ডোনাল্ড ট্রাম্প

ফাইল ছবি
মার্কিন বাহিনীকে নিজস্ব ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার (২০ মার্চ) ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ধ্বংসে মার্কিন বাহিনীকে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) ব্যবহারের পথ এখন ওয়াশিংটনের জন্য উন্মুক্ত।   শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে তার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ মিত্রদের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর স্টারমার তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। ডাউনিং স্ট্রিট এই সিদ্ধান্তকে অঞ্চলের ‘যৌথ আত্মরক্ষা’ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, স্টারমার ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে এই ‘আগ্রাসনে’ সহায়তা করছেন এবং এর মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবনকেই বিপদে ফেলছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।   অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অনুমতি আসায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও ব্রিটিশ সরকারের দেরি হওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাজ্যের আরও অনেক আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। তবে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ জনমত এখনো এই যুদ্ধের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ইরানকে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে দেশটির প্রধান তেল অবকাঠামো হাব ‘খারগ দ্বীপ’ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই বিষয়ে অবগত চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ না করে, তবে ট্রাম্প এই কৌশলগত দ্বীপে সরাসরি আঘাত হানার হুমকিও দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে খারগ দ্বীপে একটি বড় ধরনের সূক্ষ্ম লক্ষ্যভেদী হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মার্চ পরিচালিত ওই অভিযানে তেল অবকাঠামোর ক্ষতি না করেই দ্বীপের ভেতরে থাকা ৯০টিরও বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই হামলায় ইরানের নৌ-মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করার বাঙ্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।   তেল সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, খারগ দ্বীপ অবরোধ বা দখল করলে ইরান চাপের মুখে পড়বে এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের আধিপত্য কমাতে বাধ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পরিকল্পনা সংঘাতের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পরস্পরবিরোধী অবস্থান; যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইল বিরোধী জনমত তুঙ্গে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সময়ে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরান যুদ্ধ শুরু করেছেন, যখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একবিংশ শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক ‘গ্যালাপ’ জরিপে দেখা গেছে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মার্কিনিরা ইসরাইলিদের চেয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ফলে।   ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের বিদায়ী পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করে সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ইসরাইল এবং তার শক্তিশালী লবি যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইসরাইল যেকোনো মূল্যে ইরানে হামলা চালাবে এবং ইরান তার প্রতিশোধ নেবে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে—এই যুক্তিতেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি। তবে ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তীতে এই অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধের পক্ষে ভিন্ন অজুহাত খুঁজতে শুরু করে।   সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরাইলি হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, এই বড় ধরনের হামলা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই জানত না এবং এতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। যদিও মার্কিন ও ইসরাইলি বিভিন্ন সূত্র এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে যে, উভয় পক্ষ এই হামলার বিষয়ে আগে থেকেই সমন্বয় করেছিল। ট্রাম্পের এমন অবস্থান কেন্টের মতো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব পোষণকারীদের আরও খোরাক জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড স্বীকার করেছেন যে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য সবক্ষেত্রে এক নয়। ইসরাইল যেখানে ইরানি নেতৃত্ব নির্মূলে আগ্রহী, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ইরানকে নিরস্ত্রীকরণের দিকে বেশি মনোযোগী। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ অবশ্য জানিয়েছেন, সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে থাকুক বা না থাকুক, ইরানি আক্রমণের শিকার হতো। যুদ্ধের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এমন অস্পষ্টতা ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বললেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা না করায় মিত্ররা ‘কাপুরুষের’ আচরণ করছে।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই সংঘাত সামরিকভাবে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে “জয়ী” হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ন্যাটো মিত্ররা তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।   ট্রাম্পের ভাষায়, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া একটি “সহজ সামরিক পদক্ষেপ”, যা তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দূর করতে পারে। কিন্তু মিত্ররা এতে এগিয়ে না এসে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটো জোট কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোটকে “কাগুজে বাঘ” বলেও আখ্যা দেন ট্রাম্প।   সপ্তাহের শুরুতে মিত্রদের সহায়তা চাইলেও পরে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রাম্প বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যদের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ন্যাটো জোটের ভেতরে বিদ্যমান মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে) ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে, ১৯ মার্চ ২০২৬। ছবি: এএফপি
বিশ্বশান্তি ফিরিয়ে আনতে একমাত্র ট্রাম্পই সক্ষম: জাপানের প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।   তাকাইচি বলেন, সমগ্র বিশ্ব বর্তমানে ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের আঘাতের মুখে পড়ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কেবল ট্রাম্পই সারা বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই বার্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি ওয়াশিংটনে এসেছেন। এ সময় জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ও উল্লেখ করেন এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটানোর নিন্দা জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ভয়েস অব আমেরিকার প্রধান কার্যালয়। ছবি: রয়টার্স
আদালতের নির্দেশে আবার সচল হচ্ছে ভয়েস অব আমেরিকা, সাংবাদিকদের পুনর্বহালের নির্দেশ

এক বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম Voice of America (ভয়েস অব আমেরিকা)। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দায়িত্ব নেওয়ার পর এক নির্বাহী আদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেন। তবে আদালত সেই সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন।   ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক Royce Lamberth গত মঙ্গলবার দেওয়া এক আদেশে বলেন, ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধ করে দেওয়া আইনের পরিপন্থী ছিল। একই সঙ্গে তিনি শত শত সাংবাদিককে পুনরায় কাজে বহাল করার নির্দেশ দেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যক্রম চালুর সময়সীমা বেঁধে দেন।   দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রোপাগান্ডার মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠিত এই গণমাধ্যমটি বন্ধ হওয়ার আগে প্রায় ৫০টি ভাষায় টেলিভিশন, রেডিও ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ ও তথ্যসেবা প্রদান করত।   ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন, ভয়েস অব আমেরিকার কনটেন্টে পক্ষপাত রয়েছে। একই সঙ্গে ‘রেডিও ফ্রি ইউরোপ’ ও ‘রেডিও ফ্রি এশিয়া’র মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।   এই প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি করে US Agency for Global Media। সংস্থাটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া Kari Lake দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮৫ শতাংশের বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করেন। ভয়েস অব আমেরিকায় এক হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারান।   তবে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, সিনেটের অনুমোদন না থাকায় ক্যারি লেকের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো বৈধ ক্ষমতা ছিল না। বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে ‘খামখেয়ালি’ বলেও মন্তব্য করেন বিচারক। ভয়েস অব আমেরিকার তিনজন সাংবাদিক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার রায়েই আদালত প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন।   মামলাকারীদের একজন প্যাটসি উইডাকুসওয়ারা রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাঁরা আশা করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার এই উদ্যোগ আবারও শক্তিশালীভাবে ফিরে আসবে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করবে। এদিকে, আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় পুনরায় হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান যদি ‘অযৌক্তিকভাবে একটি নিরীহ দেশ কাতার-এ হামলা করার সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে ইসরাইল সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে আর কোনো আক্রমণ চালাবে না।   নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, আবার হামলা হলে—ইসরাইলের সহায়তা থাকুক বা না থাকুক—সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রকে এত শক্তিশালী বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হবে, যা ইরান আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি।   তিনি আরও বলেন, ইরানের ভবিষ্যতের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথা বিবেচনা করে তিনি এমন মাত্রার সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ অনুমোদন দিতে চান না। তবে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনায় আবার হামলা হলে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবেন না।   এছাড়া তিনি দাবি করেন, সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলের আগের হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কাতার কেউই আগে থেকে কিছু জানত না। তার মতে, ইরান কাতারে হামলার সিদ্ধান্ত না নিলে ওই গ্যাসক্ষেত্রে আর কোনো হামলা হবে না।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প বললেন, ইরানে স্থল সেনা পাঠাতে ভীত নন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে যদি স্থল সেনা পাঠানো হয়, তবে পরিস্থিতি ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো জটিল হতে পারে—এমন সতর্কতা প্রদান করেছিলেন এক সাংবাদিক। তবে ট্রাম্প এই ধরণের ভয়কে অগ্রাহ্য করেছেন এবং বলেছেন, তিনি কোনো পরিস্থিতিতেই ভয় পান না।   ট্রাম্প বলেন, “সত্যি বলতে আমি কোনো কিছুতে ভীত নই। ইরানের বিষয়টি আমার কাছে দুই-তিন দিনের মধ্যে সমাধানযোগ্য ছিল। শুরুতেই আমরা তাদের নৌবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছি। এরপর বিমান বাহিনী এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে ধ্বংস করা হয়। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, আমরা তখন ইরানের আকাশসীমায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিলাম।”   বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করার এক অংশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
কাউন্টারটেররিজম প্রধানের পদত্যাগে সন্তুষ্ট ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্টের পদত্যাগকে ইতিবাচক হিসেবে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, কেন্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে যথেষ্ট সক্ষম ছিলেন না।   ট্রাম্প বলেন, যখন আমি কেন্টের দেওয়া বিবৃতি পড়ি, তখন মনে হয়েছে তার পদত্যাগ হওয়াটা ভালো হয়েছে। কারণ তিনি বলেছিলেন, ইরান কোনো হুমকি নয়। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক দেশই বুঝেছিল ইরান কতটা হুমকিপূর্ণ। প্রশ্ন হলো, তারা এ বিষয়ে কার্যকর কিছু করতে চায় কি না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ অভিযানে না বলায় ন্যাটোকে ‘বোকামি’ বললেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অনীহাকে ‘মারাত্মক বোকামি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ন্যাটোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান সত্ত্বেও মিত্র দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসছে না, যা তার কাছে বিস্ময়কর।   ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্রদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের রক্ষা করি, কিন্তু প্রয়োজনের সময় তারা আমাদের পাশে দাঁড়ায় না।” তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ায় ন্যাটো দেশগুলোর সহায়তা এখন আর প্রয়োজন নেই।   এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও ন্যাটোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, বেশিরভাগ মিত্র দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।   এ বিষয়ে European Union-এর ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান কাজা কাল্লাস জানান, চলমান সংঘাতে জড়ানোর কোনও আগ্রহ ইউরোপীয় দেশগুলোর নেই এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে অংশ নিতে চায় না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ডেমোক্র্যাট নেতা হাকীম জেফ্রিস
‘বেপরোয়া যুদ্ধ’ নীতি, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন ডেমোক্র্যাটরা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা হাকীম জেফ্রিস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।  ট্রাম্পের গৃহীত নীতিকে একটি ‘বেপরোয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী যুদ্ধ’ (War of choice) হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। জেফ্রিস অভিযোগ করেন যে, কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কংগ্রেসের পূর্বানুমতি ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন এই সংঘাত উস্কে দিয়েছে, যা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে যুদ্ধের পেছনে প্রতিদিন শত শত কোটি ডলার ব্যয় করা একটি কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, এই অঘোষিত যুদ্ধ মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। ডেমোক্র্যাটরা অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য এবং কংগ্রেসের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বার্তায় চরম বিশৃঙ্খলা, তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাগামহীন এবং স্ববিরোধী বক্তব্য এখন তার প্রশাসনের জন্য একটি বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন। এলমাসরির মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, তিনি বারবার তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি এমনও মন্তব্য করেছিলেন যে, "হয়তো আমাদের সেখানে (মধ্যপ্রাচ্যে) থাকাই উচিত ছিল না।" ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন—যদি সেখানে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির প্রয়োজনই না থাকতো, তবে এই যুদ্ধে প্রাণহানির দায়ভার কে নেবে? কেনই বা এই যুদ্ধের সূচনা করা হলো? অধ্যাপক মাসরি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিশৃঙ্খলা কেবল ট্রাম্পের একার নয়, বরং তার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যেমন হেগসেথসহ অন্যদের বক্তব্যেও ফুটে উঠেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই ধারাবাহিক ভুল যোগাযোগ এবং পরস্পরবিরোধী মন্তব্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক ভয়াবহ ‘মেসেজিং ক্রাইসিস’ বা বার্তা আদান-প্রদান সংক্রান্ত সংকটের রূপ নিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের উৎসাহের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেওয়া উচিত ছিল: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাজ্য-এর অবস্থান তাকে “খুবই বিস্মিত” করেছে। তার মতে, লন্ডনের আরও উৎসাহের সঙ্গে এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া উচিত ছিল।   ট্রাম্প বলেন, দুই সপ্তাহ আগে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-কে জাহাজ পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন। তবে স্টারমার তখন তা করতে আগ্রহ দেখাননি।   তিনি বলেন, “আমি তাকে বলেছিলাম, তোমরা আমাদের প্রাচীনতম মিত্র।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যের ইউক্রেনকে সহায়তার প্রচেষ্টাকে তিনি সমর্থন করেছেন।   ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্য একটি মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠাতেও রাজি ছিল না, যদিও তাদের কাছে দুটি বিমানবাহী রণতরী ছিল। তার দাবি, তিনি দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ সরকার সে বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি।   তিনি আরও বলেন, পরে স্টারমার মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে তখন যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছিল।   ট্রাম্প বলেন, “আমি যুক্তরাজ্যের ভূমিকায় সন্তুষ্ট ছিলাম না। আমি মনে করি তারা হয়তো অংশ নেবে, কিন্তু তাদের আরও উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেওয়া উচিত ছিল।”   সূত্র: বিবিসি নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে মিত্র দেশগুলোর অনাগ্রহে অসন্তোষ প্রকাশ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রমে অংশ নিতে কিছু মিত্র দেশের অনীহায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে কেনেডি সেন্টারের বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু দেশ আগ্রহী হলেও অনেকেই এই কার্যক্রমে অংশ নিতে অনিচ্ছুক। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই অনাগ্রহীদের মধ্যে এমন দেশও আছে যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে।   ইরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংকালে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু দেশ ইতিমধ্যেই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের মিত্র সত্ত্বেও অনেক দেশ কার্যক্রমে উৎসাহ দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে তাদের সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদান করেছে, কিন্তু সংকটের সময় তাদের সক্রিয়তা প্রত্যাশার তুলনায় কম।   এদিকে সোমবার কয়েকটি মার্কিন মিত্র দেশ জানিয়েছে, আপাতত তারা হরমুজ প্রণালি চালু রাখার জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৩০টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে, তবে নতুন মাইন স্থাপন হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নন।   যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ওই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি তেলসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিত্রদের নির্লিপ্ততা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না ইউরোপের কয়েক দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও গ্রিস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এ ধরনের কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের ও মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে পরিস্থিতির দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।   স্টারমারের এই বক্তব্য আসে ট্রাম্পের এক সতর্কবার্তার পর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা মিত্ররা যদি চলমান সংঘাতে সামরিক সহায়তা না দেয়, তাহলে পশ্চিমা সামরিক জোট NATO-এর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।   তবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় জার্মানি। বার্লিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে ন্যাটোর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, জার্মানি এই যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার কোনো অভিযানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও তাদের নেই।   একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে গ্রিসও। দেশটির সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কোনো সামরিক অভিযানে গ্রিস অংশ নেবে না।   এভাবে ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের অনীহার কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক উদ্যোগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব যুক্তরাজ্যের

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ মোতায়েন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকার ট্রাম্পের এই আচরণকে ‘অত্যন্ত লেনদেনমুখী’ বা হিসেবী হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বারবার করা দাবির প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে এটি একটি অস্বাভাবিক ও সোজাসাপ্টা মূল্যায়ন।   ব্রিটিশ কর্ম ও পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনুরোধ করলেই তাতে রাজি হতে যুক্তরাজ্য বাধ্য নয়। হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে জাহাজ সরবরাহ না করলে মিত্রদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকির জবাবে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘বাগাড়ম্বর’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আলাদা করে দেখা জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি একটি লেনদেনমুখী প্রেসিডেন্সি এবং এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যুক্তরাজ্যকে পথ খুঁজে নিতে হবে।   পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে জাহাজ পাঠানোর পরিবর্তে যুক্তরাজ্য বর্তমানে মাইন অপসারণকারী ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, ট্রাম্পের দাবি সরাসরি মেনে নিলে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ইরান আক্রমণে সরাসরি সমর্থনের অভাব দেখে ট্রাম্প বারবার তার সমালোচনা করে আসছেন। এমনকি স্টারমারকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, তিনি ‘উইনস্টন চার্চিল নন’।   ডাউনিং স্ট্রিট নিশ্চিত করেছে যে, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে কেবল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থায় সমর্থন দেওয়ার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। রোববার দুই নেতার ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হলেও, যুদ্ধের প্রধান পক্ষ হতে চায় না বলে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে যুক্তরাজ্য।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের হামলায় খামেনির বিমান ধ্বংস? নতুন করে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্য

তেহরানে মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ব্যবহৃত একটি বিমান ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে চালানো এই হামলার বিষয়ে আইডিএফ আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য প্রকাশ করেছে।   ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া বিমানটি খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের কাজে ব্যবহার করতেন।   আইডিএফ জানায়, ওই বিমানটি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতো। তাদের অভিযোগ, এই বিমান ব্যবহার করেই ইরান বিভিন্ন দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কাজ পরিচালনা করত।   ইসরায়েলের দাবি, বিমানটি ধ্বংস হওয়ার ফলে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রচেষ্টা এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছে।   গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির ব্যবহৃত বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল সরাসরি ইরানের নেতৃত্বের প্রতীকী সক্ষমতাকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।   তবে এ ঘটনার বিষয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ হামলার পর তেহরান কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছে বিশ্ব।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান চীনের
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিলম্বে ভুল বাণিজ্যনীতি সংশোধনের’ আহ্বান চীনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্যারিসে দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মার্কিন নতুন বাণিজ্য তদন্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চীন। সোমবার (১৬ মার্চ) বেইজিং ওয়াশিংটনকে তাদের ‘ভুল বাণিজ্যনীতি’ সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, একতরফা পদক্ষেপের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধ নিষ্পত্তি করা উচিত। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক ছলনা’ এবং ‘অত্যন্ত একতরফা ও বৈষম্যমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।   মার্কিন তদন্তের মূল লক্ষ্যসমূহ ওয়াশিংটন সম্প্রতি দুটি বড় ধরনের বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে, যা চীন-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে: বাধ্যতামূলক শ্রম ও মানবাধিকার: চীনসহ ৬০টি অর্থনীতির ওপর এই তদন্ত চালানো হচ্ছে। মূলত চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের ওপর জোরপূর্বক শ্রম খাটানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও বেইজিং এই অভিযোগকে ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। অতিরিক্ত শিল্প ক্ষমতা: চীনসহ ১৬টি বাণিজ্যিক অংশীদারকে লক্ষ্য করে এই তদন্ত করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীনের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন ক্ষমতা মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।   রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য সফর ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের কিছু ব্যাপক শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করার পর, এই নতুন তদন্তগুলো ওয়াশিংটনকে নতুন করে শুল্ক আরোপের আইনি সুযোগ করে দিতে পারে। এদিকে, ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাম্পের চীন সফরের কথা থাকলেও বেইজিং এখনও তা নিশ্চিত করেনি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে এই শীর্ষ বৈঠকটি পিছিয়েও যেতে পারে।   চীনের দাবি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্যারিসের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগ উত্থাপন করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ‘বাণিজ্য বাধা’ তৈরির চেষ্টা করছে। তারা ওয়াশিংটনকে মধ্যপন্থা অবলম্বন করার অনুরোধ জানিয়েছে যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব না পড়ে।   উভয় দেশের কর্মকর্তাদের এই আলোচনা বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব আর অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই বাণিজ্যিক স্নায়ুযুদ্ধ—সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ট্রাম্পের আহ্বান, সাড়া দেয়নি কোনো দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি ‘উন্মুক্ত ও নিরাপদ’ রাখতে চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই তাৎক্ষণিক সাড়া বা সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।   ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো যারা এই কৃত্রিম সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের উচিত ওই অঞ্চলে জাহাজ পাঠানো।” মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এনবিসি-কে জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে মিত্রদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছেন এবং চীনকে এই প্রক্রিয়ায় ‘গঠনমূলক অংশীদার’ হিসেবে পাওয়ার আশা রাখছেন। তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ কোনো সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত না দিয়ে জানিয়েছেন, চীন পরিস্থিতি শান্ত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে।   তেহরানের কৌশল ও ভারতের বিশেষ সুবিধা ইরান শুরু থেকেই স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্রদের জন্য বন্ধ, বাকি বিশ্বের জন্য এটি উন্মুক্ত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, অনেক দেশ তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য আবেদন করেছে এবং ইরানি সামরিক বাহিনী তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এই কৌশলে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে সফল আলোচনার পর শনিবার ভারতের দুটি গ্যাস ট্যাংকার নিরাপদে প্রণালিটি পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত যুক্তি ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান খুঁজছে।   থমকে আছে ১০০০ তেল ট্যাংকার ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি তেল ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০০০ তেল ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পার হতে না পেরে সাগরে আটকা পড়ে আছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। স্টিমসন সেন্টারের ফেলো বারবারা স্লাভিন মনে করেন, চীন মার্কিন আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না, কারণ ইরানের তেল চীনের কাছে নির্বিঘ্নে পৌঁছাচ্ছে। ইরান মূলত বেছে বেছে কেবল ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করছে।   যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে কার্যকর কোনো সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন প্রশাসন দ্রুত এই সংঘাত অবসানের আশা করলেও, সাগরে আটকা পড়া কয়েক কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা বজায় রেখেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: সংগৃহীত
‘বিজয় ঘোষণার সময় হয়নি’: ইরানে গণ-অভ্যুত্থান না হওয়ার কারণ জানালেন ট্রাম্প

ইরানে বড় ধরনের গণ-অভ্যুত্থান কেন দেখা যাচ্ছে না এ প্রশ্নের জবাবে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীনতাই দেশটিতে বড় আকারের আন্দোলন গড়ে ওঠার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব মন্তব্য করেন।   ইরানি নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী দেশজুড়ে এমন একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা বা প্রতিবাদ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, “আপনারা একদল সন্ত্রাসীর মোকাবিলা করছেন।”   তিনি অভিযোগ করেন, ইরান সরকার প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছে কেউ যদি প্রতিবাদে রাস্তায় নামে, তবে তাকে সরাসরি গুলি করা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কেন প্রকাশ্যে আন্দোলনে নামছে না, তা বোঝা কঠিন নয় বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।   এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর ট্রাম্প ইরানি জনগণকে রাজপথে নেমে তাদের সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই আহ্বানের পরও দেশটিতে বড় ধরনের গণ-আন্দোলন দেখা না যাওয়ায় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তার ব্যাখ্যা জানতে চান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে প্রস্তুত। জবাবে তিনি বলেন, এখনই এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় আসেনি।   ট্রাম্প বলেন, “আমি এখনই নিজেকে বিজয়ী বলতে চাই না। তার কোনো প্রয়োজনও নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, ইরানের নেতৃত্ব এখন বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।”   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এসব বক্তব্য ইরানের ওপর মার্কিন চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ইরানি জনগণের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের সমর্থনের বার্তা হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগানোর চেষ্টা করা হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি। ছবি: এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া।
‘ইরান যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প’: মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, আর এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি সতর্ক করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।   মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধ পুরো অঞ্চলকে সহিংসতার এক ভয়ঙ্কর চক্রে ঠেলে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, ট্রাম্প যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি মারাত্মক ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন জ্বলছে।   সিনেটর মারফি হরমুজ প্রণালির সংকটকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই সরু নৌপথের মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশের বেশি পরিবাহিত হয়। তিনি বলেন, ট্রাম্প বিশ্বাস করেছিলেন ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করবে না। তিনি ভুল ছিলেন। এখন তেলের দাম আকাশচুম্বী।   মারফি আরও সতর্ক করেছেন যে ইরানের ড্রোন, স্পিডবোট ও সামুদ্রিক মাইনগুলোর বিস্তৃতি এই জলপথকে নিরাপদ রাখা কঠিন করে তুলেছে। তিনি বলেছেন, এই অস্ত্রগুলো নির্মূল করা সম্ভব নয়, এগুলো সংখ্যায় অনেক এবং লুকানো অবস্থায় রয়েছে।   তিনি ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরান এই অঞ্চলের তেলক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকাল ধরে হামলা চালাতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধ ইতিমধ্যে দেখিয়েছে কীভাবে ড্রোন আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহের ধরন বদলে দিয়েছে।   মারফি সতর্ক করেছেন যে, পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপের মধ্যে আছে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, লেবাননে ইরানের মিত্ররা ইসরায়েল ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যা বড় ধরনের স্থল অভিযান এবং নতুন সংকটের কারণ হতে পারে।   সিনেটর বলেন, “ট্রাম্পের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। ইরান এবং তার সমর্থিত গোষ্ঠী অনির্দিষ্টকাল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। মিথ্যা বিজয় ঘোষণা করলে, নতুন কট্টরপন্থীরা সবকিছু পুনর্গঠন করবে।” মারফি পরিশেষে প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে এখনই বুদ্ধিমানের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে আরও বড় বিপর্যয় দেখা দেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0