দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। একইসঙ্গে কোনো অসাধু চক্র বা পেট্রোল পাম্প মালিক তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তারা লাভবান হতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বুধবার সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসিন খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে একটি কঠিন সময় পার করছে বিশ্ব অর্থনীতি। এমনকি উন্নত দেশগুলোও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও এক ধরনের ভীতি থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে 'প্যানিক বায়িং' বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। তিনি পাম্প মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। তাই যারা মনে করছেন দাম বাড়বে এবং সেই আশায় তেল মজুত করছেন, তাদের এই প্রবণতা কোনো কাজে আসবে না।" বাজারে তেলের সরবরাহ ও রেশনিং ব্যবস্থা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন যে, ঈদে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে রেশনিং শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে সরবরাহে টান পড়েছে। তিনি বলেন, "সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনলেও দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা চিন্তা করে এখনই দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কারণ তেলের দাম বাড়লে সরাসরি মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়ে।" গ্যাস সরবরাহ নিয়ে তিনি জানান, সরকার বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস সংগ্রহ করছে। কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পুরো গ্যাস পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিকল্প উপায়ে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে কোনো বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান করা হবে।
ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ড্যারেন বিটির ভিসা বাতিল করেছে ব্রাজিল সরকার। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করতে বিটির এই সফরের কথা ছিল, যা বর্তমান লুলা প্রশাসন আটকে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি ‘বিনিময়’ শর্ত কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গত বছর ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা বাতিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। লুলার দাবি, যতক্ষণ না প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা পুনর্বহাল করা হচ্ছে, ততক্ষণ ট্রাম্পের উপদেষ্টাকে ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনে বিটি তার সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ৭০ বছর বয়সী জইর বলসোনারোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বলসোনারোর ছেলে সেনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তার বাবার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ড্যারেন বিটির ভিসা বিতর্ক এবং বলসোনারোর অসুস্থতা—এই দুই ইস্যুতে ব্রাজিল ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন অগ্নিগর্ভ।
বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। চিঠির একটি অনুলিপি গণমাধ্যমের কাছেও এসেছে। চিঠিতে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ তৈরিতে তার অভিজ্ঞতা ও পেশাগত নেটওয়ার্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে ভূমিকা রাখতে পেরেছেন মাহমুদুল হাসান। বিরোধীদলীয় নেতা তার এই প্রস্তাবকে ‘নতুন ও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দিলে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতিগত ভাবনা সরকারকে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা সহজ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষাতেও তা সহায়ক হতে পারে। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের পররাষ্ট্রনীতি আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য এ পদায়নের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন সম্প্রতি অনলাইনে একটি অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে চারটি কারণে মামলা করা হবে। অধ্যাপক কার্জন জানান, ‘ইউনূস এবং তার দলে থাকা ব্যক্তিদের বিচার হওয়া উচিত কয়েকটি কারণে। এর মধ্যে একটি সংবিধান লঙ্ঘন, আরেকটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ক্ষতি, এবং ড. ইউনূসের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সংক্রান্ত কার্যকলাপ চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি মামলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙচুর সংক্রান্ত হবে। সেখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণ দেশের ও বিদেশি প্রভাবের কারণে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীলদের অপ্রত্যাশিত ভূমিকার বিষয়টিও বিচারাধীন হবে।’ কার্জন উল্লেখ করেন, ‘গত দেড় বছরে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। এর মধ্যে ১৩২টি অধ্যাদেশের বিষয় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।’ তিনি এ তথ্যের উদাহরণ হিসেবে একটি বিবিসি-র প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপির মন্ত্রিসভা নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। তবে সব জল্পনা-কল্পনা ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিতর্কিত এই নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করায় খোদ বিএনপির অভ্যন্তরেই সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চরম বিস্ময়। দলের ভেতরেই অস্বস্তি ও বিব্রতবোধ বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, খলিলুর রহমানের মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি তাঁদের জন্য চরম বিব্রতকর। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস চলাকালীন বিভিন্ন ইস্যুতে খলিলুর রহমানের কড়া সমালোচনা করেছিলেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এমনকি গত বছরের মে মাসে রোহিঙ্গা সংকট ও চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ক তাঁর কিছু মন্তব্যের পর বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিল। নাগরিকত্ব ইস্যু ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তিতে তাঁর ভূমিকা নিয়েও রাজপথে সোচ্চার ছিল দলটি। অথচ আজ তাঁকেই আলিঙ্গন করে নিল নবগঠিত রাজনৈতিক সরকার। কেন এই আকস্মিক পদায়ন? রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ থাকতে পারে: ১. লন্ডন সংযোগ: গুঞ্জন রয়েছে, গত বছরের জুন মাসে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফরের সময় সেখানে নির্বাসিত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে খলিলুর রহমানের একটি যোগসূত্র তৈরি হয়। ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকেই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর পুরনো সুসম্পর্ক রয়েছে। ২. ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য: বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সাথে ভারসাম্য রক্ষায় একজন দক্ষ ও পেশাদার কূটনীতিকের প্রয়োজন ছিল। খলিলুর রহমানের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে সেই প্রেক্ষাপটে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি নেতৃত্ব। ৩. বিদেশি প্রভাবের গুঞ্জন: সাবেক কূটনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ওয়াশিংটনের কোনো প্রচ্ছন্ন পরামর্শ এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। নাগরিকত্ব ও ‘স্বার্থের সংঘাত’ ইস্যু খলিলুর রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন তিনি কেবল বাংলাদেশি পাসপোর্টের অধিকারী, তবে দুই দশকের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুবাদে তাঁর গ্রিনকার্ড ও বিদেশে থাকা বিপুল সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকরা যখন তাঁকে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন তিনি তা কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, "আমি তো জোর করে আসিনি। ধারণা সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়।" আগামীর চ্যালেঞ্জ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিনেই ড. খলিলুর রহমান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তাঁর অধীনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কি সত্যিই সার্বভৌম থাকবে, নাকি কোনো নির্দিষ্ট বলয়ের দিকে ঝুঁকে পড়বে—তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। বিএনপির তৃণমূল ও মিত্র দলগুলোর মাঝে এই নিয়োগ নিয়ে যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে, তা সামাল দিয়ে খলিলুর রহমান কতটুকু সফল হন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে সরাসরি নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে সেটি জাতির সামনে উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এসব কথা বলেছেন তিনি। ইসলাম বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে, সরকার গঠনের প্রথম দিনেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। “এটা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাই নয়, এর মধ্য দিয়ে আইনি সংকট এবং জটিলতা তৈরি করেছে,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধান সংস্কার আদেশে সই করে গণভোটে অংশ নিলেও এখন বিএনপি যে ব্যাখ্যা দিচ্ছে সেটি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমানের বিএনপি সরকারে যোগদান নৈতিক নয় বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সিরাজ উদ্দিন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর চুক্তির ভিত্তিতে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা সিরাজ উদ্দিন মিয়া ১৯৮২ সালের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। ২০০৯ সালে যুগ্ম সচিব পদে কর্মরত অবস্থায় তিনি ওএসডি হন এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে তিনি ৩২টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর আগে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ বাতিল করা হয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ-এর।
আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল নিজের দায়িত্বকালের দুই বছরের গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিবরণ সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টায় তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘আসিফ নজরুল কি করেছে?’ শিরোনামে পোস্টে এ সব তথ্য তুলে ধরেন। আসিফ নজরুল জানান, মন্ত্রণালয়ে তিনি সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে না থাকলেও প্রতিটি কর্মকাণ্ডে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন এবং গভীর রাতে পর্যন্ত অফিসে থাকেন, সপ্তাহান্তেও কাজ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমালোচনা করতে চাইলে করুক, তবে আগে কার্যক্রমগুলো জেনে নিক। কী কাজ করা হয়েছে? ১. আইনি সংস্কার: আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ: গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা, সাক্ষীর সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা প্রবর্তন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ: যোগ্যতা ও সুযোগের ভিত্তিতে বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব বিচার বিভাগের হাতে। বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ: দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ভার্চুয়াল শুনানি, অনলাইন মামলা ব্যবস্থাপনা। মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন: OPCAT বাস্তবায়ন, কমিশনার নিয়োগে স্বচ্ছতা। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ: তদন্ত, শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের সংজ্ঞা নির্ধারণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ: প্রতিরোধকারীদের সুরক্ষা, মামলা প্রত্যাহার ও নতুন মামলা দায়ের নিষিদ্ধ। দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন সংশোধন: গ্রেফতার, রিমান্ড ও বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন: পৃথক ট্রাইব্যুনাল, সাক্ষী সুরক্ষা ও দ্রুত বিচার। সাইবার সুরক্ষা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বিবাহ নিবন্ধন, DCC, পুলিশ সংস্কার, টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধনীসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২. প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া উন্নয়ন। তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন, অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ ও ই-কজলিস্ট কার্যক্রম। ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন বেইলবন্ড, আদালতের নাম সংশোধন, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথকীকরণ। নিবন্ধন অধিদপ্তরের ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণ। ৩. হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার: জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ও সাইবার আইনের আওতায় দায়ের প্রায় ২৪,০০০ মামলা প্রত্যাহার। রাজনৈতিক, হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি পায় লক্ষাধিক মানুষ। ৪. গণহত্যার বিচার ও প্রসিকিউশন সহায়তা: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ও প্রসিকিউটরদের নিয়োগ, বিচার প্রক্রিয়ার তদারকি। চারটি মামলার রায়, আরও ছয়টি মামলার বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে। ৫. দৈনন্দিন কার্যক্রম: দুই বছরে মন্ত্রণালয়ে ২,২৮১টি নথি নিষ্পত্তি। ৫৭৮টি বিষয়ে আইনি মতামত প্রদান। ১২৭টি অধ্যাদেশ ও এক আদেশ কোডিফাই করা হয়েছে। প্রায় ৫,৫০০ আইন কর্মকর্তাকে নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি সহ নতুন বিচারক নিয়োগ। আসিফ নজরুলের পোস্টের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, আইন মন্ত্রণালয় এই দুই বছরে আইনি সংস্কার, ডিজিটালাইজেশন ও জনগণের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথগ্রহণের দিন নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং পতাকাবাহী গাড়িতে করে শপথস্থলে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে শপথ অনুষ্ঠান শেষে তারা একই গাড়িতে নিজ নিজ বাসায় ফিরলেও, সে সময় গাড়িতে কোনো পতাকা থাকবে না। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপদেষ্টাদের শপথ-সংক্রান্ত প্রটোকল ও দায়িত্ব বিষয়ে এ তথ্য জানান। প্রেস সচিব বলেন, উপদেষ্টারা সবাই বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন এবং তারা দেশের গর্বিত সন্তান। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তারা সর্বোচ্চ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরও জানান, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগ এবং দেশ ছাড়ার খবরটি এখন টক অব দ্য সোশ্যাল মিডিয়া। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তার আকস্মিক বিদেশ যাত্রাকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠলেও, অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন তিনি নিজেই। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি তুলে ধরেছেন নেপথ্যের কারণ। বিতর্কের মুখে ফয়েজ আহমদের ব্যাখ্যা: নেদারল্যান্ডস প্রবাসী এই অর্থনীতিবিদ ও গবেষককে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সরগরম ছিল ফেসবুক। নেটিজেনদের একাংশ তার দেশত্যাগকে ‘পালিয়ে যাওয়া’ হিসেবে মন্তব্য করলেও, তিনি বলছেন ভিন্ন কথা। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় নিয়েছেন। এমনকি গত ১০ ফেব্রুয়ারি সহকর্মীদের সাথে আনন্দঘন পরিবেশে ডিনার ও গানের মাধ্যমে তাকে বিদায় জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পারিবারিক কারণ নাকি অন্য কিছু? নিজের পোস্টে তিনি দুইটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন। একদিকে বলছেন এটি ছিল ‘অফিসিয়াল ফেয়ারওয়েল’, অন্যদিকে বলছেন এটি একটি ‘জরুরি পারিবারিক ছুটি’। সন্তানের স্কুলে মিটিং এবং স্ত্রীর চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরতে হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকার পর এখন তাদের সময় দেওয়াটাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অনিয়মের অভিযোগ ও তার অবস্থান: দায়িত্ব পালনকালে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও তিনি মুখ খুলেছেন। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের অন্যায়ের সাথে যুক্ত ছিলেন না। নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালনের পরেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। গত ৫ মার্চ ২০২৫-এ নিয়োগ পাওয়া এই বিশেষ সহকারীকে নিয়ে তৈরি হওয়া এই ধোঁয়াশা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষের প্রাক্কালে নির্বাচনের আগের দিনটি ব্যস্ততা ও বিদায়ের আবহে কাটিয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগের দিনও কর্মব্যস্ত ছিলেন। তিনি বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আগামীকাল রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব শেষে আবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরবেন এবং গবেষণা ও লেখালেখিতে মনোযোগ দেবেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে পুনরায় লেখালেখিতে ফিরতে চান। খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও গণমাধ্যমে যুক্ত থাকবেন। বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান রমজান মাসে ইবাদতে মনোযোগ দিয়ে পরে লেখালেখি ও বই পড়ায় ফিরবেন। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দায়িত্ব শেষে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-তে ফিরে যাবেন। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ কিছুদিন বিরতি নিয়ে মানবাধিকার ও নারীদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। দেড় বছরের দায়িত্ব শেষে বিদায়ের সুর বাজলেও, উপদেষ্টাদের অনেকেই নিজ নিজ পেশা ও আগ্রহের জায়গায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্পদের বিবরনী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত এক বছরে বেশিরভাগ উপদেষ্টার সম্পদ বাড়লেও, কারো কারো ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে ছাত্র প্রতিনিধি—কার ব্যাংক ব্যালেন্সে কত টাকা যোগ হলো? চলুন দেখে নেওয়া যাক হিসাবের ব্যবচ্ছেদ: বিবরণী অনুযায়ী বেশিরভাগ উপদেষ্টা এবং তাদের স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণই বেড়েছে। অর্থবছর অনুযায়ী ৩০শে জুন ২০২৪ থেকে ৩০শে জুন ২০২৫ এই সময়ের সম্পদের হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী প্রায় আট মাসের হিসেব এখানে দেওয়া হয়নি। সম্পদের বিবরণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট আর্থিক সম্পদ বেড়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি। এছাড়া উপদেষ্টা আদিলুর রহমান এবং বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কমলেও বেশ বেড়েছে তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার মোট সম্পদও। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদী আমানতে বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ারের কারণে প্রধান উপদেষ্টার মোট সম্পদ বেড়েছে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের নন ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও মোট সম্পদের পরিমাণ কমেছে কোটি টাকার কাছাকাছি। এছাড়া উপদেষ্টাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। মোট হিসেবে সব থেকে বেশি অর্থ-সম্পদের মালিক বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার পরেই রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান। রহমান এবং স্ত্রীর সম্পদের হিসাব একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবরণ অনুযায়ী তাদের বেশিরভাগ সম্পদই দেশের বাইরে। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেওয়া সদস্যদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ এবং মাহফুজ আলমের সম্পদের হিসাব এই বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থেকে উপদেষ্টা হওয়া নাহিদ ইসলামের তথ্য, দায়িত্ব থেকে সরে দাড়ানোর সময় তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা মোট ২৭ জন এবং তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদের হিসেব উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদের বিবরণ অনুযায়ী, উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কিছু কমলেও দেড় কোটি টাকার বেশি সম্পদ বেড়েছে তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার। তার কোটি টাকার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায়ও দেখানো হয়েছে। তিশার মোট সম্পদ এক কোটি ৪০ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা থেকে দুই কোটি ৯৯ লক্ষ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকা হয়েছে। মোট সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের। যা ৯৮ লক্ষ ২২ হাজার সাত টাকা থেকে বেড়ে দুই কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৯ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ দেড় কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে মি. রহমানের। তার স্ত্রীর সম্পদও ৬৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি বেড়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের। চার কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা থেকে তার মোট সম্পদ হয়েছে পাঁচ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা। তার স্ত্রী সম্পদও বেড়েছে ২৫ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছয় লাখ টাকার কাছাকাছি বাড়লেও তার স্ত্রী মিজ পারভীন আহমেদ এর মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। এই এক বছরে তার ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক দায়ও বেড়েছে। কোটি টাকার বেশি সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের। ব্যাংক আমানত থেকে পাওয়া মুনাফা, ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি থেকে আয়- এসব কারণে তার সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এর এই এক বছরে প্রায় বারো লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। আর তার স্ত্রী শীলা আহমেদ এর বেড়েছে ৪৩ লক্ষ টাকার সম্পদ। প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের। তবে তার স্ত্রীর সম্পদ কমেছে। আর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মোট সম্পদের পরিমাণ ষোল লক্ষ টাকার মতো বাড়লেও তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে দুই লক্ষ টাকার কিছু বেশি। শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এর ৫৫ লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। আর তার স্ত্রীর প্রায় বেড়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সম্পদ। উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫ লক্ষ টাকার মতো বেড়েছে। তার স্ত্রীর বেড়েছে ১০ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। এই সময়ে উপদেষ্টাদের মধ্যে সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের। কোটি টাকার বেশি সম্পদ কমেছে তার। আর্থিক বিবরণের শুরুতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ২৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫৫ টাকা হলেও সবশেষ হিসেবে এক কোটি ১২ লক্ষ ৭২ হাজার ৯২৪ টাকার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার স্বামীর মোট সম্পদের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এর সম্পদ এক কোটি ৭৬ লক্ষ থেকে দুই কোটি দুই লক্ষ হয়েছে। তার স্ত্রীরও তিন লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সম্পদ বাড়লেও কমেছে তার স্ত্রীর। মি. হোসেনের ২৬ লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। একইভাবে নিজের সম্পদ কিছু বাড়লেও কমেছে উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এর স্বামীর মোট সম্পদ। বিবরণ অনুযায়ী, দেড় কোটি টাকার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় রয়েছে তার স্বামীর। সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং তার স্বামীর। মিজ আখতারের মোট সম্পদ ৮১ লক্ষ থেকে এক কোটি দুই লক্ষ হয়েছে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এর মোট সম্পদ প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা বাড়লেও তার স্বামী হুমায়ুন কাদের চৌধুরির মোট সম্পদ কোটি টাকা বেড়েছে। যদিও তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা থেকে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা হয়েছে উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের। তার স্ত্রী সম্পদও কিছু বেড়েছে। উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং তার স্ত্রী উভয়ের মোট সম্পদ কমেছে। টাকার হিসেবে উপদেষ্টাদের মধ্যে সবথেকে ধনী বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার মোট সম্পদ ৯১ কোটি ১০ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৪২ টাকা থেকে ৯১ কোটি ৬৫ লক্ষ ১০ হাজার ৮৯৫ টাকা হয়েছে। প্রায় তিন লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে তার স্ত্রীরও। প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী, দূত এবং উপদেষ্টাদের অনেকের আর্থিক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ এবং তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সম্পদের হিসেব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। এক্ষেত্রে অধ্যাপক আলী রীয়াজ ২০২৫ সালের নভেম্বরে উপদেষ্টার পদমর্যাদায় যোগদান করেছেন। এতে করে এই বিবরণীর মধ্যে তার সম্পদের হিসাব দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। আর প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী অবৈতনিক হওয়ায় তিনি সরকারের কাছ থেকে কোনো সুবিধা নেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমানের সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। যদিও তার মোট সম্পদের বেশিরভাগই দেশের বাইরে। বিবরণ অনুযায়ী মি. রহমান এবং তার স্ত্রীর দেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ ২২ লক্ষ টাকা। আর ৪৬ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৫০ মার্কিন ডলারের মোট সম্পদ রয়েঝে দেশের বাইরে। এছাড়া ১২ লক্ষ মার্কিন ডলারের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী উপদেষ্টাদের বিষয়ে যা জানা গেল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে তিনজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকেও যুক্ত করা হয়েছিল। উপদেষ্টাদের সম্পদের যে বিবরণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে সেখানে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা ছাত্র উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণও দেওয়া হয়েছে। সম্পদের বিবরণ অনুয়ায়ী, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে তার ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন না থাকায় আগে তার সম্পদের পরিমাণ কত ছিল সে বিয়ষে উল্লেখ করা হয়নি। আরেক শিক্ষার্থী উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। বিবরণী অনুযায়ী চার লক্ষ ২০ হাজার টাকা থেকে এক বছরে তার সম্পদ হয়েছে ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮৭৯ টাকা। উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সম্পদের হিসেব এই বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার পর গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, "উপদেষ্টা পদে যোগদানের আগে আমার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। ২১শে অগাস্ট উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনের জন্য সম্মানী গ্রহণের লক্ষ্যে সরকারিভাবে সোনালী ব্যাংকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলি।" ওই অ্যাকাউন্টে ২১শে অগাস্ট ২০২৪ থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত হিসাবে দশ লক্ষ ছয় হাজার ৮৮৬ টাকা জমা হয়েছে এবং নয় লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার ১৮০ টাকা উত্তোলিত হয়েছে বলে জানান তিনি। সোনালী ব্যাংকের এই অ্যাকাউন্ট ছাড়া তার অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট নেই বলেও ওই সময় জানিয়েছিলেন নাহিদ।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের পথে হলেও উপদেষ্টাদের সম্পদসংক্রান্ত তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁর সরকারের সব উপদেষ্টার আয় ও সম্পদের বিবরণ দ্রুত প্রকাশ করা হবে। সেই ঘোষণা তখন বিভিন্ন মহলে আশাবাদ তৈরি করেছিল। কিন্তু সময় গড়িয়েছে প্রায় দেড় বছর। বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি। অর্থনীতি ও দুর্নীতিবিরোধী খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারত। কিন্তু তা না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন আনা হয়। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট ২১ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা মর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় আরও কয়েকজন দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, সব উপদেষ্টা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সব সরকারি কর্মকর্তার জন্য এটি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান। সংবিধানের আলোকে ন্যায়পাল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণাও ছিল সেই ভাষণের অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে উপদেষ্টাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবেন। স্বামী বা স্ত্রীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। নীতিমালায় আরও উল্লেখ আছে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে এসব তথ্য প্রকাশ করবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ উপদেষ্টাই তাঁদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী আগের ও চলতি অর্থবছরের বিবরণী দাখিল করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যখন একাধিক অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমার সময় প্রায় শেষ, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদও শেষের দিকে, তখন কেন এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি? সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানান, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিষয়টি দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, সম্পদের বিবরণ প্রকাশের ঘোষণা জনগণের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। তাঁর মতে, এটি বাস্তবায়িত না হওয়া শুধু হতাশাজনকই নয়, বরং সরকারের দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা না হওয়ার একটি নেতিবাচক উদাহরণ হয়ে রইল। সব মিলিয়ে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণার সঙ্গে তাদের বাস্তব কার্যক্রমের সুস্পষ্ট ফারাক রয়েছে। তাঁর মতে, সবাইকে ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে এক ছাতার নিচে রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই “ছাতা” এখনো খোলা হয়নি—বৃষ্টি হচ্ছে, অথচ মানুষ ভিজছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ‘অঙ্গীকার থেকে অনুশীলন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি—বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের সংস্কার ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনার যে সামর্থ্য ছিল, তা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তাঁর ভাষায়, এই সরকারের সক্ষমতা এখন ক্লান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো একটি গ্রহণযোগ্য ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজন করা। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের মুখপাত্রের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়টি খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রকৃত সহিংসতার চিত্র আড়াল করছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারের ভেতর থেকেই তথ্য বিকৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক অপপ্রচার চালানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক সরকারি বক্তব্যে বলা হয়—২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬৪৫টি হামলার ঘটনা ঘটলেও এর মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেবপ্রিয় প্রশ্ন তোলেন, কেবল মন্দিরে হামলা বা প্রতিমা ভাঙার ঘটনাকেই সাম্প্রদায়িক বলা হলে বাকি ঘটনাগুলোকে কীভাবে আলাদা করা যায়? তিনি বলেন, জমি, ব্যবসা বা প্রতিবেশী বিরোধের নামে যে হামলাগুলো ঘটে, সেগুলোর লক্ষ্য যেহেতু সংখ্যালঘুরা, তাই সেগুলোও দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত সহিংসতারই অংশ। একটি নারীর ওপর আক্রমণের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তখন যেমন বলা যায় না যে এটি নারী নির্যাতন নয়, তেমনি সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অস্বীকার করাও বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, যখন তথ্য বিকৃতি একটি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়, তখন সেই সরকারের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসে। এই পরিস্থিতি থেকেই দেশকে নতুন রাজনৈতিক উত্তরণের পথে যেতে হবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে আরও স্পষ্ট ও প্রগতিশীল অঙ্গীকার থাকা প্রয়োজন ছিল। তবে যেসব অঙ্গীকার এসেছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখতে হবে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নারী, সংখ্যালঘু এবং ভিন্নমতের রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব এবং সেটিই হওয়া উচিত। ভোট বর্জনের চিন্তাকে তিনি দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করে বলেন, ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই জনগণের শক্তি প্রকাশ পায়। ভোটের সময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যদি সরকার একটি সহিংসতাহীন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, তবে সেটিই হতে পারে তাদের শেষ ইতিবাচক অবদান, যা ইতিহাসে কিছুটা হলেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এ তথ্য জানান। এর আগে, সকালে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা জড়ো হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার উদ্দেশে রওনা দেন। বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে কিছু সময় পর আন্দোলনকারীরা আবারও জড়ো হয়ে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখী সড়কে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তা কখনো থেমে আবার কখনো শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পুনরায় টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সেখানে তিনি যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
ভিসা জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের এক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি এখন আলোচনার তুঙ্গে। কেন বিশ্বমঞ্চে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে? এর পেছনে কি কেবল সিস্টেম দায়ী, নাকি আমাদের নিজেদের কর্মফল? গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক: ভিসা না পাওয়ার দায় কার? তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভিসা না পাওয়ার দায় কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নয়, বরং এটি পুরো সিস্টেমের এবং দেশের ব্যর্থতা। জালিয়াতির শীর্ষে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, নথিপত্র জালিয়াতিতে আমরা ‘সেরা’। ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজারের ভিসায় যখন কেউ মেইড হিসেবে বিদেশে যায়, তখন সেই দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যে নেমে আসে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের স্থবিরতা: ভারতের সাথে সম্পর্ককে 'গুরুত্বপূর্ণ' বললেও তিনি স্বীকার করেছেন যে সম্পর্কটি বর্তমানে থমকে আছে। দুই দেশের স্বার্থের ভিন্নতার কারণে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ: বর্তমান সরকারের স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বোঝা নয়, বরং পরবর্তী সরকারের জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে ঘর গোছাতে না পারলে সামনে আরও বড় দুঃসময় আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।