একসময় গৃহহীন হয়ে ডেট্রয়েটের রাস্তায় দিন কাটিয়েছিলেন। আসক্তির সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সংগ্রামী জীবনকে সম্মান জানিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরে আরঅ্যান্ডবি সংগীতশিল্পী কেমের (KEM) নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডেট্রয়েটের মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ড ও থার্ড স্ট্রিটের মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কেম’–এর নামে সম্মানসূচক সড়কচিহ্ন উন্মোচন করা হয়। স্থানটি শিল্পীর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একসময় এই এলাকাতেই অবস্থিত ডেট্রয়েট রেসকিউ মিশনে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে এবং পরবর্তীতে তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘KEMISTRY’-এর কিছু গানও তিনি এই সময় লিখেছিলেন। অনুষ্ঠানে ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ড বলেন, কেম শুধু একজন সফল সংগীতশিল্পী নন, তিনি মানবিক কাজ এবং সমাজসেবার জন্যও পরিচিত। কঠিন অতীতকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর এই সম্মান প্রমাণ করে যে প্রতিকূলতা পেরিয়েও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। ডেট্রয়েট সিটি কাউন্সিলের সদস্য মেরি ওয়াটার্স বলেন, এই সড়কচিহ্ন শুধু একজন শিল্পীকে সম্মান জানানো নয়, বরং এমন একটি জায়গাকে স্মরণীয় করে রাখা, যেখান থেকে কেমের নতুন জীবনের সূচনা হয়েছিল। তাঁর জীবনগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। কেমের জন্মদিন, ‘কেম ডে’ এবং তাঁর দীর্ঘদিনের মাদকমুক্ত জীবনের বার্ষিকী উপলক্ষে একই দিনে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ডেট্রয়েট রেসকিউ মিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। গ্র্যামি মনোনীত এই আরঅ্যান্ডবি শিল্পী একসময় গৃহহীনতা ও মাদকাসক্তির কারণে জীবনের কঠিন সময় পার করলেও পরে নিজের প্রতিভা, অধ্যবসায় এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি সংগীতের পাশাপাশি গৃহহীন ও আসক্ত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন।
আমেরিকায় কলেজে পড়ার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিবাসী পরিবারগুলোর অনেকেই জানেন না, মার্কিন নাগরিক না হলেও নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদায় থাকা শিক্ষার্থীরা ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যোগ্য শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ পেল গ্রান্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার। এটি কোনো শিক্ষাঋণ নয়, বরং ফেডারেল সরকারের দেওয়া শিক্ষা অনুদান, যা সাধারণত ফেরত দিতে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর ২০২৬-২৭ সালের হালনাগাদ ফাফসা নির্দেশনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফেডারেল শিক্ষাসহায়তা পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে মার্কিন নাগরিক অথবা সরকারের সংজ্ঞা অনুযায়ী যোগ্য অ-নাগরিক হতে হবে। অর্থাৎ শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্যই পেল গ্রান্ট সীমাবদ্ধ নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা কিংবা বৈধ কোনো ভিসা থাকলেই পেল গ্রান্ট পাওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। শিক্ষার্থীর অভিবাসন মর্যাদা, আর্থিক প্রয়োজন এবং ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত বিবেচনা করা হয়। কারা যোগ্য অ-নাগরিক - ২০২৬-২৭ ফাফসা ফরমের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড বা গ্রিন কার্ড থাকা ব্যক্তি সাধারণভাবে যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। শর্তযুক্ত গ্রিন কার্ড থাকা শর্তযুক্ত স্থায়ী বাসিন্দারাও এই শ্রেণিতে পড়তে পারেন। এ ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নথিতে শরণার্থী বা আশ্রয়প্রাপ্ত মর্যাদা থাকা ব্যক্তিরাও যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। কিছু প্যারোলপ্রাপ্ত ব্যক্তিও যোগ্য হতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। ২০২৬-২৭ ফাফসা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আই-৯৪ নথিতে অন্তত এক বছরের জন্য প্যারোল করার বিষয়টি নিশ্চিত থাকতে হবে এবং সেই মর্যাদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া চলবে না। কিউবান-হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং নির্দিষ্ট টি-ভিসাধারীরাও যোগ্য অ-নাগরিক শ্রেণির মধ্যে থাকতে পারেন। মানবপাচারের শিকার কোনো ব্যক্তির কাছে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বৈধ সনদ বা যোগ্যতার চিঠি থাকলেও তিনি নির্ধারিত শর্তে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর যোগ্য হতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য বড় সুযোগ - যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থী যদি বৈধ গ্রিন কার্ডধারী হন, তাহলে শুধু মার্কিন নাগরিক না হওয়ার কারণে তিনি পেল গ্রান্ট থেকে বাদ পড়বেন না। তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার পাওয়া নিশ্চিত নয়। পেল গ্রান্ট মূলত আর্থিক প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা। শিক্ষার্থীর ফাফসা তে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার যোগ্যতা ও সম্ভাব্য অনুদানের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড জানিয়েছে, শুধু পরিবারের আয় দেখেই পেল গ্রান্ট-এর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় না। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কর দাখিলের অবস্থা, ফেডারেল দারিদ্র্য নির্দেশিকা-সহ একাধিক বিষয় হিসাবের মধ্যে আসে। এফ-১ শিক্ষার্থীরা কি পেল গ্রান্ট পাবেন? যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আসা বাংলাদেশিদের জন্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ২০২৬-২৭ ফাফসা নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এফ-১ বা এফ-২ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ বা জে-২ বিনিময় দর্শনার্থী ভিসা থাকা ব্যক্তিদের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর ক্ষেত্রে যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে শুধু এসব ভিসার ভিত্তিতে তারা ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাবেন না। তবে এর অর্থ এই নয় যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সব ধরনের আর্থিক সহায়তার দরজা বন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের নিজস্ব বৃত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কিংবা বেসরকারি বৃত্তির নিয়ম আলাদা হতে পারে। ডাকা থাকলেও পেল গ্রান্ট নয় - শৈশবে আগতদের জন্য স্থগিত ব্যবস্থা বা ডাকা পাওয়া শিক্ষার্থীরাও বর্তমানে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর জন্য যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন না। তবে ডাকা (DACA) প্রাপ্ত কোনো শিক্ষার্থীর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকলে তিনি ফাফসা পূরণ করতে পারেন। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী কোনো অঙ্গরাজ্য বা কলেজের নিজস্ব আর্থিক সহায়তার জন্য যোগ্য কি না, তা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু ফাফসা পূরণ করতে পারা মানেই ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য হওয়া নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকলেই পেল গ্রান্ট নয় - অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে। কারও সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকলেই তিনি পেল গ্রান্ট পাবেন, এমন কোনো নিয়ম নেই। ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা যোগ্য অ-নাগরিক মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহায়তা কর্মসূচির অন্য শর্তও পূরণ করতে হয়। পেল গ্রান্ট আসলে কী? পেল গ্রান্ট এবং শিক্ষাঋণ এক বিষয় নয়। ফেডারেল পেল গ্রান্ট মূলত আর্থিক প্রয়োজন থাকা স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফেডারেল অনুদান। সাধারণ পরিস্থিতিতে এই অর্থ ফেরত দিতে হয় না। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সরে গেলে, অনুদানের কিছু অংশ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ পুরস্কার বছরে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার পেল গ্রান্ট পেতে পারেন। তবে সবাই সর্বোচ্চ পরিমাণ পাবেন না। ব্যক্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা দুই বছরের কমিউনিটি কলেজ, পেশাগত বিদ্যালয়, কারিগরি বিদ্যালয়, যোগ্য অনলাইন বিদ্যালয় এবং চার বছরের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সংশ্লিষ্ট খরচে পেল গ্রান্ট ব্যবহার করতে পারেন। একজন যোগ্য শিক্ষার্থী সাধারণভাবে প্রায় ছয় বছর বা ১২টি শিক্ষামেয়াদের সমপরিমাণ সময় পর্যন্ত পেল গ্রান্ট পাওয়ার সুযোগ পান। বছরগুলো একটানা হওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। কীভাবে আবেদন করবেন? পেল গ্রান্ট-এর জন্য সাধারণত আলাদা কোনো আবেদন করতে হয় না। শিক্ষার্থীকে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড এর জন্য বিনামূল্যের আবেদন বা ফাফসা পূরণ করতে হয়। ফাফসা জমা দেওয়ার পর ফাফসা জমা সারসংক্ষেপে শিক্ষার্থী তার সম্ভাব্য পেল গ্রান্ট-এর একটি আনুমানিক হিসাব দেখতে পারেন। তবে সেটিই চূড়ান্ত অর্থের নিশ্চয়তা নয়। শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তা দপ্তর চূড়ান্তভাবে কত ধরনের এবং কত পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে নিজেরা অনুমান না করে ফাফসা পূরণের পরামর্শ দিয়েছে। কারণ অনেক পরিবার শুধু আয় বা অভিবাসন পরিস্থিতি দেখে আগেই ধরে নেয় যে তারা কোনো সহায়তা পাবে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য মূল বিষয়টি হলো, সন্তান মার্কিন নাগরিক না হলেও পেল গ্রান্ট-এর সুযোগ একেবারে বন্ধ নয়। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী, শরণার্থী, আশ্রয় মঞ্জুর হওয়া ব্যক্তি এবং সরকারের নির্ধারিত আরও কিছু যোগ্য অ-নাগরিক এই সহায়তার আওতায় আসতে পারেন। অন্যদিকে এফ-১, এফ-২, জে-১, জে-২ বা ডাকা অবস্থানকে বর্তমানে ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য অভিবাসন মর্যাদা হিসেবে গণ্য করা হয় না। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি আলাদা। তাই নিজের অভিবাসন মর্যাদা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে অনুমান করার পরিবর্তে ফাফসা পূরণ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের আর্থিক সহায়তা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করাই যোগ্যতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডে সেন্ট্রাল পার্কের কাছাকাছি প্রকাশ্য দিবালোকে দুই পথচারীর ওপর পৃথক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি সম্ভাব্য বিদ্বেষপ্রসূত (হেট ক্রাইম) হামলা কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার কিছু পর প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে ওয়েস্ট ৮৪তম স্ট্রিট ও সেন্ট্রাল পার্ক ওয়েস্ট এলাকায়। ৫৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়। কয়েক মিনিট পর ওয়েস্ট ৮৬তম স্ট্রিট ও আমস্টারডাম অ্যাভিনিউয়ের কাছে ৫০ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির ওপর হামলা চালানো হয়। দুই আহতকেই দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ৫১ বছর বয়সী রাউল মোরালেসকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন থেকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, হামলাকারীর সঙ্গে দুই ভুক্তভোগীর কারও পূর্বপরিচয়ের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী হামলার সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি “আল্লাহু আকবার” বলে চিৎকার করেছিলেন। তবে এই মুহূর্তে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, তদন্তে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের সম্ভাবনার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এ ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘৃণাপ্রসূত সহিংসতার কোনো স্থান শহরে নেই। একই সঙ্গে তিনি আহত দুজনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার পর সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির গ্লাসবরো শহরে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনার পর আগুনে জ্বলতে থাকা গাড়ি থেকে চালককে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করেন এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। কিন্তু উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার আগেই তিনি নিঃশব্দে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। এখন সেই ‘গুড সামারিটান’-এর পরিচয় জানতে এবং তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে গ্লাসবরো পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সাউথ মেইন স্ট্রিটে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পরপরই গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ছুটে এসে ভেতরে আটকে থাকা চালককে নিরাপদে বের করে আনেন। তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করেন। তবে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ওই ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান। পুলিশ বলছে, তিনি যেন “হঠাৎ এসে আবার হঠাৎই অদৃশ্য হয়ে গেছেন।” ফলে তাঁর পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর গ্লাসবরো পুলিশ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ব্যক্তির সন্ধান চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, তাঁকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নয়, বরং তাঁর অসাধারণ মানবিক সাহসিকতার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতেই খুঁজে বের করতে চায় তারা। যদি তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে না চান, তবুও পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। পুলিশ তাদের বার্তায় বলেছে, “হৃদয়ের গভীর থেকে আপনাকে ধন্যবাদ। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্য একজনের পরিবারের সদস্যকে বাঁচিয়েছেন। পৃথিবী আপনার মতো আরও মানুষের প্রয়োজন।” এ ঘটনায় আহত চালকের পরিচয় বা বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার ইন্টারভিউ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য নতুন একটি দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থায় যোগ্য B ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীরা নিয়মিত আবেদন ফির বাইরে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টারভিউয়ের তারিখ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে আপাতত এই সুবিধা সব দেশে চালু হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২২ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, Nonimmigrant Visa Expedited Appointment Pilot Program নামের এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচি ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রথম দেশ হিসেবে মেক্সিকোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও সব কনস্যুলেটে ২১ জুলাই থেকে এটি চালু হয়েছে। পাইলট চলাকালে আরও দেশ ও মার্কিন মিশন এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারে। নতুন সুবিধাটি মূলত বি ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের জন্য। বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক সফর, সভা, সম্মেলন বা অনুমোদিত অন্যান্য সাময়িক ব্যবসায়িক কাজে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। বি-২ ভিসা পর্যটন, ছুটি কাটানো, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করাসহ অনুমোদিত ব্যক্তিগত সফরের জন্য। অনেক আবেদনকারীকে সম্মিলিত বি-১/বি-২ ভিসা দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পেইড এক্সপেডাইট সুবিধা নিতে আবেদনকারীকে প্রথমে প্রচলিত নিয়মে ১৮৫ ডলারের এমআরভি আবেদন ফি পরিশোধ করে একটি নিয়মিত ইন্টারভিউয়ের তারিখ নিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশে পেইড এক্সপেডাইট চালু থাকলে, আবেদনকারী যোগ্য হলে এবং দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লট খালি থাকলে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টারভিউয়ের সময় বেছে নেওয়া যাবে। অর্থাৎ একজন আবেদনকারী এই সুবিধা ব্যবহার করলে ১৮৫ ডলারের নিয়মিত আবেদন ফি এবং ৭৫০ ডলারের দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফি মিলিয়ে শুধু এই দুই খাতেই মোট ৯৩৫ ডলার দিতে হবে। দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা অবশ্য সীমিত। মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক স্লট এই কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করবে। স্লট খালি থাকলেই কেবল যোগ্য আবেদনকারীর কাছে পেইড এক্সপেডাইট অপশনটি দেখা যাবে। আবেদনকারী দ্রুত ইন্টারভিউয়ের তারিখ ও সময় নির্বাচন করার পর সেটি নিশ্চিত করতে ১০ মিনিটের মধ্যে ৭৫০ ডলার পরিশোধ করতে হবে। একবার পেইড এক্সপেডাইট অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হলে সেই তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। কেউ নির্ধারিত ইন্টারভিউয়ে উপস্থিত না হলে ৭৫০ ডলার ফেরত পাবেন না। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করলেও এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। পরে আবার পেইড এক্সপেডাইট সুবিধা নিতে চাইলে নতুন করে ৭৫০ ডলার দিতে হবে। একই আবেদনে একাধিক পরিবারের সদস্য বা গ্রুপের সদস্য থাকলে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে প্রত্যেক আবেদনকারীকে আলাদাভাবে ৭৫০ ডলার দিতে হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিলেই মার্কিন ভিসা পাওয়া যাবে না। এই অর্থ কেবল দ্রুত ইন্টারভিউয়ের তারিখ পাওয়ার জন্য। ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অন্য সবার মতো একই যোগ্যতার শর্ত পূরণ এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কনস্যুলার কর্মকর্তা। এমনকি ইন্টারভিউয়ের পর কোনো আবেদন অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আওতায় গেলে ৭৫০ ডলার দেওয়ার কারণে সেই প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যাদের সাধারণ জরুরি ইন্টারভিউয়ের আবেদন আগে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তারাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে পেইড এক্সপেডাইট সুবিধা নিতে পারবেন। তবে যারা ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ মওকুফের যোগ্য, তারা ৭৫০ ডলার দিয়ে নিজেদের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ পাবেন না। এই কর্মসূচি কেবল নির্ধারিত ইন্টারভিউ থাকা যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২২ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত অংশগ্রহণকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ফলে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে বি-১/বি-২ ভিসার আবেদনকারীরা এখনই ৭৫০ ডলার দিয়ে এই দ্রুত ইন্টারভিউ সুবিধা নিতে পারবেন, এমন ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চলাকালে আরও স্থান এতে যুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কর্মসূচিতে যুক্ত হলে এবং আবেদনকারী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে তার ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট অ্যাকাউন্টে পেইড এক্সপেডাইট অপশন দেখা যেতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ভিসা আবেদন আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য নতুন ব্যবস্থাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য প্রচলিত শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে নতুন ব্যবস্থায় ৭৫০ ডলারের বিনিময়ে দ্রুত ইন্টারভিউয়ের সুযোগ মিললেও এটি দ্রুত ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থা নয়। অর্থাৎ আবেদনকারী অর্থ দিয়ে কিনছেন আগের ইন্টারভিউয়ের সুযোগ, মার্কিন ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
ফ্লোরিডার গ্রোভল্যান্ড পুলিশ বিভাগের এক সার্জেন্টকে কর্তব্যরত না থাকা অবস্থায় চিহ্নিত পুলিশ গাড়ি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২৪ মাইল গতিতে চালানো এবং কোনো জরুরি পরিস্থিতি ছাড়াই বারবার জরুরি সতর্কতাবাতি (ইমার্জেন্সি লাইট) ব্যবহারের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রোভল্যান্ড পুলিশ বিভাগের ২৩ পৃষ্ঠার অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্জেন্ট আলেকজান্ডার জ্যারেল মে মাসে অন্তত তিনবার দায়িত্বে না থেকেও চিহ্নিত পুলিশ এসইউভি ঘণ্টায় ১২০, ১১২ এবং সর্বোচ্চ ১২৪ মাইল গতিতে চালান। জিপিএস তথ্য বিশ্লেষণে এসব গতির প্রমাণ পাওয়া যায়। একই সময় তিনি কাজে যোগ দেওয়ার কয়েক মিনিট আগেই ওই গতিতে গাড়ি চালিয়েছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তের সূত্রপাত হয়, যখন কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই পুলিশের জরুরি লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন। পরে জিপিএস তথ্য ও নজরদারি ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক পর্যায়ে তিনি বিপরীত লেনে উঠে অন্য একটি গাড়িকে অতিক্রম করেন, ফলে অপর চালক জরুরি সাড়া দেওয়ার গাড়ি ভেবে রাস্তা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তদন্তে জ্যারেল স্বীকার করেন, তিনি অন্তত তিনবার কোনো জরুরি প্রয়োজন ছাড়াই ইমার্জেন্সি লাইট ব্যবহার করেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু জিপিএসের গতির তথ্যের ভিত্তিতে ফৌজদারি ট্রাফিক মামলা বা গতিসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। কারণ ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী এ ধরনের অভিযোগে সাধারণত রাডারে রেকর্ড করা গতির তথ্য প্রয়োজন হয়। তদন্ত শেষে সার্জেন্ট জ্যারেলকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়নি। তাঁকে তিন দিনের বিনা বেতনের সাময়িক বরখাস্ত, ৩০ দিনের জন্য দাপ্তরিক গাড়ি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং ছয় মাসের চাকরিগত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনটি ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্টে পাঠানো হবে, যাতে তাঁর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সনদ (সার্টিফিকেশন) বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা পর্যালোচনা করা যায়। গ্রোভল্যান্ড পুলিশ প্রধান শন র্যামসি বলেন, বিভাগীয় নীতিমালা অনুসারেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগটি সামনে আনা পুলিশ সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, কোনো অনিয়ম দেখলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোই একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
ডে কেয়ার থেকে সন্তানকে গাড়িতে তোলার সময় সাবেক স্বামীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার দায়ে ফ্লোরিডার এক মায়ের ১০০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আদালতকক্ষে রায় ঘোষণার সময় এই নারী অপরাধী হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, দণ্ডিত ওই মায়ের নাম মিন্ডি অস্টিন (৩৪)। তিনি স্টার্ক শহরের 'আন্টি লিলিস চাইল্ডকেয়ার সেন্টার'-এর বাইরে তার দুই শিশুসন্তানের সামনেই সাবেক স্বামী ক্রিস্টোফার ট্রাভিস জোন্সকে (৩৭) গুলি করে হত্যা করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁকে ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের জুলাই মাসে ডে কেয়ারে হঠাৎ হাজির হয়ে মিন্ডি প্রথমে জোন্স ও তাদের দুই ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন। কিন্তু জোন্স শিশুদের গাড়িতে তুলে চালকের আসনে বসা মাত্রই মিন্ডি তাঁর ব্যাকপ্যাক থেকে একটি বন্দুক বের করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালান। প্রাণ বাঁচাতে জোন্স চিৎকার করতে করতে ডে কেয়ারের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও দ্বিতীয় নিরাপত্তা দরজায় আটকে যান। এ সময় মিন্ডি আরও কয়েকটি গুলি চালান, পরে বন্দুকটি জ্যাম হয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গুলি করার সময় মিন্ডি চিৎকার করে বলছিলেন, "দয়া করে, দানবটাকে মরতে দাও।" পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর জোন্স হামলাকারী হিসেবে মিন্ডির নাম জানান এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় তাদের দুই শিশুসন্তান অক্ষত ছিল এবং বর্তমানে তাদের অন্য এক স্বজনের কাছে দত্তক দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর মিন্ডি ঘটনাটিকে আত্মরক্ষা বলে দাবি করলেও পরে তিনি দ্বিতীয় ডিগ্রি হত্যা এবং অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের দায় স্বীকার করেন। বিচার শেষে আদালত তাকে ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং জোন্সের পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেন। নিহত জোন্সের এক স্বজন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তিনি আশা করেন এই বিপজ্জনক নারী যেন আর কখনো কারাগার থেকে বাইরে আসার সুযোগ না পান।
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ফাস্ট ফুড চেইনের মুকুট জিতল ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় টেক্স-মেক্স চেইন 'ডেল টাকো'। ম্যাকডোনাল্ডস বা বার্গার কিংয়ের মতো বিশ্বখ্যাত জায়ান্টদের পেছনে ফেলে তারা এই শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএস টুডে-এর 'টেনবেস্ট রিডার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস'-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এই স্বীকৃতি মিলেছে। যেখানে সম্পাদক ও বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলের মনোনয়ন করা সেরাদের মধ্য থেকে পাঠকদের ভোটে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে। তালিকায় ম্যাকডোনাল্ডস সপ্তম এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী টাকো বেল ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। সাইক্লোস্পোরা প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংযোগ থাকার কারণে টাকো বেলের খ্যাতি কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। ডেল টাকোর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের বৈচিত্র্যময় এবং সুস্বাদু মেনু। যেখানে বার্গার ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের পাশাপাশি মেক্সিকান ধাঁচের বুরিটো ও কেসাদিয়ার চমৎকার সমাহার রয়েছে। একজন ভক্ত রেডিটে লিখেছেন, "ডেল টাকো হলো সেরা ফাস্ট ফুড অপশন। এর ভ্যালু মেনু আসলেই দামের তুলনায় দারুণ, যার বেশিরভাগ আইটেমের দাম ১ থেকে ১.৫ ডলার এবং এর স্বাদও বেশ চমৎকার।" আরেকজন মন্তব্য করেছেন, "একবার ডেল টাকো ট্রাই করার পর আমি আর কখনো টাকো বেলে যাইনি।" ভক্তদের কাছে বিশেষ পছন্দের একটি খাবার হলো তাদের নোনতা ও মুচমুচে ক্রিন্ডেল-কাট ফ্রাই, যা এই তালিকার ফাস্ট ফুড ক্যাটাগরিতে দেশের সেরা হিসেবে স্থান পেয়েছে। গ্রাহকরা জানিয়েছেন, অল্প দামের ছোট সাইজের ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়েও তারা পরিমাণে কৃপণতা করে না। এদিকে শুধু দুপুরের বা রাতের খাবার নয়, সকালের নাস্তার বাজারেও ভালো অবস্থানে রয়েছে এই টেক্স-মেক্স চেইন। ইউএস টুডে-এর পাঠক ও বিশেষজ্ঞরা ফাস্ট ফুডের সকালের নাস্তার ক্যাটাগরিতে ডেল টাকোকে তৃতীয় স্থান দিয়েছেন। সকালের মেনুতে পরিবেশন করা হয় বুরিটো, টাকো, হ্যাশ ব্রাউন স্টিক, ডোনাট বাইটস এবং আইসড ও হট কফি।
'জবরদস্তিমূলক শ্রম' রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলীয় পণ্যের ওপর ১২.৫ শতাংশ নতুন বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আলবানিজ সরকার। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে, জবরদস্তিমূলক শ্রমবিরোধী নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার তালিকায় থাকা ৫৪টি দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে। এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। চীন, ব্রাজিল, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় তিনটি রপ্তানি পণ্য—যেমন গরুর মাংস ও স্বর্ণ এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা জবরদস্তিমূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল। তিনি বলেন, আধুনিক দাসপ্রথা ও জবরদস্তিমূলক শ্রম প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ার আইন বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং এই শুল্ক সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। উপ-প্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মারলেসও মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে 'বোকামি' বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে, অস্ট্রেলিয়াকে কানাডা বা যুক্তরাজ্যের মতো কম শুল্কের (১০%) তালিকায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। দেশটির ব্যবসায়ী ও কৃষিখাতের শীর্ষ সংগঠনের প্রতিনিধিরাও যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা ও ভিত্তিহীন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বর্তমানে এই নতুন শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটনে গত মার্চে সংঘটিত প্রাণঘাতী গুলি হামলার তদন্তে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে এফবিআই। মামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্য দিলে ৫ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও হামলার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এফবিআই জানায়, গত ২৪ মার্চ স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার কিছু আগে উইলমিংটনের নর্থ অ্যাডামস স্ট্রিটের ৬০০ ব্লকে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে গুরুতর আহত এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ মে মারা যান। এতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনজনে, আর একজন আহত অবস্থায় চিকিৎসা পান। তদন্তে পাওয়া নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা গেছে, ফ্লোরিডার নম্বরপ্লেটযুক্ত একটি ধূসর রঙের হোন্ডা সিআর-ভি ঘটনাস্থলে এসে থামে। এরপর গাড়ির ভেতর থেকে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গাড়িটি ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে ফিলাডেলফিয়া থেকে চুরি হয়েছিল। হামলার দুই দিন পর সেটি পেনসিলভানিয়ার চেস্টার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৯ বছর বয়সী রায়ান ইভান্স, ২১ বছর বয়সী ওয়াহকি ট্যাবরন এবং ৩৭ বছর বয়সী জিনা টাইবেরি। আহত আরেক ব্যক্তির পরিচয় বা সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। এফবিআই ও উইলমিংটন পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যে কোনো তথ্য, যা সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার ও দণ্ড নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে, তার জন্য ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী বা এ ঘটনায় কোনো তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ধনী ব্যবসায়ী ও রিয়ালিটি টিভি ব্যক্তিত্ব ইয়াকির লেভি ফ্লোরিডার একটি বিলাসবহুল রিসোর্টের ২৮ তলা থেকে নিচে পড়ে মারা গেছেন। বন্ধুদের কাছে শেষ টেক্সট পাঠানোর মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিবার ও বন্ধুরা একে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ হলেও বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৫ বছর বয়সী ইয়াকির লেভি গত সোমবার রাতে সানি আইলস বিচের আকোয়াটিনা রিসোর্ট অ্যান্ড রেসিডেন্সে দুই বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। বন্ধুরা যখন ভ্যালেটে গাড়ি থামান, ঠিক তখনই লেভি তাঁদের একটি মেসেজ পাঠান—‘আমি আসছি’। এর মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরই তাঁরা একটি জোরালো শব্দ শুনতে পান এবং হোটেলের বারান্দা থেকে একজনের নিচে পড়ার খবরে অতিথিদের মধ্যে চিৎকার শুরু হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ইসরায়েলের রামলায় জন্ম নেওয়া ইয়াকির লেভি একসময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বিশেষ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পকেটে মাত্র ৩০০ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি মেরামতের একটি সফল বহুজাতিক কোম্পানি গড়ে তোলেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের গল্প নিয়ে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩-এর রিয়ালিটি সিরিজ ‘দ্য আমেরিকানস’-এ পর্বও প্রচারিত হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী এবং চার, দশ ও বারো বছর বয়সী তিন সন্তানের জনক ছিলেন। মিয়ামি-ডেড শেরিফ অফিসের হোমিসাইড ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘অশ্রেণিভুক্ত মৃত্যু’ হিসেবে তদন্ত করছে। যদিও পুলিশ রিপোর্টে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যাজনিত আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে নিহতের পরিবার ও বন্ধুরা তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। ঘনিষ্ট বন্ধু এরান হার্শ জানান, মৃত্যুর আগের দিনও তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় সময় কাটিয়েছেন এবং অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন, ফলে তাঁর আত্মহত্যা করার কোনো প্রশ্নই আসে না। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তাঁর মরদেহ ইসরায়েলে দাফন করার কথা রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক সফরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করার জন্য নগরবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ফিফা বিশ্বকাপ, এনবিএ ফাইনাল এবং স্বাধীনতা দিবসসহ গ্রীষ্মজুড়ে অত্যন্ত ব্যস্ত ও ক্লান্তিকর সময় পার করা নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) মেয়রের এই উসকানিমূলক আহ্বানে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ করে গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় মেয়র মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে পা রাখলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে। তবে সম্প্রতি নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার মতো কোনো আইনি এখতিয়ার বা ক্ষমতা তাঁর নেই। গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হওয়ার পরই তিনি নগরবাসীকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে প্রতিবাদের ডাক দেন। মেয়রের এই ঘোষণায় পুলিশ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ইউনিয়ন নেতারা বলছেন, গ্রীষ্মজুড়ে ফিফা বিশ্বকাপ, নিউ ইয়র্ক নিক্সের এনবিএ ফাইনাল জয় এবং স্বাধীনতা দিবস ও 'আমেরিকা ২৫০' উদযাপনের মতো বিশাল সব ইভেন্ট সামলাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের চরম ধকল গেছে। টানা ১২ ঘণ্টার ডিউটি ও অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলানো পুলিশ বাহিনীকে এখন মেয়রের এই রাজনৈতিক উসকানিমূলক অবস্থানের কারণে নতুন করে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেনড্রি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেয়রের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা পুলিশের ওপর মারাত্মক কাজের চাপ সৃষ্টি করবে। তাঁর মতে, মেয়রের এমন উত্তপ্ত বক্তব্য সহিংস ও উগ্র আন্দোলনকারীদের আরও বেপরোয়া করে তুলতে পারে এবং পরিস্থিতি যেকোনো সময় চরম বিশৃঙ্খলার দিকে মোড় নিতে পারে। এছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য আহত হলে তার সম্পূর্ণ দায় মেয়রের ওপরই বর্তাবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, মেয়রের এমন হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ম্যানহাটনের এক পুলিশ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেয়র হয়তো ভুলে গেছেন যে তিনি এখন আর কোনো সাধারণ অ্যাক্টিভিস্ট নন, তিনি একটি শহরের মেয়র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব তাঁর, অথচ তিনি নিজেই উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এত সমালোচনা ও বাড়তি কাজের চাপের পরও পুলিশ ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী শরৎকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশন চলাকালীন যেকোনো পরিস্থিতি কঠোর পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বে শোর আবাসিক এলাকায় একটি মুসলিম ছেলেদের আবাসিক স্কুল চালুর পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১২০ জন কিশোর শিক্ষার্থী নিয়ে গড়ে উঠতে যাওয়া এই আবাসিক স্কুলটি তাদের শান্ত উপশহরের পরিবেশ নষ্ট করবে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুন মাসে ৫ মিলিয়ন ডলারে ১৩ একরের একটি ওয়াটারফ্রন্ট সম্পত্তি কিনে নেয় ‘ইউনাইটেড আমেরিকান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন’। এর আগে সম্পত্তিটি রোমান ক্যাথলিক মন্টফোর্ট মিশনারিদের অধীনে ছিল এবং একসময় সেখানে একটি ক্যাথলিক সেমিনারি ও পরবর্তীতে প্রিস্টদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে নতুন মালিকরা সেখানে ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র ও আবাসিক স্কুল চালুর উদ্যোগ নিলে স্থানীয় ‘স্যাক্সন সেজ নো’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে বাসিন্দারা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। গত মঙ্গলবার আইসলিপ টাউন জোন বোর্ডের এক সভায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শত শত ক্ষুব্ধ বাসিন্দা উপস্থিত হয়ে এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় একটি বড় মাপের আবাসিক স্কুল চালু হলে অতিরিক্ত শব্দদূষণ, যানজট এবং এলাকার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। এছাড়া ছোট শিশুদের জন্য একটি ডে কেয়ার সেন্টার চালুর বিষয়েও বাসিন্দাদের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে স্কুলটির আইনজীবী স্যামুয়েল এল. বিফুলকো এবং আয়োজকরা জানিয়েছেন, টাউনের জোন কোড মেনেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে বোর্ডিং স্কুলটি পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর নিয়মকানুন থাকায় এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও দাবি তাদের। বর্তমানে বিষয়টি আইসলিপ টাউন জোন বোর্ডের পর্যালোচনায় রয়েছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি মহানগর এলাকায় বসবাসের খরচ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। একসময় কম কর, উষ্ণ আবহাওয়া ও তুলনামূলক কম খরচের কারণে যেসব মানুষ নিউইয়র্ক ছেড়ে মায়ামিতে চলে যেতেন, সেই সমীকরণ এখন বদলে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ আয়ের মানুষদের জন্য শহরটি এখনও আকর্ষণীয় হলেও মধ্যবিত্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের সর্বশেষ আঞ্চলিক মূল্যসূচক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মায়ামি–ফোর্ট লডারডেল–ওয়েস্ট পাম বিচ মহানগর এলাকার জীবনযাত্রার ব্যয়ের সূচক নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার চেয়েও বেশি। বর্তমানে কেবল সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াই মায়ামির চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির পর নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক উচ্চ আয়ের মানুষ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দক্ষিণ ফ্লোরিডায় চলে আসে। এতে আবাসন বাজারে চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। পাশাপাশি বাড়ির মূল্য, ভাড়া, বীমা, ব্যক্তিগত স্কুলের খরচ এবং রেস্তোরাঁয় খাওয়ার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০১৯ সালের পর থেকে মায়ামি অঞ্চলে ভোক্তা মূল্য প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় মহানগরগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপে পড়েছেন মধ্যম আয়ের চাকরিজীবী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সেবাখাতের কর্মীরা। তাদের অনেকের আয় বাড়লেও তা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। ফলে শহরের কেন্দ্র থেকে দূরের এলাকায় চলে যাওয়া বা অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তরের প্রবণতাও বাড়ছে। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের পেশাজীবী, আর্থিক খাতের কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মায়ামির আকর্ষণ এখনো কমেনি। কারণ, ফ্লোরিডায় এখনো কোনো অঙ্গরাজ্য আয়কর নেই। অনেকের মতে, উচ্চ করের অঙ্গরাজ্য থেকে আসা ধনীদের জন্য কর-সুবিধা ব্যয় বৃদ্ধির একটি অংশ পুষিয়ে দেয়। তবে সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা কার্যত মিলছে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মায়ামির দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ আবাসনের সীমিত সরবরাহ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, উচ্চ বীমা ব্যয় এবং শক্তিশালী রিয়েল এস্টেট বাজার। এসব কারণে শহরটির দীর্ঘদিনের ‘সাশ্রয়ী বিকল্প’ হিসেবে পরিচিতি প্রায় হারিয়ে গেছে। যদিও মায়ামি এখনও উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রসৈকত ও কর-সুবিধার কারণে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য, তবু জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় শহরটির ভবিষ্যৎ আবাসন বাজার এবং মধ্যবিত্তের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আকাশে বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক হওয়া মার্কিন সেনা সার্জেন্ট লিওনার্ড জে. ম্যাকনিলের পরিচয় অবশেষে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ডিফেন্স অ্যাকাউন্টিং এজেন্সি । মৃত্যুর প্রায় ৮০ বছর পর তাঁর মরদেহ নিজ অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ডিপিএএ জানায়, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী ম্যাকনিল যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি এয়ার ফোর্সের একজন টেল গানার ছিলেন। তিনি একটি বি-২৯ ‘সুপারফোর্ট্রেস’ বোমারু বিমানে দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৪৫ সালের ৫ মে জাপানের কিউশু দ্বীপের ওপর একটি সামরিক অভিযানের সময় তাঁর বিমানটি জাপানি বাহিনীর হামলায় ভূপাতিত হয়। তিনি জীবিত অবস্থায় ধরা পড়লেও পরে যুদ্ধবন্দি হিসেবে মারা যান। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন তাঁর ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে ঐতিহাসিক নথি, সামরিক রেকর্ড, নৃতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, দন্ত পরীক্ষার তথ্য এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ডিপিএএ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে শনাক্ত করার পর পরিবারের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ম্যাকনিলের মরদেহ পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় ফ্লোরিডায় দাফন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে আট দশক ধরে চলা একটি পরিবারের অপেক্ষার অবসান ঘটছে। ডিফেন্স পিওডব্লিউ/এমআইএ অ্যাকাউন্টিং এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিখোঁজ বা অশনাক্ত হয়ে যাওয়া মার্কিন সেনাসদস্যদের পরিচয় শনাক্ত ও স্বদেশে ফিরিয়ে আনার কাজ এখনও চলমান। আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতি বছরই বহু দশক আগে নিখোঁজ হওয়া সেনাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক সামরিক পদক্ষেপে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একই ধরনের একটি প্রস্তাব সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় কার্যকর হওয়ার পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে ২১৪–২০৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। এতে চারজন রিপাবলিকান সদস্য নিজ দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারবেন না এবং চলমান সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। প্রস্তাবটির উদ্যোক্তা ছিলেন ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য প্রমিলা জয়াপাল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের বিষয়ে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস হলেও একই দিনে সিনেটে অনুরূপ একটি প্রস্তাব ৪৯–৪৭ ভোটে আটকে যায়। ফলে প্রেসিডেন্টের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও, প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন। তবে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এই আইনি ক্ষমতার ব্যাখ্যা নিয়েই বহু বছর ধরে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক চলছে। ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের ব্যয়, মার্কিন সেনাদের হতাহত হওয়ার ঘটনা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশাসনের সমালোচনা বাড়ছে। একই সঙ্গে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সামরিক অভিযান প্রয়োজন। রিপাবলিকান নেতৃত্বের অধিকাংশ সদস্যও প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানকে সমর্থন করছেন। সব মিলিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সিনেটে সমর্থন না পাওয়ায় প্রস্তাবটি তাৎক্ষণিকভাবে নীতিগত পরিবর্তন আনতে পারছে না, তবুও ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব যে আরও তীব্র হচ্ছে, এই ভোট তারই নতুন ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই ভোটকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সর্বশেষ প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ২১৪টি, বিপক্ষে ২০৮টি। এতে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন—মিশিগানের টম ব্যারেট, পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন এবং কেনটাকির থমাস ম্যাসি। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি প্রমিলা জয়াপাল উত্থাপিত প্রস্তাবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি মূলত প্রতীকী। কারণ গত কয়েক মাসে কংগ্রেসে একই ধরনের যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব পাস হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি। এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ইরান ও তাদের মিত্র হুথিদের বিরুদ্ধে “বড় ধরনের সামরিক শাস্তি” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের হামলায় লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথেও উত্তেজনা বেড়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির কার্যত ভেঙে পড়ার পর ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিনিধি পরিষদের সর্বশেষ ভোট ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির ওপর কংগ্রেসের রাজনৈতিক চাপ বাড়ালেও, তাৎক্ষণিকভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধে এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলতি বছরে কত মানুষকে বিতাড়িত করা হবে, সেই সংখ্যা নিয়ে অর্থের বিনিময়ে পূর্বাভাস দেওয়ার সুযোগ চালু করায় অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেট কালশির তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সেথ মলটন। তাঁর অভিযোগ, অভিবাসীদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে এভাবে বাজির বিষয়ে পরিণত করা অনৈতিক। ম্যাসাচুসেটসের এই আইনপ্রণেতা বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে কালশির উদ্যোগকে ‘ঘৃণ্য’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবনকে ক্যাসিনোর চিপ হিসেবে দেখা যায় না। একই সঙ্গে বিতাড়নের সংখ্যা নিয়ে চালু করা বাজারটি বন্ধ করতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কালশির ওয়েবসাইটে ‘এ বছর কত মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হবে’—এমন একটি বাজার চালু রয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারীরা নির্দিষ্ট সংখ্যার ওপর অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন। বছরের শেষে সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ফল নির্ধারণ করা হবে এবং সঠিক পূর্বাভাসে অর্থ দেওয়া হবে। প্রেডিকশন মার্কেটে সাধারণত নির্বাচন, অর্থনীতি, আবহাওয়া, খেলাধুলা ও সরকারি সিদ্ধান্তসহ ভবিষ্যতের বিভিন্ন ঘটনার সম্ভাব্য ফল নিয়ে চুক্তি কেনাবেচা করা হয়। চুক্তির দাম থেকে কোনো ঘটনার সম্ভাবনা সম্পর্কে বাজারে অংশগ্রহণকারীদের সম্মিলিত ধারণা পাওয়া যায়। তবে যুদ্ধ, মৃত্যু, নিখোঁজ ব্যক্তি কিংবা বিতাড়নের মতো মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে বাজার চালুর নৈতিকতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক বাড়ছে। মলটন এর আগেও এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ২০২৬ সালের মার্চে তিনি নিজের কংগ্রেস কার্যালয়ের সব কর্মীর জন্য কালশি ও পলিমার্কেটের মতো প্রেডিকশন মার্কেটে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করেন। তাঁর কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বাজার গোপন সরকারি তথ্য জানা ব্যক্তিদের আর্থিক লাভের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনৈতিক প্রণোদনা সৃষ্টি করতে পারে। এর আগে যুদ্ধের মধ্যে নিখোঁজ এক মার্কিন সেনাসদস্যকে জীবিত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে পলিমার্কেটে বাজির বাজার চালু হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মলটন। তাঁর সমালোচনার পর ওই বাজারটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কীভাবে সেটি অনুমোদন পেয়েছিল, তা তদন্তের কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি। কালশি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বৈধ ইভেন্ট-কন্ট্রাক্ট বাজার হিসেবে পরিচয় দেয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রাজনীতি, অর্থনীতি ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ের সম্ভাব্য ফল নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা সেখানে চুক্তি কেনাবেচা করতে পারেন। তবে বিতাড়নের মতো বিষয়ে বাজার পরিচালনা নিয়ে মলটনের সমালোচনার জবাবে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, আটক ও বিতাড়ন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রশাসনের অভিযানে ছয় লাখের বেশি মানুষকে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং আরও অনেকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। তবে স্বাধীন গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ভিন্ন পদ্ধতিতে হিসাব প্রকাশ করায় মোট বিতাড়নের নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেডিকশন মার্কেটের সীমা ও নৈতিকতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, ভবিষ্যৎ ঘটনা অনুমান ও আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নামে মানুষের আটক, বিতাড়ন কিংবা জীবন-মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল বিষয়কে লাভের বাজারে পরিণত করার অনুমতি দেওয়া উচিত কি না।
দীর্ঘদিন বিক্রেতাদের দাপটের পর যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের আরও নয়টি বড় শহরের আবাসন বাজার দ্রুত ‘ক্রেতাবান্ধব’ বা বায়ার্স মার্কেটের দিকে এগোচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা বেশি দর-কষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন। রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ‘মার্কেট ক্লক’ প্রতিবেদনে ১০০টি মহানগর এলাকার আবাসন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বর্তমানে ১৯টি মহানগর এলাকা ইতোমধ্যেই বায়ার্স মার্কেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি আরও ৯টি শহর চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের শেষ নাগাদ সেই অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। প্রতিবেদনে যেসব শহরকে দ্রুত ক্রেতাবান্ধব বাজারের দিকে এগোতে দেখা গেছে, সেগুলো হলো—আটলান্টা (জর্জিয়া), বেকার্সফিল্ড (ক্যালিফোর্নিয়া), বার্মিংহাম (আলাবামা), হনোলুলু (হাওয়াই), হিউস্টন (টেক্সাস), মেমফিস (টেনেসি), রিভারসাইড (ক্যালিফোর্নিয়া), সান অ্যান্টোনিও (টেক্সাস) এবং সিরাকিউজ (নিউইয়র্ক)। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব শহরে বাড়ির তালিকা বা ইনভেন্টরি বেড়েছে, বিক্রি হতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে এবং অনেক বিক্রেতা মূল্য কমানো, ক্লোজিং কস্টে সহায়তা বা মর্টগেজ সুদের হার কমানোর মতো অতিরিক্ত সুবিধা দিতে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে ক্রেতাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিকল্প এবং দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি হয়েছে। আটলান্টার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট লিআ্যান ওয়েদার্স বলেন, বাজারে বাড়ির সরবরাহ বেড়েছে এবং উচ্চ মর্টগেজ সুদের কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে বিক্রেতারা এখন মূল্য ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে আলোচনায় বেশি নমনীয় হচ্ছেন। হিউস্টনের বাজারেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীদের মতে, একক পরিবারের বাড়ির ইনভেন্টরি প্রায় ৫.২ মাসে পৌঁছেছে। এর ফলে ক্রেতারা তাড়াহুড়া না করে বিভিন্ন বাড়ি তুলনা, পরিদর্শন এবং দর-কষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন। সান অ্যান্টোনিওতে বিশেষ করে নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে নির্মাতারা সুদের হার কমানোর সুবিধা, ক্লোজিং কস্ট বহন এবং অন্যান্য প্রণোদনা দিচ্ছেন। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, মর্টগেজ সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে না গেলে আগামী কয়েক মাসও ক্রেতাদের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। রিয়েলটর ডটকমের এই বিশ্লেষণে আবাসন বাজারের ভারসাম্য নির্ধারণে বাড়ির সরবরাহ, বাজারে থাকার সময়, মূল্য পরিবর্তন এবং তালিকাভুক্ত দামের তুলনায় বিক্রয়মূল্যসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসন বাজারের চিত্র এখন একরকম নয়; কোথাও বিক্রেতাদের প্রভাব বজায় থাকলেও অনেক শহরে ধীরে ধীরে ক্রেতাদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এয়ারলাইন আলাস্কা এয়ার গ্রুপ চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার (৭৬ মিলিয়ন) নিট লোকসানের কথা জানিয়েছে। কোম্পানির দাবি, ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জেট জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শক্তিশালী যাত্রীচাহিদার কারণে আগামী প্রান্তিকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। আলাস্কা এয়ার গ্রুপের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩০ জুন শেষ হওয়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির নিট লোকসান হয়েছে ৭৬ মিলিয়ন ডলার বা শেয়ারপ্রতি ৬৮ সেন্ট। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ১৭ কোটি ২০ লাখ ডলার মুনাফা করেছিল। যদিও একই সময়ে কোম্পানির মোট রাজস্ব ১০ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেন মিনিকুচ্চি বলেন, ব্যবসার মূল ভিত্তি আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। বছরের প্রথমার্ধে সময়নিষ্ঠ ফ্লাইট পরিচালনায় শিল্পে শীর্ষ অবস্থানে ছিল আলাস্কা এয়ার। এছাড়া হাওয়াইয়ান এয়ারলাইন্সের সঙ্গে একীভূতকরণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে এবং সিয়াটল থেকে রোম, লন্ডন ও রেইকিয়াভিকে নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও চালু হয়েছে। তার ভাষায়, জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি না হলে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক প্রান্তিক পার করত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে জেট জ্বালানির গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ৪৩ ডলারে পৌঁছায়, যা এক বছর আগের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি। এর ফলে মাত্র তিন মাসেই কোম্পানির অতিরিক্ত প্রায় ৬০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে বৈশ্বিক পরিশোধন ব্যয় ও জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যায়। পশ্চিম উপকেন্দ্রিক রুট নেটওয়ার্ক এবং হাওয়াইগামী ফ্লাইট বেশি হওয়ায় আলাস্কা এয়ার এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভব করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জুন মাসেই তারা আবার লাভজনক অবস্থায় ফিরেছে। করপোরেট ভ্রমণ, প্রিমিয়াম সেবা, কার্গো এবং লয়্যালটি কর্মসূচি থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানির দাম কিছুটা কমবে ধরে নিয়ে শেয়ারপ্রতি শূন্য থেকে ১ ডলার পর্যন্ত আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে কোম্পানি। চলতি বছর জ্বালানির মূল্য অস্থির থাকায় আলাস্কা এয়ার আগেই পূর্ণ বছরের আর্থিক পূর্বাভাস স্থগিত করেছিল। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সেপ্টেম্বরে নতুন পূর্ণাঙ্গ পূর্বাভাস প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে কোম্পানি।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্য, অপরাধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পারিবারিক অস্থিরতার মতো নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের মানসিক চাপ বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকাশিত নতুন এক সমীক্ষায় দেশটির সবচেয়ে মানসিক চাপে থাকা শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট। সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব। ওয়ালেটহাব যুক্তরাষ্ট্রের ১৮২টি শহরকে কাজের চাপ, আর্থিক চাপ, পারিবারিক চাপ এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত চাপ—এই চারটি প্রধান সূচকে ৩৯টি ভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে এ তালিকা তৈরি করেছে। বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হয়েছে বেকারত্বের হার, দারিদ্র্য, আয়, চাকরির নিরাপত্তা, শিশু পরিচর্যার ব্যয়, অপরাধের হার, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন সরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ডেট্রয়েটে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের হার দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে সহিংস অপরাধের হারও বেশি হওয়ায় শহরটির বাসিন্দারা বহুমাত্রিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এসব কারণেই ডেট্রয়েটকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মানসিক চাপে থাকা শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর এবং তৃতীয় স্থানে ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড। বাল্টিমোরে উচ্চ ভাড়া ও সহিংস অপরাধ বড় চাপের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে ক্লিভল্যান্ডে তুলনামূলক কম আয়, উচ্চ দারিদ্র্য এবং বিচ্ছেদ ও বিবাহবিচ্ছেদের হার বেশি হওয়ায় শহরটি শীর্ষ তিনে রয়েছে। শীর্ষ ১০-এর তালিকায় আরও রয়েছে গালফপোর্ট (মিসিসিপি), মেমফিস (টেনেসি), শ্রিভপোর্ট (লুইজিয়ানা), ফিলাডেলফিয়া (পেনসিলভানিয়া), টলেডো (ওহাইও), বার্মিংহাম (আলাবামা) এবং জ্যাকসন (মিসিসিপি)। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, মানুষ কোথায় বসবাস করছে, সেটিও তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলে। যেসব শহরে অপরাধের হার বেশি, অর্থনীতি দুর্বল, জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকর নয় এবং যানজট তীব্র, সেখানে বসবাসকারীদের মানসিক চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, অর্থনৈতিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগও এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তাই কোথায় বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আয়ের পাশাপাশি জীবনমান ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।