সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ডোনাল্ড ট্রাম্প

উত্তর ক্যারোলাইনা থেকে সিনেট নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্রেটিক প্রার্থী রয় কুপার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে উত্তর ক্যারোলাইনায় সিনেটর নির্বাচিত রয় কুপার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উত্তর ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী রয় কুপার। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। ৪ নভেম্বর বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে কুপারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এ জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনটি ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেল। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়েও এটি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে কুপার পেয়েছেন ২১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫৬ ভোট, যা মোট ভোটের ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে মাইকেল হোয়াটলি পেয়েছেন ১৪ লাখ ৩০ হাজার ১২৯ ভোট, অর্থাৎ ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ। সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে কুপারের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে এসব ভোটের হিসাব নির্বাচনের সময়কার প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে, চূড়ান্ত প্রত্যয়িত ফল নয়।   ৬৯ বছর বয়সী রয় কুপার উত্তর ক্যারোলাইনার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় কমানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলি আগে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পক্ষে সরাসরি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।   এই জয়ের ফলে অবসর নিতে যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের স্থলাভিষিক্ত হবেন কুপার। উত্তর ক্যারোলাইনা দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়াকে দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটির একটি সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নির্বাচিত হলেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে মোট আসন ১০০টি। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন। উত্তর ক্যারোলাইনায় কুপারের জয় সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে দলটিকে এগিয়ে দিলেও সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফলের ওপর। একই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেও ভোট হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও সিবিএস নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা কমলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা কমলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবেন ট্রাম্প! দাবি ৯৯ শতাংশ সমর্থনের

যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যদি কখনো তাঁর ওপর বিরক্ত হয়ে যায়, তাহলে ইসরায়েলে চলে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করবেন—এমন মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এ টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ইসরায়েলে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে বড় ধরনের দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দেশটিতে তাঁর অনুমোদনের হার ৯৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যদি কখনো তাঁর ওপর বিরক্ত হয়ে যায়, তাহলে তিনি ইসরায়েলে চলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবেন।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে তাঁর অনুমোদনের হার ৯৯ শতাংশ। ইতিহাসে আর কারও এত বেশি জনপ্রিয়তা বা অনুমোদনের হার ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তবে নিজের এই দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট জনমত জরিপ, জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা গবেষণার পদ্ধতি তুলে ধরেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে তাঁর ৯৯ শতাংশ জনপ্রিয়তার দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে জনমত জরিপের তথ্যেও। ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিউইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউটের (জেপিপিআই) ২০২৬ সালের জরিপে ট্রাম্পের প্রতি ইসরায়েলিদের আস্থার চিত্র ভিন্নভাবে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর ‘প্রচুর আস্থা’ রয়েছে বলে জানানো উত্তরদাতার হার মার্চ মাসের ৩৪ শতাংশ থেকে জুলাইয়ে ৭ শতাংশে নেমে আসে এবং আগস্টে তা ১০ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে এটি ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তার জরিপ নয়; বরং নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর প্রতি আস্থার পরিমাপ। তাই এই তথ্যের সঙ্গে ট্রাম্পের দাবি করা ৯৯ শতাংশের সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না।   এদিকে একই সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনার কথাও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগেই এ বিষয়ে তাঁদের সমঝোতা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে। তবে প্রয়োজন হলে ইসরায়েলকে সহায়তা করার পাশাপাশি দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।   ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদি সামরিক সহায়তা চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মোট ৩৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার কাঠামো রয়েছে। ফলে বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে অর্থায়ন ও চুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।   উল্লেখ্য, ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ট্রাম্পের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মন্তব্যকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর আগেও ২০২৬ সালের মে মাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইসরায়েলে নিজের ৯৯ শতাংশ জনপ্রিয়তার দাবি করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বলেছিলেন তিনি।   ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য এবং ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনা—দুটি বিষয়ই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর কথিত ৯৯ শতাংশ জনপ্রিয়তার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য জরিপ প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি এখনো যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০
এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদনের ৭৯ শতাংশই ভারতীয়দের, ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবে বাড়ছে শঙ্কা
এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদনের ৭৯ শতাংশই ভারতীয়দের, ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবে বাড়ছে শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (USCIS) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এইচ-১বি এবং এল-১ ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের পূর্বের অনুমোদনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বাধ্যবাধকতা বাতিলের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভারতীয় পেশাজীবীদের ওপর। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত এই নতুন নিয়মটি কার্যকর হলে মার্কিন মুলুকে কর্মরত অভিবাসী প্রকৌশলী ও আইটি বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন।   স্বরাষ্ট্র বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে আনা এই নতুন প্রস্তাবটির মাধ্যমে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ওপর থাকা পুরনো কড়াকড়ি বা পূর্বানুমোদন বহাল রাখার শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। বিগত গত ১৪ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই প্রস্তাবের ওপর জনসাধারণের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া আগামী ১৩ নভেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত নিয়মটি চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট আইনের ৮ সিএফআর ২১৪.১(সি)(৫) ধারাটি বাতিল হয়ে যাবে।   এই ধারা অনুযায়ী, পূর্বে একই পক্ষ ও তথ্যের ভিত্তিতে কোনো আবেদন অনুমোদিত হয়ে থাকলে, বড় ধরনের ভুল, পরিবর্তন বা নতুন কোনো ক্ষতিকর তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কর্মকর্তাদের সাধারণত সেই পূর্বের অনুমোদনের প্রতি আস্থাশীল থাকতে হতো। বর্তমান এই সুরক্ষা বহাল রয়েছে এবং চূড়ান্ত নিয়ম কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।   ইউএসসিআইএস-এর কংগ্রেসে পেশ করা বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার এইচ-১বি আবেদন অনুমোদন করেছিল, যার মধ্যে ৭১ শতাংশই ছিল ভারতে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের জন্য। অন্যদিকে, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর মতো ক্যাটাগরি অর্থাৎ 'কন্টিনিউয়িং এমপ্লয়মেন্ট'-এর আওতায় অনুমোদিত প্রায় ২ লাখ ৫৮ হাজার আবেদনের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার বা ৭৯ শতাংশই ছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্মীদের জন্য। এই বিশাল পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে, পূর্বের অনুমোদনের ওপর ছাড় তুলে দেওয়ার এই পরিবর্তনটি ভারতীয় পেশাজীবীদের জীবন ও পেশাগত স্থিতিশীলতাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলবে।   ডিএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি আবেদনগুলো সমস্ত ফরম আই-১২৯ (Form I-129) filings-এর ৭৫ শতাংশেরও বেশি অংশ দখল করে আছে। এই নিয়মটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার আবেদন সরাসরি প্রভাবিত হবে। এছাড়া 'রিকোয়েস্ট ফর এভিডেন্স' বা অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া (RFE)-র হার প্রায় ৩ শতাংশ বা বছরে প্রায় ৬ হাজার অতিরিক্ত আবেদন বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, যে সমস্ত আবেদনগুলোতে এই ধরনের অতিরিক্ত প্রমাণের নোটিশ আসে, সেগুলোর নিষ্পত্তি হতে বিগত চার অর্থবছরে গড়ে ৬৪ দিন বেশি সময় লেগেছে। পাশাপাশি ডিএইচএস জানিয়েছে, এর ফলে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ডলার খরচ হতে পারে।   সংশ্লিষ্ট বিভাগের যুক্তি হলো, বর্তমানের এই ডিফারেন্স বা পূর্বানুমোদন রক্ষার নীতি এবং পলিসি মূলত 'প্রমাণ বা যুক্তির মূল দায়িত্ব আবেদনকারীর কাছ থেকে সরিয়ে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তার ওপর চাপিয়ে দেয়', যেখানে পূর্বের অনুমোদন থেকে সরে আসার কারণ দর্শাতে হয়। তবে সমালোচকদের মতে, এই নীতি পরিবর্তনের ফলে বৈধ পেশাজীবীদের দীর্ঘসূত্রিতা, অতিরিক্ত খরচ ও মানসিক অনিশ্চয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

ইসতিয়াক আহমেদ নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন ভারতীয় বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠি। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের খারাপ দিন আসছে, নির্বাচনের দিনে মার্কিনদের ধন্যবাদ দিয়ে ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের খারাপ দিন আসতে চলেছে। একই সঙ্গে মার্কিন জনগণকে আগাম ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে হিন্দি ও ইংরেজি মিশিয়ে ধ্রুব রাঠি লেখেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের খারাপ দিন আসতে চলেছে। মার্কিন জনগণকে আগাম ধন্যবাদ।’ পোস্টটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ইমোজিও ব্যবহার করেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি লাইভ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে পারে, এমন প্রত্যাশা থেকেই মন্তব্যটি করেছেন রাঠি।   যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের পাশাপাশি সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, আইনসভার সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে আগামী দুই বছর কংগ্রেসে কোন দল কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা সেই অবস্থান বদলানোর চেষ্টা করছে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রেসিডেন্টের প্রথম দুই বছরের শাসনামল সম্পর্কে ভোটারদের মূল্যায়ন হিসেবেও দেখা হয়। এবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, অভিবাসননীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা করনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উদ্যোগকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।   ধ্রুব রাঠি এর আগেও ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। গত ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য উইক সাময়িকীর এক সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত নীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে অবস্থানের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভারতের বাইরের রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও নিয়মিত ভিডিও তৈরি করেন।   ভারতের রাজনীতি, সামাজিক সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও প্রকাশ করে পরিচিতি পেয়েছেন ধ্রুব রাঠি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিপুল অনুসারী রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনামূলক ভিডিওর জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। ট্রাম্পকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যও মূলত রাজনৈতিক মতামত এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল নিয়ে ব্যক্তিগত প্রত্যাশার প্রকাশ।   তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে রিপাবলিকান পার্টি পিছিয়ে পড়লেও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে না। বরং প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে তাঁর প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নে নতুন রাজনৈতিক বাধা তৈরি হতে পারে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই বোঝা যাবে ধ্রুব রাঠির প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে।

তাবাস্সুম নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে এই সপ্তাহেই রাশিয়া-ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হোস্ট করবেন মেলানিয়া ট্রাম্প

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আগামী বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর হোয়াইট হাউসে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সরাসরি আলোচনায় যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহর ও আশপাশের এলাকায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে বিবৃতিতে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় হোয়াইট হাউসে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।   মার্কিন প্রশাসন এই উদ্যোগকে দেশটির ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিরা সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিলেও সরাসরি যুদ্ধরত দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনায় আনার উদ্যোগ তুলনামূলক বিরল। তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কারা অংশ নেবেন এবং কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এদিকে আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বার্লিনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফেব্রুয়ারির পর এটি হবে তিন দেশের প্রতিনিধিদের প্রথম সরাসরি ত্রিপক্ষীয় আলোচনা।   জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আবুধাবির আলোচনায় ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ এবং কৃষিপণ্য রপ্তানি নিরাপদ রাখতে কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এর আগে ক্রেমলিন জেলেনস্কিকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণ জানায়। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সেই প্রস্তাবকে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন।   কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিউশুভাখা গ্রামে একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র ও আশ্রয়স্থলে রুশ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে পৌঁছেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্তত ৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালিয়েছে রাশিয়া।   অন্যদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ। চলতি মাসে পোল্যান্ডে বড় ধরনের সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে ব্রিটিশ সেনা ও রয়্যাল এয়ার ফোর্সের যুদ্ধবিমান। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে ১১টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৮০০ সামরিক সদস্যের অংশগ্রহণে এই মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য শান্তিরক্ষী মিশনে হামলা হলে আত্মরক্ষার ব্যবস্থা রাখার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত অব্যাহত থাকলেও ওয়াশিংটন, কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগের ফলে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে বৃহস্পতিবারের বৈঠক এবং পরবর্তী সপ্তাহে আবুধাবির ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দিকে।   সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

তাবাস্সুম নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০
ইসরায়েলকে মার্কিন অর্থসহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, কার্যকর হবে চলতি বছরের শেষে
ইসরায়েলকে মার্কিন অর্থসহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, কার্যকর হবে চলতি বছরের শেষে

ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা চলতি বছরের শেষেই বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে কয়েক মাস আগেই তাঁর সমঝোতা হয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর এই নিয়মিত অর্থপ্রদান বন্ধ হয়ে যাবে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগে আলোচনা করে তাঁরা নিয়মিত অর্থসহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে আর অর্থ দেওয়া হবে না বলে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।   তবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে। সেই সহায়তা সামরিক, অর্থনৈতিক নাকি অন্য কোনো ধরনের হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণা মূলত নিয়মিত আর্থিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে, দুই দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে নয়।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত একটি ১০ বছর মেয়াদি সামরিক সহায়তা সমঝোতা কার্যকর রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় করা ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত ইসরায়েলকে মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। এর মধ্যে বছরে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক অর্থায়ন এবং ৫০ কোটি ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য নির্ধারিত।   ওই চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, নিয়মিত অর্থপ্রদান তার দুই বছর আগেই বন্ধ হতে পারে। তবে বিদ্যমান সমঝোতা ও কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ বরাদ্দের সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্ত কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কংগ্রেসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।   এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের নির্ভরতা পুরোপুরি শেষ করতে চান তিনি। তাঁর লক্ষ্য ছিল সহায়তানির্ভর সম্পর্ক থেকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বেশি পারস্পরিক অংশীদারত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া। জুলাই মাসেও ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় একই অবস্থান তুলে ধরেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।   এদিকে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দুই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিক অনুদান বন্ধের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগ নেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ওই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলকে বিনামূল্যে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে নিজস্ব অর্থে মার্কিন অস্ত্র কেনার ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়া।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ট্রাম্পের এই ঘোষণা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সহায়তা সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ঘোষণাটি কার্যকর করতে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি, প্রশাসনিক নির্দেশনা কিংবা কংগ্রেসের পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকেও নতুন সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।   সংবাদসূত্র: দ্য  ইনডিপেনডেন্ট, জেরুজালেম পোস্ট ।

নুরুল্লাহ সাইদ নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০
মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটদের আনা বিল আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা হারলে ‘মিস্টার ভেটো’ হওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের আনা বিল আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। তবে একের পর এক বিল বাতিল করার পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।   আগামী মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ঠিক আগে রোববার, ১ নভেম্বর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের অংশে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও কীভাবে নিজের প্রশাসনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চান।   ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তাঁর কাছে বিভিন্ন বিল পাঠাবে। তখন তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তাঁর ধারণা, এক বা দুই মাস এভাবে চলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের প্রস্তাবিত সব আইন তিনি মেনে নেবেন না। তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজবেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে এবং এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন হবে না।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে বিভিন্ন নির্বাচনী পূর্বাভাস। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।   ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। এই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের সম্পর্ক কেমন হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে তিনি সেটিতে স্বাক্ষর করতে পারেন অথবা ভেটো দিয়ে ফেরত পাঠাতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে সেটি অতিক্রম করে বিল আইনে পরিণত করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের সমর্থন প্রয়োজন হয়।   ফলে ডেমোক্র্যাটরা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ট্রাম্পের ভেটো অতিক্রম করা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের নতুন আইন পাসের উদ্যোগও বাধার মুখে পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত আরও দুটি বিলে ভেটো দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ দুই মেয়াদ মিলিয়ে তাঁর ভেটো দেওয়া বিলের সংখ্যা ১২টি।   এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা মাথায় রেখে হোয়াইট হাউস কয়েক মাস ধরে বিকল্প প্রশাসনিক পরিকল্পনা তৈরি করছে। এই পরিকল্পনায় কংগ্রেসের নতুন আইন ছাড়াই প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় কোন কোন নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসননীতি, আমদানি শুল্ক, আবাসন ব্যয় এবং ফেডারেল সরকারের খরচসংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছেন ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং বাজেট পরিচালক রাসেল ভট।   তবে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করলেও প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সব সাংবিধানিক কর্তৃত্ব এড়িয়ে যেতে পারবেন না। নতুন আইন প্রণয়ন, সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ অনুমোদনের মতো বিষয়ে কংগ্রেসের নির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশও আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।   ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে। আর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে বিচারকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের অনুমোদন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পাবে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা কংগ্রেসের সম্ভাব্য তদন্ত, নথিপত্র চাওয়া এবং কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে প্রশাসনকে পরামর্শ দিচ্ছেন।   তবে হোয়াইট হাউস রিপাবলিকানদের পরাজয় অনিবার্য বলে মনে করছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল তাই শুধু কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণ করবে না, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়নের পথ তুলনামূলক সহজ থাকবে। আর ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক দরকষাকষি এবং ভেটো প্রয়োগের ঘটনা বাড়তে পারে।

তাবাস্সুম নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:০
ইরানে পারমাণবিক হামলার অনুমোদন দিতে পারেন ট্রাম্প, দাবি টাকার কার্লসনের। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে কয়েক দিনের মধ্যে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প, দাবি মার্কিন বিশ্লেষকের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলার অনুমোদন দিতে পারেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসন। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। বরং এর আগে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। ফলে কার্লসনের বক্তব্যকে নিশ্চিত সামরিক পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।   সোমবার (২ নভেম্বর) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত দীর্ঘ এক পোস্টে এসব দাবি করেন কার্লসন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের মধ্যাঞ্চলে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামে পরিচিত একটি পাহাড়ি স্থাপনাকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে ওই স্থাপনায় এমন কার্যক্রম চলছে বলে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।   কার্লসনের দাবি, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো প্রায় ৩০০ ফুট পুরু গ্রানাইট পাথরের নিচে অবস্থিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে এত গভীরে থাকা স্থাপনা ধ্বংস করা কঠিন। এ কারণেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে স্থাপনাটি ধ্বংস করা অসম্ভব কিংবা পারমাণবিক হামলাই একমাত্র সামরিক বিকল্প, এমন বক্তব্যের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক মার্কিন সামরিক মূল্যায়ন প্রকাশিত হয়নি।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিয়মিত ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন হামলার অনুমোদন চাইছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কার্লসন। নাম প্রকাশ না করা একজন পর্যবেক্ষকের বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, নেতানিয়াহু প্রতিদিনই ট্রাম্পকে এ বিষয়ে ফোন করছেন। কার্লসনের মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার বিষয়টিও নতুন সামরিক অভিযানের চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে নেতানিয়াহুর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এসব বক্তব্য কার্লসনের নিজস্ব অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।   কার্লসন আরও অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপর নতুন সামরিক অভিযান শুরুর চাপ সৃষ্টি করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফও নেতানিয়াহুর অবস্থান অনুসরণ করছেন বলে তাঁর দাবি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।   এদিকে কার্লসনের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা নতুন সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। কার্লসন আরও বলেন, আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এই তারিখ কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক সময়সূচি নয়। এটি কার্লসনের উত্থাপিত সম্ভাব্য সময়সীমা মাত্র।   অন্যদিকে ইরানে নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, শনিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দ্রুত হামলা চালানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প আপাতত কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও সময় দিতে চান। এই আলোচনা নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নির্দেশ করলেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়।    এর আগে শনিবার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরানের আরও একটি বা দুটি পারমাণবিক স্থাপনা সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে হামলা চালাতে পারে। তবে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো অনুমোদন দেওয়ার কথা বলেননি। গত ১৬ অক্টোবর নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।    কার্লসন তাঁর পোস্টে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিণতি নিয়েও সতর্ক করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে তেজস্ক্রিয় দূষণ পারস্য উপসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের পানি সরবরাহ ও জনস্বাস্থ্য বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। তবে সম্ভাব্য দূষণের বিস্তার কিংবা কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, সে বিষয়ে কোনো স্বাধীন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।   কার্লসন আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে অন্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর সামরিক সিদ্ধান্তেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা এবং কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এমন হামলা বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে তাঁর যে সতর্কবার্তা, সেটি একটি আশঙ্কা, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।   এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যদিও এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। ইরান পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   ইরানে কয়েক দিনের মধ্যে পারমাণবিক হামলা হতে পারে বলে টাকার কার্লসনের দাবি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস কিংবা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগও এমন কোনো পরিকল্পনা নিশ্চিত করেনি। ফলে ৭ নভেম্বরকে পারমাণবিক হামলার নির্ধারিত তারিখ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিশ্চিত তথ্য হলো, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:০
নিকি মিনাজকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি দেখতে চাওয়ার দাবি সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
নিকি মিনাজকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি করার দাবি টাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় র‍্যাপ সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দেখতে চান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমন একটি দাবি সামনে এসেছে। তবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এ ধরনের আগ্রহ প্রকাশের কোনো নির্ভরযোগ্য বক্তব্য বা হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে বিষয়টিকে এখনই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত কিংবা সম্ভাব্য নিয়োগের খবর হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্র। এই পদে থাকা ব্যক্তি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রদান করেন। ফলে পদটিতে কোনো পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   নিকি মিনাজ আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠেছেন এবং র‍্যাপ সংগীতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করেও আলোচনায় এসেছেন তিনি।   গত ৩০ অক্টোবর রাজনৈতিক ভাষ্যকার বেনি জনসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিকি মিনাজকে পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। জবাবে তিনি প্রস্তাবটিকে ভালো ধারণা বলে মন্তব্য করেন এবং বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে জানান। পরে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী বেনি জনসনকেও ওই পদের জন্য উপযুক্ত হতে পারেন বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট। ফলে তাঁর বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ঘোষণা ছিল না।   এর আগে ২৫ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিকি মিনাজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে ধারণ করা ভিডিওতে মিনাজকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি ও নেতৃত্বের প্রশংসা করতে দেখা যায়। ভিডিওটির সঙ্গে চুং রসিকতা করে লেখেন, তাঁরা সম্ভবত হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারিকে খুঁজে পেয়েছেন।   একই সময়ে মিশিগানের পোর্ট হিউরনে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের সঙ্গে অংশ নেন নিকি মিনাজ। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন জানান। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সমাবেশে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।   এদিকে অক্টোবরের মাঝামাঝি কেটি জাকারিয়ার সংক্ষিপ্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদটি শূন্য রয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন মুখপাত্র কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় নিকি মিনাজের নাম উঠে এলেও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।   ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে ৩১ অক্টোবর টিএমজেড ও প্যারেডসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিকি মিনাজকে প্রেস সেক্রেটারি করার ধারণা ট্রাম্প সরাসরি নাকচ করেননি। তবে তাঁর মন্তব্য কতটা গুরুত্বের সঙ্গে করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত নিকি মিনাজকে নিয়োগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
৫৫ হাজার অভিবাসীর সুযোগের ডিভি লটারি স্থগিত, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে আদালতের রায়
৫৫ হাজার অভিবাসীর সুযোগের ডিভি লটারি স্থগিত, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ২০২৭ সালের ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) লটারি নিয়ে বড় ধরনের আইনি জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি উদারপন্থি আপিল আদালত সম্প্রতি নিম্ন আদালতের দেওয়া ডিভি লটারির আবেদন প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ স্থগিত করেছেন।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই লটারি স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আদালতের এই রায়ের ফলে তা আপাতত বহাল থাকছে। প্রতি বছর নিম্ন-অভিবাসনের দেশগুলো থেকে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে থাকেন।   গত নভেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও 'কিছু পরিবর্তন বাস্তবায়নের' কথা বলে ডিভি লটারির আবেদন গ্রহণ স্থগিত করেছিলেন। এর এক মাস পরই ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনার জেরে লটারি ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় পররাষ্ট্র দপ্তর।   ২০১৭ সালে ডিভি লটারি বিজয়ী ক্লাউদিও ম্যানুয়েল নেভেস ভ্যালেন্তে নামের এক পর্তুগিজ নাগরিক ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে হামলা চালিয়ে দুজনকে হত্যা ও নয়জনকে আহত করে। এছাড়া ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক অধ্যাপক খুনের সঙ্গেও ওই হামলাকারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।   এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে 'রেড ইগল' নামের একটি ইমিগ্রেশন ল ফার্ম মামলা দায়ের করলে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ জিনসুক ওহতা লটারি প্রক্রিয়াটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু নাইনথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস-এর তিন বিচারপতির প্যানেল ৩-০ ভোটের সর্বসম্মতিক্রমে সেই নির্দেশ বাতিল করে দেন।   আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার কোনো আইনগত অধিকার বা 'স্ট্যান্ডিং' ওই ল ফার্মের নেই। কারণ ডিভি লটারি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য অভিবাসনকে উৎসাহিত করা, কোনো ল ফার্মের আয়ের উৎস তৈরি করা নয়। আদালত সতর্ক করে বলেন, এমন কাল্পনিক ক্ষতির ভিত্তিতে মামলা করার অনুমতি দিলে আইনজীবীরা সরকারের ভুল খুঁজতে দেশজুড়ে অহেতুক মামলার বন্যা বইয়ে দেবেন।   তবে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, এই রায় কেবল বিচারিক প্রক্রিয়ার (প্রসিডিউরাল) ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে; পররাষ্ট্র দপ্তর আইন মানতে ব্যর্থ হয়েছে কি না, তা এখানে বিবেচনা করা হয়নি। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই ভিসা লটারি প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধী। তিনি বরাবরই মেধার ভিত্তিতে ভিসা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলে আসছেন, এই লটারির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন দেশ তাদের 'সবচেয়ে খারাপ' মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের জয়ের পর ইউরোপে পাড়ি দেওয়া উদারপন্থি আমেরিকানদের অনেকেরই এখন দেশে ফেরার ইচ্ছা
ট্রাম্পের জয়ের পর ইউরোপে পাড়ি দেওয়া উদারপন্থি আমেরিকানদের অনেকেরই এখন দেশে ফেরার ইচ্ছা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর যে সকল উদারপন্থি আমেরিকান ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তারা এখন নিজেদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম আক্ষেপ করছেন। সম্প্রতি 'ওয়্যার্ড' ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপের উন্নত জীবনের যে স্বপ্ন তারা দেখেছিলেন, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।   কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে দেশ ছাড়লেও এখন তারা ইউরোপের অনুন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, নিম্নমানের জীবনযাত্রা, চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সাংস্কৃতিক বৈরিতার কারণে হতাশা প্রকাশ করছেন। অনেকেই এখন আমেরিকান সংস্কৃতির ইতিবাচক দিকগুলোর অভাব গভীরভাবে অনুভব করে পুনরায় নিজ দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন।   যুক্তরাজ্যে বসবাসরত 'অ্যানি' নামের এক নারী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ব্রিটিশ জীবনের চাকচিক্য বাস্তবে একেবারেই আলাদা। ডিশওয়াশার বা ড্রায়ারের মতো যেসব জিনিস আমেরিকায় খুব সাধারণ, যুক্তরাজ্যে সেগুলোকে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে ধরা হয়।   ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) অধীনে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার কথা থাকলেও উচ্চ কর এবং ইমিগ্রেশন সারচার্জের কারণে তা আর বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে আমেরিকান উচ্চারণ ও সংস্কৃতি নিয়ে তাকে প্রায়ই উপহাসের শিকার হতে হয়।   অন্যদিকে, জার্মানিতে পাড়ি জমানো জশ নামের এক ব্যক্তি জানান, দেশটিতে কাজ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা চরম আকার ধারণ করেছে। জার্মানদের মতো দেখতে না হলে সেখানে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি জানান, ইতিমধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসেছেন এবং এখন অনেক বেশি স্বস্তিতে আছেন।   ইউরোপের এই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে অনলাইনে সরব হলে অনেক প্রবাসী আমেরিকান তাদের অন্যান্য উদারপন্থি বন্ধুদের তোপের মুখে পড়ছেন। অনেকেই তাদের 'পাগল' আখ্যা দিয়ে উপহাস করছেন। তবে ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ডি মার্টিনো মনে করেন, ইউরোপের জীবনযাত্রা নিয়ে অনেক আমেরিকানেরই অবাস্তব ধারণা রয়েছে।   সেখানে করের হার অনেক বেশি এবং আমেরিকানদের তুলনায় গড় আয় বেশ কম। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা থিও ওল্ডের মতে, উদারপন্থি আমেরিকানরা ইউরোপীয় সমাজতন্ত্রের যে ধারণা লালন করেন, বাস্তবে তা একটি দেশকে আরও দরিদ্র ও কম উৎপাদনশীল করে তোলে। ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি সমাজতন্ত্র ও একক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি বড় সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন এই বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ডোনাল্ড ট্রাম্প, নিকি মিনাজ
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিকি মিনাজকে নিয়োগের প্রস্তাবে সায় ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে জনপ্রিয় র‍্যাপ শিল্পী নিকি মিনাজকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবকে ভালো ধারণা বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ফ্লোরিডায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন। তবে নিকি মিনাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কিংবা তাঁকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি হোয়াইট হাউস। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য থাকায় ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   ডানপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অনলাইন উপস্থাপক বেনি জনসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিকি মিনাজের প্রসঙ্গ ওঠে। জনসন জানতে চান, জনপ্রিয় এই র‍্যাপ শিল্পীকে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি করা উচিত কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি ভালো ধারণা এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি ভাববেন। পরক্ষণেই জনসনকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনিও এই দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারবেন।   ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর নিকি মিনাজকে নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্য ছিল হালকা মেজাজের কথোপকথনের অংশ। প্রেসিডেন্ট কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপ্রক্রিয়া, সম্ভাব্য সাক্ষাৎকার কিংবা সিদ্ধান্তের সময়সূচির কথা জানাননি। ফলে তিনি সত্যিই মিনাজকে নিয়োগের কথা ভাবছেন, নাকি কেবল উপস্থাপকের প্রস্তাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদটি গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় রয়েছে। গত ২৭ আগস্ট দায়িত্ব ছাড়েন ক্যারোলিন লিভিট। এরপর প্রায় ৪৫ দিন পদটি শূন্য ছিল। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেটি জাকারিয়াকে নতুন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তাঁকে পদ ছাড়তে হয়। এরপর থেকে আবারও স্থায়ী প্রেস সেক্রেটারি ছাড়াই চলছে হোয়াইট হাউসের নিয়মিত যোগাযোগ কার্যক্রম।   কেটি জাকারিয়া ১৩ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিং করেন। প্রায় ১৪ মিনিটের ওই ব্রিফিংয়ের পর তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা ও আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে তাঁর আইন পেশা পরিচালনার অনুমোদনের নথি পাওয়া যায়নি। পরে ট্রাম্প জানান, তিনি জাকারিয়াকে দায়িত্বটি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন। ১৬ অক্টোবর তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার খবর নিশ্চিত হয়।   এই পরিস্থিতিতে নিকি মিনাজকে পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি করার আলোচনা প্রথম সামনে আসে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চেউংয়ের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট থেকে। গত ২৫ অক্টোবর এয়ার ফোর্স ওয়ানে নিকি মিনাজের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি ও নেতৃত্বের প্রশংসা করতে দেখা যায় র‍্যাপ শিল্পীকে। পোস্টের সঙ্গে চেউং রসিকতার সুরে মন্তব্য করেন, সম্ভবত হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি পাওয়া গেছে।   চেউংয়ের ওই পোস্টে মার্কিন পতাকা ও হাসির ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান নিকি মিনাজ। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে সম্ভাব্য প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে চেউংয়ের মন্তব্য ছিল অনানুষ্ঠানিক। সেটিকে নিয়োগের ঘোষণা কিংবা হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে নিশ্চিত করা যায়নি।   একই দিন মিশিগানের পোর্ট হুরন শহরে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নিকি মিনাজ। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তাঁর প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশে ট্রাম্পও মিনাজের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তাঁকে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই উপস্থিতি র‍্যাপ শিল্পীর রাজনৈতিক অবস্থানকে আবারও আলোচনায় আনে।   নিকি মিনাজ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতজগতের পরিচিত মুখ। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ছোটবেলায় যুক্তরাষ্ট্রে যান। র‍্যাপ সংগীতের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ট্রাম্পের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তবে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতি থাকা এবং হোয়াইট হাউসের সরকারি মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির প্রধান দায়িত্ব হলো প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক নীতি ও সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়া। নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিং, গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরাও এই পদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এই দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি নীতি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।   এদিকে পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি কে হতে পারেন, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে আরও কয়েকটি নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রিন্সিপাল ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্কট জেনিংস, হ্যারিসন ফিল্ডস, মার্গো মার্টিন ও নাটালি হার্প। তবে তাঁদের কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি।   অনলাইন পূর্বাভাসভিত্তিক বেটিং প্ল্যাটফর্ম কালশি ও পলিমার্কেটেও পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি নিয়ে লেনদেন চলছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে আনা কেলিকে ঘিরে তুলনামূলক বেশি লেনদেনভিত্তিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে নিকি মিনাজের ক্ষেত্রে এই হার অনেক কম। তবে এসব প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ার তথ্য নয়। লেনদেনকারীদের ধারণা ও বাজারের পরিস্থিতির ওপর এগুলো পরিবর্তিত হতে পারে।   এ বিষয়ে শনিবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং নিউজউইককে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর দল বর্তমানে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। চেউংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প নিজেই প্রশাসনের নীতি ও রাজনৈতিক বার্তা জনগণের কাছে তুলে ধরছেন। তিনি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাবেন। তবে পরবর্তী স্থায়ী প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে কোনো ঘোষণা দেননি তিনি।   আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পদটি শূন্য থাকলেও প্রেসিডেন্টের নির্বাচনি প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে স্থায়ী নিয়োগের সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক সময়সীমা ঘোষণা করেনি।   সব মিলিয়ে নিকি মিনাজকে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি করার প্রস্তাবকে ভালো ধারণা বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তাঁর মন্তব্যের পরও কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে জনপ্রিয় র‍্যাপ শিল্পী সত্যিই হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দায়িত্ব পাবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।   সূত্র: নিউজউইক

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন, ৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ছবি: সংগৃহীত
৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন, ৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হতে পারে। এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্রদেশকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে অবগত তিনজন জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসনাউ। তবে ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক অভিযান স্বল্পস্থায়ী হলেও অত্যন্ত তীব্র হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রস্তুতির খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। তাদের আশঙ্কা, ইরানে নতুন হামলা হলে তেহরান পাল্টা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নতুন করে হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পৃথক প্রতিবেদনে দুই কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান এবং ইরানের পাল্টা হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, নতুন হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।   সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। এমএসনাউকে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহারের অনুমতি দিতে কয়েকটি দেশ আপত্তি জানাতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এসব ঘাঁটি থেকে অভিযান চালানো হলে ইরান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এতে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।   নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এমএসনাউকে জানান, সম্ভাব্য সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসন মন্তব্য করে না। তবে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন হামলা চালাবে না। ফলে নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে আলোচনা চলছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এবিসি নিউজ ও ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের শুরুতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনার কোনোটি বাস্তবায়ন করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাতের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রেও পড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।   অন্যদিকে ইরানও নতুন মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। শনিবার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করলে সংঘাত আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও দেশের জনগণের ওপর হামলা হলে সশস্ত্র বাহিনী জবাব দেবে বলে জানিয়েছেন। একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।   কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। তবে ৪ নভেম্বর হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এটি কোনো ঘোষিত সামরিক অভিযানের তারিখ নয়। নতুন হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
এআই দিয়ে তৈরি ছবি
ওবামার চিজকেক ফ্যাক্টরি মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ,বানালেন পছন্দমত এ আই ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যে নতুন করে বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ নিয়ে ওবামার একটি রসিকতার জবাবে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা পাল্টা মন্তব্য করেছেন। একই সময়ে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে।   বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা, এআইনির্ভর কনটেন্ট এবং ওবামার সঙ্গে চলমান বাক্‌বিতণ্ডার বিষয়টি তুলে ধরেছেন লেখক হলি ব্যাক্সটার। প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কাছে নিয়মিত তাঁর পক্ষে ইতিবাচক সংবাদ এবং এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও পৌঁছে দেওয়া হয়। এসব কনটেন্ট তৈরিতে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালক বিল পুল্টের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। তবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এসব কনটেন্টের সরাসরি প্রভাব কতটা, তা স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।   ট্রাম্প ও ওবামার সাম্প্রতিক বিরোধের সূত্রপাত ওহাইওর একটি নির্বাচনি সমাবেশে। সেখানে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সংস্কার নিয়ে ব্যঙ্গ করেন ওবামা। অতিরিক্ত সোনালি সাজসজ্জার সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেন, হোয়াইট হাউসকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন সাদ্দাম হোসেন একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন। চিজকেক ফ্যাক্টরি যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত রেস্টুরেন্ট চেইন। ওবামার মন্তব্যটি মূলত হোয়াইট হাউসের নতুন সাজসজ্জার ধরনকে ব্যঙ্গ করে করা হয়েছিল।   তবে ওবামার এই রসিকতার সমালোচনা করেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, চিজকেক ফ্যাক্টরির প্রসঙ্গ টেনে ওবামা সাধারণ মানুষের পছন্দের রেস্টুরেন্টকে ছোট করেছেন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, চিজকেক ফ্যাক্টরিতে গেলে তাঁর পছন্দের খাবারের একটি হলো ফ্রেঞ্চ ডিপ চিজবার্গার। রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সমর্থকও ওবামার বক্তব্যকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে তাঁর নেতিবাচক মনোভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।   এরপর মিসিসিপির একটি নির্বাচনি সমাবেশে ওবামার বক্তব্যের জবাব দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের ভবন, স্তম্ভ ও পাথরের কাঠামো সুন্দর এবং পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। নিজের সংস্কারকাজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ওবামা পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বোঝেন না। তবে হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা নিয়ে দুই নেতার এই মতবিরোধের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার আলোচনা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের বিশ্লেষণে মন্তব্য করা হয়েছে।   পরে আরেক নির্বাচনি সমাবেশে চিজকেক ফ্যাক্টরি নিয়ে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ওবামা। তিনি জানান, দুই মেয়েকে বড় করার সময় প্রায়ই চিজকেক ফ্যাক্টরি এবং চাক ই চিজের মতো রেস্টুরেন্টে যেতেন। প্রায় এক দশক ধরে এসব রেস্টুরেন্ট তাঁর পারিবারিক জীবনের অংশ ছিল বলে মন্তব্য করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের রসিকতাটি রেস্টুরেন্টের খাবার কিংবা সেখানে যাওয়া সাধারণ মানুষকে নিয়ে ছিল না; বরং হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা নিয়ে ছিল।   এদিকে ট্রাম্পের এআই কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় এমন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে বাস্তবে ঘটেনি এমন পরিস্থিতিতে দেখানো হয়েছে। এসবের মধ্যে বাঘের সঙ্গে নাচের মতো কল্পিত দৃশ্যও রয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা ভিডিও রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, কারণ বাস্তব ঘটনা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি দৃশ্যের মধ্যে পার্থক্য অনেক সময় সাধারণ দর্শকের কাছে স্পষ্ট নাও হতে পারে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ ও ইপসোসের একটি জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৭ শতাংশ এআইকে সমাজের জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। একই জরিপে ৬৭ শতাংশ ট্রাম্পের এআই প্রযুক্তি পরিচালনাসংক্রান্ত নীতির প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। অন্যদিকে এপি-এনওআরসির জরিপে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেছেন, এআই প্রযুক্তি খুব দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। তবে এসব জরিপের ফল নির্দিষ্ট সময়ের জনমতের প্রতিফলন; তা দিয়ে সব মার্কিন নাগরিকের অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না।   প্রযুক্তিবিষয়ক এই উদ্বেগের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণায় ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। এআই ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠ, চেহারা কিংবা বক্তব্য বাস্তবের মতো করে তৈরি করা সম্ভব। ফলে রাজনীতিবিদদের নামে এমন ভিডিও ছড়ানো হতে পারে, যেখানে তাঁরা বাস্তবে বলেননি এমন কথাও শোনা যায়। এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার রাজনৈতিক প্রচারণায় স্বচ্ছতা এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। তবে সব এআইনির্ভর রাজনৈতিক কনটেন্টই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি হয়, এমন নয়। কিছু কনটেন্ট ব্যঙ্গ বা বিনোদনের উদ্দেশ্যেও প্রকাশ করা হয়।   এদিকে নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের কারণে তেল খাতের আয় নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে সাধারণ মানুষের জ্বালানির খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে চাপ রয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনায় এই বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের বাণিজ্য, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছেন।   আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে ভোট হবে। প্রেসিডেন্ট নিজে এ নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে ওবামা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। উভয় পক্ষই অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনের জবাবদিহি ও অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।   সব মিলিয়ে নির্বাচনের শেষ সময়ে ট্রাম্প ও ওবামার মধ্যে হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা এবং রেস্টুরেন্ট নিয়ে শুরু হওয়া বাক্‌বিতণ্ডা এখন বড় রাজনৈতিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের এআইনির্ভর রাজনৈতিক কনটেন্ট এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে জনমতের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব বিতর্ক আগামী নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলেই কংগ্রেসে দুই দলের প্রতিনিধিত্বের নতুন চিত্র স্পষ্ট হবে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, হলি ব্যাক্সটারের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, রয়টার্স,দ্য গার্ডিয়ান

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষাঋণের সুদের হার কমানোর প্রস্তাব বিবেচনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে 'স্টুডেন্ট লোনে' সুদ কমানোর প্রস্তাব বিবেচনায় ট্রাম্প, উপকৃত হতে পারেন লাখো ঋণগ্রহীতা

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের সুদের হার কমানোর একটি প্রস্তাব বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য আনা পলিনা লুনার উত্থাপিত এ প্রস্তাবে ফেডারেল শিক্ষাঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এই বক্তব্য শিক্ষাঋণ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে প্রস্তাবটি সমর্থন করে আইনে পরিণত করার বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেননি।   গত ২৪ অক্টোবর ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পকে লুনার প্রস্তাব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি অবশ্যই বিবেচনা করবেন। লুনার প্রশংসা করে ট্রাম্প জানান, তিনি শুরু থেকেই তাঁর সমর্থক। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লুনা লেখেন, প্রেসিডেন্ট শিক্ষাঋণের সুদ ২ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত করার প্রস্তাবকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে সরাসরি সমর্থনের ঘোষণা ছিল না, বরং বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছিল।   প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বেশি সুদের হারে ঋণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য তা উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। বর্তমানে ঋণের ধরন ও ঋণ বিতরণের সময় অনুযায়ী ফেডারেল শিক্ষাঋণের সুদের হার ভিন্ন। নিউজউইকের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার ডলার ঋণের বিপরীতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে বছরে সুদ দিতে হবে প্রায় ২৫০ ডলার। তুলনায় স্নাতক পর্যায়ের ঋণে বর্তমান ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ হারে ৬৫২ ডলার, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ হারে ৮০৭ ডলার এবং প্লাস ঋণে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ হারে ৯০৭ ডলার সুদ দিতে হয়।   যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের বোঝা কতটা বড়, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট শিক্ষাঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি ডলারে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। শিক্ষাঋণের কিস্তি ও সুদের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবার খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের শিক্ষাঋণ পরিশোধ ও ঋণ মওকুফ কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার কারণে ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্যারেন্ট প্লাস ঋণগ্রহীতাদের একটি অংশ আয়ভিত্তিক পরিশোধ ও ঋণ মওকুফের কিছু সুবিধা হারিয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঋণ মওকুফসংক্রান্ত বিদ্যমান কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। ফলে সুদের হার কমানোর নতুন প্রস্তাবটি সামনে আসায় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে এখনো বেশ কিছু আইনি ও রাজনৈতিক ধাপ বাকি। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের পক্ষে এটি কার্যকর করা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, কংগ্রেসের সরকারি নথিতে লুনার আনা এইচ. রেজল্যুশন ১৩৮৬-এর মাধ্যমে শিক্ষাঋণের সুদ ২ শতাংশে নামানোর প্রস্তাবসংবলিত এইচ.আর. ২০০৩ বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে আলোচনার জন্য তোলার উদ্যোগ দেখা যায়। অর্থাৎ সংবাদমাধ্যমে আলোচিত ২ দশমিক ৫ শতাংশের সীমা এবং কংগ্রেসের নথিতে থাকা ২ শতাংশের প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।   সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে আপাতত সম্ভাব্য সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শিক্ষাঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেলেও ঋণগ্রহীতাদের প্রকৃত স্বস্তি নির্ভর করবে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী আইন প্রণয়নের ওপর।   সংবাদসূত্র: নিউজউইক, ফেডারেল রিজার্ভ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কংগ্রেসনাল নথি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবমাননাকর মন্তব্যের অভিনব জবাব দিয়েছে নরওয়ের পর্যটন সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত
নোবেল পুরস্কার না পেয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ, টয়লেটের সাথে তুলনা করে নরওয়ের পাল্টা জবাব

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভে নরওয়েকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবমাননাকর মন্তব্যের জবাব দিয়েছে দেশটির পর্যটন সংস্থা। তবে পাল্টা কোনো কঠোর বক্তব্য না দিয়ে ব্যতিক্রমী পথ বেছে নিয়েছে নরওয়ে। দেশটির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন পাবলিক টয়লেটের ছবি প্রকাশ করে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করেছে সরকারি পর্যটন প্রচার সংস্থা ভিজিট নরওয়ে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই প্রচারণা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার (২৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে একটি নির্বাচনী সমাবেশে। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প নরওয়ের সমালোচনা করেন এবং দেশটিকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেন। নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নরওয়ে থেকে অভিবাসী নেওয়ার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ নেই। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, নোবেল পুরস্কার নিয়ে অসন্তোষ থেকেই তিনি দেশটির বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করেছেন।   ট্রাম্পের বক্তব্যের পর নরওয়ের পর্যটন সংস্থা ভিজিট নরওয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট প্রকাশ করে। সেখানে ট্রাম্পের ব্যবহৃত অবমাননাকর শব্দের প্রসঙ্গ তুলে সংস্থাটি জানায়, নরওয়েতে সত্যিই বিশ্বের সবচেয়ে চমৎকার কিছু টয়লেট রয়েছে। পোস্টের সঙ্গে দেশটির পাহাড়, নদী, সমুদ্রতীর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিভিন্ন স্থানে নির্মিত পাবলিক টয়লেটের ছবি যুক্ত করা হয়। ব্যঙ্গাত্মক এই প্রচারণার মাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনাকেই পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে সংস্থাটি।   ভিজিট নরওয়ের ওয়েবসাইটেও দেশটির আকর্ষণীয় পাবলিক টয়লেটগুলো নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এগুলো কি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর টয়লেট? ট্রাম্পের পরিচিত রাজনৈতিক স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ অনুসরণ করে টয়লেট নিয়েও রসিকতা করা হয়েছে। পর্যটকদের উদ্দেশে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব স্থাপনা শুধু প্রয়োজন মেটানোর জায়গা নয়, বরং দেখার মতো পর্যটন আকর্ষণও।   নরওয়ের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সেনজা দ্বীপের একটি বিশেষ নকশার টয়লেটও প্রচারণায় স্থান পেয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত দ্বীপটিতে অবস্থিত স্থাপনাটি পর্যটকদের কাছে ‘গোল্ডেন টয়লেট’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া পাহাড়ি রাস্তা, সমুদ্রতীর এবং ফিয়র্ডের পাশে নির্মিত বেশ কয়েকটি টয়লেটের ছবিও তুলে ধরা হয়েছে। ফিয়র্ড হলো হিমবাহের প্রভাবে তৈরি পাহাড়ঘেরা গভীর ও সরু জলপথ, যা নরওয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।   দেশটির ন্যাশনাল সিনিক রুটস কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন পর্যটনপথে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। নরওয়েজিয়ান পাবলিক রোডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্যোগে সাধারণ বিশ্রামাগারকেও আকর্ষণীয় স্থাপত্যের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থাপনা স্থাপত্যশৈলীর জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ফলে ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে নরওয়ে নিজেদের পর্যটন অবকাঠামোর একটি ব্যতিক্রমী দিক বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে।   নরওয়ের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকেকে ভিজিট নরওয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এভজেনিয়া এগোরোভা জানান, কখনো কখনো সামান্য রসিকতা এবং নরওয়ের অসাধারণ স্থাপত্যই যথেষ্ট। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ট্রাম্পের মন্তব্যকে সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কে না নিয়ে ইতিবাচকভাবে দেশের পর্যটন প্রচারের সুযোগ হিসেবে দেখেছে সংস্থাটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই উদ্যোগে অনেক ব্যবহারকারী ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।   ইউনিভার্সিটি অব বার্গেনের অলংকারশাস্ত্র ও যোগাযোগবিষয়ক অধ্যাপক ইয়েন্স শেল্ডসেনও পর্যটন সংস্থার এই কৌশলের প্রশংসা করেছেন। এনআরকেকে তিনি বলেন, হাস্যরসের মাধ্যমে কঠোর বক্তব্যের গুরুত্ব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। তাঁর মতে, আক্রমণাত্মক মন্তব্যের জবাবে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে রসিকতার আশ্রয় নেওয়া কখনো কখনো বেশি কার্যকর হতে পারে। নরওয়ের পর্যটন সংস্থার প্রতিক্রিয়াকে তিনি সেই কৌশলের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।   অন্যদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নরওয়ের সরকার নেয় না। এই পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচন করে স্বাধীন নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। ফলে কোনো ব্যক্তিকে পুরস্কার দেওয়া বা না দেওয়ার জন্য নরওয়ের সরকারকে দায়ী করার সুযোগ নেই।   ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি একাধিকবার এই পুরস্কার পাওয়ার দাবি তুলেছেন। চলতি বছর পুরস্কার না পাওয়ার পরও তিনি প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান।   মিশিগানের সমাবেশে নরওয়ে থেকে অভিবাসী নিতে না চাওয়ার কথা বললেও এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক অভিবাসন নীতি ঘোষণা করেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে এখন পর্যন্ত সরকারি নিষেধ

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রস্তাবিত রেকর্ড ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের পেন্টাগন বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা ইস্যুগুলো দলীয় কোন্দলের ঊর্ধ্বে থাকলেও, এবার সেই ঐতিহ্য অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিতর্কিত আচরণ, বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আক্রমণাত্মক মন্তব্য এবং তথ্য গোপন করার অভিযোগ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। প্রস্তাবিত এই বিশাল বাজেটে উন্নত অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি, ট্রাম্পের নামে যুদ্ধজাহাজের বহর নামানো এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম পরিবর্তন করে ‘যুদ্ধ দপ্তর’ (War Department) রাখার মতো বেশ কিছু ব্যক্তিগত ও উচ্চাভিলাষী প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   এছাড়া, ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত ৬৭ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে পেন্টাগন, যা তীব্র প্রতিবাদের মুখে আটকে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া এই যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করে সামরিক তহবিল আটকে রাখাকে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন।   অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের দাবি, ট্রাম্পের প্রতি ক্ষোভ মেটাতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটরা সামরিক তহবিল আটকে রেখে দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্বক ঝুঁকিতে ফেলছেন। তবে খোদ রিপাবলিকান দলের অনেক আইনপ্রণেতাও প্রকাশ্যে ও গোপনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের কার্যপ্রণালী নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   কংগ্রেসে শুনানিকালে ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান সদস্যকে 'বেপরোয়া ও পরাস্ত মানসিকতার' বলে আক্রমণ করা এবং রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অপেশাদার আচরণের কারণে হেগসেথ খোদ নিজ দলেও সমর্থন হারাচ্ছেন। এমনকি ইরান যুদ্ধের জেরে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   বছরের শেষ ভাগে এসে সামরিক খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো (এনডিএএ এবং বার্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যয়) ঝুলে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও অস্ত্রভাণ্ডার বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। রাজনৈতিক এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে পেন্টাগনের পক্ষে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
রুশ ডিজেল আমদানিতে ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পুতিন-ট্রাম্প সমঝোতার আওতায় রুশ ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে তিন ট্যাংকার, ক্ষুব্ধ ইউক্রেন

রাশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর এই চালান পাঠানো হচ্ছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ তিনটিতে মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারে। তবে জাহাজগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য এবং চালানের আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর এএফপি ও নিউজউইকের।   জাহাজ তিনটির নাম অ্যাজিওই ফানেনদেস, লেরুও ও তালিসম্যান। এগুলো ১৬ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে রাশিয়ার বাল্টিক সাগর তীরবর্তী প্রিমোরস্ক বন্দর ছেড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাজিওই ফানেনদেসের গন্তব্য হিসেবে প্রথমে নিউ ইয়র্কের নাম দেখা গেলেও পরে সেটি পরিবর্তন করে ‘নির্দেশের অপেক্ষায়’ দেখানো হয়। ফলে জাহাজটি শেষ পর্যন্ত কোথায় পণ্য খালাস করবে, তা নিশ্চিত নয়। অন্য দুই জাহাজের সম্ভাব্য গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   তিনটি জাহাজের মধ্যে লেরুও যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তালিসমানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার পেছনে রুশ পণ্য পরিবহন এবং জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার প্রযুক্তি বন্ধ রাখা ও জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের মতো কর্মকাণ্ডের বিষয় উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এই চালান পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য হবে এবং মার্কিন অনুমোদন অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   ট্রাম্প ৯ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম কমানো এবং মার্কিন কৃষক, খামারি ও পণ্য পরিবহন খাতকে স্বস্তি দেওয়া এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পরিকল্পনায় প্রথমে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চালান পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ ডিজেল আমদানির নির্দিষ্ট লেনদেনের অনুমতি দিয়ে ছয় মাসের একটি সাময়িক ছাড় দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সমঝোতার সমালোচনা করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির সুযোগ বাড়লে মস্কো আরও রাজস্ব পাবে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র রুশ জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নীতিতে শিথিলতা আনায় কিয়েভ ও তার মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের অবস্থান, রুশ জ্বালানি থেকে আয় বন্ধ করে মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখা জরুরি।   সমঝোতাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন, এই পদক্ষেপ মার্কিন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। দুই দলের কয়েকজন সিনেটর ট্রাম্পকে সমঝোতা প্রত্যাহারের আহ্বানও জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দিলে ক্রেমলিন আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, অথচ মার্কিন ভোক্তারা জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাবেন কি না, তা অনিশ্চিত। ট্রাম্প সমালোচনার জবাবে বলেছেন, রুশ জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করলে বৈশ্বিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই চালান যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের দাম কতটা কমাতে পারবে, তা এখনই বলা কঠিন। জাহাজ তিনটির মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাতের দৈনিক ব্যবহারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান বলে কেপলারের হিসাব উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে একাধিক জাহাজের চালান যুক্তরাষ্ট্রে এলেই বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রুশ ডিজেল অন্য ক্রেতাদের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে তা বাজারে নতুন জ্বালানি যোগ করার পরিবর্তে বিদ্যমান সরবরাহের গন্তব্য বদলে দিতে পারে।   সূত্র: এএফপি, নিউজউইক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে আলোচনায় ওবামা, মঞ্চ ছাড়ার সময় মাইক ছোড়ার ভিডিওতে ৫০ লাখ ভিউ
ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে আলোচনায় ওবামা, মঞ্চ ছাড়ার সময় মাইক ছোড়ার ভিডিওতে ৫০ লাখ ভিউ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে অনুষ্ঠিত ওই প্রচারণায় সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এবং গভর্নর প্রার্থী জসিলিন বেনসনের পক্ষে মঞ্চে ওঠেন ওবামা।   বক্তব্য শেষে মঞ্চ ছাড়ার সময় তিনি বেশ স্টাইল করে অপেক্ষমাণ এক সহকারীর দিকে নিজের মাইক্রোফোনটি ছুড়ে দেন (মাইক টস), যা উপস্থিত দর্শক ও নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।   ভাষণ দেওয়ার সময় ওবামা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অযোগ্যতার কঠোর সমালোচনা করেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ নিয়ে তার করা একটি রসিকতা। ওবামা তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ট্রাম্পের এই সংস্কারকাজ দেখলে মনে হয় যেন "সাদ্দাম হোসেন একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন।" তার এই তীক্ষ্ণ মন্তব্য উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনার সৃষ্টি করে।   প্রচারণার তিন দিন পর, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর আবদুল এল-সায়েদের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকে মাইক্রোফোন ছুড়ে দেওয়ার ওই মুহূর্তটির একটি স্লো-মোশন বা ধীরগতির ভিডিও এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি পোস্ট করার পরপরই তা নেট দুনিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুব দ্রুতই প্রায় ৫০ লাখ বা ৫ মিলিয়ন ভিউ সংগ্রহ করেছে। ওবামার এই স্বভাবসুলভ ক্যারিশমা ও রসবোধ মার্কিন রাজনীতির মাঠে আবারও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।  

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরস্কারটি না পাওয়ার প্রসঙ্গে নরওয়েকে কটাক্ষ করেন তিনি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘নরওয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না’

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে নির্বাচনী সমাবেশে নরওয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় আবারও অসন্তোষ জানিয়ে দেশটিকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। রোববার (২৫ অক্টোবর) পোর্ট হুরনে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, নোবেল না পাওয়ার কারণে নরওয়ের প্রতি তাঁর আগের মতো ভালো লাগা নেই। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, নরওয়ে একেবারেই বাজে।’ দেশটি সম্পর্কে আরও অবমাননাকর মন্তব্য করে তিনি বলেন, নরওয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না এবং দেশটির কাছ থেকে কিছুই চান না।   সমাবেশে নিজের কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং আরও দুটি সংঘাতের সমাধান তাঁর সামনে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি ইরান এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে তিনি আশা করেছিলেন, এবার সম্মানজনক এই পুরস্কারটি পাবেন। এমনকি স্ত্রীকে বলেছিলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে নোবেল পুরস্কার পেলে তা তাঁর জন্য সম্মানের হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি অন্য একজনের হাতে যাওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন বলে জানান।   ট্রাম্পের মন্তব্যে উঠে আসে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইয়ের প্রসঙ্গও। গত ৯ অক্টোবর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাঁর নাম ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং সংঘাতের ঘটনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প সমাবেশে পিল্লাইকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন, যাঁর নাম তিনি আগে শোনেননি। এর আগে নিউইয়র্কের সিরাকিউজে এক সমাবেশেও তিনি পুরস্কারজয়ীকে নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।   নোবেল পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ অবশ্য নতুন নয়। নিজের প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দাবি করে আসছেন, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে তাঁর ভূমিকার জন্য তিনি এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি বলেছিলেন, দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তিনি সাতটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। পরে বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে নিজের প্রশাসনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, একাধিকবার তাঁর এই পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।   তবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নরওয়ে সরকার নেয় না। পাঁচ সদস্যের স্বাধীন নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এই পুরস্কারপ্রাপক নির্বাচন করে। কমিটির সদস্যদের নিয়োগ দেয় নরওয়ের পার্লামেন্ট। ফলে দেশটির সরকার ও নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আলাদা। এই বিষয়টি নিয়ে এর আগেও ট্রাম্পের সঙ্গে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পকে পাঠানো এক বার্তায় স্টোরে স্পষ্ট করেছিলেন, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে স্বাধীন কমিটি, নরওয়ে সরকার নয়।   চলতি বছরের জানুয়ারিতে নোবেল না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেছিলেন, আটটির বেশি যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখার পরও পুরস্কার না পাওয়ায় শান্তির প্রতি তাঁর একমাত্র অগ্রাধিকার বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা আর অনুভব করছেন না। ওই সময় গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা এবং ইউরোপের কয়েকটি মিত্র দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি নিয়েও ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।   নোবেল পুরস্কার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ট্রাম্পের হাতে অন্য কয়েকটি স্বীকৃতি এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিফার প্রবর্তিত প্রথম শান্তি পুরস্কার পান তিনি। তবে পুরস্কারটি চালু করা এবং ট্রাম্পকে প্রথমবারের মতো তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একইভাবে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাঁকে নিজের পদকটি দেন। তবে নোবেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, পদক হস্তান্তর করা গেলেও পুরস্কারজয়ীর স্বীকৃতি অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না।   ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটনে নরওয়ের দূতাবাস এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির বক্তব্য জানতে চেয়েছিল নিউজউইক। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।   সূত্র: নিউজউইক, রয়টার্স।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে প্রচারণায় নামলেন বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে নির্বাচনি সমাবেশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ডেট্রয়েট শহরে আয়োজিত সমাবেশে এল-সায়েদের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। ওবামা অভিযোগ করেন, এল-সায়েদের নাম ও মুসলিম ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদ।    ডেট্রয়েটের ক্যাস টেকনিক্যাল হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাজারো সমর্থকের সামনে বক্তব্য দেন ওবামা। সেখানে এল-সায়েদের পাশাপাশি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসনও উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় মিশিগানে আগাম ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম দিনে। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে সাবেক প্রেসিডেন্টের এই উপস্থিতি ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   সমাবেশে ওবামা বিশেষভাবে এল-সায়েদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর নাম কিংবা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করা উচিত নয়। নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতেও একই ধরনের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ওবামার জন্মস্থান ও নাগরিকত্ব নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি ছড়ানো হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে এল-সায়েদকে ঘিরে চলমান বিতর্কের তুলনা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট।   মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে সিনেটের মনোনয়ন পান তিনি। এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও প্রথম মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সিনেটর হবেন। তবে নির্বাচনের ফলাফল এখনো নির্ধারিত হয়নি।   এল-সায়েদের নির্বাচনি প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং মেডিকেয়ার ফর অল কর্মসূচির সমর্থক। অন্যদিকে ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পাস হওয়া অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট নিয়ে অতীতে সমালোচনা করেছিলেন এল-সায়েদ। এই নীতিগত মতপার্থক্য স্বীকার করেও শনিবার তাঁর প্রতি সমর্থন জানান ওবামা। সাবেক প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, সব বিষয়ে একমত না হলেও সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর মতো মৌলিক লক্ষ্য তাঁদের মধ্যে অভিন্ন।   মিশিগানের সিনেট আসনটি এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মিশিগানে গত ২৫ বছর ধরে রিপাবলিকানরা মার্কিন সিনেটের কোনো আসনে জয় পায়নি। তবে এবার আসনটি নিয়ে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি প্রকাশিত একটি জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর সমর্থনের ব্যবধান জরিপের ত্রুটিসীমার মধ্যে ছিল। ফলে ভোটের ফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   এদিকে এল-সায়েদের বিরুদ্ধে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিকবার আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এল-সায়েদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর সঙ্গে সংগঠনটির সংশ্লিষ্টতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। শনিবারের সমাবেশে ওবামা এসব আক্রমণের সমালোচনা করে বলেন, এল-সায়েদ মিশিগানের মানুষের স্বার্থ নিয়েই কাজ করতে চান।   শুধু এল-সায়েদের সমর্থনেই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাও করেন ওবামা। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিবর্তে প্রশাসন অন্য বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক আরোপ এবং ইরানসংক্রান্ত মার্কিন নীতিরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তবে এসব বক্তব্য ওবামার রাজনৈতিক অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত অপরাধের সিদ্ধান্ত নয়।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওবামা মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হতে আরও দুই বছর বাকি থাকলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে ভোটারদের হাতে। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে মিশিগানের পাশাপাশি ওহাইওতেও প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। সেখানে সিনেট প্রার্থী শেরড ব্রাউন এবং গভর্নর প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটনের পক্ষে সমাবেশ করেন।   ওহাইওর সমাবেশে রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর একটি নির্বাচনি বিজ্ঞাপনেরও সমালোচনা করেন ওবামা। বিজ্ঞাপনটিতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যামি অ্যাকটনের পারিবারিক জীবনের সংবেদনশীল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ওবামা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিজ্ঞাপনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ওহাইওর কয়েকজন রিপাবলিকান নেতাও বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।   এদিকে ট্রাম্পও ওবামার সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সাবেক প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের সমালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে এল-সায়েদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন করে অভিযোগ তোলেন। শনিবার জর্জিয়ার একটি নির্বাচনি সমাবেশেও ওবামার মিশিগান সফরের প্রসঙ্গ আনেন ট্রাম্প। ফলে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বক্তব্যের পাল্টাপাল্টি আরও বেড়েছে।   মিশিগানের ডেট্রয়েট শহর ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভোটারসমর্থনের এলাকা। শহরটিতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বড় অংশের বসবাস রয়েছে। আগস্টের প্রাইমারি নির্বাচনে ডেট্রয়েটসহ ওয়েইন কাউন্টিতে এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্স বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এ কারণে সাধারণ নির্বাচনের আগে ওই এলাকার ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন এল-সায়েদ। এর আগে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে ভোট হবে। মিশিগানের সিনেট আসনটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কংগ্রেসের উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফল ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।    মিশিগানের মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে বারাক ওবামার সরাসরি প্রচারণা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের বিরোধিতা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও প্রশাসনের জবাবদিহির বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটেই নির্ধারিত হবে মিশিগানের এই গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনের পরবর্তী প্রতিনিধি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০