ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার দিকে নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে তার কিছু উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে তাকে একটি ‘এক্সিট র্যাম্প’ বা সম্ভাব্য প্রস্থানপথ খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তেলের দাম দ্রুত বাড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এমন উদ্বেগ থেকেই এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সামরিক অভিযানের অধিকাংশ লক্ষ্য ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে এবং তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই এগিয়ে আছেন। তার ধারণা, এই যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে যুদ্ধ কখন শেষ হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি।
ইরানের জনগণ যারা বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন, তাদের সহায়তা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যায় তিনি দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তি চান। নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি ততটা আগ্রহী নন। তিনি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা চান যা বহু বছরের শান্তির পথ খুলে দিতে পারে; আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে এখনই বিষয়টি শেষ করা ভালো।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়ায় তিনি হতাশ। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায় তেহরান পিছু হটতে রাজি নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বলেছেন, তেহরান যদি আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে যেতে থাকে এবং ইসরাইল যদি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহজে এই যুদ্ধ থেকে সরে আসা কঠিন হবে। ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে থাকে, তাহলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় সন্তোষজনক বিজয় দাবি করতে না পারা পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ করা হবে না। এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অজ্ঞাত সূত্রের ভিত্তিতে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফল করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন এবং শেষ পর্যন্ত এ অভিযান কখন শেষ হবে তা নির্ধারণ করবেন প্রেসিডেন্ট নিজেই।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হওয়ায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্পের মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুর বলেন, গ্যাস ও তেলের দাম বাড়লে অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যায়, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের শুরুতেই সামরিক ব্যয়ের এক অভাবনীয় চিত্র সামনে এসেছে। পেন্টাগন কর্তৃক কংগ্রেসকে দেওয়া একটি গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুদ্ধের মাত্র প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ৫৬০ কোটি ডলার মূল্যের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিপুল পরিমাণ এই ব্যয় ক্যাপিটল হিলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে দূরপাল্লার প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন বা লক্ষ্যভেদী উন্নত অস্ত্রশস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ যেভাবে দ্রুতগতিতে তাদের উন্নত অস্ত্রভাণ্ডার শেষ করছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক সিনেটর মার্ক কেলি জানিয়েছেন, ইরান তাদের বিশাল ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ভাণ্ডার থেকে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই হামলা প্রতিহত করতে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীকে প্রচুর পরিমাণে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (Air Defense Munitions) ব্যয় করতে হচ্ছে। সিনেটর কেলি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই যুদ্ধের প্রতিদিনের ব্যয় ঠিক কত, সে বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ব্রিফিং নেওয়া হবে। এদিকে কংগ্রেসের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এই ব্যয় সামাল দিতে এবং অস্ত্রের মজুদ পুনরায় গড়ে তুলতে বাইডেন প্রশাসন খুব শীঘ্রই কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানাতে পারে। একজন সংসদীয় সহযোগী একে "পরবর্তী বড় লড়াই" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
জ্বালানি সাশ্রয় এবং তেলের দামের অস্থিরতা সামাল দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য হোম অফিস পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দেশ দুটির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা থেকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। থাইল্যান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকার সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই যেসব ক্ষেত্রে দূর থেকে কাজ করা সম্ভব, সেখানে রিমোট ওয়ার্ক বা হোম অফিস ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তরগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাদের কাছে প্রায় দুই মাসের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বজায় রাখতে আপাতত জ্বালানি তেল রপ্তানি স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের জন্য ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৩০ বাথের নিচে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী ভিয়েতনামও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি বিভিন্ন আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে সুযোগ থাকলে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার অনুমতি দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। হ্যানয়ের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন বা সাইকেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ভিয়েতনামে জ্বালানির দামও বেড়েছে। খবরে বলা হয়েছে, দেশটিতে পেট্রলের দাম ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে হাজারো মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব সামাল দিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ধীরে ধীরে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান খুব দ্রুত শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত পরিকল্পনার তুলনায় দ্রুতগতিতে তাদের লক্ষ্য পূরণের দিকে এগোচ্ছে এই অভিযান। সোমবার ফ্লোরিডার ডোরাল এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন। এর আগে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুতিন। ট্রাম্প দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন স্থানে প্রায় পাঁচ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাহিনী। তাদের মতে, এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের ড্রোন উৎপাদনের ঘাঁটিগুলোর অবস্থান এখন তাদের জানা রয়েছে এবং ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, এসব অভিযানের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অনেকটাই কমে গিয়ে প্রায় ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনালাপটি ছিল খোলামেলা ও গঠনমূলক। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম তারা দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে। ফোনালাপে ইরান পরিস্থিতির পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুতিনের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, রাশিয়া এ সংকটের সমাধানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা এবং ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেছেন। উশাকভের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে এই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া ইরান সংঘাত বন্ধে পুতিন কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি, তবে সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।