ইরান

কারাবন্দী অবস্থায় মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদির । ছবি: সংগৃহীত
কারাগারে অসুস্থ নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি, তেহরানে উন্নত চিকিৎসার আহ্বান

কারাবন্দী ইরানি মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার পরিবার ও নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তেহরানে স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে।   রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার ভাই হামিদরেজা মোহাম্মদি জানান, হৃদরোগজনিত জটিলতায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, মার্চের শেষ দিক থেকে অসুস্থতা শুরু হলেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় গত ১ মে তাকে উত্তর-পশ্চিম ইরানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তিনি তীব্র মাথাব্যথা, বমিভাব ও বুকে ব্যথায় ভুগছেন। তার ভাই বলেন, “আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তার হৃদ্‌যন্ত্র নিয়ে।”   তিনি অভিযোগ করেন, যে প্রাদেশিক হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা চলছে, সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না।  পরিবারের দাবি, তার পূর্বের চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকায় তাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা প্রয়োজন।   এ প্রেক্ষাপটে পরিবার এবং নোবেল কমিটি তাকে তেহরান-এ স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মৃত্যুদণ্ড বিলোপের দাবিতে আন্দোলনের জন্য ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান নার্গিস মোহাম্মদি। তবে মানবাধিকার ইস্যুতে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে বহুবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   জানা গেছে, তিনি জীবনে ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫৪টি বেত্রাঘাতের সাজা পেয়েছেন। ২০২১ সালে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৩ বছরের সাজা ভোগ শুরু করেন তিনি, যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে আসছেন।   সর্বশেষ গত ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীর টোল থেকে প্রথম রাজস্ব পেল ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে টোল বা মাশুল ব্যবস্থা চালুর পর প্রথমবারের মতো রাজস্ব পেয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদ-রেজা হাজি বাবাই এই ঘোষণা দেন। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইতিমধ্যে এই খাতের প্রথম আয় জমা হয়েছে বলে আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিশ্চিত করেছে।   গত মাসে ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিশন এই প্রণালী দিয়ে পার হওয়া জাহাজের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে সংঘাতের কারণে সেখানে নৌ চলাচল অনেকটা স্থবির হয়ে আছে।   তেহরান আগেই জানিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করবে। বর্তমানে দেশটির পার্লামেন্ট এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এই জলপথের ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি বিশদ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এবং সাম্প্রতিক জাহাজ আটকের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপটি ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে।   এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, পেন্টাগনের গোয়েন্দা মূল্যায়নে এই প্রণালী নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেও পুরো হরমুজ প্রণালী মাইনমুক্ত করে নিরাপদ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘসূত্রতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সূত্র: তাসনিম ও মেহর নিউজ

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও হরমুজে জাহাজ চলাচলে সহায়তা দেবে ইরান

ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে দূতাবাসের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। দূতাবাস জানায়, সম্প্রতি আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খাতিবজাদেহ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।  বিজ্ঞপ্তিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর শাহাদাত বরণে বাংলাদেশ সরকারের শোকবার্তা এবং জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণের জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেছে দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দূতাবাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ইরান থেকে আজারবাইজান হয়ে নিরাপদে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনে ইরান সরকার সহযোগিতা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের আগ্রাসনের ফলে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে দূতাবাস সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের খণ্ডিত বা বিকৃত প্রচারের বিষয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দূতাবাস জানায়, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা দুই দেশের বন্ধুত্বের পরিপন্থী। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
মহোজের ১০ ড্রোন
যেভাবে ড্রোনের মাধ্যমে যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিল ইরান

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আতঙ্কের আরেক নাম ‘ইরানি ড্রোন’। কয়েক দশক ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা একটি দেশ কীভাবে ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তা এখন সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে এক বিস্ময়। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি—সবখানেই এখন ইরানের তৈরি ড্রোনের জয়জয়কার। খেলনা থেকে মারণাস্ত্র: এক সংগ্রামের ইতিহাস: ইরানের এই সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে। তৎকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ইরানের বিমানবাহিনী খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছিল। অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থী মিলে প্রথম ড্রোনের পরিকল্পনা করেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, তাদের প্রথম তৈরি ড্রোনটির জ্বালানি ট্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল মেডিকেল আইভি ব্যাগ (IV Bag), আর পাখা ছিল হাতে তৈরি। যুদ্ধের ব্যাকরণ পরিবর্তন: ইরানি সামরিক কৌশলের মূল ভিত্তি হলো—কম খরচে শত্রুর দামী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কুপোকাত করা। যেখানে একটি অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইলের দাম ২০ লাখ ডলার, সেখানে একটি ইরানি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার ডলার। কিন্তু যখন ঝাঁকে ঝাঁকে ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়, তখন সেগুলোকে ধ্বংস করতে প্রতিপক্ষকে ব্যয় করতে হয় কয়েকশ কোটি ডলার। এই অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপই ইরানকে ড্রোন যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। বৈশ্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ: ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হাতে ইরানি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের উপস্থিতি বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয়। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা ড্রোনের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে, যেখানে অত্যাধুনিক মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ব্যর্থ হয়েছিল। আজ ইরান এমন সব ড্রোন তৈরি করছে যা হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দীর্ঘ চার দশকের ধৈর্য আর উদ্ভাবনী চিন্তার ফসল হিসেবে ইরান আজ ড্রোন প্রযুক্তিতে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প: বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরু করার হুমকি দিলেও শেষ পযর্ন্ত কেন পিছিয়ে এলেন

বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে। একদিকে ইরান দাবি করছে যে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে, অন্যদিকেযুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ দিয়ে রেখেছে।   উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য দায়ী করছে, ফলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। কূটনৈতিক অঙ্গনেও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেন যে ইরান সব শর্তে সম্মত হয়েছে, তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তারা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে হস্তান্তর করবে না।   এছাড়া জেডি ভ্যান্স ও জ্যারেড কুশনারের মতো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের ইসলামাবাদে পাঠানো নিয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসায় পরিস্থিতি আরও অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন সপ্তম সপ্তাহে গড়িয়েছে। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, এই অভিযান চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে।   কিন্তু আধুনিক ড্রোন যুদ্ধ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল কৌশলের কারণে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। এদিকে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।   তবে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। এই অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় দিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক ঘোষণায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।   তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, পাকিস্তানের অনুরোধ এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।   ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন এমন সময় এসেছে যখন তিনি এর আগেই বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরু করাকে একটি সম্ভাব্য “কৌশলগত বিকল্প” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ফলে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
বাংলার জয়যাত্রা
কেন হরমুজ প্রণালি পার হতে ইরানের অনুমতি পাচ্ছে না বাংলাদেশি জাহাজ?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপের আঁচ এবার সরাসরি গায়ে লাগছে বাংলাদেশের। দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি পার হতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’কে অনুমতি দিচ্ছে না ইরান। ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমায় আটকা পড়ে আছে জাহাজটি।  মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশের ‘অস্পষ্ট’ অবস্থান এবং তেহরানের প্রতি যথাযথ শোক প্রকাশ না করায় এই কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং পরবর্তী উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া বিবৃতি নিয়ে অসন্তুষ্ট তেহরান। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শুরুতে দেওয়া বিবৃতিতে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে উল্টো ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়েছে আইআরজিসি (ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর)। যদিও পরে শোক প্রকাশ করে আরেকটি বিবৃতি দেওয়া হয়, তবে তা তেহরানের কাছে ‘যথেষ্ট’ মনে হয়নি। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজটি বর্তমানে রাস আল খাইর বন্দর থেকে সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানের পথে ছিল। দুই দফায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেও ইরানি নৌবাহিনীর বাধার মুখে ফিরে আসতে বাধ্য হয় জাহাজটি। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, কূটনৈতিক পর্যায়ে জোর তৎপরতা চলছে এবং দ্রুতই জট খোলার আশা করছেন তারা। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী সরাসরিই উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিবৃতিতে তেহরান সন্তুষ্ট নয়। এমনকি শোক বইতে সই করতে কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার না যাওয়াকেও ভালোভাবে নেয়নি দেশটি। সাবেক কূটনীতিকদের মতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ‘নৈতিক ভিত্তি’ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থনের বিষয়ে অবস্থান অস্পষ্ট হওয়ার কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তুরস্কে অবস্থানরত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে জাহাজটির নিরাপদ প্রস্থানের অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, এই কূটনৈতিক ‘মনোকষ্ট’ কাটিয়ে বাংলার জয়যাত্রা কবে নাগাদ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ম্যানিলার একটি গ্যাস স্টেশন। এশিয়ায় আমেরিকার প্রাচীনতম মিত্র ফিলিপাইনে তেলের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় কর্মকর্তারা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
এশিয়ায় মার্কিন আধিপত্যে ফাটল: রাশিয়া-ইরানের দিকে ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা

এশিয়ায় দীর্ঘদিনের মিত্রদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো। নিজেদের অর্থনীতি বাঁচাতে এবং তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও ভারতের মতো মার্কিন মিত্ররা এখন ওয়াশিংটনের কট্টর প্রতিপক্ষ রাশিয়া ও ইরানের দিকে ঝুঁকছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে এশীয় দেশগুলো এখন 'জাতীয় স্বার্থ'কে প্রাধান্য দিচ্ছে। এতদিন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে যারা রাশিয়া বা ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল, বর্তমান বাস্তবতায় তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। কোন দেশ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? দক্ষিণ কোরিয়া: তীব্র ন্যাপথা ও তেল সংকটে থাকা দেশটি রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানির অনুমতি দিয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পর্ষদ এখন রাশিয়া ও ইরানকে বিকল্প উৎস হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করছে। ফিলিপাইন: জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পাঁচ বছর পর দেশটি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের প্রথম চালান গ্রহণ করেছে। ভারত: সাত বছরের দীর্ঘ বিরতি শেষে চলতি সপ্তাহে ভারতে পৌঁছেছে ইরানের তেলের ট্যাংকার। লোহিত সাগরের অস্থিরতায় রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা আবারও বাড়ছে। ইন্দোনেশিয়া: প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো মস্কো সফর করে পুতিনের প্রশংসা করেছেন এবং জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করছেন। জাপান: ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা জাপান এখন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের পাশাপাশি নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পুতিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্বমঞ্চে পুতিনকে কোণঠাসা করার যে চেষ্টা পশ্চিমা বিশ্ব করেছিল, এই জ্বালানি সংকট তা ব্যর্থ করে দিচ্ছে। এশীয় দেশগুলোর কাছে এখন রাশিয়ার তেল কেবল সস্তা নয়, বরং ভৌগোলিকভাবে দ্রুত সরবরাহযোগ্য একমাত্র উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর হুয়ং লে থু মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি অনেক দেশকে মার্কিন বলয় থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করছে। ওয়াশিংটনও বৈশ্বিক সংকট এড়াতে বাধ্য হয়ে কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি শিথিল করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
আলোচনার জন্য পাকিস্তানের পথে রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিরা, জানালেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। তবে আলোচনার এই আবহাওয়ার মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত কালই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশ দুটির মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এদিকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আন্তালিয়ায় এক সম্মেলনে জানান, যুদ্ধ অবসানে উভয় দেশই আলোচনার সদিচ্ছা দেখালেও বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ট্রাম্প ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না। সংঘাতের অন্যান্য খবরে জানা গেছে, গত দুই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) আরও দুই সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পারস্য উপসাগর অভিমুখী দুটি এলপিজি ট্যাংকার মাঝপথেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান প্রশ্নে সাংবাদিককে ‘বেরিয়ে যেতে’ বললেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে প্রশ্নকারীকে কার্যত বেরিয়ে যেতে বলেন।   সিবিএস নিউজের সাংবাদিক অলিভিয়া রিনাল্ডি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে জানতে চান, ইরানি গানবোট দুটি জাহাজে গুলি চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী। প্রশ্নটি শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প দৃশ্যত বিরক্ত হয়ে বলেন, “আউট। সবাইকে ধন্যবাদ।” এরপরই ব্রিফিং কার্যত শেষ হয়ে যায়। উপস্থিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টতই রাগান্বিত দেখাচ্ছিল।   এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সামরিক সূত্রের দাবি, ইরানের দুটি গানবোট একটি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।   বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের ঘটনার খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিতিশীলতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি: বিশ্বজুড়ে কোথায় কত সম্পদ আটকে আছে ইরানের?

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা স্নায়ুযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের জব্দ হওয়া সম্পদ ফেরত পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরান। সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনার আগে তেহরান শুধু তাদের আটকে থাকা অর্থই ফেরত চায়নি, বরং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এবং সরকারের মুখপাত্র ফাতিমা মাহাজিরানি জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। রুশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় সৃষ্ট আর্থিক লোকসান মিলিয়ে এই অংক করা হয়েছে, যা সময়ের সাথে আরও বাড়তে পারে। কোথায় এবং কীভাবে জব্দ আছে ইরানের সম্পদ? ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে আছে। এর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:   সময়কাল/উৎস সম্পদের পরিমাণ (আনুমানিক) বর্তমান অবস্থা ১৯৭৯ (জিমি কার্টার আমল) ৮ - ১১ বিলিয়ন ডলার মার্কিন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জব্দ। ২০১৫ (পারমাণবিক চুক্তি) ১০০ বিলিয়ন ডলার (ওবামা) চুক্তির পর আংশিক (২৯-৬০ বিলিয়ন) ব্যবহারের সুযোগ পায়। ২০১৮ (ট্রাম্প আমল) অনির্দিষ্ট চুক্তি থেকে সরে আসায় পুনরায় সম্পদ জব্দ করা হয়। ২০২৩ (কাতার মধ্যস্থতা) ৬ বিলিয়ন ডলার দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, তবে বর্তমানে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। ইরানি সংবাদ সংস্থা প্রেস টিভির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশের ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হয়। এর মধ্যে রয়েছে: সিটি ব্যাংক ও ব্যাংক অফ আমেরিকা, এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, বিএনপি পারিবাস ও ডয়েচে ব্যাংক। এছাড়াও শেল, টোটাল, সিমেন্স এবং বোয়িং-এর মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের প্রকল্প মাঝপথে ছেড়ে চলে যাওয়ায় ইরানের বিশাল পুঁজি আটকা পড়ে আছে। আস্থার সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৩ সালে কাতার ৫ ইরানি বন্দির বিনিময়ে যে ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের ব্যবস্থা করেছিল, ২০২৪ সালে ইসরায়েল-ইরান উত্তজনা বৃদ্ধির পর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সেই অর্থ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, জব্দ থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া কোনো আলোচনার বিষয় হতে পারে না (Non-negotiable)। এটি ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির আশা করা বৃথা। তেহরানের মতে, আলোচনার টেবিলে বসার আগে ওয়াশিংটনকে তাদের 'আন্তরিকতার পরীক্ষা' দিতে হবে এই অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজের ত্রাস ইরানের ‘মস্কুইটো ফ্লিট’: কেন এটি এখনও বড় হুমকি?

পারস্য উপসাগরের উপকূলে ইসরায়েল এবং মার্কিন হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানি যুদ্ধজাহাজগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকলেও, সমুদ্রের গভীরে ও পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অপ্রতিরোধ্য বাহিনী। সামরিক বিশেষজ্ঞরা যাকে বলছেন ‘মস্কুইটো ফ্লিট’ বা মশা বাহিনী। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর এই ছোট, দ্রুতগামী এবং চটপটে নৌবহরটি এখন হরমুজ প্রণালীর নৌ-বাণিজ্যের জন্য প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইআরজিসি-এর এই নৌবাহিনী মূলত একটি ‘গেরিলা বাহিনী’ হিসেবে সমুদ্রে কাজ করে। যেখানে ইরানের মূল নৌবাহিনী বড় যুদ্ধজাহাজে বিশ্বাসী, সেখানে আইআরজিসি গুরুত্ব দেয় ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ (asymmetrical warfare) বা ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলের ওপর। টেনেসির চ্যাটানুগা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাঈদ গোলকার বলেন, "আইআরজিসি সরাসরি ধ্রুপদী নৌ-যুদ্ধে না গিয়ে অতর্কিত আক্রমণ এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার কৌশলে দক্ষ।" সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক মেরিটাইম এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। যার বেশিরভাগই আইআরজিসি-এর ড্রোন বা ভ্রাম্যমাণ লাঞ্চার থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ইরানের মূল নৌবাহিনীর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও, আইআরজিসি-এর এই ছোট নৌযানগুলোর সংখ্যা এখনও শত শত বা হাজারও হতে পারে। এই ‘মশা বাহিনী’র বিশেষত্ব হলো এদের আকার। এগুলো এতই ছোট যে স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়ে না। ইরানের পাথুরে উপকূলের গভীর গুহায় বা সুরক্ষিত ঘাঁটিতে এগুলো এমনভাবে লুকিয়ে রাখা হয় যে কয়েক মিনিটের নোটিশে অভিযানে নামতে পারে। এই বোটগুলো ঘণ্টায় ১০০ নটের বেশি (প্রায় ১১৫ মাইল) গতিতে চলতে সক্ষম। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, তবুও মার্কিন রণতরীগুলো হরমুজ প্রণালীর সরু পথে টহল দিতে সতর্ক থাকছে। কারণ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে এখানে সতর্ক হওয়ার মতো সময় পাওয়া যায় না। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান অ্যাডমিরাল গ্যারি রুগহেড বলেন, "আইআরজিসি-এর এই বাহিনী সবসময়ই একটি বিঘ্নকারী শক্তি। তারা কখন কী করবে, তা বোঝা দায়।" উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর মূল সেনাবাহিনীর ওপর অনাস্থা থেকেই এই সমান্তরাল বাহিনী গঠন করেছিলেন আয়াতুল্লাহ খোমেনি। ১৯৮৬ সালে গঠিত এই নৌ-শাখাটি এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধের সম্মুখভাগে অবস্থান করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত ইরানের

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন একগুচ্ছ কঠোর শর্তারোপ করেছে ইরান। এখন থেকে এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-শাখার পূর্ব অনুমতি এবং নির্ধারিত টোল বা মাশুল প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, "হরমুজ প্রণালীতে নতুন সামুদ্রিক শাসন ব্যবস্থা (Maritime Regime) মেনে চলার সময় এসেছে।" নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র আইআরজিসি অনুমোদিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবে। ইব্রাহিম আজিজি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাহাজের চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন করা হবে।" একই সুর শোনা গেছে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক সদর দপ্তর থেকেও। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজের অবাধ চলাচলের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চেকপয়েন্ট। ইরান এই কৌশলগত অবস্থানকে ব্যবহার করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যেকোনো কূটনৈতিক দরকষাকষিতে এটিকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে তেহরান। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকেও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। মূলত মার্কিন অবরোধের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান এই পথ দিয়ে ট্রানজিট চার্জ বা টোল আদায়ের কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আইআরজিসির অনুমতি প্রয়োজন হবে: ইরানের সামরিক কর্মকর্তা

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করেছে ইরান। দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রণালি পার হতে হলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর অনুমতি নিতে হবে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে আইআরজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে হবে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজসহ সব বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি দিয়ে পারাপারের অনুমতি পাবে। তবে সামরিক বা নৌবাহিনীর জাহাজের ক্ষেত্রে এই অনুমতি প্রযোজ্য হবে না।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দিয়েছিলেন, লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতির সময় ১০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বহাল থাকবে এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করা হবে না।   বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা, অন্যদিকে আইআরজিসির অনুমতির শর্ত—এই দুই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এএফপি
ইরানের ইউরেনিয়াম যৌথভাবে উদ্ধার করবে ওয়াশিংটন-তেহরান: ট্রাম্পের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যৌথভাবে উদ্ধার করবে ওয়াশিংটন ও তেহরান।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একসঙ্গে ধীরেসুস্থে এসব স্থানে প্রবেশ করবে এবং বড় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করা হবে। পরে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   তবে সম্ভাব্য এ ধরনের কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান। বরং তেহরান আগেই স্পষ্ট করেছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ছাড়বে না। এর আগে ট্রাম্প এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ‘পারমাণবিক ধূলা’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে।   আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। সাধারণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান মতবিরোধের কারণে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
নীরবতা ভেঙে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন ইরানের দুই নারী ফুটবলার

নিজেদের দেশে ফেরার ঝুঁকি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ইরানের দুই নারী ফুটবলার অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই দেশটিতে তারা এখন একটি ‘নিরাপদ আবাস’ খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তারা নিরাপদে জীবনযাপন ও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন। ফাতেমেহ পাসান্দাইদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদে নামের এই দুই ফুটবলার গত মাসে এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানে তাদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার ফলে দেশে ফিরলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেন, "অস্ট্রেলিয়া সরকার আমাদের যে মানবিক সুরক্ষা ও আশ্রয় দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখানো হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।" প্রাথমিকভাবে ইরানি দলের আরও কয়েকজন সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও পরিবারের ওপর চাপ এবং অন্যান্য কারণে পাঁচজন ইরানে ফিরে যান। তবে ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ‘ব্রিসবেন রোয়ার’-এর সাথে অনুশীলন করছেন। নিজেদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে তারা এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের স্বপ্ন হলো একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের ক্যারিয়ার পুনরায় গড়ে তোলা। ইরানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই ফুটবলারদের আশ্রয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১০ দিনের জন্য পুরোপুরি খোলা হরমুজ প্রণালি, ঘোষণা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

যুদ্ধবিরতির সময়কালে আগামী ১০ দিন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে প্রণালিটি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। যুদ্ধবিরতির সময়কালে আগামী ১০ দিন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে প্রণালিটি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। আরাঘচি বলেন, যুদ্ধবিরতির আওতায় ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট অনুসরণ করে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।   তিনি আরও জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৬ এপ্রিল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর থেকে কার্যকর হয়েছে।   উল্লেখ্য, ৮ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননকে তা অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। ইরান ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান শুরু থেকেই লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকার কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা অস্বীকার করেছিল।   পরবর্তীতে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলে লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে এবং তার পরপরই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত জানায় তেহরান।   সূত্র: আল জাজিরা, তাসনিম নিউজ এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ খোলার ঘোষণায় তেলের দামে বড় পতন, কমল প্রায় ১৩ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ইরান গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি সব জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরই তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঘোষণার পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২.৮৭ ডলার বা প্রায় ১২.৯৫ শতাংশ কমে ৮৬.৫২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১৩.৫০ ডলার বা ১৪.২৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮১.১৯ ডলারে। উভয় সূচকই ১০ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, লেবাননকে ঘিরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরে এসেছে।   বিনিয়োগ বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তবে প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল কতটা বাড়ে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যা চলমান সংঘাতের অবসানে ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ভবিষ্যতে আর প্রণালি বন্ধ করবে না বলে সম্মত হয়েছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব দিয়েছে।   অন্যদিকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি খুলে দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপে তেল পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে।   তারা আরও সতর্ক করেছেন, পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান না হলে বাজারে অনিশ্চয়তা আবারও ফিরে আসতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। ফাইল ছবি
স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া সমঝোতা নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে দায় দিল ইরান

স্থায়ী ও বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো ধরনের সমঝোতায় রাজি নয় বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, তেহরান কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না এবং পুরো অঞ্চলে সংঘাতের স্থায়ী অবসানই তাদের লক্ষ্য।   তুরস্কের আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম-এর সাইডলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খাতিবজাদেহ বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি হতে হলে তা লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটিকে ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করছি না। এই সংঘাত এখন একবারেই শেষ হওয়া উচিত।” হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এই জলপথ সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। যদিও এটি ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমার মধ্যে পড়ে, তবুও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবাধ চলাচল বজায় রাখা হয়েছে।   এ অঞ্চলে চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে ইরানের এই কূটনীতিক বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
লেগো ভিডিওর মাধ্যমে যেভাবে ট্রাম্পকে কুপোকাত করল ইরান

সরাসরি সংঘাতের পাশাপাশি বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়ায় চলছে ‘ন্যারেটিভ ওয়ার’ বা বর্ণনার যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইরান। আল-জাজিরার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের তৈরি ‘লেগো ভিডিও’ সিরিজ এক বিশাল প্রোপাগান্ডা যুদ্ধে জয়লাভ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা এই অ্যানিমেশন ভিডিওগুলোতে শিশুদের জনপ্রিয় খেলনা ‘লেগো’র আদলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে ট্রাম্পের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, এপস্টাইন ফাইল এবং যুদ্ধের ভয়াবহতাকে অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে র‍্যাপ মিউজিক এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করায় এই ভিডিওগুলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান আগে যেখানে গতানুগতিক ধারায় প্রচার চালাত, এখন তারা সরাসরি পশ্চিমা পপ সংস্কৃতিকে ব্যবহার করছে। ভিডিওগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং বৈদেশিক নীতিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। ইউটিউব এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এই ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলেও এক্স (সাবেক টুইটার) এবং টিকটকে এগুলো কোটি কোটি ভিউ পেয়েছে। বিশেষজ্ঞ এমা ব্রায়ান্ট জানান, “নতুন প্রযুক্তি ইরানকে এমন এক শক্তি দিয়েছে যার মাধ্যমে তারা পশ্চিমা দর্শকদের জন্য ‘বিনোদনমূলক’ কন্টেন্ট তৈরি করে তাদের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করতে পারছে।” আল-জাজিরা উল্লেখ করেছে যে, এই ভিডিওগুলোর মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করেছে যে বর্তমান সময়ের যুদ্ধে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ার বর্ণনায় কে বেশি শক্তিশালী, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
গাজা বা ইউক্রেনের মতো কেন ইরানে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না পশ্চিমা বিশ্বের রাজপথে?

ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা যখন চরম শিখরে, তখন একটি প্রশ্ন বিশ্বজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে—গাজা বা ইউক্রেন যুদ্ধের সময় পশ্চিমা বিশ্বের রাজপথ যেভাবে প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে কেন তা অনুপস্থিত? আল জাজিরার এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই 'নীরবতার' নেপথ্য কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে গাজা এবং ইউক্রেন ইস্যুতে ক্রমাগত আন্দোলন করতে করতে পশ্চিমা অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে এক ধরনের 'ক্লান্তি' (Protest Fatigue) চলে এসেছে। এছাড়া, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে পশ্চিমা সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা নেতিবাচক ধারণা বা ভীতি অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চলমান সামরিক চাপ এবং অবরোধের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়লেও, পশ্চিমা জনমতে ইরানের প্রতি সহমর্মিতার অভাব স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিমা সরকারগুলোর কঠোর অবস্থান এবং গণমাধ্যমের একপাক্ষিক প্রচারণা সাধারণ মানুষকে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছে। ফলে গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে যে বিশাল গণজোয়ার দেখা গিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজলেও রাজপথে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এই নীরবতাকে 'হতাশা' এবং 'ভয়ের' সংমিশ্রণ হিসেবে দেখছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে আতঙ্ক, অন্যদিকে নিজ দেশের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে ইরানের পক্ষে দাঁড়ানোর ঝুঁকি—সব মিলিয়ে স্তিমিত হয়ে পড়েছে পশ্চিমা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র ১ ভোটে হেরে গেল ট্রাম্পের ইরান সামরিক নীতি সীমিত করার প্রস্তাব

ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর সামরিক তৎপরতা সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। ফলে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে কংগ্রেসে বিভক্ত মতামত আবারও স্পষ্ট হলো।   বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধ ক্ষমতাবিষয়ক বিলটি ২১৩-২১৪ ভোটে নাকচ হয়। বিলটির লক্ষ্য ছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানো রোধ করা।   এর আগে একদিন আগে ইউনাইটেড স্টেটস সিনেটে একই ধরনের একটি প্রস্তাব খারিজ হয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থিত সেই উদ্যোগ সিনেটে টানা চতুর্থবার ব্যর্থ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট প্রতীকী গুরুত্ব বহন করলেও এটি দেখিয়েছে, ইরান প্রশ্নে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতভেদ এখনও গভীর।   গত মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদে একই ধরনের একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন ভোটের ফল ছিল ২১২-২১৯। সর্বশেষ ভোটে কয়েকজন সদস্য অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, কোনো সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।   সূত্র: বিবিসি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

নাহিদা বৃষ্টি
আমেরিকা

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0