ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে অনেকে মার্কিন সেনা অনিচ্ছুক হয়ে উঠেছেন। বিশেষত ইরানের মিনার শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সেনাদের মধ্যে এই বিরোধিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার অন কনশিয়েনস অ্যান্ড ওয়ার’ জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ এড়াতে আবেদনকারী সেনাদের ফোনে ক্রমাগত যোগাযোগ পাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মাইক প্রাইজনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, সেনারা নিজেরা ‘কনশিয়েনশাস অবজেক্টর’ হিসেবে আবেদন করতে চাইছেন এবং সহকর্মীদেরও সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিচ্ছেন। হামলার ঘটনায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই স্কুলছাত্রী। মিডলইস্ট আই, নিউইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্স রিপোর্ট অনুযায়ী, এই স্কুলে দুইবারের ‘ডাবল ট্যাপ স্ট্রাইক’ হামলা চালানো হয়।
চরম উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর ও বৃহত্তর সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। ইতিমধ্যেই ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের একটি প্রশিক্ষণ মহড়া বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের সম্ভাবনা পুরোপুরি অস্বীকার করেননি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে অনেকে মার্কিন সেনা অনিচ্ছুক হয়ে উঠেছেন। বিশেষত ইরানের মিনার শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সেনাদের মধ্যে এই বিরোধিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার অন কনশিয়েনস অ্যান্ড ওয়ার’ জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ এড়াতে আবেদনকারী সেনাদের ফোনে ক্রমাগত যোগাযোগ পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মাইক প্রাইজনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, সেনারা নিজেরা ‘কনশিয়েনশাস অবজেক্টর’ হিসেবে আবেদন করতে চাইছেন এবং সহকর্মীদেরও সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিচ্ছেন। হামলার ঘটনায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই স্কুলছাত্রী। মিডলইস্ট আই, নিউইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্স রিপোর্ট অনুযায়ী, এই স্কুলে দুইবারের ‘ডাবল ট্যাপ স্ট্রাইক’ হামলা চালানো হয়। চরম উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর ও বৃহত্তর সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। ইতিমধ্যেই ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের একটি প্রশিক্ষণ মহড়া বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের সম্ভাবনা পুরোপুরি অস্বীকার করেননি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার একটি পরিকল্পনা রয়েছে এবং এতে তেলের দাম কমে আসতে পারে বলে আশা করছেন। দক্ষিণ ফ্লোরিডার ডোরাল এলাকায় নিজের গলফ ক্লাবের বলরুমে তিন দিনের সম্মেলনে হাউস রিপাবলিকানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, তার সবকিছুর জন্য একটি পরিকল্পনা রয়েছে এবং তিনি আশা করেন এতে আমেরিকানরা সন্তুষ্ট হবে ও তেলের দাম কমে যাবে। সোমবার এক সংক্ষিপ্ত ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা বা যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে পারে এবং তিনি বিষয়টি নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ঘোষণা করেছিলেন। তবে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাঙ্কারের চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, যদি এমন কিছু ঘটে যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত যতটা আঘাত করেছে তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি আঘাত হানবে। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সহজেই ধ্বংসযোগ্য বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম, যা ইরানের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না। তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানকে চীনসহ অন্যান্য দেশ উপকার হিসেবেই দেখবে, কারণ এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বজায় থাকবে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণাই বদলে দিল জ্বালানি তেলের বাজারচিত্র। 'ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে'— ট্রাম্পের এমন ইতিবাচক বার্তার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তেলের দাম কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই নিম্নমুখী তেলের বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮.৫ শতাংশ কমে ৯২.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই-এর দাম ৯ শতাংশ কমে বিক্রি হচ্ছে ৮৮.৬০ ডলারে। উল্লেখ্য, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা এবং হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা সংকটের কারণে গত কয়েকদিন ধরেই তেলের দাম ছিল আকাশচুম্বী। গত রোববার তেলের দাম বিগত চার বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। সেদিন ব্রেন্ট ক্রুড ১০৮.৬৮ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ১০৮ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। তবে সোমবার ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প যুদ্ধ থামার আভাস দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম কিছুটা কমলেও সাধারণ সময়ের তুলনায় তেলের বাজার এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চড়া। তবে যুদ্ধের উত্তাপ কমলে সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানি তেলের বাড়তি চাপের বোঝা অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।