সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

খেলাধুলা

ছেলে ইঝান মির্জা মালিকের সঙ্গে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক
শোয়েব মালিকের একান্ত ইচ্ছা, ছেলে ইঝান বড় হয়ে কোরআনের হাফেজ হবে

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক জানিয়েছেন, ছেলে ইঝান মির্জা মালিককে ভবিষ্যতে কোরআনের হাফেজ হিসেবে দেখতে চান তিনি। তবে ইঝানের পেশা বা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো ধরনের চাপ দিতে চান না শোয়েব। বরং নিজের পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী জীবনের পথ বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা ছেলেকে দিতে চান তিনি। শোয়েবের কাছে সন্তানের সাফল্য শুধু পেশাগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভালো চরিত্র, সততা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলোকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তাই ইঝান ভবিষ্যতে ক্রিকেটার হবে কি না, সেটিও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত হিসেবে চাপিয়ে দিতে চান না। ইঝান শোয়েব মালিক ও ভারতের সাবেক টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার একমাত্র সন্তান। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তাঁদের ছেলে জন্ম নেয়। ২০১০ সালে বিয়ে করা এই দম্পতির দাম্পত্য জীবনে পরবর্তী সময়ে টানাপোড়েন তৈরি হয় এবং ২০২৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিচ্ছেদের পরও ছেলের জীবনে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন শোয়েব। ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, দুবাইয়ে থাকলে ইঝানের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান। স্কুলে পৌঁছে দেওয়া ও নিয়ে আসার পাশাপাশি ছেলের সঙ্গে পার্কে ফুটবলও খেলেন তিনি। ইঝানের খেলাধুলার প্রতিও আগ্রহ রয়েছে। ২০২৩ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের একটি প্রতিবন্ধকতা দৌড়ের ভিডিও প্রকাশ করে তার শারীরিক দক্ষতার প্রশংসা করেছিলেন শোয়েব। তবে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট পেশাগত স্বপ্ন চাপিয়ে দিতে চান না তিনি। শোয়েবের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ইঝান যেন ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে, মূল্যবোধসম্পন্ন জীবনযাপন করে এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভবিষ্যতের পথ বেছে নিতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:৪০
স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল ক্লাব সিডি এলদেনসে কিনতে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
স্পেনে দ্বিতীয় ফুটবল ক্লাব কিনছেন মেসি!’ এলদেনসেতে মালিকানা চুক্তি

বার্সেলোনার জার্সিতে স্প্যানিশ ফুটবলে ইতিহাস গড়ার পরও দেশটির ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সিডি এলদেনসে কিনতে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন তিনি।   আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামাধ্যম ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলদেনসের মালিকানা হস্তান্তর নিয়ে মেসির পক্ষ ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। তবে এখনো চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়নি। মালিকানা হস্তান্তরের আগে ক্লাবটির আর্থিক অডিট, আইনি যাচাই এবং স্পেনের ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।   সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্পেনে মেসির মালিকানাধীন এটি হবে দ্বিতীয় ফুটবল ক্লাব। এর আগে চলতি বছর তিনি স্পেনের পঞ্চম বিভাগের আধা-পেশাদার ক্লাব ইউসি কর্নেয়া কিনেছেন। ফলে এলদেনসে হবে স্প্যানিশ ফুটবলে মেসির মালিকানাধীন প্রথম পূর্ণাঙ্গ পেশাদার ক্লাব।   ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এলদেনসের বর্তমান মালিক কলম্বিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গ্রুপো টিএইচ। ২০২৩ সালে দীর্ঘ বিরতির পর দলটি দ্বিতীয় বিভাগে ফিরেছিল। তবে দুই বছর পর অবনমন হলেও চলতি মৌসুমে আবারও দ্বিতীয় বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে ক্লাবটি।   বর্তমানে অবশ্য মাঠের পারফরম্যান্সে ভালো সময় যাচ্ছে না এলদেনসের। ৫ হাজার ৭৭৬ আসনের নুয়েভো পেপিকো আমাত স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম চার ম্যাচে জয়হীন রয়েছে দলটি। দুর্বল শুরুর কারণে প্রধান কোচ ক্লদিও বারাগানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন কোচের অপেক্ষায় রয়েছে দলটি।   তবে মেসির দুই ক্লাবের মালিকানা নিয়ে আপাতত বড় কোনো আইনি জটিলতার আশঙ্কা নেই। কারণ কর্নেয়া খেলছে পঞ্চম বিভাগে, আর এলদেনসে দ্বিতীয় বিভাগে। তবে ভবিষ্যতে দুই দল একই বিভাগে উঠে এলে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের মালিকানা-সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী জটিলতা তৈরি হতে পারে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১২:৩১
মেসিকে বার্সেলোনায় আনতে চুক্তি হয়েছিল টিস্যু পেপারে
মেসিকে বার্সেলোনায় আনতে চুক্তি হয়েছিল টিস্যু পেপারে, সেই ন্যাপকিন বিক্রি প্রায় ১০ লাখ ডলারে

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি হয়েছিল কোনো বিলাসবহুল বোর্ডরুমে নয়, একটি সাধারণ কাগজের ন্যাপকিনে। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর মাত্র ১৩ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে দলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি সেই ন্যাপকিনেই লিখেছিলেন বার্সেলোনার তৎকালীন স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লেস রেক্সাচ।   তখন আর্জেন্টিনা থেকে বার্সেলোনায় ট্রায়াল দিতে আসা মেসিকে নিয়ে ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। কিন্তু চুক্তি চূড়ান্ত হতে দেরি হওয়ায় মেসির বাবা হোর্হে মেসি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এমনকি ছেলেকে নিয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছিলেন তিনি।   পরিস্থিতি সামাল দিতে বার্সেলোনার কর্মকর্তারা বার্সেলোনার একটি টেনিস ক্লাবে বৈঠকে বসেন। সেখানে রেক্সাচের সঙ্গে ছিলেন ক্লাবের ট্রান্সফার উপদেষ্টা জোসেপ মিংগেয়া এবং আর্জেন্টাইন এজেন্ট হোরাসিও গাগিওলি, যিনি মেসিকে বার্সেলোনার নজরে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।   কাছে কোনো কাগজ না থাকায় রেক্সাচ ওয়েটারের কাছ থেকে একটি ন্যাপকিন নিয়ে তাতেই মেসিকে চুক্তিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি লিখে দেন। ন্যাপকিনটিতে রেক্সাচ, মিংগেয়া ও গাগিওলি স্বাক্ষর করেন। এতে মেসিকে নির্ধারিত শর্তে বার্সেলোনায় সই করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।   এরপর আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয় এবং মেসির বার্সেলোনা অধ্যায়ের শুরু। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্লাবটির যুব দলে যোগ দেওয়া মেসি পরে বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ক্লাবটির হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল করেন তিনি। জেতেন ১০টি লা লিগা ও চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ব্যক্তিগতভাবে আটবার ব্যালন ডি’অরও জিতেছেন মেসি।    দুই দশকের বেশি সময় ধরে ন্যাপকিনটি নিরাপদে অ্যান্ডোরার একটি ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত ছিল। ২০২৪ সালে এটি নিলামে তোলে ব্রিটিশ নিলাম প্রতিষ্ঠান বোনহামস। শুরুতে এর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ লাখ পাউন্ড।   শেষ পর্যন্ত ন্যাপকিনটি ৭ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ পাউন্ডে বিক্রি হয়, যা প্রায় ৯ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমান। ন্যাপকিনটি ফ্রেমে বাঁধানো ও সংরক্ষিত অবস্থায় নিলামে তোলা হয়েছিল।    একটি সাধারণ ন্যাপকিনে লেখা সেই প্রতিশ্রুতিই শেষ পর্যন্ত বদলে দেয় মেসির জীবন এবং বার্সেলোনার ইতিহাস। ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান স্মারকগুলোর একটি হয়ে ওঠা সেই ছোট্ট কাগজ এখন প্রায় ১০ লাখ ডলারের সংগ্রহযোগ্য নিদর্শন।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১:৩৯
হালান্ড-এমবাপেকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড ইয়ামালের
হালান্ড-এমবাপেকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড ইয়ামালের

প্রথম দুই ম্যাচে গোলের দেখা পাননি। তবে তৃতীয় ম্যাচেই জোড়া গোল করে সমালোচনার জবাব দিলেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে তার জোড়া গোলে ৫-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা।   সোমবার রাতে ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচের শুরুতে রায়ো ভায়েকানো এগিয়ে গেলেও রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। এরপর ২১তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল।   এই গোলের মাধ্যমে বড় এক রেকর্ড গড়েছেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এই কীর্তি গড়তে গিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপেকে।   ম্যাচের শেষদিকে নিজের দ্বিতীয় গোলটিও করেন ইয়ামাল। তার জোড়া গোলের পাশাপাশি রাফিনিয়ার গোলসহ দারুণ পারফরম্যান্সে ৫-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।   লা লিগায় প্রথম তিন ম্যাচেই ১২ গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি। শুরুতে ইয়ামালের গোলখরা থাকলেও রায়োর বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি যে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে, সেটিই প্রমাণ করলেন।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৮:২১
বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
বাবাকে হারানোর পর জাতীয় দলকে বিদায় বললেন মেসি, শেষ হলো নীল-সাদা জার্সির পথচলা

আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। রোববার স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পর সোমবার জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। মেসির ভাষ্য অনুযায়ী, বাবার মৃত্যুর পর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি আরও বেশি নিশ্চিত হয়েছেন।   আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ ছিল চলতি বছরের বিশ্বকাপের ফাইনাল। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। মেসি জানান, তিনি ২১ জুলাই নিজের হাতে লেখা একটি বার্তা তৈরি করেছিলেন, অর্থাৎ স্পেনের কাছে হারের দুই দিন পরই তিনি কথাগুলো লিখে রেখেছিলেন।   মেসির জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা এসেছে তার বাবা জর্জ মেসির মৃত্যুর তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পর। ৬৮ বছর বয়সে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর মারা যান মেসির বাবা। বাবার মৃত্যুর পর জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে বলে জানান মেসি।   জাতীয় দলের হয়ে মেসির অর্জনও ছিল দীর্ঘ ও গৌরবময়। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি ১২৫টি গোল করেছেন এবং ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন, যা দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড। জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ পথচলায় তিনি বারবার শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও হতাশ হয়েছেন।   বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসর ২০০৬ ও ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ফাইনালে হারে দলটি। এরপর ২০১৮ সালে ফ্রান্সের কাছে শেষ ষোলোতে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার তিনটি ফাইনালে হারের হতাশাও মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় আক্ষেপ হয়ে ছিল।   তবে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে অবশেষে আর্জেন্টিনার হয়ে বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতেন মেসি। পরের বছর ২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন তিনি। দেশটির হয়ে ১৯৮৬ সালের পর সেটিই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ জয়।   মেসি তার বিদায়ী বার্তায় জানান, জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় তিনি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শুধু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নয়, এর আগেও তিনি আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য লড়াই করেছেন এবং দেশবাসীকে আনন্দ ও গর্বিত করার চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও জানান, জাতীয় দলের হয়ে তার দেওয়ার মতো আর কিছু নেই এবং এখন নতুন প্রজন্মের কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় সামনে এগিয়ে আসছে, যারা জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য। জাতীয় দলের হয়ে খেলা তার কাছে সবসময় বিশেষ ছিল এবং এই অধ্যায় শেষ হওয়ায় সিদ্ধান্তটি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে বলেও জানান তিনি।   মেসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন। তবে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা শেষ হলো চলতি বছরের বিশ্বকাপ ফাইনালের মধ্য দিয়ে। বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা শিরোপা এবং দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোল ও ম্যাচ খেলার রেকর্ড রেখে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১২:৪১
ফিফা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন দুই আর্জেন্টাইন
ফিফা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন দুই আর্জেন্টাইন

বিশ্ব ফুটবলের বহুল আলোচিত ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারি মামলায় আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার স্পোর্টস মার্কেটিং ব্যবসায়ী হুগো জিনকিস ও তার ছেলে মারিয়ানো জিনকিস। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে তারা মার্কিন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্টে পৌঁছান। সমঝোতার আওতায় তারা ৫ কোটি মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করতে রাজি হয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৬০০ কোটি টাকার বেশি।   হুগো ও মারিয়ানো জিনকিস আর্জেন্টিনাভিত্তিক স্পোর্টস মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান ফুল প্লের নিয়ন্ত্রক ছিলেন। মার্কিন আদালতের নথি অনুযায়ী, তারা আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের লাভজনক মিডিয়া ও মার্কেটিং স্বত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।   সমঝোতার আওতায় জিনকিস বাবা-ছেলে স্বীকার করেছেন, তারা ফিফা, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করতে কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক ঘুষ দিয়েছিলেন। এসব অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব পাওয়ার সুবিধা নেওয়া হয়েছিল।   মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার মিডিয়া ও মার্কেটিং স্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল। ফুল প্লের ব্যবসায়িক স্বার্থ এগিয়ে নিতে ফুটবল কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের লেনদেন চলেছিল বলে মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ।   তবে এবারের সমঝোতার ফলে তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাটি সরাসরি বিচারে যাবে না। ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে চললে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে থাকা প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করার কথা রয়েছে। তারা বর্তমানে বন্ডে মুক্ত থাকবেন।   ফিফা কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০১৫ সালে। ওই বছর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালানো হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভেতরে দীর্ঘদিনের ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। এরপর ফিফা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা এবং স্পোর্টস মার্কেটিং ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা, গ্রেপ্তার, দোষ স্বীকার ও সাজা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।   মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে হুগো ও মারিয়ানো জিনকিসকে ফুল প্লের নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে র‍্যাকেটিয়ারিং ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণার ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়।   এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলার সর্বশেষ সমঝোতায় জিনকিস বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিষ্পত্তির পথ তৈরি হলো। একই সঙ্গে তাদের স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্ব ঘিরে দীর্ঘদিনের ঘুষের নেটওয়ার্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১:১১
অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে ফেরার নতুন সুযোগ পেয়েছেন অনায়া বাঙ্গার। ছবি: সংগৃহীত
ট্রান্সজেন্ডার অনায়া ভারতে সুযোগ না পেলেও অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার অনুমতি পেলেন

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনায়া বাঙ্গারকে অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ঘরোয়া পর্যায়ে খেলার সুযোগ দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২০২৭ সালের মার্চ থেকে তিনি দেশটির নারী ক্রিকেটের ‘এলিট’ পর্যায়ে খেলার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এর ফলে নারী বিগ ব্যাশ লিগে (ডব্লিউবিবিএল) খেলার পথও খুলেছে তাঁর সামনে। তবে কোনো দলের সঙ্গে চুক্তি বা দলে জায়গা পাওয়ার নিশ্চয়তা এখনো পাননি তিনি।   ২৫ বছর বয়সী অনায়া আগে মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন। ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে ওঠার সময় তিনি সারফরাজ খানসহ ভারতের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছেন। পরে যুক্তরাজ্যেও ক্রিকেট চালিয়ে যান। চলতি বছরের মার্চে থাইল্যান্ডে লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণমূলক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার সুযোগের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে আবেদন করেন তিনি। সংস্থাটির পর্যালোচনার পর তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নারী কমিউনিটি ও প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।   তবে এলিট পর্যায়ে খেলতে হলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। সংস্থাটির নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগে এলিট ক্রিকেটে অংশ নিতে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা অন্তত ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হবে। ২০২৭ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর অনায়াকে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অনায়া জানিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে তিনি বলেন, একটা সময় তাঁর মনে হয়েছিল হয়তো আর কখনো ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। নতুন এই সুযোগ তাঁকে আবার ক্রিকেটে ফেরার পথ দেখিয়েছে।   তবে অস্ট্রেলিয়ার নারী বিগ ব্যাশে খেলা এখনো তাঁর জন্য অনেক দূরের লক্ষ্য। যোগ্যতা অর্জন করলেই কোনো দলে জায়গা নিশ্চিত হবে না। তাঁকে প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্লাবে যোগ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে হবে, শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে হবে এবং ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে নিজের পারফরম্যান্স প্রমাণ করতে হবে। এরপরই কোনো বিগ ব্যাশ ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে দলে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। অনায়া নিজেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তাঁর ভাষায়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁকে কোনো দলের জায়গা দেয়নি, বরং সেই জায়গা অর্জনের একটি পথ তৈরি করে দিয়েছে। তাঁকে এখন অনুশীলন, প্রতিযোগিতা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।   অনায়ার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পেছনে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত বছর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, নারী ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের জন্য কী নিয়ম রয়েছে। তাঁর দাবি, সেই চিঠির কোনো উত্তর তিনি পাননি। পরে চলতি বছরের জুনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নীতিমালা নেই।   আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অবশ্য ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ২০২৩ সালে নতুন লিঙ্গ-যোগ্যতা নীতি অনুমোদন করে। ওই নীতিতে বলা হয়, পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্য দিয়ে যাওয়া নারী খেলোয়াড়রা অস্ত্রোপচার বা লিঙ্গ পরিবর্তনসংক্রান্ত চিকিৎসা নিলেও আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আইসিসি স্পষ্ট করেছে, এই নিয়ম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রযোজ্য এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে যোগ্যতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতির ওপর নির্ভর করে।   অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে তাই আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মে পার্থক্য রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব নীতিমালার আওতায় অনায়া ঘরোয়া পর্যায়ে ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাঠে ফিরে নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স পুনর্গঠন করা। অনায়ার লক্ষ্য স্পষ্ট, ২০২৭ সালে নারী বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ তৈরি করা। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে পরিচয় বা অতীত নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জায়গা করে নিতে চান তিনি।   সূত্র: ডেইলি মেইল

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ০:৭
চীনের তৈরি মানবাকৃতির রোবট ‘লাইটনিং’ ১০০ মিটার দৌড়েছে ৯.৩২ সেকেন্ডে। ছবি: সংগৃহীত
উসাইন বোল্টকে হারাল চীনের রোবট 'লাইটনিং', ১০০ মিটার দৌড়াল মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে

উসাইন বোল্টের ১০০ মিটার দৌড়ের বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে চীনের তৈরি মানবাকৃতির রোবট ‘লাইটনিং’। প্রস্তুতিমূলক এক পরীক্ষায় রোবটটি মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।   চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনারের তৈরি লাইটনিংয়ের এই সময় ২০০৯ সালে বার্লিনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে উসাইন বোল্টের করা ৯.৫৮ সেকেন্ডের মানব বিশ্বরেকর্ডের চেয়ে ০.২৬ সেকেন্ড কম। ওই রেকর্ডই এখন পর্যন্ত মানুষের ১০০ মিটার দৌড়ের স্বীকৃত বিশ্বরেকর্ড।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লাইটনিংয়ের ৯.৩২ সেকেন্ডের দৌড়টি ছিল একটি প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায়। এটি মানব অ্যাথলেটিকসের কোনো স্বীকৃত বিশ্বরেকর্ড নয়। ফলে বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের রেকর্ড এখনো বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের স্বীকৃত মানব বিশ্বরেকর্ড হিসেবেই বহাল রয়েছে।   বেইজিংয়ে শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্ব মানবাকৃতির রোবট গেমসকে সামনে রেখে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। দৌড়ের সময় লাইটনিংয়ের সর্বোচ্চ গতি উঠেছিল প্রতি সেকেন্ডে ১৪.৫ মিটার, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ৫২.২ কিলোমিটার।   এটাই অবশ্য লাইটনিংয়ের প্রথম চমক নয়। চলতি বছরের এপ্রিলে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ২১ কিলোমিটারের মানবাকৃতির রোবট হাফ ম্যারাথনেও এটি প্রথম হয়েছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৌড়ানো লাইটনিং ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে, যা সে সময়ের মানব হাফ ম্যারাথন বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুত। তখন লাইটনিংয়ের উচ্চতা ছিল ১৬৯ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫ সেন্টিমিটার। বিশ্ব রোবট গেমসের আগে গবেষকেরা এর পায়ের দৈর্ঘ্য আরও ১০ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে ১.০৫ মিটার করেছেন বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।   এ বছরের বিশ্ব মানবাকৃতির রোবট গেমসেও লাইটনিংসহ বিভিন্ন রোবট অ্যাথলেটিকস, ফুটবল, ভারোত্তোলন, মার্শাল আর্টসহ নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। ২২ থেকে ২৬ আগস্ট বেইজিংয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারের বেশি রোবট অংশ নিচ্ছে। রোবটের দৌড়ের এই সাফল্য চীনের মানবাকৃতির রোবট প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও অগ্রগতির বিষয়টিও সামনে এনেছে। দেশটির নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবটের হার্ডওয়্যারের উন্নয়নকে উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও ভোক্তা পর্যায়ের বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখছে।   তবে মানুষের সঙ্গে রোবটের এমন রেকর্ড তুলনার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। রোবটের শরীর, শক্তির উৎস, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নকশা মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতার মতো নয়। এ কারণে রোবটের ৯.৩২ সেকেন্ডকে বোল্টের মানব রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করা গেলেও এটিকে মানব অ্যাথলেটিকসের নতুন বিশ্বরেকর্ড বলা যাবে না।   তবু প্রযুক্তির দিক থেকে ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। মাত্র কয়েক বছর আগেও মানবাকৃতির রোবটের জন্য দ্রুত ও স্থিরভাবে দৌড়ানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এখন সেই রোবটই মানুষের দ্রুততম দৌড়ের সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে রোবট কতটা দ্রুত, ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারবে তা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২১:৪০
প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর কোনো বিশাল আয়োজন ছাড়াই নিজেদের বাড়িতে খুব সীমিত পরিসরে বিয়ে করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। ছবি: সংগৃহীত
শুধু সন্তানরাই ছিলেন অতিথি, একান্ত সাদামাটা আয়োজনে বিয়ে সারলেন রোনালদো-জর্জিনা

চাইলেই বিশ্বের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়েগুলোর একটি আয়োজন করতে পারতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। অর্থ, খ্যাতি কিংবা অতিথির তালিকায় তারকার অভাব ছিল না। কিন্তু প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ের দিনটিতে তারা বেছে নিলেন ঠিক উল্টোটা। কোনো বিশাল আয়োজন বা রেড কার্পেট নয়, নিজেদের বাড়িতে খুব সীমিত পরিসরে বিয়ে করেছেন এই তারকা জুটি।    গত ১১ আগস্ট পর্তুগালের কাসকাইসে নিজেদের বাড়িতে বিয়ে করেন রোনালদো ও জর্জিনা। দিনটির আরেকটি বিশেষ তাৎপর্য ছিল, ঠিক এক বছর আগে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজেদের বাগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। একই সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে তাদের প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই সময়ের সঙ্গে।    প্রকাশিত বিয়ের নথি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিভিল আনুষ্ঠানিকতায় চারজন সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জর্জিনার বোন ইভানা রদ্রিগেজ এবং রোনালদোর দীর্ঘদিনের বন্ধু মিগেল পাইশাও। তবে পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তাদের পাঁচ সন্তান। বড় কোনো অতিথি তালিকার পরিবর্তে সন্তানদের নিয়েই ব্যক্তিগত মুহূর্তটি কাটাতে চেয়েছিলেন তারা।    সিভিল বিয়ের পর রোনালদো, জর্জিনা ও তাদের সন্তানরা যান পর্তুগালের বিখ্যাত ফাতিমা ধর্মীয় তীর্থস্থানে। সেখানে একটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাদের বিবাহিত জীবনের জন্য আশীর্বাদ নেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রচলিত অর্থে বড় কোনো চার্চ ওয়েডিংয়ের পরিবর্তে ধর্মীয় অংশটিও রাখা হয়েছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত।    বিয়ের ছবি ও বিস্তারিত প্রকাশের বিশেষ সুযোগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোগ। সেখানে জর্জিনা জানিয়েছেন, তাদের জীবনে বাড়ি, গাড়ি, ভ্রমণ কিংবা বিলাসবহুল জিনিস পাওয়াটা কঠিন নয়। বরং এত পরিচিত জীবনে সত্যিকারের ব্যক্তিগত একটি মুহূর্ত পাওয়াই তাদের কাছে অনেক বেশি বিরল ও মূল্যবান হয়ে উঠেছে।    বিয়ের পোশাকেও ছিল তাদের সম্পর্কের শুরুর গল্পের ছোঁয়া। যে গুচি স্টোরে দুজনের প্রথম পরিচয় হয়েছিল, বিয়ের দিন দুজনেই সেই ফ্যাশন হাউসের তৈরি পোশাক পরেন। জর্জিনা প্রচলিত ভারী ওয়েডিং গাউনের পরিবর্তে সাদা সিল্কের পোশাক বেছে নেন, আর রোনালদো পরেছিলেন কাস্টম তৈরি হালকা রঙের স্যুট।    তবে অনুষ্ঠান ছোট হলেও জর্জিনার গয়নায় বিলাসিতার কমতি ছিল না। বিয়েতে তিনি শোপার্ডের অত্যন্ত মূল্যবান ডায়মন্ড জুয়েলারি পরেছিলেন। ফলে আয়োজন ছিল ব্যক্তিগত, কিন্তু তারকাজুটির নিজস্ব স্টাইলও ছিল স্পষ্ট।    রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৬ সালে। পরের বছর তারা প্রকাশ্যে একসঙ্গে আসেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা পরিবার গড়ে তুলেছেন, সন্তানদের বড় করেছেন এবং ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-দুঃখ একসঙ্গে পার করেছেন। ২০২২ সালে যমজ সন্তানের জন্মের সময় তাদের নবজাতক ছেলে মারা যাওয়ার কঠিন অভিজ্ঞতাও একসঙ্গে সামলেছেন তারা।    দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিয়ে নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। অবশেষে সেই বিয়েটা হলো এমনভাবে, যা তাদের তারকাখ্যাতির সঙ্গে যেন একেবারেই বিপরীত। বিশাল হলরুম, শত শত অতিথি কিংবা ক্যামেরার ভিড়ের বদলে নিজেদের বাড়ি, সন্তান এবং অল্প কয়েকজন কাছের মানুষকেই বেছে নিয়েছেন তারা।   বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ক্রীড়া তারকাদের একজনের কাছে বিলাসিতা হয়তো প্রতিদিনের জীবনের অংশ। কিন্তু রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের আয়োজন দেখাল, তাদের কাছে সেই দিনের সবচেয়ে দামি বিষয়টি ছিল এমন কিছু, যা অর্থ দিয়ে সহজে কেনা যায় না - ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের মুহূর্তটুকু উপভোগ করার সুযোগ।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১১:২১
আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টে ফর্মুলা ৪ বা এফ৪ রেসে প্রথম বাংলাদেশি ড্রাইভার হিসেবে জয় পেয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন আরহাম রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ফর্মুলা ৪ রেস জিতে ইতিহাস গড়লেন আরহাম

আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের আরহাম রহমান। ফর্মুলা ৪ বা এফ৪ রেসে প্রথম বাংলাদেশি ড্রাইভার হিসেবে জয় পেয়েছেন তিনি। গত সপ্তাহান্তে অর্জিত এই ক্লাস ভিক্টরিই ছিল এফ৪ ক্যাটাগরিতে তার প্রথম পডিয়াম ফিনিশ।   দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সিঙ্গেল সিটার মোটরস্পোর্টে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর আগে বাংলাদেশি ড্রাইভাররা ফর্মুলা রেসিংয়ে অংশ নিলেও এফ৪ গাড়িতে রেস জয়ের নজির ছিল না।   আরহামের মোটরস্পোর্ট যাত্রা শুরু হয়েছিল অনেকটা ঘটনাচক্রে। ছোটবেলা থেকেই টেলিভিশনে মোটর রেসিং দেখতেন তিনি। তবে বাংলাদেশে মোটরস্পোর্টের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পেশাদার রেসিংয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট পথ না থাকায় এটিকে ক্যারিয়ার হিসেবে ভাবার সুযোগ তখন খুব একটা ছিল না।   পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ১৪ বছর বয়সে বিনোদনের জন্য প্রথমবার গো কার্ট ট্র্যাকে যান আরহাম। সেই রেন্টাল কার্টিং সেশনেই জয় পান তিনি। এরপর থেকেই প্রতিযোগিতামূলক মোটরস্পোর্টে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করেন।   কার্টিংয়ের পাশাপাশি সিমুলেটর ব্যবহার করে নিয়মিত অনুশীলন করতে থাকেন। ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ আসে।   ২০২২ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এফআইএ মোটরস্পোর্ট গেমসে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন আরহাম। অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মনোনয়ন ও সহযোগিতায় সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।   পরের বছরই তার সামনে আসে বড় সুযোগ। ২০২৩ সালে এফআইএ এফ৪ সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে একটি সিটের প্রস্তাব পেয়েছিলেন আরহাম। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ ও স্পনসরশিপের অভাবে সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেননি।   মোটরস্পোর্টে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থই তার সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি ছিল। অস্ট্রেলিয়ায় ফর্মুলা ভি গাড়ির প্রথম টেস্টের খরচ জোগাতে তিনি মেলবোর্নের একটি বার্গার রেস্টুরেন্টে কাজ করেছিলেন। প্রায় ছয় মাস টাকা জমিয়ে সেই টেস্টে অংশ নেন।   সুযোগ হারালেও রেসিং ছেড়ে দেননি আরহাম। আবার কার্টিংয়ে ফিরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন। ২০২৫ সালে অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল কার্টিং চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জেতেন তিনি। পরে শ্রীলঙ্কায় এশিয়া প্যাসিফিক মোটরস্পোর্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সপ্তম হন।   এরপর ইন্দোনেশিয়ার মান্দালিকা গ্র্যান্ড প্রিক্স সার্কিটে এফআইএ ফর্মুলা ৪ গাড়িতে টেস্ট সম্পন্ন করেন আরহাম। একটি ফর্মুলা ৪ গাড়ি ঘণ্টায় প্রায় ২৩০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। উচ্চগতির কর্নারে চালকের শরীরে প্রায় ৪জি পর্যন্ত চাপ পড়তে পারে, ফলে এই পর্যায়ের রেসিংয়ে দক্ষতার পাশাপাশি উচ্চমাত্রার শারীরিক সক্ষমতাও প্রয়োজন হয়।   ফর্মুলা ৪ আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টের সিঙ্গেল সিটার ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম প্রাথমিক ধাপ। সাধারণত কার্টিং থেকে উঠে আসা তরুণ ড্রাইভাররা এফ৪ দিয়ে পেশাদার ওপেন হুইল রেসিংয়ে প্রবেশ করেন। এরপর রয়েছে ফর্মুলা রিজিওনাল, ফর্মুলা ৩ এবং ফর্মুলা ২। সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে ফর্মুলা ১।   আরহামের লক্ষ্যও এখানেই থেমে নেই। তার পরবর্তী বড় লক্ষ্য ২০২৭ সালের ইউরো ফর্মুলা ৩ চ্যাম্পিয়নশিপ। ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য একটি সিট প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় স্থানীয় আর্থিক সহায়তা ও স্পনসরশিপ পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।   দীর্ঘমেয়াদে ফর্মুলা ১ তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। তবে ফর্মুলা ২, জিটি৩ ও এন্ডুরেন্স প্রোটোটাইপ রেসিংকেও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখছেন এই বাংলাদেশি ড্রাইভার।   নিজের সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি কার্যকর মোটরস্পোর্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন আরহাম। তার মতে, দেশে প্রতিভাবান তরুণের অভাব নেই, কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে।   বিশেষ করে এফআইএ মানের কার্টিং অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ড্রাইভারদের আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টে যাওয়ার পথ অনেক সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।   এফ৪ রেসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জয়ের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনারই নতুন উদাহরণ তৈরি করলেন আরহাম রহমান। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম এফ৪ পডিয়াম হলেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সিঙ্গেল সিটার মোটরস্পোর্টের ইতিহাসে অর্জনটি জায়গা করে নিল আলাদা একটি অধ্যায় হিসেবে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১০:৬
ফিফা বিশ্বকাপের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে নর্থ টেক্সাসে গ্রেপ্তার ৫০ জনের বেশি
ফিফা বিশ্বকাপের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে নর্থ টেক্সাসে গ্রেপ্তার ৫০ জনের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণ ঠেকাতে চালানো বড় ধরনের আন্ডারকভার অভিযানে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামের এই অভিযানে ৪০ জনের বেশি সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত বা উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।   সোমবার অভিযানের ফলাফল প্রকাশ করে ট্যারান্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষ। ট্যারান্ট কাউন্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশ্বকাপ চলাকালে কয়েক দফায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ৫৬ জনের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা অনলাইনে শিশু সেজে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অভিযুক্তরা যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে বিশ্বাস করেছিলেন, তাদের বয়স ৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   অভিযানের অংশ হিসেবে আন্ডারকভার অফিসাররা যৌনকর্মী সেজে অনলাইনে যোগাযোগ করেন, অনলাইনে প্রকাশিত যৌনসেবার বিজ্ঞাপনের জবাব দেন এবং কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক পরিচয়ে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে কথোপকথন চালান। এরপর নির্ধারিত স্থানে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   অভিযানটি একদিনে পরিচালিত হয়নি। আর্লিংটন পুলিশের সঙ্গে ১৫, ১৬ ও ১৮ জুন, ফোর্ট ওর্থ পুলিশের সঙ্গে ২৯ জুন এবং ১ ও ২ জুলাই এবং ট্যারান্ট কাউন্টি শেরিফের অফিস ও আর্লিংটন পুলিশের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালানো হয়।   জুনের মাঝামাঝি আর্লিংটনে পরিচালিত একটি অভিযানে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, আন্ডারকভার অফিসারদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগের পর তারা অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে টেক্সাস আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত যৌনসেবা কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে।   জুনের শেষ এবং জুলাইয়ের শুরুতে আরও চারটি সরাসরি আন্ডারকভার অভিযানে একই ধরনের অভিযোগে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোতে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ও আগে থেকে থাকা অ্যারেস্ট ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আরও সাতজনকে আটক করা হয়েছে।   শিশুদের লক্ষ্য করে অনলাইনে যোগাযোগের অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অংশের তদন্তে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের ডালাস ফিল্ড অফিস আন্ডারকভার অনলাইন কর্মী, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশ্লেষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, তাদের সহায়তায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটররাও অভিযানের কয়েকটি মামলা পর্যালোচনা করছেন। এরই মধ্যে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন কর্মকাণ্ডে প্রলুব্ধ করার চেষ্টার অভিযোগে ফেডারেল চার্জ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তারা এমন একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন, যাকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর বলে মনে করেছিলেন। বাস্তবে সেটি ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্ডারকভার অপারেশন।   অভিযানে শুধু গ্রেপ্তারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ইউএস অ্যাটর্নির অফিস জানিয়েছে, ৪০ জনের বেশি সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত বা উদ্ধার করে বিভিন্ন সহায়তা সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা আনবাউন্ড নাও জানিয়েছে, বিশ্বকাপকেন্দ্রিক এসব অভিযানে শনাক্ত ১৫ জনকে তারা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। জরুরি পোশাক, যাতায়াত, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয়, কাউন্সেলিং, শিক্ষা সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা এসব সেবার অন্তর্ভুক্ত।   তদন্ত এখানেই শেষ হচ্ছে না। আরও ১৪টি তদন্ত সক্রিয় রয়েছে এবং কয়েকটি অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট এখনো কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে সামনে আরও গ্রেপ্তার ও নতুন অভিযোগ আসতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ট্যারান্ট কাউন্টির এই অভিযানে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস, ইউএস অ্যাটর্নির অফিস, এফবিআইয়ের ডালাস ডিভিশন, আর্লিংটন পুলিশ ও ফোর্ট ওর্থ পুলিশসহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়। আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের মতো বিপুল মানুষের সমাগমের বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনকে মানবপাচারকারীরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, আর সে কারণেই বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।   বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ঘিরে উত্তর টেক্সাসে এর আগেও ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামে বৃহত্তর আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। এবারের মানবপাচারবিরোধী অভিযানের তদন্তও চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১:২৭
দুই স্ত্রীর হাতাহাতি ও পারিবারিক সংঘাতের জেরে জ্ঞান হারিয়ে আলোচনায় এসেছেন মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান। ছবি: সংগৃহীত
দুই স্ত্রীর হাতাহাতি, উত্তেজনায় জ্ঞান হারালেন মিশরের কোচ, প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স

মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান দুই স্ত্রীর হাতাহাতি ও সংঘাতের জেরে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে জ্ঞান হারিয়েছেন। মিশরের উত্তর উপকূলের একটি পর্যটন এলাকার বড় রিসোর্ট হোটেলের ক্যাফেতে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর প্রথম স্ত্রী হোয়াইদা আল-গারবাওয়িকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হোসাম হাসান।   হোসামের দ্বিতীয় স্ত্রী দিনা মোস্তফা, যিনি ড্যান অ্যাডাম নামেও পরিচিত, তার আইনজীবী মোহাম্মদ শামস আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে হোয়াইদা আল-গারবাওয়ের সঙ্গে হোসামের দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। তাদের সংসারে আয়া, রুয়া ও ওমর নামে তিন সন্তান রয়েছে।   প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেদনের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তর উপকূলের ওই ক্যাফেতে দুই স্ত্রী মুখোমুখি হলে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি তীব্র শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সদস্যরা শরীরে কালশিটে দাগ ও বিভিন্ন ধরনের আঘাতের শিকার হন।   ঘটনার সময় ক্যাফের অন্যান্য অতিথিদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দুই পক্ষের সংঘাত ও উত্তেজনা সামলাতে না পেরে একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন হোসাম হাসান।   ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিশরের ক্রীড়া অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর আইনি ও দাপ্তরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন হোসাম।   হোয়াইদা আল-গারবাওয়ের সঙ্গে হোসাম হাসানের দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবন ছিল। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালেও দুজনের মধ্যে প্রায় ১০ দিনের জন্য বিচ্ছেদ হয়েছিল। পরে সেই সম্পর্ক পুনর্বহাল করা হলেও সাম্প্রতিক বিবাদের পর এবার স্থায়ী বিচ্ছেদের পথ বেছে নেওয়া হলো।   প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালে ড্যান অ্যাডাম নামে পরিচিত দিনা মোস্তফাকে বিয়ে করেছিলেন হোসাম হাসান। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই স্ত্রীর মধ্যে সংঘাতের বিষয়টি সামনে আসার পরই প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৩:৫
বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পরিবারসহ রোজারিওতে পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি

বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। শেষ পর্যন্ত শনিবার আর্জেন্টিনার রোজারিওতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পরিবারসহ নিজ শহরে পৌঁছেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। একই সময়ে লিগস কাপে ইন্টার মায়ামির হয়ে গোল করে সেই গোল মেসিকে উৎসর্গ করেছেন তার সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রদ্রিগো ডি পল।   স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে, রাত ২টার দিকে ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে পরিবারঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।   বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল থেকে উড়ে এসে শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রোজারিও বিমানবন্দরে পৌঁছান লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তান। বিমানবন্দর থেকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তারা রোজারিওর পাশের শহর পেরেজে যান, যেখানে হোর্হে মেসিকে সমাহিত করা হবে।   আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানটি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের উপস্থিতিতে একান্ত ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে কবরস্থানের বাইরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। তারা মেসি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং এই কঠিন সময়ে মানসিক সমর্থন জানাতেই সেখানে উপস্থিত হন।   লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হোর্হে মেসি ছিলেন তার অন্যতম বড় সমর্থক ও অভিভাবক। অনেক সময় তিনি ছেলের প্রতিনিধি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফুটবলজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও হোর্হের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।   বাবার মৃত্যুর কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মন্টেরির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ম্যাচ থেকে মেসিকে অব্যাহতি দেয় ক্লাব। শেষকৃত্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানা গেছে।   ম্যাচ শুরুর আগে হোর্হে মেসির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকেরা 'ফোর্সা, লিও' অর্থাৎ 'শক্ত থাকো, লিও' লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে মেসির প্রতি সমর্থন জানান।   ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রথম গোলটি করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত শট জালে জড়ালে গোল উদযাপনের সময় তিনি জার্সি খুলে ভেতরে পরা মেসির ১০ নম্বর জার্সি প্রদর্শন করেন। এই আবেগঘন মুহূর্তে তিনি গোলটি শোকাহত বন্ধু ও জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে উৎসর্গ করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ইন্টার মায়ামি।   হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাব, খেলোয়াড় ও সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, রোজারিও সেন্ট্রাল এবং নিউয়েলস ওল্ড বয়েজসহ বিভিন্ন ক্লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ২৩:৫৭
জনপ্রিয় ফুটবলার মেসি ও তারা বাবা। ছবি:সংগৃহীত
মারা গেলেন লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি

আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের প্রতিনিধি জর্জ মেসি ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়েসহ একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।    মেসির জীবনে জর্জের ভূমিকা ছিল শুধু একজন বাবার নয়, ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শকেরও। শৈশব থেকেই ছেলের ফুটবল প্রতিভা বিকাশে তিনি পাশে ছিলেন। মেসির চিকিৎসা ও ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রাথমিক পর্যায়ের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও বাবার ভূমিকা ছিল।   মেসি যখন কিশোর বয়সে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমান এবং বার্সেলোনায় নিজের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পান, তখনও জর্জ তার পাশে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ছেলের পেশাগত ও ব্যবসায়িক বিষয় দেখভালের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।    ২০২৬ বিশ্বকাপের সময় জর্জ মেসির অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসে। জুনে মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ৬৮ বছর বয়সী জর্জ স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। একই সময়ে তার মৃত্যুর একটি মিথ্যা খবরও ছড়িয়ে পড়েছিল, যা পরিবার পরে অস্বীকার করে।    বিশ্বকাপ চলাকালে বাবার অসুস্থতার প্রভাব মেসির ওপরও পড়েছিল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পর মেসিকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়। পরে তিনি জানান, তার কান্নার সঙ্গে ফুটবলের বিষয় নয়, বরং ব্যক্তিগত কঠিন সময়ের সম্পর্ক ছিল।   জর্জ মেসি দীর্ঘদিন ধরে ছেলের ক্যারিয়ারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। মাঠে মেসির সাফল্যের পাশাপাশি চুক্তি, ব্যবসায়িক বিষয় ও পেশাগত সিদ্ধান্তেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে মেসির ফুটবলজীবনের দীর্ঘ পথচলায় বাবার উপস্থিতি ছিল অবিচ্ছেদ্য।   জর্জের মৃত্যুর খবর এমন এক সময়ে এলো, যখন বিশ্বকাপের পর মেসি সম্প্রতি আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ফিরেছিলেন। জুলাইয়ে রোজারিও সফরের সময়ও ৬৮ বছর বয়সী বাবার সঙ্গে তার দেখা হওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল। তখন জর্জ চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ছিলেন বলে জানানো হয়েছিল।    মেসির জীবনে বাবার অবদান তাই কেবল পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। একজন কিশোর ফুটবলারের স্বপ্নকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্যারিয়ারে রূপ দিতে জর্জ মেসি ছিলেন তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী, প্রতিনিধি ও আস্থার মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে মেসি পরিবারের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মেসিভক্তদের মধ্যেও শোক নেমে এসেছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৯:৭
আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ফুটবল তারকা মেসি। ছবি:সংগৃহীত
বিশ্বকাপে মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ফাঁস হলো এফবিআইয়ের গোপন নিরাপত্তা নথি

২০২৬ বিশ্বকাপের উৎসব শেষ হলেও টুর্নামেন্ট ঘিরে নিরাপত্তার এক উদ্বেগজনক চিত্র এখন সামনে আসছে। আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার গোপন নিরাপত্তা নথির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ একাধিক তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারিকে হত্যার হুমকি এবং নানা ধরনের হয়রানির মোকাবিলা করতে হয়েছে।   স্পেনের প্রেনসা ইবেরিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য পরে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। নথিতে থাকা সব হুমকি বাস্তব হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অনেক ঘটনাকেই যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।   সবচেয়ে গুরুতর হুমকিগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ম্যাচকে ঘিরে একজন ফোন করে পুলিশকে জানান, তিনি ও তাঁর দুই সহযোগী বিস্ফোরক ও অস্ত্র নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে মেসিও ছিলেন। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি ২৭ জুন টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জিতেছিল।   আরেকটি ঘটনায় আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসিকে লক্ষ্য করে শরীরে বোমা বেঁধে হামলার হুমকি দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে স্টেডিয়ামে বোমা রাখা হয়েছে বলেও ফোন আসে। এরপর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয় বলে ফাঁস হওয়া নথির ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   বিশ্বকাপের সময় ডালাস স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা কতটা কড়াকড়ি ছিল, তার আরেকটি উদাহরণও রয়েছে। আর্জেন্টিনা ও জর্ডান ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানোর অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ।   পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও ঘিরে ছিল নিরাপত্তা উদ্বেগ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি রোনালদো কোথায় থাকছেন এবং তাঁর আবাসনের ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি নিরাপত্তাকর্মীদের নজরে আসার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হিউস্টনে বিশ্বকাপ চলাকালে রোনালদো ও পর্তুগাল দলকে দেখতে তাদের হোটেলের বাইরে বিপুলসংখ্যক সমর্থকও জড়ো হয়েছিলেন।   অন্য জায়গাতেও রোনালদোর খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন কয়েকজন সমর্থক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ছিল ছবি বা সেলফি তোলা, আবার ম্যাচ চলাকালে দর্শকের মাঠে ঢুকে পড়ার ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তাকর্মীদের এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।   শুধু মেসি ও রোনালদো নন, মাঠের পারফরম্যান্স ও বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্য ফুটবলারদের বিরুদ্ধেও হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নরওয়ের আলেকজান্ডার সরলথ গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে ফাঁস হওয়া নথির বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কলম্বিয়ার জামিনটন ক্যাম্পাজসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড়কেও হুমকির মুখে পড়তে হয়।   ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল। একটি ম্যাচের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং প্যারাগুয়েতে তাঁর প্রতিকৃতি পোড়ানোর ঘটনাও ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে হুমকিমূলক বার্তার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ারের ক্ষেত্রে। আর্জেন্টিনা ও মিসরের একটি বিতর্কিত ম্যাচের পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে ফাঁস হওয়া নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   ওই ম্যাচে ভিএআর দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি উইলি দেলাজোদও হুমকি পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ফ্রান্সে সংশ্লিষ্ট রেফারিদের পরিবার ও বাড়ির নিরাপত্তায় পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।   দক্ষিণ কোরিয়া দলও বাদ যায়নি। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দলের কোচ ও খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে ফেরার সময় তাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে হয়েছিল।   ফাঁস হওয়া এসব নথি দেখাচ্ছে, মাঠে লাখো দর্শকের উচ্ছ্বাস আর বিশ্বকাপের জমকালো আয়োজনের পাশাপাশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নেপথ্যে প্রতিনিয়ত সম্ভাব্য হুমকি যাচাই করতে হয়েছে। সব হুমকি শেষ পর্যন্ত বাস্তব হামলায় পরিণত হয়নি, তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের নিরাপদ রাখতে কতটা বিস্তৃত নিরাপত্তা কার্যক্রম চালাতে হয়েছে, নতুন তথ্যগুলো তারই একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এনেছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৫:৪০
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন। ছবি: সংগৃহীত
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে সমর্থন দিল মেক্সিকো-আর্জেন্টিনা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে তীব্র বিরোধ ও সমালোচনার মধ্যে এই দুই দেশের সমর্থন পেলেন ইনফান্তিনো। একই সময়ে ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় ফুটবল সংস্থার মধ্যে মতবিরোধও তীব্র হয়েছে।   সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন নিজেদের আঞ্চলিক কনফেডারেশনের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল পরিচালনাকারী সংস্থা কনকাকাফ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ফিফার ২১১ সদস্যের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে কোনো প্রক্রিয়াকে তারা স্বীকৃতি বা অনুমোদন করবে না।   মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন আরও জানিয়েছে, তারা ইনফান্তিনোর আহ্বানের সঙ্গে একমত হয়ে ২১১ সদস্য সংস্থার স্বার্থে সম্মিলিতভাবে ফুটবলের উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চায়। ফেডারেশনটি বলেছে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে ফুটবলের উন্নয়নে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে তারা সমর্থন করছে।   এদিকে বৃহস্পতিবার আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সর্বসম্মতভাবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপসহ ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতা বয়কটের অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ার ফুটবল কনফেডারেশনও ইউরোপীয় ও উত্তর-মধ্য আমেরিকার সংস্থাগুলোর অবস্থানের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।   দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনও বৃহস্পতিবার এমন যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে ফিফার ২১১ সদস্যের ভোট ছাড়া ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন একই অবস্থান প্রকাশ করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে রাবাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ভবিষ্যতের একটি অংশ বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে তৈরি বিতর্কের জন্য সদস্যদের কাছে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিতর্কের দিকে নিয়ে যাওয়া প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থাটি।   এই বিতর্ক আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি হওয়ার প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলেছে। দুই মাস আগেও তার পুনর্নির্বাচন প্রায় নিশ্চিত বলে মনে হলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তবে মার্চের নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোনো স্পষ্ট প্রার্থী এখনো সামনে আসেননি। এর মধ্যেও তিনি উল্লেখযোগ্য সমর্থন ধরে রেখেছেন।   ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বৃহস্পতিবার ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইনফান্তিনোকে দেওয়া এক চিঠিতে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গত ১০ বছরে ফিফার কাজের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছে। তাদের মতে, এই সময়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও পরিষ্কার শাসনব্যবস্থার ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন স্বীকার করেছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাবটি নিশ্চিততার তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং এতে ভুলও হয়েছে। তাদের মতে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ হলো আগামী বছরের কংগ্রেসের আগে ফিফার নেতৃত্বে কাজ চালিয়ে যাওয়া।   দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন এর আগে ফিফার পক্ষ থেকে বারবার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সংলাপের পথে না যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। একই সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় আগে ফিফায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য চালু করা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।   এদিকে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ফেডারেশন ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর আগে ইংল্যান্ড ও আলবেনিয়ার ফুটবল ফেডারেশনও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। ক্রোয়েশিয়ার ফেডারেশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আলোচনার পর অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাপক পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রো বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর প্রস্তাবটি শুধু পরিচালনাগত ব্যর্থতা নয়, বরং সভাপতির ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার। অন্যদিকে ফিফা জানিয়েছে, বাণিজ্যিক স্বত্বের প্রস্তাব নিয়ে নেওয়া সব পদক্ষেপ তাদের নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ভুলগুলো পরিচালনাগত নিয়ম ভঙ্গের কারণে নয়; বরং প্রক্রিয়া ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছিল।   সূত্র: রয়টার্স

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১:৪০
রুপার পদক বিক্রি করে হৃদরোগে আক্রান্ত অচেনা শিশুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন পোলিশ অলিম্পিয়ান
রুপার পদক বিক্রি করে হৃদরোগে আক্রান্ত অচেনা শিশুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন পোলিশ অলিম্পিয়ান

পোল্যান্ডের অলিম্পিক জ্যাভেলিন থ্রোয়ার মারিয়া আন্দ্রেইচিক নিজের টোকিও অলিম্পিকের রুপার পদক নিলামে তুলে এক অচেনা শিশুর জীবন রক্ষায় সহায়তা করেছিলেন। গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত আট মাস বয়সী মিওশেক মালিশার অস্ত্রোপচারের জন্য অর্থ সংগ্রহে এই পদক্ষেপ নেন তিনি। ২০২১ সালে ঘটে যাওয়া এই মানবিক উদ্যোগটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।    টোকিও অলিম্পিকে নারীদের জ্যাভেলিন থ্রো ইভেন্টে রুপার পদক জয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই মারিয়া জানতে পারেন, পোল্যান্ডের এক শিশু বিরল হৃদরোগে ভুগছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে অস্ত্রোপচারের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এরপর তিনি নিজের জীবনের প্রথম অলিম্পিক পদক নিলামে তোলার ঘোষণা দেন।    নিলামে পোল্যান্ডের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ঝাবকা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলারে পদকটি কিনে নেয়। তবে মানবিক এই উদ্যোগকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি অর্থ পরিশোধের পর পদকটি আবার মারিয়া আন্দ্রেইচিকের কাছেই ফিরিয়ে দেয়। ফলে শিশুটির চিকিৎসার অর্থও জোগাড় হয়, আবার অলিম্পিক পদকটিও নিজের কাছেই রাখতে পারেন এই অ্যাথলেট।    মারিয়া আন্দ্রেইচিক নিজেও জীবনের কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন। তিনি হাড়ের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ফিরে আসেন। পরে তিনি বলেন, একটি পদক আলমারিতে পড়ে থাকার চেয়ে যদি কারও জীবন বাঁচাতে পারে, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন।    মারিয়ার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পায়। অনেকের মতে, অলিম্পিক পদক একজন ক্রীড়াবিদের বহু বছরের পরিশ্রমের প্রতীক হলেও, অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য সেই পদক ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১:৫০
পেশাদার রেসলিং ও সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা থেকে অবসর নিলেন ব্রক লেসনার। ছবি: সংগৃহীত
রেসলিংকে বিদায় বললেন ১০বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রক লেসনার

পেশাদার রেসলিংকে বিদায় জানালেন ডব্লিউডব্লিউইর ১০বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রক লেসনার। ৪৯ বছর বয়সী এই তারকা জানিয়েছেন, শুধু রেসলিং নয়, প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার সব অধ্যায় থেকেই তিনি অবসর নিচ্ছেন।   মঙ্গলবার ‘দ্য প্যাট ম্যাকাফি শো’-তে লেসনার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবসরের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, গত শনিবার অনুষ্ঠিত ডব্লিউডব্লিউই সামারস্ল্যামে খেলা ম্যাচটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। এর আগে রেসলম্যানিয়ার পরই অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবে শেষবারের মতো আরেকটি ম্যাচ খেলার ইচ্ছায় তিনি রিংয়ে ফিরেছিলেন।   লেসনার বলেন, রেসলম্যানিয়ার পরই তার মনে হয়েছিল আর খেলা সম্ভব নয়। তবু নিজের ভেতরে কিছুটা শক্তি বাকি আছে মনে হওয়ায় শেষবারের মতো রিংয়ে নামেন। সামারস্ল্যামের সেই ম্যাচের পরই তিনি নিশ্চিত হন, এবার সত্যিই বিদায় বলার সময় এসেছে।   দক্ষিণ ডাকোটার একটি খামারবাড়িতে বেড়ে ওঠা লেসনার ২০০০ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার হয়ে এনসিএএ ডিভিশন-১ জাতীয় রেসলিং চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর ডব্লিউডব্লিউইতে যোগ দিয়ে ২০০২ সালে ডোয়েন ‘দ্য রক’ জনসনকে হারিয়ে প্রথম বিশ্ব শিরোপা জেতেন। ক্যারিয়ারে তিনি মোট ১০টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। এছাড়া দুটি রয়্যাল রাম্বল, কিং অব দ্য রিং এবং মানি ইন দ্য ব্যাংক জয়ের কৃতিত্বও রয়েছে তার। ২০১৪ সালে রেসলম্যানিয়ায় আন্ডারটেকারের টানা ২১ ম্যাচের অপরাজিত রেকর্ড ভেঙেও ইতিহাস গড়েন তিনি।   রেসলিংয়ের বাইরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগে মিনেসোটা ভাইকিংসের হয়ে সংক্ষিপ্ত সময় খেলেছেন। পরে মিশ্র মার্শাল আর্টসে নাম লিখিয়ে ২০০৮ সালে মাত্র চতুর্থ লড়াইয়েই ইউএফসির হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১৫ সালে এমএমএ থেকে অবসর নিলেও ২০১৬ সালে শেষবারের মতো একটি লড়াইয়ে অংশ নেন।   অবসরের ঘোষণা দিয়ে লেসনার বলেন, একজন সাধারণ খামারবাড়ির ছেলে হয়েও বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমই তাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন ধরে রেখে নিরলস পরিশ্রম করার আহ্বানও জানান এই কিংবদন্তি তারকা।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১:৫৬
নারী ফুটবলার ফাতেন বেন ওমর আল আজিজি। ছবি:সংগৃহীত
সাঁতরে স্পেন যাওয়ার পথে মরক্কোর নারী ফুটবলারের মৃত্যু

মরক্কোর নারী ফুটবলার ওয়াফা বেলারবি (২৭) ইউরোপে নতুন জীবনের আশায় সাঁতরে স্পেনে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। জিব্রাল্টার প্রণালী পাড়ি দেওয়ার সময় তিনি নিখোঁজ হন। পরে উদ্ধারকারীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরক্কোর তাঞ্জিয়ের উপকূল থেকে কয়েকজনের সঙ্গে স্পেনের সেউতা অভিমুখে সাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওয়াফা। যাত্রাপথে উত্তাল সমুদ্র ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরে উদ্ধার অভিযানে তার মরদেহ পাওয়া যায়।   ওয়াফা বেলারবি মরক্কোর স্থানীয় নারী ফুটবলে পরিচিত মুখ ছিলেন। স্বজন ও পরিচিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নত জীবনের আশায় তিনি ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।   জিব্রাল্টার প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হলেও এটি অনিয়মিত অভিবাসনের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবছর হাজারো মানুষ ছোট নৌকা বা সাঁতরে স্পেনের সেউতা ও মেলিয়ার মতো স্প্যানিশ ভূখণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। অনেকেই সফল হলেও, প্রতিকূল স্রোত, উত্তাল ঢেউ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে প্রতিবছর বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে।   অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূমধ্যসাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে হাজারো মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।   ওয়াফা বেলারবির মৃত্যুর ঘটনায় মরক্কোর ক্রীড়াঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ফুটবলার, সমর্থক ও অধিকারকর্মী তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৮:৩
বিশ্বখ্যাত পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং তাঁর সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেস।ছবি:সংগৃহীত
অবশেষে বিয়ে করছেন রোনালদো! চূড়ান্ত বিয়ের দিনক্ষণ

দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহেই পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে তাদের বহু প্রতীক্ষিত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম *দ্য সান* জানিয়েছে, সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলা ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এবং ৩২ বছর বয়সী জর্জিনার বিয়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে রোনালদোর জন্মশহর ফুঞ্চালের ঐতিহাসিক ফুঞ্চাল ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় সময় বিকেলে এই আয়োজন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।   ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর অতিথিদের জন্য সংবর্ধনা ও ভোজের আয়োজন করা হবে মাদেইরার পাঁচ তারকা ‘সাভয় প্যালেস’ হোটেলে। হোটেল-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বিয়ের আয়োজনের কারণে আগামী শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি তলা সাধারণ অতিথিদের জন্য বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি বারসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা শুধুমাত্র বিয়ের অনুষ্ঠানের অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।   এর আগে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, পর্তুগালের ঐতিহাসিক রেনেসাঁ যুগের এস্টেট ‘কুইনতা দা রেগালেইরা’য় বসবে এই তারকা জুটির বিয়ের আসর। তবে চলতি সপ্তাহে ওই স্থাপনাটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকায় সেই জল্পনার অবসান ঘটে।   রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর থেকে তারা দীর্ঘ সময় একসঙ্গে বসবাস করছেন এবং তাদের পরিবারে কয়েকটি সন্তানও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক মুহূর্ত নিয়মিত ভাগ করে নিলেও আনুষ্ঠানিক বিয়ে নিয়ে এতদিন কোনো ঘোষণা দেননি এই তারকা জুটি।   ফুটবল মাঠে অসংখ্য রেকর্ড গড়া রোনালদো এবার ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। বহু বছর ধরে আলোচিত এই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক পরিণতি দেখতে মুখিয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে তার কোটি কোটি ভক্ত।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৭:৩৯
ইসরায়েলকে ৩৯-৩৮ পয়েন্টে হারিয়ে ৭৫ বছর পর দলগত পদক জিতেছে মিশর। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বমঞ্চে ফেন্সিংয়ে ইসরায়েলকে হারিয়ে ৭৫ বছর পর ব্রোঞ্জ জয় মিশরের

হংকংয়ে অনুষ্ঠিত সিনিয়র বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে মিশর। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৩৯-৩৮ পয়েন্টের রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্ব ফেন্সিংয়ের দলগত ইভেন্টে ৭৫ বছর পর পদকের দেখা পেল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।   বুধবার অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। একপর্যায়ে স্কোর ৩৮-৩৮ সমতায় পৌঁছে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ‘গোল্ডেন টাচ’-এ নির্ণায়ক পয়েন্ট এনে মিশরকে ৩৯-৩৮ ব্যবধানে জয় উপহার দেন দেশটির তারকা ফেন্সার মোহাম্মদ এল-সায়েদ।   এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৫১ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের দলগত ইভেন্টে পদক জিতল মিশর। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় পর এমন সাফল্য দেশটির ফেন্সিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ম্যাচ শেষে মোহাম্মদ এল-সায়েদ ও তার সতীর্থদের উচ্ছ্বসিত উদযাপনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মিশরীয় খেলোয়াড়রা আবেগঘন উদযাপনে মেতে ওঠেন।   এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবিও ছড়িয়ে পড়ে যে ম্যাচ শেষে এল-সায়েদ ইসরায়েলের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দান করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে আন্তর্জাতিক ফেন্সিং ফেডারেশন (এফআইই) বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হংকংয়ে ২২ থেকে ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বের শীর্ষ ফেন্সাররা অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটি প্রথমবারের মতো আয়োজন করে হংকং, যেখানে ব্যক্তিগত ও দলগত—উভয় বিভাগেই পদকের জন্য লড়েছেন বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়রা।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্রোঞ্জ পদক শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়; বরং আন্তর্জাতিক ফেন্সিংয়ে মিশরের ধারাবাহিক উন্নতিরও প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ফেন্সাররা ব্যক্তিগত পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন, আর এবার দলগত ইভেন্টেও ইতিহাস গড়ল মিশর।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ২৩:৪৮
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০