- প্রচ্ছদ
- Topic
ভারত
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের প্রথম দিনেই ১ হাজার ৫৩৯টি যানবাহনকে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। রোববার (১ নভেম্বর) শীতকালীন দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মপরিকল্পনার আওতায় প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন পরীক্ষা করে কর্তৃপক্ষ। এ সময় বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ভারতীয় রুপি জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকা, শহরে প্রবেশের বিধিনিষেধ অমান্য করা এবং নির্মাণকাজ থেকে ধুলাদূষণ ছড়ানোর ঘটনায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত সব গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়নি। মূলত নির্ধারিত দূষণ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন যানবাহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন বিভাগ যৌথভাবে ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩৯টি যানবাহনকে সীমান্তবর্তী প্রবেশপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মোট পরীক্ষিত যানবাহনের প্রায় ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবেশের অনুমতি পায়নি। অভিযানের সময় প্রবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের জন্য ১২৭টি চালান দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬২টি যানবাহন জব্দ করা হয়। এ ধরনের অনিয়মের জন্য জরিমানার পরিমাণ ছিল দুই লাখ রুপি। দিল্লির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শহরের বাইরে নিবন্ধিত যেসব যানবাহন ভারত স্টেজ-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, সেগুলোর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এই মানের উদ্দেশ্য যানবাহন থেকে নির্গত ক্ষতিকর দূষণকারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করা। বিধিনিষেধের আওতায় থাকা গাড়িগুলো নির্ধারিত সময়ে দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত যানবাহন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত নির্দিষ্ট যানবাহনকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনের অভিযানে এমন ৭৪০টি যানবাহন যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানে ফেরত পাঠানো যানবাহনের মধ্যে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক উভয় ধরনের গাড়ি ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৪০টি হালকা মোটরযান, ৫৪টি হালকা বাণিজ্যিক যানবাহন, ৯৫টি মাঝারি ও ভারী পণ্যবাহী গাড়ি এবং ৩৪টি বাসকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই চাকা, তিন চাকা এবং অন্যান্য শ্রেণির ১ হাজার ৪২৩টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৭৮৯টিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং ৩৮টি জব্দ করা হয়েছে। দিল্লির ভেতরে গন্তব্য না থাকা আরও ৭ হাজার ২৭৯টি যানবাহন পরীক্ষা করে ৩১৪টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রথম দিনেই ব্যাপক অনিয়ম শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকার কারণে মোট ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে। এসব চালানের বিপরীতে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি। এর মধ্যে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ৪৯৩টি চালান দিয়ে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা করে। অন্যদিকে পরিবহন বিভাগ ৭৩টি চালানের মাধ্যমে আরও ৭ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করে। প্রথম দিনের মোট জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে। শুধু যানবাহন নয়, নির্মাণ ও ভবন ভাঙার কাজ থেকে সৃষ্ট ধুলাদূষণ নিয়ন্ত্রণেও অভিযান চালানো হয়েছে। প্রথম দিনে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ৩২টি স্থানে ধুলা নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এসব অনিয়মের জন্য মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। নতুন কর্মপরিকল্পনায় নির্দিষ্ট ধরনের নির্মাণ ও ভাঙার কাজে বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। তবে অত্যাবশ্যকীয় সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের কিছু প্রকল্প নির্ধারিত শর্তে ছাড় পেতে পারে। দিল্লির শীতকালীন কর্মপরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পৃথক সময়সীমায় কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। তবে সব বিধিনিষেধ একই দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে না। দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত নির্ধারিত মানের নিচের যানবাহনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। একইভাবে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে কর্মীদের সশরীর উপস্থিতি সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশে সীমিত রাখার বিধানও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাকি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা প্রথম দিনের অভিযানের তথ্য তুলে ধরে যানবাহনের বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ বজায় রাখা, প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ এবং নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণের বিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য শীত মৌসুমে দূষণের উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা। এ জন্য যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং শহরে প্রবেশকারী নির্দিষ্ট শ্রেণির গাড়ির ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এদিকে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের মধ্যেও দিল্লির বায়ুর মান নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৮টায় শহরের সামগ্রিক বায়ুমান সূচক ছিল ৩১০, যা অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। কিছু পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে সূচক ৪০০ অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন রোববার দিল্লির ২৪ ঘণ্টার গড় বায়ুমান সূচক ছিল ২৬১। ফলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলেও প্রথম দিনের অভিযানেই বায়ুর মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। দিল্লিতে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রথম দিনের হিসাবে মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য হয়েছে। এর মধ্যে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদসংক্রান্ত অনিয়মে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার, যানবাহন প্রবেশের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনে দুই লাখ এবং নির্মাণস্থলের ধুলাদূষণের জন্য নয় লাখ ৮০ হাজার রুপি রয়েছে। পাশাপাশি দেড় হাজারের বেশি যানবাহন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে দিল্লির বায়ুদূষণ কতটা কমাতে পারবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ের বাস্তবায়ন ও বায়ুর মানের তথ্যের ওপর। সূত্র: প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া
ভারতের আসাম রাজ্যের একটি ধানখেতে গ্যাসভর্তি বেলুনের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী যুবদলের একটি ব্যানার পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রচারসামগ্রী কীভাবে ভারতের লখিমপুর জেলায় পৌঁছাল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে আসাম পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলার নারায়ণপুর থানার অন্তর্গত লেটেকুজান গ্রামে ব্যানারটি পাওয়া যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নাউয়ের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে স্থানীয় এক কিশোর গরু চরাতে গিয়ে ধানখেতের কাছে কয়েকটি গ্যাসভর্তি বেলুন দেখতে পায়। বেলুনগুলোর সঙ্গে একটি বড় ব্যানার বাঁধা ছিল। পরে সেগুলো একটি বাঁধের কাছে নেমে এলে কিশোরটি বেলুন ও ব্যানার সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ব্যানারটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির যুবসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের। ফ্লেক্সে ছাপানো ব্যানারে মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা লেখা ছিল। সেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছিল। বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার ভারতের আসামের একটি গ্রামে পাওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের নজর কাড়ে। বিষয়টি গ্রামবাসীর মাধ্যমে পুলিশের কাছে পৌঁছায়। খবর পেয়ে ধলপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল লেটেকুজান গ্রামে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা বেলুন ও ব্যানারটি নিজেদের হেফাজতে নেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেলুনগুলো কোথা থেকে উড়ানো হয়েছিল এবং কীভাবে সেগুলো লখিমপুর জেলার ওই গ্রামে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যানারটির উৎস এবং বেলুনগুলোর সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এদিকে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সময় একই ধরনের ব্যানারসংবলিত বেলুন আকাশে ওড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিও সামনে আসার পর ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কোনো আয়োজন থেকে ওড়ানো বেলুন বাতাসের প্রবাহে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের আসামে পৌঁছে থাকতে পারে। তবে আসামে পাওয়া বেলুনগুলো বাংলাদেশের ঠিক কোন স্থান থেকে ওড়ানো হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের নাম ব্যানারে থাকলেও সেটি সেখান থেকেই ওড়ানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জাতীয়তাবাদী যুবদল ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। চলতি বছর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মসূচি ও উদযাপনের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের অংশ হিসেবে ব্যানারযুক্ত বেলুন ওড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আসামের লখিমপুরে পাওয়া ব্যানারটি ওই উদযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও বেলুনগুলোর যাত্রাপথ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও সামনে আসেনি। পুলিশ বেলুন ও ব্যানার নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর সেগুলোর উৎস শনাক্তে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠনের একটি ব্যানার কীভাবে ভারতের আসামের ধানখেতে পৌঁছাল, সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। সূত্র: আর টিভি
ভারতের আসাম রাজ্যে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে শওকত আলী নামে ৬৮ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যবসায়ীকে মারধর ও জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে রাজ্যের বিশ্বনাথ চারিয়ালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে পুরোনো ঘটনাটি নতুন করে প্রকাশিত হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শওকত আলী প্রায় ৩৫ বছর ধরে ওই এলাকায় খাবার ও মাংসের ব্যবসা করতেন। স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক বাজারে গরুর মাংস রান্না করে বিক্রি করার অভিযোগ তুলে একদল ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর ও অপদস্থ করা হয়। হামলায় আহত শওকত আলীকে পরে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কাদাপানিতে ভরা রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসে আছেন শওকত আলী। তাঁকে ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। তাঁর কাছে গরুর মাংস বিক্রির লাইসেন্স আছে কি না, তিনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন কি না এবং আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে তাঁর নাম রয়েছে কি না, এসব জানতে চাওয়া হয়। শওকত আলীর পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে শাস্তি দেওয়ার নামে শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করে। মুসলিম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শূকরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। ফলে এ ধরনের আচরণ তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপরও আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এনডিটিভি সে সময় জানিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। ঘটনার পর শওকত আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। বাজার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কমল থাপা নামের আরেক ব্যক্তিও হামলাকারীদের হাতে হেনস্তার শিকার হন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পুলিশ দুটি পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ৯ এপ্রিল ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আরও পাঁচজনকে আটক করে পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন আসাম পুলিশের মহাপরিচালক কুলধর শইকিয়া জানিয়েছিলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি বাড়ায়। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আসামে ১৯৫০ সালের গবাদিপশু সংরক্ষণ আইন কার্যকর ছিল। ওই আইনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট পশুচিকিৎসকের অনুমোদন সাপেক্ষে গবাদিপশু জবাইয়ের বিধান ছিল। তবে গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর বা ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কিছু খেতে বাধ্য করার অধিকার কারও নেই। উল্লেখ্য, ঘটনাটি ২০২৬ সালের নয়। এটি ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের একটি ঘটনা, যা সম্প্রতি আবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওই ঘটনায় তদন্তের পর চূড়ান্ত বিচারিক ফলাফল কী হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভারতীয় চিকিৎসকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় নেতা ইয়োসি মিজরাহি। তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারত ও ইসরায়েলের বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মে গরুর ধর্মীয় গুরুত্ব এবং ভারতীয়দের জীবনযাপন নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করছেন সমালোচকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিজরাহিকে ভারতের গরু পূজার প্রচলিত ধারণা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, ভারতের কিছু মানুষ গোমূত্র পান করেন এবং তাঁদের মধ্যে চিকিৎসকরাও রয়েছেন। এ ছাড়া ঘরের ভেতরে গোমূত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উপহাস করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তাঁর এসব বক্তব্যের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সড়কে গরুর উপস্থিতি এবং এর কারণে যানজট তৈরির বিষয় নিয়েও তিনি রসিকতা করেন বলে জানা গেছে। সমালোচকদের মতে, একটি দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে এ ধরনের সাধারণীকরণ বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকদের মতো একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। ভারতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় অংশের কাছে গরু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন ঐতিহ্যে গরুকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ভারতের সব হিন্দু একইভাবে ধর্মীয় আচার পালন করেন না। অঞ্চল, সম্প্রদায় ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী এসব রীতিনীতিতে পার্থক্য রয়েছে। ফলে কোনো একটি প্রচলিত আচরণকে সমগ্র ভারতীয় জনগোষ্ঠীর অভ্যাস হিসেবে তুলে ধরা যথাযথ নয়। গোমূত্রের ব্যবহার নিয়েও ভারতে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। কিছু ঐতিহ্যগত ধর্মীয় ও লোকজ অনুশীলনে এর উল্লেখ থাকলেও তা সব ভারতীয় বা সব হিন্দুর সাধারণ অভ্যাস নয়। একইভাবে চিকিৎসকদের একটি পেশাজীবী গোষ্ঠী হিসেবে এ ধরনের অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। মিজরাহির বক্তব্যে এমন তথ্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি লেখক ইয়েশায়া রোজেনম্যানও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলের ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে অন্য দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, কৃষি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা খাতেও সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। এ অবস্থায় একজন ইহুদি ধর্মীয় নেতার ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মিজরাহির বক্তব্যকে ইসরায়েল সরকার কিংবা দেশটির ইহুদি জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তিনি একজন স্বতন্ত্র ধর্মীয় বক্তা এবং তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য কোনো রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতিনিধিত্ব করে না। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াকে ভারত বা ইসরায়েলের সব নাগরিকের মতামত হিসেবেও ধরে নেওয়া যায় না। ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে এবং কোন অনুষ্ঠানে মিজরাহি এসব মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিতর্কের পর তিনি প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন কিংবা বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে ভিডিওটির পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন। ঘটনাটি ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অনুসারী থাকা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মন্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইয়োসি মিজরাহির ভিডিও ঘিরে চলমান বিতর্কেও সেই বিষয়টি সামনে এসেছে।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অবৈধ মদ তৈরির একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির মূল অভিযুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। পরে রাসায়নিক সংগ্রহ করে তৈরি করা তরল পুরোনো মদের বোতলে ভরে বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর ভারতের ইন্দোরের বাসিন্দা। গত সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এআইয়ের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশের ভাষ্য, এআই থেকে পাওয়া তথ্য ছিল অসম্পূর্ণ। এরপর তিনি ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের খুঁজে বের করে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দোরের ‘রাইজিং ব্রাদার্স’ নামের একটি দ্রাবক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করেন অজয়। ১ অক্টোবর রাসায়নিক পাওয়ার পর সহযোগীদের নিয়ে বাড়িতে অবৈধভাবে মদ তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। পরে পুরোনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে তৈরি তরল ভরে বিক্রি করা হয়। আসল মদের সঙ্গে নকল মদ মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যমতে, ৬ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে এসব মদ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করা হয়। মূলত গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। পুরোনো বোতল এবং আসল মদের সঙ্গে মিশ্রণের কারণে ক্রেতাদের পক্ষে নকল পানীয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবৈধ সরবরাহের সঙ্গে কয়েকটি বৈধ মদের দোকানের ব্যবস্থাপক ও বিক্রয়কর্মীদেরও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। রাসায়নিক সরবরাহের অভিযোগে ইন্দোরের ব্যবসায়ী আমান কাসলিওয়ালকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া উদ্ধার করা মদের বোতল ও নিহত ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। দেওয়াস জেলার চান্দানা ও বিনজানা গ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব মৃত্যুর সঙ্গে বিষাক্ত মদপানের সম্পর্ক থাকার দাবি করেছেন। তবে জেলা প্রশাসন শুরুতে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছিল। পরে বিষয়টি তদন্তে রাজ্য সরকার পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এ ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এলেও নকল মদের সঙ্গে মৃত্যুগুলোর সরাসরি যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত দুজনের দেহের নমুনা, উদ্ধার করা মদ এবং অন্যান্য আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য হিন্দু ও দ্য ডেইলি স্টার।
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে শহরের একটি যৌনপল্লি থেকে ছয় বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পর যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মানবপাচার ও জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে পুনের বুধওয়ার পেঠ এলাকার একাধিক যৌনপল্লিতে অভিযান চালিয়ে ওই নারীদের উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে পুনে পুলিশের তিনটি থানার সদস্যরা অংশ নেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও মিরর নাউয়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে ওই ছয় নারীকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তাঁদের। কিন্তু সীমান্ত পার হওয়ার পর প্রতিশ্রুত চাকরির পরিবর্তে তাঁদের পুনেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যৌনপল্লির পরিচালনাকারীদের কাছে তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুনে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার কৃষিকেশ রাওয়ালের নির্দেশে ফারাসখানা, বিশ্রামবাগ ও খড়ক থানার পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। দলটি বুধওয়ার পেঠ এলাকার কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালায়। উদ্ধার হওয়া নারীদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নারীরা জানিয়েছেন, দালালদের মাধ্যমে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তাঁদের বিশ্বাস করানো হয়েছিল, ভারতে পৌঁছানোর পর ভালো চাকরি ও আয়ের সুযোগ পাবেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের যৌনপল্লিতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক যৌনকাজে নিয়োজিত করা হয়। এ ঘটনায় ফারাসখানা থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হলেও তাঁরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের খুঁজে বের করতে তদন্ত ও অভিযান চলছে। পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। বুধওয়ার পেঠ পুনে শহরের পরিচিত যৌনপল্লি এলাকা। এর আগেও সেখানে বাংলাদেশি নারীদের পাচার ও জোরপূর্বক যৌনকাজে নিয়োজিত করার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ওই এলাকায় নারী পাচার ও শোষণের অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই এলাকার একটি যৌনপল্লি থেকে চার বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছিল পুনে সিটি পুলিশ। সে সময়ও তাঁদের ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনকাজে বাধ্য করা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা যায়। মার্চের ওই অভিযানে পুলিশ মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তদন্তে উঠে আসে, বিউটি পার্লার ও সেলাইয়ের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীদের ভারতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত চাকরির পরিবর্তে তাঁদের যৌনপল্লিতে আটকে রেখে শোষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতেও বুধওয়ার পেঠ এলাকায় বড় ধরনের অভিযান চালায় পুনে পুলিশ। ওই সময় বিভিন্ন যৌনপল্লি থেকে ১১ বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট যৌনপল্লিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। ভারতে মানবপাচার ও জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করার মতো অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষ আইন রয়েছে। দেশটির ইমমোরাল ট্রাফিক প্রিভেনশন অ্যাক্টের আওতায় মানবপাচার ও যৌন শোষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতেও মানবপাচারসংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির কাছে বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র না থাকা এবং মানবপাচারের শিকার হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। পাচারের শিকার নারীদের ক্ষেত্রে তাঁদের কীভাবে সীমান্ত পার করানো হয়েছে, কারা প্রতারণা করেছে এবং কীভাবে শোষণের শিকার হয়েছেন, সেসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ছয় নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের বয়স, বাংলাদেশের কোন এলাকার বাসিন্দা এবং দেশে ফেরানোর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য সামনে আসেনি। পুনের এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ভারতে নারীদের নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টি সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া নারীদের বক্তব্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাচারচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
ভারতের গুজরাট রাজ্যে গরু জবাই ও মাংস বিক্রির চেষ্টার মামলায় তিন মুসলিম ব্যক্তিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ওয়াসিম কুরেশি, মোহাম্মদ রফিক কুরেশি ও আসফাক বাহেলিম। রায় ঘোষণার সময় বিচারক হিন্দুধর্মে গরুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে মনুস্মৃতি ও বেদের উল্লেখ করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ বি আর রাজপুত মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত গরু জবাই এবং এর মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। গুজরাট অ্যানিমেল প্রিজারভেশন সংশোধনী আইন এবং প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেলস অ্যাক্টসহ সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন ধারায় তাঁদের দণ্ডিত করা হয়। তবে মামলার ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছিল এবং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, হিন্দুধর্মে গরুর বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে। এই গুরুত্ব সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা গরু জবাই এবং এর মাংস বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন বলে আদালত মনে করেন। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মনুস্মৃতি ও বেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে গরুকে ঘিরে প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসের কথাও উল্লেখ করেন। ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক হিন্দুধর্মের কিছু বিশ্বাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে গরুকে বিশ্বজননী হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলেন। তিনি গরুর মধ্যে ৩৩ কোটি দেবতার অধিষ্ঠান রয়েছে বলে প্রচলিত বিশ্বাসেরও উল্লেখ করেন। তবে এসব বক্তব্য আদালতের রায়ে উদ্ধৃত ধর্মীয় বিশ্বাস ও বিচারকের পর্যবেক্ষণের অংশ। এগুলো কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। বিচারক আরও পর্যবেক্ষণ দেন, আইন অনুযায়ী অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে গরুর অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে। গরু সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গরু বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা পরিসংখ্যান আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, তা প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভারতের গুজরাট রাজ্যে গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে। গুজরাট অ্যানিমেল প্রিজারভেশন আইনের ২০১৭ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে গরু জবাইয়ের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান করা হয়। সংশোধিত আইনে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য ন্যূনতম দশ বছরের কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি গরুর মাংস পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রিসংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রেও পৃথক শাস্তির বিধান রয়েছে। ভারতে গরু জবাইয়ের আইন রাজ্যভেদে ভিন্ন। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে গরু ও অন্যান্য গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর আলাদা বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। গুজরাটে গরু সংরক্ষণের আইন বিশেষভাবে কঠোর। ফলে গরু জবাইয়ের মামলায় সেখানে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে। এই মামলায় আদালত তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে কী যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিল, তাঁদের আইনজীবীরা কী বক্তব্য দিয়েছেন কিংবা রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতের বিচারব্যবস্থায় দায়রা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা চাইলে আইন অনুযায়ী তাঁদের সাজা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তবে এই মামলায় আপিল দায়ের হয়েছে বলে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। গুজরাটের এই রায়ে তিন ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিচারকের ধর্মীয় গ্রন্থের উল্লেখ বিশেষভাবে সামনে এসেছে। আদালতের সিদ্ধান্তে রাজ্যের প্রচলিত গরু সংরক্ষণ আইনের প্রয়োগ এবং গরুর ধর্মীয় গুরুত্ব নিয়ে বিচারকের পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। মামলার পরবর্তী আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে রায়ের চূড়ান্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
প্রেমিককে বিয়ে করার দাবিতে ভারতের উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলায় প্রায় ১০০ ফুট উঁচু একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে চার ঘণ্টা অবস্থান করেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। পরিবারের আপত্তির কারণে বিয়ে না হওয়ায় টাওয়ারে উঠে পড়েন তিনি। পরে ভিডিও কলের মাধ্যমে নিকাহ সম্পন্ন হওয়ার পর নিচে নামতে রাজি হন তরুণী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণীর নাম সাহিবা বেগম। তিনি মেহেক নামেও পরিচিত। তাঁর প্রেমিক নুরউদ্দিনের বয়স ২১ বছর। কাজের জন্য নুরউদ্দিন তখন বাহরাইচ থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে মুম্বাইয়ে অবস্থান করছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেক ও নুরউদ্দিন বিয়ে করতে চাইলেও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্কের বিরোধিতা করছিলেন। পরিবারের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান মেহেক। এমনকি বিয়ের দাবি পূরণ না হলে টাওয়ার থেকে লাফ দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নারী পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নুরউদ্দিনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। দুই পরিবারের বিরোধ মেটানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ভিডিও কলের মাধ্যমে স্থানীয় এক মুসলিম ধর্মীয় নেতার উপস্থিতিতে তাঁদের নিকাহ সম্পন্ন হয়। মুম্বাইয়ে থাকা নুরউদ্দিন অনলাইনেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। নিকাহের পর মেহেক টাওয়ার থেকে নেমে আসতে রাজি হন। পরে পুলিশ মেহেক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য থানায় নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে মায়ের সঙ্গে বাড়িতে পাঠানো হয়। দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ মেটানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের আপত্তি ও বিয়ের দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপ এবং অনলাইনে নিকাহের মধ্য দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পে। এই প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের নকশা ও নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। চুক্তি দুটির সম্মিলিত মূল্য ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। মেট্রোরেলের নতুন চুক্তি, প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাজ এলঅ্যান্ডটির চুক্তি অনুযায়ী, কাজ দুটি হলো সিপি০৯ ও সিপি১০। প্রথম প্যাকেজে রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটি জাপানের সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। দ্বিতীয় প্যাকেজে থাকবে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন। প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর হলো স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও রেললাইনের মাঝখানে স্থাপিত বিশেষ দরজা, যা যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা করে। এলঅ্যান্ডটির ২৭ অক্টোবরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুটি প্যাকেজের কাজের মধ্যে নকশা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা এবং চালুর প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব ব্যবস্থা একসঙ্গে কার্যকর হলে লাইন-১-এর ট্রেন পরিচালনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে উঠবে। কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর, আরেক রুট পূর্বাচলে ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প। প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের একটি অংশ কমলাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত যাবে। অন্য অংশ নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। প্রকল্পের পরিকল্পনায় রয়েছে মোট ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে একটি ডিপো। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে নির্মাণকাজ, কারিগরি ব্যবস্থা স্থাপন, পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরই এই রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করা সম্ভব হবে। তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা ঢাকায় গণপরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সরকার তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পে মোট প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পগুলোর ব্যয়সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে মেট্রোরেল লাইন-১-এর সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন-৫-এর উত্তর রুটের সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুটের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর ব্যয় বৃদ্ধি, নির্মাণের জটিলতা এবং অর্থায়নের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে লাইন-১ দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল হওয়ায় এর নির্মাণকাজে কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। লাইন-৬-এ কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় এলঅ্যান্ডটি এর আগে বাংলাদেশের প্রথম চালু হওয়া মেট্রোরেল লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক এবং যান্ত্রিক অবকাঠামোর কাজে যুক্ত ছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওই প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা নতুন চুক্তি বাস্তবায়নে কাজে লাগাবে তারা। এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এসের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে নতুন করে কাজের চুক্তি পাওয়া বৃহৎ নগর পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার প্রতিফলন। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা এবং বিভিন্ন কারিগরি ব্যবস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। নতুন চুক্তির ফলে ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি অবকাঠামো নির্মাণে অগ্রগতি হবে। তবে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা শেষ পর্যন্ত সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। সূত্র: ইত্তেফাক
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভেতরে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) অনুপ্রবেশ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যটির কংগ্রেস সভাপতি ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বসিরাম সিরাম। তবে তাঁর এই চাঞ্চল্যকর দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সীমান্তে চীনের কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি এবং এ ধরনের অভিযোগ তাঁর বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বসিরাম সিরাম জানান, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় চীনা সেনারা শক্ত অবস্থান নিয়েছে। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল ইটানগর থেকে নাচো হয়ে লাইমেকিং ও তাকসিং সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শন করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পারেন, চীনা সেনারা ভারতীয় ভূখণ্ডের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে অগ্রসর হয়ে পাহাড়ের উঁচু চূড়াগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। আসাফিলার মতো বেশ কিছু কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এখন চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং অনলাইন মানচিত্র থেকেও কিছু এলাকা অদৃশ্য হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি অবিলম্বে প্রকৃত অবস্থা জানতে একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। অরুণাচল সীমান্তে চীনা তৎপরতা নিয়ে এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত জুনে 'নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি' নামের একটি স্থানীয় সংগঠন এবং আগস্টে অরুণাচল প্রদেশের পিপলস পার্টিও ভারতীয় টহল দলকে বাধা দেওয়া এবং চীনা উপস্থিতির বিষয়ে একই ধরনের অভিযোগ করেছিল। যদিও ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং সরকার বরাবরই এসব দাবিকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও ৬০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশের দাবি নাকচ করেছেন, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সীমান্তের উঁচু এলাকাগুলোতে চীনের তৎপরতা আগের চেয়ে বেড়েছে। অন্যদিকে বসিরাম সিরাম প্রশ্ন তুলেছেন, সীমান্তে যদি সত্যিই কোনো আগ্রাসন না ঘটে থাকে, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কেন বারবার একই অভিযোগ করছেন। তাই বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে না দিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।
ভারতের প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য প্রেমিকার কাছে সরবরাহের অভিযোগে দেশটির সেনাবাহিনীর সাবেক এক ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তার করেছে তামিলনাড়ু পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম বাবু (৫২)। তিনি একসময় ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিওতে কাজ করেছেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাঁর কাছ থেকে সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট নারীর পরিচয়, জাতীয়তা এবং তথ্যগুলো অন্য কারও কাছে পাঠানো হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তামিলনাড়ুর ভেলোর অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিরুভান্নামালাই জেলার আরানির কাছাকাছি একটি গোপন আস্তানায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। পরে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সম্ভাব্য বিদেশি সংযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এক নারীর সঙ্গে বাবুর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রেমের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ওই নারী ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে থাকতে পারেন। তবে তাঁদের মধ্যে কত দিন ধরে যোগাযোগ ছিল এবং ঠিক কী ধরনের তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে তথ্যগুলো কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশি সংস্থার কাছে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নারীর পরিচয় নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। তিনি পাকিস্তানের নাগরিক কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তাঁর জাতীয়তা ও অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগের ইন্টারনেট প্রটোকল ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। এসব তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের উৎস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে। তবে অনলাইনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেলেই ওই নারীর জাতীয়তা কিংবা কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হবে, এমন নয়। তদন্তকারীদের এখনো তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাবুর সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্য এবং প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত কোনো তথ্য অন্যত্র পাঠানো হয়ে থাকলে তার প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ওই নারীকে পাকিস্তানি নাগরিক কিংবা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য অনুমোদন ছাড়া অন্য কাউকে সরবরাহ করা যায় না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত বাবু আগে ডিআরডিওতে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে তাঁর পূর্ববর্তী পেশাগত দায়িত্ব এবং প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি কোন সময়ে ডিআরডিওতে কাজ করেছেন এবং সেখানে কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতেন, সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাবু ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোলন্দাজ রেজিমেন্টে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁর সামরিক কর্মজীবন এবং পরবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান অভিযোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করছেন। গ্রেপ্তারের পর বাবুকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁর যোগাযোগের তথ্য এবং ডিজিটাল নথি পরীক্ষা করছেন। এর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের পরিধি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তে আরও জানার চেষ্টা চলছে, প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত যে তথ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো বাবুর কাছে কীভাবে এসেছিল। তিনি আগে কর্মরত থাকার সময় এসব তথ্য পেয়েছিলেন, নাকি পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো মাধ্যমে সংগ্রহ করেছিলেন, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। একইভাবে তথ্যগুলো কতটা সংবেদনশীল এবং সেগুলো প্রকাশের ফলে কোনো নিরাপত্তাগত ক্ষতি হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত বাবুর বিরুদ্ধে কোন নির্দিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে কিংবা আদালতে হাজির করার পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, সেটিও জানা যায়নি। ফলে পুলিশের সন্দেহ ও গ্রেপ্তারের ঘটনাকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে হবে। আপাতত সংশ্লিষ্ট নারীর পরিচয় শনাক্ত, ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ যাচাইয়ের কাজ চলছে। পুলিশ সম্ভাব্য বিদেশি গোয়েন্দা সংযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর জাতীয়তা কিংবা কোনো বিদেশি সংস্থার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়নি। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
ভারতের মধ্যপ্রদেশে বাড়ির তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে পানের পিক ফেলতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজ্যের বিদিশা জেলার গঞ্জবাসোদা শহরের গায়ত্রী নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম প্রভুলাল গুপ্তা। তাঁর বয়স ৬৫ বছর বলে স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আবাসিক ভবনের একেবারে কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন থাকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নবদুনিয়া ও টিভি নাইন হিন্দির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক একটার দিকে গঞ্জবাসোদা শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গায়ত্রী নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রভুলাল গুপ্তা একটি নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে পানের পিক বাইরে ফেলতে তিনি বারান্দা থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এ সময় ভবনের খুব কাছ দিয়ে যাওয়া ১১ কেভি বিদ্যুতের লাইনের সংস্পর্শে আসেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুতের প্রচণ্ড ঝটকায় তাঁর শরীর মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর প্রভুলাল গুপ্তা বারান্দার কিনারায় আটকে পড়েন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে জরুরি সেবা ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার পর উদ্ধারকারীরা তাঁর মরদেহ নিচে নামান। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয় পুলিশ এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। নিহত প্রভুলাল গুপ্তা মূলত মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি গঞ্জবাসোদার গায়ত্রী নগরে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং নির্মাণকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি যে ভবনে অবস্থান করছিলেন, সেটির নির্মাণকাজ চলছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে বিদ্যুতের সংস্পর্শ ঘটেছে, সে বিষয়ে পুলিশের তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, আবাসিক ভবনের অত্যন্ত কাছ দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের লাইন চলে গেছে। এতে বাসিন্দাদের পাশাপাশি ভবনের নির্মাণশ্রমিকেরাও দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বিপজ্জনক এই লাইন সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। বাড়ির মালিক পদ্মা চিড়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাড়ির কাছ দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন সরানোর জন্য তিনি আগেও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছিলেন। কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিনেও লাইনটি সরানো হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। স্থানীয় কাউন্সিলর মনীশ বিশ্বকর্মাও এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিদ্যুতের খুঁটি, তার ও অন্যান্য সরঞ্জামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ লাইনগুলো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গুরুতর এই দুর্ঘটনার পর বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। বিশেষ করে বাড়ির এত কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন থাকার বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। ঘটনাটি আবাসিক ভবন ও নির্মাণাধীন স্থাপনার আশপাশে হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের লাইন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী ভারত ও পাকিস্তানকে প্রাণঘাতী যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত রাখতে নিজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এই দাবি করেন। ট্রাম্প জানান, সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে উভয় দেশের ওপর ২৫০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের কড়া হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, বাণিজ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কারণেই ভারত ও পাকিস্তান গুলি চালানো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে এত বড় সংঘাত থামানোসহ মোট আটটি যুদ্ধ মীমাংসার পেছনে নিজের কৃতিত্ব থাকার পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তিনি প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ২০২৫ সালের ৭ মে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে ভারতীয় বাহিনী, যার মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। ভারতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের মহাপরিচালক (ডিজিএমও) ভারতীয় সমকক্ষের কাছে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের অনুরোধ জানালে ১০ মে ভারত তাদের অভিযান স্থগিত করে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার এই যুদ্ধবিরতির পুরো কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করে এলেও নয়াদিল্লি শুরু থেকেই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের বিন্দুমাত্র মধ্যস্থতা ছিল না; বরং দুই দেশের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
ভারতের গুজরাটের সুরাটে বীর নর্মদ সাউথ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলোতে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে বিশেষ স্প্রিংযুক্ত সিলিং ফ্যান বসানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ফ্যানগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্ভাব্য প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। তবে উদ্যোগটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার পাশাপাশি প্রশ্নও উঠেছে। সমালোচকেরা বলছেন, আবাসনের নিরাপত্তা বাড়ানোর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সংকটের কারণগুলো মোকাবিলায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দ্য প্রিন্টের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে প্রায় ৩৫০টি বিশেষ ফ্যান বসানোর কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত এনডিটিভি প্রফিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে মোট ৩৮৮টি ফ্যান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থাপিত ফ্যানের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পার্থক্য থাকলেও ছাত্র ও ছাত্রীদের আবাসনে এই নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কিশোরসিং চাভদা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাড়ানোই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিশেষ ফ্যানগুলোতে এমন ব্যবস্থা রয়েছে, যা অস্বাভাবিক চাপের ক্ষেত্রে সক্রিয় হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং ফ্যানটিকে নিচে নামিয়ে আনে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উপাচার্যকে এই নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্যোগটি আরও বেশি মানুষের নজরে আসে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি আর বাস্তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধে ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা এক বিষয় নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এই উদ্যোগের ফলাফল নিয়ে কোনো মূল্যায়নের তথ্য দেওয়া হয়নি। দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে উঠে আসা সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, আবেগগত সংকট ও শিক্ষাজীবনের সমস্যাগুলো মোকাবিলার দাবি জানানো হয়েছে। ব্যবহারকারীদের একাংশের বক্তব্য, শুধু আবাসনের সরঞ্জাম পরিবর্তন করলে এসব সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁদের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এসব প্রতিক্রিয়া সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের মতামত, উদ্যোগটির কার্যকারিতা সম্পর্কে কোনো গবেষণার সিদ্ধান্ত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, আত্মহত্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন উপকরণে প্রবেশাধিকার সীমিত করা প্রতিরোধের একটি স্বীকৃত কৌশল। একই সঙ্গে কিশোর ও তরুণদের আবেগ ও সামাজিক পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা বাড়ানো এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে মূল্যায়ন, চিকিৎসা ও নিয়মিত সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থাৎ আত্মহত্যা প্রতিরোধে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি মানুষের সংকট শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধে দুই দেশের ওপর ২৫০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এরপরই দুই দেশ গুলি চালানো বন্ধ করে বলে দাবি করেন তিনি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনি সমাবেশে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তবে ভারত তাঁর মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধ হওয়ার দাবি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। সেখানে নিজের প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি ও বাণিজ্য শুল্কের সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ আনেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে বাণিজ্য করবে না বলে সতর্ক করেছিলেন। একই সঙ্গে উভয় দেশের পণ্যের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দেন। তাঁর দাবি, এই চাপের মুখেই ভারত ও পাকিস্তান সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে রাজি হয়। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তিনি তাদের সতর্ক করেছিলেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এত বড় শুল্ক আরোপের হুমকিতে দুই দেশ ক্ষুব্ধ হলেও শেষ পর্যন্ত গুলি চালানো বন্ধ করে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাঁর নিজের দাবি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর উদ্যোগে বিশ্বের আটটি যুদ্ধ বা বড় সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটেছে। এসব সংঘাতের কয়েকটিতে বাণিজ্য ও শুল্ককে কূটনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত চলাকালে ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবিও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট দুই দেশের স্বীকৃত কোনো যৌথ হিসাব নয়। সংঘাতের সময় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়েও ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। নিজের দাবিকৃত কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আটটি যুদ্ধ মীমাংসায় ভূমিকা রাখার পরও কেন তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্যে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প যেসব সংঘাত বন্ধের কৃতিত্ব দাবি করেন, সেগুলোর প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা এবং সংঘাতের বর্তমান অবস্থা এক নয়। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সর্বশেষ বড় সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর। ২২ এপ্রিলের ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে। পাকিস্তান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ২০২৫ সালের ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কয়েকটি স্থানে হামলা চালায়। নয়াদিল্লির দাবি ছিল, এসব স্থানে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ভারতীয় হামলার নিন্দা জানিয়ে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক স্থাপনায় আঘাত করার দাবি করে। চার দিনের সামরিক সংঘাতের পর ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের বিষয়ে সম্মত হয়। সে সময় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে। পরে তিনি একাধিকবার দাবি করেন, বাণিজ্য সুবিধা ও শুল্ক আরোপের হুমকির মাধ্যমে দুই দেশকে সংঘাত বন্ধে রাজি করিয়েছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করা হলেও ভারত ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ভারতের সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, সংঘাত বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস বা ডিজিএমও তাঁর ভারতীয় সমকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের অনুরোধ জানান। এরপর দুই পক্ষের আলোচনায় ১০ মে সামরিক অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। ভারতের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছিল না। অন্যদিকে পাকিস্তান বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়ার বক্তব্যও এসেছে। ফলে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ মন্তব্য সেই বিরোধকে আবার সামনে এনেছে। বিশেষ করে ২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকির বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় অবস্থান ও ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতিতে শুল্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর প্রশাসন শুল্ক ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রয়োগের দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে হুমকি দেওয়া এবং বাস্তবে শুল্ক আরোপ করা আলাদা বিষয়। ২০২৫ সালের ওই সংঘাতের সময় ভারত ও পাকিস্তানের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছিল, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাঁর পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য তুলে ধরার রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বাণিজ্য শুল্ককে শুধু অর্থনৈতিক নয়, আন্তর্জাতিক সংঘাত মোকাবিলার কার্যকর উপায় হিসেবেও উপস্থাপন করেছেন। তবে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বন্ধে তাঁর ভূমিকার বিষয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান এখনো বহাল রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ দাবি নতুন করে আলোচনায় এলেও ২০২৫ সালের সংঘাত বন্ধের পূর্ণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে মতপার্থক্য দূর হয়নি। SOURCE - রোল কল ফ্যাক্টবেস, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোর্ট মায়ার্স সমাবেশের পূর্ণ বক্তব্য
ভারতের মহারাষ্ট্রের প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফুট উঁচু কোনকানকাদা পাহাড় থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল নামের এক যুবক। গুজরাটের ভাবনগরের বাসিন্দা এবং ভারতীয় ডাক বিভাগের এই কর্মী মৃত্যুর আগে ১৩ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা রেখে গেছেন। সেই ভিডিওতে তিনি নিজের সাবেক স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে চরম হতাশার কথা ব্যক্ত করেন। জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিয়ের মাত্র আট মাসের মাথায় তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী একটি মামলা করেন, যেখানে ৯ অক্টোবর তাকে আদালতেও হাজিরা দিতে হয়েছিল। বিশ্বরাজসিংহের অভিযোগ, সাধারণ স্বামী-স্ত্রীর মতবিরোধকে অতিরঞ্জিত করে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পারিবারিক সহিংসতার রূপ দিয়েছে। এমনকি তার মা এবং ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধেও বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার নিয়েও প্রতারণা করেছে। এই আইনি লড়াই ও মিথ্যা অপবাদের কারণে তিনি মানসিক, আর্থিক ও সামাজিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আত্মহত্যার আগে ভিডিও বার্তায় ভেঙে পড়া এই যুবক বলেন, যখন জীবনে আর কোনো আশা অবশিষ্ট থাকে না, তখন পরিস্থিতি মানুষকে ভেতর থেকে শেষ করে দেয়। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তিনি তার মা ও কিশোর ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মিথ্যা মামলায় জড়ানো আমার মা ও ভাইয়ের কী হবে?" তবে ভিডিওতে বিশ্বরাজসিংহের তোলা এসব অভিযোগের সত্যতা বা অপর পক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চীনে চলমান অনূর্ধ্ব-১৮ স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় স্কুল দলকে ২৭-০ গোলে হারিয়েছে বেনিন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সুজৌতে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে এই বড় জয় পায় আফ্রিকার দেশটির স্কুল দল। ম্যাচটি ছিল ৮০ মিনিটের। বেনিনের জন ইথান হুন্তিনমে, ফ্রাঁসোয়া আদিসা ও ওসভালদো সেমেভো লোকো চারটি করে গোল করেন। ইজুদিন বুকারি করেন তিনটি। ভারতের খেলোয়াড়দের দুটি আত্মঘাতী গোলও ব্যবধান বাড়ায়। টুর্নামেন্টে এটি বেনিনের দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে কাতারকে ৭-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। ফলে দুই ম্যাচে ৩৪ গোল করেছে বেনিন, বিপরীতে কোনো গোল হজম করেনি। ভারতের বিপক্ষে জয়ের পর শেষ ষোলোতে তাদের জায়গাও নিশ্চিত হয়েছে। প্রতিযোগিতার সূচিতে বেনিনের প্রতিপক্ষের নাম ‘ইন্ডিয়া আইএসএসও ২’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ এটি ভারতের দ্বিতীয় স্কুল দল। ফলটিকে ভারতের মূল জাতীয় ফুটবল দল কিংবা জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ম্যাচ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক স্কুল ক্রীড়া ফেডারেশন আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা চীনের সুজৌতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের স্কুল ফুটবল দল এতে অংশ নিয়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ দিয়েছে ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর। ১৯ অক্টোবর জারি করা নোটিশে স্থাপনাটিকে অননুমোদিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মসজিদটি রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়ার পাশাপাশি দিল্লি হাইকোর্টে নোটিশ চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, মসজিদটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭ লোক কল্যাণ মার্গের কাছে অবস্থিত। ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের বক্তব্য, এটি সরকারি জমিতে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে মসজিদের প্রতিনিধিরা এর ওয়াক্ফ মর্যাদা ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে এনেছেন। নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ঐতিহ্য তালিকায় মসজিদ ও এর চত্বরের উল্লেখ রয়েছে। মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি মসজিদে প্রবেশের পথ সীমিত করা হয়েছে। গত ছয় মাসে বারবার দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের কাছে সহায়তা চেয়েও কার্যকর উদ্যোগ পাননি বলে দাবি করেন তিনি। মসজিদ ও সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে দেখা করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমির নেতৃত্বাধীন দলটি আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে স্থাপনা ভাঙার পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি জানায়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি ও মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের অনুরোধ করে। মন্ত্রী বিষয়টিতে সাধ্যমতো উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে। নোটিশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, আম আদমি পার্টির নেতা আমানতুল্লাহ খান এবং কাশ্মীরের ধর্মীয় নেতা মীরওয়াইজ উমর ফারুক। ওয়াইসি দাবি করেছেন, মসজিদটি ১৯৭৭ সাল থেকে গেজেটভুক্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি। সেটি রক্ষায় দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড কেন পদক্ষেপ নেয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ চান তিনি। দ্য ট্রিবিউনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোটিশটি ওই এলাকায় বৃহত্তর উচ্ছেদ কার্যক্রমের অংশ। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ জানিয়েছে, মসজিদ কমিটির পক্ষে আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে; স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
ভারতের উত্তর প্রদেশে নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে চাওয়ায় ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে ঘুমন্ত অবস্থায় গুলি করার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মেয়ের মায়ের করা মামলার পর অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার মৈনপুরী জেলার ভোঁগাও শহরে এ ঘটনা ঘটে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ তরুণীর নাম শাজিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি ওই যুবককেই বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। তবে তাঁর বাবা আসিন খান (৪৮) মেয়ের বিয়ে অন্য এক পাত্রের সঙ্গে ঠিক করেছিলেন। আগামী ১৯ নভেম্বর বিয়ের দিনও নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাবার ঠিক করা বিয়েতে রাজি না হয়ে নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে আসিন মেয়েকে গুলি করেন বলে অভিযোগ। মৈনপুরী নগর পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট অরুণ কুমার সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার বিস্তারিত জানতে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, শাজিয়া ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর মাথায় গুলি করা হয়। গুলির শব্দ শুনে তাঁর মা খেরুন্নিসা দ্রুত কক্ষে গিয়ে মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে শাজিয়াকে প্রথমে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাইফাই মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করেন। সেখানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্বামী আসিন খানের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন খেরুন্নিসা। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েকে গুলি করার পর আসিন ভোঁগাও থানার দিকে যাওয়ার পথে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নিজের পছন্দে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতার ঘটনা ভারতে পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও তরুণ-তরুণীদের বিয়ের স্বাধীনতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন সামনে এনেছে। সূত্র: ইত্তেফাক, সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বাস্তবায়নের আগে যতটা কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব, বর্তমানে প্রায় সেই পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাকি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা গেলে শিগগিরই চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও রুবিওর বৈঠকে বাণিজ্যের পাশাপাশি জ্বালানি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসে। দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এই চুক্তি নিয়ে আলোচনার পেছনে রয়েছে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের শুল্কবিরোধ ও বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে মতপার্থক্য। ২০২৫ সালের আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অধিকাংশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্মত কাঠামোর আওতায় অধিকাংশ ভারতীয় পণ্যের শুল্কহার ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা জানানো হয়। কিন্তু এই সমঝোতার পরও চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা থেমে থেমে এগিয়েছে। ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিত করা। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল ১৫ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, চুক্তির প্রথম পর্যায়ের আইনি খসড়া তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা যেন শুল্কের ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে চায় নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি তেল কেনা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ভারত তুলনামূলক কম দামে রুশ অপরিশোধিত তেল কিনে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ নিয়ে চাপ থাকলেও ভারতের অবস্থান হলো, দেশের বিপুল জ্বালানি চাহিদা, সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনা করে তেল আমদানির উৎস নির্ধারণ করতে হয়। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রুশ তেল কেনার কারণে কয়েকটি দেশের ওপর সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিধান প্রয়োগে ছাড় দিয়েছেন। এই পদক্ষেপ ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির পথে একটি বাধা কমাতে পারে। তবে রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে দুই দেশের নীতিগত পার্থক্য পুরোপুরি মিটে গেছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। রুবিওর ভারত সফরে জ্বালানি সহযোগিতাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের তেল শোধনাগার পরিদর্শন এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল আরও বেশি পরিশোধন এবং দেশটিতে তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করতে চান তিনি। এই উদ্যোগ জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার এবং শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত, কোন পণ্যে কী ধরনের সুবিধা থাকবে এবং কখন তা কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে মাটি থেকে প্রায় ৪০০ ফুট উঁচুতে একটি আবাসিক ভবনের ওপর নির্মিত হয়েছে দোতলা বিলাসবহুল বাড়ি। বাগান, হেলিপ্যাড, সুইমিংপুল ও চারপাশের শহর দেখার খোলা জায়গা থাকা এই ‘স্কাই ম্যানশন’ তৈরি হয়েছিল ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়ার জন্য। কিন্তু বাড়িটি নির্মাণাধীন থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালে ভারত ছেড়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি। ঋণ ও প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মধ্যে তাঁর সেখানে বসবাসের স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাড়িটি রয়েছে বেঙ্গালুরুর ইউবি সিটির কিংফিশার টাওয়ার্সে। প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বাসভবন সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের মতো নয়। উঁচু ভবনের ওপর বিশাল একটি ক্যান্টিলিভার প্ল্যাটফর্মে আলাদা দোতলা বাড়ির আদলে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর চারপাশের খোলা ডেক থেকে শহরের চারদিকে দেখা যায়। স্থাপনাটির ড্রোনচিত্র ধারণকারী শ্রীহরি কারান্থের প্রকাশিত বিবরণেও এসব বৈশিষ্ট্য উল্লেখ রয়েছে। কিংফিশার টাওয়ার্স প্রকল্পটি গড়ে ওঠে ইউনাইটেড ব্রুয়ারিজ হোল্ডিংস ও প্রেস্টিজ এস্টেটস প্রজেক্টসের যৌথ উন্নয়ন চুক্তির মাধ্যমে। মিন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে ৮১টি অ্যাপার্টমেন্টের পাশাপাশি এই বিশাল পেন্টহাউস রাখা হয়। ফলে ছাদের বাড়িটি নিচের আবাসিক ইউনিটগুলো থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য পেয়েছে। মালিয়ার অনুপস্থিতির পেছনে রয়েছে তাঁর ব্যবসায়িক ও আইনি সংকট। কিংফিশার এয়ারলাইনস ২০১২ সালে কার্যক্রম বন্ধ করার পর ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে তাঁর বিরোধ দীর্ঘ হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষও প্রতিষ্ঠানটির পতনসংশ্লিষ্ট প্রতারণার অভিযোগে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। রয়টার্সের ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া দেউলিয়া ঘোষণার আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে হেরে যান মালিয়া। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ভারতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধেও পৃথক আইনি লড়াই করছিলেন। তবে বাড়িটি বর্তমানে সম্পূর্ণ খালি কি না কিংবা এর ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ অবস্থা কী, তা নিশ্চিত করার মতো সাম্প্রতিক প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই বছরের পর বছর বাড়িটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত থাকার প্রচারিত দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বলা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।