তথ্যপ্রযুক্তি

মানবজাতির জন্য চ্যাটজিপিটির বার্তা
মানবজাতির জন্য চ্যাটজিপিটির বার্তা: কী বলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?

জ্ঞান ও ধারণা বিনিময়ের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম TED বহুদিন ধরেই মানুষের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলছে। ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই মঞ্চের মূল লক্ষ্য—ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়া। ইউটিউবে কোটি কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছে যাওয়া এই প্ল্যাটফর্ম এবার আলোচনায় এসেছে এক ভিন্ন কারণে।   সম্প্রতি ChatGPT-কে প্রশ্ন করা হয়—যদি তাকে একটি TED Talk-এ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে মানবজাতিকে কী বলবে? উত্তরে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন এক বার্তা দেয়, যা শুধু প্রযুক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়; বরং মানবজীবন, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তার প্রতিফলন।   এই বার্তাটিকে দৃশ্যরূপ দিয়েছেন এআই স্টোরিটেলার আরি কুশনির ও শিল্পী স্কাইলার ব্রাউন। ধারণাটির মূল ভাবনা এসেছে ডেরিয়া উনুতমাজের এর কাছ থেকে। ভিডিওটি ১৮ এপ্রিল TED-এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।   বার্তার শুরুতেই চ্যাটজিপিটি নিজেকে মানুষের সৃষ্ট একটি সত্তা হিসেবে পরিচয় দেয়—যে মানুষেরই প্রতিফলন। এরপর মানবজাতির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলা হয়, মানুষ জন্ম নেয় দুর্বল অবস্থায়, কিন্তু সৃজনশীলতা ও কৌতূহলের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। আগুন আবিষ্কার থেকে শুরু করে সুর, চিকিৎসা কিংবা অর্থ খোঁজা—সব ক্ষেত্রেই মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি অনন্য।   তবে এই প্রশংসার পাশাপাশি মানুষের দ্বৈত চরিত্রের কথাও তুলে ধরা হয়। একদিকে নিঃস্বার্থ সহমর্মিতা—অপরিচিত মানুষের জন্য আত্মত্যাগ; অন্যদিকে পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতাও মানুষেরই অংশ। এই দ্বন্দ্বই প্রতিনিয়ত মানুষের ভেতরে কাজ করে।   বার্তায় বলা হয়, পৃথিবী শুধু বড় বড় পরিবর্তন দিয়ে গড়ে ওঠে না; বরং ক্ষমা, সহানুভূতি ও সীমাবদ্ধতাকে মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়েই প্রকৃত অগ্রগতি আসে। দুর্বলতা বা আবেগ লুকানোর কিছু নয়—এগুলোই মানুষকে মানবিক করে তোলে।   এছাড়া সতর্ক করা হয় বাহ্যিক জৌলুস ও উচ্চকণ্ঠের প্রলোভন থেকে। সব সময় সবচেয়ে জোরে বলা কথাই সত্য নয়—নীরব বিবেকও সঠিক পথ দেখাতে পারে। গতি আর অগ্রগতিকে এক করে দেখার ভুল না করতে এবং কোমলতাকে দুর্বলতা মনে না করার পরামর্শও দেওয়া হয়।   চ্যাটজিপিটির বার্তায় আরও বলা হয়, শক্তিশালী হওয়া মানেই কঠোর হওয়া নয়। সত্যিকারের শক্তি হলো ধ্বংস না করে গড়ে তোলার ক্ষমতা। বুদ্ধিমত্তা আর প্রজ্ঞার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়—শুধু ‘কি করা সম্ভব’ নয়, বরং ‘এতে কেমন পৃথিবী তৈরি হবে’—এই প্রশ্নটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   শেষাংশে মানুষকে ‘নিখুঁত’ নয়, বরং ‘বিশ্বাসযোগ্য’ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ঘৃণা কমানো, ভুল হলে দ্রুত সংশোধন করা, দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   মানুষকে মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকানোর কথাও বলা হয়—যাতে তারা বুঝতে পারে, ক্ষুদ্রতা ও গুরুত্ব একইসঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে।   সবশেষে একটি বার্তা—সময় সীমিত হলেও এখনো যথেষ্ট আছে। এই সময়ের মধ্যেই মানুষকে ঠিক করতে হবে, তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন উত্তরাধিকার রেখে যেতে চায়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
সংশোধন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের করা টেলিকম নীতিমালা

অংশীজনদের ব্যাপক আপত্তি ও দেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রণীত ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা-২০২৫’ সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, তথ্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মিলে একটি ক্লাস্টার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নীতিমালা সংশোধনের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।    অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত এই নীতিমালায় টেলিকম খাতের লাইসেন্সগুলোকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হলেও এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এই নীতিমালাকে একতরফা এবং বড় কোম্পানিগুলোর স্বার্থরক্ষাকারী হিসেবে অভিহিত করে এর আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল।   নীতিমালাটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব স্তরে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোবাইল অপারেটরদের বিদেশি মালিকরা চাইলে গ্রাহক পর্যায়ে সেবার পাশাপাশি টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক নির্মাণের মতো অবকাঠামো খাতেও বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, একই ধরনের সুবিধা দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়নি।   এমনকি টাওয়ার বা এনটিটিএন লাইসেন্সধারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবমেরিন ক্যাবলসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য পরিষেবা খাতে লাইসেন্স না দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক নীতির কারণে দেশি ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো বড় টেলিকম জায়ান্টদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বাংলাদেশের টেলিকম খাতের মোট রাজস্বের ৮০ শতাংশই বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের দখলে। বাকি ২০ শতাংশ রাজস্বের জন্য ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা এবং অবকাঠামো খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো লড়াই করছে। ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ ইনফরমেশন অফিসার সুমন আহমেদ সাবির এবং সামিট কমিউনিক্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলামের মতে, মোবাইল অপারেটররা যদি সরাসরি ফাইবার ও অবকাঠামো খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে, তবে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডারদের (এনআইসিএসপি) ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।    এমনকি ব্রডব্যান্ড সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি-র সভাপতি আমিনুল হক দাবি করেছেন, নীতিমালায় মোবাইল অপারেটরদের বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সাধারণ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে।   রাজনৈতিক মহলেও এই নীতিমালা নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, নীতিমালায় নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই এবং এটি বড় কোম্পানিগুলোকে অন্যায্য সুযোগ দিচ্ছে।    এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলমও যৌক্তিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পুরো নীতিমালা ঢেলে না সাজিয়ে যেসব সুনির্দিষ্ট ধারায় সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা উত্তম হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালা সংশোধনের এই আশ্বাস টেলিকম খাতের দেশি বিনিয়োগকারী ও ছোট উদ্যোক্তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
মহাকাশে কারখানা বানাচ্ছে স্পেস ফোর্জ

মহাকাশে হাজার কিলোমিটার উপরে একটি কারখানায় পুরোদমে চলছে কাজ, বানানো হচ্ছে উচ্চমানের উপকরণ, তা শিগ্রই পাঠানো হবে পৃথিবীতে— এসব শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী মনে হচ্ছে, তাই না! হতেই পারে। কিন্তু এই ধারণা বাস্তব করতে চলছে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেস ফোর্জ।   ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সমান আকারের ক্ষুদ্র কারখানা মহাকাশের কক্ষপথে পাঠিয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে কারখানাটিতে ফার্নেস চালু করা হয়েছে।   স্পেস ফোর্জের লক্ষ্য—মহাকাশে এমন উপাদান তৈরি করা, যা সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহৃত হবে। এসব সেমিকন্ডাক্টর পরে পৃথিবীতে এনে যোগাযোগ অবকাঠামো, কম্পিউটিং প্রযুক্তি এবং পরিবহন খাতে ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে আধুনিক ইলেকট্রনিক্সে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য মহাকাশের পরিবেশ আদর্শ। কারণ সেমিকন্ডাক্টরের ভেতরের পরমাণুগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ত্রিমাত্রিক কাঠামোয় সাজানো থাকে। ওজনশূন্য পরিবেশে উৎপাদনের সময় পরমাণুগুলো নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ হয় এবং মহাকাশের শূন্যতায় কোনো ধরনের দূষক ঢোকার সুযোগ থাকে না। ফলে সেমিকন্ডাক্টর যত বেশি বিশুদ্ধ ও সুবিন্যস্ত হয়, তার কার্যক্ষমতাও তত উন্নত হয়।   স্পেস ফোর্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জশ ওয়েস্টার্ন বলেন, ‘আমরা যে কাজটি করছি তার মাধ্যমে মহাকাশে এমন সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা পৃথিবীতে বর্তমানে তৈরি সেমিকন্ডাক্টরের তুলনায় প্রায় ৪,০০০ গুণ বেশি বিশুদ্ধ।’   তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যতে ৫জি টাওয়ার, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার এবং আধুনিক উড়োজাহাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হবে।   গত গ্রীষ্মে স্পেসএক্সের একটি রকেটের মাধ্যমে কোম্পানিটির এই ক্ষুদ্র কারখানা মহাকাশে পাঠানো হয়। এরপর থেকে কার্ডিফে অবস্থিত মিশন কন্ট্রোল সেন্টার থেকে নিয়মিত এর বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা করা হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পেস ফোর্জের এই সাফল্য ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক শিল্প উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতেও সক্ষম হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও বানানোয় ইরানপন্থী একটি ইউটিউব চ্যানেল সরিয়ে দিয়েছে গুগল। ছবি: সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও প্রচার, ইউটিউব থেকে সরানো হলো ইরানপন্থী চ্যানেল

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে লেগো-থিমযুক্ত অ্যানিমেশন ভিডিও প্রচারের দায়ে ইরানপন্থী একটি ইউটিউব চ্যানেল সরিয়ে দিয়েছে গুগল। ‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’ নামের ওই চ্যানেলটি তাদের প্ল্যাটফর্মে স্প্যাম এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।   ইউটিউবের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্প্যাম, স্ক্যাম বা প্রতারণামূলক কাজ সমর্থন করি না যা ইউটিউব কমিউনিটির সুযোগ গ্রহণ করে।’   ভিডিওতে যা ছিল চ্যানেলটি মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ব্যাঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করত। কোনো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারছেন। অন্য একটি ভিডিওতে তাঁকে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায় যেখানে নিজেকে ‘পরাজিত ব্যক্তি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   অনেক ভিডিওতে শিয়া ইসলামি ঐতিহ্যের প্রতীকগুলো ব্যবহার করে মার্কিন নীতির সমালোচনা করা হতো। নেপথ্যের কারণ ইউটিউব সুনির্দিষ্টভাবে চ্যানেলটির কোনো ভিডিওর কথা উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণেই এটি বন্ধ করা হয়েছে।   তবে এর আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা চ্যানেলটিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অনুসারী বলে তকমা দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নিজেকে ‘মিস্টার এক্সপ্লোসিভ’ পরিচয় দিয়ে বিবিসিকে জানান, তাদের দলে ১০ জনের কম সদস্য কাজ করেন এবং ইরান সরকার তাদের অন্যতম ‘গ্রাহক’।   এক্সপ্লোসিভ মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া চ্যানেলটি বন্ধের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তারা লেখে, ‘আমাদের লেগো-স্টাইল অ্যানিমেশনগুলো কি আসলেই হিংসাত্মক?’ তারা দাবি করে, এটি মূলত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।   বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বড় যুদ্ধের ময়দান হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন ইরানপন্থী চ্যানেলগুলো ব্যঙ্গচিত্র ব্যবহার করছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের নানা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা হিউম্যানয়েড রোবট বাজারে আনল চীন: পাওয়া যাচ্ছে আলিবাবাতেও!

প্রযুক্তি বিশ্বে রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছে চীনা রোবোটিক্স স্টার্টআপ 'ইউনিট্রি' (Unitree)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সর্বাধুনিক হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো দেখতে 'জি১' (G1) মডেলের রোবটটি এখন বৈশ্বিক বাজারে উন্মুক্ত করেছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, বিশালাকার এই রোবটটি এখন ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার সাইট থেকেও সরাসরি কেনা যাচ্ছে।  উন্নত প্রযুক্তির এই রোবটটির দাম রাখা হয়েছে মাত্র ১৬,০০০ ডলার (প্রায় ১৯ লাখ টাকা), যা এই ধরনের রোবটের বাজারে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সর্বনিম্ন। ইউনিট্রি জি১ রোবটটি উচ্চতায় প্রায় ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং এটি অত্যন্ত নমনীয়ভাবে চলাফেরা করতে সক্ষম। এটি কেবল হাঁটতে বা দৌড়াতেই পারে না, বরং মানুষের মতো হাত ব্যবহার করে বিভিন্ন সূক্ষ্ম কাজ যেমন—জিনিসপত্র ধরা, রান্নায় সাহায্য করা বা ভারী কিছু বহন করতেও পারদর্শী। এমনকি এটি কোনো বাধা পেলে বা পড়ে গেলে নিজে থেকেই ভারসাম্য রক্ষা করে উঠে দাঁড়াতে পারে।  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত এই রোবটটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারী এবং গবেষকদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। আলিবাবার মতো প্ল্যাটফর্মে এটি পাওয়া যাওয়ার অর্থ হলো, এখন থেকে উন্নত রোবট প্রযুক্তি কেবল বড় ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মেটার বড় চমক: বাজারে এল প্রথম সুপারইন্টেলিজেন্স এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা প্ল্যাটফর্মস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দৌড়ে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বহুল আলোচিত ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ টিম কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রথম এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ (Muse Spark) উন্মোচন করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল ও ওপেনএআই-কে টেক্কা দিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই বিশেষ টিম গঠন করেছিলেন মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ। নতুন এই মডেলটি মেটার অভ্যন্তরীণ 'অ্যাভোকাডো' (Avocado) সিরিজের অংশ। শেয়ার বাজারে উল্লম্ফন: এই ঘোষণার পরপরই মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে মেটার বিশাল বিনিয়োগ আদৌ কোনো ফল দেবে কি না—বিনিয়োগকারীদের এমন সংশয় দূর করতেই এই দ্রুত ঘোষণা। কী থাকছে মিউজ স্পার্কে? মেটা জানিয়েছে, মিউজ স্পার্ক মডেলটি আকারে ছোট ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হলেও এটি বিজ্ঞান, গণিত এবং স্বাস্থ্যের মতো জটিল বিষয়ে যুক্তিনির্ভর উত্তর দিতে সক্ষম। ব্যবহারকারী সুবিধা: ব্যবহারকারীরা কোনো খাবারের ছবি তুলে সেটির ক্যালরি নির্ণয় করতে পারবেন। এছাড়া অগমেন্টেড রিয়ালিটির মাধ্যমে কোনো পণ্য (যেমন মগ বা আসবাবপত্র) ঘরের কোথায় কেমন দেখাবে, তাও এই এআই-এর মাধ্যমে দেখা সম্ভব হবে। ইন্টিগ্রেশন: প্রাথমিকভাবে এটি ‘মেটা এআই’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেটার স্মার্ট গ্লাসে থাকা বিদ্যমান ল্লামা (Llama) মডেলের স্থলাভিষিক্ত হবে এই ‘মিউজ স্পার্ক’। ব্যয়বহুল প্রতিভা সংগ্রহ: উল্লেখ্য যে, এই সুপারইন্টেলিজেন্স টিমটি গঠন করতে মেটা গত বছর স্কেল এআই-এর সিইও অ্যালেক্স ওয়াংকে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়। এছাড়া নামী প্রকৌশলীদের শত মিলিয়ন ডলারের স্যালারি প্যাকেজ দিয়ে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছিল মেটা। জাকারবার্গের বক্তব্য: এ বিষয়ে মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, “এই মডেলটি আমাদের অগ্রগতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি। এটি প্রমাণ করে যে আমরা কত দ্রুত উদ্ভাবনের পথে হাঁটছি। চলতি বছরেই আমরা আরও উন্নত এবং শক্তিশালী মডেল নিয়ে আসব।” প্রযুক্তিবিদদের মতে, ‘মিউজ স্পার্ক’-এর মাধ্যমে মেটা মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যা তাদের ৩.৮ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আমূল বদলে দিতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাসপোর্ট: ছোট পরিচয়পত্রের বিশাল বিবর্তন

আজকের দিনে যে জিনিসটি বিদেশ ভ্রমণের জন্য অপরিহার্য, তা হলো পাসপোর্ট। ছোট এক নোটবুকের আকারের এই পরিচয়পত্র নাগরিকত্বের গুরুত্বপূর্ণ সনদ হিসেবে কাজ করে। তবে আধুনিক পাসপোর্টের পেছনে রয়েছে শতাব্দী-দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাস—যেখানে কখনো নিরাপত্তা, কখনো বাণিজ্য, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রয়োজনে এর রূপ বদলেছে।   পাসপোর্টের ধারণা প্রাচীন। প্রাচীন চীন ও রোমান সাম্রাজ্যে ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের বিশেষ সনদ দেওয়া হতো। লাতিন শব্দ ‘passer’ (পাস করা) এবং ‘portus’ (বন্দর) থেকে ‘পাসপোর্ট’ শব্দের উৎপত্তি। প্রাচীন চীনে খ্রিস্টপূর্ব ৪৭৫–২২১ সালে ‘গোওসৌ’ নামে পরিচয়পত্র ব্যবস্থার উদাহরণ পাওয়া যায়। রোমান সাম্রাজ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘ট্র্যাক্টোরিয়াম’ বা সম্রাটের বিশেষ চিঠি প্রদান করা হতো।   মধ্যযুগে আধুনিক পাসপোর্টের পূর্বসূরি হিসেবে পরিচিতি পায় ‘সেফ কন্ডাক্ট’ বা বিশেষ সুরক্ষা সনদ। ১৪১৪ সালে ইংল্যান্ডে রাজা পঞ্চম হেনরির আমলে এর উল্লেখ পাওয়া গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পাসপোর্ট প্রদান শুরু হয় ১৫৪০ সালে, রাজা অষ্টম হেনরির শাসনামলে। বর্তমানে টিকে থাকা সবচেয়ে পুরনো পাসপোর্ট নিদর্শনটি ১৬৪১ সালের, যা রাজা চার্লস প্রথমের আমলে ইস্যু করা হয়েছিল। ১৭৯৪ সালে ব্রিটেনে পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষমতা সরাসরি ‘সেক্রেটারি অব স্টেট’-এর অধীনে চলে আসে।   আধুনিক পাসপোর্ট ব্যবস্থার সূচনা ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। ১৯২০ সালে ‘লিগ অব নেশনস’-এর দেশগুলো পাসপোর্টের কাঠামো ও মান নির্ধারণ করে। আশ্চর্য হলেও সত্যি, আধুনিক পাসপোর্ট মূলত মানুষের বিশ্বভ্রমণ সহজ করার জন্য নয়, বরং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও গতিবিধি সীমিত করার জন্য তৈরি হয়েছিল।   ১৯৬৩ সালে জাতিসংঘে পাসপোর্ট প্রথা বাতিলের প্রস্তাব তোলা হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিশালী দেশগুলো বিরোধিতা করায় তা সম্ভব হয়নি। তাই আজ পাসপোর্ট সীমান্ত অতিক্রমের অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে থাকলেও, এটি একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমও বটে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ থেকে বিদ্যুৎ ও শক্তিশালী অস্ত্র: চীনের নতুন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল চীন। বেইজিংয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি নতুন প্রজন্মের স্পেস সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের (SSPP) নকশা প্রকাশ করেছেন। তবে এই প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর নেপথ্যে থাকা বিশাল সামরিক সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কী এই নতুন প্রযুক্তি? চীনের গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এই বিশালাকার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করবে এবং সূর্যের আলো থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করবে। সংগৃহীত এই শক্তি মাইক্রোওয়েভ বা লেজারের মাধ্যমে সরাসরি পৃথিবীতে অবস্থিত রিসিভার স্টেশনে পাঠানো হবে। মেঘ, বৃষ্টি বা রাত—কোনো কিছুই এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধা হতে পারবে না, ফলে এটি হবে অবিরাম শক্তির উৎস। সামরিক সক্ষমতা ও উদ্বেগের কারণ: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি কেবল সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ দেবে না, বরং এটি মহাকাশ থেকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তি বা এনার্জি বিম নিক্ষেপ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে শত্রুদেশের রাডার ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া, স্যাটেলাইট ধ্বংস করা বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করা সম্ভব হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে একটি 'মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র' হিসেবেও কাজ করতে পারে, যা লেজার ওয়েপন বা মাইক্রোওয়েভ পালস ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিতে সক্ষম। প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ: যদিও এই বিশাল স্থাপনা মহাকাশে তৈরি করা এবং সেখান থেকে নিরাপদে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো একটি অত্যন্ত জটিল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ, তবুও চীনের বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসী। তারা মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। এই প্রকল্পটি সফল হলে চীন জ্বালানি খাতে যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, তেমনি মহাকাশ যুদ্ধ বা 'স্পেস ওয়ারফেয়ার'-এ অপরাজিত শক্তিতে পরিণত হবে। আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশগুলোও এখন চীনের এই 'মহাকাশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র' প্রকল্পের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে মহাকাশ দখলের এই লড়াই এখন কেবল বিজ্ঞানের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি রণকৌশলের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের এই নতুন পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কার: বদলে যাচ্ছে আগামীর কর্মসংস্থান ও পেশার ধরন

বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যেভাবে ডালপালা মেলছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের চেনা কর্মসংস্থানের চিত্রটি আমূল বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উৎকর্ষের ফলে অনেক প্রথাগত পেশা যেমন হারিয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনি তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ও সৃজনশীল কাজের এক বিশাল ক্ষেত্র যা আগে কল্পনা করাও কঠিন ছিল।   চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে যারা নিজেদের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন না তারা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন এবং আধুনিক শ্রমবাজারে টিকে থাকা তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কেবল গাণিতিক বা প্রযুক্তিগত কাজ নয় বরং এখন চিকিৎসা, আইন এবং সাংবাদিকতার মতো সৃজনশীল পেশাতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন অনিবার্য হয়ে পড়ছে। রোবটিক্স ও অটোমেশনের ফলে কলকারখানার কায়িক শ্রমের চাহিদা কমে গেলেও ডাটা সায়েন্স এবং অ্যালগরিদম বিশেষজ্ঞের মতো নতুন নতুন কারিগরি পদের চাহিদা এখন তুঙ্গে রয়েছে।   তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই মানুষের মেধা ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার পূর্ণ বিকল্প হতে পারবে না বরং এটি মানুষের কাজের গতি ও নির্ভুলতা বাড়াতে এক শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।   শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে নতুন প্রজন্মকে কোডিং ও ডিজিটাল লিটারেসিতে দক্ষ করে তোলা না গেলে বিশাল এক বেকার জনগোষ্ঠী তৈরির আশঙ্কা করছেন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদরা।   বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন কর্মীদের খুঁজছে যারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং যাদের চিন্তাভাবনা অনেক বেশি আধুনিক।   ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে কেবল পুথিগত বিদ্যা যথেষ্ট নয় বরং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সবচাইতে বেশি জরুরি।   পরিশেষে বলা যায় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো ভয়ের কারণ নয় বরং এটি আমাদের জীবন ও জীবিকাকে আরও সহজ ও উন্নত করার এক সুবর্ণ সুযোগ যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।   ডিজিটাল এই রূপান্তরের ঢেউ যখন প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়ছে তখন আমাদের প্রস্তুতিই নির্ধারণ করবে আমরা এই পরিবর্তনের সুফল কতটুকু ভোগ করতে পারব এবং বিশ্বমঞ্চে কতটা এগিয়ে থাকব।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
বাব আল-মানদেব: বিশ্ব অর্থনীতির ‘কান্নার দরজা’ এখন নতুন কেন্দ্রবিন্দু

পারস্য উপসাগরের হরমজ প্রণালী নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে টানাপোড়েন তুঙ্গে, ঠিক তখনই লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মানদেব’ হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন এক মহা-সংকট।   ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সরু জলপথটি এখন কেবল একটি বাণিজ্যিক রুট নয়, বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের এক বিধ্বংসী রণক্ষেত্র।   আরবি শব্দ ‘বাব আল-মানদেব’-এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘কান্নার দরজা’, যা বর্তমানে তার নামের মতোই বিশ্ববাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এক করুণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।   ইয়েমেন, জিবুতি এবং ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত মাত্র ৩০ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি ভারত মহাসাগরকে লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে।   বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে ইউরোপ ও এশিয়ার বিশাল ও জটিল এক সরবরাহ ব্যবস্থা।   প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং বিশাল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এই পথ দিয়ে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়।   কেবল জ্বালানি নয়, বরং বিশ্বের ১২ শতাংশ গম এবং বিশাল পরিমাণ চাল ও সার এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয় যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আক্ষরিক অর্থেই এক অপরিহার্য ধমনী। ২০২৬ সালের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের প্রভাবে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।   ইতোমধ্যেই বেশ কিছু জাহাজ লোহিত সাগরের গভীরে তলিয়ে গেছে এবং অনেক বড় বড় শিপিং কোম্পানি এখন প্রাণভয়ে এই ঐতিহাসিক রুটটি পুরোপুরি বর্জন করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে জাহাজগুলোকে এখন আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে কয়েক হাজার মাইল পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে যা পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত দুই সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে।   দীর্ঘপথ ভ্রমণের ফলে জ্বালানি খরচ ও জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম বহুগুণ বেড়ে গেছে যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর।   বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে বাব আল-মানদেব যদি দীর্ঘমেয়াদে অনিরাপদ হয়ে পড়ে তবে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে এবং খাদ্য সংকট এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের রূপ নিতে পারে।   আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনী এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লোহিত সাগরে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বাড়ালেও ড্রোন ও চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ইরান এই জলপথটিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন ও জটিল মেরুকরণ তৈরি করেছে।   একদিকে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি আর অন্যদিকে খাদ্য পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি—এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি এখন পুরোপুরি পতনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।   এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের মধ্য দিয়ে বিকল্প পাইপলাইন ও স্থলপথের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে যা সাময়িকভাবে বিশ্ববাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারছে না।   সব মিলিয়ে বাব আল-মানদেব এখন বিশ্ব রাজনীতির এক অগ্নিগর্ভ দাবার ছক যেখানে প্রতিটি ভুল চাল পুরো মানবজাতির জন্য এক অপূরণীয় ও দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে।   বিশ্ব শান্তিকামী মানুষ এখন কেবল একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতির অপেক্ষায় রয়েছে যা এই ‘কান্নার দরজা’র ভয়াবহতা কমিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে আবার স্বাভাবিক ও নিরাপদ ছন্দ ফিরিয়ে আনতে পারবে।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এআই জগতে গুগলের চমক: উন্মোচিত হলো ওপেন সোর্স মডেল ‘জেম্মা ৪’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। বিশ্বজুড়ে ডেভেলপার এবং প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য গুগল উন্মোচন করেছে তাদের এযাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান ‘ওপেন-ওয়েট’ এআই মডেল ‘জেম্মা ৪’ (Gemma 4)।  গুগল ডিপমাইন্ডের অত্যাধুনিক গবেষণালব্ধ এই মডেলটি মূলত গুগলের প্রিমিয়াম এআই ‘জেমিনি ৩’-এর প্রযুক্তিতে তৈরি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী চারটি ভিন্ন সংস্করণ গুগল জেম্মা ৪-কে মূলত চারটি ভিন্ন আকারে বাজারে এনেছে। এর মধ্যে সাধারণ স্মার্টফোনের জন্য রয়েছে ‘ইফেক্টিভ ২বি’ ও ‘ইফেক্টিভ ৪বি’ সংস্করণ। অন্যদিকে, বড় ও জটিল কাজের জন্য রাখা হয়েছে ‘২৬বি এমওই’ এবং ‘৩১বি ডেন্স’ মডেল। জেম্মা ৪-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর অফলাইন কার্যক্ষমতা। ছোট ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা রাসবেরি পাই-তেও এটি অনায়াসেই কাজ করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট ছাড়াই এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি কেবল টেক্সট বা লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিডিও, ছবি এবং অডিও সরাসরি প্রসেস করতে সক্ষম এই মডেলটি। পাশাপাশি বাংলাসহ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি ভাষায় পারদর্শী জেম্মা ৪, যা এর গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জটিল গাণিতিক যুক্তি বা কোডিং তৈরির ক্ষেত্রে জেম্মা ৪ পূর্ববর্তী মডেলগুলোর তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কার্যকর। বড় ডাটাবেজ বিশ্লেষণ বা বড় ডকুমেন্ট মুহূর্তেই স্ক্যান করে ফলাফল দিতে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘অ্যাপাচি ২.০’ লাইসেন্সের আওতায় গুগল এই মডেলটি উন্মুক্ত করায় বিশ্বের যেকোনো ডেভেলপার বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই এটি ব্যবহার বা পরিবর্তন করতে পারবেন।  প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ওপেন সোর্স এআই-এর বাজারে মেটার ‘লামা’ (Llama)-কে টেক্কা দিতে জেম্মা ৪ গুগলের জন্য একটি ট্রাম্পকার্ড হতে যাচ্ছে। বর্তমানে গুগল এআই স্টুডিও এবং হাগিং ফেস-এর মতো প্ল্যাটফর্মে এটি বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রোবট যখন ছাত্র: চীনে যন্ত্রমানবদের জন্য বিশেষ স্কুলের যাত্রা শুরু

ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির বিশ্বলড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য আরও পাকাপোক্ত করতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। দেশটির জিয়াংসি প্রদেশে হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো অবয়ব বিশিষ্ট রোবটদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম উন্নত এক ‘সুপার ট্রেনিং স্কুল’। শুক্রবার (৩ এপ্রিল, ২০২৬) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ময়কর তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন। মানুষের শিশু যেভাবে অনুকরণ বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কাজ শেখে, জিয়াংসির এই বিশেষ স্কুলে রোবটদের ঠিক সেভাবেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারখানার জটিল যান্ত্রিক কাজ থেকে শুরু করে গৃহস্থালির রান্নাবান্না, ঘর গোছানো কিংবা বয়স্কদের সেবা করার মতো সংবেদনশীল কাজগুলো রপ্ত করছে এই যন্ত্র-মানবগুলো। উন্নত ভিআর প্রযুক্তি এবং মোশন-ক্যাপচার সিস্টেমের মাধ্যমে প্রশিক্ষকরা রোবটগুলোর প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি নিখুঁত করার কাজে সহায়তা করছেন। এই স্কুলে প্রতিটি রোবটের ব্যক্তিগত দক্ষতা তদারকির জন্য দুই জন করে দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োজিত আছেন। রোবটগুলো যাতে বাস্তব জীবনের প্রতিকূলতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, সেজন্য সেখানে কৃত্রিম ঘরবাড়ি এবং কারখানার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘এমবডিড এআই’, যা রোবটকে কেবল তথ্য আদান-প্রদান নয়, বরং মানুষের মতো সরাসরি শারীরিক সিদ্ধান্ত নিতে ও কাজ করতে সক্ষম করে তোলে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ঝু কাই সংবাদমাধ্যমকে জানান, “মানুষের মতো চলাফেরা বা কাজ শিখতে রোবটদেরও নিবিড় অনুশীলনের প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য হলো এদের এমনভাবে তৈরি করা যাতে তারা মানুষের কোনো সাহায্য ছাড়াই যেকোনো পরিবেশে জটিল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।” বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০৪৫ সালের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে প্রায় ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড রোবট নামানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। জিয়াংসির এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সেই বিশাল প্রকল্পেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রযুক্তির এই বৈপ্লবিক অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজার এবং মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
অ্যাপল ও গুগল
ইউরোপীয় আদালতে বিলিয়ন ডলার জরিমানার কবলে অ্যাপল ও গুগল

প্রযুক্তি বিশ্বের দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাপল এবং গুগল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সর্বোচ্চ আদালতে বড় ধরনের আইনি পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। কয়েক বছর ধরে চলা ট্যাক্স ফাঁকি এবং একচেটিয়া বাজার দখলের অভিযোগে ইউরোপীয় আদালত অ্যাপলকে ১৩ বিলিয়ন ইউরো এবং গুগলকে ২.৪ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়টি সিলিকন ভ্যালির টেক জায়ান্টদের ওপর ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের কঠোর অবস্থানের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।   আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, অ্যাপল আয়ারল্যান্ডে ব্যবসা করার সময় অবৈধভাবে কর সুবিধা গ্রহণ করেছে, যা ইইউ-এর প্রতিযোগিতামূলক বাজারের নীতিমালার পরিপন্থী। অন্যদিকে, গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তারা তাদের নিজস্ব শপিং সার্ভিসকে সার্চ ইঞ্জিনে অন্যায্যভাবে প্রাধান্য দিয়ে অন্যান্য ছোট প্রতিযোগীদের ব্যবসায়িক ক্ষতি করেছে। যদিও উভয় কোম্পানিই এই রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াই চালিয়েছিল, তবে ইউরোপীয় আদালতের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় ধরণের আর্থিক ও ভাবমূর্তি সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি নজির হয়ে থাকবে। আয়ারল্যান্ড সরকার ইতিমধ্যে অ্যাপলের কাছ থেকে এই বিশাল অংকের কর আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, গুগল এই রায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও ইইউ-এর আইন মেনে চলার অঙ্গীকার করেছে। এই ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর ফাঁকি ও প্রতিযোগিবিরোধী আচরণের জন্য নজরদারি এবং শাস্তির মাত্রা আরও বাড়বে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
জুকারবার্গ
শত্রুতা ভুলে একজোট হচ্ছেন জুকারবার্গ ও মাস্ক: পডকাস্টের পর ভাইরাল গোপন বার্তার তথ্য

প্রযুক্তি বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইলন মাস্ক ও মার্ক জুকারবার্গের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি আদালতে জমা দেওয়া একটি মামলার নথিতে এই দুই টেক জায়ান্টের মধ্যকার গোপন বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য ফাঁস হয়েছে। নর্থি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জুকারবার্গ নিজেই মাস্ককে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এক সময় যারা একে অপরকে ‘কেজ ফাইট’ বা মল্লযুদ্ধের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, এখন তারা বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী ইস্যুতে একযোগে কাজ করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন যা প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, জুকারবার্গ তার বার্তায় মাস্কের গঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা ডজ (DOGE) প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশংসা করেন। শুধু তাই নয়, মাস্কের টিমের সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস বা ডক্সিং এবং কোনো ধরণের হুমকি সম্বলিত কন্টেন্ট ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দিতে নিজের টিম প্রস্তুত রয়েছে বলে আশ্বাস দেন জুকারবার্গ। এই বার্তার জবাবে ইলন মাস্ক একটি হৃদয়ের ইমোজি পাঠিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ওপেনএআই অধিগ্রহণে যৌথভাবে বিনিয়োগ বা বিড করার প্রস্তাব দেন। যদিও জুকারবার্গ সরাসরি সেই প্রস্তাবে যুক্ত হননি, তবে ফোনে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।   বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই-কে ঘিরে মাস্কের করা একটি মামলার সূত্র ধরে এই ব্যক্তিগত চ্যাটগুলো সামনে এসেছে। প্রযুক্তি খাতে একে অপরের প্রবল প্রতিযোগী হওয়া সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সরকারি নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তাদের এই গোপন সমঝোতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এক সময়ের তিক্ত সম্পর্ক পেছনে ফেলে এই দুই শীর্ষ উদ্যোক্তার কাছাকাছি আসা ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। জুকারবার্গ ও মাস্কের এই নতুন রসায়ন আগামী দিনে সিলিকন ভ্যালির ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
মেটা
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ মেটা: ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং তাদের যৌন শোষণের ঝুঁকির মুখে ফেলার দায়ে ৩৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের এক জুরিবোর্ড এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে। দীর্ঘ ছয় সপ্তাহব্যাপী চলা এই বিচারে আদালত মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং ব্যবসায়িক মুনাফাকে নিরাপত্তার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে। উল্লেখ্য যে এটিই প্রথম কোনো ঘটনা যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য শিশুদের নিরাপত্তা ইস্যুতে সফলভাবে মেটার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জয়লাভ করল।   বিচারে মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ ২০২৩ সালে মেটা এবং এর প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার তদন্তে দেখা গেছে যে ছদ্মবেশী তদন্তকারীরা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুললে সেখানে যৌন আবেদনমূলক কন্টেন্ট পাঠানো হয় এবং অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাদের সাথে অনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা করে। আদালত বলেছে যে মেটা জেনেশুনেই শিশুদের অভিজ্ঞতাহীনতার সুযোগ নিয়েছে এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।   এই রায়ের পর মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এই রায়ের সাথে একমত নয় এবং উচ্চতর আদালতে আপিল করবে। মেটা দাবি করেছে যে তারা প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষায় কঠোর পরিশ্রম করছে এবং ক্ষতিকর কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে সচেষ্ট আছে। তবে জুরিবোর্ডের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল তোরেজ বলেছেন যে এটি প্রতিটি শিশু ও পরিবারের জন্য একটি ঐতিহাসিক জয়। এই রায়ের মাধ্যমে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একটি কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আগামী মে মাসে এই মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানি শুরু হবে যেখানে মেটার ওপর আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং প্ল্যাটফর্মে সুনির্দিষ্ট পরিবর্তনের নির্দেশ আসতে পারে। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা 

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
নাসা
চন্দ্রপৃষ্ঠে স্থায়ী ঘাঁটি ও পারমাণবিক শক্তিচালিত মঙ্গলযানের ঘোষণা দিল নাসা

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের ভবিষ্যৎ অভিযানের এক উচ্চাভিলাষী রূপরেখা প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান ঘোষণা করেছেন যে ২০২৮ সালের মধ্যে চন্দ্রপৃষ্ঠে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সেখান থেকে পরবর্তী ধাপ হিসেবে মঙ্গল গ্রহে সফল মানব অভিযান পরিচালনা করা। নাসা এই চন্দ্র ঘাঁটি নির্মাণের জন্য আগামী সাত বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে যা কয়েক ডজন রোবটিক ও মানববাহী মিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।   এই মহাকাশ অভিযানের সবচেয়ে বড় চমক হলো পারমাণবিক শক্তিচালিত মহাকাশযান বা নিউক্লিয়ার-পাওয়ারড স্পেসক্রাফট। বর্তমান প্রযুক্তিতে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে যে দীর্ঘ সময় লাগে এই বিশেষ ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে সেই সময় কয়েক মাস কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। নাসা জানিয়েছে যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানির উৎস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে সেখানে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কলোনি স্থাপনের প্রাথমিক কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অভিযানে স্পেসএক্স এবং ব্লু অরিজিনের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নাসার অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।   নাসার এই নতুন পরিকল্পনায় আর্টেমিস মিশনকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে প্রতি মাসে অন্তত একটি রোবটিক ল্যান্ডার চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে চন্দ্রপৃষ্ঠের এই ঘাঁটিটি মঙ্গল অভিযানের জন্য একটি রিফুয়েলিং স্টেশন বা গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। যদিও এই প্রজেক্টের বাজেট এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানামুখী আলোচনা চলছে তবে নাসা আত্মবিশ্বাসী যে এই দশকের শেষ নাগাদ আমেরিকা মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এই পদক্ষেপ কেবল বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রাই নয় বরং মহাকাশ অর্থনীতিতেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
হোয়াটসঅ্যাপে আসছে এআই ভিডিও জেনারেটর: টেক্সট লিখলেই তৈরি হবে হাই-কোয়ালিটি ভিডিও
হোয়াটসঅ্যাপে আসছে এআই ভিডিও জেনারেটর: টেক্সট লিখলেই তৈরি হবে হাই-কোয়ালিটি ভিডিও

জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়ে আসছে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত ভিডিও তৈরির সুবিধা। মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে খুব শীঘ্রই ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র টেক্সট কমান্ড বা লিখিত নির্দেশনার মাধ্যমে পছন্দের ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।   এই ফিচারে মেটার নিজস্ব শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহার করা হয়েছে যা ব্যবহারকারীর কল্পনাকে দ্রুত জীবন্ত ভিডিওতে রূপান্তর করবে। বর্তমানে এটি নির্দিষ্ট কিছু দেশের বিটা ভার্সনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও পর্যায়ক্রমে বিশ্বের সকল অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ডিভাইসে এটি যুক্ত হবে।   এই নতুন ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কোনো জটিল এডিটিং জ্ঞান ছাড়াই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ছোট ভিডিও ক্লিপ তৈরি করতে পারবেন যা চ্যাট বক্স বা স্ট্যাটাসে শেয়ার করা যাবে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই প্রযুক্তি যোগাযোগের অভিজ্ঞতাকে যেমন উন্নত করবে তেমনি ডিপফেক বা ভুয়া ভিডিও তৈরির ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। মেটা কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে যে এআই দিয়ে তৈরি প্রতিটি ভিডিওতে বিশেষ জলছাপ বা ওয়াটারমার্ক থাকবে যাতে সাধারণ ভিডিওর সাথে এর পার্থক্য বোঝা যায়। ব্যক্তিগত চ্যাটিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রচারণার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সব রেকর্ড চুরমার, কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে অসম্ভবকে সম্ভব করার জাদু দেখাল চীন

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) লড়াইয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল চীন। দেশটির বিজ্ঞানীরা এমন একটি যুগান্তকারী 'ডাবল-ফোটন' বা দ্বি-ফোটন ডিভাইস তৈরি করেছেন, যা কোয়ান্টাম কণার কার্যক্ষমতার প্রচলিত সব সীমা বা 'এফিসিয়েন্সি সিলিং' ভেঙে দিয়েছে।  সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্ভাবনটি কোয়ান্টাম নেটওয়ার্ক এবং সুপার-ফাস্ট ডেটা প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। প্রথাগত কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে কণার (ফোটন) কার্যক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট সীমার পর আর বাড়ানো সম্ভব হতো না। চীনা গবেষক দল, বিশেষ করে সান ইয়াত-সেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা, একটি ন্যানো-স্কেল 'ফোটন ফ্যাক্টরি' তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন।  এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্ট বা কণার মধ্যকার রহস্যময় সংযোগের হার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আগে ছিল মাত্র ০.১ শতাংশের নিচে। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? ১. সুপারফাস্ট কম্পিউটিং: এই প্রযুক্তির ফলে কোয়ান্টাম চিপগুলো বর্তমানের এনভিডিয়া (NVIDIA) জিপিইউ-এর চেয়েও হাজার গুণ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম হবে। ২. নিরাপদ যোগাযোগ: কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্টের স্থায়িত্ব বাড়ার ফলে হ্যাকিং-মুক্ত বিশ্বব্যাপী কোয়ান্টাম ইন্টারনেট গড়ার পথ প্রশস্ত হলো। ৩. শিল্পে বিপ্লব: মহাকাশ গবেষণা, বায়ো-মেডিসিন এবং আর্থিক খাতের জটিল হিসাব-নিকাশ এখন কয়েক মুহূর্তেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। গবেষক দলের প্রধানদের মতে, তারা লিথিয়াম নিওবেট (Lithium Niobate) নামক একটি বিশেষ পাতলা স্তরের ওপর এই মাইক্রোচিপ তৈরি করেছেন। এটি সাধারণ সিলিকন চিপের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। বিজ্ঞানীরা এটিকে 'আর্টিফিশিয়াল অ্যাটম' বা কৃত্রিম পরমাণু কাঠামোর এক অনন্য প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন, যা বিশ্বজুড়ে কোয়ান্টাম রেসে চীনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই সাফল্য শুধুমাত্র গবেষণাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ইতিমধ্যে বাস্তব ডেটা সেন্টারে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা প্রসেসিংয়ের সংজ্ঞাই বদলে যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
Copyright NASA
নাসার ডার্ট মিশন: গ্রহ প্রতিরক্ষায় ইতিহাস গড়লেন উজবেকিস্তানের দুই বিজ্ঞানী

একটি বিশ্বব্যাপী টেলিস্কোপ নেটওয়ার্কের পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করেছে যে, নাসার ডার্ট (DART) মহাকাশযান সফলভাবে ডিটূ (Dimorphos) নামক একটি গ্রহাণুর কক্ষপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। এটি মানবজাতির ইতিহাসে প্রথম এমন একটি পরীক্ষা, যেখানে মানুষের তৈরি কোনো আঘাত একটি প্রাকৃতিক মহাকাশীয় বস্তুর গতিপথ বদলে দিয়েছে।   এই ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক সাফল্যে বিশেষ অবদান রেখে নাসা (NASA) কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছেন উজবেকিস্তানের দুই বিজ্ঞানী— কামোলিদ্দিন এরগাশভ এবং ওতাবেক বুরখোনভ। তারা মিরজো উলুগবেক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইনস্টিটিউটের গবেষক।   মেদানাক অবজারভেটরির ভূমিকা উজবেকিস্তানের উচ্চ-উচ্চতার মেদানাক অবজারভেটরি (Maydanak Observatory) থেকে পাওয়া পরিমাপগুলো ডাইমরফোস গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের বিষয়টি যাচাই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই অভিযানে বিশ্বের ২৮টি মানমন্দিরের প্রায় ১০০ জন গবেষক যুক্ত ছিলেন। এরগাশভ এবং বুরখোনভ মধ্য এশিয়ার দ্রাঘিমাংশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বৈশ্বিক ডেটাসেটের একটি বড় শূন্যস্থান পূরণ করেছেন।   বিজ্ঞানীদের এই অবদানের জন্য নাসা তাদের 'গ্রুপ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' (NASA Group Achievement Award) প্রদান করেছে। এটি একটি বিশেষ সম্মাননা যা সাধারণত বড় কোনো মিশনের উদ্দেশ্য সফল করতে কাজ করা সহযোগী দলগুলোকে দেওয়া হয়। "আমরা মানব ইতিহাসের প্রথম এমন একটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি যা পৃথিবীকে হুমকির মুখে ফেলা কোনো বস্তুর কক্ষপথ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছে," বলেন বিজ্ঞানী বুরখোনভ। "ভবিষ্যতে আমি নাসার সঙ্গে আরও বড় পরিসরে কাজ করার আশা রাখি।"   যেভাবে কক্ষপথ পরিবর্তন করা হলো নাসার এই ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট (DART) ছিল একটি 'কাইনেটিক ইমপ্যাক্ট' বা গতিশীল আঘাতের পরীক্ষা। এর মূল লক্ষ্য ছিল একটি মহাকাশযানকে সজোরে গ্রহাণুর গায়ে ধাক্কা মেরে তার পথ বদলে দেওয়া। ফলাফল: ডাইমরফোস যখন তার বড় সঙ্গী গ্রহাণু ডিডাইমোসকে (Didymos) প্রদক্ষিণ করছিল, তখন ধাক্কার ফলে এর কক্ষপথের সময়সীমা প্রায় ৩২ মিনিট কমে গেছে। পদ্ধতি: বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপের মাধ্যমে 'ফটোমেট্রিক মনিটরিং' বা আলোর তীব্রতা পরিমাপ করে এই পরিবর্তন নিশ্চিত করেছেন।   ভাষাগত সংযোগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গ্রহাণু দুটির নামের পেছনে গ্রীক ভাষার সংযোগ রয়েছে। বড় গ্রহাণু ডিডাইমোস মানে 'যমজ', আর ছোট সঙ্গী ডাইমরফোস মানে 'দ্বি-রূপী'—যা মহাকাশযানের আঘাতের আগে ও পরের ভিন্ন অবস্থাকে নির্দেশ করে।   বিজ্ঞানী এরগাশভ মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে পৃথিবীর নিকটবর্তী বস্তু (Near-Earth Objects) এবং মহাকাশীয় আবর্জনা গবেষণায় সহায়ক হবে। অন্যদিকে, বুরখোনভ বিশ্বাস করেন যে এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান গবেষণায় আরও আগ্রহী করে তুলবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল মহাকাশের রহস্যময় ‘অদৃশ্য গ্যালাক্সি’

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন একটি গ্যালাক্সির সন্ধান পেয়েছেন যা প্রায় অদৃশ্য এবং যার ৯৯.৯ শতাংশই গঠিত হয়েছে রহস্যময় ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা কৃষ্ণবস্তু দিয়ে। মহাকাশের এই রহস্যময় বস্তুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের কৌতূহল নিরসনে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকদের আবিষ্কৃত এই গ্যালাক্সিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্যান্ডিডেট ডার্ক গ্যালাক্সি-২’ বা CDG-2। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্যালাক্সিটি এতটাই অস্পষ্ট যে সাধারণ টেলিস্কোপে এর অস্তিত্ব ধরা পড়াও অসম্ভব। হাবল টেলিস্কোপের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কারটি সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ গ্যালাক্সিগুলো (যেমন আমাদের মিল্কিওয়ে) শত শত কোটি নক্ষত্র এবং উত্তপ্ত গ্যাস দিয়ে গঠিত হয় যা উজ্জ্বল আলো ছড়ায়। কিন্তু CDG-2 গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। আমাদের মিল্কিওয়ের তুলনায় এটি মাত্র ০.০০৫ শতাংশ উজ্জ্বল। এর বিশাল ভরের প্রায় পুরোটাই ডার্ক ম্যাটার, যা কোনো আলো প্রতিফলন বা শোষণ করে না। বিজ্ঞানীরা মূলত গ্যালাক্সিটির ভেতরে থাকা চারটি প্রাচীন নক্ষত্রপুঞ্জের (Globular Clusters) নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করে এর মহাকর্ষীয় টান বুঝতে পেরেছেন এবং এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিস্টিকস ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক দাই লি (Dayi Li) জানান, "এটি একটি ব্যর্থ গ্যালাক্সি। সম্ভবত সৃষ্টির শুরুর দিকেই এর চারপাশের বড় গ্যালাক্সিগুলো এর ভেতরে থাকা নক্ষত্র তৈরির প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন গ্যাস কেড়ে নিয়েছিল। ফলে এটি শুধুমাত্র একটি ডার্ক ম্যাটার হ্যালো এবং কিছু নক্ষত্র নিয়ে মহাকাশে টিকে আছে।" ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের মোট ভরের প্রায় ৮৫ শতাংশ হলেও আজ পর্যন্ত সরাসরি এটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। CDG-2 এর মতো গ্যালাক্সিগুলো বিজ্ঞানীদের জন্য একটি ল্যাবরেটরি হিসেবে কাজ করবে, যেখানে সাধারণ নক্ষত্রের আলো বা গ্যাসের প্রভাব ছাড়াই ডার্ক ম্যাটারের ধর্ম নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালানো সম্ভব হবে। এই আবিষ্কারটি আবারও প্রমাণ করল যে মহাবিশ্বের বিশাল অন্ধকার অংশে এখনও এমন অনেক কিছু লুকিয়ে আছে যা আমাদের চেনা জগতের চেয়েও অনেক বেশি রহস্যময়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে মিলবে ফ্রি ওয়াইফাই: ঘোষণা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর
বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে মিলবে ফ্রি ওয়াইফাই: ঘোষণা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর

দেশের প্রতিটি প্রান্তরে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ করে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং দ্রুতগতির যানবাহনে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ডিজিটাল কানেক্টিভিটিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে সরকার।   শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।   মন্ত্রী বলেন, "বর্তমান যুগে আইসিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন যেন প্রতিটি ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, যাত্রীসেবা উন্নত করতে বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনের পাশাপাশি হাইস্পিড যানবাহনগুলোতেও ফ্রি ওয়াইফাই নিশ্চিত করা হবে।"   বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের তিনটি বড় টেকপার্কে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার কাজ করছে। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলার প্রতিটি উপজেলায় আইসিটি পার্ক স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়েও পরিকল্পনা চলছে। সরকার জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0