দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় নতুন ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ফুটেজটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে এবং হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দিকে আঙুল তুলছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে মিনাবের 'শাজারেহ তাইয়েবাহ' বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হামলায় ১৬৫ থেকে ১৮০ জন নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী। হামলার সময় স্কুলটি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পর পর তিনটি মিসাইল (ট্রিপল ট্যাপ) স্কুল ভবন ও তার আশপাশে আঘাত হানে, যার ফলে দুই তলা ভবনটি মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
সিএনএন এবং তদন্তকারী সংস্থা ‘বেলিংক্যাট’-এর হাতে আসা নতুন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একটি মিসাইল স্কুলের ঠিক পাশেই অবস্থিত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একটি নৌ ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, মিসাইলটির গঠন এবং গতিপথ মার্কিন ‘টমাহক ক্রুজ মিসাইল’-এর (Tomahawk Land Attack Missile) সাথে হুবহু মিলে যায়। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধক্ষেত্রে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই এই নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্র রয়েছে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও ভিডিওতে সরাসরি স্কুলে আঘাতের মুহূর্ত দেখা যায়নি, তবে একই সময়ে সংলগ্ন ঘাঁটিতে মার্কিন টমাহক মিসাইলের আঘাত প্রমাণ করে যে স্কুলটি ওই একই হামলার অংশ ছিল।
রাজনীতি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ:
গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান নিজেই এই হামলার জন্য দায়ী। তিনি একে ইরানের 'ভুল লক্ষ্যভেদ' বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে সিএনএন-এর সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র, ভূ-অবস্থান (geolocation) এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে ভিন্ন কথা।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এই ভিডিওটি প্রকাশ করে মার্কিন দাবিকে 'মিথ্যাচার' বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের জাতিসংঘ দূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১,৩০০-এর বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে মিনাব স্কুলের ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে মর্মান্তিক।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জানিনা ডিল বলেন, "এমনকি যদি ভুলবশত স্কুলটিকে সামরিক স্থাপনা ভেবে হামলা করা হয়ে থাকে, তবুও এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের একটি গুরুতর লঙ্ঘন। হামলাকারীর দায়িত্ব ছিল লক্ষ্যবস্তু যাচাই করা।"
ইউনেস্কো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। মিনাব শহরে নিহত শিশুদের গণকবর দেওয়া হয়েছে, যেখানে শত শত শোকার্ত মানুষ বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) জানিয়েছে তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে, তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। সূত্র: সিএনএন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে বড় স্বস্তি মিলেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের তেল ও এলএনজি বাহী জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে ইরান। বিশ্ববাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-করিডরে নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে সোমবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদীর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে জাহাজের আগাম তথ্য সরবরাহ করলে ইরান সেগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে। বর্তমানে দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন, যার বিপরীতে ৯ হাজার টন সরবরাহ করা হচ্ছে। এই সংকট কাটাতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে এবং চলতি সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে ১ লাখ ২০ হাজার ২০৫ টন ডিজেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মজুত নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট ও কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় নতুন ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ফুটেজটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে এবং হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দিকে আঙুল তুলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে মিনাবের 'শাজারেহ তাইয়েবাহ' বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হামলায় ১৬৫ থেকে ১৮০ জন নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী। হামলার সময় স্কুলটি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পর পর তিনটি মিসাইল (ট্রিপল ট্যাপ) স্কুল ভবন ও তার আশপাশে আঘাত হানে, যার ফলে দুই তলা ভবনটি মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সিএনএন এবং তদন্তকারী সংস্থা ‘বেলিংক্যাট’-এর হাতে আসা নতুন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একটি মিসাইল স্কুলের ঠিক পাশেই অবস্থিত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একটি নৌ ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, মিসাইলটির গঠন এবং গতিপথ মার্কিন ‘টমাহক ক্রুজ মিসাইল’-এর (Tomahawk Land Attack Missile) সাথে হুবহু মিলে যায়। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধক্ষেত্রে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই এই নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্র রয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও ভিডিওতে সরাসরি স্কুলে আঘাতের মুহূর্ত দেখা যায়নি, তবে একই সময়ে সংলগ্ন ঘাঁটিতে মার্কিন টমাহক মিসাইলের আঘাত প্রমাণ করে যে স্কুলটি ওই একই হামলার অংশ ছিল। রাজনীতি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান নিজেই এই হামলার জন্য দায়ী। তিনি একে ইরানের 'ভুল লক্ষ্যভেদ' বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে সিএনএন-এর সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র, ভূ-অবস্থান (geolocation) এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে ভিন্ন কথা। এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এই ভিডিওটি প্রকাশ করে মার্কিন দাবিকে 'মিথ্যাচার' বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের জাতিসংঘ দূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১,৩০০-এর বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে মিনাব স্কুলের ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে মর্মান্তিক। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জানিনা ডিল বলেন, "এমনকি যদি ভুলবশত স্কুলটিকে সামরিক স্থাপনা ভেবে হামলা করা হয়ে থাকে, তবুও এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের একটি গুরুতর লঙ্ঘন। হামলাকারীর দায়িত্ব ছিল লক্ষ্যবস্তু যাচাই করা।" ইউনেস্কো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। মিনাব শহরে নিহত শিশুদের গণকবর দেওয়া হয়েছে, যেখানে শত শত শোকার্ত মানুষ বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) জানিয়েছে তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে, তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। সূত্র: সিএনএন।
ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাব শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ইউরোপেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। সোমবার সকালে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা এখন একটি আঞ্চলিক সংঘাতের মুখোমুখি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল তৈরি করছে। ইউরোপের নাগরিকেরা দুই পক্ষের লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভন ডার লিয়েন আরও বলেন, ইরানের জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে রাখার অধিকার রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও সতর্ক করেছিলেন, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, এর অর্থনৈতিক প্রভাব তত গভীর হবে। ইউরোপীয় নেতারা বর্তমানে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।