ক্ষমতার অক্টোপাস: রাষ্ট্র দখল ও আমজনতার নাভিশ্বাস

ড. মাহরুফ চৌধুরী

ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
ড. মাহরুফ চৌধুরী

ড. মাহরুফ চৌধুরী

বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডটি কেবল একটি ভৌগোলিক রাষ্ট্র নয়; এটি ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলা, অগণিত রক্তদান, ত্যাগ ও এক ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর জনগোষ্ঠীর সমষ্টিগত আত্মপরিচয়ের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার বহির্প্রকাশ। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ- ইতিহাসের প্রতিটি পর্বে এই ভূখণ্ডে রাষ্ট্র গঠনের চেয়ে বড় ছিল জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও মানবিক মর্যাদার দাবি। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হলো, যে রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল জনগণের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে, সেই রাষ্ট্র আজ আর প্রকৃত অর্থে জনগণের হাতে নেই। এটি ক্রমশ পরিণত হয়েছে এমন এক বন্দী কাঠামোতে, যার নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে এক ক্ষমতালোভী অক্টোপাসের হাতে। এই ক্ষমতার অক্টোপাসের এক প্রান্তে রয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের চারটি তথাকথিত সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক হাত- প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তত্ত্বগতভাবে রাষ্ট্রীয় পরিধিতে যাদের দায়িত্ব ছিল নাগরিকের অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত রাখা, বাস্তবে তারা ক্রমে ক্ষমতার অনুগত যন্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। অন্য প্রান্তে বিস্তার লাভ করেছে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর চারটি দীর্ঘ, দৃশ্যত রাষ্ট্রযন্ত্র বর্হিভূত অথচ কার্যত রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রক হাত। সেগুলো হলো- রাজনৈতিক গোষ্ঠী, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, মিডিয়া গোষ্ঠী ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীগুলো পারস্পরিক স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতার চারপাশে এক অদৃশ্য বলয় সৃষ্টি করেছে।


ক্ষমতার অক্টোপাসের এই আটটি হাত সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্র নামক পরিকাঠামোকে কুক্ষিগত করে এমন এক দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে রাষ্ট্র আর নাগরিকের কল্যাণের বাহন নয়, বরং গোষ্ঠীগত স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান যাকে ‘রাষ্ট্র দখল’ (স্টেট ক্যাপচার) বলে চিহ্নিত করে, বাংলাদেশে তারই এক নগ্ন বাস্তবতা দেখা যায় যেখানে নীতি, আইন ও প্রতিষ্ঠান জনগণের প্রয়োজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল ক্ষমতাশালী  গোষ্ঠীর কিছু মানুষের চাহিদা পূরণে ব্যস্ত থাকে। এর ফলে রাষ্ট্রযন্ত্র ধীরে ধীরে নিজের বাইরে আর কিছু ভাবতে অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে জনগণ রাষ্ট্রের কেন্দ্র থেকে সিটকে গিয়ে প্রান্তিক, নিরুপায় ও নির্বাক দর্শকে পরিণত হয়।অথচ বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রযন্ত্রের মৌলিক দর্শন হওয়া উচিত ছিল জনগণের সেবা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা। আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায়, বিশেষ করে ইংরেজ দার্শনিক জন লক (১৬৩২–১৭০৪), সুইস দার্শনিক জঁ-জাক রুশো (১৭১২–১৭৭৮) কিংবা সমকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের কল্যাণরাষ্ট্রের ধারণা মতে, রাষ্ট্রের বৈধতা নির্ভর করে নাগরিকের সম্মতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করার সক্ষমতার ওপর। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র সেই নৈতিক ভিত্তি থেকে ক্রমশ বিচ্যুত হয়ে এক জটিল ক্ষমতার ইন্দ্রজালে পরিণত হয়েছে। এখানে আইন আর রাষ্ট্রীয় পরিমন্ডলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যম নয়; বরং শাসকের শোষণ ও নিষ্পেষণকে বৈধতা দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


রাষ্ট্রযন্ত্রে ক্ষমতার বিন্যাসে প্রশাসন পরিণত হয়েছে দক্ষতা বা জনসেবার প্রতীক নয়, বরং আনুগত্য ও পদলেহনের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার সিঁড়ি। পুলিশ বাহিনী নাগরিকের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না দিয়ে নিপীড়ন ও ভয় উৎপাদনের কাঠামোতে রূপ নিয়েছে, যেখানে আতঙ্কই সৃষ্টি হয়েছে শাসনের ভাষা। আধুনিক রাষ্ট্রে সেনাবাহিনীর সাংবিধানিক ভূমিকা হলো সীমান্ত ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। কিন্তু সেটি ব্যবহৃত হয় জনগণের বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব হুমকি হিসেবে, যেন সেনাসদস্যদের দৃশ্যমান উপস্থিতিই জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেয় রাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাহীনতা। মিশেল ফুকোর (১৯২৬–১৯৮৪) ভাষায়, এটি শারীরিক দমন নয় শুধু, বরং মনস্তাত্ত্বিক শৃঙ্খল আরোপের এক আধুনিক কৌশল। রাষ্ট্রযন্ত্রের এই চার হাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, যারা ক্ষমতাকে আদর্শ বা জনসেবার বিষয় না রেখে উত্তরাধিকার, লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করেছে। ব্যবসায়ী গোষ্ঠী রাষ্ট্রকে দেখছে একটি উন্মুক্ত বাজার হিসেবে, যেখানে নীতি, আইন ও সিদ্ধান্ত মুনাফার দরে কেনাবেচা হয়। মিডিয়া গোষ্ঠীর একটি বড় অংশ সত্য ও জনস্বার্থের পাহারাদার না হয়ে অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাবের কাছে সত্যকে বিক্রি করে দিয়েছে। আর তথাকথিত বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অংশ নৈতিক দায় পরিত্যাগ করে ক্ষমতার ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে সত্য তুলে ধরার বদলে যুক্তি দিয়ে ক্ষমতাসীনদের অপকর্মের সাফাই গাইছে, ত্রুটি-বিচ্যুতির সমালোচনার বদলে স্তাবকতা আর বিবেকের অনুবর্তী হওয়ার বদলে সুবিধাবাদ বেছে নিয়েছে।


ক্ষমতার এই আটটি হাত সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি কোষকে অক্টোপাসের মতো চেপে ধরেছে। এর ফলে আমজনতার শ্বাস নেওয়ার জায়গা সংকুচিত হয়ে এসেছে, মুক্তভাবে তাদের ভাবার অবকাশ নেই, প্রশ্ন তোলার সাহস নেই, প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই। মানুষ কেবল টিকে থাকার এক নিরন্তর লড়াইয়ে আবদ্ধ; নাগরিক হয়ে ওঠার অধিকার ও সক্ষমতা তার কাছ থেকে ধীরে ধীরে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব এখানে আর রাজনৈতিক অধিকার নয়, বরং নীরব সহনশীলতার এক নিষ্ঠুর প্রশিক্ষণে পরিণত হয়েছে। সুদীর্ঘ সতেরো বছর ধরে নির্যাতন, বঞ্চনা ও অসহায়ত্বের ভার বহন করতে করতে যখন ক্লান্ত জনতা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন করে রাষ্ট্রকে গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল, তখন অনেকের মনেই জন্ম নিয়েছিল এই বিশ্বাস, হয়তো এবার জাতির ইতিহাস মোড় নেবে মুক্তির নব দিগন্তে। আন্দোলনের বিস্তার, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও পরিবর্তনের উচ্চকণ্ঠ দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছিল রাষ্ট্র ও ক্ষমতার সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হবে। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই আশাবাদ নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, রাষ্ট্র ও সমাজকে চেপে ধরা ক্ষমতার অক্টোপাসের হাতগুলো বাহ্যত ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করলেও অস্তিত্ব ও স্বার্থের প্রশ্নে তারা আলাদা নয়; বরং প্রয়োজনের মুহূর্তে তারা অবলীলায় গলাগলি করে এক হয়ে যায়। বাংলার প্রবাদে যাকে বলা হয়, ‘সব শিয়ালের একই রা’ তথা ক্ষমতা, সুবিধা ও দায়মুক্তির প্রশ্নে সেই অভিন্ন সুরই তাদের ঐক্যের ভিত্তি।


এই বাস্তবতায় পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিসরে জনগণের প্রত্যাশা খুব দ্রুতই ‘আশায় গুড়ে বালি’ হয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে দৃশ্যমান কিছু রদবদল ঘটলেও কাঠামোগত দখলদারিত্ব অটুট থাকে। যে তিমিরে আমজনতা ছিল, সেই তিমিরেই তারা রয়ে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে শাসকের নাম, মুখ, পোষাক, কিংবা দল বদলায়, কিন্তু শাসনের চরিত্র বদলায় না। রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে থাকা স্বৈরাচার বিগত দেড় বছরে আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে, যেন এই দখলদারিত্বই রাষ্ট্রের স্বাভাবিক অবস্থা। কোথাও নিস্কৃতির সুস্পষ্ট লক্ষণ বা সম্ভাবনা চোখে পড়ে না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, এটি কেবল ক্ষমতার পালাবদল, রাষ্ট্রের রূপান্তর নয়। কারণ ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা গোষ্ঠীগুলো নিজেদের স্বার্থরক্ষায় এমন এক অদৃশ্য সামাজিক চুক্তিতে আবদ্ধ, যেখানে জবাবদিহিতা, সংস্কার ও ন্যায়বিচার কেবল শ্লোগান হয়ে থাকে। স্বার্থের প্রশ্নে প্রায় সবাই ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দাঁড়িয়ে অঘোষিতভাবে বিশ্বাস করে ‘বিচার মানি, কিন্তু তালগাছ আমার’। ন্যায় তখনই গ্রহণযোগ্য, যতক্ষণ তা নিজের সুবিধা ও দায়মুক্তিকে স্পর্শ না করে।


এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র ও সমাজে আমজনতার হায়-হুতাশ বাড়ে, ক্ষোভ জমে, কিন্তু গঠনমূলক বিশেষ কোন পরিবর্তন আসে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সতর্ক উচ্চারণ তাই আজ আরও নির্মমভাবে সত্য হয়ে ওঠে, ‘…আমাদের সমাজে, আমাদের স্বভাবে, আমাদের অভ্যাসে, আমাদের বুদ্ধিবিকারে গভীরভাবে নিহিত হয়ে আছে আমাদের সর্বনাশ’। এই সর্বনাশ কেবল শাসকের একক দায় নয়; আমাদের আচরণে, আমাদের আপসকামিতায়, আমাদের সুবিধাবাদে, আমাদের পদলেহনে এবং সর্বোপরি আমাদের নীরব সম্মতিতেই রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এই অক্টোপাসের জন্ম, বিকাশ ও স্থায়ীত্বের কারণ। রাষ্ট্র তাই একদিনে বন্দী হয়নি; বহুদিনের সামাজিক মানসিকতা ও সমষ্টিগত ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই সে আজ এই দানবীয় রূপ ধারণ করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই দমবন্ধ করা ক্ষমতার অক্টোপাসের আঁকড়ে ধরা থেকে কি দেশের নাগরিকদের মুক্তি আদৌ সম্ভব? ইতিহাস ও রাষ্ট্রচিন্তার অভিজ্ঞতা বলে, মুক্তি অসম্ভব নয়; তবে তা আপনা-আপনি আসে না, কিংবা কেবল ক্ষমতার পালাবদলের মধ্য দিয়েও আসে না। মুক্তির পূর্বশর্ত হলো আমজনতার রূপান্তর তথা ভুক্তভোগী জনতা থেকে সচেতন, দায়িত্বশীল, সক্রিয় এবং ন্যায়ের পক্ষে ও অন্যায়ের বিপক্ষে লড়াকু নাগরিক হয়ে ওঠা। গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি কোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি টিকে থাকে নাগরিকের প্রশ্ন করার অধিকার, প্রতিবাদ করার সাহস এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার মানসিকতায়।


এই রূপান্তরের সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধিজীবিতাকেও ফিরে পেতে হবে তার নৈতিক দৃঢ়তা, ন্যায়পরায়ণতা ও সাহস। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সমাজে পরিবর্তনের বীজ অঙ্কুরিত হয় তখনই, যখন বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেণি ক্ষমতার সান্নিধ্য নয়, সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়। একইভাবে, গণমাধ্যমকে আবারও সত্যের ধারক, বাহক ও জনস্বার্থের পাহারাদার হিসেবে ভূমিকা নিতে হবে। কারণ স্বাধীন ও জনস্বার্থে দায়বদ্ধ মিডিয়া ছাড়া কোনো সমাজেই ক্ষমতার জবাবদিহিতা স্থায়ী হয় না। রাজনীতিকেও শিখতে হবে এমন নতুন ভাষা যা ক্ষমতা দখল ও সংরক্ষণের ভাষা নয়, বরং জনসেবা, নীতি ও দায়িত্ববোধের ভাষা। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহির সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য। প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও নিরাপত্তা কাঠামোকে আবার জনগণের অধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠন না করা গেলে রাষ্ট্রের চরিত্র বদলাবে না। আইনের শাসন তখনই অর্থবহ হয়, যখন আইন শাসকের হাতিয়ার না হয়ে নাগরিকের সুরক্ষার ও আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। অন্যথায়, রাষ্ট্র কেবল শক্তিশালীই নয়, আরও নিষ্ঠুর ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে ক্ষমতার এই অক্টোপাস আরও শক্ত, বলবান ও দানবীয় হয়ে উঠবে, তার হাত আরও দীর্ঘ হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের আরো গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করবে। তখন আমজনতার হায়-হুতাশ কেবল ব্যক্তিগত দীর্ঘশ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকবে আর নিরবে, নিবৃতে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। রাষ্ট্রের কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে, শোষণের চক্র আরও সুসংহত হবে। তাই প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত নৈতিক ও রাজনৈতিক হয়ে উঠলেও তার উত্তর খোঁজা জরুরি হয়ে পড়ে। আমরা কি কেবল নিপীড়নের ইতিহাস লিখে যাব, নাকি নাগরিক হয়ে ওঠার কঠিন দায়িত্ব গ্রহণ করে সেই ইতিহাস বদলানোর ঝুঁকি নেব?


সব মিলিয়ে বলা যায়, এক দিকে বাংলাদেশের সংকট কোনো একক সরকার, দল কিংবা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি গভীর কাঠামোগত ব্যাধি যা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর যোগসাজশে ক্ষমতা একটি আটহাতা অক্টোপাসে রূপ নিয়েছে। ক্ষমতার এই অক্টোপাস যতদিন প্রশ্নহীন আনুগত্য, নীরব সম্মতি ও সুবিধাবাদের পুষ্টি পাবে, ততদিন ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে, কিন্তু গণমানুষের ভাগ্য বদলাবে না। ইতিহাস আমাদের শেখায়, রাষ্ট্রযন্ত্রের চরিত্র বদলায় তখনই, যখন নাগরিকেরা ভয়কে অতিক্রম করে দায় গ্রহণ করে এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার সিদ্ধান্ত নেয়। যতীন্দ্রমোহন বাগচীর (১৮৭৮–১৯৪৮) ভাষায় বলতে হয়, ‘ও ভাই, ভয়কে মোরা জয় করিব হেসে,/গোলাগুলির গৌলেতে নয়, গভীর ভালোবেসে’। আজকের বাংলাদেশে তাই আমরা একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে হায়-হুতাশের দীর্ঘশ্বাসে নিজেদেরকে নিঃশেষ করব, নাকি সচেতন নাগরিকত্বের শক্তিতে ‘দায় ও দরদের ভিত্তিতে’ ‘স্বৈরাচারমুক্ত’ ও ‘বৈষম্যহীন’ রাষ্ট্রনির্মাণে ক্ষমতার এই দখলদারিত্ব ভেঙে নতুন রাষ্ট্রচিন্তার পথ রচনা করব। এই প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্রযন্ত্র বা ক্ষমতাকেন্দ্রে নয়, নিহিত আছে আমাদের সামষ্টিক বিবেক, নৈতিক সাহস ও সক্রিয় নাগরিক হয়ে ওঠার সিদ্ধান্তের মধ্যেই। প্রকৃত অর্থে, নিজেদের পরিবর্তনের প্রয়াসের মধ্যে দিয়েই আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রে রূপান্তরের প্রক্রিয়ার সূচনা করতে হবে।


* লিখেছেন: ড. মাহরুফ চৌধুরী, ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য। Email: mahruf@ymail.com

0 Comments

জনপ্রিয় সংবাদ
“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বিমানবাহী রণতরী কিছুই না; মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন।   পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন।   মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে।   ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে।   ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য।   আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে।   প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা

Top week

ফটো: সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
আমেরিকা

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0

Voting poll

আপনি কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান?