ভারত

ছবি: সংগৃহীত
চীনে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু, বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ

তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে ভারতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা জোরদার করছে নয়াদিল্লি।   চীনের ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প বর্তমানে নির্মাণাধীন। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।   প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান।   তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভারতের এসইউএমপি প্রকল্প এখনও সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রমও এখনো শুরু হয়নি।   ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।   ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।   নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং আগাম পরামর্শের বিষয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।   ভারতের প্রস্তাবিত এসইউএমপি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানের সম্ভাব্য পানি প্রত্যাহার বা প্রবাহ পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা। ফলে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও ব্যাপক।   এদিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও জোরদার করা হচ্ছে।   সূত্র: এনডিটিভি

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার | ছবি: সংগৃহীত
পানিকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টায় ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান

ভারত পানিকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করতে চায় বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। ভারতের এই ধরনের পদক্ষেপের পেছনে অত্যন্ত গুরুতর ও মারাত্মক পরিণতি লুকিয়ে থাকতে পারে বলেও আন্তর্জাতিক মহলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।   সম্প্রতি দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় ইসহাক দার স্পষ্টভাবে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি সম্পূর্ণ মেনে চলা ভারতের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। পাকিস্তানের সাধারণ জনগণকে তাদের ন্যায্য পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার যেকোনো ধরনের চেষ্টা ভবিষ্যতে অত্যন্ত মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি জোর দাবি করেন।   পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারত সম্পূর্ণ একতরফাভাবে এবং বেআইনিভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অথচ তার মতে, এই চুক্তির মূল কাঠামোর ভেতরেই যেকোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় বিরোধ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির জন্য একদম স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে।   ইসহাক দার এই প্রসঙ্গে বলেন, পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে জাতিসংঘ সনদ বাস্তবায়নে এবং এর নীতিগুলো মেনে চলতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই মুহূর্তে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন, কারণ পাকিস্তান বর্তমান জলবায়ু সংকটে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি।   তিনি জোর দাবি করেন যে, পাকিস্তানের দিকে আসা নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাকিস্তান সবসময় ভারতের সঙ্গে সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সমাধান পারস্পরিক সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে করতে চায় উল্লেখ করে তিনি ভারতের বর্তমান পদক্ষেপকে জাতিসংঘ সনদের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী নদী ও জলসম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো অপরিহার্য। পাকিস্তান বরাবরই সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় থাকা বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আইনি পথ অনুসরণ করে এসেছে।   তবে ভারত বর্তমানে সিন্ধু নদী অববাহিকায় বিপুল পরিমাণ জলাধার সম্প্রসারণ করছে এবং পানি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, ভারতের এই প্রকল্পগুলো নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে পারে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। ইসহাক দার জোর দিয়ে বলেন, পানিকে কখনোই কোনো দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে আবার ফিরছে পাকিস্তানের ‘হাঙ্গর’ সাবমেরিন, ভারতের অস্বস্তি

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গোপসাগরে ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’। সেই ঘটনার বহু বছর পর আবারও বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় ফিরছে পাকিস্তানের অত্যাধুনিক ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীনে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনপ্রাপ্ত পাকিস্তানের হাঙ্গর শ্রেণির প্রথম সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচি বন্দরে এসে পৌঁছেছে। তবে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা কেবল আরব সাগরের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে এই সাবমেরিনকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং একে আরও বিস্তৃত ও দূরপাল্লার সামরিক অভিযানে নিয়োজিত করার মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।   শ্রীলঙ্কার কলম্বোভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মর্নিং’-এর তথ্য অনুযায়ী, চীন থেকে নতুন সাবমেরিনটিকে দেশে নিয়ে আসা নৌবহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক চলতি মাসের শুরুতে কলম্বো বন্দরে এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। পাকিস্তানি ফ্রিগেট ‘পিএনএস তৈমুর’-এ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "নতুন হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন বহরে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান এখন থেকে বঙ্গোপসাগরেও নিজেদের কার্যকর সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করবে।"   এই সাবমেরিনটিকে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করে কমোডর ফারুক আরও জানান, বেইজিংয়ের সহযোগিতায় এই শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন পর্যায়ক্রমে তাদের নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে ইসলামাবাদ।   প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানি নৌ কর্মকর্তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ইসলামাবাদ এখন আর শুধু নিজেদের উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়। তারা ভারত মহাসাগরসহ বঙ্গোপসাগরের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় বিস্তৃত অপারেশনাল উপস্থিতি গড়ে তুলতে চায়, যা সরাসরি উন্মুক্ত সমুদ্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে।   গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী ব্যাপকভাবে নিজেদের সম্প্রসারিত করেছে। বর্তমানে ভারতের কাছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী এবং দীর্ঘ-পাল্লার সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের এই নতুন সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরের সার্বিক সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে না পারলেও, ভারতের জাতীয় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য এটি একটি বড় ধরণের কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু উত্তোলন ও পরিবহন ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তে নেমেছে পুলিশ।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভারত সিং, যিনি লাল্লা সিং নামেও পরিচিত। এছাড়া বীরেন্দ্র সিং ও নগেন্দ্র সিং নামের আরও দুজন নিহত হয়েছেন।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোনহাত থানার নওগাইন গ্রামে বালু মহাল পরিচালনা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন ভারত সিং। তবে তার পরিবারের অভিযোগ, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং তাকে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।   তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত সিং ও তার সহযোগীরা একটি ফরচুনার গাড়িতে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের গাড়ির সামনে ও পেছনে একাধিক ট্রাক দাঁড় করিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে গাড়িটিতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।   আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গাড়ির ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত হন মায়াঙ্ক সিং নামের আরও একজন। তাকে বিলাসপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী এবং মন্নু ত্রিপাঠী। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। মামলায় হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় থানায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, কোরিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলন ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। নিহত ভারত সিংয়ের পরিবারের হাতে ওই এলাকার বালু মহালের ইজারা ছিল। অন্যদিকে স্থানীয় আরেক বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও প্রভাব বিস্তারসংক্রান্ত বিরোধ তৈরি হয়।   সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বালু পরিবহন, খনি ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে তা আধিপত্য বিস্তার ও সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।   ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। কোরিয়া জেলার স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে বলেন, জেলার ইতিহাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। ছত্তিশগড়ের সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরোও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেছেন, ঘটনার বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে এবং তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।   পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটির পেছনে প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।   ছত্তিশগড়ের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রাকৃতিক সম্পদ ও খনি ব্যবসা ঘিরে বিরোধ অনেক সময় কতটা সহিংস রূপ নিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ব্রহ্মপুত্রের উজানে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ শুরু চীনের, উদ্বেগে ভারত

তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের উজানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করেছে চীন। ভারতের সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মেগা প্রকল্পকে ঘিরে নয়াদিল্লির উদ্বেগ নতুন করে সামনে এসেছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত অতিক্রমকারী নদীগুলোর ওপর চীনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে ভারত।   প্রস্তাবিত এই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে ইয়ারলুং সাংপো নদীর ওপর। তিব্বতে উৎপন্ন এই নদী পরে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশ করে সিয়াং নামে পরিচিত হয়। এরপর আসামে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিতি পায় এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে যমুনা নদী হিসেবে প্রবাহিত হয়। ফলে নদীটির সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরাসরি জড়িত।   ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটির অগ্রগতি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, বরং আঞ্চলিক জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এত বড় আকারের বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক ধারা পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে পলি পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা নিম্নাঞ্চলের কৃষি ও নদীভিত্তিক পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া বন্যার ধরন পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গবেষকরা।   তবে উদ্বেগের বিষয় শুধু পরিবেশ নয়। কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও এই প্রকল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, উজানে এত বড় জলাধার ও বাঁধ নির্মিত হলে ভবিষ্যতে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চীনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি অতিরিক্ত কৌশলগত গুরুত্ব পেতে পারে।   অবশ্য চীন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি। বেইজিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের কারণে নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোর পানিপ্রবাহ বা স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।   তবে ভারত এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। গত বছর দেশটির পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।   তিনি বলেন, এই প্রকল্পের বিষয়ে প্রথম তথ্য প্রকাশ্যে আসে ১৯৮৬ সালে। এরপর কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিকল্পনা, সমীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে চীন।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র নদসংক্রান্ত সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নপ্রবাহের জনগণের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।   ভারত আরও জানিয়েছে, তারা একাধিকবার চীনের কাছে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে উজানের কোনো প্রকল্প যেন নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে বেইজিংকে সতর্ক করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে গঠিত ভারত-চীন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের যৌথ ব্যবস্থার আওতায় সীমান্ত অতিক্রমকারী নদীগুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে। তবে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ নতুন গতি পাওয়ায় বিষয়টি আবারও আঞ্চলিক কূটনীতি ও জলনিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ব্রহ্মপুত্র শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক নদী। ফলে ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের পরিবেশগত ও জলপ্রবাহগত প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখতে হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মোদি দেখতে ভদ্র হলেও বাস্তবে টোটাল কিলার: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘দেবদূতের মতো ভদ্র’ কিন্তু বাস্তবে ‘টোটাল কিলার’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে তিনি এ মন্তব্য করেন।   ট্রাম্প বলেন, মোদিকে বাইরে থেকে যতটা ভদ্র ও শান্ত মনে হয়, বাস্তবে তিনি ততটাই কঠোর এবং দক্ষ দরকষাকষিকারী। তার ভাষায়, মোদি একজন ‘টোটাল কিলার’, যা তিনি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়।   দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মানুষটিকে দেখুন। আমি আপনাদের একটি শিক্ষা দিই। তিনি সবচেয়ে সুন্দর চেহারার মানুষদের একজন। তাকে দেখতে এতটাই ভদ্র ও শান্ত লাগে, যেন একজন দেবদূত। কিন্তু বাস্তবে তিনি টোটাল কিলার। তবে তাকে দেখতে এত ভালো লাগে যে তিনি আপনাকে অবাক করে দেন। এমন মানুষ খুব কমই আছে।’   তিনি আরও বলেন, মোদি একজন ‘খুবই কঠিন’ নেতা এবং দক্ষ দরকষাকষিকারী। পাশাপাশি তিনি ভারতীয় জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।   ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যতদিন প্রেসিডেন্ট আছি, ভারত হোয়াইট হাউসে একজন সত্যিকারের বন্ধুকে পাবে। ভারতকে সবাই ভালোবাসে এবং এই নেতার প্রতি অসাধারণ শ্রদ্ধা রয়েছে।’   তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পাচ্ছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল বিনিয়োগ আসছে এবং বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।   এ সময় তিনি ২০১৯ সালে হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ‘হাউডি মোদি’ সমাবেশের কথাও উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে ভারত সফরের ইঙ্গিত দেন। অন্যদিকে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকা জরুরি বলে উল্লেখ করেন।   মোদি বলেন, ‘এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন আশা জেগে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি, এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করবে।’ তিনি আরও বলেন, ভারত সবসময় নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা উচিত।   সূত্র: এনডিটিভি

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
কাশ্মীর সীমান্তে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি, হতাহত ১২ ভারতীয় সেনাসদস্য

জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) ঘিরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পরপর তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই ভারতীয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। সর্বশেষ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাজৌরি জেলার নওশেরা সেক্টরে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ঘটনায় চার সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) রয়েছেন। বিস্ফোরণের পরপরই আহতদের উদ্ধার করে বিমানযোগে উদমপুরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমান্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়।   তবে সর্বশেষ বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সেনাবাহিনী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। যদিও সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া তিনটি বিস্ফোরণই দুর্ঘটনাজনিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   এর আগে গত ৯ জুন কাশ্মীরের উরি সেক্টরের কামালকোট এলাকায় নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে দুই সেনাসদস্য নিহত হন। নিহতরা হলেন সোয়ার চাভান বিক্রম বালকৃষ্ণ এবং স্যাপার যাদব অর্জুন রাজেন্দ্র। ওই ঘটনায় আরও কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হন।   এর মাত্র তিন দিন পর, ১২ জুন পুঞ্চ সেক্টরে এলওসির কাছাকাছি আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই সেনাসদস্য আহত হন। তবে ওই বিস্ফোরণের কারণ নিয়েও বিভিন্ন ধরনের তথ্য সামনে আসে। সেনাবাহিনী তখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।   সর্বশেষ ঘটনাসহ গত এক সপ্তাহে এলওসি সংলগ্ন এলাকায় তিনটি বিস্ফোরণে মোট ১২ জন ভারতীয় সেনা হতাহত হয়েছেন। এতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   এদিকে গত রোববার পুঞ্চ জেলার মেনধার সেক্টরের বালাকোট এলাকায় নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গোলাগুলির খবরও পাওয়া গেছে। যদিও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পাশাপাশি রাজৌরি জেলায় গত তিন সপ্তাহ ধরে ‘অপারেশন শেরাওয়ালি’ নামে একটি নিরাপত্তা অভিযান চলছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের খোঁজে এই অভিযান পরিচালনা করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। এলওসি বরাবর টহল, গোলাগুলির ঘটনা এবং ধারাবাহিক বিস্ফোরণ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।   তবে এখন পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনী তিনটি বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে ঘটনাগুলো নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ জড়িত রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
টেলিগ্রাম বন্ধ করে ১৫ কোটির বেশি ব্যবহারকারীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে: ভারতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পাভেল দুরভ

ভারতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর যুক্তিতে ভারত সরকার ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের সেবা স্থগিতের নির্দেশ দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন অ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাভেল দুরভ।   ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দুরভ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের কারণে ১৫ কোটিরও বেশি সাধারণ টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা ফাঁসকারীদের থামাতে পারেনি, বরং তারা অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে গেছে।   দুরভ লিখেছেন, “কিছু ব্যবহারকারী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র শেয়ার করেছে বলে টেলিগ্রাম এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। এতে কোটি কোটি সাধারণ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অথচ যারা প্রকৃতপক্ষে ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তাদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়ছে না। প্রশ্নফাঁসের কার্যক্রম অন্য অ্যাপে স্থানান্তরিত হয়েছে।” ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই পরীক্ষাকে ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম রোধে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-এর সুপারিশে টেলিগ্রামের ওপর এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   সরকারি নির্দেশনার পর ইতোমধ্যে অ্যান্ড্রয়েডের অ্যাপ স্টোর থেকে টেলিগ্রাম সরিয়ে দিয়েছে গুগল। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে অ্যাপলও। ফলে নতুন ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারছেন না। যাদের মোবাইলে টেলিগ্রাম আগে থেকেই ইনস্টল করা রয়েছে, তারাও বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারেন বলে জানা গেছে।   এনটিএর মহাপরিচালক অভিষেক সিং বলেছেন, পুনঃপরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, “পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম হতে দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”   ভারত সরকার শুধু টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি। দেশটিতে অ্যাপটির বার্তা সম্পাদনা (মেসেজ এডিট) করার সুবিধাও ৩০ জুন পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, অতীতে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ভুয়া প্রমাণ তৈরিতে এই সুবিধার অপব্যবহার করা হয়েছিল। পরীক্ষার পর বার্তা সম্পাদনা করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো যেন প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়েছিল।   এদিকে ভারতীয় সাইবার অপরাধ সমন্বয় কেন্দ্রকে (আই৪সি) অনলাইনভিত্তিক পরীক্ষাজালিয়াতি দমনের প্রধান সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিহার, গুজরাট ও রাজস্থানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে প্রশ্নফাঁস ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেল, গ্রুপ ও বট ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অতি কঠোর ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেক ডিজিটাল অধিকারকর্মী ও নীতিবিশেষজ্ঞ। জননীতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইজিএপির অংশীদার ধ্রুব গর্গ বলেছেন, টেলিগ্রাম শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। ফলে পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিপুল সংখ্যক নিরীহ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “সরকার পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া কি সবচেয়ে কম ক্ষতিকর ও কার্যকর সমাধান, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।”   ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, টেলিগ্রাম বন্ধ করা এবং বার্তা সম্পাদনার সুবিধা নিষ্ক্রিয় করা মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। কারণ প্রশ্নফাঁস বা গুজব ছড়ানোর মতো কার্যক্রম সহজেই অন্য মেসেজিং অ্যাপ কিংবা ব্যক্তিগত গ্রুপে স্থানান্তরিত হতে পারে।   নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষা সামনে রেখে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন ভারতে নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি কোটি কোটি মানুষের ডিজিটাল যোগাযোগের অধিকার ও সরকারের হস্তক্ষেপের সীমা কোথায় হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ভারতে মার্কিন কনস্যুলেটের পাশে সড়কের নামকরণ হচ্ছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদে মার্কিন কনস্যুলেট সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করা হচ্ছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এই সড়কটির উদ্বোধন করা হবে।   মূলত আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবেই এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভন্ত রেড্ডি উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।   তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভন্ত রেড্ডি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সর্বপ্রথম এই সড়কটির নাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবিষয়ক বিরোধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতসহ নানাবিধ বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে পরিকল্পনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।   বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় রাজ্য সরকার পুনরায় এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের পথে হেঁটেছে। তেলেঙ্গানা সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হায়দরাবাদ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই রাজ্যের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অভাবনীয় ভূমিকা রেখেছে। শহরটির আন্তর্জাতিক বিনিয়োগবান্ধব ভাবমূর্তি আরও জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   এর পাশাপাশি, প্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে তেলেঙ্গানাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ভবিষ্যতে গুগল এবং মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নামেও কয়েকটি সড়কের নামকরণের বিবেচনা করছে সরকার।   তবে এমন একটি নামকরণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তেলেঙ্গানা বিজেপির সভাপতি রামচন্দর রাও কংগ্রেস শাসিত রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডি এবং শীর্ষ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বলেন, একদিকে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করছেন যে ভারত ট্রাম্পের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে, অন্যদিকে রেভন্ত রেড্ডি ঘটা করে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ উদ্বোধন করছেন।   ট্রাম্পের কাছে আসলে কে আত্মসমর্পণ করেছে, তা কংগ্রেসকে স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন এই শীর্ষ বিজেপি নেতা। তবে সকল রাজনৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে রাজ্য সরকার এই উদ্যোগকে নিছকই অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক কূটনীতির অংশ হিসেবে দাবি করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি:সংগৃহীত
দিল্লি বিমানবন্দরকাণ্ডে ভারতের কাছে জবাব চাইল বাংলাদেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘অপ্রত্যাশিত ও দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।   ঘটনার পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের উপ-হাইকমিশনার পবন বাধেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি দায়িত্বে সফরে থাকা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে এমন আচরণ দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের বিষয়।   জানা গেছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহযোগিতা বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নিতে ড. জাহেদ উর রহমান দিল্লি পৌঁছান। বিমানবন্দরে নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় তার নাম বিশেষ পর্যবেক্ষণ তালিকায় আসায় তাকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি সফর অব্যাহত না রেখে বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রকাশ্যে এ ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন।   ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অতীতের কিছু বক্তব্য ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে তাকে অতিরিক্ত সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বাংলাদেশ ও ভারত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত পরিস্থিতি, কথিত ‘পুশ-ইন’, অনিয়মিত অভিবাসন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে সংবেদনশীল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত টহল জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও সীমান্ত-সংক্রান্ত কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।   কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও মাঝে-মধ্যে উদ্ভূত এ ধরনের ঘটনা পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হয় এবং দুই দেশ পরবর্তী সময়ে কী বার্তা দেয়, সেদিকে নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।

বায়জিদ হাসান জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে 'কাকরোচ জনতা পার্টি'

ভারতে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা 'নিট' (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অনিয়মের প্রতিবাদে দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে 'কাকরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই জেন-জি (Gen Z) আন্দোলনটি এখন অনলাইন থেকে সরাসরি রাজপথের বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। গত মে মাসে পরীক্ষা বাতিলের পর লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সাধারণ রসিকতা থেকে এই অভিনব ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।   এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্য। তিনি এক শুনানিতে বেকার তরুণদের 'তেলাপোকা' বা কাকরোচের সাথে তুলনা করেছিলেন। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বোস্টনে অধ্যয়নরত ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, "সব তেলাপোকা যদি এক হয়ে যায়, তবে কী হবে?" এই ডাকটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয় এবং লাখ লাখ তরুণ এই শব্দটিকে তাদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়ে গত ১৬ মে 'কাকরোচ জনতা পার্টি' গঠনের ঘোষণা দেয়।   আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে গত ৬ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরে সরাসরি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে দলটির প্রথম প্রকাশ্য সমাবেশে যোগ দেন। তীব্র গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। নয়াদিল্লির পর পুনে, জয়পুর, অমৃতসর, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো প্রধান প্রধান শিক্ষানগরীগুলোতে এই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। জয়পুরের একটি সমাবেশে দিপকের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটলেও তরুণরা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।   এই আন্দোলনের মুখপাত্র ও সাংবাদিক সৌরভ দাস জানিয়েছেন, মূল ধারার গণমাধ্যম বা 'গোদি মিডিয়া' এই ছাত্র আন্দোলনকে এড়িয়ে চললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জোরে তারা দেশের কোটি কোটি তরুণের কাছে পৌঁছে গেছেন। মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে সিজেপির ইনস্টাগ্রাম পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে এবং তাদের বিভিন্ন রিল বা ভিডিও ৪০০ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। এই সমাবেশে তরুণরা ক্ষমতাসীন বিজেপির "হিন্দু-মুসলিম" বিভাজনের রাজনীতি এবং সরকারের একপেশে নীতিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে স্লোগান দিচ্ছে।   পদ্ধতিগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে পুনে শহরের সমাবেশ থেকে সিজেপি একটি 'পরীক্ষা ইশতেহার' বা এক্সাম ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেছে। এতে তারা দাবি করেছে যে, যেকোনো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও প্রস্তুতির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০,০০০ রুপি প্রদান করতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনা এবং বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া সরকারি চুক্তির স্বাধীন অডিট করার দাবিও জানানো হয়েছে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপিদের মাধ্যমে এই দাবিগুলো সংসদের তোলার পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি।   বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য আন্দোলন, যা সাধারণত রাজনীতিবিমুখ তরুণ সমাজকে নিজেদের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হতে শিখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তরুণদের উন্নয়নের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলেও, দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ও প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছেন। বিরোধী দল কংগ্রেস এই আন্দোলন থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও, সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকে ঘিরে একটি বড় সামাজিক ও নৈতিক পরিবর্তনের আশা দেখছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মুসলিম নারীদের টার্গেট করে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অশ্লীল কনটেন্ট

ভারতে মুসলিম নারীদের অনলাইনে হেনস্তা ও মানহানি করার জন্য জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-কে নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি বিকৃত করে অশ্লীল ও আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসবাসরত কাশ্মীরি মডেল সামরিন আইয়ুবের সাথে ঘটা একটি ঘটনা এর অন্যতম বড় প্রমাণ। গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ছবিগুলো এআই দিয়ে জুড়ে দিয়ে একটি ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হয়, যেখানে মিথ্যা দাবি করা হয় যে তিনি দেহব্যবসায় জড়িত। ভিডিওটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে স্বয়ং সামরিনও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।   ওয়াশিংটন ভিত্তিক 'সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট' (সিএসওএইচ)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত এক্স (টুইটার), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ২৯৭টি পাবলিক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা ১,৩২৬টি এআই-জেনারেটেড ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা এসব আপত্তিকর কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে, যার ইন্টারঅ্যাকশন বা ভিউ প্রায় ৬৭ লাখ ছাড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো কারিগরি দক্ষতা ছাড়াই যে কেউ বিনামূল্যে এবং খুব দ্রুত যেকোনো মানুষের ছবিকে বিকৃত করে বাস্তবসম্মত আপত্তিকর ছবি বা ডিপফেক তৈরি করতে পারছে।   মুম্বাই ভিত্তিক রাতি (RATI) ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত অনলাইন হেল্পলাইন 'মেরি ট্রাস্টলাইন'-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনেও এই উদ্বেগের সত্যতা মিলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এআই অপব্যবহারের শিকার হিসেবে গণমাধ্যমে সাধারণত তারকা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম বেশি আসলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে সাধারণ নারীরাও এর বড় শিকার হচ্ছেন। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই হেল্পলাইনটি ৪৮২টিরও বেশি মামলা পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ মামলাই ছিল ডিজিটালি বিকৃত বা এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট সংক্রান্ত। লোকলজ্জা, ভয় এবং ট্রমার কারণে ভুক্তভোগী নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই নির্যাতনের কথা নিজের পরিবারকেও জানাতে পারেন না।   মিউনিখের লুডউইগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটির মিডিয়া অ্যানথ্রোপলজিস্ট সাহানা উদুপা এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে 'রাজনীতির পর্নোলাইজেশন' বা নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। উগ্রপন্থী কিছু ডিজিটাল গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুক, মিম এবং আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে এই ধরনের হয়রানিকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কেবল নারীবিদ্বেষ নয়, বরং এর পেছনে গভীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে নারীদের পরিবারের সম্মান হিসেবে দেখা হয়, তাই মুসলিম নারীদের এভাবে টার্গেট করার মাধ্যমে পুরো সম্প্রদায়কে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।   এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে ভারতে 'সুল্লি ডিলস' এবং 'বুল্লি বাই' নামক অ্যাপের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি আপলোড করে ভুয়া 'অনলাইন নিলাম'-এর আয়োজন করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনৈতিক নেতা আতিফ রশিদ অবশ্য এই ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি ভালো ও মন্দ উভয় কাজেই ব্যবহার হতে পারে এবং এর অপব্যবহার রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে পূর্বের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বিজেপি সব ধর্মের নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে তিনি দাবি করেন।   এদিকে ভারতের বর্তমান আইনি কাঠামো এআই-প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের সাথে তাল মেলাতে পারছে না বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং আইনজীবী অপর গুপ্তা জানান, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই ধারা অনুযায়ী সম্মতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করা অপরাধ। কিন্তু ছবি বা শরীর যদি সম্পূর্ণ এআই বা কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়, তবে এই ধারাটি প্রয়োগ করা জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া মেটা বা গুগলের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জটিল রিপোর্টিং সিস্টেমের কারণে সাধারণ নারীরা সহজে এসব ডিপফেক বা আপত্তিকর কনটেন্ট ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা তাদের জীবন ও ক্যারিয়ারকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
টানা ১১ ঘণ্টা জেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে
টানা ১১ ঘণ্টা জেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে, দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।   সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কলকাতার সল্ট লেক এলাকার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে এই জিজ্ঞাসাবাদ চলে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ইডি কার্যালয়ে উপস্থিত হন অভিষেক। দিনভর জেরা শেষে রাত ১০টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   ইডি সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর আর্থিক লেনদেন, কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত নিয়োগ দুর্নীতি মামলাসহ একাধিক অভিযোগ নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়।   তবে জিজ্ঞাসাবাদে অভিষেক সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।   এর আগে রোববার (১৪ জুন) তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কলকাতার ভবানী ভবনে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। পরদিনই আবার ইডির তলবে হাজিরা দিতে হয় তাঁকে।   ইডির দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বিজেপিকে নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। একদিকে তারা দল ভাঙানোর রাজনীতি করছে, অন্যদিকে যারা মাথা নত করছে না, তাদের দমন–পীড়নের চেষ্টা চালাচ্ছে।”   তিনি আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধীশূন্য করার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব চাপে তৃণমূল কংগ্রেস নতি স্বীকার করবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।   অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এসব করে কোনো লাভ হবে না। আমাদের গলা কেটে নিলেও আমরা আত্মসমর্পণ করব না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”   পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তৎপরতা নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের একাধিক নেতা–কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে।   অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা জিজ্ঞাসাবাদকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘স্যাটা গরম করে দেব’ মন্তব্যে অনড় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী, বললেন ‘আমার ভাষা, আমার গর্ব’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্কে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ও সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বরং তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিজের জেলার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে তিনি গর্ববোধ করেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ভাষাতেই কথা বলে যাবেন।   সম্প্রতি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত অনিয়ম এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা তুললে স্যাটা গরম করে দেব।” মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।   বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে, একজন মন্ত্রীর মুখে এ ধরনের ভাষা কতটা শোভন। কেউ কেউ মন্তব্যটিকে কঠোর প্রশাসনিক বার্তা হিসেবে দেখেছেন, আবার অনেকে ভাষার ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তুলেছেন।   এই বিতর্কের মধ্যেই সোমবার (১৫ জুন) বোলপুরের কাছে কংকালীতলায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের একটি জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে গিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।   তিনি বলেন, “আমার ভাষা, আমার গর্ব। আমি বীরভূমের ছেলে। আমি বীরভূমের ভাষাতেই কথা বলব। কারো ভালো লাগুক বা না লাগুক, আমি আমার জেলার ভাষা ব্যবহার করা বন্ধ করব না।” মন্ত্রী আরও বলেন, তিনি যে অঞ্চলের মানুষ, সেই অঞ্চলের কিছু শব্দ ও অভিব্যক্তি তার কথাবার্তায় স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। এটিকে অস্বাভাবিকভাবে দেখার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, “মানুষ কী বলবে, কী খাবে, কী পরবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই। তাহলে আমি কোন ভাষায় কথা বলব, সেটি নিয়ে এত আপত্তি কেন?”   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় উপভাষা ও আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া বা মালদহের মতো জেলার ভাষায় অনেক শব্দ রয়েছে, যা কলকাতাকেন্দ্রিক প্রচলিত বাংলার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ফলে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়।   তবে একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রীর বক্তব্যে ব্যবহৃত শব্দচয়ন নিয়ে জনমনে সংবেদনশীলতা বেশি থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ তার আঞ্চলিক ভাষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছে, জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সংযত ভাষা ব্যবহার করা উচিত।   তবে বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করছেন না। বরং এটিকে তিনি নিজের আঞ্চলিক পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই দেখছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন জটিলতা: দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

ভারতের নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জটিলতার মুখে পড়ে দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আগাম কূটনৈতিক অবহিতকরণ থাকা সত্ত্বেও তাকে বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা এবং প্রবেশের বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।   রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছান ডা. জাহেদ। সেখানে সোমবার (১৫ জুন) থেকে শুরু হতে যাওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সফরকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিল। সেই অনুযায়ী তার সফরসূচি ও অংশগ্রহণের বিষয়টি আগে থেকেই জানানো ছিল।   তবে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে এবং তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। বিষয়টি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।   পরিস্থিতিকে ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করে ডা. জাহেদ উর রহমান নিজেই পাসপোর্ট ফেরত চান এবং দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার কাছে বারবার ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।   রাতেই তিনি তৃতীয় একটি দেশের মাধ্যমে দেশে ফেরার জন্য ফ্লাইট ধরেন। সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবার দুপুরের আগেই তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   ঘটনাটি কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আগত একজন উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণ ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
আকাশেই ধ্বংস হবে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র, সফল পরীক্ষায় নতুন উচ্চতায় ভারত

টানা তিনটি সফল উড্ডয়ন পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের বহুমুখী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (বিএমডি) অভাবনীয় সক্ষমতা প্রমাণ করেছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, গত ১০ ও ১১ জুন এই যুগান্তকারী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই গুটিকয়েক শক্তিশালী দেশের কাতারে যুক্ত হলো, যাদের কাছে শত্রুর দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই রুখে দেওয়ার মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) এই অসামান্য অর্জন দেশটির সার্বিক সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ধারাবাহিক সামরিক পরীক্ষার প্রধান লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য শত্রুর বহুমুখী ও জটিল হুমকি থেকে দেশকে নিশ্ছিদ্র পাহারায় রাখা। পরপর তিনটি ফ্লাইট টেস্টের মাধ্যমে মূলত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ঠেকানোর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং মাঝারিপাল্লার জাহাজ বিধ্বংসী সক্ষমতা গভীরভাবে যাচাই করা হয়েছে।   এর মাধ্যমে একটির পর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটির কার্যকারিতা ও নিখুঁত নিশানার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করা হয়। বিশেষত, এই পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো মাঝারিপাল্লার নৌবাহিনীর জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়। ফলস্বরূপ, ভারত এখন স্বল্প, মাঝারি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশাপাশি সমুদ্রপথেও যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ বলয় গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ সক্ষম।   নতুন উদ্ভাবিত এই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দুই ধরনের বিশেষায়িত ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এই শক্তিশালী প্রযুক্তি ২,০০০ কিলোমিটার থেকে শুরু করে ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইআরবিএম) নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বায়ুমণ্ডলের ভেতরে এবং বাইরে—উভয় স্থানেই ধেয়ে আসা লক্ষ্যবস্তুকে প্রতিহত করার সুযোগ দেয়। ফলে মহাকাশ থেকে আসা যেকোনো ধরনের আকস্মিক হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের আকাশসীমায় একটি অত্যন্ত নমনীয় ও সুদৃঢ় সুরক্ষা স্তর তৈরি হয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ | ফাইল ছবি
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

ভারতের পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১ জুলাই থেকে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।   লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ ভারতের অন্যতম সম্মানজনক সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (এনডিএ), খড়গওয়াসলার প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কর্পসে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।   দীর্ঘ প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন। মরুভূমি অঞ্চলে একটি আর্মার্ড রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পাশাপাশি তিনি পাটিয়ালা ভিত্তিক ৯৮ আর্মার্ড ব্রিগেডের কমান্ডিং অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যা একসময় সেনাবাহিনীর ১ স্ট্রাইক কর্পসের অধীনে পরিচালিত ছিল।   এছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত ডিভিশন পর্যায়ের একটি বিশেষ ইউনিটের নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব ও অপারেশনাল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।   দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কর্মকর্তার হাতেই এবার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব যাচ্ছে, যা আগামী দিনে ভারতীয় সামরিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধে মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত, ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।   ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার ওমান সাগরে ইরানি তেলবাহী প্যালাউ-ফ্ল্যাগযুক্ত জাহাজ এম/টি সেটেবেলো চলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন কক্ষে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে আগুন ধরে যায় এবং বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পরে তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বারবার নির্দেশ অমান্য করার কারণে ওই জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এ ধরনের হামলা বন্ধ হওয়া উচিত।” ঘটনার পর নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়।   এই ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   ভারতের শ্রমিক সংগঠনগুলো এবং রাজনৈতিক মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুতে সরকারকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে।   ভারতের সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস বলেছে, বিদেশি সামরিক অভিযানে ভারতীয় শ্রমিকদের মৃত্যুতে সরকারকে স্পষ্ট ও দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।   নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের শেষ মুহূর্ত সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এক নাবিকের বাবা বলেন, তার সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।   ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় সমুদ্র শ্রমিক সরবরাহকারী দেশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির তিন লাখেরও বেশি নাবিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জাহাজে কাজ করেন, যার বড় অংশই সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলাচল করে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে টানাপোড়েন চলছে।   ভারতের বিরোধী দলগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভারত কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাম্প থেকে তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল ভারত

ভারতের অভ্যন্তরে শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য খুচরা পেট্রোল পাম্প থেকে সরাসরি পেট্রোল ও ডিজেল কেনার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত সরকার। এখন থেকে সমস্ত বেসরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাম্পের পরিবর্তে নির্ধারিত সরকারি পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র বা বাল্ক সাপ্লাইয়ারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা এক জরুরি প্রজ্ঞাপন ও আদেশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের জারি করা এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত পুরো দেশজুড়ে কার্যকর থাকবে। মূলত সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের খুচরা বাজার ও পাম্পগুলোতে ডিজেলের অস্বাভাবিক এবং অনিয়ন্ত্রিত চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় প্রশাসন দ্রুত এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।   ভারতে সাধারণত বাল্ক বা প্রাতিষ্ঠানিক বড় ব্যবহারকারীদের আন্তর্জাতিক বাজারদরের সাথে মিল রেখে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে হয়। কিন্তু দেশটির সাধারণ ব্যবহারকারী বা সাধারণ যানবাহন চালকেরা সরকারের ভর্তুকির কারণে খুবই অল্প দামে পাম্প থেকে ডিজেল কিনতে পারেন। মূল্যের এই বিশাল ব্যবধানের সুযোগ নিয়ে বড় বড় বাল্ক ব্যবহারকারীরা পাইকারি বাজার বাদ দিয়ে সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে কম দামে দেদারসে জ্বালানি নিতে শুরু করেছিলেন। দেশটিতে বর্তমানে সাধারণ পেট্রোল পাম্পে ডিজেলের খুচরা দাম লিটারপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ রুপি হলেও বাল্ক বা পাইকারি বিক্রয়ে এর প্রকৃত দাম ১৩৪ দশমিক ৫০ রুপি।   গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। এরপর ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো সাধারণ ভোক্তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দিতে খুচরা বাজারে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কিন্তু টেলিকম টাওয়ার, বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কারখানার ব্যবহারকারীদের সবসময় প্রকৃত উৎপাদন বা বাজারদর অনুসারেই জ্বালানি কিনতে হয়। ফলে খুচরা পাম্পের নির্ধারিত দাম বর্তমানে তেল কোম্পানিগুলোর প্রকৃত উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম রয়েছে।   এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় বিশেষ 'মোটর স্পিরিট ও হাই-স্পিড ডিজেল আদেশ' জারি করেছে। এতে সমস্ত খুচরা জ্বালানি বিক্রেতা ও তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বাল্ক ক্রয় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯০ দিন এই রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা বলবৎ থাকবে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই আদেশের মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।   নতুন এই সরকারি আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এখন থেকে কেবল নিয়মিত যানবাহনের ফুয়েল ট্যাংক এবং সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে অনুমোদিত পাত্রেই পাম্প থেকে ডিজেল বিক্রি করা যাবে। পাশাপাশি কোনো একক সাধারণ গ্রাহক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল পাম্প থেকে নিতে পারবেন না। এ ছাড়া মজুতদারি, কালোবাজারি, অবৈধ জ্বালানি সংগ্রহ এবং সরবরাহের যেকোনো অপব্যবহারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারগুলোকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সীমান্ত হত্যা কমাতে দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের বৈঠক সম্পন্ন

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত হত্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা এবং অবৈধ, অসতর্ক ও জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার বন্ধের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে সমাপ্ত হওয়া চার দিনব্যাপী মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলনে এসব বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। আজ শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   নয়াদিল্লির বিএসএফ সদর দপ্তরে গত ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এই ৫৭তম দ্বিবার্ষিক ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধি দলের পক্ষে মূল নেতৃত্বে ছিলেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বিএসএফ জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা ও অন্যান্য চোরাচালান রোধসহ মানব পাচার এবং অবৈধ সীমান্ত পারাপারের মতো সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেছে।   এ ছাড়া দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ এবং সীমান্ত এলাকার উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর—উভয় দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২২১৬ কিলোমিটার) অংশ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দেশই সীমান্তে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে তাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দুই পক্ষই সমন্বিত যৌথ টহল জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি, রিয়েল-টাইম (তাৎক্ষণিক) তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ প্রচেষ্টা আরও গতিশীল করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সীমান্তের পবিত্রতা ও আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সীমান্ত এলাকার জনগণকে সচেতন করতে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেয় উভয় পক্ষ।   বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে সামগ্রিক বৈঠকটিকে অত্যন্ত আন্তরিক, ইতিবাচক এবং দূরদর্শী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সম্মেলন শেষে সব সিদ্ধান্ত সন্তোষজনক হলেও, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। আলোচনার চূড়ান্ত দিনে যৌথ কার্যবিবরণী স্বাক্ষরের পর ঐতিহ্যগতভাবে দুই বাহিনীর মহাপরিচালকদের যে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে, তা এবার কোনো অজ্ঞাত কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামী নভেম্বর মাসে এই দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত সম্মেলনের পরবর্তী পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার জন্য ভারতীয় বিএসএফ প্রতিনিধি দলটি ঢাকা সফর করবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে এসে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ জানালেন নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার

একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ, তাহলে আমরা মিলেমিশে কাজ করব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার এইচ.ই. শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী। আজ বাংলাদেশে প্রবেশের পর দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এভাবেই নিজের গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সম্পূর্ণ সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন নতুন এই হাইকমিশনার। এ সময় তার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার সহধর্মিণী মৃণাল (মিনাল) ত্রিবেদী।   বেলা ঠিক ১১টার দিকে তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ ও ভারতের কাস্টমস ও বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশ পক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, ডেপুটি চিফ অব প্রোটোকল আরিফ মোহাম্মদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ, সহকারী কমিশনার অতল গোস্বামীসহ ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, বন্দর প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।   নতুন হাইকমিশনারের আগমনকে কেন্দ্র করে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট এলাকা ও যশোর-ঢাকা মহাসড়কে কড়া ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চারদিকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন এবং সফল কূটনৈতিক সফরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রটোকল শতভাগ নিশ্চিত করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতেও রূপ নিতে পারে। তিনি দুই দেশের যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন নতুন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও বিশদভাবে তুলে ধরেন।   বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তার বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে এবং খুব দ্রুত এমন একটি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে দুই দেশের সাধারণ মানুষ সবাই সন্তুষ্ট হন। তিনি দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বা পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ভারতের হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নতুন হাইকমিশনারকে স্বাগত জানাতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব আগরওয়ালসহ একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল আগে থেকেই যশোরে অবস্থান করছিলেন। পরে তারা বেনাপোল সীমান্তে উপস্থিত হয়ে দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সফর সঙ্গীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সীমান্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দীনেশ ত্রিবেদী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের পরিচয়পত্র (ক্রিডেনশিয়ালস) পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করবেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0