ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর (আইআরজিসি) অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান গোলামরেজা সুলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই দাবি জানায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার রাজধানী তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে বিমান বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে গোলামরেজা সুলাইমানিকে ‘খতম’ করা হয়েছে। গত ছয় বছর ধরে তিনি বাসিজ ইউনিটের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান’ যুদ্ধের এযাবতকালের অন্যতম বড় হত্যাকাণ্ড। এর আগে যুদ্ধের প্রথম দিনে তেহরানে এক ড্রোন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।
১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া গোলামরেজা সুলাইমানি ইরানের অভ্যন্তরীণ আন্দোলন দমনে বাসিজ বাহিনীকে ব্যবহারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের ১৮তম দিনে এসে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এখন ইরানের প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি করেছে। এ যুদ্ধের ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আফগান ক্রিকেটাররা। শবে কদরের পবিত্র রাতে দুই হাজার শয্যার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এই হামলার ফলে প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি ও নবিন উল হকের মতো তারকা ক্রিকেটাররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তারা এই হামলাকে ইসরায়েলি বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান নিহতের ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে লিখেছেন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালে হামলা চালানো একটি জঘন্য অপরাধ। অন্যদিকে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি এই ঘটনাকে সরাসরি পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বলি বলে উল্লেখ করেছেন। পেসার নবিন উল হক আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করে পাকিস্তান ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেন। যদিও পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষের রেশ ধরে এই হামলা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চীন। দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবার তাদের বিশাল উভচর রণতরী ‘টাইপ ০৭৫’ থেকে অত্যাধুনিক মনুষ্যবিহীন হেলিকপ্টার বা ড্রোন পরিচালনা শুরু করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বিতর্কিত জলসীমায় চীনের নৌ-অভিযানের সংজ্ঞা চিরতরে বদলে দিতে পারে। সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV)-তে প্রচারিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, চীনের বিশাল যুদ্ধজাহাজ ‘হুবেই’ (টাইপ ০৭৫)-এর ডেকে একটি হালকা ওজনের স্বয়ংচালিত হেলিকপ্টার দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্লেষকরা একে ‘এআর-২০০০’ (AR-2000) মডেলের ড্রোন হিসেবে শনাক্ত করেছেন। প্রায় ২ টন ওজনের এই ড্রোনটি ২০২৪ সালের একটি এয়ার শো-তে প্রথম জনসমক্ষে আনা হয়েছিল। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? ১. বড় জাহাজে ছোট ড্রোনের শক্তি: টাইপ ০৭৫ রণতরীটি প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টন ওজনের বিশাল একটি জাহাজ, যা মূলত ৩০টিরও বেশি হেলিকপ্টার এবং কয়েকশ সৈন্য বহন করতে সক্ষম। এর ডেকে এখন মানুষবাহী বড় হেলিকপ্টারের পাশাপাশি এই ড্রোন মোতায়েন করায় জাহাজটির কার্যক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। ছোট আকৃতির হওয়ায় একসাথে অনেকগুলো ড্রোন এখান থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে। ২. ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে কার্যকর: অবসরপ্রাপ্ত পিএলএ কর্নেল ইউ গাং-এর মতে, এই ড্রোনগুলো দিয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক গোয়েন্দা নজরদারি এবং সরাসরি হামলা চালানো সম্ভব। এতে পাইলটের প্রাণের ঝুঁকি না থাকায় যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়া বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এগুলো বারবার ব্যবহার করা যাবে। ৩. সাবমেরিন ধ্বংসের সক্ষমতা: সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ড্রোনগুলো টর্পেডো, ক্ষেপণাস্ত্র এবং গভীর সমুদ্রের বোমা (depth charges) বহন করতে সক্ষম। ফলে এটি শুধু আকাশ থেকে নজরদারি নয়, বরং সমুদ্রের নিচে থাকা শত্রু সাবমেরিন ধ্বংস করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আঞ্চলিক প্রভাব ও উদ্বেগ দক্ষিণ চীন সাগরে তাইওয়ান এবং ফিলিপাইনের সাথে চীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। বিশেষ করে ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ড্রোনের উপস্থিতি ম্যানিলা ও ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষক সং ঝংপিং জানিয়েছেন, মানুষবাহী হেলিকপ্টার অনেক সময় খারাপ আবহাওয়ায় কাজ করতে পারে না, কিন্তু এই ড্রোনগুলো প্রায় সব ধরণের সামুদ্রিক পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চীন বর্তমানে ‘টাইপ ০৭৬’ নামের আরও একটি নতুন উভচর জাহাজ তৈরি করছে, যা মূলত একটি ‘ড্রোন ক্যারিয়ার’ হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু বড় রণতরী নয়, ভবিষ্যতে ডেস্ট্রয়ার এবং ছোট যুদ্ধজাহাজেও এই ড্রোন মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরের মতো উত্তপ্ত অঞ্চলে চীনের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চলমান লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার একটি বড় কৌশল।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি ‘উন্মুক্ত ও নিরাপদ’ রাখতে চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই তাৎক্ষণিক সাড়া বা সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো যারা এই কৃত্রিম সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের উচিত ওই অঞ্চলে জাহাজ পাঠানো।” মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এনবিসি-কে জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে মিত্রদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছেন এবং চীনকে এই প্রক্রিয়ায় ‘গঠনমূলক অংশীদার’ হিসেবে পাওয়ার আশা রাখছেন। তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ কোনো সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত না দিয়ে জানিয়েছেন, চীন পরিস্থিতি শান্ত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে। তেহরানের কৌশল ও ভারতের বিশেষ সুবিধা ইরান শুরু থেকেই স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্রদের জন্য বন্ধ, বাকি বিশ্বের জন্য এটি উন্মুক্ত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, অনেক দেশ তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য আবেদন করেছে এবং ইরানি সামরিক বাহিনী তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এই কৌশলে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে সফল আলোচনার পর শনিবার ভারতের দুটি গ্যাস ট্যাংকার নিরাপদে প্রণালিটি পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত যুক্তি ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান খুঁজছে। থমকে আছে ১০০০ তেল ট্যাংকার ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি তেল ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০০০ তেল ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পার হতে না পেরে সাগরে আটকা পড়ে আছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। স্টিমসন সেন্টারের ফেলো বারবারা স্লাভিন মনে করেন, চীন মার্কিন আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না, কারণ ইরানের তেল চীনের কাছে নির্বিঘ্নে পৌঁছাচ্ছে। ইরান মূলত বেছে বেছে কেবল ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে কার্যকর কোনো সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন প্রশাসন দ্রুত এই সংঘাত অবসানের আশা করলেও, সাগরে আটকা পড়া কয়েক কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা বজায় রেখেছে।