নির্বাচন মানেই জনগণের ম্যান্ডেট, আর সেই ম্যান্ডেট রক্ষায় এবার কঠোর অবস্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা মোটরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক বিস্ফোরক বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে ব্যবহার করে প্রার্থী নির্বাচনের মাধ্যমে অনেকটা 'কিংস পার্টি'র মতো ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে একটি 'দায়সারা' নির্বাচনের নীল নকশা করা হচ্ছে। এই অনিয়মের দায়ভার শুধু কমিশনের নয়, বরং ইউনূস সরকারের ওপরও বর্তাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় বিএনপি-র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দলটি 'মুনাফিকি' আচরণ করছে। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিনসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এনসিপির এই কঠোর অবস্থান রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হাতে প্রচারপত্র, সঙ্গে কয়েকজন কর্মী। কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে হাট-বাজার, গ্রাম আর চা-বাগান ঘুরে ঘুরে ভোট চাইছেন সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী। যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী। রাজনীতির চিরচেনা ছবির বাইরে দাঁড়িয়ে তার এই পথচলা হয়ে উঠেছে সাহস ও দৃঢ়তার এক আলাদা গল্প। মৌলভীবাজারের রাজনীতির মাঠে সাদিয়া নোশিনের উপস্থিতি অনেকটাই ব্যতিক্রমী। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া উপজেলা) আসনে বাসদ (মার্ক্সবাদী) মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি ‘কাঁচি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার লস্করপুর এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনি প্রচারে বড় শোডাউন বা ব্যয়বহুল আয়োজনের বদলে সাধারণ মানুষের কাছেই যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন সাদিয়া নোশিন। চায়ের দোকান, হাটের আড্ডা কিংবা চা-বাগানের শ্রমিক লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি কথা বলছেন মানুষের দৈনন্দিন সংকট, ন্যায্য অধিকার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সাদিয়া নোশিনই একমাত্র নারী প্রার্থী। মৌলভীবাজার-২ আসনে তিনি ছাড়াও আরও সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির শওকতুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. সায়েদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাস খান, ফজলুল হক খান, জাতীয় পার্টির আবদুল মালিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল কুদ্দুস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম জিমিউর রহমান চৌধুরী। সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী জানান, এমসি কলেজে পড়াশোনার সময় থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলার শুরু। সে সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বাসদের ছাত্রসংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের এমসি কলেজ শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি সিলেট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। পড়াশোনা শেষ হলে ছাত্ররাজনীতি থেকে সরে এসে তিনি মূল রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় নারী সংগঠনের দফতর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রচারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাদিয়া নোশিন জানান, তিনি বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রচারপত্র বিতরণ করছেন এবং প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। অনেকেই তাকে সাহস জোগান। তিনি বলেন, অনেকে বলেন, মেয়ে হয়ে সাহস করে দাঁড়ানোই বড় কথা। এসব কথা থেকেই আমি শক্তি ও সাহস পাই। এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে এই প্রার্থী বলেন, চা-শ্রমিক, খাসিয়া ও গারো জনগোষ্ঠী দেশের নাগরিক হয়েও এখনও ভূমির মালিকানার অধিকার থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে এই জনগোষ্ঠীগুলো নানাভাবে অবহেলার শিকার হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবন থাকলেও চিকিৎসক ও পরীক্ষার যন্ত্রপাতির সংকটে মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়েছে, আর রেলযোগাযোগেও অব্যবস্থাপনায় স্টেশন ও লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। নারী উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সাদিয়া নোশিন বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এই জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নারীর অধিকার ও উন্নয়ন। এই দাবিগুলোকে সামনে রেখেই তারা রাজনীতির মাঠে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, জয়-পরাজয় বড় বিষয় নয়, মানুষের দাবি তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ভোটারের কাছে সাদিয়া নোশিন হয়ে উঠছেন ভিন্ন ধারার রাজনীতির এক প্রতীক। যেখানে ক্ষমতার নয়, অগ্রাধিকার পায় মানুষের কথা।
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (তারিখ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিরহাট এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোলা–২ (দৌলতখান–বোরহানউদ্দিন) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি ফজলুল করিমের পক্ষে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা ওই এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। একই সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের কর্মী–সমর্থকেরাও সেখানে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াতের পাঁচজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন মো. রাসেল, মো. নাঈম, মো. বিল্লাল, মো. মিজান ও মো. সিফাত। তাঁরা সবাই স্থানীয় জামায়াতের কর্মী–সমর্থক। অন্যদিকে বিএনপির আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাসেল (২৬), মিজান (৩৫), রাকিব (২৭) ও রিয়াজ (২৭)। তাঁদের মধ্যে তিনজন দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দৌলতখান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আশ্রাফ উদ্দিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতা–কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাঁদের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সাজু পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের নেতা–কর্মীরা প্রচারের নামে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাঁদের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁরাও আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান। দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম শিকদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগে মানববন্ধন করেছে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখা। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলা থানা মোড় এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বোরহানউদ্দিন পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মো. আমান উল্যাহ, সেক্রেটারি মো. মাকসুদুর রহমান এবং মহিলা শাখার কর্মী নাসরিন বেগম। বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নারীদের বাধা দিচ্ছেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। তাঁরা এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সাবেক এফবিআই (FBI) কর্মকর্তা ড্যান বোঙ্গিনোর একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং পুরো ব্যবস্থাকে 'জাতীয়করণ' (Nationalize) করে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "রিপাবলিকানদের বলা উচিত যে আমরা এই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই। অন্তত ১৫টি স্থানে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা নিজেদের হাতে নেওয়া উচিত। রিপাবলিকানদের উচিত ভোটিং প্রক্রিয়াকে জাতীয়করণ করা।" মূল কারণ ও অভিযোগ: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরের মতোই ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির ভিত্তিহীন দাবি পুনরায় উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অনেক রাজ্যে অবৈধভাবে ভোট গণনা করা হচ্ছে এবং নথিপত্র ছাড়াই অভিবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, ফেডারেল বা জাতীয় সরকার নয়, বরং প্রতিটি অঙ্গরাজ্য (States) তাদের নিজস্ব নির্বাচন পরিচালনা করে। ট্রাম্পের এই 'জাতীয়করণ'-এর প্রস্তাব সাংবিধানিকভাবে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে আইনজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অনেক ডেমোক্র্যাট নেতা একে 'গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত' এবং 'স্বৈরাচারী মনোভাব' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া: সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "ট্রাম্প কি আদৌ সংবিধান পড়েছেন? তিনি সরাসরি নির্বাচন ব্যবস্থা দখল করার কথা বলছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।" প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন সম্প্রতি জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টিতে এফবিআই একটি তল্লাশি চালিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করছেন, এই তল্লাশির মাধ্যমে ২০২০ সালের নির্বাচনের অনেক 'গোপন তথ্য' বেরিয়ে আসবে। সামনেই ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন, যেখানে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প মনে করছেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় পরিবর্তন না আনলে রিপাবলিকানদের জন্য জয় কঠিন হতে পারে। এই ঘোষণার ফলে মার্কিন নির্বাচনী সুরক্ষা এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর অধিকার নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
নওগাঁর নিয়ামতপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগদান করেছেন ৫ হিন্দু যুবক। গত ১ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) বিকেলে উপজেলার গুজিশহর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তারা এই ঘোষণা দেন। নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম নতুন সদস্যদের ফুলেল মালা পরিয়ে বরণ করে নেন। জামায়াতে যোগদানকারী যুবকরা হলেন— শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের গোল স্কুল পাড়া গ্রামের শ্রী কালিদাস, শ্রী শুভ, শ্রী খলিল, শ্রী সজিব রায় এবং শ্রী রাজকুমার। যোগদানের পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে শ্রী রাজকুমার বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ আমাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। আমরা দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, তাদের কথা এবং কাজের মধ্যে চমৎকার মিল রয়েছে। এই সততা ও নিষ্ঠা দেখেই আমরা তাদের সঙ্গে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম বলেন, “৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। আগামীর বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কোনো বিভাজনের রাজনীতি থাকবে না। জামায়াত সেই স্বপ্ন পূরণে বদ্ধপরিকর। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একটি সুন্দর ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই।” নির্বাচনী ওই জনসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব বিভাগের যুগ্ম সদস্য সচিব নিশাদ আহমেদ, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা নওশাদ আলী, নিয়ামতপুর উপজেলা আমির আফজাল হোসেন এবং উপজেলা শিবিরের সভাপতি আবু তাহেরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই যোগদানকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটগ্রহণের আভাস মিলেছে। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেবেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড-৩’ শীর্ষক এ জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার। তিনি জানান, রাউন্ড-৩ জরিপে মূলত ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের ভোট প্রদানের ইচ্ছা এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জনমত তুলে ধরা হয়েছে। এই রাউন্ডটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে আগের রাউন্ডে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মতামতের পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে জনমত পরিবর্তিত হতে পারে। ভোটদানের ইচ্ছা জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেবেন। আগের রাউন্ডে যারা ভোট দেবেন বলেছিলেন, তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ আবারও ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। যারা আগে ভোট দেবেন না বলেছিলেন, তাদের ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আর যারা আগে মতামত প্রকাশ করেননি, তাদের ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। জেন জি প্রজন্মের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ তুলনামূলক কম হলেও সামগ্রিকভাবে হার এখনো বেশি। গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা ও মতামত প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ২২ শতাংশ জানান, তারা গণভোটের বিষয়ে জানেন না। জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা ও মতামতে পার্থক্য দেখা গেছে। জরিপের রাউন্ড-২-এর প্যানেল তথ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ধারণা জরিপের রাউন্ড-৩-এ ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে—যা রাউন্ড-২-এর তুলনায় বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থা বেড়ে ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিয়ে ধারণার উন্নতি হয়েছে। ৮২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন। আগের রাউন্ডে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ। রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে ধারণা জরিপের উত্তরদাতারা স্থানীয় ও জাতীয় পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। অনেকেই বলেছেন, তাদের এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাত বেশি নয়। তবে জাতীয় পর্যায়ে সংঘাত তুলনামূলক বেশি হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন—এই প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন। তবে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। রাউন্ড-২-এর তুলনায় বিএনপির সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ। ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে প্রত্যাশা জরিপে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হবেন। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। ২ দশমিক ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এনসিপির আহ্বায়ক ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা জানেন না ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। এটি নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়। ভোটের সিদ্ধান্ত ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা কোন দলকে ভোট দেবেন, সে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—যা আগের রাউন্ডগুলোর তুলনায় বেশি। তবে নারী উত্তরদাতাদের ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। বিপরীতে পুরুষ উত্তরদাতাদের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ জানান, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভোট পছন্দের পরিবর্তন জরিপে রাউন্ড-৩ এবং আগের রাউন্ডগুলোর মধ্যে ভোট পছন্দে পরিবর্তন দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে বিএনপি তাদের মূল সমর্থন ধরে রেখেছে এবং আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলা কিছু ভোটার থেকেও সমর্থন পাচ্ছে। যদিও বিএনপি থেকে জামায়াত এবং জামায়াত থেকে বিএনপিতে কিছু ভোট স্থানান্তর হয়েছে, তবু মোট হিসাবে জামায়াতের দিকেই নিট পরিবর্তন বেশি, যা তাদের বর্তমান ভোট ভাগে প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি উল্লেখযোগ্যভাবে আওয়ামী লীগের ভোট থেকে লাভবান হচ্ছে। একই সঙ্গে রাউন্ড-৩-এ কিছু জামায়াত সমর্থক তাদের ভোট পছন্দ প্রকাশ করেননি। তুলনামূলকভাবে জামায়াতের ভোটব্যাংকে অস্থিরতা বিএনপির চেয়ে বেশি দেখা যায়। এছাড়া জামায়াত ও এনসিপির জোটের কারণে এনসিপির কিছু ভোট বিএনপির দিকে চলে গেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগের ভোট বণ্টন আগের আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। শেষ পর্যন্ত কারা কত ভোট পেতে পারে যারা তাদের ভোট পছন্দ জানিয়েছেন, তাদের মতে, বিএনপি ও তাদের জোট ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে। জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ভোট পছন্দ প্রকাশ করেননি। বিএনপির ভোট বাড়ার কারণ জরিপে দেখা যায়, আগে যারা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বা ভোট পছন্দ প্রকাশ করেননি, তাদের মধ্য থেকে বিএনপি জামায়াতের তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছে। বিএনপির সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন ও অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে। জামায়াতের সম্ভাব্য ৩১ শতাংশ ভোটের মধ্যে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ এসেছে একই গোষ্ঠী থেকে। জরিপে আরও দেখা যায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। জামায়াত ও এনসিপি জোটের প্রভাব বিএনপির প্রার্থীদের তুলনায় জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীদের সম্পর্কে ভোটারদের সচেতনতা তুলনামূলক কম। জামায়াত ও এনসিপি তুলনামূলকভাবে কিছু নির্দিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, অথচ এই জরিপ জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ফলাফল বিশ্লেষণ করেছে—এ কারণে ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভোটব্যাংকে অস্থিরতা রয়েছে এবং প্রচারণা কৌশলের ধরন অনুযায়ী বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে ব্যবধান কমে আসতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ এম. শাহান, ভয়েস ফর রিফর্মের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্রেইনের সদস্য জ্যোতি রহমান এবং ইনোভেশন কনসালটিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান।
বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ বিষয়ক ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে বিশ্বের ১৬টি দেশ থেকে ৫৭ জন দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৪০০ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষকদের তালিকা: প্রেস উইংয়ের তথ্যমতে, দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া। দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি দল বাংলাদেশে আসছে। তুরস্ক থেকে আসছেন ১২ জন সংসদ সদস্য, যাদের নেতৃত্বে থাকবেন বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ জন, জাপান থেকে ৪ জন এবং পাকিস্তান থেকে ৩ জন পর্যবেক্ষক আসার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছে ভুটান, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, জর্ডান, জর্জিয়া, রাশিয়া, কিরগিজস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো। আন্তর্জাতিক সংস্থার জোরালো নজরদারি: এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ জানান, কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রায় ৪০০ পর্যবেক্ষক এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকছেন। কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের দলটির নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানান আকুফো-আদ্দো। এই দলে আরও থাকছেন মালদ্বীপ ও সিয়েরা লিওনের সাবেক শীর্ষ কূটনীতিকরা। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস, যাঁর সাথে যোগ দেবেন আরও সাতজন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য। নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ৩০০ আসনের এই সংসদ নির্বাচনে এবার ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ নিয়ে দেশজুড়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মহলের এই বিশাল উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনের দিনই অধিকাংশ আসনের ফলাফল প্রকাশে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, ব্যালট গণনা শেষে মধ্যরাতের মধ্যেই বেশির ভাগ আসনের ফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। বড়জোর শেষ রাত বা পরদিন সকালে ফল প্রকাশ হতে পারে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। গণভোট প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোট বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন, তবে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না। তিনি বলেন, “নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন—রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তারা—আইনগতভাবে কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করতে পারবেন না। তারা গণভোটের প্রচার করবেন, কিন্তু পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না।” আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরও এতে যুক্ত রয়েছে—এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সরকার গণভোট নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তিনি বলেন, “কোনো কর্মকর্তা যখন রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তখন তিনি কোনো পক্ষের নন।” নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এবারের নির্বাচনী পরিবেশ অতীতের অনেক নির্বাচনের তুলনায় ভালো। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থী ও দলের অঙ্গীকারনামা এবং মাঠপর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের ফলে আচরণবিধির প্রতিপালন প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন মানেই রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা থাকবে। দলগুলো তাদের ইশতেহার তুলে ধরবে, একে অপরের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করবে। তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই জনগণ বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেবে।” জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শুনেছে এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনরত সেনা সদস্যদের পরিদর্শনের লক্ষ্যে রংপুর এরিয়া পরিদর্শন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনকে পেশাদারি, নিরপেক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রংপুরে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। রংপুর সার্কিট হাউসে আয়োজিত এ মতবিনিময়সভায় জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সামরিক-বেসামরিক প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মতবিনিময়সভা শেষে নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা সেনা সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রখেন। এ সময় তিনি সর্বোচ্চ পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবাইকে নাগরিকবান্ধব আচরণের নির্দেশ দেন। সেনাপ্রধানের রংপুর এরিয়া পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি, ৬৬ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, রংপুর এরিয়া এবং সেনাসদর ও রংপুর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও তাদের সহযোগী জঙ্গিরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভণ্ডুলের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচের মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘উনাদের (আওয়ামী লীগ) যদি সাহস থাকত তাহলে আইনের আশ্রয় নিয়ে দেশে চলে আসত। সাহস নেই দেখেই তারা পালিয়ে আছে। উনাদের সহযোগী সন্ত্রাসীরাও বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছে। বিভিন্ন দেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। আমরা অনুরোধ করব, অন্য দেশগুলো যেন তাদের দেশে ফিরিয়ে দেয়।’ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, কর্নেল মো. তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলি মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলতানসহ গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, দিল্লির নীতি-নির্ধারকদের মূল লক্ষ্য হলো ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ভণ্ডুল করা অথবা এর গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিক মহলে কমিয়ে দেওয়া। এই মিশনের অংশ হিসেবেই গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক অডিও বার্তা প্রচার করা হয়েছে। হাসিনার অডিও ও দিল্লির ইন্ধন: দিল্লির ‘সেফ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রচারিত অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা তাঁর কর্মীদের নির্বাচন প্রতিহত করার ও সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সরাসরি তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করা হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং জামায়াত-বিএনপির সম্ভাব্য জয় দিল্লিকে রীতিমতো ‘নার্ভাস’ করে তুলেছে। এ কারণেই তারা হাসিনাকে দিয়ে দেশে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গণভোটকে ব্যর্থ করার ছক: দিল্লির নীতিনির্ধারকরা বিশেষভাবে চাচ্ছেন যেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত না হয়। এর জন্য তারা তাদের অনুগত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে কাজে লাগিয়ে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। ভারতের কৌশল হলো, যদি ভোটার উপস্থিতি ৫০ শতাংশের নিচে রাখা যায়, তবে বিশ্বকে বোঝানো যাবে যে বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন নেই। সরকারের তীব্র প্রতিবাদ: শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এটি সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং সুপ্রতিবেশী সুলভ আচরণের পরিপন্থী। দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও খুনি হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে বরং উসকানি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। বিশ্লেষকদের মতামত: বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী মনে করেন, ভারত কোনোভাবেই বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী গণতন্ত্র চায় না। তারা চায় একটি পুতুল সরকার, যা দিল্লির প্রেসক্রিপশনে চলবে। সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া এক ফেসবুক পোস্টে ভারতের এই আচরণের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, খুনিদের আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, যার মাশুল দীর্ঘমেয়াদে ভারতকে দিতে হতে পারে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরণের চক্রান্ত প্রতিহত করতে অন্তর্বর্তী সরকার যখন বদ্ধপরিকর, তখন দিল্লির এই ধারাবাহিক বাংলাদেশবিরোধী অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল