ডোনাল্ড ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা ছবি শেয়ার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের পোস্টে চাঞ্চল্য, যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে ভেনেজুয়েলার মানচিত্র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা একটি ছবি শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবিটিতে ভেনেজুয়েলার মানচিত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার নকশায় দেখানো হয়েছে এবং তার ওপর বাংলায় ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ লেখা রয়েছে। তবে পোস্টটির সঙ্গে তিনি কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য দেননি।   এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা, দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার এবং অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।   পোস্টে প্রকাশিত ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার নকশায় ভেনেজুয়েলার মানচিত্র দেখানো হয়েছে। তবে এটি কোনো নীতিগত বার্তা, রাজনৈতিক ইঙ্গিত নাকি প্রতীকী প্রকাশ—এ বিষয়ে ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যাখ্যাহীন পোস্ট আন্তর্জাতিক পরিসরে নানা ধরনের জল্পনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক, মাদুরো সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের অবস্থান এবং লাতিন আমেরিকাবিষয়ক নীতির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।   তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার মতো কোনো নীতি, পরিকল্পনা বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ট্রাম্পের এই পোস্টের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।   ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট। পরে বিষয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তাবাস্সুম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরতি আলোচনার ইঙ্গিতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিতও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষায়, এটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নৌ চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা।    ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়নি। তেহরান বলছে, শুধু ওমানের সঙ্গে সমঝোতা হলেই নৌপথ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে না।    এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে তেহরানের সর্বশেষ অবস্থান সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা আলোচনার অনুরোধ নেই।    বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। তাই এই নৌপথের নিরাপত্তা এবং চলাচল স্বাভাবিক রাখা আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকদের মত।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পকে অনলাইনে হুমকির অভিযোগে ফ্লোরিডার এক ব্যক্তিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির অভিযোগে ফ্লোরিডার বাসিন্দার ২ বছরের কারাদণ্ড

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ একাধিক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাকে অনলাইনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফ্লোরিডার এক বাসিন্দাকে দুই বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) জানিয়েছে, ফ্লোরিডার টালাহ্যাসির ৩৬ বছর বয়সী দিয়েগো এম. ভিলাভিসেনসিও গত এপ্রিলে চারটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর মধ্যে ছিল অঙ্গরাজ্যের সীমানা অতিক্রম করে হুমকি পাঠানোর দুটি অভিযোগ, একজন ফেডারেল কর্মকর্তার কাজে বাধা বা প্রতিশোধমূলক হুমকির একটি অভিযোগ এবং প্রেসিডেন্টকে হুমকি দেওয়ার একটি অভিযোগ।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই তার সাজা ঘোষণা করা হয়। এসব অভিযোগে সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত। তবে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প, সাবেক ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ার জেরোম পাওয়েল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক হুমকিমূলক পোস্ট করেন ভিলাভিসেনসিও।   বিচার বিভাগের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি এক্সে জেরোম পাওয়েলকে উদ্দেশ্য করে দুটি পোস্ট দেন। এর একটিতে পাওয়েলের মাথার দিকে তাক করা লাল নিশানার একটি ছবি ব্যবহার করা হয় এবং লেখা হয়, তাকে ২৩ সেপ্টেম্বর গুলি করে হত্যা করা হবে। আরেকটি পোস্টেও একই ধরনের ছবি দিয়ে লেখা হয়, 'জেরোমই পরের লক্ষ্য'।   পরদিন তিনি এরিক সোয়ালওয়েলের একটি পোস্টের জবাবে তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে সোয়ালওয়েলকে সরাসরি বার্তা পাঠিয়ে নির্দিষ্ট একটি তারিখে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে বলেও দাবি করেন।   এর কয়েক মাস পর, ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি অনলাইন ফোরাম ফোরচ্যানে একটি পোস্টের জবাবে ভিলাভিসেনসিও লেখেন, তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থিত ট্রাম্পের মার-আ-লাগো রিসোর্টে গিয়ে ট্রাম্প ও আরও কয়েকজনের ওপর গুলি চালাতে চান। এই পোস্টের পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নজরে আসে।   মামলার তদন্তে অংশ নেওয়া এফবিআইয়ের জ্যাকসনভিল ফিল্ড অফিসের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেসন কার্লি বলেন, প্রেসিডেন্ট বা অন্য কোনো ফেডারেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন হুমকির ঘটনা তদন্ত এবং সম্ভাব্য ক্ষতি প্রতিরোধে এফবিআই ও তাদের অংশীদার সংস্থাগুলো সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।   অন্যদিকে, টালাহ্যাসিতে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের আবাসিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেথ রেইস্টার বলেন, প্রেসিডেন্ট এবং সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করা হবে না। তার ভাষায়, এই মামলার রায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজের প্রতিফলন।   কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর ভিলাভিসেনসিওকে আরও তিন বছর আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। এর প্রথম এক বছর তাকে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাতে হবে। পাশাপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবেশন অফিস তার কম্পিউটার ব্যবহারের ওপরও নজরদারি করবে।   যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অনলাইনে হুমকি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এমন অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ঘাড়ের ছবি নিয়ে শুরু ঠাট্টা-বিদ্রূপ

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোলা কয়েকটি ক্লোজআপ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তার ঘাড়ের সামনের অংশে দেখা যাওয়া ত্বকের ভাঁজ নিয়ে বিভিন্ন ব্যবহারকারী মন্তব্য ও রসিকতা করছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে তোলা ট্রাম্পের কয়েকটি ছবি সাংবাদিক অ্যারন রুপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করার পর সেগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে ট্রাম্পের ঘাড়ের সামনের অংশে একটি স্পষ্ট ত্বকের ভাঁজ দেখা যায়। এরপর অনেক ব্যবহারকারী ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও অনুমান করতে শুরু করেন।   কিছু ব্যবহারকারী এটিকে বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন ওজন কমানোর ওষুধ বা স্বাস্থ্যগত কারণের প্রসঙ্গও তুলেছেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো চিকিৎসাগত বা সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ছবিগুলো তোলা হয় হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজে। ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের অধিকাংশের প্রতি সম্মান জানালেও তার দীর্ঘদিনের সমালোচনার পুনরাবৃত্তি করে কিছু সংবাদমাধ্যমকে 'ভুয়া সংবাদ' ছড়ানোর অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি 'ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট সিনড্রোম' মন্তব্যও করেন।   এটি প্রথম নয়, চলতি বছরেও ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। গত মার্চে মেডেল অব অনার প্রদান অনুষ্ঠানে তার ঘাড়ের ডান পাশে লালচে দাগ দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে।   পরে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ঘাড়ের ডান পাশে একটি সাধারণ ত্বক সুরক্ষাকারী ক্রিম ব্যবহার করছিলেন। তিনি বলেন, এটি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার অংশ ছিল এবং এর কারণে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লালচে দাগ দেখা যেতে পারে। তবে কী কারণে ওই চিকিৎসা প্রয়োজন হয়েছিল বা কোন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এ ছাড়া সাম্প্রতিক কয়েকটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ডান হাতে মেকআপ দিয়ে ঢেকে রাখা একটি কালশিটের দাগও আলোচনায় আসে। এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ঘন ঘন মানুষের সঙ্গে করমর্দন, দীর্ঘমেয়াদি শিরার সমস্যা (ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি) এবং অ্যাসপিরিন সেবনের কারণে তার হাতে এমন দাগ দেখা দিতে পারে।   তবে চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কেবল ছবি দেখে কারও শারীরিক অবস্থা বা রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। চিকিৎসা পরীক্ষার ফল বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের তথ্য ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন দাবি যাচাই করা যায় না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ১০ ফুটের বিশাল ট্রফি I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ১০ ফুটের বিশাল ট্রফি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ব্যঙ্গ করে নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে স্থাপন করা হয়েছে ১০ ফুট উঁচু একটি বিশাল ট্রফি। ‘ইরান ওয়ার পার্টিসিপেশন ট্রফি’ নামের এই ভাস্কর্যটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফোলি স্কোয়ারে উন্মোচন করা হয়। এর আগে গত ১৩ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলেও এটি প্রদর্শন করা হয়েছিল। ট্রফিটির নিচের অংশে ডাব্লিউডাব্লিউই (WWE) চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্টসহ বিভিন্ন অলংকার যুক্ত করা হয়েছে, যা পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।   সোনালি রঙের এই হাস্যরসাত্মক ট্রফিটি তৈরি করেছে ‘সিক্রেট হ্যান্ডশেক’ নামের একটি বেনামি শিল্পগোষ্ঠী। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, ট্রফিটি ম্যানহাটনের সেই আদালতের ঠিক কয়েক ব্লক দূরে স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে ট্রাম্পের আলোচিত ‘হাশ মানি’ বা ঘুষ প্রদান মামলার বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পুরো সপ্তাহ জুড়েই এটি ফোলি স্কয়ারে সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শিত হবে বলে জানা গেছে।   ট্রফিটির নিচের একটি ফলকে ট্রাম্পকে তীব্র কটাক্ষ করে লেখা রয়েছে, “ইরান যুদ্ধে উৎসাহব্যঞ্জক অংশগ্রহণের জন্য আমরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পকে এই ‘অংশগ্রহণ ট্রফি’ প্রদান করছি।” ফলকে আরও বলা হয়, যেখানে অন্যরা সামরিক কৌশল, কূটনীতি বা ফলাফলের দিকে নজর দেন, সেখানে চূড়ান্ত স্কোর যা-ই হোক না কেন, ট্রাম্প কেবল অংশগ্রহণের সাহস দেখিয়েছেন। শিল্পীরা আশা করছেন, নিউইয়র্কবাসীও এই ব্যঙ্গাত্মক প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন এবং নিজেদের তৈরি ছোটখাটো ট্রফি বা ফিতা যুক্ত করে এই সংগ্রহকে আরও বড় করে তুলবেন। তাদের মতে, ট্রাম্পকে দেওয়ার মতো কোনো ‘অর্জন’ই খুব বেশি দূরের বা ছোট নয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই চাকরি হারালেন ৫০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মী
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই চাকরি হারালেন ৫০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই ৫০ হাজারেরও বেশি সরকারি কর্মী চাকরি ছেড়েছেন বা তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। করদাতাদের অর্থ তদারকিকারী সংস্থা ‘ওপেনদ্যবুকস’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির ‘সোয়াম্প আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৬ হাজার ৬০৩ জন থেকে কমে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসনে সরকারি কর্মী কমেছে ৫৩ হাজার ৭১২ জন।   এর ফলে ট্রাম্পের মেয়াদের প্রথম বছরে কর্মীদের বেতন বাবদ সরকারের প্রায় ১৮৬ কোটি (১.৮৬ বিলিয়ন) ডলার সাশ্রয় হয়েছে। অথচ বাইডেনের মেয়াদের শেষ বছরে সরকারি কর্মীদের বেতন খাতে ব্যয় বেড়েছিল এক হাজার কোটি ডলারেরও বেশি এবং নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ১৩ হাজারের বেশি। তবে প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানে যুদ্ধ দপ্তর (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) বা ইউএস পোস্টাল সার্ভিসের কর্মী ও বেতনের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যেখানে নিয়মিত সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক মিলিয়ে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ কর্মরত রয়েছেন।   সরকারি কর্মী ছাঁটাই এবং ব্যয় সংকোচনের এই উদ্যোগে বড় ভূমিকা রেখেছিল প্রযুক্তি ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ (ডিওজিই)। গত জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শেষ হলেও, বছরের শুরুতেই ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) বন্ধ করে দিয়ে সংস্থাটি ব্যাপক ছাঁটাইয়ের পথ প্রশস্ত করে।   এর ফলে ইউএসএআইডি-এর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী চাকরি হারান এবং সংস্থাটির অবশিষ্ট কার্যক্রম ও কর্মীদের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে একীভূত করা হয়। এছাড়া হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট (ওপিএম)-এর মাধ্যমেও ব্যয় সংকোচন নীতি বাস্তবায়িত হয়েছে। ওপিএম-এর পরিচালক স্কট কুপার গত ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন, সরকার থেকে অন্তত ২ লাখ ৪৯ হাজার মানুষ চাকরি ছেড়েছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন এবং প্রায় ১৭ হাজার কর্মীকে সরাসরি ছাঁটাই করা হয়েছে।   ‘ওপেনদ্যবুকস’-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ৯৪টি সরকারি সংস্থা তাদের কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে। তবে এর বিপরীতে ২১টি সংস্থা নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে এবং ১১টি সংস্থার কর্মী সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কর্মী কমেছে ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স দপ্তরে, যেখান থেকে ২১ হাজার ৪২৮ জন কর্মী বিদায় নিয়েছেন।   এছাড়া স্বাস্থ্য ও মানবসেবা দপ্তর থেকে ১৩ হাজার ৫৮০ জন এবং শিক্ষা দপ্তর (যা বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প) থেকে ১ হাজার ৫১৮ জন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন, যা সংস্থাটির মোট কর্মীর প্রায় ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার ও কড়াকড়ি সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর সবচেয়ে বেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। এই দপ্তরে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪৩ জন কর্মী। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও পরিবহন দপ্তরও যথাক্রমে তিন হাজার এবং প্রায় এক হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের স্মারক পাসপোর্ট
আমেরিকা ২৫০ উপলক্ষে স্মারক ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ চালু করল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, আবেদন করবেন যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের স্মারক পাসপোর্ট চালু করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই পাসপোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, তার স্বর্ণালি স্বাক্ষর এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের নকশা যুক্ত করা হয়েছে। এটি সাধারণ পাসপোর্টের মতোই বৈধ হলেও বিশেষ স্মারক সংস্করণ হিসেবে সীমিত সংখ্যায় ইস্যু করা হচ্ছে।    'আমেরিকা ২৫০' উদযাপনের অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই স্মারক পাসপোর্টে বাইরে থেকে প্রচলিত মার্কিন পাসপোর্টের নকশা বজায় রাখা হলেও ভেতরের পাতায় যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ শিল্পকর্ম। প্রথম ভেতরের পাতায় রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অংশ এবং তার স্বর্ণালি স্বাক্ষর। অন্য একটি পাতায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক চিত্র। পেছনের কভারে রয়েছে 'Freedom 250' লোগো।    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই স্মারক পাসপোর্টের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারযোগ্যতা ও মেয়াদ সাধারণ পাসপোর্টের মতোই। তবে এটি অনলাইনে, ডাকযোগে, সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণকেন্দ্রে কিংবা বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন করলে পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত বিশেষ কর্মসূচি অথবা ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতে সরাসরি আবেদনকারীরাই এটি সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।    প্রথম দিকে সীমিত সংখ্যক পাসপোর্ট ইস্যুর পরিকল্পনা থাকলেও ব্যাপক আগ্রহের কারণে পররাষ্ট্র দপ্তর পরে জানায়, দেশজুড়ে বিশেষ আবেদন কর্মসূচির মাধ্যমে অতিরিক্ত আড়াই লাখ 'প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট' ইস্যু করা হবে। আগস্ট থেকে বিভিন্ন শহরে নির্ধারিত তারিখে বিশেষ আবেদন কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে।    এই স্মারক পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি পাসপোর্টের নকশায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি দেশের ২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপনের একটি স্মারক উদ্যোগ। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারি নথিতে একজন বর্তমান প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি ব্যবহার নজিরবিহীন এবং এটি অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে একটি ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গাজায় অস্ত্র ছাড়বে হামাস? ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে একটি ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মাধ্যমে এই সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি একে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথে ‘স্মরণীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো সংশয় প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় হামাস এবং গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী ধাপে ধাপে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে। একই সঙ্গে তাদের টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হবে এবং গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে সরে যাবে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রায় ২০০ থেকে ৩৫০ দিনের ধাপভিত্তিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামাসের ভারী ও হালকা অস্ত্র, অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো এবং টানেল নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয় করার কথা রয়েছে। এরপর একটি নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গাজার শাসনভার গ্রহণ করবে।    এই উদ্যোগ সফল করতে মিসর, কাতার ও তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলে ট্রাম্প তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে গাজাকে আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হতে দেওয়া হবে না।  তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা হামাসের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দিহান। অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইসরায়েল যদি নিজস্ব প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে বা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।    ‘বোর্ড অব পিস’ ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক রূপান্তর তদারকি করা। তবে এই কাঠামোর বৈধতা, প্রতিনিধিত্ব এবং কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতা এবং কিছু পশ্চিমা দেশের অনাগ্রহ নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।    বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সমঝোতা বাস্তবে কার্যকর হয়, তাহলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর শুরু হওয়া দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে নিরস্ত্রীকরণ, নিরাপত্তা হস্তান্তর এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপরই পুরো পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নতুন জরিপে ট্রাম্পের নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ উত্তরদাতা। ছবি: সংগৃহীত
নিজের দলেই ধস: জনপ্রিয়তায় ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন নতুন করে নিম্নমুখী হয়েছে বলে উঠে এসেছে সিএনএন ও এসএসআরএস পরিচালিত এক জনমত জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার নেমে এসেছে ৩৪ শতাংশে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের সমান। একই সঙ্গে দেখা গেছে, তার প্রতি অসন্তোষ শুধু বিরোধী সমর্থকদের মধ্যেই নয়, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে।   ২৩ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ২২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপ বুধবার প্রকাশ করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, আর ৬৬ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিএনএনের মতে, এই হার ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর তার যে সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তা ছিল, তার সমান।   জরিপে আরও দেখা যায়, ট্রাম্পের প্রতি তীব্র সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ১৫ শতাংশ উত্তরদাতা, যা এ পর্যন্ত রেকর্ড সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তার কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জরিপে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে মাত্র ১৯ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময় নিয়ে তারা খুবই আশাবাদী। গত বসন্তে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ।   জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্প দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না। ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার সঠিক নয়। বিপরীতে মাত্র ২৭ শতাংশ মনে করেন, তিনি দেশের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।   অর্থনীতি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি নেতিবাচক মূল্যায়ন উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। মাত্র ২২ শতাংশ বলেছেন, তার নীতির ফলে অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে। বাকি ১৩ শতাংশের মতে, এর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।   ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কেও জনমত নেতিবাচক। জরিপে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইরান-সংক্রান্ত ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। ২১ শতাংশ মনে করেন, এতে দেশের উপকার হয়েছে এবং ১২ শতাংশ বলেছেন, এতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।   এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও রিপাবলিকানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাত্র ৪৩ শতাংশ রিপাবলিকান এসব প্রকল্পকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, আর ৩৫ শতাংশ বলেছেন, বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের জনমত জরিপ রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। যদিও একটি জরিপই জনমতের চূড়ান্ত চিত্র নয়, তবু সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে, যা তার প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নির্বাচনে জোরালো প্রচারে আবার মাঠে নামছেন ইলন মাস্ক
নির্বাচনে জোরালো প্রচারে আবার মাঠে নামছেন ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণায় আবারও সক্রিয় হচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তার রাজনৈতিক তহবিল ‘আমেরিকা প্যাক’  পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।    অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় সাধারণত কম ভোটার উপস্থিতি হয় এমন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনাই হবে এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। এ জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং ডাকযোগে প্রচারণাসহ বিভিন্ন কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।    বিশেষভাবে এমন রক্ষণশীল ভোটারদের লক্ষ্য করা হবে, যারা সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী হন না। রিপাবলিকানদের ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আমেরিকা প্যাক অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সঙ্গেও সমন্বয় করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পপন্থী প্রচারণায় আমেরিকা প্যাক ২৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল। ওই নির্বাচনী চক্রে মাস্ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দাতাদের একজন। তবে এবার তিনি কত অর্থ ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে তার প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।    একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মাস্ক দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয়সংকোচন কর্মসূচি ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (ডিওজিই)-এর নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। পরে সরকারি ব্যয় এবং নীতিগত নানা বিষয়ে মতবিরোধের জেরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এবং রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচেষ্টায় মাস্ক আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে বিপুল অর্থ, তথ্যভিত্তিক প্রচারণা এবং ভোটার সংগঠনে আমেরিকা প্যাকের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনকে ঘিরে মাস্কের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
চীন ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করলে 'আমি খুব হতাশ হব': ট্রাম্প

ইরানের কাছে চীন যদি অস্ত্র বিক্রি করে, তবে তা তাকে “খুবই হতাশ” করবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য ৩০০ থেকে ৪০০টি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক সরবরাহ করতে পারে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।   সিএনএন ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই অস্ত্র চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “যদি এই খবর সত্য হয়, তাহলে আমি খুবই অবাক হব। কারণ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমাকে স্পষ্টভাবে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে চীন এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবে না।” তিনি আরও বলেন, শি জিনপিং খুব ভালো করেই জানেন, এমন কিছু ঘটলে তিনি কতটা হতাশ হবেন।   এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সেই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, চীন তেহরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে।   তবে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস সে সময় এসব দাবি নাকচ করে দেয়। দূতাবাসের এক মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে “সম্পূর্ণ অসত্য” বলে উল্লেখ করেন এবং চীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।   সর্বশেষ রয়টার্সের প্রতিবেদন এবং ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার পর চীন ও ইরানের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বেইজিং বা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অস্ত্র চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
লেখিকা ই. জিন ক্যারল এবং  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ই. জিন ক্যারলকে ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বাতিল চেয়ে ট্রাম্পের আবেদন

লেখিকা ই. জিন ক্যারলের দায়ের করা যৌন হেনস্থা ও মানহানির মামলায় ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বাতিলের আবেদন খারিজ হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ পরই যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার লক্ষ্য ক্যারলের পক্ষে দেওয়া ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি মানহানির রায় বাতিল করা। ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের দুটি পৃথক দেওয়ানি মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।   প্রথম মামলায় জুরিরা রায় দিয়েছিলেন যে, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানহাটনের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ক্যারলকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন ট্রাম্প এবং ২০১৯ সালে ক্যারল বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর ট্রাম্প তাকে মানহানি করেছেন। এই মামলায় ক্যারলকে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা সুদসহ ৫.৬ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের দ্বিতীয় মামলায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ক্যারলের অভিযোগ অস্বীকার করে মানহানিকর মন্তব্য করার কারণে ট্রাম্পকে ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ দেয় আদালত। সেসময় ট্রাম্প ক্যারলকে "অস্বাভাবিক" (whack job) বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে ক্যারলের সঙ্গে তার কখনোই দেখা হয়নি।   মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, আপিল আদালত এই মন্তব্যগুলো করার সময় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটি (প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইনি সুরক্ষা) ছিল কি না, তা সঠিকভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আইনজীবীরা আবেদনে উল্লেখ করেন, "আমাদের দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা যেখানে একজন প্রেসিডেন্টকে তার পদে থাকাকালীন কাজের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হচ্ছে।" বর্তমান বিচার বিভাগও (যার নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের সাবেক অ্যাটর্নি টড ব্ল্যাঞ্চ) সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের এই আপিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তি, হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ওই বক্তব্যগুলো ফেডারেল কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়িত্বের আওতাভুক্ত ছিল।   উল্লেখ্য, বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প এই রায়গুলো বাতিলের চেষ্টা করলেও নিম্ন আদালত তার আপিল খারিজ করে দিয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে আদালতের নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলারের ওপর এখন পর্যন্ত ঠিক কত পরিমাণ সুদ জমা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে বৈঠকের ঠিক আগে নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্তি ও হতাশা প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রকাশ

হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগে তার ওপর নিজের বিরক্তি ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের গোপন পরমাণু সাইট ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নিয়ে নেতানিয়াহুর আগাম তথ্য প্রচার করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এই দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরান যুদ্ধ শুরু করার পর এটিই তাদের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এমন কিছু তথ্য নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছিলেন যা তার আগেই জানা ছিল। ট্রাম্প বলেন, "আমি বিবিকে (নেতানিয়াহু) সেটা বলতে বলিনি, কেন তাকে এটি বিশ্বকে জানাতে হলো? পিকঅ্যাক্সে কী চলছে তা আমি হুবহু জানি। এটা বড় কোনো সমস্যা নয়। ট্রাম্পের ধারণা, মার্কিন সম্পৃক্ততা বজায় রাখতেই নেতানিয়াহু এই ধরনের কৌশল বেছে নিচ্ছেন।   চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা চলছে। গত ১৩ দিনের তীব্র সংঘাতের পর বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান এক নতুন কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহুর সরকার ওই সমঝোতার শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছিল এবং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন।   যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং বর্তমান পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের পেছনেও নেতানিয়াহুর প্রভাব রয়েছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে। তা সত্ত্বেও সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দুই দেশের মতপার্থক্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, "আমাদের সামান্য পার্থক্য রয়েছে, তবে আমরা বেশ কাছাকাছিই আছি।" এমনকি তুরস্কে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করার বিষয়ে ইসরায়েলের বিরোধিতাকেও পাত্তায় দেননি ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "বলা বাহুল্য, আমরা এমন অনেক দেশের প্রতি খুব ভালো আচরণ করছি যারা আমাদের ছাড়া টিকতে পারত না। আর আপনি জানেন কে আমাদের ছাড়া টিকতে পারত না? ইসরায়েল।"   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ইসরায়েলের সমালোচনা করতে কিছুটা আগ্রহ দেখালেও, ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের ঐতিহ্যগত সামরিক সমর্থনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইতিমধ্যে একটি প্রতিরক্ষা বাজেট পাস হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে আরও একীভূত করার পথে রয়েছে।   অন্যদিকে ফক্স নিউজ চ্যানেলের ‘সানডে মর্নিং ফিউচার্স’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বসে শুনতে চান যে ইরানের বিষয়ে তার পরিকল্পনা কী। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্রমবর্ধমান অজনপ্রিয়তা সম্পর্কে ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল আছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তাই তিনি এমন একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা তিনি করছেন না। ট্রাম্পের বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি পুরোটাই ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে। তিনি আরও বলেন, "যদি তিনি তীব্র সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে এটি সমাধান করতে পারেন, তবে তা তো ভালোই। কেন নয়?" তবে একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়ে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।   সূত্র: আল জাজিরা

তাবাস্সুম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
সিএনএন সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সের প্রাপ্ত সাংবাদিকতা পুরস্কারকে ‘ভুয়া’ বলে মন্তব্য করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
পুরস্কারকে ‘ভুয়া’ বললেন ট্রাম্প, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন সিএনএন সাংবাদিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনএনের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা কেইটলান কলিন্সের প্রাপ্ত সাংবাদিকতা পুরস্কারকে ‘ভুয়া’ বলে মন্তব্য করার পর এ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ওই সাংবাদিক। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মন্তব্যে তিনি বিচলিত নন এবং এ ধরনের সমালোচনা তার সাংবাদিকতার পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না।   সম্প্রতি প্রচারিত ‘দ্য ডেইলি শো’-তে সঞ্চালক জন স্টুয়ার্টের সঙ্গে আলাপকালে কেইটলান কলিন্স বলেন, ট্রাম্পকে কভার করার শুরু থেকেই তিনি একই নীতি অনুসরণ করে আসছেন। ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাবে তিনি কখনো ব্যক্তিগত বিতর্কে জড়ান না; বরং সব সময় মূল প্রশ্নেই ফিরে যান।   হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ ডিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প কলিন্সের পাওয়া সাংবাদিকতা পুরস্কারকে ‘ফেক’ বা ‘ভুয়া’ বলে কটাক্ষ করেন। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিককে নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্যও করেন। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   এর প্রতিক্রিয়ায় কলিন্স বলেন, ট্রাম্প কঠিন বা সমালোচনামূলক প্রশ্ন পছন্দ করেন না। তার ভাষায়, অনেক সময় এমনও হয়েছে যে ওভাল অফিসে কোনো প্রশ্ন করার আগেই ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনা শুরু করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, একজন সাংবাদিকের কাজ হলো ক্ষমতাসীনদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা, ব্যক্তিগত মন্তব্যের জবাব দেওয়া নয়।   সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সম্মানকে কেন্দ্র করে নয়; বরং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করার অধিকার রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে তিনি আগের মতোই পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।   কেইটলান কলিন্স এ বছর হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেনশিয়াল সংবাদ কভারেজে উৎকর্ষের জন্য দেওয়া পুরস্কার অর্জন করেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওভাল অফিস সফর নিয়ে তার প্রতিবেদনের জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পান।   ট্রাম্পের মন্তব্য এবং কলিন্সের প্রতিক্রিয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের প্রতি রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ এবং হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে বদলে যাচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রে এলাইলাম পাওয়া আরও কঠিন! ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে বদলে যাচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের  আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে আর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা এর আশ্রয় কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। তাদের আবেদন সরাসরি অভিবাসন আদালতে পাঠানো যাবে, যেখানে মামলার শুনানি হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত বহিষ্কারের  প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।   মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মকে ট্রাম্প প্রশাসন আশ্রয়ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের জট কমানোর উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন নীতির ফলে যেসব আবেদন আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত বিচারকের কাছে পাঠানো সম্ভব হবে।    তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই পরিবর্তনের ফলে আশ্রয়প্রার্থীরা তাদের আবেদন ব্যাখ্যা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাবেন। আগে আশ্রয় কর্মকর্তা আবেদনকারীর বক্তব্য শুনে প্রাথমিক মূল্যায়ন করতেন। নতুন ব্যবস্থায় অনেক আবেদনকারী সেই ধাপ ছাড়াই সরাসরি অভিবাসন আদালতের মুখোমুখি হবেন, যেখানে প্রত্যাখ্যাত হলে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।    শরণার্থী সহায়তা সংস্থা হিয়াসের প্রধান নির্বাহী বেথ ওপেনহাইম বলেন, এই নীতির প্রভাব নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা মানুষের জন্য গুরুতর হতে পারে। তার মতে, এতে এমন মানুষও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে পড়বেন, যারা বাস্তবে নির্যাতন বা প্রাণনাশের আশঙ্কা থেকে পালিয়ে এসেছেন।    অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলছে, আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার পাওয়ার কোনো আইনগত অধিকার নেই। সংস্থাটির দাবি, নতুন নিয়মের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আদালতের মাধ্যমে তাদের আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে।    এই নীতিগত পরিবর্তন এমন সময় এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আদালতের কার্যক্রমেও একাধিক পরিবর্তন এনেছে। গত এক বছরে শতাধিক অভিবাসন বিচারক চাকরি হারিয়েছেন বা পদ ছেড়েছেন, আবার নতুন বিচারকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন কমানো এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে আশ্রয়প্রার্থীদের ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের অনুরোধেই হামলা বন্ধ, সমঝোতা না হলে আবারও আঘাত করা শুরু হবে: ট্রাম্প

তেহরানের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষাপটেই ইরানের ওপর চলমান সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো দীর্ঘস্থায়ী বা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সমঝোতা না হলে আবারও আগের মতো পূর্ণ মাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করা হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।   সোমবার (২৭ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সফররত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। খবর সিএনএন-এর।   সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "তারা (ইরান) অত্যন্ত নম্রভাবে আমাদের অনুরোধ করেছে, 'অনুগ্রহ করে আপাতত হামলা বন্ধ রাখুন, আসুন আমরা আলোচনার টেবিলে বসি।' আমরা তাদের সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে এখন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছি। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায়! যদি কোনো যৌক্তিক সমঝোতায় না পৌঁছানো যায়, তবে আমরা আবারও আগের কঠোর সামরিক অবস্থানে ফিরে যাব।"   ইরানের ওপর টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অব্যাহত বিমান ও সামরিক হামলা চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই হুট করে অভিযানের গতি কমিয়ে এনে সামরিক বিরতির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এই বিরতিকালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর ও হোয়াইট হাউস তেহরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী কৌশলগত ও সামরিক পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছে।   এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সামরিক অভিযান আরও দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে নিজেদের শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্র ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুতে বড় ধরনের চাপ পড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ভেতরে অভ্যন্তরীণ সামরিক চাপের কারণেই আলোচনার এই কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন, যদিও ট্রাম্প প্রকাশ্যে একে ইরানের অনুরোধ বলে তুলে ধরছেন। আপাতত দুই দেশের আলোচনার টেবিলের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতের রূপরেখা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন নেতানিয়াহু

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার কার্যালয় জানিয়েছে, সফরকালে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও অংশ নেবেন। গ্রাহাম দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নেতানিয়াহু বলেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকা সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে ইরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরিধি বাড়ানো এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।   নেতানিয়াহু বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অভিজ্ঞতায় এমন সংকটপূর্ণ সময়ে দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতা, উভয়ই প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করা।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটি হবে দুই নেতার অষ্টম বৈঠক। তার দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার তুলনায় তার সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি বৈঠক হয়েছে ট্রাম্পের। নেতানিয়াহুর ভাষায়, এটি যেমন সম্মানের বিষয়, তেমনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় দায়িত্বও।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি, লেবানন সীমান্তের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্বাভাবিকীকরণ উদ্যোগ এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য নীতিও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের জন্যই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বৈঠক শেষে কী ধরনের সিদ্ধান্ত বা যৌথ ঘোষণা আসে, তার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আপত্তি নাকচ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে নেতানিয়াহুর আপত্তি উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আপত্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কী বিক্রি করবে, সে সিদ্ধান্ত অন্য কোনো দেশের নেতা নির্ধারণ করবেন না। একই সঙ্গে তুরস্ককে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   সোমবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কী বিক্রি করবে, তা তাঁকে কেউ বলে দিতে পারে না। তিনি তুরস্ককে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সিরিয়াসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে দেশটি ভালো ভূমিকা পালন করেছে।   ট্রাম্প স্বীকার করেন, তুরস্ক ইসরায়েল বা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ নয়। তবে এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দুর্বল করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   এর আগে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, তুরস্কের কাছে আবারও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। সে সময় তিনি মন্তব্য করেন, তুরস্ক অনেক দেশের তুলনায় বেশি বিশ্বস্ত।   তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও জানিয়েছেন, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের বিষয়ে ট্রাম্প ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তুরস্কের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য সমালোচনায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁর সর্বশেষ মন্তব্য সেই প্রতিবেদনগুলোকেই আরও জোরালো করেছে।   উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে তুরস্ক বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং বলেছে, দুটি ব্যবস্থার মধ্যে কোনো সংঘাত নেই। পাশাপাশি আঙ্কারার দাবি, এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে তাদের বাদ দেওয়া নিয়মবহির্ভূত ছিল এবং এ যুদ্ধবিমান তুরস্কের পাশাপাশি ন্যাটোকেও আরও শক্তিশালী করবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটনের পথে রওনা হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটনের পথে রওনা হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার (২৭ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে দক্ষিণাঞ্চলের নেভাতিম বিমানঘাঁটি থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড়াল দেন।   ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে নেতানিয়াহুর ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। সাধারণত তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে রওনা দিলেও এবার কেন একটি সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং ফ্লাইটে কেন কোনো সাংবাদিক রাখা হয়নি—সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। এর আগে সোমবার সকালে জর্ডান সীমান্তে দুটি ড্রোন বা মনুষ্যবিহীন বিমান (ইউএভি) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও জর্ডানের সামরিক বাহিনী কর্তৃক প্রতিহত করার খবর পাওয়া যায়।   যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার আগে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের হুমকি সত্ত্বেও তিনি আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন। এর আগে গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে 'যুদ্ধাপরাধী' আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না।   উল্লেখ্য, গাজায় নির্বিচারে হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

তাবাস্সুম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্ট করে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৬ ঘণ্টায় ৪৫ পোস্ট, ট্রাম্পের অস্বাভাবিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৎপরতা ঘিরে প্রশ্ন

মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ৪৫টি পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সকাল ১১টা ১৬ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এসব পোস্টের বড় অংশজুড়ে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বা পরিবর্তিত ছবি। হিসাব অনুযায়ী, ওই ছয় ঘণ্টায় গড়ে প্রতি আট মিনিটে একটি করে পোস্ট করেছেন তিনি। অল্প সময়ে এমন ধারাবাহিক পোস্ট এবং সেগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   রোববার ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সকাল ১১টা ১৬ মিনিটে সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সকে নিয়ে একটি পরিবর্তিত ছবি প্রকাশের মধ্য দিয়ে দিনের আলোচিত ধারাবাহিক পোস্ট শুরু হয়। এরপর সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, কৌতুকাভিনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে একের পর এক ব্যঙ্গাত্মক ও কৃত্রিম ছবি প্রকাশ করেন তিনি।   বিকেলের দিকে পোস্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বিকেল ৩টা ২২ মিনিটের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক ছবি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি কাল্পনিক চলচ্চিত্রের পোস্টার, হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের দৃশ্য এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পকে দেখানো কৃত্রিম ছবি।   পোস্টগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশে ছিল ‘ট্রাম্প ২০২৮’ বার্তা। কোনো ছবিতে ট্রাম্পকে ২০২৮ লেখা টুপি পরা অবস্থায় দেখা যায়, আবার কোনোটি ছিল নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টারের আদলে তৈরি। একটি পোস্টারে প্রতিপক্ষকে দুঃস্বপ্ন দেওয়ার বার্তাও ছিল।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ট্রাম্প ২০১৬ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে তার এসব পোস্টকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হলেও তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান সংবিধানে স্পষ্ট বাধা রয়েছে।   সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ইরানকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি কৃত্রিম ছবি। একটি ছবিতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার কাল্পনিক দৃশ্য দেখানো হয়। আরও কয়েকটি ছবিতে ট্রাম্পকে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একই ধরনের দৃশ্যের একাধিক সংস্করণও পোস্ট করা হয়।   আরেকটি কৃত্রিম ছবিতে ইরানি জাহাজে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হয়। কোথাও ট্রাম্পকে নৌবাহিনীর কমান্ডারের মতো পোশাকে, কোথাও আবার সামরিক শক্তির প্রতীকী উপস্থাপনার মধ্যে দেখা গেছে। ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার সময় একজন ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন কাল্পনিক সামরিক দৃশ্য প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।   দিনের পোস্টে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের সমালোচকেরাও ছিলেন। জিমি ফ্যালন, জিমি কিমেল, স্টিফেন কোলবার্ট, রোজি ও’ডোনেল, সাবেক নিউ জার্সি গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বা পরিবর্তিত ছবি প্রকাশ করা হয়। রিপাবলিকান সিনেটর জন থুনকে লক্ষ্য করেও একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প।   কৃত্রিম ছবিগুলোতে ট্রাম্পকে বিভিন্ন কাল্পনিক ভূমিকায়ও তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও চিকিৎসক, কোথাও সামরিক কমান্ডার, আবার কোথাও জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সময় ভ্রমণভিত্তিক কাল্পনিক চলচ্চিত্রের চরিত্র হিসেবে তাকে দেখানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেও একাধিক ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।   রোববারের এই ধারাবাহিক পোস্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মিডিয়াইট, ডেইলি বিস্টসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবির ধারাবাহিক পোস্ট এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও পরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে প্রকাশিত ছবিগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের কেউ কেউ ট্রাম্পের আচরণ ও এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক পোস্ট প্রকাশের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ তার মানসিক সুস্থতা নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে কারও মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নির্ণয় করা যায় না এবং ট্রাম্প কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, এমন চিকিৎসাগত তথ্য প্রকাশ্যে নেই।   ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ট্রুথ সোশ্যালকে রাজনৈতিক বক্তব্য, নীতিগত ঘোষণা, প্রতিপক্ষের সমালোচনা এবং সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তবে রোববার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৪৫টি পোস্ট এবং সেগুলোর বড় অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি রাজনৈতিক ও সামরিক ছবি ব্যবহারের ঘটনা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সৌদি পারমাণবিক চুক্তির বিরোধিতা করলেন রিপাবলিকান সেনেটর জন কেনেডি

সৌদি আরবের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা ও সংশয় প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান সেনেটর জন কেনেডি। মার্কিন আইনপ্রণেতারা যখন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি পর্যালোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই নিজের দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে এই অবস্থান নেন তিনি। সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে কেনেডি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এই ধরনের চুক্তি করা একেবারেই সমীচীন নয়।   লুইজিয়ানার এই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা যুক্তি দেন যে, একদিকে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে সেজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যেরই আরেক দেশের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সই করা একটি চরম আন্তর্জাতিক বিরোধ তৈরি করে। যদিও এটি কেবল বেসামরিক বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি একটি প্রস্তাব, তবুও বিশ্বজুড়ে এটি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ সুগম করবে বলেই ধরে নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। কেনেডি ট্রাম্পের সার্বিক পররাষ্ট্রনীতির সমর্থক হলেও, বর্তমানের উত্তপ্ত বিশ্ব পরিস্থিতিতে সময়সীমা নির্বাচন নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।   চুক্তিটি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হঠাৎ শর্ত জুড়ে দেন যে, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সৌদি আরবকে অবশ্যই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। তবে সেনেটর কেনেডির মতে, ট্রাম্পের এই শর্ত পূরণ হওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট অগ্রগতি ছাড়া তারা ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে না; যা আবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত।   অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সেনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনও ট্রাম্প প্রশাসনের এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি শেষ মুহূর্তে নতুন শর্ত যুক্ত করার বিষয়টিকে সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে এক ধরনের ‘প্রতারণামূলক কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন। অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্ট অনুযায়ী মার্কিন কংগ্রেসে ৯০ দিনের পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই প্রস্তাবটি। তবে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বিরোধিতা এবং নিজস্ব দলেই কেনেডির মতো প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার উদ্বেগের কারণে ক্যাপিটল হিলে চুক্তিটি পাস করানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বেশ কঠিন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০