বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। চিঠির একটি অনুলিপি গণমাধ্যমের কাছেও এসেছে।
চিঠিতে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ তৈরিতে তার অভিজ্ঞতা ও পেশাগত নেটওয়ার্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে ভূমিকা রাখতে পেরেছেন মাহমুদুল হাসান।
বিরোধীদলীয় নেতা তার এই প্রস্তাবকে ‘নতুন ও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দিলে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতিগত ভাবনা সরকারকে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা সহজ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষাতেও তা সহায়ক হতে পারে।
চিঠিতে তিনি আরও বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের পররাষ্ট্রনীতি আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য এ পদায়নের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা–১৭-এ নারীদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর মহাখালীর টিএন্ডটি মাঠে কড়াইল এলাকার নারীপ্রধান পরিবারের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কড়াইল এলাকার নিম্ন আয়ের নারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড তুলে দেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই নারীপ্রধান পরিবারগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়াতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা ছিল। বিএনপির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে রাজধানীর কড়াইল ছাড়াও সাততলা, ভাষানটেক এবং মিরপুরের কয়েকটি এলাকায় এ কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এতে মূলত নিম্ন আয়ের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন নারী জানান, কার্ড পাওয়ার জন্য তাদের নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পরিবারের সদস্যসংখ্যাসহ বিভিন্ন তথ্য জমা দিতে হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য পরিবারগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সময় মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে চূড়ান্তভাবে এ সুবিধার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সারা দেশে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
নেপালে শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে নেপালের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছাবার্তায় বলেন, “সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সংসদীয় নির্বাচন আয়োজন করায় আমি নেপাল সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানাই। এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অনুশীলন নেপালের জনগণের দৃঢ়তা ও দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তির প্রতিফলন।” এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়, যেখানে প্রায় ৩৮ শতাংশ এমপির বয়স ৪০ বছরের নিচে। বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নেপালের নতুন সরকার ও জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।”
সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীর মায়ের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। মায়ের অনুপস্থিতিতে বাবা বা বৈধ অভিভাবক সুবিধাটি পাবেন। সোমবার (৯ মার্চ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী উপবৃত্তির আওতায় আসবে। একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষার্থী এ সুবিধা পাবে। উপবৃত্তি দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কিনতে পারবে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসে ৭৫ টাকা, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী ১৫০ টাকা এবং দুইজন হলে ৩০০ টাকা পাবেন। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসে ২০০ টাকা পাবেন; একই পরিবারের দুইজন থাকলে ৪০০ টাকা বরাদ্দ থাকবে। উপবৃত্তি পেতে শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে মাসে ৮০ শতাংশ উপস্থিত থাকতে হবে। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ। টানা তিন মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে উপবৃত্তি সাময়িকভাবে বন্ধ হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পুরো বিতরণ কার্যক্রম ডিজিটালভাবে তদারকি করবে। অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু থাকবে, যা রিয়েল টাইমে উপবৃত্তি বিতরণের তথ্য পর্যবেক্ষণ করবে। কোনো আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।