নানা সাংগঠনিক সংকট ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
এরই মধ্যে শেষ হয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ। ফলে নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে সংগঠনটির ভেতরে আলোচনা ও প্রত্যাশা—দুটোই বেড়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। রোববার (৮ মার্চ) বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দ্রুতই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর থেকেই সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদেরই নতুন কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিকে ঘিরে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও সংগঠনের জন্য দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব আসা উচিত।
সভাপতি পদে আলোচনায় যারা
ছাত্রদলের সম্ভাব্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদকে ঘিরে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, জহির রায়হান আহমেদ, সহ-সভাপতি মঞ্জরুল আলম রিয়াদ, তৌহিদুর রহমান আউয়াল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এই নেতা একাধিকবার কারাবরণ করেছেন এবং হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। সংগঠনের ভেতরে তাকে পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা হিসেবেও অনেকেই বিবেচনা করেন।
তার বিষয়ে আবেগঘন এক মন্তব্যে তার বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক লিখেছেন, “কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত আমার কাছে এক জীবন্ত যোদ্ধার নাম। ছাত্রলীগের তাড়া খেয়ে একসময় আমার কক্ষে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাকে। পরে আবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাই। তার জীবনে অনেক ঝড় গেছে। রাজনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিশ্রমী হওয়ায় বাসিত সফলতা অর্জন করবে বলে আমার বিশ্বাস।”
অন্যদিকে সভাপতি পদপ্রত্যাশী কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সম্পর্কে ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাজপথের আন্দোলনে আমি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত ভাইয়ের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তার দৃঢ়তা, বিচক্ষণ নেতৃত্ব এবং সাহসিকতা তরুণ প্রজন্মের ছাত্ররাজনীতিতে এক অনুপ্রেরণার উৎস। বাসিত ভাই শুধু কার্যকর নেতা নন, তিনি একজন পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য নেতা।”
এ ছাড়া সভাপতি পদে খোরশেদ আলম সোহেলও আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা, নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং শিক্ষার্থী-বান্ধব নেতৃত্বের কারণে সংগঠনের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল বলেন, “কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংগঠনের গতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন কমিটি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। যাকে যেখানে দায়িত্ব দেবেন, আমরা সেখানে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করব।”
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদেও কয়েকজন নেতার নাম সামনে এসেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামিম আক্তার শুভ।
তবে সংগঠন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে রয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।
এক ছাত্রনেতা বলেন, “আমান ভাই সংগঠনের মধ্যে সক্রিয় ও দক্ষ নেতৃত্বের জন্য পরিচিত। ছাত্রলীগের সময় তিনি একাধিকবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। আমরা আশা করি দল তার ত্যাগ ও নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করবে।”
উল্লেখ্য, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান কমিটি ২০২৪ সালের ১ মার্চ গঠিত হয়েছিল। তখন রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে এটি ছিল সাত সদস্যের আংশিক কমিটি, পরে ১৫ জুন ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত ১ মার্চ দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবস্থাপনা শেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ আট কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালকও রয়েছেন। তবে এই সফর ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অগ্রগতি ও সফরের খরচের উৎস নিয়ে। সরকারি নথি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের এই সফরের অফিসিয়াল নাম দেওয়া হয়েছে ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’। তিন দফা সময় পরিবর্তনের পর অবশেষে আগামী ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যে প্রকল্পের অর্থে এই সফর, তার বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আটটি বিভাগীয় শহরে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শুরু হয়। প্রথমে প্রকল্প ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, পরে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা করা হয়। তবুও প্রকল্পটির অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে- যে এইচভিএসি সিস্টেম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, সেই কাজ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। নথিপত্রে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ কর্মকর্তাদের সফরের যাবতীয় খরচ বহন করবে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে চিলার ও এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহ করে থাকে এবং বাংলাদেশেও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদের সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর করলে স্বার্থসংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে। এতে সরবরাহ করা প্রযুক্তির মান যাচাই বা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেসব কর্মকর্তা সফরে যাচ্ছেন তারা হলেন- গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি। এদের মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানা গেছে। এমনকি নির্মাণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণেও তাদের সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ সীমিত। এ বিষয়টিও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, নির্মাণকাজ শেষে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করতেই কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এইচভিএসি সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উন্নত দেশের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি। তথ্য সূত্র: কালবেলা
বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। চিঠির একটি অনুলিপি গণমাধ্যমের কাছেও এসেছে। চিঠিতে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ তৈরিতে তার অভিজ্ঞতা ও পেশাগত নেটওয়ার্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে ভূমিকা রাখতে পেরেছেন মাহমুদুল হাসান। বিরোধীদলীয় নেতা তার এই প্রস্তাবকে ‘নতুন ও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দিলে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতিগত ভাবনা সরকারকে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা সহজ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষাতেও তা সহায়ক হতে পারে। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের পররাষ্ট্রনীতি আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য এ পদায়নের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে জ্বালানি তেলে যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, পেট্রল পাম্পে যা দেখা দিয়েছে তা কোনো সত্যিকারের সংকট নয়। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। তিনি জানান, অনেকেই পেট্রল মজুত করার চেষ্টা করছেন, তাই যদি কোথাও তেলের অস্বাভাবিক সংকট দেখা দেয়, তা নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেশের সব গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এটাই সরকারের প্রত্যাশা, তবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে। সভায় প্রতিমন্ত্রী ময়মনসিংহের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ ও যানজট নিরসনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, শহরের যানজটের মূল কারণ রাস্তার সংকট নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সভায় জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রীরা, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।