- প্রচ্ছদ
- Topic
বাংলাদেশ
ইতালিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সরকারি সাক্ষাৎকারে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল অনুবাদ করে তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি দোভাষীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। ইতালির সিরাকুজা শহরে আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় প্রশ্ন ও উত্তরের প্রকৃত অর্থ পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইতালির সংবাদমাধ্যম আদনক্রোনোসের প্রতিবেদনের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সিরাকুজা শহরের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতিবিষয়ক আঞ্চলিক কমিশনে বাংলা ভাষার দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন। আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে কমিশনের কর্মকর্তা ও আবেদনকারীদের মধ্যে ভাষাগত যোগাযোগের দায়িত্ব ছিল তাঁর। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন বক্তব্যের অর্থ পরিবর্তন করতেন। তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দোভাষী দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়প্রার্থীদের দেওয়া বক্তব্য সঠিকভাবে অনুবাদ করছিলেন না। শুধু আবেদনকারীদের উত্তর নয়, কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশ্নও পরিবর্তন করে উপস্থাপন করতেন। এর ফলে সাক্ষাৎকারের প্রকৃত বক্তব্য সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ইতালিতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ সময় আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গেলে কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে, কেন তাঁরা দেশ ছেড়েছেন এবং কী কারণে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা চাইছেন, সেসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। আবেদনকারীর বক্তব্য সঠিকভাবে অনুবাদ না হলে তাঁর আবেদনের মূল্যায়ন প্রভাবিত হতে পারে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয়প্রার্থীদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ওই দোভাষীর বিরুদ্ধে। আবার কখনো আবেদনকারীরা যে বক্তব্য দেননি, এমন কথাও তাঁদের নামে যুক্ত করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে আবেদনকারীদের বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বদলে যেত এবং তাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো। তদন্তকারীদের ধারণা, সাক্ষাৎকারে আবেদনকারীদের বক্তব্য সম্পর্কে কমিশনের কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করা হতো। ফলে আবেদনকারীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সিরাকুজার প্রসিকিউটর অফিসের নির্দেশে ইতালির কারাবিনিয়েরি পুলিশের অপারেশনাল ইউনিট ঘটনাটির তদন্ত করে। তদন্ত শেষে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি নথিতে মিথ্যা তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে ওই দোভাষীর বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারি করা হয়। পরে আদালত আটকাদেশ অনুমোদন করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট পরিয়ে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ঘটনাটি ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে আশ্রয়প্রার্থীদের সরকারি সাক্ষাৎকারে দোভাষীর ভূমিকা এবং বক্তব্যের সঠিক অনুবাদ নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেছেন, আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে অনুবাদের দায়িত্ব পালনকারী কিছু দোভাষীর বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগও শোনা যায়। তাঁদের অভিযোগ, চাহিদামতো অর্থ না দিলে সঠিকভাবে অনুবাদ করা হয় না। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে আটক দোভাষীর ঘটনার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে আটক ব্যক্তির নাম ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ঢাকার একটি মেসে বসে ফেসবুকে মজার কার্টুন ও মিম তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছে টি-শার্টসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন বাংলাদেশের দুই তরুণ। কুমিল্লার লাকসামের দুই ভাই নাজমুস শাহাদাত ও নাজমুস সাকিবের এই উদ্যোগ এখন আন্তর্জাতিক অনলাইন ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, ২০২৪ সালেই তাঁদের ব্যবসার পরিমাণ ছিল প্রায় এক কোটি টাকা। তাঁদের পরিচালিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে সম্মিলিত ফলোয়ারের সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি। প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজমুস শাহাদাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁর বড় ভাই নাজমুস সাকিব পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের খরচ চালানো এবং পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর চিন্তা থেকেই দুই ভাই অনলাইনে আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। শুরুতে তাঁদের হাতে বড় কোনো পুঁজি ছিল না। ছিল একটি ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিছু করার আগ্রহ। শাহাদাত প্রথমে সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেন। কিছুদিন কাজও করেন এই পেশায়। পরে ইউটিউবে বিভিন্ন ছবি দিয়ে স্লাইড শো তৈরি করে আপলোড করতে থাকেন। কিন্তু সেখান থেকে প্রত্যাশিত দর্শক কিংবা আয় কোনোটিই আসছিল না। এরপর দুই ভাই ফেসবুকের কনটেন্ট থেকে আয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। বিশেষ করে ছবি, রিল ও অন্যান্য কনটেন্টের মাধ্যমে দর্শক তৈরি এবং সেখান থেকে ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করেন তাঁরা। এ সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে কার্টুন ছবি তৈরি করতে শুরু করেন শাহাদাত। এসব কার্টুনের সঙ্গে যুক্ত করা হতো দৈনন্দিন জীবন, বয়স, অবসর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্ত মানুষের পরিচিত অভিজ্ঞতা নিয়ে মজার মন্তব্য। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিল রেখে তৈরি রসিকতাগুলো ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে থাকে। নিজেদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করার পাশাপাশি বিভিন্ন বড় গ্রুপেও সেগুলো শেয়ার করতেন দুই ভাই। প্রথম দিকে তেমন সাড়া না পেলেও একসময় তাঁদের তৈরি কয়েকটি মিম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়তে থাকে ফলোয়ার ও দর্শকের সংখ্যা। এরপর তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে একাধিক ফেসবুক কমিউনিটি গ্রুপ তৈরি করেন। এসব গ্রুপে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠী গড়ে তোলার চেষ্টা চালান। ফেসবুকের ইনসাইট বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখতে পান, তাঁদের কনটেন্টের দর্শকদের প্রায় ৮০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও প্রবীণদের মধ্যে এসব মিমের জনপ্রিয়তা বেশি। এই তথ্য থেকেই নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। দুই ভাই ভাবতে শুরু করেন, ফেসবুকে জনপ্রিয় হওয়া মজার কথাগুলো যদি টি-শার্টে ছাপিয়ে বিক্রি করা যায়, তাহলে কেমন হয়। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে যুক্ত হন তাঁদের খালাতো ভাই মোহাম্মদ হাসান রাফি। ডিজাইনের কাজে দক্ষ রাফিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা অনলাইন পণ্য বিক্রির উদ্যোগ শুরু করেন। তবে নিজেরা কোনো কারখানা স্থাপন করেননি। পণ্য তৈরি কিংবা সরবরাহের জন্যও বড় বিনিয়োগ করতে হয়নি তাঁদের। তাঁরা বেছে নেন প্রিন্ট অন ডিমান্ড ব্যবসার মডেল। এই পদ্ধতিতে ক্রেতার অর্ডার পাওয়ার পর নির্ধারিত ডিজাইন অনুযায়ী পণ্য তৈরি করা হয়। এ জন্য একটি বিদেশি প্রিন্ট অন ডিমান্ড প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেন তাঁরা। নিজেদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ডিজাইনের পণ্য প্রদর্শন করেন। কোনো ক্রেতা অর্ডার দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পণ্য প্রিন্ট, প্যাকেজিং এবং ডেলিভারির দায়িত্ব পালন করে। ফলে বাংলাদেশে বসেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশের ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁদের। প্রথমে টি-শার্ট দিয়ে ব্যবসা শুরু হলেও পরে পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে সোয়েটশার্ট, হুডি ও টাম্বলার ফ্লাস্ক। প্রতিটি পণ্যের ডিজাইনে গুরুত্ব দেওয়া হয় তাঁদের ফেসবুক দর্শকদের পছন্দের বিষয়গুলোকে। জনপ্রিয় মিমের রসিকতা এবং পরিচিত জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠেছে এসব পণ্যের মূল আকর্ষণ। প্রথম আলোকে শাহাদাত জানিয়েছেন, ব্যবসার শুরুর কয়েক মাস তাঁরা আয় করার চেয়ে দর্শক তৈরি এবং ফেসবুক কমিউনিটি গড়ে তোলার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কোনো পেইড বিজ্ঞাপন কিংবা পোস্ট বুস্ট না করে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। পরে সেই দর্শকদের একটি অংশ তাঁদের অনলাইন স্টোরের ক্রেতায় পরিণত হয়। তাঁদের ব্যবসায় মৌসুমি চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিক্রি বেশি হয় বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন ও ক্রিসমাসের মতো উৎসবকে সামনে রেখে বিশেষ ডিজাইনের পণ্য তৈরি করেন তাঁরা। এসব উৎসবের সময় উপহার কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের পণ্যের চাহিদাও বাড়ে। বর্তমানে কাউ ক্রনিকলস, ডাকস গন ওয়াইল্ড, হার্ড হিউমার ও হিলারিয়াস ক্যাটসহ বিভিন্ন নামে ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ পরিচালনা করছেন তাঁরা। উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব পেজ ও গ্রুপ মিলিয়ে তাঁদের ফলোয়ার সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। দুই ভাইয়ের দাবি, ২০২৪ সালে তাঁদের ব্যবসার পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকায় পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকেও স্বীকৃতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এক কোটি টাকা তাঁদের মোট বিক্রির পরিমাণ, নাকি সব খরচ বাদ দেওয়ার পর মুনাফা, সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আয়ের এই হিসাবও উদ্যোক্তাদের নিজস্ব বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। এই উদ্যোগের সঙ্গে এখন ১৫ জনের বেশি তরুণ যুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের কেউ কনটেন্ট তৈরি, কেউ ডিজাইন, আবার কেউ অনলাইন ব্যবসার বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছেন। ফলে দুই ভাইয়ের ব্যক্তিগত আয়ের চেষ্টা থেকে শুরু হওয়া উদ্যোগটি অন্য তরুণদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশে বসে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের পছন্দ বুঝে কনটেন্ট তৈরি এবং সেই দর্শকদের কাছে পণ্য বিক্রির এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ই-কমার্সের একটি উদাহরণ। এখানে শুধু ভাইরাল কনটেন্ট নয়, দর্শকদের আগ্রহ বিশ্লেষণ, নিয়মিত যোগাযোগ এবং পণ্য নির্বাচনের কৌশলও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ঢাকার মেসে একটি ল্যাপটপ দিয়ে শুরু করা দুই ভাইয়ের উদ্যোগ এখন দেশের বাইরের ক্রেতাদের কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালানোর উদ্দেশ্যে শুরু করা কাজটি তাঁদের দাবি অনুযায়ী কোটি টাকার ব্যবসায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বসে বিদেশি বাজারের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট ও পণ্য তৈরির সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে তাঁদের অভিজ্ঞতা। সূত্র: প্রথম আলো
কুয়েতের আল মুতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে ভবনটির ছাদ থেকে নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। পুলিশের দাবি, চাকরি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম কুয়েত টাইমস ও টাইমস কুয়েত জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি ওই নির্মাণাধীন ভবনে আগে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মরদেহ উদ্ধারের এক দিন আগে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে তাঁর জায়গায় নিয়োগ পান নিহত নিরাপত্তাকর্মী। তদন্তকারীদের ধারণা, চাকরি হারানো এবং নতুন কর্মীর সঙ্গে বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে আল মুতলা এলাকার নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় নিরাপত্তা বাহিনী। খবর পেয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা মরদেহের অবস্থান পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক তদন্তে ভবনটির সাবেক নিরাপত্তাকর্মীর বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। তদন্তে আরও জানা যায়, সন্দেহভাজন বাংলাদেশি এরই মধ্যে কুয়েতের শার্ক থানায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তাঁর আবাসিক ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আগে থেকেই একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আগেই কুয়েত থেকে দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তবে এটি তদন্তকারীদের বক্তব্য, আদালতে এখনো অভিযোগের বিচার হয়নি। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের দাবি, তিনি জানিয়েছেন, তাঁর জায়গায় চাকরি পাওয়া নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে বিরোধের পর এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কাঠের একটি বস্তু ও ছুরি দিয়ে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে আঘাত করার কথাও স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরব টাইমসের প্রতিবেদনে নিহত নিরাপত্তাকর্মীকে ইয়েমেনের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক বিবরণে নিহত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশির নামও কুয়েতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আরমান হোসেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তাঁকে মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তবে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে এখনো অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি। রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত মানবজমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছে। মিশনের কর্মকর্তারা দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন। শুক্রবার ও শনিবার কুয়েতে সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মিশন। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের তথ্য ও সংগৃহীত আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানানো হলেও আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কুয়েতের আইন অনুযায়ী হত্যার অভিযোগ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশির ক্ষেত্রেও দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় নিহত নিরাপত্তাকর্মীর পরিবারের বক্তব্য কিংবা অভিযুক্ত বাংলাদেশির আইনজীবীর কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। আপাতত কুয়েতের পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ওই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মামলাটি বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এর সংবাদ সম্মেলন। আগামী ১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে (সাবেক ভিআইপি লাউঞ্জ) এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এনআরবি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে পাঠানো ২৬ অক্টোবরের আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার শেরাটন হোটেলে দুই দিনব্যাপী এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা, পেশাজীবী এবং বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, বিনিয়োগের সুযোগ এবং পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এর মূল লক্ষ্য, কর্মসূচি এবং গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে আসন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও সংবাদ পরিবেশনের জন্য বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আয়োজক সংগঠনটি। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিনিধি ও আলোকচিত্রী অথবা ক্যামেরাপারসন পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এনআরবি ওয়ার্ল্ডের আঞ্চলিক পরিচালক সুমাইয়া জামানের স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্রে সংগঠনটির পক্ষে উপস্থিতি ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। আমন্ত্রণপত্রে এনআরবি ওয়ার্ল্ডের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান তরিক, মহাসচিব মোয়াজ্জেম এইচ. চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনামের নাম উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম চুল্লির ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি মেটানোর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ অতিক্রম করল বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর শুক্রবার এই কার্যক্রমের কথা জানানো হয়। রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. কবির হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল ও মে মাসে প্রথম চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে এটি 'ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি' বা স্বয়ংক্রিয় চেইন রিঅ্যাকশন পর্যায়ে পৌঁছায়, যা চুল্লিটির শতভাগ নিরাপদ পরিচালনার প্রমাণ। বর্তমানে আরও কিছু কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানোর পর আগামী ডিসেম্বর মাসেই এই কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। সবকিছু ঠিক থাকলে ১.২ গিগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম চুল্লিটি ২০২৭ সালে এবং সমপরিমাণ ক্ষমতার দ্বিতীয় চুল্লিটি ২০২৮ সালে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে। পদ্মা নদীর তীরে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় নির্মিত ২.৪ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক মেগাপ্রকল্প। এর মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে মোট বিদ্যুতের প্রায় অর্ধেকই আসে গ্যাস থেকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশও মারাত্মকভাবে ভুগেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতেই পারমাণবিক শক্তির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দেশের ১১ শতাংশ বিদ্যুৎ আসবে পারমাণবিক শক্তি থেকে, যা দেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
সুইজারল্যান্ডের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে (অ্যাসাইলাম সেন্টার) থাকা এক বাংলাদেশিকে চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের পুলিশ। রাইন নদী থেকে বুরুন্ডির নাগরিক এক ব্যক্তির খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত ওই ব্যক্তি আশ্রয়কেন্দ্রটিতে সন্দেহভাজন ওই বাংলাদেশির রুমমেট ছিলেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। নিহত ৩৩ বছর বয়সী ওই বুরুন্ডির নাগরিক গত ২৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার পরিচিতরা বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরদিন বাসেল শহরের কাছে স্টেইন এলাকার নদীতীরে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ দেখতে পান তারা, যার ভেতরে মানুষের একটি কাটা পা ছিল। পরবর্তীতে পুলিশের ব্যাপক তল্লাশিতে আরও কয়েকটি ব্যাগ উদ্ধার হয়, যেগুলোতে মরদেহের অন্যান্য অংশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সুইজারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় আর্গাউ ক্যান্টনের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর জানিয়েছে, হত্যার পর মরদেহটি টুকরো টুকরো করে কেটে আবর্জনা রাখার ব্যাগে ভরে রাইন নদী এবং এর তীরে ফেলে দেয়া হয়েছিল। এই ভয়ংকর ঘটনার পর পুলিশ ওই আশ্রয়কেন্দ্রটিতে জোর তল্লাশি চালায়। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে বসবাস করা ৪৩ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশির ওপর সন্দেহ জোরালো হয় এবং গত ২৭ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অপরাধের পেছনের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, প্রাথমিক তদন্তের সময় গ্রেপ্তারকৃত
লিবিয়ার বেনগাজী শহরের গানফুদা আটককেন্দ্রে বন্দি থাকা আরও ১৭২ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। ২৫ জুন ভোর ৫টা ১৮ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে। ফেরত আসা বাংলাদেশিদের অনেকেই সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। এ যাত্রায় মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেকে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আটক হয়ে তাঁদের লিবিয়ার বন্দিশালায় থাকতে হয়। লিবিয়ায় অবস্থানকালে বাংলাদেশিদের অনেকে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁদের অনেককে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। দেশে ফেরার পর প্রত্যাবাসিত নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাঁদের যাতায়াত খরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের সহায়তাও দেওয়া হয়। এদিকে, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণাকারী চক্রের ফাঁদে না পড়তে এবং বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। লিবিয়ার বিভিন্ন আটককেন্দ্রে থাকা অন্য বাংলাদেশি নাগরিকদেরও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: বিডিনিউজ ২৪
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। ৩৩ বছর বয়সী রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও নিজের নাগরিকত্বের বিষয়টি জেনেশুনে নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল প্রসিকিউটররা ২৭ অক্টোবর এ মামলার অভিযোগ দাখিলের কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড জেলার অ্যাটর্নি অফিসের বিবৃতি অনুযায়ী, মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি ঘোষণা করেন মেরিল্যান্ডের ফেডারেল অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস এবং এফবিআইয়ের বাল্টিমোর ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইনচার্জ জিমি পল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় রহমান জানতেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্য নির্বাচনের ভোটও অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্তে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) নেতৃত্ব দিয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস তদন্তে সহায়তা করেছে। মামলাটি পরিচালনা করছেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ফিলিপ মোৎসে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রহমানের সর্বোচ্চ এক বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এটি সর্বোচ্চ শাস্তি। প্রকৃত সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফেডারেল আদালতের বিচারক সাজা নির্ধারণের নির্দেশিকা ও প্রাসঙ্গিক আইনি বিষয় বিবেচনা করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য সাধারণত দেশটির নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে মামলায় অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত রহমান নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাজ্যে জিন তাড়ানোর নামে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে বাংলাদেশি নাগরিক কমর উদ্দিনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন দেশটির একটি আদালত। ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল লেস্টার ক্রাউন কোর্ট এ সাজা ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় ৬৮ বছর বয়সী কমর উদ্দিন নিজেকে ইমাম ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ এবং তিনটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম লেস্টার মার্কারির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক তরুণীর শরীর থেকে কথিত অশুভ আত্মা তাড়ানোর জন্য তাঁকে লেস্টার শহরের একটি বাড়িতে ডেকে আনা হয়। পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করতেন, কমর উদ্দিন আধ্যাত্মিক চিকিৎসার মাধ্যমে তরুণীকে সুস্থ করতে পারবেন। চিকিৎসার কথা বলে তরুণীকে তাঁর শোবার ঘরে নিয়ে যান কমর উদ্দিন। সেখানে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিশেষ আচার পালনের আয়োজন করেন। এ সময় তরুণীর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিচতলায় অবস্থান করছিলেন। পরিবারের এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করেন তিনি। আদালতে জানানো হয়, ঘটনার সময় তরুণী পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুতে শোকাহত ছিলেন। তাঁর মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছিলেন কমর উদ্দিন। নির্যাতনের কথা কাউকে জানালে অশুভ আত্মা ফিরে আসবে বলেও তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছিল। অভিযোগ অস্বীকার করলেও তরুণীর শারীরিক পরীক্ষায় সংগ্রহ করা নমুনায় কমর উদ্দিনের ডিএনএ পাওয়া যায়। আদালতে এই ফরেনসিক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে জুরিবোর্ড তাঁকে দুটি ধর্ষণ ও তিনটি যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে। ঘটনার পর পুলিশ কমর উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি যুক্তরাজ্য ছেড়ে জার্মানিতে পালিয়ে যান। পরে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাঁকে জার্মানি থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। রায় ঘোষণার সময় বিচারক টিমোথি স্পেন্সার কমর উদ্দিনের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁকে প্রতারক, ভণ্ড এবং নিজের ধর্মের জন্য কলঙ্ক বলে উল্লেখ করেন বিচারক। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অসহায় এক তরুণীকে সাহায্য করার পরিবর্তে তিনি তাঁর ওপর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসের অপব্যবহার করেছেন। বিচারক আরও বলেন, তরুণীর পরিবার তাঁকে বিশ্বাস করে বাড়িতে ডেকেছিল। বিশেষ করে তরুণীর বাবা তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তিনি গুরুতর অপরাধ করেছেন। বাংলাদেশি নাগরিক কমর উদ্দিন বিবাহিত এবং ১১ সন্তানের বাবা। তিনি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন মসজিদে কাজ করার দাবি করেছিলেন। আদালতে তিনি স্বীকার করেন, বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ছাড়াই দেশটিতে বসবাস করছিলেন। মামলার সরকারি কৌঁসুলি রিচার্ড থ্যাচার জানিয়েছিলেন, কারাদণ্ড ভোগের পর কমর উদ্দিনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তবে তাঁর পরবর্তী অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ২০১৮ সালের এ মামলাটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসার নামে একজন অসহায় তরুণীর ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের আদালতের দেওয়া একটি উল্লেখযোগ্য রায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ ভিসা থাকার পরও কোনো ঘটনায় গ্রে প্তার হলে ভিসা বাতিলসহ বিভিন্ন আইনি ও অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে পারেন বিদেশি নাগরিকেরা। পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো কিংবা ভবিষ্যতে দেশটির ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখেও পড়তে হতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশি ভিসাধারীদের সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় সম্ভাব্য এসব পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়। দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি গ্রে প্তার হলে তাঁর মার্কিন ভিসা বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও ভবিষ্যতে প্রবেশের যোগ্যতা নিয়েও পর্যালোচনা হতে পারে। তবে শুধু গ্রে প্তার হওয়ার কারণেই সবার ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন নয়। অভিযোগের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভিসাধারীদের পাশাপাশি দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন, ব্যবসা, পড়াশোনা কিংবা অস্থায়ী কাজের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ ভিসার শর্ত মেনে চলতে হয়। দেশটিতে অবস্থানকালে কোনো আইনি অভিযোগের মুখোমুখি হলে তার প্রভাব ফৌজদারি কার্যক্রমের পাশাপাশি ভিসা ও ভবিষ্যৎ ভ্রমণের ওপরও পড়তে পারে। এর আগে ১০ অক্টোবর প্রকাশিত আরেকটি সতর্কবার্তায় শারীরিক হামলা, চুরি, ডাকাতি কিংবা অনুমতি ছাড়া অন্যের স্থানে প্রবেশের মতো ঘটনায় জড়িত হওয়ার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে জানিয়েছিল মার্কিন দূতাবাস। এসব ঘটনায় ভিসা বাতিল এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থানীয় আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ। ভ্রমণের অনুমতি পাওয়া মানেই দেশটির সব আইন ও নিয়মের বাইরে থাকার সুযোগ নয়। তাই ভিসাধারীদের নিজ নিজ ভিসার শর্ত, অনুমোদিত কার্যক্রম এবং অবস্থানের মেয়াদ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। মার্কিন ভিসা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাসপোর্টে বৈধ ভিসা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত হয় না। দেশটির বিমানবন্দর বা স্থলসীমান্তে পৌঁছানোর পর কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের কর্মকর্তারা প্রবেশের অনুমতি ও অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণ করেন। একইভাবে ভিসার বৈধতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অভিবাসনগত অনুমতি এক বিষয় নয়। এ কারণে ভিসা বাতিল হলেই কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। কোনো ব্যক্তির অবস্থান, আইনি পরিস্থিতি এবং তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করে। ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর অতীত আইনি রেকর্ড ও অভিবাসনসংক্রান্ত ইতিহাস বিবেচনায় আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা ভিসার আবেদনে প্রতারণার মতো কারণে কেউ ভিসা পাওয়ার অযোগ্য হতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের অযোগ্যতা দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ীও হতে পারে। তবে সব ধরনের অভিযোগ বা গ্রে প্তারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। অভিযোগের প্রকৃতি, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ভিত্তিতে প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। তাই কোনো আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে নিজের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নির্দিষ্টভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে ভিসার শর্ত ভঙ্গ এবং অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা নিয়েও সতর্ক করেছে মার্কিন দূতাবাস। ভিসায় অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া কিংবা বৈধ অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভিজিট ভিসায় যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে যান, তাঁদের অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে কাজ করা থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয় আইন মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আইনি অভিযোগের মুখোমুখি হলে নিজের ভিসা ও অভিবাসনগত অবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বুঝতে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ সতর্কবার্তার মূল বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কিংবা অবস্থানের সময় দেশটির আইন ও ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। বৈধ ভিসা থাকলেও আইনগত পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে ভ্রমণের সুযোগে প্রভাব পড়তে পারে—তাই ভিসাধারীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কানাডায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাসুমকে (৪৫) মানব পাচার ও তিনটি যৌন নিপীড়নের অপরাধে ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে (৫৬) মানব পাচারের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুন প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এ সাজা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সাস্কটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী বাংলাদেশে প্রায় ১৮ বছর সরকারি চাকরি করেছিলেন। তাঁর উচ্চশিক্ষা, স্থায়ী চাকরি এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল। কিন্তু কানাডায় উন্নত জীবন গড়ার আশায় তিনি দেশটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রেস্তোরাঁয় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশ্বাসে ২০২২ সালের আগস্টে কানাডায় পৌঁছান তিনি। সেখানে যাওয়ার পরই তাঁর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। যাঁদের ওপর ভরসা করে তিনি নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁরাই তাঁকে শোষণের পরিস্থিতিতে ঠেলে দেন বলে আদালতের বিচারে উঠে এসেছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় পৌঁছানোর পর প্রথমে সাসকাচুয়ানের গাল লেক এলাকায় সোহেল হায়দারের পরিচালিত একটি রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেন ওই নারী। পরে তাঁকে টিসডেল শহরে মোহাম্মদ মাসুমের পরিচালিত রেস্তোরাঁয় পাঠানো হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই তাঁর নামে যথাযথ ওয়ার্ক পারমিট ছিল না। অথচ তাঁকে জানানো হয়েছিল, অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে তাঁকে সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কাজের তুলনায় যথাযথ মজুরিও দেওয়া হতো না। একপর্যায়ে তাঁর কর্মসংস্থান, থাকার জায়গা এবং দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। মামলার বিচারকালে আরও উঠে আসে, মোহাম্মদ মাসুম ওই নারীর ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালান। আদালত তিনটি পৃথক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এসব অপরাধকে সাধারণ ভাষায় ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লেসলি ডানিং আদালতে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভুক্তভোগীর অসহায় পরিস্থিতি এবং তাঁদের ওপর তাঁর নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়েছিলেন। বিশেষ করে মাসুম নিজের যৌন স্বার্থে ওই নারীকে নির্যাতন করেন এবং কয়েকটি ঘটনায় শারীরিক সহিংসতাও ছিল। অন্যদিকে সোহেল হায়দারকে মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন শোষণের শিকার হওয়ার পর ওই নারীর নামে সাসকাচুয়ানের এলরোজ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় কাজের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁর পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় কয়েকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁদের সহযোগিতায় তিনি অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। ২০২৩ সালের জুনে কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। প্রায় ১৮ মাস ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাত সপ্তাহের শুনানি শেষে চলতি বছরের আগস্টে দুজনকে মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। এরপর ২২ অক্টোবর তাঁদের সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালতে দেওয়া ভিকটিম ইমপ্যাক্ট স্টেটমেন্টে নিজের জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী। তিনি জানান, কানাডায় যাওয়ার আগে তিনি ছিলেন স্বাবলম্বী এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারতেন। কিন্তু এই ঘটনার পর অন্য মানুষকে বিশ্বাস করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর স্বপ্ন, সম্মান, ভবিষ্যৎ, পরিবার এবং পেশাগত জীবন ধ্বংস করে দিয়েছেন। বাংলাদেশে ঘটনাটি নিয়ে নানা গুজব ও নেতিবাচক আলোচনার কারণে তাঁর পরিবারও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের চাকরি এবং প্রতিষ্ঠিত জীবন ছেড়ে কানাডায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো আক্ষেপ করেন তিনি। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লেসলি ডানিং মোহাম্মদ মাসুমের জন্য ১৫ বছর এবং সোহেল হায়দারের জন্য সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে মাসুমের আইনজীবী সাত থেকে নয় বছর এবং হায়দারের আইনজীবী আইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন চার বছরের সাজা দেওয়ার আবেদন জানান। উভয় পক্ষের যুক্তি ও মামলার তথ্য বিবেচনা করে বিচারক মাসুমকে মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। সোহেল হায়দারকে দেওয়া হয় চার বছরের কারাদণ্ড। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ভুক্তভোগীর অসহায়ত্ব ও অভিযুক্তের ওপর নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে সংঘটিত অপরাধের বিষয়টি সাজা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি বাবদ মোহাম্মদ মাসুমকে ১২ হাজার ২৬৮ কানাডিয়ান ডলার এবং সোহেল হায়দারকে ৫ হাজার ৮৮৫ কানাডিয়ান ডলার ১৬ সেন্ট পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুজনকে কারাগারে থাকা অবস্থায় এবং পরবর্তী জীবনেও ওই নারীর সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাসুমকে ২০ বছরের জন্য কানাডার জাতীয় যৌন অপরাধী নিবন্ধনে নাম অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। কানাডার এই মামলাটি বিদেশে চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের আশায় যাওয়া অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়োগকর্তার ওপর ওয়ার্ক পারমিট, বাসস্থান এবং আয়ের জন্য নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য শোষণের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কানাডায় মানব পাচার শুধু অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতারণা, ভয়ভীতি কিংবা নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে কাউকে শ্রম দিতে বাধ্য করার ঘটনাও মানব পাচারের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাংলাদেশি এই নারীর মামলায় আদালতের রায় সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিউইয়র্কে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, জ্যামাইকায় ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের পরিচিতি ও নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পেতে সহায়তা এবং কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরা হয়। তবে এসব কর্মসূচি কবে শুরু হবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে কিংবা কতজনকে সেবা দেওয়া হবে—সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট সময়সূচি পাওয়া যায়নি। প্রবাসে নতুন জীবন শুরু করা অনেক বাংলাদেশির জন্য চাকরি খোঁজা, ইংরেজিতে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া এবং স্থানীয় ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ, আবাসন এবং ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে। এ কারণে কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ব্যবহারিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সভায় পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ধরে রাখা এবং প্রবীণ প্রবাসীদের জন্য আরও বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের মাতৃভাষার সঙ্গে পরিচিত রাখা এবং বয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিবেদনে সভায় উপস্থিত কমিউনিটি প্রতিনিধিদের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, জামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা এবিএম ওসমান গণি এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সভায় আরও কয়েকজন সংগঠক ও কমিউনিটি প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ সোসাইটির মতো সংগঠনগুলোর নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয় নয়; প্রবাসীদের সামাজিক সংযোগ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচনী সভায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা পরবর্তী সময়ে যাচাই করা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—নতুন অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ নেবে কি না, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের সুযোগ কীভাবে তৈরি হবে এবং প্রবীণদের জন্য কী ধরনের সেবা চালু করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা প্রবাসী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে কোনো পলাতক বা ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তি দেশে অস্থিরতা তৈরি করে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সরকার কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করবে না। রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শক্তিগুলো এখনো বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা তাঁর নজরে এসেছে। তবে সরকার ইতিমধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফেরত চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের কাছে একাধিকবার অনুরোধপত্র পাঠিয়েছে। শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, পাহাড়ে কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনার পর সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতা এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। পাহাড়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি পুলিশের এক কর্মকর্তার বাসায় অভিযান চালিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরাধের ক্ষেত্রে কারও পদবি বা পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। আইনের চোখে সবাই সমান এবং আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। সদ্য সমাপ্ত শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, একটি চক্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টায় সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তির তৎপরতা, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ, পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং আসন্ন নির্বাচনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তবে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে নির্দিষ্ট কোনো নতুন মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এই বক্তব্যে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তাঁর অভিযোগগুলোকে সরকারের অবস্থান হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে ছয়টি প্রশ্নের জবাব চেয়ে দেশটির সরকারের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল, কীভাবে বিচার হয়েছে এবং দ ণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে ঢাকা। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশের দুই নাগরিক নাজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে দ ণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় চিঠিটি পাঠানো হয়। বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সৌদি মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল-সেহরির কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে ছয়টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, দুই বাংলাদেশি ঠিক কী অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, অপরাধ সংঘটনের সময় ও স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। তৃতীয়ত, তাঁদের গ্রেপ্তারের তারিখ। চতুর্থত, আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি। পঞ্চমত, কী পদ্ধতিতে মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করা হয়েছে—তলোয়ার দিয়ে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ষষ্ঠত, দ ণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে বা কী করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি তালিকায় দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কিছু তথ্য উল্লেখ ছিল। সেখানে একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচার এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের কথা বলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ওই তালিকায় তাঁদের জন্য কী ধরনের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য ছিল না। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পবিত্র স্থানের মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। আগের তালিকায় থাকা তথ্যের সঙ্গে পরবর্তী বিবৃতির বিষয়বস্তুর পার্থক্য এবং দ ণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য না জানানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। দ ণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে পাঠানো চিঠির জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং দ ণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
মেয়েকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে একজন বাবা তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। শনিবার ২৪ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন। একই পোস্টে শিশুদের ব্যক্তিগত সীমানা সম্পর্কে সচেতনতা, সামাজিক আচরণ, বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা এবং ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে সৎকর্মের সম্পর্ক নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। মিলন লেখেন, কন্যার সুরক্ষায় একজন বাবা প্রয়োজনে বিচারের অপেক্ষা না করেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘মেগাটনের থাপ্পড় বা লাথি’ দেওয়ার রূপক ব্যবহার করেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজেও একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতেন বলে জানান। তবে পোস্টে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার নাম, স্থান কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় উল্লেখ করেননি। শিশুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুর ভ্রমণের একটি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, একবার নির্জন রাস্তার যাত্রীছাউনিতে পাঁচ থেকে ছয় বছরের একটি মেয়েকে একা বসে থাকতে দেখে তিনি ভেবেছিলেন, শিশুটি হয়তো হারিয়ে গেছে বা বিপদে পড়েছে। কথা বলতে এগিয়ে গেলে সিঙ্গাপুরের নাগরিক তাঁর এক আত্মীয় তাঁকে থামান। অপরিচিত শিশুর কাছে যাওয়ায় সন্দেহ তৈরি হতে পারে বলে ওই আত্মীয় তাঁকে সতর্ক করেছিলেন বলে জানান মিলন। পোস্টে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এক শিশু আত্মীয়ের সঙ্গে নিজের আরেকটি অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। মিলন জানান, শিশুটি বাংলাদেশে বেড়াতে এলে তিনি স্নেহ করে তার মাথায় চুমু দিয়েছিলেন। এরপর শিশুটি তার মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিল, তাকে স্পর্শ করা হলো কেন। ঘটনাটি উল্লেখ করে তিনি শিশুদের নিজের শরীর ও ব্যক্তিগত সীমানা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন। বাংলাদেশে অন্যায়, নির্যাতন ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে বিচারব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মিলন। তাঁর মতে, অপরাধের পর শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে বলে মনে করলে মানুষের মধ্যে অপরাধ করার সাহস বাড়ে। বারবার অপরাধে জড়ানো এবং জামিনে বেরিয়ে আসা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব বক্তব্যে তিনি দেশের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি নৈতিক আচরণ ও সৎকর্মের ওপর গুরুত্ব দেন মিলন। তাঁর বক্তব্য, নামাজসহ ধর্মীয় বিধান পালন করেও অন্যায় ও অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা নিয়ে আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। নারীকে ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার মানসিকতারও সমালোচনা করেন তিনি। ধর্মীয় অনুশীলনকে সৎকর্ম থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার ধারণার বিরোধিতা করে তিনি লেখেন, সৎকর্মশীল হওয়ার তাগিদ ধর্মেই রয়েছে। সূত্র: জাগো নিউজ
কানাডায় এক বাংলাদেশি নারীকে মানবপাচার ও শ্রম শোষণের দায়ে দুই বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ মালিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাঁদের একজন ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের দায়েও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুনের আদালতে মোহাম্মদ মাসুমকে (৪৫) ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে (৫৫) চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুজনকে ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরিও পরিশোধ করতে হবে। কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে কানাডায় যাওয়ার পর ওই নারী দুই ব্যক্তির পরিচালিত রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁকে দীর্ঘ সময় কাজ করিয়ে যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে দেওয়া এবং পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো। আদালতের বিচারে মানবপাচার ও শ্রম শোষণের পাশাপাশি মাসুমের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অপরাধও প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, মোহাম্মদ মাসুমকে মানবপাচার ও একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে বকেয়া মজুরি বাবদ ১২ হাজার ২৬৮ কানাডিয়ান ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মানবপাচারে জড়িত থাকার দায়ে সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁকেও ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি বাবদ ৫ হাজার ৮৮৫ কানাডিয়ান ডলার পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এই অর্থ কারাদণ্ডের বাইরে ভুক্তভোগীর পাওনা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সাসকাচুয়ানের গ্যাল লেক, টিসডেল ও এলরোজ এলাকার রেস্তোরাঁগুলোতে ওই নারীকে কাজ করানো হতো। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলেও তিনি নিয়মিত মজুরি পেতেন না। সপ্তাহের সাত দিনই তাঁকে কাজ করতে হতো বলে আদালতে উঠে এসেছে। থাকার জন্য দেওয়া হয়েছিল একটি অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে বেজমেন্ট। কর্মসংস্থান ও অভিবাসনসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে তাঁর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। মামলার বিচারে উঠে আসে, মাসুম ওই নারীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন। পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের দাবি করা হয়। আদালতে প্রমাণিত হয়, ওই নারী অন্তত আটবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। চাকরি হারানো, অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যায় পড়া এবং পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় তাঁর পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব ঘটনাকে মানবপাচার ও যৌন শোষণের গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাজা ঘোষণার সময় ভুক্তভোগী নারীর লিখিত বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে তিনি জানান, কানাডায় তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মানসিক প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। অন্য মানুষকে বিশ্বাস করতে তাঁর কষ্ট হয় এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। নিজের জীবন, ভবিষ্যৎ ও পরিবারের ওপর এই অপরাধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, অপরাধীদের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য সহজ হয়নি। ভুক্তভোগী নারী আরও জানান, বাংলাদেশে তাঁর এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পরিবারের সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে ভাইবোনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজের স্বপ্ন, পেশাগত জীবন এবং পারিবারিক সম্পর্কের ওপর অপরাধের প্রভাব তুলে ধরেন। যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় সুরক্ষার বিধান অনুযায়ী তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৩ সালে স্থানীয় দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একজন অভিবাসনকর্মীর সহায়তায় ওই নারী শোষণমূলক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে একই বছরের জুলাইয়ে কানাডার পুলিশ মাসুম ও হায়দারকে গ্রেপ্তার করে। এরপর মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলে। সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন এবং বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা করেন। কানাডায় অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করতে যাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো কর্মীর অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান, পাসপোর্ট কিংবা চাকরি হারানোর ভয়কে ব্যবহার করে তাঁকে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো মানবপাচার ও শ্রম শোষণের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নিয়োগকর্তার কাছে পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ করানোর ঘটনাও গুরুতর আইনি প্রশ্ন তৈরি করে। তবে প্রতিটি অভিযোগের আইনি মূল্যায়ন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ও পরিস্থিতির ওপর। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর বহু মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে কানাডায় যান। তাঁদের কেউ কেউ নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল ওয়ার্ক পারমিটের আওতায় কাজ করেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মীদের অধিকার, বেতন, কাজের সময় এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কানাডায় কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন বা মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সহায়তা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মীদের জন্য ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সাসকাচুয়ানের এই মামলায় দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে মানবপাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন সহিংসতার অপরাধের বিচারিক পরিণতি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত অভিবাসীদের নিরাপত্তা এবং নিয়োগকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধের বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। SOURCE - সিবিসি নিউজ
বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশা, ঋণমুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর একটু ভালো জীবনের প্রত্যাশা। কেউ জমি বন্ধক রাখেন, কেউ ধারদেনা করেন, আবার কেউ পরিবারের শেষ সম্বলটুকু ব্যয় করে পাড়ি জমান দূরদেশে। কিন্তু সবার বিদেশযাত্রার গল্প প্রত্যাশামতো এগোয় না। কখনো পরিস্থিতির চাপে, কখনো অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতায়, আবার কখনো নানা অনিশ্চয়তায় দেশে ফিরতে হয়। ইউরোপের তিন দেশ থেকে ৩৫ বাংলাদেশির প্রত্যাবর্তনের ঘটনা সেই কঠিন বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৩৫ বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন। দেশে ফেরার পর তাঁদের সহায়তায় কাউন্সেলিং ও আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই ৩৫ জনের প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা এক নয়। তাঁরা কেন দেশে ফিরেছেন, বিদেশে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন কিংবা তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় কী প্রভাব পড়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই তাঁদের সবার গল্পকে একই অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু তাঁদের প্রত্যাবর্তন বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নের পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন ও দেশে ফিরে পুনর্বাসনের গুরুত্বও তুলে ধরে। বিদেশে যাওয়ার আগে অনেক পরিবার আশা করে, প্রবাসে উপার্জন শুরু হলে ঋণ পরিশোধ হবে, পরিবারের খরচ চলবে, সন্তানদের পড়াশোনা নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় গড়ে উঠবে। কিন্তু বিদেশে কাজ বা বসবাসের পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে সেই পরিবারকে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হতে পারে। দেশে ফিরে কাজ খোঁজা, পরিবারের প্রত্যাশা মোকাবিলা করা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানোও হয়ে উঠতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে দেশে ফেরা ব্যক্তিদের শুধু প্রত্যাবর্তনের পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে তাঁদের বাস্তব প্রয়োজনগুলো আড়ালে থেকে যায়। তাঁদের দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ, মানসিক সহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের সহায়তায় ব্র্যাক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের মাধ্যমে কাউন্সেলিং ও আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন উদ্যোগ প্রত্যাবর্তনকারীদের নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার পথে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য কাজের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সহায়তাও প্রয়োজন। এই ঘটনা বিদেশে যেতে আগ্রহীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিদেশে যাওয়ার আগে কাজের চুক্তি, নিয়োগকর্তার পরিচয়, ভিসার ধরন, বৈধ কাগজপত্র এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। শুধু দালালের আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। প্রয়োজনে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। ৩৫ জনের দেশে ফেরার এই খবরের পেছনে রয়েছে ৩৫টি আলাদা জীবন, আলাদা অভিজ্ঞতা ও আলাদা ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তাঁদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত গল্প জানা না গেলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—বিদেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং দেশে ফিরে আসা মানুষদের নতুন করে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশের স্বপ্ন পূরণ না হলে জীবন থেমে যায় না। প্রয়োজন হয় নতুন সুযোগ, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং পাশে দাঁড়ানোর মতো সহায়তা। দেশে ফেরা এই বাংলাদেশিরা যেন আবার কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, পরিবারকে সহায়তা করতে পারেন এবং মর্যাদার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে পারেন—সেই সহায়তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে, দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর মোট সংখ্যা ১ হাজার ২১৪-তে পৌঁছেছে। একই দিনে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সাতজনের সন্দেহভাজন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সিলেটে এ সাতজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু এক বিষয় নয়—স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী এই সংখ্যাগুলো আলাদা করে দেখতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে হাম ও হামের মতো উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের বড় অংশ শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য হাম গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রোগটি নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। হামের বিস্তার ঠেকাতে টিকাদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে কোনো শিশু আগে টিকা না পেয়ে থাকলে বা নির্ধারিত ডোজ অসম্পূর্ণ থাকলে তার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, টিকাদানের বাইরে থেকে যাওয়া শিশুদের শনাক্ত করা, প্রত্যন্ত এলাকায় টিকা পৌঁছে দেওয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অসুস্থ শিশুকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভব হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের জানানো সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। অভিভাবকদের নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে টিকার ঘাটতি, অসম্পূর্ণ টিকাদান এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করার সীমাবদ্ধতা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামের কারণে মৃত্যুর এই সংখ্যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সতর্কবার্তা। তবে প্রকাশিত মোট সংখ্যার মধ্যে সন্দেহভাজন মৃত্যুও রয়েছে; সব মৃত্যুকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচনার পর প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ জন্য গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যেসব বই মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে, সেগুলো ফিরিয়ে এনে সংশোধনের পর আবার বিতরণের পরিকল্পনাও করছে সংস্থাটি। এনসিটিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইয়ে ব্যবহৃত বিতর্কিত প্রতীকটি পরিবর্তন করে সংশোধিত সংস্করণ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে নতুন করে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর আবার সরবরাহ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যেন পাঠ্যবই থেকে কোনো ভুল তথ্য না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এনসিটিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দাঁড়িপাল্লা একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক হওয়ায় বইটিতে এর ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের মাধ্যমে চারটি স্তর তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো দেখতে একটি বৃত্তাকার চিহ্ন। তথ্যের স্তরে ব্যবহার করা হয়েছে পরমাণু কিংবা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে প্রতীক। জ্ঞানের স্তরে রয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞা বোঝাতে রাখা হয়েছিল দাঁড়িপাল্লার ছবি। বইটির ছাপার কাজের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। মুদ্রণমালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের অধিকাংশ কাজই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বিতরণ করা বইগুলো ফিরিয়ে এনে প্রতীক পরিবর্তন করতে হলে নতুন করে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে। এতে বই সরবরাহের কাজেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগের ছাপার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সব শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কার্যক্রম চলছে। ফলে একটি বইয়ের প্রতীক সংশোধনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ছাপা ও বিতরণের কাজ সমন্বয় করতে হবে। প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহারের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে গেলে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা রাখা হয়েছিল। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞা বোঝাতে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরিয়ে আনা হলে তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতীক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞা বোঝানোর জন্য বিশ্বজুড়ে সর্বজনস্বীকৃত কোনো একক প্রতীক নেই। ইতিহাস, দর্শন ও বিভিন্ন সংস্কৃতিতে প্যাঁচা কিংবা বইকেও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সংশোধিত আইসিটি বইয়ে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে কোন চিহ্ন রাখা হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। এ বিষয়ে এনসিটিবির পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে (গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স—জিএইচআই) এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারত ক্ষুধা নিরসনে উন্নতি করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান উল্টো সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মূলত নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার এবং সামাজিক উন্নয়নের ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশকে এই এগিয়ে থাকার ক্ষেত্রে মূল শক্তি জুগিয়েছে। জার্মানির ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, সুইজারল্যান্ডের হেলভেটাস এবং রুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ক্ষুধা সূচকের স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ দশমিক ২। এই স্কোর অনুযায়ী বাংলাদেশ 'মাঝারি' মাত্রার ক্ষুধা পরিস্থিতির আওতাভুক্ত। বিপরীতে ২৪ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে ভারত এবং ২৫ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান 'গুরুতর' ক্ষুধা পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় কেবল শ্রীলঙ্কা ও নেপাল বাংলাদেশের চেয়ে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ১২২টি দেশের তালিকায় ১০৬তম স্থানে থাকা পাকিস্তানের অবস্থা ২০১৮ সালের তুলনায় আরও অবনতি হয়েছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ও সিরিয়ার মতো পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পে নারীদের ব্যাপক কর্মসংস্থান, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার, উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ ক্ষুধা মোকাবিলায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। বিপরীতে পাকিস্তানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, স্বাস্থ্য খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং জলবায়ু দুর্যোগ খাদ্য নিরাপত্তাকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। জনসংখ্যার অপুষ্টি, শিশুমৃত্যু, শিশুদের উচ্চতা ও ওজনের ঘাটতির মতো চারটি প্রধান মানদণ্ডে পরিমাপকৃত এই সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো কতটা সুরক্ষিত, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি কেমন এবং এ ধরনের আক্রমণ হলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি সেবা, আর্থিক লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের বড় একটি অংশ ইন্টারনেটনির্ভর। ফলে কোনো বড় ধরনের সাইবার হামলা হলে শুধু ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাওয়াই নয়, গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়া এবং তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সাইবার হামলার ধরন অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। কোনো হামলায় ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়তে পারে। আবার কোনো আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা ভেঙে দেওয়া। এতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ব্যাংকিং সেবা, অনলাইন লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকলে সাইবার অপরাধীরা তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করা, নিয়মিত দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত মোকাবিলা করার সক্ষমতা থাকা জরুরি। সাইবার হামলা প্রতিরোধে শুধু প্রযুক্তিগত সুরক্ষা যথেষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সচেতনতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করা, তথ্যের ব্যাকআপ রাখা এবং হামলার পর দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় থাকলে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সহজ হতে পারে। তবে বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বন্ধের আশঙ্কা বা সাইবার হামলার খবর থাকলেই বাংলাদেশের সব অনলাইন সেবা তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে হামলার ধরন, লক্ষ্যবস্তু, ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর। বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর, তা মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কতা, নিরাপত্তাব্যবস্থার সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ডিজিটাল সেবা যত বাড়ছে, সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও তত বাড়ছে। তাই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, দ্রুত সতর্কতা এবং কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।