সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

খেলাধুলা

গাজার শিশুদের চিকিৎসায় তহবিল সংগ্রহ করলেন হামজা
গাজার শিশুদের চিকিৎসায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা তুললেন বাংলাদেশের ফুটবলার হামজা চৌধুরী

গাজার অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য এক লাখ পাউন্ডের বেশি অনুদান সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার সমান। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার যেসব শিশুর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।   ইংল্যান্ডের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা হামজা ২৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি জানান। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছে ক্রীড়াবিদদের সংগঠন নুজুম স্পোর্টস। সংগ্রহ করা অর্থ গাজার শিশুদের সহায়তায় কাজ করা মানবিক সংস্থা চিলড্রেন নট নাম্বার্সের মাধ্যমে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। হামজা তাঁর পোস্টে এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া, অনুদান দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষভাবে ধন্যবাদ দেন নুজুম স্পোর্টসের সদস্যদের। তাঁর পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে গত রোববার এই তহবিল সংগ্রহের আয়োজন করা হয়। সেখানে হামজার সঙ্গে আলোচনা পর্বের পাশাপাশি দাতব্য নিলামেরও আয়োজন করা হয়েছিল। ক্রীড়াবিদদের ব্যবহৃত জার্সি, পদক ও বিভিন্ন স্মারক নিলামে তোলা হয়। হামজার নিজের এফএ কাপ জয়ের সময়ের লেস্টার সিটির জার্সি বিক্রি হয় ৭ হাজার পাউন্ডে। তাঁর কমিউনিটি শিল্ড জয়ের পদক বিক্রি হয় ৩ হাজার পাউন্ডে। অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি ও নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ গাজার শিশুদের সহায়তায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। হামজার এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য গাজার এমন শিশুদের চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা, যাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে গাজার চিকিৎসাব্যবস্থা মারাত্মক চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গুরুতর অসুস্থ বা আহত শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে গাজার বাইরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়াই বেঁচে থাকার অন্যতম সম্ভাবনা বলে মনে করেন হামজা। এই তহবিলের অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য শিশুদের অন্য স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে সহায়তা করা হবে। তবে কতজন শিশুকে এই অর্থ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি। হামজা তাঁর বার্তায় গাজার মানুষের দুর্ভোগের তুলনায় এই সহায়তাকে ছোট উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে দাঁড়াতে এখনো অনেক কিছু করা প্রয়োজন। একটি উদ্যোগ যত ছোটই হোক, তা মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলা হামজা ফুটবল মাঠের বাইরেও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন। তাঁর এই তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সহায়তাকারীরা অংশ নেন। খেলোয়াড় হিসেবে নিজের পরিচিতিকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর একটি উদাহরণ হিসেবেও উদ্যোগটি সামনে এসেছে। পোস্টের শেষাংশে হামজা ফিলিস্তিনের মানুষের দুর্ভোগের অবসান কামনা করেন। সংকটে থাকা মানুষের শক্তি ও ধৈর্য কামনা করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য স্থায়ী শান্তির প্রার্থনাও করেন তিনি। গাজার শিশুদের জন্য এই উদ্যোগের মাধ্যমে চিকিৎসাসহায়তার একটি তহবিল তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকট মোকাবিলায় আরও সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন হামজা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ছোট উদ্যোগও সংকটে থাকা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৫:৩৪
প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে মৌখিকভাবে অসম্মান করার অভিযোগে ব্রাজিলের ক্রীড়া ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়েছে তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়রের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
নেইমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা

ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়রের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে মৌখিকভাবে অসম্মান করার অভিযোগ উঠেছে। সান্তোসের হয়ে বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ক্রীড়া ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। বুধবার (২৮ অক্টোবর) শুনানিতে তাঁর শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে নেইমার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং এখনো তাঁর বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি।   গত সপ্তাহে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বাহিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সান্তোস। ওই ম্যাচে বাহিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন নেইমার। একপর্যায়ে মুখে হাত দিয়ে কিছু বলতে দেখা যায় তাঁকে। ঘটনার পর লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে অসম্মানজনক মন্তব্য করার অভিযোগ তোলে বাহিয়া।   মার্কিন ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটির পর নেইমারের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হতে পারে তাঁর। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। শুনানিতে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বক্তব্য পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।   ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নেইমারের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রদ্রিগো নেস্তর। তাঁর অভিযোগ, নেইমারের মন্তব্য শুধু তাঁকেই নয়, বাহিয়া ক্লাবকেও অসম্মান করেছে। নেস্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাক্যবিনিময়ের সময় ব্রাজিলিয়ান তারকার ব্যবহার গ্রহণযোগ্য ছিল না। এই অভিযোগের পর ঘটনাটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।   অন্যদিকে অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন নেইমার। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডারকে উদ্দেশ করে কোনো অসম্মানজনক মন্তব্য করেননি তিনি। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টিকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন সান্তোস তারকা। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, মাঠের বিবাদের সূত্রপাত করেছিলেন নেস্তর।   নেইমারের পাল্টা অভিযোগ, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ফুটবলের অত্যন্ত নোংরা একটি কৌশল ব্যবহার করেছিলেন। তবে সেই অভিযোগের বিস্তারিত কিংবা এর পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে দুই খেলোয়াড়ের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি ক্রীড়া ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে।   আগামী বুধবার ব্রাজিলের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে নেইমারের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পর্যালোচনা করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শাস্তির মেয়াদ কত হবে কিংবা আদৌ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না, তা শুনানির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।   এই পরিস্থিতি সান্তোসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দলটির সামনে আর মাত্র ছয়টি ম্যাচ বাকি রয়েছে। ফলে নেইমার সর্বোচ্চ ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ হলে মৌসুমের বাকি সব ম্যাচেই তাঁকে ছাড়া খেলতে হতে পারে সান্তোসকে। তবে এখনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হওয়ায় তাঁকে পুরো মৌসুমের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় অষ্টম অবস্থানে রয়েছে সান্তোস। অবনমন অঞ্চলে থাকা দলগুলোর চেয়ে ১২ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে তারা। গত মৌসুমে অবনমন এড়াতে কঠিন লড়াই করতে হলেও এবার তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে দলটি। মৌসুমের শেষ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে সান্তোস।   এমন সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নেইমারকে হারানোর আশঙ্কা নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। মৌসুমের শেষ ছয় ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি সান্তোসের পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণভাগে তাঁর ভূমিকা বিবেচনায় সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ক্লাবের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তবে নেইমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের অভিযোগ এবং নেইমারের পাল্টা বক্তব্য পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে ট্রাইব্যুনালের। বুধবারের শুনানিতে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপর নির্ভর করবে ব্রাজিলিয়ান তারকার পরবর্তী ম্যাচগুলোতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি।   সূত্র: ইএসপিএন

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৯:৫৬
মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে খেলতে পারেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার
বিগ ব্যাশে মোস্তাফিজকে দলে নিতে যাচ্ছে মেলবোর্ন রেনেগেডস, বিসিবির ছাড়পত্রের অপেক্ষা

অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগের আগামী আসরে খেলতে পারেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) চেয়েছেন তিনি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মেলবোর্ন রেনেগেডসের জার্সিতে দেখা যেতে পারে এই পেসারকে। এর আগে বিগ ব্যাশে বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের খেলার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে। এবার মোস্তাফিজের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের খবরও সামনে এল। বিসিবিও তাঁকে খেলার অনুমতি দিতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। ডমেস্টিক থ্রি টুর্নামেন্টের নিলাম চলাকালে মোস্তাফিজের এনওসি চাওয়ার বিষয়টি জানান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তবে বিগ ব্যাশে তাঁর অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বাকি। বিগ ব্যাশে খেলার কারণে আগামী ১৫ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া ডমেস্টিক থ্রি ট্রফির টি-টুয়েন্টি সংস্করণে অংশ নেবেন না মোস্তাফিজ ও রিশাদ। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ডমেস্টিক থ্রি টুর্নামেন্টের নিলামে মোস্তাফিজকে নিয়ে খুব বেশি প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি। ৭০ লাখ পয়েন্টে তাঁকে দলে নিয়েছে সেভেন রিংস সিমেন্ট। তবে প্রতিষ্ঠানটি এই পেসারকে শুধু টুর্নামেন্টের ওয়ানডে সংস্করণেই পাবে। বিগ ব্যাশে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এই টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। গত মৌসুমে হোবার্ট হারিকেনসের হয়ে খেলেছিলেন রিশাদ হোসেন। তাঁর পারফরম্যান্স নজর কেড়েছিল, আর আগামী আসরেও একই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলার কথা রয়েছে এই লেগ স্পিনারের। অন্যদিকে, টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর মোস্তাফিজুর রহমান ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলছেন না। এবার বিগ ব্যাশে অংশ নিতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর সামনে নতুন একটি সুযোগ তৈরি হবে। বিগ ব্যাশের পরবর্তী আসর আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একই সময়ে ডমেস্টিক থ্রি ট্রফির টি-টুয়েন্টি সংস্করণও আয়োজন করা হবে। ফলে বিগ ব্যাশে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে মোস্তাফিজ ও রিশাদকে ঘরোয়া টুর্নামেন্টের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে দেখা যাবে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ৭:১৬
অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের বিশাল ক্রীড়া মাঠ
বেসবল থেকে রাগবি, এক জায়গায় ৪০টিরও বেশি মাঠ নিয়ে যাত্রা শুরু অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় চালু হয়েছে বিশাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ার। প্রায় ১৯০ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই ক্রীড়াকেন্দ্রে রয়েছে ৪০টিরও বেশি মাঠ। বেসবল, সফটবল, ফুটবল, সকার ও রাগবিসহ বিভিন্ন খেলার আয়োজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে পুরো স্থাপনাটি। রকি পর্বতমালার পশ্চিমে এ ধরনের সবচেয়ে বড় যুব ক্রীড়াকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে প্রকল্পটি।   ক্যালিফোর্নিয়ার ইনল্যান্ড এম্পায়ার অঞ্চলের অন্টারিও শহরে অবস্থিত এই কমপ্লেক্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে ২৪ অক্টোবর। এটি নির্মাণ ও পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে খেলোয়াড়, দল ও দর্শকদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিকে ঘিরে পর্যটন, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রীড়াকেন্দ্রটিতে রয়েছে ২০টি বহুমুখী খেলার মাঠ, ১৪টি যুব বেসবল মাঠ এবং বেসবল ও সফটবলের জন্য আটটি পূর্ণাঙ্গ মাঠ। এ ছাড়া রয়েছে দুটি চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যায়ের বেসবল মাঠ এবং ফুটবল ও রাগবির জন্য চারটি মাঠ। বিভিন্ন বয়সের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, স্থানীয় লিগ, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা এবং বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা মাথায় রেখে এসব সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। এত বড় পরিসরের ক্রীড়া আয়োজনের ফলে একই সময়ে একাধিক খেলা পরিচালনা করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বিভিন্ন শহর থেকে আসা দলগুলোর জন্য মাঠের স্বল্পতা কমাতে পারে এই স্থাপনা। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্য ও দর্শকদের জন্যও এখানে সময় কাটানোর সুযোগ থাকবে। কমপ্লেক্সের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো ছয়তলা পার্কিং ভবন। এতে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। দর্শকদের মাঠের খেলা দেখার অভিজ্ঞতা আরও আকর্ষণীয় করতে স্থাপন করা হয়েছে ১৫২ ফুট দীর্ঘ ও ৫১ ফুট চওড়া বিশাল ডিজিটাল পর্দা। বিভিন্ন খেলা ও অনুষ্ঠান চলাকালে এটি ব্যবহার করা যাবে। অন্টারিও শহরের অর্থায়নে নির্মিত এই ক্রীড়াকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিজ কোম্পানিজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহরটির ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি নতুন দর্শনার্থী আকৃষ্ট করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিজ কোম্পানিজের প্রধান নির্বাহী জেসন ক্লেমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে পশ্চিম উপকূলের ক্রীড়া অবকাঠামোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। নতুন এই কমপ্লেক্স সেই চিত্র বদলে দিতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে অঞ্চলটিতে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অন্টারিও শহরের সিটি ম্যানেজার স্কট ওচোয়া ২০২৫ সালে প্রকল্পটি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, এটি নগর পরিষদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিফলন। তাঁর মতে, আধুনিক এই ক্রীড়াকেন্দ্র পরিবারগুলোর একত্র হওয়া, খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করবে। শহর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দশক ধরে এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে কাজ করবে। কমপ্লেক্সটির অবস্থানও দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধাজনক। অন্টারিও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে প্রায় ১০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে এটি। আশপাশে ছয় হাজারের বেশি হোটেল কক্ষ থাকায় দূরবর্তী শহর থেকে আসা খেলোয়াড় ও তাঁদের পরিবারের থাকার ব্যবস্থা করা তুলনামূলক সহজ হবে। ফলে একাধিক দিনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রেও স্থানটি সুবিধা দিতে পারে। এ ছাড়া ক্রীড়াকেন্দ্রটির পাশেই রয়েছে ৬ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার বেসবল স্টেডিয়াম, যেখানে খেলবে লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের সিঙ্গেল-এ পর্যায়ের সহযোগী দল অন্টারিও টাওয়ার বাজ়ার্স। এর ফলে যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং পেশাদার পর্যায়ের বেসবল একই এলাকায় উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটির আশপাশে আরও পর্যটন ও আতিথেয়তা সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর সেখানে ২৩০ কক্ষের একটি হোটেল চালুর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। হোটেলটি চালু হলে মাঠের কাছেই থাকার সুযোগ পাবেন দূর থেকে আসা খেলোয়াড়, তাঁদের পরিবার এবং টুর্নামেন্টের দর্শকেরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খেলাধুলার পাশাপাশি সংগীত, বিনোদন, শিশুদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন রাখা হয়েছিল। পুরো প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু মাঠ তৈরি করা নয়; বরং খেলাধুলা, বিনোদন ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডকে এক জায়গায় এনে অন্টারিওকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ২০:৩০
স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে বেনিন ও ভারতের লড়াই
স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় দলকে ২৭-০ গোলে হারাল বেনিন

চীনে চলমান অনূর্ধ্ব-১৮ স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় স্কুল দলকে ২৭-০ গোলে হারিয়েছে বেনিন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সুজৌতে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে এই বড় জয় পায় আফ্রিকার দেশটির স্কুল দল।   ম্যাচটি ছিল ৮০ মিনিটের। বেনিনের জন ইথান হুন্তিনমে, ফ্রাঁসোয়া আদিসা ও ওসভালদো সেমেভো লোকো চারটি করে গোল করেন। ইজুদিন বুকারি করেন তিনটি। ভারতের খেলোয়াড়দের দুটি আত্মঘাতী গোলও ব্যবধান বাড়ায়। টুর্নামেন্টে এটি বেনিনের দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে কাতারকে ৭-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। ফলে দুই ম্যাচে ৩৪ গোল করেছে বেনিন, বিপরীতে কোনো গোল হজম করেনি। ভারতের বিপক্ষে জয়ের পর শেষ ষোলোতে তাদের জায়গাও নিশ্চিত হয়েছে।  প্রতিযোগিতার সূচিতে বেনিনের প্রতিপক্ষের নাম ‘ইন্ডিয়া আইএসএসও ২’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ এটি ভারতের দ্বিতীয় স্কুল দল। ফলটিকে ভারতের মূল জাতীয় ফুটবল দল কিংবা জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ম্যাচ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক স্কুল ক্রীড়া ফেডারেশন আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা চীনের সুজৌতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের স্কুল ফুটবল দল এতে অংশ নিয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৫:১৩
পেন্টাগন এলাকায় আর্মি টেন-মাইলার দৌড় প্রতিযোগিতা
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রোববার আর্মি টেন-মাইলার দৌড় প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সকাল থেকেই পর্যায়ক্রমে এসব নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হওয়ায় প্রতিযোগিতার রুটের আশপাশে যাতায়াতকারী চালক ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে পেন্টাগন এলাকা এবং ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়ার মধ্যে চলাচলের ক্ষেত্রে বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এবারের ৪২তম আর্মি টেন-মাইলার প্রতিযোগিতা পেন্টাগন এলাকা থেকে শুরু হচ্ছে। দৌড়বিদেরা প্রায় ১০ মাইল পথ অতিক্রম করবেন। এই আয়োজনে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দৌড়বিদ ও দর্শকেরা আসেন। ফলে প্রতিযোগিতার শুরু ও শেষস্থলের কাছাকাছি সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে। পাশাপাশি পার্কিংয়ের সীমাবদ্ধতা এবং সাময়িক সড়ক বন্ধ থাকার কারণে আশপাশের বাসিন্দা ও যাত্রীদের চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর্লিংটন কাউন্টির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা থেকে কয়েকটি সড়কে পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। আর্মি নেভি ড্রাইভের নির্দিষ্ট অংশ ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা রয়েছে। লং ব্রিজ ড্রাইভের কিছু অংশেও সকালজুড়ে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এ ছাড়া দক্ষিণমুখী ইন্টারস্টেট ৩৯৫-এর এক্সিট ৮সি সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সূচি রয়েছে। একই সময়ে রুট ১১০-এর দক্ষিণমুখী অংশ সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা। এসব বিধিনিষেধের কারণে ওই সড়কগুলো ব্যবহারকারী চালকদের যাত্রার আগে বিকল্প পথ নির্ধারণ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পেন্টাগন এলাকার পার্কিং ব্যবস্থাতেও বিধিনিষেধ থাকবে। কাউন্টির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেন্টাগনের উত্তর দিকের পার্কিং লট এবং বাউন্ডারি চ্যানেল ড্রাইভে রোববার ভোর ৪টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পেন্টাগনের কর্মী এবং পেন্টাগন মেমোরিয়ালে যাওয়া নির্দিষ্ট দর্শনার্থীদের জন্য দক্ষিণের পার্কিং এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য আশপাশে পার্কিংয়ের জায়গা পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ওই এলাকায় যাওয়ার আগে নির্ধারিত প্রবেশপথ, পার্কিংয়ের নিয়ম এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। নিষিদ্ধ এলাকায় গাড়ি রাখলে জরিমানা কিংবা গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়বে ওয়াশিংটন ডিসির সড়কেও। ডিসি পুলিশের ট্রাফিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কী ব্রিজ, হোয়াইটহার্স্ট ফ্রিওয়ে, পটোম্যাক রিভার ফ্রিওয়ে এবং ১৪তম স্ট্রিটের কিছু অংশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে ভার্জিনিয়া থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাতায়াতকারী কিংবা উল্টো পথে চলাচলকারী যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হতে পারে। এসব এলাকায় কিছু সড়কে পার্কিংও নিষিদ্ধ থাকবে। তাই রাস্তার পাশে গাড়ি রাখার আগে অস্থায়ী সাইনবোর্ড ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। প্রতিযোগিতা চলাকালে পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করলে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব ও জরিমানার ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে। গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্য পেন্টাগন ও পেন্টাগন সিটি মেট্রো স্টেশন সকাল ৬টা থেকে চালু থাকার কথা রয়েছে। প্রতিযোগিতার শুরু ও শেষস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় স্টেশন দুটি দর্শক এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তবে যাত্রার আগে মেট্রোর সর্বশেষ সময়সূচি ও স্টেশনে প্রবেশের পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়া ভালো। রাইডশেয়ার ব্যবহারকারীদেরও নির্ধারিত ওঠানামার স্থান ব্যবহার করা উচিত। প্রতিযোগিতার রুটের কাছে ইচ্ছেমতো যাত্রী ওঠানো বা নামানোর চেষ্টা করলে যানজটের মধ্যে পড়তে হতে পারে। এ কারণে যাত্রা শুরুর আগে ট্রাফিকের সর্বশেষ অবস্থা দেখে বের হওয়া এবং প্রয়োজনে কিছুটা অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যাঁদের কর্মস্থল, চিকিৎসাকেন্দ্র, হোটেল কিংবা অন্য কোনো জরুরি গন্তব্য এই এলাকার আশপাশে, তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানোর প্রয়োজন থাকলে বন্ধ সড়কের ওপর নির্ভর করে যাত্রাপথ ঠিক করা ঠিক হবে না। নেভিগেশন অ্যাপ বিকল্প পথ খুঁজতে সাহায্য করতে পারে। তবে পুলিশের নির্দেশনা এবং সড়কে থাকা অস্থায়ী নির্দেশক চিহ্নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর্মি টেন-মাইলার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বার্ষিক দৌড় প্রতিযোগিতা। এর উদ্দেশ্য সেনাবাহিনীর শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা এবং সামরিক সদস্যদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বাড়ানো। প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া অর্থ সেনাসদস্য ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তা করে। দৌড়বিদদের কাছে আয়োজনটি উৎসবমুখর হলেও সড়ক বন্ধ, পার্কিংয়ের সীমাবদ্ধতা ও যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণের কারণে আশপাশের বাসিন্দা এবং চালকদের সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। তাই রোববার পেন্টাগন ও ওয়াশিংটন ডিসির আশপাশে যাতায়াতের পরিকল্পনা থাকলে আগেই রুট যাচাই করা, বিকল্প পথ ঠিক রাখা এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় হাতে নিয়ে বের হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৫:৪০
মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে উচ্ছ্বাসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান মাত্র ১৭ বছর ৫ দিন বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার, ৩ অক্টোবর অ্যারিজোনার গ্লেনডেলের স্টেট ফার্ম স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গোল করে এই কীর্তি গড়েন কাভান। ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩–০ গোলে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মেজর লিগ সকারের প্রতিবেদনে তাঁর রেকর্ড গড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   দ্বিতীয়ার্ধে মেক্সিকোর গোলরক্ষক হোসে রাঙ্গেলের ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগান কাভান। বলটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দূর থেকে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ এক শটে জালে পাঠান তিনি। ৬২ মিনিটের এই গোলেই ব্যবধান ২–০ করে যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল কাভানের প্রথম গোল, আর সেই গোল দিয়েই জায়গা করে নিলেন ইতিহাসের পাতায়।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডটি ছিল ম্যাথিস আলবার্টের। চিলির বিপক্ষে ৪–২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে মাত্র কয়েক দিন আগে গোল করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন তিনি। কাভান মেক্সিকোর বিপক্ষে নিজের প্রথম ম্যাচেই সেই রেকর্ড ভেঙে দেন।   মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ১৮ বছর বয়সী জুলিয়ান হল। ২৮ মিনিটে তাঁর গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে কাভান ব্যবধান বাড়ান। শেষ দিকে মালিক টিলম্যানের গোলে ৩–০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।   ম্যাচ শেষে কাভান জানান, ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের হয়ে এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। নিজের ও পরিবারের জন্য এটি বিশেষ একটি মুহূর্ত হলেও দলের জয়কেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এই তরুণ।   কাভানের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্রও বেশ ঘনিষ্ঠ। তাঁর নানি সুলতানা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসতি গড়েছিলেন। তাঁর দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে কাভানের এই সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদেরও রয়েছে পারিবারিক এক যোগসূত্র।   গত ২৬ সেপ্টেম্বর পেরুর বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক হয় কাভানের। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর। অরল্যান্ডোয় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ৪–১ গোলে জয় পায়। জাতীয় দলের অভিষেকেও তিনি গড়েছিলেন বয়সের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য এক রেকর্ড।   ক্লাব ফুটবলে কাভান খেলেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে। জাতীয় দলের হয়ে ইতিহাস গড়ার মাত্র কয়েক দিন আগেই সেপ্টেম্বর মাসের মেজর লিগ সকারের মাসসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলেও অল্প সময়ের মধ্যে নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন এই তরুণ।   মেক্সিকোর বিপক্ষে এই গোল শুধু কাভানের জাতীয় দলের প্রথম গোলই নয়, এটি তাঁর দ্রুত উত্থানের আরেকটি বড় মাইলফলক। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে ভবিষ্যতের জন্য বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৬:৩২
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়

আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক উপাধি ‘ডক্টর হোনরিস কউসা’ দেওয়ার প্রস্তাব ৩০ সেপ্টেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির উচ্চ পরিষদ। সম্মাননাটি আগামী ৬ অক্টোবর মেসির হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।    বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারে মেসির উৎকর্ষ ও অধ্যবসায়ের পাশাপাশি তাঁর বিনয় এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার অঙ্গীকারকে এ সিদ্ধান্তে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর নেতৃত্বও তাঁর অর্জনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর রিকার্দো গেলপি বলেছেন, মেসির অবদানকে শুধু ম্যাচের ফল বা পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। তাঁর মতে, মেসি আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়েরও একজন প্রতিনিধি। সহ-উপাচার্য এমিলিয়ানো ইয়াকোবিত্তি বলেছেন, এই সম্মাননা মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার সমাজে তাঁর প্রভাবেরও স্বীকৃতি।    বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে সম্মাননাটি দেওয়া হবে। সেদিন বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার খেলার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; আনুষ্ঠানিক প্রদান এখনো বাকি।   

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ১১:১৪
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের নথি নিয়ে ফিফা-উয়েফার আইনি বিরোধ
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের নথি নিয়ে ফিফা-উয়েফার আইনি বিরোধ

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বসংক্রান্ত একটি বাতিল হওয়া পরিকল্পনার নথি চেয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সেই আবেদনের বিরোধিতা করে ফিফা অভিযোগ করেছে, উয়েফা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চাইছে। উয়েফা এ অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।   বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর কিছু বাণিজ্যিক স্বত্ব ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হতো এবং তাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ থাকত। আপত্তির মুখে জুলাইয়ে পরিকল্পনাটি বাদ দেওয়া হয়।   উয়েফা গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে নথি ও সাক্ষ্য সংগ্রহের অনুমতি চায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতিতে এসব তথ্য ব্যবহার করতে চায় সংস্থাটি। উয়েফার অভিযোগ, পরিকল্পনাটি ফিফার স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এড়িয়ে সীমিত পরিসরে তৈরি করা হয়েছিল এবং স্বত্বের মূল্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।   ফিফা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আদালতে জমা দেওয়া জবাবে সংস্থাটি বলেছে, পরিকল্পনা কার্যকর করতে সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ও ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। প্রকল্পটির মূল্যায়ন নিয়ে উয়েফার হিসাবও ভুল বলে দাবি করেছে ফিফা।   ফিফার আরও অভিযোগ, ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্য ছিল বলে উয়েফা ভিত্তিহীন ইঙ্গিত দিয়েছে। আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচন সামনে রেখে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি সংস্থাটির। এগুলো আদালতে দেওয়া ফিফার বক্তব্য; উয়েফার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৪:৫৫
প্রতীকী ছবি
গাজায় প্রাণহানির প্রতিবাদে ইসরায়েলি ফুটবলারদের সাথে হাত মেলালেন না আইরিশ খেলোয়াড়রা

উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের প্রাক্কালে ইসরায়েল জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সাথে প্রথাগত করমর্দন বা হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা। রোববার হাঙ্গেরির নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার সময় নজিরবিহীন এই ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান মানবিক সংকট এবং প্রাণহানির প্রতিবাদে আইরিশ ফুটবলারদের এই নীরব অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ ও আইরিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েলের ঘরের মাঠের এই ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল হাঙ্গেরির দেবরিসেন শহরের নাগিয়েরদেই স্টেডিয়ামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ম্যাচ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা যখন মাঠে প্রবেশ করছিলেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত স্বল্পসংখ্যক ইসরায়েলি সমর্থক তাদের লক্ষ্য করে দুয়ো ধ্বনি দিতে থাকেন এবং বিদ্রূপ করেন। তবে গ্যালারির সেই বিরূপ আচরণের তোয়াক্কা না করেই মাঠে নামেন আইরিশ ফুটবলাররা। এ সময় গাজা সংঘাতে প্রাণ হারানো সাধারণ মানুষের স্মরণে ও শোক প্রকাশে আয়ারল্যান্ড দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের বাহুতে কালো আর্মব্যান্ড বাঁধা ছিল।   ম্যাচ শুরুর আগে নিয়ম অনুযায়ী উভয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। ইসরায়েলের জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা মাথা নত করে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তবে জাতীয় সঙ্গীত শেষ হওয়ার পর ফিফা ও উয়েফার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দুই দলের খেলোয়াড়দের পরস্পরের সাথে হাত মেলানোর কথা থাকলেও আইরিশ ফুটবলাররা তা থেকে বিরত থাকেন এবং ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের এড়িয়ে সরাসরি নিজেদের অর্ধে চলে যান।   উয়েফা নেশনস লিগের এবারের আসরে লিগ বি এর ৩ নম্বর গ্রুপে আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলকে একই সাথে রাখা নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা চলছিল। আয়ারল্যান্ডের সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের একটি বড় অংশ এই ম্যাচ বয়কটের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে স্টপ দ্য গেম বা খেলা বন্ধ করো শীর্ষক প্রচারণার মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের ফুটবলারদের এই ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছিল।   তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কঠোর নিয়মকানুন এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের শাস্তির কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ম্যাচের আগে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ড দলের প্রধান কোচ হেইমির হ্যালগ্রিমসন দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কেবল ফুটবলের নিয়মের কারণে তারা মাঠে নামছেন এবং ইসরায়েলের বিপক্ষে এই ম্যাচে তার দলের অংশগ্রহণকে কোনোভাবেই গাজার বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি সমর্থন বা স্বীকৃতি হিসেবে দেখা উচিত হবে না।   সংবাদ সম্মেলনে কোচ হ্যালগ্রিমসন আরও বলেন, দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় একটি বিষয়ে একমত এবং তারা সবাইকে এটি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চান যে, মাঠে নামার অর্থ এই নয় যে তারা গাজায় ঘটে চলা ঘটনাগুলোকে মেনে নিচ্ছেন। মূলত খেলোয়াড়দের সেই নৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেছে রোববারের ম্যাচে কালো ব্যাজ ধারণ এবং করমর্দন থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ড শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রশ্নে অত্যন্ত সোচ্চার এবং এই ঘটনার মাধ্যমে দেশটির ক্রীড়াবিদরাও নিজেদের অবস্থান নতুন করে তুলে ধরলেন।   সূত্র: আইরিশ টাইমস ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ২২:৪
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ, ফাইনালের পথে কঠিন পরীক্ষা

এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। জাপানের আইচি-নাগোয়া আসরে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ও হরমনপ্রীত কৌরের ভারত। ম্যাচটি হবে নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে।    বাংলাদেশ সরাসরি ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠেনি। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল বৃষ্টির পর ভেজা আউটফিল্ডের কারণে পরিত্যক্ত হয়। কোনো বল মাঠে না গড়ালেও আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় পরের ধাপে জায়গা পায় বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ নম্বরে, চীন ৩৬ নম্বরে।    অন্যদিকে ভারতকে সেমিফাইনালে উঠতে কোনো হিসাবের ওপর নির্ভর করতে হয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক জাপানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে তারা। প্রথমে ব্যাট করে জাপান মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয়। ভারতের শ্রী চরানি ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। এরপর মাত্র ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ভারত। শেফালি ভার্মা মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ রান করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।   বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের কারণে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারিয়েছিল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ১৪৯ রান করেছিল, জবাবে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১০৯ রান তুলতে সক্ষম হয়।    সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ নয়টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে। তবে এবার ম্যাচটি ভিন্ন মঞ্চে, আর একটি জয়ই বাংলাদেশকে সরাসরি এশিয়ান গেমসের ফাইনালে নিয়ে যাবে।    এদিকে ভারত এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। ফলে এবারের আসরেও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে খেলছে তারা। বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু একটি ম্যাচ জেতার চ্যালেঞ্জ নয়, একই সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগও রয়েছে।    ২০ সেপ্টেম্বরের এই ম্যাচে জয়ী দল সরাসরি ফাইনালে উঠবে। একই দিনে অন্য সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনাল।    এশিয়ান গেমসের মঞ্চে বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে এখন তাই একটাই লক্ষ্য, ভারতের বাধা পেরিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে হারের পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এবার ফল বদলাতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ২০ সেপ্টেম্বরের লড়াইয়ে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৯:১৭
মাত্র পাঁচ বছর আগে সাঁতার শেখা শুরু করে ৪১ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন সানা আরিফ। ছবি: সংগৃহীত
৫ বছর আগে সাঁতার শিখে ৪১ বছর বয়সে এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের সানা আরিফ

মাত্র পাঁচ বছর আগে সাঁতার শেখা শুরু করেছিলেন সানা আরিফ। সেই শুরু থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ৪১ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের চার সদস্যের ত্রিদলীয় ক্রীড়া দলের একজন হিসেবে অংশ নিচ্ছেন সানা।   কুয়েতে জন্ম নেওয়া সানা আরিফের বেড়ে ওঠা লাহোরে। ২০০৭ সালে তিনি আবার কুয়েতে ফিরে যান। খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকলেও সাঁতার না জানার কারণে এতদিন এটি তার জন্য একটি বড় বাধা ছিল। ২০২১ সালে তিনি সাঁতার শেখা শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে সাঁতারের পাশাপাশি সাইকেল চালানো ও দৌড়ের প্রশিক্ষণও নিতে শুরু করেন।   সাঁতার শেখার মাত্র দুই বছর পর তুরস্কে নিজের প্রথম আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন সানা। ওই প্রতিযোগিতায় ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো এবং ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়। এরপর তিনি আরও তিনটি আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।   কুয়েতে প্রশিক্ষণের সময় প্রচণ্ড গরমও সানার অনুশীলনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেও তিনি নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালিয়ে গেছেন। অনেক দিন ভোর ৪টার মধ্যেই অনুশীলন শুরু করতেন তিনি, যাতে দিনের অতিরিক্ত গরমের আগেই প্রশিক্ষণ শেষ করতে পারেন।   ২০২৬ সালে পাকিস্তানের ত্রিদলীয় ক্রীড়া দলের নির্বাচনী পরীক্ষার জন্য সানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সাঁতার, সাইকেল চালানো ও দৌড়—তিনটি খেলাকে একসঙ্গে মিলিয়ে যে প্রতিযোগিতা হয়, সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে কিছু প্রতিযোগী তিনটি বিভাগের কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়ে দ্রুত হলেও তিনটি বিভাগ মিলিয়ে সানা পাকিস্তানের দলে জায়গা করে নেন।   এশিয়ান গেমসের জন্য পাকিস্তানের চার সদস্যের ত্রিদলীয় ক্রীড়া দলে সানার সঙ্গে রয়েছেন আনিশা, মোহিদ সাদিক লোনে এবং মুহাম্মদ মুস্তাগিস নূর। নারীদের ব্যক্তিগত ত্রিদলীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০ সেপ্টেম্বর জাপানের গামাগোরি সিটি ত্রিদলীয় ক্রীড়া ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।   নারীদের এই প্রতিযোগিতায় ৭৫০ মিটার সাঁতার, ২০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো এবং ৫ কিলোমিটার দৌড়াতে হবে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে সানাকে। তিনি নিজেও জানেন, জাপানের প্রতিযোগিতা তার জন্য সহজ হবে না। তবে নিজের জায়গা করে নেওয়াটাই তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।   এক দশকেরও বেশি সময় আগে এক বন্ধুকে সানা প্রশ্ন করেছিলেন, কীভাবে তিনি অলিম্পিকে অংশ নিতে পারেন। সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্ন অনেকটা দূরে সরে গিয়েছিল। পরে ত্রিদলীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যুক্ত হওয়ার পর আবারও বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ তৈরি হয় তার সামনে।   মাত্র পাঁচ বছর আগে সাঁতার শেখা থেকে শুরু করে ৪১ বছর বয়সে এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব—সানার এই যাত্রা তার খেলাধুলায় নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার গল্প হয়ে উঠেছে। এবার জাপানের মঞ্চে পাকিস্তানের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।   সূত্র: গালফ নিউজ

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১২:৪০
এশিয়ান গেমসের আবাসনকেন্দ্রে অপেক্ষায় অ্যাথলিটরা। ছবি: সংগৃহীত
এশিয়ান গেমসের আবাসনকেন্দ্রে অপেক্ষায় অ্যাথলিটরা। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দেশের অ্যাথলিট ও কর্মকর্তারা। ভারতীয় দলের কয়েকজন অ্যাথলিটও নাগোয়ায় পৌঁছে নির্ধারিত কক্ষ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোয়িং ও শুটিং দলের সদস্যদের কেউ কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর গেমস সেন্টারের লবি ও অন্যান্য অস্থায়ী জায়গায় সময় কাটিয়েছেন।   এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। তবে ফুটবল, বাস্কেটবলসহ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের প্রতিযোগিতা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এবারের আসরে প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলিট ও কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। আগের পরিকল্পনার তুলনায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আবাসন ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   আয়োজকরা এবার আলাদা করে কোনো বড় অ্যাথলিট ভিলেজ তৈরি করেনি। খরচ কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অ্যাথলিট ও কর্মকর্তাদের জন্য হোটেল, অস্থায়ী কক্ষ এবং নাগোয়া বন্দরে নোঙর করা ইতালীয় ক্রুজ জাহাজ ‘কোস্টা সেরেনা’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্রুজ জাহাজটিতে প্রায় ৪ হাজার মানুষ থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া বন্দরের এলাকায় তৈরি করা অস্থায়ী কনটেইনার ধরনের কক্ষেও প্রায় ২ হাজার অ্যাথলিট ও কর্মকর্তাকে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   ভারতীয় দলের ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি দেখা দেয় নাগোয়ায় পৌঁছানোর পর কক্ষ বরাদ্দের সময়। নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভারত থেকে যাত্রা করা দলের একটি অংশ বুধবার সকালে নাগোয়ায় পৌঁছায়। দীর্ঘ যাত্রার পর তারা ক্রুজ জাহাজে পৌঁছালেও নির্ধারিত আবাসন পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়। রোয়িং দলের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তারা আবাসনকেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্ষ বরাদ্দ হয়নি।   ভারতের রোয়িং দল এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগা দলগুলোর একটি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কয়েকজন অ্যাথলিটকে কক্ষ বরাদ্দের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে কক্ষ পাওয়া গেলেও একাধিক ব্যক্তিকে একই কক্ষে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শুটিং দলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিলম্বের খবর এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার নাগোয়ায় পৌঁছানো শুটারদের একটি অংশ নির্ধারিত কক্ষ না পেয়ে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মধ্যে কয়েকজনকে গেমস সেন্টারের লবিতে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। পরে ভোরের দিকে তাদের কক্ষ বরাদ্দ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   একজন ভারতীয় কোচের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা এক দিন আগে নাগোয়ায় পৌঁছেছিলেন, তাঁদের ভোগান্তি তুলনামূলক বেশি ছিল। পরদিন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তাঁর দলের সদস্যদেরও কয়েক ঘণ্টা কক্ষের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। কোচ জানান, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে তাঁরা পৌঁছালেও রাত প্রায় ১০টার দিকে কক্ষ পান। পরে গেমস সেন্টার থেকে বাসে করে তাদের হোটেলে যেতে হয়।   আবাসন নিয়ে শুধু ভারতীয় দলই সমস্যায় পড়েনি। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও অস্থায়ী কক্ষের মান নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। কোরিয়ার বাস্কেটবল কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কনটেইনার ধরনের কক্ষের কিছু বিছানা দুই মিটারের বেশি উচ্চতার খেলোয়াড়দের জন্য যথেষ্ট বড় নয়। ফিলিপাইনের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, তাদের কিছু কোচ ও কর্মকর্তাকে বিভিন্ন হোটেল ও ভাড়া করা বাসস্থানে রাখা হয়েছে।   আয়োজকরা অবশ্য জানিয়েছে, আবাসন নিয়ে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো সমাধানে কাজ চলছে। আয়োজক কমিটি ও অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে নিবন্ধন বন্ধ হওয়ার সময় তালিকাভুক্ত ১৭ হাজারের বেশি অ্যাথলিট ও কর্মকর্তার জন্য গেমস উপযোগী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।   আয়োজকদের মতে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের অনুমানের চেয়ে বেড়ে যাওয়াই আবাসন ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। এবারের এশিয়ান গেমসে নতুন কয়েকটি ডিসিপ্লিন যুক্ত হওয়ায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে জাপান অতিরিক্ত হোটেল কক্ষও প্রস্তুত রেখেছে বলে জানিয়েছে।   অন্যদিকে, আবাসন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যাতায়াত ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। ক্রুজ জাহাজে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র সক্রিয়করণে বিলম্ব হওয়ায় অনেক অ্যাথলিটকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। জাপানের দলসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের ক্ষেত্রেও কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে সমন্বয় করতে হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।   সব মিলিয়ে উদ্বোধনের আগেই আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে আয়োজকরা বলছে, সব নিবন্ধিত অ্যাথলিট ও কর্মকর্তার থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যেসব বাস্তব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হচ্ছে।   সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স, অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৯:৭
ছেলে ইঝান মির্জা মালিকের সঙ্গে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক
শোয়েব মালিকের একান্ত ইচ্ছা, ছেলে ইঝান বড় হয়ে কোরআনের হাফেজ হবে

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক জানিয়েছেন, ছেলে ইঝান মির্জা মালিককে ভবিষ্যতে কোরআনের হাফেজ হিসেবে দেখতে চান তিনি। তবে ইঝানের পেশা বা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো ধরনের চাপ দিতে চান না শোয়েব। বরং নিজের পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী জীবনের পথ বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা ছেলেকে দিতে চান তিনি। শোয়েবের কাছে সন্তানের সাফল্য শুধু পেশাগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভালো চরিত্র, সততা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলোকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তাই ইঝান ভবিষ্যতে ক্রিকেটার হবে কি না, সেটিও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত হিসেবে চাপিয়ে দিতে চান না। ইঝান শোয়েব মালিক ও ভারতের সাবেক টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার একমাত্র সন্তান। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তাঁদের ছেলে জন্ম নেয়। ২০১০ সালে বিয়ে করা এই দম্পতির দাম্পত্য জীবনে পরবর্তী সময়ে টানাপোড়েন তৈরি হয় এবং ২০২৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিচ্ছেদের পরও ছেলের জীবনে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন শোয়েব। ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, দুবাইয়ে থাকলে ইঝানের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান। স্কুলে পৌঁছে দেওয়া ও নিয়ে আসার পাশাপাশি ছেলের সঙ্গে পার্কে ফুটবলও খেলেন তিনি। ইঝানের খেলাধুলার প্রতিও আগ্রহ রয়েছে। ২০২৩ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের একটি প্রতিবন্ধকতা দৌড়ের ভিডিও প্রকাশ করে তার শারীরিক দক্ষতার প্রশংসা করেছিলেন শোয়েব। তবে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট পেশাগত স্বপ্ন চাপিয়ে দিতে চান না তিনি। শোয়েবের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ইঝান যেন ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে, মূল্যবোধসম্পন্ন জীবনযাপন করে এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভবিষ্যতের পথ বেছে নিতে পারে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:৪০
স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল ক্লাব সিডি এলদেনসে কিনতে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
স্পেনে দ্বিতীয় ফুটবল ক্লাব কিনছেন মেসি!’ এলদেনসেতে মালিকানা চুক্তি

বার্সেলোনার জার্সিতে স্প্যানিশ ফুটবলে ইতিহাস গড়ার পরও দেশটির ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সিডি এলদেনসে কিনতে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন তিনি।   আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামাধ্যম ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলদেনসের মালিকানা হস্তান্তর নিয়ে মেসির পক্ষ ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। তবে এখনো চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়নি। মালিকানা হস্তান্তরের আগে ক্লাবটির আর্থিক অডিট, আইনি যাচাই এবং স্পেনের ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।   সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্পেনে মেসির মালিকানাধীন এটি হবে দ্বিতীয় ফুটবল ক্লাব। এর আগে চলতি বছর তিনি স্পেনের পঞ্চম বিভাগের আধা-পেশাদার ক্লাব ইউসি কর্নেয়া কিনেছেন। ফলে এলদেনসে হবে স্প্যানিশ ফুটবলে মেসির মালিকানাধীন প্রথম পূর্ণাঙ্গ পেশাদার ক্লাব।   ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এলদেনসের বর্তমান মালিক কলম্বিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গ্রুপো টিএইচ। ২০২৩ সালে দীর্ঘ বিরতির পর দলটি দ্বিতীয় বিভাগে ফিরেছিল। তবে দুই বছর পর অবনমন হলেও চলতি মৌসুমে আবারও দ্বিতীয় বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে ক্লাবটি।   বর্তমানে অবশ্য মাঠের পারফরম্যান্সে ভালো সময় যাচ্ছে না এলদেনসের। ৫ হাজার ৭৭৬ আসনের নুয়েভো পেপিকো আমাত স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম চার ম্যাচে জয়হীন রয়েছে দলটি। দুর্বল শুরুর কারণে প্রধান কোচ ক্লদিও বারাগানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন কোচের অপেক্ষায় রয়েছে দলটি।   তবে মেসির দুই ক্লাবের মালিকানা নিয়ে আপাতত বড় কোনো আইনি জটিলতার আশঙ্কা নেই। কারণ কর্নেয়া খেলছে পঞ্চম বিভাগে, আর এলদেনসে দ্বিতীয় বিভাগে। তবে ভবিষ্যতে দুই দল একই বিভাগে উঠে এলে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের মালিকানা-সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী জটিলতা তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১২:৩১
মেসিকে বার্সেলোনায় আনতে চুক্তি হয়েছিল টিস্যু পেপারে
মেসিকে বার্সেলোনায় আনতে চুক্তি হয়েছিল টিস্যু পেপারে, সেই ন্যাপকিন বিক্রি প্রায় ১০ লাখ ডলারে

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি হয়েছিল কোনো বিলাসবহুল বোর্ডরুমে নয়, একটি সাধারণ কাগজের ন্যাপকিনে। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর মাত্র ১৩ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে দলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি সেই ন্যাপকিনেই লিখেছিলেন বার্সেলোনার তৎকালীন স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লেস রেক্সাচ।   তখন আর্জেন্টিনা থেকে বার্সেলোনায় ট্রায়াল দিতে আসা মেসিকে নিয়ে ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। কিন্তু চুক্তি চূড়ান্ত হতে দেরি হওয়ায় মেসির বাবা হোর্হে মেসি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এমনকি ছেলেকে নিয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছিলেন তিনি।   পরিস্থিতি সামাল দিতে বার্সেলোনার কর্মকর্তারা বার্সেলোনার একটি টেনিস ক্লাবে বৈঠকে বসেন। সেখানে রেক্সাচের সঙ্গে ছিলেন ক্লাবের ট্রান্সফার উপদেষ্টা জোসেপ মিংগেয়া এবং আর্জেন্টাইন এজেন্ট হোরাসিও গাগিওলি, যিনি মেসিকে বার্সেলোনার নজরে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।   কাছে কোনো কাগজ না থাকায় রেক্সাচ ওয়েটারের কাছ থেকে একটি ন্যাপকিন নিয়ে তাতেই মেসিকে চুক্তিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি লিখে দেন। ন্যাপকিনটিতে রেক্সাচ, মিংগেয়া ও গাগিওলি স্বাক্ষর করেন। এতে মেসিকে নির্ধারিত শর্তে বার্সেলোনায় সই করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।   এরপর আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয় এবং মেসির বার্সেলোনা অধ্যায়ের শুরু। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্লাবটির যুব দলে যোগ দেওয়া মেসি পরে বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ক্লাবটির হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল করেন তিনি। জেতেন ১০টি লা লিগা ও চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ব্যক্তিগতভাবে আটবার ব্যালন ডি’অরও জিতেছেন মেসি।    দুই দশকের বেশি সময় ধরে ন্যাপকিনটি নিরাপদে অ্যান্ডোরার একটি ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত ছিল। ২০২৪ সালে এটি নিলামে তোলে ব্রিটিশ নিলাম প্রতিষ্ঠান বোনহামস। শুরুতে এর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ লাখ পাউন্ড।   শেষ পর্যন্ত ন্যাপকিনটি ৭ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ পাউন্ডে বিক্রি হয়, যা প্রায় ৯ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমান। ন্যাপকিনটি ফ্রেমে বাঁধানো ও সংরক্ষিত অবস্থায় নিলামে তোলা হয়েছিল।    একটি সাধারণ ন্যাপকিনে লেখা সেই প্রতিশ্রুতিই শেষ পর্যন্ত বদলে দেয় মেসির জীবন এবং বার্সেলোনার ইতিহাস। ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান স্মারকগুলোর একটি হয়ে ওঠা সেই ছোট্ট কাগজ এখন প্রায় ১০ লাখ ডলারের সংগ্রহযোগ্য নিদর্শন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১:৩৯
হালান্ড-এমবাপেকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড ইয়ামালের
হালান্ড-এমবাপেকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড ইয়ামালের

প্রথম দুই ম্যাচে গোলের দেখা পাননি। তবে তৃতীয় ম্যাচেই জোড়া গোল করে সমালোচনার জবাব দিলেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে তার জোড়া গোলে ৫-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা।   সোমবার রাতে ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচের শুরুতে রায়ো ভায়েকানো এগিয়ে গেলেও রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। এরপর ২১তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল।   এই গোলের মাধ্যমে বড় এক রেকর্ড গড়েছেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এই কীর্তি গড়তে গিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপেকে।   ম্যাচের শেষদিকে নিজের দ্বিতীয় গোলটিও করেন ইয়ামাল। তার জোড়া গোলের পাশাপাশি রাফিনিয়ার গোলসহ দারুণ পারফরম্যান্সে ৫-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।   লা লিগায় প্রথম তিন ম্যাচেই ১২ গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি। শুরুতে ইয়ামালের গোলখরা থাকলেও রায়োর বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি যে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে, সেটিই প্রমাণ করলেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৮:২১
বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
বাবাকে হারানোর পর জাতীয় দলকে বিদায় বললেন মেসি, শেষ হলো নীল-সাদা জার্সির পথচলা

আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। রোববার স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পর সোমবার জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। মেসির ভাষ্য অনুযায়ী, বাবার মৃত্যুর পর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি আরও বেশি নিশ্চিত হয়েছেন।   আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ ছিল চলতি বছরের বিশ্বকাপের ফাইনাল। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। মেসি জানান, তিনি ২১ জুলাই নিজের হাতে লেখা একটি বার্তা তৈরি করেছিলেন, অর্থাৎ স্পেনের কাছে হারের দুই দিন পরই তিনি কথাগুলো লিখে রেখেছিলেন।   মেসির জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা এসেছে তার বাবা জর্জ মেসির মৃত্যুর তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পর। ৬৮ বছর বয়সে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর মারা যান মেসির বাবা। বাবার মৃত্যুর পর জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে বলে জানান মেসি।   জাতীয় দলের হয়ে মেসির অর্জনও ছিল দীর্ঘ ও গৌরবময়। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি ১২৫টি গোল করেছেন এবং ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন, যা দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড। জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ পথচলায় তিনি বারবার শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও হতাশ হয়েছেন।   বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসর ২০০৬ ও ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ফাইনালে হারে দলটি। এরপর ২০১৮ সালে ফ্রান্সের কাছে শেষ ষোলোতে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার তিনটি ফাইনালে হারের হতাশাও মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় আক্ষেপ হয়ে ছিল।   তবে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে অবশেষে আর্জেন্টিনার হয়ে বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতেন মেসি। পরের বছর ২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন তিনি। দেশটির হয়ে ১৯৮৬ সালের পর সেটিই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ জয়।   মেসি তার বিদায়ী বার্তায় জানান, জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় তিনি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শুধু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নয়, এর আগেও তিনি আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য লড়াই করেছেন এবং দেশবাসীকে আনন্দ ও গর্বিত করার চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও জানান, জাতীয় দলের হয়ে তার দেওয়ার মতো আর কিছু নেই এবং এখন নতুন প্রজন্মের কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় সামনে এগিয়ে আসছে, যারা জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য। জাতীয় দলের হয়ে খেলা তার কাছে সবসময় বিশেষ ছিল এবং এই অধ্যায় শেষ হওয়ায় সিদ্ধান্তটি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে বলেও জানান তিনি।   মেসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন। তবে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা শেষ হলো চলতি বছরের বিশ্বকাপ ফাইনালের মধ্য দিয়ে। বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা শিরোপা এবং দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোল ও ম্যাচ খেলার রেকর্ড রেখে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।

প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১২:৪১
ফিফা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন দুই আর্জেন্টাইন
ফিফা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন দুই আর্জেন্টাইন

বিশ্ব ফুটবলের বহুল আলোচিত ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারি মামলায় আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার স্পোর্টস মার্কেটিং ব্যবসায়ী হুগো জিনকিস ও তার ছেলে মারিয়ানো জিনকিস। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে তারা মার্কিন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্টে পৌঁছান। সমঝোতার আওতায় তারা ৫ কোটি মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করতে রাজি হয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৬০০ কোটি টাকার বেশি।   হুগো ও মারিয়ানো জিনকিস আর্জেন্টিনাভিত্তিক স্পোর্টস মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান ফুল প্লের নিয়ন্ত্রক ছিলেন। মার্কিন আদালতের নথি অনুযায়ী, তারা আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের লাভজনক মিডিয়া ও মার্কেটিং স্বত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।   সমঝোতার আওতায় জিনকিস বাবা-ছেলে স্বীকার করেছেন, তারা ফিফা, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করতে কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক ঘুষ দিয়েছিলেন। এসব অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব পাওয়ার সুবিধা নেওয়া হয়েছিল।   মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার মিডিয়া ও মার্কেটিং স্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল। ফুল প্লের ব্যবসায়িক স্বার্থ এগিয়ে নিতে ফুটবল কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের লেনদেন চলেছিল বলে মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ।   তবে এবারের সমঝোতার ফলে তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাটি সরাসরি বিচারে যাবে না। ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে চললে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে থাকা প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করার কথা রয়েছে। তারা বর্তমানে বন্ডে মুক্ত থাকবেন।   ফিফা কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০১৫ সালে। ওই বছর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালানো হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভেতরে দীর্ঘদিনের ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। এরপর ফিফা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা এবং স্পোর্টস মার্কেটিং ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা, গ্রেপ্তার, দোষ স্বীকার ও সাজা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।   মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে হুগো ও মারিয়ানো জিনকিসকে ফুল প্লের নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে র‍্যাকেটিয়ারিং ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণার ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়।   এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলার সর্বশেষ সমঝোতায় জিনকিস বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিষ্পত্তির পথ তৈরি হলো। একই সঙ্গে তাদের স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্ব ঘিরে দীর্ঘদিনের ঘুষের নেটওয়ার্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।

প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১:১১
অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে ফেরার নতুন সুযোগ পেয়েছেন অনায়া বাঙ্গার। ছবি: সংগৃহীত
ট্রান্সজেন্ডার অনায়া ভারতে সুযোগ না পেলেও অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার অনুমতি পেলেন

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনায়া বাঙ্গারকে অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ঘরোয়া পর্যায়ে খেলার সুযোগ দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২০২৭ সালের মার্চ থেকে তিনি দেশটির নারী ক্রিকেটের ‘এলিট’ পর্যায়ে খেলার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এর ফলে নারী বিগ ব্যাশ লিগে (ডব্লিউবিবিএল) খেলার পথও খুলেছে তাঁর সামনে। তবে কোনো দলের সঙ্গে চুক্তি বা দলে জায়গা পাওয়ার নিশ্চয়তা এখনো পাননি তিনি।   ২৫ বছর বয়সী অনায়া আগে মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন। ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে ওঠার সময় তিনি সারফরাজ খানসহ ভারতের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছেন। পরে যুক্তরাজ্যেও ক্রিকেট চালিয়ে যান। চলতি বছরের মার্চে থাইল্যান্ডে লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণমূলক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার সুযোগের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে আবেদন করেন তিনি। সংস্থাটির পর্যালোচনার পর তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নারী কমিউনিটি ও প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।   তবে এলিট পর্যায়ে খেলতে হলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। সংস্থাটির নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগে এলিট ক্রিকেটে অংশ নিতে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা অন্তত ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হবে। ২০২৭ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর অনায়াকে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অনায়া জানিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে তিনি বলেন, একটা সময় তাঁর মনে হয়েছিল হয়তো আর কখনো ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। নতুন এই সুযোগ তাঁকে আবার ক্রিকেটে ফেরার পথ দেখিয়েছে।   তবে অস্ট্রেলিয়ার নারী বিগ ব্যাশে খেলা এখনো তাঁর জন্য অনেক দূরের লক্ষ্য। যোগ্যতা অর্জন করলেই কোনো দলে জায়গা নিশ্চিত হবে না। তাঁকে প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্লাবে যোগ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে হবে, শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে হবে এবং ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে নিজের পারফরম্যান্স প্রমাণ করতে হবে। এরপরই কোনো বিগ ব্যাশ ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে দলে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। অনায়া নিজেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তাঁর ভাষায়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁকে কোনো দলের জায়গা দেয়নি, বরং সেই জায়গা অর্জনের একটি পথ তৈরি করে দিয়েছে। তাঁকে এখন অনুশীলন, প্রতিযোগিতা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।   অনায়ার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পেছনে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত বছর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, নারী ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের জন্য কী নিয়ম রয়েছে। তাঁর দাবি, সেই চিঠির কোনো উত্তর তিনি পাননি। পরে চলতি বছরের জুনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নীতিমালা নেই।   আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অবশ্য ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ২০২৩ সালে নতুন লিঙ্গ-যোগ্যতা নীতি অনুমোদন করে। ওই নীতিতে বলা হয়, পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্য দিয়ে যাওয়া নারী খেলোয়াড়রা অস্ত্রোপচার বা লিঙ্গ পরিবর্তনসংক্রান্ত চিকিৎসা নিলেও আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আইসিসি স্পষ্ট করেছে, এই নিয়ম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রযোজ্য এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে যোগ্যতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতির ওপর নির্ভর করে।   অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে তাই আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মে পার্থক্য রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব নীতিমালার আওতায় অনায়া ঘরোয়া পর্যায়ে ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাঠে ফিরে নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স পুনর্গঠন করা। অনায়ার লক্ষ্য স্পষ্ট, ২০২৭ সালে নারী বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ তৈরি করা। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে পরিচয় বা অতীত নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জায়গা করে নিতে চান তিনি।   সূত্র: ডেইলি মেইল

প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ০:৭
চীনের তৈরি মানবাকৃতির রোবট ‘লাইটনিং’ ১০০ মিটার দৌড়েছে ৯.৩২ সেকেন্ডে। ছবি: সংগৃহীত
উসাইন বোল্টকে হারাল চীনের রোবট 'লাইটনিং', ১০০ মিটার দৌড়াল মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে

উসাইন বোল্টের ১০০ মিটার দৌড়ের বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে চীনের তৈরি মানবাকৃতির রোবট ‘লাইটনিং’। প্রস্তুতিমূলক এক পরীক্ষায় রোবটটি মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।   চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনারের তৈরি লাইটনিংয়ের এই সময় ২০০৯ সালে বার্লিনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে উসাইন বোল্টের করা ৯.৫৮ সেকেন্ডের মানব বিশ্বরেকর্ডের চেয়ে ০.২৬ সেকেন্ড কম। ওই রেকর্ডই এখন পর্যন্ত মানুষের ১০০ মিটার দৌড়ের স্বীকৃত বিশ্বরেকর্ড।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লাইটনিংয়ের ৯.৩২ সেকেন্ডের দৌড়টি ছিল একটি প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায়। এটি মানব অ্যাথলেটিকসের কোনো স্বীকৃত বিশ্বরেকর্ড নয়। ফলে বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের রেকর্ড এখনো বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের স্বীকৃত মানব বিশ্বরেকর্ড হিসেবেই বহাল রয়েছে।   বেইজিংয়ে শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্ব মানবাকৃতির রোবট গেমসকে সামনে রেখে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। দৌড়ের সময় লাইটনিংয়ের সর্বোচ্চ গতি উঠেছিল প্রতি সেকেন্ডে ১৪.৫ মিটার, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ৫২.২ কিলোমিটার।   এটাই অবশ্য লাইটনিংয়ের প্রথম চমক নয়। চলতি বছরের এপ্রিলে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ২১ কিলোমিটারের মানবাকৃতির রোবট হাফ ম্যারাথনেও এটি প্রথম হয়েছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৌড়ানো লাইটনিং ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে, যা সে সময়ের মানব হাফ ম্যারাথন বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুত। তখন লাইটনিংয়ের উচ্চতা ছিল ১৬৯ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫ সেন্টিমিটার। বিশ্ব রোবট গেমসের আগে গবেষকেরা এর পায়ের দৈর্ঘ্য আরও ১০ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে ১.০৫ মিটার করেছেন বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।   এ বছরের বিশ্ব মানবাকৃতির রোবট গেমসেও লাইটনিংসহ বিভিন্ন রোবট অ্যাথলেটিকস, ফুটবল, ভারোত্তোলন, মার্শাল আর্টসহ নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। ২২ থেকে ২৬ আগস্ট বেইজিংয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারের বেশি রোবট অংশ নিচ্ছে। রোবটের দৌড়ের এই সাফল্য চীনের মানবাকৃতির রোবট প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও অগ্রগতির বিষয়টিও সামনে এনেছে। দেশটির নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবটের হার্ডওয়্যারের উন্নয়নকে উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও ভোক্তা পর্যায়ের বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখছে।   তবে মানুষের সঙ্গে রোবটের এমন রেকর্ড তুলনার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। রোবটের শরীর, শক্তির উৎস, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নকশা মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতার মতো নয়। এ কারণে রোবটের ৯.৩২ সেকেন্ডকে বোল্টের মানব রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করা গেলেও এটিকে মানব অ্যাথলেটিকসের নতুন বিশ্বরেকর্ড বলা যাবে না।   তবু প্রযুক্তির দিক থেকে ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। মাত্র কয়েক বছর আগেও মানবাকৃতির রোবটের জন্য দ্রুত ও স্থিরভাবে দৌড়ানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এখন সেই রোবটই মানুষের দ্রুততম দৌড়ের সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে রোবট কতটা দ্রুত, ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারবে তা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২১:৪০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০