মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিশ্লেষক ও বিরোধীদের একটি বড় অংশ এই চুক্তিকে ওয়াশিংটনের কাছে দিল্লির ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। চলতি মাসে ঘোষিত এই চুক্তির ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার বিশেষ করে কৃষি খাতে বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুম্বাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভারতের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠনগুলো এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, চুক্তির আওতায় সস্তা মার্কিন পণ্য অবাধে আমদানির সুযোগ পেলে ভারতের ৭০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও নয়াদিল্লি জানিয়েছে আগামী মার্চের শেষ নাগাদ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে, তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দাসের মতে, "ট্রাম্পের যুগে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়।" চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেটি কতদিন টিকবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়টি হলো— ভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার ‘ইচ্ছা’ প্রকাশ করেছে। অথচ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের বার্ষিক আমদানি মাত্র ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ’-এর অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা প্রায় ‘অবাস্তব’। এমনকি বিপুল পরিমাণ বোয়িং বিমান কিনলেও এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। আরেকটি বড় রহস্য তৈরি হয়েছে রাশিয়ার তেল আমদানিনি নিয়ে। ওয়াশিংটনের দাবি, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট হ্যাঁ বা না সূচক বক্তব্য আসেনি। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিগুলো ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার তোড়জোড় শুরু করলেও রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তিটি বর্তমানে অত্যন্ত ‘ভঙ্গুর ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত’ অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অনমনীয় মনোভাব এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত দুই দেশের অর্থনীতিতে কতটা স্থিতিশীলতা আনবে, তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন চিহ্ন রয়ে গেছে।
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় নতুন প্রাণের সঞ্চার ও মানবিক সহায়তার লক্ষ্যে এক বিশাল অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য দেশগুলো গাজা পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ প্রদানের অঙ্গীকার করেছে। আগামী বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই তহবিলের ঘোষণা দেবেন বলে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, এই তহবিলের অর্থ সরাসরি গাজার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাসিন্দাদের জরুরি মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে। এছাড়া ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ-অনুমোদিত স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তবে এই বিশাল সহায়তার পেছনে একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সুবিধা পেতে হলে হামাসকে অবশ্যই পূর্বে স্বাক্ষরিত সকল চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। বোর্ড অব পিস সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, “এটি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরিণত হতে যাচ্ছে এবং এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের।” উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোস সম্মেলনের ফাঁকে এই ‘বোর্ড অব পিস’ যাত্রা শুরু করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গঠিত এই সংস্থার নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। গাজা যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত এই বোর্ডে আর্জেন্টিনা, মিশর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মরক্কো, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কিছু দেশকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৈশ্বিক কূটনীতিতে এই সংস্থার উত্থানকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, আশ্রয়প্রার্থী ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা—এসব প্রশ্নে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আইনি ও নীতিগত আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। কঠোর নীতি বনাম মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি - যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনায় অভিবাসন একটি প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এক পক্ষ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, আইন প্রয়োগ বাড়ানো এবং অবৈধ প্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিচ্ছে। অন্য পক্ষ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সহায়তা, অস্থায়ী সুরক্ষা এবং স্থানীয় সহায়তা কাঠামো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এই দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে নীতিগত টানাপোড়েন - কিছু অঙ্গরাজ্য ফেডারেল অভিবাসন নীতির সঙ্গে সীমিত সহযোগিতা বা নিজস্ব নীতি অনুসরণের পথ বেছে নিচ্ছে, আবার অন্য কিছু রাজ্য ফেডারেল আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আদালত-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং নীতিগত ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনার পরিধি বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ - অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কতটা হওয়া উচিত—তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকার ও বৈষম্যবিরোধী নীতিমালা বজায় রাখা জরুরি। অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব - বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ইস্যু এখন কেবল সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয়; এটি ফেডারেল কাঠামো, অঙ্গরাজ্যের স্বায়ত্তশাসন, অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং মানবাধিকার—সবকিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জটিল নীতিগত বিষয়। ফলে এটি জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে অবস্থান করছে এবং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ঘিরে যে আলোচনা ও মতবিরোধ চলছে, তা একদিকে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যার প্রশ্ন, অন্যদিকে রাজনৈতিক আদর্শ ও নীতিগত অগ্রাধিকারের পার্থক্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সরকারের এই নীতিগত টানাপোড়েন আগামী সময়ে দেশটির রাজনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভিনগ্রহের প্রাণী বাস্তবে আছে। তবে তিনি নিজে কখনো এলিয়েন দেখেননি এবং নেভাদার ‘এরিয়া ৫১’–তে কোনো এলিয়েন আটক আছে এমন কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই। প্রগতিশীল পডকাস্টার ব্রায়ান টাইলার কোহেন–এর ‘নো লাই’ নামের পডকাস্টে সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, কোনো বিশাল ষড়যন্ত্র না হলে এমন তথ্য প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে গোপন রাখা সম্ভব নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “তারা বাস্তব, তবে আমি তাদের দেখিনি। এরিয়া ৫১–এ তাদের আটক রাখা হয়নি। সাক্ষাৎকারে ওবামাকে প্রশ্ন করা হয়, এলিয়েনরা কি সত্যিই আছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, তারা বাস্তব, কিন্তু আমি নিজে কখনো দেখিনি। কোনো বিশাল ষড়যন্ত্র না থাকলে, প্রেসিডেন্টের কাছে এমন তথ্য গোপন রাখা সম্ভব নয়। এছাড়া তিনি রসিকতার সুরে বলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম প্রশ্নটি আমি জানতে চেয়েছিলাম—এলিয়েনরা কোথায়? যুক্তরাষ্ট্রে এলিয়েন এবং অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের কৌতূহল রয়েছে। ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান মনে করেন, ফেডারেল সরকার ইউএফও–সংক্রান্ত প্রমাণ গোপন করছে। সাক্ষাৎকারে এলিয়েন প্রসঙ্গ তুলনামূলক হালকা মেজাজে হলেও, ওবামা সমসাময়িক রাজনীতি, অভিবাসনবিরোধী অভিযান, হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের ধরন এবং ডেমোক্র্যাটদের কার্যক্রম নিয়ে হতাশ ভোটারদের অনুভূতি নিয়েও কথা বলেন।
বিশ্ব রাজনীতির দীর্ঘদিনের মেরুকরণ বদলে দেওয়ার এক নতুন আভাস দিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে এবং তেহরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে গভীরভাবে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “আমি এমন একজন প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করছি, যিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় যেকোনো নেতার সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছুক। আমি এটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, যদি আয়াতুল্লাহ খামেনি আগামীকালই ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন, তবে প্রেসিডেন্ট তাতে সানন্দে রাজি হবেন।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, সামরিক শক্তির চেয়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বের জটিল সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রথম দফার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে দুই দেশ দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আলোচনার প্রস্তাবের সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিতেও পিছপা হচ্ছে না ওয়াশিংটন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবথেকে আধুনিক ও বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ খুব দ্রুতই ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘চাপ ও সংলাপ’ (Pressure and Dialogue) নীতি তেহরানকে নতুন কোনো চুক্তিতে বাধ্য করার একটি কৌশল হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউসের এই প্রকাশ্য আহ্বানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকার পরিবর্তন হওয়াকেই ‘সবচেয়ে ভালো উপায়’ হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর ঘোষণার মধ্যেই তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ মত প্রকাশ করেন। গত শুক্রবার নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, মনে হয়, সেটাই সবচেয়ে ভালো হবে। এই মন্তব্যকে ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করার সবচেয়ে প্রকাশ্য আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জায়গায় কাকে দেখতে চান। ট্রাম্পের এ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অঞ্চলে অবস্থান করছে। ট্রাম্প জানান, যদি কোনো চুক্তি সম্ভব না হয়, তবে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে। ইরানে গত মাসে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনের সময় বহু মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছিল। ডিসেম্বরে তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল মূল্যস্ফীতি ও রিয়ালের দরপতনের প্রেক্ষিতে। নির্বাসিত রেজা পাহলভি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আবার আন্দোলনে নামার জন্য দেশ ও বিদেশের ইরানিদের উৎসাহিত করেছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওমানে পারমাণবিক ইস্যুতে বৈঠক হয়েছে। তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই তা কার্যকর হবে। পরিকল্পনা সফল হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত আগের সব সংঘাতের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর রূপ নিতে পারে। এদিকে ওয়াশিংটনের আর্থিক নীতি ও ডলারের প্রভাবকে দায়ী করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে ইরানে মুদ্রা রিয়ালের দরপতন ঘটে, যা বিক্ষোভ উসকে দেয়। প্রতিবাদের মাত্রা এখনও কিছুটা কমলেও মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে অভিবাসীদের আটক রাখার প্রক্রিয়া নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। আদালতের পক্ষ থেকে অন্তত ৪,৪০০ বার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃক অভিবাসীদের আটক রাখাকে 'অবৈধ' ঘোষণা করা হলেও, এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি। রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। বিচারকদের মতে, প্রশাসন আইন অমান্য করে হাজার হাজার অভিবাসীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দি করে রাখছে। এমনকি আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মার্কিন জেলা জজ থমাস জনস্টন একটি মামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে সরকার আদালতকে বর্তমান আইন উপেক্ষা করতে বলছে। আইন যেভাবে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, সরকারকে তা মেনে চলতে হবে।” তিনি গত সপ্তাহে একজন ভেনেজুয়েলান বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিয়ে এই মন্তব্য করেন। আইনি বিরোধের মূল কারণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইনি লড়াইয়ের মূলে রয়েছে প্রায় তিন দশকের পুরনো একটি ফেডারেল আইনের ব্যাখ্যা। ট্রাম্প প্রশাসন সেই ব্যাখ্যা থেকে সরে এসে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। আগে নিয়ম ছিল যে, অভিবাসীরা যারা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তারা তাদের মামলার শুনানি চলাকালীন বন্ডের বিনিময়ে মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের মুক্তি না দিয়ে বন্দি করে রাখার নীতি বেছে নিয়েছে। রেকর্ড সংখ্যক বন্দি ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আইসিই (ICE) হেফাজতে থাকা অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসে এই সংখ্যা প্রায় ৬৮,০০০-এ পৌঁছেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। হোয়াইট হাউসের অবস্থান এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন জানিয়েছেন, প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে মানুষকে বন্দি রাখা মানবাধিকার এবং বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এদিকে, নিউ অরলিন্সের একটি রক্ষণশীল আপিল আদালত গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে অভিবাসীদের আটকে রাখার ক্ষমতাকে সমর্থন করেছে। সার্কিট জজ এডিথ জোনস বলেন, আগের প্রশাসনগুলো এই আইন পুরোপুরি ব্যবহার করেনি মানে এই নয় যে তাদের সেই ক্ষমতা ছিল না। আদালতের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং প্রশাসনের অনড় মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় এক চরম বিশৃঙ্খলা ও আইনি সংকট তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: রয়টার্স (১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
যুক্তরাষ্ট্রের Minneapolis শহরে গত মাসে এক ভেনেজুয়েলার নাগরিককে গুলি করার ঘটনাকে ঘিরে নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ দুই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শপথের অধীনে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা মার্কিন U.S. Immigration and Customs Enforcement (ICE)-এর সদস্য। ঘটনার পর তারা আদালতে যে বিবৃতি দেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিও প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনার পর তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, তাদের দেওয়া সাক্ষ্যে অসঙ্গতি থাকতে পারে। ঘটনাটি ঘটে গত মাসে মিনিয়াপলিসে এক অভিযানের সময়। ওই অভিযানে এক ভেনেজুয়েলার নাগরিক গুলিবিদ্ধ হন। শুরুতে ঘটনাটিকে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও, পরবর্তীতে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নতুন করে তদন্তের আওতায় আনা হয়। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে। প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN জানিয়েছে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। আমেরিকা বাংলা নিউজের সাথে থাকুন।
টেসলা প্রধান এলন মাস্ক এবং মেটা কর্ণধার মার্ক জুকারবার্গ—বিশ্বের প্রভাবশালী এই দুই ধনকুবেরের নাম এবার জড়িয়ে গেল কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের নথিতে। মার্কিন বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য: ২০১৫ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে এপস্টেইনের আয়োজিত এক ডিনার পার্টিতে নাকি আমন্ত্রিত ছিলেন এই দুই টেক জায়ান্ট। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এপস্টেইনের নিজের হাতে লেখা নোটে মাস্ক এবং জুকারবার্গের নাম পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ডিনার পার্টির একটি রহস্যময় ছবিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। যদিও সেই ছবিতে সরাসরি এপস্টেইনকে দেখা যায়নি এবং এই দুই বিলিয়নেয়ারের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি, তবুও এই যোগসূত্র জনমনে তৈরি করেছে নানা প্রশ্ন। এলন মাস্ক অবশ্য বরাবরই এপস্টেইনের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে আসছেন।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির সাক্ষ্যদান চলাকালীন কংগ্রেসের শুনানিতে এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এপস্টাইন মামলার ফাইল এবং বিচার বিভাগের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের একের পর এক প্রশ্নে শুনানিকক্ষ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংবাদের মূল পয়েন্টগুলো: ক্ষমা চাওয়ার দাবি: ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা কক্ষে উপস্থিত এপস্টাইনের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের কাছে বন্ডিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। বন্ডির কঠোর প্রতিক্রিয়া: ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধের প্রেক্ষিতে পাম বন্ডি সরাসরি বলেন, তিনি ওই ডেমোক্র্যাট নারীর সাথে "কর্দমাক্ত তর্কে (gutter with this woman)" জড়াতে চান না। তদন্ত নিয়ে বিতর্ক: এপস্টাইন ফাইলের পাশাপাশি বিচার বিভাগের আরও বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল তদন্ত নিয়ে বন্ডিকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ: পুরো শুনানিটি এখন একটি দলীয় লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। রিপাবলিকানরা বন্ডিকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা তার নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করছেন। "এটি এখন আর সাধারণ শুনানি নেই, বরং একটি রাজনৈতিক যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।" — ড্যানিয়েল বুশ, ওয়াশিংটন করেসপনডেন্ট। ওয়াশিংটনের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে পুরো বিশ্ব। পরিস্থিতির আরও আপডেট জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রভাব মোকাবিলায় এবং চীনা সমরাস্ত্রের ওপর বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে আনতে ঢাকাকে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমরা চাই বাংলাদেশ যেন প্রতিরক্ষা খাতে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল না থাকে। চীনের সাথে নির্দিষ্ট কিছু সামরিক চুক্তির ঝুঁকিগুলো স্পষ্ট করতে আমরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব কিছুটা কমে আসায় সেই শূন্যস্থান পূরণে সক্রিয় হয়ে ওঠে চীন। সম্প্রতি চীনের সহায়তায় ভারত সীমান্তের কাছে ড্রোন ফ্যাক্টরি স্থাপন এবং পাকিস্তানের সাথে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক আলোচনা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। মূলত এই প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো বাংলাদেশকে উন্নত সামরিক প্রযুক্তির বিকল্প প্রস্তাব দিচ্ছে। এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে তাদের অবস্থানে অনড়। বেইজিং জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক একটি সুদৃঢ় ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। সামরিক সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারেও আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন যে, মার্কিন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের বড় সুযোগ খুঁজছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার দেশে একটি ‘বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত’ বা বিজনেস ফ্রেন্ডলি পরিবেশ নিশ্চিত করবে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে বর্তমানে শেভরনের মতো জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সক্রিয় থাকলেও স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো মার্কিন বহুজাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কোনো আউটলেট এখনো নেই, যা ভবিষ্যতে চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
অ্যারিজোনার টাসকন থেকে নিখোঁজ ন্যান্সি গাথরির সন্ধানে এবার বড় পদক্ষেপ নিল এফবিআই। দীর্ঘ ১০ দিন পার হলেও হদিস মেলেনি এই বৃদ্ধার। অবশেষে তদন্তের স্বার্থে নিখোঁজ হওয়ার দিনের সেই ভয়ংকর সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ভিডিওতে দেখা যায়, ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে এক মুখোশধারী ব্যক্তি ন্যান্সির বাড়ির দরজায় লাগানো ক্যামেরাটি অত্যন্ত পেশাদারভাবে বিকল করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—১ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে ন্যান্সির শরীরে থাকা পেসমেকারের সাথে তার ফোনের ডিজিটাল সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি এক আত্মীয় ন্যান্সিকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যান। পরদিন গির্জার প্রার্থনায় উপস্থিত না হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ডাইরি করা হয়। এনবিসির জনপ্রিয় 'টুডে' অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সাভানা গাথরির মা নিখোঁজ হওয়ার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীর হাতে অস্ত্র ছিল এবং এই অপহরণটি অত্যন্ত পরিকল্পিত। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের মাধ্যমে তদন্তকারীরা আশা করছেন, স্থানীয় কেউ হয়তো এই রহস্যময় ব্যক্তিকে চিনতে পারবেন এবং তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলবে।
মার্কিন বিচার বিভাগের অসম্পাদিত নথিতে জেফরি এপস্টাইন মামলার এমন কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিকান থমাস ম্যাসি এবং ডেমোক্র্যাট রো খন্না জানিয়েছেন, নথিতে এমন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে যারা সরাসরি অপরাধের সাথে জড়িত থাকতে পারেন। তবে রহস্যজনকভাবে বিচার বিভাগ সেই নামগুলো কালো কালি দিয়ে ঢেকে (Redacted) রেখেছে। উভয় আইনপ্রণেতাই জানিয়েছেন, নথিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন অত্যন্ত ‘পরিচিত নেতা’ এবং অন্যজন জনসমক্ষে বেশ ‘সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব’। তাঁরা এই গোপন নথিগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তবে ‘বক্তৃতা ও বিতর্ক ধারা’র আইনি জটিলতা এবং ফৌজদারি দায়বদ্ধতার ঝুঁকি তাঁদের কিছুটা সতর্ক করে রেখেছে। এর আগে হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির ডেমোক্র্যাট জেমি রাসকিন এবং অন্যান্য আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেছিলেন যে, বিচার বিভাগ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এপস্টাইন মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করছে। এই নতুন তথ্য সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলল। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—সেই ‘পরিচিত নেতা’ আসলে কে?
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের গাড়ি অনুসরণ বা পিছু নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন এলাকায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের সময় একদল লোক নিজেদের গাড়ি নিয়ে তাঁদের পিছু নিচ্ছেন। আইসিই-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করছে না, বরং সরকারি কাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করছে। এরই মধ্যে বেকি রিংস্ট্রম নামে এক নারীকে মিনিয়াপোলিস এলাকায় তার এসইউভি গাড়ি দিয়ে ফেডারেল এজেন্টদের পিছু নেওয়ার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আইসিই কর্তৃপক্ষ এখন এই ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়াচ্ছে এবং প্রয়োজনে গ্রেপ্তারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যমতে, গত এক বছরে আইসিই এবং সীমান্ত টহল কর্মকর্তাদের ওপর গাড়ি নিয়ে হামলার ঘটনা কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রশাসনের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের গাড়ি গতিরোধ করার চেষ্টা করছেন বা বিপজ্জনকভাবে পিছু নিচ্ছেন, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। অন্যদিকে, নাগরিক অধিকার কর্মীদের দাবি, তাঁরা কোনো আইনি বাধা সৃষ্টি করছেন না। বরং আইসিই এজেন্টরা যেন কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন না করেন, তা পর্যবেক্ষণ ও ভিডিও করার জন্য তাঁরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অনুসরণ করছেন। এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার বলেও অনেকে দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযান জোরদার করার পর থেকেই সাধারণ নাগরিকদের একটি অংশ এবং বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠী আইসিই-এর কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে এজেন্টদের পিছু নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অবস্থান নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর আরোপিত শুল্ক (Tariffs) নীতির কারণে গত বছর গড়ে প্রতিটি আমেরিকান পরিবারকে প্রায় ১,০০০ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়েছে। নন-পার্টিজান গবেষণা সংস্থা ট্যাক্স ফাউন্ডেশন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, গৃহস্থালি সামগ্রী ও শিল্পপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শুল্কের বোঝা শেষ পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সাধারণ ক্রেতাদেরই বহন করতে হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারণ আয়ের তুলনায় তাদের খরচের চাপ আরও বেড়েছে। ট্যাক্স ফাউন্ডেশন সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের শুল্ক নীতি অব্যাহত থাকলে তা মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং মার্কিন পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের একসময়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল সোমবার হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির হওয়ার পর কংগ্রেসের প্রশ্নের জবাব দেননি। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী নিজের দোষ স্বীকারে বাধ্য না হওয়ার অধিকার প্রয়োগ করেছেন ম্যাক্সওয়েল। মানব পাচারে যুক্ত থাকার অভিযোগে ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্ট জবানবন্দি দিতে কমিটির সামনে উপস্থিত হলেও, তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। রিপাবলিকান কমিটি চেয়ারম্যান জেমস কোমার জানান, ম্যাক্সওয়েলের আইনজীবীরা হাউস প্যানেলকে জানিয়েছিলেন, তারা তখনই জবানবন্দি দেবেন, যদি তার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁকে ক্ষমা দেন। তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ৬৪ বছর বয়সী ম্যাক্সওয়েল ২০২১ সালে দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত প্রমাণ করেছে, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ধনী ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিচার চলাকালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মৃত্যু হয় এপস্টিনের। এছাড়াও, কংগ্রেস হাউস কমিটি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবানবন্দি নেওয়ার জন্য তলব করেছে। যদিও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকেও তলব করা হয়েছে, তাদের সরাসরি জবানবন্দি নেওয়া হয়নি।
নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র Zohran Mamdani সাম্প্রতিক এক জনসমাবেশে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ঐতিহাসিক হিজরতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অভিবাসন ও মানবিকতার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। একটি আন্তধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র মামদানি বলেন, ইসলাম একটি এমন ধর্ম যার ইতিহাস গড়ে উঠেছে অভিবাসন ও আশ্রয়ের নৈতিকতার ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামের নবী নিজেও নির্যাতনের মুখে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন—যা মানব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মেয়র মামদানি তার বক্তব্যে বলেন, “হিজরত আমাদের শেখায়—নিরাপত্তা, আশ্রয় ও সহানুভূতি মানুষের মৌলিক অধিকার। আজকের অভিবাসন সংকট বোঝার জন্য এই ইতিহাস অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।” তিনি আরও বলেন, নিউ ইয়র্ক সিটি সবসময়ই অভিবাসীদের শহর হিসেবে পরিচিত এবং এখানে ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানই এই শহরের শক্তি। বিশ্লেষকদের মতে, একজন পশ্চিমা শহরের মেয়রের পক্ষ থেকে ইসলামের ইতিহাসের এমন মানবিক দিক তুলে ধরা বহুসংস্কৃতির প্রতি সম্মান এবং অভিবাসন ইস্যুতে সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। মেয়র মামদানির এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন তাদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। এই হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজন হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সহযোগিতা ছাড়াই এককভাবে ইরানের ওপর হামলা চালাবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। ইসরায়েলের দাবি, তারা ইতিমধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছে যে ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে, তবে ইসরায়েল কালক্ষেপণ না করে একাই সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যদিও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের মূল্যায়নে ইরান এখনো সেই চূড়ান্ত সীমা পার করেনি, তবে দেশটির ভেতরে চলমান প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো ধ্বংস করার একটি সুনির্দিষ্ট ও বিশাল পরিকল্পনা পেশ করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার এটিই শ্রেষ্ঠ এবং ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’। তবে এই যুদ্ধ পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান ইসরায়েলি কমান্ডারেরা। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প হয়তো ইয়েমেনের হুতিদের মতো ইরানের ওপর একটি সীমিত বা ছোট আকারের হামলা চালিয়ে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন। এতে ইরানের মূল সামরিক শক্তি অক্ষত থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, "আমাদের ভয় হলো ট্রাম্প হয়তো হুতিদের মতো কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেই দায়িত্ব শেষ করবেন, আর যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি সামলানোর দায়ভার পুরোপুরি ইসরায়েলের ওপর ছেড়ে দেবেন।" সব মিলিয়ে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং ইসরায়েলের অনমনীয় অবস্থান বিশ্বকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিশিগানের এক সামার আর্টস ক্যাম্পে হাতে আইসক্রিম নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ১৪ বছরের সেই কিশোরীটি জানত না, তার সামনের কোটিপতি জেফ্রি এপস্টিন আসলে এক নরপিশাচ। স্কলারশিপের প্রলোভন আর আইসক্রিমের সেই মিষ্টি স্বাদই ছিল তার জীবনের নরকযাত্রার শুরু। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত ৩০ লক্ষ পাতার বিস্ফোরক নথি বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সেখানে উঠে এসেছে কীভাবে ধাপে ধাপে হাজারেরও বেশি কিশোরীকে এক বিশাল যৌন নির্যাতনের জালে আটকে ফেলেছিল এই প্রভাবশালী কোটিপতি। যেভাবে তৈরি করা হয়েছিল নির্যাতনের 'পিরামিড' এপস্টিন তার এই অন্ধকার সাম্রাজ্য চালিয়েছিল ব্যবসার ‘পিরামিড স্কিম’ মডেলে। ম্যাসাজের নাম করে মেয়েদের ডাকা হতো এবং বিনিময়ে দেওয়া হতো ৩০০ ডলার। কিন্তু শর্ত ছিল ভয়াবহ— যদি কোনো মেয়ে তার অন্য কোনো বান্ধবীকে এই চক্রে নিয়ে আসতে পারত, তবে সে আরও ৩০০ ডলার বোনাস পেত। এই কৌশলে একজন নির্যাতিতা না জেনেই হয়ে উঠত অন্য কিশোরীর পাচারকারী। বিশ্বস্ততা অর্জনের নীল নকশা ফ্লোরিডা থেকে নিউ ইয়র্ক— এপস্টিনের নজর থাকত বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী মডেলদের ওপর। প্রথমে শপিং, দামি উপহার বা সিনেমা দেখতে নিয়ে গিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করা হতো। এরপরই শুরু হতো আসল নির্যাতন। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের আমেরিকা বা লন্ডনে উড়িয়ে এনে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হতো। খোদ নারীই যখন মূল শিকারি এপস্টিনের এই ঘৃণ্য কাজে মূল সহযোগীর ভূমিকা পালন করত তার বান্ধবী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল। সে নিজে বিভিন্ন স্কুল বা আর্ট ক্যাম্পে গিয়ে দুর্বল কিশোরীদের খুঁজে বের করত। কার টাকার অভাব বা কার পরিবার নেই— সেই তথ্য সংগ্রহ করে বিছানো হতো মরণফাঁদ। ২০১৯ সালে জেলে এপস্টিনের রহস্যময় মৃত্যু হলেও, তার এই ভয়ংকর ডায়েরি আর নথিপত্র আজ সামনে আনছে এক অন্ধকার সত্য। এক নির্যাতিতার ভাষায়, "আমি বেঁচে ফিরেছি ঠিকই, কিন্তু জেফ্রি আজও আমার দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছে।"
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বহুজাতিক শান্তি সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ইতালি। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটির সংবিধানে থাকা অলঙ্ঘনীয় আইনি সীমাবদ্ধতার কারণেই তারা এই বৈশ্বিক উদ্যোগে অংশ নিতে পারছেন না। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দাভোসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে ১৯টি দেশ এর সনদে স্বাক্ষর করেছে। মূলত গাজার পুনর্গঠন তদারকির উদ্দেশ্যে এই সংস্থাটি গঠনের প্রাথমিক লক্ষ্য জানানো হলেও, এর সনদে সংস্থাটির পরিধি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত করার ইঙ্গিত রয়েছে। ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাজানি বলেন, “আমরা বোর্ড অব পিসে পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে অংশ নিতে পারছি না কারণ আমাদের সংবিধানে আইনি সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত আছে। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অতিক্রম করা ইতালির জন্য কোনোভাবেই সম্ভব নয়।” ইতালির সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, কোনো একক বিদেশি নেতার অধীনে সরাসরি পরিচালিত কোনো সংস্থায় দেশটি পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দিতে পারে না। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুরুতে এই উদ্যোগের প্রতি বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে তিনিও স্বীকার করেছিলেন যে বর্তমান কাঠামোতে ইতালির সংবিধানে বড় ধরনের জটিলতা রয়েছে। মেলোনি আশা করেছিলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে ট্রাম্প হয়তো এই সংস্থার মূল কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আনবেন। কিন্তু তাজানির সাম্প্রতিক ঘোষণা সেই প্রত্যাশায় পানি ঢেলে দিয়েছে। বিশেষ করে মিলানে শীতকালীন অলিম্পিক চলাকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকের মাত্র একদিন পরেই ইতালির পক্ষ থেকে এমন কড়া সিদ্ধান্ত জানানো হলো। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘বোর্ড অব পিস’-কে অনেকেই বর্তমান জাতিসংঘের একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে দেখছেন। এই উদ্যোগ নিয়ে ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের মতো ঘনিষ্ঠ মার্কিন মিত্রদের মধ্যেও যথেষ্ট দ্বিধা রয়েছে। সমালোচকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই সংস্থার মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। ইতালির এই পিছুটান ট্রাম্পের এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।