ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানে কোনো হামলা হলে ইসরায়েলের গভীরে হামলা চালানো হবে

ইরানে কোনো ধরনের হামলা হলে এর জবাবে দখলদার ইসরায়েলের গভীরে হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা আলী শামখানি।   শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন হুঁশিয়ারি দেন। ইরানি বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, উপদেষ্টা শামখানি বলেছেন, “শত্রুর যে কোনো পদক্ষেপের বিপরীতে আনুপাতিক, কার্যকর এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”   তিনি দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে কী পরিকল্পনা করছে সেটি তারা জেনে গেছেন এবং এর বিপরীতে কি পদক্ষেপ নিতে হবে সেখানে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি হুমকি দেন, সময়মতো এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে যেটি তাদের পরিকল্পনাকে শুরুতেই চেপে ধরবে।   এরআগে ইরানের সেনাপ্রধান জেনারেল আমির হাতামি ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে সতর্কতা দেন। তিনি হুমকির সুরে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির পর ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।    তিনি বলেছেন, ‌‌শত্রু যদি ভুল করে তাহলে নিঃসন্দেহে তা নিজের নিরাপত্তা, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকে বিপদের মুখে ফেলবে। আমির হাতামি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ও সামরিক প্রস্তুতিতে’’ রয়েছে।   ইরানি কর্তৃপক্ষের দুই সপ্তাহব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নৌ-বহর পাঠিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এই রণসজ্জায় ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান আগেই সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, হামলা হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, জাহাজ এবং মিত্রদের—বিশেষ করে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে।   সূত্র: আনাদোলু  

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ইরানে সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে ইসরায়েল
ইরানে সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ানো নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে নীরব অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েল। ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানানো ছাড়া দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছেন, নীরব থেকেছে তার সরকারও।   বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতাই আসলে ইসরায়েলের কৌশল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থায় ২৫ বছর কাজ করা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক উপস্থিতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা নেতানিয়াহুর কাছে একটি ‘সুবর্ণ সুযোগ’। তার মতে, নেতানিয়াহু এই মুহূর্ত কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চান না।   ইসরায়েলের সাবেক সিগন্যাল গোয়েন্দা কর্মকর্তা আসাফ কোহেন বলেন, ইসরায়েল চায় এবার যুক্তরাষ্ট্রই নেতৃত্ব দিক। তার কথায়, যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী, সামরিক সক্ষমতা বেশি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশি। তাই ইসরায়েল ইচ্ছা করেই নীরব রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নীরব সমন্বয় ইসরায়েলের নীরবতার অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নেই। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান শ্লোমি বাইন্ডার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৈঠকে ইরানের সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   ড্যানি সিত্রিনোভিচের দাবি, নেতানিয়াহু গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সরকার পরিবর্তনমূলক বড় ধরনের হামলার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তার মতে, মাসের শুরুতে নেতানিয়াহু যখন ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপে সংযত থাকতে বলেন, তখন আসলে তার আপত্তি ছিল—প্রস্তাবিত হামলাটি খুবই সীমিত।   এর আগেও নেতানিয়াহু ইরানিদের তাদের সরকারের বিরুদ্ধে ‘দাঁড়িয়ে যাওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত বছর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সেই বার্তা দেন।   ইসরায়েলের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য লাভ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত প্রতীকী হামলা থেকে শুরু করে পূর্ণমাত্রার সরকার পরিবর্তন—সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। একদিকে প্রকাশ্যে যেমন তিনি সামরিক হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাবও দিচ্ছেন।   যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশ সতর্ক করে বলছে, ইরানের সরকার উৎখাতের চেষ্টা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তবে ইসরায়েলের ভেতরে অনেকে এটিকে নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছেন।   ইসরায়েলের ধারণা, তেহরানে সরকার পরিবর্তন হলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে, হিজবুল্লাহসহ ইরানসমর্থিত আঞ্চলিক মিলিশিয়াগুলোর শক্তিও দুর্বল হবে। ইসরায়েলের আলমা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মতে, শুধু লেবানন সীমান্তেই হিজবুল্লাহর হাতে এখনো প্রায় ২৫ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট রয়েছে।   তবে ইসরায়েলের কিছু আইনপ্রণেতা মনে করেন, সীমিত হামলা বা নতুন কোনো চুক্তি উল্টো ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কারণ তাতে বর্তমান ইরানি সরকার টিকে যাবে। বিরোধী দল ইয়েশ আতিদের সংসদ সদস্য মোশে তুর-পাজ বলেন, ‘পূর্ণমাত্রার অশুভ শক্তির মোকাবিলা কখনো সীমিতভাবে করা যায় না।’   প্রতিশোধের আশঙ্কা ও ঝুঁকি গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালালে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর কিছু ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে তেল আবিবের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে, এতে অন্তত ২৮ জন নিহত হন।   বিশ্লেষকদের মতে, সেই সংঘর্ষ থেকে ইরান শিক্ষা নিয়েছে এবং কৌশল বদলেছে। বর্তমানে তারা আবার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত গড়ে তুলছে। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তেল আবিবে ‘তাৎক্ষণিক ও নজিরবিহীন’ জবাব দেওয়া হবে।   ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, নেতানিয়াহুর ভয় হলো—ইসরায়েল আবারও বড় ধরনের হামলার শিকার হবে, কিন্তু ইরানে সরকার পরিবর্তন হবে না। তার মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি বন্ধ করতে হলে সরকার পরিবর্তন জরুরি, আর তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমেই সম্ভব।   সুযোগ না ঝুঁকি? বিশ্লেষকদের মতে, ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক প্রতিরক্ষা দুর্বল, আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব হয়েছে এবং দেশের ভেতরে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে—এই পরিস্থিতি অনেকের চোখে একবার আসা সুযোগ। আসাফ কোহেন বলেন, ‘ইরান এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায়। অনেকেই মনে করেন, এখন না করলে আর কখনো করা যাবে না।’   তবে ঝুঁকিও কম নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চারপাশে সামরিক ও ধর্মীয় জোটে বড় কোনো ফাটল নেই। বিরোধী আন্দোলনও বিভক্ত। সরকার পতন হলে কে ক্ষমতায় আসবে, তা অনিশ্চিত। গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা শুধু ইরানের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই ভয়াবহ হতে পারে।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহু এ বছর নির্বাচনের মুখে রয়েছেন। হামাসের হামলার পর ‘নিরাপত্তার প্রতীক’ হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি ফেরাতে তিনি মরিয়া। ইরানে সরকার পরিবর্তন বা খামেনির হত্যাকাণ্ড তার জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হতে পারে, আবার বড় ঝুঁকিও।   সিত্রিনোভিচের ভাষায়, ‘এটি এক ধরনের হিসাব করা জুয়া। নেতানিয়াহু পরদিন কী হবে, তা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। তার লক্ষ্য—ট্রাম্পের সঙ্গে দাঁড়িয়ে দেখানো যে তিনি ইরানি সরকার ধ্বংস করেছেন। যদি নিশ্চিত হন যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি যাবে, তবে এই ঝুঁকি নিতে তিনি প্রস্তুত।’   তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর, আর এটাই ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।   সূত্র: বিবিসি

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ট্রাম্প চায়, ইরান তার সঙ্গে আলোচনায় বসুক। সংগৃহীত ছবি
ইরানে জুনের চেয়েও ‘ভয়াবহ’ হামলা চালাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় নৌবহর ইরানের পাশে সাজিয়ে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সুসজ্জিত আরেকটি নৌবহর সেখানে পাঠিয়েছেন। এরমাঝেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি ছুড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ‘চুক্তি করো, নয়তো ভয়াবহ কিছু ঘটবে!’   ট্রুথ সোশ্যাল প্লাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যে হামলার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন—তার চেয়েও ‘অনেক ভয়াবহ’ হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র।   ট্রাম্প বলেন, ‘একটি বিশাল আর্মাডা ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি দ্রুত এগোচ্ছে, প্রবল শক্তি, উদ্দীপনা ও উদ্দেশ্য নিয়ে। ভেনেজুয়েলায় পাঠানো বহরের চেয়েও বড় এই নৌবহরের নেতৃত্বে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন। ভেনেজুয়েলার মতোই এটি প্রয়োজনে দ্রুত, সহিংসতার সঙ্গে নিজের মিশন সম্পন্ন করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম।’   ট্রাম্প চান ইরান অতিসত্বর আলোচনার টেবিলে আসুক এবং একটি সাম্যতার চুক্তি করুক। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি সত্যিই অত্যন্ত জরুরি!   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি আগেও ইরানকে বলেছিলাম—চুক্তি করো! তারা করেনি, আর তখনই হয়েছিল ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’, যার মাধ্যমে ইরানে ব্যাপক ধ্বংস হয়। পরবর্তী হামলা হবে তার চেয়েও অনেক ভয়াবহ! এমন কিছু আবার ঘটতে দিও না। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!’   সিবিএস নিউজকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বপূর্ণ অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এই অঞ্চলের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের আশপাশের জলসীমা অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি এখনো তাদের নির্ধারিত চূড়ান্ত মোতায়েনস্থলে পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে সব কিছুই অচল, বাণিজ্য চুক্তির পর্যালোচনা শুরু শিগগিরই: কার্নি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা চলার মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় কিছুই স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করা মন্তব্য থেকে সরে এসেছেন, এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ওটাওয়া ও ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য আলোচনায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।   সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে কার্নি বলেন, “এই পৃথিবীটা বদলে গেছে, ওয়াশিংটন বদলে গেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় কিছুই স্বাভাবিক অবস্থায় নেই, এটাই বাস্তবতা।” দাভোসে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কেন্দ্রভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্য বাস্তবতায় দেশগুলোর নতুন করে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি তার অবস্থানে অটল রয়েছেন।   কার্নি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা ত্রিদেশীয় মৈত্রী চুক্তির আওতায় কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়। তবে মার্কিন শুল্কনীতি ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা কমিয়ে অন্য বাজারে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছেন।   সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, দাভোসে যা বলেছি, সেটার অর্থ আমি ঠিকই বুঝিয়েছি।” ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মন্তব্য থেকে সরে আসার দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।   কার্নি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, কানাডা পুরো পৃথিবীতেই নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তুলছে, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং ত্রিদেশীয় চুক্তি কাঠামোর মধ্যেই গঠনমূলক সহযোগিতার পথ খোলা রাখছে। তিনি নিশ্চিত করেন, বাণিজ্য চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে।   দাভোসে কার্নির বক্তব্যে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পরে বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হলে কানাডার পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ত্রিদেশীয় চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের কারণে আমেরিকা ছাড়ার হিড়িক হলিউড তারকাদের

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বিশ্ব তারকাদের মিলনকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত হলিউড ছাড়তে শুরু করেছেন বহু তারকা। এবার সেই যাত্রায় নাম লেখালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না, তাই তিনি ইউরোপে পাড়ি জমানোর কথা ভাবছেন।    এর আগে এলেন অভিনেতা ডিজেনারেস ও তার স্ত্রী পোর্শিয়া ডি রোসি এবং জর্জ ও আমাল ক্লুনির মতো নামি দামি আরও বেশ কয়েকজন তারকাও রাজনৈতিক ও সৃজনশীল উদ্বেগের কারণে ইতিমধ্যেই আমেরিকা ছেড়েছেন বা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।       নিজের মতা প্রকাশে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট কখনোই পিছিয়ে থাকেননি। ‘টোয়াইলাইট’ খ্যাত এই অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য হলিউড তারকাদের আমেরিকা ত্যাগের এক অনিবার্য গণমিছিলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।    অস্কার মনোনীত এই তারকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন, তিনি হয়তো আর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করবেন না। এর পেছনে তিনি ক্রমবর্ধমান এক সীমাবদ্ধ পরিবেশের কথা উল্লেখ করেছেন, যা তার কাজ করার স্বাধীনতাকে ব্যাহত করছে। স্টুয়ার্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন অনেক প্রখ্যাত তারকা আমেরিকাকে বিদায় জানিয়ে ইউরোপে থিতু হচ্ছেন। তার এই অবস্থান হলিউডের সাথে শিল্পীদের সম্পর্কের পুনর্বিবেচনার তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করল।   সম্প্রতি ‘দ্য টাইমস অফ লন্ডন’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট স্বীকার করেছেন, ট্রাম্পের বর্তমান নীতির কারণে তিনি সম্ভবত আর যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন না। তিনি বলেন, ট্রাম্পের অধীনে বাস্তবতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে। আমাদের উচিত এমন এক বাস্তবতা তৈরি করা যেখানে আমরা বাস করতে চাই।     সরাসরি যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন কি না, ‘স্পেন্সার’ খ্যাত এই তারকা অকপটে জবাব দেন, সম্ভবত না। আমি সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি না।    তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আমেরিকান সিনেমা পুরোপুরি ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা তার নেই। বরং তিনি ইউরোপে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তা মার্কিন দর্শকদের সামনে নিয়ে আসতে চান। তার ভাষায়, তিনি সিনেমাগুলো আমেরিকানদের গলার ভেতর দিয়ে নামিয়ে দিতে চান।   ট্রাম্পের সাথে স্টুয়ার্টের অস্বস্তি অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১২ সালে প্রাক্তন এই প্রেসিডেন্ট স্টুয়ার্টের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্সে বারবার পোস্ট করেছিলেন এবং তার তৎকালীন প্রেমিক রবার্ট প্যাটিনসনকে বিচ্ছেদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ‘ভ্যারাইটি’র এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট ট্রাম্পকে তার প্রতি ‘মোহাবিষ্ট’ বলে অভিহিত করেছিলেন।       ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর স্টুয়ার্ট এখন সেই ক্রমবর্ধমান তালিকায় যুক্ত হলেন যারা আমেরিকা ছাড়ছেন। এলেন ডিজেনারেস এবং তার স্ত্রী পোর্শিয়া ডি রোসি স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে চলে গেছেন। রোজি ও’ডোনেলও আমেরিকা ত্যাগ করেছেন।    ‘অ্যাভাটার’ নির্মাতা জেমস ক্যামেরন, যিনি তার ফ্র্যাঞ্চাইজির কাজের জন্য নিউজিল্যান্ডে চলে গেছেন, জানিয়েছেন তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সম্ভাবনা কম। তিনি রসিকতা করে বলেন, তিনি সেখানে প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য যাননি, গিয়েছেন নিজের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে।     অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ‘গেম অফ থ্রোনস’ অভিনেত্রী সোফি টার্নার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যে ফিরে গেছেন। জর্জ ও আমাল ক্লুনি ফরাসি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর নিশ্চিত করেছেন, তারা আমেরিকা ছাড়ছেন।    এদিকে ‘হাউস অফ কার্ডস’ তারকা রবিন রাইট যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন এবং আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হলিউডের নামি তারকাদের এভাবে আমেরিকা ছাড়ার হিড়িক দেখে মনে হচ্ছে, অনেকেই হয়ত খ্যাতির মোহ ত্যাগ করে শান্তি ও মানসিক সুস্থতার খোঁজে অচিরেই বিদেশের মাটিতে আশ্রয় নেবেন।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আগ্রাসী কূটনীতিতে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তিতে মিত্ররা

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। গেলো ডিসেম্বরেই গ্রিনল্যান্ডের রাজধানীতে যখন যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তারা একটি টেবিলে বসেছিলেন, তখন পরিবেশ ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। ডেনিশ এই ভূখণ্ডটি যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে দখল করবে বা কিনে নেবে- এমন কোনো আলোচনাই সেখানে হয়নি। কিন্তু এর মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই দৃশ্যপট বদলে যায়। হঠাৎ করেই ট্রাম্পের ঘোষণা, গ্রিনল্যান্ড তাঁর লাগবেই।    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিশেষ দূত হিসেবে জেফ ল্যান্ড্রিকে নিয়োগ দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ল্যান্ড্রি সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে সাহায্য করবেন। এই ঘোষণা ডেনমার্ক সরকারকে স্তম্ভিত করে দেয় এবং স্বয়ং মার্কিন প্রশাসনের ইউরোপ ও ন্যাটো বিষয়ক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অন্ধকারের মধ্যে রাখে।   ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার একটি বিশেষ ধরণ হলো- পেশাদার কূটনীতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এড়িয়ে চলা। গ্রিনল্যান্ড দখলের পরোক্ষ হুমকি, মিত্রদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা কিংবা ডেনমার্কের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা- এই সব কিছুই ট্রাম্প এবং তাঁর ক্ষুদ্র এক ঘনিষ্ঠ বলয় দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।    এই বলয়ে রয়েছেন কমার্স সেক্রেটারি হাওয়ার্ড লুটনিক এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতো ব্যক্তিরা। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এই পদ্ধতিকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নের সবচেয়ে কার্যকর ‘টপ-ডাউন’ বা ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়া পদ্ধতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   সামরিক অভিযানের হুমকি ও উত্তেজনা  পাঁচ জানুয়ারি সিএনএন-এর এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে অস্বীকার করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ইঙ্গিত পুনর্ব্যক্ত করেন। এতে ওয়াশিংটন ও মিত্রদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে, তা শেষ পর্যন্ত অভিশংসন পর্যন্ত গড়াতে পারে।   সুইজারল্যান্ডের ডেভোসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প অবশ্য উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করেন। তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ড এবং সমগ্র আর্কটিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যাটোর সঙ্গে একটি চুক্তির রূপরেখা তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, সামরিক অভিযানের বিষয়টি কখনোই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়নি। সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা কোরি শ্যাকের মতে, সামরিক হামলার এই হুমকির ফলে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে।   ইউক্রেন ও সিরিয়া নীতিতেও একই ধারা  ট্রাম্পের এই একতরফা সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রবণতা ইউক্রেন এবং সিরিয়া নীতিতেও স্পষ্ট। পররাষ্ট্র দপ্তরের অনেক কর্মকর্তাকে না জানিয়েই ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানের জন্য ২৮ দফা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।   পেশাদার কর্মকর্তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রাম্প সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে দেখা করেন এবং দেশটির ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন দূত টম ব্যারাক প্রধান ভূমিকা পালন করলেও ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সাথে তেমন কোনো যোগাযোগ রাখা হয়নি।   ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত ও কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া তাঁর সমর্থকদের কাছে ‘দ্রুত কাজ করার কৌশল’ হিসেবে প্রশংসিত হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মিত্রদের সাথে আস্থার জায়গায় গভীর ফাটল ধরাচ্ছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য এই সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলছে, ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং তথাকথিত ‘বেনামী সূত্রের’ অভিযোগ ভিত্তিহীন।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ডোনাল্ড ট্রাম্প
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির জবাবে ইউরোপের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

আমেরিকা বাংলা । আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আবারও প্রলয়ঙ্করী বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর নিশানায় ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে না দিলে ইউরোপের প্রধান দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই নজিরবিহীন হুমকির মুখে নড়েচড়ে বসেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্কসহ অন্তত আটটি প্রভাবশালী দেশ। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ট্রাম্পের এই আচরণ স্রেফ ‘রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ এবং এটি আটলান্টিক পাড়ের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ককে খাদের কিনারায় ঠেলে দেবে।   ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্রিটেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেন থেকে আসা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে ১ জুন থেকে, যখন এই শুল্কের হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক ক্রয়’ চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত এই বাণিজ্যিক চাপ অব্যাহত থাকবে।   ব্রাসেলসে এক যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, শুল্কের এই হুমকি একটি ‘বিপজ্জনক নিম্নমুখী সর্পিল পরিস্থিতি’ তৈরি করছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেছেন, ট্রাম্পের এই জেদ বিশ্বব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও ন্যাটো সামরিক জোটের ভবিষ্যৎকেও হুমকির মুখে ফেলছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ফান উইল এই শুল্ক হুমকিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।   ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রতিহত করতে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তবে ইউরোপীয় নেতারা মনে করছেন, ভূ-রাজনীতিকে হাতিয়ার বানিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের এই আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। ন্যাটোর সদস্য দেশ ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে সীমিতসংখ্যক সেনা মোতায়েন করে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।   আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি জরুরি শীর্ষ সম্মেলন ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত বড় কোনো বাণিজ্যিক যুদ্ধের রূপ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Admin জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Top week

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0