নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশনে ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাবস্টেশনের জি-২ (G2) ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যাওয়ায় আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ট্রান্সফরমারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে জি-২ ট্রান্সফরমারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মদনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মোমেন সরকার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমারের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প হিসেবে সোনারগাঁও ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হলেও সেখানেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। ট্রায়াল দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর চেষ্টা করা হবে।
এদিকে, বন্দর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার সঞ্জয় খান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণের পরই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়-এ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দিন ২৫–৩০ জন নেতা-কর্মীর সঙ্গে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, পরে তারা ইউএনও ও কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দিন ইউএনওকে অভিযুক্ত করে বলেন, আপনি নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেবেন, আমরা তা মানব না।” ইউএনও রায়হানুল ইসলাম এই সময় জানান, “এই অফিস চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকে। অধ্যক্ষ যদি কিছু অবৈধ দেখতে পান, বোর্ডকে জানান। মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তার লোকজন পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান। আমি চেষ্টা করেছি কাগজপত্র ফিরিয়ে আনতে।” হরিপুর ইউএনও রায়হানুল ইসলাম বলেন, “উচ্ছৃঙ্খল আচরণের ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জামাল উদ্দিন দাবি করেছেন, ইউএনও নিয়োগ পরীক্ষার সময় পয়সা লেনদেন করেছেন, এবং এ বিষয়টি জানিয়ে তিনি সেখানে যান। তার দাবি, পরে কাগজপত্র অফিসে ফেরত রাখা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে চট্টগ্রামের সাতজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী। চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী মিজানুর রহমান মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন–কে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আরিফ উর রহমান চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫–এর ২৬ (১) ও ২৬ (২) ধারায় আনা অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত সাত সাংবাদিক হলেন—দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সবুর শুভ, চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ মার্চ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এলে বাদী সাংবাদিক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলা ও ভাঙচুর এবং নারী আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলে ধরেন। এ বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে হামলার অভিযোগ জানিয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত সাংবাদিকেরা ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার বলেন, গণমাধ্যমে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় সাংবাদিকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। নারী আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছনার বিষয়েও সাংবাদিকেরা অবগত নন। বরং গত ৪ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকের সময় সংঘবদ্ধভাবে কিছু ব্যক্তি পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় রিদুয়ান সিদ্দিকী ও তাঁর সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে শারীরিক হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অন্যদিকে মামলার বাদী রিদুয়ান সিদ্দিকী বলেন, তিনি কাউকে হুমকি দেননি। বরং অভিযুক্ত এক সাংবাদিক তাঁর বিরুদ্ধে ফেসবুকে নেতিবাচক পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি রিদুয়ান সিদ্দিকী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে ছাত্রদলে যোগ দেন। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করেন চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। এদিকে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন। তারা দ্রুত মামলাটি প্রত্যাহার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা, সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে আট জনের মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বাকি চার জনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল। ডা. সুকান্ত কুমার পাল বলেন, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে চারটি মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে এবং আহত কয়েকজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক শিশুসহ আট জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং তাদের মৃত অবস্থায় আনা হয়। বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ জানান, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে ছেড়ে এসেছিল। বেলাই ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চার জন নিহত হন। স্থানীয়রা মাইক্রোবাসে থাকা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন এবং মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। নিহতদের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। হতাহতদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।