যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের গাড়ি অনুসরণ বা পিছু নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন এলাকায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের সময় একদল লোক নিজেদের গাড়ি নিয়ে তাঁদের পিছু নিচ্ছেন। আইসিই-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করছে না, বরং সরকারি কাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করছে।
এরই মধ্যে বেকি রিংস্ট্রম নামে এক নারীকে মিনিয়াপোলিস এলাকায় তার এসইউভি গাড়ি দিয়ে ফেডারেল এজেন্টদের পিছু নেওয়ার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আইসিই কর্তৃপক্ষ এখন এই ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়াচ্ছে এবং প্রয়োজনে গ্রেপ্তারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যমতে, গত এক বছরে আইসিই এবং সীমান্ত টহল কর্মকর্তাদের ওপর গাড়ি নিয়ে হামলার ঘটনা কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রশাসনের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের গাড়ি গতিরোধ করার চেষ্টা করছেন বা বিপজ্জনকভাবে পিছু নিচ্ছেন, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, নাগরিক অধিকার কর্মীদের দাবি, তাঁরা কোনো আইনি বাধা সৃষ্টি করছেন না। বরং আইসিই এজেন্টরা যেন কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন না করেন, তা পর্যবেক্ষণ ও ভিডিও করার জন্য তাঁরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অনুসরণ করছেন। এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার বলেও অনেকে দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযান জোরদার করার পর থেকেই সাধারণ নাগরিকদের একটি অংশ এবং বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠী আইসিই-এর কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে এজেন্টদের পিছু নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অবস্থান নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নতুন অর্থবছরের জন্য ১২৪.৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে বিতর্কিত প্রপার্টি ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রস্তাবও বাতিল করেছে তার প্রশাসন। সিটি প্রশাসনের দাবি, শিক্ষা, গণপরিবহন, আবাসন, জননিরাপত্তা ও সামাজিক সেবাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। বাজেট পরিকল্পনায় সরকারি স্কুল, সাবওয়ে নিরাপত্তা এবং নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের সহায়তায় অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়। এর আগে নিউ ইয়র্ক সিটির বাড়তে থাকা ব্যয় এবং সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় প্রপার্টি ট্যাক্স বাড়ানোর আলোচনা চলছিল। তবে জনমত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব থেকে সরে আসে মেয়র মামদানির প্রশাসন। মেয়র মামদানি বলেন, কর বৃদ্ধি ছাড়াই ব্যয় পুনর্বিন্যাস, প্রশাসনিক সাশ্রয় এবং বিকল্প রাজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজেট ভারসাম্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের একাংশ বলছেন, বাজেটের কিছু অংশ এখনও অস্থায়ী রাজস্ব ও ভবিষ্যৎ আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আগামী বছরগুলোতে আবারও আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অভিবাসন ব্যয়, আবাসন সংকট এবং নগর পরিচালনার ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রপার্টি ট্যাক্স বৃদ্ধি না হওয়ায় বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা আপাতত স্বস্তি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে শহরের আয় বাড়াতে প্রশাসনকে নতুন কৌশল নিতে হতে পারে। নতুন বাজেট এখন নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে এটি আগামী অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে।
বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার হু হু করে বাড়ছে। তবে এই প্রযুক্তি মানুষের কাজ সহজ করার বদলে উল্টো চাকরি কেড়ে নেবে কি না সেই আতঙ্ক এখন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের মধ্যে তুঙ্গে। এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৯৩ শতাংশের বেশি শ্রমিক এআই নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন চান। তারা মনে করেন, মালিকপক্ষ বা বড় প্রযুক্তি কোম্পানির চেয়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোই তাদের অধিকার রক্ষা করতে পারবে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৫ শতাংশ কর্মীর স্পষ্ট দাবি চাকরি থেকে ছাঁটাই বা পদোন্নতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো যন্ত্র বা এআই নেবে না, এটি নিতে হবে একজন মানুষকে। এ ছাড়া ৯২ শতাংশ কর্মী চান কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা। অবাক করার মতো তথ্য হলো, বর্তমানে মাত্র ৭ শতাংশ কর্মী জানেন যে তাদের মালিকপক্ষ এআই ব্যবহার করে তাদের ওপর নজরদারি করছে কি না। এই লুকোচুরি বন্ধ করার দাবি তুলেছেন কর্মীরা। শ্রমিকদের এই উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো খরচ কমানোর দোহাই দিয়ে এআই-এর মাধ্যমে কর্মী ছাঁটাইয়ের চেষ্টা। ইতিমধ্যে গণমাধ্যম এবং স্বাস্থ্যখাতের কর্মীরা তাদের চুক্তিতে এআই সুরক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করার লড়াই শুরু করেছেন। নার্সদের অভিযোগ, অনেক হাসপাতালে রোগীর অনুমতি ছাড়াই এআই দিয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাদের দাবি, মানুষের বিচারবুদ্ধি যেন কোনো রোবটের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা না হয়। শ্রমিকদের সুরক্ষায় কার ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করা যায় এমন প্রশ্নে ৩৯ শতাংশ কর্মীই বেছে নিয়েছেন শ্রমিক ইউনিয়নকে। ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান কোনো রাজনৈতিক দলের চেয়েও তারা নিজেদের সংগঠনের ওপর বেশি বিশ্বাস রাখছেন। ইউনিয়ন নেতাদের মতে, এই জরিপের ফলাফল প্রমাণ করে যে এআই-এর এই যুগে মানুষ তাদের কাজের নিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষায় এখন অনেক বেশি সচেতন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে আবাসন নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিজনেস অ্যান্ড কমিউনিটি পার্টনারশিপ’ পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা আফসানা আনজুম। শনিবার রাতে ইটন টাউনের শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টারের ১৪তম গালা অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। আফসানা আনজুম নিউজার্সিভিত্তিক নির্মাণ ও পরিবেশগত পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান ‘তাহশিন কনস্ট্রাকশন’-এর মালিক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজারের বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি থেকে সিসা ও অ্যাসবেস্টস অপসারণ কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য সুনাম অর্জন করেছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তাহশিন কনস্ট্রাকশন বর্তমানে নিউজার্সির ১৫টি অনুমোদিত সংস্থার জন্য সিসা দূষণ অপসারণ ও পুনর্বাসনের কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গরাজ্য অনুমোদিত অ্যাসবেস্টস অপসারণকারী ঠিকাদার এবং ‘লেড ইন্সপেক্টর’ হিসেবেও স্বীকৃত। আটলান্টিক কাউন্টিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিবারগুলোর নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে আফসানা আনজুম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। হারিকেন স্যান্ডির পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের উন্নয়ন ও বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলাতেও তার সক্রিয় ভূমিকার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নিউজার্সির সিনেটর ও অ্যাসেম্বলিম্যানদের পক্ষ থেকেও তাকে বিশেষ মানপত্র প্রদান করা হয়। আফসানা আনজুম বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ডিগ্রিধারী এবং চার সন্তানের জননী। তার স্বামী জহিরুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাউথ জার্সির বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়ন, নিরাপদ আবাসন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছেন। তার এই অর্জনে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।