দেশের বাজারে অবৈধ ও ক্লোন করা মোবাইল ফোনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং চুরি হওয়া ফোনের অপব্যবহার ঠেকাতে বিটিআরসি এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমের কার্যক্রম জোরদার করেছে। এখন থেকে আপনার নিবন্ধিত ফোনটি অন্য কাউকে দিতে বা বিক্রি করতে চাইলে অবশ্যই সেটি নিজের নাম থেকে ‘ডি-রেজিস্টার’ করতে হবে।
আপনার আইএমইআই (IMEI) নম্বরটি যদি আপনার এনআইডি-র সাথে নিবন্ধিত থাকে এবং আপনি সেটি ডি-রেজিস্ট্রেশন না করেই বিক্রি করে দেন, তবে পরবর্তী ব্যবহারকারী সেই ফোনে নিজের সিম দিয়ে সেটি সক্রিয় করতে পারবেন না। এছাড়া ওই ফোন দিয়ে কোনো অপরাধ হলে তার দায়ভার আপনার ওপর আসার ঝুঁকি থাকে।
গ্রাহকরা খুব সহজেই দুটি পদ্ধতিতে তাদের মোবাইল হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্টার করতে পারবেন:
১. সিটিজেন পোর্টালের মাধ্যমে (অনলাইন):
প্রথমে বিটিআরসির অফিসিয়াল পোর্টাল neir.btrc.gov.bd এ গিয়ে লগইন করুন।
আপনার ড্যাশবোর্ড থেকে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসটি নির্বাচন করুন।
‘ডি-রেজিস্টার’ অপশনে ক্লিক করে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) শেষ ৪টি সংখ্যা প্রদান করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করুন।
২. ইউএসএসডি (USSD) কোডের মাধ্যমে:
আপনার ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *১৬১৬১# ডায়াল করুন।
মেন্যু থেকে ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ (De-registration) অপশনটি বেছে নিন।
নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে হ্যান্ডসেটটি নিজের এনআইডি থেকে মুক্ত করুন।
নিজস্ব সিম: ডি-রেজিস্ট্রেশন করার সময় ফোনে ব্যবহৃত সিমটি অবশ্যই ওই গ্রাহকের নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত থাকতে হবে।
সফল বার্তা: প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে গ্রাহকের মোবাইলে একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস আসবে। এরপরই ফোনটি নতুন ব্যবহারকারীর নিবন্ধনের জন্য উন্মুক্ত হবে।
বিশেষ নোট: বিটিআরসি গত ১ জানুয়ারি থেকে এই সিস্টেমটি পুরোপুরি কার্যকর করেছে। কোনো ফোন কেনার আগে সেটি অফিশিয়াল কি না তা যাচাই করতে ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD <space> ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।
আমেরিকা বাংলা নিউজ মন্তব্য: বিটিআরসির এই ডিজিটাল পদক্ষেপ দেশের মোবাইল চুরির ঘটনা কমিয়ে আনতে এবং নিরাপত্তার বলয় তৈরি করতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে ব্যবহৃত ফোন কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের এখন থেকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়ে আসছে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত ভিডিও তৈরির সুবিধা। মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে খুব শীঘ্রই ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র টেক্সট কমান্ড বা লিখিত নির্দেশনার মাধ্যমে পছন্দের ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। এই ফিচারে মেটার নিজস্ব শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহার করা হয়েছে যা ব্যবহারকারীর কল্পনাকে দ্রুত জীবন্ত ভিডিওতে রূপান্তর করবে। বর্তমানে এটি নির্দিষ্ট কিছু দেশের বিটা ভার্সনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও পর্যায়ক্রমে বিশ্বের সকল অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ডিভাইসে এটি যুক্ত হবে। এই নতুন ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কোনো জটিল এডিটিং জ্ঞান ছাড়াই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ছোট ভিডিও ক্লিপ তৈরি করতে পারবেন যা চ্যাট বক্স বা স্ট্যাটাসে শেয়ার করা যাবে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই প্রযুক্তি যোগাযোগের অভিজ্ঞতাকে যেমন উন্নত করবে তেমনি ডিপফেক বা ভুয়া ভিডিও তৈরির ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। মেটা কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে যে এআই দিয়ে তৈরি প্রতিটি ভিডিওতে বিশেষ জলছাপ বা ওয়াটারমার্ক থাকবে যাতে সাধারণ ভিডিওর সাথে এর পার্থক্য বোঝা যায়। ব্যক্তিগত চ্যাটিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রচারণার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের প্রতিটি প্রান্তরে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ করে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং দ্রুতগতির যানবাহনে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ডিজিটাল কানেক্টিভিটিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে সরকার। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, "বর্তমান যুগে আইসিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন যেন প্রতিটি ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, যাত্রীসেবা উন্নত করতে বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনের পাশাপাশি হাইস্পিড যানবাহনগুলোতেও ফ্রি ওয়াইফাই নিশ্চিত করা হবে।" বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের তিনটি বড় টেকপার্কে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার কাজ করছে। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলার প্রতিটি উপজেলায় আইসিটি পার্ক স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়েও পরিকল্পনা চলছে। সরকার জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok) আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছে। নতুন কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা সত্ত্বেও গ্রোক এখনো যৌনতাপূর্ণ বা আপত্তিকর ছবি তৈরি করছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা ক্ষতিকারক কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বা ‘কার্বস’ বসিয়েছিল গ্রোকের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান xAI। কিন্তু ব্যবহারকারীরা দেখতে পেয়েছেন যে, সামান্য কৌশলী প্রম্পট বা কমান্ড ব্যবহার করলেই গ্রোক এখনো বিভিন্ন আপত্তিকর এবং যৌনতাপূর্ণ ছবি তৈরি করে দিচ্ছে। এমনকি যখন সরাসরি কোনো আপত্তিকর ছবি চাওয়া হচ্ছে না, তখনও গ্রোকের ইমেজ জেনারেটর অনেক ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রদান করছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মডেলগুলোকে নিরাপদ করার জন্য যেসব ফিল্টার ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতে এখনো অনেক ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। গ্রোকের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, ইলন মাস্ক গ্রোককে ‘অবাধ বাকস্বাধীনতা’ বা ‘আনসেন্সরড’ হওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কারণেই হয়তো এর সুরক্ষাব্যবস্থা অন্য চ্যাটবটগুলোর (যেমন চ্যাটজিপিটি বা জেমিনি) তুলনায় অনেক শিথিল। উল্লেখ্য, সম্প্রতি এআই দিয়ে তৈরি পর্নোগ্রাফিক ছবি বা ‘ডিপফেক’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে তারকা এবং সাধারণ মানুষের ছবি ব্যবহার করে এ ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, যা নিয়ে বিভিন্ন দেশ কঠোর আইন করার কথা ভাবছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রোকের এই ব্যর্থতা প্রযুক্তি মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। xAI বা ইলন মাস্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি এর আগে জানিয়েছিল, তারা গ্রোকের ফিল্টারগুলোকে আরও উন্নত করার জন্য কাজ করছে।