খেলাধুলা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই টাইমস স্কয়ারে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া সমর্থকদের মধ্যে তুমুল মারামারি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে এক ভয়াবহ সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ফুটবল সমর্থকরা। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল কিল-ঘুষি, লাথি এবং একে অপরের ওপর বস্তু ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটে। বিশ্বকাপের আমেজে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের মাঝে হঠাৎ এই উন্মুক্ত মারামারি শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ পর্যটকরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করেন।   জানা গেছে, গ্রুপ ‘জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্দেরাজো’ (পতাকা উড়িয়ে বিশাল গণজমায়েত) করার জন্য টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন। ফলে পুরো এলাকা নীল-সাদা পতাকায় ছেয়ে যায়। একই সময়ে সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আলজেরিয়ার সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন, যাদের সাথে ফ্রান্স এবং সেনেগালের কিছু সমর্থকও যোগ দেন। একপর্যায়ে উৎসবমুখর এই পরিবেশ রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য পারিসিয়ান’-এর বরাত দিয়ে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘ইনফোবাই’ জানিয়েছে, দুই দেশের সমর্থকরা প্রথমে একে অপরকে লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং আপত্তিকর স্লোগান দিতে শুরু করেন। মৌখিক এই বাগবিতণ্ডা দ্রুতই শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং সাধারণ পথচারীরা ওপর থেকে ছুড়ে মারা বিভিন্ন বস্তু থেকে বাঁচতে দৌড়াদৌড়ি করছেন। ৩ লাখ ৯৩ হাজার ফলোয়ারের জনপ্রিয় এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট ‘ফুটবল অ্যাওয়ে ডেইজ’-এ এই সংঘর্ষের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় যা ইতোমধ্যেই দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও এএস’ এই দৃশ্যকে একটি ‘উন্মুক্ত যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং এটিকে ‘বিশ্বকাপের প্রথম কুৎসিত ছবি’ বলে মন্তব্য করেছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘ফিফার জন্য কী এক লজ্জাজনক বিষয়!’   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য ফিগারো’ জানায়, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ দ্রুত লাঠিচার্জ ও অ্যাকশনে যায় এবং বেশ কয়েকজন সমর্থককে গ্রেফতার করে। নিউইয়র্কের সবচেয়ে ব্যস্ততম স্থানে এই প্রকাশ্য মারামারির ঘটনাটি ঘটলেও, এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বা কতজন আহত হয়েছেন, তার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। ইনফোবাই তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে, এই সংঘর্ষের আসল কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো অফিশিয়াল বিবৃতি বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।   এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, বিশ্বকাপের শুরুর দিনগুলোতে টাইমস স্কয়ারে বিভিন্ন দেশের সমর্থকরা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে স্লোগান দিচ্ছিল। কিন্তু সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক ফ্যান-জোনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং সমর্থকদের আলাদা করার কোনো গাইডলাইন না থাকায়, এই ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকায় দুই পক্ষের মেলবন্ধন শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মক রূপ নেয়। তা ছাড়া, আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় সমর্থকদের আবেগ ও মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গ্রুপ জে-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এখন স্টেডিয়াম ও ম্যাচকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১১:৪৪
সেনেগাল জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড ইলিমান এনদিয়ায়ে | ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন ও ফিফার নতুন নিয়মে ফুটবল বিশ্বকাপ এখন এক অন্যরকম ডায়াসপোরা টুর্নামেন্ট

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে অভিবাসন এবং ঔপনিবেশিক সম্পর্ক খেলোয়াড়দের জাতীয় পরিচয় নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে লিভারপুলে জন্ম নেওয়া জর্জ মুরহাউস ইংল্যান্ডের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, যা ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার প্রথম ঘটনা। সেই আসরে মার্কিন দলে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া আরও পাঁচজন ফুটবলার ছিলেন, যারা তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। বর্তমান ফুটবল বিশ্বকাপেও এই চিত্র আরও ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, যেখানে বহু খেলোয়াড়ের পারিবারিক শিকড় এক দেশে হলেও জন্ম ও বেড়ে ওঠা অন্য দেশে।   এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী মোট ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৯২ জনই নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করা দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে মাত্র আটটি দল ছাড়া বাকি সব দলের স্কোয়াডেই অন্তত একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় রয়েছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কুরাসাও, যাদের স্কোয়াডের একজন ছাড়া বাকি সব খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে মরক্কো ও কাতারের মতো দলগুলো প্রকৃত অর্থেই বহুজাতিক রূপ ধারণ করেছে, যেখানে ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে থাকা ১১ জন খেলোয়াড়ের সবাই দেশের বাইরে জন্মেছিলেন।   বিশ্ব ফুটবলে খেলোয়াড় সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে ফ্রান্স। চলতি বিশ্বকাপে মোট ৯৮ জন ফরাসি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৭৬ জনই ফ্রান্সের বাইরে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে আলজেরিয়া, যাদের দলে সর্বোচ্চ ১৩ জন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলার রয়েছেন। এর পরেই রয়েছে হাইতি, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। সেনেগাল দলের ১০ জন খেলোয়াড় ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করলেও পারিবারিক শিকড়ের টানে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের দেশের হয়ে মাঠে নামছেন।   ফিফার জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়মে বেশ কিছু ঐতিহাসিক পরিবর্তন এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে। নাগরিকত্বের পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা দাদা-দাদির জন্মসূত্র অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে ন্যূনতম পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হয়। ২০০৪ সালের আগে বয়সভিত্তিক দলে খেললে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির মুখে ফিফা নিয়ম পরিবর্তন করে শর্তসাপেক্ষে ২১ বছর বয়সের আগে একবার জাতীয়তা পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ এবং ২০২০ সালে এই নিয়ম আরও শিথিল করা হয়, যার ফলে দিয়েগো কস্তা বা ডেকলান রাইসের মতো তারকারা প্রীতি ম্যাচ খেলার পরও অন্য দেশের জাতীয় দলকে বেছে নিতে পেরেছেন।   খেলোয়াড়দের এই জটিল আন্তর্জাতিক স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্পেনে জন্ম নেওয়া মুনির আল হাদ্দাদির মামলাটি ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। ২০১৪ সালে স্পেনের হয়ে মাত্র ১৩ মিনিট খেলার কারণে মরক্কোর হয়ে তার খেলার আবেদন প্রথমে বাতিল হলেও ২০২০ সালের নতুন নিয়মে তিনি খেলার অনুমতি পান। নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২১ বছরের আগে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেললেও তিন বছর অপেক্ষা করে একবার জাতীয়তা পরিবর্তন করা যাবে। তবে শুধুমাত্র খেলার উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব কেনা যাবে না, খেলোয়াড়কে দেশের সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্ক প্রমাণ করতে হবে।   বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশন প্রবাসী বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রতিভাদের খুঁজে বের করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ স্কাউট নিয়োগ করছে। তারা ট্রান্সফার মার্কেটের মতো ডাটাবেস ব্যবহার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, লিংকডইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান করছে। এমনকি জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ফুটবল ম্যানেজার’-এর ডেটা ব্যবহার করে চিলির ফুটবল ফেডারেশন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বেন ব্রেরেটন দিয়াজের মায়ের চিলিয়ান নাগরিকত্বের তথ্য খুঁজে বের করে। জন্মভূমি ও পূর্বপুরুষের দেশের মধ্যকার এই টানাপোড়েনই আধুনিক বিশ্বকাপকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য বহুজাতিক মঞ্চে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:৪২
ছবি: সংগৃহীত
ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে ইরান দলকে নির্দেশ, ক্ষোভে ফিফার হস্তক্ষেপ চাইলেন কোচ-অধিনায়ক

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পরই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় ইরান জাতীয় ফুটবল দলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ম্যাচ শেষে নির্ধারিত বিশ্রামের সুযোগ না পেয়ে রাতেই মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দিতে বাধ্য হওয়ায় প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই এবং অধিনায়ক মেহেদি তারেমি।   পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে সোমবার রাতটি স্থানীয় সময় ক্যালিফোর্নিয়াতেই কাটানোর কথা ছিল ইরান দলের। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের জানানো হয়, অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। ফলে রাতেই মেক্সিকোর উদ্দেশে বিমান ধরতে হয় দলটিকে।   ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই। তিনি বলেন, ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের জানানো হয় এখনই দেশ ছাড়তে হবে। তার ভাষায়, খেলোয়াড়দের শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়েই দলকে জোর করে যাত্রায় পাঠানো হয়েছে।   দলের অধিনায়ক ও ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমিও একই ধরনের অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবেশের সময়ও দীর্ঘ সময় নিরাপত্তা চৌকিতে অপেক্ষা করতে হয়েছে দলকে।   তারেমি বলেন, মেক্সিকো সীমান্ত পার হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে আসার সময় স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করতে হলেও নিরাপত্তা চেকপোস্টে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি জানান, কেন এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে তা দল বুঝতে পারছে না এবং পুরো বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, সূচি অনুযায়ী ম্যাচের আগে ও পরে নির্ধারিত সময় পাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে যেভাবে দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   ফিফার হস্তক্ষেপ কামনা করে অলিম্পিয়াকোসে খেলা এই ফরোয়ার্ড বলেন, খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে এবং তারা পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছেন না। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দলের জন্য চরম চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।   রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবারের বিশ্বকাপে ইরান নিজেদের বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে স্থাপন করেছে। ম্যাচ খেলার জন্য তারা সীমিত সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে।   গ্রুপ ‘এ’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইরান। এরপর ২৮ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:৩৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে প্রশাসনিক জটিলতায় ক্ষোভ ইরান কোচের, বৈষম্যের অভিযোগ ঘালেনুইয়ের

চলমান বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েও প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ের পর দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনুই অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ইরানই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি ও বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছে।   ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ঘালেনুই বলেন, খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া অন্য কোনো দলকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়নি।   ইরান কোচ জানান, ভিসা জটিলতার কারণে দলের একাধিক কর্মকর্তা, সহায়ক কর্মী এবং ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। এতে দলের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।   দলের অধিনায়ক মেহেদি তারেমিও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অতিরিক্ত ভ্রমণ এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দলকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।   বিশ্বকাপ শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব ফুটবল অঙ্গনে আলোচনায় আসে। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ইরানের মূল ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে দলটি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানাকে বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করছে এবং প্রতিটি ম্যাচের জন্য সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।   নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ইরান দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরতে সক্ষম হয়। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের প্রস্তুতি, যাতায়াত এবং প্রশাসনিক জটিলতাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।   গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচ সামনে রেখে ইরান দল প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কোচ ও অধিনায়কের বক্তব্যে স্পষ্ট, মাঠের প্রতিপক্ষের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও তাদের বিশ্বকাপ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:২৬
মেসির জন্য খেলবে আর্জেন্টিনা, অধিনায়কের ভার এবার কাঁধে নেবে নতুন প্রজন্ম
মেসির জন্য খেলবে আর্জেন্টিনা, অধিনায়কের ভার এবার কাঁধে নেবে নতুন প্রজন্ম

প্রায় দুই দশক ধরে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন, আশা আর প্রত্যাশার পুরো ভার ছিল একজন মানুষের কাঁধে।    তিনি লিওনেল মেসি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে দৃশ্যপট বদলে গেছে। এবার মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনা আর শুধু মেসির ওপর নির্ভর করছে না। বরং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত হয়েছে নিজেদের অধিনায়ককে এগিয়ে নিতে, তাঁর জন্য লড়তে।   লিওনেল মেসি এখনও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তাঁর হাতেই থাকবে আর্মব্যান্ড। দলীয় তালিকায় তাঁর নামই থাকবে সবার আগে। মঙ্গলবার কানসাস সিটিতে ম্যাচের আগে ক্যামেরার ফোকাসও থাকবে তাঁর ওপর। কিন্তু এই আর্জেন্টিনা দলে মেসির ভূমিকা এখন কেবল একজন অধিনায়কের সংজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।   তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। এমন একজন, যিনি দেখিয়েছেন ব্যর্থতা, হতাশা আর দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কীভাবে শেষ পর্যন্ত সাফল্য অর্জন করা যায়।   ফুটবলের আবেগ নিয়ে অনেক সময় অতিরঞ্জনের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটিতে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এক ধরনের বিশ্বাস। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলা অনেকের কাছে ধর্মীয় অনুভূতির মতো। প্রতিটি প্রজন্ম বড় হয় নায়ক, বেদনা আর পুনর্জাগরণের গল্প শুনে।   সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। তিনি আর শুধু একটি চরিত্র নন, তিনি নিজেই হয়ে উঠেছেন পুরো গল্পের প্রতীক।   কানসাস সিটিতে জড়ো হওয়া বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের অনেক ফুটবলার ছোটবেলায় মেসির সংগ্রাম দেখেই বড় হয়েছেন। তাঁরা দেখেছেন কোপা আমেরিকার ফাইনালে একের পর এক হার। দেখেছেন সমালোচকদের প্রশ্ন, মেসি সত্যিই কি নিজের দেশকে ভালোবাসেন? দেখেছেন ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অবসর ঘোষণা।   আবার তাঁরাই দেখেছেন সেই অবসর ভেঙে ফিরে আসা। দেখেছেন ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ট্রফি হাতে তোলা। এরপর কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জয়। মেসির বর্তমান প্রভাবের উৎস তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট বা অসাধারণ প্রতিভা নয়। বরং তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রা।   আজকের আর্জেন্টিনাকে দেখলে মনে হয় না ফুটবলাররা শুধু একজন অধিনায়কের নির্দেশ অনুসরণ করছেন। বরং তাঁরা যেন একটি উত্তরাধিকার রক্ষা করছেন।   হুলিয়ান আলভারেজের নিরলস চাপ, রদ্রিগো ডি পলের প্রতিটি মিডফিল্ড লড়াই কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অদম্য মানসিকতা কেবল কৌশলগত ফুটবলের ফল নয়। এগুলো সেই মানসিকতার প্রতিফলন, যা তারা মেসির পাশে দাঁড়িয়ে শিখেছে।   অনেক সময় মনে হয়, তারা শুধু আর্জেন্টিনার জন্য খেলছে না। দলের ভেতরে হয়তো এক নীরব অনুভূতিও কাজ করছে। তারা খেলছে সেই মানুষের জন্য, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে একাই পুরো জাতির প্রত্যাশা বহন করেছেন।   এই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির আগের সব বিশ্বকাপ থেকে আলাদা।   আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় আর্জেন্টিনার সবকিছু ঘুরেছে তাঁকে কেন্দ্র করে। প্রত্যাশা, চাপ, সমালোচনা, আশা, হতাশা সবই এসে পড়ত তাঁর কাঁধে।   এখন এই বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর বয়স হবে ৩৯। শরীর আগের মতো নেই। ফিটনেস নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামছে এমন এক দল নিয়ে, যারা আর মেসির কাছ থেকে সবকিছু চায় না।   তারা চায় মেসির উপস্থিতি। চায় তিনি মাঠে থাকুন। হয়তো কোনো অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্তের জন্য। হয়তো মাঠের একপাশ থেকে দেওয়া একটি দৃষ্টির জন্য, যা সবাইকে মনে করিয়ে দেবে কীসের জন্য তারা লড়ছে। কিংবা শুধু এই কারণেই যে তিনি লিওনেল মেসি, এখনও মাঠে আছেন, এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এখনও হাল ছাড়েননি।   সম্ভবত ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সবচেয়ে বড় অবদান কোনো গোল হবে না। কোনো অ্যাসিস্টও নয়। হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সেই দৃশ্য।   যে জার্সি একসময় তাঁর কাছে বোঝা মনে হয়েছিল, সেটিই এখন তাঁর সবচেয়ে স্বস্তির ঠিকানা। কারণ কঠিন মুহূর্তে, যখন পা ভারী হয়ে আসে, আত্মবিশ্বাস কমে যায়, গ্যালারি নীরব হয়ে পড়ে, তখন পাশে মেসিকে দেখা দলের জন্য বাড়তি শক্তি হয়ে ওঠে।   তিনি শুধু অধিনায়ক নন। তিনি এমন একজন, যাঁকে দেখে এই প্রজন্মের ফুটবলাররা বড় হয়েছে। যাঁর মতো হওয়ার স্বপ্ন তারা দেখেছে।   বহু বছর আর্জেন্টিনা মেসির ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর মোড়ে এসে এখন মনে হচ্ছে, মেসিও আর্জেন্টিনার ওপর নির্ভর করতে পারেন। সম্ভবত এটাই তাঁর গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।   এক জীবন অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁকে আর একা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৮:৫৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে নেইমার-ভিনিসিয়ুসকে ‘এলিয়েন অপহরণ করবে’, ব্রাজিলীয় জ্যোতিষীর দাবি ঘিরে তোলপাড়

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের এক আধ্যাত্মিক গুরু ও জ্যোতিষী দাবি করেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে ভিনগ্রহী প্রাণীদের আগমন ঘটতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে শত শত মানুষ নিখোঁজ হতে পারেন।   ব্রাজিলে ‘ভো বাহিয়ানা’ নামে পরিচিত এই নারী জ্যোতিষীর প্রকৃত নাম এলিসাঞ্জেলা দে সুজা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত জ্যোতিষশাস্ত্র, ট্যারোট পাঠ এবং আধ্যাত্মিক বিষয়ক ভিডিও প্রকাশ করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, কয়েকবার একই ধরনের স্বপ্ন দেখেছেন, যেখানে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ চলাকালে আকাশ থেকে বিশাল মহাকাশযান নেমে আসে।   তার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি ছোট মহাকাশযান মাঠের কিছু খেলোয়াড়কে তুলে নিয়ে যায়। এরপর আরও বড় একটি মহাকাশযান বা ‘মাদারশিপ’ এসে স্টেডিয়ামের আশপাশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, স্বপ্নে নিজেকেও সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দেখেছেন।   ভো বাহিয়ানা আরও বলেন, তার দেখা দৃশ্যগুলোতে দুই ধরনের ভিনগ্রহী প্রাণী ছিল। একদলকে তিনি শান্ত ও উন্নত বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে আরেক দলকে তিনি আক্রমণাত্মক ও সরীসৃপ-সদৃশ প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করেন, যাদের আচরণ ছিল ভয়ঙ্কর ও উদ্বেগজনক। তার দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৬ সালের ২৪ অথবা ২৬ জুনের দিকে ঘটতে পারে। তিনি তার অনুসারীদের ওই সময় মায়ামির স্টেডিয়াম এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দিয়েছেন।   ভবিষ্যদ্বাণীতে ব্রাজিল জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের নামও উঠে এসেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো ফুটবলাররাও ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন। পাশাপাশি স্কটল্যান্ড দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, পৃথিবীতে ভিনগ্রহী প্রাণীর উপস্থিতি বা মানুষের অপহরণের মতো ঘটনার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে এ ধরনের দাবিকে বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থন করার সুযোগ নেই।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অস্বাভাবিক ও চমকপ্রদ দাবি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বপ্ন, কল্পনা বা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার বর্ণনা বাস্তব ঘটনার পূর্বাভাস হিসেবে প্রচারিত হয়। কিন্তু সেগুলোকে যাচাইযোগ্য তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক নয়।   এদিকে এই ভবিষ্যদ্বাণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে নিছক কল্পকাহিনি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হওয়া আরেকটি ভাইরাল আলোচনার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছেন। অনেক ব্যবহারকারী হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করে লিখেছেন, যদি সত্যিই ভিনগ্রহীরা পৃথিবীতে আসে, তবে তারা হয়তো ফুটবল ম্যাচ দেখতেই আসবে।   বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রতি আসরেই নানা গুজব, ভবিষ্যদ্বাণী ও আলোচনার জন্ম হয়। তবে মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে এলিয়েন আগমন এবং গণ-অপহরণের এই দাবি এখন পর্যন্ত কেবল একটি ব্যক্তিগত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য, সরকারি সতর্কতা বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ২২:৩৯
ছবি: সংগৃহীত
দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনার সমর্থন ছাড়লেন কৃষক আলাল, যোগ দিলেন ইরান শিবিরে

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে নানা ব্যতিক্রমী আয়োজন। পতাকা উত্তোলন, শোভাযাত্রা কিংবা বিশেষ উদযাপনের পাশাপাশি এবার রাজবাড়ীতে ঘটেছে এক ভিন্নধর্মী ঘটনা, যা স্থানীয়ভাবে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কৃষক আলাল মোল্লা দীর্ঘদিনের সমর্থিত দল আর্জেন্টিনাকে ছেড়ে এবার ইরান জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন। আর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইরান সমর্থকেরা তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়ার হামেদ মৃধার হাট এলাকায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। আলাল মোল্লা ওই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কৃষক।   স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে আলাল মোল্লা আর্জেন্টিনা দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশ্বকাপ এলেই তার বাড়িতে দেখা যেত আর্জেন্টিনার পতাকা ও দলটির প্রতি বিশেষ উচ্ছ্বাস। তবে চলতি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি নিজের সমর্থনের অবস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। আলাল মোল্লা জানান, ছোটবেলা থেকেই ফুটবল তার প্রিয় খেলা। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে তিনি আর্জেন্টিনা দলকে সমর্থন করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনা ও ব্যক্তিগত বিবেচনা থেকে তিনি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন তিনি ইরান জাতীয় দলের সমর্থক এবং এবারের বিশ্বকাপে দলটি ভালো ফল করবে বলে আশাবাদী।   স্থানীয় ইরান সমর্থক শওকত জামান বলেন, তাদের এলাকায় এবার ইরান সমর্থকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আলাল মোল্লা একজন পরিচিত ফুটবলপ্রেমী মানুষ হওয়ায় তার এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তাই প্রতীকীভাবে তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ইরান সমর্থক হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছে।   বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশে দলভিত্তিক সমর্থনের সংস্কৃতি বহু পুরোনো। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা অন্যান্য জনপ্রিয় দলের সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ প্রায়ই চোখে পড়ে। গ্রামাঞ্চলেও এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।   তবে দীর্ঘদিনের সমর্থন পরিবর্তন করে নতুন দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ এবং তা উদযাপন করতে দুধ দিয়ে গোসল করানোর মতো ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। ফলে রাজবাড়ীর এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপের উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসছে এমন নানা ব্যতিক্রমী গল্প। কৃষক আলাল মোল্লার দলবদলের ঘটনাও সেই তালিকায় একটি নতুন সংযোজন হয়ে থাকল।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ২২:১১
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসী শিকড়েই গড়া যুক্তরাষ্ট্র দল, বিশ্বকাপের মঞ্চে আলোচনায় খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস

২০২৬ বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই আসরে দারুণ সূচনা করেছে মার্কিন পুরুষ ফুটবল দল। উদ্বোধনী ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তারা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অন্য একটি কারণেও আলোচনায় রয়েছে দলটি। সেটি হলো খেলোয়াড়দের বহুজাতিক ও অভিবাসী পটভূমি।   মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে অন্তত ১২ জন খেলোয়াড়ের পারিবারিক শিকড় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত। ছয়জন খেলোয়াড়ের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, আর অর্ধেকেরও বেশি খেলোয়াড় দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। আফ্রিকা, ইউরোপ, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকাসহ অন্তত আটটি দেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এই ফুটবলারদের।   এই বৈচিত্র্যময় পটভূমি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কঠোর অভিবাসন নীতি অনুসরণ করছে এবং নাগরিকত্ব ও সীমান্ত নীতিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ের জীবনকাহিনি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।   দলের অন্যতম আলোচিত তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন এর অন্যতম উদাহরণ। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। বালোগুনের জন্ম ২০০১ সালে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে। তার মা ছিলেন নাইজেরিয়ার নাগরিক এবং লন্ডনে বসবাস করতেন। গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডনে ফেরার চেষ্টা করলেও বিমান সংস্থার বিধিনিষেধের কারণে তিনি যাত্রা করতে পারেননি। ফলে বালোগুনের জন্ম হয় যুক্তরাষ্ট্রে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার কারণে তিনি মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পান। পরবর্তীতে সেই নাগরিকত্বই তাকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ করে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বালোগুনের গল্প বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে সেই উদ্যোগ এখনো কার্যকর হয়নি। শুধু বালোগুনই নন, মার্কিন দলের আরও অনেক খেলোয়াড়ের পারিবারিক ইতিহাস অভিবাসনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।   উইঙ্গার টিম ওয়েহর বাবা জর্জ ওয়েহ আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার এবং দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট। তার মা জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত। টিম ওয়েহ যুক্তরাষ্ট্র, লাইবেরিয়া, ফ্রান্স ও জ্যামাইকা, চার দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেন। হাজি রাইটের বাবা ঘানার এবং মা লাইবেরিয়ার নাগরিক। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলে খেলছেন। অন্যদিকে রিকার্ডো পেপির জন্ম টেক্সাসে হলেও তার বাবা-মা মেক্সিকান। একইভাবে ক্রিস্টিয়ান রোলদানও মেক্সিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।   মার্কিন দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের পারিবারিক শিকড় ক্রোয়েশিয়ায়। তার দাদা ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। সেই সূত্রে পুলিসিচ ক্রোয়েশিয়ার পাসপোর্টও পেয়েছিলেন, যা অল্প বয়সে জার্মানিতে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করতে সহায়তা করে।   ওয়েস্টন ম্যাককেনির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তার শৈশব কেটেছে জার্মানিতে। বিমান বাহিনীতে কর্মরত বাবার দায়িত্ব পালনের কারণে পরিবারের সঙ্গে তিনি ইউরোপে থাকতেন এবং সেখানেই ফুটবল শেখার সুযোগ পান। বর্তমান দলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের সংখ্যাও কম নয়।   সেরজিনো ডেস্টের জন্ম নেদারল্যান্ডসে। তার বাবা সুরিনামি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এবং মা ডাচ। অ্যান্টনি রবিনসনের জন্ম ইংল্যান্ডে। মালিক টিলম্যানের জন্ম জার্মানিতে। জিও রেইনা এবং সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের জন্মও ইংল্যান্ডে, কারণ তাদের বাবারা সে সময় সেখানে পেশাদার ফুটবল খেলতেন।   অন্যদিকে আলেহান্দ্রো জেন্দেখাসের জন্ম মেক্সিকোর সিউদাদ হুয়ারেজে। মাত্র কয়েক মাস বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন তিনি। পরে দুই দেশের নাগরিকত্বই ধরে রাখেন। বিশ্বকাপে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, অনেক জাতীয় দলই এখন অভিবাসী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এমন দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে তাদের জন্ম হয়নি।   মরক্কোর ২৬ সদস্যের দলে ১৯ জন খেলোয়াড় বিদেশে জন্ম নিয়েছেন। তাদের অনেকেই ফ্রান্স বা স্পেনে বড় হয়েছেন। একইভাবে তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, কুরাসাও, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কঙ্গো এবং কাতারের জাতীয় দলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় রয়েছেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বায়ন, অভিবাসন এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ আধুনিক ফুটবলের চিত্র বদলে দিয়েছে। অনেক খেলোয়াড় এখন জন্মভূমি নয়, বরং পারিবারিক শিকড় বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে জাতীয় দল বেছে নিচ্ছেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির প্রভাব এবারের বিশ্বকাপেও দেখা গেছে। সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। ইরাক দলের কয়েকজন সদস্যকেও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে ইরান জাতীয় দলও তাদের বিশ্বকাপ কার্যক্রমের একটি অংশ মেক্সিকোতে পরিচালনা করছে।   এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের গল্প শুধু ফুটবলের গল্প নয়, বরং আধুনিক বিশ্বের অভিবাসন, পরিচয় এবং নাগরিকত্বের পরিবর্তিত বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ২১:২৭
ছবি: সংগৃহীত
অর্থের অভাবে মাকে বিশ্বকাপে আনতে পারেননি, স্পেনকে রুখেও চোখে জল কেপ ভার্দের নায়ক ভোজিনিয়ার

কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে দিনটি হয়তো বহু বছর ধরে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী ও শিরোপাপ্রত্যাশী দল স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি। তবে ম্যাচ শেষে যখন সতীর্থ, সমর্থক এবং পুরো দেশ ঐতিহাসিক সাফল্যের আনন্দে ভাসছিল, তখন মাঠের এক কোণে অশ্রুসিক্ত হয়ে বসে ছিলেন দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।   শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। কিছুক্ষণ পর দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন, সান্ত্বনা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সেই আবেগঘন দৃশ্য।   প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, এটি ছিল আনন্দের কান্না। কিন্তু ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ভোজিনিয়া জানান, তার চোখের জলের পেছনে ছিল আরও গভীর এক গল্প। জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের মুহূর্তে পাশে পাননি তার সবচেয়ে কাছের মানুষদের।   আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছেন। জীবনের কঠিন সময়ে তারাই ছিলেন সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের সময় বারবার তাদের কথা মনে পড়ছিল।   তবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে মায়ের অনুপস্থিতি। ভোজিনিয়া চেয়েছিলেন, গ্যালারিতে বসে মা ছেলের জীবনের অন্যতম বড় মুহূর্তটি দেখুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। ভোজিনিয়া বলেন, “আমি চেয়েছিলাম মা এখানে থাকুন। কিন্তু ভিসা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় খরচ সময়মতো জোগাড় করতে পারিনি। তাই তিনি আসতে পারেননি।”   এই স্বীকারোক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসার বার্তা জানাতে শুরু করেন ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকেই মনে করেন, তার গল্প বিশ্বকাপের সবচেয়ে মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনাগুলোর একটি। কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক ফলের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ভোজিনিয়ার। পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের তারকাবহুল আক্রমণভাগকে প্রায় একাই আটকে দেন তিনি। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন।   পেদ্রি, রদ্রি এবং আয়মেরিক লাপোর্তেদের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের আক্রমণ সামলে ম্যাচজুড়ে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপহার দেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। স্পেনের অন্তত কয়েকটি স্পষ্ট গোলের সুযোগ তিনি রুখে দেন অসাধারণ দক্ষতায়। তার এই নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।   মজার বিষয় হলো, ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচিত গোলরক্ষকদের মতো বড় ক্লাবে খেলেন না ভোজিনিয়া। বর্তমানে তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলেন। সীমিত আলোচনার মধ্যে থাকা এই গোলরক্ষক বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।   স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি তার জন্য আরেকটি কারণে বিশেষ হয়ে থাকবে। ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি কেপ ভার্দের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক বিশ্বকাপ ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। আর সেই অভিষেক ম্যাচেই হয়েছেন ম্যাচসেরা। তবে ভোজিনিয়ার সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না।   কেপ ভার্দের মিন্দেলো দ্বীপে বেড়ে ওঠার সময় শারীরিক গড়ন নিয়ে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। উচ্চতা তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক দলই তাকে গুরুত্ব দিতে চাইত না। ভালো খেললেও সুযোগ পেতে সংগ্রাম করতে হয়েছে দীর্ঘদিন।   পেশাদার ফুটবলে তার যাত্রা শুরু হয় ২৫ বছর বয়সে, যা একজন ফুটবলারের জন্য বেশ দেরিতেই বলা যায়। এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তাকে বারবার মাঠে ফিরিয়ে এনেছে। সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তাকে এনে দিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নায়ক হওয়ার সুযোগ।   বিশ্বকাপে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে যেমন নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে, তেমনি ভোজিনিয়ার ব্যক্তিগত গল্পও ছুঁয়ে গেছে লাখো মানুষের হৃদয়। তার চোখের জল মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবল শুধু গোল, পরিসংখ্যান কিংবা ট্রফির গল্প নয়। এটি সংগ্রাম, পরিবার, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বপ্ন পূরণের গল্পও।   কেপ ভার্দের জন্য এই এক পয়েন্ট হয়তো ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। আর সেই ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগময় মুখগুলোর একটি হয়ে থাকবেন ভোজিনিয়া, যার সাফল্যের মুহূর্তেও মনে পড়েছে মায়ের কথা।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ২১:১৮
দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ছবি: এএফপি
অভিষেকেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দে

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে টুর্নামেন্টে স্মরণীয় সূচনা করেছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটি। ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের মুখে হতাশা আর কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে আনন্দাশ্রু ফুটে ওঠে।   বিশ্বকাপ ইতিহাসের জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক নৈপুণ্য দেখায়। দলটির এই সাফল্যের প্রধান নায়ক গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাচজুড়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন।   ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। তবে প্রথমার্ধে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় ইউরোপের দলটি। আধঘণ্টা পার হওয়ার পরও স্পেনের শট অন টার্গেট ছিল মাত্র একটি।   প্রথমার্ধের শেষদিকে স্পেন চাপ বাড়ায়। ফেরান তোরেস গোলের একটি দারুণ সুযোগ পেলেও তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবালের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ভোজিনিয়া।   বিরতির আগে তোরেস ও আয়মেরিক লাপোর্তের আরও দুটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। তার দৃঢ়তায় গোলশূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।   দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্পেন। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে।   এই ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ইয়ামালের। ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার মাঠে নামেন তিনি। অন্যদিকে ৪০ বছর ২২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক হয় ভোজিনিয়ার। দুজনের বয়সের পার্থক্য ২১ বছর ৪৫ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।   তবে ইয়ামালকে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি স্পেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে না পারায় গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।   ফলে বিশ্বকাপ অভিষেকে শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ফল অর্জন করে কেপ ভার্দে। আর সেই ঐতিহাসিক অর্জনের কেন্দ্রে ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কেপ ভার্দেকে এনে দেয় মূল্যবান এক পয়েন্ট।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:৫১
আটলান্টিক সিটি ফুটবল উৎসব–২০২৬ । ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টিক সিটিতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে জমজমাট ফুটবল উৎসব

নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য “আটলান্টিক সিটি ফুটবল উৎসব–২০২৬”। গত ১২ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শোবোট রিসোর্টের গ্রীন টার্ফে আয়োজিত এ উৎসবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ অংশ নেন।   ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে সিটি অব আটলান্টিক সিটি, ভিজিট আটলান্টিক সিটি, নর্থ টু শোর এবং আটলান্টিক সিটি স্পোর্টস কমিশনের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।   উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশাল আউটডোর স্ক্রিনে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার। আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে দর্শকরা খেলার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন এবং ম্যাচজুড়ে উৎসবস্থলে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ।   শিশুদের জন্য বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজনের মধ্যে ছিল পি-উই সকার, ফেস পেইন্টিং, আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস এবং ফুটবলভিত্তিক বিভিন্ন ইনফ্ল্যাটেবল গেম। এছাড়া সংগীত পরিবেশনা, উপহার বিতরণ এবং নানা চমকপ্রদ কার্যক্রম দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।   অনুষ্ঠানে আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও পরিবার নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।   ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জয় পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে দর্শকদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। খেলা শেষে সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।   আয়োজকরা জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন আয়োজন স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার করবে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:৪২
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
প্রতিদিন কুইজে অংশ নিয়ে জিতুন নগদ অর্থ ও মোবাইল রিচার্জ

ফুটবল জানেন? তাহলে প্রমাণ করুন। উত্তর দিন, ম্যাচ প্রেডিকশন করুন, আর জিতে নিন আকর্ষণীয় পুরস্কার!   ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা, প্রিয় দলের জয়-পরাজয়ের গল্প আর বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মতো বাংলাদেশি দর্শকরাও এখন মেতে উঠেছেন বিশ্বকাপের রঙে। সেই বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে আরও আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে বিশেষ আয়োজন নিয়ে এসেছে আমেরিকা বাংলা।   ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমেরিকা বাংলা আয়োজন করছে "World Cup Quiz Game & Match Prediction"। এই আয়োজনে প্রতিদিন ফুটবলভিত্তিক কুইজ প্রশ্নের উত্তর এবং ম্যাচ প্রেডিকশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জিতে নিতে পারবেন নগদ অর্থ ও মোবাইল রিচার্জ।   বিশ্বকাপ চলাকালে প্রতিদিন আমেরিকা বাংলার ফেসবুক পেজে ১ থেকে ৫টি প্রশ্ন প্রকাশ করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা পোস্টের কমেন্টে উত্তর জমা দিতে পারবেন। নির্ধারিত সময় শেষে সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।   প্রতিটি কুইজ ও প্রেডিকশন পর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। একজন বিজয়ী সর্বোচ্চ ২০০ টাকা মোবাইল রিচার্জ অথবা ৫০০ টাকা নগদ অর্থ জয়ের সুযোগ পাবেন। বিজয়ীদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরস্কার পৌঁছে দেওয়া হবে।   বিশ্বকাপজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং পাঠকদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আমেরিকা বাংলা। অংশগ্রহণের নিয়মাবলি এই পোস্টে লাইক দিতে হবে পোস্টটি শেয়ার করতে হবে কমেন্টে সঠিক উত্তর বা প্রেডিকশন লিখতে হবে অবশ্যই America Bangla ফেসবুক পেজ ফলো করা থাকতে হবে একজন অংশগ্রহণকারী একটি প্রশ্ন বা প্রেডিকশনের জন্য একবারই উত্তর দিতে পারবেন সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে বিজয়ীদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে পুরস্কার ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রদান করা হবে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ভুল বা একাধিক উত্তর প্রদান করলে অংশগ্রহণ বাতিল হতে পারে। ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য হবে না। পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে আয়োজকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে আয়োজক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মাবলিতে পরিবর্তন আনার অধিকার সংরক্ষণ করে। বিশ্বকাপের প্রতিটি দিনকে আরও রোমাঞ্চকর করতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে থাকুন। প্রশ্নের উত্তর দিন, ম্যাচ প্রেডিকশন করুন এবং জিতে নিন আকর্ষণীয় পুরস্কার! 

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১৩:২৫
আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যানেজার লিওনেল স্কালোনি | ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে আজ আলজেরিয়া ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে আসছেন স্কালোনি

বিশ্বমঞ্চে নিজেদের খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে আজ সোমবার বিকেলে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হচ্ছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। আগামীকাল মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের রণকৌশল এবং দলের সার্বিক পরিস্থিতি জানাতেই আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই মাস্টারমাইন্ড।   আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্কালোনির সাথে আর্জেন্টিনার একজন খেলোয়াড়ও উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেই খেলোয়াড়ের নাম এখনো কৌশলগত কারণে গোপন রেখেছে আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্ট। ফুটবল মহলে জোর গুঞ্জন চলছে যে, আজ কোচের পাশে আসন গ্রহণ করতে পারেন স্বয়ং আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি।   উল্লেখ্য, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগের দিনও স্কালোনির সাথে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। যদিও সেই উদ্বোধনী ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতেছিল তারাই। চার বছর পর বিশ্বমঞ্চের প্রথম ম্যাচের আগে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে স্কালোনি কোনো লাকি টোটকা বা কুসংস্কারের পথ অবলম্বন করতে চান কি না, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   এদিকে আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে একমাত্র নিশ্চিত দুঃসংবাদ হলো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ইনজুরি। বাঁ পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি নিশ্চিতভাবেই মাঠের বাইরে থাকছেন। তবে দলের কোচিং স্টাফ আশা করছে, গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাকে দলে পাওয়া যেতে পারে। যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তার শারীরিক রিকভারির ওপর।   তাগলিয়াফিকোর এই আকস্মিক অনুপস্থিতিতে লেফট-ব্যাক পজিশনে স্কালোনি কাকে খেলাবেন, তা নিয়ে আর্জেন্টিনা দলে বেশ কিছুদিন ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহের চোটের ধাক্কা সামলে আর্জেন্টিনা দল এখন মানসিকভাবে দারুণ চাঙ্গা অবস্থানে রয়েছে। পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াকের পরিচালনায় আগামীকাল আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে স্কালোনির দল। তার আগে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিজেই দল নিয়ে সব ধরনের ধোঁয়াশা দূর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১০:৫৭
তোপের মুখে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফারিন। ছবি: সংগৃহীত
উয়েফা সভাপতির মন্তব্যে ক্ষোভ, পাল্টা বিবৃতি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১৩ দেশের

বিশ্বকাপে কিছু ম্যাচ একপেশে হতে পারে—উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফারিনের এমন মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১৩টি দেশ। তারা যৌথ বিবৃতিতে সেফারিনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বকাপের সব ম্যাচের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।   সম্প্রতি বিদেশি একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেফারিন বলেন, বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ একপেশে হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়।   এর জবাবে গতকাল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১৩টি দেশ এক যৌথ বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচই গুরুত্বহীন নয়। এই ম্যাচগুলোকে কোনোভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করা অত্যন্ত হতাশাজনক।”   বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কোচ, ক্লাব, ফুটবল প্রশাসক এবং সমর্থকেরা এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত। তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলা হয়।   প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে, কুরাসাও ও উজবেকিস্তানসহ ১৩টি দেশ এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে। তারা জানায়, প্রত্যেক দল নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে এবং প্রতিটি সমর্থকের স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে।   যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে সব ম্যাচের গুরুত্ব রয়েছে। তাই আমরা উয়েফা সভাপতির মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি।” বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিআর কঙ্গো, হাইতি, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কো, মিসর, ঘানা, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।   সবশেষ কাতার বিশ্বকাপে ৩২ দল অংশ নিলেও এবার প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করা এই আসরে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৬টি স্টেডিয়ামে। ১১ জুন শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপ শেষ হবে ১৯ জুলাই। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ৭:১৭
ছবি: সংগৃহীত
শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে, ইতিহাস গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার নেস্টরি ইরানকুন্ডা

তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবির থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা। সেই পথ পেরিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ইতিহাস গড়লেন ২০ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা। ভ্যাঙ্কুভারে তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে দলের প্রথম গোলটি করে তিনি সকারুদের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন।   একই সঙ্গে বিদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠিন সংগ্রাম এবং ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ঝুঁকি নেওয়ার গল্প।   ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনাইটেড ছেড়ে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন ইরানকুন্ডা। হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বমানের ফুটবলারের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেলেও মূল দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়তে হয় তাকে।   বিশ্বকাপ দলে জায়গা নিশ্চিত করতে গত গ্রীষ্মে বড় সিদ্ধান্ত নেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। নিয়মিত খেলার আশায় বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন তিনি। সিদ্ধান্তটি নিয়ে পরে ইরানকুন্ডা বলেন, “এটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তবে আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপ খুব কাছাকাছি চলে আসছিল এবং আমার নিয়মিত মাঠে থাকা প্রয়োজন ছিল।”   ওয়াটফোর্ডের জার্সিতে ৪২ ম্যাচে চার গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্ট করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে জায়গা ফিরে পান।   তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে নিজের গতি ও শারীরিক শক্তির দারুণ প্রদর্শনীতে গোল করেন ইরানকুন্ডা। গোলের পর অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি টিম কাহিলের বিখ্যাত ‘কর্নার ফ্ল্যাগ পাঞ্চ’ উদযাপন করে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এটা অবিশ্বাস্য। আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।”   ইরানকুন্ডা জানান, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা টিম কাহিল এবং আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি তার ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।   তার সতীর্থ মোহাম্মদ তুরে ইরানকুন্ডাকে ‘হুডিনি’ বলে অভিহিত করেন এবং তার খেলায় ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহ্যামের ছাপ দেখেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচ অ্যাঞ্জ পোস্টেকোগলুও এই তরুণের প্রশংসা করে বলেন, “একটি ভালো বিশ্বকাপ একজন খেলোয়াড়ের পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে।”   বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাব ছেড়ে নিয়মিত খেলার জন্য যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা, বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ে সেই সিদ্ধান্তকেই সঠিক প্রমাণ করলেন তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ৩:২৩
ছবি: সংগৃহীত
কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলছেন লামিন ইয়ামাল, নিশ্চিত করলেন স্পেন কোচ

স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবেন বার্সেলোনার এই উদীয়মান ফুটবলার।   ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে জানান, ইয়ামাল পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি পুরো ৯০ মিনিট খেলবেন কি না, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন স্পেন কোচ। তার ভাষায়, ইয়ামাল ম্যাচের একটি নির্দিষ্ট সময় মাঠে থাকবেন এবং দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাকে ব্যবহার করা হবে।   শুধু ইয়ামালই নন, স্পেন শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছে নিকো উইলিয়ামসের সুস্থতাও। তিনিও ম্যাচের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দে লা ফুয়েন্তে। ফলে টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার আগে বড় দুই তারকাকে পাওয়া স্পেনের জন্য ইতিবাচক খবর।   সংবাদ সম্মেলনে নিজের দল নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখা গেছে স্পেন কোচকে। বিশেষ করে মিডফিল্ড বিভাগ নিয়ে তার মন্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দে লা ফুয়েন্তে দাবি করেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড স্পেনেরই।   তিনি বলেন, তাদের দলে ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার রয়েছে, পাশাপাশি মার্টিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইজ, পেদ্রি ও আলেক্স বায়েনার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছেন। এত বেশি মানসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকায় একাদশ নির্বাচনই কখনও কখনও সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। একজনকে খেলাতে গেলে আরেকজন ভালো খেলোয়াড়কে বেঞ্চে রাখতে হয়, যা কোচ হিসেবে তার জন্য সুখকর সমস্যার মতো।   তবে আত্মবিশ্বাস থাকলেও আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ দেখছেন না স্পেন কোচ। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, স্পেন ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চায়। দলের আত্মবিশ্বাস আছে, কিন্তু প্রতিটি প্রতিপক্ষই কঠিন। তাই শুরু থেকেই সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। নিজেদের অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ভাবার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেকে নিয়েও বেশ সতর্ক স্পেন কোচ। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও আফ্রিকার এই দলটিকে মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন না তিনি। দে লা ফুয়েন্তের মতে, বর্তমান বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ফল দেখা গেছে। তাই র‌্যাঙ্কিং কিংবা কাগজে-কলমের হিসাব দিয়ে কোনো ম্যাচ বিচার করার সুযোগ নেই। তিনি কেপ ভার্দেকে একটি সুসংগঠিত ও দ্রুতগতির দল হিসেবে বর্ণনা করেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে তারা ইতোমধ্যেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ক্যামেরুনকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছে।   স্পেন কোচের বিশ্বাস, এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম চমকপ্রদ দল হতে পারে কেপ ভার্দে। সে কারণেই উদ্বোধনী ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামছে স্পেন। ইউরোপীয় ফুটবলের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিভাবান তরুণদের সমন্বয়ে গড়া দলটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। আর সেই অভিযানের শুরুতেই লামিন ইয়ামালের মাঠে নামার বিষয়টি স্প্যানিশ সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ২৩:২
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে খেলা শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে ভাইরাল জাপানের সমর্থকেরা

বিশ্বকাপের মাঠে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। তবে খেলা শেষ হওয়ার পর ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে জাপানি সমর্থকদের একটি পরিচিত ও প্রশংসিত অভ্যাস। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে পড়ে থাকা আবর্জনা নিজেরাই পরিষ্কার করতে দেখা গেছে তাদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্য আবারও বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরলিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচ শেষে জাপানের সমর্থকদের হাতে দেখা যায় বড় বড় ময়লার ব্যাগ। তারা গ্যালারির বিভিন্ন অংশে ঘুরে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের মোড়ক এবং অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করেন। অনেকেই নিজেদের আসনের আশপাশের পাশাপাশি অন্য দর্শকদের ফেলে যাওয়া আবর্জনাও তুলে নেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ কাভারেজে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এনএফএল তারকা এবং বর্তমানে সম্প্রচারক জেমিস উইনস্টনকেও কয়েকজন জাপানি সমর্থকের সঙ্গে আবর্জনা সংগ্রহে অংশ নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো দ্রুতই ব্যাপক সাড়া ফেলে।   জাপানের জাতীয় ফুটবল দল ‘সামুরাই ব্লু’-এর সমর্থকদের এই অভ্যাস নতুন নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছিলেন তারা। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরেও একই আচরণ দেখা গেছে। এবারের বিশ্বকাপেও সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেছেন জাপানি দর্শকেরা।   জাপানের সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও ইতিহাসের অধ্যাপক কোইচি নাকানো বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে জাপানি সমর্থকদের এই আচরণ তাদের সামাজিক ও শিক্ষাগত সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। ছোটবেলা থেকেই তারা শিখে যে কোনো স্থান ব্যবহার করার পর সেটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অবস্থায় রেখে যেতে হবে।   ফক্স স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে জাপানি একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদও উল্লেখ করা হয়েছে। “তাতসু তোরি আতো ও নিগোসাজু” নামে পরিচিত এই কথাটির অর্থ হলো, “যেভাবে পেয়েছিলে, সেভাবেই রেখে যাও।” জাপানে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের নিজেদের শ্রেণিকক্ষ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার করার দায়িত্ব পালন করতে শেখানো হয়। অনেকেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে জাপানি সমর্থকদের আচরণের পেছনে এই সামাজিক শিক্ষার বড় ভূমিকা রয়েছে।   অন্যদিকে মাঠের খেলাটিও ছিল দারুণ উপভোগ্য। প্রথমার্ধে কোনো দল গোল করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে ম্যাচ। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ভার্জিল ফন ডাইক ও ক্রিসেনসিও সামারভিল দুটি গোল করেন। তবে প্রতিবারই জবাব দেয় জাপান। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে দাইচি কামাদার হেড থেকে পাওয়া গোলে ২-২ সমতা ফেরায় ‘সামুরাই ব্লু’।   শেষ পর্যন্ত উভয় দলই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তবে ম্যাচের পর গ্যালারি পরিষ্কার করার দৃশ্য অনেকের কাছেই খেলাটির সবচেয়ে ইতিবাচক মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।   বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে সাধারণত সমর্থকদের আবেগ, উল্লাস এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি আলোচিত হয়। কিন্তু জাপানি সমর্থকদের এই উদ্যোগ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, ক্রীড়াসুলভ আচরণ শুধু মাঠের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, মাঠের বাইরেও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ব্যবহারকারী তাদের এই উদ্যোগকে অন্য দেশের সমর্থকদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ২২:১২
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নিষিদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ

ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালে প্রায় ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। মূলত সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়া, আদালতের নির্দেশ অমান্য করা এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।   বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করছে। ‘জে’ গ্রুপে লিওনেল স্কালোনির দল প্রথম ম্যাচ খেলবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। মাঠের লড়াইয়ে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি মাঠের বাইরে সমর্থকদের আচরণ ও নিরাপত্তা নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে বুয়েনস আইরেস।   স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েক হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠিয়েছে। তালিকাভুক্তদের বড় একটি অংশের বিরুদ্ধে সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সহিংসতা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   আর্জেন্টিনা সরকারের অবস্থান হলো, যারা নিজেদের সন্তানদের মৌলিক আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন না, তারা দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দলের খেলা দেখতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার নৈতিক অধিকার হারান। বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি এ বিষয়ে বলেন, “যদি কেউ নিজের সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে না পারে, তাহলে তার কোনো স্টেডিয়ামে প্রবেশের অধিকার থাকা উচিত নয়।”   এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করছে আর্জেন্টিনা। কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য হলো আদালতে প্রমাণিত অপরাধী, ভরণপোষণ বকেয়া রাখা ব্যক্তি এবং ক্রীড়া ভেন্যুতে সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে স্টেডিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের পর থেকে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন ফুটবল ম্যাচে দর্শকদের পরিচয় যাচাইয়ের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩২৮টি ম্যাচে ৪০ লাখের বেশি দর্শকের তথ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এই সময়ে ১ হাজার ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শনাক্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যক্তির একটি বিস্তৃত তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে সহিংসতা বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো জায়গা নেই।”   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রীড়া ভেন্যুগুলোকে আরও নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করতে বিভিন্ন দেশ নতুন নতুন নীতি গ্রহণ করছে। আর্জেন্টিনার এই পদক্ষেপও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। বিশেষ করে ফুটবলকে ঘিরে সহিংসতা, দর্শক বিশৃঙ্খলা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে দেশটির সরকার ক্রমেই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে।   বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে এবারের বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ২১:১০
ছবি: কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয়ে উচ্ছ্বাসে জার্মান ফুটবলাররা
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ব্রাজিলের পর কুরাসাওকেও ‘সেভেন আপ’ খাওয়াল জার্মানি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অভিষেক হওয়া কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোল উৎসবে মেতেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপের পরাশক্তিরা। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে সপ্তম গোল করে জার্মানির বড় জয় নিশ্চিত করেন কাই হাভার্টজ। এর মাধ্যমে ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে জার্মানি।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। কুরাসাওয়ের জালে বল পাঠাতে তাদের সময় লাগে মাত্র ৬ মিনিট। জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।   তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষুদ্র জনসংখ্যার দেশ হিসেবে অভিষেক হওয়া কুরাসাও দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে। ২১তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে লিভানো কোমেনেনসিয়ার বাঁ পায়ের শট জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ঠেকাতে ব্যর্থ হন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোল পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসে কুরাসাও।   গোল করার পর রেসলার জন সিনার বিখ্যাত উদ্‌যাপনও করেন কোমেনেনসিয়া। গ্যালারিতে উপস্থিত কুরাসাও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার দেশের জন্য এটি ছিল ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত।   তবে সমতা বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি জার্মানি। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে কর্নার থেকে সহজ হেডে গোল করেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। এতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানরা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় জার্মানি। কুরাসাওয়ের বক্সে ফাউলের শিকার হন ফেলিক্স এনমেচা। স্পটকিক থেকে গোল করেন কাই হাভার্টজ। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি।   দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান আরও বাড়ান জামাল মুসিয়ালা। ইয়োশুয়া কিমিখের পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।   এরপর গোলের ধারা অব্যাহত রাখে জার্মানি। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে পঞ্চম গোল করেন লেফটব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। ৭৮তম মিনিটে ষষ্ঠ গোলটি করেন ডেনিজ উনদাভ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জার্মানির প্রথম ছয়টি গোলই আসে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোল করেন কাই হাভার্টজ। তার গোলেই ৭-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় জার্মানির।   ম্যাচটি আরেকটি বিশেষ কারণে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক প্রধান কোচ কুরাসাওয়ের ডিক অ্যাডভোকাট, যার বয়স ৭৮ বছর। অন্যদিকে জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের বয়স ৩৮ বছর। দুই কোচের বয়সের পার্থক্য ৪০ বছর, যা ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রধান কোচের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধান।   ম্যাচের আগে ডিক অ্যাডভোকাট বলেছিলেন, তার দল জার্মানিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। তিনি বলেন, “কোচেরা সব সময়ই প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার পরিকল্পনা করেন। এই ম্যাচে জার্মানি যে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে, তা বলাই বাহুল্য। তারা বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার। তবে ফুটবলে মাঝেমধ্যেই ছোট দলগুলো বড় দলকে হারিয়ে দেয়। জার্মানির পাশে আমরা খুবই ছোট একটি দল, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তাদের জন্য আমরা কঠিন প্রতিপক্ষ হওয়ার চেষ্টা করব।”   বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে জাতীয় সংগীতের সময় আবেগ স্পষ্ট ছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে তাদের অভিষেক ইতোমধ্যে স্মরণীয় হয়ে আছে।   অন্যদিকে জার্মানি এই বড় জয়ের মাধ্যমে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৭-১ জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে এবার কুরাসাওকেও সাত গোলের স্বাদ দিল ইউরোপের এই ফুটবল পরাশক্তি।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ১৫:৩১
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মেসি, ইতিহাস গড়ার সামনে আর্জেন্টাইন মহাতারকা

গত ১১ জুন পর্দা উঠেছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞ শুরু হলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখনও মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী বুধবার সকালে ‘জে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটিতে মাঠে নামার সঙ্গেই সঙ্গেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড সর্বোচ্চ ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার অনন্য কীর্তি গড়বেন লিওনেল মেসি। মাঠে নামার আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছয়টি আসরের ছবি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে মেসি ক্যাপশনে লিখেছেন—‘২০০৬⚽২০২৬’।    ২০ বছর আগের জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রার শেষটা যেন একই ফ্রেমে বেঁধেছেন তিনি। মেসির পাশাপাশি চলতি আসরে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর গুইলার্মো ওচোয়ার সামনেও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রয়েছে।   ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ছোঁয়ার পাশাপাশি এবার মেসির সামনে রয়েছে বেশ কিছু মহাকাব্যিক মাইলফলক ভাঙার সুযোগ। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া। বর্তমানে ১৬ গোল নিয়ে এই রেকর্ডের শীর্ষে আছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। এরপর আছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (১৫ গোল) এবং জার্মানির গার্ড মুলার (১৪ গোল)। লিওনেল মেসি বর্তমানে ১৩টি গোল নিয়ে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে আছেন। তবে এই রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে মেসির একমাত্র প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, যিনি মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপে নেমেই মেসির সমান ১৩টি গোল নিয়ে অপেক্ষায় আছেন।   গোলের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর রেকর্ডও নিজের করে নিতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনি ৮টি গোলে সরাসরি সহায়তা করেছেন। ১০টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। পেলেকে ছুঁতে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র ২টি এবং এককভাবে শীর্ষে উঠতে প্রয়োজন ৩টি অ্যাসিস্ট। শুধু তাই নয়, আর্জেন্টিনা যদি এবারও ফাইনালে উঠতে পারে, তবে পেলে, কাফু, রোনালদো নাজারিও এবং জার্মানির লোথার ম্যাথাউস ও পিয়েরে লিটবারস্কির পর ইতিহাসের ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড স্পর্শ করবেন মেসি।   ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৬টি ম্যাচ খেলার এবং রেকর্ড ২৩০০ মিনিট মাঠে থাকার কীর্তি মেসির দখলে রয়েছে। ২০২৬ সালের এই নতুন ফরম্যাটে একটি দলের সর্বোচ্চ ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায়, মেসি যদি তার ম্যাচ এবং মিনিটের এই সংখ্যাকে আরও অনেক উঁচুতে নিয়ে যান, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অলক্ষ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ১৫:৫
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ভাগ্য বদলাতে স্ত্রীর পায়জামা নিয়ে এলেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, মাঠের বাইরের নানা গল্পও। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সৌভাগ্যের প্রতীক কিংবা অদ্ভুত অভ্যাস প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে। এবারের বিশ্বকাপেও তেমনই এক ব্যতিক্রমী কারণে সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছেন স্পেনের ডিফেন্ডার Marc Cucurella।    স্প্যানিশ এই লেফট-ব্যাক জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে এসে তিনি নিজের লাগেজে স্ত্রীর একটি পায়জামা সঙ্গে করে এনেছেন। তার বিশ্বাস, এই পায়জামাটি তার জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করে।   বর্তমানে Spain national football team-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কুকুরেয়া ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও একই পায়জামা সঙ্গে নিয়েছিলেন। সেই টুর্নামেন্টে স্পেন শিরোপা জিতেছিল। এরপর থেকেই বিষয়টি তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেতে শুরু করে। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুকুরেয়া বলেন, তিনি বিশ্বকাপে কয়েকটি ব্যক্তিগত জিনিস সঙ্গে এনেছেন, যেগুলো তাকে মানসিকভাবে অনুপ্রাণিত করে।   তার ভাষায়, “আমি কিছু বিশেষ জিনিস সঙ্গে এনেছি। আমার সন্তানরা আমাকে যে কয়েকটি চাবির রিং বানিয়ে দিয়েছে, সেগুলো রয়েছে। এছাড়া আমার স্ত্রীর একটি পায়জামাও এনেছি, যা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সময় আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল। এবারও সেটি স্যুটকেসে রেখেছি, যদি আবারও সৌভাগ্য বয়ে আনে।”   ফুটবল ইতিহাসে এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। বিশ্বের অনেক তারকা খেলোয়াড়ই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে নিজেদের সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে নির্দিষ্ট পোশাক, তাবিজ, পারিবারিক উপহার কিংবা ব্যক্তিগত স্মারক সঙ্গে রাখেন। অনেকের কাছে এগুলো কুসংস্কার মনে হলেও খেলোয়াড়দের মতে, এসব বিষয় মানসিক স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।   বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে মানসিক প্রস্তুতি শারীরিক প্রস্তুতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনেক ফুটবলারই নিজের পরিচিত পরিবেশ বা প্রিয় স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত কিছু জিনিস কাছে রাখার চেষ্টা করেন। কুকুরেয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনই। তিনি এটিকে কোনো রহস্যময় সৌভাগ্যের উপাদান হিসেবে নয়, বরং পরিবারের সঙ্গে আবেগগত সংযোগ এবং আত্মবিশ্বাসের উৎস হিসেবে দেখছেন।   ২০২৪ ইউরোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার বিশ্বকাপেও স্পেনের অন্যতম ভরসার নাম কুকুরেয়া। এখন দেখার বিষয়, তার ‘সৌভাগ্যের সঙ্গী’ পায়জামা সত্যিই স্পেনকে আরেকটি বড় শিরোপার পথে এগিয়ে নিতে পারে কি না।   বিশ্বকাপের মঞ্চে ট্রফি জয়ের লড়াই যেমন চলবে, তেমনি মাঠের বাইরের এমন মানবিক ও ব্যতিক্রমী গল্পও সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ২২:২৬
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0