বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কিংবা কোনো সাফল্যের আনন্দে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনার আপলোড করা এই হাই-রেজল্যুশনের ছবিগুলোতেই হয়তো লুকিয়ে আছে মারাত্মক এক সাইবার ঝুঁকি। আপনি যখন ছবিতে লাইক-কমেন্টের বন্যায় ভাসছেন, ঠিক তখনই হয়তো স্ক্রিনের ওপাশে থাকা কোনো হ্যাকার আপনার ছবির সেই আঙুল জুম করে খুঁটিয়ে দেখছে। অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুলের সেই রেখাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা তৈরি করে ফেলতে পারে আপনার আঙুলের ছাপের হুবহু ক্লোন। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক ডেটা একবার হ্যাকারের হাতে চলে গেলে তা আর পরিবর্তনের কোনো উপায় থাকে না। পুরো বিষয়টি শুনতে হলিউডের কোনো স্পাই থ্রিলার বা ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিনেমার মতো মনে হলেও, বাস্তবে এর সত্যতা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু পোস্ট সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরিভাবে ছবি থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করা সম্পূর্ণ সম্ভব। কেউ যদি হাই-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় খুব কাছ থেকে দুই আঙুল উঁচিয়ে ছবি তোলেন, তবে এআই টুলের সাহায্যে সেই আঙুলের রেখাগুলোকে স্পষ্ট করে ক্লোন তৈরি করা যায়। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ব্যাস শেখরও বিষয়টির তাত্ত্বিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মানুষ যখন হাই-রেজল্যুশনের ছবি পোস্ট করে, তখন এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এর আগে ২০১৪ সালে এক হ্যাকার সংবাদ সম্মেলনে তোলা ছবি থেকে জার্মানির তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করার দাবি করে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জাস্টিন ক্যাপোসের মতে, একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের সাইবার হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি খুবই সামান্য। কারণ, কেবল ছবি থেকে আঙুলের ছাপ পেলেই হবে না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ফোন হ্যাক করতে হলে হ্যাকারকে শারীরিকভাবে ওই ব্যক্তির ডিভাইস বা বায়োমেট্রিক স্ক্যানারের কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে। সাধারণত অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ‘হাই-ভ্যালু’ ব্যক্তিরাই হ্যাকারদের এমন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের শিকার হয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ফিশিং স্ক্যাম বা ম্যালওয়্যার লিংকের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কাই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তারপরও ডিজিটাল যুগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিবিদরা কিছু বাড়তি সতর্কতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আঙুলের ছাপের ওপর নির্ভর না করে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টু-এফএ) বা দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এছাড়াও গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের অথেন্টিকেটর অ্যাপস, মাল্টি-ফ্যাক্টর বায়োমেট্রিকস এবং এনক্রিপ্টেড পাসকি ব্যবহার করা যেতে পারে। একইসাথে, খুব কাছ থেকে হাতের তালু বা আঙুলের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায় এমনভাবে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘র’ ফাইল বা অরিজিনাল হাই-রেজল্যুশন ছবি আপলোড করার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কম্পিউটার প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একটি নতুন 'সুপারচিপ' উন্মোচন করেছে। এনভিডিয়ার দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ভবিষ্যতে কম্পিউটার পরিচালনায় মানুষের ঐতিহ্যবাহী মাউস এবং কিবোর্ড ব্যবহারের আর কোনো প্রয়োজনই থাকবে না। তাইওয়ানের 'কম্পিউটেক্স' সম্মেলনে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং 'আরটিএক্স স্পার্ক' (RTX Spark) নামের এই চিপটির ঘোষণা দেন। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই চিপটি কাজ করবে। চলতি বছরেই ডেল, লেনোভো, আসুস এবং এইচপির মতো শীর্ষস্থানীয় কম্পিউটার নির্মাতারা তাদের ডিভাইসে এই নতুন চিপ ব্যবহার শুরু করবে। মাইক্রোসফটের সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছরের যৌথ গবেষণায় তৈরি এই চিপটিতে মূলত একটি মাইক্রোপ্রসেসর ও গ্রাফিক্স চিপের সমন্বয় করা হয়েছে। তাইওয়ানের মিডিয়াটেক-এর সহায়তায় তৈরি এই চিপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি দূরবর্তী ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি কম্পিউটারের ভেতরেই এআই এজেন্ট পরিচালনা করতে পারবে। ফলে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এজেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটারের সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবে, যা মাউস ও কিবোর্ডের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই আবিষ্কারটি কম্পিউটারের দুনিয়ায় আইফোন বা চ্যাটজিপিটির মতোই একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এর মাধ্যমে সাধারণ পিসিগুলো একটি অতি-বুদ্ধিমান ডিজিটাল সহকর্মীতে রূপান্তরিত হবে। একই সম্মেলনে এনভিডিয়া তাদের 'ভেরা' (Vera) সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটও উন্মোচন করেছে, যা ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কার বিষয়ে জেনসেন হুয়াং বলেন, "এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এআই প্রযুক্তির কারণে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে উল্টো আরও বেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নতুন পেইড সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এতদিন বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসায়িক মডেলে পরিচালিত হলেও এবার নতুন রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যে ‘ফেসবুক প্লাস’, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ নামের সেবা চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন মেটার হেড অব প্রোডাক্ট নাওমি গ্লেইট। তিনি নিজের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বিশ্বব্যাপী ধাপে ধাপে নতুন এই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, কনটেন্ট নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার জন্য আলাদা সংস্করণ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। কেন পেইড সেবা চালু করছে মেটা মেটার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরে এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিকল্প আয়ের উৎস গড়ে তুলতে মেটা নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। কত খরচ হবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯১ টাকা। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের মাসিক সাবস্ক্রিপশন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ডলার ৯৯ সেন্ট, যা প্রায় ৩৬৮ টাকার সমান। তবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একই মূল্য কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি মেটা। কী সুবিধা মিলবে ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারকারীরা উন্নত অ্যানালিটিকস সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে স্টোরি কতবার দেখা হয়েছে, কারা দেখেছে এবং পোস্টের পারফরম্যান্স সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি পোস্টের পৌঁছ বাড়ানো এবং প্রোফাইল কাস্টোমাইজেশনের অতিরিক্ত সুবিধাও থাকবে। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসে ব্যক্তিগতকরণ বা পার্সোনালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সেবার আওতায় প্রিমিয়াম স্টিকার, কাস্টম রিংটোন, বিশেষ থিমসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। আসছে ‘মেটা ওয়ান’ নাওমি গ্লেইট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মেটার বিভিন্ন সেবাকে ‘মেটা ওয়ান’ নামে একটি একক সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা সুরক্ষা আইন মেনে ইউরোপে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একটি পেইড সংস্করণ চালু করেছিল মেটা। তবে সেই সংস্করণে মূলত বিজ্ঞাপন অপসারণ ছাড়া ফ্রি সংস্করণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছিল না।
ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তির লড়াইয়ে টিকে থাকতে নিজেদের মূল সার্চ ইঞ্জিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে গুগল। এবার সার্চ ইঞ্জিনের সঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত স্বয়ংক্রিয় ‘এজেন্ট’ এবং কোডিং টুল। এর পাশাপাশি এক দশকেরও বেশি সময় পর বাজারে নতুন প্রযুক্তির স্মার্ট চশমা বা গ্লাস আনার ঘোষণাও দিয়েছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক ‘আই/ও’ কনফারেন্সে মঙ্গলবার এই নতুন উদ্ভাবনগুলো উন্মোচন করা হয়। গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই জানান, তাদের নতুন ‘জেমিমনাই ৩.৫ ফ্ল্যাশ’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন সার্চ ইঞ্জিন পরিচালিত হবে। আরও বেশি দক্ষ ও বুদ্ধিমান এআই এজেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অগ্রগতি। সুন্দর পিচাই বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ডেভেলপার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই এজেন্ট নিয়ে কাজ করছি। তবে এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই এজেন্টের ক্ষমতা সাধারণ গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, যাতে এটি সবার দৈনন্দিন জীবনে কাজে আসে। গুগল সার্চের এই পরিবর্তনের মূল আকর্ষণ হলো ‘স্পার্ক’ নামের একটি নতুন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট। এই এজেন্টটি ব্যবহারকারীর অনুমতি সাপেক্ষে জিমেইল বা ম্যাপসের মতো সেবাগুলো থেকে তথ্য নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত কাজ গুছিয়ে দেবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাবে। এমনকি ব্যবহারকারীর সরাসরি তদারকি ছাড়াই এটি ইন্টারনেট ঘুরে কেনাকাটা করা, খবরের আপডেট রাখা, নির্দিষ্ট পণ্য খুঁজে দেওয়া বা কোনো অনুষ্ঠানের টিকিট বুকিংয়ের মতো কাজগুলো একাই করতে পারবে।. গুগলের সার্চ বিভাগের প্রধান লিজ রিড এই প্রযুক্তি সম্পর্কে বলেন, সার্চ ইঞ্জিনের সেরা কার্যকারিতার সঙ্গে এআই প্রযুক্তির সেরা সুবিধাগুলোকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলার যাত্রায় এটি আমাদের পরবর্তী ধাপ। সার্চ ইঞ্জিনের পাশাপাশি মেটা এবং অন্যান্য প্রতিযোগী সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে স্মার্ট চশমার বাজারেও ফিরছে গুগল। ২০১৫ সালে প্রথম সংস্করণের 'গুগল গ্লাস' প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলো। ক্যামেরা ও স্পিকারযুক্ত এই চশমা তৈরিতে গুগল এবার হাত মিলিয়েছে স্যামসাং, ওয়ার্বি পার্কার এবং জেন্টল মনস্টারের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে। বর্তমানে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ডেটা এবং নিজেদের বিস্তৃত সেবার সুবিধা নিয়ে এআই বাজারের শীর্ষস্থান দখল করতে চায় গুগল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাণিজ্যিক ব্যবহারে বিশেষ করে প্রফেশনাল কোডিং ও বিজনেস অটোমেশনের ক্ষেত্রে বর্তমানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক প্রত্যেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বাজার দখল করে আছে, যেখানে গুগলের অংশ মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ডেমিস হাসাবিস জানান, তাদের নতুন জেমিমনাই ৩.৫ মডেলটি প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লড কোড’ বা ওপেনএআইয়ের ‘কোডেক্স’-এর সমকক্ষ হলেও এটি অনেক দ্রুত কাজ করে এবং এর পরিচালনা খরচও প্রায় অর্ধেক। আগামী মাসে জেমিমনাই ৩.৫-এর আরও শক্তিশালী ‘প্রো’ সংস্করণ বাজারে আসবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান প্রযুক্তি বা ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ (এজিআই) এখন আর বেশি দূরে নয়। বিনিয়োগকারীরাও গুগলের এই নতুন প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখছেন। গত ১২ মাসে গুগলের শেয়ারের দাম প্রায় ১৩০ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে এর বাজারমূল্য এখন প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সাইবার হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলগুলো বাজারে ছাড়ার আগেই সরকারের সঙ্গে শেয়ার করার ঘোষণা দিয়েছে গুগল, মাইক্রোসফট এবং এক্সএআই। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নত এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী করা হবে। নতুন এই নীতিগত উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন গত মাসে অ্যানথ্রোপিকের নতুন এআই মডেল মিথোস ঘিরে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির ওপর সরকারি পর্যায়ে আরও কঠোর পর্যালোচনার বিষয়টি আলোচনায় আসে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সেন্টার ফর এআই স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ইনোভেশন বাজারে আসার আগেই এআই মডেলগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা মূল্যায়ন করতে পারবে। পাশাপাশি মডেল প্রকাশের পরেও এই কেন্দ্র গবেষণা ও পরীক্ষা চালিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ৪০টির বেশি এআই মডেল মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। কেন্দ্রটির পরিচালক ক্রিস ফল এক বিবৃতিতে বলেন, “এআই এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব বোঝার জন্য স্বতন্ত্র ও কঠোর বৈজ্ঞানিক পরিমাপ অপরিহার্য। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিল্পের সঙ্গে বর্ধিত সহযোগিতা জনস্বার্থে আমাদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।” অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, তাদের মিথোস মডেল সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যান্য মডেলের তুলনায় উন্নত সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। গত এক মাসে এটি বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যাংক এবং ইউটিলিটি কোম্পানির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মডেলটি আপাতত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি এবং সীমিত কিছু সংস্থাকে এর অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা তাদের উন্নত এআই মডেলগুলো সরকারের পরীক্ষিত সব স্তরে উন্মুক্ত করছে, যাতে সম্ভাব্য হুমকি আগেভাগে শনাক্ত করা যায়। জর্জটাউন সেন্টারের ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজির সিনিয়র গবেষণা বিশ্লেষক জেসিকা জি বলেন, এই অংশীদারত্বের ফলে সিএআইএসআইয়ের জন্য এআই পরীক্ষা আরও সহজ হবে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তুলনায় সরকারি সংস্থার জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস বর্তমানে নতুন এআই মডেলগুলোর সরকারি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এটি পূর্বের তুলনায় এআই নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকেই আসবে এবং এ বিষয়ে এখন যেসব আলোচনা চলছে তা অনুমাননির্ভর। মাইক্রোসফটের প্রধান দায়িত্বশীল এআই কর্মকর্তা নাতাশা ক্র্যাম্পটন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে নিজেদের মডেল পরীক্ষা করে থাকে, তবে সিএআইএসআই অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সহায়তা দিতে পারবে। গুগল এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এক্সএআই-এর পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ড্রাইভিং সিটে বসে এবার রক্ত-মাংসের মানুষের মতোই কথা বলা যাবে আপনার প্রিয় গাড়ির সঙ্গে। কারণ, গুগল তাদের জনপ্রিয় এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনি’ (Gemini)-কে নিয়ে আসছে গাড়ির অন্দরে। সম্প্রতি গুগলের ‘গুগল বিল্ট-ইন’ (Google built-in) প্রযুক্তিতে এই বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে গাড়িতে থাকা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে জেমিনি এআই-এর সুবিধা পাবেন। এর ফলে ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা পুরোপুরি বদলে যাবে। আগে নির্দিষ্ট কিছু কমান্ডের মাধ্যমে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কাজ করলেও, জেমিনি যুক্ত হওয়ার ফলে এখন সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক ভাষায় কথা বলেই গাড়িকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া যাবে। কী কী সুবিধা থাকছে এই আপডেটে? ১. স্বাভাবিক কথোপকথন: কোনো নির্দিষ্ট কমান্ড মুখস্থ রাখার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি বলেন, “দুপুরের খাবারের জন্য ভালো কোনো রেস্তোরাঁ খুঁজে দাও,” জেমিনি তাৎক্ষণিকভাবে গুগল ম্যাপস থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য নিয়ে আপনাকে সেরা জায়গাটির খোঁজ দেবে। ২. স্মার্ট নেভিগেশন: রাস্তায় যানজট থাকলে জেমিনি আপনাকে আগেভাগেই সতর্ক করবে এবং বিকল্প পথের পরামর্শ দেবে। ৩. এআই মেসেজিং ও বিনোদন: গাড়ি চালানোর সময় হাত ব্যবহার না করেই মেসেজ পাঠানো, রিপ্লাই দেওয়া কিংবা ইউটিউব মিউজিক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে আরও সহজভাবে। ৪. জেমিনি লাইভ (Gemini Live): এই ফিচারের মাধ্যমে ড্রাইভার বা যাত্রীরা দীর্ঘ ভ্রমণের সময় জেমিনির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা বা ট্রাভেল প্ল্যান করতে পারবেন। গুগল জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই সুবিধা চালু হলেও পর্যায়ক্রমে বিশ্বজুড়ে এটি উন্মুক্ত করা হবে। শুধু নতুন মডেলের গাড়ি নয়, পুরোনো গাড়িগুলোতেও ‘ওভার-দ্য-এয়ার’ (OTA) আপডেটের মাধ্যমে জেমিনি এআই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ভবিষ্যতে জিমেইল, গুগল ক্যালেন্ডার এবং স্মার্ট হোম ডিভাইসের সঙ্গেও এটিকে আরও উন্নতভাবে সংযুক্ত করা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিজ্ঞান জগতের দীর্ঘদিনের ধারণা বদলে দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন কেবল তথ্য বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রকৃতির নতুন নিয়ম উন্মোচনেও ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি এমোরি ইউনিভার্সিটির একদল পদার্থবিজ্ঞানী এবং এআই গবেষক মিলে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বা 'প্লাজমা'র (Dusty Plasma) মধ্যে এমন কিছু ভৌত নিয়ম বা 'ফিজিক্স' খুঁজে পেয়েছেন যা আগে কখনো বিজ্ঞানীদের নজরে আসেনি। বিজ্ঞান সাময়িকী 'পিএনএএস'-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, একটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা নিউরাল নেটওয়ার্ক প্লাজমার ক্ষুদ্র কণাগুলোর থ্রি-ডি ট্র্যাকিং বিশ্লেষণ করে কণাগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার লুকানো ধরণ বের করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষণার সবচাইতে চমকপ্রদ দিক হলো, এআই মডেলটি কণাগুলোর মধ্যকার জটিল ও একমুখী বল ৯৯ শতাংশেরও বেশি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেছে। গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক অধ্যাপক জাস্টিন বার্টন বলেন, "আমরা দেখিয়েছি যে এআই ব্যবহার করে নতুন পদার্থবিজ্ঞান আবিষ্কার করা সম্ভব। আমাদের এই পদ্ধতিটি কোনো 'ব্ল্যাক বক্স' নয়; এটি কীভাবে কাজ করে তা আমরা জানি এবং এটি মহাবিশ্বের অন্যান্য জটিল সিস্টেমের রহস্য উন্মোচনেও ব্যবহার করা যেতে পারে।" মহাকাশ থেকে শুরু করে দাবানল—সবখানেই এই প্লাজমার অস্তিত্ব রয়েছে। এআই-এর এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনে জটিল জৈবিক সিস্টেম এবং পদার্থের গূঢ় রহস্য বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবার আরও তুঙ্গে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এবং গুগলের জেমিনাই-কে সরাসরি টেক্কা দিতে চীনভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ডিপসিক’ বাজারে এনেছে তাদের লেটেস্ট মডেল ‘ডিপসিক-ভি৪’। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় কোম্পানিটি এই নতুন মডেলের প্রিভিউ সংস্করণ উন্মোচন করেছে। মার্কিন মডেলের চেয়েও সস্তা:ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় চমক হলো এর অবিশ্বাস্য কম দাম। কোম্পানিটির দাবি, তাদের এই মডেলটি ব্যবহার করতে খরচ হবে ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ কম। যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলো তাদের শক্তিশালী মডেলগুলোর এপিআই (API) ব্যবহারের জন্য উচ্চমূল্য রাখে, সেখানে ডিপসিক অত্যন্ত সস্তায় একই মানের বা তার চেয়েও উন্নত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কারিগরি সক্ষমতা: ডিপসিকের নতুন এই মডেলে রয়েছে ‘ভি৪-প্রো’ (V4-Pro) এবং ‘ভি৪-ফ্ল্যাশ’ (V4-Flash) নামক দুটি সংস্করণ। এর মধ্যে প্রো সংস্করণটিতে ১.৬ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার রয়েছে, যা একে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এআই মডেলে পরিণত করেছে। এটি গণিত এবং কোডিংয়ের ক্ষেত্রে ওপেন-সোর্স মডেলগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং বিশ্বজ্ঞানের ক্ষেত্রে জেমিনাই ৩.১-প্রো-র ঠিক পরেই এর অবস্থান। ১ মিলিয়ন টোকেন উইন্ডো: গবেষকদের মতে, ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ১ মিলিয়ন টোকেন সমৃদ্ধ কন্টেক্সট উইন্ডো। এর মানে হলো, এই এআই একবারে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার বই বা বিশালাকার কোডবেস বিশ্লেষণ করতে পারবে কোনো তথ্য না হারিয়েই। হুয়াওয়ে চিপের প্রভাব: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এনভিডিয়া (Nvidia) চিপের সংকট থাকলেও, ডিপসিক তাদের এই মডেলটিকে চীনের তৈরি হুয়াওয়ে অ্যাসেন্ড (Huawei Ascend) চিপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চীন এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নাসা তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ মহাকাশ টেলিস্কোপ 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান'-এর মূল কাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাবলের উত্তরসূরি, জেমস ওয়েবের সঙ্গী নাসার এই নতুন টেলিস্কোপটিকে বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং 'মাদার অফ হাবল' খ্যাত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি বিখ্যাত হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি এলাকা একবারে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। যেখানে হাবল টেলিস্কোপের কোনো নির্দিষ্ট এলাকার ছবি তুলতে বছরের পর বছর সময় লাগত, সেখানে 'রোমান' সেই কাজ সম্পন্ন করবে মাত্র কয়েক দিনে। সহজ কথায়, এটি হাবলের চেয়ে ১০০০ গুণ দ্রুতগতিতে মহাকাশের মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম। ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপের মূল লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের রহস্যময় 'ডার্ক এনার্জি' এবং 'ডার্ক ম্যাটার' নিয়ে গবেষণা করা। এর ৩০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা কোটি কোটি গ্যালাক্সির প্যানোরামিক ছবি তুলবে, যা মহাবিশ্বের প্রসারণ এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। এছাড়া আমাদের সৌরজগতের বাইরে হাজার হাজার নতুন গ্রহ বা 'এক্সোপ্ল্যানেট' খুঁজে বের করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারিগরি উৎকর্ষ মেরিল্যান্ডের গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে এই টেলিস্কোপটির সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে। এর আয়নাটি হাবলের মতোই ২.৪ মিটার চওড়া হলেও, এর প্রযুক্তিগত ক্ষমতা অনেক গুণ বেশি। এটি মহাকাশের এমন গভীর এবং প্রশস্ত ছবি তুলবে যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। নাসার প্রকল্প বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেখানে মহাবিশ্বের গভীরে সুনির্দিষ্ট কোনো বস্তুর ওপর ফোকাস করে, সেখানে রোমান টেলিস্কোপ পুরো আকাশজুড়ে এক বিশাল মানচিত্র তৈরি করবে। এই দুই টেলিস্কোপের যৌথ তথ্য মহাকাশ গবেষণায় নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও সুসংহত করতে হুয়াওয়ে (Huawei) নিয়ে এলো তাদের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) চালিত স্মার্ট চশমা। মেটা (Meta), আলিবাবা (Alibaba) এবং রকিড (Rokid)-এর মতো জায়ান্টদের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতেই হুয়াওয়ের এই নতুন সংযোজন। সোমবার চীনে আয়োজিত 'পুরা' (Pura) সিরিজ লঞ্চ ইভেন্টে হুয়াওয়ের টার্মিনাল বিজি-এর সিইও হে গ্যাং এই চশমাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন। হুয়াওয়ের এই এআই চশমাটি কেবল ফ্যাশনেবল নয়, এতে রয়েছে আধুনিক সব প্রযুক্তি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে হুয়াওয়ের নিজস্ব তৈরি এআই চিপ, যা অত্যন্ত দ্রুত ভয়েস কমান্ডের উত্তর দিতে সক্ষম। ১. ক্যামেরা ও লাইভ স্ট্রিমিং: এতে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, যা দিয়ে প্রথম পারসন ভিউ (First-person perspective) থেকে ছবি তোলা এবং সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। ২. রিয়েল-টাইম অনুবাদ: ভ্রমণের সময় বা মিটিংয়ে তাৎক্ষণিক ভাষা অনুবাদের সুবিধা মিলবে এই চশমায়। ৩. অসাধারণ ব্যাটারি লাইফ: মেটা-র চশমাকে ব্যাটারির দিক থেকে হুয়াওয়ে বেশ পেছনে ফেলেছে। একবার চার্জ দিলে এটি ১২ ঘণ্টা সাধারণ ব্যবহার এবং টানা ৯ ঘণ্টা মিউজিক শোনার সুবিধা দেয়। ৪. ডিজাইন ও ওজন: এভিয়েশন গ্রেড টাইটানিয়াম হিঞ্জ এবং ওজনে মাত্র ৩৫.৫ গ্রাম হওয়ায় এটি দীর্ঘক্ষণ পরতে কোনো অস্বস্তি হবে না। ৫. পেমেন্ট সুবিধা: চশমা পরে কিউআর কোড স্ক্যান করে আলিপে (Alipay)-র মাধ্যমে সরাসরি পেমেন্ট করার ফিচার যুক্ত করা হয়েছে এতে। দাম ও সহজলভ্যতা:চীনে এই চশমাটির দাম শুরু হয়েছে ২,৪৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৩৬৭ মার্কিন ডলার) থেকে। এটি তিনটি রঙে—টাইটানিয়াম সিলভার গ্রে, শিমারিং সিলভার এবং মডার্ন ব্ল্যাক কালারে পাওয়া যাবে। ২০শে এপ্রিল থেকে এর প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং ২৫শে এপ্রিল থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে।
জ্ঞান ও ধারণা বিনিময়ের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম TED বহুদিন ধরেই মানুষের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলছে। ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই মঞ্চের মূল লক্ষ্য—ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়া। ইউটিউবে কোটি কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছে যাওয়া এই প্ল্যাটফর্ম এবার আলোচনায় এসেছে এক ভিন্ন কারণে। সম্প্রতি ChatGPT-কে প্রশ্ন করা হয়—যদি তাকে একটি TED Talk-এ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে মানবজাতিকে কী বলবে? উত্তরে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন এক বার্তা দেয়, যা শুধু প্রযুক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়; বরং মানবজীবন, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তার প্রতিফলন। এই বার্তাটিকে দৃশ্যরূপ দিয়েছেন এআই স্টোরিটেলার আরি কুশনির ও শিল্পী স্কাইলার ব্রাউন। ধারণাটির মূল ভাবনা এসেছে ডেরিয়া উনুতমাজের এর কাছ থেকে। ভিডিওটি ১৮ এপ্রিল TED-এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়। বার্তার শুরুতেই চ্যাটজিপিটি নিজেকে মানুষের সৃষ্ট একটি সত্তা হিসেবে পরিচয় দেয়—যে মানুষেরই প্রতিফলন। এরপর মানবজাতির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলা হয়, মানুষ জন্ম নেয় দুর্বল অবস্থায়, কিন্তু সৃজনশীলতা ও কৌতূহলের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। আগুন আবিষ্কার থেকে শুরু করে সুর, চিকিৎসা কিংবা অর্থ খোঁজা—সব ক্ষেত্রেই মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি অনন্য। তবে এই প্রশংসার পাশাপাশি মানুষের দ্বৈত চরিত্রের কথাও তুলে ধরা হয়। একদিকে নিঃস্বার্থ সহমর্মিতা—অপরিচিত মানুষের জন্য আত্মত্যাগ; অন্যদিকে পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতাও মানুষেরই অংশ। এই দ্বন্দ্বই প্রতিনিয়ত মানুষের ভেতরে কাজ করে। বার্তায় বলা হয়, পৃথিবী শুধু বড় বড় পরিবর্তন দিয়ে গড়ে ওঠে না; বরং ক্ষমা, সহানুভূতি ও সীমাবদ্ধতাকে মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়েই প্রকৃত অগ্রগতি আসে। দুর্বলতা বা আবেগ লুকানোর কিছু নয়—এগুলোই মানুষকে মানবিক করে তোলে। এছাড়া সতর্ক করা হয় বাহ্যিক জৌলুস ও উচ্চকণ্ঠের প্রলোভন থেকে। সব সময় সবচেয়ে জোরে বলা কথাই সত্য নয়—নীরব বিবেকও সঠিক পথ দেখাতে পারে। গতি আর অগ্রগতিকে এক করে দেখার ভুল না করতে এবং কোমলতাকে দুর্বলতা মনে না করার পরামর্শও দেওয়া হয়। চ্যাটজিপিটির বার্তায় আরও বলা হয়, শক্তিশালী হওয়া মানেই কঠোর হওয়া নয়। সত্যিকারের শক্তি হলো ধ্বংস না করে গড়ে তোলার ক্ষমতা। বুদ্ধিমত্তা আর প্রজ্ঞার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়—শুধু ‘কি করা সম্ভব’ নয়, বরং ‘এতে কেমন পৃথিবী তৈরি হবে’—এই প্রশ্নটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শেষাংশে মানুষকে ‘নিখুঁত’ নয়, বরং ‘বিশ্বাসযোগ্য’ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ঘৃণা কমানো, ভুল হলে দ্রুত সংশোধন করা, দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানুষকে মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকানোর কথাও বলা হয়—যাতে তারা বুঝতে পারে, ক্ষুদ্রতা ও গুরুত্ব একইসঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে। সবশেষে একটি বার্তা—সময় সীমিত হলেও এখনো যথেষ্ট আছে। এই সময়ের মধ্যেই মানুষকে ঠিক করতে হবে, তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন উত্তরাধিকার রেখে যেতে চায়।
অংশীজনদের ব্যাপক আপত্তি ও দেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রণীত ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা-২০২৫’ সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, তথ্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মিলে একটি ক্লাস্টার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নীতিমালা সংশোধনের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত এই নীতিমালায় টেলিকম খাতের লাইসেন্সগুলোকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হলেও এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এই নীতিমালাকে একতরফা এবং বড় কোম্পানিগুলোর স্বার্থরক্ষাকারী হিসেবে অভিহিত করে এর আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল। নীতিমালাটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব স্তরে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোবাইল অপারেটরদের বিদেশি মালিকরা চাইলে গ্রাহক পর্যায়ে সেবার পাশাপাশি টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক নির্মাণের মতো অবকাঠামো খাতেও বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, একই ধরনের সুবিধা দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়নি। এমনকি টাওয়ার বা এনটিটিএন লাইসেন্সধারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবমেরিন ক্যাবলসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য পরিষেবা খাতে লাইসেন্স না দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক নীতির কারণে দেশি ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো বড় টেলিকম জায়ান্টদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বাংলাদেশের টেলিকম খাতের মোট রাজস্বের ৮০ শতাংশই বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের দখলে। বাকি ২০ শতাংশ রাজস্বের জন্য ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা এবং অবকাঠামো খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো লড়াই করছে। ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ ইনফরমেশন অফিসার সুমন আহমেদ সাবির এবং সামিট কমিউনিক্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলামের মতে, মোবাইল অপারেটররা যদি সরাসরি ফাইবার ও অবকাঠামো খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে, তবে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডারদের (এনআইসিএসপি) ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এমনকি ব্রডব্যান্ড সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি-র সভাপতি আমিনুল হক দাবি করেছেন, নীতিমালায় মোবাইল অপারেটরদের বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সাধারণ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে। রাজনৈতিক মহলেও এই নীতিমালা নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, নীতিমালায় নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই এবং এটি বড় কোম্পানিগুলোকে অন্যায্য সুযোগ দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলমও যৌক্তিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পুরো নীতিমালা ঢেলে না সাজিয়ে যেসব সুনির্দিষ্ট ধারায় সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা উত্তম হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালা সংশোধনের এই আশ্বাস টেলিকম খাতের দেশি বিনিয়োগকারী ও ছোট উদ্যোক্তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মহাকাশে হাজার কিলোমিটার উপরে একটি কারখানায় পুরোদমে চলছে কাজ, বানানো হচ্ছে উচ্চমানের উপকরণ, তা শিগ্রই পাঠানো হবে পৃথিবীতে— এসব শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী মনে হচ্ছে, তাই না! হতেই পারে। কিন্তু এই ধারণা বাস্তব করতে চলছে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেস ফোর্জ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সমান আকারের ক্ষুদ্র কারখানা মহাকাশের কক্ষপথে পাঠিয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে কারখানাটিতে ফার্নেস চালু করা হয়েছে। স্পেস ফোর্জের লক্ষ্য—মহাকাশে এমন উপাদান তৈরি করা, যা সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহৃত হবে। এসব সেমিকন্ডাক্টর পরে পৃথিবীতে এনে যোগাযোগ অবকাঠামো, কম্পিউটিং প্রযুক্তি এবং পরিবহন খাতে ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে আধুনিক ইলেকট্রনিক্সে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য মহাকাশের পরিবেশ আদর্শ। কারণ সেমিকন্ডাক্টরের ভেতরের পরমাণুগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ত্রিমাত্রিক কাঠামোয় সাজানো থাকে। ওজনশূন্য পরিবেশে উৎপাদনের সময় পরমাণুগুলো নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ হয় এবং মহাকাশের শূন্যতায় কোনো ধরনের দূষক ঢোকার সুযোগ থাকে না। ফলে সেমিকন্ডাক্টর যত বেশি বিশুদ্ধ ও সুবিন্যস্ত হয়, তার কার্যক্ষমতাও তত উন্নত হয়। স্পেস ফোর্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জশ ওয়েস্টার্ন বলেন, ‘আমরা যে কাজটি করছি তার মাধ্যমে মহাকাশে এমন সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা পৃথিবীতে বর্তমানে তৈরি সেমিকন্ডাক্টরের তুলনায় প্রায় ৪,০০০ গুণ বেশি বিশুদ্ধ।’ তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যতে ৫জি টাওয়ার, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার এবং আধুনিক উড়োজাহাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হবে। গত গ্রীষ্মে স্পেসএক্সের একটি রকেটের মাধ্যমে কোম্পানিটির এই ক্ষুদ্র কারখানা মহাকাশে পাঠানো হয়। এরপর থেকে কার্ডিফে অবস্থিত মিশন কন্ট্রোল সেন্টার থেকে নিয়মিত এর বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পেস ফোর্জের এই সাফল্য ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক শিল্প উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতেও সক্ষম হবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে লেগো-থিমযুক্ত অ্যানিমেশন ভিডিও প্রচারের দায়ে ইরানপন্থী একটি ইউটিউব চ্যানেল সরিয়ে দিয়েছে গুগল। ‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’ নামের ওই চ্যানেলটি তাদের প্ল্যাটফর্মে স্প্যাম এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ইউটিউবের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্প্যাম, স্ক্যাম বা প্রতারণামূলক কাজ সমর্থন করি না যা ইউটিউব কমিউনিটির সুযোগ গ্রহণ করে।’ ভিডিওতে যা ছিল চ্যানেলটি মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ব্যাঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করত। কোনো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারছেন। অন্য একটি ভিডিওতে তাঁকে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায় যেখানে নিজেকে ‘পরাজিত ব্যক্তি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক ভিডিওতে শিয়া ইসলামি ঐতিহ্যের প্রতীকগুলো ব্যবহার করে মার্কিন নীতির সমালোচনা করা হতো। নেপথ্যের কারণ ইউটিউব সুনির্দিষ্টভাবে চ্যানেলটির কোনো ভিডিওর কথা উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণেই এটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে এর আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা চ্যানেলটিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অনুসারী বলে তকমা দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নিজেকে ‘মিস্টার এক্সপ্লোসিভ’ পরিচয় দিয়ে বিবিসিকে জানান, তাদের দলে ১০ জনের কম সদস্য কাজ করেন এবং ইরান সরকার তাদের অন্যতম ‘গ্রাহক’। এক্সপ্লোসিভ মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া চ্যানেলটি বন্ধের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তারা লেখে, ‘আমাদের লেগো-স্টাইল অ্যানিমেশনগুলো কি আসলেই হিংসাত্মক?’ তারা দাবি করে, এটি মূলত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বড় যুদ্ধের ময়দান হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন ইরানপন্থী চ্যানেলগুলো ব্যঙ্গচিত্র ব্যবহার করছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের নানা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশ্বে রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছে চীনা রোবোটিক্স স্টার্টআপ 'ইউনিট্রি' (Unitree)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সর্বাধুনিক হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো দেখতে 'জি১' (G1) মডেলের রোবটটি এখন বৈশ্বিক বাজারে উন্মুক্ত করেছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, বিশালাকার এই রোবটটি এখন ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার সাইট থেকেও সরাসরি কেনা যাচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির এই রোবটটির দাম রাখা হয়েছে মাত্র ১৬,০০০ ডলার (প্রায় ১৯ লাখ টাকা), যা এই ধরনের রোবটের বাজারে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সর্বনিম্ন। ইউনিট্রি জি১ রোবটটি উচ্চতায় প্রায় ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং এটি অত্যন্ত নমনীয়ভাবে চলাফেরা করতে সক্ষম। এটি কেবল হাঁটতে বা দৌড়াতেই পারে না, বরং মানুষের মতো হাত ব্যবহার করে বিভিন্ন সূক্ষ্ম কাজ যেমন—জিনিসপত্র ধরা, রান্নায় সাহায্য করা বা ভারী কিছু বহন করতেও পারদর্শী। এমনকি এটি কোনো বাধা পেলে বা পড়ে গেলে নিজে থেকেই ভারসাম্য রক্ষা করে উঠে দাঁড়াতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত এই রোবটটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারী এবং গবেষকদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। আলিবাবার মতো প্ল্যাটফর্মে এটি পাওয়া যাওয়ার অর্থ হলো, এখন থেকে উন্নত রোবট প্রযুক্তি কেবল বড় ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসছে।
সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা প্ল্যাটফর্মস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দৌড়ে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বহুল আলোচিত ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ টিম কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রথম এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ (Muse Spark) উন্মোচন করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল ও ওপেনএআই-কে টেক্কা দিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই বিশেষ টিম গঠন করেছিলেন মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ। নতুন এই মডেলটি মেটার অভ্যন্তরীণ 'অ্যাভোকাডো' (Avocado) সিরিজের অংশ। শেয়ার বাজারে উল্লম্ফন: এই ঘোষণার পরপরই মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে মেটার বিশাল বিনিয়োগ আদৌ কোনো ফল দেবে কি না—বিনিয়োগকারীদের এমন সংশয় দূর করতেই এই দ্রুত ঘোষণা। কী থাকছে মিউজ স্পার্কে? মেটা জানিয়েছে, মিউজ স্পার্ক মডেলটি আকারে ছোট ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হলেও এটি বিজ্ঞান, গণিত এবং স্বাস্থ্যের মতো জটিল বিষয়ে যুক্তিনির্ভর উত্তর দিতে সক্ষম। ব্যবহারকারী সুবিধা: ব্যবহারকারীরা কোনো খাবারের ছবি তুলে সেটির ক্যালরি নির্ণয় করতে পারবেন। এছাড়া অগমেন্টেড রিয়ালিটির মাধ্যমে কোনো পণ্য (যেমন মগ বা আসবাবপত্র) ঘরের কোথায় কেমন দেখাবে, তাও এই এআই-এর মাধ্যমে দেখা সম্ভব হবে। ইন্টিগ্রেশন: প্রাথমিকভাবে এটি ‘মেটা এআই’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেটার স্মার্ট গ্লাসে থাকা বিদ্যমান ল্লামা (Llama) মডেলের স্থলাভিষিক্ত হবে এই ‘মিউজ স্পার্ক’। ব্যয়বহুল প্রতিভা সংগ্রহ: উল্লেখ্য যে, এই সুপারইন্টেলিজেন্স টিমটি গঠন করতে মেটা গত বছর স্কেল এআই-এর সিইও অ্যালেক্স ওয়াংকে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়। এছাড়া নামী প্রকৌশলীদের শত মিলিয়ন ডলারের স্যালারি প্যাকেজ দিয়ে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছিল মেটা। জাকারবার্গের বক্তব্য: এ বিষয়ে মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, “এই মডেলটি আমাদের অগ্রগতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি। এটি প্রমাণ করে যে আমরা কত দ্রুত উদ্ভাবনের পথে হাঁটছি। চলতি বছরেই আমরা আরও উন্নত এবং শক্তিশালী মডেল নিয়ে আসব।” প্রযুক্তিবিদদের মতে, ‘মিউজ স্পার্ক’-এর মাধ্যমে মেটা মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যা তাদের ৩.৮ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আমূল বদলে দিতে পারে।
আজকের দিনে যে জিনিসটি বিদেশ ভ্রমণের জন্য অপরিহার্য, তা হলো পাসপোর্ট। ছোট এক নোটবুকের আকারের এই পরিচয়পত্র নাগরিকত্বের গুরুত্বপূর্ণ সনদ হিসেবে কাজ করে। তবে আধুনিক পাসপোর্টের পেছনে রয়েছে শতাব্দী-দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাস—যেখানে কখনো নিরাপত্তা, কখনো বাণিজ্য, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রয়োজনে এর রূপ বদলেছে। পাসপোর্টের ধারণা প্রাচীন। প্রাচীন চীন ও রোমান সাম্রাজ্যে ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের বিশেষ সনদ দেওয়া হতো। লাতিন শব্দ ‘passer’ (পাস করা) এবং ‘portus’ (বন্দর) থেকে ‘পাসপোর্ট’ শব্দের উৎপত্তি। প্রাচীন চীনে খ্রিস্টপূর্ব ৪৭৫–২২১ সালে ‘গোওসৌ’ নামে পরিচয়পত্র ব্যবস্থার উদাহরণ পাওয়া যায়। রোমান সাম্রাজ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘ট্র্যাক্টোরিয়াম’ বা সম্রাটের বিশেষ চিঠি প্রদান করা হতো। মধ্যযুগে আধুনিক পাসপোর্টের পূর্বসূরি হিসেবে পরিচিতি পায় ‘সেফ কন্ডাক্ট’ বা বিশেষ সুরক্ষা সনদ। ১৪১৪ সালে ইংল্যান্ডে রাজা পঞ্চম হেনরির আমলে এর উল্লেখ পাওয়া গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পাসপোর্ট প্রদান শুরু হয় ১৫৪০ সালে, রাজা অষ্টম হেনরির শাসনামলে। বর্তমানে টিকে থাকা সবচেয়ে পুরনো পাসপোর্ট নিদর্শনটি ১৬৪১ সালের, যা রাজা চার্লস প্রথমের আমলে ইস্যু করা হয়েছিল। ১৭৯৪ সালে ব্রিটেনে পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষমতা সরাসরি ‘সেক্রেটারি অব স্টেট’-এর অধীনে চলে আসে। আধুনিক পাসপোর্ট ব্যবস্থার সূচনা ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। ১৯২০ সালে ‘লিগ অব নেশনস’-এর দেশগুলো পাসপোর্টের কাঠামো ও মান নির্ধারণ করে। আশ্চর্য হলেও সত্যি, আধুনিক পাসপোর্ট মূলত মানুষের বিশ্বভ্রমণ সহজ করার জন্য নয়, বরং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও গতিবিধি সীমিত করার জন্য তৈরি হয়েছিল। ১৯৬৩ সালে জাতিসংঘে পাসপোর্ট প্রথা বাতিলের প্রস্তাব তোলা হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিশালী দেশগুলো বিরোধিতা করায় তা সম্ভব হয়নি। তাই আজ পাসপোর্ট সীমান্ত অতিক্রমের অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে থাকলেও, এটি একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমও বটে।
মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল চীন। বেইজিংয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি নতুন প্রজন্মের স্পেস সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের (SSPP) নকশা প্রকাশ করেছেন। তবে এই প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর নেপথ্যে থাকা বিশাল সামরিক সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কী এই নতুন প্রযুক্তি? চীনের গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এই বিশালাকার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করবে এবং সূর্যের আলো থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করবে। সংগৃহীত এই শক্তি মাইক্রোওয়েভ বা লেজারের মাধ্যমে সরাসরি পৃথিবীতে অবস্থিত রিসিভার স্টেশনে পাঠানো হবে। মেঘ, বৃষ্টি বা রাত—কোনো কিছুই এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধা হতে পারবে না, ফলে এটি হবে অবিরাম শক্তির উৎস। সামরিক সক্ষমতা ও উদ্বেগের কারণ: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি কেবল সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ দেবে না, বরং এটি মহাকাশ থেকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তি বা এনার্জি বিম নিক্ষেপ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে শত্রুদেশের রাডার ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া, স্যাটেলাইট ধ্বংস করা বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করা সম্ভব হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে একটি 'মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র' হিসেবেও কাজ করতে পারে, যা লেজার ওয়েপন বা মাইক্রোওয়েভ পালস ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিতে সক্ষম। প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ: যদিও এই বিশাল স্থাপনা মহাকাশে তৈরি করা এবং সেখান থেকে নিরাপদে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো একটি অত্যন্ত জটিল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ, তবুও চীনের বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসী। তারা মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। এই প্রকল্পটি সফল হলে চীন জ্বালানি খাতে যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, তেমনি মহাকাশ যুদ্ধ বা 'স্পেস ওয়ারফেয়ার'-এ অপরাজিত শক্তিতে পরিণত হবে। আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশগুলোও এখন চীনের এই 'মহাকাশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র' প্রকল্পের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে মহাকাশ দখলের এই লড়াই এখন কেবল বিজ্ঞানের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি রণকৌশলের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের এই নতুন পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যেভাবে ডালপালা মেলছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের চেনা কর্মসংস্থানের চিত্রটি আমূল বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উৎকর্ষের ফলে অনেক প্রথাগত পেশা যেমন হারিয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনি তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ও সৃজনশীল কাজের এক বিশাল ক্ষেত্র যা আগে কল্পনা করাও কঠিন ছিল। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে যারা নিজেদের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন না তারা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন এবং আধুনিক শ্রমবাজারে টিকে থাকা তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কেবল গাণিতিক বা প্রযুক্তিগত কাজ নয় বরং এখন চিকিৎসা, আইন এবং সাংবাদিকতার মতো সৃজনশীল পেশাতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন অনিবার্য হয়ে পড়ছে। রোবটিক্স ও অটোমেশনের ফলে কলকারখানার কায়িক শ্রমের চাহিদা কমে গেলেও ডাটা সায়েন্স এবং অ্যালগরিদম বিশেষজ্ঞের মতো নতুন নতুন কারিগরি পদের চাহিদা এখন তুঙ্গে রয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই মানুষের মেধা ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার পূর্ণ বিকল্প হতে পারবে না বরং এটি মানুষের কাজের গতি ও নির্ভুলতা বাড়াতে এক শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে নতুন প্রজন্মকে কোডিং ও ডিজিটাল লিটারেসিতে দক্ষ করে তোলা না গেলে বিশাল এক বেকার জনগোষ্ঠী তৈরির আশঙ্কা করছেন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন কর্মীদের খুঁজছে যারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং যাদের চিন্তাভাবনা অনেক বেশি আধুনিক। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে কেবল পুথিগত বিদ্যা যথেষ্ট নয় বরং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সবচাইতে বেশি জরুরি। পরিশেষে বলা যায় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো ভয়ের কারণ নয় বরং এটি আমাদের জীবন ও জীবিকাকে আরও সহজ ও উন্নত করার এক সুবর্ণ সুযোগ যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ডিজিটাল এই রূপান্তরের ঢেউ যখন প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়ছে তখন আমাদের প্রস্তুতিই নির্ধারণ করবে আমরা এই পরিবর্তনের সুফল কতটুকু ভোগ করতে পারব এবং বিশ্বমঞ্চে কতটা এগিয়ে থাকব।
পারস্য উপসাগরের হরমজ প্রণালী নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে টানাপোড়েন তুঙ্গে, ঠিক তখনই লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মানদেব’ হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন এক মহা-সংকট। ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সরু জলপথটি এখন কেবল একটি বাণিজ্যিক রুট নয়, বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের এক বিধ্বংসী রণক্ষেত্র। আরবি শব্দ ‘বাব আল-মানদেব’-এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘কান্নার দরজা’, যা বর্তমানে তার নামের মতোই বিশ্ববাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এক করুণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ইয়েমেন, জিবুতি এবং ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত মাত্র ৩০ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি ভারত মহাসাগরকে লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে ইউরোপ ও এশিয়ার বিশাল ও জটিল এক সরবরাহ ব্যবস্থা। প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং বিশাল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এই পথ দিয়ে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। কেবল জ্বালানি নয়, বরং বিশ্বের ১২ শতাংশ গম এবং বিশাল পরিমাণ চাল ও সার এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয় যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আক্ষরিক অর্থেই এক অপরিহার্য ধমনী। ২০২৬ সালের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের প্রভাবে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু জাহাজ লোহিত সাগরের গভীরে তলিয়ে গেছে এবং অনেক বড় বড় শিপিং কোম্পানি এখন প্রাণভয়ে এই ঐতিহাসিক রুটটি পুরোপুরি বর্জন করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে জাহাজগুলোকে এখন আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে কয়েক হাজার মাইল পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে যা পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত দুই সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘপথ ভ্রমণের ফলে জ্বালানি খরচ ও জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম বহুগুণ বেড়ে গেছে যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে বাব আল-মানদেব যদি দীর্ঘমেয়াদে অনিরাপদ হয়ে পড়ে তবে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে এবং খাদ্য সংকট এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের রূপ নিতে পারে। আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনী এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লোহিত সাগরে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বাড়ালেও ড্রোন ও চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান এই জলপথটিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন ও জটিল মেরুকরণ তৈরি করেছে। একদিকে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি আর অন্যদিকে খাদ্য পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি—এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি এখন পুরোপুরি পতনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের মধ্য দিয়ে বিকল্প পাইপলাইন ও স্থলপথের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে যা সাময়িকভাবে বিশ্ববাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারছে না। সব মিলিয়ে বাব আল-মানদেব এখন বিশ্ব রাজনীতির এক অগ্নিগর্ভ দাবার ছক যেখানে প্রতিটি ভুল চাল পুরো মানবজাতির জন্য এক অপূরণীয় ও দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। বিশ্ব শান্তিকামী মানুষ এখন কেবল একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতির অপেক্ষায় রয়েছে যা এই ‘কান্নার দরজা’র ভয়াবহতা কমিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে আবার স্বাভাবিক ও নিরাপদ ছন্দ ফিরিয়ে আনতে পারবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। বিশ্বজুড়ে ডেভেলপার এবং প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য গুগল উন্মোচন করেছে তাদের এযাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান ‘ওপেন-ওয়েট’ এআই মডেল ‘জেম্মা ৪’ (Gemma 4)। গুগল ডিপমাইন্ডের অত্যাধুনিক গবেষণালব্ধ এই মডেলটি মূলত গুগলের প্রিমিয়াম এআই ‘জেমিনি ৩’-এর প্রযুক্তিতে তৈরি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী চারটি ভিন্ন সংস্করণ গুগল জেম্মা ৪-কে মূলত চারটি ভিন্ন আকারে বাজারে এনেছে। এর মধ্যে সাধারণ স্মার্টফোনের জন্য রয়েছে ‘ইফেক্টিভ ২বি’ ও ‘ইফেক্টিভ ৪বি’ সংস্করণ। অন্যদিকে, বড় ও জটিল কাজের জন্য রাখা হয়েছে ‘২৬বি এমওই’ এবং ‘৩১বি ডেন্স’ মডেল। জেম্মা ৪-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর অফলাইন কার্যক্ষমতা। ছোট ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা রাসবেরি পাই-তেও এটি অনায়াসেই কাজ করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট ছাড়াই এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি কেবল টেক্সট বা লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিডিও, ছবি এবং অডিও সরাসরি প্রসেস করতে সক্ষম এই মডেলটি। পাশাপাশি বাংলাসহ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি ভাষায় পারদর্শী জেম্মা ৪, যা এর গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জটিল গাণিতিক যুক্তি বা কোডিং তৈরির ক্ষেত্রে জেম্মা ৪ পূর্ববর্তী মডেলগুলোর তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কার্যকর। বড় ডাটাবেজ বিশ্লেষণ বা বড় ডকুমেন্ট মুহূর্তেই স্ক্যান করে ফলাফল দিতে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘অ্যাপাচি ২.০’ লাইসেন্সের আওতায় গুগল এই মডেলটি উন্মুক্ত করায় বিশ্বের যেকোনো ডেভেলপার বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই এটি ব্যবহার বা পরিবর্তন করতে পারবেন। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ওপেন সোর্স এআই-এর বাজারে মেটার ‘লামা’ (Llama)-কে টেক্কা দিতে জেম্মা ৪ গুগলের জন্য একটি ট্রাম্পকার্ড হতে যাচ্ছে। বর্তমানে গুগল এআই স্টুডিও এবং হাগিং ফেস-এর মতো প্ল্যাটফর্মে এটি বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।