ভারত

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আমি দেখতে চাই অশ্বিন

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মঞ্চে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে তৈরি হওয়া চরম অস্থিরতার মাঝে নতুন এক ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে হাজির হলেন ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি মনে করেন, আইসিসি’র চাপের মুখে এবং বিশাল আর্থিক লোকসানের ভয়ে পাকিস্তান তাদের ‘ভারত ম্যাচ বয়কট’ করার সিদ্ধান্ত থেকে খুব শীঘ্রই সরে আসবে।   ঘটনার প্রেক্ষাপট বেশ নাটকীয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি জানালে আইসিসি তা গ্রহণ করেনি; বরং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকেই বহিষ্কার করে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আইসিসি’র এই কঠোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ঘোষণা দেয় যে, তারা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে মাঠে নামবে না। এই পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলেন, "আমার মনে হয় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি শতভাগ হবে। আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই পাকিস্তান তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে পিছু হটবে। ব্রডকাস্টার বা সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর বিশাল অংকের অর্থের ক্ষতি এড়াতে আইসিসি ও পিসিবি’র মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়া অনিবার্য।"   অশ্বিন আরও যুক্তি দেখান যে, পাকিস্তান যদি এই সিদ্ধান্ত বজায় রাখে তবে আইসিসি’র রাজস্ব ব্যাপকভাবে কমে যাবে। এর ফলে সদস্য দেশগুলোর আয়ও কমবে, যা পাকিস্তানের ওপর কূটনৈতিক ও আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেবে। এমনকি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) না দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।   ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় আইসিসি’র জরুরি সভার দিকে। সেখানে পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের কোনো সমাধান বের হয় কি না, নাকি রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কথাই সত্যি প্রমাণিত হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছেন কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্ত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদি
দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন মোদি, রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় ভারত

দিল্লি এখন উত্তপ্ত! লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কার্যত ‘দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন’। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি রাতারাতি সই করার নেপথ্যে কি কোনো বিশেষ চাপ কাজ করছে?   রাহুল গান্ধীর দাবি, আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন মামলা এবং রহস্যময় 'এপস্টিন ফাইলস'-এর ভয়েই নাকি প্রধানমন্ত্রী এই আপস করেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সত্যটা ঠিক কোথায়?   কেন এই বিতর্ক? একনজরে দেখে নিন মূল পয়েন্টগুলো: তড়িঘড়ি চুক্তি: রাহুল গান্ধীর মতে, নিজের ভাবমূর্তি বাঁচাতে চাপের মুখে তাড়াহুড়ো করে এই বাণিজ্য চুক্তি সই করেছেন মোদি। সংসদে হট্টগোল: চীন ইস্যু এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন বিরোধী দলনেতা। এপস্টিন ফাইলস ও আদানি কানেকশন: রাহুল দাবি করেছেন, আমেরিকার হাতে এমন কিছু তথ্য আছে যা মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তিকর, আর সেই কারণেই এই ‘আপস’। প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা যুক্তি: এনডিএ বৈঠকে মোদি জানিয়েছেন, দীর্ঘ ধৈর্য এবং সঠিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলেই এই অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।   দেশের অর্থনীতি কি সত্যিই সুরক্ষিত, নাকি ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষাই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে? আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান।

ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
ভারতীয় পণ্যে ২৫ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে এক ফলপ্রসূ টেলিফোনিক আলোচনার পর উভয় দেশ একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের শুল্ক যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নতুন সমঝোতা অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। এর বিনিময়ে ভারত সরকারও মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক ও নন-ট্যারিফ বাধা পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   এই আলোচনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিকটি ছিল রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেল নিয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন। এর পরিবর্তে ভারত এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে প্রয়োজনীয় তেল আমদানি করবে। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর এর আগে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক জরিমানা আরোপ করা হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র তা তুলে নেবে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই চুক্তির আওতায় ভারত আগামী বছরগুলোতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমদানির এই তালিকায় রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, জ্বালানি, কৃষিপণ্য এবং কয়লা। ট্রাম্পের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল দুই দেশের অর্থনীতিকেই চাঙ্গা করবে না, বরং বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনেও বড় ভূমিকা রাখবে।   অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই চুক্তি নিয়ে তাঁর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং বৃহৎ দুই অর্থনীতি যখন একযোগে কাজ করে, তখন তা উভয় দেশের জনগণের জন্য অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ বয়ে আনে।   উল্লেখ্য, গত আগস্টে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার পর দুই দেশের বাণিজ্য তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। নতুন এই চুক্তি সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করে দুই দেশের মৈত্রীকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে সমঝোতা, ভারতীয় পণ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সমঝোতায় এক চুক্তি হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোন আলোচনার পর ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে। ট্রাম্প বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের শুল্ক এবং নন-ট্যারিফ বাধা শূন্যে নামানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আলোচনায় রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কেও সমন্বয় হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন এবং এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবেন। এর ফলে ভারতের বিরুদ্ধে রুশ তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও তুলে নেওয়া হবে।   এই সমঝোতার আওতায় ভারত আগামীতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে থাকবে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য এবং কয়লা। ট্রাম্পের মতে, এই সমঝোতা কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চুক্তি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি ও বৃহত্তম গণতন্ত্র একসাথে কাজ করলে উভয় দেশের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে।”   উল্লেখ্য, গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। নতুন এই সমঝোতাকে সেই উত্তেজনা প্রশমনের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নুরুল্লাহ সাইদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের পাশে থেকে বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কট করলো পাকিস্তান

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।   বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল অংশ নেবে না।   পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডলের এই বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে ডন, জিও নিউজসহ দেশটির একাধিক গণমাধ্যম খবরটি প্রকাশ করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি

ভারতের নতুন অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কৌশলগত রদবদল লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য অনুদান সহায়তা এক ধাক্কায় ৭৪ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ৬০ কোটি রুপি বরাদ্দ রেখেছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন' দেশটির কেন্দ্রীয় বাজেট নথির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ভারতবিরোধী মনোভাব নিয়ে নানা আলোচনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও ২০২৭ অর্থবছরের জন্য এই বরাদ্দ বৃদ্ধি ভারতের দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক কূটনীতিরই অংশ। গত অর্থবছরের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পেয়েছিল ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি, যা এবার বেড়ে ৬০ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। যদিও এর আগে প্রস্তাবিত বরাদ্দ আরও বেশি ছিল, কিন্তু সংশোধিত বাজেটে তা কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছিল।   ভারতের এই নতুন বাজেটে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ইরানের চাবাহার বন্দরে। সেখানে পূর্ববর্তী অর্থবছরে ৪০০ কোটি রুপি বরাদ্দ থাকলেও এবারের বাজেটে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং দ্বিতীয় দফার নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা থেকেই নয়াদিল্লি এই কৌশলগত পিছুটান দিয়েছে।   অন্যদিকে, আশ্চর্যজনকভাবে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে ভারতের সাহায্য বাড়ছে ৫০ শতাংশ হারে। দেশটির জন্য নতুন অর্থবছরে ১৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বরাবরের মতো ভারতের বৈদেশিক সহায়তার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভুটান, যাদের জন্য মোট ২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও সেশেলসের জন্য অনুদান বাড়লেও নেপাল, মালদ্বীপ ও মরিশাসের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে ভারত। বিশেষ করে মরিশাসের বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ এবং মালদ্বীপের কমেছে ১২ শতাংশ।   সামগ্রিকভাবে, ভারত এবার বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে অনুদান ও ঋণ হিসেবে মোট ৮ হাজার ৭৯২ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কম হলেও আফ্রিকা, ইউরেশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে অনুদান বাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে নিজেদের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে মোদি সরকার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
বেলুচিস্তান হামলার নেপথ্যে ভারত, দাবি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ও সমন্বিত হামলার নেপথ্যে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সরাসরি মদত রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করলেও খাজা আসিফের দাবি, তদন্তের প্রতিটি সূত্র ভারতের সংশ্লিষ্টতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।   গত শনিবার বেলুচিস্তানের একাধিক স্থানে ধারাবাহিক ও সমন্বিত হামলা চালায় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বিএলএ। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানে অন্তত ৯২ জন সন্ত্রাসীকে খতম করা হয়েছে। তবে এই সংঘর্ষ ও হামলায় ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক এবং সেনাবাহিনীর ১৫ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন।   শনিবার শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খাজা আসিফ বলেন, বিএলএ একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা মূলত ভারতের কাছ থেকে বড় অংকের বৈদেশিক তহবিল পাওয়ার আশায় নিজেদের তৎপরতা ও ‘দৃশ্যমানতা’ বাড়াতে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।   প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিযোগ, এই গোষ্ঠীগুলো হাইব্রিড যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তিনি দাবি করেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবং ভারত-সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো হামলার সময় বিএলএ-র সমর্থনে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। মানবাধিকার আন্দোলনের আড়ালে নিজেদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঢাকার চেষ্টা এবং ‘নিখোঁজ ব্যক্তি’ ইস্যুতে মিথ্যা আখ্যান তৈরির জন্য তিনি বিএলএ-র কঠোর সমালোচনা করেন।   খাজা আসিফ আরও জানান, সন্ত্রাসীরা তাদের কার্যসিদ্ধির জন্য নারী ও শিশুদেরও ব্যবহার করছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসিকতায় হামলার সব লক্ষ্যবস্তু নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বেলুচিস্তানের বিশাল ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসীরা সুবিধা পেলেও আগামী দিনে তাদের সমূলে উৎপাটন করা হবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
প্রেমিকের সঙ্গে পালাল নববধূ, স্বামী ও ঘটকের আত্মহত্যা

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যায় নববধূ। এতে পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেন স্বামী ও ঘটক।    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের দাভানগেরে জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। এতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নববধূ সরস্বতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী বাড়ি থেকে মন্দিরে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। বিষয়টি নিয়ে তার পরিবার থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করে।   তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সরস্বতী তার পূর্বের প্রেমিক শিবকুমারের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন।   এ খবর জানার পর সরস্বতীর স্বামী, ৩০ বছর বয়সী হরিশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে তিনি একটি চিরকুটে কয়েকজনকে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে আত্মহত্যা করেন।   হরিশের মৃত্যুর খবর শুনে গভীর মানসিক আঘাত পান রুদ্রেশ (৩৬)। তিনি বিয়ের ঘটক ও সরস্বতীর মামা ছিলেন। পরে তিনিও আত্মহত্যা করেন।   প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ের আগেই সরস্বতীর একটি সম্পর্ক ছিল এবং বিষয়টি হরিশ জানতেন। এরপরও তিনি সরস্বতীর পরিবারকে রাজি করিয়ে বিয়ে করেন। রুদ্রেশ এই বিয়ের ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রেখেছিলেন।    দাভানগেরের পুলিশ সুপার উমা প্রসাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দাভানগেরে থানার আওতায় এসসি/এসটি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইনে দুটি মামলা হয়েছে।   দুইজন আত্মহত্যা করেছেন। উভয় পক্ষ থেকেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।’   পুলিশ জানিয়েছে, মানসিক চাপ ও আবেগগত বিপর্যয়ের কারণেই ওই দুই ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে।  

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
নিরাপত্তা শঙ্কা কাটিয়ে ভারতে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পাঠানো না হলেও এবার ভারত সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশের শুটিং দল। দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য শুটিং দলকে অনুমতি দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।   এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যৌথভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা হয়নি বাংলাদেশের।   তবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শুটিং দলের ভারত সফরে সবুজ সংকেত দিয়েছে সরকার। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় শুটিং দলের ভারত সফরের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) জারি করে।   যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আন্তর্জাতিক শুটিং প্রতিযোগিতাটি ইনডোর এবং সংরক্ষিত এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। সে কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে মনে করছে সরকার।   এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়াসচিব মো. মাহবুব-উল-আলম দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ দল খুবই ছোট—একজন খেলোয়াড় ও একজন কোচ। স্থানীয় আয়োজকেরা আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে। প্রতিযোগিতা ইনডোর এবং সংরক্ষিত এলাকায় হওয়ায় নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা কম। সব দিক বিবেচনা করেই শুটিং দলকে ভারতের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।   আগামী ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন দেশের অন্যতম সেরা শুটার রবিউল ইসলাম। তার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে ৫ ফেব্রুয়ারি। কোচ হিসেবে দলের সঙ্গে থাকবেন শারমিন আক্তার।   নৌবাহিনীর অ্যাথলেট হওয়ায় বিশেষ পাসপোর্টের সুবিধায় রবিউল ইসলাম ভিসা ছাড়াই সাত দিন ভারতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে কোচ শারমিন আক্তারকে ভিসা নিতে হবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি তাঁদের দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর এটিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ।

শাহারিয়া নয়ন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার নিহত, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি মমতার

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে ভারতজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতীতে একটি চার্টার্ড বিমান ভেঙে পড়ে উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়।  এই ঘটনার পরপরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।  যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।    সিঙ্গুর যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই দুর্ঘটনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে। অজিত পাওয়ার পুরোনো দলে অর্থাৎ শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপির সঙ্গে ফের একত্রিত হওয়ার কথা ভাবছিলেন। এই অবস্থায় এমন একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু দেশের রাজনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।     মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই দেশে এখন সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি রাজনৈতিক নেতাদের জীবনও নিরাপদ নয়।  তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক মাধ্যমে কয়েক দিন আগেই অন্য দলের এক নেতা দাবি করেছিলেন অজিত পাওয়ার বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করতে চলেছেন।  তার পরেই এই দুর্ঘটনা ঘটল। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।   মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনার তদন্ত শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের অধীনেই হওয়া উচিত। অন্য সব তদন্তকারী সংস্থার উপর মানুষের আস্থা নেই। সব এজেন্সিকেই কিনে নেওয়া হচ্ছে । দেশের মানুষ এখন কেবলমাত্র সুপ্রিম কোর্টের উপরই ভরসা রাখে।    বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রথমেই এক্স হ্যান্ডেলে শোকবার্তা প্রকাশ করেন মমতা।     সেখানে তিনি লিখেন, অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং হতবাক। বারামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় যেভাবে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং তার সহযাত্রীদের মৃত্যু হয়েছে তাতে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষতি অনুভব করছেন।     এই দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অজিত পাওয়ার ছিলেন জ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা।  দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যু মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শরদ পাওয়ার এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের জনগণের প্রতিও তিনি সমবেদনা প্রকাশ করেন।     এই ঘটনার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।  দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণ এই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। যদিও সরকারি সূত্রে একে নিছক দুর্ঘটনা বলেই দাবি করা হয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।  মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।  তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টের অধীনে তদন্তের দাবির পর কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও এই ইস্যু নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।  ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় কোনও অঘটন উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করে।  

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে ‘গোমূত্র গবেষক’ পাচ্ছেন পদ্মশ্রী সম্মান!

পদ্মশ্রী সম্মান ঘোষণার পরই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ালেন ভারতের আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটি। শিক্ষাবিদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাকে পদ্মশ্রী দেয়ার সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ করেছে কেরালা কংগ্রেস। পাল্টা জবাব দিতে নেমেছেন জোহো করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু, যেখান থেকে শুরু তীব্র তর্ক-বিতর্ক।   ২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ভি কামাকোটি। পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার পর তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি তার কাছে ‘ব্যক্তিগত নয়, সমষ্টিগত অর্জন’। পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে আরও বেশি কাজ করার বার্তাও দেন তিনি।   কিন্তু এই সম্মান ঘোষণার পরই কেরালা কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করা হয়। সেখানে কামাকোটির আগের এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ‘গোমূত্র গবেষণা’-কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার জন্য অভিনন্দন জানানো হয়। কারণ গত বছর ভি কামাকোটি দাবি করেছিলেন, গোমূত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে এবং তা আইবিএস-সহ কিছু রোগে উপকারী হতে পারে। সেই মন্তব্য ঘিরে তখন ভারতজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।   কেরালা কংগ্রেসের কটাক্ষের পাল্টা জবাবে শ্রীধর ভেম্বু লেখেন, ভি কামাকোটি ‘ডিপ টেক’-এর গবেষক, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার মতে, এই সম্মান তার পুরোপুরি প্রাপ্য। ভেম্বু আরও দাবি করেন, গোমূত্র ও গোবরের মাইক্রোবায়োম নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে এবং একে শুধুমাত্র ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ থেকে অস্বীকার করা ঠিক নয়।    এরপরই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। কেরালা কংগ্রেস পাল্টা প্রশ্ন তোলে যে, শুধু গরুর গোবর ও গোমূত্র নিয়েই কেন গবেষণা? অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে কেন নয়? তারা মধ্যপ্রদেশে পঞ্চগব্য নিয়ে হওয়া একটি সরকারি অর্থপোষিত গবেষণার উদাহরণ টেনে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তোলে।   সবশেষে কেরালা কংগ্রেস সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় শ্রীধর ভেম্বুর দিকে। তাদের বক্তব্য, যদি গোমূত্রের এত উপকারিতা সত্যিই থাকে, তবে একজন বিলিয়নিয়ার হিসেবে ভেম্বু নিজেই কেন সেই গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না? ক্যানসারের মতো রোগ সারাতে যদি তা কার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে সেটাই হবে বিশ্বের কাছে ভারতের অন্যতম বড় অবদান।   এদিকে এমন বিতর্কে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও রাজনীতির সীমারেখা আবারও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল। আর সেই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।   সূত্র: দ্য ওয়াল

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ কাশ্মীরে হস্তক্ষেপ করতে পারে, শঙ্কায় ভারত

সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ নিয়ে এখন তুঙ্গে আন্তর্জাতিক জল্পনা। বিশ্বের বহু দেশ এই পর্ষদে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ পেলেও ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এমনকি এই পর্ষদ গঠনের ঐতিহাসিক সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিত ছিল দিল্লি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ‘কাশ্মীর ইস্যু’। ভারত আশঙ্কা করছে, এই আন্তর্জাতিক পর্ষদ যদি কাশ্মীরের অমীমাংসিত বিরোধ নিয়ে হস্তক্ষেপ করে, তবে তা দিল্লির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।   সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে এই পর্ষদ শুধু গাজার যুদ্ধবিরতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বের প্রতিটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এর কার্যক্রম প্রসারিত করা হবে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো যখন তিনি এক এক করে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নিচ্ছেন। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প কৌশলে জাতিসংঘকে অপ্রাসঙ্গিক করে নিজের নিয়ন্ত্রিত একটি বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছেন।   ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ইতিমধ্যেই এই শান্তি পর্ষদে যোগ দিয়ে বড় ধরণের কূটনৈতিক চাল চেলেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এটি ভারতের জন্য একটি ‘রেড সিগন্যাল’। যদি ট্রাম্প কাশ্মীর বিরোধকে তাঁর শান্তি পরিকল্পনায় যুক্ত করেন, তবে ভারতের জন্য আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী মোতায়েনের বিরোধিতা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। জাতিসংঘে ভারতের সাবেক দূত সৈয়দ আকবর উদ্দিন এবং প্রখ্যাত কূটনীতিক রণজিৎ রায়ও মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘পাওয়ার গেম’-এর বিরোধিতা করা ভারতের জন্য এখন সময়ের সবথেকে বড় পরীক্ষা। দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র আর কূটনীতি কি তবে বড় কোনো পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লাইয়েন(বামে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি(ডানে)। ফাইল ছবি: রয়টার্স
নতুন নিরাপত্তা অংশীদারত্বে এগোচ্ছে ইইউ ও ভারত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারত ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে ভারতীয় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে। এক খসড়া নথি অনুযায়ী, এই ঘটনা এমন একটা সময়ে ঘটতে যাচ্ছে, যখন ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্য অঞ্চলের সঙ্গে সহযোগীতামূলক সম্পর্ক গড়তে চাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।   উক্ত নথিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা হুমকি, ভূরাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ইইউ এবং ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা  বাড়াচ্ছে।   নতুন অংশীদারত্বে প্রতি বছর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংলাপ হবে। এতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইইউএর বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে ভারতের অংশগ্রহণ উভয়পক্ষের জন্য যুতসই ও লাভজনক কিনা, তাও এই আলোচনায় খতিয়ে দেখা হবে।     প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি, মঙ্গলবার ভারত ও ইইউ দীর্ঘ আলোচনার পর একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করতে যাচ্ছে।   এই নতুন অংশীদারত্ব মূলত ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ়ই করবে। সেই সাথে পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় উভয়পক্ষের সার্বভৌমত্বের উপর হুমকি মোকাবেলায় এই অংশীদারত্ব ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: ফাইল
শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। সরকার বলছে, ওই বক্তব্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাত ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।   আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে একটি বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাতে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে তার দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে স্পষ্ট উসকানি দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ বিস্মিত ও হতবাক হয়েছে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতার বিষয়ে ভারত এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তার বদলে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ গভীরভাবে সংক্ষুব্ধ হয়েছে। এটা স্পষ্টত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং শান্তি ও সমৃদ্ধিকে বিপন্ন করছে।   বাংলাদেশ সরকার মনে করে, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া এবং সেখানে ‘গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা যেমন সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি। এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।   বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা ও এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের নির্লজ্জভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য আবারও দেখিয়েছে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য এই দল দায়ী থাকবে।   আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ হলেই জামায়াত ক্ষমতায় আসবে: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে অনিয়ম হলেই কেবল জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তার দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো জিততে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।   শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।   হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘নির্বাচনে যদি অনিয়ম এবং কারচুপি করা হয়, তবেই তারা (জামায়াতে ইসলামী) ক্ষমতায় আসতে পারে। না হলে সম্ভাবনা কম। তাদের ভোটের হার পাঁচ থেকে সাত শতাংশ, সেটাও আবার অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সহায়তায়।’   বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সাবেক সচিব বলেন, ‘ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতি আপনারা দেখেছেন। আমরা বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাই, যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে তেমন পরিস্থিতি আমি দেখিনি। নির্বাচন হবে কিনা, সেটিও জানি না। সেখানে নিরাপত্তার উদ্বেগ রয়েছে। আর নির্বাচন হলেও কী পরিস্থিতিতে হবে, সেটিও দেখতে হবে। অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে, প্রশ্ন রয়েছে।’   বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে লোকজন এখানে আসছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এই অনুপ্রবেশকারীরা একটি সমস্যা, এবং এই চর্চা বন্ধ করতে হবে। আমরা চাই বাংলা (পশ্চিমবঙ্গ) উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাক।’

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Top week

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0