কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমা বা দুঃস্বপ্নের কাহিনি নয়, বরং এক রূঢ় বাস্তব এখন মধ্যপ্রাচ্যের দরজায় কড়া নাড়ছে। যে যুদ্ধ তেলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল, তা এখন বাঁক নিচ্ছে প্রকৃতির সবচাইতে অমূল্য সম্পদ— পানির দিকে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের পরিধি যত বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে আগামীর দিনগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু কেবল তেলের পাইপলাইন হবে না, বরং হবে পানির পাম্প আর লবণ-মুক্তকরণ কারখানা। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই অঞ্চলে পানি এখন ‘তেলের চেয়েও ভারী’ হয়ে উঠেছে।
পানির জন্য হাহাকার ও কৃত্রিম নির্ভরতা উপসাগরীয় অঞ্চলে বিশ্বের মাত্র ২% মিষ্টি পানির সরবরাহ রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে টিকে থাকতে হয় সমুদ্রের পানিকে লবণ-মুক্ত (Desalination) করার ওপর নির্ভর করে। ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস্-এর তথ্যমতে, কুয়েতের ৯০%, ওমানের ৮৬% এবং সৌদি আরবের ৭০% মিষ্টি পানি আসে এই প্রক্রিয়ায়। ওমানের ড. উইল লা কেন-এর মতে, ২০২১ সালে এই কারখানাগুলো প্রতিদিন যে পরিমাণ পানি টেনে নিত, তা দিয়ে অলিম্পিক মানের ৮,০০০ সুইমিং পুল ভর্তি করা সম্ভব। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ওপর সামান্য আঘাতও পুরো জনজীবনকে অচল করে দিতে পারে।
রণকৌশল হিসেবে পানি: ইরানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে মোকাবিলা করার চেয়ে সংঘাতের ক্ষেত্র ছড়িয়ে দেওয়া এবং আতঙ্ক তৈরি করাই এখন ইরানের কৌশল। বাহরাইনের একটি লবণ-মুক্তকরণ কারখানায় সরাসরি হামলা এবং দুবাইয়ের জেবেল আলিতে হামলার ঘটনাগুলো এরই প্রমাণ। কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোন্স মনে করেন, ইরান চাইছে আরব দেশগুলোর ওপর এমন চাপ তৈরি করতে যেন তারা নিজ দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য বাধ্য করে। অধ্যাপক কাভেহ মাদানির মতে, এটি ইরানের একটি ‘সংকেত দেওয়ার কৌশল’—তারা দেখাতে চায় যে তারা কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কেশম দ্বীপের ক্ষত ইরান প্রতিটি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপের একটি পানি কারখানায় হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন গ্রামের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ‘নির্লজ্জ অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাহরাইনে করা হামলাকে ‘ন্যায়সংগত প্রতিশোধ’ বলে দাবি করেছেন। এই পাল্টাপাল্টি হামলা প্রমাণ করে যে, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ হলেও যুদ্ধের ময়দানে তা এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।
ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট ও ‘পানির আকাল’ প্রতিবেশীদের পানির ওপর আঘাত করলেও ইরান নিজেও শান্তিতে নেই। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী আব্বাস আলিয়াবাদি স্বীকার করেছেন যে, ইরান এখন ‘চূড়ান্ত জলের আকালের’ মুখোমুখি। শতাব্দী প্রাচীন পাইপলাইনে ফুটো, কম বৃষ্টিপাত এবং সংঘাতের কারণে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে। তেহরানের মতো শহর আংশিক খালি করে দেওয়ার মতো হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এছাড়া হেলমন্দ নদী নিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে এবং টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে ইরানের বিরোধ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ প্রমাণ করছে যে জল-নিরাপত্তা কতটা ভঙ্গুর। ঐতিহাসিক ভাবে পানি সবসময়ই হুমকি দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু বর্তমানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে এই অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা অকল্পনীয়। আগামীর সংঘাত কেবল জ্বালানিবাহী জাহাজ বা তেলের খনি দিয়ে নির্ধারিত হবে না; বরং নদী, ভূগর্ভস্থ পানির আধার আর সমুদ্রের পানি শোধনকারী কারখানাই হবে প্রধান রণক্ষেত্র। পানির এই সংকট যদি প্রশমিত না হয়, তবে তেলের আগুন নেভানোর মতো পানিও হয়তো একদিন আর অবশিষ্ট থাকবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উত্তজনা চরমে পৌঁছেছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে পিয়ংইয়ংয়ের সুনান এলাকা থেকে ১০টিরও বেশি অজ্ঞাত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর) দিকে ছোঁড়া হয়েছে। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে সমুদ্রে পতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পরপরই সিউল তার নজরদারি ও সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে সর্বোচ্চ যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রেখেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ (Freedom Shield)-এর একটি কঠোর প্রতিক্রিয়া। গত ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই মহড়া আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। শুরু থেকেই পিয়ংইয়ং এই মহড়াকে তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং একটি ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধের মহড়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো-জং এক কড়া বিবৃতিতে সতর্ক করেছিলেন যে, শত্রুপক্ষের বাহিনী যদি তাদের দেশের সার্বভৌম অঞ্চলের কাছাকাছি সামরিক উসকানি চালায়, তবে এর পরিণতি হবে ‘কল্পনাতীত ভয়াবহ’। আজকের এই গণ-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কিম ইয়ো-জং-এর সেই হুমকিরই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছর জানুয়ারিতেও একই ধরনের সামরিক তৎপরতা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং। তবে এবারের ১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই বিশাল বহর নিক্ষেপ করার ঘটনাটি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের অভ্যন্তরে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, এই অভিযানের অংশ হিসেবে তারা ইতোমধ্যে ইরানের ৬ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এই বিধ্বংসী হামলায় ইরানের ৬০টি যুদ্ধজাহাজ এবং ৩০টি মাইন স্থাপনকারী নৌযান পুরোপুরি ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেন্টকমের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, উন্নত অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এমনকি ইরানের সাবমেরিন বহরকেও এই হামলার আওতায় আনা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলার ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্রবার ভোর ৫টা পর্যন্ত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, তেহরান, কারাজ এবং আরাক অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ তেহরানে বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, বহুদূরের এলাকাগুলোতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান এখন তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ‘বড় মাসুল’ দিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে এক চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশির বুকে মাত্র ২২ বর্গকিলোমিটারের এক প্রবালদ্বীপ, যা ইরানের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। বুশেহর উপকূল থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ‘খার্গ দ্বীপ’ আজ বিশ্বরাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রখ্যাত ইরানি লেখক জালাল আল-এ-আহমাদ যাকে ‘পারস্য উপসাগরের এতিম মুক্তো’ বলে অভিহিত করেছিলেন, সেই দ্বীপটিই এখন ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতি বছর প্রায় ৯৫ কোটি ব্যারেল তেল এই টার্মিনাল হয়ে বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে পৌঁছে যায়। প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে দ্বীপটির চারপাশের সমুদ্র অত্যন্ত গভীর, যা বিশাল আকৃতির সুপারট্যাংকারগুলোর যাতায়াত ও নোঙর করার জন্য আদর্শ। ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আবুজার, ফুরুজান ও দুরুদ—এই তিনটি প্রধান অফশোর তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এখানে তেল আসে। আন্তর্জাতিক হাজারো নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান এই দ্বীপের সক্ষমতা বাড়িয়েই চলেছে। এমনকি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়েও নতুন সংস্কারের মাধ্যমে এর ধারণক্ষমতা আরও ২০ লাখ ব্যারেল বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নিশ্ছিদ্র পাহারায় থাকা এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপে’ সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই বললেই চলে। তবে খার্গ দ্বীপের গুরুত্ব কেবল তেলেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস। এখানে এলামাইট, আকিমিনিড ও সাসানিড যুগের প্রাচীন নিদর্শনের পাশাপাশি সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত মির মোহাম্মাদ মাজারের মতো পবিত্র স্থান রয়েছে। একটি প্রবালশিলায় খোদাই করা ৮৫ বাই ১১৬ সেন্টিমিটারের একটি আকিমিনিড শিলালিপিকে ‘পারস্য উপসাগর’ নামের প্রাচীনতম দালিলিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দ্বীপে একসময় পর্তুগিজ ও ডাচ উপনিবেশ ছিল, যার ধ্বংসাবশেষ এখনো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক যুগে এই দ্বীপটি যেমন রাজনৈতিক বন্দীদের নির্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তেমনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সয়েছে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ। প্রতিটি ধ্বংসযজ্ঞের পর ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠা এই দ্বীপটি আজ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আবারও সামরিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। একদিকে সুপারট্যাংকারগুলোর নীরব যাতায়াত আর অন্যদিকে কড়া সামরিক প্রহরা—সব মিলিয়ে ‘এতিম মুক্তো’ খ্যাত এই খার্গ দ্বীপটিই এখন ইরানের তেলের সাম্রাজ্যের প্রধান রক্ষাকবচ।