উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ (ফাইল ছবি)
উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্পদের বিবরনী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত এক বছরে বেশিরভাগ উপদেষ্টার সম্পদ বাড়লেও, কারো কারো ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে ছাত্র প্রতিনিধি—কার ব্যাংক ব্যালেন্সে কত টাকা যোগ হলো? চলুন দেখে নেওয়া যাক হিসাবের ব্যবচ্ছেদ:   বিবরণী অনুযায়ী বেশিরভাগ উপদেষ্টা এবং তাদের স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণই বেড়েছে।  অর্থবছর অনুযায়ী ৩০শে জুন ২০২৪ থেকে ৩০শে জুন ২০২৫ এই সময়ের সম্পদের হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী প্রায় আট মাসের হিসেব এখানে দেওয়া হয়নি। সম্পদের বিবরণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট আর্থিক সম্পদ বেড়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি। এছাড়া উপদেষ্টা আদিলুর রহমান এবং বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কমলেও বেশ বেড়েছে তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার মোট সম্পদও। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদী আমানতে বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ারের কারণে প্রধান উপদেষ্টার মোট সম্পদ বেড়েছে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের নন ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও মোট সম্পদের পরিমাণ কমেছে কোটি টাকার কাছাকাছি।   এছাড়া উপদেষ্টাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। মোট হিসেবে সব থেকে বেশি অর্থ-সম্পদের মালিক বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার পরেই রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান। রহমান এবং স্ত্রীর সম্পদের হিসাব একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবরণ অনুযায়ী তাদের বেশিরভাগ সম্পদই দেশের বাইরে।   শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেওয়া সদস্যদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ এবং মাহফুজ আলমের সম্পদের হিসাব এই বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থেকে উপদেষ্টা হওয়া নাহিদ ইসলামের তথ্য, দায়িত্ব থেকে সরে দাড়ানোর সময় তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা মোট ২৭ জন এবং তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদের হিসেব উল্লেখ করা হয়েছে।   সম্পদের বিবরণ অনুযায়ী, উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কিছু কমলেও দেড় কোটি টাকার বেশি সম্পদ বেড়েছে তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার। তার কোটি টাকার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায়ও দেখানো হয়েছে। তিশার মোট সম্পদ এক কোটি ৪০ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা থেকে দুই কোটি ৯৯ লক্ষ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকা হয়েছে। মোট সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের। যা ৯৮ লক্ষ ২২ হাজার সাত টাকা থেকে বেড়ে দুই কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৯ টাকা হয়েছে।   অর্থাৎ দেড় কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে মি. রহমানের। তার স্ত্রীর সম্পদও ৬৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি বেড়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের। চার কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা থেকে তার মোট সম্পদ হয়েছে পাঁচ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা। তার স্ত্রী সম্পদও বেড়েছে ২৫ লক্ষ টাকার কিছু বেশি।   অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছয় লাখ টাকার কাছাকাছি বাড়লেও তার স্ত্রী মিজ পারভীন আহমেদ এর মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। এই এক বছরে তার ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক দায়ও বেড়েছে।   কোটি টাকার বেশি সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের। ব্যাংক আমানত থেকে পাওয়া মুনাফা, ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি থেকে আয়- এসব কারণে তার সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এর এই এক বছরে প্রায় বারো লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। আর তার স্ত্রী শীলা আহমেদ এর বেড়েছে ৪৩ লক্ষ টাকার সম্পদ। প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের। তবে তার স্ত্রীর সম্পদ কমেছে। আর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মোট সম্পদের পরিমাণ ষোল লক্ষ টাকার মতো বাড়লেও তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে দুই লক্ষ টাকার কিছু বেশি।   শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এর ৫৫ লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। আর তার স্ত্রীর প্রায় বেড়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সম্পদ। উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫ লক্ষ টাকার মতো বেড়েছে। তার স্ত্রীর বেড়েছে ১০ লক্ষ টাকার কিছু বেশি।   এই সময়ে উপদেষ্টাদের মধ্যে সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের। কোটি টাকার বেশি সম্পদ কমেছে তার। আর্থিক বিবরণের শুরুতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ২৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫৫ টাকা হলেও সবশেষ হিসেবে এক কোটি ১২ লক্ষ ৭২ হাজার ৯২৪ টাকার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার স্বামীর মোট সম্পদের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।   উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এর সম্পদ এক কোটি ৭৬ লক্ষ থেকে দুই কোটি দুই লক্ষ হয়েছে। তার স্ত্রীরও তিন লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সম্পদ বাড়লেও কমেছে তার স্ত্রীর। মি. হোসেনের ২৬ লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে।   একইভাবে নিজের সম্পদ কিছু বাড়লেও কমেছে উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এর স্বামীর মোট সম্পদ। বিবরণ অনুযায়ী, দেড় কোটি টাকার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় রয়েছে তার স্বামীর। সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং তার স্বামীর। মিজ আখতারের মোট সম্পদ ৮১ লক্ষ থেকে এক কোটি দুই লক্ষ হয়েছে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।   উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এর মোট সম্পদ প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা বাড়লেও তার স্বামী হুমায়ুন কাদের চৌধুরির মোট সম্পদ কোটি টাকা বেড়েছে। যদিও তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় কোটি টাকা দেখানো হয়েছে।   মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা থেকে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা হয়েছে উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের। তার স্ত্রী সম্পদও কিছু বেড়েছে। উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং তার স্ত্রী উভয়ের মোট সম্পদ কমেছে।   টাকার হিসেবে উপদেষ্টাদের মধ্যে সবথেকে ধনী বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার মোট সম্পদ ৯১ কোটি ১০ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৪২ টাকা থেকে ৯১ কোটি ৬৫ লক্ষ ১০ হাজার ৮৯৫ টাকা হয়েছে। প্রায় তিন লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে তার স্ত্রীরও।   প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী, দূত এবং উপদেষ্টাদের অনেকের আর্থিক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ এবং তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে।   প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সম্পদের হিসেব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। এক্ষেত্রে অধ্যাপক আলী রীয়াজ ২০২৫ সালের নভেম্বরে উপদেষ্টার পদমর্যাদায় যোগদান করেছেন। এতে করে এই বিবরণীর মধ্যে তার সম্পদের হিসাব দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।   আর প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী অবৈতনিক হওয়ায় তিনি সরকারের কাছ থেকে কোনো সুবিধা নেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমানের সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। যদিও তার মোট সম্পদের বেশিরভাগই দেশের বাইরে।   বিবরণ অনুযায়ী মি. রহমান এবং তার স্ত্রীর দেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ ২২ লক্ষ টাকা। আর ৪৬ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৫০ মার্কিন ডলারের মোট সম্পদ রয়েঝে দেশের বাইরে। এছাড়া ১২ লক্ষ মার্কিন ডলারের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   শিক্ষার্থী উপদেষ্টাদের বিষয়ে যা জানা গেল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে তিনজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকেও যুক্ত করা হয়েছিল।   উপদেষ্টাদের সম্পদের যে বিবরণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে সেখানে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা ছাত্র উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণও দেওয়া হয়েছে।   সম্পদের বিবরণ অনুয়ায়ী, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে তার ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন না থাকায় আগে তার সম্পদের পরিমাণ কত ছিল সে বিয়ষে উল্লেখ করা হয়নি।   আরেক শিক্ষার্থী উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। বিবরণী অনুযায়ী চার লক্ষ ২০ হাজার টাকা থেকে এক বছরে তার সম্পদ হয়েছে ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮৭৯ টাকা।   উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সম্পদের হিসেব এই বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার পর গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছিলেন তিনি।   ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, "উপদেষ্টা পদে যোগদানের আগে আমার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। ২১শে অগাস্ট উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনের জন্য সম্মানী গ্রহণের লক্ষ্যে সরকারিভাবে সোনালী ব্যাংকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলি।"   ওই অ্যাকাউন্টে ২১শে অগাস্ট ২০২৪ থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত হিসাবে দশ লক্ষ ছয় হাজার ৮৮৬ টাকা জমা হয়েছে এবং নয় লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার ১৮০ টাকা উত্তোলিত হয়েছে বলে জানান তিনি। সোনালী ব্যাংকের এই অ্যাকাউন্ট ছাড়া তার অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট নেই বলেও ওই সময় জানিয়েছিলেন নাহিদ।

ইশতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
উপদেষ্টারা সম্পদের হিসাব জমা দিলেও প্রকাশ করা হয়নি
উপদেষ্টারা সম্পদের হিসাব জমা দিলেও প্রকাশ করা হয়নি

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের পথে হলেও উপদেষ্টাদের সম্পদসংক্রান্ত তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁর সরকারের সব উপদেষ্টার আয় ও সম্পদের বিবরণ দ্রুত প্রকাশ করা হবে। সেই ঘোষণা তখন বিভিন্ন মহলে আশাবাদ তৈরি করেছিল।   কিন্তু সময় গড়িয়েছে প্রায় দেড় বছর। বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি। অর্থনীতি ও দুর্নীতিবিরোধী খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারত। কিন্তু তা না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।   ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন আনা হয়। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট ২১ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা মর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় আরও কয়েকজন দায়িত্ব পালন করছেন।   ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, সব উপদেষ্টা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সব সরকারি কর্মকর্তার জন্য এটি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান। সংবিধানের আলোকে ন্যায়পাল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণাও ছিল সেই ভাষণের অংশ।   এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে উপদেষ্টাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবেন। স্বামী বা স্ত্রীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। নীতিমালায় আরও উল্লেখ আছে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে এসব তথ্য প্রকাশ করবেন।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ উপদেষ্টাই তাঁদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী আগের ও চলতি অর্থবছরের বিবরণী দাখিল করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।   তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যখন একাধিক অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমার সময় প্রায় শেষ, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদও শেষের দিকে, তখন কেন এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি? সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানান, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিষয়টি দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, সম্পদের বিবরণ প্রকাশের ঘোষণা জনগণের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। তাঁর মতে, এটি বাস্তবায়িত না হওয়া শুধু হতাশাজনকই নয়, বরং সরকারের দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা না হওয়ার একটি নেতিবাচক উদাহরণ হয়ে রইল।   সব মিলিয়ে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকারের সঙ্গে বাস্তব মিল নেই
প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকারের সঙ্গে বাস্তব মিল নেই

অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণার সঙ্গে তাদের বাস্তব কার্যক্রমের সুস্পষ্ট ফারাক রয়েছে। তাঁর মতে, সবাইকে ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে এক ছাতার নিচে রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই “ছাতা” এখনো খোলা হয়নি—বৃষ্টি হচ্ছে, অথচ মানুষ ভিজছে।   রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ‘অঙ্গীকার থেকে অনুশীলন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি—বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান।   দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের সংস্কার ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনার যে সামর্থ্য ছিল, তা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তাঁর ভাষায়, এই সরকারের সক্ষমতা এখন ক্লান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো একটি গ্রহণযোগ্য ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজন করা।   তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের মুখপাত্রের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়টি খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রকৃত সহিংসতার চিত্র আড়াল করছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারের ভেতর থেকেই তথ্য বিকৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক অপপ্রচার চালানো হয়েছে।   উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক সরকারি বক্তব্যে বলা হয়—২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬৪৫টি হামলার ঘটনা ঘটলেও এর মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেবপ্রিয় প্রশ্ন তোলেন, কেবল মন্দিরে হামলা বা প্রতিমা ভাঙার ঘটনাকেই সাম্প্রদায়িক বলা হলে বাকি ঘটনাগুলোকে কীভাবে আলাদা করা যায়?   তিনি বলেন, জমি, ব্যবসা বা প্রতিবেশী বিরোধের নামে যে হামলাগুলো ঘটে, সেগুলোর লক্ষ্য যেহেতু সংখ্যালঘুরা, তাই সেগুলোও দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত সহিংসতারই অংশ। একটি নারীর ওপর আক্রমণের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তখন যেমন বলা যায় না যে এটি নারী নির্যাতন নয়, তেমনি সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অস্বীকার করাও বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল।   দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, যখন তথ্য বিকৃতি একটি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়, তখন সেই সরকারের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসে। এই পরিস্থিতি থেকেই দেশকে নতুন রাজনৈতিক উত্তরণের পথে যেতে হবে।   নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে আরও স্পষ্ট ও প্রগতিশীল অঙ্গীকার থাকা প্রয়োজন ছিল। তবে যেসব অঙ্গীকার এসেছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখতে হবে।   অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নারী, সংখ্যালঘু এবং ভিন্নমতের রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব এবং সেটিই হওয়া উচিত। ভোট বর্জনের চিন্তাকে তিনি দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করে বলেন, ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই জনগণের শক্তি প্রকাশ পায়।   ভোটের সময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যদি সরকার একটি সহিংসতাহীন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, তবে সেটিই হতে পারে তাদের শেষ ইতিবাচক অবদান, যা ইতিহাসে কিছুটা হলেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি
প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এ তথ্য জানান।   এর আগে, সকালে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা জড়ো হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার উদ্দেশে রওনা দেন।   বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে কিছু সময় পর আন্দোলনকারীরা আবারও জড়ো হয়ে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।   বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখী সড়কে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তা কখনো থেমে আবার কখনো শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পুনরায় টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।   উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সেখানে তিনি যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
কেন বাংলাদেশিরা ভিসা পাচ্ছে না, জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভিসা জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের এক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি এখন আলোচনার তুঙ্গে। কেন বিশ্বমঞ্চে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে? এর পেছনে কি কেবল সিস্টেম দায়ী, নাকি আমাদের নিজেদের কর্মফল?   গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক:   ভিসা না পাওয়ার দায় কার? তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভিসা না পাওয়ার দায় কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নয়, বরং এটি পুরো সিস্টেমের এবং দেশের ব্যর্থতা।   জালিয়াতির শীর্ষে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, নথিপত্র জালিয়াতিতে আমরা ‘সেরা’। ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজারের ভিসায় যখন কেউ মেইড হিসেবে বিদেশে যায়, তখন সেই দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যে নেমে আসে।   ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের স্থবিরতা: ভারতের সাথে সম্পর্ককে 'গুরুত্বপূর্ণ' বললেও তিনি স্বীকার করেছেন যে সম্পর্কটি বর্তমানে থমকে আছে। দুই দেশের স্বার্থের ভিন্নতার কারণে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি।   পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ: বর্তমান সরকারের স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বোঝা নয়, বরং পরবর্তী সরকারের জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে ঘর গোছাতে না পারলে সামনে আরও বড় দুঃসময় আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

ইশতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বিমানবাহী রণতরী কিছুই না; মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন।   পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন।   মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে।   ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে।   ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য।   আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে।   প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা

Top week

ফটো: সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
আমেরিকা

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0