ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি-এর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের পর এবার তার প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার দিকে নজর দিতে চায়। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট লি নিশ্চিত করেন, ট্রাম্প তাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এবার উত্তর কোরিয়া ইস্যুর দিকে নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার সময় এসে গেছে। বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানান যে, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো বর্তমানে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা মারাত্মক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে গেছে বলে মনে করেন লি। তার মতে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা সামান্য সামরিক বা অর্থনৈতিক সহায়তাও বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনছে। এদিকে, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠকের একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিটির সঙ্গে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য যুক্ত না করলেও, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পোস্ট ঘিরে নতুন জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের অগ্রগতির পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার দিকে তাদের পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক মনোযোগ নিবদ্ধ করতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরিয়া যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তির বদলে কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে দুই দেশ কেবল একটি সুনির্দিষ্ট অসামরিকীকৃত সীমান্ত অঞ্চলের (ডিএমজেড) মাধ্যমে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। জি-৭ সম্মেলনের একটি ছবি তোলার জন্য মেলোনি তার কাছে ‘মিনতি’ করেছিলেন—ট্রাম্পের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার জের ধরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের শুরুতে নির্ধারিত তার মার্কিন সফর বাতিল ঘোষণা করেছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছিল, এই প্রকাশ্য বিরোধের মাধ্যমে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জর্জিয়া মেলোনিকে বেশ আন্তরিকভাবে সোফায় বসে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল এবং মেলোনি তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে তাদের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে সম্মেলন শেষে ইতালির ‘লা সেভেন’ টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য রীতিমতো মিনতি করেছিলেন এবং দয়া পরবশ হয়ে তিনি সেই অনুরোধে রাজি হন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালীয় ভাষায় ডাব করে প্রচার করার পর পুরো ইতালিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের সাত মিলিয়ন অনুসারীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় মেলোনি ট্রাম্পের এই দাবিতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে তিনি স্তব্ধ। মেলোনি প্রশ্ন তোলেন, কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিত্রদের সাথে এমন আচরণ করছেন। ট্রাম্পের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে পশ্চিমা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প এমন দৃঢ়তা দেখাতে পারেন না, উল্টো সেসব দেশের স্বৈরশাসকদের প্রতি তাকে অনেক বেশি নমনীয় দেখা যায়। একই সাথে ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেলোনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিনি নিজে বা ইতালি রাষ্ট্র—কেউ কখনো কারও কাছে ভিক্ষা বা মিনতি করে না। এই ঘটনার পর ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জোয়ার বইছে। ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ফোন করে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে বিরোধী দলগুলোর নেতারাও মেলোনির পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেন্সি বলেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সাথে এমন অহংকারী ভাষায় কথা বলার অধিকার কারও নেই। অন্যদিকে ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জুসেপ্পে কন্তে মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটনের অনুগ্রহ পাওয়ার চেষ্টা কখনোই জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থের মূল্যে হওয়া উচিত নয়। মেলোনির দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি'-র সিনেট নেতা লুসিও মালান বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত তার নিজের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করছে এবং ওয়াশিংটনের অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মেলোনির ‘না’ বলার সাহসী অবস্থানের কারণেই ট্রাম্প সম্ভবত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একই সুর মিলিয়ে মেলোনির সরকারি মিত্র মাত্তেও সালভিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেলোনির ওপর আক্রমণ মানে পুরো ইতালির ওপর আক্রমণ। ২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়া জর্জিয়া মেলোনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি দেশগুলো তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু মনে করত। তবে ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করায় গত এপ্রিল মাস থেকেই ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। এছাড়া, সম্প্রতি পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তিকর মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন মেলোনি, যা দুই নেতার বর্তমান বৈরিতাকে আরও উসকে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) বিল পুল্টে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের একদিন আগেই অফিসে হাজির হয়ে কর্মীদের তালিকা চেয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ওডিএনআই) থেকে শত শত কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি বিবেচনা করছেন তিনি। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পুল্টের আকস্মিক উপস্থিতি ওডিএনআই কর্মকর্তাদের বিস্মিত করে। এমনকি বিদায়ী জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডও তার এই সফর সম্পর্কে অল্প সময় আগে অবহিত হন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, পুল্টে শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুল্টে আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি ব্রিফিংয়ে তিনি প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফ (পিডিবি) বাসায় নেওয়া সম্ভব কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। পিডিবি হলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সর্বোচ্চ গোপনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সংকলন। একই ব্রিফিংয়ে তিনি নিজের নিরাপত্তা ছাড়পত্রের স্তর, টপ-সিক্রেট অনুমোদন এবং সরকারি বিমান ব্যবহারের সুযোগ সম্পর্কেও জানতে চান বলে সূত্রগুলোর দাবি। তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পিডিবি বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতেও সরবরাহ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই পুল্টে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা টিম চেয়েছিলেন এবং সরকারি বিমানের সুবিধা নিয়ে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ওয়াশিংটন, ফ্লোরিডা ও শিকাগোর মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতের বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন বলে জানা গেছে। ৩৮ বছর বয়সী বিল পুল্টে এর আগে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা গোয়েন্দা সংক্রান্ত কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই দেশের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তদারকির দায়িত্ব পাচ্ছেন। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তার যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভিযোগের তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজেও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পুল্টে নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করতে আগ্রহী। এদিকে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান পদে ট্রাম্পের স্থায়ী মনোনীত প্রার্থী জে ক্লেটনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় পুল্টে প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ডিজাইন ও তৈরির জন্য ইনটেল কর্পোরেশনের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণার পরপরই বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিশ্ব শেয়ার বাজারে ইনটেল কর্পোরেশনের শেয়ারের দাম হু হু করে রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে শেয়ার বাজার খোলার পরপরই ইনটেলের প্রতিটি শেয়ারের দাম ১২ দশমিক ৭২ ডলার বা ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৩৩ দশমিক ৮২ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। এই চুক্তি বা অংশীদারিত্বের বিষয়ে অ্যাপল তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে ইনটেল কর্পোরেশন জানিয়েছে যে তারা অ্যাপলের সাথে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি নিয়ে এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করবে না। ইনটেলকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পোস্টটি এমন এক সময়ে এলো যার ঠিক ৯ মাস আগে গত বছরের আগস্টে তিনি একটি চুক্তি করিয়েছিলেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইনটেলের ১০ শতাংশ মালিকানা বা শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। সে সময় সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল এবং নিরপেক্ষ থিংক ট্যাংক সংস্থা ক্যাটো ইনস্টিটিউট বিষয়টিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নজিরবিহীন মালিকানা প্রতিষ্ঠা হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তবে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরকারের সেই বিনিয়োগের বিশাল সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ইনটেলের বাজারমূল্য গত আগস্টের ১০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, মাত্র ৯ মাসে কোম্পানিটির মূল্য প্রায় আধা ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বেড়েছে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা ১০ শতাংশ শেয়ারের মূল্য এখন ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। শেয়ার বাজারের তথ্য অনুযায়ী, এই ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকারই এখন ইনটেলের একক বৃহত্তম অংশীদার। এর পরেই রয়েছে ভ্যানগার্ড এবং ব্ল্যাকরকের মতো বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, যাদের প্রত্যেকের কাছে ইনটেলের প্রায় ৬ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইনটেলের সাথে এই চুক্তি অ্যাপলকে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা আরও বহুমুখী করতে সাহায্য করবে। এর ফলে চিপ সরবরাহের জন্য অ্যাপলকে তাদের প্রধান বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি' বা টিএসএমসি-র ওপর আগের চেয়ে অনেক কম নির্ভর করতে হবে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে অ্যাপলের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনবে।
বিজ্ঞান ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের তীব্র আপত্তি এবং মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কঠোর বিরোধিতার মুখে অবশেষে সুর নরম করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। গভীর সমুদ্রের তথ্য সংগ্রহের জন্য চালিত ৩৬৮ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রকল্প বন্ধ বা স্ক্র্যাপ করার সিদ্ধান্ত থেকে তারা পিছু হটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (NSF) ঘোষণা করেছে যে, তারা ‘ওশেন অবজারভেটরিজ ইনিশিয়েটিভ’ (OOI) নামক এই সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাটি বন্ধ করার পরিকল্পনা এখনই স্থগিত করছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, "তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সমুদ্র থেকে কোনো যন্ত্রপাতি আর সরানো হবে না এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যক্রম সচল রাখা হবে। এই প্রজেক্টের তথ্যের ওপর যারা নির্ভরশীল, তাদের সবার উদ্বেগকে আমরা সম্মান জানাই।" এই প্রজেক্টের অধীনে সমুদ্রের ভেতর ৯০০টিরও বেশি বৈঞ্চানিক যন্ত্রপাতি বসানো রয়েছে, যা সমুদ্রের স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক স্রোতের গতিপ্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্যের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে। উত্তর ক্যারোলিনা, ওরেগন, ওয়াশিংটন ও আলাস্কা উপকূলের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মধ্যবর্তী সাগরে এই পর্যবেক্ষণ যন্ত্রগুলো বসানো আছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছিলেন যে, এই প্রজেক্টটি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক ঝড় এবং তীব্র আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়বে এবং বিজ্ঞানীরা জলবায়ু সংকটের খোঁজখবর রাখতে গিয়ে একপ্রকার "অন্ধের মতো" চলবেন। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঠিক একদিন আগে মার্কিন সিনেটে এই প্রজেক্টটি বাঁচানোর জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক বিলও পাস হয়। ওরেগনের ডেমোক্র্যাট জেফ বার্কলে এবং আলাস্কার রিপাবলিকান লিসা মুরকোস্কি এই বিলটি উত্থাপন করেন। সিনেটর জেফ বার্কলে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের সিদ্ধান্তকে "চরম বোকামি" বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করত এবং জলবায়ুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পথ বন্ধ করে দিত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেশ কিছু বিজ্ঞান ও জলবায়ু বিষয়ক প্রজেক্ট বন্ধ বা কাটছাঁট করার উদ্যোগ নেয়, যা নিয়ে পরিবেশবাদী ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে আগে থেকেই তীব্র ক্ষোভ ছিল।
ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি ইহুদি ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত হেরোডিয়াম ন্যাশনাল পার্কে অনুষ্ঠিত এক বসতি স্থাপনকারী সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘মা’রিভ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জুডেয়া ও সামারিয়ায় ইসরায়েলি ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসরায়েলপন্থী নেতা ও কর্মীরা অংশ নেন। ‘জুডেয়া ও সামারিয়া’ হলো পশ্চিম তীরের জন্য ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত একটি বাইবেলীয় পরিভাষা। সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাকাবি বলেন, “আমার ভূমিকা শুধু ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েলের গুরুত্ব তুলে ধরাও।” ইসরায়েলি ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহুকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে আপনাদের ঐতিহ্য, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রেরও ঐতিহ্য। ইসরায়েল ছাড়া, ইহুদি ভিত্তি ছাড়া, আমেরিকা থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, “এই ভূমিতে যা ঘটেছিল, তার কাছেই আমরা আমাদের অস্তিত্বের জন্য ঋণী।” ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা হাকাবি এই মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প সেদিন বলেন, “আমি এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না।” হাকাবির বক্তব্য এবং ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে আয়োজিত একটি বসতি স্থাপনকারী সম্মেলনে এমন বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘দেবদূতের মতো ভদ্র’ কিন্তু বাস্তবে ‘টোটাল কিলার’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, মোদিকে বাইরে থেকে যতটা ভদ্র ও শান্ত মনে হয়, বাস্তবে তিনি ততটাই কঠোর এবং দক্ষ দরকষাকষিকারী। তার ভাষায়, মোদি একজন ‘টোটাল কিলার’, যা তিনি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মানুষটিকে দেখুন। আমি আপনাদের একটি শিক্ষা দিই। তিনি সবচেয়ে সুন্দর চেহারার মানুষদের একজন। তাকে দেখতে এতটাই ভদ্র ও শান্ত লাগে, যেন একজন দেবদূত। কিন্তু বাস্তবে তিনি টোটাল কিলার। তবে তাকে দেখতে এত ভালো লাগে যে তিনি আপনাকে অবাক করে দেন। এমন মানুষ খুব কমই আছে।’ তিনি আরও বলেন, মোদি একজন ‘খুবই কঠিন’ নেতা এবং দক্ষ দরকষাকষিকারী। পাশাপাশি তিনি ভারতীয় জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যতদিন প্রেসিডেন্ট আছি, ভারত হোয়াইট হাউসে একজন সত্যিকারের বন্ধুকে পাবে। ভারতকে সবাই ভালোবাসে এবং এই নেতার প্রতি অসাধারণ শ্রদ্ধা রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পাচ্ছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল বিনিয়োগ আসছে এবং বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। এ সময় তিনি ২০১৯ সালে হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ‘হাউডি মোদি’ সমাবেশের কথাও উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে ভারত সফরের ইঙ্গিত দেন। অন্যদিকে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকা জরুরি বলে উল্লেখ করেন। মোদি বলেন, ‘এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন আশা জেগে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি, এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করবে।’ তিনি আরও বলেন, ভারত সবসময় নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা উচিত। সূত্র: এনডিটিভি
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনের বিষয়ে তার প্রচেষ্টায় তারা কোনো বাধা সৃষ্টি করেননি। ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তাদের জন্য পরিস্থিতি আরো উন্নত হয়েছে।’ ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি কৃতজ্ঞ। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তার সঙ্গেই ছিলাম। তিনি নিরপেক্ষ, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন এবং আমি এর প্রশংসা করি। আমি ভ্লাদিমির পুতিনকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই; তিনি খুবই নিরপেক্ষ ছিলেন। তারা আমাদের জন্য পরিস্থিতি আরো অনেক কঠিন করে তুলতে পারতেন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ও রাশিয়া চাইলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারত। তবে তারা তা না করে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছে মন্তব্য করেছেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সামলানো কঠিন। তিনি বলেছেন, নেতানিয়াহু ‘সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান’। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের বলেছেন, নেতানিয়াহু তার কাছে ‘চমৎকার’ একজন ব্যক্তি মনে হলেও অনেক সময় তিনি সীমা অতিক্রম করে ফেলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া বেশির ভাগ ফোনালাপেই নেতানিয়াহু নতুন সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব আলোচনায় ট্রাম্প ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা বলেন, “বিবি (নেতানিয়াহু) প্রেসিডেন্টকে বোঝান কেন কোনো স্থানে হামলা চালানো প্রয়োজন, কেন ইসরাইলি গোয়েন্দারা তা করতে সক্ষম এবং কখন তা করা উচিত। প্রেসিডেন্ট এসব শোনেন। প্রায় প্রতিটি ফোনালাপ একই ধরনের হয়।” প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও সামরিক অভিযান ও আঞ্চলিক সংঘাত মোকাবিলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে নেতানিয়াহুর সামরিক কৌশল নিয়ে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির কথাও উঠে এসেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ ঘটায়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভুল হয়ে থাকে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ওই কাজ করেনি। যুদ্ধে ভুল হয়েই থাকে। যুদ্ধ খুবই নিষ্ঠুর। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই মিনাবের ওই বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় ১৭৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন। এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হতে পারে। তদন্তের পরিধি ইতোমধ্যে বাড়িয়েছে পেন্টাগন। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ বা স্বীকার করেনি। হামলার পরপরই ট্রাম্প কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই এর জন্য ইরানকে দায়ী করেছিলেন। পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ফলাফল তিনি মেনে নেবেন। গত মাসে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান জানান, তদন্ত প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কারণ, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়টি ইরানের একটি সক্রিয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সীমানার ভেতরে অবস্থিত। তবে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিদ্যালয়টির সংরক্ষিত ওয়েবসাইট তথ্য অনুযায়ী, এটি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর একটি স্থাপনার পাশেই অবস্থিত ছিল। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন কর্মকর্তারা সম্ভবত পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সহযোগিতা ও নেতৃত্ব চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সংঘাত নিরসনে ট্রাম্প যেভাবে কূটনৈতিক ভূমিকা রেখেছেন, ঠিক একইভাবে তিনি যেন উত্তর কোরিয়া ইস্যুতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এবার ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়া সংকটের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে। এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছেন খোদ ট্রাম্প নিজেই। ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের একটি ছবি পোস্ট করেন, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। সিউলের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় (ব্লু হাউস) জানিয়েছে, বৈঠকে ট্রাম্প অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সমাধানের মতোই উত্তর কোরিয়া সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানেও আপনি নেতৃত্ব দিন।" জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টও উত্তর কোরিয়া ইস্যুটির স্থায়ী সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে তার পূর্বসূরি ইউন সুক-ইওলের কঠোর অবস্থানের বিপরীত হেঁটে তুলনামূলক নমনীয় ও আলোচনার নীতি অনুসরণ করছেন। যদিও পিয়ংইয়ং এখন পর্যন্ত সিউলের এই শান্তি উদ্যোগগুলোতে ইতিবাচক সাড়া না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে, তবুও ট্রাম্পের সম্ভাব্য মধ্যস্থতা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় এনে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে এক অভিনব উদ্যোগ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ মালিকদের জন্য নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা স্কোয়াড বা এসকর্ট দেওয়ার একটি ‘ভিআইপি পাস’ ব্যবস্থা নিয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা চলছে। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বর্তমানে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো বীমা সুবিধা পাচ্ছে না। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং জাহাজ মালিকদের প্রণালীটি ব্যবহারের ঝুঁকি নিতে আগ্রহী করতেই এই বিশেষ পাস চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। জ্বালানি খাতের দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে পলিটিকো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় জাহাজ মালিকরা নির্দিষ্ট ফি বা টোল পরিশোধের মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়সহ দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। এক কর্মকর্তার ভাষায়, ‘এটি হবে মূলত একটি ভিআইপি পাসের মতো, যেখানে অর্থের বিনিময়ে শতভাগ নিরাপদ ও দ্রুত ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’ সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই কৌশলী প্রস্তাবের পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি মূলত ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা দায়িত্বের একটি অংশ চাপিয়ে দিতে চান। তার মতে, হরমুজ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পুরো দায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একা নেওয়া উচিত নয়। চলমান জি-৭ সম্মেলনের সময় ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই আলোচনা সামনে এনেছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি আদায়ের অধিকার একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই থাকা উচিত, ইরানের নয়। তবে হোয়াইট হাউসের বর্তমান মুখপাত্র টেলর রজার্স এই ফি আদায়ের আলোচনাকে ‘ভিত্তিহীন জল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের জোরালো উদ্যোগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও টোলমুক্ত থাকবে এবং খুব দ্রুতই জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। বর্তমানে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় অনেক জাহাজ মালিক এখনো পারস্য উপসাগরে অপেক্ষার অবস্থানে রয়েছেন। পণ্যবাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর বাইরে পারস্য উপসাগরে প্রায় ৫০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যার মধ্যে অন্তত ২২০টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ইতিবাচক খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
ইসরাইলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার অস্তিত্বের জন্য ইসরাইলের কাছে ঋণী। তার এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিপরীত অবস্থান তৈরি করেছে। হাকাবি ইসরাইলে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ইহুদি ভিত্তি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকত না এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস গঠনে এই ভূমির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। তার ভাষায়, “ইহুদি ভিত্তি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকত না। যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য এই ভূমির ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।” অন্যদিকে, এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরাইল টিকে থাকতে পারত না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, “আমি যা করেছি, তা করতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট ইচ্ছুক ছিলেন না।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত হাকাবির মন্তব্যের অবস্থান ভিন্নতা তৈরি করেছে। একদিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে হাকাবি যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি গঠনে ইসরাইলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। এই বক্তব্যগুলোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের পারস্পরিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন জয় করলেও একই সময়ে রাজ্যের অন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্প সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য ও ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্য মাইক কলিন্স ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে আগামী নভেম্বরে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গভর্নর নির্বাচনে ট্রাম্প ও কেম্প উভয়ের সমর্থন থাকা প্রার্থী জনসন পরাজিত হয়েছেন স্ব-অর্থায়িত ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনের কাছে। জর্জিয়ার রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ মূলত ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের একটি অঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেম্প সমর্থন দিয়েছিলেন সাবেক ফুটবল কোচ ডেরেক ডুলিকে, যিনি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি অবস্থান থেকে প্রচারণা চালান। অন্যদিকে, ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে মাইক কলিন্সকে সমর্থন দেন। কলিন্স নিজেকে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা MAGA আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করেন। ট্রাম্প এক ফোনালাপে বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে জর্জিয়ায় তার পরাজয় নিয়ে কেম্পের অবস্থান নিয়ে তিনি এখনো অসন্তুষ্ট, যা এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ আগামী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তার প্রচার তহবিলে বর্তমানে প্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার রয়েছে, যা রিপাবলিকান প্রার্থী কলিন্সের তুলনায় অনেক বেশি। অসফকে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী নভেম্বরে এই নির্বাচনের ফলাফলই তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গভর্নর নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন স্ব-অর্থায়নে ৯১ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রচারণা ব্যয় করে রিপাবলিকান মনোনয়ন জয় করেন। তিনি ট্রাম্প ও কেম্প সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন। জ্যাকসন নিজেকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একজন ‘আউটসাইডার’ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং প্রচারণায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেন। তিনি এখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক আটলান্টা মেয়র কেশা ল্যান্স বটমসের মুখোমুখি হবেন। চলতি বছরে ট্রাম্প সমর্থিত একাধিক প্রার্থীর পরাজয়ের প্রবণতা সামনে এসেছে। এর আগে আইওয়া ও টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় হেরে যান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সমর্থন এখনো রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশে প্রভাব ফেললেও সব ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত জয় এনে দিচ্ছে না। জর্জিয়ার এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য সমীকরণেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে জর্জিয়ার মতো সুইং স্টেটগুলোতে ভোটার বিভাজন এবং দলীয় প্রভাব ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গ পাঠ দ্রুত প্রকাশের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তির লিখিত ভাষাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এতে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আড়ালের সমঝোতা বা ‘ব্যাক-চ্যানেল’ অঙ্গীকারগুলোর প্রতিফলন নেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির পাঠ ইচ্ছাকৃতভাবে বেশ অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সামনে শুরু হতে যাওয়া জটিল ও কারিগরি পর্যায়ের সরাসরি আলোচনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। একই সঙ্গে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে ইরান নিজ দেশের জনগণের কাছে চুক্তিটিকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যে দেড় পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকের কথা বলেছেন, তাতে ইরানের দেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের উল্লেখ নেই। তাদের দাবি, এসব প্রতিশ্রুতিই যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে সম্মত হতে অতিরিক্ত আস্থা জুগিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “এমওইউর ভাষা নিয়ে মানুষের বেশি কিছু অনুমান করা উচিত নয়।” তিনি চুক্তিটিকে মূলত একটি “রাজনৈতিক দলিল” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “আসল দলিলের চেয়ে আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়াগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা করা এবং জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হবে।” তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনায় অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও তহবিল ছাড় করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও শর্ত নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এসব সুবিধা কার্যকর হবে না। চুক্তির পাঠ দেখেছেন এমন একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, এতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই ইউরেনিয়াম ধ্বংসের প্রক্রিয়া তদারকি করবে। চুক্তিতে কেবল বলা হয়েছে, ইরান “কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না”। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিতেও তেহরান একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, আনুষ্ঠানিক নথিতে না থাকলেও গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশিত কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সমন্বয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়টিও রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। চুক্তির আর্থিক অংশে তুলনামূলকভাবে বেশি বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হলে ভবিষ্যতে ইরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন তহবিল থেকে সুবিধা পেতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দুজনই জোর দিয়ে বলেছেন, এই তহবিলে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হবে না। ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের বিষয়েও চুক্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ আলোচনায় অগ্রগতি হলে এসব সম্পদ ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে এবং ইরানের জন্য সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারযোগ্য করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রি করতে পারবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞা ছাড়পত্রও যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করবে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিটি পুরোপুরি “কর্মসম্পাদনভিত্তিক”। ইরান কেবল তখনই এর সুবিধা পাবে, যখন তারা চুক্তির সব শর্ত মেনে চলবে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরপেক্ষ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বাধা না দেওয়া। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ না হলেও এর কপি ইতোমধ্যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় ও অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘুরছে বলে জানা গেছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন দেশের নেতা ট্রাম্পের কাছে চুক্তির কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছেন বলে জানা যায়। চুক্তির গোপনীয়তা নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের জানতে চাওয়া, ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তি কেন এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি প্রকাশ করতে চায়। তবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে প্রকাশের সময়সূচি সমন্বয় করা হচ্ছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কাতার ও পাকিস্তান পুরো আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তারা চেয়েছে চুক্তি প্রকাশের প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হোক।” সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা দ্রুত চুক্তির পাঠ প্রকাশ করতে আগ্রহী হলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার প্রতি কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই চুক্তির পাঠ প্রকাশ করা হোক। তারা আমাদের শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছে। তবে আমরা এর আগেই প্রকাশের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছি।” কর্মকর্তাদের মতে, বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির অবস্থান। তিনি সমঝোতা স্মারকে নীরব সমর্থন দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে তিনি কোনো বিবৃতি দেবেন কি না, তা নিয়েও তেহরানে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি একটি “আনুষ্ঠানিক পরিবেশে” চুক্তিটি প্রকাশ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলিলটির বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি এতটাই সন্তুষ্ট যে চাইলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে শব্দে শব্দে তা পড়ে শোনাতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা প্রথম পর্বের তুলনায় অনেক সহজ হবে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমাকে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা “পরীক্ষামূলক পর্ব” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, এই সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন মূল্যায়ন করবে ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কতদূর ছাড় দিতে প্রস্তুত। একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা মূলত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়েই বেশি মনোযোগী। শেষ পর্যন্ত আস্থা তৈরি এবং বাস্তব বিষয়গুলোতে অগ্রগতি অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এই যুদ্ধ 'অতিরিক্ত দীর্ঘ' হয়েছে এবং এর ফলে অসংখ্য বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। মঙ্গলবার ফ্রান্সে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, "ইসরায়েল অনেক দিন ধরেই হিজবুল্লাহর সাথে লড়ছে এবং এতে বহু মানুষ মারা গেছে।" এত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, "কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ওই ভবনগুলোতে এমন অনেক মানুষ থাকেন, যাদের সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নন।" তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইসরায়েল যদি বাকি সাধারণ মানুষকে হত্যা না করে তাদের অভিযান পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই লড়াইয়ে তাদের বদলে সিরিয়ার এগিয়ে আসা উচিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, লেবাননে হিজবুল্লাহর মোকাবিলা করার জন্য তিনি ইসরায়েলকে সিরিয়ার হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এড়িয়ে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে দামেস্ক আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে। সিরিয়ার বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর দেশটির নতুন প্রশাসন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আহমেদ আল-শারা। সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং আরও কয়েকজনের সহায়তায় সিরিয়ার নেতৃত্ব দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে 'অসাধারণ কাজ' করছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, "তিনি হয়তো নিষ্কলঙ্ক কোনো সাধু ব্যক্তি (স্কাউট বয়) নন, তবে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অসাধারণ কাজ করেছেন এবং তিনি খুবই দক্ষ।" ট্রাম্পের এই মন্তব্য সিরিয়ার নেতৃত্বের প্রতি ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান আস্থারই ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, প্রতিবেশী লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রভাব খর্ব করার ক্ষেত্রে দামেস্ককে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে পরিবর্তনেরও স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত খবরকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো অর্থ দেবে না এবং এ ধরনের খবর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে না। তার ভাষায়, “আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে, এমন খবর ভুয়া। এটি ডেমোক্র্যাটরা ছড়িয়ে থাকতে পারে।” তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, ইরানের জন্য জব্দকৃত সম্পদ ছাড়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং সম্ভাব্য পুনর্গঠন সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ওই কর্মকর্তার মতে, প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করছে তার ওপর। এ বিষয়ে সোমবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স সম্ভাব্য তহবিল প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে সহায়তার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের সদস্য দেশগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও এক কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আলোচিত সমঝোতা কাঠামোর খসড়ায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলের একটি সম্ভাব্য ধারা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের সমঝোতা স্মারক, চূড়ান্ত চুক্তি নয়। তাদের মতে, প্রকৃত কারিগরি আলোচনা শুরু হবে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এবং সেখানে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইরান কোনো নগদ অর্থ পাচ্ছে না এবং চুক্তি স্বাক্ষরের বিনিময়ে কোনো সরাসরি তহবিল ছাড় দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, চুক্তির কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগ অগ্রাধিকার পায় এবং শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভবিষ্যতে সীমিত অর্থনৈতিক সুবিধার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব এশীয়-আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জীয় (এএপিআই) জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্টভাবে পড়েছে বলে নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষ জানিয়েছেন, তারা নিজেরা অথবা তাদের পরিচিত কেউ অভিবাসন-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন। এএপিআই ডাটা এবং দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, অনেক এশীয়-আমেরিকান এখন আর যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসীদের জন্য আগের মতো সুযোগের দেশ বলে মনে করেন না। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, গত এক বছরে তারা বা তাদের পরিচিত কেউ আটক বা বহিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছেন, নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন নথি সঙ্গে বহন শুরু করেছেন, ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন অথবা অভিবাসন উদ্বেগের কারণে দৈনন্দিন রুটিন বদলেছেন। কয়েক মাস ধরে অভিবাসন আইন প্রয়োগে কড়াকড়ি বৃদ্ধির পর এই ফলাফল সামনে এলো। এর ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জন এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, একসময় যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের জন্য বড় সুযোগের দেশ ছিল, কিন্তু এখন আর তা নেই। মাত্র ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৩ জন এখনো মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের জন্য একটি চমৎকার গন্তব্য। অন্যদিকে ৫ শতাংশের মত, দেশটি কখনোই অভিবাসীদের জন্য আদর্শ সুযোগের জায়গা ছিল না। এএপিআই ডাটার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কার্তিক রামকৃষ্ণান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের গল্প অভিবাসীদের অবদানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। যারা কয়েক দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন, তারাও যখন বলতে শুরু করেন যে এটি আর সেরা দেশ বলে মনে হচ্ছে না, তখন সেটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত।” জরিপে দেখা গেছে, বৈধ অভিবাসী বা নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাও সাম্প্রতিক নীতিমালার প্রভাব অনুভব করছেন। যদিও বিভিন্ন ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি অভিবাসন-সংক্রান্ত পদক্ষেপ স্থগিত করেছে, তবুও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ কমেনি। আদালত যেসব পদক্ষেপ আটকে দিয়েছে, তার মধ্যে কিছু ভিসা ফি বৃদ্ধি এবং এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অভিবাসন আবেদন সীমিত করার উদ্যোগও ছিল। ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এবং বর্তমানে নাগরিকত্ব পাওয়া ২৭ বছর বয়সী খোয়া ত্রান বলেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি ও তাঁর স্ত্রী এখন নিয়মিত নাগরিকত্ব ও অভিবাসন নথি সঙ্গে রাখেন। তিনি আরও বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ভিসা-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশ সফর পিছিয়ে দিতে দেখেছেন। জরিপে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক এমন কাউকে চেনেন, যিনি গত এক বছরে নাগরিকত্ব বা বৈধ অবস্থানের প্রমাণপত্র সঙ্গে বহন করা শুরু করেছেন। এ হার সামগ্রিক এএপিআই জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি। রামাকৃষ্ণনের মতে, অনেক বৈধ অভিবাসী ও স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষও এখন মনে করছেন, তাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জরিপে পরিচয়বোধ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি বলেছেন, তাঁদের পারিবারিক শিকড়, বংশপরিচয় বা পূর্বপুরুষের দেশের পরিচয় তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তুলনায় ৪৪ শতাংশ বলেছেন, ‘আমেরিকান’ পরিচয় তাঁদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাসাচুসেটসের ২২ বছর বয়সী অ্যাবিগেল জেয়রাজ , যার বাবা-মা ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন, বলেন তিনি নিজেকে ‘দক্ষিণ এশীয়-আমেরিকান’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাঁর পরিবার যে সুযোগ পেয়েছে, সেটির মূল্য দেন। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়া সুনহো কোওন বলেন, তিনি কোরীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের জীবন ও সমাজের প্রতিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৭৩ শতাংশ এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মিশ্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর আগে পরিচালিত একটি এপি-এনওআরসি জরিপে সব মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। অনেক উত্তরদাতা বলেছেন, অভিবাসন ও বৈচিত্র্যবিষয়ক চলমান বিতর্ক তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) তার এবং তার স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউজমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই অভিযোগ করেন। মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজম তদন্তের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফেডারেল এজেন্টরা তার পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং সাবেক কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তার ভাষায়, “কোনো অপরাধ খোঁজার কারণে নয়, বরং একটি অপরাধ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করছে এবং গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বছরের পর বছর পুরোনো রেকর্ড খোঁজা হচ্ছে। নিউজমের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্য করছেন, কারণ তিনি ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন। নিউজম বলেন, “ট্রাম্প আমার টুইটের কারণে নয়, বরং তিনি জানেন আমি তার মিথ্যা ও প্রতারণা প্রকাশ করেছি, সেই কারণেই তিনি আমার পেছনে লেগেছেন।” ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প, আপনি চাইলে আমার নথি তলব করতে পারেন, আমাকে তদন্ত করতে পারেন, আমাকে হয়রানি করতে পারেন, কিন্তু আমার পরিবারকে এই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বাইরে রাখুন।” এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিউজমের রাজনৈতিক বিরোধ একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেডারেল বাহিনী মোতায়েন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ট্রাম্প তখন আইন অমান্যের অভিযোগে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনার কথা বলেন। এর জবাবে নিউজম প্রকাশ্যে বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে এসে করুন।” এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য বৃহত্তর জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে ইরান ইস্যু এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ঘিরে। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা বা চুক্তিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ফ্রান্স আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে প্রস্তুত এবং এ ধরনের উদ্যোগে নিজেদের ন্যায্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করবে। ম্যাক্রোঁর ভাষায়, “আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্বের অংশ হিসেবে আমাদের ন্যায্য ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।” অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈঠকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অদূর ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত হবে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল রুট। এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বাধা সৃষ্টি হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক তেলের বাজারে প্রভাব ফেলে। তাই এ প্রণালীকে ঘিরে যে কোনো ঘোষণা আন্তর্জাতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। জি-৭ সম্মেলনের আগে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নীতিগত সমন্বয় এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ভবিষ্যৎ অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এবারের জি-৭ সম্মেলনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা চুক্তি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বাস্তবসম্মত কোনো অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওবামা এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক ইরানের সাথে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেওয়ার ঠিক এক দিন আগে, গত শনিবার শিকাগোর ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারে এই সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়। সেখানে ওবামা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান পরিচালনার কৌশল নিয়ে নিজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে ওবামা স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আনা এই নতুন চুক্তিটি ২০১৫ সালে তাঁর নিজের প্রশাসনের করা ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির চেয়ে খুব একটা আলাদা বা উন্নত কিছু হবে বলে মনে হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসন ইরানের সাথে একটি কার্যকর পরমাণু চুক্তি করেছিল, যা থেকে পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। উল্লেখ্য, আট বছর আগে বারাক ওবামার আমলে করা ওই চুক্তিটিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তা থেকে বের করে এনেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ দীর্ঘ সংঘাতের পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন আবার ইরানের সাথেই নতুন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বোমাবর্ষণ বন্ধের আশা প্রকাশ করে সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেক জটিল আন্তর্জাতিক সমস্যায় ডর-ভীতি বা যুদ্ধ করে সমাধান খোঁজার চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, যা যুদ্ধ এড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের এত দিনে এই শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু মনে হচ্ছে বারবার আমাদের এই একই শিক্ষা নতুন করে নিতে হচ্ছে।" গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। এরপর গত ১৪ জুন ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার অধীনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা হবে। তবে ট্রাম্পের এই চুক্তির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়েই এখন খোদ আমেরিকার ভেতরেই প্রশ্ন তুললেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।