২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জাতীয় ফুটবল দলের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে আর্জেন্টিনায় এক দিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই। স্পেনের কাছে ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে গেলেও জাতীয় দলের জন্য এ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট মিলেই জানান, "উচ্ছ্বাস উদযাপনের দিনটি নিয়ে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই ওই দিনটিকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হবে।" রোববারের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া সত্ত্বেও বুয়েনস আইরেসে জাতীয় দলকে স্বাগত জানানোর সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও দলীয় কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত প্রতিনিধিদলের একাংশ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে আর্জেন্টিনায় এসে পৌঁছাবে। অপরদিকে, বাকি খেলোয়াড়দের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সরাসরি তাদের নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে অথবা ছুটির জন্য অন্যান্য গন্তব্যে রওনা হবেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের আনন্দে যখন স্পেনের ফুটবলাররা মেতে উঠেছিলেন, তখনই পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তৈরি হয় আলোচনার নতুন বিষয়। ট্রফি তুলে দেওয়ার পরও মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশ্বকাপ ফাইনালের শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ট্রাম্প। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভিআইপি গ্যালারিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে বসে ম্যাচ উপভোগ করেন তিনি। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় তার ছবি দেখানো হলে দর্শকদের একটি অংশ শিস ও বিদ্রুপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়। তবে এসব উপেক্ষা করে তিনি ইনফান্তিনোর সঙ্গে আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন। ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতির সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন ট্রাম্প। দুই দলের খেলোয়াড়দের গলায় পদক পরিয়ে দেওয়ার পর স্পেন অধিনায়ক রদ্রির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেন তিনি। কিন্তু এরপরই শুরু হয় আলোচনার বিষয়টি। স্পেনের খেলোয়াড়রা যখন শিরোপা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনও ট্রাম্প মঞ্চে অবস্থান করছিলেন। ফিফার কর্মকর্তারা তাকে কিছুটা সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন, যাতে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে উদযাপন করতে পারেন। তিনি কিছুটা পিছিয়ে গেলেও পুরোপুরি মঞ্চ ছাড়েননি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও তাকে মঞ্চ থেকে নামানোর চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প স্পেনের খেলোয়াড়দের পাশেই দাঁড়িয়ে উদযাপনের মুহূর্তের অংশ হয়ে থাকেন। এ ধরনের ঘটনা ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। এর আগেও ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসির শিরোপা উদযাপনের সময় তাকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। সে সময় চেলসির অধিনায়ক রিস জেমস তাকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এবার স্পেনের কোনো খেলোয়াড়কে ট্রাম্পের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি। মঞ্চে তার অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল একটি ব্যতিক্রমী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, স্পেন যদি বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে তিনি টানা তিন সপ্তাহ দাড়ি ও গোঁফ কাটবেন না। শুধু তাই নয়, ভক্তদের জন্য ১০০টি বিটস হেডফোনও উপহার দেবেন। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের সময় যেন এখন এসে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে লা রোজা। বিশ্বকাপের আগে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে ইয়ামাল বলেছিলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বিশ্বকাপ জিততে পারলে তিন সপ্তাহ দাড়ি-গোঁফ রাখব। আর ১০০টি বিটস হেডফোন উপহার দেব।’ তার এই মন্তব্য দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ইয়ামাল। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। ফাইনালেও তিনি স্পেনের আক্রমণে অন্যতম বড় ভরসা ছিলেন এবং দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর আরেকটি বিষয়েও। বিশ্বকাপ জয়ের আগে দেওয়া সেই মজার প্রতিশ্রুতি সত্যিই রাখেন কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা। পাশাপাশি ভক্তদের জন্য ঘোষণা করা ১০০টি বিটস হেডফোন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পূরণ করেন কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তাল ঢেউ, প্রতিকূল আবহাওয়া আর টানা কয়েক সপ্তাহের একাকী সংগ্রাম সব বাধা অতিক্রম করে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই পর্যন্ত একাই নৌকা বেয়ে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেলসি ফেন্ডলার। এই যাত্রার মধ্য দিয়ে তিনি শুধু একটি রেকর্ডই গড়েননি, বরং সমুদ্রযাত্রার ইতিহাসে নিজের নামও স্থায়ীভাবে লিখে রেখেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ওশান রোয়িং সোসাইটি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী কেলসি ফেন্ডলার গত ২১ মে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরে থেকে যাত্রা শুরু করেন। প্রায় ২ হাজার ৪০০ মাইল দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে তিনি ৩ জুলাই হাওয়াইয়ের হনুলুলুতে পৌঁছান। পুরো যাত্রা শেষ করতে তার সময় লাগে ৪৩ দিন ১৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। এই সময়টি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই পর্যন্ত একক নৌযাত্রায় আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ওশান রোয়িং সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এটি এই রুটে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত একক নৌযাত্রা। একই সঙ্গে ফেন্ডলার প্রথম মার্কিন নারী হিসেবে একা বৈঠা চালিয়ে এই পথ সফলভাবে অতিক্রম করলেন। পেশায় গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের একজন নদী-গাইড কেলসি। তার ব্যবহৃত নৌকাটির দৈর্ঘ্য ছিল ২১ ফুট। দীর্ঘ এই অভিযানে তাকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠা চালাতে হয়েছে। মাঝসমুদ্রে কখনও উত্তাল ঢেউ, কখনও প্রবল বাতাস, আবার কখনও সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। ঘুম, খাবার ও বিশ্রাম—সবকিছুই সীমিত পরিসরে নৌকার মধ্যেই সামলাতে হয়েছে। সমুদ্রে থাকার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কিছু অংশ তুলে ধরতেন কেলসি। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন হাতে ফোসকা পড়া, শারীরিক ক্লান্তি, ঝড়ের সঙ্গে লড়াই এবং দীর্ঘ একাকিত্বের বাস্তব চিত্র। সেই সঙ্গে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ও নিজের মানসিক দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন। হনুলুলুতে পৌঁছানোর পর শত শত মানুষ তাকে স্বাগত জানায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, গন্তব্যে পৌঁছানোর মুহূর্তটি ছিল অবিশ্বাস্য। এত মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। কেলসি জানান, তার এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল শুধু একটি রেকর্ড গড়া নয়; বরং মানুষকে, বিশেষ করে নারীদের, বড় স্বপ্ন দেখতে এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে অনুপ্রাণিত করা। তার বিশ্বাস, সাহস নিয়ে প্রথম পদক্ষেপ নিতে পারলেই অসম্ভব মনে হওয়া অনেক লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একক সমুদ্রযাত্রার প্রতি আগ্রহ বাড়লেও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াইয়ের এই রুটকে এখনো বিশ্বের অন্যতম কঠিন সমুদ্রপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ দূরত্ব, অনিশ্চিত আবহাওয়া ও বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরের প্রতিকূল পরিবেশের কারণে এই পথ পাড়ি দেওয়া অভিজ্ঞ নাবিকদের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ জয় করেই নতুন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন কেলসি ফেন্ডলার।
কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু করা স্পেনই শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসল। বিশ্বকাপের হট ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল লা রোজারা। ফাইনালে ১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল ইউরোপের পরাশক্তিরা। শুরুর হতাশা কাটিয়ে একের পর এক জয় আর গোলপোস্ট অক্ষত রেখে স্পেনের এই শিরোপা জয় যেন এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প। দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনা এদিন সমর্থকদের পুরোপুরি হতাশ করেছে। পুরো ১২০ মিনিটের খেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। আর্জেন্টিনা মাত্র ৩৫ শতাংশ বল দখলে রাখতে সক্ষম হয় এবং পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয় না পাওয়াটা ছিল স্রেফ দুর্ভাগ্য। তবে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে মূল অবদান ছিল আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের, যিনি ১০টি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের গোল আর ঠেকাতে পারেননি তিনি। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লামিন ইয়ামাল দলকে প্রায় এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমার্ধের ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা মাত্র ৩২ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছিল, যেখানে মেসি, গঞ্জালেজ ও আলভারেজরা ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠ জুড়ে দারুণ খেলেছেন, এমনকি ডিফেন্সেও রেখেছেন বড় অবদান। অন্যদিকে ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, যিনি পরবর্তীতে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল স্কালোনি দলে পরিবর্তন আনলেও আর্জেন্টিনার খেলায় খুব একটা ধার ফেরেনি। ৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির দারুণ ট্যাকল এবং গোলরক্ষক মার্টিনেজের বীরত্বে আর্জেন্টিনা বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল হজম থেকে বেঁচে যায়। তবে ম্যাচের শেষ ভাগে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে ব্যর্থ হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়ে স্কালোনির শিষ্যরা। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিএআর-এর সাহায্যে বাতিল হয়ে যায় ফাউলের কারণে। তবে স্পেন তাদের আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২৭ সেকেন্ডের মাথায় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে উইলিয়ামসের সহায়তায় দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালে মারিও গোৎসের পর আবারও ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হৃদয় ভাঙে আর্জেন্টিনার, আর স্পেন মেতে ওঠে বিশ্বজয়ের বুনো উল্লাসে।
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ভারতের কেরালা রাজ্যে এখন অভূতপূর্ব উন্মাদনা বিরাজ করছে। ট্রফি নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই হাই-ভোল্টেজ মহাদূন্দ্ব উপলক্ষে সোমবার রাজ্যের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার। ভারতের গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খেলাটির সময়সূচি গভীর রাতে হওয়ায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষের কথা বিবেচনা করে এই বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেরালা প্রশাসন। একজন সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ স্কুল-কলেজের পাশাপাশি সব ধরনের পেশাদার উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই ছুটির আওতায় থাকবে। রাত জেগে প্রিয় দলের জমজমাট লড়াই দেখার পর পরদিন সকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া কষ্টকর হতে পারে—এমন যুক্তি দেখিয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবনকুট্টিসহ বিরোধী দলীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ ছুটির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীসান সোমবার রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। অবশ্য ক্লাস স্থগিত থাকলেও আগে থেকে নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সূচিতে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং শিক্ষাবর্ষের ক্ষতি না হয়, সেজন্য এই পরীক্ষাগুলো চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেরালা সরকার। ফুটবলের প্রতি কেরালার মানুষের আবেগ চিরকালই একটু আলাদা। আন্তর্জাতিক যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট এলেই রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। এবারের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরেও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিচ্ছে আর্জেন্টিনা এবং তাদের সেটি করার প্রয়োজনও ছিল। প্রথম দুইটি নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে এবং মিশরকে সহজে গুঁড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হলেও, আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানের জয়গুলোর জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হয়েছে। যদিও মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আফ্রিকান এই দেশটি তাদের শেষ ১৬-র পরাজয়ের দায়িত্বে থাকা ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছে। মিশর অভিযোগ করেছে, আর্জেন্টিনার পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং তাদের তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির প্রতি বিশেষ সুবিধা দেখানো হয়েছে। ম্যাচ শেষে কোচ হোসাম হাসান বলেন, মিশরের প্রতি “অন্যায় আচরণ” করা হয়েছে এবং তারা “অবিচারের শিকার” হয়েছে। ফিফাও পক্ষপাতিত্ব করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মি. হাসান। তিনি বলেন, “হয়তো তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন লড়াইয়ে টিকে থাকে।” এরপর সুইজারল্যান্ডকে ১০ জনের দলে নামিয়ে আনতে আর্জেন্টিনার ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিআর) সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছিল। একইসঙ্গে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কোয়ার্টার ফাইনালটি ৩-১ ব্যবধানে জেতে আর্জেন্টিনা। এরপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানের সেমিফাইনাল জয়েও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষেই গিয়েছিল।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইনালের আগে তিনি পুরো টুর্নামেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই আসরের মাধ্যমে বিশ্ব দেখেছে যে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একটি ফুটবলপ্রেমী দেশ। নিউইয়র্কে ফিফার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বকাপ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষায়, এই টুর্নামেন্ট বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করেছে। রোববার অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হবে। আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়কের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেবেন। এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করেছে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে নিরাপত্তা, ভিসা ব্যবস্থা এবং আয়োজনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে আসরটি। ফাইনাল উপলক্ষে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ম্যাচটিকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কোনো দলের প্রতি সমর্থন জানাননি। ফলে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন, কার হাতে তিনি বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নির্ধারণ হবে শুধুই মাঠের লড়াইয়ের ফলাফলে।
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ উল্লেখ করে তিনি ফাইনালে আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানান। টাইমস অব ইসরাইলের খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর কাছে একটি বার্তাও পৌঁছে দেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “হাভিয়ের, আপনি একজন সত্যিকারের বন্ধু। আপনি আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তাদের সমর্থন করি। আগামীকালের ম্যাচের জন্যও শুভকামনা। শুভকামনা আর্জেন্টিনার জন্য।” রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, আর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের আশা নিয়ে খেলবে স্পেন। আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনাও তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার সরকারের অবস্থানে পার্থক্য থাকায় ম্যাচটি মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনারও অংশ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর ও বিদ্বেষমূলক কিছু পোস্টও ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সেসব দাবির অনেকগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
২০২৬ বিশ্বকাপ একদম শেষ প্রান্তে। যেখানে শিরোপা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এরইমাঝে শুরু হয়ে গেছে ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে এবার এক অভিনব আয়োজন করতে যাচ্ছে ফিফা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশ ও ছয়টি দেশে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের ২৪তম আসরের মূল আয়োজক হবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। তবে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালের ভেন্যু উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিও'র ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে একটি উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল এবং প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের এস্তাদিও ওসভালদো ডোমিঙ্গেজ দিব স্টেডিয়ামেও একটি করে উদ্বোধনী ম্যাচ হবে। এরপর মূল পর্বের বাক সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ইউরোপ ও আফ্রিকায়।
ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আর্জেন্টাইন তারকার খেলার প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রতিপক্ষের কড়া নজরদারির মধ্যেও মেসি যেভাবে মাঠে জায়গা তৈরি করেন, সেটি তার নজরে পড়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি মেসিকে দেখছিলাম। তাকে খুব ভালোভাবে পাহারা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখি সে ডান পাশে অবস্থান নিয়েছে। আপনারা কি বুঝতে পারছেন আমি কী বলছি? আমি বিষয়টি লক্ষ্য করেছি, কিন্তু কেউ এ নিয়ে কথা বলেনি।” মেসির খেলার ধরন নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে। অনুষ্ঠানে তিনি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দক্ষতা ও মাঠের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যেও খেলার জায়গা তৈরি করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠের বিভিন্ন অংশে অবস্থান পরিবর্তন করা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই কৌশলই তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এদিকে, একই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের সাফল্যে ট্রাম্পের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। ট্রাম্পও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ম্যাচ।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল শেষে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে লাগানো পেনাল্টি ‘চিট শিট’ ঘিরে কৌতূহল প্রকাশ করতে দেখা যায় লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে। ছবিতে দেখা যায়, পিকফোর্ডের পানির বোতলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের নামের পাশে তাদের শট নেওয়ার সম্ভাব্য দিক ও গোলরক্ষকের করণীয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নোট লেখা ছিল। অর্থাৎ ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে কীভাবে প্রতিপক্ষের শট মোকাবিলা করা হবে, সেই প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা কাজে লাগানোর সুযোগই পায়নি ইংলিশরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। ফলে টাইব্রেকারের প্রয়োজন হয়নি এবং পিকফোর্ডের বোতলে থাকা নোটও মাঠে ব্যবহার করার সুযোগ আসেনি। ম্যাচ শেষে ভাইরাল হওয়া ছবিতে মেসি ও তার সতীর্থদের বোতলটি হাতে নিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে বড় ম্যাচের আগে আধুনিক ফুটবলে কৌশলগত প্রস্তুতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন প্রস্তুতি নতুন নয়। বড় টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে গোলরক্ষকদের জন্য প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার ধরণ, পছন্দের দিক ও পূর্ববর্তী রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বিশেষ নোট বা ‘চিট শিট’ তৈরি করে কোচিং স্টাফ ও বিশ্লেষক দল। অতীতেও বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বিভিন্ন দলের গোলরক্ষকদের বোতলে এ ধরনের তথ্যসংবলিত নোট দেখা গেছে। যদিও পিকফোর্ডের প্রস্তুতি মাঠে পরীক্ষার সুযোগ পায়নি, তবু তার পানির বোতলে থাকা সেই ‘চিট শিট’ ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা সময়ের সঙ্গে আরও বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। ২০০৭ সালে বার্সেলোনায় একটি দাতব্য ফটোশুটে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি কোলে নিয়ে গোসল করিয়েছিলেন মাত্র কয়েক মাস বয়সী এক শিশুকে। সেই শিশুই আজ স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ফুটবল বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। আর প্রায় দুই দশক পর, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামতে যাচ্ছেন তারা। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই পুরোনো ছবিটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি শুধু একটি ছবি নয়, বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ফুটবলের উত্তরাধিকার বহনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। জানা যায়, ২০০৭ সালে ইউনিসেফ, এফসি বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন এবং স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক ‘স্পোর্ট’-এর যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য এই ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল। লামিনে ইয়ামালের পরিবার একটি লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয় এবং সেই সুযোগেই বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে তরুণ মেসির সঙ্গে শিশুপুত্রের ছবি তোলেন। তখন মেসির বয়স ছিল ২০ বছর, আর ইয়ামালের বয়স মাত্র কয়েক মাস। ছবিটি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে আসেনি। ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করলে তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ছবিটির আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্তও নিশ্চিত করেন, এটি কোনো সম্পাদিত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি নয়; বরং বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত সেই দাতব্য আয়োজনেরই একটি বাস্তব মুহূর্ত। এরপর থেকেই ছবিটি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আবেগঘন ফ্রেম হিসেবে পরিচিতি পায়। আর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হওয়ায় সেই ছবির তাৎপর্য আরও বেড়ে গেছে। একদিকে আছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে আছেন স্পেনের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত তারকা লামিনে ইয়ামাল, যিনি অল্প বয়সেই ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল নয়; বরং বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রজন্মের প্রতীকী লড়াই। একসময় যে কিংবদন্তির কোলে ছিলেন ইয়ামাল, আজ সেই কিংবদন্তির বিপক্ষেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ে নামছেন তিনি। ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য স্মরণীয় ছবি রয়েছে। তবে একটি ছবিতে একই সঙ্গে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে এত সুন্দরভাবে ধরা পড়ার ঘটনা খুবই বিরল। তাই ২০০৭ সালের সেই ছবিটি এখন শুধু একটি স্মৃতি নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চলতি গ্রীষ্মে কেবল ফুটবল তারকারাই মাঠ মাতাচ্ছেন না, ডেটিং অ্যাপ এবং ম্যাচমেকিং সার্ভিসের মুখপাত্রদের মতে, অবিবাহিত বা সিঙ্গেল ব্যক্তিরাও ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের নিজ শহরে আসা নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। ডেটিং ওয়েবসাইট ‘ডেটিংঅ্যাডভাইস ডটকম’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের রোমান্সের শহরের তালিকায় আটলান্টা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের জরিপ করা সিঙ্গেলদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা টুর্নামেন্ট দেখতে আসা কোনো দর্শকের সাথে ডেটে গেছেন অথবা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। টিন্ডারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সোয়াইপ করার হার বৃদ্ধি পেতে দেখেছেন। ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোতে আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ক্রিয়াকলাপ ৪৭ শতাংশ এবং দেশীয় ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাম্বল গ্রুপ ইভেন্টগুলোর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে এবং সিঙ্গেলদের জন্য আয়োজিত ওয়াচ পার্টিগুলোতে তারা বড় ধরনের উপস্থিতি লক্ষ্য করছে। ‘ইন দ্য ওয়াইল্ড ডেটিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা লেক্সি ইয়াং বলেন, তার অনুসারীরা সরাসরি বা সশরীরে দেখা করার সুযোগ খুঁজছিলেন এবং বিশ্বকাপ ওয়াচ পার্টি ও দর্শনার্থীদের আগমনের মাধ্যমে ঠিক সেই সুযোগটিই তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় এটি সত্যিই দেখায় যে মানুষ সরাসরি যোগাযোগ চায় এবং খেলাধুলা হলো যুক্ত হওয়ার একটি দারুণ মাধ্যম। ক্রীড়া ইভেন্টের মাধ্যমে মানুষের মাঝে একটি যৌথ আগ্রহ তৈরি হয়। এটি স্পষ্টতই তাদের আরও গভীর স্তরে যুক্ত হতে সাহায্য করে। আমি সত্যিই অনেক মানুষকে তাদের খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে দেখছি, যা ডেটিংয়ের ক্ষেত্রটিকে সাহায্য করেছে।" আটলান্টার একজন অবিবাহিত বাসিন্দা, যিনি একাধিক বিশ্বকাপ আয়োজক শহরে গিয়েছেন, তার মতে প্রেম সত্যিই বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। কেটি ফ্রিডম্যান নামে ওই বাসিন্দা বলেন, "আমি আমার গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আছি, তাই এ পর্যন্ত চারটিতে গিয়েছি। আটলান্টা, সিয়াটল, বোস্টন এবং নিউইয়র্ক। এটি দারুণ ছিল। প্রথমবারের মতো মানুষের আমেরিকা সফরের অভিজ্ঞতা শোনার বিষয়টি আমার কাছে সত্যিই মজার মনে হয়েছে। তারা কী দেখল, কী পছন্দ করল—এগুলো কথা শুরু করার দারুণ উপায়।" আটলান্টার আরেক বাসিন্দা রাশাদ বলেন, "আমি মনে করি আরও মানুষের এখানে আসা উচিত। এটি একটি চমৎকার পরিবেশ। এখানে পানীয়, খাবার এবং গান রয়েছে, কোনো কিছুর জন্য আপনাকে অর্থ দিতে হবে না, এটি একটি দারুণ বিষয়।"
বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। হাইপ্রোফাইল এই ম্যাচটিকে ঘিরে দর্শকদের মাঝে তুমুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে এবং শেষ মুহূর্তের কিছু টিকিট এখনও পাওয়া যাচ্ছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হয়েছে ২ হাজার ৫২৭ ডলার থেকে। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের এই লড়াইয়ে একদিকে যেমন মাঠে নামবেন হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের মতো তারকারা, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠ মাতাবেন লিওনেল মেসি। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে গত সপ্তাহে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। অপরদিকে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। পরাশক্তিদের এই লড়াই মাঠে বসে দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের পকেটের বড় একটি অংশই খসাতে হচ্ছে। বর্তমানে সাধারণ ক্যাটাগরির সবচেয়ে কমদামী টিকিটের মূল্যই নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫২৭ ডলার। এই মূল্য গত মঙ্গলবারের ফ্রান্স বনাম স্পেনের সেমিফাইনাল ম্যাচের শেষ মুহূর্তের টিকিটের দামের তুলনায় প্রায় ঠিক দ্বিগুণ। যারা গ্যালারির একদম সামনে থেকে মেসি ও কেইনের দ্বৈরথ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য টিকিটের মূল্য আরও অনেক বেশি। স্টেডিয়ামের একদম লোয়ার লেভেলের ১০০-লেভেলের গ্যালারির টিকিটগুলোর মূল্য বর্তমানে শুরু হচ্ছে ৩ হাজার ৬৬৯ ডলার থেকে, যা মূলত সেকশন ১২২-এর আসনের জন্য প্রযোজ্য। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটি শুরু হবে। এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্বের জন্য দুটি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার একটি টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম এবং অন্যটি আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম। মঙ্গলবারের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও স্পেন। এই সেমিফাইনালের মহারণ শেষ হওয়ার পর আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক সিটির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল। ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দামও ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হচ্ছে ৬ হাজার ৮৪২ ডলার থেকে। আর একদম মাঠের কাছাকাছি লোয়ার-লেভেলের ক্যাটাগরি-১ টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে ১৩ হাজার ৭০ ডলার থেকে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এবার ইউরোপের ভেতরেই কূটনৈতিক ও ক্রীড়া পর্যায়ে চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নরওয়ে। রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) ইউরোপীয় ফুটবল মহলে এ বিষয়ে সমর্থন গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনএফএফ সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস। তিনি একজন আইনজীবী, নরওয়ে নারী জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় এবং বর্তমানে উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার মতে, কোনো দেশকে একতরফাভাবে বয়কট করার পরিবর্তে ফিফা ও উয়েফার আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। গত বছর অসলোতে নরওয়ে ও ইসরায়েলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে ক্লাভেনেস প্রকাশ্যে বলেন, নরওয়ে বিশ্বাস করে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা উচিত। তার ভাষায়, বিষয়টি মূলত ফুটবলের নিয়ম ও নীতিমালা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের প্রশ্ন। তবে নরওয়ে সেই ম্যাচ বয়কট করেনি। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, ম্যাচে অংশ না নিলে ইসরায়েল ওয়াকওভার পেয়ে যেত, যা তাদের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিত। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ম্যাচটি ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জিতে নেয়। নরওয়ের অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি হলো ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের পর ফিফা ও উয়েফার নেওয়া সিদ্ধান্ত। সে সময় রাশিয়ার জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। ক্লাভেনেস এবং তার সমর্থকদের দাবি, এই দুই ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ ফুটবলের নীতিমালা ও মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন জানায়। তাদের অভিযোগের মধ্যে ছিল গাজায় সামরিক অভিযান, ফিলিস্তিনি ও আরব ক্রীড়াবিদদের প্রতি বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিতে অবস্থিত ক্লাবগুলোর ইসরায়েলি লিগে অংশগ্রহণ। মানবাধিকারবিষয়ক কয়েকজন আইনজীবীও দাবি করেছেন, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড এবং অধিকৃত অঞ্চলে ক্লাব পরিচালনা সংক্রান্ত ফিফার বিভিন্ন বিধিমালা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন লঙ্ঘন করেছে। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরওয়ের সক্রিয় ভূমিকার ফলে বিষয়টি এখন আর শুধু আরব বা এশিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলোর আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এদিকে অসলোতে নরওয়ে-ইসরায়েল ম্যাচকে ঘিরেও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির বিভিন্ন কর্মসূচি দেখা যায়। নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ম্যাচের টিকিট বিক্রির অর্থ গাজার চিকিৎসা সহায়তার জন্য দান করে। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে বহু দর্শক ফিলিস্তিনের পতাকা ও কেফিয়েহ প্রদর্শন করেন। স্টেডিয়ামে "শিশুদের বাঁচতে দাও" লেখা একটি ব্যানারও টানানো হয়। একই সময়ে স্টেডিয়ামের বাইরে শত শত বিক্ষোভকারী ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সমাবেশ করেন। চলতি বছরের মার্চে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ক্লাবগুলোর ইস্যুতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন নাকচ করে ফিফা। তবে বৈষম্য ও আপত্তিকর আচরণসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে সংস্থাটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়। এর পাশাপাশি ফিফা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বাধ্যতামূলক বৈষম্য প্রতিরোধ পরিকল্পনা গ্রহণ, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষা কার্যক্রম চালু, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার এবং ম্যাচে বৈষম্যবিরোধী বার্তা প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকজন ফুটবল কর্মকর্তা এ বিষয়ে ফিফা ও উয়েফার আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ফিফা বা উয়েফা।
কোয়ার্টার ফাইনালের সব ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ২০২৬ ফিফা পুরুষ বিশ্বকাপ এখন সেমিফাইনাল পর্বে। শেষ চারে উঠেছে চার সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন—ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সাম্প্রতিক কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স মরক্কোকে, স্পেন বেলজিয়ামকে, ইংল্যান্ড নরওয়েকে এবং আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৪ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্পেন। দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৫ জুলাই জর্জিয়ার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে, যেখানে ইংল্যান্ড খেলবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। দুই ম্যাচের বিজয়ীরা ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে খেলবে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৮ জুলাই। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রে FOX এবং Telemundo-তে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া FOX One ও সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে ম্যাচ দেখা যাচ্ছে। কানাডায় TSN, যুক্তরাজ্যে ITV, অস্ট্রেলিয়ায় SBS এবং অন্যান্য দেশে স্বত্বপ্রাপ্ত সম্প্রচারমাধ্যম বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার করছে। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপ এখন শেষ পর্যায়ে। ফ্রান্স-স্পেন এবং ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা—দুটি সেমিফাইনালই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় অতিরিক্ত সময়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার আসনে বসিয়েছে। গোল হজমের পরও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ে সমতা ফেরান। এরপর ৭৩ মিনিটে ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। এরপরও দৃঢ় রক্ষণে আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখে তারা। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে আলভারেজের প্রথম গোল। এরপর যোগ করা সময়ে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও রক্ষণে সফলভাবে তা ঠেকিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। পাল্টা আক্রমণে ১২০+১ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজ তৃতীয় গোল করে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। টানা কঠিন দুটি নকআউট ম্যাচ জিতে শেষ চারে ওঠা আর্জেন্টিনার সামনে এবার অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে দুই দলের লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
চলতি মাসেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচের বিরতিতে জমকালো ‘হাফটাইম শো’ বা বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। ইতিহাসের প্রথম এই হাফটাইম শোতে পারফর্ম করার তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা জাস্টিন বিবার। গত বুধবার ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতি অনুযায়ী, পপ তারকা জাস্টিন বিবার এই বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে সহ-প্রধান শিল্পী বা কো-হেডলাইনার হিসেবে মঞ্চ মাতাবেন। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে তার সঙ্গে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় বয় ব্যান্ড বিটিএস এবং ল্যাটিন পপ তারকা শাকিরা। ইতিহাসে এই প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন বড় আকারের কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (যা মেটলাইফ স্টেডিয়াম নামে পরিচিত) বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতির সময়ে এই হাফটাইম শো প্রদর্শিত হবে। পপ তারকাদের পাশাপাশি এই আয়োজনে আরও পারফর্ম করবেন নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল এবং কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের সাথে নিউ ইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডের পিএস-২২ কোরাস স্কুল অব চিলড্রেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর এলমো এবং কুকি মনস্টারের মতো জনপ্রিয় পুতুল চরিত্রদের সাথে নিয়ে এক ভিডিও বার্তায় এই সুপারস্টারদের নাম ঘোষণা করেছিলেন। বিশ্বকাপের ফাইনালের এই ঐতিহাসিক হাফটাইম শোটির তত্ত্বাবধান করছেন ক্রিস মার্টিন নিজেই এবং এটি প্রযোজনা করছে দারিদ্র্য বিমোচনে নিয়োজিত বৈশ্বিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’। এই কনসার্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এ জমা হবে, যা বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবল খেলার সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করে। ফিফার দেওয়া বিবৃতিতে জাস্টিন বিবার বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বকে এমনভাবে একত্রিত করে যা অন্য কোনো কিছু পারে না। এই হাফটাইম শোর অংশ হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ এবং আরও বেশি আনন্দিত যে এই আয়োজন বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ প্রসারিত করতে সাহায্য করছে। গত ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ফাইনাল ম্যাচটি আগামী ১৯ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শক্তিশালী মানবিক বার্তা দিয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এক তুর্কি সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন—আর্জেন্টিনাকে হারালে আবারও তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াবেন কি না। প্রশ্নের জবাবে কোনো সাধারণ হ্যাঁ বা না না বলে হোসাম হাসান সরাসরি মানবতার পক্ষে কথা বলেন। তিনি বলেন, "পৃথিবীতে এমন কেউ যদি থাকে যে ফিলিস্তিনিদের কষ্ট অনুভব করতে পারে না, তবে সে মানুষই নয়। সে আরব, ইউরোপীয় বা যে কোনো দেশেরই হোক না কেন—এটি কেবল ধর্মের বা নাগরিকত্বের বিষয় নয়, এটি পুরোপুরি মানবতার বিষয়।" মিশরীয় কোচ পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, "ইউরোপ ও আমেরিকায় পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুরতা হলেও মানুষ সোচ্চার হয়। তাহলে মানবাধিকার কোথায় গেল, যখন প্রতিদিন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা হামলার শিকার হচ্ছে? আমরা যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে আরাম-আয়েশে খাচ্ছি, তখন আরেকটি জাতি রাস্তায় খাবার, পানি ও আশ্রয়হীন অবস্থায় ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। এই তীব্র শীতে বা গরমে তাদের রক্ষা করার কেউ নেই।" ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে বার্তা ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম উল্লেখ করে হোসাম হাসান আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, "আমি আরব বা মিশরীয় হওয়ার আগে একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে আমরা পুরো বিশ্বকে একটি বার্তাই দিতে চাই—দয়া করে ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন, দয়া করে তাদের শান্তিতে বাঁচতে দিন।"
প্যারাগুয়ের এক নারী সেনেটরের তীব্র বর্ণবাদী মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ফ্রান্স ফুটবল দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর ওই সেনেটর এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসিত আক্রমণ চালান। এর জবাবে ফরাসি তারকা তাকে একজন 'ঘৃণ্য নারী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফিলিপিন্সে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র পেনাল্টি গোলেই প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় ফরাসিরা। এই হারের পর প্যারাগুয়ের সেনেটর সেলেস্তে আমারিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এমবাপ্পেকে নিয়ে চরম বর্ণবাদী পোস্ট করেন। তিনি এমবাপ্পেকে 'উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয়' বলে কটূক্তি করেন এবং দাবি করেন যে ফরাসি ফরোয়ার্ড লিখতে পর্যন্ত জানেন না। এই চরম অপমানের জবাবে কিলিয়ান এমবাপ্পে একটি জোরালো বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ওই নারী সেনেটরের কঠোর সমালোচনা করার পাশাপাশি প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ান। এমবাপ্পে লেখেন, সেলেস্তে আমারিলা একজন অত্যন্ত ঘৃণ্য নারী এবং তিনি নিজের পদের অযোগ্য। তার এই নির্লজ্জ বর্ণবাদের কারণে পুরো বিশ্ব প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের কথা ভুলে এখন একজন অযোগ্য নারীর কুৎসিত রূপ দেখছে। এই ঘটনার পর ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) ওই প্যারাগুয়ান সেনেটরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফেডারেশন এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অপরাধমূলক বলে অভিহিত করে সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনও এমবাপ্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন। প্যারাগুয়ে সরকার এবং দেশটির জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতিও সেনেটর আমারিলার এই কুৎসিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধরণের মন্তব্য কোনোভাবেই প্যারাগুয়ের জনগণ বা সরকারের অবস্থানের প্রতিফলন নয়। খেলাধুলা এবং রাজনীতিকে আলাদা রাখা উচিত এবং তারা এই বর্ণবাদী আচরণের তীব্র বিরোধিতা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।