সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবস্থাপনা শেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ আট কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালকও রয়েছেন। তবে এই সফর ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অগ্রগতি ও সফরের খরচের উৎস নিয়ে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের এই সফরের অফিসিয়াল নাম দেওয়া হয়েছে ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’। তিন দফা সময় পরিবর্তনের পর অবশেষে আগামী ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে যে প্রকল্পের অর্থে এই সফর, তার বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আটটি বিভাগীয় শহরে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শুরু হয়। প্রথমে প্রকল্প ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, পরে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা করা হয়। তবুও প্রকল্পটির অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে- যে এইচভিএসি সিস্টেম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, সেই কাজ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
নথিপত্রে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ কর্মকর্তাদের সফরের যাবতীয় খরচ বহন করবে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে চিলার ও এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহ করে থাকে এবং বাংলাদেশেও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদের সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর করলে স্বার্থসংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে। এতে সরবরাহ করা প্রযুক্তির মান যাচাই বা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যেসব কর্মকর্তা সফরে যাচ্ছেন তারা হলেন- গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি।
এদের মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানা গেছে। এমনকি নির্মাণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণেও তাদের সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ সীমিত। এ বিষয়টিও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, নির্মাণকাজ শেষে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করতেই কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এইচভিএসি সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।
অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উন্নত দেশের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
তথ্য সূত্র: কালবেলা
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের ১১ তলাবিশিষ্ট ‘এলএ প্লাজা’য় গতকাল সোমবার দুপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুই সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা এবং শেখ রাকিবুজ্জামান। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভবনের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। জীবন বাঁচাতে অনেকেই ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। উদ্ধার অভিযানে অত্যাধুনিক টার্ন টেবিল ল্যাডার (টিটিএল) ব্যবহার করে ছাদ ও বিভিন্ন তলা থেকে ২৪ জনকে (১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী) নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়। অভিযান চলাকালীন ভবনের চার ও পাঁচতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে আয়েশা ও রাকিবুজ্জামানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মিরপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ওই মার্কেটে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যার বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে। তার বাবা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। অন্যদিকে শেখ রাকিবুজ্জামানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায়। বর্তমানে তাদের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে তা স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিমানবাহিনী ও নিহতদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে এখনও স্পষ্ট। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবে চালকরা জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন স্টেশনে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে মোটরসাইকেল চালক আমজাদ হোসেন বলেন, সকালে দেরি না করতে এসে দেখেছেন, তাতেও দীর্ঘ লাইন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তেল নিতে পারবেন। প্রাইভেটকার চালক ইদ্রিস মিয়া জানান, সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়ায় দৈনন্দিন চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না। বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার এবং এসইউভি বা মাইক্রোবাসে ২০–২৫ লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে অনেক চালক এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। মোটরসাইকেল চালক রবিউল হুসাইন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টা পর তেল পেরেছেন। তিনি জানান, সোনার বাংলা স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকা মূল্যের তেল বিতরণ করা হয়েছে, যা দুই দিনের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত। ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাছে তেল থাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। তারা বলেন, বিপিসি থেকে চাহিদার তুলনায় তেল সরবরাহ কমানো হয়েছে, কিন্তু চাহিদা এখনও বেশি। আগের তুলনায় লাইনের দৈর্ঘ্য কিছুটা কমেছে এবং আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
সৌদি আরবের আল-খারজ গভর্নরেটে এক বিমান হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীর বাচ্চু মিয়া ও টাঙ্গাইল জেলার সখীপুরের মোশাররফ হোসেন। আহত বাংলাদেশিরা বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। সরকার সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরীহ মানুষের প্রাণহানি রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।