যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: মিডল ইস্ট আই
ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ইরান সফরে গেছেন। শনিবার তেহরানে পৌঁছে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে জানান, এই সফর ইসলামাবাদের চলমান কূটনৈতিক মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় সহায়তা করতেই পাকিস্তান এই ভূমিকা পালন করছে।   এর আগে গত ৭ জুন মহসিন নাকভি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছিলেন।   কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি গঠনের লক্ষ্যে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে উভয় দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।   এরই মধ্যে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন, যা চলমান উত্তেজনা প্রশমনের প্রাথমিক কাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই সক্রিয় মধ্যস্থতা আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইসলামাবাদের অবস্থানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই 

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সিএনএন
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৌশলগত সুবিধা গুছিয়ে নিচ্ছে চীন

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা আলোচনার প্রেক্ষাপটে চীনের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের পুরো সময়জুড়ে চীন সরাসরি অংশ না নিয়ে কৌশলগতভাবে নিজ অবস্থান শক্ত করার সুযোগ নিয়েছে।   যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে বেইজিং উদ্বিগ্ন ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে প্রায় চার মাস পর পরিস্থিতি বদলেছে। ইরান সরকারের স্থিতি বজায় আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে।   চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়েন বলেন, বেইজিং সব পক্ষকে শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল নিরাপদ রাখতে সমন্বিত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, বেইজিং সংঘাতের সময় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, পুরো সংঘাতের সময় চীন একদিকে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ চালু রেখেছে। ফলে বেইজিং নিজেকে একটি “স্থায়ী কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি” হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।   সংঘাত চলাকালে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হলেও চীন তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পেছনে কৌশলগত তেল মজুদ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বড় ভূমিকা রেখেছে।   চীনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব হ্রাসের সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক জটিলতা যুক্তরাষ্ট্রের “একক আধিপত্যের” ধারণাকে দুর্বল করেছে।   ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষক বলেন, হরমুজ প্রণালীর সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে।   চীনের কিছু নীতি-নির্ধারক এবং বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পরিস্থিতি বেইজিংয়ের “মাল্টিপোলার বিশ্ব” ধারণাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে, যেখানে কোনো একক শক্তি নয় বরং একাধিক শক্তি বৈশ্বিক ভারসাম্য নির্ধারণ করবে।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেই বৈশ্বিক নেতৃত্ব অর্জন সম্ভব নয়। বাস্তব কূটনৈতিক সমাধান ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সক্ষমতাই ভবিষ্যতে চীনের অবস্থান নির্ধারণ করবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা নিয়ে ইরানে তীব্র মতবিরোধ ও বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিভাজন ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চুক্তিটি সরকারিভাবে “সাফল্য” হিসেবে উপস্থাপিত হলেও ইরানের প্রভাবশালী হার্ডলাইনপন্থী গোষ্ঠীগুলো এটিকে “জাতীয় স্বার্থবিরোধী” বলে আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করছে।   ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদ নবাভিয়ান সম্প্রতি তেহরানে এক জনসমাবেশে চুক্তির নিন্দা জানিয়ে এটিকে “যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী এমনকি ইসরায়েলের জন্যও উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে।   তার এই বক্তব্য সম্প্রচারিত হওয়ার পর দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয় এবং “আমরা এই চুক্তি মানি না” শিরোনামে একটি অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়।   চুক্তিটি প্রকাশ্যে সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ইরানের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে দেশের ভেতরেই মতবিরোধ আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন কাঠামোর মধ্যেই প্রভাবশালী একটি অংশ এই চুক্তিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছে।   ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক দিনা এসফানদিয়ারি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরান সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও এটি অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ দূর করেনি। বরং এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের ভেতরের বিরোধী শক্তিগুলোকে সামলানো।   বিশ্লেষক ভালি নাসর মনে করেন, হার্ডলাইনপন্থী জেবহে-ই পায়দারি গোষ্ঠী চুক্তির সবচেয়ে বড় বিরোধী শক্তি। তার মতে, চুক্তি কার্যকর করতে হলে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিজেদের তৈরি করা এই কঠোরপন্থী শক্তিকেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।   চুক্তি ঘিরে দেওয়া এক বার্তায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, তিনি মূলত ভিন্ন মত পোষণ করলেও আলোচনাকারীদের দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাসের ভিত্তিতে চুক্তিকে অনুমোদন দিয়েছেন।   হার্ডলাইনপন্থীরা শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, রাস্তায় জনসমর্থন সংগঠনের মাধ্যমেও চাপ তৈরি করতে সক্ষম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও রক্ষণশীল জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের প্রভাব বেশি।   অর্থনৈতিক স্বস্তি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলতাই এই চুক্তির সফলতার মূল নির্ভরতা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জনসমর্থন অর্জনের জন্য ইরান সরকারকে দ্রুত বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা দেখাতে হবে।   চ্যাথাম হাউসের গবেষক সানাম ভাকিল বলেন, এই চুক্তি সাময়িকভাবে বহিরাগত সামরিক চাপ কমালেও এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান নয়। এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তার কথা বললেও, অনেকে আশা করছেন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত হলে জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: এএফপি
ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে পেন্টাগনের প্রয়োজন ৮ হাজার কোটি ডলার

ইরান যুদ্ধ এবং অন্যান্য অ-যুদ্ধকালীন ব্যয় সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৮ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন বলে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে। উপ-প্রতিরক্ষা সচিব স্টিফেন ফেইনবার্গ সম্প্রতি কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই তথ্য উপস্থাপন করেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।   প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইনপ্রণেতাদের কাছে একটি সম্পূরক বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হতে পারে। এই প্রস্তাবে শুধু পেন্টাগনের তহবিলই নয়, কৃষি খাত ও দুর্যোগ সহায়তার মতো অপ্রতিরক্ষামূলক খাতের অর্থায়নের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   তবে এ বিষয়ে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য দেয়নি। এর আগে এপ্রিল মাসে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানান, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এটিই ছিল যুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব হিসেবে প্রকাশিত তথ্য।   তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই যুদ্ধের মোট ব্যয় কত—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার মুখে পড়ে।   বাজেট বিতর্কের মধ্যে গত এপ্রিল মাসে প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শুনানিতে হোয়াইট হাউসের বাজেট পরিচালক রাসেল ভট বলেন, যুদ্ধ ব্যয়ের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব তার কাছে নেই। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান জানান।   এই বিশাল সামরিক বাজেটকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।   তবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের আর্থিক চাপ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে নেতানিয়াহুর কারণে: মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কতা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কিছু সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।   প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে—লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া ইরান-সংক্রান্ত সমঝোতার কাঠামোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।   চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ একাধিক তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে অনাগ্রহী। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং লেবাননে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত করা।   মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে, লেবাননে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে ব্যাহত করতে পারে।   হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এর ফলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।   গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় লেবাননে সামরিক অবস্থান কঠোর রাখতে পারেন। এতে তার সরকারকে দেশটির জনগণের সামনে নিরাপত্তা ইস্যুতে শক্ত অবস্থান দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।   ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, হিজবুল্লাহর আক্রমণ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একাংশের গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক লক্ষ্যকে দুর্বল করে দিতে পারে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও, ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান সেই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরায়েল পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারে অনাগ্রহ দেখালে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।   সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিজ বলেন, নেতানিয়াহু বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইসরায়েলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।   তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনার দিকে যেতে পারে।   এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ওয়াশিংটনের হাতে বিভিন্ন কৌশলগত চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে, যার মধ্যে সামরিক সহায়তা সীমিত করা বা গোয়েন্দা সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার মতো পদক্ষেপও থাকতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন ধরনের কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর পড়তে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প হেরে গেছেন: নিউইয়র্ক টাইমস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে চলা সংঘাত শেষে একটি প্রাথমিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হলেও যুদ্ধের ফলাফলকে কৌশলগতভাবে ওয়াশিংটনের জন্য হতাশাজনক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্যগুলো ঘোষণা করেছিল, তার উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়িত হয়নি।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত চলাকালে সামরিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক তিন ক্ষেত্রেই চাপের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানকে “শর্তহীন আত্মসমর্পণ” করতে বাধ্য করা হবে এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হবে। একই সঙ্গে ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।   তবে যুদ্ধ শেষে ঘোষিত প্রাথমিক সমঝোতার চিত্র ভিন্ন। সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামো বহাল রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের ধারণা, এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অনুরূপ একটি নতুন সমঝোতার দিকে অগ্রসর হতে পারে।   উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ওই পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি চুক্তিটিকে “ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ চুক্তি” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে প্রায় একই ধরনের একটি সমঝোতার দিকেই এগোতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   যুদ্ধবিরতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি মূলত সংঘাত-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সমতুল্য, নতুন কোনো বড় কূটনৈতিক বা কৌশলগত অর্জন নয়।   দীর্ঘদিন ধরেই হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান। যুদ্ধ চলাকালে সেই আশঙ্কা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। সমঝোতার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।   চার মাসের সংঘাতে ইরানও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। দেশটির সামরিক অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সংঘাত শেষে পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক দর-কষাকষির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ চাপ এখনও তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিপুল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে সীমিত সাফল্য দেশটির বৈশ্বিক প্রভাব ও কৌশলগত কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনকে তার আঞ্চলিক কৌশল এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন পুনর্বিবেচনার দিকে ঠেলে দিতে পারে।   যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান আঞ্চলিকভাবে চাপে থাকলেও সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তারা আবারও আলোচনার টেবিলে তুলনামূলক শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। হিজবুল্লাহ ও হামাসের দুর্বলতা, সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট থাকা সত্ত্বেও তেহরান তার কৌশলগত প্রভাব পুরোপুরি হারায়নি।   এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি। প্রণালীটি ঘিরে আবার কোনো সংকট তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে এই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ছবি
সুরক্ষার আড়ালে আক্রমণাত্মক জীবাণু অস্ত্র গবেষণা? নতুন বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বজুড়ে পরিচালিত মার্কিন জৈব গবেষণাগারগুলোতে প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচির আড়ালে আক্রমণাত্মক জীবাণু অস্ত্র গবেষণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরের সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক স্কট রিটার। রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ক্ষতিকর রোগজীবাণু নিয়ে পরিচালিত কিছু গবেষণা বাস্তবে সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য সক্ষমতা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।   তবে স্কট রিটার তার দাবির পক্ষে নতুন কোনো স্বাধীন বা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। রিটার বলেন, প্রতিরক্ষামূলক গবেষণার জন্য ব্যবহৃত অনেক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যেও প্রয়োগ করা সম্ভব। তার মতে, এ কারণেই এ ধরনের গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।   এদিকে রাশিয়ার রেডিয়েশন, কেমিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল ডিফেন্স ট্রুপসের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আলেক্সি রতিশচেভ সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে ইউক্রেনে পরিচালিত কয়েকটি গবেষণাগারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত কিছু প্রকল্পে প্লেগ, অ্যানথ্রাক্স, টুলারেমিয়া, মারবার্গ এবং ইবোলা ভাইরাসের মতো বিপজ্জনক রোগজীবাণু নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।   রাশিয়ার কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এ ধরনের কার্যক্রম জৈব ও টক্সিন অস্ত্র কনভেনশনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন বরাবরই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গবেষণাগুলো জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং মহামারি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে।   অন্যদিকে কোভিড-১৯ মহামারীর উৎস নিয়ে বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথির ভিত্তিতে দাবি করেছেন, মহামারির উৎস-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। তিনি সাবেক শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. অ্যান্থনি ফাউচির ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।   গ্যাবার্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে করোনাভাইরাস-সম্পর্কিত কিছু গবেষণায় মার্কিন অর্থায়ন গিয়েছিল। তবে ফাউচি অতীতে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে কোনো নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত ‘গেইন-অব-ফাংশন’ গবেষণা পরিচালিত হয়নি।   কোভিড-১৯-এর উৎপত্তি নিয়ে এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিছু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ল্যাব-লিক তত্ত্বকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করলেও, অন্য সংস্থাগুলো প্রাকৃতিক উৎসের সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে আরও তথ্য বিনিময়, স্বচ্ছতা এবং স্বাধীন গবেষণার ওপর জোর দিয়ে আসছে।   বিশ্লেষকদের মতে, জীবাণু অস্ত্র, বায়োল্যাব এবং কোভিড-১৯-এর উৎস নিয়ে চলমান বিতর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জনস্বাস্থ্য এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত, নিরপেক্ষ যাচাই এবং প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়নের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।   সূত্র: তাস

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ । ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক ও কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।   শনিবার (২০ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফরের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। পরে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দেওয়া হয় স্টিভ উইটকফকে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও সম্ভাব্য এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তবে বৈঠকটি ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।   এদিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতির ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পথের একটি বড় বাধা দূর হয়েছে।   এর আগে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলমান থাকায় তেহরান আলোচনায় অনাগ্রহ দেখায়। ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে সংঘাত বন্ধের বিষয়টিকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।   ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির খবর সামনে আসার পরই স্টিভ উইটকফের সুইজারল্যান্ড সফরের তথ্য প্রকাশ পায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা নতুন করে জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা করতেই সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন উইটকফ।   এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউস জানায়, জেডি ভ্যান্স আপাতত আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন না। তবে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ সমঝোতার বিষয়গুলো নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলোচনার চূড়ান্ত সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে দ্রুত কারিগরি আলোচনা শুরু হবে বলে তারা আশাবাদী।   সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে, বার্গেনস্টক রিসোর্টে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে আলোচনার প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে চলমান সংঘাত এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণেই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন।   এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সান আন্তোনিও শহরে এক মর্মান্তিক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অভিযুক্ত স্বামীও নিহত হন। এ ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সান আন্তোনিও পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক সহিংসতার একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় থাকা স্ত্রীর বাসভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে সশস্ত্র ওই ব্যক্তি তাকে গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়।   ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ির একটি কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সে সময় বাড়ির ভেতরে দুই শিশুও অবস্থান করছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে।   পুলিশের সঙ্গে অভিযুক্তের গোলাগুলির এক পর্যায়ে একজন কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন। তবে তার পরিহিত সুরক্ষা বর্ম বা বুলেটপ্রুফ ভেস্ট গুরুতর ক্ষতি থেকে তাকে রক্ষা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত কর্মকর্তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার আঘাত জীবন-সংশয়ী নয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বাড়ির ভেতরে থাকা দুই শিশুকে নিরাপদে বের করে আনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত নারীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আহত পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন সহকর্মী ও কমিউনিটির সদস্যরা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গৃহকেন্দ্রিক সহিংসতার এমন ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা নেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় এক লাখ ডলারের ফি বহাল রাখতে আদালতে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার জন্য আরোপিত ১ লাখ ডলারের ফি বহাল রাখতে নতুন আইনি লড়াই শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল আদালত সম্প্রতি এই ফিকে ‘অননুমোদিত কর’ আখ্যা দিয়ে বাতিল করার রায় দিলেও প্রশাসন বলছে, এটি কোনো কর নয়; বরং অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বৈধভাবে আরোপিত একটি ফি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বোস্টনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে জমা দেওয়া এক আবেদনে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, আপিলের শুনানি চলাকালে যেন ১ লাখ ডলারের এই ফি কার্যকর রাখা হয়।   ডিএইচএসের দাবি, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে। সেই ক্ষমতার আওতাতেই এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নিম্ন আদালত এটিকে ‘অননুমোদিত কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট Donald Trump একটি নির্বাহী ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের ফি চালু করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য ছিল, এর মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।   এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারে। প্রতিবছর হাজার হাজার ভারতীয়, বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের পেশাজীবী এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। আদালতে দেওয়া আবেদনে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে, ফি কার্যকর না থাকলে প্রেসিডেন্টের অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের মতে, প্রতিদিন নতুন আবেদনকারীরা এই ফি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন, যা প্রশাসনের ঘোষিত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   ডিএইচএস আরও বলেছে, পরবর্তীতে সরকার আপিলে জয়ী হলেও ইতোমধ্যে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের অনুমোদন বাতিল করা কিংবা তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া বাস্তবিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।   এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় যখন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ২০টি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ফি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করে। গত ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক Leo Sorokin ফি বাতিলের রায় দেন।   রায়ে বিচারক বলেন, কর আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন উচ্চ অঙ্কের ফি আরোপ করে কার্যত কর আদায়ের চেষ্টা করেছেন, যা ক্ষমতার বিভাজন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে রায় ঘোষণার কয়েকদিন পর বিচারক সরোকিন আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার রায়ের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হন। ফলে বর্তমানে ফিটির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।   এদিকে এইচ-১বি ফি নিয়ে আরও অন্তত দুটি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একটি মামলার শুনানি চলছে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে এবং অন্যটি ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতে। ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের জন্য জমা পড়া প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার এইচ-১বি আবেদনের মধ্যে ২ লাখের বেশি আবেদনের সঙ্গে ১ লাখ ডলারের ফি জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব আবেদন তুলনামূলক দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, এই ফি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং ভিসা নবায়ন বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করছেন, তাদের অধিকাংশই এই অতিরিক্ত ফি থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল আদালতের রায় শুধু এইচ-১বি কর্মসূচির ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, একই সঙ্গে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কতটা আর্থিক বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারেন, সে বিষয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।   প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসায়িক সংগঠন এবং অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এখন আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন। আদালত যদি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ লাখ ডলারের ফি আদায় অব্যাহত থাকতে পারে। আর বিপরীত সিদ্ধান্ত এলে ফি কার্যকর রাখার প্রশাসনের পরিকল্পনা বড় ধাক্কার মুখে পড়বে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম বাড়ার নেপথ্যে প্রশাসনিক ব্যয় ও বিধিনিষেধ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি কেনা সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। উচ্চ সুদের হার, বাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং সীমিত সরবরাহের পাশাপাশি এবার নতুন এক কারণ সামনে এসেছে। দেশটির আবাসন নির্মাতাদের শীর্ষ সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হোম বিল্ডার্স (এনএএইচবি) বলছে, বিভিন্ন সরকারি বিধিনিষেধ, অনুমোদন প্রক্রিয়া, ফি ও প্রশাসনিক ব্যয়ের কারণে একটি নতুন একক-পরিবারের বাড়ির দামে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে।   সম্প্রতি প্রকাশিত এনএএইচবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নির্মিত একটি বাড়ির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের ২৬ দশমিক ৪ শতাংশই আসে বিভিন্ন ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয় থেকে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নির্মিত একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ ডলার। সেই হিসাবে প্রতি বাড়িতে গড়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৪ ডলার ব্যয় সরাসরি বিভিন্ন সরকারি নিয়মকানুন, কর, অনুমোদন ফি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে যুক্ত হচ্ছে।   এনএএইচবির গবেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালে একই ধরনের একটি বাড়ির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধজনিত অতিরিক্ত ব্যয় ছিল প্রায় ৯৩ হাজার ৮৭০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।   প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যয় বাড়িয়েছে নির্মাণবিধি বা বিল্ডিং কোডে আনা পরিবর্তনগুলো। গত এক দশকে এসব বিধির পরিবর্তনের ফলে একটি নতুন বাড়ির নির্মাণ ব্যয় গড়ে ৪০ হাজার ২৮৮ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া আবাসন নির্মাতাদের বিভিন্ন পর্যায়ে জোনিং অনুমোদন, নির্মাণ অনুমতিপত্র, পরিদর্শন ফি, পরিবেশগত সমীক্ষা, যানবাহন চলাচল বিশ্লেষণ, ভূমি ব্যবহারের শর্ত, শ্রমবিষয়ক বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।   এনএএইচবির প্রধান অর্থনীতিবিদ রবার্ট ডিয়েটজ এক বিবৃতিতে বলেন, ব্যয়বহুল এবং অকার্যকর নিয়ন্ত্রক নীতিমালা নতুন বাড়ি নির্মাণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, সরকারি বিধিনিষেধ, কর, ফি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় বর্তমানে একটি সাধারণ একক-পরিবারের বাড়ির মূল্যের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি অংশ জুড়ে রয়েছে।   তিনি বলেন, “অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানো, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন নির্মাণে সীমাবদ্ধতা শিথিল করা এবং অকার্যকর জোনিং নীতির সংস্কার করা গেলে বাড়ির নির্মাণ ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন বাড়ি নির্মাণও বাড়বে।”   প্রতিবেদনের জরিপে অংশ নেওয়া আবাসন উন্নয়নকারীদের মধ্যে ৯৪ দশমিক ২ শতাংশ জানিয়েছেন, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে তাদের প্রকল্পে বিলম্ব ঘটে। অন্যদিকে ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ নির্মাতা বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে তাদের এমন উন্নয়ন মানদণ্ড মেনে চলতে হয়, যা সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হতো না।   এনএএইচবির চেয়ারম্যান বিল ওয়েন্স বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। ফলে আবাসন বাজারে সরবরাহ বাড়াতে না পারলে এবং নির্মাণে বাধাগুলো দূর না করলে সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি বলেন, “দেশজুড়ে বাড়ির যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করতে হলে নির্মাণ খাতের সামনে থাকা বাধাগুলো দূর করতে হবে। অন্যথায় নির্মাতাদের আস্থা এবং নতুন বিনিয়োগের প্রবণতা দুর্বলই থাকবে।”   আবাসন নির্মাণ খাতের বর্তমান পরিস্থিতিও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। এনএএইচবি ও ওয়েলস ফার্গো যৌথভাবে প্রকাশিত সর্বশেষ হাউজিং মার্কেট ইনডেক্স অনুযায়ী, জুন মাসে নির্মাতাদের আস্থা সূচক ৩৫-এ নেমে এসেছে। টানা ১৪ মাস ধরে এই সূচক ৪০-এর নিচে অবস্থান করছে। একই জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে জুন মাসে ৩৫ শতাংশ নির্মাতা বাড়ির দাম কমিয়েছেন। পাশাপাশি ৬২ শতাংশ নির্মাতা বিশেষ ছাড়, প্রণোদনা বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।   এনএএইচবির গবেষণাটি মার্চ মাসে ৫৪ জন ভূমি উন্নয়নকারী এবং ৩৩৭ জন একক-পরিবারের বাড়ি নির্মাতার ওপর পরিচালিত জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর আবাসনসংক্রান্ত তথ্য এবং শিল্পখাতের বিভিন্ন ব্যয়ের হিসাব একত্র করে এই বিশ্লেষণ প্রস্তুত করেছেন।   তবে সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, তাদের উদ্দেশ্য সব ধরনের সরকারি বিধিনিষেধ বাতিলের দাবি তোলা নয়। বরং আবাসন ব্যয় বৃদ্ধিতে এসব নীতিমালার প্রভাব কতটা, তা নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরা এবং আবাসন খাতকে আরও সাশ্রয়ী করার সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করাই এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদে মুসল্লিদের জন্য বিনামূল্যে খেজুর, বিস্কুট আর পানিও আছে

জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে মসজিদের প্রবেশমুখে খেজুর, বিস্কুট ও পানির সারি দেখে প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন অনেকেই। পরে জানা গেল, এটি কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মসজিদে প্রচলিত এক সুন্দর সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ।   যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া শহরের রুজভেল্ট এলাকায় অবস্থিত আল ফোরকান মসজিদে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমা কিংবা অন্যান্য নামাজের পর স্বেচ্ছায় খাবার ও পানীয় বিতরণ এখানে দীর্ঘদিনের একটি চর্চা, যা মুসল্লিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করে।   ফিলাডেলফিয়ার অন্যতম পরিচিত এই মসজিদে জুমার নামাজে অংশ নিতে আসেন বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা। আরব, আফ্রিকান, বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও অন্যান্য অভিবাসী মুসলিমদের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিমরাও নিয়মিত এখানে নামাজ আদায় করেন।   মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং বহুজাতিক মুসলিম সম্প্রদায়ের মিলনকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। একসঙ্গে প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। ঈদের সময় মুসল্লির সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। তখন অনেক ক্ষেত্রে মসজিদের ভেতরে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের খোলা স্থান ও সড়কের অংশেও নামাজের ব্যবস্থা করতে হয়।   আল ফোরকান মসজিদের আরেকটি বিশেষ দিক হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ। নারী মুসল্লিদের জন্য রয়েছে আলাদা নামাজের ব্যবস্থা। একই সঙ্গে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ও শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মুসল্লিদের সুবিধার্থে বিশেষ প্রবেশপথ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে ইবাদত করতে পারেন।   জুমার খুতবা পরিচালনা করেন একজন আরব বংশোদ্ভূত ইমাম। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মুসল্লিদের কথা বিবেচনায় রেখে খুতবা সাধারণত ইংরেজি ভাষায় দেওয়া হয়, যাতে অধিকাংশ মানুষ সহজে তা বুঝতে পারেন। মসজিদে আসা মুসল্লিদের পোশাক-পরিচ্ছদেও দেখা যায় বৈচিত্র্য। কেউ আরবি পোশাকে, কেউ আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী পোশাকে, আবার অনেকে পশ্চিমা পোশাক পরেই নামাজে অংশ নেন। ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার মানুষ হলেও নামাজের কাতারে সবাই এক হয়ে দাঁড়ান।   মসজিদে রাখা খেজুর, বিস্কুট ও পানির বিষয়ে জানতে চাইলে ফিলাডেলফিয়ায় প্রায় সাত বছর ধরে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশি শামসুল করিম জানান, এসব আয়োজন মূলত ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা হয়। তিনি বলেন, “এটি মসজিদ কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কোনো কর্মসূচি নয়। অনেকেই সওয়াবের আশায় বা অন্য মুসল্লিদের সেবা করার উদ্দেশ্যে নিজের খরচে খাবার ও পানীয় নিয়ে আসেন। কোনো শুক্রবার খেজুর ও পানি থাকে, আবার অন্য কোনোদিন ফল, মিষ্টি বা ভিন্ন ধরনের খাবারও দেখা যায়।”   তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের উদ্যোগ একটি ইতিবাচক সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু খাবার বিতরণের বিষয় নয়, বরং মুসল্লিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করার একটি মাধ্যম।   শামসুল করিম আরও বলেন, “বাংলাদেশে যেমন বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা মিলাদে মিষ্টি, তেহারি কিংবা অন্যান্য খাবার বিতরণের প্রচলন রয়েছে, এখানেও মানুষ স্বেচ্ছায় অন্যদের আপ্যায়নের জন্য খাবার নিয়ে আসে। এতে এক ধরনের আত্মিক তৃপ্তি যেমন পাওয়া যায়, তেমনি কমিউনিটির মানুষের মধ্যেও বন্ধন তৈরি হয়।”   তিনি জানান, শুধু ফিলাডেলফিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বহু মসজিদেই এমন চর্চা দেখা যায়। বিশেষ করে রমজান মাসে ইফতার, তারাবিহ ও অন্যান্য ধর্মীয় আয়োজনে মুসল্লিদের জন্য ব্যাপক পরিসরে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় মুসল্লিদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ নতুন অভিবাসীদেরও কমিউনিটির সঙ্গে দ্রুত সম্পৃক্ত হতে সাহায্য করে। অনেকেই প্রথমবার মসজিদে এসে অন্য মুসল্লিদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।   জানা গেছে, আল ফোরকান মসজিদের পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশই আসে অভিবাসী মুসলিমদের অনুদান থেকে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ও নিয়মিত সহায়তা করে থাকে। বিশেষ করে রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা মসজিদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মসজিদ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, ফিলাডেলফিয়ার আল ফোরকান মসজিদের এই চিত্র তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ বলে মনে করছেন কমিউনিটির সদস্যরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: বারাক ওবামা

ইরানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ১৫ সপ্তাহের সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়, সামরিক চাপ এবং প্রাণহানির পরও এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।   শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা এসব কথা বলেন। শিকাগোতে নির্মিত ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারের উদ্বোধনের প্রাক্কালে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ইরান নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেন।   ওবামা বলেন, কয়েক মাসের এই সংঘাতে শত শত কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। সামরিক বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্য অর্জনের কথা বলেছিল, বাস্তবে তা অর্জিত হয়নি। তার ভাষায়, “আমরা শেষ পর্যন্ত আবার সেই জায়গাতেই ফিরে এসেছি, যেখানে সংঘাত শুরুর আগে ছিলাম। বরং অনেক ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল এবং উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।”   সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশেষভাবে সমালোচনা করেন ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ইরানের পারমাণবিক চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের। তিনি বলেন, তার প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে হওয়া যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছিল। ওবামার দাবি, ইরান তখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি উল্টো আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পায়।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, সেটিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।   তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত হওয়ায় ভবিষ্যৎ আলোচনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো আলোচনায় তেহরানের নির্ধারিত সীমারেখা বা ‘রেড লাইন’ মেনে চলতে হবে। অন্যথায় ইরান কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।   যুদ্ধের অন্যতম বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   জ্বালানি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান এক্সন মবিলের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল চ্যাপম্যান সতর্ক করে বলেছেন, যদি কৌশলগত মজুত সংকটজনক পর্যায়ে নেমে আসে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওবামা। তিনি বলেন, দেশটিতে রাজনৈতিক বিভাজন ক্রমেই বাড়ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা ক্ষয়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী রাখতে নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা করা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে থাকবে। ওবামার এই মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ছয় কোটি টাকার বৃত্তি পেলেন চাঁদপুরের সানজিদা

চাঁদপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের এক শিক্ষার্থীর অসাধারণ সাফল্যের গল্প এখন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে। মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবুরকান্দি গ্রামের মেয়ে সানজিদা আক্তার তুলি যুক্তরাষ্ট্রের একটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পেয়েছেন প্রায় ছয় কোটি টাকা সমমূল্যের পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি।   ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্সে অবস্থিত টুলেন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডক্টরাল প্রোগ্রামে ২০২৬ সালের ফল সেমিস্টার থেকে যোগ দেবেন সানজিদা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে পিএইচডি অধ্যয়নের পুরো সময়জুড়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শিক্ষাবর্ষে তিনি স্টাইপেন্ড ও গ্রীষ্মকালীন গবেষণা সহায়তা বাবদ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন। এর পাশাপাশি তার সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হবে, যার বার্ষিক মূল্য ৬৫ হাজার ৪ মার্কিন ডলার। এছাড়া শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিমার শতভাগ ব্যয়ও বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়।   পাঁচ বছর মেয়াদি পিএইচডি কর্মসূচিতে স্টাইপেন্ড, গবেষণা সহায়তা, টিউশন ফি মওকুফ এবং স্বাস্থ্যবিমাসহ মোট আর্থিক সুবিধার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পাঁচ কোটি ৮২ লাখ টাকার সমান। ফলে এটি একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক একাডেমিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   সানজিদার শিক্ষাজীবনের শুরু নবুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি মান্দারতলী মুজাদ্দেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর চাঁদপুরের আল-আমিন একাডেমি থেকে মাধ্যমিক এবং চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।   উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে বিদেশে আবেদনের প্রস্তুতি শুরু করেন। দীর্ঘদিনের সেই প্রচেষ্টার ফল হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ পেলেন।.   সানজিদা আক্তার তুলি মতলব উত্তর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান এবং সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক অজুফা সরকারের মেয়ে। নিজের এই অর্জন সম্পর্কে সানজিদা বলেন, প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ পাওয়া তার জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্নপূরণ। তিনি মনে করেন, পরিবারের সমর্থন, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমই তাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।   তিনি আরও বলেন, গ্রামের শিক্ষার্থীরা যেন কখনও নিজেদের সীমাবদ্ধ মনে না করে। বিশেষ করে মেয়েদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জন্মস্থান বা পারিপার্শ্বিকতা নয়, বরং স্বপ্ন, যোগ্যতা ও অধ্যবসায়ই একজন মানুষের গন্তব্য নির্ধারণ করে।   সানজিদার এই সাফল্যের খবরে তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ।   শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ এবং পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি অর্জন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। সানজিদার সাফল্য প্রমাণ করেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও সুযোগ ও প্রস্তুতি পেলে বিশ্বমানের শিক্ষাঙ্গনে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কর্মীদের আয় মার্কিনিদের চেয়েও বেশি, নতুন বিশ্লেষণে উঠে এলো এইচ-১বি ভিসার বাস্তব চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মভিসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের দাবি, বিদেশি কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কর্মীদের চাকরি ও মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে নতুন এক বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তব চিত্র এতটা সরল নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের গড় আয় দেশটিতে জন্ম নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম Newsweek–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টুডেন্টইবি৫ (StudentEB5) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জুন ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের বার্ষিক মধ্যম আয় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কলেজ স্নাতকদের মধ্যম আয় প্রায় ৮৭ হাজার ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় কর্মীদের আয় গড়ে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বেশি।   বিশ্লেষণটি ইকোনমিক ইনোভেশন গ্রুপের (EIG) তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, যারা প্রথমে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে কর্মজীবনে যুক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যম বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার। এটি দেশীয় স্নাতকদের তুলনায় অনেক বেশি।   তবে একই সঙ্গে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসাধারীরা একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের তুলনায় কম বেতনও পেতে পারেন। ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গড়ে এইচ-১বি কর্মীদের আয় তুলনামূলক মার্কিন কর্মীদের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ কম হতে পারে।   এইচ-১বি কর্মসূচি মূলত প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রতি বছর নতুন ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা অনুমোদনের সীমা রয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত।   গবেষকদের মতে, ভারতীয় কর্মীদের উচ্চ আয়ের পেছনে বড় কারণ হলো তাদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের মতো উচ্চ বেতনের খাতে কাজ করেন। ফলে সামগ্রিকভাবে তাদের আয় অনেক বেশি দেখা যায়।   ইকোনমিক ইনোভেশন গ্রুপের নীতিবিষয়ক ব্যবস্থাপক স্যাম পিক নিউজউইককে বলেন, একই পেশা ও দক্ষতার কর্মীদের তুলনা করলে বেতনের ব্যবধান অনেক কমে আসে। তাঁর মতে, এইচ-১বি লটারিতে নির্বাচিত কর্মীরা একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের তুলনায় গড়ে মাত্র ৫ দশমিক ১ শতাংশ কম আয় করেন। তবে অধিকাংশ ভিসাধারীই বাস্তবে অনেক মার্কিন কর্মীর চেয়ে বেশি আয় করেন।   তিনি আরও বলেন, বয়সভেদেও পার্থক্য দেখা যায়। অপেক্ষাকৃত তরুণ এইচ-১বি কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে সমমানের মার্কিন কর্মীদের চেয়ে বেশি আয় করেন। অন্যদিকে বয়সে বড় কর্মীদের মধ্যে তুলনামূলক কম আয়ের প্রবণতা দেখা যায়। এর একটি কারণ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং খাতে মধ্য-পর্যায়ের কর্মী নিয়োগকে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump নতুন এইচ-১বি আবেদনগুলোর ওপর এক লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগ নেন। প্রশাসনের দাবি ছিল, এর মাধ্যমে কর্মসূচির অপব্যবহার কমবে এবং বেশি দক্ষ ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে।   তবে চলতি বছরের ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। মার্কিন জেলা বিচারক Leo Sorokin রায় দেন, এমন ফি আরোপের ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের নেই এবং এটি কার্যত নতুন কর আরোপের সমতুল্য। পরে প্রশাসন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দেয়।   এদিকে বিভিন্ন গবেষণায় এইচ-১বি কর্মীদের আয় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠান ডিলের তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মীদের মধ্যম বেতন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যেখানে একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের মধ্যম আয় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যার প্রকৌশল ও বিশেষায়িত প্রযুক্তিখাতে দক্ষ জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও এই প্রবণতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   বিশ্লেষকদের ধারণা, আদালতের রায়, সম্ভাব্য আপিল এবং ভিসা সংস্কার নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে এইচ-১বি কর্মসূচি আগামী দিনগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। সর্বশেষ তথ্যগুলো দেখাচ্ছে, অভিবাসন, কর্মসংস্থান ও মজুরির সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণার চেয়ে বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সামার ক্যাম্পের প্রথম দিনেই সাঁতার শিখতে গিয়ে ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি সামার ক্যাম্পে সাঁতার শেখার প্রথম দিনেই কিং ওভারটন নামের ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে চেম্বারলেইনের 'সুইম আরভিএ'-এর একটি পুল থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হেনরিকো কাউন্টি পুলিশ ও ক্যাম্পের কর্মীদের তথ্যমতে, উদ্ধারের পর তাকে সিপিআর দেওয়া হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তার মা লাতাইশা জনসন, তিনি এই রহস্যজনক ট্র্যাজেডির সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাব দাবি করেছেন।   সংবাদমাধ্যম এনবিসি চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিহত শিশুর মা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "আমি পুরোপুরি বিধ্বস্ত ও হতবাক। আমার ভেতরে এখন কেবলই রাগ আর ক্ষোভ কাজ করছে। একগাদা আবেগ যেন একসঙ্গে আমাকে ঘিরে ধরেছে।" ছেলেকে নিজের সেরা বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "ও দেখতে ছোটখাটো হলেও ওর ব্যক্তিত্ব ছিল অনেক বড়। সে দারুণ মজার ছিল। সে শুধু আমার ছেলেই ছিল না, ছিল আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।" সোমবার সকালে ক্যাম্পে নামিয়ে দেওয়ার সময় সাঁতার শেখার জন্য কিং ভীষণ রোমাঞ্চিত ছিল বলেও জানান তিনি।   ডব্লিউআরআইসি ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়বেলায় ছেলের বলা শেষ কথাগুলো স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন লাতাইশা। তিনি বলেন, "আমার বাচ্চাটা ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেছিল, 'ঠিক আছে মা, তোমাকে ভালোবাসি।' আমি বলেছিলাম, 'আমি তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। তোমার দিনটি সুন্দর হোক।' এরপর আমি ঘুরে চলে আসি, আর সেটাই ছিল আমার ছেলেকে জীবিত দেখা শেষ মুহূর্ত।" শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। অসহায় এই মা বলেন, "আমি কিছুই জানি না। আমি শুধু জানি, তারা আমার বাচ্চাকে পুলের তলদেশে পেয়েছে।" এর আগে ফেসবুকে ছেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি লেখেন, কিং ছিল তাদের জীবনের আনন্দ এবং সবকিছু; এই শোক কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়।   মর্মান্তিক এই ঘটনার পর সামার ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তারা পুরো ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, "আমরা অত্যন্ত গভীর শোকের সাথে জানাচ্ছি যে, গত ১৫ জুন, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে আমাদের সামার ক্যাম্পের এক অংশগ্রহণকারীকে পুল থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই অপূরণীয় ক্ষতিতে আমাদের সমবেদনা শিশুটির পরিবার ও তার প্রিয়জনদের প্রতি। এই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি আমরা গভীর শোক ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করছি এবং তাদের আমাদের প্রার্থনায় রাখছি।"

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
প্রথমার্ধের দুই গোলে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল যুক্তরাষ্ট্র

টানা দ্বিতীয় জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল (ইউএসএমএনটি)। 'গ্রুপ ডি'-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধের জোড়া গোলের সুবাদে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করে পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট কেটেছে তারা।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় যুক্তরাষ্ট্র। খেলার মাত্র ১১ মিনিটের মাথায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার (সকারুজ) ক্যামেরন বার্গেস। এই আত্মঘাতী গোলের সুবাদে শুরুতেই লিড পেয়ে যায় আমেরিকা। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে, ৪৩ মিনিটের মাথায় অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দলটি।   পুরো ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। এই নিয়ে চলতি টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় 'ক্লিন শিট' বা জাল অক্ষত রাখার রেকর্ড গড়লেন ফ্রিজ। তার এই দৃঢ়তায় ভর করেই গ্রুপ টেবিল থেকে আরও তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।   নকআউট পর্বের টিকিট ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে বেশ নির্ভার হয়েই মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছে দলটি। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই ম্যাচে স্কোয়াড নিয়ে বেশ কিছু বিকল্প পরখ করে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ‘অল মাই চিলড্রেন’ খ্যাত অভিনেতা পল অ্যাভেরি ও স্ত্রীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন জনপ্রিয় সোপ অপেরা ‘অল মাই চিলড্রেন’ খ্যাত প্রবীণ অভিনেতা পল অ্যাভেরি (৮৪) এবং তার স্ত্রী শিলা (৭৭)। গত মঙ্গলবার ভোরে ব্লেয়ারসটাউনে তাদের নিজ বাড়িতে লাগা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে চল্লিশ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে এই যুগলের। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত তাদের দুই কন্যা কাইল অ্যাভেরি ও পার্কার সানচেজ পিতামাতার প্রতি আবেগঘন শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুকে তাদের ‘জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কন্যা কাইল অ্যাভেরি বলেন, তার পিতামাতা ছিলেন অসাধারণ মানুষ। তারা কত মানুষের জীবনকে ছুঁয়ে গেছেন এবং কতটা আনন্দময় ছিলেন, তা বলে শেষ করা যাবে না। অন্যদিকে, বোন পার্কার সানচেজ জানান, মূলত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পল অ্যাভেরি হিট সোপ অপেরাটিতে ‘হিউয়ি’ চরিত্রে এবং ১৯৭৮ সালের ‘সুপারম্যান’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি অভিনয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। সানচেজের মতে, তার বাবা কখনোই খ্যাতির পেছনে ছোটেননি; বরং কেবল আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা থেকেই দুই দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত ছিলেন।   পল অ্যাভেরি পর্দায় পরিচিত মুখ হলেও তার স্ত্রী শিলাও ছিলেন এক অসাধারণ নারী। তিনি পেশায় একজন নিবন্ধিত সেবিকা (আরএন নার্স) ও শিল্পী ছিলেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার ও নির্যাতিত নারীদের কাউন্সেলিং এবং প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সানচেজ জানান, অনেক নারী তাকে বার্তা পাঠিয়ে বলেছেন যে তার মায়ের কাছ থেকেই তারা অধিকার সচেতন হতে শিখেছেন। সানচেজ আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, যদি ক্যাটালগ থেকে পিতামাতা বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকত, তবে তারা তাদের দুজনকেই বেছে নিতেন। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময়ের বিবাহিত জীবনে এই দম্পতি চমৎকার পার্টি আয়োজন করতে ভালোবাসতেন এবং তাদের রসবোধ সবাইকে মুগ্ধ করত।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১টার কিছু আগে অ্যাভেরি পরিবারের বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। তারা দম্পতিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিপিআর (CPR) প্রদান করলেও কিছুক্ষণ পরই দুজনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও, এটি কোনো ‘সন্দেহজনক’ ঘটনা নয় বলে নিশ্চিত করেছেন তাদের কন্যারা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
মিশেল ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ l ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক বিভাজনের মাঝেও বন্ধুত্বের বার্তা, মিশেল ওবামাকে উপহার দিয়ে আবারও আলোচনায় জর্জ ডব্লিউ বুশ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মতাদর্শগত বিভাজন নতুন কিছু নয়। তবে রাজনৈতিক ভিন্নমতের মাঝেও ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য ও মানবিক সম্পর্ক যে সম্ভব, তারই একটি প্রতীকী উদাহরণ আবারও সামনে আনলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ।   সম্প্রতি শিকাগোতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বুশ সঙ্গে করে নিয়ে যান একটি মিন্টসের টিন। বিষয়টি প্রথমে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে ছিল কয়েক বছর আগের একটি বহুল আলোচিত স্মৃতি, যা একসময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল।   ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে তৎকালীন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার পাশে বসেছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি মিশেল ওবামার হাতে একটি মিন্টস তুলে দেন। ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই মুহূর্তটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক বিভক্তির সময়ে মানবিক সৌহার্দ্যের এক বিরল উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা কুড়ায়।   সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বুশ বলেন, দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকলে তিনি কিছুটা অস্থির বোধ করেন। মিশেল ওবামার পাশে বসে কথাবার্তার একপর্যায়ে তিনি মজা করে একটি মিন্টস তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন।   বুশের মতে, অনেক আমেরিকান তখন বিস্মিত হয়েছিলেন যে রিপাবলিকান দলের একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক ফার্স্ট লেডির মধ্যে এত আন্তরিক সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষে মানুষে স্বাভাবিক সম্পর্ক দেখতে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহী।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক সম্পর্ক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   শিকাগোতে বুশের এই প্রতীকী উপহার সেই পুরোনো স্মৃতিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হলেও ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক ভিন্নমতের মানুষের মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং সৌহার্দ্যের এমন উদাহরণ আরও বেশি প্রয়োজন।   পর্যবেক্ষকদের মতে, ছোট্ট একটি মিন্টস হয়তো বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে না, কিন্তু এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়—যা আজকের বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সিএনএন
ট্রাম্পের মনোনীত গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিল পুল্টেকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) বিল পুল্টে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের একদিন আগেই অফিসে হাজির হয়ে কর্মীদের তালিকা চেয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ওডিএনআই) থেকে শত শত কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি বিবেচনা করছেন তিনি।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পুল্টের আকস্মিক উপস্থিতি ওডিএনআই কর্মকর্তাদের বিস্মিত করে। এমনকি বিদায়ী জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডও তার এই সফর সম্পর্কে অল্প সময় আগে অবহিত হন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, পুল্টে শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করবেন।   দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুল্টে আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি ব্রিফিংয়ে তিনি প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফ (পিডিবি) বাসায় নেওয়া সম্ভব কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। পিডিবি হলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সর্বোচ্চ গোপনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সংকলন।   একই ব্রিফিংয়ে তিনি নিজের নিরাপত্তা ছাড়পত্রের স্তর, টপ-সিক্রেট অনুমোদন এবং সরকারি বিমান ব্যবহারের সুযোগ সম্পর্কেও জানতে চান বলে সূত্রগুলোর দাবি। তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পিডিবি বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতেও সরবরাহ করা হয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই পুল্টে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা টিম চেয়েছিলেন এবং সরকারি বিমানের সুবিধা নিয়ে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ওয়াশিংটন, ফ্লোরিডা ও শিকাগোর মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতের বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন বলে জানা গেছে।   ৩৮ বছর বয়সী বিল পুল্টে এর আগে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা গোয়েন্দা সংক্রান্ত কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই দেশের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তদারকির দায়িত্ব পাচ্ছেন।   ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তার যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভিযোগের তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজেও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পুল্টে নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করতে আগ্রহী।   এদিকে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান পদে ট্রাম্পের স্থায়ী মনোনীত প্রার্থী জে ক্লেটনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় পুল্টে প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মেলোনি, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব দিলেন

জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা-৭–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য “ভিক্ষা” করেছিলেন।   ট্রাম্প বলেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, শুরুতে ছবি না তোলার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে মেলোনির অনুরোধে তিনি সম্মত হন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মনগড়া বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, তিনি বা ইতালি কখনো কারও কাছে কিছু ভিক্ষা চায় না।   মেলোনি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন তার মিত্রদের প্রতি এমন ভাষা ব্যবহার করছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।   এক বার্তায় মেলোনি বলেন, তিনি জানেন না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের তুলনায় মিত্রদের ক্ষেত্রে এমন আচরণ হতাশাজনক।   এ ঘটনায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইতালির প্রতি অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘোষণা দেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাজানি বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য পুরো ইতালির প্রতি অপমান। এই পরিস্থিতিতে তিনি আগামী ২১ ও ২২ জুন নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।   সূত্র: রয়টার্স

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0