারণে অনেক বাসিন্দার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, অঞ্চলের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্পত্তি কর আদায় করা হলেও সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার কোথায় হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি, স্থানীয় সরকারের উচ্চ কর নির্ভরতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বাড়ির মালিকানা ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। রিভারডেলের এই ঘটনা সেই বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ফক্স শিকাগোর প্রতিবেদনে উঠে আসা তাতিয়ানা স্কোয়ারের অভিজ্ঞতা এখন অনেক আমেরিকান পরিবারের উদ্বেগের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলেও ক্রমবর্ধমান করের চাপ সেই স্বপ্নকে কতটা টেকসই রাখবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২২:৫
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে অভিবাসীদের পক্ষে সরব মামদানি, আইস তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদারের সম্ভাবনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিবাসন সংস্থা আইসিইর তৎপরতা বাড়তে পারে—এমন ইঙ্গিতের পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও আলোচনা বাড়ছে বিভিন্ন মহলে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সাবেক আইসিই কর্মকর্তা টমাস হোম্যান সম্প্রতি নিউইয়র্কে আরও বেশি সংখ্যক অভিবাসন কর্মকর্তার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন কার্যক্রম সীমিত করতে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের নতুন আইনি পদক্ষেপের পর তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।   এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিউইয়র্কের সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও ক্রীড়া অঙ্গনে অভিবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনেও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও শ্রম বড় ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   মামদানি আরও বলেন, “নিউইয়র্ক সবসময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের শহর। আমরা এমন কোনো পরিস্থিতি চাই না, যেখানে মানুষের মধ্যে ভয় বা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।” বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগামী সময়ে নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময়ে অভিবাসন অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য শহরটির পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক বক্তব্য অতিরঞ্জিত বা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সরকারি বিবৃতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।   যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বড় বিষয়। বিশেষ করে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ নিয়ে মতপার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সামনের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এই ইস্যু আরও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৭:৩৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রযুক্তি খাতে কেনাকাটার চাপ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ফিরেছে গতি

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সোমবার মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। প্রযুক্তি খাত ও চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের পুনরুদ্ধারের ফলে নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে লেনদেন শেষ করেছে। তবে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক সামান্য পতনের মধ্য দিয়ে দিন শেষ করেছে।   রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবারের বড় ধরনের দরপতনের পর তুলনামূলক কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ কাজে লাগাতে শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। একই সময়ে ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষ হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় দেশকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানোর পর পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যায়। গত ২৪ ঘণ্টার সংঘাতকে চলতি বছরের এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সবচেয়ে সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দিন শেষে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২২ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৪০৫ দশমিক ৮১ পয়েন্টে পৌঁছায়। নাসডাক কম্পোজিট সূচক ২২২ দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৯৩১ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে ওঠে। অন্যদিকে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ৭৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ৫০ হাজার ৭৯১ দশমিক ১৭ পয়েন্টে নেমে আসে।   দিনের লেনদেনে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো শক্তিশালী অবস্থান ফিরে পায়। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচকে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। গত শুক্রবার চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে বড় পতনের ফলে বাজারমূল্যে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছিল।   চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ২০২৮ সালের জন্য ৩০ লাখের বেশি টেনসর প্রসেসিং ইউনিট উৎপাদনের অর্ডার দিয়েছে।   নিউ জার্সিভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান চেরি লেন ইনভেস্টমেন্টসের অংশীদার রিক মেকলার বলেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরের সাম্প্রতিক পতনের পর অনেক বিনিয়োগকারী এখন কম দামে শেয়ার কিনছেন। তার মতে, বিশ্লেষকেরাও আবার এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার সুপারিশ করতে শুরু করেছেন।   রিক মেকলার আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজার প্রায় নিখুঁত পরিস্থিতি ধরে নিয়ে মূল্যায়িত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সে রকম নয়। ফলে বাজারে ওঠানামা এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন তিনি।   এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় আয়োজিত বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে অ্যাপল তাদের ভার্চুয়াল সহকারী সিরির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সুবিধা ঘোষণা করেছে। তবে এ ঘোষণার পরও দিনের শেষভাগে কোম্পানিটির শেয়ারদর কিছুটা কমেছে।   বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রত্যাশিত ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ারদরও বেড়েছে। আগামী ২২ জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে।   ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলি লিলির শেয়ারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কোম্পানিটির নতুন প্রজন্মের স্থূলতা প্রতিরোধী ওষুধ ‘রেটাট্রুটাইড’-এর পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধটি ওজন কমানোর পাশাপাশি স্লিপ অ্যাপনিয়ার তীব্রতা হ্রাস এবং হাঁটুর ব্যথা উপশমেও সহায়তা করতে পারে।a

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৭:২৮
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে যেসব কারণে

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া যেমন বড় অর্জন, তেমনি ভিসা পাওয়ার পর তা ধরে রাখতে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল বা প্রত্যাহারের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা পড়াশোনা ও বৈধ অবস্থান উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে।   ভিসা বাতিল হতে পারে যেসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বাতিল হতে পারে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো—কোনো শিক্ষার্থী যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমতি বা যথাযথ তথ্য ছাড়া পাঁচ মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন, তাহলে তার ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভিসা-সংক্রান্ত রেকর্ড সঠিকভাবে আপডেট না করলে শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, যা ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে। ভুয়া তথ্য বা নথি জমা দেওয়া, অনুমতি ছাড়া কাজ করা অথবা অন্য কোনো ধরনের জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে ভিসা বাতিল হতে পারে। শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতির পরিবর্তন বা নতুন তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে তিনি আর ভিসার শর্ত পূরণ করছেন না, সেক্ষেত্রেও ভিসা বাতিল হতে পারে। এছাড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় বা অপরাধের অভিযোগও কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে।   ভিসা বাতিল হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমে জানতে হবে কোন কারণে ভিসা বাতিল হয়েছে। এটি প্রশাসনিক ত্রুটি, দীর্ঘ অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর করণীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভুল সিদ্ধান্ত হলে বা ব্যাখ্যার সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পুনরায় আবেদন বা আপিল করা   জটিল পরিস্থিতিতে অভিবাসন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া ট্রাভেল বা স্টুডেন্ট ইনস্যুরেন্সে ভিসা বাতিলজনিত সুবিধা আছে কি না তা যাচাই করা   শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হওয়া কঠিন পরিস্থিতি হলেও দ্রুত পদক্ষেপ, সঠিক তথ্য জানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৭:১৮
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস । ফাইল ছবি
২০২৮ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বে কমলা হ্যারিস!

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তবে তার কিছু সাবেক সমর্থক, দাতা ও রাজনৈতিক সহযোগী মনে করছেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির সামনে নতুন নেতৃত্ব তুলে ধরার সময় এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন হ্যারিসের সাবেক দাতা, তহবিল সংগ্রাহক, নির্বাচনী প্রচারণা কর্মী, বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমান উপদেষ্টাসহ ১৫ জনের বেশি ব্যক্তি। তাদের মধ্যে কয়েকজন পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে মতামত দেন।   হ্যারিসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি সম্ভাব্য সব রাজনৈতিক বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। তবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনও তার টিমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি।   ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন দৌড়ে হ্যারিসের অন্যতম সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সান ফ্রান্সিসকো মেয়র উইলি ব্রাউন বলেন, বর্তমানে দুই নেতার মধ্যে নিউসমকে বেশি সম্ভাবনাময় মনে হয়, কারণ তিনি সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজিত কোনো প্রার্থী নন।   ব্রাউন বলেন, “মানুষ সাধারণত বিজয়ীকেই সমর্থন করতে চায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিউসমকে একজন বিজয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, হ্যারিস যদি ২০২৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনে অংশ নিতেন, তবে জাতীয় পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়তে পারত। একজন প্রভাবশালী ক্যালিফোর্নিয়া দাতা এবিসি নিউজকে বলেন, “আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি মনে করেন হ্যারিসের আবার প্রার্থী হওয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য ভালো হবে। ভোটারদের সামনে নতুন ও সতেজ নেতৃত্ব আনার প্রয়োজন রয়েছে।”   হ্যারিসের দীর্ঘদিনের সমর্থক ও তহবিল সংগ্রাহক আসিফ মাহমুদ বলেন, হ্যারিস ও নিউসম উভয়েই প্রার্থী হলে ডেমোক্রেটিক দাতাদের অর্থায়ন বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান গভর্নর হিসেবে নিউসম কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। তবে হ্যারিসের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনি যদি নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে অনেক দাতা ও রাজনৈতিক কর্মী অন্য প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকতে পারেন, সেটি তিনি ভালোভাবেই উপলব্ধি করেন।   ২০২৪ সালের নির্বাচনে হ্যারিসের প্রচারণা মাত্র ১৫ সপ্তাহে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছিল। কয়েকজন তহবিল সংগ্রাহকের মতে, এত বিপুল ব্যয়ের পর অনেক দাতাই এখন বড় অঙ্কের অর্থ রাজনৈতিক প্রচারণায় দিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। একজন সাবেক তহবিল সংগ্রাহক বলেন, “ভোটাররা এখন নতুন, তরুণ এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির নেতৃত্ব খুঁজছে। আমার মনে হয় না এই মুহূর্তে কমলা হ্যারিস সেই চাহিদা পূরণ করতে পারবেন।”   আরেকজন দীর্ঘদিনের ডেমোক্রেটিক দাতা বলেন, “আমি এমন কাউকে শুনিনি যিনি হ্যারিসকে আবার প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। বরং বেশিরভাগের মতামত এর বিপরীত।” তবে সবাই যে একই মত পোষণ করেন, তা নয়। সাবেক বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তা টম নিডস বলেন, সাধারণ ডেমোক্রেট ভোটারদের মধ্যে এখনও হ্যারিসের জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং তিনি ছোট অঙ্কের অনুদানের মাধ্যমে শক্তিশালী তৃণমূল অর্থায়ন গড়ে তুলতে সক্ষম হতে পারেন। হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক। কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক উপদেষ্টার মতে, বাইডেন প্রশাসনের অংশ হওয়ায় হ্যারিসকে এখনও সেই সময়ের সিদ্ধান্ত ও বিতর্কের মুখোমুখি হতে হতে পারে।   তবে হ্যারিসের সাবেক যোগাযোগ পরিচালক অ্যাশলি এটিয়েনের দাবি, হ্যারিস ইতোমধ্যে নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং ২০২৮ সালে বাইডেন ইস্যু বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ কেউ এটিকে হারানো সুযোগ হিসেবে দেখলেও, হ্যারিসের ঘনিষ্ঠদের মতে এটি ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত। বর্তমানে হ্যারিস ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তহবিল সংগ্রহ, অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদার এবং ভোটাধিকার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন। আগামী আগস্টে তিনি লুইজিয়ানা ডেমোক্র্যাটদের বার্ষিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেবেন বলেও জানা গেছে।   হ্যারিসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, ভবিষ্যতে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন নাকি অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম, যেমন একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে ডেমোক্রেটিক রাজনীতির অনেকেই মনে করেন, জাতীয় পরিচিতি, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনী প্রচারণার অভিজ্ঞতা হ্যারিসকে এখনও ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রাখছে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৫:১০
অভিযুক্ত মিয়া জনসন
ফ্লোরিডায় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে সাবেক স্কুল ক্রীড়া পরিচালককে ১০ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টির এক মধ্যবিদ্যালয়ের সাবেক ক্রীড়া পরিচালককে এক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ১০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।   ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, ২০২৪ সালে একটি মধ্যবিদ্যালয়ের কর্মী ও এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় গোয়েন্দারা দ্রুত তদন্তে নামেন, যা পরবর্তীতে ফ্লোরিডার বাইরেও বিস্তৃত হয়।   তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত হন ৪২ বছর বয়সী মিয়া জনসন। তিনি ওই সময় একটি মধ্যবিদ্যালয়ের অ্যাথলেটিক ডিরেক্টর বা ক্রীড়া পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, প্রায় এক বছর ধরে তিনি জনসনের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।   অভিযোগ জানার পর ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জনসনকে ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে দেয় এবং তার চাকরি বাতিল করে।   তদন্তের অংশ হিসেবে জনসনের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তিনি ফ্লোরিডা ছেড়ে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে চলে যান। তদন্তে জানা যায়, একটি মেয়েদের বাস্কেটবল দলের সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভ্রমণের সময়ও এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।   ঘটনার বিস্তৃতি একাধিক অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ায় তদন্তে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে কানসাস সিটি থেকে জনসনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে অপরাধমূলক যৌন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর উদ্দেশ্যে এক অঙ্গরাজ্য থেকে অন্য অঙ্গরাজ্যে পরিবহনের ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়।   শুক্রবার ফেডারেল আদালত জনসনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি কারাভোগ শেষে তাকে আরও ২৫ বছর তত্ত্বাবধানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টির শেরিফ এরিক ফ্লাওয়ার্স তদন্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিশুদের স্কুলে নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে। তদন্তকারীরা এফবিআইয়ের সঙ্গে কাজ করে নিশ্চিত করেছেন যে ভুক্তভোগীর কথা শোনা হয়েছে এবং অভিযুক্ত তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হয়েছেন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সম্ভাব্য নির্যাতন বা শোষণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২:৪৬
অভিযুক্ত ফুড ডেলিভারি চালক মনোজ চিট্টার
মদ সরবরাহের অভিযোগে ভারতীয় ফুড ডেলিভারি ড্রাইভার গ্রেপ্তার, আলাবামায় কিশোরীর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের প্র্যাটভিল শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় এক ফুড ডেলিভারি চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশোরীদের কাছে অবৈধভাবে মদ সরবরাহের পর সুইমিং পুলে ডুবে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।   প্র্যাটভিল পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে একটি বাসাবাড়ির সুইমিং পুল থেকে অচেতন অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।   তদন্তে জানা যায়, পুলে নামার আগে কয়েকজন কিশোর-কিশোরী উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অ্যালকোহল পান করেছিল। সেই অ্যালকোহল সরবরাহের সঙ্গে ২৪ বছর বয়সী ভারতীয় মনোজ চিট্টা নামের এক ফুড ডেলিভারি চালকের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ। তিনি শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।   পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরীর বয়স যাচাই না করেই তার কাছে অ্যালকোহল পৌঁছে দেন। এছাড়া এই লেনদেনটি ডেলিভারি অ্যাপের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে সম্পন্ন হয়েছিল বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ঘটনায় মনোজ চিট্টার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড এবং অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছে অ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে অটোগা কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসএফএ এবং প্র্যাটভিল পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। কিশোর-কিশোরীদের কাছে অনলাইনে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে অ্যালকোহল সরবরাহের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এলাকাজুড়ে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত সরবরাহ কিশোরদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২:১৩
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতীকী দৃশ্য । গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত এইচ-১বি ভিসায় অতিরিক্ত ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। সোমবার ম্যাসাচুসেটসের বস্টনে দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা বাতিল করতে হবে।   মার্কিন জেলা বিচারক লিও সোরোকিন তার রায়ে বলেন, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া প্রশাসন এ ধরনের অস্বাভাবিক ও উচ্চ অঙ্কের ফি আরোপ করতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত কার্যত বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের পথ কঠিন করে তুলছিল।   এই মামলাটি দায়ের করেছিল ২০টি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা। মামলায় বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলারে উন্নীত করে। আগে যেখানে আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ তুলনামূলক সীমিত ছিল, সেখানে নতুন এই ফি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল ও গবেষণা খাতের আন্তর্জাতিক কর্মীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বাধা তৈরি করে।   আদালতে অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, এত উচ্চ ফি শুধু বিদেশি কর্মীদের নিরুৎসাহিতই করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠানকেও দক্ষ জনবল নিয়োগ থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।   এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মভিত্তিক ভিসা কর্মসূচি। প্রতিবছর হাজার হাজার বিদেশি প্রকৌশলী, সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, গবেষক ও প্রযুক্তিকর্মী এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দক্ষ পেশাজীবী এই ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত আছেন।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে কর্মভিত্তিক ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত শর্ত, ফি বৃদ্ধি এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, আদালতের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মী এবং প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে। একই সঙ্গে এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা ও আদালতের নজরদারির বিষয়টিকেও নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।   তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৫:১২
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে একটি সমাবেশ করে । রয়টার্স-ফাইল
ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে মুসলিম শিক্ষার্থীদের বরখাস্তের অভিযোগে ভার্জিনিয়ার স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা করল সিএআইআর

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন সিএআইআর ভার্জিনিয়ার একটি বড় পাবলিক স্কুল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে চার মুসলিম শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।   মামলাটি করা হয়েছে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পাবলিক স্কুলসের বিরুদ্ধে, যা ওয়াশিংটন ডিসির উপশহরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত একটি বৃহৎ স্কুল জেলা। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার অন্তর্ভুক্ত থমাস জেফারসন হাই স্কুল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এমএসএ) সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত একটি ট্রেন্ড অনুসরণ করে একটি ভিডিও তৈরি করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের জিজ্ঞাসা করছে তারা এমএসএ সভায় অংশ নেবে কি না। কেউ “না” বললে অন্য শিক্ষার্থীরা মজার ছলে তাদের ধরে নিয়ে যায়, যা মামলার ভাষ্যে একটি হাস্যরসাত্মক স্কিট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সিএআইআরের দাবি, এতে কোনো হুমকি, অস্ত্র বা বাস্তব সহিংসতার ইঙ্গিত ছিল না এবং একই ধরনের ভিডিও অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।   অন্যদিকে মামলায় বলা হয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সাসপেন্ড করে এবং তাদের আচরণকে ইহুদি-বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে শাস্তিমূলক রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়া এক শিক্ষার্থীকে ফিলিস্তিনের মানচিত্র সংবলিত সোয়েটশার্ট পরতে নিষেধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।   সিএআইআরের আইনজীবীদের মতে, একই ধরনের আচরণের জন্য অন্যান্য শিক্ষার্থী গোষ্ঠীকে শাস্তি না দিয়ে কেবল মুসলিম শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী, সমান সুরক্ষা ধারা এবং ফেডারেল নাগরিক অধিকার আইনের লঙ্ঘন।   স্কুল কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, ভিডিওটি শিক্ষার্থী অপহরণের মতো দৃশ্য উপস্থাপন করেছিল, যা স্কুল পরিবেশে অনুপযুক্ত ও উদ্বেগজনক। তাদের মতে, চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি কিছু শিক্ষার্থীর জন্য মানসিকভাবে আঘাতজনক হতে পারে। ইহুদি সম্প্রদায়ের কিছু সংগঠনও ভিডিওটির সমালোচনা করে বলেছে, অপহরণের দৃশ্যের সঙ্গে মিল থাকায় এটি সংবেদনশীল সময়ের জন্য অনুপযুক্ত ছিল।   মামলাটি এখন মূলত নির্ভর করছে মুসলিম শিক্ষার্থীরা অন্য গোষ্ঠীর তুলনায় ভিন্ন আচরণের শিকার হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের ওপর। আদালতে যদি প্রমাণ হয় যে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য হয়েছে, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার মামলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সিএআইআর ক্ষতিপূরণ, শাস্তিমূলক রেকর্ড বাতিল এবং ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা বন্ধে আদালতের নির্দেশনা চেয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গরিবদের খাদ্য সহায়তায় ট্রাম্পের শর্ত আরোপ স্থগিত করলেন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে দরিদ্র নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ ‘ফুড স্ট্যাম্প’ কর্মসূচির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শর্ত আরোপের চেষ্টা স্থগিত করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। গত শুক্রবার ২০টি ডেমোক্রেটিক শাসিত অঙ্গরাজ্যের পক্ষে রায় দিয়ে আদালত এই স্থগিতাদেশ জারি করেন। সোমবার বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক মিয়ং জৌন ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির শত শত কোটি ডলারের তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ‘লিঙ্গাদর্শন’, ‘অভিবাসন’ এবং ‘নারীদের খেলাধুলায় ন্যায্য সুযোগ’ সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত শর্ত জুড়ে দিতে চেয়েছিল।   মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলো আদালতে যুক্তি দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয় কংগ্রেসের তৈরি করা মূল কর্মসূচির মাঝে অবৈজ্ঞানিক ও বেআইনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি পুষ্টি সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ কৃষি গবেষণা এবং জাতীয় খাদ্য শৃঙ্খলের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।   অন্যদিকে সরকারের পক্ষে আইনজীবীরা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে জানান, নতুন শর্তগুলো করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি তহবিলের ওপর তদারকি বাড়াতে সাহায্য করত। তবে বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুক্তি নাকচ করে দিয়ে আপাতত তাদের এই উদ্যোগ স্থগিত করার নির্দেশ দেন।   ফুড স্ট্যাম্প হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে দেশটির প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ দরিদ্র মানুষ মুদি কেনাকাটার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত বছর রিপাবলিকানদের পাস করা একটি ব্যয় সংকোচন বিলের নতুন শর্তের কারণে এরই মধ্যে ৪৩ লাখেরও বেশি মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১:১৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
অত্যাধুনিক মহাকাশ-ক্যামেরার মাধ্যমে ইরান সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো অত্যাধুনিক মহাকাশভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। তার দাবি, স্যাটেলাইট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মহাকাশ-ক্যামেরার মাধ্যমে এসব স্থাপনায় যেকোনো ধরনের কার্যক্রম, যানবাহনের চলাচল কিংবা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব।   এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।   সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সহযোগিতায় দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে ধ্বংস করবে। আর কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করে নিজস্ব ব্যবস্থায় ওই উপাদান সংগ্রহের চেষ্টা করবে।   ট্রাম্পের ভাষ্য, “চুক্তি হলে আমরা ইরানিদের সঙ্গে কাজ করব। আর চুক্তি না হলেও ইউরেনিয়ামের বিষয়টি সমাধান করা হবে, তবে তখন পদ্ধতি ভিন্ন হবে।”   তিনি দাবি করেন, মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের হামলার পর ইরানের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ পাহাড়ি এলাকার নিচে চাপা পড়ে রয়েছে। তার মতে, এই উপাদান উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় ধরে খননকাজ প্রয়োজন হবে এবং এ ধরনের কাজ পরিচালনার সক্ষমতা বিশ্বের খুব কম দেশের রয়েছে।   ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান গোপনে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে না, কারণ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক জানতে চান, যদি কোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নেবে কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনের নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।   তিনি বলেন, “চুক্তি হোক বা না হোক, ইউরেনিয়ামকে নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১:৯
ছবি: সংগৃহীত
১৭ জনের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ নিল বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জালিয়াতি, মাদক ব্যবসা এবং যৌন অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ১৭ জন স্বাভাবিক উপায়ে নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সোমবার দেশটির বিচার বিভাগ এই ১৭ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে, অপরাধের ইতিহাস গোপন করে বা কোনো ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তবে ফেডারেল আদালতের আদেশের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করার বিধান রয়েছে। যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়াটির অপব্যবহার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন এই জিরো-টলারেন্স বা শূন্য-সহনশীলতা নীতি কার্যকর করছে।   অপরাধের তথ্য গোপন করে যারা অবৈধভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করতে প্রশাসন সব ধরনের আইনি পথ ব্যবহার করছে। জালিয়াতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   তবে বিচার বিভাগের এই ব্যাপক নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান নিয়ে দেশটির অভিবাসন আইনজীবী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, আগে অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই আইনি প্রক্রিয়াটি এখন নিয়মিত ব্যবহার করায় সাধারণ অভিবাসীদের মনে এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি হতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ০:২৬
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নওশীন-হিল্লোলের নতুন উদ্যোগ, কাচ্চি থেকে কফিতে জমজমাট ‘এন ক্যাফে ৩৬৫’

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা নওশীন ও নোভার নতুন উদ্যোগ ‘এন ক্যাফে ৩৬৫ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতোমধ্যে ক্যাফেটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ।   লং আইল্যান্ডের ওয়ানটাঘ এলাকায় অবস্থিত নতুন এই প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক ক্যাফে সংস্কৃতি, পরিবারবান্ধব পরিবেশ এবং বৈচিত্র্যময় খাবারের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং কমিউনিটির মানুষের জন্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ মিলনস্থল গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাদের এই উদ্যোগ।   উদ্বোধনের পর থেকেই সেখানে ভিড় করছেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শুভানুধ্যায়ী ও পরিচিতজনরা উপস্থিত হয়ে নওশীন ও নোভাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসার বিস্তারে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।   নওশীন ও নোভা জানান, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ‘এন ক্যাফে ৩৬৫’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। তাদের ভাষায়, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছেন যেখানে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারবেন, পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে পারবেন এবং একই সঙ্গে মানসম্মত খাবার ও সেবা উপভোগ করতে পারবেন।   ক্যাফেটিতে কফি, বিভিন্ন ধরনের পানীয়, স্ন্যাকস ও মূল খাবারের পাশাপাশি রয়েছে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। উদ্যোক্তারা জানান, খাবারের মান ও পরিবেশ—দুই দিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোলও। অভিনয়ের পাশাপাশি খাদ্যভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবেও পরিচিত তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে হিল্লোল জানান, ২০১৭ সালে তার খাদ্যভ্রমণ ও খাবার নিয়ে কাজের শুরু। এরপর বিভিন্ন সময়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তিনি নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। তবে গত বছর নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বাসার কাছেই একটি রেস্টুরেন্ট স্পেস পাওয়ার পর তার স্ত্রী নওশীন নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল হন।   হিল্লোল লেখেন, শুরুতে এটি শুধু একটি ক্যাফে হিসেবে ভাবা হলেও ধীরে ধীরে সেটি পূর্ণাঙ্গ রেস্টুরেন্ট ও বারে রূপ নেয়। তিনি জানান, মাংসের সব আইটেমে হালাল উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ খাবারের রেসিপি নিজেদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছে। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের আলু প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ল্যাম্ব শ্যাঙ্ক রান্না—সবকিছুই ইন-হাউজ পদ্ধতিতে করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   এছাড়া তিনি জানান, রেস্টুরেন্টে রাখা হয়েছে ঢাকার জনপ্রিয় খাবার কাচ্চিও। মজার ছলে তিনি লেখেন, এবার আমেরিকানদের কাচ্চি খাওয়া শেখানোর চেষ্টা করবেন তারা।   নিজের স্ট্যাটাসে হিল্লোল আরও উল্লেখ করেন, ‘এন ক্যাফে’ নামটি অনেকেই নওশীনের নামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেও এর অর্থ আসলে ‘নিউইয়র্ক ক্যাফে’।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে মনে করছেন, বিনোদন জগতের পরিচিত মুখদের এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে এটি লং আইল্যান্ডে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও খাবারকে আরও পরিচিত করে তুলবে বলেও আশা করছেন তারা।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২৩:৫৩
ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টিক সিটিতে বেংগল ক্লাবের ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনা’

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে অনেকেই বাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গাড়িতে বিভিন্ন দেশের পতাকা টাঙিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। এই উন্মাদনার অংশ হিসেবে গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার রাতে আটলান্টিক সিটির বেংগল ক্লাব তাদের নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজন করে ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনা’ অনুষ্ঠান। প্রিয় দলের জার্সি পরে এবং হাতে পতাকা নিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি এতে অংশ নেন। পুরো মিলনায়তন সাজানো হয় বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকায়।   অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস ছিল সবচেয়ে বেশি। প্রিয় দলের পক্ষে স্লোগানে মুখর ছিল পুরো আয়োজন। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সমর্থিত দলের সাফল্য কামনা করেন এবং বিশ্বকাপের থিম সংয়ের সঙ্গে নাচ-গান ও আনন্দ-উৎসবে অংশ নেন।   এ সময় প্রবাসী ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ তর্ক-বিতর্ক, খুনসুটি ও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, বিশ্বকাপ এলেই প্রবাসে বাংলাদেশের মতোই উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়। সবাই নিজ নিজ দলের সমর্থনে একত্রিত হন, তবে সবকিছুর মধ্যেই সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্ব বজায় থাকে।   বেংগল ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী চৌধুরী তাননু এবং সাধারণ সম্পাদক কাজল বাড়ৈ অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজন ও অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।   নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২৩:৩৪
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে তোফায়েল আহমেদ স্মরণে আয়োজিত শোকসভার একাংশ । ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ স্মরণে শোকসভা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি তোফায়েল আহমেদের স্মরণে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। গত শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার এলাকার এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুল মিলনায়তনে ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি সংসদ’-এর উদ্যোগে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।   সংগঠনের সভাপতি রুহেল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।   বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম বাদশা, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী এবং রাজনীতিবিদ জাকারিয়া চৌধুরী।   এ ছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুর আহমদ, ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি শাখাওয়াত আলী, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম জিকু, সোহান আহমেদ টুটুল, শেখ মখলু, শেখ শফিকুর রহমান, শেখ জামাল হোসেন, শ্যামল চন্দ্র চন্দ, হাবিবুর রহমান কামাল, শামীম আহমেদ, শেখ অলি আহাদ, ছাদেকুর রহমান, নুরুল ইসলাম মিলন এবং কবি সুধাংশু রঞ্জন মন্ডলসহ অনেকে।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক অবদান ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।   বক্তারা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২৩:১৯
ছবি: সংগৃহীত
সব মাছ মারা যাওয়ায় আমেরিকার সান কার্লোস লেক বন্ধ ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি জনপ্রিয় কৃত্রিম হ্রদ বা লেকের সব মাছ মারা যাওয়ায় সেটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সান কার্লোস হ্রদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বন্যপ্রাণী ও বিনোদন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, তীব্র খরা পরিস্থিতি এবং স্থানীয় একটি বাঁধ থেকে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে হ্রদটির প্রায় শতভাগ মাছের মৃত্যু হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, হ্রদের পানিতে ভেসে থাকা এবং পচতে থাকা বিপুল পরিমাণ মরা মাছ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এই কারণে সান কার্লোস হ্রদে সাঁতার কাটা, মাছ ধরা, মাছ সংগ্রহ বা মজুত করার মতো সব ধরনের কর্মকাণ্ড পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ও ছবিতে হ্রদের পুরো উপরিভাগজুড়ে মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখা গেছে।   কুলিড বাঁধের মাধ্যমে গিলা নদীর ওপর তৈরি এই মানবসৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদটি অ্যারিজোনার ফিনিক্স শহর থেকে প্রায় ১২৫ মাইল দূরে সান কার্লোস অ্যাপাচি উপজাতীয় অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। ১৫৮ মাইল দীর্ঘ তটরেখার এই হ্রদটি ক্যাটফিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছের জন্য মৎস্য শিকারিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। বন্যপ্রাণী বিভাগ সারা বছরই এই লেকে বিভিন্ন প্রজাতির ট্রআউট মাছ ছাড়ত।   হ্রদের পানি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আগে থেকেই মাছ ধরার ওপর থাকা কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছিল। মাত্র তিন বছর আগেও পানিতে পরিপূর্ণ থাকা এই হ্রদটির এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক পরিণতিতে স্থানীয় বাসিন্দা এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী আপডেট দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২২:৫৮
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে চরম খরাপ্রবণ এলাকায় তৈরি হচ্ছে বেশির ভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই তথ্যকেন্দ্র

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন রেকর্ড ভাঙা খরা চলছে, তখনো থেমে নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পের বিস্তার। এক অনুসন্ধানী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির পরিকল্পিত নতুন এআই তথ্যকেন্দ্র বা ডাটা সেন্টারগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই তৈরি হচ্ছে চরম খরাকবলিত এলাকাগুলোতে। অনুমোদন পাওয়া ৮০৯টি নতুন তথ্যকেন্দ্রের মধ্যে ৫১৭টিই এমন সব অঞ্চলে অবস্থিত, যেগুলো গত এক বছর ধরে তীব্র পানির সংকটে ভুগছে।   এই তথ্যকেন্দ্রগুলোতে থাকা হাজার হাজার কম্পিউটার দিনরাত সচল রাখার কারণে সেগুলো প্রচুর উত্তপ্ত হয়। এই কম্পিউটারগুলো ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিন লাখ লাখ গ্যালন পানির প্রয়োজন হয়। হিসাব অনুযায়ী, একটি বড় তথ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ গ্যালন পানি লাগে, যা ৫০ হাজার মানুষের দৈনিক পানির চাহিদার সমান। গবেষকরা জানিয়েছেন, চ্যাটজিপিটি বা এ ধরনের এআই মাধ্যমে মাত্র ১০০ শব্দের একটি বার্তা লিখলেই তথ্যকেন্দ্র ঠান্ডা করতে প্রায় ৫০০ মিলিলিটার পানি খরচ হয়ে যায়।   গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট এবং আমাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা এই তথ্যকেন্দ্রগুলোর পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। তারা মূলত সস্তা জমি, কম কর এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মরুভূমি ও খরাপ্রবণ এলাকাগুলোকে বেছে নিচ্ছে। কারণ শুষ্ক আবহাওয়ায় কম্পিউটার যন্ত্রাংশ সহজে নষ্ট হয় না। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে এই খাতে বার্ষিক পানির চাহিদা ১৭ বিলিয়ন গ্যালন থেকে বেড়ে ৭৩ বিলিয়ন গ্যালনে পৌঁছাবে।   এই বিপুল পরিমাণ পানির চাহিদার কারণে স্থানীয় কৃষক, খামারি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষকে পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বলা হলেও এই তথ্যকেন্দ্রগুলোকে প্রায় আনলিমিটেড পানি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধ তৈরি হচ্ছে এবং ক্যালিফোর্নিয়াসহ বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর নিয়ম চাপানোর আইন পাসের কথা ভাবা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২২:৩৮
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা, ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের পক্ষে রায় মার্কিন আদালতের

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0