বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিকায়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন: এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত জাপানি প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম যুক্ত হবে। কূটনৈতিক সাফল্য: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দূরদর্শী কূটনীতির ফসল হিসেবে এই চুক্তিকে দেখা হচ্ছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন: কেবল সরঞ্জাম ক্রয় নয়, বরং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এটি আরও গভীর করবে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তায় অবদান রাখবে। জাতিসংঘের নীতিমালা অনুসরণ: সম্পূর্ণ চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যেই সম্পাদিত হয়েছে। আজ ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ২০২৩ সাল থেকে চলা নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার সফল সমাপ্তি ঘটল এই চুক্তির মাধ্যমে।
আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে জাপানের আইচি–নাগোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ২৬টি খেলায় ২০২ জন ক্রীড়াবিদ পাঠাবে। এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) নির্বাহী কমিটির সর্বশেষ সভায়। বাংলাদেশের অংশগ্রহণের খেলা তালিকায় রয়েছে: সাঁতার, আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, বক্সিং, ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফেন্সিং, ফুটবল, গলফ, জিমন্যাস্টিকস, বিচ হ্যান্ডবল, হকি, জুডো, কাবাডি, কারাতে, রাগবি, শুটিং, সার্ফিং, টেবিল টেনিস, তায়কোয়ান্দো, বিচ ভলিবল, ভারোত্তোলন, রেসলিং ও উশু। এছাড়া, জুলাই-আগস্টে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ পাঁচটি খেলায় দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমনওয়েলথে বাংলাদেশের খেলা হবে: অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার এবং ভারোত্তোলন। সভা শেষে ময়মনসিংহের ত্রিশাল সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় নির্মাণাধীন বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিওএর সভাপতি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিওএর সভাপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে ক্রীড়াক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল অংশ নেবে না। পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডলের এই বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে ডন, জিও নিউজসহ দেশটির একাধিক গণমাধ্যম খবরটি প্রকাশ করেছে।
ভারতের নতুন অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কৌশলগত রদবদল লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য অনুদান সহায়তা এক ধাক্কায় ৭৪ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ৬০ কোটি রুপি বরাদ্দ রেখেছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন' দেশটির কেন্দ্রীয় বাজেট নথির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ভারতবিরোধী মনোভাব নিয়ে নানা আলোচনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও ২০২৭ অর্থবছরের জন্য এই বরাদ্দ বৃদ্ধি ভারতের দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক কূটনীতিরই অংশ। গত অর্থবছরের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পেয়েছিল ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি, যা এবার বেড়ে ৬০ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। যদিও এর আগে প্রস্তাবিত বরাদ্দ আরও বেশি ছিল, কিন্তু সংশোধিত বাজেটে তা কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছিল। ভারতের এই নতুন বাজেটে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ইরানের চাবাহার বন্দরে। সেখানে পূর্ববর্তী অর্থবছরে ৪০০ কোটি রুপি বরাদ্দ থাকলেও এবারের বাজেটে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং দ্বিতীয় দফার নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা থেকেই নয়াদিল্লি এই কৌশলগত পিছুটান দিয়েছে। অন্যদিকে, আশ্চর্যজনকভাবে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে ভারতের সাহায্য বাড়ছে ৫০ শতাংশ হারে। দেশটির জন্য নতুন অর্থবছরে ১৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বরাবরের মতো ভারতের বৈদেশিক সহায়তার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভুটান, যাদের জন্য মোট ২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও সেশেলসের জন্য অনুদান বাড়লেও নেপাল, মালদ্বীপ ও মরিশাসের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে ভারত। বিশেষ করে মরিশাসের বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ এবং মালদ্বীপের কমেছে ১২ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে, ভারত এবার বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে অনুদান ও ঋণ হিসেবে মোট ৮ হাজার ৭৯২ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কম হলেও আফ্রিকা, ইউরেশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে অনুদান বাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে নিজেদের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে মোদি সরকার।
বিশ্বশান্তি রক্ষা ও সংঘাত-পরবর্তী দেশ পুনর্গঠনে আবারও নেতৃত্বের সারিতে উঠে এলো বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘের অত্যন্ত প্রভাবশালী সংস্থা ‘শান্তি বিনির্মাণ কমিশন’ বা পিসবিল্ডিং কমিশন (পিবিসি)-এর সহ-সভাপতি হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে লাল-সবুজের এই দেশ। নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিশ্ববাসীর এই আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। পিবিসির ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এই শক্তিশালী ‘ব্যুরো’ গঠন করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে মরক্কো এবং বাংলাদেশের পাশাপাশি জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। মূলত সংঘাতময় পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা দেশগুলোতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাতিসংঘকে সরাসরি পরামর্শ দেওয়াই এই কমিশনের প্রধান কাজ। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে এই কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ এর অন্যতম একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। এর আগে ২০১২ ও ২০২২ সালে বাংলাদেশ এই কমিশনের ‘সভাপতি’ হিসেবে সফলভাবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ‘সহ-সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করেছে। ৩১টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিশনে সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের শীর্ষ সৈন্য ও অর্থ প্রদানকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে কাজ করেন। সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বরাবরই বিশ্বশান্তি ও মানবিক মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। পিবিসির এই নতুন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংঘাতময় দেশগুলোর পুনর্গঠন ও উন্নয়নে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই বিজয় প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে আমাদের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও শক্তিশালী হয়েছে। এটি কেবল একটি পদ নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের অসামান্য ত্যাগের এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে অনায়াসেই হারাল বাংলাদেশ। ৭ উইকেটের বড় জয়ে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সুপার সিক্স নিশ্চিত করল যুব টাইগাররা। শুক্রবার জিম্বাবুয়ের হারারেতে তাকাশিঙ্গা স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম। ইকবাল হোসেন ইমন ও আল ফাহাদদের তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ৫১ বল হাতে রেখে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ। ওপেনিং জুটিতে ৮৬ বলে ৭৮ রান যোগ করেন তারা। জাওয়াদ ৪৭ এবং রিফাত ৩০ রান করে বিদায় নিলেও দলকে পথ হারাতে দেননি অধিনায়ক আজিজুল হাকিম। তৃতীয় উইকেটে কালাম সিদ্দিকীকে সঙ্গে নিয়ে ১২৩ বলে ৮৮ রানের জুটি গড়েন আজিজুল। ৮২ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৬৪ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন তিনি। শেষদিকে কালাম ৩০ এবং রিজান হোসেন ২০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। এর আগে বোলিংয়ে নেমে শুরু থেকেই মার্কিন ব্যাটারদের চেপে ধরেন বাংলাদেশি পেসাররা। দলীয় ১ রানেই ওপেনার আমরিন্দার গিলকে ফিরিয়ে দেন ইকবাল হোসেন ইমন। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সাহিল গ্রাগ ৩৫, অধিনায়ক উতক্রাশ সিবস্তভ ৩৯ রান করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। তবে অদনিত ঝাম্ব একপ্রান্ত আগলে রেখে ৬৯ বলে ৬৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে দুইশ-র কাছে নিয়ে যান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ইকবাল হোসেন ইমন সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া আল ফাহাদ, শাহরিয়ার আহমেদ এবং রিজান হোসেন প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠোরভাবে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২১ জন কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৫ ধারা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ২ দিন পর পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা ভোগ করবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবশ্যিকভাবে যোগদান বা রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এসব ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বণ্টন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এলাকা নির্ধারণ করে দেবেন। প্রতিদিনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার তথ্য নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করতে হবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
পূর্বাচলে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে উঠেছে। আর মাত্র সপ্তাহ খানেক পর পর্দা নামবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসরের। মেলায় তৃতীয় ছুটির দিনে তাই ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে মেলা প্রাঙ্গণ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় এমনই চিত্র দেখা যায়। মেলার শেষ সময়ে এসে ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। এদিকে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ায় হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে। মেলা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসর। এবারের মেলায় প্রথম দিকে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে ক্রেতা দর্শনার্থীর উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। মেলার পঞ্চম দিন থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেলায় লোকসমাগম বাড়তে থাকে। তবে ছুটির দিন থাকায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মাসব্যাপী এ মেলায় এখন প্রতিদিনই দুপুরের পর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতা, উদ্যোক্তা আর দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মেলায় দেশি-বিদেশি স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে ইতোমধ্যেই বিশেষ অফার ও মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি চলছে। এ সমস্ত ছাড় ও অফার লুফে নিতে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণ যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। মেলায় শারমিন নামে একজন জানান, প্রতিবছর সাংসারিক গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ জিনিসপত্রই বাণিজ্যমেলা থেকেই কিনে থাকেন। মেলায় একই ছাদের নিচে প্রয়োজনীয় সকল পণ্য অফার ও ছাড়ে ক্রয় করা যায় বলে সংসারের বেশ কিছু জিনিসপত্র কিনলাম। মেলার ইমন নামে এক ইজারাদার বলেন, প্রথম দিকে শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনসমাগম তুলনামূলক কম থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে মেলা জমে উঠেছে। এমনিতেও মেলা শেষের দিকে, তার ওপর শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক।
৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত তিন হাজার ২৬৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনের কপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopa.gov.bd-এ পাওয়া যাবে। আজ শুক্রবার অধিদপ্তরের সংশোধিত এক বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে নিয়োগের উল্লেখযোগ্য শর্তের মধ্যে রয়েছে- নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাকে তার চাকরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরকার যেরূপ স্থির করবে সেরূপ পেশাগত ও বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেককে দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ শিক্ষানবিশকাল অনূর্ধ্ব দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে যদি তিনি চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হন, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ব্যতিরেকে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পূর্বাহ্নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন মর্মে ধরে নেওয়া হবে এবং এ নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রকাশিত এই তালিকা অনুযায়ী, আসন্ন এই দ্বৈত নির্বাচনে বাংলাদেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫ জন নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের দেওয়া তথ্যমতে, এবারের মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের বা হিজড়া ভোটার হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পরিবর্তন ও গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। আসনভিত্তিক ভোটার বিন্যাস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছেন গাজীপুর-২ আসনে, যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। এর বিপরীতে ঝালকাঠি-১ আসনে সবচেয়ে কম ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, চূড়ান্ত এই তালিকার ভিত্তিতেই এখন দ্রুতগতিতে ব্যালট পেপার মুদ্রণ এবং ভোটকেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেহেতু ভোটারদের এবার সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নেও ভোট দিতে হবে, তাই ভোট গ্রহণ ও গণনার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা এবং অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে কমিশন আগেভাগেই সতর্কবার্তা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে যে, ভোটারদের এনআইডি সংগ্রাহ করা বা কোনো ধরনের উপহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতা বা আদালতের নির্দেশনা থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার প্রক্রিয়াও সচল রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটারের অংশগ্রহণ এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ভোটারদের নিরাপত্তা এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা চালিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
আমেরিকা বাংলা । স্পোর্টস ডেস্ক: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক মাসও বাকি নেই, অথচ মাঠের খেলার বদলে এখন মাঠের বাইরের কূটনৈতিক লড়াই তুঙ্গে। ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যে নিরাপত্তার শঙ্কা প্রকাশ করেছে, তার প্রতি এবার সরাসরি সংহতি জানালো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কেবল সমর্থনই নয়, বাংলাদেশের দাবির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ‘জিও সুপার’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পিসিবি মনে করে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিটি উদ্বেগ অত্যন্ত যৌক্তিক এবং বৈধ। বোর্ড কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই সংকটের যদি আইসিসি কোনো সম্মানজনক সমাধান না দিতে পারে, তবে পাকিস্তানও টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে পুনরায় চিন্তাভাবনা করবে। ইতিমধ্যেই পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টকে একটি বিকল্প পরিকল্পনা বা 'প্ল্যান বি' তৈরি রাখতে বলা হয়েছে, যাতে বিশ্বকাপে অংশ না নিলে অন্য কোনো সিরিজের মাধ্যমে ব্যস্ততা বজায় রাখা যায়। পিসিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আয়োজক দেশ হওয়ার দোহাই দিয়ে কোনো দেশের ওপর অন্যায্য চাপ বা হুমকি প্রয়োগ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্ব আসর এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল