ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ইসরাইল লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিতসংবলিত একটি বিশাল ব্যানার টানানো হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে। ব্যানারটিতে ইরান আক্রান্ত হলে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান এবং ইরান–ইসরাইল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার তেহরানের প্যালেস্টাইন স্কয়ার এলাকায় ব্যানারটি প্রদর্শিত হয়। সেখানে একটি মানচিত্রে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলের একাধিক কৌশলগত স্থাপনা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখানো হয়েছে তেলআবিবের কাছে বেন-গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তেলআবিবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কিরিয়া সামরিক সদর দপ্তর, হার্জলিয়ার কাছে গ্লিলট এলাকায় সামরিক গোয়েন্দা স্থাপনা এবং আশপাশের আরও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
ব্যানারটির নকশায় একটি সামরিক কমান্ড ডেস্কের চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে লাল রঙের একটি ‘ফায়ার’ বোতাম, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, একটি যুদ্ধবিমান, রেডিও যন্ত্র এবং বিভিন্ন কৌশলগত নোট দৃশ্যমান। ব্যানারের শিরোনামে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে, “তোমরা শুরু করবে, শেষ করব আমরা।” তবে মানচিত্রে জেরুজালেমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা নিয়েও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এই ঘটনার পর ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। যদিও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে এবং অঞ্চলজুড়ে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনো আলোচনার অংশ হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানে প্রকাশ্যে এমন হুমকিমূলক ব্যানার প্রদর্শন কেবল প্রতীকী বার্তা নয়, বরং এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক সংকেত। এর মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জানিয়ে দিতে চাইছে যে, সরাসরি হামলা হলে পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক সমাধান না এলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা যে বাড়ছে, তা এই ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাই নতুন করে স্পষ্ট করে দিয়েছে।