মিশিগানের এক সামার আর্টস ক্যাম্পে হাতে আইসক্রিম নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ১৪ বছরের সেই কিশোরীটি জানত না, তার সামনের কোটিপতি জেফ্রি এপস্টিন আসলে এক নরপিশাচ। স্কলারশিপের প্রলোভন আর আইসক্রিমের সেই মিষ্টি স্বাদই ছিল তার জীবনের নরকযাত্রার শুরু। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত ৩০ লক্ষ পাতার বিস্ফোরক নথি বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সেখানে উঠে এসেছে কীভাবে ধাপে ধাপে হাজারেরও বেশি কিশোরীকে এক বিশাল যৌন নির্যাতনের জালে আটকে ফেলেছিল এই প্রভাবশালী কোটিপতি। যেভাবে তৈরি করা হয়েছিল নির্যাতনের 'পিরামিড' এপস্টিন তার এই অন্ধকার সাম্রাজ্য চালিয়েছিল ব্যবসার ‘পিরামিড স্কিম’ মডেলে। ম্যাসাজের নাম করে মেয়েদের ডাকা হতো এবং বিনিময়ে দেওয়া হতো ৩০০ ডলার। কিন্তু শর্ত ছিল ভয়াবহ— যদি কোনো মেয়ে তার অন্য কোনো বান্ধবীকে এই চক্রে নিয়ে আসতে পারত, তবে সে আরও ৩০০ ডলার বোনাস পেত। এই কৌশলে একজন নির্যাতিতা না জেনেই হয়ে উঠত অন্য কিশোরীর পাচারকারী। বিশ্বস্ততা অর্জনের নীল নকশা ফ্লোরিডা থেকে নিউ ইয়র্ক— এপস্টিনের নজর থাকত বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী মডেলদের ওপর। প্রথমে শপিং, দামি উপহার বা সিনেমা দেখতে নিয়ে গিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করা হতো। এরপরই শুরু হতো আসল নির্যাতন। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের আমেরিকা বা লন্ডনে উড়িয়ে এনে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হতো। খোদ নারীই যখন মূল শিকারি এপস্টিনের এই ঘৃণ্য কাজে মূল সহযোগীর ভূমিকা পালন করত তার বান্ধবী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল। সে নিজে বিভিন্ন স্কুল বা আর্ট ক্যাম্পে গিয়ে দুর্বল কিশোরীদের খুঁজে বের করত। কার টাকার অভাব বা কার পরিবার নেই— সেই তথ্য সংগ্রহ করে বিছানো হতো মরণফাঁদ। ২০১৯ সালে জেলে এপস্টিনের রহস্যময় মৃত্যু হলেও, তার এই ভয়ংকর ডায়েরি আর নথিপত্র আজ সামনে আনছে এক অন্ধকার সত্য। এক নির্যাতিতার ভাষায়, "আমি বেঁচে ফিরেছি ঠিকই, কিন্তু জেফ্রি আজও আমার দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছে।"
জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন ও তাঁর স্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের। এপস্টিন ফাইল প্রকাশ্যে আসার পর গোটা বিশ্বজুড়ে ঝড় উঠেছিল। অবশেষে চাপে পড়ে আমেরিকান কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছিলেন তাঁরা। এবার ক্লিন্টন দম্পতি দাবি করেছেন তাঁদের সাক্ষ্য যেন জনসমক্ষে প্রচার করা হয়। রিপাবলিকানরা যাতে বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে সেই উদ্দশ্যে তাঁদের স্বীকারোক্তি লাইভ সম্প্রচারের দাবি করেছেন। কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটি এপস্টিনের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং তাঁর অপরাধের তথ্য কীভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল সেগুলি নিয়ে তদন্ত করছে। এই কমিটির সামনেই রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ক্লিনটন দম্পতিকে। প্রথমে তাঁরা রাজি না হলেও পরে তাঁরা সাক্ষ্য দিতে রাজি হন। এই বিষয়ে বিল ক্লিনটন শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, রুদ্ধদ্বার ঘরে সাক্ষ্য নিলে তা হবে প্রহসনের বিচারের মতো।” এর পরেই তিনি বলেন, “আসুন খেলা বন্ধ করি এবং সঠিক উপায়ে জনসমক্ষে শুনানির মাধ্যমে এটি শেষ করি।” স্বামীর এই কথাকে সমর্থন করেছেন, স্ত্রী হিলারিও। তিনি বলেছেন, “আপনারা যদি এই লড়াই-ই চান, তবে তা জনসমক্ষেই হোক।’ এমনকি তিনি এটাও জানিয়েছেন তাঁরা যা জানেন সবটাই মার্কিন তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, রিপাবলিকানরা এই তদন্তকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই তাঁদের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এপস্টিনের দীর্ঘদিনের সহযোগী ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাবান হওয়ার কারণে তাঁকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়নি। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ একমাসব্যাপী অচলাবস্থার পর হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির হতে অস্বীকার করায় মার্কিন এই দম্পতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন অবমাননার অভিযোগে আটক করা হবে কিনা তা নিয়ে চর্চার মধ্যেই তাঁরা সাক্ষ্য দিতে রাজি হন গত বছরের ডিসেম্বরে মাসে এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রথম দফায় ৩৯৬৫টি ফাইল প্রকাশ করা হয়। সেই সময়ে বিল ক্লিন্টনের বেশ কিছু ছবি সামনে আসে।সেখানে দেখা যায় তাঁর দুই পাশে দুই দুই রহস্যময়ীকে নিয়ে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটছেন তিনি। তবে দুজনের মুখ স্পষ্ট ছিল না। এর আগে এপস্টিন ফাইলে হিলারি ক্লিন্টনের নামও উঠে এসেছিল । এই ফাইল সামনে আসার পরেই হাউস রুলস কমিটি বিল এবং হিলারিকে শমন পাঠায় । তবে ক্লিন্টন দম্পতি সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করেন । তাঁদের দাবি করেছিলেন কোনও আইনেই তাঁদের এ ভাবে ডাকা যায় না।
মাইক্রোসফ্ট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সঙ্গে জেফ্রি এপস্টিনের সম্পর্ক এবং যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কয়েক লক্ষ পাতার ‘এপস্টিন ফাইল’ জনসমক্ষে আসার পর তাতে উঠে এসেছে বিল গেটসের বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই নতুন তথ্যগুলো তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং এগুলো তাঁর দাম্পত্য জীবনের সেই ‘ভয়াবহ ও যন্ত্রণাদায়ক’ স্মৃতিগুলোকে আবার ফিরিয়ে এনেছে। কী আছে নতুন নথিতে? সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ প্রায় ৩০ লক্ষ পাতার একটি নথিপত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ২০১৩ সাল নাগাদ বিল গেটস কোনো এক রুশ মহিলার সংস্পর্শে এসে যৌনরোগে (STI) আক্রান্ত হয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, বিল গেটস সেই সময় এপস্টিনের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন যাতে তিনি মেলিন্ডার অজান্তেই তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে পারেন। যদিও বিল গেটসের মুখপাত্র এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গেটসকে ফাঁদে ফেলতে এবং তাঁর সম্মানহানি করতেই এপস্টিন এই ধরণের ইমেল লিখেছিলেন। মেলিন্ডার প্রতিক্রিয়া: সম্প্রতি এনপিআর (NPR)-এর একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা বলেন, "যখনই এই ধরণের বিশদ তথ্য সামনে আসে, তা আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবে খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এগুলো আমার দাম্পত্য জীবনের খুব যন্ত্রণাদায়ক সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।" মেলিন্ডা আরও বলেন, "এপস্টিন বা তাঁর চারপাশের মানুষজন যা করেছেন, তার উত্তর তাঁদেরই দিতে হবে। বিশেষ করে আমার প্রাক্তন স্বামীর কাছে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে তার উত্তর তিনিই দেবেন, আমি নই। আমি এখন সেই নোংরা অধ্যায় থেকে অনেক দূরে এবং নিজের জীবনে শান্তিতে আছি।" বিবাহবিচ্ছেদের কারণ নিয়ে ইঙ্গিত: ২০২১ সালে দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়েছিলেন বিল ও মেলিন্ডা। যদিও সেই সময় তাঁরা বিচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাননি, তবে মেলিন্ডা এখন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এপস্টাইনের সঙ্গে বিলের সখ্যতা তাঁদের বিচ্ছেদের অন্যতম বড় কারণ ছিল। তিনি বলেন, "আমাকে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতেই হতো। আমার নিজের জন্য এবং আমার সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য আমি সেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলাম।" এপস্টিনের লালসার শিকার হওয়া অসংখ্য তরুণীর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মেলিন্ডা বলেন, "আজ যখন আমার নিজের মেয়েদের বয়সের কথা ভাবি, তখন ওই মেয়েদের কথা ভেবে বুক ফেটে যায়। সমাজের এই পঙ্কিলতা থেকে আমি এখন দূরে থাকতে পেরে খুশি।" বর্তমানে বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস দুজনেই নিজেদের জীবনে এগিয়ে গিয়েছেন। বিল গেটস এখন পলা হার্ডের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন, অন্যদিকে মেলিন্ডাও নতুন করে জীবন শুরু করার কথা জানিয়েছেন। তবে বিল গেটসের পুরনো 'কঙ্কাল' যেভাবে একের পর এক বেরিয়ে আসছে, তাতে বিশ্বজুড়ে তাঁর ভাবমূর্তি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।
এপস্টিন ফাইল প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বের বড় বড় নেতার চরিত্রের অন্ধকার দিক প্রকাশ্যে এসেছে। নাম জড়িয়েছে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের বিল গেটসের নামও। তার চরিত্র নিয়েও কম কাটাছেঁড়া হয়নি। তবে এবার বিল গেটস কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে কাটানো ‘প্রতিটি মুহূর্ত’ নিয়ে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। বিল গেটস বলেছেন যে তিনি জেফ্রি এপস্টিনকে চেনেন এবং সেই কারণে তিনি “অনুতপ্ত”। গেটসকে জানিয়েছেন, ২০১১ সালে তিনি কুখ্যাত এই যৌন অপরাধীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন পরবর্তী তিন বছরে তাঁর সঙ্গে কয়েকবার ডিনারে গিয়েছিলেন। তবে বিল গেটস জানিয়েছেন, তিনি কখনো এপস্টিন ক্যারিবীয় দ্বীপে যাননি এবং মহিলাদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না। বিল গেটস আরও বলেন, ‘ আমি তাঁর (এপস্টেইনের) সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য অনুতপ্ত এবং ক্ষমা চাইছি। ওই ই–মেইল কখনো পাঠানো হয়নি। ওই ই–মেইলটি মিথ্যা। আমি জানি না, তিনি সেখানে কী ভাবছিলেন। তিনি কি কোনোভাবে আমাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিলেন?’ যদিও এপস্টিনের ফাইলগুলি থেকে জানা গিয়েছে, “রাশিয়ান মেয়েদের” সঙ্গে সম্পর্কের কারনে যৌন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন গেটস। সেই কথা তিনি তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর মেলিন্ডার কাছ থেকে লুকিয়ে গিয়েছিলেন। বলা ভালো, জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে স্বামীর ঘনিষ্ঠতার কারণেই বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন। মেলিন্ডা। ২৭ বছর পর দাম্পত্য়ে ইতি টানা নিয়ে মেলিন্ডার বলেছিলেন, “যখনই এসব তথ্য সামনে আসে, আমার জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। কারণ পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে, আমার দাম্পত্যজীবনের অত্যন্ত যন্ত্রণাময় সময়ের স্মৃতি ফিরে আসে। আমি নয়, ওদের (বিল ও অন্য অভিযুক্তদের) উত্তর দেওয়া উচিত। এসবে খুব কষ্ট হয় আমার। অবিশ্বাস্য রকমের কষ্ট গ্রাস করে। আমি বিয়ে ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি। আমি চাইছিলামই বেরিয়ে আসতে। জানতাম বেরিয়ে আসতে হবে। খুব দুঃখজনক। এটাই সত্য।” এই ফাইল নিয়ে ৩৫ লক্ষ পাতার নথি সামনে এসেছে। ব্রিটেনের রাজ পরিবারের সদস্য থেকে আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিজ্ঞানী থেকে ধনকুবের, বাঘা বাঘা নাম রয়েছে ওই ফাইলগুলিতে। নথির মধ্যে থাকা একটি খসড়া ই–মেইলে এপস্টিন অভিযোগ করেছেন, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কে জড়িত ছিলেন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা