ক্রিকেট মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দানে নামা জাতীয় দলের সাবেক দুই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা বর্তমানে আইনি ঝামেলায় পড়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তারা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাকিব আল হাসানকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়, যার কারণে তিনি দেশ থেকে বাইরে অবস্থান করছেন। মাশরাফি বিন মুর্তজা দেশে থাকলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না। নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, মামলা নিরপরাধ প্রমাণিত হলে দুই ক্রিকেটারকেই ফের স্বাগত জানানো হবে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পল্লবী বিদ্যানিকেতন স্কুলে ৫০০ দরিদ্র মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমি একজন খেলোয়াড় হিসেবে মনে করি, সাকিব ও মাশরাফি বাংলাদেশের লেজেন্ডারি ক্রিকেটার। দেশের মানুষের ভালোবাসা এবং তাদের খেলার প্রতি আকর্ষণ সত্যিই অনন্য।” ক্রীড়ামন্ত্রী আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে যে মামলা রয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত আইনজীবীর মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। যদি তারা নিরপরাধ প্রমাণিত হন এবং দেশের ক্রিকেটে ফিরতে চান, একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে আমি তাদের স্বাগত জানাব।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে চাই। যারা দেশের জন্য দীর্ঘদিন খেলেছেন, তাদের অবদান অস্বীকার করা যাবে না। তবে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং সবকিছু আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া উচিত।”
আবারও পাকিস্তানের পিএসএলে (PSL) গর্জন শোনা যাবে বাংলাদেশের ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমানের। আসন্ন পাকিস্তান সুপার লিগের জন্য নিলামের আগেই সরাসরি চুক্তিতে মুস্তাফিজকে দলে ভিড়িয়েছে শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি লাহোর কালান্দার্স। বাজেট এবং দলের রণকৌশল—সবকিছু মিলিয়ে ‘ফিজ’ই তাদের তালিকার এক নম্বর পছন্দ ছিল বলে জানিয়েছেন দলটির মালিক সামিন রানা। লাহোর কালান্দার্স মুস্তাফিজকে দলে নিতে খরচ করেছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি। এর আগে সবশেষ ২০১৮ সালে এই দলটির হয়েই পিএসএল খেলেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৮ বছর পর পুনরায় পুরোনো ডেরায় ফিরছেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার। মুস্তাফিজের ওপর এই বিশাল বিনিয়োগের কারণ ব্যাখ্যা করে এক পডকাস্টে সামিন রানা বলেন, “বোলিংয়ের প্রতি আমার যে বিশেষ আকর্ষণ, সেখানে ফিজ সবসময়ই আমার পছন্দের শীর্ষে ছিল। আমাদের বাজেট ও স্ট্র্যাটেজির দিক থেকেও সে একদম পারফেক্ট। মুস্তাফিজের মাঝে এমন কিছু বিশেষ গুণ (কোয়ালিটি) আছে, যা বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের খুব কম বোলারের মধ্যেই দেখা যায়।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিপিএল কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুস্তাফিজের বোলিং বৈচিত্র্য ও বৈচিত্র্যময় স্লোয়ারগুলো অনন্য। আমরা আমাদের দলে ঠিক এই ‘এক্স-ফ্যাক্টর’টাই চেয়েছিলাম। আমি সবসময় একটি কথা বিশ্বাস করি— ব্যাটাররা হয়তো আপনাকে ম্যাচ জেতাবে, কিন্তু টুর্নামেন্ট জেতাতে হলে কার্যকরী বোলারের কোনো বিকল্প নেই।” মুস্তাফিজের এই সরাসরি চুক্তি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও এক বড় সুখবর। বিপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা এবার বিদেশের মাটিতেও বজায় রাখবেন ফিজ—এমনটাই প্রত্যাশা ভক্তদের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি এই অভিনন্দন বার্তা প্রদান করে। বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি উল্লেখ করে, তারেক রহমানের সুযোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। বোর্ড আশা প্রকাশ করেছে যে, নতুন এই নেতৃত্বের অধীনে সাধারণ মানুষের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের ক্রীড়া খাতের দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই উন্নয়নে সরকার অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। একই সাথে, জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার ও অধিনায়ক আমিনুল হক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকেও অভিনন্দন জানিয়েছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় দেশের তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সকল খেলাই নতুন গতি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিসিবি। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সরকারের শুরুতেই বিসিবির এই উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং উন্নয়ন অংশীদার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো সংস্কার ও বৈশ্বিক মঞ্চে সাফল্যের পথ সুগম করবে।
জাতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল জানিয়েছেন, বয়স ৩৭–৩৮ হলেও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের এক ফরম্যাটে ধরে রাখলে তারা ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলের জন্য সহায়ক হতে পারবেন। আশরাফুল বলেন, সাকিব আল হাসান যদি দলে ফিরে আসেন, তবে তিনি ব্যাটিং ও বোলিং উভয়েই অবদান রাখতে পারবেন। এক প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল বলেন, বর্তমানে টেস্ট ও টি-২০ দলের পারফরম্যান্স ভালো হলেও ওয়ানডেতে দীর্ঘদিন ফাঁক রয়েছে। যারা খেলছে, তারা ভালো করছে, কিন্তু ম্যাচ জেতার ক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিসিএলের ফলাফলের পর স্পষ্ট হবে কোন জায়গায় আরও শক্তি প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে টপ এইটে থাকতে হবে। ওয়ানডে ফরম্যাটে মুশফিক, রিয়াদ ও সাকিবের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিডল অর্ডার ছাড়ার পর পারফরম্যান্সে ফাঁক দেখা দিয়েছে। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার পরিকল্পনা কৌশলগতভাবে এগোচ্ছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আজ মাঠে গড়াচ্ছে। টস জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, এবং ভারত ব্যাট করতে নামছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যে হ্যান্ডশেক বিনিময় হয়নি। আগের ম্যাচগুলোর মতোই দুই অধিনায়ক সৌহার্দ্যবোধ দেখাননি। বাংলাদেশের মধ্যস্থতায় শুরুতে কিছু অনিশ্চয়তা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত আইসিসির উদ্যোগে ভারত ম্যাচ খেলার জন্য রাজি হয়। পাকিস্তান একাদশ: সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান তারিক, আবরার আহমেদ। ভারতীয় একাদশ: ইশান কিশান (উইকেটরক্ষক), অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মা, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), হার্দিক পান্ডিয়া, শিবাম দুবে, রিংকু সিং, অক্ষর প্যাটেল, কুলদিপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী, জসপ্রিত বুমরাহ। ম্যাচটি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সবসময় হাইভোল্টেজ পরিবেশ তৈরি হয়। মাঠে খেলা শুরু হওয়ায় সারা বিশ্ব থেকে দর্শক ও সমর্থকদের নজর এখন পুরো ক্রিকেটের দিকে।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রক্রিয়াটি আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সবশেষ বোর্ড সভায় আলোচনার পর বিষয়টি এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর নিশ্চিত করেছেন যে, সাকিবের ফেরার পথে বিদ্যমান আইনি ও দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনে আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেবেন তাঁর আইনজীবীরা। আসিফ আকবর গণমাধ্যমকে জানান, সাকিবের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য, চলমান মামলা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পেপারওয়ার্ক এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, “সাকিবের আইনজীবী সকল কাগজপত্র গুছিয়ে ফেলেছেন। আজই সেই ফাইলগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। আমরা বোর্ড থেকে সরকারকে অনুরোধ করেছি যেন সাকিবের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়। নির্বাচকরা যদি মনে করেন তিনি খেলার জন্য প্রস্তুত, তবে আমরা তাঁকে অবশ্যই মাঠে চাই।” দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর সাকিবের ফেরার পথ আরও সুগম হতে পারে বলে মনে করছেন বিসিবির এই পরিচালক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা বিএনপি সরকারের মনোভাব সম্পর্কে আসিফ আকবর বলেন, “বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সাকিবের বিরুদ্ধে যদি সরাসরি কোনো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ বা খুনের প্রমাণ না থাকে, তবে সরকার তাঁর প্রতি নমনীয় থাকবে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সবসময়ই খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার কথা বলেছেন। সুতরাং বিষয়টি এখন অনেকটাই পরিষ্কার।” সাকিবের ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কবে নাগাদ আবার প্রিয় তারকাকে লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে। দাপ্তরিক এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে সাকিবের প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত আইসিসি, পিসিবি এবং বিসিবি-র মধ্যকার ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কোনো ধরনের আর্থিক, প্রশাসনিক বা ক্রীড়াগত শাস্তি আরোপ করছে না ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইসিসি তাদের এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, লাহোর আলোচনা অত্যন্ত গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তান দলকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি করানোর ক্ষেত্রে বিসিবির ইতিবাচক মধ্যস্থতা ও সমর্থনের বিষয়টি আইসিসির কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। শাস্তি নয়, মিলছে বড় ইভেন্ট: বিসিবি-কে একটি ‘মূল্যবান পূর্ণ সদস্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইসিসি জানিয়েছে, ২০ কোটির বেশি ভক্তের এই প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজারকে তারা কোনোভাবেই অবহেলা করতে চায় না। সমঝোতার অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই অর্থাৎ ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এককভাবে আইসিসির একটি বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। তবে এটি আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিচালনাগত শর্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে। পরিষ্কার অবস্থান বিসিবির: আইসিসি স্পষ্ট করেছে যে, বিসিবির ওপর কোনো জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না। এমনকি বিসিবি চাইলে তাদের আইনি অধিকার বা ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটির শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগও বহাল থাকবে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্তা এই পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ওপর প্রভাবহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক সংযুক্তির দাবিদার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক এবং ২০২৭ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে নির্ধারিত আছে। এর বাইরে লাহোর চুক্তির মাধ্যমে নতুন এই টুর্নামেন্ট প্রাপ্তি দেশের ক্রিকেটে এক নতুন প্রাণসঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখন এক নতুন ও নাটকীয় মোড় নিয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি কর্তৃক বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসতে এবার তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই সংকট নিরসনে এবং ‘পারস্পরিক সমঝোতা’র পথ খুঁজতে বর্তমানে লাহোরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত আইসিসি এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেই বিসিবি সভাপতির এই ঝটিকা লাহোর সফর। পরশু রাতে এক জরুরি বার্তা পেয়ে মধ্যরাতেই পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হন আমিনুল ইসলাম। গতকাল ভোরে লাহোরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির। সেখানে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি। পরবর্তীতে আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকেও অংশ নেন তাঁরা। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি। পাকিস্তান আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, বাংলাদেশের ওপর অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। এখন আইসিসি চাইছে পাকিস্তানকে ওই ম্যাচ খেলতে রাজি করাতে, আর বিনিময়ে বাংলাদেশের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ না নিলেও আইসিসির বার্ষিক রাজস্ব থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য অংশ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে বিদেশি দলগুলোর বাংলাদেশ সফর নিয়ে কোনো আইনি বা কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি না করার নিশ্চয়তা। আইসিসির পক্ষ থেকে এই আলোচনার সমন্বয় করছেন সংস্থাটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। পাকিস্তানের অনড় অবস্থান এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সংকট উত্তরণে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিসিবি’র পক্ষ থেকে জুড়ে দেওয়া তিনটি শর্তের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে এর মধ্যে আইসিসির ক্রিকেটীয় রাজনীতি এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন লাহোরের এই কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে। শেষ পর্যন্ত কি পিসিবি তাদের ৩ শর্তে আইসিসিকে রাজি করাতে পারবে? নাকি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়াই শেষ হবে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব—সেই উত্তর পাওয়া যাবে খুব শীঘ্রই।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে যখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি কথিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তান ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি ‘ডিপফেক’। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এর বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করা হয়। ভিডিওতে মোদিকে বলতে শোনা যায় যে, শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে গিয়ে ভারতকে ‘ফেলে চলে গেছে’ পাকিস্তান। মুহূর্তেই ভিডিওটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন পোস্টে লক্ষাধিক ভিউ জমা হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য। নির্ভরযোগ্য কোনো ভারতীয় বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি এআই শনাক্তকরণ টুল দিয়ে পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, এটি ৭১ শতাংশের বেশি কৃত্রিমভাবে তৈরি। রিভার্স ইমেজ সার্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা গেছে, মূল ভিডিওটি ১২ মে ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ভারত–পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। মূলত সেই পুরনো ভিডিওর ওপর এআই ব্যবহার করে নতুন কণ্ঠ বসিয়ে এই বিভ্রান্তিকর দাবিটি ছড়ানো হয়েছে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সাহায্যে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই অপচেষ্টাকে ‘ডিজিটাল কারসাজি’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে এমন ভিডিও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই করার জন্য সাধারণ ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব ক্রিকেটে চলমান ভারত-পাকিস্তান অস্থিরতা নিরসনে বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন আইসিসি-র সাবেক সভাপতি এহসান মানি। লন্ডন থেকে ডন পত্রিকাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কেবল পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সাথে আলোচনা করাই যথেষ্ট নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটকে বিশাল আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে জয় শাহর উচিত ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তান সফর করা। এহসান মানি মনে করেন, পাকিস্তান সরকারকে তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরিয়ে আনতে জয় শাহকে সরাসরি তাদের অভিযোগগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। আইসিসি বর্তমানে যে আলোচনার জন্য ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তার সমালোচনা করে মানি বলেন, খাজা একজন অ্যাসোসিয়েট দেশের প্রতিনিধি হিসেবে এই বড় সংকট সমাধানের জন্য সঠিক ব্যক্তি নন। এই বিষয়টি আইসিসি চেয়ারম্যানেরই সরাসরি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। সাক্ষাৎকারে এহসান মানি আইসিসি-র অভ্যন্তরে ভারতের আধিপত্য এবং রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইসিসি যদি আবারও ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করে, তবে পাকিস্তানের উচিত হবে সুইজারল্যান্ডের বিশ্ব সালিশি আদালতে (CAS) যাওয়া। তিনি দাবি করেন, আইসিসি-র বিভিন্ন কার্যক্রমে রাজনীতির সম্পৃক্ততার অনেক প্রমাণ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করতে পারে। লভ্যাংশ বণ্টনের বৈষম্য তুলে ধরে মানি জানান, আইসিসি-র মোট আয়ের ৩৮.৫ শতাংশ পায় ভারত, আর পাকিস্তান পায় মাত্র ৫.৭৫ শতাংশ। ক্রিকেটের ‘ভদ্রতা’ নষ্ট করার জন্য ভারতকে দায়ী করে তিনি বলেন, এশিয়া কাপের সময় ভারত পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সাথে সৌজন্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হলেও আইসিসি নীরব ছিল। এমনকি পাকিস্তানি প্রতিনিধি হওয়ায় ভারত ট্রফি নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সবশেষে তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে, তার প্রধান কারণ বিসিসিআই-এর অনমনীয় ও নেতিবাচক মনোভাব। এখন সময় এসেছে রাজপথের মতো ক্রিকেটের মাঠ থেকেও এই রাজনীতির অবসান ঘটানোর।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। মূলত বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং সংহতি জানাতেই পিসিবি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উল্লেখ্য, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল, যা আইসিসি নাকচ করে দেয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, আইসিসি এক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে। এদিকে, পাকিস্তানের এই বয়কটের সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে থাকা দেশটির জন্য এই ম্যাচটি ছিল আয়ের বড় উৎস। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সিইও অ্যাশলে ডি সিলভা জানিয়েছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং হোটেল বুকিংও সম্পন্ন। ম্যাচটি বাতিল হলে দেশটির পর্যটন খাত বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে। ২০০৯ সালের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বন্ধুত্বের খাতিরে পাকিস্তানকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে লঙ্কান বোর্ড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা। তবে এবারের সমীকরণটা একটু ভিন্ন। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে যদি এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হয়, তবে মাঠে নামার আগে পাকিস্তান সরকার থেকে সবুজ সংকেত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পাক অধিনায়ক সালমান আগা। বৃহস্পতিবার কলম্বোতে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। আগার মতে, ভারতের বিপক্ষে খেলা বা না খেলা সম্পূর্ণরুপে তাদের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে আমাদের ভারতের সঙ্গে খেলতে হয়, তবে আমরা পুনরায় সরকারের পরামর্শ নেব এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।” সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তকে পাকিস্তান দল সম্মানের সঙ্গে মেনে নেবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন এই অধিনায়ক। তিনি আশা করেন, আসন্ন ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের সমর্থকরা পাকিস্তানকে সমর্থন জোগাবেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক বিশাল ঝড় তুলেছিল পেসার জাহানারা আলমের সেই বিস্ফোরক অভিযোগ। সাবেক ম্যানেজার ও নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা সেই গুরুতর অভিযোগের তদন্তে এবার বড় মোড় নিয়েছে। বিসিবির স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিসিবির স্বীকারোক্তি: জাহানারা আলমের করা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পেয়েছে বিসিবি গঠিত তদন্ত কমিটি। ঘটনার সূত্রপাত: ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালে দলের ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে 'অশোভন আচরণ' ও 'শারীরিক স্পর্শের' অভিযোগ তোলেন জাহানারা। মঞ্জুরুলের অবস্থান: যদিও অভিযুক্ত মঞ্জুরুল ইসলাম শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন' ও 'মিথ্যা' বলে দাবি করে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতি: বিসিবি একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তদন্তের ফলাফল নিশ্চিত করেছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মঞ্জুরুল ইসলামের সাথে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ গত ৩০শে জুন, ২০২৫-এ শেষ হয়ে গেছে। একজন নারী ক্রিকেটার যখন সাহসের সাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ তোলেন, তখন সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া পুরো ক্রিকেট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। এই ঘটনায় বিসিবির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মঞ্চে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে তৈরি হওয়া চরম অস্থিরতার মাঝে নতুন এক ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে হাজির হলেন ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি মনে করেন, আইসিসি’র চাপের মুখে এবং বিশাল আর্থিক লোকসানের ভয়ে পাকিস্তান তাদের ‘ভারত ম্যাচ বয়কট’ করার সিদ্ধান্ত থেকে খুব শীঘ্রই সরে আসবে। ঘটনার প্রেক্ষাপট বেশ নাটকীয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি জানালে আইসিসি তা গ্রহণ করেনি; বরং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকেই বহিষ্কার করে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আইসিসি’র এই কঠোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ঘোষণা দেয় যে, তারা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে মাঠে নামবে না। এই পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলেন, "আমার মনে হয় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি শতভাগ হবে। আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই পাকিস্তান তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে পিছু হটবে। ব্রডকাস্টার বা সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর বিশাল অংকের অর্থের ক্ষতি এড়াতে আইসিসি ও পিসিবি’র মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়া অনিবার্য।" অশ্বিন আরও যুক্তি দেখান যে, পাকিস্তান যদি এই সিদ্ধান্ত বজায় রাখে তবে আইসিসি’র রাজস্ব ব্যাপকভাবে কমে যাবে। এর ফলে সদস্য দেশগুলোর আয়ও কমবে, যা পাকিস্তানের ওপর কূটনৈতিক ও আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেবে। এমনকি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) না দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় আইসিসি’র জরুরি সভার দিকে। সেখানে পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের কোনো সমাধান বের হয় কি না, নাকি রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কথাই সত্যি প্রমাণিত হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছেন কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্ত।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে পর্দা উঠতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্ব ক্রিকেটে বইছে ঝড়ের পূর্বাভাস। বাংলাদেশ দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবির এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজই একটি ভার্চ্যুয়াল জরুরি বোর্ড মিটিং ডেকেছে আইসিসি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার এবং ভারতের এনডিটিভি এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি এই মিটিংয়ে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র। গত রাতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয় যে, পাকিস্তান দল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে ঠিকই, কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটিতে তারা মাঠে নামবে না। পিসিবির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ই-মেইল করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি জানিয়েছে, বেছে বেছে কিছু ম্যাচ বয়কট করা টুর্নামেন্টের মূল চেতনা ও মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে। সংস্থাটি পিসিবিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে আইসিসি কঠোর অবস্থান নিলে পাকিস্তানের ওপর শুধু বর্তমান বিশ্বকাপ নয়, ভবিষ্যতে আইসিসি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় আরও রয়েছে—পিসিবিকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা, শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সীমিত করা এবং পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ করা। এছাড়া সম্প্রচারকারী সংস্থা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিশাল আর্থিক ক্ষতির দায়ভার পিসিবিকেই নিতে হতে পারে। এখন সবার নজর আইসিসির জরুরি সভার দিকে, যেখান থেকে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাদের সরকারের কাছ থেকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সবুজ সংকেত পেলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা গ্রুপ পর্বে ভারতের মুখোমুখি হবে না। দুই দেশের এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও ক্রীড়াসুলভ পরিস্থিতির মধ্যে এবার নিজেদের কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। রোববার রাতে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে প্রতিটি দলের অংশগ্রহণ এবং নিয়ম মেনে চলাই ক্রিকেটের চিরাচরিত সৌন্দর্য। পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখালেও আইসিসি স্পষ্টভাবে বলেছে যে, এমন অবস্থান বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক ভাবমূর্তির জন্য যেমন নেতিবাচক, তেমনি এটি বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক একটি সংবাদ। বিবৃতিতে পিসিবি-কে প্রচ্ছন্ন হুশিয়ারি দিয়ে আইসিসি উল্লেখ করেছে, এই বয়কটের ফলে পাকিস্তানের ক্রিকেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদী এবং মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইসিসি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, পিসিবি বিশ্ব ক্রিকেট কাঠামোর একজন নিয়মিত সদস্য এবং আর্থিকসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বড় অংশীদার। ফলে তাদের এই ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্ত পুরো ক্রিকেট সংস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার খেসারত পাকিস্তানকেই দিতে হতে পারে। আইসিসির মতে, একটি বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা পিসিবিসহ সব সদস্য দেশের যৌথ নৈতিক দায়িত্ব। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এখন আশা করছে, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দ্রুতই একটি সম্মানজনক এবং গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করবে, যা ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মর্যাদা রক্ষা করবে। অন্যথায় আইসিসি কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এঅংশগ্রহণের অনুমোদন দিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। আজ রোববার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এক্স পোস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, পাকিস্তান সরকার আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ২০২৬ এঅংশগ্রহণের অনুমোদন দিলেও১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না। আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তারা ম্যাচগুলো আরেক দেশ শ্রীলংকা সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেছিল আইসিসিকে। যদিও বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা খুঁজে না পাওয়ায় বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল।নয়তো বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার হুমকিও পেয়েছিল বাংলাদেশ,কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল।শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা। এপুরোটা সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে ছিল।সে সময় বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি জানান,তারাও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তাভাবনা করছে,সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। গত সোমবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যানও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আইসিসি বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, সেই প্রেক্ষাপটেইএ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর নকভি জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি),সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্বকাপে খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল পাকিস্তান। তবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের সঙ্গে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করেছে তারা। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল অংশ নেবে না। পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডলের এই বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে ডন, জিও নিউজসহ দেশটির একাধিক গণমাধ্যম খবরটি প্রকাশ করেছে।
দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এখন থেকে বিসিবির আনুষ্ঠানিক ইভেন্ট বা ম্যাচের দিন ছাড়া গণমাধ্যমকর্মীরা চাইলেই আর স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিসিবির দেওয়া এক আকস্মিক বিজ্ঞপ্তির পর আজ রবিবার থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। প্রবেশপথ: সাংবাদিকদের প্রবেশের জন্য শুধুমাত্র ১ নম্বর গেট নির্ধারিত করা হয়েছে। সীমিত সময়: এখন থেকে সাংবাদিকরা কেবল ম্যাচের দিন, আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন, বিসিবির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণমূলক অনুষ্ঠান এবং বোর্ডের জানানো নির্দিষ্ট অনুশীলন সেশনেই স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারবেন। অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা: এর ফলে নিয়মিতভাবে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনুশীলন বা বোর্ডের দৈনন্দিন খবর সংগ্রহের সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিরাপত্তা জোরদার’ ও ‘শৃঙ্খলার’ কথা বললেও বিশ্লেষকরা এর পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ভূ-রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সংকটকে দায়ী করছেন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর বিসিবির ওপর গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা ও চাপ তৈরি হয়েছে। আইসিসির প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল: খবর অনুযায়ী, ভারত সফরের নিরাপত্তা ইস্যুতে বিসিবির অনড় অবস্থানের কারণে আইসিসি শতাধিক বাংলাদেশি সাংবাদিকের বিশ্বকাপের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সামাল দিতেই বিসিবি নিজের ভেন্যুতে সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাইবার হামলা ও গুজব: সম্প্রতি বিসিবি আমির ডা. শফিকুর রহমানের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া খবর ছড়ানোর প্রেক্ষাপটে বোর্ড অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিসিবির এই সিদ্ধান্তকে ‘গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ’ হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (BSJA) জানিয়েছে, আগে কখনোই সাংবাদিকদের নিয়মিত কাজে এমন বাধা দেওয়া হয়নি। এতে মাঠের খবর সংগ্রহ করা এবং ক্রিকেটারদের অভাব-অভিযোগ শোনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বিসিবির মিডিয়া কমিটি জানিয়েছে, “নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ কার্যক্রম নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
দেশের ক্রিকেটকে জনসাধারণ তথা দর্শকদের মাঝে তুলে ধরতে বড় ভূমিকা পালন করে থাকেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। খবরের খোঁজে দিনের বোশিরভাগ সময় সাংবাদিকদের কাটে মিরপুর স্টেডিয়ামে। তবে এবার নিরাপত্তা শঙ্কা থেকে শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বিসিবি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিসিবি। যেখানে নিরাপত্তা শঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সীমিত করা হয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের মাঠে প্রবেশের সুযোগ। এই নতুন নির্দেশনা এখন থেকেই কার্যকর হবে। গণমাধ্যমকর্মীদের ১ নম্বর গেইট দিয়ে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কেবল ম্যাচ ডে, আনুষ্ঠানিক প্রেস কনফারেন্স (সংবাদ সম্মেলন), বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণমূলক অনুষ্ঠান, বিসিবির আগে থেকে জানানো কোনো ট্রেনিং সেশন বা প্র্যাকটিস সেশন- কেবল এসব কাভার করতেই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন সাংবাদিকরা। স্টেডিয়াম ও বিসিবির অফিসে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ সঠিকভাবে মেনে চলার ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকে। এখন থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা চাইলেই আর স্টেডিয়ামে ঢুকে কাজ করতে পারবেন না। বিসিবির নির্দেশনা মেনেই করতে হবে সবকিছু।
সাত বছরের অপেক্ষা শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতেছিল পাকিস্তান। একদিন পর লাহোরে জয়ের ধারা ধরে রাখল স্বাগতিকরা। সালমান আগা ও উসমান খানের হাফ সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান জমা করে তারা। তারপর আবরার আহমেদ ও শাদাব খানের বোলিংয়ে একশ পার করে অলআউট অস্ট্রেলিয়া। আজ (শনিবার) দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৯০ রানে জিতেছে পাকিস্তান। আগে ব্যাটিং করে ১৯৮ রান করে তারা। তারপর ১০৮ রানে সফরকারীদের গুটিয়ে দিয়ে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। অজিদের বিপক্ষে ২০১৮ সালের পর এটি প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। ১৭ রানে সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুবের ওপেনিং জুটি ভাঙে। সাহিবজাদা ৫ রানে আউট হন। সালমান দ্বিতীয় উইকেটে ঝড় তোলেন। সাইমের সঙ্গে ২৫ বলে ৫৫ রান তোলার পথে একাই ১৯ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। সাইম ১১ বলে ২৩ রানে থামেন। বিশ্বকাপের আগে নিজেকে প্রমাণের আরেকটি সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ বাবর আজম। ৫ বলে ২ রান করে আউট তিনি। পাঁচ রানের ব্যবধানে জোড়া আঘাতের পর উসমানের সঙ্গে সালমান ৪৯ রানের জুটি গড়েন। ১৩তম ওভারে তিনি আউট হওয়ার আগে ৪০ বলে ৭৬ রান করেন, ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ৪ ছয়। ২৫ বলে ফিফটি করেছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। সালমান আগা ঝড়ো ইনিংস খেলেন তারপর শাদাব খান ও উসমানের ৩৯ বলে ৬৩ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করে পাকিস্তান। ৩৫ বলে ৫০ রান করা উসমান থেমেছেন আরেকটি বল খেলে। ফিফটি করার পরের বলে ৫৩ রানে বিদায় নেন তিনি। শেষ দিকে শাদাব ও মোহাম্মদ নওয়াজের ৪ বলে ১০ রানে অপরাজিত জুটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। ২০ বলে ২৮ রানে শাদাব ও নওয়াজ ৩ বলে ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। বড় লক্ষ্যে নেমে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে। ৫৪ রান করতেই নেই অর্ধেক ব্যাটার। প্রথম ছয় ব্যাটারের মধ্যে কেবল মিচেল মার্শ (১৮) ও ক্যামেরন গ্রিন (৩৫) দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন। অস্ট্রেলিয়া বাকি পাঁচ উইকেটও হারিয়েছে ৫৪ রান করতেই। গ্রিনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন ম্যাথু শর্ট। এছাড়া দুই অঙ্কের ঘরে রান তোলেন জাভিয়ের বার্টলেট (১০)। আবরার ৩ ওভারে ১৪ রান খরচায় তিন উইকেট নেন। ১৪তম ওভারে পরপর দুটি উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগানো শাদাব ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে সমান সংখ্যক উইকেট পান।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস