খেলাধুলা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে সবচেয়ে প্রবীণ ও কনিষ্ঠ ফুটবলার কে, জানেন?

আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আলোচনায় উঠে এসেছে অংশগ্রহণকারী ফুটবলারদের বয়সের নানা রেকর্ড। একদিকে ৪০ পেরিয়েও মাঠ মাতাতে প্রস্তুত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে যাচ্ছেন মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা।   বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দিন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডনের বয়স হবে ৪৩ বছর ১৬২ দিন। ফলে তিনি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামবেন।    তবে গোলরক্ষকদের বাইরে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হবেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ৪১ বছর ১২৬ দিন।   রোনালদো এবার রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। একই কীর্তি গড়তে পারেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং মেক্সিকোর গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়াও।   অন্যদিকে, এবারের আসরের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ফুটবলার হচ্ছেন মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ১৭ বছর ২৪০ দিন। সবচেয়ে কম বয়সী গোলরক্ষক হিসেবে থাকছেন বেলজিয়ামের মাইক পেন্ডার্স। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় তাঁর বয়স হবে ২০ বছর ৩১৫ দিন। অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হবেন কানাডার আলফনসো ডেভিস। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনের দিন তাঁর বয়স হবে ২৫ বছর ২২১ দিন।   খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচদের মধ্যেও বয়সের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া কুরাসাওয়ের প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাট হবেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ কোচ। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ৭৮ বছর ২৫৭ দিন।   অন্যদিকে, জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান থাকবেন সবচেয়ে কম বয়সী কোচদের তালিকার শীর্ষে। বিশ্বকাপ শুরুর সময় তাঁর বয়স হবে ৩৮ বছর ৩২৩ দিন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১, ২০২৬ ২২:৪৭
ছবি: সংগৃহীত
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পথে আর্জেন্টিনা!

কাতারে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর পর এবার লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের এই মেগা বিশ্বকাপে কোচ লিওনেল স্কালোনির মূল ভরসা আবারও মেসি। এবারের আর্জেন্টিনা দলে ২০২২ বিশ্বকাপের ১৭ জন অভিজ্ঞ ফুটবলারের পাশাপাশি ৯ জন নতুন তারকার দারুণ এক ভারসাম্য রয়েছে, যা শিরোপা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট।   ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬২ সালের পর এবারই প্রথম কোনো দলের সামনে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ এই কীর্তি গড়তে পেরেছে। প্রথম দল হিসেবে ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং পরবর্তীতে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে পেলের ব্রাজিল এই রেকর্ড গড়েছিল। গত ৬৪ বছরে আর কোনো দেশ এই অর্জনে নাম লেখাতে পারেনি। ১৯৯০ সালে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল এবং ২০২২ সালে ফ্রান্স ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয়েছিল।   তবে কিছু বিশেষ লক্ষণ এবার আর্জেন্টিনাকে বাকিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে। বড় টুর্নামেন্টে সাফল্যের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো দলীয় স্থিতিশীলতা এবং ড্রেসিং রুমের চমৎকার পরিবেশ, যা স্কালোনির দলে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের ফলাফলও এই ধারাবাহিকতার পক্ষেই কথা বলছে।   উদাহরণস্বরূপ, বড় বড় তারকাদের নিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর কেবল একাত্মতা ও টিম স্পিরিটের জোরে কোচ লুইস এনরিকের অধীনে থাকা পিএসজি গত ৩০ মে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে। ক্রিকেটেও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) তারকা নির্ভরতা কমিয়ে দলগত সংহতির জোরে টানা দুই আসরে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে। এছাড়া ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দু’বার লা লিগা এবং বায়ার্ন মিউনিখ বুন্দেসলিগায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রমাণ করেছে যে, স্থিতিশীলতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।   আর্জেন্টাইন শিবিরে এখন এই রহস্যমন্ত্রের সব উপাদানই রয়েছে। মেসির নেতৃত্বে দলটির ভেতরের এই অভূতপূর্ব ঐক্য যদি টুর্নামেন্টজুড়ে বজায় থাকে, তবে আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালে আবারও বিশ্বজয়ের উল্লাসে মাতবে আলবিসেলেস্তেরা—এমনটাই ভাবছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৩১, ২০২৬ ২২:৫৯
ছবি: সংগৃহীত
বিনামূল্যে বিশ্বকাপ ফুটবল উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ১৪ হাজার দর্শক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তুমুল সমালোচনা চললেও মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক একেবারে বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে তারা নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে এই বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে।   এই ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৬০-এর দশকে আজটেকা স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ ৬০০টি বক্স ও প্রায় ৮ হাজার গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করে। তখন ক্রেতাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে আয়োজিত যেকোনো ইভেন্ট তারা অতিরিক্ত কোনো টিকিট ছাড়াই দেখতে পারবেন। বর্তমানে এই সুবিধাভোগীদের মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।   এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই আসনগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও ফিফা ও স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আসনগুলো নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনার চেষ্টা করলে আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত আসন মালিকদের পক্ষেই রায় দেয় এবং এই আসনগুলো বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে।   আসন মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা আদালতের এই স্বীকৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে না পৌঁছানোয় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলে তারা আবারও বলপ্রয়োগের আইনি ব্যবস্থা চাইবেন। সমস্ত নাটকীয়তার মধ্যেও ১৪ হাজার আসনের মালিকরা ফ্রিতে এই বিশ্বমঞ্চের উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৩১, ২০২৬ ১৯:৩৯
২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে পরাজয়ের পর ব্রাজিল দলের হতাশা । ছবি: ফিফা আর্কাইভ
ব্রাজিলের ইতিহাসভাঙা পরাজয়, আর্জেন্টিনার বিদায় ও প্রেস অফিসারের লাল কার্ডে রঙিন ইতিহাস

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ২০তম আসরকে ঘিরে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি একাধিক অপ্রত্যাশিত ও আলোচিত ঘটনা ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। ১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওতে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ মহাযাত্রার ধারাবাহিকতায় শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই টুর্নামেন্টে ফুটবল ইতিহাসের নানা স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হয়। পেলে, গারিঞ্চা, দিয়েগো ম্যারাডোনা, জিনেদিন জিদান এবং লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদের ফুটবল-ঐতিহ্যের ধারায় ২০১৪ বিশ্বকাপ যোগ করে নতুন এক অধ্যায়।   এই আসরে সবচেয়ে আলোচিত ও বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল স্বাগতিক ব্রাজিলের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী হার। এর মাধ্যমে ব্রাজিল শুধু ফাইনাল থেকেই ছিটকে যায়নি, নিজেদের মাটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের স্বাদও গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জার্মানি তাদের চতুর্থ শিরোপা জয় করে।   এই টুর্নামেন্টে আরও একটি বড় মাইলফলক স্থাপিত হয়, জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা দুটি গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং ব্রাজিলিয়ান রোনালদো নাজারিওর রেকর্ড ভেঙে দেন।   আর্জেন্টিনার ফাইনাল স্বপ্নভঙ্গ জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। অতিরিক্ত সময়ে মেসির দলকে হারিয়ে জার্মানি তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে। এই ফলাফলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।   ২০১৪ বিশ্বকাপে ফিফা দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে। প্রথমটি ছিল ভ্যানিশিং স্প্রে, যার মাধ্যমে ফ্রি কিকের সময় রক্ষণভাগের দেয়ালের অবস্থান নির্ধারণ করা হতো। দ্বিতীয়টি ছিল গোললাইন প্রযুক্তি, যেটি ক্যামেরা সিস্টেমের মাধ্যমে নিশ্চিত করত বল সম্পূর্ণভাবে গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না।   বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে ব্রাজিল বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটে পড়ে। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় পর্যন্ত ৩৫টি প্রকল্প অসমাপ্ত ছিল। কিছু কাজ বিলম্বিত হয়, কিছু কাজ বন্ধ থাকে এবং কিছু শুরুই হয়নি। নাটালের এস্তাদিও দাস দুনাস স্টেডিয়াম প্রথম ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফায়ার ব্রিগেডের নিরাপত্তা অনুমোদন পায়।   প্রস্তুতিপর্বে দুর্ঘটনাও ঘটে। বেলো হরিজন্তেতে একটি ওভারপাস ধসে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়। এ সময় ফিফার তৎকালীন মহাসচিব জেরোম ভালকে ব্রাজিলের কাজের গতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে তিনি ফিফা থেকে বহিষ্কৃত হন।   বিশ্বকাপের মোট ব্যয়ও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। বিমানবন্দর, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা তখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ হিসেবে রেকর্ড গড়ে। এ ব্যয়কে কেন্দ্র করে ব্রাজিলজুড়ে দুর্নীতি ও জনসেবায় অর্থের ঘাটতি নিয়ে বিক্ষোভও হয়।   ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথমবার দুই দেশের হয়ে মুখোমুখি হওয়া দুই ভাই কেভিন প্রিন্স বোয়াটেং এবং জেরোম বোয়াটেং ২০১৪ বিশ্বকাপেও একই গ্রুপে মুখোমুখি হন। ঘানা ও জার্মানির এই ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়।   ২১ জুন কাস্তেলো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই ভাই প্রথমার্ধ পর্যন্ত একসঙ্গে মাঠে ছিলেন। বিরতিতে জেরোম বোয়াটেংকে বদলি করা হয়। ম্যাচ শেষে জার্মানি গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে, অন্যদিকে ঘানা গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নেয়।   ইতালি ও উরুগুয়ের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ঘটে বিশ্বকাপের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা। ম্যাচের শেষ দিকে জর্জিও কিয়েল্লিনির সঙ্গে সংঘর্ষের সময় উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কামড় দেন বলে অভিযোগ ওঠে।   রেফারি ঘটনাটি দেখতে না পাওয়ায় খেলা চালু থাকে এবং কিছুক্ষণ পর ডিয়েগো গডিনের গোলে উরুগুয়ে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছে যায়, ইতালি বাদ পড়ে।   পরে ভিডিও বিশ্লেষণে ফিফা সুয়ারেজকে দোষী সাব্যস্ত করে ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো কামড় সংক্রান্ত শাস্তি।   ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন দেশে তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক পণ্য তৈরি হয়। সুইডেনের একটি দোকানে তার দাঁতের আদলে বোতল ওপেনার এবং একটি সেক্স টয় শপে ব্যঙ্গাত্মক পণ্য বাজারে আনার ঘটনাও আলোচিত হয়। বেটিং সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এই ঘটনার ওপর বাজি ধরার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে ১৬৭ জন ব্যক্তি অংশ নেয় এবং বিজয়ীরা ১৭৫ গুণ লাভ পান।   ২০১৪ বিশ্বকাপে বিরল এক ঘটনা ঘটে ব্রাজিল ও চিলির ম্যাচে। সাধারণত খেলোয়াড় বা কোচ লাল কার্ড পেলেও এই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রেস অফিসার রদ্রিগো পাইভা। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে ব্রাজিলের ফ্রেড ও চিলির গ্যারি মেদেলের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তখন পাইভা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক চিলিয়ান খেলোয়াড়কে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।   ইংলিশ রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েব তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। পরবর্তীতে ফিফা তাকে নিষিদ্ধ করে এবং জরিমানা আরোপ করে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।   ১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল বনাম উরুগুয়ে ফাইনালের টিকিট কিনেও ম্যাচে যেতে পারেননি জোয়েদির বেলমন্তে, কারণ তিনি অসুস্থ মায়ের পাশে ছিলেন। সেই টিকিট তিনি ৬৪ বছর ধরে সংরক্ষণ করেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে তিনি সেই ঐতিহাসিক টিকিট ফিফাকে দান করার প্রস্তাব দেন এবং বিনিময়ে দুটি ফাইনাল টিকিট পান। তবে অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি সেই দুইটি টিকিট হারিয়ে ফেলেন।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬ ১৮:৪৭
ছবি: সংগৃহীত
ইউটিউবে বিনামূল্যে সরাসরি দেখা যাবে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ, যেভাবে দেখবেন

ভারত ও বাংলাদেশে আগামী ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে যখন শঙ্কা চলছে, তখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিনিয়োগ করা একটি ইউটিউব চ্যানেল টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের সবগুলোই বিনামূল্যে দেখানোর ঘোষণা দিয়েছে. তবে এই দারুণ সুবিধাটি শুধুমাত্র ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তরাই উপভোগ করতে পারবেন. সম্প্রতি সৌদি প্রো লিগ চ্যাম্পিয়ন আল নাসরের ফুটবলার রোনালদো ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস মিডিয়া কোম্পানি ‘লাইভমোড’-এ বিনিয়োগ করেছেন এবং এই কোম্পানির অংশীদারত্বে থাকা ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ‘কেজটিভি’ ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে।   ব্রাজিলিয়ান ইউটিউবার ও স্ট্রিমার কাসিমিরো মিগুয়েল লাইভমোড-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব করে ২০২২ সালে কেজটিভি চালু করেন, যা পূর্বেও বিশ্বকাপসহ অলিম্পিকের মতো বড় টুর্নামেন্ট কাভার করেছে. আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের জন্য কেজটিভি ব্রাজিলের নাগরিকদের ফোরকে (4K) রেজোলিউশনে ম্যাচ স্ট্রিম করার পাশাপাশি তরুণ ভক্তদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশনের পরিকল্পনা করেছে।   ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভারত বা বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা এই ইউটিউব কিংবা টুইচ চ্যানেল খুললেও সরাসরি সম্প্রচারকৃত ম্যাচগুলো দেখতে পারবেন না, কারণ লাইভমোড কেবল ব্রাজিলিয়ান অঞ্চলের জন্যই ডিজিটাল স্বত্ব কিনেছে. তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভক্তদের জন্য সুখবর হলো— আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না এলেও জানা গেছে, ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো সম্প্রচারের দৌড়ে এগিয়ে আছে ‘জি’. তারা মূলত নিজেদের স্পোর্টস চ্যানেল এবং ‘জিফাইভ’ অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাচগুলো সম্প্রচার করতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২৯, ২০২৬ ২৩:১৭
বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে নিউইয়র্কে ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’, বন্ধ
বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে নিউইয়র্কে ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’, বন্ধ থাকবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক সিটিতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। ম্যাচের দিনগুলোতে ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’ জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।   শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য যানজট কমাতে বাসিন্দাদের গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ সময় ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকায় ফিফথ অ্যাভিনিউ ও সিক্সথ অ্যাভিনিউর নির্দিষ্ট অংশকে বিশেষ বাস ও শাটল করিডোরে রূপান্তর করা হবে।   মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের দিন টিকিটধারী দর্শকদের জন্য ম্যানহাটন থেকে সরাসরি এক্সপ্রেস শাটল বাস চালু থাকবে। বাসগুলো লিংকন টানেল ব্যবহার করে স্টেডিয়ামে যাতায়াত করবে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করিডোরে কেবল অফিসিয়াল স্টেডিয়াম শাটল বাস, এমটিএ বাস, বিশ্বকাপ অনুমোদিত যানবাহন এবং জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল করতে পারবে।   ম্যাচ শুরুর ছয় ঘণ্টা আগে থেকে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।   বিশ্বকাপ উপলক্ষে ডেলিভারি ট্রাক চলাচলেও সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ৩০তম স্ট্রিট থেকে ৬০তম স্ট্রিট এবং ইস্ট রিভার থেকে হাডসন রিভার পর্যন্ত এলাকায় ম্যাচ শুরুর ছয় ঘণ্টা আগে এবং শেষের তিন ঘণ্টা পর পর্যন্ত ডেলিভারি ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।   স্টেডিয়ামগামী দর্শকদের জন্য বিশেষ শাটল বাসের পিকআপ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনাল, কলম্বাস সার্কেল (মিডটাউন নর্থ) এবং গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল এলাকার মিডটাউন ইস্টে।   বিশেষ বাস করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হবে ৪২তম স্ট্রিটের ফার্স্ট অ্যাভিনিউ থেকে টুয়েলফথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ, সিক্সথ অ্যাভিনিউর ৪২তম স্ট্রিট থেকে ৫৯তম স্ট্রিট পর্যন্ত অংশ, ফিফথ অ্যাভিনিউর ৪২তম স্ট্রিট থেকে ৫৯তম স্ট্রিট পর্যন্ত অংশ, ওয়েস্ট ৪০তম স্ট্রিট এবং ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট।   মেটলাইফ স্টেডিয়ামমুখী যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পেন স্টেশনের আশপাশের কয়েকটি সড়কও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৩তম স্ট্রিটের সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে এইথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ এবং ৩২তম স্ট্রিটের সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে সেভেনথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ।   গণপরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এমটিএর সাবওয়ে ও বাস চলাচল অব্যাহত থাকবে। তবে মিডটাউন এলাকায় কিছু বাস রুটে ডাইভারশন, নির্দিষ্ট স্টপ বাতিল অথবা সময়সূচিতে বিলম্ব হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।   লং আইল্যান্ড রেল রোড (এলআইআরআর) পেন স্টেশনে চলাচল চালিয়ে যাবে। তবে যাত্রীদের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল ম্যাডিসন অথবা আটলান্টিক টার্মিনাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এছাড়া নিউইয়র্ক সিটি ফেরি অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা করবে। প্যাথ, মেট্রো-নর্থ এবং সিটি বাইক সেবাও স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৯, ২০২৬ ২১:২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, দলে জায়গা হয়নি দুই আলোচিত তারকার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দুয়ারে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবার মাঠে নামার অপেক্ষায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক আসরের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রত্যাশামতোই দলকে নেতৃত্ব দেবেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপের চেনা মুখগুলোর পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ প্রতিভাকে জায়গা দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল গঠন করেছে আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্ট।   কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনাকে পরম আরাধ্য সোনালি ট্রফি এনে দিয়েছিলেন মেসি। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো সেটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালেও তিনি থাকছেন দলের মূল কাণ্ডারি হয়ে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলার সুবাদে উত্তর আমেরিকার পরিবেশ মেসির জন্য বেশ পরিচিত। নিজের চেনা আঙিনায় শিরোপা ধরে রাখার এই লড়াইয়ে মেসি কতটা জ্বলে ওঠেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তার কাঁধে ভর করেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত। মেসির পাশে দিবু মার্টিনেজ, রদ্রিগো দে পল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজরা মিলে আর্জেন্টিনাকে এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের দল ঘোষণার পর কিছু চমক বা হতাশা থাকেই। স্কালোনির এই ২৬ জনের স্কোয়াডও তার ব্যতিক্রম নয়। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বেশ কয়েকজন চেনা মুখের বাদ পড়াটা ফুটবলপ্রেমীদের কিছুটা অবাক করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে থাকলেও অভিজ্ঞদের ভিড়ে আক্রমণভাগে নিজের জায়গা পাকা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি সম্ভবত মার্কোস আকুনিয়ার বাদ পড়া। কাতার ২০২২-এর বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং লেফট-ব্যাক পজিশনে দারুণ খেলা এই ডিফেন্ডারকে এবার স্কোয়াডে রাখেননি স্কালোনি। মূলত তরুণদের সুযোগ করে দিতে এবং দলের কৌশলে পরিবর্তন আনতেই আকুনিয়াকে বাদ দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কোচকে। স্কালোনির এই স্কোয়াডে কাতার বিশ্বকাপের মূল কাঠামোটি সযত্নে ধরে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গোলবার সামলানোর গুরুদায়িত্ব থাকছে যথারীতি এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্টিনেজের বিশ্বস্ত হাতে। অ্যাস্টন ভিলার এই তারকা গোলরক্ষক যে বড় মঞ্চের খেলোয়াড়, তা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন। রক্ষণভাগে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দিকে নিয়ে গড়া হয়েছে দুর্ভেদ্য দেয়াল।   অন্যদিকে, স্কালোনির দর্শনের একটি বড় দিক হলো মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। মাঝমাঠে দলকে গতিশীল রাখার দায়িত্ব থাকবে রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কাঁধে। এনজো ও ম্যাক অ্যালিস্টার এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতিশীল নন, বরং তারা নিজেদের বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছেন। এই প্লেমেকারদের সাথে রিয়াল বেটিসের জিওভানি লো সেলসো এবং বায়ার লেভারকুজেনের এক্সেকিয়েল পালাসিওসের উপস্থিতি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডকে আরও শক্তিশালী করেছে।   আক্রমণভাগে মেসির সাথে জুটি বাঁধবেন লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। এই পরীক্ষিত ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমিওনে এবং নিকো পাজের মতো তরুণ রক্ত দলে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে এক নতুন রূপ দিয়েছেন। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ—সবকিছুই তিনি জিতেছেন। তবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার চাপ যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, তা তিনি ভালো করেই জানেন। ফুটবলের ইতিহাসে কেবল ইতালি ও ব্রাজিল টানা দুবার বিশ্বকাপ জিততে পেরেছে। সেই বিরল রেকর্ডের ভাগিদার হতে হলে স্কালোনিকে তার ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস আবারও দেখাতে হবে। স্কালোনি বরাবরই দলগত ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে থাকেন। এই ২৬ জনকে বাছাই করার ক্ষেত্রেও তিনি খেলোয়াড়দের বর্তমান ফর্ম, ফিটনেস এবং দলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন।   ৪৮ দলের এই মেগা টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে দীর্ঘস্থায়ী ফিটনেস ও ট্যাকটিক্যাল বৈচিত্র্যের কোনো বিকল্প নেই। স্কালোনির বাছাই করা এই স্কোয়াড সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে কতটা প্রস্তুত, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে। তবে কাগজ-কলমে আর্জেন্টিনা যে এবারের আসরের অন্যতম সেরা দল, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।   একনজরে আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড: গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা) হেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্সেই) হুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)   ডিফেন্ডার: লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্সেই) নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ) গনজালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট) লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার) নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা) ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্সেই) নাহুয়েল মলিনা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)   মিডফিল্ডার: লেয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়র্স) রদ্রিগো দে পল (ইন্টার মায়ামি) ভ্যালেন্তিন বার্কো (রেসিং স্ট্রাসবুর্গ) জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেটিস) এক্সেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুজেন) অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল) এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি)   ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি) হুলিয়ান আলভারেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) নিকো গনজালেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) থিয়াগো আলমাদা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) জুলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) নিকো পাজ (কোমো) হুয়ান ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস) লাউতারো মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: মে ২৮, ২০২৬ ২৩:৪২
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি কে পরবে স্পষ্ট জানালেন ভিনিসিয়ুস

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি বিশ্বকাপে কে পরবেন, তা নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। নেইমারের চোট কাটিয়ে দলে ফেরার সম্ভাবনার মধ্যে এই জার্সি নিয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বক্তব্যে বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।   ব্রাজিল দলের ইতিহাসে ১০ নম্বর জার্সি বিশেষ মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। পেলে, জিকো এবং রোনালদিনিওর মতো কিংবদন্তিরা এই জার্সি গায়ে তুলে নিজেদের সাফল্যের ছাপ রেখেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই জার্সি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন নেইমার।   তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর চোট পাওয়ার পর নেইমার মাঠের বাইরে চলে গেলে ১০ নম্বর জার্সিটি অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘুরে ফিরে ব্যবহৃত হয়। এই সময়ে রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে একাধিক ম্যাচে এই জার্সি পরতে দেখা যায়।   নেইমারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে, বিশ্বকাপে এই জার্সি কে পরবেন। বিভিন্ন মহলে ধারণা তৈরি হয়, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র হয়তো এই জার্সি ধরে রাখবেন।   তবে ভিনিসিয়ুস নিজেই এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নেইমার দলে ফিরলে ১০ নম্বর জার্সি তারই প্রাপ্য। এতে করে জার্সি নিয়ে চলমান আলোচনা অনেকটাই থেমে গেছে।   ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ২০২২-২৩ মৌসুমে নেইমারের অনুপস্থিতিতে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে নেইমার ফিরলে তিনি নিজের পরিচিত ৭ নম্বর জার্সিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৬:১৪
ছবি: সংগৃহীত
মাঠে নামার আগেই আলোচনায় ২০২৬ বিশ্বকাপের স্মার্ট বল ‘ট্রাইওন্ডা’

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন থেকে পর্দা উঠছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহোৎসব ফিফা বিশ্বকাপের। ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। তবে খেলা শুরুর আগেই ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’। বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের তৈরি এই বলটি শুধু খেলার উপকরণ নয়, বরং প্রযুক্তির এক অনন্য বিস্ময়।   তিন আয়োজক দেশের নামের সমন্বয়ে বলটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’। ডিজাইন তৈরিতেও রাখা হয়েছে তিন দেশের পতাকার রং—নীল, লাল ও সবুজ। তবে বলটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ভেতরের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। নিখুঁত রেফারিং ও অফসাইডের সিদ্ধান্ত দ্রুত দিতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ডিপ-সিম’ প্রযুক্তি এবং একটি ১৪ গ্রাম ওজনের ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর চিপ।   এই চিপটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার তথ্য (ডেটা) সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বলটি কখন, কোথায়, কত গতিতে যাচ্ছে বা কোনো খেলোয়াড়ের শরীরের সামান্যতম স্পর্শ লেগেছে কি না—তা মুহূর্তের মধ্যেই জানা যাবে। এই সেন্সরটি বলের ভেতরে এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে বলের স্বাভাবিক ওজন, বাউন্স বা গতিতে কোনো প্রভাব না পড়ে।   এই স্মার্ট বলটির আরেকটি চমকপ্রদ দিক হলো এর পাওয়ার সিস্টেম। ভেতরের সেন্সরটি সচল রাখতে ম্যাচ শুরুর আগে বলটি চার্জ করতে হবে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে বলটি টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে পারবে। বাইরে থেকে দেখে সাধারণ মনে হলেও এই বলের সেন্সর ও স্টেডিয়ামের ক্যামেরা একসঙ্গে কাজ করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিখুঁত করবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২৪, ২০২৬ ২৩:৫
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল স্পেন, জায়গা পেল না রিয়াল মাদ্রিদের কেউ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। সোমবার কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দল প্রকাশ করেন। দলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তবে বড় চমক হিসেবে কোনো রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়কে দলে রাখা হয়নি।   দলের এই ঘোষণায় স্পেনের স্কোয়াডে ক্লাবভিত্তিক ভারসাম্য ও নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেখা গেছে। দানি কারভাহাল চোটের কারণে দলে জায়গা পাননি। স্পেনের বিশ্বকাপ দলটি তিন গোলরক্ষক, আটজন ডিফেন্ডার, সাতজন মিডফিল্ডার এবং আটজন ফরোয়ার্ড নিয়ে গঠিত।   গোলরক্ষক হিসেবে আছেন উনাই সিমোন, ডেভিড রায়া এবং হুয়ান গার্সিয়া। ডিফেন্ডারদের মধ্যে আছেন মার্ক কুকুরেয়া, পাও কুবার্সি, আইমেরিক লাপোর্তে, আলেক্স গ্রিমালদো, পেদ্রো পোরো, এরিক গার্সিয়া, মার্কোস লরিয়েন্তে এবং মার্ক পুবিল।   মিডফিল্ডে দলে আছেন গাভি, রদ্রি, পেদ্রি, মার্তিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইস, আলেক্স বায়েনা এবং মিকেল মেরিনো। আক্রমণভাগে সবচেয়ে আলোচিত নাম লামিনে ইয়ামাল। তার সঙ্গে আছেন নিকো উইলিয়ামস, দানি অলমো, ফেরান তোরেস, মিকেল ওইরজাবাল, ইয়েরেমি পিনো, বোরহা ইগলেসিয়াস এবং ভিক্টর মুনিয়োজ।   স্পেনের স্কোয়াডে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, মোট আটজন। ক্লাবটির হয়ে খেলছেন কুবার্সি, এরিক গার্সিয়া, গাভি, পেদ্রি, ইয়ামাল, অলমো ও ফেরান তোরেস।   বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপে স্পেনের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে, সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। ১৫ জুন কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ২৪, ২০২৬ ২১:৫৮
পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো | ছবি: সংগৃহীত
আয়ের দিক থেকে ফোর্বসের শীর্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ফোর্বসের জরিপে আয়ের দিক থেকে ফুটবল জগতের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা টানা চতুর্থ এবং সব মিলিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ফোর্বসের সর্বোচ্চ আয়কারী অ্যাথলেট নির্বাচিত হয়েছেন।   গত ১২ মাসে কর এবং এজেন্ট ফি বাদে রোনালদোর আনুমানিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ডলারে। এর মধ্যে সৌদির ক্লাব আল নাসরের খেলার চুক্তি থেকে তিনি পেয়েছেন ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাকি ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার এসেছে বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক খাত থেকে।   ফোর্বসের আয়ের তালিকায় ষষ্ঠবার শীর্ষে উঠে রোনালদো এখন বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানের পাশে স্থান করে নিয়েছেন। এই তালিকায় রেকর্ড ১১ বার শীর্ষে থেকে তার ওপরে আছেন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের গলফ কিংবদন্তি টাইগার উডস।   ৩০ কোটি ডলার আয়ের মাধ্যমে রোনালদো মুষ্টিযোদ্ধা ফ্লয়েড মেওয়েদার জুনিয়রের ২০১৫ সালের আয়ের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন। ১৯৯০ সালে ফোর্বস অ্যাথলেটদের আয়ের তালিকা প্রকাশ শুরুর পর এটি এক বছরে যৌথভাবে সর্বোচ্চ আয়ের অনন্য রেকর্ড।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২২:৪২
চোট কাটিয়ে দ্রুত মাঠে ফেরার প্রস্তুতিতে নেইমার | ছবি: সংগৃহীত
নেইমারকে ঘিরে দুশ্চিন্তা কাটল, বিশ্বকাপের আগে চোট গুরুতর নয়

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া শঙ্কা কিছুটা কেটে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার চোট গুরুতর নয় এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন বলে জানা গেছে।   বিশ্বকাপের দলে নেইমারের নাম ঘোষণার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। তবে এর কিছুদিনের মধ্যেই চোটের খবর সামনে আসায় উদ্বেগ দেখা দেয়। সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে মাংসপেশিতে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়।   দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক চোটে ভোগার কারণে নেইমারকে নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয় সমর্থকদের মধ্যে। অতীতেও বড় ধরনের চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। ফলে বিশ্বকাপে তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।   এমন পরিস্থিতিতে টিএনটি স্পোর্টস ব্রাজিল জানায়, বর্তমান চোট গুরুতর নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমারকে প্রায় ৫ থেকে ১০ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তার সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।   দলীয় মেডিকেল স্টাফও তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদী। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে চোটের ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বকাপের আগে সান্তোসের হয়ে আর কোনো ম্যাচে না খেলার বিষয়েও ভাবছেন নেইমার বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ২১, ২০২৬ ২৩:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
ট্রফি জয়ে শীর্ষস্থানে মেসি, রোনালদোর অবস্থান কত?

ফুটবল ইতিহাসের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর তুলনা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। গোল, রেকর্ড ও ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় শিরোপার হিসাবেও তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে, যেখানে আপাতত এগিয়ে আছেন মেসি।   মেসি এখন পর্যন্ত ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪৮টি ট্রফি জিতেছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক। বার্সেলোনা, পিএসজি, ইন্টার মিয়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তিনি এই অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন।   অন্যদিকে রোনালদো সৌদি প্রো লিগ শিরোপা জয়ের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ারের ৩৬তম ট্রফি অর্জন করেছেন। আল নাসরের হয়ে এটি তার প্রথম বড় সাফল্য।   এই সংখ্যার ভিত্তিতে সর্বাধিক ট্রফি জয়ীদের তালিকায় রোনালদো এখন যৌথভাবে ১১তম স্থানে আছেন। যেখানে তার সঙ্গে সমান সংখ্যক ট্রফি রয়েছে সার্জিও বুসকেটস, আনহেল ডি মারিয়া ও রায়ান গিগসের মতো ফুটবলারদেরও।   শীর্ষ ট্রফি জয়ীদের তালিকায় মেসির পরেই অবস্থান করছেন দানি আলভেস (৪৩), মারকিনিওস (৪২) এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (৪০)।   ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর সামনে এখন বড় লক্ষ্য হলো ক্যারিয়ারে ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা। যেটি অর্জন করতে পারলে তার নাম ফুটবলের ইতিহাসে আরও উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে।  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২:৫০
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে ৭৮ রানের জয় তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের এই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন কৃতিত্ব দেখাল টাইগাররা।   ম্যাচের পঞ্চম দিনে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় পাকিস্তান। চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে দিন শেষ করা সফরকারীরা শেষ দিনে জয়ের আশা জাগালেও বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে তা টিকেনি। দিনের শুরুতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খানের জুটি প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যা কিছুটা চাপ তৈরি করে স্বাগতিকদের ওপর।   দিনের শুরুতেই রিজওয়ানের একটি ক্যাচ মিস হওয়ায় ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর রিজওয়ান ও সাজিদ খান ধীরে ধীরে ব্যবধান কমাতে থাকেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম দলকে স্বস্তি এনে দেন। তিনি সাজিদ খানকে আউট করে জুটি ভাঙেন এবং নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। সাজিদ ৩৬ বলে ২৮ রান করেন।   এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রিজওয়ানও। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে তিনি আউট হলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে আসে। শেষদিকে খুররাম শেহজাদকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেন তাইজুল।   এর আগে মিরপুর টেস্টে জয় দিয়ে সিরিজে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ সিলেটেও দাপুটে পারফরম্যান্স ধরে রাখে। এই জয়ের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল বাংলাদেশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬ ১:৩৮
ছবি: সংগৃহীত
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে পর্তুগালের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

আসন্ন উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে পর্তুগাল। মঙ্গলবার পর্তুগিজ কোচ রবের্তো মার্তিনেস এই দল ঘোষণা করেন। ঘোষিত এই স্কোয়াডে বিশ্বমঞ্চে দারুণ কিছুর প্রত্যাশায় অভিজ্ঞ ও একঝাঁক তরুণ প্রতিভার চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন তিনি।   এবারের আসরেও রোনালদোর কাঁধেই থাকছে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব, যা তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারে আরও একটি অনন্য মাইলফলক যোগ করতে যাচ্ছে।   ঘোষিত এই শক্তিশালী স্কোয়াডে রোনালদোর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন ইউরোপীয় ফুটবলের পরীক্ষিত তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, জোয়াও ফেলিক্স ও গনসালো রামোসের মতো ফরোয়ার্ডরা। দল ঘোষণার সময় কোচ মার্তিনেস এক আবেগঘন বার্তা দেন।   গত বছর অকালে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া দলের ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটাকে সম্মান জানিয়ে প্রতীকীভাবে তাকে এই স্কোয়াডের ‘২৭তম সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন কোচ, যা ফুটবলপ্রেমীদের বেশ আবেগাপ্লুত করেছে।   এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে খেলবে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নরা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে রোনালদোর দল। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন মিয়ামিতে শক্তিশালী কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।   ঘোষিত স্কোয়াডে গোলকিপার হিসেবে আছেন দিওগো কস্তা, জোসে সা, রুই সিলভা ও রিকার্দো ভেলহো। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন রুবেন দিয়াস, জোয়াও কানসেলো, নুনো মেন্দেস ও দিওগো দালোতের মতো বিশ্বমানের ডিফেন্ডাররা। এছাড়া মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে থাকছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, পেদ্রো নেতো ও গনসালো রামোস।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৬ ১৭:১০
ছবি: সংগৃহীত
কাল পাকিস্তানকে অলআউট করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শন টেইট

ঢাকা টেস্ট জয়ের পর সিলেট টেস্টেও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সামনে। ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে পাকিস্তানের বাকি ৩টি উইকেট তুলে নিতে পারলেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করবে টাইগাররা। অন্যদিকে পাকিস্তানের জয়ের জন্য এখনো প্রয়োজন ১৩৭ রান। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ উপযোগী বলে মনে করলেও শেষ দিনে পাকিস্তানকে অলআউট করে দেওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইট।   মঙ্গলবার (১৯ মে) চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে টেইট বলেন, "আমার মনে হয় ক্রিকেটের জন্য দিনটা বেশ ভালো কেটেছে, কারণ দুই দলই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। তারা খুব ভালো ব্যাটিং করেছে এবং সত্যি বলতে আজকের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ উপযোগী ছিল। তবে আমাদের ছেলেরা লড়াইয়ে ছিল। একটা সময় তারা আমাদের ওপর চেপে বসেছিল, কিন্তু দিনের শেষের দিকে ওই দুটি উইকেট তুলে নেওয়ার পর ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় সবাই বেশ খুশি ছিল।"   আজ দলের কঠিন সময়ে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ব্রেক-থ্রু এনে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্ত নিয়ে কোচ বলেন, "বিশেষ করে ওই রান আউটের সুযোগটা যখন হাতছাড়া হলো, আমাদের মনে হয়েছিল সেটাই হয়তো কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু হতে পারত। এরপর তাইজুলের মাধ্যমে সেই সাফল্য আসে। ডাগআউটে রোমাঞ্চ ছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি একদমই চিন্তিত ছিলাম না।"   কঠিন কন্ডিশনেও দল ভালো অবস্থানে রয়েছে দাবি করে টেইট আরও বলেন, "আজকের কন্ডিশনটা বেশ কঠিন ছিল, মনে হয়েছে এটাই সবচেয়ে গরম দিন। উইকেটও ব্যাটিংয়ের জন্য সত্যিই ভালো হয়ে উঠেছিল। তবে এগুলো কোনো অজুহাত নয়। দিনশেষে আমরা এখন ভালো অবস্থানে আছি, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ দিনের কথা বললে, আমার মনে হয় আমরা কাল তাদের অলআউট করে দেব। আশা করি এটাই হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ২২:৫৮
নেইমার জুনিয়র । ফাইল ছবি
সব জল্পনার অবসান, নেইমারকে নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করল ব্রাজিল

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বে ঘোষিত এই দলে সবচেয়ে বড় খবর হিসেবে ফিরেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র।   রিও ডি জেনিরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে দীর্ঘ আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ফেরানো হয় নেইমারকে। চোট, অস্ত্রোপচার ও ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তার পর তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছে।   নেইমারের ফেরায় সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হলেও রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তারকা রদ্রিগোর বাদ পড়া বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে ঘোষিত দলে কিছু জায়গায় পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা চলছে।   বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল এবার অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। কাসেমিরো, মারকিনিওস ও থিয়াগো সিলভার মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্দ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো তরুণদের নিয়েই সাজানো হয়েছে দল।   ব্রাজিল খেলবে সি গ্রুপে। আগামী ১৩ জুন নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ১৯ জুন হাইতি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ১৭:৪২
সরদার আজমুন। এএফসি
দুবাইয়ের শাসকের সঙ্গে ছবি ঘিরে বিতর্ক, বিশ্বকাপ দলে জায়গা হলো না ইরানি স্ট্রাইকার সরদার আজমুনের

দুবাইয়ের শাসকের সঙ্গে তোলা একটি ছবি ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তারকা স্ট্রাইকার সরদার আজমুনের। সাম্প্রতিক ঘোষিত প্রাথমিক দল থেকে তার বাদ পড়া নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। গত মার্চে দুবাইয়ের শাসকের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন আজমুন। সেই পোস্টের পর ইরানে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি এবং বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও আলোচিত হয়।   গত শনিবার বিশ্বকাপের জন্য ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করে ইরান ফুটবল কর্তৃপক্ষ। সেই তালিকায় আজমুনের নাম নেই। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী এই দল থেকে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্ধারণ করা হবে। বিশ্বকাপের আগে তুরস্কে প্রস্তুতি ক্যাম্পে যাওয়ার জন্যও একই স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে আজমুনের অনুপস্থিতি বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ওই ছবিগুলো সরিয়ে ফেলেন আজমুন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত থাকে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, চোটের কারণেই তিনি দল থেকে ছিটকে গেছেন।   জাতীয় দলের কোচ আমির ঘালেনোই বলেন, “খেলোয়াড় নির্বাচনে মাঠের পারফরম্যান্স ও কৌশলগত দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো বিষয় এখানে প্রভাব ফেলেনি।” বর্তমানে দুবাইয়ের ক্লাব শাবাব আল আহলির হয়ে খেলছেন ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করেছেন তিনি।   টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আরিজোনার টুকসনে দলের বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। গ্রুপ ‘জি’-তে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিসর।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ২:১
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে আকাশ নিরাপত্তা জোরদার, ড্রোন মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথের নিরাপত্তা জোরদার করছে। সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ও অননুমোদিত আকাশযান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   এ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ বছর প্রায় ২৫ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে, যা “বিপজ্জনক ও অবৈধ ড্রোন ব্যবহারের” বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ব্যয় করা হচ্ছে।   এফবিআই সম্প্রতি আলাবামার হান্টসভিলে একটি জাতীয় ড্রোন প্রতিরোধ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছে। সেখানে স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের ড্রোন শনাক্ত, অনুসরণ এবং প্রয়োজনে নিষ্ক্রিয় করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।   প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি বিশ্বকাপ ভেন্যুর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। এতে মাঠ পর্যায়ের ব্যবহারিক অনুশীলন এবং সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   কংগ্রেস সদস্যদের মতে, বড় জনসমাগম ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আকাশ নিরাপত্তা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। নিউ জার্সি ও নিউইয়র্ক অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় ড্রোন জ্যামিং প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রণ দখল ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষামূলক ড্রোন ব্যবহারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে কোন প্রযুক্তি সরাসরি ব্যবহার করা হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি নিরাপত্তা ব্যর্থতার ঘটনার পর ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বাড়ে।   এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনে আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সংস্থার সমন্বিত ব্যবস্থা কাজ করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ১৬, ২০২৬ ১৮:৫০
ছবি: সংগৃহীত
ফায়ারফাইটার হওয়ার পথে থেমে যাওয়া যাত্রা থেকে বিশ্বকাপে হাজেম মাস্তুরি

ফুটবলকে অনেকেই কেবল খেলা হিসেবে দেখলেও এর ভেতরে থাকে সংগ্রাম, ত্যাগ আর স্বপ্ন পূরণের গল্প। তেমনই এক অনুপ্রেরণার নাম তিউনিসিয়ার স্ট্রাইকার হাজেম মাস্তুরি। জীবিকার অনিশ্চয়তায় যিনি একসময় দমকলকর্মী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তিনি এখন জাতীয় দলের আক্রমণের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন।   ১৯৯৭ সালে তিউনিসে জন্ম নেওয়া মাস্তুরির ফুটবল যাত্রা শুরু হয় একেবারে নিচের স্তর থেকে। ২০১৯ সালে তিনি খেলতেন তৃতীয় বিভাগের দেগুচ এফসিতে। পরের বছর দ্বিতীয় বিভাগের এলপিএস তোজেউরে খেললেও বড় কোনো সাফল্য আসেনি। ২০২১ সালে শীর্ষ লিগের ইএস মেত্লাউইতে যোগ দিলেও সেখানে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। সীমিত আয় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে একসময় পেশাদার ফুটবল ছেড়ে বিকল্প পেশা হিসেবে দমকলকর্মী হওয়ার চিন্তাও করেন তিনি।   তবে সেই সিদ্ধান্তের আগেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনে। ২০২৩ সালে ইরাকের আল নাজাফ এসসিতে যোগ দিয়ে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণের চেষ্টা শুরু করেন মাস্তুরি। পরের বছর তিউনিসিয়ার ইউএস মোনাস্টিরে যোগ দেওয়ার পর তার ক্যারিয়ারে আসে বড় পরিবর্তন। সেখানে এক মৌসুমে ১৭টি গোল করে আলোচনায় আসেন তিনি।   এই পারফরম্যান্সের পর ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো তিউনিসিয়া জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করে ২০২৫ সালে রাশিয়ার ক্লাব এফসি ডায়নামো মাখাচকালায় যোগ দেন, ট্রান্সফার ফি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ইউরো বলে জানা যায়।   বর্তমানে জাতীয় দলের হয়ে ১২ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন মাস্তুরি। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অল্প কিছু বছর আগেও যিনি দমকল বাহিনীতে স্থায়ী চাকরির স্বপ্ন দেখছিলেন, আজ তিনি ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে উঠে আসা মাস্তুরির গল্প এখন তিউনিসিয়ার ফুটবলে নতুন প্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: মে ১৬, ২০২৬ ১৬:৩৮
ছবি: সংগৃহীত
ছন্দহীন লুকাকুকে নিয়েই বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দল, নতুন মুখ পার্দো

ছন্দে না থাকলেও বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। কোচ রুডি গার্সিয়া বিশ্বাস করছেন, বড় মঞ্চে নিজের সেরা খেলাই তুলে ধরতে পারবেন এই ফরোয়ার্ড।   ৩৩ বছর বয়সী লুকাকু চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে গত দুই মাস আগে ফিরলেও নিয়মিত একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না। চলতি মৌসুমে ন্যাপোলির হয়ে সাতটি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে মোট ৬৯ মিনিট খেলেছেন তিনি।   তবে কোচ গার্সিয়া লুকাকুকে নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “রুমেলু চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছে। সে এখন ছন্দে নেই। বিশ্বকাপে শুরু থেকে খেলানো হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সে আমাদের সেরা স্ট্রাইকার। সামনে সময় আছে, আশা করছি সে ফিট হয়ে উঠবে এবং ছন্দ ফিরে পাবে।”   দলে চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মাতিয়াস ফার্নান্দেজ-পার্দো। লিলের এই ফরোয়ার্ড আগে স্পেনের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেললেও এবার বেলজিয়ামের জার্সিতে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন।   অভিজ্ঞদের মধ্যে কেভিন ডি ব্রুইনা, থিবো কোর্তোয়া ও জেরেমি ডকুর ওপর ভরসা রেখেছেন কোচ। আগামী ১৫ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বেলজিয়াম। ‘জি’ গ্রুপে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ ইরান ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস ও ভ্যাঙ্কুভারে।   বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দল: গোলরক্ষক: থিবো কোর্তোয়া, সেনে ল্যামেন্স, মাইক পেন্ডার্স। ডিফেন্ডার: টিমোথি কাস্তানিয়া, জেনো ডেবাস্ট, ম্যাক্সিম ডি কুইপার, কোনি ডি উইন্টার, ব্র্যান্ডন মেচেলে, থমাস মুনিয়ের, নাথান এনগয়, জোয়াকিন সেস, আর্থার থিয়েট। মিডফিল্ডার: কেভিন ডি ব্রুইনা, আমাদু ওনানা, নিকোলাস রাস্কিন, ইউরি তিয়েলেমানস, হান্স ভানাকেন, অ্যাক্সেল উইটসেল। ফরোয়ার্ড: চার্লস ডি কেটেলিয়ার, জেরেমি ডকু, মাতিয়াস ফার্নান্দেজ-পার্দো, রোমেলু লুকাকু, ডোডি লুকেবাকিও, ডিয়েগো মোরেরা, অ্যালেক্সিস সেলেমেকার্স, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ১৬, ২০২৬ ০:৪৭
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

ইউটিউবে বিনামূল্যে সরাসরি দেখা যাবে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ, যেভাবে দেখবেন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ২৯, ২০২৬ ১৪:০ 0