দেশের প্রতিটি প্রান্তরে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ করে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং দ্রুতগতির যানবাহনে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ডিজিটাল কানেক্টিভিটিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে সরকার। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, "বর্তমান যুগে আইসিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন যেন প্রতিটি ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, যাত্রীসেবা উন্নত করতে বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনের পাশাপাশি হাইস্পিড যানবাহনগুলোতেও ফ্রি ওয়াইফাই নিশ্চিত করা হবে।" বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের তিনটি বড় টেকপার্কে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার কাজ করছে। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলার প্রতিটি উপজেলায় আইসিটি পার্ক স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়েও পরিকল্পনা চলছে। সরকার জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অনলাইন কন্টেন্ট সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক (TikTok)। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপটির ডিজাইন এবং কার্যক্রম নিয়ে ইউরোপীয় কমিশন কড়া পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যার ফলে টিকটকের বর্তমান রূপে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। টিকটকের অ্যালগরিদম কি আসলেই আমাদের মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর? জেনে নিন এই আইনি লড়াইয়ের মূল কারণগুলো: ১. অনলাইন কন্টেন্ট নিয়ম লঙ্ঘন: ইউরোপীয় ইউনিয়ন টিকটকের বিরুদ্ধে তাদের 'ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট' (DSA) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। মূলত ক্ষতিকর কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে এই চার্জ গঠন করা হয়েছে। ২. 'অ্যাডিক্টিভ ডিজাইন' বা আসক্তি তৈরির নকশা: তদন্তে দেখা গেছে, টিকটকের অ্যালগরিদম এবং ডিজাইন এমনভাবে তৈরি যা ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে। এর ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে ইইউ মনে করছে। ৩. অ্যাপে পরিবর্তন আনার নির্দেশ: অভিযোগ প্রমাণিত হলে টিকটককে তাদের ইন্টারফেস এবং অ্যালগরিদমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। ব্যবহারকারীদের আসক্তি কমাতে এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ফিচার যুক্ত করতে বাধ্য হতে পারে তারা। ৪. বিশাল অঙ্কের জরিমানা: যদি টিকটক ইইউ-এর এই নিয়মগুলো মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বিশ্বব্যাপী বার্ষিক আয়ের ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। ৫. টিকটকের প্রতিক্রিয়া: টিকটক অবশ্য দাবি করেছে যে তারা শিশুদের সুরক্ষা এবং আসক্তি কমাতে নিয়মিত কাজ করছে। তবে ইইউ-এর এই কঠোর অবস্থানে কোম্পানিটি এখন চাপে রয়েছে। সারসংক্ষেপ: ইউরোপে টিকটকের ভবিষ্যৎ এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরোপীয় কমিশন যে কড়া বার্তা দিয়েছে, তাতে করে অদূর ভবিষ্যতে টিকটকের ফিচারে বড় ধরনের বদল দেখা যেতে পারে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে ফ্রিল্যান্সিং এখন আর বিকল্প পেশা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মবাজার। ইন্টারনেট, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং গ্লোবাল মার্কেটপ্লেস এই চারটি প্রযুক্তিগত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আজকের ফ্রিল্যান্সিং ইকোসিস্টেম। উচ্চগতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে একজন ফ্রিল্যান্সার বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ক্লায়েন্টের সঙ্গে রিয়েল টাইম যোগাযোগ করতে পারেন। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টুল, ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার এবং ক্লাউড স্টোরেজ কাজকে করেছে দ্রুত ও স্বচ্ছ। ডিজিটাল স্কিল যেমন গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট রাইটিং বা ডেটা অ্যানালাইসিস এসবের চাহিদা তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রবেশের সুযোগ। তবে প্রযুক্তিগত বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখায়। অটোমেশন ও এআই টুলের কারণে অনেক সাধারণ কাজের মূল্য কমে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতা বাড়ছে, বিশেষ করে গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসে। অ্যালগরিদম নির্ভর প্ল্যাটফর্মে কাজ পেতে হলে প্রোফাইল অপ্টিমাইজেশন, রেটিং, রেসপন্স টাইম এবং পোর্টফোলিও নিয়মিত আপডেট করা জরুরি। শুধু দক্ষতা থাকলেই হয় না, নিজেকে ডিজিটালি উপস্থাপন করাও একটি আলাদা স্কিল। আরেকটি বাস্তব দিক হলো টেকনিক্যাল রিস্ক। ইন্টারনেট সমস্যা, পেমেন্ট গেটওয়ে জটিলতা, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এসব ফ্রিল্যান্সিংয়ের অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ। নিয়মিত ব্যাকআপ, নিরাপদ পাসওয়ার্ড এবং পেমেন্ট নীতিমালা বোঝা এখন অপরিহার্য। ফ্রিল্যান্সিংয়ে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। নতুন সফটওয়্যার শেখা, স্কিল আপগ্রেড করা এবং বাজার ট্রেন্ড বিশ্লেষণ এসবই দীর্ঘমেয়াদে সফলতার ভিত্তি গড়ে দেয়। সব মিলিয়ে, ফ্রিল্যান্সিং কোনো রাতারাতি সাফল্যের প্রযুক্তি নয়। এটি প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, কৌশলগত চিন্তা ও ধারাবাহিক শেখার সমন্বয় যেখানে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয় পরিকল্পনার মাধ্যমে।
২ডি অ্যানিমেশন সফটওয়্যার অ্যাডোবি অ্যানিমেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাডোবি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগে আরও বেশি মনোযোগ দিতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত এই সফটওয়্যারটি বন্ধের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে অ্যানিমেটর ও ডিজাইনারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) অ্যাডোবি তাদের সাপোর্ট ওয়েবসাইট হালনাগাদ করে এবং গ্রাহকদের ই–মেইলের মাধ্যমে জানায়, ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে অ্যাডোবি অ্যানিমেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। তবে এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য ২০২৯ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত সীমিত প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। অন্য গ্রাহকরা ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত সাপোর্ট পাবেন। এই ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন ব্যবহারকারীরা। অনেকেই বলেন, অ্যাডোবি অ্যানিমেটের মতো কার্যকর বিকল্প সফটওয়্যার বাজারে নেই। ফলে এটি বন্ধ হলে তাদের পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একজন ব্যবহারকারী এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লেখেন, 'এটা আমার জীবনটাই নষ্ট করে দেবে।' আরেকজন মন্তব্য করেন, 'অ্যাডোবির সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার মূল কারণই ছিল অ্যানিমেট—ওরা আসলে কী ভাবছে?' ব্যবহারকারীদের প্রবল চাপের মুখে বুধবার অ্যাডোবি এক বিবৃতিতে জানায়, আপাতত সফটওয়্যারটি বন্ধ করা হচ্ছে না। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করে দেয়, অ্যাডোবি অ্যানিমেটকে ‘মেইনটেন্যান্স মোডে’ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ, সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা গেলেও এতে আর কোনো নতুন ফিচার যুক্ত হবে না। কেবল নিরাপত্তা হালনাগাদ ও বাগ ফিক্স দেওয়া হবে। অ্যাডোবির ভাষ্য অনুযায়ী, 'অ্যাডোবি অ্যানিমেট নতুন ও পুরোনো—সব গ্রাহকের জন্যই উন্মুক্ত থাকবে। তবে আমরা আর নতুন ফিচার যোগ করছি না।'
জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok) আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছে। নতুন কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা সত্ত্বেও গ্রোক এখনো যৌনতাপূর্ণ বা আপত্তিকর ছবি তৈরি করছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা ক্ষতিকারক কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বা ‘কার্বস’ বসিয়েছিল গ্রোকের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান xAI। কিন্তু ব্যবহারকারীরা দেখতে পেয়েছেন যে, সামান্য কৌশলী প্রম্পট বা কমান্ড ব্যবহার করলেই গ্রোক এখনো বিভিন্ন আপত্তিকর এবং যৌনতাপূর্ণ ছবি তৈরি করে দিচ্ছে। এমনকি যখন সরাসরি কোনো আপত্তিকর ছবি চাওয়া হচ্ছে না, তখনও গ্রোকের ইমেজ জেনারেটর অনেক ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রদান করছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মডেলগুলোকে নিরাপদ করার জন্য যেসব ফিল্টার ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতে এখনো অনেক ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। গ্রোকের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, ইলন মাস্ক গ্রোককে ‘অবাধ বাকস্বাধীনতা’ বা ‘আনসেন্সরড’ হওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কারণেই হয়তো এর সুরক্ষাব্যবস্থা অন্য চ্যাটবটগুলোর (যেমন চ্যাটজিপিটি বা জেমিনি) তুলনায় অনেক শিথিল। উল্লেখ্য, সম্প্রতি এআই দিয়ে তৈরি পর্নোগ্রাফিক ছবি বা ‘ডিপফেক’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে তারকা এবং সাধারণ মানুষের ছবি ব্যবহার করে এ ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, যা নিয়ে বিভিন্ন দেশ কঠোর আইন করার কথা ভাবছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রোকের এই ব্যর্থতা প্রযুক্তি মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। xAI বা ইলন মাস্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি এর আগে জানিয়েছিল, তারা গ্রোকের ফিল্টারগুলোকে আরও উন্নত করার জন্য কাজ করছে।
ইলন মাস্কের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে আগামীর প্রযুক্তি। স্পেস-এক্স এবং এক্সএআই-এর এই ঐতিহাসিক একীকরণ কেবল ব্যবসায়িক চুক্তি নয়, বরং মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক অভূতপূর্ব মিলন। ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের এই নতুন শক্তি মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন থেকে শুরু করে হাই-স্পিড ইন্টারনেট—সবকিছুতেই আনবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। মহাকাশে এআই সাম্রাজ্য: প্রথমবারের মতো রকেট প্রযুক্তি এবং অ্যাডভান্সড এআই এক ছাদের নিচে। ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি: স্পেস-এক্স ও এক্সএআই মিলে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। আইপিও আসছে: আগামী জুনেই বিশাল অংকের আইপিও’র মাধ্যমে বাজিমাত করার পরিকল্পনা মাস্কের। গ্লোবাল কানেক্টিভিটি: এআই, স্পেস-ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া মিলে তৈরি হচ্ছে এক অবিচ্ছেদ্য ‘ইনোভেশন ইঞ্জিন’। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস-এক্স আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এআই স্টার্ট-আপ ‘xAI’ কে অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সোমবার এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। ইলন মাস্কের এই মাস্টারপ্ল্যানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিয়ে মহাকাশে শক্তিশালী এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন করা এবং পৃথিবীব্যাপী মুক্ত তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা। এই একীকরণের ফলে রকেট, এআই চ্যাটবট এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি হবে। আগামী জুন মাস নাগাদ এই নতুন কোম্পানিটি পাবলিক অফারিং বা আইপিও-তে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন মাস্ক। কর্মীদের দেওয়া এক বার্তায় মাস্ক জানিয়েছেন, পৃথিবী এবং মহাকাশে একটি ‘কমপ্লিট ইনোভেশন ইঞ্জিন’ তৈরি করতেই এই সাহসী উদ্যোগ।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনে মূলত আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে গঠিত টিকটকের নতুন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসা উদ্যোগ শুরুতেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষার উদ্বেগ দূর করতে এই নতুন কাঠামো তৈরি করা হলেও বাস্তবে আস্থার সংকট কাটেনি। নতুন মালিকানার আওতায় টিকটক ইউএস পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যবসা শুরুর পরপরই প্রশাসনিক জটিলতা, বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের অনিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনা মালিকানার প্রভাব পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়েছে কি না—এই প্রশ্ন এখনো মার্কিন নীতিনির্ধারক ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মনে রয়ে গেছে। ফলে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো টিকটকে বিজ্ঞাপন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এদিকে রাজনৈতিক সমর্থন থাকলেও প্রযুক্তি বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন করাই নতুন টিকটক ইউএসের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহারকারীদের তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রমাণ করতে না পারলে সামনে আরও সংকট ঘনিয়ে আসতে পারে।
দেশের বাজারে অবৈধ ও ক্লোন করা মোবাইল ফোনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং চুরি হওয়া ফোনের অপব্যবহার ঠেকাতে বিটিআরসি এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমের কার্যক্রম জোরদার করেছে। এখন থেকে আপনার নিবন্ধিত ফোনটি অন্য কাউকে দিতে বা বিক্রি করতে চাইলে অবশ্যই সেটি নিজের নাম থেকে ‘ডি-রেজিস্টার’ করতে হবে। আপনার আইএমইআই (IMEI) নম্বরটি যদি আপনার এনআইডি-র সাথে নিবন্ধিত থাকে এবং আপনি সেটি ডি-রেজিস্ট্রেশন না করেই বিক্রি করে দেন, তবে পরবর্তী ব্যবহারকারী সেই ফোনে নিজের সিম দিয়ে সেটি সক্রিয় করতে পারবেন না। এছাড়া ওই ফোন দিয়ে কোনো অপরাধ হলে তার দায়ভার আপনার ওপর আসার ঝুঁকি থাকে। গ্রাহকরা খুব সহজেই দুটি পদ্ধতিতে তাদের মোবাইল হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্টার করতে পারবেন: ১. সিটিজেন পোর্টালের মাধ্যমে (অনলাইন): প্রথমে বিটিআরসির অফিসিয়াল পোর্টাল neir.btrc.gov.bd এ গিয়ে লগইন করুন। আপনার ড্যাশবোর্ড থেকে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসটি নির্বাচন করুন। ‘ডি-রেজিস্টার’ অপশনে ক্লিক করে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) শেষ ৪টি সংখ্যা প্রদান করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করুন। ২. ইউএসএসডি (USSD) কোডের মাধ্যমে: আপনার ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *১৬১৬১# ডায়াল করুন। মেন্যু থেকে ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ (De-registration) অপশনটি বেছে নিন। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে হ্যান্ডসেটটি নিজের এনআইডি থেকে মুক্ত করুন। নিজস্ব সিম: ডি-রেজিস্ট্রেশন করার সময় ফোনে ব্যবহৃত সিমটি অবশ্যই ওই গ্রাহকের নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত থাকতে হবে। সফল বার্তা: প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে গ্রাহকের মোবাইলে একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস আসবে। এরপরই ফোনটি নতুন ব্যবহারকারীর নিবন্ধনের জন্য উন্মুক্ত হবে। বিশেষ নোট: বিটিআরসি গত ১ জানুয়ারি থেকে এই সিস্টেমটি পুরোপুরি কার্যকর করেছে। কোনো ফোন কেনার আগে সেটি অফিশিয়াল কি না তা যাচাই করতে ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD <space> ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন। আমেরিকা বাংলা নিউজ মন্তব্য: বিটিআরসির এই ডিজিটাল পদক্ষেপ দেশের মোবাইল চুরির ঘটনা কমিয়ে আনতে এবং নিরাপত্তার বলয় তৈরি করতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে ব্যবহৃত ফোন কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের এখন থেকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের এই চরম শিখরে দাঁড়িয়ে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নতুন ভবিষ্যৎবাণী পৃথিবীব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) ২০২৬-এর বার্ষিক সভায় অংশ নিয়ে মাস্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে তাঁর এই চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো: ইলন মাস্ক মনে করেন, এআই-এর উন্নতির গতি মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি। তাঁর মতে: ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ: চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বা বড়জোর ২০২৭ সালের মধ্যে এআই এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা যেকোনো একক মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হবে। আগামী ৫ বছরে (২০৩০-৩১): আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০৩০ বা ২০৩১ সাল নাগাদ এআই সমষ্টিগতভাবে পুরো মানবজাতির সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে (Superintelligence)। মাস্কের এই দাবির পেছনে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত কারণ রয়েছে: রোবোটিক্সের সমন্বয়: মাস্কের মতে, আসল বিপ্লব তখন ঘটবে যখন এআই সফটওয়্যারকে রোবোটিক্সের সাথে যুক্ত করা হবে। যেমন—টেসলার 'অপটিমাস' (Optimus) হিউম্যানয়েড রোবট। তিনি আশা করছেন, ২০২৭ সালের মধ্যেই এই রোবটগুলো সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে আসবে। অর্থনৈতিক বিস্ফোরণ: মানুষের চেয়ে রোবটের সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে, যা অভাব বা দারিদ্র্য দূর করতে সহায়ক হবে। কাজের বিবর্তন: ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ফ্যাক্টরি—সবখানেই রোবট মানুষের জায়গা নেবে। তবে মাস্ক সতর্ক করেছেন যে, এই অগ্রগতির পথে প্রযুক্তি নয় বরং বিদ্যুৎ বা এনার্জি সরবরাহ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গুগল ডিপমাইন্ডের মুখ্য এজিআই বিজ্ঞানী শেন লেগ মাস্কের এই সুরেই কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, এআই এখন কেবল সাধারণ তথ্য দেওয়া নয়, বরং যুক্তি প্রয়োগ এবং নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রেও মানুষের কাছাকাছি চলে আসছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খুব শিগগিরই মানুষের চিন্তাশক্তিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে—এমন ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তার মতে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এআই যেকোনো মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে মানবজাতির সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাস্ক বলেন, “এআই-এর উন্নতি এত দ্রুত ঘটছে যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেখা যেতে পারে, যা বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে যেকোনো মানুষের চেয়ে এগিয়ে থাকবে।” এআই ও রোবটিকস খাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। মাস্ক জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের শেষ নাগাদ সাধারণ মানুষের জন্য হিউম্যানয়েড রোবট বিক্রি শুরু করা হতে পারে। তার ভাষায়, “বয়স্ক বাবা–মায়ের দেখাশোনা, সন্তানদের খেয়াল রাখা কিংবা পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়ার জন্য প্রায় সবাই একটি নিরাপদ রোবট চাইবে। যদি রোবটটি পুরোপুরি নিরাপদ হয়, তাহলে কে না চাইবে এমন একজন সহকারী, যে এসব দায়িত্ব পালন করবে?” ইলন মাস্ক আরও বলেন, ভবিষ্যতে এত বেশি রোবট ও এআই তৈরি হবে যে সেগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। তার অনুমান, এক সময় পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যার চেয়েও বেশি রোবট থাকবে। দাভোসে মাস্কের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ে, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই সম্মেলনকে তিনি ‘এলিটদের ক্লাব’, ‘জবাবদিহিহীন’ এবং ‘সাধারণ মানুষের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
আমেরিকা বাংলা । প্রযুক্তি ডেস্ক: দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ওপেনএআই তাদের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এখন থেকে চ্যাটজিপিটির ফ্রি ভার্সনে প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপন বা 'Ads' দেখানো হবে। মূলত প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই বিশাল এআই মডেল পরিচালনা করার ব্যয়ভার সামলাতেই এমন কঠোর ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বিজ্ঞাপন দেখানোর পেছনের আসল কারণ: ওপেনএআই-এর মিশন হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সবার জন্য সহজলভ্য করা। কিন্তু বর্তমানে ফ্রি ইউজারদের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভিস দেওয়াটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা এক ধরণের 'বিনিময়' ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। এখন থেকে ফ্রি ইউজাররা বিজ্ঞাপন দেখবেন ঠিকই, কিন্তু এর বদলে তারা পাবেন ওপেনএআই-এর সর্বশেষ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী প্রিমিয়াম মডেলগুলোর এক্সেস। অর্থাৎ, স্রেফ বিজ্ঞাপনের বিনিময়ে আপনি উপভোগ করতে পারবেন প্রিমিয়াম লেভেলের সব ফিচার। আপনার প্রাইভেসি কি ঝুঁকির মুখে? সবচেয়ে বড় উদ্বেগটি ছিল ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে। তবে আশার কথা হলো, ওপেনএআই অত্যন্ত জোরালোভাবে জানিয়েছে যে তারা অন্য টেক জায়ান্টদের মতো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বা চ্যাট হিস্ট্রি অ্যাডভারটাইজারদের কাছে বিক্রি করবে না। এমনকি আপনার চ্যাটের বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে কোনো ধরণের টার্গেটেড বিজ্ঞাপনও দেখানো হবে না। আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ইনফরমেশন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে বলে প্রমিস করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কাদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য? এই নতুন নিয়ম মূলত চ্যাটজিপিটির ফ্রি টিয়ারের ইউজারদের জন্য। যারা ইতোমধ্যেই ChatGPT Plus বা Team সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করছেন, তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। পেইড ইউজাররা বরাবরের মতোই সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপনমুক্ত ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা পাবেন। অনেকটা ইউটিউবের মতোই—আপনি চাইলে ফ্রিতে বিজ্ঞাপনসহ ব্যবহার করবেন, অথবা নির্দিষ্ট মূল্যে 'অ্যাড-ফ্রি' প্রিমিয়াম সার্ভিস বেছে নেবেন। এই বিজ্ঞাপনী আয় থেকে অর্জিত অর্থ ওপেনএআই চ্যারিটি, অলাভজনক সংস্থা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি ফ্রি টুলস ও রিসোর্স উন্মুক্ত করতে ব্যয় করবে বলে জানিয়েছে। এআই-এর এই বিবর্তন আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস