বাংলাদেশ

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিষ্কৃত
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিষ্কৃত

ইতালিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার বসবাসের অনুমতি বাতিল করে ইতালীয় প্রশাসন এই ব্যবস্থা নেয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় পুলিশের তথ্য এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   মঙ্গলবার ভেনিস বিমানবন্দর থেকে পুলিশি তত্ত্বাবধানে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ওই বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়। ইতালির আদালতের গোপনীয়তা নীতির কারণে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সূত্রে জানা গেছে, তার নাম মাসুম মিয়া (৫৫)। তার বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার চল্লাবাজ এলাকায়। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গোরিৎসিয়া প্রদেশের মনফালকোন এলাকার একটি শিপইয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন।   তদন্তে উঠে আসে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এমনকি স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালেও তাকে চড়, ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়।   এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গোরিৎসিয়া আদালত তাকে ৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে ত্রিয়েস্তে আপিল আদালতও সেই রায় বহাল রাখেন।   রায়ের পর ভুক্তভোগী নারী ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোরিৎসিয়া পুলিশের অভিবাসন বিভাগ তাদের একটি নারী সহায়তা কেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ওই বাংলাদেশির ইতালিতে বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়। পরে গোরিৎসিয়ার প্রিফেক্ট তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ জারি করেন। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতেই মঙ্গলবার তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।   এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং মনফালকোনের সাবেক মেয়র আন্না মারিয়া সিসিন্ট বলেন, যারা নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা চালায় এবং মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের প্রতি সম্মান দেখায় না, তাদের ইতালিতে থাকার অধিকার নেই।   মনফালকোনের বর্তমান মেয়র লুকা ফাসানও ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পরিবারে নারী নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। ইতালিতে বসবাস ও কাজ করতে চাইলে দেশটির আইন এবং সামাজিক মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে।   এদিকে মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেটের কনসাল শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই বহিষ্কারের বিষয়ে ইতালীয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবহিত করেনি। তবে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতালির আইন মেনে চলা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
শেখ হাসিনা
৫ই আগস্ট দুই বছর পর প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ দুই বছর পুরোপুরি আড়ালে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক দুই বছর পূর্তিতে আগামী ৫ আগস্ট তিনি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে আসছেন। জানা গেছে, নয়াদিল্লির 'ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া' (এফসিসি সাউথ এশিয়া)-র উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি হাজির হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের রোডম্যাপ তুলে ধরবেন।   নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই হাই-ভোল্টেজ ভার্চ্যুয়াল কর্মসূচিতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এফসিসি সাউথ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. ওয়ায়েল আওয়াদের পরিচালনায় এই বৈঠকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এছাড়াও প্যানেলে থাকছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক এবং কাউন্টার-টেররিজম বিশ্লেষক আবু ওবাইদা আরিন। মানবাধিকার প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হবেন 'বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ'-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ও ইউএসএ চ্যাপ্টারের পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ার।   সাবেক মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক, ক্রীড়া তারকা এবং মানবাধিকার কর্মীদের একই প্যানেলে নিয়ে আসাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের অবস্থান পুনর্গঠনের এক বড় রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দলটির বহু নেতাকর্মী ভারতে অবস্থান করছেন। বিশ্ব গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শেখ হাসিনা একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন, তেমনি অন্যদিকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি নিজের ওপর ওঠা অভিযোগগুলোর জবাব দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও এটিকে কাজে লাগাতে পারেন।   বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি চরম মেরুকৃত। একদলীয় শাসন, ২০২৪-এর আন্দোলনে প্রাণঘাতী দমনপীড়ন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কারণে দেশের বড় একটি অংশের কাছে তিনি স্বৈরাচারের প্রতীক। অন্যদিকে, তাকে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ভারতের ওপর ক্রমাগত আইনি ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন যে, জীবন বা গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। মৃত্যুদণ্ডের দণ্ডাদেশ ও দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের বিপরীতে দলীয় অনুসারীদের প্রত্যাশা—এই দুই মেরুর টানাপোড়েনে আগামী ৫ আগস্টের বৈঠকে তিনি ঠিক কী বার্তা দেন, সেদিকেই এখন নজর রাখছে পুরো দক্ষিণ এশিয়া।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড নীতিতে বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, অথচ বাইরে আফ্রিকার কয়েকটি দরিদ্র দেশ: কোন ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের?

মার্কিন সরকারের নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নাম থাকলেও আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ সেই তালিকার বাইরে রয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও ভিসাপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে কোন ভিত্তিতে এই দেশগুলো নির্বাচন করেছে যুক্তরাষ্ট্র? অর্থনৈতিক অবস্থান, নাকি অন্য কোনো মানদণ্ড?   মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১/বি-২) ইস্যুর সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। তবে এই নিয়ম তালিকাভুক্ত দেশের সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়; প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে।   তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, উগান্ডা, মোজাম্বিক, বুরুন্ডিসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাম রয়েছে। কিন্তু বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত নাইজার, লাইবেরিয়া, মালি, চাদ ও মাদাগাস্কারের মতো কয়েকটি আফ্রিকান দেশ এই তালিকায় নেই। এখান থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা।   প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোই হয়তো ভিসা বন্ডের আওতায় আসবে। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত নীতিমালা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। সেখানে কোথাও বলা হয়নি যে কোনো দেশের দারিদ্র্য, মাথাপিছু আয় বা অর্থনৈতিক অবস্থাই তালিকা তৈরির প্রধান ভিত্তি।   মার্কিন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং ভিসার অপব্যবহার কমানো। এজন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা (ভিসা ওভারস্টে), অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, নিজ দেশের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট সরকারের সহযোগিতা, পরিচয় ও নথি যাচাইয়ের সক্ষমতা, কনস্যুলার ঝুঁকি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত মূল্যায়ন।   অর্থাৎ, একই ধরনের অর্থনৈতিক অবস্থানে থাকা দুটি দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত হতে পারে, যদি তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি বা ভিসা ব্যবহারের রেকর্ড এক না হয়। এই কারণেই বাংলাদেশ তালিকায় থাকলেও কিছু নিম্ন আয়ের আফ্রিকান দেশ বাইরে থাকতে পারে।   এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই ওই দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন ধারণা সঠিক নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কনস্যুলার কর্মকর্তা ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার সব শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করলে জমা রাখা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।   এই কর্মসূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী মূল্যায়নে এটিকে কার্যকর বলে বিবেচনা করার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্থায়ী নীতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বন্ডের পরিমাণ আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারণ করা হবে এবং তা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   তবে নতুন নীতিকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের মতে, উচ্চ অঙ্কের ভিসা বন্ড অনেক বৈধ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী বা পরিবারের সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে বৈধ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ তালিকায় রয়েছে অথচ আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ নেই এটি অর্থনৈতিক সক্ষমতার পার্থক্যের কারণে নয় বলে মার্কিন সরকারের নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, ভিসা ওভারস্টে প্রবণতা, প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ একাধিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে। ফলে কোনো দেশ তালিকায় থাকা বা না থাকা সেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতিফলন নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির আওতায় করা একটি প্রশাসনিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
(ডান থেকে): এমডি এন. ইসলাম ও মোহাম্মদ জেড. ইসলাম(ছবি: রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ বিভাগ)
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী সেজে ২৫ হাজার ডলার প্রতারণা, নিউ জার্সিতে গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের রিভারসাইড টাউনশিপে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী পরিচয়ে এক নারীর কাছ থেকে ২৫ হাজার ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরির অভিযোগে (থার্ড ডিগ্রি থেফট বাই ডিসেপশন) মামলা দায়ের করা হয়েছে।   রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর কম্পিউটারে একটি ভুয়া সতর্কবার্তা বা পপ-আপ আসে। সেখানে দাবি করা হয়, তার কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং সহায়তার জন্য একটি নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।   প্রতারক ভুক্তভোগীকে জানায়, তার কম্পিউটারের সমস্যার কারণে ব্যাংকের নেটওয়ার্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং বিষয়টি এফবিআই পর্যন্ত গড়াতে পারে। কথিত সেই ঝুঁকি এড়াতে তাকে ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার ডলার নগদ তুলে বাড়ির বাইরে একটি বাক্সে রেখে দিতে বলা হয়, যাতে ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীরা এসে অর্থ সংগ্রহ করতে পারেন।   পুলিশ জানায়, নির্দেশনা অনুযায়ী ভুক্তভোগী ২৫ হাজার ডলার নগদ তুলে নির্ধারিত স্থানে রেখে দেন। কিছুক্ষণ পর একজন এসে সেই অর্থ নিয়ে চলে যায়। পরে প্রতারক চক্র আবার যোগাযোগ করে আরও ৩০ হাজার ডলার দাবি করলে ভুক্তভোগীর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি বিষয়টি রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশকে জানান।   অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের গোয়েন্দারা ভুক্তভোগীর সহযোগিতায় অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং আরও অর্থ দেওয়ার নামে একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করেন। নির্ধারিত সময়ে অর্থ নিতে এলে ঘটনাস্থল থেকেই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম এমডি এন. ইসলাম (৪৮) এবং মোহাম্মদ জেড. ইসলাম (৫৮)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এমডি এন. ইসলাম নিউ জার্সির এগ হারবার টাউনশিপ এবং মোহাম্মদ জেড. ইসলাম ওয়েস্টভিল এলাকার বাসিন্দা। আদালতে হাজিরার সমনের শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ জেড. ইসলামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এবং এমডি এন. ইসলামের বাড়ি নড়াইল জেলায়। তবে এই তথ্য রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ বা মার্কিন মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেনি এবং স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাংক কর্মকর্তা, প্রযুক্তি সহায়তা কর্মী কিংবা সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয়ে ফোন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, কোনো ব্যাংক বা সরকারি সংস্থা কখনো গ্রাহককে ফোন করে নগদ অর্থ তুলে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলে না। এ ধরনের নির্দেশনা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ এবং স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ একই ধরনের প্রতারণার শিকার ব্যক্তি বা এ ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানা থাকলে তাদের গোয়েন্দা শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে অভিযোগে নতুন তথ্য যুক্ত হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংসদ সদস্য আলহাজ্জ্ব ফখরুল ইসলাম (সংগৃহীত)
যুক্তরাষ্ট্র সফরে নোয়াখালী-৫ আসনের এমপি আলহাজ্জ্ব ফখরুল ইসলামকে মেরিল্যান্ডে গণসংবর্ধনা

বাংলাদেশের নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্জ্ব ফখরুল ইসলামের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে মেরিল্যান্ডে এক গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ডসহ আশপাশের অঙ্গরাজ্যের কমিউনিটির সদস্যদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল জানান, আগামী ৮ আগস্ট, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বাল্টিমোরের মেহফিল কারাহি কাবাব রেস্টুরেন্টে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের ভেন্যু ৬৯০১ সিকিউরিটি বুলেভার্ড, বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড ২১২৪৪।   মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রবাসী নাগরিক সংবর্ধনা’। মোহাম্মদ কাজল আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র সফররত এমপি ফখরুল ইসলামের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ, মতবিনিময় এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে।   আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শাহিদ খান চৌধুরী এবং সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করবেন মোহাম্মদ কাজল। প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন তানভীর হাসান।   আয়োজকরা আরও জানান, মেরিল্যান্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।   নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আলহাজ্জ্ব ফখরুল ইসলামের এ যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। আয়োজকদের মতে, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।   আয়োজকরা আরও মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন দেশের জনপ্রতিনিধি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিষয়, প্রবাসীদের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ। মেরিল্যান্ড ছাড়াও ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া, ডেলাওয়্যার এবং আশপাশের অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ- অপরাধপ্রবণ শহর ঢাকা
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ- অপরাধপ্রবণ শহর ঢাকা

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ ও অপরাধপ্রবণ শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম নামবিও প্রকাশিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্ষের ক্রাইম ইনডেক্সে ঢাকার অপরাধ সূচক ৬২.২ এবং নিরাপত্তা সূচক ৩৭.৮। এ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান সবচেয়ে নিচে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধের দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৫৯তম। অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ বড় শহরগুলোর শীর্ষ ১৫ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী।   নামবিওর তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার বিচারে পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকটি বড় শহরের তুলনায়ও পিছিয়ে রয়েছে ঢাকা। শহরটিতে অপরাধ নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ, রাতে একা চলাচলের নিরাপত্তা এবং ছিনতাই, চুরি ও সহিংস অপরাধের আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, নামবিওর ক্রাইম ইনডেক্স কোনো সরকারি অপরাধ পরিসংখ্যান নয়। এটি বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় দেওয়া মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। ফলে এই সূচক জনমতের প্রতিফলন হলেও, এটি কোনো দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অপরাধের হিসাবকে প্রতিস্থাপন করে না।   তবুও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শহরের নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে নামবিওর এই সূচক ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের পরিবেশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও অনেকেই এ ধরনের সূচককে প্রাথমিক তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচনা করেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশে বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক বার্তা
বাংলাদেশে বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক বার্তা, আসছে ২৫ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং এখন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। শুক্রবার (১ আগস্ট) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সার্জিও গর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি গুদামজাতকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, সয়াবিন, গম, তুলা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়লে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। সার্জিও গর আরও জানান, বাংলাদেশে কর্মরত মার্কিন বিনিয়োগকারীরা অদূর ভবিষ্যতে একটি ইউএস ইনভেস্টর সামিট আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভাব্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ মূল্যায়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হবে। এদিকে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ নির্বাহীর একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসছে। তারা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করবেন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই সফরকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বাণিজ্য, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং কৃষিখাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে উভয় দেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে এই সফর আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
ড. ফজলুর রহমান খান: যার উদ্ভাবনে বদলে গেছে আমেরিকা সহ বিশ্বের সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ইতিহাস
বাংলাদেশের গর্ব: যার উদ্ভাবনে বদলে গেছে আমেরিকা সহ বিশ্বের সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ইতিহাস

আজ বিশ্বের যেসব শহরের আকাশরেখা সুউচ্চ ভবনের সারিতে সাজানো, সেসব ভবনের নকশা ও নির্মাণ প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে এক বাংলাদেশি প্রকৌশলীর যুগান্তকারী অবদান। তিনি ড. ফজলুর রহমান খান, যাকে বিশ্বের প্রকৌশল মহলে আধুনিক আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাঁর উদ্ভাবিত কাঠামোগত প্রযুক্তি শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের নগর স্থাপত্যের ইতিহাসই বদলে দিয়েছে।   ১৯২৯ সালের ৩ এপ্রিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফজলুর রহমান খান। শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় অংশ কেটেছে বাংলাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট আরবানা-শ্যাম্পেইন থেকে সিভিল ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা এবং পিএইচডি সম্পন্ন করে তিনি শিকাগোভিত্তিক বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান স্কিডমোর, ওয়িংস অ্যান্ড মেরিল (এসওএম)-এ যোগ দেন।   সেখানেই তিনি এমন একটি কাঠামোগত নকশা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা পরবর্তীকালে আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। তাঁর উদ্ভাবিত ‘টিউব স্ট্রাকচারাল সিস্টেম’ ভবনের ওজন কমিয়ে, স্টিলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে এবং আগের তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতার ভবন নিরাপদ ও সাশ্রয়ীভাবে নির্মাণের সুযোগ তৈরি করে। আজ বিশ্বের অধিকাংশ আধুনিক সুউচ্চ ভবনের নকশায় এই ধারণার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে।   ড. খানের সবচেয়ে বিখ্যাত কাজগুলোর একটি হলো শিকাগোর ১১০ তলা সিয়ার্স টাওয়ার, যা বর্তমানে উইলিস টাওয়ার নামে পরিচিত। ১৯৭৩ সালে নির্মিত এই ভবন দীর্ঘদিন বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের মর্যাদা ধরে রেখেছিল। এর ‘বান্ডলড টিউব’ কাঠামো ছিল তাঁরই উদ্ভাবন, যা পরবর্তীকালে সুপারটল ভবন নির্মাণের নতুন মানদণ্ডে পরিণত হয়।   এর আগে তিনি শিকাগোর জন হ্যানকক সেন্টারের নকশাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ভবনটির ‘ট্রাসড টিউব’ কাঠামো সে সময় প্রকৌশল জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। পরবর্তীকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্মিত অসংখ্য সুউচ্চ ভবনে তাঁর ধারণা অনুসরণ করা হয়। বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফাসহ আধুনিক সুপারটল ভবনের প্রকৌশল দর্শনেও তাঁর উদ্ভাবনের প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।   বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল, ফজলুর রহমান খানের উদ্ভাবন ছাড়া আধুনিক স্কাইস্ক্র্যাপারের যুগ কল্পনা করা কঠিন। একই কারণে তাঁকে অনেক প্রকৌশলী ‘আধুনিক স্কাইস্ক্র্যাপারের জনক’ বলেও অভিহিত করেন।   তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংস্থা কাউন্সিল অন টল বিল্ডিংস অ্যান্ড আরবান হ্যাবিট্যাট (সিটিবিইউএইচ) তাঁর নামে ‘ফজলুর খান লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট মেডেল’ চালু করেছে। আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে অসাধারণ অবদানের জন্য প্রতিবছর এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।   ২০১৭ সালে গুগলও তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ ‘গুগল ডুডল’ প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানায়। সেখানে তাঁর উদ্ভাবনকে আধুনিক নগর স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরা হয়।   মাত্র ৫২ বছর বয়সে, ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ সৌদি আরবের জেদ্দায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ড. ফজলুর রহমান খান। কিন্তু তাঁর উদ্ভাবিত প্রকৌশল দর্শন আজও বিশ্বের শহরগুলোর আকাশরেখায় জীবন্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য ড. ফজলুর রহমান খানের গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের ইতিহাস নয়; এটি বাংলাদেশের মেধা, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমঞ্চে অবদানের এক অনন্য প্রতীক। আজও যখন শিকাগোর উইলিস টাওয়ার কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো আকাশচুম্বী ভবনের দিকে মানুষ তাকায়, তখন সেই প্রকৌশল বিপ্লবের পেছনে থাকা বাংলাদেশি প্রতিভার নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয় ড. ফজলুর রহমান খান।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন
দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন

ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের লাগাতার বিক্ষোভের মুখে ২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর অবশেষে শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেই চেনা শহরেই ফিরে এলেন তিনি। দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উচ্ছ্বসিত তসলিমা বলেন, "আমার খুব ভালো লাগছে, আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ"।   মূলত ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তাঁর এই কলকাতা সফর। 'সেকুলার মিশন ট্রাস্ট' এবং 'হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটারস ফাউন্ডেশন (এইচআরবিএফএফ)'-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।   প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী উপন্যাস 'লজ্জা'-কে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ও একাধিক ফতোয়া জারির পর ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হন তসলিমা। এরপর ইউরোপ ও আমেরিকায় বেশ কয়েক বছর কাটিয়ে এবং সুইডিশ নাগরিকত্ব লাভের পর তিনি কলকাতায় থিতু হন।   প্রায় ১৪ বছর সেখানে বসবাসের পর ২০০৭ সালে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ইসলামি সংগঠনগুলোর তীব্র ও সহিংস বিক্ষোভের জেরে তিনি কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন। এর আগে ২০০৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'দ্বিখণ্ডিত' নিষিদ্ধ করেছিল, যদিও দুই বছর পর কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এমনকি ২০০৬ সালে এক ইমাম তসলিমার মুখে কালি মাখানোর জন্য আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় পরের বছর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সে দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে।   শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবিক বিবেচনা ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া হলেও ভারতের নীতি হলো, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।   এই অবস্থান এমন সময়ে জানানো হলো, যখন সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।   শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা বা সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তারিখ জানানো হয়নি।   এদিকে একই বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে। কমিটির সদস্যদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ভিসা সেবা সীমিত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।   উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করে ভারত। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য ভিসা সেবাও স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার অবস্থান, প্রত্যর্পণ অনুরোধ এবং ভিসা কার্যক্রম এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র
আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ২৩ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশেষ ফ্লাইট OAE2323-এ তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৯ জন।   বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, এভিয়েশন সিকিউরিটি  এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগিতায় তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিবহন সুবিধা দেওয়া হয়।   ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জনই নোয়াখালীর বাসিন্দা। এছাড়া সিলেট, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা এবং আরও কয়েকটি জেলার বাসিন্দাও রয়েছেন।   ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের অধিকাংশই দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। জনপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় পড়ে তাদের দেশে ফিরতে হয়েছে।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বৈধভাবে ব্রাজিলে গেলেও পরে দালালচক্রের সহায়তায় অনিয়মিত পথে বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও গুয়াতেমালা হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এই যাত্রায় তাদের ১৩ থেকে ১৫টি দেশ বাসে ও পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করলেও প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তারা মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েন। পরে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।   ব্র্যাক জানিয়েছে, অনিয়মিত অভিবাসনের পথে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও অনেক বাংলাদেশিকে শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে হচ্ছে। সংস্থাটি সম্ভাব্য অভিবাসীদের দালালচক্রের প্রলোভনে না পড়ে বৈধ, নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসনের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হওয়ায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশিদেরও ফেরত পাঠানোর ঘটনা বেড়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ নথিপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান বা প্রবেশের চেষ্টা করলে গ্রেপ্তার, আটক এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
বাংলাদেশে ভ্রমণের ঝুঁকি আগের তুলনায় কম বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে সামগ্রিক সতর্কতার মাত্রা লেভেল ৩ ‘পুনর্বিবেচনা করে ভ্রমণ’ থেকে লেভেল ২ ‘অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে ভ্রমণ’ এ নামিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দেশটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশে ভ্রমণের ঝুঁকি আগের তুলনায় কম বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।   শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এ ইতিবাচক অগ্রগতি আসে। বৈঠক শেষে সার্জিও গর বার্তার মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সিদ্ধান্তটির কথা জানান।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্রমণ সতর্কতার এই পরিবর্তন বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা আস্থার প্রতিফলন। সরকারের ধারাবাহিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেও এ সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। সরকারের আশা, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।   তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে এখনো সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে বিবেচনা করছে না। সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশনায় বাংলাদেশ সফরে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের পার্বত্য এলাকার জন্য ‘লেভেল ৪: ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতা অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
এটা স্ত্রী-সতীনের ঝগড়া নয়, স্বার্থ যেখানে সেখানেই বাংলাদেশ
এটা স্ত্রী-সতীনের ঝগড়া নয়, স্বার্থ যেখানে সেখানেই বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একটি দেশকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয় না; বরং জাতীয় স্বার্থই বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার নীতি বাংলাদেশ অনুসরণ করে না।   বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।   সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে তো শুধু একটি দেশের নয়, বহু দেশের সম্পর্ক আছে। এটা স্ত্রী এবং সতীনের মধ্যে মারামারি নয়। এটি স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক। যেখানে আমাদের জাতীয় স্বার্থ থাকবে, আমরা সেখানেই এগিয়ে যাব।”   চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উদ্বেগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কূটনীতিতে বাংলাদেশ কোনো অনুমান বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় না। বাস্তবতা এবং পারস্পরিক স্বার্থই দেশের পররাষ্ট্রনীতির চালিকাশক্তি।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এক দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অন্য দেশের জন্য ক্ষতির কারণ—এমন ‘জিরো-সাম গেম’ দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলাদেশ বিশ্বাস করে না। আমরা সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।”   তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে সরকার আশাবাদী।   খলিলুর রহমান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় চলছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত স্বার্থ এগিয়ে নেওয়াই সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রধান লক্ষ্য।   বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতির আলোকে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও সরকার জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধান অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী। বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া জনস্বাস্থ্য গবেষক
বিশ্বের কোটি নবজাতকের জীবন রক্ষায় বাংলাদেশি-মার্কিন গবেষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ বাকী

বিশ্বজুড়ে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবায় অসামান্য অবদান রেখে বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত বাংলাদেশি জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী। তার দীর্ঘ গবেষণা-জীবন, বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশে শুরু হওয়া একটি গবেষণা উদ্যোগের বৈশ্বিক প্রভাবকে নতুন করে তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ। গত ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিভাগের ‘আইএইচ লিগ্যাসি সিরিজ’-এ প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কীভাবে বাংলাদেশের সিলেটে শুরু হওয়া ‘প্রজাহ্নমো’ উদ্যোগ বিশ্বের মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।   জনস হপকিন্সের ওই বিশেষ প্রকাশনায় অধ্যাপক বাকীর কাজকে শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশে গড়ে ওঠা একটি গবেষণা উদ্যোগ কীভাবে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মাধ্যমে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে, তার একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির মতে, প্রজাহ্নমোর যাত্রা প্রমাণ করে যে উন্নয়নশীল দেশ থেকেও বিশ্বমানের গবেষণা পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব।   অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী বর্তমানে জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ম্যাটার্নাল অ্যান্ড নিউবর্ন হেলথের পরিচালক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর তিনি জনস হপকিন্স থেকেই এমপিএইচ এবং ডক্টর অব পাবলিক হেলথ (ডিআরপিএইচ) ডিগ্রি অর্জন করেন। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মাতৃ, নবজাতক ও শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করে আসছেন এবং এ ক্ষেত্রের বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।   তার গবেষণা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ২০০১ সালে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইসিডিডিআর,বি এবং দেশি-বিদেশি গবেষকদের সহযোগিতায় সিলেটে যাত্রা শুরু করে ‘প্রজাহ্নমো’ গবেষণা উদ্যোগ। ছোট একটি গবেষণা প্রকল্প হিসেবে শুরু হলেও এটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশি নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রজাহ্নমো রিসার্চ ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন জেলায় গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।   প্রজাহ্নমোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় প্রমাণিত হয়, প্রশিক্ষিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নবজাতকের পরিচর্যা নিশ্চিত করলে জন্মের প্রথম মাসে মৃত্যুহার প্রায় ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। গবেষণাটি ২০০৮ সালে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নবজাতক স্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ প্রণয়নে এই গবেষণার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   অধ্যাপক বাকী ও তার সহকর্মীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা যায়, নবজাতকের নাভিতে ক্লোরহেক্সিডিন ব্যবহার করলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এছাড়া হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হলে গুরুতর অসুস্থ নবজাতকের জন্য সহজীকৃত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসাও কার্যকর হতে পারে বলে তার গবেষণায় উঠে আসে। এসব গবেষণার ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার নির্দেশিকা হালনাগাদ করে।   গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশে দক্ষ জনস্বাস্থ্য গবেষক তৈরি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক বাকী। তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রজাহ্নমো রিসার্চ ফাউন্ডেশন বর্তমানে বাংলাদেশি নেতৃত্বে পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এখনও প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।   অধ্যাপক বাকীর প্রকাশিত পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের সংখ্যা প্রায় ৩০০। তার গবেষণা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে ব্যবহৃত হয়েছে। এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৭ সালে আমেরিকান পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের মর্যাদাপূর্ণ ‘কার্ল ই. টেলর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি আরও বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।   গত ২৩ জুন প্রকাশিত জনস হপকিন্সের ‘আইএইচ লিগ্যাসি সিরিজ’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে শুরু হওয়া একটি ছোট গবেষণা উদ্যোগ আজ এমন এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যার গবেষণা বিশ্বের কোটি কোটি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করেছে, উন্নয়নশীল দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরাও বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতিতে নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং টেকসই পরিবর্তন আনতে সক্ষম।   বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার ইতিহাসে অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকীর অবদান শুধু একজন সফল গবেষকের ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা পাওয়ারও এক অনন্য অধ্যায়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের বাফলোতে এক বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার
নিউইয়র্কের বাফলোতে এক বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার

নিউইয়র্ক বাফলোর ইউনিভার্সিটি ডিস্ট্রিক্টে এক বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বাফলো প্রতিদিন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় সেকেন্ড-ডিগ্রি অ্যাসল্ট ও গ্যাং অ্যাসল্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত আরও দুজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাফলো পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে বাফলোর ইউনিভার্সিটি ডিস্ট্রিক্টের রোজ সুপার মার্কেটের পার্কিং লটে এ ঘটনা ঘটে। আহত আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি দুই বন্ধুকে নিয়ে নায়াগ্রা ফলসে যাওয়ার জন্য ১০০ ডলারে একটি রাইডের ব্যবস্থা করেছিলেন। গাড়িতে ওঠার পর রাইড নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।   আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষই পুলিশে ফোন করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। তার দাবি, এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, চশমা ভেঙে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়।   বাফলো প্রতিদিন-এর তথ্যমতে, গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন আব্দুল মান্নান তাজু ও জাহাঙ্গীর সম্রাট। এছাড়া গিয়াস উদ্দিন ও মাসুক নামে আরও দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাদের ভূমিকা তদন্ত করছে।   আহত আরিফুল ইসলাম আরও দাবি করেন, তিনি সম্প্রতি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন এবং একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। মারধরের ঘটনায় তিনি বুকে, মাথায়, হাতে ও কোমরে আঘাত পেয়েছেন বলে জানান। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তাকে বিশ্রাম ও থেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তিকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা জামিন পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে বাফলো প্রতিদিন জানিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ডা. অদিতি সাহা অনন্যা
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নবীন চিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ডা. অদিতি সাহা অনন্যা নামের এক বাংলাদেশি তরুণ চিকিৎসক। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে চিকিৎসা পেশার নতুন অধ্যায় শুরু করার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার এমন করুণ ও অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও গোটা চিকিৎসক সমাজে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত অদিতির গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায়; তিনি তার বাবা বাবুল সাহার একমাত্র কন্যাসন্তান ছিলেন।   পারিবারিক ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা গেছে, ডা. অদিতি সাহা অনন্যা রাজধানীর জহিরুল হক শিকদার মেডিক্যাল কলেজের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখান থেকে সফলভাবে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক 'ইউনাইটেড স্টেটস মেডিক্যাল লাইসেন্সিং এক্সামিনেশন' (USMLE) সফলভাবে সম্পন্ন করে একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই মেধাবী তরুণী।   সবশেষ চলতি বছরের জুলাই মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি শুরু করেছিলেন ডা. অদিতি। চিকিৎসক হিসেবে নিজের বর্ণিল স্বপ্নযাত্রায় সবেমাত্র পা রেখেছিলেন তিনি, কিন্তু শিকাগোর সড়কে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা অকালেই কেড়ে নেয় তার সম্ভাবনাময় জীবন। তার মৃত্যুর দুঃসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত সহপাঠী, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে একজন মেধাবী, মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক হিসেবে স্মরণ করে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
বিয়ের ঘোষণা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ে করলেন বাংলাদেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ পাঠিকা, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

বাংলাদেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ পাঠিকা তাসনুভা আনান শিশিরের বিয়ের ঘোষণা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১০ জুলাই তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাথাভর্তি সিঁদুর, শাঁখা-পলা পরা ছবি প্রকাশ করে বিয়ের খবর জানান। এরপর থেকেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য, কটূক্তি ও ট্রলের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।   তাসনুভা আনান শিশির ২০২১ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বৈশাখী টেলিভিশনে সংবাদ পাঠের মাধ্যমে দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ পাঠিকা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তার সেই অভিষেক দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং মূলধারার গণমাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।   সম্প্রতি বিয়ের ঘোষণার পর প্রকাশিত ছবিতে সনাতন ধর্মীয় রীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত সিঁদুর ও শাঁখা-পলা পরিহিত অবস্থায় তাকে দেখা যায়। এর জেরে সামাজিক মাধ্যমে তার ধর্ম, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং বৈবাহিক জীবন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে তাসনুভা আনান শিশির আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।    তাসনুভা আনান শিশির দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্য ও সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার। সংবাদ পাঠিকা হওয়ার আগেও তিনি একজন অধিকারকর্মী, অভিনয়শিল্পী ও সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে সামাজিক বুলিং, বৈষম্য ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে।    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একজন ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়, বৈবাহিক জীবন কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত তার নিজস্ব অধিকার ও স্বাধীনতার অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বা অপমানজনক মন্তব্য অনলাইন হয়রানির পরিবেশ তৈরি করতে পারে।   তাসনুভা আনান শিশিরের বিয়ের খবর ঘিরে যেমন অভিনন্দনের বার্তা এসেছে, তেমনি সমালোচনা ও ট্রলও দেখা গেছে। ঘটনাটি আবারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক সহনশীলতা এবং অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
শায়েরার সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা দেবে প্রজন্মকে
বাংলাদেশ থেকে অক্সফোর্ড: শায়েরার সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা দেবে প্রজন্মকে

বাংলাদেশের একজন তরুণ পেশাজীবী শায়েরা তার কঠোর পরিশ্রম, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ প্রোগ্রামে জায়গা করে নিয়েছেন। তার এই যাত্রা শুধু একটি উচ্চশিক্ষার অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, আত্মউন্নয়ন এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি উদাহরণ।   যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইদ বিজনেস স্কুলের এমবিএ প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া শায়েরার জন্য ছিল দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তবে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে তাকে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে—শিক্ষাজীবন, পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং নিজেকে ক্রমাগত উন্নত করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে।   শায়েরা মনে করেন, বড় কোনো অর্জন একদিনে আসে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে কাজ করা।   অক্সফোর্ড এমবিএর মতো প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামে আবেদন করার আগে তিনি নিজের একাডেমিক যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেন।   বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজনেস স্কুলগুলো সাধারণত শুধু ভালো ফলাফল নয়, বরং একজন প্রার্থীর চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং সমাজে সম্ভাব্য অবদানের বিষয়গুলো বিবেচনা করে।   অক্সফোর্ড এমবিএতে আবেদন করতে গিয়ে শায়েরা বিভিন্ন পর্যায়ের প্রস্তুতি নেন। এর মধ্যে ছিল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, আবেদনপত্র তৈরি, নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা এবং সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।   তার মতে, একটি শক্তিশালী আবেদন শুধু অর্জনের তালিকা নয়; বরং একজন ব্যক্তি কেন এই প্রোগ্রামের জন্য উপযুক্ত এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে চান, সেটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হয়।   অক্সফোর্ডের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা শায়েরার জন্য একটি বিশেষ অর্জন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা করার সুযোগ তার সামনে নতুন অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।   অক্সফোর্ড এমবিএ প্রোগ্রাম বিশ্বজুড়ে ব্যবসা, উদ্যোক্তা, নেতৃত্ব এবং নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে কাজ করা পেশাজীবীদের জন্য অন্যতম সম্মানজনক শিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত।   শায়েরা মনে করেন, স্বপ্ন পূরণের জন্য শুধু প্রতিভা নয়, প্রয়োজন ধৈর্য, নিয়মিত পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনা।   তার যাত্রা দেখায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় সুযোগ অর্জনের জন্য একজন শিক্ষার্থী বা তরুণ পেশাজীবীকে নিজের দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন কিছু শেখার মানসিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ধরে এগিয়ে যেতে হয়।   বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর এই গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাস, কোন রাজ্যে বাংলাদেশিরা রাজনীতিতে এগিয়ে?
নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাস, কোন রাজ্যে বাংলাদেশিরা রাজনীতিতে এগিয়ে?

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি-আমেরিকানদের দেশটির মূলধারার ব্যবসা, রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমাজব্যবস্থায় প্রভাব বাড়াতে হলে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মূলধারার কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।    ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানান তিতুমীর। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি হোটেলে বিএনপি আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশি প্রবাসীরা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন।    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানরা যদি স্থানীয় রাজনীতি, ব্যবসা ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হন, তাহলে তা তাদের নিজেদের কমিউনিটির জন্য যেমন সুযোগ তৈরি করবে, তেমনি বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।    অনুষ্ঠানে তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।    বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিয়ে আলোচনায় তিনি তাদের রেমিট্যান্স, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশের বিষয়ে ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরির ভূমিকার প্রশংসা করেন।    অনুষ্ঠানে দেশের বাজেট ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েও বক্তব্য দেন তিতুমীর। তিনি বলেন, চলতি বছরের বাজেটে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও বৈষম্য কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংখ্যা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, টেক্সাস, মিশিগান ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিরা ব্যবসা, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিভিন্ন পেশায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় রাজনীতি ও ব্যবসায়িক পরিসরে অংশগ্রহণ বাড়লে প্রবাসী কমিউনিটির প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।   মতবিনিময় সভাটি পরিচালনা করেন ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, এক দশকে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ
নিউইয়র্কে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, এক দশকে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ

নিউইয়র্ক সিটির অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মানচিত্রে দ্রুত শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন বাংলাদেশিরা। এক দশকে শহরটিতে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর ফলে নিউইয়র্কের সপ্তম বৃহত্তম অভিবাসী জনগোষ্ঠীতে উঠে এসেছেন বাংলাদেশিরা। শুধু তাই নয়, ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশিরাই এখন শহরের সবচেয়ে বড় দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী জনগোষ্ঠী।   নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সিটি প্ল্যানিংয়ের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত ‘দ্য নিউয়েস্ট নিউ ইয়র্কার্স ২০২৬’ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। শহরের অভিবাসী জনগোষ্ঠী নিয়ে এটিই নিউইয়র্ক সিটির সর্বশেষ বিস্তৃত সরকারি প্রতিবেদন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৭৯৩। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৬ হাজার। অর্থাৎ এক দশকে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে তালিকায় নবম অবস্থান থেকে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।   তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হলেও দেশভিত্তিক বিস্তারিত জনসংখ্যার হিসাব মূলত ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে এবং সংশ্লিষ্ট সেনসাস তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই ১ লাখ ১০ হাজার ৭৯৩ জনকে ২০২৬ সালের সরাসরি জনসংখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   এরই মধ্যে ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের আরও সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরো। সেই হিসাবে ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে মোট বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩১ লাখ ৮ হাজার। ফলে শহরের সামগ্রিক অভিবাসী জনগোষ্ঠী এখনো নিউইয়র্কের জনমিতি, অর্থনীতি ও কর্মশক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   বাংলাদেশিদের উত্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির মধ্যে। সিটি প্ল্যানিংয়ের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা যেখানে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৮০০, সেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬৪ হাজার ২০০।   নিউইয়র্ক সিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে শহরে আসা নতুন অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বড় উৎস দেশ। নতুনভাবে লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।   বাংলাদেশি অভিবাসনের ক্ষেত্রে পরিবারভিত্তিক ইমিগ্রেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে আসা ৬০ হাজারের বেশি মানুষের বড় অংশই পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মায়ের মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন।   বাংলাদেশিদের বসবাসের প্রধান কেন্দ্র কুইন্স হলেও কমিউনিটির বিস্তার এখন নিউইয়র্কের অন্যান্য বরোতেও দৃশ্যমান। জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস, এলমহার্স্ট ও ব্রায়ারউডসহ কুইন্সের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি ব্রঙ্কসেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিটি প্ল্যানিংয়ের ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের হিসাবে ব্রঙ্কসে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ হাজার ৫০০, যা ওই বরোর পঞ্চম বৃহত্তম বিদেশে জন্ম নেওয়া জনগোষ্ঠী।   বাংলাদেশি কমিউনিটির বৃদ্ধির আরেকটি দিক হলো নতুন প্রজন্ম। নিউইয়র্ক সিটির বিদেশে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশিদের হিসাবের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ফলে ১ লাখ ১০ হাজারের হিসাবটি নিউইয়র্কে বসবাসকারী পুরো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নয়। দ্বিতীয় ও পরবর্তী প্রজন্ম যোগ করলে কমিউনিটির প্রকৃত আকার আরও বড়।   জাতীয় পর্যায়েও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালে প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। ২০০০ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। দুই দশকের কিছু বেশি সময়ে এই জনগোষ্ঠী বেড়েছে প্রায় ৫৬৯ শতাংশ।   ওই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন অভিবাসী এবং প্রায় ৭৫ হাজার যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া। তবে পিউর এই হিসাব শুধু যারা নিজেদের এককভাবে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, ফলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর হিসাব পদ্ধতিভেদে ভিন্ন হতে পারে।   নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক সরকারি প্রতিবেদন বলছে, শহরের অভিবাসী মানচিত্রের পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশিদের বৃদ্ধি এখন স্পষ্ট। এক দশকে ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি, অভিবাসী জনগোষ্ঠীর তালিকায় সপ্তম অবস্থানে উঠে আসা এবং দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে শীর্ষে পৌঁছানো নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিরই প্রতিফলন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ভারতে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে মুসলিম দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে মারধর I ছবি: সংগৃহীত
ভারতে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে মুসলিম দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে মারধর

ভারতের বেঙ্গালুরুতে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে এক মুসলিম দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ডা. নগেন্দ্রাপ্পা নামের এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ওই চিকিৎসকের দাবি, এর আগে ওই দম্পতিকে ভারত থেকে একবার বিতাড়িত করা হয়েছিল এবং তারা বেআইনিভাবে আবারও দেশে প্রবেশ করেছে। গত বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ঘটা এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।   পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেঙ্গালুরুতে নিজস্ব ক্লিনিক পরিচালনাকারী ডা. নগেন্দ্রাপ্পা বুধবার সকালে ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের পথরোধ করেন। নাসরিনা পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসক প্রথমেই তাদের জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হিন্দিতে গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর নাসরিনাকে টেনেহিঁচড়ে মারধরের পাশাপাশি তার স্বামী বিলালের ওপরও চড়াও হন তিনি। বিলালের মাথা ও পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারেন ওই চিকিৎসক। এমনকি ঘটনাটি পুলিশকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বেলান্দুর থানা-পুলিশ ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মারধর, নারীর শ্লীলতাহানি, বেআইনিভাবে পথরোধ এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং ওই দম্পতির জাতীয়তা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি।   এদিকে, গ্রেফতারের ঠিক আগেই অভিযুক্ত চিকিৎসক নিজেই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেখানে তাকে দম্পতিকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে অভিযুক্ত করে গায়ে হাত তুলতে দেখা যায়। বিপরীতে ভুক্তভোগী বিলালকে স্থানীয় কন্নড় ভাষায় উত্তর দিয়ে বলতে শোনা যায় যে, তিনি গত ২০ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতেই বসবাস করছেন। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শুক্রবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০