বিশ্ব টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের সাবেক দুই নম্বর তারকা ও তিউনিসিয়ান গর্ব ওনস জাবেউর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার শুধু র্যাকেট হাতে নয়, বরং মানবতার পক্ষে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিগত জীবনের নতুন এক অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি, টেনিসে লিঙ্গবৈষম্য এবং প্রথম সন্তান জন্মের পর কোর্টে ফেরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এই ‘মিনিস্টার অফ হ্যাপিনেস’। গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাবেউর বলেন, "একজন অ্যাথলেট হিসেবে কথা বলাটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যখন শিশুদের ক্ষুধার্ত থাকতে দেখি বা নিরপরাধ মানুষদের প্রাণ হারাতে দেখি, তখন টেনিস কোর্টের জয়-পরাজয় গৌণ হয়ে যায়।" গাজা ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হলেও, ন্যায়ের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি টেনিস বিশ্বে নারীদের সমান অধিকার এবং লিঙ্গবৈষম্য নিয়েও মুখ খুলেছেন এই তিনবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালিস্ট। টেনিসের বড় আসরগুলোতে নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রচারের ক্ষেত্রে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করার আহ্বান জানান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে জাবেউর এখন এক নতুন রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। তিনি প্রথমবারের মতো মা হতে চলেছেন। তবে মা হওয়া মানেই যে ক্যারিয়ারের ইতি, তা মানতে নারাজ এই তিউনিসিয়ান। কিম ক্লিইস্টার্সের মতো কিংবদন্তিদের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, মা হওয়ার পর আরও শক্তিশালী হয়ে টেনিস কোর্টে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। জাবেউর বলেন, "আমি নিজেকে সময় দিতে চাই, দেখতে চাই আমার শরীর কীভাবে সাড়া দেয়। তবে আমি নিশ্চিতভাবেই আবারও টেনিস র্যাকেট হাতে ফিরব এবং আগামী কয়েক বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।" তার এই ঘোষণা ভক্তদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। মাঠ ও মাঠের বাইরে সমানভাবে প্রভাবশালী এই অ্যাথলেট আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং এক বৈশ্বিক পরিবর্তনের দূত।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই এখন তুঙ্গে। আগামী রোববার ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল। লিগ টেবিলের সমীকরণ যখন অত্যন্ত জটিল, তখন আর্সেনাল বস মিকেল আর্তেতা একে 'চাপ' হিসেবে না দেখে 'সুযোগ' এবং 'মর্যাদা' হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে সিটির চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও আর্সেনালের চেয়ে ম্যানচেস্টার সিটি এক ম্যাচ কম খেলেছে। ফলে রোববারের এই ম্যাচটি শিরোপা নির্ধারণের ক্ষেত্রে 'ডু অর ডাই' ম্যাচে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে লিগ কাপের ফাইনাল এবং এফএ কাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় আর্সেনালের ফর্ম নিয়ে কিছুটা সমালোচনা থাকলেও, আর্তেতা আত্মবিশ্বাসী। আর্তেতা বলেন, "বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং সেরা কোচের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে থাকাটা আমাদের জন্য বড় এক সুযোগ ও সম্মানের। আমরা এই অবস্থানে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। এখন সময় লড়াই উপভোগ করার।" অন্যদিকে, সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা এই ম্যাচটিকে দেখছেন 'ফাইনাল' হিসেবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই ম্যাচে হারলে তাদের লিগ শিরোপার আশা শেষ হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামের এই মহরণটির দিকে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই যাতায়াত খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিশ্বকাপের সময় ট্রেন ও বাসের ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউ জার্সি ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ ম্যানহাটনের পেন স্টেশন থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম (যেখানে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে) পর্যন্ত ট্রেন ভাড়া ১০০ ডলারের বেশি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। অথচ সাধারণ সময়ে এই রুটের ফিরতি টিকিট মাত্র ১২.৯০ ডলারে পাওয়া যায়। অর্থাৎ বিশ্বকাপের সময় ভক্তদের সাধারণ ভাড়ার চেয়ে প্রায় আট গুণ বেশি টাকা গুনতে হতে পারে। একই চিত্র দেখা গেছে ম্যাসাচুসেটসেও। বোস্টন থেকে জিলেট স্টেডিয়াম পর্যন্ত যাতায়াত খরচ ২০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮০ ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফরাসি সমর্থকদের একটি সংগঠনের মুখপাত্র গুইলাম আউপ্রেত্রে এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “বিগত টুর্নামেন্টগুলোতে যাতায়াত খরচ টিকিটের সাথেই যুক্ত থাকত অথবা বিশাল ছাড় দেওয়া হতো। কিন্তু এবার ভক্তদের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” এদিকে এই ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের মধ্যেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল সরাসরি ফিফাকে দায়ী করে বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করবে, অথচ ভক্তদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিশাল খরচ স্থানীয় করদাতা ও সমর্থকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুলও এই ভাড়া বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আয়োজক শহরগুলোর সাথে আগের চুক্তিতে যাতায়াত বিনামূল্যে রাখার কথা থাকলেও পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। তবে ফিফা অবাক হয়েছে যে, নিউ জার্সির মতো জায়গায় কেন যাতায়াত খরচের জন্য ফিফাকেই অর্থ দিতে বলা হচ্ছে। বিশ্বকাপের আনন্দ যখন ভক্তদের দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন যাতায়াতের এমন ব্যয়বহুল চিত্র সাধারণ সমর্থকদের হতাশ করে তুলেছে। অনেকের মতে, ফুটবল এখন সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।
নিজেদের দেশে ফেরার ঝুঁকি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ইরানের দুই নারী ফুটবলার অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই দেশটিতে তারা এখন একটি ‘নিরাপদ আবাস’ খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তারা নিরাপদে জীবনযাপন ও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন। ফাতেমেহ পাসান্দাইদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদে নামের এই দুই ফুটবলার গত মাসে এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানে তাদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার ফলে দেশে ফিরলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেন, "অস্ট্রেলিয়া সরকার আমাদের যে মানবিক সুরক্ষা ও আশ্রয় দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখানো হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।" প্রাথমিকভাবে ইরানি দলের আরও কয়েকজন সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও পরিবারের ওপর চাপ এবং অন্যান্য কারণে পাঁচজন ইরানে ফিরে যান। তবে ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ‘ব্রিসবেন রোয়ার’-এর সাথে অনুশীলন করছেন। নিজেদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে তারা এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের স্বপ্ন হলো একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের ক্যারিয়ার পুনরায় গড়ে তোলা। ইরানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই ফুটবলারদের আশ্রয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সেই ধারায় এবার নতুন নাম হিসেবে যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তরুণ ফুটবলার ট্রেভর ইসলাম। তবে তাঁর জাতীয় দলে অভিষেক কবে হবে, তা নিয়ে এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা। বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রেভরের জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তাঁর পাসপোর্ট তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী মে মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ট্রেভর ইসলাম বর্তমানে এনসিএএ ডিভিশন-১ লিগে নিয়মিত খেলছেন। ২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার মূলত সেন্টার ফরোয়ার্ড হলেও লেফট উইং ও রাইট উইং—দুই পজিশনেই সমান দক্ষ। ফলে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে তাঁকে। ফাহাদ করিম জানান, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ট্রেভরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে এবং তাঁর সম্মতি নিয়েই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে ট্রেভরের খেলা এ বছর নিশ্চিত নয়। পড়াশোনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় দলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের কারণে জুন উইন্ডোতে তাঁকে পাওয়া যাবে না। সেপ্টেম্বর উইন্ডোতেও খেলার সম্ভাবনা কম। তবে নভেম্বর উইন্ডোতে তাঁকে পাওয়ার বিষয়ে কিছুটা আশাবাদ রয়েছে বাফুফের। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর থেকে ট্রেভর ইসলামকে নিয়মিতভাবে জাতীয় দলে পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফুটবল মাঠের ম্যাজিক দেখানোর পর এবার ফুটবল ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ নিলেন লিওনেল মেসি। স্প্যানিশ ফুটবলের পঞ্চম স্তরের ক্লাব ‘ইউই কর্নেয়া’ এখন থেকে পরিচালিত হবে এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার মালিকানায়। বার্সেলোনার সাথে মেসির দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্কের সূত্র ধরেই এই নতুন বিনিয়োগ বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে কর্নেয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউই কর্নেয়া ঘোষণা করছে যে, আর্জেন্টাইন ফুটবলার এবং আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী লিওনেল মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাবটি অধিগ্রহণ করেছেন এবং বায়াক্স লোব্রেগাত ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের নতুন মালিক হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের সময় থেকেই ক্লাবটির সঙ্গে তার এক নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, যা এখন পূর্ণাঙ্গ মালিকানায় রূপ নিল ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি বার্সেলোনার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। কর্নেয়ার ইতিহাসে বেশ কিছু চমকপ্রদ সাফল্য রয়েছে। ২০২১ সালে কোপা দেল রেতে স্প্যানিশ জায়ান্ট আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল দলটি। মেসির বর্তমান মায়ামি সতীর্থ জর্দি আলবা এই ক্লাবেরই একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন। এছাড়া আর্সেনালের গোলকিপার দাভিদ রায়া এবং বার্সার ডিফেন্ডার জেরার্ড মার্টিনও এই ক্লাবের প্রাক্তন খেলোয়াড়। বর্তমানে স্প্যানিশ ফুটবলের পঞ্চম স্তরে (গ্রুপ ফাইভ) খেলছে কর্নেয়া। পয়েন্ট তালিকায় তাদের বর্তমান অবস্থান তৃতীয়। লিগের নিয়ম অনুযায়ী এই গ্রুপের শীর্ষ দল চতুর্থ স্তর এবং কোপা দেল রেতে খেলার সুযোগ পায়। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চমস্থানধারী দলগুলো সুযোগ পায় প্রমোশন প্লে–অফে। মেসির মালিকানায় আসার পর ক্লাবটির পরিকাঠামো এবং খেলোয়াড় সংগ্রহে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। ইন্টার মায়ামিতে খেলার পাশাপাশি স্পেনের ফুটবলে এই বিনিয়োগ মেসির ফুটবল পরবর্তী ক্যারিয়ারের এক শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফুটবল মাঠের পর এবার ক্লাব মালিকানায় নতুন চমক দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্পেনের পঞ্চম বিভাগের কাতালান ক্লাব 'কোর্নেয়া' (UE Cornellà) কিনে নিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বার্সেলোনাভিত্তিক এই ক্লাবটি মূলত বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরির জন্য পরিচিত। বর্তমান তারকা জর্দি আলবা, জেরার্ড মার্তিন ও আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার মতো খেলোয়াড়রা এই ক্লাবের একাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন। বিশেষ করে জর্দি আলবা ২০১২ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার আগে এই কোর্নেয়াতেই টানা ছয় বছর কাটিয়েছিলেন। মেসির মালিকানা গ্রহণের বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, লিওনেল মেসির এই আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর মাধ্যমে ক্লাবের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরিতে বিনিয়োগ আরও জোরদার করা হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও স্থানীয় শেকড়ের সাথে সংযোগ বজায় রেখেই প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। ইউরোপীয় কোনো ক্লাবের পূর্ণ মালিকানায় এটি মেসির প্রথম পদক্ষেপ হলেও, ক্লাব ব্যবসায় তিনি নতুন নন। এর আগে উরুগুয়ের ক্লাব দেপোর্তিভো এলএসএম-এর অংশীদার হয়েছেন তিনি, যেখানে তাঁর সাথে রয়েছেন সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। ‘শত্রু’ দেশে দল পাঠাবে না জানিয়ে ভেন্যু বদলানোর দাবি জানায় ইরান। তবে যুদ্ধ সত্ত্বেও বিশ্বকাপ খেলতে ইরান অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে আসবে বলে জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সম্প্রচারক সংস্থা সিএনবিসি আয়োজিত অর্থনৈতিক সম্মেলনে এ কথা বলেছেন ফিফা সভাপতি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চললেও ইরান আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেবে বলে জানান ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, ‘ইরান অবশ্যই (বিশ্বকাপে) আসবে। আমরা আশা করি, তখন পরিস্থিতি শান্ত থাকবে, তাতে সবার জন্যই ভালো হবে। ইরানের বিশ্বকাপ খেলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ফিফা প্রধান বলেন, ‘ইরানকে আসতেই হবে। তারা তাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে, খেলোয়াড়েরাও খেলতে চায়। খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত। যদি অন্য কেউ সেতুবন্ধ তৈরি ও তা ধরে রাখার বিশ্বাস না রাখে, তবে আমরা সেই দায়িত্বটাই পালন করবো।’ আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি তারা খেলবে ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল গতকাল সোনারগাঁ হোটেলে এক অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ তুলে দিয়েছেন। আজীবন মেয়াদের এই কার্ড নিয়ে এখন থেকে সাবেক অধিনায়করা পাবেন একাধিক বিশেষ সুবিধা। যেসব সুবিধা মিলবে এই কার্ডে — বিসিবির যেকোনো ইভেন্টে প্রবেশাধিকার: ক্যাপ্টেনস কার্ড দিয়ে সাবেক অধিনায়করা এখন থেকে বিসিবির যেকোনো ম্যাচ ও ইভেন্টে, দেশে ও দেশের বাইরে বিনা বাধায় প্রবেশ করতে পারবেন। পার্কিং সুবিধা: বিসিবিতে ভিভিআইপি কার পার্কিংয়ের সুবিধা পাবেন সব সাবেক অধিনায়ক। বিসিবির মেডিকেল সুবিধা: বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মতোই বিসিবির মেডিকেল বিভাগ থেকে চিকিৎসাসেবা পাবেন কার্ডধারী সাবেক অধিনায়করা। প্রয়োজন হলে বিদেশে চিকিৎসার জন্যও সাবেক অধিনায়কদের পাশে থাকবে বিসিবি। স্বাস্থ্য বিমা: সাবেক অধিনায়কদের জন্য স্বাস্থ্য বিমার ব্যবস্থাও করবে বিসিবি। অনুষ্ঠানে পুরুষ দলের সাবেক বর্তমান অধিনায়কদের মধ্যে ২০ জন ও নারী দলের অধিনায়ক রুমানা আহমেদ কার্ড গ্রহণ করেন। যারা আসতে পারেননি, তামিম জানিয়েছেন যেকোনো সময় এসে কার্ড সংগ্রহ করার সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কদের সম্মানে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সাবেক অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ তুলে দেন। আজীবন মেয়াদের এই কার্ডের মাধ্যমে এখন থেকে সাবেক অধিনায়করা বিসিবির পক্ষ থেকে একাধিক বিশেষ ও ভিভিআইপি সুবিধা ভোগ করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে সাবেক অধিনায়করা যেসব সুবিধা পাবেন: বিসিবির যেকোনো ইভেন্টে প্রবেশাধিকার: দেশে ও দেশের বাইরে বিসিবির যেকোনো ম্যাচ ও ইভেন্টে এই কার্ডধারী সাবেক অধিনায়করা বিনা বাধায় প্রবেশ করতে পারবেন। ভিভিআইপি পার্কিং: বিসিবির ইভেন্টগুলোতে তাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে ভিভিআইপি কার পার্কিং সুবিধা। মেডিকেল সুবিধা: বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মতোই বিসিবির মেডিকেল বিভাগ থেকে চিকিৎসাসেবা পাবেন তারা। প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিসিবি পূর্ণ সহযোগিতা দেবে। স্বাস্থ্য বিমা: সাবেক অধিনায়কদের জন্য বিসিবির পক্ষ থেকে উন্নত স্বাস্থ্য বিমার ব্যবস্থাও করা হবে। অনুষ্ঠানে পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দলের মোট ২০ জন অধিনায়ক উপস্থিত থেকে এই কার্ড গ্রহণ করেন। নারী দলের পক্ষ থেকে রুমানা আহমেদ এই বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করেন। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি, তারা যেকোনো সময় বিসিবি কার্যালয় থেকে এই কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক এলাকায় জনপরিবহন বা যাতায়াত খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির ঘোষণায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও ফুটবল প্রেমীদের ওপর এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন শীর্ষ রাজনীতিবিদরা। তবে এই ঘটনায় উল্টো ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশন থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট ভাড়া ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। স্বাভাবিক সময়ে এই রুটের ভাড়া মাত্র ১২.৯০ ডলার। অর্থাৎ যাতায়াত খরচ বাড়ছে প্রায় ১০ গুণ! একইভাবে বোস্টন থেকে ফক্সবরো পর্যন্ত বাস ভাড়া ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "ফিফা এই বিশ্বকাপ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করবে, অথচ নিউ জার্সির সাধারণ মানুষকে যাতায়াতের জন্য কোটি কোটি ডলারের বোঝা বইতে হবে—এটা হতে দেওয়া যায় না। ফিফাকেই এই খরচ বহন করতে হবে।" সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারও সুর মিলিয়েছেন। তিনি বলেন, "ফিফাকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে এবং আয়োজক শহরগুলোর পরিবহন খরচ ভর্তুকি দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে এভাবে শোষিত হতে দেওয়া যাবে না।" এই সমালোচনার জবাবে ফিফা জানিয়েছে, তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন আচরণে অত্যন্ত বিস্মিত। ফিফার একজন মুখপাত্র জানান, ২০১৮ সালের প্রাথমিক চুক্তিতে ভক্তদের জন্য যাতায়াত ফ্রি রাখার কথা থাকলেও ২০২৩ সালে আয়োজক শহরগুলোর আর্থিক চাপের কথা বিবেচনা করে ফিফা নিয়মে পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দর্শকদের 'মূল্য পরিশোধ' করেই যাতায়াত করতে হবে। ফিফার দাবি, তারা এর আগে ফেডারেল ফান্ডিংয়ের জন্য লবিং করে আয়োজকদের সহায়তা করেছে। এছাড়া আগে নিউ জার্সিতে হওয়া কোনো কনসার্ট বা ক্রীড়া ইভেন্টে আয়োজকদের পরিবহন খরচ দেওয়ার নজির নেই বলেও তারা দাবি করে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুন-জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ। নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক এলাকায় ফাইনালসহ মোট ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু যাতায়াত খরচের এই বিতর্ক বিশ্বকাপের আনন্দকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিচ্ছে সাধারণ দর্শকদের কাছে।এখন দেখার বিষয়, ফুটবল প্রেমীদের কথা বিবেচনা করে ফিফা শেষ পর্যন্ত কোনো ছাড় দেয় কি না।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে নাটকীয় ও বিতর্কিত এক বিদায়ে বিদায় নিল রিয়াল মাদ্রিদ। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে (অ্যাগ্রিগেটে ৬-৪) হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। তবে হার ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার সেই বিতর্কিত লাল কার্ড। ম্যাচের শেষ দিকে যখন দুই দলের লড়াই সমতায় ছিল, ঠিক তখনই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় কামাভিঙ্গাকে। হ্যারি কেনকে ফাউল করার পর বল হাতে ধরে রেখে খেলা শুরু করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। মাত্র ২৪ মিনিট মাঠে থেকেই মাঠ ছাড়তে হয় এই ফরাসি মিডফিল্ডারকে। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া এই সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, "এই সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের পুরো সিজনটাই নষ্ট হয়ে গেল। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন তুচ্ছ কারণে লাল কার্ড দেখানো অবিশ্বাস্য।" জুড বেলিংহ্যাম রেফারির এই সিদ্ধান্তকে 'একটি জোক' বলে অভিহিত করেছেন। ম্যাচটিতে রিয়ালের হয়ে আর্দা গুলার দুটি গোল এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে এক গোল করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কামাভিঙ্গার লাল কার্ডের পরপরই লুইস ডিয়াজ এবং মাইকেল অলিসের গোলে জয় নিশ্চিত করে বায়ার্ন। এই হারের ফলে টানা দ্বিতীয় মৌসুম বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই শেষ করার শঙ্কায় পড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ এখন মুখোমুখি হবে পিএসজি-র।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ জুলাই ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক/নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হবে ‘হাফ-টাইম শো’। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘সিমেফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি সামিটে’ এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ‘সুপার বোল’-এর আদলে এই সংগীত আয়োজনকে কিউরেট করছেন ব্রিটিশ পপ ব্যান্ড কোল্ডপ্লে এবং তাদের ফ্রন্টম্যান ক্রিস মার্টিন। ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, এটি হবে পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি শো। কারা পারফর্ম করবেন তা এখনই প্রকাশ না করলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, একাধিক বিশ্বখ্যাত শিল্পী এই মঞ্চ মাতাবেন। ফুটবলে ১৫ মিনিটের বিরতিতে এ ধরনের বড় সংগীত আয়োজন বিরল এবং অতীতে জার্মানির মতো দেশে এমন উদ্যোগ দর্শকদের অসন্তোষের মুখে পড়েছিল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র, তাই এখানকার ক্রীড়া সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই শো-টি দর্শকদের দারুণ বিনোদন দেবে বলে আত্মবিশ্বাসী ফিফা প্রধান। ফুটবল ও সংগীতের এই মিলনমেলা ফাইনালের উত্তেজনাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৯তম আসর চলছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখে কলকাতা নাইট রাইডার্সে (কেকেআর) খেলার সুযোগ পান বাংলাদেশ দলের তারকা পেস বোলার মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু ভারতের উগ্রহিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। মোস্তাফিজ ইস্যুত নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ দল। শুধু তাই নয়, এই মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশ আইপিএলের চলতি আসরের সম্প্রচার বন্ধ রেখেছে সরকার। সেই মোস্তাফিজের পরিবর্তে আইপিএলে সুযোগ পেয়েও বিপদে পড়েছেন জিম্বাবুয়ের তারকা পেস বোলার ব্লেসিং মুজারাবানি। ২৯ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলারকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দলে নেয় পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দল ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। কিন্তু পিএসএলে চুক্তি করে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে প্রস্তাব পেয়ে ইসলামাবাদের সঙ্গে করা চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান এই তারকা। যে কারণে পিএসএলে আগামী দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হলো মুজারাবানিকে। পিএসএল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক লিগে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে অংশগ্রহণকারীদের স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা অপরিহার্য। পূর্ববর্তী বাধ্যতামূলক চুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় অন্য কোনো লিগে সম্পৃক্ত হওয়া প্রত্যাশিত মানদণ্ডের পরিপন্থী। এ ধরনের আচরণ উপেক্ষা করা হলে চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই লঙ্ঘনের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়েই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।’ চলমান আইপিএলে ইতোমধ্যেই দুই ম্যাচে অংশ নিয়েছেন মুজারাবানি। এর মধ্যে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪১ রানে ৪ উইকেট শিকার করে দারুণ পারফরম্যান্স দেখান তিনি। এর আগে একই ধরনের ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল পিএসএল। চলতি মৌসুমে আরও দুই ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ার স্পেনসার জনসন এবং শ্রীলংকার দাসুন শানাকা পিএসএলের চুক্তি থেকে সরে আইপিএলে অংশ নিয়েছেন। তাদের ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি পিএসএল কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা।
ক্রিকেট ইতিহাসের কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নের অকাল মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘ দুই বছর পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুললেন তার ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন। তার অভিযোগ, করোনা প্রতিরোধে ব্যবহৃত এমআরএনএ (mRNA) ভ্যাকসিনই তার বাবার হার্ট অ্যাটাক এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী। ২০২২ সালের ৪ মার্চ থাইল্যান্ডে ছুটি কাটানোর সময় মাত্র ৫২ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান অস্ট্রেলিয়ান এই কিংবদন্তি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জ্যাকসন ওয়ার্ন বলেন, "আমার বাবার মৃত্যুর পেছনে ভ্যাকসিনের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে আমি মনে করি।" জ্যাকসন জানান, মৃত্যুর কয়েক মাস আগেই শেন ওয়ার্ন ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিয়েছিলেন। তার দাবি, ওয়ার্ন অত্যন্ত সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন। হঠাৎ করে এমন শক্তিশালী হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণ দেখছেন না তিনি। এই প্রথম নয়, এর আগেও অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর সঙ্গে ‘অ্যাস্ট্রাজেনেকা’ বা নির্দিষ্ট কিছু ভ্যাকসিনের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে জ্যাকসনের এই সরাসরি অভিযোগ ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী শেন ওয়ার্নের মৃত্যু স্বাভাবিক হৃদরোগজনিত কারণেই হয়েছিল বলে জানানো হয়েছিল, তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আসা এই অভিযোগ বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করার অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছেন লামিন ইয়ামাল। বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস-এর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবার ফুটবল মাঠে একই ধরনের ‘মিরাকল’ ঘটাতে চান বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা। ২০১৬ সালে এনবিএ ফাইনালে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল লেব্রনের দল ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্স। ঠিক তেমনই অসম্ভব এক প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন ইয়ামাল, যার লক্ষ্য উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদ-এর বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ২-০ গোলে হেরে পিছিয়ে আছে বার্সেলোনা। আজ রাতে মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগে মাঠে নামবে দলটি, যেখানে অন্তত দুই গোলের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে হবে তাদের। ইতিহাসও বার্সার পক্ষে কথা বলছে না। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে দুই লেগ মিলিয়ে এখনো আতলেতিকোকে হারাতে পারেনি কাতালানরা। তবুও হাল ছাড়তে নারাজ ইয়ামাল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, লেব্রন জেমসের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এমনকি প্রেরণা পেতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল ছবিও পরিবর্তন করেছেন তিনি। চলতি মৌসুমে ৪৩ ম্যাচে ২২ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন এই তরুণ। তবে বাড়তি চাপকে সমস্যা নয়, বরং দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন ইয়ামাল। তিনি বলেন, দলের প্রয়োজনে নেতৃত্ব দিতে তিনি প্রস্তুত এবং নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলেই প্রত্যাবর্তন সম্ভব। এখন প্রশ্ন একটাই—বার্সেলোনা কি পারবে ‘লেব্রন জেমস মুহূর্ত’ তৈরি করতে, নাকি আতলেতিকোর দৃঢ় রক্ষণেই থেমে যাবে তাদের স্বপ্ন?
বিসিবি সভাপতির পদে একের পর এক পরিবর্তন এবং দেশের ক্রিকেটের চলমান অস্থিরতা নিয়ে নিজের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্রিকেট বোর্ডে কে এল বা কে গেল, তা নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই। গত ৭ এপ্রিল বিসিবির নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন কমিটির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটে সাকিব বলেন, "এসব নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কে আসল, কে গেল কিংবা এটা হলে কী হতো এসব নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই।" তবে তিনি দ্রুত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর তাগিদ দিয়ে বলেন, এই ঘনঘন রদবদলে কেবল ক্রিকেটাররাই ভুক্তভোগী হচ্ছেন। সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ বা আমিনুল ইসলাম বুলবুলরা বোর্ড প্রধান হিসেবে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় হতাশ কি না—এমন প্রশ্নে সাকিব সরাসরি তৎকালীন সরকারকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, "অবশ্যই খারাপ লাগার বিষয়। তবে আমার মনে হয়, তাদের ব্যর্থতার চেয়ে তখন যারা সরকারে ছিল, তাদের দায়টাই বেশি। তাদের সিদ্ধান্তের কারণেই বুলবুল ও ফারুক ভাই ব্যর্থ হয়েছেন।" সাকিবের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই সাবেক ক্রিকেটাররা বোর্ডে সফল হতে পারেননি।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যখন ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নিতে পারে বিশ্বমঞ্চের সমীকরণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আর এই সুযোগে কপাল খুলতে পারে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির। টানা দুইবার বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া আজ্জুরিদের জন্য এটি হতে পারে এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে ফিফার ওপর চাপ বাড়ছে ইরানকে এই আসর থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তারা ইরানকে খেলায় দেখতে চান, তবুও পর্দার আড়ালে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে গুঞ্জন থামছে না। ইতালীয় ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি বিষয়টিকে 'খুবই ক্ষীণ সম্ভাবনা' বলে অভিহিত করলেও ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন রয়েছে যে, ইরান বাদ পড়লে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা ইতালিকেই মূল আসরে জায়গা দেওয়া হতে পারে। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরান বাদ পড়লে সেই জায়গায় এশিয়ার অন্য কোনো দল—যেমন ইরাক বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুযোগ পাওয়ার কথা। ইতালির সমর্থকরা যেখানে টানা ১২ বছর বিশ্বকাপের স্বাদ না পেয়ে হতাশায় ডুবে আছে, সেখানে এই খবরটি তাদের মনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ফিফা কি নিয়মের বেড়াজালে এশিয়ার কোনো দেশকেই বেছে নেবে, নাকি বানিজ্যিক ও ফুটবলীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ইতালিকে ফেরানো হবে বিশ্বমঞ্চে—তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
পাকিস্তান সিরিজের আগেই বিসিবি জানিয়েছিল, সাকিব আল হাসানের জন্য বাংলাদেশের দরজা খোলা। তবে সেই সিরিজে তার খেলা হয়নি অনুমিতভাবেই। এবার নিউজিল্যান্ড সিরিজেও তার ভাগ্যে শিঁকে ছিঁড়ল না। যার ফলে সাকিবের অপেক্ষা বাড়ল আরও। সাকিব ২০২৪ সালে সবশেষ খেলেছেন জাতীয় দলে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক ও আইনগত কারণে জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য হয়ে আছেন তিনি, একাধিক মামলা ঝুলছে তার নামে। এদিকে জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য হয়ে পড়ার পর থেকে সাকিব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। পিএসএলের এবারের আসরে ডাক পাননি, আইপিএলের দরজা তো অনেক আগে থেকেই বন্ধ। এ সময়ে তিনি খেলে বেড়াচ্ছেন নিচু মানের লিগে। এমনকি মাইনর লিগেও খেলতে দেখা গেছে তাকে। সেই তার সামনেই এখন জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাকে নিয়ে আজ প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বললেন, ‘আমার সাথে একবার কথা হয়েছে। জিজ্ঞেস করেছিলাম প্রস্তুত আছে কিনা, যেহেতু ও যেখানে আছে সেখানে নিয়মিত ক্রিকেট হয় না বা ট্রেনিংয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফিটনেস নিয়ে কাজ হতে পারে, তবে ক্রিকেট নিয়মিত হয় না। যদিও ও ক্রিকেট খেলছে। এসব নিয়েই বেশি কথা বলেছি।’ তার দলে ফেরার ক্ষেত্রে এক শর্ত বেঁধে দিয়েছেন হাবিবুল। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কাছে অনেক কিছু ডিমান্ড করে। তাই এখানে প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে (সাকিব) যদি রেডি থাকে এবং লম্বা সময়ের জন্য খেলতে চায়, তবে আমরা অবশ্যই তাকে বিবেচনায় রাখব।’
কনফারেন্স লিগের সেমিফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে রেখেছে রায়ো ভায়েকানো। এই জয়ের অন্যতম নায়ক মরক্কান তারকা ইলিয়াস আখোমাচ মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এখন আলোচনার তুঙ্গে তার অদম্য মানসিকতার জন্য। সম্প্রতি স্পেন বনাম মিশর ম্যাচে তার উদ্দেশ্যে ধেয়ে আসা ইসলামোফোবিক স্লোগান নিয়ে মুখ খুলেছেন এই তরুণ তুর্কি। ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম 'এল লারগুয়েরো'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আখোমাচ জানান, গ্যালারি থেকে ভেসে আসা "মুসলিম হলে লাফাও" শীর্ষক বিদ্বেষমূলক স্লোগানগুলো তার কানেও পৌঁছেছে। তবে এসব তাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি। বরং বিষয়টিকে বেশ হাস্যরসের সাথেই উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। আখোমাচ বলেন, "আমার এক আত্মীয় আমাকে গ্যালারির কিছু ভিডিও পাঠিয়েছে। সত্যি বলতে, এর আগে আমি কখনো এমন কিছু শুনিনি। মানুষ কেন এমন করে আমি জানি না, তবে আমি এসবে একদমই পরোয়া করি না। কেউ যদি সরাসরি আমার সামনে এসে এই কথা বলত, আমি স্রেফ হাসতাম আর বলতাম— আপনি দেখতে তো বেশ সুন্দর!" সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত অবস্থানের পাশাপাশি ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের মত জানান বার্সেলোনা ও ভিয়ারিয়ালের সাবেক এই উইঙ্গার। তার মতে, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল মরক্কোতেই হওয়া উচিত। এছাড়া সেনেগাল ও মরক্কোর মধ্যকার সাম্প্রতিক বিতর্কিত ইস্যুগুলো নিয়ে ড্রেসিংরুমের ভেতরেই সতীর্থদের সাথে মিটিয়ে নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি। মাঠের লড়াই আর বাইরের বিতর্ক— সব জায়গাতেই নিজের ব্যক্তিত্বের ছাপ রাখছেন এই উদীয়মান তারকা।
বিসিবি-র পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ ২১ মাস পর পুনরায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অবস্থিত ক্রিকেট বোর্ডে পা রাখলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন। নবনিযুক্ত অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালের বিশেষ আমন্ত্রণে আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তিনি বোর্ডে আসেন। বোর্ডে ফেরা প্রসঙ্গে সুজন জানান, কোনো আনুষ্ঠানিক মিটিং নয়, বরং তামিমের ব্যক্তিগত অনুরোধেই তাঁর এই আগমন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “তামিম ফোন করে দেখা করতে বলেছিল। সভাপতির ডাকে আমি না করতে পারিনি। ওর সাথে ক্রিকেট নিয়েই অনেক কথা হয়েছে।” তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির ভবিষ্যৎ নিয়ে দারুণ আশাবাদী সুজন। তিনি বলেন, “আমরা এতদিন যে কাজগুলোর কথা শুধু মুখেই বলেছি কিন্তু বাস্তবে করিনি, তামিম সেগুলো করে দেখাবে বলে আমার বিশ্বাস। ছোটবেলা থেকেই ওকে চিনি, ক্রিকেটের প্রতি ওর যে সিরিয়াসনেস, সেই একই স্পিরিট ও বিসিবি সভাপতির দায়িত্বেও বজায় রাখছে।” উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে তামিম ইকবালকে প্রধান করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে দেয়। এর আগে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আত্মগোপনে চলে গেলে পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews