- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকান পার্টির চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ৩৭ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের ওপর আস্থা রাখছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের প্রতি আস্থা ৩৬ শতাংশের। আরও ২৭ শতাংশ কোনো পক্ষকে বেছে নেননি বা অন্য মত দিয়েছেন। জরিপে আরও দেখা গেছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা জাতীয় পর্যায়ে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪২ শতাংশ, আর রিপাবলিকানদের ৩৭ শতাংশ। স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেনডেন্ট) ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন (অ্যাপ্রুভাল) রেটিং কমে ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম সর্বনিম্ন। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনীতি ইস্যুতে রিপাবলিকানরা জনমত জরিপে এগিয়ে থাকত। রয়টার্স/ইপসোসের এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই প্রবণতায় পরিবর্তন আসছে এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাব নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে। জরিপটি ৩০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৫০৫ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। এর সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ±২ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং চলমান সংকট নিরসনে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং সংকট নিরসনের সুযোগ এখনও রয়েছে। তিনি এটিকে তেহরানের জন্য “শেষ সুযোগ” বলেও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নির্ধারিত নেই এবং কোনো ইরানি প্রতিনিধি এ উদ্দেশ্যে বিদেশে যাননি। তার দাবি, ওমানের সঙ্গে কেবল নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌপথ নিয়ে আলোচনা চলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়। এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ঘটনাটি ওমান উপকূলের কাছে ঘটেছে। এতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক বা কূটনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে জাহাজ চলাচল কমে গেলেও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার তিন দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকায় আসছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সফরে অ্যাডমিরাল কোহলার একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই নৌবহর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে এ দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই সফরের লক্ষ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পেশাগত সামরিক শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা।
৫ আগস্ট ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক অভিবাসী মনে করেন, দেশজুড়ে ন্যূনতম মজুরি বা মিনিমাম ওয়েজ একই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অঙ্গরাজ্যভেদে ন্যূনতম মজুরির হার ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। ফলে একই ধরনের পূর্ণকালীন কাজ করেও একজন কর্মীর মাসিক আয় অন্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত কম বা বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭.৯৫ ডলার থেকে বেড়ে ১৮.৪০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে টেক্সাস এখনো ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ ডলারই অনুসরণ করছে, যা ২০০৯ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। এই হারে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করলে একজন কর্মী ডিসিতে মাসে আনুমানিক ২,৯৪৪ ডলার আয় করতে পারেন। একই সময় কাজ করে টেক্সাসে ন্যূনতম মজুরিতে মাসিক আয় হয় প্রায় ১,১৬০ ডলার। অর্থাৎ শুধু অঙ্গরাজ্য ভিন্ন হওয়ার কারণে মাসে প্রায় ১,৭৮৪ ডলারের পার্থক্য তৈরি হতে পারে। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে দুটি ধরনের ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা রয়েছে। একটি হলো ফেডারেল সরকারের নির্ধারিত ৭.২৫ ডলার, যা টেক্সাস, টেনেসি, উটাহসহ প্রায় ২০টি অঙ্গরাজ্যে কার্যকর। অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি এমন অনেক অঙ্গরাজ্য ও ডিসি নিজস্ব আইনের মাধ্যমে আরও বেশি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ১৭.১৩ ডলার, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৬.৯০ ডলার এবং ভার্জিনিয়ায় ১২.৭৭ ডলার। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এ তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ভার্জিনিয়ায় বসবাস করে প্রতিদিন ডিসিতে গিয়ে কাজ করেন। কারণ ডিসিতে বেতন তুলনামূলক বেশি হলেও সেখানে বাসাভাড়া ও জীবনযাত্রার খরচও অনেক বেশি। তাই শুধু ঘণ্টাপ্রতি বেতন নয়, ভাড়া, যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে কোথায় কাজ করবেন বা থাকবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন শ্রমবাজার বিশ্লেষকেরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেস্টুরেন্ট, ডেলিভারি বা টিপসনির্ভর পেশার ক্ষেত্রেও অঙ্গরাজ্যভেদে নিয়ম ভিন্ন। টেক্সাসে টিপসপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য ফেডারেল ন্যূনতম নগদ মজুরি কার্যকর থাকলেও, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ‘টিপ ক্রেডিট’ ব্যবস্থা নেই। ফলে সেখানে কর্মীদের পূর্ণ অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি দেওয়া বাধ্যতামূলক। শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে কাজ বা বসবাসের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। একই দেশের ভেতরেও আয় ও ব্যয়ের এই পার্থক্য একজন কর্মীর আর্থিক অবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন এমন ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো নিজের আর্থিক সামর্থ্য সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা। আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান রিটেলর ডট কিম এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুধু বাড়ির দাম নয়, মাসিক মর্টগেজ কিস্তি, বিদ্যমান ঋণ, ডাউন পেমেন্ট, সম্পত্তি কর, বীমা এবং অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। রিয়েলটর ডটকমের মর্টগেজ ও অ্যাফোর্ডেবিলিটি ক্যালকুলেটর সম্ভাব্য ক্রেতাদের বার্ষিক আয়, মাসিক ঋণের পরিমাণ, ডাউন পেমেন্টের জন্য থাকা অর্থ এবং বসবাসের এলাকার তথ্যের ভিত্তিতে আনুমানিক কত মূল্যের বাড়ি কেনা সম্ভব, তার একটি ধারণা দেয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে, এটি কেবল একটি প্রাথমিক হিসাব; চূড়ান্ত ঋণ অনুমোদন বা বাড়ি কেনার নিশ্চয়তা নয়। আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, মর্টগেজ নেওয়ার ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি নির্দেশনা হলো ‘২৮/৩৬ নিয়ম’। এ নিয়ম অনুযায়ী, মাসিক আবাসন ব্যয় আদর্শভাবে মোট মাসিক আয়ের ২৮ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয় এবং সব ধরনের ঋণের মোট মাসিক পরিশোধ আয়ের ৩৬ শতাংশের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঋণদাতারাও সাধারণত ঋণগ্রহীতার ‘ডেট-টু-ইনকাম’ অনুপাত মূল্যায়নের সময় এ ধরনের মানদণ্ড বিবেচনা করেন। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বাড়ি কেনার আগে শুধু মাসিক কিস্তির হিসাব করলেই যথেষ্ট নয়। সম্পত্তি কর, বাড়ির বীমা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং প্রয়োজনে প্রাইভেট মর্টগেজ ইনস্যুরেন্স -এর মতো অতিরিক্ত খরচও ভবিষ্যৎ বাজেটে যোগ করা উচিত। ডাউন পেমেন্ট ২০ শতাংশের কম হলে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মর্টগেজ বীমার খরচও যুক্ত হতে পারে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আবাসন বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের হার ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং একই আয়ে আগের তুলনায় কম দামের বাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাড়ি কেনার আগে বাজেট নির্ধারণ, একাধিক ঋণদাতার প্রস্তাব তুলনা করা এবং প্রি-অ্যাপ্রুভাল নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক ইরান অভিযানে একটি বেসামরিক বাড়িতে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা আঘাত হেনেছে বলে প্রকাশিত ভিডিও ও উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হন। ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি পরিবারের বাড়িতে ওই হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিও, স্যাটেলাইট ছবি এবং ক্ষয়ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ২ হাজার পাউন্ডের শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু এলাকায় কোনো সুস্পষ্ট সামরিক স্থাপনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হামলার বিষয়ে সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। সংস্থাটির দাবি, সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক প্রাণহানি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, হামলাটি একটি সাধারণ পারিবারিক বাসভবনে চালানো হয়েছে এবং এতে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘিরে হামলার লক্ষ্য নির্বাচন ও গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও অস্থির হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বিপুল পরিমাণ সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ, গোপন যোগসূত্র শনাক্ত এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে। এফবিআইয়ের ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে এমন একটি ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের রেকর্ড মিলিয়ে পূর্বাভাসমূলক মডেল তৈরি করতে পারবে। তবে উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক ক্রয় ও বাজার যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত ওই নথিতে এফবিআইয়ের থ্রেট স্ক্রিনিং সেন্টারের জন্য উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি চাওয়া হয়। সম্ভাব্য ব্যবস্থাটিকে নতুন তথ্য গ্রহণের পর পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে মিল, আচরণগত ধরন ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে অন্য সরকারি ব্যবস্থায় প্রাসঙ্গিক তথ্য কোথায় থাকতে পারে, তা পূর্বানুমান করতে হবে। নথিতে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে সময়সাপেক্ষ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করার কথাও বলা হয়েছে। এফবিআইয়ের থ্রেট স্ক্রিনিং সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সন্ত্রাসবাদ পর্যবেক্ষণ তালিকা পরিচালনা করে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বিভিন্ন সংস্থার বিচ্ছিন্ন তালিকা একত্র করার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর তালিকায় নাম, জন্মতারিখ ও আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন তথ্য থাকতে পারে। ভিসা ও পাসপোর্ট যাচাই, বিমানযাত্রী ও অভিবাসন পরীক্ষা, এফবিআই তদন্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সহায়তার কাজে এ তথ্য ব্যবহৃত হয়। প্রস্তাবিত প্রযুক্তির সমর্থকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিচ্ছিন্ন সরকারি নথির মধ্যে এমন সম্পর্ক দ্রুত খুঁজে বের করতে পারে, যা মানুষের পক্ষে বিপুল তথ্যের ভিড়ে শনাক্ত করা কঠিন। এর ফলে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পেতে এবং সীমিত জনবল আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেন। তবে নাগরিক অধিকার ও গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, পূর্বাভাসনির্ভর ব্যবস্থা যথেষ্ট স্বচ্ছতা ও তদারকি ছাড়া ব্যবহার করা হলে কোনো ব্যক্তিকে তার বাস্তব কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে অ্যালগরিদমের অনুমানের ভিত্তিতে সন্দেহের আওতায় আনা হতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থাকে সমালোচকেরা ‘প্রি-ক্রাইম’ বা অপরাধ সংঘটনের আগেই কাউকে সম্ভাব্য অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার ধারণার সঙ্গে তুলনা করছেন। আরেকটি উদ্বেগ হলো ব্যবহৃত তথ্যের মান ও সম্ভাব্য পক্ষপাত। কোনো তথ্যভান্ডারে ভুল, অসম্পূর্ণতা বা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর অতিরিক্ত উপস্থিতি থাকলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফলেও সেই বৈষম্য প্রতিফলিত হতে পারে। তখন কারও বাসস্থান, পরিচিতজন, ভ্রমণ, অনলাইন কর্মকাণ্ড বা অন্য কোনো পরোক্ষ বৈশিষ্ট্যের কারণে নিরপরাধ ব্যক্তি ভুলভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু জাতি, জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ড কিংবা অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে সন্ত্রাসবাদ পর্যবেক্ষণ তালিকায় যুক্ত করা যায় না। সংস্থাটি বলছে, তালিকাভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট গোয়েন্দা মানদণ্ড পূরণ করতে হয় এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সংস্থাগুলো নিয়মিত এ কার্যক্রম পর্যালোচনা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পুলিশ নিয়মিত যোগাযোগের সময় কোনো নাম পর্যবেক্ষণ তালিকার সঙ্গে সম্ভাব্যভাবে মিলে গেলে সতর্কবার্তা পেতে পারে। সংস্থাটি আরও জানায়, পর্যালোচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের অনেকে এ ধরনের সতর্কবার্তা কীভাবে যথাযথভাবে পরিচালনা করতে হবে, সে বিষয়ে সব সময় পর্যাপ্তভাবে অবহিত নয়। জবাবদিহি দপ্তর এফবিআইকে যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা উন্নত করার সুপারিশ করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ক্রয়সংক্রান্ত অনুরোধটিও কোনো প্রযুক্তি চূড়ান্তভাবে চালু হওয়ার প্রমাণ নয়; এটি সম্ভাব্য সরবরাহকারী ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ। তবু উদ্যোগটি একটি মৌলিক আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন সামনে এনেছে, কোনো ব্যক্তি অপরাধ না করলেও শুধু একটি অ্যালগরিদম তাকে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি হিসেবে দেখালে সরকার কতটা নজরদারি বা তদন্ত করতে পারবে। প্রযুক্তিটি পরবর্তী পর্যায়ে গেলে এর তথ্যসূত্র, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, মানবীয় পর্যালোচনা, ভুল শনাক্তকরণের প্রতিকার এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশের দাবি আরও জোরালো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। ফলে সঠিক চাকরির ওয়েবসাইট বেছে নেওয়া চাকরি প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়োগ-সংক্রান্ত সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান জবসয়েড প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এমন ১৫টি জনপ্রিয় জব সাইটের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো চাকরি খোঁজা ও নিয়োগ, উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের চাকরির প্ল্যাটফর্ম। এর মধ্যে রিমোট ও ফ্লেক্সিবল কাজের জন্য পরিচিত FlexJobs, পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ নিয়ে Indeed, প্রযুক্তি খাতের জন্য Dice, সরকারি চাকরির জন্য USAJobs এবং কোম্পানির রিভিউ ও বেতনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য Glassdoor বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া CareerBuilder, Snagajob, Monster, Nexxt, ZipRecruiter, SimplyHired, The Muse, America's Job Exchange, LiveCareer এবং TheLadders-ও তালিকায় রয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ও ব্যবহারকারী ভিন্ন হওয়ায় চাকরি প্রার্থীদের একটি মাত্র ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল তৈরি ও আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে চাকরির সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে দ্রুত জানা সম্ভব হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাকরি খোঁজার ধরণেও পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন নিয়োগদাতারা শুধু জীবনবৃত্তান্ত নয়, প্রার্থীর অনলাইন প্রোফাইল, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং পেশাগত নেটওয়ার্ককেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারণে LinkedIn-এর মতো পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মও চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চাকরি বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিচ্ছেন, আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানের তথ্য, কর্মপরিবেশ, বেতন কাঠামো ও কর্মীদের অভিজ্ঞতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন এড়াতে কেবল বিশ্বস্ত ও পরিচিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা এবং ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের সম্ভাব্য আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা এই মুহূর্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে নেই বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনে পাঠানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষপর্যায়ের একটি গোপন চিঠির বরাতে এই উদ্বেগজনক খবরটি সামনে এনেছে আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনে সম্প্রতি পাঠানো এক গোপন বার্তায় সরাসরি এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যে নজিরবিহীন নৌ অবরোধ বা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা হয়েছে, তার ফলেই মূলত এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল এলাকাজুড়ে মার্কিন সামরিক সম্পদ ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতার ওপর। পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে জেনারেল গ্রিনকিউইচ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিদ্যমান অস্ত্রসংকটের কারণে ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীকে হয়তো একপর্যায়ে ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখার চেয়ে নিজেদের বাহিনীর সুরক্ষাকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলকে আকাশপথে সুরক্ষা দিতে দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে শক্তিশালী রাডার ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সম্বলিত যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে আরব সাগরে ১১টি যুদ্ধজাহাজ এবং দুটি বিশাল বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। এভাবে পুরো অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি ছড়িয়ে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অস্ত্রসংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। পেন্টাগনের এই গোপন বার্তা ফাঁস হওয়ার আগেও অন্য এক মার্কিন কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের যে মজুত ছিল, তা ধীরে ধীরে কমে আসছে। বর্তমান চিত্র অনুধাবন করে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘমেয়াদি বা সর্বাত্মক কোনো সংঘাত তৈরি হয়, তবে সে পরিস্থিতিতে টানা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ির দাম বাড়া শহরগুলোর একটি ছিল টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল। সে সময় ক্রেতাদের তীব্র প্রতিযোগিতা, একের পর এক উচ্চমূল্যের প্রস্তাব এবং দ্রুত বিক্রি হওয়া বাড়ি ছিল নিয়মিত দৃশ্য। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রির জন্য সবচেয়ে কঠিন বাজারগুলোর মধ্যে ন্যাশভিল দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ তালিকায় প্রথমে রয়েছে ফ্লোরিডার মিয়ামি। ন্যাশভিলের পর রয়েছে টেক্সাসের কয়েকটি বড় মহানগর এলাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ন্যাশভিলে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা ১২৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ এত বেশি যে ক্রেতাদের হাতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বিকল্প রয়েছে। ফলে তারা ধীরে-সুস্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, দরদাম করছেন এবং কম দামে বাড়ি কেনার চেষ্টা করছেন। রেডফিনের ন্যাশভিলভিত্তিক প্রধান এজেন্ট অ্যারন গ্লিকেন বলেন, এখনকার ক্রেতারা কোনো তাড়াহুড়া করছেন না। বাজারে পর্যাপ্ত বাড়ি থাকায় তারা অপেক্ষা করে নিজেদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বাড়ি বেছে নিচ্ছেন। এমনকি বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নির্ধারণ করা বাড়িতেও অনেক ক্রেতা প্রত্যাশার চেয়ে কম দামের প্রস্তাব দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অনেক বিক্রেতা শুরুতে কম দামের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও পরে বুঝতে পারছেন, একই ধরনের কম প্রস্তাবই বারবার আসছে। শেষ পর্যন্ত অনেককেই দাম কমাতে বাধ্য হতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিল মহানগর এলাকায় নতুন বাড়ির তালিকা গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে সারা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তালিকা বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ। একই সঙ্গে বাড়ি বিক্রির সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ন্যাশভিলে একটি বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ৭৮ দিন সময় লাগছে। যেখানে জাতীয় গড় মাত্র ৪৯ দিন। গত জুন মাসে সারা যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্রেতার সংখ্যা ক্রেতার তুলনায় প্রায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ছিল। তবে ন্যাশভিলে এই ব্যবধান জাতীয় গড়ের প্রায় তিন গুণ। রেডফিনের আরেক এজেন্ট ক্রিস্টিন সানচেজ বলেন, কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত কম সুদের হার থাকায় অনেক বাড়ির মালিক নতুন বাড়ি কেনা বা স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এখন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা কারণে তারা আর অপেক্ষা করছেন না। উচ্চ মর্টগেজ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তার ভাষ্য, অনেক বিক্রেতাই বুঝতে পারছেন ২০২১ ও ২০২২ সালের মতো অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময় শেষ হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে বাজার আরও অনিশ্চিত হওয়ার আগেই বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন। মহামারির সময় ন্যাশভিলে বাড়ির দাম বছরে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। তখন শহরের একটি সাধারণ বাড়ির দাম ছিল চার লাখ ডলারেরও কম। কিন্তু বর্তমানে সেই দাম বেড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছালেও গত জুন পর্যন্ত এক বছরে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ নতুন আবাসন নির্মাণ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। অন্যদিকে বাড়ির উচ্চ মূল্য ও মর্টগেজ ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাজার থেকে সরে গেছেন। এতে দরকষাকষির ক্ষমতা এখন পুরোপুরি ক্রেতাদের দিকে চলে গেছে। সানচেজ জানান, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া ও শিকাগো থেকে এখনো কিছু মানুষ ন্যাশভিলে বসবাসের জন্য আসছেন। তবে মহামারির সময় নিউইয়র্ক থেকে যে বড় ঢল নেমেছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। শুধু দাম কমানো নয়, এখন ক্রেতারা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ক্লোজিং খরচ বহন, বাড়ি মেরামতের ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও আদায় করে নিচ্ছেন। নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে অনেক নির্মাতা ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ স্থির সুদের বিশেষ মর্টগেজ সুবিধা ও ক্লোজিং খরচে সহায়তা দিচ্ছেন। সম্প্রতি সানচেজ প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া এক দম্পতিকে মূল্যায়িত দামের চেয়ে ১৫ হাজার ডলার কম দামে একটি বাড়ি কিনতে সহায়তা করেছেন। শুধু তাই নয়, ওই লেনদেনে বিক্রেতা পুরো ক্লোজিং খরচ বহন করেছেন এবং বিক্রির আগে প্রয়োজনীয় মেরামতও সম্পন্ন করতে সম্মত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার আরেকজন ক্রেতা তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে ৬০ হাজার ডলার কম দামে একটি বাড়ি কেনার চুক্তি করেছেন। কয়েক বছর আগে একই ধরনের ক্রেতাদের একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতো, যেখানে দরকষাকষির সুযোগ প্রায় থাকত না। অ্যারন গ্লিকেনের মতে, বর্তমানে যেসব বিক্রেতা বাড়ি রং করা, ছোটখাটো সংস্কার ও প্রয়োজনীয় মেরামত সম্পন্ন করে বাজারে আনছেন, তাদের বাড়ি তুলনামূলক দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। কারণ এখনকার ক্রেতারা এমন বাড়িই বেশি পছন্দ করছেন, যেখানে কেনার পর অতিরিক্ত কোনো কাজ করতে হবে না। রেডফিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে ন্যাশভিলের আবাসন বাজারে যে বড় ধরনের মূল্যসংশোধন শুরু হয়েছে, তা এখনো চলমান। ফলে আগের মতো চাহিদার জোয়ারে বাড়ি বিক্রির দিন আপাতত শেষ, আর বর্তমান বাজারে সঠিক মূল্য নির্ধারণই বিক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ ঘোষিত আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে একযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে আগের শুল্কনীতির আইনি ভিত্তি বাতিল হওয়ার পর প্রশাসন নতুন নামে একই ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছে, যা আইনসম্মত নয়। সোমবার দায়ের করা মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউস নতুন শুল্ক আরোপের যে আইনি যুক্তি দেখিয়েছে, তা মূলত আগের বাতিল হওয়া নীতিকে ভিন্ন উপায়ে কার্যকর করার প্রচেষ্টা। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বে আরোপ করা অনেক শুল্কের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আইনি ভিত্তি প্রেসিডেন্টকে ওই ধরনের কর আরোপের ক্ষমতা দেয় না। সেই রায়ের পরই নতুন শুল্ক ঘোষণাকে ঘিরে আইনি বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পরও প্রশাসন আবারও পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধভাবে নতুন করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা করছে।” গত মাসের শেষ দিকে হোয়াইট হাউস নতুন শুল্কের ঘোষণা দেয়। প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যায্য আচরণ এবং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রেসিডেন্টের বিদ্যমান ক্ষমতার আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। তাই বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী আরোপিত শুল্ক বৈধ এবং প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদ থেকেই এটি কার্যকর ও টেকসই একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্কের হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর প্রযোজ্য হবে, যেগুলো মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ সরবরাহ করে। নতুন ব্যবস্থায় কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো ও তাইওয়ানের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এটি নতুন শুল্ককে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা নয়। গত ২৩ জুলাই শুল্ক ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও পৃথক দুটি মামলা করে। সেসব মামলায়ও অভিযোগ করা হয়, নতুন শুল্ক কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং হোয়াইট হাউস ব্যাখ্যা দিতে পারেনি, কীভাবে এই ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে জোরপূর্বক শ্রম কমাতে কার্যকর হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াই শুধু শুল্ক নীতির বৈধতাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য-সংক্রান্ত নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতি কার্যকর থাকবে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন ও ব্যবসায়িক (বি-১/বি-২) ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড বা জামানত নীতিতে আরও পাঁচটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ফলে নির্ধারিত দেশের নাগরিকদের ভিসা পাওয়ার আগে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত দিতে হতে পারে। রেডিও নিউজিল্যান্ড ও মার্কিন সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন সংযোজনের ফলে ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, টোঙ্গা, টুভালু ও ভানুয়াতুসহ মোট পাঁচটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ এই নীতির আওতায় এসেছে। এছাড়া বিশ্বের মোট ৫০টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই ভিসা বন্ড প্রযোজ্য হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে এই জামানত চাইতে পারবেন। নতুন স্থায়ী নিয়মে সর্বনিম্ন ৫ হাজার ডলারের স্তর বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। এই জামানত সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। শুধুমাত্র নির্ধারিত দেশের যেসব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করবেন, তাদেরই ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে এবং ভিসার শর্ত মেনে চললে এই অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো ভিসার অপব্যবহার ও অতিরিক্ত অবস্থান (ওভারস্টে) কমানো। তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, এত বড় অঙ্কের জামানত অনেক বৈধ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী ও পরিবারকে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং এটি তুলনামূলক দরিদ্র দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। মার্কিন সরকারের চূড়ান্ত নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা বন্ড কর্মসূচি ৩ আগস্ট থেকে স্থায়ীভাবে কার্যকর হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এই তালিকায় নতুন দেশ যুক্ত বা বিদ্যমান দেশ বাদ দেওয়ার ক্ষমতাও পররাষ্ট্র দপ্তরের হাতে থাকবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিতও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষায়, এটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নৌ চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়নি। তেহরান বলছে, শুধু ওমানের সঙ্গে সমঝোতা হলেই নৌপথ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে না। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে তেহরানের সর্বশেষ অবস্থান সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা আলোচনার অনুরোধ নেই। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। তাই এই নৌপথের নিরাপত্তা এবং চলাচল স্বাভাবিক রাখা আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকদের মত।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে ট্রাফিক নিরাপত্তা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠেছে। প্রস্তাবটি পাস হলে শহরের অধিকাংশ এলাকায় লাল বাতি জ্বললে গাড়িচালকরা আর ডান দিকে মোড় নিতে পারবেন না। বর্তমানে টেনেসি আইনে সম্পূর্ণ থেমে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে অধিকাংশ মোড়ে লাল বাতিতে ডান দিকে ঘোরার অনুমতি রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএন ও অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিল মেট্রো কাউন্সিলের সদস্য স্যান্ড্রা সেপুলভেদা এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করেছেন। তার দাবি, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং দুর্ঘটনা কমানো। বর্তমানে ন্যাশভিলে চালকেরা লাল বাতিতে সম্পূর্ণ থেমে নিরাপদ মনে হলে ডান দিকে মোড় নিতে পারেন, যদি সেখানে ‘নো টার্ন অন রেড’ সাইন না থাকে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে শহরের আরবান সার্ভিসেস ডিস্ট্রিক্টের অধিকাংশ মোড়ে এই সুবিধা বাতিল হবে। প্রস্তাবটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি কার্যকর হতে হলে মেট্রো কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। ন্যাশভিল ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (এনডিওটি) এবং পুলিশ বিভাগও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মতামত দেয়নি। তবে কাউন্সিল সদস্য সেপুলভেদা বলেছেন, শহরের বিভিন্ন পথচারী নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আগে থেকেই এমন সুপারিশ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে ইতোমধ্যে একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে শহরজুড়ে লাল বাতিতে ডান দিকে মোড় নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে আটলান্টা ও সান ফ্রান্সিসকোতে পথচারীর চাপ বেশি এমন এলাকায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। এদিকে, প্রস্তাবটি নিয়ে ন্যাশভিলবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে সমর্থন করছেন, আবার অনেকের মতে এতে অপ্রয়োজনীয় যানজট বাড়তে পারে এবং বিদ্যমান ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করাই বেশি জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড-নীতি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই, অর্থাৎ ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে—এমন দাবি করে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আর্কটিক দ্বীপটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তার প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা, আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার এবং বিরল খনিজ সম্পদের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় থাকায় এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক বা নিরাপত্তা-ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তবে এটি মূলত একটি বিশ্লেষণ ও সম্ভাবনার মূল্যায়ন; যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি। গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। দ্বীপটির সরকার ও ডেনমার্ক বারবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ডের জনগণের। সাম্প্রতিক সময়েও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত এবং উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের সংযোগস্থলে এর কৌশলগত অবস্থান রয়েছে। এছাড়া বিরল খনিজ সম্পদ ও সামরিক গুরুত্বের কারণে বহু বছর ধরেই এটি আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নিউজউইকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে আগের চেয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নিলেও বাস্তবে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হলে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক আইনের জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই বিষয়টি এখনো মূলত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিনব ধরনের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে চীনের কিছু বেসরকারি সামার ক্যাম্প। সেখানে সম্ভাব্য অপহরণ, ঘৃণাজনিত হামলা, অনলাইন প্রতারণার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর আকস্মিক অভিযানের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়াও করানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় এসব প্রশিক্ষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের সময় শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতির মতো পরিবেশে বিভিন্ন জরুরি অবস্থার মুখোমুখি করা হয়। কোথাও ‘অপহরণ’ পরিস্থিতির অভিনয়, কোথাও আবার আইসিই কর্মকর্তাদের অভিযানের অনুকরণে মহড়া দেওয়া হয়। প্রশিক্ষকদের দাবি, এসব অনুশীলনের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করা নয়; বরং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্ত থাকতে হবে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা শেখানো। দক্ষিণ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বেইজিংয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার আগে তিনি এমন একটি ক্যাম্পে অংশ নেন। সেখানে তাকে অপহরণের কৃত্রিম পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হয় এবং পরে প্রশিক্ষকরা ব্যাখ্যা করেন, সংকটময় মুহূর্তে কীভাবে আচরণ করলে ঝুঁকি কমানো যায়। ক্যাম্প পরিচালকদের ভাষ্য, তাদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসে হয়রানি, প্রতারণা, বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলা এবং আকস্মিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মতো পরিস্থিতি নিয়ে সচেতনতামূলক অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত কিছু ঝুঁকির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে অপহরণের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, কিছু মহড়া সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় অতিরঞ্জিত হতে পারে। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতি, অবস্থানের মেয়াদ এবং অভিবাসন প্রয়োগে কঠোরতার কারণে চীনা পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছেন
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে ৬ বছর বয়সী শিশু লোগান টিপটন হত্যাকাণ্ডে জড়িত রোনাল্ড এক্সান্টাস কারামুক্ত হওয়ায় নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিশুটির পরিবার বলছে, বিচারব্যবস্থা তাদের সঙ্গে অন্যায় করেছে। অন্যদিকে কেন্টাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালত নির্ধারিত সাজা সম্পূর্ণ হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর কেন্টাকির ভার্সেইলস শহরের একটি বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ৬ বছর বয়সী লোগান টিপটনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন রোনাল্ড এক্সান্টাস। হামলায় শিশুটির বাবা এবং দুই বোনও গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আদালতে হত্যার অভিযোগে তাকে 'মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে দায়মুক্ত' ঘোষণা করা হয়। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাভোগের সময় আইন অনুযায়ী বিভিন্ন সাজা-ছাড়ের সুবিধা পাওয়ায় তার মুক্তির সময় এগিয়ে আসে। এটি এক্সান্টাসের প্রথম মুক্তি নয়। ২০২৫ সালে তিনি বাধ্যতামূলক তত্ত্বাবধান কর্মসূচির আওতায় মুক্তি পেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ফ্লোরিডায় গিয়ে নিবন্ধন-সংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করায় তাকে আবার গ্রেপ্তার করে কেন্টাকিতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে বাকি সাজা শেষ করে এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান। লোগানের বাবা ডিন টিপটন ছেলের হত্যাকারীর মুক্তিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের পরিবার আজীবনের শাস্তি ভোগ করছে, অথচ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি মুক্ত জীবন ফিরে পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কেন্টাকিতে 'লোগানস ল' নামে একটি আইন পাস হয়েছে। নতুন আইনে সহিংস অপরাধীদের সাজা, প্যারোল এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতার প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। তবে আইনটি পূর্ববর্তী মামলায় প্রযোজ্য না হওয়ায় এক্সান্টাস এর আওতায় পড়েননি। কেন্টাকি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস জানিয়েছে, এক্সান্টাসকে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়নি এবং প্যারোল বোর্ডও তাকে মুক্ত করেনি। আদালতের দেওয়া সাজা পূর্ণ হওয়ার পর বিদ্যমান আইন অনুসারেই তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সিরিয়াল কিলারের সংখ্যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি হলেও দেশটির সব রাজ্যে ঝুঁকি সমান নয়। জনসংখ্যার অনুপাতে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিরিয়াল কিলারের ঘনত্বের দিক থেকে সবার ওপরে রয়েছে ওয়াইওমিং। ফলে জনসংখ্যার তুলনায় এ রাজ্যে সিরিয়াল কিলারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো রাজ্যের চেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পরিচিত সিরিয়াল কিলারের সংখ্যা, জনসংখ্যা এবং ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ওয়াইওমিংয়ে প্রতি ১০ লাখ মানুষের বিপরীতে প্রায় ১৩ দশমিক ৫৯ জন পরিচিত সিরিয়াল কিলারের রেকর্ড রয়েছে। অর্থাৎ গড় হিসাবে প্রতি ৭৩ হাজার ৫৮৪ জনে একজন পরিচিত সিরিয়াল কিলারের অনুপাত দাঁড়ায়। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আলাস্কা, যেখানে প্রতি ১০ লাখ মানুষের বিপরীতে ১২ দশমিক ২১ জন পরিচিত সিরিয়াল কিলারের তথ্য রয়েছে। এরপর রয়েছে ওরেগন, মন্টানা ও মিসৌরি। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতেই তুলনামূলক বেশি ঘনত্ব লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে মোট সংখ্যার বিচারে চিত্রটি ভিন্ন। ক্যালিফোর্নিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বাধিক ১২৮ জন পরিচিত সিরিয়াল কিলারের রেকর্ড রয়েছে। এরপর রয়েছে টেক্সাস (৯০) ও ফ্লোরিডা (৭৬)। তবে এসব রাজ্যের জনসংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় মাথাপিছু হিসাবে তাদের অবস্থান শীর্ষে নয়। একইভাবে নিউইয়র্কে ৩৯ জন পরিচিত সিরিয়াল কিলার ও শত শত ভুক্তভোগীর রেকর্ড থাকলেও জনসংখ্যার কারণে মাথাপিছু হিসাবে রাজ্যটির অবস্থান নিচের দিকে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসজুড়ে পরিচিত সিরিয়াল কিলারের সংখ্যা ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি, যা বিশ্বের মোট পরিচিত সিরিয়াল কিলারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। তবে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই পরিসংখ্যান ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং বর্তমানে সক্রিয় সিরিয়াল কিলারের সংখ্যা বোঝায় না। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এমন তথ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত আতঙ্ক তৈরির জন্য নয়। বাস্তবে একজন আমেরিকানের সিরিয়াল কিলারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা এখনও অত্যন্ত কম। পাশাপাশি অপরাধবিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি, ডিএনএ বিশ্লেষণ, নজরদারি ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বাড়ির দাম এখনও তুলনামূলক বেশি থাকলেও বিক্রির জন্য বাজারে বাড়ির সরবরাহ সীমিত। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ‘লক-ইন ইফেক্ট’—অর্থাৎ কম সুদের মর্টগেজ ধরে রাখতে বাড়ির মালিকদের অনীহা। সাম্প্রতিক আবাসন বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যাদের সক্রিয় হোম মর্টগেজ রয়েছে, তাদের বড় একটি অংশ ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নেওয়া ঋণের সুবিধা ভোগ করছেন। সে সময় মর্টগেজ সুদের হার ছিল ঐতিহাসিকভাবে কম, অনেক ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে। এমনকি অধিকাংশ ঋণগ্রহীতার সুদের হার এখনও ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে নতুন ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশের বেশি পর্যায়ে অবস্থান করছে। ফলে কেউ যদি এখন নিজের পুরনো বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়ি কেনেন, তবে তাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুদে নতুন ঋণ নিতে হবে। এতে মাসিক কিস্তির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এই কারণেই অনেক বাড়ির মালিক বর্তমান বাড়ি বিক্রি না করে সেটিতেই বসবাস চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আবাসন বাজারে এই প্রবণতাকে ‘লক-ইন ইফেক্ট’ নামে অভিহিত করা হয়। এর ফলে বিক্রির জন্য নতুন বাড়ির সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের ওপর। বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ি কম থাকায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং অনেক এলাকায় মূল্যও উচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে। অন্যদিকে, যাদের আগে থেকেই কম সুদের মর্টগেজ রয়েছে, তারা নতুন ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান ঋণ ধরে রাখছেন। অনেক পরিবার নতুন বাড়ি কেনার বদলে বর্তমান বাড়ি সংস্কার বা সম্প্রসারণের পথ বেছে নিচ্ছেন। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদের হার কমালে আবাসন বাজারে কিছুটা গতি ফিরতে পারে। তবে ২০২১-২২ সালের মতো ৩ থেকে ৪ শতাংশের অত্যন্ত কম মর্টগেজ সুদের হার অদূর ভবিষ্যতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই সীমিত বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যারা এখন বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তারা আগে থেকেই স্থানীয় ঋণদাতার কাছ থেকে প্রি-অ্যাপ্রুভাল নিয়ে রাখুন এবং ভালো ক্রেডিট স্কোর বজায় রাখুন। এতে অনুকূল সুদে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির সুযোগ পেতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা) পর্যন্ত ফি নেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ফি যুক্ত করা হতে পারে ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ কর্মসূচির সঙ্গে। এই কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর সাধারণত ১ বছর এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে স্নাতকেরা সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থেকে কাজ করার সুযোগ পান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পর্যায়ে আলোচনাধীন। হোয়াইট হাউস চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে কি না, সেটিও এখনও নিশ্চিত নয়। এছাড়া এই অর্থ শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় নাকি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান—কে বহন করবে, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো নীতিকেই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা না করার কথা জানিয়েছে ডিএইচএস। এদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভিসা ও অভিবাসন নীতি প্রতিটি দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত হলেও ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরবে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আর্থিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এর ফলে কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে বিপুল আয় করা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এতে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের বহু প্রতিষ্ঠান, যারা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করা বিদেশি মেধাবীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে, তারাও দক্ষ কর্মী নিয়োগে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি বৈধ অভিবাসন ও শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা বিধি, অবস্থানের সময়সীমা এবং কর্মসংস্থানের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই প্রস্তাবকে সেই বৃহত্তর অভিবাসন নীতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ফোরসাইথ কাউন্টির এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী অভিযোগ করেছেন, সড়কে একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তি তাকে এবং তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধাওয়া করেন এবং বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশ প্রতিবেদন দায়ের হয়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি। এনআরআই পালসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ জুলাই বিকেলে জনস ক্রিক ও আলফারেটা এলাকার স্টেট ব্রিজ রোডে ঘটনাটি ঘটে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী জানান, তিনি গাড়ি চালানোর সময় একটি সাদা রঙের নিসান সেন্ট্রা গাড়িকে ডান দিকে মোড় নেওয়ার লেনে ঢোকার সুযোগ করে দেন। তার দাবি, এর কিছুক্ষণ পরই ওই গাড়ির চালক জানালার কাচ নামিয়ে এমন একটি হাতের ইশারা করেন, যাতে তার মনে হয় লোকটির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। পরিস্থিতি এড়াতে তিনি লেন পরিবর্তন করলেও অভিযুক্ত চালক বারবার তার গাড়ির সামনে আসার চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে রাস্তার চিহ্ন অতিক্রম করে তার পথ রোধ করারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওল্ড মিল্টন পার্কওয়ের কাছে একটি লাল বাতিতে গাড়ি থামলে ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করতে থাকেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, "ভারতে ফিরে যাও। এটা তোমার জায়গা নয়।" পাশাপাশি আরও অবমাননাকর মন্তব্যও করেন। তিনি বলেন, আশপাশে অনেক মানুষ থাকলেও যানজটের কারণে তিনি সেখান থেকে সরে যেতে পারেননি। পরিস্থিতি আরও খারাপ না করতে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তার অভিযোগ, সিগন্যাল ছাড়ার পরও ওই ব্যক্তি তার গাড়িকে অনুসরণ করতে থাকেন। নিজের বাসার অবস্থান প্রকাশ হয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি নিজের আবাসিক এলাকায় না গিয়ে উড ব্রিজ অ্যাপার্টমেন্টস এলাকায় যান এবং সেখান থেকে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। তিনি বলেন, "আমার ১২ বছরের মেয়েও গাড়িতে ছিল। আমরা দুজনই খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমি চাইনি সে জানতে পারুক আমরা কোথায় থাকি।" নারীর দাবি, ৯১১-এ কথা বলার সময় তিনি গাড়ির জানালা নামানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে চলে যান। তিনি গাড়িটির কয়েকটি ছবি তুলতে সক্ষম হলেও নম্বরপ্লেট পুরোপুরি দেখতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নম্বরপ্লেটের শুরুতে ইংরেজি 'C' অক্ষর ছিল। তিনি চালককে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, পরিষ্কার মুখের, শ্বেতাঙ্গ পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের কাছের ট্রাফিক ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন। পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ফোনে তার সঙ্গে কথা বললেও ঘটনাস্থলে কেউ আসেননি। সন্দেহভাজন ব্যক্তি চলে যাওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশ প্রতিবেদনও করা হয়নি। গত ১২ বছর ধরে আটলান্টা মহানগর এলাকায় বসবাসকারী ওই নারী একটি আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বলেন, তিনি সবসময় সতর্কভাবে গাড়ি চালান এবং অন্য নারীদেরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করেন। বর্তমানে তিনি আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এ ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে জনস ক্রিক পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।