এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। বৃহস্পতিবার দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আজ ৩০ রোজা পূর্ণ করে হিজরি ১৪৪৭ সনের এই ঈদ আনন্দ উৎসবে মেতেছে দেশবাসী। যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালিত হচ্ছে। রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন। প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত সরিয়ে নেওয়া হবে। জাতীয় ঈদগাহে নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ নারীসহ ৩৫ হাজার মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন। এদিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাত (সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায়) অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে দেশের অন্যতম বৃহৎ ১৯৯তম ঈদ জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে কঠোর নজরদারিতে থাকবে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি চলছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে এবং হাসপাতাল ও এতিমখানাগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে উন্নত মানের খাবার। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিশু পার্ক ও জাদুঘরে বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এই উৎসবের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে আনন্দ, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। রমজান মাস আমাদের আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও অন্যের কষ্ট অনুভব করার যে শিক্ষা দেয়, তা ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত করাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। তিনি ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমান আরও বলেন, ঈদের এই আনন্দের দিনে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার। তিনি ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। মোদির পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, “ঈদ মোবারক। ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আপনাকে এবং বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” প্রধানমন্ত্রী মোদি রমজান মাসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এক মাস ধরে ভারতসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা রোজা ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে পবিত্র রমজান পালন করেছেন।” তিনি ঈদকে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা এবং একসঙ্গে থাকার চিরন্তন মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। মোদির আশীর্বাদ, “আমরা সারা বিশ্বের মানুষের জন্য শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করি। আমাদের দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও শক্তিশালী হোক।” ৩০ দিন রোজা রাখার পর আগামী শনিবার বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে।
রাষ্ট্রীয় আভিজাত্য নয়, বরং গুলশানের চেনা স্মৃতিঘেরা ঘরকেই বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংস্কার কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় তিনি উঠছেন না বলে নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতেই স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তার নিজের ছোট এই বাসাটিতে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি সপরিবারে এখানে বসবাস করছেন এবং সেই অনুযায়ী বাড়িটি গোছানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই বাড়িটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন সরকার খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দিয়েছিল। গত বছর আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাড়িটির দলিল তার হাতে হস্তান্তর করা হয়। যমুনার ভূমিকা এখন কেবলই রাষ্ট্রীয়: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘ দেড় বছর যমুনায় অবস্থানের পর সম্প্রতি সেটি ছেড়ে দেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা হলেও তারেক রহমান সেখানে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে যমুনা ভবনটি কেবল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হবে। ইতিমধ্যে সেখানে দুটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পবিত্র ঈদের দিন কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানও সেখানেই আয়োজিত হবে। অতীতের ঐতিহ্য অনুযায়ী বিচারপতি হাবিবুর রহমান, লতিফুর রহমান এবং ফখরুদ্দীন আহমেদের মতো রাষ্ট্রপ্রধানরা যমুনায় অবস্থান করলেও, তারেক রহমান সেই প্রথা ভেঙে নিজস্ব বাসভবনেই থাকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
রাজধানীর বাংলা কলেজ এলাকায় ভাসমান চা–বিক্রেতা ছয় বছর বয়সী শিশু ফাতেমা ও তার নানির পাশে ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের মাধ্যমে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় তালতলা এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো বিশেষ ঈদ উপহার। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ফাতেমার খবর নজরে আসার পরই তিনি এই শুভেচ্ছার হাত বাড়িয়ে দেন। উপহারে শিশু ফাতেমার জন্য ছিল নতুন জামা, জুতা ও প্রসাধন সামগ্রী। তার নানির জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে শাড়ি ও প্রয়োজনীয় উপহার সামগ্রী। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছাও জানিয়েছে। সম্প্রতি বাংলা কলেজের সামনে নানির চা দোকানে সাহায্য করতে গিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় আহত হয়েছিল ফাতেমা। তাকে একজন পুলিশ সার্জেন্ট উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এই মানবিক ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উপহার হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও ফরহাদ আলী সজীব। তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর যে অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর, তারই অংশ হিসেবে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হলো।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সরকার সর্বাত্মকভাবে দিন-রাত কাজ করবে। তিনি দাবি করেন, গত ১৬ বছরে দেশে উন্নয়ন হয়নি এবং দেশের উন্নয়নের জন্য তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়নের সুফল পেতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বানও জানান তিনি। সোমবার দিনাজপুর সার্কিট হাউজ মাঠে এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নানাবাড়ির স্মৃতির কথা উল্লেখ করে দিনাজপুর এলাকার উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, শিগগিরই দেশের শিল্প কারখানার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে সারা দেশে শিল্প কারখানা স্থাপন করে কীভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে দিনাজপুরে শিল্প কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, সরকারের মেয়াদ এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতা প্রদান এবং খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আগামী মাসে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দিনাজপুরসহ সারা দেশের পানির সমস্যা সমাধান হবে এবং কৃষি জমিতে সেচের জন্য পানির সংকট কমবে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ওপরে উঠলে আর্সেনিক সমস্যাও কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল হালিম, দিনাজপুর চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, জেলা জমিয়তে ইসলামীর সভাপতি মতিউর রহমান কাশেমী এবং জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম।
বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সদ্য নিয়োগ পাওয়া পাঁচজন পূর্ণকালীন প্রশাসক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে সংসদ ভবনে সরকারপ্রধানের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। নবনিযুক্ত প্রশাসকরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তাদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এর আগে এদিনই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই পাঁচ সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেয় সরকার। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বরিশাল সিটিতে বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, রাজশাহী সিটিতে মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহ সিটিতে রুকুনোজ্জামান রোকন, রংপুর সিটিতে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং কুমিল্লা সিটিতে মো. ইউসুফ মোল্লাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগ পাওয়া সবাই বিএনপির প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা। এর মধ্যে বিলকিস আক্তার জাহান বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মাহফুজুর রহমান রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ আরও ছয়টি সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ১৯ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার মেয়রদের অপসারণের পর প্রথমবারের মতো এসব সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক দলীয় নেতাদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে বসানো হলো।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম শুক্রবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত।' এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম জানান, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার জন্য মামলা দায়েরের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে আদালত ওই মামলা গ্রহণ করেনি। তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের চেষ্টা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়; বরং এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত আক্রমণ। নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশের তরুণ প্রজন্মের সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদাতা ছাত্রদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা চেষ্টা প্রমাণ করে যে, ৫ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, মামলা বা ভয়ভীতি দিয়ে এ নেতৃত্বকে দমন করা সম্ভব নয়। অতীতে এ ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে। নাহিদ ইসলাম সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান, এই ধরনের অপচেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকালে মির্জা আব্বাসের সিটিস্ক্যান করা হলে রিপোর্টে শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করা যায়। এর প্রেক্ষিতে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে প্রখ্যাত নিউরো বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও ইতোমধ্যে অস্ত্রোপচারের সম্মতি নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার ও অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা এই মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন। এদিকে, জুম্মার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাকে শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত অবহিত করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে দ্রুত বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এমপিকে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হবে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে, মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। এর আগে, বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় হঠাৎ জ্ঞান হারানোর পর তার অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন। তিনি মহান রবের কাছে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। হাসপাতাল পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানা শাখার সভাপতি ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন, যাতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে আজ। স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখে বৃহস্পতিবার ( ) বেলা ১১টার দিকে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বক্তব্য দেন। সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। তবে এবার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কেউ উপস্থিত না থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই অধিবেশন শুরু করা হয়। পরে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য তারেক রহমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে আহ্বান জানান। সংসদের প্রথম বৈঠকের পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন।
নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করল বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটনে চাপ দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চের দুই পাশের বড় ডিজিটাল পর্দায় ভেসে ওঠে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতীকী ছবি। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে পৌঁছে যায় নির্ধারিত ভাতার অর্থ। মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নারীপ্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আজ তার বাস্তবায়ন শুরু হলো। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল সরকার গড়তে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার মর্যাদা দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পরে মঞ্চে উপস্থিত ১৭ জন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। এতে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন কার্ডপ্রাপ্ত নারী মঞ্চে উঠে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। জরিনা বেগম নামে একজন নারী বলেন, জীবনে কখনও ভাবেননি এমন একটি কার্ড হাতে পাবেন। এই অর্থ তার পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হওয়াকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রথম ধাপে ঢাকাসহ দেশের ১৪টি স্থানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর আওতায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ইতোমধ্যে ভাতার অর্থ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। আগামী মাসের মধ্যে কৃষকদের হাতেও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অংশ হিসেবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ইতোমধ্যে সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী না করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
নেপালে শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে নেপালের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছাবার্তায় বলেন, “সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সংসদীয় নির্বাচন আয়োজন করায় আমি নেপাল সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানাই। এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অনুশীলন নেপালের জনগণের দৃঢ়তা ও দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তির প্রতিফলন।” এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়, যেখানে প্রায় ৩৮ শতাংশ এমপির বয়স ৪০ বছরের নিচে। বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নেপালের নতুন সরকার ও জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।”
আগামীকাল থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাজধানীর কড়াইল এলাকায় নারীদের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার নির্বাচিত স্থানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার বনানী অঞ্চলের কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি ও ভাষানটেক বস্তি এ তালিকায় রয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার মিরপুরের অলিমিয়ারটেক ও বাগানবাড়ী বস্তিতেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নেও এই কার্যক্রম চলবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সদর পৌরসভায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নেও এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। খুলনা বিভাগের খালিশপুর থানার খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকাও এ তালিকায় রয়েছে। বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার আসলামপুর ইউনিয়ন, সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার কুলঞ্জ ইউনিয়ন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার শিমুলকান্দি ইউনিয়নেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার বগুড়া সদর থানার শাখারিয়া ইউনিয়ন, নাটোর জেলার লালপুর থানার ঈশ্বরদী ইউনিয়ন, রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও সদর থানার রহমানপুর ইউনিয়ন এবং দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার জয়পুর ইউনিয়নেও এ কার্যক্রম চালু করা হবে।
আগামী ১৪ মার্চ সারা দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক ভাতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্মমন্ত্রীর দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করার লক্ষ্যে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই অঙ্গীকারগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম শুরু হবে। এতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মোট ৯৯০টি মন্দির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া দেশের ৭২টি উপজেলায় অবস্থিত বৌদ্ধ বিহার থেকে দুটি করে মোট ১৪৪টি বিহার এবং ১৯৮টি উপজেলায় থাকা গির্জা থেকে দুটি করে মোট ৩৯৬টি গির্জাও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের ইমাম মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। অর্থাৎ প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসে মোট ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে। অন্যদিকে মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েত পাবেন ৩ হাজার টাকা। একইভাবে বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা। গির্জার যাজক পাবেন ৫ হাজার এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা। ফলে প্রতিটি মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধ বিহারের জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংশ্লিষ্টদের ১ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। আর দুর্গাপূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, যাজক ও সহকারী যাজকদের জন্য ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা বরাদ্দ থাকবে। তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচিত উপকারভোগীদের সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবেই এই অর্থ পাঠানো হবে। ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, কোনোভাবেই হাতে হাতে টাকা দেওয়া হবে না। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমেই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে দুর্নীতির সুযোগ না থাকে।
আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিম শিশুদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার মাহফিলে এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের পাশাপাশি ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সমাজকল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক ও আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমেদুল্লাহসহ অনেকে মাহফিলে অংশ নেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ছালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনও ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সব স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা লক্ষ্য যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করতে পারবে। শনিবার (৮ মার্চ) ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয় যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী এবং তাদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া ঘরে ও বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল পাওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে ‘নারী বিষয়ক দফতর’ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে এটি ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তরিত হয়। তারেক রহমান বলেন, নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন, যা ছিল নারীর ক্ষমতায়নে একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মেয়েদের জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাইবার বুলিং এবং অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাণীতে তিনি বলেন, সমাজে সমতা হোক অঙ্গীকার, মর্যাদা হোক বাস্তবতা এবং ক্ষমতায়ন হোক উন্নয়নের ভিত্তি। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতাও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় এক অনন্য এবং ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে তিনি নিজের দপ্তরে ৫০ শতাংশ বৈদ্যুতিক বাতি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ২০১ নম্বর কক্ষসহ তাঁর কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, কৃত্রিম আলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিনের বেলা জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা গেছে। সেখানে অর্ধেক লাইট ও এসি ব্যবহার করেই যাবতীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বৈঠক শেষে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের দপ্তরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শপিংমল ও বাণিজ্যিক ভবনসহ সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ বাসস্থানেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় স্বার্থে অপচয় রোধে এই সময়োপযোগী উদ্যোগ সারাদেশে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আসন্ন পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১৪ এপ্রিল এই কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়ন তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি সচিব পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস সচিব বলেন, ‘কৃষক কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি দেশের কৃষকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।’ এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ধাপে ধাপে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাবেন। এই কর্মসূচির আওতায় কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং কৃষি বীমার সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া, বাজারদর ও ফসলের রোগবালাই বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শও পাওয়া যাবে। কর্মসূচির আওতায় শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকই নয়, মৎস্যচাষী ও প্রাণিসম্পদ খামারিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সারা দেশের কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর প্রাক-পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের আট বিভাগের নয়টি নির্বাচিত উপজেলার নয়টি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ। মাঠ পর্যায়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা গড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন। এছাড়া খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় শেষে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
আমজনতার দলের মহাসচিব তারেক রহমানের বাবা আব্দুল লতিফ আর নেই। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তারেক রহমান নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বাবার মৃত্যুর খবর জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ইফতারের আগ মুহূর্তে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। তিনি লেখেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে ‘ইসলামের দুশমনরা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’—এমন মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ ছাত্রদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘হিফযুল কোরআন ও কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা-২০২৬ সিজন ২’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, যাতে তিনি ভালো কাজ করতে না পারেন। এ সময় উপস্থিতদের উদ্দেশে তিনি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে তারেক রহমানের হেফাজতের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর অবদান স্মরণ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি আরও বলেন, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ধর্মমন্ত্রী দাবি করেন, খালেদা জিয়া আলেম সমাজকে মূল্যায়ন করেছেন। ২০০৯ সালে রমজান মাসে দেশের বিশিষ্ট আলেমদের কাছে জায়নামাজ, খেজুর ও আতর পাঠানো হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক। তিনি কোরআনের সহিহ ও তাজবিদসহ শুদ্ধ তিলাওয়াতের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এমন প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন প্রশংসনীয়। সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার কারণে এমন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সুযোগ পেয়ে সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি চালু করার চেষ্টা করছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমসহ সংগঠনের নেতারা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস