নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহ ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জেরে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। দেশটির বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল তাঁর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করছে। বিতর্কের সূত্রপাত হয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে বালেন শাহ বলেন, শুধু ভারত নয়, নেপালও সীমান্তের কিছু এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিনের ভারত–নেপাল সীমান্ত বিরোধ নতুন করে আলোচনায় আসে। বক্তব্য প্রকাশের পর কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নেপালের জাতীয় অবস্থানকে দুর্বল করেছে। সংসদেও এ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হয় এবং বিরোধীরা তাঁর পদত্যাগের দাবি তোলে। এদিকে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ব্যাখ্যায় জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় উভয় দেশের বাস্তব পরিস্থিতি ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছেন, নেপালের সার্বভৌম অবস্থান থেকে সরে আসেননি। ভারতও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নয়াদিল্লি পুনর্ব্যক্ত করেছে, ভারত–নেপাল সীমান্ত বিরোধ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত এবং তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকার প্রয়োজন নেই। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ব্যাপক সমর্থনে ক্ষমতায় আসেন বালেন্দ্র (বালেন) শাহ। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতির কারণে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সীমান্ত ইস্যুতে তাঁর মন্তব্য সেই সমর্থকদের একাংশের মধ্যেই অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
ভারতের অরুণাচল প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। লোহিত জেলার তেজুর কাছে শিবাজি নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও চারজন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাহাড়ের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে নির্মাণস্থলের ওপর। এতে পাঁচজন পরিযায়ী শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। তাদের মধ্যে একজন নিজেই কোনোভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ও আহতরা স্থানীয় একটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই লোহিত জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং অরুণাচল প্রদেশ পুলিশকে মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এদিকে একই সময়ে টানা বৃষ্টির কারণে অরুণাচল প্রদেশের তিরাপ জেলাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খোংসা-লাজু সড়কের প্রায় ১১০ মিটার অংশ ধসে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। খোংসার পোস্ট অফিসের কাছের অংশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সড়কটি লাজু প্রশাসনিক এলাকার অন্তত ১৬টি গ্রামের সঙ্গে সংযোগের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তুতনু ব্লকের গ্রাম, লাপনান, খেতি ও থিনসা এলাকার বাসিন্দারা দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া এপিএসটিএস বাস স্টেশন, আসাম রাইফেলস ও সিআরপিএফের সদর দপ্তর এবং খোংসার সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্যও এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছিল। সংস্থাটি আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। বুধবার নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে লোহিত জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
ওয়াশিংটন, ৮ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত একটি পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি এবং অর্থ না দিলে ভারতে থাকা তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ভারতের এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারতের কাছে তার প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চাওয়া হবে। মার্কিন আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের টান্ডা থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত একটি ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ডলার দাবি করেন। পরিবারটি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে, ভারতে থাকা তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করার হুমকি দেওয়া হয়। মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার সরকারি পদমর্যাদার প্রভাব ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন। মামলাটি আন্তঃদেশীয় চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধসংক্রান্ত একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। সে কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের আওতায় আনতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান আইনি চুক্তি এবং দুই দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। মামলায় অভিযোগ আনা হলেও এখন পর্যন্ত ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মানেই তিনি দোষী—এমনটি নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপজুড়ে চালানো এক বিশাল যৌথ অভিযানে ভারতভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ চক্রের ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 'অপারেশন হার্ড বল' নামের কয়েক বছরব্যাপী চলা মার্কিন ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি বিল এসাইলি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই অপরাধী চক্রগুলো ক্যালিফোর্নিয়া ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড, অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মতো মারাত্মক সহিংসতার সাথে জড়িত। এছাড়াও তারা বিভিন্ন কমিউনিটিতে বিপুল পরিমাণ কোকেন এবং মেথামফেটামিনের মতো মারাত্মক মাদক চোরাচালান করে আসছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ২৪ জনের মধ্যে ১১ জনকেই ধরা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের হাইল্যান্ড পার্কের বেশ কয়েকটি বাড়িতে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এজেন্টরা একযোগে হানা দিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তিনটি ভিন্ন অভিযোগপত্রে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং গ্যাংস্টার সংস্কৃতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের প্রধান দুই হোতা বর্তমানে ভারতের কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকেই মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছিলেন। এই চক্রের মূল টার্গেট ছিল আমেরিকা ও কানাডায় বসবাসরত প্রবাসীরা। তারা প্রবাসীদের এবং ভারতে থাকা তাদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে লাখ লাখ ডলার দাবি করত। এই অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রায় এক হাজার কিলোগ্রাম কোকেন, এক কিলোগ্রাম হেরোইন, চলিশ হাজার ডলার নগদ অর্থ এবং এক ডজন আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস এবং স্যাক্রামেন্টো এলাকায় মোট ৩৪টি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে ভারতীয় রুপির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (FPI) অব্যাহত থাকায় রুপির বড় ধরনের দরপতন আপাতত এড়ানো গেছে। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় ভারত সরাসরি এর প্রভাব অনুভব করছে। তেলের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ে, যা রুপির বিনিময় হারকে দুর্বল করে। বুধবারের লেনদেনে রুপি ডলারের বিপরীতে কিছুটা দুর্বল হলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও ঋণবাজারে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকায় বাজারে ডলারের চাহিদা আংশিকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগ না থাকলে রুপির পতন আরও বেশি হতে পারত। এদিকে বাজারের নজর এখন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার-সংক্রান্ত ইঙ্গিত এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে। কারণ, তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা রুপির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। ফলে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি এশিয়ার বেশ কয়েকটি মুদ্রার মতো ভারতীয় রুপিও চাপের মুখে পড়েছে।
ভারত ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অ্যাস্ট্রা (Astra) আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে। ভারতীয় সরকারের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই দিনের জাকার্তা সফরের সময় এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ঘোষণা আসে। ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চুক্তিটির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটি ভারতের তৈরি অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম বিদেশি ক্রেতা হতে যাচ্ছে। ব্রহ্মোস বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়। অন্যদিকে অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র ইন্দোনেশিয়ার রাশিয়ান নির্মিত সুখোই যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্মকর্তারা। এই চুক্তির পাশাপাশি ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বন্দর উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই করেছে। উভয় দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব’ (Comprehensive Strategic Partnership)-এর নতুন পর্যায়ে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে নয়, বরং চুক্তির প্রেক্ষাপটই ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত প্রভাবের মধ্যে ভারত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং এখন ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে টানা ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাবে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। কেরালায় ভূমিধসে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৪ জন। বুধবার (৮ জুলাই) দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে গিয়ে হঠাৎ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। এদিকে গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় মহারাষ্ট্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। রাজ্যটিতে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১০ জন। বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে জানা যায়, পুনে শহরের একটি এলাকায় পাহাড়ের অংশ ধসে কয়েকটি বাড়ি চাপা পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আটকা পড়েন। উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যারা একই পরিবারের সদস্য বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বাকিদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও জরুরি সেবাদল যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে, সোমবার সকাল থেকে ভূমিধসের কারণে মুম্বাই-পুনে মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশটির আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ের সঙ্গে পুনের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে রেল চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আবহাওয়া দপ্তর মুম্বাই মহানগর অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করে আরও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে ভারতের পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অতিবৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে এক নারী সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে পুলিশ দাবি করেছে, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি চাকরি ও পারিবারিক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আয়ুষী শর্মা আত্মীয়দের সহযোগিতায় মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নীরজ শর্মা (৪৫) জয়পুরের একটি আদালতে নিম্ন বিভাগীয় কেরানি (এলডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩ জুলাই বিকেলে তিনি ছেলেকে কোচিং সেন্টারে নামিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি স্করপিও গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা মনে হলেও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা সন্দেহ করেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। পরে তদন্তে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে আসে। জয়পুর পুলিশের পূর্ব বিভাগের উপকমিশনার রঞ্জিতা শর্মা জানান, নীরজ শর্মার স্বামী প্রায় এক বছর আগে মারা যান। তার মৃত্যুর পর অনুকম্পাভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে নীরজ শর্মা সরকারি চাকরি পান। তদন্তে পুলিশ দাবি করেছে, মেয়ে আয়ুষী সেই চাকরি নিজের নামে পেতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি গত দুই থেকে তিন বছর ধরে মা ও মেয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পুলিশের অভিযোগ, আয়ুষী তার কাকা মোহন স্বরূপ এবং চাচাতো ভাই বলরাম ওরফে রবির সঙ্গে মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ভরতপুরের বাসিন্দা হেমন্ত শর্মাকে ৭ লাখ রুপির বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে একটি থার গাড়ি ভাড়া করে নীরজ শর্মার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। পরে প্রায় এক মাস নজরদারি চালিয়ে ৩ জুলাই স্করপিও গাড়ি ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। ঘটনার দিন কয়েকজন অভিযুক্ত নীরজ শর্মার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে একে অপরকে তথ্য দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ পুলিশের। ঘটনার পর নিহতের ভাই রাকেশ কুমার শর্মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পুলিশকে জানান, নীরজ শর্মা জীবিত থাকতেই সম্পত্তি নিয়ে মেয়ে ও শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বিরোধের কথা বলেছিলেন। তিনি একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পুলিশ এ ঘটনায় আয়ুষী শর্মাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বলরাম ওরফে রবি নামে একজন অভিযুক্ত এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আয়ুষী স্বীকার করেছেন যে তিনি বাবার মৃত্যুর পর সরকারি চাকরিটি নিজের নামে পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার মা সেই চাকরিতে যোগ দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। এরপর সম্পত্তি ও চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচার এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি রয়েছে। ঘটনাটি ভারতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি ও অনুকম্পাভিত্তিক সরকারি চাকরিকে কেন্দ্র করে এমন হত্যার অভিযোগে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পুলিশ তদন্ত শেষ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে টানা মৌসুমি বৃষ্টির মধ্যে একটি পুরোনো ভবন ধসে পাঁচ শিশুসহ অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। রোববার (তারিখ) নগরীর মানখুর্দ এলাকায় একটি বস্তিতে দুই থেকে তিনটি বহুতল ভবন হঠাৎ ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে দমকল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীরা। নগর কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনায় পাঁচ শিশু ও এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে মুম্বাইয়ে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর মধ্যে রোববার একদিনেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়, কোথাও কোথাও তা ১৬১ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। অতিবৃষ্টির কারণে শহরের বহু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নগরীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও জোরদার করা হয়েছে। এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে দুই শহরের মধ্যে যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিমান ও রেল যোগাযোগেও। মুম্বাই থেকে ছেড়ে যাওয়া ও সেখানে আগত কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি মুম্বাই-পুনে রুটে কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভারি বৃষ্টির সময় বড় ধরনের ঝুঁকিতে থাকে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মুম্বাইয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুঁকি পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র—এমন ধারণা সঠিক নয়। তিনি ভারতকে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারত থেকে ধারাবাহিক সমর্থন পাচ্ছে ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র। সেই বক্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের প্রতি ভারতের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি হিসেবে ভারত তেল আবিবের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। নেতানিয়াহু বলেন, ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক শুধু কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, উদ্ভাবন, সাইবার নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ভারত থেকে ইসরায়েল সবসময়ই উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা পেয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কে কোনো ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আগের মতোই দৃঢ় বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, প্রযুক্তি, কৃষি এবং বাণিজ্য খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ে টানা মৌসুমি বৃষ্টির মধ্যে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি অভিযান চালানো হয়। রোববার রাতে শহরের পূর্বাঞ্চলের মানখুর্দ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির সময় একটি বহুতল ভবন ভেঙে পাশের কয়েকটি ঘরের ওপর পড়ে। এতে একই পরিবারের পাঁচ শিশু ও এক নারী প্রাণ হারান। অন্তত একজন আহত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। ভারী বৃষ্টিতে শহরের বহু সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে, যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সোমবার রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মুম্বাইয়ের সব স্কুল ও কলেজ এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতি ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং পুরোনো ভবন ধসের মতো ঘটনা মুম্বাইয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা নগর অবকাঠামোর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর ধারাবাহিকতায় হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় এক তরুণীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী ও স্বামীর প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার পর দুজনই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পরে ভারতে ফিরে আসার পর তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গত ২২ মে মানেসর থানায় নিহত তরুণীর মা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার ২২ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে ২৫ বছর বয়সী অঙ্কিত নামে এক যুবকের বিয়ে হয়। কিন্তু ২১ মে থেকে মেয়েটি নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকেও সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তারা সন্দেহের বশে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরদিন মানেসরের একটি কক্ষ থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত অঙ্কিত ও তার ৩৮ বছর বয়সী প্রেমিকা রজনী দেবীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। রজনী হরিয়ানার ঝাঝ্জর জেলার বাসিন্দা এবং মানেসরের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। অন্যদিকে অঙ্কিত স্থানীয়ভাবে একটি তামাকের দোকান পরিচালনা করতেন। তদন্তকারীদের দাবি, রজনীর ভাড়া করা একটি কক্ষেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন অঙ্কিত তার স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যান এবং দুজনে মিলে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে উত্তর প্রদেশ থেকে কেনা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবেই এই অস্ত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। ঘটনার পর অঙ্কিত ও রজনী প্রথমে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে যান। পরে সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে পালিয়ে যান বলে জানায় পুলিশ। তবে গত ৩০ জুন ভারতে ফিরে আসার পর মানেসরের অপরাধ দমন শাখা তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত দুজনকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে টানা ভারি বর্ষণে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার কারণে সড়ক ও রেল যোগাযোগে গুরুতর বিঘ্ন দেখা দিয়েছে, ফলে মুম্বাই ও পুনের মধ্যে যাতায়াত কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) মুম্বাই, থানে, পালঘর ও রায়গড় জেলায় তিন ঘণ্টার ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করে। সতর্কবার্তায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়। এই সতর্কতার পরপরই প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মুম্বাই, থানে ও পালঘরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সোমবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে। নতুন সূচি পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। কুরলা এলাকায় একটি বড় গাছ রাস্তার পাশের দোকানের ওপর ভেঙে পড়লে ৬৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। সাকি নাকায় জলাবদ্ধতার নিচে ঢেকে থাকা খোলা নর্দমায় পড়ে ডুবে মারা যান আরেক ব্যক্তি। চেম্বুরে একটি গাছ স্কুলবাসের ওপর ভেঙে পড়লে ১১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া নবি মুম্বাইয়ের খারঘরে বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পাণ্ডবকাড়া জলপ্রপাতে প্রবেশ করে দুই যুবক প্রাণ হারান। মিরা রোড-ভাইয়ান্দার এলাকায় মোটরসাইকেলের ওপর একটি নারিকেল গাছ ভেঙে পড়লে সেখানেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, পুনের কাছাকাছি লোহাগড় দুর্গসংলগ্ন পাতান গ্রামে ভূমিধসে একটি পরিবার আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছেন কোলহাপুর রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক রঞ্জন কুমার শর্মা। তাদের উদ্ধারে জরুরি তৎপরতা চালানো হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পুনে-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ের একটি কংক্রিটের স্তম্ভ ধসে পড়েছে। পাশাপাশি পুরোনো মুম্বাই-পুনে মহাসড়কের বিকল্প পথ মাভাল ও তামিনি ঘাটে তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় দুই দিক থেকেই সড়ক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। টানেল-২-এর কাছে ভূমিধসের কারণে যানবাহন অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রেল যোগাযোগেও এর প্রভাব পড়েছে। কারজাত ও লোনাভালার মধ্যবর্তী দক্ষিণ-পূর্ব ঘাট অঞ্চলে ভূমিধসের কারণে মধ্য রেলওয়ের ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী নির্দেশনা মেনে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ জানিয়েছে, চলমান বর্ষা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে, ফলে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ৬৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৫২ হাজার কোটি রুপি) মূল্যের একটি বড় প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিকল্পনা নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে ভারত। এই পরিকল্পনার আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র, কামিকাজে ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য আধুনিক সরঞ্জাম কেনা হবে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ভারতের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি) এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন এই কাউন্সিলে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। ভারত সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার আনুমানিক ব্যয় হবে ৫২ হাজার কোটি রুপি, যা প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান। তবে এসব সরঞ্জাম কত সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা হবে কিংবা সেগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে নাকি দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা হবে, সে বিষয়ে সরকার বিস্তারিত জানায়নি। অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ (ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার) ব্যবস্থা, মধ্যম পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, বহনযোগ্য ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন ব্যবস্থা। এ ছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নতুন নৌ-মাইন, জাহাজভিত্তিক ড্রোন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারে একটি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিমানবাহিনীর জন্য উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম একটি মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং দূরবর্তী পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে। গত এক দশকে ভারত ঐতিহ্যগত অস্ত্র সরবরাহকারী রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনেও জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি। বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছর পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাত ভারতের সামরিক সক্ষমতা আরও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে আসে। এদিকে ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে নৌবাহিনীর আধুনিকায়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। এর অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বর দেশটি অন্তত ৭৫টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করে, যার বেশিরভাগই দেশীয়ভাবে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতেও ভারত প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দিয়েছিল। সেই তালিকায় ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্তও ছিল।
ভারত মহাসাগরে চীন ও পাকিস্তানের সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজের ক্রমবর্ধমান আনাগোনা ঠেকাতে সমুদ্রের তলদেশে এক বিশাল নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে ভারত। শত্রুপক্ষের জলযানের ওপর সার্বক্ষণিক কড়া নজর রাখতে সমুদ্রের তলদেশে ফাইবার অপটিক সেন্সর বসানোর এই বিশেষ প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। এই প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের তলদেশে অত্যাধুনিক সেন্সর নোড স্থাপন করা হবে, যা ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে সরাসরি একটি উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সাথে যুক্ত থাকবে। সেখান থেকেই সমুদ্রের নিচের সব ধরনের গতিবিধি ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। এই বিশেষ ব্যবস্থার নকশা তৈরি, সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে একটি যোগ্য শিল্প অংশীদার বা ঠিকাদার খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারত মহাসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক প্রতিযোগিতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনের পারমাণবিক ও সাধারণ সাবমেরিনগুলো প্রায়ই এই অঞ্চলে টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের নৌবাহিনীও চীনের তৈরি দূরপাল্লার অত্যাধুনিক সাবমেরিন নিজেদের বহরে যুক্ত করা শুরু করেছে, যা পানির নিচে দীর্ঘ সময় সচল থাকতে পারে। শত্রুপক্ষের এমন শক্তির বিপরীতে ভারতের নিজস্ব সাবমেরিন বহরের আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে ভারতের নৌবাহিনীতে পর্যাপ্ত পরমাণু চালিত যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিনের ঘাটতি রয়েছে এবং নতুন দেশীয় প্রজেক্টগুলো আলোর মুখ দেখতে আরও এক দশকেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এই অবস্থায় আকাশ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সমুদ্রের তলদেশের এই স্থায়ী সেন্সর নেটওয়ার্ক ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় ঘাটতি পূরণ করবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। শীতল যুদ্ধের সময় আমেরিকাও সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবমেরিন শনাক্ত করতে সমুদ্রের তলদেশে এমন বিশেষ হাইড্রোফোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছিল। পরবর্তীতে চীনও দক্ষিণ চীন সাগরে নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ভারতের এই নতুন প্রযুক্তির নেটওয়ার্কটির মেয়াদকাল হবে ২০ বছর এবং আগামী ৪৮ মাসের মধ্যে সমুদ্রের তলদেশে এটি সম্পূর্ণ সচল করার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রবিবার কাতারের রাজধানী দোহায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের চার দেশ সফরের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং নিরাপত্তাসহ পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর পশ্চিম এশিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ৫ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত চলমান এই রাষ্ট্রীয় সফরে জয়শঙ্কর কাতার ছাড়াও বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমান সফর করবেন। বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে নতুন সুযোগের সন্ধান করা হয়েছে। নিরাপত্তা এবং কৌশলগত আলোচনার পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও দুই নেতার মধ্যে গভীর মূল্যায়ন ও আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, সপ্তাহব্যাপী তীব্র উত্তেজনার পর ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে কাতার, ওমান এবং পাকিস্তান প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন কাজ শেষ হওয়ার পর দোহায় আবারও দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উপসাগরীয় এই চার দেশ সফর শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ১৩ জুলাই নিউইয়র্ক ভ্রমণ করবেন। সেখানে তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের ২০২৮-২৯ মেয়াদের অস্থায়ী সদস্য পদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালু করবেন। এরপর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত কাউন্সিলে অংশ নেবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নিপীড়ন ও শোষণমূলক (সিএসইএএম) সব ধরনের কনটেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার জন্য মেটাকে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। ইনস্টাগ্রামের পেইড বিজ্ঞাপনে (টাকা দিয়ে চালানো বিজ্ঞাপন) শিশুদের যৌন নির্যাতনের উপাদান প্রদর্শিত হওয়ার অভিযোগে মার্কিন এই প্রযুক্তি জায়ান্টকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে এর বিস্তারিত জবাব চাওয়া হয়েছে। আজ রবিবার ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ইনস্টাগ্রাম ভারতে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট প্রচারের জন্য পেইড বিজ্ঞাপন বা প্রমোশন ব্যবহার করতে দিয়েছে। প্ল্যাটফর্মটিতে "রেপ ভিডিও" এবং "চাইল্ড ভিডিও" এর মতো আপত্তিকর শব্দসহ পেইড বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হচ্ছিল, যা ব্যবহারকারীদের সরাসরি টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে যেত। আর সেসব টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই ধরনের নিষিদ্ধ উপাদান বিক্রি করা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ভারত সরকার এই ধরনের ভয়াবহ কনটেন্টগুলোর 'অ্যালগরিদমিক অ্যামপ্লিফিকেশন' বা সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টির তীব্র বিরোধিতা করে মেটার কাছে অবিলম্বে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে—কীভাবে এই ধরনের সংবেদনশীল বিজ্ঞাপনগুলো মেটার সিস্টেমে অনুমোদিত হলো, অভিযোগ ওঠার পর মেটা কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের সুরক্ষাকবচ ব্যবহার করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে মেটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিবিসি’র এই অনুসন্ধান এবং মন্তব্যের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মেটা জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই এই ধরনের বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং যে অ্যাকাউন্টগুলো থেকে এগুলো ছড়ানো হচ্ছিল, সেগুলো স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে একটি পাথরখাদানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই বিহার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ তালুকের মাদাপাটনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই প্রায় ৪০ ফুট ওপর থেকে একটি বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিক পাথরের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অন্য কেউ আটকা পড়ে আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শ্রমিক জানান, দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আচমকা ওপর থেকে বড় পাথর ভেঙে পড়ায় কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন চাপা পড়ে যান। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শ্রমিকরা সবাই বিহারের বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিকার সন্ধানে কর্ণাটকে এসেছিলেন এবং ওই পাথরখাদানে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকেরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাথরখাদানে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা, অথবা কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্মাণকাজ, খনি ও পাথরখাদানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক কাজ করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। বেঙ্গালুরুর এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভারতের মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া গরু জবাইয়ের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তামিলনাড়ুর বিজয় থালাপতি সরকার। রাজ্য সরকারের দাবি, হাইকোর্টের এই নির্দেশ বর্তমান আইনি কাঠামোর পরিপন্থী এবং এটি নির্ধারিত আইনের পরিধিকে অতিক্রম করে গেছে। তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮-এর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে রাজ্যে পশু জবাইয়ের আইনি সুযোগ থাকলেও হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় তা পুরোপুরি উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে শীর্ষ আদালতে দায়ের করা আবেদনে জানানো হয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কোনো গরুর বয়স ১০ বছরের বেশি হলে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী বলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রত্যয়িত হলে তা জবাই করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ তাদের আদেশে জানায়, কেবল নির্ধারিত কসাইখানাতেই পশু জবাই করা যাবে। একই সাথে বকরি ঈদ বা অন্য যেকোনো দিন গরু বা বাছুর জবাই না করার জন্য রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনি সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দিয়েছে যে, হাইকোর্টের এই নির্দেশনার ফলে রায়ের ভেতরেই একটি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, যা প্রচলিত আইনের সীমানাকে ছাড়িয়ে গেছে। মূলত হিন্দু মাক্কাল কাচির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সূর্যের দায়ের করা একটি পিটিশনের প্রেক্ষিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই রায় প্রদান করেছিল। পিটিশনে অভিযোগ করা হয় যে, জনসমক্ষে অবৈধভাবে গরু জবাই বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি বিবেচনার সময় হাইকোর্ট ভারতের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে, যেখানে রাষ্ট্রকে গরু, বাছুর এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত ও মালবাহী গবাদি পশু জবাই নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, ৪৮ অনুচ্ছেদের আলোকে ১৯৫৮ সালের আইনের ৪ নম্বর ধারাটিকে কঠোরভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে এবং নির্ধারিত শংসাপত্র ছাড়া কোনোভাবেই জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া যাবে না। গ্রামীণ অর্থনীতি ও দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের পূর্ববর্তী একটি আদেশের ওপর ভিত্তি করেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নেয়। বকরি ঈদে পশু কুরবানির ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বিষয়েও মাদ্রাজ হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের পুরোনো কিছু পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করেছিল। আদালতের মতে, শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বহু মুসলিম বকরি ঈদে গরু কুরবানি করেন না এবং এই দিনে গরু উৎসর্গ করা ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য কোনো অপরিহার্য বা বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। কোরবানি ঈদে মুসলিমদের পশু কুরবানির ধর্মীয় রীতির মধ্যে গরুকে একমাত্র মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়নি। ফলে এই উৎসবে গরু জবাই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কোনো অপরিহার্য অংশ নয় বলেই মাদ্রাজ হাইকোর্ট তার রায়ে উল্লেখ করেছিল, যে ব্যাখ্যার বিরুদ্ধেই এখন সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়ে নেমেছে তামিলনাড়ু সরকার।
প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্কের টানে ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন এক যুবক। এমনকি বদলে ফেলেছিলেন নিজের নাম ও জীবনযাপনও। তবে কয়েক বছর পর সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে আবার আগের ধর্মে ফিরে এসে প্রেমিকা ও তার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ভারতের Uttar Pradesh রাজ্যের শামলি জেলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আয়ুষ মালিক নামে ওই যুবক প্রায় তিন বছর আগে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এ ঘটনায় দেশটির ধর্মান্তর বিরোধী আইনে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার প্রেমিকা চাঁদনি কুরেশি এবং তার বাবাকে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালে পায়ে আঘাত পেয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে চাঁদনি কুরেশি নামে এক ফিজিওথেরাপিস্টের সঙ্গে পরিচয় হয় আয়ুষের। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং একসময় প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তারা। পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, চাঁদনির পরিবারের পক্ষ থেকে আয়ুষের ওপর ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রেমের সম্পর্ক ধরে রাখতে এক পর্যায়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণে সম্মত হন। তবে এই সিদ্ধান্তে তার পরিবার সমর্থন দেয়নি বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালে চাঁদনির পরিবারের সঙ্গে দিল্লিতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মান্তরিত হন আয়ুষ। তখন তার নাম পরিবর্তন করে ‘মহম্মদ আলি’ রাখা হয়। নতুন পরিচয়ে তিনি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবনযাপন শুরু করেন—দাড়ি রাখা, পোশাকে পরিবর্তন এবং নিয়মিত নামাজ আদায় ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে প্রায় তিন বছর পর সম্প্রতি তিনি আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। আয়ুষের দাবি, পরিবারের কষ্ট ও মানসিক চাপ দেখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। পরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আগের ধর্মে ফিরে যান তিনি। আয়ুষের বাবা দেবরাজ মালিক অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে ধর্মান্তরিত করে পরিবারের বিপুল সম্পত্তি দখলের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চাঁদনি কুরেশি ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ধর্মান্তর সংক্রান্ত আইনের আওতায় অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনি কাঠামোর জটিলতার কারণে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই বিতর্কের জন্ম দেয়।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর পাসপোর্ট নবায়নও আটকে গেছে কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর সাবেক সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাসের। তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তার জেরে এখন তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর ভারতজুড়ে গণমাধ্যম, সাংবাদিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "হঠাৎ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং ভোট দিতে না পারা একজন দেশের নাগরিকের কাছে এর চেয়ে বেশি অপমানজনক আর কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না। ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের সবচেয়ে পবিত্র অধিকার।" তিনি আরও বলেন, "আমার মনে হচ্ছে যেন আমাকে নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা রয়েছে, আমি নাগরিক কি না। নিজেকে একজন হাফ সিটিজেন মনে হচ্ছে।" কেরালায় জন্ম নেওয়া রাজাগোপাল রামদাস গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতায় বসবাস করছেন। কয়েক মাস আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম বাদ পড়ে। পরে সেই যুক্তি দেখিয়েই তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট নবায়ন আটকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মেয়ের বিয়েতেও উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। যদিও তাঁর আগের পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের বৈধ ভিসা রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস গিল্ড বিবৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর জন্মরাজ্য কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ জোগাড় করতেই সময় কাটছে বলে জানান রাজাগোপাল রামদাস। এসআইআরে নাম বাদ পড়ার পর তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। রাজাগোপাল রামদাস জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ভোট দেননি। তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করতাম একজন সাংবাদিকের ভোট দেওয়া উচিত না। কারণ তাহলে তারা একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সমর্থন করতে বাধ্য।" তাঁর ভাষায়, "অনেক বছর পর আমি বুঝলাম আমার এটা ভুল হয়েছে। সাংবাদিকদেরও পক্ষ নেওয়া উচিত। ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। দুঃখ পেয়েছিলাম।" সেই হতাশা কাটিয়ে তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। কিন্তু জুন মাসে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করার পর দ্বিতীয় ধাক্কা আসে। তিনি জানান, জুন মাসে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তাঁর 'সন্দেহজনক' ভোটাধিকারের কারণ দেখিয়ে কলকাতা পুলিশ তাঁর নামে একটি 'অ্যাডভার্স' রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই কারণে আপাতত নতুন পাসপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ আমার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ করেনি। করেছে কলকাতা পুলিশ। তারা আমার পুলিশি ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে 'নো অবজেকশন' দিতে নারাজ। পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, যতক্ষণ আমার নাম ভোটার তালিকায় আবার যুক্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না।" তিনি জানান, কলকাতা পুলিশের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন কোন আইন বা সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ পাসপোর্ট আবেদন সংক্রান্ত নির্দেশিকায় ভোটার আইডি বাধ্যতামূলক নথি হিসেবে উল্লেখ নেই। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ সহযোগিতা করলেও মূল প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর দেয়নি। পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আগামী ১৭ জুলাই আবার উপস্থিত হতে বলেছে। তিনি বলেন, "একশোরও বেশি দিন আগে আমি বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দিয়েছি। পাসপোর্ট অফিস সব নথি যাচাই করেছে। পরে পুলিশও অতিরিক্ত নথি চেয়েছিল। আমি সব দেখিয়েছি। এর বাইরে আমার কাছে নতুন কোনো নথি নেই।" তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। আমার আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলও হয়নি, আবার অনুমোদনও হয়নি। ফলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ নিয়েও আমি নিশ্চিত নই।" রাজাগোপাল রামদাসের জন্ম কেরালায়। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেন, এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে 'অ্যাডভার্স রিপোর্ট' দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই রিপোর্টের কারণেই তাঁর পাসপোর্ট নবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। চিঠিতে রাজাগোপাল রামদাসকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কলকাতায় বসবাসকারী একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক উল্লেখ করে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানিয়েছে, পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ নথি, নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। অন্যদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলার পর্যবেক্ষণে বলেছে, নির্বাচন কমিশনের কাজ ভোটার হিসেবে যোগ্যতা নির্ধারণ করা। নাগরিকত্ব নির্ধারণ তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। রাজাগোপাল রামদাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের একাধিক সাংবাদিক সংগঠন। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আরেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সম্রাট চৌধুরীর পাসপোর্টও সম্প্রতি সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যদিও তার কারণ স্পষ্ট নয়। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তবে যাদের আবেদন বিচারাধীন এবং যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করেছেন, তারা এই সুবিধা পাবেন বলে জানান তিনি। মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় বানান ভুলসহ ছোটখাটো ত্রুটির কারণে যেভাবে বহু মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছেন, একই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য সাগরিকা ঘোষ জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার দাবিতে ২৩টি বিরোধী দল যৌথভাবে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়েছে। রাজাগোপাল রামদাসের অভিযোগের বিষয়ে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত কমিশনার ধ্রুবজ্যোতি দে ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, তাঁর ঠিকানায় বসবাসকারী একাধিক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, যাচাইয়ের জন্য ভোটার আইডি চাওয়া হতে পারে। তবে এটি পাসপোর্ট তদন্তের একমাত্র বা চূড়ান্ত নথি নয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নতুন রিপোর্ট পাঠানো হবে। গত বছরের অক্টোবরে ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গসহ নয়টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু করে। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য ছিল যোগ্য ভোটারদের তালিকায় রাখা এবং অযোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া। এসআইআরে প্রায় ৬০ লাখ ভোটার অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখে পড়েন। পরে নির্বাচন সামনে রেখে ২৭ লাখেরও বেশি 'বিবেচনাধীন' ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। রাজাগোপাল রামদাস তাঁদেরই একজন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। তবে সেই আবেদন এখনও বিচারাধীন। এসআইআরের পর অভিযোগ ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য সাবেক বিচারকদের নেতৃত্বে একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করতেই সময় কাটছে রাজাগোপাল রামদাসের। তিনি জানান, সম্প্রতি নিজের জন্মসনদ খুঁজে পেয়েছেন। তবে সেখানে তাঁর মায়ের পদবিতে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি বলেন, "আমার মায়ের নাম আসলে রাধা দেবী। কিন্তু জন্মসনদে লেখা আছে রাধা বাই। এই ভুল সংশোধনের জন্য এখন আমাকে মায়ের ম্যাট্রিকুলেশনের সনদ খুঁজে বের করতে হচ্ছে।" তিনি জানান, মায়ের স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরোনো তথ্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি বাবার প্রবীণ বন্ধুদের কাছ থেকেও তাঁর বাবার পুরোনো ছবি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "একজন প্রাক্তন সাংবাদিক হিসেবে আমি ভাবতাম, সাধারণ মানুষের সমস্যার মুখোমুখি আমাকে কোনোদিন হতে হবে না। এখন বুঝেছি, সেটা আমার ভুল ধারণা ছিল। ভোট দিতে না পারার চেয়ে বেশি অপমানজনক কিছু হতে পারে না।"
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।