বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যও কক্সবাজার-১ (চকরিয়াও পেকুয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামীতে কোন দিন হয়তো এমনও শুনতে হবে জামায়াতে ইসলামীএদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল!
বাংলাদেশে আজ নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার একটি অপচেষ্টা চলছে দাবি করে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন,একটি রাজনৈতিক দল-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-যারা এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল,তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনা করার চেষ্টা করছে। গতকাল তাদের দলের আমির সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকরও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন।তিনি দাবি করেছেন- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, অলি সাহেব দিয়েছেন।
তিনি বলে,এই ধরনের বক্তব্য অস্বাভাবিক নয়।
কারণ যারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল,তারাই আজ ইতিহাস বিকৃত করবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সব জানে। জনগণ জানে, আজ তারা নতুন রূপে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে চেষ্টা করছে,তা সম্পূর্ণ প্রতারণাওভণ্ডামি
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়ার মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা কোনাখালী ইউনিয়নের জংগলকাটা নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে যুক্ত করে, কার্যত ভাড়া করে,একটি সাইনবোর্ড দেখাতে চাইছে যে তাদেরও মুক্তিযোদ্ধা আছে। সেই মুক্তিযোদ্ধাকে ব্যবহার করে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এটা কখনোই মেনে নেবে না এবং আমরা বিশ্বাস করি, তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন।
তিনি বলেন,এই দেশের সকল দেশপ্রেমিক মানুষ, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি-সবাইএই ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলবে।
একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো-যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, মিথ্যা তথ্য ছড়াতে চায়, ইতিহাস বিকৃত করতে চায়-তাদের বিরুদ্ধে শালীন ভাষায় হলেও দৃঢ়ভাবে নিন্দাও প্রতিবাদ জানানো। সেই দায়িত্ব থেকেই আমি আজ তাদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন,গত কয়েকদিন আগে তারা এই দেশের নারী সমাজকে চরমভাবেু অপমান করেছে। সাক্ষাৎকারে কর্মজীবী নারীদের পতিতাদের সঙ্গে তুলনা করেছে। তারা নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
বাস্তবে এই প্রস্তাব নারীদের কল্যাণ নয়-এটি নারীদের কর্মসংস্থান ধ্বংস করার একটি পরিকল্পনা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেফাজুতুর রহমান চৌধুরী টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।
প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
দেশ গড়ার পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কী কী করা দরকার, তা তাঁরাই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাঁদের কাছ থেকে জানার ও শেখার অনেক কিছু রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জাইমা রহমান। বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘প্রোসপারিং টুগেদার: অ্যান ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ’ (একসঙ্গে সমৃদ্ধি: অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ)। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নানা বয়সী ২২ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। খোলা পার্ক চত্বরে আয়োজিত এই সভায় কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে মাঝখানে বসেন জাইমা রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইশারা ভাষা অনুবাদকারী আফরোজা খাতুন। দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই মতবিনিময়ে জাইমা রহমান মনোযোগ দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনেন। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জাইমা রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যে সক্ষমতা ও সাফল্য রয়েছে, তা দেশ ও জাতির জন্য গর্বের। তাঁদের বক্তব্য থেকে তিনি অনেক কিছু জেনেছেন ও শিখেছেন বলেও উল্লেখ করেন। মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের নানা বিষয় তুলে ধরেন। কেউ কেউ বলেন, সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে গিয়ে প্রতিবন্ধী শিশুরা নানা বাধার মুখে পড়ে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক প্রতিবন্ধী মানুষ আর্থিক সংকটে ভোগেন। এ সময় প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে মাসে অন্তত পাঁচ হাজার টাকা করার দাবি ওঠে। ময়মনসিংহ থেকে আসা মোকাম্মল হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে সরকারি দপ্তর থেকে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তিনি উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন বাজেটের একটি অংশ প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেন। কুমিল্লা থেকে আসা এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জানান, দুর্ঘটনায় একটি হাত হারানোর পরও তিনি কর্মজীবনে সক্রিয় রয়েছেন। প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। মতবিনিময়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। বক্তারা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, চাকরি স্থায়ী করতে গড়িমসি এবং প্রতিবাদ করলে চাকরি হারানোর হুমকির অভিযোগ করেন। একজন শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী নারী কর্মস্থলে হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের সুরক্ষায় কঠোর আইন ও তার বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবার সময় ইশারা ভাষা না বোঝার কারণে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি তৈরি হয় বলেও তিনি জানান। এ সময় সরকারি প্রতিটি দপ্তর ও হাসপাতালে ইশারা ভাষার অনুবাদকারী নিয়োগের দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের মতে, প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারিও জরুরি। ইশারা ভাষা অনুবাদকারী আফরোজা খাতুন বলেন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কষ্ট তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও সেবাকেন্দ্রে দোভাষী নিয়োগে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার, পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত এক নারী কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেবিদ্বারের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারীর ছেলে আশিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে এই হেনস্তার বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানান। পরবর্তীতে প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ নিজে সেই পোস্টটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আশিকুর রহমান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, তার মা এলাকায় নিয়মিত ধর্মীয় তালীম করেন এবং জামায়াত সমর্থক হিসেবে তিনি আসন্ন নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। আজ নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে বের হলে স্থানীয় সন্ত্রাসী আল আমিন শুভ্রর হাতে তিনি হেনস্তার শিকার হন। আশিকুর রহমানের দাবি, তার মায়ের কাছে হাসনাত আবদুল্লাহর লিফলেট পাওয়াই ছিল এই হেনস্তার মূল কারণ। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে প্রশ্ন রেখে লেখেন, "আমি একজন দেবিদ্বারের মানুষ হিসেবে হাসনাত ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই—আপনার জন্য যারা মাঠে কাজ করছে, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কোথায়?" এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা কতটুকু? নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে এই হেনস্তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের যে নতুন সূচনা হবে, সেখানে আর কোনো ‘পোড়া রাজনীতি’ বা লুণ্ঠনকারীদের জায়গা হবে না। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, এটি সব ধর্মের মানুষের। আমরা ইনশাআল্লাহ এই দেশটাকে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি ফুলের বাগানের মতো সাজাবো।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা জাতিকে টুকরো টুকরো করে বিভেদের রাজনীতি করতে চায়, তাদের আর সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। কিশোরগঞ্জের কৃতি সন্তানদের প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমির বলেন: বঞ্চনা: “কিশোরগঞ্জের সন্তানরা সরকারের সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করলেও এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আজও ঝুঁকিপূর্ণ এবং হাওরবাসীর কষ্ট ঘোচেনি।” কৃষি বিপ্লব: তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পে রূপান্তরিত করা হবে যাতে কৃষকরা তাদের ফসলের সঠিক দাম পান। জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান তরুণদের উদ্দেশ্যে একটি অনন্য ঘোষণা দেন। তিনি বলেন: “বাংলাদেশ নামের যে উড়োজাহাজ, তার ককপিটে অর্থাৎ চালকের আসনে আমরা যুবকদের বসিয়ে দেব। দেশ তারাই চালাবে, তারাই গড়বে। আর আমরা প্রবীণরা প্যাসেঞ্জার সিটে বসে তাদের দিকনির্দেশনা দেব।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াতের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাবে বা ‘লাল টেলিফোনের’ নির্দেশে মেধাবীদের কপাল পুড়বে না এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা হবে। কিশোরগঞ্জের ৬টি আসনে জামায়াত ও জোট প্রার্থীদের জন্য ভোট চেয়ে তিনি বলেন, জামায়াত একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত এবং মামলাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়। তিনি আরও বলেন, জমিদারি প্রথা ও পারিবারিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। কিশোরগঞ্জ জেলা আমির অধ্যাপক রমজান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করা হয়।