আমেরিকা

ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাস রিপাবলিকান সম্মেলনে মুসলিম প্রতিনিধিকে বলা হলো, ‘ধর্ম বদলান, না হলে আমেরিকা ছাড়ুন’

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়ে চরম অপমান ও বৈরিতার মুখে পড়েছেন এক মুসলিম প্রতিনিধি। দলটির মধ্যে নিজের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে সম্মেলনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ হুসেইন শেষ পর্যন্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন, যখন এক প্রভাবশালী খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতা তাকে সরাসরি বলেন, হয় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে হবে, নয়তো দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।   ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে হিউস্টনে অনুষ্ঠিত টেক্সাস রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, দলীয় ঐক্যের কথা বলা হলেও সম্মেলনের বিভিন্ন আলোচনা ও বক্তব্যে মুসলিমবিরোধী মনোভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।   মোহাম্মদ হুসেইন মিসরীয় বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন নাগরিক। ১৯৯২ সালে তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে আসে। তিনি নিজেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে রক্ষণশীল চিন্তার মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই তিনি দীর্ঘদিন রিপাবলিকান রাজনীতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন।   তবে সম্মেলনে গিয়ে তিনি ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল টেক্সাসকে ‘শরিয়ামুক্ত’ রাখার দাবি। বিভিন্ন বক্তা শরিয়া আইনকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন। অনেক বক্তার বক্তব্যে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যও উঠে আসে।   একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সাবেক ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক এবং ‘রিকভার আমেরিকা’ সংগঠনের সভাপতি ড. রিক স্কারবরো। সেখানে তিনি দাবি করেন, মুসলমানরা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য মিথ্যা বলে এবং সুযোগ পেলে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠবে। এ ধরনের বক্তব্য শুনে আপত্তি জানান মোহাম্মদ হুসেইন। তিনি বলেন, শরিয়া আইন নিয়ে সম্মেলনে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই ভুল ও বিভ্রান্তিকর।   হুসেইন উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, “যখন বলা হয় মুসলমানরা বাধ্য হয়ে মিথ্যা বলে, তখন আমাদের এমন অবস্থায় ফেলা হয় যেখানে আমরা যা-ই বলি না কেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। এটি ন্যায়সঙ্গত নয়, এটি আমেরিকান মূল্যবোধও নয়।” আলোচনা শেষে হুসেইনের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন স্কারবরো। একপর্যায়ে হুসেইন তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি চান যে তিনি চলে যান? জবাবে স্কারবরো বলেন, “হ্যাঁ।” পরে টেক্সাস ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কারবরো স্পষ্ট করেন যে তিনি শুধু সম্মেলন নয়, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কথাই বলেছেন। তার ভাষায়, “আপনি যদি সেই মূল্যবোধ ও শিক্ষাকে সমর্থন করেন, যার পক্ষে কথা বলছেন, তাহলে আমেরিকায় আপনার জায়গা নেই।”   এই মন্তব্যে ভেঙে পড়েন হুসেইন। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে এক পাশে বসে পড়েন। পরে স্কারবরো তার কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং স্বীকার করেন যে তিনি হয়তো অতিরিক্ত কঠোর আচরণ করেছেন। সম্মেলনে মুসলিম অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে বিরূপ আচরণের অভিযোগ শুধু হুসেইনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না।   সামার হালাবি নামে একজন মুসলিম নারী প্রতিনিধি, যিনি হিজাব পরে সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাকেও একাধিকবার কটূক্তির মুখে পড়তে হয়। এক পর্যায়ে এক অংশগ্রহণকারী তাকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঘটনাটি তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।   হালাবি ও তার স্বামী আমজাদ মুহতাসেব দুজনই নিবন্ধিত প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। তারা বলেন, মুসলমানদের অনেক মূল্যবোধই রিপাবলিকানদের রক্ষণশীল অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিবারব্যবস্থা, ধর্মীয় অনুশাসন, মদ্যপান ও জুয়াবিরোধী অবস্থানের মতো বিষয়ে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে।   তবুও সম্মেলনের ভেতরে তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি ওঠে। মূল বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) নামের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনের সঙ্গে কিছু প্রতিনিধির সম্পর্ক। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট গত বছর সংগঠনটিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে সিএআইআর সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   সম্মেলনে কয়েকজন প্রতিনিধি সিএআইআরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিদের বহিষ্কারের চেষ্টা করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত দলীয় নিয়ম অনুযায়ী তা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এমন প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়ার সুযোগ রেখে নতুন নিয়ম গ্রহণ করা হয়েছে।   এদিকে রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেই এ ধরনের আচরণের সমালোচনা করা হয়েছে। টেক্সাসের আইনপ্রণেতা মানো ডি-আয়ালা বলেন, দলকে শক্তিশালী করতে হলে আরও বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অখ্রিস্টান বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে দূরে ঠেলে দিলে দল দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   অন্যদিকে সান আন্তোনিওর প্রতিনিধি কেভিন জেনিংসও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রিপাবলিকানদের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে শরিয়া ইস্যুতে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। সম্মেলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মোহাম্মদ হুসেইন বলেন, তিনি এখন নতুন করে ভাবছেন ভবিষ্যতে কাকে ভোট দেবেন। তার প্রশ্ন, “যে দল আমাকে বলে ধর্ম বদলাও অথবা দেশ ছাড়ো, সেই দলের পক্ষে আমি কীভাবে দাঁড়াব?” তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি সেই প্রার্থীকে সমর্থন করবেন, যিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নেবেন।   টেক্সাসের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং মুসলিমদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে আদর্শিক বিভাজন ও সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্ন আরও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ২০:৪০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকাই এখন সাশ্রয়ী, টানা ৩৪ মাস কমছে ভাড়ার দাম

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়া থাকাই এখন অধিকাংশ মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। নতুন আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভাড়া বাজারে মূল্যসংশোধনের ধারাবাহিক প্রভাবের কারণে দেশটির বড় শহরগুলোতে ভাড়ার হার কমতে থাকায় এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।   রিয়েল এস্টেটবিষয়ক প্রতিষ্ঠান Realtor.com-এর সর্বশেষ ভাড়া বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০টি মহানগর এলাকায় বর্তমানে বাড়ি কেনার তুলনায় ভাড়া থাকাই অর্থনৈতিকভাবে বেশি সুবিধাজনক। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহুতল আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় ভাড়া বাজারে চাপ কমেছে এবং ভাড়াটিয়ারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।   Realtor.com-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নারের মতে, ২০২১ ও ২০২২ সালে ভাড়ার যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, বাজার এখন ধীরে ধীরে তার সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক বছরের সমপরিমাণ ভাড়া বৃদ্ধি হওয়ায় বর্তমানে অনেক শহরে ভাড়ার হার নিচের দিকে নামছে।   তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে নির্মিত বিপুলসংখ্যক বহুতল আবাসন বাজারে যুক্ত হওয়ায় ভাড়াটিয়াদের জন্য বিকল্প বেড়েছে। ফলে বাড়িওয়ালাদেরও ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহত্তম মহানগর এলাকায় মধ্যম ভাড়া দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮৬ ডলার। এটি ২০২২ সালের গ্রীষ্মকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ৭৮ ডলার বা প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কম। তবে মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এখনও ভাড়া ২৪৮ ডলার বা প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ি কেনার খরচ এখনও উচ্চ সুদের হার ও আবাসনমূল্যের কারণে অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে রয়েছে। ফলে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ নেওয়ার চেয়ে ভাড়া থাকাকে অনেকেই আর্থিকভাবে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।   Realtor.com-এর অর্থনীতিবিদ জিয়াই জু জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকাল আসায় মৌসুমি কারণে আগামী মাসগুলোতে ভাড়ার হার সামান্য বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে বছরভিত্তিক ভাড়া কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বহুতল আবাসন নির্মাণের যে জোয়ার দেখা গেছে, তার প্রভাব এখনও বাজারে পড়ছে। ফলে ২০২৬ সালজুড়েই ভাড়াটিয়ারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন।   প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সব ধরনের আবাসন ইউনিটের ভাড়াই কমেছে। দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া এক বছরে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৮৫ ডলারে নেমে এসেছে। এটি ২০২২ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ১০৭ ডলার কম।   একই সময়ে এক শয়নকক্ষের ইউনিটের মধ্যম ভাড়া ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪২২ ডলারে নেমেছে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় আকারের ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে প্রায় তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভাড়া কমছে। স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রেও আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।   এদিকে আবাসন বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভাড়া থাকবেন নাকি বাড়ি কিনবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যক্তিগত আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করা জরুরি। এ জন্য বর্তমানে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসনসংক্রান্ত ওয়েবসাইট ‘মর্টগেজ বনাম ভাড়া’ হিসাব করার বিশেষ ক্যালকুলেটরও ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছে।   এসব ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তাঁর বর্তমান ভাড়া, সঞ্চিত অর্থ, সম্ভাব্য ডাউন পেমেন্ট এবং ভবিষ্যৎ ঋণ কিস্তির তুলনামূলক হিসাব করতে পারেন। এতে শুধু বর্তমান ব্যয় নয়, দীর্ঘমেয়াদে কোন সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে বেশি লাভজনক হবে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।   যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গত কয়েক বছরের অস্থিরতার পর ভাড়া খাতে এই মূল্যহ্রাসকে অনেক বিশেষজ্ঞ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তবে সুদের হার, নতুন নির্মাণ প্রকল্প এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ২০:২৫
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় একই এলাকায় ৩৬২ মিলিয়ন ডলারের দুই বাড়ি, উত্তপ্ত মিয়ামির বিলাসবহুল আবাসন বাজার

ফ্লোরিডার বিলাসবহুল আবাসন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মিয়ামির উপকূলবর্তী অভিজাত এলাকা কী বিসকেইন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় বিক্রির জন্য উঠে এসেছে দুটি অতি-বিলাসবহুল জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ, যার সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৬২ মিলিয়ন ডলার। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা দক্ষিণ ফ্লোরিডার উচ্চমূল্যের আবাসন বাজারে নতুন করে গতি সঞ্চার করেছে।   প্রথমে বাজারে আসে বহুল আলোচিত ‘স্কারফেস ম্যানশন’। প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুটের এই প্রাসাদটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৩৭ মিলিয়ন ডলার। বিশাল আয়তনের জমি, ব্যক্তিগত জলপথ সুবিধা এবং বিলাসবহুল নকশার কারণে সম্পত্তিটি দ্রুতই আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট বাজারের নজর কেড়ে নেয়।   এর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পাশের আরেকটি জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ বিক্রির খবর সামনে আসে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা ব্যবসায়ী নিকোলাস এস্ট্রেলা সিনিয়রের মালিকানাধীন এই সম্পত্তির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১২৫ মিলিয়ন ডলার। যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে সম্পত্তিটি ইতোমধ্যে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।   সম্পত্তিটির বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে ডগলাস এলিম্যানের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট লুর্দেস আলাত্রিস্তে ও কার্স্টেন স্মিথ। তবে তারা বিক্রেতার পরিচয় সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ামি ও এর আশপাশের দ্বীপাঞ্চল গত কয়েক বছরে বিশ্বের ধনী ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং তারকাদের অন্যতম পছন্দের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়কর না থাকা, তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রঘেঁষা জীবনযাত্রা এবং উচ্চমাত্রার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ধনীদের এই অঞ্চলের প্রতি আকৃষ্ট করছে।   দক্ষিণ ফ্লোরিডার কিছু আবাসিক এলাকা ইতোমধ্যে ‘বিলিয়নিয়ার বাঙ্কার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। কারণ এসব এলাকায় বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বসবাস ক্রমেই বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও অতিধনীদের জন্য নির্মিত সম্পত্তির চাহিদা এখনও শক্তিশালী রয়েছে।   রিয়েল এস্টেট খাতের পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ২৩৭ মিলিয়ন ডলারের ‘স্কারফেস ম্যানশন’ এবং ১২৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রাসাদ—এই দুই সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য ৩৬২ মিলিয়ন ডলার হওয়ায় কী বিসকেইন আবারও আন্তর্জাতিক আবাসন বাজারের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দুটি সম্পত্তির যেকোনো একটি বিক্রি হলেও তা চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যয়বহুল আবাসন লেনদেনের তালিকায় স্থান করে নিতে পারে।   বিলাসবহুল আবাসনের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের আগ্রহ প্রমাণ করছে, মিয়ামির অভিজাত এলাকাগুলো এখনও বিশ্বের ধনকুবেরদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় ঠিকানা হয়ে রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৯:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে হীরার গহনার লোভে ছোটবেলার বন্ধুকে মায়ের সামনেই গুলি করে হত্যা করল দুই যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে হীরার গহনা ও দামি ঘড়ির লোভে এক যুবককে জিপিএস দিয়ে ট্র্যাক করে তারই সাবেক দুই বন্ধু গুলি করে হত্যা করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে খোদ নিহতের মায়ের চোখের সামনেই। গত ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে ২৪ বছর বয়সী জেরেমি ওর্তেগাকে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার ২৫ বছর বয়সী ওয়েলফি এস্পিনাল এবং ২৭ বছর বয়সী লেনিন তোরিবিওর বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ম্যানহাটনের ইউএস অ্যাটর্নি জে ক্লেটন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত এস্পিনালকে নিউ জার্সি থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও অপর অভিযুক্ত তোরিবিও এখনো পলাতক রয়েছে।   নিহত জেরেমির মা ইয়োকাস্টা ওর্তেগা চোখের সামনে ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে এখনো স্তব্ধ। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন ভোর পৌনে ৫টার দিকে ছেলে চাবি ফেলে যাওয়ায় তিনি নিজে গিয়ে দরজা খুলে দেন এবং ছেলের জন্য দোতলায় অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু অনেকক্ষণ পরও ছেলে ওপরে না আসায় তিনি বাইরে উঁকি দিয়ে দেখেন জেরেমি প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছে। তিনি দ্রুত নিচে নেমে দেখেন, জেরেমির ছোটবেলার বন্ধু ওয়েলফি তাকে পেছন থেকে বুকে পরপর দুটি গুলি করে।   রক্তাক্ত ছেলেকে বাঁচাতে মা আকুতি করে বলছিলেন, "দয়া করে আমার ছেলেকে মেরো না!" কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। দ্রুত জেরেমিকে জ্যাকোবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর সে মারা যায়। ক্ষোভে ও শোকে পাথর হয়ে যাওয়া মা ইয়োকাস্টা প্রশ্ন রাখেন, "যে ছেলেটার সাথে তুমি বড় হয়েছো, তাকে এভাবে কেন মারলে? কিসের এত ঈর্ষা ও ঘৃণা ছিল?"   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। অভিযুক্ত তোরিবিও গত ২৮ মার্চ, ২০২৫ তারিখে একটি জিপিএস ট্র্যাকার চালু করে, যা কয়েকদিন পর এস্পিনাল গোপনে জেরেমির গাড়ির নিচে লাগিয়ে দেয়। এই ট্র্যাকারের সাহায্যেই তারা জেরেমিকে আপার ম্যানহাটনের একটি নাইটক্লাবে অনুসরণ করে এবং সেখানে তাকে হীরা খচিত গহনা পরা অবস্থায় দেখতে পায়।   ১২ এপ্রিল তারা জেরেমিকে অনুসরণ করে মিডটাউনের একটি রেস্তোরাঁয় যায় এবং পরে থ্রগস নেক এলাকায় জেরেমির বাড়ির আশপাশে রেকি করে। সেদিন রাতে জেরেমি বাড়ি ফেরার আগেই তারা গাড়ি পরিবর্তন করে ও চুরি করা লাইসেন্স প্লেট লাগিয়ে ওই এলাকায় ওত পেতে ছিল। জেরেমি আসামাত্রই তারা তাকে ধাওয়া করে গুলি চালায় এবং তার কাছে থাকা লুই ভিটন ব্র্যান্ডের একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ব্যাগটিতে জেরেমির শখের হীরার ঘড়ি এবং কার্টিয়ার ব্র্যান্ডের একটি ব্রেসলেট ছিল।   তবে খুনিরা জেরেমির গাড়ির নিচ থেকে জিপিএস ট্র্যাকারটি সরাতে ভুলে যায়। আর এই ট্র্যাকারের সূত্র ধরেই পুলিশ খুনিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়, কারণ ডিভাইসটি তোরিবিওর নিজের নামে ও ইমেইলে নিবন্ধিত ছিল।   জেরেমির বোন ব্রায়ান্না ওর্তেগা জানান, অভিযুক্ত এস্পিনাল তার ভাইয়ের হাইস্কুল জীবনের বন্ধু ছিল এবং প্রায়ই তাদের বাড়িতে আসত। তারা একসাথে বাস্কেটবল খেলত এবং ঘুরে বেড়াত। জেরেমির পরিবার ধারণা করছে, একটি রিসাইক্লিং কোম্পানিতে সুপারভাইজার পদে কর্মরত জেরেমির প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও চরম ঈর্ষা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা। এর আগেও এস্পিনালের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।   অন্যদিকে, সিঙ্গেল মাদারের সংসারে বেড়ে ওঠা জেরেমি তার ছোট ভাইবোনদের কাছে একজন বাবার মতোই ছিলেন। ২০১৯ সালে জেমস মনরো হাইস্কুল থেকে পাস করা জেরেমির কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না।   এর আগে একবার বন্দুকের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ায় সে সবসময় সতর্ক হয়ে চলত। জেরেমির ভাই জেইডেন জানান, তার ভাইয়ের মৃত্যুতে তাদের বাড়িটি এখন পুরোপুরি শূন্য হয়ে পড়েছে। সব সময় হাসি-খুশি ও প্রাণবন্ত জেরেমিকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন চরম শোক ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৯:২৫
মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-৭ থেকে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী সীমা আহমেদ।
মিশিগানের স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সীমা আহমেদ

মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-৭ থেকে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কমিউনিটি নেত্রী সীমা আহমেদ। আগামী ৪ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য প্রাইমারি নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করেছেন এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।   নির্বাচনী প্রচারণায় সীমা আহমেদ স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার প্রচারসামগ্রীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিস্ট্রিক্ট-৭ এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি। এর মধ্যে রয়েছে নিজস্ব বাড়ির মালিকানার নিম্নহার, শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব, তুলনামূলক উচ্চ অপরাধ প্রবণতা এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার সীমাবদ্ধতা।   প্রচারণা তথ্য অনুযায়ী, ডিস্ট্রিক্ট-৭ এলাকায় নিজস্ব বাড়ির মালিকানার হার প্রায় ৩৯ শতাংশ। একই সঙ্গে এলাকাটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাসিন্দা সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণও স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে উঠে এসেছে।   এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সীমা আহমেদ একাধিক নীতিগত উদ্যোগের কথা বলেছেন। তার প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচি চালু করা। পাশাপাশি সমাজে পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক আবাসন কর্মসূচির বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।   সীমা আহমেদ মনে করেন, স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর নীতিনির্ধারণ এবং কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেছেন, এলাকার মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলোকে আইনসভায় তুলে ধরে কার্যকর সমাধানের জন্য কাজ করতে চান তিনি।   মিশিগানের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমা আহমেদের প্রার্থিতা শুধু একটি নির্বাচনী লড়াই নয়, বরং মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয় এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণেরও প্রতিফলন।   আগামী বছরের প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ডিস্ট্রিক্ট-৭ এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সীমা আহমেদের প্রচারণা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, তা এখনই আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে তার প্রচারণার মূল বার্তা একটিই—স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক ইস্যুতে কার্যকর পরিবর্তন এনে কমিউনিটির কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করা।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৮:৪৭
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ায় বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্তে নিহত প্রথম পাইলটের পরিচয় প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এডওয়ার্ডস বিমান ঘাঁটিতে ভয়াবহ বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত প্রথম ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি হলেন মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যন্ত দক্ষ ও পদকপ্রাপ্ত টেস্ট পাইলট লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইলস মিডলটন।   গত সোমবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে উড্ডয়নের পরপরই বোমারু বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং এতে থাকা আটজন আরোহীর সবাই প্রাণ হারান। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় স্বামী মাইলসকে হারিয়ে তাঁর স্ত্রী প্যাম এবং দুই সন্তান এখন চরম অনিশ্চয়তা ও শোকের মুখে পড়েছেন। পারিবারিক এক বন্ধু জানিয়েছেন, অভাবনীয় এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা প্যাম ও তাঁর ছোট দুই সন্তানের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিডলটন ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওই ঘাঁটির ৪১৯তম ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই স্কোয়াড্রনটি মূলত সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানগুলোর পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের কাজ অত্যন্ত সফলতার সাথে তদারকি করে থাকে।   স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে প্যাম এখন একাই পুরো পরিবারের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ওই তহবিলে ৪৫ হাজার ডলার লক্ষ্যের বিপরীতে ২৫ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ জমা পড়েছে।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, সংগৃহীত এই অর্থ মিডলটন পরিবারের তাৎক্ষণিক ও দৈনন্দিন খরচ মেটানোর পাশাপাশি তাঁর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কলেজে পড়ার ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করবে।   ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম বোয়িং নির্মিত বি-৫২ বোমারু বিমানটি একটি রুটিন পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে অবস্থিত এডওয়ার্ডস ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। আকাশে ওঠার প্রায় সাথে সাথেই এটি মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড বিস্ফোরণে চারদিক কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়।   সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কারো বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। বিমান ঘাঁটির কর্নেল জেমস হেইস সাংবাদিকদের জানান, নিহত আটজনের মধ্যে সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক সরকারি কর্মচারী এবং ঠিকাদাররা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে এর মূল কারণ জানতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।   এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং মার্কিন প্রতিনিধি জে ওবারনোল্টে গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবার ও উদ্ধারকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৮:৪৬
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ক্যালিফোর্নিয়ায় উড্ডয়নের পরই বিধ্বস্ত বি-৫২ বোমারু বিমান, নিহত ৮

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটিতে নিয়মিত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভূপাতিত হয়ে আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছে বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষ।   সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনে অংশ নিয়েছিল।   এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির ৪১২তম টেস্ট উইংয়ের উপকমান্ডার কর্নেল জেমস হেইস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুর্ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এটি ছিল এমন একটি দুর্ঘটনা যেখানে বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ ছিল না।   তিনি বলেন, “আমরা আটজন মহান আমেরিকানকে হারিয়েছি। এটি একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি।” কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সামরিক সদস্য, সরকারি বেসামরিক কর্মী এবং সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ছিলেন। নিহতদের পরিচয় তাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর প্রকাশ করা হবে।   বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তাদের দুইজন কর্মীও রয়েছেন।   প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করছি যে বিমানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বোয়িংয়ের দুইজন কর্মী ছিলেন। আমরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছি।”   দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।   বিমানটি কেন বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। বিমান বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই তদন্ত শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।   দুর্ঘটনার পর এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘাঁটিতে আসা সব বিমান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মঙ্গলবারের জন্য ঘাঁটির সব ধরনের উড্ডয়ন কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।   এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক বিমানঘাঁটি। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী ও নাসা নতুন এবং উন্নয়নাধীন বিভিন্ন ধরনের বিমানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিচালনা করে।   বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান। ১৯৫০-এর দশকে প্রথমবারের মতো এটি বহরে যুক্ত হয় এবং বর্তমানে দেশটির আকাশ শক্তির অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।   বোয়িং নির্মিত এই বিমানটি দীর্ঘ দূরত্বে প্রচলিত ও পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামরিক অভিযানে বি-৫২ ব্যবহৃত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৮:২৯
ছবিঃ কপ অব দ্য মান্থ বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ
বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ পেলেন মর্যাদাপূর্ণ ‘মাসসেরা পুলিশ’ সম্মাননা

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মদক্ষতা ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘কপ অব দ্য মান্থ’ (মাসসেরা পুলিশ কর্মকর্তা) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ। জুন ২০২৬ মাসের জন্য তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।   বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বিএপিএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য জানায়। সংগঠনটি জানায়, সাব্বির আহমেদ নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ট্রানজিট ডিস্ট্রিক্ট-৩০ (টিডি-৩০)-এ দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কমিউনিটির একজন গর্বিত সদস্য।   বিএপিএর পক্ষ থেকে প্রকাশিত অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, সম্প্রদায়ের প্রতি তার নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড তাকে এই স্বীকৃতির জন্য যোগ্য করে তুলেছে। সংগঠনটি তার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তার অবদানকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তাদের মধ্যে সাব্বির আহমেদের এই অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কমিউনিটির সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার পেশাগত জীবনের আরও সাফল্য কামনা করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটি ও মূলধারার সমাজের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে কমিউনিটি নেতারা মনে করেন।   বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের মতে, সাব্বির আহমেদের এ স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশি-আমেরিকানদের পেশাগত উৎকর্ষতা, নিষ্ঠা এবং জনসেবার প্রতি অঙ্গীকারেরও একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৮:১৮
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
২০২৬ সালের বিশ্বসেরা এয়ারলাইন্স তালিকায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইন্স

বিশ্বজুড়ে বিমানযাত্রীদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের 'এয়ারলাইন প্যাসেঞ্জার এক্সপেরিয়েন্স অ্যাসোসিয়েশন' (APEX) পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের বৈশ্বিক তালিকায় গ্রাহকসেবায় অসাধারণ অবদানের জন্য শীর্ষস্থান অর্জনকারী বিমান সংস্থাগুলোকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার বিমান সংস্থাগুলোর জন্য এবারের ফলাফল বেশ হতাশাজনক।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বিমান সংস্থা হিসেবে বিশ্বসেরা এয়ারলাইন্সের এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় নিজের জায়গা করে নিতে পেরেছে ডেল্টা এয়ারলাইন্স। মূলত ১,২০০টি উড়োজাহাজে বিনামূল্যে উন্নত ওয়াই-ফাই সেবা দেওয়ার অনন্য নজির গড়ে বৈশ্বিক ক্যাটাগরিতে ‘সেরা ওয়াই-ফাই’-এর পুরস্কার জিতেছে প্রতিষ্ঠানটি। একইসঙ্গে বিশ্বের মাত্র ৪০টি বিমান সংস্থার ভাগ্যলিপি হিসেবে খ্যাত 'এপেক্স ফাইভ স্টার গ্লোবাল এয়ারলাইন' পুরস্কারও নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে ডেল্টা।   বিশ্বসেরা বিমান সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় অন্যান্য প্রধান ক্যাটাগরির মধ্যে সেরা কেবিন সার্ভিসের পুরস্কার জিতেছে কোরিয়ান এয়ার। ইন-ফ্লাইট বিনোদনের জন্য সেরা নির্বাচিত হয়েছে এমিরেটস এবং সেরা খাবার ও পানীয় ক্যাটাগরিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কাতার এয়ারওয়েজ। এছাড়া যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক আসনের স্বীকৃতি পেয়ে বিশ্বসেরা নির্বাচিত হয়েছে ইভা এয়ার। এদিকে উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পুরস্কারে এবার এক ঐতিহাসিক নজির গড়েছে মেক্সিকোর এরোমেক্সিকো।   যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো বিমান সংস্থা হিসেবে প্রথমবারের মতো তারা এই অঞ্চলের সামগ্রিক সেরা গ্লোবাল এয়ারলাইন্সের খেতাব লুফে নিয়েছে। এই অঞ্চলে সেরা মেজর এয়ারলাইন্স হিসেবে ব্রিজ এয়ারওয়েজ, সেরা লো-কস্ট ক্যারিয়ার হিসেবে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এবং সেরা আঞ্চলিক বিমান সংস্থা হিসেবে জেএসএক্স (JSX) পুরস্কৃত হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকায় সেরা খাবার ও আরামদায়ক আসনের ডাবল পুরস্কার জিতেছে জেটব্লু এয়ারওয়েজ।   বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০০টি বিমান সংস্থার ১০ লক্ষাধিক ফ্লাইটের ওপর নজর রেখে 'ট্রিপইট' (TripIt) অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীদের দেওয়া বেনামী রেটিং ও মতামত বিশ্লেষণ করে এই নিরপেক্ষ পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এপেক্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. জো লিডার জানান, যাত্রীদের প্রতিক্রিয়াই হলো বিমান সংস্থাগুলোর সেবার মান বোঝার সবচেয়ে স্পষ্ট নির্দেশক।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে জেট ফুয়েলের ঘাটতি, ফ্লাইট বাতিল এবং বাড়তি লাগেজ ফির মতো নানা বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত বছরের তুলনায় উত্তর আমেরিকায় বিমানযাত্রীদের সার্বিক সন্তুষ্টির হার ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের প্রিমিয়াম ইকোনমি বা 'ডেল্টা কমফোর্ট' শ্রেণির যাত্রীরা অতিরিক্ত লেগরুম, ডেডিকেটেড লাগেজ স্পেস এবং উন্নত খাবার ও পানীয়ের সুবিধার কারণে বিমান সেবায় সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৮:২
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হোয়াইট হাউস–সংলগ্ন ইউএফসি ইভেন্টে ড্রোন হামলার পরিকল্পনায় এফবিআইয়ের অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিতব্য একটি ইউএফসি ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরক-ভর্তি ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।   মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পরিকল্পনাটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল, যেখানে প্রথমে ড্রোন ব্যবহার করে বিস্ফোরক হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর ভিড়কে নির্দিষ্ট একটি এলাকায় ঠেলে নিয়ে সেখানে স্নাইপার দলের মাধ্যমে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথাও পরিকল্পনায় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে হামলাকারীদের একটি দল হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে—এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   এফবিআই জানায়, ১০ জুন তারা এই পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পায় এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে।  পরে সিনসিনাটিতে একটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়, যেখানে প্রথম গ্রেপ্তারটি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে আরও সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।   তদন্তে আরও জানা গেছে, কিছু সন্দেহভাজন ১২ বা ১৩ জুন ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিক্সবার্গ এলাকায় গিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। একজন সন্দেহভাজনের আইফোন বিশ্লেষণ করে অন্তত ২৩ জন ব্যবহারকারীর সঙ্গে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ সিগনালে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যেখানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।   একজন সন্দেহভাজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল “পুঁজিবাদী এলিট”, “ধনকুবের” এবং এমন রাজনীতিবিদরা যারা আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (AIPAC) অর্থায়ন পান—এমনটাই জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।   এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে। তিনি এটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর “কার্যকর ও নিয়মিত কাজের অংশ” বলেও উল্লেখ করেন।   ঘটনার সময় আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল ইউএফসি ইভেন্টে প্রায় ৪,৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ১,২০০ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনের সঙ্গেও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এফবিআই জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৬:২৪
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
লাখো আমেরিকান চিকিৎসা নিতে পারে না, অথচ কেউ ট্রিলিয়নিয়ার’—ওয়ারেনের সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্য ও স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ ব্যয় নিয়ে আবারও সরব হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যে একজন ব্যক্তি ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারেন, অথচ লাখো আমেরিকান চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার খরচও বহন করতে পারেন না।   ম্যাসাচুসেটসের এই সিনেটর বলেন, দেশের সম্পদ ক্রমশ অল্প কয়েকজন ধনীর হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ব্যয়, বাসস্থান, শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, বর্তমান ব্যবস্থায় সম্পদ ধনীদের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, আর মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।   এই প্রেক্ষাপটে ওয়ারেন আবারও তাঁর বহুল আলোচিত ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ বা সম্পদ করের প্রস্তাব সামনে আনেন। তিনি মনে করেন, অতিধনীদের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারবে, যা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।   অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে ওয়ারেনের অবস্থান নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, আয়ের পাশাপাশি বিপুল সম্পদের ওপরও কর আরোপ করা হলে অর্থনৈতিক ভারসাম্য কিছুটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।   তবে এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদ রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, সম্পদ কর বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক উদ্যোগকে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং এর বাস্তবায়নও জটিল হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ধনী-গরিব বৈষম্য কমাতে এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করতে এমন পদক্ষেপ প্রয়োজন।   ওয়ারেনের সাম্প্রতিক মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, আয় বৈষম্য এবং ধনীদের কর কাঠামো নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর প্রস্তাবিত সমাধানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ওয়ারেনের অবস্থান স্পষ্ট—তাঁর মতে, এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে কেবল অল্প কয়েকজন নয়, বরং সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সহজে পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৫:৫
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সমুদ্র সৈকতে ঘুমন্ত অবস্থায় ঢেউয়ের টানে দুই ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা ক্রুজ কাউন্টির একটি বিপজ্জনক সৈকতে শক্তিশালী ঢেউয়ের টানে ভেসে গিয়ে দুই বান্ধবীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন হর্ষিতা নায়ার (২১) এবং মাহিয়াল স্রান (২০)। তারা দুজনেই ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেমন্টের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় শেরিফ-করোনার কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, বনি দুন বিচে (Bonny Doon Beach) এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।   নিহতদের মধ্যে হর্ষিতা নায়ার ইউসি বার্কলে-তে আইনি শিক্ষা (Legal Studies) বিষয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং মাহিয়াল স্রান সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক হেলথ বা জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পড়তেন। ২০২৭ সালে তাদের উভয়েরই স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার কথা ছিল।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দুই বান্ধবী সৈকতের একটি বিশেষ পাথুরে প্রবেশপথ বা ‘কিহোল’ এলাকার কাছে ঘুমাচ্ছিলেন। ওই সময় ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে আছড়ে পড়া একটি বিশাল ও আকস্মিক ঢেউ তাদের টেনে গভীর সমুদ্রে নিয়ে যায়। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল দিলে সান্তা ক্রুজ কাউন্টির একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে।   সেচ্ছাসেবী ফায়ার ক্যাপ্টেন কাইল ব্রেটন জানিয়েছেন, অত্যন্ত প্রতিকূল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় আটজন দক্ষ উদ্ধারকারী সাঁতারু পানিতে নেমে তাদের উদ্ধার করেন। এই সৈকতটি মূলত খাড়া ঢাল, তীব্র স্রোত এবং আচমকা ধেয়ে আসা বিশালাকার ‘রোগ ওয়েভ’ বা আকস্মিক ঢেউয়ের কারণে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত।   উদ্ধারের পর হর্ষিতাকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত মাহিয়ালকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে হর্ষিতার বাবা অশোক নায়ার বলেন, "আমি এখনো স্তব্ধ।   ঠিক কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে আমার কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।" পড়াশোনার পাশাপাশি হর্ষিতা ইউসি বার্কলে স্টুডেন্ট ইউনিয়নের একজন ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করতেন এবং মাহিয়াল কলেজে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক একটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও একটি নামী আউটলেটে খণ্ডকালীন ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা একটি শক্তিশালী দূরবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় ঢেউয়ের কারণে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে এমন উত্তাল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বনি দুন বিচ ও ইয়েলো ব্যাংক বিচের মধ্যকার মাত্র এক মাইলের এই উপকূলীয় এলাকায় গত এক মাসে এটি ছিল পঞ্চম উদ্ধার অভিযান।   জোয়ারের কারণে অনেক সময় পর্যটকরা এই এলাকায় আটকা পড়েন এবং আকস্মিক ঢেউয়ের কবলে পড়েন। এই ঘটনার ঠিক একদিন আগে লগুনা বিচের কাছে শক্তিশালী ঢেউয়ের টানে ভেসে গিয়ে আমাদা মিয়া ব্রাউন নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুরও করুণ মৃত্যু হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সান্তা ক্রুজ কাউন্টির শেরিফ কার্যালয় সমুদ্র সৈকতে যাতায়াতকারীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৫:৪
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হোয়াইট হাউসে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা ব্যর্থ, এফবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার একাধিক সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আয়োজিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টে বড় ধরনের হামলার এক ভয়াবহ ছক বানচাল করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। এই নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অন্তত ১২ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ‘অ্যাকসিলারেশনিস্ট’ বা চরমপন্থি মতাদর্শে বিশ্বাসী এই চক্রটির মূল লক্ষ্য ছিল আমেরিকায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটানো। ড্রোন ও স্নাইপার দিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হোয়াইট হাউসে একটি নারকীয় পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করেছিল তারা।   অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ‘সিগন্যাল’ অ্যাপের মাধ্যমে এই হামলার পরিকল্পনা চলছিল। তবে এফবিআইয়ের তৎপরতায় এবং এক সন্দেহভাজনের মায়ের সতর্কতায় ভেস্তে যায় পুরো ব্লুপ্রিন্ট। গত ১০ জুন ওহাইও থেকে টাইসেন প্রপার নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়, মূলত যার মায়ের সন্দেহ থেকেই এই তদন্তের সূত্রপাত ঘটে। ছেলের অতিরিক্ত আগ্নেয়াস্ত্র কেনা এবং অনলাইনে সন্দেহভাজন কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তিনি স্থানীয় পুলিশকে জানান। প্রপারের মা জানান, অনলাইনে কিছু কথিত সাবেক সেনা সদস্য ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে তার ছেলের যোগাযোগ ছিল। এই গোষ্ঠীটি মূলত সরকারি দুর্নীতি, জেফরি এপস্টেইন ইস্যু এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল।   তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির এই হামলার ছকটি ছিল কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হতো। এর ফলে ইভেন্টে আসা দর্শনার্থীরা ভয়ে হোয়াইট হাউসের আঙিনার বাইরে পালাতে বাধ্য হতেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা স্নাইপার দল তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাত। ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিকসবার্গে জড়ো হয়ে সেখান থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কথা ছিল তাদের। এমনকি হোয়াইট হাউসের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পরিকল্পনাও ছিল এই চরমপন্থি দলটির।   এই চক্রের হিটলিস্টে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শীর্ষ রাজনীতিবিদের নামও ছিল। বিশেষ করে ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপ ‘আইপ্যাক’ (AIPAC)-এর কাছ থেকে অনুদান নেওয়ার কারণে তারা বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর ও প্রতিনিধিকে টার্গেট করেছিল। এদের মধ্যে সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন, জিম জাস্টিস, শেলি মুর ক্যাপিটো এবং প্রতিনিধি ক্যারল মিলার ও রাইলি মুরের নাম উল্লেখযোগ্য। গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ প্রপারের ঘর তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ গুলি, আগ্নেয়াস্ত্র ও ট্যাকটিক্যাল পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা যায়, হাইস্কুল পাসের পর উপহার হিসেবে পাওয়া তিন হাজার ডলার দিয়ে সে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছিল। এছাড়া অনলাইনে হিটলারের প্রতি সহানুভূতি ও ইহুদিবিদ্বেষী বিভিন্ন মন্তব্যও করেছিল সে। ১১ জুনের জিজ্ঞাসাবাদে প্রপার স্বীকার করে যে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘বিপ্লব’ শুরু করার লক্ষ্যেই তারা এই সংঘবদ্ধ হামলার ছক কষেছিল।   এই ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মাইকেল অ্যালান থমাস ও ব্রায়ান ওমা রোয়া, নেব্রাস্কা থেকে আব্রাহাম হারমোসিলো আলভারেজ এবং মিসৌরি থেকে ড্যানিয়েল এসক্রিজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ২৩ সদস্যের এই উগ্রপন্থি গ্রুপটির অনেকেই প্রথমে টিকটকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে যুক্ত হয় এবং পরে সিগন্যাল অ্যাপে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত। এই চরমপন্থি দলটি মূলত ‘অ্যাকসিলারেশনিস্ট’ মতাদর্শ ধারণ করত, যে মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গত মাসে সান দিয়েগোর মসজিদেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় সামনে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:২৪
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ৫৮ মিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি, সাজা শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পরিচালিত বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলায় এক অভিবাসী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, তিনি এবং তার সহযোগীরা মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে ৫৮ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থের প্রতারণামূলক দাবি জমা দিয়েছিলেন।   মামলার তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থ ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে প্রেসক্রিপশন গ্রহণে রাজি করাতেন। পরে সেই প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিগুলোর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের 340B Drug Pricing Program-এর সুযোগ কাজে লাগিয়ে।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই প্রতারণা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে সাউথ ফ্লোরিডায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি, একটি বেন্টলি, একাধিক মার্সিডিজ গাড়ি এবং বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ সম্পত্তি কিনেছিলেন। তদন্তের সময় এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত খতিয়ে দেখে জালিয়াতির প্রমাণ সংগ্রহ করে।   দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ফেডারেল আদালত তাকে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) করা হবে।   এই মামলাটি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা প্রতিরোধ এবং 340B কর্মসূচির তদারকি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, নিম্ন আয়ের রোগীদের সহায়তার জন্য চালু করা এই কর্মসূচির কিছু দুর্বলতা অসাধু চক্রগুলো কাজে লাগাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে নিয়ম-কানুন আরও কঠোর করার দাবি উঠেছে।   কোর্ট ডকুমেন্ট থেকে জানা গেছে, ওই অভিবাসীর নাম জিন জেথ্রো আলেকজান্দ্রে এবং তিনি হাইতির নাগরিক।   ফেডারেল কর্মকর্তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি ডলারের ক্ষতির কারণ হয়। ফ্লোরিডার এই মামলাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে চায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১২:৪৬
ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে কুস্তি খেলায় ড্রোন ও বন্দুক হামলার বড় ষড়যন্ত্র বানচাল

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে গত উইকেন্ডে অনুষ্ঠিত একটি হাই-প্রোফাইল ইউএফসি (UFC) খাঁচা-কুস্তি (কেজ-ফাইটিং) ম্যাচকে লক্ষ্য করে তৈরি করা এক ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদালতের সিলমোহর মুক্ত করা নথিপত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ একদল ষড়যন্ত্রকারী বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ওড়ানো এবং বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ছক কষেছিল।   আদালতের নথি অনুযায়ী, এফবিআই এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত প্রায় ২০ জন সদস্যের একটি এনক্রিপ্টেড টেক্সট মেসেজ গ্রুপের চ্যাটিং উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সেখানে তারা হামলার এলাকার বিস্তারিত মানচিত্র শেয়ার করেছিল এবং হামলার পর লুকিয়ে থাকার জন্য একটি 'সেফ হাউস' ও পালানোর পথ নিয়ে আলোচনা করছিল। তবে গত সপ্তাহে সফলভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কতটা কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছিল তা আদালতের রেকর্ড থেকে এখনো স্পষ্ট জানা যায়নি।   গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে (দক্ষিণ চত্বর) এই মিক্সড মার্শাল আর্টস বা কুস্তি প্রতিযোগিতার আসর বসার কথা ছিল। এর ঠিক চার দিন আগে, অর্থাৎ ১০ জুন এফবিআই সম্ভাব্য এই হুমকির বিষয়টি প্রথম জানতে পারে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, "এফবিআই, আমাদের সহযোগী সংস্থা এবং বিচার বিভাগের একটি বহুমাত্রিক যৌথ তৎপরতার কারণে একাধিক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিকল্পিত হামলাটি শুরু হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।"   এই ঘটনার তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন যে, ওহাইও, মিসৌরি এবং ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ওহাইও-এর ১৯ বছর বয়সী তরুণ টাইসেন প্রোপার রয়েছেন। এফবিআই-এর হলফনামা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রোপারের মা তার ছেলের বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কেনাকাটা এবং সন্দেহজনক অনলাইন যোগাযোগ নিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।   গ্রেপ্তার হওয়া প্রোপারের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রোপার স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই হামলার পরিকল্পনায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। হলফনামা থেকে আরও জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা গত মার্চ মাস থেকে 'ভ্যানগার্ড অব দ্য ওল্ড' নামক একটি টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছিল। নথিতে বলা হয়েছে, চক্রের সদস্যরা বিশ্বাস করত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে এবং দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য এটিকে প্রথমে ধ্বংস করা প্রয়োজন। এছাড়া জেফ্রি এপস্টেইনের মতো বিতর্কিত চরিত্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যেন দেশ শাসন করতে না পারে, সেটিও ছিল তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১২:১১
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাথে চুক্তির ঘোষণা আসতেই ইসরায়েল থেকে মার্কিন জ্বালানি বিমান সরানোর প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি স্থায়ী চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট) সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত হওয়ার খবরের পরই মার্কিন প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যা মূলত দুই দেশের মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পথ তৈরি করবে।   তবে এই বিমানগুলো কি ইসরায়েলের সীমানার বাইরে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া হবে, নাকি দেশটির অভ্যন্তরীণ অন্য কোনো বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের খবরে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। অবশ্য গত রোববার ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেজেভ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বিমানগুলো ইসরায়েলি বিমানঘাঁটিতেই স্থানান্তর করা হতে পারে। রেজেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৭২টি রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন রয়েছে, যা ওই বিমানবন্দরের সাধারণ পার্কিং এলাকার প্রায় অর্ধেকটা জুড়ে অবস্থান করছে।   গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক আগ্রাসন চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর জবাবে তেহরানও পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সাথে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আগ্রাসী সামরিক অভিযানে ইরানে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।   পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ সংঘাতের পরিধি কমাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এই সফল সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষই স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান করার লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা চুক্তি ঘোষণা করে। আগামী ১৯ জুন (শুক্রবার) সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১১:১৮
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আই-২৮৫ মহাসড়কে ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও তীব্র যানজট

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গ্লেনউড রোডের কাছে ইন্টারস্টেট ২৮৫ (আই-২৮৫) মহাসড়কে মঙ্গলবার সকালে একটি বড় ট্রেইলর ট্রাকসহ চারটি গাড়ির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সকালের ব্যস্ত সময়ে ঘটা এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কটিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাতায়াতকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ডিকাব ফায়ার রেসকিউ বিভাগ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ির সব আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং সৌভাগ্যবশত কেবল কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।   ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এই সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল যে, দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতরে হয়তো কেউ আটকে পড়েছেন। তবে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত করে যে, সব আরোহী অক্ষত ও নিরাপদে আছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ট্রেইলর ট্রাকের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা। কারণ দুর্ঘটনার পরপরই ওই ট্রেইলরে ঠিক কী ধরনের মালামাল ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি এবং ওই এলাকায় পানির সরবরাহও ছিল সীমিত।   আগুন পুরোপুরি নেভাতে ফায়ার ফাইটারদের অন্য এলাকা থেকে গাড়িতে করে পানি এনে কাজ চালাতে হয়েছিল। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানের পর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে, ট্রেইলর ট্রাকটিতে মূলত প্রচুর পরিমাণে কাগজের কার্টন বা কার্ডবোর্ড বক্স বহন করা হচ্ছিল। আর এ কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তা নেভাতে বেগ পেতে হয়েছিল।   আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যান। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেইলরের ভেতরে আর কোনো সুপ্ত আগুন বা 'হট স্পট' যেন লুকিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে তারা 'ওভারহল' বা পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। আগুন যেন কোনোভাবেই পুনরায় জ্বলে উঠতে না পারে, সেজন্য ট্রেইলরে থাকা সমস্ত মালামাল আনলোড বা খালাস করে ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়।   এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে আই-২৮৫ মহাসড়কের সমস্ত সাউথবাউন্ড বা দক্ষিণমুখী লেন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো রাস্তা জুড়ে অবস্থান নেওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে ওই রুটের সকালের নিয়মিত যাত্রীরা দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকতে বাধ্য হন।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ চালকদের ওই এলাকা এড়িয়ে চলার এবং বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। বিকল্প রুট হিসেবে চালকদের ইন্টারস্টেট ৭৫/৮৫ অথবা মেমোরিয়াল ড্রাইভ হয়ে ইন্টারস্টেট ২০ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ সড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১০:২৫
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বেস জাম্পিং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পপ তারকা মডোনার সহ-শিল্পী অ্যান্ডি লুইসের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি গিরিখাতে সপ্তাহান্তে এক ভয়াবহ বেস জাম্পিং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন প্রখ্যাত দুঃসাহসী অ্যাথলেট অ্যান্ডি লুইস, যিনি ২০১২ সালের সুপার বোলে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা মডোনার সাথে একই মঞ্চে পারফর্ম করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ইউটাহর গ্র্যান্ড কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের একজন অ্যান্ডি লুইস। বেস জাম্পিং হলো একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ চরম ক্রীড়া বা এক্সট্রিম স্পোর্ট, যেখানে আকাশচুম্বী ভবন, সেতু বা গভীর গিরিখাতের মতো কোনো উঁচু ও স্থির স্থান থেকে প্যারাসুট নিয়ে নিচে ঝাঁপ দেওয়া হয়।   অ্যান্ডি লুইস শুধু বেস জাম্পিংয়েই নয়, বরং 'স্ল্যাকলাইনিং' এবং 'ট্রিকলাইনিং'-এর মতো বিশেষ ধরনের খেলাধুলার জগতেও এক অত্যন্ত সুপরিচিত নাম ছিলেন। এই খেলাগুলোতে অত্যন্ত বিপজ্জনক উচ্চতায় সরু লাইনের ওপর হেঁটে ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আকাশছোঁয়া শারীরিক কসরত বা অ্যাক্রোবেটিক্স প্রদর্শন করতে হয়। লুইস ২০১২ সালের সুপার বোল হাফ-টাইম শোতে মডোনার সাথে পারফর্ম করার পর রাতারাতি বিশ্বব্যাপী তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। রোমান টোগা পোশাক পরিহিত লুইস সে সময় মাত্র এক ইঞ্চি চওড়া একটি লাইনের ওপর ট্র্যাম্পোলিনের মতো লাফিয়ে নানা কসরত দেখিয়েছিলেন, যার ঠিক পেছনেই গান গাইছিলেন মডোনা।   এই ঘটনার পর জনপ্রিয় মার্কিন লেট-নাইট টক শো 'কোনান ও'ব্রায়েন'-এ অংশ নিয়ে লুইস রসিকতা করে বলেছিলেন যে, সেই সময়ে তার ফোনটি টানা তিন দিন ধরে অনবরত কল আসার কারণে এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছিল। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ইউটাহ-কলোরাডো সীমান্তের কাছে অবস্থিত মিনারেল বটম নামক একটি প্রত্যন্ত মরুভূমি এলাকায় বেস জাম্পিংয়ের সময় কিছু মানুষ আহত হওয়ার খবর পেয়ে গত রবিবার জরুরি উদ্ধারকারী দল সেখানে ছুটে যায়। তবে লুইস এবং তার সাথে থাকা অপর এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।   লুইস 'বেস জাম্প মোয়াব' নামের একটি নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা মূলত অনভিজ্ঞ গ্রাহকদের অভিজ্ঞ গাইডের সাথে যৌথ বা ট্যান্ডেম জাম্পের মাধ্যমে এই রোমাঞ্চকর খেলার অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ করে দিত। তবে লুইস সব সময়ই এই খেলার সহজাত ও চরম বিপদ সম্পর্কে সচেতন এবং অকপট ছিলেন। গত বছর প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রে পরিচালক এলা ওয়ার্নিকের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুইস বলেছিলেন, "এই খেলায় কত মানুষ যে মারা গেছে তা ভাবলে অদ্ভুত লাগে, কারণ এটি এখানে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।"   লুইস ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা চারবার প্রতিযোগিতামূলক স্ল্যাকলাইনিংয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। ২০১১ সালে চীনের ডিয়াওশুইলৌ জলপ্রপাতের ওপর নিজের ভারসাম্য বজায় রেখে সার্ফিংয়ের মতো পা দুলিয়ে স্ল্যাকলাইন সার্ফিং করার মাধ্যমে তিনি একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও গড়েছিলেন। এরপর ২০১৪ সালে নেভাদা মরুভূমির ৪,০০০ ফুটেরও (১,২০০ মিটার) বেশি উঁচুতে আকাশে ভাসমান দুটি হট এয়ার বেলুনের মধ্যে টানানো একটি সরু লাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে তিনি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।   এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত দ্বিতীয় ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন তার স্বজনরা। তিনি হলেন অ্যারিজোনার ৬৮ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ড্যানি জো ক্রেগল। ক্রেগলের স্বজন সিডনি ল্যাভার্টি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'মোয়াব টাইমস-ইন্ডিপেনডেন্ট'-এর কাছে পাঠানো এক ইমেইলে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, ড্যানি ছিলেন দুই কন্যার একজন নিবেদিতপ্রাণ বাবা এবং তার নাতনির কাছে এক গর্বিত নানা। প্যারাডাইস ভ্যালি এবং মেসা কমিউনিটির একজন সক্রিয় সদস্য ও সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি বক্সিং এবং বিশ্বভ্রমণের প্রতি তার এক অনন্য আবেগ ও ভালোবাসা ছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১০:৪
ছবি: সংগৃহীত
৬০ বিলিয়ন ডলারে এআই কোডিং সফটওয়্যার কিনে নিল ইলন মাস্কের স্পেসএক্স

বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয় এআই কোডিং সফটওয়্যার কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ারকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে করপোরেট এআই প্রযুক্তির বাজারে স্পেসএক্সের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।   কয়েক দিন আগেই ইলন মাস্কের এই রকেট ও এআই কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। নাসডাক শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়। এই ব্লকবাস্টার আইপিও অভিষেকের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কারসর সফটওয়্যারটি কিনে নেওয়ার বড় চুক্তিটি সম্পন্ন করল স্পেসএক্স। মূলত গত এপ্রিল মাস থেকেই কোম্পানিটি কারসরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে আসছিল।   স্পেসএক্স মূলত তাদের নিজস্ব এআই প্রযুক্তি এক্সএআই এবং এর চ্যাটবট গ্রককে আরও উন্নত করতে কারসরের এই কোডিং সক্ষমতাকে কাজে লাগাবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক্সএআই-এর সাথে স্পেসএক্সের একীভূতকরণ হলেও এআই কোডিংয়ের বাজারে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। ৬০ বিলিয়ন ডলারের এই নতুন চুক্তিটি কারসরকে আরও বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং বা ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা সরবরাহ করবে।   এই ঐতিহাসিক চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাক-বাজার লেনদেনেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির বাজার মূলধনের সাথে আরও প্রায় ২৪৭ বিলিয়ন ডলার যোগ হতে যাচ্ছে, যার ফলে এর মোট বাজার মূল্য দাঁড়াবে ২.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বর্তমানে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার ২১১.২৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে, যা আইপিও চালুর মূল দাম ১৩৫ ডলারের চেয়ে প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি। এই ধারা বজায় থাকলে স্পেসএক্স শিগগিরই আমাজনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত হবে।   ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো কারসরও সিলিকন ভ্যালির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোডিং করতে পারে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কারসর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করেছে। চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের সাথে শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি বার্ষিক প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের করপোরেট রাজস্ব আয় করছে। এর আগে কোম্পানিটি এনভিডিয়া ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিনিয়োগসহ ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে নতুন তহবিল সংগ্রহের আলোচনা করছিল।   আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে এই চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। স্পেসএক্সের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এক্স৬৭-এর সাথে কারসরের এই মার্জার বা একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে। রেগুলেটরি ফাইলিং বা প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র অনুযায়ী, কোনো বিশেষ কারণে এই চুক্তিটি বাতিল হলে স্পেসএক্স কারসরকে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে। এছাড়া সরকারি বা আইনি জটিলতার কারণে চুক্তি সফল না হলে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলার রেগুলেটরি ফি দিতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:২০
ছবি: সংগৃহীত
লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ফ্লাইটে মোবাইল ফোনে আগুন, নিরাপদে অবতরণ

লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে উড্ডয়নরত অবস্থায় একটি মুঠোফোনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ফ্লাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ২৭১-এর ক্রু সদস্যরা কেবিনে একটি সেলফোনে আগুন লাগার বিষয়টি শনাক্ত করেন। এরপর পাইলট জরুরি সতর্কতা জারি করে বিমানটি লাস ভেগাসে অবতরণ করান।   এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অডিও রেকর্ডে পাইলটকে জানাতে শোনা যায় যে মোবাইল ফোনে আগুন লাগার ঘটনায় কেবিনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে জানানো হয়।   লাস ভেগাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, পাইলট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এক মুখপাত্র জানান, ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ীই অবতরণ করে এবং বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।   ঘটনাটিতে কোন ব্র্যান্ড বা মডেলের মোবাইল ফোন জড়িত ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএ জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করবে।   বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ডিভাইস যেমন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও পাওয়ার ব্যাংক থেকে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শর্ট সার্কিট বা তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এসব ডিভাইস হঠাৎ আগুন ধরে যেতে পারে।   এফএএ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা কেবিনে সীমিত সংখ্যক লিথিয়াম ব্যাটারি বহন করতে পারেন, তবে কার্গো হোল্ডে এগুলো রাখা নিষিদ্ধ।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এয়ারলাইন্স পাওয়ার ব্যাংক ও পোর্টেবল চার্জার বহনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করেছে। এফএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিমানের ভেতরে প্রায় ১০০টি ব্যাটারিজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই ই-সিগারেট, ব্যাটারি প্যাক ও পাওয়ার ডিভাইসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:১২
ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে সবচেয়ে বেশি পুনর্বাসন পাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ শরণার্থীরা, বিতর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি

যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী পুনর্বাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নতুন সরকারি পরিসংখ্যানে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে টেক্সাসে পুনর্বাসনের জন্য অনুমোদিত ৮১৭ জন শরণার্থীর সবাই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা। জাতীয় পর্যায়ে এ বছর যেসব শরণার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ১২ শতাংশেরও বেশি টেক্সাসে পুনর্বাসিত হওয়ার কথা রয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসন ও শরণার্থী নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী গ্রহণের ধরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা কার্যত একমাত্র দেশ, যেখান থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় শরণার্থী গ্রহণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের পর সবচেয়ে বেশি শরণার্থী পুনর্বাসন পেয়েছে ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়া। তবে চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে থেকে মাত্র তিনজন শরণার্থীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যাদের আফগানিস্তান থেকে কলোরাডোতে পাঠানো হয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচির ইতিহাসে এটি একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। কারণ অতীতে বিভিন্ন অঞ্চল ও সংঘাতপ্রবণ দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ পুনর্বাসনের সুযোগ পেলেও বর্তমানে সেই বৈচিত্র্য প্রায় অনুপস্থিত।   দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ মনোযোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে নির্দেশ দেন, দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের সদস্যদের শরণার্থী আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে। আফ্রিকানাররা মূলত ডাচ, ফরাসি ও জার্মান বংশোদ্ভূত ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীদের উত্তরসূরি।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকায় এই জনগোষ্ঠী বর্ণগত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার এ অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিভাগ একাধিক বিবৃতিতে বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় কথিত “শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা” বা ব্যাপক নিপীড়নের দাবি নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়। বরং আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিও প্রকাশ্যে এই ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।   গত মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৬ অর্থবছরের শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা ৭ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫০০ জনে উন্নীত করে। এ সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় প্রশাসন দাবি করে, দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি “অপ্রত্যাশিত শরণার্থী সংকট” তৈরি হয়েছে।   অভিবাসন ও শরণার্থী আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে নির্দিষ্ট দেশ বা জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও বর্তমান প্রশাসনের পরিবর্তনগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত ও ব্যাপক।   সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির আইন অধ্যাপক নাটালি নানাসি, যিনি শরণার্থী ও আশ্রয় আইন নিয়ে গবেষণা করেন, বলেন, শরণার্থী পুনর্বাসন অনেক সময় রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে। কারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন, সেই সিদ্ধান্তেও রাজনৈতিক প্রভাব দেখা যেতে পারে।   তিনি আরও বলেন, শরণার্থীরা সাধারণত নিজেরা ঠিক করতে পারেন না কোথায় তাদের পাঠানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমোদন পাওয়ার পর সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যে পুনর্বাসন করা হয়।   টেক্সাস দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী পুনর্বাসনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তবে আগে সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষকে পুনর্বাসন দেওয়া হতো। ২০২৪ অর্থবছরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় টেক্সাস প্রায় ৯ হাজার ৮০০ শরণার্থী গ্রহণ করেছিল। তারা এসেছিলেন ৪৪টি ভিন্ন দেশ থেকে। ওই সময় ভেনেজুয়েলা, আফগানিস্তান এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ছিল শরণার্থীদের প্রধান উৎসদেশ।   তখন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কোনো শরণার্থী টেক্সাসে পুনর্বাসিত হয়নি। ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও একই চিত্র দেখা যায়। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগে টেক্সাসে ৪১টি দেশ থেকে ৩ হাজার ৮০০-এর বেশি শরণার্থী এসেছিলেন। কিন্তু প্রশাসন পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেক্সাসে মোট ৭২ জন শরণার্থী পুনর্বাসিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকার, সাতজন এল সালভাদরের এবং একজন নরওয়ের নাগরিক।   বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোট শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তা হলে এটি গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কম শরণার্থী গ্রহণের রেকর্ডগুলোর একটি হবে।   অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা গবেষকরা বলছেন, শরণার্থী কর্মসূচিতে এই পরিবর্তন শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মানবিক ও বহুজাতিক পুনর্বাসন নীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ এক মোড় নির্দেশ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ২০:৫৮
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0