সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

তথ্যপ্রযুক্তি

টেসলার একটি সাইবারক্যাব
টেসলার একটি সাইবারক্যাব থেকে বছরে ৫০ হাজার ডলার মুনাফার সম্ভাবনা

টেসলার চালকবিহীন সাইবারক্যাব থেকে বছরে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত মুনাফা হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী রন ব্যারন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, একটি রোবোট্যাক্সি বছরে প্রায় ৫০ হাজার মাইল চললে গাড়িপ্রতি ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার মুনাফা অর্জন সম্ভব। তবে এটি বিনিয়োগকারীর অনুমান, টেসলার প্রকাশিত বা বাস্তবে অর্জিত মুনাফার হিসাব নয়।   টেসলার সাইবারক্যাব দুই আসনের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়ি, যা চালক ছাড়াই যাত্রী পরিবহনের জন্য তৈরি। টেসলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাড়িগুলোর অধিকাংশই প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব রোবোট্যাক্সি বহরে ব্যবহৃত হবে। যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করে আয় হবে, আর সেই আয় থেকে বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত মুনাফা নির্ধারিত হবে।   গাড়িটির দাম ৩০ হাজার ডলারের নিচে রাখার লক্ষ্য ২০২৪ সালে ঘোষণা করেছিলেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তবে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই দামকে নিশ্চিত খুচরা মূল্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। টেসলা ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ গ্রাহকদের কাছে সাইবারক্যাব সরবরাহের লক্ষ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা প্রশাসন গাড়িটির নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার বিষয়টি তদন্ত করছে।   সাইবারক্যাব ব্যবসার সম্ভাবনা থাকলেও মুনাফা নিশ্চিত নয়। গাড়ি কতক্ষণ যাত্রী পরিবহন করছে, কত ভাড়া আদায় হচ্ছে, খালি অবস্থায় কত মাইল চলছে এবং পরিচালন ব্যয় কত, তার ওপর আয় নির্ভর করবে। ফলে বছরে ৫০ হাজার ডলার মুনাফার পূর্বাভাস বাস্তবে অর্জিত হবে কি না, তা নির্ধারণে টেসলার প্রকৃত পরিচালন ও আর্থিক তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৮:৪
মোড় নেওয়ার সময় পথচারীদের সতর্ক করার প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিউ ইয়র্কের বাসে বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তা, চালু হচ্ছে সংঘর্ষ প্রতিরোধ প্রযুক্তি

নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে বাসে সংঘর্ষ শনাক্তকরণ এবং মোড় নেওয়ার সময় পথচারীদের সতর্ক করার প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) এ প্রযুক্তি সরবরাহ, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি একটি চুক্তির দরপত্র আহ্বান করেছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ডলার। তবে এটি সব বাসে প্রযুক্তি স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন বা কাজ সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা নয়।    প্রকল্পের আওতায় সংঘর্ষ প্রতিরোধব্যবস্থা এবং পথচারীদের সতর্ক করার প্রযুক্তি একসঙ্গে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সংঘর্ষ প্রতিরোধব্যবস্থাটি বাসের আশপাশে থাকা যানবাহন, সাইকেল আরোহী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, বাস মোড় নেওয়ার সময় পথচারীদের সতর্ক করার ব্যবস্থা তাদের বাসের গতিপথ সম্পর্কে আগাম সংকেত দিতে পারে।   এমটিএর দরপত্রসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি বাসে পরিচালিত পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষায় বাসের সামনে ও পাশে থাকা সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত করে চালককে সতর্ক করার সক্ষমতা দেখা হয়েছে। এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রযুক্তি আরও বাসে যুক্ত করার জন্য সরবরাহ ও স্থাপনসংক্রান্ত চুক্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দরপত্রের নির্ধারিত শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২৬।    এই উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে নিউইয়র্কের ব্যস্ত সড়কব্যবস্থার কারণে। নগরীর বাসগুলোকে প্রতিদিন ঘন যানবাহন, সাইকেল চলাচল, পথচারীদের পারাপার এবং সংকীর্ণ মোড়ের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে বাস ডান বা বাঁ দিকে ঘোরার সময় চালকের দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা পথচারী বা সাইকেল আরোহী দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কব্যবস্থা এ ধরনের পরিস্থিতিতে চালককে দ্রুত সতর্ক করতে পারে।   নিউইয়র্ক নগর প্রশাসনের সড়কনিরাপত্তা কর্মসূচিতেও একই ধরনের প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগর প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন বাসে চালকের দৃষ্টিসীমা উন্নত করা, ক্যামেরা ব্যবহার এবং বাস মোড় নেওয়ার সময় পথচারীদের সতর্ক করার ব্যবস্থা যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে।চালকদের প্রশিক্ষণেও সাইকেল আরোহী ও পথচারীদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   তবে প্রযুক্তি থাকলেই দুর্ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সতর্কসংকেত সঠিকভাবে শনাক্ত হচ্ছে কি না, চালক সময়মতো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন কি না এবং যন্ত্রপাতি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা বোঝার জন্য পরীক্ষার ফলাফল ও বাস্তব প্রয়োগের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে হবে।   নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী ও প্রবাসীদের জন্য এ উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মস্থলে যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজে অনেকেই নগর বাসের ওপর নির্ভর করেন। বাস ও সাইকেলের সংঘর্ষ কিংবা মোড়ে পথচারী আহত হওয়ার ঘটনা কমানো গেলে গণপরিবহন ব্যবহারের নিরাপত্তা উন্নত হতে পারে।   এদিকে বাসযাত্রীদের জন্য আরেকটি উদ্যোগ ঘোষণা করেছে নগরীর পরিবহন বিভাগ। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়েছে, বাসস্টপে বাস পৌঁছানোর তাৎক্ষণিক তথ্য দেখানো পর্দার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো যাত্রীরা যেন বাস কখন আসবে, তা আরও সহজে জানতে পারেন। নগর প্রশাসন চলতি বছর থেকেই সম্প্রসারণ শুরু করার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমানে থাকা ব্যবস্থার তুলনায় চার গুণের বেশি বাসস্টপে এ সুবিধা পৌঁছানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে।    দুটি উদ্যোগের উদ্দেশ্য আলাদা হলেও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে উভয়ের ভূমিকা রয়েছে। একদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা, অন্যদিকে বাসের আগমনের সময় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা—এগুলো বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কের বাসযাত্রায় নিরাপত্তা ও সুবিধা বাড়তে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১০:৪৭
৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের
এআইয়ে বিপুল বিনিয়োগের চাপ, ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংখ্যাটি মাইক্রোসফটের মোট বৈশ্বিক কর্মীসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তবে এটি সরাসরি কর্মী ছাঁটাই নয়। যোগ্য কর্মীরা চাইলে নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।   মাইক্রোসফটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ভলান্টারি এক্সিট অফার। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতে কর্মরত নির্দিষ্ট বিভাগের কর্মীরা এই সুযোগ পাবেন। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পদমর্যাদার ৭০ বা তার নিচের স্তরের কর্মীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। কিছু ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাও এই কর্মসূচির আওতায় পড়ছেন। মাইক্রোসফটের চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জানান, যাঁরা প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এই সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন। তবে প্রতিষ্ঠানের সব বিভাগ এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও কর্মী ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে।   প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে বিশ্বজুড়ে মাইক্রোসফটের পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার কর্মী নতুন প্রস্তাবের আওতায় পড়লেও সবাই চাকরি ছাড়বেন, এমন নয়। কতজন কর্মী শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগ্য কর্মীদের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। যাঁরা প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, তাঁদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠান ছাড়ার কথা রয়েছে। চাকরির মেয়াদ ও পদমর্যাদার ভিত্তিতে আর্থিক সুবিধার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের বেতন, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং ক্যারিয়ার পরিবর্তনে সহায়তার মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এদিকে মাইক্রোসফটের নতুন সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এল, যখন প্রতিষ্ঠানটি এআই প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার এবং ক্লাউড অবকাঠামোয় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। এই খাতে ব্যয় বাড়ার কারণে পরিচালন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার চাপও তৈরি হয়েছে। তবে নতুন স্বেচ্ছা প্রস্থান কর্মসূচির কারণ হিসেবে মাইক্রোসফট সরাসরি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের প্রতিস্থাপনের কথা বলেনি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিবর্তিত ব্যবসায়িক প্রয়োজনের সঙ্গে কর্মী ব্যবস্থাপনাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই উদ্যোগ।   এর আগে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ দিয়েছিল মাইক্রোসফট। ওই কর্মসূচিতে প্রায় ৩০ শতাংশ যোগ্য কর্মী অংশ নেন। পরে জুলাই মাসে আরও প্রায় ৪ হাজার ৮০০ পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এসব সিদ্ধান্তের ফলে মাইক্রোসফটের কর্মীসংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিপুল ব্যয় সামলাতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কর্মী ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন খরচ নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে। মাইক্রোসফটের সর্বশেষ উদ্যোগও সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ। তবে ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে কতজন এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন এবং প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীসংখ্যা কতটা কমবে, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ২:১২
বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুওর পর্দায় ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আইফোন ডুওর ডিসপ্লের ত্রুটি স্বীকার করল অ্যাপল, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের নতুন ফোন দেওয়ার ঘোষণা

বাজারে আসার মাত্র তিন দিনের মাথায় নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুওর ভেতরের পর্দায় ফাটল ও উজ্জ্বল রেখা দেখা দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছে অ্যাপল। ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে শুরু হওয়া এই ফোনের কিছু ক্রেতা জানিয়েছেন, ব্যবহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পর্দার মাঝখানে, বিশেষ করে ভাঁজের সংযোগস্থলের কাছে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রুটিপূর্ণ ফোন বদলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। তবে ঠিক কী কারণে পর্দায় ফাটল ধরছে, তা এখনো স্পষ্ট করেনি অ্যাপল।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ফোনটি বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকেই কিছু ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অ্যাপলের একজন প্রতিনিধি সিএনবিসিকে জানান, অল্পসংখ্যক আইফোন ডুওর ভেতরের পর্দায় সমস্যা দেখা গেছে। যাঁদের ফোনে এ ধরনের ত্রুটি দেখা দেবে, তাঁদের অ্যাপলকেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফোন বদলে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, অধিকাংশ ফোনেই এ সমস্যা দেখা যায়নি।   অস্ট্রেলিয়ার এক ক্রেতা রেডিটে লিখেছেন, ফোন কেনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর এবং ২০ বারেরও কম ভাঁজ খোলা ও বন্ধ করার পর তাঁর যন্ত্রের পর্দায় ফাটল দেখা দেয়। বন্ধুকে ফোনটি দেখানোর সময় ভাঁজের কাছে পর্দার নিচে কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি হয়েছিল বলে জানান তিনি। এরপর ফোনটি খুলতে গেলে ফাটলের শব্দ শুনতে পান। পরে অ্যাপল স্টোরে গিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ফোনের পরিবর্তে নতুন ফোন পেয়েছেন বলে জানান।   টেক্সাসের ডালাসের আরেক ক্রেতাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ফোনটি প্রাথমিকভাবে চালু ও ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রায় চারবার ভাঁজ করার পর সংযোগস্থল অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে যায়। জোর প্রয়োগ করে ভাঁজ খুলতে গেলে বিকট শব্দ হয়। পরে স্থানীয় অ্যাপল স্টোরে নিয়ে গেলে তাঁর ফোনটিও বদলে দেওয়া হয় বলে রেডিটে লিখেছেন তিনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সমস্যাটি কতসংখ্যক ফোনে ঘটেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   ভাঁজযোগ্য ফোনের ক্ষেত্রে পর্দার স্থায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ। আইফোন ডুওর দাম প্রায় দুই হাজার ডলার হওয়ায় নতুন এই সমস্যাটি ক্রেতাদের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন শিল্পনকশা বিশেষজ্ঞরা। আরকেএস ডিজাইনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রবি সাওয়ানি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, এত দামের একটি ফোন কেনার সময় ক্রেতারা নিশ্চিন্তে ব্যবহার করার প্রত্যাশা করেন। প্রতিবার ফোন খোলার সময় পর্দা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে পণ্যের প্রতি তাঁদের আস্থা কমতে পারে।   তবে সমস্যার জন্য সরাসরি ভাঁজের কবজাকেই দায়ী করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই। সাওয়ানির মতে, পর্দার বিভিন্ন স্তর, এর ভেতরের কাঠামো, কবজার নড়াচড়া এবং যন্ত্রাংশ সংযোজনের সূক্ষ্ম পার্থক্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিভিন্ন উৎপাদন পর্যায়ের ত্রুটিপূর্ণ ও স্বাভাবিক ফোন তুলনা করে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষা চালালে সমস্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট উৎপাদন পর্যায়ের ফোনে সমস্যা বেশি হলে তা সংযোজনের অসংগতির ইঙ্গিত দিতে পারে, আর বিভিন্ন পর্যায়ের ফোনে একই সমস্যা দেখা গেলে নকশাগত ত্রুটির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে হবে।   ফোনটির ভেতরের পর্দা ও মেরামতের খরচ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ওয়ারেন্টির বাইরে আইফোন ডুওর ভেতরের পর্দা মেরামত করতে অ্যাপলের নির্ধারিত খরচ ৯৯৯ ডলার, যা ফোনটির প্রাথমিক দামের প্রায় অর্ধেক। তবে বর্তমানে যে সমস্যার কথা অ্যাপল স্বীকার করেছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত ফোন বদলে দেওয়ার জন্য গ্রাহকদের এই অর্থ দিতে হবে কি না, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আলাদা করে কিছু জানায়নি। তাই ফোনে সমস্যা দেখা দিলে ক্রেতাদের অ্যাপলকেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।   নতুন ফোনটির উদ্বোধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অ্যাপল স্টোরের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছিল। নিউইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউয়ের একটি দোকানের বাইরে এক ক্রেতা প্রায় ১৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর কিছু দোকানে মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ফোনের পর্দা নিয়ে অভিযোগ অ্যাপলের নতুন পণ্যের বাজারজাতকরণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে দ্রুত ফোন বদলে দেওয়া ও সমস্যার কারণ সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, সিএনবিসি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ২১:৪৩
ইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান
মাইক্রোসফটের ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব, মিলবে আর্থিক সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি ‘ভলান্টারি এক্সিট অফার’ নামে নতুন এই কর্মসূচি চালু করে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতে কর্মরত নির্দিষ্ট বিভাগের কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ৬০ হাজার কর্মীকে সরাসরি ছাঁটাই করা হচ্ছে না। তাঁদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় মাইক্রোসফটের মোট কর্মীর প্রায় ২৭ শতাংশ চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য হবেন। গত জুনের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটিতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন। সেই হিসাবে প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের বেশি কর্মী নতুন কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন। তবে কতজন শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে মাইক্রোসফট এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।   মাইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান সোমবার কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন পেশাগত সুযোগ খুঁজতে আগ্রহী কর্মীদের আর্থিক সহায়তা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সুবিধা দিয়ে বিদায়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানটি। যোগ্য কর্মীদের ইমেইলের মাধ্যমে প্রস্তাবের বিস্তারিত জানানো হবে।   রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফটের এআই এক্সপেরিয়েন্সেস, কোপাইলট, ফিন্যান্স, হিউম্যান রিসোর্সেস, এক্সবক্স এবং উইন্ডোজ অ্যান্ড ডিভাইসেস বিভাগের নির্দিষ্ট কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন। তবে সব বিভাগের কর্মীরা সমানভাবে যোগ্য নন। মার্কেটিং, কমার্শিয়াল বিজনেস ও সিকিউরিটিসহ কয়েকটি বিভাগ এই প্রস্তাবের বাইরে রয়েছে। ডেটা সেন্টার ও বিক্রয় বিভাগের কিছু কর্মীও সুবিধাটি পাবেন না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মাইক্রোসফটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী বিভাগের লেভেল ৭০ এবং তার নিচের কর্মীরা এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতে এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট পদে কর্মরত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যাবে না। কর্মীর বিভাগ, দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। এটি সীমিত সময়ের জন্য চালু করা স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচি।   চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব গ্রহণকারী কর্মীরা সেভারেন্স প্যাকেজের মতো আর্থিক সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে চাকরি ছাড়লে কর্মীকে কিছু অর্থ ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনে সহায়তা দেওয়া হবে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্যাকেজের শর্ত মাইক্রোসফটের প্রচলিত সেভারেন্স ব্যবস্থার কাছাকাছি হবে। তবে নতুন কর্মসূচিতে প্রত্যেক কর্মী ঠিক কত অর্থ পাবেন, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চাকরির মেয়াদ, পদ ও সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম অনুযায়ী সুবিধার পরিমাণ আলাদা হতে পারে।   মাইক্রোসফট এমন এক সময়ে নতুন এই ঘোষণা দিল, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে এআই ডেটা সেন্টার, উন্নত চিপ, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কোপাইলটের মতো প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বছরে মাইক্রোসফটের মূলধনি বিনিয়োগ প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এই ব্যয়ের বড় অংশ এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত।   এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল মাইক্রোসফট। ওই কর্মসূচির যোগ্য কর্মীদের ৩০ শতাংশের বেশি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এরপর জুলাই মাসে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তে এক্সবক্সসহ কয়েকটি বিভাগ প্রভাবিত হয়েছিল। ফলে অক্টোবরের নতুন কর্মসূচি চলতি বছরে মাইক্রোসফটের কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।   তবে নতুন কর্মসূচির সঙ্গে আগের ছাঁটাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। জুলাই মাসে নির্দিষ্টসংখ্যক পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে এবার কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। ফলে ৬০ হাজার কর্মী এই প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য হলেও তাঁদের সবাই চাকরি ছাড়বেন, এমন নয়। কতজন প্রস্তাব গ্রহণ করবেন এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীসংখ্যা কতটা কমবে, তা এখনো অনিশ্চিত।   মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের মধ্যেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির সম্প্রসারণের সঙ্গে প্রচলিত চাকরির ধরন কীভাবে বদলাচ্ছে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে নতুন এআই বিশেষজ্ঞ নিয়োগ ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে, অন্যদিকে কিছু বিভাগে ব্যয় কমাতে চাইছে। তবে মাইক্রোসফটের নতুন কর্মসূচির আওতায় থাকা প্রতিটি পদ সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে, এমন প্রমাণ নেই।   যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রোসফটে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী প্রযুক্তিকর্মীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা বা অন্য নিয়োগকর্তানির্ভর ওয়ার্ক স্ট্যাটাসে কর্মরত কেউ স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব গ্রহণের আগে অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম বিবেচনা করা প্রয়োজন। চাকরি শেষ হওয়ার পর বৈধ স্ট্যাটাস বজায় রাখা, নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ শুরু করা কিংবা প্রযোজ্য গ্রেস পিরিয়ডের বিষয়গুলো ব্যক্তির ভিসা ও ইমিগ্রেশন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আর্থিক প্যাকেজ পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে, এমন নয়।   মাইক্রোসফট জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তিত ব্যবসায়িক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন দায়িত্বে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরিতে কাজ করা হবে। আগামী বুধবার প্রতিষ্ঠানটির ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এর আগে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীর জন্য স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব প্রযুক্তি খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই কর্মসূচির প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে কতজন কর্মী প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কর্মীসংখ্যা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তার ভিত্তিতে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৫:২৫
বাংলাদেশি প্রকৌশলী তারেক সরোয়ার
ইলন মাস্কের টেসলা রোডস্টারের গবেষণায়  বাংলাদেশের বুয়েটের তারেক সরোয়ার! জানালেন অভিজ্ঞতা

টেসলার গাড়ির নিচের কাঠামো বা আন্ডারবডির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব মূল্যায়নে কাজ করেছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী তারেক সরোয়ার। নিজের কাজের বিবরণে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে ইন্টার্নশিপের সময় প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই কাঠামোর কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই মূল্যায়নের ফল পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট অংশের চূড়ান্ত নকশা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে।   গাড়ির বাইরের নকশার আড়ালে থাকা এই কাঠামো নিয়েই ছিল তাঁর গবেষণা। তারেকের বর্ণনা অনুযায়ী, তীব্র গরম, প্রচণ্ড ঠান্ডা, বৃষ্টি ও লবণাক্ত পরিবেশে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর আন্ডারবডি কেমন অবস্থায় থাকবে, তা মূল্যায়ন করা ছিল তাঁর দায়িত্ব। কোনো যন্ত্রাংশ তৈরি করা সম্ভব হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেটির স্থায়িত্ব যাচাই করাও এই কাজের অংশ ছিল। তারেক তাঁর কাজকে টেসলার নতুন রোডস্টারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে রোডস্টারের নির্দিষ্ট কোন অংশে তাঁর গবেষণার ফল প্রয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে টেসলার প্রকাশ্য নথিতে স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে পুরো আন্ডারবডি এক খণ্ডে তৈরি এবং প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে এমন একটি অংশ উৎপাদনের দাবির পক্ষেও রোডস্টারসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব উৎপাদনসংক্রান্ত দাবিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।   তবে টেসলায় তাঁর ইন্টার্নশিপের বিষয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনায় তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির ইইই বিভাগের স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুকে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৫ মে টেসলায় চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে একটি ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন তারেক সরোয়ার। সেখানে তাঁকে ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ার ইন্টার্ন হিসেবে পরিচয় করানো হয়। ওয়েবিনারে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, চাকরির আবেদন ও ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।    তারেকের গবেষণার সঙ্গে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির সংযোগও প্রকাশিত গবেষণাপত্রে পাওয়া যায়। ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে ‘এমডি সরোয়ার তারেক’ নামের লেখকের প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির যন্ত্রকৌশল বিভাগের নাম রয়েছে। গবেষণাটি ছিল করোনাভাইরাস মহামারির সময় থ্রিডি প্রিন্টিংসহ অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে। এটি তাঁর গবেষণার পটভূমির তথ্য দেয়, তবে রোডস্টারের নকশায় অবদান রাখার দাবির স্বতন্ত্র প্রমাণ নয়।  সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ৩:৪৯
আইফোন ডুও
বাজারে আসার কয়েক ঘণ্টায় আইফোন ডুওর মজুত শেষ, পুনর্বিক্রিতে দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ হাজার ডলার!

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং ফোন আইফোন ডুও বাজারে আসার দিনই পুনর্বিক্রির বিজ্ঞাপনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার দাম চাওয়া হয়েছে। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিক্রি শুরুর পর নিউইয়র্কের অ্যাপল স্টোরগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরাসরি দোকানে আসা ক্রেতাদের জন্য বরাদ্দ ফোনের মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর ইবে ও ক্রেইগসলিস্টে বাড়তি দামে ফোনটি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যায়।      ক্রেইগসলিস্টে নিউইয়র্কের এক বিক্রেতা আইফোন ডুওর দাম চেয়েছেন ৭ হাজার ৯৯৯ ডলার। তবে বিজ্ঞাপনে চাওয়া দাম আর বাস্তবে বিক্রি হওয়া দাম এক বিষয় নয়। সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলারের বিজ্ঞাপন পাওয়া গেলেও সেই দামে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এই অঙ্ককে ফোনটির নিয়মিত বাজারদর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।    যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ডুওর ২৫৬ জিবি মডেলের নির্ধারিত দাম শুরু ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজের সংস্করণের দাম ৩ হাজার ১৯৯ ডলার। ব্যারনসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন কিছু অর্ডারের সম্ভাব্য ডেলিভারি সময় জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত পিছিয়েছে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পেছনে ক্রেতার চাহিদার পাশাপাশি সরবরাহের সীমাবদ্ধতাও ভূমিকা রাখতে পারে।      অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর ফোনটির প্রি অর্ডার শুরু হয়। বন্ধ অবস্থায় এতে রয়েছে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে। খুললে ভেতরের বড় পর্দায় ভিডিও দেখা, গেম খেলা ও একাধিক কাজ করার সুবিধা পাওয়া যায়। অ্যাপল জানিয়েছে, খোলা অবস্থায় এর ভেতরের ডিসপ্লের আয়তন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের ডিসপ্লের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।      ফোনটিতে এ২০ প্রো চিপ এবং দুটি ব্যাটারির সমন্বিত কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। ফোল্ডিং নকশার সঙ্গে মানিয়ে পর্দা বদলানো ও পাশাপাশি দুটি অ্যাপ চালানোর সুবিধাও রয়েছে। তবে নতুন নকশার বড় পর্দার জন্য সব অ্যাপের ব্যবহার এখনো সমানভাবে উপযোগী হয়নি বলে প্রাথমিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। বাজারে আসার প্রথম দিনের আগ্রহের পাশাপাশি সফটওয়্যার কতটা মানিয়ে নিতে পারে, সেটিও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকছে। 

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ২:৪৯
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন ‘ডুয়ো’
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন ‘ডুয়ো’ কিনতে বিশ্বজুড়ে ক্রেতাদের ভিড়

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন ‘আইফোন ডুয়ো’ কিনতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যাপল স্টোরের সামনে ভিড় করেছেন প্রযুক্তিপ্রেমীরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রসহ ৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে নতুন এই আইফোনের বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ডলার দামের ফোনটি কিনতে কোথাও রাতভর অপেক্ষা করেছেন ক্রেতারা, আবার কোথাও আগাম অর্ডার দেওয়া ফোন সংগ্রহ করতে দোকানের সামনে লাইন দেখা গেছে। তবে ব্যাপক আগ্রহের বিপরীতে সরবরাহ সীমিত থাকায় অনেক ক্রেতাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুর, চীনের সাংহাই, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, জার্মানির বার্লিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে আইফোন ডুয়ো ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে। শুক্রবার সকালে বেশ কয়েকটি অ্যাপল স্টোরের সামনে ক্রেতারা লাইনে দাঁড়ান। কেউ আগে থেকেই ফোনটির প্রি-অর্ডার করেছিলেন, আবার কেউ সরাসরি দোকানে গিয়ে কেনার চেষ্টা করেন। তবে আগের কয়েকটি আইফোন বাজারে আসার সময় যে ধরনের দীর্ঘ লাইন ও ব্যাপক ভিড় দেখা যেত, এবার সব জায়গায় তেমন পরিস্থিতি ছিল না। সীমিত সরবরাহ এবং অনলাইনে আগাম অর্ডারের ব্যবস্থাও এর একটি কারণ।   গত ৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আইফোন ডুয়ো উন্মোচন করে অ্যাপল। এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে প্রথম ফোল্ডিং আইফোন। বইয়ের মতো খুলে ব্যবহার করা যায় ফোনটি। বন্ধ অবস্থায় এতে রয়েছে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির একটি ডিসপ্লে। আর খুললে পাওয়া যায় ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির বড় স্ক্রিন। অ্যাপলের দাবি, এখন পর্যন্ত তৈরি আইফোনগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ডিসপ্লের মডেল। বড় স্ক্রিনে ভিডিও দেখা, গেম খেলা, বই পড়া এবং একই সঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা রাখা হয়েছে।   নতুন আইফোনটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য এর ফোল্ডিং ডিজাইন। বিশেষ প্রযুক্তির হিঞ্জ ব্যবহার করায় ফোনটি সহজে খোলা ও বন্ধ করা যায়। অ্যাপলের দাবি, সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় এটি এখন পর্যন্ত তাদের তৈরি সবচেয়ে পাতলা আইফোন। ফোনটির স্ক্রিনে বিশেষ ন্যানো-টেক্সচার প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে আলো প্রতিফলন এবং ভাঁজের দাগ কম চোখে পড়ে। তবে নতুন প্রযুক্তির এই ডিজাইন দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে, তা বাস্তব ব্যবহারের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে।   আইফোন ডুয়োতে রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ এবং আইওএস ২৭-এর বিশেষভাবে তৈরি সফটওয়্যার সুবিধা। ফোল্ডিং স্ক্রিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে স্প্লিট ভিউ সুবিধার মাধ্যমে একই সঙ্গে দুটি অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি ফোনটি কোন অবস্থায় খোলা বা বন্ধ রয়েছে, সেই অনুযায়ী স্ক্রিনের কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধাও নতুন ফোনে যুক্ত করা হয়েছে।   ক্যামেরার ক্ষেত্রেও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে অ্যাপল। ফোনটিতে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ফিউশন ক্যামেরা সিস্টেম, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা যায়। ফোল্ডিং ডিজাইনের কারণে ফোনটি আংশিক খুলে রেখেও ছবি তোলা কিংবা ভিডিও কল করার সুবিধা রয়েছে। তবে প্রাথমিক প্রযুক্তি পর্যালোচনায় ক্যামেরার কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছে। পাশাপাশি সব অ্যাপ এখনো নতুন বড় ডিসপ্লের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয় বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন পর্যালোচক।   যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ডুয়োর প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। ফোনটি ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি, ১ টেরাবাইট এবং ২ টেরাবাইট স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাচ্ছে। স্টার হোয়াইট ও নাইট স্কাই, এই দুটি রঙে বাজারে আনা হয়েছে নতুন মডেলটি। গত ১৬ অক্টোবর ফোনটির প্রি-অর্ডার শুরু হয়। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় কিছু ক্রেতার সম্ভাব্য ডেলিভারির সময় আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে।   বিক্রির প্রথম দিন লন্ডনের একটি অ্যাপল স্টোরের সামনে বৃষ্টির মধ্যেও অপেক্ষা করতে দেখা যায় ক্রেতাদের। পল ফ্রান্সিস নামের একজন ক্রেতা রয়টার্সকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নতুন ধরনের অ্যাপল ফোন ব্যবহারের আগ্রহ থেকেই এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন তিনি। অন্যদিকে সাংহাইয়ের কয়েকজন ক্রেতা জানান, ফোল্ডিং ফোনের বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ তাঁদের আগ্রহী করেছে। বড় স্ক্রিন ও ফোনটির ডিজাইন তাঁদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়।   তবে উচ্চমূল্যের কারণে আইফোন ডুয়ো সবার নাগালের মধ্যে থাকবে না বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। সাধারণ আইফোনের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ডলারের এই ফোন কিনতে ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। এর পাশাপাশি ফোল্ডিং প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, সফটওয়্যারের কার্যকারিতা এবং মেরামতের খরচও ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ফোনটির ডিজাইন ও হিঞ্জ প্রযুক্তির প্রশংসা করা হলেও কিছু ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে।   ফোল্ডিং স্মার্টফোনের বাজারে অবশ্য অ্যাপল প্রথম প্রতিষ্ঠান নয়। স্যামসাং ও হুয়াওয়ের মতো কোম্পানি কয়েক বছর ধরেই এ ধরনের ফোন বিক্রি করছে। তবে অ্যাপলের বাজারে প্রবেশের ফলে এই প্রযুক্তির প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে অ্যাপলের নিজস্ব সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সমন্বয় ফোল্ডিং ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। তবে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নির্ভর করবে ফোনটির ব্যবহারিক সুবিধা, দাম ও সরবরাহের ওপর।   নতুন আইফোনের বিক্রি শুরু হওয়ার আগে অ্যাপল জানিয়েছিল, সরাসরি দোকানে এসে কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য সীমিতসংখ্যক আইফোন ডুয়ো রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ কিছু বাজারে এই সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভারত, জাপান এবং কয়েকটি দেশে প্রথম দিনে মূলত আগে থেকে অর্ডার দেওয়া গ্রাহকদের ফোন সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশে অ্যাপল স্টোরে ভিড়ের ধরনও আলাদা ছিল।   আইফোন ডুয়োর বাজারে আসা অ্যাপলের স্মার্টফোন ব্যবসায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ডিজাইনের আইফোন তৈরির পর প্রতিষ্ঠানটি এবার ফোল্ডিং প্রযুক্তিতে প্রবেশ করল। প্রথম দিনের বিক্রি ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহ স্পষ্ট হলেও ফোনটি কতটা জনপ্রিয় হবে, তা নির্ভর করবে আগামী মাসগুলোর বিক্রি এবং ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার ওপর। আপাতত প্রায় ২ হাজার ডলারের নতুন এই আইফোনকে ঘিরে প্রযুক্তিবিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৯:৪৯
ডালাস ও ফোর্ট ওয়ার্থ, অস্টিন এবং হিউস্টনকে ঘিরে তিনটি এয়ার ট্যাক্সি নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা
ডালাসসহ টেক্সাসের তিন অঞ্চলে এয়ার ট্যাক্সি চালুর নতুন পরিকল্পনা আর্চার এভিয়েশনের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডালাস ও ফোর্ট ওয়ার্থ, অস্টিন এবং হিউস্টনকে ঘিরে তিনটি এয়ার ট্যাক্সি নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে আর্চার এভিয়েশন। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্রধান বিমানবন্দর, ব্যবসাকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যের মধ্যে বিদ্যুৎচালিত আকাশযানে যাতায়াতের ব্যবস্থা গড়তে চায় তারা। উদ্দেশ্য, সড়কের যানজট এড়িয়ে যাত্রীদের ভ্রমণের সময় কমানো।  আর্চারের দাবি, তাদের ‘মিডনাইট’ এয়ার ট্যাক্সির মাধ্যমে সড়কপথের ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের কিছু যাত্রা আকাশপথে ১০ থেকে ২০ মিনিটে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে এটি কোম্পানির পরিকল্পিত উড্ডয়নের সময়ের হিসাব। ঘোষণায় যাত্রীসেবা শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ বা ভাড়া জানানো হয়নি।    ডালাস ও ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলের পরিকল্পনায় রয়েছে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, ডালাস লাভ ফিল্ড, অ্যাডিসন, আর্লিংটন মিউনিসিপ্যাল, ফোর্ট ওয়ার্থ মিচাম এবং পেরট ফিল্ড ফোর্ট ওয়ার্থ অ্যালায়েন্স বিমানবন্দর। এসব বিমানবন্দরের সঙ্গে ফ্রিসকো স্টেশনের মতো ব্যবসাকেন্দ্র যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।  হিউস্টনে জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল, উইলিয়াম পি. হবি ও সুগার ল্যান্ড রিজিওনাল বিমানবন্দর থেকে ডাউনটাউনের থম্পসন হোটেলের হেলিপ্যাড এবং উপকূলীয় গ্যালভেস্টনে সংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে। অস্টিনে অস্টিন বার্গস্ট্রম ইন্টারন্যাশনাল ও অস্টিন এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরের সঙ্গে সার্কিট অব দ্য আমেরিকাসের ফর্মুলা ওয়ান হেলিপ্যাড যুক্ত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।    এই পরিকল্পনার পাশাপাশি চার্জিং অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে আর্চার। প্রতিষ্ঠানটি, বেটা টেকনোলজিস ও ম্যাকুয়ারি ক্যাপিটালের গড়া জোট এসিইএস টেক্সাসের পরিবহন বিভাগ এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। কোথায় আকাশযান চলবে এবং কোন স্থানে চার্জার বসানো সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা চিহ্নিত করাই এই উদ্যোগের অংশ। একাধিক প্রতিষ্ঠানের আকাশযান একই চার্জিং ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারবে, এমন অবকাঠামো গড়ার লক্ষ্য তাদের।    টেক্সাসের উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএর পরীক্ষামূলক কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত। গত ৯ মার্চ ঘোষিত ওই কর্মসূচিতে টেক্সাসের পরিবহন বিভাগের প্রস্তাব নির্বাচিত হয়। এতে ডালাস, অস্টিন, সান অ্যান্টোনিও এবং পরবর্তী পর্যায়ে হিউস্টনের মধ্যে আঞ্চলিক উড্ডয়ন ও সংশ্লিষ্ট শহরগুলোতে এয়ার ট্যাক্সি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কথা রয়েছে। আর্চারের পাশাপাশি বেটা, জোবি ও উইস্ক এই প্রকল্পের অংশীদার।    এফএএ জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম থেকে পাওয়া তথ্য নতুন ধরনের আকাশযানকে নিরাপদে জাতীয় আকাশসীমায় যুক্ত করার মানদণ্ড ও বিধি তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। আর্চারও তাদের ঘোষণায় স্পষ্ট করেছে, প্রস্তাবিত রুট, সেবা চালুর সময় ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ। বাস্তবায়নের ফল ঘোষিত প্রত্যাশা থেকে ভিন্ন হতে পারে।   

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১১:৪২
ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস
এক্সে ১৫ ভিডিওতে বোনাসের সুযোগ, নেই কোন ফলোয়ারের শর্ত

মৌলিক ভিডিও প্রকাশে নির্মাতাদের উৎসাহ দিতে ‘ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস’ নামে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করেছে এক্স। এতে আমন্ত্রণ পাওয়া নির্মাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলাদা ১৫ দিনে অন্তত ১৫টি যোগ্য ভিডিও পোস্ট করতে হবে। তবে শুধু ভিডিও প্রকাশ করলেই প্রত্যেক ব্যবহারকারী প্রায় চার লাখ টাকা পাবেন, এমন কোনো সর্বজনীন ঘোষণা দেয়নি প্ল্যাটফর্মটি।      এক্সের ক্রিয়েটর প্রোডাক্ট বিভাগের অ্যালেগ্রা জাকিয়ার ঘোষণার ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিন হাজার ডলার পর্যন্ত বোনাসের কথা এসেছে। তবে এক্সের নিজস্ব নির্দেশিকা বলছে, নির্মাতার বোনাসের অঙ্ক তাঁর আমন্ত্রণপত্র ও ক্রিয়েটর স্টুডিওতে দেখানো হবে। আমন্ত্রণের সময় এক্সসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে মোট ফলোয়ারের ভিত্তিতে এই অঙ্ক নির্ধারিত হয়। তাই সবার বোনাস সমান নয়।  কর্মসূচির প্রথম পর্ব ১৫ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এই পর্বে যোগ দিতে আমন্ত্রিত নির্মাতাদের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। সব সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক সময় অনুযায়ী গণনা করা হবে। একই দিনে একাধিক ভিডিও দিলেও সেটি এক দিন হিসেবেই ধরা হবে। অতিরিক্ত ভিডিও প্রকাশে বোনাস বাড়বে না।      যোগ্য ভিডিও হতে হবে নিজের তৈরি, খাড়া বা ভার্টিক্যাল ফরম্যাটে ৯:১৬ অনুপাতের এবং তিন মিনিটের কম দৈর্ঘ্যের। নিজের ভিডিও আগে অন্য প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হলেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে অন্য প্ল্যাটফর্মের নাম, লোগো বা ওয়াটারমার্ক থাকা যাবে না। নিবন্ধনের পর প্রকাশিত ভিডিওই গণনায় আসবে। অন্যের ভিডিও কিংবা একই ভিডিও বারবার পোস্ট করে শর্ত পূরণ করা যাবে না।      অংশগ্রহণকারীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। ভালো অবস্থানে থাকা অ্যাকাউন্ট, ভেরিফাইড ইমেইল এবং যোগ্য এক্স প্রিমিয়াম সদস্যতা অথবা প্রিমিয়াম বিজনেসের অধিভুক্তি প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ গ্রহণের জন্য সক্রিয় এক্স মানি অ্যাকাউন্ট এবং অন্য দেশের ক্ষেত্রে সংযুক্ত ও যাচাইকৃত স্ট্রাইপ অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশে কর্মসূচি ও অর্থ গ্রহণের সুবিধাও থাকতে হবে।    আমন্ত্রণ পাওয়া নির্মাতারা ক্রিয়েটর স্টুডিওর ‘প্রোগ্রামস’ বিভাগে নিবন্ধন করতে পারবেন। সেখানে ভিডিও ও পোস্ট করার দিনের অগ্রগতি দেখা যাবে। তবে ট্র্যাকারে শর্ত পূরণ দেখালেও সেটি অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা নয়। পর্ব শেষে চূড়ান্ত পর্যালোচনা হবে। এক্সের শর্তাবলি অনুযায়ী, বোনাস নিশ্চিত মাসিক আয় নয়; অর্থ দেওয়া ও তার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষমতা প্ল্যাটফর্মটির হাতে রয়েছে। 

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১০:১৬
টেসলার এআই সফটওয়্যারের ভাইস প্রেসিডেন্ট অশোক এলুসওয়ামি
টেসলার এআই সফটওয়্যারের নেতৃত্বে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট অশোক

ভারতের তামিলনাড়ুতে প্রকৌশল পড়াশোনা করা অশোক এলুসওয়ামি এখন টেসলার এআই সফটওয়্যারের ভাইস প্রেসিডেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির অটোপাইলট দলের প্রথম প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি ধাপে ধাপে সফটওয়্যার নেতৃত্বের দায়িত্বে উঠে এসেছেন। টেসলার ২০২৬ সালের সিভিপিআর সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আয়োজনের বিবরণেও তাঁকে এআই সফটওয়্যারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে।   অশোক চেন্নাইয়ের কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, গিন্ডি থেকে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করেন। কলেজটি আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ। পরে যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিক সিস্টেমস ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির রোবোটিকস ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তালিকা অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তাঁর ওই প্রোগ্রাম সম্পন্ন হয়।  টেসলায় তাঁর যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে। অর্থাৎ অটোপাইলটের প্রথম সংস্করণ চালুর আগেই তিনি প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার দলে যুক্ত হন। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক বক্তব্যে ইলন মাস্কও তাঁকে টেসলার এআই ও অটোপাইলট দলের প্রথম সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন। টেসলার বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকাশিত নথিতে সংরক্ষিত ওই বক্তব্যে মাস্ক জানান, পরে অশোক পুরো এআই ও অটোপাইলট সফটওয়্যারের নেতৃত্বে উঠে আসেন।  কর্মজীবনের শুরুতে অটোপাইলটের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পর তিনি সিনিয়র এবং সিনিয়র স্টাফ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হন। ২০১৯ সালে পান অটোপাইলট সফটওয়্যারের পরিচালক পদ। তাঁর পেশাগত প্রোফাইলের তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এআই সফটওয়্যারের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে পদোন্নতির খবর জানানো হয়।  তাঁর নেতৃত্বের ক্ষেত্র বোঝার জন্য টেসলার প্রযুক্তির কাজও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক বিবরণ অনুযায়ী, তাদের এআই উন্নয়নে ক্যামেরার দৃশ্য থেকে বাস্তব পরিবেশ বুঝে যানবাহন ও রোবটের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের মডেল তৈরি করা হয়। এতে শুধু মডেল প্রশিক্ষণ নয়, বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা মূল্যায়ন, নিরাপত্তা বিবেচনা এবং নির্ভরযোগ্যভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ও রয়েছে। ২০২৬ সালের সিভিপিআর আয়োজনে অশোকের বক্তব্যের বিষয় ছিল টেসলায় রোবোটিকসের জন্য ভিত্তিমূলক মডেল নির্মাণ।  তবে টেসলার ‘ফুল সেলফ ড্রাইভিং’ নামটির সঙ্গে প্রযুক্তিটির ব্যবহারের শর্ত আলাদা করে বোঝা প্রয়োজন। টেসলা নিজেই জানিয়েছে, গ্রাহকদের জন্য থাকা ‘ফুল সেলফ ড্রাইভিং সুপারভাইজড’ ব্যবহারে চালকের সক্রিয় নজরদারি আবশ্যক। এই ব্যবস্থা গাড়িকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করে না। ফলে অশোকের কাজের ক্ষেত্রকে চালকের সহায়তাকারী প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার উন্নয়ন হিসেবে দেখা যথাযথ।  টেসলায় যোগ দেওয়ার আগে অশোক ওয়াবকো ভেহিকল কন্ট্রোল সিস্টেমসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ফোক্সওয়াগেনের ইলেকট্রনিক রিসার্চ ল্যাবেও গবেষণা ইন্টার্ন ছিলেন। ভারতে প্রকৌশলের প্রাথমিক শিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে রোবোটিকসের উচ্চশিক্ষা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে তাঁর কর্মজীবন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ৮:৪৪
চু রি করা আইফোনে সতর্কবার্তা
ফ্রান্সে অ্যাপল স্টোরে লু ট পা টের পর চো রদের আইফোনেই ভেসে উঠল সতর্কবার্তা

ফ্রান্সের একটি অ্যাপল স্টোর থেকে আইফোন চু রির পর সেগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত সতর্কবার্তার মুখে পড়েছেন লু ট পা টে জড়িত ব্যক্তিরা। চু রি করা ফোনের পর্দায় ভেসে উঠেছে—ডিভাইসটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, এর অবস্থান শনাক্ত করা হচ্ছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। ফলে দোকান থেকে ফোন নিয়ে বেরিয়ে গেলেও সেগুলো ব্যবহার বা বিক্রি করা সহজ হচ্ছে না।   ঘটনাটি ঘটে ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের লিল শহরের অ্যাপল স্টোরে। দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে ওই দোকানে লু ট পা ট চালানো হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে চু রি করা আইফোনের পর্দায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সতর্কবার্তা দেখা যায়। বার্তাটিতে ফোনটি লিলের অ্যাপল স্টোরে ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। ফোনের পর্দায় প্রদর্শিত বার্তায় লেখা ছিল, “অনুগ্রহ করে ডিভাইসটি অ্যাপল লিলে ফিরিয়ে দিন। এই ডিভাইসটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং এর অবস্থান শনাক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হবে।” বার্তাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই চু রি করা ফোন হাতে পাওয়ার পর সেটি ব্যবহার করতে না পারার বিষয়টি নিয়ে বিদ্রূপ করেছেন। তবে ভিডিওতে দেখা সতর্কবার্তার ভিত্তিতে কতটি ফোন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে কিংবা এর মাধ্যমে কাউকে শনাক্ত বা গ্রে প্তা র করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অ্যাপলের দোকানে প্রদর্শনের জন্য রাখা আইফোন ও অন্যান্য ডিভাইসে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে। দোকান থেকে এসব ডিভাইস সরিয়ে নেওয়া হলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে এবং পর্দায় সতর্কবার্তা দেখাতে পারে। ফলে চু রি করা ফোন সাধারণভাবে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত ডিভাইসের অননুমোদিত ব্যবহার ঠেকানো এবং সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে প্রদর্শনীতে রাখা ফোনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সাধারণ ব্যবহারকারীর হারিয়ে যাওয়া বা চু রি হওয়া আইফোন খুঁজে বের করার ব্যবস্থা এক নয়। ব্যক্তিগত আইফোনের ক্ষেত্রে অ্যাপলের ‘ফাইন্ড মাই’ সুবিধার মাধ্যমে ডিভাইসের অবস্থান শনাক্ত করা, সেটিকে দূর থেকে লক করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য সুরক্ষিত রাখার সুযোগ রয়েছে। কোন ফোনে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা ডিভাইসের অবস্থা ও সেটিংসের ওপর নির্ভর করে। লিলের ঘটনাটি ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন দোকানে লু ট পা টের বৃহত্তর পরিস্থিতির অংশ। ১৭ অক্টোবর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে সং ঘ র্ষ, ভাঙচুর ও লু ট পা টের ঘটনা ঘটে। লিলের অ্যাপল স্টোর ছাড়াও বোর্দোর একটি অ্যাপল স্টোরে লু ট পা ট চালানো হয়। লিলের দোকানটি শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। ঘটনার পর দোকানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। বোর্দোর দোকানেও ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে দুই দোকান থেকে ঠিক কত টাকার পণ্য চু রি হয়েছে কিংবা কতটি ডিভাইস নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো ঘটনাটির কিছু চিত্র তুলে ধরলেও সেগুলোর সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। একইভাবে, চু রি হওয়া ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার সতর্কবার্তা দেখা গেলেই যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত বা গ্রে প্তা র করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তারপরও ঘটনাটি দেখিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা চু রি করা ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করে দিতে পারে। দোকান থেকে ফোন নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও সেটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা বা অন্যের কাছে বিক্রি করা অনেক কঠিন হতে পারে। লিলের অ্যাপল স্টোরের ঘটনায় তাই চু রি করা আইফোনের পর্দায় ভেসে ওঠা সতর্কবার্তাই হয়ে উঠেছে আলোচনার মূল বিষয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৭:৩৯
সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বন্ধ, বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা আর ঝুঁকিই বা কী

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো কতটা সুরক্ষিত, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি কেমন এবং এ ধরনের আক্রমণ হলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।   বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি সেবা, আর্থিক লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের বড় একটি অংশ ইন্টারনেটনির্ভর। ফলে কোনো বড় ধরনের সাইবার হামলা হলে শুধু ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাওয়াই নয়, গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়া এবং তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সাইবার হামলার ধরন অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। কোনো হামলায় ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়তে পারে। আবার কোনো আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা ভেঙে দেওয়া। এতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ব্যাংকিং সেবা, অনলাইন লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকলে সাইবার অপরাধীরা তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করা, নিয়মিত দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত মোকাবিলা করার সক্ষমতা থাকা জরুরি। সাইবার হামলা প্রতিরোধে শুধু প্রযুক্তিগত সুরক্ষা যথেষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সচেতনতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করা, তথ্যের ব্যাকআপ রাখা এবং হামলার পর দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় থাকলে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সহজ হতে পারে। তবে বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বন্ধের আশঙ্কা বা সাইবার হামলার খবর থাকলেই বাংলাদেশের সব অনলাইন সেবা তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে হামলার ধরন, লক্ষ্যবস্তু, ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর। বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর, তা মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কতা, নিরাপত্তাব্যবস্থার সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ডিজিটাল সেবা যত বাড়ছে, সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও তত বাড়ছে। তাই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, দ্রুত সতর্কতা এবং কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৫:৯
ফেসবুকে কনটেন্ট পৌঁছানোর হিসাব দেখাতে পরিচিত ‘রিচ’ সূচকের জায়গায় গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ভিউয়ারস’। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুকে বন্ধ হচ্ছে পরিচিত ‘রিচ’, জায়গা নিচ্ছে নতুন সূচক ‘ভিউয়ারস’

ফেসবুকে কনটেন্ট কতজন আলাদা দর্শকের কাছে পৌঁছাচ্ছে, সেই হিসাব দেখানোর ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। পরিচিত ‘রিচ’ সূচকের জায়গায় গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ভিউয়ারস’। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ম্যানিলা শেকারের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ফেসবুক অ্যানালিটিকসে রিচের পরিবর্তে ভিউয়ারস ব্যবহার করা হবে। তবে পরিবর্তনটিকে কনটেন্ট মানুষের কাছে পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যাওয়া হিসেবে বোঝার সুযোগ নেই। এটি দর্শকসংখ্যা পরিমাপ ও প্রদর্শনের পরিবর্তন।    ভিউয়ারস দিয়ে বোঝানো হয়, নির্ধারিত সময়ে কতটি আলাদা অ্যাকাউন্ট কোনো কনটেন্ট দেখেছে। একই অ্যাকাউন্ট একাধিকবার দেখলেও আলাদা দর্শকের হিসাবে সেটিকে একবারই গণনা করা হয়। পেজ পরিচালনাকারী, সংবাদমাধ্যম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এই সূচক দর্শকের বিস্তার বোঝার কাজে ব্যবহৃত হবে।    অন্যদিকে ‘ভিউস’ ও ‘ভিউয়ারস’ এক বিষয় নয়। ভিউস হলো কনটেন্ট কতবার দেখা বা প্রদর্শিত হয়েছে, তার হিসাব। এতে একই ব্যক্তির একাধিকবার দেখাও যুক্ত হতে পারে। ফলে একটি পোস্টের ভিউস বেশি হলেও তার অর্থ এই নয় যে সমানসংখ্যক আলাদা মানুষ পোস্টটি দেখেছেন।    রিচ থেকে ভিউয়ারসভিত্তিক হিসাবে যাওয়ার প্রক্রিয়া অবশ্য আগেই শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্ল্যাটফর্ম আইকনোস্কোয়ারের নথি অনুযায়ী, তৃতীয় পক্ষের অ্যানালিটিকস সেবায় ব্যবহৃত ফেসবুকের পুরোনো একাধিক রিচ সূচক সরানোর সময় নির্ধারিত ছিল চলতি বছরের ১৫ জুন। ওই পরিবর্তনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি জুন থেকেই ভিউয়ারসভিত্তিক তথ্য ব্যবহার শুরু করে। তাই অ্যাপ, ড্যাশবোর্ড ও বাইরের বিশ্লেষণসেবায় পরিবর্তন দেখানোর সময় এক নাও হতে পারে।    পুরোনো রিচ ও নতুন ভিউয়ারসের সংখ্যা সরাসরি তুলনা করলেও সতর্কতা প্রয়োজন। এমপ্লিফাইয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আগের হিসাবে কনটেন্ট স্ক্রিনে আসার ভিত্তিতে আলাদা দর্শক গণনা করা হতো। নতুন হিসাবে কনটেন্ট চালু হওয়া বা প্রদর্শিত হওয়ার ভিত্তিতে দর্শক গণনা করা হচ্ছে। সংজ্ঞা ও গণনাপদ্ধতি বদলানোর কারণে সংখ্যার পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যা সব ক্ষেত্রে দর্শক বাড়া বা কমার সমান নয়।    তৃতীয় পক্ষের কিছু বিশ্লেষণসেবায় অর্গানিক, পেইড, ভাইরাল ও ননভাইরাল রিচের পুরোনো বিভাজনও আর পাওয়া যাচ্ছে না। আইকনোস্কোয়ার জানিয়েছে, নতুন ভিউয়ারস সূচকে মোট আলাদা দর্শকের হিসাব থাকলেও আগের মতো এসব ভাগ নেই। ফলে নিয়মিত পেজের পারফরম্যান্স প্রতিবেদন তৈরির সময় কোন সূচক ও কোন সময়ের তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১২:১৫
এআই ও শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় জেনসেন হুয়াং
এআই নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলে দিলেন এনভিডিয়া সিইও, শিল্পখাতকে দিলেন জরুরি পরামর্শ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের দক্ষতা ও কাজের জায়গা দখল করে নেবে—এমন আশঙ্কার বিপরীতে ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং। তাঁর মতে, এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে না দেখে শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানো উচিত। বিশেষ করে জার্মানির মতো শিল্পনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এআই বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।   জার্মানির গাড়ি নির্মাণ, যন্ত্রপাতি উৎপাদন ও ভারী শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই প্রযুক্তি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন হুয়াং। তাঁর বক্তব্য, কেবল ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতি, উৎপাদনব্যবস্থা ও শিল্পকারখানার সঙ্গে এআইয়ের সমন্বয় ঘটাতে হবে। এতে উৎপাদনপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর হতে পারে, জটিল কাজ সহজ হতে পারে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। হুয়াংয়ের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ডিজিটাল প্রযুক্তি বাস্তব জগতের কাজকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইলেকট্রন কখনো পরমাণুর জায়গা নেবে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কম্পিউটার ও সফটওয়্যারভিত্তিক প্রযুক্তির উন্নতি হলেও বাস্তব পণ্য তৈরি, যন্ত্র পরিচালনা এবং শিল্প উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাবে না। বরং এআইয়ের সহায়তায় এসব কাজ আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে রোবটিকস, স্মার্ট কারখানা, গাড়ি নির্মাণ এবং ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনার মতো ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এআইয়ের সঙ্গে বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতি ও কাজের পরিবেশকে যুক্ত করার এই ধারণাকে প্রযুক্তি খাতে ‘ফিজিক্যাল এআই’ বলা হয়। এর মাধ্যমে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি পরিবেশ বুঝে কাজ করতে, তথ্য বিশ্লেষণ করতে এবং উৎপাদনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। হুয়াংয়ের মতে, জার্মানির শিল্পখাতের বড় শক্তি হলো দেশটির দীর্ঘদিনের প্রকৌশল দক্ষতা, উৎপাদন অভিজ্ঞতা এবং শিল্পকারখানার বিপুল তথ্যভান্ডার। এসব সম্পদ এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এআই উৎপাদনব্যবস্থা আধুনিক করা এবং সীমিত সম্পদ আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। জার্মানি বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থরতা, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর রাশিয়ার তুলনামূলক সস্তা গ্যাসের সরবরাহ হারানোও দেশটির শিল্পের ব্যয় বাড়ানোর অন্যতম কারণ। এমন পরিস্থিতিতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউরোপের কিছু উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, ডেটা সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ এবং সংবেদনশীল তথ্য বিদেশি সার্ভারে সংরক্ষণের বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে হুয়াংয়ের পরামর্শ হলো, উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি নিজেদের প্রকৌশল জ্ঞান, স্থানীয় দক্ষতা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হবে। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, এআইকে মানুষের দক্ষতার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখলে এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না। বরং মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সক্ষমতাকে একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারলেই শিল্পের ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী হতে পারে। জার্মানির শিল্পখাতের জন্য এআই তাই শুধু নতুন প্রযুক্তি নয়, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ৫:৫৭
প্রেমের টানে ১২০০ মাইল, বাস্তবে প্রেমিকা এআই!
স্বপ্নের প্রেমিকাকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, সামনে গিয়ে জানলেন তিনি আসলে এআই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমকে বিয়ের সম্পর্কে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে নিজের সব ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে ১ হাজার ২০০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে তাঁর অপেক্ষায় ছিল চরম হতাশা। যাঁকে এত দিন নিজের স্বপ্নের নারী বলে বিশ্বাস করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।   এডিমার মার্টিন্স নামের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তাঁর দাবি, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ চলতে থাকে। একপর্যায়ে জেসিকার প্রতি গভীর আবেগ তৈরি হয় তাঁর। ধীরে ধীরে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, এই নারীই তাঁর জীবনের কাঙ্ক্ষিত সঙ্গী, যাঁর সঙ্গে ভবিষ্যৎ কাটাতে চান তিনি। একাকিত্ব কাটিয়ে জীবনে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশায় মার্টিন্স এই সম্পর্ককে বাস্তব জীবনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, জেসিকার সঙ্গে দেখা করে বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্কটিকে স্থায়ী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের কাছে থাকা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করে যাত্রার খরচ জোগাড় করেন। গত ৯ অক্টোবর ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানহাও রাজ্য থেকে রওনা দেন মার্টিন্স। তাঁর গন্তব্য ছিল দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তে। সেখানে পৌঁছানোর পর ১১ অক্টোবর থেকে জেসিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা এই ব্যক্তির আশা ছিল, অবশেষে স্বপ্নের মানুষটির সঙ্গে দেখা হবে এবং একসঙ্গে জীবন শুরু করার পথ খুলবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও জেসিকার দেখা পাননি মার্টিন্স। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে গিয়ে তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, জেসিকা নামে ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। এত দিন যাঁকে সত্যিকারের মানুষ মনে করে ভালোবেসেছিলেন, তিনি আসলে এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। এই খবর জানার পর মার্টিন্সের সামনে তৈরি হয় নতুন সংকট। যাত্রার জন্য নিজের সম্পদ বিক্রি করে ফেলায় তাঁর হাতে অর্থও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। বেলো হরিজন্তেতে অবস্থান করার মতো সামর্থ্য না থাকায় তিনি স্থানীয় সিটি হলে যান। সেখানে একজন সমাজকর্মীর কাছে নিজের পরিস্থিতি খুলে বলেন। পরে তাঁকে বাড়ি ফেরার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়। মার্টিন্স জানান, একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার আশাতেই তিনি এত দূরের পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু যে সম্পর্ককে সত্যি ভেবে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তা তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি পরিচয় এবং এআই-নির্ভর কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেসিকা অলিভেইরা নামের অ্যাকাউন্টটির অনুসারী ছিল প্রায় তিন লাখ। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এআই দিয়ে তৈরি নারী চরিত্রটিকে বলতে শোনা যায়, তিনি এমন একজন পুরুষের সন্ধান করছেন, যাঁকে নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে আর্থিকভাবে দেখাশোনা করবেন। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে অ্যাকাউন্টটি অনুসরণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল বলে ধারণা করা যায়। তবে মার্টিন্স ঠিক কোন বিষয়গুলো দেখে ওই চরিত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে অ্যাকাউন্টটির পরিচালনাকারী স্বীকার করেন, জেসিকা বাস্তব কোনো নারী নন; তিনি এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। মার্টিন্সের সঙ্গে তাঁর কোনো সরাসরি যোগাযোগও হয়নি। অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীর দাবি, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো এবং মানুষের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। এত কিছুর পরও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। বর্তমানে তিনি এক আত্মীয়ের সঙ্গে থাকছেন। তাঁর পরিকল্পনা, আবারও বেলো হরিজন্তে যাবেন। তবে এবার কোনো কাল্পনিক চরিত্রের পেছনে নয়, বাস্তব জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজতেই সেখানে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৭:৪৬
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন তরুণ কায়রান কাজী
১৪ বছরেই স্পেসএক্সে চাকরি, ১৬তে ওয়াল স্ট্রিটে  বাংলাদেশি কায়রান

মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্পেসএক্সের স্টারলিংক বিভাগে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন তরুণ কায়রান কাজী। সেখানে প্রায় দুই বছর কাজের পর ২০২৫ সালের আগস্টে, ১৬ বছর বয়সে নিউইয়র্কের সিটাডেল সিকিউরিটিজে কোয়ান্টিটেটিভ ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেন তিনি। মহাকাশপ্রযুক্তি থেকে আর্থিক লেনদেনের প্রযুক্তিতে এই যাত্রার কথা উঠে এসেছে বিজনেস ইনসাইডারের সাক্ষাৎকারে।   সিটাডেল সিকিউরিটিজের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও সংরক্ষিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক ট্রেডিং অবকাঠামো তৈরিতে কাজ করার জন্য কায়রানকে নেওয়া হয়। কাজটিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও গাণিতিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ব্যবহার করে ট্রেডার ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সিটাডেল সিকিউরিটিজ একটি বৈশ্বিক মার্কেট মেকার প্রতিষ্ঠান, যা আর্থিক বাজারে শেয়ারসহ বিভিন্ন সম্পদের কেনাবেচা সহজ করতে ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য দেয় এবং লেনদেন সম্পন্ন করে। এটি কেন গ্রিফিনের হেজ ফান্ড সিটাডেল থেকে পৃথক প্রতিষ্ঠান।    কায়রানের শিক্ষাজীবনও এগিয়েছে প্রচলিত সময়ের অনেক আগে। সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের জুনে মাত্র ১৪ বছর বয়সে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ১৭২ বছরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ স্নাতক হন তিনি।   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের প্রকাশিত পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ১০ বছর বয়সে ইন্টেল ল্যাবসের হিউম্যান এআই ল্যাবে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান কায়রান। সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যোগাযোগে সহায়তার জন্য পূর্বানুমানভিত্তিক কথা তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। স্নাতক হওয়ার প্রায় এক মাস পর স্টারলিংকে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ফলে ২০২৩ সালের জুনে তাঁর চাকরি পাওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও সেটিকে ওই মাসেই কাজে যোগদানের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়।  বিজনেস ইনসাইডারকে কায়রান জানান, স্টারলিংকে তিনি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল বিম কোথায় পাঠানো হবে, তা নির্ধারণের সফটওয়্যার তৈরি ও বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুনিয়র প্রকৌশলী হয়েও প্রকল্পের ধারণা উপস্থাপন থেকে সফটওয়্যার চালু ও তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত দায়িত্ব পেয়েছিলেন।   পেশা পরিবর্তনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, স্পেসএক্সে দুই বছর কাটানোর পর নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে এবং ভিন্ন কর্মপরিবেশে নিজের দক্ষতা বাড়াতে চেয়েছিলেন। আর্থিক প্রযুক্তিতে কাজের ফল দ্রুত পরিমাপ করার সুযোগও তাঁকে আকৃষ্ট করেছে।   

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ২:৪৯
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নিরূপণে নতুন এআই সফটওয়্যার
স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ণয়ে এআই প্রযুক্তির নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারে এফডিএর অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রে স্তন ক্যানসার চিকিৎসার পর রোগটি আবার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘টিউমারসাইট রিস্ক’ নামের এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে শিকাগোভিত্তিক চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিমবায়োসিস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, রোগীর এমআরআই ছবি, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ও প্যাথলজি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে এটি পাঁচ ও ১০ বছরের মধ্যে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে চিকিৎসকদের সহায়তা করবে।   এফডিএর নথি অনুযায়ী, সফটওয়্যারটি রোগীর বয়স, জাতিগত পরিচয়, ক্যানসারের পর্যায়, লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না এবং টিউমারের গ্রেডের মতো তথ্য ব্যবহার করে। এসব তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় স্তনের এমআরআই থেকে পাওয়া উপাত্ত। সবকিছু বিশ্লেষণ করে সফটওয়্যারটি শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি স্কোর দেয়। সেই স্কোরের ভিত্তিতে রোগীর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়—উচ্চ, মাঝারি ও কম। সিমবায়োসিসের ঘোষণা অনুযায়ী, এফডিএ ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সফটওয়্যারটির জন্য ছাড়পত্র দেয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ অক্টোবর বিষয়টি প্রকাশ্যে জানায়। তাদের দাবি, এমআরআইভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে এটিই বিশ্বের প্রথম এআইচালিত টুল। তবে এই দাবি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বক্তব্য। নতুন প্রযুক্তিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি চিকিৎসার নিয়মিত প্রক্রিয়ায় আগে থেকেই সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করতে পারে। ফলে ঝুঁকি নিরূপণের জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি, টিস্যুর নমুনা অন্যত্র পাঠানো কিংবা বিশেষ হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে চিকিৎসকেরা রোগীর বিদ্যমান তথ্য থেকেই অতিরিক্ত বিশ্লেষণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সফটওয়্যারটি সব ধরনের স্তন ক্যানসার রোগীর জন্য তৈরি নয়। এফডিএর নথি অনুযায়ী, এটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নির্দিষ্ট ধরনের স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। রোগীদের ক্ষেত্রে হরমোন রিসেপ্টর পজিটিভ (এইচআর-পজিটিভ) এবং এইচইআর২-নেগেটিভ ক্যানসার থাকতে হবে। ক্যানসারের পর্যায় হতে হবে স্টেজ ১ থেকে স্টেজ ৩এ পর্যন্ত। লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেও সফটওয়্যারটির ব্যবহারের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। সিমবায়োসিসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেসি স্টিভেন্স বলেছেন, রোগীর স্তনের এমআরআইতে আগে থেকেই থাকা জৈবিক ও শারীরিক গঠনসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে প্রচলিত প্যাথলজি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকেরা এখন ব্যক্তিভিত্তিক ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে রোগী ও চিকিৎসকেরা চিকিৎসা বেছে নেওয়ার সময় আরও স্পষ্ট ধারণা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নতুন সফটওয়্যারটির কার্যকারিতা যাচাইয়ে ২ হাজার ১২৯ জন রোগীর তথ্য নিয়ে একটি বহুকেন্দ্রিক গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সফটওয়্যারের স্কোর অনুযায়ী উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কম ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ গুণ বেশি ছিল। স্কোর ১০ পয়েন্ট বাড়লে ক্যানসার ফিরে আসার আপেক্ষিক ঝুঁকি ২২ শতাংশ বাড়ার সম্পর্কও পাওয়া গেছে। গবেষণার হিসাবে, সর্বনিম্ন স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে ক্যানসার ফিরে আসার আনুমানিক ঝুঁকি ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে তা ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ১০ বছরের হিসাবে এই ঝুঁকি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। এসব পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট স্কোরভিত্তিক রোগী গোষ্ঠীর আনুমানিক ঝুঁকি তুলে ধরে; কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্যানসার নিশ্চিতভাবে ফিরে আসবে বা আসবে না, তা বলে না। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় রোগটি ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চিকিৎসকেরা এই তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা, কেমোথেরাপির প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি হরমোন থেরাপি চালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয় বিবেচনা করতে পারেন। বর্তমানে চিকিৎসকেরা ক্যানসারের পর্যায়, টিউমারের বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য ক্লিনিক্যাল তথ্যের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জিনভিত্তিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করেন। নতুন সফটওয়্যারটি এসব পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার একটি উপায় হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মধ্যে ত্বকের ক্যানসার বাদ দিলে স্তন ক্যানসারই সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসার। ২০২৬ সালে দেশটিতে নারীদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ২১ হাজার ৯১০টি নতুন আক্রমণাত্মক স্তন ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। একই বছরে এ রোগে প্রায় ৪২ হাজার ১৪০ নারীর মৃ ত্যু হতে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তি ঝুঁকি নিরূপণে বাড়তি সহায়তা দিতে পারে। তবে সফটওয়্যারের ফলাফলকে রোগীর অন্যান্য পরীক্ষার ফল, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করতে হবে। কেবল এআইয়ের স্কোরের ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা নয়। রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও রোগীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতিই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৬:৭
স্পেসএক্সের থ্রাস্টারসহ নতুন টেসলা রোডস্টার
আকাশে উড়বে, মাঝপথে ডিগবাজিও খাবে টেসলার নতুন গাড়ি, থাকছে স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার ‘রোডস্টার’ সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। গাড়িটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো, এতে যুক্ত করা হয়েছে স্পেসএক্সের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি রকেটের মতো থ্রাস্টার। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটিকে বাতাসে উঠতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে মাটিতে নামতে দেখা গেছে। এমনকি বিশেষ সাকশন ব্যবস্থার সাহায্যে উল্টো করে তৈরি একটি র‍্যাম্পের নিচের অংশে গাড়ি চালানোর প্রদর্শনীও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন রোডস্টার প্রদর্শন করা হয়। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের উপস্থিতিতে গাড়িটির বিভিন্ন সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীতে গাড়িটি বাতাসে ঘুরে যাওয়ার পাশাপাশি পার্ক করে রাখা কয়েকটি গাড়ির ওপর দিয়েও উড়ে যায়। প্রায় নয় বছর আগে প্রথমবার নতুন প্রজন্মের রোডস্টারের ধারণা সামনে এনেছিল টেসলা। এবার এর নকশা ও প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখানো হলো। টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টার ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬০ মাইল বা প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নিতে পারে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি, যা প্রায় ৩৭০ কিলোমিটারের সমান। তবে মাস্কের মতে, স্পেসএক্সের প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার পর গাড়িটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক শুধু দ্রুতগতিতে চলার ক্ষমতা নয়; বরং বাতাসে বিভিন্ন কৌশল দেখানোর সক্ষমতা। গাড়িটিতে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নত কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার। টেসলার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক অ্যাকচুয়েটরের মাধ্যমে এসব থ্রাস্টার খুব দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ধাক্কা বা থ্রাস্ট তৈরি করতে পারে। এর ফলে বাতাসে থাকা অবস্থায় গাড়ির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় ছোটখাটো সমন্বয় করা সম্ভব হয়। গাড়িটি মাঝআকাশে ঘুরে যাওয়া কিংবা নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণের মতো কৌশল দেখাতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো গাড়ির নিচে থাকা ফ্যানভিত্তিক সাকশন ব্যবস্থা। টেসলার প্রদর্শনীতে এই ব্যবস্থার সাহায্যে গাড়িটিকে উল্টোভাবে তৈরি র‍্যাম্পে আটকে থাকতে দেখা যায়। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি সর্বোচ্চ দুই জি পর্যন্ত বল তৈরি করতে পারে। এর উদ্দেশ্য শুধু ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী নয়, বরং গাড়ির নিচের দিকে চাপ বাড়িয়ে বাঁক নেওয়ার সময় সড়কের সঙ্গে সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ উন্নত করা। মাস্ক বলেন, গাড়ির নিচের দিকে বেশি চাপ তৈরি হলে এটি ট্র্যাকে দ্রুত বাঁক নিতে পারবে। তাঁর দাবি, এই প্রযুক্তির কারণে রোডস্টার প্রচলিত স্পোর্টস কারের তুলনায় অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারে এবং বিভিন্ন ট্র্যাকের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দাবি এবং বাস্তব ব্যবহারে গাড়িটির পারফরম্যান্সের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। স্বাধীনভাবে সব প্রযুক্তিগত দাবি যাচাইয়ের সুযোগ এখনো সীমিত। গাড়িটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাস্ক নিজেই স্বীকার করেছেন, এটি সব দিক থেকে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি গাড়ি নয়। তিনি অবশ্য এটিকে চালানোর অভিজ্ঞতার দিক থেকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর বলে তুলে ধরেছেন। সাধারণ সড়কে গাড়িটির বাতাসে ওড়ার মতো কৌশলগুলো আইনগতভাবে অনুমোদিত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে প্রদর্শনীতে দেখানো প্রযুক্তি বাস্তবে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নতুন রোডস্টারের দামও এখনো পুরোপুরি ঘোষণা করেনি টেসলা। তবে গাড়িটির তিনটি সংস্করণের জন্য বুকিং বা রিজার্ভেশন চালুর তথ্য পাওয়া গেছে। ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের জন্য ৫০ হাজার ডলার জমা দিতে হবে। ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণে দ্রুতগতির জন্য অতিরিক্ত থ্রাস্টার রয়েছে এবং এর জন্য জমার পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ‘রকেট’ সংস্করণটি কেবল আমন্ত্রণের ভিত্তিতে পাওয়া যাবে; এর নির্দিষ্ট মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। এই সংস্করণে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট ব্যবস্থা থাকার কথা জানানো হয়েছে। নতুন রোডস্টার তৈরির পরিকল্পনা প্রথম সামনে আসে ২০১৭ সালে। তখন গাড়িটির প্রাথমিক মূল্য ২ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ২০২০ সাল থেকে সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু হয়নি। এবার টেসলা জানিয়েছে, গাড়িটির উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের হাতে গাড়িটি পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে। টেসলার জন্য রোডস্টার শুধু একটি দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়; এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরারও একটি প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটি স্বচালিত গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবট প্রযুক্তিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রোডস্টার প্রতিষ্ঠানটির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি তৈরির পরিচয়কে আবার সামনে আনতে পারে। তবে প্রদর্শনীতে দেখানো সব কৌশল সাধারণ সড়কে ব্যবহার করা যাবে কি না, গাড়িটির চূড়ান্ত মূল্য কত হবে এবং উৎপাদনের সময়সীমা এবার বজায় রাখা সম্ভব হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত রকেট থ্রাস্টার, বাতাসে ঘোরার সক্ষমতা এবং অস্বাভাবিক দ্রুতগতির দাবিই টেসলার নতুন রোডস্টারকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৬:২৭
চাঁদে হাঁটা সাবেক নভোচারী চার্লস ডিউক
ইউএফও শয়তানের পাঠানো অশুভ সত্তা, দাবি চাঁদে হাঁটা নাসার সাবেক নভোচারীর

চিহ্নিত উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন নাসার সাবেক নভোচারী চার্লস ডিউক। তাঁর দাবি, ইউএফও ভিনগ্রহীদের যান নয়; বরং এগুলো শয়তানের পাঠানো অশুভ সত্তা হতে পারে। নিজের খ্রিষ্টীয় ধর্মবিশ্বাস এবং বাইবেলের একটি বাণীর ভিত্তিতে এমন ধারণা পোষণ করেন চাঁদে হেঁটে আসা এই সাবেক নভোচারী। তবে তাঁর এ বক্তব্য ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিফলন, এর পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।   চার্লস ডিউকের বয়স এখন ৯১ বছর। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৬ অভিযানে অংশ নিয়ে চাঁদের বুকে হাঁটেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর। চাঁদে পা রাখা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে পরিচিত ডিউক এখন ইউএফও সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে নিজের ধর্মীয় ব্যাখ্যা সামনে এনেছেন। ডিউকের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউএফও নিয়ে তাঁর এই বিশ্বাসের সঙ্গে বাইবেলের একটি অংশের সম্পর্ক রয়েছে। বাইবেলের দ্বিতীয় করিন্থীয় পুস্তকের ১১ অধ্যায়ের ১৪ নম্বর পদে বলা হয়েছে, শয়তানও নিজেকে আলোর দূত হিসেবে ছদ্মবেশ ধারণ করায়। ডিউক মনে করেন, এই বাণী ইউএফও সম্পর্কে তাঁর ধারণার সঙ্গে মিলে যায়। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের কাছে অজানা বা রহস্যময় বলে মনে হওয়া এসব ঘটনার পেছনে অশুভ কোনো শক্তি কাজ করতে পারে। তবে ইউএফও সম্পর্কে এমন ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। আকাশে দেখা কোনো অজ্ঞাত বস্তুকে ইউএফও বলা হয়; এর অর্থ এই নয় যে সেটি ভিনগ্রহের যান বা অতিপ্রাকৃত কোনো সত্তা। পর্যবেক্ষণের তথ্য অপর্যাপ্ত থাকলে কিংবা বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলে সেটিকে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাই ডিউকের ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ডিউক জানান, মহাকাশ অভিযানের সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন কোনো ঘটনার মুখোমুখি হননি, যাকে ইউএফওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সাক্ষাৎ বলা যায়। অর্থাৎ চাঁদে যাওয়া বা মহাকাশে থাকার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ইউএফও সম্পর্কে এই দাবি করছেন না; বরং তাঁর বক্তব্যের মূল ভিত্তি ধর্মীয় বিশ্বাস। ডিউক আরও জানান, একবার তিনি ঈশ্বরের কাছে কোনো সংকেত চেয়েছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিনই এক বন্ধু ইউএফও নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে চান। ঘটনাটিকে তিনি নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। তবে এই অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধি; এটি ইউএফওর প্রকৃতি বা উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ নয়। ইউএফও নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা শুধু ডিউকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও চলতি বছরের মার্চে বেনি জনসনের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ইউএফওকে ভিনগ্রহীদের উপস্থিতির চেয়ে শয়তান বা অশুভ সত্তার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে করেন। তাঁর বক্তব্যও এ বিষয়ে ব্যক্তিগত ধর্মীয় ধারণার প্রতিফলন। এদিকে, ইউএফও-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের আলোচনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য আনা পাউলিনা লুনাও আলোচনায় আসেন। ৮ মে ইউএফও-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রসঙ্গের সময় তিনি ডানাওয়ালা ‘ওফানিম’ নামের এক স্বর্গীয় সত্তার ছবি প্রকাশ করেন। বাইবেল ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে এ ধরনের সত্তার উল্লেখ থাকায় বিষয়টি ইউএফও নিয়ে চলমান ধর্মীয় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়। ইউএফও নিয়ে রহস্য, সরকারি নথি প্রকাশ এবং ভিনগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা—এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ রয়েছে। তবে অজ্ঞাত কোনো উড়ন্ত বস্তুর পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে ভিনগ্রহী যান কিংবা শয়তানের পাঠানো সত্তা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। চার্লস ডিউকের বক্তব্য তাই ইউএফও নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন একটি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এনেছে, যদিও তাঁর দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৫:৪৭
চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান
সিলিকন ভ্যালির অভিজ্ঞতায় এনায়েতুরের চার প্রকৌশলীর উল্কাসেমিতে এখন ছয় শতাধিক প্রকৌশলী

যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির প্রতিষ্ঠিত কর্মজীবন ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান। ২০০৭ সালে ঢাকায় মাত্র চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু করা তাঁর প্রতিষ্ঠান উল্কাসেমিতে এখন ছয় শতাধিক প্রকৌশলী কাজ করছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চলতি বছরের ১১ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি চারটি আন্তর্জাতিক ডিজাইন সেন্টারের মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবা দিচ্ছে।  এনায়েতুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এএমডিতে চিপ ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন। এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নেন। পরবর্তী সময়ে সিলিকন ভ্যালিতে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এএমডিতে তাঁর কর্মজীবন ছিল প্রায় ১১ বছরের।   বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর খাতের সঙ্গে যুক্ত করার চিন্তা থেকেই উল্কাসেমির যাত্রা শুরু। তবে প্রতিষ্ঠার পরপরই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। এনায়েতুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ ও ২০০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় ব্যবসা সংকটে পড়ে। পরে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।  উল্কাসেমির কাজ মূলত চিপের নকশা তৈরি এবং সেই নকশা যাচাইয়ের সেবা দেওয়া। এনটিভিকে এনায়েতুর রহমান জানান, শুরুতে তাঁরা চিপের লেআউট ডিজাইন নিয়ে কাজ করতেন। পরে ডিজিটাল ও অ্যানালগ ডিজাইন, নকশা যাচাই এবং উৎপাদনের আগে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধাপে সেবা সম্প্রসারণ করেন। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী এসব কাজের একটি অংশ ঢাকা থেকেই সম্পন্ন হচ্ছে।    প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি শিল্পের উপযোগী জনবল তৈরিতে জোর দিচ্ছেন এনায়েতুর রহমান। বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক শেষ করলেও অনেক তরুণের চাকরিতে প্রবেশের আগে হাতে কলমে বাড়তি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয়। উল্কাসেমির ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে চিপ ডিজাইনে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও বাস্তব কাজের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।   বাংলাদেশে এই খাত সম্প্রসারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ কাজে লাগানো গেলে দেশের সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন খাত আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সূত্র: বিজনেস হ্যাবিট

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৩:৩২
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০