ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এখনো যুদ্ধের লক্ষ্য, সময়সীমা ও পরিণতি নিয়ে স্পষ্টতা দেখা যাচ্ছে না। বরং বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যে একাধিকবার পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বার্তা সামনে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম এবিসি, রয়টার্স ও অ্যাক্সিওসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার অবস্থান বদল করেছে। কখনো যুদ্ধের সময়সীমা কয়েক সপ্তাহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কখনো বলা হয়েছে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে অথবা অনির্দিষ্টকাল চলতেও পারে।
রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৭৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসন ইরান অভিযানের লক্ষ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে এই মতের হার ৯২ শতাংশ। জরিপটি এক হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত হয়।
যুদ্ধের সময়কাল নিয়ে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বক্তব্যে বড় ধরনের অমিল দেখা গেছে। যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, সামরিক অভিযান প্রায় চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে এবং পরিকল্পনার চেয়ে দ্রুত এগোচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও জানান, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে কয়েকদিন পর ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চালাতে পারে অথবা দুই–তিন দিনের মধ্যেও শেষ করতে পারে। আবার সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভিন্ন সুরে বলেন, যুদ্ধ কেবল শুরু হয়েছে এবং লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
যুদ্ধ শুরুর কারণ নিয়েও প্রশাসনের বিভিন্ন বক্তব্যে পার্থক্য দেখা গেছে। কখনো বলা হয়েছে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করাই লক্ষ্য। আবার কখনো ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা তেহরানের দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্প এক পর্যায়ে ইরানের কাছ থেকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেন। তবে একই সময়ে তিনি ইরানি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প ইরানের জনগণকে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানান। কিন্তু পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এই যুদ্ধের লক্ষ্য ইরানের সরকার পরিবর্তন নয়। এরপর আবার ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া টিকতে পারবে না। এ ধরনের বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি তেলের বাজার, রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা এবং ইরানে স্কুলে হামলার ঘটনাসহ নানা বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কৌশল, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসনের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের জন্য অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস ভান হোলেন। তিনি বলেছেন, কংগ্রেসের উচিত নয় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এ অভিযানের জন্য নতুন অর্থ অনুমোদন করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ভান হোলেন লেখেন, “আমাদের নিরাপত্তা কমিয়ে দিচ্ছে এমন একটি অবৈধ ও ইচ্ছামতো শুরু করা যুদ্ধের জন্য আর এক ডলারও নয়।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, স্কুলশিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা, তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্য কমানো এবং করদাতাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় রোধ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এই যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করা। মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফেডারেল সরকারের ব্যয় বরাদ্দের ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস-এর হাতে। এর আওতায় পেন্টাগনের সামরিক বাজেটও নির্ধারিত হয়। তবে বর্তমানে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করা সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া এ সংঘাতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই রাজনৈতিক বিরোধিতা বাড়ছে। সূত্র: আল জাজিরা
প্রবাদ আছে, "কেউ যখন আপনাকে বারবার তার আসল রূপ দেখায়, তখন সেটিই বিশ্বাস করা উচিত।" গত ১৪ মাস ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ঠিক সেটিই করে দেখাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তাদের আদর্শকে লক্ষ্যবস্তু করা, ক্রমাগত সমালোচনা আর শুল্ক বা হুমকির মাধ্যমে পুরনো মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এখন হোয়াইট হাউসের নিয়মিত কৌশলে পরিণত হয়েছে। এতদিন ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের রোষ এড়াতে তোষামোদি বা আলোচনার মাধ্যমে তাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু ইরানের যুদ্ধ কি তবে সেই সমীকরণে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে? পরিবর্তনটি শুরু হয়েছে ধীরে ধীরে। প্রথমে স্পেন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তাদের ভূখণ্ডে থাকা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে সরাসরি অস্বীকার করে। ব্রিটেনও শুরুতে একই ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এসেছে বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি আর কড়া সমালোচনা। কিন্তু গত কয়েক দিনে চিত্রপট আরও বদলে গেছে। ফ্রান্স, পোল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস একে একে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এমনকি ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও এবার সুর পাল্টেছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইউক্রেন যখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লড়ছে, তখন রাশিয়ার ওপর থেকে তেলের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার মার্কিন সিদ্ধান্তে ইউরোপীয় দেশগুলো হতবাক। গত চার বছর ধরে যারা পুতিনের আগ্রাসন ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে, তাদের কাছে এটি এক প্রকার বিশ্বাসঘাতকতা। ইউরোপ অনুভব করছে যে, তারা এক অনির্ভরযোগ্য এবং তিক্ত সম্পর্কের মধ্যে আটকা পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপ হয়তো এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পুরোপুরি বিচ্ছেদ চাইছে না, কিন্তু সংকটের মুহূর্তে তারা এখন ওয়াশিংটনের পরিবর্তে নিজেদের ঐক্যের ওপরই বেশি ভরসা রাখতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের 'টাফ লাভ' বা কঠোর নীতি কি তবে শেষ পর্যন্ত ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দিল? সেই উত্তর হয়তো সময়ের কাছেই তোলা আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বৃহস্পতিবার জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। এ মন্তব্য তিনি এমন সময়ে করলেন যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত তীব্র হতে পারে, যা তেলের বাজারকে অস্থির করতে পারে।' রাইট মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আমাদের এখন মনোযোগ সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং সমস্যার সমাধানের দিকে বেশি।” এর আগে বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনী খাতামুল আম্বিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ক্রিস রাইট আরেকটি সাক্ষাত্কারে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজ পারাপারে পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারছে না, তবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ এটি সম্ভব হওয়ার “বেশ সম্ভাবনা” রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় এই জলপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ববাজারের তেল ও শেয়ারবাজারকে আরও অস্থির করতে পারে।