সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত রিপাবলিকানরা, সন্দিহান ভোটাররা
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত রিপাবলিকানরা, সন্দিহান ভোটাররা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই অভাবনীয় প্রতিশ্রুতিতে খোদ রিপাবলিকান মিত্ররাই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে।   ট্রাম্পের এই ঘোষণার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এই নীতি তদারকির দায়িত্বে থাকা সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, যা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আরও বেশি ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে।   সাধারণ ভোটাররাও ট্রাম্পের এই আশ্বাসকে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। নর্থ ক্যারোলিনার এক বাসিন্দা, যিনি আগে তিনবার ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন, সম্প্রতি এনবিসি নিউজকে তার হতাশার কথা জানিয়েছেন।   তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমি এখনও আমার শুল্কের চেকের (ট্যারিফ চেক) জন্য অপেক্ষা করছি, আর অপেক্ষা করছি কবে জ্বালানি তেলের দাম কমবে।"   তার এই বক্তব্যেই স্পষ্ট যে, ট্রাম্পের আগের অনেক প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় কট্টর সমর্থক ও ভোটাররা এখন তার নতুন কোনো অর্থনৈতিক আশ্বাস সহজে বিশ্বাস করতে চাইছেন না।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ গোপন নথি প্রকাশ ঠেকাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প সরাসরি এপস্টেইন ফাইল গোপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, দাবি ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপকের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসন দাবি করেছেন, জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশ ঠেকাতে ট্রাম্প নিজেই তার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে এপস্টেইনের নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সময় তিনি এমন নির্দেশের কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেছেন কার্লসন।    ভ্যানিটি ফেয়ারের সাংবাদিক ক্রিস হুইপলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কার্লসন বলেন, শুরু থেকেই তিনি ট্রাম্পকে এপস্টেইন-সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেন এসব নথি গোপন রাখা হচ্ছে জানতে চাইলে ট্রাম্প তাকে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দেন। পরে কার্লসন আবারও নথি প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।   কার্লসনের দাবি, শেষ পর্যন্ত নথি গোপন রাখার নির্দেশ সরাসরি ট্রাম্পের কাছ থেকেই এসেছিল। কেন এমন করা হচ্ছে জানতে চাইলে ট্রাম্প দীর্ঘ ও আবেগপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন এবং পুরো বিষয়টিকে তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেছিলেন বলে কার্লসন জানিয়েছেন। তবে কার্লসনের এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।   এপস্টেইনকে ঘিরে নথি প্রকাশের বিষয়টি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়। কংগ্রেসের চাপের পর ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর ট্রাম্প এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেন। ওই আইনে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের কাছে থাকা এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।    এরপর জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট কয়েক ধাপে বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিভাগটি জানায়, আগের প্রকাশনার সঙ্গে মিলিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা, ২ হাজারের বেশি ভিডিও এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব নথির মধ্যে এপস্টেইন ও গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের মামলা, এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্ত এবং একাধিক এফবিআই তদন্তের উপকরণ রয়েছে।    তবে প্রকাশিত নথিতে কোনো ব্যক্তির নাম থাকা মানেই তিনি এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এমন নয়। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টও জানিয়েছে, প্রকাশিত উপকরণের মধ্যে এমন কিছু নথি থাকতে পারে যা অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং যার তথ্য সত্য নাও হতে পারে। ট্রাম্পের নামও বিপুলসংখ্যক নথিতে এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি এবং ট্রাম্প এ ধরনের কোনো অন্যায় অস্বীকার করেছেন।    হোয়াইট হাউস কার্লসনের বক্তব্যকে সরাসরি স্বীকার করেনি। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র লরেন বিস দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাম্প পুরোপুরি দায়মুক্ত এবং তার প্রশাসন বিপুল নথি প্রকাশ, হাউস ওভারসাইট কমিটির সাবপোনা সহযোগিতা এবং নতুন আইন স্বাক্ষরের মাধ্যমে আগের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের জন্য বেশি করেছে বলে দাবি করেন।    এদিকে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের এপস্টেইন লাইব্রেরি এখনও নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নথিগুলোতে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন অংশ রেড্যাক্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটিও এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামবিরোধী’, বিতর্কিত হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া এ মনোনয়ন এখন সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায়। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যখন ইরান যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, তখন হান্টের অতীতের ইসলাম ও শরিয়াহবিষয়ক মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।    হান্ট সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা এবং অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া তার জীবনী অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ওয়েস্ট পয়েন্ট থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি আট বছর সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। ইরাকে একবার যুদ্ধ মোতায়েনের সময় তিনি ৫৫টি যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন। পরে সৌদি আরবে দুই দফা ডিপ্লোম্যাটিক লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।    সৌদি আরবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হান্ট গত বছরের নভেম্বরে বলেছিলেন, তিনি শরিয়াহভিত্তিক ব্যবস্থার অধীনে জীবন কেমন হতে পারে, তা কাছ থেকে দেখেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজের বক্তব্যের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যারা তার ইসলামবিষয়ক সতর্কতাকে ভয় ছড়ানো হিসেবে দেখছেন, তারা এমন ব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করেননি। সৌদি আরবে থাকার সময় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড এবং নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর অতীতের নিষেধাজ্ঞার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।    জানুয়ারি ২০২৬-এ স্টেকলবেক টুনাইট অনুষ্ঠানে হান্ট ইসলাম সম্পর্কে আরও কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমেরিকানদের ইসলাম নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তার দাবি ছিল, ইসলামের একটি লক্ষ্য হলো অন্য দেশে প্রবেশ করে সেখানে বড় জনগোষ্ঠী তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত ওই দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার হান্টের বিরুদ্ধে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ধারাবাহিক নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।    কেয়ার ১৬ সেপ্টেম্বর সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্যদের কাছে হান্টের মনোনয়ন অনুমোদন না করার আহ্বান জানায়। সংগঠনটি তার অতীতের বক্তব্যের মধ্যে ইসলামকে সমাজে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা, শরিয়াহ নিষিদ্ধ করার আহ্বান এবং মুসলিম ধর্মীয় চর্চা নিয়ে মন্তব্যের বিষয়গুলো তুলে ধরে। এগুলো কেয়ারের নিজস্ব অভিযোগ ও মূল্যায়ন, হান্টের বিরুদ্ধে সংগঠনটির রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।    হান্টের এসব বক্তব্য নিয়ে ২০২৬ সালের টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হিউস্টন ক্রনিকলের কলামিস্ট ক্রিস টমলিনসন অভিযোগ করেন, হান্টসহ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী তাদের প্রচারে ইসলাম নিয়ে ভয় তৈরি করছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কারও টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতে মুসলিমদের নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরেছিল।    সৌদি রাষ্ট্রদূত পদে হান্টের মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় তার ইসরাইলপন্থী অবস্থানও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পক্ষে কথা বলেন তিনি। একই সময়ে তিনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কংগ্রেসে থাকাকালে হান্ট আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের পক্ষে একটি প্রস্তাবেও সমর্থন জানিয়েছিলেন।    হান্ট ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালের একটি সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি ইসরাইলকে ‘জুডিও-ক্রিশ্চিয়ান’ পরিচয়ের ‘জুডিও’ অংশের সঙ্গে যুক্ত করেন। তার এই অবস্থানও সৌদি আরবে সম্ভাব্য দায়িত্বের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে।    তবে হান্টের মনোনয়নের পেছনে তার মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে দুই দফা দায়িত্ব পালন এবং ইরাকে সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে অঞ্চলটি সম্পর্কে তার পূর্বপরিচিতি রয়েছে। হান্ট নিজেও মনোনয়ন পাওয়ার পর বলেছেন, সেনা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনের পর এবার কূটনীতিক হিসেবে সেখানে ফেরার আহ্বান পেয়েছেন।    সৌদি রাষ্ট্রদূতের পদটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে খালি ছিল। হান্টের মনোনয়ন সিনেটে অনুমোদিত হলে তিনি রিয়াদে দায়িত্ব নেবেন এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরান যুদ্ধ, ইয়েমেনের হুথি হামলা এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।    হান্টের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত নিয়োগ নয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রদূতসহ প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে হান্টকে সিনেটের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। ছবি: সংগৃহীত
কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য বন্ধ করা কিংবা বড় ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, কানাডাকে ইইউর সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ঠ করার উদ্দেশ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে ওয়াশিংটন কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে।   বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইইউর এই পদক্ষেপকে তিনি শত্রুতামূলক মনে করলে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ‘খুব কঠোর শুল্ক’ আরোপ করবেন। এমনকি ইউরোপের সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি। তবে উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ভালো হলে সেটিকে ভিন্নভাবে দেখবেন বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   ট্রাম্প কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার পরিকল্পনাকে ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া আসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েনের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ ভাষণের এক দিন পর।   ১৬ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ফন ডার লাইয়েন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার পথ খুলতে কাজ করতে চান। এ সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যরা কার্নিকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানান। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর।   ফন ডার লাইয়েন বলেন, ইউরোপ ও কানাডার মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অংশীদারত্বে নিয়ে যেতে চায় ইইউ। কানাডা ও ইইউর মধ্যে বর্তমানে কানাডা-ইইউ ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি বা সিইটিএ রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে ‘ভবিষ্যতের জোটে’ রূপ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।   প্রস্তাবিত সহযোগিতার ক্ষেত্রও শুধু বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইইউর পরিকল্পনায় উন্নত উৎপাদন, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো বিষয় রয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলকেও কানাডা ও ইউরোপের যৌথ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন ফন ডার লাইয়েন।   ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, কানাডার সঙ্গে এই অংশীদারত্ব কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এটি দুই পক্ষের অভিন্ন সক্ষমতা ও স্বার্থকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ। ইইউর সরকারি নথিতেও কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে বাণিজ্য থেকে আরও বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, কার্নি ও ফন ডার লাইয়েন ১৬ সেপ্টেম্বর স্ট্রাসবুর্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই নেতা সিইটিএর বাইরে আরও উচ্চাভিলাষী ও বিস্তৃত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, মহাকাশ, আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।   তবে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগী সদস্যপদের কাঠামো এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি। ইইউর পূর্ণ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক একীভূতকরণ প্রয়োজন, কানাডা সেই পথে যাচ্ছে না। বরং কানাডা নিজের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে ইইউর সঙ্গে যতটা সম্ভব ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী বলে কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যের পর অটোয়া ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়। ফলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগকে কানাডার জন্য নতুন বাজার ও অংশীদার তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   কার্নি এর আগে ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর সরকারের লক্ষ্য হলো কানাডার অর্থনীতিকে এমনভাবে বৈচিত্র্যময় করা, যাতে কোনো একটি দেশের বাজার বা নীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা না থাকে। ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি কানাডা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও নতুন প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে।   ইইউর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে একটি বাণিজ্য সমঝোতা রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একই সময়ে কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে।   প্রস্তাবিত সহযোগী সদস্যপদ কার্যকর হলে এটি ইইউর জন্যও নতুন ধরনের সম্পর্কের মডেল তৈরি করবে। কারণ কানাডা হবে এই ধরনের মর্যাদা পাওয়া প্রথম দেশ। এর মাধ্যমে পূর্ণ সদস্যপদ ছাড়াই কোনো দেশের সঙ্গে ইইউ কতটা গভীর অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে পারে, তার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট শর্ত, ইইউর একক বাজারে কানাডার প্রবেশাধিকার এবং দুই পক্ষের নাগরিকদের চলাচল বা কাজের অধিকার কী হবে, সেসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।   এদিকে কানাডা ও ইইউর সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে একটি শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রস্তাবিত নতুন অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে।   ফলে কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নয়। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপ ও কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, ইউরোপীয় কমিশন, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ একদম শেষের পথে, ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি চুক্তির দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ‘আশা করছি শেষের দিকে’ এগোচ্ছে। বুধবার তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে একই ধরনের নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।    ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। জুনে তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার কাঠামো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।    ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়েও তৎপরতা বেড়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত হয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।    তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক শান্তি ঘোষণা হয়নি। বরং একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষ এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই।    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনো চুক্তি হলে তার শর্ত এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ইসরায়েলের স্বার্থের অনুগত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের কথামতো মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি চলবে না: ট্রাম্পের পক্ষে জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ইসরায়েলের স্বার্থের অনুগত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৪০ বছরের অন্য যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্যে গিয়ে ভিন্ন পথে চলার বেশি ইচ্ছা দেখিয়েছেন।   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ‘অল-ইন’ পডকাস্টের আয়োজিত এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন ভ্যান্স। সেখানে তিনি বলেন, সামরিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তবে দুই দেশের মধ্যে সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প মনে করলে যে মার্কিন জনগণের স্বার্থ এবং ইসরায়েল সরকারের স্বার্থ এক নয়, সে ক্ষেত্রে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ভিন্ন অবস্থান নিতে প্রস্তুত থাকেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ট্রাম্প এমন অবস্থান নিতে পারেন যেখানে তিনি নেতানিয়াহুকে ভালো অংশীদার হিসেবে স্বীকার করেও কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তার সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ করেন।   ভ্যান্স আরও বলেন, গত ৪০ বছরের অন্য প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ট্রাম্পই নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রয়োজন হলে আলাদা পথে যাওয়ার বিষয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কোনো বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান সঠিক মনে হলেও মার্কিন জনগণের স্বার্থ ভিন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।   ভ্যান্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে মার্কিন স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনা করাই বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট নীতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কি না, সেই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিলে মার্কিন জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব।   একই যুক্তি তিনি ন্যাটোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেন। ভ্যান্স বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইউরোপবিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি ন্যাটোর অনুগত হবে।   তিনি একই প্রসঙ্গে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিও ইসরায়েল রাষ্ট্রের অনুগত হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করা এবং মতপার্থক্য থাকলে তা বজায় রাখার কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের স্বার্থ অনুসরণ করতে হবে।   ভ্যান্সের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোচনা চলছে। পডকাস্টের আলোচনায় ভ্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।   আলোচনায় ভ্যান্স ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করলেও একই সঙ্গে দুই দেশের স্বার্থ সব সময় এক হবে না বলে স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্যে মার্কিন স্বার্থকে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।   ভ্যান্সের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি ট্রাম্পের অবস্থানকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে মতপার্থক্যের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে এটি ভ্যান্সের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক বক্তব্য; এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলবিষয়ক কোনো নতুন আনুষ্ঠানিক নীতি ঘোষণার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন হাউসে পাস হওয়া ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের ক্ষমতা কমাতে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৭ রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন সাত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। মঙ্গলবারের ভোটে ২২০-২০৪ ব্যবধানে ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশনটি পাস হয়। এটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা জোরদার করার তৃতীয় হাউস উদ্যোগ।    রেজল্যুশনটি ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে হাউসে পাস হয়। এতে ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশনের ৫(সি) ধারার আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে চলমান শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন ও মিত্রদের ঘাঁটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে রেজল্যুশনে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।    রেজল্যুশনের পক্ষে ভোট দেওয়া সাত রিপাবলিকান হলেন কেনটাকির থমাস ম্যাসি, মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন, পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, সাউথ ক্যারোলিনার ন্যান্সি মেস, আইওয়ার মারিয়্যানেট মিলার-মিক্স এবং আইওয়ার জ্যাক নান। ম্যাসি, ব্যারেট, ডেভিডসন ও ফিটজপ্যাট্রিক আগের দুটি একই ধরনের রেজল্যুশনেও সমর্থন জানিয়েছিলেন। মেস, মিলার-মিক্স ও নান এবার প্রথমবারের মতো পক্ষে ভোট দেন।    হাউসের সরকারি ভোটের হিসাবে রেজল্যুশনের পক্ষে ২১৩ জন ডেমোক্র্যাট ও সাতজন রিপাবলিকান ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন ২০৩ জন রিপাবলিকান ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য। মোট ৯ জন ভোট দেননি।    রেজল্যুশনটির পক্ষে থাকা ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে ছিলেন ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি শেথ মলটন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে যারা রেজল্যুশনের বিরোধিতা করেছেন, তাদের অনেকে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চলমান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।    আইওয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি জ্যাক নান ভোটের পর বলেন, তিনি আরেকটি অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধে সমর্থন দেবেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার সুযোগ শেষ হয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।    এটি হাউসে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তৃতীয় ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন। জুন ও জুলাইয়েও একই ধরনের উদ্যোগ পাস হয়েছিল। তবে আগের রেজল্যুশনগুলো প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। নতুন রেজল্যুশনটি সিনেটে উঠবে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।    ইরান যুদ্ধের আর্থিক প্রভাবও কংগ্রেসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে, আগস্ট ১ পর্যন্ত ছয় মাসের যুদ্ধের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে এবং প্রতি মাসে আরও প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে।    তবে হাউসের এই ভোটের পরই সামরিক অভিযান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। রেজল্যুশনটির কার্যকর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সিনেটের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নির্বাহী বিভাগের অবস্থানের ওপর। ট্রাম্প প্রশাসন ওয়ার পাওয়ার্স আইনের প্রয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং এই ধরনের রেজল্যুশনের আইনি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খাটো করে দেখিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
মানবসভ্যতার ঝুঁকি তুলে এআই নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জাতিসংঘের, আপত্তি ট্রাম্প-চীনের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিকে মানবতার জন্য নজিরবিহীন ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে এর উন্নয়ন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক দেশগুলো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার বিকাশ নিয়ন্ত্রণে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাতিসংঘের এই সতর্কতার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগ ও নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খাটো করে দেখিয়েছে।   দেশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যার প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্মের ওপর নয়, মানবতার পরবর্তী প্রজন্মগুলোর ওপরও পড়তে পারে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে চলমান প্রতিযোগিতাকে মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্তিত্বগত ঝুঁকি বাড়ানোর একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তুর্ক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের পথ নির্ধারণে দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে তৈরি করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ গত সপ্তাহে আরও বেড়ে যায়। অ্যানথ্রপিকের দুই গবেষক সতর্ক করেছিলেন, দ্রুত অগ্রসর হওয়া এই প্রযুক্তি খুব দূরবর্তী ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এর পর অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তিনি প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় তৈরির একটি কাঠামোও তুলে ধরেন।   আমোদেইয়ের আহ্বান বড় কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সমর্থন পেয়েছে। ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যানও তাঁর প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আমোদেই বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর গতি কমানো প্রয়োজন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় পাওয়া যায়।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট আইনগত ও নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের গতি কমিয়ে দিলে চীন সুবিধা পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান নেতৃত্বই যথেষ্ট। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন। অ্যানথ্রপিকের প্রধান আমোদেইয়ের প্রস্তাব নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন এবং তাঁর প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান।   চীনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক হুমকির বয়ানকে সমর্থন করেনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনা নিয়ে হুমকি, সংঘাত ও ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার বয়ানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের বয়ান বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে এবং কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না।   চীনের পক্ষ থেকে সব দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুও জিয়াকুনের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে এটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সবার জন্য উপকারী এবং মানবকল্যাণমুখী থাকে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে।   চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তামন্ত্রী চেন ইশিন রোববার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল চীনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সময়ে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতারা উন্মুক্ত ওজনের মডেল ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের মডেল সাইবার নিরাপত্তা দলগুলো পরীক্ষা, পরিবর্তন এবং প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে।   জুলাইয়ে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি প্রযুক্তিটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঝুঁকির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা উচিত।   এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হুমকি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের সতর্কতা, ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণবিরোধী অবস্থান এবং চীনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাকারীর শেষকৃত্যের খরচ দিলেন অজ্ঞাত দাতা, চুপ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকসের দাহ করার খরচ একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বহন করেছেন বলে নতুন নথিতে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গুলির ঘটনায় ক্রুকস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সম্প্রতি প্রকাশিত ফেডারেল নথি পর্যালোচনা করে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ক্রুকসের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তার দাহের খরচ একজন অজ্ঞাত দাতা পরিশোধ করেন।    ক্রুকসের দাহ নিয়ে নতুন তথ্যটি উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার তদন্তসংক্রান্ত নথিতে। এসব নথি সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলির কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। নথিতে ক্রুকসের বাবা ম্যাথিউ ক্রুকসের সঙ্গে তদন্তকারীদের সাক্ষাৎকারের সারাংশও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ওই সময় পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি ভালো ছিল না। ক্রুকসের বাবা বেকার ছিলেন এবং তার মা ছুটিতে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে শেষকৃত্যের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।    তবে ক্রুকসের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও পরে দাহ করা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে মরদেহ দাহ করা হয় বলে তদন্তসংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা যায়। এ ঘটনায় আইনপ্রণেতা ক্লে হিগিন্স বিশেষভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন হামলার মাত্র ১০ দিন পর এফবিআই ক্রুকসের মরদেহ পরিবারের কাছে ছেড়ে দিয়েছিল এবং পরে সেটি দাহ করা হয়।   এফবিআই অবশ্য জানিয়েছে, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘটনাস্থল নিরাপদ করার পর বাটলার কাউন্টি করোনারের কার্যালয় মরদেহটি গ্রহণ করে। পরে অ্যালেগেনি কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর বাটলার কাউন্টি করোনারের কার্যালয় এফবিআইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে জানতে চায়, মরদেহ নিয়ে তদন্তের আর কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাকি আছে কি না। এফবিআই ও পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশ এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরে সম্মতি দেয়।    এফবিআই স্পষ্ট করে বলেছিল, কোনো মৃত সন্দেহভাজনের মরদেহ তদন্তের প্রয়োজনে অনির্দিষ্ট সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রাখা তাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়। সংস্থাটির কাছে ক্রুকসের ময়নাতদন্ত ও টক্সিকোলজি রিপোর্টও হস্তান্তর করা হয়েছিল। ময়নাতদন্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্রুকসের মৃত্যু হয়। তার শরীর ও ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা পর্যালোচনাযোগ্য আলামত সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। টক্সিকোলজি পরীক্ষায় অ্যালকোহল ও অপব্যবহৃত মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।    ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই বাটলারের নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ক্রুকস গুলি চালান। এ ঘটনায় সমাবেশে থাকা একজন নিহত হন এবং ট্রাম্পসহ আরও দুজন আহত হন। এফবিআই ঘটনাটিকে প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা এবং সম্ভাব্য দেশীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে তদন্ত করে। সংস্থাটি পরে জানায়, তদন্তে ক্রুকসের কোনো সহযোগী বা সহষড়যন্ত্রকারী থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তার হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা মোটিভ নিয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।    তদন্তে আরও জানা যায়, হামলার আগে ক্রুকস বাটলারের সমাবেশস্থলের কাছে একটি ভবনের ছাদে উঠেছিলেন। স্থানীয় ব্যবসার ভিডিও, পুলিশ ড্যাশক্যাম ও বডিক্যামের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এফবিআই জানায়, তিনি সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে ছাদে ওঠেন এবং প্রায় ৬টা ১১ মিনিটে গুলি চালান। অর্থাৎ হামলার আগে তিনি প্রায় ছয় মিনিট ছাদে অবস্থান করেছিলেন। এফবিআইয়ের তদন্তে আরও উঠে আসে, হামলার আগে তিনি প্রায় ১১ মিনিট ড্রোন উড়িয়েছিলেন, যা তদন্তকারীদের মতে সমাবেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে সহায়ক হতে পারে।    ক্রুকসের দাহের খরচ অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি কেন বহন করেছেন, ওই ব্যক্তি কে এবং কেন তিনি পরিবারের হয়ে এই ব্যয় করেছেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্য নথিতে বিস্তারিত তথ্য নেই। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে ক্রুকসের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।    মরদেহ দাহের অর্থ কে দিয়েছেন, সেই তথ্য নতুন করে প্রকাশ পাওয়ায় হামলার পর ক্রুকসের মরদেহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নগুলো আবার সামনে এসেছে। তবে এফবিআইয়ের প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী, মরদেহ পরিবারের কাছে দেওয়ার আগে ময়নাতদন্ত, টক্সিকোলজি পরীক্ষা এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষিত নাগরিকদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধারাবাহিক পতন দেখা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
উচ্চশিক্ষিত আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, নির্বাচনের আগে বিপাকে রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষিত নাগরিকদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধারাবাহিক পতন দেখা দিয়েছে। ইকোনমিস্ট ও ইউগভের সর্বশেষ তিনটি জরিপে কলেজ-শিক্ষিত আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন ৩৪ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে তার প্রতি অননুমোদনের হার ৬৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৯ শতাংশ হয়েছে। এই প্রবণতা নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।   ২১ থেকে ২৪ আগস্ট পরিচালিত জরিপে কলেজ-শিক্ষিতদের ৩৪ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং ৬৩ শতাংশ অননুমোদন করেছিলেন। ২৮ থেকে ৩১ আগস্টের জরিপে অনুমোদনের হার কমে ৩১ শতাংশে দাঁড়ায়, বিপরীতে অননুমোদন বেড়ে হয় ৬৮ শতাংশ। এরপর ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ জরিপে অনুমোদন আরও এক শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৩০ শতাংশে নামে এবং অননুমোদন বেড়ে ৬৯ শতাংশে পৌঁছে।   ফলে কলেজ-শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের নেট অনুমোদন ঘাটতি তিন সপ্তাহেরও কম সময়ে ২৯ শতাংশীয় পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৩৯ শতাংশীয় পয়েন্ট হয়েছে। সর্বশেষ জরিপে এই শ্রেণির ৬১ শতাংশ নাগরিক ট্রাম্পের কাজকে দৃঢ়ভাবে অননুমোদন করেছেন। তবে ইউগভ কলেজ-শিক্ষিত উপগোষ্ঠীর জন্য আলাদা ভুলের সীমা প্রকাশ করেনি। ফলে একেক সপ্তাহের পরিবর্তনের কিছু অংশ স্বাভাবিক জরিপগত ওঠানামার ফল হতে পারে।   ট্রাম্পের প্রতি উচ্চশিক্ষিতদের নেতিবাচক মনোভাব শুধু সামগ্রিক চাকরির অনুমোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সর্বশেষ জরিপে কলেজ-শিক্ষিতদের মাত্র ২৮ শতাংশ তার অর্থনীতি পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছেন, যেখানে ৭২ শতাংশ অননুমোদন করেছেন। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় তার কার্যক্রমের পক্ষে ছিলেন মাত্র ২৫ শতাংশ এবং বিপক্ষে ৭৩ শতাংশ। কর ও সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও এই শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের মূল্যায়ন নেতিবাচক ছিল।   শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ট্রাম্পের অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে। সর্বশেষ জরিপে কলেজ ডিগ্রিবিহীন আমেরিকানদের মধ্যে ৪১ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছেন এবং ৫৭ শতাংশ অননুমোদন করেছেন। অর্থাৎ কলেজ-শিক্ষিতদের তুলনায় ডিগ্রিবিহীনদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন ১১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি ছিল। এতে তার রাজনৈতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনের হিসাবেও কলেজ-শিক্ষিত ভোটারদের অবস্থান রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে ৫৭ শতাংশ কলেজ-শিক্ষিত নাগরিক জানিয়েছেন, নিজ নিজ কংগ্রেসনাল আসনে তারা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ এই শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৯ শতাংশীয় পয়েন্টে।   ভোট দেওয়ার আগ্রহের ক্ষেত্রেও কলেজ-শিক্ষিত ভোটাররা এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে ৭৮ শতাংশ কলেজ-শিক্ষিত নাগরিক জানিয়েছেন, তারা নভেম্বরে নিশ্চিতভাবে ভোট দেবেন। কলেজ ডিগ্রি নেই এমন নাগরিকদের মধ্যে এই হার ৬৭ শতাংশ। ফলে যে শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন কমছে, তাদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে।   এই পরিস্থিতি রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থনের বড় অংশ এসেছিল চার বছরের কলেজ ডিগ্রি না থাকা ভোটারদের কাছ থেকে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে পিউ রিসার্চ সেন্টারের যাচাইকৃত ভোটারদের বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ভোটারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের চার বছরের কলেজ ডিগ্রি ছিল না। বিপরীতে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসের সমর্থকদের মধ্যে কলেজ-শিক্ষিতদের অংশ ছিল ৪৮ শতাংশ।   তবে জরিপের এই ফলাফলকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের সরাসরি পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপ পৃথক কংগ্রেসনাল আসনে কোন দল জয়ী হবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না। স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, প্রচারণা এবং ভোটার উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন জরিপে কম করে দেখানোর নজিরও রয়েছে।   তবু টানা তিনটি জরিপে কলেজ-শিক্ষিতদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন কমে একই দিকে যাওয়াকে রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের বড় ব্যবধান এবং তুলনামূলক বেশি ভোট দেওয়ার আগ্রহ রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও কঠিন করে তুলতে পারে।   সূত্র: নিউজউইক

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে ট্রাম্প বললেন ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানী, গবেষক ও আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ বাড়লেও বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’। এআই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।   বৃহস্পতিবার রাতে ডালাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান। তিনি বলেন, এআই নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই। তার মতে, প্রযুক্তিটির কারণে কোনো সমস্যা তৈরি হলেও তা মোকাবিলার উপায় থাকবে। ট্রাম্প একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে গুরুত্ব দেন এবং বলেন, এই প্রতিযোগিতায় চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে।   ট্রাম্পের এমন আশাবাদী অবস্থানের বিপরীতে এআই খাতের ভেতর থেকেই সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে। বিশেষ করে অ্যানথ্রপিকের কয়েকজন গবেষকের বক্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগের পর উন্নত এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের পর এআইয়ের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।   অ্যানথ্রপিকের গবেষক ইভান হুবিঙ্গারও এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে, উন্নত এআই একসময় মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব সংকটে পড়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে মনে করেন। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।   এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের পেছনে শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কাই নয়, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও ভূমিকা রাখছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সময় ওপেনএআইয়ের তৈরি এআই ব্যবস্থা সফটওয়্যার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রুবিজেমসে আক্রমণ চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় শত শত ক্ষতিকর প্যাকেজ আপলোড করা হয়েছিল। ওপেনএআই পরে ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানায়, অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবস্থাগুলো প্রশিক্ষণের সময় ওই কার্যক্রম চালিয়েছিল।   অন্যদিকে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের তৈরি এআই ব্যবস্থাও বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহারের শিকার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এআই ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র নিয়ে গবেষণা, সাইবার হামলা, নজরদারি ও প্রতারণার মতো কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা হয়েছে। এসব ঘটনা উন্নত এআই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা হতে পারে এবং সেগুলোর ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।   এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সিনেটের আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাবে উন্নত এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় ধরনের বিপর্যয়কর ঝুঁকি কমানোর জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।   আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, বিপজ্জনক সক্ষমতা তৈরি করতে পারে এমন এআই ব্যবস্থার ব্যবহার বা প্রকাশ ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। কোনো এআই ব্যবস্থা মানুষের জন্য বড় ধরনের বিপদ তৈরি করতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করতে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণাগারে পরীক্ষার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে আইনটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এর চূড়ান্ত রূপ বা বাস্তবায়নের সময়সীমাও নিশ্চিত নয়।   এআই নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ার আরেকটি কারণ হলো প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা তৈরি করছে। এর পাশাপাশি এআই ব্যবস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও বাড়ছে। ফলে কিছু গবেষক মনে করছেন, প্রযুক্তির সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি হচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।   এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা বাড়লেও প্রযুক্তিটির উন্নয়ন থামানোর বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে পরিবর্তিত হয়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যে বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়লে দেশটি বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে। একই সময়ে এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওপেনএআইসহ প্রযুক্তি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের গতি কমানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।   ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে দ্রুত উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে গবেষক ও আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ সম্ভাব্য বিপর্যয়কর ঝুঁকি মোকাবিলায় আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানাচ্ছে। এই দুই অবস্থানের মাঝেই এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। তবে ট্রাম্প এখনো এসব উদ্বেগকে বড় ধরনের বাধা হিসেবে দেখছেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এআই নিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের শৈশবকালের জরাজীর্ণ পুরোনো বাড়ি সংস্কার করে ১৯ লাখ ডলারে বিক্রি
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের শৈশবকালের জরাজীর্ণ পুরোনো বাড়ি সংস্কার করে ১৯ লাখ ডলারে বিক্রি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিউইয়র্কের শৈশবের বাড়িটি আবারও হাতবদল হয়েছে। আট মাসের ব্যাপক সংস্কারকাজের পর জ্যামাইকা এস্টেটস এলাকায় অবস্থিত টিউডর-শৈলীর এই ঐতিহাসিক বাড়িটি সম্প্রতি ১.৯৩ মিলিয়ন বা ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ‘রি/ম্যাক্স এজ’-এর লিস্টিং এজেন্ট জো ঝু আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   গত বছর ডেভেলপার টমি লিন যখন জরাজীর্ণ অবস্থায় বাড়িটি কিনেছিলেন, তখন এর দাম ছিল ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। এরপর তিনি পাঁচ লাখ ডলারের বেশি খরচ করে আট মাস ধরে বাড়িটির পুরো ভোল পালটে ফেলেন। সংস্কারের পর বাড়িটির দাম হাঁকা হয়েছিল ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। শেষ পর্যন্ত ক্রেতারা এর খুব কাছাকাছি দামেই বাড়িটি কিনে নেন।   জো ঝু জানান, বাড়িটির সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে থাকায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। অনেকেই কেবল একটি সুন্দর বাড়ির চেয়ে এর ঐতিহাসিক মূল্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।   ১৯৪০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ফ্রেড ট্রাম্প এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। ট্রাম্পের বয়স যখন চার বছর, তখন তাদের পরিবার জ্যামাইকা এস্টেটসের অন্য একটি বড় বাড়িতে চলে যায়। তবে ৮৫-১৫ ওয়্যারহ্যাম প্লেসের এই বাড়িটি দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকার পর টমি লিনের হাতে নতুন জীবন পেয়েছে।   পুরোনো স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, ভাঙা পাইপলাইন আর ভবঘুরে বিড়ালের আড্ডাস্থল থেকে বাড়িটিতে এখন যুক্ত হয়েছে বিলাসবহুল কিচেন, আধুনিক বাথরুম এবং নজরকাড়া মেঝে। তবে এর বাইরের ঐতিহাসিক টিউডর-শৈলীটি অবিকৃত রাখা হয়েছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রথমবার হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পর বাড়িটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল এবং পরে এটি পর্যটকদের জন্য এয়ারবিএনবিতেও (Airbnb) ভাড়া দেওয়া হতো।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের এআই পোস্টকে ‘ব্রেইন রট’ বললেন সাবেক সহযোগী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক এআই নির্মিত পোস্টকে তাঁর ‘ব্রেইন রট’ বা মানসিক অবক্ষয়ের লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা সারাহ ম্যাথিউজ। তাঁর দাবি, ট্রাম্প এত বেশি মিম ও এআই-নির্মিত কনটেন্ট পোস্ট করছেন যে মানুষ তাঁর এসব অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। সাবেক হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ম্যাথিউজ বলেন, ট্রাম্প ‘এত বেশি পোস্ট করছেন যে তাঁর কর্মকাণ্ড কতটা অদ্ভুত, তা নিয়ে মানুষের সংবেদনশীলতা কমে গেছে। তাঁর মতে, ৮০ বছর বয়সী একজন প্রেসিডেন্টকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরে তৈরি করা অসংখ্য এআই কনটেন্ট দেখা ও পুনরায় পোস্ট করতে এতটা সময় ব্যয় করতে দেখা উদ্বেগজনক।‘ শ্রম দিবসের ছুটির সপ্তাহান্তে ট্রাম্প মাত্র ১০ ঘণ্টায় অন্তত ৬০টি পোস্ট করেন। এসবের অনেকগুলোই ছিল এআই-নির্মিত মিম। কোনো পোস্টে তাঁকে রোবটের সঙ্গে দেখা গেছে, কোনোটি ছিল শেয়ারবাজারে তাঁর বিনিয়োগ নিয়ে; আবার একটি পোস্টে মেক্সিকো, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানো মানচিত্রও ছিল। আরেকটি এআই ছবিতে ট্রাম্পকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে আইস হকি খেলতে দেখা যায়। ইরান প্রসঙ্গেও কয়েকটি পোস্টে ট্রাম্পকে যুদ্ধজাহাজ থেকে বিমান হামলা পর্যবেক্ষণ কিংবা মহাকাশ থেকে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকারী এক যুদ্ধনেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়। একটি পোস্টে তাঁকে ওভাল অফিসে বসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে দেখা যায়। ট্রাম্পের এসব পোস্ট নিয়ে অন্য রাজনৈতিক সমালোচকরাও প্রশ্ন তুলেছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য চেলি পিংরি এগুলোকে ‘স্বাভাবিক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে রিপাবলিকানদের আরও কঠোরভাবে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল বলেন, ট্রুথ সোশ্যাল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ট্রাম্প কোনো পক্ষপাতদুষ্ট গণমাধ্যমের ব্যাখ্যা ছাড়াই সরাসরি মার্কিন জনগণ ও বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী ম্যাথিউজ প্রথম প্রশাসনের সময় হোয়াইট হাউসে কাজ করেছিলেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলার পর তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরে ওই হামলা তদন্তকারী প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেন।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার অনুরোধ নিয়ে ট্রাম্পকে দুবার ফোন করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহীত
হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ জানিয়ে দুবার ফোন সৌদি যুবরাজের, ‘না’ করে দেন ট্রাম্প

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর অনুরোধ জানিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করেছেন। তবে সৌদি যুবরাজের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এক্সিওসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান হলো, হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে না গিয়ে সৌদি আরবকে সহায়তা বাড়ানো।   এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির মধ্যেই সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার যোগাযোগ করেন। তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে দ্রুত সামরিক হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চান। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই মুহূর্তে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি সৌদি আরবের জন্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার হুথিরা ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা দখলে নেয় এবং লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে এগিয়ে কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হয়। এর ফলে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   বাব আল-মান্দাব প্রণালী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে হুথিদের অগ্রগতির পর নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও নৌপথে বাধার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।   রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক ফ্রন্ট খুলতে চাইছে না। এর পরিবর্তে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও বৃহস্পতিবার জরুরি সমন্বয় আলোচনার জন্য সৌদি আরব সফর করেছেন।   মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নির্দেশনায় মার্কিন বাহিনীর প্রধান মনোযোগ এখন ইরানকে মোকাবিলা করা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে। ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্ত হয়ে আরেকটি যুদ্ধের ফ্রন্ট খোলার বিষয়ে ওয়াশিংটন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অবস্থানও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে রিয়াদ জানিয়েছিল, তারা নিজেরাই হুথিদের হুমকি মোকাবিলা করতে পারবে। কিন্তু হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর পিছু হটার পরিস্থিতিতে এবার ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আরও সক্রিয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে।   এর আগে ইয়েমেনে সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরবও হুথিদের হামলার মুখে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের অস্ত্র ও সামরিক পরামর্শ হুথিদের মোখা দখলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ইয়েমেনি, ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। হুথিদের এই অগ্রগতি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সৌদি আরবকে সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার নীতি বজায় রাখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের বর্তমান অগ্রাধিকার ইরান ও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। ফলে সৌদি যুবরাজের অনুরোধের পরও হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।   সূত্র: রয়টার্স, এক্সিওস

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে যুদ্ধ শুরু করায় অনুতপ্ত নই! আবার সুযোগ পেলেও একই সিদ্ধান্ত নিতাম, ট্রাম্পের দাবি

ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা দখল করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী। বৃহস্পতিবারের এই অগ্রযাত্রায় লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দাব প্রণালি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে মোকা বন্দর। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে থাকা এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয়। ফলে এলাকাটিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়লে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   মোকা দখলের পর হুতি বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়েছে এবং কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও এগিয়েছে বলে ইয়েমেনের সরকারি সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি ধুবাব এলাকার দিকে সরে যাচ্ছে।   এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জন্য উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরব তেল পরিবহনে লোহিত সাগরের পথকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে। সেই পথও যদি হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বা হামলার ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।   সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে তেলের বাজারে দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৮ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। সরবরাহপথ নিয়ে নতুন উদ্বেগের কারণে চলতি সপ্তাহে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে।   এদিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার অনুরোধ করেন। তবে ট্রাম্প সরাসরি হামলার নির্দেশ দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   এর পরিবর্তে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও টার্গেটিং সহায়তা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সৌদি বাহিনীকে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ও ভৌগোলিক টার্গেটিং সহায়তা দিতে সৌদি আরবে শতাধিক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা রয়েছেন। তবে তারা সরাসরি হামলা, সৌদি যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সরবরাহ বা অন্যান্য সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছেন না বলে জানানো হয়েছে।   একই সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু করার জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং আবার একই পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে জানান।   ট্রাম্প আরও বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হবে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের কয়েকজন শীর্ষ উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন যে যুদ্ধ ট্রাম্পের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষ পর্যন্তও চলতে পারে।   ইয়েমেনের পরিস্থিতিও ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ২০২২ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুতিদের সংঘাত অনেকটাই কমে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক লড়াইয়ে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মোকা দখলের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে শহর ছেড়ে দক্ষিণের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।   জাতিসংঘের কর্মকর্তারাও ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। হুতিদের লোহিত সাগর উপকূলে অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে একদিকে ইয়েমেনে পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে সংকট বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ওবামাকেয়ার গ্রাহকদের ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
৩০ অঙ্গরাজ্যের ১০ লাখ ওবামাকেয়ার গ্রাহককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের দাবি, আগের প্রশাসনের সময়ে স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থার অতিরিক্ত ফি গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল। সেই অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ এখন ফেরত দেওয়া হবে।   বৃহস্পতিবার ওভাল অফিস থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যোগ্য গ্রাহকদের কাছে ৫০০ ডলারের ফেরত অর্থ পাঠানো শুরু হবে অক্টোবর থেকে। তবে এই অর্থ সব ওবামাকেয়ার গ্রাহক পাবেন না। প্রাথমিকভাবে তাদের জন্যই ফেরতের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে, যারা ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বাজার, অর্থাৎ Healthcare.gov ব্যবহার করেন এবং স্বাস্থ্যবিমার মাসিক প্রিমিয়াম পরিশোধে সরকারি ভর্তুকি পান না। এই সুবিধা ৩০টি অঙ্গরাজ্যের গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।   হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ‘ইউজার ফি’ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নেওয়া হয়েছিল। এসব ফি শেষ পর্যন্ত বিমার প্রিমিয়ামের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর পড়েছিল। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বড় একটি তহবিল উদ্বৃত্ত থেকে যায়, যা গ্রাহকদের সুবিধায় ব্যবহার করা হয়নি।   ট্রাম্প তার ভিডিও বার্তায় বলেন, অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়াই তার প্রশাসনের লক্ষ্য এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। হোয়াইট হাউস এই অর্থকে আগের প্রশাসনের সময়ে নেওয়া অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।   যেসব অঙ্গরাজ্যের গ্রাহক এই ফেরত পাওয়ার আওতায় থাকবেন, সেগুলো হলো আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং।   এই ৩০টি অঙ্গরাজ্য ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বাজার ব্যবহার করে তাদের ওবামাকেয়ার বাজার পরিচালনা করে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কের মতো যেসব অঙ্গরাজ্য নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থা পরিচালনা করে, সেগুলো এই তালিকায় নেই। তবে এই ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার অর্থ ঠিক কোন উৎস থেকে আসবে এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিষ্কার করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রত্যেক যোগ্য গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে ৫০০ ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করেছিলেন কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।   স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ফেরতের অর্থের সঙ্গে আগের সময়ে সংগৃহীত অব্যবহৃত ইউজার ফি তহবিলের সম্পর্ক থাকতে পারে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পুরো দায় কেবল বাইডেন প্রশাসনের ওপর দেওয়ার বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বর্তমানে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেওয়া অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা শেষ হওয়ার পর অনেক গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরও রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা তার আরেকটি বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতির পরপরই এসেছে। এর একদিন আগে তিনি রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাবের কথা বলেন। তবে সেই প্রস্তাব আলাদা এবং এর বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় জড়িত।   অন্যদিকে ৫০০ ডলারের ওবামাকেয়ার ফেরতকে প্রশাসন অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে অর্থ পাঠানো শুরু হবে অক্টোবর ২০২৬ থেকে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার বললেন ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া
ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার বললেন ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও তার নীতি নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তার মতে, সাধারণ নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের বদলে প্রশাসন ব্যক্তিস্বার্থ ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গার্সিয়া এই কড়া সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, কর্মসংস্থান এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।   কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত ‘অদ্ভুত’ ও ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ পোস্ট দিতেই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই ধরনের আচরণ একটি দেশের শীর্ষ নেতার কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করেন তিনি।   ডেমোক্র্যাট শিবিরের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যরা আর্থিকভাবে ফুলেফেঁপে উঠছেন এবং ক্রমেই আরও ধনী হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের একটি বিশাল অংশ এখনো তাদের প্রাত্যহিক জীবনধারণের জন্য কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবার্ট গার্সিয়ার এই তীক্ষ্ণ মন্তব্য মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের চলমান তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতারই আরেকটি সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দিতে লাগতে পারে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার! অর্থের উৎস অনিশ্চিত

রিপাবলিকানরা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচন কনভেনশনে এ ঘোষণা দেন তিনি। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, কীভাবে দেওয়া হবে এবং প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রয়টার্সের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক থাকায় পুরো কর্মসূচিতে প্রায় ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।   ট্রাম্প এই অর্থকে ‘ডিভিডেন্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ভিত্তিতেই এমন অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘোষণার সময় তিনি অর্থের নির্দিষ্ট উৎস বা বাস্তবায়নের কাঠামো জানাননি।   প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের ঘোষণাটি তাই সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।   তবে ৫ হাজার ডলারের এই পেমেন্ট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন অর্থায়ন নিয়ে। আনুমানিক ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে অর্থ দিতে হলে মোট ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অনেক ওপরে চলে যাবে। এই বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক থেকে সরকারের আয় ব্যবহার করে এমন অর্থ দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শুল্কের আয় দিয়ে পুরো ৫ হাজার ডলারের পেমেন্ট চালানো যাবে কি না, সেটিও নির্ভর করবে ভবিষ্যতে সরকারের প্রকৃত রাজস্ব, ব্যয়ের চাপ এবং কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের ওপর।   রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবটির আইনগত বৈধতা এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতিও এখনো পরিষ্কার নয়। এত বড় পরিমাণ অর্থ সরাসরি নাগরিকদের দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।   ডালাসের ভাষণে ট্রাম্প নিজেকেই রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের প্রথম দুই বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সময়গুলোর একটি। একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার আহ্বান জানান।   ট্রাম্পের এই প্রস্তাব এখন পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবেই রয়েছে। অর্থের উৎস, যোগ্যতার শর্ত, পেমেন্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং আইনগত অনুমোদনের বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ বাস্তবে কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিশ্চিত নয়।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ৪৫ হাজার ডলারের উপহার নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ন্যাটালি হার্পকে ৪৫ হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন। বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে হার্প এই অর্থকে ছুটির উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই পরিমাণ অর্থ ট্রাম্পের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা চেম্বারলেইন হ্যারিসও পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের সরকারি বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া ওভাল অফিস পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ওয়াল্ট নাউটাকে ২০ হাজার ডলার উপহার দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভ্যাস অনুযায়ী তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ক্রিসমাস উপহার দেওয়ার অংশ হিসেবেই এসব অর্থ দেওয়া হয়েছে। উপহারগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরকারি দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রযোজ্য আইন ও নৈতিকতার মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলো সম্পূর্ণ বৈধ বলেও দাবি করেছে প্রশাসন। তবে বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক হোয়াইট হাউস এথিকস আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেছেন, সরকারি কর্মীদের বেতন বাইরের কোনো উৎস থেকে বাড়তি অর্থ দিয়ে সম্পূরক করার ওপর ফেডারেল আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ সেই আইনের আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সরকারি নৈতিকতা দপ্তরের পরিচালক ডন ফক্স বলেছেন, পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এত বড় অঙ্কের উপহার কর্মীদের প্রেসিডেন্টের প্রতি দায়বদ্ধ বা ঋণী করে তুলতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্প সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ নজরে রয়েছেন। তিনি প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে থাকেন এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসে হিউম্যান প্রিন্টার নামেও পরিচিত।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
৯/১১-এর ২৫ বছর পর ট্রাম্পের দাবি, ‘গ্রাউন্ড জিরো থেকে আমাকে উদ্ধার করেছিলেন দমকলকর্মীরা’
৯/১১-এর ২৫ বছর পর ট্রাম্পের দাবি, ‘গ্রাউন্ড জিরো থেকে আমাকে উদ্ধার করেছিলেন দমকলকর্মীরা’

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা নাইন-ইলেভেনের (৯/১১) আসন্ন ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের নিকটবর্তী এলিপসে বক্তব্য দেওয়ার সময় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।   মঙ্গলবারের ওই অনুষ্ঠানে তিনি নিজের প্রশাসনের অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রশংসার পাশাপাশি দাবি করেন, হামলার পরপরই তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তূপে (গ্রাউন্ড জিরো) উপস্থিত ছিলেন।   সেখানে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা একটি ভবন থেকে দুজন শক্তিশালী দমকলকর্মী তাকে আক্ষরিক অর্থেই তুলে নিয়ে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিলেন।   ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, হামলার পরপর তিনি যখন ঘটনাস্থলে ছিলেন, তখন কাছাকাছি থাকা ইউএস স্টিল বিল্ডিংটি মারাত্মকভাবে মড়মড় শব্দ করছিল এবং সবার ধারণা ছিল সেটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়বে।   ঠিক তখনই দুজন বিশালদেহী দমকলকর্মী তাকে বগলদাবা করে তুলে নিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। ট্রাম্প বলেন, "আমি তাদের বলেছিলাম আমি নিজেই দৌড়াতে পারি, কিন্তু তারা ছিলেন অসাধারণ।"   শুধু তাই নয়, নিজের নির্মাণাধীন প্রকল্প থেকে উদ্ধারকর্মীদের একটি বড় দল পাঠিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও সেদিনের প্রথম সাড়াদানকারী উদ্ধারকর্মীরা বরাবরই বলে আসছেন, তারা কখনোই ট্রাম্পকে সেখানে দেখেননি।   ২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণাতেও তিনি এমন একটি গল্প শুনিয়েছিলেন। সমালোচকদের মতে, প্রতি বছরই হামলার বার্ষিকী এলেই নিজেকে এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।   ভাষণের শেষের দিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন যে, শেয়ার বাজার ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে দেশটি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আগামী শুক্রবার হামলার মূল বার্ষিকীতে তিনি পেন্টাগনে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখবেন।   তবে নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে চার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে যে প্রধান স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে তিনি যোগ দেবেন না। তার পরিবর্তে সেখানে উপস্থিত থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলের মতো করে তৈরি করা একটি ছবি ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। ছবিতে ইরানের প্রচলিত মানচিত্রের সঙ্গে পরিবর্তিত একটি মানচিত্র পাশাপাশি দেখানো হয়েছে। ছবিটির ‘বিফোর’ অংশে ইরানের স্বাভাবিক মানচিত্র দেখা যায়। আর ‘আফটার’ অংশে দেশটির সীমানা এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে সেটি ট্রাম্পের মুখমণ্ডল ও চুলের পাশের অবয়বের মতো দেখায়।   তবে ছবিটি প্রকাশের সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। ফলে কেন তিনি এমন একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক মানচিত্র নয় এবং এর মাধ্যমে ইরানের সীমান্ত পরিবর্তন বা নতুন কোনো ভৌগোলিক দাবির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পরিবর্তিত ছবি প্রকাশ করেছেন।   ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প একই সময়ে আরও কয়েকটি পোস্ট করেন। এসব পোস্টে ইরান ও চলমান সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন প্রতীকী ছবি প্রকাশের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা চলার সময়ে দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে উপস্থাপন করায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   তবে ছবিটির প্রকৃত উদ্দেশ্য বা এর মাধ্যমে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।করেন তিনি। এতে ‘বিফোর’ আগের অংশে ইরানের প্রচলিত মানচিত্র দেখানো হলেও ‘আফটার’ তথা পরের অংশে দেশটির সীমানা পরিবর্তন করে ট্রাম্পের মুখ ও চুলের পাশের অবয়বের মতো করে দেখানো হয়েছে।   তবে ছবিটির সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা অর্থ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক নতুন মানচিত্র বা ইরানের সীমান্ত পরিবর্তনের ঘোষণা নয়; বরং ট্রাম্পের পোস্ট করা পরিবর্তিত একটি ছবি। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আরও কয়েকটি পোস্টও করেন তিনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০