যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত।
ইন্ডিয়ানা ও ওহাইও প্রাইমারিতে জয়: নির্বাচনী লড়াইয়ে চমক ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা এবং ওহাইও অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে আবারও নিজের রাজনৈতিক দাপট প্রমাণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার লিটমাস টেস্ট হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যেখানে বড় জয় পেয়েছেন তার সমর্থিত প্রার্থীরা। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা, যারা জেলা পুনর্নির্ধারণ বা 'রিস্ট্রিক্টিং' পরিকল্পনায় তার বিরোধিতা করেছিলেন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ট্রাম্প সমর্থিত চ্যালেঞ্জারদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন একাধিক অভিজ্ঞ রিপাবলিকান সিনেটর। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলের ভেতরে ট্রাম্পবিরোধীদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। অন্যদিকে, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে রিপাবলিকান দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন বিবেক রামাস্বামী। প্রযুক্তি খাতের এই উদ্যোক্তা এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রামাস্বামী এখন মূল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের মুখোমুখি হবেন। ওহাইওতে সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সহজ জয় পেয়েছেন শেরড ব্রাউন, যা আগামী দিনে ওহাইওতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্ডিয়ানা এবং ওহাইও-র এই ফলাফল প্রমাণ করে যে রিপাবলিকান পার্টির ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ এখনো অটুট। বিশেষ করে দলের ভেতরের বিদ্রোহীদের হটিয়ে ট্রাম্প অনুসারীদের এই জয় আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা ৩ বছরের জন্য বন্ধের প্রস্তাব: বিপাকে পড়তে পারেন কয়েক লাখ বিদেশি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমাতে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একটি গ্রুপ এই ভিসা কার্যক্রম তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেছে। 'এন্ড এইচ-১বি ভিসা অ্যাবিউজ অ্যাক্ট ২০২৬' (End H-1B Visa Abuse Act of 2026) শীর্ষক এই বিলটি উত্থাপন করেন অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন। তার সাথে আরও সাতজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই বিলে সমর্থন জানিয়েছেন। বিলের মূল প্রস্তাবনাসমূহ: ১. ভিসা স্থগিত: আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কোনো এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হবে না। ২. কোটা হ্রাস: বার্ষিক ভিসার সংখ্যা ৬৫ হাজার থেকে কমিয়ে মাত্র ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। ৩. ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি: এইচ-১বি ভিসা পেতে হলে কর্মীর ন্যূনতম বার্ষিক বেতন হতে হবে ২ লাখ মার্কিন ডলার। ৪. নির্ভরশীলদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: ভিসা ধারীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের (H-4 ভিসা) যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারবেন না। ৫. লটারি প্রথার বিলুপ্তি: বর্তমান লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৬. স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বন্ধ: এইচ-১বি ভিসা থাকা অবস্থায় গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনের সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিলের উদ্যোক্তা এলি ক্রেন বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত বড় কর্পোরেশনগুলোর মুনাফার দিকে না তাকিয়ে সাধারণ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের দিকে নজর দেওয়া। এই বিলটি মার্কিন নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে।" বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলটি পাশ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারত ও বাংলাদেশের আইটি পেশাদাররা। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিসহ বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তবে বিলটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি আইনে পরিণত হতে কংগ্রেস ও সিনেটের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার করতে হবে। প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোর নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মেধাবী কর্মী সংকটে পড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
নাহিদা বৃষ্টি
নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
জামিল লিমন
পহেলা বৈশাখে মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল জামিলের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংসভাবে নিহত বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে চলছে শোকের মাতম। সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির (ইউএসএফ) এই ডক্টরাল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকে তার বাবা-মা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। নিহত জামিলের মা লুৎফন হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে জানান, গত পহেলা বৈশাখে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল ছেলের সঙ্গে। প্রবাসে পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি জামিলের টান ছিল অটুট। সেদিন ফোন করে মায়ের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, "মা, তুমি কি পান্তা-ইলিশ খেয়েছ?" সেই পান্তা-ইলিশের স্মৃতিই এখন মায়ের কাছে বড় যন্ত্রণার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামিলের পৈতৃক নিবাস জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মহিষবাতান এলাকায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তার পরিবার ঢাকার মাওয়ায় বসবাস করছে। তার বাল্যবন্ধু জসিম উদ্দিন জানান, জামিল ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। এমন একজন মানুষের এমন করুণ পরিণতি কেউ মেনে নিতে পারছেন না। উল্লেখ্য, শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে জামিল লিমনের দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের সাবেক রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে জামিলের মা-বাবা শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে নিভৃতে অবস্থান করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, যেসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে মার্কিন করদাতার অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেসব দেশের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশ কেবল ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ট্যুরিস্ট (পর্যটন) বা স্টুডেন্ট (শিক্ষা) ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া (Vetting process) আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই পর্যালোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিশর, রাশিয়া এবং থাইল্যান্ডসহ মোট ৭৫টি দেশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াতে ব্যয় হচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিয়া এখন আর কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত এবং কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিশাল শিল্পে পরিণত হয়েছে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR) এর ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং নেটওয়ার্ক সুপরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে মিথ্যা তথ্য ছড়াতে, গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালাতে এবং মুসলিম বিরোধী নীতি প্রণয়নে নীতি-নির্ধারকদের প্রভাবিত করতে। CAIR-এর তথ্যমতে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে অন্তত ২৬টি ইসলামোফোবিক গ্রুপকে প্রায় ১০৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ মূলত বিভিন্ন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন ও প্রভাবশালী দাতাদের কাছ থেকে এসেছে। এই নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে মুসলিমদের সম্পর্কে ভয় এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমানে এই বিদ্বেষ কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা বা গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ করার কারণেও অনেক আমেরিকান মুসলিম এবং মানবাধিকার কর্মীরা চরম বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের 'ভিউ পয়েন্ট ডিসক্রিমিনেশন' বা মতাদর্শিক বৈষম্য মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের পরিকল্পিত ঘৃণা ছড়ানোর ফলে মুসলিম আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার হুমকির মুখে পড়ছে। এটি কেবল একটি ধর্মের মানুষের বিরুদ্ধে নয়, বরং আমেরিকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপরও বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী: জামিনের পর নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুও নিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বিষয়টি জানান তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তিনি লিখেছেন, “আমার বোন আর আমাদের সঙ্গে নেই, ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাহি রাজিউন।”   এর আগে শুক্রবার ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস।   পুলিশ জানায়, লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়াকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লোরিডার একটি ব্রিজ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত হয়।   পুলিশের হেফাজতে থাকা হিশাম আবুঘারবিয়া, যিনি ইউএসএফ-এর সাবেক শিক্ষার্থী, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রয়েছেন।   নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।   উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইউএসএফ-এ পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে জামিল লিমনও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা দুজনই গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।   এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যেও এই খবর তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।   আরেক শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এই ক্যাম্পাসকে সবসময় নিরাপদ মনে হতো। কিন্তু এমন ঘটনার পর এখন ভয় কাজ করছে।”   জামিল লিমন ক্যাম্পাসের উত্তরে ‘অ্যাভালন হাইটস’ অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। তার এক প্রতিবেশী জানান, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন নিখোঁজ দুজন হয়তো কোথাও গেছেন।   কিন্তু পরে ঘটনার ভয়াবহতা বুঝে সবাই শোকাহত হয়ে পড়েন।   ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো গ্রিনকার্ড যাচাইয়ে কড়াকড়ি — উদ্বেগে লাখো অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো গ্রিনকার্ড যাচাইয়ে কড়াকড়ি — উদ্বেগে লাখো অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো গ্রিনকার্ডধারীদের নথিপত্র পুনরায় যাচাই করা হতে পারে—এমন খবরে অভিবাসী সমাজে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএস সিটিজেনশিপ আন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস কিছু পুরোনো অনুমোদিত গ্রিনকার্ড ও স্থায়ী বসবাসের কেস পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ নিতে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব আবেদনপত্রে ভুল তথ্য, জাল কাগজপত্র, প্রতারণা, পরিচয় গোপন করা কিংবা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির অভিযোগ রয়েছে, সেসব কেস নতুন করে খতিয়ে দেখা হতে পারে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ নিয়ম মেনে বৈধভাবে গ্রিনকার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি সব গ্রিনকার্ডধারীদের বিরুদ্ধে গণতদন্ত নয়। বরং যেসব কেসে আগে থেকেই প্রশ্ন রয়েছে বা অসঙ্গতির অভিযোগ আছে, মূলত সেগুলোই পুনরায় যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, যদি কেউ সঠিক তথ্য দিয়ে গ্রিনকার্ড পেয়ে থাকেন, নিয়মিত কর পরিশোধ করেন, গুরুতর অপরাধে জড়িত না থাকেন এবং আইন মেনে চলেন, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।   অন্যদিকে, আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, জাল নথি ব্যবহার, ভুয়া বিবাহ দেখিয়ে সুবিধা নেওয়া, দীর্ঘ সময় ঠিকানা গোপন রাখা বা গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মতো ঘটনা থাকলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে সরকার গ্রিনকার্ড বাতিল বা আইনি পদক্ষেপও নিতে পারে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয়সহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটিতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনকার্ডধারী অনেকেই জানতে চাইছেন, পুরোনো ফাইল কি সত্যিই আবার খোলা হবে?   বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি বাড়ানোর রাজনৈতিক আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সব পুরোনো গ্রিনকার্ডধারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক যাচাই অভিযান শুরুর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অতিরঞ্জিত খবর দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি সূত্রের তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   গ্রিনকার্ডধারীদের জন্য পরামর্শ * সব গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ করুন * নিয়মিত কর পরিশোধ ও রেকর্ড রাখুন * ঠিকানা পরিবর্তন হলে দ্রুত আপডেট করুন * দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে আইনগত পরামর্শ নিন * কোনো সরকারি নোটিশ পেলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন   অভিবাসী সমাজের অনেকে বলছেন, “আইন মেনে চললে ভয় নেই, তবে সচেতন থাকা জরুরি।”

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, ৮ দিনেও মেলেনি সন্ধান

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী গত আট দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। এ অবস্থায় স্থানীয় পুলিশ সর্বসাধারণের সহায়তা চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।   নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলেন জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তারা দুজনই সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে প্রায় দুই বছর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রে যান।   পুলিশ জানায়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। লিমনকে সর্বশেষ ওই দিন সকাল ৯টার দিকে টেম্পা শহরের বাসায় দেখা যায়। অন্যদিকে বৃষ্টিকে সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেম্পা ক্যাম্পাসে সর্বশেষ দেখা গেছে।   বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা ল্যারি ম্যাককিনন জানান, পরিবারের সদস্যরা ১৭ এপ্রিল বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানান। এর আগে ২৪ ঘণ্টা ধরে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনরা। এরপর পুলিশ সম্ভাব্য সব উপায়ে খোঁজ চালিয়েও তাদের সন্ধান পায়নি।   পুলিশ আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো অপরাধের আলামত মেলেনি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং গোয়েন্দারা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ের নিখোঁজ ব্যক্তিদের ডেটাবেসেও তাদের তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।   লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন। তবে পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত ছিল তাদের।   লিমন জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এবং বৃষ্টি কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছেন। তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেউ তাদের সন্ধান পেলে ৮১৩-৯৭৪-২৬২৮ নম্বরে ফ্লোরিডা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে জন্ম নেওয়া শত শত মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলে জোরালো উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এবং বিদেশে জন্মগ্রহণকারী শত শত ন্যাচারালাইজড নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের এক নজিরবিহীন ও জোরালো প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান' জানিয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) বর্তমানে প্রায় ৩৮৪ জন নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, নাগরিকত্ব অর্জনের পথে যেকোনো ধরনের অসততা বা তথ্য গোপনকে তারা কঠোরভাবে দমন করবে। যদিও এই পদক্ষেপ বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তবে প্রশাসন একে "আইনের শাসন" রক্ষার একটি অংশ হিসেবেই দাবি করছে।    প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্যানুযায়ী, এই সাঁড়াশি অভিযান মূলত তাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তথ্য জালিয়াতি করেছেন। বিশেষ করে যারা নাগরিকত্ব আবেদনের সময় নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড গোপন করেছেন, জাল কাগজপত্র দাখিল করেছেন কিংবা কেবল গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ভুয়া বৈবাহিক সম্পর্ক (Marriage Fraud) দেখিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এই ৩৮৪ জন নাগরিক কেবল "প্রথম তরঙ্গের" অংশ; ভবিষ্যতে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের একটি অংশ একে "হোয়াইট হাউসের নিজস্ব উদ্যোগ" হিসেবে বর্ণনা করলেও সরকারি মুখপাত্ররা বলছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয় বরং প্রচলিত ফেডারেল আইনের যথাযথ প্রয়োগ মাত্র।   যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, চাইলেই প্রশাসন একক সিদ্ধান্তে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারে না। এর জন্য ফেডারেল আদালতে প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে আলাদাভাবে মামলা দায়ের করতে হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। বিচারক যদি সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হন যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিয়েছেন, তবেই তা বাতিল করার আদেশ দেওয়া সম্ভব। নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া ব্যক্তিকে তখন তার পূর্ববর্তী অভিবাসন স্ট্যাটাসে ফিরে যেতে হয়, যা তাকে সরাসরি নির্বাসনের (Deportation) ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। ২০২৬ সালের এই বিশেষ অভিযান বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, কারণ এর আগে বছরে গড়ে মাত্র গুটি কয়েক নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দেখা যেত।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে অনেকেই তাদের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখছেন। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও গণ-নির্বাসন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়াটি ভোটারদের কাছে একটি কঠোর বার্তা দেওয়ার রাজনৈতিক কৌশল। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, এ ধরনের গণ-মামলার প্রস্তুতি বৈধভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া লাখো মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকান সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যারা কোনো তথ্য গোপন না করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পেয়েছেন তাদের ভয়ের কারণ নেই, তবে নথিপত্রে কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কড়াকড়ি শিথিল, গাঁজা সেবনে বৈধতা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল মাদক নীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগ গাঁজাকে কম বিপজ্জনক মাদকের তালিকায় পুনর্নির্ধারণ করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজা 'শিডিউল-১' ভুক্ত মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল, যা হেরোইন বা এলএসডি-র মতো উচ্চ বিপজ্জনক মাদকের সমপর্যায়ভুক্ত। তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এটিকে 'শিডিউল-৩' ভুক্ত মাদকের তালিকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এই তালিকায় সাধারণত সেইসব ড্রাগ বা ওষুধ থাকে যা চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং আসক্তির ঝুঁকি তুলনামূলক কম, যেমন— কেটামিন বা কোডিন মিশ্রিত টাইলেনল। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে গাঁজা নিয়ে গবেষণার পথ আরও প্রশস্ত হবে এবং যেসব অঙ্গরাজ্যে গাঁজা বৈধ, সেখানকার ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের কর সুবিধা পাবেন। যদিও এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে গাঁজা পুরোপুরি বৈধ হয়ে যাচ্ছে, তবে এটি ফেডারেল পর্যায়ে গাঁজার প্রতি দীর্ঘদিনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের একটি বড় সংকেত। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে গাঁজা শিল্পের প্রভাব আরও বাড়বে এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার সহজতর হবে। বর্তমানে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য হোয়াইট হাউসের বাজেট দপ্তরের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শ্রেণিকক্ষে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক বৈধ—আপিল আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার আইন বৈধ বলে রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। মঙ্গলবার দেওয়া এ রায়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় উপাদান যুক্ত করার পক্ষে থাকা রক্ষণশীল মহলের বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।   রায়ে বলা হয়েছে, টেক্সাসের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করে না। এই সংশোধনী ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং রাষ্ট্রকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত রাখে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে বিষয়টি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে গড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইতিমধ্যে আরকানসাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের আইন পাস হয়েছে, যেগুলো আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আলাবামা অঙ্গরাজ্যের গভর্নরও সম্প্রতি অনুরূপ একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন।   টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এই রায়কে “টেক্সাস ও আমাদের নৈতিক মূল্যবোধের জন্য বড় বিজয়” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “দশ আদেশ আমাদের জাতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন তা থেকে শিক্ষা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।”   অন্যদিকে, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু মাহালেরিস এই আইনকে “সাধারণ বুদ্ধির প্রতিফলন” এবং দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।   তবে আইনটির বিরোধিতা করা পরিবারগুলোর পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো, যার মধ্যে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নও রয়েছে, রায়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করে।   তারা আরও বলেছে, সংবিধান পরিবারগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করে—তারা কখন, কীভাবে এবং আদৌ সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদেরই। এই রায় সেই অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।   এর আগে একটি জেলা আদালত স্কুলগুলোতে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন স্থগিত করেছিল। তবে আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে। রায়ে আরও বলা হয়, এই আইন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কী বিশ্বাস করতে হবে বা কীভাবে উপাসনা করতে হবে—সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয় না।   এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো শিক্ষার্থীকে ‘দশ আদেশ’ আবৃত্তি করতে, তা বিশ্বাস করতে বা এর ঐশ্বরিক উৎস স্বীকার করতে বাধ্য করা হচ্ছে না। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে টেক্সাসে এই আইন কার্যকর হয়, যা দেশজুড়ে সরকারি স্কুলে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   যদিও কিছু স্কুল জেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল, তবুও নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই অনেক শ্রেণিকক্ষে এটি টাঙানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি নেয় আপিল আদালত। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে লুইজিয়ানার আইনের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়।   লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সামাজিক মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের আইন সবসময়ই সংবিধানসম্মত ছিল, এবং আপিল আদালত সেটি নিশ্চিত করায় আমি কৃতজ্ঞ।” অন্যদিকে, আরকানসাসেও একই ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলেও সেখানে একটি ফেডারেল আদালত সম্প্রতি সেটি স্থগিত করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদনে প্রত্যাখ্যানের হিড়িক: উদ্বেগে প্রবাসী বাংলাদেশীরা

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম প্রত্যাশীদের জন্য সময়টা এখন চরম চ্যালেঞ্জের। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কড়াকড়ির ফলে অ্যাসাইলাম আবেদনের অনুমোদনের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অনেক আবেদনকারীকে সরাসরি বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দ্রুততম সময়ে অ্যাসাইলাম মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আগে যেখানে একটি মামলার রায় আসতে বছরের পর বছর সময় লাগত, এখন কয়েক মাসের মধ্যেই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের ফলে অনেক আবেদনকারী পর্যাপ্ত প্রমাণাদি উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছরের মধ্যে আবেদন করার নিয়মটি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লেও অনুমোদনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ২.২ মিলিয়নের বেশি অ্যাসাইলাম আবেদন ঝুলে আছে এবং ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলার সংখ্যা ৩.৬ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আবেদনকারীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে বা দালালদের খপ্পরে পড়ে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করছেন। তদন্তে এই জালিয়াতি ধরা পড়লে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ হারানোর পাশাপাশি দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এবং ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। প্রতিটি আবেদন এখন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের অনেক আবেদনে ভুল ও মিথ্যা তথ্যের প্রমাণ মিলছে, যা ইমিগ্রেশন বিভাগের নজরে আসছে। মিথ্যা তথ্যের দায়ভার সম্পূর্ণ আবেদনকারীর। এর ফলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, বড় ধরনের আইনি ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।” আইনজীবীদের পরামর্শ হলো, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার সময় অবশ্যই সঠিক তথ্য ও পর্যাপ্ত প্রমাণাদি সাথে রাখতে হবে। জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া আবেদন করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ: রহস্য ঘনীভূত, উঠছে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজের ঘটনা দিন যত গড়াচ্ছে, ততই গভীর রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার, সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।   পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জামিল ও বৃষ্টি স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যাওয়ার মানুষ নন। জামিলের ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেন, “পাঁচ দিন হয়ে গেছে। আমরা চরম উৎকণ্ঠায় আছি। সে কাউকে কিছু না বলে চলে যাবে—এটা কল্পনাও করতে পারি না।” একইভাবে বৃষ্টির ভাই জাহেদ হাসান প্রান্ত বোনের নিরাপদ ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।   নিখোঁজের দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু অস্বাভাবিক তথ্য। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জামিল তার বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হন, কিন্তু পাসপোর্ট রেখে যান। সকাল ১১টার দিকে তার ফোন সর্বশেষ বাসার আশপাশেই শনাক্ত হয়। অন্যদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিজ্ঞান ভবনে ছিলেন। তিনি ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার ও খাবারের বাক্স রেখে বের হন—সঙ্গে ছিল কেবল ফোন ও পার্স। বিকেল ৫টার দিকে তার ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ক্যাম্পাস এলাকায় পাওয়া যায়।   পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে অপহরণের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারকে গণমাধ্যমে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। পরে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে মামলায় সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী কেউই অভিবাসন হেফাজতে নেই।   এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবেদনশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনাও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিষয়টি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের ঘটনাকে সরাসরি কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা এখনই যৌক্তিক নয়। বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেও এগুলো ঘটতে পারে। তবুও একাধিক মিল—যেমন হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, পাসপোর্ট রেখে যাওয়া—তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর খোঁজে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন তদন্তে অগ্রগতি নেই এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না।   তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পরিবার ও স্বজনদের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক নিখোঁজের ঘটনা নয় এবং দ্রুত উদ্ধারই এখন সবচেয়ে জরুরি। যে কেউ জামিল লিমন বা নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়ে তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক প্রাইমারি সামনে: শ্রমজীবী প্রার্থীদের পক্ষে সিএএএভি ভয়েসের সমর্থন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট প্রাইমারি নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসী ও ভাড়াটিয়া সংগঠন সিএএএভি ভয়েস গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি সিনেট, স্টেট অ্যাসেম্বলি ও কংগ্রেস নির্বাচনের জন্য তিনজন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে।   সমর্থনপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন—ইউন-লিন নিওউ (স্টেট সিনেট, ডিস্ট্রিক্ট ২৭), ইল্লাপা সাইরিটুপ্যাক (স্টেট অ্যাসেম্বলি, ডিস্ট্রিক্ট ৬৫) এবং ব্র্যাড ল্যান্ডার (কংগ্রেস, নিউইয়র্ক-১০)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমর্থন একটি বৃহত্তর “শ্রমজীবী জোট” গঠনের অংশ, যার লক্ষ্য ভাড়াবৃদ্ধি, উচ্ছেদ এবং কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।   সংগঠনের চায়নাটাউন লিড অর্গানাইজার জুলি জু বলেন, বর্তমানে নিউইয়র্কের শ্রমজীবী ও অভিবাসী জনগোষ্ঠী একসঙ্গে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে—অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি। এই প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞ ও জনমুখী প্রতিনিধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।   প্রার্থীদের বাছাইয়ে তাদের ভাড়াটিয়া অধিকার রক্ষা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ এবং অভিবাসন সংক্রান্ত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা রিয়েল এস্টেট লবি ও অন্যান্য প্রভাবশালী গোষ্ঠী থেকে অনুদান না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।   সংগঠনটি দাবি করেছে, নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। শহরের ৬২ শতাংশের বেশি মানুষ আয়ের তুলনায় বেশি ব্যয় বহন করছেন। বিশেষ করে ব্রুকলিন ও ম্যানহাটন-এ ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে।   এর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে। খাদ্য, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।   সিএএএভি ভয়েস তাদের পূর্বের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেছে। ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানি-র পক্ষে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। বিভিন্ন জোটের মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমজীবী ও অভিবাসী ভোটারকে সংগঠিত করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সংগঠনটি।   এছাড়া ড্রাম বিটস ও নিউইয়র্ক কমিউনিটিস ফর চেঞ্জ-এর সঙ্গে যৌথভাবে শহরের অন্তত ১৩টি এলাকায় প্রচারণা চালানো হয়। বিভিন্ন ভাষায়—ম্যান্ডারিন, ক্যান্টনিজ, ফুজিয়ানিজ, তোইশানিজ, সিলেটি ও বাংলা—যোগাযোগের মাধ্যমে তারা তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাছে পৌঁছায়।   সংগঠনটি জানিয়েছে, আসন্ন প্রাইমারি নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি নিউইয়র্কের শ্রমজীবী ও অভিবাসী মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
সুপার পাউডার থেকে সুপার পাওয়ার: প্লাজমা প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে দিচ্ছে চীন

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং সামরিক শক্তিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে এবার ‘সুপার পাউডার’ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের সাফল্য দেখালো চীন। সম্প্রতি চীনের গুয়াংডং প্রদেশে বিশ্বের বৃহত্তম 'প্লাজমা মিল' (Plasma Mill) সুবিধা উন্মোচন করা হয়েছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা এবং উন্নত প্রযুক্তি খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, যেমন— রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম স্টিলথ যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী হাইপারসনিক মিসাইল তৈরির মূল ভিত্তি হলো মাইক্রন-স্কেলের এই বিশেষ সুপার পাউডার। এতদিন এই পাউডার উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা থাকলেও চীনের নতুন এই প্লাজমা মিলটি আগের পদ্ধতির চেয়ে ১০ গুণ বেশি দক্ষ। দেখতে সাধারণ ড্রামের মতো মনে হলেও এই প্লাজমা মিলগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধাতব অংশকে আণুবীক্ষণিক কণায় রূপান্তর করে। যেমন— স্টিলথ বিমানের গায়ে যে বিশেষ আবরণ (Radar-absorbing coating) থাকে, তা তৈরি হয় ম্যাগনেটিক আয়রন ফ্লেক বা লোহার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা থেকে। এছাড়া জেট ইঞ্জিনের টারবাইন ব্লেড তৈরির জন্য এই উন্নত পাউডার অপরিহার্য, যা উচ্চ তাপে সংকুচিত করে নিখুঁত আকার দেওয়া হয়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের যে আধিপত্য ছিল, চীনের এই নতুন শিল্প-বিপ্লব তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেবে। এখন থেকে চীন অনেক বড় পরিসরে এবং অনেক দ্রুত এই জটিল উপকরণগুলো উৎপাদন করতে পারবে। চীনের এই নতুন উদ্ভাবন শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং মহাকাশ গবেষণা এবং উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স খাতেও দেশটিকে বিশ্বসেরা হওয়ার দৌড়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ভ্রমণে দীর্ঘ লাইন থেকে মুক্তি! যুক্তরাষ্ট্র সহজ হচ্ছে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতকারী পর্যটক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুসংবাদ। মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) তাদের 'মোবাইল পাসপোর্ট কন্ট্রোল' (MPC) অ্যাপের মাধ্যমে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুততর করার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি ভিসাস নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভ্রমণকারীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা ছাড়াই নিজেদের পাসপোর্ট এবং কাস্টমস ডিক্লারেশন সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি স্মার্টফোনের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন। MPC অ্যাপটি মূলত একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা বিমানবন্দরের প্রচলিত কাগজের ফরম পূরণের ঝামেলা কমিয়ে দেয়। ভ্রমণকারীরা বিমানে থাকাকালীন বা অবতরণের পরপরই নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্য (সর্বোচ্চ ১২ জন) অ্যাপে ইনপুট দিতে পারেন। এরপর একটি ডিজিটাল রিসিট জেনারেট হয়, যা বিমানবন্দরের নির্ধারিত এমপিসি লেন-এ (MPC Lane) দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে দেখালেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। কারা এই সুবিধা পাবেন? বর্তমানে মার্কিন নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী (LPR), নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কানাডিয়ান নাগরিক এবং ভিসামুক্ত দেশের (VWP) যাত্রীরা এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারছেন। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি যারা পর্যটক হিসেবে যাচ্ছেন, তারা আপাতত নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হলে বা ভবিষ্যতে আপডেট আসলে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ৪টি সমুদ্রবন্দরে এই সুবিধা চালু রয়েছে। সুবিধাসমূহ: ১. কোনো বাড়তি ফি বা খরচ ছাড়াই অ্যাপটি ডাউনলোড করা যায়। ২. পরিবারের সবাই একসাথে একটি অ্যাপের মাধ্যমেই তথ্য জমা দিতে পারেন। ৩. বিমানবন্দরের সাধারণ লাইন থেকে অনেক ছোট হয় এমপিসি লাইন, ফলে সময় বাঁচে। পেশাদার ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি আধুনিক সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের পর ইমিগ্রেশনের ক্লান্তি অনেকটাই কমিয়ে দেবে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
টেক্সাস থেকে শুরু হয়ে পুরো দেশজুড়ে সুপরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে ঘৃণা— মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট পেতে মুসলিম বিদ্বেষ উস্কে দিচ্ছে রিপাবলিকানরা: চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টি বা জিপিও-এর (GOP) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য মুসলিম থ্রেট’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ৮৯ জন রিপাবলিকান নেতা এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১,১১১টিরও বেশি বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেছেন। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর এই গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল মার্কিন মুসলিমদের বিরুদ্ধে জনমনে ভয় এবং বিভাজন তৈরি করা। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই বিদ্বেষমূলক ক্যাম্পেইনের শুরু হয়েছিল টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের একটি পোস্টের মাধ্যমে, যেখানে তিনি একটি মুসলিম আবাসন প্রকল্পকে ‘শরিয়া সিটি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তী ১৩ মাসে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশটির ৪৬ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি সরাসরি এই মুসলিম বিরোধী প্রচারণায় শামিল হন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে এই ঘৃণা ছড়ানোর পাশাপাশি আইনিভাবেও মুসলিমদের কোণঠাসা করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। কংগ্রেসে ‘শরিয়া’ সংক্রান্ত আটটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে এবং ‘শরিয়া মুক্ত আমেরিকা’ ককাসে সদস্য সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, রিপাবলিকানদের এই ধরণের বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের জন্য সরাসরি নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করছে। ‘ডেঞ্জারাস স্পিচ প্রজেক্ট’-এর মতে, এই ধরনের ভাষা সরাসরি সহিংসতার উস্কানি হিসেবে কাজ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের যে ১০ টি শহরে সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা যায়
যুক্তরাষ্ট্রের যে ১০ টি শহরে সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা যায়

বিগত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভূখণ্ডে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। নিউইয়র্ক এবং সান ফ্রান্সিসকোর মতো ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো এখনো নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখলেও, টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর দ্রুত উত্থান নতুন এক সমীকরণ তৈরি করেছে।   ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত 'নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথ'-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০টি ধনী শহরের তালিকায় কোটিপতিদের (মিলিয়নেয়ার) সংখ্যা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।   তালিকার শীর্ষে অবিসংবাদিতভাবে অবস্থান করছে নিউইয়র্ক সিটি। ৩৮৪,৫০০ জন মিলিয়নেয়ার নিয়ে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সম্পদ কেন্দ্র। মূলত ওয়াল স্ট্রিট এবং বৈশ্বিক রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের কারণে শহরটি তার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।   দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো ও সিলিকন ভ্যালি নিয়ে গঠিত ‘দ্য বে এরিয়া’। ৩৪২,৪০০ জন মিলিয়নেয়ারের এই অঞ্চলটি মূলত প্রযুক্তি খাতের অভাবনীয় উন্নতির ফসল। অন্যদিকে, হলিউড ও মিডিয়া শিল্পের কেন্দ্র লস অ্যাঞ্জেলেস ২২০,৬০০ জন মিলিয়নেয়ার নিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছে।   শিকাগো এবং হিউস্টন তালিকার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নাম। শিকাগোতে ১৭১,১০০ জন মিলিয়নেয়ার বাস করেন, যারা শহরটির বৈচিত্র্যময় উৎপাদন ও সেবা খাতের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অন্যদিকে, জ্বালানি খাতের কেন্দ্র হিউস্টন ৮১,৮০০ জন মিলিয়নেয়ার নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।   এর ঠিক পরেই রয়েছে ডালাস, যেখানে ৭২,৪০০ জন মিলিয়নেয়ারের বাস। টেক্সাসের এই দুটি শহরের দ্রুত প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণভাগের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।   তালিকায় সপ্তম থেকে দশম অবস্থানে যথাক্রমে রয়েছে সিয়াটল (৫৩,১০০), বোস্টন (৪৫,০০০), মায়ামি (৩৮,৮০০) এবং অস্টিন (৩২,০০০)। অস্টিন এবং মায়ামির উত্থান বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই দুটি শহরে কোটিপতিদের বৃদ্ধির হার ছিল বিস্ময়কর।   বিশেষ করে অস্টিন এখন ‘সিলিকন হিলস’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে, যা বড় বড় টেক জায়ান্টদের আকর্ষণ করছে।   সবশেষে, এই পরিসংখ্যান কেবল শহরের সম্পদই দেখায় না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিবর্তনকেও তুলে ধরে। একদিকে নিউইয়র্ক ও শিকাগোর মতো শহরগুলো তাদের ঐতিহাসিক স্থায়িত্ব ধরে রেখেছে, অন্যদিকে অস্টিন ও মায়ামির মতো শহরগুলো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে ভবিষ্যতের নতুন সম্পদ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।   এই ১০টি শহর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সম্পদের একটি বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প: বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরু করার হুমকি দিলেও শেষ পযর্ন্ত কেন পিছিয়ে এলেন

বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে। একদিকে ইরান দাবি করছে যে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে, অন্যদিকেযুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ দিয়ে রেখেছে।   উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য দায়ী করছে, ফলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। কূটনৈতিক অঙ্গনেও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেন যে ইরান সব শর্তে সম্মত হয়েছে, তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তারা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে হস্তান্তর করবে না।   এছাড়া জেডি ভ্যান্স ও জ্যারেড কুশনারের মতো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের ইসলামাবাদে পাঠানো নিয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসায় পরিস্থিতি আরও অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন সপ্তম সপ্তাহে গড়িয়েছে। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, এই অভিযান চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে।   কিন্তু আধুনিক ড্রোন যুদ্ধ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল কৌশলের কারণে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। এদিকে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।   তবে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। এই অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় দিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক ঘোষণায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।   তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, পাকিস্তানের অনুরোধ এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।   ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন এমন সময় এসেছে যখন তিনি এর আগেই বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরু করাকে একটি সম্ভাব্য “কৌশলগত বিকল্প” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ফলে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ হয়েছেন। গত চার দিন ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এ স্নাতকোত্তর (এমএসসি) পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। সহপাঠী ও বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার এবং সঙ্গে থাকা সহপাঠীর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। নিখোঁজের পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও স্টেট পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সর্বশেষ তার অবস্থান ক্যাম্পাসের ভেতরে পাওয়া গেলেও এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিষয়টি মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলকে জানানো হয়েছে। কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজন হলে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-কেও তদন্তে সম্পৃক্ত করা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশপাশের হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও আটক কেন্দ্রগুলোতেও খোঁজ নিয়েছে, তবে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার বৃষ্টির সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং সহযোগিতা চেয়েছে। এ ঘটনায় সহপাঠী, বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বৃষ্টির নিরাপদ ফিরে আসার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। একই সঙ্গে কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

নাহিদা বৃষ্টি
আমেরিকা

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0