টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দিনের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা পাথুম নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি ও ব্যাটারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। অস্ট্রেলিয়া ১৮২ রানে ইনিংস শেষ করে। ব্যাটিংয়ে নেমে ট্রাভিস হেড ৫৬ রানে ও মিচেল মার্শ ৫৪ রানে দলের জন্য দৃঢ় প্রতিরক্ষা গড়ে তোলেন। তবে মিডল অর্ডার ভেঙে গেলে অস্ট্রেলিয়া চাপের মধ্যে পড়ে। শ্রীলঙ্কার বোলার দুশান হেমন্ত সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ওভারের পর কুশল পেরেরার উইকেট হারালেও ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস চাপে ফেলেননি। তারা ৯৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগোতে সাহায্য করেন। মেন্ডিস ৫১ রানে আউট হন। এরপর নিশাঙ্কার সঙ্গে পাভান রত্নায়েক ৭৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে জয় এনে দেন। পাথুম নিশাঙ্কা ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন, ইনিংসটি মাত্র ৫২ বলে ১০টি চার ও ৫টি ছয়ে সাজানো। অপরাজিত রত্নায়েক ১৫ বলে ২৮ রান যোগ করেন। এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, জিম্বাবুয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে, অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ড দুই পয়েন্ট নিয়ে তিন ও চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। ওমান এখনও কোনো পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি।
আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াবে ওয়ানডে ফরম্যাটের বিজয় সিরিজ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)। এই আসরের জন্য রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চার দলের অধিনায়ক এবং স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। চারটি জোনের অধিনায়করা হলেন: সাউথ জোন: মেহেদী হাসান মিরাজ, নর্থ জোন: নাজমুল হোসেন শান্ত, ইস্ট জোন: ইয়াসির আলী চৌধুরী, সেন্ট্রাল জোন: মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। চার জোনের স্কোয়াডের বিস্তারিত: ইস্ট জোন: পারভেজ হোসেন ইমন, জাকির হাসান, অমিত হাসান, মমিনুল হক, ইয়াসির আলী রাবিব, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, শাহাদাত হোসেন দিপু, আসাদুল্লাহ হিল গালিব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তানজিম হাসান সাকিব, খালেদ আহমেদ, নাসুম আহমেদ, নাঈম হাসান, নাইম হাসান সাকিব। নর্থ জোন: তানজিদ হাসান তামিম, হাবিবুর রহমান সোহান, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, আকবর আলী, সাব্বির রহমান, শেখ মেহেদী, এসএম মেহেরব হোসেন অহিন, তাইজুল ইসলাম, নাহিদ রানা, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, আব্দুল গাফফার সাকলাইন। সাউথ জোন: সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয়, জাওয়াদ আবরার, আজিজুল হাকিম তামিম, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হোসান হোসান, সামিউন বশির রাতুল, তানভির ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রবিউল হক, রেজাউর রহমান রাজা, রুয়েল মিয়া, স্বাধীন ইসলাম। সেন্ট্রাল জোন: সাইফ হাসান, নাইম শেখ, জিসান আলম, আরিফুল ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইরফান শুক্কুর, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, রাকিবুল হাসান, রিজয়ান হোসেন, আবু হায়দার রনি, ইবাদত হোসেন, রিপন মণ্ডল, মারুফ মৃধা, ও ওয়াসি সিদ্দিকী। বিসিএলের এই আসরে জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি নতুন প্রতিভারাও মাঠে নামবেন। স্কোয়াড ঘোষণা হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক লিগের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বহুল প্রতীক্ষিত ভারত–পাকিস্তান মহারণে আবারও একতরফা লড়াইয়ের দেখা মিলল। ৬ হাজার কোটি টাকার ‘হাই-ভোল্টেজ’ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয়ে গ্রুপসেরা হয়ে সুপার এইটে উঠেছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত। ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দুই উইকেট নিয়ে দলকে চাপে ফেলে দেন যশপ্রীত বুমরা। দ্রুত ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। অধিনায়ক বাবর আজম ৩৪ রানে ফিরলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন উসমান খান। তবে ৪৪ রান করে তিনিও বিদায় নিলে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয় দলটি। ভারতের বোলিং আক্রমণে ছিলেন একাধিক নায়ক। হার্দিক পান্ডিয়া ও বুমরা দুইটি করে উইকেট নেন। স্পিনে অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তীও দুটি করে উইকেট শিকার করেন। পাকিস্তানের ইনিংসের শেষ প্রহরে উসমান তারিককে বোল্ড করে ম্যাচের ইতি টানেন পান্ডিয়া। এর আগে টসে জিতে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে ভারত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ রান করেন ঈশান কিষান। এছাড়া সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭ ও তিলক ২৫ রান যোগ করেন। পাকিস্তানের হয়ে সাইম ৩ উইকেট নেন। এই জয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮–১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। অন্যদিকে সুপার এইটে উঠতে শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই পাকিস্তানের। হারলে গতবারের মতো এবারও প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হবে দলটিকে। সংক্ষিপ্ত স্কোর ভারত: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (ঈশান ৭৭, সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭, তিলক ২৫; সাইম ৩/২৫)। পাকিস্তান: ১৮ ওভারে ১১৪ (উসমান ৪৪, আফ্রিদি ২৩*; পান্ডিয়া ২/১৬, বুমরা ২/১৭, বরুণ ২/১৭, অক্ষর ২/২৯) ফল: ভারত ৬১ রানে জয়ী ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ঈশান কিষান
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আজ মাঠে গড়াচ্ছে। টস জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, এবং ভারত ব্যাট করতে নামছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যে হ্যান্ডশেক বিনিময় হয়নি। আগের ম্যাচগুলোর মতোই দুই অধিনায়ক সৌহার্দ্যবোধ দেখাননি। বাংলাদেশের মধ্যস্থতায় শুরুতে কিছু অনিশ্চয়তা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত আইসিসির উদ্যোগে ভারত ম্যাচ খেলার জন্য রাজি হয়। পাকিস্তান একাদশ: সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান তারিক, আবরার আহমেদ। ভারতীয় একাদশ: ইশান কিশান (উইকেটরক্ষক), অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মা, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), হার্দিক পান্ডিয়া, শিবাম দুবে, রিংকু সিং, অক্ষর প্যাটেল, কুলদিপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী, জসপ্রিত বুমরাহ। ম্যাচটি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সবসময় হাইভোল্টেজ পরিবেশ তৈরি হয়। মাঠে খেলা শুরু হওয়ায় সারা বিশ্ব থেকে দর্শক ও সমর্থকদের নজর এখন পুরো ক্রিকেটের দিকে।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রক্রিয়াটি আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সবশেষ বোর্ড সভায় আলোচনার পর বিষয়টি এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর নিশ্চিত করেছেন যে, সাকিবের ফেরার পথে বিদ্যমান আইনি ও দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনে আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেবেন তাঁর আইনজীবীরা। আসিফ আকবর গণমাধ্যমকে জানান, সাকিবের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য, চলমান মামলা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পেপারওয়ার্ক এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, “সাকিবের আইনজীবী সকল কাগজপত্র গুছিয়ে ফেলেছেন। আজই সেই ফাইলগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। আমরা বোর্ড থেকে সরকারকে অনুরোধ করেছি যেন সাকিবের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়। নির্বাচকরা যদি মনে করেন তিনি খেলার জন্য প্রস্তুত, তবে আমরা তাঁকে অবশ্যই মাঠে চাই।” দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর সাকিবের ফেরার পথ আরও সুগম হতে পারে বলে মনে করছেন বিসিবির এই পরিচালক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা বিএনপি সরকারের মনোভাব সম্পর্কে আসিফ আকবর বলেন, “বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সাকিবের বিরুদ্ধে যদি সরাসরি কোনো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ বা খুনের প্রমাণ না থাকে, তবে সরকার তাঁর প্রতি নমনীয় থাকবে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সবসময়ই খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার কথা বলেছেন। সুতরাং বিষয়টি এখন অনেকটাই পরিষ্কার।” সাকিবের ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কবে নাগাদ আবার প্রিয় তারকাকে লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে। দাপ্তরিক এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে সাকিবের প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল নিজেকে নিয়ে মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া নানা গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত ২টার দিকে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ কথা জানান। তামিম লিখেছেন, আজ সারা দিনে আমাকে ঘিরে মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা গুঞ্জন দেখতে পেয়েছি, যা পুরোপুরি মিথ্যা। এমন কোনো প্রস্তাব আমি পাইনি। এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। তিনি একই সঙ্গে অনুরোধ করেছেন, সকলকে অবগত থাকতে যাতে কোনো বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে না পড়ে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেনি বাংলাদেশ, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে কোনো শাস্তি বা আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে না। বরং বাংলাদেশকে ২০২৮–২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগও প্রদান করা হচ্ছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপে অন্যান্য দল মাঠে থাকলেও বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আফসোস সৃষ্টি করেছিল। লাহোরে আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর এ বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা আসে। বিশ্বকাপে না খেললেও বিসিবির প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হবে এবং টুর্নামেন্টের লাভের অংশও পাবে বাংলাদেশ। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বৈঠকের পর মন্তব্য করেন, বিসিবি যে ক্রিকেট ডিপ্লোমেসি দেখিয়েছে, তার জন্য আইসিসি কোনো শাস্তি দিচ্ছে না। বরং ভবিষ্যতে একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক করা হচ্ছে। এটা একটি দারুণ অর্জন। দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে চারটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিসিবি ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিল। আইসিসি ও বিসিবি নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশ নিতে পারেনি। আসিফ নজরুল আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও বিসিবি নিয়েছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে যে ত্যাগ স্বীকার করা হয়েছে, তা যুগান্তকারী উদাহরণ। শুধু আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট নয়, দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং মাঠপর্যায়ের খেলাগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটল অবশেষে। পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে, আগামী ১৫ তারিখ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান দল। লাহোরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে। বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে পেশোয়ারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। নাকভি বলেন, আমরা আলোচনায় বাংলাদেশের বিষয় ছাড়া অন্য কোনো শর্ত রাখিনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের জন্য সম্মান আদায় করা এবং তাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিকার নিশ্চিত করা। এর আগে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ সরকার ভারত সফরে বিশ্বকাপ দল পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থীদের হুমকির বিষয়টি সামনে আসে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা নাকচ করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়—যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। নাকভি আইসিসির সেই সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, আপনারা দেখেছেন, বাংলাদেশ যা চেয়েছিল তার সবই শেষ পর্যন্ত মেনে নেওয়া হয়েছে। আমাদের কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ছিল না। সরকারও সেই ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যখন তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলো এবং স্বীকার করা হলো যে তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তখনই আমরা খেলতে সম্মত হয়েছি। এ সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে খেলার কথা থাকলেও শুরুতে সেই ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে তারা ম্যাচটি বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান। ফলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানানো হয়, “বর্তমান পরিস্থিতি, ইতিবাচক অগ্রগতি এবং বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে” ভারতীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামার অনুমতি দেয়া হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে। গত কয়েক দিন ধরে এই ম্যাচটি ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে পাকিস্তানকে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানায়। সেই দিন সন্ধ্যায় পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলা নিয়ে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এর কিছুক্ষণ আগেই আইসিসি বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়। ভারতে সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। তবে আইসিসি পরে জানায়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক শাস্তি আরোপ করা হবে না। একই সঙ্গে ২০২৮–২০৩১ চক্রে বাংলাদেশকে একটি অতিরিক্ত আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পর বিসিবি এক বিবৃতিতে পিসিবিকে সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানায় এবং ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায়।
পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত আইসিসি, পিসিবি এবং বিসিবি-র মধ্যকার ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কোনো ধরনের আর্থিক, প্রশাসনিক বা ক্রীড়াগত শাস্তি আরোপ করছে না ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইসিসি তাদের এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, লাহোর আলোচনা অত্যন্ত গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তান দলকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি করানোর ক্ষেত্রে বিসিবির ইতিবাচক মধ্যস্থতা ও সমর্থনের বিষয়টি আইসিসির কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। শাস্তি নয়, মিলছে বড় ইভেন্ট: বিসিবি-কে একটি ‘মূল্যবান পূর্ণ সদস্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইসিসি জানিয়েছে, ২০ কোটির বেশি ভক্তের এই প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজারকে তারা কোনোভাবেই অবহেলা করতে চায় না। সমঝোতার অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই অর্থাৎ ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এককভাবে আইসিসির একটি বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। তবে এটি আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিচালনাগত শর্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে। পরিষ্কার অবস্থান বিসিবির: আইসিসি স্পষ্ট করেছে যে, বিসিবির ওপর কোনো জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না। এমনকি বিসিবি চাইলে তাদের আইনি অধিকার বা ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটির শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগও বহাল থাকবে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্তা এই পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ওপর প্রভাবহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক সংযুক্তির দাবিদার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক এবং ২০২৭ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে নির্ধারিত আছে। এর বাইরে লাহোর চুক্তির মাধ্যমে নতুন এই টুর্নামেন্ট প্রাপ্তি দেশের ক্রিকেটে এক নতুন প্রাণসঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিজেদের দাবিতে অটল থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বরং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সোমবার আইসিসির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে অনুরোধ জানান। আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ উল্লেখ করে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ক্রিকেট ঐতিহ্য ও বৈশ্বিক ক্রিকেট বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিরাপত্তা সংকটের কারণে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে আইসিসি তাতে সম্মত না হওয়ায় বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ দল। আইসিসি আরও জানায়, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব যেন না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি কাজ করবে। প্রায় ২০ কোটির বেশি সমর্থক নিয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজার হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নে আইসিসি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও উল্লেখ করা হয়। আইসিসি স্পষ্ট করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, খেলাসংক্রান্ত বা প্রশাসনিক জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হবে না। প্রয়োজনে বিসিবি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে যাওয়ার অধিকার রাখবে, যা আইসিসির বর্তমান বিধিমালার আওতায় অক্ষুণ্ন থাকবে। আইসিসি, বিসিবি ও পিসিবির সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। তবে এটি আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও পরিচালনাগত শর্তাবলির অধীন থাকবে। উল্লেখ্য, ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা রয়েছে বাংলাদেশের। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তাকে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক। তবে এটি বাংলাদেশকে একটি প্রধান ক্রিকেট জাতি হিসেবে আইসিসির দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারকে পরিবর্তন করবে না। বিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দেশটির ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন এবং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য ভবিষ্যৎ সুযোগ আরও শক্তিশালী করার দিকে আমরা মনোযোগী।
ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বিসিবি। সোমবার রাতে বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্বকাপ ইস্যুতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকেও (আইসিসি) ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে আইসিসি সেই প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় বিসিবির প্রতি ‘অন্যায়’ করা হয়েছে দাবি করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত করা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইসিসির প্রতিনিধিরা গতকাল পাকিস্তান সফর করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি সভাপতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গতকাল পাকিস্তানে আমার সংক্ষিপ্ত সফর এবং আমাদের আলোচনার সম্ভাব্য ফলাফলের প্রেক্ষিতে, পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের স্বার্থে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচটি খেলার জন্য আমি পাকিস্তানের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। বিশ্বকাপ ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, এই সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান যে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার নজির স্থাপন করেছে, তাতে বিসিবি গভীরভাবে আপ্লুত। তিনি পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভী, বোর্ড কর্মকর্তারা এবং পাকিস্তানের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। বিসিবি সভাপতি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও দৃঢ় ও সমৃদ্ধ হবে।
আসন্ন বোর্ড নির্বাচনকে সামনে রেখে এফসি বার্সেলোনার সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জোয়ান লাপোর্তা। নির্বাচনে অংশ নিতেই এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বার্সেলোনার অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন রাফা ইউস্তে। ক্লাবের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের নিয়মিত বৈঠকে লাপোতার পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১৫ মার্চ বোর্ড অব ডিরেক্টরস নির্বাচনের তফসিলও প্রকাশ করা হয়। লাপোর্তার সঙ্গে আরও কয়েকজন পরিচালকও পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইনস্টিটিউশনাল অ্যাফেয়ার্সের ভাইস-প্রেসিডেন্ট অ্যালেনা ফর্ত, সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাফায়েল এসকুদেরো এবং বোর্ড সদস্য ফেরান অলিভার, জোসেপ মারিয়া আলবের্ত, জাভিয়ার বারবান্যি, মিকেল ক্যাম্পস, অরেলি মাস, জাভিয়ার পুইগ ও জোয়ান সোলের ই ফেরে। তবে এসব পদত্যাগের পরও ক্লাবের দৈনন্দিন কার্যক্রম চলবে। বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ৩০ জুন পর্যন্ত পুনর্গঠিত বোর্ড দায়িত্ব পালন করবে। এই সময়ের জন্য রাফায়েল ইউস্তেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে। ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন জোসেপ কুবেলস। ট্রেজারার হিসেবে থাকছেন আলফনসো কাস্ত্রো। বোর্ড সদস্য হিসেবে আছেন জোসেপ ইগনাসি মাসিয়া, আঞ্জেল রিউদালবাস, জোয়ান সোল ই সুস্ত এবং সিসকো পুজল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখন এক নতুন ও নাটকীয় মোড় নিয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি কর্তৃক বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসতে এবার তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই সংকট নিরসনে এবং ‘পারস্পরিক সমঝোতা’র পথ খুঁজতে বর্তমানে লাহোরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত আইসিসি এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেই বিসিবি সভাপতির এই ঝটিকা লাহোর সফর। পরশু রাতে এক জরুরি বার্তা পেয়ে মধ্যরাতেই পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হন আমিনুল ইসলাম। গতকাল ভোরে লাহোরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির। সেখানে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি। পরবর্তীতে আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকেও অংশ নেন তাঁরা। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি। পাকিস্তান আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, বাংলাদেশের ওপর অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। এখন আইসিসি চাইছে পাকিস্তানকে ওই ম্যাচ খেলতে রাজি করাতে, আর বিনিময়ে বাংলাদেশের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ না নিলেও আইসিসির বার্ষিক রাজস্ব থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য অংশ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে বিদেশি দলগুলোর বাংলাদেশ সফর নিয়ে কোনো আইনি বা কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি না করার নিশ্চয়তা। আইসিসির পক্ষ থেকে এই আলোচনার সমন্বয় করছেন সংস্থাটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। পাকিস্তানের অনড় অবস্থান এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সংকট উত্তরণে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিসিবি’র পক্ষ থেকে জুড়ে দেওয়া তিনটি শর্তের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে এর মধ্যে আইসিসির ক্রিকেটীয় রাজনীতি এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন লাহোরের এই কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে। শেষ পর্যন্ত কি পিসিবি তাদের ৩ শর্তে আইসিসিকে রাজি করাতে পারবে? নাকি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়াই শেষ হবে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব—সেই উত্তর পাওয়া যাবে খুব শীঘ্রই।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে যখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি কথিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তান ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি ‘ডিপফেক’। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এর বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করা হয়। ভিডিওতে মোদিকে বলতে শোনা যায় যে, শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে গিয়ে ভারতকে ‘ফেলে চলে গেছে’ পাকিস্তান। মুহূর্তেই ভিডিওটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন পোস্টে লক্ষাধিক ভিউ জমা হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য। নির্ভরযোগ্য কোনো ভারতীয় বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি এআই শনাক্তকরণ টুল দিয়ে পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, এটি ৭১ শতাংশের বেশি কৃত্রিমভাবে তৈরি। রিভার্স ইমেজ সার্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা গেছে, মূল ভিডিওটি ১২ মে ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ভারত–পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। মূলত সেই পুরনো ভিডিওর ওপর এআই ব্যবহার করে নতুন কণ্ঠ বসিয়ে এই বিভ্রান্তিকর দাবিটি ছড়ানো হয়েছে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সাহায্যে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই অপচেষ্টাকে ‘ডিজিটাল কারসাজি’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে এমন ভিডিও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই করার জন্য সাধারণ ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব ক্রিকেটে চলমান ভারত-পাকিস্তান অস্থিরতা নিরসনে বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন আইসিসি-র সাবেক সভাপতি এহসান মানি। লন্ডন থেকে ডন পত্রিকাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কেবল পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সাথে আলোচনা করাই যথেষ্ট নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটকে বিশাল আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে জয় শাহর উচিত ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তান সফর করা। এহসান মানি মনে করেন, পাকিস্তান সরকারকে তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরিয়ে আনতে জয় শাহকে সরাসরি তাদের অভিযোগগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। আইসিসি বর্তমানে যে আলোচনার জন্য ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তার সমালোচনা করে মানি বলেন, খাজা একজন অ্যাসোসিয়েট দেশের প্রতিনিধি হিসেবে এই বড় সংকট সমাধানের জন্য সঠিক ব্যক্তি নন। এই বিষয়টি আইসিসি চেয়ারম্যানেরই সরাসরি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। সাক্ষাৎকারে এহসান মানি আইসিসি-র অভ্যন্তরে ভারতের আধিপত্য এবং রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইসিসি যদি আবারও ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করে, তবে পাকিস্তানের উচিত হবে সুইজারল্যান্ডের বিশ্ব সালিশি আদালতে (CAS) যাওয়া। তিনি দাবি করেন, আইসিসি-র বিভিন্ন কার্যক্রমে রাজনীতির সম্পৃক্ততার অনেক প্রমাণ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করতে পারে। লভ্যাংশ বণ্টনের বৈষম্য তুলে ধরে মানি জানান, আইসিসি-র মোট আয়ের ৩৮.৫ শতাংশ পায় ভারত, আর পাকিস্তান পায় মাত্র ৫.৭৫ শতাংশ। ক্রিকেটের ‘ভদ্রতা’ নষ্ট করার জন্য ভারতকে দায়ী করে তিনি বলেন, এশিয়া কাপের সময় ভারত পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সাথে সৌজন্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হলেও আইসিসি নীরব ছিল। এমনকি পাকিস্তানি প্রতিনিধি হওয়ায় ভারত ট্রফি নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সবশেষে তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে, তার প্রধান কারণ বিসিসিআই-এর অনমনীয় ও নেতিবাচক মনোভাব। এখন সময় এসেছে রাজপথের মতো ক্রিকেটের মাঠ থেকেও এই রাজনীতির অবসান ঘটানোর।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। মূলত বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং সংহতি জানাতেই পিসিবি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উল্লেখ্য, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল, যা আইসিসি নাকচ করে দেয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, আইসিসি এক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে। এদিকে, পাকিস্তানের এই বয়কটের সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে থাকা দেশটির জন্য এই ম্যাচটি ছিল আয়ের বড় উৎস। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সিইও অ্যাশলে ডি সিলভা জানিয়েছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং হোটেল বুকিংও সম্পন্ন। ম্যাচটি বাতিল হলে দেশটির পর্যটন খাত বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে। ২০০৯ সালের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বন্ধুত্বের খাতিরে পাকিস্তানকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে লঙ্কান বোর্ড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা। তবে এবারের সমীকরণটা একটু ভিন্ন। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে যদি এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হয়, তবে মাঠে নামার আগে পাকিস্তান সরকার থেকে সবুজ সংকেত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পাক অধিনায়ক সালমান আগা। বৃহস্পতিবার কলম্বোতে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। আগার মতে, ভারতের বিপক্ষে খেলা বা না খেলা সম্পূর্ণরুপে তাদের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে আমাদের ভারতের সঙ্গে খেলতে হয়, তবে আমরা পুনরায় সরকারের পরামর্শ নেব এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।” সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তকে পাকিস্তান দল সম্মানের সঙ্গে মেনে নেবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন এই অধিনায়ক। তিনি আশা করেন, আসন্ন ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের সমর্থকরা পাকিস্তানকে সমর্থন জোগাবেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক বিশাল ঝড় তুলেছিল পেসার জাহানারা আলমের সেই বিস্ফোরক অভিযোগ। সাবেক ম্যানেজার ও নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা সেই গুরুতর অভিযোগের তদন্তে এবার বড় মোড় নিয়েছে। বিসিবির স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিসিবির স্বীকারোক্তি: জাহানারা আলমের করা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পেয়েছে বিসিবি গঠিত তদন্ত কমিটি। ঘটনার সূত্রপাত: ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালে দলের ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে 'অশোভন আচরণ' ও 'শারীরিক স্পর্শের' অভিযোগ তোলেন জাহানারা। মঞ্জুরুলের অবস্থান: যদিও অভিযুক্ত মঞ্জুরুল ইসলাম শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন' ও 'মিথ্যা' বলে দাবি করে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতি: বিসিবি একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তদন্তের ফলাফল নিশ্চিত করেছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মঞ্জুরুল ইসলামের সাথে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ গত ৩০শে জুন, ২০২৫-এ শেষ হয়ে গেছে। একজন নারী ক্রিকেটার যখন সাহসের সাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ তোলেন, তখন সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া পুরো ক্রিকেট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। এই ঘটনায় বিসিবির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
ফুটবল দুনিয়ায় বইছে চরম অস্থিরতার হাওয়া! ইউক্রেনের বিতর্কিত ‘হত্যা তালিকায়’ (মিরোৎভোরেৎস) নাম উঠলো ফিফা প্রেসিডেন্ট গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। যে ওয়েবসাইটে ইউক্রেনের শত্রু হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের তথ্য রাখা হয়, সেখানেই এবার জায়গা হলো ফুটবলের সর্বোচ্চ অভিভাবকের। কিন্তু কেন এই চরম সিদ্ধান্ত? মূল ঘটনাটি সংক্ষেপে জেনে নিন: অভিযোগের তীর: ইউক্রেনের দাবি, ইনফান্তিনো রাশিয়ার প্রতি নমনীয় এবং পুতিন সরকারের প্রোপাগান্ডা ছড়াতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছেন। পুরানো বন্ধুত্ব: ২০১৯ সালে পুতিনের কাছ থেকে পাওয়া ‘অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ’ পদকটিও এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। বিস্ফোরক মন্তব্য: সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ফুটবল থেকে রাশিয়াকে বয়কট করায় কোনো উন্নতি হয়নি, বরং ঘৃণা বেড়েছে। এই মন্তব্যেই ফুঁসে উঠেছে ইউক্রেন প্রশাসন। কূটনৈতিক উত্তেজনা: ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফিফা প্রেসিডেন্ট তার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন। এই ঘটনা কি আন্তর্জাতিক ফুটবলের রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নিতে যাচ্ছে? ইউক্রেনের এমন কঠোর অবস্থান নিয়ে আপনার মতামত কী?
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের এই সময়টায় তিন দলের একটি টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলবেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। বিসিবি আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট থেকে কত আয় করবেন মোস্তাফিজ-লিটনরা? বিসিবি জানিয়েছে, বিশ্বকাপের এই এক মাসে লিটন দাসের ধূমকেতু, নাজমুল হোসেনের দুর্বার আর আকবর আলীর নেতৃত্বে মাঠে নামবে দুরন্ত একাদশ। ৫ ফেব্রুয়ারি শুরু এই টুর্নামেন্টের জন্য অনুশীলনও শুরু করেছে দলগুলো। টি-২০ বিশ্বকাপে না যাওয়ায় ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির কিছুটা হলেও অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ কাপ দিয়ে পুষিয়ে দিতে চায় বিসিবি। এ জন্য ৪ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টে শুধু ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি আর প্রাইজমানি বাবদই বিসিবি খরচ করছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ খেলে একজন ক্রিকেটার আসলে কত টাকা পাবেন সেটা অনেকাংশেই নির্ভর করবে তার দলের সাফল্যের ওপর। এমনিতে প্রতি ম্যাচের জন্য ক্রিকেটাররা ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন ম্যাচ ফি হিসেবে। ম্যাচ জিতলে দলগুলো পাবে আরও ১০ লাখ টাকা। প্রতি দলে ২০ জন করে ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের সদস্য থাকবেন। গড় হিসাবে ক্রিকেটাররা এখান থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা পাবেন। প্রথম পর্বের দুটি ম্যাচ জিতলে ২ লাখ টাকা করে পাবেন ক্রিকেটাররা। মূল আয়টা হবে যদি তারা চ্যাম্পিয়ন হন। লিগ পর্বে তিন ম্যাচ হওয়ার পর শীর্ষ দুটি দল ফাইনাল খেলবে। যেখানে চ্যাম্পিয়ন দল প্রাইজমানি হিসেবে পাবে ১ কোটি টাকা। গড় হিসেবেও ক্রিকেটাররা ৫ লাখ টাকা করে পাবেন। অর্থাৎ কোনো ক্রিকেটার যদি চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হন, তাহলে তিনি অন্তত ৭ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। রানার্সআপ দল প্রাইজমানি হিসেবে পাবে ৪০ লাখ টাকা। গড় হিসেবে জনপ্রতি তারা পাবেন ২ লাখ। এই দলের ক্রিকেটাররা টুর্নামেন্ট থেকে অন্তত ৪ লাখ টাকা পাবেন। এর বাইরেও ক্রিকেটারদের জন্য অর্থের ব্যবস্থা আছে—প্রতি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ টাকা দেওয়া হবে। টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটার পাবেন ৫ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আর উইকেটশিকারির জন্য থাকবে ৩ লাখ টাকা করে। আগামীকাল টুর্নামেন্টের প্রথম দিন লিটনের ধূমকেতু একাদশের মুখোমুখি হবে আকবরের দুরন্ত একাদশ। পরদিন নাজমুলের দুর্বারের বিপক্ষে লড়বে ধূমকেতু। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্বের শেষ দিনে দুর্বার ও দুরন্ত মুখোমুখি হবে। সব কটি ম্যাচই শুরু হবে সন্ধ্যা ছয়টায়। ম্যাচগুলো ছাত্ররা তাদের আইডি কার্ড দেখিয়ে ফ্রি দেখতে পারবেন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।