পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি চালু করা সম্ভব হয়েছে। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং জাতীয়তাবাদী দল কথা দিয়ে কথা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা। শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দেশের প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার মানুষ সমানভাবে সরকারি সুবিধা পাবেন। যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সবার জন্যই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচির সুবিধা থাকবে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো দল-মত বিবেচনা করা হবে না বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদও জাতীয়তাবাদী দল সরকারের হাত ধরে বাস্তবায়িত হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, নদ-নদী ও খাল-বিল বাংলাদেশের প্রাণ এবং কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে এসব খাল ও নদী নিয়মিত খনন করা প্রয়োজন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেস আলী ইসা, আব্দুল্লাহ আবু জাহের, সাদরুল আলম ও আইয়ুব মোল্লাসহ অনেকে।
নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করল বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটনে চাপ দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চের দুই পাশের বড় ডিজিটাল পর্দায় ভেসে ওঠে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতীকী ছবি। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে পৌঁছে যায় নির্ধারিত ভাতার অর্থ। মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নারীপ্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আজ তার বাস্তবায়ন শুরু হলো। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল সরকার গড়তে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার মর্যাদা দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পরে মঞ্চে উপস্থিত ১৭ জন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। এতে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন কার্ডপ্রাপ্ত নারী মঞ্চে উঠে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। জরিনা বেগম নামে একজন নারী বলেন, জীবনে কখনও ভাবেননি এমন একটি কার্ড হাতে পাবেন। এই অর্থ তার পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হওয়াকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রথম ধাপে ঢাকাসহ দেশের ১৪টি স্থানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর আওতায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ইতোমধ্যে ভাতার অর্থ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। আগামী মাসের মধ্যে কৃষকদের হাতেও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অংশ হিসেবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ইতোমধ্যে সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী না করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা–১৭-এ নারীদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর মহাখালীর টিএন্ডটি মাঠে কড়াইল এলাকার নারীপ্রধান পরিবারের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কড়াইল এলাকার নিম্ন আয়ের নারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড তুলে দেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই নারীপ্রধান পরিবারগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়াতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা ছিল। বিএনপির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে রাজধানীর কড়াইল ছাড়াও সাততলা, ভাষানটেক এবং মিরপুরের কয়েকটি এলাকায় এ কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এতে মূলত নিম্ন আয়ের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন নারী জানান, কার্ড পাওয়ার জন্য তাদের নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পরিবারের সদস্যসংখ্যাসহ বিভিন্ন তথ্য জমা দিতে হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য পরিবারগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সময় মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে চূড়ান্তভাবে এ সুবিধার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সারা দেশে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
আগামীকাল থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাজধানীর কড়াইল এলাকায় নারীদের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার নির্বাচিত স্থানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার বনানী অঞ্চলের কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি ও ভাষানটেক বস্তি এ তালিকায় রয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার মিরপুরের অলিমিয়ারটেক ও বাগানবাড়ী বস্তিতেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নেও এই কার্যক্রম চলবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সদর পৌরসভায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নেও এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। খুলনা বিভাগের খালিশপুর থানার খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকাও এ তালিকায় রয়েছে। বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার আসলামপুর ইউনিয়ন, সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার কুলঞ্জ ইউনিয়ন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার শিমুলকান্দি ইউনিয়নেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার বগুড়া সদর থানার শাখারিয়া ইউনিয়ন, নাটোর জেলার লালপুর থানার ঈশ্বরদী ইউনিয়ন, রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও সদর থানার রহমানপুর ইউনিয়ন এবং দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার জয়পুর ইউনিয়নেও এ কার্যক্রম চালু করা হবে।
দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন এই উদ্যোগের পাইলট কার্যক্রম শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে। রাজধানীর বনানীতে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রথম ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু হচ্ছে। পাইলট পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। ভবিষ্যতে এই ভাতার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডে আধুনিক কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কার্ডটিকে আরও নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে। একটি কার্ডের আওতায় সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে আবেদন করলেই সবাই এই সুবিধা পাচ্ছেন না। সরকারের নির্ধারিত কিছু শর্ত রয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে অথবা পেনশন পেলে তারা এই সুবিধা পাবেন না। এছাড়া পরিবারের নামে গাড়ি, এসি বা বিলাসবহুল সম্পদ থাকলেও এই কার্ডের আওতায় আসা যাবে না। একইভাবে পাঁচ লাখ টাকা বা তার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে কিংবা পরিবারের নামে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকলেও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। নারীপ্রধান পরিবার যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেয়ে থাকে, তাহলে ফ্যামিলি কার্ড নিলে আগের সুবিধাটি বাতিল হয়ে যাবে। সরকার জানিয়েছে, উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক যাচাই করে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ভাতার অর্থ সরাসরি সরকার থেকে সুবিধাভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত পাইলট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার বলছে, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে টাকার বিনিময়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধশতাধিক নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ছবি সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে মিলন হোসেন (৪৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা শনিবার সকালে বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে তার কাছ থেকে ৫২ নারীর ছবি ও এনআইডির ফটোকপি উদ্ধার করেন। কেরালকাতা ইউনিয়নের রহিমা খাতুন জানান, মিলন নারীদেরকে ফ্যামিলি কার্ড দ্রুত দেওয়ার কথা বলে আইডি ফটোকপি, সদ্য তোলা ছবি এবং ১০০ টাকা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে মিলনের বাড়িতে গিয়ে তিনি স্বীকার করেন যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন। মিলন আওয়ামী লীগের সমর্থক ও পূর্বে বিভিন্ন মামলায় জেল খেটেছেন। হেলাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মুনসুর জানান, তাঁরা তাকে পুলিশে দিতে চেয়েছিলেন, তবে স্থানীয়দের অনুরোধে পরিবারের দায়িত্বে ছেড়ে দেওয়া হয়। মিলন হোসেন জানিয়েছেন, তিনি নিজ উদ্যোগে এলাকার গরিব ও অসচ্ছল মানুষের তালিকা করার জন্য এই কাজ করেছিলেন এবং এতে তার ভুল হয়েছে। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্তের পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব কমাতে নিম্নআয় ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে এ উদ্যোগের পাইলট কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ নামে একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালার মূল দর্শন—উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হবে পরিবার, ব্যক্তি নয়। খুব শিগগিরই এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হতে পারে। কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে এমন পরিবার, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী—যেমন হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এবং অর্ধ একর বা তার কম জমির মালিক পরিবার। তবে সরকারি পেনশনভোগী সদস্য থাকলে সেই পরিবার এই সুবিধা পাবে না। একইভাবে যেসব পরিবারে সরকারি চাকরিজীবী আছেন, বড় ব্যবসা রয়েছে, ব্যক্তিগত গাড়ি বা এসির মতো বিলাসবহুল সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, তারাও অযোগ্য বিবেচিত হবেন। সম্ভাব্য চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী নিম্ন, মধ্যম ও উচ্চ আয়ের নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণিও এ সুবিধার বাইরে থাকবে। প্রতি পরিবারে একটি করে কার্ড দেওয়া হবে এবং সহায়তার অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন জোরদার হয়। নগদ অর্থের পাশাপাশি সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় একটি ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের উপাত্ত সংরক্ষণ করা হবে। মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। আবেদন প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। তবে আগ্রহীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পাইলট কার্যক্রম শেষ হলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি একটি নির্ধারিত সরকারি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও চলছে। সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার দ্রুত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। ঈদের আগেই প্রাথমিক পর্যায়ে কার্ড বিতরণ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে নবগঠিত সরকার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি আগামী ১০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এইদিন বগুড়ায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিষয়ক কমিটির বিশেষ সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। কারা পাবেন এবং কত টাকা? সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সভা শেষে জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের একটি করে ওয়ার্ডকে এই পাইলট প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নারীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্মীয় বিভেদ দেখা হবে না; বরং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নই হবে এর মূল মাপকাঠি। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তার: মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার একযোগে পুরো দেশে এই সেবা চালু না করে ধাপে ধাপে এগোবে। প্রথমে একটি ওয়ার্ড, তারপর ইউনিয়ন এবং গ্র্যাজুয়ালি (ক্রমান্বয়ে) প্রতিটি উপজেলাকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের গবেষণার ফসল এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দ্রুততম সময়ে প্রতিটি অভাবী পরিবারের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। উক্ত নীতিনির্ধারণী সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এই পদক্ষেপটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মী যুক্ত থাকবেন না। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, কিছু মহল ফ্যামিলি কার্ডকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে এবং কার্ডের বিনিময়ে অর্থ দাবি করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সকলের জন্য কার্ড বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব পরিবারকে কার্ডের আওতায় আনা হবে এবং এটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়িত হবে। কার্ডের কোনো ভুল ব্যবহার বা আর্থিক লোভের ক্ষেত্রে মন্ত্রী জনগণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন বা গণমাধ্যমকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, ‘কেউ কার্ড নিয়ে কেলেঙ্কারি করতে পারবে না; প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। মন্ত্রী জানান, কড়াইল বস্তি ও ময়মনসিংহসহ কয়েকটি এলাকায় এরকম ঘটনা নজরে এসেছে।
বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আগামী ১০ মার্চ পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করবে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৪টি উপজেলায় একটি করে ইউনিয়ন ও একটি ওয়ার্ডে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদুল ফিতরের আগেই আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করবেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এ কার্ডের সুবিধা পাবেন। কার্ডধারীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য রাখা হবে না এবং এটি হবে সম্পূর্ণ ‘ইউনিভার্সেল’ ব্যবস্থা। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে চার মাস এই পাইলটিং কার্যক্রম চলবে। এরপর ধাপে ধাপে প্রতিটি উপজেলায় কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হবে। প্রথমে একটি ওয়ার্ড, পরে একটি ইউনিয়ন এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকায় এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে এলো প্রতীক্ষিত আপডেট। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই এই সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিকভাবে ১৩টি জেলার একটি করে ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই বিতরণ শুরু হতে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য: ভাতা ও সুবিধা: প্রাথমিকভাবে প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা অথবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। কারা পাবেন অগ্রাধিকার: দেশের হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলো এই তালিকার শীর্ষে থাকবে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রতি পরিবারে কেবল একটি কার্ডই ইস্যু করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া: আপাতত পাইলট প্রকল্প শেষে ইউনিয়ন পরিষদ বা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে। তবে সুখবর হলো, দ্রুত আবেদনের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার। প্রয়োজনীয় নথিপত্র: আবেদনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর এখনই প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে বছরে প্রায় ৫০ লাখ সুবিধাভোগীর পেছনে ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।
সরকার দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটি’র সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে দুটি উপজেলায় পাইলটিং পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করা হবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে কাঠামোবদ্ধভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। সুবিধাভোগী নির্বাচনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করা হবে, তবে সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করা হবে। পরিবারের সদস্যদের হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও অর্থ বিভাগের সচিব বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ত্রুটি রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে একাধিক কর্মসূচির সুবিধা একীভূত করা যাবে এবং ত্রুটি কমবে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড ও ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ কর্মসূচি এ কার্ডের সঙ্গে একীভূত করা হবে। প্রতিটি পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে এক কার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না। কার্ডটি মূলত পরিবারের নারী প্রধানের নামে বিতরণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলটিং শুরু হবে ১৩টি উপজেলার ১৩টি নির্বাচিত ওয়ার্ডে, যা হলো: ঢাকা জেলার গুলশান-১ সংলগ্ন কড়াইল বস্তি, চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী পতেঙ্গা ও বাঞ্ছারামপুর, এছাড়া পাংশা, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ। প্রকল্পের আওতায় পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুদানের অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।
আসন্ন মাস থেকেই দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঐতিহাসিক উদ্যোগ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রূপকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড পাবেন ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের নারী সদস্যরা। প্রাথমিক পর্যায়ে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা হবে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। অধিকার আদায়ে আপসহীন বাংলাদেশ মন্ত্রী তার বক্তব্যে বাঙালি জাতির লড়াইয়ের ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি সংগ্রাম প্রমাণ করে যে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই বাংলাদেশের মূল চেতনা। সুশাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা জহির উদ্দিন স্বপন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রশাসনকে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কোনো গোষ্ঠী বা মহলের হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র পথ হলো সুষ্ঠু নির্বাচন। বরিশালে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলী, জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আবদুল হান্নানসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা সৈনিকরা। আলোচনা সভা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সরকার দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সাতটি মন্ত্রণালয়ের সচিব। কমিটি ফ্যামিলি কার্ডের উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন, সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ এবং ডাটাবেজ তৈরি করবে। সুবিধাভোগীর তথ্য সংরক্ষণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে ডিজিটাল এমআইএস তৈরির সুপারিশ করা হবে। কমিটি ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেবে এবং প্রয়োজনে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি সভা প্রয়োজন অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। সরকারের লক্ষ্য আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা।
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ১৫ সদস্যের এই কমিটিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারের উপদেষ্টা ও সচিবরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হবে। তবে নির্দিষ্ট উপজেলাগুলোর নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও যথাযথ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতির প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কার্ডকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। সুবিধাভোগীদের নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করা হবে। ১৫ সদস্যের এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন। কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
দেশের পাঁচ কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে প্রচলিত পণ্য সহায়তার পরিবর্তে এবার এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জনকল্যাণমূলক এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা এই প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরেন। কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের হাতে সরাসরি নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং নারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে দেশের হতদরিদ্র পরিবারগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝেও এই কার্ড বিতরণ করা হবে। একই অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে জনবল ছাঁটাইয়ের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, বিধি বহির্ভূতভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কাউকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না এবং 'মব' বা গণদাবীর মুখে কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। বাসসে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন। জনবান্ধব এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং আসন্ন উৎসবে দরিদ্র পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের তীব্র সমালোচনা করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু। ফ্যামিলি কার্ড বনাম নিরাপত্তা কার্ড: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে ব্যঙ্গ করে মঞ্জু বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে কি চাঁদাবাজি বন্ধ হবে? এটি কি নারীদের হয়রানি, গুম ও খুনের নিশ্চয়তা দিতে পারবে? সাধারণ মানুষ আজ ফ্যামিলি কার্ড চায় না, তারা চায় ‘নিরাপত্তা কার্ড’। মানুষ চায় রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে, ভয় ছাড়া ব্যবসা করতে এবং রাজপথে স্বাধীনভাবে চলতে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা দেওয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের দয়া বা করুণা হতে পারে না। বিগত ১৬ বছরের যাতনা ও আওয়ামী লীগের পতন: নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মঞ্জু বলেন, “১৬ বছর ধরে জেলে বন্দি সন্তানের অপেক্ষায় থেকে আমার মা চোখের জল ফেলতে ফেলতে বিদায় নিয়েছেন। আমরা দেখেছি কীভাবে শিকল পরা অবস্থায় সন্তানকে মায়ের জানাজায় আসতে হয়েছে। দাড়ি থাকার অপরাধে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে—বিশ্বজিৎ ও আবরার ফাহাদের সেই রক্ত আমরা ভুলিনি।” তিনি শেখ হাসিনার পতনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “অহংকার করে বলা হয়েছিল হাসিনা পালায় না, কিন্তু জনগণ দেখেছে ফ্যাসিবাদের আসল রূপ।” আগে বিচার, পরে নির্বাচন: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বিপ্লবের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। বহু শহীদের পরিচয় মেলেনি, বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি। এই অবস্থায় তাড়াহুড়া করে নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হতে পারে। আগে প্রয়োজন বিচারিক সংস্কার এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের সুনিশ্চিত গ্যারান্টি।” নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা: মঞ্জু স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চিরদিনের জন্য ফ্যাসিবাদ ও দলীয়করণকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সময় এসেছে একটি ‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার, যেখানে আইনের শাসন থাকবে এবং প্রশাসনের হাতে কোনো সাধারণ নাগরিক হয়রানির শিকার হবে না। উল্লেখ্য, মজিবুর রহমান মঞ্জু ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন এবং পরবর্তীতে সংস্কারপন্থী অবস্থানে থাকায় জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হন। বর্তমানে তিনি এবি পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জামায়াত-এবি পার্টি জোটের প্রার্থী হয়ে ফেনী-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর এই সাহসী ও স্পষ্টবাদী বক্তব্য এখন পুরো জেলার সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস